(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
ذم البغى لابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: ذم البغى لابن أبي الدنيا
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
قدم له وحققه وعلق عليه: الدكتور نجم عبد الرحمن خلف الأستاذ المساعد بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الناشر: دار الراية للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1409 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 91
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবিদ দুনিয়ার যাম্মুল বাগয়ি (অন্যায়ের নিন্দা) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ইবনে আবিদ দুনিয়ার যাম্মুল বাগয়ি (অন্যায়ের নিন্দা)
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৮১ হিজরি)
ভূমিকা, সম্পাদনা ও টীকা: ডক্টর নাজম আবদুর রহমান খালাফ, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
প্রকাশক: দারুর রায়াহ লিন-নাশরি ওয়াত-তাউজি, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯১
[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
عُقُوبَةُ قَاطِعِ الرَّحِمِ وَالْبَغْيِ
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ও সীমালঙ্ঘনকারীর শাস্তি
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الحُسَيْنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الحِمَّانِيُّ رضي الله عنه قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِىِّ بْنِ ثَابِتٍ الخَطِيبُ البَغْدَادِىُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ المُعَدِّلُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي لَيَالِ سَبْعٍ ⦗ص: 46⦘ فِى المُحَرَّمِ سَنَةَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِىٍّ الحُسَيْنِ بْنُ صَفْوَانَ البَرْذَعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ تِسْعٍ وَثَلاثِينَ وثَلاثِمِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ ابْنِ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: ⦗ص: 47⦘ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ ذَنْبٍ أَحْرَى أَنْ ⦗ص: 48⦘ يُعَجِّلَ اللَّهُ عز وجل لِصَاحِبِهِ فِيهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، مَعَ مَا يَدَّخِرُ فِي الْآخِرَةِ، مِنْ قَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْبَغْيِ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হুসাইন আবদুর রহমান বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-হিম্মানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ হাফিয আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খাতীব আল-বাগদাদী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুআদ্দিল, চারশত চৌদ্দ হিজরী সনের মহররম মাসের সাত রাতে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈ, তিনশত উনচল্লিশ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দ ইবনে আবিদ দুনইয়া, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-জা'দ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, উয়াইনা বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে আবু বাকরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং সীমালঙ্ঘন বা অবিচারের চেয়ে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ এমন কোনো গুনাহ নেই, যার কারণে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে অপরাধীকে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা অধিক সমীচীন মনে করেন—পরকালে তার জন্য যা জমা রাখা হয়েছে তা তো আছেই।»
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
مَا هُوَ دَاءُ الْأُمَمِ؟
জাতিসমূহের ব্যাধি কী?
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ الصَّبَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي هَانِئٍ الْخَوْلَانِيِّ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْغِفَارِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّهُ سَيُصِيبُ أُمَّتِي دَاءُ الْأُمَمِ» ، قَالُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، وَمَا دَاءُ الْأُمَمِ؟ ⦗ص: 50⦘ قَالَ: «الْأَشَرُ، وَالْبَطَرُ، وَالتَّكَاثُرُ، وَالتَّنَافُسُ فِي الدُّنْيَا، وَالتَّبَاغُضُ، وَالتَّحَاسُدُ، حَتَّى يَكُونَ الْبَغْيُ، ثُمَّ يَكُونَ الْهَرْجُ»
২ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আল-সাব্বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন আবু হানি আল-খাওলানি থেকে, আবু সাঈদ আল-গিফারি তাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আমার উম্মত পূর্ববর্তী জাতিসমূহের রোগে আক্রান্ত হবে», তারা বললেন: হে আল্লাহর নবী, জাতিসমূহের রোগ কী? ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ তিনি বললেন: «দম্ভ, অহংকার, প্রাচুর্যের লিপ্সা, দুনিয়ার মোহে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করা, পারস্পরিক বিদ্বেষ ও হিংসা করা; এমনকি তা সীমালঙ্ঘন পর্যন্ত পৌঁছাবে, অতঃপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে»
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥١)
إِيَّاكَ وَالْبَغْيَ
সীমালঙ্ঘন হতে সাবধান থাকো
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥١)
3 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ أَشْيَاخِنَا، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَوْصَى رَجُلًا فَقَالَ: " أَنْهَاكَ عَنْ ثَلَاثٍ: لَا تَنْقُضْ عَهْدًا، وَلَا تُعِنْ عَلَى نَقْضِهِ، وَإِيَّاكَ وَالْبَغْيَ؛ فَإِنَّ مَنْ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنْصُرَنَّهُ اللَّهُ عز وجل وَإِيَّاكَ وَالْمَكْرَ؛ فَإِنَّ الْمَكْرَ السَّيِّئَ لَا يَحِيقُ إِلَّا بِأَهْلِهِ، وَلَهُمْ مِنَ اللَّهِ عز وجل طَالِبٌ "
৩ - ইসহাক ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের শিক্ষকগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বললেন: "আমি তোমাকে তিনটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: তুমি অঙ্গীকার ভঙ্গ করো না এবং তা ভঙ্গ করতে সহায়তা করো না। আর তুমি জুলুম বা সীমালঙ্ঘন থেকে সতর্ক থাকো; কারণ যার ওপর সীমালঙ্ঘন করা হয়, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। আর তুমি ষড়যন্ত্র থেকে বেঁচে থাকো; কারণ মন্দ ষড়যন্ত্র কেবল ষড়যন্ত্রকারীকেই পরিবেষ্টন করে, আর তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন অন্বেষণকারী (হিসাব গ্রহণকারী) রয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
التَّوَاضُعُ مِنْ خُلُقِ الْمُسْلِمِ
বিনয় মুসলিমের চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
4 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا، وَلَا يَبْغِي بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবন খিদাশ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাব, আমর ইবন আল-হারিস থেকে বর্ণিত, ইয়াজিদ ইবন আবি হাবিব থেকে বর্ণিত, সিনান ইবন সাদ থেকে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমার প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, এবং তোমাদের কেউ যেন অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন না করে»
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
احْذَرُوا الْبَغْيَ
অন্যায় সীমালঙ্ঘন হতে সতর্ক হও
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
5 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْفُرَاتِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ، احْذَرُوا الْبَغْيَ؛ فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ عُقُوبَةٍ هِيَ أَحْضُرُ مِنْ عُقُوبَةِ الْبَغْيِ»
5 - মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে মুসা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল ফুরাত আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, হারিস থেকে বর্ণিত, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে মুসলিম সম্প্রদায়, তোমরা বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন থেকে সতর্ক থাকো; কেননা বিদ্রোহের শাস্তির চেয়ে দ্রুততর আর কোনো শাস্তি নেই।"
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
6 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَضَّاحٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ،: {لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ} [القصص: 83] ، قَالَ: بَغْيًا
৬ - আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াদদাহ আল-আজদি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আশআছ থেকে, তিনি জাফর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন: {তারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য চায় না} [আল-কাসাস: ৮৩], তিনি বলেন: (এর অর্থ) বিদ্রোহ।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
نِهَايَةُ الْبَاغِي
বিদ্রোহীর পরিণাম
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
7 - حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ،: لَوْ بَغَى جَبَلٌ عَلَى جَبَلٍ لَجَعَلَ اللَّهُ عز وجل الْبَاغِيَ مِنْهُمَا دَكًّا
৭ - আলী ইবনুল জাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, কাইস ইবনুর রাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আমাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুজাহিদ থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: যদি একটি পাহাড় অন্য একটি পাহাড়ের ওপর সীমালঙ্ঘন করত, তবে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে সীমালঙ্ঘনকারীকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতেন।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
8 - قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ: أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ زُفَرَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي هَاشِمٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ الْيَمَامَةِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، وَقَدْ أَدْرَكَ الْجَاهِلِيَّةَ، قَالَ: نَقِفُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فِي الْمَوْقِفِ يَوْمَ النَّحْرِ فَنَسْمَعُ بِالْمَوْقِفِ فِي الْجَبَلِ صَوْتًا مِنْ غَيْرِ أَنْ نَرَى شَيْئًا، صَائِحًا يَقُولُ: الْبَغْيُ يَصْرَعُ أَهْلَهُ وَيُحِلُّهُمْ دَارَ الْمَذَلَّةِ وَالْمَعَاطِسَ رُغَّمُ
৮ - আলী ইবনুল জা'দ বলেছেন: উসমান ইবনে যুফার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বনু হাশিমের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি ইয়ামামার এক ব্যক্তি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি জাহিলিয়াত যুগ পেয়েছিলেন—তিনি বলেন: আমরা জাহিলিয়াত যুগে কুরবানির দিন মাওকিফে (অবস্থানস্থলে) অবস্থান করতাম, তখন আমরা পাহাড়ে কোনো কিছু দেখা ছাড়াই এক আহবানকারীর উচ্চকণ্ঠ শুনতে পেতাম, সে বলছিল: সীমালঙ্ঘন তার হোতাদের ভূপাতিত করে এবং তাদের লাঞ্ছনার আবাসে পৌঁছে দেয়, আর নাসিকাগুলো ধূলিমলিন হয়।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
9 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَشْهَبَ التَّمِيمِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانُوا يَقِفُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ بِالْمَوْقِفِ فَيَسْمَعُونَ صَوْتًا مِنَ الْجَبَلِ: الْبَغْيُ يَصْرَعُ أَهْلَهُ وَيُحِلُّهُمْ دَارَ الْمَذَلَّةِ وَالْمَعَاطِسُ رُغَّمُ فَيَطُوفُونَ بِالْجَبَلِ فَلَا يَرَوْنَ شَيْئًا، وَيَسْمَعُونَ الصَّوْتَ بِذَلِكَ
৯ - আবদুল্লাহ ইবন আশহাব আত-তামিমি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বলেন: জাহেলিয়াত যুগে তারা মওকিফে (অবস্থানস্থলে) অবস্থান করত, তখন তারা পাহাড় থেকে একটি আওয়ায শুনতে পেত: "অবিচার তার হোতাদের ভূপাতিত করে এবং তাদেরকে লাঞ্ছনার আবাসে অবতীর্ণ করে, আর নাসিকাগুলো ধুলোয় ধূসরিত হয়।" অতঃপর তারা পাহাড়ের চারদিকে প্রদক্ষিণ করত কিন্তু কিছুই দেখতে পেত না, অথচ তারা এই আওয়ায শুনতে পেত।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
مَوَاعِظُ وَحِكَمٌ
উপদেশ ও প্রজ্ঞাসমূহ
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
10 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الْيَقْظَانِ عَامِرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنِي جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْهَاشِمِيِّ أَنَّ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ جَمَعَ بَنِيهِ عِنْدَ وَفَاتِهِ، وَهُمْ يَوْمَئِذٍ عَشَرَةٌ، وَأَمَرَهُمْ وَنَهَاهُمْ، وَقَالَ: إِيَّاكُمْ وَالْبَغْيَ فَوَاللَّهِ مَا خَلَقَ اللَّهُ عز وجل شَيْئًا أَعْجَلَ عُقُوبَةً مِنَ الْبَغْيِ، وَلَا رَأَيْتُ أَحَدًا بَقِيَ عَلَى الْبَغْيِ إِلَّا إِخْوَتَكُمْ مِنْ بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ
10 - মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-কুরাশি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ইয়াকজান আমির ইবনে হাফস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জুওয়াইরিয়াহ ইবনে আসমা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুআবিয়া আল-হাশিমী থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল মুত্তালিব তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর পুত্রদের একত্রিত করেছিলেন; তাঁরা সেদিন দশ জন ছিলেন। তিনি তাঁদেরকে আদেশ প্রদান করলেন এবং নিষেধ করলেন এবং বললেন: "তোমরা বিদ্রোহ (বা অন্যায় করা) থেকে বেঁচে থাকো। আল্লাহর কসম, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বিদ্রোহের চেয়ে দ্রুত শাস্তিযোগ্য কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি। আর আমি বনূ আব্দু শামস থেকে তোমাদের ভাইরা ছাড়া আর কাউকেও বিদ্রোহের ওপর টিকে থাকতে দেখিনি।"
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
مِنْ قَصَصِ أَهْلِ الْبَغْيِ
বিদ্রোহীদের কাহিনীসমূহ হতে
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
11 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبْو الْيَقْظَانِ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ عَائِشَةَ، قَالَ: كَانَ فِي قُرَيْشٍ ثَلَاثَةُ أَبْيَاتٍ يُعْرَفُونَ بِالْبَغْيِ، فَهَلَكُوا سَوَاءً، سُبَيْعَةُ مِنْ بَنِي تَمِيمِ بْنِ مُرَّةَ، الَّذِينَ يَقُولُ لَهُمُ ابْنُ جُدْعَانَ:
[البحر الوافر]
إِذَا وَلَدُ السُّبَيْعَةِ أَفْرَدُونِي
… فَأَيُّ مُرَادِ رَائِدَةٍ أَرُودُ
وَأَقْعُدُ بَعْدَهُمْ فَرْدًا وَحِيدًا
… وَقَدْ ذَهَبَ الْمَصَالِيبُ الْأُسُودُ
وَبَنُو عَطِيَّةَ مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ هُصَيْصٍ، رَهْطُ قَيْسِ بْنِ عَدِيٍّ مِنْ بَنِي سَهْمٍ، الَّذِينَ يَقُولُ لَهُمْ أَبُو طَالِبٍ:
[البحر الطويل]
لَقَدْ سُفِّهَتْ أَحْلَامُ قَوْمٍ تَبَدَّلُوا
… بَنِي خَلَفٍ قَيْضًا بِنَا وَالْغَيَاطِلُ
وَأَمَّا الْبَيْتُ الثَّالِثُ: فَبَنُو السَّبَّاقِ بْنِ عَبْدِ الدَّارِ بْنِ قُصَيٍّ، كَانَتْ تَكُونُ الْجِنَايَةُ عَلَى غَيْرِهِمْ فَيَطْلُبُوهَا بِعِزِّهِمْ، حَتَّى هَلَكُوا، فَقَالَ الشَّاعِرُ:
[البحر البسيط]
إِنْ كُنْتَ تَسْأَلُنِي عَنْ دَارِ مَكْرُمَةٍ
… فَتِلْكَ دَارُ بَنِي السَّبَّاقِ بِالسَّنَدِ
১১ - মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল ইয়াকযান আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে আইশা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: কুরাইশদের মধ্যে তিনটি পরিবার ছিল যারা সীমালঙ্ঘনের জন্য পরিচিত ছিল। তারা সবাই একইভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা হলো বনু তামীম ইবনে মুররাহ গোত্রের সুবাইআহ পরিবার, যাদের সম্পর্কে ইবনে জুদআন বলেছেন:
[আল-বাহরুল ওয়াফির]
সুবাইআহর সন্তানরা যখন আমাকে একাকী করে দিল
… তখন কোনো অন্বেষণকারীর কাঙ্ক্ষিত বস্তু আমি অন্বেষণ করব?
তাদের পরে আমি নিঃসঙ্গ ও একাকী হয়ে বসে রইলাম
… অথচ সুদৃঢ় সিংহহৃদয় ব্যক্তিরা বিদায় নিয়েছে।
এবং বনু আমর ইবনে হুসাইস গোত্রের বনু আতিয়্যাহ, যারা বনু সাহম গোত্রের কায়স ইবনে আদীর গোত্রভুক্ত ছিল; যাদের সম্পর্কে আবু তালিব বলেছেন:
[আল-বাহরুত তবিল]
সেই সম্প্রদায়ের বিবেক সত্যিই নির্বুদ্ধিতায় আচ্ছন্ন হয়েছে যারা আমাদের বিনিময়ে
… বনু খালাফ ও গায়াতিলকে গ্রহণ করেছে।
আর তৃতীয় পরিবারটি হলো: বনু সাব্বাক ইবনে আবদুদ দার ইবনে কুসাই। অপরাধ সংঘটিত হতো অন্য কারো দ্বারা, কিন্তু তারা নিজেদের প্রতাপের কারণে তা নিজেদের বলে দাবি করত, শেষ পর্যন্ত তারা ধ্বংস হয়ে গেল। এ সম্পর্কে কবি বলেছেন:
[আল-বাহরুল বাসিত]
তুমি যদি আমাকে কোনো মর্যাদাবান গৃহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো
… তবে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বনু সাব্বাকদের ওই গৃহটিই তা।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
مَنِ الْبَاغِي الْأَوَّلُ؟
প্রথম বিদ্রোহী কে?
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
12 - أَخْبَرَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ: ذُكِرَ الْبَغْيُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّ أَوَّلَ مَنْ أَهْلَكَهُ الْبَغْيُ بَعْدَ ابْنِ آدَمَ لَإِيَادُ بْنُ نِزَارٍ، وَبَطْنَانِ
⦗ص: 59⦘ مِنَ الْأَشْعَرِيِّينَ، يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا: الْأَيْسَرُ، وَهُوَ الْحُنَيْكُ بْنُ الْجَمَاهِرِ بْنِ الْأَشْعَرِ بْنِ أَدَدَ، وَالْآخَرُ ذُخْرَانُ بْنُ نَاحِيَةَ بْنِ الْجَمَاهِرِ بْنِ الْأَشْعَرِ قَالَ: وَعَمَّرَ الْأَيْسَرُ عُمُرًا طَوِيلًا حَتَّى وُلِدَ لَهُ عِشْرُونَ ذَكَرًا، لِكُلِّ ذَكَرٍ مِنْهُمْ عِشْرُونَ ذَكَرًا. قَالَ: وَذُخْرَانُ بْنُ نَاحِيَةَ ابْنُ أَخِ الْحُنَيْكِ قَدْ أُتِمَّ لَهُ سَبْعُونَ سَنَةً لَا يُولَدُ لَهُ وَلَدٌ. قَالَ: فَجَلَسَ ذُخْرَانُ مَعَ الْحُنَيْكِ لِسَكْتٍ، فَوَاللَّهِ مَا لَكَ مِنْ وَلَدٍ، وَلَقَدْ ذَهَبَ عُمُرُكَ، وَمَا لَكَ مِنْ عَدَدٍ. قَالَ: فَقَامَ ذُخْرَانُ مُغْضَبًا قَدْ أَحْفَظَهُ مَا قَالَ الْحُنَيْكُ. وَقَالَ ذُخْرَانُ فِي ذَلِكَ:
[البحر البسيط]
إِنْ يَكُ أَيْسَرُ أَمْسَى ثَرِيًّا
… فَمَا لِي بِابْنِ نَبْتٍ مِنْ ثَرَاءِ
قَالَ: فَأُتِيَ ذُخْرَانُ فِي الْمَنَامِ فَقِيلَ لَهُ: تَمَنَّى؟ فَقَالَ: أَتَمَنَّى الْعَدَدَ، وَالْبَسَالَةَ فِي الْوَلَدِ. قَالَ: فَعَاشَ حَتَّى وُلِدَ لَهُ عِشْرُونَ ذَكَرًا، لِكُلِّ ذَكَرٍ مِنْهُمْ عِشْرُونَ ذَكَرًا. وَدَرَجَ وَلَدُ الْحُنَيْكِ فَمَاتُوا، وَصَارَ الْعَدَدُ فِي وَلَدِ ذُخْرَانَ. قَالَ هِشَامٌ: وَكَانَ يُقَالُ لِلْأَشْعَرِ نَبْتٌ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ:
فَمَا لِي بِابْنِ نَبْتٍ مِنْ ثَرَاءِ
১২ - আব্বাস ইবনে হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসের নিকট সীমালঙ্ঘন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো, তখন ইবনে আব্বাস বললেন: আদম-সন্তানের পরে প্রথম যাকে সীমালঙ্ঘন ধ্বংস করেছিল সে হলো ইয়াদ ইবনে নিজার এবং আশআরী গোত্রের দুটি শাখা
⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘। তাদের একজনকে বলা হতো আল-আইসার, আর সে হলো হুনাইক ইবনে জামাহির ইবনে আশআর ইবনে আদাদ। আর অন্যজন হলো দুখরান ইবনে নাহিয়াহ ইবনে জামাহির ইবনে আশআর। তিনি বলেন: আল-আইসার দীর্ঘ জীবন লাভ করেছিলেন, এমনকি তাঁর বিশজন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল এবং তাদের প্রত্যেকের আবার বিশজন করে পুত্রসন্তান ছিল। তিনি বলেন: আর হুনাইকের ভ্রাতুষ্পুত্র দুখরান ইবনে নাহিয়ার সত্তর বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তাঁর কোনো সন্তান জন্মায়নি। তিনি বলেন: অতঃপর দুখরান হুনাইকের সাথে নিভৃতে বসলেন, তখন (হুনাইক তাকে বললেন), "আল্লাহর কসম, তোমার তো কোনো সন্তান নেই, তোমার আয়ুও ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং তোমার কোনো জনবলও নেই।" তিনি বলেন: হুনাইকের কথায় রাগান্বিত হয়ে দুখরান দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হুনাইক যা বলেছিল তা তাঁকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করল। এ প্রসঙ্গে দুখরান বললেন:
[আল-বাহরুল বাসিত]
আইসার যদি আজ সম্পদশালী হয়ে থাকে
… তবে নাবতের পুত্রের মাঝে আমার তো কোনো সম্পদ নেই।
তিনি বলেন: অতঃপর স্বপ্নে দুখরানের নিকট (এক আগন্তুক) আসলেন এবং তাঁকে বলা হলো: "কিছু কামনা করো?" তিনি বললেন: "আমি সন্তানে সংখ্যাধিক্য এবং বীরত্ব কামনা করি।" তিনি বলেন: অতঃপর তিনি বেঁচে রইলেন এবং তাঁর বিশজন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করল, তাদের প্রত্যেকের আবার বিশজন করে পুত্রসন্তান ছিল। অন্যদিকে হুনাইকের বংশধররা বিলুপ্ত হয়ে মারা গেল এবং জনবল দুখরানের বংশধরদের মধ্যে চলে এল। হিশাম বলেন: আশআরকে 'নাবত' বলা হতো, আর সেটিই হলো তাঁর উক্তি:
নাবতের পুত্রের মাঝে আমার তো কোনো সম্পদ নেই।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
13 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: بَلَغَ مِنْ بَغْيِ إِيَادِ بْنِ نِزَارٍ عَلَى مُضَرَ وَرَبِيعَةَ ابْنَيْ نِزَارٍ أَنَّهُ كَانَ يُولَدُ لِإِيَادٍ أَكْثَرُ مِنْ عِشْرِينَ مَوْلُودًا، وَلَا يُولَدُ لِرَبِيعَةَ وَمُضَرَ فِي الشَّهْرِ إِلَّا وَاحِدًا، وَكَثُرَتْ إِيَادٌ وَزَلُّوا حَتَّى مَلَأُوا تِهَامَةَ، قَالَ: فَبَلَغَ مِنْ بَغْيِهِمْ أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ يَضَعُ سَهْمَهُ عَلَى بَابِ الرَّبْعِيِّ وَالْمُضَرِيِّ، فَيَكُونُ الْإِيَادِيُّ أَحَقَّ بِمَسِّهِ مِنْهُ. قَالَ: وَكَانَ مِنْهُمْ شَيْخٌ قَدْ أُمْهِلَ فِي الْعُمُرِ، وَكَانَ يَكْرَهُ كَثِيرًا مِمَّا يَصْنَعُونَ، فَقَالَ لَهُمْ: يَا قَوْمِ، إِنَّكُمْ وَاللَّهِ مَا لَكُمْ عَلَى إِخْوَانِكُمْ فَضْلٌ فِي النَّسَبِ، إِنَّ الْأَبَ لَوَاحِدٌ، وَإِنَّ الْأُمَّ لَوَاحِدَةٌ، وَلَكِنَّكُمْ أَكْثَرُ عَدَدًا وَسَرَفًا، فَانْتَهُوا؛ فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يُنْزِلَ اللَّهُ عز وجل فِيكُمْ نِقْمَةً، قَالَ: فَتَمَادَوْا، فَسَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ دَاءً يُقَالُ لَهُ: النِّخَاعُ، فَجَعَلَ يَقَعُ فِيهِمْ، فَيَمُوتُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ عَالَمٌ
১৩ - আব্বাস ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুযার ও রাবীআহ ইবনে নিযারের ওপর ইয়াদ ইবনে নিযারের সীমালঙ্ঘন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ইয়াদের ঘরে বিশটিরও বেশি সন্তান জন্মগ্রহণ করত, অথচ রাবীআহ ও মুযারের ঘরে এক মাসে মাত্র একজন সন্তান জন্ম নিত। ইয়াদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং তারা সত্যচ্যুত হলো, এমনকি তারা তিহামাহ অঞ্চল পূর্ণ করে ফেলল। তিনি বলেন: তাদের সীমালঙ্ঘন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কোনো ব্যক্তি (ইয়াদ বংশের) যখন রাবীআহ বা মুযার বংশীয় কোনো ব্যক্তির দরজায় তার তীর রাখত, তখন সেই ইয়াদ বংশীয় ব্যক্তিটি গৃহকর্তার চেয়েও সেটি স্পর্শ করার অধিক হকদার হয়ে যেত। তিনি বলেন: তাদের মধ্যে এমন একজন বৃদ্ধ ছিলেন যাকে দীর্ঘ আয়ু দান করা হয়েছিল, তিনি তাদের কর্মকাণ্ডের অনেক কিছুই অপছন্দ করতেন। তিনি তাদের বললেন: হে আমার কওম! আল্লাহর কসম, বংশমর্যাদার দিক দিয়ে তোমাদের ভাইদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; তোমাদের পিতাও একজন এবং মাতাও একজন। কিন্তু তোমরা সংখ্যায় অধিক এবং সীমালঙ্ঘনে সীমা ছাড়িয়ে গেছ; সুতরাং তোমরা বিরত হও। কারণ আমি ভয় করছি যে, আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী তোমাদের ওপর কোনো শাস্তি নাজিল করবেন। তিনি বলেন: এরপরও তারা তাদের অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকল, ফলে আল্লাহ তাদের ওপর ‘নিখা’ নামক একটি ব্যাধি চাপিয়ে দিলেন। সেটি তাদের ওপর আপতিত হতে শুরু করল এবং এক দিন ও রাতের ব্যবধানে অসংখ্য মানুষ মারা গেল।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦١)
14 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ عَمِيرَةَ بْنِ بَحُوشٍ الْكِنْدِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: فَسُمِعَ مُنَادٍ يُنَادِي فِي بَعْضِ اللَّيْلِ: يَا مَعْشَرَ إِيَادٍ قَدْ عَنِتُّمْ فِي الْفَسَادِ، فَالْحَقُوا بِأَرْضٍ سَدَادِ، فَلَيْسَ إِلَى تِهَامَةَ مِنْ مُعَادِ. فَقَالَ لَهُمُ الشَّيْخُ: قَدْ نَهَيْتُكُمْ، فَوَاللَّهِ لَا يَزَالُ هَذَا الْبَلَاءُ فِيكُمْ، وَتَلْحَقُوا خِبَّ أَمْرٍ، ⦗ص: 62⦘ ثُمَّ قَالَ: فَخَرَجُوا مِنْ تِهَامَةَ فَافْتَرَقُوا ثَلَاثَ فِرَقٍ، فَنَزَلَتْ فِرْقَةٌ مَعَ بَنِي أَسَدِ بْنِ حَرَامَةَ بِذِي طُوًى، وَهِيَ أَقَلُّ الْفِرَقِ، وَافْتَرَقَتْ فِرْقَةٌ أُخْرَى فَلَحِقُوا بِعَيْنِ أَبَاغٍ، وَهِيَ أَكْثَرُ الْفَرِيقَيْنِ، وَرَحَلَ الْجُمْهُورُ الْآخَرُ حَتَّى نَزَلُوا سِنْدًا. فَرُفِعَ ذَلِكَ الْبَلَاءُ عَنْهُمْ، وَزَبَلُوا هُنَاكَ وَكَثُرُوا، فَمَكَثُوا فِي ذَلِكَ لِلْعَدَدِ حَتَّى غَزَاهُمْ أَنُوشُرْوَانُ بْنُ قِبَادٍ فِي سَامُرَّاتَةَ، فَأَبَادَهُمْ
১৪ - আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি মুআবিয়া ইবনে আমিরা ইবনে বাহুশ আল-কিন্দী থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাতের কোনো এক অংশে জনৈক আহ্বানকারীর আহ্বান শোনা গেল যে: হে ইয়াদ গোত্র! তোমরা তো ফাসাদে (বিপর্যয়ে) নিপতিত হয়ে কষ্ট পাচ্ছো, সুতরাং তোমরা কোনো সঠিক (শান্তিময়) ভূমিতে চলে যাও, কেননা তিহামাতে আর প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তখন বৃদ্ধ (গোত্রপতি) তাদের বললেন: আমি তো তোমাদের নিষেধ করেছিলাম; আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে এই বিপদ চলতেই থাকবে এবং তোমরা এক মন্দ পরিণতির সম্মুখীন হবে। ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ অতঃপর তিনি বলেন: তারা তিহামা থেকে বের হয়ে তিন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। এক দল বনু আসাদ ইবনে হারামাহ-এর সাথে ‘যী তুওয়া’ নামক স্থানে অবস্থান নিল, যারা ছিল সংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দল। আরেকটি দল পৃথক হয়ে ‘আইন আব্যাগ’ নামক স্থানে গিয়ে পৌঁছাল, যারা ছিল দুই দলের মধ্যে সংখ্যায় অধিক। আর অবশিষ্ট বৃহৎ জনগোষ্ঠী যাত্রা করে ‘সিন্ধু’ এলাকায় গিয়ে উপনীত হলো। ফলে তাদের ওপর থেকে সেই বিপদ দূর হয়ে গেল এবং তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করল ও তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। তারা সেখানে দীর্ঘকাল সংখ্যায় সমৃদ্ধ হয়ে অবস্থান করল, অবশেষে কিবাদ-পুত্র আনুশিরওয়ান সামুরাতা অঞ্চলে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের সমূলে ধ্বংস করে দিল।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
15 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمَعْرُوفُ بْنُ خَرْبُوذٍ، قَالَ: كَانَتْ بَنُو سَهْمِ بْنِ عَمْرٍو أَعَزَّ أَهْلِ مَكَّةَ، وَأَكْثَرَ عَدَدًا، وَكَانَتْ لَهُمْ صَخْرَةٌ عِنْدَ الْجَبَلِ يُقَالُ لَهُ: مُسْلِمٌ. فَكَانُوا إِذَا أَرَادُوا أَمْرًا نَادَى مُنَادِيهِمْ: يَا صَبَاحَاهُ، وَيَقُولُونَ: أَصْبَحَ لَيْلٌ، فَتَقُولُ قُرَيْشٌ: مَا لِهَؤُلَاءِ الْمَيَاشِيمِ، مَا يُرِيدُونَ؟ وَكَانُوا يُسَمَّوْنَ بِهِمْ. وَكَانَ مِنْهُمْ قَوْمٌ يُقَالُ لَهُمْ: بَنِي الْعَيْطَلَةِ، وَكَانَ الشَّرَفُ وَالْبَغْيُ فِيهِمْ، وَهِيَ الْعَيْطَلَةُ بِنْتُ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ مِنْ بَنِي كِنَانَةَ، ثُمَّ مِنْ بَنِي سَبُوقِ بْنِ مُرَّةَ. تَزَوَّجَهَا قَيْسُ بْنُ عَدِيِّ بْنِ سَعْدِ بْنِ سَهْمٍ، فَوَلَدَتْ لَهُ الْحَارِثَ وَحُذَافَةَ، وَكَانَ فِيهِمُ الْغَدْرُ وَالْبَغْيُ. فَقَتَلَ رَجُلٌ مِنْهُمْ حَيَّةً فَأَصْبَحَ مَيِّتًا عَلَى فِرَاشِهِ، قَالَ: فَغَضِبُوا فَقَامُوا إِلَى كُلِّ حَيَّةٍ فِي الدَّارِ فَقَتَلُوهَا، فَأَصْبَحَ عِدَّتُهُمْ مَوْتَى عَلَى فُرُشِهِمْ، فَتَتَبَّعُوهُمْ فِي الْأَوْدِيَةِ وَالشِّعَابِ فَقَتَلُوهُمْ، فَأَصْبَحُوا وَقَدْ مَاتَ مِنْهُمْ بِعِدَّةِ مَنْ قَتَلُوا مِنَ الْحَيَّاة، فَصَرَخَ صَارِخٌ مِنْهُمُ: ابْرُزُوا لَنَا يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ، ⦗ص: 64⦘ قَالَ: وَهَتَفَ هَاتِفٌ فَقَالَ: قَالَ سَهْمٌ: قَتَلْتُمْ عُتُوًّا فَصِحْنَاكُمْ بِمَوْتٍ ذَرِيعِ، قَالَ سَهْمٌ: كَثُرْتُمْ فَبَطَرْتُمْ وَالْمَنَايَا تَنَالُ كُلَّ رَفِيعِ، قَالَ: فَنَزَعُوا، فَكَفُّوا وَقَلُّوا
১৫ - আব্বাস ইবনে হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারুফ ইবনে খারবুজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনু সাহম ইবনে আমর ছিল মক্কাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। পাহাড়ের কাছে তাদের একটি পাথর ছিল যাকে 'মুসলিম' বলা হতো। যখন তারা কোনো কাজের সংকল্প করত, তখন তাদের ঘোষক উচ্চস্বরে ডাক দিত: হে সকালের বিপদ! এবং তারা বলত: রাত ভোর হয়েছে। তখন কুরাইশরা বলত: এই অশুভ লোকদের কী হয়েছে? তারা কী চায়? আর তাদের মাধ্যমেই তারা পরিচিত হতো। তাদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী ছিল যাদের 'বনু আইতালা' বলা হতো। তাদের মধ্যে মর্যাদা এবং অবাধ্যতা ছিল। তিনি ছিলেন আইতালা বিনতে মালিক ইবনে হারিস, যিনি বনু কিনানা গোত্রের এবং পরবর্তীতে বনু সাবুক ইবনে মুররাহ এর বংশধর। কায়স ইবনে আদি ইবনে সাদ ইবনে সাহম তাকে বিয়ে করেন এবং তিনি হারিস ও হুজাফাহকে জন্ম দেন। তাদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা এবং অবাধ্যতা ছিল। তাদের এক ব্যক্তি একটি সাপ হত্যা করল, এরপর সকালে তাকে তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। বর্ণনাকারী বলেন: এতে তারা রাগান্বিত হলো এবং ঘরের প্রতিটি সাপ মারতে শুরু করল। ফলে পরদিন সকালে তাদের অনেককে বিছানায় মৃত পাওয়া গেল। এরপর তারা উপত্যকায় এবং গিরিপথগুলোতে সাপদের পিছু ধাওয়া করল এবং তাদের হত্যা করল। ফলে তারা দেখতে পেল যে, তারা যতগুলো সাপ মেরেছে, তাদের মধ্য থেকেও ততজন মারা গেছে। তখন তাদের এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলল: হে জিন জাতি, আমাদের সামনে এসো। ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ বর্ণনাকারী বলেন: তখন এক অদৃশ্য বক্তা ডেকে বলল: সাহম বলেছে: তোমরা ঔদ্ধত্যের সাথে হত্যা করেছ, তাই আমরা তোমাদের ভয়াবহ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিয়েছি। সাহম বলেছে: তোমরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছিলে এবং অহংকারী হয়েছিলে, অথচ মৃত্যু প্রতিটি উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে পাকড়াও করে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তারা নিবৃত্ত হলো, বিরত থাকল এবং তাদের সংখ্যা কমে গেল।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
16 - قَالَ الْكَلْبِيُّ: فِيهِمْ نَزَلَتْ: {أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ} [التكاثر: 1] ، {حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ} [التكاثر: 2] ، فَجَعَلُوا يَعُدُّونَ مَنْ مَاتَ مِنْهُمْ قَالَ ابْنُ خَرْبُوذٍ: جَعَلُوا يَعُدُّونَ مَنْ مَاتَ مِنْهُمْ أَيَّامَ الْحَيَّاتِ، وَهَذَا قَبْلَ الْوَحْيِ أَيَّامَ الْحَيَّاتِ، وَذَلِكَ أَنَّهُ وَقَعَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ بَنِي عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيٍّ شَرٌّ، فَقَالُوا: نَحْنُ أَعَدُّ مِنْكُمْ، فَجَعَلُوا يَعُدُّونَ مَنْ مَاتَ مِنْهُمْ بِالْحَيَّاتِ، فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِيهِمْ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৬ - কালবি বলেছেন: তাদের প্রেক্ষাপটেই অবতীর্ণ হয়েছে: {প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে} [আত-তাকাসুর: ১], {যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও} [আত-তাকাসুর: ২]। অতঃপর তারা তাদের মধ্য থেকে যারা মারা গিয়েছে তাদের গণনা করতে শুরু করল। ইবনে খারবুজ বলেছেন: তারা তাদের মধ্য থেকে যারা মারা গিয়েছে তাদের জীবিতদের ন্যায় গণনা করতে শুরু করল; আর এটি ছিল ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের সময়ের ঘটনা। এর কারণ ছিল এই যে, তাদের এবং বনু আবদ মানাফ ইবনে কুসাইয়ের মধ্যে একটি বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। তখন তারা বলেছিল: "আমরা তোমাদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক।" ফলে তারা তাদের মধ্য থেকে যারা মারা গিয়েছে তাদের জীবিতদের সাথে গণনা করতে শুরু করল। তখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে তাদের সম্পর্কে এই আয়াত অবতীর্ণ হলো।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
18 - حَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْمَوْهِبِيُّ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ مِنْ بَنِي جُمَحَ، عَنْ أَشْيَاخِهِ، قَالَ: كَانَ أَوَّلُ مَنْ أَهْلَكَهُ الْبَغْيُ بِمَكَّةَ مِنْ قُرَيْشٍ بَنُو السَّبَّاقِ عَبْدِ الدَّارِ، فَلَمَّا طَالَ بَغْيُهُمْ سَمِعُوا صَوْتًا مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ عَلَى أَبِي قُبَيْسٍ يَقُولُ:
[البحر البسيط]
أَبْطَرَ الْبَغْيُ بَنِي السَّبَّاقِ إِنَّهُمُ
… عَمَّا قَلِيلٍ فَلَا عَيْنٌ وَلَا أَثَرُ
هَذِي إِيَادٌ وَكَانُوا أَهْلَ مَأْثُرَةٍ
… فَأُهْلِكَتْ إِذْ بَغَتْ ظُلْمًا عَلَى أَثَرِ
فَمَكَثُوا سَنَةً ثُمَّ هَلَكُوا، فَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ عَيْنٌ وَلَا أَثَرٌ، إِلَّا رَجُلًا وَاحِدًا بِالشَّامِ لَهُ عَقِبٌ
১৮ - আব্বাস ইবনে হিশাম আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-মাওহিবি আমাদের বর্ণনা করেছেন, মক্কার বনু জুমাহ গোত্রের একজন শায়খ থেকে, তিনি তাঁর শিক্ষকদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মক্কায় কুরাইশদের মধ্যে সীমালঙ্ঘনের কারণে প্রথম যারা ধ্বংস হয়েছিল তারা হলো বনু সাব্বাক ইবনে আবদুদ দার। যখন তাদের সীমালঙ্ঘন দীর্ঘায়িত হলো, তখন তারা গভীর রাতে আবু কুবাইস পাহাড়ের উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেল, যা বলছিল:
[আল-বাহরুল বাসীত ছন্দ]
বিদ্রোহ বনু সাব্বাককে দাম্ভিক করে তুলেছে, নিশ্চয়ই তারা
… অল্প সময়ের মধ্যে তাদের কোনো অস্তিত্ব বা চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে না।
এই হলো ইয়াদ গোত্র, তারা ছিল গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী
… কিন্তু যখন তারা অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করল, তখন তারা একের পর এক ধ্বংস হয়ে গেল।
অতঃপর তারা এক বছর অবস্থান করল এবং তারপর ধ্বংস হয়ে গেল। ফলে সিরিয়ার এক ব্যক্তি ব্যতীত তাদের কোনো চিহ্ন বা অস্তিত্ব অবশিষ্ট রইল না, যার বংশধর সেখানে রয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
19 - حَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَعْرُوفِ بْنِ خَرْبُوذٍ، قَالَ: بَغَى بَعْدَهُمْ بَنُو السُّبَيْعَةِ وَهِيَ السُّبَيْعَةُ بِنْتُ اللَّاحِبِ بْنِ دَبْنَبَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ عَوْفِ بْنِ نَصْرِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ بَكْرِ بْنِ هَوَازِنَ، تَزَوَّجَهَا عَبْدُ مَنَافِ بْنُ كَعْبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ، فَوَلَدَتْ خَالِدًا وَهُوَ السُّوفِيُّ مِنْ وَلَدِهِ أَبُو الْعَشَمِ. وَكَانَ السُّوفِيُّ عَارِمًا، صَاحِبَ بَغْيٍ وَشَرٍّ. وَكَانَ أَبُو الْعَشَمَالِيِّينَ حَلَّ ذِرَاعَ الْعَامِرِيَّةِ بِعُكَاظَ. قَالَ: فَكَثُرَ بَغْيُهُمْ، فَسَمِعُوا صَوْتًا بِاللَّيْلِ عَلَى جَبَلٍ مِنْ جِبَالِ مَكَّةَ يَقُولُ:
[البحر الوافر]
قُلْ لِبَنِي السُّبَيْعَةِ قَدْ بَغَيْتُمْ
… فَذُوقُوا غِبَّ ذَلِكَ عَنْ قَلِيلِ
كَمَا ذَاقَتْ بَنُو السَّبَّاقِ لَمَّا
… بَغَوْا وَالْبَغْيُ مَأْكَلُهُ وَبِيلُ
قَالَ: فَتَنَاهَوْا عَنْ ذَلِكَ فَلَهُمْ بَقِيَّةٌ. وَلِخَالِدٍ تَقُولُ أُمُّهُ السُّبَيْعَةُ: أَبُنَيَّ لَا تَظْلِمْ بِمَكَّةَ لَا الصَّغِيرَ وَلَا الْكَبِيرْ
১৯ - আব্বাস বিন হিশাম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মারূফ বিন খারবূয থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তাদের পরে বনু সুবাইআ সীমালঙ্ঘন করল। তিনি ছিলেন আল-লাহিব বিন দাবনাবাহ বিন খুযাইমাহ বিন আওফ বিন নাসর বিন মুআবিয়া বিন বকর বিন হাওয়াযিন-এর কন্যা সুবাইআ। আবদে মানাফ বিন কাব বিন সাদ বিন আমর বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুআই তাকে বিবাহ করেন, ফলে তিনি খালিদকে জন্ম দেন। আর এই খালিদই হলেন আস-সুফী, যার বংশধরদের মধ্যে আবু আল-আশাম রয়েছেন। সুফী ছিলেন অত্যন্ত উদ্ধত, সীমালঙ্ঘন ও অনিষ্টের হোতা। আর আবু আল-আশামালিয়ীন উকায মেলায় আমিরি গোত্রের এক মহিলার বাহু উন্মোচন করেছিলেন। তিনি বলেন: তাদের সীমালঙ্ঘন বেড়ে গেল, তখন তারা মক্কার পাহাড়গুলোর একটি থেকে রাতে এক কণ্ঠস্বর শুনতে পেল যা বলছিল:
[বাহরুল ওয়াফির]
বনু সুবাইআকে বলে দাও, তোমরা সীমালঙ্ঘন করেছ
… শীঘ্রই এর তিক্ত পরিণাম আস্বাদন করো।
যেমন বনু সাব্বাক আস্বাদন করেছিল যখন
… তারা সীমালঙ্ঘন করেছিল, আর সীমালঙ্ঘনের পরিণাম অতি ভয়াবহ।
তিনি বলেন: অতঃপর তারা তা থেকে বিরত হলো এবং তাদের কিছু লোক অবশিষ্ট রইল। আর খালিদকে তার মা সুবাইআ বলতেন: হে আমার প্রিয় বৎস! মক্কায় ছোট বা বড় কারো প্রতি জুলুম করো না।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ مُوسَى، حَدَّثَنِي عَمِّي، خَلِيفَةُ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَرْقِيِّ بْنِ قِطَامِيٍّ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: لَقَدْ عَرَفْتُ أَهْلَ بَيْتٍ مِنْ قُرَيْشٍ، أَهْلَ بَيْتٍ لَا يُوصَمُونَ فِي نَسَبِهِمْ، مَازَالَ بِهِمْ عَرَامُهُمْ وَبَغْيُهُمْ عَلَى قَوْمِهِمْ حَتَّى أُلْحِقَ بِهِمْ مَا لَيْسَ فِيهِمْ، وَرُغِبَ عَنْهُمْ، وَاسْتُهْجِنُوا وَإِنَّهُمْ لَأَصِحَّى. وَأَهْلَ بَيْتٍ كَانُوا يُوصَمُونَ فِي أَنْسَابِهِمْ، فَمَازَالَ بِهِمْ حِلْمُهُمْ عَلَى قَوْمِهِمْ، وَحِرْصُهُمْ عَلَى مَسَارِّهِمْ حَتَّى صُبِّحُوا، وَرُغِبَ إِلَيْهِمْ، وَكَانُوا أَصِحَّاءَ
২০ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ইবন মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা খলিফা ইবন মুসা আমাকে বর্ণনা করেছেন, শারকি ইবন কিতামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: আমি কুরাইশদের এমন এক পরিবারকে চিনি যাদের বংশমর্যাদায় কোনো কলঙ্ক ছিল না, কিন্তু তাদের নিজ কওমের ওপর তাদের ঔদ্ধত্য ও অন্যায় আচরণ অব্যাহত থাকার ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের সাথে এমন সব অপবাদ জুড়ে দেওয়া হয় যা তাদের মধ্যে ছিল না; ফলে মানুষ তাদের থেকে বিমুখ হয়ে যায় এবং তাদের ঘৃণা করতে শুরু করে, যদিও তারা বংশগতভাবে শুদ্ধ ছিল। আবার এমন এক পরিবার ছিল যাদের বংশমর্যাদা নিয়ে কলঙ্ক আরোপ করা হতো, কিন্তু তাদের কওমের প্রতি তাদের সহনশীলতা এবং তাদের কল্যাণের প্রতি গভীর আগ্রহ বজায় থাকার ফলে তাদের সুদিন আসে; ফলে মানুষ তাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং তারা মর্যাদাবান হিসেবে পরিগণিত হয়।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল বাগয়ি লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
الْبَغْيُ أَسَاسُ الذُّلِّ
অনাচার হলো লাঞ্ছনার ভিত্তি