(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الموقظة - ت أبي غدة القسم: علوم الحديث
الكتاب: الموقظة في علم مصطلح الحديث
المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748هـ)
اعتنى به: عبد الفتاح أبو غُدّة
الناشر: مكتبة المطبوعات الإسلامية بحلب
الطبعة: الثانية، 1412 هـ
عدد الصفحات: 93
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুকিজাহ - আবু গুদ্দাহর তাহকীক বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: আল-মুকিজাহ ফি ইলমি মুসতালাহিল হাদিস
লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কাইমাজ আয-যাহাবী (মৃ. ৭৪৮ হি.)
সম্পাদনা: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, আলেপ্পো
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩
[বইয়ের নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: -)
قال مُعِدُّ النسخة الإلكترونية:
غرضي من هذا التدقيق الإلكتروني
قراءة النصّ الأصليّ للكتاب قراءةً صحيحةً دقيقةً، ومطابَقة هذه النسخة بترقيم الكتاب المطبوع، والتنبيه إلى أخطاء النسخة الإلكترونية الموجودة على الشاملة.
عملي في هذا التدقيق الإلكتروني
1- اقتصرتُ على متن الكتاب.
2- حذفتُ تعليقات المُحَقِّق إلَاّ ما اقتضتْهُ الضرورة، ورمزتُ لها بـ (ق) .
3- أما التعليقات التي تخلو من هذا الرمز، وهي الأكثر، فهي للعبد الفقير.
4- راجَعْتُ النصَّ على إحدى المخطوطتين اللتين اعتمد عليهما المحقِّق (وهي مخطوطة المكتبة الظاهرية، رقم 1027عام، 88) ، وهي بخطّ الإمام البقاعيّ، ورَمَزْتُ لها برمز (ظ) .
5- أعَدتُ تنسيقَ النسخة الإلكترونية وتدقيقَها، بارك الله في كاتبها، ونَبَّهْتُ في الهامش إلى أخطائها، ورَمَزْتُ لها برمز (ش) .
والكمال لله وحده وعليه التكلان
صورة للصفحة الأولى من الكتاب
(من مخطوطة المكتبة الظاهرية بدمشق)
ইলেকট্রনিক সংস্করণের প্রস্তুতকারক বলেছেন:
এই ইলেকট্রনিক নিরীক্ষণের (تدقيق) পেছনে আমার উদ্দেশ্য হলো:
গ্রন্থের মূল পাঠ (نص) নির্ভুল ও সুচারুভাবে পাঠ করা, এই সংস্করণকে মুদ্রিত গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং শামিলা সফটওয়্যারে বিদ্যমান ইলেকট্রনিক সংস্করণের ভুলগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা।
এই ইলেকট্রনিক নিরীক্ষণে আমার কর্মপদ্ধতি:
১- আমি কেবল গ্রন্থের মূল পাঠের (متن) মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি।
২- অতি প্রয়োজনীয় বিষয় ব্যতীত আমি গবেষকের (محقق) টীকাগুলো বাদ দিয়েছি এবং সেগুলোকে (ق) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
৩- আর যে সকল টীকা এই প্রতীক বিহীন এবং যেগুলো সংখ্যায় অধিক, সেগুলো এই অধম বান্দার পক্ষ থেকে।
৪- আমি মূল পাঠটি (نص) এমন একটি পাণ্ডুলিপির (مخطوطة) সাথে মিলিয়ে দেখেছি যার ওপর গবেষক (محقق) নির্ভর করেছিলেন (এটি হলো জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি (مخطوطة), নম্বর ১০২৭ সাধারণ, ৮৮)। এটি ইমাম আল-বিকার স্বহস্তে লিখিত এবং আমি একে (ظ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
৫- আমি এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটির বিন্যাস এবং নিরীক্ষণ পুনরায় সম্পন্ন করেছি—আল্লাহ এর লেখককে বরকত দান করুন—এবং এর ভুলগুলো সম্পর্কে পাদটীকায় (هامش) সতর্ক করেছি এবং সেগুলোকে (ش) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
আর পূর্ণতা কেবল আল্লাহর জন্য এবং তাঁর ওপরই নির্ভরতা।
গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠার প্রতিলিপি
(দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) হতে)
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
والصَّلاةُ والسَّلامُ عَلَى محمَّدٍ وآلِه وصَحْبِه (1)
رَبِّ زِدْنِي عِلْماً، وَوَفِّقْ يا كَريم
أما بعد (2)
قال الشيخُ الإمامُ العالِمُ العَلَاّمة، الرُّحْلةُ المُحَقِّق (3) ، بحرُ الفوائد، ومَعْدِنُ الفرائد، عُمْدةُ الحُفَّاظِ والمُحَدِّثين، وعُدَّةُ الأئمةِ المُحَقِّقين (4) ، وآخِرُ المجتهدين: شمسُ الدين محمدُ بن أحمد (5) بنُ عُثمان الذهبيُّ الدمشقيُّ، رحمه الله ونفعنا بعلومه وجميعَ المسلمين:
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রতি (১)।
হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন এবং আমাকে তাওফিক দান করুন, হে মহানুভব।
অতঃপর (২):
শেখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, সুপণ্ডিত, প্রাজ্ঞ পর্যটক ও গবেষক (المحقق) (৩), কল্যাণকর জ্ঞানের সমুদ্র, বিরল তথ্যের আধার, হাফেজ (الحفاظ) ও হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) প্রধান অবলম্বন, গবেষক (المحققين) ইমামগণের পাথেয় (৪) এবং মুজতাহিদগণের (المجتهدين) শেষ প্রতিনিধি: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ (৫) ইবনে উসমান আয-যাহাবি আদ-দিমাশকি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর ইলম দ্বারা আমাদের ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
(1) الحديث الصحيح:هو ما دَارَ على: عَدْلٍ (1) ، مُتْقِنٍ، واتَّصَل سَنَدُه. فإن كان مُرسَلاً، ففي الاحتجاج به اختلاف. وزاد أهلُ الحديث: سلامتَهُ مِن الشذوذِ، والعِلَّة. وفيه نَظَرٌ على مُقتَضَى نظر الفقهاء، فإنَّ كثيراً من العِلَل يأبَوْنها.
فالمُجْمَعُ عَلَى صِحَّتِه إذاً: المُتَّصِلُ، السَّالِمُ من الشُّذوذِ، والعِلَّة. وأنْ يكون رُواتُه: ذَوِي ضَبْطٍ، وعدالةٍ، وعدمِ تدليس.
فأعلى مراتبِ المجمَع عليه:
- مالك، عن نافع، عن ابن عُمَر. أو:
- منصور، عن (2) إبراهيم، عن علقمة، عن عبد الله.
--------------------------------------------
(১) সহিহ (صحيح) হাদিস:এটি এমন হাদিস যা আবর্তিত হয় এমন বর্ণনাকারীর ওপর যিনি: ন্যায়পরায়ণ (عدل), সুনিপুণ (متقن) এবং যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (اتصل سنده)। যদি তা মুরসাল (مرسل) হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। হাদিস বিশারদগণ অতিরিক্ত শর্তারোপ করেছেন: এটি শায বা অস্বাভাবিকতা (الشذوذ) এবং ইল্লত বা সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) থেকে মুক্ত হওয়া। ফকিহদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ তারা অনেক সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) গ্রহণ করতে চান না।
অতএব, যার বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা হলো: যা নিরবচ্ছিন্ন (المتصل) এবং শায (الشذوذ) ও ইল্লত (العلة) থেকে মুক্ত। আর এর বর্ণনাকারীরা যেন হন: প্রখর স্মৃতিশক্তির (ضبط) অধিকারী, ন্যায়পরায়ণ (عدالة) এবং তাদলীস (تدليس) মুক্ত।
ঐকমত্য হওয়া বর্ণনার সর্বোচ্চ স্তরসমূহ হলো:
- মালিক, নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। অথবা:
- মানসুর, ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
أو: - الزهريٌّ، عن سالم، عن (1) أبيه. أو:
- أبو الزِّناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة.
ثم بعدَهُ:
- مَعْمَر، عن هَمَّام، عن أبي هريرة. أو:
- ابنُ أبي عَرُوبة، عن قتادة، عن أنس. أو:
- ابنُ جُرَيج، عن عطاء، عن جابر، وأمثالُه.
ثم بعدَهُ في المرتبةِ:
- الليثُ وزهير، عن أبي الزُّبير، عن جابر. أو:
- سِماَكٌ، عن عِكْرمة، عن ابن عباس.
--------------------------------------------
অথবা: - আয-যুহরি, সালেম থেকে, তিনি তাঁর (১) পিতা থেকে। অথবা:
- আবুয যিনাদ, আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।
অতঃপর এর পরে:
- মা'মার, হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। অথবা:
- ইবনে আবি আরুবাহ, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে। অথবা:
- ইবনে জুরাইজ, আতা থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং এ জাতীয় অন্যান্য।
অতঃপর এর পরবর্তী স্তরে (مرتبة):
- আল-লাইস এবং যুহাইর, আবুল জুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে। অথবা:
- সিমাক, ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أو: - أبو بكر بن عَيّاش، عن أبي إسحاق، عن البَرَاء. أو:
- العلاءُ بن عبد الرحمن، عن أبيه، عن أبي هريرة.
ونحوُ ذلك مِن أفراد البخاريّ أو مسلم.
(2) الحَسَن:وفي تحرير معناه اضطراب. فقال الخَطَّابيُّ رحمه الله: "هو ما عُرِفَ مَخْرجُه واشتَهَر رجالُه، وعليه مَدارُ أكثرِ الحديث. وهو الذي يَقبَلُه أكثرُ العلماء، ويَستعملُه عامَّة الفقهاء". وهذه عبارةٌ ليسَتْ على صِناعة الحدودِ والتعريفات، إذْ الصحيحُ يَنطَبقُ ذلك عليه أيضاً! لكنْ مُرادُه: مما لم يَبْلُغ درجةَ الصحيح.
فأقولُ: الحَسَنُ ما ارتَقَى عن درجة الضعيف، ولم يَبلُغ درجةَ الصحَّة.
অথবা: - আবু বকর ইবনে আইয়াশ, আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা থেকে। অথবা:
- আলা ইবনে আবদুর রহমান, তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।
এবং বুখারী অথবা মুসলিমের অনুরূপ একক বর্ণনা (أفراد)।
(২) হাসান (الحسن):এর মর্মার্থ নিরূপণে অস্থিরতা (اضطراب) রয়েছে। ইমাম খাত্তাবি (রহ.) বলেছেন: "এটি এমন হাদিস যার উৎস (مخرج) পরিচিত এবং যার বর্ণনাকারীগণ (رجال) প্রসিদ্ধ; আর অধিকাংশ হাদিস এর ওপরই আবর্তিত। এটি এমন যা অধিকাংশ আলেম গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ তা ব্যবহার করেন।" এই উক্তিটি শাস্ত্রীয় সংজ্ঞা ও সংজ্ঞায়নের রীতি অনুযায়ী নয়, কারণ সহিহ (الصحيح) হাদিসের ওপরও এটি একইভাবে প্রযোজ্য হয়! তবে তাঁর উদ্দেশ্য হলো: যা সহিহ (الصحيح) এর স্তরে পৌঁছেনি।
আমি বলি: হাসান (الحسن) হলো তা যা দুর্বল (الضعيف) এর স্তর থেকে উন্নীত হয়েছে, কিন্তু সহিহ (الصحة) হওয়ার স্তরে পৌঁছেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وإن شِئتَ قلتَ: "الحَسَنُ ما سَلِمَ من ضعفِ الرُّواة"، فهو حينئذٍ داخلٌ في قِسْم الصحيح. وحينئذٍ يكونُ الصحيحُ مراتب كما قدَّمناه، والحسَنُ ذا رتُبةٍ دُونَ تلك المراتب، فجاء الحسَنُ مثلاً في آخِرِ مراتب الصحيح.
وأما الترمذيُّ، فهو أوَّلُ مَن خَصَّ هذا النوع باسم (الحَسَن) . وذَكَر أنه يريدُ به: أن يَسْلَم راوِيه مِن أن يكون مُتَّهَماً، وأن يَسْلَم مِن الشذوذ، وأن يُروَى نحوُهُ مِن غير وجه. وهذا مشكلٌ أيضاً على ما يقولُ فيه: (حسَنٌ، غريب، لا نعرفه إلا مِن هذا الوجه) .
وقيل: الحسَنُ ما ضَعْفُه مُحتَمَل، ويَسوغُ العملُ به. وهذا أيضاً ليس مضبوطاً بضابطٍ يَتميَّزُ به الضَّعْفُ المحتمَل.
আপনি ইচ্ছা করলে বলতে পারেন: "হাসান (حسن) হলো তা, যা বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা (ضعف) থেকে মুক্ত", এমতাবস্থায় এটি সহিহ (صحيح) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর তখন আমাদের পূর্বে বর্ণিত আলোচনা অনুযায়ী সহিহ (صحيح)-এর বিভিন্ন স্তর থাকবে এবং হাসান (حسن) হবে সেই স্তরগুলোর নিচের একটি স্তর। ফলে উদাহরণস্বরূপ হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)-এর স্তরসমূহের সর্বশেষ স্তরে গণ্য হবে।
আর ইমাম তিরমিজি হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি এই প্রকারটিকে হাসান (حسن) নামে নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো: এর বর্ণনাকারী অভিযুক্ত (متهم) হওয়া থেকে মুক্ত থাকবে, এটি শায (شذوذ) হওয়া থেকে মুক্ত থাকবে এবং এর সমার্থক বর্ণনা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হবে। আর এটি তাঁর সেই মন্তব্যের ক্ষেত্রেও সমস্যাযুক্ত যেখানে তিনি বলেন: "হাসান (حسن), গরিব (غريب), আমরা এই সূত্র ব্যতীত এটি অন্য কোনোভাবে জানি না।"
কেউ কেউ বলেছেন: হাসান (حسن) হলো এমন বর্ণনা যার দুর্বলতা (ضعف) সহনীয় এবং যার ওপর আমল করা বৈধ। এটিও এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়মের অধীন নয় যার মাধ্যমে সহনীয় দুর্বলতা (ضعف) পৃথকভাবে চেনা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقال ابن الصلاح رحمه الله: "إنَّ الحسَنَ قِسْمان (1) :
أحدُهما: ما لا يخلو سَنَدُه مِن مستورٍ لم تَتحقَّق أهليتهُ، لكنه غير مُغَفَّل، ولا خطَّاءٍ، ولا مُتَّهَم. ويكون المتنُ مع ذلك عُرِف مِثلُه أو نحوُه مِن وجهٍ آخر اعتَضد به.
وثانيهما: أن يكون راوِيه مشهوراً بالصدق والأمانة، لكنه لم يبلغ درجةَ رجالِ الصحيح، لقصوره عنهم في الحفظ والإتقان. وهو مع ذلك يرتفع عن حالِ مَن يُعَدُّ تفرُّدُه منكَراً، مع عَدَمِ الشذوذِ والعِلَّة".
فهذا عليه مؤاخذات. وقد قلتُ لك: إنَّ الحسَنَ ما قَصُرَ سَنَدُه قليلاً عن رُتبة الصحيح، وسيَظهر لك بأمثلة.
ثم لا تَطمَعْ بأنَّ للحسَنِ (2) قاعدةً تندرجُ كلُّ الأحاديثِ الحِسانِ فيها، فأَنَا على إِياسٍ من ذلك! فَكَمْ مِن حديثٍ تردَّدَ فيه الحُفَّاظُ: هل هو حسَن؟ أو ضعيف؟ أو صحيحٌ؟ بل الحافظُ الواحدُ يتغيَّرُ اجتهادُه
--------------------------------------------
ইবনুল সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই হাসান (الحسن) দুই প্রকার (১):
প্রথমটি: যার সনদ (سند) এমন কোনো অজ্ঞাত (مستور) বর্ণনাকারী থেকে মুক্ত নয় যার যোগ্যতা প্রমাণিত হয়নি, তবে তিনি অসতর্ক (مغفل) নন, অত্যধিক ভুলকারী (خطاء) নন এবং অভিযুক্ত (متهم) নন। আর এর সাথে হাদিসের মতন (المتن) অন্য কোনো সূত্র থেকে একইভাবে বা কাছাকাছিভাবে পরিচিত হতে হবে, যার মাধ্যমে এটি শক্তিশালী (اعتضد) হয়।
দ্বিতীয়টি: এর বর্ণনাকারী সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার জন্য প্রসিদ্ধ হবেন, কিন্তু তিনি সহিহ (الصحيح) এর বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি, মুখস্থশক্তি ও যথাযথ সংরক্ষণের (الإتقان) ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকার কারণে। তা সত্ত্বেও তিনি এমন অবস্থা থেকে উপরে থাকবেন যার একক বর্ণনাকে অগ্রহণযোগ্য (منكر) হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং সাথে কোনো বিচ্যুতি (الشذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) না থাকে।"
এর ওপর কিছু আপত্তি রয়েছে। আমি আপনাকে বলেছি: হাসান (الحسن) হলো তা-ই যার সনদ (سند) সহিহ (الصحيح) এর স্তরের চেয়ে সামান্য কম, যা আপনার কাছে উদাহরণসহ স্পষ্ট হবে।
এরপর আপনি এমন আকাঙ্ক্ষা করবেন না যে, হাসান (الحسن) এর এমন কোনো সর্বজনীন নিয়ম রয়েছে যার অধীনে সমস্ত হাসান হাদিস অন্তর্ভুক্ত হবে, আমি এ ব্যাপারে হতাশ! কারণ কত এমন হাদিস রয়েছে যে বিষয়ে হাফেজগণ (الحفاظ) দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছেন: তা কি হাসান (حسن)? নাকি দুর্বল (ضعيف)? নাকি সহিহ (صحيح)? এমনকি একজন হাফেজের ইজতিহাদ (اجتهاد) পরিবর্তিত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
في الحديث الواحد: فيوماً يَصِفُه بالصحة، ويوماً يَصِفُه بالحُسْن، وَلَرُبَّما استَضْعَفَه!
وهذا حقٌّ، فإنَّ الحديثَ الحَسَنَ يَستضعفه الحافظُ عن أن يُرَقِّيَه إلى رُتبةِ (1) الصحيح. فبهذا الاعتبارِ فيه ضَعْفٌ مَّا، إذْ الحَسَنُ لا ينفكُّ عن ضَعْفٍ مَّا. ولو انفَكَّ عن ذلك، لصَحَّ باتفاق.
وقولُ الترمذيّ: (هذا حديثٌ حسَنٌ، صحيح) عليهِ إشكال: بأن الحَسَن قاصِرٌ عن الصحيح، ففي الجمع بين السَّمْتَيْنِ لحديثٍ واحدٍ مُجاذَبَة! وأُجيبَ عن هذا بشيء لا ينَهض أبداً، وهو أنَّ ذلك راجعٌ إلى الإسناد: فيكون قد رُوي بإسنادٍ حسن، وبإسنادٍ صحيح. وحينئذٍ لو قيل: (حسن، صحيح، لا نعرفه إلَاّ مِن هذا الوجه) ، لبَطَلَ هذا الجواب!
وحقيقةُ ذلك - أن لو كان كذلك - أن يقال: (حديث حَسنٌ وَصحيح) . فكيف العَملُ في حديثٍ يقول فيه: (حسَنٌ، صحيحُ،
--------------------------------------------
একটি মাত্র হাদিসের ক্ষেত্রে: কোনো দিন তিনি একে সহিহ (صحة) হিসেবে অভিহিত করেন, কোনো দিন হাসান (حُسْن) হিসেবে অভিহিত করেন, আবার কখনও হয়তো তিনি একে দুর্বল (استضعفه/ضعيف) গণ্য করেন!
আর এটিই সঠিক; কেননা হাফেজ (হাফিজ) কোনো হাসান (حَسَن) হাদিসকে সহিহ (صحيহ)-এর স্তরে (১) উন্নীত করার ক্ষেত্রে সেটিকে কিছুটা দুর্বল (يستضعفه/ضعيف) মনে করেন। এই বিবেচনায় তাতে এক ধরণের দুর্বলতা (ضَعْف) থেকে যায়, যেহেতু হাসান (حَسَن) হাদিস কোনো না কোনো প্রকারের দুর্বলতা (ضَعْف) থেকে মুক্ত নয়। যদি তা থেকে মুক্ত হতো, তবে তা সর্বসম্মতভাবে সহিহ (صحيহ) হতো।
ইমাম তিরমিজির এই বক্তব্য: (এটি হাসান সহিহ হাদিস) -এর ওপর একটি আপত্তি রয়েছে: তা হলো হাসান (حَسَن) হাদিস সহিহ (صحيহ) হাদিসের চেয়ে নিম্নমানের, তাই একটি মাত্র হাদিসের ক্ষেত্রে উভয় বৈশিষ্ট্যের একত্রীকরণ পরস্পরবিরোধী! এর উত্তরে এমন কিছু বলা হয়েছে যা মোটেও টেকসই নয়; আর তা হলো, এটি সনদের (إسناد) দিকে প্রত্যাবর্তন করে: অর্থাৎ হাদিসটি একটি হাসান (حسن) সনদ এবং একটি সহিহ (صحيহ) সনদে বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি বলা হয়: (হাসান, সহিহ, আমরা কেবল এই একটি সূত্র ছাড়া এটি জানি না), তবে তো এই উত্তরটি বাতিল হয়ে যায়!
আর এর বাস্তবতা হলো—যদি বিষয়টি এমনই হতো—তবে বলা হতো: (হাসান ও সহিহ হাদিস)। সুতরাং এমন হাদিসের ক্ষেত্রে কী করা হবে যে বিষয়ে তিনি বলেন: (হাসান, সহিহ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
لا نعرفه إلَاّ مِن هذا الوجه) ؟ فهذا يُبطِلُ قولَ من قال: أن يكون ذلك بإسنادين.
ويَسُوغُ أن يكون مُرادُه بالحَسَن: المعنىَ اللغويَّ لا الاصطلاحيَّ، وهو إقبالُ النفوسِ وإصغاءُ الأسماعِ إلى حُسنِ مَتْنِه، وجِزَالةِ لفظِه، وما فيه من الثوابِ والخير. فكثيرٌ مِن المتون النبوية بهذه المثابة.
قال شيخنا ابنُ وهب: فَعَلَى هذا، يَلزمُ إطلاقُ الحَسَنِ على
...আমরা এটি কেবল এই একটি সূত্র (الوجه) মাধ্যমেই জানি)? সুতরাং এটি ঐ ব্যক্তির উক্তিকে বাতিল করে দেয় যে বলেছে: এটি দুটি সনদ (إسنادين) দ্বারা হতে হবে।
এবং হাসান (حسن) দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য আভিধানিক (اللغوي) অর্থ হওয়াও সম্ভব, পারিভাষিক (الاصطلاحي) অর্থ নয়; আর তা হলো এর মতন (متن)-এর সৌন্দর্য, শব্দের গাম্ভীর্য এবং এতে বিদ্যমান সওয়াব ও কল্যাণের প্রতি হৃদয়ের আকর্ষণ ও শ্রবণেন্দ্রিয়ের মনোযোগ। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক মতন (متن) এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
আমাদের শায়খ ইবনুল ওয়াহাব বলেছেন: সুতরাং এই ভিত্তিতে, হাসান (حسن) পরিভাষাটির প্রয়োগ আবশ্যক হবে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
بعضِ الموضوعات! ولا قائلٌ بهذا. ثم قال: "فأقولُ: لا يُشتَرَطُ في الحَسَن قيدُ القُصور عن الصحيح، وإنما جاء القصورُ إذا اقتُصر على: (حديث حَسَن) . فالقصورُ يأتيه من قيدِ الاقتصار، لا من حيث حقيقتهُ وذاتهُ". ثم قال: "فللرُّواةِ صفاتٌ تقتضي قبولَ الرواية، ولتلك الصفاتِ دَرَجَاتٌ بعضُها فوقَ بعض، كالتيقُّظِ والحفظِ والإتقان. فوجودُ الدَّرَجةِ الدنيا، كالصدقِ مثلاً وعَدَمِ التُّهمة، لا ينافيه
কিছু জাল (موضوع) বিষয়! আর কেউই এই মত পোষণ করেন না। এরপর তিনি বললেন: "আমি বলছি: হাসান (حسن) হওয়ার জন্য সহিহ (صحيح) থেকে নিম্নমানের হওয়ার শর্তারোপ করা হয় না; বরং এই নিম্নমান বা অপূর্ণতা কেবল তখনই আসে যখন একে কেবল 'হাসান (حسن) হাদিস' হিসেবে সীমাবদ্ধ করা হয়। সুতরাং এই নিম্নমান সীমাবদ্ধকরণের কারণে ঘটে, তার হাকিকত বা সত্তাগত দিক থেকে নয়।" এরপর তিনি বললেন: "বর্ণনাকারীদের এমন কিছু গুণাবলি থাকে যা বর্ণনা গ্রহণের দাবি রাখে এবং সেই গুণাবলির বিভিন্ন স্তর রয়েছে যার একটি অন্যটির ঊর্ধ্বে, যেমন—সতর্কতা (تيقظ), মুখস্থশক্তি (حفظ) এবং নিপুণতা (إتقان)। সুতরাং সর্বনিম্ন স্তরের উপস্থিতি, যেমন—সত্যবাদিতা (صدق) এবং অভিযুক্ত (تُهمة) না হওয়া, এর পরিপন্থী নয়..."
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وجودُ ما هو أعلى منهُ من الإتقانِ والحفظ. فإذا وُجدتْ الدرجةُ العُلْيا، لم يُنافِ ذلك وجودُ الدنيا كالحفظ مع الصدق. فَصحَّ أن يقال: (حسَنٌ) باعتبار الدنيا، (صحيحٌ) باعتبار العُلْيا. ويَلزَمُ على ذلك أن يكون كلُّ صحيحٍ حسناً، فيُلتَزَمُ ذلك. وعليه عبارات المتقدمين، فإنهم يقولون فيما صَحَّ: (هذا حديثٌ حسن) ".
قلتُ: فأعلى مراتب الحَسَن:
- بَهْزُ بن حَكيم، عن أبيه، عن جَدِّه. و:
- عَمْرو (1) بن شُعَيب، عن أبيه، عن جَدِّه. و:
- محمد بن عَمْرو، عن أبي سَلَمة، عن أبي هريرة. و:
--------------------------------------------
এর চেয়ে উচ্চতর পর্যায়ের পারদর্শিতা (الإتقান) ও স্মৃতিশক্তির (الحفظ) উপস্থিতি। সুতরাং যখন উচ্চতর স্তর পাওয়া যায়, তখন তা নিম্নতর স্তরের উপস্থিতির পরিপন্থী হয় না; যেমন সততার (الصدق) পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি (الحفظ)। অতএব এটি বলা সঠিক যে, নিম্নতর স্তরের বিবেচনায় তা ‘হাসান’ (حسن) এবং উচ্চতর স্তরের বিবেচনায় তা ‘সহিহ’ (صحيح)। আর এর অনিবার্য ফলাফল হলো প্রতিটি সহিহ (صحيহ) হাদিসই হাসান (حسن) হবে, আর এটিই নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পূর্ববর্তী ইমামগণের (المتقدمين) পরিভাষাগুলোও এর ওপর ভিত্তি করেই গঠিত; কেননা তারা কোনো সহিহ (صحيح) হাদিসের ব্যাপারে বলতেন: "এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস" ।
আমি বলছি: হাসান (حسن) পর্যায়ের সর্বোচ্চ স্তরসমূহ হলো:
- বাহজ ইবনে হাকিম, তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে। এবং:
- আমর (১) ইবনে শুআইব, তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে। এবং:
- মুহাম্মদ ইবনে আমর, আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। এবং:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
- ابنُ إسحاق، عن محمد بن إبراهيم التَّيْمِي. وأمثالُ ذلك.
وهو قِسمُ مُتجاذَبٌ بين الصحةِ والحُسن. فإنَّ عِدَّةً من الحُفَّاظ يُصَحِّحون هذه الطُرُقَ، وينعتونها بأنها من أدنى مراتب الصحيح.
ثم بعد ذلك، أمثلةٌ كثيرة يُتَنازَعُ فيها: بعضُهم يُحَسِّنونها، وآخَرُون يُضعِّفونها. كحديث الحارثِ بن عبد الله، وعاصم بن ضَمْرة، وحَجَّاج بن أَرْطَاة، وخُصَيْف، ودَرَّاجٍ أبي السَّمْح، وخلقٍ سِواهم.
(3) الضعيف:ما نَقَص عن درجة الحَسَن قليلاً. ومِن ثَمَّ، تُرُدِّدَ في حديثِ أُنَاسٍ: هل بَلَغ حديثُهم إلى درجةِ الحَسَنِ أم لا؟ وبلا ريبٍ، فخَلْقٌ كثيرٌ من المتوسطين في الرِّوايةِ بهذه المثابة. فآخِرُ مراتب الحَسَنِ هي أولُ مراتب الضَّعيف، أعني الضعيف الذي في "السُّنَن" وفي كتب الفقهاء، ورُواتُه
ইবনে ইসহাক, মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং এর সদৃশ উদাহরণসমূহ।
এটি এমন একটি প্রকার যা সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن)-এর মধ্যবর্তী পর্যায়ে দোলায়মান। কেননা একদল হাফেজ (حفاظ) এই সূত্রগুলোকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেন এবং এগুলোকে সহিহ (صحيح)-এর সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে গণ্য করেন।
এরপর এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে মতভেদ বিদ্যমান: কেউ কেউ সেগুলোকে হাসান (حسن) সাব্যস্ত করেন, আবার অন্যরা সেগুলোকে দুর্বল (ضعيف) বলেন। যেমন হারিস বিন আব্দুল্লাহ, আসিম বিন দামরাহ, হাজ্জাজ বিন আরতাহ, খুসাইফ, দাররাজ আবুস সামহ এবং তাদের মতো আরও অনেকের হাদিস।
(৩) দুর্বল (ضعيف):যা হাসান (حسن)-এর স্তর থেকে সামান্য নিম্নমানের। আর এ কারণেই কিছু লোকের বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে দ্বিধা তৈরি হয়: তাদের হাদিস কি হাসান (حسن)-এর স্তরে উন্নীত হয়েছে কি না? নিঃসন্দেহে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মধ্যম সারির অনেকেই এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং হাসান (حسن)-এর সর্বনিম্ন স্তরই হলো দুর্বল (ضعيف)-এর প্রাথমিক স্তর; অর্থাৎ সেই দুর্বল (ضعيف) যা সুনান এবং ফকিহগণের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং এর বর্ণনাকারীবৃন্দ...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
ليسوا بالمتروكين: كابن لَهِيعَة، وعبد الرحمن بن زيد بن أسلم، وأبي بكر بن أبي مريم الحمصيّ، وفَرَج بن فَضَالة، ورِشْدِين، وخلقٍ كثير.
(4) المطروح:ما انحطَّ عن رُتبة الضعيف.
তারা বর্জনীয় (المتروكين) নন: যেমন ইবনে লাহিয়াহ, আবদুর রহমান ইবনে জায়দ ইবনে আসলাম, আবু বকর ইবনে আবি মারিয়াম আল-হিমসি, ফারাজ ইবনে ফাদালাহ, রিশদিন এবং আরও অনেকে।
(৪) পরিত্যক্ত (المطروح):যা দুর্বল (الضعيف) স্তরের নিচে নেমে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
ويُروَى في: بعض المسانيد الطِّوال، وفي الأجزاء، بل (1) وفي "سُنن ابن ماجَهْ" و "جامع أبي عيسى". مثل:
- عَمْرِو بن شَمِر، عن جابر الجُعفي، عن الحَارِث، عن عليّ. وكـ:
- صَدَقَة الدَّقِيقي، عن فَرْقَدٍ السَّبَخي، عن مُرَّةَ الطَّيَب، عن أبي بكْر. و:
- جُوَيْبِر، عن الضحَّاك، عن ابن عباس. و:
- حفص بن عُمَر العَدَني، عن الحكَم بن أبان، عن عكرمة.
وأشباهُ ذلك من المتروكين والهَلْكَى، وبعضهم أفضل من بعض.
--------------------------------------------
এবং এটি বর্ণিত হয়েছে: কিছু দীর্ঘ মুসনাদ এবং জুযসমূহে, বরং (১) এবং "সুনানে ইবনে মাজাহ" ও "জামেউ আবি ঈসা"-তেও। যেমন:
- আমর ইবনে শামির, জাবির আল-জু'ফী থেকে, হারিস থেকে, আলী থেকে। এবং যেমন:
- সাদাকা আদ-দাকীকী, ফারকাদ আস-সাবাকী থেকে, মুররাহ আত-ত্বায়িব থেকে, আবু বকর থেকে। এবং:
- জুওয়াইবির, আদ-দাহহাক থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে। এবং:
- হাফস ইবনে উমর আল-আদানী, হাকাম ইবনে আবান থেকে, ইকরিমা থেকে।
এবং এই জাতীয় পরিত্যক্ত (متروك) ও ধ্বংসপ্রাপ্ত (هلكى) বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণিত, যাদের কেউ কেউ অন্যের তুলনায় উত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
(5) الموضوع:ما كان مَتْنُه مخالفاً للقواعد، وراويه كذَّاباً، كـ: "الأربعين الوَدْعانيَّة"، وكـ: "نسخة عليّ الرِّضَا" المكذوبةِ عليه. وهو مراتب، منه:
- ما اتفقوا على أنه كَذِب. ويُعرَفُ ذلك بإقرار واضعِه، وبتجربةِ الكذبِ منه، ونحوِ ذلك. ومنه:
- ما الأكثرون على أنه موضوع. والآخَرُون يقولون: هو حديثٌ ساقطٌ مطروح، ولا نَجسُرُ أن نُسمِّيَه موضوعاً. ومنه:
- ما الجمهورُ على وَهْنِه وسُقوطِه، والبعضُ على أنه كذِب.
ولهم في نقد ذلك طُرقٌ متعدِّدة، وإدراكٌ قويٌّ تَضِيقُ عنه
(৫) জাল (الموضوع):যার মূল পাঠ (متن) মূলনীতির পরিপন্থী এবং যার বর্ণনাকারী চরম মিথ্যাবাদী (كذاب); যেমন: "আল-আরবাউন আল-ওয়াদআনিয়্যাহ" এবং "নুসখাহ আলী আর-রিদা" যা তার নামে মিথ্যাভাবে আরোপিত। এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- যেগুলোর মিথ্যা (كذب) হওয়ার বিষয়ে ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি জালকারীর (واضع) স্বীকারোক্তি, তার মিথ্যাচারের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং এজাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়। এর মধ্যে আরও রয়েছে:
- যেগুলোর ব্যাপারে অধিকাংশের রায় হলো সেগুলো জাল (موضوع)। তবে অন্যরা বলেন: এগুলো অত্যন্ত বর্জনীয় (ساقط) ও ত্যাজ্য (مطروح) হাদিস, আমরা এগুলোকে জাল (موضوع) বলার দুঃসাহস দেখাই না। এর মধ্যে আরও রয়েছে:
- যেগুলোর চরম দুর্বলতা (وهن) ও অগ্রহণযোগ্যতার (سقوط) বিষয়ে জুমহুর বা অধিকাংশ আলিম একমত, আবার কেউ কেউ এগুলোকে মিথ্যা (كذب) বলেছেন।
এসবের সূক্ষ্ম পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাদের (মুহাদ্দিসগণের) নানাবিধ পদ্ধতি ও প্রখর অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে, যা বর্ণনা করা দুঃসাধ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
عباراتُهم. مِن جِنسِ ما يُؤتاه الصَّيرفيُّ الِجهْبِذُ في نقدِ الذهب والفضة، أو الجوهريُّ لنقدِ الجواهرِ والفُصوصِ لتقويمها.
فلكثرةِ ممارستِهم للألفاظ النبويَّة، إذا جاءهم لفظٌ ركيكٌ - أعني مُخالفِاً للقواعد - أو فيه المجازفةُ في الترغيب والترهيب، أو الفضائل، وكان بإسنادٍ مُظلِم، أو إسنادٍ مُضِيء كالشمس في أثنائه رجلٌ كذَّابٌ أو وَضَّاع: فيَحْكُمون بأنَّ هذا مختلَق، ما قاله رسولُ الله صلى الله عليه وسلم، وتَتواطأُ أقوالُهم فيه عَلَى شيء واحد.
وقال شيخنا ابنُ دقيق العيد: "إقرارُ الراوي بالوضع في رَدِّه، ليس بقاطعٍ في كونه موضوعاً، لجوازِ أن يَكذب في الإِقرار".
قلتُ: هذا فيه بعضُ ما فيه، ونحن لو فتحنا بابَ التجويز والاحتمالِ البعيد، لوقعنا في الوسوسة والسفسطة!
তাঁদের অভিব্যক্তিগুলো ঠিক তেমনি, যেমনটি একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ স্বর্ণকার সোনা ও রূপা যাচাই করার ক্ষেত্রে কিংবা একজন জহুরি মণি-মুক্তা ও রত্নপাথরের মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রজ্ঞা লাভ করেন।
নবীজির বাণীর সাথে তাঁদের অত্যধিক চর্চা ও সখ্য থাকার কারণে, যখন তাঁদের সামনে কোনো দুর্বল শব্দ বা বাক্য আসে—অর্থাৎ যা শাস্ত্রীয় নিয়মের পরিপন্থী—অথবা যাতে উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন কিংবা ফযিলতের বর্ণনায় অতিরঞ্জন থাকে; এবং সেটি যদি কোনো অন্ধকার সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে আসে, অথবা সূর্যের মতো উজ্জ্বল কোনো সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে আসা সত্ত্বেও তার মাঝে কোনো চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) কিংবা জালকারী (وضاع) ব্যক্তি থাকে: তখন তাঁরা এই সিদ্ধান্ত দেন যে এটি বানোয়াট (مختلق), যা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেননি। এবং এ ব্যাপারে তাঁদের সবার বক্তব্য একই বিন্দুতে মিলিত হয়।
আমাদের শায়খ ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন: "হাদিসটি প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী (الراوي)-র জালকরণ (الوضع)-এর স্বীকারোক্তিই তা জাল (موضوع) হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; কারণ এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি স্বীকারোক্তি প্রদানের ক্ষেত্রেও মিথ্যা বলছেন।"
আমি বলব: এই বক্তব্যের মাঝে কিছুটা খটকা রয়েছে। আমরা যদি কেবল সম্ভাবনা ও দূরবর্তী যুক্তির দুয়ার খুলে দিই, তবে আমরা সংশয় ও কুতর্কের জালে নিপতিত হব!
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
نعم، كثيرٌ من الأحاديث التي وُسِمَتْ بالوضع لا دليلَ على وضعها، كما أنَّ كثيراً من الموضوعاتِ لا نرتابُ في كونها موضوعة.
(6) المُرسَل:عَلَمٌ عَلَى ما سَقَط ذِكْرُ الصحابيّ من إسناده، فيقول التابعيُّ: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. ويَقَعُ في المراسيل الأنواعُ الخمسةُ الماضية. فَمِن صِحاح المراسيل:
হ্যাঁ, জালিয়াতি (الوضع) হিসেবে চিহ্নিত অনেক হাদিসের ক্ষেত্রেই তার জাল হওয়ার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, যেমনটি অনেক বানোয়াট (الموضوعات) হাদিসের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে সেগুলো জাল (موضوعة)।
(৬) বিচ্ছিন্ন (المُرسَل):এটি ঐ হাদিসের নাম যার সনদ (إسناد) থেকে সাহাবীর (الصحابي) উল্লেখ বাদ পড়ে গেছে; ফলে তাবেঈ (التابعي) সরাসরি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন। আর এই বিচ্ছিন্ন (المراسيل) হাদিসগুলোর মধ্যেও পূর্বোক্ত পাঁচটি প্রকার পরিলক্ষিত হয়। সহিহ (صحاح) পর্যায়ের বিচ্ছিন্ন (المراسيل) হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
- مُرسَل سعيد بن المسيَّب. و:
- مُرسَل مسروق. و:
- مُرسَل الصُّنَابِحِي. و:
- مُرسَل قيس بن (1) أبي حازم. ونحوُ ذلك.
فإنَّ المرسَل إذا صَحَّ إلى تابعيّ كبير، فهو حُجَّة عند خلق من الفقهاء. فإن كان في الرُّوَاةِ ضَعيْفٌ إلى مثلِ ابن المسيَّب، ضَعُفَ الحديثُ من قِبَلِ ذلك الرجل. وإن كان متروكاً أو ساقطاً، وَهَنَ الحديثُ وطُرح.
ويوُجَدُ في المراسيلِ موضوعاتٌ. نعم، وإن صَحَّ الإسنادُ إلى تابعيٍّ متوسّط الطبقة، كمراسيل:
--------------------------------------------
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের মুরসাল (مرسل)। এবং:
- মাসরূকের মুরসাল (مرسل)। এবং:
- সুন্নাবিহীর মুরসাল (مرسل)। এবং:
- কায়েস বিন আবি হাযিমের মুরসাল (مرسل)। এবং এ জাতীয় অন্যান্য।
বস্তুত মুরসাল (مرسل) বর্ণনা যদি কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ তাবিঈ (تابعي) পর্যন্ত বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত হয়, তবে ফকিহদের একটি বিরাট গোষ্ঠীর নিকট তা দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য। তবে ইবনুল মুসাইয়্যিবের মতো বর্ণনাকারী পর্যন্ত পৌঁছানোর সূত্রে যদি কোনো রাবী দুর্বল (ضعيف) থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তির কারণেই হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য হবে। আর যদি রাবী পরিত্যক্ত (متروك) কিংবা বর্জনীয় (ساقط) হয়, তবে হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল (وهن) হয়ে পড়বে এবং তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
মুরসাল (مرسل) বর্ণনাগুলোর মধ্যে জাল (موضوع) হাদিসও বিদ্যমান থাকে। হ্যাঁ, আর যদি কোনো মধ্যম স্তরের তাবিঈ (تابعي) পর্যন্ত সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح) হয়, যেমন এই বর্ণনাকারীদের মুরসাল (مرسل) সমূহ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
مجاهد، وإبراهيم، والشعبي. فهو مُرسَل جيّد لا بأسَ به، يقَبلُه قومٌ ويَرُدُّه آخَرون.
ومِن أوهى المراسيل عندهم: مراسيلُ الحَسَن. وأوهى من ذلك: مراسيلُ الزهري، وقتادة، وحُمَيد الطويل، من صغار التابعين. وغالبُ المحقِّقين يَعُدُّون مراسيلَ هؤلاء مُعْضَلاتٍ ومنقطِعات، فإنَّ غالبَ رواياتِ هؤلاء عن تابعيٍّ كبير، عن صحابيّ. فالظنُّ بِمُرْسِلِه (1) أنه أَسقَطَ من إسنادِه اثنين.
(7) المُعْضَل:هو ما سَقَط من إسنادِه اثنانِ فصاعداً. وكذلك:
(8) المنقطِع:فهذا النوعُ قلَّ مَن احتَجَّ به.
--------------------------------------------
মুজাহিদ, ইবরাহিম এবং শা’বী। সুতরাং এটি একটি উত্তম (جيد) বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা যাতে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به), যা একদল গ্রহণ করেন এবং অন্যদল প্রত্যাখ্যান করেন।
আর তাদের নিকট সবচেয়ে দুর্বল (أوهى) বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলোর (المراسিল) মধ্যে অন্যতম হলো: হাসানের বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (المراسيل)। আর এর চেয়েও দুর্বল (أوهى) হলো: যুহরি, কাতাদাহ এবং হুমায়দ আত-তাবীল-এর বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো (المراسيل), যারা ছোট পর্যায়ের তাবেঈগণের (صغار التابعين) অন্তর্ভুক্ত। আর অধিকাংশ গবেষক (المحققين) এই ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলোকে (المراسيل) জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ (معضلات) এবং বিচ্ছিন্ন (منقطعات) হিসেবে গণ্য করেন; কেননা এদের অধিকাংশ বর্ণনা একজন বড় পর্যায়ের তাবেঈ (تابعي كبير), যিনি একজন সাহাবীর (صحابي) সূত্রে বর্ণনা করেন। ফলে এই বিচ্ছিন্ন বর্ণনাকারীর (مرسل) ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা হয় যে, তিনি তাঁর সনদ (إسناد) থেকে দুইজনকে বাদ দিয়েছেন।
(৭) জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ (المُعْضَل):এটি হচ্ছে এমন যার সনদ (إسناد) থেকে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে। অনুরূপভাবে:
(৮) বিচ্ছিন্ন (المنقطِع):এই প্রকারের বর্ণনা খুব কম সংখ্যকই দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتج) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤١)
وأجوَدُ ذلك ما قال فيه مالكُ: "بلَغَنِي أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: كذا وكذا". فإنَّ مالكاً مُتَثَبِّتٌ، فلعلَّ بلاغاتهِ أقوى من مراسَيل مِثل: حُمَيد، وقتادة.
(9) الموقوف:هو ما أُسنِدَ إلى صحابيّ من قولهِ أو فعِله. ومُقابِلُه:
(10) المرفوع:وهو ما نُسِبَ إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم من قولِه أو فعلِه.
এর মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হলো সেই বর্ণনা যাতে (ইমাম) মালিক বলেছেন: "আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ এরূপ বলেছেন।" কারণ (ইমাম) মালিক অত্যন্ত যাচাই-বাছাইকারী (متثبت), তাই সম্ভবত তাঁর বালাগাত (بلاغات) তথা 'সংবাদ পৌঁছেছে' সূত্রীয় বর্ণনাগুলো হুমাইদ ও কাতাদাহর মতো বর্ণনাকারীদের বিচ্ছিন্ন (مراسيل) হাদিসের চেয়েও অধিক শক্তিশালী।
(৯) মাওকুফ (الموقوف):এটি এমন বর্ণনা যা কোনো সাহাবীর কথা বা কাজ হিসেবে তাঁর দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে। আর এর বিপরীত হলো:
(১০) মারফু (المرفوع):এটি এমন বর্ণনা যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা বা কাজ হিসেবে তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
(11) المُتَّصِل (1) :
ما اتَّصَل سَنَدُه، وسَلِمَ من الانقطاع. ويَصدُق ذلك على المرفوع، والموقوف.
(12) المُسْنَد:هو ما اتَّصَل سَنَدُه بذكرِ النبيّ صلى الله عليه وسلم. وقيل: يَدخُلُ في المسند كلُّ ما ذُكِرَ فيه النبيُّ صلى الله عليه وسلم وإن كان في أثناءِ سَنَدِه انقطاع.
(13) الشاذّ:هو ما خالفَ راوِيهِ الثقاتِ، أو ما انْفَرَد به مَن لا يَحتمِلُ حالُه قبولَ تفرُّدِه.
(14) المُنْكَر:وهو ما انفرد الراوي الضعيفُ به. وقد يُعَدُّ مُفْرَدُ الصَّدُوقِ منكَراً.
--------------------------------------------
(১১) সংযুক্ত (المتصل) (১) :
যাঁর সনদ (سند) অবিচ্ছিন্ন বা সংযুক্ত, এবং যা বিচ্ছেদ (انقطاع) থেকে মুক্ত। এটি মারফু (مرفوع) এবং মাওকুফ (موقوف) উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
(১২) মুসনাদ:এটি সেই হাদিস যার সনদ (سند) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ পর্যন্ত সংযুক্ত (متصل)। বলা হয়েছে: যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ রয়েছে এমন সবকিছুই মুসনাদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও তার সনদের (سند) মাঝে বিচ্ছেদ (انقطاع) থেকে থাকে।
(১৩) শায (الشاذ):এটি এমন হাদিস যার বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেছেন, অথবা যা এমন কোনো ব্যক্তি এককভাবে বর্ণনা (انفرد) করেছেন যার অবস্থা তার একক বর্ণনা (تفرد) গ্রহণ করার উপযোগী নয়।
(১৪) মুনকার (المنكر):এটি সেই হাদিস যা কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা (انفرد) করেছেন। কখনও কখনও সত্যবাদী (صدوق) বর্ণনাকারীর একক বর্ণনাকেও (مفرد) মুনকার (منكر) হিসেবে গণ্য করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
(15) الغريب:ضِدُّ المشهور. فتارةً ترجعُ غرابتُه إلى المتن، وتارةً إلى السَّنَد.
… والغريبُ صادقٌ على ما صَحَّ، وعَلَى ما لم يصحّ. والتفرُّدُ يكونُ لِمَا انْفَرَدَ به الراوي إسناداً أو متناً، ويكونُ لِمَا تَفَرَّدَ به عن شيخٍ معيَّن. كما يقال: "لم يَروِه عن سفيان إلا ابنُ مَهْدِيّ"، و: "لم يَروِه عن ابن جريج إلا ابنُ المبارك".
(16) المُسَلْسَل:ما كان سَنَدُه على صِفةٍ واحدةٍ في طبقاته، كما سُلْسِلَ بـ "سَمِعتُ"، أو كما سُلْسِلَ بالأوليَّة إلى سُفْيَان.
(১৫) গারিব (الغريب):এটি মাশহুর (المشهور) এর বিপরীত। কখনও কখনও এর একাকীত্ব (غرابة) মতন (المتن) এর দিকে ফিরে যায়, আবার কখনও সনদের (السند) দিকে।
… এবং গারিব (الغريب) পরিভাষাটি সহিহ (صحيح) এবং যা সহিহ নয় তার ওপরও প্রযোজ্য হয়। আর একক বর্ণনা (التفرد) এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে হয় যেখানে রাবি (الراوي) সনদ (إسناداً) বা মতন (متناً) বর্ণনায় একক হয়ে যান, আবার কখনও কোনো নির্দিষ্ট শাইখ (شيخ) থেকে এককভাবে বর্ণনা করার কারণে এটি ঘটে। যেমন বলা হয়: "সুফিয়ান থেকে ইবন মাহদি ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি", এবং: "ইবন জুরাইজ থেকে ইবনুল মুবারক ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি"।
(১৬) মুসালসাল (المسلسل):যার সনদ (سند) তার প্রতিটি স্তরে (طبقات) একই বৈশিষ্ট্যের ওপর বহাল থাকে; যেমন পরম্পরাগতভাবে "আমি শুনেছি" (سمعت) শব্দ দ্বারা বর্ণনা করা, অথবা সুফিয়ান পর্যন্ত পরম্পরাগতভাবে "আউয়ালিইয়াহ" বা প্রথম হওয়ার (الأولية) বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
وعامَّةُ المسلسلاتِ واهِيةٌ، وأكثرُها باطِلةٌ، لكذبِ رُواتها. وأقواها:
- المُسَلْسَلُ بقراءة سُورة الصَّفّ، و:
- المسلسَلُ بالدمشقيين، و:
- المسلسَلُ بالمصريين، و:
- المسلسَلُ بالمحمَّدِين إلى ابن شِهاب.
(17) المُعَنْعَن:ما إسنادُه فلانٌ عن فلان. فمِن الناس مَن قال: لا يَثْبُتُ حتى يَصِحَّ لقاءُ الراوي بشيخه يوماً ماً. ومِنهم مَن اكتَفَى بِمُجرَّد إمكان اللُّقِيّ، وهو مذهَبُ مُسْلم، وقد بالَغَ في الردِّ (1) على مخالِفِه.
--------------------------------------------
অধিকাংশ মুসালসাল (المسلسلات) হাদিসই ভিত্তিহীন (واهية), এবং সেগুলোর বেশিরভাগই বাতিল (باطلة), কারণ সেগুলোর বর্ণনাকারীদের মিথ্যাচারের জন্য। সেগুলোর মধ্যে শক্তিশালীগুলো হলো:
- সূরা আস-সাফ পাঠের মাধ্যমে মুসালসাল (المسلسل), এবং:
- দামেস্কবাসীদের মাধ্যমে মুসালসাল (المসلسل), এবং:
- মিসরবাসীদের মাধ্যমে মুসালসাল (المسلسل), এবং:
- ইবনে শিহাব পর্যন্ত 'মুহাম্মদ' নামধারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে মুসালসাল (المسلسل)।
(১৭) মুআনআন (المعنعن):যার সনদ (إسناد) হলো অমুক থেকে (عن) অমুক। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না কোনো একদিন তার শাইখের সাথে বর্ণনাকারীর (الراوي) সাক্ষাৎ হওয়া বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (يصح) হবে। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল সাক্ষাতের সম্ভাবনাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন, যা ইমাম মুসলিমের মাযহাব; তিনি তার বিরোধীদের খণ্ডন (الرد) করার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
ثم بتقدير تَيَقُّن اللقاء، يُشْتَرَطُ أن لا يكون الراوي عن شيخِهِ مُدَلِّساً. فإن لم يكن، حَمَلناه على الاتصال. فإن كان مُدَلِّساً، فالأظهَرُ (1) أنه لا يُحْمَلُ على السماع.
ثم إن كان المدلِّسُ عن شيخِه ذا تدليسٍ عن الثقات، فلا بأس. وإن كان ذا تدليسٍ عن الضعفاءِ، فمردود.
--------------------------------------------
অতঃপর সাক্ষাতের নিশ্চয়তা সাব্যস্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে শর্ত হলো যে, বর্ণনাকারী যেন তার শাইখের নিকট থেকে তাদলীসকারী (مدلس) না হন। যদি তিনি তা না হন, তবে আমরা একে নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) হিসেবে গণ্য করব। কিন্তু যদি তিনি তাদলীসকারী (مدلس) হন, তবে অধিকতর স্পষ্ট মত (১) হলো যে, একে সরাসরি শ্রবণ (سماع) হিসেবে গণ্য করা হবে না।
অতঃপর শাইখের পক্ষ থেকে তাদলীসকারী (مدلس) ব্যক্তিটি যদি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে তাদলীস (تدليس) করার রীতি অবলম্বন করেন, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি তিনি দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে তাদলীস (تدليس) করেন, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
فإذا قال الوليدُ أو بَقِيَّةُ: "عن الأوزاعيّ"، فواهٍ، فإنَّهما يُدلِّسانِ كثيراً عن الهَلْكَى. ولهذا يَتَّقي أصحابُ "الصحاح" حديثَ الوليد. فما جاء إسنادُه بِصِيغةِ: "عن ابن جُرَيج"، أو: "عن الأوزاعيّ"، تجنَّبوه.
وهذا في زماننا يَعْسُرُ نقدُه على المحدِّث، فإنِّ أولئك الأئمة - كالبخاريّ وأبي حاتم وأبي داود - عايَنُوا الأصول، وعَرَفوا عِلَلَها. وأمَّا نحن، فطالَتْ علينا الأسانيدُ، وفُقِدَتْ العباراتُ المتيقَّنَة. وبمثلِ هذا ونحوِه، دَخَل الدَّخَلُ على الحاكم في تَصَرُّفِهِ في "المستدرك".
সুতরাং যখন ওয়ালিদ বা বাকিয়্যাহ বলেন: "আওযাঈ থেকে", তবে তা অত্যন্ত দুর্বল; কারণ তারা উভয়েই পরিত্যক্ত (الهلكى) বর্ণনাকারীদের থেকে অধিক মাত্রায় তাদলীস (يدلسان) করেন। এই কারণেই "সহীহ" গ্রন্থসমূহের রচয়িতাগণ ওয়ালিদের হাদিস গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করেন। সুতরাং যে সনদের (إسناد) বর্ণনাভঙ্গি "ইবনে জুরাইজ থেকে" অথবা "আওযাঈ থেকে" হিসেবে এসেছে, তারা তা বর্জন করেছেন।
আর বর্তমান যুগে একজন হাদিস বিশারদের পক্ষে এই ধরনের পর্যালোচনা করা কঠিন, কেননা সেই সকল ইমামগণ—যেমন বুখারী, আবু হাতিম এবং আবু দাউদ—মূল উৎসসমূহ সচক্ষে দেখেছিলেন এবং সেগুলোর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (عللها) সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে বর্ণনাসূত্রসমূহ (الأسانيد) দীর্ঘ হয়ে গেছে এবং নিশ্চিত তথ্যসূত্রসমূহ হারিয়ে গেছে। মূলত এই ধরনের বা অনুরূপ কারণেই হাকেমের "মুস্তাদরাক" পরিচালনার ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রবেশ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
(18) المُدَلَّس (1) :
ما رواه الرجلُ عن آخَر، ولم يَسمعه منه، أو لم يُدركه. فإن صَرَّح بالاتصال (2) وقال: "حدَّثنا"، فهذا كذَّاب. وإن قال: "عن"، احتُمِلَ ذلك، ونُظِرَ في طبقَتِه: هل يُدرِكُ مَن هو فوقَهُ؟ فإن كان لَقِيَه، فقد قرَّرناه. وإن لم يكن لَقِيَه، فأمْكَنَ أن يكون مُعاصِرَه، فهو محلُّ تردُّد. وإن لم يُمكِن، فمنقطِع. كـ: قتادة عن أبي هريرة.
وحُكْمُ: "قال"، حُكْمُ: "عن". وَلَهُم في ذلك أغراض:
- فإن كان لو صَرّحَ بمن حَدَّثه عن المُسَمَّى، لعُرِفَ ضَعْفُه: فهذا غَرَضٌ مذموم، وجِنايةٌ على السُّنَّة. ومَن يُعاني ذلك، جُرِحَ به، فإنَّ الدينَ النصيحة.
--------------------------------------------
(১৮) মুদাল্লাস (المُدَلَّس) (১) :যা এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তা সরাসরি তার থেকে শুনেননি অথবা তাকে পাননি। যদি তিনি নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) (২) স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন এবং বলেন: "তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন", তবে তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذَّاب)। আর যদি তিনি "হতে" (عن) শব্দ ব্যবহার করেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং তার স্তর (طبقة) বিবেচনা করা হবে: তিনি কি তার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিকে পেয়েছেন? যদি তিনি তার সাক্ষাৎ পেয়ে থাকেন, তবে আমরা তা সাব্যস্ত করেছি। আর যদি তার সাথে সাক্ষাৎ না হয়ে থাকে, কিন্তু তার সমসাময়িক হওয়া সম্ভব হয়, তবে বিষয়টি সংশয়পূর্ণ। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে তা বিচ্ছিন্ন (منقطع)। যেমন: আবু হুরায়রা থেকে কাতাদাহ-এর বর্ণনা।
"তিনি বলেছেন" (قال) শব্দটির বিধান "হতে" (عن) শব্দের বিধানের মতোই। আর এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু উদ্দেশ্য থাকে:
- যদি বিষয়টি এমন হয় যে, যার মাধ্যমে তিনি নামোল্লিখিত ব্যক্তি থেকে বর্ণনাটি পেয়েছেন, তার নাম প্রকাশ করলে তার দুর্বলতা (ضعف) প্রকাশ পেয়ে যাবে: তবে এটি একটি নিন্দনীয় উদ্দেশ্য এবং সুন্নাহর প্রতি অপরাধ। যে ব্যক্তি এমন কাজে লিপ্ত হয়, এর দ্বারা তার সমালোচনা (جرح) করা হবে; কেননা দ্বীন হলো শুভকামনা বা সদুপদেশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
- وإن فَعَلهُ طَلَباً للعلو فقط، أو إيهاماً بتكثير الشيوخ، بأن يُسمِّي الشيخَ مرَّةً ويُكَنِّيه أخرى، وَيَنْسُبَه إلى صَنْعةٍ أو بلدٍ لا يكادُ يُعرَف به، وأمثالَ ذلك - كما تقولُ: "حدَّثَنا البُخَاريُّ"، وتَقصِدُ به من يُبَخِّرُ الناس، أو: "حدَّثنا عَلِيٌّ بما وراءَ النهر"، وتعني به نهراً، أو: "حَدَّثنا بزَبِيد (1) "، وتُرِيد موضعاً
--------------------------------------------
আর যদি তিনি এটি কেবল উচ্চ সনদ (علو) লাভের উদ্দেশ্যে করেন, অথবা উস্তাদদের সংখ্যা অধিক দেখানোর বিভ্রম সৃষ্টির জন্য করেন—যেভাবে তিনি উস্তাদকে একবার নামে উল্লেখ করেন এবং অন্যবার উপনাম (كنية) দিয়ে উল্লেখ করেন, কিংবা তাকে এমন কোনো পেশা বা শহরের সাথে সম্বন্ধ করেন যার মাধ্যমে তিনি সচরাচর পরিচিত নন এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি—যেমন আপনি বলেন: "আমাদের নিকট বুখারি হাদিস বর্ণনা করেছেন", অথচ এর দ্বারা আপনি এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে চান যিনি মানুষকে ধূপের সুগন্ধি দেন; অথবা বলেন: "নদীর ওপার থেকে আলী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন", যেখানে আপনি কেবল একটি নদী বোঝাতে চেয়েছেন; কিংবা বলেন: "যাবিদে (১) আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন", এবং এর দ্বারা আপনি একটি নির্দিষ্ট স্থান বোঝাতে চান—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
بقُوص (1) ، أو: "حدَّثنا بِحَرَّان"، وتُريدُ قريةَ المَرْج - فهذا مُحْتَمَلٌ، والوَرَعُ تَرْكُه.
ومِن أمثلة التدليس: الحَسَنُ عن أبي هريرة. وجمهورُهم على أنه منقطع، لم يَلْقَه (2) . وقد رُوِيَ عن الحَسَنِ قال: "حدَّثنا أبو هريرة". فقيل: عَنَى بـ "حَدَّثَنا": أهلَ بلدِه.
--------------------------------------------
কূসে (১), অথবা: "তিনি হাররানে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)", আর আপনি এর দ্বারা মারজ গ্রামটি উদ্দেশ্য করছেন—তবে এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, কিন্তু পরহেযগারি হলো তা বর্জন করা।
আর বর্ণনায় চাতুর্যের (تدليس) উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হলো: হাসান [বসরি]-এর আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা। জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুহাদ্দিসগণের মতে এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), কেননা তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেননি (২)। বর্ণিত আছে যে, হাসান [বসরি] বলেছেন: "আবু হুরাইরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)"। তখন বলা হয়েছে: তিনি "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)" বলতে তাঁর শহরের অধিবাসীদের বুঝিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুকিজাহ - তাহকীক আবু গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
وقد يؤدِّي تدليسُ الأسماء إلى جهالةِ الراوي الثقة، فيُرَدُّ خبَرُه الصحيح! فهذه مَفْسَدَة، ولكنها في غير "جامع البخاريّ" ونحوِه، الذي تَقرَّرَ أنَّ موضوعَه للصحاح. فإنَّ الرجلَ قد قال في جامعه: "حدَّثنا عبدُ الله"، وأراد به: ابنَ صالح المصري. وقال: "حدَّثنا
এবং নামের গোপনকরণ (تدليس) অনেক সময় একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর (راوي) পরিচয়হীনতার (جهالة) কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলে তার সহিহ (صحيح) বর্ণনাটি (خبر) প্রত্যাখ্যাত হয়! এটি একটি বড় ত্রুটি, তবে এটি 'সহিহ বুখারি' এবং এই জাতীয় গ্রন্থ ছাড়া অন্য কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে, যেগুলোর বিষয়বস্তু কেবল সহিহ (صحاح) বর্ণনার জন্য নির্ধারিত হওয়া সুসাব্যস্ত। কেননা তিনি (ইমাম বুখারি) তার জামে গ্রন্থে বলেছেন: "আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন", আর এর মাধ্যমে তিনি আবদুল্লাহ ইবন সালেহ আল-মিসরিকে উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন..."