(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: -)
مفهوم التفسير والتأويل والاستنباط والتدبر والمفسر القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: مفهوم التفسير والتأويل والاستنباط والتدبر والمفسر
المؤلف: د مساعد بن سليمان بن ناصر الطيار
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1427 هـ
عدد الصفحات: 235
الكتاب إهداء من مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাফসির (التفسير), তাবিল (التأويل), ইস্তিনবাত (الاستنباط), তাদাব্বুর (التدبر) এবং মুফাসসির (المفسر)-এর ধারণা বিভাগ: উলুমুল কুরআন এবং উসুলুত তাফসির
বই: তাফসির, তাবিল, ইস্তিনবাত, তাদাব্বুর এবং মুফাসসিরের ধারণা
লেখক: ড. মুসাইদ বিন সুলায়মান বিন নাসির আল-তাইয়ার
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৫
বইটি লেখকের পক্ষ থেকে - আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন - আল-মাকতাবাতুশ শামিলার প্রতি উপহার
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب مفهوم التفسير والتأويل
والاستنباط والتدبر والمفسر
جميع الحقوق محفوظة
1423 هـ - 2002 م
مَفْهُومُ التَّفْسيرِ وَالتَّأويلِ والاسْتِنْبَاطِ والتَّدبُّرِ والمُفسِّرِ
د. مُساعِدُ بن سُلَيْمَان بن نَاصِر الطَّيَّار
الأستاذ المساعد بكلية المعلمين بالرياض
دار ابن الجوزي
بسم الله الرحمن الرحيم
তাফসির (تفسير) ও তাবিল (تأويل) এর ধারণা বিষয়ক গ্রন্থ
এবং ইস্তিনবাত (استنباط), তাদাব্বুর (تدبر) ও মুফাসসির (مفسر)
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১৪২৩ হি. - ২০০২ খ্রি.
তাফসির (تفسير), তাবিল (تأويل), ইস্তিনবাত (استنباط), তাদাব্বুর (تدبر) ও মুফাসসির (مفسر) এর ধারণা
ড. মুসাইদ বিন সুলাইমান বিন নাসির আল-তাইয়্যার
রিয়াদের টিচার্স কলেজের সহকারী অধ্যাপক
দার ইবনুল জাওজি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[عرض كتاب مَفْهُوم التَّفْسيرِ وَالتَّأويلِ والاسْتِنْبَاطِ والتَّدبُّرِ والمُفسِّرِ]ـ
د. مُساعِدُ بن سُلَيْمَان بن نَاصِر الطَّيَّار
الأستاذ المساعد بكلية المعلمين بالرياض
دار ابن الجوزي
عرض: عمرو الشرقاوي
بدأ المؤلف وفقه الله الكتاب بمقدمة بين فيها أهمية تحرير المصطلحات، وأنَّ هذا التحرير يفيدُ في أمورٍ؛ منها:
* بيان المصطلحِ بذاتِه.
* عدم دخول ما ليس منه فيه.
* التفريق بين ما يُظنُّ أنه من المترادفات في المصطلحات.
كما قدَّم بتطبيق على مصطلح وقع فيه خلل، وهو مصطلح «التفسير بالمأثور والتفسير بالرأي».
وفي مفهوم التفسير:
تحدث المؤلف عن تعريف علم التفسير من جهة اللغة والاصطلاح، وبين أنَّ التَّفسيرَ إنَّما هو شرحٌ وبيانٌ للقرآنِ الكريمِ، فما كانَ فيه بيانٌ، فهو تفسيرٌ، وما كان خارجاً عن حدِّ البيانِ، فإنَّه ليس من التَّفسيرِ، وإن وُجِدَ في كتبِ المفسِّرينَ.
وبين أنه لو جُرِّدَ التَّفسيرُ من كثيرٍ من المعلوماتِ التي تخرج عن حد البيان، لتقاربتْ مناهجُ المفسِّرين، ولكان جلُّ الخلافِ بينهم في وجوهِ التَّفسيرِ، وترجيحِ أقوالِ المتقدِّمينَ.
وعقد المؤلف تطبيقًا على سورة الكوثر، بين فيه ما يدخل في التفسير وما لا يدخل.
وفي مفهوم التأويل:
بين معناها في اللغة والاصطلاح، كما بين الفرق بين إطلاق المصطلح عند المتقدمين والمتأخرين، والدليل على ذلك، وما ترتب عليه من آثار.
--------------------------------------------
‘তাফসির, তাবিল, ইস্তিনবাত, তাদাব্বুর এবং মুফাসসিরের ধারণা’ শীর্ষক বইয়ের পরিচিতি
ড. মুসাঈদ বিন সুলায়মান বিন নাসির আত-তাইয়্যার
রিয়াদ টিচার্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক
দার ইবনুল জাওযি
উপস্থাপনায়: আমরুশ শারকাউয়ি
লেখক (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) একটি ভূমিকার মাধ্যমে বইটি শুরু করেছেন যেখানে তিনি পরিভাষা স্পষ্টীকরণের (تحرير المصطلحات) গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই স্পষ্টীকরণ বেশ কিছু বিষয়ে ফলপ্রসূ; যার মধ্যে রয়েছে:
* পরিভাষাকে তার নিজস্ব স্বকীয়তায় (بذاته) প্রকাশ করা।
* যা সংশ্লিষ্ট পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত নয়, তার অনুপ্রবেশ রোধ করা।
* যেসব পরিভাষাকে সমার্থক (المترادفات) মনে করা হয়, তাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।
তদুপরি তিনি এমন একটি পরিভাষার প্রয়োগ দেখিয়েছেন যাতে বিভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়েছে, আর তা হলো ‘বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور)’ এবং ‘বিবেচনাপ্রসূত তাফসির (التفسير بالرأي)’।
তাফসিরের ধারণার ক্ষেত্রে:
লেখক শাব্দিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) দিক থেকে ইলমুত তাফসিরের সংজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাফসির মূলত আল-কুরআনে কারিমের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। সুতরাং যা এই বিশ্লেষণের অন্তর্ভুক্ত তা-ই তাফসির; আর যা ব্যাখ্যার সীমানার বাইরে তা তাফসির হিসেবে গণ্য হবে না—যদিও তা মুফাসসিরদের কিতাবসমূহে পাওয়া যায়।
তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, যদি তাফসিরকে এমন অনেক তথ্য থেকে মুক্ত করা হতো যা ব্যাখ্যার সীমানার বাইরে, তবে মুফাসসিরদের কর্মপদ্ধতি (مناهج) কাছাকাছি হতো এবং তাদের মধ্যকার অধিকাংশ মতভেদ তাফসিরের বিভিন্ন দিক (وجوه) ও পূর্ববর্তীদের (المتقدمين) মতামতের প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত।
লেখক সূরা আল-কাওসারের ওপর একটি ব্যবহারিক প্রয়োগ পেশ করেছেন, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন কোনটি তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত এবং কোনটি নয়।
তাবিলের ধারণার ক্ষেত্রে:
তিনি এর শাব্দিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থ বর্ণনা করেছেন। সেইসাথে পূর্ববর্তী (المتقدمين) ও পরবর্তী (المتأخرين) আলিমদের নিকট এই পরিভাষা ব্যবহারের পার্থক্য, এর প্রমাণ এবং এর ফলে উদ্ভূত প্রভাবসমূহও স্পষ্ট করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: -)
وعرض للحديث عن آية آل عمران، وهي قوله تعالى: {مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَاّ اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَاّ أُولُو الأَلْبَابِ} [آل عمران: 7]، وعلاقتها التأويل بالمتشابه.
وفي مفهوم الاستنباط:
بين المؤلف حد الاستنباط، وحلل عملية الاستنباط، وذكر أنواعه المندرجة تحته.
كما تعرض لحكم الاستنباط، وذكر قواعد كلية تعين على صحة الاستنباط.
وذكر مسألة في التَّفسيرِ الإشاري وفوائدِ الآياتِ، وبين أن كثيرًا من التَّفاسيرِ الإشاريَّةِ وتفاسيرِ الوعاظِ وما يذكرُه بعض المعاصرينَ من فوائِد الآياتِ = إلى الاستنباطِ، ومن ثَمَّ، فإنَّ حُكْمَها حُكْمُ الاستنباطات.
كما نبه على خطورة التكلف في الاستنباطات، وذكر اللطائف والفوائد.
وفي مفهوم التدبر:
بين المؤلف حد التدبر، وسياقات الأمر به في القرآن.
وأنَّ مرحلةَ التَّدبُّرِ تأتي بعدَ الفَهْمِ، إذ لا يُمكنُ أن يُطلبَ تدبُّرُ كلامٍ لا يعقل!
كما ذكر الفرق بين التدبر والمصطلحات السابقة، والفرق بين التدبر والتأثر.
كما ذكر أنه يقربُ من معنى التَّدبُّرِ التَّفكُّرُ والتَّذكُّرُ والنَّظرُ والتَّأملُّ والاعتبارُ والاستبصارُ، وقد وردت هذه المعاني في القرآن في مواطن.
وتعرض للفرق بين التَّدبُّرِ والتَّأثُّرِ من سماعِ القرآن.
وفي مفهوم المفسِّرِ:
ذكر أنه لم يحظ مصطلح المُفَسِّرِ من علماء القرآن والتفسير بتعريفٍ كما عرَّفوا مصطلح التفسير.
এখানে সূরা আলে ইমরানের সেই আয়াতটি নিয়ে আলোচনার অবতারণা করা হয়েছে, যেখানে মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত সুষ্পষ্ট (محكمات), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো রূপক (متشابهات)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার (تأويل) উদ্দেশ্যে যা রূপক (متشابه) তার অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত এর প্রকৃত ব্যাখ্যা (تأويل) কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর (الراسخون في العلم), তারা বলে: 'আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।' আর বুদ্ধিমানগণ ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।" [আলে ইমরান: ৭]। এবং রূপক (متشابه) বিষয়ের ব্যাখ্যার (تأويل) সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
উদ্ভাবন বা নির্যাস বের করার (استنباط) ধারণার ক্ষেত্রে:
লেখক উদ্ভাবনের (استنباط) সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, উদ্ভাবন (استنباط) প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করেছেন এবং এর অন্তর্ভুক্ত প্রকারগুলো উল্লেখ করেছেন।
একইভাবে তিনি উদ্ভাবনের (استنباط) বিধান নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কিছু সামষ্টিক মূলনীতি (قواعد كلية) উল্লেখ করেছেন যা সঠিক উদ্ভাবনে (استنباط) সহায়ক হয়।
তিনি ইশারা-ইঙ্গিত ভিত্তিক ব্যাখ্যা (التفسير الإشاري) এবং আয়াতের শিক্ষা বা ফায়দা সংক্রান্ত একটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অধিকাংশ ইশারা-ইঙ্গিত ভিত্তিক ব্যাখ্যা (التفاسير الإشارية), ওয়ায়েজদের ব্যাখ্যা এবং সমকালীনদের উল্লিখিত আয়াতের শিক্ষা বা ফায়দাগুলো মূলত উদ্ভাবনের (استنباط) অন্তর্ভুক্ত; ফলে এগুলোর বিধান উদ্ভাবনসমূহের (استنباطات) বিধানেরই অনুরূপ।
এছাড়া তিনি উদ্ভাবনের (استنباطات) ক্ষেত্রে কৃত্রিমতা বা জবরদস্তিমূলক ব্যাখ্যার (تكلف) ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং সূক্ষ্ম তত্ত্ব (لطائف) ও শিক্ষাগুলো (فوائد) উল্লেখ করেছেন।
গভীরভাবে চিন্তার (تدبر) ধারণার ক্ষেত্রে:
লেখক গভীর চিন্তার (تدبر) সংজ্ঞা এবং কুরআনে এটি করার নির্দেশের প্রেক্ষাপটগুলো বর্ণনা করেছেন।
এবং গভীর চিন্তার (تدبر) পর্যায়টি আসে বোঝার পর; কেননা যে কথা অনুধাবন করা যায় না, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা (تدبر) করার দাবি জানানো অবান্তর!
তিনি গভীর চিন্তা (تدبر) ও পূর্বোল্লিখিত পরিভাষাগুলোর মধ্যে পার্থক্য এবং গভীর চিন্তা (تدبر) ও প্রভাবিত হওয়ার (تأثر) মধ্যে পার্থক্যও উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, চিন্তা-গবেষণা (تفكر), উপদেশ গ্রহণ (تذكر), পর্যবেক্ষণ (نظر), অনুধ্যান (تأمل), শিক্ষা গ্রহণ (اعتبار) এবং অন্তর্দৃষ্টি (استبصار) - এই শব্দগুলো গভীর চিন্তার (تدبر) অর্থের কাছাকাছি, আর কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এই অর্থগুলো ব্যবহৃত হয়েছে।
তিনি কুরআন শ্রবণ থেকে সৃষ্ট গভীর চিন্তা (تدبر) এবং প্রভাবিত হওয়ার (تأثر) মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ব্যাখ্যাকার বা মুফাসসিরের (المفسر) ধারণার ক্ষেত্রে:
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুরআন ও তাফসির শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ 'তাফসির' পরিভাষাটির যেভাবে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, 'মুফাসসির' (المفسر) পরিভাষাটি সেভাবে সংজ্ঞায়িত হওয়ার সুযোগ পায়নি।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: -)
كما ذكر أنه لو تم سبر المفسرين المذكورين في كتب طبقات المفسرين، والاطلاع على ما دوَّنوه من منجزاتهم في التفسير = لظهر لك أنَّهم لا يخرجون عن أربعة أنواع:
الأول ـ طبقة المجتهدين الأُوَلِ.
الثاني ـ نَقَلَةُ التفسير.
الثالث ـ المفسر الناقد.
الرابع ـ المفسر المتخيِّر قولاً واحداً.
وأخيراً
…بين المؤلف أنه إنما حرصت على بيانها لأنها تدعو إلى الانضباط في المعلومات، وتجعل المرء يميِّز بين المتشابه منها، فلا تتداخل عليه المعلومات، ويعرف بها كثيراً من الزيادات التي لا تدخل في المصطلح، ويبين له متى دخلت، وكيف دخلت، والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل.
যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি মুফাসসিরদের স্তর (طبقات) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত মুফাসসিরগণের অবস্থা গভীরভাবে পর্যালোচনা (سبر) করা হয় এবং তাফসির শাস্ত্রে তাঁদের লিপিবদ্ধ করা অবদানসমূহ পর্যবেক্ষণ করা হয়, তবে আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে তাঁরা চারটি প্রকারের বাইরে নন:
প্রথম— আদি গবেষণাকারী (مجتهد) আলেমদের স্তর।
দ্বিতীয়— তাফসিরের বর্ণনাকারী (نقلة)।
তৃতীয়— সমালোচক (ناقد) মুফাসসির।
চতুর্থ— কেবল একটি মত চয়নকারী (متخير) মুফাসসির।
সবশেষে
…লেখক বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এ বিষয়গুলো স্পষ্ট করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন, কারণ এগুলো তথ্যের মাঝে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে এবং মানুষকে সমজাতীয় বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে, ফলে তথ্যগুলো পরস্পরের সাথে মিশে যায় না। এর মাধ্যমে এমন অনেক অতিরিক্ত বিষয় সম্পর্কে জানা যায় যা পরিভাষার (مصطلح) অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং এটিও স্পষ্ট হয় যে সেগুলো কখন ও কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدّمةالحمد لله مُتِمِّ النِّعمِ على عباده، يعيدُ فضلَه عليهم كما يبديه لهم، وينشر لهم رحمته، ويُيسِّر لهم عبادته. والصلاة والسلام على رسوله الأمين، وعلى آله الطاهرين، وعلى صحبِه الكرام، وعلى من تبعهم إلى يوم الدين.
أمَّا بعد، فلقد كنتُ أحجمُ عن تحريرِ بعضِ المصطلحاتِ خوفَ الوقوعِ في مشكلةِ تفلسفٍ لا معنى لها، وكنت قد تتبعت بعض المصطلحات، فرأيت فيها خللاً من جهة التعريفِ، أو خللاً من جهة النتائج؛ كمصطلحِ التَّفسيرِ، ومصطلح التفسير الموضوعي، ومصطلح الإعجاز العلمي (1)، وغيرها.
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর নেয়ামতসমূহ পূর্ণকারী; তিনি তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের পুনরাবৃত্তি করেন যেভাবে তা তাদের নিকট প্রকাশ করেন, তাদের জন্য তাঁর রহমত প্রচার করেন এবং তাদের জন্য তাঁর ইবাদতকে সহজ করে দেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন, তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর, আমি অর্থহীন দার্শনিক জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় কিছু পরিভাষা (مصطلحات) বিশ্লেষণ করা থেকে বিরত থাকতাম। আমি কিছু পরিভাষা (مصطلحات) পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, সেগুলোর সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে অথবা ফলাফলের দিক থেকে কিছু ত্রুটি রয়েছে; যেমন: তাফসিরের (تفسير) পরিভাষা, বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের (التفسير الموضوعي) পরিভাষা এবং বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের (الإعجاز العلمي) পরিভাষা (১) ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ورأيت أنَّ بعضها بحاجة إلى تحرير؛ لأنها لم تُحرَّر، كمصطلح المفسر، وكالفرق بين مصطلح علومِ القرآنِ ومصطلح أصول التَّفسيرِ، إلى غير ذلك من المصطلحاتِ المنثورةِ في علومِ القرآنِ (1).
وكنت أخشى أن لا يكون البحث فيها مجدياً ولا مفيداً، وأن يكون الأمرُ من بابِ تسويدِ الورقِ بلا ثمرةٍ علميَّةٍ. ولكنِّي رأيتُ أنَّ بعضها يُبنى عليه مسائلُ علميَّة، وأنَّ تحرير هذه المصطلحات يفيدُ في أمورٍ؛ منها:
* بيان المصطلحِ بذاتِه.
* عدم دخول ما ليس منه فيه.
* التفريق بين ما يُظنُّ أنه من المترادفات في المصطلحات.
وقد كان من أكبر ما دعاني إلى خوضِ ذلك الغمارِ
--------------------------------------------
আমি লক্ষ্য করেছি যে, এগুলোর কিছু অংশ পরিমার্জনের (تحرير) প্রয়োজন; কারণ সেগুলোকে পরিমার্জন করা হয়নি। যেমন মুফাসসির বা ব্যাখ্যাকারী (المفسر) পরিভাষাটি এবং উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর পরিভাষা দুটির মধ্যকার পার্থক্য, এছাড়াও উলূমুল কুরআনে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য পরিভাষাসমূহ (১)।
আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, এ বিষয়ে গবেষণা ফলপ্রসূ বা উপকারি হবে না এবং বিষয়টি হয়তো কোনো তাত্ত্বিক ফল ব্যতিরেকে কেবল কাগজ কালো করার শামিল হবে। কিন্তু আমি উপলব্ধি করেছি যে, এর কোনো কোনোটির ওপর তাত্ত্বিক বিষয়াবলি নির্ভরশীল এবং এই পরিভাষাগুলোর পরিমার্জন (تحرير) বেশ কিছু ক্ষেত্রে উপকারে আসবে; যার মধ্যে রয়েছে:
* স্বয়ং পরিভাষাটি সুস্পষ্ট করা।
* যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা এর ভেতর প্রবেশ করা রোধ করা।
* পরিভাষাসমূহের মধ্যে যেগুলোকে সমার্থক (المترادفات) বলে মনে করা হয়, তাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা।
আর আমাকে এই কঠিন কাজে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
عدمُ وضوحِ بعض المصطلحاتِ، أو تداخلُ بعضها ببعضٍ، أو بناءُ نتائجَ علمية على تعريفاتٍ غير صحيحةٍ لبعضِ هذه المصطلحات (1).
وقد رأيت أن أقدِّم لهذا الكتاب بتطبيق على مصطلح وقع فيه خلل، وهو مصطلح «التفسير بالمأثور والتفسير بالرأي»، ليتبيَّن به أهمية البحث في هذه المصطلحات، وأسأل الله أن يوفِّقني فيما أقول، إنه هو المستعان، وعليه الاتكال.
--------------------------------------------
কিছু পরিভাষার (المصطلحات) অস্পষ্টতা, অথবা একটির সাথে অন্যটির সংমিশ্রণ ঘটা, কিংবা এই পরিভাষাগুলোর (المصطلحات) কোনো কোনোটির ভুল সংজ্ঞার ওপর তাত্ত্বিক ফলাফল গঠন করা (১)।
আমি এই কিতাবের ভূমিকা হিসেবে এমন একটি পরিভাষার (مصطلح) প্রয়োগ উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছি যাতে বিভ্রান্তি ঘটেছে; আর তা হলো ‘তাফসির বিল-মাসুর (التفسير بالمأثور)’ এবং ‘তাফসির বির-রায় (التفسير بالرأي)’ পরিভাষা দুটি। এর মাধ্যমে এই পরিভাষাগুলো (المصطلحات) নিয়ে গবেষণার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আমি যা বলব তাতে আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনিই সাহায্যকারী এবং তাঁরই ওপর ভরসা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تطبيق على مصطلح التفسير بالمأثور والتفسير بالرأي
ঐতিহ্যনির্ভর তাফসির (التفسير بالمأثور) এবং যুক্তিনির্ভর তাফসির (التفسير بالرأي) পরিভাষা (مصطلح)-এর প্রয়োগ
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إنَّ مصطلح التفسير بالمأثور معروف عند العلماء السابقين، لكنَّ تعريفه بأنه: تفسير القرآن بالقرآن، وتفسير القرآن بالسنة، وتفسير القرآن بأقوال الصحابة، وتفسير القرآن بأقوال التابعين = مصطلحٌ معاصر.
وقد جُعِلَ مصطلح التفسير بالمأثور هذا مقابلاً للتفسير بالرأي؛ أي أنَّ ما لم يكن من التفسير بهذه الأنواع الأربعة، فهو من التفسير بالرأي.
ومما بُنِيَ على هذين المصطلحين من نتائج: تقسيم كتب التفسير على هذين المصطلحين.
وهناك غير ذلك مما ذكره من كتب في هذا المصطلح سيأتي ذكر بعضها أثناء الحديث عنه.
مناقشة هذا المصطلح:
أولاً: في تحديد التفسير بالمأثور في هذه الأنواع الأربعة:1 - إنَّ من جعل التفسيرَ بالمأثور يشمل هذه الأنواع الأربعة، لم يبين سبب تحديد المأثورِ بها. وهذا التحديد
বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور) পরিভাষাটি পূর্ববর্তী আলেমদের নিকট পরিচিত ছিল, কিন্তু এর সংজ্ঞা যে: কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসির, সুন্নাহ (السنة) দ্বারা কুরআনের তাফসির, সাহাবীগণের (الصحابة) বক্তব্য দ্বারা কুরআনের তাফসির এবং তাবেয়ীগণের (التابعين) বক্তব্য দ্বারা কুরআনের তাফসির—এটি একটি সমসাময়িক পরিভাষা।
এই বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور) পরিভাষাটিকে যুক্তিনির্ভর তাফসির (التفسير بالرأي)-এর প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে; অর্থাৎ যা এই চার প্রকার তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা-ই যুক্তিনির্ভর তাফসির (التفسير بالرأي)।
এই দুটি পরিভাষার ওপর ভিত্তি করে যেসব ফলাফল অর্জিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো: তাফসিরের গ্রন্থসমূহকে এই দুটি পরিভাষার আলোকে বিভক্ত করা।
এছাড়াও এই পরিভাষা সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থে আরও যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, আলোচনার ধারাবাহিকতায় তার কিছু অংশ সামনে আসবে।
এই পরিভাষাটির পর্যালোচনা:প্রথমত: এই চার প্রকারের মধ্যে বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور)-কে সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে:1 - যারা বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور)-কে এই চার প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তারা 'মাসুর' (المأثور)-কে এগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার কারণ স্পষ্ট করেননি। আর এই সীমাবদ্ধতা...
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২০)
اجتهادٌ، وهو قابل للأخذ والردِّ، كما هو الحال في غيره من المصطلحات العلميَّةِ غير الشرعيَّةِ.
وأقدم من رأيته نص على كون هذه الأربعة هي التفسير بالمأثور الشيخ محمد عبد العظيم الزرقاني (ت:1367)، حيث ذكر تحت موضوع (التفسير بالمأثور) ما يأتي: «هو ما جاء في القرآن أو السنة أو كلام الصحابة تبياناً لمراد الله من كتابه» (1).
ثم جاء بعده الشيخ محمد حسين الذهبي (ت:1397)، فذكر هذه الأنواع الأربعة تحت مصطلح (التفسير المأثور)، فقال: «يشمل التفسير المأثور: ما جاء في القرآن نفسه من البيان والتفصيل لبعض آياته، وما نُقلَ عن الرسول صلى الله عليه وسلم، وما نُقلَ عن الصحابة رضوان الله عليهم، وما نُقِلَ عن التابعين، من كل ما هو بيان وتوضيح لمراد الله تعالى من نصوص كتابه الكريم» (2).
ثمَّ تتابع بعض المعاصرين على هذا المصطلحِ
--------------------------------------------
এটি একটি ইজতিহাদ (اجتهاد), যা গ্রহণ বা বর্জনের যোগ্য, যেমনটি শরিয়ত বহির্ভূত অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরিভাষার ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।
এই চারটি বিষয়কে রেওয়ায়েতভিত্তিক ব্যাখ্যা (التفسير بالمأثور) হিসেবে উল্লেখ করেছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আমি যাকে সবচেয়ে প্রাচীন পেয়েছি, তিনি হলেন শেখ মুহাম্মদ আব্দুল আজিম আজ-জারকানি (মৃত্যু: ১৩৬৭), যেখানে তিনি 'রেওয়ায়েতভিত্তিক ব্যাখ্যা' (التفسير بالمأثور) বিষয়ের অধীনে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি প্রদান করেছেন: «এটি হলো তা-ই যা কুরআন, সুন্নাহ অথবা সাহাবিগণের বক্তব্যে আল্লাহর কিতাব থেকে তাঁর উদ্দেশ্য বর্ণনার জন্য বর্ণিত হয়েছে» (১)।
অতঃপর তাঁর পরে এসেছেন শেখ মুহাম্মদ হুসাইন আদ-দাহাবি (মৃত্যু: ১৩৯৭), তিনি এই চারটি প্রকারকে 'রেওয়ায়েতভিত্তিক ব্যাখ্যা' (التفسير المأثور) পরিভাষার অধীনে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «রেওয়ায়েতভিত্তিক ব্যাখ্যা (التفسير المأثور) এর অন্তর্ভুক্ত হলো: কুরআনের কোনো আয়াতের বিশদ বর্ণনা ও ব্যাখ্যা হিসেবে স্বয়ং কুরআনে যা এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং তাবেয়িগণ (التابعين) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে—এমন সবকিছুই যা আল্লাহর পবিত্র কিতাবের বাণী থেকে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও ব্যাখ্যা করে» (২)।
অতঃপর পরবর্তী কিছু সমসাময়িক লেখক এই পরিভাষাটি অনুসরণ করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২১)
بتقسيماته الأربعة. لذا فإنَّ كثرة وجوده في كتب علوم القرآن المعاصرة، أو غيرها من كتب مناهج المفسرين، أو مقدمات بعض المحققين لبعضِ التفاسير (1) = لا يعني صحَّته على الإطلاق، بل هؤلاء نقلوه عن كتاب «التفسير والمفسرون» بلا تحرير ولا تأمُّلٍ فيه، إلا القليل منهم.
2 - إن المعروف من لفظة مأثور: ما أُثرَ عن السابقين، وتحديد زمنٍ معيَّنٍ إنما هو اصطلاحٌ. وإذا كان ذلك كذلك؛ فكيف يكون تفسير القرآن بالقرآن مأثوراً، وأنت ترى الله يَمُنُّ عليك بتفسير آيةٍ بآيةٍ، فعن من أثرته؟!
عن من أَثَرَ ابن كثيرٍ (ت:774) تفسيراتِه القرآنيةِ للقرآنِ؟! وكذا محمد الأمين الشنقيطيُّ (ت:1393) في كتابه أضواء البيان في إيضاح القرآن بالقرآن، عمَّن أَثَرَ تفسيراتِه القرآنيةِ للقرآنِ؟!
--------------------------------------------
এর চারটি বিভাজনসহ। তাই সমসাময়িক উলূমুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে, অথবা মুফাসসিরগণের কর্মপদ্ধতি সংক্রান্ত অন্যান্য বইয়ে, কিংবা কতিপয় তাফসিরের কিছু মুহাক্কিক বা গবেষকের ভূমিকায় (১) এর ব্যাপক উপস্থিতি মানেই এটি যে একেবারেই বিশুদ্ধ (صحيح), এমন নয়; বরং তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক ছাড়া বাকি সবাই এটি ‘আত-তাফসির ওয়াল মুফাসসিরুন’ গ্রন্থ থেকে কোনো প্রকার পরিমার্জন বা নিবিড় চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই উদ্ধৃত করেছেন।
2 - ‘মা’সুর’ (مأثور) শব্দটির সুপরিচিত অর্থ হলো: যা পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে; আর এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করা মূলত একটি পারিভাষিক (اصطلاح) বিষয় মাত্র। বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির কীভাবে ‘মা’সুর’ বা ঐতিহ্যগতভাবে বর্ণিত (مأثور) হতে পারে? যখন আপনি দেখছেন যে, আল্লাহ আপনাকে এক আয়াতের মাধ্যমে অন্য আয়াতের ব্যাখ্যা করার অনুগ্রহ দান করছেন, তখন আপনি এটি কার থেকে বর্ণনা করেছেন?!
ইবনে কাসীর (মৃত্যু: ৭৭৪ হি.) তার কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসিরগুলো কার থেকে বর্ণনা করেছেন?! একইভাবে মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শিনকিতি (মৃত্যু: ১৩৯৩ হি.) তার ‘আদওয়াউল বায়ান ফি ইদাহিল কুরআন বিল কুরআন’ গ্রন্থে তার কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসিরগুলো কার থেকে বর্ণনা করেছেন?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২২)
وإذا كان ذلك واضحاً لك، فكيف يكون اجتهاد المتأخرين والمعاصرين وأهل البدع الذين يحملون بعض الآي على بعضٍ ويفسِّرونها بها، كيف يدخل كلُّ هذا في المأثورِ عن الصحابة والتابعين؟!
ولا شكَّ أن حمل معنى آية على آية هو من اجتهاد المفسِّر، سواءً أكان المفسر من الصحابة، أم كان من التابعين، أم كان ممن جاء بعدهم، والاجتهاد عرضة للخطأ، ويوزن بميزانٍ علميٍّ معروفٍ، ولا يقبل إلَاّ إذا حَفَّتْ به شرائطُ القبولِ، كأيِّ اجتهادٍ علميٍّ آخر (1).
--------------------------------------------
যখন বিষয়টি আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين), সমসাময়িকদের (المعاصرين) এবং বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) ইজতিহাদ (اجتهاد) — যারা এক আয়াতকে অন্য আয়াতের ওপর প্রয়োগ করেন এবং তার মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান করেন — এই সবকিছু কীভাবে সাহাবী এবং তাবিঈদের থেকে বর্ণিত ঐতিহ্যের (المأثور) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?!
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এক আয়াতের অর্থকে অন্য আয়াতের ওপর প্রয়োগ করা মুফাসসিরের ইজতিহাদের (اجتهاد) অন্তর্ভুক্ত; চাই সেই মুফাসসির সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত হোন, তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত হোন অথবা পরবর্তী সময়ের কেউ হোন। আর ইজতিহাদ (الاجتهاد) ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং একে একটি সুপরিচিত ইলমি মানদণ্ড (ميزان علمي) দিয়ে পরিমাপ করা হয়। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় না যতক্ষণ না এটি গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলি (شرائط القبول) দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়, যেমনটি অন্য যে কোনো ইলমি ইজতিহাদের (اجتهاد علمي) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن هنا يجب أن تُفَرِّقَ بين كون القرآن مصدراً من مصادر التفسير، أو أنه أحسن طرق التفسير، وبين كون التفسير به يُعدُّ من التفسير بالمأثور، والفرق بين هذين واضحٌ.
3 - أين يقع تفسير أتباع التَّابعين في هذين المصطلحين، وما علَّةُ جعلِه مأثوراً أو غير مأثورٍ عند هؤلاء؟.
لقد عَلَّلَ محمد حسين الذهبي (ت:1397) لسبب إدخال تفسير التَّابعين في المأثور، فقال: «وإنما أدرجنا في التفسير المأثور ما رُوي عن التابعين ـ وإن كان فيه خلاف: هل هو من قبيل المأثور أو من قبيل الرَّأي؟ (1) ـ لأننا وجدنا كتب التفسير المأثور ـ كتفسير ابن جرير وغيره ـ لم تقتصر على ما ذكر مما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم وما روي عن الصحابة، بل ضمَّنت ذلك ما نقل عن التابعين في التفسير» (2).
--------------------------------------------
এখান থেকেই আপনাকে পার্থক্য করতে হবে যে, কুরআন তাফসিরের অন্যতম উৎস হওয়া অথবা এটি তাফসিরের সর্বোত্তম পদ্ধতি হওয়া, এবং কুরআনের মাধ্যমে তাফসির করা বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور)-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া—এই দুই বিষয়ের মধ্যে। আর এই উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট।
৩ - এই দুই পরিভাষার ক্ষেত্রে তাবে-তাবেঈনদের (أتباع التَّابعين) তাফসিরের অবস্থান কোথায়? আর তাদের নিকট এটিকে বর্ণনাভিত্তিক (مأثور) অথবা বর্ণনা-বহির্ভূত গণ্য করার কারণ কী?।
মুহাম্মদ হুসাইন আল-যাহাবি (মৃত্যু: ১৩৯৭) তাবেঈনদের (التَّابعين) তাফসিরকে বর্ণনাভিত্তিক (المأثور) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: «আমরা বর্ণনাভিত্তিক তাফসিরের (التفسير المأثور) মধ্যে তাবেঈনদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করেছি—যদিও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে: এটি কি বর্ণনাভিত্তিক (المأثور) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নাকি তা অভিমত (الرَّأي) ভিত্তিক প্রকারের অন্তর্ভুক্ত? (১) —কেননা আমরা দেখেছি যে, বর্ণনাভিত্তিক তাফসিরের গ্রন্থসমূহ—যেমন তাফসির ইবনে জারীর ও অন্যান্য—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এতে তাফসিরের ক্ষেত্রে তাবেঈনদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وإذا تأمَّلت هذه العِلَّة التي ذكرها، وجدتها أنها تندرج على مفسِّري أتباع التابعين؛ كابن جُريج (ت:150)، وسفيان الثوري (ت:161) وابن زيد (ت:182) وغيرهم ممن ترى تفسيراتهم منثورةً في كتب التفسير التي تُعنى بنقل أقوال مفسري السلف ـ كتفسير الطبري (ت:310) وابن أبي حاتم (ت:327) وغيرهما ـ بل قد لا يوجدُ في مقطع من مقاطع الآية إلا تفسيرُهم، فَلِمَ لمْ يعُدَّها من التفسيرِ بالمأثورِ؟!.
4 - إن بيان أصل الخلطِ في هذا المصطلحِ يدلُّ على عدمِ تحريره وصحَّته، فقد كان أصل النقل عن شيخ الإسلام ابن تيمية (ت:728) في حديثه عن أحسن طرق التفسير، وهي تفسير القرآن بالقرآن، ثم بالسنة، ثم بأقوال الصحابة، ثم بأقوال التابعين (1). ومما يبيِّنُ أنهم اعتمدوا على ما قاله شيخ الإسلام ابن تيميَّةَ (ت:728) وغيَّرُوا المصطلحَ من «طرق التفسير» إلى «التفسيرِ بالمأثور» أنهم حكوا الخلاف في كونِ تفسير التابعين يُعَدُّ من التفسيرِ بالمأثورِ أو لا يُعدُّ، قال الزرقانيُّ
--------------------------------------------
আপনি যদি তাঁর উল্লিখিত এই কারণটি (علة) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে দেখবেন যে এটি তাবি-তাবিঈন মুফাসসিরদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; যেমন: ইবনে জুরাইজ (মৃ: ১৫০), সুফিয়ান আল-সাওরি (মৃ: ১৬১), ইবনে যায়েদ (মৃ: ১৮২) এবং আরও অন্যান্যরা যাদের তাফসির আপনি সালাফ মুফাসসিরদের বক্তব্য উদ্ধৃতির জন্য প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থগুলোতে—যেমন তাফসির আল-তাবারী (মৃ: ৩১০), ইবনে আবি হাতিম (মৃ: ৩২৭) এবং অন্যান্য গ্রন্থে—বিক্ষিপ্তভাবে দেখতে পান। এমনকি কোনো কোনো আয়াতের কোনো অংশে তাদের তাফসির ব্যতীত আর কিছুই পাওয়া যায় না; তবে কেন তিনি সেগুলোকে আছারভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور) হিসেবে গণ্য করেননি?!
৪ - এই পরিভাষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভ্রান্তির মূল কারণটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, এটি সুসংজ্ঞায়িত নয় এবং এর যথার্থতা প্রশ্নবিদ্ধ। মূলত এর ভিত্তি হলো শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার (মৃ: ৭২৮) থেকে বর্ণিত একটি বক্তব্য, যেখানে তিনি তাফসিরের সর্বোত্তম পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: তা হলো কুরআনের তাফসির কুরআনের মাধ্যমে করা, অতঃপর সুন্নাহর মাধ্যমে, অতঃপর সাহাবায়ে কিরামের বাণীর মাধ্যমে এবং সবশেষে তাবিঈগণের বাণীর মাধ্যমে (১)। এবং তারা যে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার (মৃ: ৭২৮) কথার ওপর নির্ভর করেছেন এবং 'তাফসিরের পদ্ধতিসমূহ' পরিভাষাটিকে পরিবর্তন করে 'আছারভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور)' হিসেবে নামকরণ করেছেন তার একটি প্রমাণ হলো—তাবিঈদের তাফসির 'আছারভিত্তিক তাফসির (التفسير بالمأثور)' হিসেবে গণ্য হবে কি হবে না, সে বিষয়ে তারা মতভেদ বর্ণনা করেছেন। আল-যারকানী বলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(ت:1367): «وأمَّا ما ينقل عن التابعين ففيه خلاف بين العلماء: منهم من اعتبره من المأثور؛ لأنهم تلقوه من الصحابة غالباً، ومنهم من قال: إنه من التفسير بالرأي» (1).
وقال محمد حسين الذهبي (ت:1397): «وإنما أدرجنا في التفسير المأثور، ما رُوي عن التابعين ـ وإن كان فيه خلاف: هل هو من قبيل المأثور أو من قبيل الرَّأي؟ ـ لأننا وجدنا كتب التفسير المأثور ـ كتفسير ابن جرير وغيره ـ لم تقتصر على ما ذكر مما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم، وما روي عن الصحابة، بل ضمنت ذلك ما نقل عن التابعين في التفسير» (2).
والأصلُ الذي نقلا منه ـ وهو رسالة شيخ الإسلام ابن تيمية (ت:728) ـ جاء فيه ما يأتي: «وقال شعبة بن الحجاج وغيره: أقوال التابعين في الفروع ليست حجة، فكيف تكون حجة في التفسير؟ يعني أنها لا تكون حجة على غيرهم ممن خالفهم. وهذا صحيح. أمَّا إذا اجتمعوا على الشَّيء فلا يُرتابُ في كونه حُجَّةً، فإن اختلفوا فلا
--------------------------------------------
(ত: ১৩৬৭): «আর যা তাবেঈদের (التابعين) থেকে বর্ণিত হয়েছে, সে বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে: তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে মা’সুর (المأثور) হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ তারা সাধারণত তা সাহাবীদের (الصحابة) থেকে গ্রহণ করেছেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি রায় (الرأي) ভিত্তিক তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত।» (১)
এবং মুহাম্মদ হুসাইন আয-যাহাবি (ত: ১৩৯৭) বলেছেন: «আমরা তাফসির বিল-মা'সুরের মধ্যে তাবেঈদের (التابعين) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত করেছি—যদিও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে: এটি কি মা’সুর (المأثور) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নাকি রায় (الرأي) শ্রেণির? —কারণ আমরা দেখেছি যে তাফসির বিল-মা'সুরের কিতাবসমূহ—যেমন ইবনে জারিরের তাফসির এবং অন্যান্য—কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সাহাবীদের (الصحابة) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তাফসিরের ক্ষেত্রে তাবেঈদের (التابعين) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাও তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।» (২)
আর তারা যে মূল উৎস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন—যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর (ত: ৭২৮) একটি পুস্তিকা—তাতে নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে: «শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এবং অন্যান্যরা বলেছেন: ফুরু (الفروع) বা শাখা-প্রশাখার মাসআলার ক্ষেত্রে তাবেঈদের (التابعين) বক্তব্য দলিল (حجة) নয়, তবে তাফসিরের ক্ষেত্রে কীভাবে দলিল (حجة) হতে পারে? অর্থাৎ, তাদের যারা বিরোধিতা করেছেন তাদের বিপক্ষে এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না। আর এটিই সঠিক। তবে তারা যদি কোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হন, তবে সেটি দলিল (حجة) হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর যদি তারা মতভেদ করেন, তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يكون قول بعضهم حجة على بعض، ولا على من بعدهم، ويرجع في ذلك إلى لغة القرآن والسُّنَّةِ، أو عموم لغة العربِ، أو أقوال الصحابةِ في ذلك» (1).
وإذا وازنت بين هذه النُّقولِ تبيَّنَ لك أنَّهم تركوا مصطلحَ «طرق التفسير» إلى مصطلحٍ أحدثوه بدلاً عنه، وهو مصطلح «التفسير بالمأثور»، ونزَّلوا ما ذكرَه شيخ الإسلام (ت:728) في حديثه عن «طرق التفسيرِ» على هذا المصطلحِ الذي اصطلحوا عليه.
ثانياً: علاقة المأثور بالرأي:يُفهم ممن جعل التفسير بالرأي قسيماً للتفسير بالمأثور، أنَّ التفسير بالرأي ما عدا الأربعة المذكورة في التفسير بالمأثور، وهذا فيه عدم تحرير، وقد ظهر من ذلك نتائج؛ منها: أنَّ التفسير المأثور أصح من التفسير بالرأي، وأنه يجب الاعتمادُ عليه.
وهذا الكلام من حيث الجملة صحيحٌ، إلا أنه لم يقع فيه تحديد مصطلح الرأي، ومعرفة مستندات الرأي لكلِّ
--------------------------------------------
তাদের কারো কথা অন্যের জন্য প্রমাণ (حجة) হবে না, এবং তাদের পরবর্তী কারো জন্যও নয়। এ ক্ষেত্রে কুরআন, সুন্নাহর ভাষা, সাধারণ আরবি ভাষা অথবা এ বিষয়ে সাহাবায়ে কিরামের বাণীর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে (১)।
আপনি যখন এই উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে তুলনা করবেন, তখন আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে, তাঁরা ‘তাফসিরের পদ্ধতিসমূহ’ (طرق التفسير) পরিভাষাটি পরিহার করে এর পরিবর্তে একটি নতুন পরিভাষা তৈরি করেছেন, আর সেটি হলো ‘তাফসির বিল মা’সুর’ (التفسير بالمأثور) পরিভাষা। শায়খুল ইসলাম (মৃত্যু: ৭২৮ হি.) ‘তাফসিরের পদ্ধতিসমূহ’ সম্পর্কে তাঁর আলোচনায় যা উল্লেখ করেছেন, তাঁরা সেটিকে এই পরিভাষার ওপর প্রয়োগ করেছেন যা তাঁরা নির্ধারণ করেছেন।
দ্বিতীয়ত: মা’সুর এবং রা’ই এর মধ্যকার সম্পর্ক:যারা ‘তাফসির বি-রা’ই’ (التفسير بالرأي)-কে ‘তাফসির বিল মা’সুর’ (التفسير بالمأثور)-এর সমান্তরাল ভাগ হিসেবে গণ্য করেছেন, তাদের কথা থেকে বুঝা যায় যে, তাফসির বিল মা’সুরে বর্ণিত চারটি বিষয় ছাড়া বাকি সবকিছুই তাফসির বি-রা’ই। এই সংজ্ঞায় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অভাব রয়েছে, যার ফলে কিছু ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে; যেমন: মা’সুর তাফসির রা’ই ভিত্তিক তাফসিরের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح), এবং এর ওপরই নির্ভর করা আবশ্যক।
সামগ্রিকভাবে এই কথাটি সঠিক, তবে এতে রা’ই (মত) পরিভাষাটির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি এবং প্রত্যেকের রা’ই-এর ভিত্তি বা দলিলসমূহ শনাক্ত করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২৭)
جيلٍ من العلماءِ، وإذا تبينت هذه الأمور بانت العلاقة بينهما، وإليك بيانُ ذلك باختصار.
إنَّ تسمية هذه الأربعة بأنها مأثور جعل بعض الباحثين الذين اعتمدوا هذا المصطلح يغفل عن وقوع الاجتهاد في التفسير عند السلف، فإذا كان لهم اجتهاد، فهل هو تفسير بالرأي، أو يُعدُّ بالنسبة لهم مأثوراً؟.
فإذا كان المفسِّر المجتهد من الصحابة، فهل يُعدُّ تفسيرُه مأثوراً بالنسبة لغيره من الصحابة؟.
وإذا كان المفسر المجتهد من التابعين، فهل يُعدُّ تفسيرُه بالنسبة للصحابة مأثوراً؟.
لا شكَّ أنَّ الجواب: لا، لا يُعدُّ مأثوراً.
لكنَّ تفسير الصحابةِ بالنسبة للتابعين وأتباعهم مأثورٌ.
وتفسير التابعين بالنسبة لأتباع التابعين مأثورٌ.
والمراد بالمأثور هنا مطلق المعنى اللغوي أو الاصطلاحي عند علماء مصطلح الحديث. ولا يعني وصفه بأنه مأثور مطلق القبول، وتقديمه على غيره؛ لأنَّ في الأمر تفصيل ليس هذا محلُّه ولا يُمكن الخروجُ من هذه إلا إن قال من اصطلح على هذا المصطلح: أنا أريد بالرأي:
এক প্রজন্মের আলেমগণ; যখন এই বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে তখন এ দুয়ের মধ্যকার সম্পর্কও ফুটে উঠবে। নিচে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো।
এই চারটি বিষয়কে বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور) হিসেবে নামকরণ করার ফলে এই পরিভাষাটি গ্রহণকারী কোনো কোনো গবেষক সালাফদের (سلف) নিকট তাফসিরে ইজতিহাদের (اجتهاد) বিষয়টি লক্ষ্য করতে ভুলে যান। এখন তারা যদি ইজতিহাদ করে থাকেন, তবে কি তা রায় বা বুদ্ধিবৃত্তিক তাফসির (تفسير بالرأي) হবে, নাকি তাদের ক্ষেত্রে সেটি বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور) হিসেবে গণ্য হবে?।
যদি কোনো মুফাসসির (مفسر) মুজতাহিদ (مجتهد) সাহাবীদের (صحابة) অন্তর্ভুক্ত হন, তবে কি তার সেই তাফসির অন্যান্য সাহাবীদের (صحابة) নিকট বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور) হিসেবে বিবেচিত হবে?।
আর যদি মুফাসসির (مفسر) মুজতাহিদ (مجتهد) তাবেয়ীদের (تابعين) অন্তর্ভুক্ত হন, তবে সাহাবীদের (صحابة) নিকট কি তার তাফসির বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور) হিসেবে গণ্য হবে?।
নিঃসন্দেহে এর উত্তর হলো: না, তা বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور) হিসেবে গণ্য হবে না।
তবে তাবেয়ীদের (تابعين) ও তাদের পরবর্তী অনুসারীদের (أتباعهم) নিকট সাহাবীদের (صحابة) তাফসির হলো বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور)।
অনুরূপভাবে তাবে-তাবেয়ীদের (أتباع التابعين) নিকট তাবেয়ীদের (تابعين) তাফসির হলো বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور)।
এখানে বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আভিধানিক অর্থের ব্যাপকতা অথবা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিশারদদের নিকট এর পারিভাষিক অর্থ। একে বর্ণনা-ভিত্তিক (مأثور) হিসেবে অভিহিত করার মানে এই নয় যে তা নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য (مطلق القبول) এবং অন্য সবকিছুর চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য; কারণ এ বিষয়ে দীর্ঘ বিশ্লেষণ রয়েছে যা আলোচনার সঠিক স্থান এটি নয়। আর এই জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় যদি না সেই পরিভাষাটি যারা চয়ন করেছেন তারা বলেন: আমি রায় (رأي) দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য নিয়েছি:
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الرأيَ المذمومَ، وهذا ما لم يشر إليه من درج على هذين المصطلحين.
ولبيان المسألة أكثر، أقول: بعد أن تشكَّل تفسيرُ السلفِ، وتحدَّد في طبقاتِه الثلاثِ (الصحابة والتابعين وأتباع التابعين) كما هو ظاهرٌ من نقولِ المعتنين بكتابة علم التفسيرِ من علماء أهل السُّنة، الذين اعتمدوا النقل أو الترجيح بين الأقوالِ، صار التفسير المأثور عن السلف مصدراً يجب الرجوع إليه، والاعتماد عليه، وهذا ظاهر لا مشكلة فيه.
لكن هل يعني وصفه بأنه مأثور أنه لم يقع فيه تفسير بالرأي؟.
إنَّ التفسيرَ بالرأي كان منذ عهد الصحابةِ الكرام، وكان لهم مستندهم في الرأي، من القرآن والسنة واللغة وأسباب النُّزول وشيءٍ من مرويات بني إسرائيل، وأحوال من نزل فيهم القرآن
… إلخ.
وجاء التابعون، وكان جملةٌ كبيرةٌ من تفسيرِهم بالرأي، وكان لهم اختيارٌ في التفسيرِ قد يخالفُ اختيارَ أفراد الصحابةِ، وكانت مستندات الرأي عندهم ما كان عند الصحابةِ، وزاد في مصادرهم تفسيرُ الصحابةِ؛ لأنهم جاءوا بعدهم.
নিন্দনীয় রায় (الرأي المذموم), আর যারা এই দুটি পরিভাষা ব্যবহার করেছেন তারা এর প্রতি ইঙ্গিত করেননি।
বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বুঝাতে আমি বলব: সালাফদের তাফসির (تفسير السلف) গঠিত হওয়ার পর এবং তা তিনটি স্তরে (সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ী) সুনির্দিষ্ট হওয়ার পর—যেমনটি ইলমে তাফসির রচনার সাথে সম্পৃক্ত আহলে সুন্নাতের আলেমদের উদ্ধৃতি থেকে প্রতীয়মান হয়, যারা বর্ণনা (النقل) অথবা বিভিন্ন মতের মধ্যে প্রাধান্য (الترجيح) প্রদানের নীতি অবলম্বন করেছেন—সালাফদের থেকে বর্ণিত তাফসির (التفسير المأثور) এমন এক উৎসে পরিণত হয়েছে যার দিকে ফিরে যাওয়া এবং যার ওপর নির্ভর করা আবশ্যক। আর এটি সুস্পষ্ট, এতে কোনো সমস্যা নেই।
তবে একে বর্ণিত বা ‘মাসুর’ হিসেবে অভিহিত করার অর্থ কি এই যে, এতে রায়ের ভিত্তিতে কোনো তাফসির (تفسير بالرأي) ঘটেনি?
প্রকৃতপক্ষে রায়ের ভিত্তিতে তাফসির (التفسير بالرأي) সম্মানীত সাহাবীগণের যুগ থেকেই বিদ্যমান ছিল। রায়ের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ভিত্তি ছিল, যা কুরআন, সুন্নাহ, ভাষা, শানে নুযুল (أسباب النزول), বনী ইসরায়েলের কিছু বর্ণনা (مرويات) এবং যাদের প্রেক্ষাপটে কুরআন নাযিল হয়েছে তাদের অবস্থা... ইত্যাদি থেকে গৃহীত।
এরপর তাবেয়ীগণ আসেন এবং তাদের তাফসিরের একটি বড় অংশ ছিল রায়ের ভিত্তিতে। তাফসিরের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ইখতিয়ার বা চয়ন (اختيار) ছিল যা অনেক সময় সাহাবীদের ব্যক্তিক মতের বিপরীতে যেত। তাদের রায়ের ভিত্তিগুলো ছিল মূলত সাহাবীদের মতই, তবে তাদের উৎসে সাহাবীদের তাফসির অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছিল; কারণ তারা সাহাবীদের পরবর্তী সময়ে এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثمَّ جاء أتباع التابعين، وكان الحالُ كما كان في عهد التابعين، وعليهم وقف النقلُ في التفسير، كما هو ظاهر من كتب التفسير التي نقلت أقوال السلف.
وكان تفسيرُ كل طبقة بالنسبة لمن جاء بعدهم مأثوراً، لكنه لا يحملُ صفة القبولِ المطلقِ لأنه مأثورٌ فقط؛ لأنَّ فيه جملة من الاختلاف التي تحتاج إلى ترجيح القول الأولى = بل له أسباب أخرى مع كونه مأثوراً.
إذا تبين ما سبق، فإنَّ التفسيرَ المأثورَ عن السلف على قسمين:
القسم الأول: المنقول المحض الذي لا يمكن أن يرد فيه اجتهاد، ويشمل تفسيرات النبي صلى الله عليه وسلم وأسباب النُّزول وقصص الآي والغيبيات.
والقسم الثاني: ما كان لهم فيه اجتهاد، ويظهر فيما يرد عليه الاحتمال من التفسير.
وما دام في تفسيرهم رأي، فما نوع الرأي الذي عندهم، وما نوع الرأي الذي جاء بعدهم؟.
أما الرأي الوارد عنهم، فهو من قبيل الرأي المحمود؛ لأنهم لم يكونوا يقولون في القرآن بغير علم،
অতঃপর তাবি-তাবেঈনদের যুগ এল এবং পরিস্থিতি ছিল তাবিঈদের যুগের মতোই। তাঁদের ওপর এসেই তাফসিরের ক্ষেত্রে বর্ণনা পরম্পরার সমাপ্তি ঘটে, যা সালাফদের (পূর্বসূরিদের) উক্তিগুলো উদ্ধৃতকারী তাফসির গ্রন্থগুলো থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।
পরবর্তী প্রজন্মের নিকট প্রতিটি স্তরের তাফসিরই ছিল পরম্পরাগত (مأثور), তবে কেবল পরম্পরাগত হওয়ার কারণেই এটি নিরঙ্কুশ গ্রহণযোগ্যতার বৈশিষ্ট্য বহন করে না; কারণ এতে এমন কিছু মতভেদ রয়েছে যেক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক মতটিকে প্রাধান্য দান (ترجيح) করার প্রয়োজন হয়। বরং এটি পরম্পরাগত হওয়ার পাশাপাশি আরও অন্যান্য কারণও বিদ্যমান।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হলে, সালাফদের থেকে বর্ণিত পরম্পরাগত (مأثور) তাফসির দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত (منقول) অংশ যাতে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) কোনো অবকাশ নেই। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাফসিরসমূহ, অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول), আয়াত সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি এবং অদৃশ্যের বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয় প্রকার: যাতে তাঁদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) রয়েছে এবং তা তাফসিরের সেসব ক্ষেত্রে প্রকাশ পায় যেখানে একাধিক সম্ভাবনার অবকাশ থাকে।
যেহেতু তাঁদের তাফসিরেও নিজস্ব অভিমত (رأي) বিদ্যমান, তবে তাঁদের সেই অভিমত (رأي) কোন ধরনের ছিল এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের অভিমত (رأي) কোন ধরনের ছিল?
তাঁদের থেকে বর্ণিত অভিমত (رأي) মূলত প্রশংসনীয় (محمود) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তাঁরা কুরআন সম্পর্কে জ্ঞানহীন কোনো কথা বলতেন না।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كما لم يكن عندهم هوى مذهبي يجعلهم يحرفون معاني الآيات إلى ما يعتقدونه، فلما سِلموا من هذين السببين اللذين هما من أكبر أسباب الوقوع في التحريف في التفسير، وكانوا يفسرون كلام الله على علمٍ، كان رأيهم محموداً في التفسير.
ووجود قول ضعيف في تفسيرهم لا يعني أنه من الرأي المذموم، وما ورد من تفسيرات غريبة عن بعضهم؛ أعني بعض تفسيرات مجاهد (ت:104) لمسخ بني إسرائيل قردة وخنازير، والميزان، والنظر إلى وجه الله = إنما هي أفراد في تفاسيرهم، وهي نادرة لا تكاد تذكر.
وأما الرأي الذي جاء بعد تفسير السلف فهو على قسمين:
القسم الأول:الرأي المحمود، وهو المبني على علم، وهو نوعان:
النوع الأول: الاختيار من أقوالهم بالترجيح بينها إذا دعا إلى ذلك داعٍ، بشرط أن يكون المرجِّح ذا علم، ولا يختار من أقوالهم حسب هواه وميوله. ولا بدَّ أن يكون المرجِّح على علم بأنواع ما يقع من الاختلاف عنهم، وهو قسمان:
كما তাদের মধ্যে কোনো মাযহাবী খেয়ালখুশি (هوى مذهبي) ছিল না যা তাদের আয়াতের অর্থগুলোকে নিজেদের আকিদা বা বিশ্বাসের অনুকূলে বিকৃত (تحريف) করতে প্ররোচিত করত। ফলে যখন তারা এই দুটি কারণ থেকে মুক্ত থাকলেন—যা তাফসিরের ক্ষেত্রে বিকৃতি (تحريف) ঘটার অন্যতম বড় কারণ—এবং তারা ইলমের ভিত্তিতে আল্লাহর কালামের ব্যাখ্যা করতেন, তখন তাফসিরের ক্ষেত্রে তাদের অভিমত প্রশংসনীয় (محمود) বলে গণ্য হতো।
তাদের তাফসিরের মধ্যে কোনো দুর্বল (ضعيف) বক্তব্যের উপস্থিতি মানে এই নয় যে, তা নিন্দনীয় অভিমত (الرأي المذموم)-এর অন্তর্ভুক্ত। আর তাদের কারও কারও থেকে যেসব বিরল বা অদ্ভুত ব্যাখ্যা (تفسيرات غريبة) বর্ণিত হয়েছে—অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের বানর ও শূকরে রূপান্তরিত হওয়া, মিযান এবং আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানো সম্পর্কিত মুজাহিদ (ওফাত: ১০৪ হিজরি)-এর কিছু তাফসির—সেগুলো তাদের তাফসিরের মধ্যে মূলত একক বা বিচ্ছিন্ন (أفراد) বর্ণনা, যা অত্যন্ত বিরল এবং উল্লেখ করার মতো নয়।
আর সালাফদের তাফসিরের পরবর্তী সময়ে যে অভিমত বা রায় এসেছে তা দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার:প্রশংসনীয় অভিমত (الرأي المحمود), যা ইলমের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং এটি দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: প্রয়োজনের তাগিদে তাদের বিভিন্ন উক্তির মধ্য থেকে অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) মাধ্যমে কোনো একটিকে নির্বাচন করা; শর্ত হলো অগ্রাধিকার প্রদানকারীকে (المرجِّح) ইলম বা জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে এবং তিনি নিজের প্রবৃত্তি বা খেয়ালখুশি অনুযায়ী তাদের বক্তব্য পছন্দ করবেন না। আর অগ্রাধিকার প্রদানকারীকে (المرجِّح) অবশ্যই তাদের মধ্যকার মতপার্থক্যের (الاختلاف) প্রকারভেদ সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে, আর এটি দুই প্রকার:
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأول: أن يكون الخلاف راجعاً إلى معنى واحدٍ، ويكون الخلاف بينهم خلاف عبارة، ويدخل الرأي هنا في توجيه أقوالهم إلى كونها على قول واحد وأنه لا يوجد خلاف حقيقي ولا خلاف معتبر فيه بين هذه الأقوال.
الثاني: أن يكون الخلاف بينهم راجعاً إلى أكثر من معنى، فتصحيح أقوالهم على أنها من اختلاف التنوع، أو اختيار أحد هذه المعاني من المفسرين الذين جاءوا بعدهم إنما يكون برأي واجتهادٍ، كما فعل الطبري (ت:310).
النوع الثاني: الإتيان بمعنى جديد صحيح لا يُبْطِلُ تفسير السلف، ولا يُقْصَر معنى الآية عليه.
لا شكَّ في أن المعاني تنتهي، ولكن هذا لا يعني أن تفسير القرآن قد توقَّف على جيل أتباع التابعين، وأنه لا يجوز لغيرهم أن يفسِّر القرآن.
نعم لا يعني هذا، ولكن لا بدَّ من ضوابط في هذا، وهو ما يشير إليه عنوان الفقرة من أن يكون المعنى صحيحاً وارداً في اللغة، وأن يكون غير مناقض [أي: مُبطل] لقول السلف، وأن لا يعتقد المفسر بطلان قولهم وصحة قوله فقط. فإذا حصلت هذه الضوابط = صحَّ ـ والله أعلم ـ التفسير الجديد، وصار من التفسير بالرأي المحمود المعتمد على علمٍ، والله أعلم.
প্রথমত: মতপার্থক্যটি একটি একক অর্থের দিকে ফিরে আসা এবং তাদের মধ্যকার মতপার্থক্যটি কেবল শব্দগত মতভেদ (خلاف عبارة) হওয়া। এক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যগুলোকে একটি একক বক্তব্যের দিকে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে গবেষণালব্ধ মত (رأي) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এটি প্রতিভাত হয় যে, এসব বক্তব্যের মধ্যে কোনো প্রকৃত বা গ্রহণযোগ্য মতপার্থক্য নেই।
দ্বিতীয়ত: তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য একাধিক অর্থের দিকে ফিরে আসা। এমতাবস্থায় তাদের বক্তব্যসমূহকে বৈচিত্র্যপূর্ণ মতপার্থক্য (اختلاف التنوع) হিসেবে সাব্যস্ত করা, অথবা তাদের পরবর্তী মুফাসসিরগণের মধ্য থেকে কোনো একটি অর্থকে বেছে নেওয়া মূলত গবেষণালব্ধ মত (رأي) ও ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর মাধ্যমেই হয়ে থাকে, যেমনটি তাবারী (মৃত্যু: ৩১০ হি.) করেছেন।
দ্বিতীয় প্রকার: এমন নতুন ও সঠিক (صحيح) অর্থ উপস্থাপন করা যা সালাফদের (سلف) তাফসীরকে বাতিল করে দেয় না এবং আয়াতের অর্থকে কেবল সেই একটি অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে না।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে অর্থের একটি সমাপ্তি আছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কুরআনের তাফসীর তাবি-তাবেয়ীনদের প্রজন্মের ওপর এসে থেমে গেছে এবং তাদের পরবর্তী কারও জন্য কুরআন তাফসীর করা বৈধ নয়।
হ্যাঁ, বিষয়টি এমন নয়, তবে এর জন্য অবশ্যই কিছু নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। অনুচ্ছেদের শিরোনামে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, অর্থটি সঠিক (صحيح) হতে হবে এবং ভাষাগতভাবে তা স্বীকৃত হতে হবে, আর তা সালাফদের (سلف) বক্তব্যের পরিপন্থী [অর্থাৎ: বাতিলকারী] হওয়া যাবে না। এছাড়া মুফাসসির যেন এমন ধারণা না করেন যে তাদের বক্তব্য বাতিল এবং কেবল তার বক্তব্যই সঠিক। যখন এই নীতিমালাসমূহ অর্জিত হবে, তখন সেই নতুন তাফসীরটি সঠিক (صحيح) হবে—আল্লাহই ভালো জানেন—এবং এটি ইলমের ওপর ভিত্তি করে প্রশংসনীয় গবেষণালব্ধ তাফসীর (التفسير بالرأي المحمود)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ৩২)
القسم الثاني:الرأيُ المذموم، وله عدة صور، ويغلب عليه أن يكون تفسيراً عن جهل أو عن هوى، وعلى هذا أغلب تفاسير المبتدعة من المعتزلة والرافضة والصوفية وغيرهم.
وبعد هذا يتبين ما يأتي:1 - أنَّ جعل التفسير بالمأثور مقابلاً للتفسير بالرأي لا يصح.
2 - أنَّ تسمية الوارد عن السلف بأنه مأثور لا إشكال فيه، لكن لا يقابله غيره على أنه تفسير بالرأي؛ لأنَّ في هذا نسيان للرأي الواردِ عن السلفِ.
3 - أنَّ الحكم على التفسير المأثور بالقبول، يصحُّ من حيث الجملة، لكنه لا يتلاءم مع الاختلاف المحقق الوارد عنهم؛ وفي هذه الحال لا بدَّ من معرفة القول الأولى أو القول الصحيح في الآية، وهذا يحتاج إلى رأي جديد، فهل تقف عند الاختلاف بزعم قبول المأثور، أم ترجِّح ما تراه صواباً، فتكون ممن قال برأيه؟.
4 - إنَّ ما ورد عن الصحابة أو التابعين أو أتباعهم، فإنه مأثورٌ، ولكنه لا يُقبلُ لأجل هذه العلةِ فقط، بل هو
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:নিন্দিত অভিমত (الرأي المذموم), যার একাধিক রূপ রয়েছে। সাধারণত এটি অজ্ঞতা কিংবা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে করা ব্যাখ্যা (تفسير) হয়ে থাকে। মুতাজিলা, রাফেযি, সুফি ও অন্যান্য বিদআতিদের (المبتدعة) অধিকাংশ ব্যাখ্যা (تفسير) এই প্রকৃতির।
এর মাধ্যমে নিচের বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়:1 - রেওয়ায়েতভিত্তিক ব্যাখ্যাকে (التفسير بالمأثور) অভিমতভিত্তিক ব্যাখ্যার (التفسير بالرأي) প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো সঠিক নয়।
2 - সালাফদের (السلف) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে মাসুর (مأثور) হিসেবে অভিহিত করায় কোনো সমস্যা নেই, তবে অন্য কোনো কিছুকে এর বিপরীতে অভিমতভিত্তিক ব্যাখ্যা (التفسير بالرأي) হিসেবে গণ্য করা যাবে না; কারণ এর ফলে সালাফদের (السلف) থেকে বর্ণিত অভিমত (الرأي) বিস্মৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
3 - মাসুর (مأثور) ব্যাখ্যাকে গ্রহণযোগ্য (مقبول) বলে হুকুম প্রদান করা সামগ্রিকভাবে সঠিক হলেও, তাঁদের থেকে বর্ণিত সুনিশ্চিত মতভেদের সাথে এটি সংগতিপূর্ণ নয়; এমতাবস্থায় আয়াতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য বা সঠিক (الصحيح) বক্তব্যটি জানা আবশ্যক, আর এর জন্য নতুন গবেষণালব্ধ অভিমতের (الرأي) প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায়, আপনি কি মাসুর (مأثور) গ্রহণের অজুহাতে সেই মতভেদের ওপরই স্থির থাকবেন, নাকি যাকে আপনি সঠিক মনে করেন সেটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দেবেন এবং এভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন যারা নিজ অভিমত (الرأي) ব্যক্ত করেছেন?
4 - সাহাবী, তাবেয়ি কিংবা তাঁদের অনুসারীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা মাসুর (مأثور), তবে কেবল এই ওজরের কারণেই তা গ্রহণ করা হয় না, বরং এটি...
(খণ্ড: ১)
মাফহুমুত তাফসীর ওয়াত তাবীীল ওয়াল ইস্তিনবাত ওয়াত তাদাব্বুর ওয়াল মুফাসসির
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
درجات في القبول؛ كأن يكون إجماعاً منهم، أو قول جمهورهم، أو غيرها من الأسباب.
هذا، ولقد تتبَّعتُ مصطلحَ «مأثور» و «المأثور»، فلم أظفر على هذا التَّقسيمِ الرُّباعيِّ الذي ذكرهُ هؤلاءِ، بل يطلقُه العلماءُ على ما أثرَ عن الرسول صلى الله عليه وسلم أو عن السلفِ، أو الصحابةِ، أو عن التابعين (1)، وأحسبُ أنَّ هذه القضيَّة ليست بحاجةٍ إلى نقلٍ لتدعيمِها؛ لكثرةِ ما تردُ في كتب اللغة، ومصطلح الحديث، وغيرها، فتجد المأثور في اللغةِ: ما نقله الخلف عن السلفِ، وقد يكون اصطلاحاً عند بعضهم على ما أُثِرَ عن الرسولِ صلى الله عليه وسلم، أو عن أصحابهِ أو عن التَّابعينَ، وهو في كلِّ هذه الاصطلاحاتِ لم يخرج عن المعنى العامِّ للَّفظةِ.
وقد يُسمَّى المأثورُ عنهم بالتفسيرِ المنقولِ، ويقسمونَ
--------------------------------------------
গ্রহণের (القبول) বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে; যেমন—তাঁদের ঐকমত্য (إجماع) হওয়া, কিংবা তাঁদের অধিকাংশের মত (جمهور) হওয়া, অথবা অন্যান্য কারণসমূহ।
বিষয়টি হলো, আমি ‘মা’সুর’ (مأثور) ও ‘আল-মা’সুর’ (المأثور) পরিভাষাটি অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু তারা যে চতুর্মুখী বিভাজনের কথা উল্লেখ করেছেন আমি তা খুঁজে পাইনি। বরং আলেমগণ একে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), পূর্বসূরি (السلف), সাহাবী (الصحابة) অথবা তাবেয়ীদের (التابعين) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর প্রয়োগ করে থাকেন। আমি মনে করি, বিষয়টি সমর্থনের জন্য কোনো উদ্ধৃতি পেশ করার প্রয়োজন নেই; কারণ ভাষাতত্ত্বের গ্রন্থাবলি, হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) এবং অন্যান্য কিতাবে এটি প্রচুর পরিমাণে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং আপনি আভিধানিক অর্থে ‘মা’সুর’ (المأثور) পাবেন: যা উত্তরসূরিগণ (الخلف) পূর্বসূরিদের (السلف) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কারো কারো পরিভাষায় এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ অথবা তাবেয়ীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাকেও বোঝায়। এই সকল পারিভাষিক অর্থে এটি শব্দটির সাধারণ অর্থ থেকে বের হয়ে যায়নি।
তাদের থেকে যা বর্ণিত (المأثور) হয়েছে তাকে অনেক সময় উদ্ধৃতিমূলক তাফসির (التفسير المنقول) হিসেবেও অভিহিত করা হয়, এবং তারা একে বিভক্ত করেন
--------------------------------------------