(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: -)
قطع العلائق للتفكر في عبودية الخلائق   (عرفة بن طنطاوي)

القسم: العقيدة


الكتاب: قَطْعُ العَلائِقِ للتَّفَكُرِ فِي عُبُودِيَّةِ الخَلائِقِ

المؤلف: عرفة بن طنطاوي

الناشر: مركز تأصيل علوم التنزيل للبحوث العلمية والدراسات القرآنية، القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى، 1443 هـ

عدد الصفحات: 104

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1443

সৃষ্টিজগতের দাসত্ব নিয়ে চিন্তা করার জন্য সম্পর্ক ছিন্নকরণ   (আরাফাহ বিন তান্তাভি)

বিভাগ: আক্বীদা


বই: সৃষ্টিজগতের দাসত্ব নিয়ে চিন্তা করার জন্য সম্পর্ক ছিন্নকরণ

লেখক: আরাফাহ বিন তান্তাভি

প্রকাশক: মারকায তাসিল উলুম আত-তানজিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র، কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪

[শামেলা নম্বরিং অনুযায়ী ই-বুক]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল ক্বাদাহ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১)
تم نشره في مجلة البحوث في 4/ 1443 هـ

قَطْعُ العَلائِقِ للتَّفَكُرِ فِي عُبُودِيَّةِ الخَلائِقِ

كَتَبَهُ

الفَقِيِرُ إلى عَفْوِ رَبِهِ البَارِيِ

عَرَفةُ بْنُ طَنْطَاوِيِّ

- عَفَا اللَّهُ عَنْهُ -

- وَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَلِوالِدَيهِ وَلِمشَايِخِهِ وَلِذُريَّتِهِ ولِلمُؤْمِنِينَ والمُوْمِنَاتِ -

عَمِيِدُ كُلْيَّةِ أُصُوِلِ الدِّيِنِ والدِرَاسَاتِ الإِسْلَامِيةِ بِجَامِعَةِ خَاتَمِ المُرْسَلِيِنَ العَالَمِيَّةِ

وَأُسْتَاذُ التَّفْسِيرِ وَعُلُوُمِ القُرَآنِ لِلدِّرَاسَاتِ الْعُلِيَا

بِالجَامِعَةِ الإِسْلامِيَّةِ والمَعْهَدِ العَاليِ للأَئِمَّةِ والخُطَبَاءِ- بـ " مِنِيسُوتَا "

وَالرَّئِيسُ العَامُ لِمَرْكَزِ تَأْصِيِل عُلُومِ التَنْزِيِلِ لِلبُحُوثِ العِلْمِيِةِ وَالدِّرَاسَاتِ القُرّآنِيِةِ

-1442 هـ -
এটি ১৪৪৩ হিজরির ৪ সংখ্যায় গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

সৃষ্টির দাসত্ব নিয়ে চিন্তাভাবনার জন্য মায়ার বন্ধন ছিন্ন করা

এটি লিখেছেন

তাঁর রব আল-বারীর ক্ষমার মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা

আরাফাহ বিন তানতাবি

- আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন -

- এবং আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে, তাঁর উস্তাদগণকে, তাঁর সন্তানদের এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের ক্ষমা করুন -

খাতামুল মুরসালিন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উসুলুদ্দিন ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের ডিন

উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞানের অধ্যাপক

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এবং মিনেসোটার ইমাম ও খতিবদের উচ্চতর ইনস্টিটিউটে

এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কুরআন বিষয়ক অধ্যয়নের জন্য 'মারকাজু তাসিল উলুমিত তানজিল'-এর মহাপরিচালক

- ১৪৪২ হিজরি -
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২)
من إصدارات

تأصيل

مركز تأصيل علوم التنزيل

للبحوث العلمية والدراسات القرآنية

 

https://taaselcenter.com

arafatantawy440@gmail.com
প্রকাশনা থেকে

তা’সীল

তা’সীল উলূমুত তানযীল কেন্দ্র

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কুরআনিক অধ্যয়নের জন্য

 

https://taaselcenter.com

arafatantawy440@gmail.com
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১)
موسوعة تأصيل علوم التنزيل

(31)

قَطْعُ العَلائِقِ للتَّفَكُرِ فِي عُبُودِيَّةِ الخَلائِقِ

كَتَبَهُ

الفَقِيِرُ إلى عَفْوِ رَبِهِ البَارِيِ

عَرَفةُ بْنُ طَنْطَاوِيِّ

- عَفَا اللَّهُ عَنْهُ -

- وَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَلِوالِدَيهِ وَلِمشَايِخِهِ وَلِذُريَّتِهِ ولِلمُؤْمِنِينَ والمُوْمِنَاتِ -

عَمِيِدُ كُلْيَّةِ أُصُوِلِ الدِّيِنِ والدِرَاسَاتِ الإِسْلَامِيةِ بِجَامِعَةِ خَاتَمِ المُرْسَلِيِنَ العَالَمِيَّةِ

وَأُسْتَاذُ التَّفْسِيرِ وَعُلُوُمِ القُرَآنِ لِلدِّرَاسَاتِ الْعُلِيَا

بِالجَامِعَةِ الإِسْلامِيَّةِ والمَعْهَدِ العَاليِ للأَئِمَّةِ والخُطَبَاءِ- بـ " مِنِيسُوتَا "

وَالرَّئِيسُ العَامُ لِمَرْكَزِ تَأْصِيِل عُلُومِ التَنْزِيِلِ لِلبُحُوثِ العِلْمِيِةِ وَالدِّرَاسَاتِ القُرّآنِيِةِ

-1442 هـ -
তাকসীলুল উলূমিত তানজীল বিশ্বকোষ

(৩১)

মাখলুকের দাসত্ব সম্পর্কে চিন্তার নিমিত্তে সম্পর্ক ছিন্নকরণ

লিখেছেন

তাঁর প্রতিপালক আল-বারীর ক্ষমার মুখাপেক্ষী কাঙাল

আরাফাহ বিন তানতাবি

- আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন -

- এবং আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে, তাঁর উস্তাদগণকে, তাঁর বংশধরদের এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের ক্ষমা করুন -

আন্তর্জাতিক খাতামুল মুরসালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ দীন ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের ডিন

এবং উচ্চতর গবেষণার তাফসীর ও উলূমুল কুরআন বিষয়ের অধ্যাপক

ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইমাম ও খতিবদের উচ্চতর ইনস্টিটিউট - "মিনেসোটা"-তে

এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কুরআন বিষয়ক অধ্যয়নের জন্য 'তাকসীলুল উলূমিত তানজীল' কেন্দ্রের সাধারণ পরিচালক

- ১৪৪২ হিজরি -
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

مجلة البحوث والدراسات الشرعية

إصدار علمي متخصص جامعي محكم

 

إلى من يهمه الأمر

يرجى التكرم بالعلم بأن البحث المقدم من:

الدكتور / عرفة بن طنطاوي

عميد كلية أصول الدين والدراسات الإسلامية بجامعة خاتم المرسلين العالمية، وأستاذ التفسير وعلوم القرآن للدراسات العليا، بالجامعة الإسلامية والمعهد العالي للأئمة والخطباء - بـ "منيسوتا"، والرئيس العام لمركز تأصيل علوم التنزيل للبحوث العلمية والدراسات القرآنية.

وعنوانه: (قطع العلائق للتفكر في عبودية الخلائق).

قد ورد إلى هيئة الإصدار وخضع للتحكيم العلمي المتخصص، وأجيز للنشر بأحد أعداد المجلة وتم نشره بالعدد الرابع والسبعين من مجلة البحوث الإسلامية، الذي صدر في شهر ربيع الآخر 1443 هـ، هذا وبالله التوفيق، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.

مؤسس الإصدار ورئيس التحرير

أ. د. عبد الفتاح محمود إدريس

 

رقم إيداع المجلة بدار الكتب: (18620/ 2012) - الترقيم الدولي الموحد لها: (ISSN. 2090 - 9993)

رابط موقع المجلة على الانترنت: journalofshareiarchandstudies.com

رابط معامل التأثير العربي للمجلة: journal impact factors-php.mht

جمهورية مصر العربية، القاهرة، مساكن مدينة نصر، رمز بريدي: 11371. ص. ب: 8131
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শরীয়াহ গবেষণা ও অধ্যয়ন সাময়িকী

একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা

 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি

দয়াপূর্বক অবগত হোন যে, নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তির উপস্থাপিত গবেষণাটি:

ডক্টর / আরাফাহ বিন তানতাভি

গ্লোবাল খাতামুল মুরসালিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের ডিন, এবং মিনেসোটা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর ইমাম ও খতিব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞানের উচ্চতর গবেষণার অধ্যাপক, এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কুরআন অধ্যয়নের জন্য 'মারকায তাসিল উলুম আত-তানজিল'-এর সাধারণ সভাপতি।

এর শিরোনাম: (সৃষ্টির দাসত্ব নিয়ে চিন্তার লক্ষ্যে সকল সম্পর্ক ছিন্নকরণ)।

প্রকাশনা পর্ষদের নিকট এটি গৃহীত হয়েছে এবং বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। এটি সাময়িকীর একটি সংখ্যায় প্রকাশের অনুমতি লাভ করেছে এবং 'ইসলামি গবেষণা সাময়িকী'র চুয়াত্তরতম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে, যা রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি মাসে প্রকাশিত হয়েছিল। আল্লাহর সাহায্যেই সাফল্য অর্জিত হয়। আপনাদের উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক

প্রফেসর ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ মাহমুদ ইদ্রিস

 

জাতীয় গ্রন্থাগারে (দারুল কুতুব) সাময়িকীর নথিভুক্তকরণ নম্বর: (১৮৬২০/ ২০১২) - আন্তর্জাতিক মান ক্রমিক সংখ্যা (ISSN): (২০৯০ - ৯৯৯৩)

সাময়িকীর ওয়েবসাইট লিঙ্ক: journalofshareiarchandstudies.com

সাময়িকীর 'আরবি ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর' লিঙ্ক: journal impact factors-php.mht

আরব প্রজাতন্ত্র মিশর, কায়রো, মাসাকেন মাদিনাতুন নাসর, পোস্টাল কোড: ১১৩৭১। পি.ও. বক্স: ৮১৩১
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌دِيْبَاجَةُ البَحْثِ

الحمد لله الذي سبح بحمد كل من في أرضه وسماوته، وخضع لكبريائه وعظمته كل من يليه من كائناته، وشهدت له بالربوبية جميع موجوداته، وأقرت له بالإلهية جميعُ مصنوعاته، فشهدت كلها له بأنه الخالق البارئ لجميع مخلوقاته، وأقرت بعظمته بما أودعها من عجائب صنعه وبديع آياته، كما قال ربنا في محكم كلماته: (وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ) (الرعد: 15).

فيا ليتنا نعي ما أمرنا به ربنا من تدبر كتابه الذي قال فيه في محكم آياته: (كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ) (ص: 29).

وسبحان الله وبحمده عدد خلقه، ورضى نفسه، وزنة عرشه، ومداد كلماته، وأشهد ألا إله إلا الله وحده، لا شريك له في ألوهيته، كما أنه لا شريك له في ربوبيته، ولا شبيه له في أفعاله، ولا مثيل له في صفاته، ولاند له في ذاته، … والله أكبر كبيرًا، والحمد لله كثيرًا، وسبحان الله بكرة وأصيلاً.

وسبحان من سبحت له السموات وأملاكها، والنجوم وأفلاكها، والأرض وسكانها، والبحار وحيتانها، والنجوم والجبال، والشجر والدواب، والآكام والرمال، وكل رطب ويابس، وكل من في ملكوته من أرضه وسماواته قد خضع وذل لكبريائه وعظمته وسبحه وعظمه لذاته، كما قال تعالى في محكم آياته: (تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ وَإِن من شَيْءٍ إِلاَّ يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِن لاَّ تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا) (الإسراء: 44).

وقد قهر بربوبيته كل مخلوقاته، فأولياؤه أتوه طوعًا، وقد أتوه قهرًا وغلبة جميع لداته وعداته كما قال ربنا في محكم آياته: (إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا لَقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا) (مريم: 93 - 95).

وأشهد أن محمدًا عبد الله ورسوله خير من عبد ربه في حياته وحتى مماته، صلوات الله عليه وعلى آله وصحبه وتسليماته وتبريكاته.
গবেষণার ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর মহিমা ঘোষণা করে তাঁর জমিন ও আসমানের প্রতিটি সৃষ্টি, এবং যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের নিকট অবনত তাঁর সান্নিধ্যে থাকা প্রতিটি অস্তিত্ব। তাঁর রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্ব) সাক্ষ্য দেয় তাঁর সকল বিদ্যমান বস্তু, আর তাঁর উলুহিয়্যাতের (উপাস্য হওয়া) স্বীকৃতি দেয় তাঁর সকল শিল্পকর্ম। ফলে সকল কিছু তাঁরই সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির স্রষ্টা ও উদ্ভাবক। তাঁর সৃষ্টির বিস্ময় ও নিদর্শনের মাধ্যমে যা তিনি তাদের মাঝে গচ্ছিত রেখেছেন, তারা তাঁর মহত্ত্বের স্বীকৃতি দেয়; যেমনটি আমাদের রব তাঁর সুদৃঢ় বাণীতে বলেছেন: (আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তারা এবং তাদের ছায়াগুলো সকাল-সন্ধ্যায় স্বেচ্ছায় ও অনিচ্ছায় আল্লাহর প্রতি সিজদা করে) (আর-রাদ: ১৫)।

হায়! আমরা যদি আমাদের রব তাঁর কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার যে আদেশ দিয়েছেন তা অনুধাবন করতে পারতাম, যে সম্পর্কে তিনি তাঁর সুদৃঢ় আয়াতে বলেছেন: (এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে) (সোয়াদ: ২৯)।

আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে—তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর নিজের সন্তুষ্টি মোতাবেক, তাঁর আরশের ওজন সমপরিমাণ এবং তাঁর কালিমার ব্যাপ্তি অনুসারে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর উলুহিয়্যাতে কোনো শরিক নেই; যেমন তাঁর রুবুবিয়্যাতে কোনো শরিক নেই। তাঁর কার্যাবলীতে তাঁর সদৃশ কেউ নেই, তাঁর গুণাবলীতে তাঁর সমতুল্য কেউ নেই এবং তাঁর সত্তায় তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, ... আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, অতি মহান। আল্লাহর অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে আসমানসমূহ ও তাদের ফেরেশতারা, নক্ষত্ররাজি ও তাদের কক্ষপথসমূহ, জমিন ও এর অধিবাসীরা, সমুদ্র ও এর মৎস্যকুল, পাহাড় ও নক্ষত্ররাজি, বৃক্ষ ও জীবজন্তু, টিলা ও বালুকণা। তাঁর রাজত্বের আসমান ও জমিনের আর্দ্র ও শুষ্ক প্রতিটি বস্তু তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের নিকট অনুগত ও বিনীত হয়েছে এবং তাঁর সত্তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেছে; যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর সুদৃঢ় আয়াতে বলেছেন: (সাত আসমান, জমিন এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে সবাই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করে না; কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি অতি সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল) (আল-ইসরা: ৪৪)।

তিনি তাঁর প্রভুত্বের মাধ্যমে তাঁর সকল সৃষ্টিকে বশীভূত করেছেন। তাঁর প্রিয় বান্দারা তাঁর নিকট অনুগত হয়ে এসেছে, আর তাঁর সকল প্রতিপক্ষ ও শত্রুরা তাঁর নিকট বাধ্য ও পরাভূত হয়ে এসেছে; যেমনটি আমাদের রব তাঁর সুদৃঢ় আয়াতে বলেছেন: (আসমানসমূহ ও জমিনে এমন কেউ নেই যে পরম করুণাময়ের কাছে বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না। অবশ্যই তিনি তাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদের একে একে গণনা করেছেন। আর কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকেই তাঁর কাছে একাকী উপস্থিত হবে) (মারইয়াম: ৯৩ - ৯৫)।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; যিনি তাঁর জীবন ও মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর রবের ইবাদতকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম। আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد

فإن هذا الكون الفسيح، وهذا العالم كله بعالمه العلوي والسفلي خاضع لسلطان الله ولا يسع أيُّ أحدٍ فيه- كائنًا من كان- الخروج عن ربوبية الله التي قهر بها كل مخلوقاته، ثم إنه سبحانه قد سَخَّر لهذا المخلوق-الإنسان-الضعيف كل ما في السموات وما في الأرض ليتهيأ لعبادة الله وليتفكر في عظمة خالقه ويتأمل كيف قهر الله كل هذه المخلوقات، وأنه جزءٌ لا يتجزَّأ مِن هذا العالم وتلك المصنوعات، وأنه من أضعفها وأفقرها إلى خالقها وبارئها، وأن طاعته لله تنسجِم مع طاعة كلِّ تلك الكائنات،

ووا أَسَفاه على كل من انتكب الصراط وتمرد على الله من جهلة بني آدم ممن طمس الله فِطَرهم وَسَكَّرَ نورَ الحق عن بصائرهم فغشَّاها ظلام الجهل والإعراض والصَّد عن سبيل الله، ممن عطلوا نعمة العقل والفهم والإدراك ولم يتفكروا في عبودية الكائنات من حولهم لبارئها وانصياعها لأمره وخضوعها لسلطانه، فلم يسيروا وفق منهج عبودية الكون لله منسجمين مع جميع تلك المخلوقات.

ولقد ذم الله تعالى الذين عطلوا تلك النعم العظيمة فقال سبحانه فيهم: (وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالإِنسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لاَّ يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لاَّ يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لاَّ يَسْمَعُونَ بِهَا أُوْلَئِكَ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُوْلَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ) (الأعراف: 179).

وهذا البحث هو مجرد دعوى لإعادة النظر وإعمال القلب وفتح مسامعه لإعادة التفكر في عظمة الله وفي إخضاعه- سبحانه- جميع العوالم علويها وسفليها لسلطانة وجبروته وقهره وقوته وعظمته، وبذلك ينتبه القلب من غفلته ويرجع ويؤب هذا المخلوق الفقير إلى الله من كل الوجوه، الضعيف الذي لا حولا ولا قوة له إلا بخالقه سبحانه، فيعود ويؤوب إلى حظيرة الإيمان، ويرسخ في نفسه اليقين، ويغلب عليه جانب الخشية، فيعرف للخالق العظيم قدره ويعظمه حق تعظيمه ويعبده حق عبادته، وكلما كان الإنسان أكثر إعمالًا لعقله وفكره وكان أكثر تأملا في عبودية جميع المخلوقات لله، كان كل ذلك أدعى لتحقيق معرفته بالله والعلم به جل في علاه، وهذه
অতঃপর

নিশ্চয়ই এই বিশাল মহাবিশ্ব এবং এর উচ্চতর ও নিম্নতর জগতসহ সমগ্র বিশ্ব আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীন। এর অন্তর্ভুক্ত কোনো ব্যক্তিই—সে যেই হোক না কেন—আল্লাহর সেই রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে পরাভূত বা বশীভূত করে রেখেছেন। অতঃপর তিনি (সুবহানাহু) এই দুর্বল সৃষ্টি—মানুষের—জন্য আসমান ও জমিনের সবকিছুকে নিয়োজিত করেছেন যাতে সে আল্লাহর ইবাদতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে এবং তার স্রষ্টার মহিমা নিয়ে চিন্তা করতে পারে; আর অনুধাবন করতে পারে কীভাবে আল্লাহ এই সমস্ত সৃষ্টিকে বশীভূত করেছেন। সে এই জগত ও এই সৃষ্টিরাজিরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং সে তার স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের নিকট সবচেয়ে দুর্বল ও অভাবী। আল্লাহর প্রতি তার আনুগত্য সেই সমস্ত সৃষ্টির আনুগত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আর অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় সেই সব লোকদের জন্য যারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে—আদম সন্তানদের মধ্যে সেই সব মূর্খরা যাদের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতিকে আল্লাহ মুছে দিয়েছেন এবং যাদের অন্তর্দৃষ্টি থেকে সত্যের আলোকে রুদ্ধ করে দিয়েছেন। ফলে অজ্ঞতা, বিমুখতা এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদানের অন্ধকার তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। তারা বিবেক, বুদ্ধি ও উপলব্ধির নেয়ামতকে অকেজো করে দিয়েছে এবং তাদের চারপাশের সৃষ্টিরাজি যে তাদের স্রষ্টার দাসত্ব করছে, তাঁর আদেশের আনুগত্য করছে এবং তাঁর সার্বভৌমত্বের নিকট মস্তক অবনত করছে, তা নিয়ে তারা চিন্তা করেনি। ফলে তারা এই সমস্ত সৃষ্টির সাথে সংগতি রেখে মহাবিশ্বের আল্লাহর প্রতি দাসত্বের পদ্ধতি অনুযায়ী চলেনি।

আর আল্লাহ তাআলা সেই সব লোকদের নিন্দা করেছেন যারা এই মহান নেয়ামতসমূহকে অকেজো করে দিয়েছে। তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছেন: (আর আমি অবশ্যই জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তারা তার চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হলো গাফেল।) (সূরা আল-আরাফ: ১৭৯)।

আর এই গবেষণাটি হলো পুনরায় দৃষ্টিপাত করা, অন্তরকে সক্রিয় করা এবং এর শ্রবণপথ উন্মুক্ত করার একটি আহ্বান মাত্র; যাতে আল্লাহর মহিমা এবং উচ্চতর ও নিম্নতর সমস্ত জগতকে তাঁর সার্বভৌমত্ব, প্রতাপ, আধিপত্য, শক্তি ও মহত্ত্বের অধীনে বশীভূত করার বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চিন্তা করা যায়। এর মাধ্যমে অন্তর তার উদাসীনতা থেকে জাগ্রত হবে এবং এই সৃষ্টি—যে সব দিক থেকেই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, দুর্বল এবং যার তার স্রষ্টা (সুবহানাহু) ছাড়া কোনো উপায় বা শক্তি নেই—আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে। সে ঈমানের আঙিনায় প্রত্যাবর্তন করবে, তার হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস বা ইয়াকিন বদ্ধমূল হবে এবং তার ওপর আল্লাহভীতি প্রবল হবে। ফলে সে মহান স্রষ্টার যথাযোগ্য মর্যাদা অনুধাবন করবে, তাঁকে তাঁর প্রকৃত মহিমায় মহিমান্বিত করবে এবং তাঁর যথাযথ ইবাদত করবে। মানুষ যত বেশি তার বিবেক ও চিন্তাকে কাজে লাগাবে এবং আল্লাহর প্রতি সমস্ত সৃষ্টির দাসত্ব নিয়ে যত বেশি গভীর চিন্তা করবে, তা ততই মহামহিম আল্লাহ সম্পর্কে তার পরিচয় ও জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে। আর এটিই...
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ৫)
الخصال من أعظم ما يجلب للعبد خشية الله وإجلاله وتعظيمه، كما قال - سبحان-: (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء) (فاطر: 28).

 

‌‌ملخص البحث

هذا بحثٌ مختصرٌ مفيدٌ وقصير، تفضل به الرب العليم الخبير على عبده الضعيف الفقير، وقد تناول فيه الباحثُ دارسةَ جانبٍ من جوانبِ عبوديةِ الخلائقِ لخالقها وباريها جَلَّ في علاه، ودعا للتفكر فيها كما أمر بذلك سيده ومولاه، وقد أسماه " قَطْعَ العَلائِقِ للتَّفَكُرِ فِي عُبُودِيَّةِ الخَلائِقِ" داعيًا قبوله عند الله، راجيًا أن يجزيه به أحسن الجزاء وأتمه وأوفاه، وأن يجعله له ذخرًا يوم يلقاه، وأن ينتفع به كل من يطالعه ويراه.

Research Summary

This is a brief، useful and short treatise، which the All-Knowing، bestowed on His weak، poor servant.The researcher dealt with it، studying an aspect of the servitude of creatures to their Creator، the Most High، and called for contemplation of it as ordered by his master.He called it "cutting ties to contemplate the servitude of creatures. " He prayed for his acceptance with God، hoping that He would reward him with the best، most complete and most fulfilling recompense، and that He would make him a treasure on the day he met him، and that everyone who read and saw him would benefit from it.
এই গুণাবলি বান্দার মনে আল্লাহর ভীতি, শ্রদ্ধা ও মহত্ত্ব উদ্রেক করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম, যেমনটি তিনি—পবিত্রতা তাঁরই—বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করেন" (ফাতির: ২৮)।

 

‌‌গবেষণার সারসংক্ষেপ

এটি একটি সংক্ষিপ্ত, উপকারী ও নাতিদীর্ঘ গবেষণা, যা সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত প্রতিপালক তাঁর দুর্বল ও অভাবী বান্দার প্রতি অনুগ্রহস্বরূপ দান করেছেন। এতে গবেষক তাঁর মহান ও সুউচ্চ স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের প্রতি সৃষ্টির দাসত্বের একটি দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেমনটি তাঁর প্রভু ও অভিভাবক নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এর নামকরণ করেছেন "সৃষ্টির দাসত্বের চিন্তায় সকল সম্পর্ক ছিন্নকরণ"। তিনি আল্লাহর নিকট এটি কবুল হওয়ার প্রার্থনা করছেন এবং আশা রাখছেন যে তিনি এর বিনিময়ে তাকে সর্বোত্তম, পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করবেন। আর তিনি যেন একে তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনের জন্য পাথেয় করেন এবং যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে ও দেখবে, সে যেন এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে।

গবেষণার সারসংক্ষেপ

এটি একটি সংক্ষিপ্ত, উপকারী এবং নাতিদীর্ঘ গবেষণাপত্র যা সর্বজ্ঞ সত্তা তাঁর দুর্বল ও অভাবী বান্দাকে দান করেছেন। গবেষক এতে তাঁর সুউচ্চ মহান স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টিজগতের দাসত্বের একটি দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর প্রভুর নির্দেশানুসারে সে বিষয়ে চিন্তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন "সৃষ্টির দাসত্বের ভাবনায় সম্পর্ক ছিন্ন করা"। তিনি আল্লাহর নিকট এর কবুলিয়াতের জন্য দোয়া করেছেন এবং আশা রাখছেন যে তিনি তাঁকে এর সর্বোত্তম, পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিন এটিকে পাথেয় হিসেবে কবুল করবেন, আর যারা এটি পাঠ করবে ও দেখবে তারা সকলে যেন এর দ্বারা উপকৃত হয়।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌خطة البحث

وقد ضمَّن الباحثُ بحثَه خطة بحث مكونة من أربعة فصول، وكل فصل يندرج تحته عدد من المباحث، وكل مبحث يندرج تحته عدد من المطالب، وقد بيَّن فيه ما يلي:

أولًا: أهمية موضوع البحث

ثانيًا: أهم الدراسات السابقة وأبرزها

ثالثًا: أسباب ودواعي اختيار موضوع البحث

رابعًا: أهداف البحث

خامسًا: منهج البحث

سادسًا: أبرز النتائج التي توصلت لها تلك الدراسة وتوصيات البحث وخاتمته.

سابعًا: مجموع الفهارس

وخطة البحث مكونة من أربعة فصول، وقد بيَّنها مفصلة على النحو التالي:

الفصل الأول: تعريف العبودية

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: مفهوم العبودية

وفيه مطلبان:

المطلب الأول: مفهوم العبودية في اللغة

المطلب الثاني: مفهوم العبودية في الشرع

المبحث الثاني: بيان أقسام العبودية

وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: القسم الأول من أقسام العبودية "عبودية الغلبة والقهر والملك"

المطلب الثاني: القسم الثاني من أقسام العبودية "عبودية الاختيار والانقياد والطاعة والمحبة"

المطلب الثالث: بيان حقيقة العبودية
গবেষণা পরিকল্পনা

গবেষক তাঁর গবেষণায় চারটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে একটি গবেষণা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে বেশ কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে। তিনি এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ব্যক্ত করেছেন:

প্রথমত: গবেষণার বিষয়ের গুরুত্ব

দ্বিতীয়ত: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ

তৃতীয়ত: গবেষণার বিষয় নির্বাচনের কারণ ও প্রেক্ষাপট

চতুর্থত: গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

পঞ্চমত: গবেষণা পদ্ধতি

ষষ্ঠত: উক্ত গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলসমূহ, গবেষণার সুপারিশসমূহ এবং এর উপসংহার।

সপ্তমত: যাবতীয় নির্ঘণ্টসমূহ

গবেষণা পরিকল্পনাটি চারটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত এবং তিনি তা বিস্তারিতভাবে নিম্নরূপ বর্ণনা করেছেন:

প্রথম অধ্যায়: দাসত্বের (উবুদিয়্যাত) পরিচয়

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: দাসত্বের ধারণা

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে দাসত্বের ধারণা

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শরয়ি পরিভাষায় দাসত্বের ধারণা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দাসত্বের প্রকারভেদ বর্ণনা

এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: দাসত্বের প্রথম প্রকার "বিজয়, পরাভব ও মালিকানাধীন দাসত্ব"

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দাসত্বের দ্বিতীয় প্রকার "স্বেচ্ছাধীনতা, আনুগত্য, বাধ্যতা ও মহব্বতের দাসত্ব"

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দাসত্বের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ৭)
المطلب الرابع: بيان شرطي تحقيق العبودية

المطلب الخامس: تقرير عبودية الله تعالى في القرآن الكريم

المبحث الثالث: أصل الدين مبني على أصلين عظيمين (العبودية - والاستعانة)

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: الغاية من خلق المكلفين تحقيق العبودية

المطلب الثاني: مكانة العبودية والاستعانة وتحقيق التلازم بينها

المطلب الثالث: أقسام الخلق في منازل" إياك نعبد وإياك نستعين"

الفصل الثاني: عبودية البشر

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: عبودية النبين والمرسلين -عليهم الصلاة والسلام -

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: عبودية خاتم النبين والمرسلين صلى الله عليه وسلم

المطلب الثاني: عبودية أولي العزم من الرسل عليهم السلام بأعيانهم

المطلب الثالث: عبودية عموم المرسلين عليهم السلام

المبحث الثاني: عبودية عموم البشر

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: عبودية الصحابة رضي الله عنهم

المطلب الثاني: عبودية حواريي الأنبياء وأصحابهم

المطلب الثالث: عبودية عموم الخلق

الفصل الثالث

عبودية الملائكةِ والجنِّ

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: عبودية الملائكةِ

وفيه ستة مطالب:

المطلب الأول: التعريف بالملائكة
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দাসত্ব অর্জনের শর্তদ্বয়ের বর্ণনা

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলার দাসত্বের সাব্যস্তকরণ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীনের মূল ভিত্তি দুটি মহান মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত (দাসত্ব ও সাহায্য প্রার্থনা)

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সৃষ্টির লক্ষ্য হলো দাসত্ব অর্জন করা

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দাসত্ব ও সাহায্য প্রার্থনার গুরুত্ব এবং এদের মধ্যকার পারস্পরিক আবশ্যকতা বাস্তবায়ন

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি" এর স্তরসমূহে সৃষ্টির শ্রেণিবিভাগ

দ্বিতীয় অধ্যায়: মানুষের দাসত্ব

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী ও রাসূলগণের দাসত্ব -তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক-

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সর্বশেষ নবী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাসত্ব

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রাসূলগণের মধ্যে বিশেষভাবে উলুল আযম বা দৃঢ়চেতা রাসূলগণের দাসত্ব -তাঁদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক-

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাধারণ রাসূলগণের দাসত্ব -তাঁদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক-

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ মানুষের দাসত্ব

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর দাসত্ব

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবীদের হাওয়ারী বা সহচর এবং তাঁদের সাথীদের দাসত্ব

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাধারণ সৃষ্টির দাসত্ব

তৃতীয় অধ্যায়

ফেরেশতা ও জিনের দাসত্ব

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের দাসত্ব

এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ফেরেশতাদের পরিচয়
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ৮)
المطلب الثاني: حكم الإيمان بالملائكة

المطلب الثالث: مكانتهم وخلقتهم

المطلب الرابع: أعداد الملائكة

المطلب الخامس: مهام ووظائف الملائكة

المطلب السادس: عبادة الملائكة

المبحث الثاني: عبودية الجنِّ

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: التعريف بالجنِّ

المطلب الثاني: حقيقة وجود الجنِّ وتكليفهم بالعبادة

المطلب الثالث: رسالة النبي صلى الله عليه وسلم عامة لجميع عموم الثقلين

الفصل الرابع

عبودية الكائنات

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: عبودية الكائنات لله عبودية غلبة وقهر

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: غني الخالق عن خلقه، وافتقار جميع خلقه إليه

المطلب الثاني: سجود جميع الكائنات لله وخضوعها لسلطانه

المطلب الثالث: تسبيح الكائنات لخالقها - سبحانه -

المبحث الثاني: ذكر نماذج من تسبيح الكائنات

وفيه مطالب:

المطلب الأول: تسبيح الرعد خاصة

المطلب الثاني: تسبيح جميع كائنات العالم العلوي والسفلي كلها

المطلب الثالث: مشاهد من عبودية الطير في القرآن

المطلب الرابع: مشاهد من عبودية وتسبيح النمل وبعض المخلوقات

المطلب الخامس: مشاهد من عبودية بعض الجمادات كالحجارة والجبال
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের ওপর ঈমানের বিধান

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁদের মর্যাদা ও সৃষ্টিপ্রকৃতি

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের সংখ্যা

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের দায়িত্ব ও কার্যাবলি

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের ইবাদত

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জিনদের দাসত্ব

এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জিনের পরিচয়

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জিনদের অস্তিত্বের বাস্তবতা এবং ইবাদতের বিষয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত সকল মানব ও জিনের জন্য সর্বজনীন

চতুর্থ অধ্যায়

সৃষ্টিজগতের দাসত্ব

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি সৃষ্টিজগতের দাসত্ব হলো পরাভূত ও অনুগত হওয়ার দাসত্ব

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সৃষ্টির প্রতি স্রষ্টার অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর প্রতি সকল সৃষ্টির মুখাপেক্ষিতা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি সকল সৃষ্টির সিজদা এবং তাঁর কর্তৃত্বের সামনে তাদের মস্তক অবনত করা

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁদের স্রষ্টা—সুবহানাহু—এর প্রতি সৃষ্টিজগতের তাসবিহ পাঠ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সৃষ্টিজগতের তাসবিহ পাঠের কিছু নমুনা উল্লেখ

এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিশেষভাবে বজ্রের তাসবিহ পাঠ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের সকল সৃষ্টির তাসবিহ পাঠ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে বর্ণিত পাখিদের দাসত্বের কিছু দৃশ্য

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পিঁপড়া ও অন্যান্য কিছু সৃষ্টির দাসত্ব ও তাসবিহ পাঠের দৃশ্যসমূহ

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পাথর ও পাহাড়ের মতো কিছু জড় পদার্থের দাসত্বের দৃশ্যসমূহ
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب السادس: مشاهد من عبودية الطعام وتسبيحه

 

‌‌تفصيل منهجية البحث

‌‌أولًا: أهمية موضوع البحث

تكمن أهمية موضوع البحث في إبراز قدرة الله تعالى في خضوع كل مخلوقاته لجلاله وكبريائه وعظمته، وأن كل الكون خاضع لربه سواء كان هذا الخضوع خضوع اختيار وانقياد، أم كان خضوع قهر وغلبة، فلا يسع أحد من مخلوقاته

الخروج عن ربوبيته التي قهر بها جميع خلقه.

 

‌‌ثانيًا: أهم الدراسات السابقة وأبرزها

‌‌الدراسة الأولى:

"عبودية الكائنات لرب العالمين"، تأليف الباحث: فريد إسماعيل التوني، ط 1، عدد الأجزاء 1، وتلك الدراسة نال بها الباحث درجة الماجستير من كلية الدعوة وأصول الدين- جامعة أم القرى- بمكة المكرمة- بالمملكة العربية السعودية- وقد قامت الجامعة بنشرها عام 1411 هـ، كما نشرتها دار الإيمان للطباعة والنشر والتوزيع بالإسكندرية، عام 2015 م.

ولم يقف الباحث على أطروحة علمية تناولت بحث هذا الموضوع سوى هذه الدراسة.

 

‌‌وصف الدراسة:

قد تناول الباحث في تلك الدراسة الكلام على العبودية ومفهومها، ثم أعقبها بالكلام على مفهوم الكائنات وأنواعها، ثم تناول بيان أنواع العبادات، وأعقبها بالحديث عن عبودية الأنبياء، ثم ثنى بعبودية النبي صلى الله وسلم عليهم أجمعين، ثم ثلث بعبودية أتباع الأنبياء، ثم تناول عبودية الكائنات، ثم تناول أسباب انحراف الكثير من المسلمين عن معنى العبودية الحقة، ثم تكلم عن أسباب هذا الانحراف وآثاره وختمه ببيان طرق النجاة منه.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: খাদ্যের দাসত্ব এবং তার তাসবিহ পাঠের দৃশ্যসমূহ

 

‌‌গবেষণা পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ

‌‌প্রথমত: গবেষণার বিষয়ের গুরুত্ব

গবেষণার বিষয়ের গুরুত্ব আল্লাহ তাআলার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশের মধ্যে নিহিত, যেখানে তাঁর মহিমা, গরিমা এবং শ্রেষ্ঠত্বের সামনে তাঁর সমস্ত সৃষ্টি অনুগত। সমগ্র মহাবিশ্ব তার প্রতিপালকের অনুগত, চাই এই আনুগত্য স্বেচ্ছায় ও বাধ্যতার মাধ্যমে হোক, অথবা দমন ও পরাক্রমের মাধ্যমে হোক। তাঁর সৃষ্টিজগতের কারো পক্ষেই তাঁর রুবুবিয়াত বা প্রভুত্বের গণ্ডি থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়, যার দ্বারা তিনি তাঁর সকল সৃষ্টিকে বশীভূত করেছেন।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য গবেষণাসমূহ

‌‌প্রথম গবেষণা:

"রব্বুল আলামীনের প্রতি সৃষ্টিজগতের দাসত্ব", লেখক: গবেষক ফারিদ ইসমাইল আল-তুনি, ১ম সংস্করণ, খণ্ড সংখ্যা ১। এই গবেষণার মাধ্যমে গবেষক সৌদি আরব রাজ্যের পবিত্র মক্কায় অবস্থিত উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৪১১ হিজরিতে এটি প্রকাশ করেছে এবং মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার দারুল ইমান প্রকাশনী ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রকাশ করেছে। গবেষক এই গবেষণাটি ছাড়া এই বিষয়ে অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক থিসিস বা অভিসন্দর্ভ পাননি।

 

‌‌গবেষণার বিবরণ:

গবেষক এই গবেষণায় দাসত্ব (উবুদিয়্যাহ) এবং এর ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি সৃষ্টিজগতের ধারণা ও এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারপর ইবাদতের প্রকারভেদ বর্ণনা করেছেন এবং এর পরে নবীদের দাসত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অতঃপর নবী (তাঁর এবং সকল নবীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর দাসত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, এরপর নবীদের অনুসারীদের দাসত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারপর তিনি সৃষ্টিজগতের দাসত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি অনেক মুসলমানের প্রকৃত দাসত্বের অর্থ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণসমূহ আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি এই বিচ্যুতির কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় বর্ণনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১০)
وتلك الدراسة مع حسنها وبهائها فيها نوع توسع لأنها أطروحة علمية، وقد أجاد فيها الباحث وأفاد، وقد توسع في الشرح والاستدلال، وليته ضم إلى سبب انحراف الكثير من المسلمين عن معنى العبودية الحقة- انحراف عموم البشر عن الفطرة السوية والصبغة التي صبغهم الله عليها أول مرة.

 

‌‌الدراسة الثانية:

"عبودية الكون والكائنات"، تأليف: مؤيد حمدان، وجدان العلي. دار النشر: مؤسسة الجديد النافع للنشر والتوزيع -الكويت، والكتاب عبارة عن (غلاف) يقع في 256 صفحة، تاريخ النشر: 4/ 6/ 2021 م.

 

‌‌وصف الدراسة:

تكلم المؤلفان عنها فقالا:

الكون بكل ما فيه من مخلوقات وعجماوات وجمادات قد تعبد لله سبحانه وتعالى، فهو يعبده سبحانه حبًا وتعظيمًا، وتذللًا وتقديسًا، في مشهد غيبي عظيم تكرر ذكره القرآن مرارًا وتكرارًا، لن يفقه معناه إلا من استضاء بنور الوحي والإيمان.

ومن هنا جاءت فكرة هذا الكتاب ليكشف لنا حقيقة مفادها أننا إذا عبدنا الله سبحانه وتعالى فقد انسجمنا مع هذا الكون الفسيح بكل مخلوقاته وعوالمه الغيبية والمشاهدة.

والحقيقة لم يقف الباحث على هذه الدراسة، وهذا الكتاب لا يعد دراسة تأصيلية أو أطروحة علمية، لكنه يندرج تحت مسمى الكتابات الحرة، وهو يبدوا من أسلوب التعريف به أنه من كتابات الأقلام الشابة.

 

‌‌ثالثًا: أسباب ودواعي اختيار موضوع البحث

إن من أهم الدواعي والبواعث على تناول موضوع البحث بالمدارسة والمناقشة

التنبه لأمور من أبرزها ما يلي:

1 - تنبيه العباد إلى أن الغاية التي خلقهم الله لها وأوجدهم من العدم من أجلها هي عبادته وطاعته، فيجب عليهم التنبه لها والعناية بها والانقياد والاستجابة لأمره خالقهم والخضوع والذل له سبحانه وتحقيق العبودية لجلاله بمحض الإرادة والاختيار.
সেই গবেষণাটি অত্যন্ত চমৎকার ও সাবলীল হওয়া সত্ত্বেও তাতে কিছুটা বিস্তৃতি রয়েছে, কারণ সেটি একটি উচ্চতর গবেষণাপত্র। গবেষক তাতে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন এবং উপকৃত করেছেন, আর ব্যাখ্যা ও দলিল উপস্থাপনে তিনি প্রসারণ ঘটিয়েছেন। তিনি যদি প্রকৃত দাসত্বের অর্থ থেকে অনেক মুসলিমের বিচ্যুতির কারণের সাথে—মানুষের স্বভাবজাত সুস্থ প্রকৃতি (ফিতরাত) এবং আল্লাহ তাদের প্রথমবার যে রঞ্জনে রঞ্জিত করেছেন তা থেকে সাধারণ মানুষের বিচ্যুতিকেও সংযুক্ত করতেন, তবে ভালো হতো।

 

‌‌দ্বিতীয় গবেষণা:

"মহাবিশ্ব ও সৃষ্টিজগতের দাসত্ব", লেখক: মুআইয়াদ হামদান, ওয়াজদান আল-আলী। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান: মুয়াসসাসাতুল জাদিদ আন-নাফে' লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি - কুয়েত। বইটি একটি প্রচ্ছদবদ্ধ কাজ যা ২৫৬ পৃষ্ঠার ওপর বিন্যস্ত, প্রকাশের তারিখ: ৪/ ৬/ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ।

 

‌গবেষণার বিবরণ:

লেখকদ্বয় এ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন:

মহাবিশ্ব তার মধ্যকার সকল সৃষ্টি, জীবজন্তু ও জড় পদার্থসহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য দাসত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে তা ভালোবাসা, মহত্ত্ব, বিনয় ও পবিত্রতা সহকারে তাঁর ইবাদত করে; যা এক মহান অদৃশ্য দৃশ্যপটে বিদ্যমান এবং কুরআনে বারবার এর উল্লেখ এসেছে। ওহী এবং ঈমানের আলোয় আলোকিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ এর গূঢ় অর্থ অনুধাবন করতে পারবে না।

আর এখান থেকেই এই বইটির ভাবনার উৎপত্তি হয়েছে, যেন তা আমাদের সামনে এমন এক সত্য উন্মোচন করে যে—যখন আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত করি, তখন আমরা এই সুবিশাল মহাবিশ্ব, এর সকল সৃষ্টি এবং এর অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠি।

প্রকৃতপক্ষে, গবেষক এই গবেষণার ওপর নির্ভর করেননি। এই বইটি কোনো তাত্ত্বিক গবেষণা বা উচ্চতর গবেষণাপত্র হিসেবে গণ্য নয়, বরং এটি মুক্ত রচনার অন্তর্ভুক্ত। এর পরিচয় প্রদানের ধরন থেকে প্রতীয়মান হয় যে এটি তরুণ লেখকদের লেখনী।

 

‌‌তৃতীয়ত: গবেষণার বিষয় নির্বাচনের কারণ ও প্রেক্ষাপট

গবেষণা বিষয়ের অধ্যয়ন ও আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও প্রেরণাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

কতিপয় বিষয়ে সতর্ক হওয়া, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:

১ - বান্দাদের এই বিষয়ে সতর্ক করা যে, আল্লাহ তাদের যে মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন এবং অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, তা হলো তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য। সুতরাং তাদের কর্তব্য হলো এ বিষয়ে সজাগ হওয়া, এর প্রতি যত্নবান হওয়া, তাদের স্রষ্টার নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ ও সাড়া দেওয়া এবং তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার সামনে বশ্যতা ও বিনয় প্রকাশ করা। সেই সাথে নিরঙ্কুশ ইচ্ছা ও পছন্দের মাধ্যমে তাঁর মাহাত্ম্যের জন্য প্রকৃত দাসত্ব অর্জন করা।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১১)
2 - السعي في إبراز عظمة الخالق في خضوع جميع مخلوقاته- سبحانه- مع تعددها وتنوعها وكثرتها، وأن تلك المخلوقات بعالمها العلوي والسفلي منقادة لأمره جل في علاه، فعلى الإنسان العاقل الناصح لنفسه الحريص على نفعها وفكاكها من النار سلوك مسلك تلك الكائنات والحرص على تحقيق العبودية لرب البريات قبل الحسرة والفوات.

 

‌‌رابعًا: أهداف البحث

تُعد من أبرز أهداف البحث الحث على تحقيق الإيمان بالله وزيادته والثبات عليه وذلك بالدعوة للتأمل في عظمة الله في عالمه العلوي والسفلي الذي خضع لخالقه وبارئه جلَّ في علاه.

 

‌‌خامسًا: منهج البحث

لقد استخدم الباحث المنهج الوصفي الذي يُعد أحد أهم أساليب مناهج البحث العلمي.

وقد تناول الباحث فيه معنى العبودية وأقسامها ووصف حقيقتها، ثم عرَّج على وصف شرطي تحقيقها، ثم انتقل لوصف عبودية البشر خواصهم وعمومهم، ثم انتقل لوصف عبودية العالم العلوي والعالم السفلي بعموم مخلوقاته، ثم ختم بحثه بعرض وصف لنماذج من تسبيح الكائنات.
২ - সৃষ্টিকর্তার সকল সৃষ্টির আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর মহিমা ফুটিয়ে তোলার প্রচেষ্টা করা - তিনি পবিত্র - সৃষ্টির বহুত্ব, বৈচিত্র্য এবং আধিক্য থাকা সত্ত্বেও। আর সেই সমস্ত সৃষ্টি—তাদের ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত সহ—তাঁর নির্দেশের অনুগত, তিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদায় সমাসীন। অতএব, বুদ্ধিমান মানুষের জন্য—যে নিজের কল্যাণকামী এবং নিজের উপকার ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী—উচিত হলো সেই সব সৃষ্টির পথ অনুসরণ করা এবং আক্ষেপ ও সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই সৃষ্টিজগতের রবের প্রতি দাসত্ব অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।

 

‌‌চতুর্থ: গবেষণার লক্ষ্যসমূহ

আল্লাহর প্রতি ঈমান অর্জন, এর বৃদ্ধি এবং এর ওপর অটল থাকার প্রতি উৎসাহিত করা এই গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আর এটি করা হয়েছে আল্লাহর ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতে তাঁর মহিমা নিয়ে চিন্তা করার দাওয়াতের মাধ্যমে, যে জগত তার সৃষ্টিকর্তা ও উদ্ভাবকের প্রতি অনুগত, তিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদায় সুমহান।

 

‌‌পঞ্চম: গবেষণা পদ্ধতি

গবেষক এখানে বর্ণনামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত।

গবেষক এতে দাসত্বের অর্থ, এর প্রকারভেদ এবং এর প্রকৃত স্বরূপ আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি এটি অর্জনের দুটি শর্তের বর্ণনার দিকে অগ্রসর হয়েছেন। এরপর তিনি সাধারণ ও বিশেষ মানুষের দাসত্বের বর্ণনায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অতঃপর তিনি ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের সাধারণ সৃষ্টিসমূহের দাসত্বের বর্ণনায় এগিয়ে গিয়েছেন। সবশেষে তিনি বিভিন্ন সৃষ্টির তাসবীহ পাঠের কিছু নমুনার বর্ণনার মাধ্যমে গবেষণার সমাপ্তি টেনেছেন।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الأول

تعريف العبودية

وفيه مبحثان:

 

‌‌المبحث الأول: مفهوم العبودية

وفيه مطلبان:

 

‌‌المطلب الأول: مفهوم العبودية في اللغة

‌‌العبودية: مصدر عبد يعبد عبادةً ومعبدًا ومعبدةً، فهو عبدٌ، أي: ذلّ وخضع.

‌‌قال الخليل:

«أما عَبد يعبد عبادة، فلا يقال إلا لمن يعبد الله تعالى، يقال منه: عبد يعبد عبادة وعبودة وعبودية ومعبدًا، وتعبد يتعبد تعبدًا، فالمتعبد: المنفرد بالعبادة»(1).

ويجلي ابن منظور ا مفهوم العبودية في اللغة فيقول:

«أصل العبودية الخضوع والتذلل … وعَبَدَ اللهَ تألّه له … والتعبّد التنسك، والعبادة: الطاعة»(2).

 

‌‌وقال الفراء:

«معنى العبادة في اللغة: الطاعة مع الخضوع، ومنه طريق معبد إذا كان مذللًا بكثرة الوطء»(3).

قال الراغب: العبودية: إظهار التذلل، والعبادة أبلغ منها لأنها غاية التذلل.(4)

--------------------------------------------

(1) العين (2/ 48).

(2) لسان العرب (5/ 2776)، مادة: (ع ب د). لسان العرب المؤلف: محمد بن مكرم بن على، أبو الفضل، جمال الدين ابن منظور الأنصاري الرويفعى الإفريقي (المتوفى: 711 هـ) الناشر: دار صادر - بيروت الطبعة: الثالثة - 1414 هـ عدد الأجزاء: 15.

(3) لسان العرب (5/ 2778)، مادة: (ع ب د).

(4) - مفردات ألفاظ القرآن، للراغب الأصفهاني (ص: 542). المفردات في غريب القرآن المؤلف: أبو القاسم الحسين بن محمد المعروف بالراغب الأصفهانى (المتوفى: 502 هـ) المحقق: صفوان عدنان الداودي الناشر: دار القلم، الدار الشامية - دمشق بيروت الطبعة: الأولى - 1412 هـ.
প্রথম পরিচ্ছেদ

'উবুদিয়্যাহর সংজ্ঞা

এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: 'উবুদিয়্যাহর ধারণা

এতে দুইটি আলোচনা রয়েছে:

 

‌‌প্রথম আলোচনা: অভিধানে 'উবুদিয়্যাহর ধারণা

‌‌'উবুদিয়্যাহ: এটি 'আবাদা-ইয়া'বুদু-ইবাদাতান-মা'বাদান-মা'বাদাতান এর ক্রিয়ামূল। সুতরাং সে হলো 'আবদ' (দাস), অর্থাৎ: সে বিনীত ও অনুগত হলো।

‌‌খলীল বলেন:

«যখন 'আবাদা-ইয়া'বুদু-ইবাদাতান' বলা হয়, তখন এটি একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদতকারীর ক্ষেত্রেই বলা হয়। এটি থেকে নির্গত শব্দগুলো হলো: 'আবাদা-ইয়া'বুদু-ইবাদাতান-উবুদাতান-উবুদিয়্যাতান এবং মা'বাদান। আর 'তা'আববাদা-ইয়াতা'আববাদু-তা'আববুদান' অর্থ ইবাদতে মগ্ন হওয়া। সুতরাং 'মুতায়াব্বিদ' হলো সেই ব্যক্তি যে একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করে»(১)।

ইবনে মানযুর অভিধানে 'উবুদিয়্যাহর ধারণা স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেন:

«'উবুদিয়্যাহর মূল অর্থ হলো আনুগত্য ও বিনীত হওয়া ... আর আল্লাহর ইবাদত করা মানে তাঁর জন্য উপাসনা করা ... আর 'তা'আববুদ' হলো ইবাদত-বন্দেগি করা, আর 'ইবাদাত' হলো আনুগত্য করা»(২)।

 

‌‌ফাররা বলেন:

«অভিধানে ইবাদতের অর্থ হলো: বিনয়ের সাথে আনুগত্য প্রকাশ করা। এ থেকেই এসেছে 'সমতল পথ' (তরিকুম মু'আব্বাদ), যা অতিরিক্ত চলাচলের কারণে যাতায়াত উপযোগী বা নমনীয় হয়েছে»(৩)।

রাগেব বলেন: 'উবুদিয়্যাহ' হলো বিনয় প্রকাশ করা, আর 'ইবাদাত' হলো তার চেয়েও গভীর; কারণ তা হলো বিনয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।(৪)

--------------------------------------------

(১) আল-আইন (২/ ৪৮)।

(২) লিসানুল আরব (৫/ ২৭৭৬), মূলশব্দ: (আ বা দা)। লিসানুল আরব, লেখক: মুহাম্মদ ইবনে মুকরিম ইবনে আলী, আবুল ফজল, জামালুদ্দিন ইবনে মানযুর আল-আনসারি আল-রুয়াইফি আল-ইফ্রিকি (মৃত্যু: ৭১১ হিজরি)। প্রকাশক: দারু সাদির - বৈরুত। সংস্করণ: তৃতীয় - ১৪১৪ হিজরি। খণ্ড সংখ্যা: ১৫।

(৩) লিসানুল আরব (৫/ ২৭৭৮), মূলশব্দ: (আ বা দা)।

(৪) - মুফরাদাতু আলফাযিল কুরআন, রাগেব আল-আসফাহানি (পৃষ্ঠা: ৫৪২)। আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন, লেখক: আবুল কাসিম আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ, যিনি রাগেব আল-আসফাহানি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৫০২ হিজরি)। গবেষক: সাফওয়ান আদনান দাউদি। প্রকাশক: দারুল কালাম, আদ-দারুশ শামিয়্যাহ - দামেস্ক বৈরুত। সংস্করণ: প্রথম - ১৪১২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقيل: «عبادة الله: طاعته بفعل المأمور وترك المحذور»(1).

 

‌‌وقال ابن الأنباري رحمه الله-:(2)

«فلان عابد وهو الخاضع لربه المستسلم المنقاد لأمره»(3).

 

‌‌وقال الزبيدي رحمه الله-:

«أصل العبودية الذل والخضوع، وقال آخرون: العبودية الرضا بما يفعل الرب، والعبادة فعل ما يرضى به الرب»(4).

فالعبادة إذًا: الطاعة المقرونة بالذل والخضوع.

 

‌‌المطلب الثاني: مفهوم العبودية في الشرع

‌‌والعبودية مشتقة من العبادة، وقد عرّفها شيخ الإسلام ابن تيمية (ت: 728 هـ) رحمه الله بقوله:

«هِيَ اسْم جَامع لكل مَا يُحِبهُ الله ويرضاه من الْأَقْوَال والأعمال الْبَاطِنَة وَالظَّاهِرَة»(5)، وقيل: «وَهِيَ اسْمٌ يَجْمَعُ كَمَالَ الْحُبِّ لِلَّهِ وَنِهَايَتَهُ وَكَمَالَ الذُّلِّ لِلَّهِ وَنِهَايَتَهُ»(6).

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية العبودية، العبودية المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (المتوفى: 728 هـ) المحقق: محمد زهير الشاويش الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت الطبعة: الطبعة السابعة المجددة 1426 هـ - 2005 م.

(2) هو الإمام الحافظ اللغوي ذو الفنون محمد بن القاسم بن محمد بن بشار بن الحسن بن بيان ابن سماعة بن فروة بن قطة بن دعامة أبو بكر الأنباري. (271 هـ - 328 هـ) المقرئ النحوي. نقلًا عن: الموسوعة الحرة.

(3) لسان العرب (5/ 2778)، مادة: (ع ب د).

(4) تاج العروس (2/ 409).

(5) العبودية لابن تيمية (ص: 44).

(6) مجموع الفتاوى (10/ 19).
বলা হয়েছে: "আল্লাহর ইবাদত হলো: তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জনের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করা।"(১).

 

‌‌এবং ইবনুল আম্বারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন-:(২)

«অমুক ব্যক্তি একজন ইবাদতকারী (আবিদ), অর্থাৎ সে তার রবের প্রতি বিনয়ী, আত্মসমর্পণকারী এবং তাঁর আদেশের অনুগত»(৩).

 

‌‌এবং আয-যাবিদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন-:

«উবুদিয়্যাত বা দাসত্বের মূল হলো হীনতা ও বিনয় প্রকাশ করা। অন্যরা বলেছেন: রবের কাজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকাই হলো উবুদিয়্যাত, আর রব যা করতে পছন্দ করেন তা সম্পাদন করাই হলো ইবাদত»(৪).

সুতরাং ইবাদত হলো: হীনতা ও বিনয় মিশ্রিত আনুগত্য।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরিয়তের পরিভাষায় উবুদিয়্যাত-এর ধারণা

‌‌উবুদিয়্যাত শব্দটি ইবাদত থেকে উদ্ভূত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (ওফাত: ৭২৮ হি.) রহিমাহুল্লাহ একে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন:

«এটি এমন এক ব্যাপক অর্থবোধক নাম, যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে»(৫), এবং বলা হয়েছে: «এটি এমন এক নাম যা আল্লাহর প্রতি চরম ভালোবাসা এবং আল্লাহর প্রতি চরম বিনয় ও হীনতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশকে সমন্বয় ঘটায়»(৬).

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-উবুদিয়্যাত। লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বালি আদ-দিমাশকি (ওফাত: ৭২৮ হি.)। মুহাক্কিক: মুহাম্মাদ যুহাইর আশ-শাভিশ। প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত। সংস্করণ: সপ্তম সংস্করণ পরিমার্জিত ১৪২৬ হি. - ২০০৫ খ্রি.।

(২) তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, ভাষাবিদ, বহুবিদ্যায় পারদর্শী মুহাম্মাদ বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন বাশশার বিন আল-হাসান বিন বায়ান ইবনে সুমা'আ বিন ফারওয়াহ বিন কুততাহ বিন দা'আমাহ আবু বকর আল-আম্বারি। (২৭১ হি. - ৩২৮ হি.)। কারী ও ব্যাকরণবিদ। সূত্র: আল-মাওসুআ আল-হুররা।

(৩) লিসানুল আরব (৫/ ২৭৭৮), মূলশব্দ: (আ-বা-দা)।

(৪) তাজুল আরুস (২/ ৪০৯)।

(৫) ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-উবুদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ৪৪)।

(৬) মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/ ১৯)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولا شك أن تعريف شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعريف جامع مانع، وهو أفضل مَن عرف معنى العبودية وكتابه: (العبودية) شاهد عيان على ذلك، وقد عرض فيها حقيقة العبودية في الإسلام بشموليتها وكمالها وتمامها، وهو من أنفع وأمتع ما كُتِبَ في بابه تحقيقًا وتدقيقًا وسبكًا وحبكًا للأسلوب وعرضًا للمادة العلمية، لم لا وهو إمام جهبذ وعالم نحرير ما جادت لنا بمثله الأرحام من ذاك الزمان.

 

‌‌وقال ابن القيم (ت: 751 هـ) رحمه الله-:

«العبودية اسم جامع لمراتب أربع: من قول اللسان والقلب، وعمل القلب والجوارح.

فقول القلب هو اعتقاد ما أخبر الله سبحانه به عن نفسه وعن أسمائه وصفاته وأفعاله وملائكته على لسان رسله عليهم السلام.

وقول اللسان الإخبار عن قول القلب بما فيه من الاعتقاد والدعوة إليه والذّب عنه، وتبيين بطلان البدع المخالفة والقيام بذكره وتبليغ أوامره.

وعمل القلب كالمحبة له والتوكل عليه والإنابة إليه والخوف منه والرجاء له وإخلاص الدين له والصبر على أوامره وعن نواهيه وعلى أقداره والمعاداة فيه والخضوع والذل له وغير ذلك من أعمال القلب.

وأعمال الجوارح كالصلاة والحج والجهاد وغيرها»(1).

 

‌‌ويُعرِّفها المناوي (ت: 1031 هـ) رحمه الله: بقوله:

«العبادة فعل المكلف على خلاف هوى نفسه تعظيمًا لربه. وقيل: هي الأفعال الواقعة على نهاية ما يمكن من التذلل والخضوع المتجاوز لتذلل بعض العباد لبعض، ولذلك اختصت بالرب، وهي أخص من العبودية التي تعني مطلق التذلل»(2).

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين (1/ 100). مدارج السالكين بين منازل إياك نعبد وإياك نستعين المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (المتوفى: 751 هـ) المحقق: محمد المعتصم بالله البغدادي الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت الطبعة: الثالثة، 1416 هـ - 1996 م عدد الأجزاء: 2.

(2) التوقيف على مهمات التعاريف للمناوي (234). التوقيف على مهمات التعاريف المؤلف: زين الدين محمد المدعو بعبد الرؤوف بن تاج العارفين بن علي بن زين العابدين الحدادي ثم المناوي القاهري (المتوفى: 1031 هـ) الناشر: عالم الكتب 38 عبد الخالق ثروت-القاهرة الطبعة: الأولى، 1410 هـ-1990 م عدد الأجزاء: 1.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দেওয়া সংজ্ঞাটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ সংজ্ঞা। তিনিই ইবাদাত বা দাসত্বের অর্থের সর্বোত্তম সংজ্ঞাদানকারী এবং তাঁর রচিত 'আল-উবুদিয়্যাহ' গ্রন্থটি এর এক বাস্তব প্রমাণ। এতে তিনি ইসলামের দাসত্বের প্রকৃত রূপকে এর সামগ্রিকতা, পূর্ণতা ও সমাপ্তিসহ উপস্থাপন করেছেন। গবেষণা, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, শৈল্পিক রচনাশৈলী এবং ইলমি বিষয়বস্তু উপস্থাপনের দিক থেকে এটি এই বিষয়ে লিখিত সবচেয়ে উপকারী ও উপভোগ্য গ্রন্থগুলোর একটি। কেনই বা হবে না, অথচ তিনি এমন এক বিদগ্ধ ইমাম এবং প্রাজ্ঞ আলেম, যাঁর মতো ব্যক্তিত্ব সেই জামানা থেকে আজ পর্যন্ত গর্ভধারিণী মায়েরা আর জন্ম দিতে পারেনি।

 

‌‌ইবনুল কাইয়্যিম (মৃত্যু: ৭৫১ হিজরি) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন-:

«উবুদিয়্যাহ বা দাসত্ব হলো চারটি স্তরের একটি সামষ্টিক নাম: জিহ্বা ও অন্তরের কথা এবং অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ।

অন্তরের কথা হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বীয় রাসূলগণের মুখে নিজের সম্পর্কে এবং নিজের নাম, গুণাবলি, কার্যাবলি ও ফেরেশতাদের সম্পর্কে যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন, সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।

জিহ্বার কথা হলো—অন্তরে যে বিশ্বাস রয়েছে তা ব্যক্ত করা, তার দিকে দাওয়াত দেওয়া, তাকে রক্ষা করা, এর বিরোধী বিদআতগুলোর অসারতা স্পষ্ট করা, আল্লাহর যিকির সম্পাদন করা এবং তাঁর নির্দেশাবলি পৌঁছে দেওয়া।

অন্তরের কাজ হলো—আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা, তাঁর অভিমুখী হওয়া, তাঁকে ভয় করা, তাঁর নিকট আশা রাখা, দ্বীনকে একমাত্র তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করা, তাঁর আদেশ পালনে, নিষেধ বর্জনে এবং তাঁর নির্ধারিত তাকদীরের ওপর ধৈর্য ধারণ করা, তাঁর সন্তুষ্টির জন্য শত্রুতা পোষণ করা এবং তাঁর সামনে বিনয় ও হীনতা প্রকাশ করাসহ অন্তরের অন্যান্য কার্যাবলি।

আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ হলো যেমন—নামাজ, হজ, জিহাদ এবং অন্যান্য কাজ»(১).

 

‌‌আল-মুনাউয়ি (মৃত্যু: ১০৩১ হিজরি) রাহিমাহুল্লাহ একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন:

«ইবাদাত হলো—মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) কর্তৃক তার রবের মহত্ত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রবৃত্তির চাহিদার বিপরীতে কোনো কাজ করা। কারো মতে: এটি এমন এক চরম পর্যায়ের হীনতা ও বিনয় প্রকাশের মাধ্যমে সম্পাদিত কাজ, যা এক বান্দা অপর বান্দার প্রতি যে বিনয় প্রকাশ করে তার সীমা অতিক্রম করে যায়। এই কারণেই এটি রবের জন্য সুনির্দিষ্ট। আর এটি উবুদিয়্যাহ (দাসত্ব) অপেক্ষা অধিকতর সুনির্দিষ্ট অর্থ বহন করে, যা কেবল সাধারণ বিনয় প্রকাশকে বোঝায়»(২).

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন (১/ ১০০)। মাদারিজুস সালিকিন বাইনা মানাযিলি ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন। লেখক: মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭৫১ হিজরি)। মুহাক্কিক: মুহাম্মদ আল-মুতাসিম বিল্লাহ আল-বাগদাদি। প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত। সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ। খণ্ড সংখ্যা: ২।

(২) আল-মুনাউয়ি রচিত আত-তাওকিফ আলা মুহিম্মাতিত তারিফ (২৩৪)। আত-তাওকিফ আলা মুহিম্মাতিত তারিফ। লেখক: যাইনুদ্দিন মুহাম্মদ, যিনি আব্দুর রউফ বিন তাজুল আরিফিন বিন আলি বিন যাইনুল আবিদিন আল-হাদ্দাদি আল-মুনাউয়ি আল-কাহিরি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ১০৩১ হিজরি)। প্রকাশক: আলমুল কুতুব, ৩৮ আব্দুল খালিক ছারওয়াত - কায়রো। সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ। খণ্ড সংখ্যা: ১।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الثاني: بيان أقسام العبودية

وفيه خمسة مطالب:

 

‌‌المطلب الأول: القسم الأول من أقسام العبودية "عبودية الغلبة والقهر والملك"

وهي عبودية كل من في السماوات والأرض مؤمنهم وكافرهم، برّهم وفاجرهم، قال تعالى: (إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آَتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا لَقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا وَكُلُّهُمْ آَتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا) [مريم: 93 - 95]، كما تسمى أيضًا بالعبودية العامة.

 

‌‌يقول شيخ المفسرين ابن جرير الطبري (ت: 310 هـ) رحمه الله-:

«ما جميع من في السماوات من الملائكة، وفي الأرض من البشر والإنس، يقول: إلا يأتي ربه يوم القيامة عَبْدًا له، ذليلًا خاضعًا، مُقِرًّا له بالعبودية، لا نسب بينه وبينه(1).

 

‌‌ويقول البغوي (ت: 510 هـ) رحمه الله-:

(إِلَّا آَتِي الرَّحْمَنِ) أي: إلا آتيه يوم القيامة (عَبْدًا) ذليلًا خاضًعا يعني: أن الخلق كلهم عبيده(2).

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري: القول في تأويل قوله تعالى: (أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا) [مريم: 91] (18/ 261). جامع البيان في تأويل القرآن المؤلف: محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري (المتوفى: 310 هـ) المحقق: أحمد محمد شاكر الناشر: مؤسسة الرسالة الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م عدد الأجزاء: 24.

(2) تفسير البغوي: تفسير: قوله تعالى [مريم: 91] (5/ 527). معالم التنزيل في تفسير القرآن، المؤلف: محيي السنة، أبو محمد الحسين بن مسعود بن محمد بن الفراء البغوي الشافعي (المتوفى: 510 هـ) المحقق: عبد الرزاق المهدي الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت الطبعة: الأولى، 1420 هـ عدد الأجزاء: 5.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দাসত্বের প্রকারভেদ বর্ণনা

এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: দাসত্বের প্রথম প্রকার "প্রভাব, পরাক্রম ও মালিকানাধীন দাসত্ব"

এটি হলো আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবার দাসত্ব; তাদের মুমিন ও কাফের, নেককার ও বদকার নির্বিশেষে। মহান আল্লাহ বলেন: "আসমানসমূহ ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে দয়াময় আল্লাহর কাছে দাস হিসেবে উপস্থিত হবে না। অবশ্যই তিনি তাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদের সংখ্যা গণনা করে রেখেছেন। আর কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকেই তাঁর কাছে একাকী উপস্থিত হবে।" [মারইয়াম: ৯৩-৯৫]। একে সাধারণ দাসত্বও বলা হয়।

 

‌মুফাসসিরকুলের শিরোমণি ইবনে জারীর আত-তাবারী (ওফাত: ৩১০ হিজরি) -রহিমাহুল্লাহ- বলেন:

«আসমানসমূহে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং জমিনে মানুষ ও মানবজাতির মধ্য থেকে যারা আছে তারা সবাই -তিনি বলেন- কিয়ামতের দিন তাঁর প্রতিপালকের কাছে তাঁর দাস হিসেবে উপস্থিত হবে, লাঞ্ছিত ও অনুগত অবস্থায়, তাঁর প্রতি দাসত্বের স্বীকৃতি প্রদানকারী হিসেবে। তাঁর ও তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক নেই(১)।

 

‌আল-বাগভী (ওফাত: ৫১০ হিজরি) -রহিমাহুল্লাহ- বলেন:

(ব্যতীত দয়াময় আল্লাহর কাছে আগমন করবে) অর্থাৎ: কিয়ামতের দিন তাঁর কাছে আসবে (দাস হিসেবে) লাঞ্ছিত ও অনুগত হয়ে। অর্থাৎ: সৃষ্টিজগত সবাই তাঁর দাস(২)।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে তাবারী: মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: (যেহেতু তারা দয়াময় আল্লাহর জন্য সন্তান দাবি করে) [মারইয়াম: ৯১] (১৮/ ২৬১)। জামিউল বায়ান ফী তা'উীলিল কুরআন, লেখক: মুহাম্মদ ইবনে জারীর ইবনে ইয়াযীদ ইবনে কাসীর ইবনে গালিব আল-আমুলি, আবু জাফর আত-তাবারী (মৃত্যু: ৩১০ হি.), মুহাক্কিক: আহমদ মুহাম্মদ শাকের, প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হি. - ২০০০ খ্রি., খণ্ড সংখ্যা: ২৪।

(২) তাফসীরে বাগভী: মহান আল্লাহর বাণীর তাফসীর [মারইয়াম: ৯১] (৫/ ৫২৭)। মাআলিমুত তানযীল ফী তাফসীরিল কুরআন, লেখক: মুহিউস সুন্নাহ, আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফারা আল-বাগভী আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু: ৫১০ হি.), মুহাক্কিক: আব্দুর রাজ্জাক আল-মাহদী, প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবী - বৈরুত, সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হি., খণ্ড সংখ্যা: ৫।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ويقرر أبو السعود (ت: 982 هـ) رحمه الله: ما قرراه، أعني: شيخَ المفسرين، والإمامَ البغوي بقوله:

«أي: ما منهم أحد من الملائكة والثقلين (إِلَّا آَتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا) إلا وهو مملوك له، وهو مملوك له، يأوي إليه بالعبودية والانقياد»(1).

 

‌‌وفي صدد ذلك يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله-:

«المخلوقون كلُّهم عبادُ الله: الأبرار منهم والفجَّار، والمؤمنون والكفَّار، وأهل الجنَّة وأهل النار؛ إذ هو ربُّهم كلهم ومليكُهم، لا يخرجون عن مشيئتِه وقدرته … فهو سبحانه ربُّ العالمين وخالقُهم ورازقُهم، ومُحييهم ومميتُهم … سواء اعترَفوا بذلك أو أنْكروه، وسواء علِموا ذلك أو جهلوه.

لكنَّ أهلَ الإيمان منهم عرَفوا ذلك وآمَنوا به؛ بخلافِ مَن كان جاهلًا بذلك؛ أو جاحدًا له مستكبرًا على ربِّه … »(2).

 

‌‌يقول ابنُ القيِّمُ (ت: 751 هـ) رحمه الله-:

إنّ تمام العبوديةِ يكون بتكميل مقام الذلِّ والانقياد، وأكملُ الخلقِ عبودية أكملهم ذلاً لله وانقياداً وطاعة، والعبدُ ذليلٌ لمولاه الحقِّ بكل وجه من وجوه الذلّ، فهو ذليلٌ لعزِّه، وذليلٌ لقهره، وذليلٌ لربوبيته فيه وتصرُّفهِ، وذليلٌ لإحسانِه إليه وإنعامه عليه.(3)

وفي صدد بيان هذه العبودية أيضًا يقول سبحانه: (أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ) [آل عمران: 83].

--------------------------------------------

(1) تفسير أبي السعود: تفسير قوله تعالى (إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آَتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا) [مريم: 93]، (5/ 283).

(2) العبودية لابن تيمية: ينظر (ص: 50 - 51)، و ينظر: أيضًا (ص: 104).

(3) - مفتاح دار السعادة (1/ 289). مفتاح دار السعادة ومنشور ولاية العلم والإرادة، المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية (691 هـ - 751 هـ) المحقق: عبد الرحمن بن حسن بن قائد، راجعه: مُحَمَّدْ أَجْمَل الإصْلاحِي، سليمان بن عبد الله العمير، الناشر: دار عالم الفوائد، مكة المكرمة، الطبعة: الأولى، 1432 هـ، عدد الأجزاء: 5.
‌‌আবুস সাউদ (মৃত: ৯৮২ হি.) রহমাতুল্লাহি আলাইহি তা-ই ব্যক্ত করেছেন যা তাঁরা দু’জন অর্থাৎ মুফাসসিরদের প্রধান এবং ইমাম বাগাভী ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন:

«অর্থাৎ: ফেরেশতাকুল এবং জিন ও ইনসানের মধ্যে এমন কেউ নেই যে (দয়াময় আল্লাহর নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না), বরং সে তাঁরই মালিকানাধীন। সে তাঁরই মালিকানাধীন এবং সে তাঁরই নিকট দাসত্ব ও আনুগত্য নিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে»(১).

 

‌‌এ প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-:

«সকল সৃষ্টিই আল্লাহর বান্দা: তাদের মধ্যে পুণ্যবান হোক বা পাপাচারী, মুমিন হোক বা কাফির, জান্নাতী হোক বা জাহান্নামী; কারণ তিনি তাদের সকলের রব ও মালিক। তারা তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতার বাইরে যেতে পারে না … তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা জগতসমূহের রব, তাদের স্রষ্টা, তাদের রিযিকদাতা, তাদের জীবনদানকারী ও মৃত্যুদানকারী … তারা তা স্বীকার করুক বা অস্বীকার করুক, তারা তা জানুক বা এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকুক।

তবে তাদের মধ্যে যারা ঈমানদার, তারা তা জেনেছে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে; পক্ষান্তরে যারা এ বিষয়ে অজ্ঞ ছিল কিংবা তা অস্বীকার করে তাদের রবের প্রতি অহংকার প্রদর্শন করেছে তাদের বিষয়টি ভিন্ন … »(২).

 

‌‌ইবনুল কাইয়্যিম (মৃত: ৭৫১ হি.) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-:

দাসত্বের পূর্ণতা লাভ হয় বিনয় ও আনুগত্যের স্তর পূর্ণ করার মাধ্যমে। সৃষ্টির মধ্যে দাসত্বে সেই ব্যক্তিই সবচাইতে পূর্ণাঙ্গ, যে আল্লাহর প্রতি বিনয়, আনুগত্য ও পালনে সবচাইতে বেশি পূর্ণ। বান্দা তার সত্য মাবুদের সামনে বিনয়ের প্রতিটি দিক থেকেই বিনয়ী; সে বিনয়ী তাঁর মর্যাদার সামনে, বিনয়ী তাঁর পরাক্রমের সামনে, বিনয়ী তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও পরিচালনার সামনে এবং বিনয়ী তাঁর ইহসান ও নিআমতের সামনে।(৩)

এই দাসত্বের বর্ণনায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: (তবে কি তারা আল্লাহর দীনের পরিবর্তে অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তাঁরই অনুগত হয়েছে এবং তাঁরই কাছে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।) [আল ইমরান: ৮৩]।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে আবুস সাউদ: আল্লাহ তাআলার বাণী (আসমান ও জমিনে এমন কেউ নেই যে দয়াময় আল্লাহর নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না) [মারইয়াম: ৯৩]-এর তাফসীর, (৫/ ২৮৩)।

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত আল-উবুদিয়্যাহ: দেখুন (পৃ: ৫০ - ৫১), এবং আরও দেখুন: (পৃ: ১০৪)।

(৩) - মিফতাহু দারিস সাআদাহ (১/ ২৮৯)। মিফতাহু দারিস সাআদাহ ওয়া মানশুরু বিলায়াতিল ইলমি ওয়াল ইরাদাহ, লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (৬৯১ হি. - ৭৫১ হি.), মুহাক্কিক: আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন কায়িদ, পর্যালোচনা: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহী, সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর, প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়াইদ, মক্কা মুকাররামা, সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হি., খণ্ড সংখ্যা: ৫।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويقول سبحانه: (وَقَالُواْ اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ ?بَل لَّهُ? مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلٌّ لَّهُ? قَانِتُونَ) [البقرة: 116].

 

‌‌وفي بيان معنى القنوت الوارد في قول الله تعالى: (كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ)

‌‌يقول شيخ المفسرين ابن جرير الطبري رحمه الله-:

«وأولى معاني القنوت في قوله: (كُلٌّ لَّهُ? قَانِتُونَ) الطاعة والإقرار لله عز وجل بالعبودية بشهادة أجسامهم بما فيها من آثار الصنعة، والدلالة على وحدانية الله عز وجل، وأن الله تعالى ذكره بارئها وخالقها، وذلك أن الله جل ثناؤه أكذب الذين زعموا أن لله ولدًا بقوله: (لَّهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ) [البقرة: 116] ملكًا وخلقًا، ثم أخبر عن جميع ما في السماوات والأرض أنها مقرة بدلالتها على ربها وخالقها، وأن الله تعالى بارئها وصانعها، وإن جحد ذلك بعضهم فألسنتهم مذعنة له بالطاعة بشهادتها له بآثار الصنعة التي فيها بذلك، وأن المسيح أحدهم، فأنَّى يكون لله ولدًا وهذه صفته؟!»(1).

ويقول الله تعالى: (أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا) [آل عمران: 83]

 

‌‌قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله-:

«فذكر إسلام الكائنات طوعًا وكرهًا؛ لأن المخلوقات جميعها متعبّدةٌ له التعبد العام، سواءٌ أقر المقر بذلك أو أنكره، وهم مدينون له مُدبّرون، فهم مسلمون له طوعًا وكرهًا، ليس لأحد من المخلوقات خروجٌ عما شاءه وقدّره وقضاه، ولا حول ولا قوة إلا به، وهو رب العالمين ومليكهم، يُصرّفهم كيف يشاء، وهو خالقهم كلّهم، وبارئهم ومُصورهم، كل ما سواه فهو مربوب مصنوعٌ مفطورٌ، فقيرٌ محتاجٌ معبَّد مقهورٌ، وهو سبحانه الواحد القهار الخالق البارئ المصوّر»(2).

 

‌‌المطلب الثاني: القسم الثاني من أقسام العبودية "عبودية الاختيار والانقياد والطاعة والمحبة"

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري: (1/ 507 - 508).

(2) العبودية (ص 145).
এবং মহান আল্লাহ বলেন: (তারা বলে, 'আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।' তিনি পবিত্র! বরং আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর; সবকিছুই তাঁর অনুগত।) [আল-বাকারাহ: ১১৬]।

 

‌‌আল্লাহ তায়ালার বাণী: (সবকিছুই তাঁর অনুগত)—এর মধ্যে উল্লিখিত 'কুনুত' (আনুগত্য)-এর অর্থ বর্ণনায়:

‌‌মুফাসসিরকূল শিরোমণি ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন-:

«আল্লাহর বাণী: (সবকিছুই তাঁর অনুগত)-এর মধ্যে 'কুনুত'-এর সবচেয়ে উপযুক্ত অর্থ হলো—আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার প্রতি আনুগত্য এবং দাসত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা; তাদের দেহের মধ্যে বিদ্যমান নিপুণ কারুকার্যের নিদর্শনের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে, যা আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার একত্বের প্রমাণ দেয় এবং এ কথা প্রকাশ করে যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের উদ্ভাবক ও স্রষ্টা। এটি এজন্য যে, যারা দাবি করেছিল আল্লাহর সন্তান আছে, আল্লাহ جل ثناؤه তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন: (আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর) [আল-বাকারাহ: ১১৬], যা মালিকানা এবং সৃষ্টির দিক থেকে। অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সবকিছুর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাদের রব ও স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ প্রদানের মাধ্যমে তাঁর স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং এ সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আল্লাহ তায়ালাই তাদের উদ্ভাবক ও নির্মাতা। যদিও তাদের কেউ কেউ তা অস্বীকার করে, তবুও তাদের সত্তার কারুকার্যের নিদর্শনের সাক্ষ্যের মাধ্যমে তাদের জিহ্বা আনুগত্যের সাথে তাঁর সামনে বশীভূত। আর মাসীহ (আলাইহিস সালাম) তাদেরই একজন, তবে কীভাবে আল্লাহর সন্তান থাকতে পারে যখন তাঁর বৈশিষ্ট্য এমন?!»(১).

এবং আল্লাহ তায়ালা বলেন: (তারা কি আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করেছে।) [আল ইমরান: ৮৩]

 

‌‌শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন-:

«এখানে সৃষ্টিজগতের স্বেচ্ছায় ও অনিচ্ছায় আত্মসমর্পণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ সমস্ত সৃষ্টিই তাঁর সাধারণ দাসত্বের (ইবাদত) অনুগত, চাই কেউ তা স্বীকার করুক বা অস্বীকার করুক। তারা তাঁর কাছে ঋণী এবং তাঁর দ্বারা পরিচালিত। ফলে তারা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর অনুগত। কোনো সৃষ্টির পক্ষেই তাঁর ইচ্ছা, তকদীর এবং ফয়সালার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই; আর তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় বা শক্তি নেই। তিনি বিশ্বজগতের রব ও তাদের মালিক, তিনি তাদের যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করেন। তিনি তাদের সকলের স্রষ্টা, উদ্ভাবক ও রূপদানকারী। তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুই তাঁর দ্বারা পালিত, নির্মিত এবং সৃজিত; তারা মুখাপেক্ষী, অভাবী, অনুগত এবং তাঁর কর্তৃত্বাধীন। আর তিনি পবিত্র সত্তা, তিনি এক, মহাপরাক্রমশালী, স্রষ্টা, উদ্ভাবক ও রূপদানকারী»(২).

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দাসত্বের (উবুদিয়্যাহ) প্রকারভেদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার: "ইচ্ছাধীন দাসত্ব, আনুগত্য, অনুসরণ এবং ভালোবাসা"

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে তাবারী: (১/ ৫০৭ - ৫০৮)।

(২) আল-উবুদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ১৪৫)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌ويقرر ابن القيم رحمه الله أن: «العبودية نوعان: عامة وخاصة».

ثم يقول رحمه الله:

«وأما النوع الثاني: فعبودية الطاعة والمحبة واتباع الأوامر، كما قال تعالى: (يَا عِبَادِ لا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ) [الزخرف: 68]، وكما قال تعالى: (فَبَشِّرْ عِبَادِ الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ) [الزمر: 18، 17]، وقال: (وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الأرض هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الجاهلون قَالُواْ سَلَامًا)

[الفرقان: 63].

فالخلق كلهم عبيد ربوبيته، وأهل طاعته وولايته هم عبيد ألوهيته»(1).

 

‌‌وأهل هذه العبودية:

أقبلوا على ربهم وخالقهم ورازقهم طائعين منقادين لعبوديته سبحانه، مطيعين لأوامره بمحض إرادتهم واختيارهم، فهي عبودية محبة وانقياد وطاعة وذل وخضوع، وقد نسبهم الله إليه نسب تكريم وتشريف فقال في حقهم: (وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الأرض هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الجاهلون قَالُواْ سَلَامًا) [الفرقان: 63].

وهذه العبودية خاصة بالمؤمنين الذين يطيعون الله تعالى باختيارهم وإرادتهم لا يشاركهم فيها أحد من الكفار الذين خرجوا عن شرعه وتمردوا على أوامره ونواهيه. فنالوا بذلك عز الدنيا وشرفها وكرامة الآخرة وفضلها وأجرها.

والخلق في هذه العبودية ترى بينهم بونًا شاسعًا، وهم متفاوتون فيها تفاوتًا كبيرًا وعظيمًا؛ فكلما كان العبد محبًّا لربه متبعًا لأوامره، منتهيًا عن نواهيه، منقادًا لشرعه، خاضعًا لسلطانه، كان تحقيقه لعبودية ربه أجل وأعظم وأكمل.

وأعظم الناس تحقيقًا لمقام العبودية هم صفوة خلقه وأمنائه على وحيه وسفرائه بينه وبين عباده من النبين والمرسلين، وأعبدهم لله أجمعين هو سيدهم وإمامهم وأفضلهم وخاتمهم نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، ولذا خُص بالذكر بوصف العبودية مجردة في كتاب الله في أشرف المقامات وأعلاها وأزكاها، سبحانه: (الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجَا) [الكهف: 1] وهذا في مقام الوحي وهو من أشرف

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين (1/ 105).
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে: «দাসত্ব দুই প্রকার: সাধারণ ও বিশেষ».

এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

«আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: আনুগত্য, ভালোবাসা এবং আদেশ অনুসরণের দাসত্ব। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (হে আমার বান্দারা! আজ তোমাদের কোনো ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না) [আয-যুখরুফ: ৬৮]। আর যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে, যারা কথা মন দিয়ে শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে) [আয-যুমার: ১৭, ১৮]। এবং তিনি বলেছেন: (আর রহমানের বান্দা তারাই, যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে—সালাম)

[আল-ফুরকান: ৬৩]।

সুতরাং সমগ্র সৃষ্টিই তাঁর প্রভুত্বের দাস, আর তাঁর আনুগত্য ও বন্ধুত্বের অধিকারীরা হলো তাঁর উপাস্যত্বের দাস»(১).

 

‌‌এবং এই দাসত্বের অধিকারীরা:

তারা তাদের প্রতিপালক, স্রষ্টা ও রিযিকদাতার দিকে অনুগত ও তাঁর দাসত্বের প্রতি সমর্পিত হয়ে অগ্রসর হয়েছে। তারা তাদের পবিত্র প্রতিপালকের আদেশসমূহ নিছক নিজেদের ইচ্ছা ও পছন্দে পালন করে। সুতরাং এটি হলো ভালোবাসা, আনুগত্য, আত্মসমর্পণ, বিনয় ও মস্তক অবনত করার দাসত্ব। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা দান করতে গিয়ে নিজের সাথে সম্পর্কিত করেছেন। তাই তাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: (আর রহমানের বান্দা তারাই, যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে—সালাম) [আল-ফুরকান: ৬৩]।

এই দাসত্ব কেবল সেই মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট, যারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছা ও পছন্দে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করে। এই দাসত্বে কাফেরদের কোনো অংশ নেই, যারা তাঁর শরীয়ত থেকে বের হয়ে গেছে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। এর মাধ্যমে তারা দুনিয়ার ইজ্জত ও মর্যাদা এবং আখিরাতের সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতিদান লাভ করেছে।

এই দাসত্বের ক্ষেত্রে সৃষ্টিজীবের মধ্যে আপনি বিশাল ব্যবধান দেখতে পাবেন। তাদের স্তরের মধ্যে রয়েছে অনেক বড় ও মহান পার্থক্য। বান্দা তার প্রতিপালককে যত বেশি ভালোবাসবে, তাঁর আদেশ অনুসরণ করবে, তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকবে, তাঁর শরীয়তের প্রতি অনুগত হবে এবং তাঁর কর্তৃত্বের সামনে মস্তক অবনত করবে—তার প্রতিপালকের দাসত্ব অর্জনে সে তত বেশি মহত্ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতা লাভ করবে।

দাসত্বের এই মাকাম বা স্তর অর্জনে মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন তাঁর সৃষ্টির মনোনীত ব্যক্তিগণ, তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মধ্যবর্তী দূত তথা নবী ও রাসূলগণ। আর তাঁদের সকলের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী বা দাস হলেন তাঁদের নেতা, ইমাম, শ্রেষ্ঠতম এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এই কারণেই আল্লাহর কিতাবে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, সর্বোচ্চ ও পবিত্রতম স্থানগুলোতে তাঁকে এককভাবে দাসত্বের বিশেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ পবিত্রতা ঘোষণা করে বলেছেন: (সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর দাসের ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি) [আল-কাহফ: ১]। এটি ওহী প্রাপ্তির মাকাম, যা অন্যতম শ্রেষ্ঠ...

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন (১/ ১০৫)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ১৯)
المقامات وأعظمها وأجلها، وفي مقام الدعوة إلى الله قال سبحانه: (وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا) [الجن: 19].

وفي مقام الإسراء قال سبحانه: (سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى) [الإسراء: 1] ولا شك أن مقام الإسراء مقام تشريف كذلك.

فالشرف المروم لمن استكمل تحقيق العبودية، ولا يكون تحقيقها إلا مع كمال الذل والخضوع

والافتقار لله الواحد القهار، والعبودية المتعلقة بربوبية الله هي العبودية العامة التي تشمل جميع الخلائق مؤمنهم وكافرهم وبرهم وفاجرهم.

فإذا علم العبد أن له ربًّا وخالقًا ورازقًا ومدبرًا لكل شؤونه، وأنه فقير إليه -عرف تلك العبودية العامة المتعلقة بربوبيته سبحانه، وَقد يعبده مَعَ ذَلِك وَقد يعبد غيره من الأصنام والأوثان، وإن لم يقرّ بها فهو داخل تحتها شاء أم أبى، لأنها شاملة له قهرًا وغلبة.

والعبودية العامة التي هي عبودية القهر والغلبة، لا تكفي للدخول في الإسلام، فقد أقر بها كفار قريش ومع ذلك قاتلهم النبي صلى الله عليه وسلم واستحل دماءهم وأموالهم وسبى ذريتهم ونساءهم، ذلك لأنهم لم يقروا بالعبودية الخاصة، وهي عبودية الألوهية التي توجب تحقيق التوحيد وصرف العبادة كلها لله، ربنا في ذلك: (قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ) [الأنعام: 162 - 163].

فهم قد أقروا بربوبيته سبحانه وأقروا أنه تعالى هو الخالق قال تعالى: (وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ) [لُقْمَان: 25]، فهذا إقرار صريح بربوبيتهم لربهم، ومع ذلك لم ينفعهم إقرارهم بالربوبية لعدم تحقيق توحيد الألوهية، قال الله تعالى: (وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلا وَهُمْ مُشْرِكُونَ) [يوسف: 106]. لأنهم مع ذلك يعْبدُونَ الاصنام والأوثان، ولم يصرفوا العبادة للإله الواحد الملك الديان.

أما العبودية المتعلقة بألوهيته سبحانه فهي العبودية الخاصة المتعلقة بعبادته سبحانه وتأليهه وتوحيده وإخلاص الوجه له وقصده وحده بالعبادة دون ما سواه، خوفُا وطمعًا، رغبًا ورهبًا.
মর্যাদা বা স্তরসমূহের মধ্যে এটি মহানতম এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহর দিকে দাওয়াতের প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: “আর যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল, তখন তারা তাঁর চারপাশে ভিড় করে প্রায় জমাটবদ্ধ হয়ে গেল।” [জিন: ১৯]।

ইসরা বা নৈশভ্রমণের বর্ণনায় মহান আল্লাহ বলেন: “পবিত্র ও মহিমান্বিত তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন।” [ইসরা: ১]। নিঃসন্দেহে ইসরার এই মর্যাদাটিও একইভাবে অত্যন্ত সম্মানজনক।

কাঙ্ক্ষিত সেই সম্মান কেবল তাদের জন্যই যারা দাসত্ব বা বন্দেগিকে পূর্ণভাবে অর্জন করে। আর এই বন্দেগির পূর্ণতা অর্জিত হয় কেবল চরম বিনয় ও আনুগত্যের মাধ্যমেই—

এবং একক ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি চরম মুখাপেক্ষিতার মাধ্যমে। আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট যে বন্দেগি, তা হলো সাধারণ বন্দেগি যা সকল সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত—তা মুমিন হোক বা কাফের, পুণ্যবান হোক বা পাপিষ্ঠ।

সুতরাং যখন কোনো বান্দা জানতে পারে যে তার একজন পালনকর্তা, স্রষ্টা, রিযিকদাতা এবং তার সকল বিষয়ের ব্যবস্থাপক রয়েছেন এবং সে তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী—তখন সে মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সেই সাধারণ বন্দেগি সম্পর্কে জানতে পারে। এর সাথে সাথে সে কখনও আল্লাহর ইবাদত করে, আবার কখনও প্রতিমা ও মূর্তির ইবাদত করে। সে যদি এই বন্দেগিকে স্বীকার নাও করে, তবুও সে এর অধীনে থাকে, চাই সে তা পছন্দ করুক বা না করুক; কারণ এটি শক্তি ও আধিপত্যের মাধ্যমে তাকে পরিবেষ্টন করে আছে।

সাধারণ বন্দেগি, যা আধিপত্য ও বাধ্যবাধকতার বন্দেগি, তা ইসলামে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয়। কুরাইশ কাফেররা একে স্বীকার করত, তবুও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল ঘোষণা করেছেন এবং তাদের বংশধর ও নারীদের বন্দি করেছেন। কারণ তারা বিশেষ বন্দেগিকে স্বীকার করেনি, আর তা হলো ইলাহ হিসেবে আল্লাহর বন্দেগি (উলুহিয়্যাত), যা তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং সমস্ত ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদিত করাকে আবশ্যক করে। এই প্রসঙ্গে আমাদের রব বলেছেন: “বলো, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।” [আনআম: ১৬২ - ১৬৩]।

তারা মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বকে স্বীকার করত এবং তিনি যে স্রষ্টা তাও মানত। মহান আল্লাহ বলেন: “আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।” [লুকমান: ২৫]। এটি তাদের রবের প্রভুত্বের প্রতি তাদের এক স্পষ্ট স্বীকৃতি। তা সত্ত্বেও এই স্বীকৃতি তাদের কোনো উপকারে আসেনি, কারণ তারা উলুহিয়্যাতের তাওহীদ বা ইলাহ হিসেবে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করেনি। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু (একইসাথে) তারা মুশরিক।” [ইউসুফ: ১০৬]। কারণ তারা এর পাশাপাশি প্রতিমা ও মূর্তির পূজা করত এবং একমাত্র মাবুদ, অধিপতি ও কর্মফল দাতার প্রতি ইবাদতকে একনিষ্ঠ করেনি।

পক্ষান্তরে মহান আল্লাহর উলুহিয়্যাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বন্দেগি হলো বিশেষ বন্দেগি, যা তাঁর ইবাদত, ইলাহ হিসেবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার, তাঁর তাওহীদ এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁরই অভিমুখী হওয়া এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে বাদ দিয়ে কেবল তাঁরই ইবাদতের সংকল্প করার সাথে সংশ্লিষ্ট; আর তা হবে ভয়, আশা, আকাঙ্ক্ষা ও ভীতির সাথে।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌والخلاصة:

أنَّ جميعَ المخلوقات عبيدٌ مقهورون لربوبيته تبارك تعالى، أما أهل طاعته وأهل كرامته فهم عبيد ألوهيته تعالى، الخاضعون المتذللون لربهم، خضوع تذللٍ، وعبوديةَ اختيارٍ، لا عبودية قهرٍ وغلبة، وتلك هي العبودية الخاصة.

 

‌‌المطلب الثالث: بيان حقيقة العبودية

أما حقيقة العبودية: فهي الغاية العظمى التي خلق الله من أجلها الخلق كما بين ذلك في محكم كتابه، فقال سبحانه: (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) [الذاريات: 56].

 

‌‌قال ابن جرير الطبري رحمه الله-:

«اختلف أهل التأويل في تأويل قوله: (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) فقال بعضهم: معنى ذلك: وما خلقت السعداء من الجن والإنس إلا لعبادتي، والأشقياء منهم لمعصيتي.

أي: خلقهم لأجل أن يعبدونه سبحانه فمن عبده أكرمه، ومن ترك عبادته أهانه»(1).

وحَصَرَ سبحانه وتعالى الحِكمة من خلقهم في قوله: (إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) ليتبين ويتأكد لهم أن الحِكمة من خلقهم هي: عبادته سبحانه وتعالى، وخلق كل شيء لرعايتهم ورعاية مصالحهم ومصالح معاشهم، وسَخَّر لهم كل ما في السموات والأرض ليستعينوا بها على عبادته وطاعته سبحانه وتعالى.

ومعنى (لِيَعْبُدُونِ)؛ أي: يوحدونني، فيفردونني بالعبادة، ولا يعبدوا سواي، والعبادة لا تُسمَّى عبادة إلا مع التوحيد ولا تصح ولا تقبل إلا به، فهو قوامها وأسها وأساسها المتين الذي لا قوام لها ولا ووجود إلا به، فهو كالطهارة للصلاة لا تصح ولا تقبل إلا بها فهي شرط صحة، كما أن التوحيد شرط صحة في صحة العبادة وقبولها.

وتحقيق العبودية لرب البرية هي المهمة العظيمة التي من أجلها أرسلت الرسل وأنزلت الكتب وقام سوق الآخرة ففريق في الجنة، وفريق في السعير، كما قال تعالى:

--------------------------------------------

(1) تفسير الطبري: (22/ 445).
সারসংক্ষেপ:

সারকথা হলো: সমস্ত সৃষ্টিজগত তাদের রব আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার রুবুবিয়্যাতের অধীনে অনুগত ও বশীভূত দাস। আর যারা তাঁর আনুগত্যকারী ও অনুগ্রহভাজন, তাঁরা হলেন আল্লাহ তাআলার উলুহিয়্যাতের দাস; যারা তাঁদের রবের সামনে বিনম্র ও বিনীত। তাঁদের এই বিনয় হলো স্বেচ্ছাধীন দাসত্ব, কোনো বাধ্যগত বা জবরদস্তিমূলক দাসত্ব নয়; আর এটিই হলো বিশেষ দাসত্ব।

 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দাসত্বের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা

দাসত্বের (উবুদিয়্যাহ) প্রকৃত স্বরূপ হলো: এটিই সেই মহান উদ্দেশ্য যার জন্য আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর সুসংহত কিতাবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত (দাসত্ব) করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আয-যারিয়াত: ৫৬]।

 

ইমাম ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন-:

«তাফসীরবিদগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় মতপার্থক্য করেছেন: 'আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি'। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো: আমি জিন ও মানুষের মধ্যে কেবল সৌভাগ্যবানদের আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি, আর তাদের মধ্যে দুর্ভাগ্যবানদের সৃষ্টি করেছি আমার অবাধ্যতার জন্য।

অর্থাৎ: তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত করে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর ইবাদত করবে, তিনি তাকে সম্মানিত করবেন; আর যে তাঁর ইবাদত বর্জন করবে, তিনি তাকে লাঞ্ছিত করবেন»(১)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদের সৃষ্টির রহস্যকে তাঁর এই বাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন: "কেবল আমার ইবাদত করার জন্য", যাতে তাদের নিকট এটি স্পষ্ট ও সুনিশ্চিত হয় যে, তাঁদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো কেবল তাঁরই ইবাদত করা। আর তিনি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছেন তাঁদের রক্ষণাবেক্ষণ, তাঁদের কল্যাণ এবং তাঁদের জীবনোপকরণের প্রয়োজন মেটানোর জন্য। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুকে তিনি তাঁদের অনুগত করে দিয়েছেন যেন তাঁরা এসবের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত ও আনুগত্যে সহায়তা লাভ করতে পারে।

"লি-ইয়া'বুদুন" (আমার ইবাদত করার জন্য) এর অর্থ হলো: তারা যেন আমার তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাৎ, তারা যেন কেবল আমাকেই ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে এবং আমি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করে। আর ইবাদতকে তাওহীদ ব্যতীত 'ইবাদত' নামে অভিহিত করা যায় না এবং তাওহীদ ছাড়া তা সঠিক বা কবুলও হয় না। তাওহীদ হলো ইবাদতের ভিত্তি, প্রাণ এবং সুদৃঢ় স্তম্ভ, যা ব্যতীত ইবাদতের কোনো অস্তিত্ব বা স্থায়িত্ব নেই। এটি নামাজের জন্য পবিত্রতার (ওজু) ন্যায়, যা ব্যতীত নামাজ যেমন শুদ্ধ বা কবুল হয় না এবং তা নামাজের শুদ্ধতার শর্ত; ঠিক তেমনি তাওহীদও ইবাদত শুদ্ধ হওয়ার এবং কবুল হওয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত।

সৃষ্টিজগতের রবের জন্য এই দাসত্ব বা উবুদিয়্যাহ বাস্তবায়ন করাই হলো সেই মহান দায়িত্ব, যার জন্য রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং কিয়ামতের বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; যার ফলে একদল হবে জান্নাতি এবং অন্য দল হবে প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে তাবারী: (২২/ ৪৪৫)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২১)
(وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ) [الأنبياء: 25]، وقال لرسوله صلى الله عليه وسلم: (وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ) [الحجر: 99]، واليقين هنا هو: الموت.

 

‌‌وقال ابن القيم رحمه الله-:

«والمحبة مع الخضوع هي العبودية التي خلق الخلق لأجلها، فإنها غاية الحب بغاية الذل، ولا يصلح ذلك إلا له سبحانه، والإشراك به في هذا هو الشرك الذي لا يغفره الله ولا يقبل لصاحبه عملًا»(1).

 

‌‌قال ابن القيم رحمه الله في الشافية الكافية:

وعبادة الرحمن غاية حبه … مع ذل عابده هم قطبان

وعليهما فلك العبادة دائر … ما دار حتى قام القطبان(2)

والدعوة إلى توحيد الله تعالى وإفراده بالعبادة هي أساس دعوة المرسلين؛ إذ ما بعث الله رسولاً منهم إلا قال لقومه: (اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ) [الأعراف: 65].

 

‌‌المطلب الرابع: بيان شرطي تحقيق العبودية

وأخيرًا: فإن العبودية الحقة لا تتحقق إلا بتحقيق أصلين عظيمين:

 

‌‌الأصل الأول: إفراده الله تعالى بالعبادة ونبذ عبادة كل ما سواه، وهذا هو مقتضى تحقيق شهادة ألا إله إلا الله - نفيًا وإثباتًا-.

‌‌الأصل الثاني: ألا يُعبد اللهُ إلا بما شرع، وهذا هو مقتضى شهادة أن محمدًا رسول الله.

فمن حقق هذين الأصلين العظيمين بكمالهما وتمامهما، فقد حقق العبودية الحقة التي ينال به العبدُ سعادةَ الدارين.

 

‌‌المطلب الخامس: تقرير عبودية الله تعالى في القرآن الكريم

إن المتأمل في القرآن الكريم من أوله إلى آخره يتجلى له محوره الرئيس هو قضية تحقيق التوحيد وتقرير العبودية التي خلق الله من أجلها الجن والإنس، كما قال ربنا: (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) [الذاريات: 56]. و يتجلى له أن الله سبحانه لم

--------------------------------------------

(1) الفوائد (ص: 183).

(2) الكافية الشافية في الانتصار للفرقة الناجية (ص: 32).
"আপনার পূর্বে আমি এমন কোন রাসূল প্রেরণ করিনি, যার প্রতি আমি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো" [আল-আম্বিয়া: ২৫], এবং তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: "এবং আপনি আপনার রবের ইবাদত করুন, যতক্ষণ না আপনার নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) উপস্থিত হয়" [আল-হিজর: ৯৯], আর এখানে ইয়াকিন বা নিশ্চিত বিশ্বাস হলো: মৃত্যু।

 

‌‌ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন-:

«বশ্যতার সাথে ভালোবাসাই হলো সেই দাসত্ব (উবুদিয়্যাত), যার জন্য সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা হয়েছে। নিশ্চয়ই এটি হলো চরম হীনতার সাথে চরম ভালোবাসা, আর এটি একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার জন্যই শোভা পায়। এতে কাউকে তাঁর সাথে অংশীদার করা হলো এমন শিরক যা আল্লাহ ক্ষমা করেন না এবং এর কর্তার কোনো আমলও তিনি কবুল করেন না»(১)।

 

‌‌ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ 'আশ-শাফিয়াতুল কাফিয়া'-তে বলেন:

রহমানের ইবাদত হলো তাঁর প্রতি চরম ভালোবাসা … সাথে ইবাদতকারীর চরম হীনতা; এ দুটিই হলো মূল মেরুদ্বয়।

আর এ দুটির ওপরই ইবাদতের কক্ষপথ আবর্তিত হয় … যতক্ষণ না এই দুই মেরু প্রতিষ্ঠিত হয়, ততক্ষণ তা আবর্তিত হয় না(২)

আল্লাহ তা’আলার তাওহীদ এবং কেবল তাঁরই ইবাদতের প্রতি আহ্বান হলো রাসূলগণের দাওয়াতের মূল ভিত্তি; কেননা আল্লাহ তাঁদের মধ্যে যে রাসূলকেই পাঠিয়েছেন, তিনি তাঁর জাতিকে বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই" [আল-আ’রাফ: ৬৫]।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দাসত্ব (উবুদিয়্যাত) অর্জনের দুটি শর্তের বর্ণনা

সবশেষে: নিশ্চয়ই প্রকৃত দাসত্ব কেবল দুটি মহান মূলনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই অর্জিত হয়:

 

‌‌প্রথম মূলনীতি: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলাকে একক করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর ইবাদত বর্জন করা, আর এটিই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্যের সারকথা বাস্তবায়ন করা—অস্বীকার ও স্বীকৃতির মাধ্যমে।

‌‌দ্বিতীয় মূলনীতি: আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক প্রবর্তিত বিধান ছাড়া অন্য কোনোভাবে তাঁর ইবাদত না করা, আর এটিই হলো 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' সাক্ষ্যের সারকথা।

সুতরাং যে ব্যক্তি এই মহান মূলনীতি দুটিকে পূর্ণাঙ্গ ও সার্থকভাবে বাস্তবায়ন করবে, সে সেই প্রকৃত দাসত্ব অর্জন করবে যার মাধ্যমে বান্দা উভয় জাহানের সৌভাগ্য লাভ করে।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলার দাসত্ব (উবুদিয়্যাত) সাব্যস্তকরণ

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পবিত্র কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এর প্রধান মূল বিষয় হলো তাওহীদ বাস্তবায়ন এবং সেই দাসত্বের বিষয়ের বর্ণনা যার জন্য আল্লাহ জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, যেমন আমাদের রব বলেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি" [আদ-যারিয়াত: ৫৬]। এবং তার কাছে এটি প্রকাশ পাবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা...

--------------------------------------------

(১) আল-ফাওয়াইদ (পৃষ্ঠা: ১৮৩)।

(২) আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া ফিল ইনতিসারি লিল ফিরকাতিন নাজিয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২২)
يخلق الخلق عبثًا ولم يتركهم سدى، كما قال جل في: (أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ) [المؤمنون: 115]، وكما قال تعالى: (أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَن يُتْرَكَ سُدًى) (الإنسان: 36).

والمتأمل في مطلع فاتحة الكتاب يتضح له جليًا أمر تحقيق التوحيد وتقرير العبودية وذلك في قوله تعالى: (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) (الفاتحة: 5)، ثم إن المتتبع لسور القرآن كلها يراها تقرر هذا الأصل العظيم بوضوح وجلاء، وذلك من أول الأوامر الواردة في القرآن في قوله تعالى في أوائل سورة البقرة: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ) (البقرة: من آية: 21)، وبأول النواهي في المحذرة من الشرك المنافي للتوحيد بعدها مباشرة في سورة البقرة - كذلك - في قوله تعالى: (فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا) (البقرة: من آية: 22) وانتهاءً بسورتي الإخلاص "الكافرون والإخلاص" وختام القرآن بـ"المعوذتين".

يرى تقرير العبودية في القرآن الكريم واضحًا جليًا في كل سور القرآن وآياته.

ومن هنا يتبين أن بيان تقرير العبودية لله هو المحور الرئيس في القرآن الكريم.

 

‌‌وفي نحو ذلك يقرر الفخر الرازي (ت: 606 هـ) رحمه الله فيقول:

«والمقصود من كل القرآن تقرير أمور أربعة: الإلهيات، والمعاد، والنبوات، وإثبات القضاء والقدر لله تعالى،

فقوله: (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) (الفاتحة: 3) يدل على الإلهيات،

وقوله: (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) (الفاتحة: 4) يدل على المعاد،

وقول: (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) (الفاتحة: 5) يدل على نفي الجبر والقدر، وعلى إثبات أن الكل بقضاء الله وقدره،

وقوله: (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ) (الفاتحة: 6 - 7) يدل أيضًا على إثبات قضاء الله وقدره وعلى النبوات، فلما
তিনি সৃষ্টিকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি এবং তাদের উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?) [আল-মুমিনুন: ১১৫], এবং যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (মানুষ কি মনে করে যে তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে?) (আল-ইনসান: ৩৬)।

সুরা ফাতিহার প্রারম্ভে যিনি গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তার কাছে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা ও দাসত্ব সাব্যস্ত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে: (আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি) (ফাতিহা: ৫)। অতঃপর কুরআনের সকল সুরা পর্যবেক্ষণকারী দেখতে পাবেন যে, এই মহান মূলনীতিটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে সাব্যস্ত হয়েছে। এটি শুরু হয়েছে কুরআনে বর্ণিত প্রথম আদেশ থেকে, যা সুরা বাকারার শুরুতে মহান আল্লাহর বাণী: (হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো) (বাকারা: ২১ আয়াত থেকে), এবং এরপরই সুরা বাকারায় তাওহীদের পরিপন্থী শিরক থেকে সতর্ককারী প্রথম নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে: (কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ স্থির করো না) (বাকারা: ২২ আয়াত থেকে)। এটি চলতে থাকে ইখলাসের দুই সুরা—"সুরা আল-কাফিরুন ও সুরা আল-ইখলাস" এবং কুরআনের শেষ দুই সুরা "আল-মুআউবিযাতাইন" পর্যন্ত।

পবিত্র কুরআনের প্রতিটি সুরা ও আয়াতে আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহর দাসত্ব সাব্যস্ত করার বিষয়টিই পবিত্র কুরআনের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

 

‌‌এবং এ প্রসঙ্গে ফখরুদ্দীন আল-রাযী (মৃত্যু: ৬০৬ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

«সমগ্র কুরআনের উদ্দেশ্য হলো চারটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত করা: ইলাহিয়াত, পরকাল, নবুওয়াত এবং মহান আল্লাহর জন্য কাজা ও কদর (ভাগ্যলিপি) সাব্যস্ত করা,

সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: (পরম করুণাময়, অতি দয়ালু) (ফাতিহা: ৩) ইলাহিয়াতের প্রমাণ বহন করে,

এবং তাঁর বাণী: (বিচার দিবসের মালিক) (ফাতিহা: ৪) পরকালের প্রমাণ দেয়,

এবং তাঁর বাণী: (আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি) (ফাতিহা: ৫) জবর এবং কদর (জবরবাদ ও কদরিয়া মতবাদ) নাকচ করার প্রমাণ দেয় এবং এটি প্রমাণ করে যে সবকিছুই আল্লাহর ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ী হয়,

এবং তাঁর বাণী: (আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাদের পথ নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট) (ফাতিহা: ৬ - ৭) মহান আল্লাহর ফয়সালা ও তকদির এবং নবুওয়াত সাব্যস্ত করার প্রমাণ বহন করে। যখন...
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২৩)
كان المقصد الأعظم من القرآن هذه المطالب الأربعة، وكانت هذه السورة مشتملة عليها - لقبت بأم القرآن»(1).

وفيما ذكره الفخر الرازي وقرره إنما هو تقرير لكل أنواع العبودية في فاتحة الكتاب، فاشتمال السورة على حمده تعالى وتمجيده بأسمائه وصفاته والثناء عليه والإقرار باليوم الآخر وإثبات البعث والجزاء، وتنزيه الله عن كل نقص ووصفه تعالى بكل كمال يليق بذاته المقدسة، وحصر العبادة والاستعانة فيه وحده، وطلب الهداية إلى صراطه المستقيم، والإلحاح عليه بالثبات على هذا الصراط، صراط المنعم عليهم، وطلب البعد عن طريق أهل الغواية والزيغ ممن غضب عليه وأضلهم، كل ذلك يؤكد ويبرهن ويوضح تقرير فاتحة الكتاب للعبودية بمعناها الشامل والكامل، وآيات السورة مقررة لأنواع التوحيد الثلاثة.

ومما يبرهن ويؤكد تقرير الفاتحة للعبودية حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «قَالَ اللَّهُ تعالى: قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) (الفاتحة: 2) قَالَ اللَّهُ تعالى: حَمِدَنِي عَبْدِي وَإِذَا قَالَ: (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) (الفاتحة: 3) قَالَ اللَّهُ تعالى: أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي وَإِذَا قَالَ: (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) (الفاتحة: 4) قَالَ: مَجَّدَنِي عَبْدِي وَقَالَ مَرَّةً: فَوَّضَ إِلَيَّ عَبْدِي فَإِذَا قَالَ: (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) (الفاتحة: 5) قَالَ: هَذَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ: (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ) (الفاتحة: 6 - 7) قَالَ: هَذَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ»(2).

ولاشك أن الفاتحة اشتملت على ما في القرآن إجمالًا فناسب افتتاح الكتاب بها، ثم تلتها باقي سور القرآن لتورد كل ما ورد فيها تفصيلًا.

--------------------------------------------

(1) تفسير الفخر الرازي: (ص: 145). مفاتيح الغيب = التفسير الكبير المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عمر بن الحسن بن الحسين التيمي الرازي الملقب بفخر الدين الرازي خطيب الري (المتوفى: 606 هـ) الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت الطبعة: الثالثة - 1420 هـ.

(2) مسلم (395).
কুরআনের মহান উদ্দেশ্য ছিল এই চারটি দাবি, এবং এই সূরাটি সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল - তাই একে «উম্মুল কুরআন» উপাধি দেওয়া হয়েছে(১).

ফখর আল-রাজি যা উল্লেখ করেছেন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন তা হলো কিতাবের সূচনায় সকল প্রকার দাসত্বের (উবুদিয়্যাহ) স্বীকৃতি। সুতরাং এই সূরা মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর মহিমা বর্ণনা, তাঁর স্তুতি জ্ঞাপন, পরকালের স্বীকৃতি, পুনরুত্থান ও প্রতিদান সাব্যস্ত করা, আল্লাহকে সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র রাখা এবং তাঁর পবিত্র সত্তার যোগ্য সকল পূর্ণতায় তাঁকে ভূষিত করা, ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনাকে একমাত্র তাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা, তাঁর সরল পথের হিদায়াত প্রার্থনা করা এবং এই পথে—অর্থাৎ যাদের ওপর তিনি অনুগ্রহ করেছেন তাদের পথে—অটল থাকার জন্য তাঁর কাছে আকুল আবেদন জানানো, আর যারা তাঁর ক্রোধের শিকার এবং পথভ্রষ্ট হয়েছে সেই বিভ্রান্ত ও বিচ্যুতদের পথ থেকে দূরে থাকার প্রার্থনা করা—এই সবকিছুই এক ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ অর্থে কিতাবের সূচনায় দাসত্বের স্বীকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করে, প্রমাণ করে এবং স্পষ্ট করে। আর সূরার আয়াতসমূহ তাওহীদের তিন প্রকারকেই সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

ফাতিহায় যে দাসত্বের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার অন্যতম প্রমাণ ও নিশ্চিতকারী হলো আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, «মহান আল্লাহ বলেন: আমি সালাতকে আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি, আর আমার বান্দা যা চাইল তা-ই পাবে। সুতরাং যখন বান্দা বলে: (সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য) (আল-ফাতিহা: ২), তখন মহান আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। যখন সে বলে: (পরম করুণাময়, অতি দয়ালু) (আল-ফাতিহা: ৩), তখন মহান আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার স্তুতি জ্ঞাপন করল। যখন সে বলে: (বিচার দিবসের মালিক) (আল-ফাতিহা: ৪), তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করল। আর তিনি একবার বললেন: আমার বান্দা তার বিষয়াদি আমার কাছে সোপর্দ করল। যখন সে বলে: (আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং একমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি) (আল-ফাতিহা: ৫), তখন তিনি বলেন: এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে, আর আমার বান্দার জন্য রয়েছে যা সে প্রার্থনা করল। যখন সে বলে: (আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন, তাদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন, যাদের ওপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়) (আল-ফাতিহা: ৬ - ৭), তখন তিনি বলেন: এটি আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চাইল তা-ই পাবে»(২).

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফাতিহা কুরআনের যাবতীয় বিষয়কে সংক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাই এর মাধ্যমেই কিতাব শুরু করা সংগত হয়েছে। অতঃপর কুরআনের বাকি সূরাগুলো এর অনুগামী হয়েছে যাতে ফাতিহায় যা কিছু এসেছে তার বিস্তারিত বিবরণ পেশ করা যায়।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ফখর আল-রাজি: (পৃষ্ঠা: ১৪৫)। মাফাতিহুল গায়েব = আত-তাফসীর আল-কাবীর। লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আত-তাইমি আর-রাজি, ফখরুদ্দিন রাজি খতিবে রে (মৃত্যু: ৬০৬ হিজরি) নামে পরিচিত। প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি - বৈরুত। সংস্করণ: তৃতীয় - ১৪২০ হিজরি।

(২) মুসলিম (৩৯৫)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولعل في هذا كفاية، والحمد لله رب العالمين.

 

‌‌المبحث الثالث: أصل الدين مبني على أصلين عظيمين (العبودية - والاستعانة)

والمقصود من بيانه في هذا المبحث أن أصل الدين مبنى على (العبودية-والاستعانة).

وفيه ثلاثة مطالب:

 

‌‌المطلب الأول: الغاية من خلق المكلفين تحقيق العبودية

إن العبودية: هي المهمة العظيمة والغاية الجليلة التي خلق الله تعالى المكلفين من الثقلين من أجلها، فالله تعالى خلقهم ليعبدوا وهو غني عنهم غنى تام، وهم فقراء إليه سبحانه فقرًا تامًّا.

كما قال تعالى: (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) (الذريات: 56) «أي: إنما خلقتهم لآمرهم بعبادتي، لا لاحتياجي إليهم.

وقال علي بن أبي طلحة، عن ابن عباس رضي الله عنه: (إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) «أي: إلا ليقروا بعبادتي طوعًا أو كرهًا»، وهذا اختيار ابن جرير.

وقال ابن جُرَيْج: «إلا ليعرفون».

وقال الربيع بن أنس: (إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) أي: «إلا للعبادة»(1).

وقال القرطبي-رحمه الله: «أي: ليذلوا ويخضعوا لي»(2).

«قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: (إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) أي: إلا لآمرهم أن يعبدوني وأدعوهم إلى عبادتي، يؤيده قوله عز وجل (وَمَآ أمروا إِلاَّ ليعبدوا إلها وَاحِدًا) [التوبة: 31].

وقال مجاهد: «إلا ليعرفوني».

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير (7/ 425)

(2) تفسير القرطبي، الجامع لأحكام القرآن (17/ 56). الجامع لأحكام القرآن = تفسير القرطبي المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي (المتوفى: 671 هـ) تحقيق: أحمد البردوني وإبراهيم أطفيش الناشر: دار الكتب المصرية - القاهرة الطبعة: الثانية، 1384 هـ - 1964 م عدد الأجزاء: 20 جزءا (في 10 مجلدات).
হয়তো এতেই পর্যাপ্ততা রয়েছে, আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীনের মূল ভিত্তি দুইটি মহান মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত (ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনা)

এই পরিচ্ছেদে বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো, দ্বীনের মূল ভিত্তি (ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনা)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আর এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (মুকাল্লাফীন) সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো ইবাদত বাস্তবায়ন করা

নিশ্চয়ই ইবাদত হলো সেই মহান দায়িত্ব ও মহিমান্বিত উদ্দেশ্য, যার জন্য আল্লাহ তাআলা জিন ও মানবজাতির মধ্য হতে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, অথচ তিনি তাঁদের থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী, আর তাঁরা তাঁর প্রতি পূর্ণরূপে মুখাপেক্ষী।

যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: (আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি) (আয-যারিয়াত: ৫৬) «অর্থাৎ: আমি তাঁদের কেবল আমার ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছি, আমার প্রয়োজনে নয়।

আর আলী ইবনে আবি তালহা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: (কেবল আমার ইবাদতের জন্য) «অর্থাৎ: তাঁরা যেন ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আমার ইবাদতের স্বীকৃতি দেয়», আর এটিই ইবনে জারীরের পছন্দ।

আর ইবনে জুরাইজ বলেন: «যাতে তাঁরা আমাকে চিনতে পারে»।

আর রাবী ইবনে আনাস বলেন: (কেবল আমার ইবাদতের জন্য) অর্থাৎ: «কেবল ইবাদতের উদ্দেশ্যে»(১)।

আর আল-কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «অর্থাৎ: তাঁরা যেন আমার কাছে হীনতা স্বীকার করে এবং বশীভূত হয়»(২)।

«আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: (কেবল আমার ইবাদতের জন্য) অর্থাৎ: আমি যেন তাঁদেরকে আমার ইবাদতের আদেশ দিতে পারি এবং আমার ইবাদতের দিকে ডাকতে পারি, একে সমর্থন করে মহান আল্লাহর বাণী (আর তাঁদেরকে কেবল এক ইলাহের ইবাদতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল) [আত-তাওবাহ: ৩১]।

আর মুজাহিদ বলেন: «যাতে তাঁরা আমাকে জানতে পারে»।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ইবনে কাসীর (৭/ ৪২৫)

(২) তাফসীরে কুরতুবী, আল-জামে লি আহকামিল কুরআন (১৭/ ৫৬)। আল-জামে লি আহকামিল কুরআন = তাফসীরে কুরতুবী, লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবি বকর বিন ফারাহ আল-আনসারী আল-খাযরাজী শামসুদ্দীন আল-কুরতুবী (মৃত্যু: ৬৭১ হিজরী), তাহকীক: আহমদ আল-বারদুনী এবং ইব্রাহীম আতফীশ, প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়াহ - কায়রো, সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৮৪ হিজরী - ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ, খণ্ড সংখ্যা: ২০ খণ্ড (১০ ভলিউমে)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذا أحسن لأنه لو لم يخلقهم لم يعرفوا وجوده وتوحيده، و «قيل: معناه إلا ليخضعوا إليّ ويتذللوا، ومعنى العبادة في اللغة: التذلل والانقياد، فكل مخلوق من الجن والإنس خاضع لقضاء الله، متذلل لمشيئته لا يملك أحد لنفسه خروجًا عما خلق عليه.

وقيل: (إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) إلا ليوحدوني، فأما المؤمن فيوحده في الشدة والرخاء،

وأما الكافر فيوحده في الشدة والبلاء دون النعمة والرخاء، بيانه قوله عز وجل: (فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ) [العنكبوت: 65](1).

قال القرطبي-رحمه الله: «أي: ليذلوا ويخضعوا لي»(2).

 

‌‌قال النووي (ت: 676 هـ) رحمه الله-:

«وهذا تصريح بأنهم خلقوا للعبادة، فحق عليهم الاعتناء بما خلقوا له والإعراض عن حظوظ الدنيا بالزهادة فإنها دار نفاد لا محل إخلاد، ومركب عبور لا منزل حبور»(3).

وأهل العبودية الحقة موقنون بذلك.

 

‌‌قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله-:

«إن الله خلق الخلق لعبادته الجامعة لمعرفته والإنابة إليه ومحبته والإخلاص له»(4).

 

‌‌وقال الإمام ابن القيم رحمه الله-:

«وبنى (إِيَّاكَ نَعْبُدُ) على أربع قواعد: التحقق بما يحبه الله ورسوله ويرضاه من قول اللسان والقلب، وعمل القلب والجوارح، فالعبودية اسم جامع لهذه المراتب

--------------------------------------------

(1) تفسير البغوي (7/ 381).

(2) تفسير القرطبي، الجامع لأحكام القرآن: (17/ 56).

(3) رياض الصالحين للنووي بتخريج الألباني (ص: 37).

(4) العبودية (ص 80).
এটি অধিকতর উত্তম, কারণ তিনি যদি তাদের সৃষ্টি না করতেন, তবে তারা তাঁর অস্তিত্ব ও তাওহীদ সম্পর্কে জানতে পারত না। আর বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো তারা যেন আমার প্রতি বিনয়াবনত ও অনুগত হয়। অভিধানে ইবাদতের অর্থ হলো: বিনয় ও আনুগত্য। সুতরাং জিন ও ইনসানের প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাহর ফয়সালার নিকট অনুগত এবং তাঁর ইচ্ছার কাছে বিনয়াবনত। যাঁর ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা কারও নেই।

আর বলা হয়েছে: (কেবল আমার ইবাদতের জন্য) অর্থাৎ তারা যেন কেবল আমার তাওহীদ ঘোষণা করে। মুমিন ব্যক্তি তো দুঃখ ও সুখ উভয় অবস্থায় তাঁর তাওহীদ ঘোষণা করে।

পক্ষান্তরে কাফির কেবল বিপদ ও মুসিবতের সময় তাঁর তাওহীদ স্বীকার করে, নেয়ামত ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময় নয়। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে, তখন তারা আল্লাহকে একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে ডাকে) [আনকাবুত: ৬৫](১)।

কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «অর্থাৎ: তারা যেন আমার কাছে বিনত ও অনুগত হয়»(২)।

 

‌‌নববী (ওফাত: ৬৭৬ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ বলেন-:

«এটি একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা যে তারা ইবাদতের জন্যই সৃজিত হয়েছে। সুতরাং যার জন্য তারা সৃজিত হয়েছে তার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং দুনিয়ার ভোগবিলাস থেকে বিমুখ হয়ে যুহদ (সংসারবিরাগ) অবলম্বন করা তাদের জন্য আবশ্যক। কেননা এটি ধ্বংসশীল নিবাস, চিরস্থায়ী বসবাসের জায়গা নয়; এটি একটি পারাপারের পথ, চিরস্থায়ী আনন্দের আবাসন নয়»(৩)।

আর প্রকৃত দাসত্বের অধিকারীরা এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী।

 

‌‌শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন-:

«নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁর পরিচয় লাভ, তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তন, তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতাকে অন্তর্ভুক্ত করে»(৪)।

 

‌‌ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন-:

«তিনি (আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি) বাক্যটিকে চারটি ভিত্তির ওপর স্থাপন করেছেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা ভালোবাসেন এবং যাতে সন্তুষ্ট হন তা বাস্তবায়ন করা—যবানের কথা ও অন্তরের বিশ্বাস দ্বারা এবং অন্তরের আমল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল দ্বারা। সুতরাং উবুদিয়্যাত (দাসত্ব) হলো এই পর্যায়গুলোর একটি সামষ্টিক নাম...

--------------------------------------------

(১) তফসীরে বাগভী (৭/ ৩৮১)।

(২) তফসীরে কুরতুবী, আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন: (১৭/ ৫৬)।

(৩) আলবানী কর্তৃক তাহকীককৃত রিয়াদুস সালিহীন লিন-নববী (পৃ. ৩৭)।

(৪) আল-উবুদিয়্যাহ (পৃ. ৮০)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২৬)
الأربع. كما قال تعالى: (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) (الذريات: 56)».(1)

وفي ضوء بيان أهل العلم وأئمة التفسير رحمهم الله حول آية الذاريات يتبين لنا:

1 - أن الحكمة والغاية المحمودة التي خلق الله تعالى الخلق من أجلها هي العبادة.

 

‌‌قال ابن سعدي (ت: 1376 هـ) رحمه الله-:

«هذه الغاية التي خلق الله الجن والإنس لها وبعث جميع الرسل يدعون إليها، وهي عبادته المتضمنة لمعرفته ومحبته والإنابة إليه والإقبال عليه والإعراض عما سواه، وكلما ازداد العبد معرفة بربه كانت عبادته أكمل، فهذا الذي خلق الله تعالى المكلفين لأجله، فما خلقهم لحاجة منه إليهم»(2).

2 - وأن الله خلقهم وهو غني عنهم مع فقرهم إلى خالقهم.

كما قال تعالى: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ) [فاطر: 15].

 

‌‌يقول الفخر الرازي رحمه الله-:

«فلا يأمركم بالعبادة لاحتياجه إليكم، وإنما هو لإشفاقه عليكم»(3).

3 - وأن العبادة هي: الخضوع والذل والانقياد.

4 - وأن عبودية القهر والغلبة تشمل كل الخلق مؤمنهم وكافر.

قال القرطبي (ت: 671 هـ) رحمه الله:

«قوله تعالى: (اعْبُدُوا) [المائدة: 72] أمر بالعبادة له، والعبادة هنا عبارة عن توحيده والتزام شرائع دينه، وأصل العبادة الخضوع والتذلل، يقال: طريق معبّدة إذا كانت موطوءة بالأقدام … والعبادة الطاعة، والتعبد التنسّك»(4).

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين (1/ 100).

(2) تفسير الكريم الرحمن (7/ 181).

(3) تفسير الفخر الرازي، مفاتيح الغيب- للفخر الرازي - تفسير سورة فاطر قوله تعالى: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ) [فاطر: 15]. (ص: 23).

(4) الجامع لأحكام القرآن (1/ 225 - 226).
চারটি। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (এবং আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি) (আয-যারিয়াত: ৫৬)»।(১)

আয-যারিয়াত সূরার আয়াত সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমগণ এবং তাফসীরের ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের রহমত করুন) বর্ণনার আলোকে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে:

১ - মহান আল্লাহ যে হিকমত ও প্রশংসনীয় উদ্দেশ্যে সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন তা হলো ইবাদত।

 

‌‌ইবনে সাদী (মৃত্যু: ১৩৭৬ হি.) -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- বলেছেন-:

«এটিই সেই লক্ষ্য যার জন্য আল্লাহ জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সকল রাসূলকে এর দিকে আহ্বান করার জন্য প্রেরণ করেছেন; আর তা হলো তাঁর ইবাদত, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাঁকে চেনা, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর দিকে ফিরে আসা, তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হওয়া। বান্দা তার প্রতিপালক সম্পর্কে যত বেশি জ্ঞান লাভ করবে, তার ইবাদত তত বেশি পূর্ণাঙ্গ হবে। মহান আল্লাহ এই উদ্দেশ্যেই মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর শরীয়তের বিধান কার্যকর হয়) সৃষ্টি করেছেন, তিনি নিজের কোনো প্রয়োজনে তাদের সৃষ্টি করেননি»(২)।

২ - আর আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন অথচ তিনি তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী, যেখানে তারা তাদের স্রষ্টার মুখাপেক্ষী।

যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (হে মানুষ, তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, আর আল্লাহ তো অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত) [ফাতির: ১৫]।

 

‌‌ফখর রাযী -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- বলেন-:

«তিনি তোমাদের ইবাদতের নির্দেশ তাঁর নিজের প্রয়োজনে দেন না, বরং এটি তোমাদের প্রতি তাঁর করুণার কারণে»(৩)।

৩ - আর ইবাদত হলো: বশ্যতা, বিনয় এবং আনুগত্য।

৪ - আর মহান আল্লাহর শাসন ও সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকার যে দাসত্ব (উবুদিয়াতুল ক্বাহর), তা মুমিন-কাফির নির্বিশেষে সকল সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।

কুরতুবী (মৃত্যু: ৬৭১ হি.) -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- বলেছেন:

«মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা ইবাদত করো) [আল-মায়িদাহ: ৭২] এতে তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখানে ইবাদত বলতে তাঁর তাওহীদ এবং তাঁর দ্বীনের বিধানসমূহ মেনে চলাকে বোঝানো হয়েছে। ইবাদতের মূল অর্থ হলো বশ্যতা ও বিনয় প্রকাশ করা। বলা হয়ে থাকে: 'তরীকুন মুআব্বাদাহ' (সুগম পথ), যখন তা পদভারে মর্দিত ও সহজ হয়... ইবাদত মানে আনুগত্য, আর তাআববুদ মানে উপাসনা বা সাধনা»(৪)।

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকীন (১/ ১০০)।

(২) তাফসীরুল কারীমির্ রাহমান (৭/ ১৮১)।

(৩) তাফসীরুল ফখর রাযী, মাফাতিহুল গায়েব - ফখর রাযী কর্তৃক - সূরা ফাতিরের তাফসীর, মহান আল্লাহর বাণী: (হে মানুষ, তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, আর আল্লাহ তো অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত) [ফাতির: ১৫]। (পৃষ্ঠা: ২৩)।

(৪) আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন (১/ ২২৫ - ২২৬)।
(খণ্ড: ১) কাতউল আলাইক লিত্তাফাককুরি ফী উবুদিয়্যাতিল খালাইক (পৃষ্ঠা: ২৭)
5 - وأن العبادة التي هي التوحيد، هي عبودية الاختيار، التي لا يُوفق لها إلا من اصطفاه الله تعالى من عباده المؤمنين.

6 - وأن التكليف بالعبودية لا ينفك عن العبد أبدًا حتى الممات.

وقال الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: (وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ) [الحجر: 99]، واليقين هو الموت.

 

‌‌قال ابن القيم رحمه الله-:

«قال الله تعالى لرسوله صلى الله عليه وسلم: (وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ) [الحجر: 99]، وقال أهل النار: (وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ) [المدثر: 4 - 47]، وفي الصحيح في قصة عثمان بن مظعون رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أما عثمان فقد جاءه اليقين من ربه»(1) أي: الموت وما فيه، فلا ينفك العبد من العبودية ما دام في دار التكليف، ومن زعم أنه يصل إلى مقام يسقط عنه فيه التعبد فهو زنديق كافر بالله ورسوله، وإنما وصل لمقام الكفر بالله والانسلاخ من دينه، بل كلما تمكن العبد في منازل العبودية كانت عبوديته أعظم، والواجب عليه منها أكبر وأكثر من الواجب على من دونه، ولهذا كان الواجب على رسول الله صلى الله عليه وسلم بل على جميع الرسل أعظم من الواجب على أممهم، والواجب على أولي العزم أعظم من الواجب على من دونهم، والواجب على أولي العلم أعظم من الواجب على من دونهم، وكل أحد بحسب مرتبته»(2).

وكلام ابن القيم حول معنى اليقين يبين حقيقة العبودية التي لا تنفك عن العبد أبدًا، ومن يُسَمُّوا أنفسهم بأهل الوجد من المتصوفة ونحوهم، يدّعي رؤوسهم أنهم من شدة عبادتهم قد رُفِعَ عنهم التكليفُ.

ثم عرج رحمه الله على مقام العبودية وأن العبد كلما تمكن في منازل العبودية كانت عبوديته أعظم، وكلما ارتفع قدر العبد علمًا ومنزلة ومكانة، كانت عبوديته أعظم وآكد، كعبودية المرسلين وعبودية أولي العزم منهم، وعبودية ورثة الأنبياء من العلماء الربانيين.

--------------------------------------------

(1) وأصل الحديث رواه البخاري (1243).

(2) مدارج السالكين (1/ 103 - 104).
৫ - আর যে ইবাদত হলো তাওহীদ, তা হলো ইচ্ছাধীন দাসত্ব, যা লাভ করতে কেবল তারাই সফল হয় যাদের আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন।

৬ - আর দাসত্বের বিধান (তাকলিফ) মৃত্যু পর্যন্ত কখনও বান্দা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: (এবং আপনার রবের ইবাদত করুন যতক্ষণ না আপনার কাছে নিশ্চিত বিশ্বাস আসে) [হিজর: ৯৯], আর নিশ্চিত বিশ্বাস হলো মৃত্যু।

 

‌ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন-:

«আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: (এবং আপনার রবের ইবাদত করুন যতক্ষণ না আপনার কাছে নিশ্চিত বিশ্বাস আসে) [হিজর: ৯৯], আর জাহান্নামীরা বলেছিল: (এবং আমরা শেষ বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম) [মুদ্দাসসির: ৪ - ৪৭]। আর সহীহ (বুখারী) তে উসমান ইবনে মাজউন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনায় এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «উসমানের কথা বলতে গেলে, তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত বিশ্বাস এসেছে»(১) অর্থাৎ: মৃত্যু এবং এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে। সুতরাং বান্দা যতক্ষণ এই দুনিয়ার বিধান পালনের আবাসে (দারুত তাকলিফ) অবস্থান করে, ততক্ষণ সে দাসত্ব থেকে মুক্ত হয় না। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, সে এমন কোনো স্তরে পৌঁছেছে যেখানে তার থেকে ইবাদত করার বিধান রহিত হয়ে গেছে, তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি কারী একজন যিন্দিক। প্রকৃতপক্ষে সে আল্লাহর সাথে কুফরি এবং তাঁর দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার স্তরে পৌঁছেছে। বরং বান্দা যখনই দাসত্বের মঞ্জিলগুলোতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তার দাসত্ব আরও মহান হয় এবং তার ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্য তার নিম্নস্তরের লোকদের তুলনায় আরও মহান ও অধিক হয়। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, বরং সকল রাসূলের ওপর ওয়াজিব কর্তব্য ছিল তাদের উম্মতদের ওপর ওয়াজিব কর্তব্যের চেয়ে মহান। আর উলুল আযম (দৃঢ় সংকল্পধারী) রাসূলদের ওপর ওয়াজিব কর্তব্য ছিল অন্যদের তুলনায় মহান। আর জ্ঞানীদের ওপর ওয়াজিব কর্তব্য ছিল অন্যদের তুলনায় মহান। প্রত্যেকেই নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী (দায়িত্বপ্রাপ্ত)»(২)।

নিশ্চিত বিশ্বাসের (ইয়াকীন) অর্থ সম্পর্কে ইবনুল কায়্যিমের বক্তব্য সেই দাসত্বের প্রকৃত রূপকে স্পষ্ট করে যা বান্দা থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হয় না। আর সূফীদের মধ্যে যারা নিজেদেরকে 'আহলুল ওয়াজদ' (ভাবাবেগের লোক) বলে অভিহিত করে এবং তাদের মতো অন্যান্যরা, তাদের প্রধানরা দাবি করে যে, তাদের ইবাদতের আধিক্যের কারণে তাদের থেকে শরীয়তের বিধান (তাকলিফ) তুলে নেওয়া হয়েছে।

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) দাসত্বের স্তর বর্ণনা করেছেন যে, বান্দা যখনই দাসত্বের মঞ্জিলগুলোতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তার দাসত্ব আরও মহান হয়। বান্দার ইলম, মর্যাদা ও অবস্থান যত বৃদ্ধি পায়, তার দাসত্ব তত মহান ও সুদৃঢ় হয়; যেমনটি ছিল রাসূলদের দাসত্ব এবং তাদের মধ্যে উলুল আযমদের দাসত্ব, আর নবীদের উত্তরাধিকারী রব্বানী আলেমদের দাসত্ব।

--------------------------------------------

(১) হাদীসের মূল অংশ বুখারী (১২৪৩) বর্ণনা করেছেন।

(২) মাদারিজুস সালিকীন (১/ ১০৩ - ১০৪)।