(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: -)
تراجعات الألباني   (-)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: تراجعات الألباني

1- الكتاب: (تراجع العلامة الألباني فيما نص عليه تصحيحا وتضعيفا)

تأليف: أبو الحسن الشيخ

الناشر: طبع بعناية دار المعارف بالرياض

اختصره: محمد بو عمر

_________

2 - الكتاب: (الإعلام بآخر أحكام الألباني الإمام)

المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني (ت 1420هـ)

راجعه وقدم له: محمد عبد الحكيم القاضي

الناشر: دار ابن رجب

عدد الأحاديث: 307

اختصره ووضع مقدماته الأربعة: الراجي عفو ربه

_________

3- الكتاب: أبحاث غير مكتملة في التراجعات

البحث الأول: الأحاديث التي تراجع الألباني عن تضعيفها في السلسلة الصحيحة (7)

إعداد: أبو عمر العتيبي

عدد الأحاديث: 15

البحث الثاني: أحاديث رجع الألباني عن تصحيحها أو تضعيفها

إعداد: أبو عبد الله بن سعيد

عدد الأحاديث: 42

مصدر البحثين: ملتقى أهل الحديث

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 195

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আলবানীর প্রত্যাহারসমূহ   (-)

বিভাগ: তাখরিজ এবং আতরাফ


গ্রন্থ: আলবানীর প্রত্যাহারসমূহ

১- গ্রন্থ: (আল্লামা আলবানীর প্রত্যাহারসমূহ যে সকল বিষয়ে তিনি সহিহ বা জয়িফ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন)

রচনা: আবুল হাসান আশ-শাইখ

প্রকাশক: রিয়াদের দারুল মাআরিফের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত

সংক্ষেপক: মুহাম্মদ বু উমর

_________

২ - গ্রন্থ: (ইমাম আলবানীর সর্বশেষ হুকুমসমূহ সম্পর্কে অবহিতকরণ)

লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (মৃ. ১৪২০ হিজরী)

সম্পাদনা ও ভূমিকা প্রদান: মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম আল-কাদী

প্রকাশক: দার ইবনে রজব

হাদিস সংখ্যা: ৩০৭

এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এর চারটি ভূমিকা লিখেছেন: নিজ রবের ক্ষমা প্রত্যাশী

_________

৩- গ্রন্থ: প্রত্যাহারসমূহের বিষয়ে অসম্পূর্ণ গবেষণাপত্র

প্রথম গবেষণা: সেই হাদিসসমূহ যেগুলোর দুর্বলতা থেকে আলবানী সিলসিলাতুস সহিহাতে প্রত্যাহার করেছেন (৭)

প্রস্তুতকারী: আবু উমর আল-উতাইবি

হাদিস সংখ্যা: ১৫

দ্বিতীয় গবেষণা: সেই হাদিসসমূহ যেগুলোর সহিহ বা জয়িফ হওয়ার ব্যাপারে আলবানী প্রত্যাহার করেছেন

প্রস্তুতকারী: আবু আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ

হাদিস সংখ্যা: ৪২

গবেষণাদ্বয়ের উৎস: মুলতাকা আহলিল হাদিস

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৫

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: (تراجع العلامة الألباني فيما نص عليه تصحيحا وتضعيفا)

تأليف: أبو الحسن الشيخ

الناشر: طبع بعناية دار المعارف بالرياض

اختصره: محمد بو عمر

المصدر: موقع سحاب \ قسم الحديث وعلومه \ تراجعات الشيخ الالباني رحمه الله عن الحكم على بعض الاحاديث

 

قال محمد بو عمر:

بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد، فهذا بحث مختصر في الأحاديث التي تراجع عن تصحيحها أو العكس، مع بعض التنبيهات والتصويبات التي نبه إليها الشيخ العلامة الألباني رحمه الله تعالى في كتبه وتحقيقاته المطبوعة، وقد استفدت معظم مادة هذا البحث من كتاب (تراجع العلامة الألباني فيما نصى عليه تصحيحا وتضعيفا) لمؤلفه (أبو الحسن الشيخ) وطبع بعناية دار المعارف بالرياض، وقد قمت بإضافة وتعديل بعض الأخطاء في العزو وغيره، ولم ألتزم بترتيب الكتاب، وقمت باستدراك بعض الأحاديث التي جمعتها على المؤلف والتي لم يوردها في كتابه، والحمد لله على توفيقه.

وقمت بتقسيم البحث إلى أقسام:

أولا: الأحاديث التي تراجع عنها الشيخ رحمه الله من التضعيف إلى التصحيح

ثانيا: الأحاديث التي تراجع عنها الشيخ رحمه الله من التصحيح إلى التضعيف

ثالثا: من التحسين إلى التصحيح والعكس

رابعا: تنبيهات وتصويبات

خامسا: زيادات على الكتاب

####

أولا: من التضعيف إلى التصحيح:

(1) أيما رجل كشف سترا فأدخل بصره قبل أن يؤذن له فقد أتى حدا لا يحل له أن يأتيه "

غاية المرام " 423 " وصححه الشيخ في الصحيحة " 3463 " "قال الشيخ فالحديث غريب صحيح وقد كنت ضعفته في بعض التخريجات القديمة مثل (غاية المرام " (423) .

(2) عن عائشة رضي الله عنها قالت: من حدثكم أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يبول قائما فلا تصدقوه ما كان يبول إلا قاعدا " ضعيف " المشكاة 365 " وصححه في الصحيحة " 201 "

(3) لا شيء في الهام، والعين حق، وأصدق الطيرة الفأل " ضعيف الجامع " 6295 " والضعيفة " 4804 " وصححه في الصحيحة " 2949 "

(4) أوتي موسى الالواح، وأوتيت المثاني " ضعيف الجامع " 2109 " وصححه في الصحيحة "2813 "

(5) بعثت بالحنيفية السمحة " غاية المرام " 8 " وصححه في الصحيحة " 2924.

(6) لا تشددوا على أنفسكم، فيشدد عليكم فإن قوما شددوا على أنفسهم فشدد الله عليهم فتلك بقايهم في الصوامع والديارات (ورهبانية ابتدعوها ما كتبناها عليهم) ضعيف الجامع " 6232 " والضعيفة " 3468 " والمشكاة " 181 " والأدب المفرد (4904) ، وصححه في الصحيحة 3124 ""

(7) استتروا في صلاتكم ولو بسهم " ضعيف الجامع " 801 " وصححه في الصحيحة " 2783 "

(8) لا تنتفعوا من الميتة بشيء " الضعيفة " 118 " وصححه في الصحيحة " 3133 "

(9) لا تكرهوا البنات، فإنهن المؤنسات الغاليات " ضعيف الجامع " 6268" والضعيفة " 4793 " وصححه في الصحيحة " 3206 ".

(10) لتنتهكن الاصابع بالطهور، أو لتنتهكنها النار." ضعيف الجامع " 4660 والضعيفة 4301" وصححه في الصحيحة " 3489 "

(11) ليس من الجنة في الارض شيء الا ثلاثة اشياء: غرس العجوة والحجر وأواق تنزل في الفرات كل يوم، بركة من الجنة " ضعيف الجامع 4927 والضعيفة 1600 " وصححه في الصحيحة 3111 "

(12) إذا ضحى أحدكم فليأكل من أضحيته "ضعيف الجامع 581 " وصححه في الصحيحة " 3563 "

تنبيه: ذكر الشيخ الالباني رحمه الله في ضعيف الجامع "581" أن الحديث موجود في الضعيفة برقم " 2632 " وعند الرجوع للرقم المذكور لم أجد لفظ هذا الحديث وإنما كان يوجد الحديث التالي " أترعون عن ذكر الفاجر، اذكروه ليعرفه الناس " فلينظر!

(13) اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني " أعله الشيخ بالانقطاع في " نقد نصوص حديثية ص 45، ثم صححه في الصحيحة " 3337 "

"14" إذا تغوط أحدكم فليمسح ثلاث مرات " ضعيف الجامع 435 وصححه في الصحيحة 3316،

تنبيه: ذكر الشيخ في ضعيف الجامع 435 ان الحديث موجود في الضعيفة 2461 ولا يوجد بهذا اللفظ، فلينظر.

" 15"نهى عن بيع المحفلات ،فقال: من ابتاعهن فهو بالخيار إذا حلبهن " ضعيف الجامع 6062والضعيفة 4726

وذكر له شاهدا في الصحيحة 3236 ولفظه " إذا باع أحدكم الشاة واللقحة فلا يحفلها " وقال وهو شاهد قوي لحديث أنس "نهى عن بيع المحفلات " فلينقل.

" 16"إن تمام إسلامكم أن تؤدوا زكاة أموالكم " ضعيف الترغيب - طبعة المعارف - 457-6، وصححه في الصحيحة 3232

"17 "إذا أديت زكاة مالك فقد أذهبت عنك شره "الضعيفة 2219 وضعيف الجامع 313 وصحيح ابن خزيمة 2258 وذكر الشيخ في نهاية تخريج الحديث في الضعيفة أنه وجد له شاهدا بسند حسن وقال:

 

ومن أجله اوردته في صحيح الترغيب - المعارف -743 فهو به قوي وينقل الى الصحيحة)

قلت - محمد -: ولم أجده في الصحيحة، والله أعلم.

"18 "أما إن ربك تبارك وتعالى يحب المدح " الضعيفة 2922 وضعيف الجامع ولفظه أما إن ربك يحب المدح "والحديث ذكره الشيخ في الصحيحة 3179 ولفظه " أما إن ربك يحب المحامد " وقال كنت أشرت الى ضعفه
গ্রন্থ: (আল্লামা আলবানীর সেই সব বর্ণনা থেকে ফিরে আসা যা তিনি ইতিপূর্বে সহিহ বা যয়িফ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন)

রচনা: আবুল হাসান আশ-শায়খ

প্রকাশক: রিয়াদের দারুল মাআরিফের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত

সংক্ষেপক: মুহাম্মদ বু উমর

উৎস: সাহাব ওয়েবসাইট \ হাদিস ও তার উলুম বিভাগ \ কিছু হাদিসের হুকুমের ক্ষেত্রে শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ফিরে আসা

 

মুহাম্মদ বু উমর বলেন:

আল্লাহর নামে, সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর। অতঃপর, এটি সেই সব হাদিসের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা যেগুলোর সহিহ বলা থেকে তিনি (শায়খ আলবানী) ফিরে এসেছেন অথবা তার উল্টোটা করেছেন। সাথে কিছু সতর্কতা ও সংশোধন রয়েছে যেগুলোর দিকে আল্লামা শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) তার কিতাবসমূহ এবং মুদ্রিত তাহকিকসমূহে ইঙ্গিত করেছেন। আমি এই গবেষণার অধিকাংশ উপকরণ ‘তরাজুউল আল্লামাহ আল-আলবানী ফিমা নাসসা আলাইহি তাসহিহান ওয়া তাদইফান’ নামক কিতাব থেকে গ্রহণ করেছি যার লেখক আবুল হাসান আশ-শায়খ এবং যা রিয়াদের দারুল মাআরিফের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছে। আমি এতে উদ্ধৃতি প্রদানের ভুলসমূহ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কিছু সংযোজন ও সংশোধন করেছি এবং মূল কিতাবের ধারাবাহিকতা রক্ষা করিনি। আমি এতে এমন কিছু হাদিসও সংযোজন করেছি যা আমি শায়খের কিতাবাদি থেকে সংগ্রহ করেছি কিন্তু মূল লেখক তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেননি। সকল প্রশংসা আল্লাহর তাঁর তাওফিকের জন্য।

আমি এই গবেষণাকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছি:

প্রথমত: সেই সব হাদিস যেগুলোর ক্ষেত্রে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) যয়িফ বলা থেকে সহিহ বলার দিকে ফিরে এসেছেন।

দ্বিতীয়ত: সেই সব হাদিস যেগুলোর ক্ষেত্রে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সহিহ বলা থেকে যয়িফ বলার দিকে ফিরে এসেছেন।

তৃতীয়ত: হাসান থেকে সহিহ এবং এর উল্টোটা।

চতুর্থত: সতর্কতা ও সংশোধনসমূহ।

পঞ্চমত: মূল কিতাবের ওপর অতিরিক্ত সংযোজনী।

####

প্রথমত: যয়িফ থেকে সহিহ:

(১) "যে ব্যক্তি অনুমতি পাওয়ার পূর্বেই পর্দা সরিয়ে ভেতরে দৃষ্টি দিল, সে এমন এক সীমালঙ্ঘন করল যা করা তার জন্য হালাল নয়।"

গায়াতুল মারাম '৪২৩'; শায়খ একে সিলসিলা সহিহাহ '৩৪৬৩'-তে সহিহ বলেছেন। শায়খ বলেন: "হাদিসটি গারিব-সহিহ, আমি ইতিপূর্বে গায়াতুল মারাম (৪২৩)-এর মতো কিছু পুরনো তাখরিজে একে যয়িফ বলেছিলাম।"

(২) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যদি তোমাদের কেউ বলে যে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন, তবে তাকে বিশ্বাস করো না; তিনি বসেই প্রস্রাব করতেন।" 'যয়িফ' মিশকাত ৩৬৫; সহিহাহ ২০১-এ একে সহিহ বলেছেন।

(৩) "হাম-এর (প্যাঁচা সম্পর্কিত কুসংস্কার) কোনো ভিত্তি নেই, কুদৃষ্টি সত্য, আর সর্বোত্তম শুভলক্ষণ হলো ফাল (ভালো কথা)।" যয়িফ আল-জামি '৬২৯৫' ও যয়িফাহ '৪৮০৪'; সহিহাহ '২৯৪৯'-এ একে সহিহ বলেছেন।

(৪) "মুসাকে ফলকসমূহ (তওরাত) দেওয়া হয়েছে, আর আমাকে মাসানি (সুরা ফাতিহা বা দীর্ঘ সুরাসমূহ) দেওয়া হয়েছে।" যয়িফ আল-জামি '২১০৯'; সহিহাহ '২৮১৩'-এ একে সহিহ বলেছেন।

(৫) "আমি সহজ-সরল একনিষ্ঠ দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।" গায়াতুল মারাম '৮'; সহিহাহ ২৯২৪-এ একে সহিহ বলেছেন।

(৬) "তোমরা নিজেদের ওপর কঠোরতা করো না, নতুবা তোমাদের ওপর কঠোরতা করা হবে। কেননা এক সম্প্রদায় নিজেদের ওপর কঠোরতা করেছিল, ফলে আল্লাহও তাদের ওপর কঠোরতা করেছিলেন। গির্জা ও মঠগুলোতে তাদের অবশিষ্টাংশই রয়ে গেছে (আর বৈরাগ্যবাদ যা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল, আমি তা তাদের ওপর ফরজ করিনি)।" যয়িফ আল-জামি '৬২৩২', যয়িফাহ '৩৪৬৮', মিশকাত '১৮১' ও আল-আদাবুল মুফরাদ (৪৯০৪); সহিহাহ ৩১২৪-এ একে সহিহ বলেছেন।

(৭) "তোমরা সালাতে সুতরা গ্রহণ করো, এমনকি একটি তীরের মাধ্যমে হলেও।" যয়িফ আল-জামি '৮০১'; সহিহাহ '২৭৮৩'-এ একে সহিহ বলেছেন।

(৮) "তোমরা মৃত প্রাণীর কোনো কিছু থেকেই উপকার গ্রহণ করো না।" যয়িফাহ '১১৮'; সহিহাহ '৩১৩৩'-এ একে সহিহ বলেছেন।

(৯) "তোমরা কন্যা সন্তানদের অপছন্দ করো না, কেননা তারা অত্যন্ত স্নেহময়ী ও মূল্যবান।" যয়িফ আল-জামি '৬২৬৮' ও যয়িফাহ '৪৭৯৩'; সহিহাহ '৩২০৬'-এ একে সহিহ বলেছেন।

(১০) "পবিত্রতা অর্জনের সময় আঙুলের ফাঁকগুলো অবশ্যই ভালো করে ধৌত করবে, অন্যথায় সেগুলোকে আগুন গ্রাস করবে।" যয়িফ আল-জামি '৪৬৬০' ও যয়িফাহ ৪৩০১; সহিহাহ '৩৪৮৯'-এ একে সহিহ বলেছেন।

(১১) "দুনিয়াতে জান্নাতের কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই তিনটি জিনিস ছাড়া: আজওয়া খেজুরের চারা, (হাজরে আসওয়াদ) পাথর এবং জান্নাত থেকে প্রতিদিন ফোরাত নদীতে অবতীর্ণ হওয়া বরকতের পরিমাণ।" যয়িফ আল-জামি ৪৯২৭ ও যয়িফাহ ১৬০০; সহিহাহ ৩১১১-এ একে সহিহ বলেছেন।

(১২) "তোমাদের কেউ যখন কুরবানি করে, তখন সে যেন তার কুরবানির গোশত থেকে খায়।" যয়িফ আল-জামি ৫৮১; সহিহাহ '৩৫৬৩'-এ একে সহিহ বলেছেন।

সতর্কতা: শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) যয়িফ আল-জামি '৫৮১'-তে উল্লেখ করেছেন যে হাদিসটি যয়িফাহ-এর '২৬৩২' নম্বরে রয়েছে। কিন্তু উক্ত নম্বরে গিয়ে আমি এই হাদিসের শব্দাবলি খুঁজে পাইনি, বরং সেখানে পরবর্তী হাদিসটি ছিল: "তোমরা কি পাপাচারী ব্যক্তির মন্দ কাজ উল্লেখ করতে দ্বিধা করছো? তাকে উল্লেখ করো যাতে মানুষ তাকে চিনতে পারে।" বিষয়টি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষ!

(১৩) "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।" শায়খ 'নাকদু নুসুসিন হাদিসিয়্যাহ' পৃষ্ঠা ৪৫-এ একে ইনকিতা-এর (সনদ বিচ্ছিন্নতা) কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছিলেন, অতঃপর সহিহাহ '৩৩৩৭'-এ একে সহিহ বলেছেন।

"১৪" "তোমাদের কেউ যখন মলত্যাগ করবে, তখন সে যেন তিনবার মুছে পরিষ্কার করে।" যয়িফ আল-জামি ৪৩৫; সহিহাহ ৩৩১৬-এ সহিহ বলেছেন।

সতর্কতা: শায়খ যয়িফ আল-জামি ৪৩৫-এ উল্লেখ করেছেন যে হাদিসটি যয়িফাহ ২৪৬১-তে আছে, কিন্তু এই শব্দে সেখানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষ।

"১৫" "তিনি পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে, দুধ দোহন করার পর তার ইখতিয়ার (ফেরত দেওয়ার সুযোগ) থাকবে।" যয়িফ আল-জামি ৬০৬২ ও যয়িফাহ ৪৭২৬

এবং শায়খ সহিহাহ ৩২৩৬-তে এর একটি শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) উল্লেখ করেছেন যার শব্দ হলো: "তোমাদের কেউ যখন ছাগল বা দুগ্ধবতী উট বিক্রি করবে, তখন সে যেন তার ওলানে দুধ জমিয়ে না রাখে।" এবং তিনি বলেছেন যে এটি আনাস বর্ণিত "ওলানে দুধ জমিয়ে বিক্রি করা নিষেধ" হাদিসটির জন্য শক্তিশালী শাহিদ। সুতরাং এটি স্থানান্তর করা হোক।

"১৬" "তোমাদের ইসলামের পূর্ণতা হলো তোমাদের সম্পদের জাকাত আদায় করা।" যয়িফ আত-তারগিব - মাআরিফ সংস্করণ - ৪৫৭-৬; সহিহাহ ৩২৩২-এ সহিহ বলেছেন।

"১৭" "যখন তুমি তোমার সম্পদের জাকাত আদায় করলে, তখন তুমি তার অনিষ্ট দূর করলে।" যয়িফাহ ২২১৯, যয়িফ আল-জামি ৩১৩ ও সহিহ ইবনে খুজাইমা ২২৫৮। শায়খ যয়িফাহ-তে হাদিসটির তাখরিজের শেষে উল্লেখ করেছেন যে তিনি এর জন্য একটি হাসান সনদে শাহিদ পেয়েছেন এবং বলেছেন:

 

(এবং এর কারণেই আমি একে সহিহ আত-তারগিব - মাআরিফ - ৭৪৩-এ উল্লেখ করেছি, সুতরাং এর মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হয়ে গেল এবং একে সিলসিলা সহিহাহ-তে স্থানান্তর করা হবে।)

আমি (মুহাম্মদ) বলছি: আমি একে সিলসিলা সহিহাহ-তে খুঁজে পাইনি। আল্লাহই ভালো জানেন।

"১৮" "জেনে রেখো, তোমার রব তাবারাকা ওয়া তাআলা (বরকতময় ও সুউচ্চ) প্রশংসা পছন্দ করেন।" যয়িফাহ ২৯২২ এবং যয়িফ আল-জামিতে এর শব্দ হলো: "জেনে রেখো তোমার রব প্রশংসা পছন্দ করেন"। হাদিসটি শায়খ সহিহাহ ৩১৭৯-এ উল্লেখ করেছেন যার শব্দ হলো: "জেনে রেখো তোমার রব প্রশংসাসমূহ পছন্দ করেন" এবং তিনি বলেছেন, "আমি ইতিপূর্বে এর দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছিলাম।"
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২)
في تحريم الات الطرب ص 123 وجزمت بضعفه في ضعيف الادب "55-342 " ولم أكن وقفت حينذاك على متابعة الزهري لابن جدعان، فسبحان من قد أحاط بكل شيء علما والمعصوم من عصمه الله.

(19) إذا ظننتم فلا تحققوا، وإذا حسدتم فلا تبغوا، وإذا تطيرتم فامضوا، وعلى الله فتوكلوا، وإذا وزنتم فأرجحوا" ضعيف الجامع " 588، غاية المرام 302 و 418، وصححه في الصحيحة 3942

(20) اتقوا الله واعدلوا بين أولادكم، كما تحبون أن يبروكم " ضعيف الجامع 121،وصححه في الصحيحة 3946

(21) إنما بعثت معلما " الضعيفة 11، وصححه في الصحيحة 3593، قال الشيخ رحمه الله في نهاية تخريج الحديث،وقوله في آخر الحديث: ولكن بعثت معلما ميسرا: فيه شاهد لا بأس به لحديث ابن عمر بلفظ " إنما بعثت معلما " وقد كنت خرجته في الضعيفة برقم 11.

(22) إذا صلى أحدكم فأحدث، فليمسك على أنفه، ثم لينصرف " ضعيف الجامع 566،وذكر الشيخ أنه في الضعيفة 2576 وعند الرجوع للرقم المذكور لم أجده، وصححه في الصحيحة 2976

(23) إن صاحب المكس في النار " ضعيف الجامع 1871، الترغيب 1-279، وصححه في الصحيحة 3405

(24) لو أن ما يقل ظفر مما في الجنة بدأ لتزخرفت له ما بين خوافق السماوات والارض ولو أن رجلا من أهل الجنة اطلع فبدا أساوره لطمس ضوؤه ضوء الشمس كما تطمس الشمس ضوع النجوم " المشكاة 5637، هداية الرواة 5563، رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب، قال الشيخ: أي ضعيف وهو كما قال،وصححه في الصحيحة (3396) (25) لما انتهينا الى بيت المقدس ليلة أسري بي قال جبريل بأصبعه فخرق بها الحجر وشد به البراق، ضعيف الجامع 4768، والمشكاة 5864، وصححه في الصحيحة 3487

(26) الحمام حرام على نساء أمتي " صحيح الترغيب طبعة المعارف رقم 165 والصحيحة 3439 وقال الشيخ فيها -أي الصحيحة -لقد توقفت برهة من الزمن عن تصحيح هذا الحديث....من يوم بدات تقسيم الترغيب صحيح وضعيف ومن ذلك خلت الطبعات الثلاث منه وذلك لاسباب كثيرة، فحذفته من ضعيف الترغيب ونقلته الى تجربة صحيح الترغيب.

(27) صنفان من أمتي لا يردان على الحوض ولا يدخلان الجنة:القدرية والمرجئة " ضعيف الجامع 3497 والضعيفة 3785، وصححه في الصحيحة 2748.

(28) أتاني جبريل في خضر تعلق به الدر " ضعيف الجامع 80، وصححه في الصحيحة 3485

 

(29) ترون ربكم عيانا " ظلال الجنة 461 اخرجه البخاري وغيره وحكم الشيخ على لفظ (عيانا) بانها منكرة او شاذة على الاقل، وفي الصحيحة 3056، ذكر الشيخ تحت الحديث (ما أشخص أبصاركم عني؟ قالوا: نظرنا الى القمر قال فكيف بكم إذا رأيتم الله جهرة؟) قال: وهذا شاهد قوي لحديث " إنكم سترون ربكم عيانا " وكنت حكمت عليه بالشذوذ والان فقد رجعت عن ذلك لهذا الشاهد االقوي.

(30) ستكون هجرة بعد هجرة، فخيار أهل الارض ألزمهم مهاجر إبراهيم ويبقى في الارض شرار أهلها تلفظهم أرضوهم، تقذرهم نفس الله، وتحشرهم النار مع القردة والخنازير " ضعيف الجامع 3259 والضعيفة 3697

وصححه في الصحيحة 3203.

(31) لا يخرج الرجلان يضربان الغائط، كاشفين عن عورتهما يتحدثان، فإن الله يمقت على ذلك " ضعيف الجامع "6336 والمشكاة 356 زضعيف أبي داود 4 -15، طبعة المعارف ،والحديث في صحيح الترغيب - المعارف - 155و156 وهو في الصحيحة 3120 ولفظه (إذا تغوط الرجلان فليتوار كل واحد منهما عن صاحبه ولا يتحدثان على طوفهما فإن الله يمقت على ذلك"

(32) إذا ذبح أحدكم فليجهز " ضعيف الجامع 494 وغاية المرام 39وابن ماجه وغيرهم وصححه في الصحيحة3130وصحيح الترغيب 1076

(33) أصاب الله بك يا ابن الخطاب " ضعيف ابي داود -المعارف " 215-1007 " والمشكاة 972، وصححه في الصحيحة 3173،وانظر الصحيحة 2549

(34) ضحك ربنا من قنوط عباده وقرب غيره قال أبو رزين: يا رسول الله ويضحك ربنا؟ قال نعم، قال لن نعدم من رب يضحك خيرا " السنة لابن ابي عاصم 554 وصححه في الصحيحة 2810

(35) إني أرى ما لا ترون،وأسمع ما لا تسمعون ، أطت السماء وحق لها ان تئط ما فيها موضع أربع أصابع إلا وملك واضع جبهته لله ساجدا والله لو تعلمون ما اعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا وما تلذذتم بالنساء على الفرش ن ولخرجتم الى الصعدات تجأرون الى الله " الضعيفة 1780، انظر الصحيحة 1722 وكتاب النصيحة ص " 244- 245 -246 "والصحيحة 852 و1060 و3194.
'বাদ্যযন্ত্রের নিষিদ্ধতা' গ্রন্থের ১২৩ পৃষ্ঠায় এবং আমি 'দাঈফ আল-আদাব' (৫৫-৩৪২) এ এর দুর্বলতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিলাম। সে সময় ইবনে জুদআনের বর্ণনায় যুহরীর সমর্থিত বর্ণনার (মুতাবায়াত) ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। সুতরাং সেই সত্তা পবিত্র, যিনি স্বীয় জ্ঞান দ্বারা সবকিছু পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। আর মাসুম বা নিষ্পাপ সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ রক্ষা করেন।

(১৯) যখন তোমাদের মনে কোনো ধারণা তৈরি হয়, তখন তা যাচাই করো না; যখন তোমরা হিংসা করো, তখন সীমা লঙ্ঘন করো না; যখন তোমরা অশুভ লক্ষণ দেখো, তখন পথ চলে যাও (পিছপা হয়ো না) এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো। আর যখন তোমরা ওজন করো, তখন বেশি করে দাও। (দাঈফ আল-জামি ৫৪৪, গায়াতুল মারাম ৩০২ ও ৪১৮; এবং তিনি একে আস-সহীহাহ ৩৯৪২-এ সহীহ বলেছেন)।

(২০) তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো, যেমনটা তোমরা পছন্দ করো যে তারা তোমাদের প্রতি সদাচরণ করুক। (দাঈফ আল-জামি ১২১, এবং তিনি একে আস-সহীহাহ ৩৯৪৬-এ সহীহ বলেছেন)।

(২১) নিশ্চয়ই আমাকে কেবল একজন শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। (আদ-দাঈফাহ ১১, এবং তিনি একে আস-সহীহাহ ৩৫৯৩-এ সহীহ বলেছেন। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসটির তাহরীজের শেষে বলেছেন: হাদিসের শেষে তাঁর উক্তি: "কিন্তু আমাকে একজন সহজকারী শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে"—এতে ইবনে উমরের বর্ণিত 'নিশ্চয়ই আমাকে কেবল একজন শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে' শব্দসম্বলিত হাদিসের একটি গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য (শাহিদ) রয়েছে। অথচ আমি ইতিপূর্বে এটি আদ-দাঈফাহ-তে ১১ নম্বর ক্রমিকে বর্ণনা করেছিলাম)।

(২২) যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায়কালে অজু নষ্ট করে (বায়ু ত্যাগ করে), সে যেন তার নাক ধরে (সালাত থেকে) ফিরে যায়। (দাঈফ আল-জামি ৫৬৬। শায়খ উল্লেখ করেছেন যে এটি আদ-দাঈফাহ ২৫৭৬-এ আছে, কিন্তু উল্লেখিত নম্বরে ফিরে গিয়ে আমি তা পাইনি। তিনি একে আস-সহীহাহ ২৯৭৬-এ সহীহ বলেছেন)।

(২৩) নিশ্চয়ই অবৈধ কর আদায়কারী জাহান্নামে যাবে। (দাঈফ আল-জামি ১৮৭১, আত-তারগীব ১-২৭৯; তিনি একে আস-সহীহাহ ৩৪০৫-এ সহীহ বলেছেন)।

(২৪) যদি জান্নাতের এমন সামান্য বস্তু যা একটি নখের সমান, তা দুনিয়াতে প্রকাশিত হতো, তবে আসমান ও জমিনের দিগন্তের মধ্যবর্তী সব কিছু তার জন্য সুশোভিত হয়ে যেত। আর জান্নাতী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কোনো পুরুষ যদি উঁকি দিত এবং তার হাতের কঙ্কন প্রকাশিত হতো, তবে তার আলো সূর্যের আলোকে তেমনিভাবে মিটিয়ে দিত যেমনভাবে সূর্যের আলো নক্ষত্রের আলোকে মিটিয়ে দেয়। (মিশকাত ৫৬৩৭, হিদায়াতুর রুওয়াত ৫৫৬৩। তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি অপরিচিত (গারীব) হাদিস। শায়খ বলেন: অর্থাৎ এটি দুর্বল এবং বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন। এরপর তিনি একে আস-সহীহাহ (৩৩৯৬)-এ সহীহ বলেছেন)।

(২৫) মিরাজের রাতে যখন আমরা বায়তুল মাকদাসে পৌঁছালাম, তখন জিবরাঈল তাঁর আঙুল দিয়ে পাথরটি ছিদ্র করলেন এবং তাতে বোরাকটিকে বাঁধলেন। (দাঈফ আল-জামি ৪৭৬৮ এবং মিশকাত ৫৮৬৪; তিনি একে আস-সহীহাহ ৩৪৮৭-এ সহীহ বলেছেন)।

(২৬) আমার উম্মতের নারীদের জন্য গণস্নানাগারে (হামাম) যাওয়া হারাম। (সহীহ আত-তারগীব, মাআরিফ সংস্করণ ১৬৫ এবং আস-সহীহাহ ৩৪৩৯। শায়খ আস-সহীহাহ-তে বলেছেন—অর্থাৎ সহীহাহ-তে—আমি দীর্ঘ সময় এই হাদিসটিকে সহীহ বলা থেকে বিরত ছিলাম... যে দিন থেকে আমি আত-তারগীব-কে সহীহ ও দাঈফ হিসেবে ভাগ করতে শুরু করেছি। এ কারণে তিনটি সংস্করণে এটি ছিল না। এর অনেক কারণ রয়েছে। পরে আমি একে দাঈফ আত-তারগীব থেকে বাদ দিয়ে সহীহ আত-তারগীব-এর পরীক্ষামূলক পাণ্ডুলিপিতে স্থানান্তরিত করেছি)।

(২৭) আমার উম্মতের দুটি দল হাউজে (কাউসারে) আসবে না এবং জান্নাতেও প্রবেশ করবে না: কাদারিয়া এবং মুরজিয়া। (দাঈফ আল-জামি ৩৪৯৭ এবং আদ-দাঈফাহ ৩৭৮৫; তিনি একে আস-সহীহাহ ২৭৪৮-এ সহীহ বলেছেন)।

(২৮) জিবরাঈল আমার কাছে এমন সবুজ পোশাকে আসলেন যাতে মুক্তা ঝুলছিল। (দাঈফ আল-জামি ৮০; তিনি একে আস-সহীহাহ ৩৪৮৫-এ সহীহ বলেছেন)।

 

(২৯) তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে সচক্ষে দেখতে পাবে। (যিলালুল জান্নাহ ৪৬১। ইমাম বুখারী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। শায়খ 'عيانا' (সচক্ষে) শব্দটির ওপর হুকুম লাগিয়েছিলেন যে এটি আপত্তিকর (মুনকার) বা অন্ততপক্ষে বিচ্ছিন্ন (শায)। কিন্তু আস-সহীহাহ ৩০৫৬-তে শায়খ হাদিসটির নিচে উল্লেখ করেছেন: "কী তোমাদের দৃষ্টিকে আমার দিক থেকে সরিয়ে দিল? তারা বলল: আমরা চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। তিনি বললেন: তখন তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমরা আল্লাহকে স্পষ্টভাবে দেখবে?" শায়খ বলেন: এটি 'তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে সচক্ষে দেখতে পাবে' হাদিসের জন্য একটি শক্তিশালী সাক্ষ্য (শাহিদ)। আমি আগে একে শায হওয়ার হুকুম দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন এই শক্তিশালী সাক্ষ্যের কারণে আমি সেই মত থেকে ফিরে এসেছি)।

(৩০) হিজরতের পর হিজরত হতে থাকবে। জমিনের সর্বোত্তম ব্যক্তি হবে তারা যারা ইব্রাহিমের হিজরতস্থলকে (শাম দেশ) আঁকড়ে ধরবে। আর জমিনে অবশিষ্ট থাকবে নিকৃষ্টতম লোকেরা, যাদেরকে তাদের ভূমি উগড়ে দেবে, আল্লাহর নফস তাদের অপছন্দ করবে এবং আগুন তাদেরকে বানর ও শুকরের সাথে একত্রিত করবে। (দাঈফ আল-জামি ৩২৫৯ এবং আদ-দাঈফাহ ৩৬৯৭; তিনি একে আস-সহীহাহ ৩২০৩-এ সহীহ বলেছেন)।

(৩১) দুই ব্যক্তি মলত্যাগের জন্য বের হয়ে তাদের সতর উন্মুক্ত করে কথা বলবে না; কেননা আল্লাহ এতে রাগান্বিত হন। (দাঈফ আল-জামি ৬৩৩৬, মিশকাত ৩৫৬ এবং দাঈফ আবু দাউদ ৪-১৫, মাআরিফ সংস্করণ। হাদিসটি সহীহ আত-তারগীব - মাআরিফ - ১৫৫ ও ১৫৬ এবং আস-সহীহাহ ৩১২০-এ রয়েছে। এর শব্দ নিম্নরূপ: "যখন দুই ব্যক্তি মলত্যাগ করতে যায়, তখন তাদের প্রত্যেকে যেন তার সাথী থেকে আড়ালে থাকে এবং তারা যেন তাদের মলত্যাগের অবস্থায় কথা না বলে; কেননা আল্লাহ এতে রাগান্বিত হন")।

(৩২) যখন তোমাদের কেউ জবেহ করে, সে যেন দ্রুত (জবেহ সম্পন্ন) করে। (দাঈফ আল-জামি ৪৯৪, গায়াতুল মারাম ৩৯, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্য। তিনি একে আস-সহীহাহ ৩১৩০ এবং সহীহ আত-তারগীব ১০৭৬-এ সহীহ বলেছেন)।

(৩৩) হে খাত্তাবের পুত্র! আল্লাহ আপনাকে দিয়ে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছিয়েছেন। (দাঈফ আবু দাউদ - মাআরিফ ২১৫-১০০৭ এবং মিশকাত ৯৭২। তিনি একে আস-সহীহাহ ৩১৭৩-এ সহীহ বলেছেন; আস-সহীহাহ ২৫৪৯ দেখুন)।

(৩৪) আমাদের প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের নিরাশা এবং তাদের অবস্থার নিকটবর্তী পরিবর্তন দেখে হাসেন। আবু রাযিন বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের প্রতিপালক কি হাসেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (আবু রাযিন) বললেন: আমরা এমন প্রতিপালকের নিকট থেকে কল্যাণ লাভে বঞ্চিত হবো না যিনি হাসেন। (আস-সুন্নাহ ইবনে আবি আসিম ৫৫৪; তিনি একে আস-সহীহাহ ২৮১০-এ সহীহ বলেছেন)।

(৩৫) নিশ্চয়ই আমি তা দেখি যা তোমরা দেখ না এবং আমি তা শুনি যা তোমরা শোন না। আসমান চড়চড় শব্দ করছে এবং চড়চড় শব্দ করা তার জন্য সংগত; কারণ তাতে চার আঙুল পরিমাণ জায়গাও খালি নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে কপাল ঠেকিয়ে নেই। আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তবে তোমরা হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশি; আর বিছানায় তোমরা নারীদের সাথে আনন্দ উপভোগ করতে পারতে না এবং তোমরা উচ্চ ভূমিতে বেরিয়ে গিয়ে আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করতে। (আদ-দাঈফাহ ১৭৮০। আস-সহীহাহ ১৭২২, 'আন-নাসিহা' গ্রন্থ পৃ. ২৪৪-২৪৫-২৪৬ এবং আস-সহীহাহ ৮৫২, ১০৬০ ও ৩১৯৪ দেখুন)।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩)
(36) اللهم رب السموات السبع وما أظللن ورب الارضين السبع وما أقللن، ورب الشياطين وما أضللن، ورب الرياح وما ذرين، أسألك خير هذه القرية وخير أهلها وخير ما فيها، وأعوذ بك من شرها، وشر أهلها وشر ما فيها) الكلم الطيب " 178 ص 98 الطبعة الثالثة سنة 1397، أخرجه النسائي وغيره، قال الشيخ رحمه الله: كابن حبان والحاكم وصححاه ووافقهما الذهبي وفيه نظر! لان مداره على " ابي مروان والد عطاء " اورده الذهبي ي الميزان وقال: قال النسائي ليس بالمعروف، الخ، وفي طبعة المعارف ص 147، قال الشيخ ثم وجدت للحديث طريقا أخرى عن صهيب بسند صحيح وقد خرجت ذلك في الصحيحة 2759

(37) إن أعمالكم تعرض على أقاربكم وعشائركم من الاموات فإ ن كان خيرا استبشروا به، وان كان غير ذلك قالوا اللهم لا تمتهم حتى تهديهم كما هديتنا " الضعيفة 863 و864وضعيف الجامع 1396وهو في الصحيحة (2758)

(38) أفشي السلام وابذل الطعام واستحي من الله تعالى كما تستحي رجلا من رهطك ذا هيأةوليحسن خلقك واذا أسأت فأحسن فإن الحسنات يذهبن السيئات ضعيف الجامع 993وهو في الصحيحة 3559 بلفظ " أفشي السلام وابذل الطعام واستحي من الله استحياءك رجلا من أهلك واذا أسأت فأحسن ولتحسن خلقك ما استطعت.

(39) الولد (ثمرة القلب) وإنه مجبنة مبخلة محزنة " الضعيفة 4764 وضعيف الجامع 6165، وفي صحيح الجامع 7160، قال الشيخ: الحديث ثابت دون قوله (ثمرة القلب) ولذلك اوردته في صحيح الجامع 7160 ولكن فاتنا حذف هذه الزيادة فلتحذف.

(40) خصال ست، ما من مسلم يموت في واحدة منهن الا كان ضامنا على الله ان يدخله الجنة:رجل خرج مجاهدا فان مات في وجهه كان ضامنا على الله، ورجل تبع جنازة فان مات في وجهه كان ضامنا على الله، ورجل عاد مريضا فان مات في وجهه كان ضامنا على الله، ورجل توضأ فأحسن الوضوء ثم خرج الى المسجد لصلاة فإن مات في وجهه كان ضامنا على الله، ورجل أتى إماما لا يأتيه إلا ليعزره ويوقره فان مات في وجهه ذلك كان ضامنا على الله، ورجل في بيته لا يغتاب مسلما ولا يجر إليه سخطا ولا تبعة فإن مات على وجهه كان ضامنا على الله) ضعفه في (ضعيف الجامع) 2829وصححه في الصحيحة 3384

 

(41) إني لأجد نفس الرحمن من قبل اليمن " من حديث أبي هريرة، الضعيفة 1097،والحديث في الصحيحة 3367،بلفظ " إني لاجد نفس الرحمن من هنا - يشير الى اليمن -، قال الشيخ: واعلم أن هذا الحديث قد جاء في بعض طرقه زيادة اخرى بلفظ " عقر دار المؤمنين بالشام " وكنت خرجته في المجلد الرابع 1935- أي الصحيحة -فأعدت تخريجه هنا لحديث الترجمة مستدركا به على تخريجي اياه في الضعيفة 1097، لكن من حديث ابي هريرة، فهذا شاهد قوي له من حديث سلمة بن نفيل أوجب علي تخريجه هنا والتنبيه على أن الحديث صار به صحيحا والحمد لله على توفيقه وأسأله المزيد من فضله.

(42) سافروا تصحوا واغزوا تستغنوا " وفي لفظ " وتغنموا " الضعيفة 254 و 255 وضعيف الجامع 3212وصححه في الصحيحة 3352.

(43) أن الصدقة لتطفىء عن أهلها حر القبور وإنما يستظل المؤمن يوم القيامة في ظل صدقته " ضعيف الجامع 1488 والضعيفة 3021 وصححه في الصحيحة 3484.

(44) من تخطى رقاب الناس يوم الجمعة اتخذ جسرا الى جهنم " المشكاة 1392، وقال رواه الترمذي وقال حديث غريب، وهو في ضعيف الجامع 5516 وضعيف الترغيب - المعارف - 437 والحديث في الصحيحة 3122، بلفظ " لا تأكل متكئا ولا على غربال ولا تتخذن من المسجد مصلى لا تصلي الا فيه ولا تخط رقاب الناس يوم الجمعة فيجعلك الله لهم جسرا يوم القيامة " قال الشيخ:ولاكثر فقرات الحديث شواهد تؤكد ثبوته، ثم ذكر الشواهد لكل فقرة الى أن قال:

ثالثا: التخطي يوم الجمعة، شاهده حديث معاذ بن انس مرفوعا " من تخطى رقاب الناس … الخ، أخرجه الترمذي وغيره وقد تكلمت عليه - حديث الترمذي في المشكاة - بما يقتضي تضعيفه، فبهذا الشاهد يرتقي الى درجة الحسن ان شاء الله تعالى.

قلت – محمد -: وهو في هداية الرواة 1337.

(45) تسموا بأسماء الانبياء وأحب الاسماء الى الله عبد الله وعبد الرحمن، وأصدقها حارث وهمام، وأقبحها حرب ومرة " ضعيف الجامع 2435 والارواء 1178 والكلم الطيب 217، وصححه في الصحيحة 1040 وانظر الصحيحة 904 والكلم الطيب -المعارف -218وانظر مقدمة الكلم الطيب - المعارف - ص 5

(46) نهى أن يبال في قبلة المسجد " ضعيف الجامع 6005وهو في صحيح الجامع" 6813 -1، بلفظ " نهى أن يبال بأبواب المساجد " وانظر مقدمة صحيح الجامع ص 31، والحديث صححه بلفظيه في الصحيحة 2723

(47) السيوف مفاتيح الجنة " ضعيف الجامع 3376 وانظر الضعيفة 3740 المجلد الثامن ص 217، وصححه في الصحيحة 2672 وانظر صحيح الترغيب " 2- ص141 ، حاشية 4
(৩৬) হে আল্লাহ, সাত আসমানের রব এবং তা যা কিছুকে ছায়া দেয় তার রব, সাত জমিনের রব এবং তা যা কিছু বহন করে তার রব, শয়তানদের রব এবং তারা যাদের পথভ্রষ্ট করে তাদের রব, এবং বায়ুর রব এবং তা যা কিছু উড়িয়ে নেয় তার রব; আমি আপনার কাছে এই জনপদের কল্যাণ, এর অধিবাসীদের কল্যাণ এবং এতে যা রয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি, এবং আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট, এর অধিবাসীদের অনিষ্ট এবং এতে যা রয়েছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। "আল-কালিমুত তাইয়িব" ১৭৮, পৃষ্ঠা ৯৮, তৃতীয় সংস্করণ, ১৩৯৭ সাল। এটি নাসাঈ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যেমন ইবনে হিব্বান ও হাকেম, এবং তাঁরা একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁদের সাথে একমত হয়েছেন, তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে! কারণ এর বর্ণনাসূত্র আবর্তিত হয়েছে "আবু মারওয়ান, আতার পিতা" এর ওপর। যাহাবী একে 'আল-মিজান'-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: নাসাঈ বলেছেন তিনি পরিচিত নন, ইত্যাদি। আর মা'আরিফ সংস্করণের ১৪৭ পৃষ্ঠায় শাইখ বলেছেন, এরপর আমি সোহাইব থেকে এই হাদিসের আরেকটি সূত্র পেয়েছি যার সনদ সহীহ এবং আমি সেটি 'আস-সহীহাহ' ২৭৫৯-এ বর্ণনা করেছি।

(৩৭) তোমাদের আমলসমূহ তোমাদের মৃত আত্মীয়-স্বজন ও বংশধরদের সামনে পেশ করা হয়। যদি তা ভালো হয় তবে তারা তাতে আনন্দিত হয়, আর যদি তা অন্যরূপ (মন্দ) হয় তবে তারা বলে: হে আল্লাহ, আপনি তাদের ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু দেবেন না যতক্ষণ না তাদের হেদায়েত দান করেন, যেমন আপনি আমাদের হেদায়েত দান করেছেন। "আদ-দায়িফাহ" ৮৬৩ ও ৮৬৪ এবং "দায়িফুল জামি" ১৩৯৬। আর এটি "আস-সহীহাহ" (২৭৫৮)-তে রয়েছে।

(৩৮) সালাম প্রচার করো, খাদ্য দান করো এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তেমন লজ্জা করো যেমন তুমি তোমার গোত্রের কোনো মর্যাদাবান ব্যক্তিকে দেখে লজ্জা পাও, আর তোমার চরিত্রকে সুন্দর করো। যখন তুমি কোনো মন্দ কাজ করবে তখন (তার পরিবর্তে) ভালো কাজ করো, কেননা পুণ্যসমূহ পাপসমূহকে মিটিয়ে দেয়। "দায়িফুল জামি" ৯৯৩। আর এটি "আস-সহীহাহ" ৩৫৫৯-এ এই শব্দে রয়েছে: "সালাম প্রচার করো, খাদ্য দান করো এবং আল্লাহর কাছে এমনভাবে লজ্জা করো যেমন তুমি তোমার পরিবারের কোনো ব্যক্তিকে দেখে লজ্জা পাও। আর যখন তুমি কোনো মন্দ কাজ করবে তখন ভালো কাজ করো এবং তোমার চরিত্রকে যথাসাধ্য সুন্দর করো।"

(৩৯) সন্তান (হৃদয়ের ফল) এবং তা কাপুরুষতা, কৃপণতা ও দুঃখের কারণ। "আদ-দায়িফাহ" ৪৭৬৪ এবং "দায়িফুল জামি" ৬১৬৫। আর "সহীহুল জামি" ৭১৬০-এ শাইখ বলেছেন: হাদিসটি (হৃদয়ের ফল) বাক্যটি ছাড়াই সাব্যস্ত। একারণেই আমি এটি "সহীহুল জামি" ৭১৬০-এ উল্লেখ করেছি, কিন্তু এই বর্ধিত অংশটুকু বাদ দিতে আমরা ভুলে গিয়েছিলাম, তাই তা যেন বাদ দেওয়া হয়।

(৪০) ছয়টি বৈশিষ্ট্য এমন যে, কোনো মুসলিম এর যেকোনো একটি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা লাভ করবে: এমন ব্যক্তি যে মুজাহিদ হিসেবে বের হয়েছে, অতঃপর সে সেই পথেই মৃত্যুবরণ করল, সে আল্লাহর জিম্মায় (জান্নাতে প্রবেশ করবে); এমন ব্যক্তি যে জানাজার অনুসরণ করল, অতঃপর সে সেই পথেই মৃত্যুবরণ করল, সে আল্লাহর জিম্মায়; এমন ব্যক্তি যে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেল, অতঃপর সে সেই পথেই মৃত্যুবরণ করল, সে আল্লাহর জিম্মায়; এমন ব্যক্তি যে সুন্দরভাবে ওযু করল অতঃপর সালাতের জন্য মসজিদের দিকে বের হলো, অতঃপর সে সেই পথেই মৃত্যুবরণ করল, সে আল্লাহর জিম্মায়; এমন ব্যক্তি যে কোনো ইমামের কাছে কেবল তাকে সাহায্য ও সম্মান প্রদর্শনের জন্যই এলো, অতঃপর সে সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল, সে আল্লাহর জিম্মায়; এবং এমন ব্যক্তি যে তার ঘরে অবস্থান করে, কোনো মুসলিমের গীবত করে না এবং নিজের দিকে কোনো অসন্তুষ্টি বা দায় টেনে আনে না, সে যদি সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তবে সে আল্লাহর জিম্মায়। এটি "দায়িফুল জামি" ২৮২৯-এ দুর্বল বলা হয়েছে এবং "আস-সহীহাহ" ৩৩৮৪-এ সহীহ বলা হয়েছে।

 

(৪১) নিশ্চয়ই আমি ইয়ামেনের দিক থেকে আল্লাহর নিশ্বাস অনুভব করছি। আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস হতে, "আদ-দায়িফাহ" ১০৯৭। আর হাদিসটি "আস-সহীহাহ" ৩৩৬৭-এ এই শব্দে রয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি এখান থেকে আল্লাহর নিশ্বাস অনুভব করছি—তিনি ইয়ামেনের দিকে ইশারা করেন—।" শাইখ বলেছেন: জেনে রাখুন যে, এই হাদিসের কোনো কোনো সূত্রে আরেকটি বর্ধিত অংশ এসেছে যার শব্দ হলো "মুমিনদের মূল আবাসস্থল সিরিয়ায় (শাম)"। আমি এটি চতুর্থ খণ্ডে ১৯৩৫-এ (অর্থাৎ আস-সহীহাহ) বর্ণনা করেছিলাম, অতঃপর এখানে মূল হাদিসটি পর্যালোচনার সময় পুনরায় বর্ণনা করেছি যা "আদ-দায়িফাহ" ১০৯৭-এর বর্ণনার পরিপূরক। তবে এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। সালামাহ বিন নুফাইল বর্ণিত হাদিস থেকে এর একটি শক্তিশালী সাক্ষী পাওয়া যায়, যা আমাকে এখানে এটি বর্ণনা করতে এবং এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য করেছে যে, হাদিসটি এর মাধ্যমে সহীহ স্তরে উন্নীত হয়েছে। আল্লাহর তওফীকের জন্য সকল প্রশংসা তাঁরই এবং আমি তাঁর কাছে আরও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

(৪২) তোমরা সফর করো তবে সুস্থ থাকবে এবং যুদ্ধ করো তবে অভাবমুক্ত হবে। অন্য শব্দে রয়েছে: "এবং গনীমত লাভ করবে।" "আদ-দায়িফাহ" ২৫৪ ও ২৫৫ এবং "দায়িফুল জামি" ৩২১২। একে "আস-সহীহাহ" ৩৩৫২-তে সহীহ বলা হয়েছে।

(৪৩) নিশ্চয়ই দান সদকা তার প্রদানকারীর পক্ষ থেকে কবরের উত্তাপ নিভিয়ে দেয়। আর মুমিন কিয়ামতের দিন কেবল তার সদকার ছায়াতলে অবস্থান করবে। "দায়িফুল জামি" ১৪৮৮ এবং "আদ-দায়িফাহ" ৩০২১। একে "আস-সহীহাহ" ৩৪৮৪-তে সহীহ বলা হয়েছে।

(৪৪) যে ব্যক্তি জুমার দিন মানুষের ঘাড় টপকে সামনে গেল, সে জাহান্নামের দিকে একটি সেতু নির্মাণ করল। "মিশকাত" ১৩৯২; তিনি বলেন, এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি গরীব হাদিস। এটি "দায়িফুল জামি" ৫৫১৬ এবং "দায়িফুত তারগীব (মা'আরিফ)" ৪৩৭-এ রয়েছে। আর হাদিসটি "আস-সহীহাহ" ৩১২২-এ এই শব্দে রয়েছে: "তুমি হেলান দিয়ে খেয়ো না, চালুনির ওপর রেখে খেয়ো না, আর মসজিদের কোনো নির্দিষ্ট জায়গাকে সালাতের স্থান বানিও না যেখানে কেবল তুমিই সালাত আদায় করো, আর জুমার দিন মানুষের ঘাড় টপকে সামনে যেয়ো না, নতুবা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে তাদের জন্য সেতু বানিয়ে দেবেন।" শাইখ বলেছেন: হাদিসের অধিকাংশ বাক্যের সপক্ষে এমন সাক্ষী রয়েছে যা এর সাব্যস্ত হওয়াকে নিশ্চিত করে। এরপর তিনি প্রতিটি বাক্যের জন্য সাক্ষীসমূহ উল্লেখ করে বলেন:

তৃতীয়ত: জুমার দিন ঘাড় টপকানো। এর সাক্ষী হলো মুয়াজ বিন আনাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: "যে ব্যক্তি মানুষের ঘাড় টপকে গেল..." ইত্যাদি। এটি তিরমিজি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। মিশকাতের তিরমিজির হাদিসটির ওপর আমি এমন আলোচনা করেছি যা একে দুর্বল সাব্যস্ত করার দাবি রাখে। তবে এই সাক্ষীর মাধ্যমে এটি ইনশাআল্লাহ হাসান স্তরে উন্নীত হবে।

আমি (মুহাম্মদ) বলছি: এটি "হিদায়াতুর রুওয়াত" ১৩৩৭-এ রয়েছে।

(৪৫) তোমরা নবীদের নামে নাম রাখো। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান, আর সবচেয়ে সত্য নাম হলো হারিস ও হাম্মাম, আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হলো হারব ও মুররাহ। "দায়িফুল জামি" ২৪৩৫, "ইরওয়াউল গালীল" ১১৭৮ এবং "আল-কালিমুত তাইয়িব" ২১৭। একে "আস-সহীহাহ" ১০৪০-এ সহীহ বলা হয়েছে। দেখুন "আস-সহীহাহ" ৯০৪ এবং "আল-কালিমুত তাইয়িব (মা'আরিফ)" ২১৮ এবং "আল-কালিমুত তাইয়িব (মা'আরিফ)"-এর ভূমিকা পৃষ্ঠা ৫।

(৪৬) মসজিদের কিবলার দিকে প্রস্রাব করতে নিষেধ করা হয়েছে। "দায়িফুল জামি" ৬০০৫। এটি "সহীহুল জামি" ৬৮১৩-১-এ এই শব্দে রয়েছে: "মসজিদের দরজাসমূহে প্রস্রাব করতে নিষেধ করা হয়েছে।" দেখুন "সহীহুল জামি"-এর ভূমিকা পৃষ্ঠা ৩১। শাইখ হাদিসটি উভয় শব্দেই "আস-সহীহাহ" ২৭২৩-এ সহীহ বলেছেন।

(৪৭) তলোয়ারসমূহ হলো জান্নাতের চাবিকাঠি। "দায়িফুল জামি" ৩৩৭৬ এবং দেখুন "আদ-দায়িফাহ" ৩৭৪০, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৭। একে "আস-সহীহাহ" ২৬৭২-এ সহীহ বলা হয়েছে। আরও দেখুন "সহীহুত তারগীব" ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪১, টীকা ৪।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৪)
(48) " إن كنت تحبني فأعد للفقر تجفافا" الضعيفة 1681، والحديث صححه في الصحيحة 2827، بلفظ " استعد للفاقة قاله لرجل قال إني أحبك " وانظر الصحيحة 2828 وكتاب النصيحة ص14- 15

 

(49) الفخذ عورة " الثمر المستطاب ص 264، ثم تحدث الشيخ عن علل الحديث حتى قال ص 272 فثبت بما ذكرنا صواب من قول من أعل الحديث بالانقطاع وأنه ضعيف غير صالح للاحتجاج به، وفي الارواء " 1 - ص 297 - 302 تحت حديث 269، ذكر الشيخ عدة شواهد عن جمع من الصحابة وقال فمثلها مما يطمئن القلب لصحة الحديث، وانظر تمام المنة " ص 160 " وانظر صحيح الجامع " 4157 و 4158 و 4280 " والمشكاة (3112- 3114)

(50) رش على قبر ابنه إبراهيم الماء " ضعفه في إرواء الغليل "755 " وصححه في الصحيحة 3045

(51) من قال لا اله الا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد يحيي ويميت، وهو على كل شيء قدير، عشر مرات كان له بعدل نسمة " ضعيف الجامع، وذكر الشيخ في الحاشية أنه أورده هنا - أى ضعيف الجامع - من أجل زيادة -يحيي ويميت - وقال: والا فهو صحيح بدونها ولذا أوردته في الصحيح - صحيح الجامع - 6436، وصححه في الصحيحة 114،وانظر الضعيفة تحت رقم 3276،وانظر صحيح الترغيب الاحاديث476و477.

(52) إن الله جعل هذه الاهلة مواقيت ، فإذا رأيتموه فصوموا وإذا رأيتموه فافطروا، فإن غم عليكم فعدوا ثلاثين " ضعيف الجامع 1595 والارواء 902، وفي صحيح الجامع " 3039، قال الشيخ في الهامش:لفظه عند " ك "

" إن الله قد جعل الاهلة مواقيت) وكذلك هو عند "هق " وقد مضى الحديث في الضعيف - ضعيف الجامع - 1595 من طريق اخر ضعيف، فلينقل الى الصحيح لهذا الشاهد القوي.

 

(53) ما من مؤمن يعزي أخاه في مصيبته الا كساه الله سبحانه من حلل الكرامة يوم القيامة " أخرجه ابن ماجه وانظرالارواء 764والضعيفة 610 والتعليقات الرضية 481-1،وصححه في الصحيحة 195وانظر الترغيب 3508

(54) " أعطيت ما لم يعط أحد من الانبياء فقلنا ما هو يا رسول الله؟ فقال: نصرت بالرعب، وأعطيت مفاتيح الارض، وسميت أحمد، وجعلت لي التراب طهورا، وجعلت أمتي خير الامم " الارواء تحت الحديث 285 ص317،

الشاهد " 8 " من حديث علي رضي الله عنه، قال الشيخ أخرجه البيهقي بسند فيه ضعف وفيه اضطراب بينه ابن ابي حاتم، والحديث صححه في الصحيحة 3939.

(55) قال الله تعالى: افترضت على أمتك خمس صلوات، وعهدت عندي عهدا، أنه من حافظ عليهن لوقتهن، أدخلته الجنة، ومن لم يحافظ عليهن فلا عهد له عندي " اخرجه ابن ماجه، ضعيف الجامع 4045، وصححه في (الصحيحة " 4033 "، وانظر (صحيح أبي داود 415)

(56) من صلى على جنازة في المسجد فلا شيء له " الثمر المستطاب ص 766-767، انظر الصحيحة 2351

(57) قد عفوت عن الخيل والرقيق، فهاتوا صدقة الرقة، من كل أربعين درهما درهم، وليس في تسعين ومائة شيء، فإذا بلغت مائتين، ففيها خمسة دراهم، فما زاد فعلى حساب ذلك. وفي الغنم في كل أربعين شاة شاة، فإن لم يكن إلا تسع وثلاثون فليس عليك فيها شيء. وفي البقر في كل ثلاثين تبيع، وفي الأربعين سنة، وليس في العوامل شيء. وفي خمس وعشرين من الإبل خمسة من الغنم؛ فإذا زادت واحدة ففيها ابنة مخاض، فإن لم تكن ابنة مخاض؛ فابن لبون ذكر، إلى خمس وثلاثين، فإذا زادت واحدة ففيها بنت لبون إلى خمس وأربعين، فإذا زادت واحدة ففيها حقة طروقة الجمل، إلى ستين، فإذا كانت واحدة وتسعين، ففيها حقتان طروقتا الجمل، إلى عشرين ومائة، فإن كانت الإبل أكثر من ذلك، ففي كل خمسين حقة. ولا يفرق بين مجتمع، ولا يجمع بين متفرق خشية الصدقة. ولا يؤخذ في الصدقة هرمة، ولا ذات عوار، ولا تيس إلا أن يشاء المصدق. وفي النبات ما سقته الأنهار أو سقت السماء العشر، وما سقي بالغرب، ففيه نصف العشر " ضعيف الجامع 4078، وانظر صحيح الجامع4375-1،والمشكاة = هداية الرواة 1740، وانظر صحيح أبي داود 1392
(৪৮) "যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো, তবে দারিদ্র্যের জন্য বর্ম প্রস্তুত করো।" যঈফাহ ১৬৮১, এবং হাদীসটি সহীহাহ ২৮২৭-এ এই শব্দে সহীহ বলা হয়েছে: "অভাবের জন্য প্রস্তুতি নাও, তিনি এ কথাটি জনৈক ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে বলেছিল: আমি আপনাকে ভালোবাসি।" আরও দেখুন সহীহাহ ২৮২৮ এবং কিতাবুন নাসীহাহ পৃষ্ঠা ১৪-১৫।

 

(৪৯) "উরু সতর (লজ্জাস্থান)।" আস-সামারুল মুসতাতাব পৃষ্ঠা ২৬৪। অতঃপর শাইখ হাদীসটির ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং শেষে পৃষ্ঠা ২৭২-এ বলেছেন: "আমরা যা উল্লেখ করেছি তা দ্বারা সেই প্রবক্তার মতের সঠিকতা সাব্যস্ত হয়েছে যিনি হাদীসটিকে বিচ্ছিন্নতার (ইনকিতা) কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এবং এটি দুর্বল ও দলিল হিসেবে গ্রহণের অযোগ্য।" ইরওয়াউল গালীল-এর ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯৭-৩০২, হাদীস নং ২৬৯-এর অধীনে শাইখ একদল সাহাবী থেকে বেশ কিছু সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এরকম বর্ণনাগুলো হাদীসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে অন্তরকে আশ্বস্ত করে।" আরও দেখুন তামামুল মিন্নাহ পৃষ্ঠা ১৬০, সহীহুল জামি' ৪১৫৭, ৪১৫৮ ও ৪২৮০ এবং মিশকাত (৩১১২-৩১১৪)।

(৫০) "তিনি তাঁর পুত্র ইবরাহীমের কবরের ওপর পানি ছিটিয়েছিলেন।" ইরওয়াউল গালীল ৭৫৫-এ একে দুর্বল বলেছেন এবং সহীহাহ ৩০৪৫-এ একে সহীহ বলেছেন।

(৫১) "যে ব্যক্তি দশবার বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, তিনি জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান—এটি তার জন্য একটি দাস মুক্ত করার সমান হবে।" যঈফুল জামি'। শাইখ টীকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একে এখানে—অর্থাৎ যঈফুল জামি'-এ—উদ্ধৃত করেছেন "তিনি জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন" এই বর্ধিত অংশের কারণে। তিনি বলেছেন: "অন্যথায় এই অংশটি ছাড়া হাদীসটি সহীহ, একারণেই আমি একে সহীহুল জামি' ৬৪৩৬-এ উল্লেখ করেছি এবং সহীহাহ ১১৪-তে একে সহীহ বলেছি।" আরও দেখুন যঈফাহ হাদীস নং ৩২৭৬ এবং সহীহুত তারগীব হাদীস নং ৪৭৬ ও ৪৭৭।

(৫২) "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই নতুন চাঁদগুলোকে সময়ের নির্ধারক বানিয়েছেন। সুতরাং যখন তোমরা তা দেখবে তখন সিয়াম (রোজা) পালন করবে এবং যখন তা দেখবে তখন ইফতার করবে (রোজা ভাঙবে)। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে ত্রিশ দিন গণনা করো।" যঈফুল জামি' ১৫৯৫ এবং ইরওয়া ৯০২। সহীহুল জামি' ৩০৩৯-এ শাইখ পার্শ্বটীকায় বলেছেন: এর শব্দগুলো 'হা-কেম'-এর নিকট নিম্নরূপ—

"নিশ্চয়ই আল্লাহ চাঁদগুলোকে সময়ের নির্ধারক বানিয়েছেন।" অনুরূপভাবে এটি 'বায়হাকী'-এর নিকটও রয়েছে। হাদীসটি ইতিপূর্বে যঈফুল জামি' ১৫৯৫-এ অন্য একটি দুর্বল সূত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং এই শক্তিশালী সমর্থক বর্ণনার কারণে একে সহীহ-এর অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

 

(৫৩) "এমন কোনো মুমিন নেই যে তার ভাইকে বিপদে সান্ত্বনা দেয়, কিন্তু মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে সম্মানের পোশাক পরিধান করাবেন।" ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন ইরওয়া ৭৬৪, যঈফাহ ৬১০ এবং আত-তালীকাতুর রাদিয়্যাহ ১/৪৮১। সহীহাহ ১৯৫-এ একে সহীহ বলেছেন এবং দেখুন তারগীব ৩৫০৮।

(৫৪) "আমাকে এমন কিছু দান করা হয়েছে যা নবীদের মধ্যে আর কাউকে দেওয়া হয়নি। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন: আমাকে ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আমাকে পৃথিবীর চাবিকাঠিগুলো দেওয়া হয়েছে, আমার নাম রাখা হয়েছে আহমদ, মাটিকে আমার জন্য পবিত্রকারী করা হয়েছে এবং আমার উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত করা হয়েছে।" ইরওয়া, হাদীস ২৮৫-এর অধীনে, পৃষ্ঠা ৩১৭।

সমর্থক বর্ণনা "৮", আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস হতে। শাইখ বলেছেন: বায়হাকী এটি এমন এক সূত্রে বর্ণনা করেছেন যাতে দুর্বলতা ও অস্থিরতা (ইদতিরাব) রয়েছে যা ইবনে আবী হাতিম স্পষ্ট করেছেন। তবে হাদীসটি সহীহাহ ৩৯৩৯-এ সহীহ বলা হয়েছে।

(৫৫) আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তোমার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি এবং নিজের কাছে এই অঙ্গীকার করেছি যে, যে ব্যক্তি ওয়াক্তমতো সেগুলো নিয়মিত আদায় করবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি সেগুলো নিয়মিত আদায় করবে না, আমার কাছে তার কোনো অঙ্গীকার নেই।" ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন। যঈফুল জামি' ৪০৪৫, এবং সহীহাহ ৪০৩৩-এ একে সহীহ বলেছেন। আরও দেখুন সহীহ আবী দাউদ ৪১৫।

(৫৬) "যে ব্যক্তি মসজিদে জানাজার সালাত আদায় করবে, তার জন্য কোনো সওয়াব নেই।" আস-সামারুল মুসতাতাব পৃষ্ঠা ৭৬৬-৭৬৭, দেখুন সহীহাহ ২৩৫১।

(৫৭) "আমি ঘোড়া ও গোলামের (জাকাত) ক্ষমা করে দিয়েছি। সুতরাং তোমরা রৌপ্য মুদ্রার জাকাত দাও, প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম। একশ নব্বই দিরহামে কিছু নেই, যখন তা দুইশ দিরহামে পৌঁছাবে তখন তাতে পাঁচ দিরহাম জাকাত। যা বৃদ্ধি পাবে তা এই হিসেবেই হবে। আর ছাগলের ক্ষেত্রে প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল; যদি উনচল্লিশটি হয় তবে তাতে তোমার ওপর কিছু নেই। গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ত্রিশটিতে এক বছর বয়সী বাছুর, এবং চল্লিশটিতে দুই বছর বয়সী গাভী, আর কাজে ব্যবহৃত পশুর ওপর কিছু নেই। উটের ক্ষেত্রে পঁচিশটিতে পাঁচটি ছাগল; যখন একটি বৃদ্ধি পাবে তাতে এক বছর বয়সী মাদি উট; যদি এক বছর বয়সী মাদি উট না থাকে তবে দুই বছর বয়সী নর উট, পঁয়ত্রিশটি পর্যন্ত। যখন একটি বৃদ্ধি পাবে তাতে দুই বছর বয়সী মাদি উট পঁয়তাল্লিশটি পর্যন্ত। যখন একটি বৃদ্ধি পাবে তাতে তিন বছর বয়সী মাদি উট যা উটের সাথে মিলনের যোগ্য, ষাটটি পর্যন্ত। যখন একানব্বইটি হবে তখন তাতে দুটি তিন বছর বয়সী মাদি উট যা উটের সাথে মিলনের যোগ্য, একশ বিশটি পর্যন্ত। যদি উট এর চেয়ে বেশি হয়, তবে প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি তিন বছর বয়সী মাদি উট। জাকাতের ভয়ে (মালিকদের) একত্রিত মাল আলাদা করা যাবে না এবং আলাদা মাল একত্রিত করা যাবে না। জাকাত হিসেবে অতি বৃদ্ধ পশু, ত্রুটিযুক্ত পশু এবং প্রজননের জন্য ব্যবহৃত পাঠা নেওয়া হবে না, তবে জাকাত আদায়কারী চাইলে ভিন্ন কথা। আর জমিতে যা নদী বা আকাশ (বৃষ্টির পানি) দিয়ে সেচ করা হয় তাতে দশমাংশ, আর যা বালতি দিয়ে সেচ করা হয় তাতে বিশ ভাগের এক ভাগ।" যঈফুল জামি' ৪০৭৮, আরও দেখুন সহীহুল জামি' ৪৩৭৫-১, মিশকাত = হিদায়াতুর রুওয়াত ১৭৪০ এবং সহীহ আবী দাউদ ১৩৯২।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৫)
(58) أما إني سأحدثكم ما حبسني عنكم الغداة، إني قمت فتوضأت وصليت ما قدر لي، ونعست في صلاتي حتى استثقلت فإذا أنا بربي تبارك وتعالى في أحسن صورة، قال: يا محمد، قلت: لبيك ربي، قال: فيم يختصم الملأ الاعلى؟ قلت:لا أدري، قالها ثلاثا - فرأيته وضع كفه بين كتفي، فوجدت برد أنامله بين ثديي فتجلى لي كل شيءوعرفت، فقال: يا محمد قلت: لبيك، قال: فيم يختصم الملأ الأعلى؟ قلت: في الكفارات، قال: ما هن؟ قلت: مشي الأقدام إلى الحسنات، والجلوس في المساجد بعد الصلوات، وإسباغ الوضوء حين المكروهات، قال: وفيم؟ قلت: في إطعام الطعام، ولين الكلام، والصلاة والناس نيام، قال: سل، قلت: اللهم إني أسألك فعل الخيرات، وترك المنكرات وحب المساكين، وأن تغفر لي وترحمني، وإذا أردت فتنة في قوم فتوفني غير مفتون، أسألك حبك، وحب من يحبك، وحب عمل يقربني إلى حبك، إنها حق، فادرسوها، ثم تعلموها."أخرجه الترمذي وغيره، ضعيف الجامع 1233،وانظر صحيح الجامع 59 وهداية الرواة 693

وصحيح الترغيب 408وانظر الصحيحة 3169

(59) ثلاث لا ترد دعوتهم: الصائم حتى يفطر، والامام العادل، ودعوة المظلوم " الكلم الطيب - الطبعة الثالثة -

قال الترمذي " حديث حسن " قال الشيخ: وكذا قال الحافظ وفيه نظر عندي لان مداره على ابي مدلة، قال الذهبي: لا يعرف.،وفي سنن الترمذي -3598 - قال الشيخ ضعيف لكن صح منه الشطر الاول بلفظ المسافر مكان "الامام العادل " وفي رواية الوالد، وانظر ابن ماجه -1752 - والكلم الطيب - المعارف - 163 -والصحيحة 596

(60) " وصلاها -يعني الفجر - بالروم " تمام المنة ص 180، قال الشيخ: لم يثبت هذا ، أخرجه النسائي -947-

واحمد، وفي صفة صلاة النبي -المعارف- ص 110، قال الشيخ: رواه النسائي واحمد والبزار بسند جيد، هذا الذي استقر عليه الرأي أخيرا خلافا لما ذكرته في تمام المنة وغيره فليعلم وانظر المشكاة 295

(61) من هجر أخاه سنة، فهو كسفك دمه " المشكاة 5036، قال الشيخ اسناده لين، وفي هداية الرواة 4963،

قال الشيخ:ثم بدا لي الصواب أنه صحيح الاسناد وقد حققت ذلك في الصحيحة 928

(62) من صلى علي من أمتي صلاة، مخلصا من قلبه، صلى الله عليه بها عشر صلوات، ورفعه بها عشر درجات، وكتب له بها عشر حسنات، ومحا عنه عشر سيئات " الضعيفة 5141،وانظر الصحيحة 3360،

وصحيح الترغيب 1659

(63) أن رجلا كان جالسا مع النبي صلى الله عليه وسلم فجاء بني له فقبله وأجلسه في حجره ثم جاءت بنية فأجلسها الى جانبه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: فما عدلت بينهما، يعني في القبلة، قال الشيخ: موضوع، وهو في الصحيحة 3098، بلفظ " فهلا عدلت بينهما؟ " وانظر الصحيحة 2883و 2994

(64) لقد تاب توبة لو تابها صاحب مكس لقبلت منه " ضعيف الجامع " 4703 وعزاه للضعيفة 4315، وفي الضعيفة تحت الحديث " 4314 " قال الناشر: كتب الشيخ رحمه الله بخطه فوق هذا المتن " كان بعد هذا حديث " لقد تاب توبة … " فنقل الى الصحيحة 3238، وهو فيها

(65) سموه بأحب الاسماء الي، حمزة " ضعيف الجامع 3284 والضعيفة 3707 وهو في الصحيحة 2878

(66) إن أهل الشبع في الدنيا هم أهل الجوع غدا في الاخرة " ضعيف الجامع 1836والضعيفة 316، قال الشيخ في مقدمة الضعيفة ج 1 ص 5 - المعارف - انني رفعت من هذا المجلد الى الصحيحة حديثين، فذكر منهما الحديث السابق، والحديث في الصحيحة 343، بلفظ " كف عنا جشاءك فإن اكثرهم شبعا في الدنيا أطولهم جوعا يوم القيامة

(67) لما افتتح صلى الله عليه وسلم مكة رن ابليس رنة اجتمعت اليه جنوده فقال: ايأسوا ان ترتد أمة محمد على الشرك بعد يومكم هذا ولكن افتنوهم في دينهم وأفشوا فيهم النوح " الضعيفة 5004 وصححه الصحيحة 3467والترغيب3526 وذكر فيه أنه مخرج في الصحيحة 3417وليس فيها وانما هو في الصحيحة برقم (3467)

(68) ما أطيبك واطيب ريحك، ما أعظمك وأ عظم حرمتك (يعني الكعبة) ، والذي نفس محمد بيده لحرمة المؤمن أعظم عند الله حرمة منك، ماله ودمه، وأن يظن به إلا خيرا " ضعيف الجامع 5006، ابن ماجه 3933، وهو في الصحيحة 3420.

(69) غنيمة مجالس الذكر الجنة " ضعيف الجامع 3919، وهو في الصحيحة 3335 وصحيح الترغيب 1507

(70) " أي الخلق أعجب إيمانا؟ قالوا: الملائكة. قال: الملائكة كيف لا يؤمنون؟! قالوا: النبيون. قال: النبيون يوحى إليهم فكيف لا يؤمنون؟! قالوا: الصحابة. قال: الصحابة مع الأنبياء فكيف لا يؤمنون؟ ! ولكن أعجب الناس إيمانا: قوم يجيئون من بعدكم فيجدون كتابا من الوحي؛ فيؤمنون به ويتبعونه، فهم أعجب الناس إيمانا – أو الخلق إيمانا - (الضعيفة 647 وهو في الصحيحة 3215
(৫৮) "জেনে রেখো, আজ সকালে তোমাদের কাছে আসতে কিসে আমাকে বাধা দিয়েছিল, সে সম্পর্কে আমি তোমাদের বলব। আমি রাতে উঠে ওযু করলাম এবং আমার সাধ্যমতো সালাত আদায় করলাম। সালাতের মধ্যে আমার তন্দ্রা এল, এমনকি আমি গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে পড়লাম। হঠাৎ আমি আমার বরকতময় ও সুউচ্চ রবকে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে দেখলাম। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম: হে আমার রব, আমি আপনার দরবারে উপস্থিত। তিনি বললেন: ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম: আমি জানি না। তিনি তিনবার এ কথা বললেন। এরপর আমি দেখলাম তিনি তাঁর হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন, ফলে আমি আমার দুই স্তনের (বুকের) মাঝে তাঁর আঙুলের অগ্রভাগের শীতলতা অনুভব করলাম। তখন আমার কাছে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে গেল এবং আমি সব জানতে পারলাম। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম: আমি উপস্থিত। তিনি বললেন: ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম: কাফফারাত (গুনাহ মোচনকারী কাজসমূহ) নিয়ে। তিনি বললেন: সেগুলো কী? আমি বললাম: হেঁটে হেঁটে নেক কাজের (সালাতের) দিকে যাওয়া, সালাতের পর মসজিদে বসে থাকা এবং কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু করা। তিনি বললেন: আর কী নিয়ে? আমি বললাম: খাদ্য দান করা, নরম ভাষায় কথা বলা এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে সালাত আদায় করা নিয়ে। তিনি বললেন: তুমি প্রার্থনা করো। আমি বললাম: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নেক কাজ করার, মন্দ কাজ ত্যাগ করার এবং মিসকিনদের ভালোবাসার তাওফীক চাচ্ছি। আর আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন ও আমার ওপর দয়া করেন। আর আপনি যখন কোনো কওমকে ফিতনায় ফেলার ইচ্ছা করেন, তখন ফিতনায় পড়ার আগেই আমাকে মৃত্যু দান করবেন। আমি আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা চাই, আর যে আপনাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসা চাই এবং এমন আমলের ভালোবাসা চাই যা আপনার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে দেবে। নিশ্চয়ই এটি সত্য, সুতরাং তোমরা এটি অধ্যয়ন করো এবং তা শিক্ষা করো।" তিরমিযী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন, যঈফুল জামে ১২৩৩; আরও দেখুন সহীহুল জামে ৫৯ এবং হিদায়াতুর রুওয়াত ৬৯৩

এবং সহীহুত তারগীব ৪০৮ এবং আস-সহীহাহ ৩১৬৯ দেখুন।

(৫৯) "তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: রোজা পালনকারী যতক্ষণ না সে ইফতার করে, ন্যায়পরায়ণ শাসক এবং মজলুমের দুআ।" আল-কালিমুত তায়্যিব - তৃতীয় সংস্করণ -

তিরমিযী বলেছেন: "হাদীসটি হাসান"। শাইখ (আলবানী) বলেছেন: হাফেজও (ইবনে হাজার) তদ্রূপ বলেছেন, কিন্তু এতে আমার পর্যবেক্ষণ আছে; কারণ এর বর্ণনাসূত্র আবু মুদাল্লাহর ওপর আবর্তিত, আর আয-যাহাবী বলেছেন: তিনি পরিচিত নন। সুনানে তিরমিযীতে (৩৫৯৮) শাইখ বলেছেন হাদীসটি যঈফ, তবে এর প্রথম অংশটি সহীহ যেখানে "ন্যায়পরায়ণ শাসক"-এর পরিবর্তে "মুসাফির" শব্দ এসেছে এবং অন্য রেওয়ায়েতে "পিতা" শব্দ এসেছে। দেখুন ইবনে মাজাহ ১৭৫২, আল-কালিমুত তায়্যিব (আল-মাআরিফ) ১৬৩ এবং আস-সহীহাহ ৫৯৬।

(৬০) "আর তিনি ফজরের সালাতে সূরা আর-রূম পাঠ করেছিলেন।" তামামুল মিন্নাহ পৃষ্ঠা ১৮০; শাইখ বলেছেন: এটি প্রমাণিত নয়, নাসায়ী ৯৪৭ এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং আহমাদ। সিফাতু সালাতিন নবী (আল-মাআরিফ) পৃষ্ঠা ১১০-এ শাইখ বলেছেন: নাসায়ী, আহমাদ ও বাজ্জার এটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। এটিই আমার সর্বশেষ স্থিরকৃত রায়, যা তামামুল মিন্নাহ ও অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করা বিষয়ের বিপরীত; সুতরাং এটি জেনে রাখা উচিত। দেখুন মিশকাত ২৯৫।

(৬১) "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে এক বছর সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখল, তা তার রক্ত প্রবাহিত করার সমতুল্য।" মিশকাত ৫০৩৬; শাইখ বলেছেন: এর সনদ দুর্বল। হিদায়াতুর রুওয়াত ৪৯৬৩-এ শাইখ বলেছেন: পরবর্তীতে আমার কাছে এটিই সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে যে এর সনদ সহীহ, এবং আমি আস-সহীহাহ ৯২৮-এ তা নিশ্চিত করেছি।

(৬২) "আমার উম্মতের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি অন্তর থেকে ইখলাসের সাথে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন, তাকে দশ গুণ মর্যাদায় উন্নীত করবেন, তার জন্য দশটি নেকি লিখবেন এবং তার দশটি গুনাহ মুছে দেবেন।" আয-যঈফাহ ৫১৪১; আরও দেখুন আস-সহীহাহ ৩৩৬০ এবং সহীহুত তারগীব ১৬৫৯।

(৬৩) জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসে ছিল, এমন সময় তার একটি ছেলে এল; সে তাকে চুম্বন করল এবং তার কোলে বসাল। এরপর তার একটি মেয়ে এল, সে তাকে নিজের পাশে বসাল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি তাদের উভয়ের মাঝে সমতা রক্ষা করলে না" অর্থাৎ চুম্বনের ক্ষেত্রে। শাইখ বলেছেন: হাদীসটি মওজু (বানোয়াট)। এটি আস-সহীহাহ ৩০৯৮-এ "তুমি কেন তাদের মাঝে সমতা করলে না?" শব্দে বর্ণিত হয়েছে। আরও দেখুন আস-সহীহাহ ২৮৮৩ ও ২৯৯৪।

(৬৪) "সে এমন তওবা করেছে যে, যদি কোনো অন্যায়ভাবে কর আদায়কারীও এমন তওবা করত, তবে তার থেকেও কবুল করা হতো।" যঈফুল জামে ৪৭০৩ এবং তিনি এটি আয-যঈফাহ ৪৩১৫-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আয-যঈফাহ-তে ৪৩১৪ নম্বর হাদীসের অধীনে প্রকাশক বলেছেন: শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) নিজের হাতে এই মতনটির উপরে লিখেছিলেন যে "এরপরে একটি হাদীস ছিল..." এরপর তিনি তা আস-সহীহাহ ৩২৩৮-এ স্থানান্তর করেছেন এবং এটি সেখানেই রয়েছে।

(৬৫) "আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় নামগুলোর মাধ্যমে তোমরা নামকরণ করো, তা হলো হামজা।" যঈফুল জামে ৩২৮৪ এবং আয-যঈফাহ ৩৭০৭; এটি আস-সহীহাহ ২৮৭৮-এ রয়েছে।

(৬৬) "দুনিয়াতে যারা অতিভোজী, আখেরাতে তারাই ক্ষুধার্ত থাকবে।" যঈফুল জামে ১৮৩৬ এবং আয-যঈফাহ ৩১৬। শাইখ আয-যঈফাহ-এর ১ম খণ্ডের ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় (আল-মাআরিফ) বলেছেন যে, আমি এই খণ্ড থেকে দুটি হাদীস আস-সহীহাহ-তে উন্নীত করেছি; তিনি পূর্বের হাদীসটি এবং আস-সহীহাহ ৩৪৩-এ থাকা হাদীসটি উল্লেখ করেন যার শব্দ হলো: "আমাদের কাছে তোমার ঢেকুর তোলা বন্ধ করো, কারণ দুনিয়াতে যারা সবচেয়ে বেশি পেটপুরে খায়, কিয়ামতের দিন তারাই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকবে।"

(৬৭) "যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় করলেন, তখন ইবলিস উচ্চস্বরে এমন এক চিৎকার দিল যে তার সৈন্যরা তার কাছে জমা হলো। সে বলল: আজ থেকে মুহাম্মাদের উম্মত পুনরায় শিরকের দিকে ফিরে যাবে—এ ব্যাপারে তোমরা নিরাশ হয়ে যাও, কিন্তু তাদের দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনায় ফেলো এবং তাদের মাঝে বিলাপ (নোহা) ছড়িয়ে দাও।" আয-যঈফাহ ৫০০৪; তবে আস-সহীহাহ ৩৪৬৭ এবং আত-তারগীব ৩৫২৬-এ একে সহীহ বলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি আস-সহীহাহ ৩৪১৭-এ সংকলিত হয়েছে, অথচ সেখানে নেই, বরং এটি আস-সহীহাহ ৩৪৬৭ নম্বরে রয়েছে।

(৬৮) "তুমি (কাবা) কতই না উত্তম এবং তোমার সুগন্ধি কতই না চমৎকার! তুমি কতই না মহান এবং তোমার মর্যাদা কতই না মহান! সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের মর্যাদা তোমার চেয়েও অনেক বেশি—তার ধন-সম্পদ ও রক্তের মর্যাদা এবং তার প্রতি সুধারণা পোষণ করার মর্যাদা।" যঈফুল জামে ৫০০৬, ইবনে মাজাহ ৩৯৩৩; এটি আস-সহীহাহ ৩৪২০-এ রয়েছে।

(৬৯) "জিকিরের মজলিসের গনীমত হলো জান্নাত।" যঈফুল জামে ৩৯১৯; এটি আস-সহীহাহ ৩৩৩৫ এবং সহীহুত তারগীব ১৫০৭-এ রয়েছে।

(৭০) "সৃষ্টির মধ্যে কার ঈমান সবচেয়ে বিস্ময়কর? তারা বলল: ফেরেশতাদের। তিনি বললেন: ফেরেশতারা কেন ঈমান আনবে না (যখন তারা আল্লাহর সান্নিধ্যে রয়েছে)?! তারা বলল: নবীদের। তিনি বললেন: নবীদের কাছে ওহী আসে, তারা কেন ঈমান আনবে না?! তারা বলল: সাহাবীদের। তিনি বললেন: সাহাবীরা তো নবীদের সাথেই ছিলেন, তারা কেন ঈমান আনবে না?! কিন্তু মানুষের মাঝে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঈমান হলো সেই জাতির যারা তোমাদের পরে আসবে, তারা ওহীর কিতাব পাবে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে ও তার অনুসরণ করবে; তারাই ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে বিস্ময়কর মানুষ—বা সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঈমানদার।" (আয-যঈফাহ ৬৪৭; তবে এটি আস-সহীহাহ ৩২১৫-এ রয়েছে)।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৬)
(71) اذا مررتم برياض الجنة فارتعوا، قالوا: وما رياض الجنة؟ قال: حلق الذكر " ضعيف الجامع 699 الترمذي 3510 والمشكاة 729 وهو في الصحيحة 2562 وصحيح الترغيب 1511

 

(72) أفضل الصدقة اصلاح ذات البين " ضعيف الجامع 1012 وهو في الصحيحة 2639

(73) إن أهل الجنة اذا جامعوا نسائهم عادوا ابكارا " ضعيف الجامع 1830، انظر الصحيحة تحت رقم 3351

 

(74) إن (الحميم) ليصب على رؤوسهم، فينفذ (الحميم) حتى يخلص إلى جوفه؛ فيسلت ما في جوفه؛ حتى يمرق من قدميه، وهو (الصهر) ، ثم يعاد كما كان "ضعيف الجامع 1433 والمشكاة 5679 والترمذي 2582 وهو في الصحيحة 3470 والترغيب 3679والهداية 5607

 

(75) كان اذا رأى ما يسره صلى الله عليه وسلم قال: الحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات واذا رأى ما يسؤوه قال الحمد لله على كل حال " الكلم الطيب - الطبعة الثالثة - 139 - ابن ماجه 3803 وانظر الكلم - المعارف - 140 والصحيحة 265

(76) أن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قالوا يا رسول الله إنا نأكل ولا نشبع، قال: " فلعلكم تفترقون " قالوا: نعم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فاجتمعوا على طعامكم واذكروا اسم الله يبارك لكم فيه "

الكلم الطيب - الثالثة - 185 والمشكاة 4252 وابو داود 3764 وابن ماجه 3286، انظر الكلم الطيب - المعارف -186 وصحيح الترغيب 2128

(77) اذا أديت زكاة مالك فقد قضيت ما عليك " ضعيف الجامع 312 ، انظر صحيح الترغيب 1719

(78) عن جابر قال: قلت: كيف أصبحت يا رسول الله؟ قال: بخير من رجل لم يصبح صائما ولم يعد سقيما "

وانظر الصحيحة تحت رقم 2952 والادب المفرد " 1132و 1133

(79) اذا أنت بايعت فقل: لا خلابة ثم أنت في كل سلعة ابتعتها بالخيار ثلاث ليال فان رضيت فأمسك وان سخطت فارددها على صاحبها " ضعيف الجامع 402، انظر الصحيحة 2875

(80) ويل للامراء، ويل للعرفاء، ويل للامراء، ليتمنين أقوام يوم القيامة

أن ذوائبهم معلقة بالثريا يتذبذبون بين السماء والارض ولم يكونوا عملوا على شيء"

المشكاة 3698- غا ية المرام 173، وانظر صحيح الترغيب 788 والصحيحة 2620 وهداية الرواة 3626

(81) لا تؤذ صاحب هذا القبر " المشكاة،1721،انظر صحيح الترغيب 3566، الصحيحة 2960 وهداية الرواة 1662

(82) إن التجار يحشرون يوم القيامة فجارا الا من اتقى وبر وصدق " ضعيف الجامع 6405والمشكاة 2799وغاية المرام 168 ، انظر صحيح الترغيب 1785 والصحيحة 1458

(83) إن رسول الله صلى الله عليه وسلم، تلا هذه الاية " وإن تتولوا يستبدل قوما غيركم ثم لا يكونوا أمثالكم " قالوا: يا رسول الله من هؤلاء الذين ان تولينا استبدلوا بنا ثم لا يكونوا أمثالنا؟ قال: فضرب على فخد سلمان الفارسي رضي الله عنه ثم قال: هذا وقومه ولو كان الدين عند الثريا لتناوله رجل من الفرس " المشكاة 6244،الهداية 6205 والترمذي 3260 و3261، انظر الصحيحة تحت رقم 1017والاستدراك 14 - 21 ص 488 في اخر المجلد الثالث من الصحيحة وفيه ذكر الشيخ متابعين ثم قال:فالحديث بهذه المتابعات صحيح والله أعلم.

(84) إن هذا الخير خزائن لتلك الخزائن مفاتيح، مفاتيحه الرجال، فطوبى لعبد جعله الله مفتاحا للخير مغلاقا للشر، وويل لعبد جعله الله مفتاحا للشر مغلاقا للخير "

ضعيف الجامع 2021، المشكاة 5208، ابن ماجه 238، انظر صحيح الترغيب 66 والصحيحة1332 والهداية 5136وظلال الجنة 296 - 2989)

(85) في كل إشارة في الصلاة عشر حسنات " ضعيف الجامع 4016، انظر الصحيحة 3286

(86) أما إن كل بناء وبال على صاحبه إلا مالا ما لا" ضعيف الجامع 1230 و1229والمشكاة 5184انظر الصحيحة 2830 والترغيب 1874

(87) قيل لرسول الله أي الدعاء أسمع؟ قال: جوف الليل الاخر ودبر الصلوات المكتوبات " الكلم الطيب - الطبعة الثالثة - 113، والمشكاة 968والترمذي 3499،انظر صحيح الترغيب 1648 والكلم - طبعة المعارف - 114 وانظر في مقدمة الكلم الطيب - معارف -ص 5

 

(88) يا أيها الناس: ما بال احدكم يزوج عبده أمته ثم يريد أن يفرق بينهما، إنما الطلاق لمن أخذ الساق " ضعيف الجامع ص 925 بعد الحديث 6387، وهو في الارواء 2041 وفيه قال الشيخ: بالجملة فقد رجح عندي أن الحديث بهذه المتابعة حسن

(89) أن النبي صلى الله عليه وسلم، مر بسعد وهو يتوضأ فقال: ما هذا السرف؟ فقال: أفي الوضوء إسراف، قال: نعم، وإن كنت على نهر جار " ابن ماجه 425 والارواء 140 والمشكاة 427 وهو في الصحيحة 3292
(৭১) যখন তোমরা জান্নাতের বাগানসমূহ অতিক্রম করবে, তখন সেখানে বিচরণ করো। তারা জিজ্ঞেস করলেন: জান্নাতের বাগানসমূহ কী? তিনি বললেন: জিকিরের হালকাসমূহ। "যঈফ আল-জামি' ৬৯৯, তিরমিযী ৩৫১০, মিশকাত ৭২৯; এটি আস-সহীহাহ ২৫৬২ এবং সহীহ আত-তারগীব ১৫১১-তে রয়েছে।

 

(৭২) সর্বোত্তম সাদাকা হলো পারস্পরিক সম্পর্কের সংশোধন করা। "যঈফ আল-জামি' ১০১২; এটি আস-সহীহাহ ২৬৩৯-এ রয়েছে।

(৭৩) জান্নাতীরা যখন তাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবেন, তখন তারা পুনরায় কুমারী হয়ে যাবে। "যঈফ আল-জামি' ১৮৩০, দেখুন আস-সহীহাহ নং ৩৩৫১-এর অধীনে।

 

(৭৪) নিশ্চয়ই তাদের মাথার ওপর 'হামিম' (ফুটন্ত পানি) ঢেলে দেওয়া হবে, সেই ফুটন্ত পানি তাদের মাথার খুলি ভেদ করে পেটের অভ্যন্তরে পৌঁছে যাবে; ফলে পেটের ভেতরে যা কিছু আছে তা বিগলিত করে দেবে; এমনকি তা তার দুই পায়ের মধ্য দিয়ে বের হয়ে যাবে, আর এটাই হলো 'আস-সাহর' (বিগলিত হওয়া), অতঃপর তাকে পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে আনা হবে। "যঈফ আল-জামি' ১৪৩৩, মিশকাত ৫৬৭৯, তিরমিযী ২৫৮২; এটি আস-সহীহাহ ৩৪৭০, তারগীব ৩৬৭৯ এবং আল-হিদায়াহ ৫৬০৭-এ রয়েছে।

 

(৭৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এমন কিছু দেখতেন যা তাঁকে আনন্দিত করত, তখন তিনি বলতেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে নেক আমলসমূহ পূর্ণ হয়। আর যখন তিনি এমন কিছু দেখতেন যা তাঁকে কষ্ট দিত, তখন তিনি বলতেন: সকল অবস্থায় আল্লাহর জন্য প্রশংসা। "আল-কালিমুত তাইয়িব - তৃতীয় সংস্করণ - ১৩৯ - ইবনে মাজাহ ৩৮০৩; দেখুন আল-কালিম - আল-মাআরিফ - ১৪০ এবং আস-সহীহাহ ২৬৫।

(৭৬) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আহার করি কিন্তু তৃপ্ত হই না। তিনি বললেন: "সম্ভবত তোমরা আলাদা আলাদাভাবে আহার করো।" তারা বললেন: হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাহলে তোমরা তোমাদের খাবারের ওপর একত্রে মিলিত হও এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাতে তোমাদের বরকত দেওয়া হবে।"

আল-কালিমুত তাইয়িব - তৃতীয় - ১৮৫, মিশকাত ৪২৫২, আবু দাউদ ৩৭৬৪, ইবনে মাজাহ ৩২৮৬; দেখুন আল-কালিমুত তাইয়িব - আল-মাআরিফ - ১৮৬ এবং সহীহ আত-তারগীব ২১২৮।

(৭৭) যখন তুমি তোমার মালের যাকাত আদায় করলে, তখন তোমার ওপর যা আবশ্যক ছিল তা তুমি পালন করলে। "যঈফ আল-জামি' ৩১২, দেখুন সহীহ আত-তারগীব ১৭১৯।

(৭৮) জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন: "এমন এক ব্যক্তির চেয়ে ভালো আছি যে সকালে রোজা রাখেনি এবং অসুস্থও হয়নি।"

আর দেখুন আস-সহীহাহ নং ২৯৫২ এবং আল-আদাবুল মুফরাদ ১১৩২ ও ১১৩৩।

(৭৯) যখন তুমি কোনো বেচাকেনা করবে তখন বলো: কোনো ধোঁকাবাজি নেই। অতঃপর তুমি যে পণ্য ক্রয় করেছ তাতে তোমার জন্য তিন রাত পর্যন্ত ইখতিয়ার (পছন্দ বা অপছন্দ করার অধিকার) থাকবে; যদি তুমি সন্তুষ্ট হও তবে তা রেখে দাও, আর যদি অসন্তুষ্ট হও তবে তা তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দাও। "যঈফ আল-জামি' ৪০২, দেখুন আস-সহীহাহ ২৮৭৫।

(৮০) ধ্বংস আমীরদের জন্য, ধ্বংস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য, ধ্বংস আমীরদের জন্য; কিয়ামতের দিন কিছু সম্প্রদায় অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করবে যে—

যদি তাদের মাথার ঝুটি সুরাইয়া নক্ষত্রের সাথে ঝুলন্ত থাকত এবং তারা আসমান ও জমিনের মাঝখানে দোদুল্যমান থাকত, তবুও তারা কোনো বিষয়ের দায়িত্বশীল না হতো।"

মিশকাত ৩৬৯৮ - গায়াতুল মারাম ১৭৩, দেখুন সহীহ আত-তারগীব ৭৮৮, আস-সহীহাহ ২৬২০ এবং হিদায়াতুর রুওয়াত ৩৬২৬।

(৮১) এই কবরের অধিবাসীকে কষ্ট দিও না। "মিশকাত ১৭২১, দেখুন সহীহ আত-তারগীব ৩৫৬৬, আস-সহীহাহ ২৯৬০ এবং হিদায়াতুর রুওয়াত ১৬৬২।

(৮২) কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা পাপাচারী হিসেবে পুনরুত্থিত হবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহকে ভয় করেছে, সৎকাজ করেছে এবং সত্য কথা বলেছে। "যঈফ আল-জামি' ৬৪০৫, মিশকাত ২৭৯৯, গায়াতুল মারাম ১৬৮; দেখুন সহীহ আত-তারগীব ১৭৮৫ এবং আস-সহীহাহ ১৪৫৮।

(৮৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন: "আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতিকে নিয়ে আসবেন, অতঃপর তারা তোমাদের মতো হবে না।" তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নিই তবে আমাদের বদলে যাদের নিয়ে আসা হবে এবং যারা আমাদের মতো হবে না, তারা কারা? তিনি সালমান ফারসী (রা.)-এর উরুর ওপর আঘাত করলেন এবং বললেন: "এই ব্যক্তি এবং তার জাতি। যদি দীন সুরাইয়া নক্ষত্রের কাছেও থাকত, তবে পারস্যের এক ব্যক্তি অবশ্যই তা অর্জন করে নিত।" মিশকাত ৬২৪৪, আল-হিদায়াহ ৬২০৫, তিরমিযী ৩২৬০ ও ৩২৬১; দেখুন আস-সহীহাহ নং ১০১৭ এবং আল-ইসতিদরিক ১৪ - ২১ পৃষ্ঠা ৪৮৮ আস-সহীহার তৃতীয় খণ্ডের শেষে, যেখানে শাইখ দুজন অনুসরণকারী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এই মুতাবে'আহগুলোর কারণে হাদিসটি সহীহ, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(৮৪) নিশ্চয়ই এই কল্যাণ হলো অনেকগুলো ভাণ্ডার, আর সেই ভাণ্ডারগুলোর অনেকগুলো চাবিকাঠি রয়েছে। সেই চাবিকাঠিগুলো হলো মানুষ। সুতরাং সেই বান্দার জন্য সুসংবাদ যাকে আল্লাহ কল্যাণের চাবিকাঠি এবং মন্দের তালা বানিয়েছেন; আর ধ্বংস সেই বান্দার জন্য যাকে আল্লাহ মন্দের চাবিকাঠি এবং কল্যাণের তালা বানিয়েছেন।"

যঈফ আল-জামি' ২০২১, মিশকাত ৫২০৮, ইবনে মাজাহ ২৩৮; দেখুন সহীহ আত-তারগীব ৬৬, আস-সহীহাহ ১৩৩২, আল-হিদায়াহ ৫১৩৬ এবং যিলালুল জান্নাহ ২৯৬ - ২৯৮৯।

(৮৫) সালাতের প্রতিটি ইশারায় দশটি করে নেকি রয়েছে। "যঈফ আল-জামি' ৪০১৬, দেখুন আস-সহীহাহ ৩২৮৬।

(৮৬) জেনে রেখো, প্রতিটি ইমারত বা ভবন তার মালিকের জন্য অমঙ্গল বা বোঝার কারণ, কেবল প্রয়োজনীয় টুকু ব্যতীত।" যঈফ আল-জামি' ১২৩০ ও ১২২৯, মিশকাত ৫১৮৪; দেখুন আস-সহীহাহ ২৮৩০ এবং আত-তারগীব ১৮৭৪।

(৮৭) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন দোয়া অধিক শ্রবণযোগ্য (কবুলযোগ্য)? তিনি বললেন: শেষ রাতের অভ্যন্তরে এবং ফরয সালাতসমূহের পরে। "আল-কালিমুত তাইয়িব - তৃতীয় সংস্করণ - ১১৩, মিশকাত ৯৬৮, তিরমিযী ৩৪৯৯; দেখুন সহীহ আত-তারগীব ১৬৪৮, আল-কালিম - আল-মাআরিফ সংস্করণ - ১১৪ এবং আল-কালিমুত তাইয়িব-এর ভূমিকা - মাআরিফ - পৃষ্ঠা ৫।

 

(৮৮) হে লোকসকল! তোমাদের কী হলো যে, তোমাদের কেউ তার দাসের সাথে তার বাঁদীর বিয়ে দেয়, অতঃপর তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নিশ্চয়ই তালাক সেই ব্যক্তির অধিকারে যে পায়ের গোছা (অর্থাৎ স্বামীত্ব) ধারণ করে আছে।" যঈফ আল-জামি' পৃষ্ঠা ৯২৫ হাদিস ৬৩৮৭-এর পরে; এটি আল-ইরওয়া ২০৪১-এ রয়েছে, যেখানে শাইখ বলেছেন: মোটের ওপর এই মুতাবে'আহর কারণে হাদিসটি আমার কাছে হাসান হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে।

(৮৯) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি ওযু করছিলেন। তিনি বললেন: এই অপচয় কীসের? সে বলল: ওযুতেও কি অপচয় হয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এমনকি তুমি যদি প্রবহমান নদীর তীরেও থাকো।" ইবনে মাজাহ ৪২৫, আল-ইরওয়া ১৪০, মিশকাত ৪২৭; এটি আস-সহীহাহ ৩২৯২-তে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৭)
(90) ما كان الله ليجمع هذه الامة على ضلالة أبدا ويد الله على الجماعة هكذا، فعليكم بالسواد الاعظم، فإنه من شذ شذ في النار " قال الشيخ رحمه الله في مقدمة الصحيحة المجلد الرابع ص " ك - ل " رواه ابن ابي عاصم في الستة واسناده ضعيف كما بينته في ضلال الجنة رقم 80، ولكنه حسن بمجموع طرقه كما شرحته في الصحيحة 1331 وغيره " انظر هداية الرواة 171 -

(91) يا ولي الاسلام وأهله مسكني الاسلام حتى ألقاك عليه " الصحيحة 1476"، قال الشيخ رحمه الله: أورد الحديث شارح الطحاوية ص - 358 - من رواية أبي إسماعيل الانصاري في كتابه " الفاروق " بسنده عن أنس به، ولما خرجت الشرح المذكور علقت عليه بقولي: " لم أقف على اسناده وما أخاله يصح " ثم قال الشيخ: ثم وقفت على الحديث في تاريخ بغداد، حتى قال: " وجملة القول أن الحديث عندي حسن الاسناد "

والحديث في الطبعة الثامنة من الطحاوية ص 373 وانظر الصحيحة 1823

(92) من لم يسأل الله يغضب عليه " الطحاوية - الثامنة - ص 459 برقم 653والمشكاة 2238 والترمذي 3373، انظر الضعيفة تحت حديث 21 ص 76 وهو في الصحيحة 2654، بلفظ " من لم يدع الله يغضب عليه "

(93) اعتقها فإنها مؤمنة _ يعني الجارية التي شهدت بأن الله في السماء " مختصر العلو " 81 - 82 " الايمان لابن ابي شيبة 85وضعيف ابي داود 716، انظر الصحيحة 3161

 

(94) إن الله خلق آدم ثم مسح على ظهره، فاستخرج منه ذريته، فقال: خلقت هؤلاء للجنة وبعمل أهل الجنة يعملون، ثم مسح ظهره فاستخرج منه ذرية، قال: خلقت هؤلاء للنار وبعمل أهل النار يعملون.... " الضعيفة 3070، ضعيف الجامع 1602، انظر الصحيحة 1623، قال الشيخ: وخرجت أنا حديث عمر في الضعيفة 3070 وصححته لغيره في تخريج الطحاوية 266 " قال الشيخ في الطحاوية ص 240 - الطبعة التاسعة - صحيح لغيره الا مسح الظهر فلم أجد له شاهدا " الضعيفة 3070 "

 

(95) إن الله تبارك وتعالى يقول: أنا خير شريك، فمن أشرك معي شريكا فهو لشريكي، يا أيها الناس أخلصوا أعمالكم، فإن الله تبارك وتعالى لا يقبل من الاعمال الا ما خلص له ولا تقولوا هذا لله وللرحم، فإنها للرحم، وليس لله منها شيء، ولا تقولوا هذه لله ولوجوهكم، فإنها لوجوهكم وليس لله منها شيء "

صحيح الترغيب " 7 " قال الشيخ رحمه الله: قال الهيثمي في رواية البزار: (وفيه ابراهيم بن مجشر) وثقه ابن حبان وغيره وفيه ضعف " قلت: لكن تابعه سعيد بن سليمان الواسطي وهو ثقة … فبادرت الى اخراجه في الصحيحة 2764، ولذلك نقلته من ضعيف الترغيب الى هنا - يقصد صحيح الترغيب - المعارف -، ولينظر في أي طبعات ضعيف الترغيب هو.

 

(96) كان يقرأ: إنه عمل غير صالح " قال الشيخ رحمه الله، في مقدمة " ضعيف ابي داود " - معارف - ص 10: حين لا اجد الحديث مخرجا في شيء من مؤلفاتي لا عزوه اليه فانني احكم عليه بما تقتضيه الصناعة من تضعيف أو تصحيح، وقد يقع احيانا ان يتيسر لي بعد ذلك ان أخرجه تخريجا علميا ناظرا الى طرقه الاخرى … فيظهر الاختلاف، فمن ذلك، حديث ام سلمة أنه صلى الله عليه وسلم كان يقرؤها " إنه عمل غير صالح " اخرجه الترمذي، فقلت تحته " ضعيف الاسناد " وهو كذلك، ولكنني في سنن ابي داود قلت فيه " صحيح "، الصحيحة " 2809 "

(97) " غيروا سيما اليهود ولا تغيروا بسواد " الصحيحة 3324، قال الشيخ: وقد كنت عزوته اليه - الطبراني في الاوسط - نقلا عن النسخة المصورة، في كتابي " جلباب المراة المسلمة " ص 191، شاهد لحديث عائشة في التغيير، والان فبهذه المتابعة القوية … قد صح الحديث والحمد لله.

(98) " صلى على ميت بعد ثلاث " الصحيحة 3031، قال الشيخ: أشار الدارقطني والبيهقي الى ان لفظة " ثلاث " شاذة … ، وصرح بذلك الحافظ في الفتح..، وقد كنت خرجت بعض الطرق المشار اليها في الارواء " 3- 183 و 736 -2 " وبعضها صريحة الدلالة على ما قال، لكني أقول: إن حديث الترجمة يشهد له أحاديث أقواها حديث أبي هريرة رضي الله عنه " أن امراة سوداء كانت تقم المسجد فماتت ففقدها النبي صلى الله عليه وسلم، فسأل عنها بعد أيام، فقيل إنها ماتت، فقال: هلا كنتم آذنتموني؟ " فأتى قبرها فصلى عليها ففيه انه صلى عليها بعد أيام من موتها.

(99) الانبياء - صلوات الله عليهم -أحياء في قبورهم يصلون " الصحيحة " 621 " قال الشيخ: وقد كنت برهة من الدهر أرى أن هذا الحديث ضعيف … فإذا رأيت أيها القارىء الكريم في شيء من تأليفي خلاف هذا التحقيق فاضرب عليه واعتمد هذا.

وانظر " صحيح الجامع 2790 والايات البينات ص 78 والتوسل ص 64 وأحكام الجنائز 272
(৯০) আল্লাহ কখনোই এই উম্মতকে ভ্রষ্টতার ওপর একত্রিত করবেন না এবং আল্লাহর হাত জামাআতের (দলের) ওপর থাকে, অতএব তোমরা বিশাল জনসমষ্টির সাথে থাকো, কারণ যে বিচ্ছিন্ন হয় সে জাহান্নামে বিচ্ছিন্ন হয়। শায়খ রহিমাহুল্লাহ ‘সিলসিলাতুস সহিহাহ’-এর চতুর্থ খণ্ডের ভূমিকা ‘কাফ-লাম’ পৃষ্ঠায় বলেছেন: এটি ইবনু আবি আসিম ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল যেমনটি আমি ‘যিলালুল জান্নাহ’ (নং ৮০)-তে ব্যাখ্যা করেছি, কিন্তু এটি এর সকল সূত্রের সমষ্টিগত বিচারে হাসান (উত্তম), যেমনটি আমি ‘আস-সহিহাহ’ (১৩৩১) ও অন্যান্য স্থানে বর্ণনা করেছি। দেখুন: ‘হিদায়াতুর রুওয়াত’ ১৭১।

(৯১) হে ইসলাম ও এর অনুসারীদের অভিভাবক! আমাকে ইসলামের ওপর অবিচল রাখুন যতক্ষণ না আমি আপনার সাথে মিলিত হই। (আস-সহিহাহ ১৪৭৬)। শায়খ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: তাহাবিয়ার ব্যাখ্যাকার (পৃষ্ঠা ৩৫৮) আবু ইসমাইল আল-আনসারির ‘আল-ফারুক’ কিতাব থেকে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমি যখন উক্ত ব্যাখ্যার তাহকিক করেছিলাম, তখন সেখানে মন্তব্য করেছিলাম: "আমি এর সনদের হদিস পাইনি এবং আমার মনে হয় না এটি সহিহ হবে।" এরপর শায়খ বলেন: পরবর্তীকালে আমি ‘তারিখে বাগদাদ’ গ্রন্থে এই হাদিসটি পেয়েছি, এমনকি তিনি বলেছেন: "সারকথা হলো, আমার নিকট হাদিসটির সনদ হাসান।" আর হাদিসটি তাহাবিয়ার অষ্টম সংস্করণের ৩৭৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে এবং দেখুন ‘আস-সহিহাহ’ ১৮২৩।

আর হাদিসটি তাহাবিয়ার অষ্টম সংস্করণের ৩৭৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে এবং দেখুন আস-সহিহাহ ১৮২৩

(৯২) যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না, তিনি তার ওপর রাগান্বিত হন। (তাহাবিয়া - ৮ম সংস্করণ - পৃষ্ঠা ৪৫৯, নং ৬৫৩, মিশকাত ২২৩৮ এবং তিরমিজি ৩৩৭৩)। দেখুন: ‘আদ-দায়িফাহ’ ২১ নম্বর হাদিসের অধীনে, পৃষ্ঠা ৭৬; এবং এটি ‘আস-সহিহাহ’ ২৬৫৪-এ এই শব্দে রয়েছে: "যে আল্লাহর কাছে দোয়া করে না, তিনি তার ওপর রাগান্বিত হন।"

(৯৩) তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিনাহ (ঈমানদার)—অর্থাৎ সেই দাসী যে সাক্ষ্য দিয়েছিল যে আল্লাহ আসমানে আছেন। (মুখতাসারুল উলুউ ৮১-৮২, ইবন আবি শাইবার আল-ঈমান ৮৫ এবং যয়িফ আবু দাউদ ৭১৬)। দেখুন: ‘আস-সহিহাহ’ ৩১৬১।

 

(৯৪) নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তাঁর পিঠের ওপর হাত বুলালেন, অতঃপর তা থেকে তাঁর সন্তানদের বের করলেন এবং বললেন: আমি এদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জান্নাতিদের আমল করবে। এরপর আবার তাঁর পিঠে হাত বুলালেন এবং তাঁর সন্তানদের বের করে বললেন: আমি এদেরকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জাহান্নামিদের আমল করবে... (আদ-দায়িফাহ ৩০৭০, জয়িফ আল-জামে ১৬০২, দেখুন: আস-সহিহাহ ১৬২৩)। শায়খ বলেন: আমি উমরের হাদিসটি ‘আদ-দায়িফাহ’ (৩০৭০) গ্রন্থে আলোচনা করেছি এবং তাহাবিয়ার তাহকিকের ২৬৬ পৃষ্ঠায় একে ‘সহিহ লি-গাইরিহি’ বলেছি। শায়খ তাহাবিয়া গ্রন্থের ২৪০ পৃষ্ঠায় (৯ম সংস্করণ) বলেন: "পিঠে হাত বুলানোর অংশটি বাদে বাকিটুকু সহিহ লি-গাইরিহি, কারণ হাত বুলানোর বিষয়ের কোনো সমর্থক বর্ণনা আমি পাইনি।" (আদ-দায়িফাহ ৩০৭০)।

 

(৯৫) নিশ্চয় আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: আমি সর্বোত্তম অংশীদার, অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে কাউকে শরিক করে, সে তার শরিকের জন্যই। হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের আমলকে একনিষ্ঠ করো, কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা সেই আমল ছাড়া কবুল করেন না যা কেবল তাঁরই জন্য করা হয়। তোমরা বলো না যে, এটি আল্লাহর জন্য এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্য, কারণ সেটি আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্যই হবে, তাতে আল্লাহর কোনো অংশ থাকবে না। আর তোমরা বলো না যে, এটি আল্লাহর জন্য এবং তোমাদের লোকদেখানোর জন্য, কারণ সেটি লোকদেখানোর জন্যই হবে এবং তাতে আল্লাহর কোনো অংশ থাকবে না।

সহিহ আত-তারগিব (৭)। শায়খ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: আল-হায়সামি আল-বাযযারের বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেছেন: (এতে ইবরাহিম বিন মুজাশশির রয়েছেন) ইবনু হিব্বান ও অন্যান্যরা তাকে বিশ্বস্ত বললেও তার মধ্যে দুর্বলতা আছে। আমি বলছি: কিন্তু সাঈদ বিন সুলাইমান আল-ওয়াসিতি তার অনুসরণ (মুতাবাহ) করেছেন এবং তিনি বিশ্বস্ত... তাই আমি এটি ‘আস-সহিহাহ’ (২৭৬৪) গ্রন্থে বর্ণনা করতে দ্রুত উদ্যোগী হই। এজন্যই আমি একে ‘যয়িফ আত-তারগিব’ থেকে এখানে—অর্থাৎ সহিহ আত-তারগিব (আল-মাআরিফ সংস্করণ)—স্থানান্তর করেছি। অতএব দেখা উচিত যে এটি ‘যয়িফ আত-তারগিব’-এর কোন সংস্করণে আছে।

 

(৯৬) তিনি পড়তেন: "নিশ্চয় এটি একটি অসৎ কাজ।" শায়খ রহিমাহুল্লাহ ‘যয়িফ আবু দাউদ’ (আল-মাআরিফ সংস্করণ) এর ১০ নম্বর পৃষ্ঠার ভূমিকায় বলেছেন: যখন আমি কোনো হাদিস আমার কোনো কিতাবে বিস্তারিত আলোচনা করা অবস্থায় পাই না, তখন আমি তার ওপর তাহকিক শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী দুর্বলতা বা সঠিকতা সম্পর্কে বিচার করি। মাঝে মাঝে এমনও হয় যে, পরবর্তীকালে হাদিসটির অন্যান্য সূত্রগুলো দেখার পর তার একটি ইলমি তাহকিক করার সুযোগ হয়... তখন মতের পার্থক্য দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, উম্মে সালামার হাদিস যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পড়তেন: "নিশ্চয় এটি একটি অসৎ কাজ"। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন, আমি তার নিচে বলেছিলাম: "সনদ দুর্বল", আর বিষয়টি তেমনই ছিল। কিন্তু আমি সুনানে আবু দাউদে একে "সহিহ" বলেছি। (আস-সহিহাহ ২৮০৯)।

(৯৭) "তোমরা ইহুদিদের চিহ্নের পরিবর্তন করো এবং কালো রঙ দিয়ে পরিবর্তন করো না।" (আস-সহিহাহ ৩৩২৪)। শায়খ বলেন: আমি আমার ‘জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ’ কিতাবের ১৯১ পৃষ্ঠায় মাইক্রোফিল্ম কপির বরাতে এটি তাবারানির ‘আল-আওসাত’ থেকে উদ্ধৃত করেছিলাম আয়িশার বর্ণিত পরিবর্তনের হাদিসের সাক্ষী হিসেবে। এখন এই শক্তিশালী সমর্থক বর্ণনার মাধ্যমে হাদিসটি সহিহ হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

(৯৮) "তিনি তিন দিন পর মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়েছেন।" (আস-সহিহাহ ৩০৩১)। শায়খ বলেন: দারা কুতনি ও বায়হাকি ইশারা করেছেন যে "তিন" শব্দটি শায (অস্বাভাবিক)... এবং হাফিজ (ইবনু হাজার) ‘ফাতহুল বারি’-তে তা স্পষ্টভাবে বলেছেন। আমি ‘ইরওয়াউল গালিল’ (৩-১৮৩ এবং ৭৩৬-২) গ্রন্থে ইঙ্গিতকৃত কিছু সূত্র আলোচনা করেছি যার মধ্যে কিছু বর্ণনা তাদের কথার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। কিন্তু আমি বলছি: এই প্রসঙ্গের হাদিসটিকে অন্যান্য হাদিস সমর্থন করে যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস—"এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা মসজিদে ঝাড়ু দিতেন, তিনি মারা গেলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে আর দেখতে পাননি। কয়েক দিন পর তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে জানানো হলো যে তিনি মারা গেছেন। তিনি বললেন: তোমরা আমাকে জানালে না কেন?" এরপর তিনি তার কবরে এসে জানাজা পড়লেন। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি মৃত্যুর কয়েক দিন পর জানাজা পড়েছেন।

(৯৯) নবিগণ—তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক—তাঁদের কবরে জীবিত এবং তাঁরা সালাত আদায় করেন। (আস-সহিহাহ ৬২১)। শায়খ বলেন: আমি দীর্ঘকাল ধরে মনে করতাম যে এই হাদিসটি দুর্বল... হে সম্মানিত পাঠক, যদি আপনি আমার কোনো কিতাবে এই তাহকিকের বিপরীত কিছু দেখেন, তবে তা বর্জন করুন এবং এরই ওপর নির্ভর করুন।

দেখুন: সহিহ আল-জামে ২৭৯০, আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত পৃষ্ঠা ৭৮, আত-তাওয়াসসুল পৃষ্ঠা ৬৪ এবং আহকামুল জানাইয ২৭২।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৮)
(100) " لا فضل لعربي على عجمي ولا لعجمي على عربي ولا أبيض على أسود ولا لأسود على أبيض إلا بالتقوى، الناس من آدم وآدم من تراب " الطحاوية - التاسعة - ص 361، أثر 461، قال الشيخ رحمه الله: صحيح لكن عزوه الى السنن وهم فانه لم يروه أحد منهم وانما هو في مسند الامام أحمد، وقد كنت توقفت فيه قبل سنين، ثم يسر الله تعالى لي جمع كثير من طرقه وحققت الكلام عليها فتبين لي أنه صحيح بمجموعها " وانظر صحيح الترغيب 2964 والصحيحة 2700 وغاية المرام 313

(101) قتلوه قتلهم الله، ألا سألوا إذا لم يعلموا؟ ! فإنما شفاء العي السؤال " الارواء 105 وانظر النصيحة ص 39 والمشكاة 507 وصحيح ابي داود 364 - 365.

(102) من قال إذا أصبح: رضيت بالله ربا وبالاسلام دينا وبمحمد نبيا،فأناالزعيم لآخذن بيده حتى أدخله الجنة " صحيح الترغيب 657 والصحيحة 2686، قال الشيخ رحمه الله: اورده المنذري في الترغيب … وقال رواه الطبراني باسناد حسن " وكذا قال الهيثمي في المجمع، فتعقبه الحافظ ابن حجر فيما علقه عليه فقال " فيه رشدين وهو ضعيف " قلت - الالباني رحمه الله وكنت اتبعته على هذافي " التعليق على الترغيب " وعليه أوردته في ضعيف الترغيب ثم تبين لي أن رشدين لم ينفرد به " ولينظر في أي طبعات ضعيف الترغيب هو

(103) ما أصاب عبدا هم ولا حزن، فقال: اللهم إني عبدك وابن عبدك وابن أمتك، ناصيتي بيدك، ماض في حكمك، عدل في قضاؤك، أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك أو أنزلته في كتابك، أو علمته أحدا من خلقك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك، أن تجعل القرآن ربيع قلبي، ونور صدري، وجلاء حزني، وذهاب همي، إلا أذهيب الله همه وحزنه وأبدله مكانه فرحا "الكلم الطيب - معارف - 124، قال الشيخ رحمه الله: حديث صحيح ،وقد كنت ذكرت خلاف هذا في تعليقي على احاديث ا" شرح العقيدة الطحاوية " ثم بدا لي أنه صحيح في مقال طويل وبحث دقيق أعددته لينشر ان شاء الله تعالى في الصحيحة برقم " 199 "

وانظر الترغيب 1822 والمشكاة 2452 والتوسل 31 وهداية الرواة 2387وهو في الطحاوية - الثامنة - 44

(104) يبعث مناد عند حضرة كل صلاة فيقول: يا بني آدم قوموا فأطفئوا عنكم ما أوقدتم على أنفسكم، فيقوموا فيتطهرون فتسقط خطاياهم عن أعينهم ويصلون فيغفر لهم ما بينهما، ثم توقدون فيما بين ذلك، فاذا كان عند صلاة الاولى نادى: يا بني آدم قوموا فاطفئوا ما اوقدتم على انفسكم فيقومون فيتطهرون ويصلون فيغفر لهم ما بينهما، فاذا حضرت العصر فمثل ذلك، فاذا حضرت المغرب فمثل ذلك، فاذا حضرت العتمة فمثل ذلك، فينامون وقد غفر لهم، ثم قال: فمدلج في خير ومدلج في شر " صحيح الترغيب 359 والصحيحة 2520، قال الشيخ رحمه الله في الصحيحة: وهم فيه الهيثمي وهما فاحشا … فيه أبان بن أبي عياش " وبيانه من وجهين - وهم الهيثمي - الاول: انه لم ينتبه لما في الاسناد نفسه من بيان ان أبان هو العطار ففسره من عنده بأنه ابان بن ابي عياش، وهذا متروك عند الحافظ، فصار الحديث بذلك واهيا! وقد كنت اغتررت به في بعض مؤلفاتي، فلتصحح! ، ولينظر في أي مؤلفات الشيخ رحمه الله ذلك!

(105) لأسلم وغفار ورجال من مزينة وجهينة خير من الحليفين غطفان وبني عامر بن صعصعة " الصحيحة 3212، قال الشيخ رحمه الله: واعلم أني كنت أوردت الحديث سابقا في الضعيفة لذكر " بني عامر " في آخره ثم وجدت له شاهدا.... ولهذا الشاهد نقلته الى الصحيحة" قلت: ولينظر أين هو في الضعيفة؟

(106) يا نساء المؤمنات عليكن بالتهليل والتكبير ولا تغفلن فتنسين الرحمة " الضعيفة تحت رقم " 118 " ص 240 - معارف -، قال الشيخ رحمه الله: كان هنا بهذا الرقم حديث " يا نساء المؤمنات … " ثم وجدت له شاهدا موقوفا على عائشة له حكم المرفوع، فبدا لي أنه لا يليق ايراده هنا مع هذا الشاهد وقد ذكرته في رسالة " الرد على التعقب الحثيث "، وانظر المشكاة 2316 والهداية 2256والضعيفة تحت الحديث 83 ص 186

(107) من سره أن ينظر الى رجل من أهل الجنة فلينظر الى الحسين بن علي " الضعيفة 4604، قال الناشر: كان هنا الحديث " من سره.. " وقد نقله الشيخ الى الصحيحة " 4003 "

(108) من طاف بالبيت سبعا وصلى ركعتين كان كعدل رقبة " الضعيفة عندالحديث 5097 المجلد 11ص 168، كتب الشيخ رحمه الله فوق هذا المتن الحديث الذي بعده " من طاف " نقل الى الصحيحة " 2725

(109) لو أن رجلين دخلا في الاسلام فاهتجرا لكان أحدهما خارجا من الاسلام حتى يرجع، يعني الظالم " الضعيفة تحت رقم 5245، قال الناشر: كتب الشيخ رحمه الله فوق هذا المتن في أصله الخطي " الحديث 5246 نقل الى الصحيحة برقم " 3294 "

(110) ذمة المسلمين واحدة فإن جارت عليهم جائرة فلا تخفروها فإن لكل غادر لواء يعرف به يوم القيامة "الضعيفة 3622 والحديث في الصحيحة " 3948 "

 

الأحاديث من التصحيح للتضعيف:
(১০০) "কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; আবার কালোর ওপর সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর সাদার ওপর কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; কেবল তাকওয়া ব্যতিরেক। সমস্ত মানুষ আদম থেকে, আর আদম মাটি থেকে।" আত-তাহাবিয়্যাহ - নবম - পৃষ্ঠা ৩৬১, আসার ৪৬১। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সহিহ, তবে এর সম্বন্ধ সুনান গ্রন্থসমূহের দিকে করাটা ভ্রমাত্মক; কেননা তাদের কেউ এটি বর্ণনা করেননি। বরং এটি ইমাম আহমদের মুসনাদে রয়েছে। কয়েক বছর আগে আমি এটি নিয়ে সংশয়ে ছিলাম, তারপর আল্লাহ তাআলা আমার জন্য এর বহু সূত্র একত্রিত করা সহজ করে দেন এবং আমি সেগুলোর ওপর সূক্ষ্ম তাহকিক করি। ফলে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি সমষ্টিগতভাবে সহিহ।" দেখুন: সহিহ আত-তারগিব ২৯৬৪, আস-সহিহাহ ২৭০০ এবং গায়াতুল মারাম ৩১৩।

(১০১) "তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। তারা যখন জানত না, তখন কেন জিজ্ঞাসা করল না?! অজ্ঞতার নিরাময় তো হলো জিজ্ঞাসা করা।" আল-ইরওয়া ১০৫, দেখুন: আন-নাসিহা পৃষ্ঠা ৩৯, আল-মিশকাত ৫০৭ এবং সহিহ আবি দাউদ ৩৬৪ - ৩৬৫।

(১০২) "যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে বলে: 'আমি আল্লাহর প্রতি রব হিসেবে, ইসলামের প্রতি দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি নবী হিসেবে সন্তুষ্ট হলাম', তবে আমি তার জিম্মাদার, আমি অবশ্যই তার হাত ধরব যতক্ষণ না তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাই।" সহিহ আত-তারগিব ৬৫৭ এবং আস-সহিহাহ ২৬৮৬। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল-মুনযিরি 'আত-তারগিব'-এ এটি উল্লেখ করেছেন... এবং বলেছেন যে, তাবারানি এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।" আল-হায়সামিও 'আল-মাজমা' গ্রন্থে একই কথা বলেছেন। অতঃপর হাফিয ইবনে হাজার তাঁর টীকায় এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন, "এতে রুশদিন রয়েছে এবং সে যয়িফ।" আমি (আলবানি রাহিমাহুল্লাহ) বলছি: "আমিও 'আত-তারগিব'-এর ওপর টীকা লিখতে গিয়ে তার অনুসরণ করেছিলাম এবং সে অনুসারেই 'যয়িফ আত-তারগিব'-এ এটি উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু পরে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, রুশদিন এই বর্ণনায় একা নন।" যয়িফ আত-তারগিবের কোন সংস্করণে এটি রয়েছে তা দেখে নেওয়া দরকার।

(১০৩) "কোনো বান্দা যখনই কোনো উদ্বেগ বা দুঃখের শিকার হয় এবং বলে: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনার দাসের পুত্র, আপনার দাসীর পুত্র। আমার কপাল আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়সঙ্গত। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার কাছে ইলমে গায়বে গোপন রেখেছেন—আপনি কুরআনকে করুন আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার বক্ষের নূর, আমার দুঃখের অপনোদনকারী এবং আমার উদ্বেগের বিদায়কারী'; তবে আল্লাহ অবশ্যই তার উদ্বেগ ও দুঃখ দূর করে দেবেন এবং তার পরিবর্তে তাকে আনন্দ দান করবেন।" আল-কালিমুত তাইয়িব - মাআরিফ - ১২৪। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সহিহ হাদিস। ইতিপূর্বে 'শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ'-এর হাদিসসমূহের ওপর আমার টীকায় এর বিপরীত কথা উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ এবং সূক্ষ্ম গবেষণার মাধ্যমে আমার কাছে এটি সহিহ বলে প্রতীয়মান হয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ আস-সহিহাহ-তে '১৯৯' নম্বরে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করেছি।"

দেখুন: আত-তারগিব ১৮২২, আল-মিশকাত ২৪৫২, আত-তাওয়াসসুল ৩১, হিদায়াতুর রুওয়াত ২৩৮৭ এবং এটি আত-তাহাবিয়্যাহ - অষ্টম - ৪৪-এ রয়েছে।

(১০৪) "প্রত্যেক সালাতের সময় একজন ঘোষক প্রেরিত হন যিনি বলেন: হে বনী আদম! দাঁড়াও এবং সেই আগুন নিভিয়ে দাও যা তোমরা নিজেদের ওপর প্রজ্বলিত করেছ। তখন তারা দাঁড়ায় ও পবিত্রতা অর্জন করে, ফলে তাদের চোখ থেকে তাদের গুনাহসমূহ ঝরে পড়ে এবং তারা সালাত আদায় করে। ফলে দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। পুনরায় তোমরা এর মধ্যবর্তী সময়ে আগুন জ্বালাও। যখন প্রথম সালাতের সময় হয়, তখন তিনি আহ্বান করেন: হে বনী আদম! দাঁড়াও এবং সেই আগুন নিভিয়ে দাও যা তোমরা নিজেদের ওপর প্রজ্বলিত করেছ। তখন তারা দাঁড়ায়, পবিত্রতা অর্জন করে এবং সালাত আদায় করে। ফলে দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আসরের সময় হলে একই রূপ হয়, মাগরিবের সময় হলেও একই রূপ হয় এবং এশার সময় হলেও একই রূপ হয়। অতঃপর তারা এমন অবস্থায় ঘুমায় যে তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি বললেন: সুতরাং কেউ কল্যাণের পথে রাত কাটায়, আবার কেউ অকল্যাণের পথে।" সহিহ আত-তারগিব ৩৫৯ এবং আস-সহিহাহ ২৫২০। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আস-সহিহাহ-তে বলেছেন: "হায়সামি এতে মারাত্মক বিভ্রান্ত হয়েছেন... কারণ এতে আদান বিন আবি আইয়াশ রয়েছে।" এর ব্যাখ্যা দুটি দিক থেকে—হায়সামির বিভ্রান্তি—প্রথমত: তিনি সনদের ভেতরের সেই বর্ণনাটির প্রতি খেয়াল করেননি যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই 'আবান' হলেন 'আল-আত্তার'। বরং তিনি নিজের পক্ষ থেকে একে 'আবান বিন আবি আইয়াশ' বলে ব্যাখ্যা করেছেন, যিনি হাফিযের মতে পরিত্যক্ত। ফলে হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল! আমি নিজেও আমার কিছু কিতাবে এর দ্বারা প্রতারিত হয়েছিলাম, সুতরাং তা সংশোধন করে নেওয়া উচিত! শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কোন কিতাবসমূহে এটি রয়েছে তা দেখে নেওয়া দরকার।

(১০৫) "অবশ্যই আসলাম, গিফার এবং মুযাইনাহ ও জুহাইনার কিছু লোক মিত্রপক্ষ গতফান এবং বনী আমির বিন সা’সাআ-এর চেয়ে উত্তম।" আস-সহিহাহ ৩২১১২। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জেনে রাখুন, আমি ইতিপূর্বে হাদিসটি 'আয-যয়িফাহ'-তে উল্লেখ করেছিলাম এর শেষে 'বনী আমির'-এর উল্লেখ থাকার কারণে। কিন্তু পরে আমি এর সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) পেয়েছি... আর এই শাহিদের কারণেই আমি একে আস-সহিহাহ-তে স্থানান্তর করেছি।" আমি বলছি: আয-যয়িফাহ-তে এটি কোথায় আছে তা দেখে নেওয়া দরকার।

(১০৬) "হে মুমিন মহিলারা! তোমরা তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করাকে নিজেদের জন্য আবশ্যক করে নাও এবং উদাসীন হয়ো না, অন্যথায় তোমরা রহমত বিস্মৃত হবে।" আয-যয়িফাহ ১১৮ নম্বর হাদিসের নিচে, পৃষ্ঠা ২৪০ - মাআরিফ। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই নম্বরে এখানে 'হে মুমিন মহিলারা...' হাদিসটি ছিল। এরপর আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এর একটি মাওকুফ শাহিদ পেয়েছি যা মারফুর হুকুম রাখে। ফলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই শাহিদটি থাকা সত্ত্বেও এখানে এটি উল্লেখ করা সমীচীন নয়। আমি এটি 'আর-রাদ্দু আলাত তা’ক্কুবিল হাসিস' নামক রিসালায় উল্লেখ করেছি।" দেখুন: আল-মিশকাত ২৩১৬, আল-হিদায়াহ ২২৫৬ এবং আয-যয়িফাহ-তে ৮৩ নম্বর হাদিসের নিচে পৃষ্ঠা ১৮৬।

(১০৭) "যে ব্যক্তি জান্নাতি কোনো মানুষকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন হুসাইন বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দিকে তাকায়।" আয-যয়িফাহ ৪৬০৪। প্রকাশক বলেছেন: "এখানে 'যে ব্যক্তি...' হাদিসটি ছিল, শায়খ এটি আস-সহিহাহ '৪০০৩'-এ স্থানান্তর করেছেন।"

(১০৮) "যে ব্যক্তি কাবা ঘর সাতবার তাওয়াফ করল এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করল, তা একটি গোলাম আজাদ করার সমতুল্য।" আয-যয়িফাহ ৫০৯৭ নম্বর হাদিসের নিকট, ১১তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৮। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এই পাঠ্যের ওপর এর পরবর্তী হাদিসটি লিখেছিলেন "যে ব্যক্তি তাওয়াফ করল" যা আস-সহিহাহ '২৭২৫'-এ স্থানান্তরিত হয়েছে।

(১০৯) "যদি দুজন মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে এবং এরপর একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে, তবে তাদের একজন ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে যতক্ষণ না সে ফিরে আসে—অর্থাৎ জালিম ব্যক্তি।" আয-যয়িফাহ ৫২৪৫ নম্বরের নিচে। প্রকাশক বলেছেন: শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর পাণ্ডুলিপিতে এই পাঠ্যের ওপরে লিখেছেন: "হাদিস ৫২৪৬ আস-সহিহাহ-তে ৩২৯৪ নম্বরে স্থানান্তরিত।"

(১১০) "মুসলিমদের নিরাপত্তা অভিন্ন। সুতরাং যদি কোনো অন্যায়কারী তাদের ওপর অন্যায় করে, তবে তোমরা তার নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করো না। কেননা প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য কিয়ামতের দিন একটি পতাকা থাকবে যা দ্বারা তাকে চেনা যাবে।" আয-যয়িফাহ ৩৬২২ এবং হাদিসটি আস-সহিহাহ-তে '৩৯৪৮' নম্বরে রয়েছে।

 

সহিহ থেকে যয়িফ স্তরে উপনীত হাদিসসমূহ:
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৯)
(1) أتريد أن تكون فتانا يا معاذ؟ إذا أممت الناس فاقرأ ب (والشمس وضحاها) و (سبح اسم ربك الاعلى) و (والليل إذا يغشى) و (اقرأ باسم ربك) الارواء " 1 ص 331 " ذكر الشيخ أن المؤلف استدل بهذه القصة على أنه يصح للمأموم أن ينوي مفارقة الامام لعذر يبيح ترك الجماعة وفي ذلك نظر _ ثم ناقش الشيخ ذلك – واستدل على ذلك بما في رواية مسلم " فانحرف الرجل فسلم ثم صلى وحده " وقال " فهذا نص فيما ذكرنا والله أعلم " وفي الصحيحة تحت ر قم " 3171 " ص " 518 " قال الشيخ رحمه الله " والان وقد تبين بوضوح أنها رواية شاذة غير صحيحة، فقد رجعت عن الاستدلال بها والروايات الاخرى تغني عنها والحمد لله على توفيقه واسأله المزيد من فضله "

(2) " لا تبيعوا القينات، ولا تشتروهن ولا تعلموهن، ولا خير في تجارة فيهن وثمنهن حرام وفي مثل هذا أنزلت الاية " ومن الناس من يشتري لهو الحديث ليضل عن سبيل الله بغير علم " الصحيحة 2922، قال الشيخ رحمه الله: ص " 118 "، فقد رجعت عن الاستشهاد بحديث الوليد هذا، وبقي الحديث على ضعفه، الا ما يتعلق منه بنزول الاية في الغناء للشواهد الصحيحة المذكورة عن ابن مسعود وغيره فانها في حكم المرفوع عند الحاكم وغيره " وانظر الترمذي " 1282 " وابن ماجه " 2168 " وهداية الرواة " 2711 " وتحريم الات الطرب " ص 68 " والتعليقات الرضية " 361 – 2 " وضعيف الجامع " 6189 "

(3) يطوي الله السماوات يوم القيامة ثم يأخذهن بيده اليمنى، ثم يقول: أنا الملك أين الجبارون؟ أين المتكبرون؟

ثم يطوي الأرضين، ثم يأخذهن (بشماله) ثم يقول: أنا الملك أين الجبارون؟ أين المتكبرون؟ " صحيح الجامع " 8108

" م –د " عن ابن عمر، وحكم الشيخ في الصحيحة تحت رقم " 3136 " ص " 375 " (بنكارة لفظة " بشماله ")

(4) أربع قبل الظهر (ليس فيهن تسليم) تفتح لهن أبواب السماء " صحيح الجامع " 885 " والمشكاة " 1168 "

وهداية الرواة " 1125 " وصحيح ابي داود " 1153 " وابن ماجه " 950 "

قال الشيخ رحمه الله في الصحيحة " تحت رقم 3404 ص 1198 ": وقد رواه ابن ماجه وغيره أتم منه مثل حديث الترجمة وزاد (لا يفصل بينهن بتسليم) وهي زيادة منكرة، وانظر ضعيف الترغيب – المعارف – 320 وضعيف الجامع " 4567 "

(5) في السلسلة الصحيحة تحت حديث " 99 " ص " 205 – 206 " قال الشيخ: فائدة " روى عبد الرزاق وسعيد بن منصور في سننه .... عن محمد بن علي بن الحنفية " أن عمر خطب الى علي ابنته أم كلثوم فذكر له صغرها فقيل له: إن ردك فعاوده، فقال له علي: أبعث بها إليك فإن رضيت فهي امرأتك، فأرسل بها إليه فكشف عن ساقيها، فقالت: لولا أنك آمير المؤمنين لصككت عينك "، قال الشيخ رحمه الله في الضعيفة تحت رقم 1273 ص 434: وقد اعتبرتها يومئذ صحيحة الاسناد ...... فلما طبع مصنف عبد الرزاق ووقفت على اسنادها فيه تبين لي أن في السند إرسالا وانقطاعا .......فرأيت ان من الواجب علي – اداء للامانة العلمية –

أن أهتبل هذه الفرصة وأن أبين للقراء ما تبين لي من الانقطاع.

 

(6) ليسترجع أحدكم في كل شيء حتى في شسع نعله فإنها من المصائب " صحيح الجامع " 5448 " المشكاة " 1760 " " الكلم الطيب – المكتب الاسلامي – " 140 " قال الشيخ " حسن "، والحديث في الكلم الطيب – المعارف – 127، قال الشيخ رحمه الله: ثم تبين لي أن إسناده ضعيف جدا وأن الشاهد المشار اليه مختلف عن هذا في المعنى وقد أوضحت ذلك في الضعيفة " 5595 " وانظر ضعيف الجامع " 4949 " وهداية الرواة " 2191 "

(7) ليس يتحسر أهل الجنة على شيء الا ساعة مرت بهم لم يذكروا الله عز وجل فيها " صحيح الجامع " 5446 " قال الشيخ "

" أقرب للضعف " وذكر الشيخ أنه في الصحيحة " 2197 " وفي طبعة – المعارف – تم حذفه من الصحيحة وهو في

" الضعيفة " 4986 " وضعيف الترغيب – معارف – " 910 "

(8) تكون إبل للشياطين وبيوت للشياطين ، فأما إبل الشياطين فقد رأيتها، يخرج أحدكم بجنيبات معه قد أسمنها فلا يعلو بعيرا منها ويمر بأخيه قد انقطع به فلا يحمله وأما بيوت الشياطين فلم أرها " قال الشيخ رحمه الله: - تحت الحديث " 2303 " في الضعيفة

" وقد كنت أوردت الحديث في الصحيحة " 93 " قبل أن يتبين لي الانقطاع المذكور، فالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله " ، والحديث تم حذفه من الصحيحة طبعة – المعارف -.، وانظر أبو داود " 2568 وهداية الرواة " 3842 "

(9) نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم، أن يبال في الجحر " صحيح الترغيب – الطبعة الثانية سنة 1406 – برقم " 150 "

قال الشيخ " صحيح "، والحديث في ضعيف الترغيب – المعارف – برقم " 120 "
(১) হে মুয়াজ, তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী হতে চাও? যখন তুমি মানুষের ইমামতি করবে, তখন (ওয়াশ শামসি ওয়া দুহাহা), (সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা), (ওয়াল লাইলি ইজা ইয়াগশা) এবং (ইকরা বিসমি রাব্বিকা) তিলাওয়াত করো। আল-ইরওয়া "খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৩১"। শায়খ উল্লেখ করেছেন যে, লেখক এই কাহিনী দ্বারা দলীল পেশ করেছেন যে, জামাত ত্যাগের বৈধ ওজর থাকলে মুক্তাদীর জন্য ইমামের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নিয়ত করা সহীহ। তবে এ বিষয়ে সংশয় রয়েছে — অতঃপর শায়খ এ নিয়ে আলোচনা করেছেন — এবং মুসলিমের বর্ণনায় যা এসেছে তা দ্বারা দলীল দিয়েছেন: "অতঃপর লোকটি সরে গেল, সালাম ফেরাল এবং একা সালাত আদায় করল।" তিনি বলেন, "আমরা যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে এটি একটি স্পষ্ট দলিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন।" সহীহাহ-এর '৩১৭১' নম্বর ও '৫১৮' পৃষ্ঠার অধীনে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বর্তমানে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে এটি একটি শায (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনা যা সহীহ নয়। তাই আমি এটি দ্বারা দলীল পেশ করা থেকে প্রত্যাবর্তন করেছি। অন্যান্য বর্ণনাগুলো এর অভাব পূরণ করে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকের জন্য তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর অনুগ্রহের অধিক বৃদ্ধি কামনা করি।"

(২) "তোমরা গায়িকা দাসী ক্রয়-বিক্রয় করো না, তাদের শিক্ষা দিও না। তাদের ব্যবসার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই এবং তাদের মূল্য হারাম। আর এই ধরণের বিষয়েই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে: 'মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য ক্রয় করে'।" সহীহাহ ২৯২২। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (পৃষ্ঠা ১১৮): "আমি ওয়ালিদের এই হাদীসটি সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা থেকে প্রত্যাবর্তন করেছি এবং হাদীসটি তার দুর্বলতার ওপরই বহাল রয়েছে। তবে ইবনে মাসউদ ও অন্যদের থেকে বর্ণিত সহীহ দলীলসমূহের কারণে গানের ব্যাপারে আয়াতের অবতরণ সম্পর্কিত অংশটি এর ব্যতিক্রম, কারণ হাকেম ও অন্যদের নিকট এটি 'মারফু' এর হুকুমে।" দেখুন: তিরমিজি '১২৮২', ইবনে মাজাহ '২১৬৮', হিদায়াতুর রুওয়াত '২৭১১', তাহরিমু আলাতিত তরাব 'পৃষ্ঠা ৬৮', আত-তালিকাতুর রাদিয়্যাহ '২/৩৬১' এবং যঈফুল জামি '৬১৮৯'।

(৩) আল্লাহ কিয়ামতের দিন আসমানসমূহকে ভাঁজ করবেন, অতঃপর সেগুলোকে তাঁর ডান হাত দিয়ে ধরবেন। তারপর বলবেন: আমিই মালিক, পরাক্রমশালীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়?

এরপর তিনি জমিনসমূহকে ভাঁজ করবেন এবং সেগুলোকে তাঁর বাম হাত দিয়ে ধরবেন। এরপর বলবেন: আমিই মালিক, পরাক্রমশালীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়? "সহীহুল জামি" ৮১০৮

"মুসলিম ও আবু দাউদ" ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। শায়খ সহীহাহ-এর '৩১৩৬' নম্বর ও '৩৭৫' পৃষ্ঠার অধীনে "তাঁর বাম হাত দিয়ে" শব্দটিকে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) বলে হুকুম দিয়েছেন।

(৪) যোহরের পূর্বের চার রাকাত (যাতে কোনো সালাম নেই), এগুলোর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। "সহীহুল জামি" ৮৮৫, "মিশকাত" ১১৬৮

হিদায়াতুর রুওয়াত "১১২৫", সহীহ আবু দাউদ "১১৫৩" এবং ইবনে মাজাহ "৯৫০"

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহাহ-এর '৩৪০৪' নম্বর ও '১১৯৮' পৃষ্ঠার অধীনে বলেছেন: "ইবনে মাজাহ ও অন্যরা এটি আলোচ্য হাদীসের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে (তিনি এগুলোর মাঝে সালামের মাধ্যমে বিচ্ছেদ করতেন না)। এটি একটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) অতিরিক্ত অংশ। দেখুন: যঈফুত তারগীব - আল-মাআরিফ - ৩২০ এবং যঈফুল জামি '৪৫৬৭'।"

(৫) সিলসিলাহ সহীহাহ-এর '৯৯' নম্বর হাদীসের অধীনে (পৃষ্ঠা ২০৫-২০৬) শায়খ বলেছেন: একটি ফায়দা "আব্দুর রাজ্জাক এবং সাঈদ বিন মানসুর তার সুনানে... মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা.) আলীর নিকট তার কন্যা উম্মে কুলসুমের বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন আলী তার অল্প বয়সের কথা উল্লেখ করলেন। উমরকে বলা হলো: সে যদি আপনাকে ফিরিয়ে দেয় তবে পুনরায় আবেদন করুন। তখন আলী তাকে বললেন: আমি তাকে আপনার নিকট পাঠাচ্ছি, যদি আপনি সন্তুষ্ট হন তবে সে আপনার স্ত্রী। এরপর তিনি তাকে পাঠালেন এবং তিনি (উমর) তার পায়ের নলা থেকে কাপড় সরালেন। তখন সে (উম্মে কুলসুম) বলল: আপনি যদি আমীরুল মুমিনীন না হতেন তবে আমি আপনার চোখে আঘাত করতাম।" শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) যঈফাহ-এর ১২৭৩ নম্বর হাদীস ও ৪৩৪ পৃষ্ঠার অধীনে বলেছেন: "আমি সে সময় একে সহীহ সনদের বলে গণ্য করেছিলাম... কিন্তু যখন মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক মুদ্রিত হলো এবং আমি তাতে এর সনদের ব্যাপারে অবগত হলাম, তখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে সনদে ইরসাল (সূত্রহীনতা) এবং ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে... তাই আমি মনে করি ইলমি আমানতদারিতা আদায়ের লক্ষ্যে

এই সুযোগটি গ্রহণ করা এবং পাঠকদের নিকট এর সনদের বিচ্ছিন্নতা যা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে তা বর্ণনা করা আমার ওপর ওয়াজিব।"

 

(৬) তোমাদের প্রত্যেকে যেন প্রতিটি বিষয়েই 'ইন্না লিল্লাহ' পাঠ করে, এমনকি তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও; কেননা তাও বিপদের অন্তর্ভুক্ত। "সহীহুল জামি" ৫৪৪৮, "মিশকাত" ১৭৬০, "আল-কালিমুত তায়্যিব - আল-মাকতাবুল ইসলামী -" ১৪০। শায়খ বলেছেন: "হাসান"। হাদীসটি আল-কালিমুত তায়্যিব - আল-মাআরিফ - ১২৭ এ আছে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "অতঃপর আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল এবং এর যে সাক্ষ্যের (শাহিদ) দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা অর্থগতভাবে এটি থেকে ভিন্ন। আমি যঈফাহ '৫৫৯৫' এ তা স্পষ্ট করেছি। দেখুন: যঈফুল জামি '৪৯৪৯' এবং হিদায়াতুর রুওয়াত '২১৯১'।"

(৭) জান্নাতবাসীরা কোনো কিছুর জন্য আক্ষেপ করবে না, কেবল সেই সময়টি ছাড়া যা তাদের নিকট অতিবাহিত হয়েছে অথচ তাতে তারা মহান আল্লাহর যিকির করেনি। "সহীহুল জামি" ৫৪৪৬। শায়খ বলেছেন

"দুর্বল হওয়ার অধিক নিকটবর্তী" এবং শায়খ উল্লেখ করেছেন যে এটি সহীহাহ '২১৯৭' এ ছিল, কিন্তু আল-মাআরিফ মুদ্রণে এটি সহীহাহ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এটি

"যঈফাহ" ৪৯৮৬ এবং "যঈফুত তারগীব - আল-মাআরিফ -" ৯১০ এ রয়েছে।

(৮) শয়তানদের জন্য উট থাকবে এবং শয়তানদের জন্য ঘর থাকবে। শয়তানদের উটের কথা তো আমি দেখেছি; তোমাদের কেউ অতিরিক্ত উট নিয়ে বের হয় যাকে সে হৃষ্টপুষ্ট করে রেখেছে, অথচ সে নিজে তার পিঠে সওয়ার হয় না এবং তার এমন ভাইয়ের পাশ দিয়ে যায় যার সওয়ারি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে অথচ সে তাকে বহন করে না। আর শয়তানদের ঘর আমি দেখিনি। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) যঈফাহ-এর ২৩০৩ নম্বর হাদীসের অধীনে বলেছেন:

"আমি এর ইনকিতা (সনদের বিচ্ছিন্নতা) স্পষ্ট হওয়ার আগে হাদীসটি সহীহাহ '৯৩' এ উল্লেখ করেছিলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের এর দিশা দিয়েছেন, আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা পথ পেতাম না।" হাদীসটি সহীহাহ-এর আল-মাআরিফ সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দেখুন: আবু দাউদ "২৫৬৮" এবং হিদায়াতুর রুওয়াত "৩৮৪২"।

(৯) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। "সহীহুত তারগীব - দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৬ হিজরী - নম্বর ১৫০"

শায়খ বলেছেন: "সহীহ"। হাদীসটি যঈফুত তারগীব - আল-মাআরিফ - নম্বর '১২০' এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১০)
قال الشيخ رحمه الله، في مقدمة صحيح الترغيب – المعارف – ص 31،: وحذفت منها بعض الاحاديث التي تبين لي مع الزمن أنها بالكتاب الاخر أولى – ضعيف الترغيب – وهذه أرقامها " وذكر الشيخ من بينها رقم الحديث السابق الذكر

وانظر " ضعيف الجامع " 6003 و 6324 " والارواء " 55 " وابو داود " 29 " والنسائي " 34 " والمشكاة " 354 "

(10) إذا أفطر أحدكم فليفطر على تمر فإنه بركة فإن لم يجد تمرا فليفطر على الماء فإنه طهور " صحيح الترغيب – الثانية –

برقم " 1069 " قال الشيخ: " صحيح "، وهو في " صحيح الجامع " 363 " والمشكاة " 1990 "

والحديث في ضعيف الترغيب – المعارف – " 651 " وهو من الاحاديث التي حذفها الشيخ في طبعة صحيح الترغيب – المعارف –

وانظر " ضعيف الجامع " 389 "، وصحيح ابن خزيمة " 2067 " وهداية الرواة " 1931 "

وهو في السنن " الترمذي 658 وابو داود 2355 وابن ماجه 1699، قال الشيخ رحمه الله: ضعيف والصحيح من فعله صلى الله عليه وسلم – أي الافطار على تمر.. الخ، وانظر الارواء " 922 "

(11) عن أم سلمة رضي الله عنها،أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر ما كان يصوم من الايام يوم السبت ويوم الاحد

كان يقول: إنها يوما عيد للمشركين، وأنا أريد أن أخالفهم " صحيح الترغيب – الثانية – " 1041 " وهو في صحيح الجامع

" 4803 " بلفظ " كان أكثر صومه السبت والاحد …"

والحديث في ضعيف الترغيب – المعارف – " 639 " وهو من الاحاديث التي حذفها الشيخ من صحيح الترغيب – الثانية –

وانظر " الضعيفة 1099 وضعيف موارد الظمآن " 112/ 941 " وابن خزيمة " 2167 " والمشكاة " 2068 والهداية 2010 "

(12) إن الله يبغض كل جعظري جواظ صخاب في الاسواق جيفة بالليل حمار بالنهار عالم بأمر الدنيا جاهل بالاخرة "

صحيح الترغيب– الثانية – برقم " 645 " وصحيح الجامع " 1878 " وذكر الشيخ أنه في الصحيحة " 195 "

وهو في ضعيف الترغيب – المعارف " 378 " وهو من الاحاديث التي حذفها الشيخ رحمه الله من صحيح الترغيب

وقد حذف الحديث من الصحيحة طبعة المعارف، والحديث في الضعيفة " 2304 " وضعيف الموارد " 239/ 1975ص 143

(13) عن زيد بن أسلم قال: رأيت ابن عمر يصلي محلولة أزراره فسألته عن ذلك، فقال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعله " صحيح الترغيب – الثانية –برقم " 43 " وهو في ضعيف الترغيب – المعارف – " 34 " وهو من الاحاديث التي حذفها الشيخ رحمه الله من صحيح الترغيب

(14) سلوا الله كل شيء، حتى الشسع، فإن الله إن لم ييسره، لم يتيسر " الضعيفة تحت رقم " 21 " ص " 76 – المعارف-

قال الشيخ رحمه الله: أخرجه ابن السني بسند حسن، والحديث في الضعيفة " 1363 " – المعارف -، قال الشيخ رحمه الله:

" موقوف أخرجه أبو يعلى في مسنده، ثم فرغت من قراة المسند كله فلم أعثر على الحديث في موضع آخر منه مرفوعا ......

وكنت أخطأت أيضا في ذكري إياه مرفوعا تحت الحديث المتقدم – تحت رقم 21 ص 29 - الطبعة الاولى –

(15) قالت أم سلمة رضي الله عنها: ما خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من بيتي قط الا (رفع طرفه الى السماء) فقال: اللهم إني أعوذ بك أن أضل أو أضل أو أزل أو أزل أو أظلم أو أظلم أو أجهل أو يجهل علي "

الكلم الطيب - الثالثة - 59،خرجه الاربعة وقال الترمذي " حسن صحيح " قال الشيخ: وهو كما قال وسنده صحيح،وزاد الشيخ في - طبعة المعارف - (لكن رفع الطرف شاذ) ، والحديث في الصحيحة " 3163 " قال الشيخ: ولعل من المفيد أن نلخص فوائده فيما يأتي:

الرابعة: أن زيادة (رفع طرفه الى السماء) لا تصح....، وعزاه ابن تيمية للاربعة وفيه تساهل ظاهر لانه ليس عند غير ابي داود الرفع المذكور، وكذلك التبريزي في المشكاة - عزاه -لابن ماجه وهو وهم محض فليس عند رفع الطرف، وانظر المشكاة " 2442 والهداية 2376

تنبيه: ذكر الشيخ رحمه الله، في تخريج الحديث في الكلم الطيب - معارف - " 60 ص 90، أن الحديث مخرج في الصحيحة برقم " 3193 " والصواب " 3163 "

(16) أن الغضب من الشيطان وإن الشيطان خلق من نار وإنما تطفأ النار بالماء فإذا غضب أحدكم فليتوضأ " الكلم الطيب - الثالثة- 227 - قال الشيخ رحمه الله: ورواه أحمد أيضا وفيه " عروة بن محمد السعدي " روى عنه جماعة ولم يوثقه غير ابن حبان ومع ذلك فقد قال فيه " كان يخطيء " وقال الحافظ في التقريب " مقبول " يعني عند المتابعة فإن وجد لحديثه هذا متابع او شاهد فهو حسن والله أعلم، ثم قال رحمه الله في الكلم - معارف - 228 - ص 168 - 169، ثم خرجته في الضعيفة " 582 " لما لم نجد له شاهدا الا بلفظ " فليغتسل " بدل " فليتوضأ " وفي سنه مجهول وضعيف، فراجعه إن شئت " وانظر ضعيف الجامع " 1510 " والمشكاة " 5113 " وابو داود " 4784 "
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহুত তারগীব-এর মুকাদ্দামায় (আল-মাআরিফ প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৩১) বলেছেন: “আমি সেখান থেকে এমন কিছু হাদিস বাদ দিয়েছি যা সময়ের ব্যবধানে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, সেগুলো অন্য কিতাব অর্থাৎ 'যঈফুত তারগীব'-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়াই বেশি উপযোগী। আর এগুলো হলো সেগুলোর নম্বর...” এবং শায়খ সেগুলোর মধ্যে পূর্বে উল্লেখিত হাদিসটির নম্বরও উল্লেখ করেছেন।

এবং দেখুন “যঈফুল জামি” ৬০০৩ ও ৬৩২৪, “ইরওয়াউল গালীল” ৫৫, “আবু দাউদ” ২৯, “নাসায়ী” ৩৪ এবং “মিশকাত” ৩৫৪।

(১০) “তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, কারণ তা বরকত। আর যদি খেজুর না পায়, তবে সে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে, কারণ তা পবিত্রকারী।” সহীহুত তারগীব – দ্বিতীয় সংস্করণ –

নম্বর “১০৬৯”। শায়খ বলেছেন: “সহীহ”। এটি “সহীহুল জামি” ৩৬৩ এবং “মিশকাত” ১৯৯০-এ রয়েছে।

আর হাদিসটি যঈফুত তারগীব (আল-মাআরিফ) “৬৫১” নম্বরে রয়েছে, যা শায়খ সহীহুত তারগীব (আল-মাআরিফ) সংস্করণ থেকে বাদ দিয়েছেন।

এবং দেখুন “যঈফুল জামি” ৩৮৯, “সহীহ ইবনে খুযায়মাহ” ২০৬৭ এবং “হিদায়াতুর রুওয়াত” ১৯৩১।

আর এটি সুনান গ্রন্থসমূহে রয়েছে: তিরমিযী ৬৫৮, আবু দাউদ ২৩৫৫ এবং ইবনে মাজাহ ১৬৯৯। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যঈফ। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমল থেকে যা সহীহ তা হলো—খেজুর দিয়ে ইফতার করা... ইত্যাদি। দেখুন ইরওয়াউল গালীল “৯২২”।

(১১) উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিনগুলোর মধ্যে শনিবার ও রবিবার সবচেয়ে বেশি সিয়াম পালন করতেন।

তিনি বলতেন: “এ দুটি দিন মুশরিকদের ঈদের দিন, তাই আমি তাদের বিরোধিতা করতে চাই।” সহীহুত তারগীব – দ্বিতীয় সংস্করণ – “১০৪১”। এটি সহীহুল জামি-তে রয়েছে

“৪৮০৩” নম্বরে এই শব্দে: “তার সিয়ামের অধিকাংশ ছিল শনিবার ও রবিবার …”

আর হাদিসটি যঈফুত তারগীব (আল-মাআরিফ) “৬৩৯” নম্বরে রয়েছে, যা শায়খ সহীহুত তারগীব (দ্বিতীয় সংস্করণ) থেকে বাদ দিয়েছেন।

এবং দেখুন “আদ-যঈফাহ ১০৯৯, যঈফু মাওয়ারিদিত যামআন ১১২/ ৯৪১, ইবনে খুযায়মাহ ২১৬৭, মিশকাত ২০৬৮ এবং আল-হিদায়াহ ২০১০।”

(১২) “নিশ্চয়ই আল্লাহ ঘৃণা করেন প্রত্যেক রূঢ় ও উদ্ধত ব্যক্তিকে, যে বাজারে উচ্চস্বরে চিৎকারকারী, রাতে মৃতদেহের মতো (নিশ্চল) এবং দিনে গাধার মতো (পরিশ্রমী), দুনিয়াবী বিষয়ে অভিজ্ঞ কিন্তু পরকাল সম্পর্কে অজ্ঞ।”

সহীহুত তারগীব – দ্বিতীয় সংস্করণ – নম্বর “৬৪৫” এবং সহীহুল জামি “১৮৭৮”। শায়খ উল্লেখ করেছেন যে এটি আস-সহীহাহ “১৯৫” নম্বরে রয়েছে।

এটি যঈফুত তারগীব (আল-মাআরিফ) “৩৭৮” নম্বরে রয়েছে, যা শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহুত তারগীব থেকে বাদ দিয়েছেন।

হাদিসটি আস-সহীহাহ (আল-মাআরিফ সংস্করণ) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসটি আদ-যঈফাহ “২৩০৪” এবং যঈফুল মাওয়ারিদ “২৩৯/ ১৯৭৫, পৃষ্ঠা ১৪৩”-এ রয়েছে।

(১৩) যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে জামার বোতাম খোলা অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি। আমি তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা করতে দেখেছি। সহীহুত তারগীব – দ্বিতীয় সংস্করণ – নম্বর “৪৩”। এটি যঈফুত তারগীব (আল-মাআরিফ) “৩৪” নম্বরে রয়েছে, যা শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহুত তারগীব থেকে বাদ দিয়েছেন।

(১৪) “তোমরা আল্লাহর কাছে সব কিছু চাও, এমনকি জুতার ফিতাও; কেননা আল্লাহ যদি তা সহজ না করেন তবে তা সহজ হবে না।” আদ-যঈফাহ, নম্বর “২১”, পৃষ্ঠা “৭৬ – আল-মাআরিফ-

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইবনুস সুন্নী এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি আদ-যঈফাহ “১৩৬৩” (আল-মাআরিফ)-এ রয়েছে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

“এটি মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি)। আবু ইয়ালা এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। এরপর আমি পুরো মুসনাদ পাঠ সম্পন্ন করেছি কিন্তু কিতাবটির অন্য কোথাও এটি মারফু (রাসূলের উক্তি) হিসেবে পাইনি...

আর পূর্বে উল্লেখিত হাদিসের অধীনে (নম্বর ২১, পৃষ্ঠা ২৯ – প্রথম সংস্করণ) এটিকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করাটাও আমার ভুল ছিল।”

(১৫) উম্মু সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই আমার ঘর থেকে বের হতেন, তখনই (আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলতেন) এবং বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে পথভ্রষ্ট করা না হয়, আমি যেন পদস্খলিত না হই অথবা আমাকে পদস্খলিত করা না হয়, আমি যেন জুলুম না করি অথবা আমার ওপর জুলুম করা না হয়, আমি যেন মূর্খতা না করি অথবা আমার সাথে মূর্খতাসুলভ আচরণ না করা হয়।”

আল-কালিমুত তায়্যিব – তৃতীয় সংস্করণ – ৫৯। চারজন (সুনান গ্রন্থকার) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে “হাসান সহীহ” বলেছেন। শায়খ বলেন: এটি তেমনই এবং এর সনদ সহীহ। শায়খ (আল-মাআরিফ সংস্করণে) আরও যোগ করেছেন: (কিন্তু আকাশের দিকে দৃষ্টি তোলার অংশটুকু শায বা দুর্বল)। হাদিসটি আস-সহীহাহ “৩১৬৩” নম্বরে রয়েছে। শায়খ বলেন: সম্ভবত এর ফায়দাগুলো নিম্নোক্তভাবে সারসংক্ষেপ করা উপকারী হবে:

চতুর্থত: (আকাশের দিকে দৃষ্টি তোলা)-র অতিরিক্ত অংশটুকু সহীহ নয়... ইবনে তাইমিয়্যাহ একে চারজন (সুনান গ্রন্থকারের) দিকে সম্বন্ধ করেছেন, এতে স্পষ্ট শিথিলতা রয়েছে কারণ আবু দাউদ ছাড়া অন্য কারও কাছে উক্ত দৃষ্টি তোলার বিষয়টি নেই। একইভাবে তিবরিযী মিশকাত-এ একে ইবনে মাজাহর দিকে সম্বন্ধ করেছেন যা নিছক একটি ভুল, কারণ ইবনে মাজাহর নিকট দৃষ্টি তোলার বিষয়টি নেই। দেখুন মিশকাত “২৪৪২ এবং হিদায়াহ ২৩৭৬।

সতর্কবার্তা: শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আল-কালিমুত তায়্যিব (আল-মাআরিফ সংস্করণ) এর হাদিস তাখরীজে (৬০ নম্বর, ৯০ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসটি আস-সহীহাহ গ্রন্থে “৩১৯৩” নম্বরে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সঠিক হলো “৩১৬৩”।

(১৬) “নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে, আর শয়তানকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আগুন কেবল পানি দিয়ে নেভানো যায়। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয়, সে যেন ওযু করে।” আল-কালিমুত তায়্যিব – তৃতীয় সংস্করণ – ২২৭। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আহমাদও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে “উরওয়াহ ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাদী” রয়েছেন, তাঁর থেকে একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন কিন্তু ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেননি এবং তিনিও তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “তিনি ভুল করতেন”। হাফিয (ইবনে হাজার) আত-তাকরীব গ্রন্থে বলেছেন: “মাকবুল” (গ্রহণযোগ্য), অর্থাৎ যখন متابعة (অন্য বর্ণনাকারী কর্তৃক সমর্থিত) পাওয়া যাবে। সুতরাং যদি তাঁর এই হাদিসের জন্য কোনো متابع (সমর্থক) বা شاهد (সাক্ষ্য) পাওয়া যায় তবে তা হাসান। আল্লাহই ভালো জানেন। এরপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আল-কালিম (আল-মাআরিফ সংস্করণ, ২২৮, পৃষ্ঠা ১৬৮-১৬৯)-এ বলেছেন: “পরবর্তীতে আমি এটি আদ-যঈফাহ ৫৮২ নম্বরে বর্ণনা করেছি, কারণ আমরা এর কোনো شاهد (সাক্ষ্য) পাইনি তবে ‘ফাল-ইয়াগতাসিল’ (সে যেন গোসল করে) শব্দে পেয়েছি ‘ফাল-ইয়াতাওয়াদদ্বা’ (সে যেন ওযু করে)-র পরিবর্তে। আর এর সনদে একজন মাজহুল (অপরিচিত) এবং একজন যঈফ (দুর্বল) রাবী রয়েছে। আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন।” এবং দেখুন যঈফুল জামি “১৫১০”, মিশকাত “৫১১৩” এবং আবু দাউদ “৪৭৮৪”।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১১)
(17) عن عمر رضي الله عنه " أنه أخذ من لحية رجل أو رأسه شيئا فقال الرجل: صرف الله عنك السوء، فقال عمر رضي الله عنه: صرف الله عنا السوء منذ أسلمنا ولكن إذا أخذ عنك شيئا فقل: أخذت يداك خيرا " صحيح الكلم الطيب - السابعة - 195ص 89 - قال الشيخ رحمه الله:حديث موقوف جيد الاسناد أخرجه ابن السني، ثم قال الشيخ في طبعة - المعارف 241 ص 176 -لولا أن راويه " عبد الله بن بكر الباهلي " لم يدرك عمر بن الخطاب فهو " مرسل " ثم حذف الحديث من " صحيح الكلم الطيب " - المعارف –

 

(18) عن حفصة أم المؤمنين رضي الله عنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أراد أن يرقد وضع يده اليمنى تحت خده ثم يقول " اللهم، قني عذابك يوم تبعث عبادك " (ثلاث مرات) الكلم الطيب - معارف - 36 و 37 ص 78و79 ، خرجه ابو داود وقال الترمذي حديث " حسن صحيح " قال الشيخ رحمه الله: وهو كما قال، وليس عنده زيادة (ثلاث مرات) وانما هي في حديث " حفصة " فقط (وفي ثبوتها نظر بينته في تخريجه في الصحيحة تحت رقم " 2754 "

(19) الدعاء لا يرد بين الاذان والاقامة " (قالوا: فما نقول يا رسول الله؟ قال: سلوا الله العافية " صحيح الكلم الطيب - الطبعة السابعة- 61، ولفظه " لا يرد الدعاء … " قال الترمذي " حديث حسن صحيح " قال الشيخ رحمه الله في طبعة - المعارف - 75، قلت بل هو بهذا اللفظ والتمام ضعيف فيه " يحيى بن اليمان وزيد العمي وهما ضعيفان " وقد رواه الثقات عن العمي دون زيادة (قالوا … ) هذه الزيادة لا شاهد لها بل هي منكرة وكان الاصل " لا يرد الدعاء.. " وصححته من الترمذي وانما يصح مختصرا بلفظ (الدعاء لا يرد بين الاذان والاقامة) وقد خرجته في ارواء الغليل " 244 "، والحديث في صحيح الكلم الطيب - المعارف - الثامنة - 59، وقد حذفت الزيادة

(20) من أوى الى فراشه طاهرا وذكر الله تعالى (حتى يدركه النعاس) لم ينقلب ساعة من الليل يسأل الله شيئا من خير الدنيا والاخرة الا أعطاه الله إياه " الكلم الطيب - الثالثة - 43،قال: أخرجه الترمذي وقال " حديث حسن غريب "، قال الشيخ رحمه الله " وهو كما قال أو أعلى فإن له شواهد عن جماعة من الصحابة فراجع الترغيب ان شئت " ثم قال الشيخ رحمه الله في طبعة المعارف - 44 ص 82 - ثم تبين لي أن تلك الشواهد قاصرة فليس فيها مثلا (وذكر الله حتى يدركه النعاس) وهو بدونها صحيح "، والحديث في " صحيح الكلم الطيب " - المعارف - 36- وتم حذف الجملة - حتى يدركه النعاس -.

(21) إذا ولج الرجل بيته فليقل: اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج، باسم الله ولجنا وباسم الله خرجنا، وعلى الله ربنا توكلنا، ثم يسلم على أهله " صحيح الجامع " 839 " والمشكاة " 2444 " والكلم الطيب - الثالثة - 61 -أخرجه ابو داود، قال الشيخ رحمه الله: واسناده صحيح، ثم قال الشيخ رحمه الله في الكلم - معارف - " 62 ص 91 " ثم بدا لي أنه (منقطع) ، وذكر الشيخ رحمه الله أن الحديث في الصحيحة " 225 " وقد تم حذفه من طبعة المعارف، وانظر " ابو داود " 5096 " والهداية " 2378 "

 

(22) حديث أبي هريرة (مرفوعا) : " إذا قام أحدكم من الليل فليفتح صلاته بركعتين خفيفتين " الارواء " 2/ 202 / 453 " رواه أحمد ومسلم وابو داود، والحديث في الصحيحة " 3199 " ولفظه " كان إذا قام من الليل يتهجد صلى ركعتين خفيفتين " قال الشيخ رحمه الله: نعم لقد خرجت الحديث (مرفوعا) من قوله صلى الله عليه وسلم في " الارواء ".. وملت هناك الى ترجيح الرفع على الوقف اعمالا لقاعدة زيادة الثقة مقبولة، ثم ترجح عندي (الوقف) لسببين اثنين أوردته من أجل ذلك في ضعيف أبي داود " 240 "وانظر " ضعيف الجامع " 619 " والمشكاة " 1194 والهداية 1152 " ومختصر الشمائل " 227 "

(23) قال أبو رافع رضي الله عنه: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم أذن في أذن الحسن بن علي حين ولدته فاطمة رضي الله عنها بالصلاة " الكلم الطيب - الثالثة - 210 - قال الترمذي " حديث حسن صحيح "، قال الشيخ رحمه الله: قلت واسناده ضعيف وهو " حسن بشاهده " الذي رواه البيهقي في الشعب عن ابن عباس، ثم قال الشيخ رحمه الله في طبعة - المعارف -211 ص 162 " ثم تبين أن في سند الشاهد متهمين فخرجته في " الضعيفة 6121 " فيبقى حديث أبي رافع على الضعف، فيرفع من صحيح الكلم الطيب "انظر الارواء " 1173 " وابو داود " 5105 " والترمذي " 1514 " والضعيفة - معارف - 1/ ص 493- 494 تحت حديث 321 " والحديث لم يحذف من- صحيح الكلم- معارف - الثامنة - 168 -!! والله أعلم.
(১৭) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, "তিনি এক ব্যক্তির দাড়ি অথবা মাথা থেকে কিছু একটা নিলেন, তখন লোকটি বলল: আল্লাহ আপনার থেকে অমঙ্গল দূর করুন। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমরা ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকেই আল্লাহ আমাদের থেকে অমঙ্গল দূর করেছেন; বরং যখন তোমার থেকে কিছু নেয়া হয় তখন বলো: তোমার হাতগুলো কল্যাণ গ্রহণ করেছে।" সহিহুল কালিমিত তায়্যিব - সপ্তম সংস্করণ - ১৯৫, পৃষ্ঠা ৮৯ - শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি একটি মাওকুফ হাদিস যার সনদ উত্তম, ইবনুস সুন্নি এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর শায়খ আল-মাআরিফ সংস্করণের ২৪১, পৃষ্ঠা ১৭৬-এ বলেছেন: যদি এর বর্ণনাকারী "আবদুল্লাহ ইবনে বকর আল-বাহিলি" উমর ইবনুল খাত্তাবের সাক্ষাৎ না পেতেন তবে এটি "মুরসাল" হতো। পরবর্তীতে তিনি "সহিহুল কালিমিত তায়্যিব" - মাআরিফ সংস্করণ - থেকে হাদিসটি বাদ দিয়ে দেন।

 

(১৮) মুমিন জননী হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, তখন তার ডান হাত তার গালের নিচে রাখতেন, অতঃপর বলতেন "হে আল্লাহ! আপনি যেদিন আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবেন, সেদিন আমাকে আপনার আজাব থেকে রক্ষা করুন" (তিনবার)। কালিমুত তায়্যিব - মাআরিফ - ৩৬ ও ৩৭, পৃষ্ঠা ৭৮ ও ৭৯; এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে "হাসান সহিহ" হাদিস বলেছেন। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন, তবে তার নিকট (তিনবার) কথাটি অতিরিক্ত নেই; এটি শুধুমাত্র "হাফসা"-র হাদিসেই রয়েছে (এবং এর সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি আছে যা আমি আস-সহিহাহ-র ২৭৫৪ নম্বর হাদিসের অধীনে বর্ণনা করেছি)।

(১৯) "আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না।" (লোকেরা বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা তবে কী বলব? তিনি বললেন: আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা [আফিয়াত] প্রার্থনা করো।) সহিহুল কালিমিত তায়্যিব - সপ্তম সংস্করণ - ৬১; এর শব্দ হচ্ছে "দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না..." তিরমিজি বলেছেন "এটি হাসান সহিহ হাদিস"। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আল-মাআরিফ সংস্করণের ৭৫-এ বলেছেন: আমি বলি, বরং এই শব্দে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে এটি দুর্বল; এতে "ইয়াহইয়া ইবনুল ইয়ামান এবং যায়েদ আল-আম্মি" রয়েছেন এবং তারা উভয়েই দুর্বল। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ আল-আম্মি থেকে এই অতিরিক্ত অংশ (তারা বলল...) ব্যতিরেকে বর্ণনা করেছেন। এই অতিরিক্ত অংশের কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই বরং এটি মুনকার। মূল পাঠ ছিল "দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না..." এবং আমি তিরমিজি থেকে একে সহিহ বলেছি। এটি মূলত সংক্ষেপে "আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না" শব্দে সহিহ। আমি এটি ইরওয়াউল গালিল-এর "২৪৪" নম্বরে বর্ণনা করেছি। হাদিসটি সহিহুল কালিমিত তায়্যিব - মাআরিফ - অষ্টম সংস্করণ - ৫৯-এ রয়েছে এবং অতিরিক্ত অংশটি বাদ দেয়া হয়েছে।

(২০) "যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় বিছানায় যায় এবং মহান আল্লাহর জিকির করে (যতক্ষণ না তাকে তন্দ্রা আচ্ছন্ন করে), সে রাতের কোনো এক সময়ে পার্শ্ব পরিবর্তন করে দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো কল্যাণের বিষয় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।" কালিমুত তায়্যিব - তৃতীয় সংস্করণ - ৪৩; তিনি বলেছেন: তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন "হাদিসটি হাসান গরিব"। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন বা তার চেয়েও উচ্চ পর্যায়ের, কারণ একদল সাহাবী থেকে এর সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, আপনি চাইলে আত-তারগিব দেখে নিতে পারেন।" অতঃপর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) মাআরিফ সংস্করণের ৪৪, পৃষ্ঠা ৮২-তে বলেছেন: "পরবর্তীতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, সেই সমর্থক বর্ণনাগুলো অসম্পূর্ণ; যেমন সেগুলোতে '(এবং আল্লাহর জিকির করে যতক্ষণ না তাকে তন্দ্রা আচ্ছন্ন করে)' অংশটি নেই। আর এই অংশটুকু ছাড়া হাদিসটি সহিহ।" হাদিসটি "সহিহুল কালিমিত তায়্যিব" - মাআরিফ - ৩৬-এ রয়েছে এবং '(যতক্ষণ না তাকে তন্দ্রা আচ্ছন্ন করে)' বাক্যটি বাদ দেয়া হয়েছে।

(২১) "যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তম প্রবেশস্থল এবং উত্তম বহির্গমনস্থল প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামে আমরা বের হলাম, আর আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করলাম। অতঃপর সে যেন তার পরিবারকে সালাম দেয়।" সহিহুল জামি "৮৩৯", আল-মিশকাত "২৪৪৪" এবং কালিমুত তায়্যিব - তৃতীয় সংস্করণ - ৬১; আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এর সনদ সহিহ। অতঃপর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) কালিম - মাআরিফ - "৬২, পৃষ্ঠা ৯১"-এ বলেছেন: পরবর্তীতে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে এটি (মুনকাতি বা বিচ্ছিন্ন সনদ)। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসটি আস-সহিহাহ-র "২২৫" নম্বরে ছিল কিন্তু মাআরিফ সংস্করণ থেকে এটি বাদ দেয়া হয়েছে। দেখুন "আবু দাউদ ৫০৯৬", "আল-হিদায়াহ ২৩৭৮"।

 

(২২) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত (মারফু হিসেবে): "যখন তোমাদের কেউ রাতে সালাতের জন্য দাঁড়াবে, সে যেন দুটি সংক্ষিপ্ত রাকাতের মাধ্যমে তার সালাত শুরু করে।" ইরওয়া "২/ ২০২ / ৪৫৩"; এটি আহমাদ, মুসলিম ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি আস-সহিহাহ-র "৩১৯৯" নম্বরে রয়েছে এবং এর শব্দ হচ্ছে "তিনি যখন রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য দাঁড়াতেন, তখন দুটি সংক্ষিপ্ত রাকাত পড়তেন।" শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: হ্যাঁ, আমি ইরওয়া-তে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে হাদিসটি (মারফু হিসেবে) বর্ণনা করেছি এবং সেখানে 'নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ গ্রহণযোগ্য' - এই মূলনীতির ভিত্তিতে হাদিসটি মাওকুফ হওয়ার চেয়ে মারফু হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে দুটি কারণে (মাওকুফ হওয়াটি) আমার কাছে প্রাধান্য পায়, যে কারণে আমি এটি যইফ আবু দাউদ "২৪০"-এ উল্লেখ করেছি। আরও দেখুন "যইফুল জামি ৬১৯", "মিশকাত ১১৯৪", "হিদায়াহ ১১৫২" এবং "মুখতাসারুশ শামায়েল ২২৭"।

(২৩) আবু রাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, যখন ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাসান ইবনে আলীকে জন্ম দিয়েছিলেন, তখন তিনি তার কানে সালাতের আজান দিয়েছিলেন।" কালিমুত তায়্যিব - তৃতীয় সংস্করণ - ২১০; তিরমিজি বলেছেন "হাদিসটি হাসান সহিহ"। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমি বলছি, এর সনদ দুর্বল; তবে এটি সেই সমর্থক বর্ণনার কারণে "হাসান" যা বায়হাকি শুআবুল ঈমানে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) মাআরিফ সংস্করণের ২১১, পৃষ্ঠা ১৬২-তে বলেছেন: "পরবর্তীতে স্পষ্ট হয়েছে যে, সমর্থক বর্ণনার সনদে অভিযুক্ত ব্যক্তি রয়েছে, তাই আমি একে 'আদ-দয়িফাহ ৬১২১'-এ বর্ণনা করেছি। ফলে আবু রাফির হাদিসটি দুর্বলই রয়ে গেল। সুতরাং এটি সহিহুল কালিমিত তায়্যিব থেকে বাদ যাবে।" দেখুন ইরওয়া "১১৭৩", আবু দাউদ "৫১০৫", তিরমিজি "১৫১৪", আদ-দয়িফাহ - মাআরিফ - ১/ পৃষ্ঠা ৪৯৩-৪৯৪, হাদিস নং ৩২১-এর অধীনে। অথচ হাদিসটি সহিহুল কালিম - মাআরিফ - অষ্টম সংস্করণ - ১৬৮ - থেকে বাদ দেয়া হয়নি!! আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১২)
(24) إن الله استقبل بي الشام، وولى ظهري اليمن، وقال لي: يا محمد، إني جعلت لك ما تجاهك غنيمة ورزقا، وما خلف ظهرك مددا، ولا يزال الاسلام يزيد، وينقص الشرك وأهله حتى تسير المرأتان لا تخشيان الا جورا، والذي نفسي بيده لا تذهب الايام والليالي حتى يبلغ هذا الدين مبلغ هذا النجم " صحيح الجامع " 1716 " وذكر الشيخ أنه مخرج في الصحيحة " 35 "،والحديث تم حذفه في طبعة المعارف _ وقال الشيخ رحمه الله هناك - الصحيحة " 1 / ص 81 " تنبيه: كان هنا بهذا الرقم " 35 " في الطبعات السابقة حديث آخر فتبين لي أن في إسناده جهالة فلم أستجز ابقاءه هنا فنقلته الى الضعيفة " 5848 "

 

(25) أبى الله أن يقبل عمل صاحب بدعة حتى يدع بدعته " صحيح الترغيب - الطبعة الثانية - " 53 "قال الشيخ " صحيح "، والحديث في ضعيف الجامع " 29 " وهو في الضعيفة " 1492 "واصلاح المساجد " 83 و 81 "والسنة لابن ابي عاصم " 39 "، قال الشيخ رحمه الله في مقدمة " صحيح الترغيب " ص 31 " طبعة - المعارف -:وحذفت منها بعض الاحاديث التي تبين لي مع الزمن أنها بالكتاب الاخر أولى - ضعيف الترغيب " وهذه أرقامها في الطبعتين المشار إليهما، وذكر منها الحديث السابق الذكر برقم " 53 "، ثم تكلم رحمه الله عن الاحاديث المحذوفة وسبب حذفها، فقال: وأما الحديث الثاني منها " 53 " فهو مضعف في ظلال الجنة " 39 " وقبل ذلك بزمان مخرج في الضعيفة " 1492 " فلا أدري والله كيف وقع في صحيح الترغيب؟!

(26) إن العبد ليتصدق بالكسرة تربو عند الله عز وجل حتى تكون مثل أحد " صحيح الترغيب - 851 -، الثانية -، وهو في ضعيف الترغيب - المعارف - 508 - وضعيف الجامع " 1501 " وهو من الاحاديث التي أشار الشيخ رحمه الله الى أنه حذفها من صحيح الترغيب وانظر مقدمة الترغيب - المعارف - ص 31و32

 

(27) كان النبي صلى الله عليه وسلم يحب أن يفطر على ثلاث تمرات أو شيء لم تمسه النار " صحيح الترغيب - 1070- الثانية- والحديث في ضعيف الترغيب - المعارف - برقم " 652 " وهو من الاحاديث التي أشار الشيخ رحمه الله أنه حذفها من الطبعة الجديدة للترغيب - المعارف - وهو في ضعيف الجامع " 4540 "، وانظر ضعيف موارد الظمآن " 101 / 892 و 102 / 893 " وهو في الضعيفة " 996 " وانظر الارواء " 922 "

(28) كان صلى الله عليه وسلم -يكره المسائل ويعيبها فإذا سأله أبو رزين أجابه وأعجبه " صحيح الجامع " 5007 "، والحديث في ظلال الجنة " 640 " قال الشيخ رحمه الله: اسناده ضعيف

(29) خير الصحابة أربعة، وخير السرايا أربعمائة، وخير الجيوش أربعة آلاف، ولا تهزم اثنا عشر ألفا من قلة " صحيح الجامع " 3278 " والصحيحة " 986 "، ثم قال الشيخ رحمه الله في الصحيحة - المعارف - ص 682 - 685 " (استدراك) هذا ما وصل اليه علمي منذ أكثر من عشرين سنة ثم وقفت على أمور اضطررت من أجلها الى أن "أعدل عن القول بصحة الحديث راجيا من المولى سبحانه وتعالى أن يلهمني الصواب في ذلك،.. وجملة القول أن الحديث لا يصح فما جاء مخالفا لهذا في بعض كتاباتي فأنا راجع عنه قائلا " ربنا لا تؤاخذنا إن نسينا أو أخطأنا "،وانظر ضعيف الترغيب - معارف - 1814 - والمشكاة 3912 وابو داود 2611 والترمذي 1555 وضعيف الموارد " 205 / 1663 "

 

(30) اتقوا الحديث عني إلا ما علمتم " المشكاة - 232 - رواه الترمذي، قال الشيخ رحمه الله: وقال حديث حسن " قلت وسنده ضعيف، لكن ابن شيبة رواه بسند صحيح كما قال ابن القطان ونقله المناوي في " فيض القدير " والله أعلم " ثم قال الشيخ رحمه الله في " صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم " ص 41 - معارف: ثم تبين لي أن الحديث " ضعيف " وكنت اتبعت المناوي في تصحيحه لاسناد ابن أبي شيبة فيه، ثم تيسر لي الوقوف عليه فإذا هو بين الضعف وهو نفس إسناد الترمذي وغيره، راجع كتابي " سلسلة الاحاديث الضعيفة 1783 " الترمذي 2951

(31) احذروا بيتا يقال له الحمام " قالوا: يا رسول الله إنه ينقي الوسخ؟ قال: " فاستتروا " صحيح الترغيب - الطبعة الثانية - 161 -والحديث في ضعيف الترغيب - معارف - 127 - قال الشيخ رحمه الله: ضعيف شاذ، وانظر " غاية المرام " 193 " وصحيح الجامع " 116 " والارواء " 2582 "

 

(32) نهى أن يبال في الماء الجاري " ضعيف الجامع " 6004 " قال الشيخ رحمه الله: وقع هذا الحديث في - صحيح الجامع - 6690 - الطبعة الاولى- وذلك خطأ فليحذف "، والحديث في الضعيفة " 5227 " وضعيف الترغيب - معارف - 118 "
(24) নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে শামের দিকে মুখ করিয়েছেন এবং আমার পিঠকে ইয়ামানের দিকে রেখেছেন। তিনি আমাকে বলেছেন: হে মুহাম্মদ, আমি আপনার সামনের দিককে আপনার জন্য গনীমত ও রিযিক বানিয়েছি এবং আপনার পিঠের পিছনের দিককে সাহায্য বানিয়েছি। ইসলাম বৃদ্ধি পেতেই থাকবে এবং শিরক ও মুশরিকরা হ্রাস পেতেই থাকবে, যতক্ষণ না দুইজন নারী ভ্রমণ করবে অথচ তারা যুলুম ব্যতীত আর কিছুকে ভয় পাবে না। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, দিন ও রাত শেষ হবে না যতক্ষণ না এই দ্বীন সেই নক্ষত্রের সীমানায় পৌঁছাবে। "সহীহুল জামি' ১৭১৬"। শায়খ উল্লেখ করেছেন যে এটি আস-সাহীহাহ (৩৫)-এ উদ্ধৃত হয়েছে। তবে আল-মা'আরিফ সংস্করণে হাদীসটি মুছে ফেলা হয়েছে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সেখানে বলেছেন—'আস-সাহীহাহ' (১/পৃ. ৮১) দ্রষ্টব্য: পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে ৩৫ নম্বর অধীনে এখানে অন্য একটি হাদীস ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে এর সনদে 'জাহালাত' (অপরিচিত বর্ণনাকারী) রয়েছে। ফলে আমি এটিকে এখানে রাখা বৈধ মনে করিনি এবং এটিকে আদ-দঈফাহ (৫৮৪৮)-তে স্থানান্তরিত করেছি।

 

(25) আল্লাহ তাআলা বিদআতী ব্যক্তির আমল কবুল করতে অস্বীকার করেছেন যতক্ষণ না সে তার বিদআত ত্যাগ করে। "সহীহুত তারগীব - দ্বিতীয় সংস্করণ - ৫৩"। শায়খ বলেছেন "সহীহ", হাদীসটি যঈফুল জামি' (২৯), আদ-দঈফাহ (১৪৯২), ইসলাহুল মাসাজিদ (৮৩ ও ৮১) এবং ইবনে আবি আসিমের আস-সুন্নাহ (৩৯)-তে রয়েছে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহুত তারগীব (পৃ. ৩১, আল-মা'আরিফ সংস্করণ)-এর ভূমিকায় বলেছেন: আমি এখান থেকে কিছু হাদীস মুছে ফেলেছি যা সময়ের সাথে সাথে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে সেগুলো অন্য কিতাব—যঈফুত তারগীব—এর জন্য অধিক উপযোগী। তিনি উল্লিখিত উভয় সংস্করণের হাদীস নম্বরগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তার মধ্যে ৫৩ নম্বর হাদীসটিও উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) অপসারিত হাদীসসমূহ ও তা অপসারনের কারণ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: আর এর মধ্যে দ্বিতীয় হাদীসটি (৫৩ নম্বর) যিলালুল জান্নাহ (৩৯)-তে দুর্বল বলা হয়েছে এবং তার অনেক আগে আদ-দঈফাহ (১৪৯২)-তে উদ্ধৃত হয়েছে। আল্লাহর কসম, আমি জানি না কীভাবে এটি সহীহুত তারগীব-এ অন্তর্ভুক্ত হলো!

(26) নিশ্চয়ই বান্দা যখন এক লোকমা খাবার সদকা করে, তখন তা মহান আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পেতে থাকে যতক্ষণ না তা উহুদ পাহাড়ের সমান হয়। "সহীহুত তারগীব - ৮৫১, দ্বিতীয় সংস্করণ"। হাদীসটি যঈফুত তারগীব (আল-মা'আরিফ - ৫০৮) এবং যঈফুল জামি' (১৫০১)-তে রয়েছে। এটি সেই হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ব্যাপারে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন যে তিনি তা সহীহুত তারগীব থেকে মুছে ফেলেছেন। দেখুন: আত-তারগীব এর ভূমিকা (আল-মা'আরিফ, পৃ. ৩১ ও ৩২)।

 

(27) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি খেজুর অথবা আগুনের স্পর্শ লাগেনি এমন কিছু দিয়ে ইফতার করা পছন্দ করতেন। "সহীহুত তারগীব - ১০৭০, দ্বিতীয় সংস্করণ"। হাদীসটি যঈফুত তারগীব (আল-মা'আরিফ) ৬৬২ নম্বরে রয়েছে। এটি সেই হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ব্যাপারে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন যে তিনি তা আত-তারগীব এর নতুন সংস্করণ (আল-মা'আরিফ) থেকে মুছে ফেলেছেন। এটি যঈফুল জামি' (৪৫৪০), যঈফ মাওয়ারিদুয যামআন (১০১/৮৯২ ও ১০২/৮৯৩), আদ-দঈফাহ (৯৯৬) এবং আল-ইরওয়া (৯২২)-তে রয়েছে।

(28) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন অপছন্দ করতেন এবং তাতে ত্রুটি ধরতেন। তবে আবু রাযীন যখন তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতেন, তিনি তাকে উত্তর দিতেন এবং তা তাকে আনন্দিত করত। "সহীহুল জামি' ৫০০৭"। হাদীসটি যিলালুল জান্নাহ (৬৪০)-তে আছে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এর সনদ দুর্বল।

(29) সাহাবীদের মধ্যে উত্তম হলো চারজন, ছোট বাহিনীর মধ্যে উত্তম হলো চারশ জন, আর সৈন্যবাহিনীর মধ্যে উত্তম হলো চার হাজার জন। বারো হাজার সৈন্য সংখ্যার স্বল্পতার কারণে পরাজিত হবে না। "সহীহুল জামি' ৩২৭৮ এবং আস-সাহীহাহ ৯৮৬"। এরপর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আস-সাহীহাহ (আল-মা'আরিফ সংস্করণ, পৃ. ৬৮২-৬৮৫)-তে বলেছেন— (সংশোধনী): বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে আমার জ্ঞান এই পর্যন্ত পৌঁছেছিল, এরপর আমি এমন কিছু বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছি যার কারণে আমি এই হাদীসটিকে সহীহ বলার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমি মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে সঠিক পথের দিশা দেন... সারকথা হলো হাদীসটি সহীহ নয়। আমার কোনো লেখায় এর বিপরীত যা এসেছে আমি তা থেকে ফিরে আসছি এবং বলছি: "হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না"। দেখুন: যঈফুত তারগীব (আল-মা'আরিফ - ১৮১৪), আল-মিশকাত ৩৯১২, আবু দাউদ ২৬১১, তিরমিযী ১৫৫৫ এবং যঈফুল মাওয়ারিদ (২০৫/১৬৬৩)।

 

(30) তোমরা যা জানো তা ব্যতিত আমার পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করো। "আল-মিশকাত - ২৩২, তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত"। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তিনি (ইমাম তিরমিযী) বলেছেন এটি হাসান হাদীস। আমি (আলবানী) বলছি: এর সনদ দুর্বল, তবে ইবনে শাইবাহ এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যেমনটি ইবনুল কাত্তান বলেছেন এবং আল-মুনাওয়ী 'ফায়যুল ক্বাদীর'-এ তা উদ্ধৃত করেছেন, আল্লাহই ভালো জানেন। এরপর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) 'সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' (পৃ. ৪১, আল-মা'আরিফ সংস্করণ)-এ বলেন: এরপর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে হাদীসটি "দুর্বল"। ইবনে আবি শাইবাহর বর্ণিত সনদের ক্ষেত্রে আমি আল-মুনাওয়ীর সহীহ সাব্যস্ত করার অনুসরণ করেছিলাম। এরপর আমার পক্ষে মূল সনদটি দেখা সম্ভব হয় এবং দেখা যায় যে এটি স্পষ্টতই দুর্বল। এটি ইমাম তিরমিযী ও অন্যদের সনদের মতোই। আমার কিতাব 'সিলসিলাতুল আহাদীস আদ-দঈফাহ ১৭৮৩' এবং তিরমিযী ২৯৫১ দেখুন।

(31) তোমরা হাম্মাম (গোসলখানা) নামক ঘর থেকে বেঁচে থাকো। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো ময়লা পরিষ্কার করে? তিনি বললেন: "তবে তোমরা পর্দা অবলম্বন করো।" "সহীহুত তারগীব - দ্বিতীয় সংস্করণ - ১৬১"। হাদীসটি যঈফুত তারগীব (আল-মা'আরিফ - ১২৭)-এ রয়েছে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: দুর্বল ও শায (ব্যতিক্রমধর্মী)। দেখুন: 'গায়াতুল মারাম ১৯৩', 'সহীহুল জামি' ১১৬' এবং 'আল-ইরওয়া ২৫৮২'।

 

(32) তিনি বহমান পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। "যঈফুল জামি' ৬০০৪"। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই হাদীসটি সহীহুল জামি' (৬৬৯০, প্রথম সংস্করণ)-এ চলে এসেছে, যা একটি ভুল, তাই এটি মুছে ফেলা উচিত। হাদীসটি আদ-দঈফাহ (৫২২৭) এবং যঈফুত তারগীব (আল-মা'আরিফ - ১১৮)-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
(33) أقبل ابن أم مكتوم وهو - أعمى وهو الذي أنزل فيه (عبس وتولى * أن جاءه الاعمى) وكان رجلا من قريش - الى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال له: يا رسول الله! بأبي وأمي أنا كما تراني قد دبرت سني ورق عظمي وذهب بصري ولي قائد لا يلايمني قياده إياي فهل تجد لي رخصة أصلي في بيتي الصلوات؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:هل تسمع المؤذن في البيت الذي أنت فيه؟ قال: نعم يا رسول الله، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما أجد لك رخصة، ولو يعلم هذا المتخلف عن الصلاة في الجماعة ما لهذا الماشي إليها لأتاها ولو حبوا على يديه ورجليه " صحيح الترغيب - الثانية - 430- والحديث في ضعيف الترغيب - المعارف - 234 –

(34) من توضأ ثم أتى المسجد فصلى ركعتين قبل الفجر، ثم جلس حتى يصلي الفجر، كتبت صلاته يومئذ في صلاة الابرار وكتب في وفد الرحمن " صحيح الترغيب - الثانية - 416، والحديث في ضعيف الترغيب - طبعة المعارف - برقم " 228 "

(35) اللهم لك صمت وعلى رزقك أفطرت " صحيح ابن خزيمة، والحديث في الارواء " 919 " ج4 ص 39، قال الشيخ رحمه الله: وبما أن الطريقين اللذين قبله ضعيفان جدا لا يستشهد بهما فيبقى حديثه ضعيفا لينا، مع ذلك صحح حديثهم جمعا ولا أدري كيف تأثرت بهم في تعليقي على صحيح ابن خزيمة " وانظر المشكاة 1994 والكلم الطيب - معارف - 165 ص 140 وأبي داود 2358 وضعيف الجامع " 631 "

(36) أن النبي صلى الله عليه وسلم، كان يتختم في يمينه " الارواء - 3 / 301 - 302 " قال الشيخ رحمه الله: أخرجه النسائي والترمذي في الشمائل.... وسنده صحيح على شرط مسلم، لكن خالفه شعبة عن قتادة فرواه بلفظ " كأني أنظر الى بياض خاتم النبي صلى الله عليه وسلم في أصبعه اليسرى " أخرجه النسائي وسنده صحيح، فقد اختلف شعبة وابن ابي عروبة على قتادة وكلاهما ثقة ولكل منهما ما يؤيد روايته، ومن ذلك يتبين أن لا مجال للترجيح بين الروايتين فلابد من التوفيق بينهما ولعل ذلك بحمل كل رواية على حادثة غير الاخرى … وإن لم يكن الامر كذلك فالحديث مضطرب عندي "، والحديث في " مختصر الشمائل - المعارف - ص 62، قال الشيخ رحمه الله: قلت اسناده صحيح، لكن أعله المؤلف بالاضطراب في متنه كما ذكر في الاصل عقبه، وهو الذي ملت اليه في الارواء (والان فقد رجعت عنه الى ترجيح رواية اليسار) لمتابعة ثابت لقتادة عليها كما ذكرت آنفا، ولذلك قال الدارقطني: إنها المحفوظة ولم يكن تبين لي وجهه هناك في الارواء، فلينقل هذا إليه

(37) من حافظ عليها كانت له نورا وبرهانا ونجاة يوم القيامة، ومن لم يحافظ عليها، لم يكن له نور ولا برهان ولا نجاة وكان يوم القيامة مع قارون وفرعون وهامان وأبي ابن خلف " الثمر المستطاب " ص 52 - 53 وقال سنده حسن "

والحديث في ضعيف الجامع " 2851 " وضعيف الترغيب " معارف- 312 " وانظر المشكاة " 578 والهداية 550 " وضعيف الموارد " 20 / 254 "

 

(38) مر عمر رضي الله عنه بحسان رضي الله عنه وهو ينشد (الشعر) في المسجد (فلحظ إليه) (فقال: مه) قال: (في حلقة فيهم أبو هريرة) : كنت أنشد وفيه من هو خير منك (ثم التفت الى أبي هريرة فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " أجب عني اللهم أيده بروح القدس "؟ قال: نعم) (فانصرف عمر وهو يعرف أنه يريد رسول الله صلى الله عليه وسلم الحديث أخرجه البخاري ومسلم وابو داود والنسائي وأحمد والسياق له والزيادة الاولى لمسلم والثانية للجميع الا البخاري والسادسة لهم الا ابو داود،.... والثلثة والاخرة أخرجه احمد ثم اخرجه من طريق … وفيه (الزيادة الرابعة) (ثم تبين لي أن هذا الاسناد منقطع.. ولذلك وجب الضرب على هذه الزيادة وقد فعلنا) " الثمر المستطاب ص " 795- 796

(39) عرضت علي أجور أمتي حتى القذاة يخرجها الرجل من المسجد، وعرضت علي ذنوب أمتي فلم أر ذنبا أعظم من سورة من القرآن أو آية أوتيها الرجل ثم نسيها " الثمر المستطاب " ص 587 " قال الشيخ رحمه الله: للحديث شاهدا مرسلا نحوه أخرجه ابن ابي داود كما في " الفتح " فهو به حسن إن شاء الله تعالى وقد صححه ابن خزيمة "، ثم قال رحمه الله الثمر المستطاب ص 589 _ ثم رجعت عن هذا وذهبت الى أن الحديث ضعيف فانظر " ضعيف ابي داود 88 " وانظر ضعيف الترغيب - معارف - 184 و 872 والمشكاة 720 وضعيف الجامع 3700

(40) لا تذبحوا الا مسنة الا أن يعسر عليكم فتذبحوا جذعة من الضأن " الارواء " 4 / 359 "، قال الشيخ رحمه الله: وقد كنت اغتررت برهة من الزمن بهذا الحديث متوهما صحته لا خراج مسلم إياه في الصحيح ثم تنبهت لعلته هذه فنبهت عليها في - الضعيفة رقم " 65 " ص 160 و161 و163 "- طبعة المعارف -وانظر المشكاة 1455 والهداية 1400
(33) ইবনে উম্মে মাকতূম (রা.) এগিয়ে এলেন এবং তিনি ছিলেন অন্ধ—যাঁর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে (সে ভ্রূকুটি করল ও মুখ ফিরিয়ে নিল * কারণ তার কাছে এক অন্ধ লোক এল)। তিনি কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আমি কেমন তা আপনি দেখছেন। আমার বয়স বেড়েছে, হাড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি। আমার একজন পথপ্রদর্শক আছে যে আমাকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমার জন্য অনুকূল নয়। এমতাবস্থায় আপনি কি আমার জন্য কোনো অবকাশ পাবেন যাতে আমি আমার বাড়িতেই সালাত আদায় করতে পারি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তুমি কি বাড়িতে থাকা অবস্থায় মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাও?” তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমি তোমার জন্য কোনো অবকাশ পাচ্ছি না। জামাতে সালাত হতে পিছিয়ে থাকা এই ব্যক্তি যদি জানত যে, সালাতের দিকে পায়ে হেঁটে আসায় কী রয়েছে, তবে সে অবশ্যই আসত, এমনকি তার হাত ও পায়ের উপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও।” সহীহুত তারগীব - দ্বিতীয় খণ্ড - ৪৩০; এবং হাদিসটি যইফুত তারগীব - আল-মাআরিফ - ২৩৪- এ রয়েছে।

(34) যে ব্যক্তি অজু করল, অতঃপর মসজিদে এল এবং ফজরের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করল, তারপর ফজরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত বসে থাকল, সেই দিন তার সালাত নেককারদের সালাতের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং সে রহমানের প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। সহীহুত তারগীব - দ্বিতীয় খণ্ড - ৪১৬; এবং হাদিসটি যইফুত তারগীব - আল-মাআরিফ সংস্করণ - ক্রমিক ২২৮- এ রয়েছে।

(35) হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি। সহীহ ইবনে খুজাইমা এবং হাদিসটি ইরওয়াউল গালীল-এ রয়েছে ৯১৯, ৪র্থ খণ্ড, ৩৯ পৃষ্ঠা। শাইখ (রহ.) বলেন: যেহেতু এর পূর্বের দুটি সূত্র অত্যন্ত দুর্বল, যা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের অযোগ্য, তাই তার হাদিসটি দুর্বল ও শিথিলই থেকে যায়। তা সত্ত্বেও একটি জামাত (মুহাদ্দিসীন) তাদের হাদিসকে সহীহ বলেছেন। আমি জানি না সহীহ ইবনে খুজাইমার উপর আমার টীকা লেখার সময় আমি কীভাবে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলাম। দেখুন: মিশকাত ১৯৯৪ এবং আল-কালিমুত তায়্যিব - মাআরিফ - ১৬৫, ১৪০ পৃষ্ঠা এবং আবু দাউদ ২৩৫৮ ও যইফুল জামে ৬৩১০।

(36) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন। ইরওয়া - ৩ / ৩০১ - ৩০২। শাইখ (রহ.) বলেন: নাসাঈ এবং তিরমিজি শামায়েল-এ এটি বর্ণনা করেছেন... এবং এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। তবে শু'বা কাতাদাহ থেকে এর বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আমি যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাম হাতের আঙুলে আংটির শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছি।" এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ। শু'বা এবং ইবনে আবি আরুবাহ কাতাদাহর বর্ণনায় মতভেদ করেছেন এবং তারা উভয়েই নির্ভরযোগ্য। তাদের প্রত্যেকের কাছেই নিজ নিজ বর্ণনার সপক্ষে সমর্থনকারী প্রমাণ রয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, দুই বর্ণনার মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার অবকাশ নেই। তাই এ দুটির মধ্যে সমন্বয় করা আবশ্যক। সম্ভবত প্রতিটি বর্ণনাকে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ওপর প্রয়োগ করা হবে... আর বিষয়টি যদি তেমন না হয়, তবে হাদিসটি আমার কাছে মুজতারিব (বিশৃঙ্খল)। হাদিসটি মুখতাসারুশ শামায়েল - আল-মাআরিফ - পৃষ্ঠা ৬২- তে রয়েছে। শাইখ (রহ.) বলেন: আমি বলছি, এর সনদ সহীহ, কিন্তু গ্রন্থকার এর মতন বা পাঠে ইজতিরাব বা অস্থিরতার কারণে একে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন, যেমনটি তিনি মূল কিতাবে এর পরপরই উল্লেখ করেছেন। আমি ইরওয়া-তে এই মতের দিকেই ঝুঁকেছিলাম (কিন্তু এখন আমি তা থেকে ফিরে এসে বাম হাতের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিচ্ছি), কারণ সাবিত কাতাদাহর এই বর্ণনায় অনুসরণ করেছেন, যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এই কারণেই দারাকুতনী বলেছেন: এটিই সংরক্ষিত। ইরওয়া-তে বিষয়টি তখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি, তাই এটি সেখানে স্থানান্তর করা উচিত।

(37) যে ব্যক্তি এর (সালাতের) হেফাজত করবে, কিয়ামতের দিন এটি তার জন্য নূর, দলিল ও নাজাতের উপায় হবে। আর যে এর হেফাজত করবে না, তার জন্য কোনো নূর, দলিল বা নাজাত থাকবে না এবং কিয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালাফের সাথে থাকবে। আস-সামারুল মুসতাতাব, পৃষ্ঠা ৫২ - ৫৩; এবং তিনি বলেছেন এর সনদ হাসান।

হাদিসটি যইফুল জামে ২৮৫১, যইফুত তারগীব - মাআরিফ - ৩১২- এ রয়েছে। আরও দেখুন মিশকাত ৫৭৮ এবং আল-হিদায়া ৫৫০ ও যইফুল মাওয়ারিদ ২০ / ২৫৪।

 

(38) উমর (রা.) হাসসান (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি মসজিদে (কবিতা) আবৃত্তি করছিলেন। উমর (রা.) তাঁর দিকে (তীব্র দৃষ্টিতে) তাকালেন (এবং বললেন: থামো!)। তিনি বললেন: (একটি বৈঠকে যাতে আবু হুরায়রা (রা.) ছিলেন): আমি তখন কবিতা আবৃত্তি করতাম যখন সেখানে আপনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি (রাসুলুল্লাহ) উপস্থিত ছিলেন। (অতঃপর তিনি আবু হুরায়রার দিকে তাকিয়ে বললেন: আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও, হে আল্লাহ! তাঁকে রুহুল কুদুস (জিবরাঈল)-এর মাধ্যমে সাহায্য করুন"? তিনি বললেন: হ্যাঁ)। (অতঃপর উমর চলে গেলেন এবং তিনি জানতেন যে তিনি (হাসসান) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই উদ্দেশ্য করছেন)। হাদিসটি বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এর বিন্যাস আহমাদ থেকে নেওয়া। প্রথম অতিরিক্ত অংশটি মুসলিমের, দ্বিতীয়টি বুখারি ব্যতীত সবার, ষষ্ঠটি আবু দাউদ ব্যতীত সবার... তৃতীয় এবং শেষ অংশটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন... যাতে (চতুর্থ অতিরিক্ত অংশটি) রয়েছে। (অতঃপর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই সনদটি মুনকাতি বা বিচ্ছিন্ন... তাই এই অতিরিক্ত অংশটি বাদ দেওয়া আবশ্যক এবং আমরা তা করেছি)। আস-সামারুল মুসতাতাব পৃষ্ঠা ৭৯৫- ৭৯৬

(39) আমার সামনে আমার উম্মতের সওয়াব বা প্রতিদানসমূহ পেশ করা হয়েছে, এমনকি সেই আবর্জনাটুকুও যা কোনো ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের করে দেয়। আর আমার সামনে আমার উম্মতের গুনাহসমূহ পেশ করা হয়েছে। আমি কোনো গুনাহকে কুরআনের কোনো সূরা বা আয়াতের চেয়ে বড় দেখিনি যা কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছিল এবং পরে সে তা ভুলে গেছে। আস-সামারুল মুসতাতাব পৃষ্ঠা ৫৮৭। শাইখ (রহ.) বলেন: হাদিসটির এর সমরূপ একটি মুরসাল শাহিদ (সাক্ষ্য) রয়েছে যা ইবনে আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন যেমনটি 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে রয়েছে। সুতরাং এটি হাসান ইনশাআল্লাহ। ইবনে খুজাইমা একে সহীহ বলেছেন। অতঃপর শাইখ (রহ.) আস-সামারুল মুসতাতাব ৫৮৯ পৃষ্ঠায় বলেন—পরবর্তীতে আমি এটি থেকে ফিরে এসেছি এবং এই মতে পৌঁছেছি যে হাদিসটি দুর্বল। দেখুন যইফ আবু দাউদ ৮৮ এবং যইফুত তারগীব - মাআরিফ - ১৮৪ ও ৮৭২ এবং মিশকাত ৭২০ ও যইফুল জামে ৩৭০০

(40) তোমরা 'মুসিন্না' (পূর্ণ বয়স্ক পশু) ছাড়া জবাই করো না, তবে তা যদি তোমাদের জন্য দুঃসাধ্য হয় তবে ভেড়ার 'জাযআ' (ছয় মাস বয়সী বাচ্চা) জবাই করো। ইরওয়া ৪ / ৩৫৯। শাইখ (রহ.) বলেন: আমি একটা দীর্ঘ সময় এই হাদিসটি দ্বারা প্রতারিত হয়েছিলাম এবং এর বিশুদ্ধতা নিয়ে ভ্রান্তিতে ছিলাম, কারণ ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। পরবর্তীতে আমি এর ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হই এবং আদ-দঈফাহ ক্রমিক ৬৫, পৃষ্ঠা ১৬০, ১৬১ ও ১৬৩ - মাআরিফ সংস্করণ - এ সম্পর্কে সতর্ক করি। দেখুন মিশকাত ১৪৫৫ এবং আল-হিদায়া ১৪০০
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
(41) لا يزال قوم يتأخرون عن الصف الاول حتى يؤخرهم الله (في النار) صحيح الترغيب - الطبعة الثانية - 510 -، والحديث في صحيح الترغيب معارف - بنفس الرقم - 510 - بدون ذكر (في النار) ، قال الشيخ رحمه الله: في الحديث مكان النقط " في النار " فحذفتها لضعف سندها "

 

(42) إذا قال الامام " غير المغضوب عليهم ولا الضالين " فقولوا " آمين " فإنه من وافق كلامه كلام الملائكة غفر لمن في المسجد " رواه النسائي - الكبرى - صحيح الترغيب - الطبعة الثانية - 514 -، وفي صحيح الترغيب - المعارف - 514 - قال الشيخ رحمه الله بعد أن ساق الرواية الصحيحة والتي في آخرها " غفر له ما تقدم من ذنبه - قال الشيخ: في الاصل بعده - رواية النسائي....ولم أجده في سنن النسائي الصغرى ولا الكبرى وهي في سنن البيهقي ومسند احمد وهي (رواية شاذة ومنكرة خالف راويها الثقات عن ابي هريرة بلفظ (غفر له) وقد بينت ذلك في الصحيحة " 3476 "

(43) لا يغتسل رجل يوم الجمعة ويتطهر ما استطاع من طهر.." ورواه الطبراني في الكبير " باسناد حسن، نحو رواية النسائي وقال في آخره " الا كان كفارة لما بينه وبين الجمعة الاخرى ما اجتنبت المقتلة وذلك الدهر كله " صحيح الترغيب - الطبعة الثانية- 689 -، والحديث في صحيح الترغيب - معارف- 689- ولفظه " الا كان كفارة لما بينه وبين الجمعة الاخرى ما اجتنبت المقتلة....... " قال الشيخ رحمه الله: هنا في الاصل لفظ " وذلك الدهر كله " فحذفتها لان في اسناد الطبراني " مغيرة " وهو ابن مقسم الضبي - مدلس - وقد عنعنه، وهو رواية للنسائي - الكبرى- ولكنه لم يذكرها

 

(44) عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من يوم يصبح العباد فيه الا ملكان ينزلان فيقول أحدهما: اللهم أعط منفقا خلفا ويقول الاخر: اللهم أعط ممسكا تلفا " رواه البخاري ومسلم، وابن حبان في صحيحه ولفظه " إن ملكا بباب من أبواب الجنة يقول: من يقرض اليوم يجز غدا، وملك بباب آخر يقول: اللهم أعط منفقا خلفا وأعط ممسكا تلفا "، ورواه الطبراني مثل ابن حبان الا أنه قال (بباب من أبواب السماء) ، صحيح الترغيب - الثانية -905 -، والحديث في صحيح الترغيب - معارف 914- وقد حذف الشيخ رحمه الله، رواية الطبراني لضعفها - فقال رحمه الله: هنا في الاصل ما نصه " ورواه الطبراني مثل ابن حبان؛ الا انه قال (بباب من ابواب السماء) فحذفته لانه عند الطبراني في " الاوسط "عن شيخه " مقدام " وهو " ابن داود الرعيني "، قال النسائي " ليس بثقة " ولفظ ابن حبان مخرج في الصحيحة " 920 ".

(45) الاكثرون هم الاسفلون يوم القيامة الا من قال بالمال هكذا وهكذا (وكسبه من طيب) ، الصحيحة - 1766- والحديث في صحيح الترغيب - معارف -تحت حديث - 3260 - " ورواه ابن ماجه مختصرا " الاكثرون هم الاسفلون يوم القيامة الا من قال هكذا وهكذا "، قال الشيخ رحمه الله في حاشية الترغيب- " في أخر الحديث زيادة " وكسبه من طيب " فحذفتها لشذوذها ومخالفتها لطرق الحديث الاخرى، وهي مخرجة في الصحيحة - 1766- وفاتني هناك التنبيه على شذوذها ومخالفتها فليستدرك.

(46) " من قام رمضان ايمانا واحتسابا، غفر له ما تقدم من ذنبه، ومن قام ليلة القدر ايمانا واحتسابا، غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر " " شاذ بزيادة " وما تأخر " - الضعيفة- 5083 -، قال الشيخ رحمه الله: وجملة القول ان حديث عبادة هذا ليس له اسناد ثابت، فالاول منقطع والاخر فيه ذلك المجهول، وقد غفل عن هذه الحقيقة الحافظ العراقي في " طرح التثريب " - 4 / 163 " حين وقف عند ابن عقيل قائلا " وحديثه حسن " دون ان ينظر الى ما بيناه من الانقطاع والجهالة، ومثل ذلك صنيع الهيثمي " 3 / 185 " ونحوه قول الحافظ ابن حجر " 4 / 99، حديث عبادة عند الامام أحمد من وجهين اسناده حسن "، ومثل هذه الاقوال من هؤلاء الائمة كان حملني برهة من الزمن على " تحسين هذه الزيادة - وما تأخر - في حديث عبادة، وتصحيحها في حديث ابي هريرة ورمزت بذلك لها على نسختي من " الترغيب " التي كنت أدرس منها على الاخوان ما كان من الاحاديث الثابتة، والان وقد يسر الله لي جمع طرق الحديث وسردها على وجه يكشف لكل طالب علم أن الزيادة المذكورة لا تصح بوجه من الوجوه فقد رجعت عن الرمز المذكور الى (التضعيف) والله ولي التوفيق "

وانظر " صحيح الجامع 6325 "و" صحيح الترغيب - المعارف - 992 - حاشية 1
(৪১) একদল মানুষ প্রথম কাতার থেকে পিছিয়ে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের পিছিয়ে দেন (জাহান্নামে)। সহীহ আত-তারগীব - দ্বিতীয় সংস্করণ - ৫১০ - এবং হাদিসটি সহীহ আত-তারগীব মাআরিফ-এ একই নম্বরে - ৫১০ - ‘জাহান্নামে’ অংশটি উল্লেখ ছাড়াই রয়েছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: হাদিসে ডট দেওয়া স্থানে ‘জাহান্নামে’ শব্দগুচ্ছ ছিল, আমি এর সনদের দুর্বলতার কারণে তা বাদ দিয়েছি।

 

(৪২) যখন ইমাম ‘গাইরিল মাগদুবী আলাইহিম ওয়ালাদ-দাল্লীন’ বলবেন, তখন তোমরা ‘আমীন’ বলো। কারণ, যার কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে, মসজিদের সকলকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আন-নাসায়ী এটি আল-কুবরাতে বর্ণনা করেছেন - সহীহ আত-তারগীব - দ্বিতীয় সংস্করণ - ৫১৪ -। এবং সহীহ আত-তারগীব - আল-মাআরিফ - ৫১৪-তে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহ বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর—যার শেষে রয়েছে ‘তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হবে’—বলেছেন: মূল পাণ্ডুলিপিতে এরপর ছিল—নাসায়ীর বর্ণনা... তবে আমি এটি সুনানে নাসায়ী সুগরা বা কুবরা কোনোটিতেই পাইনি; বরং এটি সুনানে বায়হাকী ও মুসনাদে আহমাদে রয়েছে এবং এটি একটি ‘শাজ’ (অস্বাভাবিক) ও ‘মুনকার’ (পরিত্যক্ত) বর্ণনা। এর বর্ণনাকারী আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীত বর্ণনা করেছেন ‘তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ শব্দের মাধ্যমে। আমি আস-সহীহাহ-তে (৩৪৭৬) এটি স্পষ্ট করেছি।

(৪৩) কোনো ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে এবং যথাসাধ্য পবিত্রতা অর্জন করে... তাবারানী এটি আল-কাবীর-এ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন, যা নাসায়ীর বর্ণনার অনুরূপ। এর শেষে বলা হয়েছে: ‘তা তার ও পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো মারাত্মক বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়, এবং তা চিরকালের জন্য।’ সহীহ আত-তারগীব - দ্বিতীয় সংস্করণ - ৬৮৯ -। হাদিসটি সহীহ আত-তারগীব - মাআরিফ - ৬৮৯-এ রয়েছে এবং এর শব্দ হলো: ‘তা তার ও পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো মারাত্মক বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়...’। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এখানে মূল পাঠে ‘এবং তা চিরকালের জন্য’ শব্দগুচ্ছ ছিল, আমি তা বাদ দিয়েছি। কারণ তাবারানীর সনদে ‘মুগীরা’ রয়েছেন, তিনি হলেন ইবনে মিকসাম আদ-দাব্বী—যিনি একজন মুদাল্লিস—এবং তিনি আন-আনা (অস্পষ্টভাবে) বর্ণনা করেছেন। এটি নাসায়ী আল-কুবরার একটি বর্ণনা, কিন্তু তিনি তা উল্লেখ করেননি।

 

(৪৪) আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বান্দারা প্রতিদিন ভোরে যখন ঘুম থেকে ওঠে, তখন দুইজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন। তাদের একজন বলেন: হে আল্লাহ! দানকারীকে প্রতিদান দিন। আর অন্যজন বলেন: হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ-তে। ইবনে হিব্বানের শব্দ হলো: "জান্নাতের দরজাসমূহের একটি দরজায় একজন ফেরেশতা বলেন: যে আজ ঋণ (দান) দেবে, কাল সে তার প্রতিদান পাবে। আর অন্য একটি দরজায় অন্য একজন ফেরেশতা বলেন: হে আল্লাহ! দানকারীকে প্রতিদান দিন এবং কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।" তাবারানী এটি ইবনে হিব্বানের মতো বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: (আকাশের দরজাসমূহের একটি দরজায়)। সহীহ আত-তারগীব - দ্বিতীয় সংস্করণ - ৯০৫ -। হাদিসটি সহীহ আত-তারগীব - মাআরিফ - ৯১৪-তে রয়েছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাবারানীর বর্ণনাটি দুর্বল হওয়ার কারণে বাদ দিয়েছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মূল পাণ্ডুলিপিতে পাঠটি ছিল: "তাবারানী এটি ইবনে হিব্বানের মতো বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন (আকাশের দরজাসমূহের একটি দরজায়)"। আমি এটি বাদ দিয়েছি কারণ তাবারানীর আল-আওসাত-এ এটি তাঁর উস্তাদ 'মিকদাম' থেকে বর্ণিত, আর তিনি হলেন ইবনে দাউদ আর-রুআইনী। নাসায়ী বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন"। আর ইবনে হিব্বানের বর্ণনাটি আস-সহীহাহ-তে (৯২০) উদ্ধৃত করা হয়েছে।

(৪৫) কিয়ামতের দিন অধিক সম্পদের অধিকারীরাই হবে নিম্নতম স্তরের, তবে ওই ব্যক্তি ব্যতীত যে সম্পদ নিয়ে এমন এমন করেছে (এবং তা পবিত্র উপায়ে উপার্জন করেছে)। আস-সহীহাহ - ১৭৬৬ -। হাদিসটি সহীহ আত-তারগীব - মাআরিফ - এ হাদিস নম্বর ৩২৬০-এর অধীনে রয়েছে: "ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন: কিয়ামতের দিন অধিক সম্পদের অধিকারীরাই হবে নিম্নতম স্তরের, তবে ওই ব্যক্তি ব্যতীত যে এমন এমন করেছে।" শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) আত-তারগীব-এর টীকায় বলেছেন: হাদিসের শেষে "এবং তা পবিত্র উপায়ে উপার্জন করেছে" অতিরিক্ত অংশটি রয়েছে, আমি এটি এর ‘শাজ’ (অস্বাভাবিকতা) এবং হাদিসের অন্যান্য সূত্রের বিরোধিতার কারণে বাদ দিয়েছি। এটি আস-সহীহাহ (১৭৬৬)-তে উদ্ধৃত হয়েছে এবং সেখানে এর অস্বাভাবিকতা ও বিরোধিতার বিষয়ে সতর্কতা প্রদান করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম, তাই তা যেন সংশোধন করে নেওয়া হয়।

(৪৬) "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম (সালাত) করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (সালাত) করবে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হবে।" এটি "এবং পরবর্তী" অংশটি অতিরিক্ত হওয়ার কারণে ‘শাজ’ (অস্বাভাবিক)। আদ-দাঈফাহ - ৫০৮৩ -। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সারকথা হলো, উবাদাহ-র এই হাদিসটির কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই। প্রথমটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) এবং অন্যটিতে একজন অজ্ঞাত (মাজহুল) বর্ণনাকারী রয়েছে। হাফেজ আল-ইরাকী ‘তারহুত তাসরীব’ (৪/১৬৩)-এ ইবনে আকীলের বর্ণনার কাছে এসে "তার হাদিসটি হাসান" বলে এই সত্যটি থেকে গাফেল ছিলেন। তিনি আমরা যা বর্ণনা করেছি—বিচ্ছিন্নতা ও অজ্ঞাত হওয়ার বিষয়টি—তা লক্ষ্য করেননি। একইভাবে আল-হাইসামীর কর্ম (৩/১৮৫) এবং হাফেজ ইবনে হাজারের উক্তি (৪/৯৯): "ইমাম আহমদের নিকট উবাদাহ-র হাদিসটি দুই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার সনদ হাসান"—ও এর অনুরূপ। এই ইমামদের এই ধরণের উক্তিগুলো আমাকে কিছু সময়ের জন্য উবাদাহ-র হাদিসে এই অতিরিক্ত অংশটিকে—‘এবং পরবর্তী’—হাসান বলতে এবং আবু হুরাইরার হাদিসে একে সহীহ বলতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আমি ‘আত-তারগীব’-এর আমার কপিতে এই প্রতীকটি ব্যবহার করেছিলাম, যেখান থেকে আমি ভাইদের সহীহ হাদিসগুলো পড়াতাম। আর এখন আল্লাহ যখন আমার জন্য হাদিসের সকল সূত্র একত্রিত করা ও বর্ণনা করা সহজ করে দিয়েছেন এমনভাবে যা প্রত্যেক জ্ঞানপিপাসুর কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, উল্লিখিত অতিরিক্ত অংশটি কোনোভাবেই সহীহ নয়, তখন আমি সেই প্রতীক থেকে ফিরে এসে একে ‘দুর্বল’ (তাযঈফ) সাব্যস্ত করেছি। আল্লাহই তাওফীকদাতা। আরও দেখুন: "সহীহুল জামি' ৬৩২৫" এবং "সহীহ আত-তারগীব - আল-মাআরিফ - ৯৯২ - টীকা ১"।

(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
(47) يقول الله عز وجل للعلماء يوم القيامة (إذا قعدعلى كرسيه) لقضاء عباده: إني لم أجعل علمي فيكم الا وأنا أريد أن أغفر لكم على ما كان فيكم ولا أبالي " الضعيفة " 867 - قال الشيخ رحمه الله " موضوع بهذا التمام … وفيه لفظة منكرة جدا وهي قعود الله تبارك وتعالى على الكرسي......وقد روي الحديث بدون هذه اللفظة من طرق آخرى كلها ضعيفةوبعضها أشد ضعفا من بعض فلابد من ذكرها لئلا يغتر بها أحد....كما وقع لي قديما في تخريج أحاديث الترغيب " حيث أشرت للحديث بالحسن تقليدا مني لابن كثير ومن ذكرنا معه والان فقد رجعت عن ذلك "، والحديث في " ضعيف الترغيب - معارف - 61 –

(48) عن ابن عباس رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بعث أبا موسى على سرية في البحر، فينما هم كذلك قد رفعوا الشراع في ليلة مظلمة إذا هاتف فوقهم يهتف: يا أهل السفينة! قفوا أخبركم بقضاء قضاه الله على نفسه، فقال أبو موسى أخبرنا إن كنت مخبرنا، قال: إن الله تبارك وتعالى قضى على نفسه أنه من أعطش نفسه له في يوم صائف سقاه الله يوم العطش " صحيح الترغيب - الطبعة الثانية - 974 - قال الشيخ رحمه الله " حسن "، والحديث في " ضعيف الترغيب - معارف - 577 - قال الشيخ " ضعيف "، قلت " " عبد الله بن المؤمل " وهو ضعيف الحديث كما قال الحافظ وضعفه جدا في " زوائد البزار " وهو مخرج في " الضعيفة 6748 - وقد كنت حسنته تبعا للمؤلف في الطبعة السابقة فلما طبع " كشف الاستار " ووقفت على اسناده تراجعت عنه "

 

(49) ما أذن الله لشيء ما أذن " وفي لفظ: كأذنه " لنبي " حسن الصوت " وفي لفظ " (حسن الترنم) يتغنى بالقرآن " يجهر به " (صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم _ المعارف- ص 127، قال الشيخ رحمه الله في " ضعيف الترغيب والترهيب - المعارف - تحت حديث " 875" بلفظ " ما أذن الله لشيء ما أذن لنبي حسن الترنم بالقرآن " قلت - الشيخ الالباني - لكن لفظ (الترنم) فيه شاذ مخالف للفظ الشيخين (يتغنى) كما حققته في " الضعيفة 6640 "، وقبل هذا كنت أوردته في " صفة الصلاة " اعتمادا على الحافظ (فليحذف) .

 

(50) عن ابن عباس رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، صلى ركعتين لم يقرأ فيهما الا بفاتحة الكتاب " (صفة الصلاة - معارف - ص 106 - 107 " قال الشيخ رحمه الله: أخرجه أحمد والحارث بن أبي أسامة في مسنده - ص 38 من زوائده، والبيهقي بسند ضعيف، وكنت حسنته في الطبعات السابقة ثم تبين لي أني كنت واهما لأ ن مداره على " حنضلة الدوسي وهو ضعيف " ولا ادري كيف خفي على هذا؟ ولعلي ظننته غيره وعلى كل حال الحمد لله الذي هداني لمعرفة خطئي ولذلك بادرت الى الضرب عليه في الكتاب، ثم عوضني الله خيرا منه، حديث معاذ هذا فإنه يدل على ما دل عليه حديث ابن عباس والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات " ولفظ حديث معاذ الذي أشار اليه الشيخ" كان معاذ يصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء الاخرة............ قال للفتى " كيف تصنع أنت يا ابن أخي اذا صليت؟ قال " أقرأ بفاتحة الكتاب … الخ الحديث " اخرجه ابن خزيمة - 1634 والبيهقي بسند جيد

(51) إن الاسلام بدأ غريبا وسيعود غريبا كما بدأ، فطوبى للغرباء، قيل ومن الغرباء؟ قال: النزاع من القبائل " الصحيحةتحت حديث - 1273 - 3 / 269- 270 " - طبعة المعارف-

قال الشيخ رحمه الله: رواه الدارمي وابن ماجه" 3988 " وأحمد وابنه عبد الله والبيهقي في " الزهد الكبير " والبغوي في شرح السنة " عن حفص بن غياث عن الاعمش عن أبي إسحاق السبيعي عن أبي الاحوص عن عبد الله مرفوعا وقال البغوي " هذا حديث صحيح " وأقول هو كما قال " لولا أن أبا إسحاق وهو السبيعي - عمرو بن عبد الله - مدلس وقد عنعنه في جميع الطرق عنه مع كونه كان اختلط " فأنا متوقف عن صحته بعد أن كنت تابعا في تصحيحه برهة من الزمن غيري "

(52 ِنعم الميتة أن يموت الرجل دون حقه " " الصحيحة - 697-، قال الشيخ رحمه الله: أخرجه أحمد وعنه أبو عمر الداني في " الفتن " وأبو نعيم في " الحلية " من طريق إبراهيم بن المهاجر عن أبي بكر بن حفص - فذكر القصة - قال سعد: إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره، قال أبو نعيم: " وأبو بكر اسمه عبد الله بن حفص بن عمرو بن سعد بن أبي وقاص " قال الشيخ رحمه الله: " قلت:وهو ثقة من رجال الشيخين، وإبراهيم بن المهاجر قال في التقريب " صدوق لين الحفظ "، ثم قال الشيخ رحمه الله: ثم رأيت الهيثمي " 6 / 244 " قد أعله بالانقطاع بين " أبي بكر بن حفص وسعد " وهو إعلال سليم، فإن لم يوجد للحديث شاهد معتبر فلينقل إلى الكتاب الآخر.
(৪৭) মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন আলেমদের বলবেন (যখন তিনি তাঁর কুরসীর ওপর বসবেন) তাঁর বান্দাদের বিচার ফয়সালার জন্য: "আমি আমার জ্ঞান তোমাদের মাঝে গচ্ছিত রাখিনি তবে এই সংকল্পে যে, তোমাদের মাঝে যা কিছু (ভুলত্রুটি) ছিল আমি তা ক্ষমা করে দেব এবং এতে আমি পরোয়া করি না।" "আয-যঈফাহ" ৮৬৭ - শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "এই পূর্ণাঙ্গ শব্দবিন্যাসে এটি জাল (মাওজু)... এবং এতে একটি অত্যন্ত মুনকার (অস্বীকৃত) শব্দ রয়েছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর কুরসীর ওপর বসা... এই শব্দটি ছাড়াই অন্যান্য সূত্রে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে যার সবকটিই দুর্বল এবং কোনো কোনো সূত্র অন্যটির চেয়েও অধিক দুর্বল। তাই এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যাতে কেউ এর মাধ্যমে প্রতারিত না হয়... যেমনটি আগে আমার সাথে 'আত-তারগীব' এর হাদিস তাহকীক করতে গিয়ে ঘটেছিল, যেখানে আমি ইবনে কাসীর এবং তাঁর সাথে অন্যদের অনুসরণ করে হাদিসটিকে হাসান বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমি তা থেকে ফিরে এসেছি।" হাদিসটি 'যঈফ আত-তারগীব - মাআরিফ - ৬১' তে রয়েছে।

(৪৮) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু মুসাকে সমুদ্রের এক অভিযানে প্রেরণ করেন। তাঁরা যখন সে অবস্থায় ছিলেন এবং এক অন্ধকার রাতে পাল তুলে যাত্রা করছিলেন, তখন হঠাৎ তাঁদের ওপর থেকে এক অদৃশ্য আহ্বানকারী উচ্চস্বরে বলে উঠলেন: হে জাহাজের আরোহীরা! থামো, আমি তোমাদের এমন এক ফয়সালা সম্পর্কে অবহিত করব যা আল্লাহ নিজের ওপর অবধারিত করেছেন। আবু মুসা বললেন, আপনি যদি সংবাদ দানকারী হন তবে আমাদের সংবাদ দিন। তিনি বললেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা নিজের ওপর এই ফয়সালা অবধারিত করেছেন যে, যে ব্যক্তি গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে আল্লাহর জন্য নিজেকে তৃষ্ণার্ত রাখবে, আল্লাহ তাকে তৃষ্ণার দিনে (কিয়ামতে) পান করাবেন। "সহীহ আত-তারগীব - দ্বিতীয় সংস্করণ - ৯৭৪ - শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন 'হাসান'", এবং হাদিসটি 'যঈফ আত-তারগীব - মাআরিফ - ৫৭৭' এ রয়েছে যেখানে শায়খ বলেছেন "যঈফ" (দুর্বল)। আমি বলছি, "আবদুল্লাহ বিন আল-মুআম্মাল" নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল যেমনটি হাফেজ বলেছেন এবং 'যাওয়ায়েদুল বাযযার' গ্রন্থে তাকে অত্যন্ত দুর্বল বলা হয়েছে। এটি 'আয-যঈফাহ' ৬৭৪৮-এ সংকলিত হয়েছে। আমি পূর্বের সংস্করণে লেখকের অনুকরণে একে হাসান বলেছিলাম, কিন্তু যখন 'কাশফুল আসতার' মুদ্রিত হলো এবং আমি এর সানাদ (বর্ণনাসূত্র) অবগত হলাম, তখন আমি তা থেকে ফিরে এসেছি।

 

(৪৯) আল্লাহ কোনো কিছুর প্রতি তেমন কান দেন না (মনোযোগ দেন না), অন্য শব্দে: "যেমনটি তিনি কান দেন" কোনো "সুন্দর কণ্ঠস্বর সম্পন্ন" নবীর প্রতি, অন্য শব্দে "সুন্দর সুর লহরীতে কুরআন পাঠকারী" নবীর প্রতি, যিনি উচ্চৈঃস্বরে তা পাঠ করেন। (সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - মাআরিফ - পৃষ্ঠা ১২৭)। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) 'যঈফ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব - মাআরিফ' এর ৮৭৫ নম্বর হাদিসের অধীনে "সুন্দর সুর লহরীতে কুরআন পাঠকারী নবীর প্রতি আল্লাহ তেমন কান দেন না" এই শব্দে বলেছেন: আমি (শায়খ আলবানী) বলছি - তবে "সুর লহরী" (আত-তারান্নুম) শব্দটিতে শায (বিচ্যুতি) রয়েছে যা শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণিত "সুর করে পড়া" (ইয়াতাগান্না) শব্দের পরিপন্থী, যেমনটি আমি 'আয-যঈফাহ' ৬৬৪০-এ তাহকীক করেছি। এর আগে আমি হাফেজের ওপর নির্ভর করে এটি 'সিফাতু সালাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলাম, (এখন তা বাদ দেওয়া উচিত)।

 

(৫০) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যাতে সূরা ফাতিহা ছাড়া আর কিছুই পাঠ করেননি। (সিফাতু সালাত - মাআরিফ - পৃষ্ঠা ১০৬-১০৭)। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি আহমদ, হারিস বিন আবি উসামা তার মুসনাদে - পৃষ্ঠা ৩৮ (যাওয়ায়েদ), এবং বায়হাকী দুর্বল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে একে হাসান বলেছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে আমি বিভ্রান্তিতে ছিলাম, কারণ এর বর্ণনাসূত্র আবর্তিত হয়েছে "হানযালা আদ-দাওসী" এর ওপর যে কি না দুর্বল। আমি জানি না কীভাবে এটি আমার কাছে গোপন ছিল? সম্ভবত আমি তাকে অন্য কেউ ভেবেছিলাম। যাই হোক, সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাকে আমার ভুল চেনার তাওফীক দিয়েছেন এবং এ কারণে আমি দ্রুত কিতাব থেকে এটি মুছে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি। অতঃপর আল্লাহ আমাকে এর চেয়ে উত্তম মুয়াযের এই হাদিসটি দান করেছেন, যা ইবনে আব্বাসের হাদিসটি যা প্রমাণ করছিল তাই প্রমাণ করে। সকল প্রশংসা আল্লাহর যার অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায়। মুয়াযের যে হাদিসের দিকে শায়খ ইঙ্গিত করেছেন তার শব্দ হলো: "মুয়ায রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন... তিনি যুবকটিকে বললেন: হে ভাতিজা, তুমি সালাত আদায়ের সময় কী করো? সে বলল: আমি সূরা ফাতিহা পাঠ করি... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)"। এটি ইবনে খুযাইমা - ১৬৩৪ এবং বায়হাকী উত্তম সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৫১) নিশ্চয়ই ইসলাম অপরিচিত (গরীব) অবস্থায় শুরু হয়েছে এবং অচিরেই তা আবার অপরিচিত হয়ে যাবে যেমনিভাবে তা শুরু হয়েছিল। সুতরাং সুসংবাদ সেই অপরিচিতদের জন্য। জিজ্ঞেস করা হলো, সেই অপরিচিত কারা? তিনি বললেন: যারা বিভিন্ন গোত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা একাকী ব্যক্তি। "আস-সাহীহাহ" হাদিস নং ১২৭৩ - ৩/২৬৯-২৭০ - মাআরিফ সংস্করণ -

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি দারেমী, ইবনে মাজাহ (৩৯৮৮), আহমদ, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ, বায়হাকী 'আয-যুহদুল কাবীর' গ্রন্থে এবং বাগাভী 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে হাফস বিন গিয়াস থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি আবু আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। বাগাভী বলেছেন: "এটি একটি সহীহ হাদিস"। আমি বলছি: এটি তেমনি হতো যদি না "আবু ইসহাক আস-সাবিঈ (আমর বিন আবদুল্লাহ)" মুদাল্লিস (বর্ণনাসূত্র গোপনকারী) হতেন; অথচ তিনি তাঁর থেকে বর্ণিত সকল সূত্রে 'আন'আনা' (থেকে) শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা করেছেন এবং সেই সাথে শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটেছিল। তাই আমি এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে এখন দ্বিধাগ্রস্ত, যদিও দীর্ঘ সময় আমি অন্যদের অনুসরণে একে সহীহ বলে আসছিলাম।

(৫২) কতই না উত্তম মৃত্যু যখন কোনো ব্যক্তি তার হকের (অধিকারের) জন্য মৃত্যুবরণ করে। "আস-সাহীহাহ - ৬৯৭"। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আবু আমর আদ-দানী 'আল-ফিতান' গ্রন্থে ও আবু নুআইম 'আল-হিলইয়াহ' গ্রন্থে ইব্রাহিম বিন আল-মুহাজির থেকে, তিনি আবু বকর বিন হাফস থেকে বর্ণনা করেছেন - অতঃপর তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করেন - সাদ বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি - অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। আবু নুআইম বলেছেন: "আবু বকরের নাম হলো আবদুল্লাহ বিন হাফস বিন আমর বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস"। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি বলছি: তিনি শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। আর ইব্রাহিম বিন আল-মুহাজির সম্পর্কে 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে 'সত্যবাদী কিন্তু মুখস্থ শক্তিতে দুর্বল'।" অতঃপর শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "পরবর্তীতে আমি দেখেছি যে হাইসামি (৬/২৪৪) একে 'আবু বকর বিন হাফস এবং সাদ'-এর মাঝে বর্ণনাসূত্র বিচ্ছিন্ন হওয়ার (ইনকিতা) কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। এটি একটি সঠিক ত্রুটি চিহ্নিতকরণ। সুতরাং এই হাদিসের যদি অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য সমর্থক বর্ণনা না পাওয়া যায়, তবে একে অন্য কিতাবে (দুর্বল হাদিসের সংকলনে) স্থানান্তর করা উচিত।"
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
(53) بطحان على ترعة من ترع الجنة " الصحيحة - 769 - معارف - ص 398- 399، قال الشيخ رحمه الله: " رواه ابن حيويه في حديثه والديلمي، عن يعقوب بن كاسب نا المغيرة بن عبد الرحمن ثنا الجعيد بن عبد الرحمن عن (الأحنف بن قيس) عن عروة عن عائشة مرفوعا، قلت وهذا إسناد حسن … ثم تبين لي أن الأحنف هذا ليس هو ابن قيس كما وقع في هذا الإسناد، وإنما هو "أحنف آل أبي المعلى " وهو مجهول العين، فأوجب ذلك نقله الى الكتاب الآخر - الضعيفة - أداء للأمانة العلمية وهو في المجلد " 12 " منه برقم " 5730 " وبالله التوفيق

 

(54) عن الأشعث بن قيس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:" إن أشكر الناس لله تبارك وتعالى أشكرهم للناس " ضعيف الترغيب - معارف - 570 - رواه أحمد بإسنادين هذا أحدهما وفيه جهالة، والآخر فيه انقطاع لكن له شاهد قوي بخلاف هذا ولذلك أوردته مع شاهده في الصحيح - أي صحيح الترغيب -971و973 -ولفظه عن الأشعث بن قيس " لا يشكر الله من لم يشكر الناس " وشاهده بلفظ " لا يشكر الله من لا يشكر الناس " من حديث أبي هريرة " ثم قال الشيخ رحمه الله: وخرجتها في الصحيحة - تحت الحديث - 416- ص 776- بلفظ " لا يشكرالله من لا يشكر الناس " ووعدت فيه - أي في الصحيحة - بتخريج اللفظ الأول، ثم تبينت أني أخطأت فأخرجته في الضعيفة - 5339- ولفظه " أشكر الناس لله عز وجل أشكرهم للناس " فإذا وجد في مكان آخر مصححا فقد رجعت عنه

(55) كان يقول في دبر كل صلاة مكتوبة (حين يسلم) : لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد (يحيي ويميت وهو حي لا يموت بيده الخير) وهو على كل شيء قدير (ثلاث مرات) اللهم لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد " الصحيحة - الطبعة الاولى - 196 -، والحديث في الصحيحة - طبعة المعارف - 196 - ولفظه " كان يقول في دبر كل صلاة مكتوبة " حين يسلم ": لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، اللهم لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد " ، قال الشيخ رحمه الله: قد كنت خرجته هنا لزيادات كنت التقطها من بعض الروايات وأضفتها إلى متن الحديث بين معكوفات في الطبعات السابقة وهي في الغالب " الطبعة الاولى " منها لأنها صورة عنها ثم تبين لي أنها شاذة فحذفتها ونقلتها إلى " الضعيفة - 5598 "

 

(56) إن الشيطان ذئب الانسان كذئب الغنم يأخذ الشاة القاصية والناحية فإياكم والشعاب وعليكم بالجماعة والعا مة والمسجد " شرح الطحاوية - ص 512- من الطبعة الثامنة - رقم التخريج - 792 - قال الشيخ رحمه الله: صحيح الاسناد. وأقول الان كلا ولا أدري كيف وقع هذا فالسند ضعيف كما هو مبين في تخريج المشكاة - 184 - ثم في الاحاديث الضعيفة - 3016 -وضعيف الجامع - 1477 -

وقال الشيخ في الضعيفة - 3016 - ثم تبين لي أن فيه علة تقدح في صحته ألا وهي الانقطاع … وقد كنت غفلت عن هذه العلة حين خرجت " شرح العقيدة الطحاوية " فصححته فيه _ 516 - جريا على ظاهر إسناده، والان قد رجعت عنه والله هو الموفق " وانظر - ضعيف الترغيب - 206 - وهداية الرواة - 182 –

 

(57) من فصل - أي خرج - في سبيل الله فمات أو قتل فهو شهيد، أو وقصه فرسه أو بعيره أو لدغته هامة، أو مات على فراشه بأي حتف شاء فإنه شهيد وإن له الجنة " - أحكام الجنائز - المعارف - ص 51 - قال الشيخ رحمه الله: أخرجه أبو داود والحاكم والبيهقي من حديث أبي مالك الاشعري وصححه الحاكم وإنما هو حسن فقط، ثم تبين لي خطأ هذا وأنه ضعيف يراجع التفصيل - الضعيفة - 5360 - " انظر " صحيح الجامع - 6413 - وأبو داود - 2499 - وضعيف الترغيب - 815 - وهداية الرواة - 3763-

 

(58) يجيء يوم القيامة ناس من المسلمين بذنوب أمثال الجبال، يغفرها الله لهم، ويضعها على اليهود " " صحيح الجامع - 8035 " رواه مسلم - 2767 - "

والحديث في - الضعيفة - 5399 - والضعيفة - 1316 - قال الشيخ رحمه الله الضعيفة - 1316 - منكر بهذا اللفظ، تفرد به حرمي بن عمارة: حدثنا " شداد أبو طلحة الراسبي " عن غيلان بن جرير عن أبي بردة عن أبيه - يعني أبا موسى الاشعري - عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره وزاد آخره" فيما أحسب أنا. قال أبو روح: لا أدري ممن الشك " أخرجه مسلم من هذا الوجه وأخرجه من طريق " طلحة بن يحيى وعون بن عتبة وسعيد بن أبي بردة نحوه دون قوله - ويضعها - وكذلك أخرجه أحمد.....عن طلحة بن يحيي أيضا كلهم قالوا: عن أبي بردة به نحوه دون قوله " ويضعها " ومن ألفاظهم عند - مسلم - " إذا كان يوم القيامة دفع الله عز وجل إلى كل مسلم يهوديا أو نصرانيا فيقول: هذا فكاكك من النار " هكذا رواه الجماعة عن أبي بردة دون تلك الزيادة، فهي عندي شاذة بل منكرة لوجوه.... "
(53) বাতহান জান্নাতের নহরসমূহের মধ্য হতে একটি নহরের উপর অবস্থিত। সহিহাহ - ৭৬৯ - মাআরিফ - পৃষ্ঠা ৩৯৮-৩৯৯। শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "এটি ইবন হাইয়ুওয়াইহ তাঁর হাদিসে এবং দাইলামি ইয়াকুব বিন কাসিব হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুগিরা বিন আবদুর রহমান হতে, তিনি জুআইদ বিন আবদুর রহমান হতে, তিনি (আহনাফ বিন কায়েস) হতে, তিনি উরওয়াহ হতে, তিনি আয়িশা হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমি বলেছিলাম, এই সনদটি হাসান... পরবর্তীতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই আহনাফ তিনি নন যিনি ইবন কায়েস হিসেবে এই সনদে এসেছেন, বরং তিনি হলেন 'আহনাফ আল আবি আল-মুআল্লা'। আর তিনি একজন অপরিচিত ব্যক্তি (মাজহুলুল আইন)। ফলে বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার খাতিরে একে অপর গ্রন্থ 'আদ-দাঈফাহ'-তে স্থানান্তর করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং এটি উক্ত গ্রন্থের ১২তম খণ্ডের ৫৭৩০ নম্বরে রয়েছে। আল্লাহই তাওফিক দাতা।"

 

(54) আশআস বিন কায়েস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে কৃতজ্ঞ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের প্রতি সবচেয়ে কৃতজ্ঞ।" দাঈফুত তারগিব - মাআরিফ - ৫৭০ - এটি আহমাদ দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন। এর একটিতে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছে এবং অন্যটিতে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তবে এর একটি শক্তিশালী সাক্ষী রয়েছে যার কারণে এটি ভিন্ন। এজন্য আমি একে এর সাক্ষীসহ 'আস-সহিহ'-তে (অর্থাৎ সহিহুত তারগিব ৯৭১ ও ৯৭৩) উল্লেখ করেছি। আশআস বিন কায়েস থেকে এর শব্দ হচ্ছে: "যে মানুষের শোকরিয়া আদায় করে না, সে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে না।" এর সাক্ষী হিসেবে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসের শব্দ হচ্ছে: "যে মানুষের শোকরিয়া আদায় করে না, সে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে না।" অতঃপর শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আমি এটি সহিহাহ গ্রন্থের ৪১৬ নম্বর হাদিসের অধীনে পৃষ্ঠা ৭৭৬-এ "যে মানুষের শোকরিয়া আদায় করে না, সে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে না" শব্দে উদ্ধৃত করেছি। আমি সেখানে (অর্থাৎ সহিহাহ-তে) প্রথম শব্দটির তাহকিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। অতঃপর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে আমি ভুল করেছি, তাই আমি একে আদ-দাঈফাহ (৫৩৩৯)-তে স্থান দিয়েছি। তার শব্দ হলো: "মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে কৃতজ্ঞ ব্যক্তি সেই যে মানুষের প্রতি সবচেয়ে কৃতজ্ঞ।" সুতরাং যদি অন্য কোথাও একে সহিহ বলা হয়ে থাকে, তবে আমি তা থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম।

(55) তিনি প্রতিটি ফরজ সালাতের পর (সালাম ফেরানোর সময়) বলতেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই (তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন, তিনি চিরঞ্জীব, যাঁর মৃত্যু নেই, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ) এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল (তিনবার)। হে আল্লাহ, আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার পাকড়াও হতে তাকে বাঁচাতে পারবে না। আস-সহিহাহ - প্রথম সংস্করণ - ১৯৬। হাদিসটি সহিহাহ - মাআরিফ সংস্করণ - ১৯৬-এ রয়েছে এবং এর শব্দ হলো: "তিনি প্রতিটি ফরজ সালাতের পর সালাম ফেরানোর সময় বলতেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ, আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার পাকড়াও হতে তাকে বাঁচাতে পারবে না।" শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আমি কিছু বর্ণনা হতে অতিরিক্ত অংশ সংগ্রহ করে এই হাদিসের মূল পাঠের সাথে আগের সংস্করণগুলোতে থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে যুক্ত করেছিলাম। সাধারণত প্রথম সংস্করণে এটি ছিল কারণ পরবর্তীগুলো তার প্রতিলিপি ছিল। এরপর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে সেই বৃদ্ধিগুলো শায (অস্বাভাবিক), তাই আমি সেগুলো মুছে ফেলেছি এবং আদ-দাঈফাহ (৫৫৯৮)-তে স্থানান্তর করেছি।

 

(56) "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের জন্য নেকড়ে বাঘ স্বরূপ, যেমন বকরির জন্য নেকড়ে। সে পালছুট ও একাকী থাকা বকরিকে ধরে ফেলে। অতএব তোমরা পাহাড়ের পথ থেকে বেঁচে থাকো এবং জামাত, সাধারণ মুসলিম ও মসজিদের সাথে থাকো।" শারহুত তাহাবিয়্যাহ - পৃষ্ঠা ৫১২ - অষ্টম সংস্করণ - তাহকিক নম্বর ৭৯২। শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: সনদ সহিহ। আর আমি এখন বলছি, কখনোই না! আমি জানি না এটি কীভাবে ঘটল, কারণ এর সনদ দুর্বল যেমনটি মিশকাতের তাহকিক (১৮৪) এবং পরবর্তীতে আদ-দাঈফাহ (৩০১৬) ও দাঈফুল জামি (১৪৭৭)-তে স্পষ্ট করা হয়েছে।

শায়খ আদ-দাঈফাহ (৩০১৬)-তে বলেন: অতঃপর আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে এতে একটি ত্রুটি রয়েছে যা এর বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, আর তা হলো বিচ্ছিন্নতা... আমি যখন শারহু আকিদাতি তাহাবিয়্যাহ তাহকিক করেছিলাম তখন এই ত্রুটি সম্পর্কে গাফেল ছিলাম। তাই সনদের বাহ্যিক দিক দেখে আমি একে সেখানে (৫১৬) সহিহ বলেছিলাম। এখন আমি তা থেকে প্রত্যাবর্তন করেছি এবং আল্লাহই তাওফিক দাতা। দেখুন - দাঈফুত তারগিব ২০৬ এবং হিদায়াতুর রুওয়াত ১৮২।

 

(57) "যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বের হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল অথবা নিহত হলো, সে শহীদ। অথবা যাকে তার ঘোড়া বা উট পিষ্ট করল, অথবা কোনো বিষাক্ত প্রাণী দংশন করল, অথবা নিজের বিছানায় যেকোনোভাবে মৃত্যুবরণ করল, সে শহীদ এবং তার জন্য জান্নাত রয়েছে।" - আহকামুল জানাইয - মাআরিফ - পৃষ্ঠা ৫১। শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এটি আবু দাউদ, হাকিম এবং বায়হাকি আবু মালিক আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাকিম একে সহিহ বলেছেন। আসলে এটি কেবল হাসান। অতঃপর আমার নিকট এর ভুলটি স্পষ্ট হয়েছে যে এটি দুর্বল। বিস্তারিত দেখুন - আদ-দাঈফাহ ৫৩৬০। দেখুন - সহিহুল জামি ৬৪১৩, আবু দাউদ ২৪৯৯, দাঈফুত তারগিব ৮১৫ এবং হিদায়াতুর রুওয়াত ৩৭৬৩।

 

(58) "কিয়ামতের দিন মুসলিমদের একদল মানুষ পাহাড় সমান গুনাহ নিয়ে আসবে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেবেন এবং সেই গুনাহগুলো ইহুদিদের ওপর চাপিয়ে দেবেন।" সহিহুল জামি - ৮০৩৫, এটি মুসলিম (২৭৬৭) বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটি আদ-দাঈফাহ (৫৩৯৯) এবং আদ-দাঈফাহ (১৩১৬)-তে রয়েছে। শায়খ রাহিমাহুল্লাহ আদ-দাঈফাহ (১৩১৬)-তে বলেন: এই শব্দে হাদিসটি মুনকার। হারামি বিন উমারা এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন: শাদ্দাদ আবু তালহা আর-রাসিবী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন গাইলান বিন জারির থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা অর্থাৎ আবু মুসা আল-আশআরি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষে যুক্ত করেছেন: "যতদূর আমি মনে করি।" আবু রাউহ বলেন: "আমি জানি না সন্দেহটি কার পক্ষ থেকে।" মুসলিম এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আবার তিনি এটি তালহা বিন ইয়াহিয়া, আউন বিন উতবাহ এবং সাঈদ বিন আবি বুরদাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন "এবং তা চাপিয়ে দেবেন" অংশটি ছাড়া। একইভাবে আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন তালহা বিন ইয়াহিয়া থেকেও। তাঁরা সবাই আবু বুরদাহ থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন তবে "এবং তা চাপিয়ে দেবেন" কথাটি ছাড়া। মুসলিমের নিকট বর্ণিত শব্দগুলোর মধ্যে একটি হলো: "যখন কিয়ামত দিবস হবে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা প্রত্যেক মুসলিমকে একজন ইহুদি বা নাসারা প্রদান করবেন এবং বলবেন: এটি তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তিপণ।" জামাত আবু বুরদাহ থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন সেই অতিরিক্ত অংশটি ছাড়া। তাই আমার নিকট এটি শায, বরং কয়েকটি কারণে মুনকার...

(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
(59) كان إذا اعتم سدل عمامته بين كتفيه] . (حسن) - " صحيح الجامع 4676 " و" الصحيحة 717 "، قال الشيخ رحمه الله في الصحيحة - رواه الطبراني في الاوسط ورجاله رجال الصحيح خلا أبا عبد السلام وهو ثقة.. وبالجملة فالحديث بهذه الطرق صحيح، والحديث في " الضعيفة - 4267 - ولفظه:

 

(كان يدير كور العمامة على رأسه ويغرزها من ورائه يرسل لها شيئاً بين كتفيه) قال الشيخ رحمه الله في الضعيفة - منكر - لكن الجملة الأخيرة منه - وهو إرسال العمامة بين كتفيه - صحيحة لأن لها شواهد تقويها من حديث ابن عمر وغيره من طرق كنت خرجتها في الصحيحة - 717 - وكان منها طريق أبي عبد السلام هذه..ثم قدر الله تعالى ويسر لي بفضله وكرمه الوقوف على إسناد الحديث.. فبادرت الى تخريجه هنا والكشف عن علته وهي جهالة أبي سلام " وانظر - الترمذي - 1736 - والمشكاة - 4338 -

 

(60) ما صلت امرأة صلاة أحب إلى الله من صلاتها في أشد بيتها ظلمة " الضعيفة - 4453 - قال الشيخ رحمه الله: أخرجه ابن خزيمة في صحيحه - 1691 - … عن " إبراهيم بن مسلم الهجري عن أبي الاحوص عن عبد الله، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره "، قلت وهذا سند ضعيف، الهجري قال الحافظ: لين الحديث رفع موقوفات - قلت: وهذا من تلك الاحاديث الموقوفة التي رفعها....... وقد كنت ملت إلى تحسينه بمجموع الطريقين فيما علقته على - صحيح ابن خزيمة - والان تبين لي خلافه لاضطراب - الهجري - في رفعه وقصور الطريق الاخر عن الشهادة له، وقد صح الحديث من طريق أخرى عن أبي الاحوص به مرفوعا بلفظ آخر وهو مخرج في صحيح أبي داود - 1579 -

 

(61) اتقوا الله فإن أخونكم عندنا من طلب العمل " صحيح الجامع " 103 " والحديث في " الضعيفة3642 " بلفظ (إن أخونكم عندي من يطلبه يعني العمل فعليكم بتقوى الله عز وجل ، قال الشيخ رحمه الله: " منكر " أخرجه أحمد.. والحديث أورده السيوطي في - الجامعين - بلفظ - اتقوا الله.. " وقال رواه - طب -وقال المناوي في - فيض القدير - ورمز المؤلف لحسنه - وبناء على هذا الرمز كنت أوردت الحديث في - صحيح الجامع - 103 - للقاعدة التي كنت ذكرتها في مقدمته والان وبعد أن تبين لي إسناد الحديث وعلته فلينقل الى - ضعيف الجامع - "

 

(62) إن يوم الجمعة سيد الأيام وأعظمها عند الله وهو أعظم عند الله من يوم الأضحى ويوم الفطر فيه خمس خلال خلق الله فيه آدم وأهبط الله فيه آدم إلى الأرض وفيه توفى الله آدم وفيه ساعة لا يسأل الله فيها العبد شيئا إلا أعطاه إياه ما لم يسأل حراما وفيه تقوم الساعة وما من ملك مقرب ولا سماء ولا أرض ولا رياح ولا جبال ولا بحر إلا وهو يشفق من يوم الجمعة أن تقوم فيه الساعة) - صحيح الترغيب - 695 - الطبعة الثانية - وصحيح الجامع - 2279 - والحديث في الضعيفة - 3726 - وضعيف الترغيب - معارف - 424 -، قال الشيخ رحمه الله في الضعيفة - " وقد صح نحوه من حديث أبي هريرة دون تلك الزيادة في آخره وهو مخرج في صحيح - أبي داود - 961 - وساعة الاجابة منه متفق عليها بين الشيخين، هذا وقد كنت حسنت الحديث في بعض تعليقاتي … وقد تيسر لي تحقيق القول في إسناده ومتنه فقد وجب علي بيانه أداءا للأمانة العلمية " وانظر - ابن ماجه - 1084 - المشكاة - 1363 - هداية الرواة - 1312 -.

 

(63)) و (قرأ ليلة وهو وجع السبع الطوال) " صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم ص - 118 - والحديث في الضعيفة - 3995 - قال الشيخ رحمه الله: " أخرجه ابن خزيمة - 1136 - وابن حبان - 664 - والحاكم وأبو يعلى - كلهم من طريق " مؤمل بن إسماعيل عن سليمان بن المغيرة نا ثابت عن أنس قال:

وجد رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة شيئا فلما أصبح قيل يا رسول الله إن أثر الوجع عليك لبين قال أما إني على ما ترون بحمد الله قد قرأت البارحة السبع الطوال " وقال الحاكم - صحيح على شرط مسلم - ووافقه الذهبي وقال الهيثمي - بعد أن عزاه لأبي يعلى - " رجاله ثقات "، قلت: ويبدو أنني اغتررت برهة من الدهر بهذا التصحيح والثوثيق فأوردت الحديث في - صفة الصلاة -..... حتى قال: فحديث الرجل - مؤمل بن إسماعيل- يبقى على الضعف حتى نجد له من يتابعه أو يشهد له وهذا ما لم نظفر به، فمن كان عنده نسخة من - صفة الصلاة - فيها هذا الحديث فليضرب عليه وجزاه الله خيرا "

 

(64) إياكم ولباس الرهبان فإنه من ترهب أو تشبه فليس مني) الضعيفة - 3234 - والحديث في - حجاب المرأة المسلمة - ص 93 - الطبعة السادسة بلفظ (عن علي رضي الله عنه رفعه:
(৫৯) তিনি যখন পাগড়ি পরিধান করতেন, তখন তার দুই কাঁধের মাঝখানে পাগড়ির অবশিষ্টাংশ ঝুলিয়ে দিতেন।]। (হাসান) - "সহীহুল জামে ৪৬৭৬" এবং "আস-সহীহাহ ৭১৭", শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি আস-সহীহাহ-তে বলেছেন - এটি তাবারানি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ-এর বর্ণনাকারী, আবু আব্দুস সালাম ব্যতীত, তবে তিনি নির্ভরযোগ্য.. মোটের ওপর বিভিন্ন সূত্রে হাদিসটি সহীহ। আর হাদিসটি "আদ-দাইফাহ - ৪২৬৭" -এ এই শব্দে রয়েছে:

 

(তিনি মাথার ওপর পাগড়ির প্যাঁচ দিতেন এবং পেছনে তা গুঁজে রাখতেন এবং তার কিছু অংশ দুই কাঁধের মাঝে ঝুলিয়ে দিতেন) শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি আদ-দাইফাহ-তে বলেছেন - এটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) - তবে এর শেষ অংশটি - অর্থাৎ দুই কাঁধের মাঝখানে পাগড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া - সহীহ। কারণ ইবনে উমর ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোর মাধ্যমে একে শক্তিশালী করার মতো সাক্ষ্য রয়েছে, যেগুলোর সূত্র আমি আস-সহীহাহ - ৭১৭ -তে বিশ্লেষণ করেছি - এবং এর মধ্যে আবু আব্দুস সালামের এই সূত্রটিও ছিল.. এরপর মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাকে হাদিসটির সনদের ওপর অবগত হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন.. ফলে আমি এখানে এর তাহরিজ (সূত্র বিশ্লেষণ) করতে এবং এর ত্রুটি উন্মোচন করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি, যা হলো "আবু সাল্লাম"-এর পরিচয় অজ্ঞাত থাকা। দেখুন - তিরমিজি - ১৭৩৬ - এবং মিশকাত - ৪৩৩৮ -

 

(৬০) কোনো নারীই আল্লাহর নিকট এমন কোনো নামাজ আদায় করেনি যা তার ঘরের সবচেয়ে অন্ধকার কোণে আদায়ের চেয়ে বেশি প্রিয়। "আদ-দাইফাহ - ৪৪৫৩ - শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: ইবনে খুজাইমা এটি তার সহীহ - ১৬৯১ - এ বর্ণনা করেছেন … ইব্রাহিম ইবনে মুসলিম আল-হাজরি থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (হাদিসটি উল্লেখ করেছেন)। আমি বলি, এটি একটি দুর্বল সনদ। আল-হাজরি সম্পর্কে হাফেজ বলেছেন: তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে শিথিল (লাইয়িনুল হাদিস), তিনি মওকুফ হাদিসকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করতেন - আমি বলি: এটিও সেই মওকুফ হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন....... আমি সহীহ ইবনে খুজাইমা-র টীকায় দুটি সূত্রের সমন্বয়ে এটিকে হাসান হিসেবে গণ্য করার দিকে ঝুঁকেছিলাম, কিন্তু এখন আমার কাছে এর বিপরীতটি স্পষ্ট হয়েছে; হাজরি-র মারফু বর্ণনায় বিশৃঙ্খলা এবং অন্য সূত্রের সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণে। অবশ্য এই হাদিসটি আবুল আহওয়াস থেকে মারফু হিসেবে অন্য শব্দে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং এটি সহীহ আবু দাউদ - ১৫৭৯ -এ সংকলিত হয়েছে।

 

(৬১) তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, কেননা তোমাদের মধ্যে আমাদের কাছে সেই সবচেয়ে বড় খিয়ানতকারী যে দায়িত্ব (পদ) প্রার্থনা করে। "সহীহুল জামে ১০৩" এবং হাদিসটি "আদ-দাইফাহ ৩৬৪২" এ এই শব্দে রয়েছে (তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সেই সবচেয়ে বড় খিয়ানতকারী যে তা অর্থাৎ পদ প্রার্থনা করে, সুতরাং তোমরা মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো)। শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "মুনকার" (প্রত্যাখ্যাত)। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন.. আর হাদিসটি সুয়ূতী 'আল-জামেঈন'-এ এই শব্দে উল্লেখ করেছেন - "আল্লাহকে ভয় করো.." এবং বলেছেন এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন। মুনাওয়ী 'ফয়জুল কাদির'-এ বলেছেন - লেখক (সুয়ূতী) এটি হাসান হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন - আর এই ইঙ্গিতের ওপর ভিত্তি করেই আমি হাদিসটি সহীহুল জামে - ১০৩ -এ উল্লেখ করেছিলাম সেই নিয়মানুযায়ী যা আমি এর ভূমিকায় বর্ণনা করেছি। এখন হাদিসের সনদ ও এর ত্রুটি আমার কাছে স্পষ্ট হওয়ার পর একে দাইফুল জামে -তে স্থানান্তর করা আবশ্যক।

 

(৬২) নিশ্চয় জুমার দিন দিনসমূহের নেতা এবং আল্লাহর কাছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মহান। এটি আল্লাহর কাছে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও মহান। এতে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে: এতে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এতে আল্লাহ আদমকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিয়েছেন, এতে আল্লাহ আদমের মৃত্যু ঘটিয়েছেন, এতে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যাতে বান্দা আল্লাহর কাছে যা-ই প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাকে তা দান করবেন যতক্ষণ না সে হারাম কিছু চায় এবং এতেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এমন কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা নেই, কোনো আসমান নেই, কোনো জমিন নেই, কোনো বাতাস নেই, কোনো পাহাড় নেই এবং কোনো সমুদ্র নেই যা জুমার দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত না হয়) - সহীহুত তারগীব - ৬৯৫ - দ্বিতীয় সংস্করণ - এবং সহীহুল জামে - ২২৭৯ -। হাদিসটি আদ-দাইফাহ - ৩৭২৬ - এবং দাইফুত তারগীব - মাআরিফ ৪২৪ - এ রয়েছে। শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি আদ-দাইফাহ-তে বলেছেন - "এর সমার্থকের হাদিস আবু হুরায়রা থেকে শেষে ওই অতিরিক্ত অংশটুকু ছাড়াই সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে, যা সহীহ আবু দাউদ - ৯৬১ - এ সংকলিত। আর এর মধ্যে দোয়া কবুলের মুহূর্তটি বুখারি ও মুসলিমের ঐক্যমতে সাব্যস্ত। এই হলো বিষয়, আমি আমার কিছু টীকায় হাদিসটিকে হাসান বলেছিলাম … এরপর এর সনদ ও মতন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো আমার জন্য সহজ হয়েছে, তাই ইলমি আমানতদারিতা রক্ষায় বিষয়টি স্পষ্ট করা আমার ওপর ওয়াজিব হয়ে দাঁড়িয়েছে।" দেখুন - ইবনে মাজাহ - ১০৮৪ - মিশকাত - ১৩৬৩ - হিদায়াতুর রুওয়াত - ১৩১২ -।

 

(৬৩)) এবং (তিনি এক রাতে অসুস্থ থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সাতটি সূরা পাঠ করেছিলেন) "সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃষ্ঠা - ১১৮ - এবং হাদিসটি আদ-দাইফাহ - ৩৯৯৫ - এ রয়েছে। শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "ইবনে খুজাইমা - ১১৩৬ -, ইবনে হিব্বান - ৬৬৪ -, হাকেম এবং আবু ইয়ালা - সকলেই 'মুআম্মাল ইবনে ইসমাইল থেকে সুলাইমান ইবনে মুগিরা সূত্রে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু ব্যথা অনুভব করলেন। যখন সকাল হলো তখন বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর ব্যথার ছাপ তো স্পষ্ট। তিনি বললেন, তবে তোমরা যা দেখছ সে অবস্থায় আমি আলহামদুলিল্লাহ গত রাতে দীর্ঘ সাতটি সূরা পাঠ করেছি।" হাকেম বলেছেন - এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ - এবং জাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন। হাইসামি - একে আবু ইয়ালার দিকে সম্বন্ধ করার পর - বলেছেন "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য"। আমি বলি: মনে হয় আমি এক যুগের কিছু সময় এই সহীহায়ন ও নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার মাধ্যমে প্রবঞ্চিত হয়েছিলাম, যার ফলে হাদিসটি সিফাতুস সালাত-এ উল্লেখ করেছিলাম..... অবশেষে তিনি বলেন: এই ব্যক্তির হাদিস - মুআম্মাল ইবনে ইসমাইল - দুর্বলই থেকে যাবে যতক্ষণ না আমরা তার কোনো অনুসারী বা সাক্ষ্যদানকারী বর্ণনা পাই। আর এটি এমন বিষয় যা আমরা পাইনি। সুতরাং যার কাছে সিফাতুস সালাত-এর এমন কোনো কপি আছে যাতে এই হাদিসটি রয়েছে, সে যেন এটি কেটে দেয়, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

 

(৬৪) তোমরা সন্ন্যাসীদের পোশাক পরিহার করো, কেননা যে ব্যক্তি বৈরাগ্য অবলম্বন করে বা সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে আমার দলভুক্ত নয়) আদ-দাইফাহ - ৩২৩৪ - এবং হাদিসটি হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা পৃষ্ঠা ৯৩ - ষষ্ঠ সংস্করণে এই শব্দে রয়েছে (আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত:
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
) إياكم ولبوس الرهبان فإنه من تزيا بهم أو تشبه فليس مني) قال الشيخ رحمه الله في الضعيفة -: - بعد أن ذكر علل الحديث - ومن هذا التحقيق يتبين خطأ الحافظ أو تساهله حين قال في - الفتح - " أخرجه الطبراني بسند لا بأس به " وقد كنت نقلته واعتمدت عليه في كتابي - حجاب المرأة المسلمة - فلما وقفت على إسناده وتبين لي وهائه بادرت إلى إخراجه هنا "

 

(65) إنكم لا ترجعون إلى الله تعالى بشيء أفضل مما خرج منه - يعني القرآن) الصحيحة - 961 - معارف - والحديث في - الضعيفة - 1957 - قال الشيخ رحمه الله: - بعد أن ذكر علل الحديث - وقد كنت غفلت عن هذه العلة فأوردت الحديث في - الصحيحة 961 - وخرجته هناك بنحو مما هنا دون أن أنتبه لها فمن وقف على ذلك فليضرب عليه " وانظر - الترمذي - 2911 - المشكاة - 1332 - هداية الرواة - 1281 - ضعيف الترغيب - 866 - ضعيف الجامع - 2042 -

(66) وعن أبي كبشة الأنماري رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يحتجم على هامته وبين كتفيه وهو يقول من أهراق من هذه الدماء فلا يضره أن لا يتداوى بشيء لشيء. رواه أبو داود وابن ماجه.) صحيح الجامع - 4926 - المشكاة - 4542 - أبو داود - 3859 - ابن ماجه - 3484- " والحديث في - الضعيفة - 1867 - قال الشيخ رحمه الله: إسناده حسن لولا ما فيه من الانقطاع، وقد كنت أوردته في - صحيح الجامع - فلا أدري أكان ذلك عن وهم أم لشاهد لا يحضرني الان، غير جملة - بين كتفيه - فلها شاهد مخرج في - الصحيحة - 908 –

(67) إذا أراد الله بعبد شرا خضر له في اللبن والطين حتى يبني) - الضعيفة 2294 - قال الشيخ رحمه الله: هذا وقد كنت خرجت الحديث في تعليقي على - المعجم الصغير - للطبراني المسمى ب - الروض النضير - 179 - وذكرت فيه أن الحافظ العراقي عزا الحديث لابي داود بإسناد - جيد - عن عائشة وأني لم أجده في - سنن أبي داود - قلت هذا قبل أكثر من ثلاثين سنة قبل صدور بعض المؤلفات والفهارس التي تساعد على الكشف عن الحديث والان وأنا أكتب هذا سنة - 1403 - قد راجعت له بعضها ومنها - تحفة الاشراف- للحافظ المزي فازداد ظني بخطأ العزو ولعله اشتبه عليه بحديث عائشة الاخر بلفظ - إن الله لم يأمرنا فيما رزقنا أن نكسو الحجارة واللبن " وانظر - ضعيف الترغيب 1174 وضعيف الجامع 336 –

 

(68) عن جابر رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن تجصص القبور وأن يكتب عليها " - قال الترمذي - حديث حسن صحيح - قال الشيخ رحمه الله في - النصيحة - ص 152 - 153 ":أخرجه الترمذي من طريق - محمد بن ربيعة، والحاكم عن حفص بن غياث وأبي معاوية، وابن حبان أيضا - 3154 - والطحاوي في - شرح المعاني 1/ 296 - كلاهما عن أبي معاوية محمد بن خازم ثلاثتهم عن - ابن جريج، عن أبي الزبير عن جابر، وقال الحاكم - صحيح على شرط مسلم - ووافقه الذهبي - فهذا الاسناد الأول، والاسناد الآخر عند الثلاثة الأخريين - أبي داود والنسائي وابن ماجه - من طريق - ابن جريج وسليمان بن موسى عن جابر وكذلك رواه ابن حبان وليس عند ابن ماجه إلا جملة الكتابة - فقط - هذا وقد كنت صححت في - الارواء 3 / 308 - حديث 757 ص 208 - هذا الإسناد الثاني ثم بدا لي أن فيه انقطاعا بين سليمان بن موسى وجابر " وانظر - مشكاة المصابيح 1709 - هداية الرواة - 1650 - الجنائز 204 –

 

(69) إن الله حد حدودا فلا تعتدوها، وفرض فرائض فلا تضيعوها وحرم أشياء فلا تنتهكوها وترك أشياء من غير نسيان من ربكم ولكن رحمة منه لكم فاقبلوها ولا تبحثوا عنا " قال الشيخ رحمه الله في تخريج - كتاب الإيمان - لشيخ الإسلام ابن تيمية - رواه الدارقطني وهو حديث حسن بشاهده القوي قبله ص 43 " وفي - تخريج الطحاوية ص 302 - الطبعة التاسعة - قال الشيخ: حسن لغيره رواه الدارقطني وغيره ثم تبين أن الشواهد التي رفعته إلي الحسن ضعيفة جدا لا يصلحان للشهادة كما أوضحته في - غاية المرام 4 -وانظر ضعيف الجامع - 1597 - المشكاة 197 والتعليقات الرضية - 3 / 24 "

 

(70) اللهم اجعل أوسع رزقك علي عند كبر سني وانقطاع عمري " صحيح الجامع 1255 - الطبعة الثالثة - قال الشيخ - حسن - الصحيحة 1539 - والحديث في الضعيفة - 1385- لفظ – " كان يدعو: اللهم اجعل أوسع رزقي...... " قال الشيخ رحمه الله بعد أن ذكر علة الحديث - فيبقى الحديث على ضعفه الشديد فنقلته إلي هنا بعد أن كنت أوردته في الكتاب الآخر تقليدا لتحسين الهيثمي.. وبناء على ذلك أوردته في صحيح الجامع الصغير - 1266 - الطبعة الأولى - فيرجى نقله من هناك إلى - ضعيف الجامع الصغير " والحديث في ضعيف الجامع - الثالثة - برقم 1163 –
) তোমরা সন্ন্যাসীদের পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকো, কারণ যে ব্যক্তি তাদের পোশাক পরিধান করে বা তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়। শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) 'আদ-দাইফাহ' গ্রন্থে হাদীসের ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করার পর বলেন: "এই অনুসন্ধান থেকে হাফিয (ইবনে হাজার)-এর ভুল বা শিথিলতা স্পষ্ট হয় যখন তিনি 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে বলেছিলেন যে, 'তাবারানী এটি এমন একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে কোনো সমস্যা নেই'। আমি আমার 'হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছিলাম এবং এর ওপর নির্ভর করেছিলাম। যখন আমি এর সনদের ওপর অবগত হলাম এবং এর দুর্বলতা আমার কাছে স্পষ্ট হলো, তখন আমি এখানে এটি বের (দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত) করার ব্যাপারে উদ্যোগী হলাম।"

 

(65) তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট এমন কিছুর চেয়ে উত্তম বস্তু নিয়ে ফিরে যেতে পারবে না, যা তাঁর থেকে নির্গত হয়েছে—অর্থাৎ কুরআন। আস-সহীহা - ৯৬১ - মাআরিফ - এবং হাদীসটি আদ-দাইফাহ - ১৯৫৭ - তে রয়েছে। শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসের ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করার পর বলেন: "আমি এই ত্রুটিটি সম্পর্কে গাফেল ছিলাম, তাই হাদীসটি 'আস-সহীহা' (৯৬১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলাম এবং সেখানে এর দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই বর্তমানের মতোই এর তাখরীজ করেছিলাম। সুতরাং কেউ যদি তা জানতে পারে, তবে যেন সেটি কেটে দেয়।" দেখুন - তিরমিযী - ২৯১১ - মিশকাত - ১৩৩২ - হিদায়াতুর রুওয়াত - ১২৮১ - দয়ীফাত তারগীব - ৮৬৬ - দয়ীফাত জামি - ২০৪২ -

(66) আবু কাবশাহ আল-আনমারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মাথার উপরিভাগে এবং দুই কাঁধের মাঝখানে শিঙা লাগাতেন এবং বলতেন: যে ব্যক্তি এই রক্ত প্রবাহিত করল, তার জন্য অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে চিকিৎসা না করা কোনো ক্ষতি করবে না। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।) সহীহুল জামি - ৪৯২৬ - মিশকাত - ৪৫৪২ - আবু দাউদ - ৩৮৫৯ - ইবনে মাজাহ - ৩৪৮৪ - এবং হাদীসটি আদ-দাইফাহ - ১৮৬৭ - তে রয়েছে। শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর সনদটি হাসান হতো যদি এতে বিচ্ছিন্নতা না থাকত। আমি ইতিপূর্বে এটি 'সহীহুল জামি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলাম; আমি জানি না তা কি কোনো ভ্রমবশত ছিল নাকি এমন কোনো শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা)-এর কারণে যা এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই, তবে 'দুই কাঁধের মাঝখানে' অংশটুকুর একটি শাহেদ রয়েছে যা 'আস-সহীহা' (৯০৮) গ্রন্থে বের করা হয়েছে।"

(67) যখন আল্লাহ কোনো বান্দার অমঙ্গল চান, তখন তার জন্য মাটি ও কাঁচা ইটের ব্যবস্থা করে দেন যাতে সে দালান নির্মাণ করে। - আদ-দাইফাহ - ২২৯৪ - শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমি তাবারানীর 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এর আমার টীকা 'আর-রাওদুন নাদীর' (১৭৯)-এ এই হাদীসটি বের করেছিলাম এবং সেখানে উল্লেখ করেছিলাম যে হাফিয আল-ইরাকী হাদীসটি আবু দাউদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন উত্তম সনদে আয়েশা থেকে এবং আমি তখন এটি 'সুনানে আবু দাউদ'-এ পাইনি। আমি এ কথা বলেছিলাম আজ থেকে ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় আগে, সেই সব গ্রন্থ ও নির্ঘণ্ট প্রকাশের পূর্বে যা হাদীস অনুসন্ধানে সাহায্য করে। এখন ১৪০৩ হিজরীতে আমি সেগুলোর কিছু পর্যালোচনা করেছি, যার মধ্যে হাফিয আল-মিযযীর 'তুহফাতুল আশরাফ' অন্যতম। এতে আমার এই ধারণা প্রবল হয়েছে যে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে এবং সম্ভবত এটি আয়েশার অন্য একটি হাদীসের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে যার শব্দ হলো: 'আল্লাহ আমাদের যা রিযিক দিয়েছেন তা দিয়ে পাথর ও কাঁচা ইটকে পোশাক পরাতে নির্দেশ দেননি'।" দেখুন - দয়ীফাত তারগীব ১১৭৪ এবং দয়ীফাত জামি ৩৩৬ -

 

(68) জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর চুনকাম করতে এবং কবরের ওপর লিখতে নিষেধ করেছেন।" - তিরমিযী বলেন - হাদীসটি হাসান সহীহ - শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) 'আন-নাসিহা' (পৃ. ১৫২-১৫৩) গ্রন্থে বলেন: "এটি তিরমিযী মুহাম্মাদ বিন রাবীআহ-এর সূত্রে, হাকেম হাফস বিন গিয়াস ও আবু মুআবিয়ার সূত্রে এবং ইবনে হিব্বান (৩১৫৪) ও তাহাবী 'শারহুল মাআনী' (১/২৯৬)-তে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ই আবু মুআবিয়া মুহাম্মাদ বিন খাযেম থেকে, তারা তিনজন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন - এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ - এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। এটি প্রথম সনদ। অন্য সনদটি বাকি তিনজনের কাছে রয়েছে - আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ - ইবনে জুরাইজ ও সুলায়মান বিন মুসার সূত্রে জাবির থেকে। একইভাবে ইবনে হিব্বানও বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে মাজাহর নিকট কেবল লেখার অংশটুকু রয়েছে। আমি 'ইরওয়াউল গালীল' (৩/৩০৮, হাদীস ৭৫৭, পৃ. ২০৮)-এ এই দ্বিতীয় সনদটিকে সহীহ বলেছিলাম, কিন্তু পরে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে সুলায়মান বিন মুসা এবং জাবিরের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।" দেখুন - মিশকাতুল মাসাবীহ ১৭০৯ - হিদায়াতুর রুওয়াত - ১৬৫০ - আল-জানাইয ২০৪ -

 

(69) নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তোমরা তা অতিক্রম করো না। তিনি কিছু ফরয বিধান দিয়েছেন, তা নষ্ট করো না। তিনি কিছু জিনিস হারাম করেছেন, তার অবমাননা করো না। আর তিনি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে বিস্মৃতি ছাড়াই কিছু বিষয় ছেড়ে দিয়েছেন তোমাদের প্রতি দয়াবশত, সুতরাং তোমরা তা গ্রহণ করো এবং সে বিষয়ে অনুসন্ধান করো না। শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার 'কিতাবুল ঈমান'-এর তাখরীজে বলেন: "এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং এটি এর পূর্ববর্তী শক্তিশালী শাহেদের কারণে হাসান হাদীস (পৃ. ৪৩)।" এবং 'তাহাবীয়াহ'র তাখরীজে (পৃ. ৩০২, ৯ম সংস্করণ) শেখ বলেন: "এটি হাসান লি-গাইরিহি, দারা কুতনী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু পরে স্পষ্ট হয়েছে যে শাহেদসমূহ যা একে হাসান পর্যায়ে উন্নীত করেছিল তা অত্যন্ত দুর্বল, যা শাহেদ হিসেবে উপযুক্ত নয় যেমনটি আমি 'গয়াতুল মারাম' (৪)-এ স্পষ্ট করেছি।" দেখুন - দয়ীফাত জামি - ১৫৯৭ - মিশকাত ১৯৭ এবং আত-তালীকাতুর রাযিয়্যাহ - ৩/২৪ -

 

(70) হে আল্লাহ, আমার বার্ধক্যে এবং আমার জীবন শেষ হওয়ার সময় আপনার প্রশস্ত রিযিক আমার ওপর নির্ধারিত করুন। সহীহুল জামি ১২৫৫ - ৩য় সংস্করণ - শেখ বলেছেন - হাসান - আস-সহীহা ১৫৩৯ - এবং হাদীসটি আদ-দাইফাহ - ১৩৮৫ - তে এই শব্দে রয়েছে - "তিনি এই বলে দুআ করতেন: হে আল্লাহ, আমার প্রশস্ত রিযিক... করুন।" শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসটির ত্রুটি উল্লেখ করার পর বলেন: "হাদীসটি তার তীব্র দুর্বলতার ওপরই বহাল থাকে। আমি আল-হাইসামীর হাসান বলার অন্ধ অনুসরণ করে অন্য কিতাবে এটি উল্লেখ করার পর এখানে স্থানান্তর করেছি। এর ভিত্তিতেই আমি এটি 'সহীহুল জামি' আস-সাগীর' (১২৬৬, ১ম সংস্করণ)-এ উল্লেখ করেছিলাম। অতএব তা সেখান থেকে 'দইফ আল-জামিউস সাগীর'-এ স্থানান্তর করার অনুরোধ রইল।" এবং হাদীসটি দয়ীফাত জামি - ৩য় সংস্করণ - এর ১১৬৩ নং ক্রমিকে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
(71) عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ليسأل أحدكم ربه حاجته كلها حتى يسأله شسع نعله إذا انقطع " المشكاة - 2251 - زاد في رواية عن ثابت البناني مرسلا: " حتى يسأله الملح وحتى يسأله شسعه إذا انقطع " المشكاة - 2252 - قال الشيخ رحمه الله " وهو حديث حسن " والحديث في - الضعيفة - 1362 - وانظر الترمذي - 3604 م8

*******************************************************************

 

هذه الاحاديث قد تراجع عنها الشيخ من التصحيح الى التحسين أو العكس:

(1) يجزيء عن الجماعة إذا مروا أن يسلم أحدهم، ويجزيء عن الجلوس أن يرد أحدهم "

الكلم الطيب – الثالثة – قال الشيخ رحمه الله: حديث حسن، رواه أحمد والبيهقي وفيه ضعف لكن له شواهد يتقوى بها، والحديث في الكلم الطيب – المعارف – 200- قال الشيخ رحمه الله " كنت خرجتها في الارواء – 3- 242 – 778 " ثم وقفت على شواهد أخرى له خرجتها في الصحيحة " 1147و 1148 و1412 " فصار الحديث صحيحا والحمد لله.

(2) رضى الرب في رضا الوالد، وسخط الرب في سخط الوالد " الصحيحة " 516 "

قال الشيخ رحمه الله: فقد رجعت عن موافقتي للحاكم والذهبي على تصحيح الحديث على شرط مسلم بل رجعت عن تصحيح اسناده مطلقا _ أي اسناد الحاكم – ولكني مع ذلك فقد أداني البحث والتحقيق إلى القول بإن الحديث لا ينزل عن رتبة الحسن بمجموع طرقه، وانظر " صحيح الترغيب 2501والادب المفرد " 2 " وصحيح الجامع " 3506.

(3) عجبت لأقوام يساقون إلى الجنة بالسلاسل وهم كارهون " صحيح الجامع " 3983 " قال الشيخ " حسن " والحديث في الصحيحة " 2874 " قال الشيخ رحمه الله – بعد أن ذكر شواهد للحديث – وبعد هذا التخريج عدلته إلى " صحيح " كما هو ظاهر من مجموع طرقه.

(4) أن امرأة عجوز جاءته – صلى الله عليه وسلم – تقول له: يا رسول الله، ادع الله لي أن يدخلني الجنة، فقال لها: إن الجنة لا يدخلها عجوز " غاية المرام " 375 " " حسن "

والحديث في الصحيحة " 2987 " قال الشيخ رحمه الله: " تنبيه " كنت خرجت الحديث في بعض مؤلفاتي مثل " غاية المرام محسنا إياه والان فقد أصبح ازداد قوة بهذا الحديث الصحيح مع ما جاء في تفسير " إنا أنشأنهن إنشاء ".

(5) عن اسماء بنت عميس رضي الله عنها، قالت قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم:

" ألا أعلمك كلمات تقولينهن عند الكرب – أو في الكرب – " الله الله ربي لا أشرك به شيئا "

الكلم الطيب " 121 " – الثالثة _ قال الشيخ: " حسن " والحديث في الكلم الطيب – معارف – ص " 118 " وفي الصحيحة " 2755 " قال الشيخ رحمه الله – بعد ان ذكر طريقا للحديث وشاهدين – وبناء عليه يختلف حكمنا على الحديث عما قلناه سابقا في التعليق على الكلم الطيب

ويصير " صحيحا لغيره " ويزداد قوة بالطريق عن اسماء وشاهديه عن عائشة وابن عباس.

(6) إذا اكتحل أحدكم فليكتحل وترا، وإذا استجمر فليستجمر وترا " الصحيحة 1260 "

قال الشيخ رحمه الله: فالحديث بمجموع طرقه " حسن ان شاء الله " ثم قال الشيخ رحمه الله " في

الاستدراك أخر المجلد الثالث ص " 491 " " 258 – 25 " - بعد ان ذكر طريقا آخر – " فصح الحديث والحمد لله.

 

تصويبات وتنبيهات:

(1) " حضر موت خير من بني الحارث " - ضعيف الجامع - 2726 - والحديث في - الصحيحة - 3051 - قال الشيخ رحمه الله: تنبيه هام: وقع حديث الترجمة سهوا في - ضعيف الجامع - 2726 -وهو من حق - صحيح الجامع - فلينقل إليه وأستغفر الله وأتوب إليه.

(2) ستكون أمراء فتعرفون وتنكرون، فمن كره برىء، ومن أنكر سلم ولكن من رضي وتابع " لم يبرأ " صحيح الجامع - 3618 -م - د عن أم سلمة " والحديث في الصحيحة تحت رقم - 3007 - ص 15 - قال الشيخ رحمه الله: وقع في آخر حديث أم سلمة هذا في - صحيح الجامع - 3618 - زيادة (لم يبرأ) ولا أصل لها عند أحد ممن ذكرنا فلتحذف "

(3) " ما من يوم أكثر من أن يعتق الله فيه عبدا (أو أمة) من النار، من يوم عرفة وإنه ليدنو ثم يباهي بهم الملائكة فيقول: ماذا أراد هؤلاء؟ " صحيح الجامع - 5796 - م، ن، هـ،عن عائشة "، والحديث في - الصحيحة - 2551 - قال الشيخ رحمه الله: " تنبيه " ثانيا: أورد السيوطي حديث الترجمة في - الجامع الكبير - من رواية مسلم والنسائي وابن ماجه أيضا بلفظ (عبدا أو أمة) فهذه الزيادة (أو أمة) لا أصل لها أيضا عندهم ولا عند غيرهم ممن أخرج الحديث وانطلى أمرها على صاحب - الفتح الكبير - في ضم الزيادة الى - الجامع الصغير - وعلي أيضا حينما جعلت - الفتح - قسمين - صحيح الجامع الصغير وزيادته وضعيف الجامع الصغير وزيادته " فأوردت الحديث في القسم الاول برقم " 5672 " فمن كان عنده فليعلق عليه بما يدل على أن هذه الزيادة لا أصل لها " والحديث في - صحيح الجامع -الطبعة الثالثة برقم 5796 "
(৭১) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার রবের কাছে তার যাবতীয় প্রয়োজনের কথা চায়, এমনকি তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও যেন সে তাঁর কাছেই চায়।" - মিশকাত ২২৫১। সাবিত আল-বুনানী থেকে বর্ণিত মুরসাল রেওয়ায়েতে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে: "এমনকি সে যেন তাঁর কাছে লবণও চায় এবং তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে তাও যেন তাঁর কাছেই চায়।" - মিশকাত ২২৫২। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি একটি হাসান হাদিস।" হাদিসটি 'আদ-দাঈফাহ' ১৩৬২-তে রয়েছে; আরও দেখুন তিরমিযী ৩৬০৪-ম৮।

*******************************************************************

 

এই হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে শাইখ পূর্বের সহীহ করার অবস্থান থেকে হাসান করার দিকে কিংবা হাসান থেকে সহীহ করার দিকে ফিরে এসেছেন:

(১) "একদল লোক যখন কোথাও দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন তাদের পক্ষ থেকে একজনের সালাম দেয়াই যথেষ্ট হবে; আর যারা উপবিষ্ট আছে তাদের পক্ষ থেকে একজনের উত্তর দেয়াই যথেষ্ট হবে।"

আল-কালিমুত তাইয়্যিব (তৃতীয় সংস্করণ) - শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: হাদিসটি হাসান, আহমদ ও বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে দুর্বলতা থাকলেও এর এমন কিছু শওয়াহিদ (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে যার দ্বারা এটি শক্তিশালী হয়। হাদিসটি আল-কালিমুত তাইয়্যিব (আল-মাআরিফ সংস্করণ)-এর ২০০ নম্বর পৃষ্ঠায় আছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি আগে আল-ইরওয়া (৩-২৪২-৭৭৮)-তে এটি বর্ণনা করেছিলাম।" পরবর্তীতে আমি এর আরও কিছু শওয়াহিদ (সমর্থক বর্ণনা) পেয়েছি যা আমি আস-সহীহাহ (১১৪৭, ১১৪৮ ও ১৪১২)-তে উল্লেখ করেছি, ফলে হাদিসটি সহীহ হিসেবে গণ্য হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

(২) "পিতার সন্তুষ্টিতে রবের সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে রবের অসন্তুষ্টি।" - আস-সহীহাহ ৫১৬।

শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমি হাদিসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলার ব্যাপারে হাকিম ও যাহাবীর সাথে একমত হওয়ার অবস্থান থেকে ফিরে এসেছি, বরং আমি এর সনদকে ঢালাওভাবে সহীহ বলা থেকেও ফিরে এসেছি — অর্থাৎ হাকিমের বর্ণিত সনদ। তবে তা সত্ত্বেও, গবেষণা ও তদন্ত আমাকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে, হাদিসটি এর সকল সূত্রের সমন্বিত রূপে 'হাসান' স্তরের নিচে নামবে না। দেখুন: সহীহুত তারগীব ২৫০১, আল-আদাবুল মুফরাদ ২ এবং সহীহুল জামি' ৩৫০৬।

(৩) "আমি এমন কিছু সম্প্রদায়কে দেখে বিস্মিত হই যাদেরকে শিকল দিয়ে জান্নাতের দিকে টেনে নেয়া হচ্ছে অথচ তারা তা অপছন্দ করছে।" - সহীহুল জামি' ৩৯৮৩। শাইখ বলেছেন: "হাসান"। হাদিসটি আস-সহীহাহ ২৮৭৪-এ রয়েছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসটির শওয়াহিদ (সমর্থক বর্ণনাগুলো) উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এই তাহকীক বা পর্যালোচনার পর আমি হাদিসটিকে 'সহীহ' হিসেবে সংশোধন করেছি, যা এর সকল সূত্রের সমষ্টি থেকে স্পষ্ট।"

(৪) এক বৃদ্ধা নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। তিনি তাকে বললেন: "জান্নাতে কোনো বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না।" - গায়াতুল মারাম ৩৭৫, "হাসান"।

হাদিসটি আস-সহীহাহ ২৯৮৭-এ রয়েছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সতর্কতা: আমি আমার কোনো কোনো কিতাবে যেমন 'গায়াতুল মারাম'-এ হাদিসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু এখন এটি এই সহীহ হাদিসটির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে, সাথে 'ইন্না আনশা’নাহুন্না ইনশাআ' (নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে নতুনভাবে সৃষ্টি করেছি) আয়াতের তাফসীরে যা বর্ণিত হয়েছে তাও রয়েছে।"

(৫) আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন:

"আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না যা তুমি বিপদের সময় — অথবা কষ্টের সময় — বলবে? (তা হলো:) 'আল্লাহ আল্লাহ রাব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়া' (আল্লাহ, আল্লাহই আমার রব, আমি তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করি না)।"

আল-কালিমুত তাইয়্যিব ১২১ (তৃতীয় সংস্করণ)। শাইখ বলেছেন: "হাসান"। হাদিসটি আল-কালিমুত তাইয়্যিব (আল-মাআরিফ সংস্করণ, পৃ. ১১৮) এবং আস-সহীহাহ ২৭৫৫-এ রয়েছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসটির একটি সূত্র এবং দুটি শওয়াহিদ উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এর উপর ভিত্তি করে, হাদিসটির ব্যাপারে আমাদের হুকুম বা সিদ্ধান্ত আল-কালিমুত তাইয়্যিব-এর টীকায় যা আগে বলেছিলাম তার থেকে ভিন্ন হবে।

এটি 'সহীহ লি-গাইরিহি' হবে এবং আসমার বর্ণিত সূত্র ও আয়েশা ও ইবনে আব্বাসের বর্ণিত শওয়াহিদের মাধ্যমে এটি আরও শক্তিশালী হয়েছে।"

(৬) "তোমাদের কেউ যখন চোখে সুরমা লাগাবে, সে যেন বিজোড় সংখ্যায় লাগায়; আর যখন কেউ পাথর দিয়ে শৌচকর্ম করবে, সে যেন বিজোড় সংখ্যায় পাথর ব্যবহার করে।" - আস-সহীহাহ ১২৬০।

শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: হাদিসটি এর সকল সূত্রের সমন্বয়ে "ইনশাআল্লাহ হাসান"। অতঃপর শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তৃতীয় খণ্ডের শেষে 'আল-ইসতিদরাত' (পরিশিষ্ট)-এর ৪৯১ পৃষ্ঠায় (২৫-২৫৮) আরেকটি সূত্র উল্লেখ করার পর বলেছেন: "হাদিসটি সহীহ প্রমাণিত হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।"

 

সংশোধনী ও সতর্কতা:

(১) "হাজরামাউত বনী হারিসের চেয়ে উত্তম।" - দাঈফুল জামি' ২৭২৬। হাদিসটি আস-সহীহাহ ৩০৫১-তে আছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এই হাদিসটি ভুলবশত 'দাঈফুল জামি' ২৭২৬-এ স্থান পেয়েছে, অথচ এর প্রকৃত স্থান হলো 'সহীহুল জামি'। সুতরাং একে সেখানে স্থানান্তর করা উচিত। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই তওবা করছি।

(২) "শীঘ্রই এমন সব আমীর বা শাসক আসবে যাদের কিছু কাজ তোমরা পছন্দ করবে এবং কিছু অপছন্দ করবে। যে ব্যক্তি (তাদের মন্দ কাজকে) ঘৃণা করবে সে দায়মুক্ত হবে, আর যে ব্যক্তি প্রতিবাদ করবে সে নিরাপদ থাকবে; কিন্তু যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হবে এবং তাদের অনুসরণ করবে (সে দায়মুক্ত হবে না)।" - সহীহুল জামি' ৩৬১৮-ম, দ- উম্মে সালামা থেকে। হাদিসটি আস-সহীহাহ ৩০০৭, পৃ. ১৫-এর অধীনে রয়েছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সহীহুল জামি' ৩৬১৮-এ উম্মে সালামার এই হাদিসটির শেষে '(সে দায়মুক্ত হবে না)' অংশটি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে, অথচ আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের কারোর বর্ণনাতেই এর কোনো ভিত্তি নেই। সুতরাং একে বাদ দেওয়া উচিত।

(৩) "আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই যে দিন আল্লাহ অধিক সংখ্যক বান্দাকে (বা দাসীকে) জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী হন, অতঃপর ফেরেশতাদের সামনে তাদের নিয়ে গর্ব করে বলেন: এরা কী চায়?" - সহীহুল জামি' ৫৭৯৬ - ম, ন, হ, আয়েশা থেকে। হাদিসটি আস-সহীহাহ ২৫৫১-তে রয়েছে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সতর্কতা": দ্বিতীয়ত, আস-সুয়ুতী 'আল-জামি'উল কাবীর'-এ মুসলিম, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ-এর রেওয়ায়েত থেকেও এই হাদিসটি (বান্দা বা দাসী) শব্দসহ উল্লেখ করেছেন। অথচ এই অতিরিক্ত শব্দটুকুর (বা দাসী) কোনো ভিত্তি তাদের কাছে নেই এবং অন্য যারা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাদের কাছেও নেই। এই বিষয়টি 'আল-ফাতহুল কাবীর'-এর লেখকের ওপর প্রভাব ফেলেছিল যখন তিনি এই অতিরিক্ত অংশটিকে 'আল-জামি'উস সাগীর'-এর সাথে যুক্ত করেন। আমার ওপরও এর প্রভাব পড়েছিল যখন আমি 'আল-ফাতহ'-কে দুই ভাগে বিভক্ত করি — "সহীহুল জামি'উস সাগীর ও যিয়াদাতুহু" এবং "দাঈফুল জামি'উস সাগীর ও যিয়াদাতুহু"। ফলে আমি হাদিসটি প্রথম অংশে ৫৬৭২ নম্বরে উল্লেখ করি। সুতরাং যার কাছে এটি আছে, সে যেন সেখানে টীকা লিখে রাখে যে এই অতিরিক্ত অংশটির কোনো ভিত্তি নেই। হাদিসটি 'সহীহুল জামি' ৩য় সংস্করণে ৫৭৯৬ নম্বরে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২০)
(4) ألا رجل يمنح أهل بيت [لا در لهم] ناقة [من إبله] تغدو تعس وتروح تعس إن أجرها لعظيم " الصحيحة 3601 " قال الشيخ رحمه الله ص 1596 - تنبيه: أورد الحديث السيوطي في - الزيادة على الجامع الصغير - بلفظ " تغدو بغداء وتروح بعشاء.. " من رواية مسلم! وليست هي هكذا عند مسلم ولا عند غيره!! هو هكذا في - صحيح الجامع - رقم - 2653 - فليصحح " والحديث في - صحيح الجامع -وهذا لفظه:

 

"ألا رجل يمنح أهل بيت ناقة تغدو بغداء وتروح بعشاء إن أجرها لعظيم ".

 

(5) لا يبيتن رجل عند إمرأة في بيت، إلا أن يكون ناكحا، أو ذا محرم) م عن جابر " صحيح الجامع " 7599 " والحديث في " الصحيحة - 3086 " ولفظه: (ألا لا يبيتن رجل عند امرأة " ثيب " إلا أن يكون ناكحا ، أو محرما) قال الشيخ رحمه الله: تنبيهات: الاول: قوله في حديث الترجمة (امرأة ثيب) هكذا وقع في " صحيح مسلم " و " تاريخ بغداد " ورواية للبيهقي، ووقع في رواية أبي يعلى وابن حبان (امرأة في بيت) وأما ابن أبي شيبة والنسائي فأسقطا اللفظين " ثيب " و " بيت " وهو رواية للبيهقي! ولعل الراجح من ذلك رواية مسلم لموافقتها حديث أسماء بنت عميس، والله أعلم.

الثاني: من أوهام السيوطي أو تساهله أنه ذكر الحديث في الزيادة على " الجامع الصغير " بلفظ أبي يعلى المذكور " في بيت " وعزاه لمسلم فقط! وهكذا وقع في " الفتح الكبير " تبعا لأصله وكذلك في " صحيح الجامع " فليصحح "

(6) (من وجد من هذا الوسواس فليقل: آمنا بالله ورسوله " ثلاثا " فإن ذلك يذهب عنه " صحيح الجامع " 6587 " والحديث في " ضعيف الجامع - 5872 " بنفس اللفظ، قال الشيخ رحمه الله في حاشية - ضعيف الجامع - قد صح الحديث دون لفظ (ثلاثا) لذلك أوردته في - الصحيح - 6587 - ولكن فاتني حذف اللفظ المذكور فليحذف.

(7) " من قال حين يمسي: رضيت بالله ربا وبالاسلام دينا وبمحمد نبيا كان حقا على الله أن يرضيه " ضعيف الجامع - 5735 - والحديث في - الكلم الطيب - الثالثة - برقم 24 - قال الشيخ رحمه الله: قال الترمذي هذا حديث حسن صحيح، كذا في الاصول وفي نسخة بولاق من - سنن الترمذي - " حسن غريب " وهو الاقرب الى الصواب وهو الذي نقله المنذري في الترغيب عن الترمذي وما نقله المصنف هو في بعض النسخ من - السنن - لكن استبعد ذلك المنذري، وهو الحق فإن في سند الحديث ما يمنع العالم بالرجال من تحسينه فضلا عن تصحيحه ألا وهو - سعيد بن المرزبان - قال الحافظ في التقريب - ضعيف مدلس - قلت وقد عنعنه،.....، ثم قال الشيخ رحمه الله في - الكلم طبعة المعارف - ثم خرجت الحديث في - الضعيفة 5020 - وبسطت الكلام عليه بما لا تراه في غيره مؤكدا ضعفه، وفي - الضعيفة 5020 - قال الشيخ: ولذلك لم أذهب في تعليقي على - الكلم الطيب - الى تقوية الحديث بمجموع الطريقين مع ما بين متنيهما من الاختلاف في اللفظ.. وقد جاء ذكره في (صحيح الكلم الطيب) برقم " 23 " سهوا مني أرجو من الله أن يغفر لي فيرجى حذفه " والحديث تم حذفه من طبعة المعارف.

(8) لا يزال هذا الدين قائما، حتى يكون عليكم اثنا عشر خليفة، كلهم تجتمع عليه الامة، كلهم من قريش، ثم يكون الهرج " صحيح الجامع " 7703 " حم - ق - د - ن - عن جابر بن سمرة - الصحيحة 375- 376 ، 963 - 964 " والحديث في ضعيف الجامع برقم " 6347 " بنفس اللفظ وقال الشيخ هناك - ضعيف الجامع - " قلت عزو هذا الحديث بهذا التمام لغير أبي داود وهم أو تساهل فإنه له وحده من بينهم وليس عندهم (كلهم تجتمع على عليه الامة) (ثم يكون الهرج) وهما زيادتان منكرتان ولذلك أوردته هنا وهو بدونهما صحيح ولذلك أوردته في الكتاب الاخر - 7703 - لكن فاتني هناك التنبيه عليهما فلعله يستدرك ذلك في الطبعة الثانية.

(9) كفارة النذر إذا لم يسم كفارة يمين) صحيح الجامع - 4488 - حم - ق - 3 - عن عقبة بن عامر الارواء - 2586 -، والحديث في - ضعيف الجامع - تحت حديث - 5862 - بلفظ (من نذر نذرا ولم يسمه فكفارته كفارة يمين) قال الشيخ في الحاشية: هذه الفقرة صحيحة دون قوله (ولم يسمه) ولذلك أوردته في - الصحيح - برقم - 4488 - ولفظه.. ثم ساق لفظه _ ولكن فاتني هناك حذف هذه الزيادة فلتحذف منه أو ينقل بها الى الضعيف.
(৪) “এমন কি কোনো লোক নেই যে এক পরিবারের লোকজনকে [যাদের কোনো উট নেই] তার উটগুলো থেকে একটি উট দান করবে, যা সকালে দুধ নিয়ে বের হবে এবং সন্ধ্যায় দুধ নিয়ে ফিরে আসবে? নিশ্চয় এর বিনিময় অত্যন্ত মহান।” (আস-সহীহাহ ৩৬০১)। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) ১৫৯৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন - সতর্কতা: সুয়ূতী এই হাদিসটি ‘আল-জিয়াদাহ আলাল জামিইস সাগীর’ গ্রন্থে মুসলিমের বর্ণনা হিসেবে “সকালে খাবার নিয়ে বের হয় এবং সন্ধ্যায় খাবার নিয়ে আসে...” শব্দে উল্লেখ করেছেন! অথচ এটি মুসলিমের কাছেও এভাবে নেই এবং অন্য কারো কাছেও নেই!! এটি ‘সহীহুল জামি’ গ্রন্থে ২৬৫৩ নম্বরে এভাবেই আছে - তাই এটি সংশোধন করা উচিত। ‘সহীহুল জামি’ গ্রন্থে হাদিসটি এই শব্দে আছে:

 

“এমন কি কোনো লোক নেই যে এক পরিবারের লোকজনকে একটি উট দান করবে যা সকালে খাবার নিয়ে বের হয় এবং সন্ধ্যায় খাবার নিয়ে আসে? নিশ্চয় এর বিনিময় অত্যন্ত মহান।”

 

(৫) (কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার কাছে ঘরে রাত যাপন না করে, যদি না সে তার স্বামী অথবা মাহরাম হয়) মুসলিম, জাবির থেকে বর্ণিত ‘সহীহুল জামি’ ৭৫৯৯। হাদিসটি ‘আস-সহীহাহ’ ৩০৮৬-তে আছে এবং এর শব্দ হলো: (সাবধান! কোনো পুরুষ যেন কোনো ‘বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা’ মহিলার কাছে রাত যাপন না করে, যদি না সে তার স্বামী বা মাহরাম হয়)। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সতর্কতা: প্রথমত: অত্র হাদিসে বর্ণিত (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা মহিলা) শব্দগুলো ‘সহীহ মুসলিম’, ‘তারিখে বাগদাদ’ এবং বায়হাকীর একটি বর্ণনায় এভাবেই এসেছে। আর আবু ইয়ালা ও ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় এসেছে (ঘরের মধ্যে কোনো মহিলার কাছে)। অন্যদিকে ইবনে আবী শায়বাহ ও নাসাঈ (বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা) এবং (ঘর) শব্দ দুটি বাদ দিয়েছেন এবং এটি বায়হাকীরও একটি বর্ণনা! সম্ভবত এর মধ্যে মুসলিমের বর্ণনাটিই অগ্রগণ্য, কারণ এটি আসমা বিনতে উমাইসের হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয়ত: সুয়ূতীর ভুল বা শিথিলতার একটি হলো, তিনি হাদিসটি ‘আল-জামিইস সাগীর’-এর অতিরিক্ত অংশে আবু ইয়ালার উল্লিখিত শব্দে (ঘরে) উল্লেখ করেছেন এবং একে শুধুমাত্র মুসলিমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন! এভাবে এটি তার মূল গ্রন্থের অনুসরণে ‘আল-ফাতহুল কবীর’ এবং ‘সহীহুল জামি’ গ্রন্থেও স্থান পেয়েছে, তাই এটি সংশোধন করা উচিত।

(৬) (যে ব্যক্তি এই কুপ্ররোচনা বা ওয়াসওয়াসা অনুভব করবে সে যেন বলে: ‘আমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি’—তিনবার। কেননা এতে তা তার থেকে দূর হয়ে যাবে। ‘সহীহুল জামি’ ৬৫৮৭)। হাদিসটি ‘যয়িফুল জামি’ ৫৮৭২-এ একই শব্দে আছে। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) ‘যয়িফুল জামি’ এর টীকায় বলেছেন, হাদিসটি ‘তিনবার’ শব্দ ছাড়া সহীহ, তাই আমি এটি ‘সহীহ’ ৬৫৮৭-তে উল্লেখ করেছি - কিন্তু উক্ত শব্দটি বাদ দিতে আমি ভুলে গিয়েছি, তাই তা মুছে ফেলা উচিত।

(৭) “যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় বলে: ‘আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি’, আল্লাহর ওপর হক হয়ে যায় যে তিনি তাকে সন্তুষ্ট করবেন।” (যয়িফুল জামি ৫৭৩৫)। হাদিসটি ‘আল-কালিমুত তাইয়্যিব’ তৃতীয় সংস্করণ, ২৪ নম্বরে রয়েছে। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তিরমিযী বলেছেন এটি হাসান সহীহ হাদিস। মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে এমনই আছে। তবে ‘সুনানে তিরমিযী’র বুলাক সংস্করণে আছে “হাসান গরীব”। এটিই সত্যের অধিক নিকটবর্তী এবং এটিই মুনযিরী ‘আত-তারগীব’-এ তিরমিযী থেকে উদ্ধৃত করেছেন। লেখক যা বর্ণনা করেছেন তা ‘সুনান’-এর কিছু কপিতে আছে, তবে মুনযিরী একে সঠিক মনে করেননি, আর সেটিই সত্য। কারণ হাদিসের সনদে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যিনি রিজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত ব্যক্তিকে এটি ‘হাসান’ বলা থেকে বিরত রাখবেন, ‘সহীহ’ বলা তো দূরের কথা; আর তিনি হলেন সাঈদ ইবনুল মারযুবান। হাফিয ইবনে হাজার ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে তাকে ‘যয়িফ মুদাল্লিস’ বলেছেন। আমি (আলবানী) বলছি, তিনি এটি ‘আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন...। এরপর শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-কালিম’ মাআরিফ সংস্করণে বলেন: এরপর আমি হাদিসটি ‘আয-যয়িফাহ’ ৫০২০-তে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং সেখানে এর ওপর এমন বিশ্লেষণ করেছি যা আপনি অন্য কোথাও পাবেন না এবং এর দুর্বলতাকে নিশ্চিত করেছি। ‘আয-যয়িফাহ’ ৫০২০-তে শায়খ বলেন: এই কারণেই আমি ‘আল-কালিমুত তাইয়্যিব’-এর টীকায় দুই সূত্রের সংমিশ্রণে হাদিসটিকে শক্তিশালী বলিনি, কারণ তাদের মূল পাঠের শব্দে ভিন্নতা রয়েছে। ‘সহীহ আল-কালিমুত তাইয়্যিব’-এ ২৩ নম্বরে আমার অসাবধানতাবশত এটি উল্লেখ করা হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং এটি মুছে ফেলা প্রয়োজন। মাআরিফ সংস্করণ থেকে হাদিসটি ইতোমধ্যেই মুছে ফেলা হয়েছে।

(৮) “এই দ্বীন ততক্ষণ প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ তোমাদের ওপর বারোজন খলিফা থাকবেন, যাদের ওপর উম্মত ঐক্যবদ্ধ হবে, তারা সবাই কুরাইশ বংশের হবে, এরপর বিশৃঙ্খলা ও হত্যাযজ্ঞ দেখা দেবে।” (সহীহুল জামি ৭৭০৩, আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ—জাবির ইবনে সামুরা থেকে। আস-সহীহাহ ৩৭৫-৩৭৬, ৯৬৩-৯৬৪)। হাদিসটি ‘যয়িফুল জামি’ গ্রন্থে ৬৩৪৭ নম্বরে একই শব্দে আছে এবং শায়খ সেখানে বলেছেন - ‘যয়িফুল জামি’: “আমি বলছি, আবু দাউদ ছাড়া অন্যদের দিকে এই পূর্ণাঙ্গ হাদিসটির সম্বন্ধ করা একটি ভুল অথবা শিথিলতা। কারণ এটি শুধুমাত্র তাঁর (আবু দাউদের) একার বর্ণনা। অন্যদের কাছে ‘যাদের ওপর উম্মত ঐক্যবদ্ধ হবে’ এবং ‘এরপর বিশৃঙ্খলা ও হত্যাযজ্ঞ দেখা দেবে’ শব্দগুলো নেই। এই দুটি বৃদ্ধি ‘মুনকার’ বা অগ্রহণযোগ্য। এই কারণেই আমি এটি এখানে উল্লেখ করেছি, তবে এ দুটি ছাড়া হাদিসটি সহীহ, তাই আমি অন্য কিতাবে (৭৭০৩) উল্লেখ করেছি - কিন্তু সেখানে এই দুটি বিষয়ে সতর্ক করতে আমি ভুলে গিয়েছি, সম্ভবত দ্বিতীয় সংস্করণে এটি সংশোধন করা হবে।”

(৯) (মানতের কাফফারা, যদি তা নির্দিষ্ট করা না হয়, তবে তা কসমের কাফফারার সমতুল্য)। (সহীহুল জামি ৪৪৮৮, আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম, সুনানত্রয়—উকবাহ ইবনে আমির থেকে। আল-ইরওয়া ২৫৮৬)। হাদিসটি ‘যয়িফুল জামি’ গ্রন্থের ৫৮৬২ নম্বর হাদিসের অধীনে এই শব্দে আছে (যে ব্যক্তি কোনো মানত করল এবং তা নির্দিষ্ট করল না, তবে তার কাফফারা হলো কসমের কাফফারা)। শায়খ টীকায় বলেছেন: এই বাক্যটি ‘এবং তা নির্দিষ্ট করল না’ শব্দটুকু ছাড়া সহীহ। এই কারণে আমি এটি ‘সহীহ’ গ্রন্থে ৪৪৮৮ নম্বরে এই শব্দে উল্লেখ করেছি... এরপর তিনি এর শব্দগুলো উল্লেখ করেন—কিন্তু সেখানে আমি এই অতিরিক্ত অংশটুকু মুছে ফেলতে ভুলে গেছি, তাই সেখান থেকে এটি মুছে ফেলা উচিত অথবা একে যয়িফ বা দুর্বল অংশে স্থানান্তর করা উচিত।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২১)
(10) لتركبن سنن من كان قبلكم شبرا بشبر وذراعا بذراع حتى لو أن أحدهم دخل جحر ضب لدخلتم وحتى لو أن أحدهم جامع امرأته بالطريق لفعلتموه.) صحيح الجامع - 5067 -، والحديث في - الصحيحة - 1348 - ولفظه (لتركبن سنن من كان قبلكم شبرا بشبر وذراعا بذراع وباعا بباع حتى لو أن أحدهم دخل جحر ضب دخلتم وحتى لو أن أحدهم ضاجع أمه بالطريق لفعلتم] (صحيح) . قال الشيخ رحمه الله: (تنبيه) _ قوله (أمه) هو الصواب ووقع في مستدرك الحاكم (امرأته) بدل (أمه) وهو خطأ من أحد رواته أو نساخه. فاتني أن أنبه عليه في صحيح الجامع برقم - 5067 -

(11) ليأتين على أمتي ما أتى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل (.....) وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار إلا ملة واحدة ما أنا عليه وأصحابي.) صحيح الجامع - 5343 - حسن - ت عن ابن عمرو - المشكاة - 171 " قال الشيخ رحمه الله في " الصحيحة تحت حديث - 1348 -: الشاهد الذي سبقت الاشارة إليه من حديث ابن عمرو وهو باللفظ الاول الصحيح (أمه) في صحيح الجامع برقم - 5343 - وقد وقع مني خطأ وهو حذف الجملة المتعلقة بهذا اللفظ (حتى لو أن أحدهم جامع أمه بالطريق لفعلتموه) ووضع مكانها نقط...... كما جريت عليه في هذا الكتاب إشارة مني إلى أن المحذوف ضعيف وكانت زلة مني أسأل الله أن يغفرها لي فإن العكس هو الصواب كما علمت، وعليه فليصحح لفظه - صحيح الجامع - بإعادة الجملة المحذوفة والله تعالى ولي التوفيق "

(12) وعن أبي سعيد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى في أصحابه تأخرا فقال لهم

تقدموا فائتموا بي وليأتم بكم من بعدكم لا يزال قوم يتأخرون حتى يؤخرهم الله) رواه مسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه " صحيح الترغيب - 509 - طبعة المعارف - قال الشيخ رحمه الله: كان هنا في الطبعات السابقة خطأ فاحش أستغفر الله منه وهو من شؤم التقليد وعدم الرجوع الى الاصول، خلاصته أن فقرة - التأخر - من الحديث لا أصل لها عند مخرجيه الاربعة ورطني في ذلك جزم الحافظ الناجي بأنها مقحمة! لا أصل لها عندهم، والان وأنا أحقق الكتاب بهذه الطبعة تبينت خطأه وأنها ثابتة لديهم جميعا والحمد لله على توفيقه.

(13) وعن علي رضي الله عنه قال قلت للعباس سل النبي صلى الله عليه وسلم يستعملك على الصدقة فسأله قال ما كنت لاستعملك على غسالة ذنوب الناس) رواه ابن خزيمة في صحيحه " صحيح الترغيب - 802 - الطبعة الثانية - والحديث في - صحيح الترغيب - المعارف - 808 - صحيح لغيره، قال الشيخ رحمه الله في الحاشية " قلت: قول - علي - هذا منكر لتفرد - عبد الله بن أبي رزين - به وهو مجهول لم يوثقه غير ابن حبان والثابت عن علي رضي الله عنه خلافه وأن السائل إنما هما غلامان من بني عبد المطلب كما في مسلم وهو مخرج في - صحيح أبي داود 2642 - وانظر تعليقي على - صحيح ابن خزيمة - 4 / 79 " والحديث في - صحيح ابن خزيمة برقم - 2390 - قال الشيخ هناك: إسناده ضعيف لجهالة - عبد الله وهو ابن رزين، قال الذهبي: لا يدرى من هو؟ ، وقوله: قلت للعباس: سل النبي صلى الله عليه وسلم.. منكر، لان مسلما روى بإسناده الصحيح عن - علي - أنه قال للعباس وغيره: لا تفعلا فو الله ما هو بفعال ".

(14) وعن أبي كثير مولى بني هاشم أنه سمع أبا ذر الغفاري رضي الله عنه صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كلمات من ذكرهن مائة مرة دبر كل صلاة الله أكبر وسبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله وحده لا شريك له ولا حول ولا قوة إلا بالله ثم لو كانت خطاياه مثل زبد البحر لمحتهن) ضعيف الترغيب - 986 - رواه أحمد وهو موقوف " قال الشيخ رحمه الله: قلت: ولا يصح إسناده وأبو كثير لا يعرف ودونه ابن لهيعة ووهم السيوطي فذكره في - جامعيه - وهو لا يذكر فيها الا المرفوع وقد فاتني التنبيه عليه في - ضعيف الجامع - 4263 - الطبعة الثالثة - و - 4268 - الطبعة الاولى - فليعلق عليه ولهذا وغيره خرجته في - الضعيفة - 6851 "

(15) إذا حج رجل بمال من غيرحله فقال لبيك اللهم لبيك قال الله لا لبيك ولا سعديك هذا مردود عليك. (ضعيف) (الضعيفة - 1433- قال الشيخ رحمه الله: هذا الحديث في المصادر التي خرجته منها هو من مسند - عمر - وكذلك هو في - الجامع الكبير - للسيوطي وكذا في بعض نسخ الجامع الصغير ووقع في النسخة التي تحتها - شرح المناوي - (ابن عمر) وكذلك وقع في - الفتح الكبير - للنبهاني - ثم في - ضعيف الجامع رقم - 559 - فليصححه من كان عنده نسخة منه " والحديث في ضعيف الجامع - الثالثة برقم - 460 -
(১০) তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে এক বিঘাত এক বিঘাত করে এবং এক হাত এক হাত করে, এমনকি তারা যদি কোনো গোসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে এবং এমনকি তাদের কেউ যদি রাস্তার মাঝে তার মায়ের সাথে সহবাস করে থাকে তবে তোমরাও তা করবে। [সহীহ আল-জামে - ৫০৬৭, এবং হাদিসটি আস-সহীহাহ - ১৩৪৮ এ রয়েছে এবং এর শব্দগুলো হলো: তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে এক বিঘাত এক বিঘাত করে, এক হাত এক হাত করে এবং এক বাহু এক বাহু করে, এমনকি তারা যদি কোনো গোসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে তবে তোমরা প্রবেশ করবে এবং এমনকি তাদের কেউ যদি রাস্তার মাঝে তার মায়ের সাথে শয়ন করে তবে তোমরাও তা করবে] (সহীহ)। শেখ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (সতর্কবার্তা) _ তাঁর উক্তি (তার মা) কথাটিই সঠিক। হাকেমের মুস্তাদরাকে (তার মা)-এর পরিবর্তে (তার স্ত্রী) শব্দ এসেছে, যা কোনো বর্ণনাকারী বা অনুলিপিকারের ভুল। সহীহ আল-জামে-এর ৫০৬৭ নং হাদিসে এটি উল্লেখ করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম।

(১১) বনী ইসরাঈলের উপর যা কিছু ঘটেছিল, হুবহু তা-ই জুতার সাথে জুতার মিলের মতো আমার উম্মতের উপরেও ঘটবে (.....) এবং বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি ফেরকায় বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তেহাত্তরটি ফেরকায় বিভক্ত হবে। তারা সকলেই জাহান্নামে যাবে কেবল একটি ফেরকা ছাড়া; সেটি হলো যার উপর আমি ও আমার সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত আছি। [সহীহ আল-জামে - ৫৩৪৩ - হাসান - তিরমিযী ইবনে আমর থেকে - মিশকাত - ১৭১]। শেখ রহিমাহুল্লাহ "আস-সহীহাহ"-তে ১৩৪৮ নং হাদিসের অধীনে বলেছেন: যে সাক্ষ্যের প্রতি পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছিল তা ইবনে আমরের হাদিস থেকে, আর তা প্রথম সহীহ শব্দ (তার মা) অনুযায়ী সহীহ আল-জামে-এর ৫৩৪৩ নং ক্রমিকে রয়েছে। আমার পক্ষ থেকে একটি ভুল হয়েছে যে, এই শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট বাক্যটি (এমনকি তাদের কেউ যদি রাস্তার উপর তার মায়ের সাথে সহবাস করত, তবে তোমরাও তা করতে) আমি বাদ দিয়েছিলাম এবং তার জায়গায় কিছু ডট ব্যবহার করেছিলাম... যেমনটি আমি এই কিতাবে সেই ইঙ্গিত দেওয়ার জন্য করি যে, বাদ পড়া অংশটি দুর্বল। এটি আমার পক্ষ থেকে একটি বিচ্যুতি ছিল, আল্লাহর কাছে আমি এর জন্য ক্ষমা চাই। কেননা সত্য এর বিপরীত, যা আমি জানতে পেরেছি। সুতরাং বাক্যটি পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সহীহ আল-জামে-এর পাঠ সংশোধন করে নেওয়া উচিত। আর মহান আল্লাহই তাওফীকদাতা।

(১২) আবু সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্যে পিছিয়ে থাকার প্রবণতা দেখলেন, তখন তিনি তাদের বললেন:

তোমরা সামনে এগিয়ে আসো এবং আমাকে অনুসরণ করো, আর তোমাদের পরের লোকেরা যেন তোমাদের অনুসরণ করে। কোনো সম্প্রদায় সর্বদা পিছিয়ে থাকতেই থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের পিছিয়ে দেন। [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত] "সহীহ আত-তারগীব - ৫০৯ - মাআরিফ সংস্করণ। শেখ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে এখানে একটি মারাত্মক ভুল ছিল, আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। এটি ছিল অন্ধ অনুকরণের কুফল এবং মূল উৎসের দিকে ফিরে না যাওয়া। সারকথা হলো, হাদিসের "পিছিয়ে থাকা" অংশটির ব্যাপারে এর চারজন সংকলনকারীর কাছে কোনো ভিত্তি নেই বলে হাফেজ নাজি যে দৃঢ় দাবি করেছিলেন, তা আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল! তিনি বলেছিলেন যে এটি তাদের কাছে নেই এবং এটি প্রক্ষিপ্ত! কিন্তু এখন আমি যখন এই সংস্করণে কিতাবটি তাহকীক করছি, তখন আমার কাছে তার ভুল স্পষ্ট হয়েছে এবং এটি তাদের সকলের কাছেই প্রমাণিত। আল্লাহর তাওফীকের জন্য সকল প্রশংসা তাঁরই।

(১৩) আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্বাসকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবেদন করুন যেন তিনি আপনাকে সদকা সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত করেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমি আপনাকে মানুষের পাপ ধৌতকারী (সদকা) বিষয়ের ওপর নিযুক্ত করব না। [ইবনে খুযাইমাহ তাঁর সহীহে বর্ণনা করেছেন] "সহীহ আত-তারগীব - ৮০২ - দ্বিতীয় সংস্করণ - এবং হাদিসটি সহীহ আত-তারগীব - মাআরিফ - ৮০৮ তে রয়েছে - সহীহ লি-গাইরিহি। শেখ রহিমাহুল্লাহ টীকায় বলেছেন: "আমি বলছি: আলীর এই উক্তিটি মুনকার (অস্বীকৃত), কারণ আব্দুল্লাহ বিন আবি রাযীন এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মাজহুল (অজ্ঞাত), ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেননি। অথচ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা প্রমাণিত তা এর বিপরীত; আর তা হলো আবেদনকারী ছিল বনী আব্দুল মুত্তালিবের দুই যুবক, যেমনটি মুসলিমে রয়েছে এবং এটি সহীহ আবু দাউদ ২৬৪২-এ বর্ণিত হয়েছে। আর দেখুন সহীহ ইবনে খুযাইমাহ ৪/৭৯ এর উপর আমার টীকা।" আর হাদিসটি সহীহ ইবনে খুযাইমাহ ২৩৯০ নং ক্রমিকে রয়েছে। শেখ সেখানে বলেছেন: এর সনদ দুর্বল, কারণ আব্দুল্লাহ বিন রাযীন অজ্ঞাত। যাহাবী বলেছেন: তাকে চেনা যায় না। আর তাঁর উক্তি: "আমি আব্বাসকে বললাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করুন..." এটি মুনকার। কারণ মুসলিম তাঁর সহীহ সনদে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আব্বাস ও অন্য একজনকে বলেছিলেন: তোমরা এমন করো না, আল্লাহর কসম তিনি তা করবেন না।

(১৪) বনী হাশেমের আযাদকৃত দাস আবু কাসীর থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবু যার আল-গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পর একশ বার এই শব্দগুলো পাঠ করবে: আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু এবং লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ; তবে তার পাপরাশি সমুদ্রের ফেনা সদৃশ হলেও তা মুছে যাবে। [যয়ীফ আত-তারগীব - ৯৮৬ - আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি মাওকুফ]। শেখ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: আমি বলছি: এর সনদ সহীহ নয়। আবু কাসীর পরিচিত নন এবং তাঁর স্তরের নিচে ইবনে লাহীআহ রয়েছেন। সুয়ূতী তাঁর দুই জামে-তে এটি উল্লেখ করে ভুল করেছেন, অথচ তিনি সেখানে কেবল মারফু হাদিসই উল্লেখ করেন। আর যয়ীফ আল-জামে-এর ৪২৬৩ (তৃতীয় সংস্করণ) এবং ৪২৬৮ (প্রথম সংস্করণ) নং হাদিসে এর উপর সতর্কবার্তা দিতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। তাই সেখানে এটি টীকা হিসেবে লিখে নেওয়া উচিত। এই কারণে এবং অন্যান্য কারণে আমি এটি আয-যয়ীফাহ-তে (৬৮৫১) উল্লেখ করেছি।

(১৫) যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধ সম্পদ দিয়ে হজ করে এবং বলে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক', তবে আল্লাহ বলেন: 'না লাব্বাইক এবং না সা’দাইক', এটি তোমার উপর প্রত্যাখ্যাত। (যয়ীফ) [আয-যয়ীফাহ - ১৪৩৩]। শেখ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: এই হাদিসটি আমি যে উৎসগুলো থেকে তাহরীজ করেছি সেখানে তা উমরের মুসনাদ হিসেবে আছে। সুয়ূতীর জামে আল-কাবীর এবং জামে আস-সগীরের কিছু কপিতেও এমনটি আছে। কিন্তু যে কপির নিচে মানাভীর ব্যাখ্যা (শরহু মানাভী) রয়েছে সেখানে ইবনে উমর এসেছে। তেমনিভাবে নাবহানির ফাতহুল কবীরেও তা-ই এসেছে। এরপর যয়ীফ আল-জামে এর ৫৫৯ নং হাদিসে এটি এসেছে; যার কাছে এর কোনো কপি আছে সে যেন তা সংশোধন করে নেয়। এবং হাদিসটি যয়ীফ আল-জামে (তৃতীয় সংস্করণ) ৪৬০ নং ক্রমিকে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২২)
(16) أكثروا من قول لا حول ولا قوة إلا بالله فإنها تدفع تسعة وتسعين بابا من الضر أدناها الهم.) ضعيف الجامع - 1121- والحديث في - الصحيحة تحت حديث 1528 - بلفظ (أكثروا من قول لا حول ولا قوة الا بالله فإنها كنز من كنوز الجنة) قال الشيخ رحمه الله: ذكر له السيوطي في - الجامعين - شاهدا من حديث جابر بلفظ (أكثروا من قول لا حول ولا قوة إلا بالله فإنها تدفع تسعة وتسعين بابا من الضر أدناها الهم.) رواه الطبراني في الاوسط، ثم وجدت حديث جابر في أوسط الطبراني - 3684 - وفي - الصغير - 215 الروض - من طريق - عبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد قال بلهط بن عباد عن محمد ابن المنكدر عن جابر....، وبالجملة فالحديث بهذا اللفظ الاخير ضعيف لجهالة - بلهط - هذا والراوي عنه - عبد المجيد - فيه ضعف، وأما بلفظ الترجمة فهو صحيح لطرقه وشواهده، ولذلك أوردته في - صحيح الجامع - بخلاف حديث - بلهط - فأوردته في - ضعيف الجامع - وكنت طبعت عليه تعليقا فليحذف لانه خطأ واضح يتبين لمن قرأ هذا التخريج "

(17) (أربع من أمتي ليس هم بتاركيها، الفخر في الاحساب والطعن في الانساب والنياحة، تبعث يوم القيامة النائحة إذا لم تتب عليها درع من قطران) الصحيحة تحت حديث - 735 - قال الشيخ: وهكذا أورده الهيثمي في - المجمع - وقال: رواه البزار وإسناده حسن " ولم تذكر فيه الخصلة الرابعة فلا أدري أسقطت من الراوي أم من الناسخ.، ثم قال رحمه الله في - الصحيحة تحت حديث - 1952 -وللحديث شاهد من حديث أبي هريرة سبق في " أربع من أمتي.. تحت حديث - 735 - وقد ذكرت هناك انه لم تذكر فيه الخصلة الرابعة، وتسألت هل سقطت من الراوي أم من ناسخ المجمع، والان فقد ترجح عندي الاول لانها سقطت من - كشف الاستار عن زوائد البزار - 800- أيضا والله أعلم

 

(18) ثلاثة لا يقبل منهم صلاة ولا تصعد إلى السماء ولا تجاوز رؤوسهم) رجل أم قوما وهم له كارهون ورجل صلى على جنازة ولم يؤمر " 1 " وامرأة دعاها زوجها من الليل فأبت عليه] . (صحيح)

(الصحيحة- 650 - قال الشيخ رحمه الله: " 1 " - الاصل:

(تويز) ولا معنى لها والتصحيح من - ترغيب المنذري - ثم طبع - صحيح ابن خزيمة - فوقعت هذه اللفظة فيه - (يؤمر) والظاهر أنه حرف مشكل من قديم فإن السيوطي لما أورد الحديث في - الجامع الكبير - رقم - 13100 - لم يسقه إلا إلى قوله (كارهون) وقد كنت علقت على الحديث في حاشية الصحيح - أي صحيح ابن خزيمة - بإن الحديث صحيح دون الفقرة الوسطى - وذلك للجهل بصواب اللفظة المذكورة والله أعلم

انظر - صحيح ابن خزيمة - 161 / 1 - وصحيح الترغيب " 485 "

 

(19) آتي يوم القيامة باب الجنة فيفتح لي فأرى ربي وهو على كرسيه او سريره فيتجلى لي فأخر له ساجدا. (ضعيف) " الضعيفة 1579 " قال الشيخ رحمه الله: أخرجه الحافظ عثمان بن سعيد الدارمي في

الرد على المريسي - ص 14، ومحمد بن أبي شيبة في - كتاب العرش - من طريق - حماد بن سلمة

عن علي بن جدعان عن أبي نظرة عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكره. قلت: هذا إسناد ضعيف رجاله ثقات غير علي بن زيد وهو ابن جدعان - فإنه ضعيف كما قال الحافظ في التقريب - وقد ذكره الذهبي في - العلو - من رواية البخاري عن أنس مختصرا جدا إلا أنه قال: وأخرجه أبو أحمد

العسال في - كتاب المعرفة - بإسناد قوي عن ثابت عن أنس … ) فذكره مثل حديث الترجمة: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكره، قلت: ولم أقف على إسناده ولذلك لم أتكلم عليه في كتابي - مختصر العلو - ص – 87، فإذا ثبت بإسناده ولفظه وجب نقله إلى الكتاب الآخر والله أعلم "

 

(20) أمرنا أن نستغفر بالاسحار سبعين مرة " (الضعيفة 4410) قال الشيخ رحمه الله: ضعيف

والحديث أشار إلى تضعيفه شيخ الاسلام ابن تيمية في - الكلم الطيب - رقم 46 وكنت علقت عليه بقولي: (لا أعرفه وما إخاله يصح) فها قد صدق ظني بعد أن وقفت على مخرجه والحمد لله، ثم قال الشيخ رحمه الله: تنبيه: وقع الحديث في – الكلم الطيب من حديث أنس بلفظ (أمرنا أن نستغفر بالليل سبعين استغفارة) ولم يخرجه فقد وقفت على من خرجه والحمد لله ومنه تبين أن اللفظ المذكور خطأ من وجوه لا تخفى على القراء إن شاء الله تبارك وتعالى " انظر " الكلم الطيب - معارف - 47 و 56
(১৬) অধিক মাত্রায় 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' পড়ো, কারণ তা নিরানব্বইটি বিপদ দূর করে, যার মধ্যে সর্বনিম্ন হলো উদ্বেগ। (যঈফুল জামি' - ১১২১)। এই হাদিসটি 'আস-সহিহাহ' গ্রন্থে ১৫২৮ নম্বর হাদিসের অধীনে এই শব্দে রয়েছে: (অধিক মাত্রায় 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' পড়ো, কারণ এটি জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটি)। শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন: সুয়ূতী 'আল-জামি'ইন' গ্রন্থে জাবির বর্ণিত হাদিস থেকে এর একটি শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) উল্লেখ করেছেন এই শব্দে: (অধিক মাত্রায় 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' পড়ো, কারণ তা নিরানব্বইটি বিপদ দূর করে, যার মধ্যে সর্বনিম্ন হলো উদ্বেগ।) এটি তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আমি জাবিরের হাদিসটি তাবারানির 'আল-আওসাত' (৩৬৮৪) ও 'আস-সাগীর' (২১৫) এবং 'আর-রাওদ' গ্রন্থে আব্দুল মাজীদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ-এর সূত্রে পেয়েছি, তিনি বলেন, বালহাত ইবনে আব্বাদ মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন...। সারকথা হলো, এই শেষের শব্দে হাদিসটি 'বালহাত'-এর পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ার কারণে যঈফ এবং তার থেকে বর্ণনাকারী আব্দুল মাজীদের মধ্যেও দুর্বলতা রয়েছে। তবে মূল শিরোনামের শব্দে হাদিসটি তার বিভিন্ন সূত্র ও শাহেদের কারণে সহিহ। একারণেই আমি এটি 'সহিহুল জামি'-তে সংকলন করেছি, বালহাত-এর হাদিসটির বিপরীতে, যা আমি 'যঈফুল জামি'-তে উল্লেখ করেছি। ইতিপূর্বে আমি এর ওপর একটি টীকা ছেপেছিলাম, যা পরিহার করা উচিত; কারণ এটি একটি স্পষ্ট ভুল, যা এই তাখরিজ (সূত্র বিশ্লেষণ) পাঠকারীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।

(১৭) (আমার উম্মতের মাঝে চারটি বৈশিষ্ট্য এমন রয়েছে যা তারা বর্জন করবে না: আভিজাত্যের গৌরব করা, বংশমর্যাদায় অপবাদ দেওয়া এবং বিলাপ করা; তওবা না করলে বিলাপকারিণী নারীকে কিয়ামতের দিন আলকাতরার তৈরি বর্ম পরিহিত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে।) আস-সহিহাহ, হাদিস নং ৭৩৫-এর অধীনে। শাইখ বলেন: "হাইসামি 'আল-মাজমা' গ্রন্থে এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: 'এটি বাজ্জার বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদ হাসান'।" কিন্তু সেখানে চতুর্থ বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখ করা হয়নি, তাই আমি জানি না এটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে বাদ পড়েছে নাকি পাণ্ডুলিপি লিপিকারের পক্ষ থেকে। অতঃপর তিনি রহিমাহুল্লাহ 'আস-সহিহাহ' গ্রন্থে ১৯৫২ নম্বর হাদিসের অধীনে বলেন: "এই হাদিসের একটি শাহেদ আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যা ইতিপূর্বে ৭৩৫ নম্বর হাদিসের অধীনে 'আমার উম্মতের মাঝে চারটি...' শিরোনামে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমি সেখানে উল্লেখ করেছিলাম যে, এতে চতুর্থ বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখ করা হয়নি এবং প্রশ্ন তুলেছিলাম যে এটি বর্ণনাকারী নাকি মাজমা'-এর লিপিকারের থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। এখন আমার কাছে প্রথমটিই (বর্ণনাকারীর বিচ্যুতি) প্রবল মনে হচ্ছে, কারণ এটি 'কাশফুল আস্তার আন যাওয়াইদিল বাজ্জার' (৮০০) গ্রন্থেও একইভাবে বাদ পড়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।"

 

(১৮) তিন ব্যক্তি এমন যাদের সালাত কবুল করা হয় না, আকাশে আরোহণ করে না এবং তাদের মাথার উপরেও যায় না: সেই ব্যক্তি যে এমন কওমের ইমামতি করে যারা তাকে অপছন্দ করে, সেই ব্যক্তি যে জানাজার সালাত পড়াল অথচ তাকে আদেশ দেওয়া হয়নি (বা অনুমতি দেওয়া হয়নি) এবং সেই নারী যাকে তার স্বামী রাতে আহ্বান করল কিন্তু সে তা অস্বীকার করল। (সহিহ)

(আস-সহিহাহ - ৬৫০ - শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন: "১" - মূল পাঠে:

(তাউইয) ছিল যার কোনো অর্থ নেই। এর সংশোধন মুনযিরির 'তারগীব' থেকে করা হয়েছে। অতঃপর যখন 'সহিহ ইবনে খুজাইমাহ' মুদ্রিত হলো, তখন এই শব্দটি সেখানে (ইউ’মার) রূপে পাওয়া গেল। দৃশ্যত এটি প্রাচীনকাল থেকেই একটি জটিল শব্দ (লিপিকারের ভুলে বিকৃত), কারণ সুয়ূতী যখন 'আল-জামি'উল কাবীর' (১৩১০০) গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি 'কারহুন' (অপছন্দ করে) পর্যন্তই বর্ণনা করেছেন। আমি ইতিপূর্বে 'সহিহ ইবনে খুজাইমাহ'-এর টীকায় লিখেছিলাম যে, হাদিসটি মাঝখানের অংশটুকু ছাড়া সহিহ—আর তা ছিল উল্লিখিত শব্দটির সঠিক রূপ অজ্ঞাত হওয়ার কারণে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

দেখুন—সহিহ ইবনে খুজাইমাহ ১ / ১৬১ - এবং সহিহুত তারগীব "৪৮৫"

 

(১৯) আমি কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজায় আসব, তখন আমার জন্য তা খোলা হবে। অতঃপর আমি আমার রবকে দেখতে পাব এমতাবস্থায় যে, তিনি তাঁর কুরসি বা খাটের উপরে আছেন। তখন তিনি আমার কাছে জ্যোতির্ময় হবেন এবং আমি তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। (যঈফ) "আয-যঈফাহ ১৫৭৯" শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন: হাফেজ উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি

আর-রাদ্দু আলাল মারিসি - পৃষ্ঠা ১৪, এবং মুহাম্মদ ইবনে আবি শাইবাহ 'কিতাবুল আরশ' গ্রন্থে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ

আলি ইবনে জাদআন থেকে, তিনি আবু নাযরাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... (উল্লিখিত হাদিসটি)। আমি বলছি: এই সানাদটি যঈফ। আলি ইবনে যাইদ ইবনে জাদআন ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত—তবে তিনি দুর্বল, যেমনটি হাফেজ 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন। যাহাবী 'আল-উলুউ' গ্রন্থে ইমাম বুখারির আনাস থেকে বর্ণিত বর্ণনায় এটি অত্যন্ত সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: (আবু আহমদ

আল-আসসাল 'কিতাবুল মা'রিফাহ' গ্রন্থে সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে একটি শক্তিশালী সানাদে এটি বর্ণনা করেছেন … ) অতঃপর তিনি মূল হাদিসের মতো শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... (উল্লিখিত হাদিসটি)। আমি বলছি: আমি এর সানাদটির সন্ধান পাইনি, একারণেই আমি আমার 'মুখতাসারুল উলুউ' (পৃষ্ঠা ৮৭) গ্রন্থে এ নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি। যদি এটি সানাদ ও শব্দসহ প্রমাণিত হয়, তবে একে অন্য কিতাবে স্থানান্তর করা ওয়াজিব হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

(২০) আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা শেষ রাতে সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করি। (আয-যঈফাহ ৪৪১০) শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন: যঈফ।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'আল-কালিমুত তায়্যিব' (৪৬) গ্রন্থে হাদিসটির দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আমি এর ওপর টীকা দিয়েছিলাম এই বলে যে: (আমি এটি চিনি না এবং আমার মনে হয় না এটি সহিহ হবে)। এখন এর উৎস পাওয়ার পর আমার ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। অতঃপর শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন: সতর্কতা: 'আল-কালিমুত তায়্যিব' গ্রন্থে আনাস-এর হাদিসটি এই শব্দে এসেছে: (আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা রাতে সত্তরটি ইস্তিগফার করি)। তিনি এর তাখরিজ করেননি। আলহামদুল্লাহ, আমি এর বর্ণনাকারীর সন্ধান পেয়েছি এবং তা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, উল্লিখিত শব্দবিন্যাসটি বিভিন্ন দিক থেকে ভুল, যা পাঠকদের কাছে ইনশাআল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা গোপন থাকবে না। দেখুন—'আল-কালিমুত তায়্যিব' - মা'আরিফ ৪৭ ও ৫৬।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
(21) الأذنان من الرأس " (الصحيحة تحت الحديث - 36 - المعارف - بعد أن قام الشيخ رحمه الله بتخريج الحديث نقل كلام المناوي في فيض القدير في شرح الحديث: قال المناوي الأذنان من الرأس " لا من الوجه ولا مستقلتان يعني فلا حاجة إلى أخذ ماء جديد لهما غير ماء الرأس في الوضوء بل يجزىء مسحهما ببلل ماء الرأس وإلا لكان بيانا للخلقة فقط والمصطفى صلى الله عليه وسلم لم يبعث لذلك وبه قال الائمة الثلاثة، وخالف في ذلك الشافعية فذهبوا إلى أنه يسن تجديد الماء للأذنين ومسحهما على الانفراد ولا يجب واحتج النووي لهم بحديث - عبد الله بن زيد - أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ لأذنيه ماء خلاف الذي أخذ لرأسه

" 1 " قال الشيخ في الحاشية: كان هنا في الطبعة السابقة جملة نصها " وهو حديث صحيح كما بينته في صحيح أبي داود رقم 111، ولما كان الذي بينته هناك هو متن آخر من حديث - عبد الله بن زيد - حذفت هذه الجملة " وقال الشيخ رحمه الله في - السلسلة الضعيفة تحت حديث " 1046 ": فهذا كأنه يؤيد ما ذهب إليه الحافظ أن حديث " أخذ ماء جديدا للأذنين " غير محفوظ ويرد قول النووي أنه حديث حسن، وقد وقعت في خطأ أفحش منه فقلت في الصحيحة - الطبعة الاولى - عند الكلام على الحديث - 36 - " وهو حديث صحيح كما بينته في صحيح أبي داود رقم 111 - والذي بينت صحته هناك إنما هو لفظ مسلم " ومسح برأسه بماء غير فضل يده " لذلك فإني أهتبل هذه الفرصة وأعلن أنه خطأ مني تراجعت عنه فمن كان وقف عليه فليصححه

(22) " اللهم أحيني مسكينا وأمتني مسكينا واحشرني في زمرة المساكين " الصحيحة 308 - قال الشيخ رحمه الله: تنبيه: كنت في الطبعة السابقة ذكرت لهذا الحديث طريقا أخرى عن أبي سعيد معزوا ل " المنتخب من المسند " لابن حميد، ثم نبهني بعض الإخوان جزاهم الله خيرا أنه لحديث آخر كما نبهت على ذلك في - الارواء 3/ 363 " حديث - 861- فأستغفر الله وأتوب إليه

 

(23) ليس منا من غش مسلما أو ضره أو ماكره) " - ضعيف - ضعيف الجامع 4936 " الطبعة الثالثة - والحديث في - الضعيفة 3290 - قال الشيخ (موضوع) والحديث مما سود به السيوطي كتابه - الجامع الصغير- فأورده فيه من رواية الرافعي عن علي، وكنت رمزت له بالضعف في - ضعيف الجامع 4939- الطبعة الاولى - بناء على القاعدة ان ما رواه الرافعي ومن نحا نحوه ضعيف، والآن وقد وقفت على إسناده فقد رجعت عن التضعيف المذكور إلى الوضع لرواية هذا الكذاب إياه، وإن كان الشطر الاول منه قد صح من طرق أخرى كما نبهت عليه في التعليق على - ضعيف الجامع.

 

(24) " من قرأ سورة البقرة توج بتاج في الجنة " - السلسلة الضعيفة " 4633 " وضعيف الجامع " 5771 "

قال الشيخ رحمه الله في الضعيفة -: " موضوع أخرجه البيهقي في - الشعب - عن محمد بن أبي عمارة المستملي عن محمد بن الضوء بن الصلصال عن أبيه عن الصلصال مرفوعا

 

قلت: وهذا إسناد موضوع فيه - ابن الضوء - هذا وهو محمد بن الضوء.

ثم قال الشيخ:

تنبيه: " وروى عقبة بالإسناد نفسه مرفوعا: (اقرأوا سورة البقرة في بيوتكم ولا تجعلوها قبورا)

 

وهذا صحيح من حديث أبي هريرة وابن مسعود، فانظر - الصحيحة 1521 -

وقد أضاف السيوطي إلى هذه الفقرة حديث الترجمة في الجامع الصغير - ضعيف الجامع 1069 وكنت ذكرته شاهدا في - أحكام الجنائز - قبل تخريجه هذا فليحذف ".

لفظ - ضعيف الجامع - 1069 - (اقرؤ وا سورة البقرة في بيوتكم، ولا تجعلوها قبورا ومن قرأ سورة البقرة توج بتاج في الجنة) .

 

(25) " التمسوا ليلة القدر آخر ليلة من رمضان " الصحيحة تحت حديث 1471 ص " 457 – 458 "

قال الشيخ رحمه الله: أخرجه ابن نصر في - قيام الليل - ص 106، وابن خزيمة " 2189 " عن علي بن عاصم عن الجريري عن بريدة

عن علي بن عاصم عن الجريري عن بريدة عن معاوية مرفوعا، قلت: وهذا إسناد ضعيف، علي بن عاصم وهو الواسطي قال الحافظ " صدوق يخطىء، وأخرجه ابن عدي من طريق خالد بن محدوج سمعت أنس بن مالك يقول فذكره مرفوعا مختصرا، وروي عن البخاري أنه قال في خالد هذا: كان يزيد بن هارون يرميه بالكذب " ثم قال ابن عدي: وعامة ما يرويه مناكير " لكن له شاهد قوي من حديث أبي بكرة خرجته في المشكاة 2092 فمن شاء فليراجعه، ومن أجله نقلته من السلسلة الضعيفة وضعيف الجامع إلى صحيح، الجامع. وهو برقم 1238 الطبعة الثالثة، وانظر " هداية الرواة 2034 "

(26) عن العرباض بن سارية رضي الله عنه قال: دعاني رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى السحور في رمضان فقال: هلم إلى الغداء المبارك " المشكاة " إسناده حسن " رواه أبو داود والنسائي

 

قال الشيخ رحمه الله في - الضعيفة تحت حديث رقم " 1961:
(২১) "উভয় কান মাথার অন্তর্ভুক্ত" (সিলসিলাতুস সহিহাহ, হাদিস নং ৩৬-এর অধীনে - আল-মাআরিফ - শাইখ রহ. হাদিসটির তাখরিজ করার পর হাদিসের ব্যাখ্যায় ফয়জুল কদিরে আল-মুনাভির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: মুনাভি বলেন: "উভয় কান মাথার অন্তর্ভুক্ত" মুখের অংশ নয় এবং স্বতন্ত্র কিছুও নয়। অর্থাৎ ওজুতে কানের জন্য মাথার পানি ছাড়া নতুন পানি নেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং মাথার পানির আর্দ্রতা দিয়ে মাসাহ করলেই যথেষ্ট হবে। অন্যথায় এটি কেবল দৈহিক গঠনের বর্ণনা হতো, অথচ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই উদ্দেশ্যে প্রেরিত হননি। তিন ইমাম এই মত পোষণ করেছেন। তবে শাফেয়ি মাযহাব এর ভিন্নমত পোষণ করে; তারা মনে করেন কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া এবং আলাদাভাবে মাসাহ করা সুন্নাত, ওয়াজিব নয়। ইমাম নববী তাদের পক্ষে আব্দুল্লাহ বিন যায়েদের হাদিস দ্বারা দলিল দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কানের জন্য মাথার পানির অতিরিক্ত পানি নিয়েছেন।

" ১ " শাইখ পাদটীকায় বলেছেন: পূর্ববর্তী সংস্করণে এখানে একটি বাক্য ছিল যার পাঠ হলো: "এটি একটি সহিহ হাদিস যেমনটি আমি সহিহ আবু দাউদ ১১১ নম্বর হাদিসে স্পষ্ট করেছি। যেহেতু আমি সেখানে আব্দুল্লাহ বিন যায়েদের হাদিস থেকে অন্য একটি মতন (মূল পাঠ) স্পষ্ট করেছিলাম, তাই আমি এই বাক্যটি বাদ দিয়েছি।" শাইখ রহ. সিলসিলাতুজ জইফাহ-এর ১০৪৬ নম্বর হাদিসের অধীনে বলেছেন: এটি হাফেজের সেই মতকে সমর্থন করে যে, "কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া" সংক্রান্ত হাদিসটি মাহফুজ (সংরক্ষিত) নয়। এটি নববীর এই বক্তব্যকে খণ্ডন করে যে এটি হাসান হাদিস। আমি এর চেয়েও বড় একটি ভুল করেছিলাম, সহিহাহ-এর প্রথম সংস্করণে ৩৬ নম্বর হাদিসের আলোচনায় বলেছিলাম: "এটি সহিহ হাদিস যেমনটি আমি সহিহ আবু দাউদ ১১১ নম্বর হাদিসে স্পষ্ট করেছি।" অথচ সেখানে আমি যার বিশুদ্ধতা বর্ণনা করেছিলাম তা ছিল মুসলিমের শব্দ— "এবং তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন হাতের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত অন্য পানি দিয়ে।" তাই আমি এই সুযোগটি গ্রহণ করছি এবং ঘোষণা করছি যে এটি আমার পক্ষ থেকে একটি ভুল ছিল যা থেকে আমি ফিরে এসেছি। অতএব যারা এটি দেখেছেন তারা যেন সংশোধন করে নেন।

(২২) "হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন হিসেবে জীবিত রাখুন, মিসকিন হিসেবে মৃত্যু দিন এবং মিসকিনদের দলে আমাকে হাশর করুন।" সহিহাহ ৩০৮ - শাইখ রহ. বলেন: সতর্কবার্তা: আমি পূর্ববর্তী সংস্করণে এই হাদিসের জন্য আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত ইবনে হুমাইদের "আল-মুনতাখাব মিনাল মুসনাদ"-এর বরাতে অন্য একটি সূত্রের কথা উল্লেখ করেছিলাম। এরপর কিছু ভাই—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন—আমাকে সতর্ক করেছেন যে এটি অন্য একটি হাদিসের সূত্র, যেমনটি আমি "আল-ইরওয়া" ৩/৩৬৩ (হাদিস নং ৮৬১)-এ সতর্ক করেছি। অতএব আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি।

 

(২৩) "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে কোনো মুসলিমের সাথে প্রতারণা করে বা তার ক্ষতি করে অথবা তার সাথে চক্রান্ত করে" - জইফ - জইফ আল-জামি ৪৯৩৬ (তৃতীয় সংস্করণ) - হাদিসটি জইফাহ ৩২৯০-তে আছে - শাইখ বলেছেন (মাওজু বা জাল)। হাদিসটি সেসবের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে সুয়ূতী তাঁর 'আল-জামি আস-সাগির' কিতাবকে ভারী করেছেন—তিনি এটি আলির সূত্রে রাফিয়ির বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। আমি জইফ আল-জামি ৪৯৩৯ (প্রথম সংস্করণ)-এ এটিকে জইফ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যে, রাফিয়ি এবং তাঁর অনুসারীরা যা বর্ণনা করেছেন তা জইফ। কিন্তু এখন যখন আমি এর সনদের ওপর অবগত হয়েছি, তখন আমি উক্ত জইফ বলা থেকে ফিরে এসে এটিকে 'মাওজু' বা জাল হওয়ার দিকে ফিরে এসেছি, কারণ এই মিথ্যাবাদী ব্যক্তিটি এটি বর্ণনা করেছে। যদিও হাদিসের প্রথম অংশটি অন্যান্য সূত্রে সহিহ প্রমাণিত হয়েছে, যেমনটি আমি জইফ আল-জামি-এর টিকায় সতর্ক করেছি।

 

(২৪) "যে ব্যক্তি সূরা বাকারা পাঠ করবে, তাকে জান্নাতে মুকুট পরানো হবে" - সিলসিলাতুজ জইফাহ ৪৬৩৩ এবং জইফ আল-জামি ৫৭৭১

শাইখ রহ. জইফাহ-তে বলেছেন: "মাওজু (জাল)। বায়হাকি এটি 'আশ-শুআব'-এ মুহাম্মদ বিন আবি আম্মারা আল-মুস্তামলি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আদ-দাও বিন আস-সালসাল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আস-সালসাল থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।"

 

আমি বলছি: এটি একটি বানোয়াট (মাওজু) সনদ, এতে এই 'ইবনে আদ-দাও' রয়েছে, আর সে হলো মুহাম্মদ বিন আদ-দাও।

অতঃপর শাইখ বলেন:

সতর্কবার্তা: "উকবাহ একই সনদে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: (তোমরা তোমাদের ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না)।"

 

আর এটি আবু হুরায়রা ও ইবনে মাসউদের হাদিস থেকে সহিহ, দেখুন - সহিহাহ ১৫২১ -

সুয়ূতী আল-জামি আস-সাগির-এ এই অংশের সাথে পর্যালোচিত হাদিসটি যুক্ত করেছেন - জইফ আল-জামি ১০৬৯। আমি এটিকে এর তাহকিকের পূর্বে 'আহকামুল জানায়িজ'-এ শাহিদ (সাক্ষী) হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম, তাই এটি সেখান থেকে মুছে ফেলা উচিত।"

জইফ আল-জামি ১০৬৯-এর শব্দ হলো - (তোমরা তোমাদের ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করো, এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না; আর যে ব্যক্তি সূরা বাকারা পাঠ করবে তাকে জান্নাতে মুকুট পরানো হবে)।

 

(২৫) "তোমরা রমজানের শেষ রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো" সহিহাহ, হাদিস নং ১৪৭১-এর অধীনে, পৃষ্ঠা ৪৫৭-৪৫৮

শাইখ রহ. বলেন: ইবনে নাসর 'কিয়ামুল লাইল' পৃষ্ঠা ১০৬-এ এবং ইবনে খুজাইমা ২১৮৯-এ আলী বিন আসেম থেকে, তিনি আল-জুরারি থেকে, তিনি বুরাইদাহ থেকে

আলী বিন আসেম থেকে, তিনি আল-জুরারি থেকে, তিনি বুরাইদাহ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: এটি একটি দুর্বল (জইফ) সনদ। আলী বিন আসেম আল-ওয়াসিতি সম্পর্কে হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "সদুক (সত্যবাদী) তবে ভুল করেন"। ইবনে আদি এটি খালিদ বিন মাহদুজ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি এটি মারফু হিসেবে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি এই খালিদ সম্পর্কে বলেছেন: "ইয়াজিদ বিন হারুন তাকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করতেন।" অতঃপর ইবনে আদি বলেন: "সে যা বর্ণনা করে তার অধিকাংশ মুনকার (অস্বীকৃত)।" তবে আবু বাকরাহ থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে এর একটি শক্তিশালী শাহিদ (সাক্ষী) রয়েছে যা আমি মিশকাত ২০৯২-এ তাহরিজ করেছি, কেউ চাইলে তা দেখে নিতে পারেন। সেই কারণেই আমি এটিকে সিলসিলাতুজ জইফাহ ও জইফ আল-জামি থেকে সহিহ আল-জামি-তে স্থানান্তর করেছি। এটি তৃতীয় সংস্করণে ১২৩৮ নম্বরে রয়েছে, দেখুন - 'হিদায়াতুর রুওয়াত ২০৩৪'।

(২৬) ইরবাদ বিন সারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমজানে সাহরি খাওয়ার জন্য ডাকলেন এবং বললেন: "এসো মোবারক দুপুরের খাবারের দিকে।" মিশকাত, এর সনদ হাসান, আবু দাউদ ও নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।

 

শাইখ রহ. জইফাহ-তে হাদিস নং ১৯৬১-এর অধীনে বলেন:
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولفظه: " تسحروا من آخر الليل وكان يقول هو (الغداء المبارك) .، قال الشيخ: وله شاهد من حديث العرباض عند أبي داود والنسائي وابن خزيمة " 1938 " وابن حبان " 882 "

وكنت حسنت إسناده في المشكاة والآن تبين لي أنه وهم فإن فيه مجهولا كما بينته في تعليقي على - صحيح ابن خزيمة - ولكن هذا الشطر بمجموع طرقه صحيح

 

ثم قال الشيخ رحمه الله في التعليق على صحيح ابن خزيمة - " إسناده ضعيف، الحارث مجهول، لكن حديث الغداء صحيح له شواهد من حديث العرباض وغيره كما بينته في الضعيفة 1961 " "

 

وانظر الصحيحة " 2983 " ولفظه " هلم إلى الغداء المبارك يعني السحور " وانظر كلام الشيخ رحمه الله في " هداية الرواة 1938 " وقال فيه: فالحديث صحيح قطعا "

 

(27) من قال اللهم إني أشهدك وأشهد ملائكتك وحملة عرشك وأشهد من في السماوات ومن في الأرض أنك أنت الله لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك وأشهد أن محمدا عبدك ورسولك. من قالها مرة اعتق الله ثلثه من النار ومن قالها مرتين أعتق الله ثلثيه من النار ومن قالها ثلاثا أعتق الله كله من النار) الصحيحة - 267 -

قال الشيخ رحمه الله: أخرجه الحاكم من طريق حميد بن مهران ثنا عطاء عن أبي هريرة رضي الله عنه قال

حدثنا سلمان الفارسي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكره، وقال: صحيح الإسناد، ووافقه الذهبي وهو كما قالا

وله شاهد من حديث انس مرفوعا نحوه مقيدا بالصباح والمساء وسنده ضعيف كما بينته في سلسلة الأحاديث الضعيفة رقم " 1041 ".

ثم قال الشيخ رحمه الله: " استدراك " - 1/ 537 "

قال: ثم تنبهت لشيء هام لابد من ذكره وتحرير القول فيه ألا هو: لقد روى الحاكم هذا الحديث عن شيخه أبي العباس محمد بن يعقوب: ثنا أبو عبد الله أحمد بن يحيى الحجري ثنا زيد بن الحباب ثنا حميد بن مهران الخ

وأخرجه الطبراني عن شيخه الساجي ثنا أحمد بن يحيى الصوفي ثنا زيد بن الحباب حدثني حميد مولى ابن علقمة المكي عن عطاء به.

فيلاحظ أن في هذين الإسنادين اختلافا في موضعين: أحدهما: الخلاف في نسبة (أحمد بن يحيى) .

 

أما الاختلاف الآخر: فهو تسمية شيخ زيد بن الحباب فسماه الحاكم (حميد بن مهران)

وقال الطبراني (حميد مولى ابن علقمة المكي) فما هو الصواب من القولين؟!

وإذا ترجح أنه (حميد المولى المكي) فالإسناد حينئذ ضعيف لا يصح لأنه مجهول كما في التقريب، لأنه لم يرو عنه غير " زيد بن الحباب " فينبغي نقله من هنا إلى الكتاب الآخر تحت الرقم المشار إليه آنفا إلا أن يأتي ما يقويه وهذا ما لم نجده الآن ".

(28) هل منكم أحد أطعم اليوم مسكينا فقال أبو بكر رضي الله عنه دخلت المسجد فإذا أنا بسائل يسأل فوجدت كسرة خبز في يد عبد الرحمن فأخذتها منه فدفعتها إليه) الثمر المستطاب ص " 826"

قال الشيخ رحمه الله: الحديث أخرجه أبو داود والزيادة له والحاكم من طريق " مبارك بن فضالة عن ثابت البناني عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن عبد الرحمن بن ابي بكر مرفوعا،.....ثم ذكر الشيخ تخريج الحديث إلى أن قال:

" بالجملة فالعمدة في هذا الباب على حديث عبد الرحمن بن أبي بكر رضي الله عنه وفيه دليل على ما ذكرنا من جواز السؤال والتصدق في المسجد وقد ترجم له ببعض ذلك أبو داود حيث قال " باب المسألة في المساجد ".

والحديث أورده الشيخ في " الضعيفة برقم 1458 " وقال: منكر أخرجه أبو داود والحاكم وعنه البيهقي من طريق (مبارك بن فضالة..الخ السند) وقال الحاكم " صحيح على شرط مسلم " ووافقه الذهبي!

قلت: وهذا من عجائبهما ولا سيما الذهبي فإنه أورد (المبارك) هذا في " الضعفاء والمتروكين " وقال: " ضعفه أحمد والنسائي وكان يدلس " فأنت تراه قد عنعنه ثم هو مع ذلك ليس من رجال مسلم!

ومن هذا تعلم ان قول النووي في شرح المهذب: " رواه أبو داود بإسناد جيد " ليس بجيد وإن أقره السيوطي في " الحاوي للفتاوي " ومما يؤكد ضعف الحديث بهذا السياق أنه قد صح من حديث أبي هريرة مرفوعا نحوه وليس فيه أن أبي بكر رضي الله عنه كان في المسجد أخرجه مسلم وغيره وهو مخرج في الكتاب الآخر " الصحيحة 88 " وإذا عرفت ذلك فلا يستقيم استدلال السيوطي بالحديث على أن الصدقة على السائل في المسجد ليست مكروهة وأن السؤال فيه ليس بمحرم ".

 

(29) عن ابن مسعود أنه دخل على امرأته وفي عنقها شيء معقود فجذبه فقطعه ثم قال: لقد أصبح آل عبد الله أغنياء أن يشركوا بالله ما لم ينزل به سلطانا ثم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن الرقى والتمائم والتولة شرك قالوا: يا أبا عبد الرحمن هذه الرقى والتمائم قد عرفناها فما التولة؟ قال شيء تصنعه النساء يتحببن إلى أزواجهن.) قال الشيخ رحمه الله " رواه ابن حبان في صحيحه والحاكم بإختصار عنه وقال صحيح الإسناد " وهو مخرج في الصحيحة " 331 " (غاية المرام ص 147 "
এবং এর শব্দ হলো: "তোমরা রাতের শেষভাগে সাহরি করো। আর তিনি (নবীজি) একে বলতেন (বরকতময় দুপুরের খাবার)।" শায়খ বলেন: আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে খুজাইমা (১৯৩৮) এবং ইবনে হিব্বান (৮৮২)-এর কিতাবে ইরবাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এর সমর্থনকারী বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে।

আমি মিশকাতে এর সনদকে হাসান বলেছিলাম, কিন্তু এখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে সেটি একটি ভ্রম ছিল। কারণ এতে একজন অজ্ঞাত (মাজহুল) বর্ণনাকারী রয়েছে, যা আমি 'সহিহ ইবনে খুজাইমা'-এর টিকায় স্পষ্ট করেছি। তবে এই অংশটি এর সকল সূত্রের সমষ্টিগত বিচারে সহিহ।

 

এরপর শায়খ রাহিমাহুল্লাহ সহিহ ইবনে খুজাইমার টিকায় বলেছেন— "এর সনদ যঈফ (দুর্বল), হারিস অজ্ঞাত (মাজহুল)। তবে 'বরকতময় দুপুরের খাবার' সংক্রান্ত হাদিসটি সহিহ, ইরবাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও অন্যদের হাদিসে এর সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে, যা আমি 'যঈফা' (১৯৬১)-তে বর্ণনা করেছি।"

 

আর দেখুন 'সহিহাহ' (২৯৮৩), যার শব্দ হলো: "বরকতময় দুপুরের খাবারের দিকে এসো, অর্থাৎ সাহরি।" আর শায়খ রাহিমাহুল্লাহ-এর বক্তব্য দেখুন 'হিদায়াতুর রুওয়াত' (১৯৩৮)-এ, সেখানে তিনি বলেছেন: "হাদিসটি নিশ্চিতভাবে সহিহ।"

 

(২৭) যে ব্যক্তি বলে: "হে আল্লাহ! আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি, আপনার ফেরেশতাদের সাক্ষী রাখছি, আপনার আরশ বহনকারীদের সাক্ষী রাখছি এবং আসমান ও জমিনে যারা আছে তাদের সবাইকে সাক্ষী রাখছি যে, আপনিই আল্লাহ, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসুল।" যে ব্যক্তি এটি একবার বলবে, আল্লাহ তার এক-তৃতীয়াংশকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন; যে ব্যক্তি এটি দুইবার বলবে, আল্লাহ তার দুই-তৃতীয়াংশকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন; আর যে ব্যক্তি এটি তিনবার বলবে, আল্লাহ তার পুরো সত্তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। (সহিহাহ— ২৬৭)

শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: হাকীম এটি হুমাইদ বিন মেহরান সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে—

সালমান ফারসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন এবং বলেন: এর সনদ সহিহ। আয-যাহাবিও তার সাথে একমত হয়েছেন এবং বিষয়টি তেমনই যেমন তারা দুজনেই বলেছেন।

আর আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি মারফু হাদিস এর সমর্থনকারী হিসেবে রয়েছে যা সকাল ও সন্ধ্যার সাথে সীমাবদ্ধ, তবে এর সনদ যঈফ (দুর্বল), যেমনটি আমি সিলসিলাতুল আহাদিসিল যঈফাহ (১০৪১)-তে স্পষ্ট করেছি।

এরপর শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "সংশোধনী" — ১/ ৫৩৭

তিনি বলেন: এরপর আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন হলাম যা উল্লেখ করা এবং সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা আবশ্যক, আর তা হলো: হাকীম এই হাদিসটি তার উস্তাদ আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব থেকে বর্ণনা করেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-হাজারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যায়েদ বিন হুবাব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ বিন মেহরান... শেষ পর্যন্ত।

আর তাবারানি এটি তার উস্তাদ আস-সাজি থেকে বর্ণনা করেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যায়েদ বিন হুবাব, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ (ইবনে আলকামা আল-মাক্কির আযাদকৃত দাস), আতা থেকে এই সনদে।

লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই দুটি সনদে দুটি স্থানে পার্থক্য রয়েছে: একটি হলো (আহমদ বিন ইয়াহইয়া)-এর পরিচয়ে মতভেদ।

 

আর অপর পার্থক্যটি হলো যায়েদ বিন হুবাব-এর উস্তাদের নামকরণে; হাকীম তার নাম বলেছেন (হুমাইদ বিন মেহরান), আর তাবারানি বলেছেন (হুমাইদ, ইবনে আলকামা আল-মাক্কির আযাদকৃত দাস)। এই দুটি বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সঠিক?!

যদি (হুমাইদ আল-মাওলা আল-মাক্কি) হওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পায়, তবে সনদটি তখন যঈফ (দুর্বল) হবে এবং তা সহিহ হবে না; কারণ তিনি 'তাকরিব' অনুযায়ী অজ্ঞাত (মাজহুল), যেহেতু তার থেকে 'যায়েদ বিন হুবাব' ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। তাই এটিকে এখান থেকে পূর্বোল্লিখিত নম্বরের অধীনে অন্য বইটিতে স্থানান্তর করা উচিত, যদি না এমন কিছু পাওয়া যায় যা একে শক্তিশালী করে। আর আমরা বর্তমানে তা পাচ্ছি না।

(২৮) "তোমাদের মধ্যে আজ কেউ কি কোনো মিসকিনকে খাবার খাইয়েছ?" তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় যে একজন সাহায্যপ্রার্থী ভিক্ষা করছিল। তখন আমি আব্দুর রহমানের হাতে রুটির একটি টুকরো পেলাম, আমি তা তার থেকে নিলাম এবং সাহায্যপ্রার্থীকে দিয়ে দিলাম।" (আস-সামারুল মুসতাতাব, পৃষ্ঠা ৮২৬)

শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: হাদিসটি আবু দাউদ (অতিরিক্ত অংশটুকুসহ) এবং হাকীম বর্ণনা করেছেন 'মুবারক বিন ফাদালা থেকে সাবিত আল-বুনানি থেকে আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে আব্দুর রহমান বিন আবি বকর মারফু সূত্রে... অতঃপর শায়খ হাদিসটির তাখরিজ উল্লেখ করে বলেন:

"সারকথা হলো, এই অধ্যায়ে মূল ভিত্তি হলো আব্দুর রহমান বিন আবি বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি। এতে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার দলিল রয়েছে— অর্থাৎ মসজিদে ভিক্ষা করা এবং সদকা করার বৈধতা। আর আবু দাউদ এর ওপর ভিত্তি করে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: 'মসজিদে ভিক্ষা করার অধ্যায়'।"

আর শায়খ হাদিসটি 'যঈফা'র ১৪৫৮ নম্বরে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)। আবু দাউদ, হাকীম এবং তার থেকে বায়হাকি (মুবারক বিন ফাদালা... সনদের শেষ পর্যন্ত) বর্ণনা করেছেন। হাকীম বলেছেন "মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহিহ" এবং আয-যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন!

আমি বলছি: এটি তাদের দুজনের আশ্চর্যজনক ভুলের অন্যতম, বিশেষ করে যাহাবির ক্ষেত্রে। কারণ তিনি এই (মুবারক)-কে 'আয-যুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আহমদ ও নাসাঈ তাকে যঈফ বলেছেন এবং তিনি তাদলীস করতেন।" আপনি দেখছেন যে তিনি এখানে 'আন' শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন, অধিকন্তু তিনি মুসলিম-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন!

এখান থেকে আপনি জানতে পারলেন যে, শারহুল মুহাজ্জাব-এ নববীর উক্তি: "আবু দাউদ এটি উত্তম (জায়্যিদ) সনদে বর্ণনা করেছেন"—তা সঠিক নয়, যদিও সুয়ূতি 'আল-হাউয়ি লিল ফাতায়া' গ্রন্থে তা সমর্থন করেছেন। এই প্রসঙ্গের সাথে হাদিসটির দুর্বলতা আরও জোরালো করে এই বিষয়টি যে, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ একটি মারফু হাদিস সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যাতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মসজিদে থাকার বিষয়টি নেই। সেটি মুসলিম ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন এবং তা অন্য গ্রন্থ 'সহিহাহ' (৮৮)-তে সংকলিত হয়েছে। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন সুয়ূতির এই হাদিস দ্বারা মসজিদে সাহায্যপ্রার্থীকে সদকা করা মাকরুহ নয় এবং সেখানে ভিক্ষা করা হারাম নয় মর্মে পেশ করা দলিলটি আর সঠিক থাকে না।

 

(২৯) ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তার গলায় একটি গিট দেওয়া কিছু (সুতা) দেখতে পেলেন। তিনি সেটি টেনে ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন: আব্দুল্লাহর পরিবার আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করা থেকে মুক্ত যার কোনো দলিল তিনি অবতীর্ণ করেননি। এরপর তিনি বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই ঝাড়ফুঁক (মন্ত্র), তামায়েম (তাবিজ) এবং তিওয়ালাহ হলো শিরক।" তারা জিজ্ঞাসা করল: হে আবু আব্দুর রহমান! ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ তো আমরা চিনি, কিন্তু তিওয়ালাহ কী? তিনি বললেন: এটি এমন কিছু যা মহিলারা তাদের স্বামীদের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তৈরি করে। শায়খ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "এটি ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে এবং হাকীম তার থেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ সহিহ।" এটি সহিহাহ (৩৩১)-তে সংকলিত হয়েছে। (গায়াতুল মারাম, পৃষ্ঠা ১৪৭)
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد روي أن ابن مسعود رضي الله عنه نهى امرأته عن مثل هذه الرقى الجاهلية فقالت له: فإني خرجت يوما فأبصرني فلان فدمعت عيني التي تليه أي أصابها بعين حاسدة شريرة فإذا رقيتها سكنت دمعتها وإذا تركتها دمعت فقال ابن مسعود لها: ذلك الشيطان إذا أطعتيه تركك وإذا عصيتيه طعن بأصبعه في عينك ولكن لو فعلت كما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم كان خيرا لك وأجدر أن تشفى: تنضحين في عينك الماء وتقولين: أذهب الباس رب الناس اشف أنت الشافي لا شفاء إلا شفاؤك شفاء لا يغادر سقما.) غاية المرام " ص 148 " قال الشيخ:

صحيح وهو تمام الحديث الذي قبله عند ابن ماجه 3530.

ثم قال الشيخ رحمه الله في الصحيحة تحت حديث 2972 ولفظه" إن الرقى والتمائم والتولة شرك "

قال رحمه الله: كنت قد خرجته في الصحيحة 331، مع طريق قيس ابن السكن المتقدمة برواية أبي داود وابن ماجه وابن حبان وأحمد بلفظ حديث الترجمة دون القصة والروايات الأخرى، والآن حدث ما يقتضي تفصيل القول فيه هنا فأقول: مدار هذا الطريق على يحيى بن الجزار عن ابن أخي زينب امرأة عبد الله عن

زينب امرأة عبد الله عن عبد الله..... وقد اختلفوا عليه في متنه فهو واسع ولكني أقتصر الآن على ما لابد من بيانه فإقول:

هي في الجملة تختلف طولا وقصرا فأطولها رواية أبي معاوية عند أحمد والبغوي واختصر بعضها أبو داود ونحوها في الطول رواية عبد الله بن بشر عند ابن ماجه، وفي الروايتين أن زينب امرأة ابن مسعود رضي الله عنهما كانت تختلف إلى رجل يهودي فيرقيها! وهذا مستنكر جدا عندي أن تذهب صحابية جليلة كزينب هذه إلى اليهودي تطلب منه أن يرقيها!! إنها والله لإحدى الكبر فالحمد لله الذي لم يصح السند بذلك إليها، ونحوها في النكارة ما جاء في آخر رواية ابن بشر أن ابن مسعود رضي الله عنه قال لزينب: لو فعلت كما فعل رسول الله كان خيرا لك وأجدر أن تشفين تنضحين في عينيك الماء وتقولين أذهب البأس رب الناس … " الخ الدعاء المعروف ، فذكر النضح إنما تفرد به عبد الله بن بشر دون أبي معاوية وهذا أوثق منه وأحفظ ولا سيما وهو مختلف فيه ،.....

 

قلت: فمثله إنما يكون حديثه حسنا فقط إذا لم يخالف أما مع المخالفة فلا فكيف وفوقه ذاك المجهول الذي لم يعرف حتى في اسمه وعليه دارت أكثر طرق الحديث وبعضهم أسقطه سهوا أو عمدا لجهالته، ثم قال الشيخ رحمه الله:

 

على ضوء هذا البيان والتحقيق والتفصيل أرجو من إخواني الكرام الذين قد يجدون في بعض مؤلفاتي القديمة ما قد يخالف ما هنا أن يعدلوه ويصوبوه على وفق ما هنا كمثل ما في غاية المرام من تصحيح حديث ابن ماجه الذي فيه سبق بيانه من تلكم الزيادتين المنكرتين وشكرا "

انتهى اختصار الكتاب
বর্ণিত আছে যে, ইবনে মাসউদ (রা.) তাঁর স্ত্রীকে এই ধরণের জাহেলী ঝাড়ফুঁক থেকে নিষেধ করেছিলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: আমি একদিন বের হয়েছিলাম, তখন অমুক ব্যক্তি আমাকে দেখেছিল, ফলে তার পাশের চোখটি দিয়ে পানি ঝরতে শুরু করল (অর্থাৎ চোখটি দুষ্ট ও হিংসুটে নজরের শিকার হয়েছিল)। যখন আমি তাতে ঝাড়ফুঁক করি তখন পানি পড়া বন্ধ হয়, আর যখন ছেড়ে দেই তখন পানি ঝরতে থাকে। তখন ইবনে মাসউদ তাঁকে বললেন: ওটা শয়তান; যখন তুমি তার আনুগত্য করো সে তোমাকে ছেড়ে দেয়, আর যখন তার অবাধ্য হও সে তার আঙ্গুল দিয়ে তোমার চোখে খোঁচা দেয়। কিন্তু তুমি যদি তেমন করতে যেমন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেছিলেন, তবে তা তোমার জন্য উত্তম হতো এবং আরোগ্য লাভের জন্য অধিক উপযুক্ত হতো: তুমি তোমার চোখে পানি ছিটিয়ে দিতে এবং বলতে: "কষ্ট দূর করুন হে মানুষের রব, আপনিই আরোগ্য দানকারী, আপনার আরোগ্য ব্যতীত কোনো আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।" গায়াতুল মারাম, পৃষ্ঠা ১৪৮। শাইখ বলেন:

সহীহ; এটি ইবনে মাজাহ-এর ৩৫৩০ নং হাদীসে বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদীসের অবশিষ্টাংশ।

অতঃপর শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) 'আস-সহীহাহ'-তে ২৯৭২ নং হাদীসের অধীনে বলেন, যার শব্দসমূহ হলো: "নিশ্চয়ই ঝাড়ফুঁক (শিরকী), তাবীজ এবং তিওয়ালাহ (যাদুর মাধ্যমে ভালোবাসা সৃষ্টি) শিরক।"

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি ইতিপূর্বে 'আস-সহীহাহ' ৩৩১ নং-এ এটি তাহকীক করেছিলাম। সেখানে আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান ও আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত কায়স ইবনুস সাকান-এর পূর্বোক্ত সূত্রের মাধ্যমে কেবল মূল হাদীসটি (গল্প এবং অন্যান্য বর্ণনা ছাড়া) বর্ণিত হয়েছিল। এখন এমন কিছু বিষয় সামনে এসেছে যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে, তাই আমি বলছি: এই সূত্রের ভিত্তি হলো ইয়াহইয়া বিন আল-জাযযার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্ত্রী যায়নাবের ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে, তিনি

আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে... বর্ণনাটির শব্দবিন্যাসের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীরা মতভেদ করেছেন, যা বেশ দীর্ঘ। তবে আমি এখন কেবল যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। আমি বলছি:

এটি মোটের ওপর দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত হওয়ার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন। এর মধ্যে দীর্ঘতম হলো আহমাদ ও বাগাভী বর্ণিত আবু মুয়াবিয়ার বর্ণনা। আবু দাউদ এর কিছু অংশ সংক্ষেপ করেছেন। দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এর অনুরূপ হলো ইবনে মাজাহ-এর নিকট আব্দুল্লাহ বিন বিশরের বর্ণনা। এই উভয় বর্ণনায় এসেছে যে, ইবনে মাসউদ (রা.)-এর স্ত্রী যায়নাব জনৈক ইহুদী ব্যক্তির কাছে যাতায়াত করতেন এবং সে তাঁকে ঝাড়ফুঁক করত! এটি আমার কাছে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য যে, যায়নাবের মতো একজন সম্মানিত মহিলা সাহাবী ইহুদীর কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁক চাইবেন!! আল্লাহর কসম, এটি একটি বড় ধরনের আপত্তিকর (মুনকার) বিষয়। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যে, তাঁর (যায়নাব) পর্যন্ত এই বর্ণনাটির সনদ সহীহ নয়। একইভাবে আপত্তিকর হওয়ার দিক থেকে এর অনুরূপ হলো ইবনে বিশরের বর্ণনার শেষাংশ, যেখানে ইবনে মাসউদ (রা.) যায়নাবকে বলেন: "তুমি যদি তেমন করতে যেমন আল্লাহর রাসূল করেছিলেন, তবে তা তোমার জন্য উত্তম হতো এবং আরোগ্য লাভের জন্য অধিক উপযুক্ত হতো; তুমি তোমার চোখে পানি ছিটিয়ে দিতে এবং বলতে: কষ্ট দূর করুন হে মানুষের রব..." ইত্যাদি সুপরিচিত দুআ। এখানে পানি ছিটানোর বিষয়টি কেবল আব্দুল্লাহ বিন বিশর একাই বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া তা বর্ণনা করেননি; অথচ তিনি (আবু মুয়াবিয়া) তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য এবং হেফযশক্তির অধিকারী, বিশেষ করে এটি নিয়ে মতভেদও রয়েছে...

 

আমি বলি: তার (ইবনে বিশর) মতো রাবীর হাদীস কেবল তখনই 'হাসান' স্তরের হবে যখন সে অধিক নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা করবে না; কিন্তু যখন বিরোধিতা পাওয়া যাবে তখন নয়। আর সেই অজ্ঞাত (মাজহুল) ব্যক্তির অবস্থা কী যার নাম পর্যন্ত জানা যায়নি, অথচ যার ওপর ভিত্তি করেই হাদীসের অধিকাংশ সূত্র আবর্তিত হয়েছে? কেউ কেউ তাকে অসাবধানতাবশত বা জেনেশুনেই তার অজ্ঞাত অবস্থার কারণে বাদ দিয়েছেন। অতঃপর শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

 

এই স্পষ্টিকরণ, তাহকীক এবং বিস্তারিত আলোচনার আলোকে আমি আমার সম্মানিত ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি যে, তাঁরা যদি আমার পূর্ববর্তী কিছু রচনায় এর বিপরীত কিছু খুঁজে পান, তবে যেন তা সংশোধন করে নেন এবং এই আলোচনার আলোকে সঠিক করে নেন। যেমন 'গায়াতুল মারাম'-এ ইবনে মাজাহ-এর হাদীসটি সহীহ বলা হয়েছে—যেখানে সেই দুটি আপত্তিকর (মুনকার) অতিরিক্ত অংশের উল্লেখ রয়েছে যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ধন্যবাদ।

বইটির সংক্ষিপ্তসার সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
المصدر: موقع سحاب \ قسم الحديث وعلومه \ تراجعات الشيخ الالباني رحمه الله عن الحكم على بعض الاحاديث

‌‌منهج محمد بو عمر في تحديد الحكم الأخير للألباني:

قد سأل أبو تقي الدين الجزائري قائلا:

سؤال أخي الكريم لو سمحت

 

المواطن التي ذكر فيها الشيخ رحمه الله تعالى تراجعه من إلى فهذا مفروغ منه

 

ولكن المواطن التي لم يذكر الشيخ رحمه الله تعالى تراجعه من … إلى....

 

كيف عرفت أن هذا هو الصواب وليس ذاك؟؟

 

فأجاب محمد بو عمر قائلا:

كل ما في الأمر أنه كان اجتهاد شخصي وأستغفر الله من كل خطأ أنسبه للشيخ رحمه الله

وإن كان هناك الكثير من الأحاديث يعرف رأي الشيخ فيها بالنظر إلى سنة تأليف وتصنيف كتاب ما من كتبه النافعة

مثل: صحيح وضعيف الموارد وصحيح الترغيب والترهيب - ط المعارف..... الخ

والله أعلم
উৎস: সাহাব ওয়েবসাইট \ হাদীস ও হাদীস শাস্ত্র বিভাগ \ কিছু হাদীসের হুকুমের বিষয়ে শাইখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রত্যাবর্তণসমূহ

‌‌আলবানীর শেষ সিদ্ধান্ত নির্ধারণে মুহাম্মাদ বু ওমরের মানহাজ (পদ্ধতি):

আবু তাকিউদ্দীন আল-জাযায়িরী জিজ্ঞেস করে বলেছেন:

আমার সম্মানীয় ভাই, একটি প্রশ্ন, যদি অনুমতি দেন

 

যেসব ক্ষেত্রে শাইখ (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) অমুক অবস্থান থেকে অমুক অবস্থানে নিজের প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, তা তো মীমাংসিত বিষয়

 

কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে শাইখ (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) অমুক … থেকে অমুক অবস্থানে ফেরার কথা উল্লেখ করেননি....

 

আপনি কীভাবে জানলেন যে এটিই সঠিক এবং ওটি নয়??

 

মুহাম্মাদ বু ওমর উত্তরে বললেন:

পুরো বিষয়টি কেবল একটি ব্যক্তিগত ইজতিহাদ ছিল, আর আমি শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা প্রতিটি ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি

যদিও এমন অনেক হাদীস রয়েছে যেখানে শাইখের মত সম্পর্কে জানা যায় তাঁর কোনো একটি উপকারী গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের সালের দিকে লক্ষ্য করার মাধ্যমে

যেমন: সহীহ ও যয়ীফ আল-মাওয়ারিদ এবং সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব - আল-মা’আরিফ সংস্করণ..... ইত্যাদি

আর আল্লাহই ভালো জানেন
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৭)
المصدر: موقع سحاب \ قسم الحديث وعلومه \ تراجعات الشيخ الالباني رحمه الله عن الحكم على بعض الاحاديث

 

أحاديث زائدة على أصل كتاب " تراجع الألباني" استدركها محمد أبو عمر الفلسطيني

 

قال محمد أبو عمر الفلسطيني:

 

خامسا:

هذه مجموعة من الأحاديث الزائدة على أصل الكتاب، قمت باستدراكها على المصنف، وهي تشمل أحاديث تراجع عنها الشيخ من التصحيح للتضعيف والعكس وتشمل بعض التنبيهات والتصويبات، والله الموفق

***************************************

(1) من صلى علي حين يصبح عشرا، وحين يمسي عشرا، أدركته شفاعتي يوم القيامة " حديث ضعيف

وهو في " ضعيف الترغيب - طبعة المعارف - برقم - 396 - وهو في صحيح الجامع - 6357-

قال الشيخ رحمه الله في ضعيف الترغيب: " - بعد أن ذكر المنذري أن الطبراني رواه بإسناديين أحدهما جيد _

قلت - الالباني - كذا قال، وتعقبه السخاوي بقوله: " لكن فيه انقطاع لان خالد بن معدان لم يسمع من أبي الدرداء " انظر الضعيفة - 5788 - " انتهى كلام الشيخ رحمه الله.

 

(2) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام ما لي لم أر ميكائيل ضاحكا قط قال ما ضحك ميكائيل منذ خلقت النار) الحديث ضعفه الشيخ رحمه الله في " السلسلة الضعيفة 4454 " و " ضعيف الجامع 5090 "

وحسنه في " السلسلة الصحيحة برقم " 2511 " لطريق أخرى وجدها للحديث وشاهدا مرسلا، وأيضا حسنه لغيره في صحيح الترغيب - طبعة المعارف برقم " 3664 ".

وهنا تنبيه على خطأ مطبعي وقع في " الارواء " نبه عليه الشيخ رحمه الله في الصحيحة، وهو عبارة عن اختلاف الحكم على حد يثين أحدهما صحيح والآخر ضعيف، فأصبح العكس! وهاك البيان.

(3)

" قال الشيخ رحمه الله في " السلسلة الصحيحة - المجلد السابع - القسم الثاني - تحت حديث - 3336- ص " 1007 في الحاشية "

قال الشيخ رحمه الله: - بعد أن ذكركلام الامام الذهبي في - جعفر بن سليمان الضبعي - قلت - الالباني - وبعضها عنده من روايته عن جعفر عن ثابت عن أنس، وهو حديث (إنه حديث عهد بربه) وهو مخرج في الارواء (3 / 143 / 678) ومختصر العلو" 93 / 25 " وظلال الجنة " 1 / 276 / 622 "

قال الشيخ - في الحاشية - تنبيه:وقع تخريج هذا الحديث في الصفحة الاخرى - ص 144 - تحت حديث آخروهو ضعيف، ووقع تخريج الثاني تحت الحديث الاول! وهو حديث صحيح، وهو من أفحش الاخطاء المطبعية التي وقعت في الارواء، بسبب عدم إشرافي على تصحيح تجاربه، وجهل المشرف عليها! وقد استغل هذا الخطأ - الذي لا إرادة لي فيه - بعض الحاقدين من المبتدعة، فنسب الى أني ضعفت الحديث! عامله الله بما يستحق."

والحديث الذي أشار اليه الشيخ في الارواء برقم - (678)

من حديث أنس بلفظ " أصابنا ونحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، مطر فحسر ثوبه حتى أصابه من المطر فقلنا: لم صنعت هذا؟ قال: لأنه حديث عهد بربه) رواه مسلم وأبو داود، وفي التخريج كتب (ضعيف _ أخرجه البيهقي " 3 / 359 " عن يزيد بن الهاد!!! أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا سال السيل قال: فذكره الا أنه قال: " فنتطهر منه، ونحمد الله عليه " وقال البيهقي: " هذا منقطع "

والحديث الثاني - 679 - وهو " وروي أنه عليه الصلاة والسلام كان يقول إذا سال الوادي " أخرجوا بنا الى هذا الوادي الذي جعله الله طهورا فنتطهر به " وقال في التخريج (صحيح، رواه مسلم " 3 / 26 " وابو داود " 5100 " وكذا البيهقي " 3 / 359 " وأحمد " 3 / 133 و 267 "!!!!!!

فانظر رحمك الله الى جهل الجهلاء، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

الحديث - إنه حديث عهد بربه - عند أحمد في المسند - شاكر - برقم " 12306 = 3 / 133 " و " 13754 = 3 / 267 "

 

أثر جوده الشيخ ثم صححه.

(4) (مر ابن عمر براعي غنم فقال: يا راعي الغنم! هل من جزرة - أي شاة تصلح للذبح - قال الراعي:ليس ههنا ربها، فقال ابن عمر:تقول: أكلها الذئب! فرفع الراعي رأسه إلى السماء ثم قال: فأين الله؟ فاشترى ابن عمر الراعي واشترى الغنم فأعتقه وأعطاه الغنم) جود الشيخ إسناده في (مختصر العلو 127) وصححه في الصحيحة تحت حديث " 3161 " ص 469- 470 "

قال الشيخ رحمه الله:هذا إسناد صحيح..... وهذا الاثر احتج به الحافظ الذهبي في - العلو- ذكره معلقا على أبي مصعب الزهري، وكنت جودت إسناده في مختصره - 127 - ولم أكن قد وقفت يؤمئذ على وصله فها قد وقفت عليه الآن والحمد لله.

 

وهذا حديث تراجع الشيخ عن تصحيحه

(5) كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل المسجد يقول بسم الله والسلام على رسول الله اللهم اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك وإذا خرج قال بسم الله والسلام على رسول الله اللهم اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب فضلك صحيح الألباني صحيح ابن ماجه 625
উৎস: সাহাব ওয়েবসাইট \ হাদিস ও হাদিসবিজ্ঞান বিভাগ \ কিছু হাদিসের হুকুমের ক্ষেত্রে শাইখ আলবানি রহ.-এর প্রত্যাবর্তনসমূহ

 

"তারাজু' আল-আলবানি" মূল কিতাবের অতিরিক্ত কিছু হাদিস যা মুহাম্মদ আবু উমর আল-ফিলিস্তিনি পরিমার্জন করেছেন।

 

মুহাম্মদ আবু উমর আল-ফিলিস্তিনি বলেন:

 

পঞ্চম:

এটি মূল কিতাবের অতিরিক্ত একদল হাদিসের সংগ্রহ, যা আমি সংকলকের ওপর সংযোজন করেছি। এর মধ্যে এমন হাদিসও রয়েছে যেগুলোর ক্ষেত্রে শাইখ সহিহ বলা থেকে দুর্বল বলার দিকে অথবা এর উল্টোটা করেছেন। এছাড়া এর মধ্যে কিছু সতর্কতা ও সংশোধনও রয়েছে। আল্লাহ তাওফিকদাতা।

***************************************

(১) যে ব্যক্তি সকালে আমার ওপর দশবার দরুদ পড়বে এবং সন্ধ্যায় দশবার দরুদ পড়বে, কিয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ লাভ করবে। - দুর্বল হাদিস।

এটি 'দাঈফ আত-তারগিব' - মাআরিফ সংস্করণ - নম্বর ৩৯৬ এবং 'সহিহুল জামি' - ৬৩৫৭-এ রয়েছে।

শাইখ রহ. 'দাঈফ আত-তারগিব'-এ বলেন: "আল-মুনজিরি উল্লেখ করার পর যে তাবারানি এটি দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন যার একটি উত্তম (জায়্যিদ) -"

আমি (আলবানি) বলছি - তিনি এমনটাই বলেছেন। আস-সাখাভি তার সমালোচনা করে বলেছেন: "কিন্তু এতে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে, কারণ খালিদ বিন মা'দান আবু দারদা থেকে শোনেননি।" দেখুন 'আদ-দাঈফাহ' - ৫৭৮৮। - শাইখ রহ.-এর বক্তব্য শেষ।

 

(২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে বললেন: কী ব্যাপার, আমি মিকাইলকে কখনও হাসতে দেখি না? তিনি বললেন: জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে মিকাইল কখনও হাসেননি। হাদিসটি শাইখ রহ. 'সিলসিলা আদ-দাঈফাহ' ৪৪৫৪ এবং 'দাঈফ আল-জামি' ৫০৯০-এ দুর্বল বলেছেন।

কিন্তু তিনি এটি 'সিলসিলা আস-সহিহাহ' নম্বর ২৫১১-এ হাসান বলেছেন হাদিসটির জন্য পাওয়া অন্য একটি সূত্র ও একটি মুরসাল সাক্ষ্যের কারণে। এছাড়া তিনি 'সহিহ আত-তারগিব' - মাআরিফ সংস্করণ - নম্বর ৩৬৬৪-তে একে হাসান লি-গাইরিহি বলেছেন।

এখানে 'ইরওয়া' গ্রন্থে হওয়া একটি মুদ্রণজনিত ভুলের ব্যাপারে সতর্কতা রয়েছে যেটির দিকে শাইখ রহ. 'আস-সহিহাহ'-তে ইঙ্গিত করেছেন। এটি হলো দুটি হাদিসের হুকুমের ভিন্নতা যার একটি সহিহ এবং অন্যটি দুর্বল, কিন্তু তা উল্টে গেছে! এখানে তার বর্ণনা দেওয়া হলো:

(৩)

"শাইখ রহ. 'সিলসিলা আস-সহিহাহ' - সপ্তম খণ্ড - দ্বিতীয় অংশ - হাদিস ৩৩৩৬-এর অধীনে - পৃষ্ঠা ১০০৭ এর টীকায় বলেন:"

শাইখ রহ. বলেন: - জাফর বিন সুলাইমান আদ-দুবায়ি সম্পর্কে ইমাম জাহাবির বক্তব্য উল্লেখ করার পর - আমি (আলবানি) বলছি - তার নিকট এর কিছু বর্ণনা জাফর থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে এসেছে। আর তা হলো (নিশ্চয়ই এটি তার রবের নিকট থেকে নতুনভাবে এসেছে) শীর্ষক হাদিস। এটি 'ইরওয়া' (৩/১৪৩/৬৭৮), 'মুখতাসারুল উলু' (৯৩/২৫) এবং 'জিলালুল জান্নাহ' (১/২৭৬/৬২২)-তে তাখরিজ করা হয়েছে।

শাইখ টীকায় বলেন: সতর্কতা - এই হাদিসটির তাখরিজ অন্য পৃষ্ঠায় - পৃষ্ঠা ১৪৪ - অন্য একটি হাদিসের নিচে চলে এসেছে যা দুর্বল। আবার দ্বিতীয় হাদিসটির তাখরিজ প্রথম হাদিসটির নিচে চলে এসেছে! যা সহিহ হাদিস। এটি 'ইরওয়া' গ্রন্থে ঘটা জঘন্যতম মুদ্রণজনিত ভুলগুলোর একটি। এর কারণ হলো এর প্রুফ সংশোধনে আমার তদারকি না থাকা এবং প্রুফ সংশোধনকারীর অজ্ঞতা! বিদআতিদের মধ্যে কিছু হিংসুক এই ভুলটি কাজে লাগিয়েছে - যাতে আমার কোনো ইচ্ছা ছিল না - এবং আমার দিকে নিসবত করেছে যে আমি হাদিসটিকে দুর্বল বলেছি! আল্লাহ তাকে তার প্রাপ্য প্রতিফল দিন।

শাইখ 'ইরওয়া' গ্রন্থে ৬৭৮ নম্বরের অধীনে যে হাদিসটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন:

আনাস বর্ণিত হাদিস যার শব্দ হলো: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকাকালীন আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। তিনি তার কাপড় সরিয়ে দিলেন ফলে তাতে বৃষ্টি লাগল। আমরা বললাম: আপনি কেন এমনটি করলেন? তিনি বললেন: কারণ এটি তার রবের নিকট থেকে নতুনভাবে এসেছে।" এটি মুসলিম ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাখরিজে লেখা হয়েছে (দুর্বল - বায়হাকি এটি ৩/৩৫৯-এ ইয়াজিদ বিন আল-হাদ থেকে বর্ণনা করেছেন!!! যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঢল নামত তখন বলতেন: তারপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন তবে সেখানে বলেছেন: "যাতে আমরা এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করি এবং এর ওপর আল্লাহর প্রশংসা করি।" বায়হাকি বলেছেন: "এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)।")

আর দ্বিতীয় হাদিসটি - ৬৭৯ - যা হলো "বর্ণিত আছে যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপত্যকায় ঢল নামলে বলতেন: আমাদের সাথে এই উপত্যকার দিকে চলো যেটিকে আল্লাহ পবিত্রকারী করেছেন যাতে আমরা এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করি।" এর তাখরিজে বলা হয়েছে (সহিহ, মুসলিম ৩/২৬, আবু দাউদ ৫১০০, বায়হাকি ৩/৩৫৯ এবং আহমদ ৩/১৩৩ ও ২৬৭ বর্ণনা করেছেন!!!!!!)

অতএব হে আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, অজ্ঞদের অজ্ঞতা দেখুন। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যার অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায়।

হাদিসটি - নিশ্চয়ই এটি তার রবের নিকট থেকে নতুনভাবে এসেছে - আহমদের মুসনাদে রয়েছে - শাকির সংস্করণ - নম্বর ১২৩০৬ = ৩/১৩৩ এবং ১৩৭৫৪ = ৩/২৬৭।

 

একটি আসার/বিবৃতি যেটিকে শাইখ প্রথমে জাইয়্যিদ (উত্তম) বলেছেন তারপর সহিহ বলেছেন।

(৪) (ইবনে উমর এক রাখালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: হে রাখাল! তোমার কাছে কি কোনো জবাইযোগ্য ছাগল আছে? রাখাল বলল: এর মালিক এখানে নেই। ইবনে উমর বললেন: তুমি বলবে যে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে! তখন রাখাল তার মাথা আসমানের দিকে তুলল এবং বলল: তাহলে আল্লাহ কোথায়? ইবনে উমর রাখালকে এবং ছাগলগুলো কিনে নিলেন, তারপর তাকে মুক্ত করে দিলেন এবং ছাগলগুলো তাকে দান করলেন।) শাইখ 'মুখতাসারুল উলু' (১২৭) গ্রন্থে এর সনদকে উত্তম বলেছেন এবং 'আস-সহিহাহ' গ্রন্থে হাদিস নম্বর ৩১৬১, পৃষ্ঠা ৪৬৯-৪৭০ এর অধীনে একে সহিহ বলেছেন।

শাইখ রহ. বলেন: এই সনদটি সহিহ..... হাফেজ জাহাবি 'আল-উলু' গ্রন্থে এই আসারটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি এটি আবু মুসাব আজ-জুহরি থেকে মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমি এর মুখতাসারে (১২৭) এর সনদকে উত্তম বলেছিলাম এবং সেদিন এর মুত্তাসিল সনদটি আমার নাগালে ছিল না। এখন আমি তা পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

 

এটি এমন একটি হাদিস যার সহিহ হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে শাইখ ফিরে এসেছেন:

(৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: আল্লাহর নামে, এবং রাসূলুল্লাহর ওপর সালাম বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন। আর যখন বের হতেন তখন বলতেন: আল্লাহর নামে, এবং রাসূলুল্লাহর ওপর সালাম বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাগুলো খুলে দিন। আলবানির মতে সহিহ - সহিহ ইবনে মাজাহ ৬২৫।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وعند الترمذي (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل المسجد صلى على محمد وسلم، وقال: (رب اغفر لي ذنوبي، وافتح لي أبواب رحمتك) وإذا خرج صلى على محمد وسلم، وقال: (رب اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب فضلك) صحيح الألباني صحيح الترمذي " 259 "

وفي " الثمر المستطاب " 604" قال الشيخ رحمه الله: (كان عليه الصلاة والسلام يقول: (بسم الله اللهم صل على محمد وسلم اللهم افتح لي أبواب رحمتك) .

جاء هذا في أحاديث:

الأول: عن أنس رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل المسجد قال: (بسم الله اللهم صل على محمد وإذا خرج قال: بسم الله اللهم صل على محمد) .

أخرجه ابن السني في (عمل اليوم والليلة) (ص 31 رقم 86) قال: ثني الحسن بن موسى الرسعني: ثنا إبراهيم بن الهيثم البلدي: ثنا إبراهيم بن محمد بن البحتري - شيخ صالح بغدادي -: ثنا عيسى بن يونس عن معمر عن الزهري عنه.

وهذا سند حسن أو محتمل للتحسين)

وفي هداية الرواة " 698 " قال الشيخ رحمه الله: (وله علةأ خرى وهي أنه من رواية ليث بن أبي سليم وهو ضعيف لكن الترمذي قال " حديث حسن " وهو كذلك ولكن فيه جمل لا تصح، راجع تعليقي على - الكلم الطيب 63-64 وتمام المنة ص 290، وذكر التسمية منكر وبيانه في الضعيفة " 6953 "

والحديث في المشكاة برقم " 731"

الخلاصة: أن الحديث صحيح دون جملة المغفرة والتسمية، فليصحح.

مع التنبيه على أن الحديث عند " ابن ماجة برقم 771 " النسخة التي اعتنى بها الشيخ مشهور أل سلمان حفظه الله، ما زال الحكم على الحديث بأنه صحيح - وفيه ذكر جملة المغفرة والتسمية - فليصحح ذلك من كان عنده هذه النسخة أيضا.

والله أعلم.

وهذا حديث تراجع الشيخ رحمه الله عن تحسينه إلى تضعيفه.

(6) وعن عطية السعدي قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يبلغ العبد أن يكون من المتقين حتى يدع ما لا بأس به حذرا لما به بأس. رواه الترمذي وابن ماجه. (المشكاة 2775) قال الشيخ " حسن ".

وفي " هداية الرواة " برقم " 2706 " قال الشيخ رحمه الله: - بعد قول الترمذي " حسن غريب " _ قال الشيخ:

(قلت: وليس كما قال! ويبدو أنني كنت اغتررت به في الطبعة السابقة فحسنته، وذلك وهم مني، عفا الله تعالى عني، فإن في سنده ضعيفا لم يوثق، والتفصيل في " غاية المرام " رقم 178 ".

وانظر " ضعيف الترغيب - المعارف - 1081 -، وابن ماجه 4215 والترمذي 2451.

 

وهذا حديث ضعفه الشيخ رحمه الله ثم حسنه ثم صححه في الصحيحة، وإ ليكم البيان.

 

(7) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ضرس الكافر يوم القيامة مثل أحد وفخذه مثل البيضاء ومقعده من النار مسيرة ثلاث مثل الربذة) . رواه الترمذي." 2580 "

ضعفه الشيخ رحمه الله في المشكاة برقم (5674) ثم قال في (هداية الرواة - 5602) : قلت: إ سناده ضعيف، ثم استدركت فقلت: بل هو حسن، فإن صالحا - مولى التوأمة - مقرون بمحمد بن عمار، وقد وثقه ابن حبان، على أن الحديث صحيح، له طرق أخرى، خرجتها في الصحيحة " 1105 ". انتهى كلام الشيخ رحمه الله.

 

وانظر - صحيح الترغيب - " 3682 "

 

وهذا حديث صححه الشيخ ثم ضعفه

(8) عن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال أرحم أمتي بأمتي أبو بكر وأشدهم في دين الله عمر وأصدقهم حياء عثمان وأقضاهم علي بن أبي طالب وأقرؤهم لكتاب الله أبي بن كعب وأعلمهم بالحلال والحرام معاذ بن جبل وأفرضهم زيد بن ثابت ألا وإن لكل أمة أمينا وأمين هذه الأمة أبو عبيدة بن الجراح)

ابن ماجه " 154 "

قال الشيخ مشهور أل سلمان حفظه الله - في التعليق على الحديث - في الطبعة التي اعتنى بها - طبع دار المعارف -

قال: الصواب أنه مرسل، عدا ذكر أبي عبيدة، قاله الحاكم في المعرفة والخطيب في " الفصل للوصل " وجمع

وذكرت كلامهم، وقرأته على شيخنا الألباني رحمه الله في مكتبه وأقرني على ما توصلت إليه وكان ذلك بعد هذا التصحيح وعلق تضعيفه بخطه على هامش الثالث من الصحيحة " انتهى كلام الشيخ مشهور.

وهو برقم " 1224 " في السلسلة الصحيحة، وانظر " الترمذي 3790 و 3791 " والمشكاة " 6111 "

وهداية الرواة برقم " 6065 " وصحيح موارد الظمآ ن " 1863 / 2218 "

وهذا حديث ضعفه الشيخ رحمه الله ثم حسنه لغيره

 

(9) أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا اهتم قبض على لحيته " الضعيفة - 707 -
তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন মুহাম্মাদের ওপর দরূদ ও সালাম পাঠাতেন এবং বলতেন: (হে আমার রব, আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।) আর যখন বের হতেন, তখন মুহাম্মাদের ওপর দরূদ ও সালাম পাঠাতেন এবং বলতেন: (হে আমার রব, আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাগুলো খুলে দিন।) সহীহ আলবানী, সহীহ তিরমিজি "২৫৯"।

এবং "আস-সামারুল মুস্তাতাব" ৬০৪ পৃষ্ঠায় শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।)

এটি কয়েকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমটি: আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: (বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের ওপর দরূদ বর্ষণ করুন। আর যখন বের হতেন তখন বলতেন: বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের ওপর দরূদ বর্ষণ করুন।)

ইবনুস সুন্নী 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (পৃষ্ঠা ৩১, নম্বর ৮৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুসা আর-রাসআনী, তিনি ইব্রাহিম ইবনুল হাইসাম আল-বালাদি থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল বাহতারি থেকে—যিনি বাগদাদের একজন নেককার শাইখ—তিনি ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এই সনদটি হাসান অথবা হাসান হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

এবং "হিদায়াতুর রুওয়াত" ৬৯৮ পৃষ্ঠায় শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (এর আরেকটি ত্রুটি রয়েছে, আর তা হলো এটি লাইস ইবনে আবি সুলাইমের বর্ণনা থেকে এসেছে এবং তিনি দুর্বল। কিন্তু তিরমিজি একে 'হাসান হাদিস' বলেছেন। এটি তেমনই, তবে এতে এমন কিছু বাক্য আছে যা সহীহ নয়। আল-কালিমুত তাইয়িব (৬৩-৬৪) এবং তামামুল মিন্নাহ (২৯০ পৃষ্ঠা)-তে আমার টীকা দেখুন। আর 'বিসমিল্লাহ'র উল্লেখটি মুনকার (পরিত্যক্ত), এর বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে 'আদ-দাঈফাহ' ৬৯৫৩ নম্বরে।

এবং হাদিসটি মিশকাতে "৭৩১" নম্বরে রয়েছে।

সারসংক্ষেপ: হাদিসটি ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিসমিল্লাহর অংশটুকু ছাড়া সহীহ, তাই এটি সংশোধন করা উচিত।

এই সতর্কবার্তার সাথে যে, "ইবনে মাজাহ ৭৭১" নম্বরে শাইখ মাশহুর আল সালমান (হাফিজাহুল্লাহ) কর্তৃক সম্পাদিত কপিতে হাদিসটির হুকুম এখনো সহীহ রয়ে গেছে—যাতে ক্ষমা প্রার্থনা ও বিসমিল্লাহর উল্লেখ রয়েছে—তাই যাদের কাছে এই কপিটি আছে তাদেরও এটি সংশোধন করে নেওয়া উচিত।

আল্লাহই ভালো জানেন।

এটি এমন একটি হাদিস যা শাইখ রাহিমাহুল্লাহ প্রথমে হাসান বললেও পরবর্তীতে তা থেকে ফিরে এসে জয়িফ (দুর্বল) বলেছেন।

(৬) আতিয়্যাহ আস-সাদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকিদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না, যতক্ষণ না সে গুনাহের আশঙ্কায় সন্দেহযুক্ত বিষয় পরিহার করার জন্য এমন বিষয়ও ত্যাগ করে যাতে কোনো গুনাহ নেই। তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন। (মিশকাত ২৭৭৫)। শাইখ বলেছেন "হাসান" ।

এবং "হিদায়াতুর রুওয়াত" ২৭০৬ নম্বরে শাইখ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম তিরমিজির "হাসান গারীব" বলার পর বলেছেন:

(আমি বলছি: এটি তিনি যেমনটি বলেছেন তেমন নয়! মনে হচ্ছে পূর্ববর্তী সংস্করণে আমি এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একে হাসান বলেছিলাম, যা আমার একটি ভুল ছিল। আল্লাহ তাআলা আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ এর সনদে একজন দুর্বল রাবী আছে যাকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়নি। বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে 'গয়াতুল মারাম' ১৭৮ নম্বরে।)

এবং দেখুন "দাঈফুত তারগীব-আল মা'আরিফ- ১০৮১", ইবনে মাজাহ ৪২১৫ এবং তিরমিজি ২৪৫১।

 

এটি এমন একটি হাদিস যা শাইখ রাহিমাহুল্লাহ প্রথমে জয়িফ বলেছেন, এরপর হাসান বলেছেন এবং পরিশেষে 'সহীহাহ' গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। আপনাদের সামনে এর বর্ণনা দেওয়া হলো।

 

(৭) তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন কাফেরের দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের মতো, তার উরু হবে বায়দা পাহাড়ের মতো এবং জাহান্নামে তার বসার জায়গা হবে রাবাযাহ হতে তিন দিনের দূরত্বের সমপরিমাণ। তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন "২৫৮০" ।

শাইখ রাহিমাহুল্লাহ মিশকাতে একে দুর্বল (৫৬৭৪ নম্বর) বলেছিলেন, এরপর "হিদায়াতুর রুওয়াত" ৫৬০২-এ বলেছেন: আমি বলছি: এর সনদ দুর্বল, তবে পরবর্তীতে আমি এটি সংশোধন করে বলেছি: বরং এটি হাসান। কারণ সালেহ—মাওলা আত-তাওয়ামাহ—মুহাম্মাদ ইবনে আম্মারের সমপর্যায়ের এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তদুপরি হাদিসটি সহীহ, এর অন্যান্য সূত্র রয়েছে যা আমি 'আস-সহীহাহ' ১১০৫-এ বর্ণনা করেছি। শাইখ রাহিমাহুল্লাহর বক্তব্য এখানেই শেষ।

 

এবং দেখুন "সহীহুত তারগীব" ৩৬৮২ ।

 

এটি এমন একটি হাদিস যা শাইখ প্রথমে সহীহ বললেও পরবর্তীতে জয়িফ বলেছেন।

(৮) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে আমার উম্মতের প্রতি সবচেয়ে দয়ালু হচ্ছেন আবু বকর, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে সবচেয়ে কঠোর হচ্ছেন উমর, সবচেয়ে লাজুক হচ্ছেন উসমান, বিচারকার্যে সবচেয়ে পারদর্শী হচ্ছেন আলী ইবনে আবি তালিব, আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে বড় ক্বারী হচ্ছেন উবাই ইবনে কাব, হালাল-হারাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হচ্ছেন মুয়ায ইবনে জাবাল এবং মিরাস শাস্ত্রে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী হচ্ছেন জায়েদ ইবনে সাবিত। জেনে রেখো, প্রত্যেক উম্মতের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে এবং এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছেন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ।

ইবনে মাজাহ "১৫৪"

শাইখ মাশহুর আল সালমান হাফিজাহুল্লাহ—হাদিসটির ওপর তার সম্পাদিত সংস্করণে (দারুল মা’আরিফ থেকে প্রকাশিত) টীকায় বলেছেন:

তিনি বলেন: সঠিক কথা হলো এটি 'মুরসাল', কেবল আবু উবাইদাহর অংশটুকু বাদে। এ কথা হাকেম 'আল-মা'রিফাহ' গ্রন্থে এবং খতিব বাগদাদি 'আল-ফাসলুল ওয়াসিল' গ্রন্থে বলেছেন এবং একদল আলেম এটি বলেছেন।

আমি তাদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি এবং তা আমাদের শাইখ আলবানী রাহিমাহুল্লাহর সামনে তার লাইব্রেরিতে পাঠ করেছি। আমি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন এবং এটি ছিল এই সহীহ ঘোষণার পর। তিনি নিজ হাতে 'সহীহাহ'র তৃতীয় খণ্ডের পার্শ্বটীকায় এর দুর্বলতা সম্পর্কে লিখে রেখেছেন। শাইখ মাশহুরের বক্তব্য এখানেই শেষ।

এটি 'সিলসিলাতুস সহীহাহ' গ্রন্থে ১২২৪ নম্বরে রয়েছে। আরও দেখুন "তিরমিজি ৩৭৯০ ও ৩৭৯১", মিশকাত "৬১১১",

হিদায়াতুর রুওয়াত ৬০৬৫ এবং সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন ১৮৬৩/২২১৮।

এটি এমন একটি হাদিস যা শাইখ রাহিমাহুল্লাহ প্রথমে দুর্বল বলেছেন এবং পরবর্তীতে 'হাসান লি-গাইরিহি' বলেছেন।

 

(৯) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতেন, তখন নিজের দাড়ি ধরতেন। "আদ-দাঈফাহ" ৭০৭।
(খণ্ড: ১) তারাজুআতুল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال الشيخ رحمه الله تحت حديث " 4237 " في السلسلة الضعيفة - ص 244 - قال: يشير إلى حديث " كان إذا اهتم أخذ بلحيته فنظر فيها " وهو كما ترى حديث آخر.... وكنت قد خرجته في الضعيفة برقم - 707 - ثم قررت نقله إلى الصحيحة لطريق أخرى وقفت عليها في صحيح ابن حبان - الاحسان - واستدركته على الهيثمي في موارد الظمآن ". والحديث في صحيح موارد الظمآن برقم " 1776 - 6405 " بلفظ (أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أهمه شيء أخذ بلحيته هكذا - وقبض ابن مسهر على لحيته) وقال الشيخ في تخريجه " حسن لغيره - الضعيفة 707 التحقيق الثاني و 4237 ".

وقد بحثت عن الحديث في الصحيحة ولم أجده، فلعل الشيخ أراد أنه سينقله إلى الصحيحة ولم يفعل لأمر لا نعلمه والله أعلم.

وهذا حديث ضعفه الشيخ رحمه الله ثم حسنه بمجموع طرقه

(10) طفت مع عبد الله فلما جئنا دبر الكعبة قلت ألا تتعوذ قال نعوذ بالله من النار ثم مضى حتى استلم الحجر وأقام بين الركن والباب فوضع صدره ووجهه وذراعيه وكفيه هكذا وبسطهما بسطا ثم قال هكذا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعله) سنن أبي داود " 1899 " قال (ضعيف)

وفي الصحيحة (2138) حسنه الشيخ رحمه الله لعدة طرق وجدها للحديث.ولفظه (كان يضع صدره ووجهه وذراعيه وكفيه بين الركن والباب. يعني في الطواف)

وفي الضعيفة تحت حديث ((4865) قال الشيخ رحمه الله: وقد روي الالتزام من فعله صلى الله عليه وسلم من طرق يقوي بعضها بعضا ولذلك أوردته في صحيح الجامع الصغير برقم " 4888 " - وهو برقم " 5012 " الطبعة الثالثة بلفظ (كان يلزق صدره ووجهه بالملتزم) - وخرجته في الصحيحة 2138 وذكرت له شواهد موقوفة صحيحة عن جمع من الصحابة رضي الله عنه.

وهو في سنن ابن ماجه برقم (2963) وحكم عليه بالحسن في الطبعة التي اعتنى بها الشيخ مشهور أل سلمان حفظه الله.

وفي مناسك الحج والعمرة، قال: (38 - وله أن يلتزم ما بين الركن والباب فيضع صدره ووجهه وذراعيه عليه (3) (3) روي ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم من طريقين يرتقي الحديث بهما إلى مرتبة الحسن ويزداد قوة بثبوت العمل به عن جمع من الصحابة منهم ابن عباس رضي الله عنه وقال: " هذا الملتزم بين الركن والباب " وصح من فعل عروة بن الزبير أيضا وكل ذلك مخرج في " الأحاديث الصحيحة " (2138)

وهذا حديث ضعفه الشيخ رحمه الله ثم حسنه

(11) إن الجنة لتشتاق إلى ثلاثة: علي، وعمار، وسلمان) رواه الترمذي برقم " 3797 "وضعفه في المشكاة برقم " 6225 "، وفي الهداية برقم " 6186 " قال الشيخ رحمه الله: (إ سناده ضعيف وإن حسنه الترمذي فإن فيه الحسن البصري وقد عنعنه......... نعم للحديث طريق أخرى عن أنس يتقوى بها الحديث وفيها ذكر المقداد مع الثلاثة وقد خرجتع من أجلها في الضعيفة " 2328 ".

وفي الضعيفة تحت رقم (2328) ص 353 - قال الشيخ رحمه الله: نعم له طريق أخرى عن أنس مرفوعا بلفظ

(ثلاثة) دون ذكر المقداد وأبي ذر وقد صححه الحاكم وغيره وهو عندي ضعيف الاسناد كما بينته في تخريج المشكاة - 6225- التحقيق الثاني - لكنه (حسن بمجموع الطريقين والله أعلم) .

وهو في صحيح الجامع برقم (1598) وحسنه

(12) كان يدعو اللهم احفظني بالإسلام قائما واحفظني بالإسلام قاعدا واحفظني بالإسلام راقدا ولا تشمت بي عدوا حاسدا اللهم إني أسألك من كل خيرخزائنه بيدك وأعوذ بك من كل شر خزائنه بيدك] . (حسن) . (الصحيحة 1540 وصحيح الجامع 1260 بلفظ: اللهم احفظني بالإسلام قائما واحفظني بالإسلام قاعدا واحفظني بالإسلام راقدا ولا تشمت بي عدوا ولا حاسدا اللهم إني أسألك من كل خير خزائنه بيدك وأعوذ بك من كل شر خزائنه بيدك.) قال الشيخ رحمه الله في الصحيحة تحت رقم 1540 - قال: " ووجدت للحديث طريقا أخرى يرويه معلى بن رؤبة الحمصي........ثم ساق السند، أن عمر بن الخطاب أصابته مصيبة فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فشكا إليه ذلك وسأله أن يأمر له بوسق من تمر فقال النبي صلى الله عليه وسلم: إن شئت علمتك كلمات هي خير لك قال: علمنيهن ومر لي بوسق فإني ذو حاجة إليه فقال … " قلت: فذكره، أخرجه ابن حبان 2430 والديلمي.... وبالجملة فالحديث حسن بمجموع الطريقين والله أعلم "

وفي ضعيف موارد الظمآن - 314 - حكم الشيخ على حديث عمر بن الخطاب بالضعف، فقال: ضعيف - الضعيفة 6003 "

(13) (اللهم أعز الإسلام بعمر بن الخطاب خاصة) صحيح دون قوله: "خاصة" صحيح ابن ماجه 85، وفي السلسلة الصحيحة (اللهم أعز الإسلام بعمر بن الخطاب خاصة) إسناده صحيح، السلسلة الصحيحة 3225، وفي صحيح موارد الظمآن - 1828 - 2180 - قال: " صحيح لغيره - الصحيحة 3225 "

والله أعلم.
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) 'সিলসিলাহ আদ-দাঈফাহ' গ্রন্থের ৪২৩৭ নম্বর হাদীসের অধীনে ২৪৪ পৃষ্ঠায় বলেন: এটি সেই হাদীসের দিকে ইশারা করে যাতে বলা হয়েছে, "তিনি যখন চিন্তিত হতেন তখন দাড়ি ধরতেন এবং তাতে দৃষ্টিপাত করতেন", এবং আপনি দেখতে পাচ্ছেন এটি অন্য একটি হাদীস... আমি এটি আদ-দাঈফাহ গ্রন্থে ৭০৭ নম্বরে বর্ণনা করেছিলাম, অতঃপর 'সহীহ ইবনে হিব্বান' (আল-ইহসান) গ্রন্থে একটি সূত্রের সন্ধান পাওয়ার পর আমি এটি আস-সাহীহাহ গ্রন্থে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিই এবং 'মাওয়ারিদুজ জামআন' গ্রন্থে হাইসামির করা ত্রুটি সংশোধন করি। হাদীসটি 'সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন' গ্রন্থে ১৭৭৬ - ৬৪০৫ নম্বরে এই শব্দে রয়েছে যে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বিষয়ে চিন্তিত হতেন তখন নিজের দাড়ি এভাবে ধরতেন—এবং ইবনে মুসাহহার নিজের দাড়ি ধরলেন)। শায়খ এর তাখরীজে বলেছেন, "হাসান লি গাইরিহি - আদ-দাঈফাহ ৭০৭ (দ্বিতীয় তাহকীক) এবং ৪২৩৭"।

আমি আস-সাহীহাহ গ্রন্থে হাদীসটি অনুসন্ধান করেছি কিন্তু পাইনি, সম্ভবত শায়খ এটি আস-সাহীহাহ-তে স্থানান্তর করতে চেয়েছিলেন কিন্তু এমন কোনো কারণে করেননি যা আমাদের জানা নেই, আল্লাহই ভালো জানেন।

এটি এমন একটি হাদীস যাকে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) প্রথমে যঈফ বলেছেন, অতঃপর এর সকল সূত্রের সমন্বয়ে একে হাসান বলেছেন।

(১০) আমি আবদুল্লাহর সাথে তওয়াফ করলাম, যখন আমরা কাবার পেছনের দিকে আসলাম, আমি বললাম, আপনি কি আশ্রয় প্রার্থনা করবেন না? তিনি বললেন, আমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি চলতে লাগলেন এবং হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করলেন। তারপর তিনি রুকন ও দরজার মাঝখানে দাঁড়ালেন এবং নিজের বুক, মুখমণ্ডল, দুই বাহু এবং দুই হাতের তালু এভাবে রাখলেন এবং তা প্রসারিত করলেন। এরপর তিনি বললেন, এভাবেই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করতে দেখেছি।) সুনান আবু দাউদ "১৮৯৯", তিনি বলেছেন (যঈফ)।

আর আস-সাহীহাহ (২১৩৮) গ্রন্থে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসটির একাধিক সূত্রের কারণে একে হাসান বলেছেন। এর শব্দগুলো হলো: (তিনি রুকন ও দরজার মাঝখানে নিজের বুক, মুখমণ্ডল, দুই বাহু এবং দুই হাতের তালু রাখতেন। অর্থাৎ তওয়াফ করার সময়।)

আর আদ-দাঈফাহ গ্রন্থে ৪৮৬৫ নম্বর হাদীসের অধীনে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম থেকে 'আল-ইলতিজাম' (কাবার দেওয়াল আঁকড়ে ধরা) এর বিষয়টি এমন কিছু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে। এজন্যই আমি এটি 'সহীহুল জামি আস-সাগীর' গ্রন্থে ৪৮৮৮ নম্বরে উল্লেখ করেছি—যা তৃতীয় সংস্করণে ৫০১২ নম্বর—শব্দগুলো হলো: (তিনি মুলতাজামের সাথে নিজের বুক ও মুখমণ্ডল লাগিয়ে দিতেন)—আমি এটি আস-সাহীহাহ ২১৩৮-এ বর্ণনা করেছি এবং এর স্বপক্ষে একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে সহীহ মাওকুফ বর্ণনা উল্লেখ করেছি।

এটি সুনান ইবনে মাজাহ-র (২৯৬৩) নম্বরে আছে এবং শায়খ মাশহুর আল সালমান (হাফিজাহুল্লাহ) সম্পাদিত সংস্করণে একে হাসান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আর 'মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ' গ্রন্থে তিনি বলেন: (৩৮- এবং হাজীর জন্য রুকন ও দরজার মাঝখানের অংশ আঁকড়ে ধরার সুযোগ রয়েছে, সেখানে সে নিজের বুক, মুখমণ্ডল ও দুই বাহু রাখবে (৩) (৩) এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার মাধ্যমে হাদীসটি হাসানের পর্যায়ে উন্নীত হয়। এছাড়া একদল সাহাবীর আমল দ্বারা এর শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়, যাদের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রয়েছেন, তিনি বলেন: "এটিই রুকন ও দরজার মাঝখানের মুলতাজাম"। এছাড়া উরওয়াহ বিন যুবায়েরের আমল থেকেও এটি সহীহভাবে প্রমাণিত। এই সবকিছুই 'আল-আহাদীস আস-সাহীহাহ' (২১৩৮) গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

এটি এমন একটি হাদীস যাকে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) প্রথমে যঈফ বলেছিলেন, পরবর্তীতে হাসান বলেছেন।

(১১) নিশ্চয়ই জান্নাত তিন ব্যক্তির জন্য লালায়িত হয়: আলী, আম্মার এবং সালমান।) তিরমিযী ৩৭৯৭ নম্বরে বর্ণনা করেছেন এবং মিশকাত ৬২২৫ ও আল-হিদায়াহ ৬১৮৬ নম্বরে একে যঈফ বলা হয়েছে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (এর সনদ যঈফ, যদিও তিরমিযী একে হাসান বলেছেন, কারণ এতে হাসান বসরী আছেন এবং তিনি 'আন’আনা' করেছেন... হ্যাঁ, আনাস থেকে হাদীসটির অন্য একটি সূত্র আছে যার মাধ্যমে হাদীসটি শক্তিশালী হয় এবং তাতে এই তিনজনের সাথে মিকদাদের নামও উল্লেখ আছে। একারণেই আমি এটি আদ-দাঈফাহ "২৩২৮" নম্বরে উল্লেখ করেছি।

আর আদ-দাঈফাহ গ্রন্থের ২৩২৮ নম্বর হাদীসের অধীনে ৩৫৩ পৃষ্ঠায় শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: হ্যাঁ, আনাস থেকে মারফূ সূত্রে এর অন্য একটি পথ রয়েছে যার শব্দ হলো:

(তিনজন) যেখানে মিকদাদ ও আবু যর-এর উল্লেখ নেই। হাকেম ও অন্যান্যরা একে সহীহ বলেছেন, কিন্তু আমার নিকট এর সনদ যঈফ যেমনটি আমি মিশকাতের তাখরীজে (৬২২৫, দ্বিতীয় তাহকীক) স্পষ্ট করেছি—তবে এটি (উভয় সূত্রের সমন্বয়ে হাসান, আল্লাহই ভালো জানেন)।

এটি সহীহুল জামি'-তে (১৫৯৮) নম্বরে আছে এবং তিনি একে হাসান বলেছেন।

(১২) তিনি দোয়া করতেন: হে আল্লাহ! আমাকে ইসলামের মাধ্যমে দণ্ডায়মান অবস্থায় হিফাযত করুন, বসা অবস্থায় ইসলামের মাধ্যমে হিফাযত করুন এবং শায়িত অবস্থায় ইসলামের মাধ্যমে হিফাযত করুন। আমার ব্যাপারে কোনো হিংসুক শত্রুকে হাসার সুযোগ দেবেন না। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সেই সমস্ত কল্যাণ প্রার্থনা করছি যার ভাণ্ডার আপনার হাতে, আর আমি আপনার কাছে সেই সমস্ত অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি যার ভাণ্ডার আপনার হাতে।] (হাসান)। (আস-সাহীহাহ ১৫৪০ এবং সহীহুল জামি ১২৬০, শব্দগুলো হলো: হে আল্লাহ! আমাকে ইসলামের মাধ্যমে দণ্ডায়মান অবস্থায় হিফাযত করুন, বসা অবস্থায় ইসলামের মাধ্যমে হিফাযত করুন এবং শায়িত অবস্থায় ইসলামের মাধ্যমে হিফাযত করুন। আমার ব্যাপারে কোনো শত্রু বা হিংসুককে হাসার সুযোগ দেবেন না। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সেই সমস্ত কল্যাণ প্রার্থনা করছি যার ভাণ্ডার আপনার হাতে, আর আমি আপনার কাছে সেই সমস্ত অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি যার ভাণ্ডার আপনার হাতে।) শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আস-সাহীহাহ গ্রন্থে ১৫৪০ নম্বরের অধীনে বলেন: "আমি হাদীসটির অন্য একটি সূত্র পেয়েছি যা মুআল্লা ইবনে রুবা আল-হিমসি বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি সনদ উল্লেখ করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব কোনো এক বিপদে পড়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে অভিযোগ করলেন এবং তাকে এক ওসাক খেজুরের আদেশ দিতে অনুরোধ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যদি তুমি চাও তবে আমি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব যা তোমার জন্য এর চেয়েও উত্তম। তিনি বললেন: আমাকে সেগুলো শিখিয়ে দিন এবং আমার জন্য এক ওসাক খেজুরের নির্দেশ দিন কারণ আমি অভাবগ্রস্ত। অতঃপর তিনি বললেন … " আমি বলি: তিনি তা উল্লেখ করেছেন, ইবনে হিব্বান ২৪৩০ এবং দাইলামি এটি বর্ণনা করেছেন... মোটকথা, উভয় সূত্রের সমন্বয়ে হাদীসটি হাসান, আল্লাহই ভালো জানেন।

আর 'যঈফ মাওয়ারিদুজ জামআন' (৩১৪) গ্রন্থে শায়খ উমর ইবনুল খাত্তাবের হাদীসটিকে যঈফ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: যঈফ - আদ-দাঈফাহ ৬০০৩।

(১৩) (হে আল্লাহ! বিশেষ করে উমর ইবনুল খাত্তাবের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন) "বিশেষ করে" শব্দটুকু বাদে সহীহ। সহীহ ইবনে মাজাহ ৮৫। আর সিলসিলাহ আস-সাহীহাহ-তে (হে আল্লাহ! বিশেষ করে উমর ইবনুল খাত্তাবের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন) এর সনদ সহীহ, সিলসিলাহ আস-সাহীহাহ ৩২২৫। এবং 'সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন' (১৮২৮ - ২১৮০) গ্রন্থে বলেছেন: "হাসান লি গাইরিহি - আস-সাহীহাহ ৩২২৫"।

আল্লাহই ভালো জানেন।