(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: -)
الزهد لأبي داود   (أبو داود)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الزهد

المؤلف: أبو داود سليمان السجِستاني

رواية: ابن الأعرابي عنه

تحقيق: أبو تميم ياسر بن ابراهيم بن محمد، أبو بلال غنيم بن عباس بن غنيم

قدم له وراجعه: فضيلة الشيخ محمد عمرو بن عبد اللطيف

الناشر: دار المشكاة للنشر والتوزيع، حلوان - مصر

الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م

عدد الصفحات: 401

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু দাউদ সংকলিত আয-যুহদ   (আবু দাউদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আয-যুহদ

লেখক: আবু দাউদ সুলাইমান আস-সিজিস্তানি

বর্ণনা: তাঁর থেকে ইবনুল আরাবি

তাহকিক: আবু তামিঁম ইয়াসির বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ، আবু বিলাল গুনাইম বিন আব্বাস বিন গুনাইম

ভূমিকা ও পর্যালোচনা: শাইখ মুহাম্মাদ আমর বিন আব্দুল লতিফ

প্রকাশক: দারুল মিশকাত প্রকাশনী، হেলওয়ান - মিসর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০১

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَحِيمِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর।
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣١)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ السَّكَنِ الْأُبُلِّيُّ، قَالَ: نا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ: نا هِشَامٌ صَاحِبُ الدَّسْتُوَائِيِّ قَالَ: رَأَيْتُ فِي كِتَابٍ بَلَغَنِي أَنَّهُ مِنْ كَلَامِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ: «تَعْمَلُونَ لِلدُّنْيَا وَأَنْتُمْ تُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ عَمَلٍ، وَلَا تَعْمَلُونَ لِلْآخِرَةِ وَأَنْتُمْ لَا تُرْزَقُونَ فِيهَا إِلَّا بِالْعَمَلِ؟ وَيْلَكُمْ عُلَمَاءَ السُّوءِ؛ الْأَجْرَ تَأْخُذُونَ ، وَالْعَمَلَ تُضَيِّعُونَ فَيُوشِكُ رَبُّ الْعَمَلِ أَنْ يَطْلُبَ عَمَلَهُ، وَتُوشِكُونَ أَنْ تَخْرُجُوا مِنَ الدُّنْيَا الْعَرِيضَةِ إِلَى ظُلْمَةِ الْقَبْرِ وَضِيقِهِ، كَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مَنِ اتَّهَمَ اللَّهَ فِيمَا قَضَى فَلَيْسَ يَرْضَى بِشَيْءٍ أَصَابَهُ؟ كَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مَنْ دُنْيَاهُ آثَرُ عِنْدَهُ مِنْ آخِرَتِهِ، وَهُوَ فِي دُنْيَاهُ أَفْضَلُ رَغْبَةً؟ ⦗ص: 32⦘ كَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مَنْ يَطْلُبُ الْكَلَامَ لِيُخْبِرَ بِهِ، وَلَا يَطْلُبُهُ لِيَعْمَلَ بِهِ فِي أَشْيَاءَ؟»
১ - আমাদের নিকট আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল সাকান আল-উবুল্লি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আমির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট দাস্তাওয়াইর সঙ্গী হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি একটি কিতাবে দেখেছি যা আমার নিকট পৌঁছেছে যে এটি ঈসা ইবনে মারইয়ামের কথা: «তোমরা দুনিয়ার জন্য কাজ করো অথচ সেখানে তোমাদের কাজ ছাড়াই রিজিক দেওয়া হচ্ছে, আর তোমরা আখিরাতের জন্য কাজ করো না অথচ সেখানে কাজ ছাড়া তোমাদের রিজিক দেওয়া হবে না? তোমাদের জন্য দুর্ভোগ হে মন্দ আলেমগণ! তোমরা পারিশ্রমিক গ্রহণ করো, কিন্তু কাজ নষ্ট করো; শীঘ্রই কাজের মালিক তাঁর কাজ বুঝে চাইবেন। আর শীঘ্রই তোমরা এই প্রশস্ত দুনিয়া থেকে কবরের অন্ধকার ও সংকীর্ণতার দিকে প্রস্থান করবে। সে কীভাবে ইলমওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যে আল্লাহর ফয়সালার বিষয়ে তাঁকে অভিযুক্ত করে এবং তার ওপর আপতিত কোনো বিষয়েই সে সন্তুষ্ট হয় না? সে কীভাবে ইলমওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যার নিকট আখিরাতের চেয়ে দুনিয়া অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য এবং দুনিয়ার প্রতিই যার আকাঙ্ক্ষা বেশি? ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ সে কীভাবে ইলমওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যে কেবল অন্যের নিকট বর্ণনা করার জন্যই কথা (ইলম) সন্ধান করে, কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ে আমল করার জন্য তা সন্ধান করে না?»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ، قَالَ: نا نَصْرُ بْنُ غَازِيَةَ، قَالَ: نا ابْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْقَيْسِيِّ، قَالَ: نا رَجُلٌ، فِي مَجْلِسِ مَكْحُولٍ قَالَ: مَكْتُوبٌ فِي الْإِنْجِيلِ: طُوبَى لِلْمُتَرَاحِمِينَ، فِيَّ أُولَئِكَ الْمَرْحُومُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، طُوبَى لِلْمُتَوَاضِعِينَ، فِيَّ أُولَئِكَ الْمَرْفُوعُونَ لِمَنَابِرِ الْمُلْكِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، طُوبَى لِلْمُطَهَّرَةِ. . "
২ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল কারীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নাসর ইবনে গাজিয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি সাঈদ আল-কাইসি থেকে, তিনি বলেন: মাকহুলের মজলিসে জনৈক ব্যক্তি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইনজিলে লিখিত আছে: সুসংবাদ ঐ সকল দয়াশীলদের জন্য যারা আমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে পরস্পর দয়া প্রদর্শন করে, কিয়ামতের দিন তারাই রহমতপ্রাপ্ত হবে; সুসংবাদ ঐ সকল বিনয়ীদের জন্য যারা আমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে বিনয় অবলম্বন করে, কিয়ামতের দিন তারাই রাজত্বের মিম্বরসমূহে উন্নীত হবে; সুসংবাদ পবিত্রতা অর্জনকারীদের জন্য। . "
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: نا ⦗ص: 33⦘ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ أَبُو هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: سَمِعْتُ وَهْبًا، يَقُولُ: قَرَأْتُ فِي كِتَابٍ أَخْبَرَ أَنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يَقُولُ: «بِعِزَّتِي إِنَّهُ مَنِ اعْتَصَمَ بِي وَإِنْ كَادَتْهُ السَّمَاوَاتُ بِمَنْ فِيهِنَّ، وَالْأَرْضُونَ بِمَنْ فِيهِنَّ ، فَإِنِّي أَجْعَلُ لَهُ مِنْ بَيْنِ ذَلِكَ مَخْرَجًا، وَمَنْ لَمْ يَعْتَصِمْ بِي فَإِنِّي آخِذٌ بِهِ مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْهِ الْأَرْضَ، فَأَجْعَلُهُ فِي الْهَوَاءِ، ثُمَّ أَكِلُهُ إِلَى نَفْسِهِ»
৩ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মাখলাদ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ আবু হিশাম ইসমাঈল ইবনে আব্দুল কারিম, তিনি বলেন: আব্দুস সামাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াহাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি একটি কিতাবে পাঠ করেছি যা সংবাদ দেয় যে, আল্লাহ বরকতময় ও সুউচ্চ বলেন: «আমার মর্যাদার শপথ! নিশ্চয় যে ব্যক্তি আমার আশ্রয় গ্রহণ করবে, আকাশমণ্ডলী ও তাতে যারা আছে এবং জমিনসমূহ ও তাতে যারা আছে তারা যদি তার বিরুদ্ধে চক্রান্তও করে, তবুও আমি তার জন্য সেই পরিস্থিতির মধ্য থেকে বের হওয়ার পথ করে দেব। আর যে ব্যক্তি আমার আশ্রয় গ্রহণ করবে না, আমি তার দুই পায়ের নিচ থেকে জমিন ছিনিয়ে নেব এবং তাকে শূন্যে নিক্ষেপ করব, অতঃপর তাকে তার নিজের ওপরই সোপর্দ করব।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا الْهَيْثَمُ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، أَنَّ مُحَمَّدًا الْعَنْقَزِيَّ، حَدَّثَهُمْ قَالَ: أنا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمَّارٍ الدُّهْنِيِّ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: " إِنِّي أَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ: مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَهُوَ كَمَنْ نَصَبَ لِيَ الْحَرْبَ "
4 - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাইসাম বিন খালিদ আল-জুহানি বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ আল-আনকাজি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউনুস বিন আবি ইসহাক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আম্মার আদ-দুহনি থেকে, তিনি ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর কিতাবে পাই: যে ব্যক্তি আমার কোনো অলীর সাথে শত্রুতা করবে, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলো।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: نا بَقِيَّةُ، قَالَ: ني حَبِيبٌ يَعْنِي ابْنَ صَالِحٍ قَالَ: نا أَبُو الْوَفَاءِ، عَنْ طَاوُسٍ الْيَمَانِيِّ، قَالَ: ⦗ص: 34⦘ " إِنِّي لَأَجِدُ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ الَّذِي أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: لَنْ يَنْجُوَ مِنِّي عَبْدٌ إِلَّا بِأَدَاءِ مَا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ، وَمَا اقْتَرَبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِأَفْضَلَ مِنَ النَّصِيحَةِ، وَلَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ، كُنْتُ قَلْبَهُ الَّذِي يَعْقِلُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، إِنْ سَأَلَنِي أَعْطَيْتُهُ، وَإِنْ دَعَانِي أَجَبْتُهُ، وَإِنِ اسْتَنْصَرَ بِي نَصَرْتُهُ "
৫ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাবিব অর্থাৎ ইবনে সালিহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ওয়াফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাউস আল-ইয়ামানি থেকে, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত কিছু কিতাবে দেখতে পাই যে: কোনো বান্দাই আমার থেকে মুক্তি পাবে না তার ওপর আমি যা ফরজ করেছি তা আদায় করা ব্যতীত। আর আমার বান্দা নসিহতের (আন্তরিকতা) চেয়ে উত্তম আর কোনো কিছুর মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে অনবরত আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। অতঃপর সে যখন তা করে, আমি তার সেই হৃদয় হয়ে যাই যার মাধ্যমে সে অনুধাবন করে এবং তার সেই চক্ষু হয়ে যাই যার মাধ্যমে সে দেখে। যদি সে আমার কাছে চায়, আমি তাকে দান করি; যদি সে আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দেই; এবং যদি সে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে আমি তাকে সাহায্য করি।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا. . بْنُ عَلِيٍّ،. . . . نا مَالِكٌ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلٍ: أَنَّ مَلِكًا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ رَكَبَ يَوْمًا فِي مَوْكِبٍ لَهُ، فَتَشَرَّفَ النَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ، حَتَّى مَرَّ بِرَجُلٍ يَعْمَلُ شَيْئًا مُكِبًّا عَلَيْهِ ، فَلَمْ يَرْفَعْ رَأْسَهُ إِلَيْهِ، فَوَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ: كُلُّ النَّاسِ تَشَرَّفَ عَلَيَّ وَنَظَرَ إِلَيَّ إِلَّا أَنْتَ؟ قَالَ الرَّجُلُ: إِنِّي رَأَيْتُ مَلِكًا قَبْلَكَ كَانَ عَلَى هَذِهِ الْقَرْيَةِ، مَاتَ هُوَ ⦗ص: 35⦘ وَمِسْكِينٌ، فَدُفِنَ الرَّجُلُ إِلَى جَنْبِهِ، فَلَمْ أَزَلْ أَتَعَاهَدُهُمَا كُلَّ يَوْمٍ أَنْظُرُ إِلَيْهِمَا حَتَّى تَفَرَّقَتْ أَوْصَالُهُمَا، وَكَشَفَتِ الرِّيحُ عَنْ قُبُورِهِمَا، ثُمَّ اخْتَلَطَ رَأْسُ هَذَا وَرَأْسُ هَذَا، وَعِظَامُ هَذَا وَعِظَامُ هَذَا، فَلَمْ أَعْرِفْ رَأْسَ الْمَلِكِ مِنْ رَأْسِ النَّاسِ فَلِذَلِكَ لَمْ أَنْظُرْ إِلَيْكَ
৬ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ... বিন আলী বর্ণনা করেছেন, ... আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি তার চাচা আবু সুহাইল থেকে বর্ণনা করেন যে: বনী ইসরাঈলের এক রাজা একদিন তার এক শোভাযাত্রায় বের হলেন। লোকেরা তাকে দেখার জন্য উৎসুক হয়ে ঘাড় উঁচু করে তাকাচ্ছিল। অবশেষে তিনি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যে নিবিষ্ট মনে কোনো কাজ করছিল। সে রাজার দিকে মাথা তুলে তাকাল না। তখন রাজা তার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: "তুমি ছাড়া অন্য সকল মানুষই আমার দিকে উৎসুক হয়ে তাকিয়েছিল?" লোকটি বলল: "আমি আপনার আগে এই জনপদে একজন রাজা দেখেছিলাম। তিনি মারা গেলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ এবং এক দরিদ্র ব্যক্তিও মারা গেল। অতঃপর সেই লোকটিকে তার (রাজার) পাশেই দাফন করা হলো। আমি প্রতিদিন তাদের দুজনকে পর্যবেক্ষণ করতাম এবং তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, যতক্ষণ না তাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং বাতাস তাদের কবর থেকে মাটি সরিয়ে দিল। এরপর একজনের মাথা অন্যজনের মাথার সাথে এবং একজনের হাড় অন্যজনের হাড়ের সাথে মিশে গেল। ফলে আমি সাধারণ মানুষের মাথা থেকে রাজার মাথাকে আলাদা করে চিনতে পারলাম না। এই কারণেই আমি আপনার দিকে তাকালাম না।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ قَالَ: نا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ بَكَّارِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنِ ابْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: " قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى فِيمَا عَيَّرَ بِهِ الْأَحْبَارَ، أَحْبَارَ بَنِي إِسْرَائِيلَ: " تَفْقَهُونَ لِغَيْرِ الْعِبَادَةِ، وَتَعْلَمُونَ لِغَيْرِ الْعَمَلِ، وَتَلْتَمِسُونَ الدُّنْيَا بِعَمَلِ الْآخِرَةِ وَتُنَقُّونَ الْقَذَا مِنْ شَرَابِكُمْ ، وَتَبْتَلِعُونَ أَمْثَالَ الْجِبَالِ مِنَ الْحَرَامِ، وَتُثْقِلُونَ الدِّينَ عَلَى النَّاسِ ، وَلَا تُعِينُوهُمْ بِرَفْعِ الْخَنَاصِرِ، وَتَلْبَسُونَ جُلُودَ الضَّأْنِ وَتُخْفُونَ أَنْفُسَ الذِّئَابِ ، وَتُبَيِّضُونَ ثِيَابَكُمْ تَقْتَبِسُونَ بِذَلِكَ مَالَ الْيَتِيمِ وَالْأَرْمَلَةِ، قَالَ اللَّهُ: فَبِعِزَّتِي حَلَفْتُ لَأَضْرِبَنَّكُمْ بِفِتْنَةٍ يَضِلُّ فِيهَا عَقْلُ ذِي الْعَقْلِ وَحِكْمَةُ الْحَكِيمِ "
৭ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মাহমুদ ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন বাক্কার ইবনে আবদুল্লাহ আস-সানআনি থেকে, তিনি ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বনী ইসরাঈলের পণ্ডিতদের তিরস্কার করে যা বলেছেন তা হলো: 'তোমরা ইবাদত ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে দ্বীনি গভীর জ্ঞান অর্জন করছ, আমল করা ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে জ্ঞান লাভ করছ এবং পরকালের আমলের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করছ। তোমরা তোমাদের পানীয় থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ময়লা পরিষ্কার করছ, অথচ পাহাড়ের ন্যায় হারাম বস্তুসমূহ গিলে ফেলছ। তোমরা মানুষের ওপর দ্বীনকে বোঝা স্বরূপ চাপিয়ে দিচ্ছ, অথচ কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়েও তাদের সাহায্য করছ না। তোমরা ভেড়ার চামড়া পরিধান করছ অথচ তোমাদের ভেতরে নেকড়ের আত্মা লুকিয়ে রাখছ। তোমরা তোমাদের পোশাক শুভ্র করছ আর এর মাধ্যমে এতিম ও বিধবাদের সম্পদ গ্রাস করছ। আল্লাহ বলেন: আমি আমার ইজ্জতের কসম খেয়ে বলছি, আমি তোমাদেরকে অবশ্যই এমন ফিতনার মাধ্যমে আঘাত করব, যাতে বুদ্ধিমানের বুদ্ধি এবং প্রজ্ঞাবানের প্রজ্ঞা বিভ্রান্ত হয়ে যাবে।'"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ مُطَهَّرٍ، قَالَ: نا جَعْفَرٌ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: «كَانَتْ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ قُرَّآءٌ فَسَقَةٌ، وَسَيَكُونُ فِيكُمْ أَيَّتُهَا الْأُمَّةُ قِرَاءَةٌ فَسَقَةٌ»
৮ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম ইবনে মুতাহহার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-জুরায়রী থেকে, তিনি ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «বনী ইসরাঈলের মধ্যে পাপাচারী ক্বারীগণ ছিল, আর হে উম্মত! অচিরেই তোমাদের মাঝেও পাপাচারী ক্বারীগণ হবে।»
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا إِسْحَاقُ بْنُ سُوَيْدٍ، قَالَ: نا عُمَرُ بْنُ عُفَيْرٍ، قَالَ: نا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " قَالَ رَهْطُ بَنِي إِسْرَائِيلَ: زَيْنُ الْحَكِيمِ الصَّمْتُ "
৯ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক বিন সুওয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন উফায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন আলী হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "বনী ইসরাঈলের একদল লোক বলেছিল: প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির সৌন্দর্য হলো নীরবতা।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّبَّاحِ الْعَطَّارُ، قَالَ: نا عَبْدُ الْعَزِيزِ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الصَّمَدِ قَالَ: نا مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ مَعْبَدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَوَّامِ، مُؤَذِّنِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: " بَيْنَمَا بَنُو إِسْرَائِيلَ يُصَلُّونَ إِذْ جَاءَ رَجُلَانِ فَدَخَلَ أَحَدُهُمَا وَلَمْ يَدْخُلِ الْآخَرُ وَقَامَ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ يَقُولُ: أَنَا أَدْخَلُ بَيْتَ اللَّهِ؟ لَيْسَ مَثَلِي يَدْخُلُ بَيْتَ اللَّهِ وَقَدْ عَمِلْتُ كَذَا وَكَذَا، وَعَمِلْتُ كَذَا وَكَذَا، وَجَعَلَ يَبْكِي وَلَمْ يَدْخُلْ قَالَ كَعْبٌ: كَتَبَ مِنَ الْغَدِ إِنَّهُ صِدِّيقٌ
১০ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল সাবাহ আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ অর্থাৎ ইবনে আবদুস সামাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে দিনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাবাদ আল-জুহানি থেকে, তিনি বায়তুল মাকদিসের মুয়াজ্জিন আবু আল-আওয়াম থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "একদা বনী ইসরাঈল যখন সালাত আদায় করছিল, তখন দুজন লোক এলো। তাদের একজন ভেতরে প্রবেশ করল এবং অন্যজন প্রবেশ করল না। সে মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে বলতে লাগল: 'আমি আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করব? আমার মতো ব্যক্তি আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করতে পারে না, অথচ আমি এই এই কাজ করেছি, আমি এই এই কাজ করেছি।' সে কাঁদতে লাগল এবং ভেতরে প্রবেশ করল না। কাব বলেন: পরদিন লিপিবদ্ধ করা হলো যে, সে একজন সিদ্দিক (সত্যনিষ্ঠ)।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا الْحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: " كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلَانِ، تَعَبَّدَ أَحَدُهُمَا أَرْبَعِينَ سَنَةً، وَالْآخَرُ بَعْدَ ذَلِكَ بِعَشْرِ سِنِينَ، وَكَانَ أَحَدُهُمَا. . وَالْآخَرُ عِزْيَائِيلُ ، فَكَانَا إِذَا صَلَّى أَحَدُهُمَا وَبَلَغَتْهُ الشَّمْسُ وَهُوَ فِي صَلَاتِهِ جَاءَتْهُ سَحَابَةٌ حَتَّى تُظِلَّهُ ⦗ص: 38⦘ قَالَ: فَأُعْجِبَ ذَاتَ يَوْمٍ وَهِيَ عَلَى رَأْسِهِ، فَتَحَوَّلَتْ مِنْ رَأْسِهِ إِلَى رَأْسِ صَاحِبِهِ "
১১ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনে আমর আমাদের নিকট জারীর থেকে, তিনি মুগীরাহ থেকে এবং তিনি আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "বনী ইসরাঈলের মধ্যে দুইজন লোক ছিল। তাদের একজন চল্লিশ বছর ইবাদত করেছিল এবং অন্যজন তার পরবর্তী দশ বছর। তাদের একজন ছিল... এবং অন্যজন ছিল ইযয়াইল। তাদের কেউ যখন সালাত আদায় করত এবং সালাতরত অবস্থায় তার ওপর সূর্যের তাপ লাগত, তখন একটি মেঘখণ্ড এসে তাকে ছায়া দান করত। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ তিনি বলেন: একদিন মেঘটি তার মাথার ওপর থাকা অবস্থায় সে আত্মমুগ্ধতায় (অহংকারে) ভুগল, ফলে সেটি তার মাথা থেকে সরে গিয়ে তার সঙ্গীর মাথার ওপর চলে গেল।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ مُطَهَّرٍ، قَالَ: نا جَعْفَرٌ، عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: " بَلَغَنَا أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ خَرَجُوا يَدْعُونَ، فَقِيلَ لَهُمْ: يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ تَدْعُونَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَقُلُوبِكُمْ بَعِيدَةً؟ بَاطِلٌ مَا تُرْهِبُونَ "
১২ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুস সালাম ইবনে মুতাহহার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট জাফর বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে দীনার থেকে, তিনি বলেন: "আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, বনী ইসরাঈলরা (দোয়া করার জন্য) বের হলো, তখন তাদের বলা হলো: হে বনী ইসরাঈল! তোমরা কি তোমাদের জিহ্বা দিয়ে তাঁকে ডাকছ অথচ তোমাদের অন্তরসমূহ (তাঁর থেকে) দূরে রয়েছে? তোমরা যা ভীতি প্রদর্শন করছ তা অসার।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا سَعِيدُ بْنُ نُصَيْرٍ، قَالَ: نا سَيَّارٌ، عَنْ جَعْفَرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ، يَقُولُ: " أَصَابَ بَنِي إِسْرَائِيلَ بَلَاءٌ وَقَحْطٌ، فَخَرَجُوا يُضِجُّونَ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى نَبِيٍّ مِنْ أَنْبِيَائِهِمْ أَنْ أَخْبِرْهُمْ: تَخْرُجُونَ إِلَى الصَّعِيدِ بِأَبْدَانٍ نَجِسَةٍ، وَأَيْدٍ قَدْ سَفَكْتُمْ بِهَا الدِّمَاءَ، وَمَلَأَتُمْ بُطُونَكُمْ مِنَ الْحَرَامِ؟ الْآنَ حِينَ اشْتَدَّ غَضَبِي عَلَيْكُمْ، وَلَنْ تَزْدَادُوا مِنِّي إِلَّا بُعْدًا "
১৩ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে নুসায়র বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সাইয়্যার বর্ণনা করেছেন জাফর থেকে, তিনি বলেন, আমি মালিক ইবনে দিনারকে বলতে শুনেছি: "বনী ইসরাঈল বালা-মুসিবত ও দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিল। ফলে তারা আর্তনাদ করতে করতে বেরিয়ে এল। তখন আল্লাহ তাদের নবীদের মধ্য হতে জনৈক নবীর প্রতি ওহী পাঠালেন যে, তাদের জানিয়ে দাও: তোমরা অপবিত্র শরীর এবং এমন হাত নিয়ে খোলা ময়দানে বেরিয়ে এসেছ যা দিয়ে তোমরা রক্তপাত ঘটিয়েছ এবং তোমাদের পেট হারাম দ্বারা পূর্ণ করেছ? এখন, যখন তোমাদের ওপর আমার ক্রোধ তীব্র হয়েছে, তখন তোমরা আমার থেকে কেবল দূরত্বই বৃদ্ধি করছ।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا قَطَنُ بْنُ نَسِيرٍ، قَالَ: نا جَعْفَرٌ، قَالَ: نا الْمُنْذِرُ الْمُعَلِّمُ الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ وَهْبَ بْنَ مُنَبِّهٍ، يَقُولُ: «قَرَأْتُ فِي كِتَابِ رَجُلٍ مِنَ الْحَوَارِيِّينَ، إِذَا سُلِكَ بِكَ طَرِيقُ الْبَلَاءِ فَقَرَّ عَيْنًا، وَطِبْ نَفْسًا، فَقَدْ سُلِكَ بِكَ سَبِيلُ الْأَنْبِيَاءِ وَالصَّالِحِينَ، وَإِذَا سُلِكَ بِكَ سَبِيلُ الرَّخَاءِ فَابْكِ عَلَى نَفْسِكَ فَقَدْ خُولِفَ بِكَ سَبِيلَهُمْ»
১৪ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ক্বাতান ইবনে নাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুনজির আল-মুআল্লিম আস-সানআনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি হাওয়ারীদের মধ্য হতে জনৈক ব্যক্তির কিতাবে পড়েছি যে: যখন তোমাকে পরীক্ষার পথে পরিচালিত করা হয়, তখন তুমি চক্ষু শীতল করো এবং মনে প্রশান্তি রাখো; কেননা তোমাকে নবীগণ ও নেককারদের পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। আর যখন তোমাকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পথে পরিচালিত করা হয়, তখন তুমি নিজের জন্য ক্রন্দন করো; কারণ তোমাকে তাঁদের পথের পরিপন্থী পথে পরিচালিত করা হচ্ছে।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ النَّيْسَابُورِيُّ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ يَعْنِي ابْنَ أَتَشٍ قَالَ: نا مُنْذِرٌ، عَنْ وَهْبٍ: " أَنَّ رَجُلًا عَبَدَ اللَّهَ سَبْعِينَ سَنَةَ، ثُمَّ خَرَجَ يَوْمًا فَقَلَّلَ عَمَلَهُ، وَشَكَى إِلَى اللَّهِ مِنْهُ، وَاعْتَرَفَ بِذَنْبِهِ، فَأَتَاهُ آتٍ مِنَ اللَّهِ فَقَالَ: «إِنَّ مَجْلِسِكَ هَذَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ عَمَلِكَ فِيمَا مَضَى مِنْ عُمُرِكَ»
১৫ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে রাফি আন-নিশাপুরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হাসান অর্থাৎ ইবনে আতাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুনজির বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব থেকে বর্ণিত যে: "এক ব্যক্তি সত্তর বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন। অতঃপর একদিন তিনি বের হলেন এবং তার আমলকে অতি সামান্য মনে করলেন এবং এ নিয়ে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করলেন ও নিজের পাপ স্বীকার করলেন। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক আগন্তুক তার কাছে আসলেন এবং বললেন: 'নিশ্চয়ই তোমার এই অবস্থান আমার কাছে তোমার জীবনের বিগত সময়ের আমল অপেক্ষা অধিক প্রিয়।'"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ نا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: نا ضَمْرَةُ، عَنِ السَّيْبَانِيِّ، قَالَ: " فِي الْكُتُبِ: كَمَا تُدِينُ تُدَانُ، إِنَّ الْكَأْسَ الَّذِي بِهِ تَسْقِي بِهِ تَشْرَبُ وَزِيَادَةٌ؛ فَإِنَّ الْبَادِئَ لَا بُدَّ أَنْ يُزَادَ "
১৬ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দামরাহ আস-সাইবানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে: যেমন কর্ম, তেমন ফল; নিশ্চয়ই যে পেয়ালা দ্বারা তুমি অন্যকে পান করাবে, তা দিয়েই তোমাকে পান করানো হবে এবং আরও অতিরিক্ত প্রদান করা হবে; কেননা যে কোনো কাজ শুরু করে, তাকে অবশ্যই অতিরিক্ত প্রদান করা হয়।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْعَلَاءِ، قَالَ: نا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: ني سُلَيْمَانُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مَيْسَرَةَ: ⦗ص: 41⦘ " أَنَّ حَكِيمًا مِنَ الْحُكَمَاءِ كَتَبَ ثَلَاثَ مِائَةٍ وَسِتِّينَ مُصْحَفًا حِكَمًا، فَبَثَّهَا فِي النَّاسِ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: إِنَّكَ قَدْ مَلَأْتَ الْأَرْضَ بِقَاقًا، فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَقْبَلْ شَيْئًا مِنْ بِقَاقِكَ "
১৭ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন আল-আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সুলাইমান বিন সুলাইম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন জাবির থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন মায়সারা থেকে বর্ণনা করেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ "নিশ্চয়ই বিজ্ঞজনদের মধ্য থেকে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি তিনশত ষাটটি প্রজ্ঞাপূর্ণ পাণ্ডুলিপি রচনা করলেন এবং তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিলেন। তখন আল্লাহ তাঁর নিকট ওহী প্রেরণ করলেন: নিশ্চয়ই তুমি জমিনকে কপটতায় পরিপূর্ণ করে দিয়েছ; আর আল্লাহ তোমার সেই কপটতার কোনো কিছুই কবুল করেননি।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤١)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: نا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: نا أَبُو التَّيَّاحِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهُذَيْلِ الْكُوفِيِّ، قَالَ: " لَمَّا ظَهَرَ بُخْتُ نَصَّرُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ فَقَتَلَ مُقَاتِلَهُمْ وَسَبَى ذُرِّيَّتَهُمْ قَالَ: فَجِيئَ بِالسَّبْي فَجُمِعُوا قَالَ: فَمَرَّ بِهِمْ نَبِيُّ لَهُمْ، فَقَالَ: ائْتُونِي بِهِ، فَدَعَا بِهِ. فَقَالَ: أَلَا تُخْبِرَنِي مَا الَّذِي سَلَّطَنِي عَلَى قَوْمِكَ؟ قَالَ: عِظَمُ خَطِيئَتِكَ وَظُلْمُ قَوْمِي أَنْفُسَهُمْ
১৮ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন যায়েদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আত-তাইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আল-হুযাইল আল-কুফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন বুখত নসর বনী ইসরাঈলের ওপর বিজয়ী হলো এবং তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করল ও তাদের সন্তানদের বন্দী করল, তিনি বলেন: অতঃপর বন্দীদের নিয়ে আসা হলো এবং তাদের একত্রিত করা হলো। তিনি বলেন: তখন তাদের একজন নবী তাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। বুখত নসর বলল: তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর তাঁকে ডাকা হলো। সে বলল: আপনি কি আমাকে জানাবেন না যে, কিসে আমাকে আপনার সম্প্রদায়ের ওপর বিজয়ী করল? তিনি বললেন: তোমার মহাপাপ এবং আমার সম্প্রদায়ের নিজেদের প্রতি কৃত জুলুম।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤١)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الْوَاسِطِيُّ، ⦗ص: 42⦘ قَالَ: نا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ قَالَ: أنا جَعْفَرٌ يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ قَالَ: نا أَسْمَاءُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، قَالَ: " كَانَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَابِدٌ قَالَ: وَكَانَ إِذَا خَرَجَ تُظِلُّهُ سَحَابَةٌ قَالَ: فَمَرَّ رَجُلٌ فَرَءَاهُ وَوَدَنَا مُّهُ فَغَبَطَهُ وَأَحَبَّهُ، وَدَنَا مِنْهُ وَحَدَّثَ نَفْسَهُ بِالتَّوْبَةِ، وَجَعَلَ الْعَابِدُ يَكْرَهُ دُنُوَّهُ قَالَ: وَهُوَ يَمْشِي مَعَهُ قَالَ: فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا طَرِيقَانِ: فَأَخَذَ الْعَابِدُ طَرِيقًا، وَأَخَذَ الرَّجُلُ طَرِيقًا قَالَ: فَتَبِعَتِ السَّحَابَةُ الرَّجُلَ وَتَرَكَتِ الْعَابِدَ، فَتَعَلَّقَ بِهِ وَقَالَ: مَا أَحْدَثْتَ؟ مَا صَنَعْتَ؟ قَالَ: مَا أَحْدَثْتُ شَيْئًا وَلَكِنِّي لَمَّا رَأَيْتُكَ غَبَطْتُكَ وَأَحْبَبْتُكَ فِي اللَّهِ وَحُدِّثْتُ نَفْسِي بِالتَّوْبَةِ أَنْ لَا أُرَاجِعَ شَيْئًا مِمَّا كُنْتُ أَصْنَعُ قَالَ: وَلَكِنِّي قَدْ مَقَتُّكَ وَكَرِهْتُ دُنُوَّكَ وَأُعْجِبْتُ بِنَفْسِي "
১৯ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হারব আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ তিনি বলেন: ইয়াজিদ অর্থাৎ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর অর্থাৎ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আসমা ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি বলেন: "বনী ইসরাঈলের একজন ইবাদতকারী লোক ছিলেন। তিনি যখন বাইরে বের হতেন, তখন একটি মেঘ তাকে ছায়া দান করত। এক ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেখলেন এবং তার নিকটবর্তী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করলেন। তিনি তাকে দেখে ঈর্ষা (ভালো অর্থে) বোধ করলেন এবং তাকে ভালোবেসে ফেললেন। তিনি তার নিকটবর্তী হলেন এবং মনে মনে তওবা করার সংকল্প করলেন। অন্যদিকে ইবাদতকারী ব্যক্তিটি তার সান্নিধ্য অপছন্দ করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় তিনি তার সাথে হাঁটছিলেন। এরপর তাদের সামনে দুটি পথ আলাদা হয়ে গেল: ইবাদতকারী এক পথ ধরলেন এবং ওই ব্যক্তি অন্য পথ ধরলেন। তখন মেঘটি ওই ব্যক্তিকে অনুসরণ করল এবং ইবাদতকারীকে ছেড়ে দিল। তখন তিনি তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: তুমি কী করেছ? তুমি কী আমল করেছ? তিনি বললেন: আমি নতুন কিছু করিনি, তবে আমি যখন আপনাকে দেখলাম তখন আপনার প্রতি ঈর্ষা বোধ করলাম এবং আল্লাহর জন্য আপনাকে ভালোবেসে ফেললাম। আর আমি মনে মনে তওবা করার সংকল্প করলাম যে, আমি ইতিপূর্বে যা করতাম তার কোনো কিছুতেই আর পুনরায় লিপ্ত হব না। ইবাদতকারী বললেন: কিন্তু আমি তোমাকে ঘৃণা করেছি এবং তোমার সান্নিধ্য অপছন্দ করেছি আর নিজের আমল নিয়ে আত্মমুগ্ধতায় লিপ্ত হয়েছি।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: نا مَهْدِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ صَاحِبِ الزِّيَادِيِّ، عَنِ ابْنِ أُخْتِ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ ، عَنْ وَهْبٍ: ⦗ص: 43⦘ " أَنَّ رَجُلًا مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ تَعَبَّدَ عِبَادَةً، وَسَأَلَ اللَّهَ حَاجَةً، وَصَامَ لِلَّهِ سَنَتَيْنِ يَأْكُلُ كُلَّ عَشْرٍ فَلَمْ تُقْضَ حَاجَتُهُ، فَأَقْبَلَ عَلَى نَفْسِهِ يَلُومُهَا فَقَالَ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ مِنْكِ أَتَيْتُ لَوْ كَانَ عِنْدَكِ خَيْرٌ لَأُوتِيتُ، فَأُوحِيَ إِلَيْهِ فَقَالَ: لَسَاعَتُكَ الَّتِي أَزْرَيْتَ فِيهَا عَلَى نَفْسِكَ أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَتِكَ "
২০ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামিদ সাহিব আল-জিয়াদি থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহর ভাগ্নে থেকে, তিনি ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এক ব্যক্তি দীর্ঘকাল ইবাদত করেছিল এবং আল্লাহর নিকট একটি প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা করেছিল। সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই বছর রোজা রেখেছিল, যেখানে সে প্রতি দশ দিন অন্তর একবার আহার করত। তবুও তার প্রয়োজন পূরণ হলো না। তখন সে নিজের নফসকে তিরস্কার করতে করতে বলতে লাগল: হে নফস! তোর কারণেই আমি এই অবস্থায় উপনীত হয়েছি; যদি তোর মাঝে কোনো কল্যাণ থাকত তবে আমার প্রার্থনা মঞ্জুর হতো। তখন তার নিকট ওহী প্রেরণ করা হলো যে: যে মুহূর্তে তুমি নিজের নফসকে তুচ্ছজ্ঞান করেছ, তা তোমার দীর্ঘ সময়ের ইবাদতের চেয়েও অধিক উত্তম।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ نُصَيْرٍ، قَالَ: نا سَيَّارٌ، عَنْ جَعْفَرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنِ دِينَارٍ، يَقُولُ: " كَانَ حَبْرٌ مِنْ أَحْبَارِ بَنِي إِسْرَائِيلَ يَغْشَى مَنْزِلَهُ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ، يَعِظُهُمْ، يُذَكِّرُهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ، فَرَأَى بَعْضَ بَنِيهِ يَوْمًا غَمَزَ النِّسَاءَ. فَقَالَ: أَيْ بُنَيَّ مَهْلًا، مَهْلًا ، فَسَقَطَ عَنْ سَرِيرِهِ وَانْقَطَعَ نُخَاعُهُ، فَقُتِلَ بَنِيهِ فِي الْجَيْشِ، وَأُسْقِطَتِ امْرَأَتُهُ. ⦗ص: 44⦘ فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى نَبِيٍّ مِنْ أَنْبِيَاءِ بَنِي إِسْرَائِيلَ: أَنْ أَخْبِرْ فُلَانًا الْعَابِدَ: أَنِّي لَا أُخْرِجُ مِنْ صُلْبِكَ صِدِّيقًا أَبَدًا، مَا كَانَ غَضَبُكَ لِي، أَنْ قُلْتَ: أَيْ بُنَيَّ مَهْلًا مَهْلًا ". قَالَ أَبُو الْهَيْثَمِ: صَوَابُهُ نُخَاعُهُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ الَّذِي وَسَطَ فِقَرِ الظُّهْرِ.
২১ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে নুসায়র বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাইয়্যার বর্ণনা করেছেন জাফর থেকে, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে দিনারকে বলতে শুনেছি: "বনী ইসরাঈলের আলেমদের মধ্যে একজন আলেম ছিলেন যার বাসস্থানে পুরুষ ও নারীরা যাতায়াত করত। তিনি তাদের উপদেশ দিতেন এবং আল্লাহর দিবসসমূহ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিতেন। একদিন তিনি তাঁর এক পুত্রকে নারীদের প্রতি ইশারা করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: হে বৎস, শান্ত হও, শান্ত হও। এরপর তিনি তাঁর আসন থেকে পড়ে গেলেন এবং তাঁর মেরুমজ্জা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। যুদ্ধে তাঁর পুত্ররা নিহত হলো এবং তাঁর স্ত্রীর গর্ভপাত হলো। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ তখন আল্লাহ বনী ইসরাঈলের নবীদের মধ্য থেকে এক নবীর নিকট ওহী পাঠালেন যে: সেই আবেদকে সংবাদ দাও যে, আমি তোমার বংশ থেকে কখনোই কোনো সিদ্দিক পয়দা করব না। আমার জন্য তোমার ক্রোধ কেবল এতটুকুই ছিল যে তুমি বলেছিলে: হে বৎস, শান্ত হও, শান্ত হও।" আবুল হায়সাম বলেন: এর সঠিক অর্থ হলো মেরুমজ্জা, যা মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানের সাদা রগ।
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: نا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ: " دَعَا نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِياءِ، فَقَالَ: يَا رَبِّ يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ عَبِيدِكَ يَعْبُدُكَ وَيُطِيعُكَ وَيَجْتَنِبُ سَخَطَكَ تَعْرِضُ لَهُ الْبَلَاءَ، وَتَزْوِي عَنْهُ الدُّنْيَا؟ وَيَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ عِبَادِكَ يَعْمَلُ بِمَعْصِيَتِكَ وَيُفْسِدُ فِي أَرْضِكَ فَتَعْرِضُ لَهُ الدُّنْيَا، وَتَزْوِي عَنْهُ الْبَلَاءَ؟ فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: إِنَّ الْعِبَادَ وَالْبَلَاءَ لِي، وَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ إِلَّا يُسَبِّحُنِي وَيَحْمَدُنِي وَيُكَبِّرُنِي ، وَأَمَّا عَبْدِي الْمُؤْمِنُ فَإِنَّ لَهُ سَيِّئَاتٍ فَأَعْرِضُ لَهُ الْبَلَاءَ، وَأَزْوِي عَنْهُ الدُّنْيَا بِسَيِّئَاتِهِ لِكَيْ يَأْتِيَنِي وَأُجَازِيَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحَسَنَاتِهِ، ⦗ص: 45⦘ وَأَمَّا عَبْدِي الْكَافِرُ فَإِنَّ لَهُ حَسَنَاتٍ فَأَعْرِضُ لَهُ الدُّنْيَا، وَأَزْوِي عَنْهُ الْبَلَاءَ بِحَسَنَاتِهِ، حَتَّى يَأْتِيَنِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأُجَازِيَهُ بِسَيِّئَاتِهِ ".
২২ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি মিনহাল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেন: "নবীদের মধ্য থেকে একজন নবী প্রার্থনা করে বললেন: হে আমার রব! আপনার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছে যে আপনার ইবাদত করে, আপনার আনুগত্য করে এবং আপনার অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকে, অথচ আপনি তার ওপর বিপদ আপতিত করেন এবং তার থেকে দুনিয়াকে সংকুচিত করে দেন? আবার আপনার বান্দাদের মধ্যে এমনও রয়েছে যে আপনার অবাধ্যতায় লিপ্ত হয় এবং আপনার যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে, অথচ আপনি তাকে দুনিয়া দান করেন এবং তার থেকে বিপদ দূরে রাখেন? তখন আল্লাহ তার নিকট ওহী পাঠালেন: নিশ্চয়ই বান্দা এবং বিপদ—সবই আমার। আর এমন কেউ নেই যে আমার পবিত্রতা বর্ণনা করে না, আমার প্রশংসা করে না এবং আমার মহিমা ঘোষণা করে না। তবে আমার মুমিন বান্দার কিছু পাপ থাকে, তাই তার সেই পাপসমূহের কারণে আমি তার ওপর বিপদ আপতিত করি এবং তার থেকে দুনিয়াকে সংকুচিত করে রাখি, যাতে সে আমার নিকট (পবিত্র হয়ে) উপস্থিত হয় এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে তার নেক আমলসমূহের পূর্ণ প্রতিদান দিতে পারি। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ আর আমার কাফির বান্দার কিছু নেক আমল থাকে, তাই তার সেই নেক আমলসমূহের কারণে আমি তাকে দুনিয়া দান করি এবং তার থেকে বিপদ দূরে রাখি, যতক্ষণ না সে কিয়ামতের দিন আমার নিকট উপস্থিত হয় এবং আমি তাকে তার পাপসমূহের প্রতিফল প্রদান করি।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٥)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا مُسَدَّدٌ، قَالَ: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ جَابِرٍ: " أَنَّ رَجُلًا مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، كَانَتْ صُرَّةٌ فِي كُمِّهِ فِيهَا دَنَانِيرُ، فَنَظَرَ فَإِذَا قَدْ ذُهِبَ بِهَا، ⦗ص: 46⦘ فَقَالَ: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُ فِيهِ، لَعَلَّهُ كَانَ أَحْوَجَ إِلَيْهَا.
২৩ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন দাউদ হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবন আবি খালিদ থেকে, তিনি হাকিম ইবন জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে: "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, তার জামার আস্তিনে একটি থলি ছিল যাতে দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ছিল। অতঃপর সে লক্ষ্য করল যে সেটি হারিয়ে গেছে (বা নিয়ে যাওয়া হয়েছে), ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ তখন সে বলল: হে আল্লাহ, আপনি তার জন্য এতে বরকত দান করুন, সম্ভবত সে আমার চেয়েও এটির প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী ছিল।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٦)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنِ ابْنِ حَلْبَسٍ: " أَنَّ فِتْيَةً مِنَ الْحُكَمَاءِ تَدَاعَوْا فَقَالُوا: تَعَالَوْا نَتْرُكُ كُلَّ لَذَّةٍ وَشَهْوَةٍ قَبْلَ أَنْ يُدْرِكَنَا الْكِبَرُ فَتَسْتَرْخِي الْمَفَاصِلُ الَّتِي كَانَتْ عَوْنًا عَلَى الشَّهَوَاتِ
২৪ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তাওবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুহাজির আমাদের নিকট ইবনে হালবাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "কতিপয় প্রজ্ঞাবান যুবক পরস্পরকে আহ্বান করে বলল: এসো, বার্ধক্য আমাদের গ্রাস করার পূর্বেই আমরা যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও কামনাবাসনা ত্যাগ করি; অন্যথায় শরীরের সেই জোড়াগুলো শিথিল হয়ে যাবে যা কামনাবাসনা পূরণে সহায়ক ছিল।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٧)
‌‌مِنْ كَلَامِ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বাণীসমূহ হতে
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٤٧)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، قَالَ: نا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ طَارِقٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ الطَّائِيِّ، قَالَ: " لَمَّا كَانَ غَزْوَةُ ذَاتِ السَّلَاسِلِ اسْتَعْمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ عَلَيْهَا قَالَ: وَأَمَرَهُ أَنْ يَسْتَنْفِرَ مَنْ مَرَّ بِهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَالَ: وَكَانَ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ قَالَ: وَهِيَ الْغَزْوَةُ الَّتِي يَفْخَرُ بِهَا أَهْلُ الشَّامِ فَيَقُولُونَ: اسْتَعْمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ عَلَى جَيْشٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ قَالَ: فَمَرُّوا بِنَا فَاسْتَنْفَرْنَا مَعَهُمْ قَالَ: فَقُلْتُ: لَأَخْتَارَنَّ لِنَفْسِي رَجُلًا أَصْحَبُهُ قَالَ: فَتَخَيَّرْتُ أَبَا بَكْرٍ، وَكَانَ عَلَيْهِ كِسَاءٌ فَدَكِيٌّ يُخِلُّهُ إِذَا رَكِبَ، وَأَلْبَسُهُ أَنَا إِذَا هُوَ نَزَلَ، وَهُوَ الْكِسَاءُ الَّذِي عَيَّرَتْهُ هَوَازِنُ فَقَالُوا: ذَا الْخِلَالِ يُسْتَخْلَفُ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: فَخَرَجْنَا فِي غَزَاتِنَا ثُمَّ رَجَعْنَا ⦗ص: 48⦘ قَالَ: فَقُلْتُ: يَا أَبَا بَكْرِ إِنِّي قَدْ صُحْبَتُكَ، وَلِلصَّحَابَةِ حَقٌّ، وَلَسْتُ أَسْتَطِيعُ أَنْ آتِيَ الْمَدِينَةَ كُلَّمَا شِئْتُ، فَعَلِّمْنِي شَيْئًا يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهِ. فَقَالَ: نَعَمْ، وَلَوْ لَمْ تَقُلْ لَفَعَلْتُ. اعْبُدِ اللَّهَ، وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَأَقِمِ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَأَدِّ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَصُمْ رَمَضَانَ، وَحُجَّ الْبَيْتَأعْبُدِ اتَأَمَّرَنَّ عَلَى رَجُلَيْنِ. فَقُلْتُ: أَمَّا اعْبُدِ اللَّهَ، وَأَقِمِ الصَّلَاةَ فَقَدْ عَرَفْتُهُ، وَلَكِنْ أَخْبِرْنِي عَنْ قَوْلِكَ: وَلَا تَأَمَّرَنَّ عَلَى رَجُلَيْنِ؟ وَإِنَّمَا يُصِيبُ النَّاسَ الشُّرَفُ وَالْخَيْرُ بِالْإِمَارَاتِ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِنَّكَ اسْتَخْبَرْتَنِي فَجَهَدْتُ لَكَ، وَإِنَّ النَّاسَ دَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ طَوْعًا وَكَرْهًا، وَهُمْ عُوَّادُ اللَّهِ، وَجُوَارُ اللَّهِ، وَفِي ذِمَّةِ اللَّهِ، وَمَنْ يُخْفِرْ مِنْكُمْ أَحَدًا فَإِنَّمَا يُخْفِرُ اللَّهَ عز وجل، إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيُؤْخَذُ بِشُوَيْهَةِ جَارِهِ ، أَوْ بَعِيرِهِ، فَيَظَلُّ نَاتِئًا عَضَلَهُ غَضَبًا لِجَارِهِ، وَاللَّهُ مِنْ وَرَاءِ جَارِهِ. قَالَ: فَانْصَرَفْنَا إِلَى دِيَارِنَا، وَقُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَبَلَغَنِي أَنَّ أَبَا بَكْرٍ اسْتُخْلِفَ، فَقُلْتُ: صَاحِبِي الَّذِي نَهَانِي عَنِ الْإِمَارَةِ ثُمَّ تَأَمَّرَ عَلَى النَّاسِ، لَآتِيَنَّهُ، فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ، فَتَعَرَّضْتُ لَهُ حَتَّى لَقِيتُهُ فَقُلْتُ لَهُ: يَا أَبَا بَكْرِ نَهَيْتَنِي عَنِ الْإِمَارَةِ، ثُمَّ تَأَمَّرْتَ عَلَى النَّاسِ؟ ⦗ص: 49⦘ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُبِضَ، وَالنَّاسُ حَدِيثُ عَهْدٍ بِالْجَاهِلِيَّةِ وَارْتَدَّتِ الْعَرَبُ، وَلَمْ يَدَعْنِي أَصْحَابِي، فَلَمْ يَزَلْ يَعْتَذِرُ إِلَيَّ حَتَّى عَذَرْتُهُ ". حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ: نا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ رَافِعٍ هُوَ ابْنُ أَبِي رَافِعٍ الطَّائِيُّ قَالَ: لَمَّا كَانَتْ غَزْوَةُ السَّلَاسِلِ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَيْشًا، وَاسْتَعْمَلَ عَلَيْهِمْ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ: وَكُنْتُ رَجُلًا أَسْرِقُ النَّعَمِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَأَدْفِنُ الْمَاءَ فِي أُدْحِيُّ النَّعَمِ حَتَّى أَمُرَّ بِالْفَلَاةِ فَأَسْتَتِرُهُ. قَالَ: فَقُلْتُ: لَأَخْتَارَنَّ لِنَفْسِي رَجُلًا فَلَأَصْحَبَنَّهُ قَالَ: فَاخْتَرْتُ أَبَا بَكْرٍ، وَكَانَ لَهُ كِسَاءٌ فَدَكِيٌّ ، ⦗ص: 50⦘ قَالَ بَعْدَ قَوْلِهِ: طَوْعًا وَكَرْهًا، فَأَجَارَهُمُ اللَّهُ مِنَ الظُّلْمِ، فَهُمْ عُوَّادُ اللَّهِ، وَجِيرَانُ اللَّهِ، وَفِي ذِمَّةِ اللَّهِ، وَسَاقَ نَحْوَهُ. زَادَ: قَالَ رَافِعٌ: فَمَا زَالَ بِي الْأَمْرُ حَتَّى صِرْتُ عَرِيفًا فِي إِمَارَةِ الْحَجَّاجِ
২৫ - আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে মায়সারা থেকে, তিনি তারিক থেকে, তিনি রাফি ইবনে আবি রাফি আত-তায়ী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “যখন যাতুস সালাসিল যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনুল আসকে তার সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তিনি বলেন: আর তিনি তাকে আদেশ দেন যেন তিনি তার পথিমধ্যে যে সকল মুসলমানের সাক্ষাৎ পাবেন তাদেরকেও যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বলেন: তাদের মধ্যে আবু বকরও ছিলেন। তিনি বলেন: এটি সেই যুদ্ধ যা নিয়ে শামের অধিবাসীরা গর্ব করে এবং তারা বলে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনুল আসকে এমন এক বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন যাদের মধ্যে আবু বকরও ছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তারা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং আমরাও তাদের সাথে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ হয়ে যোগ দিলাম। তিনি বলেন: তখন আমি মনে মনে বললাম: আমি অবশ্যই আমার নিজের জন্য একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন করব যার আমি সঙ্গী হব। তিনি বলেন: তখন আমি আবু বকরকে বেছে নিলাম। তাঁর পরনে একটি ফাদাকী চাদর ছিল, যা তিনি সওয়ারিতে আরোহণ করার সময় বোতাম দিয়ে আটকে রাখতেন এবং তিনি যখন অবতরণ করতেন তখন আমি তা তাঁকে পরিয়ে দিতাম। এটি সেই চাদর যার জন্য হাওয়াযিন গোত্র তাঁকে উপহাস করেছিল এবং তারা বলেছিল: এই বোতামওয়ালা ব্যক্তি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর খলিফা হবে? তিনি বলেন: অতঃপর আমরা আমাদের যুদ্ধে বের হলাম এবং এরপর ফিরে এলাম। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ তিনি বলেন: তখন আমি বললাম: হে আবু বকর! আমি আপনার সাহচর্য লাভ করেছি এবং সঙ্গীর একটি অধিকার রয়েছে। আর আমি যখনই চাই তখনই মদীনায় আসতে সক্ষম নই, তাই আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যার দ্বারা আল্লাহ আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদি তুমি না বলতে তবুও আমি তা করতাম। আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরিক করো না, নির্ধারিত নামাজ কায়েম কর, ফরজ জাকাত প্রদান কর, রমজানের রোজা রাখ এবং বায়তুল্লাহর হজ কর এবং তুমি কখনও দুইজন ব্যক্তির ওপরও নেতৃত্ব গ্রহণ করো না। তখন আমি বললাম: আল্লাহর ইবাদত করা এবং নামাজ কায়েম করার বিষয়টি তো আমি জানি, কিন্তু আপনার এই কথা সম্পর্কে আমাকে বলুন: 'তুমি কখনও দুইজন ব্যক্তির ওপরও নেতৃত্ব গ্রহণ করো না'? অথচ মানুষ তো নেতৃত্বের মাধ্যমেই মর্যাদা ও কল্যাণ লাভ করে। তখন আবু বকর বললেন: তুমি আমার কাছে জানতে চেয়েছ এবং আমি তোমার জন্য আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে উত্তর দিচ্ছি। নিশ্চয়ই মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছে কেউ স্বেচ্ছায় আবার কেউ অনিচ্ছায়, আর তারা আল্লাহর আশ্রিত এবং আল্লাহর প্রতিবেশী ও আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের কারও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সে যেন মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতিই ভঙ্গ করল। তোমাদের কেউ তার প্রতিবেশীর একটি ছোট ছাগল বা উটের জন্য পাকড়াও হয়, তখন তার প্রতিবেশীর প্রতি রাগের কারণে তার রগগুলো ফুলে ওঠে, অথচ আল্লাহ তো তার প্রতিবেশীর রক্ষক হিসেবে পেছনেই রয়েছেন। তিনি বলেন: অতঃপর আমরা আমাদের বাড়িতে ফিরে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত পেলেন। আমার কাছে খবর পৌঁছাল যে আবু বকর খলিফা নিযুক্ত হয়েছেন। তখন আমি বললাম: আমার সেই সঙ্গী যিনি আমাকে নেতৃত্ব গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন, তিনিই এখন মানুষের ওপর নেতৃত্ব দিচ্ছেন! আমি অবশ্যই তাঁর কাছে যাব। অতঃপর আমি মদীনায় এলাম এবং তাঁর সামনে উপস্থিত হলাম যতক্ষণ না তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি তাঁকে বললাম: হে আবু বকর! আপনি আমাকে নেতৃত্ব গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন, এরপর আপনি নিজেই মানুষের ওপর নেতৃত্ব দিচ্ছেন? ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত পেয়েছেন এবং মানুষের জাহেলিয়াতের সময়কাল ছিল খুবই নিকটবর্তী এবং আরবরা ধর্মত্যাগী হয়ে গিয়েছিল। আর আমার সাথীরা আমাকে ছেড়ে দেয়নি (নেতৃত্ব নিতে বাধ্য করেছে)। এরপর তিনি আমার কাছে ওজর পেশ করতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি তা গ্রহণ করলাম।” আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে মায়সারা থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি রাফি (যিনি আবু রাফি আত-তায়ী এর পুত্র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন সালাসিল যুদ্ধ সংঘটিত হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং তাদের ওপর আমর ইবনুল আসকে নিযুক্ত করেন। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদিসের ন্যায় বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আর জাহেলিয়াতের যুগে আমি এমন লোক ছিলাম যে গবাদি পশু চুরি করতাম এবং উটপাখির ডিম রাখার গর্তে পানি লুকিয়ে রাখতাম যাতে মরুভূমি দিয়ে যাওয়ার সময় আমি তা পান করতে পারি। তিনি বলেন: আমি মনে মনে বললাম: আমি আমার জন্য একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন করব এবং তাঁর সাহচর্য গ্রহণ করব। তিনি বলেন: তখন আমি আবু বকরকে বেছে নিলাম এবং তাঁর নিকট একটি ফাদাকী চাদর ছিল। ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ তিনি তাঁর এই কথা "স্বেচ্ছায় এবং অনিচ্ছায়" বলার পর বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাদের জুলুম থেকে রক্ষা করলেন, আর তারা আল্লাহর আশ্রিত, আল্লাহর প্রতিবেশী এবং আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। এরপর তিনি পূর্বের অনুরূপ বর্ণনা করেন। রাফি আরও যোগ করেন: এরপর আমার অবস্থা এমন হলো যে আমি হাজ্জাজের শাসনামলে একজন গোত্র প্রধান হয়েছিলাম।
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ، وَسَعِيدُ بْنُ نُصَيْرٍ، قَالَا: نا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أنا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ يَحْمَدَ، قَالَ: " فِي خِطْبَةِ أَبِي بَكْرٍ رحمه الله: وَتَعْلَمُونَ أَنَّكُمْ تَغْدُونَ وَتَرُوحُونَ فِي أَجَلٍ قَدْ غُيِّبَ عَنْكُمْ عِلْمُهُ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ يَنْقَضِيَ الْأَجَلُ وَأَنْتُمْ فِي عَمَلِ اللَّهِ فَافْعَلُوا، وَلَنْ تَنَالُوا ذَلِكَ إِلَّا بِاللَّهِ، وَإِنَّ أَقْوَامًا جَعَلُوا آجَالَهُمْ لِغَيْرِهِمْ فَنَهَاكُمْ أَنْ تَكُونُوا أَمْثَالَهُمْ فَقَالَ: وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ، ⦗ص: 51⦘ أَيْنَ مَنْ تَعْرِفُونَ مِنْ إِخْوَانِكُمْ؟ قَدْ قَدِمُوا عَلَى مَا قَدَّمُوا فِي أَيَّامِ سَلَفِهِمْ، فَخَلُّوا فِيهِ بِالشَّقَاوَةِ أَوِ السَّعَادَةِ، أَيْنَ الْجَبَّارُونَ الْأَوَّلُونَ الَّذِينَ بَنَوُا الْمَدَائِنَ وَحَصَّنُوهَا بِالْحَوَائِطِ؟ قَدْ صَارُوا تَحْتَ الصَّخْرِ وَالْآكَامِ، هَذَا كِتَابُ اللَّهِ لَا تَفْنَى عَجَائِبُهُ، فَاسْتَضِيؤَا مِنْهُ لِيَوْمِ الظُّلْمَةِ، وَانْتَصِحُوا كِتَابَهُ وَتِبْيَانَهُ، فَإِنَّ اللَّهَ أَثْنَى عَلَى زَكَرِيَّاءَ وَأَهْلِ بَيْتِهِ فَقَالَ: {كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا، وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ} [الأنبياء: 90] ، لَا خَيْرَ فِي قَوْلٍ لَا يُرَادُ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ، وَلَا خَيْرَ فِي مَالٍ لَا يُنْفَقُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَلَا خَيْرَ فِيمَنْ يَغْلِبَ جَهْلُهُ حِلْمَهُ، وَلَا خَيْرَ فِيمَنْ يَخَافُ في اللَّهَ لَوْمَةَ لَائِمٍ "
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাল্লাম এবং সাঈদ ইবনে নুসায়ের, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হারীয ইবনে উসমান, তিনি নুআইম ইবনে ইয়াহমাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এক ভাষণে তিনি বলেন: তোমরা অবগত আছো যে তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় এমন এক মেয়াদের (আয়ু) মধ্যে অতিবাহিত করছ যার জ্ঞান তোমাদের নিকট থেকে গোপন রাখা হয়েছে। অতএব তোমরা যদি সক্ষম হও যে আল্লাহর আমলে (ইবাদতে) রত থাকা অবস্থায় তোমাদের সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটবে, তবে তোমরা তা-ই করো। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত তোমরা তা লাভ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই কিছু সম্প্রদায় তাদের মেয়াদকে অন্যের জন্য ব্যয় করেছে, তাই আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের মতো হতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছেন}। ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে যাদের তোমরা চিনতে তারা কোথায়? তারা তাদের বিগত দিনগুলোতে যা অগ্রিম পাঠিয়েছিল তার নিকট পৌঁছে গেছে এবং তারা সেখানে দুর্ভাগ্য অথবা সৌভাগ্যের সাথে একাকী হয়ে পড়েছে। কোথায় সেই পূর্ববর্তী প্রতাপশালীরা যারা নগরীসমূহ নির্মাণ করেছিল এবং প্রাচীর দিয়ে সেগুলোকে সুরক্ষিত করেছিল? তারা এখন পাথর ও মাটির ঢিবির নিচে চলে গেছে। এটি আল্লাহর কিতাব যার বিস্ময়কর বিষয়সমূহ নিঃশেষ হয় না। অতএব অন্ধকারের দিনের জন্য তোমরা তা থেকে আলো গ্রহণ করো এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণ করো। কেননা আল্লাহ যাকারিয়া ও তাঁর পরিজনদের প্রশংসা করে বলেছেন: {তারা সৎকাজে ত্বরান্বিত করত এবং আশা ও ভীতি সহকারে আমাদের ডাকত, আর তারা ছিল আমাদের নিকট বিনীত} [সূরা আল-আম্বিয়া: ৯০]। এমন কোনো কথায় কল্যাণ নেই যার দ্বারা আল্লাহর চেহারা উদ্দেশ্য করা হয় না, এমন কোনো সম্পদে কল্যাণ নেই যা আল্লাহর পথে ব্যয় করা হয় না, এমন কোনো ব্যক্তিতে কল্যাণ নেই যার মূর্খতা তার সহিষ্ণুতাকে পরাস্ত করে এবং এমন কোনো ব্যক্তিতে কল্যাণ নেই যে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পায়।"
(খণ্ড: ১) আয-যুহদ লি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ: نا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: نا الْوَلِيدُ، قَالَ: نا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أبي كَثِيرٍ، قَالَ: " كَانَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ لَا يَدَعُ هَذَا الْكَلَامَ أَنْ يَقُولَهُ كُلَّ جُمُعَةٍ فِي خُطْبَتِهِ: أَيْنَ الْوَضَّآةُ الْحَسَنَةُ وُجُوهَهُمْ، وَالْمُعْجَبُونَ بِشَبَابِهِمْ؟ أَيْنَ الَّذِينَ بَنَوُا الْبُنْيَانَ فَحَصَّنُوهَا بِالْحِيطَانِ؟ أَيْنَ الَّذِينَ كَانُوا يُعْطَوْنَ الْغَلَبَةَ مِنْ مَوَاطِنَ الْحَرْبِ؟ قَدْ تَضَعْضَعَ بِهِمُ الدَّهْرُ، فَأَصْبَحُوا كَلَا شَيْءٍ ، وَأَصْبَحُوا قَدْ فُقِدُوا وَأَصْبَحُوا فِي ظُلُمَاتِ الْقُبُورِ، الْوَحَا الْوَحَا ثُمَّ النَّجَا النَّجَا ".
২৭ - আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাফওয়ান ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আওযায়ী বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি বলেন: "আবু বকর আস-সিদ্দিক (রা.) প্রতি জুমার খুতবায় এই কথাগুলো বলতে ছাড়তেন না: কোথায় সেই উজ্জ্বল ও সুন্দর চেহারার অধিকারী ব্যক্তিগণ, এবং যারা নিজেদের যৌবন নিয়ে গর্বিত ছিল? কোথায় তারা যারা অট্টালিকা নির্মাণ করেছিল এবং দেয়াল দিয়ে তা সুরক্ষিত করেছিল? কোথায় তারা যারা যুদ্ধের ময়দানে বিজয়ী হতো? মহাকাল তাদের চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে, ফলে তারা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে, তারা হারিয়ে গেছে এবং কবরের অন্ধকারের বাসিন্দা হয়েছে। দ্রুত করো, দ্রুত করো; অতঃপর মুক্তি খুঁজো, মুক্তি খুঁজো।"