(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: -)
الآداب للبيهقي   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الآداب للبيهقي

المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (ت 458هـ)

اعتنى به وعلق عليه: أبو عبد الله السعيد المندوه

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 351

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আদাব লিল-বাইহাকী   (আবু বকর আল-বাইহাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-আদাব লিল-বাইহাকী

লেখক: আহমাদ ইবনুল হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-খুসরাওজিরদী আল-খুরাসানী, আবু বকর আল-বাইহাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: আবু আব্দুল্লাহ আস-সাঈদ আল-মানদুহ

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৮ ঈসায়ী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫১

[কিতাবের নম্বর প্রদান মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٣)
الْآدَابِ لِلْبَيْهَقِيِّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ أَخْبَرَنِي الشَّيْخُ الصَّالِحُ أَبُو زَكَرِيَّا مُحْيي بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نِعْمَةَ الْمَقْدِسِيُّ، بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ سَنَةَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ وَسَبْعِمِائَةٍ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَنِي الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ السُّلَمِيُّ الْمُرْسِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ سَنَةَ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ وِسِتِّمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مَنْصُورُ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الصَّاعِدِيُّ، سَمَاعًا عَلَيْهِ بِنَيْسَابُورَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْخَوَارِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ سِوَى مِنْ بَابِ: «مَنْ حَمِدَ اللَّهَ تَعَالَى فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَشَكَرَهُ عَلَى عَطَائِهِ» إِلَى آخِرِ الْكِتَابِ فَأَجَازَهُ مِنْهُ إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، وَأَبُو جَدِّي الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْفَرَاوِيُّ، إِجَازَةً بِجَمِيعِهِ، قَالَا جَمِيعًا أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُوْسَى الْبَيْهَقِيُّ، رحمه الله قَالَ الْفَرَاوِيُّ بِجَمِيعِهِ وَقَالَ الْخَوَارِيُّ بِهِ كُلُّهُ سِوَى مِنْ بَابِ: عِيَادَةِ الْمَرِيضِ إِلَى بَابِ تَطَيُّبِ الْمَطْعَمِ وَالْمَلْبَسِ"، فَأَجَازَهُ بِهَذَا الْقَدْرِ إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالصَّلَاةُ عَلَى الْمُصْطَفَى رَسُولِ اللَّهِ مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ، وَعَلَى آلِهِ أَجْمَعِينَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ، أَمَّا بَعْدُ

বায়হাক্বী রচিত আল-আদাব। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সৎ শায়খ আবু জাকারিয়া মুহয়ি বিন আহমাদ বিন নিমাহ আল-মাকদিসী, সাতশত চৌদ্দ হিজরি সালে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাঁকে বলেছি: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল ফদল আস-সুলামী আল-মুরসী, ছয়শত ছেচল্লিশ হিজরি সালে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং আপনি তা শ্রবণ করছিলেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মনসুর বিন আব্দুল মুনইম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফদল আস-সাঈদী, নিশাপুরে তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-খাওয়ারী তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে, তবে "যে ব্যক্তি সুখ ও দুঃখে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে এবং তাঁর নিআমতের শুকরিয়া আদায় করে" পরিচ্ছেদ হতে কিতাবের শেষ পর্যন্ত ব্যতীত; যদি তা শ্রবণের মাধ্যমে না হয়ে থাকে তবে তিনি এর ইজাজত দিয়েছেন। এবং আমার প্রপিতামহ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফদল বিন আহমাদ আল-ফারাওয়ী সম্পূর্ণ কিতাবটির ইজাজত দিয়েছেন। তারা উভয়েই বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফেজ আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-বায়হাক্বী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। আল-ফারাওয়ী সমগ্র কিতাবটি বর্ণনা করেছেন এবং আল-খাওয়ারী এর সম্পূর্ণ অংশটি বর্ণনা করেছেন তবে "অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া" পরিচ্ছেদ হতে শুরু করে "খাবার ও পোশাক সুগন্ধিময় করা" পরিচ্ছেদ পর্যন্ত ব্যতীত; যদি শ্রবণ করা না হয়ে থাকে তবে তিনি এই অংশের ইজাজত দিয়েছেন। তিনি বলেন: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ বর্ষিত হোক মনোনীত আল্লাহর রাসুল নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের সকলের ওপর। সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। অতঃপর—

(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٤)
فَإِنَّ اللَّهَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ لَمَّا سَهَّلَ - وَلَهُ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ - إِيجَازَ مَا صَنَّفْتُهُ فِي الْأُصُولِ فِي كِتَابٍ سَمَّيْتُهُ «الاعْتِقَادَ» ، واخْتِصَارَ مَا خَرَّجْتُهُ فِي الْفُرُوعِ فِي كِتَابٍ سَمَّيْتُهُ «الْمُخْتَصَرَ» أَرَدْتُ وَالْمَشِيئَةُ لِلَّهِ عز وجل أَنْ أَضُمَّ إِلَيْهِ كِتَابًا مُخْتَصَرًا فِيْمَا رُويَ فِي الْبِرِّ وَالصِّلَةِ، وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ، وَالْآدَابِ وَالْكَفَّارَاتِ، لِيَكُونَ كَافِيًا مَعَ الْمُخْتَصَرِينَ لِمَنْ لَمْ يَصِلْ إِلَى تَحْصِيلِ الْكُتُبِ الْمَبْسُوطَةِ، مُغْنِيًا مَعَهَا عَنْهَا. وَاسْتَخْرْتُ اللَّهَ فِي ذَلِكَ فِي جَمِيعِ أُمُورِي، وَاسْتَعَنْتُ بِهِ عَلَى إِتْمَامِهِ، وَسَأَلْتُهُ - عَزَّ اسْمُهُ - التَّوْفِيقَ لِطَاعَتِهِ، وَالتَّوَرُّعَ عَنْ مَعْصِيَتِهِ، وَأَنْ يُدْخَلَنَا بِفَضْلِهِ فِي أَهْلِ رَحْمَتِهِ، وَلَا يَجْعَلَنَا مَنْ أَهْلِ عُقُوبَتِهِ، إِنَّهُ قَرِيبُُ مُجِيبٌ، وَبِعِبَادِهِ رَءُوفٌ رَحِيمٌ.
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা—যাঁর প্রশংসা সুউচ্চ—যখন সহজ করে দিলেন (এবং সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল তাঁরই জন্য) ‘উসূল’ (মূলনীতি) বিষয়ে আমার সংকলিত বিষয়সমূহকে ‘আল-ই’তিকাদ’ নামক গ্রন্থে সংক্ষিপ্ত করা এবং ‘ফুরু’ (শাখা-প্রশাখা) বিষয়ে আমি যা বের করেছি তা ‘আল-মুখতাসার’ নামক গ্রন্থে সারসংক্ষেপ করা; তখন আমি ইচ্ছা পোষণ করলাম—আর সকল ইচ্ছা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহরই—যে আমি এর সাথে সদ্ব্যবহার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, সচ্চরিত্র, আদব-কায়দা এবং কাফফারা সম্পর্কিত বর্ণিত বিষয়সমূহের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যুক্ত করব। যাতে যারা বিস্তারিত গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করতে সক্ষম নয়, তাদের জন্য এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর সাথে এটিই যথেষ্ট হয় এবং তা বিস্তারিত গ্রন্থসমূহের অভাব পূরণ করে দেয়। আমি আমার এই কাজে এবং যাবতীয় বিষয়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা (ইস্তিখারা) করেছি এবং এটি সম্পন্ন করতে তাঁরই সাহায্য চেয়েছি। আমি তাঁর কাছে—যাঁর নাম মহিমান্বিত—তাঁর আনুগত্য করার তাওফিক এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক প্রার্থনা করেছি। আরও প্রার্থনা করেছি যে, তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহে আমাদের তাঁর রহমতপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমাদের তাঁর শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত না করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, প্রার্থনা কবুলকারী এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٥)
بَابٌ فِي بِرِّ الْوَالِدَيْنِ قَالَ اللَّهُ عز وجل {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا} [الإسراء: 23] وَقَالَ {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا} [الأحقاف: 15]

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ বিষয়ক অধ্যায়। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {আপনার প্রতিপালক ফয়সালা করে দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করবে। যদি তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তুমি তাদেরকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।} [আল-ইসরা: ২৩] এবং তিনি বলেছেন: {আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছি।} [আল-আহকাফ: ১৫]

(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٥)
1 - أَخْبَرَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ رحمه الله، أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو خَلِيفَةَ الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَمُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ وَأَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، وَحَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ دَاوُدَ الْحُسَيْنِيُّ الْعَلَوِيُّ، رحمه الله إِمْلَاءً، وأنا أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ دَلَّوَيْهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، أنا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالُوا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ الْوَلِيدُ بْنُ الْعَيْزَارِ: سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ يَقُولُ: أَخْبَرَنِي صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عز وجل؟ قَالَ: «الصَّلَاةُ لِوَقْتِهَا» . قُلْتُ، ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «بِرُّ الْوَالِدَيْنِ» . قُلْتُ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» . قَالَ: وَحَدَّثَنِي بِهَذِهِ وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي. لَفْظُ حَدِيثِ الْعَلَوِيِّ
১ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আলী আল-হুসাইন বিন আলী আল-হাফিয আমাদের জানিয়েছেন, আবু খলীফাহ আল-ফদল বিন আল-হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-ওয়ালীদ, মুহাম্মদ বিন কাসীর ও আবু উমর আল-হাওদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন দাউদ আল-হুসাইনী আল-আলাওয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এবং আমি আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন দালওয়াইহ-এর সূত্রে, মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-ওয়ালীদ হিশাম বিন আব্দুল মালিক আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা সকলে বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালীদ বিন আল-আইযার বলেন: আমি আবু আমর আশ-শাইবানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে এই ঘরের অধিবাসী সংবাদ দিয়েছেন—এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে আব্দুল্লাহর ঘরের দিকে ইশারা করলেন—তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বললেন: «সময়মতো সালাত আদায় করা»। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ»। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «আল্লাহর পথে জিহাদ»। তিনি বললেন: তিনি আমাকে এই কথাগুলো বর্ণনা করেছেন, আর আমি যদি তাঁর নিকট আরও অধিক জানতে চাইতাম তবে তিনি আমাকে আরও বলতেন। এটি আল-আলাওয়ীর বর্ণিত হাদীসের শব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٥)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْحَافِظُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ ⦗ص: 6⦘ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا أَبُو بَدْرٍ شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شُبْرُمَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَحَقُّ مِنِّي بِحُسْنِ الصُّحْبَةِ؟ قَالَ: «أُمُّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ أُمُّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ أَبُوكَ» . وَرَوَاهُ وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شُبْرُمَةَ، وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: «أُمَّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «أُمَّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «أُمَّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «أَبَاكَ»
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-হাফিজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইব্রাহীম ⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘ বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বদর শুজা বিন আল-ওয়ালিদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন শুবরুমা, তিনি আবু যুরআ বিন আমর বিন জারীর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পক্ষ থেকে উত্তম সাহচর্য পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বললেন: «তোমার মা»। তিনি বললেন: তারপর কে? তিনি বললেন: «তারপর তোমার মা»। তিনি বললেন: তারপর কে? তিনি বললেন: «তারপর তোমার বাবা»। আর এটি বর্ণনা করেছেন উহাইব বিন খালিদ, ইবনে শুবরুমা থেকে, এবং তিনি হাদীসটিতে বলেছেন: হে আল্লাহর নবী, কার প্রতি সবচেয়ে বেশি সদাচরণ করব? তিনি বললেন: «তোমার মা»। তিনি বললেন: তারপর কে? তিনি বললেন: «তোমার মা»। তিনি বললেন: তারপর কে? hospital «তোমার মা»। তিনি বললেন: তারপর কে? তিনি বললেন: «তোমার বাবা»।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٦)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُوعَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ، وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَا: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي الْوَلِيدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَعْرَابِ لَقِيَهُ بِطَرِيقِ مَكَّةَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ وَحَمَلَهُ عَلَى حِمَارٍ كَانَ يَرْكَبُهُ، وَأَعْطَاهُ عِمَامَةً كَانَتْ عَلَى رَأْسِهِ، فَقَالَ ابْنُ دِينَارٍ: فَقُلْنَا لَهُ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ، إِنَّهُمُ الْأَعْرَابُ يَرْضَوْنَ بِالْيَسِيرِ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: إِنَّ أَبَا هَذَا كَانَ وَادًّا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ صِلَةُ الْوَلَدِ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ» وَفِي رِوَايَةٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَيْضًا: أَنَّهُ إِذَا خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ كَانَ لَهُ حِمَارٌ يَتَرَوَّحُ عَلَيْهِ إِذَا مَلَّ رُكُوبَ الرَّاحِلَةِ، وَعِمَامَةٌ يَشُدُّ بِهَا رَأْسَهُ، فَبَيْنَمَا هُوَ يَوْمًا عَلَى ذَلِكَ الْحِمَارِ إِذْ مَرَّ بِهِ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: أَلَسْتَ ابْنَ ⦗ص: 7⦘ فُلَانٍ؟ قَالَ: بَلَى، فَأَعْطَاهُ الْحِمَارَ، فَقَالَ: ارْكَبْ هَذَا، وَالْعِمَامَةَ وَقَالَ: اشْدُدْ بِهَا رَأْسَكَ، فَلَمَّا أَدْبَرَ الْأَعْرَابِيُّ قَالَ لَهُ بَعْضُ أَصْحَابِهِ: كَانَ هَذَا يَرْضَى بِدِرْهَمٍ أَوْ دِرْهَمَيْنِ، فَأَعْطَيْتَهُ حِمَارَكَ الَّذِي كُنْتَ تَرُوحُ عَلَيْهِ إِذَا مَلِلْتَ رَاحِلَتَكَ، وَعِصَابَتَكَ الَّتِي كُنْتَ تَشُدُّ بِهَا رَأْسَكَ قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ صِلَةُ الْمَرْءِ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ بَعْدَ مَا ثَوَّى» كَذَا فِي كِتَابِي، وَقَالَ غَيْرُهُ: بَعْدَ مَا تَوَلَّى، وَرَوَاهُ خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، فَذَكَرَ الْقِصَّةَ، وَحُكِيَ أَنَّ الْأَعْرَابِيَّ كَانَ صَدِيقًا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، ثُمَّ قَالَ: قَالَ ابْنُ عُمَرَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «احْفَظْ وُدَّ أَبِيكَ، وَلَا تَقْطَعْهُ فَيُطْفِئُ اللَّهُ نُورَكَ»
৩ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আর মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-ফকিহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ওয়ালিদ ইবনে আবিল ওয়ালিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: মক্কার পথে জনৈক মরুবাসীর (বেদুইন) সাথে তার সাক্ষাৎ হলো। আব্দুল্লাহ তাকে সালাম দিলেন এবং তাকে নিজের ব্যবহৃত একটি গাধার পিঠে আরোহণ করালেন এবং নিজের মাথার পাগড়িটি তাকে দান করলেন। ইবনে দিনার বলেন, তখন আমরা তাকে বললাম: আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন, এরা তো সাধারণ মরুবাসী, অল্পতেই সন্তুষ্ট হয়ে যেত। তখন আব্দুল্লাহ (রা.) বললেন: এই ব্যক্তির পিতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু ছিলেন। আর আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «সবচেয়ে বড় নেক আমল হলো সন্তানের তার পিতার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা»। ইবনে উমর (রা.) থেকে অন্য এক বর্ণনায় আরও রয়েছে যে: তিনি যখন মক্কার উদ্দেশ্যে বের হতেন, তখন তার সাথে একটি গাধা থাকত, উটের পিঠে চড়তে চড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তিনি বিশ্রামের জন্য সেটির উপর সওয়ার হতেন। আর তার মাথায় বাঁধার জন্য একটি পাগড়ি ছিল। একদিন তিনি যখন ওই গাধার পিঠে ছিলেন, তখন এক মরুবাসী তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। ইবনে উমর (রা.) বললেন: তুমি কি ⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘ অমুকের পুত্র নও? সে বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি তাকে গাধাটি দিয়ে দিলেন এবং বললেন: এটিতে চড়ে বসো। পাগড়িটিও দিয়ে বললেন: এটি দিয়ে তোমার মাথা বেঁধে নাও। যখন মরুবাসী ব্যক্তিটি চলে গেল, তখন তার সাথীদের একজন তাকে বলল: এই ব্যক্তি তো এক বা দুই দিরহাম পেলেই সন্তুষ্ট হয়ে যেত, অথচ আপনি তাকে আপনার ওই গাধাটি দিয়ে দিলেন যেটিতে আপনি উটের পিঠে চড়ে ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নিতেন এবং আপনার ওই পাগড়িটিও দিয়ে দিলেন যা দিয়ে আপনি মাথা বাঁধতেন। তিনি বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «সবচেয়ে বড় নেক আমল হলো ব্যক্তির তার পিতার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তার (পিতার) মৃত্যুর পর»। আমার কিতাবে এভাবেই আছে। অন্যরা বলেছেন: ‘তার চলে যাওয়ার পর’। আর এটি খালিদ ইবনে ইয়াযিদ আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ঘটনাটি উল্লেখ করেন। আর বর্ণিত হয়েছে যে, ওই মরুবাসী উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বন্ধু ছিলেন। এরপর তিনি বলেন: ইবনে উমর (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমার পিতার বন্ধুত্ব রক্ষা করো এবং তা ছিন্ন করো না, অন্যথায় আল্লাহ তোমার নূর নিভিয়ে দেবেন»।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٧)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الزَّيْبِيُّ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَنْظَلَةَ بْنِ الرَّاهِبِ بْنِ الْغَسِيلِ، حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي أَسِيدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَاعِدَةَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبَوَيَّ قَدْ هَلَكَا، فَهَلْ بَقِيَ مِنْ بِرِّهِمَا شَيْءٌ أَصِلُهُمَا بِهِ بَعْدَ مَوْتِهِمَا؟ قَالَ: " نَعَمْ، بِأَرْبَعَةِ أَشْيَاءَ: الصَّلَاةُ عَلَيْهِمَا، وَالِاسْتِغْفَارُ لَهُمَا، وَإِنْفَاذُ عَهْدِهِمَا مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِمَا، وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا، وَصِلَةُ رَحِمِهِمَا الَّتِي لَا رَحِمَ لَكَ إِلَّا مِنْ قِبَلِهِمَا " قَالَ: مَا أَكْثَرَ هَذَا وَأَطْيَبَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «فَاعْمَلْ بِهِ، فَإِنَّهُ يَصِلُ إِلَيْهِمَا»
4 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আবদান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আয-যাইবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার আল-ফাজারী, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে সুলাইমান ইবনে হানজালাহ ইবনে আর-রাহিব ইবনুল গাসীল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আসাদ ইবনে আলী, তিনি তাঁর পিতা আলী ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি আবু আসাইদ আস-সাঈদী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: বনু সাঈদাহ গোত্রের এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতামাতা মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের মৃত্যুর পর কি তাঁদের প্রতি সদাচরণের এমন কিছু অবশিষ্ট আছে যার মাধ্যমে আমি তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, চারটি বিষয়ের মাধ্যমে: তাঁদের জন্য দোয়া করা, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের কৃত অঙ্গীকার পূরণ করা, তাঁদের বন্ধুদের সম্মান করা এবং তাঁদের মাধ্যমে সম্পৃক্ত আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা যাদের সাথে তোমার অন্য কোনো দিক দিয়ে আত্মীয়তা নেই।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি কতই না চমৎকার এবং কতই না উত্তম! তিনি বললেন: "তবে তুমি এ অনুযায়ী আমল করো, নিশ্চয়ই তা তাঁদের কাছে পৌঁছাবে।"
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٧)
بَابٌ: فِي صِلَةِ الرَّحِمِ وَالرَّحِمُ: الْقَرَابَةُ قَالَ اللَّهُ عز وجل فِيمَنْ وَصَلَ الرَّحِمَ: {وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الحِسَابِ} [الرعد: 21]⦗ص: 8⦘ وَقَالَ فِيمَنْ قَطَعَ الرَّحِمَ: {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ} [محمد: 23]
পরিচ্ছেদ: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। আর ‘রাহিম’ হলো: নিকটাত্মীয়তা। যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ যা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন যারা তা বজায় রাখে, তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং মন্দ হিসাবের আশঙ্কা করে।} [আর-রাদ: ২১]⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘ আর যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {তবে কি তোমরা ক্ষমতা লাভ করলে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে? এরাই তারা যাদের আল্লাহ অভিশপ্ত করেছেন, অতঃপর তিনি তাদের বধির করেছেন এবং তাদের দৃষ্টিসমূহকে অন্ধ করে দিয়েছেন।} [মুহাম্মদ: ২৩]
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٨)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْعَدْلُ بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْبُحْتُرِيُّ الرَّزَّازُ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الْأَزْرَقُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ مَوْهَبٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ أَعْرَابِيًّا عَرَضَ لِنَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرٍ لَهُ، فَأَخَذَ بِحَكَامِ النَّاقَةِ أَوْ زِمَامِهَا فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْ يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي بِمَا يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ قَالَ: «تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصِلُ الرَّحِمَ»
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-আদল বাগদাদে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আমর আল-বুহুতুরি আর-রাজজাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইউসুফ আল-আজরাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে উসমান ইবনে মাওহাব, মুসা ইবনে তালহা থেকে বর্ণিত, আবু আইয়ুব আল-আনসারি থেকে বর্ণিত যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এক সফরে তাঁর সামনে আসলেন। অতঃপর সে উটনীর লাগাম বা তার রশি ধরল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল অথবা হে মুহাম্মদ! আমাকে এমন আমল সম্পর্কে বলুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। তিনি বললেন: “তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে।”
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٨)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ الْقَاسِمِ السِّيَادِيُّ، وَحَدَّثَنَا أَبُو الْمُوَجِّهِ، أَنْبَأَنَا عَبْدَانُ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنْبَأَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي مُزَرِّدٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَمِّي سَعِيدَ بْنَ يَسَارٍ، أَنْبَأَنَا الْحُبَابُ، مُحَدِّثٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْخَلْقَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ خَلْقِهِ، قَالَتِ الرَّحِمُ: هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ مِنَ الْقَطِيعَةِ؟ قَالَ: نَعَمْ، أَلَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ: بَلَى يَا رَبِّ، قَالَ: فَذَلِكَ لَكِ ". قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " اقْرَءُوا: {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ، أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ} [محمد: 23] "
৬ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম বিন আল-কাসিম আস-সিয়াদি আমাদের জানিয়েছেন এবং আবু আল-মুওয়াজ্জিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদান আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক আমাদের জানিয়েছেন, মুয়াবিয়া বিন আবি মুযাররিদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার চাচা সাঈদ বিন ইয়াসারকে বলতে শুনেছি, আল-হুবাব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি আবু হুরাইরা থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর যখন তিনি তাঁর সৃষ্টি কাজ সম্পন্ন করলেন, তখন জরায়ু (আত্মীয়তার বন্ধন) দাঁড়িয়ে বলল: এটি আত্মীয়তা ছিন্ন করা হতে আপনার নিকট আশ্রয়প্রার্থীর স্থান। তিনি (আল্লাহ) বললেন: হ্যাঁ, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব এবং যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব? সে বলল: অবশ্যই, হে আমার প্রতিপালক। তিনি বললেন: তবে এটি তোমার জন্য নিশ্চিত করা হলো।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তোমরা চাইলে পাঠ করো: {তবে কি তোমাদের কাছ থেকে এটাই আশা করা যায় যে, যদি তোমরা ক্ষমতা লাভ করো, তবে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে? এরা তারাই যাদেরকে আল্লাহ লানত করেছেন, অতঃপর তিনি তাদেরকে বধির করেছেন এবং তাদের দৃষ্টিসমূহকে অন্ধ করে দিয়েছেন} [মুহাম্মদ: ২২-২৩]"
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٨)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ الْأَصْبَهَانِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْأَعْرَابِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ⦗ص: 9⦘ «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعٌ»
৭ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাঈদ আল-আরাবি আমাদের জানিয়েছেন, হাসান বিন মুহাম্মদ আজ-জাফরানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের বর্ণনা করেছেন, জুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জুবাইর বিন মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘ «আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।»
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٩)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبَّاسٍ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ وَالْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو وَفِطْرِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سُفْيَانُ: لَمْ يَرْفَعْهُ الْأَعْمَشُ، وَرَفَعَهُ الْحَسَنُ وَفِطْرٌ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ، وَلَكِنِ الْوَاصِلُ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا»
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন কাসীর আল-আবদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, তিনি আমাশ, হাসান ইবন আমর এবং ফিতর ইবন খলিফা থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, আর তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেন। সুফিয়ান বলেন: আমাশ একে মারফু (রাসূলের বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেননি, তবে হাসান ও ফিতর একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সেই ব্যক্তি প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয় যে কেবল সমান প্রতিদান দেয়, বরং প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি, যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হলে সে তা জোড়া দেয় (বজায় রাখে)।»
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٩)
9 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ عُقْبَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الْكَاشِحِ»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের জানিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী আস-সানআনী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইবরাহীম, আমাদের জানিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের জানিয়েছেন মা'মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি হুমাইদ বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বিদ্বেষ পোষণকারী নিকটাত্মীয়কে দান করাই হলো সর্বোত্তম সদকা»।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٩)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَلَوِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الرَّمْجَارِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْغَطَفَانِيُّ، عَنْ أبيه، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُهُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ»
১০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-আলাবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-রামজারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন হাশিম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওকি’, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উইয়াইনাহ বিন আবদুর রহমান আল-গাতাফানি, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «বিদ্রোহ এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার চেয়ে এমন কোনো গুনাহ নেই যার জন্য আল্লাহ দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা অধিক সমীচীন মনে করেন, পরকালে তার জন্য (শাস্তি) সঞ্চিত রাখা সত্ত্বেও।»
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ٩)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْأَصْبَهَانِيُّ، أنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ عَادَ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَقَالَ: خَيْرُهُمْ وَأَوْصَلُهُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ مَا عَلِمْتُ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: ⦗ص: 10⦘ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " قَالَ اللَّهُ عز وجل: أَنَا اللَّهُ؟ وَأَنَا الرَّحْمَنُ، خَلَقْتُ الرَّحِمَ، وَشَقَقْتُ لَهَا اسْمًا مِنَ اسْمِي، فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَهَا قَطَعْتُهُ، أَوْ قَالَ: بَتَتُّهُ ". وَرُوِيَ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنها قَالَتْ: قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ قُلْتُ: قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ رَاغِبَةٌ، أَأَصِلُهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» . قَالَ سُفْيَانُ: وَفِيهَا نَزَلَتْ {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ} [الممتحنة: 8] الْآيَةَ
১১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-আসবাহানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী, আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান ইবন মুহাম্মাদ আজ-জাফরানী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুর রহমান ইবন আওফ আবু দারদাকে দেখতে গেলেন। তিনি (আবু দারদা) বললেন: "আমার জানামতে আবু মুহাম্মাদ তাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় সবচেয়ে অগ্রগামী।" তখন আবদুর রহমান ইবন আওফ বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: আমিই আল্লাহ, আর আমিই রহমান। আমি আত্মীয়তার বন্ধন (রাহিম) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকে এর নাম নির্গত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বন্ধন বজায় রাখবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব। আর যে ব্যক্তি এই বন্ধন ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব, অথবা তিনি বলেছেন: আমি তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।" আসমা বিনত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট আসলেন। তখন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফতোয়া জানতে চেয়ে বললাম: "আমার মা আমার নিকট এসেছেন এবং তিনি সান্নিধ্য প্রত্যাশী, আমি কি তাঁর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সুফিয়ান বলেন: আর এই প্রেক্ষিতেই নাযিল হয়েছে— {আল্লাহ তোমাদেরকে ওই সব লোকদের সাথে সদাচরণ ও ইনসাফ করতে নিষেধ করেন না, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি} [আল-মুমতাহিনা: ৮] আয়াতটি।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٠)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمُنَادِي، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ السَّمَّاكِ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ قَالَ: " قَالَتْ أُمُّ سَعْدٍ: أَلَيْسَ قَدْ أَمَرَ اللَّهُ بِبِرِّ الْوَالِدَةِ، فَوَاللَّهِ لَا أَطْعَمُ طَعَامًا، وَلَا أَشْرَبُ شَرَابًا، حَتَّى تَكْفُرَ أَوْ تَمُوتَ. فَكَانُوا إِذَا أَرَادُوا أَنْ يُطْعِمُوهَا أَوْ يَسْقُوهَا شَجَرُوا فَاهَا بِعَصًا، ثُمَّ أَوْجَرُوهَا الطَّعَامَ وَالشَّرَابَ، فَنَزَلَتْ: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا وَإِنْ جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا} [العنكبوت: 8] "
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইবনে বিশরান, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আলী ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-মুনাদি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব ইবনে জারীর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বা, সিম্মাক থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "সাদের মা বলেছিলেন: আল্লাহ কি মায়ের সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেননি? আল্লাহর কসম, আমি কোনো খাদ্য গ্রহণ করব না এবং কোনো পানীয় পান করব না, যতক্ষণ না তুমি কুফরি করো অথবা আমি মারা যাই। ফলে তারা যখন তাকে খাওয়াতে বা পান করাতে চাইতেন, তখন তারা লাঠি দিয়ে তার মুখ ফাঁক করতেন, এরপর তার মুখে খাবার ও পানীয় ঢেলে দিতেন। তখন অবতীর্ণ হলো: {আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। আর যদি তারা তোমার সাথে এই চেষ্টা চালায় যে, তুমি আমার সাথে এমন কিছু শরিক করো যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করো না।} [আল-আনকাবুত: ৮]"
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌بَابٌ: فِي رَحْمَةِ الْأَوْلَادِ وَتَقْبِيلِهِمْ وَالْإِحْسَانِ إِلَيْهِمْ
পরিচ্ছেদ: সন্তানদের প্রতি মমতা, তাদের চুম্বন করা এবং তাদের প্রতি সদাচরণ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٠)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْأَصْبَهَانِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ ⦗ص: 11⦘ الْحُسَيْنِ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الشِّيمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ، وَالْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ التَّمِيمِيُّ جَالِسٌ عِنْدَهُ، فَقَالَ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِي عَشَرَةً مِنَ الْوَلَدِ مَا قَبَّلْتُ مِنْهُمْ إِنْسَانًا قَطُّ قَالَ: فَنَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «مَنْ لَا يَرْحَمُ لَا يُرْحَمُ»
১৩ - আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-আসবাহানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন ⦗পৃ: ১১⦘ আল-হুসাইন আল-কাত্তান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবন ইউসুফ আশ-শিমি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ইবনে আলীকে চুম্বন করলেন, আর আকরা’ ইবন হাবিস আত-তামিমি তাঁর নিকট বসা ছিলেন। তখন আকরা’ ইবন হাবিস বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার দশজন সন্তান রয়েছে, আমি তাদের কাউকেও কখনো চুম্বন করিনি। বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন: «যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।»
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمَشٍ الْفَقِيهُ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: ذَكَرَ سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: جَاءَ أَعْرَابيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: أَتُقَبِّلُونَ الصِّبْيَانَ، فَمَا نُقَبِّلُهُمْ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَ أَمْلِكُ لَكَ أَنْ نَزَعَ اللَّهُ مِنْ قَلْبِكَ الرَّحْمَةَ»
১৪ - আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমাশ আল-ফকিহ আমাদের অবহিত করেছেন, আবু বকর আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একজন বেদুইন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: আপনারা কি শিশুদের চুম্বন করেন? আমরা তো তাদের চুম্বন করি না। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «আমি তোমার জন্য কী-ই বা করতে পারি যদি আল্লাহ তোমার অন্তর থেকে দয়া ছিনিয়ে নেন?»
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الصَّنْعَانِيِّ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ الْفَضْلِ أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا تَمِيمٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، حَدَّثَهُ أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْخُذُنِي فَيُقْعِدُنِي عَلَى فَخِذِهِ وَيُقْعِدُ الْحَسَنَ عَلَى فَخِذِهِ الْأَيْمَنَ، ثُمَّ يَضُمُّنَا، ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ ارْحَمْهُمَا فَإِنِّي أَرْحَمُهُمَا»
১৫ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আমাদের অবহিত করেছেন, ইসহাক ইবন আস-সানআনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আসিম ইবনুল ফাযল আবু নুমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুতামির ইবন সুলাইমান তাঁর পিতা থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু তামিমিকে আবু উসমান আন-নাহদি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, আবু উসমান তাঁর কাছে উসামা ইবন যাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে নিতেন এবং তাঁর এক উরুর ওপর বসাতেন আর হাসানকে তাঁর ডান উরুর ওপর বসাতেন, অতঃপর তিনি আমাদের জড়িয়ে ধরতেন এবং বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনি তাদের উভয়ের ওপর দয়া করুন, কেননা আমি তাদের ওপর দয়া করি»।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١١)
16 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ قَرْقُوبٍ التَّمَّارُ، بِهَمْدَانَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ: جَاءَتْنِي امْرَأَةٌ وَضَعَتِ ابْنَتَيْنِ لَهَا تَسْأَلُنِي، فَلَمْ أَجِدْ عِنْدِي شَيْئًا غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحِدَةٍ، فَأَعْطَيْتُهَا إِيَّاهَا، فَأَخَذَتْهَا فَشَقَّتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا وَلَمْ تَأْكُلْ مِنْهَا شَيْئًا، ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ وَابْنَتَاهَا، فَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَحَدَّثْتُهُ حَدِيثَهَا، فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 12⦘ «مَنِ ابْتُلِيَ مِنَ الْبَنَاتِ بِشَيْءٍ فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ سِتْرًا لَهُ مِنَ النَّارِ» وَرَوَاهُ عِرَاكُ بْنُ مَالِكٍ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: جَاءَتْ مِسْكِينَةٌ تَحْمِلُ ابْنَتَيْنِ لَهَا، وَأَعْطَيْتُهَا ثَلَاثَ تَمَرَاتٍ، فَأَعْطَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهَا تَمْرَةً، وَرَفَعَتْ إِلَى فِيهَا تَمْرَةً لِتَأْكُلَهَا، فَاسْتَطْعَمَتْهَا ابْنَتَاهَا، فَشَقَّتِ التَّمْرَةَ الَّتِي كَانَتْ تُرِيدُ أَنْ تَأْكُلَهَا بَيْنَهُمَا، فَأَعْجَبَتْنِي، فَذَكَرْتُ الَّذِي صَنَعَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَوْجَبَ لَهَا بِهَا الْجَنَّةَ، وَأَعْتَقَهَا بِهَا مِنَ النَّارِ» . أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنِ ابْنِ الْهَنَّادِ أَنَّ زِيَادَ بْنَ أَبِي زِيَادٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، حَدَّثَهُ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: سَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ عَائِشَةَ فَذَكَرَهُ
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে কারকুব আত-তাম্মার হামাদানে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে আল-হুসাইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আল-য়ামান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শুয়াইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন জুহরি থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যে, উরওয়াহ ইবনে আল-যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) বলেছেন: এক নারী তার দুই কন্যাকে নিয়ে আমার কাছে এসে কিছু চাইল। আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তাই আমি তাকে সেটিই দিয়ে দিলাম। সে সেটি নিল এবং তার দুই মেয়ের মধ্যে ভাগ করে দিল, আর নিজে তা থেকে কিছুই খেল না। এরপর সে উঠে দাঁড়াল এবং তার দুই মেয়েকে নিয়ে চলে গেল। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন এবং আমি তাঁকে ওই মহিলার কথা জানালাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ “যাকে এই কন্যা সন্তানদের মাধ্যমে কোনো পরীক্ষায় ফেলা হয় এবং সে তাদের প্রতি সদাচরণ করে, তবে তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হবে।” আর এটি বর্ণনা করেছেন ইরাক ইবনে মালিক আয়েশা (রা.) থেকে যে, তিনি বলেছেন: এক দরিদ্র নারী তার দুই কন্যাকে কোলে নিয়ে আমার কাছে আসল। আমি তাকে তিনটি খেজুর দিলাম। সে তাদের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিল এবং একটি খেজুর নিজে খাওয়ার জন্য মুখের কাছে তুলল। তখন তার দুই কন্যা তার কাছে ওই খেজুরটিও খেতে চাইল। ফলে সে যে খেজুরটি নিজে খেতে চেয়েছিল, সেটিও তাদের দুইজনের মধ্যে ভাগ করে দিল। তার এই কাজ আমাকে অভিভূত করল। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তার কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে তার জন্য জান্নাত অবধারিত করেছেন অথবা এর মাধ্যমে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।” আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াকুব আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ ইবনে সালামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, বকর ইবনে মুদার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনুল হান্নাদ থেকে যে, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস যিয়াদ ইবনে আবি যিয়াদ তাকে হাদীস শুনিয়েছেন ইরাক ইবনে মালিক থেকে। তিনি (বকর) বলেন: আমি তাঁকে (জিয়াদকে) উমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে আয়েশা (রা.) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করতে শুনেছি, এরপর তিনি তা উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٢)
17 - وَفِي حَدِيثٍ رُوِيَ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَنَا وَامْرَأَةٌ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ، امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ آمَتْ مِنْ زَوْجِهَا، فَحَبَسَتْ نَفْسَهَا عَلَى يَتَامَاهُ حَتَّى بَانُوا كَهَاتَيْنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ، وَأَوْمَأَ بِإِصْبَعَيْهِ
১৭ - আউফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি এবং সেই কালচে গালবিশিষ্ট নারী—যিনি উচ্চবংশীয় ও সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর নিজের এতিম সন্তানদের লালন-পালনের জন্য নিজেকে নিবদ্ধ রেখেছেন যতক্ষণ না তারা সাবলম্বী হয়েছে—কিয়ামতের দিন আমরা এই দুটির ন্যায় থাকব», আর তিনি তাঁর দুই আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٢)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَلَوِيُّ، إِمْلَاءً، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بَالَوَيْهِ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْفَقِيهُ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الْإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ، أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ، وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ»
১৮ - আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-আলাভি আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন ইবরাহিম বালাইহি আমাদের অবহিত করেছেন, এবং আবু তাহির আল-ফাকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-কাত্তান আমাদের অবহিত করেছেন, আহমাদ বিন ইউসুফ আস-সুলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের অবহিত করেছেন হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: এটিই যা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «উটে আরোহণকারী নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন কুরাইশের নেককার নারীরা; তারা শৈশবে সন্তানের প্রতি সর্বাধিক মমতাময়ী এবং স্বামীর ধন-সম্পদের সর্বাধিক হেফাজতকারী।’»
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٣)
19 - أَخْبَرَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْمَوْصِلِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْحَجَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ حَازِمٍ قَالَ: سَمِعْتُ مَوْلًى يُحَدِّثُ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ» قَالَ بِإِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى
১৯ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম আলী ইবনুল মাওসিল ইবনুল হুসাইন ইবনে ঈসা আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-হাজাবি আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে হাজিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি একজন মুক্তদাসকে সাহল ইবনে সা’দ আস-সা’ইদি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি এবং ইয়াতিমের লালন-পালনকারী জান্নাতে এই দুটির ন্যায় থাকব।» তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٣)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دَرَسْتَوَيْهِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا أُنَيْسَةُ، عَنْ أُمِّ سَعِيدٍ بِنْتِ امْرَأَةِ الْغَمْرِيِّ مَوْصُولًا، عَنْ أَبِيهَا رضي الله عنهما، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ» وَأَشَارَ سُفْيَانُ بِإِصْبَعَيْهِ. وَرَوَاهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ رضي الله عنهما، أَنَّهُ بَلَغَهُ ذَلِكَ، فَذَكَرَهُ مُرْسَلًا. وَرَوَاهُ أَيْضًا مَالِكٌ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আল-ফজল আল-কাত্তান, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন দারাস্তাওয়াইহ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াকুব বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হুমাইদী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি সাফওয়ান বিন মুসলিম থেকে, তিনি উনাইসাহ নামক এক নারী থেকে, তিনি উম্মু সাঈদ বিনতে ইমরাআতুল গামরী থেকে অবিচ্ছিন্ন সূত্রে এবং তিনি তাঁর পিতা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি এবং ইয়াতীমের প্রতিপালনকারী—সে তার নিজের (নিকটাত্মীয়) হোক বা অন্যের—জান্নাতে এই দুটির ন্যায় থাকব।" আর সুফিয়ান তাঁর দুই আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন। ইমাম মালিক বিন আনাস এটি সাফওয়ান বিন সুলাইম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সংবাদটি তাঁর নিকট পৌঁছেছে, অতঃপর তিনি তা মুরসাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মালিক এটি সাওর বিন ইয়াযীদ থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুল গাইস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٣)
21 - وَفِي الْحَدِيثِ الثَّابِتِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى يَبْلُغَا، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ كَهَذَيْ» وَضَمَّ إِصْبَعَيْهِ.، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ الْوَرَّاقُ، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَسَدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما فَذَكَرَاهُ
২১ - এবং সাব্যস্ত হাদীসে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবী বকর থেকে, তিনি আনাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যে ব্যক্তি দুটি কন্যা সন্তানকে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন সে এবং আমি এই দুটির ন্যায় আসব» এবং তিনি তাঁর আঙুলদ্বয় একত্রিত করলেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর আল-ওয়াররাক, আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবী শাইবা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদী, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তাঁরা উভয়ে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٣)
22 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ عِمْرَانَ التُّجِيبِيُّ، عَنْ أَبِي عُشَّانَةَ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ⦗ص: 14⦘ «مَنْ كَانَتْ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ، فَأَطْعَمَهُنَّ، وَسَقَاهُنَّ، وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ كُنَّ لَهُ حِجَابًا» . وَرَوَى عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ وَاللَّفْظُ مُخْتَلِفٌ، وَزَادَ فَنَادَى رَجُلٌ: وَا بِنْتَاهُ قَالَ النَّاسُ: لَوْ قَالَ وَاحِدَةً لَقَالَ نَعَمْ ". وَرَوَاهُ مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ رضي الله عنهما مُرْسَلًا
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফজল আল-কাত্তান, আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু সালিহ, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন হারমালাহ ইবনে ইমরান আত-তুজিবি, তিনি আবু উশানাহ আল-মাআফিরি থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির আল-জুহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ «যার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সে তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করে, আর নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের আহার করায়, পান করায় এবং পরিধান করায়, তারা তার জন্য (জাহান্নাম থেকে) ঢাল হবে।» আর আলি ইবনে যায়িদ ইবনে জুদআন এটি ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই হাদীসের মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন তবে শব্দগত পার্থক্য রয়েছে; এবং তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি ডেকে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আর যদি দুই কন্যা হয়?" তখন লোকেরা বলল: "যদি তিনি একজনের কথা বলতেন, তবে তিনি হ্যাঁ বলতেন।" আর মা’মার এটি ইবনুল মুনকাদির (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٤)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، أَنْبَأَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْأَعْشَى، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ بُشَيْرٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَكُونُ لِأَحَدٍ ثَلَاثُ بَنَاتٍ أَوْ بِنْتَانِ، أَوْ أُخْتَانِ فَيَتَّقِي اللَّهَ فِيهِنَّ، وَيُحْسِنُ إِلَيْهِنَّ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ» . وَرَوَاهُ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُهَيْلٍ رضي الله عنهما، بِإِسْنَادِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ عَالَ ثَلَاثَ بَنَاتٍ فَأَدَّبَهُنَّ، وَزَوَّجَهُنَّ، وَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ فَلَهُ الْجَنَّةُ» . أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاسَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ رضي الله عنهما، فَذَكَرَاهُ
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আসিম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুহাইল ইবনে আবু সালিহ, তিনি সাঈদ আল-আশা থেকে, তিনি আইয়ুব ইবনে বুশাইর আল-আনসারি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «কারো যদি তিনটি মেয়ে বা দুটি মেয়ে, অথবা দুটি বোন থাকে এবং সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।» আর এটি বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ, সুহাইল (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে তাঁর সনদে, তবে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি তিনটি কন্যাকে লালন-পালন করল, অতঃপর তাদের শিষ্টাচার শিক্ষা দিল, তাদের বিবাহ দিল এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করল, তার জন্য জান্নাত অবধারিত।» আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আর-রূজবারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে দাসাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ, সুহাইল ইবনে আবু সালিহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে; অতঃপর তাঁরা উভয়েই এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাব লিল বায়হাকী (পৃষ্ঠা: ١٤)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ يُوسُفَ، أَنْبَأَنَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ مُضَرَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الْأَشْجَعِيُّ، عَنِ ابْنِ جَرِيرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وُلِدَتْ لَهُ أُنْثَى فَلَمْ يَئِدْهَا، وَلَمْ يُهِنْهَا، وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا» يَعْنِي الذُّكُورَ «أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ»
২৪ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট সা’দান ইবনু মুদার হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মালিক আল-আশজাঈ হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবন জারীর থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যার কোনো কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, অতঃপর সে তাকে জীবন্ত প্রোথিত করে না, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে না এবং তার ওপর তার পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেয় না» অর্থাৎ পুরুষ সন্তানদের, «আল্লাহ তাকে সেই কন্যার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।»