(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: -)
القراءة خلف الإمام للبخاري   (البخاري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء القراءة خلف الإمام

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري (194 - 256 هـ)

حققه وعلق عليه: الأستاذ فضل الرحمن الثوري

راجعه: الأستاذ محمد عطا الله خليف الفوجياني

الناشر: المكتبة السلفية - باكستان

الطبعة: الأولى، 1400 هـ - 1980 م

عدد الصفحات: 71

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ - বুখারি   (বুখারি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: জুযউল কিরাআতি খালফাল ইমাম (ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ সংক্রান্ত অংশ)

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (১৯৪ - ২৫৬ হিজরি)

তাহকীক ও টীকা: উস্তাদ ফজলুর রহমান আস-সাওরি

পরিমার্জন: উস্তাদ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খলিফ আল-ফুজিয়ানি

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ - পাকিস্তান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١)
1 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْجُعْفِيُّ الْبُخَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، سَمِعَ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، وَعَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، حَدَّثَهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه: " إِذَا لَمْ يَجْهَرِ الْإِمَامُ فِي الصَّلَوَاتِ فَاقْرَأْ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَسُورَةً أُخْرَى فِي الْأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَبِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي الْأُخْرَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَفِي الْآخِرَةِ مِنَ الْمَغْرِبِ، وَفِي الْآخُرَيَيْنِ مِنَ الْعِشَاءِ
১ - আমাদের নিকট মাহমুদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে আল-মুগীরাহ আল-জু’ফী আল-বুখারী বলেছেন: আমাদের নিকট উসমান ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে এবং ইসহাক ইবনে রাশিদ থেকে শুনেছেন, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি বনু হাশিমের আযাদকৃত গোলাম আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাফে থেকে, তিনি তাকে আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "ইমাম যখন সালাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ না করেন, তখন তুমি যোহর ও আসরের প্রথম দুই রাকাতে উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) ও অন্য একটি সূরা পাঠ করো, এবং যোহর ও আসরের শেষ দুই রাকাতে, মাগরিবের শেষ রাকাতে এবং ইশার শেষ দুই রাকাতে ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করো।"
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١)
2 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ ⦗ص: 2⦘ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ»
২ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: যুহরী আমাদের নিকট মাহমুদ ইবনুর রাবী’ হতে, তিনি উবাদাহ ইবনুস সামিত হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল ⦗পৃষ্ঠা: ২⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করে না, তার কোনো সালাত নেই»
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢)
3 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ مَحْمُودَ بْنَ الرَّبِيعِ، وَكَانَ، مَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَجْهِهِ مِنْ بِئْرٍ لَهُمْ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ»
৩ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ থেকে, তিনি জুহরি থেকে, নিশ্চয়ই মাহমুদ ইবনে রাবী—যাঁর চেহারায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের একটি কূপ থেকে পানি নিয়ে কুলি করে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন—তিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উবাদাহ ইবনে সামিত তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করে না, তার কোনো সালাত নেই।»
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٢)
4 - أَنْبَأَنَا الْمُلَاحِمِيُّ، قَالَ: أنا الْهَيْثَمُ بْنُ كُلَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ الَّذِي مَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَجْهِهِ مِنْ بِئْرٍ لَهُمْ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنَ» قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَقَالَ مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ: لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْكِتَابِ فَصَاعِدًا وَعَامَّةُ الثِّقَاتِ لَمْ يُتَابِعْ مَعْمَرًا فِي قَوْلِهِ: فَصَاعِدًا مَعَ أَنَّهُ قَدْ أَثْبَتَ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَقَوْلُهُ: فَصَاعِدًا غَيْرُ مَعْرُوفٍ مَا أَرَدْتُهُ حَرْفًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ؟ إِلَّا أَنْ يَكُونَ كَقَوْلِهِ: لَا تُقْطَعُ الْيَدُ إِلَّا فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا فَقَدْ تُقْطَعُ الْيَدُ فِي دِينَارٍ وَفِي أَكْثَرَ مِنْ دِينَارٍ ⦗ص: 3⦘ قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَيُقَالُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ إِسْحَاقَ تَابَعَ مَعْمَرًا، وَأَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ رُبَّمَا رَوَى عَنِ الزُّهْرِيِّ، ثُمَّ أَدْخَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الزُّهْرِيِّ غَيْرَهُ وَلَا تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا مِنْ صَحِيحِ حَدِيثِهِ أَمْ لَا
৪ - আল-মুলাহিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাইসাম বিন কুলাইব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি মাহমুদ বিন রাবি থেকে—যাঁর মুখে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের একটি কূপের পানি দিয়ে কুলি করে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন—তিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উবাদাহ বিন সামিত তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি উম্মুল কুরআন পাঠ করে না, তার সালাত হয় না»। ইমাম বুখারী বলেন: মা'মার যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন: "উম্মুল কিতাব এবং তদুর্ধ্ব পাঠ না করলে সালাত হয় না।" কিন্তু অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তাঁর 'তদুর্ধ্ব' (ফাসায়িদান) কথাটিতে মা'মারকে সমর্থন করেননি, যদিও তিনি ফাতিহাতুল কিতাব সাব্যস্ত করেছেন। আর তাঁর 'তদুর্ধ্ব' কথাটি অপরিচিত (গায়রে মারুফ); এর দ্বারা তিনি কী বুঝাতে চেয়েছেন—একটি অক্ষর নাকি তার চেয়ে বেশি? তবে এটি তাঁর এই কথার মতো হতে পারে: "এক-চতুর্থাংশ দিনার বা তার বেশি ছাড়া হাত কাটা হবে না"; ফলে এক দিনারেও হাত কাটা হয় এবং এক দিনারের চেয়ে বেশি হলেও হাত কাটা হয়। ⦗পৃষ্ঠা: ৩⦘ ইমাম বুখারী বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, আবদুর রহমান বিন ইসহাক মা'মারকে সমর্থন করেছেন। আর আবদুর রহমান কখনও কখনও যুহরি থেকে বর্ণনা করেন, আবার তাঁর ও যুহরির মাঝে অন্য কাউকে প্রবেশ করান। ফলে এটি তাঁর সহীহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত কি না তা জানা যায় না।
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٣)
5 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ»
৫ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরী থেকে, মাহমুদ ইবনুর রাবী থেকে, উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করে না, তার কোনো সালাত নেই।"
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٣)
6 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ» ، وَسَأَلْتُهُ عَنْ رَجُلٍ نَسِيَ الْقِرَاءَةَ قَالَ: «أَرَى يَعُودُ لِصَلَاتِهِ وَإِنْ ذَكَرَ ذَلِكَ وَهُوَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، وَلَا أَرَى إِلَّا أَنْ يَعُودَ لِصَلَاتِهِ»
৬ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-লাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইউনুস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেছেন: মাহমুদ ইবনুর রাবী‘ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি উম্মুল কুরআন (সূরা আল-ফাতিহা) পাঠ করে না, তার সালাত হবে না», এবং আমি তাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে কিরাত পড়তে ভুলে গিয়েছে, তিনি বললেন: «আমি মনে করি সে তার সালাত পুনরায় শুরু করবে, যদিও সে দ্বিতীয় রাকাতে থাকাকালীন তা স্মরণ করে; আমি তার সালাত পুনরায় শুরু করা ছাড়া অন্য কিছু দেখছি না।»
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٣)
7 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ فَنَادَى: أَنْ «لَا صَلَاةَ إِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَمَا زَادَ»
৭ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসমান আন-নাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন এবং ঘোষণা করা হলো যে: “সূরা ফাতিহা এবং এর অতিরিক্ত (অন্য কিছু) পাঠ করা ব্যতীত কোনো সালাত নেই।”
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٣)
8 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: «يَجْزِي بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَإِنْ زَادَ فَهُوَ خَيْرٌ»
৮ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই যথেষ্ট হবে, আর যদি কেউ বৃদ্ধি করে তবে তা আরও উত্তম»
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٤)
9 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا فَهِيَ خِدَاجٌ» قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَزَادَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
৯ - আমাদের নিকট মাহমুদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-বুখারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাকাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে কোনো সালাত যাতে (কুরআন) পাঠ করা হয় না, তা ত্রুটিপূর্ণ»। আল-বুখারি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন 'সুরা ফাতিহার মাধ্যমে' কথাটি বৃদ্ধি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٤)
10 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَامِرٌ الْأَحْوَلُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «كُلُّ صَلَاةٍ لَمْ يُقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْكِتَابِ فَهِيَ مُخَدَّجَةٌ»
১০ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মূসা ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমির আল-আহওয়াল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এমন প্রতিটি সালাত যাতে উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা হয় না, তা ত্রুটিপূর্ণ।’»
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٤)
11 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ رَوْحِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَلَّى وَلَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ ثَلَاثًا غَيْرَ تَمَامٍ»
১১ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমাইয়্যাহ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবনে যুরাই' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি আল-আ'লা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল অথচ তাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করল না, তবে তা ত্রুটিপূর্ণ—তিনি এটি তিনবার বললেন—তা অপূর্ণাঙ্গ।"
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٤)
12 - قُلْتُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنِّي أَكُونُ وَرَاءَ الْإِمَامِ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: يَا ابْنَ الْفَارِسِيِّ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ، سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: قُسِمَتِ الصَّلَاةُ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ فَنِصْفُهَا لي وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ ". قَالَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " اقْرَءُوا يَقُولُ الْعَبْدُ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] يَقُولُ اللَّهُ: حَمِدَنِي عَبْدِي، ⦗ص: 5⦘ يَقُولُ الْعَبْدُ {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] يَقُولُ اللَّهُ: أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي، يَقُولُ الْعَبْدُ: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} يَقُولُ اللَّهُ: مَجَّدَنِي عَبْدِي هَذَا لِي يَقُولُ الْعَبْدُ: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] يَقُولُ اللَّهُ: فَهَذِهِ الْآيَةُ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ، وَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ} [الفاتحة: 6] إِلَى آخِرِ السُّورَةِ، يَقُولُ: فَهَذِهِ لِعَبْدِي، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ "
১২ - আমি বললাম: হে আবু হুরায়রা, আমি তো ইমামের পেছনে থাকি। তখন আবু হুরায়রা বললেন: হে ফারসি-সন্তান, তুমি নিজের মনে মনে তা পাঠ করো। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মহান আল্লাহ বলেছেন: 'আমি সালাতকে আমার এবং আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি; এর অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই সে পাবে'।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা পাঠ করো। যখন বান্দা বলে: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক} [ফাতিহা: ২], আল্লাহ বলেন: 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল'। ⦗পৃষ্ঠা: ৫⦘ যখন বান্দা বলে: {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} [ফাতিহা: ১], আল্লাহ বলেন: 'আমার বান্দা আমার গুণগান করল'। যখন বান্দা বলে: {বিচার দিবসের মালিক}, আল্লাহ বলেন: 'আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করল; এটি আমার জন্য'। যখন বান্দা বলে: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি} [ফাতিহা: ৫], আল্লাহ বলেন: 'এই আয়াতটি আমার এবং আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত'। আর যখন বান্দা বলে: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} [ফাতিহা: ৬] সূরার শেষ পর্যন্ত, তখন তিনি বলেন: 'এটি আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে তা-ই সে পাবে'।"
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٥)
13 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، رضي الله عنه قَالَ: " أَمَرَنَا نَبِيُّنَا أَنْ نَقْرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَمَا تَيَسَّرَ
১৩ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আবুল ওয়ালিদ হিশাম আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের নবী আমাদের ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) এবং যা সহজ হয় তা পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٥)
14 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ، حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَيْسٍ، وَعُمَارَةَ بْنِ مَيْمُونٍ، وَحَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: " فِي كُلِّ صَلَاةٍ يُقْرَأُ فَمَا أَسْمَعَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَسْمَعْنَاكَمْ، وَمَا أَخْفَى عَلَيْنَا أَخْفَيْنَا عَلَيْكُمْ
১৪ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কায়স, উমারা ইবনে মাইমুন ও হাবীব ইবনে শহীদ থেকে, তাঁরা আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পাঠ করা হয়; সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের যা শুনিয়েছেন আমরাও তোমাদের তা শুনালাম, আর যা তিনি আমাদের নিকট গোপন রেখেছেন আমরাও তা তোমাদের নিকট গোপন রাখলাম।"
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٥)
15 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ، حَدَّثَنَا هِلَالُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ السُّلَعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَهِيَ خِدَاجٌ»
১৫ - আমাদের নিকট মাহমুদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বুখারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিলাল ইবনে বিশর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আস-সুলাই বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন আল-মুয়াল্লিম বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে সালাতে ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ»
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٥)
16 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ، حَدَّثَنَا مُوسَى، ⦗ص: 6⦘ قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ بْنِ أَبِي الْفُرَاتُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ الصَّائِغِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه: " فِي كُلِّ صَلَاةٍ قِرَاءَةٌ، وَلَوْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، فَمَا أَعْلَنَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَنَحْنُ نُعْلِنُهُ وَمَا أَسَرَّ فَنَحْنُ نُسِرُّهُ
১৬ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘ তিনি বলেন: দাউদ ইবনে আবি দাউদ ইবনে আবিল ফুরাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আস-সাইগ থেকে, আতা থেকে, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "প্রত্যেক সালাতেই কিরাত রয়েছে, যদিও তা সূরা ফাতিহার মাধ্যমেই হোক। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট যা উচ্চস্বরে পাঠ করেছেন আমরাও তা উচ্চস্বরে পাঠ করি এবং যা তিনি নিচু স্বরে পাঠ করেছেন আমরাও তা নিচু স্বরে পাঠ করি।"
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٦)
17 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، عَنْ أَبِي الزاهِرِيَّةِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ، رضي الله عنه يَقُولُ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفِي كُلِّ صَلَاةٍ قِرَاءَةٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ وَجَبَتْ هَذِهِ
১৭ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে আস-সারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি কাসীর ইবনে মুররা আল-হাদরামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, "প্রত্যেক সালাতেই কি কিরাত পাঠ করতে হবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তখন আনসারদের জনৈক ব্যক্তি বললেন, "এটি তো আবশ্যক হয়ে গেল।"
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٦)
18 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزَّاهِرِيَّةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ مُرَّةَ، سَمِعَ أَبَا الدَّرْدَاءِ، وَسُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَفِي كُلِّ صَلَاةٍ قِرَاءَةٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ»
১৮ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুআবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আয-যাহিরিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: কাসীর ইবন মুররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আদ-দারদা থেকে শুনেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: প্রতিটি সালাতেই কি কিরাত রয়েছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٦)
بَابُ وُجُوبِ الْقِرَاءَةِ لِلْإِمَامِ وَالْمَأْمُومِ وَأَدْنَى مَا يُجْزِي مِنَ الْقِرَاءَةِ قَالَ الْبُخَارِيُّ: قَالَ اللَّهُ عز وجل {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ} وَقَالَ {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنْ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [الإسراء: 78] ، {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا} [الأعراف: 204]
ইমাম ও মুক্তাদীর জন্য কিরাত পাঠের আবশ্যকতা এবং কিরাতের যে সর্বনিম্ন পরিমাণ যথেষ্ট হয় সেই পরিচ্ছেদ। ইমাম বুখারী বলেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো।} এবং তিনি বলেন: {এবং ফজরের কিরাত; নিশ্চয়ই ফজরের কিরাত ফেরেশতাদের উপস্থিতির সময়।} [আল-ইসরা: ৭৮], {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করো এবং নীরব থাকো।} [আল-আরাফ: ২০৪]
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٧)
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنه: " هَذِهِ فِي الْمَكْتُوبَةِ وَالْخُطْبَةِ، وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفِي كُلِّ صَلَاةٍ قِرَاءَةٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: وَجَبَتْ. قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَتَوَاتُرُ الْخَبَرِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَلَاةَ إِلَّا بِقِرَاءَةِ أُمِّ الْقُرْآنِ» وَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ: يُجْزِيهِ آيَةً آيَةً فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ بِالْفَارِسِيَّةِ، وَلَا يَقْرَأُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ، وَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَقْرَأُ فِي الْأَرْبَعِ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنْ لَمْ يَقْرَأْ فِي الْأَرْبَعِ جَازَتْ صَلَاتُهُ، وَهَذَا خِلَافُ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَلَاةَ إِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ» فَإِنِ احْتَجَّ وَقَالَ: قَالَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَلَاةَ» وَلَمْ يَقُلْ لَا يُجْزِي قِيلَ لَهُ: إِنَّ الْخَبَرَ إِذَا جَاءَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَحُكْمُهُ عَلَى اسْمِهِ وَعَلَى الْجُمْلَةِ حَتَّى يَجِيءَ بَيَانُهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: لَا يُجْزِيهِ إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَإِنِ احْتَجَّ، فَقَالَ: إِذَا أَدْرَكَ الرُّكُوعَ جَازَتْ فَكَمَا أَجْزَأَتْهُ فِي الرَّكْعَةِ كَذَلِكَ تُجْزِيهِ فِي الرَّكَعَاتِ قِيلَ لَهُ: إِنَّمَا أَجَازَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، وَابْنُ عُمَرَ، وَالَّذِينَ لَمْ يَرَوُا الْقِرَاءَةَ خَلْفَ الْإِمَامِ فَأَمَّا مَنْ رَأَى الْقِرَاءَةَ، فَقَدْ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: «لَا يُجْزِيهِ حَتَّى يُدْرِكَ الْإِمَامَ قَائِمًا، وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَعَائِشَةُ رضي الله عنهما» لَا يَرْكَعُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَقْرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ، وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ إِجْمَاعًا لَكَانَ هَذَا الْمُدْرِكُ لِلرُّكُوعِ مُسْتَثْنًى مِنَ الْجُمْلَةِ مَعَ أَنَّهُ لَا إِجْمَاعَ فِيهِ
এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "এটি ফরয সালাত এবং খুতবার ক্ষেত্রে।" এবং আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "প্রত্যেক সালাতেই কি কিরাত (পাঠ) আছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" জনৈক আনসারী ব্যক্তি বললেন: "তাহলে এটি ওয়াজিব (আবশ্যক) হয়ে গেল।" ইমাম বুখারী বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মুতাওয়াতির বা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত সংবাদে এসেছে: "উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা ব্যতীত কোনো সালাত নেই।" এবং কিছু লোক বলেছে: প্রথম দুই রাকাতে ফারসি ভাষায় একটি করে আয়াত পাঠ করলেই তার জন্য যথেষ্ট হবে, এবং শেষ দুই রাকাতে সে কিছুই পাঠ করবে না। আবু কাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চার রাকাতেই কিরাত পাঠ করতেন। তাদের কেউ কেউ বলেছে: যদি সে চার রাকাতের কোনোটিতেই কিরাত পাঠ না করে, তবে তার সালাত জায়েয হবে। অথচ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর পরিপন্থী: "ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত কোনো সালাত নেই।" যদি সে যুক্তি দেয় এবং বলে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন "সালাত হবে না", তিনি তো বলেননি "যথেষ্ট হবে না"; তবে তাকে বলা হবে: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো সংবাদ আসে, তখন তার বিধান তার নির্ধারিত নাম ও সামগ্রিক অর্থের ওপরই প্রযোজ্য হয়, যতক্ষণ না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর কোনো (ভিন্ন) ব্যাখ্যা আসে। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: উম্মুল কুরআন ব্যতীত তার সালাত যথেষ্ট হবে না। এরপর যদি সে যুক্তি দিয়ে বলে: যদি সে রুকু পায় তবে তার সালাত জায়েয হবে; সুতরাং এটি যদি একটি রাকাতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয়, তবে তেমনিভাবে এটি অন্যান্য রাকাতের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট হবে। তাকে বলা হবে: যায়েদ ইবনে সাবিত, ইবনে ওমর এবং যারা ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ করা আবশ্যক মনে করেন না, তারাই কেবল এটি জায়েয বলেছেন। পক্ষান্তরে যারা কিরাত পাঠ করা আবশ্যক মনে করেন, তাদের মধ্যে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "ইমামকে দাঁড়ানো অবস্থায় না পাওয়া পর্যন্ত তার সালাত যথেষ্ট হবে না।" এবং আবু সাঈদ ও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন উম্মুল কুরআন পাঠ না করে রুকুতে না যায়।" আর যদি এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) থাকত, তবে রুকু পাওয়া ব্যক্তিকে সামগ্রিক বিধান থেকে ব্যতিক্রম ধরা হতো, অথচ এ বিষয়ে কোনো ইজমা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٨)
وَاحْتَجَّ بَعْضُ هَؤُلَاءِ، فَقَالَ: لَا يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى {فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا} [الأعراف: 204] فَقِيلَ لَهُ: فَيُثْنِي عَلَى اللَّهِ، وَالْإِمَامُ يَقْرَأُ قَالَ: نَعَمْ، قِيلَ لَهُ: فَلِمَ جَعَلْتَ عَلَيْهِ الثَّنَاءَ وَالثَّنَاءُ عِنْدَكَ تَطَوَّعٌ تَتِمُّ الصَّلَاةُ بِغَيْرِهِ؟ وَالْقِرَاءَةُ فِي الْأَصْلِ وَاجِبَةٌ أَسْقَطْتَ الْوَاجِبَ بِحَالِ الْإِمَامِ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى {فَاسْتَمِعُوا} [الأعراف: 204] وَأَمَرْتَهُ أَنْ لَا يَسْتَمِعَ عِنْدَ الثَّنَاءِ وَلَمْ تُسْقِطْ عَنْهُ الثَّنَاءَ وَجَعَلْتَ الْفَرِيضَةَ أَهْوَنَ حَالًا مِنَ التَّطَوُّعِ، وَزَعَمْتَ أَنَّهُ إِذَا جَاءَ وَالْإِمَامُ فِي الْفَجْرِ فإنَّهُ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ لَا يَسْتَمِعُ وَلَا يُنْصِتُ لِقِرَاءَةِ الْإِمَامِ وَهَذَا خِلَافُ مَا قَالَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةَ» فَقَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ» ، فَقِيلَ لَهُ: هَذَا خَبَرٌ لَمْ يَثْبُتْ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَهْلِ الْحِجَازِ وَأَهْلِ الْعِرَاقِ وَغَيْرِهِمْ لِإِرْسَالِهِ وَانْقِطَاعِهِ رَوَاهُ ابْنُ شَدَّادٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَرَوَى الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَلَا يَدْرِي أَسَمِعَ جَابِرٌ مِنْ أَبِي الزُّبَيْرِ وَذَكَرَ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلَاةَ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَجُلٌ خَلْفَهُ فَقَالَ: «لَا يَقْرَأْنَّ أَحَدُكُمْ وَالْإِمَامُ يَقْرَأُ إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ» فَلَوْ ثَبُتَ الْخَبَرَانِ كِلَاهُمَا لَكَانَ هَذَا مُسْتَثْنًى مِنَ الْأَوَّلِ لِقَوْلِهِ: «لَا يَقْرَأَنَّ إِلَّا بِأُمِّ الْكِتَابِ» ، وَقَوْلِهِ: «مَنْ

তাদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্তি প্রদর্শন করে বলেছেন: ইমামের পেছনে কেউ কিরাত পড়বে না, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো} [আল-আরাফ: ২০৪]। তখন তাকে বলা হলো: তবে কি সে আল্লাহর প্রশংসা (ছানা) পাঠ করবে যখন ইমাম কিরাত পড়েন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তাকে বলা হলো: তাহলে আপনি কেন তার ওপর ছানা পাঠ করাকে আবশ্যক করলেন, অথচ আপনার নিকট ছানা হলো একটি ঐচ্ছিক বিষয় যা ব্যতীতও নামাজ সম্পন্ন হয়ে যায়? অন্যদিকে কিরাত মূলত ফরজ, অথচ আপনি ইমামের উপস্থিতির কারণে আল্লাহর বাণী {তোমরা শোনো} [আল-আরাফ: ২০৪]-এর প্রেক্ষিতে সেই ফরজকে রহিত করে দিলেন; আবার ছানা পাঠের সময় আপনি তাকে (ইমামের কিরাত) না শোনার নির্দেশ দিলেন এবং তার থেকে ছানা পাঠ রহিত করলেন না। এভাবে আপনি ফরজ বিষয়টিকে নফল বিষয়ের চেয়েও তুচ্ছ করে দিলেন। আপনি আরও দাবি করেছেন যে, কেউ যদি ফজরের সময় এমন অবস্থায় আসে যখন ইমাম নামাজ পড়াচ্ছেন, তবে সে (সুন্নাত) দুই রাকাত নামাজ পড়বে; সে তখন ইমামের কিরাত শুনবে না এবং চুপও থাকবে না। অথচ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর পরিপন্থী, তিনি বলেছেন: «যখন নামাজের ইকামত হয়ে যায়, তখন ফরজ নামাজ ব্যতীত আর কোনো নামাজ নেই»। অতঃপর তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কিরাত তার কিরাত হিসেবেই গণ্য হবে»। তখন তাকে বলা হলো: এই বর্ণনাটি হিজাজ, ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলের বিজ্ঞ আলেমদের নিকট প্রমাণিত নয়; কারণ এটি মুরসাল এবং এর সূত্র বিচ্ছিন্ন। এটি ইবনে শাদ্দাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী বলেন: হাসান বিন সালেহ জাবির থেকে, তিনি আবু জুবাইর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে জাবির আবু জুবাইর থেকে শুনেছেন কি না তা নিশ্চিত নয়। উবাদাহ বিন সামিত এবং আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজ পড়ালেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর পেছনে কিরাত পড়ল। তিনি বললেন: «ইমাম যখন কিরাত পড়েন তখন তোমাদের কেউ যেন কিরাত না পড়ে, তবে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত»। যদি উভয় বর্ণনাই সাব্যস্ত হতো, তবে এই হাদিসটি প্রথম হাদিস থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হতো; কারণ তিনি বলেছেন: «উম্মুল কিতাব ব্যতীত কেউ যেন না পড়ে», এবং তাঁর বাণী: «যে ব্যক্তি...»

(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ٩)
كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ جُمْلَةٌ» ، وَقَوْلِهِ: «إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ» مُسْتَثْنًى مِنَ الْجُمْلَةِ كَقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «جُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا» ثُمَّ قَالَ فِي أَحَادِيثَ أُخْرَى: «إِلَّا الْمَقْبَرَةَ» ، وَمَا اسْتِثْنَاهُ مِنَ الْأَرْضِ وَالْمُسْتَثْنَى خَارِجٌ مِنَ الْجُمْلَةِ، وَكَذَلِكَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ خَارِجٌ مِنْ قَوْلِهِ: «مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ» مَعَ انْقِطَاعِهِ. وَقِيلَ لَهُ: اتَّفَقَ أَهْلُ الْعِلْمِ وَأَنْتَمُ أَنَّهُ لَا يَحْتَمِلُ الْإِمَامُ فَرْضًا عَنِ الْقَوْمِ ثُمَّ قُلْتُمُ: الْقِرَاءَةُ فَرِيضَةٌ وَيُحْتَمَلُ الْإِمَامُ هَذَا الْفَرْضَ عَنِ الْقَوْمِ فِيمَا جَهَرَ الْإِمَامُ أَوْ لَمْ يَجْهَرْ، وَلَا يَحْتَمِلُ الْإِمَامُ شَيْئًا مِنَ السُّنَنِ نَحْوَ الثَّنَاءِ وَالتَّسْبِيحِ وَالتَّحْمِيدِ فَجَعَلْتُمُ الْفَرْضَ أَهْوَنَ مِنَ التَّطَوُّعِ، وَالْقِيَاسُ عِنْدَكَ أَنْ لَا يُقَاسَ الْفَرْضُ بِالتَّطَوُّعِ، وَأَلَّا يُجْعَلَ الْفَرْضُ أَهْوَنَ مِنَ التَّطَوُّعِ، وَأَنْ يُقَاسَ الْفَرْضُ أَوِ الْفَرَعُ بِالْفَرْضِ إِذَا كَانَ مِنْ نَحْوِهِ فَلَوْ قِسْتَ الْقِرَاءَةَ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَالتَّشَهُّدِ إِذَا كَانَتْ هَذِهِ كُلُّهَا فَرْضًا، ثُمَّ اخْتَلَفُوا فِي فَرْضٍ مِنْهَا كَانَ أَوْلَى عِنْدَ مَنْ يَرَى الْقِيَاسَ أَنْ يَقِيسُوا الْفَرْضَ أَوْ الْفَرْعَ بِالْفَرْضِ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ، وَعَائِشَةُ رضي الله عنهما قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ، فَهِيَ خِدَاجٌ»

"যার ইমাম রয়েছে, তার ক্ষেত্রে ইমামের কিরাআত কিরাআত হিসেবে গণ্য"—এটি একটি সাধারণ বক্তব্য। আর তাঁর বাণী: "উম্মুল কুরআন ব্যতীত"—এটি সেই সাধারণ বক্তব্য থেকে একটি ব্যতিক্রম, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মতো: "আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে", অতঃপর তিনি অন্যান্য হাদিসে বলেছেন: "কবরস্থান ব্যতীত"। জমিনের যে অংশটি তিনি ব্যতিক্রম করেছেন এবং যা কিছু ব্যতিক্রম করা হয়, তা সাধারণ বক্তব্যের বহির্ভূত থাকে। অনুরূপভাবে ফাতিহাতুল কিতাবও তাঁর এই বাণী: "যার ইমাম রয়েছে, তবে ইমামের কিরাআত তার জন্য কিরাআত"—এর সাধারণ নির্দেশের বহির্ভূত, যদিও উক্ত হাদিসটি বিচ্ছিন্ন। তাঁকে বলা হলো: বিজ্ঞ আলেমগণ এবং আপনারা এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, ইমাম মুক্তাদিদের পক্ষ থেকে কোনো ফরজ দায়িত্ব বহন করেন না। অথচ আপনারা বলেছেন: কিরাআত একটি ফরজ এবং ইমাম মুক্তাদিদের পক্ষ থেকে এই ফরজটি বহন করবেন, চাই ইমাম উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করুন বা না করুন। অথচ ইমাম সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত কোনো কিছুই বহন করেন না, যেমন ছানা, তাসবিহ এবং তাহমিদ। ফলে আপনারা ফরজকে নফল অপেক্ষা তুচ্ছ সাব্যস্ত করেছেন। অথচ আপনার নিকট কিয়াসের মূলনীতি হলো, ফরজের সাথে নফলের তুলনা করা যাবে না এবং ফরজকে নফল অপেক্ষা তুচ্ছ করা যাবে না। বরং ফরজ কিংবা ফরজের শাখাকে ফরজের সাথেই তুলনা করতে হবে যখন তা সমজাতীয় হবে। সুতরাং আপনি যদি কিরাআতকে রুকু, সিজদা ও তাশাহহুদের সাথে তুলনা করতেন—যেহেতু এগুলি সবই ফরজ—অতঃপর এর কোনো একটি ফরজের বিষয়ে তারা মতভেদ করত, তবে যারা কিয়াসের পক্ষপাতী তাদের নিকট ফরজ বা ফরজের শাখাকে ফরজের সাথেই তুলনা করা অধিকতর শ্রেয় ছিল। আবু হুরায়রা এবং আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো সালাত আদায় করল যাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করা হয়নি, তবে তা অসম্পূর্ণ।"

(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٠)
وَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: " اقْرَأْ خَلْفَ الْإِمَامِ؟ قُلْتُ: وَإِنْ قَرَأْتُ، قَالَ: نَعَمْ، وَإِنْ قَرَأْتَ. وَكَذَلِكَ قَالَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، وَحُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ، وَعُبَادَةُ رضي الله عنهم وَيُذْكَرُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَعِدَّةٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ ذَلِكَ وَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ: «كَانَ رِجَالٌ أَئِمَّةٌ يَقْرَؤُونَ خَلْفَ الْإِمَامِ» وَقَالَ أَبُو مَرْيَمَ: سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ، رضي الله عنه «يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ» وَقَالَ أَبُو وَائِلٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، «أَنْصِتْ لِلْإِمَامِ» وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ: «دَلَّ أَنَّ هَذَا فِي الْجَهْرِ، وَإِنَّمَا يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ فِيمَا سَكَتَ الْإِمَامُ» وَقَالَ الْحَسَنُ وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَمَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ، وَمَالَا أَحْصَى مِنَ التَّابِعِينَ، وَأَهِلِ الْعِلْمِ: إِنَّهُ يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ وَإِنْ جَهَرَ، وَكَانَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها «تَأْمُرُ بِالْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ» وَقَالَ خَلَّالٌ: حَدَّثَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي الْمُغِيرَةِ، قَالَ: سَأَلْتُ حَمَّادًا عَنِ الْقِرَاءَةِ، خَلْفَ الْإِمَامِ فِي الْأُولَى وَالْعَصْرِ، فَقَالَ: كَانَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ " يَقْرَأُ فَقُلْتُ: أَيُّ ذَلِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟، فَقَالَ: أَنْ تَقْرَأَ " وَقَالَ مُجَاهِدٌ: «إِذَا لَمْ يَقْرَأْ خَلْفَ الْإِمَامِ أَعَادَ الصَّلَاةَ» وَكَذَلِكَ قَالَ

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: "তুমি কি ইমামের পেছনে কিরাত পড়বে? আমি বললাম: যদিও আমি কিরাত পড়ি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদিও তুমি কিরাত পড়ো।" অনুরূপ কথা উবাই ইবনে কাব, হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং উবাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বলেছেন। আলী ইবনে আবু তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে আমর, আবু সাঈদ খুদরী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একদল সাহাবী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। কাসিম ইবনে মুহাম্মদ বলেছেন: "এমন অনেক নেতৃস্থানীয় আলেম ছিলেন যারা ইমামের পেছনে কিরাত পড়তেন।" আবু মারইয়াম বলেন: আমি ইবনে মাসউদ (রা.)-কে ইমামের পেছনে কিরাত পড়তে শুনেছি। আবু ওয়ায়েল ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: "ইমামের কিরাতের সময় নীরব থাকো।" ইবনুল মুবারক বলেন: "এটি প্রমাণ করে যে এটি উচ্চস্বরে কিরাত পড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর ইমামের পেছনে কেবল তখনই কিরাত পড়া যাবে যখন ইমাম নীরব থাকেন।" হাসান, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, মায়মুন ইবনে মিহরান এবং অগণিত তাবিঈ ও আহলে ইলম বলেছেন: ইমাম উচ্চস্বরে কিরাত পড়লেও তার পেছনে কিরাত পড়তে হবে। আয়েশা (রা.) ইমামের পেছনে কিরাত পড়ার নির্দেশ দিতেন। খাল্লাল বলেন: হানজালা ইবনে আবু মুগীরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদকে জোহর ও আসরের সালাতে ইমামের পেছনে কিরাত পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের কিরাত পড়তেন। আমি বললাম: আপনার কাছে কোনটি অধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেন: "তুমি কিরাত পড়বে।" মুজাহিদ বলেন: "যদি কেউ ইমামের পেছনে কিরাত না পড়ে, তবে সে সালাত পুনরায় আদায় করবে।" এবং অনুরূপ তিনি বলেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١١)
عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ وَقِيلَ لَهُ: احْتِجَاجُكَ بِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى {إِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا} [الأعراف: 204] أَرَأَيْتَ إِذَا لَمْ يَجْهَرِ الْإِمَامُ يَقْرَأُ مَنْ خَلْفَهُ؟ فَإِنْ قَالَ: لَا أَبْطَلَ دَعْوَاهُ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ {فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا} [الأعراف: 204] وَإِنَّمَا يَسْتَمِعُ لِمَا يُجْهَرُ مَعَ إِنَّا نَسْتَعْمِلُ قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى {فَاسْتَمِعُوا لَهُ} [الأعراف: 204] نَقُولُ: يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ عِنْدَ السَّكَتَاتِ قَالَ سَمُرَةُ رضي الله عنه: كَانَ لِلنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " سَكْتَتَانِ: سَكْتَةٌ حِينَ يُكَبِّرُ، وَسَكْتَةٌ حِينَ يَفْرُغُ مِنْ قِرَاءَتِهِ " وَقَالَ ابْنُ خُثَيْمٍ: قُلْتُ لِسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ: " أَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ قَالَ: نَعَمْ، وَإِنْ كُنْتَ تَسْمَعُ قِرَاءَتَهُ، فَإِنَّهُمْ قَدْ أَحْدَثُوا مَا لَمْ يَكُونُوا يَصْنَعُونَهُ إِنَّ السَّلَفَ كَانَ إِذَا أَمَّ أَحَدُهُمْ كَبَّرَ ثُمَّ أَنْصَتَ حَتَّى يَظُنَّ أَنَّ مَنَ خَلْفَهُ قَرَأَ بفَاتِحَةَ الْكِتَابَ ثُمَّ قَرَأَ وَأَنْصَتُوا " وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم «إِذَا أَرَادَ أَنْ يَقْرَأَ سَكَتَ سَكْتَةً» وَكَانَ أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ، وَغَيْرُهُمْ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ يَرَوْنَ الْقِرَاءَةَ عِنْدَ سُكُوتِ الْإِمَامِ إِلَى نُونِ نَعْبُدُ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَلَاةَ إِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ» ، فَتَكُونُ قِرَاءَتُهُ فَإِذَا قَرَأَ الْإِمَامُ أَنْصَتْ حَتَّى يَكُونَ مُتَّبَعًا لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80]

আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর এবং তাঁকে বলা হলো: মহান আল্লাহর বাণী "যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো এবং চুপ থাকো" [আল-আরাফ: ২০৪] এর মাধ্যমে আপনার দলিল পেশ করার বিষয়ে আপনার অভিমত কী? আপনি কি মনে করেন যে যখন ইমাম উচ্চস্বরে পাঠ করেন না, তখনও কি তাঁর পেছনের ব্যক্তি কিরাত পাঠ করবে? যদি তিনি বলেন "না", তবে তাঁর দাবিটি বাতিল হয়ে যাবে; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো এবং চুপ থাকো" [আল-আরাফ: ২০৪]। অথচ শ্রবণ করা তো কেবল উচ্চস্বরে পাঠ করার ক্ষেত্রেই সম্ভব। এর সাথে আমরা মহান আল্লাহর বাণী "তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো" [আল-আরাফ: ২০৪]-এর ওপরও আমল করি; আমরা বলি: মুক্তাদি ইমামের নীরবতার সময়গুলোতে তাঁর পেছনে কিরাত পাঠ করবে। সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুটি নীরবতা ছিল: একটি নীরবতা যখন তিনি তাকবির বলতেন, আর অন্যটি যখন তিনি কিরাত শেষ করতেন।" ইবনু খুসাইম বলেন: আমি সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে বললাম, "আমি কি ইমামের পেছনে পাঠ করব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদিও আপনি তাঁর কিরাত শুনতে পান; কারণ তারা এমন সব বিষয় উদ্ভাবন করেছে যা সলফগণ করতেন না। সলফগণের নিয়ম ছিল যে, যখন তাঁদের কেউ ইমামতি করতেন, তিনি তাকবির বলতেন, অতঃপর চুপ থাকতেন যতক্ষণ না তিনি মনে করতেন যে তাঁর পেছনের ব্যক্তিরা সূরা ফাতিহা পাঠ সম্পন্ন করেছে। এরপর তিনি নিজে পাঠ করতেন এবং মুক্তাদিরা চুপ থাকত।" আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কিরাত পাঠ করতে চাইতেন, তখন কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন।" আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, মায়মুন ইবনে মিহরান এবং সাঈদ ইবনে জুবায়েরসহ অন্যান্যরা ইমামের নীরবতার সময় 'নাবুদু' শব্দের 'নুন' পর্যন্ত কিরাত পাঠ করা সমর্থন করতেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী হলো: "সূরা ফাতিহা ব্যতিরেকে কোনো সালাত হয় না।" সুতরাং এটিই হবে তাঁর কিরাত। আর যখন ইমাম কিরাত পাঠ করবেন তখন সে চুপ থাকবে, যাতে সে মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসারী হতে পারে: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল" [আন-নিসা: ৮০]

(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٢)
وَقَوْلِهِ {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115] وَإِذَا تَرَكَ الْإِمَامُ شَيْئًا مِنَ الصَّلَاةِ فَحَقَّ عَلَى مَنْ خَلْفَهُ أَنْ يُتِمُّوا قَالَ عَلْقَمَةُ: «إِنْ لَمْ يُتِمَّ الْإِمَامُ أَتْمَمْنَا» وَقَالَ الْحَسَنُ وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَحُمَيْدُ بْنُ هِلَالٍ: «أَقْرَأُ بِالْحَمْدِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ» ، وَقَالَ الْآخَرُونَ مِنْ هَؤُلَاءِ: يُجْزِيهِ أَنْ يَقْرَأَ بِالْفَارِسِيَّةِ، وَيُجْزِيهِ أَنْ يَقْرَأَ بِآيَةٍ يَنْقَضُّ آخِرُهُمْ عَلَى أَوَّلِهِمْ بِغَيْرِ كِتَابٍ وَلَا سُنَّةٍ وَقِيلَ لَهُ: مَنْ أَبَاحَ لَكَ الثَّنَاءَ وَالْإِمَامُ يَقْرَأُ بِخَبَرٍ أَوْ بِقِيَاسٍ وَحَظَرَ عَلَى غَيْرِكَ الْفَرْضَ وَهُوَ الْقِرَاءَةُ وَلَا خَبَرَ عِنْدَكَ وَلَا اتِّفَاقَ لِأَنَّ عِدَّةً مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، لَمْ يَرَوُا الثَّنَاءَ لِلْإِمَامِ وَلَا لِغَيْرِهِ وَيُكَبِّرُونَ ثُمَّ يَقْرَؤُونَ فَتَحَيَّرَ عِنْدَهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ مَعَ أَنَّ هَذَا صَنَعَهُ فِي أَشْيَاءَ مِنَ الْفَرْضِ وَجَعَلَ الْوَاجِبَ أَهْوَنَ مِنَ التَّطَوُّعِ، زَعَمْتَ أَنَّهُ إِذَا لَمْ يَقْرَأْ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ أَوِ الْعِشَاءِ يُجْزِيهِ وَإِذَا لَمْ يَقْرَأْ فِي رَكْعَةٍ مِنْ أَرْبَعٍ مِنَ التَّطَوُّعِ لَمْ يُجِزِهِ قُلْتَ: وَإِذَا لَمْ يَقْرَأْ فِي رَكْعَةٍ مِنَ الْمَغْرِبِ أَجْزَأَهُ وَإِذَا لَمْ يَقْرَأْ فِي رَكْعَةٍ مِنَ الْوِتْرِ لَمْ يُجِزِهِ، وَكَأَنَّهُ مُولِعٌ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ مَا فَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَوْ يُفَرِّقُ بَيْنَ مَا جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَرَوَى عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْأَصْبَهَانِيِّ، عَنِ الْمُخْتَارِ
এবং তাঁর বাণী: {আর যে ব্যক্তি তাঁর কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস} [আন-নিসা: ১১৫]। আর ইমাম যখন সালাতের কোনো কিছু ছেড়ে দেন, তখন তাঁর পেছনের মুক্তাদিদের জন্য তা পূর্ণ করা আবশ্যক। আলকামা (রহ.) বলেন: "ইমাম যদি পূর্ণ না করেন, তবে আমরা পূর্ণ করব।" হাসান, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং হুমাইদ ইবনে হিলাল (রহ.) বলেন: "আমি জুমার দিন আল-হামদু (সূরা ফাতিহা) পাঠ করি।" আর তাঁদের মধ্য থেকে অন্যরা বলেছেন: ফারসি ভাষায় কিরাত পড়া তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে, এবং এমন একটি আয়াত পড়াও যথেষ্ট হবে যার শেষ অংশ প্রথম অংশের ওপর আপতিত হয় (অর্থাৎ কেবল একটি ছোট আয়াত), যা কিতাব বা সুন্নাহর কোনো প্রমাণ ছাড়াই বলা হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছে: ইমাম যখন কিরাত পড়েন, তখন কোন বর্ণনা বা কিয়াসের ভিত্তিতে আপনি ছানা পাঠ করাকে বৈধ করেছেন? অথচ আপনি অন্যদের জন্য যা ফরজ অর্থাৎ কিরাত পাঠ করাকে নিষিদ্ধ করেছেন, যার সপক্ষে আপনার কাছে কোনো বর্ণনা বা ঐকমত্য নেই। কেননা মদিনাবাসীদের একদল ইমাম বা অন্য কারো জন্য ছানা পাঠ করা জরুরি মনে করেন না; বরং তাঁরা তাকবির বলেন এবং এরপর কিরাত শুরু করেন। ফলে তাঁরা তাঁদের বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন এবং তাঁরা তাঁদের সংশয়ে দোদুল্যমান। তদুপরি, তিনি ফরজের কিছু বিষয়ে এমনটি করেছেন এবং ওয়াজিবকে নফল বা ঐচ্ছিক ইবাদতের চেয়েও সহজতর করে ফেলেছেন। আপনি ধারণা করেছেন যে, যদি কেউ জোহর, আসর বা এশার সালাতের দুই রাকাতে কিরাত না পড়ে তবে তার জন্য তা যথেষ্ট হবে, অথচ চার রাকাত নফল সালাতের কোনো এক রাকাতে কিরাত না পড়লে তা যথেষ্ট হবে না। আপনি বলেছেন: যদি মাগরিবের এক রাকাতে কিরাত না পড়ে তবে তা যথেষ্ট হবে, কিন্তু বিতরের এক রাকাতে কিরাত না পড়লে তা যথেষ্ট হবে না। মনে হচ্ছে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা পৃথক করেছেন তা একত্রিত করতে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা একত্রিত করেছেন তা পৃথক করতে উন্মুখ। আর আলী ইবনে সালেহ আল-আসফাহানি থেকে এবং তিনি আল-মুখতার থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٣)
بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِيهِ، رضي الله عنه: «مَنْ قَرَأَ خَلْفَ الْإِمَامِ فَقَدْ أَخْطَأَ الْفِطْرَةَ» وَهَذَا لَا يَصِحُّ لِأَنَّهُ لَا يَعْرِفُ الْمُخْتَارَ وَلَا يُدْرَى أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْ أَبِيهِ أَمْ لَا؟ وَأَبُوهُ مِنْ عَلِيٍّ، وَلَا يَحْتَجُّ أَهْلُ الْحَدِيثِ بِمِثْلِهِ، وَحَدِيثُ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَدَلُّ وَأَصَحُّ وَرَوَى دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنِ ابْنِ نَجَادٍ، رَجُلٍ مِنْ وَلَدِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، «وَدِدْتُ أَنَّ الَّذِي يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ فِي فِيهِ جَمْرَةٌ» وَهَذَا مُرْسَلٌ وَابْنُ نَجَادٍ لَمْ يُعْرَفْ وَلَا سُمِّيَ وَلَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ فِي الْقَارِئِ خَلْفَ الْإِمَامِ جَمْرَةٌ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا تُعَذِّبُوا بِعَذَابِ اللَّهِ» ، وَلَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يُتَوَهَّمَ ذَلِكَ عَلَى سَعْدٍ مَعَ إِرْسَالِهِ وَضَعْفِهِ وَرَوَى أَبُو حُبَابٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ فِي نُسْخَةِ عَبْدِ اللَّهِ: " وَوَدِتُ أَنَّ الَّذِي يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ مُلِئَ فُوهُ نَتِنًا وَهَذَا مُرْسَلٌ لَا يُحْتَجُّ بِهِ وَخَالَفَهُ ابْنُ عَوْنٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْأَسْوَدِ

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি লায়লা তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: "যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ করল, সে ফিতরাত পরিপন্থী কাজ করল।" এটি বিশুদ্ধ নয়, কারণ মুখতার (নামক বর্ণনাকারী) পরিচিত নন এবং তিনি এটি তাঁর পিতা থেকে শুনেছেন কি না তাও জানা যায় না। আর তাঁর পিতা এটি আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণনা করেছেন; আহলে হাদিস তথা মুহাদ্দিসগণ এ ধরণের বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করেন না। এর বিপরীতে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাফে’র সূত্রে তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণিত যুহরীর হাদিসটি অধিকতর স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ। দাউদ ইবনে কায়স জনৈক ইবনে নাজাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি সা’দ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধরদের একজন, তিনি সা’দ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: "আমি পছন্দ করতাম যে, যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ করে তার মুখে একটি জ্বলন্ত অঙ্গার থাকুক।" এটি একটি মুরসাল বর্ণনা। ইবনে নাজাদ পরিচিত নন এবং তাঁর নামও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ইমামের পেছনে কিরাত পাঠকারীর ব্যাপারে 'আল্লাহর আজাবস্বরূপ আগুনের অঙ্গার'—একথা বলা কারো জন্য বৈধ নয়। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর আজাব দিয়ে শাস্তি দিও না।" সুতরাং বর্ণনাটি মুরসাল ও দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সা’দ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে এমনটি ধারণা করা কারো জন্য সংগত নয়। আবু হুবাব সালামা ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেন; তিনি আব্দুল্লাহর পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে বলেন: "আমি চাই যে, ইমামের পেছনে কিরাত পাঠকারীর মুখ দুর্গন্ধময় ময়লা দ্বারা পূর্ণ করে দেওয়া হোক।" এটি মুরসাল বর্ণনা যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং ইবনে আউন ইব্রাহিম ও আসওয়াদের সূত্রে এর বিরোধিতা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٤)
وَقَالَ: رَضْفًا، وَلَيْسَ هَذَا مِنْ كَلَامِ أَهْلِ الْعِلْمِ بِوُجُوهٍ أَمَّا أَحَدُهَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَلَاعَنُوا بِلَعْنَةِ اللَّهِ وَلَا بِالنَّارِ وَلَا تُعَذِّبُوا بِعَذَابِ اللَّهِ» وَالْوَجْهُ الْآخَرُ: لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَتَمَنَّى أَنْ يَمْلَأَ أَفْوَاهَ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ وَحُذَيْفَةَ وَمَنْ ذَكَرْنَا رَضْفًا وَلَا نَتِنًا وَلَا تُرَابًا وَالْوَجْهُ الثَّالِثُ: إِذَا ثَبَتَ الْخَبَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ فَلَيْسَ فِي الْأَسْوَدِ وَنَحْوِهِ حُجَّةٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَمُجَاهِدٌ: " لَيْسَ أَحَدٌ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا يُؤْخَذُ مِنْ قَوْلِهِ وَيُتْرَكُ إِلَّا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ حَمَّادٌ: «وَدِدْتُ أَنَّ الَّذِي يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ مُلِئَ فُوهُ سَكَرًا» وَرَوَى عَمْرُو بْنُ مُوسَى بْنِ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: " مَنْ قَرَأَ خَلْفَ الْإِمَامِ فَلَا صَلَاةَ وَلَا يُعْرَفُ لِهَذَا الْإِسْنَادِ سَمَاعٌ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ وَلَا يَصِحُّ مِثْلُهُ وَكَانَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَعُرْوَةُ وَالشَّعْبِيُّ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَنَافِعُ بْنُ جُبَيْرٍ وَأَبُو الْمَلِيحِ، وَالْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَبُو مِجْلَزٍ، وَمَكْحُولٌ، وَمَالِكُ بْنُ عَوْنٍ، وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، يَرَوْنَ الْقِرَاءَةَ، وَكَانَ أَنَسٌ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيُّ يُسَبِّحَانِ خَلْفَ الْإِمَامِ وَرَوَى سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَوْلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه: " اقْرَأْ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ خَلْفَ

এবং তিনি বলেছেন: উত্তপ্ত পাথর, আর এটি বিভিন্ন কারণে আহলে ইলমের কথা নয়। প্রথমত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর অভিশাপ দিয়ে একে অপরকে অভিশাপ দিও না, আগুনের দ্বারাও নয় এবং আল্লাহর আজাব দিয়ে কাউকে শাস্তি দিও না»। দ্বিতীয় কারণটি হলো: কারো জন্যই এমনটি কামনা করা সমীচীন নয় যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব, উবাই ইবনে কাব, হুজাইফা এবং আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তাদের মুখ উত্তপ্ত পাথর, দুর্গন্ধময় বস্তু বা মাটি দিয়ে পূর্ণ করে দেওয়া হোক। তৃতীয় কারণটি হলো: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে বর্ণনা সাব্যস্ত হয়, তখন আসওয়াদ বা তার মতো অন্য কারো বক্তব্যে কোনো দলিল থাকে না। ইবনে আব্বাস এবং মুজাহিদ বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া এমন কেউ নেই যার কথা গ্রহণ করা কিংবা বর্জন করা যায় না, একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত।" এবং হাম্মাদ বলেছেন: «আমি পছন্দ করতাম যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে পাঠ করে তার মুখ চিনি দিয়ে পূর্ণ করে দেওয়া হোক»। আমর ইবনে মুসা ইবনে সাদ জায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ইমামের পেছনে পাঠ করে তার কোনো নামাজ নেই।" আর এই সনদে রাবীদের একে অপরের থেকে শোনার কথা জানা যায় না এবং এই জাতীয় বর্ণনা সহীহ নয়। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, উরওয়াহ, শাবী, উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ, নাফে ইবনে জুবায়ের, আবু আল-মালিহ, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ, আবু মিজলাজ, মাকহুল, মালিক ইবনে আউন এবং সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ (ইমামের পেছনে) কিরাত পাঠকে বৈধ মনে করতেন। আনাস ও আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-আনসারী ইমামের পেছনে তাসবীহ পাঠ করতেন। সুফিয়ান ইবনে হুসাইন জুহরী থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর মুক্ত দাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন: "তুমি জোহর ও আসরের নামাজে ইমামের পেছনে পাঠ করো..."

(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٥)
وَرَوَى سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، وَقَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ مِثْلَهُ
সুফিয়ান ইবন হুসাইন বর্ণনা করেছেন এবং ইবন আল-জুবাইরও এর অনুরূপ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম লিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ١٥)
19 - وَقَالَ لَنَا أَبُو نُعَيْمٍ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الْحَسْنَاءِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَالِيَةِ، فَسَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ بِمَكَّةَ أَقْرَأُ فِي الصَّلَاةِ قَالَ: إِنِّي لَأَسْتَحِي مِنْ رَبِّ هَذِهِ الْبِنْيَةِ أَنْ أُصَلِّيَ صَلَاةً لَا أَقْرَأُ فِيهَا وَلَوْ بِأُمِّ الْكِتَابِ
১৯ - আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: হাসান বিন আবিল হাসনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল আলিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মক্কায় ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি সালাতে তিলাওয়াত করব? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি এই ঘরের রবের সামনে লজ্জা বোধ করি যে, আমি এমন কোনো সালাত আদায় করব যাতে তিলাওয়াত করব না, এমনকি তা যদি কেবল উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) হয়।