(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: -)
التوحيد لابن منده - ت الفقيهي القسم: كتب السنة
الكتاب: التوحيد ومعرفة أسماء الله عز وجل وصفاته على الاتفاق والتفرد
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن منده (310 - 395 هـ)
المحقق: علي بن محمد بن ناصر الفقيهي [ت 1446 هـ]
الطبعة: الأولى، 1405 - 1413 هـ
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة (وصَوّرتْها مكتبة العلوم والحكم - المدينة المنورة)
عدد الأجزاء: 3
تنبيه: صحح بعض مواضعه الشيخ أحمد بسيوني جزاه الله خيرا، وقد صدرنا تعليقاته باسمه في هوامش الكتاب
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - আল-ফাকীহীর তাহকীক বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আত-তাওহীদ এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ (ঐক্যমত্য ও একক বর্ণনা অনুসারে)
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মানদাহ (৩১০ - ৩৯৫ হিজরি)
গবেষক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-ফাকীহী [মৃত্যু ১৪৪৬ হিজরি]
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৫ - ১৪১৩ হিজরি
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (এবং এটি মদীনা মুনাওয়ারার মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম দ্বারা অনুলিপি করা হয়েছে)
খণ্ড সংখ্যা: ৩
সতর্কবাণী: শায়খ আহমদ বাসইউনী এর কিছু অংশ সংশোধন করেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন، এবং আমরা তার মন্তব্যগুলো বইটির ফুটনোটে তার নামসহ প্রকাশ করেছি
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٦١)
1 - ذِكْرُ مَا وَصَفَ الله عز وجل بِهِ نَفْسَهُ وَدَلَّ عَلَى وَحْدَانِيَّتِهِ عز وجل، وَأَنَّهُ أَحَدٌ صَمَدٌ، لمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لهُ كُفُوًا أَحَدٌ.
1 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ بْنِ الحَسَنِ، قَالَ: حَدثنا أَحمَدُ بْنُ يُوسُفُ السُّلَمِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَأَخْبَرَنَا مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: هَذَا مَا حَدثنا أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: قَالَ الله عز وجل: كَذَّبَنِي عَبْدِي وَلَمْ يَكُنْ لهُ أَنْ يُكَذِّبَنِي، وَشَتَمَنِي عَبْدِي وَلَمْ يَكُنْ لهُ ذَلِكَ، أَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّايَ أَنْ يَقُولَ: لنْ يُعِيدَنِي كَمَا بَدَأَنِي، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: اتَّخَذَ الله وَلَدًا، وَأَنَا الصَّمَدُ الَّذِي لمْ أَلِدْ، وَلَمْ أُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفُوًا أَحَدٌ.
১ - মহান ও মহীয়ান আল্লাহ নিজেকে যে বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন এবং যা তাঁর একত্ববাদের প্রমাণ প্রদান করে তার বর্ণনা; এবং নিশ্চয়ই তিনি এক ও অমুখাপেক্ষী সত্তা, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই.
১ - আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইউসুফ আস-সুলামি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, এবং আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন মা'মার বিন রাশিদ, হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: এটিই তা যা আমাদের নিকট আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মহান ও মহীয়ান আল্লাহ বলেছেন: আমার বান্দা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অথচ তার জন্য এটি সংগত ছিল না; এবং সে আমাকে গালি প্রদান করেছে, অথচ তার জন্য এটি সমীচীন ছিল না। তার আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি হলো তার এই উক্তি: "তিনি আমাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন না যেভাবে তিনি আমাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন"; আর তার আমাকে গালি প্রদানের বিষয়টি হলো তার এই উক্তি: "আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন"; অথচ আমিই অমুখাপেক্ষী সত্তা, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর আমার সমকক্ষ কেউ নেই।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو أَحمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدثنا أَبُو حَاتِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ بْنِ المُنْذِرِ، قَالَ: حَدثنا أَبُو اليَمَانِ الحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، حَدثنا أَحمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: قَالَ الله تَعَالَى: كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لهُ ذَلِكَ، فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: لنْ يُعِيدَنِي كَمَا بَدَأَنِي، وَلَيْسَ أَوَّلُ الخَلْقِ بِأَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْ إِعَادَتِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: اتَّخَذَ الله وَلَدًا، وَأَنَا الأَحَدُ الصَّمَدُ، لمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفُوًا أَحَدٌ.
رَوَاهُ البُخَارِيُّ عَنْ أَبِي مُغِيرَةَ.
وَرَوَاهُ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّ الله عز وجل.
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস ইবনুল মুনযির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে শুআইব ইবনে আবি হামযাহ, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে অথচ তার জন্য এটি সংগত ছিল না। তার আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি হলো তার এই উক্তি: 'তিনি আমাকে পুনরায় জীবিত করবেন না যেভাবে তিনি প্রথমবার আমায় সৃষ্টি করেছিলেন', অথচ প্রথমবার সৃষ্টি করা আমার নিকট পুনরায় সৃষ্টি করার চেয়ে অধিক সহজ নয়। আর তার আমাকে গালি দেওয়ার বিষয়টি হলো তার এই উক্তি: 'আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন', অথচ আমিই একক, অমুখাপেক্ষী; আমি কাউকে জন্ম দিইনি এবং আমাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর আমার সমকক্ষ কেউ নেই।
এটি বুখারি আবু মুগিরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর এটি শুআইব ইবনে আবি হামযাহ বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি নাফি ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা...
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
3 - أَخْبَرَنَا خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَا: حَدثنا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزِّبْرِقَانِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ الحُبَابِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ عَبْدِ الله بْنِ بُرَيْدَةَ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.... بَاب المَسْجِدِ، فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدْخَلَنِي المَسْجِدَ، فَإِذَا رَجُلٌ يُصَلِّي وَيَدْعُو وَهُوَ يَقُولُ: اللهمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ ألاَّ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، الأَحَدُ الصَّمَدُ، الَّذِي لمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لهُ كُفُوًا أَحَدٌ، فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لقَدْ سَأَلَ رَبَّهُ بِاسْمِهِ الأَعْظَمِ الَّذِي إِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى، وَإِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ.
قَالَ زَيْدُ بْنُ الحُبَابِ: فَحَدَّثْتُ زُهَيْرَ بْنَ مُعَاوِيَةَ بَعْدَ ذَلِكَ بِسِنِينَ، فَقَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ بِهَذَا الحَدِيثِ بِعَيْنِهِ.
قَالَ زَيْدُ بْنُ الحُبَابِ: وَأَخْبَرَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ بِهِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ.
رَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ.
وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ.
وَرَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ البَصْرِيُّ، وَعَبْدُ الوَارِثِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، وَقَالَ عَبْدُ الوَارِثِ: عَنْ حُسَيْنِ المُعَلِّمِ، عَنْ عَبْدِ الله بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيِّ (بْنِ) [1] مِحْجَنِ بْنِ الأَدْرَعِ.
--------------------------------------------
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাইসামা ইবনে সুলাইমান ও মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ; তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে জাফর ইবনে যিবরিকান, যায়িদ ইবনুল হুবাব থেকে, তিনি মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ আল-আসলামি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) .... মসজিদের দরজা, এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে মসজিদে প্রবেশ করালেন। সেখানে একজন লোক সালাত আদায় করছিল এবং দুআ করছিল; সে বলছিল: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে আমি সাক্ষ্য দিই যে আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি এক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকে জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই সে তার রবের নিকট তাঁর সেই মহান নামে প্রার্থনা করেছে, যার মাধ্যমে চাইলে তিনি দান করেন এবং যার মাধ্যমে দুআ করলে তিনি কবুল করেন।
যায়িদ ইবনুল হুবাব বলেন: এর কয়েক বছর পর আমি এটি যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়াকে বর্ণনা করি, তখন তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমার নিকট মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে এই হুবহু হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
যায়িদ ইবনুল হুবাব বলেন: সুফিয়ান সাওরিও আমাদের মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে এটি সংবাদ দিয়েছেন।
ইবনে উইয়াইনাহ এবং একাধিক রাবি মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন।
ইসমাইল ইবনে মুসলিম আল-বাসরি ও আবদুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ এটি মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহ থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবদুল ওয়ারিস বলেছেন: হুসাইন আল-মুয়াল্লিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি হানযালা ইবনে আলি (ইবনে) [১] মিহজান ইবনুল আদরা থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
4 - أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ العَبَّاسِ الكِنَانِيُّ، قَالَ: حَدثنا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ البَصْرِيُّ، نَزَلَ مِصْرَ، قَالَ: حَدثنا أَحمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدثنا عَبْدُ الله بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدثنا عَمْرُو بْنُ الحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، أَنَّ أَبَا الرِّجَالِ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ، عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها، أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلاً عَلَى سَرِيَّةٍ، فَكَانَ يَقْرَأُ لأصْحَابِهِ فَيَخْتِمُ فِي صَلَاتِهِ بِ {قُلْ هُوَ الله أَحَدٌ} فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: سَلُوهُ لأيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ؟ فَسَأَلُوهُ، فَقَالَ: ِلأنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ، عز وجل، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا قَالَ: أَخْبِرُوهُ أَنَّ الله، عز وجل، يُحِبُّهُ هَذَا حَدِيثٌ مُجْمَعٌ عَلَى صِحَّتِهِ الَّذِي بُعِثَ عَلَى السَّرِيَّةِ كُلْثُومُ بْنُ زَهْدَمٍ قَالَهُ عَبْدُ الله بْنُ عَبَّاسٍ، رضي الله عنهما.
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আল-কিনানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাসরি, যিনি মিসরে অবস্থান করতেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে সালিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনুল হারিস, সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে বর্ণিত যে, আবু আর-রিজাল মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর মা আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি ছোট বাহিনীর প্রধান করে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তাঁর সাথীদের সালাতে কিরাত পড়তেন এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ (বলুন, তিনি আল্লাহ, এক) পাঠ করে সালাত শেষ করতেন। তারা যখন ফিরে এলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা করো সে কেন এমনটি করে? অতঃপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: কারণ এটি পরম করুণাময় (আর-রাহমান) মহান আল্লাহর গুণাবলি, আর আমি এটি পাঠ করতে ভালোবাসি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তাকে সংবাদ দাও যে, মহান আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। এটি একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। যাকে সেই বাহিনীর প্রধান করে পাঠানো হয়েছিল তিনি হলেন কুলসুম ইবনে যাহদাম; আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এ কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
5 - أَخْبَرَنَا خَيْثَمَةُ، قَالَ: حَدثنا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزِّبْرِقَانِ، قَالَ: حَدثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَخِي أَبُو بَكْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، عَنْ عُبَيْدِ الله بْنِ عُمَرَ، عَنْ ثَابِتِ البُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ الله، صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ: لِمَ تَلْزَمُ قِرَاءَةَ {قُلْ هُوَ الله أَحَدٌ} فَقَالَ: إِنِّي أُحِبُّهَا قَالَ: فَإِنَّ بِحُبِّهَا أَدْخَلَكَ الله، عز وجل، الجَنَّةَ.
رَوَاهُ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ الله بْنِ عُمَرَ.
وَرَوَاهُ مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ ثَابِتٍ البُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ نَحْوَهُ.
৫ - খায়সামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে জাফর ইবনে যিবরিকান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে আবি উওয়াইস হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার ভাই আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তিকে বললেন: "তুমি কেন 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) পাঠ করা আঁকড়ে ধরে আছ?" সে বলল: "আমি একে ভালোবাসি।" তিনি বললেন: "এর প্রতি তোমার ভালোবাসাই তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে।"
আদ-দারাওয়ারদি এটি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর মুবারক ইবনে ফাদালা এটি সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
6 - أَخْبَرَنَا
… عَبْدُ الله بْنُ حَمْزَةَ البَغْدَادِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ القَاضِي، وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الله بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، وَابْنُ الصَّقْرِ قَالَا: حَدثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ
… وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ المُطَيِّنُ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الله،
… ، قَالَ: حَدثنا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: حَدثنا عَبْدُ العَزِيزِ
… ، عَنْ عُبَيْدِ الله بْنِ عُمَرَ، عَنْ ثَابِتِ البُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، كَانَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَؤُمُّهُمْ فِي مَسْجِدِ قُبَاءَ، وَكَانَ كُلَّمَا افْتَتَحَ سُورَةً، يَقْرَأُ بِهَا لهُمْ فِي الصَّلَاةِ، مِمَّا يَقْرَأُ بِهِ افْتَتَحَ بِ {قُلْ هُوَ الله أَحَدٌ} حَتَّى يَفْرُغَ مِنْهَا، ثُمَّ يَقْرَأُ سُورَةً أُخْرَى مَعَهَا، وَكَانَ يَصْنَعُ ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، فَكَلَّمَهُ أَصْحَابُهُ فَقَالُوا: إِنَّكَ تَفْتَحُ بِهَذِهِ السُّورَةِ ثُمَّ لَا تَرَى أَنَّهَا تُجْزِئُكَ حَتَّى تَقْرَأَ بِأُخْرَى، فَإِمَّا أَنْ تَقْرَأَ بِهَا وَإِمَّا أَنْ تَدَعَهَا وَتَقْرَأَ بِأُخْرَى، فَقَالَ: مَا أَنَا بِتَارِكِهَا، إِنْ أَحْبَبْتُمْ أَنْ أَؤُمَّكُمْ بِذَلِكَ فَعَلْتُ، وَإِنْ كَرِهْتُمْ تَرَكْتُكُمْ، وَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهُ مِنْ أَفْضَلِهِمْ، وَكَرِهُوا أَنْ يَؤُمَّهُمْ غَيْرُهُ، فَلَمَّا أَتَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرُوهُ الخَبَرَ فَقَالَ: يَا فُلَانُ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَفْعَلَ مَا يَأْمُرُكَ بِهِ أَصْحَابُكَ، وَمَا حَمَلَكَ عَلَى لُزُومِ هَذِهِ السُّورَةِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، فَقَالَ: حُبُّهَا يَا رَسُولَ الله، فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: حُبُّهَا أَدْخَلَكَ الجَنَّةَ.
رَوَاهُ ابْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، وَمُصْعَبُ الزُّبَيْرِيُّ، عَنِ الدَّارَوَرْدِيِّ.
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
… আব্দুল্লাহ ইবনে হামযাহ আল-বাগদাদী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক আল-কাজী, এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর ও ইবনুস সাকর, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে
… এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মুতায়্যিন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ,
… , তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহরিজ ইবনে সালামাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ
… , ওবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আনসারদের এক ব্যক্তি কুবা মসজিদে তাদের ইমামতি করতেন। তিনি যখনই সালাতে কোনো সূরা পড়তে শুরু করতেন, যা তিনি তাদের জন্য পাঠ করতেন, তখন তিনি 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (বলুন, তিনি আল্লাহ এক) দিয়ে শুরু করতেন যতক্ষণ না তা শেষ করতেন, এরপর এর সাথে অন্য একটি সূরা পড়তেন। তিনি প্রত্যেক রাকাআতেই এরূপ করতেন। তাঁর সঙ্গীরা তাঁর সাথে কথা বললেন এবং বললেন: "আপনি এই সূরাটি দিয়ে শুরু করেন, এরপরও আপনি মনে করেন না যে এটি আপনার জন্য যথেষ্ট যতক্ষণ না আপনি এর সাথে অন্য আরেকটি সূরা পড়েন। হয় আপনি শুধু এটিই পাঠ করুন, অথবা এটি ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো সূরা পাঠ করুন।" তিনি বললেন: "আমি এটি ছাড়ব না। তোমরা যদি চাও যে আমি এভাবেই তোমাদের ইমামতি করি, তবে আমি করব; আর যদি তোমরা অপছন্দ করো, তবে আমি তোমাদের ইমামতি ছেড়ে দেব।" আর তারা তাঁকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠদের একজন মনে করত এবং অন্য কেউ তাদের ইমামতি করুক তা তারা অপছন্দ করত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁদের কাছে আসলেন, তাঁরা তাঁকে এই সংবাদটি জানালেন। তিনি বললেন: "হে অমুক! তোমার সঙ্গীরা তোমাকে যা করতে বলছে তা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? আর প্রত্যেক রাকাআতে এই সূরাটি অবিরাম পাঠ করতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছে?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! এর প্রতি ভালোবাসা।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এর প্রতি ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে।"
এটি ইবনে আবি উওয়াইস এবং মুসআব আয-যুবাইরী আদ-দারাওয়ারদী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
7 - أَخْبَرَنَا
… مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدثنا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الأَشْرَسِ،
… وَمُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ الله الزُّبَيْرِيُّ، قَالَ: حَدثنا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ
… ، فقَالَ: حَدَّثَنِي ثَابِتٌ البُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً
… {قُلْ هُوَ الله أَحَدٌ}، فَقَالَ لهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مَا
… قَالَ: حُبُّهَا، قَالَ: حُبُّكَ إِيَّاهَا أَدْخَلَكَ الجَنَّةَ.
رَوَاهُ مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ.
7 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
… মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালেহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল আশরাস,
… এবং মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জুবাইরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন,
… থেকে, অতঃপর তিনি বলেন: আমার নিকট সাবিত আল-বুনানি বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি
… {বলুন, তিনি আল্লাহ এক}, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: কি
… তিনি বললেন: এর প্রতি ভালোবাসা, তিনি (নবী) বললেন: এর প্রতি তোমার ভালোবাসাই তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে।
এটি মুবারক ইবনে ফাদালা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٨٢)
2 - ذِكْرُ مَعْرِفَةِ بَدْءِ الخَلْقِقَالَ الله تَعَالَى مُخْبِرًا عَنْ وَحْدَانِيَّتِهِ وَتَفَرُّدِهِ بِالخَلْقِ مِنْ غَيْرِ ظَهِيرٍ وَلَا مُعِينٍ {مَا أَشْهَدْتُهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنْفُسِهِمْ وَمَا كُنْتُ مُتَّخِذَ المُضِلِّينَ عَضُدًا} وَقَالَ عز وجل: {أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ}.
8 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ بْنِ الحَسَنِ، قَالَ: حَدثنا أَحمَدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ المُحَارِبِيِّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَحْيَى، وَعَبْدُ الله بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَا: حَدثنا أَبُو مَسْعُودٍ أَحمَدُ بْنُ الفُرَاتِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدثنا أَبُو إِسْحَاقَ الفَزَارِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ المُحَارِبِيِّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ المَازِنِيُّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَعَقَلْتُ نَاقَتِي وَدَخَلْتُ فَأَتَاهُ نَفَرٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ فَقَالَ: اقْبَلُوا البُشْرَى يَا بَنِي تَمِيمٍ، قَالُوا: قَدْ بَشَّرْتَنَا فَأَعْطِنَا، وَجَاءَهُ نَفَرٌ مِنْ أَهْلِ اليَمَنِ فَقَالَ: اقْبَلُوا البُشْرَى يَا أَهْلَ اليَمَنِ، إِذْ لمْ يَقْبَلْهَا إِخْوَانُكُمْ بَنُو تَمِيمٍ، فَقَالُوا: قَدْ قَبِلْنَا، وَجِئْنَاكَ لِنَتَفَقَّهَ فِي الدِّينِ وَلِنَسْأَلَكَ عَنْ بَدْءِ هَذَا الأَمْرِ، فَقَالَ: كَانَ الله عز وجل وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ غَيْرُهُ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى المَاءِ، وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ، ثُمَّ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ، ثُمَّ جَاءَنِي رَجُلٌ فَقَالَ: أَدْرِكْ نَاقَتَكَ ذَهَبَتْ، فَخَرَجْتُ فَوَجَدْتُهَا يَنْقَطِعُ دُونَهَا السَّرَابُ، فَوَالله لوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ تَرَكْتُهَا.
২ - সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে জানার বিবরণমহান আল্লাহ তাঁর একত্ববাদ এবং কোনো সাহায্যকারী ও সহযোগী ছাড়াই সৃষ্টিতে তাঁর এককত্ব সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {আমি আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিতে তাদের সাক্ষী রাখিনি এবং আমি পথভ্রষ্টকারীদের সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণকারী নই}। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তারা কি তাদের সৃষ্টির সময় উপস্থিত ছিল? তাদের সাক্ষ্য অচিরেই লিখে রাখা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে}।
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনু ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ, জামি' ইবনু শাদ্দাদ আল-মুহারিবী থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনু মুহরিয থেকে, তিনি ইমরান ইবনু হুসাইন থেকে। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনু ইয়াহইয়া ও আব্দুল্লাহ ইবনু ইবরাহিম, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ আহমদ ইবনুল ফুরাত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুআবিয়া ইবনু আমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আল-ফাযারী, আল-আমাশ থেকে, তিনি জামি' ইবনু শাদ্দাদ আল-মুহারিবী থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনু মুহরিয আল-মাযিনী থেকে, তিনি ইমরান ইবনু হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম এবং আমার উটনীটিকে বাঁধলাম। এরপর আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম। তখন বনু তামীম গোত্রের একদল লোক তাঁর নিকট আসলো। তিনি বললেন: "হে বনু তামীম! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো।" তারা বললো: "আপনি আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এখন আমাদের কিছু দান করুন।" এরপর ইয়ামেনবাসীদের একটি দল তাঁর নিকট আসলো। তিনি বললেন: "হে ইয়ামেনবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, যেহেতু তোমাদের ভাই বনু তামীম গোত্র তা গ্রহণ করেনি।" তারা বললো: "আমরা তা গ্রহণ করলাম। আমরা আপনার নিকট এসেছি দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে এবং এই জগতের সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে।" তিনি বললেন: "মহান আল্লাহ ছিলেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কিছু ছিল না, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। তিনি যিকর (লওহে মাহফুজ)-এ সবকিছু লিখে রেখেছেন। তারপর তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন।" এরপর এক ব্যক্তি এসে আমাকে বললো: "তোমার উটনীটি ধরো, তা চলে গিয়েছে।" আমি বের হয়ে দেখলাম যে, মরীচিকার মাঝে তা দৃষ্টির আড়ালে চলে যাচ্ছে। আল্লাহর শপথ! আমি যদি সেটি সেখানেই ছেড়ে দিতাম (তবে কতই না ভালো হতো)।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٨٣)
9 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الله، قَالَ: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: حَدثنا عَلِيُّ بْنُ الحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ: حَدثنا أَبُو حَمْزَةَ السُّكَّرِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، رضي الله عنه قَالَ: إِنِّي لجَالِسٌ عِنْدَ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ قَوْمٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ فَقَالَ: اقْبَلُوا البُشْرَى يَا بَنِي تَمِيمٍ، فَقَالُوا: قَدْ قَبِلْنَا، بَشَّرْتَنَا فَأَعْطِنَا قَالَ: فَدَخَلَ عَلَيْهِ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ اليَمَنِ فَقَالَ: اقْبَلُوا البُشْرَى يَا أَهْلَ اليَمَنِ إِذْ لمْ يَقْبَلْهَا بَنُو تَمِيمٍ، فَقَالُوا: قَدْ قَبِلْنَا يَا رَسُولَ الله، جِئْنَاكَ لِنَتَفَقَّهَ فِي الدِّينِ وَلِنَسْأَلَكَ عَنْ أَوَّلِ هَذَا الأَمْرِ مَا كَانَ، فَقَالَ: كَانَ الله عز وجل وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَهُ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى المَاءِ، ثُمَّ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ، وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ. قَالَ: ثُمَّ أَتَانِي رَجُلٌ فَقَالَ: يَا عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ أَدْرِكْ نَاقَتَكَ فَقَدْ ذَهَبَتْ قَالَ: فَانْطَلَقْتُ أَطْلُبُهَا قَالَ: فَإِذَا السَّرَابُ يَنْقَطِعُ دُونَهَا، وَاَيْمُ الله لوَدِدْتُ أَنَّهَا ذَهَبَتْ وَإِنِّي لمْ أَقُمْ.
رَوَاهُ أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ.
৯ - আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে হাসান ইবনে শাকিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হামযাহ আস-সুক্কারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আ’মাশ থেকে, তিনি জামি’ ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে মুহরিয থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় বনু তামীম গোত্রের একদল লোক তাঁর নিকট আসল। তিনি বললেন: "হে বনু তামীম! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো।" তারা বলল: "আমরা গ্রহণ করেছি; আপনি আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এখন আমাদের কিছু প্রদান করুন।" তিনি বলেন: অতঃপর তাঁর নিকট ইয়ামেনবাসীদের একদল লোক প্রবেশ করল। তিনি বললেন: "হে ইয়ামেনবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, যেহেতু বনু তামীম তা গ্রহণ করেনি।" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা গ্রহণ করলাম। আমরা আপনার নিকট এসেছি দ্বীনের প্রজ্ঞা অর্জন করতে এবং এই সৃষ্টির সূচনা বিষয়টি কেমন ছিল সে সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে।" তিনি বললেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে আর কিছুই ছিল না। আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। অতঃপর তিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেন এবং যিকর-এ (লওহে মাহফুজ) সবকিছু লিখে দেন।" তিনি বলেন: অতঃপর এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলল: "হে ইমরান ইবনে হুসাইন! তোমার উটনী ধরো, কারণ সেটি চলে গিয়েছে।" তিনি বলেন: আমি সেটির সন্ধানে বেরিয়ে পড়লাম। তিনি বলেন: তখন মরীচিকা সেটিকে আমার দৃষ্টির আড়ালে নিয়ে যাচ্ছিল। আল্লাহর কসম! আমি কতই না আকাঙ্ক্ষা করছিলাম যে, উটনীটি যদি হারিয়েও যেত তবুও যেন আমি মজলিস ছেড়ে উঠে না আসতাম।
আবু আওয়ানাহ এটি আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٨٥)
10 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدثنا عُبَيْدُ الله بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدثنا شَيْبَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ، عَنْ عِمْرَانَ، بِمِثْلِهِ سَوَاءً.
১০ - ইসমাঈল ইবন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি জামে ইবন শাদ্দাদ থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবন মুহরিজ থেকে, তিনি ইমরান থেকে হুবহু একই রূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٩١)
3 - ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ خَلْقَ العَرْشِ تَقَدَّمَ عَلَى خَلْقِ الأَشْيَاءِ.
11 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ، قَالَ: حَدثنا أَحمَدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: هَذَا مَا حَدثنا أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ الله، صلى الله عليه وسلم قَالَ: أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ الله، عز وجل، مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ، فَإِنَّهُ لمْ يَنْقُصْ مَا فِي يَمِينِهِ، وَعَرْشُهُ عَلَى المَاءِ، وَبِيَدِهِ الأُخْرَى المِيزَانُ يَرْفَعُ وَيَخْفِضُ.
هَذَا حَدِيثٌ مُجْمَعٌ عَلَى صِحَّتِهِ.
৩ - আরশ সৃষ্টি অন্যান্য বস্তু সৃষ্টির পূর্বে হওয়ার দলীলসমূহের বর্ণনা.
১১ - মুহাম্মদ বিন হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: এটিই সেই হাদীস যা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আসমান ও যমীন সৃষ্টির পর থেকে যা কিছু ব্যয় করেছেন? নিশ্চয়ই তা তাঁর ডান হাতে যা আছে তাতে কোনো ঘাটতি করেনি; আর তাঁর আরশ পানির উপরে অবস্থিত এবং তাঁর অন্য হাতে রয়েছে দাঁড়িপাল্লা, তিনি তা উপরে ওঠান এবং নিচে নামান।
এই হাদীসটির বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٩٢)
4 - ذِكْرُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الله قَدَّرَ مَقَادِيرَ كُلِّ شَيْءٍ قَبْلَ خَلْقِ الخَلْقِ.
قَالَ الله تَعَالَى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} الآيَةَ.
12 - أَخْبَرَنَا أَحمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ: حَدثنا أَبُو يَحْيَى بْنُ أَبِي مَسَرَّةَ،
… مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ، قَالَ: حَدثنا عَلِيُّ بْنُ الحَسَنِ، قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الحُبُلِيُّ عَبْدُ الله بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدثنا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الخَوْلَانِيُّ، سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الحُبُلِيُّ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: يَقُولُ: قَدَّرَ الله عز وجل المَقَادِيرَ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفِ سَنَةٍ.
رَوَاهُ عَبْدُ الله
… بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ، وَزَادَ فِيهِ: وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى المَاءِ.
৪ - সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ যে সবকিছুর ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন তার প্রমাণাদি সংক্রান্ত বর্ণনা.
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে} (আয়াত)।
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া ইবনে আবি মাসাররাহ,
... মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল হাসান, আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ, তিনি বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হানি আল-খাওলানি, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলিকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহামহিম আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সমস্ত সৃষ্টির ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।
এটি আবদুল্লাহ
... তাঁর সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আরও বৃদ্ধি করেছেন: "আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে।"
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٩٣)
13 -… بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِمِصْرَ، قَالَ: حَدثنا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: حَدثنا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَا: حَدثنا أَبُو هَانِئٍ الخَوْلَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَمْرٍو، رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ الله، صلى الله عليه وسلم قَالَ: فَرَغَ الله، عز وجل، مِنَ المَقَادِيرِ وَأُمُورِ الدُّنْيَا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفِ سَنَةٍ لفْظُ نَافِعِ بْنِ يَزِيدَ.
১৩ -... ইবনে আবদুর রহমান মিসরে বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নাফে ইবনে ইয়াযিদ এবং লাইস ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবু হানি আল-খাওলানি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই তাকদিরসমূহ এবং দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়াবলি নির্ধারণ সম্পন্ন করেছেন। এটি নাফে ইবনে ইয়াযিদের বর্ণিত শব্দ।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٩٣)
14 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ العَبَّاسِ بْنِ الأَشْعَثِ، قَالَ: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، وَالثَّوْرِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنهما، قَالَ: أَوَّلُ مَا خَلَقَ الله مِنْ شَيْءٍ القَلَمُ، فَقَالَ: اكْتُبْ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ وَمَا أَكْتُبُ؟ قَالَ: اكْتُبِ القَدَرَ قَالَ: فَجَرَى فِي ذَلِكَ اليَوْمِ بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ، ثُمَّ رَفَعَ بُخَارَ المَاءِ رَفْعُ القَلَمِ، ثُمَّ قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ {ن وَالقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍ} أَرَادَ النَّبِيَّ، صلى الله عليه وسلم.
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আব্বাস বিন আল-আশআস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, মা’মার ও আস-সাওরী থেকে, তিনি সুলাইমান থেকে, তিনি আবু জাবইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। অতঃপর তিনি বললেন: লেখ। সে বলল: হে আমার প্রতিপালক, আমি কী লিখব? তিনি বললেন: তাকদীর (ভাগ্য) লেখ। তিনি বলেন: ফলে কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, সেদিন তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেল। অতঃপর পানির বাষ্প উপরে তোলা হলো এবং কলম তুলে নেওয়া হলো। এরপর ইবনে আব্বাস তিলাওয়াত করলেন: {নূন, শপথ কলমের এবং তারা যা লিপিবদ্ধ করে তার। আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহে আপনি উন্মাদ নন}। এর দ্বারা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٩٤)
15 - أَخْبَرَنَا
… حُسَيْنُ، قَالَ: حَدثنا أَبُو حَاتِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ: حَدثنا عُبَيْدُ الله
… ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَوَّلُ مَا خَلَقَ الله تَعَالَى مِنْ شَيْءٍ: القَلَمُ، فَقَالَ لهُ: اكْتُبْ قَالَ: أَيْ رَبِّ وَمَا أَكْتُبُ؟ قَالَ: القَدَرَ وَمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ، ثُمَّ رَفَعَ بُخَارَ المَاءِ فَفَتَقَ مِنْهُ السَّمَاوَاتِ، ثُمَّ خَلَقَ النُّونَ، ثُمَّ بَسَطَ الأَرْضَ عَلَى ظَهْرِ النُّونِ، فَاضْطَرَبَتْ؛ فَمَادَتْ؛ فَأُثْبِتَتَ بِالجِبَالِ؛ فَهِيَ تَفْخَرُ عليها.
رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنِ الأَعْمَشِ، رَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَتَمَّ مِنْ هَذَا.
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
… হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবনু ইদরিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ
… , আমাশ থেকে, তিনি আবু জাবইয়ান থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: লেখো। সে বলল: হে আমার রব! আমি কী লিখব? তিনি বললেন: তাকদির এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লেখো। অতঃপর তিনি পানির বাষ্পকে উপরে উঠালেন এবং তা থেকে আসমানসমূহ বিদীর্ণ করলেন। অতঃপর তিনি নূন (বিশাল মাছ) সৃষ্টি করলেন, এরপর নূনের পিঠের ওপর জমিনকে বিছিয়ে দিলেন। ফলে তা দুলতে লাগল ও অস্থির হয়ে পড়ল; অতঃপর পাহাড়সমূহ দ্বারা তাকে স্থির করা হলো; ফলে পাহাড়গুলো জমিনের ওপর গর্ব করতে লাগল।
একদল বর্ণনাকারী এটি আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনু জুবাইর ইবনু আব্বাস থেকে এটি অপেক্ষা আরও পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٩٧)
5 - ذِكْرُ مَا يَسْتَدِلُّ بِهِ أُولُو الأَلْبَابِ.
مِنَ الآيَاتِ الوَاضِحَةِ الَّتِي جَعَلَهَا الله، عز وجل، دَلِيلاً لِعِبَادِهِ مِنْ خَلْقِهِ عَلَى مَعْرِفَةِ وَحْدَانِيَّتِهِ مِنَ انْتِظَامِ صَنْعَتِهِ، وَبَدَائِعِ حِكْمَتِهِ، فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ، وَمَا أُحْكِمَ فِيهَا وَخَلْقِ الإِنْسَانِ
… وَالأَرْوَاحِ وَمَا رُكِّبَ فِيهَا. قَالَ الله، عز وجل، مُنَبِّهًا عَلَى قُدْرَتِهِ {ذَلِكُمُ الله رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ}.
وَقَالَ تَعَالَى: {مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ البَصَرَ} الآيَةَ.
وَقَالَ تَعَالَى: {الَّذِينَ يَذْكُرُونَ الله قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ}.
وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ}.
৫ - বুদ্ধিমানগণ যা দ্বারা দলিল গ্রহণ করেন তার বর্ণনা.
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য তাঁর একত্ববাদ পরিচয়ের দলিল হিসেবে যে সমস্ত স্পষ্ট নিদর্শন রেখেছেন তা হলো তাঁর সৃষ্টির সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির নিপুণ প্রজ্ঞা, আর তাতে যা কিছু সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং মানুষের সৃষ্টি
... ও আত্মা এবং এর গঠনপ্রকৃতি। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর ক্ষমতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন: "তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা, অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত করো।"
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসঙ্গতি দেখতে পাবে না; তুমি আবার দৃষ্টি ফেরাও" (আয়াতাংশ)।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে।"
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।"
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٩٨)
بَيَانُ ذَلِكَ مِنَ الأَثَرِ: عَلَى أَنَّ… العُقُولَ وَدَلَالَةٌ عَلَى تَوْحِيدِ الله تَعَالَى.
16 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ النَّيْسَابُورِيُّ، قَالَ: حَدثنا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الطُّوسِيُّ، قَالَ: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ المَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدثنا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ عَبْدَ الله بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ بَاتَ ليْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ خَالَتُهُ، فَاضْطَجَعَ فِي عَرْضِ الوِسَادَةِ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ، أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ، اسْتَيْقَظَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ العَشْرَ الآيَاتِ الخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ يَعْنِي {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} الآيَةُ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ يَدَهُ اليُمْنَى عَلَى رَأْسِي وَأَخَذَ بِأُذُنِي اليُمْنَى فَفَتَلَهَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ بِوَاحِدَةٍ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى أَتَاهُ المُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ.
رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنِ
… بْنِ سَعِيدٍ، وَسَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، وَالضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، وَمَالِكٍ عَنْ مَخْرَمَةَ.
আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) থেকে তার বর্ণনা: এ বিষয়ের ওপর যে… বিবেকসমূহ এবং মহান আল্লাহর তাওহীদের প্রমাণ.
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-নিসাবুরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাতিম আল-রাজি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আবি উওয়াইস। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-তুসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াজি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাস-এর নিকট পাঠ করেছি, তিনি মাখরামা ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস কুরাইব থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন: তিনি এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী মাইমুনার নিকট অতিবাহিত করলেন, আর তিনি ছিলেন তার খালা। অতঃপর তিনি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লেন, আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর স্ত্রী তার দৈর্ঘ্যের দিকে শুলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন মধ্যরাত পর্যন্ত, অথবা তার কিছুটা আগে বা কিছুটা পরে। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাগ্রত হলেন এবং নিজের হাত দিয়ে মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। তারপর তিনি সূরা আলে ইমরানের শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন, অর্থাৎ {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে} আয়াতটি। তারপর তিনি ঝুলন্ত একটি চামড়ার মশকের কাছে গিয়ে তা থেকে অজু করলেন এবং উত্তমরূপে অজু সম্পন্ন করলেন। এরপর তিনি নামাজে দাঁড়ালেন। ইবনে আব্বাস বলেন: আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা করেছেন আমিও তদ্রূপ করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম, তখন তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার ওপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে তা মলে দিলেন। তারপর তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়লেন, এরপর আরও দুই রাকাত, এরপর আরও দুই রাকাত, এরপর আরও দুই রাকাত, এরপর আরও দুই রাকাত, এরপর আরও দুই রাকাত। এরপর এক রাকাত বিতর পড়লেন। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন যতক্ষণ না মুয়াজ্জিন তাঁর নিকট আসলেন। তখন তিনি উঠে হালকা করে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন এবং এরপর বের হয়ে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়লেন।
এটি একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন ... ইবনে সাঈদ, সাঈদ ইবনে আবি হিলাল, দাহহাক ইবনে উসমান এবং মালিক হতে তিনি মাখরামা থেকে।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ٩٩)
17 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدثنا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ المِصْرِيُّ، قَالَ: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَرِيكُ بْنُ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: رَقَدْتُ فِي بَيْتِ مَيْمُونَةَ ليْلَةَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا لأَنْظُرَ كَيْفَ صَلَاةُ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ قَالَ: فَتَحَدَّثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَهْلِهِ سَاعَةً، ثُمَّ رَقَدَ، فَلَمَّا كَانَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرِ أَوْ بَعْضَهُ، خَرَجَ فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ فَقَالَ: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} الآيَةُ، حَتَّى قَرَأَ هَذِهِ الآيَاتِ، ثُمَّ قَامَ فَتَوَضَّأَ، فَاسْتَنَّ، ثُمَّ صَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، ثُمَّ أَذَّنَ بِلَالٌ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى لِلنَّاسِ الصُّبْحَ.
رَوَاهُ أَبُو صَخْرٍ حُمَيْدُ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ الله.
وَرَوَاهُ
… عَبْدُ الله بْنُ عَبَّاسٍ وَطَاوُوسِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ
… .
১৭ - উমর ইবনুর রাবি ইবনে সুলায়মান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারিক ইবনে আবি নামির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক রাতে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমুনাহ (রা.)-এর ঘরে ছিলেন, তখন আমি সেখানে ঘুমালাম যাতে দেখতে পারি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কীভাবে সালাত আদায় করেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ কথা বললেন, তারপর ঘুমালেন। যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ বা তার কিছু অংশ ছিল, তিনি বের হলেন এবং আকাশের দিকে তাকালেন, তারপর পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে...} আয়াতটি, এভাবে তিনি এই আয়াতগুলো পাঠ করলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং অজু করলেন, মেসওয়াক করলেন, তারপর এগারো রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর বিলাল আজান দিলেন এবং তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর বের হয়ে লোকদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।
আবু সাখর হুমাইদ ইবনে জিয়াদ এটি শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং এটি বর্ণনা করেছেন
… আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং তাউস ইবনে কাইসান
… থেকে।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١٠٠)
18 - أَخْبَرَنَا الحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ النَّيْسَابُورِيُّ،
… قَالَا: حَدثنا الحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: حَدثنا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدثنا عَبْدُ الله بْنُ المُبَارَكِ، حَدثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ العَبْدِيُّ، قَالَ: حَدثنا أَبُو المُتَوَكِّلِ النَّاجِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الله بْنَ عَبَّاسٍ حَدَّثَ، أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ ليْلَةٍ، فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ فَخَرَجَ فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَلَى هَذِهِ الآيَةَ فِي آلِ عِمْرَانَ الَّتِي {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} حَتَّى قَرَأَ: {رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} ثُمَّ رَجَعَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى، ثُمَّ اضْطَجَعَ، ثُمَّ خَرَجَ أَيْضًا فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ، ثُمَّ تَلَى هَذِهِ الآيَةَ، ثُمَّ رَجَعَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى، ثُمَّ اضْطَجَعَ ثُمَّ خَرَجَ أَيْضًا وَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ، ثُمَّ تَلَى هَذِهِ الآيَةَ، ثُمَّ رَجَعَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى.
رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمِ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ.
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবন আলী আন-নিসাবুরী,
... তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-হাসান ইবন সুফিয়ান ইবন আমির, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাব্বান ইবন মুসা, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসমাইল ইবন মুসলিম আল-আবদি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আল-মুতাওয়াক্কিল আন-নাজি যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন, তিনি এক রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট রাত যাপন করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতের বেলা উঠলেন এবং বাইরে বের হয়ে আকাশের দিকে তাকালেন, তারপর সূরা আল-ইমরানের এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের বিবর্তনে...} যে পর্যন্ত না তিনি পড়লেন: {হে আমাদের রব! আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র; অতএব আপনি আমাদের আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন।} অতঃপর তিনি ফিরে আসলেন এবং মেসওয়াক ও অযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অতঃপর পুনরায় বাইরে বের হয়ে আকাশের দিকে তাকালেন এবং এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এরপর ফিরে এসে মেসওয়াক ও অযু করলেন এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আবারও তিনি শুয়ে পড়লেন, অতঃপর পুনরায় বাইরে বের হয়ে আকাশের দিকে তাকালেন এবং এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এরপর ফিরে এসে মেসওয়াক ও অযু করলেন এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন।
আবু নুআইম ইবন মুসলিম এটি ইসমাইল ইবন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
6 - ذِكْرُ مَا بَدَأَ الله، عز وجل، مِنَ الآيَاتِ الوَاضِحَةِ الدَّالَّةِ عَلَى وَحْدَانِيَّتِهِ.
قَالَ الله، عز وجل: {لَخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ}.
وَقَالَ تَعَالَى: {خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ بِالحَقِّ تَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ}.
وَقَالَ تَعَالَى: {خَلَقَ الله السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ بِالحَقِّ}.
وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ}
وَقَالَ تَعَالَى: {أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا} .. . الآيَةَ.
৬ - মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর একত্বের প্রমাণস্বরূপ যেসব সুস্পষ্ট নিদর্শনের সূচনা করেছেন তার বর্ণনা।
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা অধিকতর বড়}।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; তারা যা শরীক করে তিনি তার বহু ঊর্ধ্বে}।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন}।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আমি আসমান, জমিন ও এ দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা খেলার ছলে সৃষ্টি করিনি}
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {কাফিররা কি দেখে না যে, আসমানসমূহ ও জমিন ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম} ... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الله مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الله بْنِ مَعْرُوفٍ الصَّفَّارُ الأَصْبَهَانِيُّ، قَالَ: حَدثنا الحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ بَحْرٍ، قَالَ: حَدثنا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، قَالَ: حَدثنا عُبَيْدُ الله بْنُ عُمَرَ الرَّقِّيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ المِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لابْنِ عَبَّاسٍ: إِنِّي أَجِدُ فِي القُرْآنِ أَشْيَاءَ تَخْتَلِفُ عَلَيَّ، وَقَدْ وَقَعَ ذَلِكَ فِي صَدْرِي، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: أَتَكْذِيبٌ؟ قَالَ: لَا، وَلَكِنِ اخْتِلَافٌ قَالَ: فَهَلُمَّ مَا وَقَعَ فِي نَفْسِكَ مِنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: أَسْمَعُ الله عز وجل، يَقُولُ: {فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ}. وَقَالَ فِي آيَةٍ أُخْرَى: {وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ} وَقَالَ فِي آيَةٍ أُخْرَى: {أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا} الآيَةُ، فَبَدَأَ بِخَلْقِ السَّمَاءِ فِي هَذِهِ الآيَةِ قَبْلَ خَلْقِ الأَرْضِ، وَقَالَ فِي آيَةٍ أُخْرَى: {لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ} إِلَى قَوْلِهِ: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ} فَبَدَأَ بِخَلْقِ الأَرْضِ فِي هَذِهِ الآيَةِ قَبْلَ خَلْقِ السَّمَاءِ، وَقَوْلِهِ: {وَلَا يَكْتُمُونَ الله حَدِيثًا}، وَقَوْلِهِ: {وَالله رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ}، فَقَدْ كَتَمُوا فِي هَذِهِ الآيَةِ، وَقَوْلِهِ: {وَكَانَ الله عَزِيزًا حَكِيمًا}، وَقَوْلِهِ: {وَكَانَ الله غَفُورًا رَحِيمًا}، {وَكَانَ الله سَمِيعًا بَصِيرًا}، فَكَأَنَّهُ كَانَ ثُمَّ مَضَى، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: هَلْ وَقَعَ فِي نَفْسِكَ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَ: إِذَا أَنْبَأْتَنِي بِهَذَا فَحَسْبِي.
قَالَ: أَمَّا قَوْلُهُ: {فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ}، فَهَذَا فِي النَّفْخَةِ الأُولَى، ثُمَّ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ إِلاَّ مَنْ شَاءَ الله، فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ عِنْدَ ذَلِكَ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ، فَإِذَا كَانَ فِي النَّفْخَةِ الأُخْرَى قَامُوا فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ،
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মারুফ আস-সাফফার আল-আসবাহানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাসান বিন আলি বিন বাহর, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জাকারিয়া বিন আদি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন উমর আর-রাক্কি, জায়েদ বিন আবি উনাইসা থেকে, তিনি মিনহাল বিন আমর থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসকে বললেন: আমি কুরআনে এমন কিছু বিষয় পাই যা আমার কাছে বৈচিত্র্যপূর্ণ মনে হয় এবং এটি আমার মনে সংশয় সৃষ্টি করেছে। ইবনে আব্বাস বললেন: এটা কি অবিশ্বাস? তিনি বললেন: না, বরং এটি ভিন্নতা। তিনি বললেন: তোমার মনে যা উদয় হয়েছে তা নিয়ে এসো। তখন তিনি বললেন: আমি মহান আল্লাহকে বলতে শুনি: {সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করবে না}। অথচ অন্য আয়াতে তিনি বলেছেন: {আর তারা একে অপরের দিকে এগিয়ে আসবে এবং পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে}। তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: {নাকি আকাশ, যা তিনি নির্মাণ করেছেন? তিনি এর উচ্চতা বৃদ্ধি করেছেন ও একে সুবিন্যস্ত করেছেন} আয়াতটি শেষ পর্যন্ত; সুতরাং এই আয়াতে তিনি জমিন সৃষ্টির আগে আসমান সৃষ্টি দিয়ে শুরু করেছেন। আবার অন্য আয়াতে বলেছেন: {তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবে যিনি জমিনকে দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন} তাঁর এই কথা পর্যন্ত: {অতঃপর তিনি আসমানের দিকে উঠলেন}। সুতরাং এই আয়াতে তিনি আসমান সৃষ্টির আগে জমিন সৃষ্টি দিয়ে শুরু করেছেন। এবং তাঁর বাণী: {তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না}, আবার তাঁর বাণী: {আমাদের রব আল্লাহর শপথ, আমরা মুশরিক ছিলাম না}, অথচ এই আয়াতে তারা গোপন করল। আর তাঁর বাণী: {আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় ছিলেন}, এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু ছিলেন}, {আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা ছিলেন}, ফলে মনে হচ্ছে যেন তিনি এমন ছিলেন এবং পরে তা অতিবাহিত হয়ে গেছে। ইবনে আব্বাস বললেন: তোমার মনে কি এগুলোই উদয় হয়েছে? তিনি বললেন: আপনি যদি আমাকে এগুলো সম্পর্কে বলে দেন তবে তাই আমার জন্য যথেষ্ট।
তিনি বললেন: তাঁর বাণী: {সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করবে না}, এটি প্রথম ফুৎকারের সময়ের কথা। এরপর সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ফলে আসমান ও জমিনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে, আল্লাহ যাদের ইচ্ছে করেন তারা ছাড়া। সেই সময়ে তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করবে না। এরপর যখন দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন তারা দণ্ডায়মান হবে এবং একে অপরের দিকে এগিয়ে আসবে ও পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে,
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١٠٥)
وَأَمَّا قَوْلُهُ: {وَلَا يَكْتُمُونَ الله حَدِيثًا}، وَقَوْلُهُ: {وَالله رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ}. فَإِنَّ الله تَعَالَى يَغْفِرُ يَوْمَ القِيَامَةِ لأهْلِ الإِخْلَاصِ ذُنُوبَهُمْ، وَلَا يَتَعَاظَمُ ذَلِكَ عَلَيْهِ أَنْ يَغْفِرَهُ، فَلَمَّا رَأَى المُشْرِكُونَ ذَلِكَ قَالُوا: إِنَّ رَبَّنَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ وَلَا يَغْفِرُ الشِّرْكَ فَتَعَالَوْا حَتَّى نَقُولَ: إِنَّمَا كُنَّا أَهْلَ ذُنُوبٍ وَلَمْ نَكُنْ أَهْلَ شِرْكٍ، فَسَأَلَهُمُ الله، عز وجل: {أَيْنَ شُرَكَاؤُكُمُ الَّذِينَ كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ} قَالُوا: {وَالله رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ} وَإِنَّمَا كُنَّا أَهْلَ ذُنُوبٍ، فَقَالَ الله، عز وجل: أَمَا إِذْ كَتَمَتِ الإِنْسَ فَاخْتِمُوا عَلَى أَفْوَاهِهِمْ، فَخَتَمَ الله، عز وجل، عَلَى أَفْوَاهِهِمْ؛ فَنَطَقَتْ أَيْدِيهِمْ، وَشَهِدَتْ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ، فَعِنْدَ ذَلِكَ عَرَفَ المُشْرِكُونَ أَنَّ الله، عز وجل، لَا يُكْتَمُ حَدِيثًا، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لوْ تُسَوَّى بِهِمُ الأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ الله حَدِيثًا}،
আর তাঁর বাণী: "তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না", এবং তাঁর বাণী: "আমাদের রব আল্লাহর কসম, আমরা মুশরিক ছিলাম না।" নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন একনিষ্ঠ ইখলাসপন্থীদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং এটি ক্ষমা করা তাঁর নিকট কোনো বড় বিষয় নয়। যখন মুশরিকরা তা দেখবে, তারা বলবে: আমাদের রব তো পাপসমূহ ক্ষমা করেন কিন্তু শিরক ক্ষমা করেন না; তাই এসো আমরা বলি যে আমরা কেবল পাপী ছিলাম এবং মুশরিক ছিলাম না। তখন মহান আল্লাহ তাদের জিজ্ঞাসা করবেন: "তোমাদের সেই শরিকরা কোথায় যাদের তোমরা (শরিক বলে) ধারণা করতে?" তারা বলবে: "আমাদের রব আল্লাহর কসম, আমরা মুশরিক ছিলাম না", বরং আমরা কেবল পাপী ছিলাম। তখন মহান আল্লাহ বলবেন: যেহেতু মানুষ সত্য গোপন করেছে, অতএব তাদের মুখে মোহর মেরে দাও। অতঃপর মহান আল্লাহ তাদের মুখে মোহর মেরে দেবেন; ফলে তাদের হাত কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে সম্পর্কে। সেই মুহূর্তে মুশরিকরা জানতে পারবে যে, মহান আল্লাহর কাছে কোনো কথাই গোপন করা যায় না। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সেদিন যারা কুফরি করেছে এবং রাসুলের অবাধ্য হয়েছে তারা কামনা করবে যেন মাটি তাদের সাথে সমতল হয়ে যেত, এবং তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١٠٦)
وَأَمَّا قَوْلُهُ: {السَّمَاءُ بَنَاهَا رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا} الآيَةُ. فَإِنَّهُ خَلَقَ الأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ فِي يَوْمَيْنِ آخَرَيْنِ، ثُمَّ نَزَلَ إِلَى الأَرْضِ فَدَحَاهَا، وَدَحْوُهَا: أَنْ أَخْرَجَ مِنْهَا المَاءَ وَالمَرْعَى، وَشَقَّ فِيهَا الأَنْهَارَ، وَجَعَلَ السُّبُلَ، وَخَلَقَ الجِبَالَ وَالرِّمَالَ، وَالأَكَامَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي يَوْمَيْنِ آخَرَيْنِ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ، عز وجل: {وَالأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا} وَقَوْلُهُ: {لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لهُ أَنْدَادًا}: إِلَى قَوْلِهِ: {فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ} فَخُلِقَتِ الأَرْضُ وَمَا فِيهَا مِنْ شَيْءٍ فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ، وَخُلِقَتِ السَّمَاءُ فِي يَوْمَيْنِ،
وَقَوْلُهُ، عز وجل: {وَكَانَ الله عَزِيزًا حَكِيمًا}، {وَكَانَ الله غَفُورًا رَحِيمًا}، {وَكَانَ الله سَمِيعًا بَصِيرًا}، فَإِنَّهُ، عز وجل، نَحَلَ نَفْسَهُ بِذَلِكَ أَيْ وَصَفَ، وَلَمْ يَنْحَلْهُ أَحَدًا غَيْرَهُ، وَكَانَ: أَيْ لمْ يَزَلْ كَذَلِكَ، ثُمَّ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِلسَّائِلِ: احْفَظْ عَنِّي مَا حَدَّثْتُكَ، وَاعْلَمْ أَنَّ مَا اخْتَلَفَ مِنَ القُرْآنِ أَشْبَاهُ مَا حَدَّثْتُكَ، وَإِنَّ الله، عز وجل، لمْ يُرِدْ شَيْئًا إِلاَّ وَقَدْ أَصَابَ بِهِ الَّذِي أَرَادَ، وَلَكِنَّ النَّاسَ لَا يَعْلَمُونَ فَلَا يَخْتَلِفُ عَلَيْكَ القُرْآنُ، فَإِنَّ كُلاً مِنْ عِنْدِ الله، عز وجل.
رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنْ
… ، وَرَوَاهُ مُطَرِّفٌ، عَنِ المِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، وَحَدِيثُ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ.
আর তাঁর বাণী: {আকাশ, তিনি তা নির্মাণ করেছেন, তিনি এর উচ্চতা বৃদ্ধি করেছেন অতঃপর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন} আয়াতটি সম্পর্কে। নিশ্চয়ই তিনি দুই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আকাশের দিকে উঠলেন এবং অপর দুই দিনে সেগুলোকে সুবিন্যস্ত করলেন। এরপর তিনি পৃথিবীর দিকে নামলেন এবং একে বিস্তৃত করলেন। আর বিস্তৃত করার অর্থ হলো: তা থেকে পানি ও চারণভূমি বের করা, তাতে নদ-নদী প্রবাহিত করা, পথসমূহ তৈরি করা এবং অপর দুই দিনে পাহাড়, বালুকা রাশি, টিলা ও এগুলোর মধ্যবর্তী বস্তুসমূহ সৃষ্টি করা। আর এটাই মহা প্রতাপশালী ও সম্মানিত আল্লাহর বাণী: {আর পৃথিবীকে এরপর তিনি বিস্তৃত করেছেন}। এবং তাঁর বাণী: {তোমরা কি তাঁর সাথেই কুফরি করছ যিনি দুই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর জন্য সমকক্ষ স্থির করছ}: তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {জিজ্ঞাসুদের জন্য সমান চার দিনে}। সুতরাং পৃথিবী এবং এতে যা কিছু আছে তা চার দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আকাশ সৃষ্টি করা হয়েছে দুই দিনে।
এবং মহা প্রতাপশালী ও সম্মানিত আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ হলেন মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়}, {আর আল্লাহ হলেন পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু}, {আর আল্লাহ হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}। নিশ্চয়ই তিনি নিজেকে এগুলোর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন অর্থাৎ গুণান্বিত করেছেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কাউকে এ দ্বারা গুণান্বিত করেননি। আর 'ছিলেন' এর অর্থ হলো: তিনি সর্বদা এমনই ছিলেন। অতঃপর ইবনে আব্বাস প্রশ্নকারীকে বললেন: আমি তোমাকে যা বললাম তা আমার পক্ষ থেকে মনে রেখো এবং জেনে রেখো যে, কুরআনের যা কিছু তোমার কাছে বাহ্যত ভিন্ন মনে হয়, তা আমি তোমাকে যা বললাম তার অনুরূপ। আর নিশ্চয়ই মহা প্রতাপশালী ও সম্মানিত আল্লাহ যা কিছু ইচ্ছা করেছেন তা তিনি সেভাবেই সম্পন্ন করেছেন যেমনটি তিনি চেয়েছিলেন, কিন্তু মানুষ তা জানে না। সুতরাং তোমার কাছে কুরআন যেন পরস্পরবিরোধী না হয়, কারণ এর প্রতিটিই মহা প্রতাপশালী ও সম্মানিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন
... থেকে, এবং মুতাররিফ এটি মিনহাল বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি জায়েদ বিন আবু আনাইসার হাদিস।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١٠٨)
20 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الله بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدثنا أَبُو الأَزْهَرِ أَحمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدثنا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدثنا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ الحَارِثِيِّ، عَنِ المِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنَّ فِي قَلْبِي مِنَ القُرْآنِ لشَكًّا، قَالَ: وَيْلَكَ هَلْ سَأَلْتَ أَحَدًا غَيْرِي؟ قَالَ: لَا، قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قَالَ: سَمِعْتُ الله يَقُولُ: وَكَانَ الله، كَأَنَّهُ شَيْءٌ قَدْ كَانَ، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: {وَلَا يَكْتُمُونَ الله حَدِيثًا}، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: {وَالله رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ}، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: {وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ}، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: {فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ} فَقَالَ: أَمَّا قَوْلُكَ {وَكَانَ الله} فَإِنَّهُ لمْ يَزَلْ، وَلَا يَزَالُ، {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} وَأَمَّا قَوْلُكَ {وَلَا يَكْتُمُونَ الله حَدِيثًا}، فَإِنَّهُمْ إِذَا رَأَوْا أَنَّ لَا يَدْخُلُ الجَنَّةَ إِلاَّ أَهْلُ الصَّلَاةِ قَالُوا: تَعَالَوْا فَلْنَجْحَدَهُ، فَيُخْتَمُ عَلَى أَلْسِنَتِهِمْ، وَتَشْهَدُ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ وَلَا يَكْتُمُونَ الله حَدِيثًا، وَأَمَّا قَوْلُكَ {فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ} فَإِنَّهُ إِذَا كَانَتِ النَّفْخَةُ الأُولَى وَهَلَكَ الخَلْقُ: {فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ}، فَإِذَا كَانَتِ النَّفْخَةُ الثَّانِيَةُ.... الجَنَّةُ أَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ، فَقَالَ لهُ ابْنُ عَبَّاسٍ: بَقِيَ فِي قَلْبِكَ شَيْءٌ؟ إِنَّهُ ليْسَ مِنَ القُرْآنِ شَيْءٌ إِلاَّ وَقَدْ أُنْزِلَ فِي شَيْءٍ، وَلَكِنْ لَا تَعْرِفُونَ وُجُوهَهُ.
وَرَوَاهُ غَيْرُ مُطَرِّفٍ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ.
20 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আযহার আহমাদ ইবনে মানি‘, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আবি কায়স, তিনি মুতাররিফ ইবনে তারিফ আল-হারিসি থেকে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল: আমার অন্তরে কুরআন সম্পর্কে কিছু সংশয় জেগেছে। তিনি বললেন: তোমার দুর্ভোগ হোক! তুমি কি আমি ছাড়া অন্য কাউকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছ? সে বলল: না। তিনি বললেন: তা কী? সে বলল: আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি: "আর আল্লাহ ছিলেন", যেন এটি এমন কিছু যা হয়ে অতিবাহিত হয়ে গেছে। আর আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: {আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না}, আবার আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: {আমাদের রব আল্লাহর শপথ! আমরা মুশরিক ছিলাম না}। আবার আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: {তারা একে অপরের দিকে অগ্রসর হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে}, এবং আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: {সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করবে না}। তখন তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: তোমার উক্তি {আর আল্লাহ ছিলেন} প্রসঙ্গে কথা হলো, নিশ্চয়ই তিনি সর্বদা ছিলেন এবং সর্বদা থাকবেন, {তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই গোপন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত}। আর তোমার উক্তি {আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না} প্রসঙ্গে কথা হলো, যখন তারা দেখবে যে সালাত আদায়কারী ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করছে না, তখন তারা বলবে: এসো আমরা (আমাদের শিরক) অস্বীকার করি। তখন তাদের মুখে মোহর মেরে দেওয়া হবে এবং তারা যা অর্জন করত সে বিষয়ে তাদের হাত ও তাদের পা সাক্ষ্য দেবে, আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না। আর তোমার উক্তি {সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করবে না} প্রসঙ্গে কথা হলো, যখন প্রথম ফুৎকার দেওয়া হবে এবং সকল সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন: {সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করবে না}। অতঃপর যখন দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়া হবে.... জান্নাতে তারা একে অপরের দিকে অগ্রসর হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এরপর ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: তোমার অন্তরে কি আর কিছু অবশিষ্ট আছে? কুরআনের এমন কোনো কিছু নেই যা কোনো না কোনো বিষয়ে অবতীর্ণ হয়নি, কিন্তু তোমরা তার তাৎপর্যসমূহ জানো না।
মুতাররিফ ব্যতীত অন্যরাও এটি ইবনে আবি উনাইসার হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
7 - ذِكْرُ الآيَاتِ المُتَّفِقَةِ المُنْتَظِمَةِ الدَّالَّةِ عَلَى تَوْحِيدِ الله، عز وجل فِي صِفَةِ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ الَّتِي ذَكَرَهَا فِي كِتَابِهِ وَبَيَّنَهَا عَلَى لِسَانِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم تَنْبِيهًا لِخَلْقِهِ.
قَالَ الله، عز وجل: {وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ}، {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ بِأَمْرِهِ} الآيَةَ وَقَالَ عز وجل: {الله الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا}.
وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} الآيَةَ فَأَخْبَرَ أَنَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ آيَةٌ لِذَوِي العُقُولِ وَالأَلْبَابِ، ثُمَّ أَمَرَهُمْ بِالتَّفَكُّرِ فِي خَلْقِهِمَا فَقَالَ: {وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} الآيَةَ وَأَخْبَرَ بِارْتِفَاعِهَا فَقَالَ: {أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا} الآيَةَ ثُمَّ أَخْبَرَ بِكَثَافَتِهَا وَارْتِفَاعِهَا، وَأَنَّ فَوْقَ ذَلِكَ العَرْشَ، وَبَيَّنَهَا عَلَى لِسَانِ رَسُولِهِ، صلى الله عليه وسلم.
৭ - আসমান সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যে আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত-এর একত্ববাদের প্রমাণস্বরূপ সুসংগত ও সুশৃঙ্খল নিদর্শনাবলির আলোচনা, যা তিনি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি সতর্কবাণী হিসেবে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যবানে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আসমান ও যমীনের সৃষ্টি}, {আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, আসমান ও যমীন তাঁরই আদেশে দাঁড়িয়ে আছে} - আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আরও বলেছেন: {আল্লাহ তিনিই, যিনি আসমানসমূহকে স্তম্ভ ছাড়াই উচ্চে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ}।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {নিশ্চয় আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে...} - আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, আসমান ও যমীনের মাঝে বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। এরপর তিনি তাদের সেগুলোর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {এবং তারা আসমান ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে} - আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তিনি এর উচ্চতা সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {নাকি আসমান, যা তিনি নির্মাণ করেছেন? তিনি এর উচ্চতাকে সুউচ্চ করেছেন, অতঃপর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন} - আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি এর বিশালতা ও উচ্চতা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, তার উপরে রয়েছে আরশ; আর তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যবানে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
21 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَحْيَى، وَعَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَا: حَدثنا أَبُو مَسْعُودٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعْدٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدثنا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَمِيرَةَ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ العَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِبِ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّتْ سَحَابَةٌ فَقَالَ: مَا هَذَا؟ قُلْنَا السَّحَابُ قَالَ: وَالمُزْنُ، قُلْنَا: وَالمُزْنُ قَالَ: وَالعَنَانُ، قُلْنَا: وَالعَنَانُ، قَالَ: أَتَدْرُونَ كَمْ بَيْنَ الأَرْضِ إِلَى السَّمَاءِ؟ قُلْنَا: الله وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: أَحَدٌ وَسَبْعينَ، أَوْ اثْنَيْنِ وَسَبْعينَ، أَوْ ثَلَاثٌ وَسَبْعينَ سَنَةً، ثُمَّ سَبْعُ سَمَاوَاتٍ كَذَلِكَ، ثُمَّ فَوْقَ ذَلِكَ بَحْرٌ بَيْنَ أَعْلَاهُ وَأَسْفَلِهِ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ، وَفَوْقَ ذَلِكَ ثَمَانِيَةُ أَوعَالٍ، بَيْنَ أَظْلَافِهِنَّ وَرُكَبِهِنَّ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ، وَالعَرْشُ فَوْقَ ذَلِكَ، وَالله، عز وجل، فَوْقَ العَرْشِ.
رَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، وَعَنْبَسَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَجَمَاعَةٌ، عَنْ سِمَاكٍ.
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া এবং আমর বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন সাদ আর-রাজি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন আবি কায়স, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমিরা থেকে, তিনি আহনাফ বিন কায়স থেকে, তিনি আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় একটি মেঘখণ্ড পার হলো। তখন তিনি বললেন: "এটি কী?" আমরা বললাম: "মেঘ (সাহাব)"। তিনি বললেন: "এবং মুযন?" আমরা বললাম: "এবং মুযন"। তিনি বললেন: "এবং আনান?" আমরা বললাম: "এবং আনান"। তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো যমিন থেকে আসমানের দূরত্ব কত?" আমরা বললাম: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত।" তিনি বললেন: "একাত্তর, অথবা বাহাত্তর, অথবা তেহাত্তর বছরের পথ। অতঃপর সাতটি আসমানও অনুরূপ। তারপর তার উপরে রয়েছে একটি সমুদ্র, যার উপরিভাগ এবং তলদেশের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো এক আসমান থেকে অন্য আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। আর তার উপরে রয়েছে আটটি পাহাড়ী ছাগল (সদৃশ ফেরেশতা), যাদের খুর এবং হাঁটুর মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। আর আরশ হলো তার উপরে, এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আরশের উপরে।"
এটি বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন তাহমান, আনবাসাহ বিন সাঈদ এবং এক দল বর্ণনাকারী, সিমাক থেকে।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
22 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ، قَالَ: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحمَد بْنِ حَمُّويَهِ بْنِ عَبَّادٍ، قَالَ: حَدثنا أَحمَدُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ: حَدثنا أَبِي، قَالَ: حَدثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، بِهَذَا.
- وَرَوَاهُ شَيْبَانُ وَغَيْرُهُ عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، قَالَ: مَسِيرَةُ كُلِّ سَمَاءٍ خَمْسِمِئَةِ عَامٍ.
- وَكَذَلِكَ رَوَاهُ أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ [1]، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: خَمْسِمِئَةِ عَامٍ.
--------------------------------------------
২২ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাম্মুইয়াহ বিন আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমদ বিন হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবরাহিম বিন তাহমান আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।
- আর শায়বান এবং অন্যান্যেরা এটি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: প্রতিটি আসমানের দূরত্ব হলো পাঁচশ বছরের পথ।
- একইভাবে আবু মুআবিয়াহ আমাশ থেকে, তিনি আবু নাদরা [১] থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পাঁচশ বছরের পথ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
إِخْبَارُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ليْلَةِ المِعْرَاجِ
… سَمَاءٌ فَوْقَ سَمَاءٍ وَوَصْفُهُ ذَلِكَ لأصْحَابِهِ، رِضْوَانُ الله عَلَيْهِمْ.
23 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ، قَالَ: حَدثنا أَبُو الأَزْهَرِ أَحمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، قَالَ: حَدثنا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: حَدثنا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: حَدثنا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ، أَنَّ نَبِيَّ الله صلى الله عليه وسلم لمَّا عُرِجَ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ.
وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الله بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الحَارِث، قَالَ: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، وَيَحْيَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيُّ قَالَا: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَّمٍ، قَالَ: حَدثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عنْ قَتَادَةَ، عنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ، قَالَ: حَدثنا نَبِيُّ الله، صلى الله عليه وسلم قَالَ: بَيْنَا أَنَا عِنْدَ البَيْتِ بَيْنَ اليَقْظَانِ وَالنَّائِمِ إِذْ سَمِعْتُ قَائِلاً يَقُولُ: أَحَدُ الثَّلَاثَةِ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ، أُتِيتُ فَانْطُلِقَ بِي فَشُرِحَ صَدْرِي إِلَى كَذَا وَكَذَا، يَعْنِي أَسْفَلَ بَطْنِهِ فَاسْتُخْرِجَ قَلْبِي، ثُمَّ أُتِيتُ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ فِيهَا مَاءُ زَمْزَمَ؛ فَغُسِلَ، ثُمَّ أُعِيدَ مَكَانَهُ وَحُشِيَ إِيمَانًا وَحِكْمَةً،
মিরাজের রাত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ প্রদান
… এক আসমানের উপর আরেক আসমান এবং তাঁর সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট সেটির বর্ণনা।
২৩ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আযহার আহমাদ ইবনুল আযহার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ ইবনু উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ কাতাদাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনু মালিক মালিক ইবনু সা'সা'আহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন আসমানের দিকে উর্ধ্বারোহন করানো হলো।
এবং আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ এবং ইয়াহইয়া ইবনু ইসমাইল আল-বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনু আবি আরুবাহ কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক থেকে, তিনি মালিক ইবনু সা'সা'আহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যখন বাইতুল্লাহর নিকট তন্দ্রা ও জাগ্রত অবস্থার মাঝামাঝি ছিলাম, তখন জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম: তিনজনের একজন দুই ব্যক্তির মাঝখানে। এরপর আমার নিকট আসা হলো এবং আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো। অতঃপর আমার বক্ষ বিদীর্ণ করা হলো এ পর্যন্ত এবং এ পর্যন্ত, অর্থাৎ তাঁর পেটের নিম্নভাগ পর্যন্ত। এরপর আমার হৃদপিণ্ড বের করা হলো। তারপর যমযমের পানি ভর্তি একটি স্বর্ণের পাত্র নিয়ে আসা হলো। অতঃপর তা ধৌত করা হলো এবং পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করা হলো এবং ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ١)
আত-তাওহীদ লি ইবনে মানদাহ - তাহকীক আল-ফাকীহী
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
ثُمَّ أُتِيتُ بِدَابَّةٍ أَبْيَضُ يُقَالُ لهُ: البُرَاقُ، فَوْقَ الحِمَارِ وَدُونَ البَغْلِ يَقْطَعُ خَطْوَهُ عِنْدَ أَقْصَى طَرْفِهِ؛ فَحُمِلْتُ عَلَيْهِ، ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا، فَاسْتَفْتَحَ جِبْرِيلُ، عليه السلام، وَقِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ قَالَ: فَفُتِحَ لنَا البَابُ، وَقَالُوا: مَرْحَبًا بِهِ، وَلَنِعْمَ المَجِيءُ جَاءَ، ثُمَّ أَتَيْتُ عَلَى آدَمَ؛ فَقُلْتُ: يَا جِبْرِيلُ مَنْ هَذَا؟ قَالَ: هَذَا أَبُوكَ آدَمُ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالابْنِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ، ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ الثَّانِيَةَ، فَاسْتَفْتَحَ جِبْرِيلُ، قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ، فَفُتِحَ لنَا، وَقَالُوا: مَرْحَبًا بِهِ وَلَنِعْمَ المَجِيءُ جَاءَ، فَأَتَيْتُ عَلَى عِيسَى وَيَحْيَى، عليهما السلام، فَقُلْتُ: يَا جِبْرِيلُ مَنْ هَذَانِ؟ قَالَ: هَذَانِ عِيسَى وَيَحْيَى، قَالَ سَعِيدٌ: أَحْسِبُهُ قَالَ: ابْنَا الخَالَةِ. قَالَ: فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِمَا؛ فَقَالَا: مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ، ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ الثَّالِثَةَ؛ فَكَانَ مِثْلُ قَوْلِهِمْ، فَأَتَيْتُ عَلَى يُوسُفَ، عليه السلام، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ؛ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ، ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ الرَّابِعَةَ، فَأَتَيْنَا عَلَى إِدْرِيسَ، عليه السلام، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ؛ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ، ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ الخَامِسَةَ فَأَتَيْتُ عَلَى هَارُونَ، عليه السلام، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ؛ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ، ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ السَّادِسَةَ، فَأَتَيْتُ عَلَى مُوسَى، عليه السلام، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ؛ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ، فَلَمَّا جَاوَزْتُهُ بَكَى، فَنُودِيَ: مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ: يَا رَبِّ هَذَا غُلَامٌ بَعَثْتَهُ بَعْدِي تُدْخِلُ مِنْ أُمَّتِهِ الجَنَّةَ أَكْثَرَ مِمَّا تُدْخِلُ مِنْ أُمَّتِي، ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا السَّمَاءَ السَّابِعَةَ، فَاسْتَفْتَحَ جِبْرِيلُ عليه السلام، فَقِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ، قِيلَ: وَقَدْ بُعِثَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَفُتِحَ لنَا، وَقَالُوا: مَرْحَبًا بِهِ وَلَنِعْمَ المَجِيءُ جَاءَ، قَالَ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ: عِنْدَ كُلِّ سَمَاءٍ قِيلَ لهُمْ مِثْلُ هَذَا، يَعْنِي مِنَ اسْتِفْتَاحِ جِبْرِيلَ، عليه السلام، وَمِنْ قَوْلِهِمْ لهُ،
এরপর আমার নিকট একটি সাদা রঙের চতুষ্পদ জন্তু আনা হলো যাকে বোরাক বলা হয়; এটি গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট, যা তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় কদম রাখে। অতঃপর আমাকে তার ওপর সওয়ার করানো হলো। তারপর আমরা চললাম এবং দুনিয়ার আসমানে (প্রথম আসমানে) পৌঁছালাম। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: 'ইনি কে?' তিনি উত্তর দিলেন: 'জিবরাঈল'। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো: 'আপনার সাথে কে?' তিনি বললেন: 'মুহাম্মদ'। এরপর আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো এবং তারা বললেন: 'তাকে সুস্বাগতম, তার আগমন কতই না উত্তম!' অতঃপর আমি আদমের নিকট আসলাম। আমি বললাম: 'হে জিবরাঈল, ইনি কে?' তিনি বললেন: 'ইনি আপনার পিতা আদম'। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন: 'সুস্বাগতম নেককার পুত্র ও নেককার নবীকে'। তারপর আমরা চললাম এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছালাম। জিবরাঈল প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: 'ইনি কে?' তিনি উত্তর দিলেন: 'জিবরাঈল'। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো: 'আপনার সাথে কে?' তিনি বললেন: 'মুহাম্মদ'। আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো এবং তারা বললেন: 'তাকে সুস্বাগতম, তার আগমন কতই না উত্তম!' এরপর আমি ঈসা ও ইয়াহইয়ার (আলাইহিমাস সালাম) নিকট আসলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: 'হে জিবরাঈল, এঁরা কারা?' তিনি বললেন: 'এঁরা হলেন ঈসা ও ইয়াহইয়া'। সাঈদ বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, তাঁরা খালাতো ভাই। আমি তাঁদেরকে সালাম দিলাম। তাঁরা বললেন: 'সুস্বাগতম নেককার ভাই ও নেককার নবীকে'। অতঃপর আমরা চললাম এবং তৃতীয় আসমানে আসলাম; সেখানেও তাঁদের আগের মতো কথোপকথন হলো। সেখানে আমি ইউসুফের (আলাইহিস সালাম) নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন: 'সুস্বাগতম নেককার ভাই ও নেককার নবীকে'। অতঃপর আমরা চললাম এবং চতুর্থ আসমানে আসলাম। সেখানে আমরা ইদরীসের (আলাইহিস সালাম) নিকট আসলাম। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন: 'সুস্বাগতম নেককার ভাই ও নেককার নবীকে'। অতঃপর আমরা চললাম এবং পঞ্চম আসমানে আসলাম। সেখানে আমি হারুনের (আলাইহিস সালাম) নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন: 'সুস্বাগতম নেককার ভাই ও নেককার নবীকে'। অতঃপর আমরা চললাম এবং ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছালাম। আমি মূসার (আলাইহিস সালাম) নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন: 'সুস্বাগতম নেককার ভাই ও নেককার নবীকে'। যখন আমি তাঁকে অতিক্রম করলাম, তিনি কাঁদতে লাগলেন। তখন গায়েবি আওয়াজ আসলো: 'আপনি কেন কাঁদছেন?' তিনি বললেন: 'হে প্রতিপালক, এই যুবক যাঁকে আমার পরে পাঠানো হয়েছে, তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে জান্নাতে প্রবেশকারীর সংখ্যা আমার উম্মতের মধ্য থেকে জান্নাতে প্রবেশকারীর চেয়েও অধিক হবে'। এরপর আমরা চললাম এবং সপ্তম আসমানে আসলাম। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: 'ইনি কে?' তিনি বললেন: 'জিবরাঈল'। জিজ্ঞেস করা হলো: 'আপনার সাথে কে?' তিনি বললেন: 'মুহাম্মদ'। জিজ্ঞেস করা হলো: 'তাঁকে কি (ডাকার জন্য) পাঠানো হয়েছে?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'। এরপর আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো এবং তারা বললেন: 'তাকে সুস্বাগতম, তার আগমন কতই না উত্তম!' সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ বলেন: প্রতিটি আসমানে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এর প্রবেশের অনুমতি চাওয়া এবং রক্ষীদের প্রতিউত্তরের ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে এমনই কথোপকথন হয়েছিল।