(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: -)
تثبيت الإمامة وترتيب الخلافة لأبي نعيم الأصبهاني القسم: كتب السنة
الكتاب: كتاب الإمامة والرد على الرافضة للأصبهاني
المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (ت 430 هـ)
حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه: الدكتور علي بن محمد بن ناصر الفقيهي [ت 1446 هـ] دكتوراه في العقيدة بمرتبة الشرف الأولى
الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م
عدد الصفحات: 377
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু নুআইম আল-আসফাহানি প্রণীত তাতবিতুল ইমামাহ ওয়া তারতিবুল খিলাফাহ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আল-আসফাহানি রচিত কিতাবুল ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলার রাফিদা
লেখক: আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মিহরান আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি)
সম্পাদনা, টীকা ও হাদিস বিশ্লেষণ: ডক্টর আলি বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-ফাকিহি [মৃত্যু ১৪৪৬ হিজরি] আকায়েদ শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে পিএইচডি প্রাপ্ত
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٢)
خِلَافَةُ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه وَأَرْضاهُ
আমিরুল মুমিনীন আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)-এর খিলাফত
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٢)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الطَّلْحِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْأَحْوَصُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِي أَنَا فِيهُ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» . رَوَاهُ شُعْبَةُ، وَالثَّوْرِيُّ، وَجَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ
১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আত-তালহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ বিন গাননাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আহওয়াস, মানসুর থেকে বর্ণিত, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ যুগ হলো সেই প্রজন্ম যাতে আমি রয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে»। শু’বাহ, সাওরি এবং জারির এটি মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٢)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ قِرَاءَةً، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو ⦗ص: 213⦘ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِي بُعِثْتُ فِيهِمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَأْتِي قَوْمٌ مِنْ بَعْدُ يَنْذُرُونَ وَلَا يُوَفُّونَ، وَيَخُونُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَفْشُو فِيهِمُ السِّمَنُ»
২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন জাফর পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউনুস বিন হাবীব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ⦗পৃষ্ঠা: ২১৩⦘ দাউদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ থেকে, তিনি ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে সেই প্রজন্মের লোক যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না, তারা খেয়ানত করবে এবং তাদের বিশ্বাস করা হবে না, তারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের কাছে সাক্ষ্য চাওয়া হবে না এবং তাদের মধ্যে স্থূলতা (মেদভুঁড়ি) প্রকাশ পাবে।»
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٣)
3 - حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الكجي، حَدَّثَنَا أَبُو ⦗ص: 214⦘ عَاصِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ:: سَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ خَيْرِ النَّاسِ؟ قَالَ: «أَنَا وَمَنْ مَعِي» . قِيلَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ الَّذِينَ عَلَى الْأَثَرِ»
৩ - হাবীব ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুসলিম আল-কাজ্জী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ⦗পৃষ্ঠা: ২১৪⦘ আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন: «আমি এবং যারা আমার সাথে আছে»। জিজ্ঞাসা করা হলো, তারপর কে? তিনি বললেন: «তারপর তারা যারা পদাঙ্ক অনুসরণকারী»।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١٤)
4 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» . الْحَدِيثَ فَلَمْ تُنْكِرْ فِرْقَةٌ مِنْ هَذِهِ الْفِرَقِ الْمَدَائِحَ الَّتِي مَدَحَ اللَّهُ بِهَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَّ الصَّحَابَةَ هُمْ خَيْرُ الْأُمَمِ. فَيُقَالُ لِلْإِمَامِيَّةِ الطَّاعِنِينَ عَلَى الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ اجْتِمَاعَهُمْ عَلَى تَقْدِمَةِ ⦗ص: 215⦘ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه: أَكَانَ اجْتِمَاعُهُمْ عَلَيْهِ عَلَى إِكْرَاهٍ مِنْهُ لَهُمْ بِالسَّيْفِ، أَوْ تَأْلِيفٍ مِنْهُ لَهُمْ بِمَالٍ أَوْ غَلَبَةٍ بِعَشِيرَةٍ؟ فَإِنَّ الِاجْتِمَاعَ لَا يَخْلُو مِنْ هَذِهِ الْوُجُوهِ، وَكُلُّ ذَلِكَ مُسْتَحِيلٌ مِنْهُمْ؛ لِأَنَّهُمْ أَهْلُ الْمَدِيحَةِ وَالْمُرُوءَةِ وَالدِّينِ وَالنَّصِيحَةِ، ولَوْ كَانَ شَيْءٌ مِنْ هَذِهِ الْوُجُوهِ أَوْ أُرِيدَ وَاحِدٌ مِنْهُمْ عَلَى الْمُبَايَعَةِ كَارِهًا لَكَانَ ذَلِكَ مَنْقُولًا عَنْهمُ وَمُنْتَشِرًا. فَأَمَّا إِذَا أَجْمَعَتِ الْأُمَّةُ عَلَى أَنَّ لا إِكْرَاهَ، وَالْغَلَبَةَ والتَّأَليفَ غَيْرُ مُمْكِنٍ مِنْهُمٍ وَعَلَيْهِمْ، فَقَدَ ثَبَتَ أَنَّ اجْتِمَاعَهُمْ لِمَا عَلِمُوا مِنْهُ مِنَ الِاسْتِحْقَاقِ وَالتَّفْضِيلِ وَالسَّابِقَةِ، وَقَدَّمُوهُ وَبَايَعُوهُ لِمَا خَصَّهُ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ مِنَ الْمَنَاقِبِ وَالْفَضَائِلِ. ⦗ص: 217⦘ فَاذْكُرْ أَنْتَ أَيُّهَا الطَّاعِنُ عَلَى إِمَامَتِهِ مَا تَحْتَجُّ بِهِ لِتُعَارِضَ بِنَقْضِهِ. فَأَمَّا مَا خَصَّهُ اللَّهُ تَعَالَى بِِهِ مِنَ الْفَضَائِلِ وَالْمَدَائِحِ فَلَسْنَا بِمُنْكِرِيهِ وَلَا دَافِعِيهِ، فَإِنَّكَ إِنِ احْتَجَجْتَ بِالْأَخْبَارِ لَزِمَكَ الْقَبُولُ لَهَا مِنْ مُخَالِفِيكَ، وَإِلَّا يَكُونُ أَخْبَارُكَ لَا لَكَ وَلَا عَلَى غيركَ، فلو قَبِلْتَ الْأَخْبَارَ قُبِلَتْ مِنْكَ فَكَانَتْ لَكَ وَعَلَيْكَ. فَإِذا احْتَجَّ بِالْأَخْبَارِ وَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ» . ⦗ص: 218⦘ قِيلَ لَهُ: مَقْبُولٌ مِنْكَ وَنحْنُ نَقُولُ، وَهَذِهِ فَضِيلَةٌ بَيِّنَةٌ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام وَمَعْنَاهُ: مَنْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَوْلَاهُ فَعَلِيُّ وَالْمُؤْمِنُونَ مَوَالِيهِ. دَلِيلُ ذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تبارك وتعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ} [التوبة: 71] ، وَقَالَ تَعَالَى: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ} [الأنفال: 73] . وَالْوَلِيُّ وَالْمَوْالَى فِي كَلَامِ الْعَرَبِ وَاحِدٌ، وَالدَّلِيلُ عَلَيْهِ قَوْلُهُ تبارك وتعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ مَوْلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَأَنَّ الْكَافِرِينَ لَا مَوْلَى لَهُمْ} [محمد: 11] ، أَيْ، لَا وَلِيَّ لَهُمْ، وَهُمْ عَبِيدُهُ وَهُوَ مَوْلَاهُمْ، وَإِنَّمَا أَرَادَ لَا وَلِيَّ لَهُمْ. وَقَالَ: {فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ} [التحريم: 4] ، وَقَالَ: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} [البقرة: 257] ، وَقَالَ: {وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ} [المائدة: 56] . ⦗ص: 220⦘ وَإِنَّمَا هَذِهِ مَنْقَبَةٌ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ رضي الله عنه، وَحَثٌّ عَلَى مَحَبَّتِهِ، وَتَرْغِيبٌ فِي وِلَايَتِهِ، لِمَا ظَهَرَ مِنْ مَيْلِ الْمُنَافِقِينَ عَلَيْهِ وَبُغْضُهُمْ لَهُ. وَكَذَلِكَ قَالَ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُحِبُّكَ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَلَا يُبْغِضُكَ إِلَّا مُنَافِقٌ» . وَحُكِيَ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، أَنَّ عَلِيًّا، رضي الله عنه وَأُسَامَةُ تَخَاصَمَا، فَقَالَ عَلِيٌّ لِأُسَامَةَ: أَنْتَ مَوْلَايَ. فَقَالَ: لَسْتُ لَكَ مَوْلًى، إِنَّمَا مَوْلَايَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيُّ مَوْلَاهُ» . وَهَذَا كَمَا يَقُولُ النَّاسُ: فُلَانٌ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ وَمَوْلَى بَنِي أُمَيَّةَ، وَإِنَّمَا الْحَقِيقَةُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ، وَمِمَّا يُؤَيِّدُ مَا حُكِيَ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ حَدِيثٌ
৪ - সুলায়মান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়েদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম থেকে, তিনি খাইসামাহ থেকে, তিনি নুমান ইবনে বশীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী»। হাদিসটি শেষ পর্যন্ত। এই দলগুলোর মধ্যে কোনো দলই সেই সকল প্রশংসাকে অস্বীকার করেনি যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর যবানীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রশংসা করেছেন এবং সাহাবীগণই যে উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম তাও কেউ অস্বীকার করেনি। সুতরাং সেই ইমামিয়াদের বলা হবে যারা মুহাজির ও আনসারদের সমালোচনা করে যে তারা ⦗পৃষ্ঠা: ২১৫⦘ সিদ্দীক (রা.)-কে অগ্রবর্তী করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন: তাদের এই ঐক্যবদ্ধ হওয়া কি তাঁর পক্ষ থেকে তলোয়ারের মাধ্যমে জোরপূর্বক ছিল, নাকি অর্থ-সম্পদ দিয়ে মন জয় করার মাধ্যমে ছিল, অথবা গোত্রীয় প্রভাবের মাধ্যমে ছিল? কারণ, এই ঐক্যবদ্ধ হওয়া এই কারণগুলোর বাইরে হওয়া সম্ভব নয়। অথচ তাদের ক্ষেত্রে এর সবগুলিই অসম্ভব; কেননা তারা ছিলেন প্রশংসা, বীরত্ব, দ্বীনদারী এবং একনিষ্ঠতার অধিকারী। যদি এর মধ্যে কোনো একটি কারণ থাকত অথবা তাদের মধ্যে কাউকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বায়আতের জন্য বাধ্য করা হতো, তবে অবশ্যই তা তাদের থেকে বর্ণিত হতো এবং ছড়িয়ে পড়ত। যখন উম্মত একমত হয়েছে যে সেখানে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না, আর তাদের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার বা অর্থ দিয়ে তুষ্ট করাও সম্ভব নয়, তখন প্রমাণিত হলো যে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছিল তাঁর (আবু বকরের) যোগ্যতা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং অগ্রগামী হওয়ার বিষয়ে তারা যা জানতেন তার ভিত্তিতে। তারা তাঁকে অগ্রবর্তী করেছেন এবং তাঁর বায়আত করেছেন সেই সকল মর্যাদা ও ফযীলতের কারণে যা আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিশেষভাবে দান করেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ২১৭⦘ অতএব হে তাঁর ইমামতের সমালোচনাকারী! তুমি তোমার সেই দলীলগুলো উল্লেখ করো যা দ্বারা তুমি প্রতিবাদ করতে চাও যাতে তা খণ্ডন করা যায়। আর আল্লাহ তাআলা তাঁকে (আলীকে) যে সকল ফযীলত ও প্রশংসা দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, আমরা তা অস্বীকারকারী নই এবং তা প্রত্যাখানকারীও নই। কারণ তুমি যদি সংবাদের (হাদীসের) মাধ্যমে দলীল পেশ করো, তবে তোমার বিরোধীদের কাছ থেকে আসা সংবাদগুলোও গ্রহণ করা তোমার জন্য আবশ্যক হবে। অন্যথায় তোমার বর্ণিত সংবাদগুলো তোমার পক্ষেও থাকবে না এবং অন্যের বিপক্ষেও দলীল হবে না। সুতরাং তুমি যদি সংবাদ গ্রহণ করো, তবে তা তোমার থেকেও গ্রহণ করা হবে এবং তা তোমার পক্ষে ও বিপক্ষে উভয়ভাবে গণ্য হবে। যদি সে হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করে এবং বলে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি যার মওলা, আলীও তার মওলা»। ⦗পৃষ্ঠা: ২১৮⦘ তাকে বলা হবে: তোমার এই দলীল গ্রহণযোগ্য এবং আমরাও তা বলি। এটি আলী ইবনে আবি তালিব আলাইহিস সালামের জন্য একটি সুস্পষ্ট মর্যাদা। এর অর্থ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার মওলা, আলী এবং মুমিনগণও তার মওলা (বন্ধু)। এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু} [তওবা: ৭১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর যারা কুফরি করেছে তারা একে অপরের বন্ধু} [আনফাল: ৭৩]। আরবদের ভাষায় ‘অলী’ এবং ‘মওলা’ একই অর্থবোধক। এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {তা এই জন্য যে, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের মওলা, আর কাফেরদের কোনো মওলা নেই} [মুহাম্মাদ: ১১]। অর্থাৎ তাদের কোনো অলী নেই। অথচ তারা আল্লাহর বান্দা এবং আল্লাহ তাদের মওলা (প্রভু), কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য হলো তাদের কোনো অলী বা বন্ধু নেই। আল্লাহ আরও বলেছেন: {তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তার মওলা এবং জিবরাঈল ও নেককার মুমিনগণও} [তাহরীম: ৪]। আরও বলেছেন: {আল্লাহ মুমিনদের অলী, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন} [বাকারা: ২৫৭]। আরও বলেছেন: {আর যে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের অলী (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে} [মায়েদা: ৫৬]। ⦗পৃষ্ঠা: ২২০⦘ প্রকৃতপক্ষে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আলী (রা.)-এর জন্য একটি উচ্চ মর্যাদা বর্ণনা, তাঁর প্রতি ভালোবাসার উৎসাহ প্রদান এবং তাঁর বন্ধুত্বের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ; কেননা মুনাফিকদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি বিরাগ ও বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছিল। ঠিক এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো মুমিন ব্যতীত তোমাকে কেউ ভালোবাসবে না এবং কোনো মুনাফিক ব্যতীত তোমাকে কেউ ঘৃণা করবে না»। ইবনে উয়ায়নাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী (রা.) এবং উসামা বিবাদে লিপ্ত হয়েছিলেন। তখন আলী উসামাকে বললেন: তুমি আমার মওলা। উসামা বললেন: আমি আপনার মওলা নই, আমার মওলা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি যার মওলা, আলীও তার মওলা»। এটি ঠিক তেমনি যেমন মানুষ বলে থাকে: অমুক ব্যক্তি বনু হাশিমের মওলা অথবা বনু উমাইয়ার মওলা, যদিও প্রকৃতপক্ষে সে তাদের মধ্য থেকে একজনের মওলা হয়ে থাকে। ইবনে উয়ায়নাহ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার সমর্থনে একটি হাদীস হলো...
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٠)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ قِرَاءَةً، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ، قَالَ شُعْبَةُ: وَلَا أَعْلَمُ إِلَّا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «الْأَنْصَارُ وقُرَيْشٌ وَمُزَيْنَةُ وَجُهَينَةُ وَغِفَارٌ وَأَسْلَمُ وَأَشْجَعُ بَعْضُهُمْ مَوَالِي بَعْضٍ لَيْسَ لَهُمْ مَوْلًى دُونَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ» فَظَاهِرُ هَذَا اللَّفْظِ رَافِعٌ لِقَوْلِهِ: «مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ» . لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَ أَنَّ لِكُلِّ هَؤُلَاءِ الْقَبَائِلِ مَوَالِيَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ. ⦗ص: 221⦘ فَإِنْ قَالَ: قَدْ ثَبَتَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ لِعَلِيٍّ: «أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى» . قِيلَ لَهُ: كَذَلِكَ نَقُولُ فِي اسْتِخْلَافِهِ عَلَى الْمَدِينَةِ فِي حَيَاتِهِ بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى، وَإِنَّمَا خَرَجَ هَذَا الْقَوْلُ لَهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَامَ تَبُوكَ، إِذْ خَلَّفَهُ بِالْمَدِينَةِ، فَذَكَرَ الْمُنَافِقُونَ أَنَّهُ مَلَّهُ وَكَرِهَ صُحْبَتَهُ فَلِحَقَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ لَهُ قَوْلَهُمْ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «خَلَّفْتُكَ كَمَا خَلَّفَ مُوسَى هَارُونَ»
৫ - আবদুল্লাহ ইবনে জাফর পাঠের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে হাবীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা'দ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান আল-আ'রাজকে বলতে শুনেছি, শু'বা বলেন: আর আমি কেবল আবু হুরায়রা থেকেই জানি যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আনসার, কুরাইশ, মুযাইনা, জুহাইনা, গিফার, আসলাম এবং আশজা' গোত্রসমূহ একে অপরের অভিভাবক। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত তাদের আর কোনো অভিভাবক নেই»। সুতরাং এই শব্দের বাহ্যিক অর্থ তাঁর এই বাণীর পরিপন্থী: «আমি যার মাওলা (অভিভাবক)...»। কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, এই সকল গোত্রের অভিভাবক বা মাওলা হলেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল। ⦗পৃষ্ঠা: ২২১⦘ যদি কেউ বলে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি আলীর উদ্দেশ্যে বলেছেন: «তুমি আমার কাছে ঠিক তেমন মর্যাদার, যেমন মুসার কাছে হারুন ছিলেন»। তাকে বলা হবে: আমরাও তাঁর জীবদ্দশায় মদীনার প্রতিনিধি নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে তেমনই বলি যে, তিনি মুসার নিকট হারুনের মর্যাদায় ছিলেন। মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এই উক্তিটি তাঁর জন্য তাবুক যুদ্ধের বছর প্রকাশ পেয়েছিল, যখন তিনি তাঁকে মদীনায় স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। তখন মুনাফিকরা প্রচার করেছিল যে, তিনি (রাসূল) তাঁর প্রতি বিরক্ত হয়েছেন এবং তাঁর সাহচর্য অপছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে গিয়ে মিলিত হলেন এবং তাদের কথা উল্লেখ করলেন। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি তোমাকে সেভাবেই স্থলাভিষিক্ত করেছি যেভাবে মুসা হারুনকে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন»।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢١)
6 - حَدَّثَنَا فَارُوقٌ الْخَطَّابِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَشِّيُّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْمَاجِشُونُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ: أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِعَلِيٍّ: «أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى؛ إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي»
৬ - ফারুক আল-খাত্তাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুসলিম আল-কাশশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-মাজিশুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আমির বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আলীর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছেন: «তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার নিকট সেই মর্যাদায় থাকবে যেমন মুসার নিকট হারুন ছিলেন? তবে আমার পরে আর কোনো নবী নেই»
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٢)
7 - حَدَّثَنَا فَارُوقٌ الْخَطَّابِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَشِّيُّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْمَاجِشُونُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ: أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِعَلِيٍّ: «أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى؛ إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي»
৭ - ফারুক আল-খাত্তাবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু মুসলিম আল-কাশশি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুসলিম বিন ইবরাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-মাজিশুন ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আমির বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আলীর উদ্দেশে বলতে শুনেছেন: «তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে সেই মর্যাদায় থাকবে যেমন হারূন মুসার নিকট ছিলেন; তবে কথা এই যে, আমার পরে আর কোনো নবী নেই»
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٢)
1000 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بنُ جَعْفَرِ بنِ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بنُ مُحَمَّدِ بنِ شَاكِرٍ الْصَّائِغُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بنُ سَابِقٍ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بنُ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطِيِّةَ، عَنْ أَبِيِ سَعِيدٍ قَالَ: خَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا فِيِ أَهْلِهِ حِينَ غَزَا غَزَاةَ تََبُوكَ فَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ: مَا مَنَعَهُ أَنْ يَخْرُجَ إِلَّا أَنَّهُ كَرِهَ صُحْبَتَهُ، فَبَلَغَ ذَلِكَ عَلِيًّا عليه السلام فَقَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، زَعَمَ بَعْضُ النَّاسِ أَنَّكَ لَمْ تُخَلِّفَنِي إِلَّا أَنَّكَ َكرِهْتَ صُحْبَتِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا ابْنَ أَبِي طَالِبٍ، أَمَا تَرْضَى أَنْ تَنْزِلَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى؟» فَإِنْ قَالَ الطَّاعِنُ: لِمَ يَرُدُّ اسْتِخْلَافَه عَلَى الْمَدِينَةِ؟ قِيلَ لَهُ: هَلْ شَارَكَهُ فِي النُّبُوَّةِ كَمَا شَارَكَ هَارُونُ مُوسَى؟ فَإِنْ قَالَ: نَعَم، كَفَرَ، وَإِنْ قَالَ: لَا، قِيلَ لَهُ: فَهَلْ كَانَ أَخَاهُ فِيِ النَّسَبِ؟ فَإِنْ قَالَ: نَعَم، فَقَدْ كَذَبَ. فَإِذَا بَطَلَتْ أُخُوَّةُ النَّسَبِ وَمُشُارَكَةُ الْنُّبُوَّةِ فَقَدْ صَحَّ وَجْهُ الِاسْتِخْلَافِ، وَإِنْ جَعَلَ اسْتِخْلَافَهُ فِي حَيَاتِهِ عَلَى الْمَدِينَةِ أِصْلًا فَقَد كَانَ صلى الله عليه وسلم يَسْتَخْلِفُ فِيِ كُلِّ غَزَاةٍ غَزَاهَا غَيْرُهُ مِنْ أَصْحَابِهِ كَابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ، وَخُفَافِ بنِ إِيمَاءَ بنِ رَحْضَةَ الْغِفَارِيِّ، وَغَيْرِهِمَا مِنْ خُلَفَائِهِ،
১০০০ - মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনুল হায়সাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শাকির আস-সায়েগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সাবিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুযাইল ইবনে মারযুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাবুক যুদ্ধের অভিযানে বের হন, তখন আলীকে তাঁর পরিবারের দেখাশোনার জন্য রেখে যান। তখন কিছু লোক বলল: তিনি তাঁকে সাথে নিয়ে যেতে কেবল এই কারণেই বিরত থেকেছেন যে, তিনি তাঁর সঙ্গ অপছন্দ করেছেন। এই কথা আলীর (আলাইহিস সালাম) নিকট পৌঁছলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: কিছু লোক ধারণা করছে যে, আপনি কেবল আমার সঙ্গ অপছন্দ করার কারণেই আমাকে রেখে যাচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আবু তালিবের পুত্র! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার কাছে তোমার মর্যাদা ঠিক তেমনি হবে, যেমন মূসার কাছে হারুনের মর্যাদা ছিল?» অতঃপর যদি কোনো আপত্তিকারী বলে: কেন তাঁর মদীনার স্থলাভিষিক্ত হওয়াকে [স্থায়ী নেতৃত্বের দলিল হিসেবে] পেশ করা হয়? তাকে বলা হবে: তিনি কি নবুওয়াতের অংশীদার ছিলেন যেমন হারুন মূসার সাথে অংশীদার ছিলেন? সে যদি বলে: হ্যাঁ, তবে সে কুফরি করল। আর যদি বলে: না, তবে তাকে বলা হবে: তিনি কি তাঁর বংশগত ভাই ছিলেন? সে যদি বলে: হ্যাঁ, তবে সে মিথ্যা বলল। সুতরাং যখন বংশগত ভ্রাতৃত্ব এবং নবুওয়াতের অংশীদারিত্ব বাতিল হয়ে গেল, তখন স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দিকটিই [অর্থাৎ সাময়িকভাবে দায়িত্ব অর্পণ] সঠিক প্রমাণিত হলো। আর যদি তাঁর জীবদ্দশায় মদীনার ওপর তাঁর এই স্থলাভিষিক্ত হওয়াকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিটি অভিযানেই তাঁর অন্যান্য সাহাবীদের স্থলাভিষিক্ত করতেন, যেমন ইবনে উম্মে মাকতুম, খুফাফ ইবনে ইমা ইবনে রাহদাহ আল-গিফারি এবং তাঁর অন্যান্য স্থলাভিষিক্তগণ।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٣)
فَإِنِ احْتَجَّ بِقَوْلِهِ عليه السلام: «عَلِيُّ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ»
অতঃপর যদি তিনি তাঁর (আলাইহিস সালাম) এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "আলী আমার থেকে এবং আমি তাঁর থেকে"।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٣)
8 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَجُلًا وَقَعَ فِي أَبٍ لِلْعَبَّاسِ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَلَطَمَهُ الْعَبَّاسُ فَجَاءَ قَوْمُهُ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ وَقَالَ: «أَيْ أَهْلَ الْأَرْضِ، تَعْلَمُونَ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ؟» قَالُوا: أَنْتَ، قَالَ «فَإِنَّ الْعَبَّاسَ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ»
৮ - সুলাইমান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আব্দুল আযীয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান মালিক বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আলা থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে: এক ব্যক্তি আব্বাসের এক পিতৃপুরুষ সম্পর্কে কটূক্তি করল যিনি জাহেলি যুগে ছিলেন। তখন আব্বাস তাকে একটি চড় মারলেন। এরপর সেই ব্যক্তির গোত্রের লোকেরা এল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি পৌঁছালে তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "হে পৃথিবীর অধিবাসীগণ, তোমরা কি জান আল্লাহর নিকট কে অধিক সম্মানিত?" তারা বললেন: "আপনি।" তিনি বললেন: "নিশ্চয় আব্বাস আমার থেকে এবং আমি তার থেকে।"
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٤)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ كِنَانَةَ بْنِ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي مَغْزًى لَهُ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنَ الْقِتَالِ فقَالَ: «وهَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ، لَكِنَّنِي أَفْقِدُ جُلَيْبِيبًا» . فَوَجَدُوهُ عِنْدَ سَبْعَةٍ، قَدْ قَتَلَهُمْ وَقَتَلُوهُ. فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «قَتَلَ سَبْعَةً ثُمَّ قَتَلُوهُ، هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ» . قَالَهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ بِذِرَاعَيْهِ هَكَذَا فَبَسَطَهَا، فَوُضِعَ عَلَى ذِرَاعَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى حُفِرَ لَهُ، فَمَا كَانَ لَهُ سَرِيرٌ إِلَّا ذِرَاعَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى دُفِنَ فَإِنِ احْتَجَّ بِأَنَّهُ كَانَ رضي الله عنه خَتَنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قِيلَ لَهُ: قَدْ شَارَكَهُ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ وَغَيْرُهُ رضي الله عنهما فِي هَذَا الْأَمْرِ، فَإِنَّ عُثْمَانَ كَانَ خَتَنُهُ عَلَى ابْنَتَيْهِ، وَأَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيعِ عَلَى ابْنَتِهِ. ⦗ص: 225⦘ فَإِنْ قَالَ: هُوَ الَّذِي قَالَ فِيه الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم: «لَأَدْفَعَنَّ الرَّايَةَ إِلَى رَجُلٍ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ» . قِيلَ: قَدْ شَارَكَهُ فِي هَذِهِ الْفَضِيلَةِ عِدَةٌ مِنَ الصَّحَابَةِ مِنْهُمْ: أَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ، وَزَيْدٌ، وَأُسَامَةُ، وَالْحَسَنُ، وَالْحُسَيْنُ، وَعَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন হাবিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, সাবিত থেকে, তিনি কিনানাহ বিন নুআইম আল-আদাউয়ি থেকে, তিনি আবু বারযাহ আল-আসলামি থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এক যুদ্ধে ছিলেন। যখন তিনি যুদ্ধ শেষ করলেন তখন বললেন: «তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? তবে আমি জুলাইবিবকে হারিয়েছি»। অতঃপর তারা তাকে সাতজন নিহত ব্যক্তির লাশের নিকট পেল, যাদের সে হত্যা করেছিল এবং তারাও তাকে হত্যা করেছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সংবাদ দেওয়া হলো, তখন তিনি বললেন: «সে সাতজনকে হত্যা করেছে, অতঃপর তারা তাকে হত্যা করেছে; সে আমার থেকে এবং আমি তার থেকে»। তিনি কথাটি দুই বা তিনবার বললেন, অতঃপর তিনি নিজের দুই বাহু দিয়ে এভাবে ইঙ্গিত করলেন এবং তা প্রসারিত করলেন। ফলে জুলাইবিবকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই বাহুর ওপর রাখা হলো যতক্ষণ না তার জন্য কবর খনন করা হলো। তাকে কবর দেওয়া পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই বাহু ছাড়া তার আর কোনো খাট ছিল না। এরপর যদি কেউ যুক্তি দেয় যে তিনি (আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জামাতা ছিলেন, তবে তাকে বলা হবে: উসমান বিন আফফান এবং অন্যান্যরাও (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই বিষয়ে তাঁর অংশীদার ছিলেন। কেননা উসমান তাঁর দুই কন্যার জামাতা ছিলেন এবং আবুল আস বিন রাবি' তাঁর এক কন্যার জামাতা ছিলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ২২৫⦘ যদি সে বলে: তিনি তো সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: «আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দেব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন»। তবে বলা হবে: এই ফজিলতে বেশ কিছু সাহাবী তাঁর অংশীদার ছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর, উমর, উসমান, যায়িদ, উসামা, হাসান, হুসাইন এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٥)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ ابْنِ يَخَامِرَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ⦗ص: 226⦘ «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَإِنَّهُ يُحِبُّكَ وَيُحِبُّ رَسُولَكَ، اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى عُمَرَ فَإِنَّهُ يُحِبُّكَ وَيُحِبُّ رَسُولَكَ، اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى عُثْمَانَ فَإِنَّهُ يُحِبُّكَ وَيُحِبُّ رَسُولَكَ، اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ فَإِنَّهُ يُحِبُّكَ وَيُحِبُّ رَسُولَكَ، اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَإِنَّهُ يُحِبُّكَ وَيُحِبُّ رَسُولَكَ» . كَذَا رَوَاهُ يَزِيدُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يَخَامِرَ مُرْسَلًا وَغَيْرِهِ عَنْ مُعَاذٍ
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতায়বাহ ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সাদ, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি ইবনে ইখামির থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২২৬⦘ «হে আল্লাহ! আপনি আবু বকরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রসূলকে ভালোবাসেন। হে আল্লাহ! আপনি উমরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রসূলকে ভালোবাসেন। হে আল্লাহ! আপনি উসমানের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রসূলকে ভালোবাসেন। হে আল্লাহ! আপনি আবু উবাইদাহ ইবনে জাররাহ-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রসূলকে ভালোবাসেন। হে আল্লাহ! আপনি আমর ইবনুল আস-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রসূলকে ভালোবাসেন»। এভাবেই ইয়াজিদ মালিক ইবনে ইখামির থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অন্য বর্ণনাকারী মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٦)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مِلْحَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَخْزومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا: مَنْ يُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا؟، قَالُوا: وَمَنْ يَجْتَرئُ عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ . فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ. فَقَالَ: «لَا تَشْفَعْ فِي حَدٍّ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন খাল্লাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন মিলহান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন বুকাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সাদ, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে: কুরাইশরা মাখযুমি গোত্রের সেই মহিলার বিষয়ে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়ল যে চুরি করেছিল। তারা বলল: এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কে কথা বলবে? তারা বলল: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয়পাত্র উসামা বিন যাইদ ব্যতীত আর কে তাঁর নিকট এ দুঃসাহস দেখাতে পারে? অতঃপর উসামা তাঁর সাথে কথা বললেন। তখন তিনি বললেন: «আল্লাহর কোনো নির্ধারিত শাস্তির (হদ) বিষয়ে সুপারিশ করো না»।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٧)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ، يَقُولُ: سَمِعَتْ أُمُّ سَلَمَةَ الصَّرْخَةَ عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها وَعَنْ أَبِيهَا، فَقَالَتْ: «يَرْحَمُهَا اللَّهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ كَانَتْ أَحَبَّ النَّاسِ كُلِّهِمْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَبُوهَا رضي الله عنه وَأَرْضَاهُ»
১২ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে হাবীব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, যামআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবু মুলাইকাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: উম্মু সালামাহ (রা.) আয়েশা (রা.)-এর মৃত্যুর শোক সংবাদ শুনতে পেয়ে বললেন: «আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন; সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই তিনি তাঁর পিতা ব্যতীত সকল মানুষের চেয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অধিক প্রিয় ছিলেন, আল্লাহ তাঁর পিতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন।»
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٧)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاجِيَةَ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُ عَلَى جَيْشِ ذَاتِ السَّلَاسِلِ، فَلَمَّا أَتَيْتُهُ قُلْتُ: أَيُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «عَائِشَةُ» ، قُلْتُ: مِنَ الرِّجَالِ؟ قَالَ: «أَبُوهَا» . قَالَ: ثُمَّ عَدَّ رِجَالًا
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হুমাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন নাজিয়াহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব বিন বাকিয়্যাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন আবদুল্লাহ, তিনি খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে, তিনি বলেন, আমার নিকট আমর বিন আল-আস বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ‘যাতুস সালাসিল’ বাহিনীর অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন। অতঃপর যখন আমি তাঁর নিকট আসলাম, আমি জিজ্ঞেস করলাম: "মানুষের মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কে?" তিনি বললেন: «আয়েশা»। আমি বললাম: "পুরুষদের মধ্য হতে?" তিনি বললেন: «তাঁর পিতা»। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি আরও কয়েকজন ব্যক্তির নাম গণনা করলেন।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٧)
14 - حَدَّثَنَا فَارُوقٌ الْخَطَّابِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، ⦗ص: 228⦘ يَقُولُ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْحَسَنَ أَوِ الْحُسَيْنَ عَلَى عَاتِقِهِ وَهُوَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ»
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফারুক আল-খাত্তাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম আল-কাজ্জি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলায়মান বিন হারব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আদি বিন সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল-বারা-কে ⦗পৃষ্ঠা: ২২৮⦘ বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি এবং হাসান অথবা হুসাইন তাঁর কাঁধের ওপর ছিলেন, আর তিনি বলছিলেন: «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি তাকে ভালোবাসি, অতএব আপনিও তাকে ভালোবাসুন»
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٨)
15 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: مَرَرْتُ بِالْمَسْجِدِ فَإِذَا عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ قَاعِدَانِ، فَقَالَا: يَا أُسَامَةُ، اسْتَأْذِنْ لَنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَذَا عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ بِالْبَابِ يُرِيدَانِ الدُّخُولَ عَلَيْكَ. قَالَ: «تَدْرِي مَا جَاءَ بِهِمَا؟» قُلْتُ: لَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، ما أدري، مَا جَاءَ بِهِمَا؟ قَالَ: «وَلَكِنِّي قَدْ عَلِمْتُ مَا جَاءَ بِهِمَا أبين لهما إيْذَنْ لَهُمَا» . فَدَخَلَا عَلَيْهِ فَقَالَ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ أَيُّ أَهْلِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم» . قَالَ عَلِيٌّ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَنْ أَهْلِكَ أَسْأَلُكَ. قَالَ: «فَأَحَبُّ النَّاسِ إِلَيَّ مَنْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ ⦗ص: 229⦘ وَأَنْعَمْتُ عَلَيْهِ، أُسَامَةُ» . ثُمَّ مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «ثُمَّ أَنْتَ» . قَالَ الْعَبَّاسُ: أجَعَلْتَ عَمَّكَ آخِرَهُمْ. قَالَ: «إِنَّ عَلِيًّا سَبَقَكَ بِالْهِجْرَةِ»
১৫ - সুলাইমান ইবন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবন আবি সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, উসামাহ ইবন যাইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম আলী ও আব্বাস বসে আছেন। তাঁরা বললেন: হে উসামাহ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আমাদের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করো। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এই যে আলী ও আব্বাস দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা আপনার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন: «তুমি কি জানো তাঁদের কী উদ্দেশ্যে আগমন ঘটেছে?» আমি বললাম: আল্লাহর শপথ না, হে আল্লাহর রাসূল, আমি জানি না তাঁদের কী উদ্দেশ্যে আগমন ঘটেছে। তিনি বললেন: «কিন্তু আমি জানি তাঁদের কী উদ্দেশ্যে আগমন ঘটেছে, আমি তাঁদের নিকট তা ব্যক্ত করব; তাঁদের আসার অনুমতি দাও»। অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। আলী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার নিকট এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি যে, আপনার পরিজনদের মধ্যে কে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন: «মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা ফাতিমা»। আলী বললেন: আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার নিকট আপনার পরিজনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি না। তিনি বললেন: «তবে মানুষের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২২৯⦘ এবং আমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছি; সে হলো উসামাহ»। (আলী বললেন) এরপর কে, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: «অতঃপর তুমি»। আব্বাস বললেন: আপনি কি আপনার চাচাকে তাঁদের সবার শেষে রাখলেন? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আলী হিজরতের ক্ষেত্রে আপনার অগ্রগামী হয়েছে»।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢٩)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمَاجِشُونُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِزَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ: «إِنَّهُ لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ بَعْدَهُ» وَهَذِهِ فَضِيلَةٌ لَهُ رضي الله عنهم. فَإِنِ احْتَجَّ الْمُعَانِدُ بِأَنَّهُ اسْتَحَقَّ الْخِلَافَةَ لِأَنَّهُ كَانَ أَوَّلَهُمْ إِسْلَامًا طُولِبَ ⦗ص: 230⦘ بِبَيَانِ مَا ذَكَرَهُ. فَإِنْ قَالَ: رُوِيَ ذَلِكَ عَنْهُ وَعَنْ غَيْرِهِ. قِيلَ لَهُ: قَدْ رُوِيَ خِلَافُ ذَلِكَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَإِنْ كُنْتَ تَحْتَجُّ بِالْأَخْبَارِ، فَإِذَا مَا تَعَارَضَتِ الْأَخْبَارُ سَقَطَتِ الْحُجَّةُ
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আল-জাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ ইবনুল মাজিশুন, আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যায়েদ ইবনে হারিসা সম্পর্কে বলেছেন: «নিশ্চয়ই সে তাঁর পরে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষদের অন্তর্ভুক্ত» আর এটি তাঁদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জন্য একটি ফযিলত। অতঃপর যদি কোনো হঠকারী ব্যক্তি এই যুক্তি দেয় যে, তিনি খিলাফতের অধিক হকদার ছিলেন কারণ তিনি তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তবে তাকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৩০⦘ তার দাবির সপক্ষে প্রমাণের দাবি জানানো হবে। যদি সে বলে: এটি তাঁর থেকে এবং অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে। তবে তাকে বলা হবে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর বিপরীতও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং তুমি যদি বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করতে চাও, তবে যখন বর্ণনাগুলোতে পরস্পর বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন আর দলিল গ্রহণযোগ্য থাকে না।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٠)
17 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، وَضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، وَأَبِي طَلْحَةَ نُعَيْمِ بْنِ زِيَادٍ، كُلُّ هَؤُلَاءِ سَمِعَهُ مِنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ عَبَسَةَ السُّلَمِيَّ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ نَازِلٌ بِعُكَاظٍ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ مَعَكَ ⦗ص: 231⦘ فِي هَذَا الْأَمْرِ؟ قَالَ: «رَجُلَانِ، أَبُو بَكْرٍ وَبِلَالٌ» . فَأَسْلَمْتُ عِنْدَ ذَلِكَ، فَلَقَدْ رَأَيْتُنِي رَابِعُ الْإِسْلَامِ
১৭ - সুলায়মান ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বকর ইবনে সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া সুলায়মান ইবনে আমির, দামরাহ ইবনে হাবীব এবং আবু তালহা নুয়াইম ইবনে যিয়াদ থেকে—তাঁরা সকলেই এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী আবু উমামাহ আল-বাহিলী (রা.) থেকে শুনেছেন। তিনি বলেন: আমি আমর ইবনে আবাসা আস-সুলামী (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি উকাজে অবস্থান করছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! ⦗পৃষ্ঠা: ২৩১⦘ এই পথে (ইসলামে) আপনার সাথে আর কে আছে? তিনি বললেন: "দুইজন ব্যক্তি, আবু বকর ও বিলাল।" তখন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। আমি নিজেকে ইসলামের চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পেলাম।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣١)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، ثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ نَازِلٌ بِعُكَاظٍ، فَقُلْتُ: مَنْ مَعَكَ عَلَى هَذَا الْأَمْرِ؟ قَالَ: «حُرٌّ وَعَبْدٌ، وَمَعَنَا أَبُو بَكْرٍ وَبِلَالٌ»
১৮ - আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হারিজ ইবনে উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইম ইবনে আমির থেকে, আর তিনি আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম যখন তিনি উকাজে অবস্থান করছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এই বিষয়ের ওপর আপনার সাথে কে কে আছেন? তিনি বললেন: «একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন ক্রীতদাস; আর আমাদের সাথে আছেন আবু বকর ও বিলাল।»
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣١)
19 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ خُلَيدٍ الْحَلَبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَ مَا بُعِثَ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ مُسْتَخْفٍ، فَقُلْتُ: فَمَنْ مَعَكَ عَلَى هَذَا الْأَمْرِ؟ قَالَ: «حُرٌّ وَعَبْدٌ» أَبُو بَكْرٍ وَبِلَالٌ
১৯ - সুলায়মান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে খুলাইদ আল-হালাবি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু তাওবাহ আর-রাবি ইবনে নাফি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুহাজির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আবাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন প্রথম নবুওয়াত লাভ করেন, তখন আমি তাঁর নিকট আসলাম; আর তিনি সেদিন আত্মগোপন অবস্থায় ছিলেন। আমি বললাম: এই বিষয়ের (ইসলামের) ওপর আপনার সাথে আর কে আছে? তিনি বললেন: «একজন স্বাধীন ব্যক্তি ও একজন দাস» অর্থাৎ আবু বকর ও বিলাল।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣١)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَسْلَمَ مَعَكَ؟ قَالَ: «حُرٌّ وَعَبْدٌ»
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন মালিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, ইয়া'লা বিন আতা থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন তালক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আল-বাইলামানি থেকে, তিনি আমর বিন আবাসাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার সাথে কে ইসলাম গ্রহণ করেছে? তিনি বললেন: «একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন ক্রীতদাস»
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣١)
21 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شِيرَوَيْهِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ سَعْدًا، يَقُولُ: «مَا أَسْلَمَ أَحَدٌ فِي الْيَوْمِ الَّذِي أَسْلَمْتُ فِيهِ، وَلَقَدْ مَكَثْتُ سَبْعَةَ أَيَّامٍ، وَإِنِّي لَثُلُثُ الْإِسْلَامِ» ⦗ص: 232⦘ فَإِنِ احْتَجَّ بِالْمَوْضُوعَاتِ مِنْ أَخْبَارِ الرَّوَافِضِ. قِيلَ لَهُ: إِنِ اعْتَلَلْتَ بِذَلِكَ أَلْزَمْنَاكَ قَبُولَ أَخْبَارِهِمْ وَمَا يَرْوُونَهُ فِي قَتْلِ الشِّيعَةِ، وَأَنَّهُمْ مُشْرِكُونَ وَغَيْرَ ذَلِكَ مِنَ الْأَخْبَارِ الَّتِي لَا ثَبُوتَ لَكَ وَلَا لِغَيرِكَ فِيهَا، وَيُقَالُ لَهُ: مَا هَذِه الأَخْبَارُ الَّتِي تَحْتَجُّ بِهَا الْشِّيعَةُ؟ . فَإِنْ قَالَ: أَوْصَى إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَهِدَ إِلَيْهِ، وَأَنَّهُ الْقَاضِي لِدَيْنِهِ، وَالْقَائِمُ بِعَهْدِهِ، الْمُنْجِزُ مَوْعِدَهُ، وَمَا شَاكَلَهُ مِنْ مَوْضُوعَاتِهِمْ وَأَبَاطِيلِهِمْ. قِيلَ لَهُ: قَدْ رُوِيَ مِنَ الْوُجُوهِ الْمُرْتَضَى خِلَافُهُ وَذَلِكَ
২১ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শিরাওয়াইহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু উসামা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাশিম ইবনে হাশিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সা’দকে বলতে শুনেছি যে, «আমি যে দিন ইসলাম গ্রহণ করেছি, সেদিন অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। আমি সাত দিন এমন অবস্থায় অতিবাহিত করেছি যে, আমি ছিলাম ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ (অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম তিনজনের একজন)।’ ⦗পৃষ্ঠা: ২৩২⦘ অতঃপর যদি সে রাফেযীদের বানোয়াট বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করে, তবে তাকে বলা হবে: যদি তুমি সেগুলোকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করো, তবে আমরা তোমাকে তাদের সেইসব বর্ণনাও গ্রহণ করতে বাধ্য করব যা তারা শিয়াদের হত্যা সম্পর্কে এবং তারা যে মুশরিক—এই মর্মে বর্ণনা করে থাকে, এছাড়াও এমন সব বর্ণনা যার কোনো ভিত্তি তোমার কাছেও নেই এবং অন্য কারো কাছেও নেই। তাকে আরও বলা হবে: এই বর্ণনাগুলো কী যা দিয়ে শিয়ারা দলিল পেশ করে? যদি সে বলে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি অসিয়ত করেছেন এবং তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর তিনি তাঁর ঋণের ফয়সালাকারী, তাঁর চুক্তির বাস্তবায়নকারী এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণকারী, এবং এই জাতীয় তাদের অন্যান্য বানোয়াট ও বাতিল বিষয়সমূহ। তখন তাকে বলা হবে: গ্রহণযোগ্য সূত্রসমূহ থেকে এর বিপরীত বিষয়ই বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٢)
22 - مَا حَدَّثَنَاهُ الطَّلْحِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها وَعَنْ أَبِيهَا، قَالَتْ: «مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ دِرْهَمًا، وَلَا دِينَارًا، وَلَا شَاةً، وَلَا بَعِيرًا، وَلَا أَوْصَى بِشَيْءٍ»
২২ - তালহী আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন: উবাইদ বিন গন্নাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর বিন আবী শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন নুমাইর এবং আবু মুয়াবিয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পিতার ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল কোনো দিরহাম, কোনো দিনার, কোনো ভেড়া বা কোনো উট রেখে যাননি এবং তিনি কোনো কিছুর ওসিয়ত করেননি।»
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٢)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ حَمْزَةَ، وَحَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَا: حَدَّثَنَا ⦗ص: 233⦘ يُوسُفُ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، قَالَ: سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى: هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْصَى؟ قَالَ: «لَا» . قُلْتُ: فَكَتَبَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَوْ أَمَرَ الْمُسْلِمِينَ بِالْوَصِيَّةِ وَلَمْ يُوصِ؟ قَالَ: «أَوْصَى بِكِتَابِ اللَّهِ» . قَالَ: فَقَالَ هُزَيْلٌ: أبُو بَكْرٍ كَانَ يَتَأَمَّرُ عَلَى وَصِيِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ يَوَدُّ أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ وَجَدَ عَهْدًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَزَمَ أَنْفَهُ بِخِزَامٍ، أُثْنِيَ عَلَيْهِ لَوَصِيَّةِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৩ - আমাদের নিকট আবু ইসহাক বিন হামজাহ এবং হাবিব বিন আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ২৩৩⦘ ইউসুফ আল-কাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমর বিন মারযুক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মালিক বিন মিগওয়াল বর্ণনা করেছেন তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আবি আওফাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি কোনো অসিয়ত করেছিলেন? তিনি বললেন: «না»। আমি বললাম: তবে তিনি কি মুসলিমদের ওপর অসিয়ত অবধারিত করেছেন অথবা মুসলিমদের অসিয়ত করার নির্দেশ দিয়েছেন অথচ নিজে অসিয়ত করেননি? তিনি বললেন: «তিনি আল্লাহর কিতাব (অনুসরণ করার) অসিয়ত করেছিলেন»। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর হুযাইল বললেন: আবু বকর কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসিয়তকৃত ব্যক্তির ওপর নেতৃত্ব প্রদান করতেন? আবু বকর তো এটিই আকাঙ্ক্ষা করতেন যে, যদি তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো অঙ্গীকার পেতেন, তবে তিনি নাকে লাগাম পরানো উটের মতো তাঁর অনুগত হতেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসিয়তের কারণে তিনি সেটির প্রতিই ঝুঁকে থাকতেন।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٤)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا حَضَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلُمُّوا أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَا تَضِلُّوا بَعْدَهُ أَبَدًا» . فَأَكْثَرُوا اللَّغْوَ وَالِاخْتِلَافَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 235⦘ «قُومُوا» . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَكْتُبَ لَهُمُ الْكِتَابَ لِاخْتِلَافِهِمُ ولغطهم ⦗ص: 237⦘ فَفِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ الثَّابِتَةِ إِبْطَالٌ لِمَا ادَّعَاهُ مِنِ اخْتِصَاصِ عَلِيٍّ رضي الله عنه بِوَصِيَّتِهِ وَعَهْدِهِ مِنْ دُونِ الْمُسْلِمِينَ كَافَّةً. وَلَقَدْ سُئِلَ عَلِيٌّ رضي الله عنه، فِيمَا: رَوَاهُ عَنْهُ أَبُو جُحَيْفَةَ وَغَيْرُهُ: هَلْ خَصَّكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَيْءٍ؟ فَقَالَ: مَا هُوَ إِلَّا كِتَابُ اللَّهِ، وَفَهْمٌ يُؤْتِيهِ اللَّهُ مَنْ شَاءَ فِي الْكِتَابِ. ⦗ص: 238⦘ فَإِنِ احْتَجَّ بِأَنَّ عَلِيًّا رضي الله عنه رُدَّتْ لَهُ الشَّمْسُ بَعْدَ أَنْ غَابَتْ حَتَّى صَلَّى الْعَصْرَ لِوَقْتِهَا حِينَ فَاتَتْهُ. حتى صلى. قِيلَ لَهُ: لَوْ جَازَ ذَلِكَ لِعَلِيٍّ لَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْلَى وَأَجْدَى، فَقَدْ فَاتَتْهُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ فَلَمْ يُصَلُّوا إِلَّا بَعْدَ الْعِشَاءِ حَتَّى قَالَ: «مَلَأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَقُلُوبَهُمْ نَارًا» . فَلَمْ تُرَدُّ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم. وَلَوْ جَازَ لِأَحَدٍ لَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَقُّ وَأَوْلَى، وَلَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَمْنَعَهُ شَرَفًا وَفَضْلًا، وَذَلِكَ مَا رُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه مِنْ غَيْرِ وَجْهِهِ
২৪ - আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন হাইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের সময় উপস্থিত হলো, তখন ঘরে কিছু লোক উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি কিতাব লিখে দেব যার পর তোমরা আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না»। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটে তারা অনেক শোরগোল ও মতবিরোধ শুরু করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৩৫⦘ «তোমরা উঠে যাও»। উবায়দুল্লাহ বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় মুসিবত হলো তা-ই, যা তাদের মতবিরোধ ও শোরগোলের কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে সেই কিতাব লিখে দেওয়ার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ⦗পৃষ্ঠা: ২৩৭⦘ সুতরাং এই সাব্যস্ত সংবাদসমূহের মধ্যে ঐ ব্যক্তির দাবির অসারতা প্রমাণিত হয়, যে দাবি করে যে, আলী (রাযি.)-কে সমস্ত মুসলিমদের পরিবর্তে এককভাবে অসিয়ত ও খেলাফতের অঙ্গীকারের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আলীকে (রাযি.) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—যা তাঁর থেকে আবু জুহাইফা ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি আপনাকে বিশেষভাবে কিছু দিয়েছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহর কিতাব এবং সেই বুঝ (উপলব্ধি) ব্যতীত আর কিছুই নয় যা আল্লাহ তাঁর কিতাব সম্পর্কে যাকে ইচ্ছা দান করেন»। ⦗পৃষ্ঠা: ২৩৮⦘ আর যদি সে এই দলিল পেশ করে যে, আলী (রাযি.)-এর জন্য সূর্য ডুবে যাওয়ার পর তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল যাতে তিনি আসরের সালাত সময়মতো আদায় করতে পারেন যখন তা তাঁর থেকে ছুটে গিয়েছিল—যতক্ষণ না তিনি সালাত আদায় করলেন। তবে তাকে বলা হবে: যদি তা আলীর জন্য সম্ভব হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য তা হওয়া অধিক সমীচীন ও কল্যাণকর ছিল; কেননা খন্দকের যুদ্ধের দিন তাঁর যোহর ও আসরের সালাত ছুটে গিয়েছিল, ফলে তাঁরা ইশার সালাতের আগে তা আদায় করতে পারেননি, এমনকি তিনি বলেছিলেন: «আল্লাহ তাদের কবর ও অন্তরসমূহকে আগুন দিয়ে পূর্ণ করে দিন»। তবুও তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য সূর্য ফিরিয়ে আনা হয়নি। আর যদি এটি কারো জন্য জায়েজ হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতেন এর সর্বাধিক হকদার ও যোগ্য, আর আল্লাহ তাঁকে এমন মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করা থেকে বিরত থাকতেন না। আর আলীর (রাযি.) পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করা হয় তা ভিত্তিহীন।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٨)
25 - حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ⦗ص: 239⦘ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ يَوْمَ الْأَحْزَابِ: «مَلَأَ اللَّهُ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا كَمَا شَغَلُونَا عَنْ صَلَاتِنَا الْوُسْطَى حَتَّى آبَتِ الشَّمْسُ» . رَوَاهُ شُتَيْرُ بْنُ شَكَلٍ وَيَحْيَى بْنُ الْجَزَّارِ وَغَيْرُهُمَا
২৫ - আমাদের নিকট হাবিব বিন আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউসুফ আল-কাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ২৩৯⦘ আল-মিনহাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযিদ বিন যুরাই' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু হাসান থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আহযাবের (খন্দকের) দিনে বলেছিলেন: «আল্লাহ তাদের ঘরসমূহ ও কবরসমূহ আগুনে পূর্ণ করে দিন, যেমনিভাবে তারা আমাদের মধ্যবর্তী সালাত থেকে বিরত রেখে ব্যস্ত করে রেখেছিল যতক্ষণ না সূর্য অস্তমিত হয়েছে»। এটি শুতাইর বিন শাকাল, ইয়াহইয়া বিন আল-জাযযার এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ লি আবী নুআইম আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣٩)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْخَنْدَقِ، شَغَلُونَا عَنْ صَلَوَاتٍ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلَالًا فَأَقَامَ لِكُلِّ صَلَاةٍ إِقَامَةً وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ عَلَيْهِ: {فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا} [البقرة: 239] "
২৬ - আবদুল্লাহ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস বিন হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি যিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আবি সাঈদ থেকে বর্ণিত, আবদুর রহমান বিন আবি সাঈদ আল-খুদরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা খন্দকের যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তারা (শত্রুরা) আমাদের বেশ কয়েকটি সালাত আদায় করা থেকে ব্যস্ত করে রেখেছিল। ফলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি প্রতিটি সালাতের জন্য ইকামত দিলেন। আর এটি তাঁর প্রতি এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ঘটনা: {অতঃপর যদি তোমরা আশঙ্কার মধ্যে থাকো, তবে পদব্রজে কিংবা আরোহী অবস্থায় (সালাত আদায় করো)} [সূরা আল-বাকারাহ: ২৩৯]।"