(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: -)
الأربعون على مذهب المتحققين من الصوفية لأبي نعيم الأصبهاني   (أبو نعيم الأصبهاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأربعون على مذهب المتحققين من الصوفية

المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد الأصبهاني (336 - 430 هـ)

حققه وخرج أحاديثه: بدر بن عبد الله البدر

الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م

عدد الصفحات: 112

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু নুআয়ম আল-আসবাহানি প্রণীত সুফি গবেষকদের মতাদর্শ অনুযায়ী চল্লিশটি হাদিস   (আবু নুআয়ম আল-আসবাহানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: সুফি গবেষকদের মতাদর্শ অনুযায়ী চল্লিশটি হাদিস

লেখক: আবু নুআয়ম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-আসবাহানি (৩৩৬ - ৪৩০ হিজরি)

তাহকিক ও হাদিস তাখরিজ করেছেন: বদর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বদর

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌بَابُ الْبَيَانِ مِنْ عُلُوِّ مَرَاتِبِهِمْ، وَتَرْفِيعِ مَنَازِلِهِمْ
তাদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং সুমহান অবস্থানের বর্ণনার অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٢١)
1 - أَخْبَرَنَا الْمَشَايِخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ تَاجُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنَ مُحَمِّدُ بْنُ الْإِمَامِ أَبِي جَعْفَرٍ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْقُرْطُبِيُّ، وَالشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَامِلُ الْعَارِفُ شَيْخُ الشُّيُوخِ تَاجُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَمَّوَيهِ، وَالْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَلّامَةُ عَلَمُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ السَّخَاوِيُّ قَالَ تَاجَ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ، وَتَاجُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ: أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ مَجْدُ الدَّينِ أَبُو الْفَرَجِ يَحْيَى بْنُ أَبِي الرَّجَاءِ مَحْمُودِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَحْمُودٍ الثَّقَفِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ سَمَاعًا، وَقَالَ الشَّيْخُ عَلَمُ الدِّينِ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْمُسْنِدُ أَبُو طَاهِرٍ بَرَكَاتٍ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ الْخُشُوعِيُّ إِجَازَةً، وَقَالَ تَاجُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ أَيْضًا أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ خَلِيلُ بْنُ أَبِي الرَّجَاءِ الرَّارَانِيُّ إِجَازَةً، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْحَدَّادُ قَالَ الرَّازِيُّ: سَمَاعًا وَقَالَ الثَّقَفِيُّ: حُضُورًا، وَقَالَ الْخُشُوعِيُّ: إِجَازَةً. قَالَ الْحَدَّادُ: أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي أَحْبَبْتَ أَنْ أَجْمَعَ فِي مَبَانِي مَذَاهِبِ الْمُتَصَوِّفَةِ وَخَلائِقِهِم أَحَادِيثَ تُشَوِّقُ النَّاظِرُ فِيْهَا إِلَى اعْتِقَادِ مَا كَانَ عَلَيْهِ أَوَائِلُهُم مِنَ الْمُحَقِّقِينَ وَمُتَقَدِّمِيهِمْ مِنَ الصَّادِقِينَ، فَيَقْفُو آثَارَهُمْ وَيَنْتَحِلُ أَخْلاقَهُمْ، وَيَعْلَمُ أَنَّهُم كَانُوا مِنْ أَقْوَلِ النَّاسِ بِالْحَقَائِقِ وَأَخْذِهِمْ بِالْوَثَائِقِ مُتَوَفَّقًا مِنَ اللَّهِ الائْتِسَاءَ بِهِمْ، وَمَا بَايَنُوا بِهِ عَنِ الاغْتِرَارِ بِالْفَانِي، وَعَنْ قَبُولِهِمْ مِنَ النَّفْسِ التَّسْويلَ وَالْأَمَانِيَّ، وَمُسْتَزِيدًا مِنْهُ تَعَالَى الْمَعُونَةَ عَلَى مَا يَقْبَلُ بِهِ إِلَيْهِ، وَمُسْتَجِيرًا مِمَّا يَقْطَعُ بِهِ عَنْهُ، إِذْ هُوَ الْمُوَفِّقُ وَالْمُعِينُ، وَهُوَ الْمَوْلَى وَالنَّصِيرُ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ، أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْجَنْبِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى بِالنَّاسِ يَخِرُّ رِجَالٌ مِنْهُمْ مِنْ قَامَتِهِمْ فِي صَلَاتِهِمْ لَمَا بِهِمْ مِنَ الْخَصَاصَةِ وَهُمْ أَصْحَابُ الصُّفَّةِ حَتَّى يَقُولَ الْأَعْرَابُ: إِنَّ هَؤُلَاءِ مَجَانِينُ. فَإِذَا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الصَّلَاةَ انْصَرَفَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ لَهُمْ: «لَوْ تَعْلَمُونَ مَا لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ لَأَحْبَبْتُمْ أَنْ تَزْدَادُوا فَاقَةً وَحَاجَةً» . قَالَ فَضَالَةُ: وَأَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খগণ; ইমাম, আলেম, হাফেজ তাজউদ্দীন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে আলী আল-কুরতুবি, এবং শায়খ, ইমাম, আলেম, আমলকারী ও আরেফ, শায়খদের শায়খ তাজউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাউয়্যাহ, এবং ইমাম, আলেম, আল্লামা আলামুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুস সামাদ আস-সাখাভী। তাজউদ্দীন আবুল হাসান এবং তাজউদ্দীন আবু মুহাম্মদ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম মাজদুদ্দীন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে আবির রাজা মাহমুদ ইবনে সাদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফী আল-আসফাহানি (সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে)। এবং শায়খ আলামুদ্দীন বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খুল মুসনিদ আবু তাহির বারাকাত ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবি তাহির আল-খুশুয়ি (অনুমতি বা ইজাজতের মাধ্যমে)। এবং তাজউদ্দীন আবুল হাসান আরও বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ খলিল ইবনে আবির রাজা আর-রারানি (ইজাজতের মাধ্যমে), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান আল-হাদ্দাদ। আল-রাজি বলেন: শ্রবণের মাধ্যমে, এবং আস-সাকাফী বলেন: উপস্থিতির মাধ্যমে, এবং আল-খুশুয়ি বলেন: ইজাজতের মাধ্যমে। আল-হাদ্দাদ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফেজ আবু নুআইম আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-হাফেজ, তিনি বলেন: অতঃপর, আমি সুফিদের মাযহাবের মূলভিত্তি এবং তাদের চরিত্রের ব্যাপারে এমন কিছু হাদিস সংকলন করতে চেয়েছি, যা পাঠকারীকে তাদের পূর্ববর্তী মুহাক্কিক (সত্য সন্ধানী) এবং পূর্বসূরী সত্যনিষ্ঠদের আকিদা-বিশ্বাসের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। ফলে সে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে এবং তাদের চরিত্র অবলম্বন করবে। আর সে জানতে পারবে যে, তারা ছিল সত্য বর্ণনায় মানুষের মধ্যে অগ্রগামী এবং সুদৃঢ়ভাবে দ্বীনকে ধারণকারী, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের অনুসরণের তাওফিকপ্রাপ্ত। আর তারা যা দ্বারা নশ্বর জগতের ধোঁকা এবং নফসের প্ররোচনা ও কল্পনা থেকে বিমুখ হয়েছে (তাও এতে পরিস্ফুট হবে)। আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি যাতে তিনি আমাকে সেই আমলের তাওফিক দেন যা তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য এবং তাঁর থেকে বিচ্ছিন্নকারী বিষয়গুলো থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী, আর তিনি আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর ইবনে খাল্লাদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-হারিস ইবনে আবি উসামাহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাইওয়াহ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু হানি যে, আবু আলী আল-জানবী তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ফাদালাহ বিন উবাইদকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন, তখন ক্ষুধার তীব্রতায় তাদের মধ্য থেকে কিছু লোক সালাতরত অবস্থায় দাঁড়ানো থেকে লুটিয়ে পড়তেন। তারা ছিলেন আসহাবে সুফফার সদস্য। এমনকি বেদুইনরা বলত: নিশ্চয়ই এরা উন্মাদ। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করতেন, তখন তাদের দিকে ফিরে বলতেন: «আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য কী মর্যাদা রয়েছে তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা আরও বেশি অভাব ও দারিদ্র্যের আকাঙ্ক্ষা করতে।» ফাদালাহ বলেন: সেদিন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌بَابُ الْبَيَانِ عَنْ أَوْصَافِ الْمُتَحَقِّقِينَ بِالْفَقْرِ
ফকরের হাকীকত লাভকারী ব্যক্তিদের গুণাবলির বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٢٣)
2 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَمْرٍو الْأُحْمُوسِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُخَارِقُ بْنُ أَبِي الْمُخَارِقِ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «حَوْضِي كَمَا بَيْنَ عَدَنَ وَعَمَّانَ، أَبْرَدُ مِنَ الثَّلْجِ، وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، وَأَطْيَبُ رِيحًا مِنَ الْمِسْكِ، أَكْوَابُهُ مِثْلُ نُجُومِ السَّمَاءِ، مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَا يَظْمَأُ بَعْدَهَا أَبَدًا، وَأَوَّلُ النَّاسِ وُرُودًا عَلَيْهِ صَعَالِيكُ الْمُهَاجِرِينَ» . قَالَ قَائِلٌ: مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «الشَّعِثَةُ رُءُوسُهُمْ، الشَّحِبَةُ وُجُوهُهُمْ، الدَّنِسَةُ ثِيَابُهُمْ، الَّذِينَ لَا تُفْتَحُ لَهُمُ السُّدَدُ، وَلَا يَنْكِحُونَ الْمُتَنَعِّمَاتِ، الَّذِينَ يُعْطُونَ كُلَّ الَّذِي عَلَيْهِمْ، وَلَا يَأْخُذُونَ الَّذِي لَهُمْ» . ⦗ص: 24⦘ رَوَاهُ الْوَضِينُ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ. وَالْمَشْهُورُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَلَّامٍ الْأَسْوَدِ، عَنْ ثَوْبَانَ
২ - সুলায়মান ইবনে আহমাদ ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-মুগীরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আমর আল-উহমুসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুখারিক ইবনে আবি আল-মুখারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমার হাওজ (এর পরিধি) আদন ও আম্মানের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়। এটি বরফের চেয়ে শীতল, মধুর চেয়ে মিষ্টি এবং এর ঘ্রাণ মিশকের চেয়ে অধিক সুগন্ধযুক্ত। এর পানপাত্রগুলো আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায়। যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে, এরপর সে আর কখনো তৃষ্ণার্থ হবে না। আর মানুষের মধ্যে যারা সর্বপ্রথম সেখানে পৌঁছাবে তারা হলো নিঃস্ব মুহাজিরগণ।» এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: «যাদের মাথার চুল এলোমেলো, যাদের চেহারা বিবর্ণ, যাদের পোশাক ময়লাযুক্ত। যাদের জন্য (বিত্তশালীদের) রুদ্ধদ্বারসমূহ খোলা হয় না এবং যারা বিলাসিতায় লালিত নারীদের বিয়ে করতে পারে না। তারা তাদের ওপর অর্পিত যাবতীয় কর্তব্য পালন করে, কিন্তু তাদের নিজেদের প্রাপ্যটুকু পায় না।» ⦗পৃ: ২৪⦘ ওয়াদীন ইবনে আতা এটি সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এটি আবু সাল্লাম আল-আসওয়াদ থেকে সাওবানের সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসেবে প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌وَمِنْ أُصُولِهِمُ السُّكُونُ إِلَى ضَمَانِهِ وَالتَّعَرِّي مِنَ الْإِعْرَاضِ وَطُغْيَانِهِ
এবং তাঁদের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর (আল্লাহর) জামানতের প্রতি নিশ্চিন্ত হওয়া এবং বিমুখতা ও তার সীমালঙ্ঘন থেকে মুক্ত থাকা।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
3 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الطَّلْحِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه يَقُولُ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَتَصَدَّقَ، وَوَافَقَ ذَلِكَ مَالًا عِنْدِي، فَقُلْتُ: الْيَوْمَ أَسْبِقُ أَبَا بَكْرٍ إِنْ سَبَقْتُهُ يَوْمًا. قَالَ: فَجِئْتُ بِنِصْفِ مَالِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟» فَقُلْتُ: مِثْلَهُ. وَأَتَى أَبُو بَكْرٍ بِكُلِّ مَا عِنْدَهُ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟» قَالَ: أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ. قُلْتُ: لَا أُسَابِقُكَ إِلَى شَيْءٍ أَبَدًا
৩ - সুলায়মান ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আব্দুল আযীয আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে সাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; এবং (অন্য সূত্রে) আবু বকর আত-তালহী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উবাইদ ইবনে গান্নাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবী শায়বা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-ফাদল ইবনে দুকাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারা হিশাম ইবনে সাদ থেকে, তিনি যায়দ ইবনে আসলাম থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন। সেই সময় আমার নিকট কিছু সম্পদ ছিল, তাই আমি মনে মনে বললাম, আজ আমি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যাব, যদি কোনোদিন তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারি তবে তা আজই হবে। তিনি বলেন: এরপর আমি আমার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?» আমি বললাম: এর সমপরিমাণ। আর আবু বকর তার নিকট যা ছিল তার সবটুকুই নিয়ে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: «তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?» তিনি বললেন: আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অবশিষ্ট রেখে এসেছি। তখন আমি (উমর) বললাম: আমি আপনার সাথে কোনো বিষয়েই আর কখনো প্রতিযোগিতা করব না।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌وَمِنْهَا الْعُدُولُ عَنِ الِادِّخَارِ، وَالتَّبَرُّؤُ مِنَ الِاخْتِيَارِ
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো সঞ্চয় করা পরিহার করা এবং (নিজস্ব) পছন্দ বা ইচ্ছাশক্তি থেকে মুক্ত হওয়া
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُبَيْشٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِلَالُ بْنُ سُوَيْدٍ الْأَحْمَرِيُّ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَذْكُرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَهْدَى لَهُ ثَلَاثَ طَوَائِرَ، فَأَطْعَمَ خَادِمَهَ طَيْرًا، فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ أَتَاهُ بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَمْ أَنْهَكَ أَنْ تُخَبِّئَ شَيْئًا لِغَدٍ؟ إِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِرِزْقِ كُلِّ غَدٍ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন জাফর বিন মালিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হুবাইশ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আল-হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন মাঈন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মারওয়ান বিন মুআবিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিলাল বিন সুওয়াইদ আল-আহমারি, আমি আনাস বিন মালিককে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনটি পাখি উপহার দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর তিনি তাঁর খাদেমকে একটি পাখি খাওয়ালেন। যখন পরদিন হলো, তখন তিনি সেটি নিয়ে তাঁর নিকট আসলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি কি তোমাকে আগামীকালের জন্য কোনো কিছু জমা করে রাখতে নিষেধ করিনি? নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি আগামীকালের রিজিক প্রদান করেন (নিয়ে আসেন)।’
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٠)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبَتَاهُ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ مُطَهَّرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشَرَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي أُفٍّ قَطُّ، وَمَا قَالَ لِيْ لِشَيْءٍ صَنَعْتُهُ: لِمَ صَنَعْتَهُ، وَمَا قَالَ لِي لِشَيْءٍ تَرَكْتُهُ: لِمَ تَرَكْتَهُ "
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে আবতাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হারব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সালাম ইবনে মুতাহহার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে সুলাইমান, সাবেত আল-বুনানী থেকে, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি দশ বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি। তিনি আমাকে কখনো ‘উহ’ পর্যন্ত বলেননি। আমি কোনো কাজ করলে তিনি কখনো আমাকে বলেননি: ‘তুমি এটি কেন করলে?’ এবং কোনো কাজ না করলে তিনি আমাকে বলেননি: ‘তুমি এটি কেন করলে না?’"
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌وَمِنْهَا خُرُوجُهُمْ عَنِ التَّبْيِيتِ حَذَرًا مِنَ التَّعْيِيرِ وَالتَّبْكِيتِ
এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো নিন্দা ও ভর্ৎসনার আশঙ্কায় তাদের রাত যাপনের স্থান থেকে বের হওয়া
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣١)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَّادٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ بِالْمَدِينَةِ، ثُمَّ انْصَرَفَ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ، حَتَّى تَعْجَبَ النَّاسُ لِسُرْعَتِهِ، فَتَبِعُوهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ، ثُمَّ خَرَجَ فَكَأَنَّهُ رَأَى فِي وُجُوهِهِمْ مِنَ الْعَجَبِ لِسُرْعَتِهِ، فَقَالَ: «إِنِّي ذَكَرْتُ وَأَنَا فِي الصَّلَاةِ شَيْئًا مِنْ تِبْرٍ كَانَ عِنْدَنَا، فَكَرِهْتُ أَنْ يَبِيتَ عِنْدَنَا فَقَسَمْتُهُ»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন হামদান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন খাল্লাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল সারিয়্যি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবন সাঈদ ইবন আবি হুসাইন, তিনি ইবন আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি উকবাহ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আসরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করে মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে দ্রুত চলে গেলেন, এমনকি মানুষ তাঁর দ্রুতগতির কারণে বিস্মিত হয়ে গেল। তারা তাঁর অনুসরণ করল এবং তিনি তাঁর জনৈক স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি বের হয়ে আসলেন, যেন তিনি তাঁদের চেহারায় তাঁর দ্রুতগতির কারণে বিস্ময় দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: «আমি সালাতে থাকা অবস্থায় আমাদের নিকট রক্ষিত কিছু স্বর্ণপিণ্ডের কথা স্মরণ করলাম। তাই আমি অপছন্দ করলাম যে তা আমাদের নিকট রাতভর থাকুক, ফলে আমি তা বণ্টন করে দিলাম।»
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌وَمِنْهَا التَّجَزِّي بِالْكَفَافِ تَزَيُّنًا لِلْعَفَافِ
এবং সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো আত্মসংযমের ভূষণ হিসেবে ন্যূনতম তথা পর্যাপ্ত জীবনোপকরণে তুষ্ট থাকা।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٢)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا»
৭ - মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমারা থেকে, তিনি আবু যুরআ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের পরিবারের রিযিক জীবনধারণের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিমাণ করে দিন।»
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٤)
‌‌وَمِنْهَا الْإِعْرَاضُ عَمَّا يُلْهِي رِعَايَةً لِمَا يُدْنَى
এবং সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো বিভ্রান্তকারী বিষয়সমূহ থেকে বিমুখ হওয়া, যা (আল্লাহর) নিকটবর্তী করে তার প্রতি যত্নশীল হওয়ার নিমিত্তে।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٤)
8 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرِ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خَمِيصَةٍ ذَاتِ عَلَمٍ، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ: «اذْهَبُوا بِهَذِهِ الْخَمِيصَةِ إِلَى أَبِي جَهْمِ بْنِ حُذَيْفَةَ، وَائْتُونِي بِانْبِجَانِيَّةٍ، فَإِنَّهَا أَلْهَتْنِي آنِفًا عَنْ صَلَاتِي»
৮ - সুলাইমান ইবন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবন ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মামার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নকশাযুক্ত একটি খামীসা (বর্গাকৃতি পশমী চাদর) পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত সমাপ্ত করলেন, তখন বললেন: «তোমরা এই খামীসাটি আবু জাহম ইবন হুযায়ফার নিকট নিয়ে যাও এবং আমার নিকট একটি আম্বিজানিয়া (নকশাবিহীন সাধারণ মোটা চাদর) নিয়ে এসো; কেননা এটি এইমাত্র আমাকে আমার সালাত থেকে বিমনা করে দিয়েছিল (মনোযোগ সরিয়ে দিয়েছিল)»।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌وَمِنْهَا التَّبَرُّمُ بِمَا يَنْقَضِي وَيَبْلَى حَنِينًا إِلَى مَا يَدُومُ وَيَبْقَى
আর এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো যা শেষ হয়ে যায় এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তার প্রতি অনীহা, যা মূলত চিরস্থায়ী এবং অবিনশ্বর বিষয়ের প্রতি ব্যাকুলতা স্বরূপ।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٥)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّهُ قَالَ: أُهْدِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُّوجٌ مِنْ حَرِيرٍ، فَلَبِسَهُ ثُمَّ صَلَّى فِيهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَزَعَهُ نَزْعًا شَدِيدًا كَالْكَارِهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّهُ لَا يَنْبَغِي هَذَا لِلْمُتَّقِينَ»
৯ - আমাদের নিকট আবু বকর বিন খাল্লাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হারিস বিন আবু উসামা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউনুস বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-লাইস বিন সা’দ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব থেকে, তিনি আবু আল-খায়ের থেকে এবং তিনি উকবা বিন আমের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রেশমের তৈরি একটি জুব্বা উপহার দেওয়া হয়েছিল। তিনি তা পরিধান করলেন এবং তাতে সালাত আদায় করলেন। এরপর সালাত শেষ করে তিনি তা অত্যন্ত কঠোরভাবে টেনে খুলে ফেললেন যেন তিনি তা অপছন্দ করছেন। তারপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য এটি শোভনীয় নয়।"
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٦)
10 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَبُو حُصَيْنٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْوَادِعِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَابِي سِتْرًا فِيهِ تَمَاثِيلُ، فَقَالَ: «انْزِعِيهِ فَإِنِّي إِذَا رَأَيْتُهُ ذَكَرْتُ الدُّنْيَا»
১০ - জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-ওয়াদিয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি আযরাহ থেকে, তিনি হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি সাদ বিন হিশাম থেকে, আর তিনি আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার দরজায় একটি পর্দা দেখলেন যাতে ছবি ছিল, তখন তিনি বললেন: "এটি সরিয়ে ফেলো, কেননা আমি যখনই এটি দেখি, তখন আমার দুনিয়ার কথা মনে পড়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٧)
‌‌وَمِنْهَا اعْتِمَادُهُمْ عَلَى حَمِيدِ كِفَايَةِ اللَّهِ فِي الِانْقِطَاعِ إِلَيْهِ، وَاحْتِرَازُهُمْ مِنْ عَرَضِ الدُّنْيَا خَوْفًا مِنَ الرُّكُونِ إِلَيْهِ
আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নিবিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রশংসিত পর্যাপ্ততার ওপর তাদের নির্ভরতা, এবং পার্থিব নশ্বর সামগ্রীর প্রতি ঝুঁকে পড়ার ভয়ে তা থেকে তাদের সতর্কতা অবলম্বন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٧)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَفِيقٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْأَشْعَثَ، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنِ انْقَطَعَ إِلَى اللَّهِ كَفَاهُ اللَّهُ كُلَّ مَؤُنَةٍ، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثِ لَا يَحْتَسِبُ، وَمَنِ انْقَطَعَ إِلَى الدُّنْيَا وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَيْهَا»
১১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হারুন ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাফিক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনুল আশআছ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-ফুদাইল ইবনে ইয়াদ বর্ণনা করেছেন হিশাম থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর প্রতি পূর্ণরূপে নিবিষ্ট হয়, আল্লাহ তার সকল প্রয়োজনে যথেষ্ট হয়ে যান এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি নিবিষ্ট হয়, আল্লাহ তাকে দুনিয়ার হাতেই সঁপে দেন বা দুনিয়ার ওপরই ছেড়ে দেন।»
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٩)
‌‌وَمِنْهَا إِدْمَانُ الْمُرَاقَبَةِ فِي الْإِعْلَانِ وَالْمُخَافَتَةِ
এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো প্রকাশ্যে ও গোপনে সদা আল্লাহর পর্যবেক্ষণে থাকার নিরবচ্ছিন্ন অভ্যাস বজায় রাখা।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٩)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ أَبِي سُرَيْجٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُجَمِّعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْهَجَرِيِّ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ: «أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم أَنْ أَخْشَى اللَّهَ كَأَنِّي أُرَاهُ، فَإِنْ لَمْ أَكُنْ أُرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَانِي»
১২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ ইবনুল সাব্বাহ ইবনে আবি সুরাইজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমর ইবনে মুজাম্মি বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবরাহিম আল-হাজারি থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন: «আমার প্রিয় বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে অসিয়ত করেছেন যেন আমি আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করি যেন আমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছি; আর যদি আমি তাঁকে দেখতে নাও পাই, তবে নিশ্চয়ই তিনি আমাকে দেখছেন।’»
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٣٩)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا خَلَّادُ بْنُ يَحْيى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ، ح، وَحَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو ⦗ص: 40⦘ حَنِيفَةَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْمَرُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ مُدْرِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ، قَالَ: عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُنْ كَأَنَّكَ تَرَى اللَّهَ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» . رَفَعَهُ عَامِرُ بْنُ مُدْرِكٍ وَوَقَفَهُ خَلَّادٌ
১৩ - মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল আজিজ ইবনে আবু রাওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। (সূত্রের পরিবর্তন) এবং মাখলাদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ হানিফা আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মামার ইবনে সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমির ইবনে মুদরিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল আজিজ ইবনে আবু রাওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তুমি এমনভাবে থাকো যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।» আমির ইবনে মুদরিক একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং খাল্লাদ একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٤٠)
14 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْخُنَيْسِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ: " خَرَجَ ابْنُ عُمَرَ فِي نَوَاحِي الْمَدِينَةِ، فَمَرَّ بِرَاعِي غَنْمٍ، فَقَالَ: هَلْ لَكَ أَنْ تَبِيعَنَا شَاةً مِنْ غَنَمِكَ هَذِهِ فَنُعْطِيَكَ ثَمَنَهَا وَنُعْطِيَكَ مِنْ لَحْمِهَا فَتُفْطِرَ عَلَيْهِ؟ فَقَالَ: إِنَّهَا لَيْسَتْ لِي بِغَنَمٍ، إِنَّهَا لِسَيِّدِي. فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ: فَمَا عَسَى سَيِّدُكَ فَاعِلًا إِذَا فَقْدَهَا فَقُلْتَ: أَكَلَهَا الذِّئْبُ؟ فَوَلَّى الرَّاعِي عَنْهُ، وَهُوَ رَافِعٌ إِصْبَعَهُ إِلَى السَّمَاءِ وَهُوَ يَقُولُ: فَأَيْنَ اللَّهُ؟ قَالَ: فَجَعَلَ ابْنُ عُمَرَ ⦗ص: 41⦘ يُرَدِّدُ قَوْلَ الرَّاعِي، وَهُوَ يَقُولُ: قَالَ الرَّاعِيُ: فَأَيْنَ اللَّهُ، فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ بَعَثَ إِلَى مَوْلَاهُ، فَاشْتَرَى مِنْهُ الْغَنَمَ وَالرَّاعِيَ، فَأَعْتَقَ الرَّاعِيَ وَوَهْبَ مِنْهُ الْغَنَمَ "
১৪ - ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুতায়বাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ আল-খুনাইসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল আযীয ইবনে আবী রাওয়াদ থেকে বর্ণিত, নাফে' থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইবনে উমর মদীনার উপকণ্ঠে বের হলেন, অতঃপর তিনি একজন মেষপালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি বললেন: তুমি কি তোমার এই মেষগুলো থেকে একটি মেষ আমাদের নিকট বিক্রি করবে? আমরা তোমাকে তার মূল্য পরিশোধ করব এবং তোমাকে তার কিছু গোশত দেব যা দিয়ে তুমি ইফতার করবে। সে বলল: এগুলো আমার মেষ নয়, এগুলো আমার মালিকের। ইবনে উমর তাকে বললেন: তোমার মালিক কী-ইবা করতে পারবেন যদি তিনি এটি না পান আর তুমি বল যে, নেকড়ে সেটি খেয়ে ফেলেছে? তখন রাখালটি আকাশের দিকে তার আঙ্গুল তুলে এই বলতে বলতে তার কাছ থেকে ফিরে গেল: তাহলে আল্লাহ কোথায়? বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর ইবনে উমর ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ রাখালের কথাটি বারবার বলতে লাগলেন এবং বলছিলেন: রাখাল বলেছে: তাহলে আল্লাহ কোথায়? এরপর তিনি যখন মদীনায় ফিরে এলেন, তখন তার মালিকের নিকট লোক পাঠালেন এবং তার কাছ থেকে মেষগুলো ও রাখালকে কিনে নিলেন। অতঃপর তিনি রাখালকে মুক্ত করে দিলেন এবং তাকে মেষগুলো দান করলেন।"
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٤٢)
‌‌وَمِنْهَا الْجَدُّ وَالْمُوَاظَبَةُ عَلَى جِهَادِ النَّفْسِ وَالْمُخَالَفَةِ
এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ ও তার বিরোধিতার ক্ষেত্রে কঠোর সাধনা ও অবিচলতা
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٤٢)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خُلَيْدٍ عُتْبَةُ بْنُ حَمَّادٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أَنْ تُجَاهِدَ نَفْسَكَ وَهَوَاكَ فِي ذَاتِ اللَّهِ» . رَوَاهُ سُوَيْدُ بْنُ حُجَيْرٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ
১৫ - আমাদের নিকট আবু বকর বিন খাল্লাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবুল রাবী আল-হুসাইন বিন আল-হাইসাম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হিশাম বিন খালিদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু খুলাইদ উতবাহ বিন হাম্মাদ সাঈদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আল-আলা বিন যিয়াদ থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: কোন জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে তোমার নিজের নফস ও প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করা»। এটি সুওয়াইদ বিন হুজাইর আল-আলা বিন যিয়াদ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٤٣)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ قَبِيصَةَ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ،: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ حُجَيْرٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ: " أَيُّ الْمَجَاهِدينَ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي ذَاتِ اللَّهِ. قَالَ: أَنْتَ قُلْتَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: بَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে তাহির ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে কাবিছাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে তাহমান আমাদের নিকট হাজ্জাজ ইবনে হাজ্জাজ থেকে, তিনি সুওয়াইদ ইবনে হুজাইর থেকে, তিনি আলা ইবনে যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে জিজ্ঞাসা করলেন: "মুজাহিদদের মধ্যে কে সর্বোত্তম?" তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।" তিনি বললেন: "হে আবদুল্লাহ ইবনে আমর! এটি কি আপনি বলেছেন নাকি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন?" তিনি বললেন: "বরং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٤٣)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ أَبِي الدُّمَيْكِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْفَضْلِ الزَّيْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلَانِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ الْجَنْبِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ: «الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ لِلَّهِ»
১৭ - আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন তাহির বিন আবিদ দুমাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন ফাদল আল-জাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানি আল-খাওলানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আমর বিন মালিক আল-জানবিকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি ফাদালাহ বিন উবাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "মুজাহিদ সে-ই যে আল্লাহর জন্য নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।"
(খণ্ড: ১) আল আরবাউন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকিনা মিনাস সুফিয়্যা লি আবি নুআইম আল আসবাহানি (পৃষ্ঠা: ٤٥)
‌‌وَمِنْهَا تَنْفِيرُهُمْ أَبْنَاءَ الدُّنْيَا عَنِ ارْتِضَاعِهَا وَالِاسْتِهَانَةِ بِمُؤَثِّرِهَا وَاتِّضَاعِهَا
আর এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো দুনিয়াদারদেরকে দুনিয়ার স্তন্যপান থেকে বিমুখ করা, যারা দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয় তাদের তুচ্ছজ্ঞান করা এবং দুনিয়াকে হীন সাব্যস্ত করা।