(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: -)
جزء فيه مجلسان من إملاء النسائي القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء فيه مجلسان من إملاء النسائي
المؤلف: أبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب بن علي الخراساني، النسائي (ت 303 هـ)
حققه وخرج أحاديثه: أبو اسحق الحويني الأثري
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، السعودية
الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1994 م
عدد الصفحات: 92
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নাসাঈর ইমলা থেকে সংকলিত দুই মজলিস সম্বলিত একটি পুস্তিকা (জুয) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: নাসাঈর ইমলা থেকে সংকলিত দুই মজলিস সম্বলিত একটি পুস্তিকা (জুয)
লেখক: আবু আবদির রহমান আহমাদ বিন শুআইব বিন আলি আল-খুরাসানি, আন-নাসাঈ (ওফাত ৩০৩ হিজরি)
তাহকিক ও হাদিস তাখরিজ করেছেন: আবু ইসহাক আল-হুয়াইনি আল-আসারি
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনী ও পরিবেশনা, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
1 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الْفَقِيهُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ شَيْخُ الْقُضَاةِ جَمَالُ الدِّينِ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ أَبِي الْفَضْلِ الْأَنْصَارِيُّ رضي الله عنه قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ خَمْسٍ وَسِتِّمِائَةٍ بِجَامِعِ دِمَشْقَ قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ الشَّيْخُ الْفَقِيهُ الْإِمَامُ الثِّقَةُ أَبُو مُحَمَّدٍ هُبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ طَاوُسٍ الْمُقْرِئُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي مُحَرَّمٍ مِنْ سَنَةِ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ: أَنْبَأَ الشَّيْخُ أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الْمُحْسِنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِبَغْدَادَ بِالْجَانِبِ الْغَرْبِيِّ فِي جُمَادَى الْآخِرَةِ مِنْ سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِمِائَةٍ قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكَمُ الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ مِسْكِينٍ الْفَقِيهُ الشَّافِعِيُّ بِقِرَاءَتِكَ عَلَيْهِ فِي مَنْزِلِهِ قَالَ: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَبْيَضُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبْيَضَ الْقُرَشِيُّ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ سِتٍّ وَسَبْعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، ثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيِّ النَّسَائِيُّ إِمْلَاءً سَنَةَ ثَلَاثِمِائَةٍ قَالَ: ⦗ص: 33⦘ أَنْبَأَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه قَالَ: " إِنَّ مِنْ أَحَبِّ الْكَلَامِ إِلَى اللَّهِ عز وجل أَنْ يَقُولَ الْعَبْدُ وَهُوَ سَاجِدٌ: يَا رَبِّ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي "
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী, ফকীহ, ইমাম, আলিম, বিচারপতিদের প্রধান জামালুদ্দীন আবুল কাসিম আবদুস সামাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবুল ফাদল আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু), ৬০৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে দামেস্কের জামে মসজিদে তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তাঁকে বলা হলো: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ফকীহ, ইমাম, বিশ্বস্ত আবু মুহাম্মাদ হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে তাউস আল-মুকরী, ৫২৭ হিজরি সনের মুহাররম মাসে তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আপনি তা শ্রবণ করছিলেন; তিনি তা স্বীকার করলেন এবং বললেন: সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মানসুর আবদুল মুহসিন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ, ৪০২ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর সম্মুখে আমার পাঠের মাধ্যমে; আমি তাঁকে বললাম: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হাসান আবদুল মালিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ ইবনে মিসকীন ফকীহ শাফিয়ী, তাঁর বাসভবনে আপনার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আবইয়াদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবইয়াদ আল-কুরাশী ৩৭৬ হিজরি সনের জিলহজ মাসে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী আন-নাসায়ী ৩০০ হিজরি সনে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে। তিনি বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান, সুফিয়ান থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি জির থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র নিকট সর্বাধিক প্রিয় কথার অন্তর্ভুক্ত হলো সিজদাবনত অবস্থায় বান্দার এ কথা বলা: হে আমার রব! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
2 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ مُعَاوِيَةَ، ثنا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ صَبِيُّ لَهُ فَجَعَلَ يَضُمُّ صَبِيَّهُ إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَتَرْحَمُهُ؟» قَالَ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «فَاللَّهُ أَرْحَمُ بِهِ مِنْكَ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ»
২ - উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া থেকে, ইয়াযীদ বিন কায়সান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাযিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক আনসারী ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর একটি ছোট সন্তান ছিল। তিনি তাঁর সন্তানকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি কি তাকে দয়া করছ?» তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «আল্লাহ তার প্রতি তোমার চেয়েও অধিক দয়ালু এবং তিনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
3 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ جُنْدُبًا الْبَجَلِيَّ، قَالَ: «إِنِ اسْتَطَعْتَ فَلَا يَحُولَنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْجَنَّةِ مِلْءُ كَفًّ مِنْ دَمٍ تُهْرِيقُهُ ⦗ص: 34⦘ كَأَنَّكَ تَذْبَحُ دَجَاجَةً فَكُلَّمَا تَعَرَّضْتَ لِبَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ حَالَ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ وَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ فَلَا يُدْخِلَنَّ بَطْنَهُ إِلَّا طَيِّبًا فَإِنَّ أَوَّلَ مَا يَنْتِنُ مِنَ الْإِنْسَانِ بَطْنُهُ»
৩ - উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়ায বিন হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, হাসান থেকে বর্ণিত যে, জুনদুব আল-বাজালী বলেছেন: "যদি তুমি সক্ষম হও তবে তোমার এবং জান্নাতের মাঝে যেন এক অঞ্জলি পরিমাণ রক্তও আড়াল হয়ে না দাঁড়ায় যা তুমি প্রবাহিত করেছ, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ যেন তুমি একটি মুরগি জবাই করেছ। যখনই তুমি জান্নাতের দরজাগুলোর কোনো একটির সামনে উপস্থিত হবে, তখনই তা (সেই রক্ত) তোমার এবং জান্নাতের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। আর তোমাদের মধ্যে যে সক্ষম, সে যেন তার পেটে পবিত্র বস্তু ব্যতীত অন্য কিছু প্রবেশ না করায়; কেননা মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাঝে সর্বপ্রথম তার পেটই পচে দুর্গন্ধযুক্ত হয়।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
4 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ، يَقُولُ: «كُلُّ ذَنْبٍ جُعِلَتْ فِيهِ كَفَّارَةٌ فَهُوَ مِنْ أَيْسَرِ الذُّنُوبِ، وَكُلُّ ذَنْبٍ لَمْ يُجْعَلْ فِيهِ الْكَفَّارَةُ فَهُوَ أَشَدُّ الذُّنُوبِ، وَالْكَذِبُ لَمْ يُجْعَلْ فِيهِ كَفَّارَةٌ مِنْ عِظَمِهِ»
৪ - উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: «যে সকল পাপের জন্য কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো তুলনামূলক লঘু পাপ; আর যে সকল পাপের জন্য কোনো কাফফারা নির্ধারণ করা হয়নি, সেগুলো অত্যন্ত গুরুতর পাপ, আর এর ভয়াবহতার কারণেই মিথ্যার জন্য কোনো কাফফারা রাখা হয়নি।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
5 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أنبا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ، فَإِنَّ، الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَالْبِرُّ يَهْدِي إِلَى ⦗ص: 38⦘ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى صِدِّيقًا، وَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا»
৫ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি জারির থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধরো, কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের দিকে পরিচালিত করে, আর পুণ্য জান্নাতের দিকে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ পরিচালিত করে। আর মানুষ সত্য বলতে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহর নিকট তাকে পরম সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর অবশ্যই মিথ্যা পাপাচারের দিকে পরিচালিত করে, আর পাপাচার আগুনের (জাহান্নামের) দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহর নিকট তাকে চরম মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
6 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ: اسْتَذْكِرُوا الْقُرْآنَ فَلَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنَ النَّعَمِ ⦗ص: 39⦘ مِنْ عُقُلِهِ، وَلَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ: نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَلْ هُوَ نُسِّيَ»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর, মনসুর থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমরা কুরআনকে বারবার স্মরণ করো, কারণ মানুষের অন্তর থেকে এটি রশি দিয়ে বাঁধা উটের চেয়েও অধিক দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যায়। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ আর তোমাদের কেউ যেন কখনো না বলে: ‘আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি’, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
7 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: ذُكِرَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَامَ لَيْلَةً حَتَّى أَصْبَحَ قَالَ: «ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنِهِ»
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবন ইবরাহীম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর, মানসূর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো যে সকাল হওয়া পর্যন্ত সারা রাত ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। তিনি বললেন: "এ এমন এক ব্যক্তি যার কানে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
8 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنبا مُصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ، ثنا زَائِدَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا هُوَ بِنِسَاءٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فِي الْمَسْجِدِ فَأَتَاهُنَّ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَقَالَ: «لَا يَمُوتُ لِامْرَأَةٍ مِنْكُنَّ ثَلَاثَةُ أَوْلَادٍ إِلَّا دَخَلَتِ الْجَنَّةَ ⦗ص: 41⦘» قَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْ أَجَلِّهِنَّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ ذَاتَ الِاثْنَيْنِ؟ قَالَ: «وَذَاتُ الِاثْنَيْنِ»
৮ - ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসআব ইবনে আল-মিকদাম আমাদের অবহিত করেছেন, যায়িদাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন, অতঃপর মসজিদে আনসারদের কিছু মহিলাকে দেখতে পেলেন। তিনি তাদের নিকট আসলেন এবং তাদের উপদেশ ও নসিহত প্রদান করলেন। তিনি বললেন: «তোমাদের কোনো মহিলার যদি তিনটি সন্তান মারা যায়, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘» তাদের মধ্যে জনৈক অতি মর্যাদাবান মহিলা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যার দুটি সন্তান (মারা গেছে) তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: «যার দুটি সন্তান (মারা গেছে) তার ক্ষেত্রেও একই কথা হবে।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
9 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنبا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনু ইবরাহিম, আমাদের খবর দিয়েছেন জারীর, মুগীরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আমি হাউযের পাড়ে তোমাদের অগ্রগামী হব»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
10 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنبا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثنا مَعْمَرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ لِي أَنْ أَعْلَمَ إِذَا أَحْسَنْتُ قَالَ: " إِذَا سَمِعْتَ جِيرَانَكَ يَقُولُونَ: أَحْسَنْتَ، فَقَدْ أَحْسَنْتَ، وَإِذَا سَمِعْتَهُمْ يَقُولُونَ: قَدْ أَسَأْتَ، فَقَدْ أَسَأْتَ "
১০ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবন ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি যখন ভালো কাজ করি তখন তা আমি কীভাবে জানব? তিনি বললেন: "যখন তুমি তোমার প্রতিবেশীদের বলতে শুনবে যে, তুমি ভালো কাজ করেছ, তবে তুমি সত্যিই ভালো করেছ; আর যখন তুমি তাদের বলতে শুনবে যে, তুমি মন্দ কাজ করেছ, তবে তুমি সত্যিই মন্দ কাজ করেছ।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
11 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنُحَاسَبُ بِمَا عَمِلْنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَّا مَنْ أَحْسَنَ مِنْكُمْ فِي الْإِسْلَامِ فَإِنَّهُ لَا يُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَأَمَّا مَنْ أَسَاءَ أُخِذَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম, তিনি জারির থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! জাহেলিয়াতের যুগে আমরা যা করেছি তার জন্য কি আমাদের জবাবদিহি করতে হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তবে তোমাদের মধ্যে যে ইসলামে আসার পর উত্তম আমল করবে, তাকে জাহেলিয়াতের আমলের জন্য পাকড়াও করা হবে না। আর যে মন্দ আমল করবে, তাকে পূর্বের ও পরের সবকিছুর জন্য পাকড়াও করা হবে।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
12 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَرْوَزِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مِقْسَمٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اتَّقُوا الظُّلْمَ، فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَإِيَّاكُمْ وَالشُّحَّ فَإِنَّهُ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَمَلَهُمْ عَلَى أَنْ سَفَكُوا دِمَاءَهُمْ وَاسْتَحَلُّوا مَحَارِمَهُمْ»
১২ - হাসান ইবনে ইসহাক আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে কাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মিকসাম থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা জুলুম (অবিচার) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে। আর তোমরা কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে; এটি তাদেরকে প্ররোচিত করেছিল যাতে তারা নিজেদের রক্তপাত ঘটায় এবং নিজেদের জন্য যা হারাম করা হয়েছিল তা হালাল করে নেয়।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
13 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ دَيْلَمٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَرْبَعٍ فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى لَا يَنَامُ وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَنَامَ يَخْفِضُ ⦗ص: 46⦘ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ النَّهَارِ وَعَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ اللَّيْلِ حِجَابُهُ النُّورُ لَوْ كَشَفَهَا لَأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ كُلَّ شَيْءٍ أَدْرَكَهُ بَصَرُهُ»
১৩ - হাসান বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকিম বিন দায়লাম থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মূসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে চারটি কথা বললেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ঘুমান না এবং ঘুমানো তাঁর জন্য সমীচীন নয়। তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ তুলাদণ্ড নিচু করেন এবং তা উঁচু করেন। দিনের আমলের পূর্বে রাতের আমল এবং রাতের আমলের পূর্বে দিনের আমল তাঁর নিকট উত্তোলন করা হয়। তাঁর পর্দা হলো নূর। তিনি যদি তা উন্মোচন করে দিতেন, তবে তাঁর চেহারার জ্যোতি তাঁর দৃষ্টির সীমানায় থাকা সবকিছুকে জ্বালিয়ে দিত।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ ثنا شَاذَانُ بْنُ عُثْمَانَ، ثنا أَبِي، أنبا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: مَرَّ أَبُو بَكْرٍ وَالْعَبَّاسُ رضي الله عنهما بِمَجْلِسٍ مِنْ مَجَالِسِ الْأَنْصَارِ وَهُمْ يَبْكُونَ فَقَالَ: مَا يُبْكِيكُمْ؟ قَالُوا: ذَكَرْنَا مَجْلِسَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَّا فَدَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ عَصَبُوا عَلَى رَأْسِهِ حَاشِيَةَ بُرْدٍ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ وَلَمْ يَصْعَدْهُ بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْمِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: ⦗ص: 48⦘ «أُوصِيكُمْ بِالْأَنْصَارِ فَإِنَّهُمْ كَرِشِي وَعَيْبَتِي وَقَدْ قَضَوُا الَّذِي عَلَيْهِمْ وَبَقِيَ الَّذِي لَهُمْ فَاقْبَلُوا مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَتَجَاوَزُوا عَنْ مُسِيئِهِمْ»
১৪ - আবু আলী মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শাযান বিন উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম বিন যায়িদ থেকে, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু বকর ও আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আনসারদের মজলিসগুলোর মধ্য হতে একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁরা কাঁদছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কেন কাঁদছো?" তাঁরা বললেন: "আমাদের মাঝে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মজলিসের কথা স্মরণ করে (তা হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায়) আমরা কাঁদছি।" অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর মাথায় একটি চাদরের পাড় দিয়ে পট্টি বাঁধা ছিল। এরপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং সেই দিনের পর তিনি আর কখনো মিম্বরে আরোহণ করেননি। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করলেন এবং বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ «আমি তোমাদের আনসারদের ব্যাপারে অসিয়ত করছি; কেননা তাঁরা আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আমার আস্থাভাজন। তাঁরা তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁদের প্রাপ্য অধিকারসমূহ অবশিষ্ট রয়েছে। সুতরাং তোমরা তাঁদের মধ্য হতে যারা সৎকর্মশীল তাঁদের সৎকর্ম কবুল করো এবং তাঁদের মধ্যে যারা ভুলকারী তাঁদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিও।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ خُنَيْسٍ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ نَعُودُهُ فَوَجَدْنَا عِنْدَهُ سَعِيدَ بْنَ حَسَّانَ الْمَخْزُومِيَّ فَقَالَ سُفْيَانُ لِسَعِيدٍ: الْحَدِيثَ الَّذِي حَدَّثْتَنِيهِ عَنْ أُمِّ صَالِحٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ ارْدُدْهُ عَلَيَّ فَقَالَ سَعِيدٌ: حَدَّثَتْنِي أُمُّ صَالِحٍ عَنْ صَفِيَّةَ ابْنَةِ شَيْبَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 51⦘ «كُلُّ كَلَامِ ابْنِ آدَمَ عَلَيْهِ لَا لَهُ إِلَّا أَمْرًا بِمَعْرُوفٍ أَوْ نَهْيًا عَنْ مُنْكَرٍ أَوْ ذِكْرًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»
১৫ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে খুনাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা সুফিয়ান আস-সাওরীর অসুস্থতার সংবাদ নিতে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন আমরা তাঁর নিকট সাঈদ ইবনে হাসান আল-মাখযূমীকে উপস্থিত পেলাম। সুফিয়ান সাঈদকে বললেন: আপনি উম্মে সালিহ থেকে, তিনি সাফিয়্যা বিনতে শায়বাহ থেকে এবং তিনি উম্মে হাবীবা থেকে যে হাদিসটি আমার নিকট বর্ণনা করেছিলেন, সেটি আমার কাছে পুনরায় বর্ণনা করুন। সাঈদ বললেন: উম্মে সালিহ আমার নিকট সাফিয়্যা বিনতে শায়বাহ থেকে, তিনি উম্মে হাবীবা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ «আদম সন্তানের প্রতিটি কথা তার বিপক্ষে যাবে, তার পক্ষে নয়; তবে সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ অথবা মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর জিকির ও মহিমান্বিত।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا أَخَذْتُ بِهِ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ وَلَا تُكْثِرْ عَلَيَّ فَقَالَ: «لَا تَغْضَبْ»
১৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যা আঁকড়ে ধরলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব এবং আমার ওপর (কাজের) আধিক্য করবেন না। তখন তিনি বললেন: «তুমি রাগ করো না»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
17 - وَأَتَاهُ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، ⦗ص: 53⦘ قَالَ: «كُنَّ مُحْسِنًا» ، قَالَ: وَكَيْفَ أَعْلَمُ أَنِّي مُحْسِنٌ؟، فَقَالَ: " تَسْأَلْ جِيرَانَكَ فَإِنْ قَالُوا: إِنَّكَ مُحْسِنٌ فَإِنَّكَ مُحْسِنٌ وَإِنْ قَالُوا: إِنَّكَ مُسِيءٌ فَأَنْتَ مُسِيءٌ "
১৭ - এবং তাঁর নিকট অন্য এক ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন এক আমলের কথা বলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ তিনি বললেন: «তুমি সদাচারী হও», তিনি বললেন: আমি কীভাবে জানব যে আমি সদাচারী? তিনি বললেন: "তুমি তোমার প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসা করো; তারা যদি বলে যে তুমি সদাচারী তবে তুমি সদাচারী, আর যদি তারা বলে যে তুমি দুরাচারী তবে তুমি দুরাচারী।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
18 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ مِائَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ غُفِرَ لَهُ»
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন উসমান থেকে, তিনি আবু হামযাহ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যার জানাজার সালাত একশত জন মুসলিম আদায় করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
19 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، أنبا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، ثنا أَيُّوبُ السِّخْتِيَانِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ ⦗ص: 57⦘ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «نَهَى عَنْ بَيْعِ الْمَاءِ»
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-হাসান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন ওয়াকিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব আস-সিখতিয়ানি, আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি জাবির বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "পানি বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ نُعَيْمٍ، أنبا حَبَّانُ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ الْجَنَدِيُّ، أَنَّ طَاوُسًا كَانَ " لَا يَدَعُ جَارِيَةً لَهُ سَوْدَاءَ إِلَّا أَمَرَ بِهِنَّ فَخَضَّبْنَ أَيْدِيَهُنَّ وَأَرْجُلَهُنَّ لِيَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى وَيَقُولُ: «يَوْمُ عِيدٍ»
২০ - মুহাম্মদ ইবনে হাতিম ইবনে নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি হুমাইদ আল-জানাদি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাউস (রহ.) " তাঁর কোনো কৃষ্ণবর্ণের দাসীকে বাদ দিতেন না, বরং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে তাদের হাত ও পা রাঙানোর নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন: «এটি ঈদের দিন।»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
21 - قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيٍّ النَّسَائِيُّ إِمْلَاءً فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ بَعْدَ صَلَاةِ الْجُمْعَةِ مِنْ جُمَادَى الْآخِرَةِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِمِائَةٍ قَالَ: أَنْبَأَ هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ هِلَالٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «إِنَّ أَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّ أَحْسَنَ الْكَلَامِ كَلَامُ اللَّهِ عز وجل وَإِنَّكُمْ سَتُحْدِثُونَ وَيُحْدَثُ لَكُمْ، كُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ»
২১ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী আন-নাসায়ী তিন শত তিন হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে জুমুআর নামাজের পর জামে মসজিদে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হান্নাদ ইবনে আস-সারী, আবু মুআবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি জামি ইবনে শাদ্দাদ থেকে, আসওয়াদ ইবনে হিলাল থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বলেছেন: “নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (আল্লাহর দরুদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর পথনির্দেশ এবং সর্বোত্তম বাণী হলো মহান আল্লাহর বাণী। আর নিশ্চয়ই তোমরা নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটাবে এবং তোমাদের জন্য নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটানো হবে; প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।”
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
22 - حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنِ ابْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 60⦘ «بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ» وَجَمَعَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ
২২ - হন্নাদ ইবনুল সারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ "আমি এবং কিয়ামত এই দুইটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি" এবং তিনি তাঁর দুই আঙুল একত্রিত করলেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
23 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا دَاوُدُ ⦗ص: 61⦘ الطَّائِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أُذَيْنَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه قَالَ: «إِذَا جَمَعَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ طَافَ لَهُمَا طَوَافَيْنِ»
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মানসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ আত-তায়ি, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন উযাইনাহ থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «যখন কেউ হজ ও উমরাহ একত্রে আদায় করবে, তখন সে উভয়ের জন্য দুইবার তাওয়াফ করবে»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا دَاوُدُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: دَخَلَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ لَهُ: «صَلِّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ تَجْلِسَ»
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে মানসুর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন খুতবা দিচ্ছিলেন এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: «বসার আগে সংক্ষেপে দুই রাকাত সালাত আদায় করো»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
25 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا دَاوُدُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُلَبِّي بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ قَالَ: «لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجَّةً»
২৫ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট দাউদ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি ইসহাক থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উমরাহ ও হজ্জের তালবিয়াহ পাঠ করতে শুনেছেন। তিনি বললেন: «আমি হাজির উমরাহ ও হজ্জের জন্য»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
26 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا دَاوُدُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «يُلَبِّي بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ مَعًا»
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মানসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ, হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে «একই সাথে উমরাহ ও হজ্জের জন্য তালবিয়া পাঠ করতে» শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
27 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا دَاوُدُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسٍ، رَفَعَهُ قَالَ: ⦗ص: 63⦘ «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلَا يَبْزُقْ عَنْ يَمِينِهِ، وَلَا تِلْقَاءَ وَجْهِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ وَتَحْتَ قَدَمِهِ» ثُمَّ تَنَخَّعَ فِي ثَوْبِهِ وَرَدَّ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ ثُمَّ قَالَ: «أَوْ هَكَذَا فَلْيَفْعَلْ»
২৭ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট দাউদ বর্ণনা করেছেন হুমাইদ আত-তওয়ীল থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি এটি (রাসূলুল্লাহর দিকে) সম্বন্ধিত করে বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ “যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে যেন তার ডান দিকে কিংবা তার সামনের দিকে থুতু না ফেলে; বরং তার বাম দিকে অথবা তার পায়ের নিচে ফেলে।” এরপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কাপড়ে শ্লেষ্মা ফেললেন এবং এর এক অংশ অন্য অংশের ওপর ভাঁজ করে দিলেন, অতঃপর বললেন: “অথবা সে যেন এইরকম করে।”
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
28 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا دَاوُدُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: قِيلَ لِعُمَرَ: ⦗ص: 64⦘ إِنَّ سَعْدًا لَا يُحْسِنُ الصَّلَاةَ قَالَ: «ادْعُوا لِي أَبَا إِسْحَاقَ» قَالَ: «يَا أَبَا إِسْحَاقَ يَزْعُمُونَ أَنَّكَ لَا تُحْسِنُ الصَّلَاةَ» قَالَ: أَمَّا أَنَا فَأُصَلِّي بِهِمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْكُدُ الْأُولَيَيْنِ وَأَحْذِفُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ ⦗ص: 65⦘ قَالَ: «ذَاكَ الظَّنُّ بِكَ»
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে মানসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ, আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমরকে বলা হলো: ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ নিশ্চয়ই সাদ সুন্দরভাবে সালাত আদায় করতে পারেন না। তিনি বললেন: «আমার নিকট আবু ইসহাককে ডেকে আনো»। তিনি বললেন: «হে আবু ইসহাক, তারা দাবি করছে যে আপনি সুন্দরভাবে সালাত আদায় করতে পারেন না»। তিনি বললেন: «আমি তো তাদের নিয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের মতোই সালাত আদায় করি; আমি প্রথম দুই রাকাতে দীর্ঘ করি এবং শেষ দুই রাকাতে সংক্ষিপ্ত করি» ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ তিনি বললেন: «আপনার ব্যাপারে আমার এমনটাই ধারণা ছিল»
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি মাজলিসানি মিন ইমলাইল নাসায়ী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
29 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: «إِذَا وَجَدَ مَسَّ الطَّعَامِ عَلَى لِسَانِهِ تَوَضَّأَ»
২৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে মানসুর, দাউদ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে আবু সুলাইমান থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন কেউ তার জিহ্বায় খাবারের স্বাদ অনুভব করবে, তখন সে যেন ওযু করে»