(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: -)
الأربعون للنسوي   (الحسن بن سفيان النسوي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: كتاب الأربعين وهو ثالث الأربعينيات في الحديث الشريف

المؤلف: أبو العباس الحسن بن سفيان بن عامر بن عبد العزيز بن النعمان بن عطاء الشيباني الخراساني النسوي (ت 303هـ)

تحقيق وتعليق: محمد بن ناصر العجمي

الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1414 هـ

عدد الصفحات: 86

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নাসাওয়ীর আল-আরবাউন   (হাসান বিন সুফিয়ান আন-নাসাওয়ী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: কিতাবুল আরবাউন, যা হাদীসে শরীফের ক্ষেত্রে আরবাউনাত সমূহের মধ্যে তৃতীয়

লেখক: আবুল আব্বাস হাসান বিন সুফিয়ান বিন আমির বিন আব্দুল আজিজ বিন নুমান বিন আতা আশ-শাইবানী আল-খুরাসানী আন-নাসাওয়ী (মৃত্যু ৩০৩ হি.)

তাহকীক ও তালীক: মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমী

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌بَابُ الْإِيمَانِ
ঈমান অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
1 - أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ الْعَالِمُ الصَّدْرُ الْكَبِيرُ: أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ الشَّهْرَزْوَرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ وَذَلِكَ يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ سَادِسِ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَلَاثِينَ وَسِتِّمِائَةٍ، فَأَقَرَّ بِهِ بِدِمِشْقَ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْجَلِيلُ الْمُسْنِدُ أَبُو الْحَسَنِ الْمُؤَيَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الطُّوسِيُّ ثُمَّ النَّيْسَابورِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قَالَ: أنا الْحُرَّةُ الصَّالِحَةُ أُمُّ الْخَيْرِ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُظَفَّرِ بْنِ الْحَسَنِ زَعْبَلُ بْنُ عَجْلَانَ الْبَغْدَادِيُّ فِي سَنَةِ إِحْدَى وَثَلَاثِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ. وَأَخْبَرَتْنَا الشَّيْخَةُ الصَّالِحَةُ الْمَعْرُوفَةُ بِحُرَّةَ نَازٍ زَيْنَبُ بِنْتُ الشَّيْخِ أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الشِّعْرِيِّ الصُّوفِيِّ جَزَاهَا اللَّهُ خَيْرًا قِرَاءَةً عَلَيْهَا مِنِّي مَرَّةً وَمِنْ غَيْرِي أُخْرَى. قَالَ: أَخْبَرَتْنَا الْحُرَّةُ الصَّالِحَةُ أُمِّ الْخَيْرِ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُظَفَّرِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ زَعْبَلٍ الْبَغْدَادِيِّ بِقِرَاءَةِ الْفَقِيهِ يُوسُفَ بْنِ عَلِيٍّ الْقَفَّالِ عَلَيْهَا فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ إِحْدَى وَثَلَاثِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ. ⦗ص: 44⦘ وَأَخْبَرَنَا الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ الْفَرَاوِيُّ كِتَابَةً قَالَا: أَنْبَأَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ الْفَارِسِيُّ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سِنَانَ الْحِيرِيُّ الضَّرِيرُ بِقِرَاءَةِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْفَرَحِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ وَأَقَرَّ بِهِ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ بْنِ عَامِرٍ بِنَسَا قَالَ: ثنا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أنبأ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، ح وَأَخْبَرَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: وَثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ثنا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، قَالَ: ظَهَرَ هَاهُنَا مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ قَالَ فِي الْقَدَرِ هَاهُنَا، فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ، فَقَالَ أَحَدُنَا لِصَاحِبِهِ: لَوْ لَقِينَا بَعْضَ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا يَقُولُ هَؤُلَاءِ فِي الْقَدَرِ، فَلَقِينَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَحْسَبُهُ قَالَ: وَهُوَ دَاخِلٌ الْمَسْجِدَ، فَاكْتَنَفْنَاهُ أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ، وَالْآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ فَقُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّ أُنَاسًا ظَهَرُوا عِنْدَنَا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ، وَأَنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ، إِنَّمَا الْأَمْرُ أُنُفٌ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: فَإِذَا لَقِيتَهُمْ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ، وَأَنَّهُمْ بُرَآءُ مِنِّي. فَوَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، لَوْ كَانَ لِأَحَدِهِمْ مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا فَأَنْفَقَهُ، مَا قَبِلَ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، ثُمَّ قَالَ: ⦗ص: 45⦘ حَدَّثَنِي عُمَرُ أَنَّهُمْ بَيْنَمَا هُمْ ذَاتَ يَوْمٍ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَجُلٌ قَدِ اطَّلَعَ عَلَيْهِمْ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا يَعْرِفُونَهُ مَنْ هُوَ، وَلَا يَرَوْنَ عَلَيْهِ أَثَرَ السَّفَرِ، فَجَلَسَ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، قَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ» ، أَوْ قَالَ: «تُصَلِّيَ الْخَمْسَ» . وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ: «وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَلَمْ يَشُكَّ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ» ، قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، ثُمَّ قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، فَقَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» . فَقَالَ: صَدَقْتَ. فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْحَسَنَاتِ أَوْ قَالَ: الْإِحْسَانِ، وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ: الْإِحْسَانِ، وَلَمْ يَشُكَّ، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» . قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا، يَعْنِي عَلَامَتِهَا، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» . قَالَ عُمَرُ: ثُمَّ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» ⦗ص: 46⦘ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ لِيُعَلِّمَكُمْ دِينَكُمْ» وَاللَّفْظُ لِحِبَّانَ

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম, আলিম, মহান ব্যক্তিত্ব আবু আমর উসমান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উসমান আশ-শাহরাজুরি, তার নিকট পঠিত অবস্থায় যখন আমি শুনছিলাম এবং তা ছিল ৬৩০ হিজরীর ৬ই জিলহজ মঙ্গলবার। তিনি দামেস্কে তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সম্মানিত শাইখ, মুসনিদ আবুল হাসান আল-মুআয়্যাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আত-তুসি অতঃপর আন-নাইসাবুরি, তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবতী হুররা উম্মুল খায়ের ফাতিমা বিনতে আবিল হাসান আলি ইবনুল মুজাফ্ফর ইবনুল হাসান জাবাল ইবনে আজলান আল-বাগদাদি ৫৩১ হিজরীতে। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুররা নাজ নামে পরিচিতা পুণ্যবতী শাইখা জয়নব বিনতে আশ-শাইখ আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ আশ-শাইরি আস-সুফি - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন - একদা আমার পাঠের মাধ্যমে এবং অন্য সময় অন্যের পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবতী হুররা উম্মুল খায়ের ফাতিমা বিনতে আবিল হাসান আলি ইবনুল মুজাফ্ফর ইবনুল হাসান ইবনে জাবাল আল-বাগদাদি, ৫৩১ হিজরীর রমজান মাসে ফকিহ ইউসুফ ইবনে আলি আল-কাফফালের পাঠের মাধ্যমে। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ফাদল আল-ফারাওয়ি লিখিতভাবে, তারা উভয়ই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হাসান আবদুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল গাফির আল-ফারিসি (রহিমাহুল্লাহ) তার নিকট পাঠের মাধ্যমে, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামদান ইবনে আলি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সিনান আল-হিরি আদ-দারির, ৩৭৪ হিজরীর রমজান মাসে আবু আবদুল্লাহ ইবনে আবিল ফারাহের পাঠের মাধ্যমে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। আবুল আব্বাস হাসান ইবনে সুফিয়ান ইবনে আমির বিনাসা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিব্বান ইবনে মুসা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাহমাস ইবনে হাসানের সূত্রে। (ইমাম নাসা বলেন) এবং হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল মিনহাল আদ-দারির আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে জুরাই আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাহমাস ইবনে হাসান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহর সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এখানে মাবাদ আল-জুহানি প্রকাশ পায় এবং সে-ই এখানে প্রথম তাকদীর সম্পর্কে কথা বলেছিল। অতঃপর আমি এবং হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান হজ অথবা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমাদের একজন তার সঙ্গীকে বললেন: যদি আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সাহাবির সাক্ষাৎ পেতাম, তবে তাকদীর সম্পর্কে তারা যা বলে সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করতাম। অতঃপর আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমরের দেখা পেলাম, আমি মনে করি তিনি বলেছিলেন: তিনি তখন মসজিদে প্রবেশ করছিলেন। আমরা তাকে ঘিরে ধরলাম, আমাদের একজন তার ডানে এবং অন্যজন তার বামে। আমি ধারণা করলাম যে তিনি কথা বলার দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দেবেন। আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান, আমাদের ওখানে এমন কিছু লোক প্রকাশ পেয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং জ্ঞানের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অন্বেষণ করে, আর তারা দাবি করে যে তাকদীর বলতে কিছু নেই এবং সব বিষয়ই নতুন করে ঘটে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর বললেন: যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাদের সংবাদ দিও যে আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। সেই সত্তার কসম যার নামে আবদুল্লাহ ইবনে উমর শপথ করেন, যদি তাদের কারও নিকট উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা ব্যয় করে, তবে আল্লাহ তার থেকে তা গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না সে তাকদীরে বিশ্বাস স্থাপন করে। অতঃপর তিনি বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ উমর আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থাকাকালীন হঠাৎ এক ব্যক্তি তাদের সামনে উপস্থিত হলেন যার পরিহিত পোশাক ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল কুচকুচে কালো। তাদের মাঝে কেউ তাকে চিনতেন না এবং তার মাঝে সফরের কোনো চিহ্নও দেখা যাচ্ছিল না। তিনি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বসলেন এবং তার দুই হাঁটু নবীর দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাত নিজের দুই ঊরুর ওপর রাখলেন। অতঃপর বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: «ইসলাম হলো তুমি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আর তুমি সালাত কায়েম করবে», অথবা তিনি বললেন: «পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে»। ইয়াজিদ ইবনে জুরাই বলেছেন: «এবং সালাত কায়েম করা - এতে তিনি কোনো সন্দেহ করেননি - এবং জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং বাইতুল্লাহর হজ করা»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তার বিষয়ে বিস্মিত হলাম যে তিনি তাকে প্রশ্ন করছেন আবার তাকে সমর্থনও করছেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: «তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, পরকাল এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তার বিষয়ে বিস্মিত হলাম যে তিনি তাকে প্রশ্ন করছেন আবার তাকে সমর্থন করছেন। তিনি বললেন: আমাকে নেক আমল বা ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। ইয়াজিদ ইবনে জুরাই বলেছেন: ইহসান - এতে তিনি কোনো সন্দেহ করেননি। তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এমনভাবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয় তিনি তোমাকে দেখছেন»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তার বিষয়ে বিস্মিত হলাম যে তিনি তাকে প্রশ্ন করছেন আবার তাকে সমর্থন করছেন। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: «যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নয়»। তিনি বললেন: তবে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন: «দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে এবং তুমি নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, অভাবী মেষপালকদের সুউচ্চ দালান নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতে দেখবে»। উমর বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: «তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন?» ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «তিনি ছিলেন জিবরীল, তোমাদের দ্বীন শেখানোর জন্য তোমাদের নিকট এসেছিলেন»। আর এই শব্দবিন্যাস হিব্বানের।

(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
2 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا عَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، ثنا الْمُعْتَمِرُ، سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ يُحَدِّثُ عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَعِنْدَهُ قَوْمٌ فَذَهَبَ لِيَتَخَطَّى الْقَوْمَ فَمَنَعُوهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللَّهِ: دَعُوا الرَّجُلَ. قَالَ: فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْهِ فَقَالَ: حَدِّثْنِي بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ وَحَفِظْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ»
২ - আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ আল-নারসি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুতামির আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইসমাইলকে আমিরের সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসের নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় তাঁর নিকট একদল লোক উপস্থিত ছিল। লোকটি লোকদের টপকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা তাঁকে বাধা দিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ তাদের বললেন: লোকটিকে আসতে দাও। বর্ণনাকারী বলেন: ফলে লোকটি তাঁর নিকট এসে বসলেন এবং বললেন: আমাকে এমন একটি বিষয় বর্ণনা করে শোনান যা আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন এবং স্মরণ রেখেছেন। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে; আর প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিত্যাগ করে।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
3 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَاللَّفْظُ، لِمَالِكٍ عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرُ الرَّأْسِ نَسْمَعُ دَوِيَّ صَوْتِهِ وَلَا نَفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَمْسُ ⦗ص: 47⦘ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ» . فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ؟ فَقَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ» . وَذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصِّيَامَ، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ. قَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ» . وَذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الزَّكَاةَ، فَقَالَ: هَلْ عَليَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ» فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلَا أُنْقِصُ مِنْهُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ» وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ: أَفْلَحَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ أَوْ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ
৩ - হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস ও ইসমাইল ইবনে জাফর থেকে, আর শব্দগুলো মালিকের; তিনি আবু সুহাইল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: নজদবাসীদের মধ্য থেকে উস্কোখুস্কো চুলের এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলেন। আমরা তাঁর আওয়াযের গুণগুণ শব্দ শুনছিলাম কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা বুঝতে পারছিলাম না, যতক্ষণ না তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলেন। তখন দেখা গেল তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «দিন ও রাতে পাঁচ ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ ওয়াক্ত সালাত»। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এগুলো ছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি স্বেচ্ছায় নফল হিসেবে কিছু আদায় করো»। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়ামের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি স্বেচ্ছায় নফল হিসেবে কিছু আদায় করো»। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতের কথাও উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি স্বেচ্ছায় নফল হিসেবে কিছু আদায় করো»। তখন লোকটি এই বলতে বলতে প্রস্থান করলেন যে: আল্লাহর কসম! আমি এর ওপর কোনো বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কমাবও না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে সফল হবে যদি সে সত্য বলে থাকে»। আর ইসমাইল ইবনে জাফর বলেছেন: «সে সফল হবে, তার পিতার কসম যদি সে সত্য বলে থাকে» অথবা «সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার পিতার কসম যদি সে সত্য বলে থাকে»।
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
4 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَّارٍ الْمَوْصِلِيُّ، ثنا الْمُعَافَى، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلًا، قَالَ لَهُ: أَلَا تَغْزُو؟ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ "
৪ - আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার আল-মাওসিলি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-মুআফা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হানজালা ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে, তিনি ইকরামা ইবনে খালিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আপনি কি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন না? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের রোজা পালন করা।"
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌بَابُ التَّرْغِيبِ فِي قَضَاءِ حَوَائِجَ الْمُسْلِمِينَ
মুসলিমদের প্রয়োজন পূরণে উদ্বুদ্ধকরণ সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
5 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمَ، لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَشْتِمُهُ، مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
৫ - হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উকাইল থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «একজন মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই; সে তার ওপর জুলুম করবে না এবং তাকে গালি দেবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার কাজে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের কোনো বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের বিপদসমূহ হতে তার একটি বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌بَابُ التَّشْدِيدِ فِي أَذَى الْمُسْلِمِ
মুসলিমকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে কঠোরতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
6 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بن سُفْيَانَ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَابُورَ الرَّقِّيُّ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا ذَاكَ قَالَ: «جَارٌ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا بَوَائِقُهُ؟ قَالَ: «شَرُّهُ» ⦗ص: 50⦘ أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا دُحَيْمٌ، ثنا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ» فَذَكَرَ نَحْوَهُ
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাবুর আর-রাক্কী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল হামীদ অর্থাৎ ইবনে সুলায়মান, তিনি ইবনে আবী যিব থেকে, তিনি আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়; আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়; আল্লাহর কসম, সে আল্লাহর প্রতি ঈমানদার নয়»। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! সে কে? তিনি বললেন: «সেই প্রতিবেশী, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না»। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! 'বাওয়াইক' (অনিষ্ট) কী? তিনি বললেন: «তার মন্দ কাজ বা শার» ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন দুহাইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবী ফুদাইক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবী যিব, তিনি আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়; আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়» অতঃপর তিনি অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫০)
7 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، ثنا أَبِي، ثنا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ»
৭ - আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবায়দুল্লাহ বিন মুআয আল-আনবারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌بَابُ التَّشْدِيدِ فِي مُخَالَفَةِ السُّنَّةِ
সুন্নাহর বিরোধিতা করার ব্যাপারে কঠোরতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫১)
8 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْأَيْمَنُ، ثنا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ»
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আয়মান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল মাজিদ আস-সাকাফী, তিনি হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আওস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫১)
9 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ أَبُو مُحَمَّدٍ، ثنا شِهَابُ بْنُ خِرَاشٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا قَبْلِي فَاسْتَجْمَعَ لَهُ أَمْرَ ⦗ص: 52⦘ أُمَّتِهِ إِلَّا كَانَ فِيهِمُ الْمُرْجِئَةُ وَالْقَدَرِيَّةُ يُشَوِّشُونَ عَلَيْهِ أَمْرَ أُمَّتِهِ، أَلَا وَإِنَّ اللَّهَ لَعَنْ الْمُرْجِئَةَ وَالْقَدَرِيَّةَ عَلَى لِسَانِ سَبْعِينَ نَبِيًّا»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ বিন সাঈদ আবু মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শিহাব বিন খিরাশ, মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ আমার পূর্বে এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যার ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ উম্মতের বিষয়াদি তাঁর নিকট সুসংহত হয়েছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে মুরজিয়া ও কাদারিয়া সম্প্রদায় বিদ্যমান ছিল যারা তাঁর নিকট তাঁর উম্মতের বিষয়াবলিকে বিভ্রান্তিকর করে তুলত। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্তর জন নবীর যবানে মুরজিয়া ও কাদারিয়াদের ওপর লানত করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌بَابُ التَّشْدِيدِ فِي تَضْيِيعِ الْأَمَانَةِ
আমানত বিনষ্ট করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
10 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا شَيْبَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا أَبُو هِلَالٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: مَا خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا قَالَ: «لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ»
১০ - হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শায়বান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন, তখনই বলতেন: «যার আমানতদারি নেই তার ঈমান নেই, এবং যার অঙ্গীকার রক্ষা করার নিষ্ঠা নেই তার দ্বীন নেই।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌بَابٌ فِي التَّشْدِيدِ فِي الْكَذِبِ وَالْخِيَانَةِ
মিথ্যা এবং খেয়ানতের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
11 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، وَعَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَا: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ» ، زَادَ إِبْرَاهِيمُ «وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ» ، قَالَا جَمِيعًا: «مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ»
১১ - আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনুল হাজ্জাজ ও আবদুল আ'লা ইবনে হাম্মাদ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকে সে মুনাফিক।” ইব্রাহিম অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: “যদিও সে সিয়াম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে।” তাঁরা উভয়েই বর্ণনা করেছেন: “যে ব্যক্তি কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় তখন সে খেয়ানত করে।”
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌بَابُ الْأَعْمَالِ بِالنِّيَّةِ
নিয়ত অনুযায়ী আমলসমূহের অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
12 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ثنا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَا: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»
১২ - হাসান ইবন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিব্বান ইবন মুসা এবং আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আসমা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা ইবন ওয়াক্কাস আল-লাইসী থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। অতএব, যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই বিষয়ের দিকেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌بَابُ الْوُضُوءِ
অজুর অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
13 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ثنا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، ثنا هَمَّامٌ، ثنا قَتَادَةُ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْتَسِلُ بِقَدْرِ الصَّاعِ، وَيَتَوَضَّأُ بِقَدْرِ الْمُدِّ»
১৩ - আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুদবাহ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ থেকে, তিনি আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সা পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং এক মুদ পরিমাণ পানি দিয়ে ওযু করতেন।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
14 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَا: ثنا أَبُو عَوَانَةَ، وَاللَّفْظُ لِعَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، قَالَ: أَتَيْنَا عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ وَقَدْ صَلَّيْنَا الظُّهْرَ، فَدَعَا بِطُهُورٍ قُلْنَا: مَا يَصْنَعُ بِالطُّهُورِ وَقَدْ صَلَّى؟ مَا يُرِيدُ إِلَّا لِيُعَلِّمَنَا، قَالَ: فَدَعَا بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ وَطَسْتٍ، قَالَ: وَصَبَّ مِنَ الْإِنَاءِ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَغْمِسَهُمَا فِي الْإِنَاءِ ثُمَّ مَضْمَضَ ثَلَاثًا وَاسْتَنْشَقَ ثَلَاثًا، وَتَمَضْمَضَ مِنَ الْكَفِّ الَّذِي يَأْخُذُ، وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَيَدَهُ الْيُمْنَى ثَلَاثًا وَيَدَهُ الْيُسْرَى ثَلَاثًا، ثُمَّ جَعَلَ يَدَهُ فِي الْمَاءِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ مَرَّةً وَاحِدَةً، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى ثَلَاثًا ثُمَّ رِجْلَهُ الشِّمَالَ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَعْلَمَ طُهُورَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ هَذَا " ⦗ص: 58⦘ أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى بْنِ صُبَيْحٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَا: ثنا شَرِيكٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ
১৪ - আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে গিয়াস এবং কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আর শব্দাবলি আব্দুল ওয়াহিদের—তিনি খালিদ ইবনে আলকামা থেকে, তিনি আবদ খাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আলী ইবনে আবু তালিবের নিকট আসলাম যখন আমরা যোহরের সালাত আদায় করে নিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি ওযুর পানি চাইলেন। আমরা বললাম: তিনি ওযুর পানি দিয়ে কী করবেন অথচ তিনি তো সালাত আদায় করে ফেলেছেন? তিনি কেবল আমাদের শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এটি চেয়েছিলেন। রাবী বলেন: অতঃপর তিনি পানি ভর্তি একটি পাত্র এবং একটি গামলা আনালেন। তিনি বলেন: তিনি পাত্র থেকে তাঁর দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর পূর্বেই তা ধৌত করলেন। অতঃপর তিনবার কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিলেন; আর তিনি যে হাতের তালু দিয়ে পানি নিতেন তা থেকেই কুলি করতেন। তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন, তাঁর ডান হাত তিনবার ধৌত করলেন এবং বাম হাত তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করালেন এবং একবার তাঁর মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তিনি তাঁর ডান পা তিনবার ধৌত করলেন এবং তাঁর বাম পা তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর পদ্ধতি জানতে পেরে আনন্দিত হতে চায়, তবে তা এভাবেই।" ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সুবাইহ এবং আবু বকর ইবনে আবি শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: শারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে আলকামা থেকে, তিনি আবদ খাইর থেকে; অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
15 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا الْمُسَيَّبُ بْنُ وَاضِحٍ، ثنا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّةً مَرَّةً وَقَالَ: «هَذَا وُضُوءُ مَنْ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ الصَّلَاةَ إِلَّا بِهِ» ، ثُمَّ تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَقَالَ: «هَذَا وُضُوءُ مَنْ يُضَاعِفُ اللَّهُ لَهُ الْأَجْرَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ» ، ثُمَّ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ: «هَذَا وَضُوئِي وَوُضُوءُ الْمُرْسَلِينَ مِنْ قَبْلِي»
১৫ - হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসাইয়্যাব ইবনে ওয়াদিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবনে মায়সারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার করে [অঙ্গ ধৌত করে] ওযু করলেন এবং বললেন: “এটি এমন ওযু যা ব্যতীত আল্লাহ কারো সালাত কবুল করবেন না।” অতঃপর তিনি দুইবার করে ওযু করলেন এবং বললেন: “এটি এমন ওযু যার কারণে আল্লাহ দ্বিগুণ সওয়াব দান করবেন।” অতঃপর তিনি তিনবার করে ওযু করলেন এবং বললেন: “এটি আমার ওযু এবং আমার পূর্ববর্তী রাসূলগণের ওযু।”
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
16 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ أَيُّوبَ، صَاحِبُ الْبَصْرِيِّ، وَأَبُو كَامِلٍ الْفُضَيْلُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالُوا: ثنا ⦗ص: 59⦘ أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي مَلِيحٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ، وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ»
১৬ - আল-হাসান ইবন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতায়বাহ ইবন সাঈদ, সুলায়মান ইবন আইয়ুব—যিনি আল-বসরীর সঙ্গী—এবং আবু কামিল আল-ফুদাইল ইবন আল-হুসাইন। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু মালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত মাল থেকে কোনো সাদাকাহ কবুল করেন না»।
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
17 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ، فَإِذَا اسْتَنْثَرَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ أَنْفِهِ، فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ، فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ، فَإِذَا مَسَحَ بِرَأْسِهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَأْسِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ» قَالَ: «ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلَاتُهُ نَافِلَةً لَهُ»
১৭ - আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন কোনো মুমিন বান্দা ওজু করে এবং কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়। অতঃপর যখন সে নাক ঝাড়ে, তখন তার নাক থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়। যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখমণ্ডল থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার চোখের পাতার নিচ থেকেও বের হয়ে যায়। যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন তার দুই হাত থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার হাতের নখের নিচ থেকেও বের হয়ে যায়। যখন সে তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথা থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার দুই কান থেকেও বের হয়ে যায়। যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন তার দুই পা থেকে পাপসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তা তার দুই পায়ের নখের নিচ থেকেও বের হয়ে যায়।» তিনি বলেন: «অতঃপর মসজিদে তার হেঁটে যাওয়া এবং তার সালাত আদায় করা তার জন্য অতিরিক্ত সওয়াব হিসেবে গণ্য হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌بَابُ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ
চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬০)
18 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ثنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى الْوَاسِطِيُّ، ثنا شَرِيكٌ، ح قَالَ: وَثنا أَبُو كَامِلٍ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، كِلَاهُمَا، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَسْحِ، فَقَالَ: «لِلْمُسَافِرِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ، وَلِلْمُقِيمِ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ» . زَادَ شَرِيكٌ: «لَوِ اسْتَزَادَهُ لَجَعَلَهَا خَمْسًا»
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন সুফইয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়াসিতী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শারীক। (হাওলাহ) তিনি বলেন: এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কামিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ; তাঁরা উভয়ে সাঈদ বিন মাসরূক থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আমর বিন মাইমুন থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালী থেকে এবং তিনি খুযায়মাহ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: «মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তাদের রাতসমূহ, আর মুকীমের জন্য এক দিন ও এক রাত»। শারীক অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «যদি সে আরও বৃদ্ধি করতে চাইত, তবে তিনি তা পাঁচ (দিন) করে দিতেন»।
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬১)
‌‌بَابُ الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ
জানাবাত থেকে গোসলের অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আরবাঊনা লিন নাসাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬১)
19 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ النَّرْسِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ، ح قَالَ: ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، كِلَاهُمَا، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَالسِّيَاقُ لِابْنِ أَبِي الزِّنَادِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ، فَيَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يَغْمِسُ يَدَيْهِ بِالْمَاءِ فَيُخَلِّلُ بِأَصَابِعِهِ حَتَّى يَسْتَبْرِيَ الْبَشَرَةَ فَيُخَلِّلُ أُصُولَ شَعْرِ رَأْسِهِ مُقَدِّمِهِ وَمُؤَخِّرِهِ، وَأُذُنَيْهِ ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ غَرَفَاتٍ مِنْ إِنَاءٍ بِيَدَيْهِ، ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى جِلْدِهِ كُلِّهِ ". أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ ثنا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَزَادَ فِي آخِرِهِ: فَإِذَا خَرَجَ مِنْ مُغْتَسَلِهِ غَسَلَ قَدَمَيْهِ "
১৯ - হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল আ’লা বিন হাম্মাদ আন-নারসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান বিন আবুয যিনাদ থেকে, (হ) তিনি বলেন: কুতাইবাহ বিন সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে, তাঁরা উভয়ে হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। আর এই হাদিসের ভাষ্য ইবনে আবুয যিনাদের বর্ণনার অনুরূপ; নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করতেন, তখন তিনি তাঁর হাত ধোয়ার মাধ্যমে শুরু করতেন। অতঃপর নামাজের অজুর ন্যায় অজু করতেন। তারপর নিজের হাত পানিতে ডুবিয়ে আঙুল দিয়ে খেলাল করতেন যাতে চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছানো নিশ্চিত হয়। এরপর তিনি মাথার চুলের গোড়া—সামনের অংশ ও পেছনের অংশ—এবং কানসমূহ খেলাল করতেন। অতঃপর পাত্র থেকে উভয় হাতে তিন আঁজলা পানি নিয়ে মাথায় ঢালতেন এবং এরপর তাঁর পুরো শরীরের ওপর পানি প্রবাহিত করতেন। হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুদবাহ বিন খালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জানাবাত থেকে গোসল করার ইচ্ছা করতেন... অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং শেষে অতিরিক্ত উল্লেখ করেন: যখন তিনি গোসলের স্থান থেকে বের হতেন, তখন তিনি তাঁর দুই পা ধৌত করতেন।