(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر- ابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
تحقيق: صلاح بن عايض الشلاحي
الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية، السعودية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 142
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ- ইবনু আবিদ দুনিয়া বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ
লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদি আল-উমায়ি আল-কুরাশি, যিনি ইবনু আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
তাহকীক: সালাহ বিন আয়িদ আশ-শালাহি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিইয়াহ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: قَرَأَ أَبُو بَكْرٍ هَذِهِ الْآيَةَ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] ثُمَّ قَالَ: إِنَّ النَّاسَ يَضَعُونَ هَذِهِ الْآيَةَ عَلَى غَيْرِ مَوْضِعِهَا، أَلَا وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ، وَالْمُنْكَرَ فَلَمْ يُغَيِّرُوهُ، عَمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খাইসামা যুহাইর ইবনে হারব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ, ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কাইস ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর এই আয়াতটি পাঠ করলেন {হে মুমিনগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদের নিজেদেরই ওপর। তোমরা যদি সঠিক পথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫]। অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই মানুষ এই আয়াতটিকে তার সঠিক ক্ষেত্র ব্যতিরেকে অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে। সাবধান! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই কোনো সম্প্রদায় যখন যালিমকে দেখে অথচ তার হাত চেপে ধরে তাকে বাধা প্রদান করে না, এবং কোনো অন্যায় দেখে তা পরিবর্তন করে না, আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৪১)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ اللَّخْمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيُّ، قَالَ: " أَتَيْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: يَا أَبَا ثَعْلَبَةَ، كَيْفَ تَصْنَعُ فِي هَذِهِ الْآيَةِ؟ قَالَ: أَيَّةُ آيَةٍ؟ قُلْتُ: قَوْلُ اللَّهِ: {عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] ، قَالَ: أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ سَأَلْتُ عَنْهَا خَبِيرًا، سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ، حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا، وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْيٍ بِرَأْيِهِ، فَعَلَيْكَ بِنَفْسِكَ وَدَعْ عَنْكَ أَمْرَ الْعَوَامِّ، فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ، صَبْرٌ فِيهِنَّ مِثْلُ قَبْضٍ عَلَى الْجَمْرِ، لِلْعَامِلِ فِيهِنَّ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلًا يَعْمَلُونَ مِثْلَ عَمَلِهِ» وَزَادَنِي غَيْرُهُ: قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْهُمْ؟ قَالَ: «أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْكُمْ»
২ - আহমেদ ইবনে জামিল আল-মারওয়াজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উতবাহ ইবনে আবি হাকিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে জারিয়াহ আল-লাখমি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উমাইয়্যাহ আশ-শাইবানি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবু ছালাবাহ আল-খুশানির নিকট আসলাম এবং বললাম: হে আবু ছালাবাহ! এই আয়াতের ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: কোন আয়াত? আমি বললাম: আল্লাহর বাণী: {তোমাদের দায়িত্ব কেবল তোমাদের নিজেদেরই; তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫]। তিনি বললেন: শোনো, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই তুমি এ বিষয়ে এক অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেছ। আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: «বরং তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো, যতক্ষণ না দেখবে যে কৃপণতার আনুগত্য করা হচ্ছে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হচ্ছে এবং প্রত্যেক মতালম্বী নিজ মতামতে মুগ্ধ হয়ে আছে। তখন তুমি নিজের সংশোধনে মনোনিবেশ করো এবং সাধারণ মানুষের বিষয় বর্জন করো। কারণ তোমাদের পশ্চাতে ধৈর্যের দিনগুলো আসছে; সেই দিনগুলোতে ধৈর্য ধারণ করা হবে হাতের মুঠোয় জ্বলন্ত অঙ্গার রাখার মতো। সেই সময়ে আমলকারীর জন্য থাকবে তার মতো আমলকারী পঞ্চাশ জন ব্যক্তির সমান সওয়াব।" অন্য বর্ণনাকারী আমার নিকট আরও বর্ধিত অংশ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবু ছালাবাহ) জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের মধ্য থেকে পঞ্চাশ জনের সওয়াব? তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্য থেকে পঞ্চাশ জনের সওয়াব।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
3 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا رَأَيْتَ أُمَّتِي تَهَابُ الظَّالِمَ أَنْ تَقُولَ لَهُ: إِنَّكَ ظَالِمٌ، فَقَدْ تُوُدِّعَ مِنْهُمْ "
৩ - ইউসুফ ইবনে মূসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবী হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আমর আল-ফুকাইমী থেকে, তিনি আবুয যুবাইর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " যখন তুমি দেখবে আমার উম্মত জালেমকে এ কথা বলতে ভয় পাচ্ছে যে, ‘নিশ্চয়ই তুমি জালেম’, তবে তাদের থেকে বিদায় নেওয়া হয়েছে। "
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
4 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ الْحَنَّاطُ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانَ إِذَا عَمِلَ الْعَامِلُ فِيهِمْ بِالْخَطِيئَةِ نَهَاهُ النَّاهِي تَعْذِيرًا، فَإِذَا كَانَ الْغَدُ جَالَسَهُ وَوَاكَلَهُ وَشَارَبَهُ، كَأَنَّهُ لَمْ يَرَهْ عَلَى خَطِيئَةٍ بِالْأَمْسِ، فَلَمَّا رَأَى اللَّهُ عز وجل ذَلِكَ مِنْهُمْ ضَرَبَ بِقُلُوبِ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ، ثُمَّ لَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِمْ دَاوُدَ، وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَتَأْمُرَّنَ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَلَتَأْخُذُنَّ عَلَى يَدَيِ السَّفِيهِ، فَلَتَأْطُرُنَّهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا، أَوْ لَيَضْرِبَنَّ اللَّهُ بِقُلُوبِ بَعْضِكُمْ عَلَى بَعْضٍ ثُمَّ لَيَلْعَنَنَّكُمْ كَمَا لَعَنَهُمْ»
4 - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে হিশাম, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু শিহাব আল-হান্নাত, আল-আলা ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি আবু উবায়দাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে যখন কোনো ব্যক্তি পাপে লিপ্ত হতো, তখন অন্য কেউ তাকে নামমাত্র নিষেধ করত। এরপর যখন পরের দিন হতো, তখন সে তার সাথে উঠাবসা করত এবং একত্রে পানাহার করত, যেন সে তাকে গতকাল কোনো পাপে লিপ্ত হতে দেখেনি। অতঃপর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী যখন তাদের এই আচরণ দেখলেন, তখন তাদের একজনের অন্তরকে অন্যজনের অন্তরের সাথে মিলিয়ে দিলেন, এরপর তাদের নবী দাউদ এবং ঈসা ইবনে মারইয়ামের যবানীতে তাদের অভিশপ্ত করলেন। তা এজন্য যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! অবশ্যই তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে এবং তোমরা অবশ্যই নির্বোধের হাত ধরে তাকে সত্যের পথে চলতে বাধ্য করবে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের একজনের অন্তরকে অন্যজনের অন্তরের সাথে মিলিয়ে দেবেন, এরপর তাদের মতো তোমাদেরকেও অভিশপ্ত করবেন।’
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ جَرِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَيُّمَا قَوْمٍ عُمِلَ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي هُمْ أَعَزُّ وَأَكْثَرُ، لَمْ يُغَيِّرُوا، إِلَّا عَمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ»
৫ - আমাদের নিকট আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে জারীর থেকে, তিনি তাঁর পিতা জারীর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «যে কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে পাপাচার সংঘটিত হয় এবং তারা (পাপীদের তুলনায়) অধিক শক্তিশালী ও সংখ্যায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও তা পরিবর্তন না করে, তবে আল্লাহ তাদের সকলকেই তাঁর শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ قَوْمٍ يَكُونُ بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ مَنْ يَعْمَلْ بِالْمَعَاصِي هُمْ أَعَزُّ وَأَمْنَعُ لَمْ يُغَيِّرُوا عَلَيْهِ، إِلَّا أَصَابَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ بِعَذَابٍ»
৬ - আমাদের কাছে আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের ইয়াজিদ ইবন হারুন সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের শারীক সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুনজির ইবন জারীর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো জাতি নেই যাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি পাপাচার করে, আর তারা সংখ্যায় অধিক ও শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও তাকে বাধা প্রদান করে না, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে আজাব বা শাস্তি নাজিল করবেন।’»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
7 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: " دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ، فَعَرَفْتُ فِي وَجْهِهِ أَنْ قَدْ حَفَزَهُ شَيْءٌ، فَمَا سَلَّمَ عَلَيَّ حَتَّى تَوَضَّأَ، فَلَصِقَتْ بِالْحُجْرَةِ، فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ لَكُمْ: مُرُوا بِالْمَعْرُوفِ، وَانْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ، قَبْلَ أَنْ تَدْعُونِي فَلَا أُجِيبَكُمْ، وَتَسْأَلُونِي فَلَا أُعْطِيَكُمْ، وَتَسْتَنْصِرُونِي فَلَا أَنْصُرَكُمْ "
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাবি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আবু ফুদাইক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে উসমান ইবনে হানি, আসিম ইবনে উমর ইবনে উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি উরওয়াহ থেকে, আর তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর শ্বাস দ্রুত বইছিল, আমি তাঁর চেহারা দেখে বুঝতে পারলাম যে কোনো বিষয় তাঁকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে। তিনি ওযু না করা পর্যন্ত আমাকে সালাম দেননি। অতঃপর আমি কামরার দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালাম। তারপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদের বলছেন: তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো, এমন সময় আসার আগে যখন তোমরা আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি তোমাদের সাড়া দেব না, আমার কাছে প্রার্থনা করবে কিন্তু আমি তোমাদের দান করব না এবং আমার কাছে সাহায্য চাইবে কিন্তু আমি তোমাদের সাহায্য করব না।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
8 - حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، قَالَ: حَدَّثَنِي كَوْثَرُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنه، قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُسَلِّطَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ شِرَارَكُمْ، فَلَيَسُومُنَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ، ثُمَّ يَدْعُو خِيَارُكُمْ فَلَا يُسْتَجَابُ لَهُمْ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيَبْعَثَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مَنْ لَا يَرْحَمُ صَغِيرَكُمْ، وَلَا يُوَقِّرُ كَبِيرَكُمْ»
৮ - আল-হাসান ইবনুল সাব্বাহ আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নাসর আত-তাম্মার আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাওসার ইবনে হাকিম নাফি‘র সূত্রে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে বাধা দেবে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের ওপর তোমাদের মধ্যকার নিকৃষ্টদের চাপিয়ে দেবেন, ফলে তারা তোমাদেরকে নিকৃষ্ট আযাব আস্বাদন করাবে। এরপর তোমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা দুআ করবে কিন্তু তাদের দুআ কবুল করা হবে না। তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে বাধা দেবে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের ওপর এমন কাউকে প্রেরণ করবেন যে তোমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করবে না এবং তোমাদের বড়দের সম্মান করবে না।’
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫০)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادٍ الطِّهْرَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا زَيْدٍ، صَاحِبَ الْهَرَوِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَا يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ مَخَافَةُ النَّاسِ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِحَقٍّ إِذَا عَلِمَهُ» قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: «فَمَا زَالَ بِنَا الْبَلَاءُ حَتَّى قَصَّرْنَا»
৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ আত-তিহরানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল-হারাউয়ীর সঙ্গী আবু যাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কাউকে যেন মানুষের ভয় সত্য কথা বলা থেকে বিরত না রাখে যখন সে তা জানে।’ আবু সাঈদ বলেন: ‘অতঃপর আমাদের উপর পরীক্ষা চলতেই থাকল যতক্ষণ না আমরা অবহেলা করলাম।’
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫১)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، - كِلَيْهِمَا - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ رَأَى مُنْكَرًا فَاسْتَطَاعَ أَنْ يُغَيِّرَهُ بِيَدِهِ فَلْيَفْعَلْ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ بِيَدِهِ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ بِلِسَانِهِ فَبِقَلْبِهِ، وَذَاكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»
১০ - আমাদের নিকট আবু খাইসামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আ'মাশ বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে রাজা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং কাইস ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে—তাঁরা উভয়ই—আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় দেখবে এবং তা তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখবে, তবে সে যেন তা পরিবর্তন করে; যদি সে তার হাত দিয়ে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দিয়ে; আর যদি সে তার জিহ্বা দিয়েও সক্ষম না হয় তবে তার অন্তর দিয়ে; আর এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
11 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الزَّنْجِيُّ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ نَهَارِ بْنِ حِصْنٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَيَسْأَلُ الْعَبْدَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى إِنَّهُ لَيَقُولُ: مَا مَنَعَكَ إِذَا رَأَيْتَ الْمُنْكَرَ أَنْ تُنْكِرَهُ؟ "، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فَإِذَا لَقَّنَ اللَّهُ عَبْدًا حُجَّتَهُ، قَالَ: أَيْ رَبُّ، وَثِقْتُ بِكَ وَفَرِقْتُ مِنَ النَّاسِ "
১১ - আলি ইবনুল জাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জানজি ইবনু খালিদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু মামার আল-আনসারী থেকে, তিনি নাহার ইবনু হিসন থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বান্দাকে প্রশ্ন করবেন, এমনকি তিনি বলবেন: ‘যখন তুমি মন্দ কাজ দেখতে পেতে, তখন তা অস্বীকার করতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল?’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: ‘অতঃপর যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে তার দলিল শিখিয়ে দেবেন, তখন সে বলবে: হে আমার রব, আমি আপনার ওপর ভরসা করেছিলাম এবং মানুষকে ভয় পেয়েছিলাম’।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
12 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا رَزِينٌ، بَيَّاعُ الرُّمَّانِ، عَنْ أَبِي الرُّقَادِ، قَالَ: " خَرَجْتُ مَعَ مَوْلَايَ فَانْتَهَى إِلَى حُذَيْفَةَ وَهُوَ يَقُولُ: إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَصِيرُ بِهَا مُنَافِقًا، وَإِنِّي لَأَسْمَعُهَا مِنْ أَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فِي الْمَقْعَدِ الْوَاحِدِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَلَتَحَاضُّنَّ عَلَى الْخَيْرِ، أَوْ لَيُسْحِتَنَّكُمُ اللَّهَ جَمِيعًا بِعَذَابٍ، أَوْ لَيُؤَمِّرَنَّ عَلَيْكُمْ شِرَارَكُمْ، ثُمَّ يَدْعُو خِيَارُكُمْ فَلَا يُسْتَجَابُ لَهُمْ "
১২ - ইউসুফ ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাজীন, ডালিম বিক্রেতা আমাদের নিকট আবু রুকাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আমার মনিবের সাথে বের হলাম, অতঃপর তিনি হুযাইফার নিকট পৌঁছালেন, এমতাবস্থায় তিনি (হুযাইফা) বলছিলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলত যার কারণে সে মুনাফিক হয়ে যেত, আর আজ আমি তোমাদের একজনের নিকট থেকে একই মজলিসে তা চারবার শুনি। তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দিবে, অবশ্যই অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে এবং অবশ্যই কল্যাণের প্রতি পরস্পরকে উৎসাহিত করবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের সকলকে আযাব দ্বারা সমূলে বিনাশ করবেন, অথবা তিনি অবশ্যই তোমাদের ওপর তোমাদের মধ্যকার নিকৃষ্টদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করবেন, এরপর তোমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা দুআ করবে কিন্তু তাদের দুআ কবুল করা হবে না।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ وُهَيْبَ بْنَ الْوَرْدِ بْنِ أَبِي الْوَرْدِ، مَوْلَى بَنِي مَخْزُومٍ قَالَ: " لَقِيَ عَالِمٌ عَالِمًا هُوَ فَوْقَهُ فِي الْعِلْمِ، فَقَالَ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، مَا الَّذِي أُخْفِيَ مِنْ عَمَلِي؟ قَالَ: مَا يُظَنُّ بِكَ أَنَّكَ لَمْ تَعْمَلْ حَسَنَةً قَطُّ إِلَّا أَدَاءَ الْفَرَائِضِ، قَالَ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، فَمَا الَّذِي أُعْلِنُ مِنْ عَمَلِي؟، قَالَ: الْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ؛ فَإِنَّهُ دِينُ اللَّهِ الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ بِهِ أَنْبِيَاءَهُ إِلَى عِبَادِهِ، وَقَدِ اجْتَمَعَ الْفُقَهَاءُ عَلَى قَوْلِ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " {وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ} [مريم: 31] " مَا بَرَكَتُهُ تِلْكَ؟ قَالَ: الْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ أَيْنَمَا كَانَ "
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে খুনাইস, তিনি বলেন: আমি বনু মাখযুমের মুক্তদাস উহাইব ইবনুল ওয়ারদ ইবনে আবিল ওয়ারদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "এক আলিম তাঁর অপেক্ষা অধিকতর জ্ঞানী এক আলিমের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আমি আমার আমলের কোন অংশটি গোপন রাখব? তিনি বললেন: আপনার সম্পর্কে যেন এমন ধারণা করা হয় যে, আপনি ফরযসমূহ আদায় করা ব্যতীত অন্য কোনো নেক আমলই করেননি। তিনি বললেন: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, তবে আমি আমার আমলের কোন অংশটি প্রকাশ করব? তিনি বললেন: সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ; কেননা এটিই আল্লাহর সেই দীন যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর নবীদের তাঁর বান্দাদের নিকট প্রেরণ করেছেন। আর ফকীহগণ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন: "{এবং আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন} [মারইয়াম: ৩১]" সেই বরকতটি কী? তিনি বললেন: যেখানেই থাকা হোক না কেন, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
14 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْمُنْذِرِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُمَرِيَّ، يَقُولُ: «إِنَّ مِنْ غَفْلَتِكَ عَنْ نَفْسِكَ إِعْرَاضُكَ عَنِ اللَّهِ، بِأَنْ تَرَى مَا يُسْخِطُهُ فَتُجَاوِزَهُ، لَا تَأْمُرَ فِيهِ، وَلَا تَنْهَى، خَوْفًا مِمَّنْ لَا يَمْلِكُ لَكَ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا»
১৪ - মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-মুনজির ইসমাঈল বিন উমর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুর রহমান আল-উমারিকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয় তোমার নিজের প্রতি তোমার উদাসীনতার অন্যতম দিক হলো আল্লাহ থেকে তোমার বিমুখ হওয়া; আর তা এভাবে যে, তুমি এমন বিষয় দেখবে যা তাঁকে অসন্তুষ্ট করে অথচ তুমি তা এড়িয়ে যাবে, সে বিষয়ে কোনো আদেশ করবে না এবং কোনো নিষেধও করবে না, কেবল এমন কাউকে ভয় পাওয়ার কারণে যে তোমার কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নয়।’
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
15 - وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «مَنْ تَرَكَ الْأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيَ عَنِ الْمُنْكَرِ مِنْ مَخَافَةِ الْمَخْلُوقِينَ نُزِعَتْ مِنْهُ هَيْبَةُ الطَّاعَةِ، فَلَوْ أَمَرَ وَلَدَهُ أَوْ بَعْضَ مَوَالِيهِ لَاسْتَخَفَّ بِهِ»
১৫ - এবং আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি সৃষ্টির ভয়ে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বর্জন করে, তার থেকে আনুগত্যের গাম্ভীর্য ছিনিয়ে নেওয়া হয়; এমনকি সে যদি আদেশ দেয় তার সন্তানকে কিংবা তার কোনো অধীনস্থকে, তবে সে-ও তাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُسْتَمِرُّ بْنُ رَيَّانَ الْإِيَادِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ مَخَافَةُ النَّاسِ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِالْحَقِّ إِذَا رَآهُ أَوْ عَلِمَهُ أَوْ رَآهُ أَوْ سَمِعَهُ»
১৬ - আমাদের নিকট আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মুস্তামির ইবনে রায়িয়ান আল-ইয়াদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নাদরাস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মানুষের ভয় যেন তোমাদের কাউকে সত্য বলতে বাধা না দেয় যখন সে তা দেখে অথবা জানে অথবা দেখে অথবা শোনে।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
17 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سِيدَانَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَيْسَ مِنَّا أَعْظَمَ مِنْ أُحُدٍ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَتَقْتَتِلُنَّ فَلَيَظْهَرَنَّ شِرَارُكُمْ عَلَى خِيَارِكُمْ فَلَيَقْتُلُنَّهُمْ، حَتَّى لَا يَبْقَى أَحَدٌ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ، ثُمَّ تَدْعُونَ اللَّهَ فَلَا يُجِيبُكُمْ وَيَمْقُتُكُمْ»
১৭ - আলী ইবনে আল-জাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহাইর ইবনে মুআবিয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান আল-আমাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সিদান থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহর লানত হোক তার ওপর যে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও সে উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বড় হয়। তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দিবে এবং মন্দ কাজের নিষেধ করবে, অন্যথায় তোমরা অবশ্যই পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং অবশ্যই প্রাধান্য বিস্তার করবে তোমাদের মধ্যকার নিকৃষ্টরা তোমাদের মধ্যকার উত্তমদের ওপর এবং তারা তাদের হত্যা করবে; এমনকি সৎকাজের আদেশ দেওয়ার এবং মন্দ কাজের নিষেধ করার মতো কেউই অবশিষ্ট থাকবে না। অতঃপর তোমরা আল্লাহর কাছে দুআ করবে, কিন্তু তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবেন না এবং তোমাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করবেন (বা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হবেন)।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬০)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ، عَنْ صَبَاحٍ الْمُزَنِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي الَّذِي، سَمِعَ عَلِيًّا، قَالَ: " الْجِهَادُ عَلَى أَرْبَعِ شُعَبٍ: عَلَى الْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَالصِّدْقِ فِي الْمَوَاطِنِ، وَشَنَآنِ الْفَاسِقِينِ، فَمَنْ أَمَرَ بِالْمَعْرُوفِ شَدَّ ظَهْرَ الْمُؤْمِنِ، وَمَنْ نَهَى عَنِ الْمُنْكَرِ أَرْغَمَ أَنْفَ الْمُنَافِقِ، وَمَنْ صَدَقَ فِي الْمَوَاطِنِ قَضَى مَا عَلَيْهِ، وَمَنْ شَنَأَ الْفَاسِقِينَ وَغَضِبَ لِلَّهِ، غَضِبَ اللَّهُ لَهُ " قَالَ: فَقَامَ الرَّجُلُ إِلَى عَلِيٍّ رضي الله عنه فَقَبَّلَ رَأْسَهُ
১৮ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমর বিন হাশিম বর্ণনা করেছেন সাবাহ আল-মুজানি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সুকাহ থেকে, তিনি আল-আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সেই ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি আলীকে বলতে শুনেছেন যে: " জিহাদ চারটি শাখার ওপর প্রতিষ্ঠিত: সৎকাজের আদেশ প্রদান, অসৎকাজে নিষেধ করা, সকল পরিস্থিতিতে সত্যবাদিতা এবং ঘৃণা পোষণ করা পাপাচারীদের প্রতি। সুতরাং যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ দিল সে মুমিনের কোমর শক্তিশালী করল, আর যে ব্যক্তি অসৎকাজ হতে নিষেধ করল সে মুনাফিকের নাক ধুলোয় মিশিয়ে দিল, আর যে সকল পরিস্থিতিতে সত্যনিষ্ঠ থাকল সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করল, আর যে পাপাচারীদের ঘৃণা করল এবং আল্লাহর জন্য রাগান্বিত হলো, আল্লাহ তার জন্য রাগান্বিত হন।" তিনি বলেন: তখন সেই ব্যক্তি আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট গিয়ে তাঁর মস্তক চুম্বন করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬১)
19 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: " قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ لَمْ نَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَلَمْ نَنْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ، حَتَّى لَا نَدَعُ شَيْئًا مِنَ الْمَعْرُوفِ إِلَّا عَمِلْنَا بِهِ، وَلَا شَيْئًا مِنَ الْمُنْكَرِ إِلَّا تَرَكْنَاهُ، لَا نَأْمُرُ بِمَعْرُوفٍ وَلَا نَنْهَى عَنْ مُنْكَرٍ؟، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مُرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَإِنْ لَمْ تَعْمَلُوا بِهِ كُلِّهِ، وَانْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَإِنْ لَمْ تَنَاهَوْا عَنْهُ كُلِّهِ»
১৯ - আলী ইবনে আল-জা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তালহা ইবনে আমর থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ততক্ষণ পর্যন্ত সৎ কাজের আদেশ দেব না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করব না, যতক্ষণ না আমরা সকল প্রকার সৎ কাজ নিজেরা করি এবং সকল প্রকার মন্দ কাজ পুরোপুরি বর্জন করি? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও যদিও তোমরা নিজেরা তার সবটুকু আমল না করো, এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো যদিও তোমরা নিজেরা তা থেকে পুরোপুরি বিরত না থাকো»"
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬২)
20 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ الضَّبِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمٍ الْأَفْطَسِ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الرَّجُلَ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَ إِذَا رَأَى أَخَاهُ عَلَى ذَنْبٍ نَهَاهُ تَعْذِيرًا، فَإِذَا كَانَ مِنَ الْغَدِ لَمْ يَمْنَعْهُ مَا رَأَى مِنْهُ أَنْ يَكُونَ أَكِيلَهُ وَخَلِيطَهُ وَشَرِيبَهُ، فَلَمَّا رَأَى اللَّهُ ذَلِكَ مِنْهُمْ ضَرَبَ بِقُلُوبِ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ، وَلَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِمْ دَاوُدَ، وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ» ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَلَتَأْخُذُنَّ عَلَى يَدَيِ الْمُسِيءِ، وَلَتَأْطُرُنَّهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا، أَوْ لَيَضْرِبَنَّ اللَّهُ بِقُلُوبِ بَعْضِكُمْ عَلَى بَعْضٍ، وَلَيَلَعَنَنَّكُمْ كَمَا لَعَنَهُمْ»
২০ - হাসান ইবনে হাম্মাদ আদ-দাব্বী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আলা ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি সালিম আল-আফতাস থেকে, তিনি আবু উবায়দাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «বনী ইসরাঈলের কোনো ব্যক্তি যখন তার ভাইকে কোনো পাপে লিপ্ত দেখত, তখন সে তাকে দায়সারাভাবে নিষেধ করত। অতঃপর পরদিন তার সেই পাপ তাকে ঐ ব্যক্তির সাথে একত্রে আহার করতে, মেলামেশা করতে এবং পানাহার করতে বাধা দিত না। আল্লাহ যখন তাদের এই অবস্থা দেখলেন, তখন তাদের একে অপরের অন্তরে মোহর মেরে দিলেন এবং তাদের নবী দাউদ ও ঈসা ইবনে মারিয়ামের মুখে তাদের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করলেন; এটি এই কারণে যে তারা অবাধ্যতা করেছিল এবং সীমালঙ্ঘন করত»। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «সেই সত্তার শপথ, যাঁর আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে, অবশ্যই অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে, পাপাচারীর হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে এবং তাকে সত্যের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকতে বাধ্য করবে; নতুবা আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের একে অপরের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন এবং তোমাদেরও অভিশাপ দেবেন যেমন তিনি তাদের অভিশাপ দিয়েছিলেন»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ شَقِيقٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُهُ، فَيَدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِرَحَاهُ، فَيَفْزَعُ لَهُ أَهْلُ النَّارِ فَيَجْتَمِعُونَ لَهُ فَيَقُولُونَ لَهُ: يَا فُلَانُ، مَا لَقِيتَ؟ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟، قَالَ: بَلَى، كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ، وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَلَا أَنْتَهِي "
২১ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল শাকীক থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: " কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, ফলে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসবে; অতঃপর সে তা নিয়ে চক্কর কাটতে থাকবে যেমন গাধা তার যাঁতার চারপাশে চক্কর কাটে। তখন জাহান্নামবাসীরা তার কাছে একত্রিত হবে এবং তাকে বলবে: হে অমুক! তোমার এই দশা কেন? তুমি কি সৎকাজের আদেশ দিতে না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে: অবশ্যই, আমি সৎকাজের আদেশ দিতাম কিন্তু নিজে তা করতাম না, এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতাম কিন্তু নিজে তা থেকে বিরত থাকতাম না।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
22 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمِيرَةَ، عَنْ زَوْجِ دُرَّةَ، ابْنَةِ أَبِي لَهَبٍ، عَنْ دُرَّةَ بِنْتِ أَبِي لَهَبٍ، قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ خَيْرُ النَّاسِ؟ قَالَ: «أَتْقَاهُمْ لِلرَّبِّ، وَأَوْصَلُهُمْ لِلرَّحِمِ، وَآمَرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ، وَأَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ»
২২ - আমাদিগকে ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল হামীদ আল-হিমমানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদিগকে শারীক বর্ণনা করেছেন সিমাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আমীরা থেকে, তিনি আবু লাহাবের কন্যা দুররার স্বামী থেকে, তিনি আবু লাহাবের কন্যা দুররা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? তিনি বললেন: «তাদের মধ্যে যে তার রবের প্রতি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি বজায় রাখে এবং যে সবচেয়ে বেশি সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: " قُلْتُ لِرَجُلٍ مِنْ جُهَيْنَةَ: " مَا بَالُ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ أَنْبَهَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ جُهَيْنَةَ؟ قَالَ: لَمْ يَكُنْ يُقِرُّ (. . .) سَخَطًا لِلَّهِ "
২৩ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদাহ বিন সুলায়মান বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তিকে বললাম: 'জুহাইনা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথীদের মধ্যে যায়েদ ইবনে খালিদ অধিক বিশিষ্ট হওয়ার কারণ কী?' সে বলল: 'তিনি আল্লাহর জন্য ক্রোধবশত কোনো কিছু (. . .) মেনে নিতেন না।' "
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْهَمْذَانِيُّ، مَوْلَى قُرَيْشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ الْعُرَنِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، وَبَيَانِ بْنِ بِشْرٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ، رضي الله عنه، يَقُولُ: " أَيُّهَا النَّاسُ، لَا تَغُرَّنَّكُمْ هَذِهِ الْآيَةُ الَّتِي فِي الْمَائِدَةِ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] الْآيَةَ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيُسَلِّطَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ شِرَارَكُمْ ثُمَّ لَيَدْعُوَنَّ خِيَارُكُمْ فَلَا يُسْتَجَابُ لَهُمْ، وَاللَّهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيُعَاقِبَنَّكُمُ اللَّهُ تَعَالَى بِعِقَابٍ "
২৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুরাইশদের মুক্তদাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-হামদানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম বিন আল-হাকাম আল-উরানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আবু ইসহাক, ইসমাঈল বিন আবু খালিদ ও বায়ান বিন বিশর থেকে, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কায়েস বিন আবু হাযিম, তিনি বলেন: আমি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! সূরা আল-মায়িদাহর এই আয়াতটি যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। তোমরা যখন সৎপথে পরিচালিত হবে, তখন যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫] - শেষ পর্যন্ত। তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের ওপর তোমাদের মধ্যকার নিকৃষ্ট লোকদেরকে কর্তৃত্বশীল করবেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যকার নেককার লোকেরা দু'আ করবে কিন্তু তাদের দু'আ কবুল করা হবে না। আল্লাহর কসম! তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে, অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তোমাদেরকে কোনো শাস্তির মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করবেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَأْخُذَ اللَّهُ شَرِيطَتَهُ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَيَبْقَى عَجَاجٌ لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا، وَلَا يُنْكِرُونَ مُنْكَرًا»
২৫ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সামাদ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ জমিনবাসীদের মধ্য থেকে তাঁর নেক বান্দাদের উঠিয়ে নেন, ফলে কেবল একদল তুচ্ছ ও অসার লোক অবশিষ্ট থাকবে যারা কোনো সৎ কাজকে চিনবে না এবং কোনো মন্দ কাজকে অস্বীকার করবে না।»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
26 - حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ الرَّقَاشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَشْرَسُ أَبُو شَيْبَانَ، عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَذُوبُ فِيهِ قَلْبُ الْمُؤْمِنِ، كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ» ، قِيلَ: مِمَّ ذَاكَ؟، قَالَ: «مِمَّا يَرَى مِنَ الْمُنْكَرِ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يُغَيِّرَهُ»
26 - আমাদের নিকট আজহার ইবনে মারওয়ান আর-রাকাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাফর ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আশরাস আবু শায়বান বর্ণনা করেছেন, আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন মুমিনের অন্তর গলে যাবে, যেমন লবণ পানিতে গলে যায়», জিজ্ঞেস করা হলো: সেটি কেন হবে? তিনি বললেন: «সেসব মন্দ কাজ দেখার কারণে যা সে পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৭০)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، رضي الله عنه يَقُولُ: " أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الْآيَةَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] ، وَإِنَّا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِذَا سَمِعُوا الْمُنْكَرَ فَلَمْ يُغَيِّرُوهُ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ»
২৭ - আবু হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহিম ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাইস ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! তোমরা এই আয়াতটি পাঠ করো: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। তোমরা যখন সৎপথে পরিচালিত হও, তখন যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫]। আর নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যখন লোকেরা কোনো অন্যায় হতে দেখে অথচ তা পরিবর্তন করে না, তখন অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৭১)
28 - حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْخَلِيلُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ عِيسَى أَبُو الْحُمَيْدِيِّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها، قَالَتْ: " قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَتَى لَا يُؤْمَرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا يُنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟، قَالَ: «إِذَا كَانَ الْبُخْلُ فِي خِيَارِكُمْ، وَالْعِلْمُ فِي رُذَالِكُمْ، وَالْإِدْهَانُ فِي قُرَّائِكُمْ، وَالْمُلْكُ فِي صِغَارِكُمْ»
২৮ - সালামা ইবনে শাবীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-খালীল ইবনে ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুমাইদী যুবাইর ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! কখন সৎ কাজের আদেশ দেওয়া হবে না এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা হবে না? তিনি বললেন: «যখন তোমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে কৃপণতা দেখা দিবে, তোমাদের নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে জ্ঞান থাকবে, তোমাদের ক্বারীদের মধ্যে তোষামোদ দেখা দিবে এবং শাসন ক্ষমতা তোমাদের কনিষ্ঠদের হাতে চলে যাবে»
(খণ্ড: ১)
আল-আমর বিল মা'রূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার - ইবনে আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ৭২)
29 - حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ: «كَيْفَ بِكَ إِذَا بَقِيَتَ فِي حُثَالَةٍ مِنَ النَّاسِ، قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ، وَاخْتَلَفُوا فَصَارُوا كَذَا - وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ؟» قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «اعْمَلْ بِمَا تَعْرِفْ، وَدَعْ مَا تُنْكِرُ، وَإِيَّاكَ وَالتَّلَوُّنَ فِي دِينِ اللَّهِ، وَعَلَيْكَ بِخَاصَّةِ نَفْسِكَ، وَدَعْ عَوَامَّهُمْ»
29 - সুওয়াইদ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিহ ইবন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবন সা'দ আস-সাঈদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আসকে বললেন: «তোমার কী অবস্থা হবে যখন তুমি মানুষের এমন নিকৃষ্ট স্তরের মাঝে অবশিষ্ট থাকবে, যাদের অঙ্গীকার ও আমানতসমূহ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে এবং তারা মতভেদে লিপ্ত হয়ে এমন (জটিল) হয়ে গেছে - এই বলে তিনি আঙুল প্রবিষ্ট করলেন তাঁর আঙুলসমূহের মাঝে?» তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: «তুমি যা (সঠিক বলে) জানো সে অনুযায়ী আমল করো এবং যা (মন্দ বলে) প্রত্যাখ্যান করো তা বর্জন করো। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে রঙ পরিবর্তন করা থেকে সতর্ক থাকো। তুমি নিজের বিশেষ সংশোধনের প্রতি মনোযোগী হও এবং সাধারণ মানুষের বিষয় বর্জন করো।»