(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: -)
أدب النفوس للآجري   (الآجري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مجموعة أجزاء حديثية - أدب النفوس

المؤلف: أبو بكر محمد بن الحسين بن عبد الله الآجُرِّيُّ البغدادي (ت 360هـ)

قدم لها وعلق عليها وخرج أحاديثها: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان

الناشر: دار الخراز، السعودية، دار ابن حزم، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 271

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আজুররী লিখিত আদাবুন নুফুস   (আল-আজুররী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: হাদিস বিষয়ক সংকলন - আদাবুন নুফুস

লেখক: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনু আব্দুল্লাহ আল-আজুররী আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি)

উপস্থাপনা, টীকা এবং হাদিস তাহরিজ: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান

প্রকাশক: দারুল খাররাজ, সৌদি আরব, দার ইবনে হাজম, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১

[কিতাবের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৪৯)
‌‌ذِكْرُ الْحَذَرِ مِنَ النَّفْسِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْآجُرِّيُّ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ وَعَلَى آلِهِ أَجْمَعِينَ ، وَبِاللَّهِ أَسْتَعِينُ. أَمَّا بَعْدُ: وَفَّقَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ لِلْرَشَادِ مِنَ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ ، وَأَعَاذَنَا وَإِيَّاكُمْ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا ، وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا ، إِنَّهُ سُمَيْعٌ قَرِيبٌ. اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ جَلَّ ذِكْرُهُ ذَكَرَ النَّفْسَ فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ مِنْ كِتَابِهِ ، مُنَبِّهٌ بِمَعَانِي كَثِيرَةٍ ، كُلُّهَا تَدُلُّ عَلَى الْحَذَرِ مِنَ النَّفْسِ. أَخْبَرَنَا مَوْلَانَا الْكَرِيمُ أَنَّهَا تَمِيلُ إِلَى مَا تَهْوَاهُ مِمَّا لَهَا فِيهِ مِنَ اللَّذَّةِ ، وَقَدْ عَلِمَتْ أَنَّهَا قَدْ نُهِيَتْ عَنْهُ. ثُمَّ أَعْلَمَنَا مَوْلَانَا الْكَرِيمُ مَنْ نَهَى نَفْسَهُ عَمَّا تَهْوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ مَأْوَاهُ ، قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: {فَإِذَا جَاءَتِ الطَّامَّةُ الْكُبْرَى يَوْمَ يَتَذَكَّرُ الْإِنْسَانُ مَا سَعَى وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِمَنْ يَرَى فَأَمَّا مَنْ طَغَى وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى} [النازعات: 35] ،
নফসের ব্যাপারে সতর্কতার বিবরণ। আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররী বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে নেক আমলসমূহ পূর্ণতা পায়; এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহরই প্রশংসা। আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর সকল পরিবারের ওপর। আমি আল্লাহরই সাহায্য প্রার্থনা করছি। অতঃপর: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের কথা ও কাজে সঠিক পথের তাওফিক দান করুন এবং আমাদেরকে ও আপনাদেরকে রক্ষা করুন অনিষ্ট হতে আমাদের নফসের এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটে। জেনে রাখুন, আল্লাহ (যাঁর আলোচনা মহিমান্বিত) তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে নফসের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বহু বিষয়ের প্রতি সতর্ক করেছেন যার সবই নফসের ব্যাপারে সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দেয়। আমাদের মহান রব আমাদের জানিয়েছেন যে, নফস সেই সব বিষয়ের দিকে ধাবিত হয় যা সে কামনা করে এবং যাতে সে তৃপ্তি পায়, অথচ সে জানে যে তাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। অতঃপর আমাদের মহান রব আমাদের জানিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তার নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখবে, জান্নাতই হবে তার আবাস। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যখন সেই মহা বিপর্যয় উপস্থিত হবে, যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে এবং প্রত্যক্ষকারীর সামনে জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করেছে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, জাহান্নামই হবে তার ঠিকানা। আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছে, জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।} [আন-নাযিআত: ৩৫-৪১] ,
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫০)
فَإِنْ كَانَ اللَّهُ تَعَالَى قَدْ نَهَى عَنْهُ انْزَجَرَ عَنْهُ ، فَإِنْ تَابَعَتْهُ نَفْسُهُ إِلَى مَا زَجَرَهَا عَنْهُ ، فَلْيَعْلَمْ أَنَّهُ مِنَ اللَّهِ عز وجل بِبَالٍ ، وَأَنَّ هَذِهِ نَفْسٌ مَرْحُومَةٌ ، فَلْيَشْكُرِ اللَّهَ الْكَرِيمَ عَلَى ذَلِكَ. أَلَمْ تَسْمَعُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ إِلَى مَا أَخْبَرَكُمْ مَوْلَاكُمُ الْكَرِيمُ عَنْ نَبِيٍّ مِنْ أَنْبِيَائِهِ ، وَهُوَ يُوسُفُ عليه السلام ، قَوْلَهُ: {وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ} [يوسف: 53] ، فَيُقَالُ: إِنَّ النَّفْسَ الْأَمَّارَةَ الْمَرْحُومَةَ هِيَ الْمَعْصُومَةُ الَّتِي عَصَمَهَا اللَّهُ عز وجل. ثُمَّ اعْلَمُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ أَنَّ النَّفْسَ إِذَا رَكِبَتْ مَا تَهْوَى مِمَّا قَدْ نُهِيَتْ عَنْهُ ، فَإِنَّهَا سَتَلُومُ صَاحِبَهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، تَقُولُ: لِمَ فَعَلْتَ؟ لِمَ قَصَّرْتَ؟ لِمَ بَلَّغْتَنِي مَا أُحِبُّ وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ فِيهِ عَطَبِي؟ أَلَمْ تَسْمَعُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ إِلَى قَوْلِ اللَّهِ عز وجل: {لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ} [القيامة: 1] الآية فَالْوَاجِبُ عَلَى مَنْ سَمِعَ هَذَا مِنَ اللَّهِ عز وجل أَنْ يَحْذَرَ مِنْ نَفْسِهِ أَشَدَّ

যদি মহান আল্লাহ তাআলা কোনো বিষয়ে নিষেধ করে থাকেন এবং সে তা থেকে বিরত থাকে, আর এরপর তার নফস যদি তাকে সেই বিষয়ের দিকে প্ররোচিত করতে চায় যা হতে তিনি তাকে বিরত রেখেছেন, তবে সে যেন জেনে রাখে যে, মহান আল্লাহর নিকট তার গুরুত্ব রয়েছে এবং এটি একটি রহমতপ্রাপ্ত নফস; সুতরাং সে যেন এর জন্য মহানুভব আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন, আপনারা কি আপনাদের মহানুভব রবের সেই সংবাদ শোনেননি যা তিনি তাঁর নবীদের মধ্য থেকে একজন নবী—ইউসুফ আলাইহিস সালাম—সম্পর্কে দিয়েছেন? তাঁর বাণী: {আমি নিজের নফসকে নির্দোষ মনে করি না, নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, তবে আমার রব যাকে দয়া করেন সে ব্যতীত; নিশ্চয়ই আমার রব অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [ইউসুফ: ৫৩]। সুতরাং বলা হয়: নিশ্চয়ই সেই রহমতপ্রাপ্ত ‘নফসে আম্মারা’ হলো মূলত সেই সংরক্ষিত নফস যাকে মহান আল্লাহ রক্ষা করেছেন। অতঃপর আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন, আপনারা জেনে রাখুন যে, নফস যখন তার এমন সব প্রবৃত্তিতে লিপ্ত হয় যা থেকে তাকে নিষেধ করা হয়েছিল, তখন কিয়ামতের দিন সে তার অধিকারীকে তিরস্কার করবে এবং বলবে: তুমি কেন এটি করলে? কেন অবহেলা করলে? কেন তুমি আমাকে আমার প্রিয় বস্তুর কাছে পৌঁছালে অথচ তুমি জানতে যে এতেই আমার ধ্বংস রয়েছে? আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন, আপনারা কি মহান আল্লাহর এই বাণী শোনেননি: {আমি কিয়ামত দিবসের কসম করছি এবং আমি সেই নফসের কসম করছি যা নিজেকে অত্যন্ত তিরস্কার করে।} [আল-কিয়ামাহ: ১-২] আয়াত। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি শুনেছে, তার ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো নিজের নফস সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক হওয়া।

(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫১)
حَذَرًا مِنْ عَدُوٍّ يُرِيدُ قَتْلَهُ ، أَوْ أَخْذَ مَالِهِ ، أَوِ انْتِهَاكَ عِرْضِهِ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: لِمَ أَلْزَمْتَنِي هَذَا الْحَذَرَ مِنَ النَّفْسِ حَتَّى جَعَلْتَهُ أَشَدَّ حَالًا مِنْ عَدُوٍّ وَقَدْ تَبَيَّنْتُ عَدَاوَتَهُ؟ قِيلَ لَهُ: إِنَّ عَدُوَّكَ الَّذِي يُرِيدُ قَتْلَكَ ، أَوْ أَخْذَ مَالِكَ ، أَوِ انْتِهَاكَ عِرْضِكَ ، إِنْ ظَفِرَ مِنْكَ بِمَا يُؤَمَّلُهُ مِنْكَ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يُكَفِّرُ عَنْكَ بِهِ السَّيِّئَاتِ ، وَيَرْفَعُ لَكَ بِهِ الدَّرَجَاتِ ، وَلَيْسَ النَّفْسُ كَذَلِكَ؛ لِأَنَّ النَّفْسَ إِنْ ظَفَرَتْ مِنْكَ بِمَا تَهْوَى مِمَّا قَدْ نُهِيَتْ عَنْهُ ، كَانَ فِيهِ هَلَكَتُكَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، أَمَّا فِي الدُّنْيَا فَالْفَضِيحَةُ مَعَ شِدَّةِ الْعُقُوبَةِ ، وَسُوءُ الْمَنْزِلَةِ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل مَعَ سُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْآخِرَةِ. فَالْعَاقِلُ، يَرْحَمُكُمُ اللَّهُ، يُلْزِمُ نَفْسَهُ الْحَذَرَ وَالْجِهَادَ لَهُ أَشَدَّ مِنْ مُجَاهَدَةِ الْأَقْرَانِ مِمَّنْ يُرِيدُ مَالَهُ وَنَفْسَهُ ، فَجَاهِدْهَا عِنْدَ الرِّضَا وَالْغَضَبِ ، كَذَا أَدَّبَنَا نَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم فِي غَيْرِ حَدِيثٍ بِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ عز وجل»

কোনো শত্রু থেকে সতর্কতাবশত, যে তাকে হত্যা করতে চায়, অথবা তার সম্পদ কেড়ে নিতে চায়, অথবা তার সম্মান নষ্ট করতে চায়। যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন আপনি আমার উপর নফসের ব্যাপারে এই সতর্কতা আবশ্যক করেছেন, এমনকি আপনি একে এমন এক শত্রুর চেয়েও গুরুতর অবস্থায় সাব্যস্ত করেছেন যার শত্রুতা সুস্পষ্ট? তাকে বলা হবে: নিশ্চয়ই আপনার শত্রু, যে আপনাকে হত্যা করতে চায়, অথবা আপনার সম্পদ কেড়ে নিতে চায়, অথবা আপনার সম্মান নষ্ট করতে চায়, সে যদি আপনার থেকে তার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েও যায়, তবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এর বিনিময়ে আপনার পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। কিন্তু নফস এমন নয়; কারণ নফস যদি আপনার থেকে তার নিষিদ্ধ প্রবৃত্তি লাভে সফল হয়ে যায়, তবে তাতে দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার ধ্বংস নিহিত রয়েছে। দুনিয়াতে রয়েছে কঠোর শাস্তির সাথে লাঞ্ছনা, আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র নিকট নিকৃষ্ট অবস্থান এবং আখিরাতে মন্দ প্রত্যাবর্তন। অতএব বুদ্ধিমান ব্যক্তি—আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন—নিজের উপর নফসের ব্যাপারে সতর্কতা ও জিহাদকে এমন সমকক্ষ শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামের চেয়েও বেশি আবশ্যক মনে করেন যে তার সম্পদ ও জীবন চায়। সুতরাং তুষ্টি ও ক্রোধের সময়ে নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক হাদিসে আমাদের এভাবেই শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «প্রকৃত মুজাহিদ সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র আনুগত্যের পথে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।»

(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫১)
1 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ قَالَ: ثنا الْمُسَيِّبُ بْنُ وَاضِحٍ ، قَالَ: ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ ، عَنْ أَبِي هَانِئٍ الْخَوْلَانِيِّ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي اللَّهِ عز وجل»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরিয়াবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-মুসাইয়িব বিন ওয়াদিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ থেকে, তিনি আবু হানি আল-খাওলানি থেকে, তিনি আমর বিন মালিক থেকে, তিনি ফাদালাহ বিন উবায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «মুজাহিদ সেই ব্যক্তি, যে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।»
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫২)
2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، وحَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ ، أنبأ ابْنُ الْمُبَارَكِ ، ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلَانِيُّ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ الْجَنْبِيِّ ، حَدَّثَنِي فَضَالَةُ بْنُ عُبَيْدٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: «أَلَا أُخْبِرُكَ بِالْمُؤْمِنِ؟ مَنْ أَمَّنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِهِ ، وَالْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ عز وجل ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ الذُّنُوبَ وَالْخَطَايَا»
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-মারওয়াযী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুবারক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-লায়স বিন সা’দ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হানি আল-খাওলানী, তিনি আমর বিন মালিক আল-জানবী থেকে বর্ণনা করেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ফাদালাহ বিন উবাইদ, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জের সময় বলেছেন: «আমি কি তোমাকে মুমিন সম্পর্কে বলব না? মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ তাদের সম্পদের বিষয়ে নিরাপদ মনে করে; মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে; মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে মহান আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি যে গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি বর্জন করে।»
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫৩)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، قَالَ: وَحَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى ، ثنا عَبْدُ الْأَعْلَى ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ» ، قَالُوا: مَا الشَّدِيدُ؟ قَالَ: «الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ»
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, তিনি বলেন: এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-ফিরইয়াবি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল আ'লা, মামার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «কুস্তিতে অন্যকে ধরাশায়ীকারী ব্যক্তি প্রকৃত শক্তিশালী নয়», তারা জিজ্ঞেস করল: তবে শক্তিশালী কে? তিনি বললেন: «সেই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে»
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫৩)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، ثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْوَاسِطِيُّ ، ثنا يَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ⦗ص: 254⦘ «لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ ، وَلَكِنَّ الشَّدِيدَ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ»
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব আদ-দাওরাকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন মাহদি, মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৫৪⦘ «কুস্তিতে অন্যকে ধরাশায়ীকারী প্রকৃত শক্তিশালী নয়, বরং প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে»
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫৪)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، وثنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ صَاعِدٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَبِيبٍ لُوَيْنٌ الْمِصِّيصِيُّ ، ثنا أَبُو الْأَحْوَصِ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، ⦗ص: 255⦘ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الشَّدِيدَ لَيْسَ الَّذِي يَغْلِبُ النَّاسَ ، وَلَكِنَّ الشَّدِيدَ مَنْ غَلَبَ نَفْسَهُ» فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَعَلَى مَا أُجَاهِدُ نَفْسِي حَتَّى أَغْلِبَهَا ⦗ص: 256⦘؟ قِيلَ لَهُ: تُجَاهِدُهَا حَتَّى تَلْزَمَ أَدَاءَ فَرَائِضِ اللَّهِ عز وجل ، وَتَنْتَهِيَ عَنْ مَعَاصِيهِ. فَإِنْ قَالَ: صِفْ لِي مِنْ أَخْلَاقِهَا الَّتِي تَمِيلُ إِلَيْهِ مِمَّا لَا يَحْسُنُ ، حَتَّى أَحْذَرَهَا ، وَأَمْقُتَهَا ، وَأُجَاهِدَهَا ، إِذَا عَلِمْتُ أَنَّ فِيهَا شَيْئًا مِنْ تِلْكَ الْخِصَالِ. قِيلَ لَهُ: إِنَّ النَّفْسَ أَهْلٌ أَنْ تُمْقَتَ فِي اللَّهِ عز وجل ، وَمَنْ مَقَتَ نَفْسَهُ فِي ذَاتِ اللَّهِ عز وجل رَجَوْتُ أَنْ يُؤَمِّنَهُ اللَّهُ عز وجل مِنْ مَقْتِهِ ، كَذَا رُوِيَ عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাবিব লুয়াইন আল-মিসসিসী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-আহওয়াস, তিনি সাঈদ ইবনে মাসরুক থেকে, তিনি আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, ⦗পৃষ্ঠা: ২৫৫⦘ তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয় যে মানুষকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়, বরং প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে (প্রবৃত্তিকে) পরাভূত করে»। অতঃপর যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: আমি নিজের নফসের বিরুদ্ধে কিসের ভিত্তিতে জিহাদ করব যাতে তাকে পরাভূত করতে পারি ⦗পৃষ্ঠা: ২৫৬⦘? তাকে বলা হবে: তুমি তার বিরুদ্ধে জিহাদ করবে যতক্ষণ না সে মহান আল্লাহর ফরজসমূহ পালনে অবিচল হয় এবং তাঁর নাফরমানি থেকে বিরত থাকে। যদি সে বলে: আমার কাছে তার (নফসের) সেই মন্দ স্বভাবগুলোর বর্ণনা দিন যার দিকে সে ঝুঁকে পড়ে, যা শোভনীয় নয়, যাতে আমি সেগুলো থেকে সতর্ক থাকতে পারি, তাকে ঘৃণা করতে পারি এবং তার বিরুদ্ধে জিহাদ করতে পারি যখন আমি জানতে পারব যে তার মাঝে সেই স্বভাবগুলোর কোনো কিছু বিদ্যমান রয়েছে। তাকে বলা হবে: নিশ্চয়ই নফস এই বিষয়ের উপযুক্ত যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে ঘৃণা করা হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সত্তার খাতিরে নিজের নফসকে ঘৃণা করে, আমি আশা করি মহান আল্লাহ তাকে তাঁর ক্রোধ থেকে নিরাপদ রাখবেন। ফুযাইল ইবনে আইয়াদ থেকে এমনই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫৬)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُفَيْرٍ الْأَنْصَارِيُّ ، ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَبَّادَانِيُّ ، ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ يَزِيدَ ، قَالَ: سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ ، يَقُولُ: «مَنْ مَقَتَ نَفْسَهُ فِي ذَاتِ اللَّهِ عز وجل أَمَّنَهُ اللَّهُ عز وجل مِنْ مَقْتِهِ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَبَيِّنْ لِي أَخْلَاقَهَا الْقَبِيحَةَ. قِيلَ لَهُ: هِيَ الْأَخْلَاقُ الَّتِي قَدِ اسْتَوْطَنَتْهَا النَّفْسُ ، وَلَيْسَ تُحِبُّ مُفَارَقَتَهَا ، وَهِيَ أَخْلَاقٌ كَثِيرَةٌ إِذَا تَصَّفَّحَ الْإِنْسَانُ نَفْسَهُ وَجَدَهَا كَذَلِكَ. فَإِنَّهَا نَفْسٌ مُتَّبِعَةٌ لِلْهَوَى. مُنْهُمِكَةٌ فِي لَذَّةِ الدُّنْيَا. بَاسِطَةٌ لِطُولِ أَمَلٍ عَنْ قَلِيلٍ يَنْقَضِي. قَلِيلَةُ الِاكْتِرَاثِ لِأَجَلٍ لَا بُدَّ أَنْ يُغْشَى. ⦗ص: 257⦘ رَاغِبَةٌ فِي حُبِّ دُنْيَا إِذَا أَحَبَّهَا قَلْبُ عَبْدٍ قَسَى. زَاهِدَةٌ فِي دَارٍ نَعِيمُهَا لَا يَفْنَى. مُحِبَّةٌ لِأَخْلَاقٍ تَعْلَمُ أَنَّهَا مُضَرَّةٌ بِهَا غَدًا. ضَاحِكَةٌ مُسْتَبْشِرَةٌ نَاعِمَةٌ بِمَا عَنْهُ مَوْلَاهَا نَهَى. نَفْسٌ تَحْزَنُ عَلَى مَا لَمْ يَجْرِ لَهَا بِهِ الْمَقْدُورُ مِمَّا أَمَّلَتْهُ مِنَ الدُّنْيَا صَبَاحَهَا وَالْمِسَا. نَفْسٌ يَخِفُّ عَلَيْهَا السَّعْيُ وَالْكَدُّ فِي طَلَبِ الدُّنْيَا ، نَفْسٌ تَلَذُّ بِالْفُتُورِ عَنِ الْخَيْرِ الَّذِي إِلَيْهِ مَوْلَاهَا دَعَا. نَفْسٌ تَهُمُّ بِالنَّفَقَةِ فِي طَاعَةِ اللَّهِ ، فَيُوعِدُهَا الشَّيْطَانُ الْفَقْرَ ، فَتَمِيلُ إِلَى مَا إِلَيْهِ دَعَا. نَفْسٌ وَعَدَهَا اللَّهُ الْمَغْفِرَةَ ، وَالْفَضْلَ فَلَمْ تَثِقْ ، وَلَمْ تَرْضَ. نَفْسٌ تَثِقُ بُوعِدِ مَخْلُوقٍ ، وَعِنْدَ وَعِيدِ مَوْلَاهَا تَتَلَكَّا. نَفْسٌ تُرْضِي الْمَخْلُوقِينَ بِسَخَطِ رَبِّهَا ، وَعَنْ رِضًا مَوْلَاهَا تَتَوَانَى. نَفْسٌ نَدَبَهَا اللَّهُ إِلَى الصَّبْرِ عِنْدَ الْمَصَائِبِ ، تَعْزِيَةً مِنْهُ لَهَا ، فَلَا تَقْبَلُ الْعَزَا. نَفْسٌ تَتَصَنَّعُ لِلْمَخْلُوقِينَ بِوَفَاءِ الْوَعْدِ ، وَفِيمَا عَهَدَ اللَّهُ الْكَرِيمُ إِلَيْهَا قَلِيلَةُ الْوَفَا. نَفْسٌ تَتْرُكُ الْمَعَاصِي بَعْدَ الْقُدْرَةِ عَلَيْهَا ، حَيَاءً مِنَ الْمَخْلُوقِينَ ، وَعِنْدَ نَظَرِ اللَّهِ الْعَظِيمِ إِلَيْهَا قَلِيلَةُ الْحَيَا. نَفْسٌ قَلِيلَةُ الشُّكْرِ لِلَّهِ الْكَرِيمِ عَلَى نِعَمٍ لَا تُحْصَى. ⦗ص: 258⦘ نَفْسٌ تَسْتَعِينُ بِنِعَمِ اللَّهِ الْكَرِيمِ عَلَى مَعَاصِيهِ فِي صَبَاحِهَا وَالْمِسَا. نَفْسٌ يَخِفُّ عَلَيْهَا مُجَالَسَةُ الْبَطَّالِينَ ، وَيَثْقُلُ عَلَيْهَا مُجَالَسَةُ الْعُلَمَا. نَفْسٌ تُطِيعُ الْغَاشَّ ، وَتَعْصِي أَنْصَحَ النُّصْحَا. نَفْسٌ تُسَارِعُ فِيمَا تَهْوَى ، وَهِيَ تَتَعَلَّلُ بِالتَّسْوِيفِ لِلتَّوْبَةِ الْيَوْمَ وَغَدَا. قَالَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ: مَنْ عَرَفَ مِنْ نَفْسِهِ هَذِهِ الْأَخْلَاقَ ، وَغَيْرَهَا ، سَارَعَ إِلَى رِيَاضَتِهَا ، بِحُسْنِ الْأَدَبِ لَهَا؛ لِيَرُدَّهَا إِلَى مَا هُوَ أَوْلَى بِهَا مِنْ تَقْوَى اللَّهِ عز وجل ، فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ ، بِالنَّدَمِ الشَّدِيدِ ، وَالنِّزُوعِ مِنْ قَبِيحِ مَا صَحَّ عِنْدَهُ مِنْ هَذِهِ الْأَخْلَاقِ ، إِنْ فِيهِ شَيْءٌ مِنْهَا ، وَإِصْلَاحِ مَا يَسْتَأْنِفُهُ فِي طُولِ عُمْرِهِ ، وَاللَّهُ عز وجل الْمُوَفَّقُ لِذَلِكَ
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উফাইর আল-আনসারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আব্বাদানী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ ইবনে ইয়াযীদ, তিনি বলেন: আমি ফুযায়েল ইবনে ইয়াযকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের নফসের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, মহান আল্লাহ তাকে তাঁর ক্রোধ থেকে নিরাপদ করেন» আবু বকর বলেন: যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: তবে আমার নিকট নফসের কুৎসিত চরিত্রগুলো বর্ণনা করুন। তাকে বলা হবে: এগুলো হলো সেই চরিত্র যা নফসের মাঝে গেড়ে বসেছে এবং নফস তা ত্যাগ করা পছন্দ করে না। এগুলো অনেক চরিত্র, মানুষ যখন নিজের নফসকে পর্যবেক্ষণ করবে তখন সে তা খুঁজে পাবে। কারণ এটি এমন এক নফস যা খেয়াল-খুশির অনুসরণকারী। দুনিয়ার লিপ্ততায় মগ্ন। সুদীর্ঘ আশার প্রসারকারী অথচ তা অচিরেই শেষ হয়ে যাবে। সেই সুনির্দিষ্ট সময়ের (মৃত্যুর) ব্যাপারে উদাসীন যা অবশ্যই তাকে আচ্ছন্ন করবে। ⦗পৃষ্ঠা: ২৫৭⦘ এমন দুনিয়ার ভালোবাসায় আগ্রহী যার প্রতি বান্দার অন্তর আসক্ত হলে তা কঠোর হয়ে যায়। অথচ অবিনশ্বর নেয়ামতপূর্ণ গৃহের (আখেরাত) প্রতি বিরাগভাজন। এমন চরিত্রের অনুরাগী যা কাল কিয়ামতে তার জন্য কিয়ামতে ক্ষতিকর হবে বলে সে জানে। স্বীয় মহান রব যা নিষেধ করেছেন তা নিয়ে সে হাস্যজ্জ্বল, আনন্দিত ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এমন এক নফস যা দুনিয়ার সেই সকল প্রত্যাশা অর্জিত না হওয়ায় সকাল-সন্ধ্যা দুঃখ করে যা তার তাকদীরে ছিল না। এটি এমন এক নফস যার নিকট দুনিয়া অন্বেষণে পরিশ্রম ও কষ্ট করা সহজ মনে হয়। এটি এমন এক নফস যা তার মহান রব যে কল্যাণের দিকে আহ্বান করেছেন তা পালনে শিথিলতা প্রদর্শনে আনন্দ পায়। এমন এক নফস যা আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয়ের সংকল্প করলে শয়তান তাকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায়, ফলে সে শয়তানের আহ্বানের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। এমন এক নফস যাকে আল্লাহ ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কিন্তু সে তাতে আশ্বস্ত ও সন্তুষ্ট হয়নি। এমন এক নফস যা সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে, অথচ তার মহান রবের সতর্কবাণীর সামনে গড়িমসি করে। এমন এক নফস যা তার রবের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে সৃষ্টিকে সন্তুষ্ট করে এবং মহান রবের সন্তুষ্টির ব্যাপারে অবহেলা করে। এমন এক নফস যাকে আল্লাহ বিপদের সময় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর পক্ষ থেকে সান্ত্বনা হিসেবে, অথচ সে সেই সান্ত্বনা গ্রহণ করে না। এমন এক নফস যা মানুষের সামনে প্রতিশ্রুতি পালনের ভান করে, অথচ দয়ালু আল্লাহ তার নিকট যে প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন তা রক্ষায় সে গাফেল। এমন এক নফস যা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মানুষের লজ্জায় পাপ করা ছেড়ে দেয়, কিন্তু মহান আল্লাহর দৃষ্টির সামনে তার লজ্জাবোধ অত্যন্ত কম। এমন এক নফস যা দয়ালু আল্লাহর অগণিত নেয়ামতের প্রতি সামান্যই শুকরিয়া আদায় করে। ⦗পৃষ্ঠা: ২৫৮⦘ এমন এক নফস যা সকাল-সন্ধ্যা দয়ালু আল্লাহর নেয়ামতসমূহ ব্যবহার করেই তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়। এমন এক নফস যার নিকট কর্মহীনদের মজলিসে বসা সহজ মনে হয়, কিন্তু আলেমদের মজলিসে বসা অত্যন্ত ভারি মনে হয়। এমন এক নফস যা প্রতারকের আনুগত্য করে এবং পরম হিতাকাঙ্ক্ষীর অবাধ্যতা করে। এমন এক নফস যা নিজের প্রবৃত্তির কামনায় দ্রুত ধাবিত হয়, অথচ তওবার ব্যাপারে আজ এবং কাল বলে তালবাহানা করে। আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন: যে ব্যক্তি নিজের মাঝে এসব চরিত্র বা এ জাতীয় অন্য কিছু দেখবে, তার উচিত হবে উত্তম শিষ্টাচারের মাধ্যমে নফসকে শাসন করতে দ্রুত সচেষ্ট হওয়া; যাতে করে নফসকে সেই জিনিসের দিকে ফিরিয়ে আনা যায় যা তার জন্য অধিকতর শ্রেয়। আর তা হলো প্রকাশ্যে ও গোপনে মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা, গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করা, নিজের মাঝে বিদ্যমান এসব কুৎসিত চরিত্রের যা প্রমাণিত তা বর্জন করা এবং অবশিষ্ট জীবনের দিনগুলোকে সংশোধন করা। আর মহান আল্লাহই এর তৌফিক দানকারী।
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫৯)
ذِكْرُ أَدَبِ النُّفُوسِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: مَا دَلَّ عَلَى تَأْدِيبِ النَّفْسِ؟ ، قِيلَ لَهُ: الْقُرْآنُ ، وَالسُّنَّةُ ، وَقَوْلُ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ ، فَإِنْ قَالَ: فَاذْكُرْهُ؟ قِيلَ: نَعَمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ. قَالَ تبارك وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6] ، قُلْتُ: فَمَنْ سَمِعَ هَذَا وَجَبَ عَلَيْهِ أَنْ يَطْلُبَ عِلْمَ هَذَا ، وَلَا يَغْفُلُ عَنْهُ. فَإِنْ قَالَ: فَاذْكُرْ مَا يَقِي بِهِ الْإِنْسَانُ نَفْسَهُ ، وَأَهْلَهُ مِنَ النَّارِ ، قِيلَ: نَعَمْ
নফসের শিষ্টাচার সংক্রান্ত আলোচনা। আবু বকর বলেন: যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: নফসকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার প্রমাণ কী? তাকে বলা হবে: কুরআন, সুন্নাহ এবং মুসলিম আলেমদের বক্তব্য। যদি সে বলে: তবে তা উল্লেখ করুন? বলা হলো: হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো} [আত-তাহরীম: ৬]। আমি বলছি: যে ব্যক্তি এটি শ্রবণ করল, তার ওপর এর জ্ঞান অন্বেষণ করা আবশ্যক হয়ে গেল এবং এ থেকে উদাসীন থাকা তার জন্য সমীচীন নয়। যদি সে বলে: তবে এমন কিছু উল্লেখ করুন যার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে এবং তার পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করতে পারবে? বলা হলো: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৫৯)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَامِرِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ نَهْشَلٍ ، عَنِ الضَّحَّاكِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فِي قَوْلِ اللَّهِ تبارك وتعالى: {قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6] قَالَ: يَكُونُ الرَّجُلُ الْمُسْلِمُ فِي أَهْلِ الْبَيْتِ ، فَيَعْمَلُ بِالْأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ ، يُصَلِّي فَيُصَلُّونَ ، وَيَصُومُ فَيَصُومُونَ ، وَيَتَصَدَّقُ فَيَتَصَدَّقُونَ ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ عز وجل: {قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6]
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমির ইবনে ইবরাহিম, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নাহশাল থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে} [আত-তাহরীম: ৬]। তিনি বলেন: "মুসলিম ব্যক্তি যখন তার পরিবারের মাঝে থাকে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে; সে সালাত আদায় করে ফলে তারাও সালাত আদায় করে, সে সিয়াম পালন করে ফলে তারাও সিয়াম পালন করে এবং সে দান-সদকা করে ফলে তারাও দান-সদকা করে। আর এটিই হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে} [আত-তাহরীম: ৬]।"
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬০)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، وَثنا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ ، ثنا أَبُو صَالِحٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ ، ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: {قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6] يَقُولُ: اعْمَلُوا بِطَاعَةِ اللَّهِ عز وجل ، وَاتَّقُوا مَعَاصِيَ اللَّهِ عز وجل ، وَمُرُوا أَهْلِيكُمْ بِالذِّكْرِ ، يُنْجِيكُمْ مِنَ النَّارِ "
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি দাউদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ, তিনি আলী ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: {তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে} [আত-তাহরীম: ৬]। তিনি বলেন: "তোমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর আনুগত্য অনুযায়ী আমল করো এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর অবাধ্যতা হতে বেঁচে থাকো, আর তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আল্লাহর স্মরণের নির্দেশ দাও; এটি তোমাদেরকে আগুন থেকে মুক্তি দিবে।"
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬০)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، وَثَنًا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ ، ثنا حَمُّ بْنُ نُوحٍ ، ثنا أَبُو مُعَاذٍ ، ثنا أَبُو مُصْلِحٍ ، عَنِ الضَّحَّاكِ ، فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل: {قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6] ، يَقُولُ: اعْمَلُوا بِطَاعَتِي ، وَتَعَلَّمُوا، وَعَلِّمُوا أَهْلِيكُمْ مَا افْتَرَضْتُ عَلَيْكُمْ وَعَلَيْهِمْ
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে আবি দাউদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাম্ম বিন নুহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুয়াজ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুসলিহ, আদ-দাহহাক থেকে বর্ণিত, মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী সম্পর্কে: {তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে} [আত-তাহরীম: ৬], তিনি বলেন: তোমরা আমার আনুগত্য অনুযায়ী আমল করো, এবং শিক্ষা অর্জন করো, আর তোমাদের পরিবার-পরিজনকে তা শিক্ষা দাও যা আমি তোমাদের ওপর এবং তাদের ওপর ফরজ করেছি।
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬০)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، وَثَنًا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مِهْرَانَ ، ثنا عَامِرُ بْنُ الْفُرَاتِ ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ: {قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6] قَالَ: أَدِّبُوا أَنْفُسَكُمْ ، وَأَهْلِيكُمْ عَلَى أَمْرِ اللَّهِ عَزَّ ⦗ص: 261⦘ وَجَلَّ
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, এবং আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে আবু দাউদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মিহরান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমির বিন আল-ফুরাত, আবু জাফর থেকে, তিনি রাবি বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেন: {তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে আগুন থেকে রক্ষা করো} [আত-তাহরীম: ৬] তিনি বলেন: তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নির্দেশের ওপর ⦗পৃষ্ঠা: ২৬১⦘ শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬১)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، وَثَنًا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي بُكَيْرٍ ، حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ: {قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6] ، يَعْنِي: الْأَدَبُ الصَّالِحُ
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, এবং ইবন আবি দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর থেকে, ইবন লাহিয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন আতা বিন দিনার থেকে, সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে (আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে): {তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে} [আত-তাহরীম: ৬], অর্থাৎ: সৎ শিষ্টাচার।
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬১)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، وَثَنًا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ ، ثنا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ ، ثنا وَكِيعٌ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ بَعْضِ ، أَصْحَابِهِ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه فِي قَوْلِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزّ َ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6] قَالَ: «عَلِّمُوهُمْ ، أَدِّبُوهُمْ» ⦗ص: 262⦘ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَلَا تَرَوْنَ رَحِمَكُمُ اللَّهُ إِلَى مَوْلَاكُمُ الْكَرِيمِ ، يَحُثُّكُمْ عَلَى تَأْدِيبِ نُفُوسِكُمْ وَأَهْلِيكُمْ؟ ، فَاعْقِلُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ عَنِ اللَّهِ عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا} [التحريم: 6] قَالَ: «عَلِّمُوهُمْ ، أَدِّبُوهُمْ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَلَا تَرَوْنَ رَحِمَكُمُ اللَّهُ إِلَى مَوْلَاكُمُ الْكَرِيمِ ، يَحُثُّكُمْ عَلَى تَأْدِيبِ نُفُوسِكُمْ وَأَهْلِيكُمْ؟ ، فَاعْقِلُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ عَنِ اللَّهِ عز وجل ، وَأَلْزِمُوا أَنْفُسَكُمْ عِلْمَ ذَلِكَ. ثُمَّ اعْلَمُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ أَنَّهُ يَلْزَمُكُمْ عِلْمُ حَالَيْنِ لَا بُدَّ مِنْهُمَا: عِلْمُ مَعْرِفَةِ النَّفْسِ ، وَقُبْحِ مَا تَدْعُوكُمْ إِلَيْهِ ، مِمَّا تَهْوَاهُ وَتَلُذُّهُ ، مُضْمِرَةً لِذَلِكَ ، وَقَائِلَةً وَفَاعِلَةً ، فَوَاجِبٌ عَلَيْكُمْ أَنْ تَزْجُرُوهَا عَنْهُ ، حَتَّى لَا تُبَلِّغُوهَا ذَلِكَ. وَالْحَالُ الثَّانِي: عِلْمُ كَيْفَ السِّيَاسَةُ لَهَا؟ ، وَكَيْفَ تُرَاضُ؟ ، وَكَيْفَ تُؤَدَّبُ؟ ، فَهَذَانِ الْحَالَانِ لَا بُدَّ لِكُلِّ مُسْلِمٍ عَاقِلٍ أَنْ يَطْلُبَ عِلْمَهُ حَتَّى يَعْرِفَ نَفْسَهُ ، وَيَعْرِفَ كَيْفَ يُؤَدِّبُهَا. قُلْتُ: فَأَمَّا مَعْرِفَةُ النَّفْسِ ، وَقَبِيحُ مَا تَدْعُو إِلَيْهِ ، فَقَدْ تَقَدَّمَ ذِكْرِي لَهُ ، وَأَنَا أَزِيدُكَ فِي فَضْحَتِهَا: هِيَ جَامِعَةٌ لِكُلِّ بَلَاءٍ. وَخَزَانَةُ إِبْلِيسَ ، وَإِلَيْهَا يَأْوِي ، وَيَطْمَئِنُّ. ⦗ص: 263⦘ تُظْهِرُ لَكَ الزُّهْدَ وَهِيَ رَاغِبَةٌ. وَتُظْهِرُ لَكَ الْخَوْفُ ، وَهِيَ آمِنَةٌ. تَفْرَحُ بِحُسْنِ ثَنَاءٍ مِنْ جَهْلِهَا بِبَاطِلٍ ، فَتَحْمَدُهُ ، وَتُدِينُهُ. وَيَثْقُلُ عَلَيْهَا الصِّدْقُ مَنْ ذَمَّهَا بِحَقٍّ ، نُصْحًا مِنْهُ لَهَا ، فَتُبْغِضُهُ وَتُقْصِيهِ. وَأَنَا أُمَثِّلُ لَكِ مِثَالًا لَا يَخْفَى عَلَيْكَ أَمْرُهَا إِنَّ شَاءَ اللَّهُ: اعْلَمْ أَنَّ النَّفْسَ مِثْلُهَا كَمَثَلِ الْمُهْرِ الْحَسَنِ مِنَ الْخَيْلِ ، إِذَا نَظَرَ إِلَيْهِ النَّاظِرُ أَعْجَبَهُ حُسْنُهُ وَبَهَاؤُهُ ، فَيَقُولُ أَهْلُ الْبَصِيرَةِ بِهِ: لَا يَنْتَفِعُ بِهَذَا حَتَّى يُرَاضَ رِيَاضَةً حَسَنَةً ، وَيُؤَدَّبَ أَدَبًا حَسَنًا ، فَحِينَئِذٍ يُنْتَفَعُ بِهِ ، فَيَصْلُحُ لِلطَّلَبِ وَالْهَرَبِ ، وَيَحْمِدُ رَاكِبُهُ عَوَاقِبَ تَأْدِيبِهِ وَرِيَاضَتِهِ. فَإِنْ لَمْ يُؤَدَّبْ لَمْ يُنْتَفَعْ بِحُسْنِهِ وَلَا بِبَهَائِهِ ، وَلَا يَحْمَدُ رَاكِبُهُ عَوَاقِبَهُ عِنْدَ الْحَاجَةِ. فَإِنْ قِيْلَ صَاحِبُ هَذَا الْمُهْرِ قَوْلَ أَهْلِ النَّصِيحَةِ وَالْبَصِيرَةِ بِهِ ، عَلِمَ أَنَّ هَذَا قَوْلٌ صَحِيحٌ فَدَفَعَهُ إِلَى رَائِضٍ فَرَاضَهُ. ثُمَّ لَا يَصْلُحُ أَنْ يَكُونَ الرَّائِضُ إِلَّا عَالِمًا بِالرِّيَاضَةِ ، مَعَهُ صَبْرٌ عَلَى مَا مَعَهُ مِنْ عِلْمِ الرِّيَاضَةِ ، فَإِنْ كَانَ مَعَهُ بِالرِّيَاضَةِ وَنَصَحَهُ انْتَفَعَ بِهِ صَاحِبُهُ ، فَإِنْ كَانَ الرَّائِضُ لَا مَعْرِفَةَ مَعَهُ بِالرِّيَاضَةِ ، وَلَا عِلْمَ بَأَدَبِ الْخَيْلِ ، أَفْسَدَ هَذَا الْمُهْرَ وَأَتْعَبَ نَفْسَهُ ، وَلَمْ يَحْمَدْ رَاكِبُهُ عَوَاقِبَهُ ، وَإِنْ كَانَ الرَّائِضُ مَعَهُ مَعْرِفَةُ الرِّيَاضَةِ وَالْأَدَبِ لِلْخَيْلِ إِلَّا أَنَّهُ مَعَ مَعْرِفَتِهِ لَمْ يَصْبِرْ عَلَى مَشَقَّةِ الرِّيَاضَةِ ، وَأَحَبَّ التَّرْفِيهَ لِنَفْسِهِ ، وَتَوَانَى عَمَّا وَجَبَ عَلَيْهِ ، مِنَ النَّصِيحَةِ فِي الرِّيَاضَةِ ، أَفْسَدَ هَذَا الْمُهْرَ ، وَأَسَاءَ إِلَيْهِ ، وَلَمْ يَصْلُحْ لِلطَّلَبِ ، وَلَا لِلْهَرَبِ ، وَكَانَ لَهُ مَنْظَرٌ بِلَا مَخْبَرٌ ، فَإِنْ كَانَ مَالِكُهُ هُوَ الرَّائِضُ لَهُ ، نَدِمَ عَلَى تَوَانِيهِ يَوْمَ لَا يَنْفَعُهُ النَّدَمُ ، حِينَ نَظَرَ إِلَى ⦗ص: 264⦘ غَيْرِهِ فِي وَقْتِ الطَّلَبِ ، قَدْ طَلَبَ فَأَدْرَكَ ، وَفِي وَقْتِ الْهَرَبِ قَدْ هَرَبَ فَسَلِمَ ، وَطَلَبَ فَهُوَ لَمْ يُدْرِكْ ، وَهَرَبَ فَلَمْ يُسْلِمْ ، كُلُّ ذَلِكَ بِتَوَانِيهِ ، وَقِلَّةِ صَبْرِهِ بَعْدَ مَعْرِفَتِهِ مِنْهُ ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى نَفْسِهِ يَلُومُهَا وَيُبِّخُهَا ، فَيَقُولُ: لِمَ فَرَّطْتِ؟ لِمَ قَصَّرْتِ؟ ، لَقَدْ عَادَ عَلَيَّ مِنْ قِلَّةِ صَبْرَى كُلُّ مَا أَكْرَهُ. وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ. اعْقِلُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ عِلْمَ هَذَا الْمَثَلِ ، وَتَفَقَّهُوا بِهِ ، تُفْلِحُوا وَتَنْجَحُوا ، وَقَدْ قُلْتُ فِي هَذَا الْمَثَلِ أَبْيَاتًا تُشْبِهُ هَذَا الْمَثَلَ:

[البحر المتقارب]

أَرَى النَّفْسَ تَهْوَى مَا تُرِيدُ … وَفِي مُتَابَعَتِي لَهَا عَطَبٌ شَدِيدْ

تَقُولُ وَقَدْ أَلَحَّتْ فِي هَوَاهَا … مُرَادِي كُلُّ مَا أَهْوَى أُرِيدْ

فَأَمْنَحُهَا نُصْحِي لِكَيْ تَنْزَجِرَ … فَتَأْبَى وَرَبِّي عَلَى ذِي شَهِيدْ

فَإِنْ أَنَا تَابَعْتُهَا نَدِمْتُ … وَخِفْتُ الْعُقُوبَةَ يَوْمَ الْوَعِيدْ

فَإِنْ كُنْتَ لِلنَّفْسِ يَا ذَا مُحِبًّا … فَقَيَّدْ ، وَلَوْ بِقَيْدِ الْحَدِيدْ

وَرُضْهَا رِيَاضَةَ مُهْرٍ يُرَاضُ … بِالسَّوْطِ ، وَالسَّوْطُ سَوْطُ حَدِيدْ

يَمْنَعُهُ الرَّائِضُ مَا يَشْتَهِي … يُرِيدُ بِالْمَنِعِ صَلَاحًا وَفَهْمًا يُرِيدْ

يَحْمَدُهُ الرَّاكِبُ يَوْمَ اللُّقَى … وَالْخَيْلُ فِي الْحَرْبِ وَجَهْدٌ جَهِيدْ

قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَقَدْ رُوِيَ فِي مَعْنَى مَا قُلْتُ مِنْ هَذِهِ الْأَمْثَالِ ، وَآثَارًا تَدُلُّ عَلَى مَا قُلْتُ ، فَأَنَا ذَاكِرُهَا؛ لِيَعْتَبِرَهَا مَنْ تَدَبَّرَهَا
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবি দাউদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবন ইসহাক আল-হামদানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মনসুর থেকে, তিনি তাঁর জনৈক সঙ্গী থেকে, তিনি আলি ইবন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো অগ্নি থেকে} [আত-তাহরীম: ৬] প্রসঙ্গে তিনি বলেন: «তোমরা তাদেরকে শিক্ষা দাও এবং আদব বা শিষ্টাচার শেখাও» ⦗পৃষ্ঠা: ২৬২⦘ আবু বকর বলেন: আল্লাহ আপনাদের ওপর দয়া করুন, আপনারা কি আপনাদের মহানুভব প্রতিপালকের দিকে লক্ষ্য করেন না, কীভাবে তিনি আপনাদেরকে নিজেদের আত্মা এবং পরিবার-পরিজনকে আদব বা শিষ্টাচার শেখাতে উৎসাহিত করছেন? সুতরাং আল্লাহ যা বলেছেন তা হৃদয়ঙ্গম করুন, আল্লাহ আপনাদের ওপর দয়া করুন। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো অগ্নি থেকে} [আত-তাহরীম: ৬]। তিনি বলেন: «তাদেরকে শিক্ষা দাও ও আদব শেখাও» আবু বকর বলেন: আল্লাহ আপনাদের ওপর দয়া করুন, আপনারা কি আপনাদের মহানুভব প্রতিপালকের প্রতি লক্ষ্য করেন না, যিনি আপনাদের নিজ আত্মা ও পরিবার-পরিজনকে আদব শেখাতে উৎসাহিত করছেন? সুতরাং আল্লাহ যা বলেছেন তা হৃদয়ঙ্গম করুন, আল্লাহ আপনাদের ওপর দয়া করুন এবং এই জ্ঞান অর্জনে নিজেদের নিয়োজিত করুন। অতঃপর জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাদের ওপর দয়া করুন, আপনাদের জন্য দুটি অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য: প্রথমত, আত্মাকে চেনার জ্ঞান এবং সে আপনাকে যেসব মন্দ কাজের দিকে আহ্বান করে—যা সে কামনা করে এবং যাতে সে স্বাদ পায়, চাই তা মনে গোপন থাকুক কিংবা বলা হোক বা করা হোক—তার জঘন্যতা সম্পর্কে জানা। সুতরাং আপনাদের ওপর আবশ্যক হলো তাকে এসব থেকে নিবৃত্ত করা, যাতে আপনারা তাকে সেই স্তরে পৌঁছাতে না দেন। দ্বিতীয় অবস্থা হলো: আত্মাকে পরিচালনার পদ্ধতি এবং একে কীভাবে বশীভূত ও শিষ্ট করা যাবে সেই জ্ঞান। এই দুটি বিষয় প্রতিটি বুদ্ধিমান মুসলমানের জন্য অন্বেষণ করা অপরিহার্য, যাতে সে তার আত্মাকে চিনতে পারে এবং কীভাবে একে আদব শেখাতে হয় তা জানতে পারে। আমি বলি: আত্মার পরিচয় এবং সে যেসব মন্দের দিকে আহ্বান করে তার আলোচনা তো আগেই করেছি, তবে আমি এর নির্লজ্জতা উন্মোচনে আরও কিছু যোগ করছি: এটি হলো যাবতীয় পরীক্ষার আধার এবং ইবলিসের ভাণ্ডার, সেখানেই সে আশ্রয় নেয় ও স্থির হয়। ⦗পৃষ্ঠা: ২৬৩⦘ এটি আপনার কাছে দুনিয়াবিমুখতা প্রকাশ করে অথচ সে এর প্রতি আসক্ত। এটি আপনার কাছে ভয় প্রকাশ করে অথচ সে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত। এটি মূর্খতাবশত কোনো অসত্য প্রশংসায় আনন্দিত হয়, ফলে তার প্রশংসা করে এবং তা আঁকড়ে ধরে। আর যখন কেউ তাকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে সত্য কথা বলে নিন্দা করে, তখন সেটি তার ওপর ভারী হয়ে যায়, ফলে সে তাকে ঘৃণা করে এবং দূরে সরিয়ে দেয়। আমি আপনাদের কাছে একটি উদাহরণ দিচ্ছি যার ফলে ইনশাআল্লাহ এর স্বরূপ আপনাদের কাছে অস্পষ্ট থাকবে না: জেনে রাখুন, আত্মার উদাহরণ হলো ঘোড়ার একটি সুন্দর শাবকের মতো। যখন কোনো দর্শক তার দিকে তাকায়, তার সৌন্দর্য ও লাবণ্য তাকে মুগ্ধ করে। কিন্তু বিচক্ষণ ব্যক্তিরা বলেন: একে উত্তমরূপে প্রশিক্ষিত না করা পর্যন্ত এবং একে সুন্দর আদব বা শিষ্টাচার না শেখানো পর্যন্ত এর দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়। যখন একে প্রশিক্ষিত করা হয়, তখনই এটি দ্বারা উপকার পাওয়া যায়; তখন এটি শিকার বা আত্মরক্ষার যোগ্য হয়ে ওঠে এবং এর আরোহী তার প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের শুভ পরিণামের প্রশংসা করে। আর যদি একে আদব না শেখানো হয়, তবে এর রূপ বা লাবণ্য দ্বারা কোনো ফায়দা হবে না এবং প্রয়োজনে এর আরোহী এর পরিণাম নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারবে না। যদি এই শাবকের মালিক উপদেশদাতা ও বিচক্ষণ ব্যক্তিদের কথা গ্রহণ করে এবং বুঝতে পারে যে এটিই সঠিক কথা, তবে সে একে একজন প্রশিক্ষকের কাছে সমর্পণ করে যাতে সে একে প্রশিক্ষণ দেয়। আর সেই প্রশিক্ষক অবশ্যই প্রশিক্ষণ বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে এবং তার অর্জিত জ্ঞানের ওপর তার ধৈর্য থাকতে হবে। যদি সে প্রশিক্ষণে দক্ষ হয় এবং একনিষ্ঠভাবে কাজ করে, তবে শাবকের মালিক এর দ্বারা উপকৃত হবে। আর যদি প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান না থাকে এবং ঘোড়ার আদব সম্পর্কে সে অজ্ঞ হয়, তবে সে এই শাবকটিকে নষ্ট করবে এবং নিজেকেও ক্লান্ত করবে, আর আরোহীও এর পরিণামে খুশি হবে না। আবার যদি প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণ ও আদব সম্পর্কে জ্ঞান থাকে কিন্তু সে প্রশিক্ষণের কষ্ট সহ্য করতে না পারে, নিজের আরাম প্রিয় মনে করে এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় কার্যাবলীতে অলসতা করে, তবে সে এই শাবকটিকে নষ্ট করে ফেলবে এবং এর প্রতি অবিচার করবে। তখন এটি শিকার বা আত্মরক্ষার কোনোটিরই যোগ্য হবে না; এর কেবল বাহ্যিক রূপই থাকবে, কোনো গুণ থাকবে না। আর যদি এর মালিকই এর প্রশিক্ষক হয়, তবে সে তার অলসতার জন্য অনুতপ্ত হবে যেদিন অনুশোচনা কোনো কাজে আসবে না। যখন সে লক্ষ্য করবে ⦗পৃষ্ঠা: ২৬৪⦘ অন্যের দিকে, যারা শিকারের সময় তা ধরতে পেরেছে এবং বিপদের সময় পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছে; আর সে অন্বেষণ করেও ধরতে পারেনি এবং পালিয়েও রক্ষা পায়নি। এই সবকিছুর কারণ হলো তার অলসতা এবং জানা সত্ত্বেও ধৈর্যের অভাব। এরপর সে নিজ আত্মার প্রতি ধাবিত হবে এবং একে নিন্দা ও ভর্ৎসনা করে বলবে: কেন তুমি অবহেলা করলে? কেন তুমি ত্রুটি করলে? আমার ধৈর্যের অভাবের কারণেই আজ আমার অপছন্দনীয় সব পরিণাম আমার ওপর ফিরে এসেছে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়। আল্লাহ আপনাদের ওপর দয়া করুন, আপনারা এই উদাহরণের জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করুন এবং এটি গভীরভাবে বুঝুন, তাহলে আপনারা সফল ও কামিয়াব হবেন। এই উদাহরণের প্রেক্ষিতে আমি কিছু পঙক্তি বলেছি:

[মুতাকারিব ছন্দ]

আমি দেখি আত্মা তার আকাঙ্ক্ষা যা চায় তার প্রতি আসক্ত হয়... অথচ তার অনুগামী হওয়াতে রয়েছে ভয়াবহ ধ্বংস।

সে বলে, যখন সে তার কুপ্রবৃত্তির বিষয়ে পিড়াপিড়ি করে... আমি যা কামনা করি তার সবই আমি পেতে চাই।

আমি তাকে উপদেশ দেই যাতে সে নিবৃত্ত হয়... কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করে, আর আমার প্রতিপালক এর ওপর সাক্ষী।

আমি যদি তার অনুগামী হই তবে অনুতপ্ত হবো... এবং শাস্তির দিবসের সেই সতর্কবার্তাকে ভয় করি।

হে ব্যক্তি! যদি তুমি নিজের আত্মার শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকো... তবে তাকে শৃঙ্খলিত করো, যদিও তা লোহার শিকল হয়।

তাকে প্রশিক্ষণ দাও যেভাবে শাবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়... চাবুক দিয়ে, আর সে চাবুক যেন হয় লোহার।

প্রশিক্ষক তাকে তার প্রিয় বস্তু থেকে দূরে রাখে... এই বারণের মাধ্যমে সে তার কল্যাণ ও বোধশক্তি কামনা করে।

যুদ্ধের দিনে এবং চরম সংকটের সময়... আরোহী তখন অশ্বের প্রশংসা করে।

আবু বকর বলেন: আমি যা বলেছি তার অর্থেই এই উদাহরণগুলো বর্ণিত হয়েছে এবং এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যা আমার কথার সপক্ষে প্রমাণ দেয়। আমি সেগুলো উল্লেখ করছি যাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিরা তা থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬৪)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ الصَّنْدَلِيُّ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي الْوَرْدِ ، يَقُولُ: قَالَ وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ: «النَّفْسُ كَنُفُوسِ الدَّوَابِّ ، وَالْإِيمَانُ قَائِدٌ ، وَالْعَمَلُ سَائِقٌ ، وَالنَّفْسُ ⦗ص: 265⦘ حَرُونٌ ، فَإِنْ فَتَرَ قَائِدُهَا حَرَنَتْ عَلَى سَائِقِهَا ، وَإِنْ فَتَرَ سَائِقُهَا ضَلَّتْ عَلَى الطَّرِيقِ»
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সান্দালি, তিনি বলেন: আমি আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আবি আল-ওয়ারদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ বলেছেন: «নফ্‌স হলো চতুষ্পদ জন্তুর প্রাণের ন্যায়, আর ঈমান হলো তার অগ্রচালক, এবং আমল হলো তার পশ্চাৎচালক। আর নফ্‌স হলো ⦗পৃষ্ঠা: ২৬৫⦘ জেদি; সুতরাং যদি তার অগ্রচালক শিথিল হয়ে পড়ে, তবে সে তার পশ্চাৎচালকের প্রতি অবাধ্য হয়ে যায়। আর যদি তার পশ্চাৎচালক শিথিল হয়ে পড়ে, তবে সে পথ হারিয়ে ফেলে।»
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬৫)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْوَاسِطِيُّ قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، ثنا أَبُو مُقَاتِلٍ يَعْنِي حَفْصَ بْنَ سَلْمٍ ، ثنا عَوْنُ بْنُ أَبِي شَدَّادٍ ، عَنِ الْحَسَنِ ، فِي وَصِيَّةِ لُقْمَانَ لِابْنِهِ: " يَا بُنَيَّ لَا تَنْتَفِعْ بِالْإِيمَانِ إِلَّا بِالْعَقْلِ ، فَإِنَّ الْإِيمَانَ قَائِدٌ ، وَالْعَمَلَ سَائِقٌ ، وَالنَّفْسَ حَرُونٌ ، فَإِنْ فَتَرَ سَائِقُهَا ضَلَّتْ عَنِ الطَّرِيقِ ، فَلَمْ تَسْتَقِمْ لِصَاحِبِهَا ، وَإِنْ فَتَرَ قَائِدُهَا حَرَنَتْ ، فَلَمْ يَنْتَفِعْ سَائِقُهَا ، فَإِذَا اجْتَمَعَ ذَلِكَ اسْتَقَامَتْ طَوْعًا وَكَرْهًا ، وَلَا يَسْتَقِيمُ الدِّينُ إِلَّا بِالتَّطَوُّعِ وَالْكُرْهِ ، إِنْ كَانَ الْإِنْسَانُ كُلَّمَا كَرِهَ مِنَ الدِّينِ شَيْئًا تَرَكَهُ ، أَوْشَكَ أَنْ لَا يَبْقَيَ مَعَهُ شَيْءٌ مِنْ دَيْنِ اللَّهِ عز وجل ، فَلَا تَقْنَعْ لِنَفْسِكَ بِقَلِيلٍ مِنَ الْإِيمَانِ ، وَلَا تَقْنَعْ لَهَا بِضَعِيفٍ مِنَ الْعَمَلِ ، وَلَا تُرَخِّصْ لَهَا فِي قَلِيلٍ مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ عز وجل ، وَلَا تَعِدْهَا بِشَيْءٍ مِنَ اسْتِحْلَالِ الْحَرَامِ ، فَإِنَّ النَّفْسَ إِذَا أُطْمِعَتْ طَمِعَتْ ، وَإِذَا أَيِسْتَهَا أَيِسَتْ ، وَإِذَا أَقْنَعْتَهَا قَنِعَتْ ، إِذَا أَرْخَيْتَ لَهَا طَغَتْ ، وَإِذَا زَجَرَتْهَا انْزَجَرَتْ ، وَإِذَا عَزَمْتَ عَلَيْهَا أَطَاعَتْ ، وَإِذَا فَوَّضْتَ إِلَيْهَا أَسَاءَتْ ، وَإِذَا حَمَلْتَهَا عَلَى أَمْرِ اللَّهِ صَلَحَتْ ، وَإِذَا تَرَكْتَ الْأَمْرَ ⦗ص: 266⦘ إِلَيْهَا فَسَدَتْ ، فَاحْذَرْ نَفْسَكَ وَاتَّهِمْهَا عَلَى دِينِكَ ، وَأَنْزِلْهَا مَنْزِلَةَ مَنْ لَا حَاجَةَ لَهُ فِيهَا ، وَلَا بُدَّ مِنْهَا ، فَإِنَّ لَا حَاجَةَ لَكَ فِي بَاطِلِهَا ، وَلَا بُدَّ لَكَ مِنْ تُهْمَتِهَا ، وَلَا تَغْفَلْهَا عَنِ الزَّجْرِ فَتَفْسَدْ عَلَيْكَ ، وَلَا تَأْمَنْهَا فَتَغْلِبْكَ ، فَإِنَّهُ مَنْ قَوَّمَ نَفْسَهُ حَتَّى تَسْتَقِيمَ ، فَبِالْحَرِيِّ أَنْ يَنْفَعَ نَفْسَهُ وَغَيْرَهَا ، وَمَنْ غَلَبَتْهُ نَفْسُهُ فَأَنْفُسُ النَّاسِ أَحْرَى أَنْ تَغْلِبَهُ ، وَكَيْفَ لَا يَضْعُفُ عَنْ أَنْفَسِ النَّاسِ وَقَدْ ضَعُفَ عَنْ نَفْسِهِ؟ وَكَيْفَ يُؤْمَنُ عَلَى شَيْءٍ مِنَ النَّفْسِ ، وَهُوَ مُتَّهَمٌ عَلَى نَفْسِهِ؟ وَكَيْفَ يُهْتَدَى بِمَنْ قَدْ أَضَلَّ نَفْسَهُ؟ وَكَيْفَ يُرْجَا مَنْ قَدْ حُرِمَ حَظَّ نَفْسِهِ؟ يَا بُنَيَّ ثَقِّفْهُمْ بِالْحِكْمَةِ وَاسْتَعِنْ بِمَا فِيهَا ، فَإِنْ وَافَقَكَ الْهَوَى أَوْ خَالَفَكَ ، فَاصْبِرْ نَفْسَكَ لِلْحَقِّ ، وَكُنْ مِنْ أَهْلِ الْحِكَمِ ، فَإِنَّ الْحَكِيمَ يُذِلُّ نَفْسَهُ بِالْمَكَارِهِ حَتَّى تَعْتَرِفَ بِالْحَقِّ ، وَإِنَّ الْأَحْمَقَ يُخَيِّرُ نَفْسَهُ فِي الْأَخْلَاقِ ، فَمَا أَحَبَّتْ مِنْهَا أَحَبَّ ، وَمَا كَرِهَتْ مِنْهَا كَرِهَ ⦗ص: 267⦘ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: اعْقِلُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ عَنْ لُقْمَانَ الْحَكِيمِ مَا تَسْمَعُونَ ، اعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ لَمْ يُحْسِنْ أَنْ يَكُونَ طَبِيبًا لِنَفْسِهِ ، لَمْ يَصْلُحْ أَنْ يَكُونَ طَبِيبًا لِنَفْسِ غَيْرِهِ ، وَمَنْ لَمْ يُحْسِنْ أَنْ يُؤَدِّبَ نَفْسَهُ ، لَمْ يُحْسِنْ أَنْ يُؤَدِّبَ نَفْسَ غَيْرِهِ ، وَاعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ لَمْ يَعْرِفْ مَا لِلَّهِ عز وجل عَلَيْهِ فِي نَفْسِهِ مِمَّا أَمَرَهُ بِهِ ، وَنَهَاهُ عَنْهُ ، وَلَمْ يَأْخُذْ نَفْسَهُ بِعِلْمِ ذَلِكَ ، كَيْفَ يَصْلُحُ أَنْ يُؤَدِّبَ زَوْجَتَهُ وَوَلَدَهُ ، قَدْ أَخَذَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْهِ تَعْلِيمَهُمْ مَا جَهِلُوهُ. مَا أَسْوَأَ حَالَ مَنْ تَوَانَى عَنْ تَأْدِيبِ نَفْسِهِ وَرِيَاضَتِهَا بِالْعِلْمِ وَمَا أَحْسَنَ حَالَ مَنْ عَنِّي بِتَأْدِيبِ نَفْسِهِ ، وَعَلِمَ مَا أَمَرَهُ اللَّهُ عز وجل بِهِ وَمَا نَهَاهُ عَنْهُ ، وَصَبَرَ عَلَى مُخَالَفَةِ نَفْسِهِ ، وَاسْتَعَانَ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ عَلَيْهَا
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলী বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা বিন ইসমাইল, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু মুকাতিল অর্থাৎ হাফস বিন সালম, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আউন বিন আবি শাদ্দাদ, তিনি হাসান (আল-বাসরি) থেকে বর্ণনা করেন, লোকমান (আলাইহিস সালাম) তাঁর পুত্রকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তাতে রয়েছে: "হে বৎস! জ্ঞান (আকল) ব্যতীত তুমি ঈমান দ্বারা উপকৃত হতে পারবে না। কেননা ঈমান হলো সম্মুখ পরিচালক, আমল হলো পশ্চাৎ চালক, আর প্রবৃত্তি হলো অবাধ্য পশুর মতো। যদি তার চালক (পিছন থেকে চালনাকারী) অলস হয়ে পড়ে, তবে সে পথ হারায় এবং তার মালিকের জন্য সোজা পথে থাকে না। আর যদি তার সম্মুখ পরিচালক অলস হয়, তবে সে থেমে যায় (অবাধ্য হয়), ফলে তার চালক আর উপকৃত হতে পারে না। যখন এই দুটি (পরিচালক ও চালক) একত্রিত হয়, তখন সে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়—সোজা পথে চলে। আর দ্বীন স্বেচ্ছায় ও অনিচ্ছায় পালন করা ব্যতীত সুদৃঢ় হয় না। মানুষ যদি দ্বীনের কোনো বিষয় অপছন্দ হওয়ামাত্রই তা ত্যাগ করে, তবে অচিরেই মহান আল্লাহর দ্বীনের কোনো কিছুই তার কাছে অবশিষ্ট থাকবে না। সুতরাং নিজের প্রবৃত্তির জন্য সামান্য ঈমানে পরিতৃপ্ত হয়ো না, আর তার জন্য দুর্বল আমলেও সন্তুষ্ট থেকো না। মহান আল্লাহর সামান্যতম নাফরমানির ক্ষেত্রেও তাকে (নফসকে) শিথিলতা দিও না, আর হারামকে হালাল করার কোনো প্রতিশ্রুতি তাকে দিও না। কেননা প্রবৃত্তিকে যখন লোভ দেখানো হয় তখন সে লোভী হয়, আর যখন তাকে নিরাশ করা হয় তখন সে নিরাশ হয়। যখন তুমি তাকে পরিতৃপ্ত করবে সে তুষ্ট থাকবে, আর যখন তাকে ঢিল দেবে তখন সে অবাধ্য হবে। যদি তুমি তাকে শাসন করো তবে সে শাসিত হয়, আর যদি তার প্রতি দৃঢ় সংকল্প করো তবে সে আনুগত্য করে। যদি তুমি সবকিছু তার ওপর ন্যস্ত করো তবে সে মন্দ কাজ করবে, আর যদি তাকে আল্লাহর আদেশের ওপর পরিচালিত করো তবে সে সংশোধন হবে। যদি তুমি কর্তৃত্ব ⦗পৃষ্ঠা: ২৬৬⦘ তার হাতে ছেড়ে দাও তবে সে কলুষিত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমার প্রবৃত্তির বিষয়ে সতর্ক থাকো এবং তোমার দ্বীনের প্রশ্নে তাকে অভিযুক্ত করো। তাকে এমন একজনের স্থলাভিষিক্ত করো যার তার প্রতি কোনো প্রয়োজন নেই, অথচ তাকে ছাড়া উপায়ও নেই। কারণ তার বাতিলের প্রতি তোমার কোনো প্রয়োজন নেই, তবে তাকে অভিযুক্ত করা ছাড়া তোমার কোনো গত্যন্তর নেই। তাকে শাসনে রাখতে গাফেল হয়ো না, অন্যথায় সে তোমাকে নষ্ট করে দেবে। তাকে নিরাপদ মনে করো না, অন্যথায় সে তোমার ওপর বিজয়ী হয়ে যাবে। কেননা যে ব্যক্তি নিজেকে সংশোধন করে সোজা পথে পরিচালিত করে, তার উচিত হবে নিজেকে এবং অন্যদেরকে উপকৃত করা। আর যার ওপর তার প্রবৃত্তি বিজয়ী হয়, মানুষের প্রবৃত্তি তার ওপর বিজয়ী হওয়ার অধিক যোগ্য। যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির কাছেই দুর্বল, সে মানুষের প্রবৃত্তির সামনে কেন দুর্বল হবে না? প্রবৃত্তির কোনো বিষয়ে তাকে কীভাবে বিশ্বাস করা যেতে পারে, যখন সে নিজের প্রবৃত্তির বিষয়েই অভিযুক্ত? যে ব্যক্তি নিজেকেই পথভ্রষ্ট করেছে, তার মাধ্যমে অন্যরা কীভাবে পথ পাবে? আর যে ব্যক্তি নিজের নসিব থেকেই বঞ্চিত হয়েছে, তার কাছে কী আশা করা যায়? হে বৎস! হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা তাদেরকে মার্জিত করো এবং এর সাহায্য নাও। প্রবৃত্তি তোমার অনুকূলে থাক বা প্রতিকূলে, সত্যের ওপর অবিচল থাকো এবং প্রজ্ঞাবানদের অন্তর্ভুক্ত হও। কেননা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি কষ্টকর কাজের মাধ্যমে নিজেকে বশীভূত করেন যতক্ষণ না সে সত্যকে স্বীকার করে। আর নির্বোধ ব্যক্তি তার প্রবৃত্তিকে চরিত্রের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেয়; প্রবৃত্তি যা ভালোবাসে সেও তা ভালোবাসে, আর যা অপছন্দ করে সেও তা অপছন্দ করে।" ⦗পৃষ্ঠা: ২৬৭⦘ আবু বকর বলেন: আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন, লোকমান হাকিম থেকে যা শুনছেন তা অনুধাবন করুন। জেনে রাখুন, যে ব্যক্তি নিজের আত্মার জন্য চিকিৎসক হতে পারল না, সে অন্যের আত্মার চিকিৎসক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আর যে ব্যক্তি নিজেকে শিষ্টাচার শেখাতে পারল না, সে অন্যকে শিষ্টাচার শেখাতে পারবে না। আরও জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ নিজের আত্মার বিষয়ে তাকে যা আদেশ করেছেন এবং যা নিষেধ করেছেন, সে সম্পর্কে যার ইলম বা জ্ঞান নেই এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ী যে নিজেকে পরিচালিত করল না, সে কীভাবে তার স্ত্রী ও সন্তানকে শিষ্টাচার শেখানোর যোগ্য হতে পারে? অথচ মহান আল্লাহ তাদের অজানা বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করেছেন। সেই ব্যক্তির অবস্থা কতই না মন্দ, যে ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে নিজেকে প্রশিক্ষিত করার বিষয়ে অলসতা করে। আর সেই ব্যক্তির অবস্থা কতই না উত্তম, যে নিজেকে শিক্ষিত করার ব্যাপারে যত্নবান, এবং সে জানে আল্লাহ তাকে কী আদেশ করেছেন ও কী নিষেধ করেছেন, আর নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণে ধৈর্য ধারণ করে এবং তার বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে।
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬৭)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ ، ثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْوَاسِطِيُّ ، ثنا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، ثنا سَيَّارُ بْنُ حَاتِمٍ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ الْأَسْوَدِ الْقَسْمَلِيُّ ، قَالَ: سَمِعْتُ قَتَادَةَ ، يَقُولُ: " يَا ابْنَ آدَمَ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ أَنْ لَا ، تَأْتِيَ الْخَيْرَ إِلَّا عَلَى نَشَاطٍ ، فَإِنَّ نَفْسَكَ إِلَى السَّآمَةِ وَالْفُتُورِ وَالْكَلَلِ أَقْرَبُ ، وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ هُوَ الْعَجَّاجُ ، وَالْمُؤْمِنُ هُوَ الْمُتَوَقِّي ، وَالْمُؤْمِنُ هُوَ الْمُتَشَدِّدُ ، وَإِنَّ الْمُؤْمِنِينَ هُمُ الْجَائِرُونَ إِلَى اللَّهِ عز وجل بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَاللَّهِ مَا زَالَ الْمُؤْمِنُونَ يَقُولُونَ: رَبَّنَا رَبَّنَا ، فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ حَتَّى اسْتَجَابَ لَهُمْ "
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হারুন ইবনে আবদুল্লাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাইয়্যার ইবনে হাতিম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জাফর ইবনে সুলাইমান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাজ্জাজ ইবনে আসওয়াদ আল-কাসমালি, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে বলতে শুনেছি: "হে আদম সন্তান! তুমি যদি কেবল সজীবতা ও উদ্যম থাকলেই ভালো কাজ করতে চাও, তবে জেনে রেখো তোমার প্রবৃত্তি একঘেয়েমি, অবসাদ ও ক্লান্তিরই বেশি নিকটবর্তী। কিন্তু প্রকৃত মুমিন হলেন তিনি যিনি ইবাদতে ও প্রার্থনায় সোচ্চার, মুমিন হলেন অত্যন্ত সতর্ক-সংযত, এবং মুমিন হলেন ইবাদতে কঠোর পরিশ্রমী। নিশ্চয়ই মুমিনগণ হলেন তারা, যারা দিনরাত আল্লাহ মহাসম্মানিত ও মহাপরাক্রমশালীর দরবারে বিনীতভাবে আর্তনাদ করেন। আল্লাহর কসম! মুমিনগণ গোপনে ও প্রকাশ্যে ক্রমাগত বলতে থাকেন: 'হে আমাদের রব! হে আমাদের রব!' যতক্ষণ না তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেন।"
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬৮)
‌‌مُلْحَقٌ فِي تَتْمِيمِ النَّقْصِ الْوَاقِعِ فِي الْمَخْطُوطِ مِنْ «ذَمِّ الْهَوَى» لِابْنِ الْجَوْزِيِّ
ইবনুল জাওযী বিরচিত ‘যাম্মুল হাওয়া’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান অসম্পূর্ণতা পূরণে একটি পরিশিষ্ট
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬৮)
16 - قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرٍ، قَالَا: أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَلَّافُ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ بِشْرَانَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْآجُرِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَطَشِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الْعَاقُولِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ رَوْحٍ ، (ح) . وَأَخْبَرَنَا ابْنُ ناصرٍ ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الصُّورِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ السَّعْدِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَزِيدَ الْقَرَاطِيسِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ الْوَلِيدِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ بَقِيَّةَ ، وَاللَّفْظُ لَهُ قَالَا: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سِنَانٍ ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ الْبُجَيْرِ ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: أَصَابَ النَّبِيَّ يَوْمًا جُوعٌ شَدِيدٌ ، فَوَضَعَ حَجَرًا عَلَى بَطْنِهِ ، ثُمَّ قَالَ: «أَلَا رُبَّ نَفْسٍ طَاعِمَةٍ نَاعِمَةٍ فِي الدُّنْيَا ، جائعةٌ عَارِيَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، أَلَا رُبَّ مُكْرِمٍ لِنَفْسِهِ وَهُوَ لَهَا مُهِينٌ ، أَلَا رُبَّ مُهِينٍ لِنَفْسِهِ وَهُوَ لَهَا مُكْرِمٌ ، أَلَا يَا رُبَّ مُتَخَوِّضٍ مُتَنَعِّمٍ فِيمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مَا لَهُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ خَلَاقٍ ، أَلَا وَإِنَّ عَمَلَ الْجَنَّةِ حُزْنَةٌ بِرَبْوَةٍ ، أَلَا وَإِنَّ عَمَلَ النَّارِ سَهْلَةٌ بِسَهْوَةٍ ، أَلَا رُبَّ شَهْوَةِ ⦗ص: 269⦘ سَاعَةٍ أَوْرَثَتْ حُزْنًا طَوِيلًا»
১৬ - ইবনুল জাওযী বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আলী এবং মুহাম্মদ বিন নাসির, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ আল-আল্লাফ, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন বিশরান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-আজুররী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আতশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আল-আকুলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রাবী বিন রাওহ, (হ)। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুন নাসির, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আস-সুরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন উমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ আস-সা’দী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন ইয়াযীদ আল-কারাতীসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুআল্লা বিন আল-ওয়ালীদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন বাকিয়্যাহ—আর হাদীসের শব্দগুলো তাঁরই—তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন সিনান, আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি জুবাইর বিন নুফাইর থেকে, তিনি ইবনুল বুজাইর থেকে—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাহাবী ছিলেন—তিনি বর্ণনা করেন: একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হলেন, তখন তিনি তাঁর পেটে একটি পাথর বাঁধলেন। অতঃপর তিনি বললেন: “জেনে রেখো! দুনিয়াতে তৃপ্ত ও বিলাসিতায় মগ্ন অনেক ব্যক্তিই কিয়ামতের দিন ক্ষুধার্ত ও উলঙ্গ অবস্থায় থাকবে। সাবধান! অনেক ব্যক্তিই নিজের নফসকে সম্মানিত করে অথচ সে মূলত তাকে অপমানিতই করে। সাবধান! অনেক ব্যক্তিই নিজের নফসকে তুচ্ছ করে অথচ সে মূলত তাকে সম্মানিতই করে। সাবধান! সেই ভোগবিলাসে মত্ত ব্যক্তির ব্যাপারে, যে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যা প্রদান করেছেন (ফাই সম্পদ) তা নিয়ে বিলাসিতা করে; আল্লাহর নিকট তার কোনো অংশ নেই। জেনে রেখো, জান্নাতের আমল হলো টিলার ওপর বন্ধুর পথের মতো। আর জাহান্নামের আমল হলো সমতলের সহজ পথের মতো। সাবধান! ⦗পৃষ্ঠা: ২৬৯⦘ ক্ষণিকের লালসা দীর্ঘস্থায়ী দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৬৯)
17 - وَقَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ قَالَا: أَنْبَأَنَا ابْنُ الْعَلّافِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ بِشْرَانَ، قَالَ: حَدَّثَنا أََبُو بَكْرٍ الْآجُرِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَنَانُ بْنُ أَحْمَدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ الْحَجَّاجِ ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: " حَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا ، وَزِنُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُوزَنُوا ، فَإِنَّهُ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ فِي الْحِسَابِ غَدًا أَنْ تُحَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَتَزَيَّنُوا لِلْعَرْضِ الْأَكْبَرِ: {يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ ، لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ} [الحاقة: 18] "
১৭ - এবং তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ও আবদুল্লাহ বিন আলী, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল আল্লাফ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল মালিক বিন বিশরান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-আজুররী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বানান বিন আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন বিন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, জা'ফর বিন বুরকান থেকে, তিনি সাবিত বিন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো তোমাদের হিসাব গ্রহণের পূর্বে, এবং নিজেদের ওজন করো তোমাদের ওজন করার পূর্বে। কেননা কিয়ামতের দিনের জন্য তোমাদের আজ নিজেদের হিসাব গ্রহণ করা আগামীকালের হিসাবের ক্ষেত্রে অধিক সহজ হবে। আর তোমরা মহা প্রদর্শনীর জন্য সুসজ্জিত হও: {সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে, তোমাদের কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকবে না} [আল-হাক্কাহ: ১৮]"
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৭০)
18 - وَبِهِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْآجُرِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ الزَّعْفَرَانِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ النَّاجِيُّ ، أَنَّهُ سَمِعَ الْحَسَنَ ، يَقُولُ: «حَادِثُوا هَذِهِ الْقُلُوبَ ، فَإِنَّهَا سَرِيعَةُ الدُّثُورِ ، وَاقْرِعُوا هَذِهِ الْأَنْفُسَ ، فَإِنَّهَا ⦗ص: 271⦘ طَلْعَةٌ ، وَإِنَّهَا تُنَازِعُ إِلَى شَرِّ غَايَةٍ ، وَإِنَّكُمْ إِنْ تُقَارِبُوهَا لَمْ تُبْقِ لَكُمْ مِنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا ، فَتَصْبَرُوا وَتَشُدُّوا ، فَإِنَّمَا هِيَ لَيَالٍ تَعُدُّ ، وَإِنَّمَا أَنْتُمْ رَكْبٌ وُقُوفٌ ، يُوشِكُ أَنْ يُدْعَى أَحَدُكُمْ فَيُجِيبُ وَلَا يَلْتَفِتُ ، فَانْقَلِبُوا بِصَالِحِ مَا بِحَضْرَتِكُمْ ، إِنَّ هَذَا الْحَقَّ أَجْهَدَ النَّاسَ ، وَحَالَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ شَهَوَائِهِمْ ، وَإِنَّمَا صَبَرَ عَلَى هَذَا الْحَقِّ مَنْ عَرَفَ فَضْلَهُ ، وَرَجَا عَاقِبَتَهُ»
১৮ - এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: আল-আজরুরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল হামীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-জা’ফরানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদাহ আল-নাজী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হাসান (বাসরী)-কে বলতে শুনেছেন: "তোমরা এই অন্তরগুলোকে উপদেশ দান করো, কেননা এগুলো দ্রুত মলিন হয়ে যায়। আর এই নফসগুলোকে শাসন করো, কেননা এগুলো ⦗পৃষ্ঠা: ২৭১⦘ অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষী এবং এগুলো নিকৃষ্ট পরিণতির দিকে প্রলুব্ধ করে। যদি তোমরা সেগুলোর অনুগামী হও, তবে তা তোমাদের আমলের কিছুই অবশিষ্ট রাখবে না। সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং সুদৃঢ় থাকো, কারণ এই জীবন তো কেবল গুটি কয়েক গণনাযোগ্য রাত মাত্র। আর তোমরা তো যাত্রাপথে বিরতি নেওয়া আরোহী দল মাত্র; শীঘ্রই তোমাদের মধ্য থেকে কাউকে ডাকা হবে এবং সে কোনো দিকে না তাকিয়েই তাতে সাড়া দেবে। অতএব তোমাদের সামনে উপস্থিত নেক আমল নিয়ে প্রত্যাবর্তন করো। নিশ্চয়ই এই সত্য মানুষকে পরিশ্রান্ত করেছে এবং তাদের ও তাদের কুপ্রবৃত্তির মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই সত্যের ওপর কেবল তারাই ধৈর্য ধারণ করে যারা এর শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করেছে এবং এর শুভ পরিণামের আশা রাখে।"
(খণ্ড: ১) আদাবুন নুফুস লিল আজুররি (পৃষ্ঠা: ২৭১)
19 - وَبِهِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْآجُرِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، قَالَ: أَنْبَأَنَا وَرْقَاءُ ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، فِي قَوْلِهِ: {وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ} [القيامة: 2] قَالَ: «تَنْدَمُ عَلَى مَا فَاتَ ، وَتَلُومُ نَفْسَهَا»
১৯ - এবং একই সূত্রে তিনি বলেন: আল-আজুররি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আবি দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব বিন আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ারকা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে (বর্ণনা করেন), মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {এবং আমি শপথ করি তিরস্কারকারী আত্মার} [আল-কিয়ামাহ: ২], তিনি বলেন: «এটি যা অতীত হয়ে গেছে তার জন্য অনুতপ্ত হয় এবং নিজ আত্মাকে তিরস্কার করে»