(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: -)
إبطال الحيل لابن بطة   (ابن بطة)

القسم: كتب السنة


الكتاب: إبطال الحيل

المؤلف: عبيد الله ابن بَطَّة العكبري (304 - 387 هـ)

المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي، بيروت - لبنان

الطبعة: الثانية، 1403 هـ - 1983 م

عدد الصفحات: 71

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনু বাত্তাহর ইবতালুল হিয়াল   (ইবনু বাত্তাহ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইবতালুল হিয়াল (প্রতারণা বাতিলকরণ)

লেখক: উবায়দুল্লাহ ইবনু বাত্তাহ আল-উকবারী (৩০৪ - ৩৮৭ হিজরি)

তাহকীক: যুহাইর আল-শাভিশ [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: -)
إِبْطَالُ الْحِيَلِ لِابْنِ بَطَّةَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
ইবনে বাত্তাহ রচিত কৌশলসমূহের অসারতা প্রতিপাদন। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
، حَدَّثَ الشَّرِيفُ الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْعَلَوِيُّ الْحَرَّانِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حِمْدَانَ بْنِ طَهَ الْعُكْبَرِيُّ رحمه الله قَالَ: بِتَوْفِيقِ اللَّهِ نَسْتَعِينُ، وَلِعَظَمَتِهِ نَسْتَكِينُ، وَبِمَا وَصَّى بِهِ النَّبِيِّينَ مِنْ شَرِيعَتِهِ نَدِينُ، وَنَسْتَهْدِيهِ إِلَى الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ الَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ بِهِ عَلَى النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وَسَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ أَجْمَعِينَ، أَمَّا بَعْدُ: يَا أَخِي، أَلْهَمَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكَ التَّقْوَى، وَجَنَّبَنَا وَإِيَّاكَ الرَّدَى، وَعَصَمَنَا وَإِيَّاكَ مِنْ سُوءِ الْمَذَاهِبِ وَقَبِيحِ الْآرَاءِ، فَقَدْ فَهِمْتُ مَا سَأَلْتَ عَنْهُ، عَنْ حَالِ رَجُلٍ ذَكَرْتَ أَنَّهُ حَلَفَ بِالطَّلَاقِ ثَلَاثًا أَنَّهُ لَا بُدَّ أَنْ يَقْتُلَ رَجُلًا مُسْلِمًا بِغَيْرِ حَقٍّ لِأَجْلِ خُصُومَةٍ جَرَتْ بَيْنَهُمَا: أَنَّهُ اسْتَفْتَى بَعْضَ الْفُقَهَاءِ فَأَمَرَهُ أَنْ يُطَالِبَ

শরীফ ইমাম আবুল কাসিম আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন আলি আল-আলাভি আল-হাররানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হামদান ইবন ত্বহা আল-উকবরি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর তাওফিকের মাধ্যমে আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর মহত্ত্বের নিকট আমরা অবনত হই, এবং তিনি তাঁর শরীয়ত থেকে নবীগণকে যা অসিয়ত করেছেন আমরা তা দ্বীন হিসেবে পালন করি। আমরা তাঁর নিকট সেই সরল পথের হিদায়াত কামনা করি যার মাধ্যমে আল্লাহ নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ ও নেককারদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলগণের সরদার, উম্মি নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর। অতঃপর: হে আমার ভাই, আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে তাকওয়ার ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দান করুন, আমাদের ও আপনাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করুন এবং মন্দ মাযহাব (মতবাদ) ও কুৎসিত মতামত থেকে আমাদের ও আপনাকে হেফাজত করুন। আপনি যা জিজ্ঞাসা করেছেন তা আমি বুঝতে পেরেছি; আপনি এমন এক ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে তিন তালাকের শপথ করে বলেছে যে, তাদের মধ্যে চলমান বিবাদের কারণে সে অবশ্যই একজন মুসলিম ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে। সে জনৈক ফকীহর নিকট ফতোয়া চাইলে তিনি তাকে নির্দেশ দেন যেন সে দাবি করে...

(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
زَوْجَتَهُ بِأَنْ تَخْتَلِعَ مِنْهُ عَلَى عِوَضٍ تُعْطِيهِ مِنْ مَالِهَا، فَإِذَا قَبِلَ الْفِدْيَةَ خَلَعَهَا بِتَطْلِيقَةٍ لِتُسْقِطَ الْيَمِينَ، ثُمَّ يَعُودُ فِي الْوَقْتِ فَيَخْطُبُهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَيَتَزَوَّجُهَا تَزْوِيجًا جَدِيدًا، وَيَسْقُطُ عَنْهُ الْوَفَاءُ بِمَا حَلَفَ عَلَيْهِ. وَسَأَلْتَ عَنْ صِحَّةِ الْفَتْوَى، وَهَلْ لَهَا مَخْرَجٌ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ؟ وَأَصْلٌ ثَابِتٌ عِنْدَ الْعُلَمَاءِ الرَّبَانِيِّينَ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ؟ وَلَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ بَعْضَ مَنْ قَدْ نَصَّبَ نَفْسَهُ لِلْفَتْوَى فِي النَّوَازِلِ يُعَلِّمُ مَنْ حَلَفَ بِطَلَاقِ زَوْجَتِهِ ثَلَاثًا لِيَفْعَلَنَّ شَيْئًا لَا يَحِلُّ لَهُ فِعْلُهُ، أَوْ يَفْعَلُ شَيْئًا لَا بُدَّ مِنْ فِعْلِهِ، وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنَ الزَّوْجَيْنِ يُؤَدِّي إِلَى صَاحِبِهِ مَا أَوْجَبَ عَلَيْهِ مِنْ حُسْنِ صُحْبَتِهِ وَإِجْمَالِ عِشْرَتِهِ، فَيَدُلُّهُ عَلَى نَحْوِ الْحِيلَةِ الَّتِي ذَكَرْتَهَا فِي السُّؤَالِ. هَذَا وَإِنِّي رَاجِعٌ إِلَيْكَ بِجَوَابِ مَا سَأَلْتَ عَنْهُ مَشْرُوحًا مَفْهُومًا، وَلِيَكُونَ عَمَلُكَ بِحَسَبِهِ وَحَذْوُكَ عَلَى قَذَذِهِ

তার স্ত্রীকে এই মর্মে উদ্বুদ্ধ করা যে, সে তার নিকট হতে নিজ সম্পদের বিনিময়ে খোলা (তালাক) গ্রহণ করবে। যখন স্বামী সেই বিনিময় গ্রহণ করবে, তখন সে তাকে এক তালাকের মাধ্যমে মুক্ত করে দিবে যেন তার শপথটি বাতিল হয়ে যায়। অতঃপর সে তৎক্ষণাৎ তার অভিভাবকের কাছে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দিবে এবং তাকে নতুন করে বিবাহ করবে, যার ফলে সে যা শপথ করেছিল তা পূরণ করার বাধ্যবাধকতা তার থেকে রহিত হয়ে যাবে। আপনি এই ফতোয়ার শুদ্ধতা সম্পর্কে এবং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এর কোনো নির্গমন পথ বা ভিত্তি আছে কি না, আর এই উম্মতের রব্বানি আলেমদের নিকট এর কোনো প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, যারা সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলিতে (নাওয়াযিল) ফতোয়া প্রদানের আসনে নিজেদের সমাসীন করেছেন, তাদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তিকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার শপথ করেছে কোনো এমন কাজ করার জন্য যা করা তার জন্য বৈধ নয়, অথবা এমন কাজ করা হতে বিরত থাকার জন্য যা করা তার জন্য অপরিহার্য। অথচ স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকেই একে অপরের প্রতি উত্তম সাহচর্য ও সুন্দর জীবনযাপনের যে অধিকার ওয়াজিব তা পালন করছে। এমতাবস্থায় তিনি তাকে আপনার প্রশ্নে বর্ণিত কৌশলের (হিলা) অনুরূপ পথ প্রদর্শন করেন। আমি এখন আপনার নিকট আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়ের উত্তরটি সবিস্তারে ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করছি, যেন আপনার আমল সেই অনুযায়ী হয় এবং আপনি প্রতিটি পদক্ষেপে এর পূর্ণ অনুসরণ করতে পারেন।

(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
غَيْرَ أَنِّي أُقَدِّمُ أَمَامَ الْقَوْلِ، وَأَبْدَأُ قَبْلُ الْجَوَابِ عَنْ مَسْأَلَتِكَ بِذِكْرِ صِفَةِ الْفَقِيهِ الَّذِي يَجُوزُ تَقْلِيدُهُ وَالْفَزَعُ إِلَيْهِ عِنْدَ الْمُشْكِلَاتِ، وَالِانْقِيَادُ إِلَى طَاَعتَهِ عِنْدَ نُزُولِ الْمُعْضِلَاتِ وَحُلُولِ الشُّبُهَاتِ، ثُمَّ أُتْبِعُ ذَلِكَ بِالْجَوَابِ عَمَّا سَأَلْتَ عَنْهُ، فَإِنِّي رَأَيْتُ هَذَا الِاسْمَ قَدْ كَثُرَ الْمُتَسَمُّونَ بِهِ مِنْ عَامَّةِ النَّاسِ وَكَافَّتِهِمْ، وَمَا ذَاكَ إِلَّا لِأَنَّ الْبَصَائِرَ قَدْ عُشِيَتْ، وَالْأَفْهَامَ قَدْ صَدَأَتْ وَأُبْهِمَتْ عَنْ مَعْنَى الْفِقْهِ مَا هُوَ؟ وَالْفَقِيهُ مَنْ هُوَ؟ فَهُمْ يُعَوِّلُونَ عَلَى الِاسْمِ دُونَ الْمَعْنَى، وَعَلَى الْمَنْظَرِ دُونَ الْجَوْهَرِ. وَلِذَلِكَ قَالَ عُلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ حِينَ وَصَفَ الْمُتَجَاسِرَ عَلَى الْفَتْوَى بِغَيْرِ عِلْمٍ: «سَمَّاهُ النَّاسُ عَالِمًا وَلَمْ يَفْنِ فِي الْعِلْمِ يَوْمًا سَالِمًا»

তবে আমি বক্তব্যের প্রারম্ভে এবং আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদানের পূর্বে সেই ফকিহর (ইসলামি আইনবিদ) বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা শুরু করব যাঁর তাকলিদ করা বৈধ, সমস্যার সময় যাঁর শরণাপন্ন হওয়া যায় এবং কঠিন সংকট ও সংশয়ের সময় যাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক। এরপর আমি আপনার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দেব। কেননা আমি লক্ষ্য করেছি যে, সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মাঝে এই নামে (ফকিহ) নিজেদের অভিহিত করার প্রবণতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটি হওয়ার একমাত্র কারণ হলো, মানুষের অন্তর্দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেছে এবং বোধশক্তি মরিচাধরা ও আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে এই উপলব্ধি থেকে যে—প্রকৃতপক্ষে ফিকহ কী এবং ফকিহ কে? ফলে তারা অর্থের পরিবর্তে নামের ওপর এবং সারবস্তুর পরিবর্তে কেবল বাহ্যিক রূপের ওপর নির্ভর করে। এ কারণেই আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন), জ্ঞানহীন অবস্থায় ফতোয়া প্রদানের ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারীর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "লোকেরা তাকে আলিম বলে অভিহিত করে, অথচ সে ইলমের সন্ধানে একটি দিনও পূর্ণভাবে অতিবাহিত করেনি।"

(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
وَقَالَ رضي الله عنه: ‌‌«يُوشِكُ أَنْ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ ، وَمِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ ، مَسَاجِدُهُمْ يَوْمَئِذٍ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى ، عُلَمَاؤُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ ، مِنْ عِنْدِهِمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ ، وَفِيهِمْ ⦗ص: 6⦘ تَعُودُ» حَدَّثَنِيهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ الْفَامِيُّ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الدَّقِيقِيُّ ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دُكَيْنٍ ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عِنْ جَدِّهِ ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ ذَلِكَ. وَسَأَنْعَتُ لَكَ مَعْنَى الْفِقْهِ وَالْفَقِيهِ مِنَ الْعَرَبِيَّةِ وَالشَّرِيعَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ نَعْتًا جَامِعًا مِنَ الشَّهَادَةِ الْمُقْنِعَةِ وَالدَّلَالَةِ الشَّافِيَةِ. مُخْتَصِرًا ذَلِكَ وَمُقْتَصِرًا عَلَى بَعْضِ الرِّوَايَةِ دُونَ النِّهَايَةِ وَمُلَخَّصَهُ مِنَ الدِّرَايَةِ ، بِمَا فِيهِ الْكِفَايَةُ تَلْخِيصًا يَأْتِي عَلَى مَا وَرَاءَهُ وَيُغْنِي عَمَّا سِوَاهُ. فَأَمَّا الْفِقْهُ فِي اللِّسَانِ الْفَصِيحِ ، فَمَعْنَاهُ: الْفَهْمُ. تَقُولُ: فُلَانٌ لَا يَفْقَهُ قَوْلِي ، أَيْ: لَا يَفْهَمُ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [الإسراء: 44] أَيْ: لَا تَفْهَمُونَ. وَقَوْلُهُ عز وجل: {لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ} [التوبة: 122] أَيْ: لِيَتَفَهَّمُوهُ فَيَكُونُوا عُلَمَاءَ بِهِ. وَمِنْ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ: فُلَانٌ لَا يَفْقَهُ وَلَا يَنْقَهُ ، مَعْنَاهُ: لَا يَفْهَمُ وَلَا يَعْلَمُ ⦗ص: 7⦘. وَنَجِدُ اللَّهَ عز وجل نَدَبَنَا إِلَى تَوْحِيدِهِ ، وَالْمَعْرِفَةِ بِعَظِيمِ قُدْرَتِهِ ، بِمَا دَلَّنَا عَلَيْهِ مِنْ بَدِيعِ صَنْعَتِهِ ، وَعَجِيبِ حِكْمَتِهِ ، وَمَا أَسْبَغَ عَلَيْنَا مِنْ نِعْمَتِهِ ، ثُمَّ أَخْبَرَنَا أَنَّهُ إِنَّمَا أَظْهَرَ هَذِهِ الْمُعْجِزَاتِ ، وَفَصَّلَ هَذِهِ الْآيَاتِ ، لِلْفُقَهَاءِ الْعُلَمَاءِ؛ لِأَنَّهُمْ هُمُ الَّذِينَ فَهَمُّوا عَنْهُ ، وَفَقِهُوا مُرَادَهُ ، فَجَازَ أَنْ يَدُلُّوا عَلَيْهِ بِمَا دَلَّهُمْ بِهِ عَلَى نَفْسِهِ ، وَجَازَ أَنْ يَكُونُوا هُمُ النُّصَحَاءَ لِعِبَادِهِ بِمَا نَصَحُوا بِهِ أَنْفُسَهُمْ ، فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل وَصَفَ نَفْسَهُ لِعِبَادِهِ وَعَرَّفَهُمْ رُبُوبِيَّتَهُ ، وَدَعَاهُمْ إِلَى تَوْحِيدِهِ وَعِبَادَتِهِ ، بِمَا أَشْهَرَ لَهُمْ مِنْ قُدْرَتِهِ ، فَقَالَ عز وجل: {إِنَّ اللَّهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَالنَّوَى يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ} [الأنعام: 95] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ. ثُمَّ قَالَ عز وجل: {فَالِقُ الْإِصْبَاحِ وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} [الأنعام: 96] . ثُمَّ قَالَ عز وجل: {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [الأنعام: 97] . ثُمَّ قَالَ عز وجل: {وَهُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَمُسْتَقَرٌّ وَمُسْتَوْدَعٌ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَفْقَهُونَ} [الأنعام: 98]

⦗ص: 8⦘. فَلَمَّا فَقِهُوا عَنِ اللَّهِ عز وجل مَا عَظَّمَ بِهِ نَفْسَهُ ، وَأَخْبَرَ بِهِ مِنْ جَلَالِهِ وَهَيْبَتِهِ ، وَنَفاذِ قُدْرَتِهِ وَعَظِيمِ سُلْطَانِهِ وَسَطْوَتِهِ ، وَمَا وَعَدَ بِهِ مِنْ ثَوَابِهِ ، وَتَوَعَّدَ بِهِ مِنْ عِقَابِهِ ، وَمُلْكِهِ لِلْأَشْيَاءِ فِي الضُّرِّ وَالنَّفْعِ ، وَالْإِعْطَاءِ وَالْمَنْعِ ، وَالدَّوَامِ وَالْبَقَاءِ ، هَابُوا اللَّهَ عز وجل وَأَجَلُّوهُ ، وَاسْتَحْيَوُا اللَّهَ وَعَبَدُوهُ ، وَخَافُوا اللَّهَ وَرَاقَبُوهُ ، وَذَلِكَ لِمَا فَقِهُوا عَنْهُ مِنْ عَظَمَتِهِ وَجَلَالِهِ وَعَظِيمِ رُبُوبِيَّتِهِ ، وَلَصِقَ مَا فَقِهُوا عَنِ اللَّهِ عز وجل بِقُلُوبِهِمْ فَأَزْعَجَهَا ، وَعَنْ جَمِيعِ مَكَارِهِ اللَّهِ بَاعَدَهَا ، وَعَلَى مَا يُرْضِيهِ حَرَّكَهَا وَأَذَابَهَا ، وَمِنْ مُخَالَفَتِهِ أَوْجَلَهَا وَأَرْهَبَهَا ، فَعِنْدَ ذَلِكَ أَضَافَهُمُ اللَّهُ عز وجل إِلَى نَفْسِهِ فِيمَا شَهِدَ لَهَا بِالْإِلَهِيَّةِ فَقَالَ: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ} . ثُمَّ رَفَعَهُمْ عَلَى جَمِيعِ خَلْقِهِ فَقَالَ: {يَرْفَعُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة: 11] . وَقَالَ: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ} [الأنعام: 83] . قِيلَ: بِالْعِلْمِ ⦗ص: 9⦘. فَهُمْ صَفْوَةُ اللَّهِ مِنْ عِبَادِهِ ، وَأَهْلُ نُورِهِ فِي بِلَادِهِ ، اصْطَفَاهُمُ اللَّهُ لِعِلْمِهِ ، وَاخْتَارَهُمْ لِنَفْسِهِ ، وَعَرَّفَهُمْ حَقَّهُ ، وَدَلَّهُمْ عَلَى نَفْسِهِ ، فَأَقَامَ بِهِمْ حُجَّتَهُ ، وَجَعَلَهُمْ قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ ، ذُبَّابًا عَنْ حَرَمِهِ ، نُصَحَاءَ لَهُ فِي خَلْقِهِ ، فَارِّينَ إِلَيْهِ بِطَاعَتِهِ ، فَلِذَلِكَ أَمَرَ اللَّهُ عز وجل بِمَسْأَلَتِهِمْ ، وَالنُّزُولِ عِنْدَ طَاعَتِهِمْ ، فَقَالَ عز وجل: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43] . ثُمَّ أَلْصَقَ طَاعَتَهُمْ بِطَاعَتِهِ وَطَاعَةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: 59] ، قَالَ الْفُقَهَاءُ: كَذَا قَالَ الْمُفَسِّرُونَ. حَدَّثَنَا ابْنُ مَخْلَدٍ ، حَدَّثَنَا الْحَسَّانِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ ، بِذَلِكَ ⦗ص: 10⦘. فَطَاعَتُهُمْ عَلَى جَمِيعِ الْخَلْقِ وَاجِبَةٌ ، وَمَعْصِيَتُهُمْ مُحَرَّمَةٌ ، مَنْ أَطَاعَهُمْ رَشَدَ وَنَجَا ، وَمَنْ خَالَفَهُمْ هَلَكَ وَغَوَى ، هُمْ سَرْجُ الْعِبَادِ ، وَمَنَارُ الْبِلَادِ ، وَقَوَامُ الْأُمَمِ ، وَيَنَابِيعُ الْحِكَمِ ، فِي كُلِّ وَقْتٍ وَزَمَنٍ ، وَصَفَهُمُ اللَّهُ عز وجل بِالْخَشْيَةِ وَالِاعْتِبَارِ ، وَالزُّهْدِ فِي كُلِّ مَا رَغِبَ فِيهِ الْجَهَلَةُ الْأَغْمَارُ ، فَقَالَ عَزَّ مَنْ قَائِلٌ: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر: 28] . وَقَالَ: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ} [العنكبوت: 43] . وَوَصَفَ قَارُونَ وَخُرُوجَهُ فِي زِينَتِهِ وَمُبَاهَاتَهُ لِأَهْلِ عَصْرِهِ بِمَا أُوتِيَهُ مِنْ حُطَامِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا ، وَغِبْطَةِ الْجَاهِلِينَ لَهُ الْمُرِيدِينَ مِنْهَا مِثْلَ إِرَادَتِهِ وَتَأَسُّفَهُمْ عَلَى مِثْلِ حَالِهِ ، ثُمَّ دَلَّ عَلَى فَضْلِ الْعُلَمَاءِ وَإِصَابَتِهِمُ الصَّوَابَ بِعُزُوفِ أَنْفُسِهِمْ عَنْ مُلْكِهِ وَزِينَتِهِ وَرِضَاهُمْ بِمَا فَهَمُّوا عَنِ اللَّهِ ، وَتَصْدِيقِهِمْ لَهُ فِيمَا وَعَدَ مِنْ جَزِيلِ ثَوَابِهِ وَحُسْنِ مَآبِهِ لِمَنْ آمَنَ بِذَلِكَ وَرَضِيَ بِهِ ، فَقَالَ عز وجل: {إِنَّ قَارُونَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوسَى فَبَغَى عَلَيْهِمْ وَآتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ مَا إِنَّ مَفَاتِحَهُ لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ أُولِي الْقُوَّةِ} [القصص: 76]

⦗ص: 11⦘. ثُمَّ قَالَ: {فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِهِ قَالَ الَّذِينَ يُرِيدُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا: يَا لَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَا أُوتِيَ قَارُونُ إِنَّهُ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٍ. وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ: وَيْلَكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا} [القصص: 80] وَقَالَ عز وجل تَخْصِيصًا لِلْعُلَمَاءِ ، وَتَفْضِيلًا لِلْفُقَهَاءِ: {وَلَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الصَّابِرُونَ} [القصص: 80] . يَعْنِي: الصَّابِرِينَ عَلَى الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا ، رِضَاءً بِاللَّهِ وَبِثَوَابِهِ ، وَبِمَا أَعَاضَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ بِهِ وَالْفَهْمِ عَنْهُ ، وَبِمَا فَقِهُوا عَنْهُ مَا وَعَدَ بِهِ مَنْ صَبَرَ عَنْهَا ، وَلِذَلِكَ يُرْوَى - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - فِي مَعْنَى هَذَا قَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهُّ فِي الدِّينِ»
এবং তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "এমন সময় ঘনিয়ে আসছে যখন ইসলামের কেবল নামটুকুই অবশিষ্ট থাকবে, আর কুরআনের কেবল তার লিখনশৈলী অবশিষ্ট থাকবে। তাদের মসজিদগুলো সেদিন আবাদ থাকবে কিন্তু তা হিদায়াতশূন্য হবে। তাদের আলেমরা আকাশের নিচে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট হবে। তাদের থেকেই ফিতনার উৎপত্তি হবে এবং তাদের মধ্যেই তা ⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘ ফিরে যাবে।" এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান আল-ফামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক আদ-দাকিকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে দুকাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তা বলেছেন। আর আমি এখন আপনার সামনে ফিকহ এবং ফকীহ-এর অর্থ আরবি ভাষা ও ইসলামি শরিয়তের আলোকে এমন এক ব্যাপক বর্ণনায় ফুটিয়ে তুলব যা হবে সন্তোষজনক সাক্ষ্য ও নিরাময় দানকারী পথনির্দেশনা স্বরূপ। সংক্ষেপে এবং আংশিক বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকে, যার ভেতরে পর্যাপ্ত জ্ঞানসার এবং এর বাইরের বিষয়াদি থেকেও অমুখাপেক্ষী করার মতো যথেষ্ট সারসংক্ষেপ থাকবে। সাবলীল ভাষায় ফিকহ-এর অর্থ হলো: অনুধাবন করা। আপনি বলেন: অমুক ব্যক্তি আমার কথা বুঝে না, অর্থাৎ সে অনুধাবন করে না। মহান আল্লাহ বলেছেন: "এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করে না, কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বা পবিত্রতা ঘোষণা বুঝো না।" [আল-ইসরা: ৪৪] অর্থাৎ তোমরা অনুধাবন করো না। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে।" [আত-তাওবাহ: ১২২] অর্থাৎ যাতে তারা তা অনুধাবন করতে পারে এবং এর আলেম হতে পারে। এখান থেকেই তাদের প্রবাদ এসেছে: অমুক ব্যক্তি বুঝে না এবং অনুধাবন করে না, এর অর্থ হলো: সে বুঝে না এবং জানে না ⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘। আমরা দেখতে পাই যে, মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর তাওহিদের দিকে এবং তাঁর সুনিপুণ সৃষ্টি ও বিস্ময়কর হিকমতের মাধ্যমে তাঁর মহা কুদরতের পরিচয়ের দিকে আহ্বান করেছেন, এবং আমাদের ওপর তাঁর যে নেয়ামত পূর্ণ করেছেন তার দিকেও। অতঃপর তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এই মুজিজাসমূহ প্রকাশ করেছেন এবং এই আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন ফকীহ ও আলেমদের জন্য; কারণ তারাই আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুধাবন করেছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য বুঝেছেন। সুতরাং এটিই সঙ্গত যে, তারা তাঁর দিকে পথপ্রদর্শন করবেন সেই সবের মাধ্যমে যা দ্বারা আল্লাহ নিজেকে চেনার পথ দেখিয়েছেন। এবং এটিও সঙ্গত যে, তারা তাঁর বান্দাদের জন্য হিতাকাঙ্ক্ষী হবেন তেমনভাবে যেমনভাবে তারা নিজেদের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়েছেন। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছে নিজের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং তাদের কাছে তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের পরিচয় দিয়েছেন, এবং তাঁর ক্ষমতার যা কিছু প্রকাশ করেছেন তা দিয়ে তাদের তাঁর তাওহিদ ও ইবাদতের দিকে ডেকেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, তিনি মৃত থেকে জীবন্তকে বের করেন" [আল-আনআম: ৯৫] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি প্রভাত উদ্ভাসক, তিনি রাতকে বিশ্রামের জন্য এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসাবের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এটি মহাপরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত পরিমাপ" [আল-আনআম: ৯৬]। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য নক্ষত্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ চলতে পারো। নিশ্চয় আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি" [আল-আনআম: ৯৭]। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রয়েছে এক অবস্থানস্থল ও এক আমানত রাখার স্থান। আমি ফকীহ বা অনুধাবনকারী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছি" [আল-আনআম: ৯৮]

⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘। অতঃপর যখন তারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেসব বিষয় অনুধাবন করলেন যার মাধ্যমে আল্লাহ নিজেকে মহিমান্বিত করেছেন এবং তাঁর প্রতাপ, গাম্ভীর্য, ক্ষমতার কার্যকারিতা, মহা রাজত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, এবং তাঁর পুরস্কারের যে প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির যে ধমক দিয়েছেন, আর ক্ষতি ও উপকার, দান ও বারণ এবং স্থায়িত্ব ও অমরত্বের ক্ষেত্রে সমস্ত বিষয়ের ওপর তাঁর মালিকানা সম্পর্কে জেনেছেন; তখন তারা মহান আল্লাহকে ভয় করলেন, তাঁকে সম্মান করলেন এবং আল্লাহর প্রতি লজ্জাশীল হলেন ও তাঁর ইবাদত করলেন, আল্লাহকে ভয় করলেন ও তাঁর নজরদারি অনুভব করলেন। এটি এ কারণে যে, তারা তাঁর মহানুভবতা, মহিমা ও মহান রুবুবিয়্যাত সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুধাবন করেছেন। আর তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অনুধাবন করেছেন তা তাদের অন্তরের সাথে মিশে গেছে এবং তাদের অন্তরকে অস্থির করে দিয়েছে, ফলে তা তাদের আল্লাহর সকল অপছন্দনীয় বিষয় থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে তার দিকে ধাবিত ও বিগলিত করেছে, আর তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদের ভীত ও আতঙ্কিত করেছে। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ যেখানে নিজের ইলাহ হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন, সেখানে তাদের নিজের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ আলেমগণও (সাক্ষ্য দিয়েছেন)।" অতঃপর তিনি তাদের তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন" [আল-মুজাদালা: ১১]। এবং তিনি বলেছেন: "আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নত করি" [আল-আনআম: ৮৩]। বলা হয়েছে: জ্ঞানের মাধ্যমে ⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘। তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তাঁর মনোনীত বান্দা এবং তাঁর জনপদে তাঁর নূরের অধিকারী। আল্লাহ তাদের তাঁর জ্ঞানের জন্য মনোনীত করেছেন, নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন, তাদের তাঁর অধিকার সম্পর্কে জানিয়েছেন এবং তাঁর নিজের দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন। ফলে তিনি তাদের মাধ্যমে তাঁর প্রমাণ কায়েম করেছেন এবং তাদের ইনসাফের ওপর দণ্ডায়মান বানিয়েছেন। তারা তাঁর পবিত্র বিষয়াদির পাহারাদার, তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে তাঁর হিতাকাঙ্ক্ষী এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর দিকে ধাবিত। এই কারণেই মহান আল্লাহ তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করার এবং তাদের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতএব তোমরা জ্ঞানের অধিকারীদের জিজ্ঞাসা করো যদি তোমরা না জানো" [আন-নাহল: ৪৩]। অতঃপর তিনি তাদের আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্য ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলিল আমর (আলেমদের) আনুগত্য করো" [আন-নিসা: ৫৯]। ফকীহগণ বলেছেন: মুফাসসিরগণ এভাবেই বলেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে মাখলাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসসানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আর-রাজি, তিনি রাবি ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে এই বিষয়ে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘। সুতরাং সমস্ত সৃষ্টির ওপর তাদের আনুগত্য ওয়াজিব এবং তাদের অবাধ্যতা হারাম। যে তাদের আনুগত্য করল সে সঠিক পথ পেল ও মুক্তি পেল, আর যে তাদের বিরোধিতা করল সে ধ্বংস হলো ও পথভ্রষ্ট হলো। তারা বান্দাদের জন্য প্রদীপস্বরূপ, জনপদসমূহের আলোকবর্তিকা, উম্মতদের ভিত্তি এবং হিকমতের ঝরনাধারা। প্রতি যুগে ও সময়ে মহান আল্লাহ তাদের ভীতি, শিক্ষা গ্রহণ এবং মূর্খরা যা পছন্দ করে তাতে বিরাগভাজন হওয়ার মাধ্যমে বিশেষিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে" [ফাতির: ২৮]। এবং তিনি বলেছেন: "এই সব দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য পেশ করি, কিন্তু আলেমগণ ছাড়া কেউ তা বুঝে না" [আল-আনকাবুত: ৪৩]। এবং তিনি কারুন ও তার সাজসজ্জা নিয়ে বের হওয়া এবং তার যুগের লোকদের কাছে দুনিয়ার ভোগবিলাস ও চাকচিক্য নিয়ে অহংকার করার বিষয় বর্ণনা করেছেন, আর মূর্খরা তাকে দেখে যা ঈর্ষা করেছিল এবং তার মতো হতে চেয়ে আক্ষেপ করেছিল তাও বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি আলেমদের মর্যাদা এবং তাদের সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করেছেন যে, তাদের অন্তর এই রাজত্ব ও সাজসজ্জা থেকে বিমুখ ছিল এবং তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অনুধাবন করেছেন তাতে তারা সন্তুষ্ট ছিলেন। আর আল্লাহ যে মহান প্রতিদান ও উত্তম আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা তারা বিশ্বাস করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয় কারুন ছিল মুসার কওমের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছিল। আমি তাকে এত ধনভাণ্ডার দিয়েছিলাম যার চাবিকাশি বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও কষ্টকর ছিল" [আল-কাসাস: ৭৬]

⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘। অতঃপর তিনি বললেন: "অতঃপর সে তার সম্প্রদায়ের সামনে জাঁকজমকসহ বের হলো। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলল: হায়! কারুনকে যা দেওয়া হয়েছে আমাদেরও যদি তা থাকত! সে তো বড় ভাগ্যবান। আর যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল তারা বলল: ধিক তোমাদের! যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আল্লাহর দেওয়া পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ" [আল-কাসাস: ৮০]। এবং মহান আল্লাহ বিশেষভাবে আলেমদের ও ফকীহদের মর্যাদা দিয়ে বলেছেন: "আর এটি কেবল ধৈর্যশীলরাই লাভ করে" [আল-কাসাস: ৮০]। অর্থাৎ দুনিয়া ও এর সাজসজ্জার ওপর যারা ধৈর্যশীল, আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর পুরস্কারের প্রতি সন্তুষ্টির কারণে, এবং তিনি তাদের নিজের সম্পর্কে যে জ্ঞান ও অনুধাবন দান করেছেন তার বিনিময়ে, এবং তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অনুধাবন করেছেন যে তিনি দুনিয়া বিমুখ ধৈর্যশীলদের জন্য কিসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই কারণেই বর্ণিত হয়েছে — আল্লাহই ভালো জানেন — এই অর্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) দান করেন।"
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَافْلَانِيُّ ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ ، ⦗ص: 12⦘ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ ، عَلَى الْمِنْبَرِ: ‌‌«اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ ، مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» سَمِعْتُ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ مِنْ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আবু আল-ফজল জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-কাফলানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি মা'শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসামা ইবনে যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান মিম্বরে থাকাকালীন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: "হে আল্লাহ, আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই এবং আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন।" আমি এই কথাগুলো তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وَحَدَّثَنِي أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَزَّارُ ، وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْكَشِّيُّ ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»
এবং আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-বাযযার এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবন আব্দুল্লাহ আল-কাশশি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুলাইমান ইবন দাউদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুল ওয়াহিদ ইবন যিয়াদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মা’মার আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
حَدَّثَنَا ابْنُ صَاعِدٍ ، حَدَّثَنَا ابْنُ زُنْبُورٍ ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ شَيْخُنَا رضي الله عنه: وَلِهَذَا الْفَقِيهِ الَّذِي أَرَادَ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا صِفَاتٌ وَعَلَامَاتٌ وَصَفَهَا الْعُلَمَاءُ ، وَأَبَانَتْ عَنْ حَقَائِقِهَا الْعُقَلَاءُ ، فَمِنْ صِفَاتِهِ وَعَلَامَاتِهِ:
ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে যুনবুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” আমাদের শাইখ উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আর এই ফকীহ যার জন্য আল্লাহ কল্যাণ ইচ্ছা করেছেন, তার কিছু বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শন রয়েছে যা উলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট করেছেন। তার বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো:
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
مَا حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ شُعَيْبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الرَّاجِيَانِ الْكفي ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، قَالَ: ‌‌«إِنَّمَا الْفَقِيهُ مَنْ يَخَافُ اللَّهَ عز وجل»
আমাদের কাছে আবু আল-ফজল শুয়াইব ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আর-রাজিয়ান আল-কুফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আলি ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আল-হুসাইন ইবনে আলি আল-জু’ফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে লাইস বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেন: «প্রকৃত ফকিহ কেবল তিনিই, যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহকে ভয় করেন»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَحَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاذِيُّ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، قَالَ:‌‌ الْفَقِيهُ مَنْ يَخَافُ اللَّهَ عز وجل.
এবং আবুল হুসাইন ইসহাক বিন আহমাদ আল-কাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস বিন আবু সুলাইম থেকে, মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ফকীহ হলেন তিনি, যিনি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহকে ভয় করেন।
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي سَهْلٍ الْحَرْبِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مَسْرُوقٍ الطُّوسِيُّ ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَاقَانَ النَّحْوِيُّ ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ الْآدَمَيُّ ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ ، عَنْ أَبِي هُبَيْرَةَ الْأَنْصَارِيِّ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: ‌‌«أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالْفَقِيهِ ، كُلِّ الْفَقِيهِ؟ مَنْ لَمْ يُقَنِّطِ النَّاسَ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ، وَلَمْ يُؤَمِّنْهُمْ مِنْ مَكْرِ اللَّهِ ، وَلَمْ يُرَخِّصْ لَهُمْ فِي مَعَاصِي اللَّهِ ، وَلَمْ يَدَعِ الْقُرْآنَ رَغْبَةً عَنْهُ إِلَى غَيْرِهِ»
আমাদের নিকট আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি সাহল আল-হারবী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে মাসরুক আত-তুসী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মূসা ইবনে খাকান আন-নাহবী বর্ণনা করেছেন; (হ) এবং আমাদের নিকট আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে উসমান আল-আদামী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হারিস ইবনে আবি উসামাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আন-নাদর হাশিম ইবনে আল-কাসিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বাকর ইবনে খুনাইস বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে আবি সুলাইম থেকে, তিনি আবু হুবাইরা আল-আনসারী থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আমি কি তোমাদের প্রকৃত ফকিহ, তথা পূর্ণাঙ্গ ফকিহ সম্পর্কে অবহিত করব না? তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি মানুষকে আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ করেন না এবং আল্লাহর কৌশল (পাকড়াও) হতে তাদের নিশ্চিন্ত করেন না, এবং আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কাজে তাদের জন্য কোনো শিথিলতা বা ছাড় প্রদান করেন না, এবং কুরআনের প্রতি বিমুখ হয়ে অন্য কিছুর লোভে তা বর্জন করেন না।’
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
حَدَّثَنَا أَبُو شَيْبَةَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرٍ الْخُوَارِزْمِيُّ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الضَّرِيرُ ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْمَسْعُودِيُّ ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: ‌‌«كَفَى بِخَشْيَةِ اللَّهِ عِلْمًا وَكَفَى بِالِاغْتِرَارِ بِاللَّهِ جَهْلًا»
আবু শায়বা আব্দুল আজিজ ইবনে জাফর আল-খুওয়ারিজমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আবু আব্দুল্লাহ আদ-দারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মাসউদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাসিম ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: «আল্লাহর প্রতি ভয়ই জ্ঞান হিসেবে যথেষ্ট এবং আল্লাহর ব্যাপারে ধোঁকায় থাকাই মূর্খতা হিসেবে যথেষ্ট»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ الْحَرْبِيُّ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَسْرُوقٍ ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ اللَّيْثِيِّ ، قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه إِلَى أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رحمه الله: ‌‌«إِنَّ الْفِقْهَ لَيْسَ بِكَثْرَةِ السَّرْدِ وَسَعَةِ الْهَذْرِ وَكَثْرَةِ الرِّوَايَةِ ، وَإِنَّمَا الْفِقْهُ خَشْيَةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»
আবুল হুসাইন আল-হারবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মাসরুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন বিন হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অকী' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন উমর থেকে বর্ণিত, আবু আলকামা আল-লায়সী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু মুসা আল-আশআরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট লিখেছেন: «নিশ্চয়ই ফিকহ অনবরত কথার ফুলঝুরি, বাচালতার ব্যাপ্তি কিংবা বর্ণনার আধিক্যের নাম নয়; বরং ফিকহ তো কেবল আল্লাহর ভয়, যিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত»।
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّرِيِّ الْكُوفِيُّ بِالْكُوفَةِ ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى الدِّهْقَانُ ، حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ ، حَدَّثَنَا ابْنُ مِسْعَرٍ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: "‌‌ قُلْتُ لِسَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ: مَنْ أَفْقَهُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ؟ قَالَ: «أَتْقَاهُمْ»
আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সারী আল-কুফি কুফায় আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন ইয়াহইয়া আদ-দিহকান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু কুরায়ব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে মিসআর তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌‌ আমি সাদ বিন ইবরাহিমকে বললাম: মদীনার অধিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ কে? তিনি বললেন: «তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ ثَابِتٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْحَرْبِيُّ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَسْرُوقٍ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، حَدَّثَنَا أَبُو بَشِيرٍ ، حَدَّثَنِي مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ بَعْضَ الْقُرَشِيِّينَ ، قَالَ: "‌‌ إِنَّ كَمَالَ عِلْمِ الْعَالِمِ ثَلَاثَةٌ: تَرْكُ طَلَبِ الدُّنْيَا بِعِلْمِهِ ، وَمَحَبَّةُ الِانْتِفَاعِ لِمَنْ يَجْلِسُ إِلَيْهِ ، وَرَأْفَتُهُ بِالنَّاسِ "
আবু সালিহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হারবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে মাসরুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বশীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জনৈক কুরাইশ ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "‌‌ নিশ্চয়ই একজন আলেমের ইলমের পূর্ণতা তিনটি বিষয়ে: নিজ ইলমের মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ বর্জন করা, যে তার নিকট উপবেশন করে তার উপকারের আকাঙ্ক্ষা করা এবং তার মমতা মানুষের প্রতি।"
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْعَابِدُ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْعُمْرَانِيُّ ، قَالَ: قَالَ أَبُو حَازِمٍ: "‌‌ لَا يَكُونُ الْعَالِمُ عَالِمًا حَتَّى تَكُونَ فِيهِ ثَلَاثُ خِصَالٍ: لَا يَحْقِرُ مَنْ دُونَهُ فِي الْعِلْمِ ، وَلَا يَحْسِدُ مَنْ فَوْقَهُ ، وَلَا يَأْخُذُ عَلَى عَمَلِهِ دُنْيَا "
আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাগাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-আবিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাযিম বলেছেন: "একজন আলিম ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত আলিম হতে পারেন না যতক্ষণ না তার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে: তিনি ইলমের ক্ষেত্রে তার চেয়ে নিম্নস্তরের কাউকে তুচ্ছজ্ঞান করবেন না, তার চেয়ে উচ্চস্তরের কাউকে হিংসা করবেন না এবং নিজের আমলের বিনিময়ে পার্থিব কোনো প্রতিদান গ্রহণ করবেন না।"
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
حَدَّثَنَا ابْنُ صَاعِدٍ ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ ، حَدَّثَنَا مَطَرٌ الْوَرَّاقُ ، قَالَ:‌‌ سَأَلْتُ الْحَسَنَ عَنْ مَسْأَلَةٍ ، فَقَالَ فِيهَا ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ ، يَأْبَى عَلَيْكَ الْفُقَهَاءُ. فَقَالَ الْحَسَنُ: ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مَطَرُ ، وَهَلْ رَأَيْتَ بِعَيْنَيْكَ فَقِيهًا قَطُّ؟ وَقَالَ: أَتَدْرِي مَا الْفَقِيهُ؟ الْفَقِيهُ: الْوَرِعُ ، الزَّاهِدُ ، الْمُقِيمُ عَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي لَا يَسْخَرُ بِمَنْ أَسْفَلَ مِنْهُ ، وَلَا يَهْزَأُ بِمَنْ فَوْقَهُ ، وَلَا يَأْخُذُ عَلَى عِلْمٍ عَلَّمَهُ اللَّهُ إِيَّاهُ حُطَامًا "
ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণিত, মাতার আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:‌‌ আমি হাসানকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি সে বিষয়ে উত্তর দিলেন, তখন আমি বললাম: হে আবু সাঈদ, ফকিহগণ আপনার এই মতের বিরোধিতা করছেন। তখন হাসান বললেন: তোমার মা তোমাকে হারাক হে মাতার! তুমি কি কখনো নিজের চোখে কোনো ফকিহ দেখেছ? তিনি বললেন: তুমি কি জানো ফকিহ কে? ফকিহ হলেন তিনি, যিনি অতিশয় মুত্তাকী, দুনিয়াবিমুখ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত; যিনি তার চেয়ে নিম্নমর্যাদার কাউকে নিয়ে উপহাস করেন না, তার চেয়ে উচ্চমর্যাদার কাউকে নিয়ে বিদ্রূপ করেন না এবং আল্লাহ তাকে যে ইলম দান করেছেন তার বিনিময়ে কোনো পার্থিব নশ্বর বস্তু গ্রহণ করেন না।
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاذِيُّ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْهَيْثَمِ ، حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ ، عَنِ الْحَسَنِ ، قَالَ: "‌‌ الْفَقِيهُ: الْمُجْتَهِدُ فِي الْعِبَادَةِ ، الزَّاهِدُ فِي الدُّنْيَا ، الْمُقِيمُ عَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ "
আমাদের নিকট আবুল হুসাইন ইসহাক বিন আহমদ আল-কাযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমর বিন আল-হাইসাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু হামযাহ বর্ণনা করেছেন হাসান থেকে, তিনি বলেন: "‌‌ ফকিহ হলেন: ইবাদতে অত্যন্ত পরিশ্রমী, দুনিয়ার প্রতি বিমুখ এবং আল্লাহর রাসুলের সুন্নাহর ওপর অটল ব্যক্তি, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।"
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ هِلَالٍ ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ صَاحِبُ الدَّسْتُوَائِيِّ ، عَنْ رَجُلٍ ، عَنِ الْحَسَنِ ، وَقَدْ أَتَاهُ رَجُلٌ فَسَأَلَهُ عَنْ مَسْأَلَةٍ ، فَأَفْتَاهُ. قَالَ: فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ ، قَالَ فِيهَا الْفُقَهَاءُ غَيْرَ مَا قُلْتَ ، قَالَ: فَغَضِبَ الْحَسَنُ وَقَالَ: ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ ، وَهَلْ رَأَيْتَ فَقِيهًا قَطُّ؟ قَالَ: فَسَكَتَ الرَّجُلُ. قَالَ: فَسَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ ،‌‌ مَنِ الْفَقِيهُ؟ قَالَ: «الزَّاهِدُ فِي الدُّنْيَا ، الرَّاغِبُ فِي الْآخِرَةِ ، الْبَصِيرُ فِي دِينِهِ ، الْمُجْتَهِدُ فِي الْعِبَادَةِ ، هَذَا الْفَقِيهُ»
ইসহাক বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাস্তুওয়ায়ীর সঙ্গী হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি হাসান থেকে। তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে ফাতাওয়া প্রদান করেন। তিনি বলেন: তখন লোকটি তাঁকে বলল: হে আবু সাঈদ, ফকীহগণ এ বিষয়ে আপনি যা বলেছেন তার ব্যতিক্রম বলেছেন। তিনি বলেন: এতে হাসান রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: তোমার মা তোমাকে হারাক, তুমি কি কখনো কোনো ফকীহ দেখেছ? তিনি বলেন: তখন লোকটি নীরব হয়ে গেল। তিনি বলেন: এরপর এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: হে আবু সাঈদ, ফকীহ কে? তিনি বললেন: «দুনিয়ার প্রতি বিমুখ, আখিরাতের প্রতি অনুরাগী, স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন এবং ইবাদতে কঠোর পরিশ্রমী, এই ব্যক্তিই হলো ফকীহ।’
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ حَمْزَةُ بْنُ الْقَاسِمِ خَطِيبُ جَامِعِ الْمَنْصُورِ ، حَدَّثَنَا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَيُّوبَ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ ، يَقُولُ: "‌‌ مَا رَأَيْتُ فَقِيهًا قَطُّ يُدَارِي وَلَا يُمَارِي ، إِنَّمَا يُفْشِي حِكْمَتَهُ ، فَإِنْ قُبِلَتْ حَمِدَ اللَّهَ ، وَإِنْ رُدَّتْ حَمِدَ اللَّهَ. قَالَ: وَسَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ فَقِيهًا قَطُّ. وَإِنَّمَا الْفَقِيهُ الزَّاهِدُ فِي الدُّنْيَا ، الرَّاغِبُ فِي الْآخِرَةِ ، الدَّائِبُ عَلَى الْعِبَادَةِ ، الْمُتَمَسِّكُ بِالسُّنَّةِ "
আবু উমর হামযা ইবনুল কাসিম, মানসুর জামে মসজিদের খতিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্বল ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আইয়ুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "‌‌আমি এমন কোনো ফকিহকে কখনোই দেখিনি যে তোষামোদ করে কিংবা বিতর্ক করে; বরং সে কেবল তার প্রজ্ঞা প্রচার করে, অতঃপর যদি তা গ্রহণ করা হয় তবে সে আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যদি তা প্রত্যাখ্যান করা হয় তবে সে আল্লাহর প্রশংসা করে। তিনি বলেন: এবং আমি হাসানকে বলতে শুনেছি: আমি প্রকৃত ফকিহ কাউকে দেখিনি। প্রকৃত ফকিহ তো কেবল তিনিই যিনি দুনিয়ার প্রতি বিমুখ, আখিরাতের প্রতি অনুরাগী, ইবাদতে নিরলস এবং সুন্নাহর ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।"
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْعَلَاءِ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَكَمِ الْوَرَّاقُ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ مَعْقِلٍ ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ ، قَالَ: ‌‌«الْفَقِيهُ ، الْعَفِيفُ ، الْمُتَمَسِّكُ بِالسُّنَّةِ ، أُولَئِكَ أَتْبَاعُ الْأَنْبِيَاءِ فِي كُلِّ زَمَانٍ»
আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে আলী ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহহাব ইবনুল হাকাম আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুস সামাদ ইবনে মাকিল থেকে বর্ণিত, ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «ফকিহ, পূত-পবিত্র এবং সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী ব্যক্তিগণই প্রতিটি যুগে নবীদের অনুসারী»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الرَّاجِيَانِ ، حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ فَتْحُ بْنُ شُخْرُفَ ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خُبَيْقٍ ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَسْبَاطٍ ، قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ: ‌‌«الْفَقِيهُ الَّذِي يَعُدُّ الْبَلَاءَ نِعْمَةً ، وَالرَّخَاءَ مُصِيبَةً ، وَأَفْقَهُ مِنْهُ مَنْ لَمْ يَجْتَرِئْ عَلَى اللَّهِ عز وجل فِي شَيْءٍ لِعِلَّةٍ بِهِ»
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আর-রাজিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাসর ফাতহ বিন শুখরুফ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন খুবায়েক, ইউসুফ বিন আসবাত থেকে বর্ণিত, সুফিয়ান আস-সাওরি বলেছেন: «ফকিহ হলেন তিনি, যিনি বিপদে নেয়ামত মনে করেন এবং সচ্ছলতাকে মুসিবত মনে করেন; আর তার চেয়েও বিজ্ঞ ফকিহ হলেন তিনি, যিনি মহান আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেন না কোনো বিষয়ে তাঁর কোনো সমস্যার কারণে।»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيُّ ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْقَاسِمِ ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ ، قَالَ: ‌‌«يُقَالُ إِنَّ الْفَقِيهَ كُلَّ الْفِقْهِ مَنْ فَقِهَ فِي الْقُرْآنِ وَعَرَفَ مَكِيدَةَ الشَّيْطَانِ»
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আন-নিশাপুরী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনুল কাসিম, আল-হারিস ইবনে ইয়াকুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «বলা হয় যে, সেই ব্যক্তিই পরিপূর্ণ ফকীহ যিনি কুরআনের বিষয়ে সম্যক প্রজ্ঞা লাভ করেছেন এবং শয়তানের চক্রান্ত সম্পর্কে অবগত হয়েছেন»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النُّعْمَانِيُّ الْبَاهِلِيُّ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ ، حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ ، قَالَ: ‌‌«لَا يَفْقَهُ الرَّجُلُ كُلَّ الْفِقْهِ حَتَّى يَمْقُتَ النَّاسَ فِي ذَاتِ اللَّهِ ، ثُمَّ يَرْجِعَ إِلَى نَفْسِهِ فَيَكُونَ لَهَا أَشَدَّ مَقْتًا»
আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আন-নুমানী আল-বাহিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবদুস সামাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাখলাদ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট আবু কিলাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “কোনো ব্যক্তি পূর্ণ প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারে না যতক্ষণ না সে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে মানুষকে ঘৃণা করে, অতঃপর সে নিজের নফসের দিকে ফিরে তাকাবে এবং নিজের প্রতিই হবে অধিকতর ঘৃণা পোষণকারী।”
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودٍ السَّرَّاجُ ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطُّفَاوِيُّ ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ ، قَالَ: ‌‌«إِنَّ مِنْ فِقْهِ الْمَرْءِ مَمْشَاهُ وَمُدْخَلَهُ وَمَجْلِسَهُ»
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আস-সাররাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আশআছ আহমদ ইবনে আল-মিকদাম আল-ইজলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আত-তুফাওয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির বিচক্ষণতার অন্তর্ভুক্ত হলো তার চলাফেরা, তার প্রবেশস্থল এবং তার মজলিস»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْكَاذِيُّ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ ، قَالَ: قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: ‌‌«إِنَّكَ لَا تَفْقَهُ كُلَّ الْفِقْهِ حَتَّى تَرَى لِلْقُرْآنِ وُجُوهًا ، وَإِنَّكَ لَا تَفْقَهُ كُلَّ الْفِقْهِ حَتَّى تَمْقُتَ النَّاسَ فِي جَنْبِ اللَّهِ عز وجل ، ثُمَّ تَرْجِعَ إِلَى نَفْسِكَ فَتَكُونَ لَهَا أَشَدَّ مَقْتًا مِنْكَ لِلنَّاسِ»
ইসহাক আল-কাযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু আদ-দারদা বলেছেন: «তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ দ্বীনি প্রজ্ঞা (ফেকহ) লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি কুরআনের বহুমুখী অর্থ ও তাৎপর্য প্রত্যক্ষ করবে। এবং তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ প্রজ্ঞাবান হতে পারবে না, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর বিধানের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি দেখে তুমি মানুষের প্রতি ঘৃণা পোষণ করবে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে; অতঃপর তুমি নিজের সত্তার (নফস) দিকে ফিরে আসবে এবং নিজের প্রতি তোমার ঘৃণা মানুষের প্রতি ঘৃণার চেয়েও অধিক কঠোর হবে।»
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْكُدَيْمِيُّ ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ الصَّائِغُ ، قَالَ: سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ ، يَقُولُ: ‌‌«إِنَّمَا الْفَقِيهُ الَّذِي أَنْطَقَتْهُ الْخَشْيَةُ وَأَسْكَتَتْهُ الْخَشْيَةُ ، إِنْ قَالَ قَالَ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ ، وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ ، وَإِنْ اشْتَبَهَ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَقَفَ عِنْدَهُ وَرَدَّهُ إِلَى عَالِمِهِ» قَالَ الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: أَنَا أَقُولُ - وَاللَّهُ الْمَحْمُودُ - هَذِهِ صِفَةُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ رحمه الله ، فَيَا وَيْحَ مَنْ يَدَّعِي مَذْهَبَهُ ، وَيَتَحَلَّى بِالْفَتْوَى عَنْهُ ، وَهُوَ سَلَمٌ لِمَنْ حَارَبَهُ ، عَوْنٌ لِمَنْ خَالَفَهُ ، اللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى وَحْشَةِ هَذَا الزَّمَانِ.
আবু সালিহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আল-কুদাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে নাসর আস-সায়িগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফুযাইল ইবনে আইয়াজকে বলতে শুনেছি: «প্রকৃত ফকিহ তিনিই যাকে আল্লাহর ভীতি কথা বলায় এবং আল্লাহর ভীতিই নীরব রাখে; যদি তিনি কথা বলেন তবে কিতাব ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কথা বলেন, আর যদি নীরব থাকেন তবে নীরব থাকেন কিতাব ও সুন্নাহর ভিত্তিতেই। আর যদি তাঁর নিকট কোনো বিষয় অস্পষ্ট হয়, তবে তিনি সেখানে থেমে যান এবং তা এর প্রকৃত জ্ঞানীর নিকট ফিরিয়ে দেন।» শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আমি বলছি—এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—এটি ছিল আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বৈশিষ্ট্য। সুতরাং ধিক্কার সেই ব্যক্তির জন্য যে তাঁর মাযহাবের দাবিদার এবং তাঁর পক্ষ থেকে ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে নিজেকে অলঙ্কৃত করে, অথচ সে তাঁর বিরুদ্ধাচারীদের প্রতি সন্ধিপ্রবণ এবং তাঁর বিরোধীদের সাহায্যকারী। এই জামানার ভয়াবহতার বিপরীতে আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
حَدَّثَنَا أَبُو شَيْبَةَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ بَكْرٍ الْخُوَارِزْمِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ يُونُسَ ، عَنِ الْحَسَنِ ، قَالَ: "‌‌ إِنَّا لَنُجَالِسُ الرَّجُلَ فَنَرَى أَنَّ بِهِ عِيًّا وَمَا بِهِ عِيُّ ، وَإِنَّهُ لَفَقِيهٌ مُسْلِمٌ. قَالَ وَكِيعٌ: أَسْكَتَتْهُ الْخَشْيَةُ "
আবু শায়বাহ আব্দুল আজিজ বিন জাফর বিন বকর আল-খাওয়ারিজমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌আমরা অবশ্যই এমন ব্যক্তির সাথে বসি যাকে দেখে আমাদের মনে হয় যে তার মধ্যে কথা বলার জড়তা রয়েছে, অথচ তার মধ্যে কোনো জড়তা নেই; বরং তিনি একজন মুসলিম ফকিহ। ওয়াকি' বলেন: আল্লাহর ভয় তাকে নীরব করে রেখেছে।"
(খণ্ড: ১) ইবতালুল হিয়াল লিবনি বাত্তাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
حَدَّثَنِي أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَزَّارُ ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا حَكَّامٌ ، حَدَّثَنَا عِيسَى أَبُو مُعَاذٍ ، عَنْ لَيْثٍ ، قَالَ: "‌‌ كُنْتُ أَسْأَلُ الشَّعْبِيَّ فَيُعْرِضُ عَنِّي وَيَجْبَهُنِي بِالْمَسْأَلَةِ. قَالَ: فَقُلْتُ: يَا مَعْشَرَ الْعُلَمَاءِ. تَزْوُونَ عَنَّا أَحَادِيثَكُمْ وَتَجْبَهُونَنَا بِالْمَسْأَلَةِ؟ فَقَالَ الشَّعْبِيُّ: يَا مَعْشَرَ الْعُلَمَاءِ ، يَا مَعْشَرَ الْفُقَهَاءِ لَسْنَا بِعُلَمَاءَ وَلَا فُقَهَاءَ ، وَلَكِنَّنَا قَوْمٌ سَمِعْنَا حَدِيثًا فَنَحْنُ نُحَدِّثُكُمْ بِمَا سَمِعْنَا ، إِنَّمَا الْفَقِيهُ مَنْ وَرِعَ عَنْ مَحَارِمِ اللَّهِ ، وَالْعَالِمُ مَنْ خَافَ اللَّهَ عز وجل "
আবু আলী মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-বাযযার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইউসুফ ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাক্কাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ঈসা আবু মুয়ায বর্ণনা করেছেন, লাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "‌‌ আমি আশ-শা'বিকে প্রশ্ন করতাম, আর তিনি আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং প্রশ্নের কারণে আমাকে কঠোর কথা শোনাতেন। লাইস বলেন: তখন আমি বললাম: হে আলেম সমাজ! আপনারা কি আমাদের নিকট থেকে আপনাদের বর্ণিত হাদিসসমূহ লুকিয়ে রাখছেন এবং প্রশ্নের কারণে আমাদের সাথে রূঢ় আচরণ করছেন? তখন আশ-শা'বি বললেন: হে আলেম সমাজ, হে ফকিহ সমাজ! আমরা আলেমও নই এবং ফকিহও নই; বরং আমরা এমন এক সম্প্রদায় যারা হাদিস শুনেছি, তাই আমরা যা শুনেছি তা তোমাদের নিকট বর্ণনা করছি। প্রকৃতপক্ষে ফকিহ তো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকে, আর আলেম তো সেই ব্যক্তি যে মহান আল্লাহকে ভয় করে।"