(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: -)
أزمات الشباب أسباب وحلول   (محمد أحمد كنعان)

القسم: كتب عامة


الكتاب: أزمات الشباب أسباب وحلول

المؤلف: القاضي محمد أحمد كنعان

تم تبييض الكتاب في شهر محرّم عام 1411هـ الموافق لشهر آب عام 1990 م

الناشر: دار البشائر - بيروت لبنان

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 84

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তরুণদের সংকট: কারণ ও প্রতিকার   (মুহাম্মাদ আহমাদ কানআন)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: তরুণদের সংকট: কারণ ও প্রতিকার

লেখক: বিচারক (কাজি) মুহাম্মাদ আহমাদ কানআন

বইটির পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে ১৪১১ হিজরির মহররম মাসে, যা ১৯৯০ সালের আগস্ট মাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ

প্রকাশক: দার আল-বাশায়ির - বৈরুত, লেবানন

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১)
أزمات الشباب

أسباب وحلول

تأليف القاضي الشيخ محمد أحمد كنعان

 

دار البشائر الاسلامية

بيروت لبنان
তরুণ প্রজন্মের সংকটসমূহ

কারণ ও সমাধান

রচনা: বিচারপতি শায়খ মুহাম্মদ আহমদ কানআন

 

দার আল-বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ

বৈরুত, লেবানন
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعين به، ونستغفره ونتوب اليه من جميع ذنوبنا، ونعوذ به تعالى من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة تنجينا من عذاب أليم {يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم} .

وأشهد أن محمد عبده ورسوله، ورحمته الى العالمين، جاء بالهدى ودين الحق، بشيرا ونذيرا بين يدي الساعة، فبلّغ الرسالة وأدّى الأمانة، ونصح لأمته في حاضرها ومستقبلها، وجاهد في الله حق جهاده، فمن أطاع الله ورسوله فقد اهتدى، ومن يعص الله ورسوله فقد ضلّ وغوى.

أما بعد:

ففي قول الله عز وجل: {يا أيها الذين آمنوا قوا أنفسكم وأهليكم نارا وقودها الناس والحجارة عليها ملائكة غلاظ شداد لا يعصون الله ما أمرهم ويفعلون ما يؤمرون} ، بيان واضح لمسؤولية الإنسان عن نفسه أولا، ثم عن أهله وأقاربه، وهي مسؤولية لا تتعلق بأمور الدنيا ومعايشها، بل تتعلق بأمور الدين، وعاقبة الانسان في الاخرة، حيث تجد كل نفس عملها، من خير أو شر، وتلقى جزاؤها الأوفى، إما في جنة عالية.. وإما في نار حامية..
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের সকল গুনাহ থেকে তাঁরই কাছে তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা আমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে, সেই দিন ‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে’।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং বিশ্ববাসীর জন্য তাঁর রহমত। তিনি হেদায়েত ও সত্য দ্বীন নিয়ে কিয়ামতের আগে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতের বর্তমান ও ভবিষ্যতের কল্যাণকামনা করেছেন। তিনি আল্লাহর পথে যথার্থ জিহাদ করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল সে সঠিক পথ পেল, আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো সে পথভ্রষ্ট ও লক্ষ্যচ্যুত হলো।

অতপর:

মহান আল্লাহর এই বাণীতে: ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো সেই আগুন থেকে যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ যা আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই পালন করে’—এতে মানুষের সর্বপ্রথম নিজের প্রতি, অতঃপর তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি তার যে দায়িত্ব রয়েছে তার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। এটি এমন এক দায়িত্ব যা কেবল পার্থিব বিষয় ও জীবনোপকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং এটি দ্বীনি বিষয় এবং আখেরাতে মানুষের পরিণতির সাথে সংশ্লিষ্ট; যেখানে প্রতিটি প্রাণ তার কৃতকর্ম—তা ভালো হোক বা মন্দ—সামনে দেখতে পাবে এবং তার পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবে, হয় সুউচ্চ জান্নাতে অথবা উত্তপ্ত জাহান্নামে।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২)
إن الله تعالى يأمر المؤمنين بان يقوا أنفسهم وأهليهم عذاب النار، ومعلوم: أن وسيلة الوقاية من النار، ليست بتجهيز الملابس والأقنعة الواقية من حرّها ولهبها.. ولا بإعداد وسائل إطفاء الحرائق.. بل تحصّل هذه "الوقاية" بأمرين هما: " صلاح العقيدة"، بان تكون عقيدة صحيحة، بمطابقتها لما جاء به رسولنا الأمين محمد صلى الله عليه وسلم، و" صلاح العمل"، بان تكون الأعمال صالحة، بموافقتها لشريعته الغرّاء، ومن دون ذلك، فلن يكون للإنسان منجاة من العذاب، ولن يكون له ملجأ أو مفرّ من العقاب يوم القيامة، إلا ما يختصّ به ربنا عز وجل بعض عباده المؤمنين العصاة، من العفو والغفران.

والمستفاد من معنى هذه الأية: إن الإنسان لا يجوز له أن يتلهى بأي شيء من أمور " الدنيا"، عما فيه مصلحته ومصلحة أهله في "الدين"، فيهمل واجباته، ويتخلى عن مسؤولياته، وأنه لا يجوز له أن يلهو عن طاعة الله، برغبات نفسه وشهواتها، أو: يلهو بأمواله وأولاده عن ذكر الله سبحانه وعبادته، باعتبارهم زينة الحياة الدنيا كما قال تعالى: {المال والبنون زينة الحياة الدنيا} ، لأن الله تعالى نهى عن ذلك وحذّر منه في قوله سبحانه: {يا أيها الذين آمنوا لا تلهكم أموالكم ولا أولادكم عن ذكر الله ومن يفعل ذلك فأولئك هم الخاسرون} .

إن نطاق "الوقاية" التي أمرنا الله تعالى بها، لا ينحصر في مجال مصلحة النفس والأهل، بل يتعدى هذا النطاق، ليشمل المجتمع كله، عملا بالقاعدة الشرعية الواردة في الحديث الشريف: " كلكم راع وكلكم مسؤول عن رعيته".

فالمجتمع مترابط بشبكة متكاملة من المسؤولية بدءا من مسؤولية الإنسان عن نفسه، وانتهاء بمسؤولية الراعي عن الرعية، تكفل له في حال وفاء المسؤولية حقها، أن يكون مجتمعا سعيدا … صالحا …
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন নিজেদেরকে এবং তাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। এটি সুবিদিত যে: আগুন থেকে বাঁচার মাধ্যম আগুনের উত্তাপ ও শিখা নিরোধক পোশাক বা মুখোশ সজ্জিত করার মাধ্যমে নয়... কিংবা অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম প্রস্তুত করার মাধ্যমেও নয়... বরং এই "সুরক্ষা" অর্জিত হয় দুটি বিষয়ের মাধ্যমে: "আকিদার (عقيدة) সংশোধন", যেন তা আমাদের বিশ্বস্ত রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে একটি সহিহ (صحيحة) আকিদা (عقيدة) হয়। এবং "আমলের (عمل) সংশোধন", যেন তা তাঁর উজ্জ্বল শরিয়তের (شريعة) অনুকূলে হওয়ার মাধ্যমে নেক আমলে (عمل) পরিণত হয়। এছাড়া কিয়ামতের দিন শাস্তি থেকে মানুষের কোনো মুক্তি থাকবে না এবং কোনো আশ্রয় বা পালানোর পথ থাকবে না; তবে আমাদের মহান প্রতিপালক তাঁর কিছু পাপী মুমিন বান্দার প্রতি যে ক্ষমা ও মার্জনা প্রদর্শন করবেন তা ভিন্ন।

এই আয়াতের অর্থ থেকে যা পাওয়া যায় তা হলো: মানুষের জন্য "দুনিয়ার" কোনো বিষয়ে মত্ত হয়ে নিজের এবং নিজ পরিবারের "দ্বীনি" কল্যাণ থেকে বিমুখ হওয়া জায়েজ নয়, যার ফলে সে তার ওয়াজিবসমূহ (واجبات) অবহেলা করবে এবং তার দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাবে। তেমনি নিজের কুপ্রবৃত্তি ও লালসার বশবর্তী হয়ে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ হওয়াও জায়েজ নয়। অথবা নিজের সম্পদ ও সন্তানাদি নিয়ে মত্ত হয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জিকির ও ইবাদত থেকে গাফেল হওয়া যাবে না; যদিও তারা দুনিয়াবি জীবনের সৌন্দর্য হিসেবে বিবেচিত, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য}। কেননা মহান আল্লাহ তা থেকে নিষেধ করেছেন এবং তাঁর বাণীতে সতর্ক করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এরূপ করবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত}।

আল্লাহ তাআলা আমাদের যে "সুরক্ষার" আদেশ দিয়েছেন, তার পরিধি কেবল নিজের এবং পরিবারের কল্যাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পুরো সমাজকে শামিল করে। এটি শরিফ হাদিসে বর্ণিত শরিয়তসম্মত (شرعية) মূলনীতির প্রতিফলন: "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।"

সুতরাং সমাজ দায়িত্ববোধের একটি সমন্বিত জালে আবদ্ধ, যা শুরু হয় নিজের প্রতি মানুষের দায়িত্ব থেকে এবং শেষ হয় দায়িত্বশীলের (রাঈ) তার অধীনস্থদের (রাইয়্যাহ) প্রতি দায়িত্বের মাধ্যমে। এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালিত হলে এটি একটি সুখী … পুণ্যবান … সমাজে পরিণত হওয়ার নিশ্চয়তা দেয়।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ৩)
كما أن "الوقاية" المطلوبة للنفس وللغير، لا تختص بمرحلة معينة من مراحل حياة الإنسان، دون سواها من المراحل، بل هي واجبة في جميع مراحل الحياة البشرية، ولجميع طبقات المجتمع، من "الطفولة".. حتى:" الموت"..

وقد اهتمّ فقهاؤنا رحمهم الله تعالى في مؤلفاتهم، ببيان واجبات "المسؤول" في كل مرحلة من هذه المراحل، فوضّحوا الأحكام المتعلقة بواجب الأبوين نحو ولدهما، من حين ولادته، حتى يموتا عنه، أو يموت هو عنهما، وفصّلوا أيضا واجبات المعلمين والمرشدين، في تعليم النشء وتربية الشباب، وبينوا كذلك واجبات المجتمع، في التكافل والتضامن، لحمياة المسنين، والعجزة، والمعوّقين، الذين لا معيل لهم، وحدّدوا أيضا واجبات الحاكمين جميعا، ـ أي:" المسؤولين" أيا كانت وظائفهم ـ تجاه الشعب كله: أطفالا وشبابا.. كهولا وشيوخا.. رجالا ونساء..

ومما لا شك فيه: أن "مرحلة الشباب" من حياة الانسان، هي المرحلة الأخطر والأدق، باعتبارها بداية التكليف الشرعي، ونشوة العمر وجدّته، ولهذا اهتم المصلحون بالشباب، لرعاية شؤونهم، وتوجيه سلوكهم، وتقويم إنحرافهم، ووقاية أخلاقهم، ليغيشوا حياة سعيدة مستقرّة، ويكونوا سعداء صالحين.

ولا شك أيضا في: أن الشباب في عصرنا، مهملون مضيّعون.. مغشوشون مضللون.. تتخطفهم العقائد الفاشلة.. وتتجاذبهم التيارات الفاسدة.. لا موجّه يوجههم نحو هدف شريف.. ولا قائد لهم يقودهم صوب غاية حميدة.. ولا حاكم يعطيهم جهده واهتمامه، وعطفه وحنانه.. فلذلك: هم في ضياع.. وفراغ.. وصراع.. لا تمتدّ لنجدتهم يد.. ولا يوضع لمأساتهم حد.. ولا تعالج أزماتهم بالجدّ.

تجاه هذا الواقع السيئ لشبابنا.. رأيت من واجبي نحوهم، وهم أبنائي وإخوتي، أن أساعدهم بالنصيحة والرأي، وأعاونهم بالمشورة والتوجيه، فأبيّن لهم أخطر ما يعانون من أزمات ومتاعب، وأعرّفهم على أسبابها.. ومصادرها.. والمسؤول عنها.. وطرق حلها، والخروج منها، والتغلب عليها..
তেমনিভাবে নিজের এবং অন্যের জন্য কাঙ্ক্ষিত "সুরক্ষা (وقاية)", মানবজীবনের কোনো বিশেষ স্তরের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি মানবজীবনের সকল স্তরে এবং সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আবশ্যক।

আমাদের ফকিহগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁদের গ্রন্থাবলিতে এই প্রতিটি স্তরে "দায়িত্বশীলদের" কর্তব্য বর্ণনায় সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁরা সন্তানের জন্মের পর থেকে পিতা-মাতার মৃত্যু পর্যন্ত অথবা সন্তানের মৃত্যু পর্যন্ত তাদের প্রতি পিতা-মাতার কর্তব্যের বিধানসমূহ স্পষ্ট করেছেন। তাঁরা নতুন প্রজন্মের শিক্ষা এবং যুবকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও পথপ্রদর্শকদের দায়িত্বসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। একইভাবে তাঁরা সমাজের অভিভাবকহীন প্রবীণ, অক্ষম ও প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতির ক্ষেত্রে সমাজের দায়বদ্ধতা বর্ণনা করেছেন। তদুপরি, তাঁরা শাসকবর্গের—অর্থাৎ সকল প্রকার দায়িত্বশীলদের—কার্যপরিধি নির্বিশেষে আবালবৃদ্ধবনিতা তথা সমগ্র জনগণের প্রতি তাঁদের দায়িত্বসমূহ সুনির্দিষ্ট করেছেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানুষের জীবনে "যৌবনকাল" হলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সূক্ষ্ম সময়, কারণ এটিই শরিয়তের বিধিবিধান পালনের (تكليف شرعي) সূচনা এবং জীবনের সজীবতা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সময়। এই কারণেই সংস্কারকগণ যুবকদের বিষয়াবলির তদারকি, তাঁদের আচরণের দিকনির্দেশনা প্রদান, বিচ্যুতি সংশোধন এবং তাঁদের নৈতিক সুরক্ষা (وقاية) নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তাঁরা সুশৃঙ্খল ও সুখী জীবনযাপন করতে পারেন এবং পুণ্যবান ও সফল হতে পারেন।

এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান যুগের যুবসমাজ অবহেলিত ও লক্ষ্যহীন... তারা প্রতারিত ও বিভ্রান্ত... ব্যর্থ আকিদা-বিশ্বাসগুলো তাদের ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং কলুষিত মতাদর্শগুলো তাদের নিজেদের দিকে টানছে। তাদের মহৎ লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করার মতো কোনো নির্দেশক নেই, কোনো প্রশংসনীয় গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো নেতা নেই এবং এমন কোনো শাসক নেই যিনি তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি, মনোযোগ এবং মমতা ও স্নেহ উজাড় করে দেবেন। ফলস্বরূপ, তারা এক লক্ষ্যহীনতা, শূন্যতা এবং সংঘাতের মধ্যে নিমজ্জিত। তাদের উদ্ধারে কোনো হাত প্রসারিত হচ্ছে না, তাদের ট্র্যাজেডির কোনো সীমা নেই এবং গুরুত্বের সাথে তাদের সংকটের সমাধান করা হচ্ছে না।

আমাদের যুবসমাজের এই শোচনীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমি আমার সন্তান ও ভাইতুল্য এই যুবকদের প্রতি আমার কর্তব্য অনুভব করেছি যে, আমি উপদেশ ও সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে তাঁদের সাহায্য করি এবং পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তাঁদের সহযোগিতা করি। আমি তাঁদের সামনে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট ও সমস্যাগুলো তুলে ধরব এবং সেগুলোর কারণ, উৎস ও এর জন্য দায়ী পক্ষগুলোকে চিহ্নিত করব। পাশাপাশি এসব সমস্যা সমাধান, উত্তরণ এবং তা কাটিয়ে ওঠার পথ বাতলে দেব।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ৪)
هذا: مع العلم بأن الشباب ليسوا وحدهم الذين يعانون من " الأزمات"، بل إن أزماتهم جزء وبعض من أزمات المجتمع كله، والأزمات في مجتمعنا كثيرة.. ويا للأسف.. والعلاج قليل..

وربما قد يسأل سائل:‌‌ لماذا ركزتم على "الشباب" من بين طبقات المجتمع؟؟.. ولماذا لا يصب الاهتمام على مرحلة "الطفولة والصبا"، باعتبارها المرحلة التأسيسية الخطيرة في حياة الإنسان؟..

وعن هذا السؤال نجيب: بأننا لا ننكر أهمية مرحلة "الطفولة" في حياة الإنسان، فهي ولا شك المرحلة الأهم، باعتبارها مرحلة الغرس والزرع والتلقين، و "الطفل" يكون فيها كالعجينة اللينة في يد العجّان.. يشكلها فتتشكل، ويعركها فتنعرك.. بلا معاندة ولا معارضة.. فهو يصدّق كل ما يسمع.. ويلقّن العقائد والأفكار والعادات.. فيقبل.. إنه يثق بوالديه ثقة مطلقة.. إذ هو يراهما الصدق كله.. والشجاعة والشهامة والأمانة.. فلا يخطر على باله أنهما قد يلقنانه الضلال، أو يعلمانه الفسوق والعصيان.. أو يكذبان عليه ويغشّانه.. فلذلك هو يأخذ عنهما ويقلدهما من دون تردد، وبلا تحفّظ.. فلو أنهما عوّداه عبادة الخنزير.. لعبده.. ولا عجب في ذلك.. فقد جاء في الحديث الشريف، فيما رواه البخاري ومسلم وغيرهما بألفاظ متعددة، عن أبي هريرة، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:" من يولد يولد على الفطرة، فأبواه يهوّدانه.. أو ينصّرانه.. كما تنتجون البهيمة، هل تجدون فيها من جدعاء حتى تكونوا أنتم تجدعونها؟ "، والجدعاء هي مقطوعة الأذن.
এটি লক্ষ্যণীয় যে: কেবল যুবসমাজই যে 'সংকটে' ভুগছে এমনটি নয়, বরং তাদের সংকট সমগ্র সমাজেরই সামগ্রিক সংকটের একটি অংশ; আর আমাদের সমাজে সংকটের সংখ্যা অনেক—আক্ষেপের বিষয় এই যে, এর প্রতিকার অতি সামান্য।

সম্ভবত কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করতে পারেন: সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্য থেকে আপনারা কেন কেবল 'যুবসমাজের' ওপরই গুরুত্বারোপ করলেন?? আর কেনই বা মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বুনিয়াদি পর্যায় হিসেবে বিবেচিত 'শৈশব ও কৈশোর'কালের প্রতি বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ করা হলো না?..

এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা বলব: মানুষের জীবনে 'শৈশব' পর্যায়ের গুরুত্বকে আমরা অস্বীকার করি না। নিঃসন্দেহে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়; কারণ এটি হলো রোপণ, বপন ও দীক্ষা প্রদানের সময়। এই সময়ে 'শিশু' থাকে রুটি প্রস্তুতকারীর হাতের নরম খামিরের মতো, তিনি তাকে যেভাবে আকৃতি দেন সেভাবেই সে গঠিত হয় এবং যেভাবে মর্দন করেন সেভাবেই পরিচালিত হয়—কোনো প্রকার অবাধ্যতা বা বিরোধিতা ছাড়াই। সে যা শোনে তাই সত্য বলে বিশ্বাস করে। তাকে যে আকিদা (عقيدة), চিন্তাধারা ও অভ্যাসসমূহের পাঠ দেওয়া হয়, সে তা গ্রহণ করে। সে তার পিতামাতার ওপর নিরঙ্কুশ আস্থা রাখে; কেননা সে তাদের সত্যবাদিতা, সাহসিকতা, মহত্ত্ব ও আমানতদারিতার মূর্ত প্রতীক মনে করে। তার মনে এমন চিন্তাই উদিত হয় না যে, তারা তাকে ভ্রষ্টতা কিংবা পাপাচার ও অবাধ্যতার শিক্ষা দিতে পারে, অথবা তার সাথে মিথ্যা বলতে পারে বা প্রতারণা করতে পারে। ফলে সে কোনো দ্বিধা বা সংকোচ ছাড়াই তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং তাদের অনুকরণ করে। এমনকি তারা যদি তাকে শূকর পূজায় অভ্যস্ত করত, তবে সে তা-ই করত। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ হাদিস শরিফে—যা বুখারি, মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থকারগণ বিভিন্ন শব্দে (بألفاظ متعددة) বর্ণনা (رواه) করেছেন—আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (رواه), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাত (الفطرة) বা স্বভাবজাত দ্বীনের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায় অথবা নাসারা বানায়; যেমনভাবে চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়, তোমরা কি সেখানে কোনো কানকাটা (الجدعاء) প্রাণী দেখতে পাও, যতক্ষণ না তোমরাই তার কান কেটে দাও?" আর 'জাদআ' (الجدعاء) হলো সেই প্রাণী যার কান কর্তিত।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ৫)
فالطفل حين يبلغ سن التكليف، يأخذ.. ويتلقى.. ويقلد.. ويصدٌق أي شيء.. ولو من الخرافات والأساطير.. فهو إن نشأ مؤمنا، فإيمانه بإيمان أبويه، أو أحدهما، المعزز لفطرته السليمة، وإن نشأ كافرا، فكفره من كفر أبويه اللذين علماه الكفر، وربيّاه عليه، ولكنه لا يبني شيئا من ذلك على قناعة شخصية، ولا على برهان أو دليل مستقل، وهو في هذه المرحلة، غير مطالب بذلك، حتى يصبح مكلفا.

والطفل بسسب واقعه هذا، ليس مسؤولا عن أعماله وتصرفاته، ولا هو مؤاخذ بها، حتى يبلغ سن التكليف، فعندها يصبح مؤاخذا، يثاب ويعاقب، فقد روي الإمام أحمد وأبو داود وغيرهما، عن عدد من الصحابة، رضوان الله عليهمن عن النبي صلى الله عليه وسلم: أن القلم قد رفع عن ثلاثة هم: المجنون حتى يبرأ، والنائم حتى يستيقط، والصبي حتى يحتلم.

إن عدم المؤاخذة الشرعية على الطفل في هذه المرحلة، لا يعني أنّ الإنحراف الذي يتعوّده في العقيدة والسلوك لا يضرّه، ولا يؤثّر عليه في المراحل التالية من حياته.. بل إن تلك الإنحرافات، ستنتقل مع الطفل الى مرحلة الشباب، التي هي أولى مراحل التكليف الشرعي، فيصير فيها مكلفا مسؤولا عن أعماله وأقواله، ومؤاخذا بها، فيثاب على الطاعة، ويحمل وزر المعصية.. وعندها سيعاني الشاب من نتائج أخطاء الأبوين والموجهين، الذين أشرفوا عليه في مرحلة "الطفولة"، وسيكون نجاحه أو فشله مرتبطا برغبته وقدرته على ترك ذلك السوء الذي ورّثوه إيّاه..
একটি শিশু যখন শরয়ী দায়বদ্ধতার বয়সে (تكليف) উপনীত হয়, সে গ্রহণ করে... অর্জন করে... অনুকরণ করে... এবং যেকোনো বিষয়কেই সত্য বলে বিশ্বাস করে... এমনকি তা যদি রূপকথা বা অলীক কাহিনীও হয়। সে যদি মুমিন হিসেবে বেড়ে ওঠে, তবে তার এই ঈমান তার পিতামাতার অথবা তাদের উভয়ের একজনের ঈমানের অনুগামী হয়, যা তার ফিতরাত বা জন্মগত স্বভাবকে (فطرة) শক্তিশালী করে। আর যদি সে কাফির হিসেবে বেড়ে ওঠে, তবে তার এই কুফর হয় তার পিতামাতার কুফরের প্রভাবে, যারা তাকে কুফর শিখিয়েছেন এবং তার ওপর তাকে লালন-পালন করেছেন। কিন্তু সে এর কোনোটিই ব্যক্তিগত দৃঢ় বিশ্বাস কিংবা কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ বা দলিলের ভিত্তিতে গড়ে তোলে না। এই পর্যায়ে সে এসবের জন্য জিজ্ঞাসিত হবে না, যতক্ষণ না সে শরয়ী দায়বদ্ধতার অধিকারী (مكلف) হয়।

একটি শিশু তার এই বাস্তব অবস্থার কারণে নিজের কর্ম ও আচরণের জন্য দায়ী নয় এবং এর জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না, যতক্ষণ না সে শরয়ী দায়বদ্ধতার বয়সে (تكليف) পৌঁছায়। আর যখন সে এই স্তরে পৌঁছাবে, তখন সে জবাবদিহিযোগ্য (مؤاخذ) হিসেবে গণ্য হবে, যার ফলে সে সওয়াব লাভ করবে কিংবা শাস্তির সম্মুখীন হবে। ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা বেশ কয়েকজন সাহাবী (صحابي)-র সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "তিন ব্যক্তি থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক (احتلم) হয়।"

এই পর্যায়ে শিশুর ওপর শরয়ী দায়বদ্ধতা বা পাকড়াও (مؤاخذة) না থাকার অর্থ এই নয় যে, আকিদা (عقيدة) ও আচরণের ক্ষেত্রে সে যে বিচ্যুতির অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, তা তার কোনো ক্ষতি করবে না কিংবা জীবনের পরবর্তী ধাপগুলোতে তার ওপর প্রভাব ফেলবে না। বরং সেই বিচ্যুতিগুলো শিশুর সাথে তার যৌবনকাল পর্যন্ত স্থানান্তরিত হবে, যা শরয়ী দায়বদ্ধতার (تكليف شرعي) প্রথম পর্যায়। তখন সে তার কথা ও কাজের জন্য দায়বদ্ধ ও দায়িত্বশীল (مكلف) হয়ে উঠবে এবং সেগুলোর জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে। ফলে সে আনুগত্যের জন্য সওয়াব পাবে এবং পাপাচারের বোঝা বহন করবে। আর তখনই যুবকটি তার পিতামাতা ও পথপ্রদর্শকদের ভুলের পরিণাম ভোগ করবে, যারা 'শৈশব' কালে তার তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ছিলেন। তার এই সফলতা বা ব্যর্থতা তখন তার সেই মন্দ অভ্যাসগুলো বর্জন করার ইচ্ছা ও সক্ষমতার সাথে যুক্ত হয়ে যাবে, যা তাকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রদান করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ৬)
ومع ذلك: فنحن لم نركّز في كتابنا هذا على مرحلة "الطفولة"، لأنه لا سلطة لنا على فكر الطفل بحال، فهو واقع بالكلية تحت إشراف وليّ أمره.. يفعل به ما يشاء.. فهو لا يحسن القراءة والفهم.. لنكتب له ونحرّك مداركه.. فل1لك رصدنا له الطريق في المرحلة التالية من حياته.. "مرحلة الشباب".. حيث يكون قادرا على الفهم.. متهيئا ومستعدا لمناقشة الأمور.. فكتبنا للشاب هذا الكتاب، لنساعده على التخلص من شوائب الطفولة.. وعلى الخروج من " أزمات الشباب".. آملين في أن يكون هذا الكتاب بإذن الله عز وجل، مرشدا للشباب في حياتهم، ودليلا لهم الى الحق والصواب، وأن يكونوا من أولئك الشباب الناشئين في عبادة الله تعالى وعلى طاعته، الذين يظلهم الله في ظله يوم القيامة، يوم لا ظل إلا ظله.. الحديث.

 

‌‌اسم الكتاب

أزمات؟

مشاكل؟

مشكلات؟

استقر الرأي أخيرا، على تسمية هذا الكتاب بـ "أزمات الشباب"، بعد أن تردد في الخاطر تسميته بـ " مشاكل الشباب"، وذلك لأن البعض يعتبر كلمة:" مشاكل" خطأ لغويا، صوابها " مشكلات"، ولكي أحسم هذا الأمر عدت الى قواميس اللغة فوجدت التالي:

[" المشكل" هو: الداخل في أشكاله، أي: أمثاله وأشباهه، جمعه:" مشكلات"، وكل مختلط " مشكل" و "الشكلة": الحمرة تختلط بالبياض، وهذا شيء أشكل، ومنه قيل للأمر المشتبه: مشكل، وأشكل عليّ الأمر: إذا اختلط] (انتهى من القواميس) .

أما كلمة " مشاكل"، فلم ترد في أي من القواميس الأمهات التي رجعت إليها، ولم يذكرها إلا صاحب "تاج العروس" حيث قال: [وهو يفك المشاكل، أي: الأمور الملتبسة] ولم يذكر غير ذلك.

তা সত্ত্বেও: আমরা আমাদের এই গ্রন্থে "শৈশব" পর্যায়ের ওপর আলোকপাত করিনি, কারণ কোনোভাবেই শিশুর চিন্তাধারার ওপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই। সে সম্পূর্ণভাবে তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে... অভিভাবক তার সাথে যা ইচ্ছা করেন... সে পাঠ এবং অনুধাবনে পারদর্শী নয়... যাতে আমরা তার জন্য লিখব এবং তার বোধশক্তিকে জাগ্রত করব... তাই আমরা তার জীবনের পরবর্তী পর্যায়—"যৌবনকাল"—এর জন্য পথ নির্ধারণ করেছি... যেখানে সে বুঝতে সক্ষম হয়... এবং বিষয়সমূহ পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত ও উন্মুখ থাকে... তাই আমরা যুবকদের জন্য এই বইটি লিখেছি, যাতে আমরা তাদের শৈশবের কালিমা থেকে মুক্তি পেতে এবং "যুবসমাজের সংকটসমূহ" থেকে উত্তরণে সহায়তা করতে পারি। আমরা আশা করি যে, এই বইটি আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লার ইচ্ছায় যুবকদের জীবনে পথপ্রদর্শক এবং তাদের জন্য সত্য ও সঠিক পথের দিশারী হবে; আর তারা যেন সেইসব যুবকদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যারা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও আনুগত্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে, যাদেরকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না... হাদিস।

 

‌‌গ্রন্থের নাম

সংকটসমূহ?

সমস্যাসমূহ?

জটিলতাসমূহ?

পরিশেষে এই বইটির নাম "যুবসমাজের সংকটসমূহ" রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থির হয়েছে, যদিও মনে মনে এর নাম "যুবসমাজের সমস্যাসমূহ" রাখার ব্যাপারে দ্বিধা ছিল। এর কারণ হলো, কেউ কেউ "মাশাকিল" শব্দটিকে ভাষাগত ভুল মনে করেন এবং এর সঠিক রূপ হিসেবে "জটিলতাসমূহ" (مشكلات)-কে গণ্য করেন। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য আমি অভিধানগুলোর শরণাপন্ন হলাম এবং নিম্নরূপ তথ্য পেলাম:

["জটিল বা অস্পষ্ট" (المشكل) হলো: যা তার সমরূপ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, অর্থাৎ তার সদৃশ ও সমজাতীয় বস্তু; এর বহুবচন হলো: "জটিলতাসমূহ" (مشكلات)। প্রতিটি মিশ্রিত বিষয়ই "জটিল" (المشكل)। আর "শাকলাহ" হলো: শ্বেতবর্ণের সাথে মিশ্রিত রক্তিম আভা; এরূপ বিষয়কে "আশাকাল" বলা হয়। এ থেকেই সংশয়পূর্ণ (مشتبه) বিষয়কে "জটিল বা অস্পষ্ট" (المشكل) বলা হয়েছে। কোনো বিষয় আমার নিকট অস্পষ্ট বা জটিল হয়ে যাওয়া বুঝাতে বলা হয়: "আশকাল আল্যাইয়াল আমরু", যখন তা মিশ্রিত বা অস্পষ্ট হয়ে যায়] (অভিধানের উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

পক্ষান্তরে "মাশাকিল" শব্দটি আমি যে সকল প্রধান প্রধান অভিধান পর্যালোচনা করেছি তার কোনোটিতেই পাওয়া যায়নি। কেবল তাজুল আরুস গ্রন্থকার এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: [তিনি জটিলতাসমূহ সমাধান করেন, অর্থাৎ: অস্পষ্ট বা সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহ]। তিনি এছাড়া আর কিছু উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ৭)
وهذا المعنى اللغوي، هو الذي استعمله علماء "أصول الفقه"، في باب:"المشكل"، حيث عرّفوه بأنه "الداخل في أشكاله" أي: الذي أشكل على السامع طريق الوصول الى معناه، لدقة المعنى في نفسه لا بعارض، فلا يعرف إلا بدليل يتميّز به، وأطلقوا "المشكلة" على الكلمة التي أشكل المعنى المراد بها، ومثلوا على ذلك بكلمة: " أنّى" في قوله تعالى: {فأتوا حرثكم أنّى شئتم} ، فكلمة: "أنّى" مشكلة، تجيء تارة بمعنى:" من أين"، وتارة بمعنى:" كيف"، فاشتبه ههنا المعنى المراد، فإن كان بمعنى: " أين"، يكون المعنى:" من أي مكان شئتم" قبلا أو: دبرا، فتحلّ اللواطة من إمرأته على هذا المعنى، وإن كان بمعنى: "كيف"، يكون المعنى:" بأي كيفية شئتم" قائما أو قاعدا أو مضطجعا، فيدلّ على تعميم الأحوال دون المحال، فإذا تأملنا في لفظ "الحرث" من قوله تعالى: {فأتوا حرثكم} ، علمنا أن كلمة:" أنّى" هنا بمعنى:" كيف"، لأن الدبر ليس موضع الحرث، بل هو موضع الفرث، فتكون اللواطة من امرأته حراما، لكن حرمتها ظنيّة فلا يكفر مستحلها. (عن كتب الأصول بتصرف) .

এই শাব্দিক অর্থটিই "উসুল আল-ফিকহ"-এর আলিমগণ "আল-মুশকিল" (المشكل) অধ্যায়ে ব্যবহার করেছেন। তারা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, এটি "যা তার সমগোত্রীয় বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে"। অর্থাৎ, যার অর্থের সূক্ষ্মতার কারণে শ্রোতার নিকট তার প্রকৃত অর্থে পৌঁছানোর পথ অস্পষ্ট হয়ে যায়, যা কোনো বাহ্যিক কারণে নয় বরং শব্দটির নিজস্ব সত্তাগত গূঢ়তার কারণে। ফলে কোনো বিশেষ প্রমাণ (دليل) ব্যতীত তা চেনা যায় না। তারা এমন শব্দকে "মুশকিলাহ" (المشكلة) বলে অভিহিত করেন যার দ্বারা উদ্দিষ্ট অর্থ অস্পষ্ট হয়ে যায়। তারা মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো}-এর "আন্না" শব্দটিকে তারা এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন। এখানে "আন্না" শব্দটি অস্পষ্ট (مشكلة); কারণ এটি কখনও "কোথা থেকে" অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনও "কিভাবে" অর্থে ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে উদ্দিষ্ট অর্থটি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। যদি এর অর্থ "কোথায়" হয়, তবে এর মর্মার্থ দাঁড়াবে: "তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো স্থান দিয়ে", হোক তা সম্মুখ পথ বা পশ্চাৎপথ। এই অর্থ অনুযায়ী নিজ স্ত্রীর সাথে পায়ুকাম বৈধ হয়ে যায়। আর যদি এর অর্থ "কিভাবে" হয়, তবে অর্থ দাঁড়াবে: "তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো পদ্ধতিতে", দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা শুয়ে। এটি মূলত অবস্থার ব্যাপকতাকে বুঝায়, অসম্ভব বা নিষিদ্ধ কোনো কিছুর নয়। অতএব যখন আমরা মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে গমন করো}-এর "শস্যক্ষেত্র" শব্দটির প্রতি গভীর দৃষ্টি দেই, তখন আমরা বুঝতে পারি যে এখানে "আন্না" শব্দটি "কিভাবে" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ পশ্চাৎপথ শস্য উৎপাদনের স্থান নয়, বরং তা মলত্যাগের স্থান। ফলে স্ত্রীর সাথে পায়ুকাম নিষিদ্ধ (حرام) সাব্যস্ত হবে। তবে এর নিষিদ্ধতা ধারণাপ্রসূত (ظنية) হওয়ার কারণে একে হালাল মনেকারী ব্যক্তি কাফির হবে না। (উসুল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে সংগৃহীত ও পরিমার্জিত)।

(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ৮)
فيتضح مما تقدّم: أن كلا من: " المشكل"، و"المشكلة" و"المشاكل" و"المشكلات"، هي مفردات وجموع، تدلّ على المختلط الملتبس من الأشياء، ولا تدل على ما نعنيه في هذا الكتاب، وهو الإنحرافات والمخالفات التي يرتكبها الإنسان، وإنّ استعمالنا ـ كغيرنا ـ هذه الكلمات بالمعنى المذكور، هو من باب التوسّع في تحميل اللغة معاني لا تحتملها في الأصل، ولا أرى لهذا التحميل مبرّرا، فلذلك عدلت عن تسمية الكتاب بأي إسم مشتق من "شكل"، وآثرت أن أسميّه بـ " أزمات الشباب"، وذلك لأن من معاني "الأزمة" في اللغة: " الشدّة"، يقال: تأزم القوم: إذا أصابتهم أزمة، وتألموا لأزمة الزمان، ومعنى "الأزمة" الذي هو: " الشدّة" عام يدخل فيه: المصائب، والمعاصي، والضلالات.. إلخ، لأن من ارتكب معصية، أو حلّت به بليّة أو مصيبة، فقد وقع من " شدة"، و" الشدائد" كثيرة.. والله المستعان.

‌‌مراحل حياة الإنسان

1- مرحلة: "الجنانة".

2- مرحلة: "الطفولة والصبا".

3- مرحلة: "الأشد" وهي: مرحلة الشباب.

4- مرحلة: "الشيخوخة".

5- النهاية: "الموت".

لقد شاء الله تبارك وتعالى أن يجعل في الأرض خليفة، فخلق "آدم" عليه السلام من تراب، ثم خلق منه زوجه " حواء" عليها السلام، ومنهما بدأ التناسل البشري، كما قال عز وجل: {يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبثّ منهما رجالا كثيرا ونساء، واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا} .

وقد بيّن الله تبارك وتعالى في كتابه العزيز: أنه خلق الأنسان على أطوار ومراحل، متتابعة متلاحقة متكاملة، كما قال عز وجل مخاطبا الكافرين خطاب توبيخ: {ما لكم لا ترجون لله وقارا* وقد خلقكم أطوارا} ، والمراد بالأطوار: مراحل خلق الإنسان في رحم أمه، ومراحل نشأته وحياته، وكذلك مراحل خلق أبي البشرية "آدم" عليه السلام.
পূর্বালোচনার প্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট হয় যে: ‘অস্পষ্ট’ (المشكل), ‘অস্পষ্টতা’ (المشكلة), ‘জটিল বিষয়সমূহ’ (المشاكل) এবং ‘জটিলতাসমূহ’ (المشكلات)—এগুলো হলো একবচন ও বহুবচন শব্দ, যা মূলত মিশ্রিত ও অস্পষ্ট (المختلط الملتبس) কোনো বস্তুকে নির্দেশ করে। এ বইটিতে আমরা যা বোঝাতে চেয়েছি—অর্থাৎ মানুষের দ্বারা সংঘটিত বিচ্যুতি ও অবাধ্যতা—এই শব্দগুলো মূলত সেই অর্থ বহন করে না। আমরা এবং অন্যরা এই শব্দগুলোকে উল্লিখিত অর্থে যে ব্যবহার করি, তা মূলত অর্থের প্রসারণ (التوسع) ঘটানোর অন্তর্ভুক্ত; অর্থাৎ ভাষাকে এমন অর্থের ভার বহন করানো যা মূলত তার মূল গঠনে নেই। আমি এই অতিরিক্ত অর্থের ভার চাপিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। তাই আমি বইটির নামকরণের ক্ষেত্রে ‘শকল’ (شكل) শব্দ থেকে উদ্ভূত কোনো নাম রাখা থেকে বিরত থেকেছি এবং এর নাম ‘যুবকদের সংকট’ (أزمات الشباب) রাখাকে প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ অভিধানে ‘সংকট’ (الأزمة) শব্দের একটি অর্থ হলো: ‘কঠিন অবস্থা’ (الشدة)। বলা হয়ে থাকে: ‘কওমটি সংকটাপন্ন হয়েছে’ (تأزم القوم), অর্থাৎ যখন তারা কোনো সংকটে পতিত হয় এবং সময়ের কঠোরতায় তারা ব্যথিত হয়। ‘সংকট’ (الأزمة) শব্দের ‘কঠিন অবস্থা’ (الشدة) অর্থটি অত্যন্ত ব্যাপক, যার মধ্যে বিপদ-আপদ, পাপাচার এবং পথভ্রষ্টতা (الضلالات) ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। কারণ যে ব্যক্তি পাপাচার করল অথবা কোনো মুসিবত বা বিপদে পতিত হলো, সে মূলত ‘কঠিন অবস্থার’ (شدة) মধ্যেই নিপতিত হলো। আর ‘কঠিন পরিস্থিতি’ (الشدائد) অনেক রকমের হয়। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

‌‌মানুষের জীবনের পর্যায়সমূহ

১- পর্যায়: ‘ভ্রূণাবস্থা’ (الجنانة)।

২- পর্যায়: ‘শৈশব ও বাল্যকাল’ (الطفولة والصبا)।

৩- পর্যায়: ‘যৌবন’ (الأشد), যা মূলত তারুণ্যের পর্যায়।

৪- পর্যায়: ‘বার্ধক্য’ (الشيخوخة)।

৫- সমাপ্তি: ‘মৃত্যু’ (الموت)।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা পৃথিবীতে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে চাইলেন, তাই তিনি আদম (আলাইহিস সালাম)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর তাঁর থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়া (আলাইহাস সালাম)-কে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁদের মাধ্যমেই মানব বংশবিস্তার শুরু হয়, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন; এবং আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন}।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর মহিমান্বিত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মানুষকে বিভিন্ন স্তরে ও পর্যায়ক্রমে (أطوارا) সৃষ্টি করেছেন, যা একটির পর একটি ধারাবাহিকভাবে পূর্ণতা পায়। যেমনটি মহান আল্লাহ কাফেরদের তিরস্কার করে সম্বোধন করে বলেছেন: {তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের পরোয়া করছ না? অথচ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে (أطوارا)}। এখানে ‘পর্যায়সমূহ’ (أطوار) বলতে মাতৃগর্ভে মানুষের সৃষ্টির বিভিন্ন স্তর, তার বেড়ে ওঠা ও জীবনের বিভিন্ন ধাপ এবং মানবজাতির আদি পিতা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায়কে বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ৯)
فالله عز وجل خلق "آدم": من "تراب"، ثم من "طين"، ثم من "حمإ مسنون" أي: طين لزج متغيّر الرائحة، ثم من طين يابس، هو "الصلصال"، يسمع منه صوت إذا نقر عليه كالفخّار، ثم نفخ فيه الروح، فصار إنسانا حيّا، عاقلان ناطقا، مستوي القامة، جميل الهيئة، كامل الخلقة، ثم علّمه الله تعالى الأسماء كلها. وبعد ذلك خلق تعالى من "آدم" زوجه "حواء"، ليسكن إليها، وليكون منهما تناسل البشرية بطريق الزواج.

فبدأ التناسل البشري، مع أول ولد من أولاد "آدم"، عن طريق الحمل والولادة، في أطوار ومراحل، تدلّ على عظمة الله تعالى، الذي خلق الإنسان وسائر الأكوان، كما قال عز وجل: {ذلك عالم الغيب والشهادة العزيز الرحيم* الذي أحسن كل شيء خلقه وبدأ خلق الإنسان من طين* ثم جعل نسله من سلالة من ماء مهين} .

***

‌‌1- مرحلة الجنانة

ذكر الله عز وجل هذه المرحلة بالإجمال والتفصيل، في كتابه العزيز، فقال تعالى: {هو أعلم بكم إذ أنشاكم من الأرض وإذ أنتم أجنّة في بطون أمهاتكم} ، ثم فصّل الله عز وجل مراحل نمو "الجنين" في بطن أمه، مرحلة مرحلة، وطورا طورا، وذلك في عدد كبير من الآيات القرآنية، منها قوله تعالى في سورة "المؤمنون": {ولقد خلقنا الإنسان من سلالة من طين* ثم جعلناه نطفة في قرار مكين* ثم خلقنا النطفة علقة فخلقنا العلقة مضغة فخلقنا المضغة عظاما فكسونا العظام لحما ثم أنشأناه خلقا آخر فتبارك الله أحسن الخالقين} .
মহান আল্লাহ তাআলা "আদম"-কে সৃষ্টি করেছেন: "মাটি" থেকে, অতঃপর "কাদা" থেকে, এরপর "পচা কাদা" অর্থাৎ দুর্গন্ধযুক্ত আঠালো কাদা থেকে, তারপর শুকনো কাদা থেকে যা হলো "ঝনঝনে মাটি", যার ওপর আঘাত করলে পোড়া মাটির পাত্রের মতো শব্দ হয়; অতঃপর তিনি তাতে রুহ ফুঁকে দিলেন, ফলে তিনি একজন জীবিত, বুদ্ধিমান, বাকশক্তিসম্পন্ন, সুঠাম দেহী, সুন্দর আকৃতি ও নিখুঁত অবয়বের মানুষে পরিণত হলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাকে সবকিছুর নাম শিক্ষা দিলেন। এর পর আল্লাহ তাআলা "আদম" থেকে তার স্ত্রী "হাওয়া"-কে সৃষ্টি করলেন, যাতে তিনি তার কাছে প্রশান্তি লাভ করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে বিয়ের পদ্ধতিতে মানববংশের বিস্তার ঘটে।

এভাবে "আদম"-এর প্রথম সন্তানের মাধ্যমে গর্ভধারণ ও প্রসবের প্রক্রিয়ায় মানববংশের প্রজনন শুরু হলো, যা বিভিন্ন ধাপ ও পর্যায়ে সম্পন্ন হয় এবং মহান আল্লাহর মাহাত্ম্য প্রমাণ করে, যিনি মানুষ ও সমগ্র বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে অতি উত্তম করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধারা এক তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছেন}।

***

‌‌১- ভ্রূণ পর্যায়

মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে এই পর্যায়টি সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: {তিনি তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত, যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মায়েদের গর্ভে ভ্রূণ হিসেবে ছিলে}। অতঃপর আল্লাহ তাআলা মায়ের গর্ভে "ভ্রূণ"-এর বৃদ্ধির পর্যায়গুলো একের পর এক অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। কুরআনের অসংখ্য আয়াতে এটি বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে সূরা "আল-মুমিনুন"-এ মহান আল্লাহর বাণী অন্যতম: {আর নিশ্চয়ই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু হিসেবে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে রূপান্তরিত করেছি, এরপর মাংসপিণ্ড থেকে অস্থি তৈরি করেছি, তারপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি। পরিশেষে আমি তাকে অন্য এক নতুন সৃষ্টি হিসেবে গড়ে তুলেছি। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না বরকতময়}।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১০)
وكذلك السنّة النبوية الشريفة، فقد جاء فيها، عن رسولنا الأمين محمد صلى الله عليه وسلم أحاديث كثيرة، في أطوار نمو الجنين البشري، ومتى ينفخ فيه الروح، ومن أجمعها: ما رواه الشيخان، عن عبد الله بن مسعود، رضي الله عنه قال: حدّثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق:" إن أحدكم يجمع خلقه في بطن أمه أربعين يوما نطفة، ثم يكون علقة مثل ذلك، ثم يكون مضغة مثل ذلك، ثم يرسل إليه الملك فينفخ فيه الروح، ويؤمر بأربع كلمات: بكتب: رزقه، وأجله، وعمله، وشقيّ أو سعيد.." الحديث.

‌‌2- مرحلة "الطفولة والصبا"

مرحلة " الصبا" هي فترة "الطفولة"، فالمولود يسمى "طفلا"، و"صبيا" أو "صبية"، منذ الولادة حتى البلوغ، لقوله تعالى: {وإذا بلغ الأطفال منكم الحلم فليستأذنوا كما استأذن الذين من قبلهم} .

وهذه المرحلة لا تكليف فيها على الإنسان، لما جاء في الحديث الشريف، الذي رواه أحمد وأبو داود وغيرهما من طرق، عن عمر بن الخطاب وعلي ابن أبي طالب وعائشة، رضي الله عنهم، مرفوعا الى النبي صلى الله عليه وسلم:" رفع القلم عن ثلاثة: عن المجنون المغلوب على عقله حتى يبرأ، وعن النائم حتى يستيقظ، وعن الصبي حتى يحتلم"، أي: لا يعاقب الصبي على ارتكابه محرما، ولا تدوّن عليه سيئة، حتى يبلغ فيصير مكلفا.

ولكن: من واجبات الوالدين والمربين، ان يؤدّبوا الصبيّ والصبية، إذا فعلا ما يخالف الشرع وآدابه، ويزجروهما عن فعل القبيح، ويعوّدوهما على الطاعات والواجبات، وترك المنهيات، طبقا لما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الشريف، الذي رواه أبو داود والترمذي، ولفظه لأبي داود:" مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبع سنين، واضربوهم عليها وهم أبناء عشر، وفرّقوا بينهم في المضاجع"، والمراد: الضرب باليد ضربا غير مبرّح ولا مؤذ.
তেমনিভাবে সুন্নাহ্-এ নববী শরীফেও আমাদের নির্ভরযোগ্য রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মানব ভ্রূণের বিকাশের পর্যায়সমূহ এবং কখন তাতে রুহ ফুঁকে দেওয়া হয় সে সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো সেটি, যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন সত্যবাদী ও যাঁর সত্যবাদিতা স্বীকৃত—: "তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদানগুলো তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্যবিন্দু (نطفة) হিসেবে জমা থাকে, এরপর তা একইভাবে জমাট রক্ত (علقة) হিসেবে থাকে, এরপর তা একইভাবে গোশতপিণ্ড (مضغة) হিসেবে থাকে। এরপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় এবং সে তাতে রুহ ফুঁকে দেয়। আর তাকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়: তার রিজিক, আয়ুষ্কাল, আমল এবং সে কি দুর্ভাগা হবে নাকি সৌভাগ্যবান...।" (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

‌‌২- "শৈশব ও বাল্যকাল" পর্যায়

"বাল্যকাল" (الصبا) পর্যায়টি হলো মূলত "শৈশব" (الطفولة) সময়। নবজাতককে জন্ম থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত "শিশু" (طفل), "বালক" (صبي) বা "বালিকা" (صبية) বলা হয়। মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: "তোমাদের সন্তানরা যখন বয়ঃপ্রাপ্ত (الحلم) হবে, তখন তারাও যেন অনুমতি গ্রহণ করে, যেমন অনুমতি গ্রহণ করে তাদের পূর্ববর্তীরা।"

এই পর্যায়ে মানুষের ওপর কোনো শরিয়ি বাধ্যবাধকতা (تكليف) থাকে না। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, যা আহমদ, আবু দাউদ এবং অন্যান্যেরা বিভিন্ন সূত্রে (طرق) উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি যার বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পেয়েছে যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক (يحتلم) হয়।" অর্থাৎ: নিষিদ্ধ কোনো কাজ করার কারণে শিশুর কোনো শাস্তি হবে না এবং তার নামে কোনো গুনাহ লিপিবদ্ধ করা হবে না, যতক্ষণ না সে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে শরিয়ি বিধানের দায়বদ্ধতায় (مكلف) উপনীত হয়।

তবে পিতা-মাতা এবং অভিভাবক-শিক্ষকদের কর্তব্য হলো ছেলে ও মেয়েদের আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া, যদি তারা শরিয়ত ও এর শিষ্টাচারের পরিপন্থী কিছু করে। তাদের মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা এবং আনুগত্য ও আবশ্যিক ইবাদতসমূহ পালনে এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জনে অভ্যস্ত করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরিফে যা নির্দেশ দিয়েছেন সে অনুযায়ী, যা আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দশৈলীটি আবু দাউদের: "তোমাদের সন্তানদের নামাজের নির্দেশ দাও যখন তাদের বয়স সাত বছর, আর দশ বছর বয়সে (নামাজ না পড়লে) তাদের প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার স্থান পৃথক করে দাও।" এখানে উদ্দেশ্য হলো: হাত দিয়ে এমনভাবে প্রহার করা যা কঠোর (غير مبرّح) বা যন্ত্রণাদায়ক নয়।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১১)
ومما لا شك فيه: أن هذه المرحلة هي مرحلة التأسيس، والتأثير والغرس، في شخصية الولد، في جميع المجالات، والإسلام قد أمر أولي الأمر عن الصغار، بإحسان توجيههم وتربيتهم وتعليمهم، فقام المسلمون بالمهمة خير قيام، حتى صار "المسلم" مثلا يحتذى به في الأخلاق والمعاملة، واعتنوا بالعلم وبتلقين الصغار العلوم على أنواعها، في سن مبكّرة، حيث درج الكثيرون على تحفيظ الأولاد القرآن الكريم من سن الخامسة، فلا يصل الولد الى العاشرة من عمره، حتى يكون قد حفظ القرآن عن ظهر قلب، وقد كان هذا سابقا، ولا يزال حتى الآن في بلاد المسلمين، وإن كان على نطاق غير واسع، فنبع في المسلمين جهابذة العلماء، في مختلف الفنون.

***

‌‌3- مرحلة " الأشد"

جاء ذكر هذه المرحلة في مواضع من القرآن العظيم، منها قوله عز وجل في سورة "الأحقاف"، عن الإنسان البارّ بوالديه: {حتى إذا بلغ أشدّه وبلغ أربعين سنة قال ربّ أوزعني أن أشكر نعمتك التي أنعمت عليّ وعلى والديّ وأن أعمل صالحا ترضاه وأصلح لي من ذريّتي إني تبت إليك وإني من المسلمين} ، وقوله تعالى: {ولا تقربوا مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن حتى يبلغ أشدّه} .

و" الأشد" في اللغة: "القوة، ومبلغ الرجل الحنكة والمعرفة"، وقال الأزهري: " الأشد" في كتاب الله على ثلاثة معان يقرب إختلافها:

1- فأمّا قوله تعالى في قصة "يوسف" عليه السلام: {ولما بلغ أشدّه آتيناه حكما وعلما} ، فمعناه: الإدراك والبلوغ، وحينئذ راودته امرأة العزيز عن نفسه، وكذلك قوله تعالى: {ولا تقربوا مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن حتى يبلغ أشدّه} .

2- وأما قوله تعالى في قصة موسى عليه السلام: {ولما بلغ أشدّه واستوى آتيناه حكما وعلما} ، فإنه قرن بلوغ " الأشد" بالإستواء، وهو: أن يجتمع أمره وقوّته، ويكتهل وينتهي شبابه.
নিঃসন্দেহে এই পর্যায়টি হলো শিশুর ব্যক্তিত্বের সকল ক্ষেত্রে ভিত্তি স্থাপন, প্রভাব বিস্তার ও রোপণের পর্যায়। ইসলাম শিশুদের অভিভাবকদের তাদের সুন্দরভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান, লালন-পালন ও শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মুসলমানগণ এই দায়িত্বটি সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন, এমনকি "মুসলিম" চরিত্র ও আচরণের ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁরা জ্ঞানের প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং শৈশব থেকেই শিশুদের বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান শিক্ষা দিতেন। অনেকে পাঁচ বছর বয়স থেকেই সন্তানদের পবিত্র কুরআন হিফজ করানো শুরু করতেন, ফলে সন্তান দশ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে ফেলত। এটি পূর্বে প্রচলিত ছিল এবং মুসলিম দেশগুলোতে এখনো বিদ্যমান, যদিও তা এখন ততোটা ব্যাপক পরিসরে নেই। এর মাধ্যমেই মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন শাস্ত্রে বিজ্ঞ ও অনন্য পণ্ডিতদের (جهابذة) উদ্ভব ঘটেছিল।

***

‌‌৩- "পূর্ণ শক্তির" (أشد) পর্যায়

মহান কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এই পর্যায়ের উল্লেখ এসেছে। তার মধ্যে একটি হলো সূরা "আল-আহকাফ"-এ পিতামাতার প্রতি অনুগত ব্যক্তি সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ তাআলার বাণী: {অবশেষে যখন সে তার পূর্ণ শক্তিতে (أشد) উপনীত হয় এবং চল্লিশ বছরে পদার্পণ করে, তখন সে বলে, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে তাওফিক দান করুন, যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি, যা আপনি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছেন এবং যাতে আমি এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আমার জন্য আমার সন্তানদের সংশোধন করে দিন। নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।}। আর আল্লাহ্ তাআলার বাণী: {আর এতিমের সম্পদের কাছে যেয়ো না, তবে অত্যন্ত উত্তম পন্থায়; যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে (أشد) উপনীত হয়।}।

ভাষাগতভাবে "অশুদ" (أشد) অর্থ হলো: "শক্তি এবং মানুষের প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের পূর্ণতা"। ইমাম আজহারী বলেছেন: আল্লাহর কিতাবে "অশুদ" (أشد) শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেগুলোর পার্থক্য অত্যন্ত কাছাকাছি:

1- ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনায় মহান আল্লাহ্ তাআলার বাণী: {যখন তিনি তার পূর্ণ শক্তিতে (أشد) উপনীত হলেন, তখন আমি তাঁকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম}। এর অর্থ হলো: বোধশক্তি লাভ ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (بلوغ)। আর ঠিক সেই সময়েই আজিজের স্ত্রী তাঁকে কুপ্ররোচনা দিয়েছিল। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর এতিমের সম্পদের কাছে যেয়ো না, তবে অত্যন্ত উত্তম পন্থায়; যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে (أشد) উপনীত হয়।}।

2- মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনায় মহান আল্লাহ্ তাআলার বাণী: {যখন তিনি তাঁর পূর্ণ শক্তিতে (أشد) উপনীত হলেন এবং পূর্ণতা প্রাপ্ত (استوى) হলেন, তখন আমি তাঁকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম}। এখানে তিনি পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হওয়াকে "ইস্তিওয়া" বা পূর্ণতা প্রাপ্তির (استواء) সাথে যুক্ত করেছেন। আর তা হলো: ব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ও শক্তি সুসংহত হওয়া, প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছানো এবং তার যৌবনের সমাপ্তি ঘটা।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১২)
3- وأما قوله تعالى في سورة " الأحقاف": {حتى إذا بلغ أشدّه وبلغ أربعين سنة} ، فهو أقصى نهاية بلوغ الأشد وعند تمامها بعث الله تعالى محمدا صلى الله عليه وسلم نبيا، وقد اجتمعت حنكته وتمام عقله (انتهى قول الأزهري) .

أما مبدأ هذه المرحلة ونهايتها، ففي ذلك أقوال، أهمّها: أن " الأشد" يبدأ ببلوغ الإنسان رشيدا، و"الرشد" هو: أن يبلغ عاقلا مأمونا على نفسه، حسن التصرّف، وحدّد بعضهم سنّ الرشد بثماني عشرة سنة، وبعضهم بسبعة عشر سنة، وقال الجوهري في "الصّحاح": " الأشد" ما بين ثماني عشرة الى ثلاثين سنة.

وخلاصة القول الذي يهمنا هنا: أن مرحلة "الأشد" هي: مرحلة النضج والعقل وحسن التصرّف، وهي "مرحلة الشباب" التي هي موضوع هذا الكتاب.

***

‌‌4- مرحلة " الشيخوخة"

"الشيخوخة" هي المرحلة الأخيرة من مراحل حياة الإنسان، وقد إختلف العلماء في تحديد أولها، فاعتبرها بعضهم من سنّ الخمسين، وبعضهم قال غير ذلك، ولكن: لا خلاف على أنها آخر المراحل، وأن أحوال الإنسان فيها متفاوتة، فآخرها عجز، وهرم، وضعف، وخرف، كما وصفها الله عز وجل بقوله: {ونقرّ في الأرحام ما نشاء الى أجل مسمّى ثم نخرجكم طفلا، ثم لتبلغوا أشدّكم ومنكم من يتوفى ومنكم من يردّ الى أرذل العمر لكيلا يعلم من بعد علم شيئا} .

***

5- النهاية: "الموت"

"الموت" هو نهاية كل نفس، كما قال عز وجل، {كل نفس ذائقة الموت} ، وقال كعب بن زهير في قصيدته "بانت سعاد":

كل ابن أنثى وإن طالت سلامته......يوما على آلة حدباء منقول

ونحن لم نختم مراحل حياة الإنسان بذكر هذه النهاية، إلا لنذكّر أنفسنا والمسلمين جميعا بهذه النهاية، وبوجوب الإستعداد لها، والعمل لما بعدها، فإنّ ما بعدها خطير وخطير، فهناك: إما جنّة أبدا.. وإما نار أبدا.. هناك: لا تزر وازرة وزر أخرى، ولا تحاسب نفس إلا عنها، {ولا يسأل حميم حميما} ، {يوم يفرّ المرء من أخيه* وأمه وأبيه* وصاحبته وبنيه* لكل امرئ منهم يومئذ شأن يغنيه} .
3- আর সূরা "আল-আহকাফ"-এ মহান আল্লাহর বাণী: {অবশেষে যখন সে তার পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হয় এবং চল্লিশ বছরে পদার্পণ করে}, এটি হলো পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছানোর চূড়ান্ত সীমা এবং এই সময় পূর্ণ হওয়ার পরই মহান আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন; তখন তাঁর প্রাজ্ঞতা ও বুদ্ধিবৃত্তি পূর্ণতা লাভ করেছিল (আল-আযহারীর বক্তব্যের সমাপ্তি)।

আর এই পর্যায়ের শুরু ও শেষ সম্পর্কে কয়েকটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো: "পূর্ণ শক্তি" বা আল-আশুদ্দ শুরু হয় মানুষের বিচক্ষণ হওয়ার মাধ্যমে। আর "বিচক্ষণতা" বা রুশদ হলো: বিবেকবান হওয়া এবং নিজের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য (مأمون) ও সচ্চরিত্র হওয়া। কেউ কেউ বিচক্ষণতার বয়স আঠারো বছর নির্ধারণ করেছেন, আবার কেউ সতেরো বছর। আল-জাওহারী তাঁর "আল-সিহাহ" গ্রন্থে বলেছেন: "পূর্ণ শক্তি" হলো আঠারো থেকে ত্রিশ বছরের মধ্যবর্তী সময়।

আমাদের প্রয়োজনীয় আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো: "পূর্ণ শক্তি" পর্যায়টি হলো পরিপক্কতা, প্রজ্ঞা ও উত্তম আচরণের স্তর, যা মূলত "যৌবনকাল"; আর এটিই এই বইয়ের মূল বিষয়বস্তু।

***

‌‌৪- বার্ধক্য পর্যায়

"বার্ধক্য" হলো মানুষের জীবনের শেষ পর্যায়। এর শুরুর সময় নির্ধারণে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। কেউ কেউ একে পঞ্চাশ বছর বয়স থেকে গণ্য করেছেন, আবার কেউ অন্য মত দিয়েছেন। তবে এতে কোনো মতভেদ নেই যে, এটিই শেষ পর্যায় এবং এতে মানুষের অবস্থার তারতম্য ঘটে। এর শেষ অবস্থা হলো অক্ষমতা, জরাগ্রস্ততা, দুর্বলতা ও বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম, যেমনটি মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন: {এবং আমি যা ইচ্ছা করি এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে স্থিত রাখি, তারপর তোমাদেরকে শিশু হিসেবে বের করি, যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছাতে পার। তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হয় এবং কাউকে নিকৃষ্টতম বয়সে (বার্ধক্যে) প্রত্যাবর্তিত করা হয়, যাতে সে জানার পর আবার সব কিছু ভুলে যায়}।

***

5- শেষ পরিণতি: "মৃত্যু"

"মৃত্যু" হলো প্রতিটি প্রাণের শেষ পরিণতি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন, {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে}। কাব বিন যুহাইর তাঁর "বানাত সুআদ" কাসিদায় বলেছেন:

প্রত্যেক নারীজাত সন্তান, তার নিরাপত্তা যতই দীর্ঘ হোক না কেন...... একদিন তাকে উঁচু জানাজার খাটে বহন করা হবেই।

আমরা মানুষের জীবনের পর্যায়গুলো এই পরিণতির কথা উল্লেখ করে শেষ করেছি শুধু নিজেদের এবং সকল মুসলিমকে এই শেষ সময়টির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য, আর এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করার আবশ্যকতা বুঝানোর জন্য। কারণ পরবর্তী ধাপগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ ও গুরুতর। সেখানে হয় চিরস্থায়ী জান্নাত.. নয়তো চিরস্থায়ী জাহান্নাম.. সেখানে: কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না এবং নিজের আত্মা ছাড়া অন্য কারো হিসাব নেওয়া হবে না, {সেদিন কোনো বন্ধু কোনো বন্ধুর খবর নেবে না}, {সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তান থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন গুরুতর অবস্থা হবে যা তাকে উদাসীন করে রাখবে}।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌من هو الإنسان؟

‌‌1- جانب "الحيوانية" في الإنسان.

2- جانب "العقل" في الإنسان.

3- الرابط ما بين الجانبين.

4- الغرائز والشهوات.

5- المادة والروح.

6- الغيب والشهادة.

7- "التفكير" هو: عمل العقل.

8- العقل والهوى.

من هو الإنسان؟

الإنسان مخلوق مميز، أكرمه الله تعالى بالعقل، وشرّفه بأصله "آدم " عليه السلام، الذي خلقه من سلالة من طين.. ثم خلق ذريته من ماء مهين، وسخّر له الأشياء، ليعيش على الأرض ويستعمرها، كما قال عز وجل: {وسخّر لكم الفلك لتجري في البحر بأمره وسخّر لكم الليل والنهار* وسخّر لكم الشمس والقمر دائبين وسخّر لكم الليل والنهار* وآتاكم من كل ما سألتموه وإن تعدّوا نعمة الله لا تحصوها إن الإنسان لظلوم كفّار} . فكان من بني آدم: مؤمن وكافر. وصالح وفاجر.. وظالم وعادل.. وشينال كل إنسان جزاء ما كسبت يداه: إن خيرا فخير، وإن شرّا فشر.

إن قصدنا من هذا السؤال:"من هو الإنسان؟ " ليس الكلام في خصائص الإنسان، ومراحل تكوينه، بل مرادنا أن نتوقف عند التعريف المنطقي لـ "الإنسان"، لأنه تعريف يشرح الشخصية الإنسانية ويفرز خصائصها، ويحدّد حقيقة كل جانب من جوانبها، فيسهل بالتالي معرفة مستويات الناس المختلفة المتفاوتة، ويسهل أيضا معرفة أسباب فلاح المفلحين، وخسران الخاسرين، وهذا هو هدفنا من هذا الكتاب.

فأزمات الشباب ليست سوى نتيجة لفشل، أو: تقصير، أو: تغرير يقع فيه الشباب، أو بعبارة أخرى: فإن الأزمات نتيجة سوء تصرّف يصدر عن الإنسان، بحقّ نفسه، أو بحق الآخرين..

لقد عرف علماء المنطق "الإنسان" بأنه:" حيوان ناطق"، وذلك للدلالة على "المفرد" من الناس، وتمييزه عن غيره من الحيوان، المشارك له في جزء من التعريف، كما سنرى لاحقا وإليك بيان ذلك.

1- جانب الحيوانية في الإنسان
‌‌মানুষ কে?

‌‌১- মানুষের মাঝে "প্রাণীসুলভ" (الحيوانية) দিক.

২- মানুষের মাঝে "বিবেকের" (العقل) দিক।

৩- উভয় দিকের মধ্যকার যোগসূত্র।

৪- সহজাত প্রবৃত্তি (الغرائز) এবং লালসা (الشهوات)।

৫- বস্তু (المادة) এবং আত্মা (الروح)।

৬- অদৃশ্য (الغيب) এবং দৃশ্যমান (الشهادة) জগৎ।

৭- "চিন্তা" (التفكير) হলো: বিবেকের কাজ।

৮- বিবেক (العقل) এবং খেয়ালখুশি (الهوى)।

মানুষ কে?

মানুষ এক অনন্য সৃষ্টি, আল্লাহ তাআলা তাকে বিবেক (العقل) দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং তাকে তার মূল উৎস "আদম" আলাইহিস সালামের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যাকে তিনি কাদার নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তার বংশধরকে এক তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার জন্য সবকিছুকে অনুগত করে দিয়েছেন যেন সে পৃথিবীতে বসবাস করতে পারে এবং একে আবাদ করতে পারে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তিনি তোমাদের জন্য জাহাজকে নিয়োজিত করেছেন যেন তাঁরই নির্দেশে তা সমুদ্রে বিচরণ করে এবং তিনি তোমাদের জন্য নদীসমূহকে নিয়োজিত করেছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন যারা অবিরামভাবে আবর্তনশীল এবং তোমাদের জন্য রাত ও দিনকে নিয়োজিত করেছেন। আর তোমরা তাঁর কাছে যা চেয়েছ তিনি তার সবকিছু থেকে তোমাদের দান করেছেন। আর তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো তবে তা শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ অতিমাত্রায় জালেম ও অকৃতজ্ঞ}। সুতরাং আদম সন্তানদের মধ্যে রয়েছে: মুমিন (مؤمن) ও কাফির (كافر), নেককার (صالح) ও পাপাচারী (فاجر), এবং জালেম (ظالم) ও ন্যায়পরায়ণ (عادل)। আর প্রত্যেক মানুষ তার স্বহস্তে উপার্জিত কর্মের প্রতিফল লাভ করবে: যদি ভালো হয় তবে ভালো, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ।

আমাদের এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য: "মানুষ কে?"—মানুষের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং তার গঠনের পর্যায়গুলো নিয়ে আলোচনা করা নয়, বরং আমাদের লক্ষ্য হলো "মানুষ" এর যৌক্তিক সংজ্ঞার (التعريف المنطقي) ওপর আলোকপাত করা। কারণ এটি এমন এক সংজ্ঞা যা মানবিক ব্যক্তিত্বকে ব্যাখ্যা করে, এর বৈশিষ্ট্যসমূহকে পৃথক করে এবং এর প্রতিটি দিকের স্বরূপ নির্ধারণ করে। ফলে মানুষের বিভিন্ন ও তফাতযোগ্য স্তরগুলো সম্পর্কে জানা সহজ হয় এবং এর মাধ্যমে সফলদের সফলতার কারণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির কারণগুলো জানাও সহজসাধ্য হয়; আর এটিই এই বইয়ের মূল লক্ষ্য।

তরুণদের সংকটগুলো মূলত ব্যর্থতা, অবহেলা কিংবা প্রতারণার ফল যাতে যুবসমাজ পতিত হয়। অন্য কথায়, এই সংকটগুলো মানুষের নিজের প্রতি কিংবা অন্যের প্রতি কৃত ভুল আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

তর্কশাস্ত্রবিদগণ (علماء المنطق) "মানুষকে" সংজ্ঞায়িত করেছেন যে সে হলো: "বাকশক্তি সম্পন্ন জীব" (حيوان ناطق), যা মূলত মানুষের "একক সত্তাকে" নির্দেশ করতে এবং তাকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক করতে ব্যবহৃত হয় যারা সংজ্ঞার একটি অংশে তার সাথে অংশীদার, যেমনটি আমরা সামনে আলোচনা করব। নিচে আপনার জন্য তার বিবরণ তুলে ধরা হলো:

১- মানুষের মাঝে প্রাণীসুলভ (الحيوانية) দিক।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১৪)
"الحيوان": صيغة، مثل: "الغليان"، و"الميدان"، وهي تعني الحركة الحيّة كقوله تعالى في وصف الآخرة: {وإن الدار الآخرة لهي الحيوان لو كانوا يعلمون} ، أي: لهي الحياة الكاملة السالمة من المنغّصات، ولا تكون الحيوانية في الكائن الحيّ، إلا إذا دبّت فيه "الروح"، فالروح جزء لا غنى عنه في هذا الجانب، من كل كائن حيّ، ومن هنا ندرك: أن الذين يصنّفون "الروح" في الجانب الاخر للإنسان، فيقولون: "الإنسان: مادة وروح"، ويعنون بالمادة: الجسد، وبالروح: العقل والفكر، وما يتعلق بهما، هم مخطئون في هذا التصنيف، لأن المادة لا تعتبر شيئا مهما من دون "الروح"، فأجرام جسد الإنسان وغير من الأحياء، وخلاياه كلها، لا تشكّل من دون الروح جانبا يذكر، لذلك لا يصح التصنيف المتبع للجسم البشري والشخص الإنساني، بأنه:" مادة وروح"، بل الصحيح أن يقال:" إنه حيوان وعقل" كما سنبيّن لاحقا في كلامنا عن "المادة والروح" في البند الخامس.

'আল-হায়াওয়ান' (الحيوان): এটি একটি বিশেষ শব্দরূপ, যেমন: 'আল-গায়ালান' (الغليান) এবং 'আল-মাইদান' (الميدان)। এর অর্থ হলো জীবন্ত গতিশীলতা, যেমনটি মহান আল্লাহ পরকালের বর্ণনায় বলেছেন: {আর নিশ্চয় পরকালীন আবাসই হলো প্রকৃত জীবন (الحيوان), যদি তারা জানত}। অর্থাৎ, এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবন যা সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ও বিঘ্ন থেকে মুক্ত। কোনো জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে প্রাণশক্তি (الحيوانية) প্রকাশ পায় না যতক্ষণ না তাতে 'রুহ' (الروح) বা আত্মার সঞ্চার ঘটে। সুতরাং, প্রতিটি জীবন্ত সত্তার ক্ষেত্রে রুহ হলো একটি অপরিহার্য অংশ। আর এখান থেকেই আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, যারা মানুষের অন্য দিকটিকে 'রুহ' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেন এবং বলেন: "মানুষ হলো বস্তু (مادة) ও রুহ (روح) এর সমষ্টি"—যেখানে তারা বস্তু বলতে দেহ এবং রুহ বলতে বিবেক (العقل), চিন্তা (الفكر) ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে বুঝিয়ে থাকেন—তারা এই শ্রেণীবিন্যাসে ভুল করছেন। কারণ রুহ ব্যতীত বস্তু কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য হয় না। সুতরাং মানুষের শরীর এবং অন্যান্য প্রাণীর দেহ ও তাদের কোষসমূহ রুহ ছাড়া কোনো উল্লেখযোগ্য অস্তিত্ব গঠন করে না। একারণে, মানবদেহ ও মানবসত্তার ক্ষেত্রে প্রচলিত এই বিভাজন সঠিক নয় যে, তা "বস্তু ও রুহ"; বরং সঠিক হলো এটি বলা যে: "এটি প্রাণ (حيوان) ও বিবেকের (عقل) সমন্বয়", যেমনটি আমরা পরবর্তীতে পঞ্চম পরিচ্ছেদে 'বস্তু ও রুহ' সম্পর্কিত আলোচনায় স্পষ্ট করব।

(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
إن جانب "الحيوانية" في الإنسان، يشمل جميع الشهوات والميولات والرغبات، التي خلقها الله تعالى فيه، ومن أهمها وأخطرها: شهوتا "البطن" و "الفرج"، وما يتعلق بهما، فشهوة"البطن" تتعلق بالمأكل والمشرب، وبالسعي الى كسب ما يمكّن الإنسان منهما من وسائل وأسباب، وشهوة "الفرج" تتعلق بالزواج، وما يترتّب عليه من إنجاب الذريّة، والإنسان مأمور بسلوك السبل المشروعة، وهو يسعى للحصول على هذه الشهوات، ولا يجوز له أن يسلك المسالك المحرمة لتحقيق رغبة من رغائبه، وإن فعل فهو آثم، تماما مثلما يؤجر ويثاب على سلوك السبل الشرعية، وقد أشار النبي صلى الله عليه وسلم الى هذا المعنى فيما روه البخاري عن سهل بن سعد الساعدي، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:" من يضمن لي ما بين لحييه، وما بين رجليه، أضمن له الجنة" أي: اللسان والفرج. وليس هذا غريبا، فإن المتأمل يدرك: أن مآل كل سعي الإنسان، ينتهي إلى إشباع شهوتي بطنه وفرجه.

إذن: فجانب "الحيوانية" في الإنسان هو عبارة عما يلي: جسد حيّ من لحم ودم وعصب وعظم، يحتاج الى: المأكل، والمشرب، والمنكح، والملبس، والمسكن.. إلخ. وشهواته هذه تجوع بعد شبع، وتشبع بعد جوع، وهكذا دواليك، وهو يطلب هذه المطالب الفطرية، ويسعى ويتعب من اجل الحصول عليها إشباعا لرغائبه وشهواته، فهو والحالة هذه، يتفق مع أي كائن حيّ آخر، يشاركه الشّبه في التكوين، فالإنسان من هذا الجانب: "حيوان"، و"الحصان" كذلك "حيوان".
মানুষের মধ্যকার ‘পাশবিকতা’র দিকটি ঐ সকল প্রবৃত্তি, প্রবণতা এবং আকাঙ্ক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা মহান আল্লাহ তাআলা তার মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিপজ্জনক হলো: ‘উদর’ ও ‘লজ্জাস্থানের’ প্রবৃত্তি এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। উদরের প্রবৃত্তি মূলত পানাহার এবং তা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায় ও উপকরণ সংগ্রহের প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত। আর লজ্জাস্থানের প্রবৃত্তি বিবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার মাধ্যমে বংশধারা সংরক্ষিত হয়। মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সে তার এই প্রবৃত্তিগুলো পূরণের ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত পথ অবলম্বন করে। নিজের কোনো কামনা চরিতার্থ করার জন্য তার পক্ষে নিষিদ্ধ পথ অবলম্বন করা বৈধ নয়; যদি সে তা করে তবে সে পাপিষ্ঠ হবে, ঠিক যেভাবে শরীয়তসম্মত পথ অনুসরণের জন্য সে পুরস্কার ও সওয়াব লাভ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মর্মার্থের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যা বুখারি সাহল ইবনে সাদ আল-সাঈদি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের (লজ্জাস্থান) নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।" অর্থাৎ: জিহ্বা ও লজ্জাস্থান। এটি আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ গভীরভাবে চিন্তা করলে অনুধাবন করা যায় যে, মানুষের যাবতীয় প্রচেষ্টার শেষ পরিণতি হলো তার পেট ও লজ্জাস্থানের প্রবৃত্তি নিবারণ করা।

অতএব, মানুষের মধ্যকার ‘পাশবিক’ দিকটি হলো: রক্ত, মাংস, স্নায়ু ও হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি জীবন্ত দেহ, যার প্রয়োজন: অন্ন, পানীয়, বিবাহ, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি। তার এই প্রবৃত্তিগুলো তৃপ্ত হওয়ার পর পুনরায় ক্ষুধার্ত হয় এবং ক্ষুধার্ত হওয়ার পর তৃপ্ত হয়—এভাবেই তা চক্রাকারে চলতে থাকে। সে তার এই সহজাত চাহিদাগুলো পূরণ করতে চায় এবং স্বীয় আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য পরিশ্রম ও সচেষ্ট হয়। এমতাবস্থায় সে অন্য যেকোনো জীবন্ত সত্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যারা গঠনগত দিক থেকে তার সদৃশ। সুতরাং এই দিক থেকে মানুষও একটি ‘প্রাণী’, আর ‘ঘোড়াও’ একটি ‘প্রাণী’।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولو أن الإنسان كان بلا عقل، لكان بهيمة بهماء، ودابّة عجماء، وهذا الجانب هو نقطة الضعف في الإنسان كما وصفه الله عز وجل بقوله: {وخلق الإنسان ضعيفا} ، فهو ضعيف في قوته الجسدية، وضعيف في مواجهة الصعوبات والمغريات، وعلى الأخص: إغراء المال … ، والجاه … ، والمرأة … ، فالإنسان في مواجهة هذه الإغراءات أضعف ما يكون، لأنها شهوات حلوة، مزيّنة، مغرية فاتنة، كما وصفها الله تعالى بقوله: {زيّن للناس حبّ الشهوات من النساء والبنين والقناطير المقنطرة من الذهب والفضة والخيل المسوّمة والأنعام والحرث} .

لذلك كان على المسلم أن يستعين بالله تعالى في مواجهة كل المغريات، وأن يكون حذرا في تعامله وتعاطيه وتصرّفاته مع الناس، لئلا يغريه الشيطان، فتزلّ قدمه على الصراط، ويقع في الزلل؛ ولكي يتمكّن الإنسان من الإحتفاظ بتوازنه، فقد أكرمه الله عز وجل بالجانب الآخر، وهو: جانب "العقل" الذي اختصه به من بين سائر "الحيوان"..

***

‌‌2- جانب العقل في الإنسان
যদি মানুষের বিবেক না থাকত, তবে সে হত এক কাণ্ডজ্ঞানহীন পশু এবং এক মূক চতুষ্পদ জন্তু। আর এই দিকটিই হলো মানুষের দুর্বলতা, যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর এই বাণীতে বর্ণনা করেছেন: {মানুষকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে}। সুতরাং সে তার শারীরিক শক্তিতে দুর্বল (ضعيف), এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও প্রলোভন—বিশেষ করে অর্থের প্রলোভন … , প্রতিপত্তি … , এবং নারী … এর মোকাবিলায় সে দুর্বল (ضعيف)। এই প্রলোভনগুলোর মোকাবিলায় মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্বল (ضعيف) হয়ে পড়ে; কারণ এগুলো হলো মিষ্ট, সুশোভিত, চিত্তাকর্ষক ও মোহনীয় প্রবৃত্তি, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে বর্ণনা করেছেন: {মানুষের নিকট সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তান, রাশি রাশি সোনা-রূপা, সুচিহ্নিত ঘোড়া, গবাদিপশু ও কৃষিক্ষেতের আসক্তি}।

তাই সকল প্রলোভন মোকাবিলায় একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করা এবং মানুষের সাথে মেলামেশা ও আচার-আচরণে সতর্ক থাকা, যাতে শয়তান তাকে প্রলুব্ধ করতে না পারে এবং সিরাত থেকে তার পা পিছলে গিয়ে সে পদস্খলনে পতিত না হয়। আর মানুষ যাতে তার ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়, সেজন্য আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাকে অন্য একটি দিক দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আর তা হলো: 'বিবেক' এর দিক, যা দিয়ে তিনি তাকে অন্যান্য সকল 'প্রাণী' থেকে বিশেষায়িত করেছেন।

***

‌‌২- মানুষের বিবেকের দিকটি
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১৭)
لقد عبّر علماء المنطق عن هذا الجانب بوصف:"ناطق"، فقالوا:" الإنسان حيوان ناطق"، لأن "النطق" خصوصية إنسانية من بين سائر "الحيوان"، وهي خصوصية ظاهرة محسوسة.. ولا تصدر إلا عن كائن عاقل، فكان تعريف الإنسان بها، أدق من تعريفه بالعقل، لخفاء أمره لولا النطق، فالإنسان لو لم يكن ناطقا، لما أمكن إثبات كونه عاقلا، ولو فعل ما فعل من دقائق الأعمال، وغرائب الصناعة والحركات والأصوات، فإن لكل الحيوانات الأخرى أعمالا غريبة، يبلغ بعضها حدّ العجز عن إدراك أسراره، كالنحل والنمل، في إتقان بيوتها، وجني رزقها، مما أدهش العقول، وخيّر الألباب، وهي بلا شك حيوانات لا عقل عندها ولا نطق، فلو أنّ الإنسان كان مثلها لا يتكلم، لما أمكن معرفة أنه عاقل، لانعدام النطق المعبّر عنه كما ذكرنا، وأما ما جاء في القرآن الكريم، من نسبة القول الى "النملة"، وتعليم "سليمان" عليه السلام منطق الطير، في قوله تعالى: {فلما أتوا على واد النمل قالت نملة يا أيها النمل ادخلوا مساكنكم لا يطمنّكم سليمان وجنوده وهم لا يشعرون* فتبسّم من قولها..} ، وقوله تعالى عن سليمان عليه السلام: {وقال يا أيها الناس علمنا منطق الطير} ، فلا يعني:"النطق" بعقل، المماثل لنطق الإنسان، بل هو قول ألهمه الله تعالى للحيوان، هو عبارة عن أصوات معيّنة علمه الله إياها، تصدر عنه بالغريزة لا بالعقل، لذلك لا يخطئ الحيوان في أصواته أبدا.. بل هي أصوات يصدرها على نسق معيّن، يدركها أبناء جنسه من الحيوان بغرائزهم، أما الإنسان فليس أمره كذلك، بل إنه يفكّر قبل أن ينطق، ويتكلم بالصدق وبالكذب، وبالخطأ وبالصواب، وبالحق والباطل، ويتصرّف بلسانه ولغته كما يشاء.. لأنه عاقل.. والدليل على كونه عاقلا: أنه " ناطق".

***

‌‌3- الربط ما بين الجانبين

তর্কশাস্ত্রবিদগণ (علماء المنطق) এই দিকটিকে "বাকশক্তি সম্পন্ন" (ناطق) হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেছেন: "মানুষ হলো বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী (حيوان ناطق)"। কারণ "বাকশক্তি" (النطق) হলো অন্যান্য সকল "প্রাণীর" (الحيوان) মধ্য থেকে মানুষের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং এটি একটি প্রকাশ্য ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বৈশিষ্ট্য। এটি কেবল বিবেকবান (عاقل) সত্তার পক্ষ থেকেই প্রকাশ পায়। ফলে মানুষের সংজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেকের (العقل) মাধ্যমে সংজ্ঞা প্রদানের চেয়ে বাকশক্তির মাধ্যমে সংজ্ঞা প্রদান করা অধিক সূক্ষ্ম; কারণ বাকশক্তি না থাকলে বিবেকের বিষয়টি প্রচ্ছন্ন থেকে যেত। মানুষ যদি বাকশক্তি সম্পন্ন না হতো, তবে সে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ কিংবা বিস্ময়কর শিল্পকর্ম, নড়াচড়া ও শব্দ করলেও সে যে বিবেকবান (عاقل), তা প্রমাণ করা সম্ভব হতো না। কেননা অন্যান্য সকল প্রাণীরও বিচিত্র কর্মকাণ্ড রয়েছে, যার রহস্য উদঘাটন করতে জ্ঞান অক্ষম হয়ে পড়ে; যেমন: মৌমাছি ও পিঁপড়ার ঘর তৈরিতে নিপুণতা ও জীবিকা সংগ্রহ, যা মানুষের জ্ঞানকে চমৎকৃত করে এবং বুদ্ধিকে স্তম্ভিত করে দেয়। অথচ এগুলো নিঃসন্দেহে এমন সব প্রাণী যাদের কোনো বিবেক (عقل) বা বাকশক্তি (نطق) নেই। মানুষ যদি তাদের মতো হতো যে কথা বলতে পারে না, তবে তার বিবেকবান হওয়ার বিষয়টি জানা সম্ভব হতো না। কারণ আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, বিবেকের বহিঃপ্রকাশকারী বাকশক্তির সেখানে অভাব থাকত। আর পবিত্র কুরআনে "পিঁপড়ার" প্রতি কথা বলার সম্বন্ধ করা এবং সুলাইমান আলাইহিস সালামকে পাখির ভাষা (منطق الطير) শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তারা পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন এক পিঁপড়া বলল, হে পিঁপড়া সকল! তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ করো, যাতে সুলাইমান ও তার বাহিনী তোমাদের পিষ্ট করতে না পারে অজান্তে। ফলে তিনি তার কথায় মৃদু হাসলেন...}, এবং সুলাইমান আলাইহিস সালাম সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি বললেন, হে লোকসকল! আমাদের পাখির ভাষা (منطق الطير) শিক্ষা দেওয়া হয়েছে}—এর অর্থ এই নয় যে, মানুষের মতো বিবেকপ্রসূত "বাকশক্তি" (النطق) তাদের রয়েছে। বরং এটি এমন এক কথা যা আল্লাহ তাআলা প্রাণীদের অন্তরে ইলহাম করেছেন। এটি মূলত সুনির্দিষ্ট কিছু ধ্বনি যা আল্লাহ তাদের শিখিয়েছেন, যা বিবেক (عقل) থেকে নয় বরং সহজাত প্রবৃত্তি (الغريزة) থেকে নির্গত হয়। এ কারণেই প্রাণী তার শব্দের ক্ষেত্রে কখনোই ভুল করে না। বরং এগুলো এমন শব্দ যা সে এক বিশেষ পদ্ধতিতে উচ্চারণ করে, যা তার স্বগোত্রীয় প্রাণীরা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি (غرائز) দিয়ে বুঝতে পারে। কিন্তু মানুষের বিষয়টি এমন নয়; বরং মানুষ কথা বলার আগে চিন্তা করে এবং সে সত্য ও মিথ্যা, ভুল ও সঠিক এবং ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য করে কথা বলে। সে তার জিহ্বা ও ভাষাকে নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে, যেহেতু সে বিবেকবান (عاقل)। আর সে যে বিবেকবান, তার প্রমাণ হলো: সে "বাকশক্তি সম্পন্ন" (ناطق)।

***

‌‌৩- উভয় দিকের মধ্যে যোগসূত্র
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১৮)
إن تقسيم شخصية الإنسان على نحو ما تقدّم، لا يعدو أن يكون تقسيما نظريّا، أما من حيث الواقع، فالإنسان لا يكون إنسانا إلا بجانبيه: الحيواني ـ الجسدي ـ والعقلي، مع التأكيد على تقدّم الجانب العقلي في الإنسان على الجانب الحيواني، في الفضل والمرتبة، وعلى أن "العقل" هو الذي يعطي " الإنسان" المعنى الصحيح لإنسانيته.

والإسلام بتكاليفه وأحكامه، خاطب " الإنسان".. كل الإنسان.. من دون فصل أو تقسيم.. معتبرا إياه شيئا واحدا، فلم يخاطب فيه جانبا دون الآخر ولم يعامله على أنه جسم حيّ متحرّك كسائر الحيوان.. ولا على أنه لطيف مجرد كالملائكة.. بل وجّه إليه الخطاب بالتكليف، باعتباره إنسان متكاملا، وخاطبه بالترغيب والترهيب، اختبارا لحوّاسه ومواهبه وعقله، وأخبره بأنه إن أحسن فلنفسه، وإن أساء فعليها، وبأن المؤمن سيدخل الجنّة بجسده وعقله وروحه، وكلّ حواسّه، وأنّ الكافر سيدخل النار كذلك.

وقد وبّخ الله تعالى الكافرين، بأنهم شرّ من دبّ على وجه الأرض، لأنهم كفروا، وجرّدوا أنفسهم من نعمة الإنتفاع بالعقل، فقال عز وجل: {إنّ شرّ الدوابّ عند الله الذين كفروا فهم لا يؤمنون} .
মানুষের ব্যক্তিত্বের উপরে বর্ণিত বিভাজনটি মূলত একটি তাত্ত্বিক বিভাজন মাত্র; বাস্তব প্রেক্ষাপটে মানুষ তার উভয় দিক—প্রাণীগত (শারীরিক) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক (عقلي)—ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গণ্য হয় না। তবে এক্ষেত্রে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ্য যে, মানুষের মর্যাদা ও স্তরের বিচারে প্রাণীগত দিকের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক (عقلي) দিকের শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগণ্যতা রয়েছে। আর এই 'বিবেচনাশক্তি বা বুদ্ধিই' (عقل) মানুষকে তার মনুষ্যত্বের সঠিক অর্থ দান করে।

ইসলাম তার অর্পিত বিধান (تكاليف) ও বিধানাবলীর মাধ্যমে ‘মানুষকে’—সমগ্র মানুষকে—কোনো রূপ বিচ্ছিন্নতা বা বিভাজন ছাড়াই সম্বোধন করেছে এবং তাকে একটি অখণ্ড সত্তা হিসেবে বিবেচনা করেছে। ইসলাম মানুষের একটি দিককে বাদ দিয়ে অন্য দিককে সম্বোধন করেনি, কিংবা তাকে অন্যান্য প্রাণীর মতো কেবল একটি জীবন্ত ও চলন্ত দেহ হিসেবে গণ্য করেনি, আবার ফেরেশতাদের মতো কেবল এক বিমূর্ত সূক্ষ্ম সত্তা হিসেবেও বিবেচনা করেনি। বরং একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবেই তার প্রতি শরয়ি দায়িত্ব (تكليف) পালনের সম্বোধন করা হয়েছে। তার পঞ্চেন্দ্রিয়, প্রতিভা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে পরীক্ষার নিমিত্তে তাকে পরকালীন পুরস্কারের প্রতি উৎসাহ প্রদান (ترغيب) ও শাস্তির ভীতি প্রদর্শনের (ترهيب) মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে। তাকে জানানো হয়েছে যে, সে যদি ভালো কাজ করে তবে তা তার নিজের জন্যই, আর যদি মন্দ কাজ করে তবে তার দায়ভারও তার নিজের ওপরই বর্তাবে। মুমিন ব্যক্তি তার শরীর, বুদ্ধি (عقل), আত্মা এবং সকল অনুভূতিসহ জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং কাফিরও অনুরূপভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

মহান আল্লাহ কাফিরদের এই বলে তিরস্কার করেছেন যে, তারা ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রাণীকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতম; কারণ তারা কুফরি করেছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক (عقل) উপযোগিতা গ্রহণের নেয়ামত থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেছে। মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম বিচরণশীল প্রাণী হচ্ছে তারা, যারা কুফরি করেছে, ফলে তারা ঈমান আনবে না।"
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
كما بيّن سبحانه وتعالى: أن سبب وقوع أهل النار في الضلال، هو تعطيلهم لحواسّهم التي هي روافد العقل، حتى صاروا وكأنهم لا أسماع لهم، ولا أبصار ولا قلوب، بل صاروا أجسادا حيّة متحرّكة، كالأنعام، فاستمع أيها المؤمن الى ما قاله الله تعالى في هذا المعنى، وتأمّل واعتبر.. وقل: الحمد لله على نعمة الإيمان.. قال تعالى: {ولقد ذرأنا لجهنم كثيرا من الجنّ والإنس لهم قلوب لا يفقهون بها ولهم أعين لا يبصرون بها ولهم آذان لا يسمعون بها أولئك كالأنعام بل هم أضلّ أولئك هم الغافلون} ، وقال جلّ وعلا: {أم تحسب أن أكثرهم يسمعون أو يعقلون إن هم كالأنعام بل هم أضلّ سبيلا} ، ويقول سبحانه مخاطبا رسوله الأمين محمدا صلى الله عليه وسلم، مبيّنا حال الكافرين الغافلين، الذين يستمعون إليه، ولا يسمعون، وينظرون إليه ولا يبصرون: {ومنهم من يستمعون إليك أفأنت تسمع الصمّ ولو كانوا لا يعقلون* ومنهم من ينظر إليك أفأنت تهدي العمي ولو كانوا لا يبصرون* إن الله لا يظلم الناس شيئا ولكنّ الناس أنفسهم يظلمون} .

***

‌‌4- الغرائز والشهوات

شاع على ألسنة كثير من المتعلمين، وفي كتاباتهم، إطلاق "الغريزة" على "الشهوة" في الإنسان، وهذا خطأ فادح، بل إن من هؤلاء من أطلق على " الفطرة السليمة" المعروفة بـ "التديّن" وصف " الغريزة"، فسمّوها:" غريزة التديّن"، ووجه الخطأ في ذلك، واضح في المعنى اللغوي لكل واحدة من هاتين الكلمتين؛ فمن العودة الى قواميس اللغة العربية يتبيّن ما يلي:

[" الغريزة": الطبيعة، وجمعها: " غرائز"، و"الشهوة" هي: إشتياق النفس إلى الشيء، وجمعها "الشهوات"، وهي الاسم من فعل:" شهي الشيء، واشتهاه"، إذا أحبّه ورغب فيه] .

فواضح من تعريف "الشهوة" هذا، أنها اشتياق الى الشيء، وحبّ له، ورغبة فيه، وذلك لا يكون إلا من عاقل، أي: إنسان، بخلاف "الغريزة"، فهي طبيعة في البهائم، أي: جبلة جبلوا عليها، لا عقل يحرّكها، ولا إدراك يوجّهها.
كما মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন: জাহান্নামীদের পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়ার কারণ হলো তাদের ইন্দ্রিয়সমূহকে অকেজো করে রাখা, যা বুদ্ধিবৃত্তির সহায়ক। ফলে তারা এমন হয়ে গেছে যেন তাদের কোনো শ্রবণশক্তি নেই, দৃষ্টিশক্তি নেই এবং অন্তরও নেই। বরং তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় জীবন্ত ও চলন্ত দেহে পরিণত হয়েছে। অতএব হে মুমিন! মহান আল্লাহ এ বিষয়ে যা বলেছেন তা শ্রবণ করুন, চিন্তা করুন এবং শিক্ষা গ্রহণ করুন... এবং বলুন: ঈমানের নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া... মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি তো বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তারা তার চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হলো উদাসীন (الغافلون)}। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নাকি আপনি মনে করেন যে তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বুঝে? তারা তো কেবল চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট}। মহান আল্লাহ তাঁর আমানতদার রাসুল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সম্বোধন করে কাফির ও উদাসীনদের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, যারা তাঁর কথা শোনে কিন্তু বুঝতে চায় না এবং তাঁর দিকে তাকায় কিন্তু দেখতে পায় না: {তাদের মধ্যে কেউ আপনার দিকে কান পাতে, তবে আপনি কি বধিরকে শোনাতে পারবেন যদিও তারা না বোঝে? আর তাদের মধ্যে কেউ আপনার দিকে তাকায়, তবে আপনি কি অন্ধকে পথ দেখাতে পারবেন যদিও তারা দেখতে না পায়? নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের ওপর কোনো জুলুম করেন না, বরং মানুষ নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করে}।

***

‌‌৪- প্রবৃত্তি (الغريزة) ও লালসা (الشهوة)

অনেক শিক্ষিত ব্যক্তির মুখে এবং তাদের লেখনিতে মানুষের ক্ষেত্রে 'লালসা' (الشهوة) বোঝাতে 'প্রবৃত্তি' (الغريزة) শব্দের প্রয়োগ প্রচলিত হয়ে পড়েছে, যা একটি মারাত্মক ভুল। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ 'ধর্মপরায়ণতা' (التدين) হিসেবে পরিচিত 'সুস্থ স্বভাব' (الفطرة السليمة)-এর ওপর 'প্রবৃত্তি' (الغريزة) শব্দের প্রয়োগ করেছেন এবং একে 'ধর্মীয় প্রবৃত্তি' (غريزة التدين) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ভুলের দিকটি এই শব্দ দুটির আভিধানিক অর্থের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায়। আরবি ভাষার অভিধানসমূহের দিকে তাকালে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতিভাত হয়:

['প্রবৃত্তি' (الغريزة): প্রকৃতি বা স্বভাব, এর বহুবচন হলো: 'গারায়িজ' (غرائز)। আর 'লালসা' (الشهوة) হলো: কোনো বস্তুর প্রতি নফসের ব্যাকুলতা বা আকাঙ্ক্ষা, এর বহুবচন হলো: 'শাহাওয়াত' (الشهوات)। এটি 'শাহিয়া' (شهي) ও 'ইশতাহা' (اشتهاه) ক্রিয়াপদ থেকে উৎপন্ন বিশেষ্য; যখন কেউ কোনো কিছু পছন্দ করে এবং তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে।]

'লালসা' (الشهوة)-র এই সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি কোনো বস্তুর প্রতি আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা ও অনুরাগ; যা কেবল বিবেকবান (عاقل) অর্থাৎ মানুষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। পক্ষান্তরে 'প্রবৃত্তি' (الغريزة) হলো চতুষ্পদ জন্তুর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য; অর্থাৎ এটি এমন এক সহজাত প্রকৃতি (جبلة) যার ওপর তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, যা কোনো বিবেক দ্বারা চালিত হয় না এবং কোনো বোধশক্তি দ্বারা পরিচালিত হয় না।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২০)
فالبهائم لا تشتهي.. وليس فيها "شهوة".. لانعدام العقل، فهي لا تستعرض اللذائذ والأطايب كما يفعل الإنسان، فتثور لديها الرغبة فيها والميل إليها، بل هي لا تتحرّك إلا إذا أحسّت بوجود مأكلها أو مشربها أ، نزوها، فعند ذلك تنقضّ وتقبل، من دون تروّ ولا تمهّل، وعلى سبيل المثال، فإن الفحل من البهائم، ينزو على الأنثى نزوا بلا رويّة، فيقال:" نزا الفحل"، ولا يقال ذلك في الإنسان إذا جامع زوجته، لأن "المجامعة" بين البشر، هي غير "الضراب" بين البهائم.

وبالعودة الى آيات القرآن العظيم، نجد إستعمال "الشهوة"، وسائر إشتقاقات هذه الكلمة، في الكلام عن الإنسان فقط، ولم يرد ذكر "الغريزة" ولا مرة واحدة في القرآن الكريم، لأنه خطاب للبشر، بل جاء تشبيه الكافرين بالدواب والأنعام، كما ذكرنا في العنوان السابق.

أما الإنسان فقد خلق الله تعالى فيه "الشهوة"، وخلق له "الشهوات"، قال تعالى: {زيّن للناس حبّ الشهوات من النساء والبنين والقناطير المقنطرة من الذهب والفضة والخيل المسوّمة والأنعام والحرث} ، فهذه كلها "شهوات"، وقال تعالى عن قول لوط عليه السلام لقومه: {إنكم لتأتون الرجال شهوة من دون النساء} ، فسمّى تلك الفاحشة:" شهوة" ولم يقل:"غريزة". وحذّر الله تعالى الذين يتّبعون "الشهوات" من سوء العاقبة، فقال تعالى: {فخلف من بعدهم خلف أضاعوا الصلاة واتبعوا الشهوات فسوف يلقون غيّا} .

وكذلك في الاخرة حيث ينال المؤمنون في الجنة ما يشتهون، كما قال تعالى: {وفيها تشتهيه الأنفس وتلذّ الأعين} .

চতুষ্পদ জন্তুরা কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা করে না... এবং তাদের মধ্যে কোনো "আকাঙ্ক্ষা (شهوة)" নেই... কারণ তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনাবোধের অভাব রয়েছে। মানুষের মতো তারা স্বাদ ও উপাদেয় বস্তুসমূহের পর্যালোচনা করে না, যার ফলে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে কোনো আগ্রহ বা ঝোঁক তৈরি হবে। বরং তারা ততক্ষণ নড়াচড়া করে না যতক্ষণ না তারা তাদের খাদ্য, পানীয় বা মিলনের (نزو) উপস্থিতি অনুভব করে; তখন তারা কোনো বিচার-বিবেচনা বা কালক্ষেপণ না করেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, চতুষ্পদ জন্তুর পুরুষ প্রজাতিটি কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই মাদী প্রাণীর ওপর উপগত (ينزو) হয়; তাই বলা হয়: "পশুটি উপগত হয়েছে (نزا الفحل)।" মানুষের ক্ষেত্রে তার স্ত্রীর সাথে মিলনের সময় এমনটি বলা হয় না। কারণ মানুষের "যৌন মিলন (المجامعة)" এবং পশুদের "প্রজনন মিলন (الضراب)" এক নয়।

মহাগ্রন্থ কুরআনের আয়াতের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, "আকাঙ্ক্ষা (الشهوة)" এবং এই শব্দের অন্যান্য রূপান্তর কেবল মানুষের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়েছে। পবিত্র কুরআনে একবারও "প্রবৃত্তি (الغريزة)" শব্দের উল্লেখ আসেনি, কারণ এটি মানুষের প্রতি সম্বোধন। বরং কাফিরদেরকে চতুষ্পদ জন্তু ও গবাদি পশুর সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা আমরা পূর্ববর্তী শিরোনামে উল্লেখ করেছি।

আর মানুষের মধ্যে আল্লাহ তাআলা "আকাঙ্ক্ষা (الشهوة)" সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য "কামনা-বাসনাসমূহ (الشهوات)" তৈরি করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "মানুষের জন্য নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু এবং ফসলি জমির মতো কামনা-বাসনার (الشهوات) প্রতি আসক্তিকে সুশোভিত করা হয়েছে।" এগুলো সবই "কামনা-বাসনা (شهوات)"। আল্লাহ তাআলা লূত (আলাইহিস সালাম)-এর স্বজাতির প্রতি তাঁর উক্তি সম্পর্কে বলেন: "তোমরা তো নারীদের ছেড়ে কামবশত (شهوة) পুরুষদের কাছে গমন করছো।" তিনি সেই অশ্লীল কাজটিকে "আকাঙ্ক্ষা (شهوة)" বলে অভিহিত করেছেন, "প্রবৃত্তি (غريزة)" বলেননি। আর যারা "কামনা-বাসনার (الشهوات)" অনুসরণ করে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "অতঃপর তাদের পরে এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরি এলো যারা সালাত নষ্ট করল এবং কামনা-বাসনার (الشهوات) অনুগামী হলো; সুতরাং তারা শীঘ্রই ধ্বংসের (غيّا) সম্মুখীন হবে।"

অনুরূপভাবে পরকালেও জান্নাতে মুমিনরা যা আকাঙ্ক্ষা করবে তা-ই লাভ করবে, যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "সেখানে থাকবে তা-ই যা মন আকাঙ্ক্ষা (تشتهيه) করে এবং যা চোখ তৃপ্ত করে।"
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২১)
وملخّص القول: أن "الشهوة"، من خصائص الإنسان، وهي قد تكون مباحة، وقد تكون محرّمة يأثم بها فاعلها، ومن "الشهوات" ما يؤجر عليها المرء، كشهوة الجماع بالزواج،، وتحرّي الكسب الحلال، وقد جاء ذلك في الحديث الشريف، فيما رواه الإمام مسلم من حديث أبي ذر الغفاري، رضي الله عنه، وفيه قوله صلى الله عليه وسلم:" وفي بضع أحدكم صدقة" أي: في جماعه زوجته، قالوا: يا رسول الله، أيأتي أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال:" أرأيتم لو وضعها في حرام أكان عليه وزر؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال، كان له أجر".

أما "الغريزة" فهي من البهائم خاصة، فلا تطلق "الغريزة" على شيء من خصائص الإنسان، فلا يقال:" غريزة حبّ البقاء"، ولا "غريزة التديّن"، بل هما فطرتان، فطر الله عليهما الإنسان، فهو يحبّ الحياة بالفطرة العاقلة التي فطره الله عليها، لا بالغريزة العجماء العمياء البهماء، والإنسان ميّال بفطرته الى الإيمان، إلا إذا انحرف به والداه فنشّآه على خلاف الفطرة، قال الله تعالى: {فأقم وجهك للدين حنيفا فطرة الله التي فطر الناس عليها لا تبديل لخلق الله ذلك الدين القيّم ولكنّ أكثر الناس لا يعلمون} ، ومعنى قوله تعالى: {لا تبديل لخلق الله} أي: لا تبدلوا خلق الله تعالى، ولا تغيّروا في المولود فطرته التي فطره الله عليها، لأن كثيرا من الوالدين، يغيّران هذه الفطرة، ويبدّلانها، بعقائد الكفر والضلالن كما جاء في الحديث الشريف الذي تقدّم نصّه في المقدمة.

فهي إذن: "الفطرة.." لا "الغريزة"، فيقال: "فطرة التديّن" و"فطرة حبّ الحياة والبقاء".. إلخ.

***

‌‌5- المادة والروح
আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো: "কামনা" (শাহওয়াহ) মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এটি কখনো বৈধ হতে পারে, আবার কখনো নিষিদ্ধ হতে পারে যার জন্য এর সম্পাদনকারী গুনাহগার হয়। কিছু "কামনা" বা "প্রবৃত্তি" এমনও রয়েছে যাতে মানুষ সওয়াব লাভ করে, যেমন বিবাহের মাধ্যমে যৌন মিলনের আকাঙ্ক্ষা এবং হালাল উপার্জনের অন্বেষণ করা। এটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যা ইমাম মুসলিম আবু যার আল-গিফারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন; সেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনের মধ্যেও সদকা রয়েছে।" অর্থাৎ তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি তার কামনাবাসনা পূরণ করবে এবং তাতেও কি তার জন্য সওয়াব থাকবে? তিনি বললেন: "তোমরা কি মনে করো, সে যদি তা হারামে লিপ্ত করত তবে কি তার ওপর পাপ হতো না? তেমনিভাবে সে যখন তা হালালে সম্পন্ন করে, তখন তার জন্য সওয়াব রয়েছে।"

পক্ষান্তরে "সহজাত প্রবৃত্তি" (গারিজাহ) মূলত চতুষ্পদ জন্তুদের বৈশিষ্ট্য। মানুষের কোনো গুণের ক্ষেত্রে "সহজাত প্রবৃত্তি" শব্দটির প্রয়োগ করা হয় না। তাই "অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রবৃত্তি" কিংবা "ধর্মীয় প্রবৃত্তি" বলা যাবে না; বরং এ দুটি হলো স্বভাবজাত প্রকৃতি (ফিতরাত), যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ তার সেই বিবেকসম্পন্ন স্বভাবজাত প্রকৃতি দ্বারা জীবনকে ভালোবাসে যার ওপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন, কোনো নির্বোধ, অন্ধ বা পশুসুলভ প্রবৃত্তির মাধ্যমে নয়। মানুষ তার স্বভাবজাত প্রকৃতিগতভাবেই ঈমানের দিকে অনুরাগী, যদি না তার পিতামাতা তাকে বিচ্যুত করে সেই প্রকৃতির পরিপন্থীভাবে গড়ে তোলে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তুমি একনিষ্ঠভাবে দ্বীনের জন্য তোমার লক্ষ্য স্থির করো। এটিই আল্লাহর প্রকৃতি (ফিতরাত), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।" আর মহান আল্লাহর বাণী "আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই"-এর অর্থ হলো: তোমরা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করো না এবং নবজাতকের সেই স্বভাবজাত প্রকৃতিকে বদলে দিও না যার ওপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন। কারণ অনেক পিতামাতা এই প্রকৃতিকে কুফর ও গোমরাহির আকিদার মাধ্যমে পরিবর্তন ও রূপান্তর করে ফেলে, যেমনটি সেই হাদিসে এসেছে যার মূল পাঠ ইতিপূর্বে ভূমিকার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং এটি মূলত: "স্বভাবজাত প্রকৃতি" (ফিতরাত)... "সহজাত প্রবৃত্তি" (গারিজাহ) নয়। তাই বলা হবে: "ধর্মীয় প্রকৃতি" এবং "জীবন ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রকৃতি" ইত্যাদি।

***

‌‌৫- পদার্থ ও আত্মা
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২২)
درج الكثيرون على تعريف "الإنسان" بأنه: "مادة وروح"، من دون تحديد لمرادهم بكل منهما، حتى شاع هذا التقسيم، وصار متداولا مألوفا، ولقد كنت ممن يذكر ذلك بالتقليد للآخرين، ولكن: عندما فكّرت في " الإنسان"، وما أودعه الله فيه من آيات، أدركت كم نحن بحاجة الى إعادة نظر، في كثير من المصطلحات والكلمات لتي نستعملها، ومنها كلمتا:"المادة والروح".

إن لكل من:"المادة" و"الروح"، إستعمالات ومعاني متعددة، فللمادة في المفهوم "الماركسي" الشيوعي مفهوم خاص ملخصه: [أن الإنسان والكون، "مادة" تتطور بنفسها ذاتيا، من دون خالق، وأنّ تطوّر المادة هذا، هو الذي انبثق عنه وجود الكائنات..] .

فالمادة في المفهوم الماركسي، ليست جانبا من شخصية الإنسان، بل هي أساس وجوده، ولا يخفى: أن "الشيوعية" تنكر وجود الله الخالق عز وجل، لأنها عقيدة إلحاد وكفر.

وهناك مذهب أو مفهوم آخر للمادة، فحواه: أن "المادة" في الإنسان عبارة عن "الجسد"، يقابله جانب "الروح"، فهؤلاء يرون: أن جسد الإنسان هو "المادة".

وهناك من يرى "المادة" معبّرة عن الجانب الدنيوي في الإنسان، أي: "الجسد" وشهواته ورغائبه، ويرى بالمقابل: أن "الروح" تعبّر عن الجانب المعنوي العقليّ فيه، فقسّموا الإنسان على هذا الأساس، فقالوا: " الإنسان مادة وروح".

وأيضا لا ينبغي أن نغفل التعريف "الكنسي" لللإنسان، فإن له تأثيرا كبيرا على المفاهيم التي أشرنا إليها، فالإنسان في المفهوم "الكنسيّ" يتكوّن من ثلاثة عناصر هي:"الروح والنفس والجسد"، ومستند النصارى في هذا التعريف لللإنسان هو قول "بولس" بهذا المعنى الوارد في رسالته الأولى الى "أهل تسالونيقي"، فـ "الجسد" عنده، هو: الجزء المادي في تكوين الإنسان، و"النفس" هي: عنصر الحياة الحيوانية، وفيها يشترك الإنسان مع الحيوان وعليها يتوقف الفهم والحركة والإحساس، و"الروح" هي: العقل.
অনেকেই "মানুষ"-কে "বস্তু (مادة) ও রুহ (روح)" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে অভ্যস্ত, তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট না করেই; এমনকি এই বিভাজনটি এতোটাই প্রচলিত হয়ে গেছে যে তা বর্তমানে সুপরিচিত ও সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমি নিজেও অন্যদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করে এটি উল্লেখ করতাম। কিন্তু যখন আমি "মানুষ" এবং তার মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা করলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে আমরা যেসব পরিভাষা ও শব্দ ব্যবহার করি, তার অনেকগুলোতেই আমাদের নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে; যার মধ্যে "বস্তু (مادة)" ও "রুহ (روح)" শব্দ দুটিও অন্তর্ভুক্ত।

নিশ্চয়ই "বস্তু (مادة)" ও "রুহ (روح)"-এর প্রতিটি শব্দেরই একাধিক ব্যবহার ও অর্থ রয়েছে। সাম্যবাদী "মার্কসবাদী" ধারণায় "বস্তু (مادة)"-এর একটি বিশেষ ধারণা রয়েছে যার সারসংক্ষেপ হলো: [মানুষ ও মহাবিশ্ব হলো এমন একটি "বস্তু (مادة)" যা কোনো স্রষ্টা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবর্তিত হয় এবং বস্তুর এই বিবর্তন থেকেই সব প্রাণের অস্তিত্ব উদ্ভূত হয়েছে...]।

সুতরাং মার্কসবাদী ধারণায় "বস্তু (مادة)" মানুষের ব্যক্তিত্বের কোনো একটি দিক নয়, বরং এটিই তার অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, "সাম্যবাদ" স্রষ্টা মহান আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, কারণ এটি একটি নাস্তিক্য (إلحاد) ও কুফর (كفر)-এর আকিদা (عقيدة)।

বস্তু সম্পর্কে অন্য একটি মতবাদ বা ধারণা রয়েছে যার সারমর্ম হলো: মানুষের ক্ষেত্রে "বস্তু (مادة)" বলতে "দেহ (جسد)"-কে বোঝায়, যার বিপরীতে রয়েছে "রুহ (روح)"-এর দিকটি। তারা মনে করেন যে মানুষের দেহটিই হলো "বস্তু (مادة)"।

আবার কেউ কেউ "বস্তু (مادة)"-কে মানুষের পার্থিব দিকের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন, অর্থাৎ "দেহ (جسد)" এবং তার প্রবৃত্তির চাহিদা ও কামনা-বাসনা। বিপরীতে তারা মনে করেন যে, "রুহ (روح)" মানুষের আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিকের প্রতিনিধিত্ব করে। এই ভিত্তিতে তারা মানুষকে বিভক্ত করেছেন এবং বলেছেন: "মানুষ হলো বস্তু (مادة) ও রুহ (روح)"।

এছাড়াও আমাদের মানুষের "গির্জা-ভিত্তিক" সংজ্ঞাটি উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ আমরা যে ধারণাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি তার ওপর এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। গির্জা-ভিত্তিক ধারণায় মানুষ তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, সেগুলো হলো: "রুহ (روح), নফস (نفس) এবং দেহ (جسد)"। মানুষের এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে নাসারাদের ভিত্তি হলো "থিসালোনিকীয়দের" কাছে পাঠানো প্রথম পত্রে বর্ণিত "পৌল"-এর উক্তি। তার মতে "দেহ (جسد)" হলো মানুষের গঠনের বস্তুগত অংশ, "নফস (نفس)" হলো পাশবিক জীবনের উপাদান, যেখানে মানুষ পশুর সাথে অংশীদার এবং যার ওপর বোধশক্তি, নড়াচড়া ও অনুভূতি নির্ভরশীল, আর "রুহ (روح)" হলো আকল (عقل)।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
و"النصارى" أيضا يطلقون "الروح" على "الله"، تعالى عن ذلك علوّا كبيرا، فيقولون:" الله روح أبديّ سرمديّ"، ومفهومهم للروح بهذا المعنى، هو الذي ينتسب كهنتهم إليه، فيسمّون أنفسهم:"رؤساء روحيّين"، فالرئيس الروحيّ عندهم هو: كل "كاهن" أعطي صفة كهنوتية، وبالمقابل، فهم يطلقون على غيرهم وصف:"العلمانيين"، أي: غير "الروحيّين اللاهوتيين".

بعد هذا الإستعراض لمفهوم "المادة والروح"، نرى أن الذين قسّموا شخصية "الإنسان" إلى" "مادة" و"روح" مخطئون، وذلك لأسباب التالية:

أولا: عدم وضوح المراد حصرا بكل من: "المادة" و"الروح"، ومعلوم أن التسمية بشيء لا تصحّ، إلا إذا كانت وافية بالتعريف، مفيدة للمعنى المقصود، فالذين أطلقوا هذين اللفظين على الإنسان، لم يحدّدوا المراد بكل منهما، فلا يزول الإشكال.

ثانيا: إن "المادة" في الإنسان لا تنفصل عن "الروح"، لأن الجسد البشريّ من دون روح، هو جماد كالحجر، ومعلوم أن ما يميّز الجسم البشريّ عن سائر الجمادات، إنما هو "الحياة" المستقرّة فيه، أي: "الجانب الحيواني" الذي ذكرناه سابقا.

ثالثا: إن الذين أطلقوا "الروح" على "العقل" مخطئون، لأن "الروح" غير "العقل"، فهما مخلوقان متغايران، والعقل لا يعمل إلا بالروح، فالروح هي المحرّك لكل من "الجسد والعقل"، فكيف تكون "الروح" في جانب، وما تعمل هي فيه في جانب آخر؟ …

فظهر واضحا: أن تقسيم " الإنسان" الى "مادة وروح"، تقسيم غير صحيح، ولا ينطبق على الواقع، وأن التفصيل الصحيح لشخصية الإنسان هو أنه: "حيوان ناطق"، أي: عاقل، كما بيّناه سابقا، وإذا أردنا أن نجاري ما شاع في تعريف الإنسان فنقول: الإنسان مادة وعقل".

***

‌‌6- الغيب والشهادة:

كما أن في الإنسان جانبين هما: "جانب الحيوانية" وما فيه من حوّاس وأعضاء، و"جانب العقل" وما ينتج عنه من فهم وعلم ومعرفة، فإن الموجودات كلها تنقسم أيضا الى قسمين هما:
"নাসারা" বা খ্রিস্টানরাও "আল্লাহর" ক্ষেত্রে "রুহ" শব্দটি প্রয়োগ করে থাকে; আল্লাহ তাআলা তাদের এই বর্ণনা থেকে বহু ঊর্ধ্বে। তারা বলে: "আল্লাহ হলেন এক চিরন্তন ও শাশ্বত রুহ।" তাদের কাছে রুহ-এর এই ধারণাগত অর্থের সাথেই তাদের যাজক সম্প্রদায় নিজেদের সম্পৃক্ত করে; ফলে তারা নিজেদের "আধ্যাত্মিক নেতা" হিসেবে অভিহিত করে। তাদের নিকট আধ্যাত্মিক নেতা হলেন প্রত্যেক সেই "যাজক", যাকে যাজকীয় বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে। এর বিপরীতে তারা অন্যদের "সেকুলার" বা "জাগতিক" হিসেবে আখ্যায়িত করে, অর্থাৎ যারা "ধর্মতাত্ত্বিক আধ্যাত্মিক" ব্যক্তি নন।

বস্তু ও রুহ-এর ধারণার এই পর্যালোচনার পর আমরা দেখতে পাই যে, যারা মানুষের ব্যক্তিত্বকে "বস্তু" ও "রুহ" ভাগে বিভক্ত করেছেন তারা ভুল করেছেন; আর তা নিম্নোক্ত কারণসমূহের জন্য:

প্রথমত: "বস্তু" এবং "রুহ" বলতে সুনির্দিষ্টভাবে কী বোঝানো হয়েছে তা অস্পষ্ট। এটি সুপরিচিত যে, কোনো কিছুর নামকরণ ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক (صحيح) হয় না, যতক্ষণ না তা পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞার অনুগামী হয় এবং উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। সুতরাং যারা মানুষের ক্ষেত্রে এই শব্দ দুটি প্রয়োগ করেছেন, তারা এর প্রত্যেকটির উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করেননি, ফলে সংশয় দূর হয় না।

দ্বিতীয়ত: মানুষের ক্ষেত্রে "বস্তু" তার "রুহ" থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কেননা রুহ ছাড়া মানুষের দেহ পাথরের মতো একটি জড় পদার্থ মাত্র। আর এটি জানা কথা যে, যা মানুষের শরীরকে অন্যান্য জড় বস্তু থেকে পৃথক করে, তা হলো এতে বিদ্যমান "জীবন"; অর্থাৎ সেই "প্রাণীসুলভ দিক" যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

তৃতীয়ত: যারা "বিবেক"-কে "রুহ" হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা ভুল করেছেন। কেননা "রুহ" ও "বিবেক" এক নয়; বরং এরা ভিন্ন ভিন্ন দুটি সৃষ্টি। বিবেক কেবল রুহের মাধ্যমেই কাজ করে; রুহ হলো দেহ ও বিবেক উভয়ের চালিকাশক্তি। এমতাবস্থায় রুহ একদিকে থাকবে আর সেটি যাকে পরিচালনা করে তা অন্য দিকে থাকবে—এমনটি কীভাবে সম্ভব? …

সুতরাং এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো যে, মানুষকে "বস্তু ও রুহ"-তে বিভক্ত করা একটি সঠিক (صحيح) বিভাজন নয় এবং এটি বাস্তবসম্মতও নয়। বরং মানুষের ব্যক্তিত্বের সঠিক (صحيح) বিশ্লেষণ হলো—সে একটি "বাকসম্পন্ন প্রাণী", অর্থাৎ বুদ্ধিমান সত্তা, যেমনটি আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি। আর আমরা যদি মানুষের প্রচলিত সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে চাই, তবে বলব: "মানুষ হলো বস্তু ও বিবেক।"

***

‌‌৬- অদৃশ্য ও দৃশ্যমান:

মানুষের যেমন দুটি দিক রয়েছে: "প্রাণীসুলভ দিক" এবং এর অন্তর্ভুক্ত ইন্দ্রিয় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, এবং "বিবেকের দিক" এবং এর থেকে উদ্ভূত বোধশক্তি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা; ঠিক তেমনি সমস্ত বিদ্যমান বস্তুও দুটি ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
1- "عالم الغيب"، وهو: ما لا يدرك بالحوّاس، ويعرف هذا القسم بـ "عالم ما وراء المادة".

2- و"عالم الشهادة" أي: عالم المحسوسات الذي تدرك بالحوّاس، ولا يلزم لإدراكها "عقل".

ولكي يتمكّن الإنسان من التعرّف على هذين العالمين، والتصديق بهما، فقد خلقه الله تعالى جامعا للحوّاس وللعقل معا، ليدرك بحوّاسه المحسوسات، ويصدّق بعقله بالغيب ويؤمن به.

وقد أشار القرآن العظيم الى هذه المعادلة بوضوح، في قوله عز وجل: {ذلك عالم الغيب والشهادة العزيز الرحيم* الذي أحسن كل شيء خلقه وبدأ خلق الإنسان من طين* ثم سوّاه ونفخ فيه من روحه وجعل لكم السمع والأبصار والأفئدة قليلا ما تشكرون} .

فبعد أن ذكر الله تعالى علمه المطلق الشامل بالغيب والشهادة، بيّن خلق الإنسان من أوّل أمر تكوينه، حتى نفخ الروح فيه، وهذا هو "جانب الحيوانية" في الإنسان، ثم عقّب بالإشارة الى الجانب الآخر، فذكر أهم الحوّاس المساعدة للعقل وهما: السمع والبصر، لأن العقل يفكّر بما يسمع وبما يرى، فيقدّر ويحكم، وهو "الفؤاد" أي: "القلب" هو مقرّ الوعي، ومستقرّ الإيمان أو الكفر..

إن العقل " جهاز".. يعمل في المحسوسات عن طريق الحوّاس، التي تزوّده بالمعلومات اللازمة للحكم، ووجوده في إدراك المحسوسات عينها، ليس لازما، فإن غير العقلاء من البشر، وكذلك البهائم، تتعرّف على المحسوسات، فتأكل ما ينفعها، وتترك ما يضرّها، وتبتعد عما يؤذيها، من دون حاجة الى عقل تميّز به تلك الأشياء.
১- "অদৃশ্য জগৎ" (عالم الغيب), যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এবং এই বিভাগটি "জড়জগতের অতীত জগৎ" হিসেবে পরিচিত।

২- এবং "দৃশ্যমান জগৎ" (عالم الشهادة) অর্থাৎ: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুসমূহের জগৎ যা ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করা যায় এবং এগুলো অনুধাবনের জন্য "বুদ্ধিবৃত্তি" (عقل) অপরিহার্য নয়।

আর মানুষ যাতে এই উভয় জগৎ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে এবং এগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে, সেজন্য মহান আল্লাহ তাকে ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধিবৃত্তির (عقل) সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছেন; যাতে সে তার ইন্দ্রিয় দিয়ে দৃশ্যমান বস্তুসমূহ অনুভব করতে পারে এবং তার বুদ্ধিবৃত্তির (عقل) মাধ্যমে অদৃশ্যের (الغيب) প্রতি সত্যায়ন ও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে।

মহান কুরআন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই সমীকরণের দিকে ইঙ্গিত করেছে, মহামহিম আল্লাহর বাণীতে: {তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে উত্তমরূপে সৃজন করেছেন এবং কাদা হতে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে তাতে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ; তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।}

আল্লাহ তাআলা অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগৎ সম্পর্কে তাঁর নিরঙ্কুশ ও ব্যাপক জ্ঞানের কথা উল্লেখ করার পর, মানুষের সৃষ্টির শুরু থেকে রূহ ফুঁকে দেওয়া পর্যন্ত গঠন প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়েছেন; আর এটি মানুষের "প্রাণীসুলভ সত্তা" (جانب الحيوانية)। এরপর তিনি অন্য একটি দিকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং বুদ্ধিবৃত্তিকে (عقل) সহায়তাকারী প্রধান ইন্দ্রিয়দ্বয় অর্থাৎ শ্রবণ ও দৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ বুদ্ধিবৃত্তি (عقل) যা শুনে এবং যা দেখে তা নিয়ে চিন্তা করে, অতঃপর তা মূল্যায়ন করে ও সিদ্ধান্ত প্রদান করে। আর এটিই হলো "ফুয়াদ" (الفؤاد) তথা "হৃদয়" (القلب), যা চেতনার আধার এবং ঈমান বা কুফরের অবস্থানস্থল।

নিশ্চয়ই বুদ্ধিবৃত্তি (عقل) একটি "যন্ত্র" স্বরূপ; যা ইন্দ্রিয়সমূহের মাধ্যমে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াবলীতে কাজ করে, যা তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। তবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে এর উপস্থিতি অপরিহার্য নয়। কেননা বিবেকহীন মানুষ এমনকি চতুষ্পদ জন্তুরাও দৃশ্যমান বস্তুসমূহ চিনতে পারে; ফলে তারা তাদের জন্য উপকারী বস্তু গ্রহণ করে, ক্ষতিকারক বস্তু বর্জন করে এবং কষ্টদায়ক বিষয় থেকে দূরে থাকে—সেসব বস্তুর মাঝে পার্থক্য করার জন্য কোনো বুদ্ধিবৃত্তির (عقل) প্রয়োজন ছাড়াই।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
نعم: إن "لعقل" يعمل في المحسوسات، أي: في المادة باعتبارها من آيات الله تعالى، لاستخلاص البراهين القاطعة على وجود الخالق ووحدانيته، والتصديق بما جاء على ألسنة الرسل عليهم الصلاة والسلام من الوحي، ومعلوم أن الإنسان مكلّف ومأمور بأعمال فكره في الموجودات، لمعرفة الموجد الخالق عز وجل معرفة صحيحة، والآيات في كتاب الله تعالى في هذا المعنى كثيرة جدا، كقوله عز وجل: {إنّ في خلق السموات والأرض واختلاف الليل والنهار لآيات لأولي الألباب} ، وقوله جلّ وعلا: {وهو الذي مدّ الأرض وجعل فيها رواسي وأنهارا ومن كل الثمرات جعل فيها زوجين إثنين يغشي الليل النهار إن في ذلك لآيات لقوم يتفكّرون* وفي الأرض قطع متجاورات وجنّات من أعناب وزرع ونخيل صنوان وغير صنوان يسقى بماء واحد، ونفضّل بعضها على بعض في الأكل إن في ذلك لآيات لقوم يعقلون} .

أما "عالم الغيب" فلا عمل للحوّاس منه على الإطلاق، لأن الحوّاس غير صالحة لإدراك المحسوس، ومن طلب معرفة شيء من الغيب بحوّاسه، فهو جاهل مغفّل، مثله كمثل من يحاول إمساك الهواء أو النور بيده، والمؤسف حقا وجود هذه النوعية في المجتمع، فأحدهم لا يؤمن بالله تعالى لأنه لم يره.. وآخر ينكر الآخرة لأنه لم ير أحدا رجع بعد موته فأخبر بها.. وهكذا..

ولو سألهم سائل: أين عقولكم يا هؤلاء؟؟.. لسكتوا.. وبهتوا.. ولكنّنا نحن نعرف: أين هي عقولهم؟.. إنها في شهوات بطونهم وفروجهم..، فأحدهم قزّم عقله ومسخه، وجعله في بطنه وفرجه.. فلذلك هو لا يعقل.. ولا يفقه.. ولا يعلم.. ولا يتذكّر.. ولا يتفكّر.. بل كل همّه: "بطنه".. أكلا وشرابا.. و"فرجه" فحشاء وبغاء.. فهل مثل هذا.. أهل لأن يعرف الله؟..
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই "বিবেক" ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াবলির ক্ষেত্রে ক্রিয়াশীল থাকে; অর্থাৎ—বস্তুজগতকে মহান আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে গণ্য করে তা থেকে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তাঁর একত্বের অকাট্য প্রমাণাদি আহরণ করতে এবং রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) মাধ্যমে প্রাপ্ত ওহীর সত্যয়ন করতে তা ব্যবহৃত হয়। এটি সুনিশ্চিত যে, মানুষ তার চিন্তাশক্তিকে বিদ্যমান সৃষ্টিনিচয়ে নিয়োজিত করতে আদিষ্ট ও দায়বদ্ধ, যাতে সে মহান স্রষ্টা ও মালিক সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করতে পারে। মহান আল্লাহর কিতাবে এই মর্মে বহু আয়াত রয়েছে, যেমন তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।" এবং তাঁর বাণী: "আর তিনিই ভূমিকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে অটল পর্বতমালা ও নদ-নদী সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক ফল সৃষ্টি করেছেন দুই প্রকারের। তিনি রাত দিয়ে দিনকে আচ্ছাদিত করেন। এতে অবশ্যই চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। আর জমিনে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড, আঙুর বাগান, শস্য এবং একই মূল থেকে উদ্গত কিংবা ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদ্গত খেজুর গাছ, যা একই পানি দ্বারা সেচিত হয়। আর আমি স্বাদের ক্ষেত্রে একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করি। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।"

পক্ষান্তরে, "অদৃশ্য জগৎ"-এর ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়সমূহের কোনোই কার্যকারিতা নেই; কেননা ইন্দ্রিয়সমূহ অতীন্দ্রিয় বিষয়সমূহ অনুধাবনে সক্ষম নয়। যে ব্যক্তি নিজের ইন্দ্রিয় দ্বারা অদৃশ্যের কোনো বিষয় জানতে চায়, সে মূলত এক অজ্ঞ ও নির্বোধ। তার দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে স্বীয় হস্ত দ্বারা বায়ু কিংবা আলোক শিখা ধরার চেষ্টা করে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সমাজে এমন শ্রেণির মানুষের অস্তিত্ব বিদ্যমান—যাদের কেউ আল্লাহকে বিশ্বাস করে না কারণ সে তাঁকে দেখেনি, আবার কেউ পরকালকে অস্বীকার করে কারণ সে এমন কাউকেই দেখেনি যে মৃত্যুর পর ফিরে এসে সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে... এভাবে আরও কত কী!

যদি কোনো প্রশ্নকারী তাদের জিজ্ঞেস করে: হে লোকসকল, তোমাদের বিবেক কোথায়? তবে তারা নির্বাক হয়ে যাবে এবং বিমূঢ় হয়ে পড়বে। কিন্তু আমরা জানি তাদের বিবেক কোথায় অবস্থিত। তাদের বিবেক নিহিত রয়েছে তাদের উদর ও লজ্জাস্থানের কামনার ভেতর। তাদের কেউ কেউ নিজের বিবেককে এতটাই সংকুচিত ও বিকৃত করে ফেলেছে যে, তাকে নিজ উদর ও লজ্জাস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। যার দরুন সে কিছুই অনুধাবন করতে পারে না, বোঝে না, জানে না, উপদেশ গ্রহণ করে না এবং চিন্তাও করে না। বরং তার সমস্ত চিন্তা কেবল "পেট"—আহার ও পানীয়, এবং "লজ্জাস্থান"—অশ্লীলতা ও ব্যভিচারকে কেন্দ্র করে। এমতাবস্থায় এমন ব্যক্তি কি মহান আল্লাহকে চেনার যোগ্য হতে পারে?
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২৬)
إنّ الغيب كله محجوب عن حوّاس الخلق، ولا يعلم أحد من الخلق شيئا من "الغيب"، إلا بإعلام الله عز وجل وإخباره، وهذا الإعلام لا يكون إلا للرسل عليهم الصلاة والسلام، كما قال تعالى: {عالم الغبل فلا يظهر على غيبه أحد* إلا من ارتضى من رسول} . ودور "العقل" في هذا المجال هو: التفكير.. ثم: الحكم الصحيح.. أي: الإيمان والتصديق، مثل: إيماننا بالله تعالى، وملائكته وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، بكل ما فيه من: بعث.. وحشر.. وحساب … وجنّة.. ونار.. وغير ذلك، والقدر خيره وشرّه، فقد آمنّا بذلك وأمثاله، بعقولنا التي وهبنا الله إياها، تصديقا للخبر الصادق الذي جاءنا، على لسان رسولنا الأمين محمد صلى الله عليه وسلم.

***

‌‌7- " التفكير" هو: عمل العقل

إن "التفكير".. هو العمل البديهي للعقل، إذ لا فائدة من وجود عقل من غير تفكير، لأن العقل المشلول، ليس بعقل، بل هو جهاز معطّل، وجوده كعدمه.

فإذا فكّر "العاقل" في أمر ما..فسينتج عن تفكيره هذا: " تقدير.."، وهذا التقدير: قد يكون صوابا، وقد يكون خطأ، فيترتّب على ذلك:"حكم.." على ذلك الأمر، قد يكون صوابا، وقد يكون خطأ، تبعا للتقدير، وهذه العملية الفكرية هي التي سميّناها:"عمل العقل"..

وهذا التسلسل في عملية التفكير، ليس من عندنا، بل هو ما وجدناه صريحا في كتاب الله عز وجل، فخذ هذا العرض القرآني الرائع، لعمل العقل الذي أشرنا إليه وقل: سبحان الله العظيم:

سئل أحد من العتاة الكفرة من العرب في "مكة"، عن القرآن الكريم" فأجاب.. ولكنّ الله تعالى لم يذكر جوابه فحسب، بل بيّن لنا بالتسلسل، كيف فكّر ذلك الرجل؟.. وكيف قدّر؟ وكيف حكم؟.. فاستمع الى قول الله الحكيم في سورة المدّثّر".

1- {إنّه فكّر وقدّر} ، فهذا: تفكير.. ثم: تقدير..

2- {فقتل كيف قدّر* ثم قتل فقدّر} ، هذا توبيخ له على سوء التفكير، وفساد التقدير.
সমস্ত অদৃশ্যের (الغيب) বিষয় সৃষ্টির পঞ্চইন্দ্রিয় থেকে গোপন রাখা হয়েছে। মহান আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা) কর্তৃক অবহিত করা ও সংবাদ প্রদান করা ব্যতীত সৃষ্টির কেউই অদৃশ্যের (الغিব) কোনো কিছু সম্পর্কে অবগত নয়। আর এই সংবাদ প্রদান কেবল রাসূলদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) জন্যই নির্ধারিত, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না; তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত}। এই ক্ষেত্রে "বিবেকের" ভূমিকা হলো: চিন্তা করা... অতঃপর: সঠিক ফয়সালা প্রদান করা... অর্থাৎ: বিশ্বাস (الإيمان) ও সত্যায়ন (التصديق); যেমন মহান আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের প্রতি আমাদের বিশ্বাস, যার অন্তর্ভুক্ত হলো: পুনরুত্থান... হাশর... হিসাব-নিকাশ … জান্নাত... জাহান্নাম... এবং অন্যান্য বিষয়। এছাড়া ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাসও এর অন্তর্ভুক্ত। আমরা আমাদের আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক দিয়ে এসব বিষয় ও এর সদৃশ বিষয়গুলোর প্রতি ঈমান এনেছি, আমাদের বিশ্বস্ত রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে আমাদের কাছে যে সত্য সংবাদ (الخبر الصادق) পৌঁছেছে তার সত্যায়নস্বরূপ।

***

‌‌৭- "চিন্তা করা" হলো: বিবেকের কাজ

নিশ্চয়ই "চিন্তা করা" হলো বিবেকের স্বতঃসিদ্ধ কাজ, কারণ চিন্তা করা ব্যতীত বিবেকের কোনো উপযোগিতা নেই। কেননা অকেজো বিবেক মূলত কোনো বিবেক নয়, বরং তা একটি বিকল যন্ত্র মাত্র, যার অস্তিত্ব আর অনস্তিত্ব সমান।

যখন কোনো "বিবেকবান" ব্যক্তি কোনো বিষয়ে চিন্তা করেন, তখন তাঁর এই চিন্তা থেকে একটি "পরিকল্পনা" বা "মূল্যায়ন" জন্ম নেয়। আর এই মূল্যায়ন সঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। ফলে সেই বিষয়ের ওপর একটি "ফয়সালা" বা "সিদ্ধান্ত" তৈরি হয়, যা মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে সঠিক কিংবা ভুল হতে পারে। এই চিন্তন প্রক্রিয়াকেই আমরা "বিবেকের কাজ" বলে অভিহিত করেছি।

চিন্তা প্রক্রিয়ার এই ধারাবাহিকতা আমাদের নিজস্ব কোনো বিষয় নয়, বরং আমরা মহান আল্লাহর (আযযা ওয়া জাল্লা) কিতাবে এটি স্পষ্টভাবে পেয়েছি। বিবেকের কাজের ব্যাপারে আমাদের ইঙ্গিত করা এই চমৎকার কুরআনিক উপস্থাপনাটি লক্ষ্য করুন এবং বলুন: সুবহানাল্লাহিল আযীম (আল্লাহ অতি মহান ও পবিত্র):

মক্কার উদ্ধত কাফেরদের মধ্য থেকে একজনকে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সে তার উত্তরও দিয়েছিল। তবে মহান আল্লাহ কেবল তার উত্তরই উল্লেখ করেননি, বরং তিনি আমাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন যে, সেই ব্যক্তিটি কীভাবে চিন্তা করেছিল? কীভাবে পরিকল্পনা করেছিল? এবং কীভাবে সে ফয়সালা দিয়েছিল? সুরা আল-মুদ্দাসসিরে আল্লাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী শ্রবণ করুন:

১- {নিশ্চয়ই সে চিন্তা করেছে এবং পরিকল্পনা করেছে}। সুতরাং এটি হলো: চিন্তা... অতঃপর: পরিকল্পনা...

২- {অভিশাপ তাকে, সে কীরূপ পরিকল্পনা করেছে! আবারও অভিশাপ তাকে, সে কীরূপ পরিকল্পনা করেছে!} এটি ছিল তার মন্দ চিন্তা এবং ভ্রান্ত পরিকল্পনার জন্য একটি তিরস্কার।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
3- {ثم نظر* ثم عبس وبسر* ثم أدبر واستكبر} ، وهذا بيان حال المتكبّر، إذا جوبه بالحق.. فإنه يرفضه ويعرض عنه.

4- قم بعد هذا، حكم ذلك الكافر على القرآن فقال: {إن هذا إلا سحر يؤثر* إن هذا إلا قول البشر} .

5- فكانت عاقبته: وعيدا من الله تعالى له بالعذاب: {سأصليه سقر} .

ومّمن فعل مثل ذلك التفكير الفاسد:"النمرود"، صاحب العقلية "النمرودية"، التي صارت مثلا لكل متجبّر معاند، حتى درج على ألسنة العوامّ قولهم لمن هذه صفاته:" لا تتنمرد.." وبلا "نمردة"..

لقد أخبرنا الله تعالى، كيف واجه "النمرود" الحق والحقيقة، وحاجّ إبراهيم عليه الصلاة والسلام في الله تعالى، كما قال سبحانه: ألم ترى الى الذي حاجّ إبراهيم في ربّه أن أتاه الملك، إذا قال إبراهيم: ربّي الذي يحيي ويميت، قال: أنا أحيي وأميت، قال إبراهيم: فإن الله يأتي بالشمس من المشرق فأت بها من المغرب، فبهت الذي كفر، والله لا يهدي القوم الظالمين} .

وبالمقابل: فهناك كثير من الناس، أحسنوا التفكير والتقدير، فأصابوا.. وقد أخبر الله تعالى عن مشاهيرهم في الأمم السابقة، ليكونوا أسوة حسنة للعقلاء من الناس، في كلّ زمان ومكان، ونكتفي هنا بذكر مثلين من هؤلاء الصالحين، الذين فكّروا وتفكّروا، وقدّروا، وحكموا، فأحسنوا التفكر والتقدير والحكم، هما:

1- مؤمن آل فرعون:

جاءت قصة "مؤمن آل فرعون" مفصّلة، في سورة "غافر"، التي سميّت أيضا:"سورة المؤمن" إشارة له، وهو رجل من آل فرعون وخاصّته، آمن بما جاء به موسى عليه السلام، بلا خوف من فرعون ولا وجل، وقد جادل قومه وحاورهم، محاولا إفهامهم وإقناعهم، فلم يفهموا ولم يعقلوا، وهذا أهمّ ما قاله هذا المؤمن لقومه:

1- {أتقتلون رجلا أن يقول ربيّ الله، وقد جاءكم بالبينات من ربكم؟} .

2- {يا قوم لكم الملك اليوم ظاهرين في الأرض، فمن ينصرنا من بأس الله إن جاءنا} .
3- {অতঃপর সে লক্ষ্য করল; অতঃপর সে ভ্রুকুটি করল ও মুখ বিকৃত করল; অতঃপর সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল ও অহংকার করল}। এটি সত্যের মুখোমুখি হলে অহংকারীর অবস্থার বর্ণনা... কারণ সে তা প্রত্যাখ্যান করে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

4- এর পর সেই কাফের কুরআনের ব্যাপারে ফয়সালা দিয়ে বলল: {এটি তো লোকপরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ নয়; এটি তো মানুষেরই কথা মাত্র}।

5- ফলশ্রুতিতে তার পরিণতি হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির ঘোষণা: {অচিরেই আমি তাকে সাকার-এ (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করব}।

আর এই ধরনের ভ্রান্ত চিন্তাভাবনা যারা করেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলো "নমরুদ"। সে ছিল সেই "নমরুদী" মানসিকতার অধিকারী, যা প্রতিটি অবাধ্য অহংকারীর জন্য এক দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এই গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য প্রবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে: "নমরুদী করো না..." বা "নমরুদী ছাড়াই..."।

মহান আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন কীভাবে "নমরুদ" সত্য ও বাস্তবতার মোকাবিলা করেছিল এবং মহান আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর সাথে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তুমি কি সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখেছ, যে ইব্রাহিমের সাথে তার প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল এ কারণে যে, আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন? যখন ইব্রাহিম বলল, ‘আমার প্রতিপালক তিনি, যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান।’ সে বলল, ‘আমিও জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই।’ ইব্রাহিম বলল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো।’ তখন সেই কাফের হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।}।

এর বিপরীতে, এমন অনেক মানুষ আছেন যারা সুষ্ঠুভাবে চিন্তা ও বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন এবং সত্যে উপনীত হয়েছেন। মহান আল্লাহ পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্যকার এমন প্রখ্যাত ব্যক্তিদের কথা আলোচনা করেছেন, যাতে তারা সর্বকালের ও সর্বস্থানের বুদ্ধিমান মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ হতে পারেন। আমরা এখানে সেই নেককারদের মধ্য থেকে দুটি উদাহরণ উল্লেখ করছি, যারা চিন্তা ও গবেষণা করেছেন, বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন এবং ফয়সালা দিয়েছেন—অতঃপর তাদের চিন্তা, বিচার ও ফয়সালা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। তারা হলেন:

1- ফেরাউন বংশের মুমিন ব্যক্তি:

সূরা "গাফির"-এ ফেরাউন বংশের মুমিনের কাহিনী বিস্তারিতভাবে এসেছে। তাকে ইঙ্গিত করে এই সূরার নামকরণ "সূরা আল-মুমিন"-ও করা হয়েছে। তিনি ছিলেন ফেরাউনের বংশ ও তার ঘনিষ্ঠ পারিষদবর্গের একজন ব্যক্তি। তিনি ফেরাউনের ভয় বা শঙ্কা ছাড়াই মুসা (আলাইহিস সালাম) যা নিয়ে এসেছিলেন তার ওপর ঈমান এনেছিলেন। তিনি তার সম্প্রদায়ের সাথে বিতর্ক ও আলোচনা করেছিলেন এবং তাদের বোঝাতে ও আশ্বস্ত করতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তারা বোঝেনি এবং অনুধাবন করেনি। এই মুমিন ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে যা বলেছিলেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

1- {তোমরা কি একজন মানুষকে একারণে হত্যা করবে যে সে বলে, ‘আমার প্রতিপালক আল্লাহ’, অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছে?}।

2- {হে আমার সম্প্রদায়! আজ তো রাজত্ব তোমাদেরই, তোমরা এ দেশে প্রবল; কিন্তু আমাদের ওপর যদি আল্লাহর আজাব এসে পড়ে, তবে কে আমাদের সাহায্য করবে?}।
(খণ্ড: ১) আজমাতুশ শাবাব আসবাবুন ওয়া হুলুল (পৃষ্ঠা: ২৮)
3- {يا قوم إني أخاف عليكم مثل يوم الأحزاب* مثل دأب قوم نوح وعاد وثمود والذين من بعدهم وما الله يريد ظلما للعباد} .

4- {يا قوم إني أخاف عليكم يوم التناد* يوم تولّون مدبرين ما لكم من الله من عاصم ومن يضلل الله فما له من هاد} .

5- {يا قوم اتبعون أهدكم سبيل الرشاد* يا قوم إنما هذه الحياة الدنيا متاع وإن الآخرة هي دار القرار} .

6- {ويا قوم مالي أدعوكم الى النجاة وتدعونني الى النار* تدعونني لأكفر بالله وأشرك به ما ليس لي به علم وأنا أدعوكم الى العزيز الغفّارْ.

7- ثم ختم نداءاته لقومه قائلا لهم: {فستذكرون ما أقول لكم وأفوّض أمري الى الله إنّ الله بصير بالعباد} .

8- فكانت عاقبة هذا الرجل: النجاة، وكانت عاقبة آل فرعون: الخسران، كما قال الله تعالى: {فوقاه الله سيئات ما مكروا وحاق بآل فرعون سوء العذاب} .

2- الرجل الساعي من أقصى المدينة:

جاءت قصة هذا الرجل في سورة "يس"، في خبر "القرية" التي جاءها المرسلون، فكّذب أهلها المرسلين، وهدّدوهم بالرجم والتعذيب، فعلم ذلك الرجل المؤمن بالأمر، فأسرع من أقصى المدينة، ناصحا ومذكّرا، فقتلوه، فاستمع وتدبّر ما قاله هذا الرجل العاقل المفكر، يقول تعالى: {وجاء من أقصى المديمة رجل يسعى قال: يا قوم اتبعوا المرسلين* اتبعوا من لا يسألكم عليه أجرا وهم مهتدون* ومالي لا أعبد الذي فطرني وإليه ترجعون* أأتخذ من دونه آلهة؟! إن يردن الرحمن بضرّ لا تغن عنّي شفاعتهم شيئا ولا ينقذون* إني إذا لفي ضلال مبين* إني آمنت بربكم فاسمعون} ، فقالت له الملائكة: {ادخل الجنة، قال: يا ليت قوم يعلمون* بما غفر لي ربي وجعلني من المكرمين} .

‌‌8- العقل والهوى
3- {হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য নূহ, আদ, সামুদ এবং তাদের পরবর্তীদের অভ্যাসের ন্যায় 'আহযাব' (সম্মিলিত বাহিনীগুলোর) দিনের পরিস্থিতির মতো বিপদের আশঙ্কা করছি। আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম করার ইচ্ছা পোষণ করেন না।} .

4- {হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য আহ্বান দিবসের (কিয়ামতের দিনের) ভয় করছি। যেদিন তোমরা পেছন ফিরে পালিয়ে যেতে চাইবে, আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।} .

5- {হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করব। হে আমার সম্প্রদায়! এই পার্থিব জীবন তো কেবল ক্ষণস্থায়ী ভোগ মাত্র, আর নিশ্চয়ই পরকালই হলো চিরস্থায়ী নিবাস।} .

6- {হে আমার সম্প্রদায়! আমার কী হলো যে, আমি তোমাদের মুক্তির দিকে আহ্বান করছি, আর তোমরা আমাকে আগুনের দিকে আহ্বান করছ? তোমরা আমাকে এই আহ্বান জানাচ্ছ যে, আমি যেন আল্লাহর সাথে কুফরি করি এবং তাঁর সাথে এমন কিছুকে শরিক করি যে বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই; অথচ আমি তোমাদেরকে মহা পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীলের দিকে আহ্বান করছি।}

7- অতঃপর তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর আহ্বানসমূহ এই বলে সমাপ্ত করলেন: {অচিরেই তোমরা আমি তোমাদের যা বলছি তা স্মরণ করবে। আর আমি আমার বিষয়াদি আল্লাহর কাছে সঁপে দিচ্ছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের প্রতি সম্যক দৃষ্টিদানকারী।} .

8- সুতরাং এই ব্যক্তির পরিণাম হয়েছিল: মুক্তি, আর ফেরাউনের অনুসারীদের পরিণাম হয়েছিল: চরম ক্ষতি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের ষড়যন্ত্রের মন্দ থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাউনের অনুসারীদেরকে কঠিন আযাব পরিবেষ্টন করল।} .

2- শহরের দূরপ্রান্ত থেকে ছুটে আসা ব্যক্তি:

এই ব্যক্তির কাহিনী এসেছে সূরা "ইয়াসীন"-এ, সেই "জনপদ" এর বিবরণে যেখানে রাসুলগণ এসেছিলেন। সেই জনপদের অধিবাসীরা রাসুলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল এবং তাদের পাথর মেরে হত্যা ও নির্যাতনের হুমকি দিয়েছিল। তখন সেই মুমিন ব্যক্তি বিষয়টি জানতে পেরে শহরের দূরপ্রান্ত থেকে উপদেশদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে দ্রুত ছুটে আসেন। কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে। সুতরাং এই বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল ব্যক্তি যা বলেছিলেন তা শ্রবণ করুন এবং গভীরভাবে অনুধাবন করুন। মহান আল্লাহ বলেন: {শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি ছুটে এলো এবং বলল: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসুলদের অনুসরণ করো। তোমরা তাদের অনুসরণ করো যারা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চায় না এবং তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত। আর আমার কী হয়েছে যে, আমি তাঁর ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর কাছে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে? আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করব? পরম করুণাময় যদি আমার কোনো ক্ষতি করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হব। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, অতএব তোমরা আমার কথা শোনো।} , অতঃপর ফেরেশতারা তাকে বলল: {তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলল: হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারত—আমার রব কেন আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং কেন আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।} .

‌‌৮- বিবেক ও প্রবৃত্তি