(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: -)
الفروق للكرابيسي   (الكرابيسي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: الفروق

المؤلف: أسعد بن محمد بن الحسين، أبو المظفر، جمال الإسلام الكرابيسي النيسابوري الحنفي (ت 570هـ)

المحقق: د. محمد طموم

راجعه: د. عبد الستار أبو غدة

الناشر: وزارة الأوقاف الكويتية

الطبعة: الأولى، 1402هـ - 1982م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কারাবিসী-র আল-ফুরূক   (আল-কারাবিসী)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: আল-ফুরূক

লেখক: আসআদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন, আবু আল-মুজাফ্ফার, জামালুল ইসলাম আল-কারাবিসী আন-নায়সাবুরী আল-হানাফী (মৃত ৫৭০ হিজরি)

সম্পাদক: ড. মুহাম্মাদ তামূম

পর্যালোচক: ড. আব্দুল সাত্তার আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: কুয়েতি ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌[مُقَدَّمَة الْمُؤَلَّف]

بسم الله الرحمن الرحيم

رَبِّ يَسِّرْ بِرَحْمَتِكَ وَلَا تُعَسِّرْ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِهِ مُحَمَّدٍ الْمُصْطَفَى وَآلِهِ [وَصَحْبِهِ] أَجْمَعِينَ.

قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ جَمَالُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْمُظَفَّرِ أَسْعَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ النَّيْسَابُورِيُّ الْكَرَابِيسِيُّ رضي الله عنه: هَذِهِ الْمَسَائِلُ الْتَقَطْتُهَا مِنْ الْكُتُبِ لَيْسَ فِيهَا قِيَاسٌ وَاسْتِحْسَانٌ إلَّا خِلَافٌ مَشْهُورٌ بَيْنَ أَصْحَابِنَا رضي الله عنهم وَسَمِعْتُ الْقَاضِيَ الْإِمَامَ أَبَا الْعُلَا صَاعِدَ بْنَ مُحَمَّدٍ - أَنَارَ اللَّهُ بُرْهَانَهُ وَثَقَّلَ بِالْخَيْرَاتِ مِيزَانَهُ - أَظْهَرَ الْفُرْقَانَ بَيْنَهَا فَاسْتَحْسَنْتُهَا، وَأَرَدْتُ أَنْ أُفْرِدَهَا لِيَسْهُلَ حِفْظُهَا، وَاسْتَعَنْتُ بِاَللَّهِ سبحانه وتعالى عَلَى إتْمَامِهَا، فَنِعْمَ الْمُعِينُ، وَنِعْمَ النَّصِيرُ.
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে প্রতিপালক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন এবং কঠিন করবেন না। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও [সাহাবীগণের] ওপর।

শায়খ ইমাম জামালুল ইসলাম আবু আল-মুজাফফর আসআদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আন-নাইসাবুরী আল-কারাবিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছেন: আমি এই মাসআলাগুলো বিভিন্ন কিতাব থেকে চয়ন করেছি, যাতে আমাদের ফকীহগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হন) মধ্যকার প্রসিদ্ধ মতপার্থক্য ব্যতীত কোনো কিয়াস বা ইসতিহসান নেই। আমি কাযী ইমাম আবুল উলা সাঈদ বিন মুহাম্মদকে—আল্লাহ তাঁর প্রমাণকে উদ্ভাসিত করুন এবং তাঁর নেক কাজের পাল্লাকে ভারী করুন—এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট করতে শুনেছি, যা আমার কাছে পছন্দনীয় হয়েছে। আমি এগুলোকে পৃথকভাবে সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি যাতে মুখস্থ করা সহজ হয় এবং এগুলো সম্পন্ন করার ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাহায্য প্রার্থনা করেছি। তিনি কতই না উত্তম সাহায্যকারী এবং কতই না শ্রেষ্ঠ সহযোগী।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌[كِتَابُ الطَّهَارَةِ]

ِ وَالصَّلَاة

1 - قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ رحمه الله: إذَا خَرَجَ الدُّودُ مِنْ أَحَدِ السَّبِيلَيْنِ؛ يُنْتَقَضُ الْوُضُوءُ.

وَإِنْ خَرَجَ مِنْ الْجُرْحِ لَمْ يُنْتَقَضْ. الْفَرْقُ: أَنَّ الدُّودَ لَا يَخْلُو مِنْ قَلِيلِ بَلَّةٍ تَكُونُ مَعَهَا وَتَصْحَبُهَا، وَتِلْكَ الْبَلَّةُ قَلِيلُ نَجَاسَةٍ، وَقَلِيلُ النَّجَاسَةِ إذَا خَرَجَتْ مِنْ أَحَدِ السَّبِيلَيْنِ؛ يُنْتَقَضُ الْوُضُوءُ. وَأَمَّا فِي الْجُرْحِ فَالدُّودُ لَا يَخْلُو مِنْ قَلِيلِ بَلَّةٍ، وَتِلْكَ الْبَلَّةُ نَجَاسَةٌ قَلِيلَةٌ، وَقَلِيلُ النَّجَاسَةِ إذَا خَرَجَ مِنْ غَيْرِ السَّبِيلَيْنِ؛ لَمْ يُنْتَقَضْ الْوُضُوءُ. وَلِأَنَّ الدُّودَ حَيَوَانٌ، وَهُوَ طَاهِرٌ فِي الْأَصْلِ، وَالشَّيْءُ الطَّاهِرُ إذَا خَرَجَ مِنْ أَحَدِ السَّبِيلَيْنِ أَوْجَبَ نَقْضَ الْوُضُوءِ، كَالرِّيحِ. وَإِذَا خَرَجَ مِنْ غَيْرِ السَّبِيلَيْنِ؛ لَمْ يُوجِبْ نَقْضَ الْوُضُوءِ، كَالدَّمْعِ وَالْعَرَقِ. وَفَرَّقَ مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ: بِأَنَّ الدُّودَ مِنْ الْجُرْحِ يَتَوَلَّدُ مِنْ اللَّحْمِ فَصَارَ كَمَا لَوْ انْفَصَلَ قِطْعَةٌ مِنْ اللَّحْمِ مِنْ بَدَنِهِ مِنْ غَيْرِ سَيَلَانٍ [مِنْ غَيْرِ]
[পবিত্রতা অধ্যায়]

এবং সালাত

১ - ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: যদি দুই পথের (মল-মূত্র ত্যাগের রাস্তা) কোনো একটি দিয়ে কৃমি নির্গত হয়, তবে অজু ভেঙে যাবে।

আর যদি তা ক্ষতস্থান থেকে নির্গত হয়, তবে অজু ভাঙবে না। পার্থক্য হলো: কৃমি সামান্য আর্দ্রতা থেকে মুক্ত থাকে না যা তার সাথে লেগে থাকে এবং তার অনুগামী হয়, আর সেই আর্দ্রতা হলো সামান্য নাপাকি। আর সামান্য নাপাকি যখন দুই পথের কোনো একটি দিয়ে নির্গত হয়, তখন অজু ভেঙে যায়। পক্ষান্তরে ক্ষতস্থানের ক্ষেত্রেও কৃমি সামান্য আর্দ্রতা থেকে মুক্ত থাকে না এবং সেই আর্দ্রতা সামান্য নাপাকি, আর সামান্য নাপাকি যখন দুই পথ ব্যতীত অন্য কোনো স্থান দিয়ে নির্গত হয়, তখন অজু ভেঙে যায় না। এছাড়া কারণ হলো, কৃমি একটি প্রাণী এবং তা মূলত পবিত্র। আর পবিত্র কোনো বস্তু যখন দুই পথের কোনো একটি দিয়ে নির্গত হয়, তখন তা অজু ভঙ্গ হওয়াকে আবশ্যক করে, যেমন বায়ু। আর যখন তা দুই পথ ব্যতীত অন্য কোনো স্থান দিয়ে নির্গত হয়, তখন তা অজু ভঙ্গ হওয়াকে আবশ্যক করে না, যেমন চোখের পানি ও ঘাম। মুহাম্মদ ইবনে শুজা পার্থক্য করেছেন এভাবে যে: ক্ষতস্থানের কৃমি গোশত থেকে উৎপন্ন হয়, ফলে এটি এমন হয়ে গেল যেন রক্ত প্রবাহিত হওয়া ছাড়াই শরীর থেকে এক টুকরো গোশত বিচ্ছিন্ন হলো [প্রবাহ ব্যতীত]।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
السَّبِيلَيْنِ، وَلَوْ كَانَ كَذَلِكَ لَمْ يُنْتَقَضْ وُضُوءُهُ كَذَا هَذَا. وَأَمَّا فِي السَّبِيلَيْنِ فَإِنَّهُ يَتَوَلَّدُ مِنْ النَّجَاسَةِ، وَتِلْكَ النَّجَاسَةُ لَوْ خَرَجَتْ بِانْفِرَادِهَا أَوْجَبَتْ نَقْضَ الْوُضُوءِ، فَكَذَلِكَ مَا يَتَوَلَّدُ مِنْهَا إذَا خَرَجَ.

2 - قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ رضي الله عنه فِي " النَّوَادِرِ: إذَا نَزَلَ الدَّمُ إلَى قَصَبَةِ الْأَنْفِ؛ انْتَقَضَ وُضُوءُهُ. وَإِذَا وَقَعَ الْبَوْلُ فِي قَصَبَةِ الذَّكَرِ لَمْ يُنْتَقَضْ. وَالْفَرْقُ أَنَّ قَصَبَةَ الْأَنْفِ يَلْحَقُهَا حُكْمُ التَّطْهِيرِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ يَجِبُ إيصَالُ الْمَاءِ إلَيْهَا فِي الْجَنَابَةِ، وَيُسَنُّ فِي الْوُضُوءِ، فَهَذِهِ نَجَاسَةٌ سَالَتْ بِنَفْسِهَا إلَى طَاهِرٍ يَلْحَقُهُ حُكْمُ التَّطْهِيرِ، فَوَجَبَ أَنْ يُنْتَقَضَ بِهِ الْوُضُوءُ، كَمَا لَوْ زَايَلَ الدَّمُ رَأْسَ الْجُرْحِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ قَصَبَةُ الذَّكَرِ، لِأَنَّهُ لَا يَلْحَقُهَا حُكْمُ التَّطْهِيرِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَا يُفْرَضُ إيصَالُ الْمَاءِ إلَيْهِ فِي الْجَنَابَةِ، وَلَا يُسَنُّ فِي الْوُضُوءِ، فَلَمْ تَصِلْ النَّجَاسَةُ إلَى مَوْضُوعٍ يَلْحَقُهُ حُكْمُ التَّطْهِيرِ، فَلَمْ يُنْتَقَضْ الْوُضُوءُ بِهِ، كَمَا لَوْ تَرَدَّدَ فِي الْعُرُوقِ.
দুই পথ, আর যদি বিষয়টি এমন হতো তবে তার ওযু ভঙ্গ হতো না, এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর দুই পথের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, তা অপবিত্রতা থেকে উৎপন্ন হয়; আর সেই অপবিত্রতা যদি স্বতন্ত্রভাবে নির্গত হতো তবে তা ওযু ভঙ্গ হওয়াকে আবশ্যক করত, ঠিক তেমনি যা তা থেকে উৎপন্ন হয় তাও নির্গত হলে (ওযু ভঙ্গ হবে)।

২ - মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রা.) 'আন-নাওয়াদির' গ্রন্থে বলেছেন: যখন রক্ত নাকের বাঁশিতে নেমে আসে, তখন তার ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়। আর যখন প্রস্রাব লিঙ্গের নালীতে পতিত হয়, তখন ওযু ভঙ্গ হয় না। এর পার্থক্য হলো, নাকের বাঁশির ক্ষেত্রে পবিত্রকরণের বিধান কার্যকর হয়; এর প্রমাণ হলো জানাবাতের (অপবিত্রতার গোসলের) সময় সেখানে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব এবং ওযুর সময় সুন্নাত। সুতরাং এটি এমন এক অপবিত্রতা যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন এক পবিত্র স্থানে প্রবাহিত হয়েছে যেখানে পবিত্রকরণের বিধান প্রযোজ্য হয়, ফলে এর মাধ্যমে ওযু ভঙ্গ হওয়া আবশ্যক হয়; যেমনটি হয় যখন রক্ত ক্ষতের মুখ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু লিঙ্গের নালীর বিষয়টি তেমন নয়, কারণ এতে পবিত্রকরণের বিধান কার্যকর হয় না; এর প্রমাণ হলো জানাবাতের সময় সেখানে পানি পৌঁছানো ফরয নয় এবং ওযুর সময় তা সুন্নাতও নয়। ফলে নাপাকি এমন কোনো স্থানে পৌঁছেনি যেখানে পবিত্রকরণের বিধান কার্যকর হয়, তাই এর মাধ্যমে ওযু ভঙ্গ হবে না; যেমনটি হয় যখন রক্ত শিরার ভেতরে চলাচল করে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ رحمه الله فِي " نَوَادِرِ إبْرَاهِيمَ بْنِ رُسْتُمَ ": إذَا مَسَحَ الرَّجُلُ خُفَّهُ بِإِصْبَعٍ وَاحِدَةٍ وَأَمَرَّهَا عَلَى خُفِّهِ لَمْ يُجِزْهُ حَتَّى يُعِيدَهَا فِي الْمَاءِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ؛ لِأَنَّهُ فِي الْمَرَّةِ الْأُولَى حِينَ أَزَالَهَا عَنْ مَوْضِعِهَا فَذَلِكَ مَاءٌ قَدْ تَوَضَّأَ بِهِ، فَجَعَلَ الْمَاءَ بِمُزَايَلَتِهِ الْمَوْضِعَ مُسْتَعْمَلًا فِي الْمَسْحِ.

وَلَوْ مَسَحَ رَأْسَهُ أَوْ خُفَّهُ بِثَلَاثِ أَصَابِعَ وَأَمَرَّهَا إلَى رُبْعِ رَأْسِهِ جَازَ وَلَمْ يَصِرْ الْمَاءُ مُسْتَعْمَلًا. وَلَوْ أَنَّهُ صَبَّ عَلَى عُضْوٍ مِنْ أَعْضَائِهِ وَنَقَلَهُ إلَى مَوْضِعٍ ثَانٍ جَازَ وَلَمْ يَصِرْ الْمَاءُ بِمُلَاقَاتِهِ مُسْتَعْمَلًا سَوَاءٌ كَانَ بِإِصْبَعٍ وَاحِدَةٍ أَوْ بِثَلَاثٍ.

وَالْفَرْقُ أَنَّهُ إذَا مَسَحَ بِإِصْبَعٍ وَاحِدَةٍ فَالْمَاءُ الَّذِي عَلَيْهِ لَمْ يَصِلْ بِنَفْسِهِ إلَى رُبْعِ رَأْسِهِ لِقِلَّتِهِ فَلَا يَجُوزُ لَهُ مَدُّهَا إلَى رُبْعِ الرَّأْسِ، وَثَبَتَ لَهُ حُكْمُ الِاسْتِعْمَالِ، كَمَا لَا يَجُوزُ مَدُّ الْمَاءِ فِي الْوُضُوءِ مِنْ الْيَدِ إلَى الْوَجْهِ وَالرِّجْلِ. وَأَمَّا فِي الْمَسْحِ بِثَلَاثِ أَصَابِعَ [فَإِنَّهُ] بِخِلَافِهِ لِأَنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يَصِلَ الْمَاءُ بِنَفْسِهِ إلَى رُبْعِ رَأْسِهِ بِأَنْ يَنْحَدِرَ الْمَاءُ إلَيْهِ فَجَازَ لَهُ أَنْ يَمُرَّهَا عَلَيْهِ، وَيَمُدَّهَا إلَيْهِ فَلَا يَثْبُتُ لَهُ حُكْمُ الِاسْتِعْمَالِ، كَالْجُنُبِ إذَا صَبَّ الْمَاءَ عَلَى عُضْوٍ ثُمَّ مَدَّهُ إلَى عُضْوٍ آخَرَ فَإِنَّهُ يَجُوزُ، كَذَلِكَ هَذَا.
মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) "নাওয়াদিরু ইবরাহিম ইবনে রুস্তম" গ্রন্থে বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি একটি আঙুল দিয়ে তার মোজার ওপর মাসেহ করে এবং তা মোজার ওপর দিয়ে চালিত করে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না সে আঙুলটি তিনবার পানিতে ডুবিয়ে পুনরায় মাসেহ করে; কারণ প্রথমবার যখন সে আঙুলটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরিয়ে নিল, তখন তা এমন পানিতে পরিণত হলো যা দ্বারা অজু করা হয়েছে। ফলে স্থান থেকে আঙুলটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে পানিটি মাসেহ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বা 'মুস্তা'মাল' হয়ে গেল।

আর যদি সে তার মাথা অথবা মোজা তিনটি আঙুল দিয়ে মাসেহ করে এবং তা মাথার এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত টেনে নেয়, তবে তা জায়েজ হবে এবং পানি মুস্তা'মাল হবে না। আর যদি সে তার শরীরের কোনো একটি অঙ্গের ওপর পানি ঢেলে তা অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়, তবে তা জায়েজ হবে এবং পানি স্পর্শ করার কারণে মুস্তা'মাল হবে না, চাই তা একটি আঙুল দিয়ে হোক বা তিনটি আঙুল দিয়ে।

পার্থক্যটি হলো, যখন কেউ একটি আঙুল দিয়ে মাসেহ করে, তখন আঙুলে থাকা পানি স্বল্পতার কারণে নিজে থেকে মাথার এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না; তাই তার জন্য তা মাথার এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত টেনে নেওয়া জায়েজ হবে না এবং এতে 'ইস্তিমাল' বা ব্যবহারের বিধান সাব্যস্ত হবে, যেমন অজুর সময় হাত থেকে পানি টেনে মুখমণ্ডল ও পায়ের দিকে নেওয়া জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে তিনটি আঙুল দিয়ে মাসেহ করার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম; কেননা এক্ষেত্রে পানি নিজে থেকেই গড়িয়ে মাথার এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। তাই তার জন্য আঙুলগুলো মাথার ওপর দিয়ে চালিত করা এবং তা প্রসারিত করা জায়েজ, ফলে এতে ব্যবহারের বিধান সাব্যস্ত হবে না; যেমন কোনো জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তি যদি তার এক অঙ্গে পানি ঢেলে এরপর তা অন্য অঙ্গে টেনে নেয় তবে তা জায়েজ হয়, তদ্রূপ এটিও।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
يُوَضِّحُ الْفَرْقَ بَيْنَهُمَا أَنَّ قِلَّةَ الْمَاءِ يَمْنَعُ سَيَلَانَهُ بِنَفْسِهِ إلَى مَوْضِعٍ آخَرَ وَلَمْ يَكُنْ سَيَلَانُهُ مِنْ مُقْتَضَى وَصْفِهِ فَأُضِيفَ إلَى فَاعِلِهِ، فَصَارَ هُوَ مُسْتَعْمَلًا لَهُ فِي الْمَوْضِعِ الثَّانِي، كَمَا لَوْ اسْتَعْمَلَهُ فِي الْمَوْضِعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ لَوْ اسْتَعْمَلَ الْمُسْتَعْمَلَ فَإِنَّهُ لَا يَجُوزُ، كَذَلِكَ هَذَا. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمَاءُ فِي الْوُضُوءِ لِأَنَّ كَثْرَةَ الْمَاءِ أَوْجَبَتْ سَيَلَانَهُ بِنَفْسِهِ فَكَانَ سَيَلَانُهُ مِنْ مُقْتَضَى وَصْفِهِ فَلَا يُضَافُ إلَيْهِ وَلَمْ يُعْطَ لَهُ حُكْمُ الِاسْتِعْمَالِ. وَلِهَذَا قُلْنَا: اتَّفَقْنَا أَنَّهُ لَوْ رَمَى طَيْرًا فِي الْهَوَاءِ فَأَصَابَهُ فَوَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ وَمَاتَ؛ حَلَّ. وَلَوْ وَقَعَ عَلَى سِنَانِ الرُّمْحِ أَوْ فِي الْمَاءِ؛ لَمْ يَحِلَّ؛ لِأَنَّ وُقُوعَهُ عَلَى الْأَرْضِ مِنْ مُقْتَضَى رَمْيِهِ فَكَأَنَّهُ تَلِفَ بِالرَّمْيِ، فَيُضَافُ مَوْتُهُ إلَى الرَّامِي، وَمَوْتُهُ فِي وُقُوعِهِ. وَوُقُوعُهُ عَلَى سِنَانِ الرُّمْحِ أَوْ فِي الْمَاءِ لَيْسَ مِنْ مُوجَبِ الرَّمْيِ؛ فَلَمْ يُضَفْ إلَى الرَّامِي، فَكَأَنَّهُ حَصَلَ مِنْ غَيْرِ فِعْلِهِ، كَذَلِكَ هَذَا.

তাদের মধ্যকার পার্থক্যটি এটি স্পষ্ট করে যে, পানির স্বল্পতা একে স্বতস্ফূর্তভাবে অন্য স্থানে প্রবাহিত হতে বাধা প্রদান করে এবং এর প্রবাহ এর নিজস্ব প্রকৃতির অনিবার্য দাবি ছিল না। ফলে এই প্রবাহকে এর কর্তার কার্যের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং এটি দ্বিতীয় স্থানেও তার জন্য ব্যবহৃত (মুসতামাল) হিসেবে গণ্য হলো, যেমনটি প্রথম স্থানে ব্যবহারের ক্ষেত্রে হতো। অতঃপর যদি কেউ ব্যবহৃত পানি পুনরায় ব্যবহার করে, তবে তা বৈধ নয়; এক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর ওযুর ক্ষেত্রে পানির বিষয়টি এমন নয়; কেননা পানির আধিক্য একে স্বতস্ফূর্তভাবে প্রবাহিত হতে বাধ্য করে। ফলে এর প্রবাহ ছিল এর প্রকৃতির অনিবার্য দাবি। তাই একে ব্যক্তির কার্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে না এবং একে ব্যবহৃত হওয়ার (ইস্তেমাল) বিধানও প্রদান করা হবে না। আর একারণেই আমরা বলেছি: আমরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছি যে, যদি কেউ শূন্যে কোনো পাখিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করে এবং তা পাখিকে আঘাত করার পর মাটিতে পড়ে মারা যায়, তবে তা হালাল হবে। কিন্তু যদি তা বল্লমের ফলায় বা পানিতে গিয়ে পড়ে, তবে তা হালাল হবে না। কারণ মাটিতে পড়াটা ছিল নিক্ষেপেরই অনিবার্য ফল, ফলে মনে করা হবে যে সেটি নিক্ষেপের মাধ্যমেই ধ্বংস হয়েছে। তাই এর মৃত্যুকে নিক্ষেপকারীর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হবে এবং এর মৃত্যু এর পড়ে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত। পক্ষান্তরে বল্লমের ফলায় বা পানিতে পড়া নিক্ষেপের অনিবার্য দাবি নয়; তাই একে নিক্ষেপকারীর কার্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে না। ফলে মনে হবে যেন এটি তার কাজ ব্যতিরেকেই সংঘটিত হয়েছে। এক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই।

(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
إذَا مَسَحَ عَلَى الْجَبَائِرِ ثُمَّ سَقَطَتْ الْجَبَائِرُ عَنْ غَيْرِ بُرْءٍ مَضَى عَلَى صَلَاتِهِ، وَلَا يَلْزَمُهُ الْإِعَادَةُ.

وَإِنْ كَانَ السُّقُوطُ عَنْ بُرْءٍ لَزِمَهُ غَسْلُ ذَلِكَ الْمَوْضِعِ، كَمَا يَلْزَمُهُ غَسْلُ الرِّجْلَيْنِ إذَا نَزَعَ الْخُفَّ بَعْدَ مَا مَسَحَ عَلَيْهِمَا.

وَجْهُ الْفَرْقِ أَنَّهُ إذَا سَقَطَ عَنْ غَيْرِ بُرْءٍ لَمْ يَجِبْ غَسْلُ ذَلِكَ الْمَوْضِعِ بِالْحَدَثِ الْمُتَقَدِّمِ عَلَى شَدِّ الْجَبَائِرِ، فَجَازَ لَهُ الْمُضِيُّ عَلَى صَلَاتِهِ، كَمَا لَوْ كَانَتْ الْجَبَائِرُ عَلَى ظَهْرِهِ أَوْ بَطْنِهِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ إذَا نَزَعَ خُفَّيْهِ أَوْ سَقَطَتْ الْجَبَائِرُ عَنْ بُرْءٍ، لِأَنَّهُ يَلْزَمُهُ غَسْلُهُ بِالْحَدَثِ الْمُتَقَدِّمِ عَلَى السُّقُوطِ، وَإِنَّمَا رُخِّصَ لَهُ فِي تَرْكِهِ مَا دَامَ لَابِسًا لِلْخُفَّيْنِ وَمَا دَامَتْ الْجَبَائِرُ عَلَى الْجُرْحِ فَإِذَا سَقَطَتْ عَنْ بُرْءٍ أَوْ نَزَعَ الْخُفَّ لَزِمَهُ غَسْلُهُمَا بِمَعْنًى مُتَقَدِّمٍ عَلَى الدُّخُولِ فِي الصَّلَاةِ وَهُوَ الْحَدَثُ، فَصَارَ كَأَنَّهُ دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ وَلَمْ يَغْسِلْ رِجْلَيْهِ مَعَ قُدْرَتِهِ عَلَيْهِ وَلَوْ كَانَ كَذَلِكَ لَمْ تَجُزْ صَلَاتُهُ، كَذَلِكَ هَذَا.

وَهَذَا كَمَا قُلْنَا فِي الْمُتَيَمِّمِ إذَا دَخَلَ فِي صَلَاتِهِ ثُمَّ وَجَدَ الْمَاءَ انْتَقَضَتْ طَهَارَتُهُ، وَاسْتَأْنَفَ صَلَاتَهُ، كَذَلِكَ هَذَا.

5 - وَلِصَاحِبِ الْجُرْحِ أَنْ يَمْسَحَ عَلَى الْجَبَائِرِ وَإِنْ طَالَتْ الْمُدَّةُ. وَلَيْسَ لِلْمَاسِحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ أَنْ يَمْسَحَ أَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهَا إذَا كَانَ مُسَافِرًا وَأَكْثَرَ مِنْ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إذَا كَانَ مُقِيمًا.

وَالْفَرْقُ بَيْنَهُمَا أَنَّا لَوْ قُلْنَا إنَّهُ يُنْتَقَضُ مَسْحُهُ بِمُضِيِّ الْوَقْتِ لَعَادَ إلَى مَسْحِ
যদি কেউ পটির (জাবাইর) ওপর মাসেহ করে, অতঃপর সুস্থ হওয়ার আগেই যদি পটিগুলো পড়ে যায়, তবে সে তার সালাত চালিয়ে যাবে এবং তাকে তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।

আর যদি সুস্থ হওয়ার কারণে পটি পড়ে যায়, তবে তার জন্য উক্ত স্থানটি ধৌত করা আবশ্যক, যেমনটি দুই মোজার ওপর মাসেহ করার পর তা খুলে ফেললে দুই পা ধৌত করা আবশ্যক হয়।

পার্থক্যের কারণ হলো, যদি সুস্থ হওয়ার আগে পটি পড়ে যায়, তবে পটি বাঁধার আগের অপবিত্রতার (হাদাস) কারণে উক্ত স্থানটি ধৌত করা ওয়াজিব হয় না। সুতরাং তার জন্য সালাত চালিয়ে যাওয়া জায়েজ, যেমনটি পটি যদি তার পিঠে বা পেটে থাকত (তবে তেমনটিই হতো)। কিন্তু মোজা খুলে ফেললে বা সুস্থ হওয়ার কারণে পটি পড়ে গেলে বিষয়টি তেমন নয়। কারণ, পটি পড়ে যাওয়ার আগের অপবিত্রতার কারণে উক্ত স্থান ধৌত করা তার ওপর আবশ্যক হয়ে পড়ে। যতক্ষণ সে মোজা পরিহিত থাকে বা জখমের ওপর পটি থাকে, ততক্ষণ তা ধৌত না করার অনুমতি তাকে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং যখন সুস্থতার কারণে পটি পড়ে গেল বা সে মোজা খুলে ফেলল, তখন সালাতে প্রবেশের আগের কারণ অর্থাৎ অপবিত্রতার কারণে ওই স্থানগুলো ধৌত করা তার ওপর আবশ্যক হয়ে গেল। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়াল যেন সে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পা না ধুয়েই সালাতে প্রবেশ করেছে। আর যদি এমনটা হতো তবে তার সালাত জায়েজ হতো না; এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ।

আর এটি তেমন যেমনটি আমরা তায়াম্মুমকারীর ক্ষেত্রে বলেছি যে, যখন সে সালাতে প্রবেশ করে এবং অতঃপর পানি পেয়ে যায়, তখন তার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায় এবং সে নতুন করে সালাত শুরু করে; এখানেও বিষয়টি একই রকম।

৫ - জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য পটির ওপর মাসেহ করা জায়েজ, যদিও সময় দীর্ঘ হয়। কিন্তু মোজার ওপর মাসেহকারীর জন্য মুসাফির অবস্থায় তিন দিন তিন রাতের বেশি এবং মুকিম অবস্থায় এক দিন এক রাতের বেশি মাসেহ করা জায়েজ নেই।

এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, যদি আমরা বলি যে সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে তার মাসেহ বাতিল হয়ে যাবে, তবে তাকে পুনরায় মাসেহ করতে ফিরে আসতে হবে...
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
مِثْلِهِ، وَالطَّهَارَةُ لَا تُنْتَقَضُ إلَى طَهَارَةٍ مِثْلِهَا مِنْ غَيْرِ حَدَثٍ، كَذَلِكَ هَذَا. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمَسْحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ؛ لِأَنَّهُ لَوْ قُلْنَا أَنَّهُ يُنْتَقَضُ مَسْحُهُ بِمُضِيِّ الْوَقْتِ لَرَجَعَ إلَى الْوُضُوءِ فَيُؤَدِّي إلَى أَنْ يُنْتَقَضَ الْمَسْحُ إلَى الْغَسْلِ مِنْ غَيْرِ حَدَثٍ، وَهَذَا جَائِزٌ كَالْمُتَيَمِّمِ إذَا رَأَى الْمَاءَ.

6 - كَافِرٌ مَيِّتٌ غُسِّلَ ثُمَّ أُوقِعَ فِي مَاءٍ؛ يُنَجِّسُهُ. وَإِنْ غُسِّلَ مُسْلِمٌ مَيِّتٌ ثُمَّ أُوقِعَ فِي مَاءٍ؛ لَمْ يُنَجِّسْهُ.

وَالْفَرْقُ أَنَّا حَكَمْنَا بِنَجَاسَةِ الْكَافِرِ بِمَوْتِهِ وَلَمْ يُوجَدْ مَا يُوجِبُ الْحُكْمَ بِطَهَارَتِهِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَا تَجُوزُ الصَّلَاةُ عَلَيْهِ، فَاسْتَوَى وُجُودُ الْغُسْلِ وَعَدَمُهُ فِي حَقِّهِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمُسْلِمُ؛ لِأَنَّهُ وُجِدَ مَا يُوجِبُ الْحُكْمَ بِطَهَارَتِهِ بِدَلِيلِ جَوَازِ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ، فَصَارَ كَثَوْبٍ نَجِسٍ غُسِلَ ثُمَّ وَقَعَ فِي مَاءٍ فَإِنَّهُ لَا يُفْسِدُهُ، لِأَنَّا حَكَمْنَا بِطَهَارَتِهِ وَجَوَازِ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ. وَلِهَذَا الْمَعْنَى قُلْنَا إنَّهُ لَوْ صَلَّى وَهُوَ حَامِلٌ شَهِيدًا عَلَى ثَوْبِهِ دَمٌ جَازَتْ صَلَاتُهُ؛ لِأَنَّا حَكَمْنَا بِطَهَارَتِهِ، بِدَلِيلِ جَوَازِ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ، فَجَازَتْ صَلَاتُهُ مَعَهُ كَذَلِكَ هَذَا.

7 - قَالَ فِي الْأَصْلِ: إذَا كَانَ جُنُبًا وَلَا يَجِدُ مَاءً، وَفِي الْمَسْجِدِ عَيْنُ مَاءٍ فَإِنَّهُ يَتَيَمَّمُ وَيَدْخُلُ الْمَسْجِدَ، ثُمَّ إذَا لَمْ يَقْدِرْ أَنْ يَقَعَ فِي الْعَيْنِ لِصِغَرِهَا وَلَمْ
তার মতো, আর হাদাছ (অশুচিতা) ব্যতীত পবিত্রতা তার মতো অন্য পবিত্রতার মাধ্যমে নষ্ট হয় না, এটিও তদ্রূপ। চামড়ার মোজার (খুফফাইন) ওপর মাসাহ্ করার বিষয়টি এমন নয়; কারণ আমরা যদি বলি যে সময় অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে তার মাসাহ্ বাতিল হয়ে যায়, তবে তা ওযুর দিকে ফিরে যাবে। ফলে এটি হাদাছ ব্যতীত মাসাহ্ বাতিল হয়ে ধৌত করার দিকে ধাবিত করবে। আর এটি তায়াম্মুমকারীর পানি দেখার মতো জায়েয।

৬ - কোনো মৃত কাফিরকে গোসল করানোর পর পানিতে ফেলা হলে তা পানিকে অপবিত্র করে দেয়। আর যদি কোনো মৃত মুসলিমকে গোসল করানোর পর পানিতে ফেলা হয়, তবে তা পানিকে অপবিত্র করে না।

এর পার্থক্য হলো, আমরা কাফিরের মৃত্যুর কারণে তার নাপাক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি এবং এমন কিছু পাওয়া যায়নি যা তার পবিত্র হওয়ার বিধানকে আবশ্যক করে। এর প্রমাণ হলো, তার ওপর জানাযার নামায পড়া জায়েয নেই। সুতরাং তার ক্ষেত্রে গোসল দেওয়া বা না দেওয়া সমান। কিন্তু মুসলিমের বিষয়টি তেমন নয়; কারণ তার পবিত্রতার বিধান আবশ্যক হওয়ার কারণ পাওয়া গেছে, যার প্রমাণ হলো তার ওপর জানাযার নামায পড়া জায়েয। ফলে সে এমন একটি নাপাক কাপড়ের মতো হয়ে গেল যাকে ধৌত করার পর পানিতে পড়লে তা পানিকে নষ্ট করে না; কারণ আমরা তার পবিত্রতা এবং তার ওপর নামায জায়েয হওয়ার বিধান দিয়েছি। এই অর্থেই আমরা বলেছি যে, কেউ যদি এমন কোনো শহীদকে বহন করে নামায পড়ে যার কাপড়ে রক্ত রয়েছে, তবে তার নামায জায়েয হবে; কারণ আমরা তার পবিত্র হওয়ার ফয়সালা দিয়েছি, যার প্রমাণ হলো তার ওপর জানাযার নামায পড়া জায়েয। সুতরাং তাকে সাথে নিয়ে নামায পড়া জায়েয, এটিও তদ্রূপ।

৭ - 'আল-আসল' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যখন কেউ জুনুবী (বড় নাপাকি অবস্থায়) হয় এবং পানি না পায়, অথচ মসজিদের ভেতরে পানির কোনো উৎস থাকে, তবে সে তায়াম্মুম করে মসজিদে প্রবেশ করবে। এরপর যদি ছোট হওয়ার কারণে সে সেই ঝরনা বা উৎসের পানিতে নামতে না পারে এবং ওযুর পানি সংগ্রহ করতে না পারে...
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪০)
يَكُنْ مَعَهُ مَا يَسْتَقِي بِهِ فَإِنَّهُ يَتَيَمَّمُ وَيُصَلِّي بِهِ الْفَرْضَ، فَالتَّيَمُّمُ الَّذِي وَقَعَ لِدُخُولِ الْمَسْجِدِ لَا يَجُوزُ أَدَاءُ الصَّلَاةِ بِهِ. وَلَوْ تَيَمَّمَ لِسَجْدَةِ التِّلَاوَةِ جَازَ أَدَاءُ الصَّلَاةِ بِهِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ سَجْدَةَ التِّلَاوَةِ مِنْ جِنْسِ الصَّلَاةِ لِأَنَّ السُّجُودَ فِي الْجُمْلَةِ مِنْ أَرْكَانِ الصَّلَاةِ، وَإِذَا وَقَعَ التَّيَمُّمُ لِمَا هُوَ مِنْ جِنْسِ الصَّلَاةِ جَازَ أَدَاءُ الصَّلَاةِ بِهِ، كَمَا لَوْ وَقَعَ لِلتَّطَوُّعِ جَازَ أَدَاءُ الْفَرْضِ بِهِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ دُخُولُ الْمَسْجِدِ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ مِنْ جِنْسِ الصَّلَاةِ وَلَا هُوَ رُكْنٌ مِنْ أَرْكَانِهَا فَلَمْ يَقَعْ التَّيَمُّمُ لِجِنْسِ الصَّلَاةِ، فَلَا يَجُوزُ أَدَاءُ الصَّلَاةِ بِهِ، كَمَا لَوْ لَمْ يَنْوِ أَصْلًا لَمْ يَجُزْ أَدَاءُ الصَّلَاةِ بِهِ كَذَلِكَ هَذَا.

 

‌‌[كِتَاب الصَّلَاة]

8 - وَيُؤَذِّنُ الْمُؤَذِّنُ، إذَا كَانَ مُسَافِرًا، رَاكِبًا إنْ شَاءَ، وَيَنْزِلُ لِلْإِقَامَةِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ الْأَذَانَ مِنْ سُنَنِ الصَّلَاةِ، وَالْمَقْصُودُ مِنْهُ الْإِعْلَامُ، وَلَمْ يُشْرَعْ مَوْصُولًا بِالصَّلَاةِ، وَالْإِعْلَامُ يَحْصُلُ إذَا كَانَ رَاكِبًا، وَسُنَنُ الصَّلَاةِ يَجُوزُ لِلْمُسَافِرِ أَدَاؤُهَا رَاكِبًا، كَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَأَرْبَعٍ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَالْفَصْلُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالصَّلَاةِ بِالنُّزُولِ لَا يُمْنَعُ جَوَازُهُ؛ لِأَنَّ الْفَصْلَ بَيْنَهُمَا مَشْرُوعٌ، فَجَازَ لَهُ أَنْ يُؤَذِّنَ رَاكِبًا فِي السَّفَرِ.

وَإِنْ كَانَ مُقِيمًا فَسُنَنُ الصَّلَاةِ لَا يَجُوزُ أَدَاؤُهَا رَاكِبًا
(যদি তার নিকট এমন কিছু না থাকে যা দিয়ে সে পানি সংগ্রহ করতে পারে), তবে সে তায়াম্মুম করবে এবং এর মাধ্যমে ফরয সালাত আদায় করবে। সুতরাং মসজিদে প্রবেশের উদ্দেশ্যে যে তায়াম্মুম করা হয়েছে, তা দিয়ে সালাত আদায় করা বৈধ নয়। তবে যদি তিলাওয়াতের সিজদার জন্য তায়াম্মুম করে থাকে, তবে তা দিয়ে সালাত আদায় করা বৈধ।

আর পার্থক্য হলো এই যে, তিলাওয়াতের সিজদা সালাতের পর্যায়ভুক্ত, কারণ সাধারণভাবে সিজদা সালাতের রুকনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর যখন এমন কোনো বিষয়ের জন্য তায়াম্মুম করা হয় যা সালাতের পর্যায়ভুক্ত, তখন তা দিয়ে সালাত আদায় করা বৈধ হয়, যেমন নফল সালাতের জন্য তায়াম্মুম করা হলে তা দিয়ে ফরয সালাত আদায় করা বৈধ হয়। কিন্তু মসজিদে প্রবেশের বিষয়টি এমন নয়; কারণ এটি সালাতের পর্যায়ভুক্ত নয় এবং এটি সালাতের রুকনসমূহের কোনো রুকনও নয়। ফলে তায়াম্মুমটি সালাতের পর্যায়ভুক্ত কোনো বিষয়ের জন্য হয়নি, তাই এর দ্বারা সালাত আদায় করা বৈধ হবে না। ঠিক যেমন যদি কেউ মূলগতভাবে কোনো নিয়ত ছাড়াই তায়াম্মুম করে তবে যেমন তার জন্য সালাত আদায় করা বৈধ হয় না, এটিও তদ্রূপ।

 

‌‌[সালাত অধ্যায়]

৮ - মুআযযিন যদি মুসাফির হয়, তবে সে চাইলে আরোহী অবস্থায় আযান দিতে পারে, তবে ইকামতের জন্য সে নিচে অবতরণ করবে।

আর পার্থক্য হলো এই যে, আযান হলো সালাতের সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর উদ্দেশ্য হলো ঘোষণা প্রদান করা, আর এটি সালাতের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে বিধিবদ্ধ করা হয়নি। আর আরোহী অবস্থায়ও ঘোষণা প্রদানের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। তদুপরি মুসাফিরের জন্য সালাতের সুন্নাতসমূহ আরোহী অবস্থায় আদায় করা বৈধ, যেমন মাগরিবের পরের দুই রাকাত এবং যোহরের পূর্বের চার রাকাত। আর অবতরণ করার মাধ্যমে আযান ও সালাতের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো এর বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে না; কারণ এ দুইয়ের মাঝে বিচ্ছেদ রাখা শরীয়তসম্মত। সুতরাং সফরে থাকা অবস্থায় তার জন্য আরোহী হয়ে আযান দেওয়া বৈধ।

আর যদি সে মুকীম (নিবাসী) হয়, তবে সালাতের সুন্নাতসমূহ আরোহী অবস্থায় আদায় করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪১)
فِي الْمِصْرِ كَذَلِكَ الْأَذَانُ. وَأَمَّا الْإِقَامَةُ فَشُرِعَتْ مَوْصُولَةً بِالصَّلَاةِ، فَإِذَا أَقَامَ رَاكِبًا أَدَّى إلَى الْفَصْلِ بَيْنَ الشُّرُوعِ فِي الصَّلَاةِ وَبَيْنَ الْإِقَامَةِ بِالنُّزُولِ، وَالْفَصْلُ بَيْنَهُمَا غَيْرُ مَشْرُوعٍ، فَلَا يُقِيمُ رَاكِبًا.

9 - وَلَوْ اقْتَصَرَ الْمُسَافِرُ عَلَى الْإِقَامَةِ أَجْزَأَهُ، وَإِنْ تَرَكَهَا كَانَ مُسِيئًا. وَالْمُقِيمُ إذَا تَرَكَ الْأَذَانَ وَالْإِقَامَةَ وَصَلَّى وَحْدَهُ، وَاكْتَفَى بِأَذَانِ النَّاسِ وَإِقَامَتِهِمْ لَا يَكُونُ مُسِيئًا.

وَالْفَرْقُ: أَنَّ هَذِهِ سُنَّةٌ تَقُومُ بِهَا الْجَمَاعَةُ، فَإِذَا لَمْ يُوجَدْ هَاهُنَا مَنْ يَقُومُ بِهَا تَوَجَّهَتْ عَلَيْهِ، كَمَا لَوْ وَجَدَ مَيِّتًا وَحْدَهُ فِي الْمَفَازَةِ فَعَلَيْهِ دَفْنُهُ، بِخِلَافِ مَا لَوْ كَانَ مَعَهُ جَمَاعَةٌ، وَكَذَلِكَ إذَا سَلَّمَ عَلَيْهِ إنْسَانٌ لَزِمَهُ الْإِجَابَةُ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمُقِيمُ؛ لِأَنَّ هَذِهِ سُنَّةٌ يَقُومُ بِهَا الْجَمَاعَةُ، وَقَدْ وُجِدَ هَاهُنَا مَنْ يَقُومُ بِهَا؛ لِأَنَّ النَّاسَ يُؤَذِّنُونَ فِي الْمَسَاجِدِ وَيُقِيمُونَ، فَلَا يَكُونُ هُوَ مَأْمُورًا بِهَا، كَمَا لَوْ وَجَدَ مَيِّتًا فِي الْمِصْرِ وَوَجَدَ مِنْ يُوَارِيهِ وَيَقُومُ بِتَجْهِيزِهِ وَدَفْنِهِ، فَإِنَّهُ لَا يَكُونُ بِتَرْكِهِ آثِمًا كَذَلِكَ هَذَا.

وَفَرْقٌ آخَرُ: أَنَّ أَذَانَ الْمُؤَذِّنِ فِي الْمِصْرِ وَقَعَ لِجَمَاعَةٍ وَلِإِخْبَارِ النَّاسِ، لِأَنَّهُ أُمِرَ بِأَنْ يُصَلِّيَ مَعَهُمْ، وَإِذَا وَقَعَ لَهُ لَمْ يَحْتَجْ إلَى الْإِعَادَةِ، كَمَا لَوْ خَرَجَ إلَى الْمَسْجِدِ، وَلَا يَقَعُ لِجَمَاعَةٍ أُخْرَى، بِدَلِيلِ أَنَّهُمْ لَا يُؤْمَرُونَ بِالْخُرُوجِ إلَى ذَلِكَ الْمَسْجِدِ، فَلَا يَقَعُ لَهُمْ فَأُمِرُوا بِهِ.
নগরের ক্ষেত্রেও আযান তদ্রূপ। আর ইকামতের ক্ষেত্রে বিধান হলো তা সালাতের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত থাকবে। সুতরাং কেউ যদি আরোহী অবস্থায় ইকামত দেয়, তবে তা বাহন থেকে নামার কারণে ইকামত ও সালাত শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে বিচ্ছেদের সৃষ্টি করবে। অথচ উভয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটা শরয়ি বিধানসম্মত নয়; অতএব সে আরোহী অবস্থায় ইকামত দেবে না।

৯ - মুসাফির যদি কেবল ইকামতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে, আর যদি সে তা বর্জন করে তবে সে মন্দ কাজ করল। আর মুকিম (নিবাসী) ব্যক্তি যদি আযান ও ইকামত বর্জন করে একাকী সালাত আদায় করে এবং লোকজনের আযান ও ইকামতের ওপরই সন্তুষ্ট থাকে, তবে সে মন্দ কাজকারী হবে না।

এর পার্থক্য হলো: এটি এমন একটি সুন্নাত যা জামাত কর্তৃক পালিত হয়। সুতরাং যখন এখানে এমন কেউ না থাকে যে তা পালন করবে, তখন তা তার ওপরই বর্তায়। যেমনটি ঘটে যদি কেউ নির্জন মরুভূমিতে একাকী কোনো মৃতদেহ পায়, তবে তার ওপরই তাকে দাফন করার দায়িত্ব বর্তায়; কিন্তু যদি তার সাথে একদল লোক থাকত তবে বিষয়টি ভিন্ন হতো। অনুরূপভাবে, যদি কোনো মানুষ তাকে সালাম দেয় তবে উত্তর প্রদান করা তার জন্য আবশ্যক। কিন্তু মুকিম ব্যক্তির বিষয়টি এমন নয়; কেননা এটি এমন এক সুন্নাত যা জামাত সম্পাদন করে থাকে এবং এখানে ইতিমধ্যে তা সম্পাদনকারী লোক বর্তমান রয়েছে; কারণ মানুষ মসজিদে আযান ও ইকামত দিচ্ছে। সুতরাং সে এটি করতে আদিষ্ট নয়। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি নগরে কোনো মৃতদেহ পায় এবং সেখানে এমন লোক থাকে যারা তাকে দাফন করবে এবং তার কাফন-দাফন ও প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করবে, তবে সেটি বর্জন করার কারণে সে যেমন গুনাহগার হবে না, এটিও তদ্রূপ।

আরেকটি পার্থক্য হলো: নগরের মুআজ্জিনের আযান জামাতের জন্য এবং মানুষকে জানানোর জন্য সম্পন্ন হয়েছে, কেননা তাকে তাদের সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আর যখন এটি তার জন্য হয়ে গেল, তখন পুনরায় তা করার প্রয়োজন নেই, যেমনটি ঘটে যদি সে মসজিদের দিকে বের হয়। তবে এটি অন্য কোনো জামাতের জন্য ধর্তব্য হয় না; যার প্রমাণ হলো তাদেরকে সেই মসজিদে গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সুতরাং এটি তাদের জন্য ধর্তব্য হবে না, তাই তাদেরকে এর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَأَمَّا الْمُسَافِرُ فَأَذَانُ أَهْلِ الْمِصْرِ لَمْ يَقَعْ لَهُ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَا يُؤْمَرُ بِالْعَوْدِ إلَى الْمِصْرِ لِيُصَلِّيَ مَعَ النَّاسِ، وَإِذَا لَمْ يَقَعْ لَهُ احْتَاجَ إلَى فِعْلِهِ كَالْجَمَاعَةِ فِي الْمِصْرِ.

10 - وَإِذَا أَذَّنَتْ امْرَأَةٌ جَازَ، وَهُوَ مَكْرُوهٌ فِي رِوَايَةِ الْأَصْلِ. وَلَوْ أَذَّنَ السَّكْرَانُ أَوْ الْمَجْنُونُ فَأَحَبُّ إلَيَّ أَنْ يُعَادَ.

وَالْفَرْقُ: أَنَّ الْأَذَانَ دُعَاءٌ إلَى الصَّلَاةِ، وَقَوْلُ السَّكْرَانِ وَالْمَجْنُونِ لَا يَقَعُ بِهِ الْإِعْلَامُ؛ إذْ النَّاسُ لَا يَعْتَمِدُونَ عَلَيْهِ وَلَا يُمْكِنُهُمَا أَنْ يَأْتِيَا بِهِ عَلَى نَظْمِهِ وَتَرْتِيبِهِ، فَصَارَ كَأَذَانِ الصَّبِيِّ الَّذِي لَا يَعْقِلُ. وَأَمَّا الْمَرْأَةُ فَأَذَانُهَا يَقَعُ بِهِ الْإِعْلَامُ؛ لِأَنَّهَا تَقْدِرُ أَنْ تَأْتِيَ بِالْحُرُوفِ عَلَى نَظْمِهَا وَتَرْتِيبِهَا، وَيُعْتَمَدُ عَلَى قَوْلِهَا، أَلَا تَرَى أَنَّ قَوْلَهَا يُقْبَلُ فِي الشَّهَادَاتِ وَغَيْرِهَا، كَذَلِكَ هَذَا.

وَالْمُسْتَحَبُّ أَنْ يُعَادَ فِي الْمَجْنُونِ وَلَا يُعَادَ فِي الْمَرْأَةِ، لِأَنَّ الْمَرْأَةَ مِنْ أَهْلِ الْجَمَاعَةِ، بِدَلِيلِ أَنَّهَا لَوْ خَرَجَتْ إلَى الْجُمُعَةِ وَصَلَّتْ رَكْعَتَيْنِ جَازَ عَنْهَا فَجَازَ أَنْ تَكُونَ مِنْ أَهْلِ الْأَذَانِ كَالصَّبِيِّ الْمُرَاهِقِ وَالْبَالِغِ. وَأَمَّا الْمَجْنُونُ
পক্ষান্তরে মুসাফিরের ক্ষেত্রে শহরের অধিবাসীদের আযান তার জন্য কার্যকর হয় না; এর প্রমাণ হলো যে, তাকে মানুষের সাথে নামায পড়ার জন্য পুনরায় শহরে ফিরে আসার আদেশ দেওয়া হয় না। আর যখন তা তার জন্য কার্যকর হলো না, তখন সে তা (আযান) আদায় করার মুখাপেক্ষী হবে, যেমনটি শহরের জামায়াতের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

১০ - আর যদি কোনো মহিলা আযান দেয় তবে তা জায়েজ হবে, তবে 'রিওয়ায়েতে আসল' অনুযায়ী তা মাকরূহ। আর যদি কোনো মাতাল বা পাগল ব্যক্তি আযান দেয়, তবে আমার নিকট তা পুনরায় প্রদান করাই অধিক পছন্দনীয়।

আর পার্থক্য হলো: আযান হলো নামাযের প্রতি আহ্বান, আর মাতাল ও পাগলের কথার দ্বারা সংবাদ প্রদান সম্পন্ন হয় না; কারণ মানুষ তাদের ওপর নির্ভর করে না এবং তাদের পক্ষে আযানকে তার সঠিক বিন্যাস ও ধারাবাহিকতায় আদায় করা সম্ভব হয় না। ফলে তা এমন অবুঝ শিশুর আযানের মতো হয়ে গেল যে হিতাহিত জ্ঞান রাখে না। আর মহিলার বিষয় হলো, তার আযানের মাধ্যমে সংবাদ প্রদান সম্পন্ন হয়; কারণ সে অক্ষরগুলোকে তার সঠিক বিন্যাস ও ধারাবাহিকতায় উচ্চারণ করতে সক্ষম এবং তার কথার ওপর নির্ভর করা হয়। আপনি কি দেখেন না যে সাক্ষ্য প্রদান ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তার কথা গ্রহণ করা হয়? এটিও তদ্রূপ।

আর মুস্তাহাব হলো যে, পাগলের আযান পুনরায় প্রদান করা হবে কিন্তু মহিলার আযান পুনরায় প্রদান করা হবে না। কারণ মহিলা জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য; এর প্রমাণ হলো, যদি সে জুমার জন্য বের হয় এবং দুই রাকাত নামায পড়ে তবে তা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং আযান প্রদানের যোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সে সমঝদার শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কের মতো হওয়া বৈধ। আর পাগলের বিষয়টি হলো...
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَالسَّكْرَانُ فَلَيْسَا مِنْ أَهْلِ الْجَمَاعَةِ لِأَنَّهُمَا يُجَنَّبَانِ الْمَسْجِدَ فَصَارَا كَالصَّبِيِّ الصَّغِيرِ.

11 - وَيَقْضِي الْفَوَائِتَ بَعْدَ الْفَجْرِ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَبَعْدَ الْعَصْرِ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ، وَيُصَلِّي عَلَى الْجِنَازَةِ، وَيَسْجُدُ لِلتِّلَاوَةِ. وَلَا يَرْكَعُ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ، وَلَا يُصَلِّي الْمَنْذُورَةَ فِي هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ وُجُوبَ الصَّلَاةِ عَلَى الْجِنَازَةِ وَقَضَاءَ الْفَوَائِتِ وَسَجْدَةَ التِّلَاوَةِ لَا يَقِفُ عَلَى فِعْلِهِ، أَلَا تَرَى أَنَّهُ يَسْمَعُ الْآيَةَ مِنْ غَيْرِهِ فَتَلْزَمُهُ سَجْدَةُ التِّلَاوَةِ، كَذَلِكَ يَحْضُرُ الْجِنَازَةَ فَتَلْزَمُهُ الصَّلَاةُ عَلَيْهَا، وَإِذَا لَمْ يَكُنْ وُجُوبُهَا بِفِعْلٍ مِنْ جِهَتِهِ جَازَ أَدَاؤُهَا فِي هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ كَفَرْضِ الْوَقْتِ. وَأَمَّا رَكْعَتَا الطَّوَافِ وَالْمَنْذُورَةُ فَوُجُوبُهُمَا بِسَبَبٍ مِنْ جِهَتِهِ؛ إذْ لَوْلَا طَوَافُهُ وَنَذْرُهُ لَمَا لَزِمَهُ فَصَارَ كَوُجُوبِهِمَا بِشُرُوعِهِ فِيهِمَا وَلَوْ أَرَادَ أَنْ يَشْرَعَ فِي صَلَاةٍ مُتَطَوِّعًا فِي هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ لِتَجِبَ عَلَيْهِ لَمْ يَجُزْ أَدَاؤُهَا فِيهِمَا، كَذَلِكَ هَذَا.
এবং মদ্যপ ব্যক্তি, তারা উভয়ে জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য নয়, কারণ তাদেরকে মসজিদ থেকে দূরে রাখা হয়। ফলে তারা ছোট শিশুর মতো হয়ে যায়।

১১ - এবং সে ফজরের পর সূর্যোদয়ের আগে এবং আসরের পর সূর্যাস্তের আগে কাজা নামাজ আদায় করবে, জানাজার নামাজ পড়বে এবং তিলাওয়াতের সিজদাহ করবে। তবে এই দুই সময়ে তওয়াফের দুই রাকাত পড়বে না এবং মানত করা নামাজও আদায় করবে না।

এবং পার্থক্য এই যে, জানাজার নামাজ, কাজা নামাজ এবং তিলাওয়াতের সিজদাহ ওয়াজিব হওয়া ব্যক্তির নিজস্ব কাজের ওপর নির্ভর করে না। আপনি কি দেখেন না যে, সে অন্যের নিকট থেকে আয়াত শোনে আর তার ওপর তিলাওয়াতের সিজদাহ ওয়াজিব হয়ে যায়; তেমনিভাবে সে জানাজায় উপস্থিত হয় এবং তার ওপর জানাজার নামাজ পড়া ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যখন এগুলোর ওয়াজিব হওয়া তার পক্ষ থেকে কোনো কর্মের কারণে নয়, তখন এই দুই সময়ে এগুলো আদায় করা জায়েজ যেমন ওয়াক্তের ফরজ নামাজ আদায় করা জায়েজ। পক্ষান্তরে তওয়াফের দুই রাকাত এবং মানত করা নামাজের বিষয় হলো, এগুলোর ওয়াজিব হওয়া ব্যক্তির নিজের পক্ষ থেকে কোনো কারণের কারণে হয়ে থাকে; কেননা যদি সে তওয়াফ না করত কিংবা মানত না করত, তবে এগুলো তার ওপর ওয়াজিব হতো না। ফলে এটি এমন হলো যেন এগুলো তার শুরু করার মাধ্যমেই ওয়াজিব হয়েছে। আর যদি সে এই দুই সময়ে নফল নামাজ শুরু করতে চায় যেন তা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়, তবে তা এই সময়ে আদায় করা জায়েজ হবে না; এটাও তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
إذَا افْتَتَحَ التَّطَوُّعَ حَالَةَ الطُّلُوعِ وَالْغُرُوبِ وَالِانْتِصَافِ ثُمَّ أَفْسَدَهَا لَزِمَهُ الْقَضَاءُ فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ. وَلَوْ شَرَعَ فِي صَوْمِ يَوْمِ النَّحْرِ وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ ثُمَّ أَفْسَدَهُ لَمْ يَلْزَمْهُ الْقَضَاءُ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ النَّهْيَ إنَّمَا وَرَدَ عَنْ الصَّلَاةِ فِي هَذِهِ الْأَوْقَاتِ، وَالصَّلَاةُ إنَّمَا هِيَ أَرْكَانٌ مِثْلُ الْقِيَامِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، فَابْتِدَاءُ الِافْتِتَاحِ لَيْسَ بِصَلَاةٍ، فَلَمْ يُوجَدْ مَا هُوَ الْمَنْهِيُّ عَنْهُ، فَجَازَ أَنْ يَلْزَمَهُ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الصَّوْمُ؛ لِأَنَّ النَّهْيَ وَرَدَ فِي صَوْمِ يَوْمِ النَّحْرِ، وَابْتِدَاءُ الصَّوْمِ صَوْمٌ؛ لِأَنَّ الصَّوْمَ لَيْسَ هُوَ إلَّا الْإِمْسَاكُ فَوُجِدَ الْفِعْلُ الْمَنْهِيُّ عَنْهُ، فَجَازَ أَنْ لَا يَثْبُتَ حُكْمُهُ وَلَا يُؤْمَرُ بِإِتْمَامِهِ.

وَفَرْقٌ آخَرُ: وَهُوَ أَنَّهُ إنَّمَا وُجِدَ التَّكْبِيرُ فِي هَذِهِ الْأَوْقَاتِ، وَالتَّكْبِيرُ لَيْسَ مِنْ الصَّلَاةِ، فَانْعَقَدَتْ التَّحْرِيمَةُ مِنْ غَيْرِ نَهْيٍ، فَجَازَ أَنْ يُؤْمَرَ بِقَضَائِهِ عِنْدَ الْإِفْسَادِ. وَأَمَّا الصَّوْمُ فَابْتِدَاءُ الْإِمْسَاكِ مِنْ الصَّوْمِ وَجُزْءٌ مِنْهُ، فَوُجِدَ جُزْءٌ مِنْهُ عَلَى وَجْهِ الْفَسَادِ وَهُوَ مَأْمُورٌ بِقَطْعِهِ، فَإِذَا قَطَعَ لَا يُؤْمَرُ بِقَضَائِهِ. وَلِأَنَّ التَّكْبِيرَ قَوْلٌ، فَقَدْ أَوْجَبَ الصَّلَاةَ بِقَوْلِهِ، فَصَارَ كَإِيجَابِهِ بِالنُّذُورِ. وَالشُّرُوعُ فِي الصَّوْمِ فِعْلٌ مِنْ أَفْعَالِهِ، فَجَازَ أَنْ لَا يَلْزَمَهُ حُكْمُهُ عَلَى وَجْهِ الْفَسَادِ إذَا كَانَ مَأْمُورًا بِإِبْطَالِهِ، كَمَا لَوْ دَفَعَ دَرَاهِمَ إلَى إنْسَانٍ عَلَى ظَنِّ أَنَّهُ عَلَيْهِ، ثُمَّ بَانَ أَنْ لَا شَيْءَ عَلَيْهِ، فَارْتَجَعَ لَمْ يَضْمَنْ كَذَلِكَ هَذَا.
যদি সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় নফল নামাজ শুরু করা হয় এবং পরবর্তীতে তা নষ্ট করা হয়, তবে যাহিরুর রিওয়ায়াত (প্রসিদ্ধ বর্ণনা) অনুযায়ী তার কাজা করা আবশ্যক। আর যদি কেউ ঈদুল আজহার দিন এবং আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে রোজা রাখা শুরু করে এবং অতঃপর তা ভেঙে ফেলে, তবে তার উপর কাজা আবশ্যক হবে না।

পার্থক্য এই যে, মূলত এই সময়গুলোতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আর নামাজ হলো কিয়াম, রুকু ও সিজদার মতো কতগুলো রুকনের সমষ্টি। সুতরাং নামাজের সূচনা করা (তাকবিরে তাহরিমা) সরাসরি নামাজ নয়। ফলে যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা (সূচনালগ্নে) পাওয়া যায়নি; তাই (ভঙ্গ করার কারণে) কাজা করা আবশ্যক হওয়া বৈধ। কিন্তু রোজার বিষয়টি এমন নয়; কারণ ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আর রোজা শুরু করাটাই রোজা রাখা; কারণ রোজা তো মূলত পানাহার থেকে বিরত থাকা ছাড়া অন্য কিছু নয়। ফলে এখানে নিষিদ্ধ কাজটি সংঘটিত হয়েছে। অতএব এর হুকুম সাব্যস্ত না হওয়া এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ না দেওয়া বৈধ।

আরেকটি পার্থক্য হলো: এই সময়গুলোতে কেবল তাকবির পাওয়া গেছে, আর তাকবির নামাজের অংশ নয়। ফলে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই তাহরিমা সংঘটিত হয়েছে; তাই তা নষ্ট করলে কাজা করার নির্দেশ দেওয়া বৈধ। পক্ষান্তরে রোজার ক্ষেত্রে বিরত থাকার সূচনা করাই হলো রোজার অংশ। ফলে রোজার একটি অংশ ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) পন্থায় পাওয়া গেছে এবং তাকে তা ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যখন সে তা ছিন্ন করল, তখন তাকে কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না। আর যেহেতু তাকবির হলো একটি উক্তি, তাই সে তার উক্তির মাধ্যমে নামাজকে আবশ্যক করেছে; ফলে এটি মানত করার মাধ্যমে আবশ্যক করার মতো হয়েছে। অন্যদিকে রোজা শুরু করা একটি কর্ম। সুতরাং যখন তাকে কোনো কর্ম বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন ফাসিদ অবস্থায় তার বিধান আবশ্যক না হওয়া বৈধ; যেমন কেউ যদি এই মনে করে কোনো ব্যক্তিকে দিরহাম প্রদান করে যে তার কাছে ওই ব্যক্তির ঋণ পাওনা আছে, পরবর্তীতে প্রকাশ পেল যে তার কাছে কোনো পাওনা নেই এবং সে তা ফেরত নিল, তবে তাকে যেমন কোনো জরিমানা দিতে হয় না; এটিও তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَإِذَا أَحْدَثَ فِي رُكُوعِهِ أَوْ سُجُودِهِ فَذَهَبَ وَتَوَضَّأَ لَمْ يَجُزْ الِاعْتِدَادُ بِذَلِكَ الرُّكُوعِ أَوْ السُّجُودِ الَّذِي أَحْدَثَ فِيهِ. وَلَوْ ذَكَرَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ سَجْدَةَ التِّلَاوَةِ فَخَرَّ سَاجِدًا لَهَا ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: إنِّي احْتَسَبْتُ بِذَلِكَ الرُّكُوعِ جَازَ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ إتْمَامَ الرُّكُوعِ وَاجِبٌ عَلَيْهِ، وَإِتْمَامُهُ بِالْخُرُوجِ مِنْهُ، فَلَوْ قُلْنَا: إنَّهُ يُعْتَدُّ بِالِانْحِطَاطِ خُرُوجًا، صَارَ مُؤَدِّيًا جُزْءًا مِنْ صَلَاتِهِ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ، وَهُوَ ظَاهِرٌ فَجَازَ. وَأَمَّا إذَا ذَهَبَ لِيَتَوَضَّأَ فَإِتْمَامُ الرُّكُوعِ بِالْخُرُوجِ مِنْهُ وَاجِبٌ، فَلَوْ قُلْنَا: إنَّهُ يُعْتَدُّ بِذَهَابِهِ خُرُوجًا مِنْ الرُّكُوعِ حَتَّى لَا يَلْزَمُهُ الْعَوْدُ إلَيْهِ لَجَعَلْنَاهُ مُتَمِّمًا لَهُ، فَيَصِيرُ مُؤَدِّيًا جُزْءًا مِنْ الصَّلَاةِ مَعَ الْحَدَثِ، وَأَدَاءُ جُزْءٍ مِنْ الصَّلَاةِ مَعَ الْحَدَثِ لَا يَجُوزُ، فَلَا نَجْعَلُهُ خَارِجًا، فَلَزِمَهُ الْعَوْدُ إلَيْهِ لِيَخْرُجَ مِنْهُ.

14 - الْفَتْحُ عَلَى الْإِمَامِ لَا يُفْسِدُ الصَّلَاةَ وَيُكْرَهُ؛ لِأَنَّهُ يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ هَكَذَا ذُكِرَ فِي الْمُجَرَّدِ. وَالْفَتْحُ عَلَى غَيْرِ الْإِمَامِ يُفْسِدُ الصَّلَاةِ.
আর যদি কেউ তার রুকু বা সিজদায় থাকাকালীন অপবিত্র হয়ে যায় (অজু ভেঙে যায়), অতঃপর সে গিয়ে অজু করে আসে, তবে যে রুকু বা সিজদায় সে অপবিত্র হয়েছে তা গণ্য করা বৈধ হবে না। আর যদি সে দ্বিতীয় রাকাতে তিলাওয়াতের সিজদার কথা স্মরণ করে এবং সেটির জন্য সিজদায় অবনত হয়, অতঃপর মাথা তুলে বলে: "আমি এর মাধ্যমে সেই রুকুটিই গণ্য করলাম", তবে তা জায়েজ হবে।

পার্থক্য হলো, রুকু পূর্ণ করা তার ওপর ওয়াজিব, আর তা পূর্ণ হয় রুকু থেকে বের হওয়ার মাধ্যমে। সুতরাং আমরা যদি বলি: (সিজদার জন্য) নিচে অবনত হওয়াকে রুকু থেকে বের হওয়া হিসেবে গণ্য করা হবে, তবে সে ওই অবস্থায় সালাতের একটি অংশ আদায়কারী হয়ে যাবে এবং এটি স্পষ্ট; তাই তা জায়েজ। পক্ষান্তরে যখন সে অজু করতে যায়, তখন রুকু থেকে বের হওয়ার মাধ্যমে রুকু পূর্ণ করা ওয়াজিব। এমতাবস্থায় আমরা যদি বলি: তার (অজুর জন্য) চলে যাওয়াকে রুকু থেকে বের হওয়া হিসেবে গণ্য করা হবে, যাতে তার পুনরায় রুকুতে ফিরে আসা আবশ্যক না হয়, তবে আমরা তাকে রুকু পূর্ণকারী হিসেবে সাব্যস্ত করলাম। ফলে সে অপবিত্র অবস্থায় সালাতের একটি অংশ আদায়কারী হয়ে যাবে। আর অপবিত্র অবস্থায় সালাতের কোনো অংশ আদায় করা বৈধ নয়। অতএব আমরা তাকে রুকু থেকে বের হওয়া হিসেবে গণ্য করব না, ফলে রুকু থেকে (পবিত্র অবস্থায়) বের হওয়ার জন্য তার পুনরায় রুকুতে ফিরে আসা আবশ্যক হবে।

১৪ - ইমামকে লোকমা দেওয়া সালাত নষ্ট করে না, তবে তা মাকরুহ; কেননা এর অর্থ দাঁড়ায় সে ইমামের পেছনে কিরাত পড়ছে, 'আল-মুজাররাদ' গ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইমাম ছাড়া অন্য কাউকে লোকমা দেওয়া সালাত নষ্ট করে দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَالْفَرْقُ أَنَّ قِرَاءَةَ الْإِمَامِ قِرَاءَةٌ لِلْمُؤْتَمِّ، فَإِذَا فَتَحَ عَلَيْهِ قَصَدَ بِقِرَاءَتِهِ اسْتِصْلَاحَ صَلَاتِهِ، فَلَمْ تَبْطُلْ صَلَاتُهُ كَالْمُنْفَرِدِ إذَا قَرَأَ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ إذَا فَتَحَ عَلَى غَيْرِ الْإِمَامِ؛ لِأَنَّ قِرَاءَتَهُ لَيْسَتْ بِقِرَاءَةٍ لَهُ فَقَدْ أَخْرَجَهُ مِنْ حُكْمِ صَلَاتِهِ وَجَعَلَهُ جَوَابًا لَهُ وَخَاطَبَهُ، فَصَارَ كَمَا لَوْ عَلَّمَهُ الْقُرْآنَ أَوْ تَعَلَّمَ مِنْهُ، وَلَوْ كَانَ كَذَلِكَ بَطَلَتْ صَلَاتُهُ كَذَلِكَ هَذَا.

15 - وَإِذَا مَرَّ الْمُصَلِّي بِآيَةٍ فِيهَا ذِكْرُ الْمَوْتِ أَوْ النَّارِ، فَوَقَفَ عِنْدَهَا وَتَعَوَّذَ وَاسْتَغْفَرَ، وَهُوَ وَحْدَهُ فِي التَّطَوُّعِ، فَذَلِكَ حَسَنٌ. وَإِنْ كَانَ إمَامًا كُرِهَ لَهُ ذَلِكَ.

وَالْفَرْقُ أَنَّهُ إذَا كَانَ إمَامًا فَهُوَ فِيمَا يَقِفُ يُشَكِّكُ الْقَوْمَ لِأَنَّهُمْ رُبَّمَا يَظُنُّونَ أَنَّهُ أُرْتِجَ عَلَيْهِ، فَيَفْتَحُونَ عَلَيْهِ، وَلِأَنَّهُ يُؤَدِّي إلَى تَطْوِيلِ الصَّلَاةِ عَلَيْهِمْ، «وَقَالَ النَّبِيُّ عليه السلام لِمُعَاذٍ: صَلِّ بِهِمْ صَلَاةَ أَضْعَفِهِمْ» ، فَلَا يَفْعَلُ ذَلِكَ. وَأَمَّا فِي التَّطَوُّعِ وَحْدَهُ لَا يُؤَدِّي إلَى التَّطْوِيلِ عَلَى أَحَدٍ، وَلَا إلَى التَّغْلِيظِ وَالتَّشْكِيكِ، وَالِاشْتِغَالُ بِالْقِرَاءَةِ تَطَوُّعٌ، وَالتَّدَبُّرُ تَطَوُّعٌ، فَاسْتَوَيَا فَإِنْ شَاءَ وَقَفَ وَتَدَبَّرَ، وَإِنْ شَاءَ مَضَى عَلَى صَلَاتِهِ.
আর পার্থক্য হলো এই যে, ইমামের কিরাত মুক্তাদির কিরাত হিসেবে গণ্য। অতএব, যখন মুক্তাদি তাকে লোকমা দেয়, তখন সে তার কিরাতের মাধ্যমে নিজের সালাত সংশোধন করার ইচ্ছা করে। ফলে তার সালাত বাতিল হয় না, যেমন একা নামাজ আদায়কারী যখন কিরাত পড়ে (তখন তার সালাত বাতিল হয় না)। কিন্তু ইমাম ব্যতীত অন্য কাউকে লোকমা দিলে বিষয়টি তেমন নয়; কারণ তার কিরাত নামাজির জন্য কিরাত হিসেবে গণ্য নয়। এমতাবস্থায় সে একে তার সালাতের বিধান থেকে বের করে দিয়েছে এবং একে একটি উত্তর ও সম্বোধন বানিয়ে নিয়েছে। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়ালো যেন সে তাকে কুরআন শিক্ষা দিচ্ছে অথবা তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে। আর যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে; অনুরূপভাবে এখানেও সালাত বাতিল হবে।

১৫ - আর যখন কোনো সালাত আদায়কারী এমন কোনো আয়াতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে যাতে মৃত্যু বা জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে, অতঃপর সে সেখানে থামে এবং আশ্রয় ও ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর সে নফল সালাতে একাকী থাকে, তবে তা উত্তম। কিন্তু সে যদি ইমাম হয়, তবে তার জন্য এটি অপছন্দনীয়।

এর পার্থক্য হলো, তিনি যদি ইমাম হন, তবে তার এই থামা লোকজনকে সন্দেহে ফেলে দেয়; কারণ তারা হয়তো ধারণা করবে যে তিনি কিরাতে আটকে গেছেন, ফলে তারা তাকে লোকমা দেবে। এছাড়া এটি তাদের জন্য সালাত দীর্ঘ করার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অথচ নবী (সালাম) মুয়াজকে বলেছিলেন: "তুমি তাদের নিয়ে তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে দুর্বল, তার উপযোগী সালাত আদায় করো।" অতএব তিনি যেন এমনটি না করেন। পক্ষান্তরে একাকী নফল সালাতের ক্ষেত্রে এটি কারো জন্য দীর্ঘ হওয়ার কারণ হয় না এবং বিভ্রান্তি ও সন্দেহেরও সৃষ্টি করে না। কিরাতে মশগুল থাকা নফল এবং চিন্তা-গবেষণা করাও নফল; সুতরাং উভয়টি সমান। তাই তিনি চাইলে থামতে পারেন ও চিন্তা-গবেষণা করতে পারেন, আর চাইলে তার সালাত চালিয়ে যেতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَإِذَا صَلَّى عَلَى بِسَاطٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ، فَإِنْ كَانَتْ فِي مَوْضِعِ سُجُودِهِ كُرِهَ لَهُ ذَلِكَ. وَإِنْ كَانَتْ تَحْتَ قَدَمَيْهِ فَلَا بَأْسَ بِهِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّهُ إذَا تَوَجَّهَ إلَيْهَا فَقَدْ تَشَبَّهَ بِعَبَدَةِ الْأَوْثَانِ؛ لِأَنَّهُمْ يَتَوَجَّهُونَ إلَى الصُّورَةِ، وَالتَّشَبُّهُ بِهِمْ لَا يَجُوزُ، بِدَلِيلِ مَا رُوِيَ عَنْ النَّبِيِّ عليه الصلاة والسلام أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ» . وَإِذَا كَانَتْ تَحْتَ قَدَمَيْهِ لَمْ يَكُنْ مُتَشَبِّهًا بِهِمْ، لِأَنَّهُمْ لَا يَفْعَلُونَ هَكَذَا وَإِنَّمَا يَكُونُ ذَلِكَ صَغَارًا وَمَذَلَّةً وَاسْتِخْفَافًا فَجَازَ لَهُ ذَلِكَ، كَمَا لَوْ وَطِئَ صَنَمًا بِقَدَمِهِ، وَلَوْ فَعَلَهُ فَإِنَّهُ يَجُوزُ، كَذَلِكَ هَذَا.

17 - وَيَسْجُدُ الْمَسْبُوقُ مَعَ الْإِمَامِ سَجْدَتَيْ السَّهْوِ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ إلَى قَضَاءِ مَا سَبَقَهُ بِهِ، وَلَا يُعِيدُهُ إذَا سَجَدَ مَعَ الْإِمَامِ. وَلَوْ لَحِقَ أَوَّلَ صَلَاتِهِ، ثُمَّ نَامَ أَوْ أَحْدَثَ فِي صَلَاتِهِ، ثُمَّ انْتَبَهَ وَأَدْرَكَ الْإِمَامَ
আর যখন কেউ এমন বিছানায় নামাজ পড়ে যাতে প্রতিকৃতি রয়েছে, তবে যদি তা তার সিজদার স্থানে থাকে তবে তা তার জন্য মাকরূহ হবে। আর যদি তা তার দুই পায়ের নিচে থাকে তবে তাতে কোনো দোষ নেই।

পার্থক্য হলো এই যে, যখন সে সেগুলোর অভিমুখী হয় তখন সে মূর্তিপূজকদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়; কারণ তারা মূর্তির অভিমুখী হয়, আর তাদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা বৈধ নয়। এর দলীল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীস যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে»। আর যখন তা তার দুই পায়ের নিচে থাকে, তখন সে তাদের সদৃশ হয় না, কারণ তারা এমনটি করে না। বরং এটি তো হীনতা, অবমাননা ও তুচ্ছতা প্রদর্শনের শামিল, তাই তার জন্য তা জায়েজ হয়েছে; যেমন কেউ যদি মূর্তিকে পা দিয়ে পদদলিত করে তবে তা যেমন জায়েজ হয়, এটিও তদ্রূপ।

১৭ - আর মাসবুক ইমামের সাথে সাহু সিজদার দুটি সিজদা করবে তার ছুটে যাওয়া নামাজ আদায় করতে দাঁড়ানোর আগে, আর যখন সে ইমামের সাথে সিজদা করবে তখন সে তা পুনরায় করবে না। আর যদি সে নামাজের প্রথম অংশ পায়, তারপর সে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা নামাজের মধ্যে অজু নষ্ট হয়ে যায়, এরপর সে সজাগ হয় এবং ইমামকে পায়
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
فِي آخِرِ صَلَاتِهِ، فَإِنَّهُ يَبْتَدِئُ بِقَضَاءِ مَا سُبِقَ بِهِ، ثُمَّ يَسْجُدُ لِسَهْوِهِ، وَلَوْ سَجَدَ مَعَ الْإِمَامِ لَمْ يُعْتَدَّ بِهِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ الْمَسْبُوقَ الْتَزَمَ الِاقْتِدَاءَ بِالْإِمَامِ وَمُتَابَعَتَهُ فِي مِقْدَارِ مَا يُصَلِّي الْإِمَامُ، وَأَوْجَبَ الِانْفِرَادَ بِالْبَاقِي بَعْدَ فَرَاغِهِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَوْ قَامَ إلَى قَضَاءِ مَا سُبِقَ بِهِ قَبْلَ فَرَاغِ الْإِمَامِ وَأَدَّى رَكْعَةً لَمْ يَجُزْ، فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُ الْتَزَمَ مُتَابَعَةَ الْإِمَامِ فِي جَمِيعِ أَفْعَالِ صَلَاتِهِ، وَسُجُودُ السَّهْوِ مِنْ صَلَاةِ الْإِمَامِ، فَإِذَا انْفَرَدَ الْمَسْبُوقُ بِهِ قَبْلَ فَرَاغِ الْإِمَامِ مِنْ السُّجُودِ، صَارَ مُنْفَرِدًا فِي مَحَلٍّ الْتَزَمَ الِاقْتِدَاءَ بِهِ فِيهِ، وَهَذَا لَا يَجُوزُ، كَمَا لَوْ نَوَى فِي خِلَالِ صَلَاتِهِ الِانْفِرَادَ وَقَامَ إلَى قَضَاءِ مَا سَبَقَ قَبْلَ قُعُودِ الْإِمَامِ قَدْرَ التَّشَهُّدِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ اللَّاحِقُ لِأَنَّهُ لَمَّا أَدْرَكَ أَوَّلَ صَلَاتِهِ فَقَدْ عَلَّقَ صَلَاتَهُ بِصَلَاةِ إمَامِهِ، وَأَوْجَبَ أَنْ يَفْعَلَهَا كَمَا يَفْعَلُ الْإِمَامُ، وَلَمْ يُوجِبْ الِانْفِرَادَ بِشَيْءٍ، وَالْإِمَامُ يَسْجُدُ لِلسَّهْوِ بَعْدَ الْفَرَاغِ مِنْ جَمِيعِ أَفْعَالِ صَلَاتِهِ كَذَلِكَ هُوَ يَجِبُ أَنْ يَسْجُدَ لِلسَّهْوِ فِي آخِرِ صَلَاتِهِ، فَلَوْ قُلْنَا: إنَّهُ يَسْجُدُ مَعَ الْإِمَامِ ثُمَّ يَقْضِي، لَصَارَ مُنَاقِضًا مَا أَوْجَبَهُ بِعَقْدِهِ، وَهَذَا لَا يَجُوزُ.

18 - يَقْرَأُ الْمَسْبُوقُ فِيمَا يَقْضِي. وَلَا يَقْرَأُ اللَّاحِقُ.

فَرْقٌ لِأَنَّ اللَّاحِقَ مَجْعُولٌ فِي الْحُكْمِ كَأَنَّهُ خَلْفَ الْإِمَامِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَا يَسْجُدُ لِلسَّهْوِ، وَإِنَّمَا يَسْجُدُ لِسَهْوِ إمَامِهِ، وَلَوْ كَانَ خَلْفَ الْإِمَامِ لَا يَقْرَأُ، كَذَلِكَ
তাঁর নামাজের শেষে; কারণ তিনি যা আগে ছুটে গিয়েছিল তা আদায় করা শুরু করবেন, এরপর নিজের সাহু সেজদা করবেন। আর যদি তিনি ইমামের সাথেই সেজদা দেন, তবে তা ধর্তব্য হবে না।

পার্থক্য এই যে, মাসবূক ইমাম যতটুকু নামাজ পড়েন ততটুকুতে তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করার দায়বদ্ধতা গ্রহণ করেছেন, এবং ইমামের নামাজ শেষ হওয়ার পর বাকি অংশে একাকী হওয়ার আবশ্যকতা সাব্যস্ত করেছেন। এর প্রমাণ হলো, যদি তিনি ইমামের নামাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই ছুটে যাওয়া অংশ কাজা করতে দাঁড়ান এবং এক রাকাত আদায় করেন, তবে তা বৈধ হবে না। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর নামাজের সকল কার্যাবলিতে ইমামের অনুসরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর সাহু সেজদা ইমামের নামাজেরই অন্তর্ভুক্ত। অতএব মাসবূক যদি ইমামের সেজদা শেষ করার পূর্বেই একাকী হয়ে যান, তবে তিনি এমন একটি স্থানে একাকী হলেন যেখানে ইমামের অনুসরণ করা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল; আর এটি জায়েজ নয়। যেমন কেউ যদি নামাজের মাঝখানে একাকী হওয়ার নিয়ত করে এবং ইমামের তাশাহহুদ পরিমাণ বসার পূর্বেই ছুটে যাওয়া অংশ আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু লাহিকের বিষয়টি এমন নয়, কারণ তিনি যেহেতু নামাজের প্রথমাংশ পেয়েছেন, তাই তিনি নিজের নামাজকে তাঁর ইমামের নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন এবং ইমাম যেভাবে নামাজ আদায় করেন সেভাবেই তা আদায় করা নিজের ওপর আবশ্যক করেছেন, আর কোনো কিছুতেই একাকী হওয়ার আবশ্যকতা গ্রহণ করেননি। আর ইমাম যেহেতু তাঁর নামাজের সকল কার্যাবলি সমাপ্ত করার পর সাহু সেজদা দেন, অনুরূপভাবে লাহিকের জন্যও তাঁর নামাজের শেষে সাহু সেজদা দেওয়া ওয়াজিব। সুতরাং আমরা যদি বলি যে, তিনি ইমামের সাথে সেজদা করবেন এবং এরপর কাজা করবেন, তবে তা তাঁর কৃত প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী হবে; আর এটি জায়েজ নয়।

১৮ - মাসবূক তাঁর কাজা করা অংশে কিরাত পাঠ করবেন, কিন্তু লাহিক কিরাত পাঠ করবেন না।

পার্থক্য হলো— লাহিক হুকুমের দিক থেকে এমন বিবেচিত হন যেন তিনি ইমামের পেছনেই অবস্থান করছেন। এর প্রমাণ হলো, তিনি নিজের ভুলের জন্য সাহু সেজদা দেন না, বরং কেবল তাঁর ইমামের ভুলের কারণে সাহু সেজদা দেন। আর ইমামের পেছনে থাকলে যেহেতু কিরাত পড়তে হয় না, লাহিকের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
هَذَا. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمَسْبُوقُ؛ لِأَنَّهُ فِيمَا يَقْضِي مُنْفَرِدٌ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ يَسْجُدُ لِسَهْوِ نَفْسِهِ، وَلَا يَسْجُدُ لِسَهْوِ غَيْرِهِ، وَالْمُنْفَرِدُ يَقْرَأُ فِي صَلَاتِهِ، فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُ يَقْرَأُ.

19 - وَالْمَسْبُوقُ يُشَارِكُ الْإِمَامَ فِي سُجُودِ السَّهْوِ. وَلَا يُتَابِعُهُ فِي تَكْبِيرِ التَّشْرِيقِ وَتَلْبِيَةِ الْإِحْرَامِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ سُجُودَ السَّهْوِ يَدْخُلُ فِي التَّحْرِيمَةِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ يَحْتَاجُ إلَى تَحَلُّلٍ مِنْ بَعْدُ، وَهُوَ قَدْ الْتَزَمَ الِاقْتِدَاءَ بِالْإِمَامِ فِي مِقْدَارِ مَا يُصَلِّي، وَأَوْجَبَ الِانْفِرَادَ بِالْبَاقِي، وَسُجُودُ السَّهْوِ مِنْ صَلَاتِهِ وَلَزِمَهُ مُتَابَعَتُهُ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ تَكْبِيرُ التَّشْرِيقِ وَالتَّلْبِيَةِ؛ لِأَنَّهُمَا شُرِعَا بَعْدَ التَّحَلُّلِ خَارِجَ التَّحْرِيمَةِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَا يَحْتَاجُ إلَى التَّحَلُّلِ مِنْ بَعْدُ، وَهُوَ إنَّمَا الْتَزَمَ مُتَابَعَةَ الْإِمَامِ فِي التَّحْرِيمَةِ فَإِذَا خَرَجَ مِنْهَا لَمْ يَلْزَمْهُ مُتَابَعَتُهُ.

20 - وَعَلَى الْمَسْبُوقِ أَنْ يَقْرَأَ فِيمَا يَقْضِي، وَإِنْ كَانَ قَدْ قَرَأَ الْإِمَامُ فِيمَا صَلَّى، وَلَا يَنْفَعُهُ قِرَاءَةُ الْإِمَامِ، وَكَذَلِكَ إنْ قَرَأَ هَذَا الْمُؤْتَمُّ فِيمَا يُصَلِّي مَعَ الْإِمَامِ لَمْ يَنْفَعْهُ، وَيَلْزَمُهُ الْقِرَاءَةُ فِيمَا يَقْضِي. وَلَوْ اقْتَدَى الْمُقِيمُ بِالْمُسَافِرِ ثُمَّ سَلَّمَ الْإِمَامُ فَقَامَ الْمُقِيمُ لِيَقْضِيَ بَقِيَّةَ صَلَاتِهِ، فَإِنَّهُ لَا يَقْرَأُ.
বিষয়টি এমন। কিন্তু মাসবূকের (যে বিলম্বে জামাতে শরিক হয়েছে) ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়; কারণ সে যা কাযা (অসম্পূর্ণ অংশ আদায়) করে তাতে সে একাকী নামাজ আদায়কারী হিসেবে গণ্য, এর প্রমাণ হলো সে নিজের ভুলের জন্য সাজদায়ে সাহু করে এবং অন্যের ভুলের জন্য সাজদায়ে সাহু করে না। আর একাকী নামাজ আদায়কারী তার নামাজে কিরাত পাঠ করে, যা প্রমাণ করে যে মাসবূকও কিরাত পাঠ করবে।

১৯ - মাসবূক সাজদায়ে সাহুর ক্ষেত্রে ইমামের সাথে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু তাকবীরে তাশরীক এবং ইহরামের তালবিয়া পাঠে ইমামের অনুসরণ করবে না।

পার্থক্য এই যে, সাজদায়ে সাহু তাহরীমার অন্তর্ভুক্ত, এর প্রমাণ হলো যে এটি আদায়ের পর নামাজ থেকে দায়মুক্ত হওয়ার (সালাম ফেরানোর) প্রয়োজন হয়। সে যতটুকু নামাজ (ইমামের সাথে) আদায় করছে তাতে ইমামের অনুসরণের বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছে এবং অবশিষ্ট অংশে একাকী নামাজ আদায় করাকে নিজের ওপর আবশ্যক করেছে। সাজদায়ে সাহু তার নামাজেরই অংশ, তাই ইমামের অনুসরণ করা তার জন্য আবশ্যক। কিন্তু তাকবীরে তাশরীক এবং তালবিয়ার বিষয়টি এমন নয়; কারণ এই দুটি তাহরীমার বাইরে নামাজ থেকে বের হওয়ার পর বিধিবদ্ধ হয়েছে, যার প্রমাণ হলো যে এরপর আর নতুন করে নামাজ থেকে বের হওয়ার (সালাম ফেরানোর) প্রয়োজন হয় না। সে কেবল তাহরীমার ভেতরে ইমামের অনুসরণের বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছে, সুতরাং যখন ইমাম তাহরীমা থেকে বের হয়ে যাবেন, তখন তার অনুসরণ করা মাসবূকের জন্য আর আবশ্যক থাকবে না।

২০ - মাসবূকের ওপর আবশ্যক হলো সে যা কাযা করছে তাতে কিরাত পড়া, যদিও ইমাম তার পঠিত অংশে কিরাত পড়ে থাকেন। ইমামের কিরাত পাঠ তার জন্য যথেষ্ট হবে না। একইভাবে এই মুক্তাদী যদি ইমামের সাথে সালাত আদায়ের সময় কিরাত পড়ে থাকে তবে তা তার কোনো উপকারে আসবে না এবং যা সে কাযা করছে তাতে কিরাত পড়া তার ওপর আবশ্যক। আর যদি মুকীম (নিবাসী) ব্যক্তি মুসাফিরের (ভ্রমণকারী) ইকতিদা করে, অতঃপর ইমাম সালাম ফেরান এবং মুকীম তার অবশিষ্ট নামাজ আদায়ের জন্য দাঁড়ায়, তবে সে কিরাত পড়বে না।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَالْفَرْقُ أَنَّ الْمَسْبُوقَ لَمْ يَقْتَدِ بِالْإِمَامِ فِيمَا تَعَيَّنَتْ الْقِرَاءَةُ عَلَيْهِ فِيهِ؛ لِأَنَّ الْقِرَاءَةَ لَا تَتَعَيَّنُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ، وَإِنَّمَا تَجِبُ فِي إحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ إمَّا فِي الْأُولَيَيْنِ أَوْ فِي الْأُخْرَيَيْنِ، وَإِذَا قَرَأَ الْإِمَامُ فِي الْأُولَيَيْنِ لَمْ يُعِدْ الْقِرَاءَةَ فِي الْأُخْرَيَيْنِ، فَلَمْ يَقْتَدِ بِالْإِمَامِ فِي صَلَاةٍ تَعَيَّنَتْ الْقِرَاءَةُ عَلَيْهِ، فَلَمْ تَقَعْ قِرَاءَتُهُ لِلْمُؤْتَمِّ، فَصَارَ كَمَا لَوْ لَمْ يَقْرَأْ الْإِمَامُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ وَصَلَّى خَلْفَهُ، فَيَجِبُ أَنْ يَقْرَأَ فِيمَا يَقْضِي، لِتَحْصُلَ لَهُ الْقِرَاءَةُ فِي إحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ مِنْ الْأَرْبَعِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمُسَافِرُ وَالْمُقِيمُ؛ لِأَنَّ فَرْضَ الْقِرَاءَةِ تَعَيَّنَ عَلَى الْإِمَامِ، فَقَدْ اقْتَدَى الْمُقِيمُ بِهِ فِي صَلَاةٍ تَعَيَّنَتْ الْقِرَاءَةُ عَلَيْهِ فِيهَا، فَجُعِلَتْ قِرَاءَتُهُ قِرَاءَةً لَهُ، فَحَصَلَتْ لَهُ الْقِرَاءَةُ فِي رَكْعَتَيْنِ وَلَا يَلْزَمُهُ الْقِرَاءَةُ فِي الْبَاقِي.

قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ: قُلْت لِلْقَاضِي الْإِمَامِ: فَلَوْ أَنَّ الْإِمَامَ لَمْ يَقْرَأْ فِي الْأُولَيَيْنِ وَقَرَأَ فِي الْأُخْرَيَيْنِ، وَاقْتَدَى بِهِ هَذَا الْمَسْبُوقُ، فَقَدْ تَعَيَّنَتْ الْقِرَاءَةُ عَلَى الْإِمَامِ هَاهُنَا، فَوَجَبَ أَلَّا تَلْزَمُهُ الْقِرَاءَةُ فِيمَا يَقْضِي، قَالَ: لَا رِوَايَةَ هَاهُنَا. وَأَمَّا إذَا قَرَأَ هَذَا الْمُؤْتَمُّ خَلْفَ الْإِمَامِ لَمْ يَنْفَعْهُ أَيْضًا؛ لِأَنَّهُ لَا قِرَاءَةَ عَلَيْهِ، وَسُكُوتُهُ كَقِرَاءَتِهِ وَقِرَاءَتُهُ كَسُكُوتِهِ، وَلَوْ لَمْ يَقْرَأْ شَيْئًا حُكْمُهُ كَذَلِكَ هَاهُنَا.
পার্থক্য এই যে, মসবুক ইমামের সেই অংশে অনুসরণ করেনি যাতে কিরাত পাঠ করা তার ওপর নির্ধারিত ছিল; কারণ শেষ দুই রাকাতে কিরাত পড়া নির্ধারিত নয়। বরং চার রাকাতের যেকোনো দুই রাকাতেই কিরাত ওয়াজিব, তা প্রথম দুই রাকাতে হোক বা শেষ দুই রাকাতে। যখন ইমাম প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পড়েন, তখন তিনি শেষ দুই রাকাতে কিরাতের পুনরাবৃত্তি করেন না। ফলে মসবুক এমন সালাতে ইমামের অনুসরণ করেনি যাতে তার ওপর কিরাত পড়া নির্ধারিত ছিল, তাই ইমামের কিরাত মুক্তাদির জন্য কিরাত হিসেবে গণ্য হয়নি। এমতাবস্থায় বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন ইমাম শেষ দুই রাকাতে কিরাত পড়েননি এবং সে তার পেছনে সালাত আদায় করেছে। সুতরাং সে যা কাজা করবে তাতে কিরাত পড়া তার জন্য ওয়াজিব, যাতে চার রাকাতের মধ্য থেকে যেকোনো দুই রাকাতে তার কিরাত আদায় সম্পন্ন হয়। মুসাফির ও মুকিমের বিষয়টি এমন নয়; কারণ ইমামের ওপর কিরাতের ফরজ নির্ধারিত হয়েছিল। সুতরাং মুকিম ব্যক্তি এমন সালাতে তার অনুসরণ করেছে যাতে তার ওপর কিরাত পড়া নির্ধারিত ছিল। ফলে ইমামের কিরাতকে তার কিরাত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এভাবে তার দুই রাকাতে কিরাত আদায় সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশে তার জন্য কিরাত পড়া আবশ্যক নয়।

শায়খ ইমাম বলেন: আমি কাজি ইমামকে বললাম: যদি ইমাম প্রথম দুই রাকাতে কিরাত না পড়েন এবং শেষ দুই রাকাতে পড়েন, আর এই মসবুক তার অনুসরণ করে, তবে তো এখানে ইমামের ওপর কিরাত পড়া নির্ধারিত হয়ে গেল; এমতাবস্থায় সে যা কাজা করবে তাতে কিরাত পড়া তার জন্য আবশ্যক না হওয়া উচিত। তিনি বললেন: এই বিষয়ে কোনো বর্ণনা নেই। আর যদি এই মুক্তাদি ইমামের পেছনে কিরাত পড়ে, তবে তাও তার কোনো উপকারে আসবে না; কারণ তার ওপর কোনো কিরাত নেই। তার নীরব থাকা যেমন, কিরাত পড়াও তেমন; আর তার কিরাত পড়া তার নীরব থাকার মতোই। যদি সে কিছুই না পড়ে তবে এখানে তার বিধান এমনই হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَإِذَا كَانَ فِي الظُّهْرِ فَتَوَهَّمَ أَنَّهُ فِي الْعَصْرِ وَطَالَ تَفَكُّرُهُ حَتَّى شَغَلَهُ عَنْ رَكْعَةٍ أَوْ سَجْدَةٍ، فَعَلَيْهِ سُجُودُ السَّهْوِ.

وَإِنْ شَكَّ فِي صَلَاةٍ صَلَّاهَا قَبْلَ هَذِهِ الصَّلَاةِ وَهُوَ فِي هَذِهِ، وَشَغَلَهُ تَفَكُّرُهُ عَنْ السُّجُودِ أَوْ الرُّكُوعِ حَتَّى طَوَّلَهُ، فَلَيْسَ عَلَيْهِ سُجُودُ السَّهْوِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّهُ غَيَّرَ رُكْنًا مِنْ أَرْكَانِ الصَّلَاةِ سَاهِيًا بِمَا قَصَدَ بِهِ اسْتِصْلَاحَ هَذِهِ الصَّلَاةَ، فَجَازَ أَنْ يَلْزَمَهُ سُجُودُ السَّهْوِ، كَمَا لَوْ زَادَ رُكُوعًا أَوْ سُجُودًا. وَلَيْسَ كَذَلِكَ إذَا تَفَكَّرَ فِي صَلَاةٍ أُخْرَى؛ لِأَنَّ التَّغْيِيرَ لَمْ يَقَعْ لِمَعْنًى قَصَدَ بِهِ اسْتِصْلَاحَ صَلَاتِهِ الَّتِي هُوَ فِيهَا، فَلَمْ يَلْزَمْهُ سُجُودُ السَّهْوِ، كَمَا لَوْ الْتَفَتَ سَاهِيًا.

22 - إذَا صَلَّى رَكْعَتَيْنِ تَطَوُّعًا وَسَهَا فِيهِمَا، فَسَجَدَ لِلسَّهْوِ بَعْدَ التَّسْلِيمِ، ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَبْنِيَ عَلَيْهِ رَكْعَتَيْنِ لَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ. وَلَوْ صَلَّى الْمُسَافِرُ رَكْعَتَيْنِ وَسَهَا فِيهِمَا، فَسَجَدَ لِلسَّهْوِ بَعْدَ التَّسْلِيمِ ثُمَّ نَوَى الْإِقَامَةَ، جَازَ لَهُ أَنْ يَبْنِيَ عَلَيْهِ رَكْعَتَيْنِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ سَلَامَ الْعَمْدِ وَقَعَ فِي مَحَلِّهِ فِي التَّطَوُّعِ؛ لِأَنَّ تَحْرِيمَةَ التَّطَوُّعِ تَقَعُ لِلرَّكْعَتَيْنِ فِي قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ - رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا - وَالسَّلَامُ شُرِعَ عَقِيبَ الرَّكْعَتَيْنِ فَوَقَعَ السَّلَامُ فِي مَحَلِّهِ، وَسَلَامُ الْعَمْدِ إذَا وَقَعَ فِي مَحَلِّهِ مُنِعَ الْبِنَاءُ عَلَيْهِ فَقَدْ قَارَنَ الْبِنَاءَ مَا يَمْنَعُهُ فَلَا يُبْنَى عَلَيْهِ، كَمَا لَوْ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ سُجُودُ السَّهْوِ.
যদি কেউ জোহরের সালাতে থাকা অবস্থায় ধারণা করে যে সে আসরের সালাতে আছে এবং তার চিন্তা দীর্ঘ হয়, এমনকি তা তাকে কোনো রুকু বা সিজদা থেকে বিরত রাখে, তবে তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।

আর যদি সে বর্তমান সালাতে থাকা অবস্থায় এর আগের কোনো সালাত সম্পর্কে সন্দেহ করে এবং তার চিন্তা তাকে সিজদা বা রুকু থেকে এমনভাবে বিরত রাখে যে তা দীর্ঘ হয়ে যায়, তবে তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।

এর মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথম ক্ষেত্রে সে বর্তমান সালাতকে সংশোধন করার উদ্দেশ্যে ভুলবশত সালাতের রুকনসমূহের মাঝে পরিবর্তন ঘটিয়েছে, তাই তার ওপর সাহু সিজদা আবশ্যক হওয়া যুক্তিসঙ্গত, যেমনটি অতিরিক্ত রুকু বা সিজদা করলে হয়ে থাকে। কিন্তু অন্য কোনো সালাত নিয়ে চিন্তা করার বিষয়টি এমন নয়; কারণ সেখানে পরিবর্তনটি বর্তমান সালাত সংশোধনের উদ্দেশ্যে ঘটেনি, তাই তার ওপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে না, যেমনটি ভুলবশত এদিক-ওদিক তাকালে হয় না।

২২ - যদি কেউ দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করে এবং তাতে কোনো ভুল করে, এরপর সালাম ফেরানোর পর সাহু সিজদা দেয় এবং এরপর আরও দুই রাকাত এর ওপর ভিত্তি করে পড়তে চায়, তবে তার জন্য তা বৈধ হবে না। কিন্তু যদি কোনো মুসাফির দুই রাকাত ফরজ সালাত আদায় করে এবং তাতে ভুল করে, এরপর সালাম ফেরানোর পর সাহু সিজদা দেয় এবং এরপর মুকিম হওয়ার নিয়ত করে, তবে তার জন্য আরও দুই রাকাত এর ওপর ভিত্তি করে পড়া জায়েজ।

পার্থক্য হলো, নফল সালাতের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত সালামটি তার সঠিক স্থানেই ঘটেছে; কারণ ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ - রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা - এর মতে, নফল সালাতের তাহরিমা প্রতি দুই রাকাতের জন্য হয়ে থাকে। আর দুই রাকাতের পরেই সালাম বিধিবদ্ধ, তাই সালামটি তার নির্দিষ্ট স্থানেই পড়েছে। আর ইচ্ছাকৃত সালাম যখন তার যথাস্থানে ঘটে, তখন পরবর্তী রাকাতের ভিত্তি গড়া (সালাত চালিয়ে যাওয়া) নিষিদ্ধ হয়ে যায়। কেননা ভিত্তি গড়ার সাথে এমন একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে যা তা করতে বাধা দেয়, ফলে আর সালাত বৃদ্ধি করা যাবে না, যেমনটি সাহু সিজদা ওয়াজিব না থাকলে হতো।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمُسَافِرُ؛ لِأَنَّهُ لَمَّا نَوَى الْإِقَامَةَ صَارَتْ التَّحْرِيمَةُ لِلْأَرْبَعِ وَلَزِمَتْهُ الرَّكْعَتَانِ الْأُخْرَيَانِ لِحَقِّ التَّحْرِيمَةِ، فَصَارَ سَلَامُ الْعَمْدِ وَاقِعًا فِي غَيْرِ مَحَلِّهِ عَلَى ظَنِّ التَّمَامِ، فَلَا يَمْنَعُ الْبِنَاءَ عَلَيْهِ، كَمَا لَوْ سَلَّمَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنْ الظُّهْرِ عَلَى ظَنِّ أَنَّهُ صَلَّى أَرْبَعًا ثُمَّ عَلِمَ أَنَّهُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، بَنَى عَلَيْهِمَا رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ كَذَلِكَ هَذَا.

23 - اقْتِدَاءُ الْمُسَافِرِ بِالْمُقِيمِ بَعْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ لَا يَصِحُّ. وَاقْتِدَاءُ الْمُقِيمِ بِالْمُسَافِرِ بَعْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ يَصِحُّ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ مِنْ شَرْطِ صِحَّةِ اقْتِدَاءِ الْمُسَافِرِ بِالْمُقِيمِ ابْتِدَاءً أَنْ يَنْتَقِلَ فَرْضُهُ إلَى فَرْضِ إمَامِهِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَوْ اقْتَدَى بِهِ فِي الْوَقْتِ انْتَقَلَ فَرْضُهُ إلَى فَرْضِ إمَامِهِ، وَبِخُرُوجِ الْوَقْتِ اسْتَقَرَّ الْفَرْضُ عَلَيْهِ اسْتِقْرَارًا لَا يَتَغَيَّرُ بِتَغَيُّرِ حَالِهِ، أَلَا تَرَى أَنَّهُ لَوْ أَقَامَ بَعْدَ الْوَقْتِ لَمْ يَنْتَقِلْ فَرْضُهُ إلَى فَرْضِ الْمُقِيمِ، فَكَذَلِكَ إذَا اقْتَدَى بِمُقِيمٍ بَعْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ، وَلِأَنَّ نِيَّةَ الْإِقَامَةِ أَبْلَغُ فِي إلْزَامِ الْإِتْمَامِ مِنْ الِاقْتِدَاءِ بِالْمُقِيمِ، بِدَلِيلِ أَنَّ الْمُسَافِرَ إذَا اقْتَدَى بِالْمُقِيمِ ثُمَّ أَفْسَدَ الْمُقِيمُ صَلَاتَهُ، فَإِنَّهُ لَا يَلْزَمُ الْمُسَافِرَ صَلَاةُ الْإِقَامَةِ، وَلَوْ نَوَى الْإِقَامَةَ ثُمَّ أَفْسَدَ صَلَاتَهُ لَزِمَهُ صَلَاةُ الْإِقَامَةِ، ثُمَّ لَوْ نَوَى الْإِقَامَةَ بَعْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ لَمْ يَلْزَمْهُ الْإِتْمَامُ، فَلَأَنْ لَا يَلْزَمَهُ الِاقْتِدَاءُ بِالْمُقِيمِ أَوْلَى وَأَحْرَى فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُ بِخُرُوجِ الْوَقْتِ اسْتَقَرَّ الْفَرْضُ عَلَيْهِ
কিন্তু মুসাফিরের বিষয়টি এমন নয়; কারণ যখন সে মুকিম হওয়ার নিয়ত করল, তখন তার তাহরিমা চার রাকাতের জন্য হয়ে গেল এবং তাহরিমার হকের কারণে শেষ দুই রাকাত তার ওপর আবশ্যক হয়ে গেল। এমতাবস্থায় নামাজ পূর্ণ হয়েছে মনে করে ইচ্ছাকৃত সালাম ফিরানো যথাস্থানে পতিত হলো না, তাই এটি নামাজ পূর্ণ করার পথে বাধা হবে না; যেমন যদি কেউ যোহরের দুই রাকাত পড়ে চার রাকাত পূর্ণ হয়েছে মনে করে সালাম ফিরিয়ে দেয়, এরপর সে জানতে পারে যে সে দুই রাকাত পড়েছে, তবে সে যেমন ওই দুই রাকাতের ওপর ভিত্তি করে অবশিষ্ট দুই রাকাত পূর্ণ করে নেয়, এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ।

২৩ - ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পর মুসাফিরের জন্য মুকিমের অনুসরণ করা সহীহ নয়। তবে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পর মুকিমের জন্য মুসাফিরের অনুসরণ করা সহীহ।

আর পার্থক্য এই যে, প্রাথমিকভাবে মুসাফিরের জন্য মুকিমের অনুসরণ সহীহ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, তার ফরজ দায়িত্বটি তার ইমামের ফরজের দিকে স্থানান্তরিত হওয়া। এর প্রমাণ হলো, যদি সে ওয়াক্তের ভেতর মুকিমের অনুসরণ করে, তবে তার ফরজ দায়িত্ব ইমামের ফরজের দিকে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। কিন্তু ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে তার ওপর ফরজটি এমনভাবে স্থির হয়ে যায় যা অবস্থার পরিবর্তনে আর পরিবর্তিত হয় না। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর সে যদি মুকিম হওয়ার নিয়তও করে, তবুও তার ফরজ দায়িত্বটি মুকিমের ফরজের দিকে স্থানান্তরিত হয় না? ঠিক তেমনিভাবে যখন সে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর মুকিমের অনুসরণ করবে, তখনও একই বিধান। আর মুকিম হওয়ার নিয়ত করাটা মুকিমের অনুসরণ করার চেয়ে নামাজ পূর্ণ করার বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী। এর প্রমাণ হলো, মুসাফির যখন মুকিমের অনুসরণ করে আর ইমাম যদি তার নামাজ নষ্ট করে ফেলে, তবে মুসাফিরের ওপর মুকিমের ন্যায় পূর্ণ নামাজ আদায় করা আবশ্যক হয় না। কিন্তু সে যদি মুকিম হওয়ার নিয়ত করত এবং এরপর নামাজ নষ্ট হতো, তবে তার ওপর মুকিমের ন্যায় পূর্ণ নামাজ আদায় করা আবশ্যক হতো। এমতাবস্থায়, ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর যদি সে মুকিম হওয়ার নিয়ত করে আর তাতে যদি নামাজ পূর্ণ করা আবশ্যক না হয়, তবে মুকিমের অনুসরণ করার মাধ্যমে নামাজ পূর্ণ করা আবশ্যক না হওয়া আরও অধিক যুক্তিসঙ্গত। সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, ওয়াক্ত শেষ হওয়ার মাধ্যমে তার ওপর ফরজটি স্থির হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
اسْتِقْرَارًا لَا يَتَغَيَّرُ بِتَغَيُّرِ حَالِهِ، فَبَقِيَ فَرْضُهُ رَكْعَتَيْنِ فَلَوْ جَوَّزْنَا اقْتِدَاءَهُ بِالْمُقِيمِ بَعْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ لَجَوَّزْنَا أَنْ يَقْتَدِيَ مَنْ فَرْضُهُ رَكْعَتَانِ بِمَنْ فَرْضُهُ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ وَهَذَا لَا يَجُوزُ، دَلِيلُهُ: مُصَلِّي الْفَجْرِ إذَا اقْتَدَى بِمُصَلِّي الظُّهْرِ لَمْ يَجُزْ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمُقِيمُ إذَا اقْتَدَى بِالْمُسَافِرِ بَعْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ مِنْ شَرْطِ صِحَّةِ اقْتِدَاءِ الْمُقِيمِ بِالْمُسَافِرِ أَنْ يَنْتَقِلَ فَرْضُهُ إلَى فَرْضِ إمَامِهِ بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَوْ اقْتَدَى بِهِ فِي الْوَقْتِ لَمْ يَنْتَقِلْ فَرْضُهُ إلَى فَرْضِهِ، فَصَارَ يَقْتَدِي مَنْ فَرْضُهُ أَرْبَعٌ بِمَنْ فَرْضُهُ رَكْعَتَانِ فَهَذَا جَائِزٌ، كَمَا لَوْ اقْتَدَى بِهِ فِي الْوَقْتِ. فَإِنْ قِيلَ: إذَا كَانَ الْإِمَامُ مُسَافِرًا وَخَلْفَهُ مُسَافِرُونَ وَمُقِيمُونَ، فَاسْتَخْلَفَ الْإِمَامُ مُقِيمًا، فَإِنَّ فَرْضَ الْمُسَافِرِ لَا يَنْتَقِلُ إلَى فَرْضِ إمَامِهِ وَهُوَ فَرْضُ الْمُقِيمِينَ، فَانْتَقَضَ قَوْلُكُمْ مِنْ شَرْطِ صِحَّةِ اقْتِدَاءِ الْمُسَافِرِ بِالْمُقِيمِ أَنْ يَنْتَقِلَ فَرْضُهُ إلَى فَرْضِ الْمُقِيمِينَ. الْجَوَابُ: أَنَّا قَدْ احْتَرَزْنَا وَقُلْنَا: مِنْ شَرْطِ صِحَّةِ اقْتِدَاءِ الْمُسَافِرِ بِالْمُقِيمِ ابْتِدَاءً أَنْ يَنْتَقِلَ فَرْضُهُ إلَى فَرْضِ إمَامِهِ، وَهَذَا لَيْسَ بِابْتِدَاءٍ وَإِنَّمَا هُوَ بِنَاءٌ فَلَا يَلْزَمُنَا.

وَجْهٌ آخَرُ: أَنَّهُ لَوْ ثَبَتَ أَنْ فَرْضَهُ بَعْدَ الْوَقْتِ لَا يَنْتَقِلُ إلَى فَرْضِ إمَامِهِ، فَبَقِيَ فَرْضُهُ فِي حَقِّ الْمُسَافِرِينَ، وَصَلَاةُ الْإِقَامَةِ لَا يَنْتَقِلُ إلَى صَلَاةِ
এটি এমন এক স্থায়িত্ব যা অবস্থার পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হয় না, তাই তার ফরজ দুই রাকাতই থেকে যায়। যদি আমরা ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর মুকিমের পিছনে তার ইকতিদা করা জায়েজ বলতাম, তবে এমন ব্যক্তির ইকতিদাও জায়েজ বলতে হতো যার ফরজ দুই রাকাত অথচ সে চার রাকাত ফরজ আদায়কারীর ইকতিদা করছে, যা বৈধ নয়। এর দলিল হলো: ফজরের নামাজ আদায়কারী যদি জোহরের নামাজ আদায়কারীর ইকতিদা করে, তবে তা জায়েজ হবে না। আর ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর মুসাফিরের পিছনে মুকিমের ইকতিদা করার বিষয়টি সেরকম নয়; কারণ মুসাফিরের পিছনে মুকিমের ইকতিদা সহীহ হওয়ার জন্য এটি শর্ত নয় যে, মুকিমের ফরজ তার ইমামের ফরজে রূপান্তরিত হতে হবে। এর প্রমাণ হলো, যদি সে ওয়াক্ত থাকাকালীন তার ইকতিদা করত, তবে তার ফরজ ইমামের ফরজে রূপান্তরিত হতো না। ফলে চার রাকাত ফরজ আদায়কারী দুই রাকাত ফরজ আদায়কারীর ইকতিদা করত, যা জায়েজ, যেমনটি ওয়াক্তের মধ্যে ইকতিদা করলে জায়েজ হয়। যদি বলা হয়: যখন ইমাম মুসাফির হন এবং তার পিছনে মুসাফির ও মুকিম উভয়ই থাকেন, অতঃপর ইমাম কোনো মুকিম ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করেন, এমতাবস্থায় মুসাফিরের ফরজ তার ইমামের ফরজে রূপান্তরিত হয় না—যা মুকিমদের ফরজ। ফলে আপনাদের এই উক্তিটি বাতিল হয়ে যায় যে— "মুকিমের পিছনে মুসাফিরের ইকতিদা সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো তার ফরজটি মুকিমদের ফরজে রূপান্তরিত হওয়া।" উত্তর: আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে বলেছি যে, মুকিমের পিছনে মুসাফিরের ইকতিদা প্রারম্ভিকভাবে সহীহ হওয়ার শর্ত হলো তার ফরজ ইমামের ফরজে রূপান্তরিত হওয়া। আর এটি প্রারম্ভিক বিষয় নয়, বরং তা পূর্ববর্তীটির ওপর ভিত্তি মাত্র; সুতরাং এটি আমাদের যুক্তিকে খণ্ডন করে না।

অন্য একটি দিক হলো: যদি এটি সাব্যস্ত হতো যে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর তার ফরজটি ইমামের ফরজে রূপান্তরিত হয় না, তবে মুসাফিরদের ক্ষেত্রে তার ফরজটি বহাল থাকত; আর মুকিম অবস্থার নামাজ... এ রূপান্তরিত হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
السَّفَرِ؛ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ فِي السَّفِينَةِ وَهِيَ مَشْدُودَةٌ فَافْتَتَحَ صَلَاةَ الْإِقَامَةِ ثُمَّ سَارَتْ السَّفِينَةُ وَنَوَى السَّفَرَ لَمْ يَبْنِ عَلَيْهَا صَلَاةَ السَّفَرِ وَإِنَّمَا يُتِمُّهَا أَرْبَعًا، فَإِذَا لَمْ يَجُزْ أَنْ يَنْتَقِلَ إلَيْهِ لَمْ يَجُزْ أَنْ يَبْنِيَ عَلَيْهِ، دَلِيلُهُ صَلَاةُ التَّطَوُّعِ، وَلَمَّا لَمْ يَجُزْ أَنْ يَنْتَقِلَ إلَى الْفَرْضِ لَمْ يَجُزْ بِنَاءُ الْفَرْضِ عَلَيْهِ، كَذَلِكَ هَذَا. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْمُقِيمُ إذَا اقْتَدَى بِالْمُسَافِرِ بَعْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ؛ لِأَنَّ تَحْرِيمَةَ الْفَرْضِ يَجُوزُ أَنْ تَنْتَقِلَ إلَى التَّطَوُّعِ، وَهُوَ أَنْ يَفْتَتِحَ صَلَاةً يَظُنُّ أَنَّهَا فَرْضٌ عَلَيْهِ ثُمَّ بَانَ أَنْ لَا فَرْضَ عَلَيْهِ انْتَقَلَتْ تَطَوُّعًا، وَإِذَا جَازَ أَنْ يَنْتَقِلَ إلَيْهِ جَازَ أَنْ يَبْنِيَهُ عَلَيْهِ، كَمُصَلِّي التَّطَوُّعِ خَلْفَ الْمُفْتَرِضِ يَجُوزُ، كَذَلِكَ هَذَا.

وَوَجْهٌ آخَرُ: لَا يَبْنِي صَلَاةَ السَّفَرِ عَلَى صَلَاةِ الْإِقَامَةِ مَنْ عَقَدَ نَفْسَهُ، وَهِيَ مَسْأَلَةُ السَّفِينَةِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا، فَلَا يَبْنِيهِ مَنْ عَقَدَ غَيْرَهُ، كَمَا لَا يَجُوزُ بِنَاءُ الْفَرْضِ عَلَى التَّطَوُّعِ. وَيَبْنِي صَلَاةَ الْإِقَامَةِ عَلَى صَلَاةِ السَّفَرِ مَنْ عَقَدَ نَفْسَهُ، فَجَازَ أَنْ يَبْنِيَهُ مَنْ عَقَدَ غَيْرَهُ، كَمَا يَجُوزُ بِنَاءُ التَّطَوُّعِ عَلَى الْفَرْضِ.

24 - وَإِذَا أَحْدَثَ الْإِمَامُ فِي خِلَالِ صَلَاتِهِ وَقَدْ سَهَا، فَاسْتَخْلَفَ رَجُلًا فَسَهَا أَيْضًا، كَفَاهُ سَجْدَتَانِ لِسَهْوِهِ وَلِسَهْوِ الْأَوَّلِ. وَلَوْ أَنَّ الْإِمَامَ الْأَوَّلَ قَرَأَ آيَةَ السَّجْدَةِ وَسَجَدَ لَهَا ثُمَّ أَحْدَثَ، فَاسْتَخْلَفَ فَقَرَأَ الثَّانِي تِلْكَ الْآيَةَ تَلْزَمُهُ سَجْدَةٌ أُخْرَى.
সফর; কারণ যদি সে একটি নৌকায় থাকে যা বাঁধা অবস্থায় আছে এবং সে মুকীম হিসেবে সালাত শুরু করে, এরপর নৌকাটি চলতে শুরু করে এবং সে সফরের নিয়ত করে, তবে সে এর ওপর সফরের সালাতের ভিত্তি স্থাপন করবে না, বরং সে তা চার রাকাআত হিসেবেই পূর্ণ করবে। সুতরাং যখন এতে স্থানান্তরিত হওয়া বৈধ নয়, তখন এর ওপর ভিত্তি স্থাপন করাও বৈধ নয়। এর প্রমাণ হলো নফল সালাত; যেহেতু নফল থেকে ফরজে স্থানান্তরিত হওয়া বৈধ নয়, তাই নফলের ওপর ফরজের ভিত্তি স্থাপন করাও বৈধ নয়, এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পর মুকীম ব্যক্তি যখন মুসাফিরের অনুসরণ করে তখন বিষয়টি এমন নয়; কারণ ফরজের তাহরীমা নফলের দিকে স্থানান্তরিত হওয়া বৈধ। আর তা হলো এই যে, কেউ এমন একটি সালাত শুরু করল যা সে তার ওপর ফরজ মনে করেছিল, অতঃপর প্রকাশ পেল যে তা তার ওপর ফরজ ছিল না, তখন তা নফলে পরিণত হয়। আর যখন এতে স্থানান্তরিত হওয়া বৈধ, তখন এর ওপর ভিত্তি স্থাপন করাও বৈধ। যেমন ফরজ আদায়কারীর পেছনে নফল আদায়কারীর সালাত বৈধ, এটিও তদ্রূপ।

অন্য একটি দিক হলো: যে ব্যক্তি নিজে সালাতের সংকল্প করেছে সে মুকীম হওয়ার সালাতের ওপর সফরের সালাতের ভিত্তি স্থাপন করবে না—আর তা হলো নৌকার সেই মাসআলা যা আমরা উল্লেখ করেছি। সুতরাং যার সালাতের সংকল্প অন্য কেউ করেছে সেও এর ওপর ভিত্তি স্থাপন করবে না, যেমন নফলের ওপর ফরজের ভিত্তি স্থাপন করা বৈধ নয়। আর যে ব্যক্তি নিজে সালাতের সংকল্প করেছে সে সফরের সালাতের ওপর মুকীম হওয়ার সালাতের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে; তাই যার সংকল্প অন্য কেউ করেছে তার জন্যও তা ভিত্তি স্থাপন করা বৈধ হবে, যেমন ফরজের ওপর নফলের ভিত্তি স্থাপন করা বৈধ।

২৪ - আর ইমাম যদি তার সালাতের মধ্যে অপবিত্র হয়ে যান (ওজু নষ্ট হয়) এমতাবস্থায় যে তিনি ভুল করেছিলেন, অতঃপর তিনি অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং সেই ব্যক্তিও ভুল করেন, তবে তার নিজের ভুল এবং প্রথম ইমামের ভুলের জন্য দুটি সিজদাই (সাহু সিজদা) যথেষ্ট হবে। আর যদি প্রথম ইমাম তিলাওয়াতের সিজদার আয়াত পাঠ করে তার জন্য সিজদা আদায় করেন, অতঃপর তার ওজু নষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করেন, আর দ্বিতীয় ইমামও সেই একই আয়াত পাঠ করেন, তবে তার ওপর পুনরায় সিজদা করা আবশ্যক হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَالْفَرْقُ أَنَّ سُجُودَ السَّهْوِ جُبْرَانٌ لِلتَّحْرِيمَةِ، وَالْأَوَّلُ قَدْ اسْتَخْلَفَ الثَّانِيَ فِي التَّحْرِيمَةِ، فَقَامَ مَقَامَهُ وَصَارَ كَسَهْوِهِ وَهُوَ لَوْ سَهَا لَزِمَهُ سَجْدَةٌ وَاحِدَةٌ كَذَا هَذَا. وَلَيْسَ كَذَلِكَ سُجُودُ التِّلَاوَةِ، لِأَنَّهَا تَجِبُ بِالتِّلَاوَةِ لَا لِحَقِّ التَّحْرِيمَةِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ يَجِبُ خَارِجَ التَّحْرِيمَةِ، إنَّمَا يَتَدَاخَلُ بِالتَّكْرَارِ وَلَمْ يُوجَدْ؛ لِأَنَّهُ لَمْ تَسْبِقْ مِنْ الثَّانِي تِلَاوَةٌ فَجَازَ أَنْ تَلْزَمَهُ سَجْدَةٌ أُخْرَى، كَمَا لَوْ تَلَا آيَةً أُخْرَى.

25 - إذَا تَلَا التَّالِي آيَةَ السَّجْدَةِ مَرَّاتٍ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الرَّاحِلَةِ، وَالرَّاحِلَةُ تَسِيرُ كَفَاهُ سَجْدَةٌ وَاحِدَةٌ.

وَإِنْ تَلَاهَا خَارِجَ الصَّلَاةِ عَلَى الدَّابَّةِ وَهِيَ تَسِيرُ لَزِمَهُ لِكُلِّ قِرَاءَةٍ سَجْدَةٌ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ التَّحْرِيمَةَ جَمَعَتْ الْأَمَاكِنَ كُلَّهَا فَجَعَلَهَا فِي الْحُكْمِ كَمَوْضِعٍ وَاحِدٍ، بِدَلِيلِ جَوَازِ الصَّلَاةِ وَإِنْ كَانَتْ تَسِيرُ، فَصَارَ كَمَا لَوْ كَانَ فِي بُقْعَةٍ وَاحِدَةٍ، فَيَكُونُ مُعِيدًا مُكَرِّرًا وَلَا يَجِبُ أَكْثَرُ مِنْ سَجْدَةٍ، كَذَلِكَ هَذَا. وَأَمَّا إذَا كَانَ خَارِجَ الصَّلَاةِ فَالتِّلَاوَةُ وُجِدَتْ فِي أَمَاكِنَ مُتَفَرِّقَةٍ، وَلَمْ يُوجَدْ مَا يَجْمَعُ حُكْمَ الْأَمَاكِنِ، فَصَارَتْ كَالْمَجَالِسِ الْمُخْتَلِفَةِ فَلَا يَكُونُ مُعِيدًا وَمُكَرِّرًا؛ إذْ الْإِنْسَانُ لَا يَكُونُ مُعِيدًا الشَّيْءَ فِي مَجْلِسٍ آخَرَ تَكْرَارًا، لِمَا وُجِدَ مِنْهُ فِي الْمَجْلِسِ الْأَوَّلِ وَتَأْكِيدًا، وَإِنَّمَا يَكُونُ تَوْكِيدًا لِلْكَلَامِ الْأَوَّلِ فِي مَجْلِسِهِ فَقَطْ، فَلَمْ
আর পার্থক্য হলো এই যে, সাহু সিজদা হলো তাহরীমার ক্ষতিপূরণ স্বরূপ। আর প্রথম ব্যক্তি তাহরীমার মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, ফলে সে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এবং এটি তার নিজের ভুলের মতো হয়ে গেছে। আর সে নিজে ভুল করলে যেমন তার ওপর একটি সিজদা ওয়াজিব হতো, এখানেও বিষয়টি তেমনই। এবং তিলাওয়াত সিজদা এমন নয়; কারণ এটি তিলাওয়াতের কারণে ওয়াজিব হয়, তাহরীমার হকের কারণে নয়। এর প্রমাণ হলো, এটি তাহরীমার বাইরেও ওয়াজিব হয়। তিলাওয়াত সিজদা কেবল পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে একটির ভেতর অন্যটি অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু এখানে তা পাওয়া যায়নি; কারণ দ্বিতীয় ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে কোনো তিলাওয়াত সংঘটিত হয়নি। তাই তার ওপর অন্য একটি সিজদা ওয়াজিব হওয়া বৈধ, যেমনটা হতো যদি সে অন্য কোনো আয়াত তিলাওয়াত করত।

২৫ - যদি তিলাওয়াতকারী আরোহী অবস্থায় নামাজে থাকা অবস্থায় বারবার সিজদার আয়াত পাঠ করে এবং বাহনটি চলতে থাকে, তবে তার জন্য একটি সিজদাই যথেষ্ট।

আর যদি সে বাহনের পিঠে থাকা অবস্থায় নামাজের বাইরে সেটি তিলাওয়াত করে এবং বাহনটি চলতে থাকে, তবে প্রতিটি তিলাওয়াতের জন্য তার ওপর একটি করে সিজদা ওয়াজিব হবে।

আর পার্থক্য হলো এই যে, তাহরীমা সমস্ত স্থানকে একত্রিত করে দেয়, ফলে হুকুমের দিক থেকে তা একটি স্থানের মতো হয়ে যায়। এর প্রমাণ হলো, বাহনটি চলতে থাকা সত্ত্বেও নামাজ বৈধ হওয়া। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে যায় যেন সে একই স্থানে অবস্থান করছে। সুতরাং সে একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তিকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং একটির বেশি সিজদা ওয়াজিব হবে না; এখানেও বিষয়টি তেমনই। পক্ষান্তরে যখন নামাজের বাইরে হয়, তখন তিলাওয়াতটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছে এবং স্থানগুলোর হুকুমকে একত্রিত করার মতো কিছু সেখানে নেই। ফলে এটি ভিন্ন ভিন্ন মজলিসের মতো হয়ে গেছে। তাই সে পুনরাবৃত্তিকারী হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ মানুষ এক মজলিসে যা করেছে, অন্য মজলিসে সেটি পুনরায় করলে তা প্রথম মজলিসে যা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি বা তাকিদ হিসেবে গণ্য হয় না। বরং কোনো কথা কেবল তার নিজ মজলিসেই প্রথম কথার তাকিদ হতে পারে। ফলে তা হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
يَقْتَصِرْ عَلَى وَاحِدٍ.

26 - إذَا تَلَا آيَةَ السَّجْدَةِ فِي الصَّلَاةِ وَسَمِعَهَا مِنْ أَجْنَبِيٍّ خَارِجَ الصَّلَاةِ أَجْزَأَتْهُ سَجْدَةٌ وَاحِدَةٌ، فَإِنْ سَجَدَهَا ثُمَّ أَحْدَثَ فَذَهَبَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ عَادَ إلَى مَكَانِهِ وَبَنَى عَلَى صَلَاتِهِ ثُمَّ قَرَأَ ذَلِكَ الْأَجْنَبِيُّ تِلْكَ السَّجْدَةَ، فَعَلَى هَذَا لِلْمُصَلِّي أَنْ يَسْجُدَهَا إذَا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ، فَجُعِلَ فِي حَقِّ غَيْرِ الْمُصَلِّي كَالْمَجْلِسَيْنِ. وَلَوْ سَمِعَ مِنْ أَجْنَبِيٍّ آيَةَ السَّجْدَةِ وَهُوَ عَلَى الدَّابَّةِ تَسِيرُ فَسَجَدَهَا ثُمَّ تَلَا ثَانِيَةً لَمْ يَلْزَمْهُ سَجْدَةٌ أُخْرَى، فَجَعَلَ الْأَمَاكِنَ كَالْمَكَانِ الْوَاحِدِ.

وَالْفَرْقُ أَنَّهُ إذَا ذَهَبَ لِيَتَوَضَّأَ فَهُوَ غَيْرُ مُصَلٍّ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ؛ لِأَنَّا لَوْ جَعَلْنَاهُ مُصَلِّيًا وَهُوَ مُحْدِثٌ يَجِبُ أَنْ تَبْطُلَ صَلَاتُهُ، فَهُوَ فِي الصَّلَاةِ وَلَيْسَ بِمُصَلٍّ كَالنَّائِمِ، فَقَدْ فَصَلَ بَيْنَ السَّمَاعِ الْأَوَّلِ وَالثَّانِي مَا لَيْسَ بِصَلَاةٍ، فَصَارَ كَمَا لَوْ فَصَلَ بَيْنَهُمَا بِقَطْعِ الصَّلَاةِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ مَسْأَلَةُ الدَّابَّةِ؛ لِأَنَّهُ مُصَلٍّ فِي حَالَةِ السَّيْرِ، بِدَلِيلِ أَنَّ مَا يَقَعُ بِهِ مِنْ أَفْعَالِهِ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ يَقَعُ مُعْتَدًّا بِهَا، فَقَدْ سَمِعَ وَهُوَ مُصَلٍّ وَسَمِعَ ثَانِيًا وَهُوَ مُصَلٍّ تِلْكَ الصَّلَاةَ أَيْضًا، فَلَمْ يَفْصِلْ بَيْنَهُمَا بِمَا لَيْسَ بِصَلَاةٍ، فَجَازَ أَنْ يَقْتَصِرَ عَلَى سَجْدَةٍ وَاحِدَةٍ.

27 - الْوَاجِبُ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ أَنْ يُصَلِّيَ صَلَاةَ الْوَقْتِ بَعْدَ الْفَائِتَةِ، فَإِنْ صَلَّى صَلَاةَ الْوَقْتِ أَوَّلًا لَمْ يُجْزِهِ. وَالْوَاجِبُ فِي آخِرِ الْوَقْتِ أَنْ يُصَلِّي صَلَاةَ الْوَقْتِ ثُمَّ الْفَائِتَةَ، فَإِنْ صَلَّى الْفَائِتَةَ أَجْزَأَتْهُ وَلَا يَلْزَمُهُ قَضَاؤُهَا.
একটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

২৬ - যদি কেউ নামাজের মধ্যে সিজদাহর আয়াত পাঠ করে এবং নামাজের বাইরে থাকা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেও তা শ্রবণ করে, তবে তার জন্য একটি সিজদাহই যথেষ্ট হবে। অতঃপর যদি সে সিজদাহ করার পর অপবিত্র হয়ে যায় এবং অজু করার জন্য গিয়ে পুনরায় নিজ স্থানে ফিরে আসে এবং তার নামাজের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করে, আর এই সময়ের মধ্যে ওই বাইরের ব্যক্তিটি পুনরায় সেই সিজদাহর আয়াতটি পাঠ করে, তবে এমতাবস্থায় মুসল্লিকে তার নামাজ শেষ করার পর সেই সিজদাহটি আদায় করতে হবে। কারণ, নামাজে রত নয় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটিকে দুটি ভিন্ন মজলিসের ন্যায় গণ্য করা হয়েছে। আর যদি সে চলন্ত বাহনের ওপর থাকা অবস্থায় কোনো বাইরের ব্যক্তির কাছ থেকে সিজদাহর আয়াত শোনে এবং তার জন্য সিজদাহ করে, অতঃপর দ্বিতীয়বার তা পাঠ করে, তবে তার ওপর অন্য কোনো সিজদাহ ওয়াজিব হবে না। এখানে (ভিন্ন ভিন্ন) স্থানগুলোকে একটি স্থানের ন্যায় গণ্য করা হয়েছে।

পার্থক্য এই যে, সে যখন অজু করতে যায়, তখন সে ওই অবস্থায় নামাজ আদায়কারী নয়; কারণ আমরা যদি তাকে অপবিত্র অবস্থায় নামাজ আদায়কারী গণ্য করি, তবে তার নামাজ বাতিল হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে। সুতরাং সে নামাজের (প্রক্রিয়ার) মধ্যে থাকলেও ঘুমন্ত ব্যক্তির মতো প্রকৃতপক্ষে নামাজ আদায়কারী নয়। ফলে প্রথম শ্রবণ ও দ্বিতীয় শ্রবণের মাঝে এমন কিছু দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটেছে যা নামাজ নয়, সুতরাং বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়াল যেন সে নামাজ ভঙ্গ করার মাধ্যমে উভয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। কিন্তু বাহনের মাসআলাটি এমন নয়; কারণ সে চলন্ত অবস্থায় নামাজ আদায়কারী হিসেবেই গণ্য, যার প্রমাণ হলো ওই অবস্থায় তার সম্পাদিত কার্যাবলি (নামাজের কার্যাবলি হিসেবে) ধর্তব্য হয়। সুতরাং সে নামাজে থাকা অবস্থায় প্রথমবার শুনেছে এবং দ্বিতীয়বার শোনার সময়ও সে ওই নামাজেই রত ছিল, ফলে উভয়ের মাঝে এমন কিছু দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটেনি যা নামাজ নয়। ফলত, একটি সিজদাহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা তার জন্য বৈধ হয়েছে।

২৭ - ওয়াক্তের শুরুতে ওয়াজিব হলো কাজা নামাজের পর বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা; সুতরাং যদি সে প্রথমে বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ পড়ে তবে তা যথেষ্ট হবে না। আর ওয়াক্তের শেষে ওয়াজিব হলো প্রথমে বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ পড়া, অতঃপর কাজা নামাজ পড়া। তবে যদি সে প্রথমে কাজা নামাজ আদায় করে ফেলে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং পুনরায় তা আদায় করা তার ওপর আবশ্যক হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَالْفَرْقُ أَنَّ النَّهْيَ عَنْ فَرْضِ الْوَقْتِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ إذَا كَانَتْ عَلَيْهِ فَائِتَةٌ لِمَعْنًى فِي نَفْسِ الصَّلَاةِ بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَوْ تَنَفَّلَ أَوْ عَمِلَ عَمَلًا آخَرَ لَمْ يُنْهَ عَنْهُ فَدَلَّ عَلَى أَنَّ النَّهْيَ لِمَعْنًى فِي نَفْسِ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ، وَالنَّهْيُ إذَا اقْتَصَرَ عَلَى الْمَنْهِيِّ عَنْهُ اقْتَضَى الْفَسَادَ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ آخِرُ الْوَقْتِ؛ لِأَنَّ النَّهْيَ عَنْ قَضَاءِ الْفَائِتَةِ لِمَعْنًى فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ وَهُوَ تَأْخِيرُ فَرْضِ الْوَقْتِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَوْ انْتَقَلَ أَوْ اشْتَغَلَ بِشَيْءٍ آخَرَ كَانَ مَنْهِيًّا عَنْهُ، وَالنَّهْيُ إذَا كَانَ لِمَعْنًى فِي غَيْرِ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ لَا يُوجِبُ الْفَسَادُ كَالْبَيْعِ وَقْتَ النِّدَاءِ.

28 - الْمَرِيضُ إذَا لَمْ يَقْدِرْ عَلَى الْقُعُودِ صَلَّى مُسْتَلْقِيًا عَلَى قَفَاهُ وَرِجْلَاهُ إلَى الْقِبْلَةِ فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَاتِ وَلَا يَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ مُضْجَعًا إلَّا أَنْ لَا يَقْدِرَ. وَأَمَّا تَوْجِيهُ الْمَيِّتِ فِي اللَّحْدِ، وَالْمَرِيضِ الْمُحْتَضِرِ فَإِنَّهُ يُوَجَّهُ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ.

الْفَرْقُ وَمَدَارُهُمَا عَلَى الْخَبَرِ وَهُوَ مَا رُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ عليه السلام أَنَّهُ قَالَ: «الْمَرِيضُ يُصَلِّي قَائِمًا إنْ اسْتَطَاعَ، فَإِنْ لَمْ
আর পার্থক্য হলো এই যে, কারো যদি কোনো কাজা নামাজ বাকি থাকে, তবে ওয়াক্তের শুরুতে ওয়াক্তিয়া ফরজ নামাজ আদায় করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা নামাজের মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর প্রমাণ হলো, যদি সে ব্যক্তি তখন নফল নামাজ পড়ে বা অন্য কোনো কাজ করে, তবে তা নিষিদ্ধ হবে না। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এই নিষেধাজ্ঞা খোদ নিষিদ্ধ বিষয়টির অন্তর্গত কোনো কারণে। আর নিষেধাজ্ঞা যখন খোদ নিষিদ্ধ বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তখন তা আমলটি ফাসিদ বা বাতিল হওয়াকে আবশ্যক করে। কিন্তু ওয়াক্তের শেষ সময়ের বিষয়টি এমন নয়; কেননা কাজা নামাজ আদায়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নামাজের বাইরের অন্য কোনো কারণে, আর তা হলো ওয়াক্তিয়া ফরজ নামাজকে বিলম্বিত করা। এর প্রমাণ হলো, যদি সে ব্যক্তি তখন অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হয়, তবে তাও নিষিদ্ধ হবে। আর যখন নিষেধাজ্ঞা খোদ নিষিদ্ধ বিষয় ছাড়া অন্য কোনো কারণে হয়, তখন তা ফাসিদ হওয়াকে আবশ্যক করে না, যেমন জুমার আজানের সময় বেচাকেনা করা।

২৮ - অসুস্থ ব্যক্তি যদি বসতে সক্ষম না হয়, তবে জাহিরুর রিওয়ায়াত অনুযায়ী সে চিত হয়ে শুয়ে নামাজ পড়বে এবং তার দুই পা কিবলার দিকে থাকবে। আর সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত সে কাত হয়ে শুয়ে কিবলামুখী হবে না। আর কবরের লাহদ-এ মৃত ব্যক্তিকে এবং মুমূর্ষু রোগীকে ডান কাতে কিবলামুখী করে রাখা হবে।

পার্থক্য এবং এই দুইয়ের মূল ভিত্তি হলো হাদিসের ওপর, যা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "অসুস্থ ব্যক্তি যদি সক্ষম হয় তবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বে, আর যদি সে সক্ষম না হয়..."
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
يَسْتَطِعْ فَلِيُصَلِّ قَاعِدًا، يَجْعَلُ سُجُودَهُ أَخْفَضَ مِنْ رُكُوعِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ قَاعِدًا صَلَّى مُسْتَلْقِيًا عَلَى قَفَاهُ، وَرِجْلَاهُ مِمَّا يَلِي الْقِبْلَةَ» وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّهُ قَالَ: " يُصَلِّي الْمَرِيضُ مُسْتَلْقِيًا عَلَى قَفَاهُ يَلِي قَدَمَاهُ الْقِبْلَةَ " وَفِي الْمَيِّتِ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «يَا عَلِيُّ اسْتَقْبِلْ بِهِ الْقِبْلَةَ اسْتِقْبَالًا، وَقُولُوا جَمِيعًا بِاسْمِ اللَّهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللَّهِ، وَضَعُوهُ لِجَنْبِهِ وَلَا تَكُبُّوهُ لِوَجْهِهِ وَلَا تُلْقُوهُ لِظَهْرِهِ» .

وَوَجْهٌ آخَرُ: مِنْ طَرِيقِ الْمَعْنَى أَنَّ الْمَرِيضَ يُؤْمَرُ بِالْإِيمَاءِ، وَمَتَى أَوْمَأَ خَفَضَ رَأْسَهُ فَجَعَلَ وَجْهَهُ إلَى غَيْرِ الْقِبْلَةِ، وَالِانْحِرَافُ فِي بَعْضِ الصَّلَاةِ عَنْ الْقِبْلَةِ لَا يَجُوزُ.
সক্ষম না হলে সে যেন বসে সালাত আদায় করে। সে তার সিজদাহকে রুকু অপেক্ষা অধিক নিচু করবে। আর যদি বসে সক্ষম না হয়, তবে চিৎ হয়ে শুয়ে সালাত আদায় করবে এবং তার পা দুটি কিবলার দিকে থাকবে। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "অসুস্থ ব্যক্তি চিৎ হয়ে শুয়ে সালাত আদায় করবে এবং তার পা দুটি কিবলার দিকে রাখবে।" আর মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "হে আলী, একে কিবলামুখী করো এবং তোমরা সকলে বলো—আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহর মিল্লাতের ওপর। তাকে তার পার্শ্বদেশের ওপর রাখো, তাকে উপুড় করে চেহারার ওপর রেখো না এবং পিঠের ওপর ফেলে রেখো না।"

অন্য একটি যৌক্তিক কারণ হলো: অসুস্থ ব্যক্তিকে ইশারায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর যখন সে ইশারা করে, তখন সে মাথা নিচু করে, ফলে তার চেহারা কিবলা ব্যতীত অন্য দিকে নিবদ্ধ হয়; অথচ সালাতের কোনো অংশে কিবলা থেকে বিচ্যুত হওয়া জায়েজ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَأَمَّا حَالَةُ الِاحْتِضَارِ وَالدَّفْنِ فَلَا يَحْتَاجُ إلَى الْحَرَكَةِ، وَقَدْ حَصَلَ مُتَوَجِّهًا إلَى الْقِبْلَةِ فَجَازَ. وَلِأَنَّ الْمَرِيضَ يَعْرِضُ لَهُ الصِّحَّةُ وَالْقُدْرَةُ عَلَى الْقُعُودِ فَمَتَى كَانَ مُسْتَلْقِيًا عَلَى ظَهْرِهِ، فَإِذَا قَعَدَ حَصَلَ مُتَوَجِّهًا نَحْوَ الْقِبْلَةِ فِي قِيَامِهِ وَقُعُودِهِ فَجَازَ، وَأَمَّا إذَا كَانَ عَلَى جَنْبِهِ مَادًّا رِجْلَيْهِ فَإِذَا قَعَدَ حَصَلَ مُتَوَجِّهًا إلَى غَيْرِ الْقِبْلَةِ فَيَحْتَاجُ إلَى الِانْحِرَافِ إلَّا أَنْ يُوَجِّهَ رِجْلَيْهِ أَوَّلًا إلَى الْقِبْلَةِ ثُمَّ يَقْعُدُ، فَهَذِهِ حَالَةٌ تَقْرُبُ إلَى الصِّحَّةِ وَالْقُعُودِ فَاعْتُبِرَ بِهِ.

وَأَمَّا الْمُحْتَضَرُ فَهَذِهِ حَالَةٌ تَقْرُبُ مِنْ الْمَوْتِ فَاعْتُبِرَ بِحَالَةِ الْمَوْتِ، وَحَالَةِ الْقَتْلِ فِي الشَّاةِ تُضْجَعُ عَلَى جَنْبِهَا عِنْدَ الذَّبْحِ، لِأَنَّ اسْتِلْقَاءَهَا عَلَى ظَهْرِهَا أَشَقُّ عَلَيْهَا كَذَلِكَ هَذَا.

29 - الْمَيِّتُ إذَا وُجِدَ فِي الْمَعْرَكَةِ وَلَيْسَ بِهِ جُرْحٌ إلَّا أَنَّ الدَّمَ خَرَجَ مِنْ عَيْنَيْهِ أَوْ أُذُنَيْهِ لَا يُغَسَّلُ وَإِنْ خَرَجَ الدَّمُ مِنْ ذَكَرِهِ وَأَنْفِهِ وَدُبُرِهِ غُسِّلَ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ الدَّمَ لَا يَخْرُجُ مِنْ الْأُذُنِ وَالْعَيْنِ مِنْ غَيْرِ ضَرْبٍ، فَكَانَ وُجُودُهُ دَلِيلًا عَلَى الضَّرْبِ فَحُمِلَ عَلَى أَنَّهُ مَاتَ مِنْهُ، فَصَارَ كَمَا لَوْ عُلِمَ بِالضَّرْبِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ الْأَنْفُ وَالذَّكَرُ؛ لِأَنَّ الدَّمَ قَدْ يَخْرُجُ مِنْهُمَا مِنْ غَيْرِ عِلَّةٍ وَضَرْبٍ، فَلَمْ يَكُنْ وُجُودُهُ دَلِيلًا عَلَى الضَّرْبِ، فَصَارَ كَمَا لَوْ مَاتَ حَتْفَ أَنْفِهِ.
আর অন্তিমকাল ও দাফনের অবস্থা এমন যে, তাতে নড়াচড়া করার প্রয়োজন হয় না এবং কিবলামুখী অবস্থান অর্জিত হয়ে যায় বিধায় তা জায়েজ। এর কারণ হলো, রোগীর সুস্থতা ফিরে আসা এবং বসার সামর্থ্য লাভের সম্ভাবনা থাকে; তাই সে যখন চিত হয়ে শুয়ে থাকে, তখন বসার পর তার দাঁড়ানো ও বসা উভয় অবস্থায় কিবলামুখী হওয়া অর্জিত হয়, বিধায় তা জায়েজ। কিন্তু সে যদি পার্শ্বদেশ চাপ দিয়ে পা প্রসারিত করে থাকে, তবে বসার সময় কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ হয়ে যায়, ফলে তাকে ঘুরে বসার প্রয়োজন পড়ে; অবশ্য যদি সে প্রথমে পা দুটি কিবলার দিকে করে এবং এরপর বসে তবে ভিন্ন কথা। এই অবস্থাটি সুস্থতা ও বসার কাছাকাছি, তাই একে সেই হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আর মুহতাদারের (মৃত্যু পথযাত্রী) ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, এই অবস্থাটি মৃত্যুর নিকটবর্তী, তাই একে মৃত্যুর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিবেচনা করা হয়েছে। যেমন জবাইয়ের সময় ছাগলকে পার্শ্বদেশ চেপে শোয়ানো হয়; কারণ তাকে চিত করে শোয়ানো তার জন্য অধিক কষ্টদায়ক, এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ।

২৯ - যুদ্ধক্ষেত্রে যদি কোনো মৃতদেহ পাওয়া যায় এবং তার শরীরে কোনো জখম না থাকে, তবে যদি তার চোখ বা কান দিয়ে রক্ত নির্গত হয় তাকে গোসল দেওয়া হবে না। আর যদি রক্ত তার লিঙ্গ, নাক বা মলদ্বার দিয়ে নির্গত হয় তবে তাকে গোসল দেওয়া হবে।

পার্থক্য এই যে, আঘাত ছাড়া কান ও চোখ দিয়ে রক্ত বের হয় না, তাই রক্ত থাকাটাই আঘাতের প্রমাণ। ফলে ধরে নেওয়া হবে যে সে ওই আঘাতেই মারা গেছে এবং বিষয়টি এমন হয়ে যাবে যেন তার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া নিশ্চিতভাবে জানা আছে। নাক ও লিঙ্গের বিষয়টি এমন নয়; কারণ রোগ বা আঘাত ছাড়াই এ দুটি থেকে রক্ত নির্গত হতে পারে। ফলে এক্ষেত্রে রক্ত থাকাটা আঘাতের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না এবং বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যুর মতো হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৬০)
إذَا أَحْدَثَ الْإِمَامُ بَعْدَ الْخُطْبَةِ، فَأَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ، فَإِنْ كَانَ الرَّجُلُ شَهِدَ الْخُطْبَةَ جُنُبًا فَأَمَرَ الْمَأْمُورُ رَجُلًا شَهِدَ الْخُطْبَةَ، فَصَلَّى الْمَأْمُورُ الثَّانِي بِهِمْ أَجْزَأَهُ.

وَإِنْ كَانَ الْمَأْمُورُ الْأَوَّلُ لَمْ يَشْهَدْ الْخُطْبَةَ لَمْ يَجُزْ أَمْرُهُ لِغَيْرِهِ جُنُبًا كَانَ أَوْ طَاهِرًا. فَفَرْقٌ بَيْنَ مَا إذَا كَانَ الْمَأْمُورُ الْأَوَّلُ جُنُبًا وَشَهِدَ الْخُطْبَةَ، وَبَيْنَ مَا لَوْ لَمْ يَشْهَدْ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ الِاغْتِسَالَ لَيْسَ مِنْ شَرَائِطِ الْجُمُعَةِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَوْ كَانَ شَاهِدًا فَتَوَضَّأَ جَازَ، وَإِنْ لَمْ يَغْتَسِلْ، وَإِنَّمَا هُوَ مِنْ شَرَائِطِ الصَّلَاةِ، أَلَا تَرَى أَنَّهُ يُشْتَرَطُ فِي سَائِرِ الصَّلَوَاتِ، وَإِذَا كَانَ مِنْ شَرَائِطِ الصَّلَاةِ لَمْ يُمْنَعْ انْعِقَادُ الْإِمَامَةِ لَهُ، فَصَارَ إمَامًا فَجَازَ أَمْرُهُ لِغَيْرِهِ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ إذَا لَمْ يَشْهَدْ الْخُطْبَةَ، لِأَنَّ الْخُطْبَةَ مِنْ شَرَائِطِ الْجُمُعَةِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَمْ يُشْتَرَطْ فِي غَيْرِهَا مِنْ الصَّلَوَاتِ، فَوَجَبَ أَنْ يُوجَدَ مِمَّنْ يُؤْمَرُ بِهَا لِتَنْعَقِدَ لَهُ الْإِمَامَةُ وَلَمْ يُوجَدْ فَلَمْ تَنْعَقِدْ الْإِمَامَةُ لَهُ، فَصَارَ يَأْمُرُ غَيْرَهُ وَهُوَ لَيْسَ بِإِمَامٍ فَلَا يَجُوزُ، كَمَا لَوْ كَانَ الْمَأْمُورُ الْأَوَّلُ صَبِيًّا.

31 - وَإِذَا افْتَتَحَ الْإِمَامُ الصَّلَاةَ، ثُمَّ أَحْدَثَ فَاسْتَخْلَفَ رَجُلًا لَمْ يَشْهَدْ الْخُطْبَةَ، فَإِنَّ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ بِهِمْ الْجُمُعَةَ.
যদি ইমাম খুতবার পর অপবিত্র হয়ে পড়েন এবং কাউকে মানুষের সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেন, এমতাবস্থায় যদি নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় খুতবায় উপস্থিত থেকে থাকেন এবং তিনি (নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি) অন্য এমন একজনকে নির্দেশ দেন যিনি খুতবায় উপস্থিত ছিলেন, এরপর দ্বিতীয় নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন, তবে তা যথেষ্ট হবে।

আর যদি প্রথম নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি খুতবায় উপস্থিত না থেকে থাকেন, তবে অন্য কাউকে নির্দেশ দেওয়া তার জন্য জায়েজ হবে না, চাই সে অপবিত্র (জুনুবি) হোক বা পবিত্র। সুতরাং প্রথম নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি জুনুবি অবস্থায় খুতবায় উপস্থিত থাকা এবং খুতবায় একেবারেই উপস্থিত না থাকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

আর পার্থক্যটি এই যে, গোসল করা জুমার শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়। এর প্রমাণ হলো, যদি কেউ উপস্থিত থাকা অবস্থায় ওজু করে তবে তা জায়েজ হয়, যদিও সে গোসল না করে। বরং এটি কেবল সালাতের শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত। আপনি কি দেখছেন না যে, এটি অন্যান্য সকল সালাতেও শর্ত হিসেবে গণ্য হয়? আর যখন এটি সালাতের শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত, তখন এটি তার জন্য ইমামত সাব্যস্ত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে না; ফলে সে ইমাম হিসেবে গণ্য হয় এবং অন্যকে নির্দেশ দেওয়া তার জন্য বৈধ হয়। কিন্তু খুতবায় উপস্থিত না থাকার বিষয়টি এমন নয়। কেননা খুতবা জুমার অন্যতম শর্ত। এর প্রমাণ হলো, অন্য কোনো সালাতে এটি শর্ত করা হয়নি। সুতরাং যার প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হবে, ইমামত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য তার মধ্যে এর (খুতবায় উপস্থিত থাকার) উপস্থিতি আবশ্যক। যেহেতু তা পাওয়া যায়নি, তাই তার ইমামত সাব্যস্ত হয়নি। ফলে সে ইমাম না হয়েও অন্যকে নির্দেশ দিতে উদ্যত হয়েছে, যা জায়েজ নয়; যেমনটি হতো যদি প্রথম নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো নাবালক শিশু হতো।

৩১ - আর ইমাম যখন সালাত শুরু করেন, এরপর যদি তিনি অপবিত্র হয়ে পড়েন এবং এমন একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন যিনি খুতবায় উপস্থিত ছিলেন না, তবে ঐ ব্যক্তির জন্য তাদের নিয়ে জুমার সালাত আদায় করা বৈধ হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুক লিল কারাবিসী (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَلَوْ افْتَتَحَ الصَّلَاةَ مَنْ لَمْ يَشْهَدْ الْخُطْبَةَ لَمْ يَجُزْ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ الْأَوَّلَ لَمَّا أَدْرَكَ الْخُطْبَةَ انْعَقَدَتْ لَهُ الْجُمُعَةُ فَصَارَ الثَّانِي يَبْنِي عَلَى تَحْرِيمِهِ صِحَّةَ الْجُمُعَةِ فَجَازَ. وَلَيْسَ كَذَلِكَ إذَا افْتَتَحَ وَلَمْ يَشْهَدْ الْخُطْبَةَ؛ لِأَنَّ الْجُمُعَةَ لَمْ تَنْعَقِدْ وَالْخُطْبَةُ شَرْطٌ فِي انْعِقَادِهَا، وَإِذَا لَمْ يَشْهَدْ لَمْ يَنْعَقِدْ ابْتِدَاؤُهَا لِلْجُمُعَةِ فَلَا يَصِحُّ الْبِنَاءُ عَلَيْهَا.

32 - وَمَنْ سَهَا عَنْ التَّشَهُّدِ الْأَوَّلِ حَتَّى قَامَ لَمْ يَعُدْ.

وَإِنْ سَهَا عَنْ التَّشَهُّدِ الْأَخِيرِ حَتَّى قَامَ عَادَ إلَى الْقُعُودِ وَتَشَهَّدَ وَسَلَّمَ وَسَجَدَ لِلسَّهْوِ. وَمَدَارُهُمَا عَلَى الْخَبَرِ وَهُوَ مَا رُوِيَ عَنْ النَّبِيِّ عليه السلام أَنَّهُ قَامَ مِنْ الثَّانِيَةِ إلَى الثَّالِثَةِ فَسُبِّحَ لَهُ فَلَمْ يَعُدْ. وَرُوِيَ أَنَّهُ قَامَ مِنْ الرَّابِعَةِ إلَى الْخَامِسَةِ فَسُبِّحَ لَهُ فَعَادَ.

وَالْفَرْقُ مِنْ طَرِيقِ الْمَعْنَى أَنَّ الْقِيَامَ إلَى الثَّالِثَةِ فَرِيضَةٌ وَالْقُعُودَ سُنَّةٌ، وَإِذَا قَامَ إلَى الثَّالِثَةِ وَقَعَ قِيَامُهُ مُعْتَدًّا بِهِ؛ لِأَنَّهُ يَقَعُ عَنْ الْفَرْضِ، فَلَا يَجُوزُ لَهُ رَفْضُهُ وَالْعَوْدُ إلَى مَا قَبْلَهُ لِأَدَاءِ مَسْنُونٍ، فَأُمِرَ بِالْمُضِيِّ عَلَى الصَّلَاةِ. وَأَمَّا فِي الْقَعْدَةِ الْأَخِيرَةِ فَالْقِيَامُ غَيْرُ مَأْمُورٍ بِهِ وَالْقُعُودُ مَفْرُوضٌ عَلَيْهِ، فَإِذَا قَامَ إلَى الْخَامِسَةِ لَمْ يَقَعْ مُعْتَدًّا بِهِ، وَالْقُعُودُ فَرْضٌ عَلَيْهِ وَالْعَوْدُ إلَى أَدَاءِ
আর যে ব্যক্তি খুতবায় উপস্থিত ছিল না, সে যদি নামাজ শুরু করে, তবে তা বৈধ হবে না।

আর পার্থক্য হলো, প্রথম ব্যক্তি যখন খুতবা পেল, তখন তার জন্য জুমুআ সংঘটিত হয়ে গেল; ফলে দ্বিতীয় ব্যক্তি তার তাহরিমার (নামাজ শুরুর তাকবির) ওপর জুমুআর শুদ্ধতাকে ভিত্তি করল, তাই তা বৈধ হলো। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় যখন সে খুতবায় উপস্থিত না থেকে নামাজ শুরু করে; কারণ জুমুআ সংঘটিত হয়নি এবং খুতবা জুমুআ সংঘটিত হওয়ার জন্য একটি শর্ত। আর সে যখন খুতবায় উপস্থিত হলো না, তখন জুমুআর জন্য তার নামাজ শুরু করাই সংঘটিত হলো না, ফলে এর ওপর ভিত্তি করাও সঠিক হবে না।

৩২ - আর যে ব্যক্তি প্রথম তাশাহহুদ ভুলে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল, সে আর ফিরে আসবে না।

আর যদি সে শেষ তাশাহহুদ ভুলে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়, তবে সে পুনরায় বসার দিকে ফিরে আসবে, তাশাহহুদ পড়বে, সালাম ফিরাবে এবং সাহু সেজদা করবে। আর এ দুটির ভিত্তি হলো হাদিসের ওপর। আর তা হলো নবী আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি দ্বিতীয় রাকাত থেকে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। তখন তাঁকে তাসবিহ পাঠ করে সংকেত দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি ফিরে আসলেন না। আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি চতুর্থ রাকাত থেকে পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। তখন তাঁকে তাসবিহ পাঠ করে সংকেত দেওয়া হলো, ফলে তিনি ফিরে আসলেন।

আর যৌক্তিক দিক থেকে পার্থক্য হলো, তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানো ফরজ এবং (প্রথম) বৈঠক হলো সুন্নত। আর যখন সে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেল, তখন তার দাঁড়ানোটি ধর্তব্য হয়ে গেল; কারণ তা ফরজের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তার জন্য সেই ফরজটি বর্জন করা এবং একটি সুন্নত আদায়ের জন্য আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া বৈধ হবে না। তাই তাকে নামাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে শেষ বৈঠকের ক্ষেত্রে, (অতিরিক্ত) দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং বৈঠক করা তার ওপর ফরজ। সুতরাং সে যখন পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেল, তখন তা ধর্তব্য হলো না। এমতাবস্থায় বৈঠক করা তার ওপর ফরজ এবং তা আদায়ের জন্য ফিরে আসা...