(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: -)
صفة النفاق وذم المنافقين للفريابي (الفريابي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: صفة النفاق وذم المنافقين
المؤلف: أبو بكر جعفر بن محمد بن الحسن بن المُسْتَفاض الفِرْيابِي (ت 301هـ)
شرحه وحققه وعلق عليه: أبو عبد الرحمن المصري الأثري
الناشر: دار الصحابة للتراث، مصر
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 145
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফিরইয়াবির মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য ও মুনাফেকদের নিন্দা (আল-ফিরইয়াবি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য ও মুনাফেকদের নিন্দা
লেখক: আবু বকর জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনুল মুস্তাফায আল-ফিরইয়াবি (মৃত্যু ৩০১ হি.)
ব্যাখ্যা, তাহকিক ও টীকা প্রদান করেছেন: আবু আব্দুর রহমান আল-মিসরি আল-আসারি
প্রকাশক: দারুস সাহাবাহ লিত-তুরাস, মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৫
[কিতাবটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
بَابُ مَا رُوِيَ فِي صِفَةِ الْمُنَافِقِ وَأَنَّ مَنْ كَانَ فِيهِ ثَلَاثُ خِصَالٍ فَهُوَ مُنَافِقٌ حَقًّا
মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য এবং যার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান সে প্রকৃত মুনাফিক হওয়ার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
1 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ نَافِعِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ»
১ - আমাদের নিকট কুতায়বা ইবন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন আবু সুহায়ল নাফে ইবন মালিক ইবন আবু আমির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ عَلَامَاتِ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ»
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে মাখলাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলা ইবনে আবদুর রহমান, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
3 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ»
৩ - আমাদের নিকট আমর ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কায়স বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলা ইবনে আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: «মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
4 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ ⦗ص: 51⦘ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ» ، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَتِ اثْنَتَانِ وَبَقِيَتْ وَاحِدَةٌ؟ قَالَ: «فَإِنَّ عَلَيْهِ شُعْبَةٌ مِنْ نِفَاقٍ مَا بَقِيَ مِنْهُنَّ شَيْءٌ»
৪ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আন-নাদর ইবনে শুমাইল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মা'শার বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে, তিনি নবী (আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে মুনাফিক: যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন সে খিয়ানত করে», অতঃপর এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, যদি দুটি চলে যায় এবং একটি অবশিষ্ট থাকে? তিনি বললেন: «তবে তার মধ্যে নিফাকের একটি শাখা বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেগুলোর কোনো অংশ তার মধ্যে অবশিষ্ট থাকে»।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
5 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ، مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ»
৫ - আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনুল হাজ্জাজ আস-সামি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান সে মুনাফিক, যদিও সে রোজা রাখে, নামাজ পড়ে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে; (সেগুলো হলো) যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় তখন সে খেয়ানত করে»।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
6 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، يَسْأَلُ رَجُلًا كَيْفَ بَلَغَكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «آيَةُ الْمُنَافِقِ» ، قَالَ: إِنْ حَدَّثَ كَذَبَ وَإِنْ وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِنِ ائْتُمِنَ خَانَ، ثُمَّ مَرَّ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَسَأَلَهُ أَيْضًا فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى مَرَّ عَلَيْهِ رَجُلَانِ
৬ - কুতায়বাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মা’মার হতে বর্ণিত যে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ‘মুনাফিকের আলামত’ সম্পর্কে কী বলেছেন বলে তোমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে? তিনি বললেন: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খিয়ানত করে। অতঃপর তাঁর নিকট দিয়ে আরেক ব্যক্তি অতিক্রম করলে তিনি তাকেও জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনিও তাকে অনুরূপ উত্তর দিলেন, এভাবে তাঁর নিকট দিয়ে দুইজন ব্যক্তি অতিক্রম করলেন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
7 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْصُورٌ، سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ» قَالَ أَبُو حَفْصٍ عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ: لَا أَعْلَمُ أَحَدًا تَابَعَ أَبَا دَاوُدَ عَلَى هَذَا وَأَبُو دَاوُدَ ثِقَةٌ
৭ - আমর ইবনে আলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানসুর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমি আবু ওয়াইলকে আবদুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে» আবু হাফস আমর ইবনে আলী বলেন: আমি জানি না যে এই বর্ণনায় কেউ আবু দাউদকে অনুসরণ করেছেন, তবে আবু দাউদ নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
8 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ: كَذُوبٌ إِذَا حَدَّثَ، مُخَالِفٌ إِذَا وَعَدَ، خَائِنٌ إِذَا ائْتُمِنَ، فَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ فَفِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবু শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর, মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে মুনাফিক: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে। সুতরাং যার মধ্যে এর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে যতক্ষণ না সে তা বর্জন করে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ النَّرْسِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ، وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ
৯ - আমাদের নিকট আব্দুল আ'লা ইবনে হাম্মাদ আন-নারসী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আসিম ইবনে বাহদালাহ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে মুনাফিক; যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন সে প্রতিশ্রুতি দেয় তখন তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় তখন সে খিয়ানত করে। আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন: এবং যখন সে বিবাদে লিপ্ত হয় তখন পাপাচার করে এবং যখন সে অঙ্গীকার করে তখন বিশ্বাসঘাতকতা করে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، وَعُثْمَانُ، ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: اعْتَبِرُوا الْمُنَافِقَ بِثَلَاثٍ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا، وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ ثُمَّ قَرَأَ {وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللَّهَ لَئِنْ آتَانَا مِنْ فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ فَلَمَّا آتَاهُمْ مِنْ فَضْلِهِ بَخِلُوا بِهِ وَتَوَلَّوْا وَهُمْ مُعْرِضُونَ فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوبِهِمْ إِلَى يَوْمِ يَلْقَوْنَهُ بِمَا أَخْلَفُوا اللَّهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ} [التوبة: 76]
১০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর এবং উসমান, যারা আবু শায়বাহর দুই পুত্র; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া; তিনি আমাশ থেকে, তিনি উমারাহ বিন উমায়ের থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেছেন: তোমরা মুনাফিককে তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে চিনবে: যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে; যখন সে ওয়াদা করে, তখন তা ভঙ্গ করে; এবং যখন সে অঙ্গীকার করে, তখন বিশ্বাসঘাতকতা করে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {আর তাদের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, "তিনি যদি আমাদের তাঁর অনুগ্রহ থেকে দান করেন, তবে আমরা অবশ্যই সদকা করব এবং অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব।" অতঃপর যখন তিনি তাদের তাঁর অনুগ্রহ থেকে দান করলেন, তখন তারা তাতে কার্পণ্য করল এবং বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল। ফলে তিনি তাদের অন্তরে মুনাফিকি গেঁথে দিলেন সেই দিন পর্যন্ত, যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে; কারণ তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করেছিল এবং তারা মিথ্যা বলত।} [আত-তাওবাহ: ৭৬]
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
11 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فِي الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ»
১১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ইবনে মাওহাব আর-রামলী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব থেকে, তিনি সিনান ইবনে সা'দ থেকে, আর তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মুনাফিকের তিনটি নিদর্শন রয়েছে, যদিও সে সিয়াম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে: যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় তখন সে খেয়ানত করে।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
12 - حَدَّثَنِي أَبُو أُمَيَّةَ عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ الْحَرَّانِيُّ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَقَالَ: إِنِّي مُؤْمِنٌ مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ "
১২ - আবু উমাইয়াহ আমর ইবনে হিশাম আল-হাররানি আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইকরিমা ইবনে আম্মার থেকে, তিনি ইয়াজিদ আল-রাকাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে সে মুনাফিক, যদিও সে রোজা রাখে, সালাত আদায় করে এবং বলে: 'নিশ্চয়ই আমি মুমিন'; (সেগুলো হলো) যে ব্যক্তি কথা বললে মিথ্যা বলে, যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন সে খেয়ানত করে এবং যখন সে প্রতিশ্রুতি দেয় তখন তা ভঙ্গ করে।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَلَّةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَلَّةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ»
১৩ - আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে নুমায়র বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-আমাশ বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান সে খাঁটি মুনাফিক, এবং যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য থাকে যতক্ষণ না সে তা বর্জন করে: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, যখন সে অঙ্গীকার করে তখন বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং যখন সে বিবাদে লিপ্ত হয় তখন অন্যায় আচরণ (বা অশ্লীল গালিগালাজ) করে।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
14 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ فَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا»
১৪ - উসমান ইবনে আবী শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর ইবনে আবদিল হামীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবে গণ্য হবে; যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে, যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তখন তা লঙ্ঘন করে এবং যখন বিবাদে লিপ্ত হয় তখন সে সীমা লঙ্ঘন করে। সুতরাং যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে যতক্ষণ না সে তা বর্জন করে।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ وَإِنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهَا فَفِيهِ خَصْلَةٌ مِنْ نِفَاقٍ، إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ»
১৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবা, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "চারটি বৈশিষ্ট্য এমন যে, যার মধ্যে সেগুলো থাকবে সে মুনাফিক বলে গণ্য হবে; আর যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি দিক থাকবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে: যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে, যখন সে অঙ্গীকার করে তখন বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং যখন সে বিবাদে লিপ্ত হয় তখন সে সীমা লঙ্ঘন করে।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ صُبَيْحِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ، قَالَ: ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ {وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللَّهَ لَئِنْ آتَانَا مِنْ فَضْلِهِ} [التوبة: 75] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
১৬ - আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, গুন্দার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ থেকে, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি সুবাইহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে মুনাফিক; যে কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় তখন সে খেয়ানত করে। তিনি বলেন: এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তিনি যদি আমাদের তাঁর অনুগ্রহ থেকে দান করেন...} [আত-তাওবাহ: ৭৫] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى أَبُو سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هُبَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: ثَلَاثٌ إِذَا كُنَّ فِي عَبْدٍ فَلَا تَتَحَرَّجْ أَنْ تَشْهَدَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مُنَافِقٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ وَمَنْ إِذَا حَدَّثَ صَدَقَ وَإِذَا وَعَدَ أَنْجَزَ وَإِذَا ائْتُمِنَ أَدَّى فَلَا تَتَحَرَّجْ أَنْ تَشْهَدَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ
১৭ - আমাদের নিকট আবুল ওয়ালিদ হিশাম ইবনু আম্মার আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আসাদ ইবনু মুসা আবু সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনু লাহিয়া বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু হুবাইরা থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে শুনেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনটি বৈশিষ্ট্য যখন কোনো বান্দার মধ্যে বিদ্যমান থাকে, তখন সে মুনাফিক বলে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে তুমি কোনো কুণ্ঠাবোধ করো না: যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন সে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় তখন সে খিয়ানত করে। আর যে ব্যক্তি কথা বলার সময় সত্য বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূর্ণ করে এবং আমানত রাখা হলে তা যথাযথভাবে আদায় করে, তবে সে মুমিন বলে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে তুমি কোনো কুণ্ঠাবোধ করো না।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
18 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، أَنْبَأَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ خَطَبَ إِلَيْهِ رَجُلٌ ابْنَتَهُ فَقَالَ لَهُ: إِنِّي قَدْ قُلْتُ لَهُ فِيهِ قَوْلًا شَبِيهًا بِالْعِدَّةِ وَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ عز وجل بِثُلُثِ النِّفَاقِ
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা ইবন ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী, হারুন ইবন রিয়াব থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর যখন মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে তাঁর কন্যার বিয়ের প্রস্তাব দিল। তখন তিনি তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তাকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারের সদৃশ কথা দিয়েছিলাম। আর আমি মহান আল্লাহর সাথে মুনাফিকির এক-তৃতীয়াংশ নিয়ে সাক্ষাৎ করাকে অপছন্দ করি।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
19 - حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ: انْظُرُوا فُلَانًا - لِرَجُلٍ مِنْ قُرَيْشٍ - فَإِنِّي كُنْتُ قُلْتُ لَهُ فِي ابْنَتِي قَوْلًا كَشَبِيهِ الْعِدَّةِ وَمَا أُحِبُّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ عز وجل بِثُلُثِ النِّفَاقِ وَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ زَوَّجْتُهُ
১৯ - আবু বকর সাঈদ ইবনে ইয়াকুব আত-তালকানি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-আওযায়ী থেকে বর্ণিত, হারুন ইবনে রিআব থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি বললেন: অমুক ব্যক্তির খোঁজ করো—কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি—কেননা আমি আমার মেয়ের ব্যাপারে তাকে এমন কথা দিয়েছিলাম যা প্রতিশ্রুতির মতো ছিল। আর আমি মহান আল্লাহর সাথে নিফাকের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করি না। আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তার সাথে তাকে বিবাহ দান করলাম।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو تَقِيٍّ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ الْخَبَائِرِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ: الْمُنَافِقُ الَّذِي إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا غَنَمَ غَلَّ وَإِذَا أُمِرَ عَصَى وَإِذَا لَقِيَ جَبُنَ فَمَنْ كُنَّ فِيهِ فَفِيهِ النِّفَاقُ كُلُّهُ وَمَنْ كَانَ فِيهِ بَعْضُهُنَّ فَفِيهِ بَعْضُ النِّفَاقِ
২০ - আবু তাকি হিশাম ইবন আবদিল মালিক আল-হিমসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আজ-জুবাইদি—যিনি মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ—আমাদের কাছে সুলাইম ইবন আমির আল-খাবাইরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু উমামা আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: মুনাফিক সেই ব্যক্তি যে কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে, যখন সে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করে তখন তাতে আত্মসাৎ করে, যখন তাকে আদেশ করা হয় তখন সে অবাধ্য হয় এবং যখন সে শত্রুর সম্মুখীন হয় তখন সে ভীরুতা প্রদর্শন করে। সুতরাং যার মধ্যে এই সবকটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে, তার মধ্যে পরিপূর্ণ নিফাক বিদ্যমান; আর যার মধ্যে এগুলোর কিছু অংশ থাকবে, তার মধ্যে নিফাকের কিছু অংশ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
21 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ فَهُوَ مُنَافِقٌ إِذَا ائْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ»
২১ - আমাদের নিকট আমর ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযিদ ইবনে যুরায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে উবাইদ হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: «তিনটি বৈশিষ্ট্য এমন যা যার মধ্যে থাকবে সে মুনাফিক, যদিও সে সিয়াম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং দাবি করে যে সে একজন মুসলিম: যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে খিয়ানত করে, যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে এবং যখন সে ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে।’»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
22 - حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ بَيَانٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: مَنْ كَذَبَ فَهُوَ مُنَافِقٌ ثُمَّ قَالَ: مَا أَدْرِي أَيُّهُمَا أَبْعَدُ غَوْرًا يَعْنِي فِي النَّارِ الْكَذِبُ أَوِ الشُّحُّ
২২ - আমাদের নিকট ওয়াহাব বিন বাকিয়্যাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ, তিনি বায়ান থেকে, তিনি আমির আশ-শাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে সে মুনাফিক। এরপর তিনি বলেন: আমি জানি না এ দুটির মধ্যে জাহান্নামের আগুনের অধিক গভীরে কোনটি—মিথ্যা নাকি কৃপণতা।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
23 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافَ عَلَيْكُمْ بَعْدِي كُلُّ مُنَافِقٍ عَلِيمِ اللِّسَانِ»
২৩ - উবায়দুল্লাহ ইবনে মুআয আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুসাইন আল-মুআল্লিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যা সবচাইতে বেশি ভয় করি, তা হলো প্রত্যেক বাকপটু মুনাফিক (জিহ্বায় জ্ঞানী মুনাফিক)।’»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
24 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ قَالَا: حَدَّثَنَا دَيْلَمُ بْنُ غَزْوَانَ، حَدَّثَنَا مَيْمُونٌ الْكُرْدِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَخْوَفُ مَا أَخَافَ عَلَى أُمَّتِي كُلُّ مُنَافِقٍ عَلِيمِ اللِّسَانِ»
২৪ - উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর আল-মুকাদ্দামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: দাইলাম ইবনে গাজওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাইমুন আল-কুর্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসমান আন-নাহদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ছিলাম, তখন আমি তাঁকে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি, তা হলো প্রত্যেক ওই মুনাফিক যে জিহ্বার দ্বারা জ্ঞানী (অর্থাৎ কথায় পটু)»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
25 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مَيْمُونٌ الْكُرْدِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، فِي خُطْبَتِهِ يَقُولُ: حَذَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ كُلَّ مُنَافِقٍ عَلِيمِ اللِّسَانِ
২৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুসলিম ইবনে ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে আবু জাফর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মায়মুন আল-কুর্দি বর্ণনা করেছেন আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম আমাদের প্রত্যেক বাকপটু মুনাফিক সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
26 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، وَهُوَ عَلَى مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ أَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ أَصَابِعِي هَذِهِ وَهُوَ يَقُولُ: إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ الْمُنَافِقُ الْعَلِيمُ، قِيلَ: وَكَيْفَ يَكُونُ الْمُنَافِقُ الْعَلِيمُ؟ قَالَ: عَالِمُ اللِّسَانِ جَاهِلُ الْقَلْبِ وَالْعَمَلِ
২৬ - আমাদের নিকট কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জাফর ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি মুআল্লা ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে আমার এই আঙুলগুলোর সংখ্যার চেয়েও অধিক বার বলতে শুনেছি যে: "নিশ্চয়ই এই উম্মতের জন্য আমি যা সবচেয়ে বেশি ভয় পাই তা হলো জ্ঞানী মুনাফিক।" জিজ্ঞেস করা হলো: "জ্ঞানী মুনাফিক কীভাবে হয়?" তিনি বললেন: "যে মুখে জ্ঞানী কিন্তু অন্তরে ও কর্মে মূর্খ।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৭০)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ النَّرْسِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَاحْتَبَسَنِي عِنْدَهُ حَوْلًا فَقَالَ: يَا أَحْنَفُ إِنِّي قَدْ بَلَوْتُكَ وَخَبَرْتُكَ فَرَأَيْتُ عَلَانِيَتَكَ حَسَنَةً وَأَنَا أَرْجُو أَنْ تَكُونَ سَرِيرَتُكَ عَلَى مِثْلِ عَلَانِيَتِكَ وَإِنَّا كُنَّا نَتَحَدَّثُ إِنَّمَا يُهْلِكُ هَذِهِ الْأُمَّةَ كُلُّ مُنَافِقٍ عَلِيمٍ
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ আন-নারসি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি আলী ইবনে যাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আহনাফ ইবনে কাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলাম। তিনি আমাকে তাঁর নিকট এক বছর আটকে রাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে আহনাফ, আমি তোমাকে পরীক্ষা করেছি এবং তোমার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। আমি তোমার প্রকাশ্য অবস্থা সুন্দর দেখতে পেয়েছি। আমি আশা করি যে তোমার অভ্যন্তরীণ অবস্থা তোমার প্রকাশ্য অবস্থার মতোই হবে। আর আমরা আলোচনা করতাম যে, এই উম্মতকে ধ্বংস করবে প্রত্যেক জ্ঞানী মুনাফিক।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুন নিফাক ওয়া যাম্মুল মুনাফিকীন লিল ফিরইয়াবী
(পৃষ্ঠা: ৭০)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَحَدَ رَجُلَيْنِ: رَجُلٌ مُؤْمِنٌ قَدْ تَبَيَّنَ إِيمَانُهُ، وَرَجُلٌ كَافِرٌ قَدْ تَبَيَّنَ كُفْرُهُ وَلَكِنْ أَخَافُ عَلَيْكُمْ مُنَافِقًا يَتَعَوَّذُ بِالْإِيمَانِ وَيَعْمَلُ غَيْرَهُ
২৮ - আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওকী ইবনুল জাররাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কাসীর ইবনে যায়দ থেকে বর্ণিত, তিনি আল-মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি তোমাদের জন্য দুই ব্যক্তির কাউকে নিয়ে আশঙ্কা করি না: এমন এক মুমিন ব্যক্তি যার ঈমান সুস্পষ্ট হয়ে গেছে এবং এমন এক কাফির ব্যক্তি যার কুফর সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে এমন মুনাফিককে নিয়ে আশঙ্কা করি যে ঈমানের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করতে চায় অথচ তার বিপরীত আমল করে।