(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: -)
الإعلام بأحكام المال الحرام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإعلام بأحكام المال الحرام
المؤلف: منصور بن عبد الحميد النجار
راجعه وقدم له: مصطفى بن العدوي
الناشر: در اللؤلؤة للنشر والتوزيع - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2020 م
عدد الصفحات: 338
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 ربيع الأول 1444
হারাম সম্পদের বিধানাবলী সম্পর্কে অবগতি বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল
গ্রন্থ: আল-ই'লাম বি আহকামিল মালিল হারাম
গ্রন্থকার: মানসুর বিন আব্দুল হামিদ আন-নাজ্জার
পর্যালোচনা ও ভূমিকা: মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ি
প্রকাশক: দারুল লুলুয়াহ প্রকাশনী ও বিতরণ - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪১ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৮
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم فضيلة الشيخ مصطفى بن العدويالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد:
فهذا بحث في المال الحرام، وصور اكتسابه، والحكم فيه، قام بإعداد هذا البحث أخي/ منصور النجار - وفقه الله لكل خير - وقد اعتنى فيه بسلامة المادة العلمية المستدل بها، فخرَّج الأحاديث والآثار، وحكم على كلٍ بما يستحق صحةً أو ضعفًا، وأورد طرفًا من أقوال الفقهاء والمفسرين في كتابه مع العزو إلى المصادر، ثم إنه - وفقه الله - قد أتى على كثير من صور اكتساب المال المعاصرة، وأعطاها الحكم اللائق بها، مع نقله لبعض الفتاوى المعاصرة لأهل العلم في هذا الصدد.
هذا؛ وأخي منصور - وفقه الله - ممن عهدناهم من ذوي الأخلاق الكريمة الحسنة، مع حبه لدينه وحرصه على العلم، فالله
শায়খ মুস্তফা ইবনুল আদাবীর উপস্থাপনাযাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
এটি হারাম সম্পদ, তা উপার্জনের পদ্ধতিসমূহ এবং এ সংক্রান্ত বিধান (الحكم) বিষয়ক একটি গবেষণা। এই গবেষণাটি প্রস্তুত করেছেন আমার ভাই মানসুর আল-নাজ্জার—আল্লাহ তাঁকে সকল কল্যাণের তৌফিক দান করুন। তিনি এতে ব্যবহৃত দালিলিক বিষয়বস্তুর বিশুদ্ধতার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন; তিনি হাদিস ও আসার (الآثار) সমূহের উৎস নির্দেশ বা তাখরিজ (خرَّج) করেছেন এবং প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে তার যোগ্যতা অনুযায়ী সহিহ (صحةً) বা জয়িফ (ضعفًا) হওয়ার বিধান (حكم) প্রদান করেছেন। তিনি মূল উৎসের বরাতে ফকিহ ও মুফাসসিরদের একগুচ্ছ বক্তব্য তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি—আল্লাহ তাঁকে তৌফিক দান করুন—অর্থ উপার্জনের সমসাময়িক বহু পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করেছেন এবং সেগুলোর উপযুক্ত বিধান (الحكم) বর্ণনা করেছেন। সেই সাথে এ বিষয়ে আলেমদের সমসাময়িক কিছু ফতোয়া উদ্ধৃত করেছেন।
বিষয়টি হলো; আমার ভাই মানসুর—আল্লাহ তাঁকে তৌফিক দান করুন—এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদেরকে আমরা উত্তম ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী হিসেবে জানি; সেই সাথে দ্বীনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং ইলমের প্রতি গভীর আগ্রহ রয়েছে। সুতরাং আল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أسأل أن يزيده توفيقًا وسدادًا وصلاحًا وإخلاصًا، وأن ينفع بعمله الإسلام والمسلمين.
وصلِّ اللهم على نبينا محمد
والحمد لله رب العالمين
كتبه
أبو عبد الله مصطفى بن العدوي
আমি প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন তাঁর তাওফিক, সঠিক পথনির্দেশনা, কল্যাণ ও একনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দেন এবং তাঁর এই কর্মের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবি মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন
এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
এটি লিখেছেন
আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা বিন আল-আদাউয়ী
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة
الحمد لله رب العالمين، خالق السماوات والأرض وجاعل الظلمات والنور جلّ في علاه واحدٌ أحد، فردٌ صمد، لا محيد عنه ولا مفر، ذو العرش المجيد والبطش الشديد، الأمر أمره والملك ملكه يحيي ويميت وهو على كل شيء قدير، ما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن، فعالٌ لما يريد، وأشهد أن لا إله إلا الله الواحد القهار، مكور الليل على النهار، تذكرةً لأولى القلوب والأبصار، وتبصرةً لذوي الألباب والاعتبار.
وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، إمام المتقين، وخاتم النبيين، وخيرته من خلقه أجمعين صلى الله عليه وسلم، وعلى آله الطيبين الطاهرين وإخوانه من النبيين والمرسلين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد:
فهذا بحث أعددته للمسلمين عامة ولطلاب العلم خاصة، تناولت فيه صور الكسب الحرام، وكيف للمسلم أن يتخلص من المال المحرم؟ وفق الكتاب وصحيح السنة، وضمنته جملة مسائل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং অন্ধকার ও আলোর প্রবর্তক। সুউচ্চ মহিমায় তিনি এক ও অদ্বিতীয়, অভাবমুক্ত ও স্বনির্ভর; তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই এবং কোনো পলায়নের সুযোগ নেই। তিনি মহান আরশের অধিপতি এবং কঠোর পাকড়াওকারী। নির্দেশ তাঁরই এবং রাজত্বও তাঁরই; তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয়, আর যা তিনি চান না তা হয় না। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদনকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; যিনি রাতকে দিনের ওপর আচ্ছন্ন করেন, যা হৃদয়বান ও চক্ষুষ্মানদের জন্য উপদেশ এবং বুদ্ধিমান ও বিবেচনাবোধ সম্পন্নদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি স্বরূপ।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তিনি মুত্তাকীদের ইমাম, নবীদের সমাপনী এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম মনোনীত ব্যক্তি। তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ এবং তাঁর ভাই অন্যান্য নবী ও রাসূলগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
এটি একটি গবেষণা যা আমি সাধারণ মুসলিম এবং বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছি। এতে আমি হারাম উপার্জনের বিভিন্ন ধরণ এবং একজন মুসলিম কীভাবে হারাম সম্পদ থেকে মুক্তি পেতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এই আলোচনা পবিত্র কুরআন এবং সহিহ (صحيح) সুন্নাহর আলোকে করা হয়েছে এবং এতে আমি বেশ কিছু মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
كثر سؤال العامة عنها، منها على سبيل المثال؛ هل يجوز قبول الهدية ممن غالب ماله حرام؟ وهل يصح الحج من المال الحرام؟ وهل يجوز التخلص من المال الحرام في بناء المساجد؟ وكيف يتخلص التائب إلى الله من المال المكتسب من الحرام ولا يعلم له صاحب؟ وما الحكم في مال الكافر إذا أسلم؟ وماذا يجب على من سرق عينًا وأراد أن يتوب بعد زمن وقد هلكت العين وليس لها مثل؟ ومسائل كثيرة من هذا القبيل، وتوسعت كذلك في باب الربا وما يتعلق به من مسائل.
• وقد انتهجت في بحثي هذا ما يلي:
• جمع الوارد في الباب من كتاب ربنا سبحانه وتعالى ومن سنة النبي محمد صلى الله عليه وسلم.
• نقل فقه الصحابة والتابعين في كثيرٍ من المسائل.
• بيان درجة الأحاديث وكذا الآثار.
• نقل أقوال الأئمة من كتبهم المعتمدة وذلك في كثير من المسائل.
• مناقشة أقوال أئمة المذاهب في كثير من المسائل وإظهار الراجح معتمدًا في ذلك على ما يوافق الدليل.
• محاولة عرض المسألة في صورة مختصرة قبل ذكر الأدلة والخلاف الحاصل فيها، وأحيانا يكون هذا العرض في نهاية المسألة.
সাধারণ মানুষের মাঝে এ বিষয়ে প্রচুর জিজ্ঞাসা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: যার উপার্জনের অধিকাংশ হারাম, তার থেকে উপহার গ্রহণ করা কি বৈধ? হারাম অর্থ দ্বারা হজ্জ করা কি সহিহ (صحيح)? হারাম সম্পদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তা কি মসজিদ নির্মাণে ব্যয় করা জায়েজ? আল্লাহর নিকট তওবাকারী ব্যক্তি কীভাবে হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ থেকে মুক্ত হবে, যার প্রকৃত মালিক সম্পর্কে সে অবগত নয়? কোনো কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে তার সম্পদের বিধান কী? যে ব্যক্তি কোনো বস্তু চুরি করেছে এবং দীর্ঘ সময় পর তওবা করতে চায়, অথচ বস্তুটি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তার কোনো সদৃশ বা বিকল্প নেই—তার ওপর কী ওয়াজিব হবে? এ জাতীয় অনেক মাসআলা রয়েছে। এছাড়া আমি সুদের অধ্যায় এবং এ সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।
• আমার এই গবেষণায় আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
• আমাদের রব সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাব এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে এ বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংকলন করা।
• অনেক মাসআলায় সাহাবী ও তাবেয়ীদের ফিকহ উদ্ধৃত করা।
• হাদিস এবং আছার (آثار) সমূহের মান (درجة) বর্ণনা করা।
• অনেক মাসআলায় ইমামগণের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে তাঁদের উক্তি উদ্ধৃত করা।
• অনেক মাসআলায় মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্যের পর্যালোচনা এবং দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার ভিত্তিতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (الراجح) মতটি প্রকাশ করা।
• দলিল এবং বিদ্যমান মতভেদ আলোচনার পূর্বে মাসআলাটি সংক্ষেপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা; তবে কখনো কখনো এই উপস্থাপনা মাসআলার শেষে করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
• تقيدت بالمسائل الشائعة في واقعنا المعاصر؛ غاضًا الطرف عن المعاملات التي اندثرت مما ذكره الفقهاء في كتبهم.
هذا، وأسأل الكريم المنان ذي الفضل والإحسان أن ينفع بهذا البحث كاتبه وناشره وقارئه، وأن يجعله خالصًا لوجهه الأعلى، وأستحضر في هذا المقام قول أبي الطيب الوشاء: (وشريطتنا على قارئ كتابنا الإقصار عن طلب عيوب أخطائنا، والصفح عن ما يقف عليه من إغفالنا، والتجاوب عن ما ينتهي إليه من إهمالنا، وإن أداه التصفح إلى صواب نشره، أو إلى خطأ ستره؛ لأنه قد تقدمنا بالإقرار، ولابد للإنسان زلل وعثار، وليس كل الأدب عرفناه، ولا كل العلم دريناه، وعلينا في ذلك الاجتهاد وإلى الله الإرشاد، وقل ما نجا مؤلف لكتاب من راصد بمكيدة أو باحث عن خطيئة، وقد كان يقال من ألف كتابا فقد استشرف، وإذا أصاب فقد استهدف
(1)، وإذا أخطأ فقد استقذف، وكان يقال لا يزال الرجل في فسحة من عقله ما لم يقل شعرًا أو يضع كتابًا
(2).
كما لا يسعنى فى تقدمتى هذه إلا أن أقدم جزيل الشكر للوالد الكريم والعالم الجليل شيخي أبي عبد الله مصطفى بن العدوي، فلقد
--------------------------------------------
• আমি আমাদের সমসাময়িক বাস্তবতায় প্রচলিত মাসআলাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি; ফকিহগণ তাঁদের কিতাবসমূহে যে সকল লেনদেনের কথা উল্লেখ করেছেন অথচ বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেগুলো আমি এড়িয়ে গিয়েছি।
অতঃপর, আমি মহানুভব, পরম দাতা, অনুগ্রহ ও এহসানের মালিকের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই গবেষণার মাধ্যমে এর লেখক, প্রকাশক ও পাঠককে উপকৃত করেন এবং একে কেবল তাঁরই সুউচ্চ সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন। এই পর্যায়ে আমি আবু আত-ত্বইয়িব আল-ওয়াশশা-এর একটি উক্তি স্মরণ করছি: "আমাদের কিতাবের পাঠকের কাছে আমাদের শর্ত হলো, তিনি যেন আমাদের ভুলত্রুটির দোষ অন্বেষণ করা থেকে বিরত থাকেন, আমাদের অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া বিচ্যুতিগুলো মার্জনা করেন এবং আমাদের অবহেলার ফলে যা কিছু প্রকাশ পায় তা এড়িয়ে যান। আর যদি পাঠ করতে গিয়ে কোনো সঠিক বিষয় তাঁর সামনে আসে তবে যেন তা প্রচার করেন, অথবা কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে যেন তা গোপন রাখেন; কেননা আমরা পূর্বেই ত্রুটির কথা স্বীকার করে নিয়েছি। মানুষের পদস্খলন ও হোঁচট খাওয়া অনিবার্য। আমরা সাহিত্যের সবটুকু জানি না এবং সকল জ্ঞানও আমরা আয়ত্ত করিনি। আমাদের দায়িত্ব হলো কেবল প্রচেষ্টা চালানো এবং আল্লাহর পক্ষ থেকেই সঠিক পথের দিশা পাওয়া যায়। খুব কম লেখকই কোনো ষড়যন্ত্রকারীর কুদৃষ্টি বা ছিদ্রান্বেষীর দোষারোপ থেকে রেহাই পান। কথিত আছে: যে ব্যক্তি কোনো কিতাব রচনা করল, সে নিজেকে উন্মুক্ত করল; যদি সে সঠিক হয় তবে সে অন্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়
(১), আর যদি ভুল করে তবে সে আক্রমণের শিকার হয়। আরও বলা হতো: একজন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত স্বীয় বুদ্ধিমত্তার প্রশান্তিতে থাকে, যতক্ষণ না সে কোনো কবিতা বলে বা কোনো কিতাব রচনা করে
(২)।"
আমার এই প্রারম্ভিক বক্তব্যে শ্রদ্ধেয় পিতা ও মহান আলিম আমার শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা বিন আল-আদাভীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়া আমার উপায় নেই, কেননা তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
بذل من وقته لمراجعة هذا الكتاب، أسأل الله عز وجل أن يجري الحق على لسانه، وأن يبارك في دعوته، وأن يرحم والديه، وأن ينبت ذريته نباتًا حسنًا.
كتبه
منصور بن عبد الحميد آل النجار
قبل غروب شمس يوم عاشوراء لعام 1435 من الهجرة
তিনি এই গ্রন্থটি পর্যালোচনার জন্য নিজের সময় ব্যয় করেছেন; আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর যবানে সত্য জারি রাখেন, তাঁর দাওয়াতের কাজে বরকত দান করেন, তাঁর পিতামাতার প্রতি রহম করেন এবং তাঁর বংশধরদের উত্তমরূপে গড়ে তোলেন।
লিখেছেন
মনসুর বিন আব্দুল হামিদ আল-নাজ্জার
১৪৩৫ হিজরি সনের আশুরা দিবসের সূর্যাস্তের পূর্বে
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
فتنة المالقال الله تعالى في كتابه الكريم: {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَآب} [آل عمران].
اشتملت الآية الكريمة على بعض أنواع فتن الشهوات، ابتدأها ربنا سبحانه وتعالى بالنساء ثم ثنى بالبنين، ثم ثلث بالقناطير المقنطرة من الذهب والفضة، والمقصود بذلك إنما هو المال.
المال عماد رئيس من أعمدة التعامل بين الناس، فلا يكون هنالك بيعٌ ولا شراء إلا بالمال، ولا تكون هنالك تجارةٌ ولا مزارعة ولا مساقاة إلا بالمال، بل إن دولًا تشاجرت وتناحرت من أجل المال، والإنسان بطبعه بحاجةٍ إلى المال ليطعم ويشرب ويلبس ويسكن.
لا شك أن المال نعمةٌ من نعم الله رب العالمين أنعم بها على عباده، وهذه النعمة تستوجب شكرًا وعرفانًا، لكن للأسف قابلها البعض بالجحود والكفران.
সম্পদের ফিতনা (فتنة)মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {মানুষের নিকট সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির লালসা (الشهوات)-এর প্রতি আসক্তি—নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশি রাশি স্বর্ণ ও রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদি পশু ও কৃষিক্ষেত্র। এসব হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্যসামগ্রী; আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।} [আলে ইমরান]।
এই মহিমান্বিত আয়াতটি প্রবৃত্তির লালসার (الشهوات) বিভিন্ন প্রকার ফিতনা (فتن) অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আলোচনার শুরুতে নারীদের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর সন্তানদের কথা এবং তৃতীয় পর্যায়ে স্বর্ণ ও রৌপ্যের স্তূপীকৃত ভাণ্ডারের কথা বলেছেন; আর এর দ্বারা মূলত সম্পদকেই (المال) বোঝানো হয়েছে।
সম্পদ মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ; তাই সম্পদ ব্যতীত কোনো ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয় না এবং সম্পদ ছাড়া কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য, বর্গাচাষ (مزارعة) কিংবা সেচ-চুক্তি (مساقاة) সম্ভব নয়। এমনকি বহু রাষ্ট্র এই সম্পদের কারণেই বিবাদ ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। মানুষ স্বভাবজাতভাবেই খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং বাসস্থানের সংস্থানের জন্য সম্পদের মুখাপেক্ষী।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সম্পদ রাব্বুল আলামীন আল্লাহর নেয়ামতসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম নেয়ামত যা তিনি তাঁর বান্দাদের দান করেছেন। এই নেয়ামতের দাবি হলো কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করা; কিন্তু দুঃখজনকভাবে কেউ কেউ এর বিপরীতে অকৃতজ্ঞতা ও অবাধ্যতা প্রদর্শন করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
الذي أعطى الغنيَّ مالًا هو الله والذي لم يعطِ الفقير هو الله فالمالك الحقيقي للمال وغيره هو الله رب العالمين، لكنه سبحانه ملَّكنا هذا المال ملكًا شرعيًّا للاختبار، فالنفس مجبولةٌ على حب المال، إلا أنه شتان بين من جمع المال من حِله وحرامه، وبين من اكتفى بحلاله، وفارِقٌ أيضًا بين من أنفق المال في كل سبيل، حرامًا كان أو حلالًا، وبين من استخدمه في الحلال الخالص.
إن المال بين يدي أقوامٍ نعمة وبين يدي آخرين يتحول إلى نقمة.
قال الله تعالى: {وَاْعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ} [الأنفال: 28].
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه: «إِنَّ أَكْثَرَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ بَرَكَاتِ الأَرْضِ» قِيلَ: وَمَا بَرَكَاتُ الأَرْضِ؟ قَالَ: «زَهْرَةُ الدُّنْيَا» فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: هَلْ يَأْتِي الخَيْرُ بِالشَّرِّ؟ فَصَمَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ يُنْزَلُ عَلَيْهِ، ثُمَّ جَعَلَ يَمْسَحُ عَنْ جَبِينِهِ، فَقَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ؟» قَالَ: أَنَا - قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: لَقَدْ حَمِدْنَاهُ حِينَ طَلَعَ ذَلِكَ- قَالَ: «لَا يَأْتِي الخَيْرُ إِلَّا بِالخَيْرِ، إِنَّ هَذَا المَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، وَإِنَّ كُلَّ مَا أَنْبَتَ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ، إِلَّا آكِلَةَ الخَضِرَةِ، أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَدَّتْ خَاصِرَتَاهَا، اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ، فَاجْتَرَّتْ وَثَلَطَتْ وَبَالَتْ، ثُمَّ عَادَتْ فَأَكَلَتْ، وَإِنَّ هَذَا المَالَ حُلْوَةٌ، مَنْ أَخَذَهُ
যিনি বিত্তবানকে সম্পদ দান করেছেন তিনি আল্লাহ এবং যিনি অভাবীকে তা দান করেননি তিনিও আল্লাহ। সুতরাং সম্পদ ও অন্যান্য সবকিছুর প্রকৃত মালিক হলেন রাব্বুল আলামীন আল্লাহ। তবে তিনি পরীক্ষা করার জন্য আমাদের এই সম্পদের শরয়ি মালিকানা দান করেছেন; কেননা মানুষের মন সম্পদ আসক্তির ওপর স্বভাবজাত। তবে যে ব্যক্তি বৈধ ও অবৈধ উভয় উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহ করে এবং যে ব্যক্তি কেবল হালাল উপার্জনে তুষ্ট থাকে—তাদের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। তদ্রূপ যে ব্যক্তি যেকোনো পথে—তা হারাম হোক বা হালাল—সম্পদ ব্যয় করে এবং যে কেবল বিশুদ্ধ হালাল পথে তা ব্যবহার করে, তাদের মাঝেও বড় ব্যবধান রয়েছে।
নিশ্চয়ই সম্পদ একদল মানুষের নিকট নেয়ামত, আবার অন্যদের নিকট তা নিগ্রহে পরিণত হয়।
মহান আল্লাহ বলেন: "এবং তোমরা জেনে রেখো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কেবল একটি পরীক্ষা।" [আনফাল: ২৮]।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে যে জিনিসের সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি, তা হলো আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনের বরকতসমূহের মধ্য থেকে যা বের করবেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো: জমিনের বরকতসমূহ কী? তিনি বললেন: "দুনিয়ার চাকচিক্য।" তখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: কল্যাণ কি মন্দ বয়ে আনতে পারে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব রইলেন, এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। এরপর তিনি তাঁর কপাল থেকে ঘাম মুছতে লাগলেন এবং বললেন: "প্রশ্নকারী কোথায়?" সে বলল: আমি। আবু সাঈদ (রা.) বলেন: যখন তাঁর সেই অবস্থা কেটে গেল তখন আমরা তাঁর প্রশংসা করলাম। তিনি বললেন: "কল্যাণ কেবল কল্যাণই বয়ে আনে। নিশ্চয়ই এই সম্পদ হলো শ্যামল ও সুমিষ্ট। বসন্তকালে যা কিছু উৎপাদিত হয় তা (পশুদের) অতিভোজনের ফলে পেট ফাঁপিয়ে মেরে ফেলে অথবা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়; তবে ওই ঘাসভোজী পশুর কথা ভিন্ন, যে ঘাস খেয়ে যখন তার দুই কুক্ষি ভরে ওঠে, তখন সে সূর্যের দিকে মুখ করে জাবর কাটে, পাতলা মলত্যাগ ও পেশাব করে, তারপর পুনরায় ফিরে গিয়ে ঘাস খায়। আর নিশ্চয়ই এই সম্পদ সুমিষ্ট, যে ব্যক্তি এটি গ্রহণ করবে..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بِحَقِّهِ وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ المَعُونَةُ هُوَ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ»
(1).
هذا مثالٌ نبويٌ شَبَّه فيه النبي صلى الله عليه وسلم هذه الدنيا وبهجة منظرها وطيب نعيمها، وحلاوتها في النفوس - بنبات الربيع، وهو المرعى الذي ينبت في زمن الربيع، فإنه يُعجب الدواب التي ترعى فيه، فتُكثر الأكل منه بما يفوق احتياجها فتهلك.
النبي صلى الله عليه وسلم يقول لأصحابه: «إِنَّ أَكْثَرَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ بَرَكَاتِ الأَرْضِ» فيتعجب الحاضرون، ويسأل سائل منهم ويقول: وما بركات الأرض؟ فيكون الجواب من النبي صلى الله عليه وسلم: «زهرة الدنيا».
فيزداد العجب عند الصحابة الحضور ويتوجه أحدهم بسؤال آخر: هل يأتي الخير بالشر؟ وهنا يطرأ طارئ مفاجئ وهو صَمْت النبي صلى الله عليه وسلم حتى علم الصحابة أن النبي صلى الله عليه وسلم يعالج الوحي، ثم يعاود النبي صلى الله عليه وسلم الحديث ويقول: «أين السائل؟» فيجيب: أنا. فيقول له النبي صلى الله عليه وسلم: «إن هذا المال خضرة حلوة»، أي ظاهر أمره هكذا.
--------------------------------------------
"...যথাযথভাবে তা গ্রহণ করে এবং সঠিক স্থানে তা ব্যয় করে, তবে তা কতই না উত্তম সাহায্যকারী। আর যে ব্যক্তি তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না।"
(১).
এটি একটি নববীয় উদাহরণ যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দুনিয়া, এর দৃশ্যের শোভা, এর নিআমতের মাধুর্য এবং মানুষের মনে এর মিষ্টতাকে বসন্তের উদ্ভিদের সাথে তুলনা করেছেন। আর বসন্তের উদ্ভিদ হলো এমন চারণভূমি যা বসন্তকালে জন্মায়; যা সেখানে চরে বেড়ানো পশুদের বিমোহিত করে, ফলে তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার করে এবং পরিণামে ধ্বংস হয়ে যায়।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বলছেন: "আমি তোমাদের জন্য যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, তা হলো আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনের বরকত হিসেবে যা বের করবেন।" তখন উপস্থিতরা বিস্মিত হলেন এবং তাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করলেন: জমিনের বরকত কী? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উত্তর দিলেন: "দুনিয়ার চাকচিক্য।"
এতে উপস্থিত সাহাবীদের মাঝে বিস্ময় আরও বেড়ে গেল এবং তাদের একজন আরেকটি প্রশ্ন করলেন: "কল্যাণ কি অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে?" ঠিক তখন একটি আকস্মিক ঘটনা ঘটল, আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নীরবতা; এমনকি সাহাবীগণ বুঝতে পারলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হচ্ছে। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় কথা বলা শুরু করলেন এবং বললেন: "প্রশ্নকারী কোথায়?" সে উত্তর দিল: "আমি।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই এই সম্পদ শ্যামল ও সুমিষ্ট", অর্থাৎ এর বাহ্যিক অবস্থাটি এমনই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم يضرب له مثالًا ويقول: «إن كل ما أنبت الربيع يقتل حَبَطًا أو يُلم».
والمعنى أن النبات الذي ينبت في زمن الربيع أو من الربيع الذي هو جدول الماء، تأكل منه الأنعام، وتُعجب به، فهو في أعينها خصرةٌ حلوة، إلا أن النتيجة تكون موتها أو مرضها؛ إن لم تمت الأنعام من كثرة ما أكلت فإنها تُصاب بمرض يسمى مرض الحبط، وهو ما يعتري الدواب من انتفاخ تموت بسببه، مع أن الدواب اشتهت الطعام وأقبلت عليه، إلا أنه كان سببًا في هلاكها.
ثم استثنى النبي صلى الله عليه وسلم من هذه الماشية، صنفًا حُمدت عقباه، وهو صنف آكلة الخضرة، فقال عنها: «أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَدَّتْ خَاصِرَتَاهَا، اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ، فَاجْتَرَّتْ وَثَلَطَتْ وَبَالَتْ» أي أن هناك من البقر من يأخذ من الطعام بقدر ما يكفيه، ثم بعد ذلك تستقبل البقرة الشمس لِتَحمي؛ فيسهل إخراج ما أُكل «فاجترت» أي أخرجت الطعام من بطنها مرة أخرى فمضغته ليسهل بلعه، «فثلطت وبالت» أي أخرجت فضلات غذائها، وهذا مثالٌ نافع.
ثم وجَّه النبي صلى الله عليه وسلم نصيحته للأمة فقال: «وَإِنَّ هَذَا المَالَ حُلْوَةٌ، مَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ المَعُونَةُ هُوَ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ»
এরপর তিনি এর জন্য একটি উদাহরণ পেশ করে বলেন: «নিশ্চয়ই বসন্তকাল যা কিছু উৎপন্ন করে, তা (অধিক ভক্ষণের ফলে) পেট ফাঁপিয়ে মেরে ফেলে অথবা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়।»
এর অর্থ হলো, বসন্তকালে অথবা পানির নালা থেকে যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, গবাদি পশু তা ভক্ষণ করে এবং তাতে মুগ্ধ হয়। তাদের দৃষ্টিতে এটি সতেজ ও সুস্বাদু ঘাস; কিন্তু এর পরিণাম হয় তাদের মৃত্যু অথবা অসুস্থতা। গবাদি পশু যদি অতিরিক্ত ভক্ষণের কারণে মারা না-ও যায়, তবে তারা 'হাবাত' নামক রোগে আক্রান্ত হয়। এটি চতুষ্পদ জন্তুর এমন এক ধরণের পেট ফাঁপা রোগ যার কারণে তারা মৃত্যুবরণ করে। যদিও পশুগুলো এই খাবারের প্রতি অত্যন্ত লালায়িত ছিল এবং এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল, কিন্তু এটিই তাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই পশুদের মধ্য থেকে এমন এক শ্রেণিকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন যাদের পরিণাম প্রশংসনীয়, আর তারা হলো যারা কেবল সবুজ ঘাস ভক্ষণ করে। তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছেন: «তারা (প্রয়োজনমতো) আহার করে, এমনকি যখন তাদের পেট ভরে দুই পাশ ফুলে ওঠে, তখন তারা রোদের দিকে মুখ করে বসে, এরপর জাবর কাটে, গোবর ত্যাগ করে এবং প্রস্রাব করে।» অর্থাৎ এমন কিছু গাভী রয়েছে যারা কেবল প্রয়োজন অনুপাতে খাদ্য গ্রহণ করে। এরপর সেই গাভীটি শরীরের উত্তাপ বৃদ্ধির জন্য সূর্যের দিকে মুখ করে বসে, যাতে ভুক্ত খাদ্য নির্গত করা সহজ হয়। «জাবর কাটা» অর্থ হলো পেট থেকে পুনরায় খাদ্য বের করে এনে চিবানো যাতে পুনরায় গেলা সহজ হয়। «গোবর ও প্রস্রাব করা» অর্থ হলো খাদ্যের বর্জ্য বের করে দেওয়া। এটি একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ উদাহরণ।
এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মাহর উদ্দেশ্যে তাঁর উপদেশ প্রদান করে বলেন: «আর নিশ্চয়ই এই সম্পদ অত্যন্ত মিষ্ট ও সুস্বাদু। যে ব্যক্তি এটি হকের সাথে (ন্যায্যভাবে) গ্রহণ করল এবং হকের পথে (সঠিক খাতে) ব্যয় করল, এটি তার জন্য কতই না উত্তম সাহায্যকারী! আর যে ব্যক্তি এটি অন্যায়ভাবে গ্রহণ করল, সে ওই ব্যক্তির মতো যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না (তার পেট ভরে না)।»
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هذا هو حال الطامع، يكون المال عليه وبالًا. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى ثَالِثًا، وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ، وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ»
(1).
إياك إياك يا عبد الله أن تعبد المال، فلقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لُعِنَ عَبْدُ الدِّينَارِ، وَلُعِنَ عَبْدُ الدِّرْهَمِ»
(2). حري بنا أن نربي أنفسنا ونهذبها، فالنفس مجبولةٌ منذ الصغر وحتى الهَرَم على حب المال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يَكْبَرُ ابْنُ آدَمَ وَيَكْبَرُ مَعَهُ اثْنَانِ: حُبُّ المَالِ، وَطُولُ العُمُرِ»
(3).
احذر أيها الموحد أن يختلط مالك بالحرام، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} [المؤمنون: 51] وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: 172]
--------------------------------------------
এটাই লোভী ব্যক্তির অবস্থা; সম্পদ তার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি আদম সন্তানের মালের দুটি উপত্যকা থাকত, তবে সে অবশ্যই তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করত। আদম সন্তানের উদর মাটি ছাড়া আর কিছুই পূর্ণ করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।"
(1).
হে আল্লাহর বান্দা! তুমি সম্পদের দাসত্ব করা থেকে সাবধান থাকো, কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দিনারের গোলাম অভিশপ্ত হোক, দিরহামের গোলাম অভিশপ্ত হোক।"
(2)। আমাদের উচিত নিজেদের নফসকে পরিচালিত করা ও সংশোধন করা; কেননা শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত মানুষের নফস স্বভাবজাতভাবেই সম্পদ-প্রীতির ওপর গঠিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আদম সন্তান বৃদ্ধ হয়, কিন্তু তার সাথে সাথে দুটি বিষয় বৃদ্ধি পেতে থাকে: সম্পদের প্রতি ভালোবাসা এবং দীর্ঘ আয়ুর আকাঙ্ক্ষা।"
(3).
হে একত্ববাদী! তোমার সম্পদ হারামের সাথে মিশ্রিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন যা তিনি রাসূলদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি বলেন: {হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো; তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত।} [আল-মুমিনুন: ৫১] এবং তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে আমি যে রিযিক দান করেছি তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করো।} [আল-বাকারা: ১৭২]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟»
(1).
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَخَذَ شِبْرًا مِنَ الأَرْضِ ظُلْمًا، فَإِنَّهُ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ»
(2).
إن آكل الحرام ملعون، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَعَنَ اللَّهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ البَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ، وَيَسْرِقُ الحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ»
(3).
وقال صلى الله عليه وسلم أيضًا: «لَعَنَ اللهُ آكِلَ الرِّبَا، وَمُوكِلَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَكَاتِبَهُ»
(4).
وقال صلى الله عليه وسلم أيضًا: «لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي»
(5).
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফর করে যার চুল অবিন্যস্ত এবং দেহ ধুলোমলিন। সে আকাশের দিকে হাত প্রসারিত করে ডাকছে: হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারামে লালিত-পালিত হয়েছে। এমতাবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?
(১).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত জমিও আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সাত স্তর জমিন পর্যন্ত গলাবন্ধ পরিয়ে দেওয়া হবে»
(২).
নিশ্চয়ই হারাম ভক্ষণকারী অভিশপ্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ সেই চোরের ওপর লানত করেছেন, যে একটি ডিম চুরি করে আর ফলে তার হাত কাটা হয়, এবং যে একটি রশি চুরি করে আর ফলে তার হাত কাটা হয়»
(৩).
তিনি আরও বলেছেন: «সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, তার দুই সাক্ষী এবং তার লেখকের ওপর আল্লাহ লানত করেছেন»
(৪).
তিনি আরও বলেছেন: «ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহণকারীর ওপর আল্লাহর লানত»
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
احذر عبد الله أن تنتهك حرمة مال امرئ مسلم، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَهَا يُرِيدُ إِتْلَافَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ»
(1).
إن آكل الحرام ناقص الإيمان فاقد للكمال الواجب، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ الخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً، يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيهَا أَبْصَارَهُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ»
(2).
واعلم يا من تعديت على مال المسلمين بغير حق أنك مؤديه يوم القيامة كما قال نبي الهدى محمد صلى الله عليه وسلم: «لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ، مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ»
(3).
واعلم «أن كل المسلم على المسلم حرام: دمه وماله وعِرضه»
(4).
--------------------------------------------
হে আল্লাহর বান্দা, সাবধান হও কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা থেকে। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ পরিশোধের নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা বিনষ্ট করার নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন।"
(১).
নিশ্চয় হারাম ভক্ষণকারী ঈমানের দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ এবং সে ঈমানের আবশ্যিক পূর্ণতা হারায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না। মদ্যপায়ী যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না। চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না। আর কোনো ব্যক্তি যখন লুণ্ঠন করে এবং মানুষ তার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না।"
(২).
হে ঐ ব্যক্তি যে অন্যায়ভাবে মুসলিমদের সম্পদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ, জেনে রাখো যে তুমি কিয়ামতের দিন তা অবশ্যই পরিশোধ করবে। যেমনটি হিদায়াতের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন অবশ্যই হকদারদের পাওনা মিটিয়ে দেয়া হবে। এমনকি শিংবিহীন ছাগলের পক্ষে শিংবিশিষ্ট ছাগল থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে।"
(৩).
এবং জেনে রাখো: "প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও মান-সম্মান হারাম।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
• أحذرك أيها الموفق منع حق الله في المال، فإن لله تعالى حقًّا أوجبه علينا في المال، والحقوق المالية على أربعة أقسام:
أولها: حق بسبب بلوغ النصاب، وهو حق الزكاة.
ثانيها: حق بسبب الكفارات، ككفارة اليمين.
ثالثها: حق بسبب الضمان، كمن ضمن مالا لإنسان.
رابعها: حق بسبب النسك، كدم النسك للمتمتع والقارن.
إن كثيرًا من أغنياء المسلمين يمنعون الزكاة مستحقيها، والزكاة حق للفقير، فمن منع الفقير حقه كمن اغتصبه ماله، ولقد حذر ربنا سبحانه وتعالى في كتابه الكريم من هذا الصنف الذي لا يخرج زكاة ماله، قال تعالى: {وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ 34 يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ 35} [التوبة].
وفي الحديث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا، فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثِّلَ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ القِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيبَتَانِ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ القِيَامَةِ، ثُمَّ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ - يَعْنِي بِشِدْقَيْهِ - ثُمَّ يَقُولُ أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ»
(1).
--------------------------------------------
হে তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আমি আপনাকে সম্পদের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার আদায়ে বাধা দেওয়া থেকে সতর্ক করছি। কেননা মহান আল্লাহ আমাদের ওপর সম্পদের ক্ষেত্রে একটি হক বা অধিকার আবশ্যক করেছেন এবং আর্থিক অধিকারসমূহ চার প্রকার:
প্রথমত: নিসাব পূর্ণ হওয়ার কারণে সাব্যস্ত অধিকার, আর তা হলো জাকাতের হক।
দ্বিতীয়ত: কাফফারার কারণে সাব্যস্ত অধিকার, যেমন শপথের কাফফারা।
তৃতীয়ত: জামানতের কারণে সাব্যস্ত অধিকার, যেমন কেউ যদি অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পদের জামিনদার হয়।
চতুর্থত: ইবাদতের কারণে সাব্যস্ত অধিকার, যেমন তামাত্তু ও কিরান হজ পালনকারীর জন্য দমের (কুরবানির) বিধান।
নিশ্চয়ই অনেক মুসলিম সম্পদশালী ব্যক্তি হকদারদের জাকাত প্রদানে বিরত থাকেন। অথচ জাকাত হলো দরিদ্রের প্রাপ্য অধিকার। সুতরাং যে ব্যক্তি দরিদ্রকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করল, সে যেন তার সম্পদ আত্মসাৎ করল। আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মহান কিতাবে ওই সকল ব্যক্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন যারা তাদের সম্পদের জাকাত আদায় করে না। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন। ৩৫. যেদিন তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া হবে। (বলা হবে) এটিই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য সঞ্চয় করেছিলে, সুতরাং যা তোমরা সঞ্চয় করতে তার স্বাদ গ্রহণ করো।} [আত-তওবা]।
আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে তার জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটি টেকো বিষধর সাপের রূপ দান করা হবে, যার চোখের ওপর দুটি কালো বিন্দু থাকবে। কিয়ামতের দিন তা তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে। এরপর সাপটি তার দুই কপালে অর্থাৎ দুই চোয়ালে কামড়ে ধরবে এবং বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন।”
(1).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي حديث أبي ذر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ - أَوْ: وَالَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ، أَوْ كَمَا حَلَفَ - مَا مِنْ رَجُلٍ تَكُونُ لَهُ إِبِلٌ، أَوْ بَقَرٌ، أَوْ غَنَمٌ، لَا يُؤَدِّي حَقَّهَا، إِلَّا أُتِيَ بِهَا يَوْمَ القِيَامَةِ، أَعْظَمَ مَا تَكُونُ وَأَسْمَنَهُ تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، كُلَّمَا جَازَتْ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ»
(1).
يا عبد الله؛ يا من أعطاك الله المال الكثير، كلما كثرت أموالك زاد مقدار زكاتك، وكلما كثرت زينها الشيطان لك، لا تقل: إن المال الواجب علي كثير، ما أقبحها والله من مقالة، هل قلت يومًا: أنا لا أستحق هذا المال الكثير؟!
أيها الغني بما أعطاه الله، إنك في اختبار؛ فهل لك أن تفوز؟!
أنفِق من مالك الذي ملكك الله إياه.
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ 254} [البقرة].
وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ * وَأَنْفِقُوا مِنْ مَا رَزَقْنَاكُمْ
--------------------------------------------
আবু যার (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ—অথবা: সেই সত্তার শপথ যাঁকে ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, অথবা তিনি যেভাবে শপথ করেছেন—যে ব্যক্তির উট, গরু বা ছাগল আছে এবং সে সেগুলোর হক আদায় করে না, কিয়ামতের দিন সেই পশুগুলোকে দুনিয়ার অবস্থার চেয়ে অনেক বড় এবং হৃষ্টপুষ্ট অবস্থায় আনা হবে। সেগুলো তাকে তাদের ক্ষুর দিয়ে মাড়াবে এবং শিং দিয়ে গুঁতো দেবে। যখনই সেগুলোর সর্বশেষ দলটি পার হয়ে যাবে, তখনই পুনরায় প্রথম দলটিকে তার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, যতক্ষণ না মানুষের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়"
(১).
হে আল্লাহর বান্দা; হে সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ প্রচুর ধন-সম্পদ দিয়েছেন, আপনার সম্পদ যত বৃদ্ধি পাবে, আপনার জাকাতের পরিমাণও তত বাড়বে। আর সম্পদ যত বাড়বে, শয়তান তা আপনার নিকট তত সুশোভিত করবে। আপনি বলবেন না: ‘আমার ওপর ওয়াজিব হওয়া মালের পরিমাণ অনেক বেশি’, আল্লাহর কসম, এটি কতই না নিকৃষ্ট কথা! আপনি কি কোনো দিন বলেছেন: ‘আমি এই প্রচুর সম্পদের যোগ্য নই’?!
হে ওই ধনী ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, নিশ্চয় আপনি পরীক্ষার মধ্যে রয়েছেন; সুতরাং আপনি কি সফল হতে পারবেন?!
আল্লাহ আপনাকে যে সম্পদের মালিক বানিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করুন।
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো সেই দিন আসার পূর্বে, যে দিন কোনো কেনাবেচা, বন্ধুত্ব এবং সুপারিশ থাকবে না; আর কাফেররাই হলো জালেম। ২৫৪} [আল-বাকারা]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ হতে গাফেল না করে। যারা এমনটি করবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আর আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِنَ الصَّالِحِينَ * وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ}
[المنافقون].
أخيرًا أيها المسلم؛ لتعلم أنك بين يدي الله مسئول عن مالك، مسئول عن مصدر كسبك، وكذلك مسئول عن جهات إنفاقك.
• 1•
{তোমাদের কারো নিকট মৃত্যু আসার পূর্বেই, তখন সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে যদি আরও কিছুকাল সময় দিতে, তবে আমি দান-সদকা করতাম এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। অথচ আল্লাহ কখনোই কোনো প্রাণীকে অবকাশ দেবেন না যখন তার নির্ধারিত সময় চলে আসবে। আর তোমরা যা করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত।}
[আল-মুনাফিকুন]।
পরিশেষে হে মুসলিম! জেনে রাখুন যে, আপনি আল্লাহর দরবারে আপনার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন, আপনার উপার্জনের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন এবং একইভাবে আপনার ব্যয়ের খাতসমূহ সম্পর্কেও জিজ্ঞাসিত হবেন।
• ১•
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
صور من الكسب الحرام
হারাম উপার্জনের বিভিন্ন রূপ
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
السرقةمن الموبقات والمهلكات التي أوجب الله تعالى فيها الحد موبقة وكبيرة السرقة؛ سرقة أموال الناس سواء أكانت أموالًا عامة أم أموال خاصة، والسرقة تكون خُفية وخلسة فهي من الخيانة.
قال تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [المائدة].
وكان النبي صلى الله عليه وسلم يبايع الناس على أن لا يسرقوا.
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لَا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شيئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [الممتحنة].
وعن عائذ الله بن عبد الله أن عبادة بن الصامت رضي الله عنه كان شهد بدرًا، وهو أحد النقباء ليلة العقبة - أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وحوله عصابة من أصحابه: «بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا،
চৌর্যবৃত্তিআল্লাহ তাআলা যেসব বিনাশকারী (موبقات) ও ধ্বংসাত্মক (مهلكات) পাপের জন্য নির্ধারিত দণ্ড (حد) আবশ্যক করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম বিনাশকারী ও মহাপাপ (كبيرة) হলো চুরি; মানুষের সম্পদ চুরি করা, চাই তা সরকারি সম্পদ হোক কিংবা ব্যক্তিগত সম্পদ। আর চুরি করা হয় গোপনে ও অলক্ষ্যে, তাই এটি খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গের (خيانة) অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {চোর পুরুষ ও চোর নারী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [সূরা আল-মায়িদাহ]।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের নিকট থেকে চুরি না করার বিষয়ে আনুগত্যের শপথ (بيعة) গ্রহণ করতেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে নবী! যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে আনুগত্যের শপথ (بيعة) করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোনো অপবাদ রচনা করে রটাবে না এবং সৎকাজে আপনার অবাধ্য হবে না, তখন আপনি তাদের আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [সূরা আল-মুমতাহিনা]।
আয়িযুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)—যিনি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং আকাবার রজনীতে অন্যতম প্রতিনিধি (نقباء) ছিলেন—জানান যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একদল সাহাবীর উপস্থিতিতে বললেন: «তোমরা আমার কাছে এই মর্মে আনুগত্যের শপথ (بيعة) করো যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না,
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَلَا تَسْرِقُوا، وَلَا تَزْنُوا، وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ، وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلَا تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شيئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شيئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللَّهُ فَهُوَ إِلَى اللَّهِ، إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ» فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ»
(1).
•
السارق ملعون:عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَعَنَ اللَّهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ البَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ، وَيَسْرِقُ الحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ»
(2).
•
السارقُ منفيٌّ عنه كمال الإيمان (3):
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ الخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً، يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيهَا أَبْصَارَهُمْ، وَهُوَ مُؤْمِنٌ»
(4).
--------------------------------------------
"আর তোমরা চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, এবং তোমরা তোমাদের হাত ও পায়ের সামনে (অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে) কোনো অপবাদ রচনা করে আনবে না, আর কোনো সৎ কাজে অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে তার অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এর কোনো একটিতে লিপ্ত হলো এবং দুনিয়াতে তাকে শাস্তি প্রদান করা হলো, তবে তা তার জন্য পাপমোচন বা কাফফারা স্বরূপ। আর যে ব্যক্তি এর কোনো একটিতে লিপ্ত হলো অতঃপর আল্লাহ তা গোপন রাখলেন, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন আর চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন।" অতঃপর আমরা এই শর্তে তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম।
(১).
•
চোর অভিশপ্ত:আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই চোরের ওপর লানত করেছেন যে একটি ডিম চুরি করে আর তার ফলে তার হাত কাটা হয়, এবং একটি দড়ি চুরি করে আর তার ফলে তার হাত কাটা হয়।"
(২).
•
চোর থেকে ঈমানের পূর্ণতা অপসারিত হওয়া (৩):
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ব্যভিচারকারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না, মদ পানকারী যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না, চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না এবং কোনো বড় ধরনের লুণ্ঠনকারী যখন লুণ্ঠন করে যার দিকে মানুষ বিস্ময়ভরে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
•
السارق تُقطع يده:قال تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [المائدة].
وعن عائشة ـ بسم الله الرحمن الرحيم صلى الله عليه وآله وسلم المحتويات رضي الله عنه رضي الله عنها رضي الله عنها صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رضي الله عنهم صلى الله عليه وسلم رضي الله عنه أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّتْهُمُ المَرْأَةُ المَخْزُومِيَّةُ الَّتِي سَرَقَتْ، فَقَالُوا: مَنْ يُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَكَلَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ؟!» ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ، قَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا ضَلَّ مَنْ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ الضَّعِيفُ فِيهِمْ أَقَامُوا عَلَيْهِ الحَدَّ، وَايْمُ اللَّهِ، لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، سَرَقَتْ لَقَطَعَ مُحَمَّدٌ يَدَهَا»
(1).
وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه قال: قَطَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَ سَارِقٍ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ
(2).
قال ابن كثير: وقد كان القطعُ معمولًا به في الجاهلية فقُرِّرَ في الإسلام وزيدت شروط أُخر
(3).
--------------------------------------------
চোরের হাত কাটা হবে:আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর চোর ও চোরনি, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আল-মায়িদাহ]।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, কুরাইশ বংশের লোকেরা মাখজুম গোত্রের সেই মহিলার বিষয়ে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়ল যে চুরি করেছিল। তারা বলল: "এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কে কথা বলবে?" তারা বলল: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রিয়পাত্র উসামা বিন যায়িদ (রা.) ব্যতীত আর কে তাঁর সাথে কথা বলার সাহস করবে?" অতঃপর উসামা (রা.) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এ বিষয়ে কথা বললেন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত হদ (حد) সমূহের মধ্য হতে কোনো একটি হদ (حد) বিষয়ে সুপারিশ করছ?!" এরপর তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "হে লোকসকল! তোমাদের পূর্ববর্তীগণ কেবল এ কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছিল যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি চুরি করত তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত, আর যখন কোনো সাধারণ (ضعيف) মানুষ চুরি করত তখন তারা তার ওপর হদ (حد) কার্যকর করত। আল্লাহর শপথ, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে অবশ্যই মুহাম্মাদ তার হাত কেটে দিত।"
(১).
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি ঢালের চুরির অপরাধে চোরের হাত কেটেছিলেন যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম
(২).
ইবনে কাসীর বলেন: জাহেলিয়াত যুগেও হাত কাটার বিধান প্রচলিত ছিল, অতঃপর ইসলামে তা বহাল রাখা হয় এবং এতে অতিরিক্ত কিছু শর্তারোপ করা হয়
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فحريٌّ بكل مسلم سلك طريق الاستقامة، أن يبتعد كل البعد عن هذه الجريمة النكراء جريمة السرقة؛ لِما تقدم ذكره من كتاب ربنا ومن سنة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم في شأنها، وما ذكر في هذا الباب قليلٌ، فلقد ورد في شأن هذه الكبيرة الكثير من الآيات البينات والأحاديث النبوية، ولكن عذرنا أن المقام هنا لا يستدعي الإطالة.
অতএব, ইস্তিকামাতের পথ অবলম্বনকারী প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এই জঘন্য চুরির অপরাধ থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকা একান্ত আবশ্যক; কেননা এ বিষয়ে আমাদের প্রতিপালকের কিতাব এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) হতে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা অতি সামান্য; বস্তুত এই কবিরা (كبيرة) গুনাহ সম্পর্কে বহু সুস্পষ্ট আয়াত ও নববী হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তবে আমাদের ওজর এই যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الرشوة (1)من جملة المال المحرم أَخْذ الرشوة، وهي ما يتعاطاه المسئول؛ ليقتطع حقًّا لإنسان ليس له، أو ليشفع في باطل، أو ليرفع عقوبةً عن رجلٍ قد استحقها، أو ليغض الطرفَ عن مخالفةٍ ارتُكبت.
وقد انتشرت الرشوة في هذا الزمان، فقلما تجد دائرة من الدوائر تخلو المصلحة فيها من الرشوة، إلا من رحم ربي وعصم، وإلى الله المشتكى، فأصبح من المتعارف بين عدد من المسئولين إذا أردت أن تنجز شيئًا فعليك بالمال، ولا حول ولا قوة إلا بالله الكبير المتعال.
--------------------------------------------
ঘুষ (الرشوة) (১)নিষিদ্ধ (محرم) সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হলো ঘুষ (الرشوة) গ্রহণ করা। আর এটি হলো যা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি গ্রহণ করেন; যাতে তিনি এমন কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারেন যা তার প্রাপ্য নয়, অথবা কোনো বাতিল বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য, অথবা এমন কোনো ব্যক্তির সাজা মওকুফ করার জন্য যে ব্যক্তি তার যোগ্য হয়েছে, অথবা কোনো সংঘটিত অপরাধের প্রতি চোখ বুজে থাকার জন্য।
বর্তমান সময়ে ঘুষ (الرشوة) ছড়িয়ে পড়েছে, খুব কম দপ্তরই এমন পাওয়া যাবে যেখানে ঘুষ (الرشوة) লেনদেন থেকে মুক্ত থাকা যায়, তবে আমার প্রতিপালক যাকে দয়া ও হেফাজত করেছেন সে ভিন্ন। আল্লাহর কাছেই ফরিয়াদ। অনেক কর্মকর্তাদের মাঝে এটি এখন একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে যে, আপনি যদি কোনো কাজ সম্পন্ন করতে চান তবে আপনাকে অর্থ প্রদান করতে হবে। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال الله تعالى: {وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ 188} [البقرة].
وقال تعالى: {سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ} [المائدة: 42].
قال الحسن: تلك الحكام، سمعوا كذبة وأكلوا رشوة
(1).
وقال قتادة: {سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ} كان هذا وحكام اليهود بين أيديكم، كانوا يسمعون الكذب ويقبلون الرشى
(2).
قال مجاهد: {أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ} الرشوة في الحكم وهم اليهود
(3).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের সম্পদের কিছু অংশ জেনেশুনে পাপের মাধ্যমে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের কাছে তা পেশ করো না} [আল-বাকারাহ: ১৮৮]।
এবং তিনি আরও বলেন: {তারা মিথ্যা শ্রবণে অত্যন্ত আসক্ত এবং অবৈধ সম্পদ ভক্ষণে অতিশয় আগ্রহী} [আল-মায়িদাহ: ৪২]।
হাসান বলেন: এরা হলো সেই সব বিচারক, যারা মিথ্যা শুনেছে এবং ঘুষ গ্রহণ করেছে
(১)।
কাতাদাহ বলেন: {তারা মিথ্যা শ্রবণে অত্যন্ত আসক্ত এবং অবৈধ সম্পদ ভক্ষণে অতিশয় আগ্রহী} এটি তোমাদের সামনে উপস্থিত ইহুদি বিচারকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল; তারা মিথ্যা শুনত এবং ঘুষ গ্রহণ করত
(২)।
মুজাহিদ বলেন: {অবৈধ সম্পদ ভক্ষণে অতিশয় আগ্রহী} হলো বিচারের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করা এবং তারা হলো ইহুদি
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
النبي صلى الله عليه وسلم يلعن الراشي والمرتشي:عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه قال: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي
(1).
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতাকে অভিশাপ দিয়েছেন:আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতাকে অভিশাপ দিয়েছেন
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
واشتد غضب النبي صلى الله عليه وسلم على رجلٍ استعمله فقال: «وهذا أُهدي لي» كما في الصحيحين من حديث أبي حميد الساعدي، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَ عَامِلًا
(1)، فَجَاءَهُ العَامِلُ حِينَ فَرَغَ مِنْ عَمَلِهِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَذَا لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي. فَقَالَ لَهُ: «أَفَلَا قَعَدْتَ فِي بَيْتِ أَبِيكَ وَأُمِّكَ، فَنَظَرْتَ أَيُهْدَى لَكَ أَمْ لَا؟» ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشِيَّةً بَعْدَ الصَّلَاةِ، فَتَشَهَّدَ وَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَمَا بَالُ العَامِلِ نَسْتَعْمِلُهُ، فَيَأْتِينَا فَيَقُولُ:
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিযুক্ত জনৈক ব্যক্তির প্রতি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন যখন সে বলেছিল: «এটি আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে», যেমনটি সহীহাইন-এ আবু হুমাইদ আস-সাঈদী বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন কর্মকর্তাকে
(১) নিযুক্ত করেছিলেন। সেই কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এটি আপনাদের প্রাপ্য এবং এটি আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি তাকে বললেন: «তুমি কেন তোমার বাবা-মায়ের ঘরে বসে থাকলে না, তখন দেখতে যে তোমাকে কেউ উপহার দেয় কি না?» এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্ধ্যায় নামাজের পর দাঁড়ালেন, অতঃপর তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন। এরপর তিনি বললেন: «অতঃপর, সেই কর্মকর্তার কী হলো যাকে আমরা নিয়োগ করি, আর সে আমাদের কাছে এসে বলে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هَذَا مِنْ عَمَلِكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي، أَفَلَا قَعَدَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَنَظَرَ: هَلْ يُهْدَى لَهُ أَمْ لَا؟ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا يَغُلُّ أَحَدُكُمْ مِنْهَا شيئًا إِلَّا جَاءَ بِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ يَحْمِلُهُ عَلَى عُنُقِهِ، إِنْ كَانَ بَعِيرًا جَاءَ بِهِ لَهُ رُغَاءٌ، وَإِنْ كَانَتْ بَقَرَةً جَاءَ بِهَا لَهَا خُوَارٌ، وَإِنْ كَانَتْ شَاةً جَاءَ بِهَا تَيْعَرُ، فَقَدْ بَلَّغْتُ» فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: ثُمَّ رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ، حَتَّى إِنَّا لَنَنْظُرُ إِلَى عُفْرَةِ إِبْطَيْهِ
(1)(2).
وقد ذكر البخاري رحمه الله هذا الحديث مبوبًا له بباب تحريم هدايا العمال.
وبوب له ابن خزيمة رحمه الله بقوله: باب التغليظ في قبول المصدق الهدية ممن يتولى السعاية عليهم.
وبوب له البيهقي بقوله: الهدية للوالي بسبب الولاية.
وعلى هذا لا يجوز أبدًا لأي مسلم أن يتخذ الهدايا من الناس بسبب عمله ووظيفته؛ فهذا سحت، وليكن حاضرًا بباله دومًا قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فَهَلَّا جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ أَوْ بَيْتِ أُمِّهِ، فَيَنْظُرَ يُهْدَى لَهُ أَمْ لَا؟»
(3).
--------------------------------------------
«এটি তোমাদের কাজের অংশ এবং এটি আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে; তবে সে কেন তার পিতা ও মাতার ঘরে বসে থাকল না এবং দেখল না যে তাকে উপহার দেওয়া হয় কি না? সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি তা থেকে সামান্য কিছুও আত্মসাৎ করে, তবে কিয়ামতের দিন সে তা নিজ ঘাড়ে বহন করে উপস্থিত হবে। যদি তা উট হয়, তবে সেটি তার ডাকসহ উপস্থিত হবে; যদি গাভী হয়, তবে সেটি তার হাম্বা-রবসহ উপস্থিত হবে; আর যদি ছাগল হয়, তবে সেটি তার ভ্যাঁ-ভ্যাঁ ডাকসহ উপস্থিত হবে। নিশ্চয়ই আমি পৌঁছে দিয়েছি।" আবু হুমায়দ (রা.) বলেন: অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত উত্তোলন করলেন, এমনকি আমরা তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছিলাম
(১)(২).
ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এর জন্য 'কর্মকর্তাদের উপহার নিষিদ্ধকরণ' শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন।
ইবনে খুজায়মাহ (রহিমাহুল্লাহ) এর শিরোনাম দিয়েছেন এই বলে: 'যাকাত আদায়কারী যাদের দায়িত্বে নিয়োজিত তাদের পক্ষ থেকে উপহার গ্রহণ করার কঠোর নিষেধাজ্ঞা।'
বায়হাকি এর শিরোনাম দিয়েছেন এই বলে: 'পদের কারণে দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে উপহার প্রদান।'
এর ওপর ভিত্তি করে কোনো মুসলিমের জন্যই তার কাজ ও পদের কারণে মানুষের নিকট থেকে উপহার গ্রহণ করা কখনো বৈধ নয়; কেননা এটি অবৈধ উপার্জন (سحت)। তাই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীটি যেন সর্বদা তার স্মরণে থাকে: «সে কেন তার পিতার ঘরে কিংবা মায়ের ঘরে বসে থাকল না, যাতে সে দেখতে পেত তাকে উপহার দেওয়া হয় কি না?»
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
هذا القول من النبي صلى الله عليه وسلم يرد على كل متأول ومتفلسف تأويله وفلسفته، أقصد هؤلاء الذين يقولون: إنما هي هدايا بسبب المعرفة والصداقة.
هذا؛ وليتق الله من حملوا أمانة المسؤولية، فلا يدخلوا بطونهم الحرام ورحم الله السلف الصالح إذ كانوا يتورعون عن هدايا الأمراء خشيةً منهم أن تكون قد اختلطت بما يقدم إلى الأمراء من الهدايا التي هي في نظرهم سحت.
•
الفرق بين الهدية والرشوة:ومما ينبغي أن يعلمه القاصي والداني في هذا الزمان الذي اختلطت فيه المسميات وسميت به الأشياء بغير اسمها
(1) أن ثم فرقًا شاسعًا بين الهدية والرشوة:
• فالهدية: ما يعطيه الأخ لأخيه على سبيل المحبة وتأليف القلوب وتوطيد العلاقات من باب قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تهادوا تحابوا»
(2).
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী প্রতিটি ব্যাখ্যাকারী এবং দার্শনিকসুলভ যুক্তি প্রদানকারীর ব্যাখ্যা ও দর্শনকে খণ্ডন করে; আমি তাদের উদ্দেশ্য করছি যারা বলে: এগুলো তো কেবল জানাশোনা ও বন্ধুত্বের কারণে প্রদত্ত উপহার মাত্র।
অতএব, যারা দায়িত্বের আমানত বহন করছেন তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত, যেন তারা তাদের উদরে হারাম প্রবেশ না করান। আল্লাহ তায়ালা সালাফে সালেহীনের প্রতি রহম করুন, কেননা তারা শাসকদের উপহার গ্রহণ থেকে এই ভয়ে বিরত থাকতেন যে, পাছে তা শাসকদের প্রদান করা এমন সব উপহারের সাথে মিশ্রিত হয়ে যায় যা তাদের দৃষ্টিতে অবৈধ সম্পদ (سحت)।
•
উপহার ও ঘুষের মধ্যে পার্থক্য:এই যুগে যখন নামসমূহ বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়েছে এবং বস্তুসমূহকে তাদের সঠিক নাম ব্যতীত অন্য নামে নামকরণ করা হচ্ছে, তখন নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলের জন্য এটি জানা আবশ্যক যে, উপহার ও ঘুষের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে:
(1)• উপহার: যা এক ভাই অন্য ভাইকে ভালোবাসা প্রকাশ, অন্তর জয় করা এবং সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে প্রদান করে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, তোমাদের মধ্যে মহব্বত বৃদ্ধি পাবে।"
(2).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
• وأما الرشوة: فهي إنما تكون لجلب مصلحة أو لنيل شفاعة، وهذا محرم في دين الله رب العالمين.
قال ابن القيم: والفرق بين الهدية والرشوة - وإن اشتبها في الصورة - القصد، فإن الراشي قصده بالرشوة التوصل إلى إبطال حق أو تحقيق باطل، فهذا الراشي الملعون على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم فإن رشا لدفع الظلم عن نفسه اختص المرتشي وحده باللعنة.
وأما المهدي فقَصْده استجلاب المودة والمعرفة والإحسان، فإن قصد المكافأة فهو معاوض وإن قصد الربح فهو مستكثر
(1).
ويرحم الله أمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز إذ قال: كانت الهدية في زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم هدية واليوم رشوة.
--------------------------------------------
আর ঘুষের (رشوة) বিষয়টি হলো: এটি কেবল কোনো স্বার্থ হাসিল কিংবা সুপারিশ লাভের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, আর এটি রব্বুল আলামীন আল্লাহর দ্বীনে হারাম (محرم)।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: উপহার (هدية) ও ঘুষের (رشوة) মধ্যে পার্থক্য—যদিও বাহ্যিক অবস্থায় উভয়টি সদৃশ—হলো নিয়ত বা উদ্দেশ্য। কেননা ঘুষ দাতার (راشي) উদ্দেশ্য হলো ঘুষের (رشوة) মাধ্যমে কোনো সত্যকে বাতিল করা কিংবা কোনো মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা। এই ঘুষ দাতা (راشي) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানীতে অভিশপ্ত। তবে সে যদি নিজের ওপর থেকে জুলুম দূর করার জন্য ঘুষ দেয়, তবে কেবল ঘুষ গ্রহণকারীই (مرتشي) লানতের জন্য নির্দিষ্ট হবে।
আর উপহার প্রদানকারীর (مهدي) উদ্দেশ্য হলো মহব্বত, জানাশোনা ও অনুগ্রহ অর্জন করা। সে যদি এর মাধ্যমে প্রতিদান পাওয়ার সংকল্প করে তবে সে বিনিময়কামী (معاوض), আর যদি মুনাফার সংকল্প করে তবে সে আধিক্য অন্বেষণকারী (مستكثر)
(১)।
আল্লাহ তাআলা আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনে আব্দুল আজিজের ওপর রহম করুন, যখন তিনি বলেছিলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যা উপহার (هدية) ছিল, আজ তা ঘুষ (رشوة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামু বিআহকামিল মালিল হারাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفي هذا الذي ذكرت عن ابن عبد العزيز قصة حكاها فرات بن سلمان قال: اشتهى عمر بن عبد العزيز التفاح، فبعث إلى بيته فلم يجدوا شيئًا يشترون له به، فركب وركبنا معه، فمر بِديْر فتلقاه غلمان للديرانيين معهم أطباق فيها تفاح، فوقف على طبق منها فتناول تفاحةً فشمها ثم أعادها إلى الطبق، ثم قال: ادخلوا ديركم، لا أعلمكم بعثتم إلى أحد من أصحابي بشيء.
قال: فحركت بغلتي فلحقته، فقلت يا أمير المؤمنين اشتهيت التفاح فلم يجدوه لك فأهديَ لك فرددته!! قال: لا حاجة لي فيه. فقلت: ألم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وعمر يقبلون الهدية؟ قال: إنها لأولئك هدية، وهي للعمال بعدهم رشوة
(1).
•
الرشوة من دأب اليهود:قال الله تعالى في شأنهم: {سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ} [المائدة: 42].
قال قتادة: كان هذا في حكام اليهود بين أيديكم كانوا يسمعون الكذب ويقبلون الرُّشى
(2).
--------------------------------------------
ইবনে আব্দুল আজিজ সম্পর্কে আমি যা উল্লেখ করেছি, তাতে ফুরাত ইবনে সালমান একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আপেল খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করলেন। তিনি তার বাড়িতে লোক পাঠালেন, কিন্তু তারা তা কেনার জন্য কিছু খুঁজে পেল না। এরপর তিনি সওয়ার হলেন এবং আমরাও তার সাথে সওয়ার হলাম। তিনি একটি গির্জার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন গির্জার খাদেমদের কিছু বালক তাদের সাথে আপেলের পাত্র নিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাল। তিনি একটি পাত্রের কাছে দাঁড়ালেন এবং একটি আপেল হাতে নিয়ে ঘ্রাণ নিলেন, তারপর তা পাত্রে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর বললেন: তোমরা তোমাদের গির্জায় ফিরে যাও, আমি যেন জানতে না পারি যে তোমরা আমার কোনো সঙ্গীর কাছে কিছু পাঠিয়েছ।
তিনি বলেন: আমি আমার খচ্চরটিকে হাঁকালাম এবং তার নাগাল পেলাম। আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি আপেল খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন কিন্তু তারা আপনার জন্য তা খুঁজে পায়নি, আর আপনার কাছে এটি হাদিয়া হিসেবে পেশ করা হলেও আপনি তা ফিরিয়ে দিলেন!! তিনি বললেন: এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি বললাম: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর এবং উমর কি হাদিয়া কবুল করতেন না? তিনি বললেন: তাদের জন্য এটি হাদিয়া ছিল, কিন্তু তাদের পরবর্তী শাসক ও কর্মকর্তাদের জন্য এটি ঘুষ।
(1).
•
ঘুষ ইহুদিদের স্বভাব:আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {তারা মিথ্যার কথা শুনতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং অবৈধ সম্পদ বা ঘুষ ভক্ষণে খুব বেশি আসক্ত} [আল-মায়িদাহ: ৪২]।
কাতাদাহ বলেন: এটি তোমাদের সামনে থাকা ইহুদি বিচারকদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, তারা মিথ্যা শুনত এবং ঘুষ গ্রহণ করত।
(2).
--------------------------------------------