(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: -)
المطر والرعد والبرق لابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: المطر والرعد والبرق
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
تحقيق وتخريج: طارق محمد سكلوع العمودي
دار النشر: دار ابن الجوزي، الدمام - السعودية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 167
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনু আবিদ দুনিয়ার বৃষ্টি, মেঘের গর্জন ও বিদ্যুৎ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: বৃষ্টি, মেঘের গর্জন ও বিদ্যুৎ
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কায়স আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনু আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
তাহকিক ও তাখরিজ: তারিক মুহাম্মদ সাকলু আল-আমূদি
প্রকাশনী: দার ইবনুল জাওজি, দাম্মাম - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৭
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাহতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
بَابُ الْمَطَرِ
বৃষ্টির অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ ثَانِي جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْحُسَيْنِ عَاصِمُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَاصِمٍ الْعَاصِمِيُّ إِجَازَةً قَالَ: أنا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدِّلُ قَالَ: أنا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَرْذَعِيُّ قَالَ: أنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْقُرَشِيُّ،
1 - نا أَبُو حَفْصٍ الصَّفَّارُ أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ، نا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، نا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: أَصَابَنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَطَرٌ، فَحَسَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ثَوْبِهِ حَتَّى أَصَابَهُ مِنَ الْمَطَرِ، قَالَ: فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لِمَا صَنَعْتَ هَذَا؟ قَالَ: «إِنَّهُ حَدِيثُ عَهْدٍ بِرَبِّهِ عز وجل»
শেখ ইমাম আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল বাকি ইবন আহমদ ইবন সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি তাঁর নিকট পাঠকালে, দিনটি ছিল বুধবার, ৫৬৩ হিজরি সনের ২রা জুমাদাল উলা; আমি তাঁকে বললাম: আবুল হুসাইন আসিম ইবনুল হাসান ইবন আসিম আল-আসিমি কি আপনাদের ইজাজাত সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বললেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বিশরান আল-মুআদ্দিল। তিনি বললেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবন সাফওয়ান ইবন ইসহাক ইবন ইব্রাহিম আল-বারযাঈ। তিনি বললেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন উবাইদ আল-কুরাশি,
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস আস-সাফফার আহমদ ইবন হুমাইদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফার ইবন সুলাইমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাবিত, আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম তখন আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পোশাকের অংশ সরিয়ে দিলেন যাতে তাঁর দেহে বৃষ্টির পানি লাগে। তিনি বলেন: আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কেন এমন করলেন? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এটি তার রবের পক্ষ থেকে সদ্য আগত»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، نا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمِيرَةَ، عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ: كُنْتُ بِالْبَطْحَاءِ فِي عِصَابَةٍ وَمَعَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَرَّتْ بِهِ سَحَابَةٌ، فَنَظَرَ إِلَيْهَا فَقَالَ: «مَا تُسَمُّونَ هَذِهِ؟» قَالُوا: السَّحَابُ، قَالَ: «وَالْمُزْنُ» قَالُوا: وَالْمُزْنُ، قَالَ: «وَالْعَنَانُ» قَالَ: «فَهَلْ تَدْرُونَ بُعْدَ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ؟» قَالُوا: لَا نَدْرِي، قَالَ: «فَإِنَّ بُعْدَ مَا بَيْنَهُمَا إِمَّا وَاحِدٌ، أَوِ اثْنَانِ، أَوْ ثَلَاثَةٌ وَسَبْعُونَ عَامًا، ثُمَّ السَّمَاءُ فَوْقَهَا كَذَلِكَ» ، حَتَّى عَدَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ، «ثُمَّ فَوْقَ السَّابِعِ بَحْرُ مَاءٍ، بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلَاهُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ، ثُمَّ فَوْقَ ذَلِكَ ثَمَانِيَةُ أَوْعَالٍ، بَيْنَ أَظْلَافِهِنَّ وَرُكَبِهِنَّ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ، ثُمَّ عَلَى ظُهُورِهِنَّ الْعَرْشُ، بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلَاهُ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ، ثُمَّ اللَّهُ تبارك وتعالى فَوْقَ ذَلِكَ»
২ - মুহাম্মদ ইবনে সাবাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ওয়ালিদ ইবনে আবি সাওর আল-হামদানি থেকে, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমিরা থেকে, তিনি আহনাফ ইবনে কাইস থেকে, তিনি আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি একদল লোকের সাথে বাতহা নামক স্থানে ছিলাম এবং তাঁদের সাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন। তখন তাঁর ওপর দিয়ে একটি মেঘখণ্ড অতিক্রম করল। তিনি সেটির দিকে তাকিয়ে বললেন: «তোমরা একে কী বলো?» তারা বলল: মেঘ (আস-সাহাব)। তিনি বললেন: «এবং আল-মুজন (বৃষ্টির মেঘ)?» তারা বলল: এবং আল-মুজন। তিনি বললেন: «এবং আল-আনান (আকাশের মেঘ)?» তিনি বললেন: «তোমরা কি জানো আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্ব কতটুকু?» তারা বলল: আমরা জানি না। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এ দুয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক, দুই অথবা তেহাত্তর বছরের পথ। তারপর তার ওপরের আসমানটিও অনুরূপ দূরত্বে»—এভাবে তিনি সাত আসমান পর্যন্ত গণনা করলেন। «অতঃপর সপ্তম আসমানের ওপর পানির একটি সমুদ্র রয়েছে, যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। তারপর তার ওপর আটটি পাহাড়ি ছাগল (সদৃশ ফেরেশতা) রয়েছে, যাদের খুর ও হাঁটুর মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। তারপর তাদের পিঠের ওপর রয়েছে আরশ, যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তার উপরে রয়েছেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
3 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشِ بْنِ الْعَجْلَانَ، نا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، عَنْ عَبْدَةَ ابْنَةِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِيهَا، قَالَ: " الْمَطَرُ يَنْزِلُ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ إِلَى سَمَاءٍ سَمَاءٍ، حَتَّى يَأْتِيَ سَمَاءَ الدُّنْيَا، فَيُجْمَعُ فِي مَوْضِعٍ يُقَالُ لَهُ: الْإِبْرَمُ، ثُمَّ تَجِيءُ السَّحَابَةُ السَّوْدَاءُ فَيَدْخُلُ فِيهَا فَتُنَشِّفُهُ، ثُمَّ يُصَرِّفُهُ اللَّهُ عز وجل حَيْثُ يَشَاءُ "
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন খিদাশ বিন আল-আজলান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন বকর, খালিদের কন্যা আবদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আরশের নিচ থেকে বৃষ্টি প্রতিটি আকাশ অতিক্রম করে অবতীর্ণ হয়, যতক্ষণ না তা দুনিয়ার আকাশে পৌঁছে। এরপর তা 'আল-ইবরাম' নামক এক স্থানে একত্রিত হয়। অতঃপর কালো মেঘ আসে এবং বৃষ্টি তাতে প্রবেশ করে ও মেঘ তা শুষে নেয়। তারপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা একে যেখানে ইচ্ছা পরিচালিত করেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
4 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ الْمَرْوَزِيُّ، نا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، أنا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، نا عِلْبَاءُ بْنُ أَحْمَرَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: «يُنْزِلُ اللَّهُ عز وجل الْمَاءَ مِنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ فَتَقَعُ الْقَطْرَةُ مِنْهُ عَلَى السَّحَابَةِ مِثْلَ الْبَعِيرِ»
4 - মাহমুদ ইবনে গাইলান আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইলবা ইবনে আহমার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইকরিমাহ থেকে, তিনি বলেন: «মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সপ্তম আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর মেঘের ওপর তার একেকটি ফোঁটা উটের ন্যায় পতিত হয়।»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، نا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ مُعَاذٍ - قَالَ أَبُو بَكْرٍ: هَذَا مُعَاذُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ - قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ لِتَبِيعٍ: سَمِعْتَ كعبًا يَقُولُ فِي السَّحَابِ شَيْئًا؟ قَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «السَّحَابُ غِرْبَالُ الْمَطَرِ، وَلَوْلَا السُّحُبُ لَأُفْسِدَ مَا يَقَعُ عَلَى الْأَرْضِ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ আল-হাফারী, সুফইয়ান থেকে, উসামা ইবনে যায়িদ থেকে, মুআয থেকে - আবু বকর বলেন: ইনি হলেন মুআয ইবনে আব্দুল্লাহ - তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে তাবী’র উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি: আপনি কি কাবকে মেঘমালা সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: «মেঘমালা হলো বৃষ্টির চালনী; যদি মেঘ না থাকত, তবে পৃথিবীতে যা পতিত হয় তা সবকিছু ধ্বংস করে দিত»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
6 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، نا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي عَبْدَةُ بِنْتُ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ أَبِيهَا، قَالَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً تُثِيرُ السَّحَابَ، فَمَا كَانَ مِنْهُ أَسْوَدَ فَهِيَ الثَّمَرَةُ الَّتِي قَدْ نَضِجَتْ، وَهِيَ الَّتِي تُمْطِرُ، وَمَا كَانَ مِنْهُ أَبْيَضَ، فَهِيَ الثَّمَرَةُ الَّتِي لَا تَنْضُجُ، وَهِيَ الَّتِي لَا تُمْطِرُ»
৬ - আমাদের নিকট খালিদ ইবনে খিদাস বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বিশর ইবনে বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবদাহ বিনতে খালিদ ইবনে মাদান বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে যা মেঘমালা সঞ্চার করে। সুতরাং সেই মেঘের যা কিছু কালো, তা হলো সেই ফল যা পরিপক্ক হয়েছে এবং তা-ই বৃষ্টি বর্ষণ করে। আর যা কিছু সাদা, তা হলো সেই ফল যা পরিপক্ক হয়নি এবং তা বৃষ্টি বর্ষণ করে না।»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
7 - حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ وَغَيْرُهُ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمَّانِيِّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «إِذَا جَاءَ الْقَطْرُ مِنَ السَّمَاءِ تَفَتَّحَتْ لَهُ الْأَصْدَافُ فَكَانَ لُؤْلُؤًا»
৭ - জিয়াদ বিন আইয়ুব এবং অন্যান্যরা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল রহমান আল-হিমমানি থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজি থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “যখন আসমান থেকে বৃষ্টির ফোঁটা পতিত হয়, তখন ঝিনুকগুলো তার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং তা মুক্তায় পরিণত হয়।”
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
8 - حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ التَّمِيمِيُّ، نا أَبِي، حَدَّثَنِي الْجُمَحِيُّ، عَنْ شَيْخٍ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: «الْمَطَرُ ⦗ص: 55⦘ مِزَاجُهُ مِنَ الْجَنَّةِ، فَإِذَا كَثُرَ الْمِزَاجُ عَظُمَتِ الْبَرَكَةُ، وَإِنْ قَلَّ الْمَطَرُ، وَإِذَا قَلَّ الْمِزَاجُ قَلَّتِ الْبَرَكَةُ وَإِنْ كَثُرَ الْمَطَرُ»
৮ - সাওয়ার ইবন আবদুল্লাহ আবু আবদুল্লাহ আত-তামীমী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-জুমাহী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মক্কার অধিবাসী জনৈক শায়খ থেকে বর্ণিত, ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «বৃষ্টির ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ মিশ্রণ জান্নাত থেকে আসে। সুতরাং যখন মিশ্রণ অধিক হয়, তখন বরকত বৃদ্ধি পায় যদিও বৃষ্টি কম হয়; আর যখন মিশ্রণ কম হয়, তখন বরকত কমে যায় যদিও বৃষ্টি অধিক হয়।»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَضَّاحِ الْأَزْدِيُّ، نا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ هَانِئٍ، عَنْ تَبِيعٍ، عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: «الْمَطَرُ زَوْجُ الْأَرْضِ، أَلَا تَرَى الْمَرْأَةَ تَكُونُ قَشِفَةً فَإِذَا جَاءَ زَوْجُهَا تَخَضَّبَتْ وَاكْتَحَلَتْ، كَذَلِكَ الْأَرْضُ تَكُونُ مُغْبَرَّةً فَإِذَا جَاءَ الْمَطَرُ اهْتَزَّتْ، وَرَبَتْ، وَأَنْبَتَتْ»
9 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়াদ্দাহ আল-আজদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান, সুফিয়ান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে হানি থেকে, তিনি তাবি‘ থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «বৃষ্টি হলো জমিনের স্বামী। তুমি কি দেখ না যে, নারী মলিন ও রুক্ষ অবস্থায় থাকে, অতঃপর যখন তার স্বামী আসে তখন সে নিজেকে রঞ্জিত করে এবং চোখে সুরমা লাগায়; তদ্রূপ জমিনও ধূলিধূসরিত থাকে, অতঃপর যখন বৃষ্টি আসে তখন তা সজীব হয়ে ওঠে, স্ফীত হয় এবং উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
10 - حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، نا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ الْأَسَدِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ: {وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَرٍ مَعْلُومٍ} [الحجر: 21] قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّهُ يَنْزِلُ مَعَ الْمَطَرِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ أَكْثَرُ مِنْ وَلَدِ آدَمَ عليه السلام، وَوَلَدِ إِبْلِيسَ، يُحْصُونَ كُلَّ قَطْرَةٍ، وَأَيْنَ تَقَعُ، وَمَنْ يَرْزُقُ ذَلِكَ النَّبَاتَ "
১০ - আমাদের নিকট ফুযাইল ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি হুশাইম থেকে, তিনি ইসমাঈল ইবনে সালিম আল-আসাদি থেকে, তিনি আল-হাকাম থেকে বর্ণনা করেন: {এবং আমি তা একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ ব্যতিরেকে নাযিল করি না} [হিজর: ২১] তিনি বলেন: আমার নিকট পৌঁছেছে যে, বৃষ্টির সাথে আদম আলাইহিস সালামের সন্তান এবং ইবলিসের সন্তানের চাইতেও অধিক সংখ্যক ফেরেশতা অবতীর্ণ হন; তারা প্রতিটি ফোঁটা, তা কোথায় পড়ছে এবং সেই উদ্ভিদ দ্বারা কার রিযিক হবে—তা গণনা করে রাখেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
11 - حَدَّثَنَا فُضَيْلٌ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْجَلِيلِ، عَنْ شَهْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «مَا نَزَلَتْ قَطْرَةٌ إِلَّا بِمِيزَانٍ إِلَّا زَمَانَ نُوحٍ عليه السلام»
১১ - আমাদের নিকট ফুযাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবন যায়িদ বর্ণনা করেছেন আব্দুল জলীল থেকে, তিনি শাহর থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সময়কাল ব্যতীত বৃষ্টির কোনো ফোঁটাই একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ ছাড়া বর্ষিত হয়নি।»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
12 - حَدَّثَنِي أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيِّ، عَنْ مُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " كَانُوا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمِ دَجْنٍ، فَقَالَ: «كَيْفَ تَرَوْنَ بَوَاسِقَهَا؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَحْسَنَهَا وَأَشَدَّ تَرَاكُمَهَا، قَالَ: «كَيْفَ تَرَوْنَ قَوَاعِدَهَا؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَحْسَنَهَا ⦗ص: 57⦘ وَأَشَدَّ تَمَكُنَّهَا، قَالَ: «كَيْفَ تَرَوْنَ رَحَاهَا اسْتَدَارَتْ؟» قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَحْسَنَهَا وَأَشَدَّ اسْتِدَارَتَهَا، قَالَ: «كَيْفَ تَرَوْنَ جَوْنَهَا؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَحْسَنَهُ وَأَشَدَّ سَوَادَهُ، قَالَ: «كَيْفَ تَرَوْنَ بَرْقَهَا، أَخَفْوًا، أَمْ وَمِيضًا، أَمْ يَشُقُّ شَقًّا؟» قَالُوا: بَلْ يَشُقُّ شَقًّا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَيَا» ، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَفْصَحَكَ، مَا رَأَيْتُ الَّذِيَ هُوَ أَعْرَبَ مِنْكَ فَقَالَ: «حُقَّ لِي، وَإِنَّمَا أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى لِسَانِي بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ»
১২ - আবু আল-হাসান আহমাদ বিন আবদিল আলা আশ-শায়বানি আমাকে বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ বিন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবি থেকে, তিনি মুসা বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তারা এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন: «তোমরা এর উঁচু অংশগুলোকে কেমন দেখছো?» তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, এগুলো কতই না সুন্দর এবং কত নিবিড়ভাবে পুঞ্জীভূত! তিনি বললেন: «তোমরা এর ভিত্তিগুলোকে কেমন দেখছো?» তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, এগুলো কতই না সুন্দর ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ এবং কত সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে! তিনি বললেন: «তোমরা এর মধ্যভাগকে কেমন দেখছো, তা কি গোলাকার হয়েছে?» তারা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল, এটি কতই না সুন্দর এবং কত নিখুঁতভাবে গোলাকার! তিনি বললেন: «তোমরা এর কৃষ্ণতাকে কেমন দেখছো?» তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, এটি কতই না সুন্দর এবং এর কালো রঙ কতই না গভীর! তিনি বললেন: «তোমরা এর বিদ্যুৎ চমকানোকে কেমন দেখছো? তা কি মৃদু চমক, নাকি ক্ষণস্থায়ী আভা, নাকি তা আকাশ বিদীর্ণ করে ফেটে পড়ছে?» তারা বললেন: বরং তা প্রবলভাবে বিদীর্ণ করে ফেটে পড়ছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «এটি জীবনদায়িনী বৃষ্টি»। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কতই না প্রাঞ্জলভাষী! আমি আপনার চেয়ে অধিক শুদ্ধভাষী আর কাউকে দেখিনি। তিনি বললেন: «এটা আমার জন্য সমীচীনই বটে, কেননা কুরআন আমার ভাষায় সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় নাযিল করা হয়েছে»।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
13 - حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عُمَرَ بْنِ خَالِدٍ الرَّقِّيُّ، نا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، نا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: " أَتَى بِيَ الْحَجَّاجُ مُوثَقًا، فَإِنِّي لَعِنْدَهُ إِذَ جَاءَ الْحَاجِبُ فَقَالَ: إِنَّ بِالْبَابِ رُسُلًا، فَقَالَ: ائْذَنْ، فَدَخَلُوا، وَعَمَائِمُهُمْ عَلَى أَوْسَاطِهِمْ، وَسُيُوفُهُمْ عَلَى عَوَاتِقِهِمْ، وَكُتُبُهُمْ بِأَيْمَانِهِمْ، فَدَخَلَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ يُقَالُ لَهُ سِيَابَةُ بْنُ عَاصِمٍ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ؟ قَالَ: مِنَ الشَّامِ. قَالَ: كَيْفَ تَرَكْتَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ كَيْفَ حَشَمُهُ؟ فَأَخْبَرَهُ، قَالَ: هَلْ كَانَ وَرَاءَكَ مِنْ غَيْثٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، أَصَابَتْنِي فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، ثَلَاثُ سَحَائِبَ، قَالَ: فَانْعَتْ لِي كَيْفَ كَانَ وَقْعُ الْمَطَرُ؟ وَكَيْفَ كَانَ أَثَرُهُ ⦗ص: 59⦘ وَتَبَاشِيرُهُ؟ قَالَ: أَصَابَتْنِي سَحَابَةٌ بِحُورَانَ، فَوَقَعَ قَطْرٌ صِغَارٌ وَقَطْرٌ كِبَارٌ، فَكَانَ الصِّغَرُ لُحْمَةً لِلْكِبَارِ، وَوَقْعٌ بَسِيطٌ مُتَدَارَكٌ وَهُوَ السَّحُّ الَّذِي سَمِعْتَ بِهَ، فَوَادٍ سَائِلٌ، وَوَادٍ نَازِحٌ، وَأَرْضٌ مُقْبِلَةٌ، وَأَرْضٌ مُدْبِرَةٌ، وَأَصَابَتْنِي سَحَابَةٌ بِسَوَاءَ، فَلَبَّدَتِ الدِّمَاثَ، وَأَسَالَتِ الْعِزَازَ، وَادْحَضَتِ التِّلَاعَ، وَصَدَعَتْ عَنِ الْكَمْأَةِ أَمَاكِنَهَا، وَأَصَابَتْنِي سَحَابَةٌ بِالْقَرْيَتَيْنِ فَقَاءَتِ الْأَرْضُ بَعْدَ الرِّيِّ، وَامْتَلَأَتِ الْأَخْادُ، وَأُفْعِمَتِ الْأَوْدِيَةُ، وَجِئْتُكَ فِي مِثْلِ وَجَارِ الضَّبُعِ، أَوْ قَالَ: مَجَرِّ، قَالَ: ائْذَنْ، فَدَخَلَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي أَسَدٍ، فَقَالَ: هَلْ كَانَ وَرَاءَكَ مِنْ غَيْثٍ؟ قَالَ: لَا، كَثُرَ الْإِعْصَارُ، وَاغْبَرَّ الْجِلَادُ، وَأَكَلَ مَا أَشْرَفَ مِنَ الْجَعْبَةِ - يَعْنِي النَّبْتَ - وَاسْتَيْقَنَّا أَنَّهُ عَامَ سَنَةٍ، قَالَ: ⦗ص: 60⦘ بِئْسَ الْمُخْبِرُ أَنْتَ. قَالَ: أَخْبَرْتُكَ بِالَّذِي كَانَ، قَالَ: ائْذَنْ "، فَدَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَامَةِ، فَقَالَ: هَلْ كَانَ وَرَاءَكَ مِنْ غَيْثٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُ الرُّوَّادَ تَدْعُوا إِلَى رِيَادَتِهَا، وَسَمِعْتُ قَائِلًا يَقُولُ: هَلُمَّ أُظْعِنُكُمْ إِلَى مَحِلَّةٍ تُطْفَأُ فِيهَا النِّيرَانُ، وَتَشْتَكِي فِيهَا النِّسَاءُ، وَتَنَافَسُ فِيهَا الْمَعِزَى، قَالَ: فَلَمْ يَفْهَمِ الْحَجَّاجُ مَا قَالَ، فَقَالَ: وَيْحَكَ، إِنَّمَا تُحَدِّثُ أَهْلَ الشَّامِ فَأَفْهِمْهُمْ، قَالَ: نَعَمْ، أَصْلَحَ اللَّهُ الْأَمِيرَ، أَخْصَبَ النَّاسَ فَكَانَ التَّمْرُ، وَالسَّمْنُ، وَالزُّبْدُ، وَاللَّبَنُ، فَلَا تُوقَدُ نَارٌ يُخْتَبَزُ بِهَا، وَأَمَّا تَشَكِّي النِّسَاءِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ تَظَلُّ تَرْبُقُ بُهُمَهَا، وَتَمْخُضُ لَبَنَهَا، فَتَبِيتُ وَلَهَا أَنِينٌ مِنْ عَضُدَيْهَا كَأَنَّهُمَا لَيْسَتَا مِنْهَا، وَأَمَّا تَنَافُسُ الْمَعِزَى، فَإِنَّهَا تَرَى مِنْ أَنْوَاعِ الشَّجَرِ، وَأَلْوَانِ الثَّمَرِ مَا تُشْبِعُ بُطُونَهَا، وَلَا تُشْبِعُ عُيُونَهَا، فَتَبِيتُ وَقَدِ امْتَلَأَتْ أَكْرَاشُهَا، لَهَا مِنَ الْكَظَّةِ جِرَّةٌ حَتَّى تَسْتَنْزِلَ الدِّرَّةَ، قَالَ: ائْذَنْ، فَدَخَلَ رَجُلٌ مِنَ الْمَوَالِي كَانَ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ قال هل كان وراءك من غيث؟ قَالَ: نَعَمْ ، وَلَكِنْ لَا أُحْسِنُ أَقُولُ كَمَا يَقُولُ هَؤُلَاءِ: قَالَ: فَمَا تُحْسِنُ؟ قَالَ: أَصَابَتْنِي ⦗ص: 61⦘ سَحَابَةٌ بِحُلْوَانَ فَلَمْ أَزَلْ أَطَأُ فِي أَثَرِهَا حَتَّى دَخَلْتُ عَلَى الْأَمِيرِ، قَالَ: لَئِنْ كُنْتَ أَقْصَرَهُمْ فِي الْمَنْطِقِ خِطْبَةً، إِنَّكَ لَأَطْوَلَهُمْ بِالسَّيْفِ خُطْوَةً "
১৩ - সুলাইমান বিন উমর বিন খালিদ আর-রাক্কি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ঈসা বিন ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্বাদ বিন মুসা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি আশ-শাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "হাজ্জাজ আমাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় নিয়ে এল। আমি তার কাছে ছিলাম যখন তার দ্বাররক্ষী এসে বলল: দরজায় কিছু দূত এসেছে। সে বলল: তাদের অনুমতি দাও। এরপর তারা প্রবেশ করল, তাদের পাগড়িগুলো ছিল তাদের কোমর বরাবর, তাদের তলোয়ারগুলো ছিল তাদের কাঁধে এবং তাদের পত্রগুলো ছিল তাদের ডান হাতে। বনু সুলাইম গোত্রের সিয়াবাহ বিন আসিম নামক এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করল: কোত্থেকে আসা হয়েছে? সে বলল: শাম (সিরিয়া) থেকে। সে জিজ্ঞেস করল: আমিরুল মুমিনীনকে কেমন অবস্থায় রেখে এসেছ? তার অনুচররা কেমন আছে? সে তাকে তা অবহিত করল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করল: তোমার পেছনে কি কোনো বৃষ্টি হয়েছে? সে বলল: হ্যাঁ, আমিরুল মুমিনীন এবং আমার মধ্যবর্তী স্থানে আমি তিনটি মেঘমালা পেয়েছি। হাজ্জাজ বলল: বৃষ্টির ধরন কেমন ছিল তা আমার কাছে বর্ণনা করো এবং তার প্রভাব ও ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ পূর্বলক্ষণসমূহ কেমন ছিল? সে বলল: হাওরানে একটি মেঘমালা আমাকে স্পর্শ করল, তখন ছোট বড় ফোঁটায় বৃষ্টি পড়ছিল। ছোট ফোঁটাগুলো বড়গুলোর সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। বৃষ্টির পতন ছিল অবিরাম ও একটানা, যা সেই প্রবল বর্ষণ যার কথা আপনি শুনেছেন। ফলে কোনো উপত্যকা প্লাবিত হয়েছে, কোনোটি ভরে উপচে পড়েছে; কোনো ভূমি উর্বর হয়েছে আবার কোনোটি নিস্ফলা রয়ে গেছে। আর 'সাওয়া' নামক স্থানে আমি একটি মেঘের কবলে পড়লাম, যা নরম মাটিকে জমাটবদ্ধ করে দিল, শক্ত ভূমিতে পানি প্রবাহিত করল, টিলাগুলোকে পিচ্ছিল করে দিল এবং মাটির নিচ থেকে ব্যাঙের ছাতার (মাশরুম) স্থানগুলো বিদীর্ণ করে দিল। আবার আল-কারইয়াতাইন নামক স্থানে আমাকে এক মেঘমালা স্পর্শ করল, ফলে ভূমি তৃপ্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত পানি উগড়ে দিল, নালাগুলো পূর্ণ হয়ে গেল এবং উপত্যকাগুলো প্লাবিত হলো। আমি আপনার কাছে এমনভাবে এসেছি যেন কোনো হায়েনার গর্ত থেকে বের হয়ে আসা (অথবা তিনি বলেন: টেনে আনা) লোক। হাজ্জাজ বলল: অনুমতি দাও। তখন বনু আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। সে জিজ্ঞেস করল: তোমার পেছনে কি কোনো বৃষ্টি হয়েছে? সে বলল: না, ঘূর্ণিঝড় বেড়েছে, শক্ত মাটি ধূলিময় হয়ে গেছে এবং তূণীরের অগ্রভাগ—অর্থাৎ উদ্ভিদ—যা কিছু ছিল তা খেয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হলাম যে এটি একটি দুর্ভিক্ষের বছর। হাজ্জাজ বলল: ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ তুমি অত্যন্ত মন্দ সংবাদবাহক। সে বলল: যা ঘটেছিল আমি আপনাকে তাই অবহিত করেছি। হাজ্জাজ বলল: অনুমতি দাও। এরপর ইয়ামামার এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। সে জিজ্ঞেস করল: তোমার পেছনে কি কোনো বৃষ্টি হয়েছে? সে বলল: হ্যাঁ, আমি পথপ্রদর্শক কাফেলাদের তাদের গন্তব্যের দিকে ডাকতে শুনেছি এবং একজনকে বলতে শুনেছি: এসো! আমি তোমাদের এমন এক জনপদে নিয়ে যাই যেখানে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়, যেখানে মহিলারা অভিযোগ করে এবং যেখানে ছাগলগুলো একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে। হাজ্জাজ তার কথা বুঝতে পারল না। সে বলল: তোমার ধ্বংস হোক! তুমি শামবাসীদের সাথে কথা বলছ, তাদের বুঝিয়ে বলো। সে বলল: হ্যাঁ, আল্লাহ আমিরকে সংশোধন করুন। মানুষের অবস্থা প্রাচুর্যময় হয়েছে, ফলে প্রচুর খেজুর, ঘি, মাখন ও দুধ পাওয়া যাচ্ছে। তাই রুটি বানানোর জন্য আলাদা করে আর কোনো আগুন জ্বালাতে হচ্ছে না। আর মহিলাদের অভিযোগ করার বিষয়টি হলো, মহিলারা সারাদিন পশুদের বাঁধতে এবং দুধ মন্থন করতে ব্যস্ত থাকে। ফলে রাতে তাদের দুই বাহুতে এমন ব্যথা হয় যে তারা যন্ত্রণায় কোঁকাতে থাকে, যেন তাদের বাহু দুটি তাদের শরীরের অংশই নয়। আর ছাগলগুলোর প্রতিযোগিতার বিষয়টি হলো, তারা এত ধরনের গাছপালা ও রঙের ফল দেখতে পায় যে, তাতে তাদের পেট ভরে যায় কিন্তু চোখ ভরে না। তারা যখন রাত কাটায় তখন তাদের উদর পূর্ণ থাকে এবং অতি ভক্ষণের ফলে তারা জাবর কাটতে থাকে যতক্ষণ না তাদের ওলান থেকে দুধ নামতে শুরু করে। হাজ্জাজ বলল: অনুমতি দাও। এরপর মাওয়ালীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল, যে ছিল সেই সময়ের অত্যন্ত কঠোর লোকদের একজন। সে জিজ্ঞেস করল: তোমার পেছনে কি কোনো বৃষ্টি হয়েছে? সে বলল: হ্যাঁ, কিন্তু আমি এদের মতো সুন্দর করে কথা বলতে জানি না। হাজ্জাজ বলল: তুমি কী বলতে জানো? সে বলল: ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ হুলওয়ানে আমাকে একটি মেঘমালা স্পর্শ করেছে এবং আমি আমিরের কাছে আসা পর্যন্ত পুরোটা পথ সেই বৃষ্টির রেশ ধরেই হেঁটে এসেছি। হাজ্জাজ বলল: যদিও তুমি তাদের মধ্যে বক্তব্যে সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তুমি তাদের মধ্যে তরবারি চালনার পদক্ষেপে দীর্ঘ।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦١)
14 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ، نا أَبُو جَنَابٍ الْكَلْبِيُّ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ سَرِيعٍ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ: بَعَثَنِي الْجَرَّاحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَكَانَ خَلِيفَةَ يَزِيدَ بْنِ الْمُهَلَّبِ عَلَى الْعِرَاقِ، ⦗ص: 62⦘ فَبَعَثَنِي إِلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، وَكَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ يَسْأَلُ عَنِ الْأَخْبَارِ، وَالْأَمْطَارِ، وَكُنْتُ لَا أَرْتِقُ بَيْنَ كَلِمَتَيْنِ، وَكَانَتِ الرُّسُلُ إِذْ ذَاكَ إِنَّمَا بَرِيدُهَا الْإِبِلُ، وَكَانَ الطَّرِيقُ عَلَى السَّمَاوَةِ سَمَاوَةِ كَلْبٍ، فَمَرَرْتُ بِأَعْرَابِيٍّ مُشْتَمِلٍ بِكِسَائِهِ، فَقُلْتُ: يَا هَذَا، هَلْ لَكَ فِي دِرْهَمَيْنِ؟ . قَالَ: وَكَيْفَ لِي بِهِمَا؟، قَالَ: فَنَاوَلْتُهُ إِيَّاهُمَا، فَقَالَ: أَعَنْ غَيْرِ مَعْرِفَةٍ، جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا؟، قَالَ: قُلْتُ: كَيْفَ أَقُولُ إِذَا سُئِلْتُ عَنِ الْمَطَرِ؟ . قَالَ: أَيُّ مَطَرٍ؟ قَالَ: قُلْتُ: مَطَرُنَا هَذَا، قَالَ: تَقُولُ: أَصَابَنَا أَحْسَنُ مَطَرٍ، عَقَدَ مِنْهُ الثَّرَى، وَاسْتَأْصَلَ الْعُودَ، وَقَامَتْ مِنْهُ الْغُدُرُ، عَلَى أَنِّي لَمْ أَرْ فِي ذَلِكَ وَادِيًا دَارِيًا، قَالَ: قُلْتُ: أَمْلِهَا عَلَيَّ، فَكَتَبْتُهَا، فَجَعَلْتُهَا بَيْنِي وَبَيْنَ وَاسِطَةِ الرَّحْلِ، فَكُنْتُ إِذَا نَزَلَتْ قُمْتُ فَقُلْتُ: كَيْفَ أَمْرُكِ؟ وَكَيْفَ الْأَسْعَارُ؟ وَكَيْفَ النَّاسُ؟ وَكَيْفَ الْمَطَرُ؟ ثُمَّ أُجِيبُ نَفْسِي، فَلَمَّا أَتَيْتُ بَابَ سُلَيْمَانَ أُذِنَ لِي، وَكَانَ يُؤْذَنُ لِرَسُولِ صَاحِبِ الْعِرَاقِ قَبْلَ النَّاسِ، فَلَمَّا دَخَلْتُ سَأَلَنِي فَاسْتَبْطَأْتُ أَنْ يَسْأَلُنِي عَنِ الْمَطَرِ، حَتَّى سَأَلَنِي، فَقُلْتُ الْكَلَامَ، فَقَالَ: أَعِدْهُ، فَأَعَدْتُ، فَقَالَ: وَاللَّهِ إِنَّهُ لَيُخَيَّلُ إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّكَ لَسْتَ بِأَيِّ عُذْرِهِنَّ الْكَلَامِ، قَالَ: قُلْتُ: أَجَلْ وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مَا أَنَا بِأَبِي عُذْرِهِ، وَلَكِنِّي كُنْتُ لَا أَرْتِقُ بَيْنَ كَلِمَتَيْنِ، وَبَلَغَنِي أَنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ يَسْأَلُ عَنِ الْأَخْبَارِ وَالْأَمْطَارِ، وَحَدَّثْتُهُ حَدِيثَ الْكَلْبِيِّ، فَقَالَ: قَاتَلَهُ اللَّهُ، لَقَدْ وَقَعْتَ عَلَى ابْنِ بَجْدَتِهَا، وَفَضَّلَنِي فِي ⦗ص: 63⦘ الْجَائِزَةِ وَالْكِسْوَةِ عَلَى الرُّسُلِ "
১৪ - আমাকে আহমদ বিন আব্দুল আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুর রহমান আল-কুফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু জানাব আল-কালবি বর্ণনা করেছেন, ওলীদ বিন সারী’ থেকে বর্ণিত, যিনি আমর বিন হুরাইস-এর মুক্তদাস ছিলেন, তিনি বলেন: জাররাহ বিন আব্দুল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছিলেন, তিনি ইরাকে ইয়াযীদ বিন মুহাল্লাব-এর প্রতিনিধি ছিলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ তিনি আমাকে সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের নিকট পাঠিয়েছিলেন। সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক বিভিন্ন সংবাদ ও বৃষ্টিপাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, আর আমি দুই শব্দের মাঝে জোড়া লাগাতে (কথা গুছিয়ে বলতে) পারতাম না। তখন দূতদের বাহন ছিল উট, আর পথটি ছিল আস-সামাওয়া অর্থাৎ কালব গোত্রের সামাওয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে। পথিমধ্যে আমি এক চাদর পরিহিত মরুবাসীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি বললাম: ওহে ব্যক্তি! তুমি কি দুই দিরহাম নিতে ইচ্ছুক? সে বলল: আমি তা কীভাবে পেতে পারি? তিনি বলেন: আমি তাকে দিরহাম দুটি প্রদান করলাম। তখন সে বলল: কোনো পরিচয় ছাড়াই? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি বলেন: আমি বললাম: বৃষ্টির কথা জিজ্ঞেস করা হলে আমি কী বলব? সে বলল: কোন বৃষ্টির কথা? আমি বললাম: আমাদের এই বৃষ্টির কথা। সে বলল: তুমি বলবে: আমাদের ওপর চমৎকার বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, যার ফলে মাটি সিক্ত ও জমাটবদ্ধ হয়েছে, বৃক্ষের মূলে রস সঞ্চার হয়েছে এবং তা থেকে জলাশয়গুলো পূর্ণ হয়ে উঠেছে; যদিও আমি সেখানে কোনো প্রবহমান উপত্যকা দেখিনি। তিনি বলেন: আমি বললাম: এটি আমাকে বলে দাও (লিখিয়ে দাও)। আমি তা লিখে নিলাম এবং আমার উটের জিনের মধ্যবর্তী স্থানে রেখে দিলাম। এরপর যখনই আমি কোথাও বিরতি নিতাম, দাঁড়িয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করতাম: তোমার কী খবর? বাজারদর কেমন? লোকজন কেমন? বৃষ্টি কেমন? এরপর আমি নিজেই নিজের উত্তর দিতাম। যখন আমি সুলাইমানের দ্বারে পৌঁছালাম, আমাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো। তখন অন্য সাধারণ মানুষের আগে ইরাকের শাসনকর্তার দূতের জন্য প্রবেশের অনুমতি থাকত। আমি প্রবেশ করার পর তিনি আমাকে বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞাসা করলেন, আমি বৃষ্টির প্রশ্নটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম, অবশেষে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি সেই কথাগুলো বললাম। তিনি বললেন: পুনরায় বলো। আমি পুনরায় বললাম। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমীরুল মুমিনীন মনে করছেন যে, তুমি এই বক্তব্যের আদি প্রবর্তক নও। তিনি বলেন: আমি বললাম: জি হ্যাঁ, আল্লাহর কসম হে আমীরুল মুমিনীন! আমি এর প্রবর্তক নই। বরং আমি তো দুই শব্দের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানও করতে পারতাম না। কিন্তু আমি জানতে পেরেছিলাম যে আমীরুল মুমিনীন সংবাদ ও বৃষ্টিপাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। এরপর আমি তাকে সেই কালবি ব্যক্তির কাহিনী শুনালাম। তিনি বললেন: আল্লাহ তাকে সংহার করুন (বিস্ময়সূচক), তুমি তো এক গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির দেখা পেয়েছিলে। এরপর তিনি আমাকে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ পুরস্কার ও পোশাকে অন্যান্য দূতদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
15 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، نا أَبُو بَكْرٍ الْهُذَلِيُّ، قَالَ: " خَرَجَ رَجُلٌ مِنَّا مِنْ هُذَيْلٍ يَرْعَى غُنَيْمَةً لَهُ، وَقَدْ ضَعُفَ بَصَرُهُ، وَمَعَهُ ابْنَةٌ لَهُ، فَقَالَ لَهَا: إِنِّي لَأَجِدُ رِيحَ الْمَطَرِ، فَانْظُرِي إِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ تَرَيْنَهَا؟، فَقَالَتْ: أَرَاهَا كَأَنَّهَا تُرْبَانِ مَعِزَى هَزْلَى، قَالَ: ارْعَيْ وَاحْذَرِي، فَمَكَثَتْ هَنُيْهَةً ثُمَّ قَالَ لَهَا: انْظُرِي كَيْفَ تَرَيْنَ السَّمَاءَ؟ قَالَتْ: أَرَاهَا كَأَنَّهَا بِغَالٌ سُودٌ تَجُرُّ جِلَالَهَا. قَالَ: ارْعَيْ وَاحْذَرِي، ثُمَّ قَالَ لَهَا: انْظُرِي كَيْفَ تَرَيْنَهَا: قَالَتْ: أَرَاهَا قَدِ ابْيَضَّتْ، وَقَرُبَتْ وَسَطُحَتْ، فَكَأَنَّهَا بَطْنُ حِمَارٍ أَصْحَرَ، قَالَ: انْجِي وَلَا مَنْجَى لَكِ، قَالَ: فَأَخَذَتْهُمُ السَّمَاءُ بِشَيْءٍ قَالَهُ عَبِيدُ بْنُ الْأَبْرَصِ:
[البحر البسيط]
دَانٍ مُسِفٍّ فُوَيْقَ الْأَرْضِ هِيدَ بِهِ
… يَكَادُ يَدْفَعُهُ مَنْ قَامَ بِالرَّاحِ
فَمَنْ بِعِقَوْتَهِ كَمَنْ بِنَجْوَتِهِ
… وَالْمُسِتَكِنُّ كَمَنْ يَمْشِي بِقِرْوَاحِ
قَالَ: فَلَجَأَ إِلَى كَهْفِ جَبَلٍ فَدَخَلَ هُوَ وَابْنَتُهُ "
১৫ - মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আল-হুজালি বলেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের হুজাইল গোত্রের এক ব্যক্তি তার ছোট ছাগলের পাল চরাতে বের হলেন। তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল এবং তার সাথে তার এক কন্যা ছিল। তিনি তাকে বললেন: আমি বৃষ্টির ঘ্রাণ পাচ্ছি, তুমি আকাশের দিকে তাকাও তো, সেটি কেমন দেখছ? সে বলল: আমি মেঘকে এমন দেখছি যেন জীর্ণশীর্ণ ছাগলের পশম। তিনি বললেন: চরাতে থাকো এবং সতর্ক থাকো। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি তাকে বললেন: তাকাও তো আকাশ কেমন দেখছ? সে বলল: আমি দেখছি যেন কালো রঙের খচ্চরগুলো তাদের পিঠের আবরণ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বললেন: চরাতে থাকো এবং সতর্ক থাকো। তারপর তিনি তাকে বললেন: দেখো তো সেটি কেমন দেখছ? সে বলল: আমি দেখছি সেটি সাদা হয়ে গেছে, নিকটবর্তী হয়েছে এবং সমতল হয়েছে, যেন এটি ধূসর বর্ণের গাধার পেট। তিনি বললেন: আত্মরক্ষা করো, যদিও তোমার রক্ষা পাওয়ার কোনো ঠাঁই নেই। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আকাশ তাদের এমন কিছু দিয়ে আচ্ছন্ন করল যা সম্পর্কে উবাইদ ইবনুল আবরাস বলেছেন:
[আল-বাহরুল বাসিত]
মাটির অতি নিকটবর্তী নিচু হয়ে আসা মেঘ যা ভীতি জাগানিয়া
… দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি হাতের তালু দিয়ে যেন তা ঠেলে সরিয়ে দিতে পারবে।
যে এর প্রাঙ্গণে আছে সে যেন এর থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তির মতো
… আর ঘরের ভেতরে থাকা ব্যক্তি যেন উন্মুক্ত প্রান্তরে বিচরণকারী ব্যক্তির মতো।
তিনি বলেন: অতঃপর তিনি পাহাড়ের এক গুহায় আশ্রয় নিলেন এবং তিনি ও তার কন্যা সেখানে প্রবেশ করলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
16 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنِي شَيْخٌ مِنْ قُرَيْشٍ،
⦗ص: 64⦘ قَالَ: " كَانَ الشَّمَّاخُ بْنُ ضِرَارٍ، وَمُزَرَّدٌ أَخُوهُ، وَالْعَصْمَاءُ عِنْدَ أَبِيهِمْ، فَقَالَ: يَا شَمَّاخُ، اخْرُجْ فَانْظُرْ إِلَى السَّمَاءِ وَأْتِنِي بِخَبَرِهَا، قَالَ: فَجَاءَ فَقَالَ:
[البحر السريع]
كَأَنَّ بِأَرْجَائِهَا سَلَّةً
… طَعَنَهَا الْكَمْأَةُ وَضَرْبًا دَيَافَا
قَالَ: فَمَكَثَ شَيْئًا ثُمَّ قَالَ: يَا مُزَرِّدُ، اخْرُجْ فَانْظُرْ، فَخَرَجَ فَنَظَرَ، ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ: أَنَاخَ عَلَى بَقَرٍ بَرْكُهُ كَأَنَّ عَلَى عَضُدَيْهِ كِتَافَا قَالَ: فَمَكَثَ شَيْئًا ثُمَّ قَالَ: يَا عَصْمَاءُ اخْرُجِي فَانْظُرِي، قَالَ: فَجَاءَتْ فَقَالَتْ:
[البحر السريع]
حَدَتْهُ الصَّبَا وَمَرَتْهُ الْجَنُوبُ
… وَالْتَحَفَتْهُ الشَّمَالُ الْتِحَافَا
فَقَالَ ضِرَارٌ:
[البحر السريع]
أَيَا فَرْحَةً أَعْقَبَتْ تَرْحَهْ
… تُشِفُّ الْفُؤَادَ وَتُجْفِي اللِّحَافَا
১৬ - আহমদ ইবনে আবদুল আলা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: কুরাইশ বংশের একজন শায়খ আমাকে বর্ণনা করেছেন,
⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ তিনি বলেন: "শাম্মাখ ইবনে দিরার, তার ভাই মুজাররাদ এবং আসমা তাদের পিতার নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন পিতা বললেন: হে শাম্মাখ, বের হও এবং আকাশের দিকে তাকাও এবং আমাকে তার সংবাদ দাও। বর্ণনাকারী বলেন: সে ফিরে এসে বলল:
[সারি বাহর]
তার দিগন্তগুলোতে যেন তলোয়ারের কোষমুক্ত উজ্জ্বলতা
… যা ভূমিকে বিদীর্ণ করেছে এবং দিয়াফী বর্ষণের মতো আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন: এরপর তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন, তারপর বললেন: হে মুজাররাদ, বের হও এবং দেখো। সে বের হলো এবং দেখল, এরপর ফিরে এসে বলল: তার মেঘের ভার গরুর পালের ওপর চেপে বসেছে, যেন তার দুই বাহুর ওপর চাদর রয়েছে। তিনি বলেন: এরপর তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং বললেন: হে আসমা, বের হও এবং দেখো। বর্ণনাকারী বলেন: সে এসে বলল:
[সারি বাহর]
পুবালী বাতাস তাকে হাঁকিয়ে এনেছে এবং দক্ষিণা বাতাস তাকে সিক্ত করেছে
… আর উত্তুরে বাতাস তাকে আবরণের মতো জড়িয়ে নিয়েছে।
তখন দিরার বললেন:
[সারি বাহর]
আহা! এমন এক আনন্দ যা দুঃখের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে
… যা হৃদয়কে আলোড়িত করে এবং শয্যা থেকে বিমুখ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
17 - حَدَّثَنِي فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، نا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ جَابِرٍ، فِي قَوْلِهِ: {الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ} قَالَ: الْمَطَرُ "
১৭ - ফুযাইল ইবন আব্দুল ওয়াহহাব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবন আবি খালিদ থেকে, হাকীম ইবন জাবির থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণিত: {যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের লুকায়িত বস্তু বের করে আনেন} তিনি বলেন: "তা হলো বৃষ্টি।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
18 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ عَبْدِ ⦗ص: 65⦘ الْحَمِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي يَزِيدَ الْمَدَنِيِّ، قَالَ: قُلْتُ لِسَعِيدِ بنِ الْمُسَيَّبِ: " {الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ} مَا الْخَبْءُ؟ قَالَ: الْمَاءُ "
১৮ - মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ হামীদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আবু ইয়াযীদ আল-মাদানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়াবকে বললাম: "{যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর লুকায়িত বস্তু বের করেন} এখানে 'লুকায়িত বস্তু' বলতে কী বোঝায়?" তিনি বললেন: "পানি।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
19 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ عَنْتَرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: الصَّيِّبُ: الْمَطَرُ
১৯ - আমাদের নিকট ইউসুফ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবন উবাইদ হতে, তিনি হারুন ইবন আনতারা হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি ইবন আব্বাস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘আস-সাইয়িব’ হলো বৃষ্টি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
20 - حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ جُوَيْبِرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ: الْمُزْنُ: السَّحَابُ
২০ - আমাদের নিকট ফুদাইল ইবনে আবদুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি জুওয়াইবির থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল-মুযন অর্থ হলো মেঘমালা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، نا وَكِيعٌ، نا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ سَلْمٍ الْعَلَوِيِّ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ أَنَسٍ فَقَالَ رَجُلٌ: إِنَّهَا لَمَخِيلَةُ الْمَطَرِ، فَقَالَ أَنَسٌ: «إِنَّهَا لِرَبِّهَا لَمُطِيعَةٌ»
২১ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালম আল-আলাওয়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আনাসের নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি বলল: "নিশ্চয়ই এটি বৃষ্টির লক্ষণযুক্ত মেঘ।" তখন আনাস বললেন: "নিশ্চয়ই তা তার রবের প্রতি অত্যন্ত অনুগত।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
22 - حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُوَيْهِ، نا ابْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا مَثَلُ أُمَّتِي كَمَثَلِ الْمَطَرِ، لَا يُدْرَى أَوَّلُهُ خَيْرٌ أَمْ آخِرُهُ»
⦗ص: 67⦘ 23 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ
২২ - আমাদের নিকট হুমাইদ বিন জানজুওয়াইহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবন আবি উওয়াইস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত হলো বৃষ্টির ন্যায়, জানা যায় না তার শুরুটা উত্তম নাকি শেষটা»
⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ ২৩ - আমাদের নিকট ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
24 - حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، نا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: ⦗ص: 68⦘ «مَا مِنْ عَامٍ بِأَكْثَرَ مَطَرًا مِنْ عَامٍ، وَلَكِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُصَرِّفُهُ حَيْثُ يَشَاءُ»
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুদায়েল ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে যুরায়, সুলায়মান আত-তায়মী থেকে, তিনি হাসান ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়র থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ «কোনো বছরই অন্য বছরের তুলনায় অধিক বৃষ্টিপাত হয় না, কিন্তু আল্লাহ তাআলা যেখানে ইচ্ছা তা পরিচালনা করেন।’»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
25 - حَدَّثَنَا فُضَيْلٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ السِّمْطِ، عَنْ أَبِي الْغَرِيفِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " {فَالْحَامِلَاتِ وِقْرًا} [الذاريات: 2] السَّحَابُ، {فَالْمُقَسِّمَاتِ أَمْرًا} [الذاريات: 4] الْمَلَائِكَةُ "
২৫ - ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আমির বিন আস-সিমত থেকে, তিনি আবু আল-গারিফ থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "{অতঃপর সেই সব যারা বোঝার ভার বহনকারী} [আয-যারিয়াত: ২] হলো মেঘমালা, {অতঃপর সেই সব যারা নির্দেশ বণ্টনকারী} [আয-যারিয়াত: ৪] হলো ফেরেশতাগণ।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
26 - حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله، أنا هُشَيْمُ، أنا حُصَيْنٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِذَا اسْتَسْقَى قَالَ: «اللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ، وَبِلَادَكَ، وَبَهَائِمَكَ، وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ، اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا، مَرِيئًا، مُرِيعًا، غَدَقًا، طَبَقًا، عَاجِلًا غَيْرَ رَائِثٍ، نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ»
২৬ - আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, হুশাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন, তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদের, আপনার ভূখণ্ডসমূহকে এবং আপনার গবাদিপশুদের পানি পান করান এবং আপনার রহমত ছড়িয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এমন বৃষ্টি দান করুন যা সাহায্যকারী, তৃপ্তিদায়ক, উর্বরকারী, প্রচুর, সর্বব্যাপী, দ্রুত—বিলম্বিত নয়, উপকারী—ক্ষতিকর নয়।»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، نا أَبُو بُرْدَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، دَعَا فِي الِاسْتِسْقَاءِ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ، وَبِلَادَكَ، وَبَهَائِمَكَ، وَأَنْعَامَكَ، وَأَحْيِ أَرْضَكَ الْمَيْتَةَ»
27 - আবু কুরাইব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তালক বিন গান্নাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বুরদাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমর ইবন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বৃষ্টির প্রার্থনায় দুআ করেছিলেন, তিনি বলেন: «হে আল্লাহ! আপনার বান্দাদের, আপনার জনপদকে, আপনার পশুদের ও আপনার গবাদিপশুদের পানি পান করান এবং আপনার মৃত ভূমিকে পুনর্জীবিত করুন।»
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٧١)
28 - حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُوسَى، نا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ، عَنْ شَيْخٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " أَنَّ عُمَرَ قَالَ لِلْعَبَّاسِ: قُمْ فَاسْتَسْقِ وَادْعُ رَبَّكَ، فَقَامَ الْعَبَّاسُ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ عِنْدَكَ سَحَابًا، وَإِنَّ عِنْدَكَ مَاءً، فَانْشُرِ السَّحَابَ، ثُمَّ أَنْزِلْ فِيهِ الْمَاءَ، ثُمَّ أَنْزِلْ عَلَيْنَا فِيهِ الْمَاءَ، ثُمَّ أَنْزِلْ عَلَيْنَا فَاشْدُدْ بِهِ الْأَصْلَ، وَأَطِلْ بِهِ الْفَرْعَ، وَأَدِرَّ بِهِ الضَّرْعَ، اللَّهُمَّ إِنَّا شُفَعَاءُ إِلَيْكَ عَمَّنْ لَا مَنْطِقَ لَهُ مِنْ بَهَائِمِنَا وَأَنْعَامِنَا، اللَّهُمَّ شَفِّعْنَا فِي أَنْفُسِنَا وَأَهْلِينَا، اللَّهُمَّ اسْقِنَا سُقْيَا وَادِعَةً بَالِغَةً، طَبَقًا، عَامًّا، مُحْيِيًا، اللَّهُمَّ لَا نَرْغَبُ إِلَّا إِلَيْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، اللَّهُمَّ إِنَّا نَشْكُو إِلَيْكَ سَغَبَ كُلِّ سَاغِبٍ، وَغُرْمَ كُلِّ غَارِمٍ، وَجُوعَ كُلِّ جَائِعٍ، وَعُرْيَ كُلِّ عَارٍ، وَخَوْفَ كُلِّ خَائِفٍ، فِي دُعَاءٍ لَهُ "
২৮ - আলী ইবনুল হাসান ইবনে মুসা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আবদুর রহমান আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মদীনার জনৈক শায়খ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর আব্বাসকে বললেন: "দাঁড়ান, বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করুন এবং আপনার রবের কাছে দোয়া করুন।" অতঃপর আব্বাস দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, তারপর বললেন: "নিশ্চয়ই আপনার নিকট মেঘমালা রয়েছে এবং আপনার নিকট পানি রয়েছে। সুতরাং আপনি মেঘমালাকে বিস্তৃত করুন, তারপর তাতে পানি সঞ্চার করুন, অতঃপর তা আমাদের ওপর বর্ষণ করুন। এর মাধ্যমে আপনি শিকড়কে শক্তিশালী করুন, শাখা-প্রশাখাকে দীর্ঘ করুন এবং স্তন বা ওলানকে দুধে পূর্ণ করে দিন। হে আল্লাহ, আমাদের পশুপাখি ও চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে যাদের বাকশক্তি নেই, আমরা তাদের পক্ষ থেকে আপনার নিকট সুপারিশকারী। হে আল্লাহ, আমাদের নিজেদের ও আমাদের পরিবার-পরিজনের বিষয়ে আমাদের সুপারিশ কবুল করুন। হে আল্লাহ, আমাদের এমন বৃষ্টি দান করুন যা হবে শান্তিদায়ক, পর্যাপ্ত, ভূমি আচ্ছাদনকারী, সর্বব্যাপী ও প্রাণসঞ্চারকারী। হে আল্লাহ, আমরা একমাত্র আপনারই মুখাপেক্ষী হই, আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই। হে আল্লাহ, আমরা আপনার নিকট প্রত্যেক ক্ষুধার্তের ক্ষুধা, প্রত্যেক ঋণগ্রস্তের ঋণভার, প্রত্যেক অনাহারীর অনাহার, প্রত্যেক বস্ত্রহীনের বস্ত্রহীনতা এবং প্রত্যেক ভীত ব্যক্তির ভয়ের অভিযোগ পেশ করছি।" — এটি তাঁর একটি দোয়ার অংশ।
(খণ্ড: ১)
আল-মাতারু ওয়ার রাআদু ওয়াল বারকু লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٧١)
. . . . . . .
29
⦗ص: 72⦘ عَنْ رُقَيْقَةَ بِنْتِ أَبِي صُفِيِّ بْنِ هِشَامٍ، قَالَتْ: تَتَابَعَتْ عَلَى قُرَيْشٍ سِنُونَ أَقْلَحَتِ الضَّرْعَ، وَأَدَقَّتِ الْعَظْمَ، فَبَيْنَا أَنَا رَاقِدَةُ الْهَمِّ، أَوْ مَهْمُومَةٌ، إِذَا هَاتِفٌ يَصْرُخُ بِصَوْتٍ صَحِلٍ يَقُولُ: يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ إِنَّ هَذَا النَّبِيَّ الْمَبْعُوثَ قَدْ أَظَلَّتْكُمْ أَيَّامُهُ، وَهَذَا إِبَانُ نُجُومِهِ، فَحَيَّهَلَا بِالْحَيَاءِ وَالْخِصْبِ، أَلَا فَانْفِرُوا رَجُلًا مِنْكُمْ وَسِيطًا، عِظَامًا، جِسَامًا، أَبْيَضَ بِضِيَاءٍ، أَوْطَفَ الْأَهْدَابِ، سَهْلَ الْخَدَّيْنِ، أَشَمَّ الْعِرْنِينِ، لَهُ فَخْرٌ يَكْظُمُ عَلَيْهِ، وَسُنَّةٌ يَهْدِي إِلَيْهَا، فَلْيَخْلُصْ هُوَ وَوَلَدُهُ، وَلْيَهْبِطْ إِلَيْهِ مِنْ كُلِّ بَطْنٍ رَجُلٌ، فَلْيُشِنُّوا مِنَ الْمَاءِ، وَلْيَمَسُّوا مِنَ الطِّيبِ، وَلْيَسْتَلِمُوا الرُّكْنَ، ثُمَّ لَيَرْقَوْا أَبَا قُبَيْسٍ، ثُمَّ لَيَدْعُ الرَّجُلُ وَلْيُؤَمِّنِ الْقَوْمُ، فَغِثْتُمْ مَا شِئْتُمْ، فَأَصْبَحْتُ، عَلِمَ اللَّهُ، مَذْعُورَةً، وَاقْشَعَرَّ جِلْدِي، وَوَلِهَ عَقْلِي، وَاقْتَصَصْتُ رُؤْيَايَ، وَنِمْتُ فِي شِعَابِ مَكَّةَ، فَوَالْحُرْمَةِ وَالرَّحِمِ، مَا بَقِيَ بِهَا أَبْطَحِيُّ إِلَّا قَالَ: هَذَا شَيْبَةُ الْحَمْدِ، وَتَنَاهَتْ إِلَيْهِ رِجَالَاتُ قُرَيْشٍ، وَهَبَطَ إِلَيْهِ مِنْ كُلِّ بَطْنٍ، فَشَنُّوا، وَمَسُّوا، وَاسْتَلَمُوا الرُّكْنَ، ثُمَّ ارْتَقَوْا أَبَا قُبَيْسٍ وَاصْطَفُّوا حَوْلَهُ، مَا يَبْلُغُ سَعْيُهُمْ مَهْلَهُ، حَتَّى إِذَا اسْتَوَوْا بِذِرْوَةِ الْجَبَلِ قَامَ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ وَمَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غُلَامٌ قَدْ أَيْفَعَ أَوْ كَرُبَ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ وَقَالَ: اللَّهُمَّ سَادَّ الْخَلَّةِ، وَكَاشِفَ الْكُرْبَةِ، أَنْتَ مُعَلِّمٌ غَيْرُ مُعَلَّمٍ، وَمَسْئُولٌ غَيْرُ مُبْخِلٍ، وَهَذِهِ عَبْدَاؤُكَ وَإِمَاؤُكَ بِعَذَرَاتِ حَرَمِكَ، يَشْكُونَ إِلَيْكَ سَنَتَهُمْ، أَذْهَبَتِ الْخُفَّ وَالظِّلْفَ، اللَّهُمَّ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا غَيْثًا مُغْدِقًا مُرِيعًا، فَوَرَبِّ الْكَعْبَةِ مَا رَامُوا حَتَّى تَفَجَّرَتِ السَّمَاءُ بِمَا فِيهَا، وَاكْتَظَّ الْوَادِي بِثَجِيجِهِ، فَسَمِعْتُ شِيخَانَ قُرَيْشٍ وَجِلَّتَهَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جُدْعَانَ، وَحَرْبَ بْنَ أُمَيَّةَ، وَهِشَامَ بْنَ الْمُغِيرَةِ يَقُولُونَ لِعَبْدِ الْمُطَّلِبِ:
⦗ص: 73⦘ هَنِيئًا لَكَ يَا أَبَا الْبَطْحَاءِ - أَيْ عَاشَ بِكَ أَهْلُ الْبَطْحَاءِ فَفِي ذَلِكَ تَقُولُ رُقَيْقَةُ:
[البحر البسيط]
بِشَيْبَةِ الْحَمْدِ أَسْقَى اللَّهُ بَلْدَتَنَا
… وَقَدْ فَقَدْنَا الْحَيَاةَ وَاجْلَوَّذَ الْمَطَرُ
فَجَادَ بِالْمَاءِ جُوِنِيُّ لَهُ سُبُلٌ
… سَحًّا فَعَاشَتْ بِهِ الْأَنْعَامُ وَالشَّجَرُ
مَنًّا مِنَ اللَّهِ بِالْمَيْمُونٍ طَائِرُهُ
… وَخَيْرِ مَنْ بُشِّرَتْ يَوْمًا بِهِ مُضَرُ
مُبَارَكُ الْأَمْرِ يُسْتَسْقَى الْغَمَامُ بِهِ
… مَا فِي الْأَنَامِ لَهُ عِدْلٌ وَلَا خَطَرُ
. . . . . . .
২৯
⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ রুকাইকাহ বিনতে আবি সুফি বিন হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কুরাইশদের ওপর ক্রমাগত এমন দুর্ভিক্ষের বছর অতিবাহিত হচ্ছিল যা পশুর ওলান শুকিয়ে দিয়েছিল এবং হাড়কে জীর্ণ করে দিয়েছিল। এমতাবস্থায় যখন আমি অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ একজন আহ্বানকারী কর্কশ স্বরে চিৎকার করে বলছে: হে কুরাইশ বংশের লোকসকল! এই প্রেরিত নবী, যাঁর দিনগুলো তোমাদের ওপর ছায়া ফেলেছে এবং এটিই তাঁর আবির্ভাবের সময়। অতএব সজীবতা ও প্রাচুর্যের দিকে এগিয়ে এসো। শোনো, তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করো যিনি বংশমর্যাদায় মধ্যমপন্থী (উৎকৃষ্ট), মহান ও দীর্ঘদেহী, নূরের জ্যোতিতে উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, দীর্ঘ চোখের পাপড়ি বিশিষ্ট, মসৃণ গালসম্পন্ন, উন্নত নাসিকা বিশিষ্ট, যাঁর মধ্যে এমন গরিমা রয়েছে যা তিনি সংবরণ করেন এবং এমন আদর্শ রয়েছে যার দিকে তিনি পথ দেখান। তিনি এবং তাঁর সন্তান যেন একনিষ্ঠ হন, আর প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন করে লোক যেন তাঁর কাছে নেমে আসে। এরপর তারা যেন পানি ছিটিয়ে দেয়, সুগন্ধি মেখে নেয় এবং রুকন (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করে। তারপর তারা যেন আবু কুবাইস পাহাড়ে আরোহণ করে। এরপর সেই ব্যক্তি দোয়া করবেন এবং উপস্থিত জনতা ‘আমিন’ বলবে। তাহলেই তোমরা যতটুকু চাও ততটুকু বৃষ্টি দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আমি যখন জাগ্রত হলাম, আল্লাহ জানেন, আমি অত্যন্ত ভীত ছিলাম, আমার গায়ের চামড়া শিউরে উঠেছিল এবং আমার বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। আমি আমার স্বপ্ন বর্ণনা করলাম এবং মক্কার উপত্যকাগুলোতে তা ছড়িয়ে পড়ল। সেই পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার কসম, মক্কার সমতল ভূমিতে এমন কোনো ব্যক্তি অবশিষ্ট ছিল না যে বলেনি: ইনিই হলেন শায়বাতুল হামদ (আবদুল মুত্তালিব)। কুরাইশদের নেতৃবৃন্দ তাঁর কাছে সমবেত হলেন এবং প্রত্যেক গোত্র থেকে লোক তাঁর কাছে নেমে এল। তারা পানি ছিটিয়ে দিল, সুগন্ধি মাখল এবং রুকন স্পর্শ করল। এরপর তারা আবু কুবাইস পাহাড়ে আরোহণ করল এবং তাঁর চারপাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল। তাদের প্রচেষ্টা কোনো মন্থরতা দেখাল না, যতক্ষণ না তারা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে স্থির হলেন। তখন আবদুল মুত্তালিব দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন, যিনি তখন একজন কিশোর, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছেন বা তার কাছাকাছি। এরপর তিনি আল্লাহর প্রতি তাঁর দুই হাত তুললেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আপনি অভাব পূরণকারী এবং দুঃখ-কষ্ট দূরকারী। আপনি কোনো শিক্ষক ছাড়াই পরম জ্ঞানী এবং এমন এক যাচিত সত্তা যিনি কার্পণ্য করেন না। এরা আপনার দাস ও দাসী আপনার পবিত্র হারাম এলাকার আঙিনায় উপস্থিত। তারা আপনার কাছে তাদের দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করছে যা উট ও গবাদি পশুকে ধ্বংস করে দিয়েছে। হে আল্লাহ! আমাদের ওপর প্রচুর ও কল্যাণকর বৃষ্টি বর্ষণ করুন। কাবার রবের কসম, তারা নড়াচড়া করার আগেই আকাশ তার ভেতরে যা ছিল তা নিয়ে ফেটে পড়ল এবং উপত্যকাটি পানির প্রবল স্রোতে ভরে গেল। আমি কুরাইশদের প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শুনতে পেলাম—যথা আবদুল্লাহ বিন জুদআন, হারব বিন উমাইয়া এবং হিশাম বিন মুগিরা—তাঁরা আবদুল মুত্তালিবকে বলছিলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ হে উপত্যকাবাসীর পিতা! আপনার জন্য অভিনন্দন—অর্থাৎ আপনার মাধ্যমেই উপত্যকাবাসী জীবন ফিরে পেল। এ সম্পর্কেই রুকাইকাহ বলেন:
[আল-বাহরুল বাসীত]
শায়বাতুল হামদ-এর অসিলায় আল্লাহ আমাদের জনপদকে সিক্ত করেছেন
… যখন আমরা জীবন হারিয়েছিলাম এবং বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
অতঃপর শ্যামল মেঘ প্রচুর পানি দান করল যার ধারা প্রবাহিত হলো
… প্রবল বর্ষণে, যার ফলে গবাদি পশু ও বৃক্ষরাজি জীবন ফিরে পেল।
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ সেই সত্তার মাধ্যমে যাঁর ভাগ্য অতি মুবারক
… এবং যিনি সেই সর্বোত্তম ব্যক্তি যাঁর সুসংবাদ একদিন মুদার গোত্রকে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বরকতময় বিষয়ের অধিকারী, যাঁর অসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়
… সমগ্র সৃষ্টির মাঝে তাঁর কোনো সমকক্ষ বা সমমর্যাদার কেউ নেই।