(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: -)
البدع والنهي عنها   (محمد بن وضاح القرطبي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: البدع والنهي عنها

المؤلف: محمد بن وضاح القرطبي

تحقيق ودراسة: عمرو عبد المنعم سليم

الناشر: مكتبة ابن تيمية، القاهرة- مصر، مكتبة العلم، جدة - السعودية

الطبعة: الأولى، 1416 هـ

عدد الصفحات: 191

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিদআতসমূহ এবং সেগুলোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা   (মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদ্দাহ আল-কুরতুবি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: বিদআতসমূহ এবং সেগুলোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদ্দাহ আল-কুরতুবি

তাহকীক ও পর্যালোচনা: আমর ইবনে আব্দুল মুনইম সালীম

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, কায়রো- মিশর, মাকতাবাতুল ইলম, জেদ্দা - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯১

[কিতাবের নম্বরসমূহ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
1 - قَالَ نَا أَصْبَغُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: نا أَسَدُ بنُ مُوسَى قَالَ: نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ رِفَاعَةَ السُّلَمِيِّ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُذْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «⦗ص: 26⦘ يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلْفٍ عُدُولُهُ ، يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ ، وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ»
১ - আসবাগ বিন মালিক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ওয়াদদাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আবি মারইয়াম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আসাদ বিন মুসা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইসমাইল বিন আইয়াশ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি মুয়াজ বিন রিফাআহ আস-সুলামী থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান আল-উযরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ প্রতিটি প্রজন্মের বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গ এই জ্ঞান বহন করবেন; তারা এর থেকে বাড়াবাড়িকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
2 - قَالَ: وَثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى ، قَالَ: نا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُذْرِيُّ ، عَنْ ثِقَةٍ عِنْدَهُ مِنْ أَشْيَاخِهِ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ ، يَنْفُونَ عَنْهُ انْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ ، وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ ، وَتَحْرِيفَ الْغَالِينَ»
২ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসাদ ইবন মূসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবন আবদুর রহমান আল-উযরী তাঁর জনৈক নির্ভরযোগ্য শিক্ষকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ এই ইলম বহন করবেন; তাঁরা এ থেকে বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি, মূর্খদের অপব্যাখ্যা এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি অপনোদন করবেন।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
3 - نا أَسَدٌ قَالَ: نا رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: يُوسُفُ ثِقَةٌ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيِّ رَفَعَهُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ: " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي امْتَنَّ عَلَى الْعِبَادِ بِأَنْ يَجْعَلَ فِي كُلِّ زَمَانِ فَتْرَةٍ مِنَ الرُّسُلِ بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ، يَدْعُونَ مَنْ ضَلَّ إِلَى الْهُدَى ، وَيَصْبِرُونَ مِنْهُمْ عَلَى الْأَذَى ، وَيُحْيُونَ بِكِتَابِ اللَّهِ أَهْلَ الْعَمَى ، كَمْ مِنْ قَتِيلٍ لِإِبْلِيسَ قَدْ أَحْيَوْهُ ، وَضَالٍ تَائِهٍ قَدْ هَدَوْهُ ، بَذَلُوا دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ دُونَ هَلَكَةِ الْعِبَادِ ، فَمَا أَحْسَنَ أَثَرَهُمْ عَلَى النَّاسِ ، وَأَقْبَحَ أَثَرَ النَّاسِ عَلَيْهِمْ ، يَقْتُلُونَهُمْ فِي سَالِفِ الدَّهْرِ إِلَى يَوْمِنَا هَذَا بِالْحُدُودِ وَنَحْوِهَا ، فَمَا نَسِيَهُمْ رَبُّكَ {وَمَا كَانَ رَبُّكَ ⦗ص: 27⦘ نَسِيًّا} [مريم: 64] جَعَلَ قَصَصَهُمْ هُدًى ، وَأَخْبَرَ عَنْ حُسْنِ مَقَالَتِهِمْ ، فَلَا تَقْصُرْ عَنْهُمْ؛ فَإِنَّهُمْ فِي مَنْزِلَةٍ رَفِيعَةٍ ، وَإِنْ أَصَابَتْهُمُ الْوَضِيعَةُ "

৩ - আসাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যাকে ইউসুফ বলা হয় এবং তিনি নির্ভরযোগ্য, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-ওয়াসিতি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি একে উমর ইবনুল খাত্তাব পর্যন্ত উন্নীত করেছেন যে তিনি বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বান্দাদের প্রতি এই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি রাসূলগণের অনুপস্থিতির প্রতিটি যুগে একদল অবশিষ্ট ইলমওয়ালা ব্যক্তিদের রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন, এবং আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে অন্ধদের জীবন দান করেন। ইবলিসের দ্বারা নিহত কতজনকে তারা জীবন দান করেছেন এবং কত বিভ্রান্ত পথহারাকে তারা হিদায়াত দিয়েছেন! তারা বান্দাদের ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে নিজেদের রক্ত ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন। মানুষের ওপর তাদের অবদান কতই না উত্তম, আর তাদের ওপর মানুষের আচরণ কতই না জঘন্য! অতীতকাল থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষ তাদের হত্যা করে আসছে দণ্ডবিধি ও অনুরূপ অজুহাতে। অথচ তোমার পালনকর্তা তাদের ভুলে যাননি {এবং তোমার পালনকর্তা ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ বিস্মৃত হওয়ার নন} [মারইয়াম: ৬৪]। তিনি তাদের কাহিনীগুলোকে হিদায়াত বানিয়েছেন এবং তাদের সুন্দর বক্তব্যের সংবাদ দিয়েছেন। সুতরাং তাদের থেকে বিমুখ হয়ো না; কারণ তারা সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন, যদিও তারা অপদস্থতার শিকার হয়।"

(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
4 - نا أَسَدٌ قَالَ: نا رَجُلٌ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ ، وَيُوسُفَ بْنِ أَسْبَاطٍ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: «إِنَّ لِلَّهِ عِنْدَ كُلِّ بِدْعَةٍ كِيدَ بِهَا الْإِسْلَامُ وَلِيًّا مِنْ أَوَّلِيَائِهِ يَذُبُّ عَنْهَا ، وَيَنْطِقُ بِعَلَامَتِهَا ، فَاغْتَنِمُوا حُضُورَ تِلْكَ الْمَوَاطِنِ ، وَتَوَكَّلُوا عَلَى اللَّهِ» . قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ: {وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا} [النساء: 81] "
৪ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও ইউসুফ ইবনে আসবাত থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: «নিশ্চয়ই ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে এমন প্রতিটি বিদআতের মোকাবিলায় আল্লাহর ওলিদের মধ্য থেকে আল্লাহর একজন ওলি থাকেন, যিনি তা থেকে (ইসলামকে) রক্ষা করেন এবং সেই বিদআতের লক্ষণগুলো প্রকাশ করেন। সুতরাং তোমরা সেসব মজলিসে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো»। ইবনুল মুবারক বলেন: {আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট} [নিসা: ৮১]
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
5 - نا أَسَدٌ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ صَارِمٍ ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ أَبِي أُمَيَّةَ قَالَ: «لَأَنْ أَرُدَّ رَجُلًا عَنْ رَأْيٍ سَيِّئٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنِ اعْتِكَافِ شَهْرٍ»
৫ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে সারিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হানজালা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল কারীম আবু উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «কোনো ব্যক্তিকে মন্দ মতাদর্শ হতে ফিরিয়ে আনা আমার নিকট এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও অধিক প্রিয়।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
6 - نا أَسَدٌ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْحَذَّاءِ ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ: كَانَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُ: ⦗ص: 28⦘ " لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ ذِي بِدْعَةٍ صَلَاةً ، وَلَا صِيَامًا ، وَلَا صَدَقَةً ، وَلَا جِهَادًا ، وَلَا حَجًّا ، وَلَا عُمْرَةً ، وَلَا صَرْفًا ، وَلَا عَدْلًا. وَكَانَتْ أَسْلَافُكُمْ تَشْتَدُّ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ ، وَتَشْمَئِزُّ مِنْهُمْ قُلُوبُهُمْ ، وَيُحَذِّرُونَ النَّاسَ بِدْعَتَهُمْ قَالَ: وَلَوْ كَانُوا مُسْتَتِرِينَ بِبِدْعَتِهِمْ دُونَ النَّاسِ مَا كَانَ لِأَحَدٍ أَنْ يَهْتِكَ عَنْهُمْ سِتْرًا ، وَلَا يُظْهِرَ مِنْهُمْ عَوْرَةً ، اللَّهُ أَوْلَى بِالْأَخْذِ بِهَا وَبِالتَّوْبَةِ عَلَيْهَا ، فَأَمَّا إِذَا جَهَرُوا بِهَا ، وَكَثُرَتْ دَعْوَتُهُمْ وَدُعَاتُهُمْ إِلَيْهَا؛ فَنَشْرُ الْعِلْمِ حَيَاةٌ ، وَالْبَلَاغُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَحْمَةٌ يُعْتَصَمُ بِهَا عَلَى مُصِرٍّ مُلْحِدٍ "
৬ - আমাদের নিকট আসাদ বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আল-হাযযা থেকে, তিনি আল-আওযায়ী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইলম অন্বেষণকারীদের (আহলে ইলম) কেউ কেউ বলতেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ "আল্লাহ কোনো বিদআতির সালাত, সিয়াম, সদকা, জিহাদ, হজ, উমরাহ এবং কোনো ফরয বা নফল ইবাদত কবুল করেন না। তোমাদের পূর্বসূরিগণ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা প্রয়োগ করতেন, তাদের অন্তরসমূহ তাদের প্রতি বিতৃষ্ণ হতো এবং তাঁরা মানুষকে তাদের বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করতেন। তিনি বলেন: যদি তারা মানুষের অগোচরে নিজেদের বিদআত গোপন রাখত, তবে কারো জন্য তাদের পর্দা উন্মোচন করা বা তাদের গোপন দোষ প্রকাশ করা বৈধ হতো না; আল্লাহই তাদের পাকড়াও করার বা তাদের তওবা কবুল করার ব্যাপারে অধিক হকদার। কিন্তু যখন তারা তা প্রকাশ্যে প্রচার করতে শুরু করে এবং সেই বিদআতের দিকে তাদের আহ্বান ও আহ্বানকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন ইলম প্রচার করাই হলো জীবন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দেওয়া হলো একটি রহমত, যার মাধ্যমে একজন একগুঁয়ে সত্যবিমুখ পথভ্রষ্টর বিরুদ্ধে সুরক্ষা লাভ করা যায়।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٢٨)
7 - وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ، عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ أَنَّ أَسَدَ بْنَ مُوسَى كَتَبَ إِلَى أَسَدِ بْنِ الْفُرَاتِ: ⦗ص: 29⦘ " اعْلَمْ أَيْ أَخِي أَنَّمَا حَمَلَنِي عَلَى الْكِتَابِ إِلَيْكَ مَا ذَكَرَ أَهْلُ بِلَادِكَ مِنْ صَالِحِ مَا أَعْطَاكَ اللَّهُ مِنْ إِنْصَافِكَ النَّاسَ وَحُسْنِ حَالِكَ مِمَّا أَظْهَرْتَ مِنَ السُّنَّةِ ، وَعَيْبِكَ لِأَهْلِ الْبِدْعَةِ ، وَكَثْرَةِ ذِكْرِكَ لَهُمْ ، وَطَعْنِكَ عَلَيْهِمْ ، فَقَمَعَهُمُ اللَّهُ بِكَ ، وَشَدَّ بِكَ ظَهْرَ أَهْلِ السُّنَّةِ ، وَقَوَّاكَ عَلَيْهِمْ بِإِظْهَارِ عَيْبِهِمْ وَالطَّعْنِ عَلَيْهِمْ ، فَأَذَلَّهُمُ اللَّهُ بِذَلِكَ ، وَصَارُوا بِبِدْعَتِهِمْ مُسْتَتِرِينَ ، فَأَبْشِرْ أَيْ أَخِي بِثَوَابِ ذَلِكَ ، وَاعْتَدَّ بِهِ أَفْضَلَ حَسَنَاتِكَ مِنَ الصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ وَالْحَجِّ وَالْجِهَادِ ، وَأَيْنَ تَقَعُ هَذِهِ الْأَعْمَالُ مِنْ إِقَامَةِ كِتَابِ اللَّهِ وَإِحْيَاءِ سُنَّةِ رَسُولِهِ؟ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحْيَا شَيْئًا مِنْ سُنَّتِي كُنْتُ أَنَا وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ» وَضَمَّ بَيْنَ أُصْبُعَيْهِ ، وَقَالَ: «أَيُّمَا دَاعٍ دَعَا إِلَى هَذَا فَاتُّبِعَ عَلَيْهِ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ تَبِعَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» ، ⦗ص: 30⦘ فَمَنْ يُدْرِكُ أَجْرَ هَذَا بِشَيْءٍ مِنْ عَمَلِهِ؟ وَذُكِرَ أَيْضًا أَنَّ لِلَّهِ عِنْدَ كُلِّ بِدْعَةٍ كِيدَ بِهَا الْإِسْلَامُ وَلِيًّا لِلَّهِ يَذُبُّ عَنْهَا ، وَيَنْطِقُ بِعَلَامَاتِهَا ، فَاغْتَنِمْ يَا أَخِي هَذَا الْفَضْلَ ، وَكُنْ مِنْ أَهْلِهِ؛ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِمُعَاذٍ حِينَ بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ وَأَوْصَاهُ وَقَالَ: «لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ كَذَا وَكَذَا» ⦗ص: 31⦘ ، وَأَعْظَمَ الْقَوْلَ فِيهِ ، فَاغْتَنِمْ ذَلِكَ ، وَادْعُ إِلَى السُّنَّةِ حَتَّى يَكُونَ لَكَ فِي ذَلِكَ أُلْفَةٌ وَجَمَاعَةٌ يَقُومُونَ مَقَامَكَ إِنْ حَدَثَ بِكَ حَدَثٌ؛ فَيَكُونُونَ أَئِمَّةً بَعْدَكَ ، فَيَكُونُ لَكَ ثَوَابُ ذَلِكَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَمَا جَاءَ الْأَثَرُ ، فَاعْمَلْ عَلَى بَصِيرَةٍ وَنِيَّةٍ وَحِسْبَةٍ؛ فَيَرُدَّ اللَّهُ بِكَ الْمُبْتَدِعَ الْمَفْتُونَ الزَّائِغَ الْحَائِرَ ، فَتَكُونَ خَلَفًا مِنْ نَبِيِّكَ صلى الله عليه وسلم؛ فَإِنَّكَ لَنْ تَلْقَى اللَّهَ بِعَمَلٍ يُشْبِهُهُ ، وَإِيَاكَ أَنْ يَكُونَ لَكَ مِنْ أَهْلِ الْبِدَعِ أَخٌ ، أَوْ جَلِيسٌ ، أَوْ صَاحِبٌ؛ فَإِنَّهُ جَاءَ الْأَثَرُ: ⦗ص: 32⦘ مَنْ جَالَسَ صَاحِبَ بِدْعَةٍ نُزِعَتْ مِنْهُ الْعِصْمَةُ ، وَوُكِلَ إِلَى نَفْسِهِ ، وَمَنْ مَشَى إِلَى صَاحِبِ بِدْعَةٍ مَشَى فِي هَدْمِ الْإِسْلَامِ. وَجَاءَ: مَا مِنْ إِلَهٍ يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَبْغَضُ إِلَى اللَّهِ مِنْ صَاحِبِ هَوًى " ، وَقَدْ وَقَعَتِ اللَّعْنَةُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَهْلِ الْبِدَعِ ، وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنْهُمْ صَرْفًا ، وَلَا عَدْلًا ، وَلَا فَرِيضَةً ، وَلَا تَطَوُّعًا ، وَكُلَّمَا ازْدَادُوا اجْتِهَادًا وَصَوْمًا وَصَلَاةً ازْدَادُوا مِنَ اللَّهِ بُعْدًا ، فَارْفُضْ مَجَالِسَهُمْ ، وَأَذِلَّهُمْ ، وَأَبْعِدْهُمْ كَمَا أَبْعَدَهُمُ اللَّهُ وَأَذَلَّهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَئِمَّةُ الْهُدَى بَعْدَهُ
৭ - মুহাম্মদ ইবন ওয়াদদাহ আমাকে একাধিক ব্যক্তির সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন যে, আসাদ ইবন মুসা আসাদ ইবনুল ফুরাতের নিকট লিখেছিলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ "হে আমার ভাই! জেনে রাখুন, আপনার কাছে এই পত্র লিখতে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো আপনার অঞ্চলের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে বর্ণিত আপনার সম্পর্কে সেই উত্তম গুণাবলি যা আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন; যেমন মানুষের প্রতি আপনার ইনসাফ এবং আপনার সেই উত্তম অবস্থা যা আপনার সুন্নাহ প্রকাশ করা, বিদআতপন্থীদের দোষ বর্ণনা করা, তাদের কথা অধিক পরিমাণে উল্লেখ করা এবং তাদের কঠোর সমালোচনা করার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। আল্লাহ আপনার মাধ্যমে তাদেরকে দমন করেছেন এবং আপনার মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহর পৃষ্ঠদেশকে মজবুত করেছেন। তাদের দোষ প্রকাশ করা এবং তাদের সমালোচনা করার মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করেছেন, যার ফলে আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছেন এবং তারা নিজ নিজ বিদআত নিয়ে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছে। সুতরাং হে আমার ভাই! এর সওয়াবের সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং একে সালাত, সিয়াম, হজ ও জিহাদের চেয়েও আপনার শ্রেষ্ঠ নেক আমল হিসেবে গণ্য করুন। আল্লাহর কিতাব প্রতিষ্ঠা করা এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে জিন্দা করার তুলনায় এই আমলগুলো কোথায়? আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর কোনো কিছু জিন্দা করবে, আমি এবং সে জান্নাতে এই দুটির মতো থাকব»—এই বলে তিনি তাঁর দুই আঙ্গুল একত্রিত করলেন। এবং তিনি বলেছেন: «যে কোনো আহ্বানকারীই এই দিকে ডাকবে এবং তার অনুসরণ করা হবে, কিয়ামত পর্যন্ত যারা তার অনুসরণ করবে তাদের সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হবে।» ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ সুতরাং কে আছে যে তার ব্যক্তিগত কোনো আমল দিয়ে এই বিশাল সওয়াব অর্জন করতে পারে? আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা প্রতিটি বিদআতের মোকাবিলায় আল্লাহর এমন একজন বন্ধু (অলি) থাকেন যিনি ইসলামকে রক্ষা করেন এবং সেই বিদআতের লক্ষণসমূহ বর্ণনা করেন। অতএব হে আমার ভাই! আপনি এই ফযিলতকে গনীমত মনে করুন এবং এর অন্তর্ভুক্ত হোন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআযকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁকে অসিয়ত করে বলেছিলেন: «আল্লাহ যদি আপনার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা আপনার জন্য অমুক অমুক জিনিসের চেয়েও উত্তম।» ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ এবং তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। সুতরাং আপনি একে গনীমত মনে করুন এবং সুন্নাহর দিকে আহ্বান করতে থাকুন, যাতে এ বিষয়ে আপনার এমন এক হৃদ্যতা ও জামাত তৈরি হয় যারা আপনার কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে (মৃত্যু হলে) আপনার স্থলাভিষিক্ত হবে; ফলে তারা আপনার পরে ইমাম বা নেতা হবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত আপনি এর সওয়াব পেতে থাকবেন, যেমনটি আসারে (বর্ণনায়) এসেছে। অতএব আপনি দূরদর্শিতা, বিশুদ্ধ নিয়ত এবং সওয়াবের আশায় আমল করুন; যাতে আল্লাহ আপনার মাধ্যমে ফিতনায় পড়া, পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত বিদআতীদের প্রতিহত করেন। এর ফলে আপনি আপনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুযোগ্য উত্তরসূরি হতে পারবেন। কেননা আপনি আল্লাহর সাথে এমন কোনো আমল নিয়ে সাক্ষাৎ করবেন না যা এর সমতুল্য হতে পারে। আর সাবধান! বিদআতীদের মধ্য থেকে আপনার যেন কোনো ভাই, সহচর বা বন্ধু না থাকে। কারণ বর্ণনায় এসেছে: ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ যে ব্যক্তি কোনো বিদআতীর সাথে বসবে, তার থেকে নিরাপত্তা ছিনিয়ে নেওয়া হবে এবং তাকে তার নিজের ওপর সোপর্দ করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো বিদআতীর দিকে হেঁটে গেল, সে মূলত ইসলাম ধ্বংস করার কাজে অগ্রসর হলো। আরও বর্ণিত আছে: «আল্লাহ ছাড়া অন্য যেসব উপাস্যের ইবাদত করা হয়, তাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট প্রবৃত্তি পূজারীর (বিদআতীর) চেয়ে অধিক ঘৃণিত আর কেউ নেই।» আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বিদআতীদের ওপর অভিশাপ এসেছে। আল্লাহ তাদের কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। তারা ইবাদতে যত বেশি পরিশ্রম, সিয়াম ও সালাত বৃদ্ধি করবে, আল্লাহর থেকে তারা ততই দূরে সরে যাবে। সুতরাং আপনি তাদের মজলিস বর্জন করুন, তাদেরকে লাঞ্ছিত করুন এবং তাদেরকে দূরে সরিয়ে দিন যেমনভাবে আল্লাহ তাদেরকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরবর্তী হেদায়েতের ইমামগণ তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌بَابُ مَا يَكُونُ بِدْعَةً
যা বিদআত হিসেবে গণ্য হয় তার অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٣)
8 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدِ بْنِ وَضَّاحٍ، قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: نا أَسَدُ بْنُ مُوسَى قَالَ: نا رَوْحٌ قَالَ: نا أَبُو إِسْحَاقَ ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ: ⦗ص: 34⦘ إِنَّ النَّاسَ نُودِيَ فِيهِمْ بَعْدَ نَوْمَةٍ أَنَّهُ مَنْ صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ الْأَعْظَمِ دَخَلَ الْجَنَّةَ، فَانْطَلَقَ النِّسَاءُ وَالرِّجَالُ حَتَّى امْتَلَأَ الْمَسْجِدُ قِيَامًا يُصَلُّونَ. قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ: إِنَّ أُمِّي وَجَدَّتِي فِيهِمْ، فَأُتِيَ ابْنُ مَسْعُودٍ فَقِيلَ لَهُ: أَدْرِكِ النَّاسَ ، فَقَالَ: مَا لَهُمْ؟ قِيلَ: نُودِيَ فِيهِمْ بَعْدَ نَوْمَةٍ أَنَّهُ مَنْ صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ الْأَعْظَمِ دَخَلَ الْجَنَّةَ ، فَخَرَجَ ابْنُ مَسْعُودٍ يُشِيرُ بِثَوْبِهِ: وَيْلَكُمُ اخْرُجُوا لَا تُعَذَّبُوا ، إِنَّمَا هِيَ نَفْخَةٌ مِنَ الشَّيْطَانِ ، إِنَّهُ لَمْ يُنْزِلْ كِتَابًا بَعْدَ نَبِيِّكُمْ ، وَلَا يَنْزِلُ بَعْدَ نَبِيِّكُمْ، فَخَرَجُوا ، وَجَلَسْنَا إِلَى عَبْدِ اللَّهِ ، فَقَالَ: إِنَّ " الشَّيْطَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوقِعَ الْكَذِبَ انْطَلَقَ فَتَمَثَّلَ رَجُلًا ، فَيَلْقَى آخَرَ فَيَقُولُ لَهُ: أَمَا بَلَغَكَ الْخَبَرُ؟ فَيَقُولُ الرَّجُلُ: وَمَا ذَاكَ؟ فَيَقُولُ: كَانَ مِنَ الْأَمْرِ كَذَا وَكَذَا ، فَانْطَلِقْ فَحَدِّثْ أَصْحَابَكَ قَالَ: فَيَنْطَلِقُ الْآخَرُ فَيَقُولُ: لَقَدْ لَقِينَا رَجُلًا إِنِّي لَأَتَوَهَّمُهُ أَعْرِفُ وَجْهَهُ ، زَعَمَ أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْأَمْرِ كَذَا وَكَذَا ، وَمَا هُوَ إِلَّا الشَّيْطَانُ "
৮ - মুহাম্মদ ইবন ওয়াদদাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন মুহাম্মদ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আসাদ ইবন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন রাওহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারিসাহ ইবন মুদাররিব থেকে: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ লোকেদের মাঝে ঘুমের পর এই ঘোষণা করা হলো যে, যে ব্যক্তি বড় মসজিদে সালাত আদায় করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ফলে নারী ও পুরুষরা বের হয়ে পড়লেন, এমনকি মসজিদটি সালাতরত অবস্থায় দাঁড়ানো লোক দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেল। আবু ইসহাক বলেন: আমার মা ও দাদী তাদের মধ্যে ছিলেন। অতঃপর ইবন মাসউদের কাছে আসা হলো এবং তাঁকে বলা হলো: আপনি লোকেদের খবর নিন! তিনি বললেন: তাদের কী হয়েছে? বলা হলো: তাদের মাঝে ঘুমের পর ঘোষণা করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি বড় মসজিদে সালাত আদায় করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন ইবন মাসউদ তাঁর কাপড় দিয়ে ইশারা করতে করতে বের হলেন (এবং বললেন): তোমাদের দুর্ভোগ! বের হয়ে যাও, তোমরা আযাবগ্রস্ত হয়ো না। এটি শয়তানের পক্ষ থেকে একটি ফুঁৎকার মাত্র। নিশ্চয়ই তোমাদের নবীর পরে কোনো কিতাব নাযিল হয়নি এবং তোমাদের নবীর পরে কোনো কিতাব নাযিল হবে না। এরপর তারা বের হয়ে গেল এবং আমরা আবদুল্লাহর নিকট বসলাম। তিনি বললেন: "শয়তান যখন মিথ্যা ছড়াতে চায়, তখন সে মানুষের রূপ ধারণ করে বের হয় এবং অন্য এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বলে: তোমার কাছে কি কোনো খবর পৌঁছেনি? লোকটি বলে: সেটা কী? সে বলে: অমুক অমুক ঘটনা ঘটেছে; যাও এবং তোমার সাথীদের কাছে এটি বর্ণনা করো। বর্ণনাকারী বলেন: তখন অন্য লোকটি গিয়ে বলে: আমরা এমন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছি যার চেহারা আমি চিনি বলে মনে হয়, সে দাবি করেছে যে অমুক অমুক বিষয় ঘটেছে; অথচ সে শয়তান ছাড়া আর কেউ নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٥)
9 - نا أَسَدٌ ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ صَبِيحٍ ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ صَبِرَةَ قَالَ: بَلَغَ ابْنَ مَسْعُودٍ أَنَّ عَمْرَو بْنَ عُتْبَةَ فِي أَصْحَابٍ لَهُ بَنَوْا مَسْجِدًا بِظَهْرِ الْكُوفَةِ ، فَأَمَرَ عَبْدُ اللَّهِ بِذَلِكَ الْمَسْجِدِ فَهُدِمَ. ثُمَّ بَلَغَهُ أَنَّهُمْ يَجْتَمِعُونَ فِي نَاحِيَةٍ مِنْ مَسْجِدِ الْكُوفَةِ يُسَبِّحُونَ تَسْبِيحًا مَعْلُومًا وَيُهَلِّلُونَ وَيُكَبِّرُونَ ، قَالَ: فَلَبِسَ بُرْنُسًا ، ثُمَّ انْطَلَقَ فَجَلَسَ إِلَيْهِمْ ، فَلَمَّا عَرَفَ مَا يَقُولُونَ رَفَعَ الْبُرْنُسَ عَنْ رَأْسِهِ ثُمَّ قَالَ: أَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، ثُمَّ قَالَ: لَقَدْ فَضَلْتُمْ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم عِلْمًا ، أَوْ لَقَدْ جِئْتُمْ بِبِدْعَةٍ ظُلْمًا. قَالَ: فَقَالَ عَمْرُو بْنُ عُتْبَةَ: نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، ثُمَّ قَالَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ: وَاللَّهِ مَا فَضَلْنَا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ عِلْمًا ، وَلَا جِئْنَا بِبِدْعَةٍ ظُلْمًا ، وَلَكِنَّا قَوْمٌ نَذْكُرُ رَبَّنَا ، فَقَالَ: «بَلَى وَالَّذِي نَفْسُ ابْنِ مَسْعُودٍ بِيَدِهِ ، لَقَدْ فَضَلْتُمْ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ عِلْمًا ، أَوْ جِئْتُمْ بِبِدْعَةٍ ظُلْمًا ، وَالَّذِي نَفْسُ ابْنِ مَسْعُودٍ بِيَدِهِ لَئِنْ أَخَذْتُمْ آثَارَ الْقَوْمِ لَيَسْبِقُنَّكُمْ سَبْقًا بَعِيدًا ، وَلَئِنْ حُرْتُمْ يَمِينًا وَشِمَالًا لَتَضِلُّنَّ ضَلَالًا بَعِيدًا»
৯ - আসাদ আমাদের নিকট রাবী ইবন সাবিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবন সাবেরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবন মাসউদের নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, আমর ইবন উতবা তার কিছু সঙ্গীদের নিয়ে কুফার উপকণ্ঠে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তখন আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) সেই মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং তা ভেঙে ফেলা হলো। এরপর তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, তারা কুফা মসজিদের এক পাশে একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তাসবীহ পাঠ করছে এবং তাহলীল ও তাকবীর ধ্বনি দিচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি একটি টুপিযুক্ত আলখাল্লা পরিধান করলেন, অতঃপর রওয়ানা হয়ে তাদের সাথে গিয়ে বসলেন। যখন তিনি তারা যা বলছিল তা বুঝতে পারলেন, তখন মাথা থেকে আলখাল্লাটি সরিয়ে নিলেন এবং বললেন: আমি আবু আব্দুর রহমান। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি ইলমের দিক থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ছাড়িয়ে গিয়েছ, না কি তোমরা অন্যায়ভাবে কোনো বিদআতের অবতারণা করেছ? বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমর ইবন উতবা তিনবার বললেন, আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এরপর বনু তামীম গোত্রের এক ব্যক্তি বলল: আল্লাহর কসম, আমরা ইলমের দিক থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ছাড়িয়ে যাইনি এবং আমরা অন্যায়ভাবে কোনো বিদআতও নিয়ে আসিনি; বরং আমরা এমন এক দল লোক যারা আমাদের রবকে স্মরণ করছি। তখন তিনি বললেন: অবশ্যই, সেই সত্তার কসম যাঁর আল্লাহর হাতে ইবন মাসউদের প্রাণ রয়েছে, তোমরা হয়তো ইলমের দিক থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ছাড়িয়ে গিয়েছ, না হয় তোমরা অন্যায়ভাবে কোনো বিদআতের অবতারণা করেছ। সেই সত্তার কসম যাঁর আল্লাহর হাতে ইবন মাসউদের প্রাণ রয়েছে, যদি তোমরা সেই কওমের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে তবে তোমরা অনেক দূর অগ্রগামী হতে; কিন্তু যদি তোমরা ডানে ও বামে বিচ্যুত হও, তবে তোমরা ঘোর বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٦)
10 - نا أَسَدٌ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنٍ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ: «اتَّقُوا اللَّهَ يَا مَعْشَرَ الْقُرَّاءِ ، خُذُوا طَرِيقَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ ، وَاللَّهِ لَئِنِ اسْتَقَمْتُمْ لَقَدْ سُبِقْتُمْ سَبْقًا بَعِيدًا ، وَلَئِنْ تَرَكْتُمُوهُ يَمِينًا وَشِمَالًا لَقَدْ ضَلَلْتُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا»
১০ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আউন থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান বলেছেন: "হে ক্বারী (কুরআন পাঠক) সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদের পথ অবলম্বন করো যারা তোমাদের পূর্বে অতিবাহিত হয়েছেন। আল্লাহর কসম! তোমরা যদি সত্য পথে অবিচল থাকো, তবে তোমরা অনেক দূর অগ্রগামী হবে। আর যদি তোমরা ডানে ও বামে তা পরিত্যাগ করো, তবে তোমরা ঘোর বিভ্রান্তিতে নিপতিত হবে।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٦)
11 - حَدَّثَنَا أَسَدٌ قَالَ: نا أَبُو هِلَالٍ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «اتَّبِعُوا آثَارَنَا ، وَلَا تَبْتَدِعُوا؛ فَقَدْ كُفِيتُمْ»
১১ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হিলাল আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «তোমরা আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো এবং বিদআত করো না; কারণ তোমাদের জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٦)
12 - نا أَسَدٌ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَازِمٍ ، عَنْ الْأَعْمَشِ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: ⦗ص: 37⦘ كَانَ حُذَيْفَةُ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ فَيَقِفُ عَلَى الْحِلَقِ فَيَقُولُ: «يَا مَعْشَرَ الْقُرَّاءِ اسْلُكُوا الطَّرِيقَ ، فَلَئِنْ سَلَكْتُمُوهَا لَقَدْ سُبِقْتُمْ سَبْقًا بَعِيدًا ، وَلَئِنْ أَخَذْتُمْ يَمِينًا وَشِمَالًا لَقَدْ ضَلَلْتُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا»
১২ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে খাযিম থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ হুজায়ফা মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং বিভিন্ন মজলিসের নিকট দাঁড়িয়ে বলতেন: «হে ক্বারী সম্প্রদায়, তোমরা পথটি অনুসরণ করো। যদি তোমরা তা অনুসরণ করো, তবে তোমরা অনেক দূর অগ্রগামী হয়ে যাবে। আর যদি তোমরা ডানে ও বামে চলো, তবে তোমরা ঘোর বিভ্রান্তিতে পতিত হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٧)
13 - نا أَسَدٌ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عِيسَى ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: «اتَّبِعُوا وَلَا تَبْتَدِعُوا؛ فَقَدْ كُفِيتُمْ كُلَّ ضَلَالَةٍ»
১৩ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি হাবীব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং বিদআত (নতুন উদ্ভাবন) করো না; কারণ তোমাদের জন্য (দীনকে) যথেষ্ট করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٧)
14 - نا أَسَدٌ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عِيسَى ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: أَتَانَا حُذَيْفَةُ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ الْقُرَّاءِ ، اسْلُكُوا الطَّرِيقَ؛ فَوَاللَّهِ لَئِنْ سَلَكْتُمُوهُ لَقَدْ سُبِقْتُمْ سَبْقًا بَعِيدًا ، وَلَئِنْ أَخَذْتُمْ يَمِينًا وَشِمَالًا لَقَدْ ضَلَلْتُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا»
১৪ - আমাদের নিকট আসাদ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুজাইফা মসজিদে আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: «হে ক্বারী সম্প্রদায়, তোমরা (সঠিক) পথ অনুসরণ করো; আল্লাহর কসম, যদি তোমরা তা অনুসরণ করো তবে তোমরা বহুদূর অগ্রগামী হয়ে যাবে, আর যদি তোমরা ডানে ও বামে চলো তবে তোমরা ঘোর বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٨)
15 - نا أَسَدٌ، عَنْ عَامِرِ بْنِ يَسَافٍ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ: «اتَّبِعُوا سُبُلَنَا ، وَلَئِنِ اتَّبَعْتُمُونَا لَقَدْ سُبِقْتُمْ سَبْقًا بَعِيدًا ، وَلَئِنْ خَالَفْتُمُونَا لَقَدْ ضَلَلْتُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا»
১৫ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমের বিন ইয়াসাফ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান বলেছেন: «তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ করো। যদি তোমরা আমাদের অনুসরণ করো, তবে তোমরা অনেক অগ্রগামী হবে। আর যদি তোমরা আমাদের বিরোধিতা করো, তবে তোমরা ঘোর পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٨)
16 - نا أَسَدٌ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَجَاءٍ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ يَسَارٍ أَبِي الْحَكَمِ ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ حُدِّثَ أَنَّ أُنَاسًا بِالْكُوفَةِ يُسَبِّحُونَ بِالْحَصَا فِي الْمَسْجِدِ ، فَأَتَاهُمْ ، وَقَدْ كَوَّمَ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ كَوْمَةَ حَصًا ، قَالَ: فَلَمْ يَزَلْ يَحْصِبُهُمْ بِالْحَصَا حَتَّى أَخْرَجَهُمْ مِنَ الْمَسْجِدِ ، وَيَقُولُ: «لَقَدْ أَحْدَثْتُمْ بِدْعَةً ظُلْمًا ، أَوْ قَدْ فَضَلْتُمْ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم عِلْمًا»
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ, তিনি আবদুল্লাহ ইবন রাজা থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন উমর থেকে, তিনি ইয়াসার আবু আল-হাকাম থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদকে সংবাদ দেওয়া হলো যে, কুফার কিছু লোক মসজিদে কঙ্কড় দিয়ে তাসবিহ পাঠ করছে। অতঃপর তিনি তাদের নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় যে তাদের প্রত্যেকের সামনে কঙ্কড়ের স্তূপ জমা ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাদের দিকে কঙ্কড় ছুড়তে থাকলেন যতক্ষণ না তাদের মসজিদ থেকে বের করে দিলেন এবং তিনি বলছিলেন: “নিশ্চয়ই তোমরা এক অন্যায় বিদআতের সূচনা করেছ, অথবা তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের চেয়েও জ্ঞানে অগ্রগামী হয়ে গেছ!”
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٩)
17 - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، عَنْ حَرْمَلَةَ ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ سَمْعَانَ قَالَ: بَلَغَنَا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ رَأَى أُنَاسًا يُسَبِّحُونَ بِالْحَصَا ، فَقَالَ: «عَلَى اللَّهِ تُحْصُونَ ، لَقَدْ سَبَقْتُمْ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ عِلْمًا ، أَوْ لَقَدْ أَحْدَثْتُمْ بِدْعَةً ظُلْمًا»
১৭ - ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হারমালাহ থেকে, ইবনু ওয়াহাব থেকে, তিনি বলেন: ইবনু সামআন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি একদল লোককে নুড়ি পাথর দিয়ে তসবিহ পাঠ করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি আল্লাহর ওপর (তোমাদের আমল) গণনা করছ? তোমরা তো ইলমের দিক থেকে মুহাম্মাদের সাহাবীদেরও ছাড়িয়ে গেছ, অথবা তোমরা এক অন্যায় বিদআত প্রবর্তন করেছ।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٩)
18 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: نا أَسَدُ بْنُ مُوسَى ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عِيسَى ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ قَالَ: " مَرَّ عَبْدُ اللَّهِ بِرَجُلٍ يَقُصُّ فِي الْمَسْجِدِ عَلَى أَصْحَابِهِ ، وَهُوَ يَقُولُ: سَبِّحُوا عَشْرًا ، وَهَلِّلُوا عَشْرًا ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: إِنَّكُمْ لَأَهْدَى مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَضَلُّ ، بَلْ هَذِهِ ، بَلْ هَذِهِ ، يَعْنِي: أَضَلُّ
১৮ - মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদদাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসাদ ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি তার জনৈক সাথী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) মসজিদে এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে তার সাথীদের কাছে কিচ্ছা শোনাচ্ছিল এবং বলছিল: তোমরা দশবার তাসবিহ পাঠ করো এবং দশবার তাহলিল পাঠ করো। তখন আবদুল্লাহ বললেন: নিশ্চয়ই তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের চেয়ে বেশি হিদায়াতের ওপর আছো অথবা বেশি পথভ্রষ্ট। বরং এটাই, বরং এটাই; অর্থাৎ: তোমরা বেশি পথভ্রষ্ট।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٣٩)
19 - نا أَسَدٌ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ ، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ: ⦗ص: 40⦘ أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَجْمَعُ النَّاسَ فَيَقُولُ: رَحِمَ اللَّهُ مَنْ قَالَ كَذَا وَكَذَا مَرَّةً سُبْحَانَ اللَّهِ ، قَالَ: فَيَقُولُ الْقَوْمُ. فَيَقُولُ: رَحِمَ اللَّهُ مَنْ قَالَ كَذَا وَكَذَا مَرَّةً: الْحَمْدُ لِلَّهِ قَالَ: فَيَقُولُ الْقَوْمٌ قَالَ: فَمَرَّ بِهِمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَقَالَ: «لَقَدْ هُدِيتُمْ لِمَا لَمْ يَهْتَدِ لَهُ نَبِيُّكُمْ ، أَوْ إِنَّكُمْ لَمُتَمَسِّكُونَ بِذَنَبِ ضَلَالَةٍ»
১৯ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি আল-আওযাঈ থেকে, তিনি আবদাহ ইবনে আবি লুবাবাহ থেকে: ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ এক ব্যক্তি মানুষকে একত্রিত করত এবং বলত: আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যে এত এত বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। তিনি বলেন: তখন লোকেরা তা বলত। সে আবার বলত: আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যে এত এত বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে। তিনি বলেন: তখন লোকেরা তা বলত। তিনি বলেন: অতঃপর তাদের নিকট দিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ অতিক্রম করলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই তোমরা এমন বিষয়ের দিশা পেয়েছ যার দিশা তোমাদের নবী পাননি, অথবা তোমরা অবশ্যই ভ্রষ্টতার লেজ আঁকড়ে ধরে আছ»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤٠)
20 - نا أَسَدٌ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ ، قَالَ: سَأَلْتُ الْأَوْزَاعِيَّ عَنِ الْقَوْمِ يَكُونُونَ جَمِيعًا فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: قُولُوا خَيْرًا ، قَالَ: «لِيَفْعَلْ ، فَإِنْ أَبَوْا عَلَيْهِ فَلْيَقُمْ عَنْهُمْ»
২০ - আমাদের নিকট আসাদ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি বলেন: আমি আওযাঈকে এমন একদল লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যারা একত্রে সমবেত থাকে এবং তাদের কেউ কেউ একে অপরকে বলে: "ভালো কথা বলো"। তিনি বললেন: "সে যেন তা-ই করে, তবে তারা যদি তা করতে অস্বীকার করে, তবে সে যেন তাদের নিকট থেকে উঠে যায়।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤٠)
21 - نا أَسَدٌ ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ ، عَنِ الصَّلْتِ بْنِ بَهْرَامَ قَالَ: " مَرَّ ابْنُ مَسْعُودٍ بِامْرَأَةٍ مَعَهَا تَسْبِيحٌ تُسَبِّحُ بِهِ ، فَقَطَعَهُ وَأَلْقَاهُ ، ثُمَّ مَرَّ بِرَجُلٍ يُسَبِّحُ بِحَصًا ، فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ ثُمَّ قَالَ: «لَقَدْ سُبِقْتُمْ ، رَكِبْتُمْ بِدْعَةً ظُلْمًا ، أَوْ لَقَدْ غَلَبْتُمْ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم عِلْمًا»
২১ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর ইবনে হাযিম থেকে, তিনি আস-সালত ইবনে বাহরাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ইবনে মাসউদ (রা.) এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার সাথে তাসবীহ পাঠের একটি মালা ছিল এবং সে তা দিয়ে তাসবীহ পাঠ করছিল। তিনি সেটি ছিঁড়ে ফেললেন এবং ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে পাথরখণ্ড দিয়ে তাসবীহ পাঠ করছিল, তখন তিনি তাকে নিজ পা দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন: «তোমরা তো অনেক অগ্রগামী হয়ে গেছ; তোমরা কি অন্যায়ভাবে বিদআতে লিপ্ত হয়েছ, নাকি তোমরা জ্ঞানের দিক থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ছাড়িয়ে গেছ?»"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤٠)
22 - وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ قَالَ نا مُوسَى بْنُ مُعَاوِيَةَ ، عَنْ ⦗ص: 41⦘ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ ، عَنْ أَبِي الزَّرْعَا قَالَ: " جَاءَ الْمُسَيِّبُ بْنُ نُجَيْدٍ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ: إِنِّي تَرَكْتُ فِي الْمَسْجِدِ رِجَالًا يَقُولُونَ: سَبِّحُوا ثَلَاثَمِائَةٍ وَسِتِّينَ ، فَقَالَ: قُمْ يَا عَلْقَمَةُ وَاشْغَلْ عَنِّي أَبْصَارَ الْقَوْمِ ، فَجَاءَ فَقَامَ عَلَيْهِمْ فَسَمِعَهُمْ يَقُولُونَ فَقَالَ: «إِنَّكُمْ لَتُمْسِكُونَ بِأَذْنَابِ ضَلَالٍ ، أَوْ إِنَّكُمْ لَأَهْدَى مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم ، أَوْ نَحْوَ هَذَا»
২২ - এবং আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াদদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে মুআবিয়া, ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি সালামা ইবনে কুহায়েল থেকে, তিনি আবু যারআ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল-মুসাইয়্যাব ইবনে নুজাইদ আবদুল্লাহর নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি মসজিদে এমন কিছু লোককে রেখে এসেছি যারা বলছে: তোমরা তিনশ ষাট বার তসবিহ পাঠ করো। তখন তিনি বললেন: হে আলকামা, ওঠো এবং লোকদের দৃষ্টি আমার থেকে আড়াল করো। অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাদের নিকট দাঁড়ালেন, তাদের কথা শুনলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই তোমরা ভ্রষ্টতার লেজ আঁকড়ে ধরে আছ, অথবা তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অপেক্ষা অধিক হিদায়েতপ্রাপ্ত, অথবা এই জাতীয় কিছু»"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤١)
23 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ قَالَ نَا زُهَيْرُ بْنُ عَبَّادٍ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَطَاءٍ ، عَنْ أَبَانَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ قَالَ: " سَأَلْتُ الْحَسَنَ عَنِ النِّظَامِ مِنَ الْخَرَزِ وَالنَّوَى وَنَحْوَ ذَلِكَ ، يُسَبَّحُ بِهِ؟ فَقَالَ: «لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ أَحَدٌ مِنْ نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَلَا الْمُهَاجِرَاتُ»
২৩ - মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদদাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জুহাইর ইবনে আব্বাদ আমাদের কাছে ইয়াজিদ ইবনে আতা থেকে, তিনি আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি হাসানকে সুতোয় গাঁথা পুঁতি ও খেজুরের আঁটি এবং এজাতীয় মালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যা দিয়ে তাসবিহ পাঠ করা হয়। তখন তিনি বললেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের কেউ এবং মুহাজির নারীগণের কেউই এরূপ করেননি»"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤٢)
24 - وَبَلَغَنِي أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ مَرَّ عَلَى رَجُلٍ وَهُوَ يَقُولُ لِأَصْحَابِهِ: سَبِّحُوا كَذَا ، وَكَبِّرُوا كَذَا ، وَهَلِّلُوا كَذَا، قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: «عَلَى اللَّهِ تَعُدُّونَ ، أَوْ عَلَى اللَّهِ تَسْمَعُونَ ، قَدْ كُفِيتُمُ الْإِحْصَاءَ وَالْعِدَّةَ»
২৪ - আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইবনে মাসউদ এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় সে তার সাথীদের বলছিল: তোমরা এতবার সুবহানাল্লাহ বলো, এতবার আল্লাহু আকবার বলো এবং এতবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো। ইবনে মাসউদ বললেন: "তোমরা কি আল্লাহর ওপর গণনা করছ, নাকি তোমরা আল্লাহকে শোনাচ্ছ? তোমাদের গণনা ও সংখ্যা নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤٢)
25 - قَالَ أَبَانُ: فَقُلْتُ لِلْحَسَنِ: فَإِنْ سَبَّحَ الرَّجُلُ وَعَقَدَ بِيَدِهِ ، قَالَ: «لَا أَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا»
২৫ - আবান বলেন: আমি হাসানকে বললাম, যদি কোনো ব্যক্তি তাসবিহ পাঠ করেন এবং নিজের হাত দিয়ে গণনা করেন? তিনি বললেন: «আমি এতে কোনো দোষ দেখি না।»
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤٢)
26 - حَدَّثَنَا أَسَدٌ ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ صَبِيحٍ ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ ، قَالَ: " كَانُوا يَجْتَمِعُونَ فَأَتَاهُمُ الْحَسَنُ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: " يَا أَبَا سَعِيدٍ ، مَا تَرَى فِي مَجْلِسِنَا هَذَا؟ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ لَا يَطْنَعُونَ عَلَى أَحَدٍ ، نَجْتَمِعُ فِي بَيْتِ هَذَا يَوْمًا ، وَفِي بَيْتِ هَذَا يَوْمًا ، فَنَقْرَأُ كِتَابَ اللَّهِ ، وَنَدْعُو رَبَّنَا ، وَنُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَنَدْعُو لِأَنْفُسِنَا وَلِعَامَةِ الْمُسْلِمِينَ؟ قَالَ: فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ الْحَسَنُ أَشَدَّ النَّهْيِ "
২৬ - আসাদ আমাদের নিকট রাবী ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তারা একত্রিত হতেন, অতঃপর হাসান তাদের নিকট আসলেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বললেন: 'হে আবু সাঈদ, আমাদের এই মজলিস সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? (আমরা) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত এমন একদল লোক যারা কারো নিন্দা করি না; আমরা একদিন একজনের বাড়িতে এবং অন্যদিন আরেকজনের বাড়িতে একত্রিত হই, অতঃপর আমরা আল্লাহর কিতাব পাঠ করি, আমাদের রবের নিকট প্রার্থনা করি, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করি এবং নিজেদের জন্য ও সাধারণ মুসলিমদের জন্য দুআ করি?' তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: হাসান তা থেকে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষেধ করলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤٢)
27 - نا أَسَدٌ ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ صَبِيحٍ ، عَنْ أَبَانَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ قَالَ: " لَقِيتُ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ الْخُزَاعِيَّ ، فَقُلْتُ لَهُ: قَوْمٌ مِنْ إِخْوَانِكَ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ ، لَا يَطْعَنُونَ عَلَى أَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ، ⦗ص: 43⦘ يَجْتَمِعُونَ فِي بَيْتِ هَذَا يَوْمًا ، وَفِي بَيْتِ هَذَا يَوْمًا ، وَيَجْتَمِعُونَ يَوْمَ النَّيْرُوزِ وَالْمَهْرَجَانِ وَيَصُومُونَهُمَا ، فَقَالَ طَلْحَةُ: «بِدْعَةٌ مِنْ أَشَدِّ الْبِدَعِ ، وَاللَّهِ لَهُمْ أَشَدُّ تَعْظِيمًا لِلنَّيْرُوزِ وَالْمَهْرَجَانِ مِنْ غَيْرِهِمْ ، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ فَوَثَبْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ كَمَا سَأَلْتُ طَلْحَةَ ، فَرَدَّ عَلَيَّ مِثْلَ قَوْلِ طَلْحَةَ كَأَنَّمَا كَانُوا عَلَى مِيعَادٍ»
২৭ - আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে, তিনি বলেন: "আমি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে কারীয আল-খুযাঈ-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বললাম: আপনার ভাইদের মধ্য থেকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের একদল লোক, যারা মুসলমানদের কাউকে গালি দেয় না বা নিন্দা করে না, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ তারা একদিন একজনের বাড়িতে এবং অন্যদিন আরেকজনের বাড়িতে একত্রিত হয়; এবং তারা নওরোজ ও মেহেরজানের দিনেও একত্রিত হয় ও ওই দুই দিন রোজা রাখে। তখন তালহা বললেন: «এটি জঘন্যতম বিদআতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর কসম, তারা অন্যদের চেয়েও নওরোজ ও মেহেরজানকে অধিক সম্মান প্রদর্শন করছে।’ এরপর আনাস ইবনে মালিক জাগ্রত হলেন, তখন আমি দ্রুত তাঁর নিকট গেলাম এবং তাঁকে ঠিক তেমনই জিজ্ঞাসা করলাম যেমনটি তালহাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনিও আমাকে তালহার কথার মতোই উত্তর দিলেন, যেন তারা এ বিষয়ে আগে থেকেই কোনো একমতে পৌঁছেছিলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-বিদা ওয়ান নাহইউ আনহা (পৃষ্ঠা: ٤٣)
28 - قَالَ: نا أَسَدٌ ، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ حِطَّانَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، أَنَّ أَبَا مُوسَى قَالَ لِصَاحِبٍ لَهُ: " تَعَالَ حَتَّى نَجْعَلَ يَوْمَنَا هَذَا لِلَّهِ ، لَكَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهِدَنَا ، قَالَ: وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: تَعَالَ حَتَّى نَجْعَلَ يَوْمَنَا هَذَا لِلَّهِ ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: تَعَالَ حَتَّى نَجْعَلَ يَوْمَنَا هَذَا لِلَّهِ. فَمَا زَالَ يُرَدِّدُهَا حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنِّي سِخْتُ فِي الْأَرْضِ "
২৮ - তিনি বলেন: আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি বলেন: হিত্তান ইবনে আবদুল্লাহর নিকট থেকে শুনেছেন এমন একজন ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুসা তাঁর এক সঙ্গীকে বলেছিলেন: "এসো, আমরা আমাদের আজকের এই দিনটি আল্লাহর জন্য নিবেদিত করি, যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের প্রত্যক্ষ করছেন।" তিনি বলেন: এবং তাদের মধ্যে কেউ বলছিলেন: "এসো, আমরা আমাদের আজকের এই দিনটি আল্লাহর জন্য নিবেদিত করি", আবার তাদের মধ্যে কেউ বলছিলেন: "এসো, আমরা আমাদের আজকের এই দিনটি আল্লাহর জন্য নিবেদিত করি।" তিনি এটি অনবরত পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন, এমনকি আমি কামনা করতে লাগলাম যে আমি যদি মাটিতে ধসে যেতাম।