(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: -)
النكت على كتاب ابن الصلاح لابن حجر   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: النكت على كتاب ابن الصلاح

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)

المحقق: ربيع بن هادي عمير المدخلي [ت 1447 هـ]

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

عدد المجلدات: 2

الطبعة: الأولى، 1404 هـ/1984 م

تمت مقابلة الكتاب واستدراك بعض الأخطاء

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে হাজারের রচিত কিতাব ইবনুস সালাহর ওপর আন-নুকাত   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: কিতাব ইবনুস সালাহর ওপর আন-নুকাত

লেখক: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)

সম্পাদক: রবি বিন হাদি উমাইর আল-মাদখালি [মৃত্যু ১৪৪৭ হিজরি]

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

খণ্ড সংখ্যা: ২

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৪ হিজরি/১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

বইটি যাচাই করা হয়েছে এবং কিছু ভুল সংশোধন করা হয়েছে

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৭)
المجلد الأول

‌‌مقدمة

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله - صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم -. أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، وليخرج الناس من الظلمات إلى النور.

من ظلمات الشرك والجهل والكفر والظلم إلى نور التوحيد والإيمان والعلم والعدل.

جاء بأعظم رسالة وأعلاها مكانة، وأشملها لمصالح البشر، وأحقها بالبقاء والخلود.

ولهذا تعهد الله تعالى فقال: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1.

وتنفيذا وتحقيقا لهذا الوعد الصادق الأكيد كان كل ما قامت به الأمة الإسلامية من جهود عظيمة واهتمام بالغ - لا يعرف الأقل منه لأمة من الأمم ولا

--------------------------------------------

1 سورة الحجر: آية 9.
প্রথম খণ্ড

‌‌ভূমিকা

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল - তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে; আর যাতে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।

শিরক, অজ্ঞতা, কুফর ও জুলুমের অন্ধকার থেকে তাওহীদ, ঈমান, জ্ঞান ও ন্যায়ের আলোর দিকে।

তিনি সবচেয়ে মহান বার্তা নিয়ে এসেছেন যা মর্যাদায় সর্বোচ্চ, মানবজাতির কল্যাণে সবচেয়ে ব্যাপক এবং স্থায়িত্ব ও অমরত্বের জন্য সবচেয়ে যোগ্য।

এ কারণেই মহান আল্লাহ অঙ্গীকার করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} ১।

এই সত্য ও সুনিশ্চিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সফল করার লক্ষ্যেই মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে সকল মহান প্রচেষ্টা ও গভীর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে - যার সামান্যতম দৃষ্টান্ত অন্য কোনো জাতির মধ্যে জানা যায় না এবং

--------------------------------------------

১. সূরা আল-হিজর: আয়াত ৯।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৮)
عنه: "وكان أول من احتاط في قبول الأخبار، فروى ابن شهاب عن قبيصة بن ذؤيب أن الجدة جاءت إلى أبي بكر رضي الله عنه تلتمس أن تورث فقال: ما أجد لك في كتاب الله شيئا، ثم سأل الناس فقام المغيرة بن شعبة فقال: "حضرت رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطيها السدس فقال: هل معك أحد، فشهد محمد بن مسلمة بمثل ذلك فأنفذه لها أبو بكر"1 وإذا فنشوء هذا العلم بدأ من عهد الصحابة ولا يزال ينمو وتتسع دائرته في أذهان أهل هذا العلم.

ثالثا: حتى جاء عصر التدوين فبدأ يساير تدوين الحديث، ويواكبه جنبا إلى جنب وإن كان في دائرة ضيقة، وموزعا هنا وهناك.

قال الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة رحمه الله -2: "هذا وقد كتب العلماء فيه من عصر التدوين إلى يومنا هذا نفائس ما يكتب، من ذلك ما تجده في أثناء مباحث (الرسالة) للإمام الشافعي وفي ثنايا (الأم) له، وما نقله تلاميذ الإمام أحمد في أسئلتهم له ومحاورته معهم وما كتبه الإمام مسلم بن الحجاج في مقدمة صحيحه، ورسالة الإمام أبي داود السجستاني إلى أهل مكة في بيان طريقته في سننه الشهيرة، وما كتبه الحافظ أبو عيسى الترمذي في كتابه (العلل المفرد) في آخر جامعه وما بثه في الكلام على أحاديث جامعه في طيات الكتاب من تصحيح وتضعيف وتقوية وتعليل، وللإمام البخاري التواريخ الثلاثة ولغيره من علماء الجرح والتعديل من معاصريه ومن بعدهم: بيانات وافية لقواعد هذا الفن تجيء منتشرة في تضاعيف كلامهم حتى جاء من بعدهم فجرد هذه القواعد في كتب مستقلة ومصنفات عدة أشار إلى أشهرها الحافظ ابن حجر العسقلاني في فاتحة شرحه لنخبة الفكر3 فقال:

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ، ص 2، المدخل إلى علوم الحديث للأستاذ عتر، ص 4

2 مقدمة الباعث الحثيث ص 11.

3 ص 2.
তাঁর থেকে বর্ণিত: "তিনি সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। ইবনে শিহাব কাবিসাহ বিন যুআইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক দাদী আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে তাঁর মিরাস (উত্তরাধিকার) পাওয়ার আবেদন নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন: 'আমি আল্লাহর কিতাবে আপনার জন্য কিছুই পাচ্ছি না।' তারপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মুগীরাহ বিন শু'বাহ দাঁড়িয়ে বললেন: 'আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে ছিলাম যখন তিনি তাকে ছয় ভাগের এক ভাগ দিয়েছিলেন।' তিনি (আবু বকর) বললেন: 'আপনার সাথে কি আর কেউ আছে?' তখন মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন। ফলে আবু বকর এটি তার জন্য কার্যকর করলেন।" ১ অতএব, এই শাস্ত্রের উদ্ভব সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই শুরু হয়েছে এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের চিন্তায় এর পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি ও প্রসারিত হতে থাকে।

তৃতীয়ত: শেষ পর্যন্ত সংকলনের যুগ এলো এবং এটি হাদীস সংকলনের সমান্তরালে চলতে শুরু করল এবং এর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অগ্রসর হলো, যদিও তা একটি সংকীর্ণ পরিসরে এবং এখানে-সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।

শাইখ মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক হামযাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন ২: "এই বিষয়ে আলেমগণ সংকলনের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অতি মূল্যবান বিষয়াদি লিখেছেন। যেমনটি আপনি ইমাম শাফিঈ-এর 'আর-রিসালাহ' এবং তাঁর 'আল-উম্ম' কিতাবের আলোচনার মাঝে দেখতে পান। এছাড়া ইমাম আহমাদ-এর ছাত্ররা তাঁর কাছে যে প্রশ্নগুলো করেছেন এবং তাঁর সাথে যে আলোচনা ও বিতর্ক করেছেন তাতে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং ইমাম মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ তাঁর সহীহ-এর ভূমিকায় যা লিখেছেন, এবং ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী মক্কাবাসীদের কাছে তাঁর বিখ্যাত সুনান-এর পদ্ধতি বর্ণনায় যে পত্র লিখেছেন, এবং হাফেয আবু ঈসা আত-তিরমিযী তাঁর 'আল-ইলাল আল-মুফরাদ' নামক কিতাবে যা লিখেছেন যা তাঁর জামে-এর শেষে রয়েছে, এবং কিতাবটির বিভিন্ন স্থানে হাদীসের সহীহ, যঈফ, শক্তিশালীকরণ ও ত্রুটি (ইলাল) বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি যা ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইমাম বুখারীর তিনটি 'তারীখ' গ্রন্থ এবং তাঁর সমসাময়িক ও পরবর্তী 'জারহ ও তা'দীল' শাস্ত্রের অন্যান্য আলেমদের নিকটও এই শিল্পের নিয়মাবলীর পর্যাপ্ত বিবরণ রয়েছে যা তাদের বক্তব্যের বিভিন্ন ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরবর্তীগণ এসে এই নিয়মগুলোকে স্বতন্ত্র কিতাবে ও বিভিন্ন সংকলনে বিন্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধগুলোর দিকে হাফেয ইবনে হাজার আল-আসকালানী তাঁর 'নুখবাতুল ফিকার'-এর ব্যাখ্যার শুরুতে ইঙ্গিত করেছেন ৩ এবং বলেছেন:

--------------------------------------------

১ তাযকিরাতুল হুফফায, পৃ. ২, আল-মাদখাল ইলা উলূমিল হাদীস - প্রফেসর ইতর, পৃ. ৪।

২ আল-বা'ইছ আল-হাসীস-এর ভূমিকা, পৃ. ১১।

৩ পৃ. ২।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৯)
"فمن أول من صنف في ذلك القاضي أبو محمد الرامهرمزي (الحسن بن عبد الرحمن الذي عاش إلى قريب سنة (360) في كتابه (المحدث الفاصل) لكنه لم يستوعب".

والحاكم أبو عبد الله النيسابوري، لكنه لم يهذب ولم يرتب، وتلاه أبو نعيم الأصبهاني فعمل على كتابه مستخرجا وأبقى أشياء للمتعقب.

ثم جاء بعدهم الخطيب أبو بكر البغدادي فصنف في قوانين الرواية كتابا سماه (الكفاية) وفي آدابها كتابا سماه (الجامع لآداب الشيخ والسامع) وقل فن من فنون الحديث إلا وقد صنف فيه كتابا مفردا، فكان كما قال الحافظ أبو بكر بن نقطة: كل من أنصف علم أن المحدثين بعد الخطيب عيال على كتبه، ثم جاء بعدهم بعض من تأخر عن الخطيب فأخذ من هذا العلم بنصيب، فجمع القاضي عياض كتابا لطيفا سماه (الإلماع) وأبو حفص الميانجي جزءا سماه (ما لا يسع المحدث جهله) وأمثال ذلك من التصانيف التي اشتهرت وبسطت ليتوفر علمها، واختصرت ليتيسر فهمها، إلى أن جاء الحافظ الفقيه أبو عمرو عثمان بن صلاح عبد الرحمن الشهرزوري نزيل دمشق فجمع لما ولي تدريس الحديث بالمدرسة الأشرفية كتابه المشهور، فهذب فنونه وأملاه شيئا بعد شيء فلهذا لم يحصل ترتيبه على الوضع المناسب واعتنى بتصانيف الخطيب المفرقة، فجمع شتات مقاصدها وضم إليها من غيرها نخب فوائدها، فاجتمع في كتابه ما تفرق في غيره، فلهذا عكف الناس عليه وساروا بسيره فلا يحصى كم ناظم له ومختصر ومستدرك عليه ومقتصر ومعارض له ومنتصر.

فنحن نرى أن التأليف لم يقف عند كتاب ابن الصلاح وإن كان على صغر حجمه قد جمع شتات ما قبله، بل كان هذا الكتاب حافزا للعلماء على السير قدما في مضمار التأليف في هذا الفن ما بين مختصر ومطول فمما أُلف في هذا الفن بعده:
এই বিষয়ে প্রথম যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাযী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুযী (হাসান ইবনে আবদুর রহমান, যিনি ৩৬০ হিজরীর কাছাকাছি সময় পর্যন্ত জীবিত ছিলেন) তার 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' নামক গ্রন্থে। তবে তিনি এতে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেননি।

এবং আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ আন-নাইসাবুরী, তবে তিনি তা সুবিন্যস্ত ও সুসংবদ্ধ করেননি। এরপর আবু নুআইম আল-আসফাহানী তার কিতাবের ওপর ভিত্তি করে একটি মুস্তাখরাজ রচনা করেন, তবে তিনি পরবর্তী সমালোচকদের জন্য কিছু বিষয় বাকি রেখে যান।

অতঃপর তাদের পরে আসলেন খতিব আবু বকর আল-বাগদাদী। তিনি বর্ণনার নিয়মাবলী বিষয়ে 'আল-কিফায়া' নামক একটি গ্রন্থ এবং এর শিষ্টাচার বিষয়ে 'আল-জামি লি আদাবিশ শাইখ ওয়াস সামি' নামক গ্রন্থ রচনা করেন। হাদিস বিজ্ঞানের খুব কম শাখাই এমন আছে যাতে তিনি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেননি। হাফেজ আবু বকর ইবনে নুকতাহ যেমনটি বলেছেন: "যে ব্যক্তিই ইনসাফ করবে সে জানতে পারবে যে, খতিব আল-বাগদাদীর পরবর্তী সকল মুহাদ্দিস তার কিতাবসমূহের ওপর নির্ভরশীল।" অতঃপর তাদের পরে খতিব আল-বাগদাদীর পরবর্তী এমন কিছু আলেম আসলেন যারা এই ইলম থেকে অংশ গ্রহণ করলেন। কাযী ইয়াদ 'আল-ইলমা' নামক একটি চমৎকার কিতাব সংকলন করলেন এবং আবু হাফস আল-মায়ানিজী 'মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলুহু' নামক একটি পুস্তিকা রচনা করলেন। এছাড়া আরও এমন অনেক গ্রন্থ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যা জ্ঞান অর্জনের সুবিধার্থে বিস্তারিতভাবে রচিত হয়েছে এবং সহজবোধ্য করার জন্য সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। অবশেষে হাফেজ ফকিহ আবু আমর উসমান ইবনে সালাহ আবদুর রহমান আশ-শাহরাযুরী—যিনি দামেস্কের অধিবাসী ছিলেন—আগমন করলেন। তিনি যখন আশরাফিয়া মাদ্রাসায় হাদিস পড়ানোর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তিনি তার বিখ্যাত কিতাবটি সংকলন করলেন। তিনি এর বিষয়সমূহকে সুবিন্যস্ত করলেন এবং পর্যায়ক্রমে তা শ্রুতিলিখন করালেন। এ কারণেই এর বিন্যাস যথোপযুক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হতে পারেনি। তিনি খতিব আল-বাগদাদীর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রন্থগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দিলেন এবং সেগুলোর মূল লক্ষ্যসমূহকে একত্র করলেন এবং অন্যান্য উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নির্যাসগুলো এর সাথে যুক্ত করলেন। ফলে অন্যান্য কিতাবে যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল তা তার কিতাবে একত্রিত হলো। একারণে মানুষ এর ওপর গভীরভাবে মনোনিবেশ করল এবং তার পথ অনুসরণ করল। এই কিতাবের কত যে কাব্যিক রূপান্তরকারী, সংক্ষেপকারী, সম্পূরক রচয়িতা, সারসংক্ষেপকারী, বিরোধিতাকারী এবং সমর্থনকারী রয়েছে তা গণনা করা সম্ভব নয়।

সুতরাং আমরা দেখি যে, গ্রন্থ রচনা ইবনে সালাহর কিতাবেই থেমে থাকেনি, যদিও তা আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও পূর্ববর্তী সব বিক্ষিপ্ত বিষয়কে একত্রিত করেছিল। বরং এই কিতাবটি আলেমদের জন্য এই শাস্ত্রের রচনাশৈলীতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছিল, যার মধ্যে সংক্ষিপ্ত এবং বিস্তারিত উভয় ধরনের গ্রন্থই ছিল। ইবনে সালাহর পরে এই শাস্ত্রে যা কিছু রচিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১০)
1- الإرشاد للنووي (ت 676) اختصر فيه مقدمة ابن الصلاح.

2- التقريب للإمام النووي لخص فيه كتاب الإرشاد.

3- اختصار علوم الحديث للحافظ إسماعيل بن عمر الشهير بابن كثير (ت 884) .

4- الخلاصة للطيبي (ت 743) لخص فيه مقدمة ابن الصلاح.

5- المنهل الروي لبدر الدين بن جماعة (ت 733) لخص فيه مقدمة ابن الصلاح (مخطوط) .

6- محاسن الإصلاح وتضمين كتاب ابن الصلاح لشيخ الإسلام البلقيني (ت 805) مطبوع.

7- النكت للزركشي (ت 794) على مقدمة ابن الصلاح. مخطوط.

8- التقييد والإيضاح لما أطلق وأغلق من كتاب ابن الصلاح للحافظ زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقي (ت 806) مطبوع.

9- المقنع لابن الملقن (ت 802) وهو تلخيص لمقدمة ابن الصلاح.

10- ألفية الحديث للحافظ عبد الرحيم العراقي وشرحاه وهما مطبوعان.

11- النكت لابن حجر على مقدمة ابن الصلاح، والتقييد والإيضاح للعراقي، وهو الكتاب الذي نحن بصدد خدمته وتحقيقه.

12- النكت الوفية في شرح الألفية للبقاعي (ت 885) مخطوط.

13- فتح المغيث للحافظ السخاوي (ت 903) وهو شرح لألفية العراقي مطبوع.

14- فتح الباقي شرح ألفية العراقي للشيخ زكريا الأنصاري (ت 928) مطبوع.
১- ইমাম নববী (ওফাত ৬৭৬ হিজরী) রচিত 'আল-ইরশাদ', যাতে তিনি ইবনুল সালাহ-এর 'মুকাদ্দিমাহ' সংক্ষেপ করেছেন।

২- ইমাম নববী রচিত 'আত-তাকরীব', যাতে তিনি 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থের সারসংক্ষেপ করেছেন।

৩- হাফেজ ইসমাইল ইবনে উমর, যিনি ইবনে কাসীর নামে পরিচিত (ওফাত ৮৮৪ হিজরী), রচিত 'ইখতিসার উলুমিল হাদিস'।

৪- তীবী (ওফাত ৭৪৩ হিজরী) রচিত 'আল-খুলাসা', যাতে তিনি ইবনুল সালাহ-এর 'মুকাদ্দিমাহ' সংক্ষেপ করেছেন।

৫- বদরুদ্দীন ইবনে জামাআহ (ওফাত ৭৩৩ হিজরী) রচিত 'আল-মানহালুর রাবী', যাতে তিনি ইবনুল সালাহ-এর 'মুকাদ্দিমাহ' সংক্ষেপ করেছেন (পাণ্ডুলিপি)।

৬- শাইখুল ইসলাম আল-বুলকিনী (ওফাত ৮০৫ হিজরী) রচিত 'মাহাসিনুল ইসলাহ ওয়া তাজমিনু কিতাবি ইবনিস সালাহ', এটি মুদ্রিত।

৭- যারকাশী (ওফাত ৭৯৪ হিজরী) রচিত 'আন-নুকাতি আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ' (পাণ্ডুলিপি)।

৮- হাফেজ যাইনুদ্দীন আব্দুর রহীম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকী (ওফাত ৮০৬ হিজরী) রচিত 'আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইযাহ লিমা উতিলাকা ওয়া উগ্লিকা মিন কিতাবি ইবনিস সালাহ', এটি মুদ্রিত।

৯- ইবনুল মুলাক্কিন (ওফাত ৮০২ হিজরী) রচিত 'আল-মুকনি', যা ইবনুল সালাহ-এর 'মুকাদ্দিমাহ'-এর সারসংক্ষেপ।

১০- হাফেজ আব্দুর রহীম আল-ইরাকী রচিত 'আলফিয়াতুল হাদিস' এবং এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা উভয়ই মুদ্রিত।

১১- ইবনুল সালাহ-এর 'মুকাদ্দিমাহ' এবং ইরাকীর 'আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইযাহ'-এর উপর ইবনে হাজার রচিত 'আন-নুকাত', আর এটিই সেই কিতাব যা আমরা সম্পাদনা ও তাহকীক করার কাজে নিয়োজিত রয়েছি।

১২- বিকাঈ (ওফাত ৮৮৫ হিজরী) রচিত 'আন-নুকাতুল ওয়াফিয়াহ ফি শারহিল আলফিয়াহ' (পাণ্ডুলিপি)।

১৩- হাফেজ সাখাভী (ওফাত ৯০৩ হিজরী) রচিত 'ফাতহুল মুগীস', যা ইরাকীর 'আলফিয়াহ'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এটি মুদ্রিত।

১৪- শাইখ যাকারিয়া আল-আনসারী (ওফাত ৯২৮ হিজরী) রচিত 'ফাতহুল বাকী শারহু আলফিয়াতিল ইরাকী', এটি মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১১)
لدين من الأديان - بحفظ القرآن العظيم في الصدور والمصاحف والعناية الفائقة بتلاوته آناء الليل وأطراف النهار في البيوت والمساجد والمعاهد والاهتمام بدراسته وتفسيره واستنباط أحكامه والاعتبار بقصصه وأمثاله وعظاته والتأليف في شتى العلوم التي تخدمه وتبين بلاغته وإعجازه من لغوية وبلاغية وتاريخية وغيرها.

فما من سورة من سوره ولا آية من آياته ولا كلمة من كلماته إلا وقد دار حولها بحث وكان لها شأن ونبأ.

وقد شرف الله محمدا خاتم النبيين وأكرم الرسل صلوات الله وسلامه عليه وأعلا مكانته وأنزله المنزلة الكريمة التي يستحقها فأسند إليه مهمة بيان ما في القرآن من إجمال وشرح ما يحتاج إلى شرح وتفصيل.

قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِم} 1 الآية.

فقام - بما أسند إليه من واجب أكمل قيام بأقواله وأفعاله وأحواله وجهاده العظيم وسيرته العطرة حتى ترك الناس على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزغ عنها إلا هالك.

وأسند تلك الرسالة العظيمة إلى خير أمة أخرجت للناس فقال صلى الله عليه وسلم: "بلغوا عني ولو آية" 2. "فليبلغ الشاهد منكم الغائب" 3.

فقام الصحابة الكرام بتبليغ تلك الرسالة وأداء تلك الأمانة عل أحسن الوجوه وأقومها وتلقت ذلك الأمة الإسلامية جيلا عن جيل حتى وصلت إلينا تلك الرسالة الغراء غضة طرية، ولن تزال كذلك حتى يأذن الله لهذا العالم بالزوال ولشمس حياة البشرية بالأفول.

--------------------------------------------

1 سورة النحل: آية 44.

2 خ الأنبياء، حديث 3461، ت124، دي 1: 111، حم2: 159، 202، 214.

3 خ العلم، رقم 67.
কোনো ধর্মেরই যা ভাগ্য হয়নি—বক্ষসমূহে এবং মাসহাফসমূহে মহান কুরআন সংরক্ষণের মাধ্যমে, দিন-রাত্রির প্রহরে প্রহরে ঘরবাড়ি, মসজিদ ও মাদরাসাগুলোতে অত্যন্ত যত্নের সাথে এর তিলাওয়াতের মাধ্যমে, এর অধ্যয়ন, তাফসির ও এর বিধানাবলি উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্বারোপের মাধ্যমে, এর ঘটনাবলি, দৃষ্টান্ত ও উপদেশসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে এবং কুরআন সংশ্লিষ্ট এবং এর ভাষাশৈলী ও অলৌকিকত্ব স্পষ্টকারী বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিক, অলংকারশাস্ত্রীয়, ঐতিহাসিক ও অন্যান্য বিদ্যায় গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এই দ্বীন অনন্য হয়ে আছে।

এর প্রতিটি সূরা, প্রতিটি আয়াত এমনকি প্রতিটি শব্দকে কেন্দ্র করেই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে এবং তার বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা শেষ নবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে সম্মানিত করেছেন, তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন এবং তাঁকে এমন এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে আসীন করেছেন যার তিনি উপযুক্ত ছিলেন। অতঃপর কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহের বর্ণনা এবং যা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মুখাপেক্ষী তা ব্যাখ্যা করার মহান দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি এই যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন} ১ (আয়াতের অংশ)।

তিনি তাঁর ওপর অর্পিত এই কর্তব্য তাঁর কথা, কাজ, অবস্থা, মহান জিহাদ এবং সুগন্ধিময় সীরাতের মাধ্যমে অত্যন্ত সুচারুরূপে পালন করেছেন। এমনকি তিনি মানুষকে এক সুস্পষ্ট উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো আলোকিত। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।

অতঃপর তিনি এই মহান বাণীর প্রচারের দায়িত্ব মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠতম হিসেবে উদ্ভূত উম্মতের ওপর অর্পণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।" ২ এবং "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছ, তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।" ৩

সম্মানীত সাহাবায়ে কেরাম সর্বোত্তম ও সবচেয়ে সঠিক পন্থায় সেই বার্তা প্রচার এবং সেই আমানত আদায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। অতঃপর মুসলিম উম্মাহ প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা গ্রহণ করেছে, যার ফলে সেই সমুজ্জ্বল বাণী সজীব ও অবিকৃত অবস্থায় আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এটি এভাবেই অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ এই পৃথিবী ধ্বংসের এবং মানবজীবনের সূর্য অস্তমিত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নাহল: আয়াত ৪৪।

২. সহীহ বুখারী, আম্বিয়া অধ্যায়, হাদিস ৩৪৬১; তিরমিযী ১২৪; দারেমী ১: ১১১; আহমাদ ২: ১৫৯, ২০২, ২১৪।

৩. সহীহ বুখারী, ইলম অধ্যায়, হাদিস ৬৭।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১২)
ولقد حظيت السنة المطهرة ببيان الرسول صلى الله عليه وسلم وشرحه للقرآن بحظها الوافر من وعد الله لتنزيله وذكره بالحفظ، فإنها والقرآن الكريم من مشكاة واحدة. وضياع شيء منها – وهي بيانه وشرحه – ينافي ما وعد الله به من حفظ للقرآن الكريم.

وإذن فالسنة المطهرة داخلة في ذلك الوعد الصادق بالحفظ والضمان الأكيد.

فكان من مظاهر تنفيذ ذلك ما نراه ونلمسه من جهود بذلت لحفظها وصيانتها والذود عن حياضها والتأليف في العلوم التي تخدمها، سرح طرفك في ذلك التراث العظيم، وقلب صفحاته تر العجب العجاب وما يدهش الألباب وخذ ما شئت من نصوص هذه السنة المطهرة، وتابعه في عشرات الكتب فستجد أنه ما من نص إلا وله شأن وأي شأن ودراسة وتحليل واستنباط وتمحيص وتحقيق وأخذ وإعطاء.

ولقد أعد الله لحفظ هذه السنة المطهرة وصيانتها رجالا صنعهم على عينه وأمدهم بشتى المواهب النفسية والعقلية والذكاء المتوقد والحفظ المستوعب والقدرة الهائلة على الإطلاع ما يبهر العقل ويستنفد العجب ويجعل في المطلع على أخبارهم وأحوالهم ما يملأ قلبه يقينا بأن هؤلاء العباقرة ما أعدوا هذا الإعداد العجيب إلا لغاية سامية هي إنفاذ وعد الله الكريم: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1.

فكان من آثار هؤلاء العظماء ما تزخر به المكتبات الإسلامية اليوم وقبل اليوم من مؤلفات قيمة مختلفة المناهج والمواضيع، متحدة الغاية وهي خدمة السنة المطهرة.

فمؤلفات وضعت على المسانيد وجوامع وسنن على الأبواب العقائدية والتاريخية والفقهية، ومستخرجات، وأجزاء وتخريجات، وشروح وتأليف وأنواع علوم الحديث، وفي الموضوعات والناسخ والمنسوخ، وفي تواريخ الرجال وجرحهم

--------------------------------------------

1 سورة الحجر (9) .
নিশ্চয়ই পবিত্র সুন্নাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরআনের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কিতাব নাযিল এবং যিকির সংরক্ষণের ওয়াদার বড় একটি অংশ লাভ করেছে। কেননা সুন্নাহ ও কুরআন একই উৎস হতে নির্গত। সুন্নাহর কোনো কিছু—যা কিনা কুরআনের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা—হারিয়ে যাওয়া আল্লাহর কুরআন সংরক্ষণের সেই ওয়াদার পরিপন্থী।

সুতরাং, পবিত্র সুন্নাহ সংরক্ষণের সেই সত্য ওয়াদা এবং সুনিশ্চিত নিশ্চয়তার অন্তর্ভুক্ত।

সেই সংরক্ষণের বাস্তবায়ন হিসেবে আমরা সেসব প্রচেষ্টা দেখতে ও অনুভব করতে পারি যা সুন্নাহকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করার জন্য, তার অঙ্গনকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য এবং একে সেবা প্রদানকারী ইলমসমূহ রচনার ক্ষেত্রে ব্যয় করা হয়েছে। আপনি সেই মহান ঐতিহ্যের দিকে আপনার দৃষ্টি প্রসারিত করুন এবং এর পাতাগুলো উল্টে দেখুন, আপনি বিস্ময়কর সব বিষয় দেখতে পাবেন যা জ্ঞানীদের হতবাক করে দেয়। আপনি এই পবিত্র সুন্নাহর যে কোনো পাঠ গ্রহণ করুন এবং বহু সংখ্যক কিতাবে তা অনুসন্ধান করুন, তাহলে আপনি দেখতে পাবেন যে এমন কোনো পাঠ নেই যার কোনো গুরুত্ব নেই, বরং প্রত্যেকটি পাঠের রয়েছে বিশাল গুরুত্ব, অধ্যয়ন, বিশ্লেষণ, মূলনীতি উদ্ভাবন, যাচাই-বাছাই, তাহকীক এবং পর্যালোচনা।

আল্লাহ তাআলা এই পবিত্র সুন্নাহর সংরক্ষণ ও রক্ষার জন্য এমন কিছু ব্যক্তিদের প্রস্তুত করেছেন যাদেরকে তিনি স্বীয় তত্ত্বাবধানে গড়ে তুলেছেন এবং তাদেরকে নানাবিধ আত্মিক ও মানসিক প্রতিভা, প্রখর মেধা, প্রগাঢ় মুখস্থ শক্তি এবং অধ্যয়নের এমন এক বিশাল সক্ষমতা দান করেছেন যা মানুষের বুদ্ধিকে স্তম্ভিত করে দেয় ও বিস্ময়কে নিঃশেষ করে দেয়। তাদের সংবাদ ও অবস্থা পাঠকারীর মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি করে যে, এই মনীষীদেরকে এই বিস্ময়কর প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে কেবল একটি মহান লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য, আর তা হলো আল্লাহর সেই সম্মানিত ওয়াদা বাস্তবায়ন করা: "নিশ্চয়ই আমি যিকির নাযিল করেছি এবং নিশ্চয়ই আমিই তার সংরক্ষক।" ১।

এই মহান ব্যক্তিদের কীর্তিসমূহের ফলাফল স্বরূপ বর্তমানে এবং ইতিপূর্বে ইসলামী লাইব্রেরিগুলো বিভিন্ন পদ্ধতি ও বিষয়ের এমন সব মূল্যবান গ্রন্থাবলিতে পরিপূর্ণ রয়েছে যেগুলোর লক্ষ্য এক ও অভিন্ন, আর তা হলো পবিত্র সুন্নাহর সেবা করা।

সুতরাং এমন অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা মুসনাদ পদ্ধতিতে সাজানো, আবার কিছু জামে এবং সুনান কিতাব রয়েছে যা আকিদাহ, ইতিহাস ও ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত। এছাড়া রয়েছে মুস্তাখরাজাত, আজযা ও তাখরীজাত, ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকারের উপর রচিত গ্রন্থাবলি। আরও রয়েছে মাওযূআত, নাসিখ ও মানসুখ এবং বর্ণনাকারীদের ইতিহাস ও তাদের সমালোচনা সংক্রান্ত কিতাবসমূহ।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হিজর (৯)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১৩)
وتعديلهم، وأخرى في غريب الحديث، وفي علل الأسانيد من حيث الإرسال والوصل والرفع والوقف. وكان من هؤلاء الأئمة الأفذاذ أمير المؤمنين في الحديث الحافظ العلامة ابن حجر العسقلاني الذي ساهم في خدمة السنة وعلومها بحظ وافر وله الباع الطويل في العلوم الإسلامية وعلوم السنة المطهرة بالأخص وكان من آثاره العظيمة في ميدان علوم السنة (كتاب النكت على ابن الصلاح والعراقي) الذي نحن بصدد خدمته وتحقيقه وإخراجه لطلاب علوم السنة لينهلوا من نميره.

ولما كان الكتاب في علوم الحديث ومصطلحه فلابد من إعطاء القارئ لمحة عن تاريخه ونشئه.

نشأة علوم الحديث وتطورها:

كان الصحابة رضوان الله عليهم أول من احتاط لحفظ السنة وصيانتها من أن يشوبها شائبة من غيرها أو يتطرق إليها خطأ أو خلل فاتخذوا للرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم منهجا يضمن عدم تسرب أي خلل إليها من طريق السهو أو العمد. فمن ذلك:

أولا: تقليل الرواية عن الرسول صلى الله عليه وسلم خوفا من الوقوع في الخطأ والنسيان مما يؤدي إلى شبهة الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث لا يشعرون.

فكان أبو بكر وعمر وعلي وابن مسعود والزبير بن العوام وغيرهم من الصحابة رضي الله عنهم يقلون من الرواية ويحذرون الناس من الإكثار منها1.

ثانيا: التثبت من الرواية عند أخذها وأدائها.

قال الإمام الذهبي رحمه الله في ترجمة أبي بكر رضي الله تعالى

--------------------------------------------

1 المدخل إلى علوم الحديث للأستاذ عتر ص4.
...এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে, আর অন্যগুলো বিরল হাদিসের ক্ষেত্রে, এবং বর্ণনাসূত্রের ত্রুটিসমূহের ক্ষেত্রে—ইরাসাল (বিচ্ছিন্নতা), ওয়াসল (সংযুক্ততা), রাফ' (রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো) এবং ওয়াকফ (সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকা) এর দিক থেকে। এই অনন্য ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন, হাফেজ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী, যিনি সুন্নাহ এবং এর জ্ঞানসমূহের খিদমতে বিশাল অবদান রেখেছেন। ইসলামি জ্ঞান এবং বিশেষ করে পবিত্র সুন্নাহর জ্ঞানসমূহে তাঁর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। সুন্নাহর জ্ঞানসমূহের ময়দানে তাঁর অন্যতম মহান কাজ হলো (কিতাবুন নুকাত আলা ইবনিস সালাহ ওয়াল ইরাকি), যা বর্তমানে আমরা সুন্নাহর জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পাদন, তাহকিক এবং প্রকাশের কাজ করছি, যাতে তারা এর স্বচ্ছ ও নির্মল প্রস্রবণ থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারে।

যেহেতু বইটি হাদিস বিজ্ঞান এবং এর পরিভাষা সংক্রান্ত, তাই এর ইতিহাস ও উৎপত্তি সম্পর্কে পাঠককে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া আবশ্যক।

হাদিস বিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:

সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যারা সুন্নাহর হেফজ এবং একে বিজাতীয় কিছুর মিশ্রণ অথবা কোনো ভুল বা ত্রুটির অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষা করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন যা ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ত্রুটি অনুপ্রবেশ না করাকে নিশ্চিত করে। এর মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, যাতে ভুল বা বিস্মৃতি না ঘটে, যা অজান্তেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপের সন্দেহের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

আবু বকর, উমর, আলী, ইবনে মাসউদ, জুবাইর ইবনুল আওয়াম এবং অন্যান্য সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বর্ণনার পরিমাণ কমিয়ে রাখতেন এবং মানুষকে অতিরিক্ত বর্ণনা করা থেকে সতর্ক করতেন।১

দ্বিতীয়ত: বর্ণনা গ্রহণ এবং প্রদানের সময় তার সত্যতা যাচাই ও নিশ্চিত করা।

ইমাম জাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী আলোচনায় বলেছেন—

--------------------------------------------

১ আল-মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিস, উস্তাদ ইতর, পৃষ্ঠা ৪।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১৪)
15- الاقتراح لابن دقيق العيد (ت 702) مطبوع.

16- تدريب الراوي للحافظ السيوطي (ت 911) وهو شرح التقريب للنووي مطبوع.

17- نخبة الفكر للحافظ ابن حجر وشرحها نزهة النظر طبعا بمصر والهند.

18- شرح النخبة لملا علي قاري (المتوفى سنة 1014) طبع في تركيا.

19- اليواقيت والدرر للمناوي (المتوفى سنة 1031) وهو شرح على نخبة الفكر، مخطوط توجد منه نسخة في دار الكتب المصرية برقم 6663.

20- حاشية نزهة النظر لابن قطلوبغا (ت 879) خطوط.

21- تنقيح الأنظار لابن الوزير (ت840) وشرحه توضيح الأفكار لمحمد بن إسماعيل الأمير الصنعاني (ت 1182) وقد طبعا في مصر.

وغير هذه من المؤلفات الكثيرة في هذا الفن.

أسباب اختياري للعمل في كتاب النكت لابن حجر:

1- قيمة الكتاب العلمية. إذ الكتاب غزير في مادته، أضاف جديدا إلى ما سبقه من مؤلفات في علوم الحديث.

2- حبي لعلم الحديث وما يتصل به من علوم خصوصا مصطلح الحديث؛ إذ بقواعده يعرف الصحيح من الحديث السقيم، ويتميز به المقبول من المردود.

3- مكانة مؤلفه الحافظ ابن حجر بين علماء السنة ودوره العظيم في خدمة علوم السنة وسعة اطلاعه ومنهجه الفذ في البحث. فدراسة مؤلف من
15- ইবনে দাকীকুল ঈদ (মৃত্যু ৭০২ হিজরী) রচিত 'আল-ইকতিরাহ', এটি মুদ্রিত হয়েছে।

16- হাফেজ আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী) রচিত 'তাদরীবুর রাবী', যা ইমাম আন-নববীর 'আত-তাকরীব' গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এটি মুদ্রিত হয়েছে।

17- হাফেজ ইবনে হাজার রচিত 'নুখবাতুল ফিকার' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'নুজহাতুন নাযার', গ্রন্থ দুটি মিশর ও ভারতে মুদ্রিত হয়েছে।

18- মোল্লা আলী কারী (মৃত্যু ১০১৪ হিজরী) রচিত 'শারহুন্নুখবাহ', এটি তুরস্কে মুদ্রিত হয়েছে।

19- আল-মুনাওয়ী (মৃত্যু ১০৩১ হিজরী) রচিত 'আল-ইয়াওয়াকীত ওয়াদ-দুরার', এটি 'নুখবাতুল ফিকার'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ ৬৬৬৩ নম্বর সংকলনে সংরক্ষিত আছে।

20- ইবনে কুতলুবুগা (মৃত্যু ৮৭৯ হিজরী) রচিত 'নুজহাতুন নাযার'-এর টীকাগ্রন্থ (হাশিয়া), যা পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে।

21- ইবনুল উযীর (মৃত্যু ৮৪০ হিজরী) রচিত 'তানকীহুল আনযার' এবং মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমীর আস-সানআনী (মৃত্যু ১১৮২ হিজরী) রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তাওদীহুল আফকার', গ্রন্থ দুটি মিশরে মুদ্রিত হয়েছে।

এই শাস্ত্রের উপর এগুলো ছাড়াও আরও অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে।

ইবনে হাজারের 'আন-নুকাত' গ্রন্থটি নিয়ে কাজ করার জন্য আমার পছন্দের কারণসমূহ:

1- গ্রন্থটির জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব। কেননা গ্রন্থটি এর বিষয়বস্তুতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এটি হাদীস শাস্ত্রের পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সাথে নতুন অনেক কিছু যোগ করেছে।

2- হাদীস শাস্ত্র এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাস্ত্র বিশেষ করে 'মুসতালাহুল হাদীস' বা হাদীস পরিভাষা শাস্ত্রের প্রতি আমার ভালোবাসা; কেননা এর মূলনীতিসমূহের মাধ্যমেই সহীহ হাদীসকে দুর্বল হাদীস থেকে পৃথক করা যায় এবং গ্রহণযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্য বর্ণনাকে আলাদাভাবে চেনা যায়।

3- সুন্নাহর আলেমদের মাঝে এর লেখক হাফেজ ইবনে হাজারের উচ্চ মর্যাদা, উলূমুস সুন্নাহর সেবায় তাঁর মহান ভূমিকা, তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য পদ্ধতি। সুতরাং এমন একজন লেখকের রচিত গ্রন্থ নিয়ে গবেষণা করা...
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১৫)
مؤلفاته يفتح آفاقا رحبة للدارس في ميادين المعرفة خصوصا علم الحديث ومؤلفاته ورجال الحديث.

4- الرغبة في المشاركة في إحياء التراث الإسلامي ونفض الغبار عن كنوزه الثمينة التي خلفها لنا علماء الإسلام.

5- الرغبة في اكتساب الخبرة والحنكة في مجال تحقيق المخطوطات لعلي أن أقوم مستقبلا ببعض الواجب من تحقيق المخطوطات الإسلامية ونشرها.

6- وأول هذه الأسباب وآخرها أنني كنت في أثناء دراستي في السنوات المنهجية وقبلها وبعدها أقرأ في تدريب الراوي للسيوطي، وفتح المغيث للسخاوي وتوضيح الأفكار للصنعاني، وكنت أقف في الكتب المذكورة على نصوص منقولة عن الحافظ ابن حجر خصوصا توضيح الأفكار الذي يحافظ على حرفية تلك النصوص ويفصح بعزوها إلى الحافظ ابن حجر وأحيانا إلى كتابه النكت. وكانت تلك النصوص تتسم بعمق الفكرة ونضجها فكانت تلك النصوص في الكتب المذكورة كالدرر اللامعة تشد القارئ إليها شدا وتجذبه جذبا قويا. ولم يكن لدي أي نسخة من نسخ الكتاب فكانت الأماني تداعب مخيلتي والأشواق تحدوني إلى رؤية هذا الكتاب للاستفادة منه والقيام بتحقيقه.

ولما قدمت رسالة الماجستير إلى جامعة الملك عبد العزيز تحققت أمنيتي برؤية نسخة من الكتاب، فشرعت في مطالعته وازددت إعجابا به غير أن نفسي كانت تنازعني إلى البحث عن مواضيع أخرى ما بين موضوع مبتكر ومخطوط ثمين لم ينشر، فكنت أبحث في فهارس المخطوطات وأقلب الفكر في عدد من الموضوعات وأستشير أساتذة فضلاء وأصدقاء نبلاء أحيانا في هذا اللون وأخرى في ذلك، ما بين مشجع على بعضها وما بين صارف عنها، وموضوعي الأول النكت يلاحقني ويداعب فكري كلما عرض لي هذا الموضوع أو ذاك. وأخيرا لم
তাঁর রচনাবলী জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রসমূহে, বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্র, এর গ্রন্থাবলি এবং হাদিসের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) বিষয়ে শিক্ষার্থীর জন্য বিস্তৃত দিগন্ত উন্মোচন করে।

৪- ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার কাজে শরিক হওয়ার এবং ইসলামের উলামায়ে কেরাম আমাদের জন্য যে মূল্যবান রত্নভাণ্ডার রেখে গেছেন, সেগুলোর ওপর থেকে ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলার আকাঙ্ক্ষা।

৫- পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, যাতে ভবিষ্যতে আমি ইসলামি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্বের কিয়দাংশ পালন করতে পারি।

৬- এই সব কারণের মধ্যে প্রথম এবং প্রধান কারণ হলো, আমি আমার প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন চলাকালীন এবং তার আগে ও পরে সুয়ুতির 'তাদরিবুর রাওয়ি', সাখাভির 'ফাতহুল মুগিস' এবং সানআনির 'তাউদিহুল আফকার' পড়তাম। উল্লিখিত কিতাবগুলোতে আমি হাফেজ ইবনে হাজার থেকে উদ্ধৃত পাঠ্যংশ দেখতে পেতাম, বিশেষ করে 'তাউদিহুল আফকার'-এ, যা সেই উদ্ধৃতিগুলোর শব্দগত রূপ হুবহু সংরক্ষণ করত এবং স্পষ্টভাবে সেগুলোকে হাফেজ ইবনে হাজারের প্রতি এবং কখনো কখনো তাঁর 'আন-নুকাত' গ্রন্থের প্রতি সম্বন্ধ করত। সেই পাঠ্যংশগুলো ছিল সুগভীর ও পরিপক্ক চিন্তাধারাসম্পন্ন। উল্লিখিত গ্রন্থগুলোতে এই উদ্ধৃতিগুলো ছিল উজ্জ্বল মুক্তার মতো, যা পাঠককে প্রবলভাবে আকর্ষণ করত। আমার কাছে এই গ্রন্থটির কোনো কপি ছিল না, তাই আমার কল্পনাজুড়ে কেবল আকাঙ্ক্ষা খেলা করত এবং এই কিতাবটি দেখার, এ থেকে উপকৃত হওয়ার এবং এর সম্পাদনা করার তীব্র ব্যাকুলতা আমাকে তাড়িত করত।

যখন আমি কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সের থিসিস জমা দিলাম, তখন কিতাবটির একটি অনুলিপি দেখার মাধ্যমে আমার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলো। ফলে আমি এটি অধ্যয়ন শুরু করলাম এবং এর প্রতি আমার মুগ্ধতা আরও বেড়ে গেল। তবে আমার মন তখন অন্যান্য বিষয় নিয়েও গবেষণার জন্য উদগ্রীব ছিল—যেমন কোনো নতুন মৌলিক বিষয় অথবা কোনো মূল্যবান অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি। তাই আমি পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগগুলো খুঁজতাম এবং বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা করতাম। কখনো এই বিষয়ে, কখনো ওই বিষয়ে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ এবং সজ্জন বন্ধুদের পরামর্শ নিতাম। কেউ কোনো বিষয়ে উৎসাহ দিতেন, আবার কেউ নিরুৎসাহিত করতেন। কিন্তু আমার প্রাথমিক বিষয় 'আন-নুকাত' আমার পিছু ছাড়ত না এবং যখনই কোনো নতুন বিষয় সামনে আসত, এটি আমার চিন্তায় নাড়া দিত। অবশেষে...
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১৬)
أجد بدا من الاستسلام إلى تلك الرغبة الملحة، فقوي العزم وصممت الإرادة على العمل في ذلك الكتاب الذي فرض عليّ العمل فيه فرضاً فاستشرت فيه أستاذي الكبير الدكتور محمد محمد أبا شهبة، فأعجبه ذلك فوافق عليه متقبلا الإشراف عليه جزاه الله عني خير الجزاء.

فحينئذ شرعت في العمل فيه، فكان موضوع رسالتي للدكتوراه هو كتاب النكت لبن حجر على ابن الصلاح.

تحقيق ودراسة.

واستلزم العمل فيه أن أجعله على قسمين: قسم الدراسة، وقسم للتحقيق …

قسم الدراسة:

ويشتمل: على مقدمة وبابين.

المقدمة: فيما حظيت به السنة من عناية وخدمة وحفظ في نشأة علوم الحديث وتطورها والمؤلفات فيها ثم ذكرت فيها أسباب اختياري للعمل في كتاب النكت.

أما البابان: فالأول يشتمل على ثلاثة فصول:

الفصل الأول: في التعريف بالحافظ ابن الصلاح.

الفصل الثاني: في التعريف بالحافظ العراقي.

الفصل الثالث: في التعريف بالحافظ ابن حجر.

والباب الثاني: في دراسة الكتاب ويشتمل على أربعة فصول:

الفصل الأول: في تنكيت الحافظ ابن حجر على ابن الصلاح.

الفصل الثاني: في تنكيت الحافظ ابن حجر على العراقي.

الفصل الثالث: في مناهج الأئمة الثلاثة.

الفصل الرابع: في تعقباتي على الحافظ.
আমি সেই প্রবল আকাঙ্ক্ষার কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পেলাম না। ফলে আমার সংকল্প দৃঢ় হলো এবং আমি সেই কিতাবটির ওপর কাজ করার বিষয়ে মনস্থির করলাম যার ওপর কাজ করা যেন আমার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। এ বিষয়ে আমি আমার মহান উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবার সাথে পরামর্শ করলাম। বিষয়টি তাঁর পছন্দ হলো এবং তিনি এর তত্ত্বাবধান করতে সম্মত হলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

তখনই আমি এতে কাজ শুরু করলাম। আমার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল ইবনুস সালাহ-এর ওপর ইবনু হাজারের রচিত 'আন-নুকাত' কিতাবটি।

তাহকীক ও গবেষণা।

এর কাজ সম্পাদনের প্রয়োজনে আমাকে তা দুটি অংশে বিভক্ত করতে হয়েছে: গবেষণা অংশ এবং তাহকীক অংশ …

গবেষণা অংশ:

এটি একটি ভূমিকা এবং দুটি অধ্যায় সংবলিত।

ভূমিকা: হাদিস শাস্ত্রের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং এ বিষয়ক রচনাবলিতে সুন্নাহর প্রতি যে বিশেষ যত্ন, সেবা ও সংরক্ষণ করা হয়েছে সে প্রসঙ্গে। এরপর আমি 'আন-নুকাত' কিতাবটি নির্বাচনের কারণসমূহ এতে উল্লেখ করেছি।

অধ্যায়দ্বয়ের মধ্যে প্রথমটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফেজ ইবনুস সালাহ-এর পরিচিতি প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাফেজ ইরাকির পরিচিতি প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাফেজ ইবনু হাজারের পরিচিতি প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: কিতাবটি সংক্রান্ত গবেষণা প্রসঙ্গে, যা চারটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনুস সালাহ-এর ওপর হাফেজ ইবনু হাজারের সূক্ষ্ম সমালোচনা ও টীকা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইরাকির ওপর হাফেজ ইবনু হাজারের সূক্ষ্ম সমালোচনা ও টীকা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তিন ইমামের কর্মপদ্ধতি প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাফেজের ওপর আমার গবেষণালব্ধ পর্যালোচনা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১৭)
قسم التحقيق:

ويشتمل على بابين:

الباب الأول: وفيه ثلاثة فصول.

الفصل الأول: وفيه تحقيق اسم الكتاب.

الفصل الثاني: وفيه إثبات نسبة الكتاب إلى المؤلف.

الفصل الثالث: وفيه وصف مخطوطات الكتاب وبيان أماكن كل منها.

الباب الثاني: وفيه تحقيق نصوص الكتاب، وعملي فيه كالآتي:

1- حققت نصوص الكتاب بالاعتماد على خمس نسخ بعضها منقول عن نسخة المصنف وبعضها عن نسخ منقولة عن أصل المصنف، وقد حاولت قدر المستطاع أن يخرج نص الكتاب على أقرب صورة وضعها عليه المؤلف.

ثم أشرت إلى بدء الصفحات لكل نسخة بوضع خط مائل بعد الكلمة الأولى من أول كل صفحة، ثم أكتب في محاذاتها في الهامش رمز تلك النسخة وذلك ليسهل الرجوع إلى الأصول لمن أراد ذلك.

2- ميزت بين تنكيت الحافظ ابن حجر على ابن الصلاح والعراقي – بالإضافة إلى رمزيهما اللذين وضعهما الحافظ ابن حجر (ص) لابن الصلح، (ع) للعراقي – بأن وضعت لكل منهما أرقاما متسلسلة فلما يخص ابن الصلاح أرقامه ولما يخص العراقي أرقامه.

3- عرفت بالأعلام المذكورين في الكتاب تعريفا موجزا يتناول درجة الشخص المعرف به واسمه ونسبه ووفاته إلا من عجزت على الوقوف على ترجمته.

4- خرجت الأحاديث الواردة في الكتاب إلا ما لم أجده، وتكلمت عليها
গবেষণা বিভাগ:

এটি দুইটি অধ্যায় সম্বলিত:

প্রথম অধ্যায়: এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে গ্রন্থের নামের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ রয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততার প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং সেগুলোর অবস্থান বর্ণনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে গ্রন্থের মূল পাঠের সম্পাদনা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি নিম্নরূপ:

১- আমি গ্রন্থের মূল পাঠগুলো পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদনা করেছি, যার মধ্যে কিছু লেখকের নিজস্ব কপি থেকে নকল করা এবং কিছু লেখকের মূল কপির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত কপি থেকে নকল করা। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি যেন গ্রন্থের মূল পাঠটি লেখকের তৈরিকৃত রূপের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়।

এরপর আমি প্রতিটি পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা শুরুর সংকেত হিসেবে প্রতিটি পৃষ্ঠার প্রথম শব্দের পরে একটি তির্যক রেখা দিয়েছি, এবং এর সমান্তরালে পার্শ্বটীকায় সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপির সংকেত লিখেছি, যাতে কেউ চাইলে মূল পাণ্ডুলিপিতে সহজে ফিরে যেতে পারেন।

২- ইবনে আস-সালাহ এবং আল-ইরাকির ওপর হাফেজ ইবনে হাজার যে সূক্ষ্ম মন্তব্যগুলো করেছেন, সেগুলোকে আমি পৃথক করেছি—হাফেজ ইবনে হাজারের দেওয়া সংকেতদ্বয় (ইবনে আস-সালাহ-এর জন্য 'সোয়াদ' এবং আল-ইরাকির জন্য 'আইন') ছাড়াও আমি প্রত্যেকের জন্য পৃথক ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করেছি। ফলে ইবনে আস-সালাহ সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের জন্য আলাদা নম্বর এবং আল-ইরাকি সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের জন্য আলাদা নম্বর নির্দিষ্ট হয়েছে।

৩- গ্রন্থে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করেছি, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মান-মর্যাদা, নাম, বংশপরিচয় এবং মৃত্যুসন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; তবে যাদের জীবনী খুঁজে পেতে আমি অক্ষম হয়েছি তারা এর ব্যতিক্রম।

৪- গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি, তবে যেগুলো আমি খুঁজে পাইনি সেগুলো ব্যতীত; এবং আমি সেগুলোর ওপর আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ১৮)
تصحيحا وتضعيفا موافقا تارة للحافظ، وتارة مخالفا له إذا ظهر لي أن الصواب في خلاف ما قاله.

5- خرجت الآثار الواردة في الكتاب.

6- أرجعت النصوص والأقوال التي استقاها الحافظ عن غيره من العلماء إلى أصولها مبينا مواضعها من الأجزاء والصفحات إلا ما لم أجده.

7- أشرت إلى كثير من النصوص التي استفادها منه من بعده من العلماء خصوصا الصنعاني في توضيح الأفكار.

8- شرحت المفردات اللغوية والاصطلاحية.

9- ناقشت المؤلف في بعض آرائه وأيدت ما ظهر لي أنه الصواب.

وختمت الكتاب بالفهارس العلمية الضرورية وهي:

أ- فهرس مصادر الكتاب ومراجع التحقيق.

ب- فهرس الأعلام المترجم لهم.

ج- فهرس الأحاديث.

د- فهرس الآثار.

هـ- فهرس المواضيع.
বিশুদ্ধকরণ এবং দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কখনও হাফিজের অনুকূলে, আবার কখনও তাঁর প্রতিকূলে অবস্থান নিয়েছি যখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে সত্য তাঁর বক্তব্যের বিপরীতে।

৫- গ্রন্থে বর্ণিত আসারসমূহের (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) তাখরীজ করেছি।

৬- হাফিজ অন্যান্য আলেমদের থেকে যে সকল উদ্ধৃতি ও বক্তব্য আহরণ করেছেন সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ উল্লেখ করেছি, তবে যা আমি খুঁজে পাইনি তা ব্যতীত।

৭- পরবর্তী আলেমগণ তাঁর থেকে যে সকল পাঠ দ্বারা উপকৃত হয়েছেন আমি সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, বিশেষ করে 'তাওদীহুল আফকার' গ্রন্থে ইমাম সানআনী।

৮- আভিধানিক ও পারিভাষিক শব্দাবলীর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

৯- লেখকের কিছু মতামতের বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং আমার নিকট যা সঠিক প্রতীয়মান হয়েছে তা সমর্থন করেছি।

এবং প্রয়োজনীয় ইলমী নির্ঘণ্টের মাধ্যমে কিতাবটি সমাপ্ত করেছি, যা হলো:

ক- গ্রন্থের উৎস এবং সম্পাদনার রেফারেন্সসমূহের নির্ঘণ্ট।

খ- আলোচিত ব্যক্তিবর্গের নামের নির্ঘণ্ট।

গ- হাদীসসমূহের নির্ঘণ্ট।

ঘ- আসারসমূহের নির্ঘণ্ট।

ঙ- বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الباب الأول: في دراسة كتاب النكت للحافظ ابن حجر، على ابن الصلاح

‌‌الفصل الأول: في التعريف بالحافظ ابن الصلاح

 

التعريف بالإمام ابن الصلاح1:

هو الإمام الحافظ المفتي شيخ الإسلام تقي الدين أبو عمرو عثمان بن المفتي عبد الرحمن صلاح الدين بن عثمان بن موسى الكردي الشهرزوري الشافعي أحد أئمة المسلمين علما ودينا.

ولد سنة (557) في شرخان قرية قريبة من شهرزور2 التابع لإربل شمالي العراق فنسب إليها لكن اشتهرت نسبته إلى شهرزور. وكان والده عبد الرحمن يلقب صلاح الدين فنسب إليه وعرف بابن الصلاح.

ونشأ في بيت علم ورئاسة فكان أبوه صلاح الدين من العلماء الأجلاء فقيها متبحرا في فقه الإمام الشافعي تولى الإفتاء وعرف بالعلم والنبل والفضل.

--------------------------------------------

1 له ترجمة في الكتب الآتية:

- وفيات الأعيان 3/ 243- 244.

- تذكرة الحفاظ / 1430- 1431.

- طبقات الشافعية للسبكي 8/ 326.

- شذرات الذهب 5/ 221- 222.

- الأعلام للزركلي 4/ 369.

- معجم المؤلفين 6/ 257.

2 شهرزور بفتح الشين وسكون الهاء وفتح الراء وضم الزاي وسكون الواو.
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফিয ইবনে হাজারের রচিত ‘আন-নুকাত’ গ্রন্থের অধ্যয়ন, যা ইবনে আস-সালাহ-এর ওপর রচিত

প্রথম অনুচ্ছেদ: হাফিয ইবনে আস-সালাহ-এর পরিচিতি

 

ইমাম ইবনে আস-সালাহ-এর পরিচিতি ১:

তিনি হলেন ইমাম, হাফিয, মুফতি, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনুল মুফতি আবদুর রহমান সালাহুদ্দীন ইবনে উসমান ইবনে মুসা আল-কুর্দি আশ-শাহরাজুরি আশ-শাফিঈ; ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অন্যতম ইমাম।

তিনি ৫৫৭ হিজরিতে উত্তর ইরাকের ইরবিলের অন্তর্ভুক্ত শাহরাজুর ২-এর নিকটবর্তী শারখান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই গ্রামের দিকেই তাঁকে নিসবত করা হয়, তবে শাহরাজুরের দিকে তাঁর নিসবতটিই অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তাঁর পিতা আবদুর রহমানের উপাধি ছিল সালাহুদ্দীন, তাই তাঁর দিকে নিসবত করে তিনি ইবনে আস-সালাহ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি জ্ঞান ও নেতৃত্বের পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা সালাহুদ্দীন ছিলেন একজন সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী আলেম এবং ইমাম শাফিঈর ফিকহ শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী একজন ফকিহ। তিনি ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করতেন এবং জ্ঞান, আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন।

--------------------------------------------

১ নিচের গ্রন্থসমূহে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে:

- ওফায়াতুল আ’য়ান ৩/২৪৩-২৪৪।

- তাযকিরাতুল হুফফায / ১৪৩০-১৪৩১।

- সুবকি রচিত তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ ৮/৩২৬।

- শাযারাতুয যাহাব ৫/২২১-২২২।

- যিরিকলি রচিত আল-আ’লাম ৪/৩৬৯।

- মু’জামুল মুআল্লিফীন ৬/২৫৭।

২ শাহরাজুর: শীন বর্ণে যবর, হা বর্ণে জযম, রা বর্ণে যবর, যা বর্ণে পেশ এবং ওয়াও বর্ণে জযম।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২২)
في عهد الملوك الأيوبيين عاش ابن الصلاح، وهو عهد لقي من الملوك والأمراء تشجيعا على العلم بإنشاء المدارس والمكتبات ورصد الأوقاف على المؤسسات العلمية وعلى طلاب العلم والعلماء كما أنها تهيئ للعلماء الجو وتفسح أمامهم المجال ليتبوؤوا أرقى المناصب فتنافس العلماء في تحصيل العلوم، في هذا الوسط عاش ابن الصلاح فشمر عن ساعد الجد لا يألوا جهدا في تحصيل العلوم.

ولقي عناية فائقة وتشجيعا من أبيه الفاضل العالم يعلمه ويربيه ويوجهه ويدفعه لأن يرتحل في طلب العلم بعد أن درس عليه المهذب مرتين. أرسله في ريعان شبابه إلى الموصل فحصل العلوم بأنواعها الفقه والحديث والتفسير والأصول.

ثم واصل رحلته العلمية إلى بلدان العالم الإسلامي فارتحل إلى بغداد فسمع من أبي أحمد بن سكينة وعمر بن طبرزد، وإلى همذان ونيسابور ومرو فتلقى من العلوم الكثير خاصة علوم الحديث على أيدي كثير من العلماء ثم رجع أدراجه إلى البلاد العربية حلب وحران ودمشق فأخذ عن علمائها ما يروي ظمأه ويصل به إلى مرحلة التكامل والنضج وما يبلغ درجة الأستاذ العالم الموجه.

وانتهى به المطاف إلى أن استقر في بلاد الشام مع أبيه وأسرته ويستقبل عهدا جديدا؛ عهد المسؤولية ونشر العلم فتولى التدريس بالمدرسة الأسدية بحلب (نسبة إلى أسد الدين شيركوه) ودرس بالمدرسة الناصرية بالقدس (نسبة إلى الملك الناصر صلاح الدين يوسف بن أيوب) وأقام بها مدة. واشتغل عليه الناس وانتفعوا به.

ثم انتقل إلى دمشق وتولى التدريس بالمدرسة الرواحية التي أنشأها أبو القاسم هبة الله بن عبد الواحد بن رواحة الحموي.

ولما بنى الملك الأشرف ابن الملك العادل بن أيوب دار الحديث بدمشق فوض تدريسها إليه.
আইয়ুবী সুলতানদের শাসনামলে ইবন আস-সালাহ জীবিত ছিলেন। এটি এমন এক যুগ ছিল যখন রাজা ও আমীরগণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগার স্থাপন এবং ইলমি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও আলেমদের জন্য ওয়াকফ বরাদ্দ করার মাধ্যমে ইলমের প্রতি উৎসাহ প্রদান করতেন। পাশাপাশি তাঁরা আলেমদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতেন এবং তাঁদের সামনে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার পথ উন্মুক্ত করে দিতেন। ফলে আলেমগণ জ্ঞান অর্জনে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন। এই পরিবেশেই ইবন আস-সালাহ জীবন অতিবাহিত করেন এবং জ্ঞান অর্জনে কোনো প্রকার ত্রুটি না করে কঠোর পরিশ্রমে আত্মনিয়োগ করেন।

তিনি তাঁর গুণী ও পণ্ডিত পিতার কাছ থেকে অত্যন্ত যত্ন ও উৎসাহ লাভ করেন, যিনি তাঁকে শিক্ষা দেন, প্রতিপালন করেন, দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং নিজের কাছে দুইবার 'আল-মুহাজ্জাব' পড়ার পর ইলম অন্বেষণে সফরে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। পিতা তাঁকে তাঁর যৌবনের প্রারম্ভে মসুলে পাঠান, সেখানে তিনি ফিকহ, হাদিস, তাফসির এবং উসুলসহ বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান অর্জন করেন।

অতঃপর তিনি ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর ইলমি সফর অব্যাহত রাখেন। তিনি বাগদাদে সফর করেন এবং আবু আহমদ বিন সাকিনা ও উমর বিন তাবারজাদ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর হামাদান, নিশাপুর ও মার্ভ-এ সফর করে বহু আলেমের নিকট থেকে প্রচুর ইলম, বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রের ইলম অর্জন করেন। অতঃপর তিনি আরব দেশসমূহ—যেমন আলেপ্পো, হাররান ও দামেস্কে—ফিরে আসেন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে এমনভাবে জ্ঞান আহরণ করেন যা তাঁর জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে এবং তাঁকে পূর্ণতা ও পরিপক্কতার স্তরে পৌঁছে দেয়, যার ফলে তিনি একজন দিকনির্দেশক আলেম ও শিক্ষকের মর্যাদায় উন্নীত হন।

অবশেষে তিনি তাঁর পিতা ও পরিবারের সাথে শাম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন; যা ছিল দায়িত্ব ও ইলম প্রচারের যুগ। তিনি আলেপ্পোর আসাদিয়া মাদরাসায় (আসাদউদ্দীন শিরকুহ-এর নামানুসারে) শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের নাসিরিয়া মাদরাসায় (সুলতান আন-নাসির সালাহউদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুবের নামানুসারে) শিক্ষকতা করেন এবং সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। মানুষ তাঁর নিকট জ্ঞান অর্জনে ব্রতী হতো এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত হতো।

অতঃপর তিনি দামেস্কে স্থানান্তরিত হন এবং রাওয়াহিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন রাওয়াহা আল-হামাউয়ী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এবং যখন সুলতান আল-আদিল ইবন আইয়ুবের পুত্র সুলতান আল-আশরাফ দামেস্কে 'দারুল হাদিস' নির্মাণ করেন, তখন তিনি এর শিক্ষকতার ভার তাঁর ওপর অর্পণ করেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم تولى التدريس بمدرسة ست الشام زمرد خاتون بنت أيوب فكان يقوم بوظائفه في هذه المدارس من غير إخلال أو تقصير1.

شيوخه:

رأينا أن الإمام ابن الصلاح قام برحلات واسعة ولم تنص المصادر التي وقفت عليها إلا على عدد يسير من شيوخه فمنهم:

1- والده صلاح الدين عبد الرحمن بن عثمان بن موسى الكردي الشهرزوري أخذ عليه المهذب مرتين. توفي صلاح الدين سنة 618.

2- ومنهم عماد الدين أبو حامد ابن يونس2 الفقيه الأصولي (ت 608) .

3- ومنهم عبيد الله السمين.

4- ونصر الله بن سلامة.

5- ومحمد بن علي الموصلي.

6- وعبد المحسن بن الطوسي.

7- وأبو أحمد عبد الوهاب بن عبد الله البغدادي3 كان حجة علما فقيها محدثا (ت607) .

8- وأبو المظفر عبد الرحيم بن عبد الكريم السمعاني4 (ت 618) .

9- ومنهم أبو محمد عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة (ت 620) .

--------------------------------------------

1 وفيات الأعيان 3/ 244- 245؛ طبقات الشافعية للسبكي 8/327.

2 له ترجمة في وفيات الأعيان 3/ 385، الطبقات للسبكي 5/45.

3 له ترجمة في الذيل على الروضتين ص 70، العبر 5/23.

4 له ترجمة في العبر 5/68، وفيات الأعيان 2/381. وانظر أسماء بقية الشيوخ في تذكرة الحفاظ 4/1430.
এরপর তিনি সিত্তুশ শাম যুমুররুদ খাতুন বিনতে আইয়ুব মাদরাসায় অধ্যাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এই মাদরাসাগুলোতে কোনো প্রকার ত্রুটি বা অবহেলা ছাড়াই নিজ দায়িত্ব পালন করতেন১।

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:

আমরা দেখেছি যে ইমাম ইবনুস সালাহ ব্যাপকভাবে দেশভ্রমণ করেছেন, তবে আমি যেসব উৎসের সন্ধান পেয়েছি সেগুলোতে তাঁর শিক্ষকদের মধ্য থেকে কেবল অল্প কয়েকজনের নামই উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হলেন:

১- তাঁর পিতা সালাহুদ্দীন আবদুর রহমান বিন উসমান বিন মুসা আল-কুর্দি আশ-শাহরাযুরি। তাঁর নিকট তিনি 'আল-মুহাযযাব' গ্রন্থটি দুইবার পাঠ করেছেন। সালাহুদ্দীন ৬১৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

২- তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাদুদ্দীন আবু হামিদ ইবনু ইউনুস২, যিনি একজন ফকিহ (আইনবিদ) ও উসুলি (মূলনীতিবিদ) ছিলেন (মৃত্যু ৬০৮ হি.)।

৩- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উবাইদুল্লাহ আস-সামিন।

৪- এবং নাসরুল্লাহ বিন সালামাহ।

৫- এবং মুহাম্মদ বিন আলী আল-মাওসিলি।

৬- এবং আবদুল মুহসিন বিন আত-তুসি।

৭- এবং আবু আহমাদ আবদুল ওয়াহহাব বিন আবদুল্লাহ আল-বাগদাদি৩, তিনি ছিলেন একাধারে সুপ্রমাণিত আলেম, ফকিহ ও মুহাদ্দিস (মৃত্যু ৬০৭ হি.)।

৮- এবং আবুল মুযাফফর আবদুর রহিম বিন আব্দুল কারিম আস-সামআনি৪ (মৃত্যু ৬১৮ হি.)।

৯- তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা (মৃত্যু ৬২০ হি.)।

--------------------------------------------

১ ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৪-২৪৫; সুবকি রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৮/৩২৭।

২ তাঁর জীবনী রয়েছে ওফায়াতুল আইয়ান ৩/৩৮৫ এবং সুবকি রচিত তাবাকাত ৫/৪৫-এ।

৩ তাঁর জীবনী রয়েছে আয-যাইল আলা রওদাতাইন পৃষ্ঠা ৭০ এবং আল-ইবার ৫/২৩-এ।

৪ তাঁর জীবনী রয়েছে আল-ইবার ৫/৬৮ এবং ওফায়াতুল আইয়ান ২/৩৮১-এ। অন্যান্য শিক্ষকদের নাম জানার জন্য তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১৪৩০ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২৪)
تلاميذه1:

منهم:

1- فخر الدين عمر الكرخي.

2- ومجد الدين ابن المهتار.

3- والشيخ تاج الدين عبد الرحمن.

4- وزين الدين أبو محمد عبد الله بن مروان الفارقي (ت 703) .

5- والقاضي شهاب الدين الجوري.

6- والخطيب شرف الدين الفراوي.

7- والشهاب محمد بن شرف الدين.

8- والصدر محمد بن حسن الأرموي.

مزاياه وثناء العلماء عليه:

قال الذهبي: "كان سلفيا حسن الاعتقاد كافا عن تأويل المتكلمين مؤمنا بما ثبت من النصوص غير خائض ولا متعمق. وكان وافر الجلالة حسن البزة كثير الهيبة موقرا عند السلطان والأمراء تفقه به الأئمة"2.

وقال ابن خلكان: "وكان من العلم والدين على قدم حسن. ولم يزل أمره جاريا على سداد وصلاح حال واجتهاد في الاشتغال والنفع"3.

--------------------------------------------

1 انظر أسماءهم في تذكرة الحفاظ 4/1432.

2 تذكرة الحفاظ 4/1431.

3 وفيات الأعيان 3/244، تذكرة الحفاظ 4/1431.

وانظر المدخل إلى علوم الحديث للأستاذ العتر ص 25، فتح المغيث للسخاوي السلفية 1/13.
তাঁর ছাত্রবৃন্দ১:

তাদের মধ্যে:

১- ফখরুদ্দীন ওমর আল-কারখী।

২- মাজদুদ্দীন ইবনুল মাহতার।

৩- এবং শাইখ তাজউদ্দীন আব্দুর রহমান।

৪- এবং যাইনুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মারওয়ান আল-ফারিকী (মৃত্যু ৭০৩)।

৫- এবং কাযী শিহাবুদ্দীন আল-জাওরী।

৬- এবং খতীব শরফুদ্দীন আল-ফারাভী।

৭- এবং শিহাব মুহাম্মদ বিন শরফুদ্দীন।

৮- এবং আস-সদর মুহাম্মদ বিন হাসান আল-উরমাভী।

তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:

আয-যাহাবী বলেন: "তিনি ছিলেন সালাফী ও সুন্দর আকিদার অধিকারী, মুতাকাল্লিমদের অপব্যাখ্যা (তাবীল) থেকে বিরত এবং কুরআন ও সুন্নাহর দলীলে যা সাব্যস্ত হয়েছে তাতে বিশ্বাসী; তিনি অনর্থক বিতর্কে লিপ্ত হতেন না এবং এর গভীরে প্রবেশ করতেন না। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান, মার্জিত বেশভূষার অধিকারী এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। সুলতান ও আমিরদের নিকট তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তাঁর নিকট অনেক ইমাম ফিকহ শিক্ষা করেছেন।"২।

ইবনে খাল্লিকান বলেন: "তিনি জ্ঞান ও দ্বীনদারীর ক্ষেত্রে উত্তম অবস্থানে ছিলেন। তাঁর সকল বিষয় সর্বদা সঠিকতা, সুন্দর অবস্থা এবং জ্ঞানচর্চা ও উপকারের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার ওপর অটল ছিল।"৩।

--------------------------------------------

১ তাদের নামসমূহ তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১৪৩২-এ দেখুন।

২ তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১৪৩১।

৩ ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৪, তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১৪৩১।

এবং প্রফেসর ইতর রচিত 'আল-মাদখাল ইলা উলূমিল হাদীস' পৃষ্ঠা ২৫, সাখাবী রচিত 'ফাতহুল মুগীস' আস-সালাফিয়্যাহ ১/১৩ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال السخاوي: "وكان إماما بارعا حجة متبحرا العلوم الدينية بصيرا بالمذهب ووجوهه خبيرا بأصوله عارفا بالمذاهب جيد المادة في اللغة العربية حافظا للحديث متفننا حسن الضبط وافر الحرمة عديم النظير في زمانه مع الدين والعبادة والنسك والصيانة والورع والتقوى. انتفع به خلق وعولوا على تصانيفه".

وفاته:

توفي رحمه الله في الخامس والعشرين من شهر ربيع الآخر سنة ثلاث وأربعين وستمائة بدمشق وكثر التأسف لفقده وحمل نعشه على الرؤوس وكان على جنازته هيبة وخشوع ودفن بمقابر الصوفية رحمه الله وغفر له1.

مؤلفاته:

له رحمه الله مؤلفات كثيرة في مختلف العلوم استفاد منها العلماء بعده فكانت من أهم مراجعهم ومصادرهم التي يعتمدون عليها.

فمنها:

1- أدب المفتي والمستفتي2.

2- الأمالي3. مخطوط.

3- شرح الوسيط4 في الفقه الشافعي، أبدى فيه انتقادات علمية واجتهادات فقهية دقيقة.

4- صلة الناسك في صفة المناسك5. جمع فيه جملة من المسائل النافعة التي يحتاج إليها الناس في مناسك الحج. مخطوط.

--------------------------------------------

1 وفيات الأعيان 3/ 244؛ تذكرة الحفاظ 4/1431

2 شذرات الذهب 5/222.

3 الأعلام للزركلي 4/369.

4 شذرات الذهب 5/222؛ سماه مشكل الوسيط. الأعلام للزركلي 4/369.

5 وفيات الأعيان 3/244؛ الأعلام 4/369.
আল-সাখাবী বলেন: "তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ইমাম, সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী হুজ্জত (দলিল), দ্বীনি উলূমে পারদর্শী, মাযহাব ও এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সূক্ষ্মদর্শী, এর মূলনীতিতে অভিজ্ঞ, বিভিন্ন মাযহাব সম্পর্কে জ্ঞাত, আরবি ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন, হাদিসের হাফেজ, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, উত্তমরূপে সংরক্ষণকারী (যাবত), অত্যন্ত সম্মানিত এবং নিজ যুগে অনন্য; সেইসাথে তিনি ছিলেন দ্বীনদারি, ইবাদত, আধ্যাত্মিক সাধনা, আত্মরক্ষা, পরহেজগারি ও তাকওয়াসম্পন্ন। তাঁর মাধ্যমে বহু সৃষ্টি (মানুষ) উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর রচনাবলির ওপর নির্ভর করেছেন।"

তাঁর মৃত্যু:

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৬৪৩ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের পঁচিশ তারিখে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বিয়োগে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাঁর জানাজা মানুষের কাঁধে (মাথার ওপর) বহন করা হয়। তাঁর জানাজায় এক বিশেষ গাম্ভীর্য ও বিনয় প্রকাশ পায় এবং তাঁকে সুফিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং ক্ষমা করুন১।

তাঁর রচনাবলি:

বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) অনেক গ্রন্থ রয়েছে যা থেকে পরবর্তী আলিমগণ উপকৃত হয়েছেন। তাঁর কিতাবগুলো তাঁদের জন্য অন্যতম প্রধান রেফারেন্স ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি২।

২- আল-আমালি৩। পাণ্ডুলিপি।

৩- শাফিঈ ফিকহের ওপর 'শারহুল ওয়াসীত'৪, যাতে তিনি ইলমি সমালোচনা এবং সূক্ষ্ম ফিকহি ইজতিহাদ উপস্থাপন করেছেন।

৪- সিলাতুন নাসিক ফি সিফাতিল মানাসিক৫। এতে তিনি হজের আহকাম সংক্রান্ত একগুচ্ছ উপকারী মাসআলা সংকলন করেছেন যার প্রয়োজন মানুষের হয়ে থাকে। পাণ্ডুলিপি।

--------------------------------------------

১ ওফায়াতুল আ’ইয়ান ৩/২৪৪; তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১৪৩১।

২ শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২।

৩ আল-আ’লাম লিয যিরিকলী ৪/৩৬৯।

৪ শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২; তিনি এর নাম দিয়েছেন 'মুশকিলুল ওয়াসীত'। আল-আ’লাম লিয যিরিকলী ৪/৩৬৯।

৫ ওফায়াতুল আ’ইয়ান ৩/২৪৪; আল-আ’লাম ৪/৩৬৯।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২৬)
5- طبقات الشافعية1.

6- علوم الحديث. أجمع الكتب في هذا الفن2، ولقي حظا كبيرا من العلماء.

7- الفتاوى3. جمعه بعض أصحابه وطبع في مجلد فيه له اجتهادات.

8- فوائد الرحلة4. كتاب ممتع جمع فيه فوائد في علوم متنوعة قيدها في رحلته إلى خراسان. مخطوط.

9- مشكل الوسيط5. في مجلد كبير.

10- المؤتلف والمختلف في أسماء الرجال6.

11- النكت على المهذب7.

هذا من آثاره النافعة تغمده الله برحمته.

--------------------------------------------

1 شذرات الذهب 5/222، الأعلام للزركلي 4/369.

2 وفيات الأعيان 3/ 244، شذرات الذهب 5/ 222، الأعلام للزركلي 4/369.

3 شذرات الذهب 5/222، الأعلام 4/369.

4 شذرات الذهب 5/222، الأعلام 4/369.

5 وفيات الأعيان 3/244، شذرات الذهب 5/222.

6 المدخل إلى علوم الحديث للأستاذ العتر ص 27.

7 شذرات الذهب 5/222.
৫- তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ ১।

৬- উলূমুল হাদীস। এই শাস্ত্রের সবচেয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থ ২, যা আলেমদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে।

৭- আল-ফাতাওয়া ৩। তাঁর জনৈক সঙ্গী এটি সংকলন করেছেন এবং এটি একটি খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যেখানে তাঁর ইজতিহাদসমূহ (গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত) রয়েছে।

৮- ফাওয়াইদুর রিহলাহ ৪। একটি চিত্তাকর্ষক গ্রন্থ যাতে তিনি খোরাসান সফরের সময় বিভিন্ন শাস্ত্রের বিবিধ উপকারী বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন। এটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত।

৯- মুশকিলুল ওয়াসীত ৫। এটি একটি বৃহৎ খণ্ডে।

১০- আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফী আসমাইর রিজাল ৬।

১১- আন-নুকাত আলাল মুহাযযাব ৭।

এগুলো তাঁর উপকারী রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাঁকে রহমত দ্বারা আবৃত করুন।

--------------------------------------------

১ শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২, আল-আ’লাম লিয যিরিকলী ৪/৩৬৯।

২ ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৪, শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২, আল-আ’লাম লিয যিরিকলী ৪/৩৬৯।

৩ শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২, আল-আ’লাম ৪/৩৬৯।

৪ শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২, আল-আ’লাম ৪/৩৬৯।

৫ ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৪, শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২।

৬ আল-মাদখাল ইলা উলূমিল হাদীস লিল উস্তায আল-ইত্র, পৃষ্ঠা ২৭।

৭ শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الفصل الثاني: تعريف بالحافظ العراقي 1

هو الحافظ الإمام الكبير الشهير أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن ابي بكر بن إبراهيم العراقي الكردي حافظ عصره.

ولد في جمادى الأولى سنة خمس وعشرين وسبعمائة بمصر. وكان أصل أبيه من بلدة يقال لها رازيان من أعمال إربل ثم قدم القاهرة وهو صغير فنشأ بها وتزوج وأنجب المترجم له2.

توفي والده وعمره ثلاث سنين فنشأ يتيما وكان كثير التردد على صديق والده الشيخ تقي الدين العناني فيحنو ويعطف عليه ويكرمه واتجهت همته لحفظ القرآن وهو ابن ثمان سنين واشتغل بعلم القراءات والعربية فأخذ ذلك عن جماعة منهم: ـ

1 له ترجمة في:

- لحظ الألحاظ ص220- 239.

- الضوء اللامع 4/171- 178.

- ذيل الطبقات للسيوطي ص 370- 372.

- شذرات الذهب 7/55- 57.

- حسن المحاضرة 1/204.

- الأعلام للزركلي 4/119.

2 لحظ الألحاظ ص220- 221. الضوء اللامع 4/171.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাফিজ আল-ইরাকির পরিচয় ১

তিনি হলেন সুপ্রসিদ্ধ মহান ইমাম ও হাফিজ আবু ফজল জয়নুদ্দিন আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইবরাহিম আল-ইরাকি আল-কুর্দি, যিনি তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ হাফিজ ছিলেন।

তিনি সাতশত পঁচিশ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার আদি নিবাস ছিল ইরবিলের রাজিয়ান নামক একটি জনপদে। অতঃপর তিনি শৈশবেই কায়রোতে চলে আসেন এবং সেখানে বেড়ে ওঠেন, বিবাহ করেন এবং যাঁর জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে তিনি তাঁর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।২

তাঁর তিন বছর বয়সে পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর পিতার বন্ধু শায়খ তাকিউদ্দিন আল-আনানির কাছে নিয়মিত যাতায়াত করতেন; শায়খ তাঁর প্রতি অত্যন্ত স্নেহ ও মমতা প্রদর্শন করতেন এবং তাঁকে সমাদর করতেন। আট বছর বয়সেই তিনি কুরআন হিফজ করার প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং কিরাত ও আরবি ভাষা শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি একদল উলামার নিকট থেকে এই শিক্ষাগুলো গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন:—

১. তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে:

- লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২২০-২৩৯।

- আদ-দউ আল-লামি, ৪/১৭১-১৭৮।

- জায়লুত তাবাকাত লিস সুয়ুতি, পৃষ্ঠা ৩৭০-৩৭২।

- শাজারাতুজ জাহাব, ৭/৫৫-৫৭।

- হুসনুল মুহাদারা, ১/২০৪।

- আল-আলাম লিজ জিরিকলি, ৪/১১৯।

২. লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২২০-২২১; আদ-দউ আল-লামি, ৪/১৭১।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২৮)
الشيخ ناصر الدين محمود بن شمعون1 وانهمك انهماكا بينا في القراءات فنهاه عن ذلك القاضي عز الدين ابن جماعة قائلا له إنه علم كثير التعب قليل الجدوى، وأشار عليه بالاشتغال بعلم الحديث لما رأى من قوة ذكائه وتوقد ذهنه2.

وأقدم سماع وجد له سنة (737) وكان عمره إذا ذاك اثنتي عشرة سنة وأقبل بهمة عالية وجد ونشاط على طلب الحديث فأخذ عن علاء الدين ابن التركماني الحنفي وبه تخرج وانتفع به فسمع عليه وعلى ابن شاهد الجيش صحيح البخاري وسمع على ابن عبد الهادي صحيح مسلم وأخذ عن جماعة من مشايخ مصر والقاهرة منهم:

محمد بن علي القطرواني، ومحمد بن إسماعيل بن الملوك، ومحمد بن عبد الله بن أبي البركات النعماني وغيرهم3.

رحلاته:

ثم اتجهت همته إلى أن يرتحل تأسيا بمن سلفه من أئمة الحديث وعلمائه فقام برحلة إلى دمشق وسمع من عدة من علمائها منهم تقي الدين السبكي ومحمد بن إسماعيل الحموي.

وإلى حلب فسمع عن جماعة من علمائها.

وإلى حماة فسمع عن جماعة من علمائها.

وإلى طرابلس وبعلبك وبيت المقدس وغزة ومكة والمدينة شرفهما الله وسمع عن عدد كبير من علماء هذه البلدان التي جال فيها ومن وقت أن ارتحل إلى الشام في سنة أربع وخمسين وسبعمائة مكث مدة لا تخلو له سنة في

--------------------------------------------

1 لحظ الألحاظ ص 271

2 الضوء اللامع 4/172؛ لحظ الألحاظ ص 271.

3 لحظ الألحاظ ص 222. الضوء اللامع 4/172؛ شذرات الذهب 7/55.
শাইখ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ ইবন শামউন১ এবং তিনি কিরাআত শাস্ত্রের অধ্যয়নে স্পষ্টভাবে নিমগ্ন হয়ে পড়েন। তখন কাজী ইজ্জুদ্দিন ইবন জামাআহ তাঁকে এই বলে তা থেকে বারণ করেন যে, এটি এমন এক শাস্ত্র যাতে পরিশ্রম অনেক কিন্তু সুফল সামান্য। তিনি তাঁর মেধার প্রখরতা ও বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা দেখে তাঁকে হাদিস শাস্ত্র চর্চায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন২।

তাঁর প্রাচীনতম শ্রবণের (সামা') প্রমাণ পাওয়া যায় ৭৩৭ হিজরি সনে এবং তখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর। তিনি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, একাগ্রতা ও উদ্দীপনা নিয়ে হাদিস অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি আলাউদ্দিন ইবনুত তুর্কমানি আল-হানাফির নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি পারদর্শী হয়ে ওঠেন ও উপকৃত হন। তিনি তাঁর নিকট এবং ইবনে শাহিদ আল-জাইশ-এর নিকট সহিহ বুখারি শ্রবণ করেন এবং ইবনে আব্দুল হাদি-র নিকট সহিহ মুসলিম শ্রবণ করেন। এছাড়া তিনি মিসর ও কায়রোর একদল মাশায়েখের নিকট শিক্ষা লাভ করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-কাতরওয়ানি, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনুল মুলুক, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল বারাকাত আন-নুমানি এবং অন্যান্যরা৩।

তাঁর সফরসমূহ:

এরপর পূর্ববর্তী হাদিস শাস্ত্রের ইমাম ও উলামাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশ ভ্রমণের প্রতি তাঁর সংকল্প ধাবিত হয়। তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং সেখানকার বেশ কিছু আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন, যাঁদের মধ্যে তাক্বিউদ্দিন আস-সুবকি এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-হামাউই উল্লেখযোগ্য।

এবং হালবে সফর করেন এবং সেখানকার একদল আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন।

এবং হামাহ-তে সফর করেন এবং সেখানকার একদল আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন।

এবং ত্রিপোলি, বালবাক, বাইতুল মুকাদ্দাস, গাজা, মক্কা ও মদিনায় (আল্লাহ এ দুটি শহরকে সম্মানিত করুন) সফর করেন এবং যেসব জনপদে তিনি ভ্রমণ করেছেন সেখানকার বিশাল সংখ্যক আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। ৭৫৪ হিজরি সালে যখন তিনি শামে সফর করেন, তখন থেকে এমন এক সময়কাল অতিবাহিত করেন যাতে কোনো বছরই তাঁর জন্য বাদ যায়নি...

--------------------------------------------

১. লাহযুল আলহা্য, পৃ. ২৭১

২. আদ-দউউল লামি, ৪/১৭২; লাহযুল আলহা্য, পৃ. ২৭১।

৩. লাহযুল আলহা্য, পৃ. ২২২। আদ-দউউল লামি, ৪/১৭২; শাযারাতুয যাহাব, ৭/৫৫।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ২৯)
الغالب1 من الرحلة في الحج أو طلب الحديث وفي مدة إقامته في وطنه لو يكن له هم سوى السماع والتصنيف والإفادة فتوغل في ذلك حتى أن غالب أوقاته أو جميعها لا يصرفها في غير الاشتغال في العلوم وكان له ذكاء مفرط وسرعة حافظة، حفظ من الإلمام أربعمائة سطر في يوم واحد2.

شيوخه:

للحافظ العراقي كثرة كاثرة من الشيوخ في بلده، والبلدان التي كان يرتحل إليها، منهم غير من ذكرنا سابقا:

عماد الدين ابن كثير، ومحمد بن موسى الشقراوي، وعبد الله بن محمد بن المهندس، وابن قيم الضيائية عبد الله بن إبراهيم المقدسي، وأبو بكر بن عبد العزيز بن أحمد بن رمضان، ومحمد بن محمد بن عبد الغني الحراني3.

تلاميذه:

انفرد الحافظ العراقي في عصره بالإملاء فقصده لأجل ذلك ولغيره الناس من أقطار العالم الإسلامي للسماع عليه والأخذ عنه الجم الغفير والعدد الكثير حتى أن بعض شيوخه كان يأخذ عنه.

ونكتفي بذكر بعضهم فمنهم:

ولده القاضي أبو زرعة ولي الدين العراقي4.

--------------------------------------------

1 لحظ الألحاظ ص 223- 226. الضوء اللامع 4/172.

2 لحظ الألحاظ ص 226.

3 لحظ الألحاظ ص 222- 225.

4 الضوء اللامع 4/175. لحظ الألحاظ ص 222.
তার সফরের অধিকাংশ ছিল হজ পালন অথবা হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে। নিজ দেশে অবস্থানকালে শ্রবণ, গ্রন্থনা এবং জ্ঞান বিতরণের বাইরে তার অন্য কোনো চিন্তা ছিল না। তিনি এতে এতটাই নিমগ্ন ছিলেন যে, তার অধিকাংশ বা পুরো সময়ই জ্ঞানচর্চা ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যয় হতো না। তার ছিল প্রখর মেধা এবং দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা; তিনি একদিনে 'আল-ইলমাম' থেকে চারশ লাইন মুখস্থ করেছিলেন।

তার উস্তাদগণ:

হাফেজ ইরাকির নিজ দেশে এবং যেসব দেশে তিনি সফর করেছিলেন সেখানে অসংখ্য উস্তাদ ছিলেন, তাদের মধ্যে ইতিপূর্বে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা ছাড়াও রয়েছেন:

ইমাদউদ্দীন ইবনে কাসির, মুহাম্মদ বিন মুসা আশ-শাকরাউয়ি, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহান্দিস, ইবনে কায়্যিম আদ-দিয়াঈয়াহ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-মাকদিসি, আবু বকর বিন আবদুল আজিজ বিন আহমদ বিন রমজান, এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল গনি আল-হাররানি।

তার ছাত্রগণ:

হাফেজ ইরাকি তার যুগে ইলমে ইমলায় (হাদিস শ্রুতিলিখনে) অনন্য ছিলেন। এ কারণে এবং অন্যান্য কারণেও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন তার কাছে আসার সংকল্প করত। এক বিশাল জনসমষ্টি ও বিপুল সংখ্যক মানুষ তার থেকে হাদিস শ্রবণ ও জ্ঞান গ্রহণ করেছেন, এমনকি তার উস্তাদদের কেউ কেউও তার থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতেন।

আমরা তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব, তারা হলেন:

তার পুত্র কাজী আবু জুরআ ওয়ালিউদ্দীন ইরাকি।

--------------------------------------------

১. লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ২২৩-২২৬; আদ-দাউ আল-লামি ৪/১৭২।

২. লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ২২৬।

৩. লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ২২২-২২৫।

৪. আদ-দাউ আল-লামি ৪/১৭৫; লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ২২২।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنهم الحافظ الإمام علي بن أحمد بن حجر لازمه عشر سنين1.

ومنهم الحافظ نور الدين أبو بكر الهيثمي لازمه أكثر حياته2.

صفاته وثناء العلماء عليه:

قال ابن فهد المكي: "وكان رحمه الله صالحا دينا ورعا عفيفا صينا متواضعا حسن النادرة، والفاكهة منجمعا ذا أخلاق حسنة منور الشيبة جميل الصورة كثير الوقار قليل الكلام إلا في محل الضرورة فإنه يكثر الانتصار، تاركا لما لا يعنيه طارحا للتكلف شديد الاحتراز في الطهارة ولم يكن ذلك يخرجه إلى الوسوسة.

وكان رحمه الله شديد التواضع لا يرى له على أحد فضلا، كثير الحياء، ليس بينه وبين أحد شحناء حليما واسع الصدر لا يغضب إلا لأمر عظيم ويزول في الحال. ليس عنده حقد ولا غش ولا حسد لأحد، لا يواجه أحدا بما يكره ولو آذاه وعاداه مع صدعه بالحق وقوة نفسه فيه لا يأخذه في الله لومة لائم، لا يهاب أميرا ولا سلطانا في قول الحق، وكان رحمه الله كثير التلاوة وافر الحرمة والمهابة، نقي العرض ماشيا على طريقة السلف الصالح من المواظبة على قيام الليل وصيام الأيام البيض من كل شهر والست من شوال والجلوس في محله بعد صلاة الصبح مع الصمت إلى أن ترتفع الشمس فيصلي الضحى، وعلى الاستماع والإقراء والتدريس والتصنيف وكان رحمه الله ذا فضائل جمة من مكارم الأخلاق ومحاسن الشيم والآداب"3.

وكان الإمام جمال الدين الأسنوي وهو من شيوخه يستحسن كلامه ويصغي إليه ويقول: إن ذهنه صحيح لا يقبل الخطأ، وكان يثني على فهمه

--------------------------------------------

1 الضوء اللامع 2/37.

2 لحظ الألحاظ ص 239. الضوء اللامع 5/201.

3 لحظ الألحاظ ص 228- 229. وانظر الضوء اللامع 4/175.
তাদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজ ইমাম আলি বিন আহমদ বিন হাজার, যিনি দশ বছর তার সাহচর্য অবলম্বন করেছেন১।

তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন হাফিজ নূরুদ্দিন আবু বকর আল-হায়সামি, যিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় তার সাহচর্যে কাটিয়েছেন২।

তার গুণাবলি এবং তার সম্পর্কে ওলামাদের প্রশংসা:

ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি বলেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন নেককার, ধর্মপ্রাণ, পরহেজগার, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, বিনয়ী, চমৎকার কৌতুকপ্রিয় ও আনন্দময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি উত্তম আখলাকসম্পন্ন ছিলেন, তার শুভ্র দাড়ি ছিল জ্যোতির্ময়, তিনি সুদর্শন ও অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিলেন। প্রয়োজন ছাড়া কথা কম বলতেন, তবে সত্যের সমর্থনে তিনি অনেক কথা বলতেন। তিনি অনর্থক বিষয় বর্জনকারী, লৌকিকতা বিসর্জনকারী এবং পবিত্রতার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন, তবে তা তাকে অহেতুক সন্দেহের (ওয়াসওয়াসা) দিকে নিয়ে যেত না।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন, কারো ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতেন না। তিনি অনেক লাজুক ছিলেন, কারো সাথে তার কোনো বিদ্বেষ ছিল না। তিনি ছিলেন সহনশীল ও পরম উদার, বড় কোনো কারণ ছাড়া রাগান্বিত হতেন না এবং রাগলেও তৎক্ষণাৎ তা প্রশমিত হয়ে যেত। তার অন্তরে কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ, প্রতারণা বা হিংসা ছিল না। কেউ তাকে কষ্ট দিলে বা তার সাথে শত্রুতা করলেও তিনি কারো অপ্রিয় কোনো কথা মুখের ওপর বলতেন না। তিনি সত্য প্রকাশে ছিলেন অকুতোভয় এবং এ ব্যাপারে অত্যন্ত দৃঢ়চেতা; আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে তিনি পরোয়া করতেন না। সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কোনো আমির বা সুলতানকে ভয় পেতেন না। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের অধিকারী এবং সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণে নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন, প্রতি মাসে আইয়ামে বিযের রোজা ও শাওয়ালের ছয় রোজা রাখতেন। ফজরের নামাজের পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত নিজ স্থানে নীরব বসে থাকতেন এবং এরপর চাশতের নামাজ আদায় করতেন। তিনি ইলম শ্রবণ, পাঠদান, শিক্ষকতা ও গ্রন্থ রচনায় নিবিষ্ট থাকতেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন বহুবিধ মহৎ গুণাবলি, উত্তম চরিত্র ও শিষ্টাচারের অধিকারী"৩।

ইমাম জামালুদ্দিন আল-আসনাবি, যিনি তার অন্যতম শিক্ষক ছিলেন, তিনি তার কথা পছন্দ করতেন এবং মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। তিনি বলতেন: "তার মেধা অত্যন্ত সঠিক ও প্রখর, যা ভুল গ্রহণ করে না।" তিনি তার বোধশক্তির অনেক প্রশংসা করতেন।

--------------------------------------------

১ আদ-দউ আল-লামি ২/৩৭।

২ লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ২৩৯; আদ-দউ আল-লামি ৫/২০১।

৩ লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ২২৮-২২৯ এবং দেখুন আদ-দউ আল-লামি ৪/১৭৫।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৩১)
ويمدحه بذلك. وكان يحث الناس على الاشتغال عليه وعلى كتابة مؤلفاته وينقل عنه في مصنفاته1.

وقال التقي الفاسي في ذيل التقييد: "كان حافظا متقنا عارفا بفنون الحديث والفقه والعربية وغير ذلك كثير الفضائل والمحاسن متواضعا ظريفا ومسموعاته وشيوخه في غاية الكثرة وأخذ عنه علماء الديار المصرية وغيرهم وأثنوا عليه خيرا"2.

وفاته:

توفي رحمه الله في ليلة أو يوم الأربعاء ثامن شعبان سنة ست وثمانمائة بالقاهرة وله إحدى وثمانون سنة ورثاه جماعة من تلاميذه منهم الحافظ ابن حجر في قصيدة أطال فيها النفس منها:

مصاب لم ينفس للخناق … أصاد الدمع جار للمآقي

فيا أهل الشام ومصر فابكوا … على عبد الرحيم بن العراقي

على الحبر الذي شهدت قروم … له بالانفراد على اتفاق

ومن فتحت له قدما علوم … غدت عن غيره ذات انفلاق3

مؤلفاته:

للحافظ العراقي مؤلفات كثيرة أذكر منها ما يتسع له المقام منها:

1- الأحاديث المخرجة في الصحيحين التي تكلم فيها بضعف أو انقطاع4.

--------------------------------------------

1 لحظ الألحاظ ص 226- 227.

2 الضوء اللامع 4/176.

3 إنباء الغمر 5/173.

4 لحظ الألحاظ ص 231.
এবং তিনি এর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করতেন। তিনি মানুষকে তাঁর নিকট জ্ঞানার্জনে এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ লিপিবদ্ধ করতে উৎসাহিত করতেন এবং নিজের রচনায় তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিতেন১।

তাকি আল-ফাসি 'যাইলুত তাকিদ'-এ বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত দক্ষ হাফিজ, হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং আরও অনেক বিদ্যায় পারদর্শী। তিনি বহু ফযিলত ও সদ্গুণের অধিকারী, বিনয়ী ও মার্জিত ছিলেন। তাঁর শ্রুত হাদিস এবং উস্তাদগণের সংখ্যা ছিল অত্যধিক। মিসরের উলামায়ে কিরাম ও অন্যান্যরা তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন"২।

তাঁর মৃত্যু:

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ৮০৬ হিজরি সনের ৮ই শাবান বুধবার দিবাগত রাতে বা বুধবার দিনে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল একাশি বছর। তাঁর একদল ছাত্র তাঁর স্মরণে শোকগাথা রচনা করেন, যাদের মধ্যে হাফিজ ইবনে হাজারও ছিলেন। তিনি একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করেন, যার কিছু অংশ নিম্নরূপ:

এমন এক বিপদ যা শ্বাসরোধকারী কষ্টকে লাঘব করে না … অশ্রু চোখের কোণ বেয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

হে শাম ও মিসরবাসী! তোমরা ক্রন্দন করো … আবদুর রহিম ইবনুল ইরাকির বিয়োগে

সেই মহা মনীষীর জন্য, যাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা বিজ্ঞজনেরা … ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন

এবং যাঁর চরণে জ্ঞানের এমন সব দ্বার উন্মোচিত হয়েছে … যা অন্যদের জন্য রুদ্ধ ছিল৩

তাঁর রচনাবলি:

হাফিজ ইরাকির বহু কিতাব রয়েছে। এখানে স্থান সংকুলান অনুযায়ী আমি কিছু উল্লেখ করছি:

১- সহীহায়নে বর্ণিত সেই সকল হাদিস যেগুলোর দুর্বলতা বা সূত্রবিচ্ছিন্নতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে৪।

--------------------------------------------

১ লাহযুল আলহায, পৃষ্ঠা ২২৬-২২৭।

২ আদ-দাউউল লামি ৪/১৭৬।

৩ ইনবাউল গুমর ৫/১৭৩।

৪ লাহযুল আলহায, পৃষ্ঠা ২৩১।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৩২)
2- الأربعون تساعية1.

3- أربعون عشارية2 ومنها نسخة بالخزانة الكتانية3.

4- أربعون بلدانية4.

5- الاستعاذة بالواحد من إقامة جمعتين في مكان واحد5.

6- ألفية مصطلح الحديث6 طبعت مجردة بالرباط وبالهند ومع تعليق من شرح المصنف.

7- ألفية غريب القرآن7.

8- تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد8.

9- التقييد والإيضاح في مصطلح الحديث. ويسمى النكت على ابن الصلاح9.

10- الدرر السنية في نظم السيرة الزكية طبعت برباط المغرب10.

--------------------------------------------

1 لحظ الألحاظ ص 232.

2 لحظ الألحاظ ص 232.

3 انظر تصدير شرح الألفية ص 18 للمحقق محمد بن الحسين العراقي.

4 لحظ الألحاظ ص 232.

5 الضوء اللامع 4/173. لحظ الألحاظ ص 230.

6 الضوء اللامع 4/173. لحظ الألحاظ ص 230.

7 لحظ الألحاظ ص 230. الضوء اللامع 4/173.

8 لحظ الألحاظ ص 230. الضوء اللامع 4/173.

9 سيأتي الكلام عليه.

10 لحظ الألحاظ ص 230. ذيل طبقات الحفاظ للسيوطي ص 371. الضوء اللامع 4/173.
২- আল-আরবাউন আস-তুসায়িয়্যাহ (নয়জন রাবী বিশিষ্ট চল্লিশ হাদীস)১।

৩- আল-আরবাউন আল-উশারিয়্যাহ (দশজন রাবী বিশিষ্ট চল্লিশ হাদীস)২ এবং এর একটি পাণ্ডুলিপি আল-খিজানাহ আল-কাত্তানিয়্যাহ-তে বিদ্যমান৩।

৪- আল-আরবাউন আল-বুলদানিয়্যাহ (চল্লিশটি ভিন্ন ভিন্ন শহরের চল্লিশ হাদীস)৪।

৫- আল-ইস্তি’আজাহ বিল-ওয়াহিদ মিন ইকামাত জুমাআতাইনি ফী মাকান ওয়াহিদ (একই স্থানে দুটি জুমুআহ কায়েম করা থেকে অদ্বিতীয় সত্তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা)৫।

৬- আলফিয়াতু মুসতালাহিল হাদীস৬ এটি রাবাত এবং ভারতে শুধু মূল কাব্য এবং গ্রন্থকারের নিজস্ব ব্যাখ্যা থেকে সংগৃহীত টীকা সহকারে মুদ্রিত হয়েছে।

৭- আলফিয়াতু গারীবিল কুরআন৭।

৮- তাকরীবুল আসানিদ ওয়া তারতীবুল মাসানিদ৮।

৯- আত-তাকয়ীদ ওয়াল-ঈজাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস। একে ‘আন-নুখাত আলা ইবনিস সালাহ’ নামেও অভিহিত করা হয়৯।

১০- আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফী নাজমিস সীরাতিয যাকিয়্যাহ, এটি মরক্কোর রাবাতে মুদ্রিত হয়েছে১০।

--------------------------------------------

১ লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩২।

২ লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩২।

৩ মুহাক্কিক মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী লিখিত শারহুল আলফিয়্যাহ-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১৮ দেখুন।

৪ লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩২।

৫ আদ-দউউল লামি ৪/১৭৩; লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩০।

৬ আদ-দউউল লামি ৪/১৭৩; লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩০।

৭ লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩০; আদ-দউউল লামি ৪/১৭৩।

৮ লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩০; আদ-দউউল লামি ৪/১৭৩।

৯ এ সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।

১০ লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩০; সুয়ূতী রচিত যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ, পৃষ্ঠা ৩৭১; আদ-দউউল লামি ৪/১৭৩।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
11- الذيل على ذيل العبر للذهبي1.

12- شرح ألفية الحديث له2 طبع بالمطبعة الجديدة بطالعة فاس سنة (1354) ?.

13- المغني عن حمل الأسفار في الأسفار في تخريج ما في الإحياء من الأخبار3 (يعني إحياء علوم الدين للغزالي) .

--------------------------------------------

1 الأعلام للزركلي 4/119.

2 لحظ الألحاظ ص 230. الضوء اللامع 4/173.

3 لحظ الألحاظ ص 229. الضوء اللامع 4/173.
১১- যাহাবীর 'আয-যায়লু আলা যায়লিল ইবার' (আল-ইবার গ্রন্থের পরিশিষ্টের পরিশিষ্ট) ১।

১২- তাঁর রচিত 'শারহু আলফিয়্যাহ আল-হাদীস' ২; যা ১৩৫৪ হিজরী সনে ফাসের তলাআ নামক স্থানে 'আল-মাতবাআ আল-জাদীদাহ' (নতুন ছাপাখানা) থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

১৩- 'আল-মুগনী আন হামলিল আসফার ফিল আসফার ফি তাখরীজি মা ফিল ইহয়ায়ি মিনাল আখবার' ৩ (অর্থাৎ ইমাম গাজালীর 'ইহয়াউ উলুমিদ্দীন' গ্রন্থে বর্ণিত হাদীসসমূহের উৎস যাচাই)।

--------------------------------------------

১ যিরিকলীর 'আল-আ'লাম' ৪/১১৯।

২ 'লাহযুল আলহায' পৃষ্ঠা ২৩০; 'আদ-দাওউল লামে' ৪/১৭৩।

৩ 'লাহযুল আলহায' পৃষ্ঠা ২২৯; 'আদ-দাওউল লামে' ৪/১৭৩।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الفصل الثالث: تعريف بالحافظ ابن حجر 1

عصر الحافظ ابن حجر:

كانت الفترة التي عاش فيها الحافظ ابن حجر العسقلاني - في أخريات القرن الثامن والنصف الأول من القرن التاسع - من أحفل الفترات التاريخية بالعلماء وأزخرها بالمدارس ودور الكتب وحلقات الدروس ورغم ما في هذا العصر من اضطراب سياسي واجتماعي فإن الحكام والأمراء قد عنوا بتشييد المدارس والمكتبات وتشجيع العلماء وإغرائهم بالمال والمناصب مما سبب تنافسا عظيما بين العلماء في نشر العلم بالتعليم والتأليف في مختلف ميادين المعرفة.

اسمه ونسبه:

هو شيخ الإسلام الأستاذ إمام الأئمة شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن

--------------------------------------------

1 انظر ترجمته في الضوء اللامع 2/36- 40. والجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر مصورة عن مخطوطة بدار الكتب المصرية برقم 4768 تاريخ وجمان الدرر لابن خليل الدمشقي مصورة عن نسخة بدار الكتب برقم 726 وذيل طبقات الحفاظ للسيوطي ص 370، نظم العقيان للسيوطي ص 45- 46، شذرات الذهب 7/270- 272، البدر الطالع للشوكاني 1/87- 92، معجم المؤلفين 2/20- 22. وقد ذكر كثيرا من المصادر ترجمة الحافظ.
তৃতীয় অধ্যায়: হাফিজ ইবনে হাজার-এর পরিচিতি ১

হাফিজ ইবনে হাজার-এর যুগ:

হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি যে সময়ে জীবিত ছিলেন—অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগ এবং নবম শতাব্দীর প্রথমার্ধে—তা ছিল আলেমদের উপস্থিতিতে ইতিহাসের অন্যতম সমৃদ্ধ সময় এবং মাদ্রাসা, পাঠাগার ও পাঠচক্রের প্রাচুর্যে ভরপুর। এই যুগে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও শাসক ও আমীরগণ মাদ্রাসা ও পাঠাগার নির্মাণে এবং আলেমদের উৎসাহিত করতে ও তাঁদের অর্থ ও পদমর্যাদা প্রদানে মনোযোগী ছিলেন। এটি আলেমদের মধ্যে জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে জ্ঞান প্রসারে এক বিশাল প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেছিল।

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম, উস্তাদ, ইমামগণের ইমাম শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমদ ইবনে

--------------------------------------------

১ তাঁর জীবনী দেখুন: আদ-দউ আল-লামি ২/৩৬-৪০; আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফি তারজামাতি শায়খিল ইসলাম ইবনে হাজার (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার পাণ্ডুলিপি নং ৪৭৬৮-এর ছায়ালিপি); তারিখু জুমানিদ দুরার (ইবনে খলিল আদ-দিমাশকি রচিত, দারুল কুতুবের কপি নং ৭২৬-এর ছায়ালিপি); সুয়ূতি রচিত যাইলু তাবাকাতিল হাফফায পৃ. ৩৭০; সুয়ূতি রচিত নাযমুল উকিয়ান পৃ. ৪৫-৪৬; শাযারাতুয যাহাব ৭/২৭০-২৭২; শাওকানি রচিত আল-বাদরুত তালি ১/৮৭-৯২; মুজামুল মুআল্লিফিন ২/২০-২২। হাফিজ ইবনে হাজারের জীবনী বহু উৎসে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
علي بن محمد بن على بن أحمد الكناني1 العسقلاني2 المصري القاهري الشافعي يعرف بابن حجر وهو لقب لبعض آبائه.

مولده:

كان مولده في شعبان سنة ثلاث وسبعين وسبعمائة على شاطئ النيل بمصر القديمة.

ونشأ الحافظ ابن حجر يتيما؛ إذ مات أبوه في رجب سنة سبع وسبعين وسبعمائة.

وماتت أمه قبل ذلك وهو طفل. وكان أبوه قد أوصى به إلى رجلين ممن كانت بينه وبينهم مودة هما:

زكي الدين أبو بكر ابن نور الدين علي الخروبي (ت 787) وكان تاجرا كبيرا بمصر.

وثانيهما: العلامة شمس الدين ابن القطان (ت 813) الذي كان له بوالده اختصاص.

فنشأ في كنف الوصاية في غاية العفة والصيانة، ولم يأل زكي الدين الخروبي جهدا في رعايته والعناية به وبتعليمه، فكان يستصحبه معه عند مجاورته في مكة، وظل يرعاه إلى أن مات سنة (787) . وكان الحافظ قد راهق ولم تعرف له صبوة ولم تضبط له زلة. حفظ القرآن وهو ابن تسع سنين، وصلى بالناس التراويح إماما في المسجد الحرام وهو ابن اثنتي عشرة سنة إبان مجاورته مع وصيه الخروبي بمكة المكرمة سنة (785) .

--------------------------------------------

1 الكناني - بكسر الكاف وفتح النون وبعد الألف نون ثانيا نسبة إلى قبيلة كنانة. الجواهر والدرر ل 13/أ.

2 نسبة إلى عسقلان مدينة بساحل الشام من فلسطين. الضوء اللامع 2/36؛ جمان الدرر ل 2/ب.
আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ আল-কিনানি আল-আসকালানি আল-মিসরি আল-কাহিরি আশ-শাফিয়ি, তিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত, যা তাঁর পূর্বপুরুষদের কারো উপাধি ছিল।

তাঁর জন্ম:

তাঁর জন্ম হয়েছিল ৭৭৩ হিজরি সালের শাবান মাসে প্রাচীন মিশরের নীল নদের তীরে।

হাফেজ ইবনে হাজার এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন; কেননা তাঁর পিতা ৭৭৭ হিজরি সালের রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে তিনি যখন শিশু ছিলেন তখনই তাঁর মা ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতা তাঁর লালন-পালনের জন্য এমন দুই ব্যক্তির কাছে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন যাদের সাথে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, তাঁরা হলেন:

জাকিউদ্দীন আবু বকর ইবন নুরুদ্দীন আলী আল-খাররুবি (মৃত ৭৮৭ হি.), যিনি মিশরের একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন।

এবং দ্বিতীয় জন হলেন: আল্লামা শামসুদ্দীন ইবনুল কাত্তান (মৃত ৮১৩ হি.), যাঁর সাথে তাঁর পিতার বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল।

ফলে তিনি অত্যন্ত পবিত্রতা ও রক্ষণাবেক্ষণের সাথে অভিভাবকত্বের ছায়াতলে বেড়ে ওঠেন। জাকিউদ্দীন আল-খাররুবি তাঁর দেখাশোনা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি। মক্কায় অবস্থানের সময় তিনি তাঁকে সাথে রাখতেন এবং ৭৮৭ হিজরিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর তত্ত্বাবধান করে যান। হাফেজ ইবনে হাজার যখন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছান, তখনো তাঁর মাঝে কোনো কিশোরসুলভ চপলতা দেখা যায়নি এবং তাঁর কোনো পদস্খলনও পরিলক্ষিত হয়নি। তিনি নয় বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেন এবং ৭৮৫ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায় তাঁর অভিভাবক আল-খাররুবির সাথে অবস্থানের সময় বারো বছর বয়সে মসজিদুল হারামে তারাবিহ নামাজে ইমামতি করেন।

--------------------------------------------

১. আল-কিনানি - কাফ বর্ণে কাসরা এবং নুন বর্ণে ফাতহা সহকারে, আলফের পর পুনরায় নুন বর্ণ এসেছে; এটি কেনানা গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার, ১৩/আ।

২. এটি ফিলিস্তিনের সিরীয় উপকূলীয় শহর আসকালানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আদ-দউ আল-লামি ২/৩৬; জুমান আদ-দুরার ২/বা।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وحفظ بعد رجوعه إلى مصر سنة (786) عمدة الأحكام لعبد الغني المقدسي والحاوي الصغير للقزويني، ومختصر ابن الحاجب الأصلي، والملحة وغيرها.

وكان قد أعطي حافظة قوية، فكان يحفظ كل يوم نصف حزب من القرآن، وكان في غالب أيامه يصحح الصحيفة من الحاوي الصغير، ثم يقرأها مرة أخرى ثم يعرضها في الثالثة حفظا، ثم لازم كثيرا من الشيوخ من المحدثين والفقهاء والقراء واللغويين والأدباء، واستفاد من علومهم.

وحبب إليه الحديث النبوي، فأقبل بكليته عليه وأخذ عن مشايخ عصره وقد بقي منهم بقايا وواصل الغدو بالرواح إليهم.

ولازم الحافظ العراقي عشر سنين وتخرج به، وانتفع بملازمته كما لازم شيوخا آخرين في الحديث وفي فنون أخرى.

وجد في طلب العلوم منقولها ومعقولها حتى بلغ الغاية. وصار كلامه مقبولا لا يعدو الناس مقالته لشدة ذكائه وطول باعه في العلوم.

رحلاته في طلب العلم:

كانت الرحلة في طلب العلم سنة متبعة منذ فجر الإسلام، فكان الصحابة يرحلون إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ليتلقوا عنه مبادئ الإسلام وتوجيهاته. ورحل الصحابة والتابعون بعضهم إلى بعض، ثم تتابعت الأجيال الإسلامية على هذا النهج لا سيما أهل الحديث، فقد كانوا يرحلون زرافات ووحدانا يضربون في جنبات العالم الإسلامي شرقا وغربا ارتيادا للحديث وأهله، واستمروا على هذه الحال إلى عهد الحافظ ابن حجر رحمه الله فكان واحدا من هؤلاء الأفاضل الشغوفين بالعلم والتضلع منه، فأخذ بحظ وافر في هذا المجال فجال في مصر والشام والحجاز واليمن والتقى بعدد كبير من العلماء في هذه البلدان وحمل عنهم شيئا كثيرا من العلم واستفاد منهم وأفاد.
৭৮৬ হিজরিতে মিসরে ফিরে আসার পর তিনি আবদুল গনি আল-মাকদিসির 'উমদাতুল আহকাম', আল-কাযউইনীর 'আল-হাউয়ি আস-সাগির', ইবনুল হাজিবের 'মুখতাসার আল-আসলি', 'আল-মুলহা' এবং অন্যান্য গ্রন্থ মুখস্থ করেন।

তাঁকে অত্যন্ত শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি প্রদান করা হয়েছিল; তিনি প্রতিদিন কুরআনের অর্ধেক হিযব মুখস্থ করতেন। অধিকাংশ সময় তিনি 'আল-হাউয়ি আস-সাগির' থেকে একটি পৃষ্ঠা সংশোধন করতেন, এরপর তা পুনরায় পড়তেন এবং তৃতীয়বার মুখস্থ শুনিয়ে দিতেন। এরপর তিনি বহু মুহাদ্দিস, ফকিহ, ক্বারি, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিকদের সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন এবং তাঁদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হন।

তাঁর কাছে নববী হাদিসকে প্রিয় করে তোলা হয়েছিল, ফলে তিনি এতে পূর্ণ মনোনিবেশ করেন এবং তাঁর সমসাময়িক অবশিষ্ট মাশায়েখদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করেন। তিনি সকাল-সন্ধ্যা অবিরাম তাঁদের কাছে যাতায়াত করতেন।

তিনি হাফেজ আল-ইরাকির সান্নিধ্যে দশ বছর অতিবাহিত করেন এবং তাঁর কাছে শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তাঁর সংস্পর্শে তিনি প্রভূত উপকৃত হন, যেভাবে তিনি হাদিস ও অন্যান্য শাস্ত্রে আরও অনেক মাশায়েখদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন।

তিনি শ্রুত ও বুদ্ধিবৃত্তিক উভয় প্রকার ইলম অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেন, এমনকি তিনি এর চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যান। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁর কথা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে এবং মানুষ তাঁর বক্তব্য অতিক্রম করত না।

জ্ঞান অর্জনে তাঁর সফরসমূহ:

ইসলামের উষালগ্ন থেকেই ইলম বা জ্ঞান অর্জনের জন্য সফর করা একটি অনুসৃত রীতি ছিল। সাহাবীগণ ইসলামের মৌলিক নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সফর করতেন। পরবর্তীতে সাহাবী ও তাবেয়ীগণ একে অপরের কাছে ইলমের সন্ধানে সফর করেছেন। এরপর মুসলিম প্রজন্মগুলো এই পদ্ধতি অনুসরণ করে চলেছে, বিশেষ করে মুহাদ্দিসগণ। তাঁরা হাদিস এবং মুহাদ্দিসদের সন্ধানে দলবদ্ধভাবে বা একাকী মুসলিম বিশ্বের পূর্ব-পশ্চিমের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন। হাফেজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহির যুগ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল। তিনি ছিলেন জ্ঞানপিপাসু এবং ইলমে পারদর্শিতা অর্জনে আগ্রহী সেই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন। তিনি এই ক্ষেত্রে বিশাল অংশ লাভ করেন। তিনি মিসর, শাম, হিজাজ ও ইয়েমেনে ভ্রমণ করেন এবং এসব দেশের বিপুল সংখ্যক আলিমের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের কাছ থেকে তিনি প্রচুর ইলম আহরণ করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে নিজেও উপকৃত হন ও অন্যদের উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাতু আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ লি ইবনু হাজার (পৃষ্ঠা: ৩৮)
شيوخ الحافظ:

اهتم الحافظ ابن حجر بذكر شيوخه وردد أسماءهم في كثير من كتبه وأعطى عنهم معلومات قيمة إلى جانب ذلك، فقد أفرد ذكرهم في كتابين عظيمين مازالا مخطوطين1 هما:

الأول: المجمع المؤسس للمعجم المفهرس ترجم فيه لشيوخه وذكر مروياتهم بالسماع أو الإجازة أو الإفادة عنهم.

والثاني: المعجم المفهرس وهو فهرس لمرويات الحافظ ذكر فيه شيوخه خلال ذكره لأسانيده في الكتب والأجزاء والمسانيد.

وقسم السخاوي2 شيوخ الحافظ إلى ثلاثة أقسام:

الأول: من سمع منه الحديث ولو حديثا واحدا.

الثاني: من أجازوا ولو في استدعاءات بنيه.

الثالث: من أخذ عنه مذاكرة أو إنشادا أو سمع خطبته أو تصنيفه أو شهد له ميعادا، وربما يكون من كل من القسمين تتلمذ له وعنه واستفاد على جاري عادة الحفاظ.

وبلغ مجموع شيوخه ستمائة وزيادة على أربعين شيخا، وقسمهم ابن خليل الدمشقي في جمان الدرر3 إلى ثلاثة أقسام أيضا وأوصل عددهم إلى ستمائة وتسعة وثلاثين شيخا.

ونكتفي هنا بذكر بعض شيوخه وهم الذين كان لهم أثر في حياته نظرا أولا لكثرتهم، وثانيا أنه تكفل بذكرهم في كتابيه سالفي الذكر.

--------------------------------------------

1 وهما بدار الكتب المصرية ولهما صورتان في مكتبة الصديق بمنى.

2 الجواهر والدرر ل36/ب- 44/ب.

3 ل11/ب- 24/أ.
হাফিজের শিক্ষকগণ:

হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তাঁর অনেক গ্রন্থে তাঁদের নাম বারবার উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করেছেন। এর পাশাপাশি, তিনি তাঁদের বর্ণনায় দুটি মহান গ্রন্থ পৃথকভাবে রচনা করেছেন যা এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথমটি: আল-মাজমাউল মুআসসিস লিল মুজামিল মুফাহরাস; এতে তিনি তাঁর শিক্ষকদের জীবনী এবং তাঁদের থেকে শ্রবণ, অনুমতি (ইজাজাহ) কিংবা জ্ঞান লাভের মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়টি: আল-মুজামুল মুফাহরাস; এটি হাফিজের বর্ণিত বিষয়াবলির একটি সূচিপত্র, যেখানে তিনি বিভিন্ন কিতাব, জুজ এবং মুসনাদসমূহের সনদ বর্ণনার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করেছেন।

সাখাবি হাফিজের শিক্ষকদের তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম: যাঁর নিকট থেকে তিনি হাদিস শুনেছেন, যদিও তা একটি মাত্র হাদিস হয়।

দ্বিতীয়: যাঁরা অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছেন, এমনকি তা যদি কেবল তাঁর সন্তানদের আবেদনের প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে।

তৃতীয়: যাঁর নিকট থেকে তিনি আলোচনা বা আবৃত্তির মাধ্যমে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন অথবা যাঁর খুতবা বা রচনা শুনেছেন কিংবা যাঁর মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন। সম্ভবত উভয় প্রকারের প্রত্যেকেই তাঁর শিক্ষক ছিলেন যাঁদের কাছে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং হাফিজগণের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাঁদের থেকে উপকৃত হয়েছেন।

তাঁর মোট শিক্ষকের সংখ্যা ছয়শ চল্লিশের অধিক। ইবনে খলিল আদ-দিমাশকি 'জুমানুদ দুরার' গ্রন্থেও তাঁদেরকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন এবং তাঁদের সংখ্যা ছয়শ ঊনচল্লিশ জনে পৌঁছিয়েছেন।

আমরা এখানে কেবল তাঁর কয়েকজন শিক্ষকের উল্লেখ করব যাঁদের তাঁর জীবনে প্রভাব ছিল। এর কারণ হলো—প্রথমত, তাঁদের সংখ্যাধিক্য; এবং দ্বিতীয়ত, তিনি নিজেই তাঁর পূর্বোক্ত দুটি গ্রন্থে তাঁদের বিস্তারিত আলোচনার দায়িত্ব নিয়েছেন।

--------------------------------------------

১. এ দুটি মিসরের 'দারুল কুতুব' (জাতীয় গ্রন্থাগার)-এ সংরক্ষিত রয়েছে এবং মিনার 'সিদ্দিক লাইব্রেরি'তে এর দুটি অনুলিপি রয়েছে।

২. আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার, ৩৬/খ- ৪৪/খ।

৩. ১১/খ- ২৪/ক।