(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإبانة عن أصول الديانة - ت فوقية (أبو الحسن الأشعري)
القسم: العقيدة
الكتاب: الإبانة عن أصول الديانة
المؤلف: أبو الحسن علي بن إسماعيل بن إسحاق بن سالم بن إسماعيل بن عبد الله بن موسى بن أبي بردة بن أبي موسى الأشعري (ت 324هـ)
المحقق: د. فوقية حسين محمود
الناشر: دار الأنصار - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1397
عدد الصفحات: 260
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - ফাওকিয়্যাহর সম্পাদনা (আবুল হাসান আল-আশআরী)
বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ
লেখক: আবুল হাসান আলী বিন ইসমাঈল বিন ইসহাক বিন সালিম বিন ইসমাঈল বিন আবদুল্লাহ বিন মূসা বিন আবি বুরদাহ বিন আবি মূসা আল-আশআরী (মৃত্যু ৩২৪ হিজরি)
সম্পাদক: ড. ফাওকিয়্যাহ হুসাইন মাহমুদ
প্রকাশক: দারুল আনসার - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৩৯৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيموهو حسبي ونعم الوكيلوصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلمقال الشيخ الإمام العالم أبو الحسن علي بن إسماعيل بن علي بن أبي بشر الأشعري البصري رحمه الله:1- الحمد لله الواحد الأحد، العزيز الماجد، المتفرد بالتوحيد، والمنفرد بالتمجيد، الذي لا تبلغه صفات العبيد، ليس له مثل ولا نديد، وهو المبدئ المعيد، الفعال لما يريد، جل عن اتخاذ الصواحب والأولاد، وتقدس عن ملابسة الأجناس والأرجاس، ليست له عثرة تقال، ولا حد يضرب له مثال، لم يزل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম আবুল হাসান আলী বিন ইসমাঈল বিন আলী বিন আবি বিশর আল-আশআরী আল-বাসরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:১- সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, অদ্বিতীয়, পরাক্রমশালী, মহিমান্বিত, একত্ববাদে অনন্য এবং গৌরবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী; বান্দাদের গুণাবলী যাঁর প্রকৃত স্বরূপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, যাঁর কোনো সদৃশ বা সমকক্ষ নেই। তিনি আদি স্রষ্টা ও পুনরায় জীবনদানকারী এবং তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে সুউচ্চ এবং সমজাতীয়তা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র। তাঁর এমন কোনো বিচ্যুতি নেই যা উল্লেখ করা যায় এবং তাঁর কোনো সীমা নেই যার উদাহরণ দেওয়া যায়। তিনি অনাদিকাল থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
بصفاته أولا قديرا، ولا يزال عالما خبيرا، استوفى الأشياء علمه، ونفذت فيها إرادته، فلم تعزب عليه خفيات الأمور، ولم تغيره سوالف صروف الدهور، ولم يلحقه في خلق شيء مما خلق كلال ولا تعب، ولا مسه لغوب ولا نصب، خلق الأشياء بقدرته، ودبرها بمشيئته، وقهرها بجبروته، وذللها بعزته، فذل لعظمته المتكبرون، واستكان لعز ربوبيته المتعظمون، وانقطع دون الرسوخ في علمه العالمون، وذلت له الرقاب، وحارت في ملكوته فطن ذوى الألباب، وقامت بكلمته السماوات السبع، واستقرت الأرض المهاد، وثبتت الجبال الرواسي، وجرت الرياح اللواقح، وسار في جو السماء السحاب، وقامت على حدودها البحار، وهو الله الواحد القهار.2- فنحمده كما حمد نفسه، وكما هو أهله ومستحقه، وكما حمده الحامدون من جميع خلقه، ونستعينه استعانة من فوض الأمر
তিনি তাঁর গুণাবলির সাথে অনাদি কাল থেকেই সর্বশক্তিমান, এবং তিনি সর্বদা সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত। তাঁর জ্ঞান সমস্ত বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তাঁর ইচ্ছা সেগুলোর মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। সুতরাং তাঁর কাছে বিষয়সমূহের গোপনীয়তা গোপন থাকে না, এবং বিগত কালের আবর্তনসমূহ তাঁকে পরিবর্তন করে না। তাঁর সৃষ্ট কোনো কিছু সৃষ্টি করতে গিয়ে তাঁর কোনো ক্লান্তি বা শ্রান্তি আসেনি এবং কোনো অবসাদ বা কষ্ট তাঁকে স্পর্শ করেনি। তিনি তাঁর ক্ষমতা দ্বারা বস্তুসমূহ সৃষ্টি করেছেন, তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সেগুলো পরিচালনা করেছেন, তাঁর প্রতাপের মাধ্যমে সেগুলোকে পরাভূত করেছেন এবং তাঁর সম্মান দ্বারা সেগুলোকে অনুগত করেছেন। সুতরাং তাঁর মহত্ত্বের সামনে অহংকারীরা লাঞ্ছিত হয়েছে, তাঁর রুবুবিয়্যাতের মর্যাদার কাছে দম্ভকারীরা অবনত হয়েছে, আলেমগণ তাঁর জ্ঞানের গভীরে পৌঁছাতে না পেরে থেমে গিয়েছে, তাঁর সামনে সমস্ত মস্তক নত হয়েছে এবং বুদ্ধিমানদের প্রজ্ঞা তাঁর রাজত্বে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। তাঁর নির্দেশেই সাত আসমান প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, বিস্তৃত জমিন স্থিতিশীল হয়েছে, সুদৃঢ় পাহাড়সমূহ স্থির হয়েছে, গর্ভবতী বায়ু প্রবাহিত হয়েছে, আকাশের শূন্যস্থানে মেঘমালা বিচরণ করেছে এবং সমুদ্রসমূহ নিজ নিজ সীমানায় দণ্ডায়মান হয়েছে; আর তিনি আল্লাহ—যিনি একক ও মহাপরাক্রমশালী।২- সুতরাং আমরা তাঁর প্রশংসা করি যেভাবে তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন এবং যেভাবে তিনি প্রশংসার যোগ্য ও হকদার, আর তাঁর সকল সৃষ্টিজগত থেকে প্রশংসাকারীরা যেভাবে তাঁর প্রশংসা করেছে। এবং আমরা তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এমন ব্যক্তির মতো যে স্বীয় বিষয় অর্পণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إليه، وأقر أنه لا منجى ولا ملجأ إلا إليه، ونستغفره استغفار مقر بذنبه، معترف بخطيئته.ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، إقرارا بوحدانيته، وإخلاصا لربوبيته، وأنه العالم بما تظن الضمائر، وتنطوي عليه السرائر، وما تخفيه النفوس، وما تجن البحار، وما تواريه الأسراب، (وما تفيض الأرحام وما تزداد، وكل شيء عنده بمقدار) ، لا توارى عنه كلمة، ولا تغيب عنه غائبة، (وما تسقط من ورقة إلا يعلمها، ولا حبة في ظلمات الأرض ولا رطب ولا يابس إلا في كتاب مبين) من الآية (59) .ويعلم ما يعمل العاملون وما ينقلب إليه المنقلبون.3 - ونستهديه بالهدى، ونسأله التوفيق لمجانبة الردى.4 - ونشهد أن محمدا صلى الله عليه وسلم عبده ورسوله، ونبيه وأمينه وصفيه، أرسله إلى خلقه بالنور الساطع، والسراج اللامع، والحجج الظاهرة، والبراهين والآيات الباهرة، والأعاجيب القاهرة، فبلّغ رسالة ربه، ونصح لأمته، وجاهد في الله حق جهاده، حتى تمت كلمة الله عز وجل، وظهر أمره، وانقاد الناس إلى الحق خاضعين، حتى أتاه اليقين، لا وانيا ولا مقصرا،
তাঁরই পানে, এবং আমি স্বীকার করছি যে তিনি ছাড়া কোনো নিষ্কৃতি বা আশ্রয়স্থল নেই। আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এমনভাবে যেভাবে একজন তার পাপ স্বীকারকারী এবং তার অপরাধ কবুলকারী ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনা করে।আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁর একত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাঁর রুবুবিয়াতের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে। তিনি সে বিষয়ে পরিজ্ঞাত যা অন্তরে উদিত হয় এবং যা গোপন বিষয়সমূহ ধারণ করে, এবং যা আত্মা গোপন রাখে, আর যা সমুদ্রসমূহ লুকিয়ে রাখে, আর যা গর্তসমূহ আবৃত করে রাখে। (আর জরায়ু যা সংকুচিত করে এবং যা বর্ধিত করে এবং তাঁর নিকট প্রত্যেক বস্তুরই একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ রয়েছে)। কোনো কথাই তাঁর নিকট অগোচরে থাকে না এবং কোনো অদৃশ্য বস্তুই তাঁর নিকট হতে অনুপস্থিত থাকে না। (আর কোনো পাতা ঝরে না তিনি যা জানেন না, আর জমিনের অন্ধকারাচ্ছন্ন স্তরে কোনো শস্যকণাও নেই এবং আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কিছু নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই) আয়াত ৫৯ থেকে।আমলকারীরা যা আমল করে এবং প্রত্যাবর্তনকারীরা যেখানে প্রত্যাবর্তন করবে তা তিনি জানেন।৩ - আমরা তাঁর নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করি এবং ধ্বংস থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক কামনা করি।৪ - আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর নবী, তাঁর আমানতদার ও তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। তিনি তাঁকে তাঁর সৃষ্টির নিকট পাঠিয়েছেন উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা, দীপ্তিমান প্রদীপ, সুস্পষ্ট দলিলসমূহ, উজ্জ্বল প্রমাণ ও নিদর্শনাবলি এবং অকাট্য বিস্ময়কর বিষয়সমূহ সহকারে। অতঃপর তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করেছেন, যে পর্যন্ত না পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর বাণী পূর্ণ হয়েছে, তাঁর দ্বীন বিজয়ী হয়েছে এবং মানুষ বিনয়ের সাথে সত্যের প্রতি অনুগত হয়েছে। মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত তিনি অবসাদগ্রস্ত বা ত্রুটিগ্রস্ত হননি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فصلوات الله عليه من قائد إلى هدى مبين، وعلى أهل بيته الطيبين، وعلى أصحابه المنتخبين، وعلى أزواجه أمهات المؤمنين.عرَّفنا الله به الشرائع والأحكام، والحلال والحرام، وبيَّن لنا به شريعة الإسلام، حتى انجلت عنا طخياء الظلام، وانحسرت عنا به الشبهات، وانكشفت عنا به الغيابات، وظهرت لنا به البينات.وجاءنا بـ (كتاب عزيز لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، تنزيل من حكيم حميد) من الآية (41 -42)جمع فيه علم الأولين والآخرين، وأكمل به الفرائض والدين، فهو صراط الله المستقيم، وحبل الله المتين، فمن تمسك به نجا، ومن خالفه ضل وغوى، وفي الجهل تردى، وحثنا الله في كتابه على التمسك بسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فقال عز وجل: (وما أتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا) من الآية (7) ،
আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যিনি সুস্পষ্ট হিদায়াতের দিকে পরিচালক; এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইত, তাঁর মনোনীত সাহাবীগণ এবং মুমিনদের জননী তাঁর পত্নীগণের ওপর।আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আমাদের কাছে শরিয়তের বিধিবিধান ও হালাল-হারাম পরিচিত করেছেন এবং আমাদের জন্য ইসলামের জীবনবিধান বর্ণনা করেছেন, যার ফলে আমাদের থেকে অন্ধকারের কালিমা দূরীভূত হয়েছে, সংশয়সমূহ অপসারিত হয়েছে, অন্ধকারগুলো তিরোহিত হয়েছে এবং আমাদের সামনে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি প্রকাশিত হয়েছে।তিনি আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন এক মহিমান্বিত কিতাব, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (আয়াত ৪১-৪২ থেকে)তিনি এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞান একত্রিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে ফরজ বিধানসমূহ ও দীনকে পূর্ণতা দান করেছেন। এটি আল্লাহর সরল পথ এবং তাঁর মজবুত রশি। ফলে যে একে আঁকড়ে ধরবে সে মুক্তি পাবে, আর যে এর বিরোধিতা করবে সে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হবে এবং মূর্খতায় নিপতিত হবে। আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমাদের তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।” (আয়াত ৭ থেকে),
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال عز وجل: (فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم) من الآية (63) ، وقال تعالى: (ولو ردوه إلى الرسول وإلى أولى الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم) من الآية (83) ، وقال تعالى: (يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولى الأمر منكم فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول) من الآية (59) ، يقول: إلى كتاب الله وسنة رسوله: (وما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى) ، وقال تعالى: (قل ما يكون لي أن أبدله من تلقاء نفسي، إن أتبع إلا ما يوحى إلي) من الآية (15) ،
এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: (অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফেতনা বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে) (৬৩) নম্বর আয়াতের অংশ, এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: (যদি তারা তা রাসূলের নিকট এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরদের নিকট পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ঘাটন করে তারা অবশ্যই তা জানতে পারত) (৮৩) নম্বর আয়াতের অংশ, এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর তাদেরও; অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট পেশ করো) (৫৯) নম্বর আয়াতের অংশ, তিনি বলেন: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে: (আর তিনি প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়), এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: (বলুন, আমার নিজের পক্ষ থেকে একে পরিবর্তন করার কোনো অধিকার নেই; আমি কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি ওহী করা হয়) (১৫) নম্বর আয়াতের অংশ,
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال: (إنما كان قول المؤمنين إذا دعوا إلى الله ورسوله ليحكم بينهم أن يقولوا سمعنا وأطعنا) من الآية (51) فأمرهم أن يسمعوا قوله، ويطيعوا أمره، ويحذروا مخالفته، وقال: (وأطيعوا الله وأطيعوا الرسول) من الآية (92) فأمرهم بطاعة رسوله كما أمرهم بطاعته، ودعاهم إلى التمسك بسنة نبيه كما أمرهم بالعمل بكتابه.5 - فنبذ كثير ممن غلبت عليهم شقوته، واستحوذ عليهم الشيطان سنن نبي الله صلى الله عليه وسلم وراء ظهورهم، ومالوا إلى أسلاف لهم قلدوهم دينهم، ودانوا بديانتهم، وأبطلوا سنن نبي الله عليه الصلاة والسلام، ودفعوها وأنكروها وجحدوها افتراء منهم على الله، (قد ضلوا وما كانوا مهتدين) من الآية (14) .أوصيكم عباد الله بتقوى الله، وأحذركم الدنيا، فإنها حلوة خضرة، تغر أهلها وتخدع سكَّانها،
এবং তিনি বলেছেন: (মুমিনদের কথা তো কেবল এটাই, যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যেন তিনি তাদের মাঝে ফয়সালা করেন, তারা বলে: আমরা শুনলাম ও মানলাম) - আয়াত (৫১) থেকে। সুতরাং তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর কথা শোনার, তাঁর আদেশ পালন করার এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে সতর্ক থাকার। এবং তিনি বলেছেন: (তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো) - আয়াত (৯২) থেকে। অতঃপর তিনি তাদের তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন ঠিক যেমনভাবে তিনি তাঁর নিজের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তিনি তাদের তাঁর নবীর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন ঠিক যেভাবে তিনি তাঁর কিতাব অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।৫ - অতঃপর যাদের ওপর তাদের দুর্ভাগ্য জয়ী হয়েছে এবং শয়তান যাদেরকে গ্রাস করেছে, তাদের অনেকেই আল্লাহর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহকে পেছনে নিক্ষেপ করেছে; এবং তারা তাদের এমন পূর্বপুরুষদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে যাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে তারা অন্ধ অনুসরণ করেছে এবং যাদের ধর্মাদর্শকে তারা গ্রহণ করেছে। তারা আল্লাহর নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সুন্নাহসমূহকে বাতিল করে দিয়েছে, সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে, অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে সেগুলো অগ্রাহ্য করেছে, (তারা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না) - আয়াত (১৪) থেকে।হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের অসিয়ত করছি, আর তোমাদের দুনিয়া সম্পর্কে সতর্ক করছি। কেননা তা সুমিষ্ট ও মনোরম, এটি এর অনুসারীদের বিভ্রান্ত করে এবং এর বাসিন্দাদের ধোঁকা দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال الله تعالى: (واضرب لهم مثل الحياة الدنيا كماء أنزلناه من السماء فاختلط به نبات الأرض) الآية من الآية (45) .من كان فيها في حيرة أعقبته بعدها عبرة، ومن أعطته من سرائها بطنا أعقبته من ضرائها ظهرا، غرارة غرور ما فيها، فانية فَانٍ ما فيها، كما بقوله تعالى: (كل من عليها فان) (26) ، فاعملوا رحمكم الله للحياة الدائمة، ولخلود الأبد، فإن الدنيا تنقضي على أهلها، وتبقى الأعمال قلائد في رقاب أهلها.واعلموا أنكم ميتون، ثم إنكم من بعد موتكم إلى ربكم راجعون، (ليجزي الذين أساؤوا بما عملوا ويجزي الذين أحسنوا بالحسنى) من الآية (31) .فكونوا بطاعة ربكم عاملين، وعما نهاكم منتهين.
মহান আল্লাহ বলেন: (আর তাদের নিকট পার্থিব জীবনের উপমা পেশ করুন, যা সেই পানির ন্যায় যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করেছি, ফলে তার মাধ্যমে যমীনের উদ্ভিদসমূহ ঘন হয়ে উদ্গত হয়েছে) ৪৫ নং আয়াতের অংশবিশেষ।যে ব্যক্তি এতে বিভ্রান্তির মধ্যে থাকে, তা তাকে পরবর্তীতে শিক্ষা প্রদান করে। আর এটি যাকে তার সুখের সম্মুখভাগ দেখায়, তাকেই পরবর্তীতে দুঃখের পশ্চাৎভাগ দেখায়। এটি চরম প্রতারণাপূর্ণ এবং এর মধ্যকার সবকিছুই ধোঁকা; এটি নশ্বর এবং এর মধ্যকার সবকিছুই ধ্বংসশীল, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: (ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর) (২৬)। অতএব, আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, আপনারা চিরস্থায়ী জীবন এবং অনন্তকালের জন্য আমল করুন। কেননা দুনিয়া তার অধিবাসীদের নিকট থেকে নিঃশেষ হয়ে যায়, কিন্তু আমলসমূহ তাদের গলদেশে হারের ন্যায় লটকে থাকে।আর জেনে রাখুন যে, আপনারা মরণশীল, অতঃপর মৃত্যুর পর আপনারা আপনাদের রবের নিকট ফিরে যাবেন, (যাতে তিনি যারা মন্দ কাজ করেছে তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেন এবং যারা সৎকাজ করেছে তাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার) ৩১ নং আয়াতের অংশবিশেষ।সুতরাং আপনারা আপনাদের রবের আনুগত্যে রত হোন এবং যা থেকে তিনি আপনাদের নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فصل في قول أهل الزيغ والبدع:أما بعد: فإن كثيرا من الزائغين عن الحق من المعتزلة وأهل القدر مالت بهم أهواؤهم إلى تقليد رؤسائهم ومن مضى من أسلافهم، فتأولوا القرآن على آرائهم تأويلا لم ينزل به الله سلطانا، ولا أوضح به برهانا، ولا نقلوه عن رسول رب العالمين، ولا عن السلف المتقدمين.وخالفوا روايات الصحابة رضي الله عنهم عن نبي الله صلى الله عليه وسلم في رؤية الله عز وجل بالأبصار، وقد جاءت في ذلك الروايات من الجهات المختلفات، وتواترت بها الآثار وتتابعت بها الأخبار.
পথভ্রষ্ট ও বিদআতিদের বক্তব্য সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:অতঃপর: সত্যবিচ্যুত মুতাজিলা ও কদরিয়াদের অন্তর্ভুক্ত বহু লোক তাদের প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে তাদের নেতৃবৃন্দ এবং অতীত পূর্বসূরিদের অন্ধ অনুকরণের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে তারা কুরআনকে নিজেদের মতামত অনুযায়ী এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং কোনো দলিলও স্পষ্ট করেননি। আর তারা তা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসূল কিংবা পূর্ববর্তী সালাফদের থেকে বর্ণনা করেনি।তারা মহান আল্লাহকে চাক্ষুষ দর্শনের ব্যাপারে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বর্ণনাসমূহের বিরোধিতা করেছে; অথচ এ বিষয়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে বর্ণনা এসেছে এবং এ সংক্রান্ত আসারসমূহ মুতাওয়াতিরভাবে ও ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأنكروا شفاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم للمذنبين، ودفعوا الروايات في ذلك عن السلف المتقدمين.وجحدوا عذاب القبر، وأن الكفار في قبورهم يعذبون، وقد أجمع على ذلك الصحابة والتابعون رضي الله عنهم أجمعين.ودانوا بخلق القرآن نظيرا لقول إخوانهم من المشركين؛ الذين قالوا: (إن هذا إلا قول البشر) (25) .وأثبتوا أن العباد يخلقون الشر، نظيرا لقول المجوس الذين أثبتوا خالقين:أحدهما الخير، والآخر يخلق الشر.وزعمت القدرية أن الله تعالى يخلق الخير، والشيطان يخلق الشر.وزعموا أن الله تعالى يشاء ما لا يكون، ويكون مالا يشاء، خلافا لما أجمع عليه المسلمون من أن ما شاء الله كان، وما لم يشأ لم يكن، وردا لقول الله تعالى
এবং তারা গুনাহগারদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফায়াত অস্বীকার করেছে এবং এই বিষয়ে পূর্ববর্তী সালাফদের বর্ণিত বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।এবং তারা কবরের আযাবকে অস্বীকার করেছে এবং কাফেরদের তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হবে—এই সত্যকেও তারা অস্বীকার করেছে; অথচ সাহাবী ও তাবিঈগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।এবং তারা কুরআন সৃষ্টির আকিদা পোষণ করেছে, যা তাদের মুশরিক ভাইদের বক্তব্যের অনুরূপ; যারা বলেছিল: "এটি মানুষের কথা ব্যতীত আর কিছু নয়" (২৫)।এবং তারা দাবি করেছে যে বান্দারাই মন্দ সৃষ্টি করে, যা অগ্নিপূজকদের মতবাদের অনুরূপ যারা দুজন স্রষ্টা সাব্যস্ত করেছিল:তাদের একজন কল্যাণ সৃষ্টি করে এবং অন্যজন মন্দ সৃষ্টি করে।কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় দাবি করেছে যে, আল্লাহ তাআলা কল্যাণ সৃষ্টি করেন এবং শয়তান মন্দ সৃষ্টি করে।তারা আরও দাবি করেছে যে, আল্লাহ যা চান তা ঘটে না এবং যা তিনি চান না তা ঘটে; যা মুসলমানদের সর্বসম্মত আকিদার পরিপন্থী যে, "আল্লাহ যা চান তা-ই হয় এবং যা তিনি চান না তা হয় না"। তাদের এই দাবি আল্লাহ তাআলার বাণীরও প্রত্যাখ্যান স্বরূপ—
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
: (وما تشاؤون إلا أن يشاء الله) من الآية (30)فأخبر تعالى أنا لا نشاء شيئا إلا وقد شاء الله أن نشاءه.ولقوله: (ولو شاء الله ما اقتتلوا) من الآية (253) ، ولقوله تعالى: (ولو شئنا لآتينا كل نفس هداها) من الآية (13) ، ولقوله تعالى: (فعال لما يريد) من الآية (107) ، ولقوله تعالى مخبرا عن نبيه شعيب صلى الله عليه وسلم أنه قال: (وما يكون لنا أن نعود فيها إلا أن يشاء الله ربنا، وسع ربنا كل شيء علما) من الآية (89) .ولهذا سماهم رسول الله صلى الله عليه وسلم مجوس هذه الأمة؛ لأنهم دانوا بديانة المجوس، وضاهوا أقاويلهم.وزعموا أن للخير والشر خالقين، كما زعمت المجوس ذلك، وأنه يكون من الشرور ما لا يشاء الله كما قالت المجوس.وأنهم يملكون الضر والنفع لأنفسهم من دون الله عز
(এবং তোমরা ইচ্ছা করবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন) ৩০ নম্বর আয়াত থেকে।অতঃপর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, আমরা কোনো কিছুরই ইচ্ছা করি না যতক্ষণ না আল্লাহ ইচ্ছা করেছেন যে আমরা তা ইচ্ছা করি।এবং তাঁর বাণীর কারণে: (আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন তবে তারা লড়াই করত না) ২৫৩ নম্বর আয়াত থেকে, এবং আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: (আর আমি যদি ইচ্ছা করতাম তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার সঠিক পথপ্রদর্শন করতাম) ১৩ নম্বর আয়াত থেকে, এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী) ১০৭ নম্বর আয়াত থেকে, এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে যেখানে তিনি তাঁর নবী শুআইব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছিলেন: (তাতে ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে আমাদের রব আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন; আমাদের রব প্রতিটি বিষয়কে তাঁর জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে আছেন) ৮৯ নম্বর আয়াত থেকে।এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে এই উম্মতের মাজুস (অগ্নিউপাসক) নামে অভিহিত করেছেন; কারণ তারা মাজুসদের ধর্ম অনুসরণ করেছে এবং তাদের মতামতের সাদৃশ্য অবলম্বন করেছে।তারা দাবি করেছে যে, কল্যাণ ও অকল্যাণের জন্য দুইজন স্রষ্টা রয়েছেন, যেমনটি মাজুসরা দাবি করেছিল; এবং তারা মনে করে যে এমন সব মন্দ ঘটে যা আল্লাহ ইচ্ছা করেন না, যেমনটি মাজুসরা বলেছিল।এবং তারা মনে করে যে তারা মহান আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্য ক্ষতি ও উপকারের মালিক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وجل، ردا لقول الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: (قل لا أملك لنفسي نفعا ولا ضرا إلا ما شاء الله) (188) ، وإعراضا عن القرآن، وعما أجمع عليه أهل الإسلام.وزعموا أنهم منفردون بالقدرة على أعمالهم دون ربهم، فأثبتوا لأنفسهم الغنى عن الله عز وجل، ووصفوا أنفسهم بالقدرة على ما لم يصفوا الله عز وجل بالقدرة عليه، كما أثبت المجوس لعنهم الله للشيطان من القدرة على الشر ما لم يثبتوا لله عز وجل، فكانوا مجوس هذه الأمة؛ إذ دانوا بديانة المجوس، وتمسكوا بأقاويلهم ومالوا إلى أضاليلهم.وقنطوا الناس من رحمة الله، وآيسوهم من روحه، وحكموا على العصاة بالنار والخلود فيها، خلافا لقول الله تعالى: (ويغفر ما دون ذلك لمن يشاء) من الآية (48) .وزعموا أن من دخل النار لا يخرج منها، خلافا لما جاءت به الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن الله عز وجل يخرج قوما من النار بعد أن امْتَحَشُوا فيها
এবং মহান, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন তার বিপরীতে: (বলুন, আমি আমার নিজের জন্য কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণের মালিক নই, তবে আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত) (১৮৮), এবং কুরআন ও মুসলিম উম্মাহ যে বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন তা থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করে।তারা দাবি করেছে যে, তারা তাদের রবের পরিবর্তে নিজেদের কর্মের ওপর নিজেরাই একক ক্ষমতার অধিকারী। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের জন্য অমুখাপেক্ষিতা সাব্যস্ত করেছে এবং নিজেদের জন্য এমন ক্ষমতার বর্ণনা দিয়েছে যা তারা মহান আল্লাহর জন্য বর্ণনা করেনি। যেমনভাবে অগ্নিপূজকরা—আল্লাহর লানত তাদের ওপর—শয়তানের জন্য অনিষ্ট সাধনের এমন ক্ষমতা সাব্যস্ত করেছে যা তারা মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করেনি। ফলে তারা এই উম্মতের অগ্নিপূজকে পরিণত হয়েছে; যেহেতু তারা অগ্নিপূজকদের ধর্ম গ্রহণ করেছে, তাদের মতবাদকে আঁকড়ে ধরেছে এবং তাদের বিভ্রান্তির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।তারা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করেছে এবং তাঁর করুণা থেকে হতাশ করেছে। তারা পাপাচারীদের জন্য জাহান্নাম ও সেখানে চিরস্থায়ী অবস্থানের ফয়সালা দিয়েছে, যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর পরিপন্থী: (এবং তিনি এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের গুনাহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করেন) আয়াত (৪৮) থেকে।তারা দাবি করেছে যে, যে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে সে আর সেখান থেকে বের হবে না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের পরিপন্থী: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ একদল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করবেন তারা সেখানে দগ্ধ হওয়ার পর...
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وصاروا حمما) .ودفعوا أن يكون لله وجه مع قوله عز وجل: (ويبقى وجه ربك ذو الجلال والإكرام) (27)وأنكروا أن له يدان مع قوله سبحانه: (لما خلقت بيدي) من الآية (75) .وأنكروا أن يكون له عينان مع قوله سبحانه: (تجري بأعيننا) من الآية (14) ، وقوله: (ولتصنع على عيني) (39) .وأنكروا أن يكون له سبحانه علم مع قوله: (أنزله بعلمه) من الآية (166) .وأنكروا أن يكون له قوة مع قوله سبحانه: (ذو القوة المتين) من الآية (58) .ونفوا ما روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم (أن الله
এবং তারা দগ্ধ অঙ্গারে পরিণত হলো) ।এবং তারা আল্লাহর চেহারা থাকাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, অথচ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: (আর আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে) (২৭)এবং তারা অস্বীকার করেছে যে আল্লাহর হাত রয়েছে, অথচ পবিত্র আল্লাহ বলেছেন: (যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি) আয়াত (৭৫) থেকে।এবং তারা আল্লাহর চোখ থাকাকে অস্বীকার করেছে, অথচ পবিত্র আল্লাহ বলেছেন: (যা চলত আমার চোখের সামনে) আয়াত (১৪) থেকে, এবং তাঁর বাণী: (আর যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও) (৩৯)।এবং তারা পবিত্র আল্লাহর জ্ঞান থাকাকে অস্বীকার করেছে, অথচ তাঁর বাণী: (তিনি তা তাঁর নিজ জ্ঞানে অবতীর্ণ করেছেন) আয়াত (১৬৬) থেকে।এবং তারা তাঁর শক্তি থাকাকে অস্বীকার করেছে, অথচ পবিত্র আল্লাহর বাণী: (তিনিই প্রবল শক্তিশালী, অত্যন্ত দৃঢ়) আয়াত (৫৮) থেকে।এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত বিষয়গুলোকে অস্বীকার করেছে (যে নিশ্চয়ই আল্লাহ
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عز وجل ينزل كل ليلة إلى السماء الدنيا) وغير ذلك مما رواه الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.وكذلك جميع أهل البدع من الجهمية والمرجئة والحرورية، أهل الزيغ فيما ابتدعوا وخالفوا الكتاب والسنة، وما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضى الله عنهم أجمعين، وأجمعت عليه الأمة كفعل المعتزلة والقدرية وأنا ذاكر ذلك بابا بابا، وشيئا شيئا إن شاء الله تعالى وبه المعونة.
(মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।অনুরূপভাবে বিদআতী সকল দল—জাহমিয়া, মুরজিয়া এবং হারুরিয়া—হলো বিভ্রান্তির অনুসারী সেই সব বিষয়ে যা তারা নব উদ্ভাবন করেছে এবং যার মাধ্যমে তারা কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা করেছে, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং উম্মাহ যে বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে, তারা তার বিরুদ্ধাচরণ করেছে—যেমন মুতাযিলা ও কাদারিয়াদের কর্মকাণ্ড। আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা তা একে একে এবং অধ্যায় অনুসারে উল্লেখ করব, আর তাঁর সাহায্যই কাম্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فصل في إبانة قول أهل الحق والسنة:فإن قال لنا قائل: قد أنكرتم قول المعتزلة والقدرية والجهمية والحرورية والرافعة والمرجئة، فعرفونا قولكم الذي به تقولون، وديانتكم التي بها تدينون.قيل له:قولنا الذي نقول به، وديانتنا التي ندين بها، التمسك بكتاب الله ربنا عز وجل، وبسنة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وما روى عن السادة الصحابة والتابعين وأئمة الحديث، ونحن بذلك معتصمون، وبما كان يقول به أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل - نضر الله وجهه ورفع درجته وأجزل مثوبته - قائلون، ولما خالف قوله مخالفون؛ لأنه الإمام الفاضل، والرئيس الكامل، الذي
সত্যপন্থী ও সুন্নাহর অনুসারীদের বক্তব্য স্পষ্টীকরণের পরিচ্ছেদ:যদি কোনো প্রশ্নকারী আমাদের বলেন: আপনারা তো মুতাজিলা, কাদারিয়া, জাহমিয়া, হারুরিয়া, রাফেজি ও মুরজিয়াদের মতবাদ প্রত্যাখ্যান করেছেন; এখন আপনাদের সেই বক্তব্য আমাদের জানান যা আপনারা পোষণ করেন এবং সেই ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে অবহিত করুন যা আপনারা পালন করেন।তাকে বলা হবে:আমাদের সেই বক্তব্য যা আমরা বলি এবং আমাদের সেই ধর্মবিশ্বাস যা আমরা পালন করি তা হলো—আমাদের প্রতিপালক মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাব এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, এবং সম্মানিত সাহাবীগণ, তাবেঈগণ ও হাদীসের ইমামগণের পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুসরণ করা। আমরা এগুলোর ওপরই দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। আর আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল—আল্লাহ তাঁর চেহারা উজ্জ্বল করুন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর প্রতিদানকে ভরপুর করুন—যা বলতেন, আমরাও তাই বলি; এবং যা তাঁর বক্তব্যের পরিপন্থী, আমরা তার বিরোধিতা করি। কারণ তিনি হলেন এমন এক মর্যাদাবান ইমাম এবং পূর্ণাঙ্গ নেতা, যিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أبان الله به الحق، ودفع به الضلال، وأوضح به المنهاج، وقمع به بدع المبتدعين، وزيع الزائغين، وشك الشاكين، فرحمة الله عليه من إمام مقدم، وجليل معظم، وكبير مفهم.وجملة قولنا: أنا نقر بالله وملائكته وكتبه ورسله، وبما جاءوا به من عند الله، وما رواه الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا نرد من ذلك شيئا، وأن الله عز وجل إله واحد لا إله إلا هو، فرد صمد، لم يتخذ صاحبة ولا ولدا، وأن محمدا عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحق.وأن الجنة والنار حق، وأن الساعة آتية لا ريب فيها، وأن الله يبعث من في القبور.وأن الله تعالى استوى على العرش على الوجه الذي قاله، وبالمعنى الذي أراده، استواء منزها عن الممارسة والاستقرار والتمكن والحلول والانتقال، لا يحمله العرش، بل العرش وحملته محمولون بلطف قدرته، ومقهورون في قبضته، وهو فوق العرش، وفوق كل شيء، إلى تخوم الثرى، فوقية لا تزيده قربا إلى العرش والسماء، بل هو رفيع الدرجات عن العرش، كما أنه رفيع الدرجات عن الثرى، وهو مع ذلك قريب من كل موجود، وهو أقرب إلى العبد من حبل الوريد، وهو على كل شيء شهيد.
আল্লাহ এর মাধ্যমে সত্যকে সুস্পষ্ট করেছেন, পথভ্রষ্টতাকে বিদূরিত করেছেন, সঠিক পথকে প্রাঞ্জল করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিদআতিদের বিদআত, বিচ্যুতদের বিচ্যুতি ও সংশয়বাদীদের সংশয়কে দমন করেছেন। সুতরাং এই অগ্রগণ্য ইমাম, মহান সম্মানিত এবং প্রাজ্ঞ মহান ব্যক্তির ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।আমাদের বক্তব্যের সারকথা হলো: আমরা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর এবং তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার ওপর স্বীকৃতি প্রদান করি। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণনা করেছেন আমরা তার কোনো কিছুকেই প্রত্যাখ্যান করি না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একক ইলাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী, তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। আর নিশ্চয়ই মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন।আর জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য, এবং কিয়ামত অবশ্যই আগমনকারী যাতে কোনো সন্দেহ নেই, আর আল্লাহ কবরে শায়িতদের পুনরুত্থিত করবেন।আর মহান আল্লাহ আরশের ওপর উঠেছেন সেইভাবে যেভাবে তিনি বলেছেন এবং সেই অর্থে যা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন; এমন উঠা যা স্পর্শ, স্থিতি, স্থান গ্রহণ, অনুপ্রবেশ এবং স্থান পরিবর্তন থেকে মুক্ত। আরশ তাঁকে বহন করে না, বরং আরশ এবং এর বাহকগণ তাঁর কুদরতের নিপুণতায় বাহিত এবং তাঁর করতলগত। তিনি আরশের উপরে এবং মাটির গভীরতম তলদেশ পর্যন্ত প্রতিটি বস্তুর উপরে। এমন উপরে থাকা যা তাঁকে আরশ বা আকাশের অধিক নিকটবর্তী করে না, বরং তিনি আরশ থেকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, যেমন তিনি মাটি থেকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। তা সত্ত্বেও তিনি প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর নিকটবর্তী, এবং তিনি বান্দার শাহরগ থেকেও অধিক নিকটবর্তী, আর তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأن له سبحانه وجها بلا كيف، كما قال: (ويبقى وجه ربك ذو الجلال والإكرام) (27) .وأن له سبحانه يدين بلا كيف، كما قال سبحانه: (خلقت بيدي) من الآية (75) ، وكما قال: (بل يداه مبسوطتان) من الآية (64) .وأن له سبحانه عينين بلا كيف، كما قال سبحانه: (تجري بأعيننا) من الآية (14) .وأن من زعم أن أسماء الله غيره كان ضالا.وأن لله علما كما قال: (أنزله بعلمه) من الآية (166) ، وكما قال: (وما تحمل من أنثى ولا تضع إلا بعلمه) من الآية (11) .ونثبت لله السمع والبصر، ولا ننفى ذلك كما نفته المعتزلة والجهمية والخوارج.
এবং মহান আল্লাহ্র জন্য চেহারা রয়েছে কোনো প্রকার ধরণ বর্ণনা ছাড়াই, যেমনটি তিনি বলেছেন: (এবং আপনার মহিমাময় ও মহানুভব প্রতিপালকের চেহারা চিরস্থায়ী হবে) (২৭)।এবং মহান আল্লাহ্র জন্য দুই হাত রয়েছে কোনো প্রকার ধরণ বর্ণনা ছাড়াই, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (যাকে আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি) আয়াত (৭৫) হতে, এবং যেমনটি তিনি বলেছেন: (বরং তাঁর দুই হাতই প্রসারিত) আয়াত (৬৪) হতে।এবং মহান আল্লাহ্র জন্য দুই চোখ রয়েছে কোনো প্রকার ধরণ বর্ণনা ছাড়াই, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (যা আমার চোখের সামনে চলত) আয়াত (১৪) হতে।এবং যে ব্যক্তি মনে করে যে আল্লাহ্র নামসমূহ তাঁর সত্তা থেকে পৃথক, সে পথভ্রষ্ট।এবং আল্লাহ্র জন্য জ্ঞান রয়েছে, যেমনটি তিনি বলেছেন: (তিনি তা তাঁর জ্ঞানে অবতীর্ণ করেছেন) আয়াত (১৬৬) হতে, এবং যেমনটি তিনি বলেছেন: (কোনো নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না তাঁর জ্ঞান ব্যতীত) আয়াত (১১) হতে।এবং আমরা আল্লাহ্র শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সাব্যস্ত করি, আর আমরা তা অস্বীকার করি না যেভাবে মুতাযিলা, জাহমিয়্যাহ এবং খাওয়ারিজরা তা অস্বীকার করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ونثبت أن لله قوة، كما قال: (أولم يروا أن الله الذي خلقهم هو أشد منهم قوة) من الآية (15) .ونقول: إن كلام الله غير مخلوق، وأنه سبحانه لم يخلق شيئا إلا وقد قال له كن، كما قال: (إنما قولنا لشيء إذا أردناه أن نقول له كن فيكون) (40) .وأنه لا يكون في الأرض شيء من خير أو شر إلا ما شاء الله، وأن الأشياء تكون بمشيئة الله عز وجل، وأن أحدا لا يستطيع أن يفعل شيئا قبل أن يفعله، ولا يستغني عن الله، ولا يقدر على الخروج من علم الله عز وجل.وأنه لا خالق إلا الله، وأن أعمال العباد مخلوقة لله مقدرة، كما قال سبحانه: (والله خلقكم وما تعملون) (96) ، وأن العباد لا يقدرون أن يخلقوا شيئا، وهم يخلقون،
আমরা সাব্যস্ত করি যে, আল্লাহর শক্তি রয়েছে, যেমন তিনি বলেছেন: (তারা কি দেখেনি যে, আল্লাহ—যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন—তিনি তাদের চেয়ে শক্তিতে অধিক প্রবল?) আয়াতের অংশবিশেষ (১৫)।আমরা বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহর কালাম (কথা) সৃষ্টি নয়। তিনি কোনো কিছু সৃষ্টি করেন না তাকে ‘হও’ বলা ব্যতিরেকে, যেমন তিনি বলেছেন: (আমি যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করি, তখন তার প্রতি আমাদের কথা কেবল এই যে, আমি তাকে বলি ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়) (৪০)।পৃথিবীতে ভালো কিংবা মন্দের যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে হয় না। যাবতীয় বিষয় আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে। কেউ কোনো কাজ করার পূর্বে তা করার সামর্থ্য রাখে না, কেউ আল্লাহর মুখাপেক্ষীহীন হতে পারে না এবং মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে যাওয়ার সাধ্য কারো নেই।আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই এবং বান্দাদের কর্মসমূহ আল্লাহর দ্বারা সৃষ্ট ও নির্ধারিত, যেমন তিনি বলেছেন: (আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা করো তাও) (৯৬)। বান্দারা কোনো কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে না, বরং তারা নিজেরাও সৃষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كما قال: (هل من خالق غير الله) من الآية (3) ، وكما قال: (لا يخلقون شيئا وهم يخلقون) من الآية (20 /16) ، وكما قال سبحانه: (أفمن يخلق كمن لا يخلق) (17 /16) ، وكما قال: (أم خلقوا من غير شيء أم هم الخالقون) (35 /52) ، وهذا في كتاب الله كثير.وأن الله وفق المؤمنين لطاعته، ولطف بهم، ونظر لهم، وأصلحهم وهداهم، وأضل الكافرين ولم يهدهم، ولم يلطف بهم بالإيمان، كما زعم أهل الزيغ والطغيان، ولو لطف بهم وأصلحهم لكانوا صالحين، ولو هداهم لكانوا مهتدين.وإن الله يقدر أن يصلح الكافرين، ويلطف بهم حتى
যেমন তিনি বলেছেন: (আল্লাহ ব্যতীত কি কোনো স্রষ্টা আছে?) আয়াত নং (৩) থেকে, এবং যেমন তিনি বলেছেন: (তারা কোনো কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট) আয়াত নং (১৬/২০) থেকে, এবং মহিমান্বিত আল্লাহ যেমন বলেছেন: (তবে যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তাঁর মতো যে সৃষ্টি করে না?) (১৬/১৭), এবং যেমন তিনি বলেছেন: (তারা কি কোনো কিছুই ছাড়াই সৃষ্ট হয়েছে, না কি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?) (৫২/৩৫), আর আল্লাহর কিতাবে এরূপ অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।আর আল্লাহ মুমিনদেরকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দান করেছেন, তাদের প্রতি সদয় হয়েছেন, তাদের প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টি দিয়েছেন, তাদের সংশোধন করেছেন এবং তাদের হিদায়াত দিয়েছেন; আর তিনি কাফিরদের পথভ্রষ্ট করেছেন এবং তাদের হিদায়াত দান করেননি, আর ঈমানের মাধ্যমে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেননি—যেমনটি পথভ্রষ্ট ও সীমালঙ্ঘনকারীরা দাবি করে থাকে। আর তিনি যদি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতেন এবং তাদের সংশোধন করে দিতেন তবে তারা অবশ্যই সৎকর্মশীল হতো, এবং তিনি যদি তাদের হিদায়াত দিতেন তবে তারা অবশ্যই হিদায়াতপ্রাপ্ত হতো।আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের সংশোধন করতে এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে সক্ষম, যাতে করে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يكونوا مؤمنين، ولكنه أراد أن يكونوا كافرين، كما علم وخذلهم وطبع على قلوبهم.وأن الخير والشر بقضاء الله وقدره، وإنا نؤمن بقضاء الله وقدره، خيره وشره، حلوه ومره، ونعلم أن ما أخطأنا لم يكن ليصيبنا، وأن ما أصابنا لم يكن ليخطئنا،وأن العباد لا يملكون لأنفسهم ضرا ولا نفعا إلا بإذن الله، كما قال عز وجل: (قل لا أملك لنفسي نفعا ولا ضرا إلا ما شاء الله) (188 /7) .ونلجئ أمورنا إلى الله، ونثبت الحاجة والفقر في كل وقت إليه سبحانه وتعالى.ونقول: إن كلام الله غير مخلوق، وأن من قال بخلق القرآن فهو كافر.وندين بأن الله يُرى في الآخرة بالأبصار، كما يُرى القمر ليلة البدر، يراه المؤمنون كما جاءت الروايات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.ونقول: إن الكافرين محجوبون عنه إذا رآه المؤمنون في الجنة، كما قال
তারা মুমিন হোক; বরং তিনি চেয়েছেন তারা কাফির হোক, যেমনটি তিনি জানতেন এবং তিনি তাদের লাঞ্ছিত করেছেন ও তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন।এবং নিশ্চয়ই কল্যাণ ও অকল্যাণ আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী হয়। আমরা আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের ওপর ঈমান রাখি—এর ভালো ও মন্দ, মিষ্ট ও তিক্ত সবকিছুর ওপর। আর আমরা জানি যে, যা আমাদের স্পর্শ করেনি তা আমাদের স্পর্শ করার ছিল না, আর যা আমাদের স্পর্শ করেছে তা আমাদের এড়ানোর ছিল না।আর বান্দারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত নিজেদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (বলুন, আমি আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া নিজের কোনো উপকার বা ক্ষতির মালিক নই) (৭/১৮৮)।আমরা আমাদের যাবতীয় বিষয় আল্লাহর ওপর সোপর্দ করি এবং আমরা সর্বদা মহান আল্লাহর প্রতি আমাদের মুখাপেক্ষিতা ও অভাবের বিষয়টি সাব্যস্ত করি।এবং আমরা বলি: আল্লাহর কালাম সৃষ্টি নয়, আর যে ব্যক্তি কুরআন সৃষ্টির কথা বলে সে কাফের।এবং আমরা বিশ্বাস পোষণ করি যে, পরকালে চাক্ষুষ দৃষ্টিতে আল্লাহকে দেখা যাবে, যেমন পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখা যায়। মুমিনগণ তাঁকে দেখতে পাবেন, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনাগুলো এসেছে।এবং আমরা বলি: জান্নাতে মুমিনরা যখন তাঁকে দেখবে, তখন কাফেররা তাঁর দর্শন হতে বঞ্চিত থাকবে, যেমন তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
سبحانه: (كلا إنهم عن ربهم يومئذ لمحجوبون) (15 /83) ، وإن موسى صلى الله عليه وسلم سأل الله عز وجل الرؤية في الدنيا، وأن الله تعالى تجلى للجبل فجعله دكا، فأعلم بذلك موسى أنه لا يراه في الدنيا.وندين بأن لا نكفر أحدا من أهل القبلة بذنب يرتكبه ما لم يستحله، كالزنا والسرقة وشرب الخمر، كما دانت بذلك الخوارج، وزعمت أنهم كافرون.ونقول: إن من عمل كبيرة من هذه الكبائر مثل الزنا والسرقة وما أشبهها مستحلا لها، غير معتقد لتحريمها كان كافرا.ونقول: إن الإسلام أوسع من الإيمان، وليس كل إسلام إيمانا.وندين الله عز وجل بأنه يقلب القلوب بين أصبعين من أصابعه، وأنه سبحانه يضع السماوات على أصبع، والأرضين على
মহান আল্লাহ পবিত্র: (কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রবের দর্শন থেকে বঞ্চিত থাকবে) (৮৩:১৫)। আর মুসা (আলাইহিস সালাম) দুনিয়াতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে দর্শনের প্রার্থনা করেছিলেন। আর আল্লাহ তাআলা পাহাড়ের নিকট জ্যোতি প্রকাশ করেছিলেন এবং পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিলেন; এর মাধ্যমে তিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে অবহিত করেছিলেন যে, তিনি দুনিয়াতে তাঁকে দেখতে পাবেন না।আমরা এই বিশ্বাস পোষণ করি যে, আহলে কিবলার কাউকেই তার কৃত কোনো গুনাহর কারণে কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ না সে সেটাকে হালাল মনে করে; যেমন- ব্যভিচার, চুরি ও মদ্যপান। যেমনটি খারেজিরা বিশ্বাস করত এবং দাবি করত যে তারা কাফের।আমরা বলি: যে ব্যক্তি এই কবিরা গুনাহগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি করবে যেমন- ব্যভিচার, চুরি বা এজাতীয় কিছু, সেটাকে হালাল মনে করে এবং এর হারাম হওয়ার বিশ্বাস পোষণ না করে, তবে সে কাফের হবে।আমরা বলি: নিশ্চয় ইসলাম ঈমানের চেয়ে ব্যাপকতর এবং প্রতিটি ইসলাম ঈমান নয়।আমরা আল্লাহর প্রতি এই ধর্মবিশ্বাস পোষণ করি যে, তিনি তাঁর আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে অন্তরসমূহ পরিবর্তন করেন এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর এবং জমিনসমূহকে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أصبع، كما جاءت الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من غير تكييف.وندين بأن لا ننزل أحدا من أهل التوحيد والمتمسكين بالإيمان جنة ولا نارا، إلا من شهد له رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة، ونرجو الجنة للمذنبين، ونخاف عليهم أن يكونوا بالنار معذبين، أجارنا الله منها بشفاعة سيدنا وحبيبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.ونقول: إن الله عز وجل يخرج قوما من النار بعد أن امتحشوا بشفاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم، تصديقا لما جاءت به الروايات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.ونؤمن بعذاب القبر وبالحوض، وأن الميزان حق، والصراط حق، والبعث بعد الموت حق، وأن الله عز وجل يوقف العباد في الموقف، ويحاسب المؤمنين.وأن الإيمان قول وعمل، يزيد وينقص، ونسلم الروايات الصحيحة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم التي رواها الثقات عدل عن عدل، حتى تنتهي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
আঙুল, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো ধরন নির্ধারণ ছাড়াই বর্ণনা এসেছে।এবং আমরা বিশ্বাস পোষণ করি যে, তাওহীদপন্থী এবং ঈমানের ওপর অবিচল থাকা ব্যক্তিদের কাউকেই জান্নাতী বা জাহান্নামী বলে নির্ধারণ করব না, তবে যাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা ব্যতীত। আমরা পাপীদের জন্য জান্নাতের আশা রাখি এবং তাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করি যে তারা জাহান্নামে শাস্তিপ্রাপ্ত হতে পারে; আল্লাহ যেন আমাদের নেতা ও প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশের মাধ্যমে আমাদের তা থেকে রক্ষা করেন।এবং আমরা বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী একদল মানুষকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন তারা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পর, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর সত্যায়ন স্বরূপ।আমরা কবরের আজাব ও হাউজের প্রতি ঈমান রাখি; এবং নিশ্চয়ই মিযান সত্য, সিরাত সত্য, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সত্য এবং আল্লাহ তাআলা বান্দাদের হাশরের ময়দানে দাঁড় করাবেন ও মুমিনদের হিসাব গ্রহণ করবেন।আর নিশ্চয়ই ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়; আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ঐ সকল সহীহ বর্ণনাগুলোকে মেনে নেই যা নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীগণ একের পর এক বর্ণনা করেছেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وندين بحب السلف الذين اختارهم الله تعالى لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم، ونثني عليهم بما أثنى الله به عليهم، ونتولاهم أجمعين.ونقول: إن الإمام الفاضل بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو بكر الصديق رضى الله عنه، وأن الله سبحانه وتعالى أعز به الدين، وأظهره على المرتدين، وقدمه المسلمون بالإمامة، كما قدمه رسول الله صلى الله عليه وسلم للصلاة، وسموه بأجمعهم خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم عمر بن الخطاب رضى الله عنه، ثم عثمان بن عفان رضى الله عنه، وأن الذين قتلوه قتلوه ظلما وعدوانا، ثم علي بن أبي طالب رضي الله عنه.فهؤلاء الأئمة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وخلافتهم خلافة النبوة
আমরা সেই সালাফদের ভালোবাসাকে দীন হিসেবে গ্রহণ করি যাদের মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন, এবং আমরা তাঁদের সেই প্রশংসা করি যা আল্লাহ তাঁদের জন্য করেছেন, আর আমরা তাঁদের সকলের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা পোষণ করি।এবং আমরা বলি: রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরে শ্রেষ্ঠ ইমাম হলেন আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু), এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মাধ্যমে দীনকে শক্তিশালী করেছেন এবং মুরতাদদের বিরুদ্ধে তাঁকে বিজয় দান করেছেন; আর মুসলিমগণ তাঁকে ইমামতের জন্য অগ্রগণ্য করেছেন, যেমনভাবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সালাতের জন্য অগ্রগণ্য করেছিলেন; এবং তাঁরা সকলে সর্বসম্মতভাবে তাঁকে ‘রসূলুল্লাহর খলিফা’ বলে নামকরণ করেছেন। এরপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), এরপর উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) — আর নিশ্চয়ই যারা তাঁকে হত্যা করেছে তারা তাঁকে জুলুম ও শত্রুতা বশত হত্যা করেছে, এরপর আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।সুতরাং এরাই হলেন রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরবর্তী ইমামগণ এবং তাঁদের খিলাফত ছিল নবুওয়াতের পদ্ধতির খিলাফত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ونشهد بالجنة للعشرة الذين شهد لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بها، ونتولى سائر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونكف عما شجر بينهم.وندين بأن الأئمة الأربعة خلفاء راشدون، مهديون فضلاء، لا يوازنهم في الفضل غيرهم.ونصدق بجميع الروايات التي يثبتها أهل النقل عن النزول إلى سماء الدنيا، وأن الرب عز وجل يقول: (هل من سائل، هل من مستغفر) ، وسائر ما نقلوه وأثبتوه خلافا لما قاله أهل الزيغ والتضليل.ونعوِّل فيما اختلفنا فيه على كتاب ربنا عز وجل، وسنة نبينا صلى الله عليه وسلم، وإجماع المسلمين، وما كان في معناه، ولا نبتدع في دين الله
আমরা সেই দশজন ব্যক্তির জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য প্রদান করি যাঁদের জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমস্ত সাহাবীকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি এবং তাঁদের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করি।আমরা এই বিশ্বাস পোষণ করি যে, চার ইমাম হলেন সৎপথপ্রাপ্ত ও হেদায়েতপ্রাপ্ত খলীফা এবং মর্যাদাবান ব্যক্তি; শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে অন্য কেউ তাঁদের সমকক্ষ নয়।হাদীস বিশারদগণ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসা সম্পর্কে যে সকল বর্ণনা সাব্যস্ত করেছেন, আমরা সেই সবকিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি। মহান রব বলেন: "আছে কি কোনো যাচনাকারী? আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী?"—বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের মতবাদের বিপরীতে হাদীস বিশারদগণ যা কিছু বর্ণনা ও সাব্যস্ত করেছেন, আমরা তার সবকিছুর প্রতিই বিশ্বাস রাখি।আমরা আমাদের মতপার্থক্যের বিষয়গুলোতে আমাদের মহান রবের কিতাব, আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ, মুসলিমদের ইজমা এবং যা এর অর্থ বহন করে তার ওপর নির্ভর করি। আর আমরা আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন করি না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ما لم يأذن لنا، ولا نقول على الله مالا نعلم.ونقول: إن الله عز وجل يجيء يوم القيامة، كما قال سبحانه: (وجاء ربك والملك صفا صفا) (22 /89) .وأن الله مقرب من عباده كيف شاء بلا كيف، كما قال تعالى: (ونحن أقرب إليه من حبل الوريد) من الآية (16 /50) ، وكما قال سبحانه: (ثم دنا فتدلى فكان قاب قوسين أو أدنى) (8 - 9 / 53) .ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد، وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر، كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج.
যতক্ষণ না তিনি আমাদের অনুমতি দেন, এবং আমরা আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলি না যা আমরা জানি না।এবং আমরা বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল কিয়ামতের দিন আসবেন, যেমনটি তিনি পবিত্র সত্তা বলেছেন: (আর আপনার রব আসবেন এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে) (৮৯: ২২)।আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী হন যেভাবে তিনি চান কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতিরেকে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর আমি তাঁর ঘাড়ের শাহরগের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী) (৫০: ১৬ এর অংশ), এবং যেমনটি তিনি পবিত্র সত্তা বলেছেন: (অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন, তারপর ঝুলে পড়লেন, ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম) (৫৩: ৮-৯)।আর আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হলো প্রত্যেক পুণ্যবান ও পাপাচারী ব্যক্তির পেছনে জুমুআহ, ঈদ এবং অন্যান্য সকল সালাত ও জামাত আদায় করা, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম হাজ্জাজের পেছনে সালাত আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وأن المسح على الخفين سنة في الحضر والسفر، خلافا لقول من أنكر ذلك.ونرى الدعاء لأئمة المسلمين بالصلاح والإقرار بإمامتهم، وتضليل من رأى الخروج عليهم إذا ظهر منهم ترك الاستقامة.وندين بإنكار الخروج بالسيف، وترك القتال في الفتنة، ونقر بخروج الدجال -أعاذنا الله من فتنته - كما جاءت به الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.ونؤمن بعذاب القبر، ومنكر ونكير عليهما الصلاة والسلام، ومساءلتهما المدفونين في القبور.ونصدق بحديث المعراج، وتصحيح كثير من الرؤيا في المنام، ونقر أن لذلك تفسيرا.ونرى الصدقة على موتى المسلمين، والدعاء لهم، ونؤمن بأن الله ينفعهم بذلك.ونصدق بأن في الدنيا سحرة وسحرا، وأن السحر كائن موجود في الدنيا.
এবং আবাসে ও সফরে মোজার ওপর মাসাহ করা সুন্নাত, যারা একে অস্বীকার করে তাদের মতের বিপরীতে।আমরা মুসলিম ইমামদের সংশোধন ও মঙ্গলের জন্য দুআ করা এবং তাদের ইমামতকে স্বীকার করে নেওয়া সমীচীন মনে করি। আর তাদের থেকে যদি সঠিক পথের বিচ্যুতি প্রকাশ পায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে যারা বৈধ মনে করে, আমরা তাদের পথভ্রষ্ট মনে করি।আমরা তলোয়ারের মাধ্যমে বিদ্রোহ করাকে অস্বীকার করা এবং ফিতনার সময় লড়াই বর্জন করাকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করি। আর আমরা দাজ্জালের আবির্ভাবের বিষয়টি স্বীকার করি—আল্লাহ আমাদের তার ফিতনা থেকে রক্ষা করুন—যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে।আমরা কবরের আজাব এবং মুনকার ও নাকিরের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি ঈমান রাখি এবং কবরে দাফনকৃত ব্যক্তিদের প্রতি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়েও বিশ্বাস রাখি।আমরা মেরাজের হাদিসকে সত্য বলে বিশ্বাস করি এবং ঘুমের মধ্যে দেখা অনেক স্বপ্নের সত্যতাকে সমর্থন করি এবং আমরা স্বীকার করি যে, সেসব স্বপ্নের ব্যাখ্যা রয়েছে।আমরা মৃত মুসলিমদের উদ্দেশ্যে দান-সদকাহ করা এবং তাদের জন্য দুআ করাকে (উত্তম) মনে করি এবং আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ এর মাধ্যমে তাদের উপকৃত করেন।আমরা বিশ্বাস করি যে পৃথিবীতে জাদুকর ও জাদু বিদ্যমান রয়েছে এবং নিশ্চয়ই জাদু পৃথিবীতে একটি বাস্তব বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وندين بالصلاة على من مات من أهل القبلة، برهم وفاجرهم، وتوارثهم.ونقر أن الجنة والنار مخلوقتان، وأن من مات وقتل فبأجله مات وقتل.وأن الأرزاق من قبل الله سبحانه، يرزقها عباده حلالا وحراما، وأن الشيطان يوسوس الإنسان، ويشككه ويخبطه، خلافا للمعتزلة والجهمية، كما قال تعالى: (الذين يأكلون الربا لا يقومون إلا كما يقوم الذي يتخبطه الشيطان من المس) من الآية (275 /2) ، وكما قال: (من شر الوسواس الخناس الذي يوسوس في صدور الناس من الجنة والناس) (4 - 6 /114) .
আমরা কিবলাপন্থীদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে, তারা নেককার হোক বা পাপাচারী, তাদের জানাযার সালাত আদায় করা এবং তাদের একে অপরের উত্তরাধিকারী হওয়ার বিষয়কে দ্বীন হিসেবে পালন করি।আমরা স্বীকার করি যে, জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, সে তার নির্ধারিত সময়েই মৃত্যুবরণ করে বা নিহত হয়।এবং নিশ্চয় রিযিক মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, যা তিনি তাঁর বান্দাদের হালাল ও হারাম উভয়ভাবেই প্রদান করেন। আর মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের মতের বিপরীতে শয়তান মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়, তাকে সংশয়ে ফেলে এবং তাকে স্পর্শের মাধ্যমে উন্মত্ত করে তোলে, যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শের মাধ্যমে উন্মত্ত করে তোলে) (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫ নং আয়াতের অংশ), এবং যেমন তিনি বলেছেন: (সেই আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়— জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে) (সূরা আন-নাস: ৪-৬)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ونقول: إن الصالحين يجوز أن يخصهم الله تعالى بآيات يظهرها عليهم.وقولنا في أطفال المشركين أن الله تعالى يؤجج لهم في الآخرة نارا، ثم يقول لهم اقتحموها، كما جاءت بذلك الرواية.وندين الله عز وجل بأنه يعلم ما العباد عاملون، وإلى ما هم صائرون، وما كان وما يكون، وما لا يكون أن لو كان كيف كان يكون، وبطاعة الأئمة ونصيحة المسلمين.ونرى مفارقة كل داعية إلى بدعة، ومجانبة أهل الأهواء.وسنحتج لما ذكرناه من قولنا، وما بقى منه مما لم نذكره بابا بابا، وشيئا شيئا إن شاء الله عز وجل.
আমরা বলি: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নেককার বান্দাদের এমন কিছু নিদর্শনের মাধ্যমে বিশিষ্ট করতে পারেন যা তিনি তাদের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।আর মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য হলো, মহান আল্লাহ আখিরাতে তাদের জন্য আগুন প্রজ্বলিত করবেন, অতঃপর তাদের তাতে প্রবেশ করতে বলবেন, যেমনটি বর্ণনায় এসেছে।আমরা মহান আল্লাহর প্রতি এই বিশ্বাস পোষণ করি যে, তিনি জানেন বান্দারা কী আমল করছে, তাদের শেষ পরিণতি কী হবে, অতীতে কী ছিল, ভবিষ্যতে কী হবে, আর যা ঘটেনি তা যদি ঘটত তবে তা কেমন হতো; এবং (আমরা বিশ্বাস পোষণ করি) ইমামদের আনুগত্য করা ও মুসলিমদের নসিহত বা কল্যাণ কামনার প্রতি।আর আমরা বিদআতের দিকে আহ্বানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রবৃত্তি পূজারিদের থেকে দূরে থাকাকে আবশ্যক মনে করি।আমরা আমাদের উল্লিখিত বক্তব্যসমূহ এবং যা এখনও উল্লেখ করা হয়নি সেগুলোর স্বপক্ষে প্রতিটি অধ্যায়ে ও প্রতিটি বিষয়ে ইনশাআল্লাহ (যদি মহান আল্লাহ চান) দলিল উপস্থাপন করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الباب الأول الكلام في إثبات رؤية الله سبحانه بالأبصار في الآخرةقال الله تعالى: (وجوه يومئذ ناضرة) (22 /75) يعني مشرقة، (إلى ربها ناظرة) (23 /75) يعني رائية، وليس يخلو النظر من وجوه نحن ذاكروها:إما أن يكون الله سبحانه عنى نظر الاعتبار، كقوله تعالى: (أفلا ينظرون إلى الإبل كيف خلقت) (17 /88) .أو يكون عنى نظر الانتظار، كقوله تعالى: (ما ينظرون إلا صيحة واحدة) من الآية (49 /36)أو يكون عنى نظر التعطف، كقوله تعالى
প্রথম পরিচ্ছেদ: পরকালে চর্মচক্ষুর সাহায্যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দর্শন সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে আলোচনাআল্লাহ তাআলা বলেন: (সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে) (৭৫:২২) অর্থাৎ দীপ্তিময়, (তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে) (৭৫:২৩) অর্থাৎ দর্শনকারী। আর 'তাকানো' বিষয়টি কয়েকটি দিকের বাইরে নয় যা আমরা উল্লেখ করছি:হয়তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর দ্বারা শিক্ষা গ্রহণের দৃষ্টি বুঝিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তবে কি তারা উটের দিকে তাকায় না যে, তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?) (৮৮:১৭)।অথবা এর দ্বারা অপেক্ষার দৃষ্টি বুঝিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তারা তো কেবল একটি বিকট শব্দের অপেক্ষা করছে) (৩৬:৪৯ থেকে অংশবিশেষ)অথবা এর দ্বারা দয়া ও অনুকম্পার দৃষ্টি বুঝিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী
(খণ্ড: ১)
আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ - তা. ফাওকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
: (ولا ينظر إليهم يوم القيامة) من الآية (77 /3) .أو يكون عنى نظر الرؤية.فلا يجوز أن يكون الله عز وجل عنى نظر التفكير والاعتبار؛ لأن الآخرة ليست بدار اعتبار.ولا يجوز أن يكون عنى نظر الانتظار؛ لأن النظر إذا ذكر مع ذكر الوجه فمعناه نظر العينين اللتين في الوجه، كما إذا ذكر أهل اللسان نظر القلب فقالوا: " انظر في هذا الأمر بقلبك "، لم يكن معناه نظر العينين، وكذلك إذا ذكر النظر مع الوجه لم يكن معناه نظر الانتظار؛ الذي يكون للقلب، وأيضا فإن نظر الانتظار لا يكون في الجنة؛ لأن الانتظار معه تنغيص وتكدير، وأهل الجنة في ما لا عين رأت ولا أذن سمعت من العيش السليم والنعيم المقيم.وإذا كان هذا هكذا لم يجز أن يكونوا منتظرين؛ لأنهم كلما خطر ببالهم شيء أتوا به مع خطوره ببالهم،
(এবং কিয়ামতের দিন তিনি তাদের প্রতি তাকাবেন না) ৩:৭৭ আয়াতাংশ থেকে।অথবা এর দ্বারা দর্শন করার দৃষ্টি উদ্দেশ্য হতে পারে।সুতরাং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এখানে চিন্তা ও শিক্ষা গ্রহণের দৃষ্টি উদ্দেশ্য নিয়েছেন—এমনটি হওয়া বৈধ নয়; কারণ আখিরাত শিক্ষা গ্রহণের স্থান নয়।আর এর দ্বারা অপেক্ষার দৃষ্টি উদ্দেশ্য হওয়াও বৈধ নয়; কারণ ‘নজর’ (দৃষ্টি) শব্দটির উল্লেখ যখন চেহারার সাথে করা হয়, তখন তার অর্থ হয় সেই দুই চোখের দৃষ্টি যা চেহারায় অবস্থিত। যেমন ভাষাবিদগণ যখন অন্তরের দৃষ্টির কথা উল্লেখ করেন, তখন তারা বলেন: "তোমার অন্তর দিয়ে এই বিষয়টি দেখো (বিবেচনা করো)", তখন এর অর্থ দুই চোখের দৃষ্টি হয় না। তদ্রূপ যখন চেহারার সাথে দৃষ্টির উল্লেখ করা হয়, তখন তার অর্থ অপেক্ষার দৃষ্টি হয় না যা অন্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া জান্নাতে অপেক্ষার কোনো বিষয় থাকবে না; কারণ অপেক্ষার সাথে বিরক্তি ও ক্লেশ জড়িয়ে থাকে, অথচ জান্নাতবাসীরা এমন নিরবচ্ছিন্ন জীবন ও চিরস্থায়ী নিআমতের মধ্যে থাকবেন যা কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো কান শোনেনি।আর বিষয়টি যখন এমন, তখন তারা অপেক্ষারত হওয়া সম্ভব নয়; কারণ যখনই তাদের মনে কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা জাগবে, তা মনে আসার সাথে সাথেই তাদের সামনে উপস্থিত করা হবে।