(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: -)
جزء من حديث ابن شاهين   (ابن شاهين)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء من حديث أبي حفص عمر بن أحمد ابن شاهين عن شيوخه

المؤلف: أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن محمد بن أيوب بن أزداذ البغدادي المعروف بـ ابن شاهين (ت 385هـ)

(297-385 هـ) .

اعتنى به: هشام بن محمد

الناشر: أضواء السلف، الرياض

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 59

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে শাহীনের হাদীসের অংশ   (ইবনে শাহীন)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু হাফস উমর বিন আহমাদ ইবনে শাহীনের তাঁর শায়খদের থেকে বর্ণিত হাদীসের একটি অংশ

লেখক: আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন আজদাদ আল-বাগদাদী, ইবনে শাহীন নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরী)

(২৯৭-৩৮৫ হিজরী) .

সম্পাদনায়: হিশাম বিন মুহাম্মাদ

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরী - ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ الْفَقِيهُ الْإِمَامُ الْعَلَّامَةُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ بَقِيَّةُ السَّلَفِ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدٌ ابْنُ الْإِمَامِ أَبِي إِسْمَاعِيلَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقدِسِيُّ، وَشِهَابُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَْحَمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَرْخَانَ الصَّالِحِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا، وَأَنَا أَسْمَعُ مُنْفَرِدِينَ قَالَا: أنا الشَّيْخُ الْجَلِيلُ أَبُو الْبَرَكَاتِ دَاوُدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُلَاعِبٍ الْبَغْدَادِيُّ نَزِيلُ دِمَشْقَ بِهَا فِي سَنَةِ إِحْدَى عَشْرَةَ وَسِتِّمِائَةٍ، قَالَ: أنا الْقَاضِي أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ الْأَرْمَوِيُّ قَالَ: أنا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ابْنِ الْمُهْتَدِي بِاللَّهِ ابْنِ الْوَاثِقِ بِاللَّهِ ابْنِ الْمُعتَصِمِ ابْنِ الرَّشِيدِ ابْنِ الْمَهْدِيِّ ابْنِ الْمَنْصُورِ مِنْ لَفْظِهِ وَكِتَابِهِ قَالَ: نا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاهِينَ، ⦗ص: 14⦘ نا هَارُونُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَاوُدَ بْنِ مِهْرَانَ النَّجْرَانِيُّ بِالْبَصْرَةِ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ بِشْرٍ السَّلِيمِيُّ، نا عَبْدُ الْأَعْلَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ: أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، " كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَفَعَ يَدَيْهِ". وَرَفَعَ ذَاكَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ—ফকিহ, ইমাম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম, সালাফদের অবশিষ্টাংশ শামসুদ্দিন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল ইমাম আবি ইসমাঈল ইবরাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি এবং শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ত্বরখান আস-সালিহি; তাঁদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আর আমি তা পৃথকভাবে শুনছিলাম। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন মহান শাইখ আবুল বারাকাত দাউদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন মুলাইব আল-বাগদাদি, যিনি ৬১১ হিজরিতে দামেস্কে অবস্থানকারী ছিলেন। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন উমর বিন ইউসুফ আল-আরমাওয়ি। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ ইবনুল মুহতাদি বিল্লাহ ইবনুল ওয়াসিক বিল্লাহ ইবনুল মুতাসিম ইবনুর রাশিদ ইবনুল মাহদি ইবনুল মানসুর; তাঁর নিজ শব্দে ও কিতাব থেকে। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন আহমাদ বিন শাহিন। ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন বিন আহমাদ বিন দাউদ বিন মিহরান আন-নাজরানি বসরায়। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন বিশর আস-সুলাইমি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আলা, উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফি থেকে বর্ণনা করেন যে: ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন তাকবির বলতেন তখন তাঁর দুই হাত তুলতেন, যখন রুকু করতেন তখন তাঁর দুই হাত তুলতেন এবং যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতেন তখন তাঁর দুই হাত তুলতেন। আর আব্দুল্লাহ এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত (মারফু) করেছেন।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ نَصْرٍ، نا أَبُو هَمَّامٍ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الَّذِي يَجُرُّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
২ - আহমাদ ইবনুল কাসিম ইবনু নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনু আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহর সূত্রে, নাফে‘র সূত্রে, ইবনু উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার কাপড় (মাটিতে) টেনে নিয়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার দিকে তাকাবেন না।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الزَّيَّاتُ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَالِكٍ، نا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ عُبَيْدٍ، نا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الَّذِي يَجُرُّ ثَوْبَهُ مِنَ الْخُيَلَاءِ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
৩ - আমাদের নিকট ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফদল আয-যাইয়াত বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন মালিক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে উবায়দ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার পোশাক টেনে নিয়ে চলে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না»।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ، نَا أَبُو السَّائِبِ، نَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الَّذِي يَجُرُّ ثَوْبَهُ مِنَ الْخُيَلَاءِ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
৪ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুস সায়েব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার কাপড় টেনে হেঁচড়ে নিয়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।’»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْبَاهِلِيُّ، نا هَارُونُ بْنُ غَسَّانَ الْجُرْجَانِيُّ، أنا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ مُوسَى، وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْجَحِيمِ، نا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، نا صَدَقَةُ أَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَالِبٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَصْلَتَانِ، يَعْنِي لَا تَدْخُلُ فِي جَوْفِ مُسْلِمٍ، الْبُخْلُ وَسُوءُ الْخُلُقِ»
৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আল-বাহিলি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হারুন ইবনে গাসসান আল-জুরজানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ আত-তায়ালিসি সংবাদ দিয়েছেন সাদাকাহ ইবনে মুসা থেকে। এবং আমাদের নিকট হাসান ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে আবিল জাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাদাকাহ আবু আল-মুগিরা বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে গালিব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দুটি বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ যা একজন মুসলিমের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে না: কৃপণতা এবং দুশ্চরিত্র।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
6 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ نَفِيسٍ الْمِصْرِيُّ، نا سَهْلُ بْنُ سَوَادَةَ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ كَاتِبُ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سُوءُ الْخُلُقِ شُؤْمٌ»
৬ - সাঈদ ইবন নাফিস আল-মিসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবন সাওয়াদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইসের লেখক আব্দুল্লাহ ইবন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন নাফি থেকে, তিনি ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মন্দ স্বভাব বা দুশ্চরিত্র হলো দুর্ভাগ্যের বিষয়।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
7 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الثَّقَفِيُّ بِحِمْصَ نَا عِيسَى بْنُ عِيلَانَ، نا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، نا النَّضْرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، نا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ،: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنَ الرِّجَالِ مَفَاتِيحَ لِلْخَيْرِ مَغَالِيقَ لِلشَّرِّ، وَإِنَّ مِنَ الرِّجَالِ مَغَالِيقَ لِلْخَيْرِ مَفَاتِيحَ لِلشَّرِّ»
৭ - হাসান বিন আব্দুর রহমান আস-সাকাফী হিমসে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা বিন ইলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আন-নাদর বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা কল্যাণের চাবিকাঠি এবং মন্দের তালা স্বরূপ, আবার নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা কল্যাণের তালা এবং মন্দের চাবিকাঠি স্বরূপ»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ، نا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رُشَيْدٍ، نا أَبُو عُبَيْدَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَحَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِيهَا الرُّوحُ كُلِّفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ وَلَيْسَ بِنَافِخٍ»
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন হাবীব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন রুশাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদাহ, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি ইকরামা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে; এবং হাম্মাদ বিন যাইদ হতে, তিনি আইয়ুব হতে, তিনি ইকরামা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি প্রাণ আছে এমন কোনো ছবি তৈরি করবে, কিয়ামতের দিন তাকে তাতে প্রাণ ফুঁকতে বাধ্য করা হবে, অথচ সে তাতে প্রাণ ফুঁকতে সক্ষম হবে না»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ السُّكَيْنِ الْبَلَدِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هَارُونَ الرَّازِيُّ، نا الْعَلَاءُ بْنُ عَمْرٍو الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنِي نَضْرُ بْنُ مَنْصُورٍ الْعَنَزِيُّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَوْ كَانَ لِي أَرْبَعُونَ بِنْتًا لَزَوَّجَتْ عُثْمَانَ وَاحِدَةً بَعْدَ وَاحِدَةٍ حَتَّى لَا يَبْقَى مِنْهُنَّ وَاحِدَةٌ» قَالَ الشَّيْخُ: تَفَرَّدَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رضي الله عنه بِهَذِهِ الْفَضِيلَةِ
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ঈসা বিন আস-সুকাইন আল-বালাদি, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন হারুন আর-রাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আলা বিন আমর আল-হানাফি, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন নাদর বিন মানসুর আল-আনাজি, উকবাহ বিন আলকামা থেকে বর্ণিত, তিনি আলি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যদি আমার চল্লিশজন কন্যা থাকত, তবে আমি একের পর এক উসমানের সাথে তাদের বিবাহ দিতাম, যতক্ষণ না তাদের একজনও অবশিষ্ট থাকত» শায়খ বলেন: উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু এই ফযিলতের ক্ষেত্রে অনন্য ছিলেন।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌فَضِيلَةٌ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رضي الله عنه
আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর একটি মর্যাদা
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২০)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، نا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ الْعُرْضِيُّ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى اتَّخَذَنِي خَلِيلًا، كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا، وَمَنْزِلِي وَمَنْزِلُ إِبْرَاهِيمَ فِي الْجَنَّةِ تُجَاهَيْنِ، وَالْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ مُؤْمِنٌ بَيْنَ خَلِيلَيْنِ» قَالَ الشَّيْخُ: تَفَرَّدَ الْعَبَّاسُ بِهَذِهِ الْفَضِيلَةِ، وَلَيْسَ فِي الْجَنَّةِ أَشْرَفُ مِنْ مَنْزِلِ الْعَبَّاسِ بَيْنَ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ وَمُحَمَّدٍ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا
১০ - মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন সুলায়মান আল-বাগান্দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহহাব ইবনুল দাহহাক আল-উরজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবন আমর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন জুবায়র ইবন নুফায়র থেকে, তিনি কাসীর ইবন মুররা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তিনি ইবরাহীমকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। জান্নাতে আমার আবাস এবং ইবরাহীমের আবাস হবে মুখোমুখি, আর আব্বাস ইবন আবদিল মুত্তালিব হবেন দুই খলীলের মাঝে একজন মুমিন।’ শাইখ বলেন: আব্বাস এই মর্যাদায় অনন্য, আর জান্নাতে ইবরাহীম খলীল ও মুহাম্মদ মুস্তাফা (তাঁদের উভয়ের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মাঝখানে আব্বাসের আবাসের চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো আবাস নেই।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২১)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ الْعَابِدِيُّ، نا الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ، إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل»
১১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন সুলায়মান আল-বাগন্দী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন ইমরান আল-আবিদী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আদ-দারওয়ারদী বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতঃপর যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে তার হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জিম্মায়।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২১)
12 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانَيُّ، نا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، نا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ، أَوْ سَبْعُونَ شُعْبَةً أَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»
১২ - উবায়দুল্লাহ বিন উসমান আল-উসমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি বিন আল-মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারির বিন আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঈমানের ষাটের অধিক অথবা সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং তার সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২২)
13 - حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ نَصْرٍ الْفَرَائِضِيُّ، نا لُوَيْنٌ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَشِيطٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: قِيلَ لَهُ: إِنَّ لَنَا جِيرَانًا يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ، أَفَلَا نَرْفَعُهُمْ؟ قَالَ: لَا، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ رَأَى عَوْرَةً فَسَتَرَهَا كَانَ كَمَنْ أَحْيَا مَوْءُودَةً مِنْ قَبْرِهَا» قَالَ الشَّيْخُ: وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَشِيطٍ
১৩ - নাসর ইবনুল কাসিম ইবনু নাসর আল-ফারাইযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লুওয়াইন মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনু নাশিত থেকে, তিনি কাব ইবনু আলকামাহ থেকে, তিনি আবুল হাইসাম থেকে, তিনি উকবাহ ইবনু আমির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁকে বলা হয়েছিল যে, আমাদের এমন কিছু প্রতিবেশী আছে যারা মদ্যপান করে, আমরা কি তাদের (কর্তৃপক্ষের কাছে) সোপর্দ করব না? তিনি বললেন: না, নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি কারো কোনো দোষ দেখল এবং তা গোপন করল, সে যেন কবর থেকে জীবন্ত প্রোথিত কোনো কন্যা শিশুকে পুনর্জীবিত করল।» শায়খ বলেন: ইব্রাহিম ইবনু নাশিতের হাদীস হিসেবে এটি একটি গরীব হাদীস।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
14 - حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفٍ الْقُرَشِيُّ بِمِصْرَ، نا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَشِيطٍ، أَنَّ كَعْبَ بْنَ عَلْقَمَةَ حَدَّثَهُ قَالَ: حَدَّثَنِي كَثِيرٌ مَوْلَى عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: كَانَ لَنَا جِيرَانٌ يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ، فَأَتَيْتُ عُقْبَةَ، فَأَخْبَرْتُهُ أَنِّي دَاعٍ عَلَيْهِمُ الشُّرَطَ. فَقَالَ: دَعْهُمْ، وَيْحَكَ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ ثَانِيَةً، فَقُلْتُ لَهُ: لَسْتُ بِتَارِكِهِمْ، إِنِّي دَاعٍ عَلَيْهِمُ الشُّرَطَ، فَقَالَ: وَيْحَكَ، دَعْهُمْ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ رَأَى عَوْرَةً فَسَتَرَهَا كَانَ كَمَنْ أَحْيَا مَوْءُودَةً مِنْ قَبْرِهَا»
১৪ - মিসরে যাইদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ওয়াহব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার চাচা আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে নাশীত আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, কাব ইবনে আলকামা তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উকবা ইবনে আমিরের মুক্তদাস কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কিছু প্রতিবেশী ছিল যারা মদ্যপান করত। তখন আমি উকবার নিকট এসে তাঁকে সংবাদ দিলাম যে, আমি তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ডাকব। তিনি বললেন: তাদের ছেড়ে দাও, তোমার প্রতি আক্ষেপ! এরপর আমি দ্বিতীয়বার তাঁর নিকট আসলাম এবং তাঁকে বললাম: আমি তাদের ছাড়ছি না, আমি তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ডাকবই। তখন তিনি বললেন: তোমার প্রতি আক্ষেপ! তাদের ছেড়ে দাও, কারণ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি কারো কোনো গোপন দোষ দেখল এবং তা গোপন রাখল, সে যেন কবরস্থ কোনো জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে তার কবর থেকে জীবিত করল»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
15 - قُرِئَ عَلَى أَبِي خُبَيْبٍ الْعَبَّاسِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الْبِرْتِيِّ وَأَنَا حَاضِرٌ، سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلَاثِمِائَةٍ وَفِيهَا مَاتَ، نا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَاضِي، نا أَبِي، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ: خَطَبَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ عَلَى مِنْبَرِ الْبَصْرَةِ فَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا لَهُ دَعْوَةٌ تَعَجَّلَهَا فِي الدُّنْيَا وَإِنِّي خَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا فَخْرَ، وَأَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ وَلَا فَخْرَ، بِيَدِي لِوَاءُ الْحَمْدِ وَلَا فَخْرَ، آدَمُ وَمَنْ دُونَهُ تَحْتَ لِوَائِي وَلَا فَخْرَ ⦗ص: 25⦘ قَالَ: فَيَطُولُ يَوْمُ الْقِيَامَةِ عَلَى النَّاسِ، حَتَّى يَقُولَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: انْطَلِقُوا بِنَا إِلَى آدَمَ أَبِي الْبَشَرِ، فَلْيَشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا عز وجل فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا. قَالَ: فَيَأْتُونَ آدَمَ عليه السلام فَيَقُولُونَ: يَا آدَمُ أَنْتَ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ عز وجل بِيَدِهِ، وَأَسْكَنَكَ جَنَّتَهُ، وَأَسْجَدَ لَكَ مَلَائِكَتَهُ، اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا عز وجل فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا فَيَقُولُ: إِنِّي لَسْتُ هُنَاكُمْ، إِنِّي خَرَجْتُ مِنَ الْجَنَّةِ بِخَطِيئَةٍ وَإِنِّي لَا يُهِمُّنِي الْيَوْمَ إِلَّا نَفْسِي، وَلَكِنِ ايتُوا نُوحًا رَأْسَ النَّبِيِّينَ. فَيَأْتُونَ نُوحًا فَيَقُولُونَ: يَا نُوحُ، اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ عز وجل فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، إِنِّي دَعَوْتُ بِدَعْوَةٍ أَغْرَقَتْ أَهْلَ الْأَرْضِ وَإِنِّي لَا يُهِمُّنِي الْيَوْمَ إِلَّا نَفْسِي، وَلَكِنِ ايتُوا إِبْرَاهِيمَ خَلِيلَ الرَّحْمَنِ عز وجل. فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام فَيَقُولُونَ: يَا إِبْرَاهِيمُ، اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ عز وجل فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا، فَيَقُولُ: إِنِّي لَسْتُ هُنَاكُمْ، إِنِّي كَذَبْتُ فِي الْإِسْلَامِ ثَلَاثَ كَذِبَاتٍ، وَإِنِّي لَا يُهِمُّنِي الْيَوْمَ إِلَّا نَفْسِي " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنْ يُحَاوِلُ بِهِنَّ إِلَّا عَنْ دِينَ اللَّهِ عز وجل، قَوْلُهُ: {إِنِّي سَقِيمٌ} [الصافات: 89] . وَقَوْلُهُ: {بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا فَاسْأَلُوهُمْ إِنْ كَانُوا يَنْطِقُونَ} [الأنبياء: 63] . وَقَوْلُهُ لِامْرَأَتِهِ: إِنَّهَا أُخْتِي، لِلْمَلِكِ. وَلَكِنِ ايتُوا مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاهُ اللَّهُ بِرِسَالَتِهِ وَكَلَامِهِ ⦗ص: 26⦘ فَيَأْتُونَ مُوسَى عليه السلام، فَيَقُولُونَ: يَا مُوسَى أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ عز وجل بِرِسَالَاتِهِ وَكَلَّمَكَ، اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا، فَيَقُولُ: إِنِّي لَسْتُ هُنَاكُمْ، إِنِّي قَدْ قَتَلْتُ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ، وَإِنِّي لَا يُهِمُّنِي الْيَوْمَ إِلَّا نَفْسِي، وَلَكِنِ ايتُوا عِيسَى رُوحَ اللَّهِ وَكَلِمَتَهُ. فَيَأْتُونَ عِيسَى فَيَقُولُونَ: يَا عِيسَى، أَنْتَ رُوحُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ، اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا، فَيَقُولُ: إِنِّي لَسْتُ هُنَاكُمْ، إِنِّي قَدِ اتُّخِذْتُ إِلَهًا مِنْ دُونِ اللَّهِ عز وجل وَإِنِّي لَا يُهِمُّنِي الْيَوْمَ إِلَّا نَفْسِي، ثُمَّ أَرَأَيْتُمْ لَوْ كَانَ مَتَاعٌ فِي وِعَاءٍ قَدْ خُتِمَ عَلَيْهِ أَكَانَ يُقْدَرُ عَلَى مَا فِي الْوِعَاءِ حَتَّى يُفَضَّ الْخَاتَمُ؟ فَيَقُولُونَ: لَا. فَيَقُولُ: إِنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم خَاتَمُ النَّبِيِّينَ قَدْ حَضَرَ الْيَوْمَ، وَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فَيَأْتُونَ فَيَقُولُونَ: يَا مُحَمَّدُ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَلْيَقْضِ بَيْنَنَا فَأَقُولُ: نَعَمْ أَنَا لَهَا حَتَّى يَأْذَنَ اللَّهُ عز وجل لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى فَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَصْدَعَ بَيْنَ خَلْقِهِ نَادَى مُنَادٍ أَيْنَ النَّبِيُّ الْأُمِّيُّ وَأُمَّتُهُ. قَالَ: فَنَحْنُ الْآخِرُونَ الْأَوَّلُونَ، وَنَحْنُ آخِرُ الْأُمَمِ، وَأَوَّلُ مَنْ يُحَاسَبُ، فَيُفْرَجُ الْأُمَمُ عَنْ طَرِيقِنَا غُرٌّ مُحَجَّلُونَ مِنْ آثَارِ الطَّهُورِ، فَتَقُولُ الْأُمَمُ كَادَتْ هَذِهِ الْأُمَّةُ أَنْ تَكُونَ كُلُّهَا أَنْبِيَاءَ فَآتِي بَابَ ⦗ص: 27⦘ الْجَنَّةِ فَآخُذُ بِالْحَلْقَةِ فَأَقْرَعُ الْبَابَ فَيُقَالُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحَمَّدٌ، فَيُفْتَحُ لِي، فَإِذَا رَبِّي عز وجل عَلَى كُرْسِيِّهِ أَوْ سَرِيرِهِ فَيَتَجَلَّى لِي رَبِّي عز وجل، فَأَخِرُّ سَاجِدًا، فَأَحْمَدُهُ بِمَحَامِدَ لَمْ يَحْمَدْهُ بِهَا أَحَدٌ كَانَ قَبْلِي وَلَا يَحْمَدُهُ بِهَا أَحَدٌ بَعْدِي، فَيُقَالُ لِيَ: ارْفَعْ رَأْسَكَ، وَقُلْ تُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أُمَّتِي أُمَّتِي. فَيُقَالُ: أَخْرِجْ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ كَذَا وَكَذَا، فَأُخْرِجُهُمْ ثُمَّ أَعُودُ فَأَخِرُّ سَاجِدًا فَأَحْمَدُهُ بِمَحَامِدَ لَمْ يَحْمَدْ بِهَا أَحَدٌ كَانَ قَبْلِي وَلَا يَحْمَدُ بِهَا أَحَدٌ بَعْدِي فَيُقَالُ: ارْفَعْ رَأْسَكَ، قُلْ يُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أُمَّتِي أُمَّتِي، فَيُقَالُ: أَخْرِجْ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ كَذَا وَكَذَا، فَأُخْرِجُهُمْ، ثُمَّ أَعُودُ فَأَخِرُّ سَاجِدًا وَأَحْمَدُهُ بِمَحَامِدَ لَمْ يَحْمَدْ بِهَا أَحَدٌ كَانَ قَبْلِي وَلَا يَحْمَدُ بِهَا أَحَدٌ بَعْدِي، فَيُقَالُ: ارْفَعْ رَأْسَكَ، وَقُلْ يُسْمَعْ، وَسَلْ تُعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أُمَّتِي أُمَّتِي، فَيُقَالُ: أَخْرِجْ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ كَذَا وَكَذَا، فَأُخْرِجُهُمْ "
১৫ - আবু খুবাইব আব্বাস ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-বিরতির নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এটি ৩০৮ হিজরি সাল, যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সাওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাজী, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আলী ইবনে যাইদ থেকে, তিনি আবু নাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রা.) বসরার মিম্বরে আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন এবং বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এমন কোনো নবী নেই যার জন্য একটি (বিশেষ) দোয়া ছিল না যা তিনি দুনিয়াতেই দ্রুত করে ফেলেছেন। আর আমি আমার দোয়াকে কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য জমিয়ে রেখেছি। আমি কিয়ামতের দিন আদম-সন্তানদের নেতা হব, এতে কোনো অহংকার নেই। আমিই প্রথম ব্যক্তি যার ওপর থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে, এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতেই থাকবে প্রশংসার পতাকা, এতে কোনো অহংকার নেই। আদম এবং তাঁর পরবর্তী সকলেই আমার পতাকার নিচে থাকবে, এতে কোনো অহংকার নেই।" ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ তিনি বলেন: "মানুষের জন্য কিয়ামতের দিনটি দীর্ঘ হবে, এমনকি তারা একে অপরকে বলবে: চলো আমরা মানবজাতির পিতা আদমের কাছে যাই, তিনি যেন আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করেন যাতে তিনি আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। তিনি বলেন: অতঃপর তারা আদমের (আলাইহিস সালাম) কাছে আসবে এবং বলবে: হে আদম! আপনি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, আপনাকে তাঁর জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন এবং তাঁর ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন। আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যাতে তিনি আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। তিনি বলবেন: আমি এই কাজের জন্য যোগ্য নই। আমি একটি ভুলের কারণে জান্নাত থেকে বের হয়েছিলাম। আজ আমি নিজের নাফস ছাড়া আর কিছু নিয়ে চিন্তিত নই। বরং তোমরা নবীদের প্রধান নূহের কাছে যাও। অতঃপর তারা নূহের কাছে আসবে এবং বলবে: হে নূহ! আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যাতে তিনি আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। তিনি বলবেন: আমি এই কাজের জন্য যোগ্য নই। আমি এমন একটি দোয়া করেছিলাম যার ফলে জমিনবাসীরা ডুবে গিয়েছিল। আজ আমি নিজের নাফস ছাড়া আর কিছু নিয়ে চিন্তিত নই। বরং তোমরা রহমানের বন্ধু ইব্রাহিমের কাছে যাও। অতঃপর তারা ইব্রাহিমের (আলাইহিস সালাম) কাছে আসবে এবং বলবে: হে ইব্রাহিম! আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যাতে তিনি আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। তিনি বলবেন: আমি এই কাজের জন্য যোগ্য নই। আমি ইসলামের খাতিরে তিনটি মিথ্যা কথা বলেছিলাম। আজ আমি নিজের নাফস ছাড়া আর কিছু নিয়ে চিন্তিত নই।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "তিনি আল্লাহর দ্বীনের খাতিরেই সেগুলোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কথা: {নিশ্চয়ই আমি অসুস্থ} [আস-সাফফাত: ৮৯]। এবং তাঁর কথা: {বরং তাদের এই বড়টিই তো এটি করেছে, তাদেরকেই জিজ্ঞেস করো যদি তারা কথা বলতে পারে} [আল-আম্বিয়া: ৬৩]। এবং রাজার কাছে তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে তাঁর কথা: তিনি আমার বোন। কিন্তু তোমরা মূসার কাছে যাও যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন।" ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ "অতঃপর তারা মূসার (আলাইহিস সালাম) কাছে আসবে এবং বলবে: হে মূসা! আপনি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর রিসালাতসমূহের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং আপনার সাথে কথা বলেছেন, আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যাতে তিনি আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। তিনি বলবেন: আমি এই কাজের জন্য যোগ্য নই। আমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলাম যার বদলে অন্য কাউকে হত্যার নির্দেশ ছিল না। আজ আমি নিজের নাফস ছাড়া আর কিছু নিয়ে চিন্তিত নই। বরং তোমরা আল্লাহর রূহ ও তাঁর বাণী ঈসার কাছে যাও। অতঃপর তারা ঈসার কাছে আসবে এবং বলবে: হে ঈসা! আপনি আল্লাহর রূহ ও তাঁর বাণী, আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যাতে তিনি আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। তিনি বলবেন: আমি এই কাজের জন্য যোগ্য নই। আমাকে আল্লাহ ছাড়া উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। আজ আমি নিজের নাফস ছাড়া আর কিছু নিয়ে চিন্তিত নই। এরপর তোমরা কি মনে করো, যদি কোনো পাত্রে কিছু পণ্য থাকে এবং তার মুখ মোহর মারা থাকে, তবে মোহর না ভাঙা পর্যন্ত কি সেই পাত্রের ভেতরের বস্তুর ওপর ক্ষমতা রাখা সম্ভব? তারা বলবে: না। তিনি বলবেন: নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শেষ নবী, তিনি আজ উপস্থিত আছেন এবং আল্লাহ তাঁর পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "অতঃপর তারা আসবে এবং বলবে: হে মুহাম্মদ! আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যাতে তিনি আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। তখন আমি বলব: হ্যাঁ, আমিই এর জন্য। যতক্ষণ না আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অনুমতি দেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন। যখন আল্লাহ তাঁর মাখলুকের মাঝে ফয়সালা করার ইচ্ছা করবেন, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন: উম্মী নবী এবং তাঁর উম্মত কোথায়? তিনি বলেন: আমরাই হলাম শেষে আগমনকারী কিন্তু সবার অগ্রগামী। আমরাই সর্বশেষ উম্মত এবং আমাদেরই প্রথম হিসাব নেওয়া হবে। আমাদের ওযুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল হাত-মুখ বিশিষ্ট হওয়ার ফলে অন্যান্য উম্মতরা আমাদের জন্য পথ ছেড়ে দেবে। তখন অন্যান্য উম্মতরা বলবে: এই উম্মতের সবাই যেন নবী হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর আমি আসব" ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ "জান্নাতের দরজায়। আমি দরজার কড়া ধরে নাড়া দেব। বলা হবে: আপনি কে? আমি বলব: মুহাম্মদ। তখন আমার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে। তখন আমি আমার রবের দর্শন পাব যখন তিনি তাঁর কুরসি বা সিংহাসনের ওপর থাকবেন। অতঃপর আমার রব আমার সামনে জ্যোতির্ময় হবেন। তখন আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আমি তাঁর এমন সব প্রশংসা করব যা আমার পূর্বে কেউ করেনি এবং আমার পরেও কেউ করবে না। আমাকে বলা হবে: আপনার মাথা তুলুন, কথা বলুন শোনা হবে, চান দেওয়া হবে, সুপারিশ করুন কবুল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা তুলব এবং বলব: হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত। তখন বলা হবে: যার হৃদয়ে অমুক অমুক পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে আনুন। আমি তাদের বের করে আনব। তারপর আমি পুনরায় ফিরে আসব এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আমি তাঁর এমন সব প্রশংসা করব যা আমার পূর্বে কেউ করেনি এবং আমার পরেও কেউ করবে না। বলা হবে: আপনার মাথা তুলুন, কথা বলুন শোনা হবে, চান দেওয়া হবে, সুপারিশ করুন কবুল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা তুলব এবং বলব: হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত। তখন বলা হবে: যার হৃদয়ে অমুক অমুক পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে আনুন। আমি তাদের বের করে আনব। এরপর আমি আবার ফিরে আসব এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আমি তাঁর এমন সব প্রশংসা করব যা আমার পূর্বে কেউ করেনি এবং আমার পরেও কেউ করবে না। বলা হবে: আপনার মাথা তুলুন, কথা বলুন শোনা হবে, চান দেওয়া হবে, সুপারিশ করুন কবুল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা তুলব এবং বলব: হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত। তখন বলা হবে: যার হৃদয়ে অমুক অমুক পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে আনুন। আমি তাদের বের করে আনব।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، نا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضَّبِّيُّ، نا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ الْأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَوْمَ كَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى كَانَتْ عَلَيْهِ جُبَّةُ وَكِسَاءُ صُوفٍ وَكُمَّةُ صُوفٍ وَسَرَاوِيلُ صُوفٍ وَنَعْلَيْنِ مِنْ جِلْدِ حِمَارٍ غَيْرِ ذَكِيٍّ
16 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আমর আদ-দাব্বি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন খলিফা, হুমাইদ আল-আরাজ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আল-হারিস থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যেদিন আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছিলেন, সেদিন তাঁর পরিধানে ছিল পশমের জুব্বা ও পশমের চাদর, পশমের টুপি, পশমের পায়জামা এবং জবেহ না করা গাধার চামড়ার তৈরি একজোড়া জুতো।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
17 - حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفٍ الْقُرَشِيُّ بِمِصْرَ، نا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ، نا عَمِّي يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي الْمَاضِي بْنُ مُحَمَّدِ، عَنْ جُوَيْبِرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ عز وجل نَاجَى مُوسَى عليه السلام بِمِائَةِ أَلْفِ كَلِمَةٍ وَأَرْبَعِينَ أَلْفَ كَلِمَةٍ فِي ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ وَصَايَا كُلُّهَا، فَلَمَّا سَمِعَ مُوسَى عليه السلام كَلَامَ الْآدَمَيِّينَ مَقَتَهُمْ، مِمَّا وَقَعَ فِي مَسَامِعِهِ مِنْ كَلَامِ الرَّبِّ عز وجل، فَكَانَ فِيمَا نَاجَاهُ، قَالَ: «يَا مُوسَى إِنَّهُ لَمْ يَتَصَنَّعْ لِيَ الْمُتَصَنِّعُونَ بِمِثْلِ الزُّهْدِ فِي الدُّنْيَا، وَلَمْ يَتَقَرَّبْ إِلَيَّ الْمُتَقَرِّبُونَ بِمِثْلِ الْوَرَعِ عَمَّا حَرَّمْتُ عَلَيْهِمْ، وَلَمْ يَتَعَبَّدِ الْعَابِدُونَ بِمِثْلِ الْبُكَاءِ مِنْ خِيفَتِي» قَالَ مُوسَى: يَا إِلَهَ الْبَرِيَّةِ كُلِّهَا، وَيَا مَالِكَ يَوْمِ الدِّينِ، وَيَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، مَاذَا أَعْدَدْتَ لَهُمْ وَمَاذَا جَزَيْتَهُمْ؟ قَالَ: «يَا مُوسَى أَمَّا الزَّاهِدُونَ فَإِنِّي انْتَخَبْتُهُمْ لِلْجَنَّةِ يَتَبَوَّءُونَ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُونَ. وَأَمَّا الْوَرِعُونَ عَمَّا حَرَّمْتُ عَلَيْهِمْ فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ عَبْدٍ يَلْقَانِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا نَاقَشْتُهُ الْحِسَابَ كَنَقْشِهِ مِمَّا فِي يَدَيْهِ إِلَّا مَا كَانَ مِنَ الْوَرِعِينَ فَإِنِّي أَسْتَحْيِيهِمْ وَأُجِلُّهُمْ وَأُكْرِمُهُمْ وَأُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ، وَأَمَّا الْبَكَّاءُونَ مِنْ خِيفَتِي فَلَهُمُ الرَّفِيقُ الْأَعْلَى لَا يُشَارَكُونُ فِيهَا» ⦗ص: 30⦘ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْحَرْبِيُّ الْخُرْقِيُّ، نا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ الْخَوْلَانِيُّ، نا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، أنا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْمَاضِي بْنُ مُحَمَّدٍ، فَذَكَرَهُ نَحْوَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ بِطُولِهِ
১৭ - মিসরে যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর চাচা অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, আল-মাদী ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন জুওয়াইবার থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তিন দিনে মূসা আলাইহিস সালামের সাথে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার বাক্যে গোপনে কথা বলেছেন, যার সবই ছিল উপদেশ। অতঃপর যখন মূসা আলাইহিস সালাম মানুষের কথা শুনলেন, তখন মহান রবের যে বাণী তাঁর কর্ণে প্রবেশ করেছিল তার প্রভাবে তিনি মানুষের কথার প্রতি বীতশ্রদ্ধ বোধ করলেন। তাঁর সাথে মহান আল্লাহর কথোপকথনের মধ্যে এটিও ছিল যে, তিনি বললেন: «হে মূসা! দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির (যুহদ) মতো অন্য কিছু দিয়ে সুশোভিতরা আমার জন্য সুশোভিত হতে পারেনি; এবং নৈকট্য অন্বেষণকারীরা আমার নিষিদ্ধ করা বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকার (ওয়ারা) মতো অন্য কিছু দিয়ে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারেনি; আর ইবাদতকারীরা আমার ভয়ে ক্রন্দনের মতো অন্য কিছু দিয়ে আমার ইবাদত করতে পারেনি।» মূসা বললেন: হে জগতের সকল সৃষ্টির ইলাহ, হে বিচার দিবসের মালিক এবং হে মহিমময় ও মহানুভব! আপনি তাদের জন্য কী প্রস্তুত রেখেছেন এবং তাদের কী প্রতিদান দেবেন? আল্লাহ বললেন: «হে মূসা! যারা দুনিয়া-বিরাগী বা যাহিদ, আমি তাদের জান্নাতের জন্য মনোনীত করেছি, তারা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসবাস করতে পারবে। আর যারা আমার নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থেকেছে, কিয়ামতের দিন যে বান্দাই আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে, আমি তার হাতের জিনিসের মতো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তার হিসাব গ্রহণ করব, কিন্তু এই পরহেযগারদের ব্যতীত; কেননা আমি তাদের ব্যাপারে সংকোচ বোধ করি, তাদের সম্মান করি, মর্যাদা দান করি এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাই। আর যারা আমার ভয়ে ক্রন্দনকারী, তাদের জন্য রয়েছে রফিক-উল-আ'লা (উচ্চ মর্যাদা), যেখানে তাদের সাথে আর কেউ অংশীদার হবে না।»" ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-হারবী আল-খুরকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাহর ইবনে নাসর আল-খাওলানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসাদ ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মাদী ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তা দীর্ঘভাবে উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
18 - حَدَّثَنَا عُلْوَانَ بْنُ الْحُسَيْنِ الْمَالِكِيُّ خَتَنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ نا هَنْبَلُ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّلِيحِيُّ بِحِمْصَ، نا سُلَيْمَانُ بْنُ سَلَمَةَ الْخَبَائِرِيُّ، نا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ الْأَزْدِيُّ، نا رَبَاحُ بْنُ زَيْدٍ الصَّنْعَانِيُّ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَمَّا كَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى فِي الْأَرْضِ، كَانَ جِبْرِيلُ يَأْتِيهِ بِحُلَّتَيْنِ مِنْ حُلَلِ الْجَنَّةِ وَبِكُرْسِيٍّ مُرَصَّعٍ بِالدُّرِّ وَالْجَوْهَرِ، فَيَجْلِسُ وَيَرْفَعُهُ الْكُرْسِيُّ، فَيَرْفَعُهُ حَيْثُ شَاءَ وَيُكَلِّمُهُ حَيْثُ شَاءَ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উলওয়ান ইবনুল হুসাইন আল-মালিকি, যিনি আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বালের জামাতা; হিমসে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্বল ইবনে মুহাম্মাদ আস-সালিহি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে সালামাহ আল-খাবাইরি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইউনুস আল-আজদি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবাহ ইবনে যায়েদ আস-সানআনি, মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ যখন পৃথিবীতে মুসার সাথে কথা বলেছিলেন, তখন জিবরীল জান্নাতের পোশাকসমূহ হতে দুটি পোশাক এবং মুক্তা ও মণি-মাণিক্য খচিত একটি কুরসি নিয়ে তাঁর নিকট আসতেন। অতঃপর তিনি তাতে বসতেন এবং কুরসিটি তাঁকে উপরে উঠাতো; এরপর তিনি যেখানে ইচ্ছা তাঁকে উপরে উঠাতেন এবং যেখানে ইচ্ছা তাঁর সাথে কথা বলতেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
19 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو مَعْمَرٍ الْقَطِيعِيُّ، نا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ: «كَانَ لِمُوسَى عليه السلام قُبَّةٌ طُولُهَا سِتُّمِائَةِ ذِرَاعٍ يُنَاجِي فِيهَا رَبَّهُ عز وجل»
১৯ - আহমাদ ইবনে সালমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মা’মার আল-কাতী‘ঈ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি বলেন: "মুসা আলাইহিস সালামের একটি তাবু ছিল যার দৈর্ঘ্য ছিল ছয়শত হাত, যাতে তিনি তাঁর মহান ও পরাক্রমশালী রবের সাথে নিভৃতে কথা বলতেন।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، نا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ أَبِي الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: «إِنَّمَا كَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى بِمَا يُطِيقُ مُوسَى مِنْ كَلَامِهِ وَلَوْ تَكَلَّمَ بِكَلَامِهِ كُلِّهِ لَمْ يُطِقْهُ شَيْءٌ»
২০ - আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন বাক্কার বিন আল-রাইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মা'শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হুওয়াইরিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মূসার সাথে তাঁর কথার ততটুকুই বলেছেন যা সহ্য করার সামর্থ্য মূসার ছিল। আর তিনি যদি তাঁর সমস্ত কথা বলতেন, তবে কোনো কিছুই তা সহ্য করতে পারত না।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، نا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: " قَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى عليه السلام: بِمَا شَبَّهْتَ صَوْتَ رَبِّكَ عز وجل حِينَ كَلَّمَكَ مِنْ هَذَا الْخَلْقِ؟ قَالَ: شَبَّهْتُ صَوْتَهُ بِصَوْتِ الرَّعْدِ حِينَ لَا يَرْجِعُ "
২১ - আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন বাক্কার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু মা’শার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন কা’ব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “বনী ইসরাঈল মূসা আলাইহিস সালামকে বলল: আপনার প্রতিপালক (মহামহিম ও মহিমান্বিত) যখন আপনার সাথে কথা বলেছিলেন, তখন আপনি সৃষ্টির কোন জিনিসের সাথে তাঁর আওয়াযের তুলনা করেছিলেন? তিনি বললেন: আমি তাঁর আওয়াযকে বজ্রধ্বনির শব্দের সাথে তুলনা করেছি যখন তা প্রতিধ্বনিত হয় না।”
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، نا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاوِيَةَ أَبِي الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: «مَكَثَ مُوسَى عليه السلام أَرْبَعِينَ لَيْلَةً لَا يَرَاهُ أَحَدٌ إِلَّا مَاتَ مِنْ نُورِ رَبِّ الْعَالَمِينَ عز وجل»
২২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মাশার বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে মুআবিয়াহ আবুল হুওয়াইরিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «মুসা আলাইহিস সালাম চল্লিশ রাত এমনভাবে অতিবাহিত করেছিলেন যে, বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নূরের কারণে তাঁকে যে কেউ দেখত সে-ই মারা যেত।»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
23 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَاصِمِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ نَصْرٍ الْعَبْدِيُّ، نا الْوَلِيدُ بْنُ سَالِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «لَوْلَا أَنَّ اللَّهَ، عز وجل ضَرَبَ قَلْبَ مُوسَى بِصَفَائِحِ النُّورِ مَا أَطَاقَ كَلَامَ اللَّهِ عز وجل»
২৩ - ইসমাঈল ইবন আলী আল-আসিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবন নাসর আল-আবদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালীদ ইবন সালিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যদি মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ মূসার অন্তরকে নূরের পাতসমূহ দ্বারা আবৃত না করতেন, তবে তিনি মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর কথা সহ্য করার ক্ষমতা রাখতেন না।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثَ، نا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ الْمِصْرِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ جَزْءُ بْنُ جَابِرٍ الْخَثْعَمِيُّ، قَالَ: " لَمَّا كَلَّمَ اللَّهُ عز وجل مُوسَى عليه السلام كَلَّمَهُ بِالْأَلْسِنَةِ كُلِّهَا قَبْلَ لِسَانِهِ فَطَفِقَ مُوسَى عليه السلام يَقُولُ: يَا رَبِّ، وَاللَّهِ مَا أَفْهَمُ هَذَا حَتَّى كَلَّمَهُ آخِرَ الْأَلْسِنَةِ بِلِسَانِهِ بِمِثْلِ صَوْتِهِ، فَقَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ أَهَكَذَا كَلَامُكَ؟ فَقَالَ اللَّهُ عز وجل لَهُ: لَوْ كَلَّمْتُكَ كَلَامِي لَمْ تَكْ شَيْئًا. قَالَ: أَيْ رَبِّ هَلْ مِنْ خَلْقِكَ شَيْءٌ يُشْبِهُ كَلَامَكَ؟ قَالَ: لَا، وَأَقْرَبُ خَلْقِي شَبَهًا بِكَلَامِي أَشَدُّ مَا يُسْمَعُ مِنَ الصَّوَاعِقِ "
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশ’আছ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আবদুর রহমান, তাকে জুয বিন জাবির আল-খাশআমি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: "যখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বললেন, তখন তাঁর (মূসার) ভাষার আগে অন্য সকল ভাষায় তাঁর সাথে কথা বললেন। তখন মূসা আলাইহিস সালাম বলতে লাগলেন: হে রব, আল্লাহর শপথ, আমি এটি বুঝতে পারছি না; যতক্ষণ না তিনি সর্বশেষ ভাষা হিসেবে তাঁর (মূসার) ভাষায় তাঁর কণ্ঠস্বরের সদৃশ শব্দে কথা বললেন। তখন মূসা বললেন: হে রব, আপনার কথা কি এরকমই? তখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁকে বললেন: যদি আমি আমার (প্রকৃত) কালাম দিয়ে তোমার সাথে কথা বলতাম, তবে তোমার কোনো অস্তিত্ব থাকত না। তিনি বললেন: হে আমার রব, আপনার সৃষ্টির মধ্যে কি এমন কিছু আছে যা আপনার কালামের সদৃশ? তিনি বললেন: না, তবে বজ্রপাতের যে প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়, তা-ই আমার সৃষ্টির মধ্যে আমার কালামের সাথে সাদৃশ্যের দিক থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী।"
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
25 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ شَبَّةَ، نا عُثْمَانُ بْنُ مُوسَى الْبَزَّازُ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، نا مَالِكُ بْنُ يَحْيَى أَبُو غَسَّانَ، قَالَا: نا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، نا الْفَضْلُ بْنُ عِيسَى، نا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، نا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لَمَّا كَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى يَوْمَ الطُّورِ كَلَّمَهُ بِغَيْرِ الْكَلَامِ الَّذِي كَلَّمَهُ يَوْمَ نَادَاهُ ⦗ص: 37⦘ فَقَالَ لَهُ مُوسَى: يَا رَبِّ هَذَا كَلَامُكَ الَّذِي كَلَّمْتَنِي بِهِ يَوْمَ نَادَيْتَنِي؟ قَالَ: «لَا، يَا مُوسَى، إِنَّمَا كَلَّمْتُكَ بِقُوَّةِ عَشْرَةِ آلَافِ لِسَانٍ، وَلِي قُوَّةُ الْأَلْسِنَةِ كُلِّهَا، وَأَنَا أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ» ، فَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالُوا لَهُ: يَا مُوسَى صِفْ لَنَا كَلَامَ الرَّحْمَنِ عز وجل؟ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ؟ قَالُوا: شَبِّهْ لَنَا؟ قَالَ: أَلَمْ تَرَوْا إِلَى أَصْوَاتِ الصَّوَاعِقِ حِينَ تُقْبِلُ فِي أَحْلَى حَلَاوَةٍ سَمِعْتُمُوهُ فَإِنَّهُ قَرِيبٌ مِنْهُ وَلَيْسَ بِهِ
২৫ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ বিন শাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন মূসা আল-বাজ্জায আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, (হ) এবং আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মিসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক বিন ইয়াহইয়া আবু গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আলী বিন আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফাদল বিন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আল-মুনকাদির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ যখন তূর পাহাড়ের দিনে মূসার সাথে কথা বললেন, তখন তিনি তাঁর সাথে সেই কথা ব্যতীত অন্যভাবে কথা বললেন যা দিয়ে তিনি তাঁকে ডাকার দিনে কথা বলেছিলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ তখন মূসা তাঁকে বললেন: হে আমার রব, এটিই কি আপনার সেই কথা যা দিয়ে আপনি আমাকে ডাকার দিনে আমার সাথে কথা বলেছিলেন? তিনি বললেন: «না, হে মূসা, আমি তোমার সাথে দশ হাজার জিহ্বার শক্তিতে কথা বলেছি, আর আমার নিকট সকল জিহ্বার শক্তি রয়েছে এবং আমি তার চেয়েও অধিক শক্তিশালী», অতঃপর মূসা যখন বনী ইসরাঈলের নিকট ফিরে গেলেন, তারা তাঁকে বলল: হে মূসা, আমাদের নিকট রহমান আযযা ওয়া জাল্লার কথার বর্ণনা দিন? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ, কার সেই সাধ্য আছে? তারা বলল: আমাদের জন্য কোনো তুলনা দিন? তিনি বললেন: তোমরা কি বজ্রধ্বনির শব্দ শোননি যখন তা অত্যন্ত সুমধুরভাবে ধেয়ে আসে যা তোমরা শুনে থাকো? নিশ্চয়ই এটি (আল্লাহর কথা) তার কাছাকাছি, তবে সেটি তা নয়।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
26 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، نا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ الطَّائِيُّ، نا جَعْفَرُ بْنُ الْفَزْرِ الْعَابِدُ، بِمَهْرُوبَانَ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ «. . .» فَالْتَفَتَ إِلَى شَيْخٍ فَقَالَ: حَدِّثِ الْقَوْمَ بِحَدِيثِ الْحَيَّةِ فَقَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ أَنَّ خُمَيْرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ " خَرَجَ إِلَى مُتَصَيَّدِهِ فَتَمَثَّلَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ حَيَّةٌ، فَقَالَتْ: أَجِرْنِي، أَجَارَكَ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ. قَالَ: وَمِمَّا أُجِيرُكِ؟ قَالَتْ: مِنْ عَدُوٍّ رَهَقَنِي يُرِيدُ أَنْ يُقَطِّعَنِي إِرْبًا إِرْبًا. قَالَ: وَمَنْ أَنْتِ؟ قَالَتْ: مِنْ أَهْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ: وَأَيْنَ أُخْبِئُكِ؟ قَالَتْ: فِي جَوْفِكَ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْمَعْرُوفَ. قَالَ: فَفَتَحَ فَاهُ وَقَالَ: هَا، فَدَخَلَتْ جَوْفَهُ. فَإِذَا رَجُلٌ مَعَهُ صِمْصَامَةٌ، فَقَالَ: يَا خُمَيْرُ أَيْنَ الْحَيَّةُ؟ قَالَ: مَا أَرَى شَيْئًا. قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ قَالَ: نَعَمْ سُبْحَانَ اللَّهِ. مَا أَرَى شَيْئًا. فَذَهَبَ الرَّجُل ⦗ص: 39⦘ ُ فَأَطْلَعَتِ الْحَيَّةُ رَأْسَهَا، ثُمَّ قَالَتْ: يَا خُمَيْرُ أَتُحِسُّ الرَّجُلَ؟ فَقَالَ لَهَا: قَدْ ذَهَبَ؟ قَالَتْ: فَاخْتَرْ أَحَدَ خَصْلَتَيْنِ أَنْ أَنْكُتَ قَلْبَكَ نُكْتَةً أَوْ أَفْرُثَ كَبِدَكَ فَتُلْقِيَهُ مِنْ أَسْفَلَ قِطَعًا. قَالَ: وَاللَّهِ مَا كَافَيْتِينِي؟ قَالَتْ: فَحِينَ يَضَعُ الْمَعْرُوفَ عِنْدَ مَنْ لَا يَعْرِفُهُ، وَقَدْ عَرَفْتَ مَا بَيْنِي وَبَيْنَ أَبِيكَ قَدِيمًا، وَلَيْسَ مَعِي مَالٌ فَأُعْطِيكَ، وَلَا دَابَّةٌ فَأَحْمِلُكَ. قَالَ: فَأَمْهِلِينِي حَتَّى آتِيَ سَفْحَ هَذَا الْجَبَلِ فَأُمَهِّدَ لِنَفْسِي، فَبَيْنَا هُوَ يَمْشِي إِذَا هُوَ بِفَتًى حَسَنِ الْوَجْهِ طَيِّبِ الرِّيحِ حَسَنِ الثِّيَابِ فَقَالَ لَهُ: يَا شَيْخُ مَالِي أَرَاكَ مُسْتَبْسِلًا لِلْمَوْتِ آيِسًا مِنَ الْحَيَاةِ. قَالَ: مِنْ عَدُوٍّ فِي جَوْفِي يُرِيدُ هَلَاكِي. فَاسْتَخْرَجَ شَيْئًا مِنْ كُمِّهِ فَدَفَعَهُ إِلَيَّ وَقَالَ: كُلْهَا فَفَعَلَ فَأَصَابَهُ مَعْضٌ شَدِيدٌ ثُمَّ نَاوَلَهُ أُخْرَى فَأَكَلَهَا فَرَمَى بِالْحَيَّةِ مِنْ أَسْفَلِهِ قِطَعًا. فَقَالَ: مَنْ أَنْتَ رَحِمَكَ اللَّهُ، فَمَا أَحَدٌ أَعْظَمَ عَلَيَّ مِنَّةً مِنْكَ؟ قَالَ: أنا الْمَعْرُوفُ، إِنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ لَمَّا رَأَوْا غَدْرَ الْحَيَّةِ بِكَ اضْطَرَبُوا كُلٌّ يَسْأَلُ رَبَّهُ أَنْ يُغِيثَكَ، فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: يَا مَعْرُوفُ أَدْرِكْ عَبْدِي فَإِيَّايَ أَرَادَ بِمَا صَنَعَ "
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-বাগিন্দি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হারব আত-তাঈ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে ফাজর আল-আবিদ মাহরুবানে; তিনি বলেন: আমি [...] এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি একজন শাইখের দিকে ফিরে বললেন: এই লোকদের কাছে সাপ সম্পর্কিত কাহিনীটি বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল জব্বার যে, খুমাইর ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর শিকারের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তখন তাঁর সামনে একটি সাপ আত্মপ্রকাশ করল এবং বলল: আমাকে আশ্রয় দিন, আল্লাহ আপনাকে তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন সেই দিন যে দিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। তিনি বললেন: আমি আপনাকে কিসের থেকে আশ্রয় দেব? সে বলল: এমন এক শত্রু থেকে যে আমাকে তাড়া করছে এবং আমাকে টুকরো টুকরো করে কাটতে চায়। তিনি বললেন: আপনি কে? সে বলল: আমি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন: আমি আপনাকে কোথায় লুকাব? সে বলল: আপনার পেটের ভেতরে, যদি আপনি পুণ্য কাজ করতে চান। তিনি বলেন: এরপর তিনি তাঁর মুখ খুললেন এবং বললেন: এই নিন; ফলে সেটি তাঁর পেটের ভেতর ঢুকে গেল। হঠাৎ এক ব্যক্তি তলোয়ার হাতে উপস্থিত হয়ে বলল: হে খুমাইর, সাপটি কোথায়? তিনি বললেন: আমি কিছুই দেখছি না। সে বলল: সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন: হ্যাঁ, সুবহানাল্লাহ, আমি কিছুই দেখছি না। এরপর লোকটি চলে গেল ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ তখন সাপটি তার মাথা বের করল এবং বলল: হে খুমাইর, আপনি কি লোকটিকে অনুভব করছেন? তিনি তাকে বললেন: সে কি চলে গেছে? সে বলল: এখন আপনি দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি বেছে নিন—হয় আমি আপনার হৃদপিণ্ডে একটি কামড় দেব অথবা আপনার কলিজা ছিন্নভিন্ন করে দেব যাতে আপনি তা শরীরের নীচ দিয়ে টুকরো টুকরো করে বের করে দেন। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আপনি তো আমাকে প্রতিদান দিলেন না (বরং বিশ্বাসঘাতকতা করলেন)? সে বলল: পুণ্য যখন এমন কারোর কাছে করা হয় যে তার মূল্যায়ন জানে না (তখন এমনই হয়)। আর আপনি তো জানেন আপনার বাবার সাথে আমার পুরনো শত্রুতা রয়েছে। আমার কাছে কোনো ধন-সম্পদ নেই যা আপনাকে দেব, আর কোনো বাহনও নেই যাতে আপনাকে সওয়ার করাব। তিনি বললেন: আমাকে একটু অবকাশ দিন যাতে আমি এই পাহাড়ের পাদদেশে যেতে পারি এবং নিজের (শেষের) জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি। যখন তিনি হাঁটছিলেন, হঠাৎ সুন্দর চেহারা, সুগন্ধিযুক্ত এবং সুন্দর পোশাক পরিহিত এক যুবকের দেখা পেলেন। সে তাঁকে বলল: হে শাইখ, কী ব্যাপার যে আমি আপনাকে মৃত্যুর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া এবং জীবনের প্রতি হতাশ অবস্থায় দেখছি? তিনি বললেন: আমার পেটের ভেতরের এক শত্রুর কারণে, যে আমার ধ্বংস চায়। তখন সে (যুবকটি) তার আস্তিন থেকে কিছু বের করে আমাকে দিল এবং বলল: এটি খেয়ে নিন। তিনি তা করলেন এবং তাঁর পেটে তীব্র কামড় অনুভূত হলো। এরপর যুবকটি তাকে অন্য আরেকটি বস্তু দিল, তিনি সেটি খেলেন এবং এরপর সাপটি তাঁর শরীরের নীচ দিয়ে টুকরো টুকরো হয়ে বেরিয়ে গেল। তিনি বললেন: আল্লাহ আপনাকে রহম করুন, আপনি কে? আপনার চেয়ে বড় অনুগ্রহকারী আমার ওপর আর কেউ নেই। সে বলল: আমি হলাম 'পুণ্য' (আল-মা'রুফ)। যখন আসমানবাসীরা আপনার সাথে সাপটির বিশ্বাসঘাতকতা দেখল, তখন তারা বিচলিত হয়ে উঠল এবং প্রত্যেকেই তার রবের কাছে আপনাকে উদ্ধার করার জন্য প্রার্থনা করতে লাগল। তখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বললেন: হে পুণ্য (মা'রুফ), তুমি আমার বান্দাকে উদ্ধার করো; কারণ সে যা করেছে তার মাধ্যমে কেবল আমাকেই (আমার সন্তুষ্টিই) উদ্দেশ্য করেছিল।
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৪০)
27 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، نا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، نا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي زَائِدَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ حِمَازٍ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لِعَلِيٍّ عليه السلام: كَيْفَ بَلَغَ ذُو الْقَرْنَيْنِ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ؟ فَقَالَ عَلِيُّ: «سُخِّرَ لَهُ السَّحَابُ، وَمُدَّتْ لَهُ الْأَسْبَابُ، وَبُسِطَ لَهُ النُّورُ»
২৭ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুলায়মান আল-বাগান্দি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবি শায়বা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদাহ, সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি হাবিব ইবনে হিমাজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আলীকে (আলাইহিস সালাম) বললেন: যুল-কারনাইন কীভাবে পূর্ব ও পশ্চিমে পৌঁছেছিলেন? তখন আলী বললেন: «মেঘমালাকে তাঁর অনুগত করে দেওয়া হয়েছিল, তাঁর জন্য যাবতীয় উপায়-উপকরণ প্রসারিত করা হয়েছিল এবং তাঁর জন্য নূরকে বিস্তৃত করা হয়েছিল»
(খণ্ড: ১) জুযউন মিন হাদীসি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ৪১)
28 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا نُعَيْمُ بْنُ الْهَيْصَمِ، أنا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: «إِنَّ لِلْكَلَامِ الطَّيِّبِ دَوِيًّا كَدَوِيِّ النَّحْلِ يُذَكِّرُ بِصَاحِبِهِ»
২৮ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নুয়াইম বিন আল-হাইসাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন সুলাইমান, আবু ইমরান আল-জাওনি থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ বিন রাবাহ আল-আনসারী থেকে এবং তিনি কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই উত্তম বাক্যের মৌমাছির গুঞ্জনের মতো এক প্রকার গুঞ্জন রয়েছে, যা তার প্রবক্তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।"