(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: -)
الفوائد المنتقاة العوالي الحسان للسمرقندي   (أبو عمرو السمرقندي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: من الفوائد المنتقاة الحسان العوالي

المؤلف: عثمان بن محمد بن أحمد بن محمد بن هارون بن وردان السمرقندي، أبو عمرو المصري، الحذاء (ت 345هـ)

حققه وخرج أحاديثه: أبو إسحق الحويني الأثري

الناشر: مكتبة ابن تيمية، القاهرة - مصر، مكتبة الخراز، جدة

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 231

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমরকন্দীর সংগৃহীত উচ্চতর ও সুন্দর উপকারসমূহ   (আবু আমর আস-সমরকন্দী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: সংগৃহীত উচ্চতর ও সুন্দর উপকারসমূহ থেকে

লেখক: উসমান বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হারুন বিন ওয়ারদান আস-সমরকন্দী، আবু আমর আল-মিসরী، আল-হাদ্দা (মৃত্যু ৩৪৫ হি.)

তাহকীক ও তাখরীজ করেছেন: আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী আল-আসারী

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ، কায়রো - মিশর، মাকতাবাতুল খাররায، জেদ্দা

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩১

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ২৫)
أَخْبَرَ. . . . أَنْبَأ الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الطَّرَّاحِ قَالَ: أَنْبَأَ الْقَاضِيُ أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْحُسَيْنِ الْأَعْيَنُ السِّمْنَانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي صَفَرٍ مِنْ سَنَةِ خَمْسٍ وَسِتِّينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ عَلَى بَابِ مَنْزِلِهِ قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْأَنْبَارِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، ثنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ السَّمَرْقَنْدِيُّ بِمِصْرَ فِي جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ:

 

1 - ثنا أَبُو عَبْدِ الْمُؤْمِنِ أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ الرَّمْلِيُّ بِالرَّمْلَةِ سَنَةَ سِتٍّ وَسِتِّينَ وَمِائَتَيْنِ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: " أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، وَسَلَّمَ‌‌ بَعَثَ سَرِيَّةً إِلَى نَجْدٍ، فَبَلَغَتْ سُهْمَانُهُمْ: اثْنَى عَشَرَ بَعِيرًا، وَنَفَلَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، بَعِيرًا بَعِيرًا"
সংবাদ দিয়েছেন... শায়খ আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুত তাররাহ বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন কাজী আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবুল হুসাইন আল-আয়ান আস-সিমনানি, তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণরত ছিলাম ৪৬৫ হিজরি সালের সফর মাসে তাঁর গৃহদ্বারে। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু তাহের মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাহদী আল-আনবারি তাঁর নিকট পাঠকালে ৪০৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আস-সামারকান্দি মিশরে, ৩৩৩ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে:

 

১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল মুমিন আহমাদ ইবনে শাইবান আর-রামলি ২৬৬ হিজরি সালে রামলায়। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, যুহরী থেকে, তিনি নাফে থেকে, আর তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নজদের দিকে একটি ক্ষুদ্র যুদ্ধবাহিনী প্রেরণ করেন। ফলে তাদের প্রত্যেকের ভাগে বারোটি করে উট পড়েছিল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের অতিরিক্ত প্রদান করেছিলেন, একটি একটি করে উট।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، صَلَاةً، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ: "‌‌ بَيْنَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً، فَرَكِبَهَا، فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْنَا لِلْحَرْثِ " فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ بَقَرَةٌ تَتَكَلَّمُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ،: «فَإِنِّي أُومِنُ بِهَذَا أَنَا وَأَبُوبَكْرٍ وَعُمَرُ» . وَمَا هُمَا ثَمَّ. قَالَ: " وَبَيْنَا رَجُلٌ فِي غَنَمِهِ، إِذْ عَدَا عَلَيْهِ الذِّئْبُ، فَأَخَذَ شَاةً مِنْهَا، فَأَدْرَكَهُ فَاسْتَنْقَذَهَا مِنْهُ، فَقَالَ: هَذَا اسْتَنْقَذْتَهَا مِنِّي، فَمَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ، يَوْمَ لَا رَاعِيَ لَهَا غَيْرِي؟ ". فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ ذِئْبٌ يَتَكَلَّمُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ،: «فَإِنِّي أُومِنُ بِهَذَا أَنَا وَأَبُوبَكْرٍ وَعُمَرُ» وَمَا هُمَا ثَمَّ "
২ - এবং তাঁর মাধ্যমেই সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আমাদের দিকে তাঁর মুখমণ্ডল ফিরিয়ে বললেন: "‌‌একদা এক ব্যক্তি একটি গাভী হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, অতঃপর সে তার ওপর আরোহণ করল। তখন গাভীটি বলল: 'নিশ্চয়ই আমাদের এই কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাদের তো সৃষ্টি করা হয়েছে চাষাবাদের জন্য'।" তখন লোকেরা বলল: সুবহান আল্লাহ, একটি গাভী কথা বলছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও ঈমান এনেছে» অথচ তাঁরা তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও বললেন: "একদা এক ব্যক্তি তার ছাগপালের মধ্যে ছিল, এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে বাঘ তার ওপর চড়াও হলো এবং একটি ছাগল ছিনিয়ে নিল। লোকটি তাকে ধাওয়া করে তার থেকে তা উদ্ধার করল। তখন নেকড়েটি বলল: 'তুমি একে আমার থেকে উদ্ধার করলে ঠিকই, কিন্তু হিংস্র পশুর দিনে এর দেখাশোনা কে করবে, যেদিন আমি ছাড়া তার আর কোনো রাখাল থাকবে না?'" তখন লোকেরা বলল: সুবহানাল্লাহ, একটি নেকড়ে কথা বলছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও ঈমান এনেছে» অথচ তাঁরা তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ২৮)
3 - وَبِهِ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ خَلَّادِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَمَرَنِي أَنْ آمُرَ أَصْحَابِي أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالْإِهْلَالِ»
৩ - এবং একই সনদে, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন আবি বকর থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবন আবি বকর থেকে, তিনি খাল্লাদ ইবনাস সাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «জিবরাঈল আমার নিকট এসে আমাকে নির্দেশ প্রদান করলেন যে, আমি যেন আমার সাহাবীদের নির্দেশ দেই তারা যেন ইহলালের (তালবিয়াহ পাঠের) মাধ্যমে তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৩০)
4 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: " رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى مَعْرَفَةِ فَرَسِ دِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ، وَهُوَ يُكَلِّمُهُ. قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُكَ وَاضِعًا يَدَيْكَ عَلَى مَعْرَفَةِ فَرَسِ دِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ، وَأَنْتَ تُكَلِّمُهُ؟ قَالَ: «أَوَ رَأَيْتِيهِ؟» . قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: ‌‌«ذَاكَ جِبْرِيلُ، وَهُوَ يُقْرِئُكِ السَّلَامَ» قَالَتْ: وَعَلَيْهِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، جَزَاهُ اللَّهُ مِنْ صَاحِبٍ وَدَخِيلٍ خَيْرًا، فَنِعْمَ الصَّاحِبُ، وَنِعْمَ الدَّخِيلُ " قَالَ سُفْيَانُ: الدَّخِيلُ: الضَّيْفُ
৪ - সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আয়িশাহ (রা.) বলেছেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি দিহইয়াহ আল-কালবীর ঘোড়ার ঘাড়ের কেশরের ওপর তাঁর দুই হাত রেখে তাঁর সাথে কথা বলছিলেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে দিহইয়াহ আল-কালবীর ঘোড়ার ঘাড়ের কেশরের ওপর আপনার দুই হাত রাখা অবস্থায় দেখেছি যখন আপনি তাঁর সাথে কথা বলছিলেন? তিনি বললেন: «তুমি কি তাঁকে দেখেছ?» তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তিনি ছিলেন জিবরীল, আর তিনি তোমাকে সালাম জানিয়েছেন।» তিনি বললেন: তাঁর ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আল্লাহ তাঁকে একজন সঙ্গী এবং মেহমান হিসেবে উত্তম প্রতিদান দান করুন; তিনি কতই না চমৎকার সঙ্গী এবং কতই না চমৎকার মেহমান।" সুফিয়ান বলেন: দাখীল অর্থ মেহমান।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৩২)
5 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، وَأَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«الْعَجْمَاءُ جَرْحُهَا جُبَارٌ، وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ ، وَالْبِئْرُ جُبَارٌ، وَفِي الرِّكَازِ الْخُمْسُ»
৫ - সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ও আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «পশুর দ্বারা সংঘটিত আঘাত বা ক্ষত জরিমানাহীন, খনি জরিমানাহীন, কূপ জরিমানাহীন এবং রিকাজ (গুপ্তধন)-এ এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করতে হয়»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
6 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ ، فَسَمِعْتُ فِيهَا قِرَاءَةً فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: حَارِثَةُ بْنُ النُّعْمَانِ، كَذَلِكُمُ الْبِرُّ، كَذَلِكُمُ الْبِرُّ "
৬ - সুফইয়ান ইবনে উয়ায়নাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, সেখানে তিলাওয়াত শুনতে পেলাম। আমি বললাম: ইনি কে? তারা বললেন: হারিসাহ ইবনে নুমান। পুণ্য এমনই হয়, পুণ্য এমনই হয়।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
7 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " مَرِضْتُ بِمَكَّةَ مَرَضًا أَشْفَيْتُ مِنْهُ عَلَى الْمَوْتِ، فَأَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، يَعُودُنِي، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتْرُكُ مَالًا كَثِيرًا، وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلَّا أُنْثَى، أَفَأَتَصَدَّقُ بِمَالِي كُلِّهِ؟ قَالَ: «لَا» قُلْتُ: فَالثُّلُثَيْنِ؟ قَالَ: «لَا» ، قُلْتُ: فَالشَّطْرُ؟ قَالَ: «لَا» قُلْتُ: فَالثُّلُثُ؟ قَالَ: ‌‌«الثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ إِنْ تَتْرُكْ وَرَثَتْكَ أَغْنِيَاءَ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَتْرُكَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ، وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً إِلَّا أُجِرْتَ عَلَيْهَا، حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِيِّ امْرَأَتِكَ» . قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَخَلَّفُ عَنْ هِجْرَتِي؟ قَالَ: «إِنَّكَ ⦗ص: 35⦘ لَنْ تَعْمَلَ عَمَلًا تُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ، إِلَّا ازْدَدْتَ بِهِ رِفْعَةً وَدَرَجَةً، وَلَعَلَّكَ أَنْ تَخَلَّفَ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ، وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ، اللَّهُمَّ امْضِ لِأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ، وَلَا تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ، لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ بْنُ خَوْلَةَ يَرْثِي لَهُ أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ»
৭ - সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আমির বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি মক্কায় এমন এক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম যার ফলে আমি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি প্রচুর ধন-সম্পদ রেখে যাচ্ছি, অথচ আমার এক কন্যা ব্যতীত অন্য কোনো উত্তরাধিকারী নেই। আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ সদকা করে দেব? তিনি বললেন: «না»। আমি বললাম: তবে কি দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: «না»। আমি বললাম: তবে কি অর্ধেক? তিনি বললেন: «না»। আমি বললাম: তবে কি এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: ‌‌«এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয়ই তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদের অভাবী ও মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আর তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে কোনো ব্যয়ই করো না কেন, তার জন্য তোমাকে অবশ্যই প্রতিদান দেওয়া হবে, এমনকি সেই লোকমাটির জন্যও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও»। তিনি (সাদ) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার হিজরত ছেড়ে পেছনে রয়ে যাব? তিনি বললেন: «তুমি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ আল্লাহর চেহারার প্রত্যাশায় যে আমলই করবে, তার দ্বারা তোমার মর্যাদা ও স্তর বৃদ্ধি পাবে। সম্ভবত তুমি আরও বেঁচে থাকবে, যাতে তোমার দ্বারা কিছু কওম উপকৃত হয় এবং অন্যেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার সাহাবীদের হিজরতকে পূর্ণ করে দিন এবং তাদের পেছনে ফিরিয়ে দেবেন না। তবে করুণার পাত্র হলেন সাদ বিন খাওলাহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মক্কায় মৃত্যু বরণ করার কারণে তাঁর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছিলেন»।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
8 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ جَرِيرًا: تَوَضَّأَ مِنْ مِطْهَرَةٍ، وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ. قَالُوا: تَمَسَّحُ عَلَى خُفَّيْكَ؟ قَالَ: «إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ» فَكَانَ بِهَذَا الْحَدِيثِ يَعْجَبُ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ، وَيَقُولُونَ: إِنَّمَا ⦗ص: 37⦘ كَانَ إِسْلَامُ جَرِيرٍ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ
৮ - সুফইয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন যে, জারীর (রা.) একটি পানির পাত্র থেকে ওজু করলেন এবং তাঁর চামড়ার মোজা দুটির ওপর মাসেহ করলেন। তারা জিজ্ঞেস করল: আপনি কি আপনার মোজা দুটির ওপর মাসেহ করেন? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চামড়ার মোজা দুটির ওপর মাসেহ করতে দেখেছি।" আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ)-এর ছাত্রগণ এই হাদীসটি দেখে বিস্মিত ও আনন্দিত হতেন এবং তারা বলতেন: নিশ্চয়ই ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ জারীরের ইসলাম গ্রহণ ছিল সূরা আল-মায়িদা অবতীর্ণ হওয়ার পর।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
9 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: ⦗ص: 38⦘ ‌‌«رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبَا بَكْرٍ ، وَعُمَرَ ، يَمْشُونَ أَمَامَ الْجِنَازَةِ»
৯ - সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ «আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উমরকে জানাযার সামনে হাঁটতে দেখেছি»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪১)
10 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ،: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ،‌‌ وَقَّتَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ، وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ، لِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ، وَذَكَرَ وَلَمْ أَسْمَعْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهَ وَقَّتَ لِأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ»
১০ - সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: «নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মদিনাবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য আল-জুহফা এবং নজদবাসীদের জন্য কারন মীকাত নির্ধারণ করেছেন। আর উল্লেখ করা হয়েছে—যদিও আমি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনিনি—যে তিনি ইয়ামেনবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম মীকাত নির্ধারণ করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪১)
11 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ،‌‌ كَانَ يَقْطَعُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا»
১১ - সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আয-যুহরী থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন যে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক চতুর্থাংশ দিনার বা তার অধিক মূল্যের (চুরির) জন্য (হাত) কাটতেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪২)
12 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ،: «أَنَّ ⦗ص: 43⦘ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ،‌‌ نَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ أَنْ يُنْتَبَذَ فِيهِمَا»
১২ - সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, : «নিশ্চয়ই ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, শুকনো কদু এবং আলকাতরা মাখানো পাত্রে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪৩)
13 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: " أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«لَا تُسَافِرُوا بِالْقُرْآنِ إِلَى أَرْضِ الْعَدُوِّ، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَنَالَهُ الْعَدُوُّ»
১৩ - সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে' থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা কুরআন নিয়ে শত্রুভূমিতে সফর করো না, কেননা আমি আশঙ্কা করি যে, শত্রুরা তা হস্তগত করবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪৪)
14 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«إِذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ، فَلْيَجْتَنِبِ الْوَجْهَ»
১৪ - আমাদের নিকট সুফইয়ান বর্ণনা করেছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন প্রহার করবে, সে যেন চেহারা পরিহার করে»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪৪)
15 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، سَمِعَ عَمْرٌو، جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: "‌‌ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فِي ثَلَاثِمائَةِ رَاكِبٍ، وَأَمَرَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فِي طَلَبِ عِيرِ قُرَيْشٍ، فَأَقَمْنَا عَلَى السَّاحِلِ حَتَّى فَنِيَ زَادُنَا، وَأَكَلْنَا الْخَبَطَ، ثُمَّ إِنَّ الْبَحْرَ أَلْقَى لَنَا دَابَّةً يُقَالَ لَهَا: الْعَنْبَرُ، فَأَكَلْنَا مِنْهَا نِصْفَ شَهْرٍ، حَتَّى صَلَحَتْ أَجْسَامُنَا، وَأَخَذَ أَبُو عُبَيْدَةَ ضِلَعًا مِنْ أَضْلَاعِهِ، فَنَصَبَهُ، وَنَظَرَ إِلَى أَطْوَلِ بَعِيرٍ فِي الْجَيْشِ، وَأَطْوَلِ رَجُلٍ ⦗ص: 45⦘ فَحَمَلَهُ عَلَيْهِ، فَجَازَ تَحْتَهُ، وَقَدْ كَانَ رَجُلٌ نَحَرَ ثَلَاثَ جَزَائِرَ، ثُمَّ ثَلَاثَ جَزَائِرَ، ثُمَّ نَهَاهُ أَبُو عُبَيْدَةَ، وَكَانُوا يَرَوْنَهُ قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ "
১৫ - সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমর শুনেছেন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে: "‌‌আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিনশত আরোহীর একটি দলে প্রেরণ করেন এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করেন কুরাইশদের একটি কাফেলার সন্ধানে। আমরা সমুদ্র উপকূলে অবস্থান করলাম, এমনকি আমাদের পাথেয় শেষ হয়ে গেল এবং আমরা গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করলাম। এরপর সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বার নামক একটি সামুদ্রিক প্রাণী উপরে নিক্ষেপ করল। আমরা তা থেকে অর্ধেক মাস আহার করলাম, এমনকি আমাদের শরীরগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠল। আবু উবাইদাহ সেটির পাঁজরের একটি হাড় নিয়ে তা দাঁড় করালেন এবং বাহিনীর দীর্ঘতম উট ও দীর্ঘতম ব্যক্তিকে দেখে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ তাকে তার ওপর সওয়ার করালেন, এরপর সেটি তার নিচ দিয়ে অনায়াসে পার হয়ে গেল। এক ব্যক্তি সেখানে তিনটি করে উট নহর করেছিলেন, এরপর আরও তিনটি উট নহর করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে আবু উবাইদাহ তাকে তা করতে নিষেধ করেন। সাহাবীগণ মনে করতেন সেই ব্যক্তিটি ছিলেন কায়স বিন সাদ।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪৬)
16 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ،‌‌ سَأَلَتْهُ امْرَأَةٌ عَنْ صَبِيٍّ لَهَا: أَلِهَذَا حَجٌّ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَلَكِ أَجْرٌ»
১৬ - আমাদের নিকট সুফইয়ান বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনু উকবাহ হতে, তিনি কুরায়ব হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক নারী তাঁর এক শিশু সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: এর কি হজ হবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আর তোমার জন্য রয়েছে সওয়াব।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪৭)
17 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ»
১৭ - সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ওয়া’লা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যেকোনো চামড়া যখন দাবাগাত (পাকানো) করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪৮)
18 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي أَيُّوبُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: أَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ بِعَرَفَةَ ، وَهُوَ يَأْكُلُ رُمَّانًا قَالَ: ‌‌«ادْنُ فَكُلْ، لَعَلَّكَ صَائِمٌ. إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، لَمْ يَصُمْ هَذَا الْيَوْمَ»
১৮ - সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আরাফায় ইবনে আব্বাসের নিকট আসলাম, তখন তিনি ডালিম খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: «কাছে এসো এবং খাও, সম্ভবত তুমি রোজা রেখেছ। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনে রোজা রাখেননি»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৪৯)
19 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا مُؤَمَّلٌ، عَنْ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: ‌‌«لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ»
১৯ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুআম্মাল বর্ণনা করেছেন আবু হিলাল হতে, তিনি কাতাদাহ্ হতে, তিনি আনাস হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট ভাষণ প্রদান করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: «যার আমানতদারী নেই তার কোনো ঈমান নেই, এবং যার অঙ্গীকার রক্ষা করার গুণ নেই তার কোনো দ্বীন নেই»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৫০)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَيْمُونٍ الْقَدَّاحُ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل‌‌ يَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ، كَمَا يَفْرَحُ أَحَدُكُمْ بِضَالَّتِهِ إِذَا وَجَدَهَا»
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাইমুন আল-কাদ্দাহ, তিনি তালহা থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও মহিমান্বিত তাঁর বান্দার তওবায় আনন্দিত হন, ঠিক যেমন তোমাদের কেউ তার হারানো বস্তু খুঁজে পেলে আনন্দিত হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৫৮)
21 - حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا زُبَيْدٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ»
২১ - মুয়াম্মাল ইবন ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যুবাইদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মুসলিমকে গালি দেওয়া পাপাচার এবং তাঁর সাথে লড়াই করা কুফরী»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৫৯)
22 - حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْإِيمَانُ ذُو شُعَبٍ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»
২২ - মুআম্মাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঈমানের বহু শাখা রয়েছে এবং লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৬০)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: عَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَشَمَّتَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ عَطَسَ آخَرُ، فَلَمْ يُشَمِّتْهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَطَسَ فُلَانٌ فَشَمَّتَّهُ، وَعَطَسْتُ فَلَمْ تُشَمِّتْنِي؟ قَالَ: «إِنَّهُ‌‌ حَمِدَ اللَّهَ فَشَمَّتُهُ، وَأَنْتَ لَمْ تَحْمَدِ اللَّهَ ، عز وجل»
২৩ - আমাদের নিকট আব্দুল মালিক বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ থেকে, তিনি সুলায়মান থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তি হাঁচি দিল এবং বলল: আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার হাঁচির উত্তর দিলেন। এরপর অন্য এক ব্যক্তি হাঁচি দিল, কিন্তু তিনি তার হাঁচির উত্তর দিলেন না। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তি হাঁচি দিল আর আপনি তার উত্তর দিলেন, কিন্তু আমি হাঁচি দিলাম আর আপনি আমার উত্তর দিলেন না? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই সে আল্লাহর প্রশংসা করেছে, তাই আমি তার উত্তর দিয়েছি; আর তুমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রশংসা করোনি।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৬৪)
24 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْقَطَرِيُّ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسَ، ثنا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ جَمَعَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ بِجَمْعٍ»
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল কারীম আল-কাতারি, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম ইবন আবি ইয়াস থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ থেকে, আদি ইবন সাবিত আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আল-আনসারীকে আবু আইয়ুব আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাম’ নামক স্থানে (মুযদালিফায়) দুই সালাত একত্রে আদায় করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৬৫)
25 - حَدَّثَنَا ثنا مُحَمَّدٌ، ثنا آدَمٌ، ثنا شُعْبَةُ، ثنا خُبَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ عَاصِمٍ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يُصَلِّي بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ، وَعُمَرُ رَكْعَتَيْنِ، وَعُثْمَانُ سِتَّ سِنِينَ ، أَوْ سَبْعَ سِنِينَ ، أَوْ ثَمَانِ سِنِينَ رَكْعَتَيْنِ»
২৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খুবায়েব ইবনে আবদুর রহমান। তিনি বলেন: আমি হাফস ইবনে আসিমকে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন, উমরও দুই রাকাত আদায় করতেন এবং উসমানও ছয় বছর, অথবা সাত বছর, অথবা আট বছর দুই রাকাত আদায় করতেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৬৬)
26 - وَبِهِ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ فِي قَوْلِ اللَّهِ ، عز وجل: " {فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} [البقرة: 223] قَالَ: قَالَتِ الْيَهُودُ: إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ بَارِكَةَ، كَانَ الْوَلَدُ أَحْوَلٌ، فَأَكْذَبَهُمُ اللَّهُ ، عز وجل، فَأَنْزَلَ: ⦗ص: 67⦘ {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} [البقرة: 223] يَقُولُ: كَيْفَ شِئْتُمْ فِي الْفَرْجِ "
২৬ - এবং তাঁর সূত্রে: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির বলেছেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারীকে মহান আল্লাহর বাণী— "{সুতরাং তোমরা তোমাদের ফসলের জমিতে যেভাবে ইচ্ছা আসো} [আল-বাকারাহ: ২২৩]"—এর ব্যাপারে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন: ইহুদিরা বলত: যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সে উপুড় হয়ে থাকা অবস্থায় সঙ্গম করে, তখন সন্তান টেরা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে অবতীর্ণ করেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য ফসলের জমি; অতএব তোমরা তোমাদের ফসলের জমিতে যেভাবে ইচ্ছা আসো} [আল-বাকারাহ: ২২৩]। তিনি বলেন: অর্থাৎ যেভাবে তোমরা ইচ্ছা করো, তবে তা হতে হবে যোনিপথে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৭০)
27 - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَوْمَ الْأَحْزَابِ: ‌‌«شَغَلُونَا عَنِ الصَّلَاةِ الْوُسْطَى صَلَاةِ الْعَصْرِ، حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ، مَلَأَ اللَّهُ بُطُونَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا» أَوْ قَالَ: «قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ نَارًا»
২৭ - শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাকাম ইবনে উতাইবাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল জাযযার থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহযাবের যুদ্ধের দিন বলেছিলেন: «তারা আমাদের মধ্যবর্তী সালাত—আসরের সালাত—থেকে বিরত রেখেছে, এমনকি সূর্য ডুবে গিয়েছে। আল্লাহ তাদের পেট ও তাদের কবরসমূহ আগুন দিয়ে পূর্ণ করে দিন» অথবা তিনি বলেছিলেন: «তাদের কবর ও তাদের ঘরসমূহ আগুন দিয়ে পূর্ণ করে দিন»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৭১)
28 - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ، عَنْ عَبِيدَةَ السَّلْمَانِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«شَغَلُونَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى، صَلَاةِ الْعَصْرِ حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ مَلَأَ اللَّهُ بُطُونَهُمْ وَقُبُورَهُمْ، أَوْ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ نَارًا»
২৮ - শুবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু হাসসান থেকে, তিনি আবিদাহ আস-সালমানি থেকে এবং তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তারা আমাদের মধ্যবর্তী সালাত অর্থাৎ আসরের সালাত থেকে ব্যস্ত রেখেছে যতক্ষণ না সূর্য অস্তমিত হয়েছে; আল্লাহ তাদের পেট ও কবরসমূহকে অথবা তাদের কবরসমূহ ও ঘরগুলোকে আগুন দিয়ে পূর্ণ করে দিন।»
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়েদুল মুনতাকাহ আল-আওয়ালিল হিসান লিস-সামারকান্দি (পৃষ্ঠা: ৮০)
29 - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ثنا مَعْبَدُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ: سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ الْخُزَاعِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: "‌‌ تَصَدَّقُوا، فَإِنَّهُ سَيَأْتِي عَلَيْكُمْ زَمَانٌ يَمْشِي الرَّجُلُ بِصَدَقَتِهِ، فَلَا يَجِدُ مَنْ يَقْبَلُهَا، فَيَقُولُ الرَّجُلُ: لَوْ جِئْتَ بِهَا بِالْأَمْسِ لَقَبِلْتُهَا، فَأَمَّا الْيَوْمَ فَلَا حَاجَةَ لِي فِيهَا "
২৯ - আমাদের নিকট শু'বা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'বাদ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হারিসাহ ইবনে ওয়াহাব আল-খুযা'ঈকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "‌‌তোমরা সদকা করো, কেননা অচিরেই তোমাদের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ তার সদকা নিয়ে ঘুরে বেড়াবে, কিন্তু সে তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাবে না। তখন (যাকে দিতে চাওয়া হবে সে) ব্যক্তি বলবে: যদি তুমি এটি গতকাল নিয়ে আসতে তবে আমি তা গ্রহণ করতাম, কিন্তু আজ আমার এর কোনো প্রয়োজন নেই।"