(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
اليقين لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: اليقين لابن أبي الدنيا

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

حققه وعلق عليه: ياسين محمد السورس

الناشر: دار البشائر الإسلامية

عدد الصفحات: 53

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আবি আদ-দুনিয়া রচিত আল-ইয়াকীন   (ইবনে আবি আদ-দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ইবনে আবি আদ-দুনিয়া রচিত আল-ইয়াকীন

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবি আদ-দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃ. ২৮১ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: ইয়াসিন মুহাম্মদ আস-সাওরাস

প্রকাশক: দার আল-বাশায়ির আল-ইসলামিয়া

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
1 - أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ النَّسَّابَةُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ خَلَفٍ الدِّمْيَاطِيُّ وَأَنَا حَاضِرٌ فِي الرَّابِعَةِ، قَالَ: أنا الشَّيْخُ الصَّالِحُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ⦗ص: 30⦘ أَبِي الْحَسَنِ الْبَغْدَادِيُّ الْأَزْجِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالْقَاهِرَةِ وَسَمَاعًا قَالَ: أَخْبَرَتْنَا الشَّيْخَةُ الْكَاتِبَةُ فَخْرُ النِّسَاءِ شُهْدَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ بْنِ عُمَرَ الْأَبَّرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهَا وَأَنَا أَسْمَعُ مِنْهَا سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، وَقَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّطِيفِ بْنِ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ خَطَّابٍ الدَّيْنَوَرِيِّ الْأَصْلِ، ثُمَّ الْبَغْدَادِيِّ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الْخَيْمِيِّ بِدَرْبِ دِينَارٍ الصَّغِيرِ شَرْقِيِّ بَغْدَادَ، عَنْ شُهْدَةَ قَالَتْ: أنا الشَّرِيفُ النَّقِيبُ أَبُو الْفَوَارِسِ طَرَّاذُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ النَّرْسِيُّ قَالَ: أنا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدَّلُ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ الْحُسَيْنِ بْنِ صَفْوَانَ الْبرْذَعِيِّ وِكِتَابُهُ يَنْظُرُ فِيهِ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةْ فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ: ثنا عَبْدُ اللِّهِ بْنُ مُحَمَّدِ ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا، ⦗ص: 31⦘ ثنا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ ، ثنا شُعْبَةُ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ سُلَيْمَ بْنَ عَامِرٍ يُحَدِّثُ ، عَنْ أَوْسَطِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَوْسَطٍ ، سَمِعَ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه يَقُولُ بَعْدَمَا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَنَةٍ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ أَوَّلَ مَقَامِي هَذَا قَالَ " ثُمَّ بَكَى أَبُو بَكْرٍ رحمه الله ثُمَّ قَالَ: ‌‌«عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ؛ فَإِنَّهُ مَعَ الْبِرِّ ، وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ ، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُورِ ، وَهُمَا فِي النَّارِ ، وَسَلُوا اللَّهَ الْمُعَافَاةَ ، فَإِنَّهُ لَمْ يُؤْتَ أَحَدٌ شَيْئًا بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرًا مِنَ الْمُعَافَاةِ ، وَلَا تَقَاطَعُوا وَلَا تَدَابَرُوا ، وَلَا تَحَاسَدُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا»
১ - হাফিজ আন-নাসসাবাহ আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দিমইয়াতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর আমি তখন আমার বয়সের চতুর্থ বর্ষে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন: নেককার শায়খ আবু আল-হাসান আলী বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আবু আল-হাসান আল-বাগদাদি আল-আজজি কায়রোতে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে এবং শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: লেখিকা শায়খা ফখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আহমদ বিন আল-ফারজ বিন উমর আল-আবরি ৫৭২ হিজরি সালে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যখন আমি তা শ্রবণ করছিলাম। আর আমি পাঠ করেছি আবু আল-হাসান আলী বিন আব্দুল লতিফ বিন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন খাত্তাব আদ-দাইনাওয়ারি আল-আসল, অতঃপর আল-বাগদাদি—যিনি ইবনুল খাইমি নামে পরিচিত ছিলেন—তার নিকট বাগদাদের পূর্ব দিকে অবস্থিত ছোট দারবে দিনারে। তিনি শুহদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (শুহদাহ) বলেন: শরীফুন নাকীব আবু আল-ফাওয়ারিস তাররায বিন মুহাম্মদ বিন আলী আন-নারসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুআদ্দাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমি আবু আলী আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈর নিকট ৩৪০ হিজরি সালের মহররম মাসে তাঁর কিতাব সামনে রেখে পাঠ করেছি, আর তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ আলী বিন আল-জাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন খুমাইর থেকে, তিনি বলেন: আমি সুলাইম বিন আমিরকে আওসাত বিন ইসমাইল বিন আওসাত থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও দয়া তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-এর ইনতিকালের এক বছর পর বলতে শুনেছেন: "রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও দয়া তাঁর উপর বর্ষিত হোক) গত বছর আমার এই দাঁড়ানোর স্থানেই আমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: «তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধরো; কেননা তা নেক আমলের সাথে থাকে এবং তারা উভয়ই জান্নাতে থাকবে। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো; কেননা তা পাপাচারের সাথে থাকে এবং তারা উভয়ই জাহান্নামে থাকবে। তোমরা আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো; কেননা ইয়াকীন বা সুদৃঢ় বিশ্বাসের পর সুস্থতা ও নিরাপত্তা অপেক্ষা উত্তম আর কিছু কাউকে প্রদান করা হয়নি। আর তোমরা একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা করো না এবং হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضَّبِّيُّ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ قَالَ: قَلَّ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُومُ مِنْ مَجْلِسٍ حَتَّى يَدْعُوَ بِهَؤُلَاءِ الدَّعَوَاتِ لِأَصْحَابِهِ: ⦗ص: 32⦘ ‌‌«اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا يَحُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ ، وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ ، وَمَنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مَصَائِبَ الدُّنْيَا ، وَمَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا ، وَاجْعَلْهُ الْوَارِثَ مِنَّا ، وَاجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا ، وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا ، وَلَا تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا ، وَلَا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلَا مَبْلَغَ عَلِمْنَا ، وَلَا تُسَلَّطْ عَلَيْنَا مَنْ لَا يَرْحَمُنَا»
২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আমর আদ-দাব্বী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে যাহর থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আবি ইমরান থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমর বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব কমই কোনো মজলিস থেকে উঠে দাঁড়াতেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর সাহাবীদের জন্য এই দোয়াগুলো পাঠ করতেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ «হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আপনার ভীতির এমন এক অংশ বণ্টন করুন যা আমাদের এবং আপনার অবাধ্যতার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে, আপনার আনুগত্যের এমন অংশ যা দিয়ে আপনি আমাদের আপনার জান্নাতে পৌঁছে দেন, এবং এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস দান করুন যা দিয়ে আপনি আমাদের জন্য দুনিয়ার বিপদ-আপদসমূহ সহজ করে দেন। আপনি আমাদের যতক্ষণ জীবিত রাখেন ততক্ষণ আমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন এবং একে আমাদের উত্তরসূরী বানিয়ে দিন। যারা আমাদের ওপর জুলুম করেছে তাদের ওপর আমাদের প্রতিশোধ গ্রহণ করুন এবং যারা আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো বিপদে ফেলবেন না এবং দুনিয়াকে আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় বা আমাদের জ্ঞানের শেষ সীমা করবেন না। আর আমাদের ওপর এমন কাউকে ক্ষমতাশীল করবেন না যে আমাদের প্রতি দয়া করবে না।’
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«نَجَا أَوَّلُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بِالْيَقِينِ وَالزُّهْدِ ، وَيَهْلِكُ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بِالْبُخْلِ وَالْأَمَلِ»
3 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে শাবিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ, ইবনে লাহীআহ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «এই উম্মতের প্রথম অংশ মুক্তি পেয়েছে ইয়াকীন এবং যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এর মাধ্যমে, আর এই উম্মতের শেষ অংশ ধ্বংস হবে কৃপণতা এবং দীর্ঘ আশার কারণে»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: ⦗ص: 33⦘ "‌‌ الْيَقِينُ عَلَى أَرْبَعِ شُعَبٍ: عَلَى غَائِصِ الْفَهْمِ ، وَغَمْرَةِ الْعِلْمِ ، وَزَهْرَةِ الْحُكْمِ ، وَرَوْضَةِ الْحِلْمِ ، فَمَنْ فَهِمَ فَسَّرَ جَمِيلَ الْعِلْمِ ، وَمَنْ فَسَّرَ جَمِيلَ الْعِلْمِ عَرَفَ شَرَائِعَ الْحُكْمِ ، وَمَنْ عَرَفَ شَرَائِعَ الْحُكْمِ حَلُمَ وَلَمْ يُفَرِّطْ فِي أَمْرِهِ وَعَاشَ فِي النَّاسِ "
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, মুহাম্মদ ইবনে সুকাহ থেকে, তিনি আলা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ "‌‌ ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) চারটি শাখার ওপর প্রতিষ্ঠিত: অনুধাবনের গভীরতা, জ্ঞানের প্রাচুর্য, প্রজ্ঞার প্রস্ফুটন এবং সহিষ্ণুতার উদ্যান। সুতরাং যে ব্যক্তি অনুধাবন করল, সে জ্ঞানের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করল; আর যে জ্ঞানের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করল, সে প্রজ্ঞার বিধানাবলী জানতে পারল; আর যে প্রজ্ঞার বিধানাবলী জানতে পারল, সে সহিষ্ণু হলো এবং নিজের কোনো বিষয়েই সীমালঙ্ঘন করল না এবং মানুষের মাঝে জীবন অতিবাহিত করল।"
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৩)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ ، ثنا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ ، ثنا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ: " عَنِ الْأَشْيَاخِ، قَالَ: ‌‌«مَا نَزَلَ فِي الْأَرْضِ شَيْءٌ أَقَلُّ مِنَ الْيَقِينِ ، وَلَا قُسِمَ بَيْنَ النَّاسِ شَيْءٌ أَقَلُّ مِنَ الْحِلْمِ»
৫ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনে খিদাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বিশর ইবনে বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বকর ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি প্রবীণদের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «পৃথিবীতে নিশ্চিত বিশ্বাসের চেয়ে কম কোনো কিছু অবতীর্ণ হয়নি এবং মানুষের মাঝে সহনশীলতার চেয়ে কম কোনো কিছু বণ্টিত হয়নি»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৩)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، عَنْ فِطْرٍ ، عَنْ أَبِي يَزِيدَ الْمَدِينِيِّ ، قَالَ: كَانَ مِنْ دُعَاءِ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه: ⦗ص: 34⦘ ‌‌«اللَّهُمَّ هَبْ لِي إِيمَانًا وَيَقِينًا وَمُعَافَاةً وَنِيَّةً»
৬ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন সুলায়মান ফিতর থেকে, তিনি আবু ইয়াজিদ আল-মাদিনি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দোয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ ‌‌«হে আল্লাহ, আমাকে ঈমান, ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস), নিরাপত্তা ও সুস্থতা এবং সঠিক নিয়ত দান করুন»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৪)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبٍ الدِّمَشْقِيُّ ، نا بَقِيَّةُ بْنُ مَخْلَدٍ ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ الْأَخْنَسِ ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ ، قَالَ: ‌‌«تَعَلَّمُوا الْيَقِينَ كَمَا تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ حَتَّى تَعْرِفُوهُ فَإِنِّي أَتَعَلَّمُهُ»
৭ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ইদরীস হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ওয়াহাব আদ-দিমাশকী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বিন মাখলাদ বর্ণনা করেছেন, আল-আব্বাস বিন আল-আখনাস থেকে, তিনি সাওরী বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি খালিদ বিন মা’দান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «তোমরা ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) শিক্ষা করো যেমনভাবে তোমরা কুরআন শিক্ষা করো, যাতে তোমরা তা চিনতে পারো; কেননা আমি তা শিখছি।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৪)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا يَعْقُوبُ بْنُ عُبَيْدٍ ، نا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، نا أَبُو سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ أَنَّهُ بَلَغَهُ ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «يَا حَبَّذَا نَوْمُ الْأَكْيَاسِ وَإِفْطَارُهُمْ ، كَيْفَ يَعِيبُونَ سَهَرَ الْحَمْقَى وَصِيَامَهُمْ ، وَلَمِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ بِرٍّ مِنْ‌‌ صَاحِبِ تَقْوًى وَيَقِينٍ أَفْضَلُ وَأَرْجَحُ وَأَعْظَمُ مِنْ أَمْثَالِ الْجِبَالِ عِبَادَةً مِنَ الْمُغْتَرِبِينَ»
৮ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াকুব বিন উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াযিদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু সাঈদ আল-কিন্দি বর্ণনা করেছেন যে তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে, আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: «বুদ্ধিমানদের ঘুম এবং তাদের রোজা না রাখা কতই না চমৎকার! তারা কীভাবে নির্বোধদের রাত্রি জাগরণ এবং তাদের রোজাকে ম্লান করে দেয়। নিশ্চয়ই তাকওয়া ও দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) সম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষ থেকে অণু পরিমাণ পুণ্যকাজও বিভ্রান্ত ও আত্মপ্রবঞ্চনাকারীদের পাহাড়সম ইবাদতের চেয়ে অধিক উত্তম, অধিক ওজনদার এবং অধিক মহান।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ ، ثنى سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بُزُرْجَ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي إِلَّا ضَعْفَ الْيَقِينِ»
৯ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে বুজুরজ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«আমি আমার উম্মতের জন্য ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাস) দুর্বলতা ব্যতীত আর কোনো কিছুর আশঙ্কা করি না»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ ، نا أَبُو مَالِكٍ الْجَنَبِيُّ ، عَنْ صَبَاحٍ الْمُزَنِيِّ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي الَّذِي سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه يَقُولُ: ‌‌«الْيَقِينُ عَلَى أَرْبَعِ شُعَبٍ ، عَلَى تَبْصِرَةِ الْفِطْنَةِ ، وَتَأْوِيلِ الْحِكْمَةِ ، وَمَوْعِظَةِ الْعِبْرَةِ ، وَسُنَّةِ الْأَوَّلِينَ ، فَمَنْ أَبْصَرَ الْفِطْنَةَ تَأَوَّلَ الْحِكْمَةَ ، وَمَنْ تَأَوَّلَ الْحِكْمَةَ عَرَفَ الْعِبْرَةَ ، وَمَنْ عَرَفَ الْعِبْرَةَ فَكَأَنَّمَا كَانَ فِي الْأَوَّلِينَ»
১০ - আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুর রহমান ইবন সালিহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু মালিক আল-জানাবি সাবাহ আল-মুজানি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন সুকাহ থেকে, তিনি আলা ইবন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যিনি আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন তিনি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: «দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) চারটি শাখার ওপর প্রতিষ্ঠিত: বিচক্ষণতার অন্তর্দৃষ্টি, প্রজ্ঞার ব্যাখ্যা, উপদেশমূলক শিক্ষা এবং পূর্ববর্তীদের পথ। সুতরাং যে ব্যক্তি বিচক্ষণতার অন্তর্দৃষ্টি লাভ করল সে প্রজ্ঞার ব্যাখ্যা অনুধাবন করল, আর যে প্রজ্ঞার ব্যাখ্যা অনুধাবন করল সে শিক্ষা সম্পর্কে অবগত হলো, আর যে শিক্ষা সম্পর্কে অবগত হলো সে যেন পূর্ববর্তীদের মাঝেই উপস্থিত ছিল।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، ⦗ص: 36⦘ نا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، نا أَبُو هِلَالٍ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمٍ ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ قَالَ: فَقَدَ الْحَوَارِيُّونَ نَبِيَّهُمْ عِيسَى عليه السلام فَقِيلَ لَهُمْ: تَوَجَّهَ نَحْوَ الْبَحْرِ ، فَانْطَلَقُوا يَطْلُبُونَهُ ، فَلَمَّا انْتَهَوْا إِلَى الْبَحْرِ إِذَا هُوَ قَدْ أَقْبَلَ يَمْشِي عَلَى الْمَاءِ ، يَرْفَعُهُ الْمَوْجُ مَرَّةً وَيَضَعُهُ أُخْرَى ، وَعَلَيْهِ كِسَاءٌ مُرْتَدٍ بِنِصْفِهِ وَمُتَّزِرٌ بِنِصْفِهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَيْهِمْ فَقَالَ لَهُ بَعْضُهُمْ - قَالَ أَبُو هِلَالٍ أَظُنُّهُ مِنْ أَفَاضِلِهِمْ -: أَلَا أَجِيءُ إِلَيْكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ؟ ، قَالَ: بَلَى فَوَضَعَ إِحْدَى رِجْلَيْهِ فِي الْمَاءِ ثُمَّ ذَهَبَ لَيَضَعَ الْأُخْرَى ، فَقَالَ: غَرِقْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ ، قَالَ: «أَرِنِي يَدَكَ يَا قَصِيرَ الْإِيمَانِ‌‌ لَوْ أَنَّ لِابْنِ آدَمَ مِنَ الْيَقِينِ قَدْرَ شَعِيرَةٍ مَشَى عَلَى الْمَاءِ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি হারুন ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ তিনি হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হিলাল মুহাম্মদ ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি বকর ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুজানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাওয়ারীগণ তাঁদের নবী ঈসা আলাইহিস সালামকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তখন তাঁদের বলা হলো: তিনি সমুদ্রের দিকে গিয়েছেন। তাঁরা তাঁর সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন। যখন তাঁরা সমুদ্রের তীরে পৌঁছালেন, তখন দেখলেন তিনি পানির ওপর দিয়ে হেঁটে এগিয়ে আসছেন; ঢেউ তাঁকে একবার ওপরে তুলছে এবং অন্যবার নিচে নামাচ্ছে। তাঁর গায়ে একটি চাদর ছিল, যার অর্ধেক তিনি শরীরের উপরিভাগে জড়িয়েছিলেন এবং বাকি অর্ধেক পরিধান করেছিলেন। পরিশেষে তিনি তাঁদের নিকট পৌঁছালে তাঁদের মধ্য থেকে একজন—আবু হিলাল বলেন: আমার ধারণা তিনি তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠদের একজন ছিলেন—বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমি কি আপনার নিকট আসব না? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন তিনি তাঁর এক পা পানিতে রাখলেন এবং যখন অন্য পা রাখতে গেলেন তখন বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমি ডুবে যাচ্ছি! তিনি বললেন: "হে স্বল্প ঈমানদার, তোমার হাত আমাকে দাও; যদি আদম সন্তানের যব পরিমাণও দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকিন) থাকত, তবে সে পানির ওপর দিয়ে হাঁটত।"
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو السَّرِيِّ الْبَاهِلِيُّ ، قَالَ: " كَانَ يُقَالُ: «الِاهْتِمَامُ بِالْعَمَلِ يُوَرِّثُ الْفِكْرَةَ ، وَالْفِكْرَةُ تُوَرِّثُ الْعِبْرَةَ ، وَالْعِبْرَةُ تُوَرِّثُ الْحَزْمَ ، وَالْحَزْمُ يُوَرِّثُ الْعَزْمَ ، وَالْعَزْمُ يُوَرِّثُ الْيَقِينَ ،‌‌ وَالْيَقِينُ يُوَرِّثُ الْغِنَى ، وَالْغِنَى يُوَرِّثُ الْحُبَّ ، وَالْحُبُّ يُوَرِّثُ اللِّقَاءَ»
১২ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল সাররি আল-বাহিলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "বলা হতো: «আমলের প্রতি যত্নশীলতা চিন্তাশীলতার জন্ম দেয়, আর চিন্তাশীলতা শিক্ষা গ্রহণের জন্ম দেয়, আর শিক্ষা গ্রহণ বিচক্ষণতার জন্ম দেয়, আর বিচক্ষণতা দৃঢ় সংকল্পের জন্ম দেয়, আর দৃঢ় সংকল্প ইয়াকীনের জন্ম দেয়, আর ইয়াকীন অমুখাপেক্ষিতার জন্ম দেয়, আর অমুখাপেক্ষিতা ভালোবাসার জন্ম দেয় এবং ভালোবাসা সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা জন্ম দেয়»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ ، ثنا أَبُو أُسَامَةَ ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ ، ثنا الْحَسَنُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 37⦘ ‌‌«إِنَّ النَّاسَ لَمْ يُؤْتَوْا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا خَيْرًا مِنَ الْيَقِينِ وَالْعَافِيَةِ فَسَلُوهُمَا اللَّهَ عز وجل» قَالَ الْحَسَنُ: «صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْيَقِينِ طُلِبَتِ الْجَنَّةُ ، وَبِالْيَقِينِ هُرِبَ مِنَ النَّارِ ، وَبِالْيَقِينِ أُوتِيَتِ الْفَرَائِضُ ، وَبِالْيَقْيِنِ صُبِرَ عَلَى الْحَقِّ ، وَفِي مُعَافَاةِ اللَّهِ خَيْرٌ كَثِيرٌ قَدْ وَاللَّهِ رَأَيْنَاهُمْ يَتَقَارَبُونَ فِي الْعَافِيَةِ فَلَمَّا نَزَلَ الْبَلَاءُ تَفَارَقُوا»
১৩ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল-ইজলি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি জারীর ইবনে হাযিম থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ ‌‌«নিশ্চয়ই এই পৃথিবীতে মানুষকে ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) ও আফিয়াত (সুস্থতা ও নিরাপত্তা) অপেক্ষা উত্তম আর কিছু দান করা হয়নি। সুতরাং তোমরা মহান আল্লাহর নিকট এই দুটি প্রার্থনা করো।’ হাসান বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য বলেছেন। ইয়াকীনের মাধ্যমেই জান্নাত অন্বেষণ করা হয়, ইয়াকীনের মাধ্যমেই জাহান্নাম থেকে পলায়ন করা হয়, ইয়াকীনের মাধ্যমেই ফরজসমূহ পালন করা হয় এবং ইয়াকীনের মাধ্যমেই সত্যের ওপর ধৈর্য ধারণ করা হয়। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আফিয়াতের মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। আল্লাহর কসম! আমরা তাদের দেখেছি যে, তারা আফিয়াতের (সুস্থতা ও স্বাচ্ছন্দ্য) সময় একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ থাকে, কিন্তু যখনই বিপদ আপতিত হয়, তখন তারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ السَّهْمِيُّ ، ثنا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ دِينَارٍ ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: " قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ: يَا بُنَيَّ إِنَّ الصَّبْرَ عَلَى الْمَكَارِهِ‌‌ مِنْ حُسْنِ الْيَقِينِ ، وَإِنَّ لِكُلِّ عَمَلٍ كَمَالًا وَغَايَةً ، وَكَمَالُ الْعِبَادَةِ الْوَرَعُ وَالْيَقِينُ "
১৪ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে ইব্রাহিম আস-সাহমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনুল মুহাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে দিনার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "লোকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: হে বৎস! অপ্রীতিকর বিষয়ের ওপর ধৈর্য ধারণ করা উৎকৃষ্ট ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। আর নিশ্চয়ই প্রতিটি কর্মের পূর্ণতা ও একটি লক্ষ্য থাকে, আর ইবাদতের পূর্ণতা হলো আল্লাহভীতি ও ইয়াকীন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَحْيَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، ثنا مُدْرِكُ بْنُ أَبِي سَعْدٍ الْفَزَارِيُّ ، عَنْ يُونُسَ بْنِ حَلْبَسٍ ، أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو: ⦗ص: 38⦘ «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حَزْمًا فِي لِينٍ ، وَقُوَّةً فِي دِينٍ ،‌‌ وَإِيمَانًا فِي يَقِينٍ ، وَنَشَاطًا فِي هُدًى ، وَبِرًّا فِي اسْتِقَامَةٍ ، وَكَسْبًا مِنْ حَلَالٍ»
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাঈল ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুদরিক ইবনে আবি সাদ আল-ফাযারি থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে হালবাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এই বলে দুআ করতেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ «হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট কোমলতার মাঝে দৃঢ়তা এবং দ্বীনের মাঝে শক্তি প্রার্থনা করছি, আর নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে ঈমান, হিদায়াতের পথে সক্রিয়তা, অবিচলতার সাথে পুণ্য এবং হালাল উপায়ে উপার্জন প্রার্থনা করছি।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৮)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: ‌‌«مَا أَيْقَنَ عَبْدٌ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ حَقَّ يَقِينِهِمَا إِلَّا خَشَعَ وَوَجِلَ ، وَذَلَّ وَاسْتَقَامَ ، وَاقْتَصَرَ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمَوْتُ»
১৬ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ থেকে, হাসান থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «কোনো বান্দাই জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর যথাযথভাবে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেনি, তবে সে অবশ্যই বিনম্র ও ভীত হয়েছে, অনুগত ও অবিচল হয়েছে এবং সংযত হয়েছে যতক্ষণ না তার কাছে মৃত্যু আসে।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৮)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قثني مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، قثني صَدَقَةُ بْنُ بَكْرٍ السَّعْدِيُّ ، قثني مُرَجَّى بْنُ وَدَاعٍ الرَّاسِبِيُّ ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ حَبِيبٍ ، قَالَ: " رَأَى رَجُلٌ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ غَالِبٍ فِيمَا يَرَى قَالَ: " يَا أَبَا فِرَاسٍ ، مَا صَنَعْتَ؟ قَالَ: خَيْرَ الصَّنِيعِ ، قَالَ: إِلَامَ صِرْتَ؟ قَالَ: إِلَى الْجَنَّةِ قَالَ: ثُمَّ قَالَ:‌‌ بِحُسْنِ الْيَقِينِ وَطُولِ التَّهَجُّدِ "
১৭ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সাদাকাহ ইবনে বকর আস-সা'দী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুরাজ্জা ইবনে ওয়াদা আর-রাসিবি বর্ণনা করেছেন, আল-মুগীরা ইবনে হাবীব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে গালিবকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন: 'হে আবু ফিরাাস! আপনার সাথে কী রূপ আচরণ করা হয়েছে?' তিনি বললেন: 'সর্বোত্তম আচরণ।' তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: 'আপনার গন্তব্য কোথায় হয়েছে?' তিনি বললেন: 'জান্নাতে।' এরপর তিনি বললেন:‌‌ সুদৃঢ় বিশ্বাস এবং দীর্ঘ সময় তাহাজ্জুদ পালনের বদৌলতে। "
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৯)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ ، عَنْ مُوسَى بْنِ عِيسَى ، قَالَ: اجْتَمَعَ حُذَيْفَةُ الْمَرْعَشِي ، وَسُلَيْمَانُ الْخَوَّاصُ ، وَيُوسُفُ بْنُ أَسْبَاطٍ ، فَتَذَاكَرُوا الْفَقْرَ وَالْغِنَى ، وَسُلَيْمَانُ سَاكِتٌ فَقَالَ بَعْضُهُمُ: «الْغَنِيُّ مَنْ كَانَ لَهُ بَيْتٌ يُكِنُّهُ ، وَثَوْبٌ يَسْتُرُهُ ، وَسَدَادٌ مِنْ عَيْشٍ يَكِفُّهُ عَنْ فُضُولِ الدُّنْيَا» ، وَقَالَ بَعْضُهُمُ: «الْغَنِيُّ مَنْ لَمْ يَحْتَجْ إِلَى النَّاسِ» ، فَقِيلَ لِسُلَيْمَانَ مَا تَقُولُ أَنْتَ يَا أَبَا أَيُّوبَ؟ فَبَكَى ثُمَّ قَالَ: ‌‌«رَأَيْتُ جَوَامِعَ الْغِنَى فِي التَّوَكُّلِ ، وَرَأَيْتُ جَوَامِعَ الشَّرِّ مِنَ الْقُنُوطِ ، وَالْغَنِيُّ حَقَّ الْغِنَى ، مَنْ أَسْكَنَ اللَّهُ قَلْبَهُ مِنْ غِنَاهُ يَقِينًا ، وَمِنْ مَعْرِفَتِهِ تَوَكُّلًا ، وَمِنْ عَطَايَاهُ وَقَسْمِهِ رِضًى ، فَذَاكَ الْغَنِيُّ حَقَّ الْغِنَى وَإِنْ أَمْسَى طَاوِيًا وَأَصْبَحَ مُعْوِزًا» . فَبَكَى الْقَوْمُ جَمِيعًا مِنْ كَلَامِهِ "
১৮ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ঈসা থেকে, তিনি বলেন: হুজায়ফা আল-মারআশি, সুলাইমান আল-খাওওয়াস এবং ইউসুফ ইবনে আসবাত একত্রিত হলেন এবং তাঁরা অভাব ও সচ্ছলতা নিয়ে আলোচনা করলেন, তখন সুলাইমান নিশ্চুপ ছিলেন। অতঃপর তাঁদের কেউ বললেন: «ধনী সেই ব্যক্তি যার একটি ঘর আছে যা তাকে আশ্রয় দেয়, একটি বস্ত্র আছে যা তাকে আবৃত করে এবং জীবনধারণের এমন পর্যাপ্ত জীবনোপকরণ আছে যা তাকে দুনিয়ার অনাবশ্যক বিলাসিতা থেকে নিবৃত্ত রাখে», এবং কেউ কেউ বললেন: «ধনী সেই ব্যক্তি যে মানুষের মুখাপেক্ষী নয়», তখন সুলাইমানকে বলা হলো: হে আবু আইয়ুব, আপনি এ বিষয়ে কী বলেন? তখন তিনি কাঁদলেন এবং বললেন: «আমি আল্লাহর ওপর ভরসার (তাওয়াক্কুল) মধ্যে প্রাচুর্যের সমস্ত সারকথা দেখেছি এবং হতাশার মধ্যে সমস্ত মন্দের সমাহার দেখেছি। আর প্রকৃত ধনী সেই ব্যক্তি, আল্লাহ যার অন্তরে তাঁর ঐশ্বর্য থেকে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তাঁর পরিচয় (মা'রিফাত) থেকে তাওয়াক্কুল দান করেছেন এবং তাঁর দান ও বণ্টনের ওপর সন্তুষ্টি দান করেছেন; সেই ব্যক্তিই প্রকৃত ধনী, যদিও সে ক্ষুধার্ত অবস্থায় সন্ধ্যা অতিবাহিত করে এবং অভাবী অবস্থায় সকাল অতিবাহিত করে।» তাঁর কথা শুনে উপস্থিত সকলেই কেঁদে ফেললেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৯)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى ، ثنا ⦗ص: 40⦘ وَكِيعٌ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ طَارِقٍ ، عَنْ سَالِمٍ: ‌‌{وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيكَ الْيَقِينُ} [الحجر: 99] قَالَ: «الْمَوْتُ» حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: وَقَالَ بَعْضُ الْحُكَمَاءِ: «مِنْ ضَعْفِ الْيَقِينِ تَدْخُلُ الْآفَةُ عَلَى الْمُرِيدِينَ ، ⦗ص: 41⦘ وَبِقُوَّةِ الْيَقِينِ وَصِدْقِ الْمُطَالَبَةِ يَكُونُ الْجِدُّ وَالِاجْتِهَادُ ، وَبِصِدْقِ الْخَوْفِ وَالْحَذَرِ تَسْلُو النَّفْسُ عَنِ الشَّهَوَاتِ»
১৯ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি তারিক থেকে, তিনি সালিম থেকে বর্ণনা করেন: “এবং আপনি আপনার প্রতিপালকের ইবাদত করুন যতক্ষণ না আপনার নিকট ইয়াকিন (নিশ্চয়তা) আসে” [আল-হিজর: ৯৯]। তিনি বলেন: “(এখানে ইয়াকিন অর্থ) মৃত্যু।” আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন: “ইয়াকিনের (দৃঢ় বিশ্বাসের) দুর্বলতা থেকেই অন্বেষণকারীদের ওপর বিপদ আপতিত হয়, ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ আর ইয়াকিনের শক্তি ও সত্যনিষ্ঠ অন্বেষণের মাধ্যমেই কর্মতৎপরতা ও কঠোর সাধনা অর্জিত হয়, এবং যথাযথ ভয় ও সতর্কতার মাধ্যমে নফস কুপ্রবৃত্তি থেকে বিমুখ হয়।”
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪১)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ ، ثنا الْقَاسِمُ بْنُ يَزِيدَ ، ثنا قَيْسُ بْنُ مُسْلِمٍ الْجَدَلِيُّ ، قَالَ: كَانَ عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ لَا يَقُومُ مِنْ مَجْلِسِهِ حَتَّى يَقُولَ: ‌‌«اللَّهُمَّ هَبْ لَنَا يَقِينًا بِكَ حَتَّى تَهُونَ عَلَيْنَا مُصِيبَاتُ الدُّنْيَا ، وَحَتَّى نَعْلَمَ أَنَّهُ لَا يُصِيبُنَا إِلَّا مَا كُتِبَ لَنَا عَلَيْنَا ، وَلَا يَأْتِينَا مِنْ هَذَا الرِّزْقِ إِلَّا مَا قَسَمْتَ بِهِ»
20 - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবন হারব আমার নিকট লিখেছেন, আল-কাসিম ইবন ইয়াযিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কায়স ইবন মুসলিম আল-জাদালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আতা আল-খুরাসানি তার মজলিস থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত উঠতেন না যতক্ষণ না তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আমাদের আপনার প্রতি এমন দৃঢ় বিশ্বাস দান করুন যাতে আমাদের নিকট দুনিয়ার বিপদ-আপদ সহজ হয়ে যায়, এবং যেন আমরা জানতে পারি যে, আমাদের ওপর তা ব্যতীত কিছুই আপতিত হবে না যা লিখে রাখা হয়েছে আমাদের জন্য ও আমাদের ওপর, আর আমাদের নিকট এই রিজিক থেকে ততটুকুই আসবে যা আপনি আমাদের জন্য বণ্টন করেছেন»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪১)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ ، عَنْ أَبِي سَيَّارٍ الْمَكِّيِّ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْكَرَمُ التَّقْوَى ، وَالشَّرَفُ التَّوَاضُعُ ، وَالْيَقِينُ الْغِنَى»
২১ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, মানসুর বিন আবি মুজাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন আইয়াশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সাইয়্যার আল-মাক্কি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আভিজাত্য হলো তাকওয়া, মর্যাদা হলো বিনয় এবং ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) হলো সচ্ছলতা»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪২)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، ثنا أَبُو أُسَامَةَ ، وَيَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ ، عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ ، عَنْ زُبَيْدٍ ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «إِنَّ‌‌ الرَّوْحَ وَالْفَرَجَ فِي الْيَقِينِ وَالرِّضَا ، وَإِنَّ الْغَمَّ وَالْحُزْنَ مِنَ الشَّكِّ وَالسُّخْطِ» وَقَالَ يَعْلَى: «الرَّوْحُ وَالْفَرَحُ»
২২ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা এবং ইয়ালা বিন উবাইদ ইবনে আবি খালিদ সূত্রে জুবাইদ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: «নিশ্চয়ই স্বস্তি ও মুক্তি রয়েছে সুদৃঢ় বিশ্বাস ও সন্তুষ্টির মধ্যে, আর নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ আসে সংশয় ও অসন্তুষ্টি থেকে।» আর ইয়ালা বলেছেন: «স্বস্তি ও আনন্দ।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪২)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، قَالَ: قَالَ مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ: ‌‌«أُشْهِدُكُمْ أَنَّ يَقِينِي ، شَبْكُورُ»
২৩ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক বিন দিনার বলেছেন: «আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমার ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) হলো শাবকুর (রাতকানা)»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪২)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عُبَيْدَةَ ، عَنْ رَجُلٍ ، قَالَ: " كُنْتُ أَسِيرُ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ ، فَإِذَا خَلْفِي رَجُلٌ أَظُنُّهُ الْأَحْنَفُ ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: ⦗ص: 43⦘ ‌‌«اللَّهُمَّ هَبْ لِي يَقِينًا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيَّ مُصِيبَاتِ الدُّنْيَا»
২৪ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন খিদাশ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, আমের বিন উবায়দাহ থেকে বর্ণিত, তিনি এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি গভীর রাতে পথ চলছিলাম, তখন আমার পিছনে এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম যাকে আমি আল-আহনাফ বলে মনে করলাম। তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ «হে আল্লাহ, আমাকে এমন দৃঢ় বিশ্বাস দান করুন যার মাধ্যমে আপনি আমার ওপর দুনিয়ার বিপদ-আপদগুলোকে সহজ করে দেবেন»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪৩)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو زَكَرِيَّا الْبَلْخِيُّ ، ثنا مُبَشِّرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عُتْبَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ: ‌‌«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيمَانًا تُبَاشِرُ بِهِ قَلْبِي ، وَيَقِينًا حَتَّى أَعْلَمَ أَنَّهُ لَا يَمْنَعُنِي رِزْقًا قَسَمْتَهُ لِي، وَرِضًا مِنَ الْمَعِيشَةِ بِمَا قَسَمْتَ لِي»
২৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাকারিয়া আল-বালখি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুবাশশির ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী থেকে বর্ণিত, আলা ইবনে উতবা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এমন ঈমান প্রার্থনা করছি যা আমার অন্তরের সাথে সরাসরি মিশে যাবে, এবং এমন একীন (দৃঢ় বিশ্বাস) প্রার্থনা করছি যাতে আমি জানতে পারি যে, আপনি আমার জন্য যে রিযিক নির্ধারণ করেছেন তা কেউ আমার থেকে রোধ করতে পারবে না, এবং জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আপনি আমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪৩)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَبَلَةَ ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي هِلَالٍ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ: " أَنَّ رَجُلًا أَصَابَهُ مَرَضٌ فَمَنَعَهُ مِنَ الطَّعَامِ وَالنَّوْمِ ، فَبَيْنَا هُوَ لَيْلَةً سَاهِرٌ ⦗ص: 44⦘ سَمِعَ وَجْبَةً فِي حُجْرَتِهِ ، فَإِذَا هُوَ يَسْمَعُ كَلَامًا فَوَعَاهُ فَتَكلَّمَ بِهِ فَبَرَأَ مَكَانَهُ: «اللَّهُمَّ‌‌ إِنِّي أَعْبُدُكَ وَلَكَ أُصَلِّي ، فَاجْعَلِ الشِّفَاءَ مِنْ جَسَدِي ، وَالْيَقِينَ فِي قَلْبِي وَالنُّورَ فِي بَصَرِي ، وَالشُّكْرَ مِنْ صَدْرِي ، وَذِكْرَكَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ فِي لِسَانِي ، أَبَدًا مَا أَبْقَيْتَنِي ، وَارْزُقْنِي مِنْكَ رِزْقًا غَيْرَ مَمْنُوعٍ وَلَا مَحْظُورٍ»
২৬ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন জাবালাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে সাঈদ বিন আবি আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আব্দুর রহমান বিন আবি হিলাল বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন আবি জাফর থেকে বর্ণিত: "এক ব্যক্তি এমন এক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন যা তাকে আহার ও নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছিল। এক রাতে যখন তিনি বিনিদ্র অবস্থায় ছিলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ তখন তিনি তার কক্ষে একটি পতনের শব্দ শুনতে পেলেন। হঠাৎ তিনি কিছু কথা শুনতে পেলেন এবং তা তিনি আয়ত্ত করে নিলেন। এরপর তিনি তা পাঠ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ আরোগ্য লাভ করলেন: «হে আল্লাহ!‌ ‌ নিশ্চয়ই আমি আপনার ইবাদত করি এবং আপনার জন্যই সালাত আদায় করি। সুতরাং আপনি আমার দেহে আরোগ্য দান করুন, আমার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস এবং আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, এবং আমার বক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা দান করুন; আপনার জিকির দিবা-নিশি আমার জিহ্বায় জারি রাখুন যতদিন আপনি আমাকে জীবিত রাখেন; এবং আমাকে আপনার পক্ষ থেকে এমন রিজিক দান করুন যা কখনো রুদ্ধ হবে না এবং যা নিষিদ্ধ নয়।»"
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪৪)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ ، عَنْ عِصْمَةَ بْنِ الْمُتَوَكِّلِ ، ثنا زَافِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، قَالَ قَالَ عَوْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: قَالَ لُقْمَانُ الْحَكِيمُ لِابْنِهِ: «الْإِيمَانُ سَبْعُ حَقَائِقَ ، وَلِكُلِّ حَقِيقَةٍ مِنْهَا حَقِيقَةٌ ، الْيَقِينُ ، وَالْمَخَافَةُ ، وَالْمَعْرِفَةُ ، وَالْهُدَى ، وَالْعَمَلُ ، وَالتَّفَكُّرُ ، وَالْوَرَعُ ،‌‌ فَحَقِيقَةُ الْيَقِينِ الصَّبْرُ ، وَحَقِيقَةُ الْمَخَافَةِ الطَّاعَةُ ، وَحَقِيقَةُ الْمَعْرِفَةِ الْإِيمَانُ وَحَقِيقَةُ الْهُدَى الْبُصَيْرَةُ ، وَحَقِيقَةُ الْعَمَلِ النِّيَّةُ وَحَقِيقَةُ التَّفَكُّرِ الْفِطْنَةُ ، وَحَقِيقَةُ الْوَرَعِ الْعَفَافُ»
২৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাহ বিন আল-মুতাওয়াক্কিল থেকে, জাফির বিন সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আউন বিন আবদুল্লাহ বলেছেন: লোকমান হাকিম তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: «ঈমানের সাতটি হাকীকত (বাস্তবতা) রয়েছে এবং এর প্রতিটি হাকীকতের একটি করে মূল ভিত্তি রয়েছে। সেগুলো হলো: একীন (দৃঢ় বিশ্বাস), ভয়, মা’রিফাত (পরিচয়), হেদায়েত (পথপ্রদর্শন), আমল (কর্ম), তাফাক্কুর (চিন্তা-গবেষণা) এবং ওরা (পরহেজগারি)। একীনের হাকীকত হলো সবর (ধৈর্য), ভয়ের হাকীকত হলো আনুগত্য, মা’রিফাতের হাকীকত হলো ঈমান এবং হেদায়েতের হাকীকত হলো অন্তর্দৃষ্টি, আমলের হাকীকত হলো নিয়ত, তাফাক্কুরের হাকীকত হলো বিচক্ষণতা এবং পরহেজগারির হাকীকত হলো পবিত্রতা বা সংযম।»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪৪)
28 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا الْقَاسِمُ بْنُ هَاشِمٍ ⦗ص: 45⦘ ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسَ ، ثنا شِهَابُ بْنُ خِرَاشٍ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَاشِدٍ ، عَنْ عَوْنِ بْنِ خَالِدٍ ،: قَالَ: وَجَدْتُ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ: إِنَّ آدَمَ عليه السلام رَكَعَ إِلَى جَانِبِ الرُّكْنِ الْيَمَانِيِّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ: ‌‌«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيمَانًا تُبَاشِرُ بِهِ قَلْبِي ، وَيَقِينًا صَادِقًا حَتَّى أَعْلَمَ أَنَّهُ لَنْ يُصِيبَنِي إِلَّا مَا كَتَبْتَ لِي ، وَرَضِّنِي بِمَا قَسَمْتَ لِي» ، فَأَوْحَى اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ: «يَا آدَمُ إِنَّهُ حَقٌّ عَلَيَّ أَنْ لَا يَلْزَمَ أَحَدٌ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ هَذَا الدُّعَاءَ إِلَّا أَعْطَيْتُهُ مَا يُحِبُّ وَنَجَّيْتُهُ مِمَّا يَكْرَهُ ، وَنَزَعْتُ أَمَلَ الدُّنْيَا وَالْفَقْرَ مِنْ بَيْنِ عَيْنَيْهِ وَمَلَأْتُ جَوْفَهُ حِكْمَةً»
২৮ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম ইবনে হাশিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ , আদম ইবনে আবি ইয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শিহাব ইবনে খিরাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আউন ইবনে খালিদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কোনো এক কিতাবে পেয়েছি যে: আদম আলাইহিস সালাম রুকনে ইয়ামানীর পাশে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: ‌‌«হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এমন ঈমান প্রার্থনা করছি যা সরাসরি আমার অন্তরের সাথে মিশে থাকবে, এবং এমন সত্য ইয়াকিন চাচ্ছি যার ফলে আমি জানতে পারব যে, আপনি আমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুই আমার নিকট পৌঁছাবে না, আর আপনি আমার জন্য যা বরাদ্দ করেছেন তাতে আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন।’ তখন আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: ‘হে আদম! নিশ্চয়ই এটি আমার ওপর আবশ্যিক যে, তোমার সন্তানদের মধ্যে যে কেউ এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করবে, আমি তাকে তার পছন্দনীয় বস্তু দান করব এবং সে যা অপছন্দ করে তা থেকে তাকে মুক্তি দেব, আর আমি তার দুচোখের মাঝখান থেকে দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষা ও দারিদ্র্যকে দূর করে দেব এবং তার ভেতরকে প্রজ্ঞা দ্বারা পূর্ণ করে দেব।’»
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৪৫)
29 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْيَشْكُرِيُّ ، ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْجَبَلِيُّ ، ثنا حَفْصُ بْنُ ⦗ص: 46⦘ سُلَيْمَانَ أَبُو مُقَاتِلٍ ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي شَدَّادٍ ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ رضي الله عنهما: «يَا بُنَيَّ‌‌ الْعَمَلُ لَا يُسْتَطَاعُ إِلَّا بِالْيَقِينِ ، وَمَنْ يَضْعُفْ يَقِينُهُ يَضْعُفْ عَمَلُهُ» ، قَالَ: وَقَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ: " يَا بُنَيَّ: إِذَا جَاءَكَ الشَّيْطَانُ مِنْ قِبَلِ الشَّكِّ وَالرِّيبَةِ فَاغْلِبْهُ بِالْيَقِينِ وَالصِّحَّةِ ، وَإِذَا جَاءَكَ مِنْ قِبَلِ الْكَسَلِ وَالسَّآمَةِ فَاغْلِبْهُ بِذِكْرِ الْقَبْرِ وَالضَّمَّةِ ، وَإِذَا جَاءَ مِنْ قِبَلِ الرَّغْبَةِ وَالرَّهْبَةِ فَأَخْبِرْهُ أَنَّ الدُّنْيَا مُقَارَفَةٌ وَمَتْرُوكَةٌ "
২৯ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে ইব্রাহিম আল-ইয়াশকুুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে ইসমাইল আল-জাবালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ সুলাইমান আবু মুকাতিল, আউন ইবনে আবি শাদ্দাদ থেকে, হাসান (আল-বাসরি) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: লুকমান তার পুত্রকে (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছিলেন: «হে বৎস! দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকিন) ব্যতীত আমল করা সম্ভব নয়; আর যার ইয়াকিন দুর্বল হয়ে যায়, তার আমলও দুর্বল হয়ে পড়ে।» তিনি বলেন: লুকমান তার পুত্রকে আরও বলেছিলেন: "হে বৎস: যদি শয়তান তোমার নিকট সন্দেহ ও সংশয়ের দিক থেকে আসে, তবে তাকে ইয়াকিন ও সঠিক বিশ্বাসের মাধ্যমে পরাভূত করো। আর যদি সে তোমার নিকট অলসতা ও অবসাদের দিক থেকে আসে, তবে তাকে কবরের স্মরণ ও কবরের সংকীর্ণতার (চাপের) মাধ্যমে পরাভূত করো। আর যদি সে দুনিয়ার লালসা ও ভয়ের দিক থেকে আসে, তবে তাকে জানিয়ে দাও যে, দুনিয়া হলো পাপ পঙ্কিলতায় লিপ্ত হওয়ার জায়গা এবং তা অবশ্যই পরিত্যজ্য।"