(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: -)
إثبات عذاب القبر للبيهقي   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: إثبات عذاب القبر

المؤلف: أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي (384 - 458 هـ)

المحقق: د. شرف محمود القضاة (كلية الشريعة - الجامعة الأردنية)

الناشر: دار الفرقان - عمان الأردن

الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م

عدد الصفحات: 136

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বাইহাকী রচিত কবরের আজাবের প্রমাণ   (আবু বকর আল-বাইহাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: কবরের আজাবের প্রমাণ

লেখক: আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকী (৩৮৪ - ৪৫৮ হিজরি)

সম্পাদক: ড. শরাফ মাহমুদ আল-কুদা (শরীয়াহ অনুষদ - জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়)

প্রকাশক: দারুল ফুরকান - আম্মান, জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
إِثْبَاتُ عَذَابِ القَبْرِ لِلْبَيْهَقِيِّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ كِتَابُ إِثْبَاتُ عَذَابِ القَبْرِ وَسُؤَالِ المَلَكَيْنِ، عَلَى مَا وَرَدَتْ بِهِ الشَّرِيعَةُ بِالآَيَاتِ المَتْلُوَّةِ وَالأَخْبَارِ المَرْوِيَّةِ، وَأَقَاوِيلَ سَلَفِ هَذِةِ الأُمَّةِ، مَعَ جَوَازِ ذَلِكَ بِالعَقْلِ فِى قُدْرَةِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى
ইমাম বায়হাকী প্রণীত কবরের আজাব সাব্যস্তকরণ। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। কবরের আজাব ও দুই ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদ সাব্যস্তকরণ বিষয়ক গ্রন্থ; যা শরীয়তে বর্ণিত তিলাওয়াতকৃত আয়াতসমূহ ও বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং এ উম্মতের সালাফদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রণীত, সেই সঙ্গে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কুদরতের প্রেক্ষাপটে বিবেকের বিচারেও এর যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্যতা বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٢٧)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْفَقِيهُ، ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، ثَنَا الْحَوضِيُّ ح، وَأَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْمُزَكِّي، وَأَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بِنِ عَبْدَانُ قَالَا: ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْحَافِظُ، نَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، ثَنَا أَبُو عُمَرَ، ثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمُؤْمِنُ إِذَا شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَعَرَفَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فِي قَبْرِهِ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عز وجل {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا»} [إبراهيم: 27] رَوَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ، عَنْ أَبِي عُمَرَ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ الْحَوْضِيِّ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন সুলাইমান আল-ফকিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন ইসহাক আল-কাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাওযী। (হাও) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুযাক্কী এবং আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদান, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, আলকামা বিন মারসাদ থেকে, তিনি সা’দ বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “মুমিন ব্যক্তি যখন কবরে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চিনতে পারে, তখন সেটিই হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের মাধ্যমে ইহকালীন জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইবরাহিম: ২৭]।” এটি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু উমর হাফস বিন উমর আল-হাওযী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
2 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، نَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، ثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الْأَشْعَثَ السِّجِسْتَانِيُّ، ثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، ثَنَا شُعْبَةُ عْنُ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا سُئِلَ فِي الْقَبْرِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عز وجل {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] " لَفْظُ حَدِيثِ أَبِي دَاوُدَ، وَفِي حَدِيثِ الصَّغَانِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَهُ، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ هِشَامِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، وَرَوَاهُ أَبُو الْحُسَيْنُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ النَّيْسَابُورِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى، عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ فِيمَا زَعَمَ شَيْخُنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، فَأَمَّا أَنَا فَإِنِّي لَمْ أَرَهُ فِي كِتَابِ مُسْلِمٍ إِلَّا مِنْ رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন আব্দুল মালিক। (অন্য সূত্রে) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আর-রুদবারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন বকর বিন আব্দুল রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুলায়মান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আলকামা বিন মারসাদ থেকে, তিনি সা'দ বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুসলিম ব্যক্তিকে যখন কবরে প্রশ্ন করা হয়, তখন সে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসুল। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭]।" এটি আবু দাউদের বর্ণিত হাদিসের শব্দ। আর আস-সাগানির হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু আল-ওয়ালিদ হিশাম বিন আব্দুল মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরি এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না থেকে, তিনি আবু আল-ওয়ালিদ থেকে—যেমনটি আমাদের শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ দাবি করেছেন। তবে আমার কথা হলো, আমি এটি মুসলিমের কিতাবে মুহাম্মদ বিন জাফর গুন্দার-এর শু'বাহ থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে দেখিনি।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ فِي قَوْلِهِ {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [إبراهيم: 27] إِذَا جَاءَ الْمَلَكُ الرَّجُلَ فِي الْقَبْرِ حِينَ يُدْفَنُ، فَقَالَ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ ⦗ص: 29⦘ فَقَالَ: رَبِّيَ اللَّهُ، فَقَالَ: وَمَا دِينُكَ؟ قَالَ: دِينِيَ الْإِسْلَامُ، وَقَالَ لَهُ: مَنْ نَبِيُّكَ؟ قَالَ نَبِيِّي مُحَمَّدٌ، فَذَلِكَ التَّثْبِيتُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا، وَرَوَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، وَقَالَ: إِذَا جَاءَ الْمَلَكَانِ الرَّجُلَ فِي الْقَبْرِ
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয এবং আবু আবদুল্লাহ বিন আবি আমর, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবদুল জাব্বার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, আমাশ থেকে, তিনি সাদ বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: {আল্লাহ মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনে সুদৃঢ় বাণীর দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহীম: ২৭]। (তিনি বলেন:) যখন কবরে দাফন করার সময় ফেরেশতা ব্যক্তির নিকট আসেন এবং তাকে বলেন: তোমার রব কে? ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ সে বলে: আমার রব আল্লাহ। তিনি বলেন: তোমার দ্বীন কী? সে বলে: আমার দ্বীন ইসলাম। তিনি তাকে আরও বলেন: তোমার নবী কে? সে বলে: আমার নবী মুহাম্মদ। আর এটাই হলো পার্থিব জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা। এবং এটি আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আবু মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সেখানে বলেছেন: যখন কবরে দুজন ফেরেশতা ব্যক্তির নিকট আসেন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَاشِمِيُّ بِبَغْدَادَ، ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَّاكِ ح، وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، وَأَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالُوا: ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، ثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، ثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: ذَكَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُؤْمِنَ وَالْكَافِرَ، ثُمَّ ذَكَرَ أَشْيَاءَ لَمْ أَحْفَظْهَا، فَقَالَ: " إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا سُئِلَ فِي قَبْرِهِ قَالَ رَبِّيَ اللَّهُ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عز وجل {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] الآَيَة "
৪ - বাগদাদে আমাদের অবহিত করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাশেমী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আহমাদ ইবনে আস-সাম্মাক (হ); এবং আমাদের অবহিত করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু সাহল আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ এবং আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব। তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব ইবনে জারীর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুমিন ও কাফিরের কথা উল্লেখ করলেন, এরপর তিনি এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করলেন যা আমি মুখস্থ রাখতে পারিনি। অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তিকে যখন তার কবরে প্রশ্ন করা হয়, তখন সে বলে: 'আমার রব আল্লাহ'। আর এটাই হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহ সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন।} [ইব্রাহীম: ২৭] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
5 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ الْقَاضِي، بِهَمَذَانَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحُسَيْنِ، ثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسَ، ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] فَقَالَ: " ذَلِكَ إِذَا قِيلَ لَهُ فِي الْقَبْرِ: مَنْ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينُكَ؟ وَمَنْ نَبِيُّكَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ رَبِّي وَالْإِسْلَامُ دِينِي وَمُحَمَّدٌ نَبِيِّي، جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُهُ فَيُقَالُ: صَدَقْتَ عَلَى هَذَا حَيِيتُ، وعَلَيْهِ مِتَّ، وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ "
৫ - মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের অবহিত করেছেন যে, হামাদানে আবদুর রহমান ইবনুল হাসান আল-কাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আদম ইবনে আবি ইয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই আয়াতটি পাঠ করলেন: "আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন" [সূরা ইব্রাহিম: ২৭]। অতঃপর তিনি বললেন: "এটি তখনকার বিষয় যখন কবরে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে? তখন সে বলবে: আল্লাহ আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন এবং মুহাম্মাদ আমার নবী; তিনি আমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন, তাই আমি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেছি। তখন বলা হবে: তুমি সত্য বলেছ। এই বিশ্বাসের উপরেই তুমি বেঁচে ছিলে, এর উপরেই তুমি মৃত্যুবরণ করেছ এবং এর উপরেই তোমাকে পুনরুত্থিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।"
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُؤَمَّلُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عِيسَى رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ أَصْلِهِ، ثَنَا أَبُو عُثْمَانَ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ، نَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، أَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، أنا عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُخَارِقِ، عَنِ الْمُخَارِقِ بْنِ سُلَيْمٍ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ: إِذَا حَدَّثْنَاكُمْ بِحَدِيثٍ آتَيْنَاكُمْ بِتَصْدِيقِ ذَلِكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل، إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا دَخَلَ قَبْرَهُ أُجْلِسَ فِيهِ فَقِيلَ: مَنْ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينُكَ؟ يَعْنِي وَمَنْ نَبِيُّكَ؟ قَالَ: فَيُثَبِّتُهُ اللَّهُ عز وجل ⦗ص: 30⦘، فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللَّهُ وَدِينِيَ الْإِسْلَامُ وَنَبِيِّي مُحَمَّدٌ قَالَ: فَيُوسَعُ لَهُ قَبْرُهُ، وَيَرُوحُ لَهُ فِيهِ، ثُمَّ قَرَأَ {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [إبراهيم: 27] الْآيَةُ، وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا دَخَلَ قَبْرَهُ أُجْلِسَ فِيهِ، فَقِيلَ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينُكَ؟ وَمَنْ نَبِيُّكَ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي فَيَضِيقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ وَيُعَذَّبُ فِيهِ، ثُمَّ قَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ {وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى "} [طه: 124]
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-মুআম্মাল ইবনুল হাসান ইবনে ঈসা (রাহিমাহুল্লাহ), তাঁর সামনে তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করার মাধ্যমে; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উসমান আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বসরী; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবনে আওন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ; তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুখারিক থেকে; তিনি মুখারিক ইবনে সুলাইম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ বলেছেন: যখন আমরা তোমাদের কাছে কোনো হাদিস বর্ণনা করি, তখন আমরা মহান আল্লাহর কিতাব থেকে তার সত্যায়ন তোমাদের নিকট নিয়ে আসি। নিশ্চয়ই একজন মুসলিম যখন তার কবরে প্রবেশ করে, তখন তাকে সেখানে বসানো হয় এবং জিজ্ঞাসা করা হয়: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? অর্থাৎ তোমার নবী কে? তিনি বলেন: তখন মহান আল্লাহ তাকে সুদৃঢ় রাখেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘, ফলে সে বলে: আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম এবং আমার নবী মুহাম্মদ। তিনি বলেন: তখন তার কবরকে তার জন্য প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং সেখানে তাকে স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করা হয়। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [সূরা ইব্রাহিম: ২৭] আয়াতাংশটি। আর কাফের ব্যক্তি যখন তার কবরে প্রবেশ করে, তখন তাকে সেখানে বসানো হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে? তখন সে বলে: আমি জানি না। ফলে তার কবরকে তার জন্য সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় এবং সেখানে তাকে আযাব দেওয়া হয়। এরপর আব্দুল্লাহ তিলাওয়াত করলেন: {আর যে ব্যক্তি আমার যিকির (স্মরণ) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমরা তাকে অন্ধ অবস্থায় হাশর করব।} [সূরা ত্বহা: ১২৪]
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٠)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَافِظُ، وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، وَأَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى قَالُوا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، ثَنَا شَرِيكُ عَنْ سَالِمٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [إبراهيم: 27] قَالَ: الْمُخَاطَبَةُ فِي الْقَبْرِ يَقُولُ: مَنْ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينُكَ؟ وَمَنْ نَبِيُّكَ؟ وَفِي الْآخِرَةِ مِثْلُ ذَلِكَ
৭ - আবু আবদুর রহমান আল-হাফিজ, আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শারিক সালিম থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুপ্রতিষ্ঠিত বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে সুদৃঢ় রাখেন} [ইবরাহীম: ২৭]। তিনি বলেন: (এটি হলো) কবরের জিজ্ঞাসাবাদ। সেখানে বলা হবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে? আর পরকালেও অনুরূপ হবে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌بَابُ مَا فِي هَذِهِ الْآيَةِ مِنَ الْوَعِيدِ لِلْكُفَّارِ بِعَذَابِ الْقَبْرِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ} [إبراهيم: 27]
কবরের আজাব সম্পর্কে এই আয়াতে কাফেরদের জন্য যে সতর্কবার্তা রয়েছে তার পরিচ্ছেদ; আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আল্লাহ জালেমদের পথভ্রষ্ট করেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন।" [ইব্রাহিম: ২৭]
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣١)
8 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثَنَا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلَمَةَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] قَالَ: نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ، يُقَالُ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللَّهُ وَنَبِيِّي مُحَمَّدٌ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ} [إبراهيم: 27] رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ أَيْضًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ
৮ - মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ফজল ইবন ইব্রাহিম ইবন আহমদ ইবন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলকামা ইবন মারসাদ থেকে, তিনি সাদ ইবন উবাইদাহ থেকে, তিনি বারা ইবন আযিব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "{আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭]। তিনি বলেন: এটি কবরের শাস্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তাকে বলা হয়: তোমার রব কে? সে বলে: আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মদ। আর এটাই হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭]। এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবন বাশার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিমও মুহাম্মদ ইবন বাশার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣١)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ، ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، ثَنَا الثَّوْرِيُّ ح، وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ يَعْنِي الشَّيْبَانِيَّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَهْلٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَعْنِي ابْنَ مَهْدِي، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] قَالَ: نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ وَغَيْرِهِ
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু সাঈদ বিন আবু আমর; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রাওহ বিন উবাদাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আস-সাওরী। (সনদান্তর) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব অর্থাৎ আশ-শায়বানী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন সাহল, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বাশশার, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান অর্থাৎ ইবনে মাহদী, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি খাইসামাহ থেকে, তিনি বারা বিন আযিব থেকে বর্ণনা করেন: {আল্লাহ ঈমানদারদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুদৃঢ় রাখেন} [ইবরাহীম: ২৭]। তিনি বলেন: এটি কবরের আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন বাশশার ও অন্যদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣١)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرَانَ الْعَدْلُ بِبَغْدَادَ، أَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّازِيُّ، ثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ الْيَمَانِ، ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، يَعْنِي: ابْنَ عَوْنٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] الشَّهَادَةُ، يُسْأَلُونَ عَنْهَا فِي قُبُورِهِمْ بَعْدَ مَوْتِهِمْ قَالَ: قُلْتُ لِعِكْرِمَةَ: مَا هُوَ؟ قَالَ: " يُسْأَلُونَ عَنْ إِيمَانِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَأَمْرِ التَّوْحِيدِ قَالَ: {وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ} [إبراهيم: 27] قَالَ: تِلْكَ الشَّهَادَةُ فَلَا يَهْتَدُونَ أَبَدًا "، وَهَكَذَا رَوَاهُ غَيْرُهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
১০ - বাগদাদের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি আবুল হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আমর উসমান ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইসাম ইবনুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে জাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে আউন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমা থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭], তিনি বলেন: এটি হলো সাক্ষ্য প্রদান (শাহাদাত), মৃত্যুর পর কবরে তাদেরকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। তিনি বলেন: আমি ইকরিমাকে বললাম, সেটি কী? তিনি বললেন: তাদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এবং তাওহীদের বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: {আর আল্লাহ জালেমদেরকে বিভ্রান্ত করেন} [ইব্রাহিম: ২৭]। তিনি (ইকরিমা) বললেন: সেটি হলো সেই সাক্ষ্য প্রদান (শাহাদাত), ফলে তারা কখনো হেদায়েত প্রাপ্ত হবে না। অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস থেকে অন্যান্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٢)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْأَسْلَمِيُّ قَالَ عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَفْصٍ: ثَنَا عَنُ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بِي يُفْتَتَنُ أَهْلُ الْقُبُورِ، وَفِيَّ نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ} [إبراهيم: 27] " قَالَ أَبُو الْعَبَّاسِ: أَحْسَبُهُ قَالَ: وَفِيهِ نَزَلَتْ "
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফেজ এবং আবু সাঈদ বিন আবু আমর, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উমর আল-আসলামি, আবদুস সালাম বিন হাফস বলেছেন: আমাদের নিকট শারিক বিন আবু নামির বর্ণনা করেছেন আতা বিন ইয়াসার হতে, তিনি আয়েশা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার মাধ্যমেই কবরবাসীরা পরীক্ষিত হবে এবং আমার ব্যাপারেই এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭]।" আবুল আব্বাস বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: "এবং তাঁর বিষয়েই এটি অবতীর্ণ হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٢)
12 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرِو، عْنِ أَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [إبراهيم: 27] فِي عَذَابِ الْقَبْرِ "
১২ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ ও আবু সাঈদ, তাঁরা বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে আমর, আবু ইসহাক আল-ফাজারি থেকে, সুফিয়ান থেকে, ইবনে আবি নাজিহ থেকে, মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় কথার মাধ্যমে পার্থিব জীবনে অবিচল রাখেন} [ইবরাহিম: ২৭] কবরের আযাব সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌بَابُ إِخْبَارِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم بِأَنَّ الْمُؤْمِنَ وَالْكَافِرَ جَمِيعًا يُسْأَلَانِ، ثُمَّ يُثَبَّتُ الْمُؤْمِنُ وَيُعَذَّبُ الْكَافِرُ
অধ্যায়: মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদ প্রদান যে, মুমিন ও কাফির উভয়কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে; অতঃপর মুমিনকে অটল রাখা হবে এবং কাফিরকে শাস্তি প্রদান করা হবে
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٣)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، نَا أَبُو الْفَضْلِ الْحَسَنُ بْنُ يَعْقُوبَ الْعَدْلُ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ سَعِيدٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنُّ نَبِيَّ اللَّه صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ، إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ، فَيَقُولَانِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ يَعْنِي مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم قَالَ: فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ فِي النَّارِ، قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ مَقْعَدًا فِي الْجَنَّةِ، فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا " رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَمْرِو بْنِ زُرَارَةَ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ، وَرُوِي ذَلِكَ عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ عَطَاءٍ أَبْسَطَ مِنْ ذَلِكَ
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আল-হাসান ইবনে ইয়াকুব আল-আদল, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব, সাঈদ অর্থাৎ ইবনে আবু আরূবা থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা তার নিকট থেকে ফিরে চলে যায়, সে তখন তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। তখন তার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তারা বলেন: এই ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তিনি (আনাস) বলেন: মুমিন ব্যক্তি তখন বলে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তখন তাকে বলা হয়: জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গার দিকে তাকাও, আল্লাহ তোমাকে তার পরিবর্তে জান্নাতে একটি অবস্থানের জায়গা দান করেছেন। তখন সে ঐ উভয় জায়গা একত্রে দেখতে পায়।" ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আমর ইবনে যুরারা থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং এটি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা থেকে এর চেয়েও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٣)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الفَضْلٍ الْقَطَّانُ بِبَغْدَادَ، أَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، أَنَا سَعِيدٌ ح، وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ قَالَا، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّزِّيُّ، ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ⦗ص: 34⦘، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ نَخْلًا لِبَنِي النَّجَّارِ فَسَمِعَ صَوْتًا فَفَزِعَ، فَقَالَ: «مَنْ أَصْحَابُ هَذِهِ الْقُبُورِ؟» قَالُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، نَاسٌ مَاتُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَقَالَ: «نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَعَذَابِ النَّارِ، وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ» قَالُوا: وَمَا ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا، وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ أَتَاهُ مَلَكٌ، فَيَقُولُ لَهُ» مَا كُنْتَ تَعْبُدُ؟ فَإِنِ اللَّهُ هَدَاهُ، وَفِي رِوَايَةِ الْقَطَّانِ، فَإِنْ هَدَاهُ اللَّهُ عز وجل، فَيَقُولُ: كُنْتُ أَعْبُدُ اللَّهَ فَيُقَالُ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ قَالَ: فَمَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ غَيْرَهَا، فَيُنْطَلَقُ بِهِ إِلَى بَيْتٍ كَانَ لَهُ فِي النَّارِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا بَيْتِكَ كَانَ فِي النَّارِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ عز وجل عَصَمَكَ وَرَحِمَكَ فَأَبْدَلَكَ بِهِ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ، فَيَقُولُ: دَعُونِي حَتَّى أَذْهَبَ فَأُبَشِّرَ أَهْلِي، فَيُقَالُ لَهُ: اسْكُنْ، وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ أَتَاهُ مَلَكٌ، فَيَنْهَرُهُ فَيَقُولُ: مَا كُنْتَ تَعْبُدُ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، فَيَقُولُ: لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ، فَيَقُولُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ قَالَ: فَيَضْرِبُهُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا الْخَلْقُ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ «لَفْظُهُمَا سَوَاءٌ» وَهَكَذَا رَوَاهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ عَطَاءٍ
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফজল আল-কাত্তান বাগদাদে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আল-কাত্তান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ (হ), এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিয ও মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনুল ফজল, তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রুযযি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা, সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু নাজ্জারের একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন এবং একটি শব্দ শুনে ভীত হলেন। তিনি বললেন: «এই কবরবাসীরা কারা?» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর নবী, এরা এমন কিছু লোক যারা জাহেলিয়াত যুগে মারা গিয়েছে। তিনি বললেন: «আমরা কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ব্যাপারটি কী? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এই উম্মতকে তাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে। যখন মুমিন ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হয়, তখন একজন ফেরেশতা তার নিকট আসেন এবং তাকে বলেন:» তুমি কার ইবাদত করতে? যদি আল্লাহ তাকে হিদায়াত দান করেন—আর আল-কাত্তানের বর্ণনায় রয়েছে: যদি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে হিদায়াত দান করেন—তখন সে বলে: আমি আল্লাহর ইবাদত করতাম। তখন তাকে বলা হয়: তুমি এই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলতে? সে বলে: তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। বর্ণনাকারী বলেন: তাকে এ বিষয়গুলো ছাড়া আর কিছু জিজ্ঞেস করা হয় না। তখন তাকে আগুনের একটি ঘরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় যা তার জন্য (নির্ধারিত) ছিল এবং তাকে বলা হয়: এটি জাহান্নামে তোমার ঘর ছিল, কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তোমাকে রক্ষা করেছেন ও তোমার প্রতি রহম করেছেন এবং এর পরিবর্তে তোমাকে জান্নাতে একটি ঘর দান করেছেন। তখন সে বলে: আমাকে যেতে দিন যাতে আমি আমার পরিবারকে সুসংবাদ দিতে পারি। তাকে বলা হয়: তুমি স্থির থাকো। আর কাফির ব্যক্তিকে যখন তার কবরে রাখা হয়, তখন একজন ফেরেশতা তার নিকট আসেন এবং তাকে ধমক দিয়ে বলেন: তুমি কার ইবাদত করতে? সে বলে: আমি জানি না। তিনি বলেন: তুমি জানোওনি এবং অনুসরণও করোনি। তারপর তিনি বলেন: তুমি এই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলতে? সে বলে: মানুষ যা বলত আমিও তা-ই বলতাম। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি তাকে লোহার একটি হাতুড়ি দিয়ে তার দুই কানের মধ্যস্থলে আঘাত করেন, ফলে সে এমন উচ্চস্বরে চিৎকার করে যা মানুষ ও জিন ছাড়া সমস্ত সৃষ্টিজগত শুনতে পায়। «উভয় বর্ণনার শব্দাবলী একই রকম।» আর এভাবেই আহমদ ইবনে হাম্বল আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٤)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَدِيبُ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ الْإِسْمَاعِيلَيُّ، أَنَا أَبُو يَعْلَى، وَالْحَسَنُ قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ: وَأَخْبَرَنِي الْفِرْيَابِيُّ، وَالْحَسَنُ قَالَا: ثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ قَالَ: " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ يَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ، فَيُقْعِدَانِهِ، فَيَقُولَانِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ؟ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ، فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ قَالَ ⦗ص: 35⦘: فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ، أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا فِي الْجَنَّةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يرَاهُمَا كِلَاهُمَا، أَوْ قَالَ جَمِيعًا، " قَالَ قَتَادَةُ: فَذُكِرَ لَنَا: «يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا وَيُمْلَأُ عَلَيْهِ خَضِرًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيثِ أَنَسٍ قَالَ: " وَأَمَّا الْكَافِرُ أَوِ الْمُنَافِقُ، فَيُقَالُ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ، فَيُقَالُ: لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ، ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مِنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ " هَذَا حَدِيثُ الْفِرْيَابِيِّ، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ، فَقَالَ: وَقَالَ لِي خَلِيفَةُ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، فَذَكَرَهُ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مِنْهَالٍ مُخْتَصَرًا، وَرَوَاهُ شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ قَتَادَةَ
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আদিব, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-ইসমাঈলি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা এবং আল-হাসান, তাঁরা উভয়ই বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মিনহাল, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন যুরাই। তিনি বলেন: এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-ফিরইয়াবি ও আল-হাসান, তাঁরা উভয়ই বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন যুরাই, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি আরুবাহ, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গীরা তার নিকট থেকে ফিরে যায়, এমনকি সে তাদের জুতার আওয়াজও শুনতে পায়, তখন তার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাঁরা তাকে বসান। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করেন: 'তুমি এই ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কী বলতে?' মুমিন ব্যক্তি তখন বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল'।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ তখন তাকে বলা হয়: "তুমি জাহান্নামে তোমার ঠিকানাটির দিকে তাকাও, আল্লাহ তোমাকে সেটির পরিবর্তে জান্নাতে একটি ঠিকানা দান করেছেন।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "সে তখন জান্নাত ও জাহান্নাম উভয় ঠিকানাটিই দেখতে পায়।" কাতাদাহ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, "তার জন্য তার কবরকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তা সজীবতায় পূর্ণ করে দেওয়া হয়।" অতঃপর বর্ণনাকারী পুনরায় আনাসের হাদিসে ফিরে গিয়ে বলেন: "আর কাফের অথবা মুনাফিক ব্যক্তিকে বলা হয়: 'তুমি এই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলতে?' সে বলে: 'আমি জানি না, মানুষ যা বলত আমিও তাই বলতাম।' তখন তাকে বলা হয়: 'তুমি না নিজে বুঝেছ, না সত্যের অনুসরণ করেছ।' অতঃপর তার দুই কানের মাঝখানে লোহার হাতুড়ি দিয়ে সজোরে এক আঘাত করা হয়, ফলে সে এমনভাবে চিৎকার করে ওঠে যা মানুষ ও জিন ব্যতীত তার আশেপাশের সকলেই শুনতে পায়।" এটি আল-ফিরইয়াবির হাদিস। ইমাম বুখারী এটি সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: খলিফা আমাকে বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন যুরাই, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ বিন মিনহাল থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন এবং শায়বান বিন আব্দুর রহমান এটি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٥)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، ثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ قَالَ: يَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ، فَيَقُولَانِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ: انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ " قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَيُرَاهُمَا جَمِيعًا " رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ،

 

17 - كَمَا أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، وَأَبُو أَحْمَدَ بْنُ عِيسَى، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ، ثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، ثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، ثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَذَكَرَهُ بِمِثْلِهِ وَزَادَ فِي آخِرِهِ قَالَ قَتَادَةُ: وَذَكَرَ لَنَا أَنَّهُ: «يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا وَيُمْلَأُ عَلَيْهِ خَضِرًا إِلَى يَوْمِ يَبْعَثُونَ» وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
16 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আস-সাগানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাইবান, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা তার নিকট থেকে প্রস্থান করে, তখন সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়।" তিনি বলেন: "তখন দুইজন ফেরেশতা তার নিকট আসেন এবং তাকে বসিয়ে দেন। তারা জিজ্ঞাসা করেন: 'এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' অতঃপর মুমিন ব্যক্তি বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।' তখন তাকে বলা হয়: 'জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও, আল্লাহ তার পরিবর্তে তোমাকে জান্নাতের একটি আসন দান করেছেন'।" আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "তখন সে উভয়টিই দেখতে পায়।" এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

17 - যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ এবং আবু আহমাদ ইবন ঈসা, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদ ইবন হুমাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাইবান ইবন আবদুর রহমান, অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষে বর্ধিত অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, কাতাদাহ বলেন: "আমাদের নিকট আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে: 'তার কবরকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তা সবুজ শ্যামলতায় পূর্ণ করে রাখা হয়'।" এবং আসমা বিনতে আবি বকর থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٦)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ ح، وَأَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْعَدْلُ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمُزَكِّي، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَبْدِيُّ، ثَنَا ابْنُ بُكَيْرٍ، ثَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا قَالَتْ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ، وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ قَالَتْ: فَقُلْتُ مَا لِلنَّاسِ؟ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَتْ: سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقُلْتُ: آيَةٌ؟ فَأَشَارَتْ أَنْ نَعَمْ، فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلَّانِيَ الْغَشْيُ، فَجَعَلْتُ أَصُبُّ فَوْقَ رَأْسِيَ الْمَاءَ، فَلَمَّا انْصَرَفَ حَمِدَ اللَّهَ رَسُولُ اللَّهِ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهْ إِلَّا وَقَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ، فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ أَوِ الْمُوقِنُ، لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ، فَيَقُولُ: هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا، فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ صَالِحًا قَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا، وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ، لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ، فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُ" رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيِّ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ،

 

19 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْخَلِيلِ الْأَصْبَهَانِيُّ، ثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ الْخَطْمِيُّ الْقَاضِي، ثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ، أَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، فَذَكَرَهُ بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ وَفِي آخِرِهِ: " وَإِنَّهُ قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقَبْرِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ يُؤْتَى أَحَدُكُمْ فَيَقُولُ: مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ: هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ مُحَمَّدٌ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى فَأَجَبْنَا وَاتَّبَعَنَا، فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ صَالِحًا إِنْ كُنَّا لَنَعْلَمُ إِنْ كُنْتَ لَتُؤْمِنُ بِهِ، وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ فَيَقُولُ: مَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ قَالُوا شَيْئًا، فَقُلْتُ كَمَا قَالُوا فَيُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ" ⦗ص: 37⦘ وَرُوِيَ فِي ذَلِكَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُفَسَّرًا وَمَشْرُوحًا
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন ইসহাক আল-ফাকীহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন গালিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ, তিনি মালেক থেকে (হ)। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-আদল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর আল-মুযাক্কী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-আবদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল বুকাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালেক, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে আল-মুনজির থেকে, তিনি আসমা বিনতে আবি বকর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশার নিকট গেলাম যখন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন দেখলাম মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে এবং তিনিও দাঁড়িয়ে আছেন। আসমা বলেন: আমি বললাম, মানুষের কী হয়েছে? তিনি তাঁর হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন: সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম: কোনো নিদর্শন? তিনি ইশারায় বললেন: হ্যাঁ। তারপর আমি দাঁড়ালাম এমনকি আমি সংজ্ঞা হারাবার উপক্রম হলাম, তাই আমি আমার মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর বললেন: "এমন কোনো বিষয় নেই যা আমি ইতিপূর্বে দেখিনি কিন্তু তা আমি আমার এই দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে নিয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও। আর আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে কবরের মধ্যে দাজ্জালের ফিতনার মতো বা তার কাছাকাছি ফিতনার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। অতঃপর মুমিন অথবা নিশ্চিত বিশ্বাসী ব্যক্তি —আসমা কোন শব্দটি বলেছিলেন তা আমার জানা নেই— সে বলবে: তিনি মুহাম্মদ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, অতঃপর আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তখন তাকে বলা হবে: তুমি নেককার হিসেবে ঘুমিয়ে থাকো, আমরা জানতাম যে তুমি অবশ্যই একজন মুমিন ছিলে। আর মুনাফিক বা সংশয়বাদী ব্যক্তি —আসমা কোন শব্দটি বলেছিলেন তা আমার জানা নেই— সে বলবে: আমি জানি না, আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি তাই আমিও তা বলেছি।" এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কা'নাবী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম অন্য সূত্রে হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

১৯ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-খলীল আল-আসবাহানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন ইসহাক আল-খাতমী আল-কাজী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিনজাব বিন আল-হারিস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুশহির, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর তিনি এটি পূর্বের সনদ ও অর্থেই উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষে রয়েছে: "আর নিশ্চয়ই আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে কবরে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার মতো বা তার কাছাকাছি ফিতনার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। তোমাদের কাউকে আনা হবে এবং বলা হবে: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বল? মুমিন ব্যক্তি বলবে: তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি মুহাম্মদ, তিনি আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, অতঃপর আমরা সাড়া দিয়েছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তখন তাকে বলা হবে: তুমি নেককার হিসেবে ঘুমাও, আমরা অবশ্যই জানতাম যে তুমি তাঁর প্রতি ঈমান রাখতে। আর মুনাফিক বা সংশয়বাদী ব্যক্তি বলবে: আমি জানি না, আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি, তাই তারা যা বলেছিল আমিও তাই বলেছি। অতঃপর তাকে তার কবরে শাস্তি দেওয়া হবে।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ এ বিষয়ে বারা বিন আযিব থেকেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিস্তারিত ও ব্যাখ্যাসহ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٣٧)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ فُورَكٍ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْأَصْبَهَانِيُّ، ثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، ثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، ثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَاهُ عُمَرُ بْنُ ثَابِتٍ، سَمِعَهُ مِنَ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، وَحَدِيثُ أَبِي عَوَانَةَ أَتَمُّهُمَا، قَالَ الْبَرَاءُ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ، فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ، فَجَعَلَ يَرْفَعُ بَصَرَهُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ وَيَخْفِضُ بَصَرَهُ وَيَنْظُرُ إِلَى الْأَرْضِ، ثُمَّ قَالَ: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ» قَالَهَا مِرَارًا ثُمَّ قَالَ: " إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي قِبَلٍ مِنَ الْآخِرَةٍ وَانْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا جَاءَهُ مَلَكٌ، فَجَلَسَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَيَقُولُ: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ، فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ فَتَسِيلُ كَمَا يَسِيلُ قَطْرُ السَّمَاءِ، قَالَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ: لَمْ يَقُلْهُ أَبُو عَوَانَةَ، وَإِنْ كُنْتُمْ تَرَوْنَ غَيْرَ ذَلِكَ، وَتَنْزِلُ مَلَائِكَةٌ مِنَ الْجَنَّةِ بِيضُ الْوجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ، مَعَهُمْ أَكْفَانٌ مِنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ وَحَنُوطٌ مِنْ حَنُوطِهَا فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ، فَإِذَا قَبَضَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ {تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ} [الأنعام: 61] قَالَ: فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ كَأَطْيَبِ رِيحٍ وُجِدَتْ، فَتَعْرُجُ بِهِ الْمَلَائِكَةُ فَلَا يَأْتُونَ عَلَى جُنْدٍ فِيمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِلَّا قَالُوا: مَا هَذِهِ الرُّوحُ؟ فَيُقَالُ: فُلَانٌ بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ حَتَّى يَنْتَهُوا إِلَى أَبْوَابِ سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيُفْتَحَ لَهُ وَتُشَيِّعَهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ، فَيُقَالُ: اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي عِلِّيِّينَ، ثُمَّ يُقَالُ: رُدُّوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي وَعَدْتُهُمْ أَنِّي {مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى} [طه: 55] قَالَ: فَيُرَدُّ إِلَى الْأَرْضِ وَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ شَدِيدَا الِانْتِهَارِ فَيَنْتَهِرَانِهِ وَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ: مَنْ ⦗ص: 38⦘ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللَّهُ وَدِينِيَ الْإِسْلَامُ، فَيَقُولَانِ: مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ: هُوَ رَسُولُ اللَّهِ، فَيَقُولَانِ وَمَا يُدْرِيكَ؟ فَيَقُولُ: جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّنَا فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُهُ قَالَ: وَذَلِكَ قَوْلُهُ {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] ثُمَّ قَالَ: وَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْرُشُوهُ مِنْهَا، وَأَرُوهُ مَنْزِلَهُ فِيهَا، فَيَلْبِسُ مِنَ الْجَنَّةَ وَيُفْرَشُ مِنْهَا، وَيَرَى مَنْزِلَهُ فِيهَا، وَيُفْسَحُ لَهُ مَدَّ بَصَرِهِ وَيَمْثُلُ لَهُ عَمَلُهُ فِي صُورَةِ رَجُلٍ حَسَنِ الْوَجْهِ طَيِّبِ الرِّيحِ حَسَنِ الثِّيَابِ، فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ، أَبْشِرْ بِرِضْوَانٍ مِنَ اللَّهِ وَجَنَّاتٍ فِيهَا نُعَيْمٌ مُقِيمٌ، فَيَقُولُ: بَشَّرَكَ اللَّهُ بِخَيْرٍ، مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ الَّذِي جَاءَنَا بِالْخَيْرِ، فَيَقُولُ: هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ، أَنَا عَمَلُكَ الصَّالِحُ، فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكَ إِلَّا كُنْتَ سَرِيعًا فِي طَاعَةِ اللَّهِ بَطِيئًا فِي مَعْصِيَتِهِ، فَجَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ كَيْ أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي وَمَالِي قَالَ: وَإِنْ كَانَ كَافِرًا فَاجِرًا وَكَانَ فِي قِبَلٍ مِنَ الْآخِرَةِ وَانْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا جَاءَهُ مَلَكٌ فَجَلَسَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَقَالَ: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ، أَبْشِرِي بِسَخَطِ اللَّهِ وَغَضَبِهِ، فَتَنْزِلُ مَلَائِكَةٌ سُودُ الْوجُوهِ مَعَهُمْ مُسُوحٌ، فَإِذَا قَبَضَهَا الْمَلَكُ قَامُوا فَلَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ قَالَ: فَتَفَرَّقُ فِي جَسَدِهِ فَيَسْتَخْرِجُهَا تُقْطَعُ مَعَهَا الْعُرُوقُ وَالْعَصْبُ كَالسَّفُّودِ الْكَثِيرِ الشُّعَبِ فِي الصُّوفِ الْمَبْلُولِ، فَتُؤْخَذُ مِنَ الْمَلَكِ فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحٍ وُجِدَتْ، فَلَا تَمُرُّ عَلَى جُنْدٍ فِيمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، إِلَّا قَالُوا: مَا هَذِهِ الرُّوحُ الْخَبِيثَةُ، فَيَقُولُونَ: هَذَا فُلَانٌ بِأَسْوَإِ أَسْمَائِهِ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَلَا يُفْتَحُ لَهُ، فَيَقُولُ: رُدُّوهُ إِلَى الْأَرْضِ إِنِّي وَعَدْتُهُمْ أَنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا نُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرَى قَالَ: فَيُرْمَى مِنَ السَّمَاءِ، فَتَلَا هَذِهِ الْآيَةَ {وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ} [الحج: 31] قَالَ: فَيُعَادُ إِلَى الْأَرْضِ وَتُعَادُ فِيهِ رُوحُهُ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ شَدِيدَا الِانْتِهَارِ فَيَنْتَهِرَانِهِ وَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ ⦗ص: 39⦘: فَمَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ، وَيُقَالُ: مُحَمَّدٌ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ ذَلِكَ، فَيُقَالُ: لَا دَرَيْتَ فَيَضِيقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ، وَيَتَمَثَّلُ لَهُ عَمَلُهُ فِي صُورَةِ رَجُلٍ قَبِيحِ الْوَجْهِ مُنْتِنِ الرِّيحِ قَبِيحِ الثِّيَابِ، فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِعَذَابِ اللَّهِ وَسَخَطِهِ، فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ الَّذِي جَاءَنَا بِالشَّرِّ فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ، وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكَ إِلَّا كُنْتَ بَطِيئًا فِي طَاعَةِ اللَّهِ، سَرِيعًا فِي مَعْصِيَتِهِ " قَالَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ: عَنْ مِنْهَالٍ، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «فَيُقَيَّضُ لَهُ أَصَمُّ أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَبَّةٌ لَوْ ضُرِبَ بِهَا فِيلٌ صَارَ تُرَابًا، أَوْ قَالَ رَمِيمًا، فَيَضْرِبُهُ ضَرْبَةً تَسْمَعُهَا الْخَلَائِقُ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ، ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ فَيَضْرِبُهُ ضَرْبَةً أُخْرَى» هَذَا حَدِيثٌ كَبِيرٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ، رَوَاهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الْأَئِمَّةِ الثِّقَاتِ عَنِ الْأَعْمَشِ، وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الْأَشْعَثَ السِّجِسْتَانِيُّ فِي كِتَابِ السُّنَنِ،

 

21 - كَمَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ دَاسَةَ، نَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ، نَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثَنَا جَرِيرٌ ح قَالَ: وَثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدُ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِنَحْو مِنْهُ، وَحَدِيثُ أَبِي عَوَانَةَ أَتَمُّ قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي ذِكْرِ الْمُؤْمِنِ: زَادَ فِي رِوَايَةِ جَرِيرٍ، فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عز وجل {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] الْآيَةُ، وَقَالَ فِي ذِكْرِ الْكَافِرِ: زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ: " ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلٌ لَصَارَ تُرَابًا قَالَ: فَيَضْرِبُهُ بِهَا بِضَرْبَةٍ يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا " قَالَ: «ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ»

⦗ص: 40⦘

 

22 - وَرَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنِ الْمِنْهَالِ مِثْلَ رِوَايَةِ الْأَعْمَشِ، أَبُو خَالِدٍ الدَّالَانِيُّ وَعَمْرُو بْنُ قَيْسٍ الْمُلَائِيُّ وَالْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ النَّخَعِيُّ عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ الطَّائِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، فَذَكَرَهُ

 

23 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُكْرَمٍ الْبَزَّازُ، بِبَغْدَادَ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرَانَ، ثَنَا أَبُو إِبْرَاهِيمَ التَّرْجُمَانِيُّ، ثَنَا شُعَيْبُ بْنُ صَفْوَانَ، ثَنَا يُونُسُ بْنُ خَبَّابٍ فَذَكَرَهُ، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ: ذِكْرُ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَهْمٌ لِإِجْمَاعِ الثِّقَاتِ عَلَى رِوَايَتِهِ عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابِ عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَاذَانَ، أَنَّهُ سَمِعَ الْبَرَاءَ،

 

24 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ الْخَلَدِيُّ، إِمْلَاءً، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ زِيَادٍ سَبَلَانُ، ثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ قَالَ أَتَيْتُ يُونُسَ بْنَ خَبَّابٍ بِمِنًى عِنْدَ الْمَنَارَةِ وَهُوَ يَقُصُّ فَسَأَلْتُهُ عَنْ حَدِيثِ عَذَابِ الْقَبْرِ، فَحَدَّثَنِي بِهِ عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَاذَانَ، أَنَّهُ سَمِعَ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جِنَازَةٍ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ، وَرَوَاهُ مَعْمَرٌ، وَمَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ عَنِ الْمِنْهَالِ عَنْ زَاذَانَ عَنِ الْبَرَاءِ نَحْوَ رِوَايَةِ الْجَمَاعَةِ ، وَرَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنِ الْأَعْمَشِ، فَبَيَّنَ فِي الْحَدِيثِ سَمَاعَ زَاذَانَ عَنِ الْبَرَاءِ كَمَا بَيَّنَهُ عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ عَنْ يُونُسَ،

 

25 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظِ، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَاذَانَ أَبِي عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ.،

 

26 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاسَةَ، ثَنَا أَبُو دَاوُدَ، ثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ثَنَا الْأَعْمَشُ، نَا الْمِنْهَالُ، عَنْ أَبِي عُمَرَ زَاذَانَ قَالَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ: فَذَكَرَ بِنَحْوِهِ، وَرَوَاهُ زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ، فَبَيَّنَ سَمَاعَ الْمِنْهَالِ مِنْ زَاذَانَ وَسَمَاعَ زَاذَانَ عَنِ الْبَرَاءِ،

⦗ص: 41⦘

 

27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ، ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ الضَّبِّيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَعْلَى بْنِ رَجَاءٍ، ثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، نَا زَاذَانُ، نَا الْبَرَاءُ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ، وَلَمَّا يُلْحَدُ، وَذَكَرَ الْحَدِيثَ، وَرُوِيَ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ نَحْوًا مِنْ رِوَايَةِ زَاذَانَ عَنِ الْبَرَاءِ، وَرُوِيَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم،

 

28 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، نَحْوًا مِنْ حَدِيثِ الْبَرَاءِ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: «ارْقُدْ رَقْدَةَ الْمُتَّقِينَ الْمُؤْمِنِينَ» وَيُقَالُ لِلْفَاجِرِ: «ارْقُدْ مَنْهُوشًا» قَالَ: فَمَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَلَهَا فِي جَسَدِهِ نَصِيبٌ " وَرُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنهما مِنْ وَجْهٍ آخَرَ
২০ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে ফুরক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস ইবনে হাবিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আ’মাশ থেকে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি জাযান থেকে, তিনি আল-বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। আবু দাউদ বলেন, উমর ইবনে সাবিত আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে শুনেছেন, তিনি জাযান থেকে, তিনি আল-বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে। আর আবু আওয়ানাহর হাদিসটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। আল-বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জনৈক আনসারী ব্যক্তির জানাজায় বের হলাম। আমরা কবরের কাছে পৌঁছলাম তখনো লাহদ (কবর খনন) সম্পন্ন হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন এবং আমরাও তাঁর চারপাশে এমনভাবে বসলাম যেন আমাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। তিনি তাঁর দৃষ্টি কখনো আকাশের দিকে উঠাচ্ছিলেন আবার কখনো মাটির দিকে নামাচ্ছিলেন। তারপর তিনি বললেন: «আমি কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি»—একথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। তারপর বললেন: "নিশ্চয়ই মুমিন বান্দা যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে আখেরাতের অভিমুখী হয়, তখন তার কাছে ফেরেশতা আসে এবং তার শিয়রে বসে। সে বলে: হে প্রশান্ত আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বের হয়ে এসো। তখন তার আত্মা নির্গত হয় এবং সেভাবে গড়িয়ে পড়ে যেভাবে মশক থেকে পানির ফোঁটা ঝরে পড়ে।" আমর তাঁর বর্ণনায় বলেছেন—যা আবু আওয়ানাহ বলেননি—: "যদিও তোমরা অন্যরূপ দেখে থাকো। আর জান্নাত থেকে উজ্জ্বল চেহারার ফেরেশতারা নেমে আসেন, তাদের চেহারা যেন সূর্য। তাদের সাথে জান্নাতের কাফনসমূহের মধ্য থেকে কাফন এবং জান্নাতের সুগন্ধি থাকে। তারা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বসে থাকেন। যখন মালাকুল মউত রূহটি কবজ করেন, তখন তারা এক পলকের জন্যও সেটি তাঁর হাতে ছেড়ে দেন না। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদের প্রেরিত ফেরেশতারা তার মৃত্যু ঘটায় এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না} [সূরা আল-আনআম: ৬১]। তিনি বলেন: তখন তার আত্মা থেকে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সুগন্ধির মতো ঘ্রাণ বের হয়। ফেরেশতারা তাকে নিয়ে উপরে উঠতে থাকেন। আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী ফেরেশতাদের যে দলের কাছ দিয়েই তারা অতিক্রম করেন, তারাই জিজ্ঞেস করেন: এই পবিত্র রূহটি কার? তখন তার নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর নাম ধরে বলা হয়: এটি অমুকের পুত্র অমুক। এভাবে তারা দুনিয়ার আসমানের দরজা পর্যন্ত পৌঁছান এবং তার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়। প্রত্যেক আসমানের নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা পরবর্তী আসমান পর্যন্ত তাকে বিদায় সম্ভাষণ জানান। এভাবে তাকে সপ্তম আসমান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। তখন বলা হয়: তার আমলনামা ইল্লিয়্যিনে লিখে দাও। তারপর বলা হয়: তাকে জমিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, কারণ আমি তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, {আমি তোমাদের মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফিরিয়ে দেব এবং সেখান থেকেই পুনরায় তোমাদের বের করে আনব} [সূরা ত্বহা: ৫৫]। তিনি বলেন: তখন তাকে জমিনে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তার রূহকে তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অত্যন্ত কঠোরভাবে ধমকদানকারী দুইজন ফেরেশতা তার কাছে আসেন। তারা তাকে ধমক দেন এবং বসিয়ে দেন। তারা জিজ্ঞেস করেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? সে বলে: আমার রব আল্লাহ এবং আমার দ্বীন ইসলাম। তারা জিজ্ঞেস করেন: তোমাদের মাঝে প্রেরিত এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো? সে বলে: তিনি আল্লাহর রাসূল। তারা জিজ্ঞেস করেন: তুমি কীভাবে জানলে? সে বলে: তিনি আমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছেন, আমি তাঁর ওপর ঈমান এনেছি এবং তাঁকে সত্য বলে সাক্ষ্য দিয়েছি। তিনি বলেন: আর এটাই আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদেরকে শাশ্বত বাণীর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [সূরা ইব্রাহিম: ২৭]। তারপর তিনি বললেন: তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন যে, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও, আর জান্নাতের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দাও। তখন সে জান্নাতের পোশাক পরিধান করে, জান্নাতের বিছানা পায় এবং জান্নাতের দিকে তার জন্য তার ঘর দেখানো হয়। তার কবরকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। তার আমলগুলো তার সামনে একজন সুন্দর চেহারার, সুগন্ধিযুক্ত এবং সুন্দর পোশাক পরিহিত ব্যক্তির অবয়বে উপস্থিত হয়। সে বলে: আল্লাহ তোমার জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন তার সুসংবাদ নাও। আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ নাও এবং এমন জান্নাতের সুসংবাদ নাও যেখানে চিরস্থায়ী নেয়ামত রয়েছে। তখন সে (মুমিন ব্যক্তি) বলে: আল্লাহ তোমাকে কল্যাণের সুসংবাদ দিন, তুমি কে? তোমার চেহারা তো সেই চেহারা যা কল্যাণ নিয়ে আসে। সে উত্তরে বলে: এটিই তোমার সেই দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল; আমি তোমার নেক আমল। আল্লাহর কসম! আমি জানি যে তুমি আল্লাহর আনুগত্যে দ্রুতগামী এবং তাঁর নাফরমানিতে মন্থর ছিলে। সুতরাং আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তখন সে বলে: হে আমার রব! কিয়ামত কায়েম করুন যাতে আমি আমার পরিবার ও সম্পদের কাছে ফিরে যেতে পারি।" তিনি বলেন: "আর বান্দা যদি কাফের ও পাপাচারী হয় এবং সে যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে আখেরাতের অভিমুখী হয়, তখন তার কাছে ফেরেশতা আসে এবং তার শিয়রে বসে। সে বলে: হে অপবিত্র আত্মা! আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের দিকে বের হয়ে আসো। তখন কালো চেহারার ফেরেশতারা মোটা পশমি কাপড় নিয়ে নেমে আসে। যখন ফেরেশতা রূহটি কবজ করেন, তখন তারা দাঁড়িয়ে যান এবং এক পলকের জন্যও সেটি তাঁর হাতে ছেড়ে দেন না।" তিনি বলেন: "রূহটি তখন তার দেহে ছড়িয়ে পড়ে। ফেরেশতা সেটি অত্যন্ত জোরে টেনে বের করেন, যার ফলে রগ ও স্নায়ু ছিঁড়ে যায়; যেমন সিক্ত পশমের মধ্য থেকে বহু শাখা বিশিষ্ট কাঁটাযুক্ত লোহার শলাকা টেনে বের করা হয়। যখন ফেরেশতা সেটি গ্রহণ করেন, তখন তা থেকে পৃথিবীতে পাওয়া যায় এমন নিকৃষ্টতম দুর্গন্ধ বের হয়। আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী ফেরেশতাদের যে দলের পাশ দিয়েই তারা অতিক্রম করেন, তারাই বলেন: এই খবীস রূহটি কার? তখন তাকে তার নিকৃষ্টতম নাম ধরে ডাকা হয় এবং বলা হয়: এটি অমুকের পুত্র অমুক। এভাবে তারা দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌঁছান কিন্তু তার জন্য দরজা খোলা হয় না। তখন বলা হয়: একে জমিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, কারণ আমি তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, আমি মাটি থেকেই তাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তাদের ফিরিয়ে দেব এবং সেখান থেকেই পুনরায় তাদের বের করে আনব।" তিনি বলেন: "তখন তাকে আকাশ থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয়। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে সে যেন আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরবর্তী কোনো স্থানে নিক্ষেপ করল} [সূরা আল-হাজ্জ: ৩১]।" তিনি বলেন: "অতঃপর তাকে জমিনে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তার দেহে রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অত্যন্ত কঠোরভাবে ধমকদানকারী দুইজন ফেরেশতা তার কাছে আসেন। তারা তাকে ধমক দেন এবং বসিয়ে দেন। তারা জিজ্ঞেস করেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘: তোমাদের মাঝে প্রেরিত এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো? সে তাঁর নাম মনে করতে পারে না। তখন বলা হয়: মুহাম্মদ? সে বলে: আমি জানি না, আমি মানুষকে এমনটা বলতে শুনেছি। তখন বলা হয়: তুমি জানতেও পারোনি। এরপর তার কবরকে এতই সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে তার একদিকের পাঁজর অন্যদিকের পাঁজরের ভেতর ঢুকে যায়। তার আমল তার সামনে কুৎসিত চেহারার, দুর্গন্ধযুক্ত এবং জঘন্য পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির অবয়বে উপস্থিত হয়। সে বলে: আল্লাহর আযাব ও ক্রোধের সুসংবাদ নাও। সে জিজ্ঞেস করে: তুমি কে? তোমার চেহারা তো সেই চেহারা যা অকল্যাণ নিয়ে আসে। সে বলে: আমি তোমার খবীস আমল। আল্লাহর কসম! আমি জানি যে তুমি আল্লাহর আনুগত্যে মন্থর এবং তাঁর নাফরমানিতে দ্রুতগামী ছিলে।" আমর তাঁর বর্ণনায় মিনহাল থেকে, তিনি জাযান থেকে, তিনি আল-বারা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: "অতঃপর তার জন্য একজন অন্ধ ও বধির ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়, যার সাথে এমন একটি বিশাল লোহার হাতুড়ি থাকে যা দিয়ে যদি পাহাড়ে আঘাত করা হতো তবে তা ধুলায় পরিণত হতো—অথবা তিনি বলেছেন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত। তিনি তাকে এমন এক আঘাত করেন যা জিন ও মানুষ ছাড়া সৃষ্টির সবকিছুই শুনতে পায়। এরপর তার রূহ পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং তিনি তাকে পুনরায় আরেকটি আঘাত করেন।" এটি একটি বৃহৎ হাদিস যার সনদ সহীহ। নির্ভরযোগ্য ইমামদের একটি জামাত এটি আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি কিতাবুস সুনানে এটি সংকলন করেছেন।

 

২১ - যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আর-রূদবারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে আবদুর রাজ্জাক—যিনি ইবনে দাসা নামে পরিচিত, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবু শায়বাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জারীর। (হাদিস পরিবর্তনের সংকেত) তিনি বলেন: এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হান্নাদ ইবনে আস-সারী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, আ’মাশ থেকে, তিনি মিনহাল থেকে, তিনি জাযান থেকে, তিনি আল-বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জনৈক আনসারী সাহাবীর জানাজায় বের হলাম। আমরা কবরের কাছে পৌঁছলাম এবং তখনো লাহদ খনন করা হয়নি... অতঃপর তিনি এর অনুরূপ হাদিসটি উল্লেখ করেন। আর আবু আওয়ানাহর হাদিসটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। আবু দাউদ মুমিনের বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেছেন: জারীরের রেওয়ায়েতে অতিরিক্ত আছে—আর এটিই আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদেরকে শাশ্বত বাণীর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [সূরা ইব্রাহিম: ২৭] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর কাফেরের বর্ণনার ক্ষেত্রে জারীরের হাদিসে অতিরিক্ত আছে—তিনি বলেছেন: "অতঃপর তার জন্য একজন অন্ধ ও বধির ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয় যার সাথে লোহার একটি মুগুর থাকে, যা দিয়ে যদি কোনো পাহাড়ে আঘাত করা হয় তবে তা ধুলায় পরিণত হবে। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি সেটি দিয়ে তাকে এমন এক আঘাত করেন যা পূর্ব থেকে পশ্চিমের সবকিছুই শুনতে পায় জিন ও মানুষ ছাড়া, ফলে সে ধুলায় পরিণত হয়ে যায়।" তিনি বলেন: «অতঃপর তার মাঝে পুনরায় রূহ ফিরিয়ে আনা হয়»।

⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘

 

২২ - একদল বর্ণনাকারী মিনহাল থেকে আ’মাশের বর্ণনার মতোই এটি বর্ণনা করেছেন। তারা হলেন আবু খালিদ আদ-দালানি, আমর ইবনে কাইস আল-মুলাই এবং হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ আন-নাখায়ি। তারা ইউনুস ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি জাযান থেকে, তিনি আবুল বাখতারি আত-তায়ী থেকে। তিনি বলেন: আমি আল-বারা ইবনে আযিবকে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।

 

২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন ইবনে আবদুস সামাদ ইবনে আলী ইবনে মুকরিম আল-বাযযায বাগদাদে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশরান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইব্রাহিম আত-তারজুমানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শুআইব ইবনে সাফওয়ান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে খাব্বাব, অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ বলেন: এই হাদিসে আবুল বাখতারির নাম আসা একটি ভ্রম, কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে এটি ইউনুস ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি জাযান থেকে বর্ণিত যে তিনি আল-বারা থেকে শুনেছেন।

 

২৪ - আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসাইর আল-খালাদি ইমলা হিসেবে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল আজিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে যিয়াদ সাবলান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনে আব্বাদ। তিনি বলেন: আমি মিনায় মানারার কাছে ইউনুস ইবনে খাব্বাবের কাছে আসলাম যখন তিনি নসিহত করছিলেন। আমি তাকে কবরের আযাবের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমার কাছে মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি জাযান থেকে বর্ণনা করলেন যে তিনি আল-বারা ইবনে আযিবকে বলতে শুনেছেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি জানাজায় বের হলাম... অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। আর মা’মার ও মাহদী ইবনে মাইমুন এটি ইউনুস ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি মিনহাল থেকে, তিনি জাযান থেকে, তিনি আল-বারা থেকে সাধারণ বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর এটি আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে জাযানের আল-বারা থেকে শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যেভাবে আব্বাদ ইবনে আব্বাদ ইউনুস থেকে উল্লেখ করেছেন।

 

২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আ’মাশ, মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি জাযান আবু উমর থেকে। তিনি বলেন: আমি আল-বারা ইবনে আযিবকে বলতে শুনেছি: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম... অতঃপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেন।

 

২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আর-রূদবারি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে দাসা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হান্নাদ ইবনে আস-সারী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আ’মাশ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিনহাল, আবু উমর জাযান থেকে। তিনি বলেন: আমি আল-বারা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি... অতঃপর তিনি এর অনুরূপ বর্ণনা করেন। যায়েদ ইবনে কুদামাহ এটি আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে মিনহালের জাযান থেকে শোনা এবং জাযানের আল-বারা থেকে শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘

 

২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে উবাইদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উমর আদ-দাব্বি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়া’লা ইবনে রাজা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যায়েদাহ, আ’মাশ থেকে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাযান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-বারা। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জনৈক আনসারী ব্যক্তির জানাজায় বের হলাম। আমরা কবরের কাছে পৌঁছলাম তখনো লাহদ খনন করা হয়নি... অতঃপর তিনি পুরো হাদিসটি উল্লেখ করেন। আর আদি ইবনে সাবিত থেকে আল-বারা ইবনে আযিবের সূত্রে এই ঘটনায় জাযানের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবার আবু হাজেম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

 

২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উমরি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আল-মুনজির, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি আবু হাজেম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে আল-বারার হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি বলেছেন: «মুত্তাকী মুমিনদের মতো ঘুমাও»। আর পাপাচারীকে বলা হয়: «দংশিত অবস্থায় ঘুমাও»। তিনি বলেন: "কোনো প্রাণীই বাদ থাকে না যার জন্য তার দেহে একটি অংশ (দংশন করার জন্য) বরাদ্দ থাকে না।" এটি আয়েশা ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٤١)
29 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ يُوسُفَ، أَنَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، ثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، ثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، ثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، أَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذِئْبٍ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ ذَكْوَانَ، أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: دَخَلَتْ عَلَيَّ يَهُودِيَّةٌ، فَقَالَتْ: أَطْعِمِينِي، أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ قَالُتْ: فَلَمْ أَزَلْ أَحْبِسُهَا حَتَّى جَاءَ النَّبِيُّ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا تَقُولُ هَذِهِ الْيَهُودِيَّةُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا تَقُولُ قُلْتُ، تَقُولُ: أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ " فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ مَدًّا يَسْتَعِيذُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ، ثُمَّ قَالَ: " فَأَمَّا الدَّجَّالُ فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيُّ إِلَّا قَدْ حَذَّرَ أُمَّتَهُ وَسَأُحَذِّرُكُمُوهُ تَحْذِيرًا لَمْ يُحَذِّرْهُ نَبِيُّ أُمَّتَهُ، إِنَّهُ أَعْوَرُ، وَإِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ، مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهٍ كَافِرٌ، يَقْرَأُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ وَأَمَّا فِتْنَةُ الْقَبْرِ فَبِي تُفْتَنُونَ وَعَنِّي تُسْأَلُونَ، فَإِذَا ⦗ص: 42⦘ كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ أُجْلِسَ فِي قَبْرِهِ غَيْرَ فَزِعٍ وَلَا مَشْعُوفٍ فَيُقَالُ لَهُ: فِيمَ كُنْتَ؟ فَيَقُولُ: فِي الْإِسْلَامِ فَيُقَالُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ؟ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، فَآمَنَّا وَصَدَّقْنَا، فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ رَأَيْتَ اللَّهَ؟ فَيَقُولُ: مَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَرَى اللَّهَ عز وجل، فَيُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرْ إِلَى مَا وَقَاكَ اللَّهُ عز وجل، ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى مَا فِيهَا مِنْ زَهْرَتِهَا، وَمَا فِيهَا فَيُقَالُ لَهُ: هَا هُنَا مَقْعَدُكَ، وَيُقَالُ: عَلَى الْيَقِينِ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مُتَّ، وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ أُجْلِسَ فِي قَبْرِهِ فَزِعًا مَشْعُوفًا، فَيُقَالُ لَهُ: فِيمَ كُنْتَ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، فَيُقَالُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ؟ فَيَقُولُ: سَمِعْنَا النَّاسَ يَقُولُونَ، فَيُفْرَجُ فُرْجَةٌ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا، فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرْ مَا صَرْفَ اللَّهُ عَنْكَ وَيُفَرَّجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ النَّارِ، فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَيُقَالُ: هَذَا مَقْعَدُكَ، ثُمَّ يُقَالُ: عَلَى الشَّكِّ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مِتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ " هَذَا لَفْظُ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ أَبِي بَكْرٍ، وَحَدِيثِ شَبَابَةَ بِمَعْنَاهُ وَزَادَ فِي آخِرِ خَبَرَهُ: " قَالَ: وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ " قَالَ: «ثُمَّ يُعَذَّبُ» ،

 

30 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَعْنِي ابْنَ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ قَالَ، فَذَكَرَ مَا فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ

 

31 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنِي خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَرَابِيسِيُّ، ثَنَا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى، وَحَدَّثَ بِحَدِيثِ الْقَبْرِ، وَفِيهِ اللَّفْظَةُ: " فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ رَأَيْتَ اللَّهَ، فَيَقُولُ: «مَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَرَى اللَّهَ» قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى: هَذِهِ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَنْظُرُونَ إِلَى اللَّهِ بِأَبْصَارِهِمْ " وَرُوِيَ فِي ذَلِكَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ বিন আল-আরাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সা’দান বিন নাসর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ বিন সাওয়ার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি যিব। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু সাঈদ বিন আবি আমর, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি যিব, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমর বিন আতা হতে, তিনি যাকওয়ান হতে, তিনি বর্ণনা করেন যে, আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: আমার নিকট এক ইহুদী নারী প্রবেশ করল এবং বলল: আমাকে আহার করান, আল্লাহ আপনাকে দাজ্জালের ফিতনা এবং কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসা পর্যন্ত আমি তাকে আটকে রাখলাম। অত:পর আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এই ইহুদী নারী যা বলছে তা কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে কী বলছে?" আমি বললাম, সে বলছে: আল্লাহ আপনাকে দাজ্জালের ফিতনা এবং কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং দাজ্জালের ফিতনা ও কবরের ফিতনা থেকে আশ্রয় চেয়ে প্রার্থনা করার সময় হাত প্রসারিত করে উপরে তুললেন। অত:পর তিনি বললেন: "দাজ্জাল সম্পর্কে কথা হলো, এমন কোনো নবী নেই যিনি তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেননি। আর আমি তোমাদেরকে এমন এক বিষয়ে সতর্ক করব যা কোনো নবী তাঁর উম্মতকে করেননি। নিশ্চয়ই সে একচোখা, আর আল্লাহ একচোখা নন। তার দুই চোখের মাঝে ‘কাফির’ লেখা আছে, যা প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি পড়তে পারবে। আর কবরের ফিতনা সম্পর্কে কথা হলো, তোমাদেরকে আমার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে এবং আমার সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হবে। যখন ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ কোনো নেককার লোককে তার কবরে বসানো হবে, সে ভীত বা আতঙ্কিত হবে না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তুমি কিসের ওপর ছিলে? সে বলবে: ইসলামের ওপর। তাকে বলা হবে: এই ব্যক্তি কে? সে বলবে: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তিনি আমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন, তাই আমরা ঈমান এনেছি এবং তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। তাকে বলা হবে: তুমি কি আল্লাহকে দেখেছ? সে বলবে: কারও পক্ষে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে দেখা সম্ভব নয়। তখন তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি ছিদ্র খুলে দেওয়া হবে, সে সেদিকে তাকিয়ে দেখবে যে আগুনের এক অংশ অন্য অংশকে চূর্ণবিচূর্ণ করছে। তাকে বলা হবে: দেখ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তোমাকে কী থেকে রক্ষা করেছেন। তারপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি ছিদ্র খুলে দেওয়া হবে, সে জান্নাতের সৌন্দর্য এবং তাতে যা কিছু আছে তার দিকে তাকাবে। তাকে বলা হবে: এটিই তোমার স্থান। আরও বলা হবে: তুমি দৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকীন) ওপর ছিলে, তার ওপরই তোমার মৃত্যু হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তার ওপরই তুমি পুনরুত্থিত হবে। আর যখন কোনো মন্দ লোককে তার কবরে বসানো হবে, সে ভীত ও আতঙ্কিত অবস্থায় থাকবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তুমি কিসের ওপর ছিলে? সে বলবে: আমি জানি না। তাকে বলা হবে: এই ব্যক্তি কে? সে বলবে: আমি মানুষকে যা বলতে শুনেছি তাই বলতাম। তখন তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি ছিদ্র খুলে দেওয়া হবে, সে জান্নাতের সৌন্দর্য এবং তাতে যা কিছু আছে তা দেখবে। তাকে বলা হবে: দেখ আল্লাহ তোমার কাছ থেকে কী ফিরিয়ে নিয়েছেন। তারপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি ছিদ্র খুলে দেওয়া হবে, সে সেদিকে তাকিয়ে দেখবে যে আগুনের এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করছে। তাকে বলা হবে: এটিই তোমার স্থান। তারপর বলা হবে: তুমি সংশয়ের ওপর ছিলে, তার ওপরই তোমার মৃত্যু হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তার ওপরই তুমি পুনরুত্থিত হবে।" এটি ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইরের বর্ণিত হাদীসের শব্দ, আর শাবাবার হাদীসও এর সমার্থবোধক এবং তিনি তাঁর বর্ণনার শেষে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে: "তিনি বলেন: এবং তার ওপরই তুমি পুনরুত্থিত হবে ইনশাআল্লাহ।" তিনি বলেন: "অতঃপর তাকে আযাব দেওয়া হবে।"

 

৩০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ এবং আবু সাঈদ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান অর্থাৎ ইবনে আবি যিব হতে, তিনি মুহাম্মদ বিন আতা হতে, তিনি সাঈদ বিন ইয়াসার হতে, তিনি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অতঃপর তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন।

 

৩১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন খালাফ বিন মুহাম্মদ আল-কারাবিসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সালিহ বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়াকে কবরের হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি এবং তাতে এই শব্দগুলো ছিল: "তাকে বলা হবে: তুমি কি আল্লাহকে দেখেছ? সে বলবে: কারও পক্ষে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়।" মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বলেন: "এটি দুনিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণ জান্নাতবাসীগণ তাদের চক্ষু দিয়ে আল্লাহর দিকে তাকাবেন।" আর এ বিষয়ে আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٤٣)
32 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمَشٍ الْفَقِيهُ، أَنَا أَبُو عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، ثَنَا أَبِي، نَا أَبُو عَامِرٍ، ثَنَا عَبَّادٌ يَعْنِي ابْنَ رَاشِدٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي بَصْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: شَهِدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جِنَازَةً، فَقَالَ: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا، فَإِذَا الْإِنْسَانُ دُفِنَ فَتَفَرَّقَ عَنْهُ أَصْحَابُهُ جَاءَهُ مَلَكٌ فِي يَدِهِ مِطْرَاقٌ، فَأَقْعَدَهُ فَقَالَ: مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ لَهُ: صَدَقْتَ، ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ بَابٌ إِلَى النَّارِ، فَيَقُولُ: هَذَا كَانَ مَنْزِلُكَ لَوْ كَفَرْتَ بِرَبِّكَ، فَأَمَّا إِذْ آمَنْتَ بِهِ فَهَذَا مَنْزِلُكَ، فَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ، فَيُرِيدُ أَنْ يَنْهَضَ إِلَيْهِ فَيَقُولُ لَهُ: اسْكُنْ وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ، وَإِنْ كَانَ كَافِرًا أَوْ مُنَافِقًا يَقُولُ لَهُ: مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُ، فَيَقُولُ: لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ وَلَا هُدِيتَ، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا لَكَ لَوْ آمَنْتَ بِرَبِّكَ، فَأَمَّا إِذْ كَفَرْتَ بِهِ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل أَبْدَلَكَ بِهِ هَذَا، وَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى النَّارِ، ثُمَّ يَقْمَعُهُ بِالْمِطْرَاقِ يَسْمَعُهَا خَلْقُ اللَّهِ كُلُّهُنَّ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ " فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَحَدٌ يَقُومُ عَلَيْهِ مَلَكٌ فِي يَدِهِ مِطْرَقَةٌ إِلَّا هِيلَ عِنْدَ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ} [إبراهيم: 27] "
৩২ - আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমাশ আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ অর্থাৎ ইবনে রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবু বাসরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই এই উম্মতকে তাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে। যখন কোনো ব্যক্তিকে দাফন করা হয় এবং তার সাথীরা তার নিকট থেকে বিদায় নেয়, তখন তার কাছে একজন ফেরেশতা আসেন যার হাতে একটি হাতুড়ি থাকে। তিনি তাকে বসিয়ে বলেন: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে? সে যদি মুমিন হয় তবে বলে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তখন ফেরেশতা তাকে বলেন: তুমি সত্য বলেছ। এরপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং ফেরেশতা বলেন: তুমি যদি তোমার রবের সাথে কুফরি করতে তবে এটিই হতো তোমার আবাস; কিন্তু যেহেতু তুমি ঈমান এনেছ, তাই এটিই তোমার আবাস। এরপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। তখন সে সেদিকে উঠে যেতে চায়, কিন্তু ফেরেশতা তাকে বলেন: শান্ত থাকো। আর তার জন্য তার কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। আর যদি সে কাফির বা মুনাফিক হয়, তবে ফেরেশতা তাকে বলেন: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে? সে বলে: আমি জানি না, আমি লোকজনকে যা বলতে শুনতাম তা-ই বলতাম। তখন ফেরেশতা বলেন: তুমি জানোনি, তুমি তিলাওয়াত করোনি এবং তুমি হিদায়াতও পাওনি। এরপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তাকে বলা হয়: তুমি যদি তোমার রবের প্রতি ঈমান আনতে তবে এটি তোমার জন্য হতো; কিন্তু যেহেতু তুমি কুফরি করেছ, তাই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এর পরিবর্তে তোমাকে এটি দিয়েছেন। এরপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। অতঃপর ফেরেশতা তাকে হাতুড়ি দিয়ে সজোরে আঘাত করেন যা জিন ও মানুষ ব্যতীত আল্লাহর সকল সৃষ্টি শুনতে পায়।" তখন উপস্থিত লোকদের কেউ একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যার সামনে হাতুড়ি হাতে ফেরেশতা দাঁড়াবে, এমন কে আছে যে সে সময় আতঙ্কিত হবে না? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাক্যের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭]
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٤٤)
بَابُ نُزُولِ الْمَلَائِكَةِ عِنْدَ الْمَوْتِ بِبُشْرَى الْمُؤْمِنِ وَوَعِيدِ الْكَافِرِ قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ} [فصلت: 30] وَقَالَ: {يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً فَادْخُلِي فِي عِبَادِي وَادْخُلِي جَنَّتِي} [الفجر: 28] وَقَالَ {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ}
মুমিনের জন্য সুসংবাদ এবং কাফিরের জন্য সতর্কবার্তা নিয়ে মৃত্যুর সময় ফেরেশতাদের অবতরণ সংক্রান্ত অধ্যায়। আল্লাহ তাআলা (যাঁর প্রশংসা মহান) বলেছেন: "নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’, অতঃপর তারা অবিচল থাকে, তাদের নিকট ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয় (এবং বলে), ‘তোমরা ভয় পেয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না। আর তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ নাও’।" [ফুসসিলাত: ৩০] এবং তিনি বলেছেন: "হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।" [আল-ফজর: ২৮] এবং তিনি বলেছেন: "আর আপনি যদি দেখতেন যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে (বলে), ‘তোমাদের প্রাণ বের করো; আজ তোমাদের অবমাননাকর আযাবের প্রতিদান দেওয়া হবে, কারণ তোমরা আল্লাহর নামে অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ হতে অহংকার করতে’।"
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٤٤)
33 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ إِمْلَاءً، أَنَا عَلِيُّ بْنُ الصَّقْرِ بْنِ نَصْرٍ، ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، ثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ثَنَا بُدَيْلٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: " إِذَا خَرَجَتْ رُوحُ الْمُؤْمِنِ تَلَقَّاهَا مَلَكَانِ يُصْعِدَانِهَا قَالَ حَمَّادٌ: فَذَكَرَ مِنْ طِيبِ رِيحِهَا، وَذَكَرَ الْمِسْكَ قَالَ: وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ: رُوحٌ طَيِّبَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكِ وَعَلَى جَسَدِ مَنْ تَعْمُرِينَهُ، فَيَنْطَلِقُ بِهِ إِلَى رَبِّهِ، ثُمَّ يَقُولُ: انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ قَالَ: وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا خَرَجَتْ رُوحُهُ قَالَ حَمَّادٌ: ذَكَرَ مِنْ نَتْنِهَا، وَذَكَرَ لَعْنًا، وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ: رُوحٌ خَبِيثَةٌ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ قَالَ: وَيُقَالُ: انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ رَيْطَةً كَانَتْ عَلَيْهِ عَلَى أَنْفِهِ هَكَذَا " رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيِّ
৩৩ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে ইসহাক আল-ফকিহ শ্রুতলিপি অনুযায়ী আমাদের জানিয়েছেন, আলী ইবনে সাকর ইবনে নাসর আমাদের জানিয়েছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, বুদাইল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন মুমিনের রূহ বের হয়, তখন দুইজন ফেরেশতা সেটি গ্রহণ করেন এবং তাকে উপরে নিয়ে যান।" হাম্মাদ বলেন: এরপর তিনি সেই রূহের সুগন্ধির কথা এবং মিশকের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন: তখন আসমানবাসীরা বলেন: "এক পবিত্র রূহ জমিন থেকে এসেছে, আল্লাহ তোমার উপর এবং সেই দেহের উপর রহমত বর্ষণ করুন যা তুমি আবাদ করতে।" অতঃপর তাকে তার রবের নিকট নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তিনি (আল্লাহ) বলেন: "তাকে শেষ সময় (নির্ধারিত গন্তব্য) পর্যন্ত নিয়ে যাও।" তিনি বলেন: "আর কাফিরের রূহ যখন বের হয়—" হাম্মাদ বলেন: তিনি তার দুর্গন্ধ ও অভিশাপের কথা উল্লেখ করলেন। আর আসমানবাসীরা বলেন: "এক অপবিত্র রূহ জমিন থেকে এসেছে।" তিনি বলেন: "তখন বলা হয়: তাকে শেষ সময় পর্যন্ত নিয়ে যাও।" আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পরিহিত একটি পাতলা চাদর নিজের নাকের ওপর এভাবে টেনে ধরলেন।" মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে এটি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٤٥)
34 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، أَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، نَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: " إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا احْتُضِرَ حَضَرَهُ مَلَكَانِ يَقْبِضَانِ رُوحَهُ فِي حَرِيرَةٍ، فَيَصْعَدَانِ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ رُوحٌ طَيِّبَةٌ جَاءَتْ مِنَ الْأَرْضِ، فَيَصْعَدَانِ بِهِ، فَيُقَالُ: أَبْشِرْ بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، ثُمَّ يُقَالُ: رُدُّوهُ إِلَى آخِرِ الْأَجَلَيْنِ، وَإِنْ كَانَ كَافِرًا يَقْبِضَانِ رُوحَهُ فِي مِسَحٍّ، ثُمَّ يَصْعَدَانِ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ، فَتَأْخُذُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى أَنْفِهَا وَيَقُولُونَ: رِيحٌ خَبِيثَةٌ جَاءَتْ مِنَ الْأَرْضِ فَيَصْعَدَانِ بِهِ فَيُقَالُ: أَبْشِرْ بِعَذَابِ اللَّهِ وَهَوَانِهِ، ثُمَّ يُقَالُ: رُدُّوهُ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ أَوِ الْأَجَلَيْنِ "
34 - আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফেজ এবং আবু সাঈদ বিন আবি আমর, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হাদ্ধা, আব্দুল্লাহ বিন শাকিক থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই মুমিনের যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাঁরা তার প্রাণ একটি রেশমি কাপড়ে কবজ করেন। এরপর তাঁরা তাকে নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করেন। তখন ফেরেশতারা বলেন: জমিন থেকে এক পবিত্র প্রাণ এসেছে। অতঃপর তাঁরা তাকে নিয়ে আরও উপরে আরোহণ করেন এবং বলা হয়: তুমি আরাম, সুগন্ধি এবং এমন এক রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো যিনি রাগান্বিত নন। এরপর বলা হয়: একে শেষ সময়ের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। আর যদি সে কাফের হয়, তবে তাঁরা তার প্রাণ একটি খসখসে চটে কবজ করেন। এরপর তাঁরা তাকে নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করেন, তখন ফেরেশতারা (দুর্গন্ধের কারণে) তাদের নাকের উপর হাত চাপা দেন এবং বলেন: জমিন থেকে এক অপবিত্র ও দুর্গন্ধযুক্ত প্রাণ এসেছে। এরপর তাঁরা তাকে নিয়ে আরও উপরে আরোহণ করেন এবং বলা হয়: তুমি আল্লাহর আজাব ও লাঞ্ছনার সুসংবাদ গ্রহণ করো। এরপর বলা হয়: একে শেষ সময়ের দিকে বা নির্ধারিত মেয়াদের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও।"
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٤٥)
35 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا، ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَعْنِي ابْنَ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ: " إِنَّ الْمَيِّتَ تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ قَالُوا: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ، اخْرُجِي حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَمَا يَزَالُ يُقَالُ لَهُ ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ فَيَعْرُجَ بِهَا حَتَّى يَنْتَهِيَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُسْتَفْتَحَ لَهَا فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ، فَيُقَالُ: مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ، ادْخُلِي حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَلَا يَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى يَنْتَهِيَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ، أَظُنُّهُ أَرَادَ السَّمَاءَ السَّابِعَةَ قَالَ: وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ قَالُوا: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ ذَمِيمَةً وَأَبْشِرِي بِحَمِيمٍ وَغَسَّاقٍ وَآخَرَ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجٌ، فَلَا يَزَالُ يُقَالُ لَهُ ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ فَيَنْتَهِي بِهَا إِلَى السَّمَاءِ، فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ، فَيُقَالُ: لَا مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الْخَبِيثَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ، ارْجِعِي ذَمِيمَةً فَإِنَّهُ لَا تُفْتَحُ لَكِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، فَتُرْسَلُ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ تَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ "
৩৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ এবং আবু সাঈদ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান অর্থাৎ ইবনে আবু জিব, মুহাম্মদ বিন আমর বিন আতা থেকে, তিনি সাঈদ বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মৃতের নিকট ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন। অতঃপর যদি ব্যক্তিটি নেককার হয়, তবে তাঁরা বলেন: হে প্রশান্ত আত্মা! যা পবিত্র শরীরে ছিলে, তুমি প্রশংসিত অবস্থায় বের হয়ে আসো এবং আরাম, সুগন্ধি ও এমন এক রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো যিনি রাগান্বিত নন। তার রূহ বের হওয়া পর্যন্ত তাকে ক্রমাগত এ কথা বলা হতে থাকে। অতঃপর তা নিয়ে উর্ধ্বে আরোহণ করা হয় এবং তার জন্য আসমানের দ্বার খোলার আবেদন করা হয়। তখন জিজ্ঞেস করা হয়: এ কে? বলা হয়: অমুকের পুত্র অমুক। তখন বলা হয়: এই পবিত্র আত্মাকে সুস্বাগতম যা পবিত্র শরীরে ছিল। তুমি প্রশংসিত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং আরাম, সুগন্ধি ও এমন এক রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো যিনি রাগান্বিত নন। আসমান পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে ক্রমাগত এ কথা বলা হতে থাকে—আমার ধারণা তিনি (বর্ণনাকারী) সপ্তম আসমান বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন: আর যদি ব্যক্তিটি মন্দ হয়, তবে তাঁরা বলেন: হে অপবিত্র আত্মা! যা অপবিত্র শরীরে ছিলে, তুমি নিন্দিত অবস্থায় বের হয়ে আসো এবং ফুটন্ত পানি, পচা রক্ত-পুঁজ ও এই জাতীয় বিভিন্ন প্রকার আজাবের সুসংবাদ গ্রহণ করো। তার রূহ বের হওয়া পর্যন্ত তাকে ক্রমাগত এ কথা বলা হতে থাকে। অতঃপর তা নিয়ে আসমান পর্যন্ত যাওয়া হয় এবং জিজ্ঞেস করা হয়: এ কে? বলা হয়: অমুকের পুত্র অমুক। তখন বলা হয়: এই অপবিত্র আত্মার জন্য কোনো সুস্বাগতম নেই যা অপবিত্র শরীরে ছিল। তুমি নিন্দিত অবস্থায় ফিরে যাও, কারণ তোমার জন্য আসমানের দ্বারসমূহ খোলা হবে না। অতঃপর তাকে জমিনের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং এরপর সে কবরের দিকে ফিরে যায়।"
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٤٦)
36 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ الْمِهْرَجَانِيُّ بِهَا، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، أَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، ثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، ثَنَا أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ قَسَامَةَ بْنِ زُهَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حُضِرَ أَتَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ، فَيَقُولُونَ: اخْرُجِي رَاضِيَةً مَرْضِيّةً عَنْكِ إِلَى رَوْحِ اللَّهِ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَتَخْرُجُ كَأَطْيَبِ رِيحِ مِسْكٍ، حَتَّى إِنَّهُ لَيُنَاوِلُهُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا يَشُمُّونَهُ حَتَّى يَأْتُوا بِهِ بَابَ السَّمَاءِ، فَيَقُولُونَ: مَا أَطْيَبَ هَذِهِ الرِّيحَ، جَاءَتْكُمْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ، فَكُلَّمَا أَتَوْا سَمَاءً قَالُوا ذَلِكَ حَتَّى يَأْتُوا بِهِ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ، فَلَهُمْ أَفْرَحُ بِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِغَائِبِهِ إِذَا قَدِمَ عَلَيْهِ، وَيَسْأَلُونَهُ: مَا فَعَلَ فُلَانٌ فَيَقُولُونَ: دَعْهُ حَتَّى يَسْتَرِيحَ، فَإِنَّهُ كَانَ فِي غَمِّ الدُّنْيَا، فَإِذَا قَالَ لَهُمْ: أَمَا أَتَاكُمْ فَإِنَّهُ قَدْ مَاتَ يَقُولُونَ: ذَهَبَ إِلَى أُمِّهِ الْهَاوِيَةِ، وَأَمَّا الْكَافِرُ فَإِنَّ مَلَائِكَةَ الْعَذَابِ تَأْتِيهِ بِمِسْحٍ فَيَقُولُونَ: اخْرُجِي سَاخِطَةً مَسْخُوطةً عَلَيْكِ إِلَى عَذَابِ اللَّهِ وَسَخَطِهِ، فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ، فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلَى بَابِ الْأَرْضِ، فَيَقُولُونَ: مَا أَنْتَنُ هَذِهِ الرِّيحَ، كُلَّمَا أَتَوْا عَلَى أَرْضٍ قَالُوا ذَلِكَ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ إِلَى أَرْوَاحِ الْكُفَّارِ "
৩৬ - আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মুকরি আল-মিহরাজানি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-কাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআয ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা কাতাদাহ থেকে, তিনি কাসামাহ ইবনে যুহাইর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় মুমিন ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন রহমতের ফেরেশতারা তার নিকট সাদা রেশমি কাপড় নিয়ে আসেন। অতঃপর তারা বলেন: তুমি সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন অবস্থায় আল্লাহর পক্ষ থেকে আরাম ও সুঘ্রাণ এবং এমন রবের দিকে বের হয়ে আসো যিনি রাগান্বিত নন। তখন তা উত্তম কস্তুরীর সুঘ্রাণের ন্যায় বের হয়ে আসে, এমনকি ফেরেশতারা একে অপরের হাতে তা দেন এবং ঘ্রাণ নিতে থাকেন, অবশেষে তারা একে আকাশের দ্বার পর্যন্ত নিয়ে যান। তখন তারা (আকাশের ফেরেশতারা) বলেন: এই সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! যা জমিন থেকে তোমাদের নিকট এসেছে। অতঃপর তারা যে আসমানেই যান, সেখানকার ফেরেশতারা একই কথা বলেন, অবশেষে তারা তাকে মুমিনদের রূহসমূহের নিকট নিয়ে যান। তখন তারা তাকে দেখে তোমাদের কেউ তার কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি ফিরে এলে যতটুকু আনন্দিত হয় তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হয়। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন: অমুক ব্যক্তি কী করেছে? তখন তারা বলেন: তাকে ছেড়ে দাও যাতে সে বিশ্রাম নিতে পারে, কেননা সে দুনিয়ার দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিল। অতঃপর যখন সে তাদের বলে: সে কি তোমাদের নিকট আসেনি? সে তো মারা গিয়েছে; তখন তারা বলেন: তাকে তার আবাসস্থল হাভিয়ায় (জাহান্নামে) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর কাফের ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন শাস্তির ফেরেশতারা তার নিকট চট বা মোটা কাপড় নিয়ে আসে এবং তারা বলে: তুমি অসন্তুষ্ট ও অভিশপ্ত অবস্থায় আল্লাহর আজাব ও তাঁর ক্রোধের দিকে বের হয়ে আসো। তখন তা অত্যন্ত পচা লাশের দুর্গন্ধের ন্যায় বের হয়ে আসে। অতঃপর তারা তা নিয়ে জমিনের দ্বারের দিকে যায় এবং তারা বলে: এই দুর্গন্ধ কতই না জঘন্য! তারা জমিনের যে অংশ দিয়েই অতিক্রম করে, সেখানকার ফেরেশতারা একই কথা বলে, অবশেষে তারা তাকে কাফেরদের রূহসমূহের নিকট নিয়ে পৌঁছে দেয়।"
(খণ্ড: ১) ইসবাতু আজাবিল কবরি লিল বাইহাকি (পৃষ্ঠা: ٤٦)
37 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ رحمه الله، أَخْبَرَنِي أَبُو النَّضْرِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْفَقِيهُ، ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، ثَنَا هَمَّامٌ ح، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، نَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، ثَنَا تَمْتَامٌ مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، نَا هُدْبَةُ، ثَنَا هَمَّامٌ، ثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ» قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها أَوْ بَعْضُ أَزْوَاجِهِ: إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ قَالَ: «لَيْسَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِرِضْوَانِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ، فَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ، فَأَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَاللَّهُ أَحَبَّ لِقَاءَهُ، وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ وَعُقُوبَتِهِ، فَلَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَهَ لَهُ مِمَّا أَمَامَهُ، فَكَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ فَكَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ» لَفْظُ حَدِيثِ هُدْبَةَ

⦗ص: 47⦘

 

38 - رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ حَجَّاجِ بْنِ مِنْهَالٍ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ هُدْبَةَ بْنِ خَالِدٍ، كِلَاهُمَا عَنْ هَمَّامِ بْنِ يَحْيَى
37 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল নাযর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফকিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন কাসীর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম (হ)। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন আবদান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন উবাইদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তামতাম মুহাম্মদ বিন গালিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুদবাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি উবাদাহ বিন আস-সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে ভালোবাসে, আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাৎ করতে ভালোবাসেন; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন» আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) অথবা তাঁর কোনো স্ত্রী বললেন: আমরা তো মৃত্যুকে অপছন্দ করি। তিনি বললেন: «বিষয়টি তেমন নয়, বরং মুমিন ব্যক্তির যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর পক্ষ থেকে সম্মানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, ফলে তার সামনে যা রয়েছে (আখিরাত) তার চেয়ে অধিক প্রিয় তার কাছে আর কিছু থাকে না; তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎকে ভালোবাসে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাৎকে ভালোবাসেন। আর কাফিরের যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর আযাব ও শাস্তির সংবাদ দেওয়া হয়, ফলে তার সামনে যা রয়েছে তার চেয়ে অধিক অপ্রিয় তার কাছে আর কিছু থাকে না; তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎকে অপছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করেন» এটি হুদবাহর বর্ণিত হাদিসের শব্দ।

⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘

 

38 - এটি ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে হাজ্জাজ বিন মিনহাল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম হুদবাহ বিন খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।