(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: -)
ثلاثة مجالس من أمالي ابن مردويه   (أبو بكر بن مردويه)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ثلاثة مجالس من أمالي ابن مردويه

المؤلف: أبو بكر أحمد بن موسى بن مردوية بن فورك بن موسى بن جعفر الأصبهاني (ت 410هـ)

دراسة وتحقيق: الدكتور محمد ضياء الرحمن الأعظمي الأستاذ المشارك بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الناشر: دار علوم الحديث، الإمارات العربية المتحدة

الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1990 م

عدد الصفحات: 244

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে মারদুওয়াইহ-এর আমালী থেকে তিনটি মজলিস   (আবু বকর ইবনে মারদুওয়াইহ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইবনে মারদুওয়াইহ-এর আমালী থেকে তিনটি মজলিস

লেখক: আবু বকর আহমাদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াইহ বিন ফুরাক বিন মুসা বিন জাফর আল-আসফাহানি (মৃত্যু: ৪১০ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: ডক্টর মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আজমি, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক

প্রকাশক: দার উলুমিল হাদিস, সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১০৫)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الصَّدْرُ الْكَبِيرُ الْعَالِمُ عِمَادُ الدِّينِ إِمَامُ الْأَئِمَّةِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْن أَبِي السِّينَانِ - أَحْسَنَ اللَّهُ تَوْفِيقَهُ - فِي مَسْجِدِهِ - عَمَّرَهُ اللَّهُ تَعَالَى - بِمَدِينَةِ الْمَوْصِلِ فِي تَاسِعَ عَشَرَ مِنْ ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةَ خَمْسٍ وَسِتِّمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ عُمْدَةُ الدِّينِ أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّطِيفِ بْنُ أَبِي سَعْدٍ الْبَغْدَادِيُّ - قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِالْمَوْصِلِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْآخَرِ سَنَةَ خَمْسٍ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ قَدِمَ عَلَيْنَا - قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْمُطِيعِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمِصْرِيُّ - قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ سَبْعٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مَرْدَوَيْهِ الْحَافِظُ إِمْلَاءً فِي دَارِهِ سَنَةَ عَشْرٍ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، ⦗ص: 106⦘ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَغَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، نا قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي الْعَنْبَسِ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، قَالُوا جَمِيعًا: نا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، وَيَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ خَبَّابِ بْنِ الْأَرَتِّ، رضي الله عنه، قَالَ: شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ بِبُرْدَةٍ لَهُ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ فَقُلْنَا لَهُ: أَلَا تَسْتَنْصِرُ لَنَا، أَلَا تَدْعُو لَنَا؟ فَقَالَ: «قَدْ كَانَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ‌‌ يُؤْخَذُ الرَّجُلُ فَيُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ فَيُجْعَلُ فِيهَا، ويُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ، فَيُنْشَرُ بِاثْنَيْنِ، فَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الْحَدِيدِ مَا دُونَ عَظْمِهِ مِنْ لَحْمٍ أَوْ عَصَبٍ، فَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَاللَّهِ لَيَتِمَّنَّ هَذَا الْأَمْرُ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ عز وجل وَالذِّئْبَ عَلَى غَنَمِهِ، وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ» . لَفْظُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, সদরুল কাবীর, বিজ্ঞ আলিম, ইমাদুদ্দীন, আইম্মাদের ইমাম আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনুল হুসাইন ইবনে আবিস সিনান—আল্লাহ তাঁর তাওফিক উত্তম করুন—৬০৫ হিজরির ১৯শে জিলকদ মাসে মোসুল শহরের তাঁর মসজিদে—যা আল্লাহ তাআলা আবাদ রাখুন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, উমদাতুদ্দীন আবু সাঈদ আবদুল লতিফ ইবনে আবি সাআদ আল-বাগদাদি—৫৫৫ হিজরির রবিউস সানি মাসে মোসুল শহরে তাঁর নিকট পঠনকালে, যখন তিনি আমাদের নিকট এসেছিলেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আল-মুতি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-মিসরি—৪৯৭ হিজরির জমাদিউল উলা মাসে তাঁর নিকট পঠনকালে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু বকর আহমাদ ইবনে মুসা ইবনে মারদুওয়াইহ আল-হাফিজ, ৪১০ হিজরিতে তাঁর নিজগৃহে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, ⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-বাগাওয়ি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু সাঈদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর আল-হারিসি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান। (অন্য সূত্রে) এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জিয়াদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, তিনি কায়স ইবনে আবি হাযিম থেকে। (অন্য সূত্রে) এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে দুহাইম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক ইবনে আবিল আনবাস এবং আহমাদ ইবনে আবি হাযিম ইবনে আবি গারাজাহ। তাঁরা সকলে বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জাফর ইবনে আউন এবং ইয়ালা ইবনে উবাইদ, ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়স ইবনে আবি হাযিম থেকে, তিনি খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অভিযোগ করলাম, এমতাবস্থায় যে তিনি কাবাঘরের ছায়ায় নিজের একটি চাদরে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা তাঁকে বললাম: আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? তিনি বললেন: «তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মাঝে এমনও ছিল যে, ‌কোনো এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হতো, অতঃপর তার জন্য মাটিতে গর্ত খোঁড়া হতো এবং তাকে সেখানে রাখা হতো। তারপর করাত আনা হতো এবং তার মাথার ওপর রাখা হতো, অতঃপর তাকে চিরে দুই টুকরো করে ফেলা হতো, তবুও এ চরম নির্যাতন তাকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। লোহার চিরুনি দিয়ে তার হাড়ের ওপর থেকে গোশত ও শিরা-উপশিরা আঁচড়ে উপড়ে ফেলা হতো, তবুও তা তাকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। আল্লাহর শপথ! অবশ্যই এ দ্বীন পূর্ণতা লাভ করবে, এমনকি একজন আরোহী সানআ থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত সফর করবে অথচ সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তার মেষপালের জন্য নেকড়ে ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছ।» এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানের বর্ণনা অনুযায়ী শব্দ বিন্যাস।
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ الْجَهْمِ بْنِ هَارُونَ السِّمَرِيُّ، نا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ. ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، نا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا‌‌ كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ؛ الرَّجُلُ عَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ، وَالْمَرْأَةُ عَنْ أَهْلِ بَيْتِهَا، وَالْعَبْدُ عَنْ مَالِ سَيِّدِهِ، وَالْإِمَامُ رَاعٍ عَلَى النَّاسِ، وَكُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ»
২ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাহম ইবনে হারুন আস-সিমারি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়ালা ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে দুহাইম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাযিম ইবনে আবি গারাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়ালা ইবনে উবাইদ, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন রাখাল (দায়িত্বশীল), এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার রাখালি (অধীনস্থদের) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; পুরুষ তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দায়িত্বশীল, নারী তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দায়িত্বশীল, এবং ক্রীতদাস তার মনিবের সম্পদের জন্য দায়িত্বশীল। আর ইমাম (নেতা) মানুষের ওপর একজন রাখাল (দায়িত্বশীল)। তোমাদের প্রত্যেকেই একজন রাখাল (দায়িত্বশীল), এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার রাখালি (অধীনস্থদের) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১১১)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ خَالِدٍ الْمُقْرِئُ الْكُوفِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ الْعَامِرِيُّ، أَخُو الْحَسَنِ، نا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، ثنا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«خَيْرُ الدُّعَاءِ يَوْمُ عَرَفَةَ، وَخَيْرُ مَا جَاءَ بِهِ النَّبِيُّونَ قَبْلِي لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»
৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন খালিদ আল-মুকরি আল-কুফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসানের ভাই মুহাম্মদ বিন আলী বিন আফফান আল-আমিরী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আতিয়্যাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাশার, তিনি মুহাম্মদ বিন কাব থেকে, তিনি আবু বকর বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সর্বোত্তম দুআ হলো আরাফাত দিবসের দুআ, আর আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১১৪)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى الْآدَمِيُّ، نا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، نا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ النَّهْدِيُّ، نا زُهَيْرٌ يَعْنِي ابْنَ مُعَاوِيَةَ، نا عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "‌‌ لَا يَحْقِرَنَّ أَحَدُكُمْ يَرَى أَمْرًا لِلَّهِ فِيهِ مَقَالٌ أَنْ يَقُولَ فِيهِ، فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيَقُولُ: مَا مَنَعَكَ إِذَا رَأَيْتَ كَذَا وَكَذَا أَلَّا تَقُولَ؟ فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ، خِفْتُ. فَيَقُولُ: إِيَّايَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخَافَ "
৪ - আবুল হুসাইন আহমদ বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া আল-আদামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান মালিক বিন ইসমাইল আন-নাহদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুহাইর —অর্থাৎ ইবনে মুয়াবিয়া— আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর বিন কাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবুল বাখতারি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করেছেন (মারফু), তিনি বলেছেন: "‌‌ তোমাদের কেউ যেন নিজেকে তুচ্ছ মনে না করে যখন সে আল্লাহর সন্তুষ্টির এমন কোনো বিষয় দেখে যাতে তার কিছু বলা উচিত ছিল, অথচ সে তা বলেনি। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে পুনরুত্থিত করবেন এবং বলবেন: তুমি যখন অমুক অমুক বিষয় দেখলে তখন কথা বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল? সে বলবে: হে আমার রব, আমি ভয় পেয়েছিলাম। তখন আল্লাহ বলবেন: কেবল আমাকেই ভয় করা তোমার জন্য অধিক সংগত ছিল।"
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১১৮)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، نا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَزَرَةَ، نا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، نا أَبَانُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الصَّبَّاحِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل‌‌ قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُعْطِي الدُّنْيَا مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ، وَلَا يُعْطِي الدِّينَ إِلَّا مَنْ يُحِبُّ، فَمَنْ أَعْطَاهُ اللَّهُ الدِّينَ فَقَدْ أَحَبَّهُ، وَلَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يُسْلِمُ عَبْدٌ حَتَّى يُسْلِمَ - أَوْ يَسْلَمَ - قَلْبُهُ وَلِسَانُهُ، وَلَا يُؤْمِنُ حَتَّى يَأْمَنَ جَارُهُ بَوَائِقَهُ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا بَوَائِقُهُ؟ قَالَ: «غَشْمُهُ وَظُلْمُهُ، وَلَا يَكْسِبُ عَبْدٌ مَالًا حَرَامًا فَيُتَصَدَّقُ مِنْهُ فَيُقْبَلَ مِنْهُ، وَلَا يُنْفِقُ مِنْهُ فَيُبَارَكَ لَهُ فِيهِ، وَلَا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلَّا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ، إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّئِ، وَلَكِنْ يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ، إِنَّ الْخَبِيثَ لَا يَمْحُو الْخَبِيثَ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন দুহাইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন হাযিম ইবন আবু গাযারাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়ালা ইবন উবাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবান ইবন ইসহাক, তিনি সাব্বাহ ইবন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি মুররাহ আল-হামদানী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদের মাঝে তোমাদের চরিত্র বণ্টন করেছেন যেভাবে তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের রিযিক বণ্টন করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা দুনিয়া তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন না, তবে দ্বীন তিনি তাকেই দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন। সুতরাং আল্লাহ যাকে দ্বীন দান করেছেন, তিনি তাকে ভালোবেসেছেন। আর না, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত আত্মসমর্পণকারী হবে না যতক্ষণ না তার অন্তর ও জিহ্বা আত্মসমর্পণ করবে, আর সে মুমিন হবে না যতক্ষণ না তার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ হবে»। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তার অনিষ্ট কী? তিনি বললেন: «তার নিপীড়ন ও যুলুম। আর কোনো বান্দাই হারাম মাল উপার্জন করে তা থেকে সদকা করলে তা কবুল করা হয় না, এবং তা থেকে ব্যয় করলে তাতে বরকত দেওয়া হয় না। আর সে যা কিছু পেছনে রেখে যায়, তা তার জন্য জাহান্নামের পাথেয় হয়। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মন্দকে মন্দ দিয়ে মিটিয়ে দেন না, বরং তিনি মন্দকে ভালো দিয়ে মিটিয়ে দেন। নিশ্চয়ই অপবিত্র বস্তু অপবিত্রতাকে মিটিয়ে দেয় না।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১২০)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ كَامِلِ بْنِ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوْحٍ الْمَدَائِنِيُّ، ثنا سَلَّامُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمَدَائِنِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ، عَنْ زُبَيْدٍ الْيَامِيِّ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعِ بْنِ مَرْزُوقٍ، ثنا جُنَيْدُ بْنُ الْحَكِيمِ، وَصَالِحُ بْنُ مُقَاتِلِ بْنِ صَالِحٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَنَابٍ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهُ‌‌ قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ، وَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يُعْطِي الْمَالَ مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ وَلَا يُعْطِي الْإِيمَانَ إِلَّا مَنْ يُحِبُّ، فَمَنْ ضَنَّ مِنْكُمْ بِالْمَالِ أَنْ يُنْفِقَهُ، وَهَابَ الْعَدُوَّ أَنْ يُجَاهِدَهُ، وَاللَّيْلَ أَنْ يُكَابِدَهُ، فَلْيُكْثِرْ مِنْ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، لَا يَضُرُّكُ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ "
৬ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনে কামিল ইবনে খালাফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে রাওহ আল-মাদায়িনী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সালাম ইবনে সুলায়মান আল-মাদায়িনী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে তালহা বর্ণনা করেছেন, জুবাইদ আল-ইয়ামী থেকে বর্ণিত, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। (তদ্রূপ) আমাদের নিকট আবদুল বাকি ইবনে কানি‘ ইবনে মারজুক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জুনাইদ ইবনুল হাকিম এবং সালিহ ইবনে মুকাতিল ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে জানাব আল-মিসসিসি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণিত, তিনি জুবাইদ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের মাঝে তোমাদের চরিত্রসমূহ বণ্টন করেছেন যেভাবে তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের রিজিক বণ্টন করেছেন। আর নিশ্চয়ই মহামহিম আল্লাহ সম্পদ তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেও যাকে তিনি ভালোবাসেন না; এবং তিনি ঈমান কেবল তাকেই দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সম্পদ ব্যয় করতে কৃপণতা বোধ করে, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করতে ভয় পায় এবং রাতের কষ্ট সহ্য করতে (ইবাদতে বিনিদ্র থাকতে) আতঙ্ক বোধ করে, সে যেন এই বাক্যগুলো অধিকহারে পাঠ করে: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার। তুমি এগুলোর যেটি দিয়েই শুরু করো না কেন, তাতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না।"
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১২২)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ بْنِ الْحَسَنِ النِّجَادُ، نا أَحْمَدُ بْنُ الْخَلِيلِ بْنِ ثَابِتٍ الْبُرْجُلَانِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَاقِدِيُّ، نا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَمْلُونِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، سَمِعَهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ أَوْلَى النَّاسِ بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ الَّذِي بَدَأَهُمْ بِالسَّلَامِ»
৭ - আমাদের নিকট আবু বকর আহমদ বিন সালমান বিন আল-হাসান আন-নাজ্জাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমদ বিন আল-খলীল বিন সাবিত আল-বুরজুলানী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুয়াবিয়া বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-আমলুনী থেকে, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য সেই ব্যক্তি, যে তাদের আগে সালাম প্রদান করে।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১২৪)
8 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَالِكٍ الْإِسْكَافِيُّ، ثنا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنِ اطَّلَعَ فِي بَيْتِ قَوْمٍ قَبْلَ أَنْ يَأْذَنُوا لَهُ فَقَدْ حَلَّ لَهُمْ أَنْ يَفْقَؤُوا عَيْنَهُ»
৮ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মালিক আল-ইস্কাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হারিস ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলি ইবনে আসিম বর্ণনা করেছেন সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের ঘরে তাদের অনুমতি প্রদানের পূর্বেই উঁকি দিল, তাদের জন্য তার চোখ ফুঁড়ে দেওয়া বৈধ হয়ে গেল।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১২৬)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، نا مُوسَى بْنُ سَهْلِ بْنِ كَثِيرٍ، نا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ‌‌ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَيُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ "
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে সাহল ইবনে কাসির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ, আইয়ুব আল-সিখতিয়ানি থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই প্রতিকৃতি তৈরিকারীদের কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং তাদের বলা হবে: তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তাতে প্রাণ সঞ্চার করো।"
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৩১)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ النَّقَّاشُ الْمُقْرِئُ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَاسَوَيْهِ الْمَرْوَزِيُّ، نا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ أَبُو الْفَضْلِ الْمَرْوَزِيُّ، نا عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ دِينَارٍ الصَّايِغُ، نا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا عَادَ مَرِيضًا يَقُولُ: ‌‌«أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شَافِيَ إِلَّا أَنْتَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا»
১০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আন-নাক্কাশ আল-মুকরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাসাওয়াইহি আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ ইবনে নাসর আবুল ফজল আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল কাবীর ইবনে দীনার আস-সায়িগ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক, হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন তখন বলতেন: «হে মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদানকারী, আপনি ব্যতীত কোনো আরোগ্যদানকারী নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এমন আরোগ্য প্রার্থনা করছি যা অবশিষ্ট রাখবে না কোনো রোগ।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّقَطِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْحَارِثِ الْوَاسِطِيُّ، نا يَحْيَى بْنِ حَمَّادٍ، نا أَبُو مُسْلِمٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، رضي الله عنه قَالَ: "‌‌ إِنَّ كُنَّا لَنُطْرَدُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نُصَلِّيَ بَيْنَ السَّارِيَتَيْنِ إِلَّا أَنْ نُلْجَأَ إِلَيْهَا؟ . وَأَبُو مُسْلِمٍ الَّذِي يَرْوِي عَنْهُ يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ هَذَا الْحَدِيثَ هُوَ هَارُونُ بْنُ مُسْلِمٍ الْبَصْرِيُّ، رَوَى عَنْهُ صُغْدِيُّ بْنُ سِنَانٍ هَذَا الْحَدِيثِ
১১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল খালিক বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আস-সাকতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আল-হারিস আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি মুয়াবিয়াহ বিন কুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "‌‌ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আমাদেরকে দুই স্তম্ভের মাঝখানে সালাত আদায় করা হতে সরিয়ে দেওয়া হতো, তবে যদি আমরা সেখানে বাধ্য হতাম (তবে ভিন্ন কথা)। । আর আবু মুসলিম, যাঁর থেকে ইয়াহইয়া বিন হাম্মাদ এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন হারুন বিন মুসলিম আল-বাসরি; সুগদি বিন সিনানও তাঁর থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّرِيِّ الْكُوفِيُّ، نا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ صُبَيْحٍ الْيَشْكُرِيُّ قَالَ: وَجَدْتُ فِي كِتَابِ جَدِّي إِسْمَاعِيلَ بْنِ صُبَيْحٍ: حَدَّثَنَا أَبُو مَرْيَمَ يَعْنِي عَبْدَ الْغَفَّارِ بْنَ الْقَاسِمِ، نا أَبُو إِسْحَاقَ يَعْنِي السَّبِيعِيَّ، حَدَّثَنِي الْأَغَرُّ سَلْمَانُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يُنَادِي مُنَادٍ:‌‌ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ، تَخْلُدُونَ فَلَا تَمُوتُونَ أَبَدًا، وَتَصِحُّونَ فَلَا تَمْرَضُونَ أَبَدًا، وَتَشِبُّونَ فَلَا تَهْرَمُونَ أَبَدًا، وَتَنْعَمُونَ فَلَا تَبْأَسُونَ أَبَدًا "
১২ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সারী আল-কুফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে ইসমাইল ইবনে সুবাইহ আল-ইয়াশকরী বলেছেন: আমি আমার দাদা ইসমাইল ইবনে সুবাইহ-এর কিতাবে পেয়েছি: আবু মারিয়াম অর্থাৎ আব্দুল গাফফার ইবনে আল-কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক অর্থাৎ আস-সাবিয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আগারর সালমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আল-খুদরী ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন: হে জান্নাতবাসী, তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, কখনও মৃত্যুবরণ করবে না; তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনও অসুস্থ হবে না; তোমরা চিরকাল যুবক থাকবে, কখনও জরাগ্রস্ত হবে না এবং তোমরা সর্বদা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনও দুঃখ-কষ্টে পতিত হবে না।"
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ الْمَغَازِلِيُّ، نا أَبُو غَسَّانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْقَلْزَمِيُّ، نا أَبِي نا سَيْفُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَكْتَحِلُ كُلَّ لَيْلَةٍ، وَيَحْتَجِمُ كُلَّ شَهْرٍ، وَيَشْرَبُ الدَّوَاءَ فِي كُلِّ سِمَّةٍ
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন শাযান আল-মাগাযিলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু গাসসান আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কালযামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাইফ বিন মুহাম্মদ, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি রাতে সুরমা লাগাতেন, প্রতি মাসে হিজামা করাতেন এবং প্রতি বছর ঔষধ পান করতেন।
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
14 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْكَاتِبُ، أنا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عُثْمَانَ الْخَرَّازُ، حَدَّثَنَا أَبِي، نا حُصَيْنُ بْنُ مُخَارِقٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ الْعَنْبَرِيِّ، عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ هَلَاكُ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِذَا بَغَتْ نِسَاؤُهَا وَرِجَالُهَا، وَاسْتُخِفَ بِالْقُرْآنِ، وَكَانَ النِّكَاحُ زِنًى: يُطَلِّقُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ، ثُمَّ يُرَاجِعُهَا فِيهِ، وَيَنْكِحُهَا فِيمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ بِلَا شَاهِدٍ وَلَا وَلِيٍّ وَلَا مَهْرٍ إِلَّا شِبْهَ الْكَرَى، وَكَانَتِ الْأَمَانَةُ خِيَانَةً، وَاتَّخَذَ النَّاسُ الزَّكَاةَ مَغْرَمًا، وَالْفَيْءَ مَغْنَمًا، فَذَلِكَ اقْتِرَابُ السَّاعَةِ "
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাতিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে সাঈদ ইবনে উসমান আল-খাররায, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে মুখারিক, উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-বাসরি আল-আনবারি থেকে, তিনি আবু হারুন আল-আবদি থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মতের ধ্বংস তখনই হবে যখন এর নারী ও পুরুষেরা অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে, কুরআনকে তুচ্ছ জ্ঞান করা হবে এবং বিবাহ হবে যিনার মতো: কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিবে, এরপর সে তাকে (অবৈধভাবে) ফিরিয়ে নিবে, এবং সে নিজের ও তার মাঝে কোনো সাক্ষী, অভিভাবক এবং মোহরানা ব্যতীত কেবল ভাড়ার বিনিময়ে বিবাহ করবে; আর আমানতকে খেয়ানত করা হবে, মানুষ যাকাতকে জরিমানা হিসেবে গ্রহণ করবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদকে লুণ্ঠিত মাল হিসেবে গণ্য করবে; আর তা-ই হলো কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার নিদর্শন।"
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
15 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ بْنِ الْحَسَنِ، نا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا، نا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ صَفْوَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ، إِذَا قَعَدَ فِي مَجْلِسٍ قَالَ: «اللَّهُمَّ،‌‌ لَكَ الْحَمْدُ لِمَا بَسَطْتَ رِزْقَنَا، وَأَظْهَرْتَ أَمْنَنَا، وَأَحْسَنْتَ مُعَافَاتِنَا، وَمِنْ كُلِّ مَا سَأَلْنَاكَ أَعْطَيْتَنَا، فَلَكَ الْحَمْدُ بِالْإِسْلَامِ، وَلَكَ الْحَمْدُ بِالْأَهْلِ، وَالْمَالِ، وَلَكَ الْحَمْدُ بِالْيَقِينِ وَالْعَافِيَةِ»
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন সালমান ইবনুল হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবিদ দুনিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহিদ ইবন সাফওয়ান, তিনি বলেন: আমি হাসানকে শুনেছি, যখন তিনি কোনো মজলিসে বসতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা, যেহেতু আপনি আমাদের রিজিক প্রশস্ত করেছেন, আমাদের নিরাপত্তাকে প্রকাশ করেছেন, আমাদের সুস্থতাকে সুন্দর করেছেন এবং আপনার নিকট আমরা যা কিছু চেয়েছি তার সবই আপনি আমাদের দান করেছেন। অতএব ইসলামের জন্য আপনারই সকল প্রশংসা, পরিবার ও সম্পদের জন্য আপনারই সকল প্রশংসা এবং ইয়াকিন ও আফিয়াতের জন্য আপনারই সকল প্রশংসা।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৫০)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا، قَالَ: أَنْشِدْنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيٍّ:

[البحر السريع]

 

‌‌نُودِيَ بِصَوْتٍ أَيُّمَا صَوْتِ … مَا أَقْرَبَ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ

كَأَنَّ أَهْلَ الْغَيِّ فِي غَيِّهِمْ … قَدْ أَخَذُوا أَمْنًا مِنَ
الْمَوْتِ

كَمْ مُصْبِحٍ يَعْمُرُ بَيْتًا لَهُ … لَمْ يُمْسِ إِلَّا خَرِبَ الْبَيْتِ

هَذَا وَكَمْ حَيٍّ بَكَى مَيِّتًا … فَأَصْبَحَ الْحَيُّ مِنَ الْمَيْتِ
১৬ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম আল-হাশিমী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আলী আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

[সারি’ ছন্দ]

 

‌‌এক উচ্চ ধ্বনিতে আহ্বান করা হয়েছে, কী সে এক ধ্বনি! … জীবিত ব্যক্তি মৃতের কতই না নিকটবর্তী!

যেন পথভ্রষ্ট লোকেরা তাদের বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত থেকে … মৃত্যু হতে নিরাপত্তা
লাভ করেছে।

কত প্রভাতকারী নিজের গৃহ আবাদ করে … অথচ সন্ধ্যা হতে না হতেই গৃহটি বিরাণ হয়ে যায়।

তদ্রূপ কত জীবিত ব্যক্তি কোনো মৃতের জন্য রোদন করেছে … অতঃপর সেই জীবিত ব্যক্তি নিজেই মৃতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৫১)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَرْدَوَيْهِ إِمْلَاءً، نا أَبُو أَحْمَدَ إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ خَالِدٍ الْمُقْرِئُ الْكُوفِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ الشَّيْبَانِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْأَسْوَارِيُّ، قَالُوا: ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ بُكَيْرٍ الْعَبْسِيُّ، أنا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، - شَكَّ الْأَعْمَشُ - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ،‌‌ مَنْ لَقِيَ اللَّهَ عز وجل بِهِمَا غَيْرَ شَاكٍ لَمْ يُحْجَبْ عَنِ الْجَنَّةَ»
১৭ - আমাদের নিকট আবু বকর বিন মারদাওয়াই শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আহমাদ ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন খালিদ আল-মুকরি আল-কুফি, মুহাম্মদ বিন আলী বিন দুহাইম আশ-শাইবানি এবং মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-আসওয়ারি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন বুকাইর আল-আবসি বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি' বিন আল-জাররাহ, আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা অথবা আবু সাঈদ থেকে—আ'মাশ এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল; ‌ যে ব্যক্তি কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে এই দুটি সাক্ষ্যসহ মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করা হবে না।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ مَيْمُونُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ الْحَسَنِ الْحَنَفِيُّ وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَا: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ، نا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، رضي الله عنه قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل نَظَرَ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ فَوَجَدَ قَلْبَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ، فَاصْطَفَاهُ لِنَفْسِهِ، وَابْتَعَثَهُ بِرِسَالَتِهِ، ثُمَّ نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ بَعْدَ قَلْبِهِ، فَوَجَدَ قُلُوبَ أَصْحَابِهِ خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ بَعْدَ قَلْبِهِ، فَجَعَلَهُمْ وُزَرَاءَ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، يُقَاتِلُونَ عَلَى دِينِهِ،‌‌ فَمَا رَآهُ الْمُسْلِمُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ حَسَنٌ، وَمَا رَآهُ الْمُسْلِمُونَ سَيِّئًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ سَيِّئٌ»
১৮ - আবু মুহাম্মদ মাইমুন ইবনে ইসহাক ইবনে আল-হাসান আল-হানাফী এবং আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার আল-উতারিদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি যির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। অতঃপর তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। তাই তিনি তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর রিসালাত দিয়ে তাঁকে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর (মুহাম্মদের) অন্তরের পর বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের অন্তরকে তাঁর (মুহাম্মদের) অন্তরের পর বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। তাই তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উযীর (সহকারী) বানিয়েছেন, যাঁরা তাঁর দ্বীনের জন্য যুদ্ধ করেন। সুতরাং মুসলমানরা যা উত্তম মনে করে, আল্লাহর নিকটও তা উত্তম; আর মুসলমানরা যা মন্দ মনে করে, আল্লাহর নিকটও তা মন্দ।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، نا أَبُو الْعَبَّاسِ عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ فَضَا الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زَبَّانَ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ: أَتَيْتُ حُذَيْفَةَ بْنَ أَسِيدٍ الْغِفَارِيَّ رضي الله عنه فَقُلْتُ: لَقَدْ سَمِعْتُ الْيَوْمَ عَجَبًا قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ يَقُولُ: الشَّقِيُّ مَنْ شَقِيَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ، وَالسَّعِيدُ مَنْ وُعِظَ بِغَيْرِهِ. فَأَنْكَرْتُ ذَلِكَ، فَقَالَ: وَمَا تُنْكِرُ مِنْ ذَلِكَ؟ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ‌‌ خَلْقَ أَحَدِكُمْ يُجَمَّعُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ خَمْسَةً وَأَرْبَعِينَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ عز وجل مَلَكًا، فَيَقُولُ: اكْتُبْ أَجَلَهُ، وَرِزْقَهُ، وَعَمَلَهُ، وَشَقِيًّا أَوْ سَعِيدًا، ثُمَّ يُخْتَمُ ذَلِكَ الْكِتَابُ فَلَا يُزَادُ فِيهِ وَلَا يَنْقُصُ مِنْهُ شَيْءٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ "
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস উবাইদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ফাদা আল-জাওহারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বকর ইবন ইয়াহইয়া ইবন যাব্বান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবন মুজাহিদ, তিনি আবু তুফাইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হুজায়ফা ইবন আসীদ আল-গিফারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলাম এবং বললাম: আজ আমি একটি বিস্ময়কর কথা শুনেছি। তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আমি ইবনে উম্মে আবদকে বলতে শুনেছি: "দুর্ভাগা সেই ব্যক্তি যে তার মায়ের পেটেই দুর্ভাগা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, আর সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে অন্যের অবস্থা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।" আমি এটি অস্বীকার করলাম (বা বিস্ময় প্রকাশ করলাম)। তখন তিনি বললেন: তুমি এতে কী অস্বীকার করছ? আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই‌‌ তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি তার মায়ের পেটে পঁয়তাল্লিশ দিন পর্যন্ত একত্রিত করা হয়, তারপর অনুরূপ সময় সে রক্তপিণ্ড হিসেবে থাকে, তারপর অনুরূপ সময় সে মাংসপিণ্ড হিসেবে থাকে, অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন এবং বলেন: তার আয়ু, তার রিযিক, তার আমল এবং সে কি দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান তা লিখে দাও। এরপর সেই লিপিটি মোহর করে দেওয়া হয়; ফলে কিয়ামত পর্যন্ত তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধিও করা হয় না এবং কোনো কিছু হ্রাসও করা হয় না।"
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ سَلَّامٍ السَّوَّاقُ، قَالَا: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، نا إِسْرَائِيلُ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ سِتَّةُ نَفَرٍ، فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:‌‌ اطْرُدْهُمْ لَا يَجْتَرِؤُونَ عَلَيْنَا. قَالَ: وَكُنْتُ أَنَا وَابْنُ مَسْعُودٍ وَرَجُلٌ مِنْ هُذَيْلِ، وَرَجُلَانِ نَسِيتُ أَسْمَاءَهُمَا، فَوَقَعَ فِي نَفْسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقَعَ، فَحَدَّثَ بِهِ نَفْسَهُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ} [الأنعام: 52] وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَنَزَلَتْ: {وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ} [الأنعام: 53] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ، هَذَا أَوْ نَحْوَهُ
২০ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন দুহাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন হাযিম বিন আবি গারাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আবদুল্লাহ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন সাল্লাম আস-সাওয়াক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়ে বলেছেন: উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিকদাম বিন শুরাইহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম এবং আমরা ছিলাম ছয়জন লোক। তখন মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: এদেরকে তাড়িয়ে দিন যাতে তারা আমাদের উপর ধৃষ্টতা দেখাতে না পারে। তিনি (সাদ) বলেন: আমি, ইবনে মাসউদ, হুযাইল গোত্রের একজন লোক এবং আরও দুইজন লোক যাদের নাম আমি ভুলে গিয়েছি; তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনে আল্লাহ যা চাইলেন তা উদিত হলো এবং তিনি মনে মনে তা নিয়ে ভাবছিলেন। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: {আর যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে এবং তাঁর চেহারা কামনা করে, আপনি তাদেরকে তাড়িয়ে দেবেন না} [আল-আনআম: ৫২] এবং নাযিল হলো: {আর এভাবেই আমি তাদের একদলকে অন্য দল দ্বারা পরীক্ষা করেছি} [আল-আনআম: ৫৩] আয়াতের শেষ পর্যন্ত, এটিই বা এর অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৬২)
21 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ دَلِيلٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى الْخَفَّافُ، قَالَا: نا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ الضَّبِّيُّ، نا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، نا أَبِي، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مَنْزِلَنَا غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَخَيْفُ بَنِي كِنَانَةَ بِحَيْثُ تَقَاسَمُوا عَلَى الْكُفْرِ»
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে দালীল এবং আহমাদ ইবনে ঈসা আল-খাফফাফ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইউনুস আদ-দাব্বী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকূব ইবনে ইবরাহীম ইবনে সাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, ইবনে শিহাব হতে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আমাদের অবতরণের স্থান হবে বনী কিনানার 'খায়ফ' উপত্যকা, যেখানে তারা কুফরীর ওপর শপথ গ্রহণ করেছিল।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
22 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ كَامِلِ بْنِ خَلَفٍ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوْحٍ الْمَدَائِنِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَّامُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمَدَائِنِيُّ، نا سَلَّامٌ الطَّوِيلُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، عَنْ عُمَرَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا ابْنَ آدَمَ،‌‌ عِنْدَكَ مَا يَكْفِيكَ فَلِمَ تَطْلُبْ مَا يُطْغِيكَ؟ لَا بِقَلِيلٍ تَقْنَعُ، وَلَا بِكَثِيرٍ تَشْبَعُ، إِذَا أَصْبَحْتَ آمِنًا فِي سِرْبِكَ، مُعَافًى فِي بَدَنِكَ، مَعَكَ قُوتُ يَوْمِكَ، فَعَلَى الدُّنْيَا الْعَفَاءُ»
২২ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনে কামিল ইবনে খালাফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে রাওহ আল-মাদায়িনী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাল্লাম ইবনে সুলাইমান আল-মাদায়িনী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাল্লাম আত-তাবীল বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে রাফে থেকে, তিনি খালিদ ইবনুল মুহাজির থেকে, তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে আদমসন্তান! তোমার নিকট যা পর্যাপ্ত তা তো তোমার কাছে আছেই, তবে কেন তুমি এমন কিছু অন্বেষণ করছ যা তোমাকে উদ্ধত করবে? তুমি অল্পতে তুষ্ট হও না এবং অধিক পেয়েও তৃপ্ত হও না। তুমি যদি তোমার পরিবার-পরিজনের মাঝে নিরাপদ অবস্থায় সকাল করো, তোমার শরীর সুস্থ থাকে এবং তোমার নিকট তোমার দিনের খাবার থাকে, তবে দুনিয়ার অবশিষ্টাংশ মূল্যহীন (তা ধ্বংস হলেও কিছু যায় আসে না)»।
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ وَارَةَ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ رَوْحٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ: مَنْ يُحَرَّمُ عَلَى النَّارِ؟ قَالَ: ‌‌«الْهَيِّنُ اللَّيِّنُ السَّهْلُ الْقَرِيبُ»
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে রাওহ্, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারিস ইবনে উবায়দাহ, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: জাহান্নামের আগুনের জন্য কাকে হারাম করা হয়েছে? তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি নম্র, কোমল, সহজ-সরল এবং (মানুষের) নিকটবর্তী»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৭১)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى الْخَفَّافُ، نا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ الضَّبِّيُّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، نا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، قَالَا: نا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، وَزُبَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهُ‌‌ لَيْسَ شَيْءٌ يُقَرِّبُكُمْ مِنَ النَّارِ وَيُبَاعِدُكُمْ عَنِ الْجَنَّةِ إِلَّا وَقَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ، وَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ شَيْءٍ يُدْنِيكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُكُمْ مِنَ النَّارِ إِلَّا وَقَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ، وَإِنَّ الرُّوحَ الْقُدُسَ نَفَثَ فِي رُوعِي أَنَّهُ لَنْ تَمُوتَ نَفْسٌ حَتَّى يُسْتَوْفَى رِزْقُهَا، فَاتَّقُوا اللَّهَ، وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ، وَلَا يَحْمِلَنَّكُمُ اسْتِبْطَاءُ الرِّزْقِ أَنْ تَطْلُبُوهُ بِمَعَاصِي اللَّهِ عز وجل، فَإِنَّهُ لَا يُدْرَكُ مَا عِنْدَ اللَّهِ إِلَّا بِطَاعَتِهِ»
২৪ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন ঈসা আল-খাফফাফ বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমাদ বিন ইউনুস আদ-দাব্বি থেকে; (অন্য সূত্রে) আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আলী বিন দুহাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমাদ বিন হাযিম বিন আবি গারাযাহ থেকে; তারা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট ইয়ালা বিন উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক বিন উমাইর ও যুবাইদ থেকে, তারা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ এমন কোনো বিষয় নেই যা তোমাদেরকে জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এবং জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কিন্তু আমি তোমাদেরকে তা নিষেধ করেছি। আর এমন কোনো বিষয় নেই যা তোমাদেরকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার নির্দেশ দিয়েছি। আর রূহুল কুদুস (জিবরাঈল) আমার হৃদয়ে এই কথা ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণই তার নির্ধারিত রিযিক পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং রিযিক অন্বেষণে সুন্দর পন্থা অবলম্বন করো। রিযিক প্রাপ্তিতে বিলম্ব যেন তোমাদেরকে আল্লাহর অবাধ্যতার মাধ্যমে তা অন্বেষণ করতে প্ররোচিত না করে। কেননা আল্লাহর নিকট যা রয়েছে, তা কেবল তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমেই লাভ করা সম্ভব।’»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
25 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَسَنِ الْقُرَشِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي الْعَنْبَسِ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كُنَاسَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، رضي الله عنه قَالَ:‌‌ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ عليهما السلام يُشْبِهُهُ
২৫ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আল-হাসান আল-কুরাশী আল-কূফী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনে ইসহাক ইবনে আবিল আনবাস আয-যুহরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে কুনাসাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবনে আবী খালিদ থেকে, তিনি আবু জুহাইফাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:‌‌ আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি এবং হাসান ইবনে আলী (তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর সদৃশ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
26 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى الْآدَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو قِلَابَةَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا عَزْرَةُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«إِذَا أُتِيَ أَحَدُكُمْ بِالطِّيبِ فَلْيُصِبْ مِنْهُ»
২৬ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-আদামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু কিলাবাহ আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আর-রাকাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আজরাহ ইবনে সাবিত আল-আনসারি বর্ণনা করেছেন সুমামাহ ইবনে আনাস থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «তোমাদের কারো নিকট সুগন্ধি আনা হলে সে যেন তা ব্যবহার করে»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
27 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، نا أَبُو الْوَلِيدِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بُرْدٍ الْأَنْطَاكِيُّ، نا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحُنَيْنِيُّ، قَالَ: ذَكَرَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَحْلَاءَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَحَبُّ بُيُوتِكُمْ إِلَى اللَّهِ عز وجل بَيْتٌ فِيهِ يَتِيمٌ مُكْرَمٌ»
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন বুরদ আল-আনতাকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হুনাইনি, তিনি বলেন: মালিক বিন আনাস উল্লেখ করেছেন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন তাহলা থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের ঘরগুলোর মধ্যে মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সেই ঘর, যাতে কোনো সম্মানিত এতিম রয়েছে।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৮১)
28 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّرِيِّ التَّمِيمِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُنْذِرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُنْذِرُ، نا أَبِي، حَدَّثَنَا عَمِّي الْحُسَيْنُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْجَهْمِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مِهْرَانَ أَبُو أَيُّوبَ الْإِفْرِيقِيُّ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ: ‌‌«لَا تَجُوزُ شِهَادَةُ خَائِنٍ وَلَا خَائِنَةٍ، وَلَا ذِي غِمْرٍ عَلَى أَخِيهِ، وَلَا مَوْقُوفًا عَلَى حَدٍّ»
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সারী আত-তামিমি আল-কুফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুনজির ইবনে মুহাম্মদ আল-মুনজির, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার চাচা আল-হুসাইন ইবনে সাঈদ ইবনে আবিল জাহম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে মিহরান আবু আইয়ুব আল-ইফ্রিকি, তিনি আল-মুসান্না ইবনে আস-সাব্বাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: «কোনো বিশ্বাসঘাতক পুরুষ বা কোনো বিশ্বাসঘাতক মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, এবং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষ পোষণকারীর সাক্ষ্যও নয়, আর যে ব্যক্তির ওপর শরয়ী দণ্ডবিধি (হদ) কার্যকর হওয়া অবধারিত তার সাক্ষ্যও নয়।»
(খণ্ড: ১) সালাসাতু মাজালিসা মিন আমালি ইবনি মারদুওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
29 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْهَمَذَانِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْهَمَذَانِيُّ، نا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ الْفَرْوِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَزْمِيِّ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ سِتَّةٌ لَعَنْتُهُمْ؛ فَلَعَنَهُمُ اللَّهُ، وَكُلُّ نَبِيٍّ مُجَابُ الدَّعْوَةِ: الْمُكَذِّبُ بِقَدَرِ اللَّهِ، وَالزَّائِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ، وَالْمُتَسَلِّطُ بِالْجَبَرُوتِ يَذِلُّ مَنْ أَعَزَّ اللَّهُ، وَيُعِزُّ مَنْ أَذَلَّ اللَّهُ، وَالْمُسْتَحِلُّ بِحُرَمِ اللَّهِ، وَالتَّارِكُ لِسُنَّتِي، وَالْمُسْتَحِلُّ مِنْ عِتْرَتِي مَا حَرَّمَ اللَّهُ "
২৯ - আব্দুর রহমান ইবনুল হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ আল-হামাদানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনুল হুসাইন আল-হামাদানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফারওয়ি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে আবিল মাওয়াল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাযমি থেকে, তিনি আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "‌‌ ছয় ব্যক্তিকে আমি লানত করি; আল্লাহও তাদের লানত করেন এবং প্রত্যেক নবি যার দুআ কবুল করা হয় (তারাও লানত করেন): আল্লাহর তাকদির অস্বীকারকারী, আল্লাহর কিতাবে সংযোজনকারী, দাপটের সাথে আধিপত্য বিস্তারকারী—যে তাকে লাঞ্ছিত করে যাকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন এবং তাকে সম্মানিত করে যাকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করেছেন, আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে হালাল গণ্যকারী, আমার সুন্নাত বর্জনকারী এবং আমার বংশধরের ব্যাপারে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল গণ্যকারী।"