(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: -)
الترغيب في فضائل الأعمال وثواب ذلك لابن شاهين   (ابن شاهين)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الترغيب في فضائل الأعمال وثواب ذلك

المؤلف: أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن محمد بن أيوب بن أزداذ البغدادي المعروف بـ ابن شاهين (ت 385هـ)

تحقيق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 165

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তারগিব ফি ফাযায়িলিল আমাল ওয়া সাওয়াবু জালিক (আমলের ফযীলত ও তার প্রতিদান লাভের অনুপ্রেরণা) - ইবনু শাহিন   (ইবনু শাহিন)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আত-তারগিব ফি ফাযায়িলিল আমাল ওয়া সাওয়াবু জালিক (আমলের ফযীলত ও তার প্রতিদান লাভের অনুপ্রেরণা)

লেখক: আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন আজদাদ আল-বাগদাদী, ইবনু শাহিন নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি)

সম্পাদনা: মুহাম্মাদ হাসান মুহাম্মাদ হাসান ইসমাইল

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৫

[কিতাবের নাম্বার বিন্যাস মূল মুদ্রণলিপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌فَضْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ফযীলত
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٧)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبِ بْنُ يُوسُفَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الْبَزَّارُ، وَأَبُو الْعِزِّ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَادِشَ الْعُكْبَرِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قَالَ: أنا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ الْحَرْبِيُّ الْمَعْرُوفُ بابْنِ الْعُشَّارِيِّ، فِي رَبِيعٍ الْأَوَّلِ مِنْ سَنَةِ خَمْسِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قَالَ: نا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانُ بْنُ شَاهِينَ قَالَ: نا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَكِّيُّ، قَالَ: أنا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ: أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَدَنِيُّ، قَالَ: أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ لِلَّهِ عز وجل عَمُودًا مِنْ نُورٍ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ اهْتَزَّ ذَلِكَ الْعَمُودُ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: «اسْكُنْ» . فَيَقُولُ: يَا رَبِّ وَكَيْفَ أَسْكُنُ وَلَمْ تَغْفِرْ لِقَائِلِهَا؟ ⦗ص: 8⦘ فَيَقُولُ: «إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ» . فَيَسْكُنُ عِنْدَ ذَلِكَ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব বিন ইউসুফ, মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-বাজ্জার এবং আবু আল-ইজ্জ আহমদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন কাদিশ আল-উকবারী—তাঁদের নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ আল-হারবি, যিনি ইবনুল উশারী নামে পরিচিত, চারশত পঞ্চাশ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন আহমদ বিন উসমান বিন শাহীন, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ বিন ইসহাক আল-মাক্কী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালামাহ বিন শাবীব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-মাদানী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর, তিনি সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য তাঁর দুই হাতের সামনে নূরের একটি স্তম্ভ রয়েছে। অতঃপর যখন কোনো বান্দা বলে: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), তখন সেই স্তম্ভটি কেঁপে ওঠে। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: ‘স্থির হও’। তখন সেটি বলে: ‘হে রব! আমি কীভাবে স্থির হব অথচ আপনি এর পাঠকারীকে ক্ষমা করেননি?’ ⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘ তখন আল্লাহ বলেন: ‘আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি’। তখন সেটি স্থির হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٨)
2 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدِ بْنِ حَفْصٍ، قَالَ: نا عَبْدُوسُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: نا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْعَسْقَلَانِيُّ، قَالَ: نا أَبُو نُعَيْمٍ عُمَرُ بْنُ صُبْحٍ، عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إِنَّ لِلَّهِ عز وجل عَمُودًا مِنْ نُورٍ، أَسْفَلُهُ تَحْتَ الْأَرْضِ السَّابِعَةِ وَرَأْسُهُ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، اهْتَزَّ ذَلِكَ الْعَمُودُ فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: «اسْكُنْ» فَيَقُولُ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَسْكُنُ وَلَمْ تَغْفِرْ لِقَائِلِهَا؟ فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: «اسْكُنْ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِقَائِلِهَا» ، قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَكْثِرُوا مِنْ هَزِّ ذَلِكَ الْعَمُودِ»
২ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন মাখলাদ ইবন হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস ইবন বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুর রহমান আব্দুল আজিজ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-আসকালানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম উমর ইবন সুবহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকাতিল ইবন হাইয়্যান থেকে, তিনি দাহহাক ইবন মুজাহিম থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নূরের একটি স্তম্ভ রয়েছে, যার নিম্নদেশ সপ্তম জমিনের নিচে এবং যার শীর্ষদেশ আরশের নিচে। যখন কোনো বান্দা বলে: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল’, তখন সেই স্তম্ভটি কেঁপে ওঠে। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: ‘স্থির হও’। তখন স্তম্ভটি বলে: হে আমার রব! আমি কীভাবে স্থির হব অথচ আপনি এর পাঠকারীকে ক্ষমা করেননি? তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: ‘স্থির হও, কেননা আমি এর পাঠকারীকে অবশ্যই ক্ষমা করে দিয়েছি’।" তিনি বলেন: এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা সেই স্তম্ভটিকে অধিক পরিমাণে কম্পিত করো।”
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٨)
3 - حَدَّثَنَا عُمَرُ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ الْمُجَدَّرِ، قَالَ: نا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، قَالَ: أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أنا عُمَرُ بْنُ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: " لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلَنِي عَنْهَا أَحَدٌ أَوَّلَ مِنْكَ؛ لِمَا رَأَيْتُ مِنَ حِرْصِكَ عَلَى الْحَدِيثِ، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ "
৩ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে হারুন ইবনে হুমাইদ আল-মুজাদ্দার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবি আমর আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি কে হবে? তিনি বললেন: "হে আবু হুরায়রা! হাদীসের প্রতি তোমার গভীর আগ্রহ দেখে আমি মনে করেছিলাম যে, তোমার আগে এ বিষয়ে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞাসা করবে না। কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে নিজের অন্তরের একনিষ্ঠতার সাথে বলবে: আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٨)
4 - حَدَّثَنَا عُمَرُ قَالَ: نا نَصْرُ بْنُ الْقَاسِمِ الْفَرَائِضِيُّ، قَالَ: نا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَرْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، أَتَى أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فَقَالَ لَهُ أَنَسٌ: مِنْ أَيْنَ جِئْتَ؟ قَالَ: مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: فَمَاذَا قَالَ؟ قَالَ مُعَاذٌ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا دَخَلَ الْجَنَّةَ» . قَالَ: أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: اذْهَبْ فَسَلْهُ، قَالَ: فَذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ: حَدَّثَنِي مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ أَنَّكَ قُلْتَ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا دَخَلَ الْجَنَّةَ» . قَالَ: «صَدَقَ مُعَاذٌ، صَدَقَ مُعَاذٌ»
৪ - আমাদের নিকট উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নাসর ইবনুল কাসিম আল-ফরায়িজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুরায়জ ইবনু ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাইল ইবনু আবি ফুদাইক সংবাদ দিয়েছেন সালামাহ ইবনু ওয়ারদান থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেছেন যে, মুআয ইবনু জাবাল আনাস ইবনু মালিকের নিকট আসলেন। তখন আনাস তাঁকে বললেন: আপনি কোথা থেকে এসেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট থেকে। তিনি বললেন: তিনি কী বলেছেন? মুআয বললেন: «যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে সাক্ষ্য দিবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»। তিনি বললেন: আপনি কি এটি তাঁর থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: যান এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি (আনাস) বললেন: অতঃপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর নবী, মুআয ইবনু জাবাল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে আপনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে সাক্ষ্য দিবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»। তিনি বললেন: «মুআয সত্য বলেছে, মুআয সত্য বলেছে»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٨)
5 - حَدَّثَنَا عُمَرُ قَالَ: نا أَحْمَدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَنْصُورٍ الْبَغَوِيُّ، أنا حَمَّادُ بْنُ الْحَسَنِ، وَأرنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَيْبَانَ الْخَلَّالُ، بِالرَّمْلَةِ، وَأرنا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ الْبَصْرِيُّ، ⦗ص: 9⦘ قَالَ: أنا الْهُذَيْلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أنا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّهْرِيُّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا قَالَ عَبْدٌ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي سَاعَةِ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ إِلَّا طُلِسَتْ مَا فِي صَحِيفَتِهِ مِنَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى تَسْكُنَ إِلَى مِثْلِهَا مِنَ الْحَسَنَاتِ "
৫ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনুল আব্বাস ইবনে আহমাদ ইবনে মানসুর আল-বাগাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এবং রামলায় মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে শায়বান আল-খাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এবং মুহাম্মাদ ইবনে খুজাইমা আল-বাসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘ তিনি বলেন: আল-হুযাইল ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আব্দুর রহমান আজ-জুহরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখনই কোনো বান্দা রাত বা দিনের যেকোনো মুহূর্তে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) বলে, তখন তার আমলনামা থেকে গুনাহসমূহ মুছে ফেলা হয়, যতক্ষণ না সেগুলো অনুরূপ নেক আমলের সাথে স্থিত হয়।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٩)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الثَّلْجِ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَيْرٍ الْحِمْيَرِيُّ، أنا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، أنا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْخَلِيلُ بْنُ مُرَّةَ، عَنِ الْأَزْهَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، إِلَهًا وَاحِدًا صَمَدًا لَمْ يَتَّخِذْ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ، عَشْرَ مَرَّاتٍ كُتِبَ لَهُ بِهَا أَرْبَعُونَ أَلْفَ حَسَنَةٍ "
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবি আস-সালজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উমাইর আল-হিমইয়ারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক বিন ঈসা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সাদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন খলীল বিন মুররাহ, আল-আযহার বিন আবদুল্লাহ থেকে, তামীম আদ-দারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক ইলাহ, অমুখাপেক্ষী, তিনি কোনো স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই—দশবার; তার জন্য এর বিনিময়ে চল্লিশ হাজার নেকি লেখা হবে।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٩)
7 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: نا السَّرِيُّ بْنُ يَحْيَى، أنا شُعَيْبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، أنا سَيْفُ بْنُ عُمَرَ، نا سَهْلُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ صَخْرِ بْنِ لَوْذَانَ الْأَنْصَارِيِّ، وَكَانَ فِيمَنْ بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ عُمَّالِ الْيَمَنِ، قَالَ: فَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُمَّالَهُ، وَبَعَثَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ مُعَلِّمًا إِلَى الْيَمَنِ وَحَضْرَمُوتَ، وَقَالَ: «يَا مُعَاذُ إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى أَهْلِ الْكِتَابِ وَإِنَّهُمْ سَائِلُوكَ عَنْ مَفَاتِيحِ الْجَنَّةِ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ مَفَاتِيحَ الْجَنَّةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّهَا تَخْرِقُ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى اللَّهِ عز وجل، لَا يُحْجَبُ دُونَهُ. فَمَنْ جَاءَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُخْلِصًا رَجَحَتْ بِكُلِّ ذَنْبٍ»
৭ - আমাদের নিকট উমর বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আস-সারী বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব বিন ইবরাহিম আত-তাইমি আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, সাইফ বিন উমর আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, সাহল বিন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উবায়েদ বিন সাখর বিন লাওযান আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন—আর তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদেরকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামেনের কর্মকর্তাদের সাথে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্থানে নিযুক্ত করে পাঠালেন এবং মুয়ায বিন জাবালকে শিক্ষক হিসেবে ইয়ামেন ও হাজরামাউতে প্রেরণ করলেন। তিনি বললেন: «হে মুয়ায! তুমি আহলে কিতাবদের নিকট যাচ্ছ, আর তারা তোমাকে জান্নাতের চাবিকাঠি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তখন তুমি তাদের জানিয়ে দিও যে, জান্নাতের চাবিকাঠি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)। আর এটি প্রতিটি বস্তুকে ভেদ করে মহান আল্লাহর নিকট পৌঁছে যায়, তাঁর সামনে কোনো কিছুই এতে অন্তরায় হতে পারে না। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন একনিষ্ঠভাবে এটি নিয়ে উপস্থিত হবে, তা তার প্রতিটি পাপের ওপর ভারী হয়ে যাবে।»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ٩)
8 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى الْمِصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو مَسْعُودٍ الدَّارِمِيُّ خِدَاشُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خِدَاشٍ، حَدَّثَنِي جَدِّي خِدَاشٌ، قَالَ: قُلْتُ لِأَنَسِ بْنَ مَالِكٍ فِي سُوقٍ مِنْ أَسْوَاقِ الْبَصْرَةِ، فَمَرَّ عَلَى بَغْلَةٍ شَهْبَاءَ عَلَى وَجْهِهِ خِرْقَةٌ سَوْدَاءُ، فَأَمْسَكْتُ بِعِنَانِ ⦗ص: 10⦘ الْبَغْلَةِ، ثُمَّ قُلْتُ لَهُ: بِأَبِي هَذِهِ الْعَيْنَينِ عَيْنٌ رَأَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِّثْنِي بِحَدِيثٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَقَدْ صَلَّى بِنَا بَعْضَ الصَّلَوَاتِ، ثُمَّ قَالَ: " يَا مَعْشَرَ النَّاسِ، مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُتَعَجِّبًا مِنْ شَيْءٍ خَلَقَ اللَّهُ عز وجل مِنْ كَلِمَتِهِ شَجَرَةً عَلَيْهَا وَرَقٌ عَدَدَ أَيَّامِ الدُّنْيَا تَسْتَغْفِرُ لَهُ كُلُّ وَرَقَةٍ وَتُسَبِّحُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ". فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا أَعْطَاهُ اللَّهُ عز وجل مَنْ تَعَجَّبَ، فَإِنْ قَالَهَا مُخْلِصًا مِنْ غَيْرِ عَجَبٍ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " إِنْ قَالَهَا مُخْلِصًا مِنْ غَيْرِ عَجَبٍ خَلَقَ اللَّهُ عز وجل مِنْ كَلِمَتِهِ طَيْرًا أَخْضَرَ يَرْعَى فِي الْجِنَانِ يَأْكُلُ مِنْ ثِمَارِهَا وَيَشْرَبُ مِنْ أَنْهَارِهَا، فَإِذَا قَبَضَ اللَّهُ عز وجل رُوحَ ذَلِكَ الْعَبْدِ، قَالَ ذَلِكَ الطَّيْرُ: إِلَهِي خَلَقْتَنِي مِنْ تَسْبِيحِهِ، فَصَيِّرْ رُوحَهُ مَعِي، فَيُصَيِّرُ اللَّهُ عز وجل رُوحَ ذَلِكَ الْعَبْدِ فِي حَوْصَلَةِ ذَلِكَ الطَّيْرِ، فَيَرْعَى بِهَا فِي الْجِنَانِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَلْحَقَ اللَّهُ عز وجل بَدَنَهُ بِرُوحِهِ "
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আহমদ ইবনে ঈসা আল-মিসরি, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ আদ-দারিমি খিদাশ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খিদাশ, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার দাদা খিদাশ, তিনি বলেন: আমি বসরার এক বাজারে আনাস ইবনে মালিকের সাথে দেখা করলাম। তিনি একটি ধূসর বর্ণের খচ্চরে চড়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর চেহারায় একটি কালো কাপড় ছিল। আমি খচ্চরের লাগাম ধরলাম ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘, তারপর তাঁকে বললাম: আমার পিতা উৎসর্গিত হোক আপনার এই চক্ষুদ্বয়ের প্রতি, যে চক্ষু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে; আমাকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যা আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তিনি আমাদের নিয়ে কোনো এক সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বললেন: "হে লোকসকল! যে ব্যক্তি কোনো কিছুতে আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলবে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর সেই বাক্য থেকে একটি গাছ সৃষ্টি করবেন যার পাতার সংখ্যা দুনিয়ার দিনগুলোর সমান। প্রতিটি পাতা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং তাসবিহ পাঠ করবে।" তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! এটি তো আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাকে দান করবেন যে আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলবে, কিন্তু যদি কেউ আশ্চর্যান্বিত হওয়া ছাড়াই একনিষ্ঠভাবে তা বলে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যদি সে আশ্চর্যান্বিত হওয়া ছাড়াই একনিষ্ঠভাবে তা বলে, তবে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর সেই বাক্য থেকে একটি সবুজ রঙের পাখি সৃষ্টি করবেন যা জান্নাতে বিচরণ করবে, জান্নাতের ফলসমূহ আহার করবে এবং এর নহরসমূহ থেকে পান করবে। যখন আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী সেই বান্দার রুহ কবজ করবেন, তখন সেই পাখিটি বলবে: হে আমার ইলাহ! আপনি আমাকে তাঁর তাসবিহ থেকে সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তাঁর রুহকে আমার সাথে করে দিন। তখন আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী সেই বান্দার রুহকে সেই পাখির পাকস্থলীতে স্থান দেবেন এবং সে তা নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত জান্নাতে বিচরণ করবে। অতঃপর যখন কিয়ামত দিবস আসবে, তখন আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর দেহকে তাঁর রুহের সাথে মিলিত করে দেবেন।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمَالِكِيُّ، أنا الْخَضِرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يُونُسَ الْقَطَّانُ، أنا عُمَرُ أَبُو الْحَارِثِ بْنُ حِصْنٍ، أنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَخِيهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِنْ غَيْرِ عَجِبٍ، طَارَ بِهَا طَائِرٌ تَحْتَ الْعَرْشِ يُسَبِّحُ مَعَ الْمُسَبِّحِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَكُتِبَ لَهُ بِهِ ثَوَابُهُ "
৯ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-মালিকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-খাদির বিন আলী বিন ইউনুস আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর আবু আল-হারিস বিন হিসন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ বিন আবি সাঈদ আল-মাকবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর ভাই থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো প্রকার অহংকার ব্যতীত 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলবে, একটি পাখি তা নিয়ে আরশের নিচে উড়ে যাবে এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আল্লাহর মহিমা ঘোষণাকারীদের সাথে মহিমা ঘোষণা করতে থাকবে, আর তার জন্য এর সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
10 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، أنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُبَشِّرٍ، بِوَاسِطَ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ النَّشَّائِيُّ، أنا عَلِيُّ بْنُ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ الصُّدَائِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَشْعَثَ، عَنْ طَلْقِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا صَعَدَتْ فَلَا يَرُدُّهَا حِجَابٌ، حَتَّى تَصِلَ إِلَى اللَّهِ عز وجل فَإِذَا وَصَلَتْ نَظَرَ اللَّهُ إِلَى صَاحِبِهَا، وَحَقَّ عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يَنْظُرَ إِلَى مُوَحِّدٍ إِلَّا رَحِمَهُ "
১০ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবাশশির ওয়াসিত নামক স্থানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে হারব আন-নাশায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়া আস-সুদায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আশআশ থেকে, তিনি তালক ইবনে মুআবিয়া থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে যায়িদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, তা উপরে উঠে যায়; কোনো পর্দাই একে প্রতিহত করতে পারে না যতক্ষণ না তা মহান আল্লাহর নিকট পৌঁছে যায়। অতঃপর যখন তা পৌঁছে যায়, তখন আল্লাহ তার পাঠকারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। আর আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত যে, তিনি যখনই কোনো একত্ববাদীর প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন, তাকে দয়া করবেন।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١١)
11 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْكَرْخِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، أَخُو كَرْخَوَيْهِ، أنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا ثَابِتٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ أَحَدًا صَمَدًا لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ، كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَهُ أَلْفَيْ أَلْفِ حَسَنَةٍ وَمَنْ زَادَ زَادَهُ اللَّهُ عز وجل»
১১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-কারখী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ, যিনি কারখাওয়াইহ-এর ভাই, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাবিত, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলবে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই—আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তার জন্য বিশ লক্ষ নেকি লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি পাঠ করবে, আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তার জন্য সওয়াব আরও বাড়িয়ে দেবেন।»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌بَابٌ مُخْتَصَرٌ مِنَ الصَّلَاةِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْلِيمًا
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সালাত ও সালাম পাঠ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٢)
12 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ، أنا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الْمُكْتِبُ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التَّيْمِيُّ، أنا فِطْرُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ كُنْتُ شَفِيعَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
১২ - আমাদের কাছে উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন সুলায়মান ইবনুল আশআস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনুল হুসাইন আল-মুকতীব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ আত-তৈমী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফিতর ইবন খলিফা, তিনি আবু তুফায়েল থেকে, তিনি আবু বকর (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আমার উপর দরূদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার সুপারিশকারী হবো।»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٢)
13 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا الْعَبَّاسُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، أنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، أنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ شَرِيكٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا، فَلْيُقِلَّ عَبْدٌ مِنْ ذَلِكَ عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ أَوْ لِيُكْثِرْ»
১৩ - ওমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনুল মুগীরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে শারীক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসিম ইবনে উবাইদিল্লাহ ইবনে আসিম থেকে বর্ণিত, তিনি আমের ইবনে রাবিয়াহ থেকে, তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে, তিনি আল্লাহর নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন; সুতরাং বান্দা চাইলে আমার ওপর দরুদ কম পাঠ করুক অথবা অধিক পাঠ করুক।’»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٢)
14 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، أنا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أنا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، أنا عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَقِيَنِي جِبْرِيلُ عليه السلام فَبَشَّرَنِي، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ لَكَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ صَلَاةً صَلَّيْتُ عَلَيْهِ، وَمَنْ سَلَّمَ عَلَيْكَ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَسَجَدْتُ لِذَلِكَ شُكْرًا لِلَّهِ عز وجل "
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী, আমাদের খবর দিয়েছেন উসমান বিন আবু শায়বা, আমাদের খবর দিয়েছেন খালিদ বিন মাখলাদ, সুলাইমান বিন বিলাল থেকে, আমাদের খবর দিয়েছেন আমর বিন আবু আমর, আসিম বিন উমর বিন কাতাদা থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আউফ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আউফ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে বলছেন: যে ব্যক্তি আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করবে, আমি তার প্রতি রহমত বর্ষণ করব এবং যে ব্যক্তি আপনাকে সালাম দিবে, আমি তাকে শান্তি প্রদান করব। আমি এর জন্য আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র প্রতি শুকরিয়াস্বরূপ সিজদা করলাম।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
15 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ الشَّيْبَانِيُّ، بِدِمَشْقَ، أنا عُمَرُ بْنُ مُضَرَ، أنا هَانِئُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْإِسْكَنْدَرَانِيُّ، أنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ جَزَى اللَّهُ مُحَمَّدًا عَنَّا مَا هُوَ أَهْلُهُ، أَتْعَبَ سَبْعِينَ كَاتِبًا أَلْفَ صَبَاحٍ»
১৫ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-শাইবানী দামেস্কে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর বিন মুদার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হানি বিন আল-মুতাওয়াক্কিল আল-ইসকান্দারানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াবিয়া বিন সালিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদকে আমাদের পক্ষ থেকে এমন প্রতিদান দান করুন যার তিনি যোগ্য', সে সত্তরজন লেখককে (ফেরেশতাকে) এক হাজার সকাল পর্যন্ত পরিশ্রান্ত করে দেবে।»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
16 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي زَافِرٌ يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ، أنا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يُصَلُّوا فِيهِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا كَانَ حَسْرَةً عَلَيْهِمْ، وَإِنْ دَخَلُوا الْجَنَّةَ لِمَا يَرَوْنَ مِنَ الثَّوَابِ»
১৬ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফির অর্থাৎ ইবনে সুলাইমান আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, শুবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «কোনো সম্প্রদায় যখন কোনো মজলিসে বসে এবং সেখানে তারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করে না, তবে তা তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে; এমনকি তারা জান্নাতে প্রবেশ করলেও সেখানে সওয়াব দেখার পর আক্ষেপ করবে।’
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
17 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أنا صَالِحُ بْنُ مَالِكٍ الْخُوَارِزْمِيُّ، أنا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو طَلْحَةَ، زَوْجُ أُمِّ سُلَيْمٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُ مِنْ بِشْرِهِ وَطَلَاقَتِهِ شَيْئًا لَمْ أَرَهُ عَلَى مِثْلِ تِلْكَ الْحَالِ قَطُّ. فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَدْرِي مَتَى رَأَيْتُكَ عَلَى مِثْلِ هَذِهِ الْحَالِ قَطُّ، قَالَ: «وَمَا يَمْنَعُنِي يَا أَبَا طَلْحَةَ وَقَدْ خَرَجَ مِنْ عِنْدِي جِبْرِيلُ عليه السلام آنِفًا وَأَتَانِي بِبِشَارَةٍ مِنْ رَبِّي عز وجل أَنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يُبَشِّرُكَ أَنْ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ دِينِكَ يُصَلِّي عَلَيْكَ صَلَاةً إِلَّا صَلَّى اللَّهُ عز وجل وَمَلَائِكَتُهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا»
১৭ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওমর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন সালিহ বিন মালিক আল-খাওয়ারিজমি, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন সালিহ আল-মুররি, সাবেত থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উম্মে সুলাইমের স্বামী আবু তালহা আমাকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁর মধ্যে এমন আনন্দ ও প্রফুল্লতা দেখতে পেলাম যা এর আগে কখনো দেখিনি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, এর আগে কখনো আপনাকে এমন অবস্থায় দেখেছি কি না তা আমার জানা নেই। তিনি বললেন: "হে আবু তালহা, কিসে আমাকে বাধা দেবে? অথচ এইমাত্র জিবরিল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) আমার নিকট থেকে বিদায় নিলেন এবং আমার প্রতিপালক (মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত)-এর পক্ষ থেকে আমার কাছে এই সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন যে, আল্লাহ (বরকতময় ও সুউচ্চ) আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন: আপনার দ্বীনের অনুসারীদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে আপনার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, কিন্তু আল্লাহ (মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) এবং তাঁর ফেরেশতারা এর বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
18 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أنا عِيسَى بْنُ سَالِمِ الشَّاشِيُّ، أرنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ يَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ مُسْتَبْشِرًا فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ لَعَلَى حَالٍ مَا رَأَيْتُكَ عَلَى مِثْلِهَا، قَالَ: " وَمَا يَمْنَعُنِي، وَقَدْ أَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام آنِفًا، فَقَالَ: بَشِّرْ أُمَّتَكَ، أَنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ صَلَاةً، كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَكَفَّرَ عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ وَرَفَعَ لَهُ بِهَا عَشْرَ ⦗ص: 14⦘ دَرَجَاتٍ، وَرَدَّ اللَّهُ عز وجل عَلَيْهِ مِثْلَ قَوْلِهِ، وَعُرِضَتْ عَلَيَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "
১৮ - ওমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে সালিম আশ-শাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আর-রাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি উনাইসা থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি আবু তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, এমতাবস্থায় তাঁর চেহারা মুবারক আনন্দে উজ্জ্বল ও প্রফুল্ল ছিল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এমন এক অবস্থায় আছেন যার মতো অন্য কোনো অবস্থায় আমি আপনাকে ইতিপূর্বে দেখিনি। তিনি বললেন: "কী আমাকে আনন্দিত হতে বাধা দেবে, অথচ এইমাত্র জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট এসে বললেন: আপনার উম্মতকে সুসংবাদ দিন যে, যে ব্যক্তি আপনার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য এর বিনিময়ে দশটি নেকি লিখে দেবেন, তার দশটি গুনাহ মোচন করবেন এবং এর দ্বারা তার দশটি ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার প্রতি তার কথার অনুরূপ রহমত বর্ষণ করবেন এবং কিয়ামতের দিন তা আমার নিকট পেশ করা হবে।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
19 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَرَاءِ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الدِّينَوَرِيُّ، أنا قُرَّةُ بْنُ حَبِيبٍ الْقَنَوِيُّ، أنا الْحَكَمُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ فِي يَوْمٍ أَلْفَ مَرَّةٍ، لَمْ يَمُتْ حَتَّى يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ»
১৯ - আমাদের নিকট উমর বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-বারা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আদ-দিনাওয়ারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুররাহ বিন হাবিব আল-কানাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাকাম বিন আতিয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাবিত থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি দিনে আমার ওপর এক হাজার বার দরুদ পাঠ করবে, সে জান্নাতে তার স্থান না দেখা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
20 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ، أنا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا الصُّوفِيُّ، أنا لَيْثُ بْنُ خَالِدٍ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ ابْنُ نُمَيْرٍ خَيْرًا، أنا الْعَلَاءُ بْنُ الْحَكَمِ الْبَصْرِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً تَعْظِيمًا لِحَقِّي جَعَلَ اللَّهُ عز وجل مِنْ تِلْكَ الْكَلِمَةِ مَلَكًا، جَنَاحٌ لَهُ بِالْمَشْرِقِ وَجَنَاحٌ لَهُ بِالْمَغْرِبِ، وَرِجْلَاهُ فِي تُخُومِ الْأَرْضِ، وَعُنُقُهُ مَلْوِيٌّ تَحْتَ الْعَرْشِ، يَقُولُ اللَّهُ عز وجل لَهُ: صَلِّ عَلَى عَبْدِي كَمَا صَلَّى عَلَى نَبِيِّي، فَيُصَلِّي عَلَيْهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ "
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া আস-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন খালিদ—এবং ইবনু নুমাইর তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলা বিন আল-হাকাম আল-বাসরি, সাঈদ বিন আবি আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার হকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সেই বাক্যটি থেকে একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করবেন; যার একটি ডানা পূর্বে এবং একটি ডানা পশ্চিমে থাকবে, তার পা দুটি থাকবে যমিনের শেষ সীমানায় এবং তার ঘাড় আরশের নিচে নত হয়ে থাকবে। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাকে বলবেন: 'আমার বান্দার ওপর রহমত বর্ষণ করো যেমন সে আমার নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেছে।' অতঃপর সে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার ওপর রহমত বর্ষণ করতে থাকবে (দোয়া করতে থাকবে)।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
21 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، أنا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْوَهَّابِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنِ الطُّفَيْلِ بْنِ أُبِيِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَجْعَلَ لَكَ مِنْ صَلَاتِي، ذَكَرَ النِّصْفَ وَالثُّلُثَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَجْعَلُ لَكَ صَلَاتِي كُلَّهَا. قَالَ: «إِذًا يَكْفِيكَ اللَّهُ عز وجل دَيْنَكَ وَيَكْفِيكَ هَمَّكَ»
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আতা থেকে, তিনি তুফায়েল ইবনে উবাই ইবনে কাব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি সংকল্প করেছি যে আমার দোয়ার একটি অংশ আপনার জন্য (দরুদ পাঠে) নির্দিষ্ট করব। বর্ণনাকারী অর্ধেক ও এক-তৃতীয়াংশের কথা উল্লেখ করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তবে কি আমি আমার দোয়ার পুরোটা আপনার জন্যই নিবেদন করব? তিনি বললেন: «তাহলে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমার ঋণের বোঝা লাঘবে যথেষ্ট হবেন এবং তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন।»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
22 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الضَّبِّيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَصْرِ بْنِ بُجَيْرٍ، قَالَا: نا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَوَّابٍ، أنا عَوْنُ بْنُ عُمَارَةَ، أنا سَكَنٌ الْبُرْجُمِيُّ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَظُنُّهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الصَّلَاةُ عَلَيَّ نُورٌ عَلَى الصِّرَاطِ فَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ثَمَانِينَ مَرَّةً غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُ ثَمَانِينَ عَامًا»
২২ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আদ-দাব্বী এবং আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নাসর ইবনে বুজায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাউওয়াব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওন ইবনে উমারা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাকান আল-বুরজুমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হাজ্জাজ ইবনে সিনান থেকে, তিনি আলী ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, আমার ধারণা তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার ওপর দরুদ পাঠ করা সিরাতের ওপর আলোস্বরূপ, সুতরাং যে ব্যক্তি জুমার দিনে আশি বার আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে, তার আশি বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌بَابٌ فِي فَضْلِ الطُّهُورِ بِالْمَاءِ مُخْتَصَرًا وَمَا فِيهِ مِنَ الثَّوَابِ
পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ফযীলত এবং এতে বিদ্যমান সওয়াব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
23 - حَدَّثَنَا عُمَرُ قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ، فَقَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ مُصَفًّى، أنا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوئِهِ فَغَسَلَ وَجْهَهُ مَرَّةً وَيَدَيْهِ مَرَّةً وَرِجْلَيْهِ مَرَّةً مَرَّةً، وَقَالَ: هَذَا وُضُوءٌ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ عز وجل الصَّلَاةَ إِلَّا بِهِ، ثُمَّ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، وَقَالَ: هَذَا وُضُوءٌ، مَنْ تَوَضَّأَ ضَاعَفَ لَهُ الْأَجْرَ مَرَّتَيْنٍ، ثُمَّ دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا، وَقَالَ: هَكَذَا وُضُوءُ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَوُضُوءُ النَّبِيِّينَ قَبْلَهُ، أَوْ قَالَ: هَذَا وُضُوئِي وَوُضُوءُ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِي "
২৩ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে আল-আশআশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, অতঃপর তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসাফ্ফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি ফুদাইক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তালহা ইবনে ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওযুর পানি চাইলেন, অতঃপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল একবার, হাতদ্বয় একবার এবং পা-দ্বয় একবার একবার করে ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন: এটি এমন ওযু যা ব্যতীত মহান আল্লাহ সালাত কবুল করেন না। অতঃপর তিনি পুনরায় ওযুর পানি চাইলেন এবং দু'বার দু'বার করে ওযু করলেন। এরপর বললেন: এটি এমন ওযু, যে ব্যক্তি এভাবে ওযু করবে আল্লাহ তার প্রতিদান দ্বিগুণ করে দেবেন। অতঃপর তিনি আবার ওযুর পানি চাইলেন এবং তিনবার তিনবার করে ওযু করলেন। এরপর বললেন: এটিই তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওযু এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের ওযু। অথবা তিনি বললেন: এটিই আমার ওযু এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের ওযু।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
24 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا مُحَمَّدُ بْنُ غَسَّانَ بْنِ جَبَلَةَ الْعَتَكِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، أنا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، أنا النَّضْرُ بْنُ كَثِيرٍ السَّعْدِيُّ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَرَادَةَ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ الْقَسْمَلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَظِيفَةُ الْوُضُوءِ مَرَّةً مَرَّةً، فَمَنْ تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ كَانَ لَهُ كِفْلَانِ مِنَ الْأَجْرِ، وَمَنْ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا فَهُوَ وُضُوئِي وَوُضُوءُ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِي»
২৪ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন গাসসান বিন জাবালাহ আল-আতাকী বসরায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জামিল বিন আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আন-নাদর বিন কাসীর আস-সাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন আরাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সিনান আল-কাসমালী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ওযুর আবশ্যকীয় বিধান হলো একবার একবার করে ধৌত করা। সুতরাং যে ব্যক্তি দুইবার করে ওযু করবে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি তিনবার করে ওযু করবে, তা হলো আমার ওযু এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের ওযু।’
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
25 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيْدَرَةَ، بِطَرَابُلُسَ، أنا سَعِيدُ بْنُ سُهَيْلٍ الْعَكَّاوِيُّ، أنا أَبِي، أنا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ»
২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাইসামাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে হাইদারাহ, ত্রিপলীতে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে সুহাইল আল-আক্কাবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়বান, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক»
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ফী ফাদাইলিল আমাল ওয়া ছাওয়াবু যালিকা লি ইবনে শাহীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
26 - حَدَّثَنَا عُمَرُ، نا نَصْرُ بْنُ الْقَاسِمِ، نا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: وَأنا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: وَأنا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، أنا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ يَاسِينٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ وَيَبْلُغُ بَعْضَ الْعَضُدَيْنِ، وَبَعْضَ السَّاقَيْنِ، وَيَقُولُ: «إِنَّ أُمَّتِي يُبْعَثُونَ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ - زَادَ نَصْرُ بْنُ الْقَاسِمِ فِي حَدِيثِهِ - فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ»
২৬ - উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাসর ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হারুন আল-হাদরামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াসীন থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অযু করতে দেখেছি, তিনি দুই বাহুর কিছু অংশ এবং দুই নলার কিছু অংশ পর্যন্ত (অযুর পানি) পৌঁছাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: «নিশ্চয়ই আমার উম্মতকে অযুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও উজ্জ্বল হাত-পা বিশিষ্ট অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে — নাসর ইবনুল কাসিম তার বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন — অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার উজ্জ্বলতা দীর্ঘ করতে সক্ষম হয়, সে যেন তা করে।»