(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: -)
الرسالة للشافعي   (الشافعي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الرسالة

المؤلف: محمد بن إدريس الشافعي (150 هـ - 204 هـ)

تحقيق وشرح: أحمد محمد شاكر

(عن أصل بخط الربيع بن سليمان كتبه في حياة الشافعي)

الطبعة: الأولى، 1357 هـ - 1938 م

الناشر: مصطفى البابي الحلبي وأولاد - مصر

عدد الصفحات: 601

تنبيه: ألحق الشيخ أحمد شاكر -رحمه الله- بالكتاب مستدركا ذكر فيه تصويبات وإضافات، وقد أضفناها لمواضعها في هذه النسخة الإلكترونية مع الإشارة إلى ذلك في تلك المواضع

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আশ-শাফি'ঈর আর-রিসালাহ   (আশ-শাফি'ঈ)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ


গ্রন্থ: আর-রিসালাহ

লেখক: মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফি'ঈ (১৫০ হি. - ২০৪ হি.)

তাহকীক ও ব্যাখ্যা: আহমাদ মুহাম্মদ শাকির

(ইমাম আশ-শাফি'ঈর জীবদ্দশায় আর-রাবী' বিন সুলায়মানের হস্তলিখিত মূল পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে)

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৫৭ হি. - ১৯৩৮ খ্রি.

প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী ওয়া আওলাদুহু - মিশর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০১

সতর্কবার্তা: শায়খ আহমাদ শাকির -রাহিমাহুল্লাহ- গ্রন্থের সাথে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন যেখানে তিনি কিছু সংশোধন ও সংযোজন উল্লেখ করেছেন। আমরা এই ডিজিটাল সংস্করণে সেই বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট স্থানে যুক্ত করেছি এবং সেসব স্থানে তার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছি।

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হি.

(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١)
الرسالة

للإمام المطلبي محمد بن ادريس الشافعي

(150 هـ - 204 هـ)

 

بتحقيق وشرح

أبي الاشبال أحمد محمد شاكر

عن أصل بخط الربيع بن سلمان، كتبه في حياة الشافعي

 

(لما نظرت الرسالة للشافعي أذهلتني، لانني رأيت كلام رجل عاقل فصيح ناصح، فإني لاكثر الدعاء له) عبد الرحمن بن مهدي
আর-রিসালাহ

ইমাম আল-মুত্তালিবী মুহাম্মাদ ইবন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ-এর

(১৫০ হিজরী - ২০৪ হিজরী)

 

সম্পাদনা ও ব্যাখ্যায়

আবুল আশবাল আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির

রাবী‘ ইবন সুলায়মানের হস্তলিখিত মূল পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে, যা তিনি ইমাম শাফিঈর জীবদ্দশায় লিপিবদ্ধ করেছিলেন

 

(যখন আমি শাফিঈর ‘আর-রিসালাহ’ দেখলাম, তা আমাকে বিমুগ্ধ করল; কেননা আমি এতে এমন এক ব্যক্তির কথা পেলাম যিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান, প্রাঞ্জলভাষী ও হিতাকাঙ্ক্ষী। ফলে আমি তাঁর জন্য অধিক পরিমাণে দুআ করি।) — আবদুর রহমান ইবন মাহদী
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٣)
هذا السفر القيم يضم بين دفتيه:

1 - المقدمة

2 - السماعات

3 - اللوحات المصورة

4 - كتاب الرسالة مشروحا محققا:

يحتوى على أربعة أجزاء

5 - الاستدراك

6 - المراجع

7 - مفاتيح الكتاب
এই মূল্যবান গ্রন্থটি এর দুই মলাটের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

১ - ভূমিকা

২ - শ্রবণলিপি (সামা‘আত)

৩ - সচিত্র ফলকসমূহ

৪ - কিতাবুর রিসালাহ (ব্যাখ্যা ও তাহকীকসহ):

এটি চারটি খণ্ড সম্বলিত

৫ - সংযোজনী (ইসতিদরাক)

৬ - তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি

৭ - গ্রন্থ-নির্দেশিকা (মাফাতীহুল কিতাব)
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين. وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما.

هذا الكتاب (الرسالة) للشافعي.

وكفى الشافعي مدحا أنه الشافعي.

وكفى (الرسالة) تقريظا أنها تأليف الشافعي.

وكفاني فخرا أن أنشر بين الناس علم الشافعي.

[مع إعلامهم نهيه عن تقليده وتقليد غيره](1).

ولو جاز لعالم أن يقلد عالما كان أولى الناس عندي أن يقلد -: الشافعي.

فإني أعتقد - غير غال ولا مسرف - أن هذا الرجل لم يظهر مثله في علماء الاسلام، في فقه الكتاب والسنة، ونفوذ النظر فيهما ودقة الاستنباط. مع قوة العارضة، ونور البصيرة، والايداع في إقامة الحجة وإفحام مناظره. فصيح اللسان، ناصع البيان، في الذروة العليا من البلاغة. تأدب بأدب البادية، وأخذ العلوم والمعارف عن أهل الحضر، حتى سما عن كل عالم قبله وبعده. نبغ في الحجاز، وكان الى علمائه مرجع الرواية والسنة، وكانوا أساطين العلم في فقه القران، ولم يكن الكثير منهم أهل لسن وجدل، وكادوا يعجزون عن مناظرة أهل الرأي، فجاء هذا الشاب يناظر وينافح، ويعرف كيف يقوم بحجته، وكيف يلزم أهل الرأي وجوب اتباع السنة، وكيف يثبت لهم الحجة في خبر الواحد، وكيف
(1) اقتباس من كلام المزني في أول مختصره بحاشية الام (ج 1 ص 2).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর দরুদ ও পূর্ণ মাত্রায় সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

এই কিতাব (আর-রিসালাহ) ইমাম শাফিঈর রচনা।

শাফিঈর প্রশংসার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, তিনি স্বয়ং শাফিঈ।

আর-রিসালাহ-র শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, এটি শাফিঈর সংকলন।

আর আমার গৌরবের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আমি মানুষের মাঝে শাফিঈর জ্ঞান প্রচার করছি।

[সাথে তাদের এটিও জানিয়ে দেওয়া যে, তিনি তাঁকে এবং অন্য কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন](১)।

যদি কোনো আলিমের জন্য অন্য কোনো আলিমকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা জায়েজ হতো, তবে আমার মতে অনুসরণের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হতেন: শাফিঈ।

কেননা আমি বিশ্বাস করি—কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা অতিশয়োক্তি ছাড়াই—যে ইসলামি পণ্ডিতদের মাঝে কিতাব ও সুন্নাহর ফিকহ, এ দুইয়ের ওপর গভীর পর্যবেক্ষণ এবং সূক্ষ্ম মূলনীতি আহরণের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তির মতো দ্বিতীয় কেউ আবির্ভূত হননি। সাথে ছিল তাঁর অসাধারণ বাকপটুতা, প্রজ্ঞার জ্যোতি এবং দলিল উপস্থাপনা ও প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করার ক্ষেত্রে অনন্য পারদর্শিতা। তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী ও প্রাঞ্জল বর্ণনার অধিকারী, যা অলঙ্কারশাস্ত্রের উচ্চ শিখরে আসীন। তিনি মরুচারীদের আদব ও ভাষা শিখেছিলেন এবং শহরবাসীদের নিকট থেকে বিভিন্ন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জন করেছিলেন, যার ফলে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল আলিমের ঊর্ধ্বে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি হিজাজে বিকশিত হয়েছিলেন, যেখানে হাদীস বর্ণনা ও সুন্নাহর জন্য আলিমগণই ছিলেন প্রধান উৎস। তাঁরা ছিলেন কুরআনের ফিকহ বা গভীর জ্ঞানের সুদৃঢ় স্তম্ভ, কিন্তু তাঁদের অনেকেই বাকপটুতা ও যুক্তি-তর্কে পারদর্শী ছিলেন না। তাঁরা যুক্তিপন্থীদের (আহলুর রায়) সাথে বিতর্কে প্রায়ই পেরে উঠতেন না। এমতাবস্থায় এই যুবকটি এসে বিতর্ক ও প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। তিনি জানতেন কীভাবে নিজের দলিল প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, কীভাবে যুক্তিপন্থীদের সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা মানতে বাধ্য করতে হয়, কীভাবে তাদের নিকট একক বর্ণনার (খবরে ওয়াহিদ) প্রামাণিকতা সাব্যস্ত করতে হয় এবং কীভাবে...
(১) আল-উম্ম গ্রন্থের টীকায় (১ম খণ্ড, ২য় পৃষ্ঠা) আল-মুযানীর তাঁর 'মুখতাসার'-এর শুরুতে প্রদত্ত বক্তব্য থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٦)
يفصل للناس طرق فهم الكتاب على ما عرف من بيان العرب وفصاحتهم، وكيف يدلهم على الناسخ والمنسوخ من الكتاب والسنة، وعلى الجمع بين ما ظاهره التعارض فيهما أو في أحدهما. حتى سماه أهل مكة " ناصر الحديث ".

وتواترت أخباره إلى علماء الاسلام في عصره، فكانوا يفدون إلى مكة للحج، يناظرونه ويأخذون عنه في حياة شيوخه، حتى إن أحمد بن حنبل جلس معه مرة، فجاء أحد إخوانه يعتب عليه أن ترك مجلس ابن عيينة - شيخ الشافعي -. ويجلس إلى هذا الاعرابي! فقال له أحمد: " اسكت، إنك إن فاتك حديث بعلو وجدته بنزول، وإن فاتك عقل هذا أخاف أن لا تجده، ما رأيت أحدا أفقه في كتاب الله من هذا الفتى ". وحتى يقول داود بن علي الظاهري الامام في كتاب مناقب الشافعي: " قال لي إسحاق بن راهويه: ذهبت أنا وأحمد بن حنبل الى الشافعي بمكة فسألته عن أشياء، فوجدته فصيحا حسن الادب، فلما فارقناه أعلمني جماعة من أهل الفهم بالقرآن أنه كان أعلم الناس في زمانه بمعاني القرآن، وأنه قد أوتي فيه فهما، فلو كنت عرفته للزمته. قال داود: ورأيته يتأسف على ما فاته منه ". وحتى يقول أحمد بن حنبل: " لولا الشافعي ما عرفنا فقه الحديث ". ويقول أيضا: " كانت أقضيتنا في أيدي أصحاب أبي حنيفة ما تنزع، حتى رأينا الشافعي، فكان أفقه الناس في كتاب الله، وفي سنة رسول الله ".

ثم يدخل العراق، دار الخلافة وعاصمة الدولة(1)، فيأخذ عن أهل الرأي علمهم ورأيهم، وينظر فيه، ويجادلهم ويحاجهم، ويزداد بذلك بصرا
(1) دخل الشافعي بغداد ثلاث مرات، الاولى وهو شاب سنة 184 أو قبلها في خلافة هارون الرشيد، والثانية في سنة 195 ومكث سنتين، والثالثة سنة 198 فأقام بها أشهرا، ثم خرج إلى مصر.
তিনি মানুষের জন্য কিতাব (কুরআন) উপলব্ধির পদ্ধতিসমূহ আরবদের বাকশৈলী ও প্রাঞ্জলতার নিরিখে ব্যাখ্যা করতেন। তিনি তাদের কুরআন ও সুন্নাহর নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) বিষয়সমূহ এবং এই দুইয়ের মধ্যে অথবা যেকোনো একটিতে দৃশ্যমান বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধনের পথ প্রদর্শন করতেন। এমনকি মক্কাবাসীরা তাঁকে "নাসিরুল হাদিস" (হাদিসের সাহায্যকারী) বলে অভিহিত করত।

তাঁর খ্যাতি সমসাময়িক ইসলামি পণ্ডিতদের নিকট ব্যাপকভাবে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে তাঁরা হজের উদ্দেশ্যে মক্কায় এসে তাঁর উস্তাদদের জীবদ্দশাতেই তাঁর সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্কে লিপ্ত হতেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করতেন। এমনকি একবার ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর নিকট বসলেন। তখন তাঁর এক সাথী এসে তাঁকে এই বলে তিরস্কার করতে লাগলেন যে, তিনি ইবনে উয়াইনাহ—যিনি শাফেয়িরও উস্তাদ—তাঁর মজলিস ত্যাগ করে এই বেদুইন যুবকের নিকট বসেছেন! আহমাদ তাঁকে বললেন: "চুপ করো, যদি তোমার নিকট উচ্চ সূত্রের (আলি) কোনো হাদিস ছুটে যায়, তবে তা নিম্ন সূত্রের (নাজিল) মাধ্যমে পেয়ে যাবে। কিন্তু যদি তুমি এই ব্যক্তির প্রজ্ঞা হারিয়ে ফেলো, তবে আমি আশঙ্কা করি যে তুমি তা আর কোথাও পাবে না। আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এই যুবকের চেয়ে অধিক বিজ্ঞ আর কাউকে দেখিনি।" এমনকি ইমাম দাউদ ইবনে আলী আজ-জাহিরি 'মানাকিবুল ইমামুশ শাফেয়ি' গ্রন্থে বলেন: "ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ আমাকে বলেছেন: 'আমি এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল মক্কায় শাফেয়ির নিকট গেলাম এবং তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাঁকে অত্যন্ত বাক্মী ও সুরুচিপূর্ণ শিষ্টাচারের অধিকারী হিসেবে পেলাম। যখন আমরা তাঁর নিকট থেকে বিদায় নিলাম, তখন একদল কুরআন বিশেষজ্ঞ আমাকে অবহিত করলেন যে, তিনি তাঁর যুগে কুরআনের মর্মার্থ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন এবং তাঁকে এ বিষয়ে বিশেষ প্রজ্ঞা দান করা হয়েছিল। ইসহাক বললেন, যদি আমি এটি আগে জানতাম, তবে আমি তাঁর সান্নিধ্য অবিচ্ছেদ্যভাবে আঁকড়ে ধরতাম।' দাউদ বলেন: 'আমি তাঁকে তাঁর থেকে যা ছুটে গেছে, সে জন্য আক্ষেপ করতে দেখেছি'।" এমনকি আহমাদ ইবনে হাম্বল বলতেন: "শাফেয়ি না থাকলে আমরা হাদিসের ফিকহ (গভীর তত্ত্ব) বুঝতে পারতাম না।" তিনি আরও বলতেন: "আমাদের বিচারিক রায়সমূহ আবু হানিফার অনুসারীদের হাতেই ছিল এবং সেগুলো খণ্ডানো সম্ভব হতো না, যতক্ষণ না আমরা শাফেয়িকে দেখলাম। তিনি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সুন্নাহর বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ফকিহ ছিলেন।"

অতঃপর তিনি ইরাকে প্রবেশ করেন, যা ছিল খিলাফতের কেন্দ্র ও রাষ্ট্রের রাজধানী(১)। সেখানে তিনি রায়পন্থীদের (আহলে রায়) নিকট থেকে তাদের ইলম ও দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন, তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করেন এবং তাদের সাথে যুক্তি ও প্রমাণসহ বিতর্কে লিপ্ত হন। এর মাধ্যমে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়।
(১) শাফেয়ি বাগদাদে তিনবার প্রবেশ করেন: প্রথমবার যুবক অবস্থায় ১৮৪ হিজরিতে বা তার পূর্বে হারুনুর রশিদের খিলাফতকালে; দ্বিতীয়বার ১৯৫ হিজরিতে এবং সেখানে দুই বছর অবস্থান করেন; এবং তৃতীয়বার ১৯৮ হিজরিতে কয়েক মাস অবস্থান করার পর তিনি মিসরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٧)
بالفقه ونصرا للسنة، حتى يقول أبو الوليد المكي الفقيه موسى بن أبي الجارود:

" كنا نتحدث نحن وأصحابنا من أهل مكة أن الشافعي أخذ كتب ابن جريح(1) عن أربعة أنفس: عن مسلم بن خالد، وسعيد بن سالم، وهذان فقيهان، وعن عبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد، وكان أعلمهم بابن جريح، وعن عبد الله بن الحرث المخزومي، وكان من الاثبات، وانتهت رياسة الفقه بالمدينة إلى مالك بن أنس، رحل إليه ولازمه وأخذ عنه، وانتهت رياسة الفقه بالعراق إلى أبي حنيفة، فأخذ عن صاحبه محمد بن الحسن جملا ليس فيها شئ إلا وقد سمعه عليه، فاجتمع له علم أهل الرأي وعلم أهل الحديث، فتصرف في ذلك، حتى أصل الاصول، وقعد القواعد، وأذعن له الموافق والمخالف، واشتهر أمره، وعلا ذكره، وارتفع قدره، حتى صار منه ما صار ".

ثم دخل مصر في سنة 199 فأقام بها إلى أن مات، يعلم الناس السنة وفقه السنة والكتاب، ويناظر مخالفيه ويحاجهم، وأكثرهم من أتباع شيخه مالك بن أنس، وكانوا متعصبين لمذهبه، فبهرهم الشافعي بعلمه وهديه وعقله، رأوا رجلا لم تر الاعين مثله، فلزموا مجلسه، يفيدون منه علم الكتاب وعلم الحديث، ويأخذون عنه اللغة والانساب والشعر، ويفيدهم في بعض وقته في الطب، ثم يتعلمون منه أدب الجدل والمناظرة، ويؤلف الكتب بخطه، فيقرؤن عليه ما ينسخونه منها، أو يملي عليهم بعضها إملاء، فرجع أكثرهم عما كانوا يتعصبون له، وتعلموا منه الاجتهاد ونبذ التقليد، فملا الشافعي طباق الارض علما.

ومات ودفن بمصر، وقبره معروف مشهور إلى الان. وعاش 54 سنة،
(1) انتهت رياسة الفقه بمكة إلى ابن جريج.
ফিকহশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ এবং সুন্নাহর সাহায্যের লক্ষ্যে, এমনকি মক্কার ফকিহ আবু আল-ওয়ালিদ আল-মক্কি মুসা ইবনে আবিল জারুদ বলেন:

"আমি এবং মক্কাবাসী আমাদের সাথীরা এই আলোচনা করতাম যে, শাফিঈ ইবনে জুরাইজের কিতাবসমূহ(১) চারজন ব্যক্তির নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন: মুসলিম ইবনে খালিদ ও সাঈদ ইবনে সালিম—যাঁরা ছিলেন ফকিহ; আব্দুল মাজিদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ—যিনি তাঁদের মধ্যে ইবনে জুরাইজ সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখতেন; এবং আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস আল-মাখজুমি—যিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। মদিনায় ফিকহের নেতৃত্ব মালিক ইবনে আনাসের ওপর ন্যস্ত ছিল; শাফিঈ তাঁর কাছে সফর করেন, তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। অন্যদিকে ইরাকে ফিকহের নেতৃত্ব ছিল আবু হানিফার নিকট; শাফিঈ তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের নিকট থেকে এমন বিপুল পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করেন যার প্রতিটি অংশই তিনি তাঁর কাছ থেকে সরাসরি শুনেছিলেন। ফলে তাঁর মাঝে আহলে রায় (যুক্তিপন্থী) ও আহলে হাদিস (সংরক্ষণপন্থী)—উভয় ঘরানার ইলম একত্রিত হয়। তিনি তা নিয়ে এমনভাবে কাজ করেন যে, মূলনীতিসমূহ উদ্ভাবন করেন এবং বিধিবিধান প্রণয়ন করেন। অনুকূল ও প্রতিকূল নির্বিশেষে সকলেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেয়। তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে, তাঁর আলোচনা উচ্চকিত হয় এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, শেষ পর্যন্ত তিনি সেই উচ্চতায় আসীন হন যা হওয়ার ছিল।"

অতঃপর তিনি ১৯৯ হিজরি সনে মিসরে প্রবেশ করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। সেখানে তিনি মানুষকে সুন্নাহ, সুন্নাহর ফিকহ এবং আল্লাহর কিতাব শিক্ষা দিতেন। তিনি তাঁর বিরোধীদের সাথে বিতর্ক ও যুক্তিতর্ক করতেন। তাঁদের অধিকাংশ ছিল তাঁর উস্তাদ মালিক ইবনে আনাসের অনুসারী এবং তাঁরা তাঁর মাজহাবের প্রতি অত্যন্ত গোঁড়া ছিলেন। কিন্তু শাফিঈ তাঁর জ্ঞান, আদর্শ ও প্রজ্ঞা দিয়ে তাঁদের মুগ্ধ করেন। তাঁরা এমন এক ব্যক্তিত্বকে দেখতে পান যার তুল্য চোখ আগে কখনও দেখেনি। ফলে তাঁরা তাঁর মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত হতে থাকেন। তাঁরা তাঁর কাছ থেকে আল্লাহর কিতাব ও হাদিসের ইলম অর্জন করতেন এবং ভাষা, বংশবৃত্তান্ত ও কবিতা শিখতেন। এমনকি তিনি সময়ের কিছু অংশ তাঁদের চিকিৎসাবিদ্যাও শেখাতেন। এরপর তাঁরা তাঁর কাছ থেকে বিতর্ক ও আলোচনার আদব শিখতেন। তিনি নিজ হাতে কিতাব রচনা করতেন এবং তাঁরা সেই কিতাবগুলো প্রতিলিপি করে তাঁকে পড়ে শোনাতেন, অথবা তিনি কখনও কখনও তাঁদের কাছে কিছু অংশ পাঠ করে লেখাতেন। ফলে তাঁদের অধিকাংশ সেই গোঁড়ামি পরিত্যাগ করেন যা তাঁরা আগে লালন করতেন। তাঁরা তাঁর নিকট থেকে ইজতিহাদ ও অন্ধ তাকলিদ বর্জনের শিক্ষা লাভ করেন। এভাবে শাফিঈ সমগ্র পৃথিবীকে জ্ঞান দ্বারা পূর্ণ করে দেন।

তিনি মিসরেই মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর কবর আজ অবধি সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। তিনি ৫৪ বছর জীবিত ছিলেন।
(১) মক্কায় ফিকহ শাস্ত্রের নেতৃত্ব ইবনে জুরাইজের নিকট সমাপিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٨)
ولد سنة 150 بغزة، ومات ليلة الجمعة ودفن يوم الجمعة بعد العصر آخر يوم من رجب سنة 204(1) (الجمعة 29 رجب سنة 204 يوافق 19 يناير سنة 820 ميلادية، 23 طوبة سنة 536 قبطية).

وليس الشافعي ممن يترجم له في أوراق أو كراريس، وقد ألف العلماء الائمة في سيرته كتبا كثيرة وافية، وجد بعضها وفقد أكثرها. ولعلنا نوفق إلى أن نجمع ما تفرق من أخباره في الكتب والدواوين، في سيرة خاصة به، إن شاء الله.

وقد يفهم بعض الناس من كلامي عن الشافعي أني أقول عن تقليد أو عصبية، لما نشأ عليه أكثر أهل العلم من قرون كثيرة، من تفرقهم شيعا وأحزابا علمية، مبنية على العصبية المذهبية، مما أضر بالمسلمين وأخرهم عن سائر الامم، وكان السبب الاكبر في زوال حكم الاسلام عن بلاد المسلمين، حتى صاروا يحكمون بقوانين تخالف دين الاسلام، خنعوا لها واستكانوا، في حين كان كثير من علمائهم يأبون الحكم بغير المذهب الذي يتعصبون له ويتعصب له الحكام في البلاد. ومعاذ الله أن أرضى لنفسي خلة أنكرها على الناس، بل أبحث وأجد، وأتبع الدليل الصحيح حيثما وجد. وقد نشأت في طلب العلم وتفقهت على مذهب أبي حنيفة، ونلت شهادة العالمية من الازهر الشريف حنفيا، ووليت القضاء منذ عشرين سنة أحكم كما يحكم إخواني بما أذن لنا في الحكم به من مذهب الحنفية. ولكني بجوار هذا بدأت دراسة السنة النبوية أثناء طلب العلم، من نحو ثلاثين سنة، فسمت كثيرا وقرأت كثيرا، ودرست أخبار العلماء والائمة، ونظرت في أقوالهم وأدلتهم، لم أتعصب لواحد منهم، ولم أحد عن سنن الحق فيما بدا لي، فان أخطأت فكما يخطئ الرجل، وإن أصبت فكما يصيب الرجال. أحترم رأيي ورأي غيري، وأحترم ما أعتقده حقا قبل كل شئ وفوق كل شئ. فعن هذا قلت ما قلت واعتقدت ما أعتقد في الشافعي، رحمه الله ورضى عنه.
(1) ذكر المرحوم مختار باشا في التوفيقات الالهامية أن الشافعي مات في 4 شعبان، وهو خطأ.
১৫০ হিজরি সনে গাজায় তাঁর জন্ম হয়, এবং ২০৪ হিজরি সনের রজব মাসের শেষ রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন ও জুমার দিন আসরের পর তাঁকে দাফন করা হয়(১) (শুক্রবার, ২৯ রজব ২০৪ হিজরি, যা ১৯ জানুয়ারি ৮২০ খ্রিস্টাব্দ এবং ৫৩৬ কিবতি সনের ২৩ তোবা-এর সাথে সংগতিপূর্ণ)।

শাফিঈ এমন কেউ নন যাঁর জীবনী সামান্য কিছু কাগজ বা পুস্তিকায় সীমাবদ্ধ করা যায়। বিজ্ঞ ইমাম ও আলেমগণ তাঁর জীবনীর ওপর বহু পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার কিছু পাওয়া যায় এবং অধিকাংশ আজ বিলুপ্ত। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা হয়তো বিভিন্ন কিতাব ও সংকলনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাঁর জীবনের ঘটনাবলি একটি স্বতন্ত্র জীবনীগ্রন্থে সংকলন করার তাওফিক পাব।

শাফিঈ সম্পর্কে আমার কথা থেকে কেউ কেউ হয়তো বুঝতে পারেন যে, আমি কোনো অন্ধ অনুকরণ বা সংকীর্ণ মতবাদের বশবর্তী হয়ে বলছি; যা বিগত বহু শতাব্দী ধরে অধিকাংশ জ্ঞানান্বেষী আলিমদের মাঝে মাযহাবি গোঁড়ামির ওপর ভিত্তি করে জ্ঞানতাত্ত্বিক দল ও উপদলে বিভক্ত হওয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এটি মুসলিমদের চরম ক্ষতি করেছে এবং অন্যান্য জাতির তুলনায় তাদের পশ্চাৎপদ করে দিয়েছে। মুসলিম দেশগুলো থেকে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় কারণ, যার ফলে আজ তারা ইসলামের পরিপন্থী আইন দ্বারা শাসিত হতে বাধ্য হচ্ছে, যার সামনে তারা নতি স্বীকার করেছে ও দমে গেছে। অথচ তাদের অনেক আলেম সেই মাযহাবের বাইরে ফয়সালা করতে অস্বীকার করতেন যে মাযহাবের প্রতি তারা এবং দেশের শাসকরা অন্ধ অনুরাগী ছিলেন। আল্লাহর কাছে পানাহ চাই এমন কোনো স্বভাব নিজের জন্য পছন্দ করতে যা আমি অন্যের জন্য অপছন্দ করি। বরং আমি সত্যের অনুসন্ধান করি এবং যেখানেই সঠিক দলিল পাই তারই অনুসরণ করি। আমি ইলম অর্জনের মাধ্যমে বেড়ে উঠেছি এবং ইমাম আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা করেছি। আল-আযহার শরীফ থেকে হানাফি হিসেবেই আমি 'আলামিয়াহ' সনদ অর্জন করেছি। গত বিশ বছর ধরে আমি বিচারকের দায়িত্ব পালন করছি এবং আমার অন্য ভাইদের মতোই আমাকে হানাফি মাযহাবের যে বিষয়গুলোর ওপর বিচার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী বিচার করি। কিন্তু এর পাশাপাশি আমি জ্ঞান অন্বেষণের সময় থেকে প্রায় ত্রিশ বছর আগে সুন্নাহর অধ্যয়ন শুরু করি। আমি প্রচুর অধ্যয়ন করেছি ও শ্রবণ করেছি, আলেম ও ইমামদের জীবনী এবং তাঁদের মতামত ও দলিলসমূহ গভীরভবে পর্যালোচনা করেছি। আমি তাঁদের কারো প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করিনি এবং সত্যের যে পথ আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত হইনি। যদি আমি ভুল করি তবে মানুষের মতোই ভুল করেছি, আর যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেই তবে তাও মানুষের মতোই। আমি আমার নিজের মতামত এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে সত্য যা আমি বিশ্বাস করি তাকে সবকিছুর আগে এবং সবকিছুর ওপরে স্থান দেই। এ কারণেই শাফিঈ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে আমি যা বলেছি তা বলেছি এবং তাঁর সম্পর্কে যা বিশ্বাস করার তা করেছি।
(১) মরহুম মুখতার পাশা 'আত-তাওফিকাতুল ইলহামিয়াহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শাফিঈ ৪ শাবান ইন্তেকাল করেছেন, যা একটি ভুল তথ্য।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌كتاب الرسالة

ألف الشافعي كتبا كثيرة، بعضها كتبه بنفسه وقرأه على الناس أو قرؤه عليه، وبعضها أملاه إملاء، وإحصاء هذه الكتب عسير، وقد فقد كثير منها. فألف في مكة، وألف في بغداد، وألف في مصر. والذي في أيدي العلماء من كتبه الان ما ألفه في مصر، وهو كتاب (الام) الذي جمع فيه الربيع بعض كتب الشافعي، وسماه بهذا الاسم، بعد أن سمع منه هذه الكتب، وما فاته سماعه بين ذلك، وما وجده بخط الشافعي ولم يسمعه بينه أيضا، كما يعلم ذلك أهل العلم ممن يقرؤن كتاب (الام). و (كتاب اختلاف الحديث) وقد طبع بمطبعة بولاق بحاشية الجزء السابع من الام. و (كتاب الرسالة). وهما مما روى الربيع عن الشافعي منفصلين، ولم يدخلهما في كتاب (الام).

ولمناسبة الكلام عن كتب الشافعي وكتاب الام خاصة، يجدر بنا أن نقول كلمة فيما أثاره صديقنا الاديب الكبير الدكتور زكي مبارك حول كتاب (الام) منذ بضعة أعوام، فقد تعرض للجدل في هذا الكتاب، عن غير بينة ولا دراسة منه لكتب المتقدمين وطرق تأليفهم، ثم طرق رواية المتأخرين عنهم لما سمعوه، فأشبهت عليه بعض الكلمات في (الام) فظنها دليلا على أن الشافعي لم يؤلف هذه الكتب. واستند إلى كلمة رواها أبو طالب المكي في أخذه الربيع بعد موته فادعاه لنفسه. ثم جادل الدكتور زكي مبارك في هذا جدالا شديدا، وألف فيه كتابا صغيرا، أحسن ما فيه أنه مكتوب بقلم كاتب بليغ، والحجج على نقض كتابه متوافرة في كتب الشافعي نفسها. ولو صدقت هذه الرواية لارتفعت الثقة بكل كتب العلماء، بل لارتفعت الثقة بهؤلاء العلماء أنفسهم، وقد رووا لنا العلم والسنة، بأسانيدهم الصحيحة الموثوق بها، بعد أن نقد علماء الحديث سير الرواة وتراجمهم، ونفوا رواية كل من حامت حول صدقه أو عدله شبهة، والربيع المرادي من ثقات الرواة عند المحدثين، وهذه الرواية فيها تهمة له بالتلبيس والكذب، وهو أرفع قدرا وأوثق أمانة من أن نظن به أنه يختلس كتابا ألفه البويطي ثم ينسبه لنفسه، ثم يكذب على الشافعي في كل ما يروى أنه من تأليف الشافعي، بل لو صح عنه بعض هذا كان من أكذب الوضاعين وأجرئهم على الفرية!! وحاش لله أن يكون الربيع الا ثقة أمينا. وقد رد مثل هذه الرواية أبو الحسين الرازي الحافظ محمد بن عبد الله بن جعفر المتوفى سنة 347، وهو والد الحافظ تمام الرازي، فقال: " هذا لا يقبل، بل
কিতাবুর রিসালাহ

ইমাম শাফিঈ অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে কিছু তিনি নিজেই লিখেছেন এবং মানুষের সামনে পাঠ করেছেন অথবা তারা তাঁর কাছে পাঠ করেছে; আবার কিছু গ্রন্থ তিনি শ্রুতলিখন (ইমলা) করিয়েছেন। এই গ্রন্থগুলোর সঠিক পরিসংখ্যান বের করা বেশ কঠিন এবং এর অনেকগুলোই হারিয়ে গেছে। তিনি মক্কায় গ্রন্থ রচনা করেছেন, বাগদাদে করেছেন এবং মিসরেও করেছেন। বর্তমানে আলেমদের হাতে তাঁর যেসব গ্রন্থ রয়েছে, তা হলো সেসব যা তিনি মিসরে রচনা করেছিলেন। সেটি হলো ‘কিতাবুল উম্ম’, যাতে রবী ইবনে সুলায়মান শাফিঈর কিছু গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং এই নামে নামকরণ করেছেন। এটি তিনি ইমাম শাফিঈর কাছ থেকে শোনার পর সম্পন্ন করেছেন। এর মাঝে যা তিনি শুনতে পাননি তাও তিনি স্পষ্ট করেছেন, আবার যা তিনি শাফিঈর হস্তাক্ষরে পেয়েছেন কিন্তু সরাসরি শ্রবণ করেননি তাও তিনি উল্লেখ করেছেন; যেমনটি ‘কিতাবুল উম্ম’ পাঠকারী বিজ্ঞজনরা অবগত আছেন। এছাড়া রয়েছে ‘কিতাবুল ইখতিলাফুল হাদিস’, যা বুলাক প্রেস থেকে ‘আল-উম্ম’ এর সপ্তম খণ্ডের পার্শ্বটীকায় মুদ্রিত হয়েছে; এবং ‘কিতাবুর রিসালাহ’। এই দুটি গ্রন্থ রবী ইমাম শাফিঈ থেকে স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এগুলোকে তিনি ‘কিতাবুল উম্ম’-এর অন্তর্ভুক্ত করেননি।

ইমাম শাফিঈর গ্রন্থসমূহ, বিশেষ করে ‘কিতাবুল উম্ম’ প্রসঙ্গের আলোচনার প্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে আমাদের সুহৃদ প্রথিতযশা সাহিত্যিক ড. জাকি মুবারক ‘কিতাবুল উম্ম’ সম্পর্কে যে সংশয় উত্থাপন করেছেন, সে বিষয়ে কিছু কথা বলা সমীচীন হবে। তিনি এই গ্রন্থটি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ বা পূর্ববর্তী ইমামদের গ্রন্থাবলি ও তাঁদের রচনাশৈলী সম্পর্কে যথাযথ গবেষণা ছাড়াই। তদুপরি বর্ণনাকারীরা তাঁদের ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে যা শ্রবণ করেছেন তা পরবর্তীকালে বর্ণনা করার পদ্ধতি সম্পর্কেও তাঁর স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। ফলে ‘আল-উম্ম’ গ্রন্থের কিছু শব্দ তাঁর কাছে অস্পষ্ট থেকে গেছে এবং তিনি সেগুলোকে ইমাম শাফিঈ এই গ্রন্থগুলো রচনা করেননি বলে প্রমাণ হিসেবে ধরে নিয়েছেন। তিনি আবু তালিব আল-মাক্কি বর্ণিত একটি বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, রবী আল-বুওয়াইতির মৃত্যুর পর গ্রন্থটি হস্তগত করে নিজের বলে দাবি করেছেন। অতঃপর ড. জাকি মুবারক এ নিয়ে তীব্র বাদানুবাদে লিপ্ত হয়েছেন এবং এ বিষয়ে একটি ছোট বইও লিখেছেন। সেই বইয়ের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এটি একজন প্রাঞ্জল লেখকের কলমে লিখিত, তবে তাঁর গ্রন্থের দাবি খণ্ডন করার মতো পর্যাপ্ত যুক্তি খোদ ইমাম শাফিঈর গ্রন্থগুলোতেই বিদ্যমান। যদি এই বর্ণনাটি সত্য হতো, তবে আলেমদের সমস্ত গ্রন্থের ওপর থেকে আস্থা উঠে যেত, এমনকি খোদ সেই আলেমদের ওপর থেকেও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে যেত। অথচ তাঁরাই আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও সহিহ সনদের মাধ্যমে ইলম ও সুন্নাহ বর্ণনা করেছেন। হাদিস বিশারদগণ বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং যাদের সততা বা ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে সামান্যতম সংশয় ছিল, তাঁদের বর্ণনা বর্জন করেছেন। রবী আল-মুরাদি মুহাদ্দিসগণের নিকট একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। এই বর্ণনাটি তাঁর ওপর প্রবঞ্চনা ও মিথ্যার অপবাদ আরোপ করে, অথচ তিনি এ ধরনের নীচ কাজের চেয়ে অনেক উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং অনেক বেশি আমানতদার ছিলেন। এটা ভাবাই যায় না যে, তিনি আল-বুওয়াইতির রচিত কোনো কিতাব আত্মসাৎ করবেন এবং নিজের নামে চালিয়ে দেবেন, আর ইমাম শাফিঈর নামে এই মর্মে মিথ্যা বলবেন যে এগুলো শাফিঈরই রচনা! বরং যদি তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু সত্য হতো, তবে তিনি জঘন্যতম মিথ্যাবাদী ও চরম অপবাদদাতা হিসেবে গণ্য হতেন। আল্লাহর পানাহ! রবী তো একজন নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার ব্যক্তিত্ব ছাড়া আর কিছুই ছিলেন না। হাফেজ আবু আল-হুসাইন আল-রাজি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (মৃত্যু ৩৪৭ হি.), যিনি হাফেজ তাম্মাম আল-রাজির পিতা, তিনি এই ধরনের বর্ণনার প্রতিবাদ করে বলেছেন: "এটি গ্রহণযোগ্য নয়, বরং..."
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٠)
البويطي كان يقول: الربيع أثبت في الشافعي مني، وقد سمع أبو زرعة الرازي كتب الشافعي كلها من الربيع قبل موت البويطي بأربع سنين ". انظر التهذيب للحافظ ابن حجر (3: 246).

وقد يظن بعض القارئين أني أقسو في الرد على الدكتور، ومعاذ الله أن أقصد إلى ذلك، وهو الاخ الصادق الود، ولكن ماذا أصنع؟ وهو يرمي أوثق رواة كتب الشافعي - الربيع المرادي - بالكذب على الشافعي، ثم ينتصر لرأيه، ويسرف في ذلك، ويخونه قلمه، حتى ينقل عن الام نقلا غير صحيح، ينتهي به إلى أن يرمي الشافعي نفسه بالكذب!! فيزعم في كتابه أن عبارة " أخبرنا " لا تدل على السماع في الرواية، وأن الاخبار معناه أحيانا النقل والرأي، ثم ينقل عن الام أن الشافعي قال في (ج 1 ص 117) " أخبرنا هشيم " ويقول: " إن الشافعي لم يلق هشيما، فقد توفي هشيم ببغداد سنة 183 والشافعي إنما دخل إلى بغداد سنة 195 ". وأصل هذا الاستدراك للسراج البلقيني، وهو مذكور بحاشية الام، ولكن تعليقا، وذلك أن يروي الرجل عمن لم يلقه من الشيوخ شيئا فيذكر اسمه فقط على تقدير " قال "، أو يقول صريحا " قال فلان ". وليس بهذا بأس، بل هو أمر معروف مشهور، ولا مطعن على الراوي به. ولذلك بين البلقيني الامر، فان لكلامه بقية حذفها الدكتور، وهي: " فلكونه لم يسمع منه يقول بالتعليق: هشيم، يعني: قال هشيم ". ولكن الدكتور زكي مبارك فاته معنى هذا عند علماء المصطلح، فحذفه. ثم زاد فيما نقل عن الشافعي كلمة " أخبرنا " ليؤيد بها رأيه الذي اندفع في الاحتجاج له.

* فائدة: أخطأ السراج البلقيني في هذا الموضع، في إيهامه أن الشافعي لم يدخل بغداد إلا سنة 195 لانه ثبت أنه دخلها سنة 184 وسمع من محمد بن الحسن كثيرا من العلم. كما أخطأ أيضا في حاشية أخرى كتبها بعد هذا الموضع (الام 1: 118) عند قول الشافعي " أخبرنا ابن مهدي " قال: " هكذا وقع في نسخة الام أن الشافعي يقول: أخبرنا ابن مهدي، والشافعي لم يجتمع بابن مهدي ". ووجه الخطأ أن الشافعي وابن مهدي تعاصرا، وكلاهما دخل بغداد، والغالب أن ابن المهدي كان يدخل الحجاز، والمعروف البديهي عند علماء الحديث أن الراوي العدل إذا قال " حدثنا " أو " أخبرنا " كان الحديث متصلا، وأنه إذا قال " عن فلان " لمن ثبت لقاؤه إياه ولو مرة واحدة حمل على الاتصال أيضا، لا يخالف أحد منهم في ذلك. (انظر الرسالة رقم 1032) وإنما اختلفوا فيمن يقول " عن فلان " لشخص عاصره ولم يثبت أنه لقيه ولو مرة، فالبخاري لا يحمله على الاتصال، ومسلم وأكثر أهل العلم يجعلونه متصلا أيضا، وهو الراجح الصحيح. ولا يخالف أحد من العلماء في أن الرواي الذي يقول " حدثنا " أو " أخبرنا " لما لم يسمع فانما هو كذاب وضاع، فالشافعي الصادق الامين إذا قال " أخبرنا ابن مهدي " فقد أخبره، لا يجوز فيه غير هذا.

و (كتاب الرسالة) ألفه الشافعي مرتين. ولذلك يعده العلماء في فهرس مؤلفاته كتابين: الرسالة القديمة، والرسالة الجديدة. أما الرسالة القديمة فالراجح
আল-বুওয়াইতি বলতেন: "ইমাম শাফিঈর বর্ণনার ক্ষেত্রে রাবী' আমার চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য; আর আবু যুরআহ আর-রাযী বুওয়াইতির মৃত্যুর চার বছর আগেই রাবী'-এর নিকট থেকে শাফিঈর সমস্ত কিতাব শ্রবণ করেছেন।" হাফেজ ইবনে হাজার প্রণীত 'আত-তাহযীব' (৩: ২৪৬) দ্রষ্টব্য।

কোনো কোনো পাঠক হয়তো মনে করতে পারেন যে, আমি ডক্টরের (যাকী মুবারক) প্রতিবাদের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করছি; অথচ আল্লাহর পানাহ যে আমি এমন কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করি। তিনি একজন অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রিয় ভাই, কিন্তু আমি কী-ই বা করতে পারি? তিনি ইমাম শাফিঈর কিতাবসমূহের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী—রাবী' আল-মুরাদী—এর নামে ইমাম শাফিঈর ওপর মিথ্যাচারের অপবাদ দিচ্ছেন। এরপর তিনি নিজ মতের সমর্থনে চরম বাড়াবাড়ি করছেন এবং তার কলম এতটাই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে যে, তিনি 'আল-উম্ম' থেকে ভুল উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত স্বয়ং ইমাম শাফিঈকেই মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার পর্যায়ে নিয়ে ঠেকেছে! তিনি তার কিতাবে দাবি করেছেন যে, "আখবারানা" (তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) শব্দটি বর্ণনার ক্ষেত্রে শ্রবণের (সামা') প্রমাণ বহন করে না; বরং 'ইখবার' কখনো কখনো নিছক বর্ণনা বা অভিমত অর্থেও ব্যবহৃত হয়। অতঃপর তিনি 'আল-উম্ম' (১ম খণ্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা) থেকে উদ্ধৃত করেন যে, ইমাম শাফিঈ বলেছেন "আখবারানা হুশাইম"; আর তিনি (ডক্টর) বলেন: "ইমাম শাফিঈর সাথে হুশাইমের সাক্ষাৎ হয়নি, কারণ হুশাইম ১৮৩ হিজরীতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন আর ইমাম শাফিঈ বাগদাদে প্রথম প্রবেশ করেন ১৯৫ হিজরীতে।" এই আপত্তির মূল উৎস হলো সিরাজ আল-বুলকিনীর একটি মন্তব্য, যা 'আল-উম্ম'-এর টীকায় 'তালীক' হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। মূলত কোনো ব্যক্তি যখন এমন কোনো উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি, তখন তিনি কেবল তার নাম উল্লেখ করেন যা "তিনি বলেছেন" (ক্বলা) অর্থে ধরা হয়, অথবা স্পষ্টভাবে বলেন "অমুক বলেছেন"। এতে দোষের কিছু নেই; বরং এটি একটি সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ বিষয় এবং এর দ্বারা বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা ক্ষুণ্ণ হয় না। এ কারণেই আল-বুলকিনী বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন, কিন্তু ডক্টর তার বক্তব্যের পরবর্তী অংশটুকু বাদ দিয়ে দিয়েছেন, যা ছিল: "যেহেতু তিনি তার থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি, তাই তিনি তালীক হিসেবে বলেছেন: 'হুশাইম', অর্থাৎ: 'হুশাইম বলেছেন'।" কিন্তু ডক্টর যাকী মুবারক পরিভাষা শাস্ত্রবিদদের নিকট এর তাৎপর্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাই তিনি তা বর্জন করেছেন। অতঃপর তিনি ইমাম শাফিঈর উদ্ধৃতির সাথে "আখবারানা" শব্দটি যুক্ত করে দিয়েছেন যাতে করে তার নিজের একগুঁয়ে দাবির সপক্ষে দলিল পেশ করতে পারেন।

* জ্ঞাতব্য: সিরাজ আল-বুলকিনী এই স্থানে ভুল করেছেন এই ধারণা দিয়ে যে, ইমাম শাফিঈ ১৯৫ হিজরীর আগে বাগদাদে প্রবেশ করেননি; কারণ এটি প্রমাণিত যে তিনি ১৮৪ হিজরীতে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রাহ.)-এর নিকট থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তদ্রূপ তিনি পরবর্তী অন্য একটি টীকায়ও (আল-উম্ম ১:১১৮) ভুল করেছেন যেখানে ইমাম শাফিঈর উক্তি ছিল "আখবারানা ইবনে মাহদী"। সেখানে তিনি বলেন: "আল-উম্ম-এর পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই এসেছে যে শাফিঈ বলছেন: 'আখবারানা ইবনে মাহদী', অথচ শাফিঈর সাথে ইবনে মাহদীর সাক্ষাৎ হয়নি।" এই ভুলের কারণ হলো, ইমাম শাফিঈ ও ইবনে মাহদী সমসাময়িক ছিলেন, তাঁরা উভয়েই বাগদাদে এসেছিলেন এবং সাধারণভাবে ইবনে মাহদী হিজাজে যাতায়াত করতেন। হাদীস শাস্ত্রবিদদের নিকট এটি স্বতসিদ্ধ ও মৌলিক নিয়ম যে, একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (রাবীয়ে আদিল) যখন "হাদ্দাসানা" বা "আখবারানা" বলেন, তখন সেই হাদীসটি 'মুত্তাসিল' বা নিরবচ্ছিন্ন হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি তিনি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে "আন ফুতান" (অমুক থেকে) বলেন যার সাথে অন্তত একবার সাক্ষাৎ প্রমাণিত, তবে সেটিকেও 'ইত্তিসাল' বা নিরবচ্ছিন্ন হিসেবে ধরা হবে; এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। (দ্রষ্টব্য: আর-রিসালাহ, নং ১০৩২)। তাঁদের মধ্যে মতভেদ কেবল এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়েছে যিনি তাঁর সমসাময়িক কারো সম্পর্কে "আন ফুতান" বলেন অথচ তাঁর সাথে একবারও সাক্ষাৎ প্রমাণিত নয়। ইমাম বুখারী একে 'মুত্তাসিল' মনে করেন না, তবে ইমাম মুসলিম ও অধিকাংশ আলিম একে 'মুত্তাসিল' গণ্য করেন এবং এটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত। কিন্তু কোনো বর্ণনাকারী যা শোনেননি তা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে "হাদ্দাসানা" বা "আখবারানা" শব্দে বর্ণনা করেন, তবে তিনি যে মিথ্যাবাদী ও হাদীস জালকারী—এ বিষয়ে কোনো আলিমের দ্বিমত নেই। সুতরাং সত্যবাদী ও আমানতদার ইমাম শাফিঈ যখন বলেন "আখবারানা ইবনে মাহদী", তখন অবশ্যই তিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন; এর বাইরে অন্য কোনো ব্যাখ্যা বৈধ নয়।

এবং (কিতাবুর রিসালাহ) ইমাম শাফিঈ দুইবার রচনা করেছেন। এ কারণে আলিমগণ তাঁর গ্রন্থতালিকায় একে দুটি পৃথক কিতাব হিসেবে গণ্য করেন: প্রাচীন রিসালাহ এবং নতুন রিসালাহ। প্রাচীন রিসালাহ-এর ব্যাপারে অগ্রগণ্য মত হলো...
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١١)
عندي أنه ألفها في مكة، إذ كتب إليه عبد الرحمن بن مهدي(1) " وهو شاب أن يضع له كتابا فيه معاني القران. ويجمع قبول الاخبار فيه، وحجة الاجماع وبيان الناسخ والمنسوخ من القران والسنة. فوضع له كتاب الرسالة "(2) وقال علي بن المديني: " قلت لمحمد بن أدريس الشافعي أجب عبد الرحمن بن مهدي عن كتابه، فقد كتب إليك يسألك، وهو متشوق إلى جوابك. قال:

فأجابه الشافعي، وهو كتاب الرسالة التي كتبت عنه بالعراق، وإنما هي رسالته إلى عبد الرحمن بن مهدي "(3). وأرسل الكتاب إلى ابن مهدي مع الحرث بن سريج النقال الخوارزمي ثم البغدادي، وبسبب ذلك سمي " النقال "(4).

والظاهر عندي أن عبد الرحمن بن مهدي كان إذ ذلك في بغداد، دخلها سنة 180، ولكن الفخر الرازي يقول في كتاب مناقب الشافعي (ص 57):

" اعلم أن الشافعي رضى الله عنه صنف كتاب الرسالة ببغداد، ولما رجع إلى مصر أعاد تصنيف كتاب الرسالة، وفي كل واحد منهما علم كثير ". وأياما كان فقد ذهبت الرسالة القديمة، وليس في أيدي الناس الان إلا الرسالة الجديدة، وهي هذا الكتاب. وقد تبين لنا من استقراء كتب الشافعي الموجودة التي ألف بمصر أنه ألف هذه الكتب من حفظه، ولم تكن كتبه كلها معه. انظر إليه يقول في كتاب الرسالة (رقم 1184). " وغاب عني بعض كتبي، وتحققت بما يعرفه أهل العلم مما حفظت، فاختصرت خوف طول الكتاب، فأتيت
(1) عبد الرحمن بن مهدي الحافظ الامام العلم، قال الشافعي: لا أعرف له نظيرا في الدنيا.

ولد سنة 135 ومات في جمادي الاخرة سنة 198.

(2) رواه الخطيب باسناده في تاريخ بغداد (2: 64 - 65) وسيأتي في السماعات برقم (52) ورواه أيضا البيهقي باسناده، نقله عنه ياقوت في معجم الادباء (6: 388 - 389).

(3) رواه الحافظ ابن عبد البر باسناده في الانتقاء (ص 72 - 73).

(4) الانتقاء (ص 72) والانساب (ورقة 576) وطبقات الشافعية (1: 249).
আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এটি মক্কায় রচনা করেছিলেন। কেননা, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী(১)—যখন তিনি যুবক ছিলেন—তাঁকে লিখেছিলেন যেন তিনি তাঁর জন্য এমন একটি কিতাব রচনা করেন যাতে কুরআনের অর্থসমূহ বিধৃত হবে। আর তাতে হাদীস গ্রহণের নীতিমালা, ইজমার প্রামাণ্যতা এবং কুরআন ও সুন্নাহর নাসিখ-মানসূখ (রহিতকারী ও রহিত) এর বর্ণনা সংকলিত হবে। অতঃপর তিনি তাঁর জন্য ‘আর-রিসালাহ’ কিতাবটি রচনা করেন(২)। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন: “আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিঈকে বললাম, আপনি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর চিঠির উত্তর দিন, কারণ তিনি আপনাকে জিজ্ঞাসা করে চিঠি লিখেছেন এবং তিনি আপনার উত্তরের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। তিনি বললেন:

অতঃপর শাফিঈ তাঁকে উত্তর প্রদান করেন, আর এটিই সেই ‘আর-রিসালাহ’ কিতাব যা ইরাকে তাঁর থেকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, এবং এটি মূলত আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর নিকট তাঁর প্রেরিত পত্র”(৩)। তিনি কিতাবটি আল-হারিস ইবনে সুরাইজ আন-নাক্কাল আল-খাওয়ারিজমী (পরবর্তীতে আল-বাগদাদী) এর মাধ্যমে ইবনে মাহদীর নিকট পাঠিয়েছিলেন, আর এ কারণেই তাঁকে ‘আন-নাক্কাল’ (বাহক) বলা হয়(৪)।

আমার নিকট স্পষ্ট যে, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী তখন বাগদাদে ছিলেন; তিনি ১৮০ হিজরীতে সেখানে প্রবেশ করেন। তবে ফখর রাযী ‘মানাকিবুশ শাফিঈ’ গ্রন্থে (পৃ. ৫৭) বলেন:

“জেনে রাখুন যে, শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বাগদাদে ‘আর-রিসালাহ’ কিতাবটি রচনা করেছিলেন। অতঃপর যখন তিনি মিশরে ফিরে যান, তখন তিনি পুনরায় ‘আর-রিসালাহ’ কিতাবটি রচনা করেন এবং এই দুইটির প্রত্যেকটিতেই প্রচুর জ্ঞান রয়েছে।” যাই হোক না কেন, পুরাতন ‘রিসালাহ’ হারিয়ে গেছে এবং বর্তমানে মানুষের নিকট কেবল নতুন ‘রিসালাহ’ বিদ্যমান রয়েছে, যা হলো এই কিতাবটি। মিশরে রচিত ইমাম শাফিঈর বিদ্যমান কিতাবসমূহ পর্যালোচনায় আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি এই কিতাবগুলো তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে রচনা করেছিলেন এবং তাঁর সমস্ত কিতাব তাঁর সাথে ছিল না। দেখুন, তিনি ‘আর-রিসালাহ’ কিতাবে (নম্বর ১১৮৪) বলছেন: “আমার কিছু কিতাব আমার নিকট থেকে অনুপস্থিত ছিল, তাই আমি আমার মুখস্থ থাকা বিষয়গুলো থেকে ইলম অন্বেষণকারীদের পরিচিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছি। অতঃপর কিতাব দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমি সংক্ষেপ করেছি এবং পেশ করেছি...
(১) আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী: হাফিয, ইমাম এবং প্রথিতযশা আলেম। শাফিঈ বলেন: পৃথিবীতে তাঁর কোনো সমকক্ষ আছে বলে আমার জানা নেই।

তিনি ১৩৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) খতীব তাঁর সনদসহ ‘তারীখে বাগদাদ’ (২: ৬৪-৬৫) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি সামনে ‘আস-সামাআত’ অধ্যায়ে ৫২ নম্বরে আসবে। ইমাম বায়হাকীও তাঁর সনদসহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইয়াকুত তাঁর ‘মুজামুল উদাবা’ (৬: ৩৮৮-৩৮৯) গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(৩) হাফিয ইবনে আব্দুল বার তাঁর সনদসহ ‘আল-ইনতিকা’ (পৃ. ৭২-৭৩) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) ‘আল-ইনতিকা’ (পৃ. ৭২), ‘আল-আনসাব’ (পত্রাঙ্ক ৫৭৬) এবং ‘তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ’ (১: ২৪৯)।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٢)
ببعض ما فيه الكفاية، دون تقصي العلم في كل أمره ". ويقول في كتاب اختلاف الحديث (ص 252): " وقد حدثني الثقة أن الحسن كان يدخل بينه وبين عبادة حطان الرقاشي، ولا أدري أدخله عبد الوهاب بينهما فزال من كتابي حين حولته من الاصل أم لا؟ والاصل يوم كتبت هذا الكتاب غائب عني ".

والظاهر عندي أيضا أنه أعاد تأليف كتاب الرسالة بعد تأليف أكثر كتبه التي في (الام)، لانه يشير كثيرا في الرسالة إلى مواضع مما كتب هناك، فيقول مثلا (رقم 1173): " وقد فسرت هذا الحديث قبل هذا الموضع ". وهذه إشارة إلى ما في الام (6: 77).

والراجح أنه أملى (كتاب الرسالة) على الربيع إملاء، كما يدل على ذلك قوله في (337): " فخفف فقال: علم أن سيكون منكم مرضى. قرأ إلى: فاقرؤا ما تيسر منه ". فالذي يقول " قرأ " هو الربيع، يسمع الاملاء ويكتب، فإذا بلغ إلى آية من القران كتب بعضها ثم يقول " الاية " أو " إلى كذا "، فيذكر ما سمع الانتهاء إليه منها، ولكن هنا صرح بأن الشافعي قرأ إلى قوله " فاقرؤا ما تيسر منه ".

والشافعي لم يسم " الرسالة " بهذا الاسم، إنما يسميها (الكتاب) أو يقول " كتابي " أو " كتابنا ". وانظر الرسالة (رقم 96، 418، 420، 573، 625، 709، 953) وكذلك يقول في كتاب (جماع العلم) مشيرا إلى الرسالة " وفيما وصفنا ههنا وفي (الكتاب) قبل هذا ". (الام 7: 253). ويظهر أنها سميت " الرسالة " في عصره، بسبب إرساله إياها لعبد الرحمن بن مهدي(1).
(1) وقد غلبت عليها هذه التسمية، ثم غلبت كلمة " رسالة " في عرف المتأخرين على كل كتاب صغير الحجم، مما كان يسميه المتقدمون " جزءا ". فهذا العرف الاخير غير جيد، لان " الرسالة " من " الارسال ".
"...এর মাধ্যমে যতটুকু যথেষ্ট হবে ততটুকুই বর্ণনা করেছেন, প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞানের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ব্যতিরেকেই।" এবং তিনি 'ইখতিলাফুল হাদিস' গ্রন্থে (পৃ. ২৫২) বলেন: "এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাসান (বসরি) তাঁর এবং উবাদার মাঝে হিত্তান আর-রাকাশীকে মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করতেন। আমি জানি না যে, আব্দুল ওয়াহহাব তাঁদের দুজনের মাঝে তাঁর (হিত্তানের) নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন কি না, যার ফলে আমি যখন মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি নকল করি তখন তা আমার কিতাব থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। আর যখন আমি এই কিতাবটি লিখেছিলাম, তখন মূল পাণ্ডুলিপিটি আমার কাছে ছিল না।"

আমার নিকট এটিও সুস্পষ্ট যে, তিনি তাঁর 'আল-উম্ম' গ্রন্থের অধিকাংশ কিতাব রচনার পর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থটি পুনরায় সংকলন করেছেন। কারণ তিনি 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে অনেক স্থানে সেখানে (আল-উম্মে) যা লিখেছিলেন তার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলেন (নম্বর ১১৭৩): "আমি এই হাদিসটির ব্যাখ্যা এই স্থানের আগেই প্রদান করেছি।" আর এটি মূলত 'আল-উম্ম' (৬: ৭৭) গ্রন্থের প্রতি একটি ইঙ্গিত।

প্রবল ধারণা এই যে, তিনি আর-রাবি'র নিকট 'কিতাবুর রিসালাহ' শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছিলেন (ইমলা করিয়েছিলেন), যেমনটি (৩৩৭)-এ তাঁর উক্তি থেকে প্রমাণিত হয়: "অতঃপর তিনি লঘু করেছেন এবং বলেছেন: 'তিনি জানেন যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে'। তিনি পাঠ করেছেন: 'অতএব তোমরা তা থেকে যতটুকু সহজসাধ্য ততটুকু পাঠ করো' পর্যন্ত।" এখানে যিনি 'তিনি পাঠ করেছেন' বলেছেন, তিনি হলেন রাবি'। তিনি শ্রুতিলিখন শুনতেন এবং লিখতেন। অতঃপর যখন কুরআনের কোনো আয়াতে পৌঁছাতেন, তখন তার কিয়দাংশ লিখতেন এবং বলতেন 'আয়াত' অথবা 'এই পর্যন্ত'। এভাবে তিনি শ্রবণকৃত শেষ অংশটি উল্লেখ করতেন। কিন্তু এখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শাফেয়ী 'অতএব তোমরা তা থেকে যতটুকু সহজসাধ্য ততটুকু পাঠ করো' পর্যন্ত তিলাওয়াত করেছেন।

ইমাম শাফেয়ী স্বয়ং 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের এই নামকরণ করেননি। বরং তিনি একে 'আল-কিতাব' বলতেন অথবা বলতেন 'আমার কিতাব' কিংবা 'আমাদের কিতাব'। দেখুন: আর-রিসালাহ (নম্বর ৯6, ৪১৮, ৪২০, ৫৭৩, ৬২৫, ৭০৯, ৯৫৩)। অনুরূপভাবে তিনি 'জিমউল ইলম' গ্রন্থে আর-রিসালাহ'র দিকে ইঙ্গিত করে বলেন: "এখানে আমরা যা বর্ণনা করেছি এবং এর পূর্বে 'আল-কিতাব'-এ যা বর্ণনা করেছি।" (আল-উম্ম ৭: ২৫৩)। প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর যুগেই এটি 'আর-রিসালাহ' নামে পরিচিতি লাভ করেছিল, কারণ তিনি এটি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর নিকট প্রেরণ করেছিলেন(১)।
(১) এই নামটিই এর ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। পরবর্তীতে পরবর্তীকালের আলিমদের পরিভাষায় 'রিসালাহ' শব্দটি প্রতিটি ক্ষুদ্রকায় গ্রন্থের জন্য প্রচলিত হয়ে পড়ে, যাকে পূর্ববর্তীগণ 'জুয' (অংশ) বলতেন। এই শেষের পরিভাষাটি যথার্থ নয়; কারণ 'রিসালাহ' শব্দটি 'ইরসাল' (প্রেরণ করা) থেকে উদ্ভূত।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٣)
وهذا كتاب (الرسالة) أول كتاب ألف في (أصول الفقه) بل هو أول كتاب ألف في (أصول الحديث) أيضا. قال الفخر الرازي في مناقب الشافعي (ص 57): " كانوا قبل الامام الشافعي يتكلمون في مسائل أصول الفقه، ويستدلون ويعترضون، ولكن ما كان لهم قانون كلي مرجوع إليه في معرفة دلائل الشريعة، وفي كيفية معارضاتها وترجيحاتها، فاستنبط الشافعي علم أصول الفقه، ووضع للخلق قانونا كليا يرجع إليه في معرفة مراتب أدلة الشرع.

فثبت أن نسبة الشافعي إلى علم الشرع كنسبة أرسطا طاليس إلى علم العقل ".

وقال بدر الدين الزركشي في كتاب البحر المحيط في الاصول (مخطوط): " الشافعي أول من صنف في أصول الفقه، صنف فيه كتاب الرسالة، وكتاب أحكام القران، واختلاف الحديث، وإبطال الاستحسان، وكتاب جماع العلم، وكتاب القياس ". وأقول: إن أبواب الكتاب ومسائله، التي عرض الشافعي فيها للكلام على حديث الواحد والحجة فيه، وإلى شروط صحة الحديث وعدالة الرواة، ورد الخبر المرسل والمنقطع، إلى غير ذلك مما يعرف من الفهرس العلمي في آخر الكتاب -: هذه المسائل عندي أدق وأغلى ما كتب العلماء في أصول الحديث، بل إن المتفقه في علوم الحديث يفهم أن ما كتب بعده إنما هو فروع منه، وعالة عليه، وأنه جمع ذلك وصنفه على غير مثال سبق، لله أبوه.

و (كتاب الرسالة) بل كتب الشافعي أجمع، كتب أدب ولغة وثقافة، قبل أن تكون كتب فقه وأصول، ذلك أن الشافعي لم تهجنه عجمة، ولم تدخل على لسانه لكنة، ولم تحفظ عليه لحنة أو سقطة. قال عبد الملك بن هشام النحوي صاحب السيرة: " طالت مجالستنا للشافعي فما سمعت منه لحنة قط، ولا كلمة غيرها أحسن منها ". وقال أيضا: " جالست الشافعي زمانا، فما
এবং এই (আর-রিসালাহ) গ্রন্থটি হলো 'উসূলে ফিকহ' বা ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ; শুধু তাই নয়, এটি 'উসূলে হাদীস' বা হাদীসশাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়েও রচিত প্রথম গ্রন্থ। ইমাম ফখরুল রাযী 'মানাকিবে শাফিয়ী' (পৃষ্ঠা ৫৭) গ্রন্থে বলেন: "ইমাম শাফিয়ীর পূর্বে লোকজন উসূলে ফিকহের মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা করতেন, দলিল পেশ করতেন এবং আপত্তি উত্থাপন করতেন, কিন্তু শরীয়তের দলিলসমূহ অনুধাবন এবং সেগুলোর পারস্পরিক বৈপরীত্য ও অগ্রাধিকার প্রদানের পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাদের কাছে কোনো সর্বজনীন মূলনীতি ছিল না যা থেকে তারা দিকনির্দেশনা নিতে পারেন। অতঃপর শাফিয়ী 'উসূলে ফিকহ' শাস্ত্রটি উদ্ভাবন করেন এবং সৃষ্টির জন্য একটি সর্বজনীন মূলনীতি প্রণয়ন করেন, যা শরীয়তের দলিলের স্তরবিন্যাস জানার জন্য পাথেয় হিসেবে কাজ করে।

সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, শরয়ী বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে শাফিয়ীর অবদান তদ্রূপ, যেমন যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে এরিস্টটলের অবদান।"

বদরুদ্দীন যারকাশী উসূল বিষয়ক 'আল-বাহরুল মুহীত' (পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে বলেন: "শাফিয়ী হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি উসূলে ফিকহ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি এই বিষয়ে কিতাবুর রিসালাহ, আহকামুল কুরআন, ইখতিলাফুল হাদীস, ইবতালুল ইস্তিহসান, কিতাবু জিমাউল ইলম এবং কিতাবুল কিয়াস রচনা করেছেন।" আমি বলছি: এই গ্রন্থের অধ্যায় ও মাসআলাসমূহ—যেখানে শাফিয়ী ‘খবরে ওয়াহিদ’ (একক সূত্রীয় হাদীস) ও এর প্রামাণিকতা, হাদীস সহীহ হওয়ার শর্তাবলি, রাবীদের ন্যায়পরায়ণতা, এবং মুরসাল ও মুনকাতি হাদীস প্রত্যাখ্যান করার মতো বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন (যা গ্রন্থের শেষের বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট থেকে জানা যায়)—আমার দৃষ্টিতে উসূলে হাদীস বা হাদীসের মূলনীতি বিষয়ে আলেমদের লেখা সর্বাধিক সূক্ষ্ম ও মূল্যবান আলোচনা। এমনকি উলূমুল হাদীসে পারদর্শী যে কেউ বুঝতে পারবেন যে, তার পরে যা কিছু লেখা হয়েছে তা মূলত এরই শাখা এবং তার ওপর নির্ভরশীল। তিনি পূর্ববর্তী কোনো নমুনা ছাড়াই এগুলো একত্রিত ও বিন্যস্ত করেছেন; তাঁর এই অনন্য কীর্তি কতই না বিস্ময়কর!

আর (কিতাবুর রিসালাহ) বরং ইমাম শাফিয়ীর সকল রচনাই হলো ফিকহ ও উসূলে ফিকহের গ্রন্থ হওয়ার আগে সাহিত্য, ভাষা এবং সংস্কৃতির গ্রন্থ। কেননা শাফিয়ীর ভাষায় অনারবীয় প্রভাবের কোনো ত্রুটি ছিল না, তাঁর জবানিতে কোনো জড়তা প্রবেশ করেনি এবং তাঁর বক্তব্যে কোনো ব্যাকরণগত ভুল বা পদস্খলন পরিলক্ষিত হয়নি। সীরাত বিশেষজ্ঞ ও বৈয়াকরণ আব্দুল মালিক বিন হিশাম বলেন: "শাফিয়ীর সাথে আমাদের দীর্ঘকাল সাহচর্য ছিল, কিন্তু আমি কখনো তাঁর কাছ থেকে কোনো ব্যাকরণগত ভুল শুনিনি, অথবা এমন কোনো শব্দ শুনিনি যার পরিবর্তে অন্য কোনো শব্দ অধিকতর সুন্দর হতে পারতো।" তিনি আরও বলেন: "আমি দীর্ঘকাল শাফিয়ীর সান্নিধ্যে ছিলাম, অতঃপর আমি..."
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٤)
سمعته تكلم بكلمة إلا إذا أعتبرها المعتبر لا يجد كلمة في العربية أحسن منها ".

وقال أيضا: " الشافعي كلامه لغة يحتج بها ". وقال الزعفراني: " كان قوم من أهل العربية يختلفون إلى مجلس الشافعي معنا، ويجلسون ناحية، فقلت لرجل من رؤسائهم: إنكم لا تتعاطون العلم فلم تختلفون معنا؟ قالوا: نسمع لغة الشافعي ".

وقال الاصمعي: " صححت أشعار هذيل على فتى من قريش، يقال له محمد بن إدريس الشافعي ". وقال ثعلب: " العجب أن بعض الناس يأخذون اللغة عن الشافعي، وهو من بيت اللغة! والشافعي يجب أن يؤخذ منه اللغة، لا أن يؤخذ عليه اللغة ". يعني يجب أن يحتجوا بألفاظه نفسها، لا بما نقله فقط. وكفى بشهادة الجاحظ في أدبه وبيانه(1)، يقول: " نظرت في كتب هؤلاء النبغة(2) الذين نبغوا في العلم، فلم أر أحسن تأليفا من المطلبي، كأن لسانه ينظم الدر ".

فكتبه كلها مثل رائعة من الادب العربي النقي، في الذروة العليا من البلاغة، يكتب على سجيته، ويملي بفطرته، لا يتكلف ولا يتصنع، أفصح نثر تقرؤه بعد القران والحديث، لا يساميه قائل، ولا يدانيه كاتب.

وإني أرى أن هذا الكتاب (كتاب الرسالة) ينبغي أن يكون من الكتب المقروءة في كليات الازهر وكليات الجامعة، وأن تختار منه فقرات لطلاب الدراسة الثانوية في المعاهد والمدارس، ليفيدوا من ذلك علما بصحة النظر وقوة الحجة، وبيانا لا يرون مثله في كتب العلماء وآثار الادباء.

وقد عني أئمة العلماء السابقين بشرح هذا الكتاب، كما ظهر لنا من
(1) الجاحظ صنو الشافعي، ولد في أول سنة 150 التي ولد فيها الشافعي، وعمر نحوا من ضعفي عمره، مات في المحرم سنة 255.

(2) " نبغة القوم " بفتح النون والباء: وسطهم.
"আমি তাঁকে কথা বলতে শুনেছি; কোনো বিচার-বিশ্লেষণকারী যখনই তাঁর শব্দগুলো নিয়ে চিন্তা করতেন, তিনি আরবি ভাষায় তার চেয়ে উত্তম কোনো শব্দ খুঁজে পেতেন না।"

তিনি আরও বলেন: "শাফিঈর কথা এমন এক ভাষা যা দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য।" যাফরানী বলেন: "আরবি ভাষাবিদদের একদল লোক আমাদের সাথে শাফিঈর মজলিসে আসতেন এবং একপাশে গিয়ে বসতেন। আমি তাঁদের একজন নেতাকে বললাম: আপনারা তো ইলম (ফিকহ ও হাদীস) চর্চা করেন না, তবে কেন আমাদের সাথে এখানে যাতায়াত করেন? তাঁরা বললেন: আমরা শাফিঈর ভাষা শোনার জন্য আসি।"

আসমাঈ বলেন: "আমি হুযাইল গোত্রের কাব্যসমূহ কুরাইশ বংশীয় এক যুবকের মাধ্যমে যাচাই ও সংশোধন করে নিয়েছি, যাকে মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ বলা হয়।" ছালাব বলেন: "আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু মানুষ শাফিঈর থেকে ভাষা আহরণ করে, অথচ তিনি নিজেই তো ভাষার মূল খনি! শাফিঈর থেকে ভাষা গ্রহণ করা উচিত, তাঁর ভাষার ওপর কোনো আপত্তি তোলা উচিত নয়।" অর্থাৎ তাঁর ব্যবহৃত শব্দাবলিকেই দলিল হিসেবে গ্রহণ করা উচিত, কেবল তাঁর বর্ণিত বিষয়গুলো নয়। তাঁর সাহিত্য ও বাগ্মিতা সম্পর্কে আল-জাহিজের সাক্ষ্যই যথেষ্ট(১), তিনি বলেন: "আমি সেইসব ক্ষণজন্মা প্রতিভাধরদের(২) কিতাবসমূহ দেখেছি যারা ইলমের ময়দানে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন, কিন্তু মুত্তালিবীর (শাফিঈ) চেয়ে উত্তম রচনাশৈলী আমি আর দেখিনি; মনে হয় যেন তাঁর জবান মুক্তো গেঁথে চলেছে।"

তাঁর সকল গ্রন্থই বিশুদ্ধ আরবি সাহিত্যের এক অনন্য নিদর্শন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থিত। তিনি তাঁর স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে লেখেন এবং সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই বর্ণনা করেন; এতে কোনো কৃত্রিমতা বা লৌকিকতা নেই। কুরআন ও হাদীসের পর এটিই সবচেয়ে সাবলীল গদ্য যা আপনি পাঠ করবেন; কোনো বক্তা তাঁর সমকক্ষ নয় এবং কোনো লেখক তাঁর ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারে না।

আমার অভিমত এই যে, এই কিতাবটি (কিতাবুর রিসালাহ) আল-আজহার ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এখান থেকে কিছু অনুচ্ছেদ নির্বাচন করা উচিত, যাতে তারা এর মাধ্যমে সঠিক পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও যুক্তির বলিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে এবং এমন বাগ্মিতা শিখতে পারে যার নজির তারা আলেমদের কিতাব বা সাহিত্যিকদের রচনায় খুঁজে পাবে না।

পূর্ববর্তী বরেণ্য ইমামগণ এই কিতাবের ব্যাখ্যা প্রদানে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমনটি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে
(১) আল-জাহিজ ছিলেন শাফিঈর সমসাময়িক; তিনি ১৫০ হিজরির শুরুতে জন্মগ্রহণ করেন যে বছর শাফিঈ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি শাফিঈর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আয়ু পেয়েছিলেন এবং ২৫৫ হিজরির মহররম মাসে ইন্তেকাল করেন।

(২) 'নাবগাতুল কওম' (নুন ও বা-এর উপর ফাতহাহ যোগে): অর্থাৎ তাদের মধ্যমণি বা শ্রেষ্ঠ অংশ।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٥)
تراجم بعضهم ومن كتاب (كشف الظنون)، والذين عرفت أنهم شرحوه خمسة نفر:

1 - أبو بكر الصديق محمد بن عبد الله، كان يقال: إنه أعلم خلق الله بالاصول بعد الشافعي، تفقه على ابن سريج، مات سنة 330 ذكر شرحه في كشف الظنون وطبقات الشافعية (2: 169 - 170) والزركشي في خطبة البحر.

2 - أبو الوليد النيسابوري الامام الكبير حسان بن محمد بن أحمد بن هارون القرشي الاموي، تلميذ ابن سريج، وشيخ الحاكم أبي عبد الله، وصاحب المستخرج على صحيح مسلم، ولد بعد سنة 270 ومات ليلة الجمعة 5 ربيع الاول سنة 349 (الطبقات 2: 191 - 192) ولم يذكر شرحه، وذكره الزركشي وكشف الظنون.

3 - القفال الكبير الشاشي، محمد بن علي بن إسماعيل، ولد سنة 291 ومات في آخر سنة 365 ذكره الزركشي وكشف الظنون والطبقات (2: 176 - 178).

4 - أبو بكر الجوزقي النيسابوري الامام الحافظ محمد بن عبد الله الشيباني، تلميذ الاصم وأبي نعيم، وشيخ الحاكم أبي عبد الله، وصاحب المسند على صحيح مسلم، مات في شوال سنة 388 وله 82 سنة (الطبقات 2: 169) ولم يذكر شرحه، وذكره كشف الظنون.

5 - أبو محمد الجويني الامام، عبد الله بن يوسف، والد إمام الحرمين، مات سنة 438 (الطبقات 3: 208 - 219) ولم يذكر الشرح، وذكره الزركشي وكشف الظنون.

ولعل غيرهم شرحه ولم يصل خبره إلي. ولكن هذه الشروح التي عرفنا أخبارها لم أسمع عن وجود شرح منها في أية مكتبة من مكاتب العالم في هذا العصر.

نسخ الكتاب لم أر نسخة مخطوطة من (كتاب الرسالة) إلا أصل الربيع ونسخة ابن جماعة. ولكنا نجد في السماعات - التي سيراها القارئ - أن أكثر الشيوخ وكثيرا من السامعين كانت لهم نسخ يصححونها على أصل الربيع، وأن نسخة ابن جماعة قوبلت على أصول مخطوطة عديدة، فأين ذهبت كل هذه الاصول؟! لا أدري.

وقد طبع الكتاب في مصر ثلاث مرات:
তাদের কয়েকজনের জীবনী এবং ‘কাশফুয যুনুন’ গ্রন্থ হতে [জানা যায়], যারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি তারা হলেন পাঁচজন:

১ - আবু বকর আস-সিদ্দিক মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ; বলা হতো যে, তিনি ইমাম শাফেয়ির পর উসুল বা মূলনীতিশাস্ত্রে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। তিনি ইবনে সুরাইজের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ৩৩০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের কথা ‘কাশফুয যুনুন’, ‘তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ’ (২: ১৬৯-১৭০) এবং যারকাশি তার ‘খুতবাতুল বাহর’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

২ - আবুল ওয়ালিদ আন-নিসাবুরি, মহান ইমাম হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হারুন আল-কুরাশি আল-উমাবি। তিনি ইবনে সুরাইজের ছাত্র এবং হাকেম আবু আবদুল্লাহর উস্তাদ। তিনি ‘আল-মুস্তাখরাজ আলা সহিহ মুসলিম’-এর রচয়িতা। তিনি ২৭০ হিজরির পর জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৪৯ হিজরির ৫ই রবিউল আউয়াল শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেন (তাবাকাত ২: ১৯১-১৯২)। সেখানে তার ব্যাখ্যাগ্রন্থের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে যারকাশি এবং ‘কাশফুয যুনুন’-এ তা উল্লেখ করা হয়েছে।

৩ - আল-কাফফাল আল-কাবির আশ-শাশি, মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে ইসমাইল। তিনি ২৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৬৫ হিজরির শেষভাগে ইন্তেকাল করেন। যারকাশি, ‘কাশফুয যুনুন’ এবং ‘তাবাকাত’ (২: ১৭৬-১৭৮) গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৪ - আবু বকর আল-জাওযাকি আন-নিসাবুরি, ইমাম ও হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শায়বানি। তিনি আসিম ও আবু নুয়াইমের ছাত্র এবং হাকেম আবু আবদুল্লাহর উস্তাদ। তিনি ‘আল-মুসনাদ আলা সহিহ মুসলিম’-এর রচয়িতা। তিনি ৩৮৮ হিজরির শাওয়াল মাসে ৮২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (তাবাকাত ২: ১৬৯)। সেখানে তার ব্যাখ্যাগ্রন্থের কথা উল্লেখ নেই, তবে ‘কাশফুয যুনুন’-এ তা উল্লেখ করা হয়েছে।

৫ - আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি, ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ। তিনি ইমামুল হারামাইনের পিতা। তিনি ৪৩৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (তাবাকাত ৩: ২০৮-২১৯)। সেখানে তার ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে যারকাশি এবং ‘কাশফুয যুনুন’-এ তা উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভবত আরও অনেকে এটি ব্যাখ্যা করেছেন যার সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেনি। তবে যেসব ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংবাদ আমরা জানতে পেরেছি, বর্তমান যুগে বিশ্বের কোনো গ্রন্থাগারেই সেগুলোর কোনো একটির অস্তিত্ব সম্পর্কে আমি শুনিনি।

গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ: আমি ‘কিতাবুর রিসালা’-এর কোনো পাণ্ডুলিপি দেখিনি কেবল রাবি-এর মূল কপি এবং ইবনে জামাআ-এর কপি ছাড়া। কিন্তু আমরা শ্রবণ-সনদসমূহে (সামা’আত) —যা পাঠক পরবর্তীতে দেখতে পাবেন— দেখতে পাই যে, অধিকাংশ শায়খ এবং অনেক শ্রোতার কাছেই নিজস্ব কপি ছিল যা তারা রাবি-এর মূল কপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করে নিতেন। এছাড়া ইবনে জামাআ-এর কপিটিও বহু পাণ্ডুলিপির মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছিল। তাহলে সেই সব মূল কপিগুলো কোথায় গেল?! আমি জানি না।

গ্রন্থটি মিশরে তিনবার মুদ্রিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٦)
1 - الاولى بالمطبعة العلمية سنة 1312 بتصحيح (يوسف صالح محمد الجزماوي)، في (160 صفحة) بقطع الثمن، وهي طبعة مملوءة بالاغلاط. وهي التي نشير إليها بحرف (ج).

2 - الثانية بالمطبعة الشرفية سنة 1315 في (144 صفحة) بقطع الربع، وقد طبعت عن أصل الربيع بالواسطة، نقلها أولا (محمد مصطفى الكاتب بالكتبخانة الخديوية سنة 1308 ثم نسخت عنها نسخة فرغ منها كاتبها (في يوم الاحد 14 صفر سنة 1310) على ذمة ناشرها (الشيخ سليم سيد أحمد أبراهيم شرارة القباني)، وهذه النسخة أقل من سابقتها أغلاطا في الجزء الاول من تقسيم الربيع، ثم يظهر أن مصححها عارض بنسخ أخرى أو بالطبعة السابقة، فكثرت مخالفته لاصل الربيع، وكثرت فيها الاغلاط، ولكن ميزتها أن فيها كل السماعات التي على الاصل، وإن أخطأ الناسخ في قراءة كثير منها، وهو في ذلك معذور.

وهي التي نشير إليها بحرف (ش).

3 - الثالثة بمطبعة بولاق سنة 1321 عل نفقة السيد أحمد بك الحسيني المحامي رحمه الله، في (82 صفحة) بالقطع الكبير، وهي مملوءة بالاغلاط أيضا، ومخالفة في كثير من المواضع لاصل الربيع، ولا أدري عن أي النسخ طبعت، وإن كنت أظن أن مصححي مطبعة بولاق رجعوا كثيرا إلى نسخة ابن جماعة. وهي التي نشير إليها بحرف (ب).

وقد ذكرنا في تعليقنا على الرسالة مواضع مخالفة هذه النسخ للاصل، ليكون القارئ على بينة من أمرها، فلا يظن أننا أخطأنا في مخالفتها، أو قصرنا في المقابلة، وليوقن أن هذه الطبعة أصح الطبعات وأجودها.

ويجمل بي في هذه المناسبة أن أنوه بفضل إخواني (أنجال المرحوم السيد مصطفى البابي الحلبي) إذ ساروا على الخطة المثلى، خطة أبيهم رحمه الله، في إحياء الكتب العربية القيمة، وإخراجها للناس تملا العين وتسر القلب، محافظين على آثار سلفنا الصالح رضي الله عنهم، فبذلوا ما بذلوا من جهد ومال، في سبيل إخراج هذا الكتاب، فكان لي من تشجيعهم وأناتهم عون كبير في تحقيقه وشرحه، حتى سلخت في ذلك نحو ثلاث سنين، والحمد لله على توفيقه.
১ - প্রথমটি আল-মাতবাআতুল ইলমিয়্যাহ কর্তৃক ১৩১২ হিজরীতে (ইউসুফ সালিহ মুহাম্মাদ আল-জাযমাউয়ি)-র সম্পাদনায় ১৬০ পৃষ্ঠায় অক্টাভো সাইজে প্রকাশিত হয়; এটি ভুলে ভরপুর একটি সংস্করণ। আমরা এটিকে 'জিম' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

২ - দ্বিতীয়টি ১৩১৫ হিজরীতে আল-মাতবাআতুশ শারাফিয়্যাহ থেকে ১৪৪ পৃষ্ঠায় কোয়ার্টার সাইজে প্রকাশিত হয়। এটি মূল রাবি’ পাণ্ডুলিপি থেকে পরোক্ষভাবে মুদ্রিত হয়েছে। প্রথমে ১৩০৮ হিজরীতে কুতুবখানা আল-খাদিবিয়্যাহর লেখক (মুহাম্মাদ মুস্তফা) এটি নকল করেন, অতঃপর তা থেকে আরেকটি অনুলিপি তৈরি করা হয় যার কাজ অনুলিপিকারক (১৩১০ হিজরীর ১৪ই সফর, রবিবার) সম্পন্ন করেন। এর প্রকাশক ছিলেন (শায়খ সালিম সাইয়্যিদ আহমাদ ইবরাহিম শারারা আল-কাব্বানি)। এই অনুলিপিটির প্রথম অংশে রাবি’র বিন্যাস অনুযায়ী পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় ভুল কম। তবে পরবর্তীতে প্রতীয়মান হয় যে, এর সম্পাদক অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি বা পূর্ববর্তী মুদ্রিত সংস্করণের সাথে এটি মিলিয়েছেন, ফলে রাবি’র মূল পাঠের সাথে এর বৈসাদৃশ্য ও ভুল উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর বিশেষত্ব হলো, এতে মূল পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান সকল 'সামাআত' (শ্রবণ সনদ) রয়েছে, যদিও অনুলিপিকারক সেগুলোর অনেকগুলো পাঠ করতে ভুল করেছেন, আর এ ক্ষেত্রে তিনি ক্ষমার যোগ্য।

আমরা এটিকে 'শিন' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

৩ - তৃতীয়টি বুলাক প্রেস থেকে ১৩২১ হিজরীতে আইনজীবী মরহুম সাইয়্যিদ আহমাদ বেগ আল-হুসাইনির অর্থায়নে বড় সাইজে ৮২ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। এটিও ভুলে পরিপূর্ণ এবং অনেক স্থানে রাবি’র মূল পাঠের বিরোধী। এটি কোন পাণ্ডুলিপি থেকে মুদ্রিত হয়েছে তা আমার জানা নেই, তবে আমার ধারণা বুলাক প্রেসের সম্পাদকগণ ইবনে জামাআ’র অনুলিপির ওপর অধিক নির্ভর করেছেন। আমরা এটিকে 'বা' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

আমরা আমাদের টীকায় এই সংস্করণগুলোর মূল পাঠের সাথে বৈসাদৃশ্যের স্থানগুলো উল্লেখ করেছি যাতে পাঠক এ বিষয়ে সম্যক অবগত থাকেন। পাঠক যেন মনে না করেন যে, আমরা মূলের বিরোধিতা করে ভুল করেছি কিংবা পাঠ-তুলনায় (মুকাবালাহ) অবহেলা করেছি; বরং তিনি যেন নিশ্চিত হন যে, এই সংস্করণটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও উন্নত।

এই সুযোগে আমার ভাইদের (মরহুম সাইয়্যিদ মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবির সন্তানগণ) অবদানের কথা উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় মনে করছি; যেহেতু তাঁরা তাঁদের মরহুম পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মূল্যবান আরবি গ্রন্থসমূহ পুনর্জীবিত করার এবং তা মানুষের কাছে নয়নাভিরাম ও চিত্তাকর্ষক রূপে উপস্থাপনের সর্বোত্তম ধারা বজায় রেখেছেন। আমাদের সালাফে সালেহীনদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জ্ঞানগত ঐতিহ্য সংরক্ষণে এই গ্রন্থটি প্রকাশের নিমিত্তে তাঁরা অকাতরে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন। এই গ্রন্থের সম্পাদনা ও ব্যাখ্যায় তাঁদের উৎসাহ এবং ধৈর্য আমার জন্য এক বিশাল সহায়ক ছিল, যার পেছনে আমি প্রায় তিন বছর সময় ব্যয় করেছি। সকল তাওফিকের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌أصل الربيع

من أول يوم قرأت في أصل الربيع من (كتاب الرسالة) أيقنت أنه مكتوب كله بخط الربيع، وكلما درسته ومارسته ازددت بذلك يقينا، فتوقيع الربيع في آخر الكتاب بخطه بإجازة نسخه إذ يقول: " أجاز الربيع بن سليمان صاحب الشافعي نسخ كتاب الرسالة، وهي ثلاثة أجزاء في ذي القعدة سنة خمس وستين ومائتين، وكتب الربيع بخطه "(1) -: نفهم منه أنه كان ضنينا بهذا الاصل، لم يأذن لاحد في نسخه من قبل، حتى أذن في سنة 265 بعد أن جاوز التسعين من عمره، وعبارة الاجازة تدل على ذلك، لمخالفتها المعهود في الاجازات، إذ يجيز العلماء لتلاميذهم الرواية عنهم، أما إجازة نسخ الكتاب فشئ نادر، لا يكون إلا لمعنى خاص، وعن أصل حجة لا تصل إليه كل يد.

والخابر بالخطوط القديمة يجزم بأن هذه الاجازة كتبتها اليد التي كتبت الاصل، وأن الفرق بين الخطين إنما فرق السن وعلوها، فاضطربت يد الكاتب بعد أن جاوز التسعين، بما لم يوجد في خطه في فتوته لم يجاوز الثلاثين(2)، وقد خشيت أن أثق برأيي وحدي في ذلك، فأردت أن أتثبت، فاستشرت أحد إخواني ممن لهم خبرة بينة وعلم بالخطوط، فوافقني على أن كاتب الاجازة وكاتب الاصل وكاتب عناوين الاجزاء الثلاثة شخص واحد، لا فرق بينها إلا أنه كتب العناوين بالخط الكوفي، وكتب الاجازة وهو شيخ كبير.
(1) انظر صورتها في اللوحة (رقم 9) وفي (ص 601) من الكتاب.

(2) ولد الربيع سنة 174 ومات في 20 شوال سنة 270.
রবির মূল পাণ্ডুলিপি

‘কিতাবুর রিসালাহ’-র রবি (ইবনে সুলাইমান) কর্তৃক লিখিত মূল পাণ্ডুলিপিটি আমি যেদিন প্রথম পাঠ করি, সেদিনই আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে, এটি সম্পূর্ণভাবে রবির নিজস্ব হস্তাক্ষরেই লিখিত। যত বেশি আমি এটি অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণ করেছি, আমার এই বিশ্বাস ততই সুদৃঢ় হয়েছে। কিতাবের শেষে রবির নিজ হাতের দস্তখতসহ অনুলিপি তৈরির যে অনুমতি (ইজাজত) রয়েছে, তাতে তিনি বলেছেন: “ইমাম শাফিয়ীর সহচর রবি বিন সুলাইমান কিতাবুর রিসালাহ-এর অনুলিপি করার অনুমতি প্রদান করেছেন; এটি তিনটি খণ্ড নিয়ে গঠিত; যিলকদ মাস, দুইশত পঁয়ষট্টি হিজরি। রবি এটি স্বহস্তে লিখেছেন।”(১) —এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, তিনি এই মূল পাণ্ডুলিপিটির ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ও রক্ষণশীল ছিলেন; এর আগে তিনি কাউকে এটি অনুলিপি করার অনুমতি দেননি। অবশেষে ২৬৫ হিজরিতে, নব্বই বছর বয়স পার করার পর তিনি এই অনুমতি দেন। এই অনুমতির বাক্যগুলোও এর প্রমাণ বহন করে; কারণ এটি ইজাজত প্রদানের প্রচলিত ধারার চেয়ে ভিন্ন। সাধারণত ওলামায়ে কেরাম তাঁদের ছাত্রদেরকে তাঁদের থেকে বর্ণনা (রেওয়ায়াত) করার অনুমতি দেন, কিন্তু কোনো কিতাব অনুলিপি করার অনুমতি দেওয়া একটি বিরল বিষয়। এটি কেবল বিশেষ কোনো তাৎপর্য থাকলেই এবং এমন কোনো প্রামাণ্য মূল পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রেই ঘটে যা সচরাচর সবার কাছে সহজলভ্য নয়।

প্রাচীন হস্তলিপি বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি মাত্রই নিশ্চিতভাবে বলবেন যে, এই ইজাজতটি সেই হাত দিয়েই লেখা হয়েছে যা মূল পাণ্ডুলিপিটি লিখেছিল। উভয় লেখার মধ্যে যে যৎসামান্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তা কেবল বয়সের ভারের কারণে। লেখকের বয়স নব্বই বছর পার হওয়ার পর তাঁর হাত কিছুটা কম্পিত হয়েছে, যা তাঁর যৌবনকালে (যখন তাঁর বয়স ত্রিশের নিচে ছিল) হাতের লেখায় ছিল না।(২) আমি এই বিষয়ে কেবল নিজের মতের ওপর নির্ভর করতে ভয় পাচ্ছিলাম, তাই বিষয়টি নিশ্চিত হতে চেয়েছি। ফলে আমি আমার এমন এক ভাইয়ের পরামর্শ গ্রহণ করি যার হস্তলিপি বিষয়ে সুস্পষ্ট অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান রয়েছে। তিনি আমার সাথে একমত পোষণ করেন যে, এই ইজাজত লিখনেওয়ালা, মূল পাণ্ডুলিপির লেখক এবং তিনটি খণ্ডের শিরোনাম লেখক—সবই একই ব্যক্তি। এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, শুধু তফাৎ এই যে তিনি শিরোনামগুলো ‘কুফি’ লিপিতে লিখেছিলেন এবং ইজাজতটি লিখেছিলেন বার্ধক্যাবস্থায় বৃদ্ধ বয়সে।
(১) কিতাবের (৯ নম্বর) ফলক এবং (৬০১ পৃষ্ঠায়) এর চিত্র দেখুন।

(২) রবির জন্ম ১৭৪ হিজরিতে এবং মৃত্যু ২৭০ হিজরির ২০শে শাওয়াল।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٨)
وأنا أرجح ترجيحا قريبا من اليقين أن الربيع كتب هذه النسخة من إملاء الشافعي، لما بينت فيما مضى، ولانه لم يذكر الترحم على الشافعي في أي موضع جاء اسمه فيه، ولو كان كتبها بعد موته لدعا له بالرحمة ولو مرة واحدة، كعادة العلماء وغيرهم.

وقد حاول الدكتور (ب. موريتس(1)) أن يدخل الشك على تاريخ هذه النسخة، فادعى في كتاب الخطوط العربية أنها مكتوبة سنة 350 تقريبا.

فعن ذلك تردد بعض إخواني ممن تحدثت إليهم في أن الربيع كتبها، وزعموا أنها نسخة مكتوبة بعد الربيع بدهر، وأن ناسخها نقلها ونقل نص الاجازة، ثم لم يبين أنه نقلها!! وهذا رأى لا يثبت على النقد، لان المعروف في نقل الكتب أن الناسخ إذا نسخ الكتاب وتاريخ كتابته وما كتب عليه من إجازة أو سماع مثلا -: أثبت أن هذا نص ما كان على النسخة التي ينقل منها.

ثم الذي ينقضه نقضا ارتعاش القلم الظاهر في كتابة الاجازة، فلو كانت منقولة عن نسخة أخرى ما افترق خطها عما قبلها، ولكان الجميع على نسق واحد.

وكان مما احتجوا به لرأيهم ورأي الدكتور موريتس أنها مكتوبة على الورق، أن الورق لم يكن معروفا في ذلك العهد كثيرا، بل كان جل الكتابة على البردي. وهذا مردود بأن الورق كثر وفشا في القرن الثاني من الهجرة. (انظر مثلا صبح الاعشى 2: 486). واحتجوا أيضا بأن خطها ليس بالقلم الكوفي، الذي كان يكتب به أهل القرن الثاني والثالث. ومن العجب أن هذه الشبهة عرضت أيضا لبعض العلماء الاقدمين، وردها القلقشندي قال: " ذكر صاحب
(1) كان مديرا لدار الكتب المصرية من 25 اكتوبر سنة 1896 إلى 31 أغسطس سنة 1911.
আমি প্রায় নিশ্চিতভাবে এই মত পোষণ করি যে, রাবি ইবনে সুলায়মান এই পাণ্ডুলিপিটি ইমাম শাফিঈর শ্রুতিলিপি থেকে সরাসরি লিখেছেন; এর কারণ আমি ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি। তাছাড়া, তিনি কোনো স্থানেই শাফিঈর নামের সাথে তাঁর জন্য রহমতের দোয়া (তারাহহুম) করেননি; যদি তিনি এটি ইমামের মৃত্যুর পরে লিখতেন, তবে আলেম সমাজ ও অন্যদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী অন্তত একবার হলেও তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করতেন।

ডক্টর (বি. মরিটজ(১)) এই পাণ্ডুলিপির রচনাকাল নিয়ে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন; তিনি তাঁর ‘কিতাবুল খুতুত আল-আরাবিয়্যাহ’ গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, এটি আনুমানিক ৩৫০ হিজরি নাগাদ লেখা হয়েছে।

এ কারণে আমার পরিচিত কোনো কোনো ভাই রাবি এটি লিখেছেন কি না সে বিষয়ে দ্বিধান্বিত হয়েছেন। তারা দাবি করেছেন যে, এটি রাবি'র অনেক কাল পরে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি, এবং এর প্রতিলিপিকার মূল পাঠ ও ইজাজতের (অনুমতিপত্র) পাঠও নকল করেছেন, অথচ তিনি যে এটি অন্য কপি থেকে নকল করছেন তা উল্লেখ করেননি!! এই মতটি পর্যালোচনার সামনে টেকে না; কারণ কিতাব প্রতিলিপি করার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম হলো, প্রতিলিপিকার যদি কোনো গ্রন্থ, তার রচনাকাল এবং তাতে থাকা ইজাজত বা সমা’ (শ্রবণ) ইত্যাদি নকল করেন, তবে তিনি এটি নিশ্চিত করে দেন যে—এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে থাকা পাঠের হুবহু প্রতিলিপি।

তাছাড়া, যে বিষয়টি এই দাবিকে পুরোপুরি খণ্ডন করে তা হলো ইজাজত লেখার সময় কলমের দৃশ্যমান কম্পন; যদি এটি অন্য কোনো কপি থেকে নকল করা হতো, তবে এর হস্তাক্ষর পূর্ববর্তী লেখার চেয়ে আলাদা হতো না এবং সবকিছু একই ছাঁচে ও ধারায় হতো।

তাদের এবং ডক্টর মরিটজের মতের স্বপক্ষে অন্যতম যুক্তি ছিল যে, এটি কাগজের ওপর লেখা; অথচ সেই যুগে কাগজের ব্যবহার তেমন ব্যাপক ছিল না, বরং অধিকাংশ লিখনকর্ম প্যাপিরাসে সম্পন্ন হতো। এই যুক্তিটি প্রত্যাখ্যাত, কারণ হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতেই কাগজের ব্যবহার ব্যাপক ও সাধারণ হয়ে গিয়েছিল (দেখুন: সুবহুল আ’শা ২: ৪৮৬)। তারা আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, এর লিপি কুফি শৈলীর নয়, যা দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীর লোকেরা ব্যবহার করতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সংশয়টি প্রাচীনকালের কোনো কোনো আলেমের মনেও উদিত হয়েছিল এবং কালকাশান্দি তা খণ্ডন করে বলেছেন: "গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন...
(১) তিনি ১৮৯৬ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ১৯১১ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মিসরের জাতীয় গ্রন্থাগারের (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ) পরিচালক ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ١٩)
إعانة المنشئ أن أول ما نقل الخط العربي من الكوفي إلى ابتداء هذه الاقلام المستعملة الان -: في أواخر خلافة بني أمية، وأوائل خلافة بني العباس: قلت: على أن الكثير من كتاب زماننا يزعمون أن الوزير أبا علي بن مقلة(1) هو أول من ابتدع ذلك. وهو غلط، فانا نجد من الكتب بخط الاولين فيما قبل المائتين ما ليس على صورة الكوفي، بل يتغير عنه إلى نحو هذه الاوضاع المستقرة، وإن كان هو إلى الكوفي أميل لقربه من نقله عنه " (صبح الاعشي 3: 15) وكأن القلقشندي بهذا يصف نسخة الرسالة، ففي حروفها شبه بالخط الكوفي، ولم يكن الخط الكوفي مهجورا في تلك العصور، بل كانوا يكتبون به المهارق والوثائق، وكانوا يتأنقون به في كتابة المصحف وغيرها، ولذلك نرى الربيع يكتب في عناوين الاجزاء الثلاثة كلمات (الجزء الاول. الجزء الثاني. الجزء الثالث) بالخط الكوفي، ويكتب تحتها كلمات (من الرسالة رواية الربيع بن سليمان عن محمد بن إدريس الشافعي) بخط وسط بين الكوفي وبين خطه في داخل الكتاب (انظر اللوحات رقم 3، 4، 5 مقارنا برقم 6، 7، 8، 9).

والخطوط العربية القديمة التي وجدت في دور الكتب ودور الاثار تدل على أن هذا الخط كان معروفا في القرن الثاني، قبل ابن مقلة، كما قال القلقشندي.

ومن مثل ذلك أن من الاوراق البردية الموجودة بدار الكتب المصرية ورقة مؤرخة سنة 195 يشبه خطها خط كتاب الرسالة، بل إن الشبهة بينهما قريب جدا، حتى ليكاد المطلع عليهما أن يظن أن كاتبيهما تعلما الخط على معلم واحد، وهذه الورقة منشورة في الجزء الاول من كتاب (أوراق البردي العربية) الذي ألفه المستشرق جروهمان وترجمه الدكتور حسن إبراهيم، وطبع بدار الكتب
(1) الوزير أبو علي محمد بن علي ابن الحسن، من وزراء الدولة العباسية، ولد سنة 272 ومات سنة 328
'ইআনাতুল মুনশি' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আরবি লিপিকে কুফি শৈলী থেকে বর্তমানে ব্যবহৃত কলম বা লিপি শৈলীর সূচনার দিকে সর্বপ্রথম স্থানান্তরিত করা হয়েছিল উমাইয়া খিলাফতের শেষ ভাগে এবং আব্বাসীয় খিলাফতের শুরুর দিকে। আমি বলছি: যদিও আমাদের সময়ের অনেক লেখক দাবি করেন যে উজির আবু আলী ইবনে মুকলা(১) এটি সর্বপ্রথম উদ্ভাবন করেছিলেন। কিন্তু এটি ভুল; কারণ আমরা হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর পূর্ববর্তী সময়ের প্রাচীনদের হস্তাক্ষরে এমন অনেক কিতাব পাই যা কুফি আদলের নয়, বরং তা থেকে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানের এই সুপ্রতিষ্ঠিত রূপের দিকে অগ্রসর। যদিও কুফি লিপি থেকে রূপান্তরিত হওয়ার নিকটবর্তী সময়ের কারণে সেটি কুফি শৈলীর দিকেই বেশি ঝুঁকে ছিল" (সুবহুল আ’শা ৩: ১৫)। মনে হয় কলকশন্দী এর মাধ্যমে 'আর-রিসালাহ'র পাণ্ডুলিপিটিই বর্ণনা করছেন; কারণ এর অক্ষরগুলোর সাথে কুফি লিপির সাদৃশ্য রয়েছে। সেই যুগে কুফি লিপি পরিত্যক্ত ছিল না, বরং তারা এর মাধ্যমে রেশমি কাপড় ও দলিলপত্র লিখতেন এবং অত্যন্ত নিপুণতার সাথে মুসহাফ ও অন্যান্য জিনিস লিপিবদ্ধ করতেন। এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, রবী (ইবনে সুলাইমান) তিনটি খণ্ডের শিরোনামে (প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় খণ্ড) শব্দগুলো কুফি লিপিতে লিখেছেন এবং তার নিচে (মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ থেকে রবী ইবনে সুলাইমানের বর্ণনায় আর-রিসালাহ হতে) শব্দগুলো কুফি এবং কিতাবের অভ্যন্তরীণ লিপির মধ্যবর্তী একটি শৈলীতে লিখেছেন (চিত্র নম্বর ৩, ৪, ৫ এর সাথে ৬, ৭, 8, ৯ এর তুলনা দেখুন)।

গ্রন্থাগার ও প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালায় পাওয়া প্রাচীন আরবি লিপিগুলো প্রমাণ করে যে, কলকশন্দী যেমনটি বলেছেন, এই লিপি ইবনে মুকলার পূর্বে দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতেও পরিচিত ছিল।

এর একটি উদাহরণ হলো মিশরের জাতীয় গ্রন্থাগারে (দারুল কুতুব) সংরক্ষিত প্যাপিরাস কাগজগুলোর মধ্যে ১৯৫ হিজরি সালের একটি কাগজ, যার লিপি 'আর-রিসালাহ' কিতাবের লিপির অনুরূপ। এমনকি এ দুটির মধ্যে সাদৃশ্য এতই প্রগাঢ় যে, কেউ এগুলো দেখলে মনে করবেন উভয় লেখক একই শিক্ষকের কাছে লিপিবিদ্যা শিখেছিলেন। এই কাগজটি প্রাচ্যবিদ গ্রোহম্যানের রচিত এবং ডক্টর হাসান ইব্রাহিম কর্তৃক অনূদিত 'আরবি প্যাপিরাস পেপারস' বইয়ের প্রথম খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে, যা দারুল কুতুব থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
(১) উজির আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান, তিনি আব্বাসীয় খিলাফতের একজন উজির ছিলেন; তিনি ২৭২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
سنة 19 وهي (برقم 51 في اللوحة رقم 8) وقد صورناها، وصورنا قطعة من (ص 36 من الاصل) ووضعناهما متجاورتين في صفحة واحدة (لوحة رقم 10، 11) ليسهل على القارئ المقارنة بينهما، ورسمنا سهما أمام تاريخ ورقة البردي (سنة 195). ومما لا شك فيه أن خط الربيع يعتبر من خط أهل القرن الثاني، لانه ولد سنة 174 والشافعي دخل مصر في أواخر سنة 199 فاتخذ الربيع خادما له وتلميذا خاصا، وكان الشافعي يقول له: " أنت راوية كتبي ". وحين قدم الشافعي مصر كان الربيع مؤذنا بالمسجد الجامع بفسطاط مصر - جامع عمرو بن العاص - وكان يقرأ بالالحان، معنى هذا أنه كان كاتبا قارئا في أواخر القرن الثاني، فقد تعلم الخط والقراءة صغيرا كما يتعلم الناس.

ثم يرفع كل شك في نسب هذه النسخة احتفال العلماء العظماء، والائمة الحفاظ الكبار بها، منذ سنة 394 إلى سنة 656 وإثبات خطوطهم عليها وسماعاتهم، بل إثبات أنهم صححوا نسخهم وقابلوها عليها، كما ترى فيما يأتي من السماعات والتوقيعات، ويحرصون على إثبات سماعهم فيها طلابا صغارا، ثم إسماعهم إياها لغيرهم شيوخا كبارا. وترى الاسر العلمية الكبيرة يتسابقون إلى سماعها، فيسجلون أسماءهم عليها.

فانك ترى - مثلا - من أئمة الحفاظ الكبار من أهل العلم، الذين سمعوا الكتاب في هذه النسخة -: الحافظ الحميدي صاحب الجمع بين الصحيحين، وصديقه الحافظ الامير ابن ماكولا (في السماعات رقم 8 - 11) والحافظ أبا الفتيان الدهستاني (في رقم 12) والحافظ الكبير ابن عساكر صاحب تاريخ دمشق (في رقم 18، 21) والحافظ عبد القادر الرهاوي (في رقم 22، 23)
১৯৫ হিজরি সনের (যা ৮ নম্বর প্লেটের ৫১ নম্বর হিসেবে আছে) এবং আমরা এটি চিত্রিত করেছি। আমরা মূল পাণ্ডুলিপির (৩৬ পৃষ্ঠার) একটি অংশও চিত্রিত করেছি এবং পাঠক যেন সহজেই দুটির মধ্যে তুলনা করতে পারেন, সে জন্য আমরা সেগুলোকে এক পৃষ্ঠায় পাশাপাশি স্থাপন করেছি (প্লেট নম্বর ১০, ১১)। আমরা প্যাপাইরাস লিপির তারিখের (১৯৫ হিজরি) সামনে একটি তীর চিহ্ন এঁকেছি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রবী'র হস্তলিপি দ্বিতীয় শতাব্দীর অধিবাসীদের হস্তলিপির অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত। কারণ তিনি ১৭৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইমাম শাফি'ঈ ১৯৯ হিজরির শেষের দিকে মিসরে পদার্পণ করেন। তখন তিনি রবী'কে নিজের খাদেম ও বিশেষ ছাত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। শাফি'ঈ তাঁকে বলতেন: "তুমি আমার গ্রন্থাবলির বর্ণনাকারী।" ইমাম শাফি'ঈ যখন মিসরে আসেন, তখন রবী' মিসরের ফুসতাতে অবস্থিত জামে মসজিদে—অর্থাৎ আমর ইবনুল আস মসজিদে—মুয়াজ্জিন ছিলেন এবং তিনি সুমিষ্ট স্বরে তিলাওয়াত করতেন। এর অর্থ হলো, তিনি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে একজন লেখক ও পাঠক ছিলেন; কেননা তিনি সাধারণ মানুষের মতোই শৈশবে লিখন ও পঠন শিক্ষা করেছিলেন।

অতঃপর এই পাণ্ডুলিপির নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে সমস্ত সন্দেহ দূরীভূত হয় ৩৯৪ হিজরি থেকে ৬৫৬ হিজরি পর্যন্ত বরেণ্য আলিম ও হাফেজ ইমামগণের এর প্রতি গভীর গুরুত্বারোপ এবং এতে তাঁদের হস্তলিপি ও শ্রবণ-সনদ (সামা'আত) সংরক্ষণের মাধ্যমে। বরং এটিও প্রমাণিত যে, তাঁরা তাঁদের নিজস্ব পাণ্ডুলিপিগুলো সংশোধন করেছেন এবং এই কপির সাথে মিলিয়ে পাঠ করেছেন, যা আপনি পরবর্তী শ্রবণ-সনদ ও স্বাক্ষরগুলোতে দেখতে পাবেন। তাঁরা ছাত্রাবস্থায় এতে পাঠ শ্রবণ নিশ্চিত করতে এবং পরবর্তীতে প্রবীণ শায়খ হিসেবে অন্যদের তা শোনাতে সচেষ্ট থাকতেন। এমনকি আপনি দেখবেন যে, বড় বড় ইলমি পরিবারগুলো এটি শোনার জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করত এবং এতে নিজেদের নাম নথিবদ্ধ করত।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি ইলম অন্বেষণকারী এমন সব মহান হাফেজ ইমামদের দেখতে পাবেন, যাঁরা এই পাণ্ডুলিপি থেকে কিতাবটি শুনেছেন: 'আল-জামি' বাইনাস সাহিহাইন'-এর সংকলক হাফেজ হুমাইদি এবং তাঁর বন্ধু হাফেজ আমির ইবনে মাকুলা (শ্রবণ-সনদ নম্বর ৮-১১), হাফেজ আবুল ফিতইয়ান আদ-দিহিস্তানি (নম্বর ১২), 'তারিখু দিমাশক'-এর রচয়িতা প্রখ্যাত হাফেজ ইবনে আসাকির (নম্বর ১৮, ২১) এবং হাফেজ আব্দুল কাদির আর-রুহাউয়ি (নম্বর ২২, ২৩)।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢١)
والحافظ تاريخ الدين القرطبي (في رقم 24، 26، 27) والحافظ زكي الدين البرزالي (في رقم 27، 28).

وترى أن أسرة الحافظ ابن عساكر سمع منها في هذه النسخة أحد عشر رجلا: الحافظ ابن عساكر علي بن الحسن بن هبة الله، وأخواه محمد وأحمد، وابناه: القاسم والحسن ابنا علي، وحفيداه: محمد وعلي ولدا القاسم، وأبناء أخيه:

عبد الله وعبد الرحمن ونصر الله وعبد الرحيم: أبناء محمد بن الحسن (انظر السماعات 18، 19، 21، 24، 25). وأسرة الخشوعي سمع منها سبعة نفر:

أولهم طاهر بن بركات بن إبراهيم الخشوعي، ثم ابنه إبراهيم، ثم بركات بن إبراهيم، ثم أولاده: إبراهيم وأبو الفضل وعبد الله أبناء بركات بن إبراهيم، ثم عثمان بن عبد الله بن بركات (انظر السماعات 12، 16، 18، 22 - 28).

ثم الحافظ ابن عساكر لا يكفيه أن يسجل اسمه في السماعات، فيكتب بخطه أربع مرات على النسخة: " سمع جميعه وعارض بنسخته علي بن الحسن بن هبة الله " (انظر التوقيع رقم 39). وكذلك غيره من الحفاظ والعلماء، مما يظهر من التوقيعات (32 - 45).

ثم يثلج الصدر ويملؤه يقينا أن نجد شهادة بخط أحد العلماء الحفاظ الاثبات القدماء، يسجل فيها أن هذه النسخة بخط الربيع، فنرى هبة الله بن أحمد بن محمد بن الاكفاني (المتوفى في 6 محرم سنة 524 عن 80 سنة) يكتب بخطه ثلاثة عناوين للاجزاء الثلاثة، يسوق فيها إسناده إلى الربيع، ثم يكتب فوق عنوان الاول منها ما نصه: " الجزء الاول من الرسالة لابي عبد الله الشافعي بخط الربيع صاحبه ". ويكتب فوق عنوان الثالث ما نصه: " الجزء الثالث
এবং হাফিজ তারিখুদ্দিন আল-কুরতুবি (নম্বর ২৪, ২৬, ২৭-এ) এবং হাফিজ জাকিউদ্দিন আল-বিরজালি (নম্বর ২৭, ২৮-এ)।

আপনি দেখতে পাবেন যে হাফিজ ইবন আসাকিরের পরিবার থেকে এগারোজন ব্যক্তি এই পাণ্ডুলিপিতে শ্রবণ করেছেন: হাফিজ ইবন আসাকির আলি বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ, তাঁর দুই ভাই মুহাম্মদ ও আহমদ, তাঁর দুই পুত্র: আল-কাসিম ও আল-হাসান (আলির পুত্রদ্বয়), তাঁর দুই পৌত্র: মুহাম্মদ ও আলি (কাসিমের পুত্রদ্বয়) এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রগণ:

আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান, নাসরুল্লাহ এবং আবদুর রহিম: মুহাম্মদ বিন আল-হাসানের পুত্রগণ (শ্রবণলিপি ১৮, ১৯, ২১, ২৪, ২৫ দেখুন)। আর আল-খুশুয়ি পরিবার থেকে সাতজন ব্যক্তি শ্রবণ করেছেন:

তাঁদের মধ্যে প্রথমজন তাহির বিন বারাকাত বিন ইব্রাহিম আল-খুশুয়ি, অতঃপর তাঁর পুত্র ইব্রাহিম, এরপর বারাকাত বিন ইব্রাহিম, অতঃপর তাঁর সন্তানগণ: ইব্রাহিম, আবুল ফজল এবং আবদুল্লাহ (বারাকাত বিন ইব্রাহিমের পুত্রগণ), এরপর উসমান বিন আবদুল্লাহ বিন বারাকাত (শ্রবণলিপি ১২, ১৬, ১৮, ২২ - ২৮ দেখুন)।

অতঃপর হাফিজ ইবন আসাকির শ্রবণলিপিতে কেবল তাঁর নাম নথিভুক্ত করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি এই পাণ্ডুলিপিতে নিজ হস্তাক্ষরে চারবার লিখেছেন: "এটি সম্পূর্ণ শ্রবণ করেছেন এবং নিজের পাণ্ডুলিপির সাথে মোকাবিলা করেছেন আলি বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ" (স্বাক্ষর নম্বর ৩৯ দেখুন)। একইভাবে অন্যান্য হাফিজ ও ওলামায়ে কেরামও করেছেন, যা স্বাক্ষরসমূহ (৩২ - ৪৫) থেকে স্পষ্ট হয়।

এরপর যা অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং একে দৃঢ় বিশ্বাসে পূর্ণ করে দেয় তা হলো—প্রাচীন নির্ভরযোগ্য হাফিজ আলেমদের একজনের স্বহস্তে লিখিত একটি সাক্ষ্য পাওয়া যায়, যেখানে তিনি নথিভুক্ত করেছেন যে এই পাণ্ডুলিপিটি রাবি-এর হস্তাক্ষরে লিখিত। সুতরাং আমরা হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আকফানিকে (যিনি ৮০ বছর বয়সে ৫২৪ হিজরির ৬ মুহাররম মৃত্যুবরণ করেন) দেখি যে তিনি তিনটি খণ্ডের জন্য তিনটি শিরোনাম নিজ হাতে লিখেছেন, যেখানে তিনি রাবি পর্যন্ত তাঁর সনদ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি প্রথম খণ্ডের শিরোনামের উপরে যা লিখেছেন তার পাঠ হলো: "আবু আবদুল্লাহ আশ-শাফিয়ি রচিত আর-রিসালাহ-এর প্রথম খণ্ড, যা তাঁর সঙ্গী রাবি-এর হস্তাক্ষরে লিখিত।" এবং তিনি তৃতীয় খণ্ডের শিরোনামের উপরে লিখেছেন: "তৃতীয় খণ্ড"
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
من الرسالة بخط الربيع صاحب الشافعي ". وأما عنوان الجزء الثاني ففوقه: " الثاني من الرسالة " ويظهر أن باقي الكلام ممحو بعارض من عاديات الزمان. وتجد صورة عنوان الجزء الاول في (اللوحة رقم 1) فترى فيها في الزاوية العليا اليمنى خط الحافظ ابن عساكر، وبجواره خط شيخه ابن الاكفاني.

وقد ظننت أول الامر أن هذه الشهادة بخط ابن عساكر، ثم تبين لي من دراسة خطوط السماعات والعناوين أنها خط ابن الاكفاني.

ثم نرى أيضا أن هؤلاء العلماء - وهم أقرب منا عهدا بالربيع - يتكلفون النص في السماعات كلها أو أكثرها على اسم مالك النسخة، إشارة الى شدة العناية بها، وإشادة بما لمالكها من ميزة وفخر، أن حاز هذا الاثر الجليل النفيس.

أفيظن ظان أو يتوهم متوهم أنهم يصنعون كل هذا لنسخة مزيفة مزورة؟!

أو يخفى عليهم من شأنها ما لم يخف على الدكتور موريتس، وهم أخبر بالخطوط وأعلم بالعلم، وهم يروون الكتاب بأسانيدهم رواية سماع وقراءة؟!

وكثيرا ما عجبت: لماذا عين تاريخها الذي زعم، سنة 350 تقريبا، ثم تبينت من أين الوهم. فوجدت في حاشية نسخة العماد ابن جماعة بجوار الفقرة (126 من الكتاب) ما نصه: " بلغ مقابلة على أصل سمع مرات، تاريخه من حين نسخ ثلاثمائة وثمان وخمسون سنة " ثم كتب بحاشيتها في مواضع أخر: " بلغ مقابلة على النسخة المذكورة ". فرجحت من هذا أنه رأى هذه الكتابة، وليس بدار الكتب نسخ قديمة من الرسالة غير أصل الربيع ونسخة ابن جماعة، فظن أن نسخة ابن جماعة قوبلت على نسخة الربيع، وأن هذا يدل على أن نسخة الربيع كتبت حول سنة 350 ولكن هذا النص
ইমাম শাফিঈর ছাত্র রবী'র হস্তাক্ষরে লিখিত রিসালাহ হতে।" আর দ্বিতীয় খণ্ডের শিরোনামের ওপরে লেখা আছে: "রিসালাহ-র দ্বিতীয় অংশ।" প্রতীয়মান হয় যে, সময়ের পরিক্রমায় কোনো কারণে অবশিষ্ট কথাগুলো মুছে গেছে। আপনি প্রথম খণ্ডের শিরোনামের ছবি পাবেন (১ নং প্লেটে), সেখানে ওপরের ডান কোণে হাফেজ ইবনে আসাকিরের হস্তাক্ষর দেখতে পাবেন এবং তার পাশেই রয়েছে তাঁর উস্তাদ ইবনুল আকফানীর হস্তাক্ষর।

আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যে এই সাক্ষ্যটি ইবনে আসাকিরের হস্তাক্ষরে লিখিত, কিন্তু পরবর্তীতে শ্রুতিনিবন্ধ ও শিরোনামসমূহের লিপি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি ইবনুল আকফানীর হস্তাক্ষর।

এরপর আমরা আরও দেখতে পাই যে, এই উলামায়ে কেরাম—যাঁরা আমাদের তুলনায় রবী‘-র যুগের অনেক কাছাকাছি ছিলেন—শ্রুতিনিবন্ধ সমূহের সবগুলোতে বা অধিকাংশে পাণ্ডুলিপির মালিকের নাম উল্লেখ করার কষ্ট স্বীকার করতেন। এটি ছিল ওই পাণ্ডুলিপির প্রতি গভীর যত্নের পরিচায়ক এবং এর মালিক যে এমন এক মহান ও মূল্যবান নিদর্শন অর্জন করেছেন, তার প্রতি এক বিশেষ সম্মান ও প্রশংসার নিদর্শন।

কোনো চিন্তাশীল কি এমনটি ভাবতে পারেন অথবা কোনো কল্পনাপ্রবণ কি এমনটি কল্পনা করতে পারেন যে, তাঁরা জাল বা বানোয়াট কোনো পাণ্ডুলিপির জন্য এত কিছু করবেন?!

অথবা এই পাণ্ডুলিপির অবস্থা কি তাঁদের কাছে অস্পষ্ট ছিল যা ডক্টর মরিটসের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল? অথচ তাঁরা হস্তলিপি বিষয়ে অধিক পারদর্শী এবং জ্ঞানবিজ্ঞানে অধিক দক্ষ ছিলেন; অধিকন্তু তাঁরা শ্রবণ ও পাঠের মাধ্যমে নিজস্ব সনদে এই কিতাব বর্ণনা করতেন।

আমি প্রায়ই বিস্মিত হতাম: তিনি কেন পাণ্ডুলিপির সময়কাল প্রায় ৩৫০ হিজরি বলে দাবি করলেন? অতঃপর আমার কাছে তাঁর এই বিভ্রান্তির উৎসটি স্পষ্ট হলো। আমি ইমাদ ইবনে জামাআহর পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় (কিতাবের ১২৬ নং অনুচ্ছেদের পাশে) এই বক্তব্যটি পেলাম: "একাধিকবার শ্রুত একটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখা শেষ হয়েছে; এটি অনুলিপন করার সময়কাল থেকে তিনশ আটান্ন বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।" এরপর টীকাটির অন্যান্য স্থানে লেখা রয়েছে: "উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিটির সাথে মিলিয়ে দেখা সম্পন্ন হয়েছে।" এখান থেকে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, তিনি হয়তো এই লেখাটি দেখেছিলেন। অথচ দারুল কুতুবে রবী‘-র মূল পাণ্ডুলিপি এবং ইবনে জামাআহর পাণ্ডুলিপি ছাড়া রিসালাহ-র প্রাচীন কোনো পাণ্ডুলিপি নেই। তাই তিনি হয়তো ভেবেছিলেন যে ইবনে জামাআহর পাণ্ডুলিপিটি রবী‘-র পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং এটি নির্দেশ করে যে রবী‘-র পাণ্ডুলিপিটি ৩৫০ হিজরির আশেপাশে লেখা হয়েছে। কিন্তু এই পাঠটি...
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
لا يؤدي هذا المعنى، فإن نسخة ابن جماعة نرجح أنها كتبت له قبيل قراءتها على جده سنة 856 وقوبلت على نسخة مضى عليها من حين كتابتها إلى حين مقابلة نسخة ابن جماعة عليها 358 سنة، أي أنها كتبت قبيل سنة 500 فالرقم (358) هو عدد السنين التي تفرق بين النسختين، لا تاريخ الاولى، فهي غير نسخة الربيع يقينا.

 

‌‌وصف النسخة

عدد أوراقها 78 ورقة، منها 62 ورقة هي أصل الذي بخط الربيع، والباقي أوراق زيدت في أوله وآخره ووسطه، كتبت فيها السماعات وغيرها، وغلفت النسخة بجلد قديم، لا أستطيع الجزم بتاريخه، ولعله في القرن السادس أو السابع الهجري. وطول الورقة من أصل الكتاب (8 و 25 سنتيمتر) وعرضها (14 س) والكتابة تملا الصفحة تقريبا، فإن طول السطر الواحد (5 و 12 س) وعدد السطور يختلف في الصفحات ما بين (27، 30) سطرا، تشغل من طولها نحو (8 و 24 س). وقد صورنا صورا منها مصغرة قليلا إلى نحو الثلثين، حتى تتسع لها مساحة الورق الذي تطبع عليه، وهي اللوحات (رقم 6 - 9). والخط مقروء واضح لمن خبر هذه الخطوط القديمة، إلا في بعض المواضع النادرة، مما يتبين لقارئ الكتاب بما علقنا به عليه.

وقواعد الرسم التي كتبت بها تختلف كثيرا عن القواعد التي يكتب بها المتأخرون، وإحصاء ذلك لا تسعه هذه المقدمة، ولكنا نذكر بعض أنواعها.

فمن ذلك أنه يكتب كل ما ينطق ألفا في أواخر الكلمات بالالف، وإن كان مما يكتب بالياء، إلا كلمة، " هكذا " وحرفي " إلى " وعلى " فبالياء، فيكتب مثلا
এই অর্থটি প্রকাশ পায় না; কেননা আমাদের প্রবল ধারণা এই যে, ইবনে জামাআহর পাণ্ডুলিপিটি ৮৫৬ হিজরি সনে তার দাদার নিকট পাঠ করার কিছু পূর্বে তার জন্য লিখিত হয়েছিল। এই পাণ্ডুলিপিটি এমন একটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা (মুকাবালা করা) হয়েছিল যা সেটির লিখনকাল থেকে ইবনে জামাআহর পাণ্ডুলিপির সাথে মুকাবালা করার সময় পর্যন্ত ৩৫৮ বছর পার হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ সেটি ৫০০ হিজরি সনের কিছু পূর্বে লিখিত হয়েছিল। সুতরাং (৩৫৮) সংখ্যাটি হলো দুটি পাণ্ডুলিপির মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান, প্রথমটির তারিখ নয়; অতএব, এটি নিশ্চিতভাবেই আর-রাবি'র পাণ্ডুলিপি নয়।

 

পাণ্ডুলিপির বর্ণনা

এর পত্রসংখ্যা ৭৮টি, যার মধ্যে ৬২টি পত্র হলো মূল পাণ্ডুলিপি যা আর-রাবি‘র হস্তাক্ষরে লিখিত। অবশিষ্ট পত্রগুলো এর শুরুতে, শেষে এবং মাঝখানে সংযোজন করা হয়েছে, যাতে শ্রবণলিপি (সামা‘আত) ও অন্যান্য বিষয় লিখিত রয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি একটি প্রাচীন চামড়ার মলাটে বাঁধানো, যার সঠিক তারিখ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হতে পারছি না; সম্ভবত এটি ষষ্ঠ বা সপ্তম হিজরি শতকের। মূল গ্রন্থের পত্রের দৈর্ঘ্য ২৫.৮ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১৪ সেন্টিমিটার। হস্তাক্ষর প্রায় পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত। প্রতিটি লাইনের দৈর্ঘ্য ১২.৫ সেন্টিমিটার এবং পৃষ্ঠাপ্রতি লাইনের সংখ্যা ২৭ থেকে ৩০টির মধ্যে পরিবর্তিত হয়, যা দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৪.৮ সেন্টিমিটার স্থান জুড়ে থাকে। আমরা এর কিছু আলোকচিত্র গ্রহণ করেছি যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কিছুটা সংকুচিত করা হয়েছে, যাতে মুদ্রণের কাগজের পরিসরে তা স্থান পায়; এগুলো হলো (৬-৯ নং) চিত্র। যারা এই প্রাচীন লিপিগুলোতে অভিজ্ঞ, তাদের কাছে হস্তাক্ষরটি সুস্পষ্ট ও পঠনযোগ্য, তবে বিরল কিছু স্থান ব্যতীত; যা আমরা টীকায় উল্লেখ করার মাধ্যমে পাঠকের নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে।

এটি যে লিখনরীতিতে (রসম) লেখা হয়েছে তা পরবর্তীকালের লেখকদের অনুসৃত নিয়ম থেকে অনেকটাই ভিন্ন। এর বিস্তারিত পরিসংখ্যান এই মুখবন্ধে প্রদান করা সম্ভব নয়, তবে আমরা এর কিছু ধরন উল্লেখ করছি।

যেমন, শব্দের শেষে উচ্চারিত প্রতিটি আলিফকে তিনি আলিফ দিয়েই লেখেন, যদিও তা সাধারণত ইয়া দিয়ে লেখার নিয়ম হয়। তবে ‘হাকাজা’ শব্দ এবং ‘ইলা’ ও ‘আলা’ অব্যয় দুটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম; এগুলো ইয়া দিয়েই লেখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি লেখেন:
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
" حتى " بالالف "حتا". و " حكى " " حكا ". و " مستغنى " " مستغنا ". و"سوى" "سوا" الخ. وإذا كانت الكلمة تنطق بإمالة الالف لم يكتبها ألفا، بل كتبها ياء، إشارة إلى الامالة، مثل " هؤلاء " كتبها " هاولى " وكذلك " الايلاء " كتبها " الايلى ". ويحذف ألف " ابن " مطلقا، وإن لم تكن بين علمين، فيكتب مثلا " عن بن عباس ". ويكتب كلمة " ههنا " " هاهنا ".

وكلمة " هكذا " برسمين: الاكثر: " ها كذى " والبعض: " هكذى ".

ويقسم الكلمة الواحدة في سطرين إذا لم يسعها اخر السطر، فمثلا كلمة " استدللنا " كتب الالف وحدها في سطر وباقيها في السطر الاخر (ص 44 من الاصل س 10، 11) وكلمة " زوجها " الزاي والواو في سطر والباقي في سطر (ص 50 س 18، 19). وهذا كثير فيها.

وأما الثقة بها فما شئت من ثقة، دقة في الكتابة، ودقة في الضبط، كعادة المتقنين من أهل العلم الاولين. فإذا اشتبه الحرف المهمل بين الاهمال والاعجام، ضبطه بإحدى علامتي الاهمال: إما أن يضع تحته نقطة، وإما أن يضع فوقه رسم هلال صغير، حتى لا يشبه فيتصحف على القارئ. ومن أقوى الادلة على عنايته بالصحة والضبط، أنه وضع كسرة تحت النون في كلمة " النذارة " (رقم 35 ص 14 من الاصل) وهي كلمة نادرة، لم أجدها في المعاجم إلا في القاموس، ونص على أنها من الامام الشافعي. وهي تؤيد ما ذهبت إليه من الثقة بالنسخة، وتدل على أن الربيع كان يتحرى نطق الشافعي ويكتب عنه عن بينة. ومن الطرائف المناسبة هنا أنى عرضت هذه الكلمة على أستاذنا الكبير العلامة أمير الشعراء على بك الجارم، فيما كنت أعرض عليه من عملي في الكتاب، فقال لي: كأنك بهذه الكلمة جئت بتوقيع الشافعي على النسخة.

وقد صدق حفظه الله.
'হাত্তা' শব্দটিকে আলিফ যোগে 'হাত্তা' হিসেবে লেখা হয়েছে। তদ্রূপ 'হাকা' শব্দটিকে 'হাকা', 'মুস্তাগনা' শব্দটিকে 'মুস্তাগনা' এবং 'সাওয়া' শব্দটিকে 'সাওয়া' ইত্যাদি হিসেবে লেখা হয়েছে। আর যদি কোনো শব্দের উচ্চারণ আলিফ-এর ইমালার (স্বরধ্বনি বাঁকিয়ে পড়া) সাথে হয়, তবে তিনি তা আলিফ দিয়ে লিখতেন না; বরং ইমালার প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ তা 'ইয়া' দিয়ে লিখতেন। যেমন: 'হা-উলায়ি' শব্দটিকে তিনি 'হা-উলা' এবং 'আল-ইলায়ি' শব্দটিকে 'আল-ইলি' লিখেছেন। তদ্রূপ 'ইবন' শব্দের আলিফ সর্বদা বিলুপ্ত করা হয়েছে, যদিও তা দুটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের মাঝখানে না থাকে। যেমন তিনি লিখেছেন: 'আন বিন আব্বাস'। আর 'হাহুনা' শব্দটিকে লিখেছেন 'হা-হুনা'।

এবং 'হাকাজা' শব্দটি দুই পদ্ধতিতে লেখা হয়েছে: অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'হা-কাজালি' এবং কিছু ক্ষেত্রে 'হাকাজালি'।

লাইনের শেষে সংকুলান না হলে তিনি একটি শব্দকে দুই লাইনে বিভক্ত করে ফেলতেন। উদাহরণস্বরূপ, 'ইস্তাদলালনা' শব্দটির আলিফ এক লাইনে এবং বাকি অংশ পরবর্তী লাইনে লিখেছেন (মূল পাণ্ডুলিপির ৪৪ নং পৃষ্ঠার ১০ ও ১১ নং সারি)। তদ্রূপ 'যাওজুহা' শব্দের 'যা' ও 'ওয়াও' এক লাইনে এবং বাকি অংশ অন্য লাইনে লিখেছেন (৫০ নং পৃষ্ঠার ১৮ ও ১৯ নং সারি)। পাণ্ডুলিপিতে এ ধরণের উদাহরণ প্রচুর রয়েছে।

আর এই পাণ্ডুলিপির নির্ভরযোগ্যতার কথা যদি বলি, তবে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য। এতে রয়েছে লিখনশৈলীর সূক্ষ্মতা এবং শব্দ বিন্যাসের নিখুঁত রূপ, যেমনটি প্রাচীন যুগের অত্যন্ত পারদর্শী জ্ঞানতাপসদের অভ্যাস ছিল। যখন কোনো নুকতাহীন বর্ণ (মুহমাল) নুকতাযুক্ত হওয়ার সাথে সংশয় তৈরি করত, তখন তিনি তা নুকতাহীনতা প্রকাশের দুটি চিহ্নের কোনো একটির মাধ্যমে নিশ্চিত করতেন: হয় তিনি বর্ণের নিচে একটি বিন্দু দিতেন, অথবা বর্ণের উপরে একটি ছোট বাঁকানো চন্দ্রাকৃতি চিহ্ন বসাতেন, যাতে পাঠকের কাছে বর্ণটি অন্য বর্ণের সাথে গুলিয়ে না যায়। তার নির্ভুলতা এবং সতর্কতার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হলো এই যে, তিনি 'আন-নিযারা' শব্দটির 'নুন'-এর নিচে কাসরা (যের) প্রদান করেছেন (মূল পাণ্ডুলিপির ১৪ নং পৃষ্ঠার ৩৫ নম্বর ক্রম)। এটি একটি বিরল শব্দ, যা আমি অভিধানসমূহের মধ্যে কেবল 'আল-কামুস' গ্রন্থে পেয়েছি। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ইমাম শাফেয়ীর উচ্চারণ। এটি এই পাণ্ডুলিপির প্রতি আমার আস্থার বিষয়টিকে সমর্থন করে এবং প্রমাণ করে যে, রাবী বিন সুলায়মান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ইমাম শাফেয়ীর উচ্চারণ অনুসরণ করতেন এবং পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে তা লিপিবদ্ধ করতেন। এ প্রসঙ্গে একটি চমৎকার বিষয় হলো, আমি যখন এই শব্দটি আমাদের প্রথিতযশা শিক্ষক আল্লামা আমীরুশ শুআরা আলী বেগ আল-জারিম-এর নিকট পেশ করলাম (বইটির কাজ চলাকালীন), তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন: "মনে হচ্ছে এই শব্দটির মাধ্যমে আপনি পাণ্ডুলিপিটির উপরে স্বয়ং ইমাম শাফেয়ীর স্বাক্ষর নিয়ে এসেছেন।"

আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন, তিনি যথার্থই বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ومما يلاحظ في النسخة أن الصلاة على النبي لم تكتب عند ذكره في كل مرة، بل كتبت في القليل النادر، بلفظ " صلى الله عليه ". وهذه طريقة العلماء المتقدمين، في عصر الشافعي وقبله، وقد شدد فيها المتأخرون، وقالوا:

ينبغي المحافظة على كتابة الصلاة والتسليم، بل زادوا أنه لا ينبغي للناسخ أن يتقيد بالاصل إذا لم توجد فيه. وقد ثبت عن أحمد بن حنبل أنه كان لا يكتب الصلاة، وأجابوا عن ذلك بأنه كان يصلي لفظا، أو بأنه كان يتقيد بما سمع من شيخه فلا يزيد عليه. والذي أختاره أن يتقيد الناسخ بالاصل الذي يعتمد عليه في النقل، أما إذا كتب لنفسه فهو مخير، وليس معنى هذا أن يفعل كما يفعل الكتاب " المجد دون!! " في عصرنا، إذ يذكرون النبي باسمه " محمد " صلى الله عليه وسلم، ولا يكتبون الصلاة عليه، بل يذكره بصفد النبوة أو الرسالة أو نحوهما، لان الله سبحانه نهانا عن مخاطبته باسمه: (لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا) ولان الله لم يذكره في القران إلا بصفة النبوة أو الرسالة، أو باسمه الكريم مقرونا بإحداهما. وانظر شرح العراقي على مقدمة ابن الصلاح (ص 174 - 175) وتدريب الرواي (ص 153) وشرحنا على ألفية السيوطي (ص 151) وشرحنا على مختصر علوم الحديث لابن كثير ص (158 - 159) وشرحنا على الترمذي (2: 354 - 355).

 

‌‌أصحاب النسخة

تتبعت السماعات الاتية، وعرفت منها أكثر مالكي النسخة من أواخر القرن الرابع الى منتصف القرن السابع. فأول مالكيها فيما أظن الاخوان: علي وإبراهيم ابنا محمد بن إبراهيم بن الحسين الحناني أو أحدهما، إذ سمعا فيها الكتاب
পাণ্ডুলিপিতে যা লক্ষ্য করা যায় তা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম উল্লেখের সময় প্রতিবার তাঁর ওপর দরুদ লেখা হয়নি; বরং খুব সামান্য ক্ষেত্রেই 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি' শব্দে তা লেখা হয়েছে। ইমাম শাফেয়ী এবং তাঁর পূর্ববর্তী যুগের অগ্রজ আলিমগণের পদ্ধতি ছিল এটিই। তবে পরবর্তী যুগের আলিমগণ এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন:

দরুদ ও সালাম লেখায় যত্নশীল হওয়া আবশ্যক; এমনকি তাঁরা আরও যোগ করেছেন যে, মূল পাণ্ডুলিপিতে দরুদ না থাকলেও অনুলিপিকারের জন্য সেই মূলের অনুসরণ করা অনুচিত। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকেও প্রমাণিত যে, তিনি দরুদ লিখতেন না। এর জবাবে পরবর্তী আলিমগণ বলেন যে, তিনি মৌখিকভাবে দরুদ পাঠ করতেন, অথবা তিনি তাঁর উস্তাদের কাছ থেকে যা শ্রবণ করতেন তাতেই সীমাবদ্ধ থাকতেন এবং এর ওপর অতিরিক্ত কিছু যোগ করতেন না। আমার নিকট পছন্দনীয় মত হলো, অনুলিপিকার যে মূল পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে নকল করছেন, তিনি যেন সেটিরই অনুসরণ করেন। তবে যদি তিনি নিজের জন্য লেখেন, তবে তিনি দরুদ লেখার ক্ষেত্রে স্বাধীন। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি আমাদের বর্তমান যুগের 'আধুনিক(!)' লেখকদের মতো কাজ করবেন, যারা নবীজির নাম 'মুহাম্মাদ' সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখ করেন অথচ তাঁর ওপর দরুদ লেখেন না। বরং তাঁর উচিত তাঁকে নবুওয়াত, রিসালাত বা অনুরূপ গুণবাচক উপাধিতে স্মরণ করা; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের তাঁকে নাম ধরে সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন: (তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না)। তদুপরি আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাঁকে নবুওয়াত বা রিসালাতের বৈশিষ্ট্য ছাড়া অথবা তাঁর সম্মানিত নামের সাথে এই দুই বৈশিষ্ট্যের কোনোটি যুক্ত করা ছাড়া উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে দেখুন: ইবনুস সালাহ-র মুকাদ্দিমার ওপর ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (পৃ. ১৭৪-১৭৫), তাদরীবুর রাবি (পৃ. ১৫৩), সুয়ুতির আলফিয়ার ওপর আমাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (পৃ. ১৫১), ইবনে কাসিরের মুখতাসারু উলুমিল হাদিসের ওপর আমাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (পৃ. ১৫৮-১৫৯) এবং তিরমিজির ওপর আমাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (২: ৩৫৪-৩৫৫)।

 

‌‌পাণ্ডুলিপির অধিকারীগণ

আমি নিম্নোক্ত শ্রুতিলিপিগুলো (সামাআত) অনুসন্ধান করেছি এবং তা থেকে চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এই পাণ্ডুলিপির অধিকাংশ মালিকের পরিচয় জানতে পেরেছি। আমার ধারণা মতে, এর প্রথম মালিক ছিলেন দুই ভাই: আলী ও ইব্রাহিম—মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল হুসাইন আল-হানানির পুত্রদ্বয়, অথবা তাঁদের যেকোনো একজন; কেননা তাঁরা উভয়েই এই পাণ্ডুলিপি থেকে কিতাবটি শ্রবণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
من عبد الرحمن بن عمر بن نصر في سنتي (394 و 401) ولكن لم ينص في سماعاتهما على ذلك (رقم 1 - 6). وإنما ظننت ذلك لان ابني أخيهما الحسين بن محمد الحنائي، وهما عبد الله وعبد الرحمن -: سمعا فيها على أبي بكر الحداد سنة 457 ونص في السماعات على أنهما صاحبا الكتاب (رقم 8 - 11) فظننت من هذا أن الكتاب كان في ملك عميهما علي وإبراهيم، ثم انتقل إليهما بالميراث أو غيره. ولكن سرعان ما انتقل من ملكهما إلى ملك الحافظ هبة الله بن الاكفاني، فسمع فيه على أبي بكر الحداد سنة 460 ويظهر أن النسخة بقيت في ملكه إلى حين وفاته سنة 524 أو على الاقل إلى آخر مجلس سمعت فيه عليه سنة 519 (رقم 19). ثم لم يتبين لي في ملك من كانت إلى شهر رجب سنة 566 فقد كتب الفقيه العالم ضياء الدين علي بن عقيل بن علي التغلبي (المولود سنة 537) أنه سمع الكتاب من أبي المكارم عبد الواحد بن هلال في سنة 563 وأنه نقل سماعه إلى هذه النسخة في رجب سنة 566 (رقم 20) ثم سمعه مرة أخرى على الحافظ ابن عساكر سنة 567 ونص في مجلس السماع على أنه صاحب النسخة (رقم 21) ثم كذلك سمعه هو ابنه الحسن في سنة 571 على أبي المعالي السلمي وأبي طاهر الخشوعي (رقم 22، 23). ثم لم يتبين أيضا في ملك من كانت، إلى أن ذكر في سنة 635 أنها في ملك الامام الحافظ تاج الدين القرطبي، وتاج الدين القرطبي سمع الكتاب هو وأخوه إسماعيل قبل ذلك بثمان وخمسين سنة، فقد سمعاه على أبي الطاهر الخشوعي في سنة 587 (رقم 24 - 27) فإما أن يكون أبوهما أبو جعفر القرطبي (ولد سنة 528 ومات سنة 596) ملك الكتاب فأسمعهما فيه على أبي طاهر، وإما أن يكون تاج الدين

৩৯৪ ও ৪০১ হিজরি সনে আবদুর রহমান ইবনে ওমর ইবনে নাসর থেকে (শ্রবণ করা হয়েছে); কিন্তু তাদের শ্রবণলিপিতে (সামা'আত) এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই (নম্বর ১-৬)। আমি এটি এ কারণে ধারণা করেছি যে, তাদের দুই ভ্রাতুষ্পুত্র—হোসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-হিন্নায়ী-এর দুই পুত্র, অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ও আবদুর রহমান—৪৫৭ হিজরিতে আবু বকর আল-হাদ্দাদের নিকট এটি শ্রবণ করেছিলেন; এবং শ্রবণলিপিগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, তারা দুজন এই পাণ্ডুলিপির মালিক ছিলেন (নম্বর ৮-১১)। এখান থেকে আমি অনুমান করেছি যে, কিতাবটি তাদের দুই চাচা আলী ও ইব্রাহিমের মালিকানাধীন ছিল, অতঃপর উত্তরাধিকার সূত্রে বা অন্য কোনো মাধ্যমে তাদের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে। কিন্তু দ্রুতই এটি তাদের মালিকানা থেকে হাফেজ হিবাতুল্লাহ ইবনুল আকফানি-এর মালিকানায় চলে যায়। তিনি ৪৬০ হিজরিতে আবু বকর আল-হাদ্দাদের নিকট এটি শ্রবণ করেন। প্রতীয়মান হয় যে, পাণ্ডুলিপিটি ৫২৪ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত অথবা অন্তত ৫১৯ হিজরিতে তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শেষ শ্রবণ মজলিস পর্যন্ত তাঁর মালিকানাতেই ছিল (নম্বর ১৯)। এরপর ৫৬৬ হিজরির রজব মাস পর্যন্ত এটি কার মালিকানায় ছিল তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি। প্রাজ্ঞ ফকিহ জিয়াউদ্দীন আলী ইবনে আকিল ইবনে আলী আত-তাগলিবি (জন্ম ৫৩৭ হিজরি) লিখেছেন যে, তিনি ৫৬৩ হিজরিতে আবুল মাকারিম আবদুল ওয়াহিদ ইবনে হিলালের নিকট কিতাবটি শ্রবণ করেছিলেন এবং ৫৬৬ হিজরির রজব মাসে তিনি তাঁর শ্রবণলিপি এই পাণ্ডুলিপিতে স্থানান্তর করেন (নম্বর ২০)। এরপর ৫৬৭ হিজরিতে তিনি হাফেজ ইবনে আসাকিরের নিকট পুনরায় এটি শ্রবণ করেন এবং সেই শ্রবণ মজলিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি এই পাণ্ডুলিপির মালিক ছিলেন (নম্বর ২১)। পুনরায় ৫৭১ হিজরিতে তিনি এবং তাঁর পুত্র হাসান এটি আবুল মা'আলি আস-সুলামি ও আবু তাহের আল-খুশুয়ি-এর নিকট শ্রবণ করেন (নম্বর ২২, ২৩)। এরপর এটি কার মালিকানায় ছিল তা আবারও অস্পষ্ট হয়ে যায়, যতক্ষণ না ৬৩৫ হিজরিতে উল্লেখ করা হয় যে, এটি ইমাম হাফেজ তাজউদ্দীন আল-কুরতুবির মালিকানায় রয়েছে। তাজউদ্দীন আল-কুরতুবি এবং তাঁর ভাই ইসমাইল এর ৫৮ বছর পূর্বেই কিতাবটি শ্রবণ করেছিলেন; তাঁরা ৫৮৭ হিজরিতে আবু তাহের আল-খুশুয়ি-এর নিকট এটি শ্রবণ করেন (নম্বর ২৪-২৭)। হয় তাদের পিতা আবু জাফর আল-কুরতুবি (জন্ম ৫২৮ হিজরি এবং মৃত্যু ৫৯৬ হিজরি) কিতাবটির মালিক ছিলেন এবং আবু তাহেরের মজলিসে তাদের দুজনকে এটি শ্রবণ করিয়েছিলেন, অথবা হতে পারে তাজউদ্দীন...

(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
نفسه ملكها بعد ذلك ثم سمعت عليه. ثم ثبت ملكها بعد في سنة 656 للقاضي محيي الدين عمر بن موسى بن جعفر (رقم 28). وكل هؤلاء الذين ملكوها كانوا في دمشق، ولم نعرف ما كان من أمرها قبل ذلك من عهد الربيع (المتوفى سنة 270) إلى عصر عبد الرحمن بن نصر في اخر القرن الرابع. ولم نعرف أيضا ما كان من أمرها بعد القاضي محيي الدين بن جعفر، إلى أن دخلت في ملك الامير مصطفى باشا فاضل، وانتقلت مع مكتبته كلها إلى دار الكتب المصرية، فعادت إلى بلدها الذي فيه ألفت وكتبت

 

وألقت عصاها واستقر بها النوى … كما قر عينا بالاياب المسافر

 

نسخة ابن جماعة لو انفردت لكانت أصلا جيدا للكتاب، ولكنها جاءت بجوار أصل الربيع، فكانت فرعا ضئيلا، إذ خالفته في مواضع كثيرة، وكان الاصل هو الاصل، وأين الثرى من الثريا. عنى كاتبها بتجويد الخط، ثم عنى صاحبها بمقابلتها وقراءتها، ولكنه لم يتقن ذلك. ولعل عذره أن النسخة التي قابل عليها لم تكن عمدة، وكتب بحاشيتها تقسيمها إلى أجزاء سبعة، ولكنه نسى من التقسيم الاول والخامس! فذكر عند الفقرة (551) " آخر الجزء الثاني " وعند (827) " آخر الجزء الثالث " وعند (1128) " آخر الجزء الرابع " وعند (1462) " آخر الجزء السادس ". وكتب بلاغات بالمقابلات على النسخة القديمة عند الفقرات (126، 275، 383، 511، 758) وسمعت على الجمال ابن جماعة، جد العماد، في ستة مجالس، كتبت بلاغات أربعة منها بالحاشية
তিনি নিজে পরবর্তীতে এটির মালিক হন এবং তাঁর কাছে এটি পাঠ করা হয়। অতঃপর ৬৫৬ হিজরীতে এর মালিকানা কাজী মুহিউদ্দীন ওমর বিন মুসা বিন জাফরের (নম্বর ২৮) জন্য সাব্যস্ত হয়। এই মালিকদের সকলেই দামেস্কে ছিলেন। রাবীর (মৃত্যু ২৭০ হিজরী) যুগ থেকে চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগে আব্দুর রহমান বিন নাসরের যুগ পর্যন্ত এই পাণ্ডুলিপিটির অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। কাজী মুহিউদ্দীন বিন জাফরের পর থেকে আমীর মুস্তফা পাশা ফাজেলের মালিকানায় আসা পর্যন্ত এর ইতিহাসও আমাদের অজ্ঞাত। এরপর তাঁর সমগ্র লাইব্রেরির সাথে এটি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ স্থানান্তরিত হয়। এভাবে এটি সেই দেশেই ফিরে আসে যেখানে এটি রচিত ও লিখিত হয়েছিল।

 

অবশেষে এটি তার পরিব্রাজন শেষ করে থিতু হলো … যেমন একজন মুসাফির ঘরে ফিরে প্রশান্তি লাভ করে।

 

ইবনুল জামা'আর পাণ্ডুলিপিটি যদি এককভাবে থাকত, তবে এটি গ্রন্থের জন্য একটি উত্তম মূল পাঠ হতে পারত। কিন্তু এটি রাবীর মূল পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি আসায় তা একটি তুচ্ছ শাখায় পরিণত হয়েছে; কারণ এটি অনেক স্থানে মূলের সাথে ভিন্নতা পোষণ করেছে। মূল তো মূলই, আর মাটির সাথে আসমানি নক্ষত্রের ব্যবধান তো স্পষ্ট। এর লেখক হস্তাক্ষর সুন্দর করার প্রতি যত্নশীল ছিলেন, অতঃপর এর মালিক এটি অন্য পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা (মুকাবেলা) এবং পাঠ করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাতে মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেননি। সম্ভবত এর কারণ এই যে, তিনি যে পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছিলেন তা নির্ভরযোগ্য ছিল না। তিনি এর মার্জিনে পাণ্ডুলিপিটিকে সাতটি ভাগে বিভক্ত করার কথা লিখেছেন, কিন্তু প্রথম ও পঞ্চম ভাগের কথা উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন! তিনি ৫৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে "দ্বিতীয় খণ্ডের সমাপ্তি", ৮২৭ নম্বরে "তৃতীয় খণ্ডের সমাপ্তি", ১১২৮ নম্বরে "চতুর্থ খণ্ডের সমাপ্তি" এবং ১৪৬২ নম্বরে "ষষ্ঠ খণ্ডের সমাপ্তি" উল্লেখ করেছেন। তিনি ১২৬, ২৭৫, ৩৮৩, ৫১১ এবং ৭৫৮ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রাচীন পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার টীকা (বালাঘাত) লিখেছেন। এটি জামাল ইবনুল জামা'আ—যিনি ইমাদ-এর দাদা—এর নিকট ছয়টি মজলিসে পাঠ করা হয়েছে, যার মধ্যে চারটি শ্রবণের টীকা মার্জিনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
أمام الفقرات (208، 569، 863، 1173) ولم يكتب الخامس، وأما السادس فينتهي بآخر الكتاب.

وهي مكتوبة على ورق جيد، بخط نسخي جميل واضح، مضبوطة مشكولة في الاكثر. وعدد أوراقها 124 ورقة، في الصفحة منها 19 سطرا، وطول السطر (11 س) وتشغل السطور من طول الورقة (5 و 18 س) وطول الورقة (7 و 24 س) وعرضها (5 و 17 س). وكانت أوراقها أكبر من ذلك، ولكن لا ندري من الذي أعطاها لاحد المجلدين، فانتقص من أطرافها، حتى أضاع بعض ما كتب في حاشيتها. وقد صورنا منها الصفحة الاولى والاخيرة مصغرتين، في اللوحتين (12، 13) وبعد: فلست بمستطيع أن أختم هذه المقدمة قبل أن أؤدي ما وجب علي من الشكر لاخواني الذين أثقلوا كاهلي بفضلهم، بما لقيت من معونتهم في إخراج هذا الاثر الجليل، والسفر النفيس: ابن عمتي السيد محمد السنوسي الانصاري.

والاخ المخلص البار، صديقي وزميلي من أول طلب العلم، العالم المتقن المتفنن، الشيخ محمد خميس هيبة، وقد قرأت عليه الكتاب حرفا حرفا، ورجعت إليه في كل مشكل عرض لي فيه. والاخوان العالمان الجليلان: الشيخ محمد نور الحسن، والشيخ محمد محيي الدين عبد الحميد، أستاذا العربية بكلية اللغة بالازهر، وقد عرضت عليهما كثيرا من مشكلات العربية في الكتاب. ثم القائمون على نشر الكتاب (أنجال المرحوم السيد مصطفى الحلبي) وقد أتاحوا لي فرصة إخراجه وتحقيقه وشرحه، فكانت منة لهم علي وعلى كل قارئ ومستفيد.

واليد البيضاء التي لا تنسى، ما لقيت من معونة أستاذنا العظيم، العلامة الفيلسوف (الدكتور منصور فهمي بك) المدير العام لدار الكتب المصرية، فقد
(২০৮, ৫৬৯, ৮৬৩, ১১৭৩) নম্বর অনুচ্ছেদগুলোর সম্মুখে, তবে পঞ্চমটি লেখা হয়নি; আর ষষ্ঠটি গ্রন্থের সমাপ্তিতে গিয়ে শেষ হয়েছে।

এটি উন্নতমানের কাগজের উপর সুন্দর ও স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত, যার অধিকাংশ স্থানই হরকত বা স্বরচিহ্নযুক্ত। এর পত্রসংখ্যা ১২৪টি, প্রতি পৃষ্ঠায় ১৯টি করে লাইন রয়েছে; প্রতিটি লাইনের দৈর্ঘ্য ১১ সে.মি.। পৃষ্ঠার দৈর্ঘ্যের মধ্যে ১৮.৫ সে.মি. স্থান লেখা দ্বারা ব্যাপ্ত, যেখানে পৃষ্ঠার মোট দৈর্ঘ্য ২৪.৭ সে.মি. এবং প্রস্থ ১৭.৫ সে.মি.। এর পত্রগুলো পূর্বে আরও বড় ছিল, কিন্তু আমরা জানি না কে এটি কোনো এক দপ্তরীকে প্রদান করেছিল, যে এর চারপাশ কেটে ছোট করে ফেলেছে; ফলে এর টীকায় (হাশিয়া) লিখিত কিছু অংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমরা এর প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠার ক্ষুদ্রাকৃতির ছবি ১২ ও ১৩ নম্বর প্লেটে যুক্ত করেছি। অতঃপর: এই মহান কৃতি ও মূল্যবান গ্রন্থটি সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি যাদের অকুণ্ঠ সহায়তা পেয়েছি এবং যাদের অনুগ্রহের ঋণে আমি ঋদ্ধ, সেই সব দ্বীনি ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে আমি এই ভূমিকার ইতি টানতে পারছি না। তারা হলেন: আমার ফুফাতো ভাই আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ আস-সানুসী আল-আনসারী।

এবং আমার একনিষ্ঠ ও নেককার ভাই, ছাত্রজীবনের শুরু থেকে আমার বন্ধু ও সহকর্মী, গভীর জ্ঞানের অধিকারী ও বহুবিদ্যায় পারদর্শী আলেম শায়খ মুহাম্মাদ খামীস হাইবা। আমি তাঁর নিকট এই গ্রন্থটি বর্ণে বর্ণে পাঠ করেছি এবং গ্রন্থটি অনুধাবনে যে কোনো জটিলতার সম্মুখীন হলে তাঁরই শরণাপন্ন হয়েছি। আরও রয়েছেন দুই মহান পণ্ডিত ভ্রাতা: শায়খ মুহাম্মাদ নূর আল-হাসান এবং শায়খ মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামীদ; যারা আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা অনুষদের আরবির অধ্যাপক। এই গ্রন্থের আরবি ভাষা-সংক্রান্ত অনেক জটিল বিষয় আমি তাঁদের সামনে উপস্থাপন করেছি। অতঃপর এই গ্রন্থের প্রকাশকবৃন্দ (মরহুম আস-সাইয়্যিদ মুস্তাফা আল-হালাবীর সুযোগ্য পুত্রগণ); তাঁরা আমাকে এটি সম্পাদনা, তাহকীক ও ব্যাখ্যার সুযোগ করে দিয়েছেন, যা আমার জন্য এবং প্রত্যেক পাঠক ও জ্ঞানান্বেষীর জন্য তাঁদের এক বিশেষ অনুগ্রহ।

সেই অনবদ্য অনুগ্রহের কথা বিস্মৃত হওয়ার নয়, যা আমি লাভ করেছি আমাদের মহান শিক্ষক, বিজ্ঞ দার্শনিক আল্লামা ডক্টর মানসুর ফাহমি বে-র পক্ষ থেকে, যিনি মিশরের জাতীয় গ্রন্থাগার ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’-র মহাপরিচালক। কেননা তিনি...
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أمر حفظه الله بأن تصور لي نسخة الربيع كلها، وأمر بإعارتي نسخة ابن جماعة، وبأن يسهل لي كل ما أريد من مصادر ومراجع. أحسن الله جزاءه، ووفقه لخدمة العلم والدين.

ونسأل الله المبتدئ لنا بنعمه قبل استحقاقها، المديمها علينا، مع تقصيرنا في الاتيان على ما أوجب به من شكره بها، الجاعلنا في خير أمة أخرجت للناس: أن يرزقنا فهما في كتابه، ثم سنة نبيه، وقولا وعملا يؤدى به عنا حقه، ويوجب لنا نافلة مزيدة(1). ونسأله سبحانه العصمة والتوفيق.

عن كوبرى القبة ضحوة الجمعة

(18 ذي القعدة سنة 1358)

(29 ديسمبر سنة 1939)

كتب

أبو الاشبال

أحمد محمد شاكر
(1) اقتباس من الرسالة (رقم 47).
আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন আর-রাবীর সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপির একটি প্রতিলিপি আমাকে তৈরি করে দেওয়া হয়, এবং তিনি আমাকে ইবনে জামাআহর পাণ্ডুলিপিটি ধার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, আর আমি যেসব উৎস ও তথ্যসূত্র চেয়েছি তা সহজলভ্য করারও আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং ইলম ও দীনের খিদমতে তাকে তাওফিক দান করুন।

আর আমরা সেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—যিনি আমাদের যোগ্য হওয়ার পূর্বেই নেয়ামত প্রদানের সূচনা করেছেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর শুকরিয়া আদায়ে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তা আমাদের ওপর অবিরাম রেখেছেন, আর যিনি আমাদের মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন—তিনি যেন আমাদের তাঁর কিতাব এবং অতঃপর তাঁর নবীর সুন্নাহর সঠিক সমঝ দান করেন; এবং এমন কথা ও কাজের তাওফিক দেন যার মাধ্যমে তাঁর হক আদায় হয় এবং যা আমাদের জন্য অধিকতর সওয়াবের কারণ হয়(১)। আমরা তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে সুরক্ষা এবং তাওফিক কামনা করি।

কুবরিল কুব্বাহ থেকে, জুমার পূর্বাহ্ণে

(১৮ জিলকদ ১৩৫৮ হিজরি)

(২৯ ডিসেম্বর ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ)

ইতি

আবুল আশবাল

আহমদ মুহাম্মদ শাকির
(১) আর-রিসালাহ (নম্বর ৪৭) থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌السماعات وما ألحق بها

السماعات المثبتة في أصل الربيع تبدأ من سنة 394 وتنتهي في سنة 656 وهي متتالية متصلة بالاسانيد، أعني أن الشيوخ الذين يقرأ عليهم الكتاب أو يسمع منهم نجدهم سمعوه قبل ذلك من شيوخهم، وهكذا إلى عبد الرحمن بن عمر بن نصر الشيباني، أقدم الشيوخ الذين أثبت إسماعهم للكتاب. ثم نسخة ابن جماعة فيها سماع واحد، سنة 856 متصل الاسناد بسماعات الاصل، كما سيتبين القارئ. وقد جعلت لها أرقاما متتالية يشار إليها بها.

وسماعات الاصل ثبت بعضها على عناوين الاجزاء الثلاثة التي بخط الربيع (لوحة رقم 3، 4، 5) وباقيها كتبت في أوراق ألصقت بالاصل وألحقت به في أوائل الاجزاء وأواخرها. وأكثرها تكرر إثباته ثلاث مرات في الاجزاء الثلاثة. وقد أثبتت كل السماعات مرتبة ترتيب وقوعها التاريخي، الاقدم فالاقدم. وتوخيا للاختصار ذكرت من كل سماع متكرر واحدا منه، مع الاشارة إلى غيره وما فيه من زيادة فائدة إن وجدت. ولم أستثن من ذلك إلا السماعات التي بخط عبد الرحمن بن نصر، لقيمتها التاريخية أولا، ولانها مصورة في اللوحات على عناوين الربيع ثانيا، ولان صيغتها مختصرة ثالثا. واستثنيت أيضا بعض السماعات حين وجدت ضرورة لذلك. والسماعات هي (رقم 1 - 28) ومن السماعات الاسانيد، وهي أسانيد كاتبيها من العلماء إلى الربيع راوي الكتاب رقم (29 - 31)

ومن السماعات أيضا نوع مختصر، يسجل أحد العلماء فيه سماعه بخطه، كأن يقول " سمعه فلان " أو " سماع لفلان " ونحو ذلك. وكل الذين كتبوا ذلك ذكرت أسماؤهم في مجالس السماع إلا واحدا، هو أبو القاسم البورى هبة الله بن
শ্রুতিলিপি এবং তৎসংশ্লিষ্ট সংযুক্তি

রাবী‘-এর মূল পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষিত শ্রুতিলিপিসমূহ ৩৯৪ হিজরি থেকে শুরু হয়ে ৬৫৬ হিজরিতে শেষ হয়েছে। এগুলো সনদ বা পরম্পরাগতভাবে পরস্পর সংযুক্ত। অর্থাৎ, যে সকল শায়খদের নিকট কিতাবটি পাঠ করা হয়েছে বা শ্রবণ করা হয়েছে, আমরা দেখতে পাই যে তাঁরা ইতিপূর্বে তাঁদের শায়খদের নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেছেন। এভাবে এই পরম্পরা আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে নাসর আল-শায়বানী পর্যন্ত পৌঁছেছে, যিনি কিতাবটির শ্রবণের ক্ষেত্রে প্রমাণিত প্রাচীনতম শায়খ। এরপর ইবনে জামা‘আহর পাণ্ডুলিপিতে একটি শ্রুতিলিপি রয়েছে যা ৮৫৬ হিজরির এবং এটি মূল পাণ্ডুলিপির শ্রুতিলিপিগুলোর সাথে সনদের মাধ্যমে সংযুক্ত, যা পাঠক অচিরেই বুঝতে পারবেন। আমি এগুলোকে ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি যার মাধ্যমে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মূল পাণ্ডুলিপির কিছু শ্রুতিলিপি রাবী‘-এর হস্তলিপিতে লিখিত তিনটি খণ্ডের শিরোনামের ওপর প্রমাণিত রয়েছে (চিত্র নম্বর ৩, ৪, ৫); আর বাকিগুলো এমন কিছু কাগজে লেখা হয়েছে যা মূল পাণ্ডুলিপির সাথে আঠা দিয়ে লাগানো হয়েছে এবং খণ্ডগুলোর শুরুতে ও শেষে সংযুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ এই তিনটি খণ্ডেই তিনবার করে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। সকল শ্রুতিলিপি তাদের ঐতিহাসিক কালক্রম অনুযায়ী প্রাচীনতম থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি প্রতিটি পুনরাবৃত্ত শ্রুতিলিপি থেকে কেবল একটি উল্লেখ করেছি এবং অন্যগুলোর দিকে ইঙ্গিত করার পাশাপাশি সেগুলোতে অতিরিক্ত কোনো তথ্য থাকলে তাও উল্লেখ করেছি। আমি এর ব্যতিক্রম করিনি কেবল আব্দুর রহমান ইবনে নাসরের হস্তলিখিত শ্রুতিলিপিগুলোর ক্ষেত্রে; প্রথমত এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে, দ্বিতীয়ত এগুলো রাবী‘-এর শিরোনামগুলোর ওপর থাকা চিত্রাবলিতে সংরক্ষিত হওয়ার কারণে, এবং তৃতীয়ত এগুলোর বয়ান অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে। এছাড়া প্রয়োজনে আমি আরও কিছু শ্রুতিলিপিকেও স্বতন্ত্র রেখেছি। শ্রুতিলিপিসমূহ হলো (১-২৮ নম্বর পর্যন্ত)। আর শ্রুতিলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সনদসমূহ, যা মূলত রচয়িতা আলেমদের থেকে কিতাবের বর্ণনাকারী রাবী‘ পর্যন্ত পৌঁছানোর সনদ (২৯-৩১ নম্বর)।

শ্রুতিলিপিসমূহের মধ্যে আরও এক প্রকারের সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, যেখানে কোনো আলেম নিজের হস্তাক্ষরে তাঁর শোনার বিবরণ লিখে রেখেছেন; যেমন তিনি বলেন— "অমুক এটি শুনেছেন" অথবা "অমুকের শ্রবণ" ইত্যাদি। যারা এটি লিখেছেন তাদের প্রত্যেকের নামই শ্রবণ-মজলিসসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল একজন ব্যতীত; তিনি হলেন আবুল কাসিম আল-বাওরী হিবাতুল্লাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১) আর-রিসালাহ লিশ শাফিয়ী (পৃষ্ঠা: ٣١)
معد الدمياطي المتوفى سنة 599 (انظر رقم 43). وقد جمعتها كلها من ثنايا السماعات، وحذفت المكرر منها مع الاشارة إليه. ورتبتها الاقدم فالاقدم، وسميتها " التوقيعات " (رقم 32 - 45).

ومما ألحق بالسماعات في أصل الربيع، مما كتب العلماء بخطوطهم -:

أحاديث وآثار رووها بأسانيدهم، ذكرتها أيضا بنصها (رقم 46 - 59).

ثم يتلو ذلك ما كتب على نسخة العماد ابن جماعة، من أسانيد وفوائد وسماعه على جده (رقم 60 - 68).

والاعلام المذكورون في هذه السماعات وما ألحق بها يزيدون على ثلاثمائة نفس، أحصيتهم كلهم في فهرس في آخر هذه المقدمة. فأما الذين ذكروا في أسانيد الاحاديث والاثار فلم أقصد إلى ذكر تراجمهم، خشية الاطالة، ولانه لا صلة بينهم وبين رواية الكتاب. وأما الاخرون: المذكورون في السماعات والتوقيعات فقد بذلت الوسع في البحث عن تراجمهم، فمن وجدت منه ترجمته، أشرت إليها بإيجاز، وأحلت القارئ إلى موضعها، ومن لم أجد سكت عنه، ولا أدعي في ذلك غاية الكمال، فما ذلك لاحد من الناس، ولكني اجتهدت وتحريت، وحسبي هذا أداء للواجب علي. وقد تكون ترجمة الرجل ممن لم أجد على طرف الثمام مني، ثم أخطها من حيث لا أدري. ومن وجدت ترجمته وضعت صورة نجم (*) بجوار اسمه في الفهرس.
মাআদ আদ-দুমইয়াতি, যিনি ৫৯৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন (দ্রষ্টব্য নং ৪৩)। আমি এ সমস্ত কিছু শ্রুতি-লিপিসমূহের (সামা'আত) ভেতর থেকে সংগ্রহ করেছি এবং পুনরাবৃত্তিসমূহ চিহ্নিত করে বর্জন করেছি। আমি সেগুলোকে কালানুক্রম অনুযায়ী প্রাচীন থেকে ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত করেছি এবং সেটির নাম দিয়েছি "আত-তাওকিআত" (নং ৩২ - ৪৫)।

আর রবী'র মূল পাণ্ডুলিপির শ্রুতি-লিপিসমূহের সাথে যা কিছু সংযুক্ত করা হয়েছে, যা উলামায়ে কেরাম স্বহস্তে লিপিবদ্ধ করেছেন—:

এমন সব হাদিস ও আসার যা তারা নিজ নিজ সনদসহ বর্ণনা করেছেন, সেগুলোও আমি মূল পাঠসহ উল্লেখ করেছি (নং ৪৬ - ৫group)।

এরপর ইমাদ ইবন জামাআহর পাণ্ডুলিপিতে যা লিখিত আছে তা সন্নিবেশিত হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন সনদ, ফায়দা এবং তার দাদার নিকট তার শ্রবণ (নং ৬০ - ৬৮)।

এই শ্রুতি-লিপি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদিতে যে সকল বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম এসেছে তাদের সংখ্যা তিন শতাধিক; আমি এই ভূমিকার শেষে একটি নির্ঘণ্টে তাদের সকলকে তালিকাভুক্ত করেছি। আর যারা হাদিস ও আসারের সনদে উল্লিখিত হয়েছেন, দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে এবং এই কিতাবটি বর্ণনার সাথে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় আমি তাদের জীবনী উল্লেখ করার সংকল্প করিনি। তবে অন্যান্যদের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ যারা শ্রুতি-লিপি ও তাওকিয়াতে উল্লিখিত হয়েছেন—তাদের জীবনী অনুসন্ধানে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। ফলে যার জীবনী পেয়েছি, সংক্ষেপে সেদিকে ইঙ্গিত করেছি এবং পাঠককে তার মূল উৎসের দিকে নির্দেশ করেছি; আর যার সম্পর্কে তথ্য পাইনি, তার ক্ষেত্রে নীরবতা অবলম্বন করেছি। আমি এক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গতার দাবি করছি না, কেননা তা কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়; তবে আমি শ্রম ও অনুসন্ধান চালিয়েছি এবং নিজ দায়িত্ব পালনে এটিই আমার জন্য যথেষ্ট। হতে পারে এমন কোনো ব্যক্তির জীবনী আমি খুঁজে পাইনি যা আমার অতি নিকটেই ছিল, অথচ আমি তা অগোচরে এড়িয়ে গিয়েছি। যার জীবনী পাওয়া গেছে, নির্ঘণ্টে তার নামের পাশে একটি তারকা চিহ্ন (*) বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।