(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: -)
القضاء لسريج بن يونس   (سريج بن يونس)

القسم: كتب السنة


الكتاب: كتاب القضاء لسريج بن يونس

المؤلف: أبو الحارث سُرَيج بن يونس بن إبراهيم البغدادي (ت 235هـ)

دراسة وتحقيق وتعليق: الدكتور عامر حسن صبري

الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 37

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুরাইজ ইবনে ইউনুস রচিত কিতাবুল ক্বাযা (বিচারকার্য)   (সুরাইজ ইবনে ইউনুস)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: সুরাইজ ইবনে ইউনুস রচিত কিতাবুল ক্বাযা (বিচারকার্য সংক্রান্ত কিতাব)

লেখক: আবু আল-হারিস সুরাইজ ইবনে ইউনুস ইবনে ইবরাহিম আল-বাগদাদি (মৃত্যু ২৩৫ হিজরি)

গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা: ডক্টর আমির হাসান সাবরি

প্রকাশক: দার আল-বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌بَابُ الْمَجْنُونِ يَفْتَضُّ الْبِكْرَ، وَالْمُزْمِنُ يَجْنِي جِنَايَةً
পরিচ্ছেদ: পাগল ব্যক্তি কর্তৃক কুমারীর সতীত্ব হরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তির অপরাধ সংঘটন
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَسَّانَ الْمُؤَدِّبُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو غَالِبٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَنَّا، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَسْنُونَ النَّرْسِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْحَرْبِيُّ الْخَتَلِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ سَنَةَ سِتٍّ وَثَمَانِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ حَصِيرَةَ، قَالَ: عَدَا مَجْنُونٌ عَلَى جَارِيَةٍ بِكْرٍ فَافْتَرَعَهَا، فَخَاصَمَ وَلِيُّهَا إِلَى ابْنِ زِيَادٍ، فَقَضَى فِيهَا بِأَرْبَعَةِ آلَافٍ، عُقْرُهَا عَلَى عَاقِلَةِ الْمَجْنُونِ، فَقَالَ: «أَرْسَلْتُمْ مَجْنُونَكُمْ عَلَيْهَا»
১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মা’মার ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আহমাদ ইবনে হাসান আল-মুআদ্দিব, তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তাঁকে বলা হলো: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল বান্না, তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এবং আপনি তা শুনছিলেন এমতাবস্থায় তিনি তা স্বীকার করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসনুন আন-নারসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-হারবি আল-খাতালি, তিনশ ছিয়াশি হিজরি সনে তাঁর সম্মুখে পাঠের মাধ্যমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস হামিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শুয়াইব আল-বালখি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুরাইজ ইবনে ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল, হারিস ইবনে হাসিরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক উন্মাদ ব্যক্তি এক কুমারী মেয়ের ওপর চড়াও হয়ে তার সতীত্ব হানি করে, এরপর মেয়েটির অভিভাবক ইবনে জিয়াদের কাছে বিচার নিয়ে যান। তিনি এই বিষয়ে চার হাজার (দিরহাম) প্রদানের ফয়সালা করেন, যা উন্মাদ ব্যক্তির আকিলাহর (রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের) ওপর উক্ত মহিলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ধার্য করা হয়। তখন তিনি বলেন: «তোমরা তোমাদের পাগলকে তার ওপর লেলিয়ে দিয়েছ»।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
2 - حَدَّثَنَا عَبَّادٌ الْمُهَلَّبِيُّ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ،: فِي رَجُلٍ مَرِضَ فَطَالَ مَرَضُهُ، فَدُعِيتَ لَهُ طَبِيبَةٌ تُدَاوِيهِ، فَأَدْخَلَتْ أُصْبُعَهَا فِي حَلْقِهِ فَعَضَّ عَلَى الْأُصْبُعِ فَقَطَعَهَا، ثُمَّ مَاتَ، فَقَضَى بَعْضُ الْأُمَرَاءِ أَنَّ الدِّيَةَ عَلَى أَهْلِ الْمَيِّتِ، فَقَالَ: أَتَى مَرِيضُكُمْ عَلَى أَجَلِهِ. قَالَ: وَكَانَ الشَّعْبِيُّ يَقُولُ: «أَصَابَ الْقَضَاءَ»
২ - আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম আল-আহওয়াল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আশ-শা'বী থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি সম্পর্কে যার অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। তখন তার চিকিৎসার জন্য একজন নারী চিকিৎসককে ডাকা হলো। তিনি তার আঙুল রোগীর গলার ভেতরে প্রবেশ করালেন, তখন রোগী আঙুলটিতে কামড় দিয়ে সেটি বিচ্ছিন্ন করে ফেললেন। এরপর তিনি মারা গেলেন। তখন জনৈক আমির ফয়সালা দিলেন যে, দিয়ত (রক্তপণ) মৃতের পরিবারের ওপর বর্তাবে। তিনি বললেন: "তোমাদের রোগী তার নির্ধারিত সময়েই মৃত্যুবরণ করেছে।" বর্ণনাকারী বলেন: আশ-শা'বী বলতেন: "তিনি সঠিক ফয়সালা করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌بَابُ الرَّجُلِ يَتَكَفَّلُ الرَّجُلَ فَيَمُوتُ الْمَكْفُولُ بِهِ
অনুচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির জামিন হওয়া এবং যার পক্ষে জামিন হওয়া হয়েছে তার মৃত্যু হওয়া
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
3 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَأَلْتُ الْحَكَمَ وَحَمَّادًا عَنِ الرَّجُلِ، يَكْفُلُ بِنَفْسِ الرَّجُلِ فَيَمُوتُ الْمَكْفُولُ بِهِ؟ قَالَ: فَقَالَ أَحَدُهُمَا: «إِذَا مَاتَ فَلَيْسَ عَلَى الْكَفِيلِ شَيْءٌ»
৩ - আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাকাম ও হাম্মাদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে অন্য কোনো ব্যক্তির জানের জামিন (ব্যক্তিগত উপস্থিতির জামিন) হয়, অতঃপর যার জামিন নেওয়া হয়েছিল সে মারা যায়? তিনি (শু’বাহ) বলেন: তাদের একজন বললেন: «যদি সে মারা যায়, তবে জামিনদারের ওপর কোনো দায় নেই।»
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
4 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا الشَّيْبَانِيُّ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ، عَنْ شُرَيْحٍ، قَالَ: «إِذَا مَاتَ الْمَكْفُولُ بِهِ بَرِئَ صَاحِبُهُ مِنَ الْكَفَالَةِ»
৪ - হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শায়বানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তার থেকে যিনি তার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন এমন ব্যক্তি মারা যায় যার জিম্মাদারি নেওয়া হয়েছে, তখন তার জামিনদার জিম্মাদারি থেকে দায়মুক্ত হয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
5 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: «مَنْ كَفَلَ بِنَفْسٍ فَمَاتَتْ فَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ»
৫ - ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি আশ-শা'বি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তির জিম্মাদারী গ্রহণ করে এবং সে মারা যায়, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।"
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
6 - حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: كَفَلَنِي الشَّعْبِيُّ بِنَفْسِ رَجُلٍ، فَقُلْتُ: لَا تُطِلِ الْمُدَّةَ، فَإِنِّي أَخْشَى أَنْ تَمُوتَ، فَقَالَ الشَّعْبِيُّ: «لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْ مَوْتِهِ شَيْءٌ، إِنَّمَا يُؤْخَذُ بِهِ مَا دَامَ حَيًّا»
৬ - মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আল-ফাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনুল মুগিরাহ থেকে, তিনি বলেন: আশ-শাবি জনৈক ব্যক্তির জীবনের বিপরীতে আমার জামিন হয়েছিলেন, তখন আমি বললাম: মেয়াদের দৈর্ঘ্য বাড়াবেন না, কেননা আমি ভয় পাচ্ছি যে আপনি মারা যাবেন। তখন আশ-শাবি বললেন: «তার মৃত্যুতে তোমার ওপর কোনো দায়ভার নেই, তাকে কেবল ততক্ষণই ধরা হবে যতক্ষণ সে জীবিত থাকবে»
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
7 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ حَبِيبٍ الَّذِي، كَانَ يَقُومُ عَلَى رَأْسِ شُرَيْحٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ شُرَيْحٍ ضَمِنَ إِنْسَانًا نَفْسَهُ قَالَ: فَخَاصَمَهُ الَّذِي كَفَلَهُ إِلَى شُرَيْحٍ، قَالَ: فَأَمَرَ بِابْنِهِ أَنْ يُحْبَسَ حَتَّى يُدْفَعَ الرَّجُلُ إِلَى صَاحِبِهِ
৭ - হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শায়বানী আমাদের নিকট হাবীব থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি শুরাইহ-এর শিয়রে (সহকারী হিসেবে) দণ্ডায়মান থাকতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে শুরাইহ এক ব্যক্তির শরীরের (উপস্থিতির) জামিন হয়েছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: যার পক্ষে তিনি জামিন হয়েছিলেন, সে তাকে শুরাইহ-এর নিকট বিবাদে লিপ্ত করল (অর্থাৎ আদালতে নিয়ে এল)। তিনি বলেন: তখন তিনি (শুরাইহ) তার পুত্রকে কারারুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তিকে তার পাওনাদারের নিকট সমর্পণ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
8 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ حَبِيبٍ الَّذِي، كَانَ يَقُومُ عَلَى رَأْسِ شُرَيْحٍ، قَالَ: كَفَلَ ابْنُ شُرَيْحٍ بِنَفْسٍ رَجُلًا، فَحَبَسَهُ شُرَيْحٌ حَتَّى طَلَبْنَا الرَّجُلَ، فَأَخَذْنَاهُ فَدَفَعْنَاهُ إِلَى صَاحِبِهِ. قَالَ يَعْقُوبُ: وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَقَوْلِي. وَقَالَ يَعْقُوبُ: لَا أَحْبِسُهُ فِي الْمَرَّةِ الْأُولَى، أُؤَخِّرُهُ حَتَّى يَطْلُبَ صَاحِبَهُ، وَأَتَأَنَّاهُ فِي ذَلِكَ مَا أَرَى
৮ - ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক আশ-শায়বানি থেকে, তিনি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, যিনি শুরাইহ-এর সন্নিকটে দায়িত্বরত থাকতেন। তিনি বলেন: শুরাইহ-এর পুত্র এক ব্যক্তির জানের জামিনদার হয়েছিলেন, তখন শুরাইহ তাকে কারারুদ্ধ করেন যতক্ষণ না আমরা ওই লোকটিকে তালাশ করি। অতঃপর আমরা তাকে ধরে তার পাওনাদারের নিকট হস্তান্তর করি। ইয়াকুব বলেন: এটিই আবু হানিফার অভিমত এবং আমারও অভিমত। ইয়াকুব আরও বলেন: প্রথমবারেই আমি তাকে কারারুদ্ধ করব না, বরং আমি তাকে অবকাশ দেব যেন সে তার লোকটিকে খুঁজে বের করতে পারে এবং এক্ষেত্রে আমি যতটা সমীচীন মনে করি ততটা ধৈর্য ও ধীরতা অবলম্বন করব।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌بَابُ الْقَضَاءِ فِي السَّيْلِ
পানির স্রোত সংক্রান্ত ফয়সালার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَيْلِ مَهْزُوزٍ إِذَا أَتَتْ أَنْ يُمْسِكَ فِي النَّخْلِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ، وَفِي النَّخْلِ إِلَى الشِّرَاجِ، ثُمَّ يُرْسِلُ الْأَعْلَى إِلَى الْأَسْفَلِ "
৯ - আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন জাফর ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহযূয উপত্যকার প্লাবনের পানি সম্পর্কে ফয়সালা দিয়েছেন যে, যখন পানি আসবে তখন খেজুর বাগানে টাখনু পরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত তা আটকে রাখা হবে, এবং নালার খেজুর গাছেও (টাখনু পর্যন্ত), অতঃপর উপরের অংশের মালিক নিচের অংশের মালিকের দিকে পানি ছেড়ে দেবেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
10 - حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ مَنْظُورٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَيْلِ مَهْزُوزٍ إِلَى الْكَعْبَيْنِ، الْأَعْلَى فَوْقَ الْأَسْفَلِ
১০ - যাকারিয়া ইবনে মানযুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে উকবাহ থেকে, তিনি সা’লাবাহ ইবনে আবি মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাহযূয উপত্যকার প্লাবনের পানির বিষয়ে ফয়সালা দিয়েছেন যে, তা উভয় টাখনু পর্যন্ত (আটকানো যাবে); এক্ষেত্রে নিম্নাঞ্চলের আগে উচ্চাঞ্চল (সেচ পাবে)।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
11 - حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَمْرِو بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ، أَنَّ الضَّحَّاكَ بْنَ خَلِيفَةَ، خَرَجَ إِلَى الْحَرَّةِ حَرَّةِ الْمَدِينَةِ، فَعَمَدَ إِلَى السُّحَّلِ، فَطَفِقَ يَجْمَعُهُ، فَمَا كَانَ مِنْ مُتَرَفَّعٍ خَفَضَهُ، وَمَا كَانَ مِنْ مُتَخَفَّضٍ رَفَعَهُ، حَتَّى جَمَعَهُ فِي شَرْجٍ، ثُمَّ أَقْبَلَ بِهِ إِلَى أَرْضِهِ يَسُوقُهُ، حَتَّى دَخَلْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَنْ يَصِلَ بِهِ إِلَى أَرْضِهِ أَرْضِ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ، فَكَلَّمَ مُحَمَّدًا أَنْ يُخَلِّيَ بَيْنَهُ وَيَسُوقَهُ فِي أَرْضِهِ، فَأَبَى عَلَيْهِ، فَاسْتَعَانَ عَلَيْهِ الرَّجُلَ فَأَبَى، فَقَالَ لَهُ الضَّحَّاكُ: اشْرَبْ ثُمَّ أَرْسِلْ عَلَيَّ فَضْلَهُ، فَأَبَى، فَأَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ، فَأَبَى عَلَيْهِ فَأَبْعَدَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مِنْ أَرْضِهِ رَبِيعَ حَصًى. وَالرَّبِيعُ: الْجَدْوَلُ، وَالْحَصَى: الَّذِي لَا يَأْخُذُ مِنْهُ الْأَنْهَارُ
১১ - মারওয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মারওয়ান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ আল-মাদিনী থেকে, তিনি আবু বকর ইবন হাযম থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবন আমর ইবন মুহাম্মদ ইবন মাসলামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আদ-দাহহাক বিন খলিফা মদিনার হাররা প্রান্তরে বের হলেন। এরপর তিনি ঢলের পানি প্রবাহিত করার সংকল্প করলেন এবং তা একত্রিত করতে শুরু করলেন। এমতাবস্থায় তিনি উঁচু স্থানকে নিচু এবং নিচু স্থানকে উঁচু করে তা একটি নালায় একত্রিত করলেন। এরপর তিনি তা নিজের জমির দিকে পরিচালনা করে নিয়ে আসতে লাগলেন, এমনকি তা মুহাম্মদ ইবন মাসলামাহর জমির ওপর দিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। তিনি মুহাম্মদকে অনুরোধ করলেন যেন তিনি তাকে পথ ছেড়ে দেন এবং তার জমির মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত করতে দেন। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। লোকটি (দাহহাক) তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন, তবুও তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। তখন দাহহাক তাকে বললেন, "আপনি নিজে সেচ সম্পন্ন করুন, এরপর অতিরিক্ত অংশটুকু আমার দিকে প্রবাহিত হতে দিন।" তিনি তাতেও অসম্মতি জানালেন। এরপর তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে আসলেন। উমর (রা.) তাকে অনুরূপ প্রস্তাব দিলেন, কিন্তু তিনি পুনরায় অস্বীকার করলেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব তার জমি থেকে 'রাবি হাসা' (ক্ষুদ্র জলধারা) পরিমাণ পথ বের করে দিলেন। 'রাবি' অর্থ হলো নালা, আর 'হাসা' বলতে এমন ক্ষুদ্র জলপ্রবাহ বোঝায় যা থেকে বড় নদীসমূহ পানি গ্রহণ করে না।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
12 - حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، عَنْ وَاصِلٍ، مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ: كَانَ لِسَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ عَضُدٌ مِنْ نَخْلٍ فِي حَائِطِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، وَكَانَ يَدْخُلُ حَائِطَهُ وَمَعَهُ أَهْلُهُ، فَيُؤْذِيهِ، فَشَكَى ذَاكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَرْسَلَ إِلَى سَمُرَةَ فَقَالَ: بِعْهُ، فَأَبَى، قَالَ: فَأَقِلْهُ، فَأَبَى، قَالَ: دَعْهُ وَلَكَ مِثْلُهَا فِي الْجَنَّةِ، فَأَبَى، قَالَ: «أَنْتَ مُضَارٌّ، اذْهَبْ فَاقْطَعْ نَخْلَهُ»
১২ - আব্বাদ ইবনু আব্বাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়াসিল থেকে, যিনি আবু উয়াইনাহর মুক্তদাস, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক আনসারী ব্যক্তির বাগানের অভ্যন্তরে সামুরা ইবনু জুনদুবের খেজুর গাছের একটি সারি ছিল। তিনি তার পরিবারসহ সেই বাগানে প্রবেশ করতেন, যা তাকে (বাগান মালিককে) কষ্ট দিত। ফলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তিনি সামুরার নিকট লোক পাঠিয়ে বললেন: "এটি বিক্রি করে দাও।" তিনি অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন: "এটি বিনিময় করো।" তিনি অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন: "এটি ছেড়ে দাও এবং তোমার জন্য জান্নাতে এর অনুরূপ রয়েছে।" তিনি অস্বীকার করলেন। তখন তিনি (নবী) বললেন: "তুমি একজন ক্ষতিসাধনকারী। (হে আনসারী!) তুমি যাও এবং তার খেজুর গাছ কেটে ফেলো।"
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
13 - حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِيَ لَهُ، وَلَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ» قَالَ: فَأَخْبَرَنِي الَّذِي حَدَّثَنِي هَذَا الْحَدِيثَ: أَنَّ رَجُلًا غَرَسَ نَخْلًا فِي أَرْضِ رَجُلٍ مِنْ بَنِي بَيَاضَةَ، فَاخْتَصَمُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَضَى لِلرَّجُلِ بِأَرْضِهِ، وَلِلْآخَرِ أَنْ يَنْزِعَ نَخْلَهُ. قَالَ: فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ وَإِنَّهُ لَيُضْرَبُ بِالْفُؤُوسِ فِي أُصُولِهَا، وَإِنَّهَا لَنَخْلٌ عُمٌّ
১৩ - আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো মৃত ভূমিকে জীবিত করবে, তা তারই হবে; আর অন্যায়ভাবে স্থাপনকৃত কোনো মূলের (শিঁকড়) কোনো অধিকার নেই।» তিনি বলেন: যিনি আমার নিকট এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি বনু বায়াদাহ গোত্রের এক ব্যক্তির জমিতে খেজুর গাছ রোপণ করেছিল, অতঃপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিচার নিয়ে এল। তখন তিনি জমির মালিকের পক্ষে তার জমির ফয়সালা প্রদান করলেন এবং অপর ব্যক্তিকে তার খেজুর গাছগুলো উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন: আমি দেখেছি যে, কুঠার দিয়ে সেগুলোর গোড়ায় আঘাত করা হচ্ছিল, অথচ সেগুলো ছিল দীর্ঘ ও বিশাল খেজুর গাছ।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
14 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّ نَخْلَةً لِرَجُلٍ كَانَتْ فِي حَائِطٍ، فَسَأَلَهُ أَنْ يَشْتَرِيَهَا مِنْهُ، فَأَبَى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَرُورَةَ فِي الْإِسْلَامِ»
১৪ - ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ারকা থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তির একটি খেজুর গাছ জনৈক ব্যক্তির বাগানের অভ্যন্তরে ছিল। তখন তিনি সেটি তার নিকট থেকে ক্রয় করতে চাইলেন, কিন্তু সে অস্বীকার করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ইসলামে কোনো সংকীর্ণতা নেই»
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
15 - حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْخِرِّيتِ، قَالَ: كَانَ بَيْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ وَرَجُلٍ مِنَ الْعَتِيكِ خُصُومَةٌ، فَدَعَاهُ إِلَى الْقَاضِي، فَقَالَ: مَا أَصْنَعُ، اذْهَبْ أَنْتَ إِلَى الْقَاضِي فَقُصَّ عَلَيْهِ، ثُمَّ ائْتِنِي فَأَخْبِرْنِي لِأَيِّنَا يَقْضِي، قَالَ: فَذَهَبَ فَقَصَّ عَلَى الْقَاضِي، ثُمَّ جَاءَهُ فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ: إِنَّهُ قَضَى لَهُ، أَوْ قَضَى عَلَيْهِ، فَسَلَّمَ ذَلِكَ وَقَبِلَهُ
১৫ - আব্বাদ ইবন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর ইবন আল-খিররীত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন শাকীক এবং আতীক গোত্রের এক ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ ছিল। তখন সে তাকে বিচারকের নিকট আহ্বান করল। তিনি বললেন: আমি কী করব? তুমিই বিচারকের নিকট যাও এবং তার কাছে বিষয়টি বর্ণনা করো, এরপর আমার কাছে এসে আমাকে সংবাদ দিও যে তিনি আমাদের কার পক্ষে ফয়সালা প্রদান করেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সে গেল এবং বিচারকের নিকট বিষয়টি বর্ণনা করল। এরপর সে তার নিকট ফিরে এসে তাকে সংবাদ দিল। সে বলল যে, তিনি (বিচারক) তার পক্ষে ফয়সালা দিয়েছেন অথবা তার বিপক্ষে ফয়সালা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তা মেনে নিলেন এবং গ্রহণ করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
16 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ مُبَارَكٍ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ دُعِيَ إِلَى حَكَمٍ مِنْ حُكَّامِ الْمُسْلِمِينَ فَلَمْ يُجِبْ فَهُوَ ظَالِمٌ لَا حَقَّ لَهُ»
১৬ - ইসমাঈল ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুবারক থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যাকে মুসলিমদের বিচারকদের মধ্য থেকে কোনো বিচারকের নিকট আহ্বান করা হয় এবং সে তাতে সাড়া দেয় না, তবে সে জালেম; তার কোনো অধিকার নেই»
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌بَابُ الرَّجُلِ يَأْخُذُ مِنَ الرَّجُلِ مَعْرِفَتَهُ
পরিচ্ছেদ: এক ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির নিকট থেকে নিজের পরিচিত বস্তু গ্রহণ করা
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
17 - حَدَّثَنَا مَحْبُوبُ بْنُ مُحْرِزٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ حُذَيْفَةَ الْعَطَّارِ، قَالَ: ضَمِنْتُ لِرَجُلٍ مَعْرِفَةَ رَجُلٍ، فَأَتَى بِي الْقَاسِمَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَلَمْ يُضَمِّنِّي
১৭ - মাহবুব ইবনে মুহরিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক ইবনে হুযাইফা আল-আত্তার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তির নিকট অন্য এক ব্যক্তির পরিচয়ের যিম্মাদার হয়েছিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে কাসিম ইবনে আবদুর রহমানের নিকট নিয়ে আসলেন, কিন্তু তিনি আমাকে যিম্মাদার সাব্যস্ত করলেন না।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
18 - حَدَّثَنَا مَحْبُوبُ بْنُ مُحْرِزٍ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ أَيْمَنَ قَالَ: شَهِدْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ وَأَتَاهُ رَجُلَانِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَجَدْتُ مَتَاعِي عِنْدَ هَذَا، قَالَ: «مَا تَقُولُ؟» قَالَ: اشْتَرَيْتُهُ مِنْ رَجُلٍ مِنَ السُّوقِ، قَالَ لِلْآخَرِ: «لَكَ بَيِّنَةٌ؟» قَالَ: نَعَمْ، فَأَقَامَ الْبَيِّنَةَ فَدَفَعَ إِلَيْهِ مَتَاعَهُ وَقَالَ الْآخَرُ: يَذْهَبُ مَالِي؟ فَقَالَ: أَنْتَ ضَيَّعْتَ مَالَكَ، فَهَلَّا أَخَذْتَ مَعْرِفَتَهُ؟
১৮ - মাহবুব ইবনে মুহরিজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে আয়মান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিবের উপস্থিতিতে ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর কাছে দুইজন লোক আসলেন। তাদের একজন বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আমি আমার সম্পদ এই ব্যক্তির নিকট পেয়েছি। তিনি (আলী) বললেন: "তুমি কী বলছ?" সে বললো: আমি এটি বাজারের এক ব্যক্তির থেকে ক্রয় করেছি। তিনি অপরজনকে বললেন: "তোমার কি কোনো প্রমাণ আছে?" সে বললো: হ্যাঁ। অতঃপর সে প্রমাণ উপস্থাপন করলো এবং তিনি তাকে তার সম্পদ ফিরিয়ে দিলেন। তখন অন্যজন বললো: তবে কি আমার অর্থ (পুঁজি) নষ্ট হয়ে যাবে? তিনি বললেন: "তুমি নিজেই তোমার অর্থ নষ্ট করেছ; তুমি কেন তার (বিক্রেতার) পরিচয় নিশ্চিত হওনি?"
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
19 - حَدَّثَنَا مَحْبُوبٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ شُرَيْحٍ، وَالْحَسَنِ، أَنَّهُمَا كَانَا يُضَمِّنَانِ الْمَعْرِفَةَ
১৯ - আমাদের নিকট মাহবুব বর্ণনা করেছেন সুলাইমান হতে, তিনি ইবনে সিরিন হতে, তিনি শুরাইহ এবং হাসান হতে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ই পরিচিত কারিগরকে দায়বদ্ধ সাব্যস্ত করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
20 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَجَدَ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ، وَيَتْبَعُ الْآخَرُ صَاحِبَهُ الَّذِي اشْتَرَاهُ مِنْهُ»
২০ - ইয়াজিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাঈদ ইবন যায়িদ ইবন উকবাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সামুরা ইবন জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার অবিকল মাল খুঁজে পায়, সে-ই সেটির অধিক হকদার; আর অন্যজন (ক্রেতা) সেই ব্যক্তির অনুসরণ করবে (পাওনা আদায়ের জন্য) যার নিকট থেকে সে তা ক্রয় করেছিল।»
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
21 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ امْرَأَةٍ، أَجَّرَتْ غُلَامًا لَهَا مِنْ رَجُلٍ ثَمَانِيَةَ أَشْهُرٍ، فَمَاتَتْ قَبْلَ الثَّمَانِيَةِ، فَجَاءَ وَارِثُهَا إِلَى الشَّعْبِيِّ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: «إِذَا مَاتَتْ قَدِ انْقَطَعَ الْإِجَارَةُ، فَإِنْ شِئْتَ أَنْ تُقِرَّهُ عَلَى حَالِهِ فَافْعَلْ»
২১ - হাশিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেন যে, তাকে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার এক গোলামকে এক ব্যক্তির নিকট আট মাসের জন্য ভাড়া দিয়েছিল, কিন্তু আট মাস পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই সে মারা গেল। অতঃপর তার উত্তরাধিকারী শাবির নিকট এসে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: "যখন সে মারা গেছে, তখন ইজারা ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন তুমি যদি তাকে তার পূর্বাবস্থায় বহাল রাখতে চাও, তবে তা করতে পার।"
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، فِي الرَّجُلِ يُؤَجِّرُ دَارَهُ عَشْرَ سِنِينَ فَيَمُوتُ قَبْلَ ذَلِكَ، قَالَ الْحَكَمُ أَوِ الْحَسَنُ - شَكَّ سُرَيْجٌ -: «يَبْطُلُ الْأَجْرُ وَتَنْقَضِي الْعَارِيَةُ» . وَقَالَ مَكْحُولٌ: «تَبْطُلُ الْعَارِيَةُ، وَيَمْضِي الْأَجْرُ» . وَقَالَ إِيَاسُ بْنُ مُعَاوِيَةَ: «يُضَمِّنَانِ وَارِثَيْهِمَا» . وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ: «إِنَّمَا يُوَرِّثُونَ مِنْ ذَلِكَ مَا كَانَ يَمْلِكُ فِي حَيَاتِهِ»
২২ - আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি হুমায়দ থেকে; জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তার ঘর দশ বছরের জন্য ভাড়া দেয় এবং এর (মেয়াদ শেষ হওয়ার) পূর্বেই মারা যায়। আল-হাকাম অথবা আল-হাসান বলেছেন—সুরাইজ (বর্ণনাকারীর ব্যাপারে) সংশয় প্রকাশ করেছেন—: «ভাড়া বাতিল হয়ে যাবে এবং ধারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে»। মাকহুল বলেছেন: «ধারের মেয়াদ বাতিল হয়ে যাবে, তবে ভাড়া কার্যকর থাকবে»। ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া বলেছেন: «তারা উভয়ই তাদের উত্তরাধিকারীদের দায়বদ্ধ করবেন»। ইবনে সিরিন বলেছেন: «তারা তা থেকেই উত্তরাধিকার লাভ করবে যা সে তার জীবদ্দশায় মালিকানাধীন রেখেছিল»।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
23 - حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، فِي رَجُلٍ أَصَابَ عَيْنَ رَجُلٍ فَذَهَبَ بَصَرُهُ، وَبَقِيَتْ عَيْنُهُ مَفْتُوحَةً، فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَدَعَا بِمِرْآةٍ فَأُحْمِيَتْ، ثُمَّ قَدَّمَهَا إِلَى عَيْنِهِ، حَتَّى سَالَتْ نُطْفَةُ عَيْنِهِ، وَبَقِيَتْ عَيْنُهُ كَمَا هِيَ مَفْتُوحَةً "
২৩ - আব্বাদ বিন আল-আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন আমের থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেন: জনৈক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির চোখে আঘাত করার ফলে তার দৃষ্টিশক্তি চলে যায়, কিন্তু চোখটি উন্মুক্ত অবস্থায় থেকে যায়। বিষয়টি আলী বিন আবি তালিবের কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি একটি আয়না আনানোর নির্দেশ দিলেন এবং তা উত্তপ্ত করা হল। অতঃপর তিনি সেটি তার চোখের সামনে ধরলেন, ফলে তার চোখের মণি গলে বেরিয়ে এল এবং চোখটি আগের মতোই উন্মুক্ত অবস্থায় থেকে গেল।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
24 - حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ خِلَاسٍ، أَنَّ غُلَامَيْنِ، كَانَا يَلْعَبَانِ بَقُلَّةٍ، فَقَالَ: أَحْذَرَانِي، فَقَالَ الْآخَرُ: أَحْذَرَانِي، فَأَصَابَ ثَنِيَّتَهُ فَكَسَرَهَا، فَارْتَفَعَا إِلَى عَلِيٍّ فَلَمْ يُضَمِّنْهُ شَيْئًا
২৪ - আমাদের নিকট আব্বাদ বিন আল-আওয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর বিন আমির থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি খিলাস থেকে বর্ণনা করেন যে, দুইজন কিশোর একটি ছোট পাত্র নিয়ে খেলছিল। তখন একজন বলল: ‘আমার থেকে সাবধান হও’, অন্যজনও বলল: ‘আমার থেকে সাবধান হও’। অতঃপর সে তার সামনের দাঁতে আঘাত করল এবং তা ভেঙে ফেলল। তখন তারা বিষয়টি আলীর নিকট নিয়ে গেল, কিন্তু তিনি তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-কাদাউ লি সুরাইজ বিন ইউনুস (পৃষ্ঠা: ৩৭)
25 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ خِلَاسٍ، أَنَّ رَجُلَيْنِ، قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: إِنْ أَكَلْتَ كَذَا وَكَذَا فَلَكَ كَذَا وَكَذَا، فَارْتَفَعَا إِلَى عَلِيٍّ، فَقَالَ: «هَذَا قِمَارٌ» ، فَلَمْ يُجِزْهُ
২৫ - আমাদের নিকট ইয়াজিদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি খিলাস থেকে বর্ণনা করেন যে, দুই ব্যক্তি—যাদের একজন তার সঙ্গীকে বলল: "যদি তুমি অমুক অমুক জিনিস খাও, তবে তোমার জন্য অমুক অমুক জিনিস রয়েছে।" অতঃপর তারা বিচারের জন্য আলীর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি বললেন: "এটি জুয়া।" সুতরাং তিনি তা অনুমোদন করেননি।