(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإبانة الكبرى - ابن بطة القسم: العقيدة
الكتاب: الإبانة عن شريعة الفرقة الناجية ومجانبة الفرق المذمومة
المؤلف: أبو عبد الله عبيد الله بن محمد بن بَطَّة العكبري الحنبلي (ت 387 هـ)
المحقق: رضا معطي، وعثمان الأثيوبي، ويوسف الوابل، والوليد بن سيف النصر، وحمد التويجري
الناشر: دار الراية للنشر والتوزيع، الرياض
عدد الأجزاء: 9
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
_________
جـ 1، 2: حققه: رضا بن نعسان معطي - الطبعة: الثانية، 1415 هـ
جـ 3، 4: حققه: د. عثمان عبد الله آدم الأثيوبي - الطبعة: الثانية، 1418 هـ
جـ 5، 6: حققه: د. يوسف بن عبد الله بن يوسف الوابل - الطبعة: الثانية، 1418 هـ
جـ 7: حققه: الوليد بن محمد نبيه بن سيف النصر - الطبعة: الأولى، 1418 هـ
جـ 8، 9: حققه: د حمد بن عبد المحسن التويجري - الطبعة: الأولى، 1426 هـ
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433
আল-ইবানাহ আল-কুবরা - ইবনে বাত্তাহ বিভাগ: আক্বীদা
বই: আল-ইবানাহ আন শারিয়াতিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ ওয়া মুজানাবাতিল ফিরাকিল মাজমুমাহ (পরিত্রাণপ্রাপ্ত দলের শরীয়ত এবং নিন্দিত দলসমূহ পরিহারের বর্ণনা)
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন বাত্তাহ আল-উকবারী আল-হানবালী (মৃত্যু ৩৮৭ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: রিদা মু’তী, উসমান আল-ইথিওপীয়, ইউসুফ আল-ওয়াবিল, আল-ওয়ালিদ বিন সাইফ আল-নাসর, এবং হামাদ আল-তুওয়াইজরী
প্রকাশক: দারুর রায়াহ প্রকাশনী ও পরিবেশনী, রিয়াদ
খণ্ড সংখ্যা: ৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
_________
১ম ও ২য় খণ্ড: সম্পাদনায়: রিদা বিন নাসান মু’তী - সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৫ হিজরি
৩য় ও ৪র্থ খণ্ড: সম্পাদনায়: ড. উসমান আব্দুল্লাহ আদম আল-ইথিওপীয় - সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৮ হিজরি
৫ম ও ৬ষ্ঠ খণ্ড: সম্পাদনায়: ড. ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-ওয়াবিল - সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৮ হিজরি
৭ম খণ্ড: সম্পাদনায়: আল-ওয়ালিদ বিন মুহাম্মাদ নাবীহ বিন সাইফ আল-নাসর - সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি
৮ম ও ৯ম খণ্ড: সম্পাদনায়: ড. হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন আল-তুওয়াইজরী - সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١)
الكتاب الأول: الإيمانتحقيق ودراسة: رضا بن نعسان معطي
প্রথম গ্রন্থ: ঈমানতাহকীক ও গবেষণা: রেযা বিন না’সান মু’তী
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
الطبعة: الثانية، 1415 هـ - 1994 م
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦٣)
مُقَدِّمَةٌقَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ بَطَّةَ رضي الله عنه: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمَشْكُورِ عَلَى النِّعَمِ بِحَقِّ مَا يَطَّوَّلُ بِهِ مِنْهَا، وَعِنْدَ شُكْرِهِ بِحَقِّ مَا وَفَّقَ لَهُ مِنْ شُكْرِهِ عَلَيْهَا، فَالنِّعَمُ مِنْهُ، وَالشُّكْرُ لَهُ، وَالْمَزِيدُ فِي نِعَمِهِ بِشُكْرِهِ، وَالشُّكْرُ مِنْ نِعَمِهِ لَا شَرِيكَ لَهُ، الْمَحْمُودِ عَلَى السَرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ، وَالْمُتَفَرِّدِ بِالْعِزِّ وَالْعَظَمَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ، الْعَالِمِ قَبْلَ وُجُودِ الْمَعْلُومَاتِ، وَالْبَاقِي بَعْدَ فَنَاءِ الْمَوْجُودَاتِ، الْمُبْتَدِئِ بِالنِّعَمِ قَبْلَ اسْتِحْقَاقِهَا، وَالْمَتَكَفِّلِ لِلْبَرِيَّةِ بَأَرْزَاقِهَا قَبْلَ خَلْقِهَا أَحْمَدُهُ حَمْدًا يُرْضِيهِ، وَيُزَكِّينَا لَدَيْهِ، وَصَلَّى اللَّهُ أُولَى صَلَوَاتِهِ عَلَى النَّبِيِّ الطَّاهِرِ عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ، مِفْتَاحِ الرَّحْمَةِ، وَخَاتَمِ النُّبُوَّةِ، الْأَوَّلِ مَنْزِلَةً، وَالْآخِرِ رِسَالَةً، الْأَمِينِ فِيمَا اسْتُودِعَ، وَالصَّادِقِ فِيمَا بَلَّغَ، أَمَّا بَعْدُ: يَا إِخْوَانِي، عَصَمَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ مِنْ غَلَبَةِ الْأَهْوَاءِ وَمُشَاحَنَةِ الْآرَاءِ، وَأَعَاذَنَا وَإِيَّاكُمْ مِنْ نُصْرَةِ الْخَطَأِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ،
প্রারম্ভিকাশাইখ, ইমাম, হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হামদান ইবনে বাত্তাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রদানকৃত নিয়ামতরাজির কারণে কৃতজ্ঞতাভাজন, আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের যে তাওফীক তিনি দান করেছেন তার কারণেও তিনি কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য। সকল নিয়ামত তাঁরই পক্ষ থেকে, এবং যাবতীয় কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমেই নিয়ামতের প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও তাঁরই দেওয়া একটি নিয়ামত, তাঁর কোনো শরিক নেই। সুখ ও দুঃখ উভয় অবস্থায় তিনি প্রশংসিত। তিনি সম্মান, মহানত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বে অদ্বিতীয়। সমস্ত জ্ঞাত বিষয়াবলি অস্তিত্বে আসার পূর্বেই তিনি তা অবগত এবং সকল অস্তিত্ববান বস্তু ধ্বংস হওয়ার পরও তিনি চিরস্থায়ী। যোগ্য হওয়ার পূর্বেই তিনি নিয়ামত দান শুরু করেন এবং সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টির পূর্বেই তিনি তাদের জীবিকার জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে এবং আমাদের তাঁর নিকট পবিত্র করে। আল্লাহ তাঁর শ্রেষ্ঠ রহমত বর্ষণ করুন পবিত্র নবী, তাঁর বান্দা ও রাসূলের ওপর; যিনি রহমতের চাবিকাঠি এবং নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি দানকারী, মর্যাদায় প্রথম এবং রিসালতে সর্বশেষ, যা তাঁর কাছে আমানত রাখা হয়েছিল তাতে তিনি বিশ্বস্ত এবং যা তিনি পৌঁছে দিয়েছেন তাতে তিনি সত্যবাদী। অতঃপর: হে আমার ভাইয়েরা! আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের প্রবৃত্তির তাড়না এবং মতামতের সংঘাত থেকে রক্ষা করুন; আর ভুলকে সহায়তা করা এবং শত্রুদের উপহাস থেকে আমাদের ও আপনাদের আশ্রয় দান করুন।
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦٤)
وَأَجَارَنَا وَإِيَّاكُمْ مِنْ غِيَرِ الزَّمَانِ، وَزَخَارِيفِ الشَّيْطَانِ، فَقَدْ كَثُرَ الْمُغْتَرُّونَ بِتَمْوِيهَاتِهَا، وَتَبَاهَى الزَّائِغُونَ وَالْجَاهِلُونَ بِلُبْسَةِ حُلَّتِهَا، فَأَصْبَحْنَا وَقَدْ أَصَابَنَا مَا أَصَابَ الْأُمَمَ قَبْلَنَا، وَحَلَّ الَّذِي حَذَّرَنَاهُ نَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم مِنَ الْفُرْقَةِ وَالِاخْتِلَافِ، وَتَرْكِ الْجَمَاعَةِ وَالِائْتِلَافِ، وَوَاقَعَ أَكْثَرُنَا الَّذِي عَنْهُ نُهِينَا، وَتَرَكَ الْجُمْهُورُ مِنَّا مَا بِهِ أُمِرْنَا، فَخَلَعَتْ لُبْسَةَ الْإِسْلَامِ، وَنَزَعَتْ حِلْيَةَ الْإِيمَانِ، وَانْكَشَفَ الْغِطَا، وَبَرَحَ الْخَفَا، فَعُبِدَتِ الْأَهْوَاءُ، وَاسْتُعْمِلَتِ الْآرَاءُ، وَقَامَتْ سُوقُ الْفِتْنَةِ، وَانْتَشَرَتْ أَعْلَامُهَا، وَظَهَرَتِ الرِّدَّةُ، وَانْكَشَفَ قِنَاعُهَا، وَقُدِحَتْ زِنَادُ الزَّنْدَقَةِ فَاضْطَرَمَتْ نِيرَانُهَا، وَخُلِفَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদেরকে সময়ের বিপর্যয় এবং শয়তানের সুশোভিত প্রবঞ্চনা থেকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই এর মরীচিকায় বিভ্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সত্যত্যাগী ও মূর্খরা এর চাকচিক্যময় পোশাক পরিধান করে গর্ববোধ করছে। ফলে আমরা এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়েছি যে, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের যা গ্রাস করেছিল, তা আমাদেরও গ্রাস করেছে। আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দলাদলি ও মতভেদ এবং জামাত ও ঐক্য বিসর্জন দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের যে সতর্কতা প্রদান করেছিলেন, তা-ই আজ সংঘটিত হয়েছে। আমাদের অধিকাংশ মানুষ আজ সেই সব নিষিদ্ধ কাজেই লিপ্ত হয়েছে যা থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল এবং আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতা তা বর্জন করেছে যার আদেশ আমাদের দেওয়া হয়েছিল। এভাবে ইসলামের পোশাক খুলে ফেলা হয়েছে এবং ঈমানের অলংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পর্দা উন্মোচিত হয়েছে এবং গোপন বিষয় প্রকাশ হয়ে পড়েছে। ফলে কুপ্রবৃত্তির পূজা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত মতামতের প্রয়োগ চলছে, ফিতনার বাজার চাঙ্গা হয়েছে এবং এর ঝাণ্ডাগুলো ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মত্যাগ প্রকাশ্য রূপ লাভ করেছে এবং এর মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। জিন্দিকিপনার চকমকি পাথর ঠুকে দেওয়া হয়েছে, ফলে এর অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হয়েছে। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পেছনে ফেলে রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦٥)
وَسَلَّمَ فِي أُمَّتِهِ بِأَقْبَحِ الْخَلَفِ، وَعَظُمَتِ الْبَلِيَّةُ، وَاشْتَدَّتِ الرَّزِيَّةُ وَظَهَرَ الْمُبْتَدِعُونَ، وَتَنَطَّعَ الْمُتَنَطِّعُونِ، وَانْتَشَرَتِ الْبِدَعُ، وَمَاتَ الْوَرَعُ، وَهُتِكَتْ سُجُفُ الْمُشَايَنَةِ، وَشُهِرَ سَيْفُ الْمَحَاشَةِ بَعْدَ أَنْ كَانَ أَمْرُهُمْ هَيِّنًا، وَحَدُّهُمْ لَيِّنًا وَذَاكَ حَتَّى كَانَ أَمْرُ الْأُمَّةِ مُجْتَمِعًا، وَالْقُلُوبُ مُتَآلِفَةً، وَالْأَئِمَّةُ عَادِلَةً، وَالسُّلْطَانُ قَاهِرًا، وَالْحَقُّ ظَاهِرًا، فَانْقَلَبَتِ الْأَعْيَانُ، وَانْعَكَسَ الزَّمَانُ، وَانْفَرَدَ كُلُّ قَوْمٍ بِبِدْعَتِهِمْ، وَحُزِّبَ الْأَحْزَابُ، وَخُولِفَ الْكِتَابُ، وَاتُّخِذَ أَهْلُ الْإِلْحَادِ رُءُوسًا أَرْبَابًا، وَتَحَوَّلَتِ الْبِدْعَةُ إِلَى أَهْلِ الِاتِّفَاقِ، وَتَهَوَّكَ فِي الْعُسْرَةِ الْعَامَّةُ وَأَهْلُ الْأَسْوَاقِ، وَنَعَقَ إِبْلِيسُ بِأَوْلِيَائِهِ نَعْقَةً فَاسْتَجَابُوا لَهُ مِنْ كُلِّ نَاحِيَةٍ، وَأَقْبَلُوا نَحْوَهُ مُسْرِعِينَ مِنْ كُلِّ قَاصِيَةٍ، فَأُلْبِسُوا شِيَعًا، وَمُيِّزُوا قِطَعًا، وَشَمَتَتْ بِهِمْ أَهْلُ الْأَدْيَانِ السَّالِفَةِ، وَالْمَذَاهِبِ الْمُخَالِفَةِ، فَإِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، وَمَا ذَاكَ إِلَّا عُقُوبَةٌ أَصَابَتِ الْقَوْمَ عِنْدَ تَرْكِهِمْ أَمْرَ اللَّهِ، وَصَدْفِهِمْ عَنِ الْحَقِّ، وَمَيْلِهِمْ إِلَى الْبَاطِلِ، وَإِيثَارِهِمْ أَهْوَاءَهُمْ، وَلِلَّهِ عز وجل عُقُوبَاتٌ فِي خَلْقِهِ عِنْدَ تَرْكِ أَمْرِهِ، وَمُخَالَفَةِ رُسُلِهِ، فَأُشْعِلَتْ نِيرَانُ الْبِدَعِ فِي الدِّينِ، وَصَارُوا إِلَى سَبِيلِ الْمُخَالِفِينَ، فَأَصَابَهُمْ مَا أَصَابَ مَنْ قَبْلَهُمْ مِنَ الْأُمَمِ الْمَاضِينَ، وَصِرْنَا فِي أَهْلِ الْعَصْرِ الَّذِينَ وَرَدَتْ فِيهِمُ الْأَخْبَارُ، وَرُوِيَتْ فِيهِمُ الْآثَارُ
এবং তাঁর উম্মতের মধ্যে তিনি নিকৃষ্ট উত্তরসূরিদের রেখে গেলেন; বিপদ চরম আকার ধারণ করল, মসিবত কঠিন হয়ে উঠল, বিদআতিদের প্রকাশ ঘটল, সীমালঙ্ঘনকারীরা বাড়াবাড়ি শুরু করল, বিদআত ছড়িয়ে পড়ল, পরহেজগারি বিলুপ্ত হলো, লজ্জাহীনতার পর্দা উন্মোচিত হলো এবং ধ্বংসাত্মক বিবাদের তলোয়ার কোষমুক্ত হলো। অথচ ইতিপূর্বে তাদের অবস্থা ছিল সহজ এবং তাদের আচরণ ছিল নমনীয়। আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত ছিল যতক্ষণ উম্মতের বিষয়াবলি ঐক্যবদ্ধ ছিল, অন্তরসমূহ ছিল সম্প্রীতিময়, ইমামগণ ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, শাসক ছিল প্রতাপশালী এবং সত্য ছিল সুপ্রকাশিত। অতঃপর মৌলিক অবস্থা পাল্টে গেল, সময় প্রতিকূল হয়ে উঠল, প্রতিটি সম্প্রদায় নিজ নিজ বিদআত নিয়ে আলাদা হয়ে গেল, বিভিন্ন দল-উপদল সৃষ্টি হলো, কিতাবের বিরুদ্ধাচরণ করা হলো এবং ধর্মত্যাগীদের নেতা ও প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করা হলো। আর বিদআত ঐক্যবদ্ধ থাকা লোকদের মধ্যেও বিস্তার লাভ করল এবং সাধারণ মানুষ ও বাজারের লোকেরা বিভ্রান্তিতে পতিত হলো। ইবলিস তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে এক চিৎকার দিল, ফলে সব দিক থেকে তারা তার ডাকে সাড়া দিল এবং দূর-দূরান্ত থেকে তার দিকে দ্রুত ধাবিত হলো। অতঃপর তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল এবং খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গেল। আর তাদের এই অবস্থায় পূর্ববর্তী ধর্মের অনুসারী ও সত্যবিরোধী মতাদর্শের লোকেরা উপহাস করতে লাগল। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে। আর এটি সেই সম্প্রদায়ের ওপর আপতিত এক শাস্তি বৈ কিছু নয়, যা আল্লাহর বিধান বর্জন করা, সত্য থেকে বিমুখ হওয়া, বাতিলের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং নিজেদের প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে তাদের ওপর এসেছে। আল্লাহর বিধান বর্জন এবং তাঁর রাসূলদের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে সৃষ্টির ওপর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে নানাবিধ শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। ফলে দ্বীনের মাঝে বিদআতের আগুন প্রজ্বলিত হলো এবং তারা সত্যবিরোধীদের পথে চলতে শুরু করল। পরিশেষে তাদের ওপর তাই আপতিত হলো যা তাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর আপতিত হয়েছিল। আর আমরা সেই যুগের মানুষের অন্তর্ভুক্ত হলাম যাদের সম্পর্কে হাদীসে সংবাদ এসেছে এবং যাদের বিষয়ে আসর বা পূর্বসূরিদের বর্ণনা পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦٦)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْأَدَمِيُّ الْمُقْرِئُ فِي جَامِعِ الْمَنْصُورِ قَالَ:
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ بْنِ يَزِيدَ الْعَبْدِيُّ قَالَ: ثنا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ
⦗ص: 167⦘ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَيَأْتِي عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ مِثْلًا بِمِثْلٍ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ، وَإِنَّهُمْ تَفَرَّقُوا عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَسَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً تَزِيدُ عَلَيْهِمْ وَاحِدَةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً»، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا تِلْكَ الْوَاحِدَةُ؟ قَالَ: «هُوَ مَا نَحْنُ عَلَيْهِ الْيَوْمَ أَنَا وَأَصْحَابِي»
১ - জামে মানসুরে আমাদের কাছে আবু বকর আহমদ বিন ইসমাইল আল-আদামি আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
হাসান বিন আরাফাহ বিন ইয়াজিদ আল-আবদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আল-মুহারিবি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন জিয়াদ বিন আনউম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন
⦗পৃষ্ঠা: ১৬৭⦘ ইয়াজিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের ওপর তা-ই আসবে যা বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল—হুবহু এক জোড়া জুতা অপরটির সাথে মিলে যাওয়ার মতো। তারা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে—যা তাদের চেয়ে একটি বেশি। তারা সকলেই জাহান্নামী হবে, কেবল একটি দল ছাড়া», জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, সেই একটি দল কোনটি? তিনি বললেন: «আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর রয়েছি»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦٧)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو ذَرٍّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، قَالَ: ثنا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ النُّمَيْرِيُّ، وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ أَبِي كَرِيمَةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ ⦗ص: 168⦘ مُحَمَّدٍ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَتَرْكَبُنَّ مَا رَكِبَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَا تُخْطِئُونَ، وَلَا يُخْطَأُ بِكُمْ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ»
২ - আবু যার আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আল-বাগিন্দি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন শাব্বাহ আন-নুমাইরি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। এবং ইসহাক বিন ইদরিস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আল-হাকাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন আবি কারিমাহ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাদাহ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৮⦘ মুহাম্মাদ থেকে, তিনি মাহমুদ বিন আর-রাবি‘ থেকে, তিনি শাদ্দাদ বিন আওস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "তোমরা অবশ্যই আহলে কিতাবদের রীতিনীতির অনুসরণ করবে; তোমরা তাতে কোনো ভুল করবে না এবং তোমাদের বিষয়েও কোনো ভুল করা হবে না, ঠিক যেমন এক জোড়া জুতোর একটি অন্যটির হুবহু সমান হয়।"
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦٨)
3 - حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ ثَابِتِ بْنِ بِيَارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ بْنِ حَمَّادٍ الثَّقَفِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ⦗ص: 169⦘ الْقَاضِي، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، قَالَ: ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَتَأْخُذَنَّ أُمَّتِي بِأَخْذِ الْأُمَمِ قَبْلَهَا شِبْرًا بِشِبْرٍ، وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ» قَالَ الشَّيْخُ: وَإِنَّمَا ذَكَرْتُ هَذِهِ الْأَحَادِيثَ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ، لِيَعْلَمَ الْعُقَلَاءُ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَذَوُو الْآرَاءِ مِنَ الْمُمَيِّزِينَ أَنَّ أَخْبَارَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم قَدْ صَحَّتْ فِي أَهْلِ زَمَانِنَا، فَلْيَسْتَدِلُّوا بِصِحَّتِهَا عَلَى وَحْشَةِ مَا عَلَيْهِ أَهْلُ عَصْرِنَا، فَيَسْتَعْمِلُوا الْحَذَرَ مِنْ مُوَافَقَتِهِمْ وَمُتَابَعَتِهِمْ، وَيَلْزَمُونَ اللَّجَاءَ وَالِافْتِقَارَ إِلَى اللَّهِ عز وجل فِي الِاعْتِصَامِ بِحَبْلِهِ، وَالتَّمَسُّكِ بِدِينِهِ، وَالْمُجَانَبَةِ وَالْمُبَاعَدَةِ مِمَّنْ حَادَّ اللَّهَ فِي أَمْرِهِ وَشَرَدَ شُرُودَ النَّادِّ الْمُغْتَلِمِ، وَأَنَا أَذْكُرُ أَيْضًا مِنْ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ، وَمَا يُضَاهِيهَا، وَمَا هُوَ فِي مَعَانِيهَا، لِتَكُونَ زِيَادَةً فِي بَصِيرَةِ الْمُسْتَبْصِرِينَ، وَعِبْرَةً لِلْمُعْتَبِرِينَ، وَتَنْبِيهًا لِلْغَافِلِينَ
৩ - আবু সালেহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সাবিত ইবনে বিয়ার আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আহওয়াস মুহাম্মদ ইবনে হাইসাম ইবনে হাম্মাদ আস-সাকাফী আবু আব্দুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৯⦘ আল-কাজী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি যি’ব সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মত অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের চালচলন হুবহু গ্রহণ করবে—বিঘত বিঘত এবং হাত হাত (পরিমাপে)।” শায়খ বলেন: আমি এই কিতাবের এই স্থানে এই হাদীসগুলো এই জন্য উল্লেখ করেছি যাতে মুমিনদের মধ্যকার বুদ্ধিমানগণ এবং বিচক্ষণ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ জানতে পারেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদসমূহ আমাদের যুগের মানুষের ক্ষেত্রে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তারা যেন এর সত্যতার মাধ্যমে আমাদের সমসাময়িক লোকদের অবস্থার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারে এবং তাদের সাথে একমত হওয়া ও তাদের অনুকরণের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে। আর তারা যেন আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে এবং তাঁর দ্বীনের ওপর অটল থাকার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা ও তাঁর মুখাপেক্ষী হওয়াকে আবশ্যক করে নেয়; এবং যারা আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করেছে এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট উন্মত্ত উটের ন্যায় অবাধ্য হয়েছে, তাদের থেকে বিমুখ ও দূরত্ব বজায় রাখে। আমি এ জাতীয় আরও কিছু হাদীস এবং এর সদৃশ ও একই অর্থবোধক বর্ণনা উল্লেখ করছি, যাতে তা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয় এবং গাফেলদের জন্য সতর্কতা হয়।
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٠)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاذِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله، قَالَ: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ حَرْبٍ، حَدَّثَهُمْ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، عَنْ ⦗ص: 171⦘ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَتُنْقَضَنَّ عُرَى الْإِسْلَامِ عُرْوَةً عُرْوَةً فَكُلَّمَا انْتُقِضَتْ عُرْوَةٌ تَشَبَّثَ النَّاسُ بِالَّتِي تَلِيهَا، فَأَوَّلُهُنَّ نَقْضًا الْحُكْمُ، وَآخِرُهُنَّ الصَّلَاةُ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন ইসহাক বিন আহমদ আল-কাযী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আযীয বিন ইসমাঈল বিন আবদুল্লাহ যে, সুলাইমান বিন হারব তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমামা আল-বাহিলী থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৭১⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «ইসলামের প্রতিটি বন্ধন অবশ্যই একটি একটি করে ছিঁড়ে যাবে। যখনই একটি বন্ধন ছিঁড়ে যাবে, মানুষ তার পরবর্তীটিকে আঁকড়ে ধরবে। সেগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম যা ভেঙে যাবে তা হলো শাসনব্যবস্থা, আর সর্বশেষ হলো সালাত।’»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧١)
5 - حَدَّثَنِي أَبُو الْقَاسِمِ حَفْصُ بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصِ بْنِ الْخَلِيلِ الْحَافِظُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الرَّازِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو صَالِحٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، كَاتِبُ اللَّيْثِ قَالَ: ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ ⦗ص: 172⦘ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الْإِسْلَامَ بَدَأَ غَرِيبًا، وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ، فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ»
৫ - আবুল কাসিম হাফস ইবনে উমর ইবনে হাফস ইবনুল খলীল আল-হাফিয আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আর-রাযী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইসের লেখক আবু সালিহ আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহীআহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৭২⦘ ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে, তিনি সিনান ইবনে সা'দ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছে এবং অচিরেই তা আবার পূর্বের ন্যায় অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ।»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٢)
6 - حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، قَالَ: ثنا أَبُو الْأَحْوَصِ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ رَبَاحٍ، يُحَدِّثُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ ⦗ص: 173⦘ قَالَ: «كَانَ النِّفَاقُ غَرِيبًا فِي الْإِيمَانِ، وَيُوشِكُ أَنْ يَكُونَ الْإِيمَانُ غَرِيبًا فِي النِّفَاقِ»
৬ - আবু সালিহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আহওয়াস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহীআহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন হারিস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে রাবাহকে বর্ণনা করতে শুনেছি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে যে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৩⦘ বলেছেন: «ঈমানের মাঝে নিফাক (মুনাফিকি) ছিল অপরিচিত, আর অচিরেই নিফাকের মাঝে ঈমান অপরিচিত হয়ে পড়বে।’»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٣)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاذِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ: قِيلَ لِحُذَيْفَةَ: أَتَرَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ دِينَهَا فِي يَوْمٍ؟ قَالَ: «لَا، وَلَكِنَّهُمْ ⦗ص: 174⦘ كَانُوا إِذَا أُمِرُوا بِشَيْءٍ تَرَكُوهُ، وَإِذَا نُهُوا عَنْ شَيْءٍ رَكِبُوهُ، حَتَّى انْسَلَخُوا مِنْ دِينِهِمْ كَمَا يَنْسَلِخُ الرَّجُلُ مِنْ قَمِيصِهِ»
৭ - আমাদের নিকট আবু আল-হুসাইন ইসহাক বিন আহমাদ আল-কাযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আমাশ বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন মুসহির থেকে, তিনি তারিক বিন শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুযাইফাকে জিজ্ঞেস করা হলো: বনী ইসরাঈল কি একদিনেই তাদের ধর্ম ত্যাগ করেছিল? তিনি বললেন: «না, বরং তারা ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৪⦘ যখন কোনো বিষয়ে আদিষ্ট হতো তখন তা বর্জন করত, আর যখন কোনো বিষয়ে নিষিদ্ধ হতো তখন তাতে লিপ্ত হতো; শেষ পর্যন্ত তারা তাদের ধর্ম থেকে এমনভাবে বের হয়ে গেল যেমন মানুষ তার কামিজ থেকে বের হয়ে আসে (খুলে ফেলে)»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٤)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاذِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: ثنا عِكْرِمَةُ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْفِلَسْطِينِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ، أَخُو حُذَيْفَةَ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ: " أَوَّلُ مَا تَفْقِدُونَ مِنْ دِينِكُمُ الْخُشُوعُ، وَآخِرُ مَا تَفْقِدُونَ مِنْ دِينِكُمُ الصَّلَاةُ، وَلَتُصَلِّيَنَّ النِّسَاءُ وَهُنَّ حُيَّضٌ، وَلَيُنْقَضُ الْإِسْلَامُ عُرْوَةً عُرْوَةً، وَلَتَرْكَبُنَّ طَرِيقَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ ⦗ص: 175⦘ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ، وَحَذْوَ الْقُذَّةِ بِالْقُذَّةِ لَا تُخْطِئُونَ طَرِيقَهُمْ، وَلَا يُخْطِئُ بِكُمْ، وَتَبْقَى فِرْقَتَانِ مِنْ فِرَقٍ كَثِيرَةٍ تَقُولُ إِحْدَاهُمَا: مَا بَالُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ؟ لَقَدْ ضَلَّ مَنْ كَانَ قَبْلَنَا، إِنَّمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {أَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ} [هود: 114] لَا يُصَلُّونَ إِلَّا صَلَاتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً، وَفِرْقَةٌ أُخْرَى تَقُولُ: إِنَّا مُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ كَإِيمَانِ الْمَلَائِكَةِ، مَا فِينَا كَافِرٌ، وَلَا مُنَافِقٌ، حَقًّا عَلَى اللَّهِ عز وجل أَنْ يَحْشُرَهُمْ مَعَ الدَّجَّالِ "
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন ইসহাক বিন আহমদ আল-কাযী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন আমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরামা, আবু আব্দুল্লাহ আল-ফিলিস্তিনি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ, যিনি হুযাইফার ভাই, হুযাইফা বিন আল-ইয়ামান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমাদের দীন থেকে তোমরা সর্বপ্রথম যা হারাবে তা হলো খুশু (একাগ্রতা), আর তোমাদের দীন থেকে তোমরা সর্বশেষ যা হারাবে তা হলো সালাত। আর অবশ্যই মহিলারা ঋতুবতী অবস্থায় সালাত আদায় করবে এবং ইসলামের রশিগুলো একে একে ছিঁড়ে যাবে। আর তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করবে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৫⦘ এক জোড়া জুতা যেমন একে অপরের সমান হয় এবং তীরের একটি পালক যেমন অন্যটির সমান হয় ঠিক তেমনভাবে; তোমরা তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না আর সেই পথও তোমাদেরকে ছাড়বে না। আর বহু দলের মধ্য থেকে দুটি দল অবশিষ্ট থাকবে, যাদের একটি বলবে: পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কী হয়েছে? আমাদের পূর্ববর্তীরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তো কেবল বলেছেন: {সালাত কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে} [হূদ: ১১৪]; তারা কেবল দুই বা তিন ওয়াক্ত সালাত ব্যতীত সালাত আদায় করবে না। আর অন্য দলটি বলবে: আমরা আল্লাহর ওপর ফেরেশতাদের ঈমানের মতো ঈমান রাখি, আমাদের মধ্যে কোনো কাফির বা মুনাফিক নেই। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত যে, তিনি তাদেরকে দাজ্জালের সাথে হাশর করবেন।"
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٥)
9 - حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، قَالَ: ثنا أَبُو الْأَحْوَصِ، قَالَ: ثنا أَبُو حُذَيْفَةَ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ السَّكَنِ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: «يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَوْ رَمَيْتَ بِسَهْمٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ لَمْ يُصِبْ إِلَّا كَافِرًا أَوْ مُنَافِقًا»
৯ - আবু সালিহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল আহওয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হুযাইফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি কায়স ইবনে সাকান থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যে, জুমার দিনে তুমি যদি কোনো তীর নিক্ষেপ করো, তবে তা কাফির অথবা মুনাফিক ছাড়া আর কাউকে বিদ্ধ করবে না।»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٦)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَافْلَائِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ، قَالَ: ثنا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ عُبَيْدٍ، ⦗ص: 177⦘ عَنْ غُضَيْفِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا ابْتُدِعَتْ بِدْعَةٌ إِلَّا رُفِعَتْ مِثْلُهَا مِنَ السُّنَّةِ»
১০ - আমাদের নিকট আবু আল-ফজল জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-কাফলাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নুআইম ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি মারিয়াম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট হাবিব ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৭⦘ গুদাইফ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যখনই কোনো বিদআত প্রবর্তিত হয়, তখনই তার সমপরিমাণ একটি সুন্নাত তুলে নেওয়া হয়।”
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٧)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الرَّزَّازُ، قَالَ: إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرْبِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَسَأَلَهُ بِشْرُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَهْدِيُّ بْنُ أَبِي مَهْدِيٍّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ ⦗ص: 178⦘ عَبَّاسٍ، قَالَ: «مَا يَأْتِي عَلَى النَّاسِ عَامٌ إِلَّا أَحْدَثُوا فِيهِ بِدْعَةً، وَأَمَاتُوا فِيهِ سُنَّةً، حَتَّى تَحْيَا الْبِدَعُ، وَتَمُوتَ السُّنَنُ»
১১ - আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আল-বাখতারী আর-রাযযায আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক বিন আল-হাসান আল-হারবী বলেছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং বিশর বিন আল-হারিছ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি বলেন: আব্দুল মুমিন বিন উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহদী বিন আবী মাহদী আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৮⦘ আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «মানুষের কাছে এমন কোনো বছর আসে না যে বছর তারা তাতে নতুন কোনো বিদআত উদ্ভাবন করে না এবং একটি সুন্নাহকে বিলুপ্ত করে দেয় না; শেষ পর্যন্ত বিদআতগুলোই জীবিত হয়ে ওঠে এবং সুন্নাহগুলো মৃত হয়ে যায়»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٨)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو شَيْبَةَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: ثنا وَكِيعٌ، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، وَحَدَّثَنَا الْقَاضِي الْمَحَامِلِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ شُعَيْبٍ، قَالَ: ثنا ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ ⦗ص: 179⦘ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ عليه السلام، قَالَ: " لَا يَزَالُ النَّاسُ يَنْقُصُونَ، حَتَّى لَا يَقُولُ أَحَدٌ: اللَّهُ اللَّهُ "
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শায়বাহ আব্দুল আজিজ ইবন জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন অকি‘, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ‘মাশ। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাদি আল-মাহামিলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন শুআইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন নুমাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ‘মাশ, ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৯⦘ ইবরাহিম আত-তায়মি থেকে, তিনি আল-হারিস ইবন সুওয়াইদ থেকে, তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মানুষ ক্রমাগত কমতে থাকবে, যতক্ষণ না এমন অবস্থা হবে যে কেউ আর 'আল্লাহ, আল্লাহ' বলবে না।"
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٩)
13 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ الصَّفَّارُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: ثنا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: " لَا يَزَالُ النَّاسُ يَنْقُصُونَ، حَتَّى لَا يَبْقَى أَحَدٌ يَقُولُ: اللَّهُ اللَّهُ ". قَالَ أَبُو أُسَامَةَ: «مَعْنَاهُ يَسْتَعْلِنُ بِهِ»
১৩ - ইসমাইল আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম আন-নাখায়ি থেকে, তিনি আল-হারিস বিন সুওয়াইদ থেকে বর্ণনা করেন, আলী বিন আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "মানুষ ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেতে থাকবে, যতক্ষণ না এমন কেউ অবশিষ্ট থাকবে যে বলবে: আল্লাহ, আল্লাহ।" আবু উসামা বলেন: "এর অর্থ হলো এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া।"
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧٩)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، قَالَ: ثنا ⦗ص: 180⦘ أَبُو الْأَحْوَصِ الْقَاضِي، قَالَ: ثنا وَضَّاحُ بْنُ يَحْيَى النَّهْشَلِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو يَحْيَى طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَلْعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا أَلَا عَلَيْهِمْ حَلَّتِ اللَّعْنَةُ»
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৮০⦘ আবুল আহওয়াস আল-কাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াদদাহ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নাহশালি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া তালহা ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শায়বানি, মুহাম্মদ ইবনে আবি আইয়ুব থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না এই উম্মতের শেষাংশ এর প্রথমাংশকে অভিশাপ দেবে; সাবধান! তাদের ওপরই অভিশাপ আপতিত হয়েছে।»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٠)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الرَّزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الصَّفَّارُ، قَالَ: ثنا عُبَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ الْقُرَشِيُّ، ⦗ص: 181⦘ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُهَاجِرِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: أُمِرْتُمْ بِالِاسْتِغْفَارِ لِسَلَفِكُمْ فَشَتَمْتُمُوهُمْ، أَمَا إِنِّي سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا تَفْنَى هَذِهِ الْأُمَّةُ حَتَّى يَلْعَنَ آخِرُهَا أَوَّلَهَا»
১৫ - আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনুল বাখতারি আর-রাজজাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদ ইবনে সাঈদ আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃ: ১৮১⦘ ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল মুহাজির থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমাদেরকে তোমাদের পূর্বসূরীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তোমরা তাদের গালি দিচ্ছ। জেনে রেখো, আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «এই উম্মত ততক্ষণ নিঃশেষ হবে না, যতক্ষণ না এর পরবর্তী অংশ এর পূর্ববর্তী অংশকে অভিশাপ দেবে।»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨١)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: ثنا ⦗ص: 182⦘ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: ثنا أَبُو الْمُغِيرَةِ الْحِمْصِيُّ، قَالَ: ثنا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ السَّكُونِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاذًا، يَقُولُ: «إِنَّكُمْ لَنْ تَرَوْا مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا بَلَاءً وَفِتْنَةً وَلَنْ َيْزَدادَ الْأَمْرُ إِلَّا شِدَّةً وَلَنْ تَرَوْا مِنَ الْأَئِمَّةَ إِلَّا غِلْظَةً، وَلَنْ تَرَوْا أَمْرًا يَهُولُكُمْ، وَيَشْتَدُّ عَلَيْكُمْ إِلَّا حَقَّرَهُ بَعْدُ مَا هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ». قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: اللَّهُمَّ رَضِّنَا، مَرَّتَيْنِ
১৬ - আবুল কাসেম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ১৮২⦘ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল মুগিরা আল-হিমসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাফওয়ান বিন আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন কায়স আস-সাকুনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসিম বিন হুমাইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুয়াজকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই তোমরা দুনিয়াতে বিপদাপদ ও ফিতনা ব্যতীত কিছুই দেখবে না এবং পরিস্থিতি কেবল দিন দিন কঠিনতর হতে থাকবে। আর তোমরা শাসকদের পক্ষ থেকে কঠোরতা ব্যতীত কিছুই দেখবে না। আর তোমরা এমন কোনো ভীতিকর ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে না, যাকে তার পরবর্তী কঠিনতর পরিস্থিতি তুচ্ছ করে দেবে না।" আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সন্তুষ্ট রাখুন; তিনি এটি দুবার বললেন।
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٢)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِيسَى السُّكَّرِيُّ، وَأَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُعَيْمٍ الْقَحْطَانِيُّ الْكَاتِبُ، قَالَا: ⦗ص: 183⦘ ثنا أَبُو يَعْلَى زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى بْنِ خَلَّادٍ الْمِنْقَرِيُّ السَّاجِيُّ، وَحَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ ثَابِتٍ، وَأَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدٍ الْعِجْلِيُّ، قَالَا: ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْكُدَيْمِيُّ، قَالَا: ثنا الْأَصْمَعِيُّ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ: «يُوشِكُ لِعَيْنِكَ أَنْ تَرَ مَا لَمْ تَرَ، وَيُوشِكُ لِأُذُنِكَ أَنْ تَسْمَعَ مَا لَمْ يُسْمَعْ، وَلَا تَخْرُجُ مِنْ طَبَقَةٍ إِلَّا دَخَلْتَ فِيمَا هُوَ دُونَهَا، حَتَّى يَكُونَ آخِرُ ذَلِكَ الْجَوَازَ عَلَى الصِّرَاطِ»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ঈসা আস-সুক্কারী এবং আবু মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নুআইম আল-কাহতানী আল-কাতিব; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৩⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খাল্লাদ আল-মিনকারী আস-সাজী; এবং আমাকে বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে সাবিত এবং আবু আল-হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে উবাইদ আল-ইজলী; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস আল-কুদাইমী; তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আসমাঈ; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ; তিনি বলেছেন: আমি ইউনুস ইবনে উবাইদকে বলতে শুনেছি: “শীঘ্রই তোমার চোখ এমন কিছু দেখবে যা সে ইতিপূর্বে দেখেনি, এবং শীঘ্রই তোমার কান এমন কিছু শুনবে যা ইতিপূর্বে শোনা হয়নি; আর তুমি একটি স্তর থেকে নির্গত হবে না তবে তার পরবর্তী স্তরে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ না এ সবের চূড়ান্ত সমাপ্তি হবে সিরাত পার হওয়ার মাধ্যমে।”
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٣)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ التَّمَّارُ، قَالَ: ثنا أَبُو ⦗ص: 184⦘ دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الْأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِيُّ، قَالَ: ثنا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: ثنا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي الْجَعْدِ، قَالَ: قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: «لَوْ أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَعْلَمُ الْإِسْلَامَ، وَأَهَمَّهُ، ثُمَّ تَفَقَّدَهُ الْيَوْمَ مَا عَرَفَ مِنْهُ شَيْئًا»
১৮ - আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে বকর আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৪⦘ দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উসমান ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জারীর বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি সালিম অর্থাৎ ইবনে আবিল জাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আদ-দারদা বলেছেন: «যদি কোনো ব্যক্তি ইসলাম এবং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানত, অতঃপর আজ সে তা অনুসন্ধান করত, তবে সে তার কিছুই চিনতে পারত না।»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٤)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاذِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، ⦗ص: 185⦘ قَالَ: نا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: ذَهَبَتِ الْمَعَارِفُ، وَبَقِيَتِ الْمَنَاكِرُ، وَمَنْ بَقِيَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَهُوَ مَغْمُومٌ "
১৯ - আমাদের নিকট আবুল হুসাইন ইসহাক বিন আহমাদ আল-কাযি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন সাবিক বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৫⦘ তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক বিন মিগওয়াল বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জুহাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "পরিচিত সৎকাজসমূহ বিদায় নিয়েছে এবং মন্দ কাজসমূহ অবশিষ্ট রয়ে গেছে; আর অবশিষ্ট মুসলিমদের মধ্যে যারা বেঁচে আছে তারা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত।"
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٥)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ السُّكَّرِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو يَعْلَى زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى السَّاجِيُّ، قَالَ: ثنا الْأَصْمَعِيُّ، قَالَ: ثنا حَزْمٌ الْقُطَعِيُّ، قَالَ: مَرَّ بِنَا يُونُسُ عَلَى حِمَارٍ، وَنَحْنُ عَلَى بَابِ ابْنِ لَاحِقٍ، فَوَقَفَ، فَقَالَ: «أَصْبَحَ مَنْ إِذَا عُرِّفَ السُّنَّةَ عَرَفَهَا غَرِيبًا، وَأَغْرَبُ مِنْهُ مَنْ يُعَرِّفُهَا»
২০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আস-সুক্কারি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা যাকারিয়্যা ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-আসমাঈ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাযম আল-কুতায়ি, তিনি বলেন: ইউনুস একটি গাধার পিঠে চড়ে আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, আর আমরা তখন ইবনে লাহিকের দরজায় ছিলাম। তিনি সেখানে থামলেন এবং বললেন: «ঐ ব্যক্তি আজ বিরল হয়ে গেছে, যাকে সুন্নাহর পরিচয় দিলে সে তা চিনে নেয়; আর তার চেয়েও বেশি বিরল হলো সেই ব্যক্তি, যে সুন্নাহর পরিচয় দান করে (বা শিক্ষা দেয়)।’»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٦)
21 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاذِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: ثنا مَالِكٌ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «مَا لِيَ لَا أَرَى زَمَانًا إِلَّا بَكَيْتُ مِنْهُ، فَإِذَا ذَهَبَ بَكَيْتُ عَلَيْهِ؟» قَالَ الشَّيْخُ: إِخْوَانِي فَاسْتَمِعُوا إِلَى كَلَامِ هَؤُلَاءِ السَّادَةِ مِنَ الْمَاضِينَ، وَالْأَئِمَّةِ الْعُقَلَاءِ مِنْ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ، وَالسَّلَفِ الصَّالِحِ مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ، هَذِهِ أَقْوَالُهُمْ، وَالْإِسْلَامُ فِي طَرَافَةٍ وَمُطَاوَعَةٍ وَعُنْفُوانِ قُوَّتِهِ وَاسْتِقَامَتِهِ، وَالْأَئِمَّةُ رَاشِدُونَ، وَالْأُمَرَاءُ مُقْسِطُونَ، فَمَا ظَنُّكُمْ بِنَا وَبِزَمَانٍ أَصْبَحْنَا فِيهِ، وَمَا نُعَانِيهِ، وَنُقَاسِيهِ، وَلَمْ يَبْقَ مِنَ الدِّينِ إِلَّا الْعَكَرُ، وَمِنَ الْعَيْشِ إِلَّا الْكَدَرُ، وَنَحْنُ فِي دُرْدِيِّ الدُّنْيَا، وَثَمَادِهَا؟
২১ - ইসহাক বিন আহমদ আল-কাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমার কী হলো যে, আমি এমন কোনো কাল দেখি না যার শোকে আমি কাঁদি না, পুনরায় তা অতিবাহিত হয়ে গেলে আমি তার জন্যই (আক্ষেপে) ক্রন্দন করি?» শাইখ বলেন: হে আমার ভ্রাতৃবৃন্দ! তোমরা অতীত যুগের এই মহোদয়গণ, মুসলিম আলেমদের মধ্য থেকে প্রজ্ঞাবান ইমামবর্গ এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত সালাফে সালেহীনদের বাণী মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো। এগুলো তাঁদের সেই সময়কার বক্তব্য যখন ইসলাম ছিল তার নবীনতা, স্বকীয়তা এবং পূর্ণ শক্তিমত্তা ও ঋজুতার শিখরে; যখন ইমামগণ ছিলেন সুপথপ্রাপ্ত এবং শাসকগণ ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠ। তাহলে আমাদের অবস্থা এবং আমরা যে কালে উপনীত হয়েছি, আর আমরা যা কিছু প্রতিকূলতা ও যাতনা সহ্য করছি—সে সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী? দ্বীনের তো এখন কেবল তলানিটুকুই অবশিষ্ট আছে এবং জীবন যাপনের কেবল তিক্ততাই বাকি রয়েছে; আর আমরা রয়েছি দুনিয়ার পলি ও অবশিষ্টাংশের মাঝে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٦)
22 - وَقَدْ حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَيُّوبَ الْمَخْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، قَالَ: ثنا ⦗ص: 187⦘ يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: «ذَهَبَ صَفْوُ الدُّنْيَا، فَلَمْ يَبْقَ إِلَّا الْكَدَرُ، فَالْمَوْتُ الْيَوْمَ تُحْفَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ»
২২ - এবং আবু আলী ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আইয়ুব আল-মাখরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৭⦘ ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ আমাদের নিকট যায়েদ বিন ওয়াহব আল-জুহানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "দুনিয়ার স্বচ্ছতা চলে গেছে, এখন আর পঙ্কিলতা ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই আজ প্রতিটি মুসলিমের জন্য মৃত্যু হলো একটি উপহার।"
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٧)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رَجَاءٍ، قَالَ: ثنا أَبُو عِمْرَانَ مُوسَى بْنُ حَمْدُونٍ، قَالَ: ثنا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي. . . قَالَ: ثنا حُسَيْنٌ، قَالَ: ثنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «ذَهَبَ صَفْوُ الدُّنْيَا، فَلَمْ يَبْقَ إِلَّا الْكَدَرُ، فَالْمَوْتُ الْيَوْمَ تُحْفَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ»
২৩ - আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রাজা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইমরান মুসা ইবনে হামদুন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্বল ইবনে ইসহাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন... তিনি বলেন: হুসাইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মাসউদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যুবায়দ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: «দুনিয়ার স্বচ্ছতা চলে গেছে, এখন কেবল পঙ্কিলতাই অবশিষ্ট রয়েছে। সুতরাং মৃত্যু আজ প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি উপহার স্বরূপ।»
(খণ্ড: ١)
আল-ইবানাতুল কুবরা - ইবনে বাত্তাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨٧)
23 - فَقَالَ الرَّجُلُ الَّذِي حَدَّثَهُ أَبُو وَائِلٍ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ، يَقُولُ: «مَا شَبَّهْتُ الدُّنْيَا إِلَّا بِالتَّعَبِ يَسْرِي صَفْوُهُ، وَيَبْقَى كَدَرُهُ، وَلَنْ ⦗ص: 188⦘ يَزَالُوا بِخَيْرٍ مَا إِذَا حَزَّ فِي نَفْسِ الرَّجُلِ وَجَدَ مَنْ هُوَ أَعْلَمُ فَمَشَى إِلَيْهِ، فَسَقَاهُ، وَايْمُ اللَّهِ لَيُوشِكَنَّ أَنْ تَلْتَمِسَ ذَلِكَ فَلَا تَجِدُهُ»
২৩ - আবু ওয়ায়েল যাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন সেই ব্যক্তি বললেন: আমি আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: «আমি দুনিয়াকে কেবল এমন এক পাত্রের সাথে তুলনা করি যার নির্মল পানীয় ফুরিয়ে গেছে এবং কেবল পঙ্কিলতা অবশিষ্ট রয়েছে। আর মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৮⦘ কল্যাণের ওপর থাকবে, যতক্ষণ কোনো ব্যক্তির মনে কোনো সংশয় বা খটকা তৈরি হলে সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে খুঁজে পাবে, অতঃপর তার কাছে যাবে এবং তিনি তাকে (সঠিক সমাধান দিয়ে) তৃপ্ত করবেন। আল্লাহর কসম! অচিরেই এমন সময় আসবে যখন তোমরা তা তালাশ করবে কিন্তু পাবে না।»