(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: -)
رؤية الله لابن النحاس القسم: كتب السنة
الكتاب: رؤية الله تبارك وتعالى لابن النحاس
المؤلف: أبو محمد عبد الرحمن بن عمر بن محمد بن سعيد التجيبي المصري المالكي البزار المعروف بابن النحاس (ت 416 هـ)
تحقيق وتخريج: د. محفوظ عبد الرحمن بن زين الله السلفي [ت 1418 هـ]
الناشر: الدار العلمية للطباعة والنشر والتوزيع، دلهي - الهند
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م
عدد الصفحات: 22
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনুন নাহহাস কর্তৃক আল্লাহর দর্শন বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইবনুন নাহহাস লিখিত মহান ও বরকতময় আল্লাহর দর্শন
লেখক: আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আত-তুজিবি আল-মিসরি আল-মালিকি আল-বাযযার, যিনি ইবনুন নাহহাস নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪১৬ হিজরি)
সম্পাদনা ও তাহকিক: ড. মাহফুজ আব্দুর রহমান বিন যাইনুল্লাহ আস-সালাফি [মৃত্যু ১৪১৮ হিজরি]
প্রকাশক: আদ-দারুল ইলমিয়্যাহ মুদ্রণ ও প্রকাশনা সংস্থা, দিল্লি - ভারত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২
[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১১)
1 - أنا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ النَّحَّاسِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أنا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ بِمَكَّةَ، فِي شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، نا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، نا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، فَقَالَ: «أَمَا إِنَّكُمْ سَتُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّكُمْ عز وجل، فَتَرَوْنَهُ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ، لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا» . أنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، نا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ الْمُخَرِّمِيُّ، نا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ. ⦗ص: 12⦘ أنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، نا أَبُو أُمَيَّةَ بَكْرُ بْنُ فَرْقَدٍ التَّمِيمِيُّ، نا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
১ - আমি শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নাহহাস - তাঁর নিকট পঠনকালে (শুনেছি), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে বিশর ইবনুল আরাবি মক্কায়, ৩৪০ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনাস সাব্বাহ আয-যাফরানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, কায়েস ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি জারির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, তখন তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকালেন এবং বললেন: «জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে তোমাদের মহান রবের সামনে পেশ করা হবে, অতঃপর তোমরা তাঁকে দেখতে পাবে যেভাবে তোমরা এই চাঁদকে দেখছ, তাঁর দর্শনে তোমরা কোনো ভিড়ের বা কষ্টের সম্মুখীন হবে না। অতএব, তোমরা যদি সূর্যোদয়ের পূর্বের সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত আদায়ে পরাজিত না হতে পারো (অর্থাৎ তা যথাযথভাবে আদায় করতে সক্ষম হও), তবে তা করো»। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দান ইবনে নাসর আল-মুখাররিমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, কায়েস ইবনে আবি হাজিম থেকে, জারির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত। ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়া বকর ইবনে ফারকাদ আত-তামিমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, কায়েস ইবনে আবি হাজিম থেকে, জারির থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১২)
2 - أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَرْدِ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عَبْدُ دِيزَوَيْهِ الرَّازِيُّ، سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَمَانِينَ وَمِائَتَيْنِ، نا أَبُو الْحَسَنِ سَرِيُّ بْنُ مُغَلِّسٍ السَّقَطِيُّ الْبَغْدَادِيُّ، نا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْبَدْرِ، فَقَالَ لَنَا: «تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ؟ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ عز وجل كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ، لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ»
২ - আমি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ওয়ারদ, আমাকে আবু আবদুল্লাহ আবদ দিজাওয়াইহ আর-রাজি দুইশ তিরাশি হিজরি সনে হাদীস শুনিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান সারি ইবনে মুগাল্লিস আস-সাকতি আল-বাগদাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া আল-ফাজারি, ইসমাঈল ইবনে আবু খালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি কায়েস ইবনে আবু হাজিম থেকে, তিনি জারীর ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা পূর্ণিমার রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম, তখন তিনি আমাদের বললেন: «তোমরা কি এই চাঁদ দেখতে পাচ্ছ? তোমরা তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত রব্বকে তেমনই দেখতে পাবে যেমন তোমরা এই চাঁদকে দেখছ, তাঁকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না।»
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১২)
3 - أنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَلِيحٍ الطَّرَائِفِيُّ، سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقِ بْنِ دِينَارٍ الْبَصْرِيُّ، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ. ح، وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ هَاشِمٍ الْأَزْدِيُّ، نا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ يَحْيَى بْنِ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ، أنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ⦗ص: 13⦘ ح وَأَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ مُلَاقِ بْنِ نَصْرِ بْنِ سَلَّامٍ الْعُثْمَانِيُّ، نا يُوسُفُ بْنُ يَزِيدَ الْقَرَاطِيسِيُّ، نا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْعِصَامِ الْعَدَوِيُّ لَفْظًا فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، وَاللَّفْظُ لَهُ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مُوسَى، نا عُمَرُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَصْرِيُّ، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ، نَادَاهُمْ مُنَادٍ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ، إِنَّ لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ مَوَاعِدَ يُرِيدُ أَنْ يُنْجِزَهَا لَكُمْ. فَيَقُولُونَ: يَا رَبِّ، أَلَيْسَ قَدْ بَيَّضْتَ وُجُوهَنَا، وَثَقَّلْتَ مَوَازِينَنَا، وَزَحْزَحْتَنَا عَنِ النَّارِ، وَأَدْخَلْتَنَا الْجَنَّةَ؟ فَيَأْمُرُ بِالْحِجَابِ فَيُكْشَفُ، فَيَنْظُرُونَ إِلَى وَجْهِ اللَّهِ عز وجل، فَمَا هُمْ لِشَيْءٍ مِمَّا أُعْطُوا أَقَرَّ أَعْيُنَهُمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِ اللَّهِ عز وجل ". ثُمَّ قَرَأَ: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} [يونس: 26] . الْحُسْنَى: الْجَنَّةُ. الزِّيَادَةُ: النَّظَرُ إِلَى وَجْهِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
৩ - আমি আবু আলী আল-হাসান বিন ইউসুফ বিন মালিহ আত-তরাইফি, ৩৩৯ হিজরি সালে; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন মারজুক বিন দিনার আল-বাসরি; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ। (তহাউইল) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাশিম আল-আজদি; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু গাসসান মালিক বিন ইয়াহইয়া বিন মালিক, ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে; আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ। ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ (তহাউইল) এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন মুলাক বিন নাসর বিন সাল্লাম আল-উসমানি; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন ইয়াজিদ আল-কারাতিসি; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আসাদ বিন মুসা; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ। (তহাউইল) এবং আমাদের কাছে ৩৪০ হিজরির মহররম মাসে মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন আবু ইসাম আল-আদাউয়ি—এবং শব্দগুলো তার—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু মুসা; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উমর বিন হাসান আল-বাসরি; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন একজন ঘোষণাকারী তাদের ডেকে বলবেন: হে জান্নাতবাসীরা! নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা তিনি তোমাদের জন্য পূর্ণ করতে চান। তারা বলবে: হে আমাদের রব! আপনি কি আমাদের চেহারাগুলো উজ্জ্বল করে দেননি? আমাদের পাল্লাসমূহ কি ভারী করে দেননি? আমাদের কি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাননি? তখন তিনি পর্দার ব্যাপারে নির্দেশ দেবেন এবং তা উন্মোচন করা হবে; ফলে তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার চেহারার দিকে তাকাবে। তাদের প্রদানকৃত সকল নেয়ামতের মধ্যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার চেহারার দিকে তাকানোর চেয়ে অধিক তৃপ্তিদায়ক আর কিছুই তাদের কাছে হবে না।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {যারা উত্তম কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং অতিরিক্ত} [সুরা ইউনুস: ২৬]। এখানে কল্যাণ (হুসনা) হলো জান্নাত, আর অতিরিক্ত (জিয়াদা) হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার চেহারার দিকে তাকানো।
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
4 - أنا أَبُو الْفَضْلِ يَحْيَى بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الرَّبِيعِ الْعَبْدِيُّ، نا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ الدِّمْيَاطِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ النَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَرَى رَبَّنَا عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " هَلْ تُضَارُّونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ، هَلْ تُضَارُّونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ؟، قَالُوا: لَا. قَالَ: فَكَذَلِكَ تَرَوْنَهُ، يَجْمَعُ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيَقُولُ: مَنْ كَانَ يَعْبُدُ شَيْئًا فَلْيَتَّبِعْهُ. فَيَتَّبِعُ مَنْ يَعْبُدُ الشَّمْسَ الشَّمْسَ، وَيَتَّبِعُ مَنْ يَعْبُدُ الْقَمَرَ الْقَمَرَ، وَيَتَّبِعُ مَنْ يَعْبُدُ الطَّوَاغِيتَ الطَّوَاغِيتَ، وَتَبْقَى هَذِهِ الْأُمَّةُ فِيهَا شَافِعُوهَا أَوْ مُنَافِقُوهَا، فَيَأْتِيهِمْ جَلَّ وَعَزَّ فِي صُورَةٍ غَيْرِ صُورَتِهِ الَّتِي يَعْرِفُونَهُ، فَيَقُولُ: أَنَا رَبُّكُمْ. فَيَقُولُونَ: نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ، هَذَا مَكَانُنَا حَتَّى يَأْتِيَنَا رَبُّنَا، فَإِذَا جَاءَ رَبُّنَا عَرَفْنَاهُ. فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ فِي الصُّورَةِ الَّتِي يَعْرِفُونَهُ، فَيَقُولُ: أَنَا رَبُّكُمْ. فَيَقُولُونَ: أَنْتَ رَبُّنَا، فَيَتَّبِعُونَهُ، فَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ جَهَنَّمَ، ⦗ص: 15⦘ فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي أَوَّلَ مَنْ يُجِيزُ، وَلَا يَتَكَلَّمُ يَوْمَئِذٍ إِلَّا الرُّسُلُ، وَدَعْوَةُ الرُّسُلِ يَوْمَئِذٍ: اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ. وَفِي جَهَنَّمَ كَلَالِيبُ كَشَوْكِ السَّعْدَانِ، هَلْ رَأَيْتُمْ شَوْكَ السَّعْدَانِ؟ قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: فَإِنَّهُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَدْرِي مَا قَدْرُ عِظَمِهَا إِلَّا اللَّهُ عز وجل، فَيَتَخَطَّفُ النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ، فَمِنْهُمُ الْمُوبَقُ بِعَمَلِهِ، وَمِنْهُمُ الْمُخَرْدَلُ - أَوْ كَلِمَةٌ تُشْبِهُهَا - ثُمَّ يَتَجَلَّى تبارك وتعالى، فَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ عز وجل أَنْ يُخْرِجَ مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا مِمَّنْ يَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، مِمَّنْ أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَرْحَمَهُ، ثُمَّ يَعْرِفُونَهُمْ فِي النَّارِ بِأَثَرِ السُّجُودِ، تَأْكُلُ النَّارُ ابْنَ آدَمَ إِلَّا أَثَرَ السُّجُودِ، حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ، فَيُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النَّارِ قَدْ أُحْرِقُوا، فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ مَاءُ الْحَيَاةِ، فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الْحَبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ، وَيَبْقَى رَجُلٌ مُسْتَقْبِلٌ بِوَجْهِهِ إِلَى النَّارِ، يَقُولُ: أَيْ رَبِّ، اصْرِفْ وَجْهِي عَنْهَا، قَدْ قَشَبَنِي رِيحُهَا، وَأَحْرَقَنِي ذَكَاؤُهَا. فَيَدْعُو بِمَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْعُوَ، فَيَقُولُ: هَلْ عَسَيْتَ إِنْ أُعْطِيتَ ذَلِكَ أَنْ تَسْأَلَ غَيْرَهُ؟ فَيَقُولُ: لَا وَعِزَّتِكَ. فَيُعْطِي مَا شَاءَ مِنْ عُهُودٍ وَمَوَاثِيقَ، فَيَصْرِفُ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ، فَيَسْكُتُ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ يَقُولُ: أَيْ رَبِّ، قَدِّمْنِي إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ. فَيَقُولُ اللَّهُ: قَدْ أَعْطَيْتَ عُهُودَكَ وَمَوَاثِيقَكَ لَا تَسْأَلُ غَيْرَ مَا أُوتِيتَهُ؟ وَيْلَكَ يَا ابْنَ آدَمَ، مَا أَغْدَرَكَ فَلَا يَزَالُ يَدْعُو حَتَّى يَقُولُ: هَلْ عَسَيْتَ إِنْ أُعْطِيتَ أَنْ تَسْأَلَ غَيْرَهُ؟ فَيَقُولُ: لَا وَعِزَّتِكَ لَا أَسْأَلُ غَيْرَهَا. فَيُعْطِي رَبَّهُ عُهُودًا وَمَوَاثِيقَ مَا شَاءَ اللَّهُ، فَيُدْنِيهِ إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ، فَإِذَا قَامَ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ انْفَهَقَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، فَرَأَى مَا فِيهَا مِنَ الْحَبَرَةِ وَالسُّرُورِ، فَيَسْكُتُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ، ثُمَّ يَقُولُ: أَيْ رَبِّ، أَدْخِلْنِي الْجَنَّةَ. فَيَقُولُ: وَيْلَكَ ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ أَلَمْ تُعْطِ عُهُودَكَ وَمَوَاثِيقَكَ أَنْ لَا تَسْأَلَنِي غَيْرَ مَا أُعْطِيتَ؟ فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ، لَا أَكُونُ أَشْقَى خَلْقِكَ. فَلَا يَزَالُ ⦗ص: 16⦘ يَدْعُو اللَّهَ حَتَّى يَضْحَكَ اللَّهُ مِنْهُ، فَإِذَا ضَحِكَ مِنْهُ قَالَ لَهُ: ادْخُلِ الْجَنَّةَ. فَإِذَا أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ قَالَ اللَّهُ لَهُ: تَمَنَّ. فَيَتَمَنَّى حَتَّى إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَيُذَكِّرُهُ، فَيَقُولُ: بِكَذَا وَكَذَا. فَإِذَا انْقَطَعَتْ لَهُ الْأَمَانِيُّ، قَالَ اللَّهُ: ذَلِكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ". قَالَ عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ: وَأَبُو سَعِيدٍ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ هَذَا الْحَدِيثَ، لَا يَرُدُّ عَلَيْهِ شَيْئًا مِنْ حَدِيثِهِ، حَتَّى إِذَا قَالَ: «ذَلِكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ» ، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: أَشْهَدُ لَحَفِظْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ذَلِكَ لَكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ مَعَهُ» ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَذَلِكَ آخِرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولًا الْجَنَّةَ
৪ - আমি আবু আল-ফজল ইয়াহইয়া ইবনুর রবি' ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুর রবি' আল-আবদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বকর ইবনু সাহল আদ-দিময়াতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনু সা'দ, ইবনু শিহাব হতে, তিনি আতা ইবনু ইয়াজিদ আল-লায়সি হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মানুষ জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের মহান ও পরাক্রমশালী রবকে দেখতে পাব? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "মেঘমুক্ত অবস্থায় সূর্য দেখতে কি তোমাদের কোনো সমস্যা হয়? পূর্ণিমা রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোনো সমস্যা হয়?" তারা বলল: না। তিনি বললেন: "তোমরা ঠিক সেভাবেই তাঁকে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ মানুষকে একত্রিত করবেন এবং বলবেন: যে যার ইবাদত করত সে যেন তারই অনুসরণ করে। সুতরাং যে সূর্যের ইবাদত করত সে সূর্যের অনুসরণ করবে, যে চাঁদের ইবাদত করত সে চাঁদের অনুসরণ করবে এবং যে তাগুতের ইবাদত করত সে তাগুতের অনুসরণ করবে। আর এই উম্মত অবশিষ্ট থাকবে, যাদের মধ্যে তাদের সুপারিশকারীগণ অথবা মুনাফিকরা থাকবে। অতঃপর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের নিকট এমন এক রূপে (সুরতে) আসবেন যা তাদের পরিচিত রূপের (সুরতের) বাইরে এবং বলবেন: আমি তোমাদের রব। তারা বলবে: আমরা তোমার থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আমাদের রব আমাদের নিকট না আসা পর্যন্ত এটিই আমাদের স্থান; যখন আমাদের রব আসবেন তখন আমরা তাঁকে চিনে নেব। অতঃপর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের নিকট সেই রূপে (সুরতে) আসবেন যা তারা চিনে এবং বলবেন: আমি তোমাদের রব। তারা বলবে: আপনিই আমাদের রব। অতঃপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। এরপর জাহান্নামের ওপর পুল (সিরাত) স্থাপন করা হবে, ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ আমি এবং আমার উম্মত হব প্রথম যারা এটি অতিক্রম করবে। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত কেউ কথা বলবে না। সেদিন রাসূলগণের প্রার্থনা হবে: হে আল্লাহ, সালামত রাখুন, সালামত রাখুন। আর জাহান্নামে 'সাদান' কাঁটার মতো অনেকগুলো হুক থাকবে। তোমরা কি সাদান কাঁটা দেখেছ? তারা বলল: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: সেগুলো সাদান কাঁটার মতোই, তবে সেগুলো আকারে কত বড় তা মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। সেগুলো মানুষকে তাদের আমল অনুযায়ী ছিনিয়ে নেবে। তাদের মধ্যে কেউ তার আমলের কারণে ধ্বংস হবে, আর কেউ টুকরো টুকরো হয়ে যাবে - অথবা অনুরূপ কোনো শব্দ - অতঃপর মহান ও বরকতময় আল্লাহ প্রকাশিত হবেন। এরপর আল্লাহ যখন জাহান্নাম থেকে এমন ব্যক্তিদের বের করার ইচ্ছা করবেন যারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করেনি - যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলত - যাদের প্রতি আল্লাহ রহমত করার ইচ্ছা করবেন; তখন তারা (ফেরেশতারা) জাহান্নামের ভেতর সিজদার চিহ্ন দেখে তাদের চিনতে পারবেন। জাহান্নামের আগুন বনী আদমের সমস্ত অংশ গ্রাস করবে সিজদার চিহ্ন ব্যতীত। আল্লাহ জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্ন ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদের দগ্ধ অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। এরপর তাদের ওপর 'মাউল হায়াত' (জীবন-বারি) ঢালা হবে, ফলে তারা সেভাবে গজিয়ে উঠবে যেভাবে স্রোতের বাহিত আবর্জনার মাঝে বীজ গজিয়ে ওঠে। আর একজন লোক অবশিষ্ট থাকবে যার মুখ জাহান্নামের দিকে থাকবে। সে বলবে: হে আমার রব, আমার মুখটি জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দিন। এর দুর্গন্ধ আমাকে বিষিয়ে দিচ্ছে এবং এর তেজ আমাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। সে আল্লাহর কাছে ততক্ষণ দোয়া করবে যতক্ষণ আল্লাহ চাইবেন। অতঃপর আল্লাহ বলবেন: তোমাকে যদি এটা দেওয়া হয়, তবে কি তুমি অন্য কিছু চাইবে? সে বলবে: না, আপনার ইজ্জতের কসম। সে আল্লাহর কাছে যত ইচ্ছা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। তখন আল্লাহ তার মুখ জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দেবেন। এরপর সে আল্লাহ যতটুকু চান ততক্ষণ চুপ থাকবে। তারপর বলবে: হে আমার রব, আমাকে জান্নাতের দরজার কাছে পৌঁছে দিন। আল্লাহ বলবেন: তুমি কি আগে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, যা তোমাকে দেওয়া হয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু চাইবে না? ধিক তোমাকে হে বনী আদম, তুমি কতই না প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! সে দোয়া করতেই থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ বলবেন: যদি তোমাকে এটা দেওয়া হয় তবে কি তুমি অন্য কিছু চাইবে? সে বলবে: না, আপনার ইজ্জতের কসম, আমি এছাড়া অন্য কিছু চাইব না। সে তার রবকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী অনেক অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতের দরজার নিকটবর্তী করবেন। সে যখন জান্নাতের দরজায় দাঁড়াবে তখন তার সামনে জান্নাত উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং সে জান্নাতের ভেতরের সুখ ও আনন্দ দেখতে পাবে। সে আল্লাহ যতটুকু চান ততক্ষণ চুপ থাকবে। তারপর বলবে: হে আমার রব, আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেন: ধিক হে বনী আদম, তুমি কতই না প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, যা আমি দিয়েছি তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না? সে বলবে: হে আমার রব, আমি আপনার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা হতে চাই না। সে ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ আল্লাহর কাছে দোয়া করতেই থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ তার প্রতি হেসে দেবেন। যখন আল্লাহ তার প্রতি হেসে দেবেন তখন তাকে বলবেন: জান্নাতে প্রবেশ করো। সে যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন আল্লাহ তাকে বলবেন: চাও (তাকান্না)। সে চাইতে থাকবে, এমনকি মহান আল্লাহ তাকে মনে করিয়ে দেবেন এবং বলবেন: এটা চাও, ওটা চাও। যখন তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে তখন আল্লাহ বলবেন: এ সব তোমার জন্য এবং এর সাথে আরও সমপরিমাণ তোমার জন্য।" আতা ইবনু ইয়াজিদ বলেন: আবু সাঈদ (রা.) আবু হুরায়রা (রা.)-এর সাথে থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করছিলেন এবং তিনি তাঁর বর্ণনার কোনো কিছুতেই দ্বিমত করেননি। তবে যখন তিনি বললেন: "এ সব তোমার জন্য এবং এর সাথে আরও সমপরিমাণ তোমার জন্য", তখন আবু সাঈদ (রা.) বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি এভাবেই মুখস্থ করেছি যে, "এ সব তোমার জন্য এবং এর সাথে আরও দশ গুণ তোমার জন্য।" আবু হুরায়রা (রা.) বললেন: সেই ব্যক্তিটিই হবে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5 - أنا أَحْمَدُ، أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْأَنْصَارِيُّ الْحَرْبِيُّ، نا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي غَيْلَانَ الثَّقَفِيُّ، نا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ أَبُو الْحَسَنِ، نا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ الْعُمَرِيُّ، نا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ نَرَى رَبَّنَا عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟، قَالَ: «هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ فِي الظَّهِيرَةِ صَحْوًا لَيْسَتْ بِسَحَابَةٍ؟» ، قَالَ: قُلْنَا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ صَحْوًا لَيْسَ بِسَحَابَةٍ؟» ، قُلْنَا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «لَا تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا كَمَا تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ أَحَدِهِمَا» . أنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْحَرْبِيُّ، نا عَمِّي، نا عُثْمَانُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنِ ⦗ص: 17⦘ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
৫ - আমি আহমদ, আমার নিকট আবু আল-হাসান আলী ইবন আহমদ ইবন আলী আল-আনসারী আল-হারবী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু হাফস উমর ইবন ইসমাইল ইবন আবি গাইলান আস-সাকাফী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান ইবন আবি শাইবা আবু আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জাফর ইবন আউন আল-উমারী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম ইবন সাদ বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট জায়েদ ইবন আসলাম বর্ণনা করেছেন আতা ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেন: «মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশে মধ্যাহ্নকালে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কোনো অসুবিধা হয়?» তিনি বলেন: আমরা বললাম: না, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন: «মেঘমুক্ত পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোনো অসুবিধা হয়?» আমরা বললাম: না, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন: «তোমরা কিয়ামতের দিন তাঁকে দেখতে ঠিক তেমনই কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হবে না, যেমনটি এই দুটির কোনো একটি দেখার ক্ষেত্রে হয় না।» আমার নিকট আলী ইবন আহমদ আল-হারবী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমার চাচা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবন ইদ্রিস বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
6 - أنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ مُلَاقِ بْنِ نَصْرِ بْنِ سَلَّامٍ الْعُثْمَانِيُّ، نا يُوسُفُ بْنُ يَزِيدَ الْقَرَاطِيسِيُّ، نا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، نا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ أَبَانَ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا مُوسَى، يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُنَادٍ يُنَادِي أَهْلَ الْجَنَّةِ بِصَوْتٍ يُسْمِعُ أَوَّلَهُمْ وَآخِرَهُمْ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل وَعَدَكُمُ الْحُسْنَى وَزِيَادَةً ". وَالْحُسْنَى: الْجَنَّةُ، وَالزِّيَادَةُ: النَّظَرُ إِلَى وَجْهِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى
৬ - আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে মুলাক ইবনে নাসর ইবনে সাল্লাম আল-উসমানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে ইয়াযীদ আল-কারাতীসী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ ইবনে মূসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কায়েস ইবনুর রাবী‘, আবান থেকে, তিনি আবু তামীমাহ আল-হুজাইমী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু মূসা (রা.)-কে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: "কিয়ামতের দিন একজন আহ্বানকারী প্রেরিত হবেন যিনি জান্নাতবাসীদের এমন এক স্বরে আহ্বান করবেন যা তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবাই শুনতে পাবে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আজযা ওয়া জাল্লা তোমাদের অতি উত্তম প্রতিদান ও অতিরিক্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’ আর ‘অতি উত্তম’ হলো জান্নাত, এবং ‘অতিরিক্ত’ হলো বরকতময় আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানো ও মহান। "
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
7 - أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَرْدِ، نا أَحْمَدُ بْنُ ⦗ص: 18⦘ شُعَيْبٍ، أنا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ الْبَصْرِيُّ، نا سَيْفُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: وَكَانَ ثِقَةً، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ عَيَّارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ نَرَى رَبَّنَا؟، قَالَ: «هَلْ تَرَوْنَ الشَّمْسَ فِي يَوْمٍ لَا غَيْمَ فِيهِ، وَتَرَوْنَ الْقَمَرَ فِي لَيْلَةٍ لَا غَيْمَ فِيهَا؟» ، قُلْنَا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: " فَإِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ عز وجل حَتَّى إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيُحَاصِرُ رَبَّهُ مُحَاصَرَةً، يَقُولُ: عَبْدِي، هَلْ تَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا وَكَذَا؟، فَيَقُولُ: رَبِّ، أَلَمْ تَغْفِرْ لِي؟، فَيَقُولُ: بِمَغْفِرَتِي صِرْتَ إِلَى هَذَا "
৭ - আমি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ার্দ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ শুআইব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর বিন ইয়াজিদ আল-বাসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাইফ বিন উবাইদুল্লাহ—তিনি বলেন: আর তিনি (সাইফ) নির্ভরযোগ্য ছিলেন—সালামাহ বিন আইয়ার হতে, তিনি সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ হতে, তিনি জুহরি হতে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেন: «তোমরা কি মেঘমুক্ত দিনে সূর্য দেখতে পাও এবং মেঘমুক্ত রাতে চাঁদ দেখতে পাও?» আমরা বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের মহান ও পরাক্রমশালী রবকে দেখতে পাবে, এমনকি তোমাদের প্রত্যেকেই তার রবের সাথে সরাসরি মুখোমুখি হবে; তিনি বলবেন: হে আমার বান্দা, তুমি কি অমুক অমুক পাপের কথা জানো? তখন সে বলবে: হে আমার রব, আপনি কি আমাকে ক্ষমা করে দেননি? তখন তিনি বলবেন: আমার ক্ষমার কারণেই তুমি এই অবস্থানে পৌঁছেছ।"
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
8 - أنا أَبُو مَرْوَانَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ فَخْرِ بْنِ شَاذَانَ الْمَكِّيُّ إِمْلَاءً فِي صَفَرٍ مِنْ سَنَةِ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي مَسَرَّةَ، نا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَيَّاشٍ الْأَنْصَارِيُّ ثُمَّ السَّمَعِيُّ، عَنْ دَلْهَمِ بْنِ الْأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاجِبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ لَقِيطِ بْنِ عَامِرٍ أَنَّهُ خَرَجَ وَافِدًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ نَهِيكُ بْنُ عَاصِمِ بْنِ مَالِكِ ⦗ص: 19⦘ بْنِ الْمُنْتَفِقِ. قَالَ: فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ لِانْسِلَاخِ رَجَبٍ. قَالَ: فَصَلَّيْنَا مَعَهُ صَلَاةَ الْغَدَاةِ، فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَطِيبًا فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكُمْ صَوْتِي مُنْذُ أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ إِلَّا لِأَسْمَعَكُمُ الْيَوْمَ» . وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ، وَقَالَ فِيهِ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ يَجْمَعُنَا بَعْدَ مَا تُمَزِّقُنَا الرِّيَاحُ وَالسِّبَاعُ وَالْبِلَاءُ؟ قَالَ: " أُنَبِّئُكَ بِمِثْلِ ذَلِكَ فِي آلَاءِ اللَّهِ، الْأَرْضُ أَشْرَفْتَ عَلَيْهَا وَهِيَ فِي مَدَرَةٍ بَالِيَةٍ، فَقُلْتَ: لَا تَحْيَا أَبَدًا، ثُمَّ أَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهَا السَّمَاءَ، فَلَمْ تَلْبَثْ عَلَيْكَ إِلَّا أَيَّامًا حَتَّى أَشْرَفْتَ عَلَيْهَا، فَإِذَا هِيَ شَرْبَةٌ وَاحِدَةٌ، وَلَعَمْرُو إِلَهِكَ لَهُوَ أَقْدَرُ عَلَى أَنْ يَجْمَعَكُمْ مِنَ الْمَاءِ عَلَى أَنْ يَجْمَعَ نَبَاتَ الْأَرْضِ، فَتَخْرُجُونَ مِنَ الْأَصْوَاءِ وَمِنْ مَصَارِعِكُمْ، فَتَنْظُرُونَ إِلَيْهِ سَاعَةً وَيَنْظُرُ إِلَيْكُمْ ". قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ وَهُوَ شَخْصٌ وَاحِدٌ وَنَحْنُ مِلْءُ الْأَرْضِ، نَنْظُرُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْنَا؟ قَالَ: «أُنَبِّئُكَ بِمِثْلِ ذَلِكَ فِي آلَاءِ اللَّهِ، الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ، إِنَّهُمَا صَغِيرَانِ وَتَرَوْنَهُمَا فِي سَاعَةٍ وَاحِدَةٍ وَتَرَيَانِكُمْ، وَلَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِمَا، وَلَعَمْرُو إِلَهِكَ لَهُوَ عَلَى أَنْ يَرَاكُمْ وَتَرَوْنَهُ أَقْدَرُ مِنْهَا عَلَى أَنْ يَرَيَاكُمْ وَتَرَوْهُمَا» وَذَكَرَ بِطُولِهِ
৮ - আমি আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক বিন ফাখর বিন শাযান আল-মাক্কি থেকে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করছি, যা ৩৩৩ হিজরীর সফর মাসে হয়েছে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আবি মাসাররাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন মুহাম্মাদ আয-যুহরী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আল-মুগীরা বিন আব্দুর রহমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আইয়াশ আল-আনসারী অতঃপর আস-সাময়ী, দালহাম বিন আল-আসওয়াদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাজিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর চাচা লাকীত বিন আমির থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে গমন করেন এবং তাঁর সাথে নহীক বিন আসিম বিন মালিক ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ বিন আল-মুনতাফিক ছিলেন। তিনি বলেন: আমরা রজব মাসের শেষে মদীনায় পৌঁছলাম। তিনি বলেন: আমরা তাঁর সাথে ফজরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন এবং বললেন: "হে লোকসকল! আমি গত চার দিন যাবত তোমাদের নিকট আমার কথা গোপন রেখেছিলাম শুধু আজ তোমাদের শোনানোর জন্য।" অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং তাতে বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! বাতাস, হিংস্র প্রাণী এবং জীর্ণতা আমাদের ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর তিনি কীভাবে আমাদের একত্রিত করবেন? তিনি বললেন: "আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে আমি তোমাকে এর একটি সদৃশ দৃষ্টান্ত দিচ্ছি; তুমি এমন এক ভূখণ্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলে যা ছিল শুষ্ক ও প্রাণহীন। তখন তুমি বলেছিলে: এটি আর কখনোই জীবিত হবে না। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই তুমি দেখলে তা সজীব ও সবুজ-শ্যামল হয়ে উঠেছে। তোমার ইলাহের জীবনের কসম! তোমাদেরকে একত্রিত করার ব্যাপারে তিনি উদ্ভিদের পানি থেকে একত্রিত হওয়ার চেয়েও অধিক সক্ষম। ফলে তোমরা টিলা এবং তোমাদের মৃত্যুর স্থানসমূহ থেকে বের হয়ে আসবে। অতঃপর তোমরা এক মুহূর্তের জন্য তাঁর দিকে তাকাবে এবং তিনিও তোমাদের দিকে তাকাবেন।" তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে সম্ভব, অথচ তিনি মাত্র একজন এবং আমরা সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত থাকব, আমরা তাঁর দিকে তাকাব এবং তিনিও আমাদের দিকে তাকাবেন? তিনি বললেন: "আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে আমি তোমাকে এর একটি সদৃশ দৃষ্টান্ত দিচ্ছি; সূর্য এবং চন্দ্র, এই দুটি ছোট হওয়া সত্ত্বেও তোমরা একই সময়ে উভয়কে দেখছ এবং তারাও তোমাদের দেখছে, আর তাদের দেখতে তোমাদের কোনো কষ্ট বা ভিড় করতে হয় না। তোমার ইলাহের জীবনের কসম! তোমাদের তাঁকে দেখা এবং তাঁর তোমাদেরকে দেখার বিষয়টি, সূর্য ও চন্দ্রের তোমাদের দেখা এবং তোমাদের সূর্য ও চন্দ্রকে দেখার সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি জোরালো।" এবং তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
9 - نا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَزَّارُ الْعَسْكَرِيُّ إِمْلَاءً فِي مَسْجِدِهِ بِالْعَسْكَرِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، نا أَبُو يَزِيدَ، يَعْنِي الْقَرَاطِيسِيَّ، نا أَسَدُ بْنُ ⦗ص: 20⦘ مُوسَى، نا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنا صَالِحُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " أَتَانِي جِبْرِيلُ بِمِثْلِ الْمِرْآةِ، فَقُلْتُ: مَا هَذِهِ؟ فَقَالَ: الْجُمُعَةُ، وَأَرْسَلَنِي اللَّهُ عز وجل بِهَا إِلَيْكَ، وَهُوَ عِنْدَنَا سَيِّدُ الْأَيَّامِ، وَهُوَ عِنْدَنَا يَوْمُ الْمَزِيدِ، إِنَّ رَبَّكَ عز وجل اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ مِنْ مِسْكٍ أَبْيَضَ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ نَزَلَ عَنْ كُرْسِيِّهِ، وَنَزَلَ مَعَهُ النَّبِيُّونَ وَالصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ، ثُمَّ حَفَّتْ بِالْكُرْسِيِّ مَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ مُكَلَّلَةٌ بِالزَّبَرْجَدِ، وَاللُّؤْلُؤِ وَالْيَاقُوتِ، فَجَلَس عَلَيْهَا النَّبِيُّونَ وَالصَّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ، ونَزَلَ أَهْلُ الْغُرَفِ عَلَى كَثِيبٍ مِنَ الْمِسْكِ الْأَبْيَضِ، فَيَتَجَلَّى لَهُمْ رَبُّهُمْ تبارك وتعالى، فَيَنْظُرُونَ إِلَى وَجْهِهِ تبارك وتعالى، قَالَ: أَلَسْتُ الَّذِي صَدَقْتُكُمْ وَعَدِي؟، قَالُوا: بَلَى رَبَّنَا. قَالَ: أَلَسْتُ الَّذِي أَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي؟، قَالُوا: بَلَى رَبَّنَا. قَالَ: هَذَا مَحِلُّ وَعَدِي فَاسْأَلُونِي. قَالُوا: نَسْأَلُكَ الرِّضَا. قَالَ: رِضَايَ أُحِلُّكُمْ دَارِي، وَأُشْهِدُكُمْ عَلَى الرِّضَا عَنْكُمْ - فَأَشْهَدَهُمْ عَلَى الرِّضَا عَنْهُمْ - فَاسْأَلُونِي. فَسَأَلُوا حَتَّى انْتَهَتْ رَغْبَتُهُمْ، فَأَعْطَاهُمْ مَا لَمْ يَخْطِرْ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، وَلَمْ تَرَهُ عَيْنٌ، ثُمَّ ارْتَفَعَ عَلَى كُرْسِيِّهِ جَلَّ وَعَزَّ، وَارْتَفَعَ أَهْلُ الْغُرَفِ إِلَى غُرَفِهِمْ فِي خَيْمَةٍ بَيْضَاءَ مِنْ لُؤْلُؤَةٍ، لَا فَصْمَ فِيهَا وَلَا نِظَامَ، أَوْ فِي خَيْمَةٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ، أَوْ فِي خَيْمَةٍ مِنْ زَبَرْجَدَةٍ خَضْرَاءَ، فِيهَا أَبْوَابُهَا، وَمِنْهَا غُرَفُهَا، مُطَّرِدٌ فِيهَا أَنْهَارُهَا، مُذَلَّلٌ فِيهَا ثِمَارُهَا، فِيهَا خَدَمُهَا وَأَزْوَاجُهَا، فَلَيْسُوا إِلَى شَيْءٍ أَشَدَّ شَوْقًا وَأَشَدَّ تَطَلُّعًا مِنْهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ؛ لِيَنْزِلَ إِلَيْهِمْ رَبُّهُمْ عز وجل؛ لِيَزْدَادُوا إِلَيْهِ نَظَرًا، وَعَلَيْهِ كَرَامَةً؛ فَلِذَلِكَ يُدْعَى يَوْمُ الْجُمُعَةِ يَوْمَ الْمَزِيدِ "
৯ - আমাদের নিকট আবু আল-কাসিম সুলায়মান ইবনে দাউদ ইবনে সুলায়মান আল-বাজ্জার আল-আসকারি ৩৩৮ হিজরি সনে আল-আসকারে অবস্থিত তাঁর মসজিদে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ইয়াজিদ অর্থাৎ আল-কারাতিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসাদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সালিহ ইবনে হাইয়্যান সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "জিবরাঈল আমার নিকট একটি আয়নার মতো বস্তু নিয়ে আসলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: এটি কী? তিনি বললেন: এটি জুমা, আল্লাহ আজ্যা ওয়া জাল্লা এটি দিয়ে আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। আমাদের নিকট এটি দিনসমূহের সর্দার এবং আমাদের নিকট এটি বৃদ্ধির দিন। নিশ্চয়ই আপনার রব আজ্যা ওয়া জাল্লা জান্নাতে সাদা কস্তুরীর এক সুবিস্তৃত উপত্যকা গ্রহণ করেছেন। যখন জুমার দিন হয়, তিনি তাঁর কুরসি থেকে অবতরণ করেন এবং তাঁর সাথে নবীগণ, সত্যবাদীগণ ও শহীদগণ অবতরণ করেন। এরপর কুরসিকে স্বর্ণের মিম্বরসমূহ দিয়ে পরিবেষ্টন করা হয় যা পান্না, মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর দ্বারা খচিত। অতঃপর নবীগণ, সত্যবাদীগণ ও শহীদগণ সেগুলোর ওপর বসলেন এবং উচ্চকক্ষবাসীরা সাদা কস্তুরীর ঢিবির ওপর অবতরণ করলেন। এরপর তাদের রব তাবারাকা ওয়া তা'য়ালা তাদের সামনে প্রকাশিত হন, ফলে তারা তাবারাকা ওয়া তা'য়ালার মুখমণ্ডলের দিকে তাকান। তিনি বলেন: আমি কি সেই সত্তা নই যে তোমাদের নিকট করা আমার ওয়াদা সত্য করেছি? তারা বলেন: হ্যাঁ, হে আমাদের রব। তিনি বলেন: আমি কি সেই সত্তা নই যে তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত পূর্ণ করেছি? তারা বলেন: হ্যাঁ, হে আমাদের রব। তিনি বলেন: এটিই আমার ওয়াদার স্থান, সুতরাং তোমরা আমার কাছে চাও। তারা বলেন: আমরা আপনার সন্তুষ্টি চাই। তিনি বলেন: আমার সন্তুষ্টিই তোমাদেরকে আমার ঘরে স্থান দিয়েছে এবং আমি তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টির ব্যাপারে তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি—অতঃপর তিনি তাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টির ব্যাপারে সাক্ষী রাখলেন—সুতরাং তোমরা আমার কাছে চাও। অতঃপর তারা চাইলেন যতক্ষণ না তাদের আকাঙ্ক্ষা শেষ হলো। এরপর তিনি তাদেরকে এমন সব বস্তু দান করলেন যা কোনো মানুষের অন্তরে কখনও উদিত হয়নি এবং কোনো চোখ কখনও দেখেনি। এরপর তিনি তাঁর কুরসির উপর উঠলেন (মহা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী), আর উচ্চকক্ষবাসীরা একটি মুক্তার তৈরি সাদা তাঁবুতে অবস্থিত তাদের কক্ষে আরোহণ করলেন, যাতে কোনো ফাটল বা বিন্যাসগত ত্রুটি নেই, অথবা লাল ইয়াকুতের তৈরি তাঁবুতে, অথবা সবুজ পান্নার তৈরি তাঁবুতে, যাতে তার দরজাসমূহ রয়েছে এবং তার কক্ষসমূহ রয়েছে, যার ভেতর দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত, যার ফলসমূহ অবনমিত, যাতে তার সেবক ও স্ত্রীরা রয়েছে। তারা কিয়ামতের দিনের চেয়ে অন্য কোনো কিছুর প্রতি অধিক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও অধিক প্রত্যাশা পোষণ করবে না; যেন তাদের রব আজ্যা ওয়া জাল্লা তাদের নিকট অবতরণ করেন; যাতে তারা তাঁর প্রতি দর্শন বৃদ্ধি করতে পারে এবং তাঁর নিকট থেকে মর্যাদা লাভ করতে পারে। একারণেই জুমার দিনকে বৃদ্ধির দিন বলা হয়।"
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ২০)
10 - أنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ مُلَاقِ بْنِ نَصْرِ بْنِ سَلَّامٍ الْعُثْمَانِيُّ، نا يُوسُفُ بْنُ يَزِيدَ، نا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، نا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبْجَرَ، عَنْ ثُوَيْرِ بْنِ أَبِي ⦗ص: 21⦘ فَاخِتَةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةً لَرَجُلٌ يَنْظُرُ فِي مُلْكِهِ أَلْفَيْ سَنَةٍ، يَرَى أَقْصَاهُ كَمَا يَرَى أَدْنَاهُ، يَنْظُرُ فِي أَزْوَاجِهِ وَسُرُرِهِ وَخَدَمِهِ، وَإِنَّ أَفْضَلَهُمْ مَنْزِلَةً لَمَنْ يَنْظُرُ فِي وَجْهِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ كُلَّ يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ»
১০ - আমি আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে মুলাক ইবনে নাসর ইবনে সাল্লাম আল-উসমানী; ইউসুফ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসাদ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে খাযিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে আবজার থেকে বর্ণিত, তিনি সুওয়াইর ইবনে আবি ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ ফাখিতাহ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই জান্নাতীদের মধ্যে মর্যাদায় সর্বনিম্ন ব্যক্তি হচ্ছে সেই লোক, যে তার রাজত্বের দিকে দুই হাজার বছর পর্যন্ত তাকিয়ে থাকবে; সে এর দূরবর্তী প্রান্তকেও তেমনি দেখতে পাবে যেমন নিকটবর্তী প্রান্তকে দেখতে পায়; সে তার স্ত্রীগণের দিকে এবং তার শয্যাসমূহ ও সেবকদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর তাদের মধ্যে মর্যাদায় সর্বোত্তম হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে প্রতিদিন দুইবার মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহর চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকবে।’»
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ২১)
11 - نا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ شَعْبَانَ الْقُرَظِيُّ الْيَاسِرِيُّ مِنْ وَلَدِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، نا أَحْمَدُ بْنُ حَيَّانَ الرَّقِّيُّ - نِسْبَةً إِلَى أَبِي جَدِّهِ، وَهُوَ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ خَالِدِ بْنِ حَيَّانَ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خُرَّزَاذَ وَهُوَ أَخُو عُثْمَانَ بْنِ خُرَّزَاذَ، نا سَعِيدُ بْنُ هُشَيْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ كَوْثَرٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَوَّلُ يَوْمٍ نَظَرَتْ فِيهِ عَيْنٌ إِلَى اللَّهِ عز وجل»
১১ - আমাদের নিকট আবু আমর উসমান ইবনে শাবান আল-কুরাজি আল-ইয়াসিরি বর্ণনা করেছেন, যিনি আম্মার ইবনে ইয়াসির-এর বংশধর, ৩৩৮ হিজরি সনে। আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে হাইয়ান আল-রাক্কি বর্ণনা করেছেন - তার প্রপিতামহের দিকে সম্বন্ধ করে তাকে এই নাম দেয়া হয়েছে, আর তিনি হলেন আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ ইবনে হাইয়ান। আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবনে খুররাজাদ বর্ণনা করেছেন, যিনি উসমান ইবনে খুররাজাদের ভাই। আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে হুশায়ম বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি কাওসার থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «কিয়ামতের দিনই হলো প্রথম দিন যেদিন কোনো চোখ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি দৃষ্টিপাত করবে।»
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ২১)
12 - أنا أَحْمَدُ، نا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْحَرْبِيُّ، نا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي غَيْلَانَ، نا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، نا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، وَحَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، قَالَا: نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ جَرِيرٍ الْبَجَلِيِّ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ، فَقَالَ: «إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا، لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا ⦗ص: 22⦘ فَافْعَلُوا» ، ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا} [طه: 130]
১২ - আমি আহমাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আলী আল-হারবী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন ইসমাঈল বিন আবি গাইলান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান বিন আবি শাইবাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর বিন আব্দুল হামীদ এবং হাম্মাদ বিন উসামাহ, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন আবি খালিদ, কায়স থেকে, তিনি জারীর আল-বাজালী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তখন তিনি চৌদ্দতম রজনীর পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে যেমন তোমরা এই চাঁদকে দেখছ, তাঁর দর্শনে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। সুতরাং যদি তোমরা সূর্যোদয়ের পূর্বের সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত আদায়ে কোনোভাবে পরাজিত না হতে সক্ষম হও, ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ তবে তাই করো», অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {এবং আপনার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে} [ত্বহা: ১৩০]
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ২২)
13 - أنا أَحْمَدُ، نا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْحَرْبِيُّ، نا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، نا عُثْمَانُ، نا وَكِيعٌ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّكُمْ سَتُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّكُمْ وَتَرَوْنَهُ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ، لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا» ، ثُمَّ قَرَأَ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا} [طه: 130]
১৩ - আমি আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আহমাদ আল-হারবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওমর ইবনে ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, কায়েস ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণিত, জারির ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবের নিকট পেশ করা হবে এবং তাঁকে দেখতে পাবে যেমন তোমরা এই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ, তাঁর দর্শনে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। সুতরাং তোমরা যদি সক্ষম হও যে তোমরা পরাভূত হবে না সূর্যোদয়ের পূর্বের এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সলাত আদায়ের ক্ষেত্রে, তবে তা করো», অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {আর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন।} [ত্বহা: ১৩০]
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুল্লাহ লি-ইবনিন নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ২২)
14 - أنا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ، نا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، نا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَلِيحٍ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، نا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، قَالَا: نا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، رضي الله عنه قَالَ فِي هَذِهِ الْآيَةِ: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادةٌ} [يونس: 26] ، قَالَ: الزِّيَادَةُ: النَّظَرُ إِلَى وَجْهِ رَبِّهِمْ تبارك وتعالى. وَاللَّفْظُ لِابْنِ مَلِيحٍ. أنا مُحَمَّدُ بْنُ مُلَاقِ بْنِ نَصْرٍ، نا يُوسُفُ بْنُ يَزِيدَ، نا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، نا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ نَمِرَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ ⦗ص: 23⦘ الصِّدِّيقِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، فِي قَوْلِهِ: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} [يونس: 26]
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আরাবী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ আল-জাফরানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওকী ইবনুল জাররাহ। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে ইউসুফ ইবনে মালিহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে মারযুক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উমর; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন: {যারা উত্তম কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও অতিরিক্ত} [ইউনুস: ২৬], তিনি বলেন: অতিরিক্ত হলো: তাঁদের বরকতময় ও মহান রবের চেহারার দিকে তাকানো। আর এই শব্দাবলি ইবনে মালিহর। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে মুলাক ইবনে নাসর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে ইয়াজিদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আসাদ ইবনে মুসা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাইস ইবনুর রাবি, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে নামিরান থেকে, তিনি আবু বকর ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ সিদ্দিক থেকে; এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ, ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: {যারা উত্তম কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও অতিরিক্ত} [ইউনুস: ২৬]