(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
الزهد لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الزهد لابن أبي الدنيا

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

الناشر: دار ابن كثير، دمشق

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 235

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন আবি আদ-দুনিয়া রচিত যুহদ   (ইবন আবি আদ-দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: ইবন আবি আদ-দুনিয়া রচিত যুহদ

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন উবাইদ ইবন সুফিয়ান ইবন কায়স আল-বাগদাদি আল-উমাওয়ি আল-কুরাশি, যিনি ইবন আবি আদ-দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

প্রকাশক: দার ইবন কাসির, দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৫

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাহ্-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
1 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ مَنْظُورِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ، قَالَ: ثنا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، رضي الله عنه قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذِي الْحُلَيْفَةِ، فَرَأَى شَاةً شَائِلَةً بِرِجْلِهَا، فَقَالَ: «أَتَرَوْنَ هَذِهِ الشَّاةَ هَيِّنَةً عَلَى صَاحِبِهَا» ؟ قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ‌‌ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ عَلَى صَاحِبِهَا، وَلَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا شَرْبَةً "
১ - সাঈদ ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতী আমাদের নিকট যাকারিয়্যা ইবনে মানযুর ইবনে সা’লাবা ইবনে আবি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাযেম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল ইবনে সাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুল-হুলাইফা অতিক্রমকালে একটি পা উপরে তোলা মৃত ছাগল দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: "তোমরা কি এই ছাগলটিকে তার মালিকের নিকট তুচ্ছ মনে করো?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই দুনিয়া আল্লাহর নিকট এই ছাগলটি তার মালিকের কাছে যতটা তুচ্ছ তার চেয়েও অধিক তুচ্ছ। আর যদি দুনিয়া আল্লাহর নিকট একটি মশার ডানার সমপরিমাণও হতো, তবে তিনি পান করাতেন না কোনো কাফিরকে তা থেকে এক ঢোক পানি।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
2 - ثنا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ: إِنِّي لَفِي رَكْبٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ مَرَّ بِسَخْلَةٍ مَنْبُوذَةٍ فَقَالَ: «أَتَرَوْنَ هَذِهِ هَانَتْ عَلَى أَهْلِهَا حِينَ أَلْقَوْهَا» ؟ فَقَالُوا: مِنْ هَوَانِهَا أَلْقَوْهَا. قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ‌‌ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنْ هَذِهِ عَلَى أَهْلِهَا»
২ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন খিদাশ, তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি কায়েস বিন আবি হাযিম থেকে, তিনি মুস্তাওরিদ বিন শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক আরোহী দলের মধ্যে ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি একটি ফেলে দেওয়া মৃত মেষশাবকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «তোমরা কি মনে করো এটি যখন তার মালিকরা ফেলে দিয়েছিল, তখন এটি তাদের নিকট তুচ্ছ ছিল?» তারা বলল: তার তুচ্ছ হওয়ার কারণেই তারা তাকে ফেলে দিয়েছে। তিনি বললেন: «সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার নিকট দুনিয়া এর চেয়েও অধিক তুচ্ছ, যতটা এটি তার মালিকদের নিকট তুচ্ছ।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
3 - ثنا أَبُو خَيْثَمَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي حَاتِمٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَا: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، قَالَ: ثنا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنهما قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ مَيِّتَةٍ، فَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ‌‌ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ عز وجل مِنْ هَذِهِ الشَّاةِ عَلَى أَهْلِهَا»
৩ - আবু খাইসামাহ এবং মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবি হাতিম আল-আজদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মুহাম্মদ ইবন মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মৃত ছাগলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং বললেন: «সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে,‌‌ নিশ্চয়ই মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট এই দুনিয়া তার চেয়েও বেশি তুচ্ছ, যেমনটি এই ছাগলটি তার মালিকদের নিকট তুচ্ছ।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
4 - ثنا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ سَلْمَانَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ»
৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে সাব্বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ, মুসা আল-জুহানি থেকে, তিনি যাইদ ইবনে ওয়াহব থেকে, তিনি সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাত»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
5 - ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ سُفْيَانَ الْعَطَّارُ، قَالَ: ثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ»
৫ - ওয়ালিদ ইবনু সুফইয়ান আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনু আবী আদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আলা ইবনু আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাত»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
6 - ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ يَزِيدَ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: أُرَاهُ رَفَعَهُ، قَالَ: ⦗ص: 26⦘ "‌‌ يُجَاءُ بِالدُّنْيَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ: مَيِّزُوا مَا كَانَ مِنْهَا لِلَّهِ عز وجل، وَأَلْقُوا سَائِرَهَا فِي النَّارِ "
৬ - আব্বাস বিন ইয়াযিদ আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শিমর বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি উবাদাহ বিন আস-সামিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার মনে হয় তিনি এটি মারফু করেছেন, তিনি বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ "‌‌ কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে উপস্থিত করা হবে, অতঃপর বলা হবে: এর মধ্য থেকে যা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য ছিল তা পৃথক করো এবং এর অবশিষ্টাংশ নিক্ষেপ করো আগুনে।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
7 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: ثنا مِهْرَانُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ، وَمَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلَّا مَا كَانَ مِنْهَا لِلَّهِ عز وجل»
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিহরান ইবনে আবি উমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দুনিয়া অভিশপ্ত এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তাও অভিশপ্ত, তবে যতটুকু মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য নিবেদিত তা ব্যতীত»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
8 - ثنا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ حَنْطَبٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَنْ أَحَبَّ دُنْيَاهُ أَضَرَّ بِآخِرَتِهِ، وَمَنْ أَحَبَّ آخِرَتَهُ أَضَرَّ بِدُنْيَاهُ، فَآثِرُوا مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى»
8 - খালিদ ইবনে খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমর ইবনে আবি আমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুত্তালিব ইবনে হানতাব থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি নিজের দুনিয়াকে ভালোবাসবে সে তার আখিরাতের ক্ষতি করবে, আর যে ব্যক্তি নিজের আখিরাতকে ভালোবাসবে সে তার দুনিয়ার ক্ষতি করবে। অতএব তোমরা যা অবশিষ্ট থাকবে তাকে অগ্রাধিকার দাও তার ওপর যা বিলীন হয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
9 - حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: ثنا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ هِشَامٍ أَوْ عَوْفٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ⦗ص: 27⦘ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«حُبُّ الدُّنْيَا رَأْسُ كُلِّ خَطِيئَةٍ»
৯ - সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্বাদ ইবনুল আওয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম অথবা আউফ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «দুনিয়ার মোহ সকল পাপের মূল»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
10 - وَحَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، رضي الله عنه قَالَ:‌‌ لَمَّا بُعِثَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم أَتَتْ إِبْلِيسَ جُنُودُهُ فَقَالُوا: قَدْ بُعِثَ نَبِيٌّ وَأُخْرِجَتْ أُمَّتُهُ قَالَ: يُحِبُّونَ الدُّنْيَا؟ قَالُوا: نَعَمْ قَالَ: لَئِنْ كَانُوا يُحِبُّونَهَا مَا أُبَالِي أَلَّا يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ، وَأَنَا أَغْدُو عَلَيْهِمْ وَأَرُوحُ بِثَلَاثٍ: أَخْذِ الْمَالِ مِنْ غَيْرِ حَقِّهِ، وَإِنْفَاقِهِ فِي غَيْرِ حَقِّهِ، وَإِمْسَاكِهِ عَنْ حَقِّهِ، وَالشَّرُّ كُلُّهُ لِهَذَا تَبَعٌ "
১০ - সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি কায়স থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে হাবিব থেকে, তিনি আবু উমামা আল-বাহিলি (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হলেন, তখন ইবলিসের নিকট তার সৈন্যরা এল এবং তারা বলল: একজন নবী প্রেরিত হয়েছেন এবং তাঁর উম্মত আবির্ভূত হয়েছে। সে জিজ্ঞেস করল: তারা কি দুনিয়াকে ভালোবাসে? তারা বলল: হ্যাঁ। সে বলল: যদি তারা দুনিয়াকে ভালোবাসে, তবে তারা মূর্তিপূজা না করলেও আমি পরোয়া করি না। আমি তাদের নিকট সকাল-সন্ধ্যা তিনটি বিষয় নিয়ে উপস্থিত হব: অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ করা, অযোগ্য খাতে তা ব্যয় করা এবং তার হক বা পাওনা থেকে তা আটকে রাখা; আর সকল মন্দই এই বিষয়গুলোর অনুগামী।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
11 - حَدَّثَنِي أَبُو عَلِيٍّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَبَّانَ الطَّائِيُّ، ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَسْلَمُ الْكُوفِيُّ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رضي الله عنه قَالَ: كُنَّا مَعَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، فَدَعَا بِشَرَابٍ، فَأُتِيَ بِمَاءٍ وَعَسَلٍ، فَلَمَّا أَدْنَاهُ مِنْ فِيهِ بَكَى، وَبَكَى حَتَّى أَبْكَى أَصْحَابَهُ، فَسَكَتُوا وَمَا سَكَتَ، ثُمَّ عَادَ فَبَكَى حَتَّى ظَنُّوا أَنَّهُمْ لَنْ يَقْدِرُوا عَلَى مَسْأَلَتِهِ. قَالَ: ثُمَّ مَسَحَ عَيْنَيْهِ، فَقَالُوا: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ مَا أَبْكَاكَ؟ قَالَ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُهُ يَدْفَعُ عَنْ نَفْسِهِ شَيْئًا، وَلَمْ أَرَ مَعَهُ أَحَدًا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الَّذِي تَدْفَعُ عَنْ نَفْسِكَ؟ قَالَ: "‌‌ هَذِهِ الدُّنْيَا مُثِّلَتْ لِي فَقُلْتُ لَهَا: إِلَيْكِ عَنِّي، ثُمَّ رَجَعَتْ فَقَالَتْ: إِنَّكَ إِنْ أَفْلَتَّ مِنِّي فَلَنْ يَفْلِتَ مِنِّي مَنْ بَعْدَكَ "
১১ - আবু আলী আবদুর রহমান ইবনে যাব্বান আত-তাঈ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল ওয়াহিদ ইবনে যায়েদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আসলাম আল-কুফী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুররাহ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সাথে ছিলাম। তিনি পানীয় চাইলেন, তখন তাঁর কাছে পানি ও মধু নিয়ে আসা হলো। যখন তিনি তা তাঁর মুখের নিকট নিলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং এমনভাবে কাঁদলেন যে তাঁর সাথীদেরও কাঁদিয়ে দিলেন। এরপর তাঁরা শান্ত হয়ে গেলেও তিনি শান্ত হলেন না। অতঃপর তিনি পুনরায় কাঁদলেন, এমনকি তাঁরা ধারণা করলেন যে তাঁরা হয়তো তাঁকে আর কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারবেন না। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তিনি তাঁর চোখ মুছলেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! কিসে আপনাকে কাঁদালো? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে ছিলাম। আমি তাঁকে দেখলাম তিনি নিজের কাছ থেকে কোনো কিছু সরিয়ে দিচ্ছেন, অথচ আমি তাঁর সাথে কাউকে দেখছিলাম না। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি নিজের কাছ থেকে কী সরিয়ে দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "‌‌এই দুনিয়া আমার সামনে মূর্ত হয়ে উপস্থিত হয়েছিল, তখন আমি তাকে বললাম: আমার কাছ থেকে দূরে সরে যা। এরপর সে ফিরে এসে বলল: আপনি যদি আমার থেকে মুক্তি পেয়েও যান, তবে আপনার পরের লোকেরা আমার থেকে কিছুতেই মুক্তি পাবে না।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
12 - ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، سَمِعَهُ يَقُولُ: أَخْبَرَنَا الْمُسْتَوْرِدُ الْفِهْرِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «وَاللَّهِ‌‌ مَا الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مِثْلُ مَا يَجْعَلُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهُ فِي الْيَمِّ، فَلْيَنْظُرُ مَا يَرْجِعُ إِلَيْهِ»
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি ইসমাঈল থেকে, তিনি কায়েস থেকে, তিনি তাকে বলতে শুনেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুস্তাওরিদ আল-ফিহরি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: «আল্লাহর শপথ! আখিরাতের তুলনায় দুনিয়া কেবল এমন, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রে তার একটি আঙ্গুল প্রবেশ করাল, অতঃপর সে যেন লক্ষ্য করে কী নিয়ে ফিরে আসে তা»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
13 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: وَاللَّهِ‌‌ مَا الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا كَنَفْجَةِ أَرْنَبٍ "
১৩ - মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল-ইজলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের নিকট মুজালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আশ-শা'বি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আল্লাহর কসম, আখেরাতের তুলনায় দুনিয়া কেবল একটি খরগোশের লাফের মতো।
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
14 - حَدَّثَنِي حَمْدُونُ بْنُ سَعْدٍ الْمُؤَدِّبُ، قَالَ: ثنا النَّضْرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُوسَى الصَّغِيرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«يَا عَجَبًا كُلَّ الْعَجَبِ لِلْمُصَدِّقِ بِدَارِ الْخُلُودِ وَهُوَ يَسْعَى لِدَارِ الْغُرُورِ»
১৪ - হামদুন ইবনে সাদ আল-মুয়াদ্দিব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আন-নাদর ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন মুসা আস-সাগীর থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররা থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কি বিস্ময়! সেই ব্যক্তির জন্য চরম বিস্ময় যে চিরস্থায়ী আবাসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, অথচ সে প্রতারণার আবাসের জন্য সচেষ্ট থাকে।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
15 - حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: قَالَ الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ: سَمِعْتُ بِلَالَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: ‌‌«لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَزِنُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى فِرْعَوْنَ مِنْهَا شَرْبَةَ مَاءٍ»
১৫ - সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদ-দাহহাক ইবনে উসমান বলেছেন: আমি বিলাল ইবনে সা'দকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আবু আদ-দারদা বলেছেন: “যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়ার ওজন একটি মশার ডানার সমান হতো, তবে তিনি ফিরআউনকে তা থেকে এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।”
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
16 - حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: ثنا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: ‌‌«الدُّنْيَا دَارُ مَنْ لَا دَارَ لَهُ، وَمَالُ مَنْ لَا مَالَ لَهُ، وَلَهَا يَجْمَعُ مَنْ لَا عَقْلَ لَهُ»
১৬ - সুরায়জ ইবনে ইউনুস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমবাসাহ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আমাদের বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি বলেন: ইবনে মাসউদ বলেছেন: «দুনিয়া তার ঘর যার কোনো ঘর নেই, এবং তার সম্পদ যার কোনো সম্পদ নেই, আর এর জন্যই সেই ব্যক্তি সম্পদ জমা করে যার কোনো বুদ্ধি নেই।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
17 - ثنا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَعَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَا: ثنا سَيَّارٌ، قَالَ: ثنا جَعْفَرٌ، قَالَ: ثنا مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ: قَالُوا لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: يَا أَبَا الْحَسَنِ صِفْ لَنَا الدُّنْيَا. قَالَ: أُطِيلُ أَمْ أُقْصِرُ؟ قَالُوا: بَلْ أَقْصِرْ. قَالَ:‌‌ حَلَالُهَا حِسَابٌ، وَحَرَامُهَا النَّارُ "
১৭ - হারুন ইবন আবদুল্লাহ এবং আলি ইবন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবন দিনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁরা আলি ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: হে আবুল হাসান, আমাদের নিকট দুনিয়ার বিবরণ দিন। তিনি বললেন: আমি কি বিস্তারিত বলব নাকি সংক্ষেপে? তাঁরা বললেন: বরং সংক্ষেপ করুন। তিনি বললেন: “এর হালাল জিনিসের হিসাব দিতে হবে এবং এর হারামের পরিণাম জাহান্নাম।”
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
18 - حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، عَنْ شَيْخٍ مِنْ بَنِي عَدِيٍّ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ صِفْ لَنَا الدُّنْيَا قَالَ: وَمَا أَصِفُ لَكَ مِنْ دَارٍ: ‌‌«مَنْ صَحَّ فِيهَا أَمِنَ، وَمَنْ سَقِمَ فِيهَا نَدِمَ، وَمَنِ افْتَقَرَ فِيهَا حَزِنَ، وَمَنِ اسْتَغْنَى فِيهَا فُتِنَ، فِي حَلَالِهَا الْحِسَابُ، وَفِي حَرَامِهَا النَّارُ»
১৮ - হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাইমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বনু আদী গোত্রের এক শায়খ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমাদের নিকট দুনিয়ার বর্ণনা দিন। তিনি বললেন: আমি তোমার নিকট এমন এক আবাসস্থলের কী বর্ণনা দেব যাতে: «যে ব্যক্তি এতে সুস্থ থাকে সে নিরাপদ বোধ করে, যে অসুস্থ হয় সে অনুতপ্ত হয়, যে অভাবগ্রস্ত হয় সে বিষণ্ণ হয়, আর যে সচ্ছল হয় সে ফিতনায় পড়ে; এর হালাল কাজে রয়েছে হিসাব এবং হারামে রয়েছে জাহান্নামের আগুন।’»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
19 - حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ هَاشِمٍ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ الْحَوْطِيُّ، قَالَ: ثنا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ أَبِي الْحَجَّاجِ الْمَهْرِيِّ، عَنْ أَبِي مَيْمُونٍ اللَّخْمِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَفَ عَلَى مَزْبَلَةٍ فَقَالَ: " هَلُمُّوا إِلَى الدُّنْيَا، وَأَخَذَ خِرَقًا قَدْ بَلِيَتْ عَلَى تِلْكَ الْمَزْبَلَةِ، وَعِظَامًا قَدْ نَخِرَتْ، فَقَالَ: ‌‌«هَذِهِ الدُّنْيَا»
১৯ - আল-কাসিম ইবনে হাশিম আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ আল-হাওতি আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আল-হাজ্জাজ আল-মাহরি থেকে, তিনি আবু মাইমুন আল-লাখমি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি ময়লার স্তূপের পাশে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "দুনিয়ার দিকে এসো।" অতঃপর তিনি সেই ময়লার স্তূপ থেকে কিছু জীর্ণ ন্যাকড়া এবং জরাজীর্ণ হাড় হাতে নিলেন এবং বললেন: «এই হলো দুনিয়া»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
20 - ثنا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: ثنا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ، وَإِنَّ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَنَاظِرٌ كَيْفَ تَعْمَلُونَ، إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمَّا بُسِطَتْ لَهُمُ الدُّنْيَا وَمُهِّدَتْ تَبَاهَوْا فِي الْحِلْيَةِ وَالنِّسَاءِ وَالطِّيبِ وَالثِّيَابِ»
২০ - দাউদ ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানসুর ইবনে আবিল আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ দুনিয়া সুমিষ্ট ও সবুজ-শ্যামল, আর আল্লাহ তোমাদের এতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবেন এবং দেখবেন তোমরা কী কাজ করো। বনী ইসরাঈলের জন্য যখন দুনিয়াকে প্রশস্ত ও অবারিত করা হয়েছিল, তখন তারা অলঙ্কার, নারী, সুগন্ধি এবং পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে অহংকারে মেতে উঠেছিল।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
21 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَبَّاسِ الْبَاهِلِيُّ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ الْأَعْلَمِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ: ‌‌«مَا شُبِّهَتِ الدُّنْيَا إِلَّا كَرَجُلٍ نَامَ فَرَأَى فِي مَنَامِهِ مَا يَكْرَهُ وَمَا يُحِبُّ، فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذِ انْتَبَهَ»
২১ - মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুল আব্বাস আল-বাহিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াজ ইবনুল আলাম থেকে বর্ণিত, ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «দুনিয়ার উপমা কেবল সেই ব্যক্তির ন্যায় যে ঘুমাল এবং স্বপ্নে এমন কিছু দেখল যা সে অপছন্দ করে এবং যা সে পছন্দ করে; এমতাবস্থায় থাকাকালীনই হঠাৎ সে জাগ্রত হয়ে গেল।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
22 - ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: قِيلَ لِبَعْضِ الْحُكَمَاءِ: أَيُّ شَيْءٍ أَشْبَهُ بِالدُّنْيَا؟ قَالَ: ‌‌«أَحْلَامُ النَّائِمِ»
২২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনে উয়াইনাহ, তিনি বলেন: জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হলো: দুনিয়ার সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয় কোনটি? তিনি বললেন: ‘ঘুমন্ত ব্যক্তির স্বপ্ন’।
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
23 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا زَكَرِيَّا الْمَنْتُوفَ، يُحَدِّثُ الْقَوَارِيرِيَّ قَالَ: ذُكِرَتِ الدُّنْيَا عِنْدَ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، فَقَالَ:

‌‌أَحْلَامُ نَوْمٍ أَوْ كَظِلٍّ زَائِلٍ … إِنَّ اللَّبِيبَ بِمِثْلِهَا لَا يُخْدَعُ
২৩ - মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু যাকারিয়া আল-মানতুফকে আল-কাওয়ারীরির নিকট বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাসান বসরীর নিকট দুনিয়ার কথা আলোচনা করা হলো, তখন তিনি বললেন:

ঘুমের স্বপ্ন অথবা বিলীয়মান ছায়ার মতো ... নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান ব্যক্তি এই জাতীয় জিনিসের দ্বারা প্রতারিত হয় না।
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
24 - وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ الْحَكَمِ الرَّقِّيُّ، قَالَ: كَانَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ عليهما السلام يَتَمَثَّلُ وَيُرْوَى أَنَّهُ مِنْ قَوْلِهِ:

[البحر البسيط]

 

‌‌يَا أَهْلَ لَذَّاتِ دُنْيَا لَا بَقَاءَ لَهَا … إِنَّ اغْتِرَارًا بِظِلٍّ زَائِلٍ حُمْقُ
২৪ - এবং মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনুল হাকাম আর-রাক্কি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী (আলাইহিমাস সালাম) কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং বর্ণিত আছে যে এটি তাঁরই উক্তি:

[আল-বাহরুল বাসিত ছন্দ]

 

‌‌হে নশ্বর পৃথিবীর ভোগবিলাসে মত্তরা! যার কোনো স্থায়িত্ব নেই … নিশ্চয়ই ক্ষয়িষ্ণু ছায়ার মোহে প্রতারিত হওয়া বোকামি
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
25 - حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ، قَالَ: نَزَلَ أَعْرَابِيٌّ بِقَوْمٍ فَقَدَّمُوا إِلَيْهِ طَعَامًا، فَأَكَلَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى ظِلِّ خَيْمَةٍ لَهُمْ فَنَامَ هُنَاكَ، فَاقْتَلَعُوا الْخَيْمَةَ فَأَصَابَتْهُ الشَّمْسُ فَانْتَبَهَ وَقَامَ وَهُوَ يَقُولُ:

[البحر الطويل]

‌‌أَلَا إِنَّمَا الدُّنْيَا كَظِلٍّ بِنَيْتَهُ … وَلَا بُدَّ يَوْمًا أَنَّ ظِلَّكَ زَائِلُ
২৫ - মুসা ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুক্রি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক বেদুইন এক সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হলো, তারা তার সম্মুখে খাবার পেশ করল এবং সে আহার করল। অতঃপর সে তাদের একটি তাঁবুর ছায়ার নিচে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। পরবর্তীতে তারা তাঁবুটি সরিয়ে ফেলল এবং তার গায়ে রোদ লাগল। তখন সে জাগ্রত হলো এবং দাঁড়িয়ে বলতে লাগল:

[তওয়ীল ছন্দ]

‌‌জেনে রেখো, দুনিয়া তো কেবল তোমার তৈরি করা একটি ছায়ার ন্যায় … আর একদিন অবশ্যই তোমার সেই ছায়া বিলীন হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
26 - حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَنَسٍ الْأَسَدِيُّ، قَالَ: مَرَّ قَوْمٌ بِأَبْرَقَ الْعَزَّافِ فَسَمِعُوا هَاتِفًا يَقُولُ:

[البحر الطويل]

‌‌وَإِنَّ امْرَءًا دُنْيَاهُ أَكْبَرُ هَمِّهِ … لَمُسْتَمْسِكٌ مِنْهَا بِحَبْلِ غُرُورِ
২৬ - হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আনাস আল-আসাদী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদল লোক 'আবরাকুল আজজাফ' নামক স্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা এক অদৃশ্য আহ্বানকারীকে বলতে শুনলেন:

[বাহরুত তাওয়ীল]

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তির দুনিয়াই তার সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় … সে তো এর এক ধোঁকার রশিই আঁকড়ে ধরে আছে।
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
27 - حَدَّثَنِي أَبُو عَلِيٍّ الطَّائِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ لَيْثٍ، أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، عليه السلام رَأَى الدُّنْيَا فِي صُورَةِ عَجُوزٍ هَتْمَاءَ، عَلَيْهَا مِنْ كُلِّ زِينَةٍ، فَقَالَ لَهَا: كَمْ تَزَوَّجْتِ؟ قَالَتْ: ⦗ص: 33⦘ لَا أُحْصِيهِمْ، قَالَ: فَكُلُّهُمْ مَاتَ عَنْكِ أَوْ كُلُّهُمْ طَلَّقَكِ؟ قَالَتْ: بَلْ كُلُّهُمْ قَتَلْتُ، قَالَ: فَقَالَ عِيسَى عليه السلام:‌‌ بُؤْسًا لِأَزْوَاجِكَ الْبَاقِينَ كَيْفَ لَا يَعْتَبِرُونَ بِأَزْوَاجِكِ الْمَاضِينَ؟ كَيْفَ تُهْلِكِينَهُمْ وَاحِدًا وَاحِدًا وَلَا يَكُونُونَ مِنْكِ عَلَى حَذَرٍ؟
২৭ - আবু আলী আত-তায়্যি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, যে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) দুনিয়াকে একজন দন্তহীন বৃদ্ধার বেশে দেখেছিলেন, যার ওপর সব ধরণের অলঙ্কার ছিল। তিনি তাকে বললেন: তুমি কতজনকে বিবাহ করেছ? তিনি বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ আমি তাদের সংখ্যা গণনা করতে পারব না। তিনি বললেন: তারা সবাই কি তোমার আগে মারা গেছে, নাকি তারা সবাই তোমাকে তালাক দিয়েছে? তিনি বললেন: বরং আমি তাদের সবাইকেই হত্যা করেছি। তিনি বললেন: তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: তোমার অবশিষ্ট স্বামীদের জন্য দুর্ভোগ! তারা কেন তোমার অতীত স্বামীদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না? তুমি কীভাবে তাদের একে একে ধ্বংস করছ, অথচ তারা তোমার থেকে সতর্ক হচ্ছে না?
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
28 - ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: ثنا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: ثنا عَوْفٌ، عَنْ أَوْفَى بْنِ دَلْهَمٍ، عَنْ الْعَلَاءِ، قَالَ: رَأَيْتُ فِي النَّوْمِ عَجُوزًا كَبِيرَةً مُتَغْضَنَةَ الْجِلْدِ، عَلَيْهَا مِنْ كُلِّ زِينَةِ الدُّنْيَا، وَالنَّاسُ عُكُوفٌ عَلَيْهَا، مُتَعَجِّبُونَ يَنْظُرُونَ إِلَيْهَا، فَجِئْتُ فَنَظَرْتُ فَعَجِبْتُ مِنْ نِظَرِهِمْ إِلَيْهَا، وَإِقْبَالِهِمْ عَلَيْهَا، فَقُلْتُ لَهَا: وَيْلَكِ مَنْ أَنْتِ؟ قَالَتْ: أَوَمَا تَعْرِفُنِي؟ قُلْتُ: لَا، مَا أَدْرِي مَا أَنْتِ؟ قَالَتْ: فَإِنِّي أَنَا الدُّنْيَا. قَالَ: قُلْتُ:‌‌ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّكِ. قَالَتْ: فَإِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تُعَاذَ مِنْ شَرِّي فَابْغُضِ الدِّرْهَمَ "
২৮ - ইসহাক ইবন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ ইবন উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আউফ আমাদের নিকট আওফা ইবন দালহাম থেকে, তিনি আল-আলা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে অত্যন্ত বৃদ্ধা এক নারীকে দেখলাম যার চামড়া ছিল কুঁচকানো, তার ওপর দুনিয়ার যাবতীয় সৌন্দর্য ও অলঙ্কার বিদ্যমান ছিল। মানুষ তার চারপাশে ভিড় করে ছিল এবং বিস্ময়ের সাথে তার দিকে তাকাচ্ছিল। আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকালাম এবং তাদের এই অবলোকন ও তার প্রতি তাদের এই আসক্তি দেখে বিস্মিত হলাম। অতঃপর আমি তাকে বললাম: "ধিক তোমাকে! তুমি কে?" সে বলল: "তুমি কি আমাকে চেনো না?" আমি বললাম: "না, আমি জানি না তুমি কে।" সে বলল: "আমিই দুনিয়া।" তিনি (আল-আলা) বলেন: আমি বললাম: "আমি তোমার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" সে বলল: "তুমি যদি আমার অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত থাকতে চাও, তবে দিরহামকে (অর্থকড়ি) ঘৃণা করো।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি ইবনে আবীদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
29 - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ: ‌‌«رَأَيْتُ الدُّنْيَا - يَعْنِي فِي النَّوْمِ - عَجُوزًا مُشَوَّهَةً حَدْبَاءَ»
২৯ - ইবরাহীম ইবন সাঈদ আল-জাওহারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফইয়ান ইবন উইয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবন আইয়াশ বলেছেন: «আমি দুনিয়াকে—অর্থাৎ স্বপ্নে—এক বিকৃত ও কুঁজো বৃদ্ধা হিসেবে দেখেছি»