(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: -)
صفة الجنة لابن أبي الدنيا ت سليم القسم: كتب السنة
الكتاب: صفة الجنة لابن أبي الدنيا
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
تحقيق ودراسة: عمرو عبد المنعم سليم
الناشر: مكتبة ابن تيمية، القاهرة- مصر، مكتبة العلم، جدة - السعودية
عدد الصفحات: 245
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত সিফাতুল জান্নাহ (তাহকীক: সালিম) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত সিফাতুল জান্নাহ
লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
তাহকীক ও গবেষণা: আমর আব্দুল মুনইম সালিম
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, কায়রো- মিশর, মাকতাবাতুল ইলম, জেদ্দা - সৌদি আরব
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৫
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
دَعْوَةٌ إِلَى التَّشْمِيرِ وَالِاسْتِعْدَادِ لِلْجَنَّةِ
জান্নাতের জন্য সচেষ্ট হওয়া এবং প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الشّيدِي قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ فِي رَجَبٍ مِنْ سَنَةِ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَسِتِّمِائَةٍ بِمَنْزِلِنَا بِالظَّفَرِيَّةِ قِيلَ: أَخْبَرَكَ أَبُو الْفَتْحِ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَوَاهِبَ الْبردَانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ فِي رَمَضَانَ مِنْ سَنَةِ سِتٍّ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ. . . . قَرَأَ عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ مُسْتَهَلَّ ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ خَمْسَ عَشْرَةَ وَسِتِّمِائَةٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ جَابِرُ بْنُ يَاسِينَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْموَيْهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ بَكْرَانَ بْنِ جَابِرٍ الْعَطَّارُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ بْنِ الْحَسَنِ الْفَقِيهُ الْحَنْبَلِيُّ النَّجَّادُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ الْخَرَّازُ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، ⦗ص: 30⦘ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنِي كُرَيْبٌ، حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ الْجَنَّةَ فَقَالَ: «أَلَا هَلْ مُشَمِّرٌ إِلَيْهَا؟ هِيَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ رَيْحَانَةٌ تَهْتَزُّ، وَنَهَرٌ مُطَّرِدٌ، وَزَوْجَةٌ لَا تَمُوتُ فِي حُبُورٍ وَنَعِيمٍ فِي مَقَامٍ أَبَدًا»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ বিন আশ-শীদী, তার সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা তা শুনছিলাম ৬৪৬ হিজরির রজব মাসে জাফারিয়্যাহতে আমাদের আবাসে। বলা হলো: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন মাওয়াহিব আল-বারদানী, তার সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শুনছিলাম ৫৭৬ হিজরির রমজান মাসে। . . . তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শুনছিলাম ৬১৫ হিজরির জিলহজ মাসের শুরুতে জুমার দিনে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান জাবির বিন ইয়াসিন বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুয়াইহ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ হাসান বিন উসমান বিন বাকরান বিন জাবির আল-আত্তার। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন সালমান বিন হাসান আল-ফকিহ আল-হাম্বলী আন-নাজ্জাদ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন আবিদ দুনইয়া। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আউন আল-খাররাজ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম, ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুহাজির আল-আনসারী। আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন মুসা। আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কুরাইব। আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উসামা বিন যায়েদ। তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাতের বর্ণনা দিতে শুনেছি। তিনি বললেন: «সাবধান! কেউ কি আছে এর জন্য কটিবদ্ধ হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণকারী? কাবার রবের কসম, জান্নাত হলো দোদুল্যমান সুগন্ধি উদ্ভিদ, প্রবহমান নহর এবং এমন স্ত্রী যে কখনো মারা যাবে না; চিরস্থায়ী আবাসে আনন্দ ও নিআমতের মাঝে হবে এর অবস্থান।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو عُتْبَةَ الْحِمْصِيُّ أَحْمَدُ بْنُ الْفَرَجِ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْقُرَشِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، حَدَّثَنِي كُرَيْبٌ، أَنَّهُ سَمِعَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا مُشَمِّرٌ لِلْجَنَّةِ؛ فَإِنَّ الْجَنَّةَ لَا خَطَرَ لَهَا، هِيَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ نُورٌ يَتَلَأْلَأُ، وَرَيْحَانَةٌ تَهْتَزُّ، وَقَصْرٌ مَشِيدٌ، وَنَهَرٌ مُطَّرِدٌ، وَثَمَرَةٌ نَضِيجَةٌ، وَزَوْجَةٌ حَسْنَاءُ جَمِيلَةٌ، وَحُلَلٌ كَثِيرَةٌ، وَمَقَامٌ أَبَدًا فِي دَارٍ سَلِيمَةٍ، وَفَاكِهَةٍ وَخُضْرَةٍ، وَحِبْرَةٍ وَنِعْمَةٍ، فِي مَحِلَّةٍ عَالِيَةٍ بَهِيَّةٍ» ، ⦗ص: 31⦘ قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَحْنُ الْمُشَمِّرُونَ لَهَا، قَالَ: «قُولُوا إِنْ شَاءَ اللَّهُ» ، فَقَالَ الْقَوْمُ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উতবাহ আল-হিমসি আহমদ বিন আল-ফারাজ, তিনি বর্ণনা করেছেন উসমান বিন সাঈদ বিন কাসীর বিন দীনার আল-কুরাশি থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুহাজির থেকে, তিনি আদ-দাহহাক আল-মা'আফিরি থেকে, তিনি সুলায়মান বিন মুসা থেকে, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কুরাইব যে, তিনি উসামা বিন যায়েদকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতের জন্য কি কোনো প্রস্তুতি গ্রহণকারী আছে? কারণ জান্নাতের কোনো সমকক্ষ নেই। কাবার রবের শপথ! তা হচ্ছে ঝলমলে নূর, দোদুল্যমান সুগন্ধি উদ্ভিদ, সুদৃঢ় প্রাসাদ, প্রবহমান নদী, পরিপক্ক ফল, রূপবতী সুন্দরী স্ত্রী, প্রচুর পোশাক-পরিচ্ছদ এবং চিরস্থায়ী শান্তিময় আবাসে চিরকাল অবস্থান। তা ফলমূল, সবুজ শ্যামলতা, পরম আনন্দ ও নিআমতে ভরপুর এক সুউচ্চ ও মনোরম স্থানে অবস্থিত।» , ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ তারা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, আমরাই এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণকারী। তিনি বললেন: «তোমরা বলো— ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)।» অতঃপর উপস্থিত সকলে বললেন: ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
3 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرَةٍ حَبِيبُ بْنُ زِيَادٍ، أَنَّ أَبَا حَازِمٍ حَدَّثَهُ قَالَ: سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، يَقُولُ: شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَجْلِسًا وَصَفَ فِيهِ الْجَنَّةَ حَتَّى انْتَهَى، ثُمَّ قَالَ فِي آخِرِ حَدِيثِهِ: «فِيهَا مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ» ، ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا} [السجدة: 16] إِلَى قَوْلِهِ: {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ} [السجدة: 17] ، قَالَ: فَأَخْبَرْتُهَا مُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ الْقُرَظِيَّ، فَقَالَ: أَبُو حَازِمٍ حَدَّثَكَ هَذِهِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، إِنَّ ثَمَّ لَكَيْسًا كَثِيرًا، إِنَّهُمْ يَا هَذَا أَخْفَوْا لِلَّهِ عَمَلًا فَأَخْفَى لَهُمْ ثَوَابًا، فَلَوْ قَدْ قَدِمُوا عَلَيْهِ أَقَرَّ تِلْكَ الْأَعْيُنَ
৩ - আহমাদ ইবনে ঈসা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাখরা হাবিব ইবনে জিয়াদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, আবু হাজিম তাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সাহল ইবনে সাদ আস-সাঈদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এমন একটি মজলিসে উপস্থিত ছিলাম যেখানে তিনি জান্নাতের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি আলোচনা শেষ করলেন। এরপর তিনি তাঁর আলোচনার শেষে বললেন: «তাতে এমন কিছু রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়েও তা কখনও উদিত হয়নি», তারপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন: {তাদের পার্শ্বদেশসমূহ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় ও আশার সাথে ডাকে} [আস-সাজদাহ: ১৬] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {কেউই জানে না তাদের জন্য তাদের চোখ জুড়ানো কী নিয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়েছে} [আস-সাজদাহ: ১৭]। তিনি (আবু হাজিম) বলেন: এরপর আমি এটি মুহাম্মাদ ইবনে কাব আল-কুরাজিকে জানালাম। তখন তিনি বললেন: আবু হাজিম কি তোমাকে এটি শুনিয়েছেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: হে লোক! নিশ্চয়ই সেখানে অনেক প্রজ্ঞা রয়েছে; তারা আল্লাহর জন্য আমল গোপন রেখেছিল, তাই আল্লাহও তাদের জন্য সওয়াব গোপন রেখেছেন। ফলে যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হবে, তখন তিনি ঐ চোখগুলোকে জুড়িয়ে দেবেন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
صِفَةُ الْجَنَّةِ
জান্নাতের বর্ণনা
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
4 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، ثنا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، ثنا أَبُو مُجَاهِدٍ سَعْدٌ الطَّائِيُّ ثنا أَبُو الْمُدَلَّهِ، مَوْلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِّثْنَا عَنِ الْجَنَّةِ، مَا بِنَاؤُهَا؟ قَالَ: «لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ، وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ، وَمِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ، وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ، مَنْ يَدْخُلْهَا يَنْعَمْ لَا يَبْؤُسُ، وَيُخَلَّدْ لَا يَمُوتُ، لَا يَبْلَى ثِيَابُهُ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ» حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، ثنا وَكِيعٌ، عَنْ سَعْدَانَ الْجُهَنِيِّ، ⦗ص: 34⦘ عَنْ أَبِي مُجَاهِدٍ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي الْمُدِلَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ، وَزَادَ فِيهِ: «تُرَابُهَا الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-জাদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জুহাইর বিন মুয়াবিয়া, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুজাহিদ সা'দ আত-তায়ী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উম্মুল মুমিনীনের মুক্তদাস আবু আল-মুদাল্লাহ, তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নিকট জান্নাত সম্পর্কে বর্ণনা করুন, তার নির্মাণশৈলী কেমন? তিনি বললেন: «একটি ইট রুপার এবং একটি ইট স্বর্ণের, আর তার পলেস্তারা হলো তীব্র সুগন্ধি মিশক, তার কঙ্কর হলো মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর। যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে সে নিয়ামতের মাঝে থাকবে, কখনও দুঃখ-কষ্টে পতিত হবে না; সে সেখানে চিরস্থায়ী হবে, কখনও মারা যাবে না; তার পোশাক পুরনো হবে না এবং তার যৌবন নিঃশেষ হবে না» আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-জুশামি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়াকি', তিনি সা'দান আল-জুহানি থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ তিনি আবু মুজাহিদ আত-তায়ী থেকে, তিনি আবু আল-মুদাল্লাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, এবং তাতে আরও বৃদ্ধি করেছেন যে: «তার মাটি হলো ওয়ারস এবং জাফরান»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
5 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ مُوسَى، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «وَاحَةُ الْجَنَّةِ خُبْزَةٌ بَيْضَاءُ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর এবং ইসহাক ইবনে ইসমাঈল, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ, ইবনে আবি নাজীহ থেকে, তিনি যুবাইর ইবনে মূসা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «জান্নাতের সমতল ভূখণ্ড হলো একটি সাদা রুটি।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
6 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ مُوسَى الْعُكْلِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ الضَّحَّاكَ بْنَ مُزَاحِمٍ، يُحَدِّثُ عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ: {يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا} [مريم: 85] قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا الْوَفْدُ إِلَّا رَاكِبٌ؟ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُمْ إِذَا خَرَجُوا مِنْ قُبُورِهِمِ اسْتُقْبِلُوا بِنُوقٍ بِيضٍ لَهَا أَجْنِحَةٌ عَلَيْهَا رِحَالُ الذَّهَبِ شُرُكُ نِعَالِهِمْ نُورٌ يَتَلَأْلَأُ، كُلُّ خُطْوَةٍ ⦗ص: 36⦘ مِنْهَا مَدُّ الْبَصَرِ فَيَنْتَهُونَ إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ يَنْبُعُ مِنْ أَصْلِهَا عَيْنَانِ، فَإِذَا شَرِبُوا مِنْ إِحْدَاهُمَا جَرَتْ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةُ النَّعِيمِ وَإِذَا تَوَضَّئُوا مِنَ الْأُخْرَى لَمْ تَشْعَثْ شُعُورُهُمْ أَبَدًا، فَيَضْرِبُونَ الْحَلْقَةَ لِيَفْتَحَهُ فَلَوْ سَمِعْتَ طَنِينَ الْحَلْقَةِ يَا عَلِيُّ، فَيَبْلُغُ كُلَّ حَوْرَاءَ أَنَّ زَوْجَهَا قَدْ أَقْبَلَ فَتَسْتَخِفُّهَا الْعَجَلَةُ فَتَبْعَثُ قَيِّمَهَا لِيَفْتَحَ لَهُ الْبَابَ فَلَوْلَا أَنَّ اللَّهَ عز وجل عَرَّفَهُ نَفْسَهُ لَخَرَّ سَاجِدًا مِمَّا يَرَى مِنَ النُّورِ وَالْبَهَاءِ، فَيَقُولُ: أَنَا قَيِّمُكَ الَّذِي وُكِّلْتُ بِأَمْرِكَ فَيَتْبَعُهُ فَيَقْفُو أَثَرَهُ، فَيَأْتِي زَوْجتَهُ فَتَسْتَخِفُّهَا الْعَجَلَةُ، فَتَخْرُجُ مِنَ الْخَيْمَةِ، فَتُعَانِقُهُ وَتَقُولُ: أَنْتَ حِبِّي، وَأَنَا حِبُّكَ، وَأَنَا الرَّاضِيَةُ فَلَا أَسْخَطُ أَبَدًا، وَأَنَا النَّاعِمَةُ فَلَا أَبْؤُسُ أَبَدًا، وَأَنَا الْخَالِدَةُ فَلَا أَظْعَنُ أَبَدًا، فَيَدْخُلُ بَيْتًا مِنْ أَسَاسِهِ إِلَى سَقْفِهِ مِائَةُ أَلْفِ ذِرَاعٍ مَبْنِيًّا عَلَى جَنْدَلِ اللُّؤْلُؤِ وَالْيَاقُوتِ، طَرَائِقُ حُمْرٌ، وَطَرَائِقُ خُضْرٌ، وَطَرَائِقُ صُفْرٌ، لَيْسَ مِنْهَا طَرِيقَةٌ تُشَاكِلُ صَاحِبَتَهَا، فَيَأْتِي الْأَرِيكَةَ فَإِذَا عَلَيْهَا سَرِيرٌ عَلَى السَّرِيرِ سَبْعُونَ فِرَاشًا، عَلَيْهَا سَبْعُونَ زَوْجَةً عَلَى كُلِّ زَوْجَةٍ سَبْعُونَ حُلَّةً يُرَى مُخُّ سَاقَيْهَا مِنْ بَاطِنِ الْحُلَلِ، يَقْضِي جِمَاعَهُنَّ فِي مِقْدَارِ لَيْلَةٍ، تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ مُطَّرِدَةً، أَنْهَارٌ مِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ صَافٍ لَيْسَ فِيهِ كَدَرٌ، وَأَنْهَارٌ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى لَمْ يَخْرُجْ مِنْ بُطُونِ النَّحْلِ، وَأَنْهَارٌ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ للشَّارِبِينَ لَمْ تَعْصِرْهَا الرِّجَالُ بِأَقْدَامِهِمْ، وَأَنْهَارٌ مِنْ لَبَنٍ لَمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ، لَمْ يَخْرُجْ مِنْ بُطُونِ الْمَاشِيَةِ فَإِذَا اشْتَهَوُا الطَّعَامَ جَاءَتْهُمْ طَيْرٌ بِيضٌ تَرْفَعُ أَجْنِحَتَهَا، فَيَأْكُلُونَ مِنْ جَوَانِبِهَا مِنْ أَيِّ الْأَلْوَانِ شَاءُوا، ثُمَّ تَطِيرُ فَتَذْهَبُ وَفِيهَا ثِمَارٌ مُتَدَلِّيَةٌ إِذَا اشْتَهَوْهَا انْشَعَبَ الْغُصْنُ إِلَيْهِمْ فَيَأْكُلُونَ ⦗ص: 37⦘ مِنْ أَيِّ الثِّمَارِ اشْتَهَوْا إِنْ شَاءَ قَائِمًا، وَإِنْ شَاءَ مُتَّكِئًا، وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عز وجل {وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ} [الرحمن: 54] وَبَيْنَ أَيْدِيهِمْ خَدَمٌ كَأَنَّهُمُ اللُّؤْلُؤُ "
6 - মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ ইবন মুসা আল-উখলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দাহহাক ইবন মুজাহিমকে হারিস থেকে এবং তিনি আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন: {যেদিন আমি মুত্তাকীদেরকে পরম দয়াময় (আল্লাহর) নিকট প্রতিনিধি দলরূপে সমবেত করব} [মারইয়াম: ৮৫]। তিনি (আলি) বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিনিধি দল কি কেবল আরোহীই হয়? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তারা যখন তাদের কবর থেকে বের হবে, তখন তাদেরকে ডানাযুক্ত সাদা উটনী দ্বারা অভ্যর্থনা জানানো হবে, যেগুলোর ওপর স্বর্ণের হাওদা থাকবে। তাদের জুতোর ফিতা হবে উজ্জ্বল নূর যা চমকাতে থাকবে। তার প্রতিটি কদম ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ হবে দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। অতঃপর তারা জান্নাতের দরজায় গিয়ে পৌঁছাবে। জান্নাতের মূলদেশ থেকে দুটি ঝরনা প্রবাহিত হয়। যখন তারা একটি থেকে পান করবে, তখন তাদের চেহারায় নেয়ামতের সজীবতা ও উজ্জ্বলতা ফুটে উঠবে। আর যখন তারা অন্যটি দিয়ে অজু করবে, তখন তাদের চুল আর কখনো উসকোখুসকো হবে না। তারা জান্নাতের কড়া নাড়বে যেন তা খোলা হয়। হে আলি! তুমি যদি সেই কড়ার ঝংকার শুনতে পেতে! জান্নাতের প্রত্যেক হূরের কাছে খবর পৌঁছে যাবে যে, তার স্বামী আগমন করেছে। এতে সে আনন্দের আতিশয্যে অধীর হয়ে পড়বে এবং তার তত্ত্বাবধায়ককে পাঠাবে যেন সে তার জন্য দরজা খুলে দেয়। যদি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে (তত্ত্বাবধায়ককে) তার পরিচয় না করিয়ে দিতেন, তবে সে যে নূর ও সৌন্দর্য দেখতে পাবে তার কারণে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত। তখন সে (তত্ত্বাবধায়ক) বলবে: আমি তো আপনার সেই সেবক যাকে আপনার দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতঃপর সে তার পেছনে পেছনে চলবে এবং তাকে অনুসরণ করবে। সে তার স্ত্রীর কাছে আসবে। তখন সে (স্ত্রী) খুশিতে আত্মহারা হয়ে তাবু থেকে বেরিয়ে আসবে এবং তাকে আলিঙ্গন করবে। আর বলবে: আপনি আমার প্রিয়তম, আমি আপনার প্রিয়া; আমি চির সন্তুষ্ট, কখনো অসন্তুষ্ট হব না; আমি চিরসুখী, কখনো কষ্টে পড়ব না; আমি চিরস্থায়ী, কখনো প্রস্থান করব না। অতঃপর সে এমন এক ঘরে প্রবেশ করবে যার ভিত্তি থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা হবে এক লক্ষ হাত, যা মুক্তা ও ইয়াকুতের বিশাল পাথরের ওপর নির্মিত। তাতে লাল রঙের পথ, সবুজ রঙের পথ এবং হলুদ রঙের পথ থাকবে, যার একটি অন্যটির সদৃশ হবে না। অতঃপর সে সুসজ্জিত আসনের কাছে আসবে, যেখানে একটি পালঙ্ক থাকবে। সেই পালঙ্কের ওপর থাকবে সত্তরটি বিছানা। সেই বিছানাগুলোতে থাকবে সত্তরজন স্ত্রী। প্রত্যেক স্ত্রীর পরিধানে থাকবে সত্তরটি পোশাক, পোশাকের ভেতর থেকেই তাদের পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে। সে এক রাতের সমান সময়ে তাদের সাথে সহবাস সম্পন্ন করবে। তাদের নিচ দিয়ে অবিরাম ঝরনাধারা প্রবাহিত হবে। এমন পানির নহর যা পচনহীন ও স্বচ্ছ, যাতে কোনো পঙ্কিলতা নেই। স্বচ্ছ মধুর নহর যা মৌমাছির পেট থেকে নির্গত হয়নি। পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নহর যা কোনো পুরুষ পা দিয়ে মাড়িয়ে তৈরি করেনি। আর এমন দুধের নহর যার স্বাদ অপরিবর্তিত এবং যা গবাদি পশুর ওলান থেকে নির্গত হয়নি। যখন তারা খাবারের আকাঙ্ক্ষা করবে, তখন তাদের কাছে সাদা পাখি আসবে এবং ডানা প্রসারিত করবে। তারা সেগুলোর পছন্দমতো অংশ থেকে আহার করবে। তারপর পাখিগুলো উড়ে চলে যাবে। সেখানে থাকবে ঝুলে থাকা ফলমূল; তারা যখনই সেগুলোর আকাঙ্ক্ষা করবে, ডালপালা তাদের দিকে নুয়ে পড়বে। তারা ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ তাদের পছন্দমতো যে কোনো ফল আহার করবে, চাইলে দাঁড়িয়ে কিংবা হেলান দেওয়া অবস্থায়। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আর উভয় জান্নাতের ফল হবে কাছাকাছি} [আর-রাহমান: ৫৪]। আর তাদের সামনে সেবকরা থাকবে যারা যেন লুকানো মুক্তা।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
7 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، ثنا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه قَالَ: " يُسَاقُ الَّذِينَ اتَّقُوا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا، حَتَّى إِذَا انْتَهَوْا إِلَى أَوَّلِ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِهَا وَجَدُوا عِنْدَهُ شَجَرَةً يَخْرُجُ مِنْ تَحْتِ سَاقِهَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ، فَعَمَدُوا إِلَى إِحْدَاهُمَا كَأَنَّمَا أُمِرُوا بِهَا فَشَرِبُوا مِنْهَا، فَأَذْهَبَتْ مَا فِي بُطُونِهِمْ مِنْ قَذَرٍ، وَأَذًى أَوْ بَأْسٍ، ثُمَّ عَمَدُوا إِلَى الْأُخْرَى فَتَطَهَّرُوا فَجَرَتْ عَلَيْهِمْ نَضْرَةُ النَّعِيمِ، فَلَمْ تُغَيَّرْ أَبْشَارُهُمْ، وَلَا تَغَيَّرُ بَعْدَهَا أَبَدًا، وَلَمْ تَشْعَثْ أَشْعَارُهُمْ كَأَنَّمَا دُهِنُوا بِالدِّهَانِ، ثُمَّ انْتَهَوْا إِلَى خَزَنَةِ الْجَنَّةِ فَقَالُوا: {سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ} [الزمر: 73] ، ثُمَّ تَلَقَّاهُمْ أَوْ تَلَقَّتْهُمُ الْوِلْدَانُ يُطِيفُونَ بِهِمْ كَمَا يُطِيفُ وِلْدَانُ أَهْلِ الدُّنْيَا بِالْحَمِيمِ يَقْدَمُ مِنْ غَيْبَتِهِ يَقُولُونَ لَهُ: أَبْشِرْ بِمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ مِنَ الْكَرَامَةِ، ثُمَّ يَنْطَلِقُ غُلَامٌ مِنْ أَهْلِ أُولَئِكَ الْوِلْدَانِ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ فَيَقُولُونَ: قَدْ جَاءَ فُلَانٌ ⦗ص: 38⦘ بِاسْمِهِ الَّذِي كَانَ يُدْعَى بِهِ فِي الدُّنْيَا، فَيَقُولُونَ: أَنْتَ رَأَيْتَهُ؟ فَيَقُولُ: أَنَا رَأَيْتُهُ وَهُوَ ذَا بِأَثَرِي، فَيَسْتَخِفُّ إِحْدَاهُنَّ الْفَرَحُ حَتَّى تَقُومَ عَلَى أُسْقُفَةِ بَابِهَا، فَإِذَا انْتَهَى إِلَى مَنْزِلِهِ نَظَرَ أَيَّ شَيْءٍ أَسَاسُ بُنْيَانِهِ، فَإِذَا جَنْدَلُ اللُّؤْلُؤِ وَفَوْقَهُ صَرْحٌ أَخْضَرُ وَأَصْفَرُ وَأَحْمَرُ وَمِنْ كُلِّ لَوْنٍ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَى سَقْفِهِ فَإِذَا هُوَ مِثْلُ الْبَرْقِ، فَلَوْلَا أَنَّ اللَّهَ عز وجل قَدْ قَدَّرَ لَهُ أنْ لَا يَذْهَبَ بَصَرُهُ لَذَهَبَ، ثُمَّ طَأْطَأَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَى أَزْوَاجِهِ، وَأَكْوَابٍ مَوْضُوعَةٍ، وَنَمَارِقَ مَصْفُوفَةٍ، وَزَرَابِيَّ مَبْثُوثَةٍ، فَنَظَرَ إِلَى تِلْكَ النِّعْمَةِ، ثُمَّ اتَّكَئُوا وَقَالُوا: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ} [الأعراف: 43] الْآيَةَ، ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ: تَحْيَوْنَ فَلَا تَمُوتُونَ أَبَدًا، وَتُقِيمُونَ فَلَا تَظْعَنُونَ أَبَدًا، وَتَصِحُّونَ، أُرَاهُ قَالَ: فَلَا تَمْرَضُونَ أَبَدًا "، قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ: هَكَذَا أَوْ نَحْوَهُ
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল জাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরা থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যারা তাদের রবকে ভয় করত, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন জান্নাতের দরজাসমূহের প্রথমটির কাছে পৌঁছাবে, সেখানে তারা একটি গাছ দেখতে পাবে যার কাণ্ডের নিচ থেকে দুটি প্রবহমান ঝরনা নির্গত হচ্ছে। তখন তারা সে দুটির একটির দিকে অগ্রসর হবে, যেন তারা এরই নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছে। তারা তা থেকে পান করবে এবং তা তাদের পেটের ভেতরে থাকা সকল ময়লা, কষ্টদায়ক বা পীড়াদায়ক বস্তু দূর করে দেবে। অতঃপর তারা অন্যটির দিকে অগ্রসর হবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে; ফলে তাদের ওপর নেয়ামতের উজ্জ্বলতা প্রবাহিত হবে। এরপর তাদের গায়ের চামড়া আর কখনো বিবর্ণ হবে না এবং এরপর কখনো পরিবর্তন হবে না। তাদের চুলও উসকোখুসকো হবে না, যেন তাদের চুলে তেল মাখানো হয়েছে। এরপর তারা জান্নাতের রক্ষীদের কাছে পৌঁছাবে, তারা বলবে: {তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা সুখী হয়েছ, সুতরাং স্থায়ীভাবে জান্নাতে প্রবেশ করো} [আয-যুমার: ৭৩]। অতঃপর কিশোরেরা তাদের অভ্যর্থনা জানাবে। তারা জান্নাতীদের চারপাশে এমনভাবে প্রদক্ষিণ করবে যেমন দুনিয়াবাসীদের কিশোরেরা তাদের কোনো প্রিয়জন প্রবাস থেকে ফিরে আসার সময় তাকে ঘিরে ধরে এবং বলতে থাকে: 'আল্লাহ আপনার জন্য যে সম্মাননা প্রস্তুত করেছেন, তার সুসংবাদ গ্রহণ করুন।' অতঃপর সেই কিশোরদের মধ্য থেকে একজন কিশোর জান্নাতীর কোনো এক হুর স্ত্রীর কাছে ছুটে যাবে এবং বলবে: 'অমুক ব্যক্তি চলে এসেছে' ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ দুনিয়াতে তাকে যে নামে ডাকা হতো সেই নাম ধরে। তখন তারা জিজ্ঞেস করবে: 'তুমি কি তাকে দেখেছ?' সে বলবে: 'আমি তাকে দেখেছি এবং এই যে সে আমার ঠিক পেছনেই আছে।' এতে তাদের কেউ আনন্দের আতিশয্যে অস্থির হয়ে উঠবে এমনকি সে তার দরজার চৌকাঠে এসে দাঁড়াবে। অতঃপর জান্নাতী ব্যক্তি যখন তার বাসস্থানে পৌঁছাবে, সে দেখবে তার প্রাসাদের ভিত্তি কিসের ওপর নির্মিত। সে দেখবে মুক্তার পাথর এবং তার ওপরে সবুজ, হলুদ, লাল তথা সকল রঙের প্রাসাদ। এরপর সে মাথা উঁচু করে তার ছাদের দিকে তাকাবে এবং তা বিদ্যুতের চমকের মতো দেখবে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যদি তার দৃষ্টিশক্তি অটুট রাখার ফয়সালা না করতেন, তবে তা অবশ্যই চলে যেত। এরপর সে মাথা নিচু করবে এবং তার স্ত্রীদের দিকে তাকাবে, আর দেখবে প্রস্তুত রাখা পানপাত্রসমূহ, সারিবদ্ধ কুশনসমূহ এবং বিছানো গালিচাসমূহ। সে এই নেয়ামতরাজি অবলোকন করবে, অতঃপর তারা হেলান দিয়ে বসবে এবং বলবে: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা হেদায়েত পেতাম না} [আল-আরাফ: ৪৩] শেষ পর্যন্ত। এরপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: তোমরা চিরঞ্জীব হবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না; তোমরা স্থায়ী হবে, কখনো প্রস্থান করবে না; এবং তোমরা সুস্থ থাকবে - আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: আর কখনো অসুস্থ হবে না।" আবু ইসহাক বলেন: এভাবেই অথবা এর কাছাকাছি কিছু তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَسْلَمَ، ثنا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، ثنا شُعَيْبٌ، ⦗ص: 39⦘ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْأَغَرَّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: «يُنَادَى أَهْلُ الْجَنَّةِ تَصِحُّونَ فَلَا تَمْرَضُونَ أَبَدًا، وَتَشْبَعُونَ فَلَا تَجُوعُونَ أَبَدًا، لَا تَشْعَثُ أَشْعَارُهُمْ، وَلَا تَغَيَّرُ بَشَائِرُهُمْ، وَلَا يَلْقَوْنَ فِيهَا بُؤْسًا» ⦗ص: 40⦘ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: كَانَ بَعْضُ الْحُكَمَاءِ مِنَ الْوَاعِظِينَ إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ: عَلِمْتُ أَنَّهُ لَذَّةُ أَسْمَاعِهِمْ فِي الْغُرَفِ الْعَدْنِيَّةِ يُدِيمُهُ زَجَلُ الْحُبُورِ، وَمُتَعُ أَبْصَارِهِمْ بِالنَّظَرِ إِلَى أَحْسَنِ صَرْحِ الزَّبَرْجَدِ فِي زَهْرِ رِيَاضِ السُّرُورِ، فَلَوْ تَوَهَّمْتَ مَبْدَأَ سُرَّةِ الْمَهْرَجَانِ لِهُبُوبِ رِيَاحِ آجَامِهَا وَارْفِضَاضِ دُرَّةِ السَّحَائِبِ الْمُرْتَشِحَاتِ فِي قُصُورِ الْمُلْكِ بِعَرَايِشِ خِيَامِهَا لَعَلِمْتَ أَنَّ الْقَوْمَ قَدْ تَوَسَّطُوا نَعِيمَ مَمْلَكَةٍ لَا تُغَيِّرُ دَوَائِرُ الْأَحْدَاثِ عَلَى دَوَامِهَا. أَنْعَمَ بِأَسْمَاعٍ حَاضِرَةٍ وَعَدَ اللَّهُ أَنْ يَأَهْلَ الْجَنَّةِ آنَ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقَمُوا، وَأَنْ تَشِبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا، وَتَحْيَوْا فَلَا تَمُوتُوا، وَتَنْعَمُوا فَلَا تَبْأَسُوا، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 43] انْظُرْ لَوْ وَجَدَ مَلِكٌ تُرَى تَبَاشيِرُ الْجَمَالِ فِي أَسْرَارِ خَدِّهِ كَمَا سَمِعَ فِيهَا وَاسِطَ عَيْنِ الدَّعَةِ حَتَّى زَهَتْ بِهِ مَنَابِرُ النُّورِ فِي ذِرْوَةٍ فِي دَرَجِ عَلَالِيهَا، وَحُورٌ عَلَى أَرَائِكِ الْيَوَاقِيتِ، وَنَظَرَ إِلَى تِلْكَ النَّمارِقِ الْمَصْفُوفَةِ بَيْنَ يَدَيْهِ وَبِهَا رَوْنَقٌ يُضْحِكُ الرَّائِيَ عِنْدَ تَلَأْلُؤِ حُسْنِهَا، فَإِذَا سَقْفُهُ لُؤْلُؤٌ يَكَادُ أَنْ يَخْطَفَ بَصَرَهُ التِمَاعُ نُورِهِ كَيْفَ اكْتَحَلَتْ مُقْلَتُهُ بِالنَّظَرِ إِلَى مَنْزِلِهِ. تَأْسِيسُ بُنْيَانِهِ جَنادِلُ الدُّرِّ، وَصَفَائِحُ اللُّجَيْنِ، وَسَنَابِكُ الْعِقْيَانِ، لَوْلَا قُدْرَةُ التَّسْخِيرِ الَّتِي جَرَتْ بِالسَّلَامَةِ مِنْ مَكْرُوهٍ لِرَيْبِ الزَّمَانِ أُولَئِكَ خِلَالَ شَرَفِ الْمَنْزِلِ الْمَحْمُودِ، وَالْمُتَفَكِّهُونَ بِالْقَوَامِ الْمَبْرُودِ، فِي قِبَابِ الْخُلُودِ، ⦗ص: 41⦘ يَأَهْلَ الْجَنَّةِ مَا أَحْسَنَ اسْمَ دَارٍ تَبَوَّأْتُمْ أَسِرَّةَ غُرَفِ عَلَالِيهَا، وَأَبْهَجَ مَنَاظِرَهَا، وَأَقَرَّ عُيُونَ سَاكِنِيهَا، وَأَدْوَمَ سُرُورَ مَنْ نُجِّدَتْ مَقَاصِيرُهُ بِوَشْيِ نَمَارِقِهَا، وَبَهْجَةِ عَبْقَرِيِّهَا انْعَمُوا فَهِيَ الْجَنَّةُ حَطَطْتُمْ فِيهَا رِحَالَكُمْ لِحِفْظٍ، وَعَدْلًا يَهْتَدِي فِيهَا الزَّوَالُ مِنْهَا إِلَيْهَا
৮ - আবু বকর ইবন আসলাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আন-নাদর ইবন শুমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল-আগাররকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «জান্নাতবাসীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হবে: তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনও অসুস্থ হবে না; তোমরা তৃপ্ত থাকবে, কখনও ক্ষুধার্ত হবে না; তাদের চুল এলোমেলো হবে না, তাদের ত্বকের লাবণ্য পরিবর্তিত হবে না এবং তারা সেখানে কোনো দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হবে না»। ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ আবু বকর বলেন: কতিপয় বিজ্ঞ উপদেশদাতা যখন এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: আমি জেনেছি যে আদন-এর কক্ষসমূহে তাদের শ্রবণেন্দ্রিয়ের জন্য রয়েছে এমন স্বাদ যা নিরন্তর সুখের গুঞ্জনে মুখরিত থাকে। আর তাদের চোখের আনন্দ হলো সুখের পুষ্পোদ্যানের মাঝে অবস্থিত সর্বোত্তম ফিরোজা পাথরের প্রাসাদের দিকে তাকানো। যদি তুমি এই উৎসবের সূচনালগ্নের কল্পনা করতে, যখন এর উপবনগুলোতে সুগন্ধি বাতাস প্রবাহিত হবে এবং রাজপ্রাসাদের তাঁবুসমূহের আঙিনায় সিক্ত মেঘমালা হতে বিন্দু বিন্দু মণি-মুক্তা বর্ষিত হবে, তবে তুমি জানতে পারতে যে, সেই জাতি এমন এক রাজ্যের নেয়ামতের মাঝে অবস্থান করছে যার নিরবচ্ছিন্নতা কোনো পরিস্থিতির বিবর্তনে পরিবর্তিত হয় না। আল্লাহ যাদের শ্রবণেন্দ্রিয়কে উপস্থিত রেখেছেন তাদের জন্য কতই না উত্তম নেয়ামত! আল্লাহ জান্নাতবাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, হে জান্নাতবাসী! এখন সময় হয়েছে তোমাদের সুস্থ থাকার—কখনও রোগাক্রান্ত হবে না; যুবক থাকার—কখনও বৃদ্ধ হবে না; জীবিত থাকার—কখনও মৃত্যুবরণ করবে না এবং নেয়ামত ভোগ করার—কখনও দুঃখ-কষ্টে পড়বে না। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের আহ্বান করে বলা হবে, ‘তোমরা যা করতে তারই বিনিময়ে তোমাদের এই জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে’} [আল-আরাফ: ৪৩]। দেখ, যদি এমন কোনো বাদশাহকে পাওয়া যেত যার গালের লাবণ্যে সৌন্দর্যের শুভ্র আভা দেখা যায়, যেমন সেখানে পরম শান্তির মাঝে দেখা যায়, এমনকি তার উচ্চ মর্যাদার সিড়ির চূড়ায় নূরের মিম্বরগুলো তার উপস্থিতিতে সুশোভিত হয়েছে, আর ইয়াকুত পাথরের আসনের উপর হুরগণ আসীন রয়েছে। আর সেই সারিবদ্ধ গালিচাগুলোর দিকে তাকাও যা তার সামনে রয়েছে, যা এমন এক উজ্জ্বলতায় শোভিত যে তার সৌন্দর্য দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করে হাসিয়ে দেয়। আর যখন তার ছাদ হবে মুক্তার ন্যায়, যার নূরের চমক প্রায় তার দৃষ্টি কেড়ে নিতে চাইবে—তবে কেমন হবে তার চোখের অবস্থা যখন সে নিজের আবাসের দিকে তাকাবে? এর ইমারতের ভিত্তি হলো বিশাল মণি-মুক্তা, রূপার পাত এবং স্বর্ণের খণ্ড। যদি আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা না থাকত যা সময়ের বিবর্তনের অনিষ্ট হতে নিরাপত্তা প্রদান করে (তবে তা রক্ষা করা অসম্ভব হতো)। তারা হলো প্রশংসিত আবাসের মর্যাদার অধিকারী এবং চিরস্থায়ী গম্বুজসমূহে সুশীতল দেহে ফলমূল আস্বাদনকারী। ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ ওহে জান্নাতবাসী! কতই না সুন্দর সেই গৃহের নাম যেখানে তোমরা উচ্চ কক্ষসমূহের আসনে স্থান গ্রহণ করেছ! কতই না মনোরম তার দৃশ্যপট! কতই না শীতল তার বাসিন্দাদের চোখ! আর কতই না চিরস্থায়ী সেই ব্যক্তির আনন্দ যার কক্ষসমূহ গালিচার কারুকার্য এবং চমৎকার আবকারি বস্ত্র দ্বারা সজ্জিত হয়েছে। তোমরা নেয়ামত ভোগ করো, কারণ এটিই জান্নাত যেখানে তোমরা চিরস্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য তোমাদের সওয়ারি নামিয়েছ; এটি এমন ইনসাফপূর্ণ স্থান যেখানে কোনো বিচ্যুতি নেই।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤١)
9 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، ثنا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَمَنِ اتَّقَى اللَّهَ عز وجل يَنْعَمْ فَلَا يَبْؤُسُ، وَيَحْيَا فَلَا يَمُوتُ، لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ»
৯ - উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-জুশামি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুআয বিন হিশাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহকে ভয় করবে, সে নিআমতের মধ্যে থাকবে এবং কখনো দুঃখ-কষ্টে পতিত হবে না, সে জীবিত থাকবে এবং কখনো মারা যাবে না, তার পোশাক জীর্ণ হবে না এবং তার যৌবন কখনো নিঃশেষ হবে না।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤١)
10 - حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الْمُرِّيُّ، ثنا ⦗ص: 42⦘ عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رِضَى اللَّهُ عَنْهُمَا: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجَنَّةِ فَقَالَ: «مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَحْيَا فِيهَا فَلَا يَمُوتُ، وَيَنْعَمُ فِيهَا لَا يَبْؤُسُ، لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ بِنَاؤُهَا؟ قَالَ: «لَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ، وَلَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ، مِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ، تُرَابُهَا الزَّعْفَرَانُ، حَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ»
১০ - আমাদের নিকট ফজল ইবনে জাফর হাদীস বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে সাঈদ আল-মুররি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ আলী ইবনে সালিহ হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে রাবিআ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে সেখানে চিরকাল জীবিত থাকবে, কখনও মৃত্যুবরণ করবে না; সে নেয়ামতের মধ্যে থাকবে, কখনও দুঃখ-কষ্টে পতিত হবে না; তার পোশাক জীর্ণ হবে না এবং তার যৌবন শেষ হবে না।» জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এর নির্মাণশৈলী কেমন? তিনি বললেন: «একটি ইট স্বর্ণের এবং একটি ইট রৌপ্যের, এর গাঁথুনি হলো তীব্র সুগন্ধযুক্ত কস্তুরী, এর মাটি হলো জাফরান এবং এর নুড়ি পাথর হলো মুক্তা ও ইয়াকুত (চুনি) পাথর।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
11 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عُبَيْدٍ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، ثنا أَبُو مَالِكٍ الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: ⦗ص: 43⦘ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي أَنْزَلَ الْكِتَابَ عَلَى مُحَمَّدٍ، إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَزْدَادُونَ جَمَالًا وَحُسْنًا، كَمَا يَزْدَادُونَ فِي الدُّنْيَا قَبَاحَةً وَهَرَمًا»
১১ - আমাদের নিকট ইয়াকুব ইবনে উবাইদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযিদ ইবনে হারুন হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মালিক আল-আশজাঈ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হাযিম থেকে এবং তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার কসম, যিনি মুহাম্মাদের ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন! নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা সৌন্দর্য ও লাবণ্যে বৃদ্ধি পেতে থাকবে, যেমন তারা দুনিয়াতে কুশ্রীতা ও বার্ধক্যে বৃদ্ধি পেত।’»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ سَيَّارٍ، ثنا جَعْفَرُ، قَالَ: سَمِعْتُ ثَابِتَ الْبُنَانِيَّ، يَقُولُ: " لَقَدْ أُعْطِيَ أَهْلُ الْجَنَّةِ خِصَالًا لَوْ لَمْ يُعْطَوْهَا لَمْ يَنْتَفِعُوا بِهَا: يَشِبُّونَ فَلَا يَهْرَمُونَ أَبَدًا، وَيشْبَعُونَ فَلَا يَجُوعُونَ أَبَدًا، وَيُكْسَوْنَ فَلَا يَعْرَوْنَ أَبَدًا، وَيَصِحُّونَ فَلَا يَسْقَمُونَ أَبَدًا رَضِيَ عَنْهُمْ، لَا خِلَافَ بَيْنَهُمْ وَلَا تَبَاغُضَ، قُلُوبُهُمْ قَلْبٌ وَاحِدٌ، وَيُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيًّا "
১২ - আহমাদ ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট সাইয়্যার হতে বর্ণনা করেছেন, জা'ফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাবিত আল-বুনানীকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীদেরকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা যদি তাদেরকে না দেওয়া হতো তবে তারা (জান্নাতের নেয়ামত দ্বারা) উপকৃত হতে পারত না: তারা চিরকাল যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না; তারা সর্বদা তৃপ্ত থাকবে, কখনো ক্ষুধার্ত হবে না; তারা সর্বদা পোশাক পরিহিত থাকবে, কখনো বস্ত্রহীন হবে না; এবং তারা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন; তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ ও পারস্পরিক বিদ্বেষ থাকবে না, তাদের সকলের অন্তর হবে একটি অন্তরের মতো এবং তারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ جُرْدًا، مُرْدًا بِيضًا، جِعَادًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ، عَلَى طُولِ آدَمَ، طُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فِي عَرْضِ سَبْعَةِ أَذْرُعٍ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ, তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আলী ইবনে যাইদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবেন শরীরের পশমহীন, দাড়িহীন, শ্বেতশুভ্র ও কুঞ্চিত কেশধারী অবস্থায়, তাঁদের চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। তাঁদের বয়স হবে তেত্রিশ বছর এবং তাঁরা হবেন আদমের উচ্চতা বিশিষ্ট; তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত এবং প্রস্থ ছিল সাত হাত।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
14 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، ⦗ص: 44⦘ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَحْسَنِ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً»
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন জাফর, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আমর, আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আকৃতিতে হবে, অতঃপর যারা তাদের অনুবর্তী হবে তারা আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের ন্যায় আলোকময় হবে।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
15 - حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ الْعَبَّاسِ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، أنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أنا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ دَرَّاجٍ أَبِي السَّمْحِ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 45⦘ «مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنْ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ مِمَّنْ دَخَلَ الْجَنَّةَ يُرَدُّونَ إِلَى بَنِي ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً فِي الْجَنَّةِ، لَا يَزِيدُونَ عَلَيْهَا أَبَدًا، وَكَذَلِكَ أَهْلُ النَّارِ»
১৫ - হামজা বিন আল-আব্বাস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রিশদিন বিন সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর বিন আল-হারিস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, দাররাজ আবুস সামহ থেকে, আবুল হাইসাম থেকে, আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ «জান্নাতবাসীদের মধ্যে যারা মারা যাবে—চাই সে ছোট হোক কিংবা বড়—যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদেরকে জান্নাতে তেত্রিশ বছর বয়সে ফিরিয়ে আনা হবে; তারা কখনও এর চেয়ে বেশি বয়সের হবে না। আর জাহান্নামবাসীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হবে।’
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
16 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ عُبَيْدٍ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا هَمَّامُ ⦗ص: 47⦘ بْنُ يَحْيَى، ثنا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْجَنَّةُ مِائَةُ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ مَسِيرَةُ مِائَةِ عَامٍ، وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَاهَا دَرَجَةً، وَمِنْهَا تَخْرُجُ الْأَنْهَارُ الْأَرْبَعَةُ، وَالْعَرْشُ فَوْقَهَا، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ عز وجل فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ»
১৬ - ইয়াকূব ইবন উবাইদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবন হারূন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ ইবন ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যায়দ ইবন আসলাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণিত, উবাদাহ ইবন সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «জান্নাত হলো একশত স্তর বিশিষ্ট, যার প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো একশত বছরের পথ। আর ফিরদাউস হলো এর সর্বোচ্চ স্তর, যেখান থেকে চারটি নদী নির্গত হয় এবং আরশ হলো এর উপরে। সুতরাং তোমরা যখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, তখন তাঁর কাছে ফিরদাউস প্রার্থনা করো।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
17 - وَحَدَّثَنِي الْمُشْرِفُ بْنُ أَبَانَ، سَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ، قَالَ: قَالَ لَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ: «حَسُنَتِ الْجَنَّةُ لِأَنَّ عَرْشَ رَبِّ الْعَالَمِينَ سَقْفُهَا»
১৭ - আল-মুশরিফ ইবনে আবান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি সালিহ ইবনে আব্দুল কারীমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল-ফুদাইল ইবনে ইয়াদ আমাদের বলেছেন: «জান্নাত সুন্দর হয়েছে কারণ জগৎসমূহের রবের আরশ হলো তার ছাদ।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
18 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْبَزَّارُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ الْكَلْبِيُّ، ثنا بِشْرُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: خَلَقَ اللَّهُ عز وجل جَنَّةَ عَدْنٍ بِيَدِهِ، لَبِنَةً مِنْ دُرَّةٍ بَيْضَاءَ، وَلَبِنَةً مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ، وَلَبِنَةً مِنْ زَبَرْجَدَةٍ خَضْرَاءَ، مِلَاطُهَا الْمِسْكُ، حَشِيشُهَا الزَّعْفَرَانُ، حَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ، وَتُرَابُهَا الْعَنْبَرُ، ثُمَّ قَالَ لَهَا: «انْطِقِي» ، قَالَتْ: ⦗ص: 49⦘ {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} [المؤمنون: 1] ، قَالَ عز وجل: «وَعِزَّتِي لَا يُجَاوِرُنِي فِيكِ بَخِيلٌ» ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الحشر: 9]
১৮ - মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আল-বাযযার আমাকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আল-কালবী আমাদের বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে হুসাইন আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবী আরূবা থেকে বর্ণিত, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ নিজ হাতে জান্নাতে আদন সৃষ্টি করেছেন; যার একটি ইট সাদা মুক্তার, একটি ইট লাল ইয়াকুতের এবং একটি ইট সবুজ পান্নার; এর পলেস্তারা হলো কস্তুরী, এর ঘাস হলো জাফরান, এর কাঁকর হলো মুক্তা এবং এর মাটি হলো আম্বর। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: «কথা বলো», সে বলল: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ {অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে} [আল-মুমিনুন: ১], মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বললেন: «আমার মর্যাদার শপথ! তোমার মাঝে কোনো কৃপণ আমার প্রতিবেশী হবে না», অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিলাওয়াত করলেন: {যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম} [আল-হাশর: ৯]
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
19 - حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أنا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، ثنا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ شَهْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ⦗ص: 50⦘ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا، مُرْدًا، مُكَحَّلِينَ، بَنِي ثَلَاثِينَ، أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً» وَقَالَ هُوَ أَحَدُهُمَا
১৯ - হারুন ইবনে আবদুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইমরান আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি শাহর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ গানম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে শরীরে পশমহীন ও দাড়িহীন অবস্থায়, সুরমা মাখা চোখে, ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছর বয়সে।» এবং তিনি (বর্ণনাকারী) বলেছেন: তিনি সেই দুইজনের একজন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٥١)
20 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ عُمَرَ، ثنا الْحَكَمُ يَعْنِي ابْنَ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنهما قَالَ: «إِذَا سَكَنَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ نَوَّرَ سَقْفَ مَسَاكِنِهِمْ نُورُ عَرْشِهِ»
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে উমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম অর্থাৎ ইবনে আবান, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে বসবাস শুরু করবে, তখন তাঁর আরশের নূর তাদের আবাসস্থলের ছাদসমূহকে আলোকিত করে দেবে।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٥١)
21 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ الْعَنْبَرِيُّ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «إِنَّمَا سُمِّيَتْ عَدْنٌ لِأَنَّهَا الْعَرْشُ، وَمِنْهَا تَتَفجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ، وَلِلْحُورِ الْعَدْنِيَّةِ الْفَضْلُ عَلَى سَائِرِ الْحُورِ»
২১ - ইয়াহইয়া ইবনে কাসির আল-আনবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আশআস থেকে বর্ণিত, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আদন-এর এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তা হলো আরশ, এবং সেখান থেকেই জান্নাতের নদীসমূহ প্রবাহিত হয়; আর আদন-এর হুরদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে অন্য সকল হুরদের ওপর।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٥١)
22 - حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ الْعَبَّاسِ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، أنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، قَالَ: ⦗ص: 52⦘ " ذُكِرَ لَنَا أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا دَخَلَ الْجَنَّةَ صُوِّرَ صُورَةَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَأُلْبِسَ لِبَاسَهُمْ، وَحُلِّيَ حُلِيَّهُمْ، وَأُرِيَ أَزْوَاجَهُ وَخَدَمَهُ، تَأْخُذُهُ سَوَارِي فَرَحٍ، فَلَوْ كَانَ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَمُوتَ لَمَاتَ مِنْ سَوَارِي فَرَحِهِ، يُقَالُ لَهُ: أَرَأَيْتَ سَوَارِيَ فَرْحَتِكَ هَذِهِ، فَإِنَّهَا تَأْخُذُ لَكَ أَبَدًا "
২২ - হামযাহ ইবনুল আব্বাস আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান ইবনুল মুগীরাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ⦗পৃ: ৫২⦘ "আমাদের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাকে জান্নাতবাসীদের আকৃতিতে রূপ দেওয়া হবে, তাদের পোশাক পরিধান করানো হবে, তাদের অলঙ্কারে সজ্জিত করা হবে এবং তাকে তার স্ত্রী ও সেবকদের দেখানো হবে। তখন আনন্দের তীব্র উচ্ছ্বাস তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে; যদি তার পক্ষে মৃত্যুবরণ করা সম্ভব হতো, তবে সে আনন্দের আতিশয্যে মৃত্যুবরণ করত। তাকে বলা হবে: 'তুমি কি তোমার এই আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখতে পাচ্ছ? নিশ্চয়ই তা তোমার জন্য চিরস্থায়ী হবে।'"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
23 - حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ الْعَبَّاسِ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، أنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أنا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنِي زُهْرَةُ بْنُ عَبْدٍ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: «إِنَّ الْعَبْدَ أَوَّلَ مَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَتَلَقَّاهُ سَبْعُونَ أَلْفَ خَادِمٍ كَأَنَّهُمُ اللُّؤْلُؤُ»
২৩ - হামযা ইবনুল আব্বাস আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উসমান আমাদের জানিয়েছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের জানিয়েছেন, রিশদীন ইবনে সাদ আমাদের জানিয়েছেন, যুহরাহ ইবনে আবদ আল-কুরাশী আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই বান্দা যখন সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন সত্তর হাজার খাদেম তাকে অভ্যর্থনা জানাবে, তারা যেন উজ্জ্বল মুক্তা।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
24 - حَدَّثَنَا حَمْزَةُ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، أنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أنا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زَحْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَعَافِرِيِّ، قَالَ: «إِنَّهُ لَيُصَفُّ لِلرَّجُلِ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ سِمَاطَانِ لَا يُرَى طَرْفَاهُمَا مِنْ غِلْمَانِهِ حَتَّى إِذَا مَرَّ مَشَوْا وَرَاءَهُ»
২৪ - হামযা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবায়দুল্লাহ বিন যাহর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আবি আইয়ুব আল-মাখযুমি থেকে বর্ণিত, আবু আবদুর রহমান আল-মাআফিরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «জান্নাতবাসীদের কোনো এক ব্যক্তির জন্য তাঁর সেবকদের এমন দু’টি সারি তৈরি করা হবে যেগুলোর দুই প্রান্ত দেখা যাবে না; এমনকি যখন তিনি তাদের সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করবেন, তারা তাঁর পেছনে পেছনে চলতে থাকবে।»
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
25 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ، أنا أَبُو نُعَيْمٍ، ثنا أَبُو سَلَمَةَ، ⦗ص: 53⦘ عَنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ: " إِذَا دَخَلَ الْمُؤْمِنُ الْجَنَّةَ دَخَلَ أَمَامَهُ مَلَكٌ فَأَخَذَ بِهِ فِي سِكَكِهَا، فَيَقُولُ لَهُ: انْظُرْ مَا تَرَى؟ قَالَ: أَرَى أَكْثَرَ قُصُورٍ رَأَيْتُهَا مِنْ ذَهَبٍ وَفِضَّةٍ، وَأَكْثَرَ أَنِيسٍ فَيَقُولُ لَهُ الْمَلَكُ: فَإِنَّ هَذَا أَجْمَعَ كُلُّهُ لَكَ، حَتَّى إِذَا دُفِعَ إِلَيْهِمُ اسْتَقْبَلُوهُ مِنْ كُلِّ بَابٍ وَمِنْ كُلِّ مَكَانٍ نَحْنُ لَكَ نَحْنُ لَكَ، يَقُولُ: امْشِ فَيَقُولُ: مَاذَا تَرَى؟ فَيَقُولُ أَرَى أَكْثَرَ عَسَاكِرَ رَأَيْتُهَا مِنْ خِيَامٍ رَأَيْتُهَا وَأَكْثَرَ أَنِيسٍ، قَالَ: فَإِنَّ هَذَا أَجْمَعَ كُلُّهُ لَكَ فَإِذَا دُفِعَ إِلَيْهِمُ اسْتَقْبَلُوهُ يَقُولُونَ: نَحْنُ لَكَ، نَحْنُ لَكَ "
২৫ - হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু নুয়াইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ যাহহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন মুমিন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন একজন ফেরেশতা তার অগ্রভাগে প্রবেশ করবেন এবং তাকে জান্নাতের পথসমূহ দিয়ে নিয়ে যাবেন। অতঃপর ফেরেশতা তাকে বলবেন: দেখুন, আপনি কী দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বলবেন: আমি আমার দেখা প্রচুর স্বর্ণ ও রৌপ্যের প্রাসাদ এবং অনেক সঙ্গী-সাথী দেখতে পাচ্ছি। তখন ফেরেশতা তাকে বলবেন: নিশ্চয়ই এই সবকিছুই আপনার জন্য। এমনকি যখন তাকে তাদের নিকট নিয়ে যাওয়া হবে, তখন তারা প্রতিটি দরজা ও প্রতিটি স্থান থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানাবে এবং বলবে: আমরা আপনারই জন্য, আমরা আপনারই জন্য। ফেরেশতা বলবেন: চলতে থাকুন, এবং বলবেন: আপনি কী দেখছেন? তিনি বলবেন: আমি আমার দেখা তাঁবুর বিশাল সমাহার এবং অনেক সঙ্গী-সাথী দেখতে পাচ্ছি। ফেরেশতা বলবেন: নিশ্চয়ই এই সবকিছুই আপনার জন্য। অতঃপর যখন তাকে তাদের নিকট নিয়ে যাওয়া হবে, তখন তারা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে: আমরা আপনারই জন্য, আমরা আপনারই জন্য।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
26 - حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سُفْيَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، ثنا أَبُو بَكْرِ ابْنُ أَبِي سَبْرَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَطَاءِ بْنِ وَرَازٍ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " أَرْضُ الْجَنَّةِ بَيْضَاءُ، عُرْصَتُهَا صُخُورُ الْكَافُورِ، وَقَدْ أَحَاطَ بِهِ الْمِسْكُ مِثْلَ كُثْبَانِ الرَّمْلِ، فِيهَا أَنْهَارٌ مُطَّرِدَةٌ فَلْيَجْتَمِعْ فِيهَا أَهْلُ الْجَنَّةِ أَدْنَاهُمْ وَآخِرُهُمْ فَيَتَعَارَفُونَ، فَيَبْعَثُ اللَّهُ عز وجل رِيحَ الرَّحْمَةِ فَتُهِيجُ عَلَيْهِمْ رِيحَ ذَلِكَ الْمِسْكِ، فَيَرْجِعُ الرَّجُلُ إِلَى زَوْجَتِهِ وَقَدِ ازْدَادَ طِيبًا وَحُسْنًا، فَتَقُولُ لَهُ: قَدْ خَرَجْتَ مِنْ عِنْدِي، وَأَنَا بِكَ مُعْجَبَةٌ وَأَنَا بِكَ الْآنَ أَشَدُّ عُجْبًا "
২৬ - হারুন বিন সুফিয়ান আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি সাবরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর বিন আতা বিন ওয়ারায থেকে, তিনি সালিম আবি আল-গাইস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "জান্নাতের ভূমি শ্বেতশুভ্র, এর প্রাঙ্গণ কর্পূরের শিলাখণ্ড দ্বারা গঠিত এবং বালুর স্তূপের মতো মিশক তাকে পরিবেষ্টন করে আছে। তাতে প্রবাহমান নদীসমূহ রয়েছে। জান্নাতবাসীরা—তাদের নিম্নতম থেকে সর্বশেষ জন পর্যন্ত সবাই—সেখানে একত্রিত হবে এবং একে অপরের সাথে পরিচিত হবে। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা রহমতের বায়ু প্রেরণ করবেন, যা সেই মিশকের সুঘ্রাণকে তাদের ওপর ছড়িয়ে দেবে। ফলে ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীর নিকট ফিরে আসবে, তখন তার সুগন্ধ ও সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। তখন তার স্ত্রী তাকে বলবে: আপনি যখন আমার নিকট থেকে বের হয়েছিলেন তখন আমি আপনার প্রতি মুগ্ধ ছিলাম, আর এখন আমি আপনার প্রতি আরও অধিক মুগ্ধ।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল জান্নাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া ত সলীম
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
27 - حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْقُرَشِيُّ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: " خَلَقَ اللَّهُ عز وجل جَنَّةَ عَدْنٍ بِيَدِهِ فَاطَّلَعَ فِيهَا فَقَالَ: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} [المؤمنون: 1] ثُمَّ أُغْلِقَتْ فَلَمْ يَدْخُلْهَا إِلَّا مَنْ شَاءَ وَهِيَ تُفْتَحُ كُلَّ سَحَرٍ فَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّ الْبَرَدَ الَّذِي يَجِيءُ سَحَرًا مِنْهَا "
২৭ - আমাদের নিকট দাউদ বিন সুলাইমান আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হুসাইন বিন আলী আল-জু’ফি বর্ণনা করেছেন, তিনি ফুযাইল বিন ইয়ায থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে আদন জান্নাত সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তাতে দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে} [আল-মুমিনুন: ১]। এরপর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে তিনি যাকে ইচ্ছা করেন সে ব্যতীত আর কেউ তাতে প্রবেশ করবে না। আর তা প্রতি শেষ রাতে উন্মুক্ত করা হয়। তারা মনে করতেন যে, শেষ রাতে যে শিলাবৃষ্টি আসে তা সেখান থেকেই আসে।"