(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: -)
العقوبات لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: العقوبات

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المتوفى 281 هـ

تحقيق: محمد خير رمضان يوسف

الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 226

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনু আবিদ দুনিয়া রচিত আল-উকুয়ুবাত   (ইবনু আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-উকুয়ুবাত (শাস্তিসমূহ)

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু উবাইদ ইবনু সুফিয়ান ইবনু কায়েস আল-বাগদাদী আল-উমাবী আল-কুরাশী, যিনি ইবনু আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

মৃত্যু ২৮১ হিজরি

তাহকীক: মুহাম্মাদ খায়র রামাদান ইউসুফ

প্রকাশক: দার ইবনু হাযম, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৬

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌أَسْبَابُ الْعُقُوبَاتِ وَأَنْوَاعُهَا
শাস্তির কারণসমূহ ও এর প্রকারভেদ
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ يَحْيَى الْمُقْرِئُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي يَوْمِ الْأَربِعَاءِ، لِأَرْبَعٍ خَلَوْنَ مِنْ شَعْبَانَ سَنَةَ إِحْدَى وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدَّلُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةِ سَبْعٍ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْذَعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، فَأَقَرَّ بِهِ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ابْنِ أَبِي الدُنْيَا قَالَ: حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْبَخْتَرِيِّ يَقُولُ: أَخْبَرَنِي مَنْ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَنْ يَهْلِكَ النَّاسُ حَتَّى يَعْذِرُوا مِنْ أَنْفُسِهِمْ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হোসেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুকরি, চারশত একান্ন হিজরী সনের শাবান মাসের চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হোসেন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-মুয়াদ্দাল, চারশত সাত হিজরী সনে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তাঁকে বলা হলো: আপনাদের কি আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আল-বারযাঈ তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন? অতঃপর তিনি তিনশত চল্লিশ হিজরী সনের মুহাররম মাসে তা স্বীকার করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিদ দুনিয়া; তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল জাদ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ; তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে মুররাহ; তিনি বলেন: আমি আবুল বাখতারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংস হবে না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের পক্ষ থেকে ওজর (অজুহাত) নিঃশেষ করে ফেলে»।
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ثَوْرٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ: " لَمَّا افْتَتَحَ الْمُسْلِمُونَ قُبْرُسَ وَفُرِّقَ بَيْنَ أَهْلِهَا، فَقَعَدَ بَعْضُهُمْ يَبْكِي إِلَى بَعْضٍ، وَبَكَى أَبُو الدَّرْدَاءِ، فَقُلْتُ: مَا يُبْكِيكَ فِي يَوْمٍ أَعَزَّ اللَّهُ فِيهِ الْإِسْلَامَ وَأَذَلَّ الشِّرْكَ وَأَهْلَهُ؟ قَالَ: دَعْنَا مِنْكَ يَا جُبَيْرُ، مَا أَهْوَنَ الْخَلْقَ عَلَى اللَّهِ عز وجل إِذَا تَرَكُوا أَمْرَهُ بَيْنَا هُوَ أُمَّةٌ قَاهِرَةٌ قَادِرَةٌ إِذْ تَرَكُوا أَمْرَ اللَّهِ عز وجل فَصَارُوا إِلَى مَا تَرَى "
২ - আবদুল্লাহ বলেন: মুজাহিদ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাওর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন মুসলিমরা সাইপ্রাস জয় করল এবং সেখানকার অধিবাসীদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হলো, তখন তাদের কেউ কেউ একে অপরের নিকট বসে কাঁদতে লাগল। আবু দারদা (রা.)-ও কাঁদলেন। তখন আমি বললাম: আপনি এমন এক দিনে কেন কাঁদছেন যে দিনে আল্লাহ ইসলামকে সম্মানিত করেছেন এবং শিরক ও এর অনুসারীদের লাঞ্ছিত করেছেন? তিনি বললেন: হে জুবায়ের, তোমার কথা রাখো; আল্লাহর নিকট সৃষ্টিজগত কতই না তুচ্ছ হয়ে যায় যখন তারা তাঁর আদেশ অমান্য করে। তারা ছিল এক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর জাতি, কিন্তু যখনই তারা মহান আল্লাহর নির্দেশ বর্জন করল, তখনই তাদের এই দশা হলো যা তুমি দেখতে পাচ্ছ।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا قَاسِمُ بْنُ هَاشِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ الْيَامِيُّ، عَنْ زُبَيْدٍ الْيَامِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي جَامِعُ بْنُ أَبِي رَاشِدٍ، وَدُمُوعُهُ تَنْحَدِرُ، عَنْ أُمِّ ⦗ص: 20⦘ مُبَشِّرٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا ظَهَرَ السُّوءُ فِي الْأَرْضِ أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى بَأْسَهُ بِأَهْلِ الْأَرْضِ» ، قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنْ كَانَ فِيهِمْ صَالِحُونَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَإِنْ كَانَ فِيهِمْ صَالِحُونَ، يُصِيبُهُمْ مَا أَصَابَ النَّاسَ، ثُمَّ يَرْجِعُونَ إِلَى رَحْمَةِ اللَّهِ»
৩ - আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসিম বিন হাশিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আন-নাদর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন তালহা বিন মুসাররিফ আল-ইয়ামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জুবাইদ আল-ইয়ামি থেকে, তিনি বলেন: জামে' বিন আবি রাশিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন—এমতাবস্থায় যে তাঁর অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল—উম্মে ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ মুবাশশির থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন জমিনে পাপাচার প্রকাশ পায়, তখন মহান আল্লাহ জমিনবাসীর ওপর তাঁর শাস্তি অবতীর্ণ করেন», তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তাদের মধ্যে পুণ্যবান লোক থাকলেও কি? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, তাদের মধ্যে পুণ্যবান লোক থাকলেও; মানুষের ওপর যা আপতিত হয় তাদের ওপরও তা-ই আপতিত হবে, অতঃপর তারা আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে যাবে»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ بَسَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ خُلَيْدِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزَالُ هَذِهِ الْأُمَّةُ تَحْتَ يَدِ اللَّهِ عز وجل وَفِي كَنَفِهِ مَا لَمْ يُمَالِئْ قُرَّاؤُهَا أُمَرَاءَهَا، وَمَا لَمْ يُزَكِّ صُلَحَاؤُهَا فُجَّارَهَا، وَمَا لَمْ يُمَنِّ خِيَارُهَا ⦗ص: 21⦘ شِرَارَهَا، فَإِذَا هُمْ فَعَلُوا ذَلِكَ رَفَعَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ يَدَهُ، ثُمَّ سَلَّطَ عَلَيْهِمْ جَبَابِرَتُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ، ثُمَّ ضَرَبَهُمْ بِالْفَاقَةِ وَالْفَقْرِ»
৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে বাসসাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিহ আল-মুরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন খুলাইদ ইবনে হাসান থেকে, তিনি হাসান (বাসরি) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এই উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর হাতের নিচে এবং তাঁর আশ্রয়ে থাকবে, যতক্ষণ না তাদের ক্বারীগণ তাদের শাসকদের চাটুকারিতা করবে, এবং যতক্ষণ না তাদের সৎকর্মশীল ব্যক্তিরা তাদের পাপাচারীদের প্রশংসা করবে, আর যতক্ষণ না তাদের নেককার লোকেরা ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ তাদের মন্দ লোকদের সমর্থন জোগাবে। অতঃপর তারা যখন এরূপ করবে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর থেকে তাঁর হাত সরিয়ে নেবেন, এরপর তাদের ওপর তাদের স্বৈরাচারী শাসকদের চাপিয়ে দেবেন যারা তাদের কঠিন শাস্তি ভোগ করাবে, অতঃপর তিনি তাদের অভাব ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত করবেন।’»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، وَسَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْمُبَارَكِ بْنِ فَضَالَةَ، عَنْ مَرْزُوقٍ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحِمْصِيِّ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُوشِكُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمُ الْأُمَمُ مِنْ كُلِّ أُفُقٍ، كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ عَلَى قَصْعَتِهَا» ، قَالُوا: مِنْ قِلَّةٍ؟ قَالَ: «أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ، وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ، تُنْزَعُ الْمَهَابَةُ مِنْ قُلُوبِ عَدُوِّكُمْ، وَيُجْعَلُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهْنُ» ، ⦗ص: 22⦘ قَالُوا: وَمَا الْوَهْنُ؟ قَالَ: «حُبُّ الْحَيَاةِ، وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ»
৫ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট আলী ইবনুল জা'দ এবং সাঈদ ইবনে সুলাইমান মুবারক ইবনে ফাদ্বালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মারযূক আবু আব্দুল্লাহ আল-হিমসী থেকে, তিনি আবু আসমা আর-রাহাবী থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত দাস সাওবান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «শীঘ্রই বিভিন্ন জাতি তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে প্রতিটি দিগন্ত থেকে আহ্বান করবে, যেমন আহারকারীরা তাদের খাবারের পাত্রের দিকে একে অপরকে আহ্বান করে», তারা জিজ্ঞেস করল: আমাদের স্বল্পতার কারণে কি এমন হবে? তিনি বললেন: «সেদিন তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে, কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের ফেনার মতো। তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয়ভীতি দূর করে দেওয়া হবে এবং তোমাদের অন্তরে ‘ওয়াহন’ ঢেলে দেওয়া হবে», ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ তারা জিজ্ঞেস করল: ‘ওয়াহন’ কী? তিনি বললেন: «দুনিয়ার প্রতি মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْعِجْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَمْزَةَ الْعُمَرِيُّ، عَنْ نَافِعِ بْنِ مَالِكٍ أَبِي سُهَيْلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ تَمْنَعُ الْعِبَادَ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ مَا لَمْ يُؤْثِرُوا صَفْقَةَ دُنْيَاهُمْ عَلَى دِينِهِمْ، فَإِذَا آثَرُوا صَفْقَةَ دُنْيَاهُمْ عَلَى دِينِهِمْ، ثُمَّ قَالُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، رُدَّ عَلَيْهِمْ، وَقَالَ اللَّهُ عز وجل: كَذَبْتُمْ "
৬ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-ইজলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে হামজা আল-উমারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফি ইবনে মালিক আবু সুহাইল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বান্দাদেরকে আল্লাহর ক্রোধ থেকে রক্ষা করে যতক্ষণ তারা তাদের দ্বীনের ওপর পার্থিব স্বার্থকে প্রাধান্য না দেয়। কিন্তু যখন তারা তাদের দ্বীনের ওপর পার্থিব স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় এবং এরপর বলে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তখন তা তাদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয় (প্রত্যাখ্যান করা হয়), এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: তোমরা মিথ্যা বলেছ।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ زُنْبُورٍ أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ الثَّوْرِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ يَخْتِلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ، يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ مُسُوحَ الضَّأْنِ مِنَ اللِّينِ، أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَّرِ، وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الذِّئَابِ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: أَبِي تَغْتَرُّونَ، وَعَلَيَّ تَجْتَرِئُونَ؟ فَبِي حَلَفْتُ لَأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ مِنْهُمْ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَلِيمَ مِنْهُمْ حَيْرَانَ "
৭ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সা'দ ইবন যুনবুর আবু ইসহাক আল-হামদানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আম্মার ইবন মুহাম্মাদ আস-সাওরী ইয়াহইয়া ইবন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শেষ জামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা ধর্মের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করবে। মানুষের নিকট নিজেদের কোমলতা প্রকাশের জন্য তারা ভেড়ার চামড়ার পোশাক পরিধান করবে। তাদের জিহ্বা চিনির চেয়েও মিষ্টি হবে, কিন্তু তাদের অন্তর হবে নেকড়ে বাঘের অন্তরের মতো। তখন মহান আল্লাহ বলবেন: 'তারা কি আমার ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ে আছে, নাকি তারা আমার বিরুদ্ধে দুঃসাহস দেখাচ্ছে? আমি আমার নিজের সত্তার শপথ করে বলছি, আমি অবশ্যই তাদের উপর তাদের মধ্য থেকেই এমন এক ফিতনা (বিপর্যয়) প্রেরণ করব, যা তাদের মধ্যকার ধৈর্যশীল ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেবে'।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ زُنْبُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دُكَيْنٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: «سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ، وَلَا مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ، مَسَاجِدُهُمْ يَوْمَئِذٍ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى، عُلَمَاؤُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ، مِنْهُمْ خَرَجَتِ الْفِتْنَةُ، وَفِيهِمْ تَعُودُ»
৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাদ ইবনে জুনবুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে দুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন ইসলামের নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না এবং কুরআনের লিপি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। সেদিন তাদের মসজিদসমূহ হবে জাঁকজমকপূর্ণ, অথচ সেগুলো হিদায়াত থেকে শূন্য হবে। তাদের আলেমগণ হবে আসমানের নিচে সর্বনিকৃষ্ট; তাদের থেকেই ফিতনার উৎপত্তি হয়েছে এবং তাদের মধ্যেই তা ফিরে যাবে।»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنَا سَلَّامُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «إِذَا ظَهَرَ الزِّنَا وَالرِّبَا فِي قَرْيَةٍ أُذِنَ بِهَلَاكِهَا»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাল্লাম ইবনে সুলাইম, সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন কোনো জনপদে ব্যভিচার ও সুদ প্রকাশ পায়, তখন তার ধ্বংসের অনুমতি দেওয়া হয়।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنِي صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا النَّاسُ أَظْهَرُوا الْعِلْمَ وَضَيَّعُوا الْعَمَلَ، وَتَحَابُّوا بِالْأَلْسُنِ وَتَبَاغَضُوا بِالْقُلُوبِ، وَتَقَاطُعوا فِي الْأَرْحَامِ، لَعَنَهُمُ اللَّهُ عِنْدَ ذَلِكَ، فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبَصَارَهُمْ»
১০ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সালেহ আল-মুররী বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন মানুষ জ্ঞান জাহির করবে এবং আমল বিনষ্ট করবে, মুখে মুখে ভালোবাসা প্রকাশ করবে এবং অন্তরে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে; তখন আল্লাহ তাদের ওপর লানত করবেন, ফলে তিনি তাদের বধির করে দেবেন এবং তাদের দৃষ্টিশক্তিকে অন্ধ করে দেবেন»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو ضَمْرَةَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ قَيْسٍ الْمَكِّيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: ⦗ص: 25⦘ كُنْتُ عَاشِرَ عَشَرَةِ رَهْطٍ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ، فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَجْهِهِ فَقَالَ: " يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ، خَمْسُ خِصَالٍ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ: مَا ظَهَرَتِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى أَعْلَنُوا بِهَا، إِلَّا ابْتُلُوا بِالطَّوَاعِينِ وَالْأَوْجَاعِ الَّتِي لَمْ تَكُنْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا، وَلَا نَقَصَ قَوْمٌ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِلَّا ابْتُلُوا بِالسِّنِينِ وَشِدَّةِ الْمَئُونَةِ وَجَوْرِ السُّلْطَانِ، وَمَا مَنَعَ قَوْمٌ زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ إِلَّا مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ، وَلَوْلَا الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا، وَلَا خَفَرَ قَوْمٌ الْعَهْدَ إِلَّا سَلَّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوَّهُمْ مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ، وَمَا لَمْ تَعْمَلْ أَئِمَّتُهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل وَيَتَخَيَّرُوا فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل إِلَّا جَعَلَ اللَّهُ عز وجل بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ "
১১ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যুবাইর ইবনে আবু বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু দামরাহ বর্ণনা করেছেন নাফি ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ফারওয়াহ ইবনে কায়স আল-মাক্কি থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ আমি আল্লাহর রাসূলের নিকট দশজন মুহাজিরের একটি দলের দশম ব্যক্তি ছিলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখমণ্ডল আমাদের দিকে ফিরিয়ে বললেন: "হে মুহাজির সম্প্রদায়, পাঁচটি বিষয় এমন রয়েছে—আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা সেগুলো না পাও: কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে কখনো অশ্লীলতা প্রকাশ পায় না যতক্ষণ না তারা তা প্রকাশ্যে করতে শুরু করে, এর ফলে তাদের মধ্যে এমন প্লেগ ও ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পূর্ববর্তী অতিবাহিত হওয়া পূর্বপুরুষদের মধ্যে ছিল না। আর কোনো সম্প্রদায় মাপে ও ওজনে কম দেয় না, তবে তারা দুর্ভিক্ষ, জীবনযাত্রার কঠোরতা এবং শাসকের অত্যাচারের শিকার হয়। আর কোনো সম্প্রদায় তাদের সম্পদের জাকাত প্রদান বন্ধ করে না, তবে তাদের জন্য আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হয়; আর যদি চতুষ্পদ জন্তু না থাকত তবে তাদের ওপর কখনোই বৃষ্টি বর্ষিত হতো না। আর কোনো সম্প্রদায় (আল্লাহ ও রাসূলের) অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না, তবে তাদের ওপর তাদের শত্রু ভিন্ন অন্য লোকদের চাপিয়ে দেওয়া হয়, যারা তাদের হাতের (অধিকারের) কিছু সম্পদ কেড়ে নেয়। আর যতক্ষণ তাদের ইমামগণ (নেতৃবৃন্দ) মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেই অনুযায়ী আমল না করেন এবং মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর কিতাব হতে (বিধান) চয়ন না করেন, ততক্ষণ আল্লাহ মহান ও প্রতাপশালী তাদের মধ্যে পারস্পরিক যুদ্ধ ও বিবাদ বজায় রাখেন।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو ⦗ص: 26⦘ شِهَابٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانَ إِذَا عَمِلَ الْعَامِلُ فِيهِمْ بِالْخَطِيئَةِ، نَهَاهُ النَّاهِي تَعْذِيرًا، فَإِذَا كَانَ الْغَدُ جَالَسَهُ وَوَاكَلَهُ وَشَارَبَهُ، كَأَنَّهُ لَمْ يَرَهُ عَلَى خَطِيئَةٍ بِالْأَمْسِ، فَلَمَّا رَأَى اللَّهُ تبارك وتعالى ذَلِكَ مِنْهُمْ ضَرَبَ بِقُلُوبِ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ، ثُمَّ لَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِمْ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ {ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ} [البقرة: 61] ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَلَتَأْخُذُنَّ عَلَى يَدِ السَّفِيهِ، فَلْتَأْطُرُنَّهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا، أَوْ لَيَضْرِبَنَّ اللَّهُ عز وجل بِقُلُوبِ بَعْضِكُمْ عَلَى بَعْضٍ، ثُمَّ لَيَلْعَنَنَّكُمْ كَمَا لَعَنَهُمْ "
১২ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালাফ ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ শিহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলা ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি সালিম অর্থাৎ ইবনে আবিল জা'দ থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা এমন ছিল যে, যখন তাদের মধ্য থেকে কেউ কোনো পাপে লিপ্ত হতো, তখন কোনো নিষেধকারী তাকে কেবল লৌকিকভাবে নিষেধ করত। কিন্তু পরের দিন সে আবার তার সাথে উঠাবসা করত এবং তার সাথে পানাহার করত, যেন সে তাকে গতকাল পাপে লিপ্ত হতে দেখেনি। অতঃপর যখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাদের পক্ষ থেকে এই আচরণ দেখলেন, তখন তিনি তাদের একে অপরের হৃদয়ে আঘাত হানলেন (একে অপরের হৃদয়ে মোহর মেরে দিলেন), তারপর তাদের নবী দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখে তাদের অভিশাপ দিলেন। {তা এজন্য যে তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত} [আল-বাকারাহ: ৬১]। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং নির্বোধের হাত ধরে তাকে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে বাধ্য করবে; অন্যথায় আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তোমাদের একে অপরের হৃদয়ে আঘাত হানবেন, অতঃপর তোমাদেরও অভিশাপ দেবেন যেমন তাদের অভিশাপ দিয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنى مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ بِسْطَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَمْرٍو الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ: " أَوْحَى اللَّهُ عز وجل إِلَى يُوشَعَ بْنِ نُونٍ: إِنِّي مُهْلِكٌ مِنْ قَوْمِكَ أَرْبَعِينَ أَلْفًا مِنْ خِيَارِهِمْ، وَسِتِّينَ أَلْفًا مِنْ شِرَارِهِمْ، قَالَ: يَا رَبِّ، هَؤُلَاءِ الْأَشْرَارُ، فَمَا بَالُ الْأَخْيَارِ؟ قَالَ: إِنَّهُمْ لَمْ يَغْضَبُوا، وَكَانُوا يُؤَاكِلُونَهُمْ وَيُشَارِبُونَهُمْ "
১৩ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইয়াহইয়া বিন বিসতাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাফর বিন সুলায়মান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইবরাহিম বিন আমর আস-সানআনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত ইউশা বিন নুন-এর প্রতি ওহী নাযিল করলেন যে: 'নিশ্চয়ই আমি তোমার সম্প্রদায়ের চল্লিশ হাজার উত্তম ব্যক্তিকে এবং ষাট হাজার মন্দ ব্যক্তিকে ধ্বংস করব।' তিনি আরজ করলেন: 'হে আমার রব, এরা তো মন্দ লোক, কিন্তু উত্তমদের কী হলো (কেন তারা ধ্বংস হবে)?' তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই তারা (অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে) রাগান্বিত হয়নি এবং তারা তাদের সাথে একত্রে পানাহার করত।'"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُعَيْمٍ، عَنْ أَبِي هَزَّانَ، قَالَ: " بَعَثَ اللَّهُ عز وجل مَلَكَيْنِ إِلَى أَهْلِ قَرْيَةٍ أَنْ دَمِّرَا مَنْ فِيهَا. فَوَجَدَا رَجُلًا قَائِمًا يُصَلِّي فِي مَسْجِدٍ، فَتَضَرَّعَ أَحَدُهُمَا إِلَى اللَّهِ عز وجل وَقَالَ: رَبَّنَا إِنَّا وَجَدْنَا فِيهَا عَبْدَكَ فُلَانًا قَائِمًا يُصَلِّي فِي مَسْجِدٍ، فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: دَمِّرَاهَا وَدَمِّرَاهُ مَعَهَا، فَإِنَّهُ مَا تَمَعَّرَ وَجْهُهُ فِي سَاعَةٍ قَطُّ "
১৪ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে দাউদ ইবনে রুশাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে নুআইম থেকে, তিনি আবু হায্যান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে দুইজন ফেরেশতা পাঠালেন এই নির্দেশে যে, তারা যেন সেখানে অবস্থানরত সকলকে ধ্বংস করে দেয়। অতঃপর তারা এক ব্যক্তিকে মসজিদে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন তাদের একজন মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে আরজি পেশ করে বললেন: হে আমাদের রব! আমরা সেখানে আপনার অমুক বান্দাকে মসজিদে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তখন মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বললেন: তোমরা সেই জনপদকে এবং তার সাথে তাকেও ধ্বংস করো; কেননা (আমার অবাধ্যতা দেখে) তার চেহারা কখনো এক মুহূর্তের জন্যও বিবর্ণ হয়নি।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي حَاتِمٍ، ⦗ص: 28⦘ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعْدٌ، أَوْ سَعِيدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عِمْرَانَ أَبِي الْهُذَيْلِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: " لَمَّا أَصَابَ دَاوُدُ الْخَطِيئَةَ قَالَ: رَبِّ اغْفِرْ لِي، قَالَ: قَدْ غَفَرْتُهَا لَكَ، وَأَلْزَمْتُ عَارَهَا بَنِي إِسْرَائِيلَ، قَالَ: كَيْفَ يَا رَبِّ، وَأَنْتَ الْحَكَمُ الْعَدْلُ لَا تَظْلِمُ أَحَدًا، أَعْمَلُ أَنَا الْخَطِيئَةَ وَتُلْزِمُ عَارَهَا غَيْرِي؟، فَأَوْحَى اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ: أَنْ يَا دَاوُدُ، إِنَّكَ لَمَّا اجْتَرَأْتَ عَلَيَّ بِالْمَعْصِيَةِ لَمْ يُعَجِّلُوا عَلَيْكَ بِالنُّكْرَةِ "
১৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবি হাতিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ তিনি বলেন: সা’দ অথবা সাঈদ বিন ইউনুস বিন আবি আমর আশ-শায়বানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইমরান আবি আল-হুযাইল থেকে, তিনি ওহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন দাউদ (আলাইহিস সালাম) কোনো গুনাহ করে ফেললেন, তখন তিনি বললেন: হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ বললেন: আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি, তবে এর কলঙ্ক বনী ইসরাঈলের ওপর অবধারিত করেছি। তিনি বললেন: হে আমার রব, এটি কীভাবে সম্ভব? অথচ আপনি তো পরম ন্যায়বিচারক, যিনি কারো প্রতি যুলুম করেন না। গুনাহ করলাম আমি, আর আপনি এর কলঙ্ক অন্যের ওপর চাপালেন? তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁর নিকট ওহী পাঠালেন: হে দাউদ! তুমি যখন নাফরমানির মাধ্যমে আমার অবাধ্য হওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছিলে, তখন তারা (বনী ইসরাঈল) তোমাকে বাধা দিতে বা তোমার প্রতিবাদ করতে কোনো তৎপরতা দেখায়নি।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحُمَيْدِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، قَالَ: " بَلَغَنِي أَنَّ مَلَكًا أُمِرَ أَنْ يَخْسِفَ بِقَرْيَةٍ، فَقَالَ: يَا رَبِّ، فِيهَا فُلَانٌ الْعَابِدُ، فَأَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ: أَنْ بِهِ فَابْدَأْ، فَإِنَّهُ لَمْ يَتَمَعَّرْ وَجْهُهُ فِي سَاعَةٍ قَطُّ "
১৬ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আল-হুমাইদি বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মিসআর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, একজন ফেরেশতাকে একটি জনপদ ধসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি আরজ করলেন: হে আমার প্রতিপালক, সেখানে তো অমুক ইবাদতকারী ব্যক্তি রয়েছে। তখন মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: তাকে দিয়েই শুরু করো, কারণ তার চেহারা কখনো এক মুহূর্তের জন্যও (আমার উদ্দেশ্যে) বিবর্ণ হয়নি।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْعَلَاءِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ وَرَجُلٌ مَعَهُ، فَقَالَ لَهَا الرَّجُلُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، حَدِّثِينَا عَنِ الزَّلْزَلَةِ، فَقَالَتْ: " إِذَا اسْتَبَاحُوا الزِّنَا، وَشَرِبُوا الْخَمْرَ، وَضَرَبُوا بِالْمَغَانِي، وَغَارَ اللَّهُ عز وجل فِي سَمَائِهِ فَقَالَ لِلْأَرْضِ: تَزَلْزَلِي بِهِمْ. فَإِنْ تَابُوا وَنَزَعُوا، وَإِلَّا هَدَمَهَا عَلَيْهِمْ. قَالَ: قُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَعَذَابٌ لَهُمْ؟ قَالَتْ: بَلْ مَوْعِظَةٌ وَرَحْمَةٌ وَبَرَكَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ، وَنَكَالٌ وَعَذَابٌ وَسَخَطٌ عَلَى الْكَافِرِينَ ". قَالَ أَنَسٌ: مَا سَمِعْتُ حَدِيثًا بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا أَشَدُّ فَرَحًا مِنِّي بِهَذَا الْحَدِيثِ
১৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে নাসিহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-জুহানি থেকে, তিনি বলেন: আবুল আলা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আনাস ইবনে মালিক থেকে যে, তিনি আয়েশা (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সাথে এক ব্যক্তি ছিল। অতঃপর সেই ব্যক্তি তাঁকে বললেন: হে মুমিন জননী, ভূমিকম্প সম্পর্কে আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: "যখন তারা ব্যভিচারকে বৈধ মনে করবে, মদ্যপান করবে এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে মেতে উঠবে, আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর আসমানে আত্মমর্যাদাবোধে (গাইরাত) উদ্বুদ্ধ হবেন, তখন তিনি জমিনকে বলবেন: তাদের নিয়ে প্রকম্পিত হও। অতঃপর যদি তারা তওবা করে এবং তা ছেড়ে দেয় (তবে রক্ষা পাবে), অন্যথায় তিনি তাদের ওপর তা ধসিয়ে দেবেন।" তিনি (আনাস) বলেন: আমি বললাম: হে মুমিন জননী, এটি কি তাদের জন্য আজাব? তিনি বললেন: "বরং এটি মুমিনদের জন্য উপদেশ, রহমত ও বরকত এবং কাফিরদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আজাব ও ক্রোধ।" আনাস (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আমি এমন কোনো হাদিস শুনিনি যা আমাকে এই হাদিসের চেয়ে বেশি আনন্দিত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مَرْيَمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْعَطَّارُ بْنُ خَالِدٍ الْحَرَمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ، ⦗ص: 30⦘ " أَنَّ الْأَرْضَ زُلْزِلَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ: «اسْكُنِي، فَإِنَّهُ لَمْ يَأْنِ لَكِ بَعْدُ» ، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ: «إِنَّ رَبَّكُمْ يَسْتَعْتِبَكُمْ فَأَعْتِبُوهُ» . ثُمَّ زُلْزِلَتْ بِالنَّاسِ فِي زَمَنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، مَا كَانَتْ هَذِهِ الزَّلْزَلَةُ إِلَّا عَنْ شَيْءٍ أَحْدَثْتُمُوهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَئِنْ عَادَتْ لَا أُسَاكِنُكُمْ فِيهَا أَبَدًا»
১৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু মারইয়াম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আত্তার ইবনে খালিদ আল-হারামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে পৃথিবী প্রকম্পিত হয়েছিল, তখন তিনি তার ওপর নিজের হাত রাখলেন এবং বললেন: «স্থির হও, কারণ তোমার (বিদীর্ণ হওয়ার) সময় এখনো আসেনি», অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে ফিরে বললেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের রব তোমাদের কাছে তওবা ও সন্তুষ্টি কামনা করছেন, অতএব তোমরা তাঁকে সন্তুষ্ট করো»। এরপর উমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে মানুষের মাঝে ভূমিকম্প সংঘটিত হলো, তখন তিনি বললেন: «হে লোকসকল, তোমরা নতুন কোনো কিছু (পাপ) করার কারণেই কেবল এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে; সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি পুনরায় এর পুনরাবৃত্তি ঘটে তবে আমি আর কখনোই এখানে তোমাদের সাথে বসবাস করব না»।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ عُمَرُ بْنُ أَبِي الْحَارِثِ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي رَجَاءُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ رَجَاءٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سَعْدِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: ⦗ص: 31⦘ زُلْزِلَتِ الْمَدِينَةُ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ رضي الله عنه، فَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَيْهَا وَقَالَ: مَا لَكِ، مَا لَكِ؟ أَمَا إِنَّهَا لَوْ كَانَتِ الْقِيَامَةُ حَدَّثَتْنَا أَخْبَارَهَا، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، فَلَيْسَ مِنْهَا ذِرَاعٌ وَلَا شِبْرٌ إِلَّا وَهُوَ يَنْطِقُ بِالنَّاسِ»
১৯ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর উমর ইবন আবিল হারিস আল-হামদানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাজা ইবন সালামাহ ইবন রাজা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাদ ইবন তারিফ থেকে, তিনি হাকাম ইবন উতাইবাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ উমর (রা.)-এর যুগে মদীনায় ভূমিকম্প হয়েছিল, তখন তিনি তার হাত দিয়ে জমিনের ওপর আঘাত করলেন এবং বললেন: তোমার কী হয়েছে, তোমার কী হয়েছে? জেনে রেখো, যদি এটি কিয়ামত হতো তবে সে তার সংবাদসমূহ বর্ণনা করত; আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যখন কিয়ামতের দিন হবে, তখন জমিনের এক হাত বা এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও এমন থাকবে না যা মানুষের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কথা বলবে না»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَاهِلِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ صَفِيَّةَ، قَالَتْ: " زُلْزِلَتِ الْمَدِينَةُ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ رضي الله عنه فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ، مَا هَذَا؟ مَا أَسْرَعَ مَا أَحْدَثْتُمْ، لَئِنْ عَادَتْ لَا أُسَاكِنُكُمْ فِيهَا "
২০ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-বাহিলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে মদিনায় ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন তিনি বললেন: হে লোকসকল, এটা কী? তোমরা কত দ্রুতই না (পাপাচার) শুরু করলে! যদি পুনরায় এটি ঘটে, তবে আমি তোমাদের সাথে এখানে আর বসবাস করব না।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: «إِنَّمَا تَزَلْزَلَتِ الْأَرْضُ لِأَنَّهَا خُلِقَتْ عَلَى ظَهْرِ حُوتٍ، فَلَعَلَّ الْحُوتَ ⦗ص: 32⦘ إِنْ تَحَرَّكَ، أَوْ تُعْمَلُ عَلَيْهَا الْمَعَاصِي، فَتَرْعَدَ فَرَقًا مِنَ الرَّبِّ تَعَالَى إِذْ يَطَّلِعُ عَلَيْهَا»
২১ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট খালিদ বিন খিদাশ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব সংবাদ দিয়েছেন, উমর বিন আল-হারিস থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবি হিলাল থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই জমিন প্রকম্পিত হয় কারণ এটি একটি মাছের পিঠের ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে। সম্ভবত মাছটি ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ যদি নড়ে ওঠে, অথবা তার ওপর পাপাচার করা হয়, তখন সেটি মহান রবের ভয়ে কেঁপে ওঠে যখন তিনি এর ওপর দৃষ্টিপাত করেন।»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسَ، عَنْ شَيْخٍ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ، عَنْ أَبِي رَوْقٍ عَطِيَّةَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «خَلَقَ اللَّهُ عز وجل جَبَلًا يُقَالُ لَهُ قَافٌ، مُحِيطٌ بِالْعَالَمِ، وَعُرُوقُهُ إِلَى الصَّخْرَةِ الَّتِي عَلَيْهَا الْأَرْضُ، فَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ عز وجل أَنْ يُزَلْزِلَ قَرْيَةً أَمَرَ ذَلِكَ الْجَبَلَ يُحَرِّكُ الْعِرْقَ الَّذِي يَلِي تِلْكَ الْقَرْيَةِ، فَيَتَزَلْزَلُهَا وَيُحَرِّكُهَا، فَمِنْ ثَمَّ يُحَرِّكُ الْقَرْيَةَ دُونَ الْقَرْيَةِ»
২২ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আদম ইবনে আবি ইয়াস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বনী তামীমের একজন শাইখ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু রওক আতিয়্যাহ ইবনে হারিস থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ‘কাফ’ নামক একটি পাহাড় সৃষ্টি করেছেন, যা বিশ্বকে পরিবেষ্টন করে আছে। এর শিকড়গুলো সেই পাথর পর্যন্ত বিস্তৃত যার ওপর পৃথিবী অবস্থিত। সুতরাং যখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কোনো জনপদে ভূমিকম্প সৃষ্টির ইচ্ছা করেন, তখন তিনি সেই পাহাড়কে নির্দেশ দেন যেন সে ওই জনপদ সংলগ্ন শিকড়টি নাড়িয়ে দেয়। ফলে সেটি ওই জনপদকে প্রকম্পিত ও আন্দোলিত করে। এ কারণেই এক জনপদে ভূমিকম্প হয় কিন্তু অন্যটিতে হয় না।»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، قَالَ: " كَتَبَ إِلَيْنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: " أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ هَذَا الرَّجْفَ شَيْءٌ يُعَاقِبُ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ الْعِبَادَ، وَقَدْ كَتَبْتُ إِلَى الْأَمْصَارِ أَنْ يَخْرُجُوا يَوْمَ كَذَا مِنْ شَهْرِ كَذَا، فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلْيَصَّدَقْ، ⦗ص: 33⦘ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى} [الأعلى: 14] ، {وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى} [الأعلى: 15] ، وَقُولُوا كَمَا قَالَ أَبُوكُمْ آدَمُ: {رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [الأعراف: 23] ، وَقُولُوا كَمَا قَالَ نُوحٌ عليه السلام: {وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُنْ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [هود: 47] ، وَقُولُوا كَمَا قَالَ يُونُسُ عليه السلام: {لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: 87] "
২৩ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে ইসহাক ইবনু ইসমাঈল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে সুফিয়ান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদেরকে জাফর ইবনু বুরকান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: "উমর ইবনু আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন: "অতঃপর, নিশ্চয় এই ভূমিকম্প এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের শাস্তি প্রদান করেন। আর আমি বিভিন্ন জনপদে লিখে পাঠিয়েছি যেন তারা অমুক মাসের অমুক তারিখে (প্রার্থনার উদ্দেশ্যে) বের হয়। অতএব যার নিকট কিছু (সাধ্য) আছে সে যেন সদাকাহ করে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: {নিশ্চয় সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে} [আল-আলা: ১৪] , {এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করেছে ও সলাত আদায় করেছে} [আল-আলা: ১৫] , আর তোমরা তেমন বলো যেমন তোমাদের পিতা আদম বলেছিলেন: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি, আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব} [আল-আরাফ: ২৩] , আর তোমরা তেমন বলো যেমন নূহ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: {আর আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব} [হূদ: ৪৭] , এবং তোমরা তেমন বলো যেমন ইউনুস আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: {আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি অতি পবিত্র; নিশ্চয় আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম} [আল-আম্বিয়া: ৮৭]।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৩)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ الرَّقَاشِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا غَسَّانُ بْنُ بُرْزِينَ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَاشِدٌ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحِمَّانِيُّ، قَالَ: قَالَ ابْنُ عُمَرَ: لَقَدْ أَتَى عَلَيْنَا زَمَانٌ وَمَا أَحَدٌ أَحَقَّ بِدِينَارِهِ وَدِرْهَمِهِ مِنْ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، وَلَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِذَا ضَنَّ النَّاسُ بِالدِّينَارِ وَالدِّرْهَمِ، وَتَبَايَعُوا بِالْعِينَةِ، وَتَرَكُوا الْجِهَادَ، ⦗ص: 34⦘ وَأَخَذُوا بِأَكْتَابِ الْبَقَرِ، أَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ ذُلًّا، لَا يَرْفَعُهُ عَنْهُمْ حَتَّى يُرَاجِعُوا دِينَهُمْ»
২৪ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আযহার ইবনে মারওয়ান আর-রাকাশী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদেরকে গাসসান ইবনে বুরযীন সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট রাশিদ আবু মুহাম্মাদ আল-হিমমানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: আমাদের নিকট এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন কেউ তার দীনার ও দিরহামের ক্ষেত্রে তার মুসলিম ভাইয়ের চেয়ে অধিক হকদার ছিল না। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যখন মানুষ দীনার ও দিরহামের ব্যাপারে কৃপণতা করবে, ঈনা পদ্ধতিতে ব্যবসা করবে, জিহাদ পরিত্যাগ করবে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ এবং গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে (অর্থাৎ চাষাবাদে মগ্ন হবে), আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আকাশ থেকে তাদের ওপর লাঞ্ছনা অবতীর্ণ করবেন। তিনি তাদের থেকে তা ততক্ষণ পর্যন্ত উঠিয়ে নেবেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসে।”
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৪)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ، يَقُولُ: «إِنَّ الْفِتْنَةَ وَاللَّهِ مَا هِيَ إِلَّا عُقُوبَةٌ مِنَ اللَّهِ عز وجل تَحِلُّ بِالنَّاسِ»
25 - আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আজহার ইবনে মারওয়ান আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে সুলাইমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে হাসসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «আল্লাহর কসম, ফিতনা হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শাস্তি মাত্র, যা মানুষের ওপর আপতিত হয়।’»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৪)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبَّادٍ الْمِعْوَلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ حُرَيْثٍ الْبَاهِلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَازِمُ بْنُ جَبَلَةَ بْنِ أَبِي نَضْرَةَ الْعَبْدِيُّ، عَنْ ضِرَارِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْهُذَيْلِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، وَحُذَيْفَةَ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل إِذَا أَرَادَ بِالْعِبَادِ نِقْمَةً أَمَاتَ الْأَطْفَالَ، وَأَعْقَمَ أَرْحَامَ النِّسَاءِ، فَتَنْزِلُ بِهِمُ النِّقْمَةُ وَلَيْسَ فِيهِمْ مَرْحُومٌ»
২৬ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহীম ইবনে আব্বাদ আল-মি’ওয়ালী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: রাজা ইবনে হুরাইস আল-বাহিলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খাযিম ইবনে জাবাল্লাহ ইবনে আবি নাদলাহ আল-আবদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দিরার ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল হুযাইল থেকে, তিনি আম্মার ইবনে ইয়াসির এবং হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়ই বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যখন বান্দাদের ওপর কোনো আজাব বা প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি শিশুদের মৃত্যু দেন এবং নারীদের জরায়ু বন্ধ্যা করে দেন; এরপর তাদের ওপর আজাব অবতীর্ণ হয় এমতাবস্থায় যে তাদের মধ্যে রহমত বা দয়া পাওয়ার মতো কেউ থাকে না।"
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ أَبِيهَا، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «النِّقَمُ كُلُّهَا جَائِرَةٌ»
২৭ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনু ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনু মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিহ ইবনু মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর মাতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সকল প্রকার নিগ্রহ বা শাস্তিই অত্যন্ত কঠোর ও যালিমসুলভ হয়ে থাকে।»
(খণ্ড: ১) আল-উকুবাতি লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫)
28 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ صَفْوَانَ، عَنِ الْأَجْلَحِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْهُذَيْلِ، قَالَ: ⦗ص: 36⦘ " قَالَ دَانْيَالُ عليه السلام، وَنَظَرُوا إِلَى بَعْضِ مَا كَانَ يَصْنَعُ بُخْتُنَصَّرُ، فَبَكَى وَقَالَ: بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِينَا، وَبِالْعَارِ الَّذِي أَتَيْنَا سَلَّطْتَ عَلَيْنَا مَنْ لَا يَعْرِفُكَ وَلَا يَرْحَمُنَا "
২৮ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আবদুল আলা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সাফওয়ান থেকে, আল-আজলাহ থেকে, আবদুল্লাহ বিন আবু আল-হুজাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ "দানিয়াল আলাইহিস সালাম বলেছেন—আর তারা বুখতুনাসসার যা করছিল তার কিছু অংশ প্রত্যক্ষ করল—তখন তিনি কাঁদলেন এবং বললেন: আমাদের হাত যা উপার্জন করেছে এবং আমরা যে লজ্জাজনক কাজ করেছি তার কারণে আপনি আমাদের ওপর এমন একজনকে কর্তৃত্ব দিয়েছেন যে আপনাকে চেনে না এবং আমাদের প্রতি দয়া করে না।"