(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: -)
الحث على التجارة - من «الجامع» للخلال - ت الحداد   (أبو بكر الخلال)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الحث على التجارة والصناعة والعمل والإنكار على من يدعي التوكل في ترك العمل والحجة عليهم في ذلك

المؤلف: أبو بكر أحمد بن محمد بن هارون بن يزيد الخَلَّال البغدادي الحنبلي (ت 311 هـ)

تصنيف: أبو عبد الله محمود بن محمد الحداد

الناشر: دار العاصمة، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1407 هـ

عدد الصفحات: 182

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহ প্রদান - খিলালের «আল-জামি» থেকে - আল-হাদ্দাদের তাহকীককৃত   (আবু বকর আল-খিলাল)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও কর্মে উৎসাহ প্রদান এবং কাজ বর্জন করে যারা তাওয়াক্কুলের দাবি করে তাদের প্রতিবাদ ও এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে দলিল

লেখক: আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন বিন ইয়াজিদ আল-খিলাল আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৩১১ হিজরি)

বিন্যাসকারী: আবু আব্দুল্লাহ মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ

প্রকাশক: দারুল আসিমা, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
1 - أَخْبَرَنَا جَدِّي الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْأَوْحَدُ مُوَفَّقِ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ قُدَامَةَ الْمَقْدِسِيُّ رضي الله عنه، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ غَيْرَ مَرَّةٍ بِظَاهِرِ دِمَشْقَ، فِي سَنَةِ أَرْبَعَ عَشَرَةَ ثُمَّ فِي سَنَةِ عَشْرِينَ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ الْمَوْصِلِيِّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ حَادِيَ عَشَرَ ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَسِتِّينَ وَخَمْسِمِائَةٍ. قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكَ الشَّيْخُ الصَّالِحُ أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْقَاسِمِ الصَّيْرَفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ. قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْفَضْلِ الْأَزْجِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي جُمَادَى الْآخِرَةِ مِنْ سَنَةِ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ. قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يَزْدَادَ بْنِ مَعْرُوفٍ الْفَقِيهُ الْمَعْرُوفُ بِغُلَامِ الْخَلَّالِ إِجَازَةً، قَالَ الْأَزْجِيُّ: وَقُرِئَ عَلَى أَبِي الْقَاسِمِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ السَّاجِيِّ وَأَنَا أَسْمَعُ. قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ الْخَلَّالُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَرُّوذِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَجُلًا، يَقُولُ لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله: إِنِّي فِي كِفَايَةٍ، فَقَالَ: «الْزَمِ السُّوقَ تَصِلُ بِهِ الرَّحِمَ وَتَعُودُ بِهِ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, অদ্বিতীয় আলেম ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। আমি দামেস্কের উপকণ্ঠে তাঁর উপস্থিতিতে একাধিকবার পাঠ করেছি এবং তা শুনেছি; প্রথমবার ৬১৪ হিজরি সনে এবং পরবর্তীতে ৬২০ হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমি ৫৬৪ হিজরি সনের ১১ই জিলহজ রোজ শুক্রবার শেখ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মনসুর বিন হিবাতুল্লাহ আল-মাওসিলির সামনে পাঠ করেছি। আমি তাঁকে বললাম: পুণ্যবান শেখ আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার বিন আহমাদ বিন আল-কাসিম আস-সাইরাফি কি তাঁর সামনে আপনার পাঠ ও শ্রবণাবস্থায় আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বলেন: আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ বিন আলি বিন আহমাদ বিন আল-ফজল আল-আজজি ৪৪৩ হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসে তাঁর সামনে পাঠকালে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু বকর আব্দুল আজিজ বিন জাফর বিন আহমাদ বিন ইয়াজদাদ বিন মা'রুফ আল-ফকিহ—যিনি গুলাম আল-খাল্লাল নামে সমধিক পরিচিত—আমাদেরকে ইজাজাত (অনুমতি) স্বরূপ সংবাদ দিয়েছেন। আল-আজজি বলেন: আবুল কাসিম ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আস-সাজির সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন আল-খাল্লাল। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-মাররুজি। তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে আবু আব্দুল্লাহর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি: "আমি সচ্ছল ও অভাবমুক্ত অবস্থায় আছি।" তখন তিনি বললেন: "বাজারে (ব্যবসা-বাণিজ্যে) লেগে থাকো, যার দ্বারা তুমি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে (মানুষের) উপকার করতে পারবে।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
2 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله مِنْ أَصْحَابِ ابْنِ أَسْلَمَ: تَرَى أَنْ أَعْمَلَ؟ قَالَ: نَعَمْ، وَتَصَدَّقْ بِالْفَضْلِ عَلَى قَرَابَتِكَ
2 - আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইবন আসলামের সাথীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আবু আব্দুল্লাহকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বললেন: আপনি কি মনে করেন যে আমি কাজ করব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং উদ্বৃত্ত অংশ তোমার আত্মীয়স্বজনদের সদকা করো।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
3 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَرُّوذِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: قَدْ أَمَرْتُهُمْ يَعْنِي لِوَلَدِهِ أَنْ يَخْتَلِفُوا إِلَى السُّوقِ، وَأَنْ يَتَعَرَّضُوا لِلتِّجَارَةِ " وَقَالَ: قَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ أَطْيَبَ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ»
৩ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-মাররুযী, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "আমি তাদের—অর্থাৎ তাঁর সন্তানদের—আদেশ দিয়েছি যেন তারা বাজারে যাতায়াত করে এবং ব্যবসায় লিপ্ত হয়।" এবং তিনি বলেন: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষ যা আহার করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার নিজস্ব উপার্জন।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
4 - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَنَّ الْفَضْلَ بْنَ زِيَادٍ، حَدَّثَهُمْ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، يَأْمُرُ بِالسُّوقِ وَيَقُولُ: «مَا أَحْسَنَ الِاسْتِغْنَاءَ عَنِ النَّاسِ»
৪ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাকে অবহিত করেছেন যে, ফজল ইবনে জিয়াদ তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বাজারে যাওয়ার (উপার্জনের) নির্দেশ দিতে শুনেছি এবং তিনি বলছিলেন: «মানুষের নিকট অমুখাপেক্ষী হওয়া কতই না উত্তম!»
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
5 - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ جَعْفَرٍ، قَالَ: مَضَى أَبِي إِلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله وَذَهَبَ بِي مَعَهُ، فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، هَذَا ابْنِي، فَدَعَا لِي، وَقَالَ لِأَبِي أَلْزِمْهُ السُّوقَ، وَجَنِّبْهُ أَقْرَانَهُ
৫ - মুহাম্মদ ইবনে মূসা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর নিকট গেলেন এবং আমাকেও তাঁর সাথে নিয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, এই আমার পুত্র। তখন তিনি আমার জন্য দোয়া করলেন এবং আমার পিতাকে বললেন: তাকে বাজারে (কাজকর্মে) নিযুক্ত রাখো এবং তাকে তার সমবয়সীদের থেকে দূরে রাখো।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
6 - أَخْبَرَنِي زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى أَبُو يَحْيَى النَّاقِدُ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله قُلْتُ: إِنِّي أَعْمَلُ بِكِرًى، وَأَبَوَايَ يُرِيدُونِي عَلَى أَخْذِ دُكَّانٍ لِنَفْسِي، قَالَ: فَخُذْ دُكَّانًا، تَكُونُ جَنَازَةٌ، يَكُونُ مَرِيضٌ، قُلْتُ: هُوَ عَمَلٌ شَاقٌّ، وَالشَّرِيكُ أَعَنِّي لَا يَقُومُ، قَالَ: فَتَرْجِعُهُ. قَالَ زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى: يَعْنِي فِي هَذَا كُلِّهِ أَنَّهُ يَحِثُّ عَلَى الْعَمَلِ وَالتِّجَارَةِ
৬ - যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আবু ইয়াহইয়া আন-নাকিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) জিজ্ঞেস করলাম, আমি বললাম: আমি ভাড়ার বিনিময়ে কাজ করি, আর আমার পিতামাতা চান যেন আমি নিজের জন্য একটি দোকান নিই। তিনি বললেন: তবে তুমি একটি দোকান নিয়ে নাও; (এতে সুবিধা এই যে,) কোনো জানাজা থাকলে বা কেউ অসুস্থ হলে (তুমি তাতে শরিক হতে পারবে)। আমি বললাম: এটি অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য কাজ, আর অংশীদার—অর্থাৎ সে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে না। তিনি বললেন: তবে তুমি তা ফিরিয়ে দাও। যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: এই সবকিছুর মাধ্যমে তিনি মূলত কাজ ও ব্যবসার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
7 - أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ الْمَيْمُونِيُّ، أَنَّ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لِلسَّرِيِّ بْنِ يَحْيَى وَكَانَ يَتَّجِرُ فِي الْبَحْرِ: تَرْكَبُ الْبَحْرَ فِي طَلَبِ الدُّنْيَا؟ قَالَ: «أُحِبُّ أَنْ أَسْتَغْنِيَ عَنْ ضَرْبِكَ مِنَ النَّاسِ»
৭ - আব্দুল মালিক আল-মায়মুনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ), আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি আস-সারী বিন ইয়াহইয়াকে—যিনি সমুদ্রে ব্যবসা করতেন—বললেন, "আপনি কি দুনিয়া অন্বেষণে সমুদ্রে পাড়ি দেন?" তিনি বললেন: "আমি তোমাদের মতো লোকদের থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া পছন্দ করি।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
8 - أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، قِيلَ لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله: قَالَ طَاوُسٌ: اللَّهُمَّ امْنَعْنِي الْمَالَ وَالْوَلَدَ، قَالَ: قَدْ رُوِيَ هَذَا عَنْ طَاوُسٍ، مَنْ كَانَ مِثْلَ طَاوُسٍ؟ ثُمَّ قَالَ: الْغِنَى مِنَ الْعَافِيَةِ
৮ - ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলা হলো: তাউস বলেছেন: হে আল্লাহ, আমাকে সম্পদ ও সন্তান থেকে বঞ্চিত রাখুন। তিনি বললেন: এটি তাউস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাউসের মতো আর কে ছিল? অতপর তিনি বললেন: সচ্ছলতা সুস্থতা ও নিরাপত্তার (আফিয়াত) অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
9 - أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ الْمُطَّوِّعِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ جَنَّادٍ، يَقُولُ، سَمِعْتُ الْجَصَّاصِيَّ، قَالَ: سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ رحمه الله، فَقُلْتُ: أَرْبَعَةُ دَرَاهِمَ: دِرْهَمٌ مِنْ تِجَارَةٍ بَرَّةٍ، وَدِرْهَمٌ مِنْ صِلَةِ الْإِخْوَانِ، وَدِرْهَمٌ مِنْ أَجْرِ تَعْلِيمٍ، وَدِرْهَمٌ مِنْ غَلَّةِ بَغْدَادَ؟ قَالَ: أَحَبُّهَا إِلَيَّ مِنْ تِجَارَةٍ بَرَّةٍ، وَأَكْرَهُهَا عِنْدِي الَّذِي مِنْ صِلَةِ الْإِخْوَانِ، وَأَمَّا أَجْرُ التَّعْلِيمِ فَإِنِ احْتَاجَ فَلْيَأْخُذْهُ، وَأَمَّا غَلَّةُ بَغْدَادَ فَأَنْتَ تَعْرِفُهَا، لِيشٍ تَسْأَلُنِي عَنْهَا؟
৯ - ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আল-মুতাউয়িঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইবনে জান্নাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আমি আল-জাসসাসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: চারটি দিরহাম: একটি সৎ ব্যবসা থেকে অর্জিত দিরহাম, একটি ভাইদের উপহার থেকে প্রাপ্ত দিরহাম, একটি শিক্ষাদানের পারিশ্রমিক থেকে প্রাপ্ত দিরহাম এবং একটি বাগদাদের শস্য বা রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত দিরহাম? তিনি বললেন: এগুলোর মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় হলো সৎ ব্যবসা থেকে অর্জিতটি, আর আমার নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় হলো যা ভাইদের উপহার থেকে প্রাপ্ত। আর শিক্ষাদানের পারিশ্রমিকের ব্যাপারে কথা হলো—যদি কেউ প্রয়োজন অনুভব করে তবে সে যেন তা গ্রহণ করে। আর বাগদাদের শস্যের ব্যাপারে তো তুমি নিজেই জানো, কেন তুমি আমাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ?
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
10 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ الْمَيْمُونِيُّ، قَالَ: قَالَ لِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله وَحَثَّنِي عَلَى لُزُومِ الضَّيْعَةِ، وَقَالَ: «مَا أَضْيَعَ الضَّيْعَةَ إِذَا لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهَا بِقُرْبِهَا» ، قُلْتُ: إِنِّي لَمْ أَعْمُرْ ضَيْعَتِي مُذْ فَارَقْتُكَ، فِرَارًا مِنَ السُّلْطَانِ، وَكَرَاهِيَةً لَهُ، وَشَكَيْتُ لَهُ بَعْضَ مَا عَرَفْتُهُ مِنَ الدَّيْنِ وَالضِّيقِ، فَقَالَ لِي: «كَيْفَ تَصْنَعُ إِذَا لَمْ يَكُنْ لَكَ مِنْهُ بُدٌّ؟» ثُمَّ قَالَ لِي: «لَيْسَ هَاهُنَا إِلَّا أَنَّكَ تَدْعُو لَهُ» قُلْتُ: فَمِنْ ذَلِكَ بُدٌّ؟ قَالَ: «وَكَيْفَ تَصْنَعُ؟» وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَمْرِهِ التَّسْهِيلَ فِيهِ وَالرُّخْصَةَ. قَالَ: وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله يَوْمًا مُبْتَدِئًا: «يَا أَبَا الْحَسَنِ اسْتَغْنِ عَنِ النَّاسِ بِجُهْدِكَ، فَلَمْ أَرَ مِثْلَ الْغِنَى عَنِ النَّاسِ» قُلْتُ: وَلِمَ ابْتَدَأْتَنِي بِهَذَا؟ قَالَ: «لِأَنَّهُ إِنْ كَانَ لَكَ شَيْءٌ تُصْلِحُهُ وَتَكُونُ فِيهِ، وَتُصْلِحُهُ وَتَسْتَغْنِي بِهِ عَنِ النَّاسِ، فَإِنَّ الْغِنَى مِنَ الْعَافِيَةِ» . فَحَثَّنِي غَيْرَ مَرَّةٍ عَلَى الْإِصْلَاحِ، وَالِاسْتِغْنَاءِ بِإِصْلَاحِ مَا رُزِقْتُ عَنِ النَّاسِ، وَأَقْبَلَ يُغَلِّظُ الْحَاجَةَ إِلَى النَّاسِ. قُلْتُ: إِنَّ ضَيْعَتَنَا مِنَ الرَّقَّةِ عَلَى أَيَّامٍ، وَفِيهَا دَيْرُ نَصَارَى مُعْتَزِلٌ مِنَ النَّاسِ، لَيْسَ فِيهِ إِلَّا نَفَرٌ يَسِيرٌ مِنَ النَّصَارَى وَبِقُرْبِهِ مَدِينَةٌ، ⦗ص: 37⦘ فَقَالَ: «أَيُّ مَدِينَةٍ هِيَ؟» قُلْتُ: فَإِنَّ لَهَا مُؤَذِّنًا، قَالَ: «مِنَ الشَّامِ؟» قُلْتُ: لَا، مِنَ الْجَزِيرَةِ نَاحِيَةَ رَأْسِ الْعَيْنِ، قَالَ: «فَذَا مَوْضِعٌ صَالِحٌ يَعْنِي الدَّيْرَ» قُلْتُ: إِنَّمَا شُغِلَ قَلْبِي بِشَيْءٍ وَاحِدٍ أَنَّ الدَّيْرَ مُعْتَزِلٌ عَنِ النَّاسِ، وَأَنَا إِنَّمَا أُحِبُّ الْعُزْلَةَ، وَلَيْسَ فِيهِ إِلَّا نَصَارَى، وَإِنَّمَا كَرِهْتُ مِنْهُ أَنْ إِذَا أَرَدْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لَمْ أَجِدْ أَحَدًا أُصَلِّي مَعَهُ، قَالَ لِي: «فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَأَذِّنْ وَأَقِمْ، فَإِنْ جَاءَكَ أَحَدٌ فَصَلِّ مَعَهُ، وَإِلَّا فَصَلِّ وَحْدَكَ» قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: فَاسْتَحْسَنَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله هَذَا الْمَوْضِعَ وَاشْتَهَاهُ لِي وَرَأَيْتُ السُّرُورَ فِيهِ بَيِّنًا لِمَا وَصَفْتُ لَهُ مِنْ ذَلِكَ وَمِنْ عُزْلَتِهِ. قُلْتُ لَهُ: فَإِنَّ الْمَدِينَةَ مِنِّي عَلَى رَأْسِ مِيلٍ يُمْكِنُنِي الدُّخُولُ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَالصَّلَوَاتُ فِي سَائِرِ الْأَيَّامِ فِي الدَّيْرِ، فَقَالَ لِي: «فِي هَذَا الْمَوْضِعِ إِذَا لَمْ يَكُنْ لَكَ مَنْ يُصَلِّي مَعَكَ، فَمَا تَصْنَعُ؟ فَأَذِّنْ وَأَقِمْ وَصَلِّ وَحْدَكَ» قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَكُنْتُ أَرَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُومُ وَيَعْمَلُ بِيَدِهِ الشَّيْءَ، وَيُصْلِحُهُ وَيَتَعَاهَدُ مَنَازِلَهُ قَالَ: وَدَخَلْتُ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله، مِرَارًا بَيْتًا، فَرَأَيْتُهُ ضَرَبَ بِيَدِهِ إِلَى أَرْضِهِ، فَسَوَّى تُرَابَهُ بِيَدِهِ
১০ - আব্দুল মালিক আল-মায়মুনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে বললেন এবং আমাকে নিজ সম্পদের দেখাশোনায় লেগে থাকতে উৎসাহিত করলেন। তিনি বললেন: "সম্পদ কতই না বিনষ্ট হয় যখন তার মালিক তার নিকটবর্তী না থাকে।" আমি বললাম: আমি আপনার থেকে আলাদা হওয়ার পর থেকে সুলতানের ভয়ে এবং তার প্রতি অনীহার কারণে আমার জমি আবাদ করিনি। আর আমি তাঁর কাছে আমার ঋণ এবং অভাব-অনটন সম্পর্কে অভিযোগ করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: "যদি তা থেকে তোমার কোনো উপায় না থাকে তবে তুমি কী করবে?" এরপর তিনি আমাকে বললেন: "এখানে করার কিছু নেই শুধু এই যে তুমি তার (সুলতানের) জন্য দোয়া করবে।" আমি বললাম: "তা কি আবশ্যক?" তিনি বললেন: "তবে তুমি আর কী করবে?" আমি দেখলাম তাঁর অধিকাংশ নির্দেশই ছিল এক্ষেত্রে সহজ করা এবং শিথিলতা প্রদানের পক্ষে। বর্ণনাকারী বলেন: একদিন আবু আব্দুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) নিজে থেকেই কথা শুরু করে বললেন: "হে আবুল হাসান! তোমার সাধ্যমতো মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষী থাকো, কারণ মানুষের প্রতি অমুখাপেক্ষী হওয়ার মতো কোনো কিছু আমি দেখিনি।" আমি বললাম: কেন আপনি নিজে থেকে আমাকে এ কথা বললেন? তিনি বললেন: "কারণ যদি তোমার কাছে এমন কিছু থাকে যা তুমি সংশোধন করতে পারো এবং যাতে তুমি সময় দিতে পারো, আর তার মাধ্যমে মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারো, তবে এই অমুখাপেক্ষিতা সুস্থতা ও নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত।" এভাবে তিনি আমাকে বারবার সম্পদ সংশোধনের জন্য এবং যা রিজিক হিসেবে পেয়েছি তা সংশোধনের মাধ্যমে মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করলেন। আর তিনি মানুষের নিকট হাত পাতার কঠোরতা বর্ণনা করতে লাগলেন। আমি বললাম: আমাদের জমি রাক্কা শহর থেকে কয়েক দিনের দূরত্বে অবস্থিত, সেখানে জনবিচ্ছিন্ন এক খ্রিস্টান গির্জা আছে, যেখানে সামান্য কয়েকজন খ্রিস্টান ছাড়া কেউ নেই, তবে কাছেই একটি শহর আছে। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ তিনি বললেন: "সেটি কোন শহর?" আমি বললাম: সেখানে একজন মুয়াজ্জিন আছে। তিনি বললেন: "এটি কি শামের অন্তর্ভুক্ত?" আমি বললাম: না, এটি আল-জাজিরার 'রাসুল আইন' অঞ্চলের নিকটবর্তী। তিনি বললেন: "তবে সেটি (গির্জা বা তার আশপাশ) একটি উত্তম স্থান।" আমি বললাম: আমার মনে কেবল একটি দুশ্চিন্তা কাজ করছে যে, গির্জাটি জনবিচ্ছিন্ন, আর আমি নির্জনতা পছন্দ করি ঠিকই, কিন্তু সেখানে খ্রিস্টান ছাড়া কেউ নেই। আমি সেখানে এই বিষয়টি অপছন্দ করি যে, যখন আমি সালাত আদায় করতে চাইব, তখন সাথে সালাত আদায় করার মতো কাউকে পাব না। তিনি আমাকে বললেন: "যখন সালাতের সময় হবে, তখন তুমি আজান ও একামত দেবে; যদি কেউ আসে তবে তার সাথে সালাত আদায় করবে, অন্যথায় একাই সালাত আদায় করবে।" আব্দুল মালিক বলেন: আবু আব্দুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) এই স্থানটিকে পছন্দ করলেন এবং আমার জন্য এটি কামনা করলেন। আমি যখন তাঁকে এর নির্জনতার কথা বর্ণনা করলাম, তখন তাঁর মাঝে স্পষ্ট আনন্দ দেখতে পেলাম। আমি তাঁকে বললাম: শহরটি আমার থেকে এক মাইল দূরত্বে অবস্থিত, ফলে জুমার সালাতে অংশ নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হবে, আর অন্য দিনগুলোতে গির্জার নিকটবর্তী স্থানে সালাত আদায় করব। তিনি আমাকে বললেন: "এই স্থানে যদি তোমার সাথে সালাত আদায় করার মতো কেউ না থাকে তবে তুমি কী করবে? আজান দেবে, একামত দেবে এবং একাই সালাত আদায় করবে।" আব্দুল মালিক বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে কাজ করতে দেখতাম, তিনি কোনো কিছু ঠিক করতেন এবং তাঁর ঘরগুলোর দেখাশোনা করতেন। তিনি বলেন: আমি অনেকবার আবু আব্দুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ঘরে প্রবেশ করেছি এবং তাঁকে তাঁর হাত দিয়ে মাটিতে কাজ করতে দেখেছি, তিনি নিজের হাত দিয়ে মাটি সমান করছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
11 - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّهْرِيَّ، يَقُولُ: قَالَ لِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله سَنَةَ تِسْعَ عَشْرَةَ، حِينَ قَدِمَ الْمُعْتَصِمُ، أَتَيْتُهُ وَهُوَ يَعْمَلُ بِيَدِهِ شَيْئًا يَرُمُّهُ بِطِينٍ: أَيْ هَذَا وَيُشِيرُ إِلَى السُّكَّانِ، كَأَنَّهُ يَعْنِي يَرُمُّهُ لِلْكِرَى
১১ - মুহাম্মদ বিন মুসা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-যুহরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উনিশ [দুইশত উনিশ] সালে, যখন আল-মুতাসিম আসলেন, তখন আমাকে বললেন; আমি তাঁর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে তিনি নিজ হাতে কাদা দিয়ে কিছু একটা মেরামত করছিলেন: অর্থাৎ এটি—এবং তিনি হালের দিকে ইশারা করছিলেন—যেন তিনি এটি ভাড়ার জন্য মেরামত করছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
12 - أَخْبَرَنِي زُهَيْرُ بْنُ صَالِحِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي قَالَ،: كَانَ رُبَّمَا أَخَذَ الْقَدُومَ وَخَرَجَ إِلَى دَارِ السُّكَّانِ يَعْمَلُ الشَّيْءَ بِيَدِهِ
১২ - জুহায়ের বিন সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: তিনি মাঝেমধ্যে কুঠার নিতেন এবং বাসিন্দাদের ঘরের দিকে বের হতেন যাতে নিজের হাতে কোনো কাজ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
13 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي هَارُونَ، أَنَّ إِسْحَاقَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ هَانِئٍ، حَدَّثَهُمْ، قَالَ: قَالَ لِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله:

[البحر الوافر]

قَلِيلُ الْمَالِ تُصْلِحُهُ فَيَبْقَى … وَلَا يَبْقَى الْكَثِيرُ مَعَ الْفَسَادِ

"
১৩ - মুহাম্মাদ ইবনু আবি হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ইসহাক ইবনু ইবরাহিম ইবনু হানি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাকে বলেছেন:

[আল-বাহরুল ওয়াফির ছন্দ]

স্বল্প সম্পদ যা তুমি সংশোধন করবে তা টিকে থাকে … আর বিনাশের সাথে অধিক সম্পদও অবশিষ্ট থাকে না।

(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
14 - أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ زِيَادٍ، ثنا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه قَالَ: ⦗ص: 41⦘ الْخَرَقُ فِي الْمَعِيشَةِ أَخْوَفُ عِنْدِي عَلَيْكُمْ مِنَ الْعَوَزِ، لَا يَقِلُّ شَيْءٌ مَعَ الْإِصْلَاحِ وَلَا يَبْقَى شَيْءٌ عَلَى الْفَسَادِ
১৪ - হারুন ইবন যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবন আবি উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিসআর থেকে, তিনি সা’দ ইবন ইবরাহীম থেকে, তিনি হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ জীবিকানির্বাহে অদক্ষতা আমার নিকট তোমাদের জন্য অভাব-অনটনের চেয়েও অধিক আশঙ্কাজনক; সুব্যবস্থাপনার সাথে কোনো কিছুই কমে না এবং অপব্যবস্থাপনার ফলে কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
15 - أَخْبَرَنِي حَرْبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا الْمُسَيَّبُ بْنُ وَاضِحٍ، قَالَ: قَالَ أَشْعَثُ يَعْنِي ابْنَ شُعْبَةَ، قُلْتُ لِإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ: أَكْرِي نَفْسِي فِي السُّوقِ وَتَفُوتُنِي الصَّلَاةُ فِي الْجَمَاعَةِ قَالَ: أَكْرِ نَفْسَكَ إِلَى حِينٍ، وَاسْتَغْنِ عَنِ النَّاسِ، وَصَلِّ الصَّلَوَاتِ لِلْوَقْتِ
১৫ - হারব ইবনে ইসমাইল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুসাইয়াব ইবনে ওয়াদিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আশআছ—অর্থাৎ ইবনে শুবা—বলেছেন, আমি ইবরাহীম ইবনে আদহামকে বললাম: আমি বাজারে নিজেকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ করি এবং আমার জামাতে সালাত ছুটে যায়। তিনি বললেন: একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজেকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ করো এবং মানুষের নিকট থেকে অমুখাপেক্ষী হও, আর সালাতসমূহ ওয়াক্ত অনুযায়ী আদায় করো।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٤٥)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَرُّوذِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ الْخُرَاسَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ شُعَيْبًا، يَقُولُ، قُلْتُ لِسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ: مَا تَقُولُ فِي رَجُلٍ قَصَّارٍ، إِذَا اكْتَسَبَ الدِّرْهَمَ كَانَ فِي الدِّرْهَمِ مَا يَقُوتُهُ وَيَقُوتُ عِيَالَهُ لَمْ يُدْرِكِ الصَّلَاةَ فِي جَمَاعَةٍ، فَإِذَا اكْتَسَبَ أَرْبَعَةَ دَوَانِيقَ، أَدْرَكَ الصَّلَاةَ فِي جَمَاعَةٍ، وَلَمْ يَكُنْ فِي الْأَرْبَعَةِ الدَّوَانِيقِ مَا يَقُوتُهُ وَيَقُوتُ عِيَالَهُ، فَأَيُّهَا أَفْضَلُ؟ قَالَ: «يَكْسِبُ الدِّرْهَمَ وَيُصَلِّي وَحْدَهُ أَفْضَلُ»
১৬ - আবু বকর আল-মাররুযী আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর আল-খুরাসানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শুআইবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সুফইয়ান আস-সাওরীকে বললাম: এমন একজন ধোপা ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, যে যদি এক দিরহাম উপার্জন করে তবে তাতে তার নিজের ও তার পরিবারের জীবিকার সংস্থান হয় কিন্তু সে জামাতে সালাত পায় না; আর যদি সে চার দানেক উপার্জন করে তবে সে জামাতে সালাত পায় কিন্তু সেই চার দানেক তার ও তার পরিবারের জীবিকার জন্য পর্যাপ্ত নয়; এমতাবস্থায় কোনটি উত্তম? তিনি বললেন: “সে এক দিরহাম উপার্জন করবে এবং একা সালাত আদায় করবে, এটিই অধিক উত্তম।”
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٤٧)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَرُّوذِيُّ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ: سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ فِي أَيِّ شَيْءٍ خَرَجَ إِلَى الْيَمَنِ؟ قَالَ: خَرَجَ لِلتِّجَارَةِ وَلِلُقِيِّ مَعْمَرٍ، قَالُوا: كَانَ لَهُ مِئَةُ دِينَارٍ، قَالَ: أَمَّا سَبْعُونَ فَصَحِيحَةٌ
১৭ - আবু বকর আল-মাররুযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম, সুফিয়ান আস-সাওরী কোন উদ্দেশ্যে ইয়েমেনে গিয়েছিলেন? তিনি বললেন: তিনি ব্যবসার প্রয়োজনে এবং মা'মারের সাথে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলেন। তারা বলে যে, তাঁর নিকট একশ দিনার ছিল। তিনি (আবু আব্দুল্লাহ) বললেন: সত্তর (দিনার থাকার বিষয়টি) তো সঠিক।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٤٨)
18 - أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ طَالِبٍ الْأَنْطَاكِيُّ، ثنا الْمُسَيَّبُ بْنُ وَاضِحٍ، قَالَ: قَالَ لِي يُوسُفُ بْنُ أَسْبَاطٍ: مَاتَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَخَلَّفَ مِائَتَيْ دِينَارٍ، قُلْتُ لَهُ: وَمِنْ أَيْنَ كَانَ لَهُ مِائَتَا دِينَارٍ وَهُوَ زَاهِدُ الْعُلَمَاءِ؟ قَالَ: كَانَ يَضَعُ الشَّيْءَ بَعْدَ الشَّيْءِ مَعَ إِخْوَانِهِ، فَبُورِكَ لَهُ فِيهِ. قَالَ: وَكَانَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ يَقُولُ: مَا كَانَتِ الْقُوَّةُ مُذْ بَعَثَ اللَّهُ عز وجل مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم أَنْفَعُ لِأَهْلِهَا مِنْهَا فِي هَذَا الزَّمَانِ
১৮ - ইয়াহইয়া ইবনে তালিব আল-আনতাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুসাইয়্যাব ইবনে ওয়াদিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে আসবাত আমাকে বলেছেন: সুফিয়ান আস-সাওরী মৃত্যুবরণ করলেন এবং দুইশত দিনার রেখে গেলেন। আমি তাকে বললাম: তাঁর কাছে দুইশত দিনার কোত্থেকে এল, অথচ তিনি তো আলেমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যাহিদ (সংসারত্যাগী) ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি তাঁর ভাইদের সাথে অল্প অল্প করে কিছু কিছু সঞ্চয় করতেন, ফলে তাতে তাঁর জন্য বরকত দান করা হয়েছিল। তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী বলতেন: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যখন থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠিয়েছেন, তখন থেকে এই বর্তমান সময়ের চেয়ে সম্পদ তার অধিকারীদের জন্য অন্য কোনো সময়ে অধিক উপকারী ছিল না।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٤٩)
19 - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ مُكْرَمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الزَّاهِدَ، يَقُولُ: قَالَ رَجُلٌ لِسُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ: يَكُونُ الرَّجُلُ زَاهِدًا وَعِنْدَهُ مِئَةُ دِينَارٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَكَيْفَ ذَلِكَ؟ قَالَ: «إِنْ نَقَصَتْ لَمْ يَغْتَمْ، وَإِنْ زَادَتْ لَمْ يَفْرَحْ، وَلَا يَكْرَهُ الْمَوْتَ لِفِرَاقِهَا»
১৯ - মুহাম্মদ বিন আমর বিন মুকরাম আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবুল হাসান আল-জাহিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে বললেন: কোনো ব্যক্তি কি একশ দিনার থাকা সত্ত্বেও জাহিদ হতে পারেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», তিনি বললেন: সেটি কীভাবে? তিনি বললেন: «যদি তা হ্রাস পায় তবে তিনি ব্যথিত হন না, আর যদি তা বৃদ্ধি পায় তবে তিনি আনন্দিত হন না, এবং ধনসম্পদ ছেড়ে যাওয়ার কারণে তিনি মৃত্যুকে অপছন্দ করেন না»
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
20 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ هَارُونَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَطَّارُ، قَالَ وَذَكَرَ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، يَقُولُ: الْمَالُ فِي هَذَا الزَّمَانِ سِلَاحٌ
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে হারুন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আত্তার, তিনি বলেন এবং তিনি হুসাইন ইবনে আলী ইবনুল আসওয়াদ-এর কথা উল্লেখ করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান সাওরীকে বলতে শুনেছি: এই যুগে সম্পদ হলো একটি অস্ত্র।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
21 - أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، ثنا أَبُو بَكْرٍ يَعْنِي ابْنَ حَمَّادٍ الْمُقْرِئَ، قَالَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا أَبُو الْفَتْحِ، قَالَ: عَابَ سُفْيَانُ عَلَى هَؤُلَاءِ الَّذِينَ لَا يَرَوْنَ الْعَمَلَ. قَالَ: وَرَأَى أَبُو بَكْرٍ يَعْنِي الصِّدِّيقَ شَابًّا يَسْأَلُ فَوَاجَرَهُ نَفْسَهُ
২১ - আল-হাসান ইবন আবদিল ওয়াহহাব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর অর্থাৎ ইবন হাম্মাদ আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবন ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ফাতহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফইয়ান ওই সকল ব্যক্তির সমালোচনা করেছেন যারা আমলকে (ঈমানের অন্তর্ভুক্ত) মনে করে না। তিনি বলেন: আবু বকর অর্থাৎ আস-সিদ্দিক এক যুবককে ভিক্ষা করতে দেখলেন, অতঃপর তিনি তাকে তিরস্কার করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥١)
22 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، قَالَ: كَانَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ يَمُرُّ بِنَا وَنَحْنُ جُلُوسٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، فَيَقُولُ «مَا يُجْلِسُكُمْ؟» فَنَقُولُ: فَمَا نَصْنَعُ؟ قَالَ: «اطْلُبُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ، وَلَا تَكُونُوا عِيَالًا عَلَى الْمُسْلِمِينَ»
২২ - আহমাদ বিন মানসুর আর-রামাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন সাওর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন যখন আমরা মাসজিদুল হারামে বসা থাকতাম। তখন তিনি বলতেন, "কিসে তোমাদের বসিয়ে রেখেছে?" আমরা বলতাম, "তাহলে আমরা কী করব?" তিনি বলতেন, "তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং মুসলিমদের ওপর নির্ভরশীল হয়ো না।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، رضي الله عنه، قَالَ: حَدَّثَنِي مُهَنَّا، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، شَيْخٌ كَانَ عِنْدَنَا بِعَكَّا، قَالَ: قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ: يَجِبُ عَلَى الرَّجُلِ طَلَبُ الْعِلْمِ إِذَا كَانَ عِنْدَهُ مِلْءُ كَفِّهِ طَعَامًا. وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ يَذْكُرُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عُتْبَةَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ قَالَ: إِنْ كَانَ عِنْدَكَ بُرٌّ فَتَعَبَّدْ، وَإِلَّا فَاطْلُبْهُ يَعْنِي مِنْ حِلِّهِ
২৩ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহান্না আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাযিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—যিনি আক্কায় আমাদের নিকট একজন শাইখ ছিলেন—তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী বলেছেন: কোনো ব্যক্তির নিকট যদি এক অঞ্জলি পরিমাণ খাদ্যও থাকে, তবে তার জন্য ইলম অন্বেষণ করা ওয়াজিব। আর আমি মুহাম্মদ ইবন ইসহাককে আবদুল্লাহ ইবন আবু সাঈদ হতে, তিনি ইবন আবু উতবাহ হতে এবং তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী হতে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: যদি তোমার নিকট গম থাকে তবে ইবাদত করো, অন্যথায় তা অন্বেষণ করো—অর্থাৎ হালাল পন্থায়।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٣)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَرُّوذِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ الْخُرَاسَانِيُّ، ثنا أَبُو صَالِحٍ، قَالَ سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ أَسْبَاطٍ، يَقُولُ لِشُعَيْبِ بْنِ حَرْبٍ: أَشَعَرْتَ أَنَّ طَلَبَ الْحَلَالِ، فَرِيضَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ
২৪ - আবু বকর আল-মাররূযী আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর আল-খুরাসানীকে বলতে শুনেছি, আবু সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউসুফ বিন আসবাতকে শুআইব বিন হারবের উদ্দেশে বলতে শুনেছি: আপনি কি অবগত আছেন যে, হালাল অন্বেষণ করা একটি ফরজ? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٤)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَرُّوذِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ: «لَا تَحْقِرَنَّ فِلْسًا تُطِيعُ اللَّهَ فِي كَسْبِهِ، لَيْسَ الْفِلْسُ يُرَادُ، إِنَّمَا الطَّاعَةُ تُرَادُ، عَسَى أَنْ تَشْتَرِيَ بِهِ بَقْلًا فَلَا يَسْتَقِرُّ فِي جَوْفِكَ حَتَّى يُغْفَرَ لَكَ»
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-মাররুযী, তিনি আবু আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু জাফর আল-হাদ্দা থেকে, তিনি শুআইব বিন হারব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «তুমি এমন একটি পয়সাকেও তুচ্ছ জ্ঞান করো না যার উপার্জনে তুমি আল্লাহর আনুগত্য করেছ। পয়সাটি উদ্দেশ্য নয়, বরং আনুগত্যই উদ্দেশ্য। হতে পারে তুমি তা দিয়ে কিছু শাকসবজি কিনলে, আর তা তোমার পেটে স্থির হতে না হতেই তোমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٤)
26 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ الْمُقْرِئُ، ثنا يُوسُفُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ بَكَّارٍ، يَقُولُ: كَانَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ يُؤَاجِرُ نَفْسَهُ، وَكَانَ سُلَيْمَانُ الْخَوَّاصُ يَلْقُطُ، وَكَانَ حُذَيْفَةُ يَضْرِبُ اللَّبِنَ
২৬ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুস সামাদ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আলী বিন বাক্কারকে বলতে শুনেছি: ইবরাহিম বিন আদহাম নিজেকে মজুর হিসেবে খাটাতেন, সুলাইমান আল-খাওয়াস (শস্যদানা) কুড়াতেন এবং হুজায়ফা কাঁচা ইট তৈরি করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٥)
27 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفَرَجِ أَبُو عُتْبَةَ الْحِمْصِيُّ، ثنا بَقِيَّةُ، قَالَ: كَانَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ إِذَا قِيلَ لَهُ: كَيْفَ أَنْتَ؟ قَالَ: بِخَيْرٍ مَا لَمْ يَتَحَمَّلْ مُؤْنَتِي غَيْرِي
২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আল-ফারাজ আবু উতবা আল-হিমসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন আদহামকে যখন জিজ্ঞেস করা হতো, "আপনি কেমন আছেন?", তখন তিনি বলতেন: "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো আছি যতক্ষণ অন্য কেউ আমার বোঝা (জীবিকার ভার) বহন না করে।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٥)
28 - أَخْبَرَنَا حَرْبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا الْمُسَيَّبُ بْنُ وَاضِحٍ، قَالَ: ثنا أَشْعَثُ بْنُ شُعْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، أَنَّهُ قَالَ: لِبَعْضِ إِخْوَانِهِ: «لَا تَدَعْ أَنْ تَحْتَرِفَ، فَإِنَّكَ إِذَا احْتَرَفْتَ اشْتَغَلْتَ وَإِذَا لَمْ تَحْتَرِفْ عُرِفْتَ»
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হারব ইবন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুসাইয়িব ইবন ওয়াদিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশ’আছ ইবন শু’বাহ ইবরাহীম ইবন আদহাম থেকে যে, তিনি তাঁর জনৈক ভাইকে বলেছিলেন: «তুমি জীবিকা অন্বেষণের পেশা গ্রহণ করা ছেড়ে দিয়ো না; কেননা তুমি যখন কোনো পেশায় নিয়োজিত হবে তখন তুমি ব্যস্ত থাকবে, আর যখন তুমি কোনো পেশা গ্রহণ করবে না তখন তুমি (মানুষের কাছে অন্যের মুখাপেক্ষী হিসেবে) পরিচিত হয়ে পড়বে।»
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলাত তিজারাহ - মিন আল-জামি লিল খাল্লাল - তাহকীক আল-হাদ্দাদ (পৃষ্ঠা: ٥٦)
29 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْقَاسِمِ الْأَزْدِيُّ، ثنا طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، ثنا الْفَيْضُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: سَأَلْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ، قُلْتُ: لَوْ أَنَّ رَجُلًا قَعَدَ فِي بَيْتِهِ، زَعَمَ أَنَّهُ يَثِقُ بِاللَّهِ فَيَأْتِيهِ بِرِزْقِهِ؟ قَالَ: يَعْنِي إِذَا وَثِقَ بِهِ حَتَّى يَعْلَمَ أَنَّهُ قَدْ وَثِقَ بِهِ، لَمْ يَمْنَعْهُ شَيْءٌ أَرَادَهُ، وَلَكِنْ لَمْ يَفْعَلْ هَذَا الْأَنْبِيَاءُ وَلَا غَيْرُهُمْ، وَقَدْ كَانَتِ الْأَنْبِيَاءُ يُؤَاجِرُونَ أَنْفُسَهُمْ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم آجَرَ نَفْسَهُ، وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، وَلَمْ يَقُولُوا: نَقْعُدُ حَتَّى يَرْزُقَ اللَّهُ عز وجل، وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ: {وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ} [الجمعة: 10] . فَلَابُدَّ مِنْ طَلَبِ الْمَعِيشَةِ
২৯ - মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল কাসিম আল-আজদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাহির ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ফায়জ ইবনে ইসহাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ফুযাইল ইবনে ইয়াজকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: যদি কোনো ব্যক্তি তার ঘরে বসে থাকে এবং এই দাবি করে যে সে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে ফলে আল্লাহ তার কাছে তার রিযিক পৌঁছে দেবেন? তিনি বললেন: অর্থাৎ, যখন সে তাঁর ওপর এমনভাবে ভরসা করবে যে আল্লাহ জানবেন যে সে সত্যিই তাঁর ওপর ভরসা করেছে, তখন আল্লাহ যা দিতে চাইবেন তা থেকে কোনো কিছুই তাকে বঞ্চিত করবে না; কিন্তু নবীগণ কিংবা অন্য কেউ এমনটি করেননি। নবীগণ নিজেদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োজিত করতেন (কাজ করতেন)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন, এবং আবু বকর ও উমরও। তাঁরা এমনটি বলেননি যে: আমরা বসে থাকব যতক্ষণ না মহান আল্লাহ রিযিক দান করেন। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: {তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো} [জুমুআ: ১০]। সুতরাং জীবিকা অন্বেষণ করা অপরিহার্য।