(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
ذم الغيبة والنميمة لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ذم الغيبة والنميمة

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281 هـ)

حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه: بشير محمد عيون [ت 1431 هـ]

الناشر: مكتبة دار البيان، دمشق - سورية، مكتبة المؤيد، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 47

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আবি দুনিয়ার গীবত ও চোগলখোরির নিন্দা   (ইবনে আবি দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: গীবত ও চোগলখোরির নিন্দা

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবি দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

সম্পাদনা, হাদিস যাচাই ও টীকা প্রদান: বশির মুহাম্মদ উয়ুন [মৃত্যু ১৪৩১ হিজরি]

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল বায়ান, দামেস্ক - সিরিয়া, মাকতাবাতুল মুআইয়িদ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌بَابُ ذَمِّ الْمِرَاءِ
তর্ক-বিতর্কের নিন্দার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥)
قَالَ الْإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْقُرَشِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي الدُّنْيَا سَنَةَ ثَمَانٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَتَيْنِ:

 

1 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَسْتَكْمِلُ عَبْدٌ حَقِيقَةَ الْإِيمَانِ حَتَّى يَدَعَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا وَيَدَعَ كَثِيرًا مِنَ الْحَدِيثِ مَخَافَةَ الْكَذِبِ»
ইমাম আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত, দুইশত আটাত্তর হিজরি সনে বলেছেন:

 

১ - সাঈদ ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্বাদ ইবনুল আওয়াম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো বান্দা ঈমানের হাকীকত পূর্ণ করতে পারে না যতক্ষণ না সে বিতর্ক বর্জন করে—যদিও সে সত্যের ওপর থাকে, এবং মিথ্যার ভয়ে অতিরিক্ত কথা বলা ছেড়ে দেয়।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥)
2 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَرْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ» فَقَالَ أَصْحَابُهُ: مَا هَذَا الَّذِي قُلْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَهُوَ مُحِقٌّ بُنِيَ لَهُ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ، وَمَنْ تَرَكَ الْكَذِبَ بُنِيَ لَهُ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ، وَمَنْ حَسُنَ خُلُقُهُ بُنِيَ لَهُ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ»
২ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হারুন বিন মারূফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আনাস বিন ইয়াদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সালামাহ বিন ওয়ারদান থেকে, তিনি বলেন: মালিক বিন আউস বিন আল-হাদাসান আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «অবধারিত হয়ে গেছে, অবধারিত হয়ে গেছে, অবধারিত হয়ে গেছে»। তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা বললেন তা কী? তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে, তার জন্য জান্নাতের প্রান্তদেশে (ঘর) নির্মাণ করা হবে; যে ব্যক্তি মিথ্যা বর্জন করবে, তার জন্য জান্নাতের প্রান্তদেশে (ঘর) নির্মাণ করা হবে; এবং যার চরিত্র সুন্দর হবে, তার জন্য জান্নাতের প্রান্তদেশে (ঘর) নির্মাণ করা হবে।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥)
3 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ، ثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ خَالِدٍ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ يُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ»
3 - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ ইবনুল মিকদাম আল-ইজলি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উমায়্যাহ ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইবনে কাব ইবনে মালিক তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আলিমদের সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য, অথবা নির্বোধদের সাথে বিতর্ক করার জন্য, অথবা মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে আকর্ষণ করার জন্য ইলম অন্বেষণ করে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٦)
4 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ شَابُورَ، قَالَ: سَمِعْتُهُ مِنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ: قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ: «أَيْ بُنَيَّ لَا تَعْلَمِ الْعِلْمَ تَبَاهِي به الْعُلَمَاءَ أَوْ تُمَارِي بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ تَرَائِي بِهِ فِي الْمَجَالِسِ»
৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুর রহমান আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবন শাবুর থেকে, তিনি বলেন: আমি এটি শাহর ইবন হাওশাব থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: লুকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: «হে বৎস! তুমি আলিমদের সাথে অহংকার করার জন্য, নির্বোধদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য কিংবা মজলিসগুলোতে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করো না।’»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٦)
5 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ حُرَيْثِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تُجَارِ أَخَاكَ وَلَا تُشَارِهِ وَلَا تُمَارِهِ»
৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে জামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুরাইস ইবনে আমর থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, তার অনিষ্ট করো না এবং তার সাথে বিতর্ক করো না।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٦)
7 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا الْمَسْعُودِيُّ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَوْلَايَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّائِبِ، قَالَ: " كُنْتُ شَرِيكَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ قَالَ لِي: «أَتَعْرِفُنِي؟ .» قُلْتُ: نَعَمْ كُنْتَ شَرِيكِي فَنِعْمَ الشَّرِيكُ كُنْتَ لَا تُدَارِي وَلَا تُمَارِي "
৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে জামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-মাসউদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার মনিব আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “জাহিলিয়াতের যুগে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অংশীদার ছিলাম। অতঃপর যখন আমি মদিনায় আসলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: ‘তুমি কি আমাকে চেনো?’ আমি বললাম: হ্যাঁ, আপনি আমার অংশীদার ছিলেন; আর আপনি কতই না উত্তম অংশীদার ছিলেন, আপনি ছলচাতুরি করতেন না এবং বিবাদও করতেন না।”
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٦)
8 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا عَتَّابُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، قَالَ: قِيلَ لِمَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ: " مَا لَكَ لَا يُفَارِقُكَ أَخٌ لَكَ عَنْ قِلًى؟، قَالَ: «إِنِّي لَا أُشَارِيهِ وَلَا أُمَارِيهِ»
৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আত্তাব বিন বাশীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন বাযীমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মায়মুন বিন মিহরানকে বলা হলো, "কী কারণে আপনার কোনো ভাই বিতৃষ্ণাবশত আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না?" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি তার সাথে হঠকারিতা করি না এবং তার সাথে বিতর্ক করি না।"
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي ذَمِّ التَّقَعُّرِ فِي الْكَلَامِ
কথাবার্তায় কৃত্রিম পাণ্ডিত্য বা আড়ম্বর প্রদর্শনের নিন্দা সম্পর্কিত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٧)
10 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا دَيْلَمُ بْنُ غَزْوَانَ، عَنْ مَيْمُونٍ الْكُرْدِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي كُلُّ مُنَافِقٍ عَلِيمُ اللِّسَانِ»
১০ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবন উমর আল-জুশামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট দাইলাম ইবন গাজওয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি মাইমুন আল-কুর্দি থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি, তা হলো প্রত্যেক বাগ্মী মুনাফিক (মুখে জ্ঞানী)»।
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٧)
11 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: جَاءَ عُمَرُ بْنُ سَعْدٍ إِلَى أَبِيهِ يَسْأَلُهُ حَاجَةً فَتَكَلَّمَ بَيْنَ يَدَيْ حَاجَتِهِ بِكَلَامٍ، فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ: مَا كُنْتَ مِنْ حَاجَتِكَ أَبْعَدَ مِنْكَ الْيَوْمَ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «يَأْتِي النَّاسَ زَمَانٌ يَتَخَلَّلُونَ فِيهِ الْكَلَامَ بِأَلْسِنَتِهِمْ كَمَا تَتَخَلَّلُ الْبَقَرُ الْكَلَأَ بِأَلْسِنَتِهَا»
১১ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবন গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবন আবি খালিদ থেকে বর্ণিত, মুসআব ইবন সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবন সাদ তার পিতার নিকট কোনো এক প্রয়োজনে আসলেন এবং তার প্রয়োজন পেশ করার পূর্বে অনেক ভূমিকা ও কথা বললেন। তখন সাদ তাকে বললেন: তোমার প্রয়োজন পূরণ হওয়া থেকে আজকের চেয়ে অধিক দূরে তুমি আর কখনো ছিলে না। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তারা তাদের জিহ্বা দিয়ে কথাকে এমনভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলবে (বাকচাতুরী করবে), যেমনটি গাভী তার জিহ্বা দিয়ে ঘাস নাড়াচাড়া করে থাকে।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٨)
12 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التُّرْجُمَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «شِرَارُ أُمَّتِي الَّذِينَ غُذُّوا بِالنِّعَمِ يَأْكُلُونَ أَلْوَانَ الطَّعَامِ وَيَلْبَسُونَ أَلْوَانَ الثِّيَابِ وَيَتَشَدَّقُونَ فِي الْكَلَامِ»
১২ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম আত-তুরজুমানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামীদ ইবনে জাফর আল-আনসারী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো তারা যারা নেয়ামত ও বিলাসিতার মধ্যে লালিত-পালিত হয়েছে; তারা হরেক রকমের খাবার খায়, রঙ-বেরঙের পোশাক পরিধান করে এবং কথা বলার সময় বাগাড়ম্বর করে (মুখিয়ে কথা বলে)।’»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٨)
13 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَرْمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ النَّحْوِيُّ ثنا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا صَخْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ بِالْكُوفَةِ فِي مَجْلِسٍ مَعَ أَصْحَابِهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا، وَإِنَّ مِنَ الْعِلْمِ جَهْلًا، وَإِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكَمًا، وَإِنَّ مِنَ الْقَوْلِ عِيَالًا» قَالَ صَعْصَعَةُ بْنُ صُوحَانَ - وَهُوَ أَحْدَثُ الْقَوْمِ سِنًّا: صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَوْ لَمْ يَقُلْهَا كَانَ كَذَلِكَ. قَالَ: فَتَوَسَّمَهُ رَجُلٌ مِنَ الْجُلَسَاءِ فَقَالَ لَهُ بَعْدَمَا تَصَدَّعَ الْقَوْمُ مِنْ مَجْلِسِهِمْ: مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ قُلْتَ: صَدَقَ نَبِيُّ اللَّهِ وَإِنْ لَمْ يَقُلْ كَانَ كَذَلِكَ؟ قَالَ: بلى أَمَّا قَوْلُ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا» فَالرَّجُلُ يَكُونُ عَلَيْهِ الْحَقُّ وَهُوَ أَلْحَنُ بِالْحُجَجِ مِنْ صَاحِبِ الْحَقِّ فَيَسْحَرُ الْقَوْمَ بِبَيَانِهِ فَيَذْهَبُ الْحَقُّ وَهُوَ عَلَيْهِ. وَأَمَّا قَوْلُهُ: «إِنَّ مِنَ الْعِلْمِ جَهْلًا» : تَكَلُّفُ الْعَالِمِ إِلَى عِلْمِهِ مَا لَا يَعْلَمُ فَيُجَهِّلُهُ ذَلِكَ، وَأَمَّا قَوْلُهُ: «إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكَمًا» : فَهِيَ هَذِهِ الْمَوَاعِظُ وَالْأَمْثَالُ الَّتِي يَعِظُ بِهَا النَّاسَ. وَأَمَّا قَوْلُهُ: «إِنَّ مِنَ الْقَوْلِ عِيَالًا» فَعَرْضُكَ كَلَامَكَ وَحَدِيثُكَ عَلَى مَنْ لَيْسَ مِنْ شَأْنِهِ وَلَا يُرِيدُ
১৩ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-জারমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু তামািলাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু জাফর আন-নাহবি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাখর বিন আবদুল্লাহ বিন বুরাইদাহ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (দাদা) বলেন: তিনি যখন কুফায় তাঁর সাথীদের সাথে একটি মজলিসে বসা ছিলেন, তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতায় জাদু রয়েছে, নিশ্চয়ই কোনো কোনো জ্ঞানে অজ্ঞতা রয়েছে, নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে এবং নিশ্চয়ই কোনো কোনো কথা বোঝা স্বরূপ» সা'সা'আ বিন সুহান—যিনি উপস্থিত লোকদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট ছিলেন—বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন, আর তিনি যদি এটি নাও বলতেন তবুও বিষয়টি এমনই হতো। তিনি বলেন: মজলিসের একজন ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করলেন এবং লোকজন মজলিস থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁকে বললেন: আপনাকে কোন বিষয়টি এ কথা বলতে প্ররোচিত করল যে, 'আল্লাহর নবী সত্য বলেছেন, আর তিনি না বললেও বিষয়টি এমনই হতো'? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতায় জাদু রয়েছে» এর অর্থ হলো, একজন ব্যক্তির উপর কোনো অধিকার বা দাবি থাকে, কিন্তু সে প্রকৃত হকদারের চেয়ে অধিক সুনিপুণভাবে দলিল উপস্থাপন করতে পারে; ফলে সে তার বাগ্মিতা দিয়ে লোকজনকে মোহিত করে ফেলে এবং সত্য তার বিপক্ষে থাকা সত্ত্বেও সে তা নিয়ে যায়। আর তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো জ্ঞানে অজ্ঞতা রয়েছে» এর অর্থ হলো, কোনো জ্ঞানীর তার জ্ঞানের সাথে এমন বিষয়ে কষ্টকল্পিত পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করা যা সে জানে না, ফলে তা তাকে অজ্ঞ প্রতিপন্ন করে। আর তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে» এর অর্থ হলো, এগুলি হলো সেই সব উপদেশ ও দৃষ্টান্ত যা দ্বারা মানুষকে উপদেশ দেওয়া হয়। আর তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো কথা বোঝা স্বরূপ» এর অর্থ হলো, তোমার কথা ও আলোচনা এমন ব্যক্তির নিকট পেশ করা যার এর সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং যে তা শুনতে চায় না।
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٩)
14 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْوِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: «إِنَّ شَقَاشِقَ الْكَلَامِ مِنْ شَقَاشِقِ الشَّيْطَانِ»
১৪ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আল-আযদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারভী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "নিশ্চয়ই কথার বাকচাতুর্য শয়তানের প্ররোচনা থেকে।"
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٠)
حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، وَالْقَوَارِيرِيُّ، قَالَا حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عَتِيقٍ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلَا هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ»
আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু খাইসামা ও আল-কাওয়ারীরী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ইয়াহইয়া আল-কাত্তান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে আতিক আমাকে অবহিত করেছেন তালক ইবনে হাবীব থেকে, তিনি আল-আহনাফ ইবনে কায়স থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "সাবধান! অতিরঞ্জনকারীরা ধ্বংস হয়েছে।" তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন।
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌بَابُ ذَمِّ الْخُصُومَاتِ
বিবাদসমূহের নিন্দা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٠)
15 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ أَبُو فَاطِمَةَ، حَدَّثَنَا رَجَاءُ أَبُو يَحْيَى، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ جَادَلَ فِي خُصُومَةٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللَّهِ حَتَّى يَنْزِعَ»
১৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আজহার ইবনে মারওয়ান আর-রাকাশি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, মিসকিন আবু ফাতিমা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, রাজা আবু ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়াই কোনো বিবাদে লিপ্ত হয়ে বিতর্ক করে, সে আল্লাহর ক্রোধের মধ্যে থাকে যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٠)
16 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَامِرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنِ الْأَشْجَعِيِّ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ الْمَلَّاحِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ، يَقُولُ: «إِيَّاكُمْ وَالْخُصُومَاتِ فَإِنَّهَا تَمْحَقُ الدِّينَ» وَحَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَهُ يَقُولُ: «وَتُوَرِّثُ الشَّنَآنَ وَتُذْهِبُ الِاجْتِهَادَ»
১৬ - আব্দুল্লাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল হুসাইন আল-আমিরী আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নাযর হাশিম ইবনুল কাসিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-আশজাঈ থেকে বর্ণিত, রাবী ইবনুল মাল্লাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: “তোমরা ঝগড়া-বিবাদ থেকে সতর্ক থাকো, কারণ তা দীনকে মিটিয়ে দেয়।” আর আমাকে এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: “এবং তা শত্রুতার জন্ম দেয় ও ইবাদতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা দূর করে দেয়।”
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٠)
17 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ شُجَاعٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، قَالَ: «مَا خَاصَمَ وَرِعٌ قَطُّ - يَعْنِي - فِي الدِّينِ»
১৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা এবং আহমদ ইবন মানি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মারওয়ান ইবন শুজা‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল কারীম ইবন আবি উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «কোনো পরহেযগার ব্যক্তি কখনো বিতর্ক করেনি—অর্থাৎ—দ্বীনের বিষয়ে।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٠)
18 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ مُسْلِمٍ، قَالَ: قَالَ عَامِرٌ: «لَقَدْ تَرَكَتْنِي هَذِهِ الصَّعَافِقَةُ وَلَلْمَسْجِدُ أَبْغَضُ إِلَيَّ مِنْ كُنَاسَةِ دَارِي» يَعْنِي أَصْحَابَ الْقِيَاسِ
১৮ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালিহ বিন মুসলিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমির বলেছেন: «এই রিক্তহস্ত জ্ঞানহীনরা (সাআফিকাহ) আমাকে এমন অবস্থায় ছেড়েছে যে, মসজিদ আমার নিকট আমার বাড়ির আবর্জনার চেয়েও অধিক অপ্রিয় হয়ে পড়েছে» অর্থাৎ তিনি কিয়াসপন্থীদের (অনুমাননির্ভর রায়পন্থীদের) বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٠)
19 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، ثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ⦗ص: 11⦘ مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَبْغَضَ الرِّجَالِ إِلَى اللَّهِ عز وجل الْأَلَدُّ الْخَصِمُ»
১৯ - আব্দুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু খাইসামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবন জুরাইজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘ মুলাইকাহ থেকে, আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি হলো অতিশয় ঝগড়াটে ও বিবাদপ্রিয় ব্যক্তি।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١١)
20 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ شُبُّوَيْهِ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ بْنِ أَسْمَاءَ، عَنْ سَلْمِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: مَرَّ بِي بَشِيرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ فَقَالَ: «مَا يُجْلِسُكَ؟» قُلْتُ: خُصُومَةٌ بَيْنِي وَبَيْنَ ابْنِ عَمٍّ لِي ادَّعَى شَيْئًا فِي دَارِي. قَالَ: " فَإِنَّ لِأَبِيكَ عِنْدِي يَدًا وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَجْزِيَكَ بِهَا وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مِنَ شَيْءٍ أَذْهَبَ لِدِينٍ، وَلَا أَنْقَصَ لِمُرُوءَةٍ، وَلَا أَضْيَعَ لِلَذَّةٍ، وَلَا أَشْغَلَ لَقَلْبٍ مِنْ خُصُومَةٍ، قَالَ: فَقُمْتُ لِأَرْجِعَ. فَقَالَ خَصْمِي: مَا لَكَ؟ قُلْتُ: لَا أُخَاصِمُكَ. قَالَ: عَرَفْتَ أَنَّهُ حَقِّي. قُلْتُ: لَا، وَلَكِنَّي أُكْرِمُ نَفْسِي عَنْ هَذَا، وَسَأُبَّقِيكَ بِحَاجَتِكَ. قَالَ: فَإِنِّي لَا أَطْلُبُ مِنْهُ شَيْئًا هُوَ لَكَ. قَالَ: فَمَرَرْتُ بَعْدَ يَسِيرٍ وَهُوَ يُخَاصِمُ فَذَكَّرْتُهُ قَوْلَهُ، قَالَ: لَوْ كَانَ قَدْرَ خُصُومَتِكَ عَشْرَ مَرَّاتٍ فَعَلْتُ، وَلَكِنَّهُ مِرْغَابٌ أَكْثَرَ مِنْ عِشْرِينَ أَلْفَ أَلْفٍ "
২০ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে হানি আমাকে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে শুবওয়াইহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে সালিহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাকে বর্ণনা করেছেন, জুওয়াইরিয়াহ ইবনে আসমা থেকে বর্ণিত, সালম ইবনে কুতাইবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বাশির ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি বাকরাহ আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি বললেন: "তুমি কেন বসে আছো?" আমি বললাম: "আমার ও আমার এক চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে বিবাদ চলছে, সে আমার বাড়ির একটি জিনিসের দাবি করেছে।" তিনি বললেন: "তোমার পিতার একটি অনুগ্রহ (হাত) আমার উপর রয়েছে এবং আমি এর প্রতিদান তোমাকে দিতে চাই। আল্লাহর কসম, আমি বিবাদ-ঝগড়ার চেয়ে দ্বীনকে অধিক বিনষ্টকারী, ব্যক্তিত্বকে অধিক হ্রাসকারী, আনন্দকে অধিক ধ্বংসকারী এবং অন্তরকে অধিক ব্যস্তকারী আর কিছু দেখিনি।" তিনি (সালম) বলেন: তখন আমি ফিরে যাওয়ার জন্য দাঁড়ালাম। আমার প্রতিপক্ষ বলল: "তোমার কী হয়েছে?" আমি বললাম: "আমি তোমার সাথে আর বিবাদ করব না।" সে বলল: "তুমি বুঝতে পেরেছ যে এটি আমার অধিকার?" আমি বললাম: "না, বরং আমি নিজেকে এ থেকে ঊর্ধ্বে রাখছি এবং তোমার প্রয়োজনীয় বস্তু তোমার জন্য ছেড়ে দিচ্ছি।" সে বলল: "তাহলে যা তোমার প্রাপ্য, তার কিছুই আমি গ্রহণ করব না।" তিনি (সালম) বলেন: কিছুক্ষণ পর আমি যখন যাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম সে (অন্য কারো সাথে) বিবাদ করছে, তখন আমি তাকে তার কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। সে বলল: "যদি তা তোমার বিবাদের বিষয়ের দশগুণও হতো, তবে আমি তা ছেড়ে দিতাম; কিন্তু এটি বিশ হাজার হাজারের (বিশ মিলিয়নের) অধিক মূল্যের এক বিশাল সম্পদ।"
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١١)
21 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: «لَا تُجَالِسُوا أَصْحَابَ الْخُصُومَاتِ فَإِنَّهُمُ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ عز وجل»
২১ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস বিন গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «তোমরা বিবাদপ্রিয় লোকদের সাথে উপবেশন করো না, কারণ তারাই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে অনর্থক বিতর্কে লিপ্ত হয়।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١١)
22 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ: سَمْعِتُ سُفْيَانَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ فُضَيْلٍ، قَالَ: قَالَ إِبْرَاهِيمُ: " مَا ⦗ص: 12⦘ خَاصَمْتُ، قَالَ: قُلْتُ: قَطُّ؟ " قَالَ ابْنُ دَاوُدَ: كَذَا يَعْنِي
২২ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান থেকে শুনেছি, তিনি হাসান থেকে, তিনি আমর ইবনে ফুদায়েল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম বলেছেন: "আমি কখনো ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ বিতর্ক করিনি।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি বললাম: "কখনো না?" ইবনে দাউদ বললেন: অর্থাৎ এমনই।
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٢)
23 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: «مَنْ جَعَلَ دِينَهُ غَرَضًا لِلْخُصُومَاتِ مَاتَ أَكْثَرَ التَّنَقُّلَ»
২৩ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে ঝগড়া-বিবাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, সে অধিক পরিমাণে মত পরিবর্তন করে।"
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌بَابُ الْغِيبَةِ وَذَمِّهَا
গীবত এবং এর নিন্দা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٣)
24 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ الْمَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ كَرِيزِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ، دَمُهُ، وَمَالُهُ، وَعِرْضُهُ»
২৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন জামিল আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দাউদ বিন কায়েস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন আমির বিন কুরাইযের মুক্তদাস আবু সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান হারাম।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٣)
25 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَمْزَةَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا»
২৫ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন আল-মুনজির আল-হিযামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান বিন হামযাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসীর বিন যায়েদ থেকে, তিনি ওয়ালীদ বিন রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরকে ঘৃণা করো না, একে অপরের প্রতি পিঠ প্রদর্শন করো না এবং তোমাদের কেউ যেন কারো গিবত না করে; আর হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও।»
(খণ্ড: ১) যাম্মুল গীবাহ ওয়ান নামীমাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٣)
26 - حَدَّثَنِا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرٍ، وَأَبِي سَعِيدٍ، رضي الله عنهما، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِيَّاكُمْ وَالْغِيبَةَ؛ فَإِنَّ الْغِيبَةَ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا، إِنَّ الرَّجُلَ يَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغُفَرُ لَهُ حَتَّى يِغْفِرَ لَهُ صَاحِبُهُ»
২৬ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসবাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু রাজা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি আব্বাদ ইবনে কাসীর থেকে, তিনি আল-জুরায়রি থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি জাবির ও আবু সাঈদ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা গীবত (পরনিন্দা) থেকে বেঁচে থাকো; কেননা গীবত ব্যভিচারের চেয়েও ভয়াবহ। নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি ব্যভিচার করে অতঃপর তাওবা করে, তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। আর নিশ্চয়ই গীবতকারীকে ততক্ষণ ক্ষমা করা হবে না, যতক্ষণ না তার সঙ্গী (যার গীবত করা হয়েছে) তাকে ক্ষমা করে দেয়।»