(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: -)
تخريج الأحاديث المرفوعة المسندة في كتاب التاريخ الكبير   (محمد بن عبد الكريم بن عبيد)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: تخريج الأحاديث المرفوعة المسندة في كتاب «التاريخ الكبير»

للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري (194 - 256 هـ)

إعداد: د. محمد بن عبد الكريم بن عبيد

أستاذ الحديث وعلومه المشارك، قسم الكتاب والسنة، جامعة أم القرى

أصل الكتاب: أطروحة دكتوراة، جامعة أم القرى - كلية الدعوة وأصول الدين - فرع الكتاب والسنة، 1411 هـ

الناشر: مكتبة الرشد للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তারিখুল কবির গ্রন্থে বর্ণিত মারফু মুসনাদ হাদিসসমূহের তাখরিজ   (মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম বিন উবাইদ)

বিভাগ: তাখরিজ এবং আতরাফ

গ্রন্থ: «আত-তারিখুল কবির» গ্রন্থে বর্ণিত মারফু মুসনাদ হাদিসসমূহের তাখরিজ

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি এর (১৯৪ - ২৫৬ হিজরি)

প্রস্তুতকরণ: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম বিন উবাইদ

সহযোগী অধ্যাপক, হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র, কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়

মূল গ্রন্থ: পিএইচডি থিসিস, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ - কিতাব ও সুন্নাহ শাখা, ১৪১১ হিজরি

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ক্রমিক সংখ্যায়িত)

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌شكر وتقدير

أحمدك اللهم حمد الشاكرين، وأصلي وأسلم على سيد المرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحابته أجمعين.

أما بعد

فتأسيا بكريم خلق رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وإنطلاقا من هديه، وعملا بسنته في الحديث المروي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم: "من لم يشكر الناس لم يشكر الله عز وجل"‌‌(1)

فإِني أتوجه بجميل الشكر لله عز وجل، القائل {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ}‌‌(2) فله سبحانه وتعالى الشكر أولا وآخرا على سوابغ نعمه، الظاهرة والباطنة. ثم أسجل هنا لأصحاب الفضل فضلهم، فإِنه لا يعرف الفضل لأهل الفضل إِلا ذووه.

فأتوجه بخالص الشكر وعظيم الإِمتنان لأستاذي وشيخي المحدث الأستاذ الدكتور/ أحمد محمد نور سيف - حفظه الله- الذي تفضل بالأشراف على هذه الرسالة، ومنحني من وقته الكثير -على كثرة مشاغله- فجزاه الله عني خير الجزاء.

--------------------------------------------

‌‌(1) أخرجه الإِمام أحمد فى المسند (2/ 258) عن عبد الواحد، عن الربيع بن مسلم القرشي، عن محمد بن زياد عنه به. والبخاري في الأدب المفرد (1/ 309) من طريق: موسى بن إِسماعيل، وأبو داود في السنن (4/ 255) عن مسلم بن إِبراهيم، والترمذي في الجامع (4/ 339) عن ابن المبارك، كلهم عن الربيع به نحوه. قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.

‌‌(2) سورة إبراهيم آية (7).

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন

হে আল্লাহ, আমি আপনার প্রশংসা করছি শোকরকারী ব্যক্তিদের মতো, আর আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি রাসূলদের সর্দার আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান চরিত্রের অনুসরণ করে, তাঁর হিদায়াত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং তাঁর সুন্নাহর ওপর আমল করে—যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে মহান আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না।"‌‌(১)

আমি সেই মহান আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যিনি বলেছেন: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নিয়ামত) বাড়িয়ে দেব।" সুতরাং তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য পরিপূর্ণ নিয়ামতসমূহের জন্য আদিতে ও অন্তে সমস্ত শুকরিয়া একমাত্র তাঁরই। এরপর আমি এখানে গুণীজনদের অবদানের কথা স্বীকার করছি, কারণ গুণীজনদের মর্যাদা কেবল গুণীজনরাই অনুধাবন করতে পারেন।

আমি আমার উস্তাদ ও শায়খ, মুহাদ্দিস প্রফেসর ডক্টর আহমদ মুহাম্মদ নূর সাইফ—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—এর প্রতি আমার একান্ত কৃতজ্ঞতা ও বিশেষ ধন্যবাদের কথা পেশ করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভটির তত্ত্বাবধানের অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁর শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন; আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

--------------------------------------------

‌‌(১) ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ (২/২৫৮) গ্রন্থে আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি রবী ইবনে মুসলিম আল-কুরাশী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদ (১/৩০৯) গ্রন্থে মূসা ইবনে ইসমাইলের সূত্রে, আবু দাউদ সুনান (৪/২৫৫) গ্রন্থে মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম থেকে এবং তিরমিযী জামি' (৪/৩৩৯) গ্রন্থে ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই রবী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ।

‌‌(২) সূরা ইবরাহীম, আয়াত (৭)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৬)
كما أتقدم بخالص الشكر للعاملين المخلصين بجامعة أم القرى، وأخص منهم العاملين بكلية الدعوة وأصول الدين، والدراسات العليا الشرعية.

كما أشكر كل من قدم لي جميل الرأي، وحسن النصح، وأفادني بأثارة من علم. وأسأل الله أن يوفقنا ويسدد خطانا لما يحبه ويرضاه. إِنه سبحانه قريب مجيب الدعوات، وصلى الله على نبينا محمد وعلى أله وصحبه أجمعين.

* * *
আমি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একনিষ্ঠ কর্মীদের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, বিশেষ করে দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদ এবং উচ্চতর শরীআহ শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের।

এছাড়াও আমি তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে চমৎকার মতামত দিয়েছেন, উত্তম নসিহত করেছেন এবং ইলমের কোনো নিদর্শনের মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেছেন। আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাওফিক দান করেন এবং তিনি যা ভালোবাসেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন সেই দিকে আমাদের পদক্ষেপসমূহকে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে এবং দুআ কবুলকারী। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

* * *
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين. والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد. وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أما بعد ..

فإِن كتاب "التاريخ الكبير" للإِمام أبي عبد الله: محمد بن إِسماعيل البخاري رحمه الله يحتل مكانة الصدارة في الدراسات الحديثية، منذ أن صنفه صاحبه وِإلى يومنا هذا.

وذلك لإِمامة مصنفه الذي أذعن لأحكامه الموافق والمخالف. ولإِشتتماله على مادة علمية قيمة، من حيث الصناعة الحديثية، حيث أودع فيه علما جما قد لا يفطن إِليه إِلا أهل الإِختصاص في هذا الفن.

فقد كان ذلك دافعا لي، إِلى العمل في هذا الكتاب، وزادني فيه رغبة، وجود علاقة بين عملي في رسالة الماجستير وموضوعها "تفسير سورة يوسف عليه السلام" من تفسير القرآن العظيم مسندا عن "، رَسول الله صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين " للإِمام الحافظ عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي، وبين هذا الموضوع، لما بينهما من التقارب النسبي، من حيث دراسة الأسانيد والحكم عليها والتخريج.

وكنت كلما نظرت في كتاب "التأريخ الكبير" إِزددت به إِعجابا، لما حبا الله صاحبه من ذكاء، إِستطاع به أن يجمع مادة واسعة ويختصرها بإِشارات أودعها هذا الكتاب تدل على إِطلاع واسع على غالب ما كتب في زمانه من حديث، وما دون من علم وتأريخ.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও রাসুলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নবি মুহাম্মাদের প্রতি, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের প্রতি।

অত:পর...

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) রচিত "আত-তারিখুল কাবির" গ্রন্থটি হাদীস বিষয়ক গবেষণায় শীর্ষস্থানীয় মর্যাদা দখল করে আছে, যখন থেকে এর লেখক এটি সংকলন করেছেন তখন থেকে আজ পর্যন্ত।

আর এটি এর সংকলকের ইমামত বা নেতৃত্বের কারণে, যাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি একমত ও দ্বিমত পোষণকারী সকলেই নতি স্বীকার করেছেন। এবং এর কারণ হলো এতে হাদীস শাস্ত্রের কারিগরি দিক থেকে মূল্যবান ইলমি উপাদানের সমাবেশ ঘটা, যেখানে তিনি প্রচুর জ্ঞান নিহিত করেছেন যা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ ব্যতীত অন্যরা হয়তো উপলব্ধি করতে পারে না।

এটিই ছিল এই কিতাব নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে আমার জন্য একটি চালিকাশক্তি, এবং এতে আমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আমার মাস্টার্স থিসিসের কাজের সাথে এর বিষয়ের বিদ্যমান সম্পর্ক, যার বিষয়বস্তু ছিল ইমাম হাফিজ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাযী রচিত "তাফসীরুল কুরআনিল আযীম" হতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), সাহাবী ও তাবেয়ীদের সূত্রে বর্ণিত "সূরা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর তাফসীর", এবং বর্তমান এই বিষয়ের মধ্যে; যেহেতু সনদগুলোর পর্যালোচনা, সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান এবং তাখরীজের দিক থেকে এই দুটির মাঝে আপেক্ষিক নৈকট্য রয়েছে।

আমি যতবারই "আত-তারিখুল কাবির" কিতাবটির দিকে দৃষ্টিপাত করেছি, ততই এর প্রতি আমার মুগ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ আল্লাহ এর লেখককে এমন প্রজ্ঞা দান করেছেন যার মাধ্যমে তিনি বিশাল বিষয়বস্তু সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন এবং এই কিতাবে নিহিত কিছু ইশারার মাধ্যমে সেগুলোকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, যা তাঁর সময়ে লিখিত অধিকাংশ হাদীস এবং লিপিবদ্ধ ইলম ও ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর ব্যাপক অবগতির প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৮)
وتيقنت أنه كلما زادت صلتي بهذا الكتاب، وتأملي فيه، إِزدادت مداركي، وتوسعت معرفتي بفنون "علم الحديث" و "تأريخه". وقد رأيت أن الإِشتغال به، وفهمه، وحل إِشاراته، وفك رموزه، هو خير معين لي في هذه المرحلة من مراحل التحصيل العلمي، لأنه سوف يفتح لي آفاقا واسعة في هذا الميدان، تسنح لي بمواصلة البحث والدراسة إِلى أمد بعيد- ان شاء الله تعالى-.

إِلا أن الذي وقفت عنده متحيرا هو: كيف تكون البداية؟ فهذا الكتاب بحر، فمن أي سواحله أبدأ؟

وبعد الإِستخارة والإِستشارة إِستقر الرأي أن تكون البداية بتخريج الأحاديث المرفوعة المسندة فقط من هذا الكتاب.

وهكذا خرجت هذه البداية في الصورة التي بين يدي القارئ الكريم.

هذه البداية -على سعتها- لم تمنعني من إِستخراج أشياء أخرى من هذا الكتاب، سارت جنبا إِلى جنا مع إِستخراجي للأحاديث المرفوعة المسندة، مثل: الأحاديث الموقوفة، والعلل الواردة في هذا الكتاب، وغير ذلك، وهي لا تقل مساحة عن موضوع هذه الدراسة إِن لم تزد عليها، أسأل الله أن ييسر لي إِخراجها في مقتبل الأيام.

لقد كانت خطة هذا الموضوع تسير على ما يلي: -

‌‌1 - إِستخراج الأحاديث المرفوعة المسندة، وتمييزها عن الأحاديث التي يتخلف عنها واحد من القيود. وأعني بالأحاديث المرفوعة المسندة، تلك الأحاديث التي رواها الإِمام البخاري رحمه الله بسنده عن شيوخه إِلى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وأدخلت في ذلك الصحابة المختلف في صحبتهم، وكذلك بعض الأحاديث المختلف فيها التي ظاهرها الرفع وهي موقوفة، والمتصلة وهي

في حقيقتها مرسلة، مع بيان الراجح في ذلك.

وقد عرف الحافظ ابن الصلاح رحمه الله الحديث المرفوع بأنه: ما أضيف
আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, এই কিতাবের সাথে আমার সম্পর্ক এবং এতে আমার চিন্তা-গবেষণা যত বৃদ্ধি পেয়েছে, আমার বোধশক্তি তত শাণিত হয়েছে এবং "হাদিস বিজ্ঞান" ও এর "ইতিহাসের" বিভিন্ন শাখায় আমার জ্ঞান ততই প্রসারিত হয়েছে। আর আমি এটি অনুধাবন করেছি যে, জ্ঞান অর্জনের এই পর্যায়ে এই কিতাব নিয়ে ব্যস্ত থাকা, এটি বোঝা, এর ইঙ্গিতসমূহ সমাধান করা এবং এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করা আমার জন্য সর্বোত্তম সহায়ক। কারণ এটি এই ময়দানে আমার জন্য এমন ব্যাপক দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা আমাকে সুদূরপ্রসারী গবেষণা ও অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে—ইনশাআল্লাহ তাআলা।

তবে যে বিষয়টি আমাকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছিল তা হলো: শুরুটা কীভাবে হবে? কারণ এই কিতাব তো এক বিশাল সমুদ্র; এর কোন তীর থেকে আমি শুরু করব?

অতঃপর ইস্তিখারা এবং পরামর্শের পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, এই কিতাব থেকে শুধুমাত্র মারফু ও মুসনাদ হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করার মাধ্যমেই কাজ শুরু হবে।

আর এভাবেই এই সূচনাটি সেই রূপে প্রকাশ পেল যা এখন সম্মানিত পাঠকের সামনে রয়েছে।

এই সূচনাটি ব্যাপক হওয়া সত্ত্বেও এটি আমাকে এই কিতাব থেকে অন্যান্য বিষয় উদ্ধারে বাধা দেয়নি, যা মারফু ও মুসনাদ হাদিসগুলো সংগ্রহের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে চলেছে; যেমন: মাওকুফ হাদিসসমূহ, এই কিতাবে বর্ণিত ‘ইলাল’ (সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং অন্যান্য বিষয়। এগুলোর পরিধি এই গবেষণার বিষয়ের চেয়ে কম নয়, বরং হয়তো বেশিই হবে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি অনাগত দিনগুলোতে এগুলো প্রকাশ করা আমার জন্য সহজ করে দেন।

এই বিষয়ের কর্মপরিকল্পনা নিম্নরূপ ছিল: -

‌‌১ - মারফু ও মুসনাদ হাদিসগুলো বের করা এবং সেগুলোকে এমন হাদিস থেকে পৃথক করা যেগুলোতে এই শর্তগুলোর কোনো একটির অভাব রয়েছে। আর মারফু ও মুসনাদ হাদিস বলতে আমি সেই হাদিসগুলোকে বোঝাচ্ছি, যেগুলো ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর উস্তাদদের থেকে নিজের সনদে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আর এর মধ্যে আমি সেই সব সাহাবিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি যাদের সাহাবিত্ব নিয়ে মতভেদ আছে। তেমনি এমন কিছু হাদিসকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি যেগুলোর ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; যেগুলোর বাহ্যিক রূপ মারফু হলেও আসলে মাওকুফ, এবং মুত্তাসিল যা

প্রকৃতপক্ষে মুরসাল, সেই সাথে এ বিষয়ে অগ্রগণ্য মতটিও স্পষ্ট করেছি।

হাফিজ ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) মারফু হাদিসের সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি হলো তা-ই যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৯)
إِلى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خاصة، ولا يقع مطلقه على غير ذلك، ويدخل في المرفوع المتصل والمنقطع والمرسل، ومن جعل من أهل الحديث المرفوع في مقابل المرسل، فقد عنى بالموضوع المتصل‌‌(1).

قال ابن الصلاح: ذكر الخطيب أن المسند عند أهل الحديث هو الذي إتصل إِسناده من رواية الى منتهاه وأكثر من يستعمل ذلك فيما جاء عن رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌(2).

وعرف الحاكم المسند بقوله: والمسند من الحديث أن يرويه المحدث عن شيخ يظهر سماعه منه لسند يحتمله، وكذلك سماع شيخه، من شيخه، إِلى أن يصل الإِسناد إِلى صحابي مشهور إِلى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌(3).

وقال ابن عبدالبر: وأما المسند: فهو ما رفع إِلى النبي صلى الله عليه وسلم خاصة، وقد يكون متصلا مثل: مالك عن نافع، عن ابن عمر عن رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم. وقد يكون منقطعا ..‌‌(4).

وقال أيضا:

وقد ذهب قوم إِلى أن المسند لا يقع الا على ما إِتصل مرفوعا إِلى النبي صلى الله عليه وسلم‌‌(5).

وللأقوال المختلفة في تحديد مدلول المسند والمرفوع جمعت بينهما ليتحدد النوع الذي أردت أن تقتصر عليه الدراسة وهو المرفوع المتصل.

وإستخراج الأحاديث وفق الضوابط المذكورة، أمر عسر، ولا يعرف مقدار الجهد المبذول في ذلك إِلا من عرف طريقة البخاري في إيراده لأحاديث كتابه

--------------------------------------------

‌‌(1) المقدمة: ص (50).

‌‌(2) المقدمة: ص (49).

‌‌(3) معرفة علوم الحديث: (17)، وشرح نخبة الفكر: ص (120).

‌‌(4) التمهيد (1/ 21).

‌‌(5) المصدر السابق (1/ 25).

বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি (সম্পৃক্ত)। এর ব্যাপক ব্যবহার অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এটি মারফু মুত্তাসিল (সংযুক্ত), মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) এবং মুরসাল (কর্তিত) -এর অন্তর্ভুক্ত হয়। হাদীস বিশারদদের মধ্যে যারা মারফূ-কে মুরসালের বিপরীতে গণ্য করেছেন, তারা এর দ্বারা মুত্তাসিল বা সংযুক্ত বিষয়কেই বুঝিয়েছেন‌‌(১).

ইবনুস সালাহ বলেন: আল-খতিব উল্লেখ করেছেন যে, হাদীস বিশারদদের নিকট মুসনাদ হলো সেই হাদীস যার সনদ বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই পরিভাষাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়‌‌(২).

আল-হাকিম মুসনাদ-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: মুসনাদ হাদীস হলো যা মুহাদ্দিস এমন একজন শায়খ থেকে বর্ণনা করেন যার থেকে তার শ্রবণ করা প্রকাশিত এবং এর সনদটিও নির্ভরযোগ্য; অনুরূপভাবে তার শায়খও তার শায়খ থেকে শুনেছেন, যতক্ষণ না সনদটি একজন প্রসিদ্ধ সাহাবীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে‌‌(৩).

ইবনু আবদিল বার বলেন: আর মুসনাদ হলো যা বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে। এটি কখনো সংযুক্ত হতে পারে, যেমন: মালিক নাফে' থেকে, তিনি ইবনু উমর থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার এটি কখনো বিচ্ছিন্নও হতে পারে..‌‌(৪).

তিনি আরও বলেন:

একদল আলিমের অভিমত এই যে, মুসনাদ কেবল সেই হাদীসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু ও মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে‌‌(৫).

মুসনাদ ও মারফু-এর অর্থ নির্ধারণে বিভিন্ন মতামতের কারণে আমি উভয়কে একত্রে উল্লেখ করেছি, যাতে সেই প্রকারটি সুনির্দিষ্ট হয় যার ওপর আমি এই গবেষণাটি সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছি; আর তা হলো 'মারফু মুত্তাসিল' (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত হাদীস)।

উল্লিখিত নীতিমালা অনুযায়ী হাদীসসমূহ উদ্ধার করা একটি কঠিন কাজ। এতে যে পরিমাণ শ্রম ব্যয় করা হয়েছে তার গুরুত্ব কেবল তিনিই বুঝবেন যিনি তার কিতাবে হাদীস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত।

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-মুকাদ্দিমাহ: পৃষ্ঠা (৫০)।

‌‌(২) আল-মুকাদ্দিমাহ: পৃষ্ঠা (৪৯)।

‌‌(৩) মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস: (১৭), এবং শারহু নুখবাতিল ফিকার: পৃষ্ঠা (১২০)।

‌‌(৪) আত-তামহীদ (১/ ২১)।

‌‌(৫) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ২৫)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১০)
هذا. فهو أحيانا يقدم سند الحديث ثم يتبعه بالمتن على الطريقة المعهودة، وهذا لا يكلف في إِستخراجه كبير عناء بخلاف ما إِذا إِبتدأ بإِيراد الحديث من أثناء السند، وبعد ذكره لمتن الحديث يورد بقية السند، وهذا كثير.

إِلا أن العناء يزداد شدة إِذا أورد السند فقط ولم يورد من الحديث شيئا على الإِطلاق، لا طرفا منه ولا إِختصارا. ويزداد هذا الأمر شدة إِذا بدأ من أثناء السند حتى إِذا إِنتهى إِلى الصحابي، عاد فأكمل السند من شيخه إِلى حيث إِبتدأ أولا. إِن هذا الأمر جعلني أقف أمام الحديث الواحد مرة بعد مرة، أدرس سنده، وأخرج متنه لأرى هل يندرج تحت موضوع الدراسة هذه فألحقه بها؟ أم يتخلف عنه فأنحيه عنها؟

إن هذه الطريقة على ما فيها من عناء، لم تخل من النفع أيضا، لأنني كنت أكتب ملاحظاتي على كل حديث من حيث التخريج وما يلحقه، ولذلك لم أكد أنته من جمع (أحاديث) هذه الدراسة إِلا ورأيت نفسي قد قطعت شوطا كبيرا في تخريجها وما هو لاحق بالتخريج.

ولهذا جاءت هذه المادة محكمة، ولا أظن أن شيئا من هذه الأحاديث يستدرك عليها- وفق هذه الشروط- إِلا ما ذهلت عنه، والله أعلم.

‌‌2 - من عادة البخاري في "تأريخه" ألا يذكر ألفاظ الأحاديث كاملة إِلا إِذا دعت الضرورة لذلك، فيكتفي بطرف منه، أو بإِختصاره، أو لا يذكره على الإِطلاق. وأحيانا يقدم لفظ حديث مرسل أو موقوف، ثم يتبعه بالمرفوع المسند، ويقول: بهذا، أو نحوه. وفي كل هذه الحالات وغيرها تكفلت بذكر لفظ الحديث المطلوب من تأريخ البخاري نفسه، أو من المراجع الأخرى.

‌‌3 - الحكم على سند الحديث:

إِن دراسة الأسانيد تتناول جانبين: -
এটি। তিনি কখনও হাদীসের সনদ উপস্থাপন করেন এবং এরপর প্রচলিত নিয়মে এর মতন (মূল পাঠ) উল্লেখ করেন, যা বের করা খুব একটা কষ্টসাধ্য নয়। তবে বিষয়টি এর বিপরীত হয় যখন তিনি সনদের মাঝখান থেকে হাদীসটি উদ্ধৃত করা শুরু করেন এবং হাদীসের মতন উল্লেখ করার পর অবশিষ্ট সনদটুকু প্রদান করেন; আর এমনটি অনেক ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে।

কিন্তু কষ্ট আরও বেড়ে যায় যখন তিনি কেবল সনদ উল্লেখ করেন এবং হাদীসের কোনো অংশই বর্ণনা করেন না, এমনকি এর কোনো অংশবিশেষ কিংবা কোনো সংক্ষেপণও নয়। বিষয়টি আরও জটিল হয়ে দাঁড়ায় যখন তিনি সনদের মাঝখান থেকে শুরু করেন এবং সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছে আবার তাঁর উস্তাদ থেকে শুরুর স্থান পর্যন্ত সনদটি পূর্ণ করেন। এই বিষয়টি আমাকে একেকটি হাদীসের সামনে বারবার থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে; আমি এর সনদ অধ্যয়ন করেছি এবং এর মতন বের করেছি যাতে দেখতে পারি যে তা এই গবেষণার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় কি না? যদি হয় তবে তা আমি সংযুক্ত করেছি, আর যদি না হয় তবে তা আমি বাদ দিয়েছি।

এই পদ্ধতিতে যদিও পরিশ্রম ছিল, তবে তা উপকার থেকে শূন্য ছিল না; কারণ আমি প্রতিটি হাদীসের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার নোটগুলো লিখছিলাম। এ কারণে আমি এই গবেষণার (হাদীসসমূহ) সংকলন শেষ করতে না করতেই দেখলাম যে, আমি সেগুলোর তাখরীজ ও তৎসংশ্লিষ্ট কাজে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছি।

এই কারণেই এই উপাদানগুলো সুসংহত হয়েছে এবং আমি মনে করি না যে এই শর্তানুযায়ী এসব হাদীসের ওপর আর কোনো সংযোজন বা সংশোধন সম্ভব—যা আমার অজ্ঞাতসারে বাদ পড়েছে তা ব্যতীত, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

‌‌২ - ইমাম বুখারীর তাঁর ‘তারীখ’ (ইতিহাস) গ্রন্থের অভ্যাস হলো—তিনি খুব প্রয়োজন ছাড়া হাদীসের পূর্ণ শব্দসমূহ উল্লেখ করেন না। বরং তিনি হাদীসের কোনো এক অংশ অথবা সংক্ষেপণের ওপর নির্ভর করেন, কিংবা একেবারেই তা উল্লেখ করেন না। কখনও কখনও তিনি কোনো মুরসাল বা মাওকুফ হাদীসের শব্দ আগে উল্লেখ করেন এবং এরপর মারফু মুসনাদ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন: ‘এটির মাধ্যমে’ বা ‘এর অনুরূপ’। এই সকল ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমি বুখারীর ‘তারীখ’ কিংবা অন্যান্য সূত্র থেকে প্রয়োজনীয় হাদীসের পূর্ণ পাঠ উল্লেখ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

‌‌৩ - হাদীসের সনদের ওপর হুকুম (মান নির্ণয়):

সনদের পর্যালোচনা মূলত দুটি দিককে অন্তর্ভুক্ত করে: -
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১১)
الأول: ترجمة رواة السند:

وقد سرت في ذلك وفق الضوابط التالية: -

‌‌1 - إِن كان راوي الحديث ثقة، فأكتفي بعبارة الحافظ ابن حجر في تقريب التهذيب، مع حذف طبقة الراوي، وكتابة من أخرج له من أصحاب الكتب الستة بالحروف.

‌‌2 - إِن كان الراوي صدوقا، أو مختلفا فيه، فأنقل فيه أقوال آئمة الجرح والتعديل، المعول عليهم في نقد الرجال، من الكتب العتبرة في هذا العلم. وأختم ذلك بكلام الحافظ ابن حجر في التقريب غالبا.

‌‌3 - إِن كان الراوي من رجال الكتب الستة، وما ألحق بها، فلا أذكر في ترجمته أحدا من شيوخه، ولا تلاميذه، إِلا لفائدة.

‌‌4 - إِذا لم أقف على ترجمة للراوي- وذلك نادر- فإِن كان له ذكر ضمن ترجمة شيوخه، أو تلاميذه، أشرت إِلى ذلك.

 

الثاني: الحكم على السند:

سرت في هذا وفق المنهج الذي رسمه الحافظ ابن حجر- رحمه الله في التقريب حيث قال: إِنحصر لي الكلام على أحوالهم- يعني الرواة- في إِثنتي عشرة مرتبة، وحصر طبقاتهم في إِثنتي عشرة طبقة.

فأما المراتب:

فأولها: الصحابة، فأصرح بذلك لشرفهم.

الثانية: من أكد مدحه، إِما: بأفعل: كأوثق الناس، أو بتكرير الصفة، لفظا: كثقة ثقة، أو معنى: كثقة حافظ.

الثالثة: من افرد بصفة، كثقة، أو متقن، أو ثبت، أو عدل.

الرابعة: من قصر عن درجة الثالثة قليلا، وإليه الإِشارة بصدوق، أو لا بأس به، أو ليس به بأس.
প্রথমত: সনদের রাবীদের জীবনী:

আমি এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত মূলনীতিগুলো অনুসরণ করেছি: -

‌‌১ - যদি হাদীসের রাবী 'সিকাহ' (নির্ভরযোগ্য) হন, তবে আমি হাফেজ ইবনে হাজারের 'তাকরীবুত তাহযীব'-এর উক্তি উল্লেখ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি, সাথে রাবীর স্তর বাদ দিয়েছি এবং 'কুতুবুস সিত্তাহ' (ছয়টি কিতাব)-এর মধ্যে কারা তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তা বর্ণের মাধ্যমে লিখেছি।

‌‌২ - যদি রাবী 'সাদুক' (সত্যবাদী) হন অথবা যার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে, তবে আমি ইলমে রিজাল বা রাবী সমালোচনা শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ইমামগণের উক্তি এই শাস্ত্রের প্রামাণ্য কিতাবসমূহ হতে উদ্ধৃত করেছি। আর সাধারণত হাফেজ ইবনে হাজারের 'তাকরীব'-এর কথা দিয়ে তা শেষ করেছি।

‌‌৩ - রাবী যদি কুতুবুস সিত্তাহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট গ্রন্থসমূহের রাবীদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে বিশেষ কোনো উপকারিতা ছাড়া তার জীবনীতে তার কোনো উস্তাদ কিংবা ছাত্রের নাম উল্লেখ করিনি।

‌‌৪ - যদি কোনো রাবীর জীবনী আমি খুঁজে না পাই—আর এটি বিরল—তবে যদি তার উস্তাদ বা ছাত্রদের জীবনীতে তার উল্লেখ থাকে, তবে আমি সেদিকে ইশারা করেছি।

 

দ্বিতীয়ত: সনদের ওপর হুকুম প্রদান:

এক্ষেত্রে আমি হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) 'তাকরীব' গ্রন্থে যে মানহাজ বা পদ্ধতি এঁকেছেন তা অনুসরণ করেছি, যেখানে তিনি বলেছেন: আমার নিকট তাদের (অর্থাৎ রাবীদের) অবস্থা বারোটি স্তরে এবং তাদের তবকা বা শ্রেণীসমূহ বারোটি তবকায় সীমাবদ্ধ হয়েছে।

আর স্তরগুলো হলো:

প্রথমত: সাহাবীগণ, তাঁদের মর্যাদার কারণে আমি স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়ত: যাদের প্রশংসা জোরালোভাবে করা হয়েছে; হয় 'আফআলু' (সর্বোচ্চ অর্থবোধক শব্দ) দিয়ে, যেমন: 'সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি', অথবা গুণের পুনরাবৃত্তি করার মাধ্যমে শব্দতগতভাবে, যেমন: 'সিকাহ সিকাহ' (নির্ভরযোগ্য নির্ভরযোগ্য), কিংবা অর্থগতভাবে, যেমন: 'সিকাহ হাফেজ' (নির্ভরযোগ্য সংরক্ষণকারী)।

তৃতীয়ত: যাঁকে একক গুণের মাধ্যমে বিশেষায়িত করা হয়েছে, যেমন: 'সিকাহ' (নির্ভরযোগ্য), অথবা 'মুতকিন' (সুনিপুণ), অথবা 'সাবত' (দৃঢ়), অথবা 'আদল' (ন্যায়পরায়ণ)।

চতুর্থত: যে ব্যক্তি তৃতীয় স্তরের তুলনায় কিছুটা নিচে অবস্থান করে, আর এ স্তরের দিকে ইশারা করা হয় 'সাদুক' (সত্যবাদী), অথবা 'লা বাসা বিহি' (তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই) পরিভাষাগুলোর মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১২)
الخامسة: من قصر عن الرابعة قليلا، وإليه الإِشارة: بصدوق سئ الحفظ، أو صدوق يهم، أو له أوهام، أو يخطئ، أو تغير بآخره. ويلتحق بذلك من رمي بنوع من البدعة، كالتشيع، والقدر، والنصب، والإِرجاء، والتجهم، مع بيان الداعية من غيره.

السادسة: من ليس له من الحديث إِلا القليل، ولم يثبت ما يترك حديثه من أجله، وإليه الإِشارة بلفظ: مقبول، حيث يتابع، وإلا فلين الحديث.

السابعة: من روى عنه أكثر من واحد ولم يوثق، وإِليه الإِشارة بلفظ: مستور، أو مجهول الحال.

الثمامئة: من لم يوجد فيه توثيق لمعتبر، ووجد فيه إِطلاق الضعف، ولولم يفسر، وإِليه الإِشارة بلفظ: ضعيف.

التاسعة: من لم يرو عنه غير واحد، ولم يوثق، وإليه الإِشارة بلفظ: مجهول.

العاشرة: من لم يوثق البتة، وضعف مع ذلك بقادح، وإِليه الإِشارة: بمتروك، أو متروك الحديث، أو واهي الحديث، أو ساقط.

الحادية عشرة: من إِتهم بالكذب.

الثانية عشرة: من أطلق عليه إِسم الكذب، أو الوضع‌‌(1).

- فمن كان من المرتبة الثانية والثالثة صححت إسناده.

- ومن كان من المرتبة الرابعة حسنت إِسناده.

- ومن كان من الخامسة والسادسة والسابعة والثامنة والتاسعة فقد حكمت بضعف أسانيدهم أن لم يتابعوا، فإِذا توبعوا قلت: حسن لغيره.

- وما كان بعد ذلك حكمت بضعفه أو شدة ضعفه حسب درجته، وإِن توبع.

--------------------------------------------

‌‌(1) التقريب (74).

পঞ্চম: যার মান চতুর্থ স্তরের চেয়ে কিছুটা কম, এবং তার দিকে ইশারা করা হয়েছে এই শব্দগুলো দ্বারা: সত্যবাদী কিন্তু মুখস্থ শক্তিতে দুর্বল, অথবা সত্যবাদী তবে ভুল করেন, অথবা যার ভ্রম রয়েছে, অথবা যিনি ভুল করেন, অথবা শেষ বয়সে যার স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। এর সাথে তাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে যার দিকে কোনো প্রকার বিদআতের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যেমন- শিয়া মতবাদ, কদর, নাসব, ইরজা এবং জাহমি মতবাদ; এক্ষেত্রে বিদআতের প্রচারক এবং অন্যদের অবস্থা বর্ণনার মাধ্যমে পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।

ষষ্ঠ: যার নিকট খুব সামান্য পরিমাণ হাদিস রয়েছে এবং এমন কিছু প্রমাণিত হয়নি যার কারণে তার হাদিস বর্জন করা আবশ্যক হয়। তার প্রতি ইশারা করা হয়েছে 'মাকবুল' (গ্রহণযোগ্য) শব্দ দ্বারা যখন তার মুতাবাআত (সমর্থক বর্ণনা) থাকে, অন্যথায় তিনি 'লাইয়্যিনুল হাদিস' (হাদিসে শিথিল)।

সপ্তম: যার থেকে একের অধিক রাবী বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়নি। তার প্রতি ইশারা করা হয়েছে 'মাস্তুর' অথবা 'মাজহুলুল হাল' শব্দ দ্বারা।

অষ্টম: যার ক্ষেত্রে কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামের পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, বরং সাধারণভাবে দুর্বলতা বর্ণিত হয়েছে যদিও তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। তার প্রতি ইশারা করা হয়েছে 'যঈফ' (দুর্বল) শব্দ দ্বারা।

নবম: যার থেকে মাত্র একজন ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি এবং যাকে নির্ভরযোগ্যও বলা হয়নি। তার প্রতি ইশারা করা হয়েছে 'মাজহুল' (অজ্ঞাত) শব্দ দ্বারা।

দশম: যাকে একেবারেই নির্ভরযোগ্য বলা হয়নি এবং এর পাশাপাশি কোনো দোষের কারণে তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে। তার প্রতি ইশারা করা হয়েছে 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত), অথবা 'মাতরুকুল হাদিস', অথবা 'ওয়াহিল হাদিস', অথবা 'সাকিত' (বর্জিত) শব্দ দ্বারা।

একাদশ: যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দ্বাদশ: যার ওপর সরাসরি মিথ্যাবাদী অথবা জালকারী নাম প্রয়োগ করা হয়েছে‌‌(১)।

- যারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, তাদের সনদকে আমি সহীহ বলেছি।

- যারা চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত, তাদের সনদকে আমি হাসান বলেছি।

- যারা পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম স্তরের অন্তর্ভুক্ত, তাদের সনদকে আমি দুর্বল বলে হুকুম দিয়েছি যদি তাদের সমর্থক বর্ণনা (মুতাবাআত) না থাকে। আর যদি সমর্থক বর্ণনা থাকে, তবে আমি বলেছি: হাসান লি-গাইরিহি।

- এর পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে আমি তাদের পর্যায় অনুযায়ী দুর্বল অথবা অতিশয় দুর্বল হওয়ার হুকুম দিয়েছি, যদিও তাদের সমর্থক বর্ণনা পাওয়া যায়।

--------------------------------------------

‌‌(১) আত-তাক্রীব (৭৪)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
أما إِن كان الراوي من غير رجال التقريب فقد سرت في ذلك وفق الضوابط التالية: -

‌‌1 - أن كان الراوي من طبقة كبار التابعين، الآخذين عن الصحابة -رضوان الله عليهم- ولم يثبت فيه جرح، وهو عادة ممن يذكرهم ابن حبان في الثقات، فإِني أحسن حديثه، لكونه عدلا في الظاهر، ولتعذر معرفة العدالة الباطنة له.

قال الحافظ ابن الصلاح: ويشبه أن يكون العمل على هذا الرأي في كثير من كتب الحديث المشهورة، في غير واحد من الرواة الذين تقادم العهد بهم، وتعذرت الخبرة الباطنة بهم‌‌(1).

وقال الحافظ ابن كثير رحمه الله بعد أن ذكر هذه المسألة: ورجح ذلك سليم بن أيوب الرازي، الفقيه، ووافقه ابن الصلاح، وقد حررت البحث في ذلك في المقدمات‌‌(2).

‌‌2 - من سكت عنه الإِمام البخاري، وابن أبي حاتم، أو أحدهما، توقفت في الحكم عليه، حتى يتبين أمره، فإِن توبع براوٍ معتبر حسنت حديثه.

‌‌3 - من لم أقف على ترجمته من الرواة، توقفت في الحكم على حديثه ولم أحكم عليه بالجهالة، رجاء وجود جرح أو تعديل فيه، في كتب الرجال التي لم ينشر كثير منها بعد.

وفق هذا المنهج سرت في حكمي على أسانيد الأحاديث المرفوعة المسندة في التأريخ الكبير.

‌‌4 - تخريج الحديث تخريجا موسعا في جميع ما وقفت عليه من كتب السنة، مع الإِشارة إِلى الشواهد والمتابعات حيث الحاجة.

--------------------------------------------

‌‌(1) مقدمة ابن الصلاح (122).

‌‌(2) الباعث الحثيث (92).

আর যদি বর্ণনাকারী 'তাকরীব' (তাকরীবুত তাহযীব)-এর অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি সে ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছি: -

‌‌১ - যদি বর্ণনাকারী বড় মাপের তাবিঈ স্তরের হন, যারা সাহাবীগণের—আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন—নিকট থেকে (হাদীস) গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর ব্যাপারে কোনো সমালোচনা প্রমাণিত হয়নি, আর সাধারণত তিনি ইবনে হিব্বান কর্তৃক 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লিখিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আমি তাঁর বর্ণিত হাদীসকে 'হাসান' (উত্তম) হিসেবে গণ্য করি। কারণ বাহ্যিকভাবে তিনি ন্যায়নিষ্ঠ এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ ন্যায়নিষ্ঠতা সম্পর্কে অবগত হওয়া অসম্ভব।

হাফেজ ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: "প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থসমূহের অনেক বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে এই মত অনুযায়ী আমল করা হয়েছে বলে মনে হয়, যাদের যুগ অতি প্রাচীন এবং যাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে"‌‌(১)।

হাফেজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়টি উল্লেখ করার পর বলেন: "ফকীহ সুলাইম ইবনে আইয়ুব আর-রাযী একেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং ইবনে আস-সালাহ তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। আমি মুকাদ্দামাসমূহে এ বিষয়ে বিশদ গবেষণা পেশ করেছি"‌‌(২)।

‌‌২ - ইমাম বুখারী এবং ইবনে আবী হাতিম, অথবা তাঁদের কোনো একজন যাঁর ব্যাপারে নীরব থেকেছেন, তাঁর সম্পর্কে কোনো ফয়সালা দেওয়া থেকে আমি বিরত থেকেছি, যতক্ষণ না তাঁর বিষয়টি স্পষ্ট হয়। অতঃপর যদি কোনো গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক তাঁর সমর্থন পাওয়া যায়, তবে আমি তাঁর হাদীসকে 'হাসান' হিসেবে গণ্য করেছি।

‌‌৩ - যেসব বর্ণনাকারীর জীবনী আমি খুঁজে পাইনি, তাঁদের হাদীসের ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানে বিরত থেকেছি। তবে তাঁদের ব্যাপারে 'অজ্ঞাত' হওয়ার হুকুম দিইনি এই আশায় যে, হয়ত এমন সব জীবনী গ্রন্থে তাঁদের ব্যাপারে সমালোচনা বা প্রশংসা পাওয়া যাবে যার অনেকগুলোই এখনও প্রকাশিত হয়নি।

এই মানহাজ বা পদ্ধতি অনুযায়ীই আমি 'আত-তারীখ আল-কাবীর' গ্রন্থে উদ্ধৃত মারফূ মুসনাদ হাদীসসমূহের সনদগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়েছি।

‌‌৪ - হাদীসের উৎসসমূহ আমি আমার নিকট থাকা সুন্নাহর সকল গ্রন্থ থেকে বিস্তারিতভাবে বের করেছি, সেই সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থক ও সহায়ক বর্ণনাসূত্রগুলোর প্রতিও ইঙ্গিত করেছি।

--------------------------------------------

‌‌(১) মুকাদ্দামাহ ইবনে আস-সালাহ (১২২)।

‌‌(২) আল-বায়েস আল-হাসীস (৯২)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌5 - تخصيص مساحة لا بأس بها -حيث الحاجة- لذكر علل الحديث الواردة فيه، وترجيع ظهر لي في رجحانه. وهذا أملاه على "منهج التعليل" الذي راعاه البخاري في "تاريخه الكبير".

‌‌6 - شرح الغريب والتعريف بالمواضع.

‌‌7 - عمل فهارس علمية لهذه الدراسة، وهي: -

‌‌1 - فهرس الآيات القرآنية.

‌‌2 - فهرس الأحاديث النبوية على حروف المعجم.

‌‌3 - فهرس الأحاديث على الأبواب الفقهية.

‌‌4 - فهرس الرواة والأعلام.

‌‌5 - فهرس المواضع.

‌‌6 - فهرس مصادر البحث.

‌‌7 - فهرس الموضوعات.

وقد إِقتضى العمل في هذا الموضوع تقديم دراسة مركزة تتناول جوانب تتعلق بهذا الموضوع من "التأريخ الكبير".

وقد خصصت الفصل الأول لإِلقاء بعض الأضواء على شخصية الإِمام البخاري، سلكت فيها مسلكا نافعا -إِن شاء الله تعالى-.

أما الفصل الثاني فدرست فيه "مصنفات" الإِمام البخاري، وأجبت على بعض الإِشكالات حول بعض مصنفاته.

والفصل الثالث قدمت فيه تقويما للطبعة المتداولة من "التأريخ الكبير" ما لها وما عليها، وإستعرضت فيه النسخ الخطية الموجودة من هذا الكتاب، مع إِبداء بعض الآراء فيها.

أما الفصل الرابع فخصصته لذكر المصادر التي إِعتمد عليها البخاري في الأحاديث المرفوعة المسندة في "التأريخ الكبير".
৫ - হাদিসের ত্রুটিসমূহ (ইলল) বর্ণনার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী একটি পর্যাপ্ত স্থান নির্দিষ্ট করা এবং আমার নিকট যেটি অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা উল্লেখ করা। ইমাম বুখারি তাঁর ‘আত-তারিখুল কাবির’ গ্রন্থে যে ‘ইলল (ত্রুটি) বিশ্লেষণের পদ্ধতি’ অনুসরণ করেছেন, এটি আমাকে তা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

৬ - অপ্রচলিত শব্দাবলির (গারিব) ব্যাখ্যা এবং স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান।

৭ - এই গবেষণার জন্য শাস্ত্রীয় নির্ঘণ্টসমূহ (সূচিপত্র) তৈরি করা, যা হলো: -

১ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

২ - বর্ণানুক্রমিকভাবে হাদিসে নববীর নির্ঘণ্ট।

৩ - ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী হাদিসের নির্ঘণ্ট।

৪ - বর্ণনাকারী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

৫ - স্থানসমূহের নির্ঘণ্ট।

৬ - গবেষণার উৎসগ্রন্থের নির্ঘণ্ট।

৭ - বিষয়সূচি।

এই বিষয়ের ওপর কাজের দাবি ছিল ‘আত-তারিখুল কাবির’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি নিবিড় গবেষণা উপস্থাপন করা।

আমি প্রথম অধ্যায়টিকে ইমাম বুখারির ব্যক্তিত্বের ওপর আলোকপাত করার জন্য সুনির্দিষ্ট করেছি, যাতে আমি একটি উপকারী পদ্ধতি অনুসরণ করেছি—ইনশাআল্লাহ তাআলা।

আর দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি ইমাম বুখারির ‘রচনাবলি’ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং তাঁর কিছু কিতাব সম্পর্কে উত্থাপিত কিছু সংশয়ের নিরসন করেছি।

তৃতীয় অধ্যায়ে আমি ‘আত-তারিখুল কাবির’-এর প্রচলিত মুদ্রণের একটি মূল্যায়ন পেশ করেছি—এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসহ। এছাড়া এতে এই কিতাবটির বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিসমূহ পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোর বিষয়ে কিছু অভিমত ব্যক্ত করেছি।

আর চতুর্থ অধ্যায়টি আমি সেইসব উৎসের বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যার ওপর ইমাম বুখারি ‘আত-তারিখুল কাবির’ গ্রন্থে বর্ণিত ‘মারফু মুসনাদ’ হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভর করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
والفصل الخامس أفردته للمشايخ الذين روى عنهم البخاري الأحاديث المرفوعة المسندة في "تأريخه الكبير".

أما الفصل السادس فاستعرضت فيه منهج البخاري في "تأريخه الكبير" درست فيه بعض ملامح هذا المنهج.

ثم ختمت هذه الدراسة بخاتمة ضمنتها أهم النتائج والأحصاءات التي توصلت إِليها من خلال هذه الدراسة.

وبعد ..

فهذه "بداية" عمل جاد -إن شاء الله- في "التأريخ الكبير" وأقول "بداية" تيمنا بأن تتبعها "دراسات" أخرى لا تقل عنها في الحجم ولا في المستوى، وأسأل الله أن ييسر لي ذلك، وأن يتقبل مني هذا العمل، ويجعله خالصا لوجهه الكريم، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

* * *
পঞ্চম অধ্যায়টি আমি সেই সকল শায়েখদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যাঁদের থেকে ইমাম বুখারি তাঁর "তারিখে কাবির" গ্রন্থে সনদযুক্ত মারফু হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন।

আর ষষ্ঠ অধ্যায়ে আমি "তারিখে কাবির" গ্রন্থে ইমাম বুখারির কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনা করেছি এবং এই পদ্ধতির কিছু বৈশিষ্ট্য অধ্যয়ন করেছি।

অতঃপর আমি এই গবেষণার ইতি টেনেছি একটি উপসংহারের মাধ্যমে, যাতে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও পরিসংখ্যানসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছি।

অতঃপর...

এটি "তারিখে কাবির" নিয়ে একটি ঐকান্তিক কাজের "সূচনা" -ইনশাআল্লাহ- এবং আমি বরকত স্বরূপ একে "সূচনা" বলছি এই প্রত্যাশায় যে, এর পরে আরও এমন "গবেষণাকর্ম" আসবে যা কলেবর বা মানে এর চেয়ে কোনো অংশে কম হবে না। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমার জন্য তা সহজ করে দেন, আমার পক্ষ থেকে এই আমল কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

* * *
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
القسم الأول

‌‌الدراسة
প্রথম অংশ

পর্যালোচনা
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول

لمحات من سيرة الإمام البخاري

المبحث الأول: من عوامل تكوين شخصية الإمام البخاري.

المبحث الثاني: ثناء شيوخه عليه.

المبحث الثالث: ثناء أقرانه وبعض تلاميذه.

المبحث الرابع: من شمائل البخاري.

المبحث الخامس: البخاري ومسألة اللفظ.

المبحث السادس: فتنة اللفظ تلاحق البخاري حتى الوفاة.
প্রথম অধ্যায়

ইমাম বুখারীর জীবনীর উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর ব্যক্তিত্ব গঠনের কিছু উপাদান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রতি তাঁর উস্তাদগণের প্রশংসা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁর কিছু ছাত্রের প্রশংসা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারী এবং লফয (কুরআন পাঠের শব্দ) সংক্রান্ত মাসআলা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: লফযের ফিতনা যা মৃত্যু অবধি ইমাম বুখারীর পিছু তাড়া করেছিল।
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌تمهيد

لا أظنني آتي بجديد في سيرة هذا الإِمام الجليل من حيث "الشمائل والأخبار" وذلك لأن شخصية هذا الإِمام أبهرت الكثيرين من ذوي التخصص في هذا الشأن، فوضعوا في ترجمته مصنفات مستقلة. والذين ترجموا له ضمن سير الآخرين أولوه عناية خاصة، فصلحت أن تكون ترجمته في هذه الكتب الجامعة مصنفا قائما بذاته.

فمن الذين أفردوه بالتصنيف صاحبه ورفيقه ووراقه أبو جعفر محمد بن أبي حاتم البخاري، وهو من العارفين بحال البخاري لأنه كان يصحبه في الحضر والسفر. وقد سمى كتابه هذا "شمائل البخاري". قال الذهبى: "وهو جزء ضخم"‌‌(1).

ولم يصلنا هذا الكتاب بعد، لكن كثرة النقول عنه تكاد تستوعب ما كتبه هذا التلميذ الوفي.

ومن الذين أفردوه بالتصنيف: أبو الربيع سليمان بن سالم الحميري الكلاعي، في كتاب له سماه "أخبار البخاري". كذا سماه الذهبي‌‌(2). وسماه مرة أخرى "سيرة البخاري"‌‌(3).

وكذلك فعل أبو سعد السمعاني -صاحب الأنساب- وهو: عبدالكريم بن محمد بن منصور التميمي. فقد أفرده بكتاب أسماه "مناقب البخاري" كذا قال في "التحبير"‌‌(4).

--------------------------------------------

‌‌(1) سير أعلام النبلاء: (12/ 392).

‌‌(2) المصدر السابق: (23/ 136).

‌‌(3) المصدر نفسه: (23/ 137).

‌‌(4) 2/ 69.

ভূমিকা

আমি মনে করি না যে, এই মহান ইমামের জীবনীতে "চরিত্র ও সংবাদ" এর দিক থেকে আমি নতুন কিছু নিয়ে আসছি। কারণ, এই ইমামের ব্যক্তিত্ব এই বিষয়ের অনেক বিশেষজ্ঞকে মুগ্ধ করেছে, ফলে তাঁরা তাঁর জীবনীর ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। আর যাঁরা অন্যদের জীবনীর পাশাপাশি তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁরাও তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন; ফলে এই সংকলিত গ্রন্থগুলোতে তাঁর জীবনী নিজেই একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হওয়ার যোগ্যতা লাভ করেছে।

যাঁরা তাঁর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাঁর বন্ধু, সঙ্গী ও লিপিকার আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতেম আল-বুখারি। তিনি ইমাম বুখারির অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কারণ তিনি প্রবাসে ও আবাসে তাঁর সাথে থাকতেন। তিনি তাঁর এই কিতাবের নাম রেখেছিলেন "শামায়িলে বুখারি"। ইমাম যাহাবি বলেন: "এটি একটি বিশাল খণ্ড।"‌‌(১)

এই কিতাবটি এখনও আমাদের নিকট পৌঁছায়নি, তবে এটি থেকে উদ্ধৃতির আধিক্য এই অনুগত ছাত্র যা লিখেছিলেন তার প্রায় সবটুকুই ধারণ করে আছে।

যাঁরা তাঁর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আবু আল-রাবি সুলায়মান ইবনে সালিম আল-হিময়ারি আল-কালায়ি, তাঁর রচিত একটি কিতাবে যার নাম তিনি দিয়েছেন "আখবারে বুখারি"। ইমাম যাহাবি একে এই নামেই অভিহিত করেছেন‌‌(২)। তিনি একে পুনরায় "সিরাতে বুখারি" নামেও অভিহিত করেছেন‌‌(৩)।

অনুরূপভাবে আবু সাদ আল-সামআনিও করেছেন—যিনি 'আল-আনসাব' কিতাবের লেখক—এবং তিনি হলেন: আব্দুল কারিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর আল-তামিমি। তিনি তাঁর জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন "মানাকিবে বুখারি", তিনি 'আল-তাহবির' গ্রন্থে এমনটিই বলেছেন‌‌(৪)।

--------------------------------------------

‌‌(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা: (১২/ ৩৯২)।

‌‌(২) পূর্বোক্ত উৎস: (২৩/ ১৩৬)।

‌‌(৩) একই উৎস: (২৩/ ১৩৭)।

‌‌(৪) ২/ ৬৯।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২২)
وسماه الذهبي "بخار بخور البخاري"‌‌(1).

أما من ترجمه ضمن كتاب جامع، وتصلح ترجمته أن تكون "سيرة" خاصة، أو "مناقب" لهذا الإِمام أو "أخبارا" له، فكثير جدا.

منها الترجمة التي كتبها الخطيب البغدادي في "تاريخ بغداد"‌‌(2) وهي من التراجم الحافلة. وعليها إِعتمد ابن عساكر في "تاريخ دمشق"‌‌(3) وزاد عليها أخبارا أخرى كثيرة.

ومنها الترجمة التي كتبها المزي في "تهذيب الكمال"‌‌(4).

والترجمة الحافلة التي كتبها الذهبي في "سير أعلام النبلاء"‌‌(5).

والترجمة التي كتبها ابن حجر في "هدى الساري"‌‌(6) و "تغليق التعليق"‌‌(7). إِلى غير ذلك من التراجم الجامعة والمختصرة لأخبار هذا الإِمام في كتب أخرى كثيرة. إِلى إِنني رأيت أن لا أمر بهذا الإِمام -وأنا أشتغل بواحد من مصنفاته الكبرى -دون أن أكتب- لنفسي أولًا- مذكرة تشير إِلى بعض ملامح هذه الشخصية الهامة في تاريخنا وحضارتنا. وكما قلت أن هذه "اللمحات" لا تأتي بجديد، لكنها " ذكرى لي، ولمن يقرأ كتابي هذا، عسى أن ننتفع بها في حياتنا وبعد مماتنا.

--------------------------------------------

‌‌(1) السير (20/ 461).

‌‌(2) (2/ 4 - 35).

‌‌(3) المجلد الخامس عشر من الورقة 38 ب إِلى الورقة 54 ب.

‌‌(4) المجلد الثالث، الأوراق (1168 - 1172).

‌‌(5) (12/ 391 - 471).

‌‌(6) ص (477 - 493).

‌‌(7) (5/ 384 - 441).

এবং আয-যাহাবী একে "বুখারি-এর সুগন্ধির সৌরভ"‌‌(১) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আর যারা কোনো বৃহৎ সংকলিত গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করে তার জীবনী বর্ণনা করেছেন, যা একটি স্বতন্ত্র "জীবনী", বা এই ইমামের "মর্যাদা" (মানাকিব) কিংবা তার "ঘটনাবলি" (আখবার) হওয়ার যোগ্য—তাদের সংখ্যা অনেক।

তন্মধ্যে আল-খাতীব আল-বাগদাদী কর্তৃক "তারিখ বাগদাদ"‌‌(২) গ্রন্থে লিখিত জীবনীটি অন্যতম, যা অত্যন্ত সমৃদ্ধ জীবনীগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর ইবনে আসাকির "তারিখ দিমাশক"‌‌(৩) গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং এতে আরও অনেক নতুন সংবাদ যুক্ত করেছেন।

আবার আল-মিযযী কর্তৃক "তাহযীবুল কামাল"‌‌(৪) গ্রন্থে লিখিত জীবনীটিও এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং আয-যাহাবী কর্তৃক "সিয়ারু আলামিন নুবালা"‌‌(৫) গ্রন্থে লিখিত সেই সমৃদ্ধ জীবনী।

আর ইবনে হাজার কর্তৃক "হুদাস সারী"‌‌(৬) এবং "তাগলিকুত তালীক"‌‌(৭) গ্রন্থে লিখিত জীবনীসমূহ। এছাড়া আরও অনেক কিতাবে এই ইমামের জীবনীর বিশদ ও সংক্ষিপ্ত আরও বহু বর্ণনা রয়েছে। এ পর্যায়ে আমি সমীচীন মনে করেছি যে, আমি যখন তার অন্যতম প্রধান একটি গ্রন্থ নিয়ে কাজ করছি, তখন আমাদের ইতিহাস ও সভ্যতার এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের কিছু দিক নিয়ে—প্রথমত নিজের জন্য হলেও—একটি টীকা না লিখে তাকে অতিক্রম করব না। আর যেমনটি আমি বলেছি, এই "ঝলকসমূহ" নতুন কোনো তথ্য নিয়ে আসেনি, বরং এটি "আমার জন্য এবং যারা আমার এই কিতাবটি পড়বেন তাদের জন্য একটি স্মারক, যেন আমরা আমাদের জীবনে এবং মৃত্যুর পরে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারি।"

--------------------------------------------

‌‌(১) আস-সিয়ার (২০/ ৪৬১)।

‌‌(২) (২/ ৪ - ৩৫)।

‌‌(৩) ১৫শ খণ্ড, পাতা ৩৮-খ হতে পাতা ৫৪-খ পর্যন্ত।

‌‌(৪) ৩য় খণ্ড, পাতা (১১৬৮ - ১১৭২)।

‌‌(৫) (১২/ ৩৯১ - ৪৭১)।

‌‌(৬) পৃ. (৪৭৭ - ৪৯৩)।

‌‌(৭) (৫/ ৩৮৪ - ৪৪১)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الأول من عوامل تكوين شخصية البخاري

نذكر هنا بعض الأسباب التي ساعدت في تنشئة هذا الإِمام الرباني، وذلك كله بعد توفيق الله تعالى.

 

‌‌1 - صلاح الأبوين:

لم يصلنا من أخبار والديه إِلا القليل.

فأما أبوه إِسماعيل، فكان حريصا على العلم ولقى الأكابر، فقد رحل الى مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم لسماع مالك بن أنس، وإلى البصرة لسماع حماد بن زيد، والتقى بعبد الله بن المبارك، وصافحه بكلتا يديه‌‌(1).

وكان لإسماعيل هذا مال كثير، ورث منه الإِمام البخاري شيئا جليلا أعانه على طلب الحديث.

قال وراق البخاري: سمعت محمدين خراش يقول: سمعت أحمد بن حفص يقول: دخلت على إِسماعيل والد أبي عبد الله عند موته فقال: "لا أعلم من مالي درهما من حرام ولا درهما من شبهة"‌‌(2).

ومثل هذا الورع العظيم يدل على ما وراءه من صلاح. فمن هذا المال "الطيب" كان البخاري يأكل. ومنه أيضا كان ينفق في الطلب -فكيف لا يبارك له في علمه وعلى هذا الأساس قام؟ وأما أمه فكانت مستجابة الدعوة،

--------------------------------------------

‌‌(1) التاريخ الكبير (1/ 342 - 343) وسير أعلام النبلاء (12/ 392).

‌‌(2) مقدمة الفتح ص (479).

‌বুখারীর ব্যক্তিত্ব গঠনের উপাদানসমূহের প্রথম পরিচ্ছেদ

আমরা এখানে এই রব্বানি ইমামের গড়ে ওঠার পেছনে সহায়ক কিছু কারণ উল্লেখ করছি, আর এ সবকিছুই মহান আল্লাহর তাওফিকের পরবর্তী বিষয়।

 

‌‌১ - পিতা-মাতার পুণ্যবত্তা:

তাঁর পিতা-মাতা সম্পর্কে খুব সামান্য তথ্যই আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

তাঁর পিতা ইসমাইল ইলম অর্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং বড় বড় আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তিনি মালিক বিন আনাসের নিকট হাদিস শ্রবণের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহর (মদিনায়) এবং হাম্মাদ বিন যায়িদের নিকট শ্রবণের জন্য বসরায় সফর করেছিলেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সাথেও সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাঁর সাথে উভয় হাতে মুসাফাহা করেছিলেন‌‌(১)।

এই ইসমাইলের প্রচুর ধনসম্পদ ছিল, যা থেকে ইমাম বুখারী উত্তরাধিকার সূত্রে এক বিশাল অংশ লাভ করেন এবং তা তাঁকে হাদিস অন্বেষণে সহায়তা করেছিল।

বুখারীর লেখক (ওয়াররাক) বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবন খিরাশকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন হাফসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম বুখারীর) পিতা ইসমাইলের মৃত্যুশয্যায় তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি বললেন, "আমার সম্পদের মধ্যে একটি দিরহামও হারাম কিংবা একটি দিরহামও সন্দেহযুক্ত আছে বলে আমার জানা নেই"‌‌(২)।

এই মহান পরহেজগারি তাঁর নেককার হওয়ারই প্রমাণ বহন করে। এই 'পবিত্র' সম্পদ থেকেই বুখারী আহার করতেন এবং তা থেকেই তিনি ইলম অন্বেষণে ব্যয় করতেন—সুতরাং তাঁর ইলমে কেন বরকত হবে না, যেখানে এর ভিত্তিই ছিল এটি? আর তাঁর মাতা ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যাঁর দোয়া কবুল হয়),

--------------------------------------------

‌‌(১) আত-তারিখুল কাবির (১/ ৩৪২ - ৩৪৩) এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/ ৩৯২)।

‌‌(২) মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ, পৃষ্ঠা (৪৭৯)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
وإستجابة الدعاء مظنة الصلاح وطيب المطعم.

قال ابن حجر في "الهدي": روى غنجار في "تاريخ بخارى" واللالكائي في "شرح السنة" في باب -كرامات الأولياء- منه: أن محمد بن إسماعيل ذهبت عيناه في صغره، فرأت والدته الخليل إِبراهيم في المنام فقال لها: يا هذه قد رد الله على إِبنك بصره بكثرة دعائك. قال: فأصبح، وقد رد الله عليه بصره‌‌(1).

من بديع لطف الله تعالى بعباده، أن صلاح الفرد لا تقتصر بركته على هذا الصالح فقط، بل ينسحب ذلك ليشمل الأولاد والأحفاد، وإلى ذلك أشار القرآن‌‌(2). فطيب الأصل مظنة طيب الفرع.

 

‌‌2 - اليتم.

وغالب العظماء هم من اليتامى، وهذا أيضا من اللطف الخفي، فمن حرم حنان الوالد، قد لا يحرم من الذكر الصالح. واليتم يصنع الرجال، ويعلمهم الصبر والجلد والإِعتماد على النفس. وقد ظهرت أمارات ذلك عند البخاري في وقت مبكر نسبيا. حيث ورد أنه ذهب إِلى مكة حاجا أمه وأخيه، وترجع أمه وأخوه ويتركانه وحيدا هناك وهو لم يتجاوز السادسة عشرة من عمره، مجاورا وطالبا‌‌(3).

 

‌‌3 - البيئة والنشأة الصالحتان.

فبخارى كانت تعج بأهل العلم من حملة الفقه والحديث. ولم يتعب البخاري في البحث عن الشيوخ الصالحين، الذين رعوه وعرفوا قدره، وقدموه بالرغم من يتمه. وأما النشأة، فتلك الأم الصالحة آثرت ما يبقى على ما يفنى، فلم تدفع بابنها للمتاجرة بمال أبيه خوف الفقر ونفاد التركة، بل دفعت بابنها

--------------------------------------------

‌‌(1) هدى الساري ص (478). وانظر "طبقات الحنابلة: (1/ 374) و" تهذيب الكمال" ص (1170). و "سير النبلاء" (12/ 393).

‌‌(2) في قوله تعالى: {وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا}.

‌‌(3) هدي الساري ص (477 - 478).

দোআ কবুল হওয়া হলো সততা ও পবিত্র উপার্জনের লক্ষণ।

ইবনে হাজার 'আল-হাদি' গ্রন্থে বলেছেন: গুঞ্জার 'তারিখে বুখারা' গ্রন্থে এবং লালকাঈ 'শারহুস সুন্নাহ'র 'কারামাতুল আউলিয়া' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন যে: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল (ইমাম বুখারি) শৈশবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন তাঁর মা স্বপ্নে খলীল ইব্রাহিমকে দেখলেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে নারী! তোমার অধিক পরিমাণ দোআর কারণে আল্লাহ তোমার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সকাল হলো এবং আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন‌‌(১)।

বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর এক অনন্য অনুগ্রহ হলো, কোনো ব্যক্তির নেক আমল বা সততার বরকত কেবল সেই ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা তার সন্তান ও বংশধরদের পর্যন্ত প্রসারিত হয়; কুরআনেও সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে‌‌(২)। কেননা মূল ভালো হলে শাখা-প্রশাখাও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

‌‌২ - পিতৃহীনতা।

অধিকাংশ মহামানবই ছিলেন এতিম, আর এটিও আল্লাহর এক প্রচ্ছন্ন অনুগ্রহ। যে ব্যক্তি পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়, সে হয়তো উত্তম খ্যাতি থেকে বঞ্চিত হয় না। পিতৃহীনতা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে এবং তাদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মনির্ভরশীলতা শেখায়। বুখারির জীবনে এর লক্ষণগুলো তুলনামূলকভাবে অল্প বয়সেই প্রকাশ পেয়েছিল। বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর মা ও ভাইয়ের সাথে হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়েছিলেন; অতঃপর তাঁর মা ও ভাই ফিরে এলেও তাঁরা তাঁকে সেখানে একাকী রেখে যান। তখন তাঁর বয়স ষোলো বছরও পার হয়নি; তিনি সেখানে অবস্থানকারী ও জ্ঞানান্বেষণকারী হিসেবে থেকে যান‌‌(৩)।

 

‌‌৩ - নেক পরিবেশ ও লালন-পালন।

বুখারা শহর তখন ফিকহ ও হাদিসের ধারক-বাহক আলেমদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। ফলে বুখারিকে এমন নেককার উস্তাদদের খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়নি, যারা তাঁর যত্ন নিয়েছিলেন, তাঁর মর্যাদা বুঝতে পেরেছিলেন এবং এতিম হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে অগ্রগণ্য করেছিলেন। আর লালন-পালনের ক্ষেত্রে, সেই নেককার মা নশ্বর জগতের ওপর অবিনশ্বর পরকালকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তিনি দারিদ্র্য বা উত্তরাধিকার সম্পদ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাঁর ছেলেকে তাঁর পিতার সম্পদ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োগ করেননি, বরং তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়োজিত করেছিলেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) হাদি আস-সারি, পৃষ্ঠা (৪৭৮)। আরও দেখুন 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ': (১/ ৩৭৪), 'তাহযিবুল কামাল' পৃষ্ঠা (১১৭০) এবং 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' (১২/ ৩৯৩)।

‌‌(২) মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদের পিতা ছিল একজন নেককার লোক}।

‌‌(৩) হাদি আস-সারি, পৃষ্ঠা (৪৭৭ - ৪৭৮)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
ليحفظ القرآن، ثم الحديث، ثم حجت به وتركته يواصل طلب العلم في البلد الحرام.

 

‌‌4 - الإلهام:

وقد أفصح البخاري عن ذلك إِفصاحا.

قال الفربري: سمعت محمد بن أبي حاتم وراق البخاري يقول: سمعت البخاري يقول: "ألهمت حفظ الحديث وأنا في الكتاب" قلت: وكم أتى عليك إِذ ذاك؟ فقال: "عشر سنين أو أقل"‌‌(1)!!

قلت: فانظر إِلى هذا التوفيق الذي رعي البخاري من صغره، حيث دله علي الصراط السوي، وألهمه حفظ الحديث وهو لا يزال في "الكتاب" لم يبلغ العاشرة من عمره، ذلك أننا عرفنا أن من بكر في طلب الحديث إِنما بكر في "كتابته " عن الشيوخ ليحصل له (علو الإِسناد) أما أنه يبكر هذا التبكير في "حفظ الحديث" فهذا دليل على نبوغه المبكر.

 

‌‌5 - الذكاء:

وهذا موضع إِجماع عند جميع من لقي البخاري من شيوخه وأقرانه وتلاميذه، بل وكل مشتغل بفن الرواية والدراية إِلى يوم الناس هذا‌‌(2) - فهو- رحمه الله.

كان من أذكياء الدنيا، وذكاؤه ذكاء خارق، ينفذ إلي طيات النصوص والالفاظ، يستخرج منها ما حير الأذكياء المتخصصين في فنون الحديث.

وهذا الذكاء النادر ظهرت بوادره منذ الطفولة.

قال البخاري: ثم خرجت من الكتاب بعد العشر، فجعلت أختلف إِلي الداخلي وغيره. فقال يوما فيما كان يقرأ للناس: سفيان، عن أبى الزبير، عن

--------------------------------------------

‌‌(1) تاريخ بغداد (2/ 7)، سير النبلاء (12/ 393)، هدي الساري (478).

‌‌(2) انظر مبحث "ثناء العلماء عليه".

যাতে তিনি কুরআন মুখস্থ করেন, এরপর হাদিস। তারপর আমি তাঁকে নিয়ে হজ করলাম এবং তাঁকে পবিত্র নগরীতে ইলম অন্বেষণ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রেখে আসলাম।

 

‌‌৪ - ইলহাম (ঐশী প্রেরণা):

ইমাম বুখারী এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

ফিরিবরী বলেন: আমি বুখারীর লেখক (ওয়াররাক) মুহাম্মদ ইবনে আবু হাতেমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বুখারীকে বলতে শুনেছি, "আমি যখন মক্তবে ছিলাম, তখনই আমার অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছিল।" আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: "দশ বছর বা তার কম"!!‌‌(১)

আমি বলছি: এই তাওফিকের (সাফল্যের) দিকে লক্ষ্য করুন যা শৈশব থেকেই বুখারীকে পরিবেষ্টন করে রেখেছিল, যেখানে এটি তাঁকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছিল এবং তাঁকে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল যখন তিনি তখনও "মক্তবে" ছিলেন এবং তাঁর বয়স দশ বছর পূর্ণ হয়নি। এর কারণ হলো আমরা জানি যে, যারা অল্প বয়সে হাদিস অন্বেষণে তৎপর হন, তারা মূলত শায়খদের কাছ থেকে হাদিস "লেখার" জন্য তা করেন যাতে তাঁদের 'সনদের উচ্চতা' (উলু-উল ইসনাদ) অর্জিত হয়। কিন্তু এই অল্প বয়সে তাঁর "হাদিস মুখস্থ" করাটা ছিল তাঁর শৈশবের প্রখর মেধার এক উজ্জ্বল প্রমাণ।

 

‌‌৫ - প্রখর মেধা:

আর এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর ইমাম বুখারীর সকল শিক্ষক, সমসাময়িক এবং ছাত্ররা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এমনকি বর্তমান সময় পর্যন্ত রিওয়ায়াত (বর্ণনা) এবং দিরায়াত (বিশ্লেষণ) শাস্ত্রের সাথে জড়িত সকলেই এ বিষয়ে একমত - আর তিনি - আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

তিনি ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম মেধাবী ব্যক্তি এবং তাঁর মেধা ছিল অলৌকিক পর্যায়ের; যা নস (মূল পাঠ) এবং শব্দের গভীর তলদেশে প্রবেশ করত এবং সেখান থেকে এমন সব তথ্য ও তত্ত্ব আহরণ করত যা হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ মেধাবীদেরও হতবাক করে দিত।

আর এই বিরল মেধার লক্ষণগুলো শৈশব থেকেই প্রকাশিত হয়েছিল।

ইমাম বুখারী বলেন: এরপর দশ বছর বয়সের পর আমি মক্তব থেকে বের হয়ে আসি এবং দাখেলী ও অন্যদের মজলিসে যাতায়াত শুরু করি। একদিন তিনি (দাখেলী) যখন মানুষের সামনে পাঠ করছিলেন, তখন তিনি বললেন: সুফিয়ান, আবু জুবাইর থেকে, তিনি...

--------------------------------------------

‌‌(১) তারিখ বাগদাদ (২/ ৭), সিয়ারুন নুবালা (১২/ ৩৯৩), হাদয়ুস সারী (৪৭৮)।

‌‌(২) "তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা" শীর্ষক আলোচনাটি দেখুন।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
إبراهيم، فقلت له: إِن أبا الزبير لم يرو عن إِبراهيم. فإِنتهرنى، فقلت له: إِرجع إِلي الأصل. فدخل فنظر فيه، ثم خرج، فقال لى: كيف هو يا غلام؟ قلت: هو الزبير بن عدى، عن إِبراهيم، فأخذ القلم منى، وأحكم كتابه، وقال: صدقت. فقيل للبخارى: ابن كم كنت حين رددت عليه؟ قال: ابن إِحدي عشرة سنة.‌‌(1)

إِن ذكاء البخاري اختصر له الزمن، فإِستطاع أن يجمع في ذاكرته ما عجز عنه شيوخه وأقرانه. وكذلك سهل له إِستنباط ما حير به عقول اللاحقين.

قال حاشد بن إِسماعيل: كان البخارى يختلف معنا إِلي مشايخ البصرة وهو غلام، فلا يكتب حتى أتى على ذلك أيام، فلمناه بعد ستة عشر يوما فقال: قد أكثرتم علي فأعرضوا على ما كتبتم. فأخرجناه فزاد على خمسة عشر ألف حديث، فقرأها كلها عن ظهر قلب حتى جعلنا نحكم كتبنا من حفظه. وقال أبو بكر بن أبى عياش الأعين: كتبنا عن محمد بن إِسماعيل وهو أمرد على باب محمد بن يوسف الفريانى.‌‌(2)

قال ابن حجر: كان موت الفرياني سنة اثنتي عشرة ومائتين وكان سن البخاري إِذ ذاك نحوا من ثمانية عشر عاما أو دونها.‌‌(3)

والأخبار في قوة حفظ البخارى وسيلان ذهنه كثيرة جدا، إِنما أردت أن أشير إِلي أن الذكاء الخارق كان من المقومات الكبرى لهذه الشخصية الفذة.

 

‌‌6 - كفاية المؤونة.

وهذا من الروافد المهمة التي ساعدت البخارى فى المضي في طريقه، والإِسراع إِلي الغاية دون إِلتفات إِلي أسباب المعيشة والإِنشغال بها. إِذ

--------------------------------------------

‌‌(1) تاريخ بغداد (2/ 7)، تهذيب الكمال (1169)، طبقات الشافعية للسبكي (2/ 216)، هدي السارى (478).

‌‌(2) هدي الساري (478).

‌‌(3) المرجع السابق.

...ইব্রাহিম, তখন আমি তাকে বললাম: নিশ্চয়ই আবু যুবায়ের ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেননি। তখন তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আমি তাকে বললাম: আপনি মূল পাণ্ডুলিপির দিকে ফিরে দেখুন। অতঃপর তিনি ভেতরে গিয়ে তা দেখলেন এবং বের হয়ে আমাকে বললেন: হে বালক, তবে সেটি কেমন? আমি বললাম: সেটি হলো যুবায়ের বিন আদি, ইব্রাহিম থেকে। তখন তিনি আমার থেকে কলম নিলেন এবং তার কিতাব সংশোধন করলেন এবং বললেন: তুমি সত্য বলেছ। ইমাম বুখারিকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি যখন তাকে সংশোধন করেছিলেন তখন আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: এগারো বছর।‌‌(১)

নিশ্চয়ই বুখারির প্রখর মেধা তার জন্য সময়কে সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছিল, ফলে তিনি তার স্মৃতিতে এমন সব বিষয় জমা করতে সক্ষম হয়েছিলেন যা তার শিক্ষক ও সমসাময়িকরা করতে অসমর্থ ছিলেন। একইভাবে এটি তার জন্য এমন সব মাসয়ালা উদ্ভাবন করা সহজ করে দিয়েছিল যা পরবর্তী প্রজন্মের জ্ঞানীদের বুদ্ধিকে হতবাক করে দিয়েছিল।

হাশেদ বিন ইসমাইল বলেন: বুখারি বালক অবস্থায় আমাদের সাথে বসরার শায়খদের নিকট যাতায়াত করতেন, কিন্তু তিনি কিছুই লিখতেন না। এমনকি এভাবে অনেক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ষোলোতম দিনে আমরা তাকে তিরস্কার করলাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা আমাকে নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি করেছ, এখন তোমরা যা লিখেছ তা আমার সামনে পেশ করো। আমরা সেগুলো বের করলাম, যাতে পনেরো হাজারের বেশি হাদিস ছিল। তিনি সেগুলো সম্পূর্ণ মুখস্থ পাঠ করলেন, এমনকি আমরা তার মুখস্থ পাঠ থেকে আমাদের কিতাবগুলো সংশোধন করতে লাগলাম। আবু বকর বিন আবি আইয়াশ আল-আ'ইয়ান বলেন: আমরা মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি যখন তিনি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবীর দরজায় বসা কিশোর ছিলেন।‌‌(২)

ইবনে হাজার বলেন: ফিরইয়াবীর মৃত্যু হয়েছিল ২১২ হিজরি সনে এবং তখন বুখারির বয়স ছিল প্রায় আঠারো বছর বা তার কিছু কম।‌‌(৩)

ইমাম বুখারির মুখস্থ শক্তির প্রবলতা এবং মেধার তীক্ষ্ণতা সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। আমি কেবল এটুকু ইঙ্গিত করতে চেয়েছি যে, এই অনন্য ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছিল তার এই অলৌকিক মেধা।

 

‌‌৬ - জীবিকার সচ্ছলতা।

এটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উৎস যা বুখারিকে তার পথে এগিয়ে যেতে এবং জীবনধারণের উপকরণ ও সেসবে ব্যস্ত হওয়ার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে দ্রুত লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হতে সাহায্য করেছিল। কারণ

--------------------------------------------

‌‌(১) তারিখ বাগদাদ (২/ ৭), তাহযীবুল কামাল (১১৬৯), তবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লিস-সুবকী (২/ ২১৬), হাদয়ুস সারী (৪৭৮)।

‌‌(২) হাদয়ুস সারী (৪৭৮)।

‌‌(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
الفقر، وكثرة العيال من أكثر ما يقعد بالعالم الذكي عن بلوغ الغايات. وإمامنا قد كفي هذا من وجوه. فأبوه ترك له من المال الطيب ما يكفيه مدة الطلب. والأم الصالحة كانت علي ما يظهر تحسن التدبير، فما تركت إِمامنا ينشغل عن غايته بتنمية التركة. بل نراها أحسنت الصنع فجمعت له الحج وطلب الحديث في سفرة واحدة. ويأتي أخيرا الزهد والقناعة التى طبع عليها إمامنا، وكذلك ترك التكلف فى المظاهر لهذه الحياة.

ثم إن البخارى لم يحاول الإِتصال بأولى الأمر في ذلك العهد وآثر البعد عنهم قدر ما يستطيع، حتي لا يشغلوه ويعكروا عليه صفاءه القلبى والذهنى. وقد حكي وراق البخارى أن البخاري ورث من أبيه مالا جليلا، وكان يعطيه مضاربة.‌‌(1)

وقال وراقه أيضا سمعته يقول: وما توليت شراء شئ قط ولا بيعه، كنت آمر إِنسانا فيشتري لي.‌‌(2)

وقال وراقه أيضا: قطع له غريم خمسة وعشرين ألفا، فقيل له: إِستعن بكتاب الوالى. فقال: إن أخذت منهم كتابا طمعوا، ولن أبيع ديني بدنياى.‌‌(3)

 

‌‌7 - الإخلاص فى الطلب، وصرف الهمة إليه:

سأله وراقه يوما فى خلوة: هل من دواء يشربه الرجل فينتفع به للحفظ؟ فقال البخارى: لا أعلم. ثم أقبل عليه وقال: لا أعلم شيئا أنفع للحفظ من نهمة الرجل ومداومة النظر. ثم قال البخارى: وذاك أنى كنت بنيسابور مقيما، فكانت ترد إِليَّ من بخاري كتب، وكن قرابات لي يقرئن سلامهن فى

--------------------------------------------

‌‌(1) هدي السارى (477).

‌‌(2) المرجع السابق.

‌‌(3) المرجع السابق.

দারিদ্র্য এবং সন্তান-সন্ততির আধিক্য হলো এমন প্রধান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা একজন মেধাবী আলেমকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত করে। কিন্তু আমাদের ইমাম (বুখারি) বেশ কিছু দিক থেকে এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত ছিলেন। তাঁর পিতা তাঁর জন্য বৈধ উপার্জনের এমন পরিমাণ সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন, যা জ্ঞান অন্বেষণের সময়কালে তাঁর জন্য যথেষ্ট ছিল। আর তাঁর পুণ্যবতী মাতা যতটুকু প্রতীয়মান হয় অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সবকিছু পরিচালনা করতেন; তিনি আমাদের ইমামকে পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ বা বৃদ্ধির কাজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে লক্ষ্যচ্যুত হতে দেননি। বরং আমরা দেখি যে, তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন এবং এক সফরের মাধ্যমেই তাঁর হজ পালন ও হাদিস সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। পরিশেষে, সেই যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এবং অল্পে তুষ্টির গুণটি আসে যার ওপর আমাদের ইমামের চরিত্র গঠিত হয়েছিল; সেই সাথে পার্থিব জীবনের বাহ্যিক চাকচিক্য ও আড়ম্বর বর্জনও তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।

অতঃপর ইমাম বুখারি তৎকালীন শাসকবর্গের সাথে কোনো যোগাযোগের চেষ্টা করেননি এবং সাধ্যমতো তাঁদের থেকে দূরে থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন, যাতে তাঁরা তাঁকে ব্যস্ত রেখে তাঁর হৃদয়ের প্রশান্তি ও মানসিক একাগ্রতাকে বিঘ্নিত করতে না পারে। ইমাম বুখারির লিপিকার বর্ণনা করেছেন যে, বুখারি তাঁর পিতার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিলেন এবং তিনি তা মুদারাবা (লভ্যাংশের ভিত্তিতে বিনিয়োগ) হিসেবে প্রদান করতেন।‌‌(১)

তাঁর লিপিকার আরও বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "আমি নিজে কখনোই কোনো কিছু কেনা বা বেচার দায়িত্ব গ্রহণ করিনি; বরং আমি কাউকে নির্দেশ দিতাম এবং সে আমার হয়ে কেনাকাটা করে দিত।"‌‌(২)

তাঁর লিপিকার আরও বলেন: এক দেনাদার তাঁর পঁচিশ হাজার (দিরহাম) আত্মসাৎ করেছিল। তখন তাঁকে বলা হলো: "আপনি গভর্নরের সাহায্য (সুপারিশপত্র) নিন।" তিনি উত্তরে বললেন: "আমি যদি তাঁদের থেকে কোনো সুপারিশপত্র গ্রহণ করি, তবে তাঁরা (আমার ওপর) লালসা পোষণ করবে, আর আমি কখনোই আমার দ্বীনকে দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করব না।"‌‌(৩)

 

‌‌৭ - জ্ঞান অন্বেষণে ইখলাস এবং সেদিকেই পূর্ণ মনোযোগ নিবিষ্ট করা:

একদা নির্জনে তাঁর লিপিকার তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "মানুষ পান করতে পারে এমন কোনো ঔষধ কি আছে, যা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে উপকারে আসে?" বুখারি বললেন: "আমি জানি না।" এরপর তাঁর দিকে ফিরে নিবিষ্ট হয়ে বললেন: "জ্ঞান অর্জনের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং নিয়মিত অধ্যয়নের চেয়ে মুখস্থ রাখার জন্য অধিক উপকারী আর কিছু আমি জানি না।" অতঃপর বুখারি বললেন: "আমি যখন নিশাপুরে অবস্থান করছিলাম, তখন বুখারা থেকে আমার কাছে পত্র আসত এবং আমার নারী আত্মীয়রা তাতে সালাম জানাতেন..."

--------------------------------------------

‌‌(১) হাদয়ুস সারি (৪৭৭)।

‌‌(২) পূর্বোক্ত উৎস।

‌‌(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
الكتب، فكنت أكتب كتابا إِلي بخارى، وأردت أن أقرئهن سلامى، فذ هب على إِساميهن كتبت كتابى ولم أقرئهن سلامى، وما أقل ما يذهب عنى من العلم!! هـ‌‌(1).

فأنت تري هنا أنه ينسى أسماء قريباته، ولا ينسي أسماء آلاف الرواة ومساكنهم ووفايتهم، كانه لا قريب له إِلا العلم.

ولقد وهب البخارى وقته كله للعلم، وتفرغ تفرغا تاما لهذا الأمر، وأخلص نيته في ذلك، فبورك له فى علمه، وانتفعت به أجيال المسلمين.

قال هانئ بن النضر: كنا عند محمد بن يوسف -يعنى: الفريابي- بالشام، وكنا نتنزه -فعل الشباب فى أكل الفرصاد ونحوه- وكان محمد بن اسماعيل معنا، وكان لا يزاحمنا في شئ مما نحن فيه، ويكب علي العلم‌‌(2).

والأخبار تشير إِلي أن البخاري كان يتعبد بطلب العلم، فلا يقل سهره عي العلم عن سهره علي العبادة، بل تراه يتلذذ بالسهر علي العلم، ويستطيب السفر الطويل، والإِغتراب المتواصل في سبيل العلم.

قال وراقه: كان أبو عبد الله إِذا كنت معه فى سفر يجمعنا بيت واحد إلا في القيظ أحيانا، فكنت أراه يقوم في ليلة واحدة خمس عشرة مرة إِلي عشرين مرة، فى كل ذلك يأخذ القداحة، فيوري نارا بيده ويسرج، ثم يخرج أحاديث فيعلم عليها، ثم يضع رأسه.‌‌(3)

وقال الفربرى: كنت عند محمد بن إسماعيل البخاري بمنزله ذات ليلة،

--------------------------------------------

‌‌(1) سير النبلاء (12/ 406).

‌‌(2) سير النبلاء (12/ 405). والفرصاد: التوت الشامى، ويكثر فى تلك البلاد، وينبت علي حواف الشوارع والأنهار، وهو إِلي وقت قريب -كما حدثونا- لا يباع لكثرته، فيباح بدون ثمن.

‌‌(3) تاريخ بغداد (2/ 3).

বইপত্র, আমি বুখারায় একটি চিঠি লিখছিলাম। আমি তাদেরকে (আমার আত্মীয়দের) সালাম জানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার মন থেকে তাদের নামগুলো হারিয়ে গেল। ফলে আমি চিঠি লিখলাম কিন্তু তাদের সালাম জানাতে পারলাম না। অথচ আমার ইলম (জ্ঞান) থেকে কত সামান্যই না হারিয়ে যায়! সমাপ্ত।‌‌(১)

আপনি এখানে দেখতে পাচ্ছেন যে, তিনি তাঁর নিকটাত্মীয়দের নাম ভুলে যাচ্ছেন, অথচ তিনি হাজার হাজার বর্ণনাকারী, তাঁদের বাসস্থান এবং তাঁদের মৃত্যুর তারিখ ভুলে যান না; যেন ইলম ব্যতীত তাঁর আর কোনো নিকটাত্মীয় নেই।

ইমাম বুখারী তাঁর পুরো সময় ইলমের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং তিনি নিজেকে এই কাজের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি এতে তাঁর নিয়তকে একনিষ্ঠ করেছিলেন, ফলে তাঁর ইলমের মধ্যে বরকত দান করা হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহর বহু প্রজন্ম তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে।

হানি বিন নাদর বলেন: আমরা শাম দেশে মুহাম্মদ বিন ইউসুফ—অর্থাৎ ফিরইয়াবি—এর নিকট ছিলাম। আমরা আনন্দ-ভ্রমণে লিপ্ত হতাম—যেমন যুবকরা তুঁত ফল এবং এই জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করে—এবং মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের সাথেই ছিলেন। কিন্তু আমরা যে কাজে লিপ্ত ছিলাম, তার কোনো কিছুতেই তিনি আমাদের সাথে ভিড় করতেন না এবং তিনি ইলমের ওপরই একনিষ্ঠভাবে ঝুঁকে থাকতেন।‌‌(২)

বর্ণনাসমূহ ইঙ্গিত দেয় যে, ইমাম বুখারী ইলম অন্বেষণের মাধ্যমেই ইবাদত করতেন। ইলমের জন্য তাঁর রাত জাগরণ ইবাদতের জন্য রাত জাগরণের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না, বরং দেখা যায় তিনি ইলমের জন্য রাত জাগরণে আনন্দ পেতেন এবং ইলমের পথে দীর্ঘ সফর ও নিরন্তর প্রবাস যাপনকে সুখকর মনে করতেন।

তাঁর লিপিকার বলেন: আমি যখন সফরে আবু আব্দুল্লাহর সাথে থাকতাম, তখন প্রচণ্ড গরমের সময় ছাড়া আমরা একই ঘরে অবস্থান করতাম। আমি তাঁকে এক রাতে পনেরো থেকে বিশ বার পর্যন্ত উঠতে দেখতাম; প্রতিবারই তিনি চকমকি পাথর নিতেন এবং নিজের হাতে আগুন জ্বালিয়ে চেরাগ জ্বালাতেন। এরপর তিনি হাদিসগুলো বের করে সেগুলোতে চিহ্ন দিতেন, তারপর আবার ঘুমাতে যেতেন।‌‌(৩)

ফিরাবরি বলেন: এক রাতে আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বুখারীর বাসভবনে তাঁর নিকট ছিলাম,

--------------------------------------------

‌‌(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/৪০৬)।

‌‌(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/৪০৫)। আল-ফুরসাদ: শামী তুঁত ফল, যা সেই দেশগুলোতে প্রচুর জন্মে এবং রাস্তার ধারে ও নদীর কিনারে উৎপন্ন হয়। বর্ণনামতে, এটি নিকট অতীতকাল পর্যন্ত আধিক্যের কারণে বিক্রি করা হতো না, বরং বিনামূল্যে নেওয়ার অনুমতি ছিল।

‌‌(৩) তারিখে বাগদাদ (২/৩)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
فأحصيت عليه أنه قام وأسرج يستذكر أشياء يعلقها فى ليلة ثماني عشرة مرة‌‌(1).

وهاتان كما تري صورتان، صورة فى السفر، وأخري فى الحضر، ما كان البخارى فيها يتلذذ بدفئ الفراش كما يتلذذ بتسجيل الفكرة الواردة علي خاطره، يسجلها قبل أن تضيع منه.

أى همة هذه؟ وأي إِخلاص هذا الذي يملك علي الإِنسان فكره وراحته؟

ولا يظنن القارئ أن فكر البخارى حين التأمل يرجع بما لا طائل منه، فساعة من هذا التفكير تتوارد فيه إِليه الخواطر النافعة بل المذهلة حقا.

قال رحمه الله: تذكرت يوما أصحاب أنس، فحضرني فى ساعة ثلاثمائة نفس‌‌(2).

قال وراقه: سمعته يقول: ما نمت البارحة حتي عددت كم أدخلت في تصانيفى من الحديث، فإِذا نحو مائتى ألف حديث‌‌(3).

أما عن أسفاره ورحلاته فى طلب الحديث فهذا شئ يطول، لكن لابد من الوقوف علي أمر هام فى هذه الرحلات، وهو طول الإِقامة فى المركز العلمي الذى يصل إِليه، وعلي الخصوص إِذا كان فيه من الشيوخ ما يستوجب هذه الإِقامة. قال رحمه الله: أقمت بالبصرة خمس سنين‌‌(4).

وقال: دخلت إِلي الشام ومصر والجزيرة مرتين، وإلي البصرة أربع مرات، وأقمت بالحجاز ستة أعوام، ولا أحصي كم دخلت إِلي الكوفة وبغداد مع المحدثين.

--------------------------------------------

‌‌(1) المرجع السابق.

‌‌(2) هدى الساري (488).

‌‌(3) المرجع السابق (487).

‌‌(4) هدى الساري (488).

আমি তাঁর ব্যাপারে গণনা করে দেখেছি যে, তিনি এক রাতে আঠারো বার উঠেছিলেন এবং বাতি জ্বালিয়েছিলেন এমন সব বিষয় স্মরণ করার জন্য যা তিনি টীকা হিসেবে লিখে রাখছিলেন‌‌(১)।

আপনি যেমন দেখছেন এই দুটি দৃশ্যপট; একটি ভ্রমণের সময়ের এবং অন্যটি আবাসে অবস্থানের সময়ের। বুখারি (রহ.) বিছানার উষ্ণতায় ততটা তৃপ্তি পেতেন না, যতটা তৃপ্তি তিনি তাঁর মনে আসা চিন্তাগুলো লিপিবদ্ধ করে পেতেন; তিনি সেগুলো হারিয়ে যাওয়ার আগেই লিখে ফেলতেন।

এ কেমন হিম্মত? এবং এ কেমন ইখলাস, যা মানুষের চিন্তা ও আরামের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে?

পাঠক যেন মনে না করেন যে, ধ্যানের সময় বুখারির চিন্তা নিষ্ফল কোনো বিষয়ের দিকে ধাবিত হতো; বরং এ জাতীয় চিন্তার এক মুহূর্তেই তাঁর নিকট অত্যন্ত উপকারী, এমনকি সত্যিই বিস্ময়কর সব চিন্তাধারা উপস্থিত হতো।

তিনি (রহ.) বলেছেন: একদিন আমি আনাস (রা.)-এর সাথীদের কথা স্মরণ করলাম, তখন এক মুহূর্তের মধ্যেই আমার স্মৃতিতে তিনশ জন ব্যক্তির নাম উপস্থিত হলো‌‌(২)।

তাঁর পাণ্ডুলিপিকার বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: গত রাতে আমি ততক্ষণ ঘুমাইনি যতক্ষণ না গুনেছি যে আমি আমার গ্রন্থসমূহে কতটি হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছি; দেখলাম তা প্রায় দুই লক্ষ হাদিস‌‌(৩)।

হাদিস অন্বেষণে তাঁর সফর ও ভ্রমণের কথা বললে তা দীর্ঘ হবে, তবে এই সফরগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন, আর তা হলো—যে ইলমি কেন্দ্রে তিনি পৌঁছাতেন সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা, বিশেষ করে যদি সেখানে এমন শাইখগণ থাকতেন যাঁদের সান্নিধ্যের জন্য এই অবস্থানের প্রয়োজন হতো। তিনি (রহ.) বলেছেন: আমি বসরায় পাঁচ বছর অবস্থান করেছি‌‌(৪)।

তিনি আরও বলেন: আমি শাম, মিসর ও জাজিরায় দুইবার প্রবেশ করেছি, বসরায় চারবার, আর হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করেছি। মুহাদ্দিসদের সাথে আমি কতবার কুফা ও বাগদাদে প্রবেশ করেছি তা আমি গণনা করতে পারব না।

--------------------------------------------

‌‌(১) পূর্বোক্ত উৎস।

‌‌(২) হুদাস সারি (৪৮৮)।

‌‌(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৪৮৭)।

‌‌(৪) হুদাস সারি (৪৮৮)।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌8 - طريقة البخاري في الطلب وتبكيره بالتصنيف:

إِن السيرة العلمية للبخاري جديرة أن يقف عندها الباحث، فقد عرفنا أنه رزق المؤهلات التى تؤهله للطلب، من الذكاء، وفراغ البال من العيش، وصلاح البيئة، وصلاح الأهل، وطيب المطعم، وكذلك رزق الأخلاص في الطلب، ومحبة الصالحين من شيوخه وأقرانه، كما حقّته دعوات أهل الخير ممن عرفوا قدره، الى غير ذلك من توفيق الله تعالي لهذا الإِمام. لكن ما هو الجهد الذي بذله هذا الإِمام للوصول إِلى ما وصل اليه؟ إِنّ يد العناية قد أهدت اليه ما يستطيع به أن يبلغ الذروة، فبماذا قابل الإِمام كل ذلك؟

لقد اختطّ لنفسه منهجًا جديدا وحازمًا في الطلب، فكان عجبًا من العجب، أثار انتباه غير واحد من فحول ذلك الزمن.

فقد ألقي في قلبه حفظ الحديث، فبدأ يحفظه وهو لم يتخرّج من الكتاب بعد. فما أن تخرّج منه إِلا وهو يحفظ ما يقارب السبعين ألف حديث. وهذا من غرائب الأمور في التحصيل العلمي يومذاك. لأن من يتخرّح من الكُتّاب يكون قد أتم حفظ القرآن. أما أنه كان يحفظ معه (سبعين ألف حديث) فهذا موضع العجب الذي لا ينتهي.

قال سليم بن مجاهد: كنت عند محمد بن سلام البيكندي فقال لي: لو جئتَ مِن قبل لرأيت صبيًّا يحفظ سبعين ألف حديث!!‌‌(1)

والعجب أنه لم يكن يحفظ حفظا تقليديا كما يحفظ من في سنّه، بل كان يحفظ حفظ الأدباء العقلاء الفقهاء، فكان يُعْمِل فكره في الاسناد، كما يجهد عقله في المتن.

قال سليم بن مجاهد -متمما للخبر السابق: "فخرجت في طلبه حتى

--------------------------------------------

‌‌(1) هدي الساري: ص (483). وقارن هذا بقول إِسحاق بن راهوية فبعد أن تصدّر وجلس للفتوى جعل يقول: (كأني أنظر إِلى سبعين ألف حديث من كتابي). السير: 12/ 416.

৮ - ইলম অন্বেষণে বুখারীর পদ্ধতি এবং অল্প বয়সে গ্রন্থ রচনায় তাঁর আত্মনিয়োগ:

ইমাম বুখারীর ইলমী জীবনী বা কর্মজীবন একজন গবেষকের বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার মতো। আমরা জেনেছি যে, তিনি ইলম অর্জনের যোগ্য করে তোলার মতো সমস্ত উপকরণ লাভে ধন্য হয়েছিলেন—যেমন মেধা, জীবিকার চিন্তা থেকে মুক্তি, সুন্দর পরিবেশ, নেককার পরিবার এবং হালাল খাবার। তদ্রূপ তিনি ইলম অন্বেষণে ইখলাস (একনিষ্ঠতা), তাঁর উস্তাদ ও সমসাময়িক নেককার ব্যক্তিদের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে অবগত পুণ্যবান ব্যক্তিদের দুআ লাভে ধন্য হয়েছিলেন। এগুলো ছাড়াও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এই ইমামের প্রতি আরও অনেক তাওফিক ছিল। কিন্তু এই উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর জন্য ইমাম নিজে কী পরিমাণ পরিশ্রম করেছিলেন? আল্লাহর হাত তাঁকে এমন কিছু উপহার দিয়েছিল যার মাধ্যমে তিনি শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। ইমাম এই সবকিছুকে কীভাবে গ্রহণ করেছিলেন?

তিনি ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে নিজের জন্য একটি নতুন ও সুদৃঢ় কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর। এটি সে সময়ের বহু দিকপাল আলেমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

তাঁর অন্তরে হাদীস মুখস্থ করার প্রেরণা জাগ্রত হয়েছিল। তাই তিনি মক্তব থেকে শিক্ষা সমাপন করার আগেই হাদীস মুখস্থ করা শুরু করেন। মক্তব থেকে বের হতে না হতেই তিনি প্রায় সত্তর হাজার হাদীস মুখস্থ করে ফেলেছিলেন। তৎকালীন সময়ে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে এটি ছিল এক বিস্ময়কর ঘটনা। কারণ, সাধারণত মক্তব থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার সময় একজন শিক্ষার্থী কেবল কুরআন হিফজ সম্পন্ন করত। কিন্তু তিনি যে এর পাশাপাশি (সত্তর হাজার হাদীস) মুখস্থ রাখতেন, তা এক অন্তহীন বিস্ময়ের বিষয়।

সুলাইম বিন মুজাহিদ বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন সালাম আল-বাইকান্দীর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: "তুমি যদি একটু আগে আসতে, তবে এমন একজন বালককে দেখতে পেতে যে সত্তর হাজার হাদীস মুখস্থ রাখে!!"‌‌(১)

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, তিনি তাঁর সমবয়সীদের মতো গতানুগতিকভাবে মুখস্থ করতেন না। বরং তিনি প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক ও ফকীহগণের ন্যায় মুখস্থ করতেন। তিনি যেভাবে সনদের (সূত্র) ওপর চিন্তা-ভাবনা করতেন, তেমনি মতন (মূল পাঠ) নিয়েও নিজের মেধাকে খাটিয়ে নিতেন।

সুলাইম বিন মুজাহিদ—পূর্ববর্তী সংবাদের ধারাবাহিকতায়—বলেন: "আমি তাঁকে খুঁজতে বের হলাম যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

‌‌(১) হাদিউস সারী: পৃষ্ঠা (৪৮৩)। এবং এর সাথে ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-এর উক্তিটি তুলনা করুন; যখন তিনি ইলমের মসনদে আসীন হলেন এবং ফতোয়া প্রদানে নিয়োজিত হলেন, তখন তিনি বলতে লাগলেন: (আমি যেন আমার কিতাব থেকে সত্তর হাজার হাদীসের দিকে তাকাচ্ছি)। আস-সিয়ার: ১২/৪১৬।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩১)
لقيته، فقلت: أنت الذي تقول: أنا أحفظ سبعين ألف حديث؟ قال: "نعم، وأكثر منه، ولا أجيئك بحديث عن الصحابة أو التابعين إِلا وعرفت مولد أكثرهم ووفاتهم ومساكنهم".‌‌(1)

وقال: وراقه: سمعته يقول: لم تكن كتابتي الحديث كما يكتب هؤلاء، كنت إذا كتبت عن رجل، سألته عن اسمه، وكنيته، ونسبه، وعلّة الحديث ان كان فهما- فان لم يكن سألته أن يُخرج لي أصله، ونسخته، وأما الآخرون فلا يبالون ما يكتبون، ولا كيف يكتبون‌‌(2).

وقال بكر بن منير: سمعت البخاري يقول: كنت عند أبي حفص: أحمد ابن حفص أسمع كتاب "الجامع" لسفيان الثوري -من كتاب والدي- فمرّ أبو حفص على حرف ولم يكن عندي ما ذكر- فراجعته الثانية، فقال الثانية كذلك، فراجعته فسكت. ثم قال: مَنْ هذا؟ قالوا: ابن إِسماعيل. فقال أبو حفص: هو كما قال، واحفظوا أنّ هذا يصير يوما رجلا. أهـ.‌‌(3)

قال عباس الدوري: ما رأيت أحسن طلبا للحديث من محمد بن إِسماعيل، كان لا يدع أصلًا ولا فرعًا إِلا قلعه.‌‌(4)

وقال الدارمي: لم يكن يُشْبه طلب محمد للحديث طلبنا، كان إذا نظر في حديث رجل أنزفه.‌‌(5)

قلت: وقد مرّ بنا كيف ردّ على أحد شيوخه يصحح له اسمًا في الإِسناد، وهو لم يبلغ الحادية عشرة من العمر.

فهذه الطريقة البارعة في الطلب، وهي طريقة التفكّر والتأمل والملاحظة،

--------------------------------------------

‌‌(1) تأريخ بغداد: 2/ 24 - 25. تهذيب الكمال: ص (1170).

‌‌(2) تغليق التعليق: 5/ 389.

‌‌(3) تاريخ بغداد: 2/ 11.

‌‌(4) تغليق التعليق: 5/ 389. وانظر: سير النبلاء: 12/ 406.

‌‌(5) سير النبلاء: 12/ 427.

আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আপনি কি সেই ব্যক্তি যিনি বলেন: আমি সত্তর হাজার হাদিস মুখস্থ জানি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, বরং তার চেয়েও বেশি। আর আমি সাহাবী বা তাবিঈদের থেকে কোনো হাদিস তোমার কাছে বর্ণনা করি না, যার অধিকাংশের জন্মস্থান, মৃত্যু এবং আবাসস্থল সম্পর্কে আমি অবগত নই।"‌‌(১)

তাঁর লিপিকার (ওয়াররাক) বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমার হাদিস লিপিবদ্ধ করা এই লোকেদের লেখার মতো ছিল না। আমি যখন কোনো ব্যক্তির থেকে হাদিস লিখতাম, তখন আমি তাঁকে তাঁর নাম, উপনাম (কুনিয়াত), বংশপরিচয় এবং হাদিসের কোনো ত্রুটি (ইল্লত) থাকলে তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম—যদি তাঁর সেই সমঝ থাকত। আর যদি তা না থাকত, তবে আমি তাঁকে তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি বা মূল কপিটি বের করে দেখাতে বলতাম। অন্যদিকে অন্যরা কী লিখছে বা কীভাবে লিখছে, সে ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করে না‌‌(২)।

বকর ইবনে মুনীর বলেন: আমি বুখারীকে বলতে শুনেছি: আমি আবু হাফস আহমদ ইবনে হাফসের নিকট সুফিয়ান সাওরির "আল-জামি" কিতাবটি শুনছিলাম—আমার পিতার পাণ্ডুলিপি থেকে। তখন আবু হাফস একটি শব্দ পাঠ করলেন যা আমার কাছে থাকা পাণ্ডুলিপির সাথে মিলছিল না। আমি দ্বিতীয়বার তাঁকে সংশোধন করে দিলাম, তিনি দ্বিতীয়বারও আগের মতোই পাঠ করলেন। আমি পুনরায় তাঁকে সংশোধন করে দিলে তিনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। অতঃপর বললেন: এটি কে? তারা বলল: ইবনে ইসমাইল। তখন আবু হাফস বললেন: সে যা বলেছে তাই সঠিক। তোমরা মনে রেখো যে, এই বালক একদিন এক মহান ব্যক্তিতে পরিণত হবে। সমাপ্ত।‌‌(৩)

আব্বাস আদ-দুরী বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে সুচারুরূপে হাদিস অন্বেষণকারী আর কাউকে দেখিনি। তিনি কোনো মূল বা শাখা কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা ছাড়া ছাড়তেন না।‌‌(৪)

আদ-দারিমি বলেন: মুহাম্মদের হাদিস অন্বেষণ আমাদের অন্বেষণের মতো ছিল না। তিনি যখন কোনো ব্যক্তির হাদিসের দিকে দৃষ্টি দিতেন, তখন তিনি তা পূর্ণরূপে আয়ত্ত করে নিতেন।‌‌(৫)

আমি (গ্রন্থকার) বলি: ইতিপূর্বেই আমাদের আলোচনায় এসেছে যে, কীভাবে তিনি তাঁর জনৈক শিক্ষকের ভুল সংশোধন করে সনদের একটি নাম ঠিক করে দিয়েছিলেন, অথচ তখন তাঁর বয়স এগারো বছরও পূর্ণ হয়নি।

অন্বেষণের এই নিপুণ পদ্ধতি, যা ছিল চিন্তা, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি—

--------------------------------------------

‌‌(১) তারীখে বাগদাদ: ২/ ২৪ - ২৫। তাহযীবুল কামাল: পৃ (১১৭০)।

‌‌(২) তাগলীকুত তালীক: ৫/ ৩৮৯।

‌‌(৩) তারীখে বাগদাদ: ২/ ১১।

‌‌(৪) তাগলীকুত তালীক: ৫/ ৩৮৯। আরও দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/ ৪০৬।

‌‌(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/ ৪২৭।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩২)
وما انضاف اليها من الالهام والذكاء والنهم، أهّلت البخاري أن يدرك في صباه ما لم يدركه الكبار إِلا قُرب انتهاء الأعمار.

هذا ما كان البخاري يعانيه في الصبا. ثم قال هو عن نفسه: "فلما طعنت في ست عشرة سنة، كنت قد حفظت كتب ابن المبارك، ووكيع، وعرفت كلام هؤلاء"‌‌(1). ويريد بقوله (هؤلاء): أهل الرأي، كما أفاد ابن حجر.

وهنا نجد البخاري خطا خطوة أخرى بل أتمها ولم يتم السادسة عشرة من عمره، وهو حفظه كتب الفقه المصّنفة في زمانه، وكذلك معرفة كتب أهل الرأي الشائعة في ذلك العهد. وهكذا جمع بين علم الرواية جرحا وتعديلا، واسنادا وتعليلا، وبين علم الدراية فقها واستنباطا. وهذا ما أهّله لـ "مناطحة الكباش"- كما عبّر بذلك أحد من كان يحضر مجلس شيخه أبي عاصم النبيل.

قال محمد بن قتيبة البخاري: كنت عند أبي عاصم النبيل، فرأيت عنده غلاما، فقلت له: من أين أنت؟ قال: من بخارى. قلت: ابن من؟ قال: ابن إِسماعيل، فقلت: أنت من قرابتي. فقال لي رجل بحضرة أبي عاصم: هذا الغلام يناطح الكباش.‌‌(2)

قال ابن حجر: يعني: يقاوم الشيوخ.

قلت: وليس هذا فحسب بل أهّله لمرتبة أخرى وهي "التصنيف".

قال البخاري: "فلما طعنت في ثمان عشرة جعلت أصنّف قضايا الصحابة والتابعين وأقاويلهم، وذلك أيام عبيد الله بن موسى، وصنّفت كتاب التأريخ اذ ذلك عند قبر الرسول صلى الله عليه وسلم في الليالي المقمرة".‌‌(3)

قلت: التأريخ الكبير سنتحدث عنه في غير هذا الموضع، ويكفي أن

--------------------------------------------

‌‌(1) طبقات الشافعية للسبكي: 2/ 216. وهدى الساري: ص (478).

‌‌(2) هدي الساري: ص (482).

‌‌(3) تأريخ بغداد: 2/ 6 - 7. وتذكرة الحفاظ: 2/ 555.

এর সাথে যে ইলহাম (অনুপ্রেরণা), মেধা ও জ্ঞানতৃষ্ণা যুক্ত হয়েছিল, তা বুখারিকে তাঁর শৈশবেই এমন স্তরে পৌঁছানোর যোগ্যতা দান করেছিল যা বড়রা তাঁদের জীবনের শেষ প্রান্ত ছাড়া অর্জন করতে পারতেন না।

শৈশবে বুখারি এই সাধনাই করছিলেন। এরপর তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: "যখন আমি ষোলো বছরে পদার্পণ করলাম, তখন আমি ইবনুল মুবারক ও ওয়াকির কিতাবসমূহ মুখস্থ করে ফেলেছিলাম এবং তাঁদের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হয়েছিলাম"‌‌(১)। ইবনে হাজার যেমনটি জানিয়েছেন, 'তাঁদের' বলতে তিনি আহলুর রায় (যুক্তিনির্ভর ফকিহ)-দের বুঝিয়েছেন।

এখানে আমরা দেখতে পাই যে, বুখারি আরেকটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, বরং ষোলো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা সমাপ্ত করেছিলেন; আর তা হলো তাঁর যুগে সংকলিত ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ মুখস্থ করা এবং সেই আমলে প্রচলিত আহলুর রায়ের কিতাবসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া। এভাবেই তিনি ইলমুর রিওয়ায়াত (বর্ণনাবিদ্যা)—যার মধ্যে জারহ-তাদিল ও ইসনাদ-ইলল (সনদ ও ত্রুটি বিচারে পারদর্শিতা) অন্তর্ভুক্ত—এবং ইলমুত দিরায়াত (তত্ত্বীয় জ্ঞান)—যার মধ্যে ফিকহ ও ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) অন্তর্ভুক্ত—উভয়ের মাঝে সমন্বয় ঘটান। আর এটিই তাঁকে "বড় বড় মেষদের সাথে লড়াই" (অর্থাৎ বড় পণ্ডিতদের মোকাবিলা) করার যোগ্য করে তুলেছিল—যেমনটি তাঁর উস্তাদ আবু আসিম আন-নাবিলের মজলিসে উপস্থিত একজন ব্যক্তি ব্যক্ত করেছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে কুতাইবা আল-বুখারি বলেন: আমি আবু আসিম আন-নাবিলের কাছে ছিলাম, সেখানে এক কিশোরকে দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলাম: তোমার বাড়ি কোথায়? সে বলল: বুখারা। আমি বললাম: কার ছেলে? সে বলল: ইসমাইলের ছেলে। আমি বললাম: তুমি তো আমার আত্মীয়। তখন আবু আসিমের উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি আমাকে বললেন: এই কিশোর বড় বড় পণ্ডিতদের মোকাবিলা করে।‌‌(২)

ইবনে হাজার বলেন: অর্থাৎ, সে শায়খদের (বিদ্বানদের) মোকাবিলা করে।

আমি বলি: কেবল এটিই নয়, বরং এটি তাঁকে আরও একটি উচ্চতর স্তরের যোগ্য করে তুলেছিল, আর তা হলো "গ্রন্থ রচনা"।

বুখারি বলেন: "যখন আমি আঠারো বছরে পদার্পণ করলাম, তখন আমি সাহাবি ও তাবেয়িদের বিচারিক সিদ্ধান্ত ও তাঁদের বক্তব্যসমূহ সংকলন করতে শুরু করি। এটি ছিল উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসার সময়কালের ঘটনা। আর সে সময়ই আমি জোছনা রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে বসে 'আত-তারিখ' গ্রন্থটি রচনা করি।"‌‌(৩)

আমি বলি: 'আত-তারিখুল কাবির' সম্পর্কে আমরা অন্য স্থানে আলোচনা করব, তবে এখানে এটুকু বলাই যথেষ্ট যে—

--------------------------------------------

‌‌(১) সুবকির তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: ২/২১৬; এবং হুদাস সারি: পৃ. (৪৭৮)।

‌‌(২) হুদাস সারি: পৃ. (৪৮২)।

‌‌(৩) তারিখু বাগদাদ: ২/৬-৭; এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ: ২/৫৫৫।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
شيخه إِسحاق بن راهويه سمّاه "السحر". وأن البخاري أفاد أن بعض مشايخه لو بعثوا من قبورهم لما عرفوا طرقه تصنيفه للتاريخ. وأما "قضايا الصحابة والتابعين" فلم يصلنا بعد. وعبيد الله بن موسي العبسي توفي سنة (213) على الصحيح، وهو من شيوخ البخاري. أي أن البخاري عانى التصنيفى حقا وهو في سن السابعة عشرة من عمره، أو كما قال: طعن في الثامنة عشرة.

ويبدو مِن وصف هذا الكتاب أنه في "الفتاوى" التي أفتى بها الصحابة والتابعون مما لم يكن منصوصا عليه أي هو بتعبير آخر: "فقه الصحابة والتابعين". وهذه التفاتة ذكية من هذا الشاب اليقظ تحاول ارجاع الفقه إِلى أصوله الأولى وتقف حائلا دون التفريعات البعيدة عن أصولها. بمعنى أنه أراد أن يقول: ان هناك أمورا اجتهد فيها الصحابة والتابعون فلا حاجة للإِجتهاد فيها مرّة أخري، فهم أقرب منا إِلى النبي صلى الله عليه وسلم واجتهادهم أولى أن يتَّبع من اجتهادنا.

وأنت ترى أن هذا أمر ليس بالهيّن -أعني التصنيف في هذا الجانب من جواب العلم- لأنه يقتضي احاطة تامة بما هو منصوص عليه وما هو غير منصوص عليه من مسائل الفقه، ومن لم يكن بهذا المستوي من الأحاطة فليبتعد عن هذا الحقل من التصنيف، لآن ذلك يؤدي إِلى تداخل ما هو منصوص عليه بغيره، وبذلك تضطرب الضوابط التي يقوم عليها هذا النوع من التصنيف. والبخاري قد أقحم نفسه في ذلك بثبات ورباطة جأش، وهو لم يتم الثامنة عشرة من عمرة.

 

‌‌9 - تحديد المقصد وعلو الغاية:

إذا تحدد المقصد واستقر، ووضحت الغاية واستنارت، فان طالبها يمضي إليها بخطى ثابتة مدروسة، لايلوي على شيء، ولا تشغله دنياه عنها.

ومن توفيق الله تعالى للبخاري أن هدفه في حياته وضحت معالمه وهو في
তাঁর শিক্ষক ইসহাক বিন রাহওয়াইহি একে "জাদু" নামে অভিহিত করেছেন। আর বুখারী উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কোনো কোনো শিক্ষক যদি তাঁদের কবর থেকে পুনরুত্থিত হতেন, তবে তাঁরা ইতিহাসের ক্ষেত্রে তাঁর সংকলন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতেও পারতেন না। আর "কাদায়াস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন" (সাহাবী ও তাবিঈদের ফয়সালাসমূহ) গ্রন্থটি এখনও আমাদের নিকট পৌঁছেনি। উবায়দুল্লাহ বিন মুসা আল-আবসি সঠিক মতে ২১৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি বুখারীর শিক্ষকদের একজন ছিলেন। অর্থাৎ বুখারী প্রকৃতপক্ষেই সতেরো বছর বয়সে সংকলন কার্যে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, অথবা যেমনটি তিনি বলেছেন: আঠারো বছর বয়সে পদার্পণের সময়।

এই কিতাবের বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি মূলত সেই সকল "ফতোয়া" বিষয়ক যা সাহাবী ও তাবিঈগণ প্রদান করেছিলেন এবং যে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট শরয়ী ভাষ্য ছিল না। অর্থাৎ অন্য কথায় এটি হলো: "সাহাবী ও তাবিঈদের ফিকহ"। এই সজাগ তরুণের পক্ষ থেকে এটি ছিল এক বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ যা ফিকহকে তার আদি উৎসে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এর মূল উৎস থেকে দূরে সরে যাওয়া শাখা-প্রশাখা বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। এর অর্থ হলো তিনি বলতে চেয়েছিলেন: এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেখানে সাহাবী ও তাবিঈগণ ইজতিহাদ করেছেন, তাই সেখানে নতুন করে ইজতিহাদ করার প্রয়োজন নেই; কেননা তাঁরা আমাদের তুলনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন এবং আমাদের ইজতিহাদের চেয়ে তাঁদের ইজতিহাদ অনুসরণযোগ্য হওয়ার অধিক দাবিদার।

আর আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে এটি কোনো সহজ কাজ নয়—আমি বলতে চাচ্ছি জ্ঞানের এই শাখায় সংকলন করা—কেননা এর জন্য ফিকহী মাসআলাসমূহের মধ্যে কোনগুলো শরয়ী ভাষ্য দ্বারা নির্ধারিত আর কোনগুলো নয়, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ পরিবেষ্টনকারী জ্ঞানের প্রয়োজন। যাঁর এই স্তরের জ্ঞান নেই তাঁর উচিত সংকলনের এই ক্ষেত্র থেকে দূরে থাকা, কারণ এর ফলে শরয়ী ভাষ্য দ্বারা প্রমাণিত বিষয়ের সাথে অন্যান্য বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটে যায়, ফলে এই ধরনের সংকলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করা মূলনীতিগুলো এলোমেলো হয়ে পড়ে। আর ইমাম বুখারী অটলতা ও স্থিরচিত্তের সাথে নিজেকে এর মধ্যে নিয়োজিত করেছিলেন, অথচ তখনও তাঁর বয়স আঠারো বছর পূর্ণ হয়নি।

 

‌‌৯ - লক্ষ্য নির্ধারণ ও সুউচ্চ উদ্দেশ্য:

যখন উদ্দেশ্য নির্ধারিত ও স্থির হয় এবং লক্ষ্য স্পষ্ট ও আলোকিত হয়, তখন তা অন্বেষণকারী সুচিন্তিত ও দৃঢ় পদক্ষেপে সেদিকে এগিয়ে যায়; সে অন্য কিছুর দিকে ফিরে তাকায় না এবং দুনিয়ার কোনো ব্যস্ততা তাকে তা থেকে বিচ্যুত করতে পারে না।

ইমাম বুখারীর প্রতি আল্লাহ তা'আলার অন্যতম অনুগ্রহ এই ছিল যে, তাঁর জীবনের লক্ষ্যের গতিপথ সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যখন তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
عهد الصبا. فالغاية التي كان يرمي إليها البخاري من كل ما تعلّمه، ووقف حياته عليها، كانت: ربط جميع تصرفات الانسان المسلم بأصل شرعي يستند إليه. ونلحظ ذلك عندما قال لورّاقه: "إِني ما أتيت شيئا بغير علم منذ عقلت".‌‌(1)

وقال: "ما جلست للتحديث حتى عرفت الصحيح من السقيم، وحتى نظرت في كتب أهل الرأي، وما تركت بالبصرة حديثا إِلا كتبته".‌‌(2)

وقال لوراقة يوما: "لا أعلم شيئا يُحتاج اليه إِلا وهو في الكتاب والسنة".

قال: فقلت له: يمكن معرفة ذلك؟ قال: نعم.‌‌(3)

ولأجل هذه الغاية وضع البخاري جميع تصانيفه، ولو تأملها الباحث لما وجدها تخرج عن هذا الاطار. فـ "قضايا الصحابة والتابعين" و" الجامع الصحيح" و "الإِعتصام"، و "جزء القراءة خلف الإِمام "، ورفع اليدين في الصاة" وغيرها كلها تصب في هذا المسار ولا تحيد عنه.

فالبخاري اذن ملك وسائل هذه الغاية، من علم واسع، وذكاء خارق، وهمّة عالية، ولا بدّ له من الناصر والمؤازر.

وقد وجد البخاري في شخص الإِمام أحمد رحمه الله النموذج الذي يمكن التعاون معه لهذه الغاية العظمى، فالهدف عندهما متّحد، وتوافق الآراء بينهما قائم إِلى حد بعيد. وكذلك كان الإِمام أحمد- وقد قطع في غايته هذه أشواطا بعيدة- كان يرى في شخصية الإِمام البخاري ذلك العنصر الناضج الذي يمكن الاستفادة من طاقاته الكبيرة في خدمة السنة في عاصمة الخلافة العباسية.

--------------------------------------------

‌‌(1) الوافي بالوفيات: 2/ 208. وطبقات الشافعية للسبكي: 2/ 10.

‌‌(2) هدي الساري: ص (488).

‌‌(3) المرجع السابق.

শৈশবকাল থেকেই। ইমাম বুখারী যা কিছু শিখেছেন এবং যার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল: একজন মুসলিমের সকল কর্মকাণ্ডকে এমন একটি শরয়ী মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত করা যার ওপর সে নির্ভর করতে পারে। এবং আমরা এটি লক্ষ্য করি যখন তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপি লেখককে বলেছিলেন: "আমি যখন থেকে সমঝদার হয়েছি, তখন থেকে জ্ঞান (ইলম) ব্যতীত কোনো কাজ করিনি।"‌‌(১)

তিনি আরও বলেন: "আমি হাদীস বর্ণনার জন্য ততক্ষণ বসিনি যতক্ষণ না আমি সহীহ ও ত্রুটিযুক্ত হাদীসের পার্থক্য চিনেছি, এবং যতক্ষণ না আমি আহলে রা'য়-এর কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেছি; আর বসরার এমন কোনো হাদীস নেই যা আমি লিখে নিইনি।"‌‌(২)

তিনি একদিন তাঁর পাণ্ডুলিপি লেখককে বলেছিলেন: "আমি এমন কোনো প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে জানি না যা কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর মধ্যে নেই।"

তিনি (লেখক) বলেন: আমি তাঁকে বললাম: এটা কি জানা সম্ভব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"‌‌(৩)

এই উদ্দেশ্যেই ইমাম বুখারী তাঁর সমস্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন; কোনো গবেষক যদি সেগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তিনি সেগুলোকে এই কাঠামোর বাইরে পাবেন না। যেমন- "কাযায়া আস-সাহাবা ওয়াত-তাবিঈন", "আল-জামি আস-সহীহ", "আল-ইতিসাম", "জুযউল কিরাআতি খালাফাল ইমাম", "রাফউল ইয়াদাইনি ফিস সালাত" এবং তাঁর অন্যান্য সমস্ত রচনা এই একই ধারায় প্রবাহিত এবং এর থেকে বিচ্যুত নয়।

অতএব, ইমাম বুখারী এই লক্ষ্য অর্জনের উপায় ও উপকরণগুলোর অধিকারী ছিলেন—যেমন বিস্তৃত জ্ঞান, অলৌকিক মেধা এবং সুউচ্চ সংকল্প। আর তাঁর জন্য একজন সাহায্যকারী ও সহযোগীর প্রয়োজন ছিল।

ইমাম বুখারী এই মহান লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতার জন্য ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহির ব্যক্তিত্বের মাঝে এমন এক আদর্শ খুঁজে পেয়েছিলেন যার সাথে কাজ করা সম্ভব। কারণ তাঁদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন এবং তাঁদের মতামতের মিল ছিল সুদূরপ্রসারী। তেমনিভাবে ইমাম আহমাদ—যিনি ইতিমধ্যে তাঁর এই লক্ষ্যে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছিলেন—তিনিও ইমাম বুখারীর ব্যক্তিত্বের মাঝে এমন এক পরিপক্ক উপাদান দেখতে পেয়েছিলেন যার বিশাল সক্ষমতাকে আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানীতে সুন্নাহর খিদমতে ব্যবহার করা সম্ভব।

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: ২/২০৮। এবং আস-সুবকির তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: ২/১০।

‌‌(২) হাদিউস সারি: পৃষ্ঠা (৪৮৮)।

‌‌(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
لقد كان الإِمام أحمد يتفرّس في الرجال، وتفكّر يوما في علماء خراسان فقال: أخرجت خراسان ثلاثة: أبو زرعة، ومحمد بن إِسماعيل، وعبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، ومحمد عندي أبصرهم وأعلمهم، وأفقههم.‌‌(1) وروى عنه ابنه عبد الله قال: سمعت أبي يقول: ما أخرجت خراسان مثل محمد بن إِسماعيل.‌‌(2) ولذلك كان الإِمام أحمد حريصا على أن يبقي الإِمام البخاري إِلى جانبه، لما يرى من أخلاصه، وسعة علمه، واجتماع القلوب عليه، بل كان يراه أحق الناس بخلافته واكمال مسيرته. قال البخاري: (دخلت بغداد ثماني مرّات، في كلها أجالس أحمد بن حنبل، فقال لي: يا أبا عبد الله، تدع العلم والناس، وتصير إِلى خراسان؟!!. قال البخاري: فأنا أذكر قوله الآن)‌‌(3)

الإِمام أحمد كان يرى أن منزلة بغداد من أقطار الخلافة الاسلامية بمنزلة الرأس من الجسد، وبغداد كانت تملك من عوامل التأثير في أقطار الخلافة ما لا يمكن عكسه. ولم يدرك البخاري ذلك الابعد قوات الأوان، فإنه ترك بغداد وذهب للإِقامة في نيسابور، وبقي فيها خمس سنين، ثم وقعت الفتنة التي أدّت إِلى خروجه من نيسابور، فتذكر يومها قول الإِمام أحمد حتى قال البخاري: (فأنا أذكر قوله الآن).

ولعل هدف البخاري كان نشر العلم في تلك الأقطار، إذ أن بغداد قد كُفِيتْ ذلك بمثل الإِمام أحمد رحمه الله.

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) تأريخ بغداد: 2/ 28.

‌‌(2) المرجع السابق: 2/ 21.

‌‌(3) تأريخ بغداد: 2/ 22 - 23.

ইমাম আহমাদ মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলী অনুধাবনে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। একদিন তিনি খোরাসানের আলিমদের কথা চিন্তা করে বললেন: "খোরাসান তিনজনকে তৈরি করেছে: আবু যুরআহ, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারিমি। আর মুহাম্মাদ আমার নিকট তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং সবচেয়ে বড় ফকিহ।"‌‌(১) তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "খোরাসান মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের মতো কাউকে তৈরি করেনি।"‌‌(২) একারণেই ইমাম আহমাদ ইমাম বুখারিকে তাঁর সান্নিধ্যে রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; কারণ তিনি তাঁর নিষ্ঠা, জ্ঞানের ব্যাপকতা এবং মানুষের নিকট তাঁর গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করেছিলেন। এমনকি তিনি তাঁকে নিজের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার এবং তাঁর কর্মধারা পূর্ণ করার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি বলে মনে করতেন। বুখারি বলেন: (আমি আটবার বাগদাদে প্রবেশ করেছি এবং প্রতিবারই আহমাদ ইবনে হাম্বলের সান্নিধ্যে বসেছি। তিনি আমাকে বলতেন: হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি ইলম ও মানুষকে ছেড়ে দিয়ে খোরাসানে চলে যাচ্ছেন?!! বুখারি বলেন: আমি এখনও তাঁর সেই কথা স্মরণ করি)।‌‌(৩)

ইমাম আহমাদ মনে করতেন যে, ইসলামি খিলাফতের অঞ্চলসমূহের মধ্যে বাগদাদের মর্যাদা ছিল দেহের মাথার মতো। আর বাগদাদ খিলাফতের অন্যান্য অঞ্চলে এমন সব প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানের অধিকারী ছিল যা অন্য কোথাও সম্ভব ছিল না। ইমাম বুখারি তা সময় অতিবাহিত হওয়ার আগে অনুধাবন করতে পারেননি। তিনি বাগদাদ ত্যাগ করে নিশাপুরে বসবাসের জন্য চলে যান এবং সেখানে পাঁচ বছর অবস্থান করেন। অতঃপর সেখানে এমন এক ফিতনা বা বিপর্যয় সৃষ্টি হয় যা তাঁকে নিশাপুর ত্যাগে বাধ্য করে। সেদিন তিনি ইমাম আহমাদের সেই কথা স্মরণ করেন, এমনকি বুখারি বলেন: (আমি এখন তাঁর সেই কথা স্মরণ করছি)।

সম্ভবত বুখারির লক্ষ্য ছিল সেই অঞ্চলগুলোতে ইলম বা জ্ঞান প্রচার করা; কেননা বাগদাদে ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর মতো ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে সেই প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) তারিখু বাগদাদ: ২/ ২৮।

‌‌(২) প্রাগুক্ত: ২/ ২১।

‌‌(৩) তারিখু বাগদাদ: ২/ ২২ - ২৩।

(খণ্ড: ১) তাখরীজুল আহাদীসিল মারফুয়াতিল মুসনাদাতি ফী কিতাবিত তারীখিল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌المبحث الثاني ثناء شيوخه عليه

من المعلوم أن الثناء إِنما يكون على العالم من تلاميذه الذين يتأثرون به. أو من الأقران الذين صحبوه وعرفوا فضله لأن الغالب ألا يظهر نبوغ التلميذ وسَرَيان ذكره وأثره في غيره إِلا بعد وفاة شيوخه. أمّا أن الشيخ يثني على تلميذه ويفتخر به، فهذا أمر له دلائل كثيرة. منها: أن النبوغ ظهر على ذلك التلميذ في وقت مبكر، وأن فضلة وذكاءه بان عليه بشكل ملفت للنظر، وربما دلّ على أن الشيخ نفسه استفاد من هذا التلميذ.

وهذا ماكان من شأن البخاري. فقلما لقي شيخًا من الشيوخ منذ أن كان في الكتّاب إِلا ظهر لذلك الشيخ من دواعي الاعجاب بالبخاري ما يجعله يثني عليه ويرفع من شأنه.

و"ثناء الشيخ على التلميذ" يمثّل تقويما دقيقا وسديدا لذلك التلميذ، لأن الشيوخ في العادة قلما ينوّهون بفضل طلابهم، والعكس هو الحاصل. فإذا ما انقلب الأمر، وصار ثناء الضيوخ "إِجماعا" متفق عليه، وكلٌ أثنى بما رأى، ومدح بما لاحظ ببصره أو بصيرته، فعند ذلك ترتفع القيمة العلمية لهذا الثناء والتعظيم، فيغني عن الكلام الكثير من المتأخرين.

وقد تنبه لذلك أحد الدارسين المتعمّقين في سيرة الإِمام البخاري، وهو ابن حجر العسقلاني، فعقد فصلا خاصا في مقدمة شرحه للجامع الصحيح، جمع فيه طائفة جيدة من ثناء شيوخ البخاري عليه، وأنا أنقل هنا غالب ذلك الفصل في هذا المبحث، وأشير في الهامش إِلى مصادر أخرى لهذه النقول.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রতি তাঁর উস্তাদগণের প্রশংসা

এটি সুবিদিত যে, কোনো আলিমের প্রশংসা সাধারণত তাঁর সেই সব ছাত্রের পক্ষ থেকে আসে যারা তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হন, অথবা সেই সব সমসাময়িকদের পক্ষ থেকে যারা তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। কারণ সাধারণত ছাত্রের প্রতিভা এবং অন্যের ওপর তার প্রভাব ও পরিচিতির বিস্তার তার উস্তাদদের মৃত্যুর পরই প্রকাশ পায়। কিন্তু উস্তাদ যখন নিজের ছাত্রের প্রশংসা করেন এবং তাকে নিয়ে গর্ব করেন, তখন এর পেছনে অনেকগুলো তাৎপর্য থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: সেই ছাত্রের প্রতিভা অত্যন্ত অল্প বয়সেই প্রকাশ পেয়েছিল এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব ও বুদ্ধিমত্তা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো করে ফুটে উঠেছিল; এমনকি সম্ভবত এটি এই ইঙ্গিতও দেয় যে স্বয়ং উস্তাদও সেই ছাত্রের নিকট থেকে উপকৃত হয়েছেন।

ইমাম বুখারীর বিষয়টি এমনই ছিল। তিনি যখন মক্তবে ছিলেন তখন থেকে শুরু করে এমন কোনো উস্তাদের সাথেই তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি, যার নিকট বুখারীর প্রতি মুগ্ধতার কোনো না কোনো কারণ প্রকাশ পায়নি, যা তাঁকে বুখারীর প্রশংসা করতে এবং তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করতে বাধ্য করেছে।

আর "ছাত্রের প্রতি উস্তাদের প্রশংসা" সেই ছাত্রের জন্য একটি নির্ভুল ও সঠিক মূল্যায়নের প্রতিনিধিত্ব করে। কারণ উস্তাদগণ সাধারণত খুব কমই তাঁদের ছাত্রদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা এভাবে উল্লেখ করেন; বরং সচরাচর এর উল্টোটিই ঘটে থাকে। এমতাবস্থায় যখন বিষয়টি ভিন্ন হয় এবং উস্তাদদের এই প্রশংসা একটি সর্বসম্মত "ঐক্যমতে" পরিণত হয়—যেখানে প্রত্যেকে যা দেখেছেন সে অনুযায়ী প্রশংসা করেছেন এবং চাক্ষুষ দৃষ্টি বা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে যা পর্যবেক্ষণ করেছেন তার গুণগান গেয়েছেন—তখন এই প্রশংসা ও সম্মানপ্রদর্শনের ইলমী গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি পরবর্তী যুগের ব্যক্তিদের দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে নিঃশেষ করে দেয়।

ইমাম বুখারীর সীরাত নিয়ে গভীর গবেষণাকারী ইবনু হাজার আসকালানী বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। তাই তিনি তাঁর 'জামে সহীহ'-এর শারাহর (ব্যাখ্যাগ্রন্থের) মুকাদ্দিমায় একটি বিশেষ অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তিনি বুখারীর প্রতি তাঁর উস্তাদদের প্রশংসার একটি বড় অংশ সংকলন করেছেন। আমি এই পরিচ্ছেদে উক্ত অধ্যায়ের অধিকাংশ বর্ণনা এখানে উদ্ধৃত করছি এবং পাদটীকায় এই উদ্ধৃতিগুলোর অন্যান্য উৎসের প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছি।