(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
رسوم دار الخلافة القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: رسوم دار الخلافة
المؤلف: هلال بن المحسن بن إبراهيم بن هلال الصابئ الحراني، أبو الحسين، أو أبو الحسن (ت 448هـ)
المحقق: ميخائيل عواد
الناشر: دار الرائد العربي - بيروت
الطبعة: الثانية، 1986م
عدد الصفحات: 142
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রুসুম দারুল খিলাফাহ বিভাগ: আস-সিয়াসা আশ-শরইয়্যাহ ওয়াল কাদা (শরয়ী রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা)
গ্রন্থ: রুসুম দারুল খিলাফাহ
লেখক: হিলাল বিন আল-মুহাসসিন বিন ইব্রাহিম বিন হিলাল আস-সাবি আল-হাররানি، আবু আল-হুসাইন، অথবা আবু আল-হাসান (মৃত্যু ৪৪৮ হি.)
সম্পাদক: মিখাইল আওয়াদ
প্রকাশক: দারুর রাইদ আল-আরাবি - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم عونك اللَّهُمَّ بعد حمد الله الَّذِي بِهِ ترعى النِّعْمَة وتستبقى وتبغى الرَّحْمَة وتستدعي وَيُؤَدِّي الْحق وَيقْضى ويمتري الْمَزِيد ويستقضى وَالصَّلَاة على مُحَمَّد رَسُوله بإخلاص من السرائر واستغراق الِاجْتِهَاد فِي الابتهال وَالدُّعَاء للموقف الْأَعْظَم النَّبَوِيّ وَالْمقَام الأطهر الزكي بإطالة الْبَقَاء وإدامة الْعَلَاء واكبار الْقدر واغزار النَّصْر وحراسة الْحَوْزَة وحياطة الدعْوَة وتثبيت الْوَطْأَة وتوطيد الدولة فَمَا زَالَت الصَّنَائِع معروضة على أولي الْمَعْرُوف بهَا والبضائع مجلوبة إِلَى ذَوي الرَّغْبَة فِيهَا وأعلاق المضنة مزفوفة إِلَى أكفائها وخطابها وموقوفة على أوليائها من طلابها وَإِذا كَانَ كَذَلِك فالعلوم أَعلَى البضائع قدرا وأوفى البضائع ربحا وَأقوى الذرائع حبلاً وأوضح المسالك سبلا وأعلق الْأَسْبَاب بالقلوب وأوسع الْأَبْوَاب إِلَى الْقبُول بذلك حكم الْعقل وَجرى الْعرف وَوَقع الْإِجْمَاع وَزَالَ الْخلف وَلما تَأَمَّلت أهل الزَّمَان مِمَّن رمقته الْعُيُون بنواظرها وعلقته الظنون بخواطرها وقدمته المآثر بتكاثرها وميزته المفاخر بتكاملها وَوجدت سيدنَا ومولانا الإِمَام الْقَائِم بِأَمْر الله لَا زَالَ جده صاعدا وسعده طالعا وعزه راهنا
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, যাঁর মাধ্যমে নেয়ামতসমূহ লালিত ও স্থায়ী হয় এবং যাঁর নিকট রহমত অন্বেষণ ও প্রার্থনা করা হয়; যাঁর মাধ্যমে হক আদায় ও মীমাংসিত হয় এবং যাঁর নিকট প্রাচুর্য যাঞ্চা ও প্রত্যাশা করা হয়। আর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর—অন্তরের গভীর অন্তস্তল থেকে পূর্ণ একনিষ্ঠতা এবং সেই মহান নববী মর্যাদা ও পবিত্রতম অবস্থানের স্থায়িত্ব, নিরবচ্ছিন্ন শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদার মহিমা, বিজয়ের প্রাচুর্য, সীমানা রক্ষা, দাওয়াতের হিফাজত, রাজকীয় প্রভাব সুদৃঢ়করণ এবং রাষ্ট্রের ভিত মজবুত করার তরে কায়মনোবাক্যে ঐকান্তিক প্রার্থনা ও মুনাজাতের সাথে। চিরকাল ধরেই শিল্পকর্ম তার সমঝদারদের নিকট উপস্থাপিত হয়ে আসছে এবং জ্ঞান-সম্পদ তার অনুরাগীদের নিকট আনীত হচ্ছে; আর দুর্লভ বস্তুসমূহ তার যোগ্য সমগোত্রীয় ও প্রার্থীদের নিকট অর্পণ করা হচ্ছে এবং তার অন্বেষণকারী অভিভাবকদের জন্য সংরক্ষিত থাকছে। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে জ্ঞান হলো মর্যাদার বিচারে শ্রেষ্ঠতম সম্পদ, মুনাফার বিচারে সর্বাধিক লাভজনক, উসিলা হিসেবে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী মাধ্যম, স্পষ্টতম পথ এবং অন্তরের সাথে সর্বাধিক সম্পৃক্ত বিষয় ও কবুল হওয়ার প্রশস্ততম দ্বার। বিবেক এভাবেই বিচার করেছে, প্রথা এভাবেই প্রবর্তিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও বিরোধ দূরীভূত হয়েছে। যখন আমি সমসাময়িক ব্যক্তিত্বদের প্রতি লক্ষ্য করলাম—যাদের প্রতি মানুষের সপ্রশংস দৃষ্টি নিবদ্ধ এবং যাদের কথা মানুষের চিন্তা-চেতনায় গেঁথে আছে, যাদের অজস্র কীর্তি তাদের অগ্রগণ্য করেছে এবং যাদের পূর্ণাঙ্গ গৌরব তাদের বিশিষ্টতা দান করেছে—তখন আমি আমাদের নেতা ও অভিভাবক, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত সেই ইমামকে দেখতে পেলাম, যাঁর সৌভাগ্য সর্বদা ঊর্ধ্বগামী, সমৃদ্ধি উদীয়মান এবং প্রতাপ সুপ্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وسلطانه قاهرا الإِمَام الْمُقدم غير مدافع وَخَلِيفَة الله الْمُعظم غير مُنَازع وَأجل من رام أمدا فملكه وَرمى غَرضا فأدركه وَجرى لبلوغ غَايَة فحازها وسعى لإحراز نِهَايَة فجازها وَصَارَ بذلك أولى من نصت عَلَيْهِ الرِّجَال بالتفضيل ونصت إِلَيْهِ الرّحال بالتأميل وَأثْنى عَلَيْهِ المثنون فعجزوا عَن تَحْدِيد صفته وقرظه المقرظون فقصروا عَن تَحْصِيل حَقِيقَته وَمَا كَانَ الله ليجعل رسالاته إِلَّا بِحَيْثُ هُوَ أعرف وَأعلم ويولي نعْمَته إِلَّا من كَانَ بهَا أنهض وأقوم وَيُؤْتى خِلَافَته إِلَّا من كَانَ عَلَيْهَا أقوى وأقدر وَيُعْطى كرامته إِلَّا من كَانَ بهَا أَحْرَى وأجدر ليعلم ان أَفعاله تبَارك اسْمه وَاقعَة على الْعدْل وَالصِّحَّة وَجَارِيَة على الْحِكْمَة والمصلحة وان من أثبت ذَلِك قَاعِدَة على التدبر وأفضله عَائِدَة على التبين ان جعل استكفاءه من استكفاءه من عرض بريته واصطفاءه من اصطفاه من بَيت نبوته أولي النَّهْي والحجى وَذَوي الدّين والتقى لتَكون الْحَيَاة باختيارهم مقرونة والسيرة لِمَكَانِهِمْ مَأْمُونَة والاستقامة بتدبيرهم وعَلى أَيْديهم مَوْجُودَة والسلامة فِي مبادئهم وعواقبهم مرجوة وَالدّين بمحافظتهم محوطا وَالْأَمر بملاحظتهم مضبوطا فَالْحَمْد لله على ان جمع للحضرة المقدسة لَا زَالَت بالنصر مكنوفة وبعين الله مكلوءة شرف الْقَدِيم والْحَدِيث وكرم التليد والطريف حَتَّى اتَّصَلت الْأَوَاخِر بالمبادي واطردت الإعجاز على الهوادي وَطَابَتْ الْأُصُول والفصول وزكت الْعُرُوق وَالْفُرُوع فان امْرَءًا كَانَ من شَجَرَة النُّبُوَّة منزعة وَفِي بحبوحة الْإِمَامَة متربعة وَمن أسرة النُّبُوَّة مخرجة وَفِي بَيت الْخلَافَة مدرجة لحقيق ان يكون خَليفَة لله طَاهِرا نقيا وأمينا على دينه برا تقياً وراعياً لخلقة مخلصا ناصحا وَقَائِمًا بِحقِّهِ مُسْتقِلّا ناهضا وملجأ للعائذين دافعا حَافِظًا وموئلا للائذين مَانِعا عَاصِمًا وخليق ان يكون لرضى الله حائزا وبالزلفى لَدَيْهِ فائزاً وبالنعمى
তাঁর ক্ষমতা পরাক্রমশালী; তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী অগ্রগণ্য ইমাম (الإمام) এবং আল্লাহর মহান খলিফা, যাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তিনি সেই মর্যাদাবান ব্যক্তি যিনি কোনো লক্ষ্য অর্জনের ইচ্ছা করলে তা জয় করেন, কোনো উদ্দেশ্য স্থির করলে তা হাসিল করেন, কোনো চরম সীমায় পৌঁছানোর জন্য ধাবিত হলে তা আয়ত্ত করেন এবং কোনো সমাপ্তি অর্জনের চেষ্টা করলে তা অতিক্রম করেন। এর মাধ্যমে তিনি সেই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হয়েছেন যার ব্যাপারে বর্ণনাকারী ও মনীষীবর্গ (الرجال) শ্রেষ্ঠত্বের অকাট্য বর্ণনা দিয়েছেন এবং কাফেলাসমূহ তাঁর নিকট উচ্চাশা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। স্তুতিগায়কগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন কিন্তু তাঁর গুণের সীমা নির্ধারণে অক্ষম হয়েছেন এবং গুণকীর্তনকারীরা তাঁর স্তুতি গেয়েছেন কিন্তু তাঁর হাকীকত বর্ণনায় ব্যর্থ হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর রিসালাতের গুরুভার কেবল সেখানেই অর্পণ করেন যা সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত ও জ্ঞানী; এবং তিনি তাঁর নেয়ামত কেবল তাকেই দান করেন যে তা পালনে অধিক তৎপর ও অটল; এবং তাঁর খেলাফত কেবল তাকেই প্রদান করেন যে এর ওপর অধিক শক্তিশালী ও সক্ষম; এবং তাঁর মর্যাদা কেবল তাকেই দান করেন যে এর অধিক যোগ্য ও উপযুক্ত। যাতে এটি জানা যায় যে, তাঁর—যাঁর নাম বরকতময়—কার্যাবলি ন্যায়পরায়ণতা (العدل) ও বিশুদ্ধতা (الصحة)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং প্রজ্ঞা ও জনকল্যাণের ওপর পরিচালিত। আর যে ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে একে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে, তার জন্য এর কল্যাণকর ফলাফল বয়ে আনে। তিনি তাঁর সমগ্র সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে দায়িত্ব পালনের যোগ্য মনে করেছেন এবং তাঁর নবুওয়াতের ঘরানা থেকে যাদের মনোনীত করেছেন, তারা বিচারবুদ্ধি ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন এবং দ্বীনদার ও খোদাভীরু। যাতে জীবনযাত্রা তাদের নির্বাচনের সাথে যুক্ত থাকে এবং তাদের অবস্থানের কারণে রাষ্ট্রীয় নীতি নিরাপদ হয়; তাদের ব্যবস্থাপনায় ও তাদের হাতে স্থিরতা বিদ্যমান থাকে এবং তাদের শুরুতে ও শেষে নিরাপত্তা প্রত্যাশিত হয়। তাদের রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দ্বীন সংরক্ষিত থাকে এবং তাদের পর্যবেক্ষণে সকল বিষয় সুসংহত থাকে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই পবিত্র দরবারে—যা সর্বদা আল্লাহর সাহায্যের বেষ্টনীতে এবং তাঁর দৃষ্টির হেফাজতে থাকুক—প্রাচীন ও আধুনিক (হাদিস) সম্মান এবং বংশগত ও অর্জিত আভিজাত্যকে একত্রিত করেছেন; যাতে পরবর্তীকাল প্রারম্ভিক কালের সাথে যুক্ত হয় এবং শেষাংশ প্রথমাংশের অনুগামী হয়। এতে মূল এবং শাখাগুলো পবিত্র হয়েছে এবং শিকড় ও প্রশাখাগুলো বিশুদ্ধ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি নবুওয়াতের বৃক্ষ থেকে উদ্ভূত, ইমামতের (الإمامة) কেন্দ্রস্থলে সমাসীন, নবুওয়াতের পরিবার থেকে নির্গত এবং খেলাফতের ঘরে লালিত-পালিত, সে-ই আল্লাহর জন্য পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন খলিফা হওয়ার যোগ্য; এবং তাঁর দ্বীনের ওপর একজন নেককার ও মুত্তাকী আমানতদার এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি একজন নিষ্ঠাবান ও হিতাকাঙ্ক্ষী রক্ষক হওয়ার যোগ্য; আর তাঁর হক আদায়ে একজন স্বাধীন ও তৎপর এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একজন প্রতিরোধকারী রক্ষক এবং আশ্রয় গ্রহণকারীদের জন্য একজন আশ্রয়দাতা ও উদ্ধারকর্তা হওয়ার যোগ্য। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী এবং তাঁর নৈকট্য ও নেয়ামত লাভে সফলকাম হওয়ারই উপযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مِنْهُ مغمورا وبالحسنى مشمولا وان تكون الموهبة من كَامِلَة وبنزول الرَّحْمَة كافلة والصدور بموالاته مترعة والألسن بالثناء عَلَيْهِ مجتمعة وَالْأَيْدِي بِالدُّعَاءِ لَهُ مُرْتَفعَة وَالله يُجيب فِيهِ أفضل ذَلِك مستمعا ومقبولا وأخلصة مُعْتَقدًا ومقولا ويحرس على الدّين وَالدُّنْيَا محاسنه الزاهرة ومناقبه الباهرة وَمَا مده عَلَيْهِمَا من ظلّ دولته وأجراه لَهما من بَرَكَات إيالته حَتَّى يمْلَأ الْخَافِقين عدلا شَائِعا كَمَا ملأهما فضلا بارعاً ويعم المشرقين فعلا جميلا كَمَا عَمهمَا طولا جزيلاً انه على مَا يَشَاء قدير وَبِحسن الْإِجَابَة جدير.
وَلما كَانَت الْخلَافَة من النُّبُوَّة وَكَانَ لَهَا من جلالة الْقدر وفخامة الْأَمر أَعْلَاهَا مراقب وَأَشْرَفهَا مَرَاتِب وَمن أس الإعمال وقوانين الْأَفْعَال أوضحها معالم وأثبتها دعائم وَمن شُرُوط المكاتبات ورسوم الترتيبات أحْسنهَا طرائق وأحكمها وثائق وَمن حُقُوق الْخدمَة وحدود الحشمة أولاها بأولي الْعقل والمسكة وَذَوي الحزم والحنكة وأحراها بِأَن يتداول ويتفاوض ويتناقل ليَكُون تذكرة للناسي وتبصرة للناشي وطريقا إِلَى معرفَة مَا عظمه الله من شَأْن الدعْوَة الهاشمية وأعزه من سُلْطَان الْإِمَامَة العباسية فَوجدت أَكثر ذَلِك قد درس بتقادم عهوده وَتغَير وضوعه وَلَيْسَ كل من مر على عهد اخْتَار أخباره أَو أَمر شَاهده فألفه ووجدتني قد سَمِعت من إِبْرَاهِيم بن هِلَال جدي فِيهِ مَا لم يكن بَقِي فِي وقته من يُشَارِكهُ فِي كثير من علمه وَعلل مَا وَقع الِاصْطِلَاح
তাঁর পক্ষ হতে নিমজ্জিত এবং কল্যাণ দ্বারা পরিবেষ্টিত হন, এবং এই দান যেন পূর্ণাঙ্গ হয় এবং রহমত বর্ষণের মাধ্যমে জামিনদার হয়; অন্তরসমূহ যেন তাঁর প্রতি আনুগত্যে ভরপুর থাকে, জিহ্বাসমূহ তাঁর প্রশংসায় একতাবদ্ধ থাকে এবং হাতসমূহ তাঁর কল্যাণে প্রার্থনার জন্য উত্তোলিত থাকে। আল্লাহ যেন এই বিষয়ে উত্তম শ্রবণকারী ও কবুলকারী হিসেবে সাড়া দেন এবং তাকে একনিষ্ঠ বিশ্বাস ও বক্তব্যের বিষয় বানান। তিনি যেন দ্বীন ও দুনিয়ার ওপর তাঁর উজ্জ্বল সৌন্দর্য ও চমকপ্রদ গুণাবলিকে সুরক্ষা প্রদান করেন এবং তাঁর শাসনের ছায়াতলে যা প্রসারিত করেছেন এবং তাঁর পরিচালনার বরকতে যা জারি রেখেছেন, তা যেন উভয় দিগন্তকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেয়, যেমনটি তিনি শ্রেষ্ঠত্বের দ্বারা পূর্ণ করেছেন। এটি যেন উভয় প্রাচ্যকে সুন্দর কর্ম দিয়ে পরিব্যপ্ত করে যেমনটি তিনি প্রচুর দান দিয়ে পরিব্যপ্ত করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং উত্তম সাড়া প্রদানের যোগ্য।
যেহেতু খিলাফত নবুওয়াতেরই একটি অংশ এবং এর রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি, যার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত উচ্চ এবং স্তরসমূহ অত্যন্ত সম্মানিত; এটি কর্মের মূলভিত্তি ও কার্যাবলির নিয়মনীতির মধ্যে স্পষ্টতম নিদর্শন এবং সুদৃঢ়তম স্তম্ভ। এটি পত্রালাপের শর্তাবলি ও বিন্যাসের রীতিনীতির মধ্যে সর্বোত্তম পন্থা ও মজবুত দলিলস্বরূপ। এটি সেবা প্রদানের অধিকার এবং শিষ্টাচারের সীমানার মধ্যে বুদ্ধিমান ও ধৈর্যশীলদের জন্য এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিষয়। এটি এই যোগ্য যে, তা আলোচিত, পর্যালোচিত ও হস্তান্তরিত হবে, যাতে তা বিস্মৃতদের জন্য স্মারক এবং অর্বাচীনদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি হয়। এছাড়া এটি আল্লাহর মহান করা হাশেমী দাওয়াহ এবং তাঁর সম্মানিত করা আব্বাসী ইমামতের মর্যাদা জানার পথ হিসেবে গণ্য হয়। আমি লক্ষ্য করলাম যে, এর অধিকাংশ বিষয় কালপরিক্রমায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এর বিন্যাস পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এমনটি নয় যে, যারা কোনো যুগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে তারা সবাই তার সংবাদসমূহ নির্বাচন করেছে অথবা কোনো বিষয় প্রত্যক্ষ করে তা সংকলন করেছে। আমি আমার দাদা ইবরাহিম বিন হিলাল থেকে এ বিষয়ে এমন কিছু শুনেছি যা তাঁর সমসাময়িক আর কারো মাঝে অবশিষ্ট ছিল না, যারা তাঁর জ্ঞানের বৃহৎ অংশ এবং প্রচলিত পরিভাষা (اصطلاح) সমূহের নিগূঢ় কারণসমূহ (علل)-এর ক্ষেত্রে তাঁর অংশীদার হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
عَلَيْهِ مِنْهُ وَلَا بَقِي الْآن من يشاركني فِي إِسْنَاده وَرِوَايَته عَنهُ وَخفت ان تلْحق هَذِه الْبَقِيَّة بِتِلْكَ المواضي المنسية وَرَأَيْت حُقُوق النِّعْمَة الَّتِي غمرتني وغمرت أسلافي للدولة العباسية ثَبت الله أَرْكَانهَا تَقْتَضِي الْعِنَايَة بهَا ان انشر أَعْلَام سننها الْقَدِيمَة وأوضح آثَار سَيرهَا القويمة جمعت من ذَلِك مَا ضبطته بالتأليف، وحفظته بالتصنيف وَجَعَلته من القربات الَّتِي أراعي الفرص فِيهَا وأحافظ على مَا وفر الْحَظ مِنْهَا وَأَرْجُو ان يَقع الْخَادِم مِمَّا اعْتمد وَفعل الْموقع الَّذِي لحظيه بِمَا رجا وأمل وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق.
وسأورد مَا أوردهُ أبوابا أبين فِيهَا مَا كَانَت الْأُمُور جَارِيَة عَلَيْهِ وَمَا تأدت وآلت على الْأَيَّام إِلَيْهِ ليعرف من ذَلِك السالف والانف والمتبع والمبتدع.
...এবং এখন আর এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যে তার নিকট থেকে এটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে এবং এর সনদ (إسناد) ও বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে আমার সাথে অংশীদার হবে। আমি আশঙ্কা করছি যে, এই অবশিষ্টাংশও ওইসব বিস্মৃত অতীতের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। আমি লক্ষ্য করেছি যে, আব্বাসীয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে নেয়ামত আমাকে এবং আমার পূর্বসূরিদের ধন্য করেছে—আল্লাহ তাআলা এর ভিত্তিগুলোকে সুদৃঢ় করুন—তা এই যত্ন নেওয়ার দাবি রাখে যে, আমি এর প্রাচীন রীতিনীতির ঝাণ্ডাগুলো উড্ডীন করি এবং এর সঠিক পথচলার নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট করি। আমি সেই বিষয়গুলো সংকলন করেছি যা গ্রন্থাকারে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল করেছি এবং রচনার মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করেছি। আমি একে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছি যার সুযোগ আমি অন্বেষণ করি এবং এর যে পরম সৌভাগ্য আমি লাভ করেছি তা হেফাযত করি। আমি আশা করি এই খাদেম যা সম্পাদন করেছে এবং যার ওপর নির্ভর করেছে, তা যেন সেই স্তরে সমাদৃত হয় যার জন্য সে আকাঙ্ক্ষা ও আশা পোষণ করে। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
আমি বিষয়গুলো বিভিন্ন পরিচ্ছেদে উপস্থাপন করব, যেখানে আমি বিষয়গুলো পূর্বে যেভাবে প্রচলিত ছিল এবং কালক্রমে বর্তমানে যে অবস্থায় উপনীত হয়েছে তা বর্ণনা করব; যাতে এর মাধ্যমে অতীত ও বর্তমানের বিষয়সমূহ এবং যা অনুসরণযোগ্য (متبع) এবং যা নব উদ্ভাবিত (مبتدع) তা চেনা যায়।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأبدأ بِذكر أَحْوَال الدَّار العزيزة كَانَت دَارا عَظِيمَة السعَة وعَلى أَضْعَاف مَا هِيَ عَلَيْهِ الان من هَذِه الْبَقِيَّة الرائعة وَدَلِيل ذَلِك انها كَانَت مُتَّصِلَة بالحير والثريا ومسافة مَا بَينهمَا الْيَوْم بعيدَة وَإِنَّمَا انفصلا عَنْهَا وَطَالَ مداهما مِنْهَا بِمَا أَتَى عَلَيْهِ الْحَرِيق وَالْهدم من الدّور والمنازل والبنيان والعمران فِي الْفِتْنَة عِنْد خلع المقتدر بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ وَعوده وَالْقَبْض على القاهر بِاللَّه وَقتل المكنى أَبَا الهيجاء بن حمدَان وَمَا بعْدهَا من الْفِتَن المترادفة بِالْأَيْدِي المتخالفة فَإِن ذَلِك اسْتهْلك الشّطْر الْأَكْبَر مِنْهَا وَمن بعض أمورها ان كَانَ فِيهَا مزارع وأكره وعوامل
আমি সম্মানীয় প্রাসাদের অবস্থাদি বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করছি এটি ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত একটি প্রাসাদ এবং বর্তমানে এর যে চমৎকার অবশিষ্টাংশ বিদ্যমান, এটি তার কয়েক গুণ বড় ছিল। এর প্রমাণ হলো এটি আল-হাইর ও আল-সুরাইয়ার সাথে সংযুক্ত ছিল; অথচ বর্তমানে এগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব অনেক। মূলত অগ্নিসংযোগ এবং ঘরবাড়ি, বসতি, দালানকোঠা ও জনপদ ধ্বংস হওয়ার ফলেই সেগুলো এই প্রাসাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং এগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ধ্বংসযজ্ঞ মূলত আল-মুক্তাদির বিল্লাহর—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—ক্ষমতাচ্যুতি ও তাঁর প্রত্যাবর্তন, আল-কাহির বিল্লাহর কারাবরণ এবং আবু হাইজা ইবনে হামদান উপনামে (كنية) পরিচিত ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের সময়কার বিশৃঙ্খলা (فتنة) এবং তৎপরবর্তী বিবাদমান পক্ষগুলোর দ্বারা একের পর এক সংঘটিত গোলযোগের (فتنة) সময় ঘটেছিল। মূলত এসব ঘটনাই এই প্রাসাদের সিংহভাগ গ্রাস করে নিয়েছিল। এর কিছু অবস্থার বিবরণ হলো, এর অভ্যন্তরে কৃষিজমি, বর্গাচাষী ও কৃষি-শ্রমিক বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
برسمها وَأَرْبَعمِائَة حمام لمن تحويه من أَهلهَا وحواشيها فَأَما فِي أَيَّام المكتفى بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ فَإِنَّهَا اشْتَمَلت على عشْرين ألف غُلَام دارية وَعشرَة آلَاف خَادِم سُودًا وصقالبة وَأما فِي أَيَّام المقتدر بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ فالإجماع وَاقع على انه كَانَ فِيهَا أحد عشر ألف خَادِم مِنْهُم سَبْعَة سُودًا وَأَرْبَعَة صقالبة بيضًا وَأَرْبَعَة آلَاف امْرَأَة بَين حرَّة ومملوكة وألوف من الغلمان الحجرية وَكَانَت النّوبَة مِمَّن يرسم بِحِفْظ الدَّار من الرجالة المصافية خَمْسَة آلَاف رجل وَمن الحراس أَربع مائَة حارس وَمن الفراشين ثَمَانمِائَة
এর নকশা অনুযায়ী সেখানে চারশটি স্নানাগার ছিল যা এর অধিবাসী ও সংশ্লিষ্টদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। মুকতাফি বিল্লাহ (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-এর শাসনামলে এতে বিশ হাজার গৃহভৃত্য এবং দশ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ ও স্লাভিক খাদেম অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর মুকতাদির বিল্লাহ (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-এর শাসনামলে এ বিষয়ে সর্বসম্মত মত (إجماع) রয়েছে যে, সেখানে এগারো হাজার খাদেম ছিল, যাদের মধ্যে সাত হাজার কৃষ্ণাঙ্গ এবং চার হাজার শ্বেতাঙ্গ স্লাভিক ছিল। এছাড়া স্বাধীন ও দাসী মিলিয়ে চার হাজার নারী এবং কয়েক হাজার হুজারিয়া গোলাম ছিল। প্রাসাদ পাহারার জন্য নির্ধারিত নিয়মিত পদাতিক বাহিনীর সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার পুরুষ, প্রহরীর সংখ্যা ছিল চারশ এবং শয্যা-পরিচারক ছিল আটশ জন।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فرَاش وَكَانَت شحنة الْبَلَد برسم نازوك صَاحب المعونة أَرْبَعَة عشر ألف فَارس وراجل.
حِكَايَة
وَحدث الْحُسَيْن بن هَارُون الضَّبِّيّ القَاضِي قَالَ: حَدثنِي مَنْصُور بن الْقَاسِم القنائي قَالَ: كَانَ من عادتي فِي أَيَّام الأعياد ان أغلس فِي الرّكُوب إِلَى دَار عَليّ بن عِيسَى الْوَزير على مَا يَقْتَضِيهِ اختصاصي بِهِ لأركب مَعَه إِلَى الْمصلى وَمِنْه إِلَى دَار السُّلْطَان
আসবাবপত্র এবং শহরের নিরাপত্তা বাহিনী সাহিব আল-মাউনা নাজুকের অধীনে ন্যস্ত ছিল, যার সংখ্যা ছিল চৌদ্দ হাজার অশ্বারোহী ও পদাতিক সৈন্য।
একটি কাহিনী
এবং বিচারক আল-হুসাইন ইবনে হারুন আদ-দাব্বি বর্ণনা করেছেন (حدث), তিনি বলেন: মানসুর ইবনে আল-কাসিম আল-কানায়ি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: ঈদের দিনগুলোতে আমার অভ্যাস ছিল খুব ভোরে উজির আলি ইবনে ঈসার বাসভবনের অভিমুখে সওয়ার হওয়া, যা ছিল তাঁর সাথে আমার বিশেষ ঘনিষ্ঠতার দাবি; যেন আমি তাঁর সাথে ঈদগাহে এবং সেখান থেকে সুলতানের প্রাসাদে গমন করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثمَّ أَعُود فِي صحبته إِلَى دَاره وأجلس بَين يَدَيْهِ إِلَى ان يتقوض موكبه وأحضر طَعَامه فأتفق فِي يَوْم من أَيَّام الأعياد ان تصبحت قَلِيلا ثمَّ ركبت مسرعا وصادف خروجي من بعض الدروب اجتياز نازوك فِي موكبه وَبَين يَدَيْهِ أَكثر من خمس مائَة فرَاش بالشموع الموكبية سوى أَصْحَاب النفط وهم عدد أَكثر فَاحْتَجت ان أَقف إِلَى ان يعبروا فازددت تصبحا ووافيت إِلَى دَار الْوَزير وَكَانَ قد ركب وتبعته إِلَى الْمصلى فَلم أتمكن من خدمته لِكَثْرَة من مَعَه وَلَحِقتهُ إِلَى دَار السُّلْطَان فَكَانَت الصُّورَة وَاحِدَة فِي ذَاك وَجئْت مَعَه إِلَيّ دَاره فَلَمَّا رَآنِي قَالَ: وَلم أوحشتنا الْيَوْم يَا أَبَا الْفرج فشرحت لَهُ صُورَتي وَمَا عاقني من اجتياز موكب نازوك فَلَمَّا فرغت من قولي نَدِمت على تعظيمي من أَمر نازوك مَا عَظمته لِأَن الْوَزير كَانَ متنكرا عَلَيْهِ وَغير جميل الرَّأْي فِيهِ وَمن عَادَته أَيْضا كَرَاهِيَة هَذَا البذخ والتخرق لما كَانَ عَلَيْهِ من التشدد والتصعب وَخفت ان يتَّصل الْمجْلس بنازوك فيحمله مني على السّعَايَة بِهِ وَبعث الْوَزير عَلَيْهِ وَبينا انا مُتَرَدّد فِي الْفِكر وَسُوء الظَّن دخل نازوك فَقبل يَد الْوَزير ووقف فَقَالَ لَهُ الْوَزير: مد الله فِي عمرك يَا أَبَا مَنْصُور وَكثر فِي أَوْلِيَاء الدولة مثلك فَإِن أَبَا الْفرج عرفني من ركبتك الْيَوْم مَا جملت بِهِ الدولة وَالْإِسْلَام وأرغمت فِيهِ انوف أهل الْكفْر والعناد فَبَارك الله فِيك وَأحسن عَن السُّلْطَان جزاءك فَلم يبْق من شُيُوخ دولته وحاشيته من يجْرِي مجراك امْضِ إِلَى دَارك وَلَا تقف واجلس هُنَاكَ حَتَّى يهنئك النَّاس قَالَ مَنْصُور بن الْقَاسِم: فسررت بذلك سُرُورًا شَدِيدا وَصَارَ غمي فَرحا وانزعاجي سكونا ونهض الْوَزير من مَجْلِسه وَخرجت فَوجدت
অতঃপর আমি তাঁর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে ফিরে আসতাম এবং তাঁর মিছিল ছত্রভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সম্মুখে উপবিষ্ট থাকতাম এবং তাঁর আহারের সময় উপস্থিত থাকতাম। ঘটনাক্রমে এক ঈদের দিন ভোরে আমার জাগ্রত হতে কিছুটা বিলম্ব হয়, অতঃপর আমি দ্রুত সওয়ারিতে আরোহণ করি। কোনো এক গলি থেকে বের হওয়ার সময় নাযুকের মিছিল অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে আমার দেখা হয়ে যায়। তাঁর সম্মুখে মিছিলের মোমবাতিসহ পাঁচ শতাধিক ভৃত্য ছিল, এছাড়া অগ্নি-বাহকদের সংখ্যা ছিল আরও অধিক। তাদের অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো, ফলে আমার বিলম্ব আরও বেড়ে গেল। আমি উজিরের বাসভবনে পৌঁছালাম, কিন্তু তিনি ততক্ষণে আরোহণ করে চলে গিয়েছিলেন; তাই আমি ঈদগাহ পর্যন্ত তাঁর অনুসরণ করলাম। কিন্তু তাঁর সাথে থাকা বিপুল জনসমাগমের কারণে আমি তাঁর খিদমত করার সুযোগ পেলাম না। আমি সুলতানের বাসভবন পর্যন্ত তাঁর পিছু নিলাম, সেখানেও পরিস্থিতি একই ছিল। এরপর আমি তাঁর সাথে তাঁর বাসভবনে ফিরে এলাম। যখন তিনি আমাকে দেখলেন, তখন বললেন: ‘হে আবু আল-ফারাজ! আজ কেন আপনি আমাদেরকে নিঃসঙ্গ করলেন?’ তখন আমি আমার অবস্থা এবং নাযুকের মিছিল অতিক্রান্ত হওয়ার প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তাঁর নিকট ব্যাখ্যা করলাম। কথা শেষ করার পর আমি নাযুকের বিষয়টিকে এভাবে মহিমান্বিত করার কারণে অনুতপ্ত হলাম, কারণ উজির তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতেন না। উজিরের অভ্যাস ছিল বিলাসিতা ও আতিশয্য অপছন্দ করা, কারণ তিনি কঠোরতা ও দৃঢ়তার অনুসারী ছিলেন। আমি আশঙ্কা করলাম যে, এই মজলিসের বিবরণ নাযুকের নিকট পৌঁছে যাবে এবং তিনি একে আমার পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে চোগলখুরি এবং উজিরকে তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচিত করা হিসেবে গণ্য করবেন। আমি যখন চিন্তা ও কুধারণার দোলাচলে ছিলাম, ঠিক তখনই নাযুক প্রবেশ করলেন এবং উজিরের হস্ত চুম্বন করে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তখন উজির তাঁকে বললেন: ‘হে আবু মানসুর! আল্লাহ আপনার আয়ু বৃদ্ধি করুন এবং রাষ্ট্রের হিতৈষীদের মধ্যে আপনার ন্যায় ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধি করুন। কেননা আবু আল-ফারাজ আজ আপনার কুচকাওয়াজ সম্পর্কে আমাকে এমন কিছু জানিয়েছেন যার দ্বারা আপনি রাষ্ট্র ও ইসলামকে অলঙ্কৃত করেছেন এবং এর মাধ্যমে কুফর ও অবাধ্যদের নাসিকা মথিত করেছেন। আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন এবং সুলতানের পক্ষ থেকে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। রাষ্ট্রের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গের (شيوخ) এবং পারিষদবর্গের মধ্যে এমন কেউ নেই যে আপনার পথ অনুসরণ করে। আপনি আপনার গৃহে গমন করুন, আর অপেক্ষা করবেন না এবং সেখানে অবস্থান করুন যাতে মানুষ আপনাকে অভিনন্দন জানাতে পারে।’ মনসুর ইবনে আল-কাসিম বলেন: আমি এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম, আমার বিষণ্ণতা শান্তিতে এবং অস্থিরতা স্থিরতায় রূপান্তরিত হলো। উজির তাঁর মজলিস থেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং আমি বেরিয়ে এসে দেখলাম...
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
نازوك جَالِسا فِي حجرَة الْحجاب ينتظرني فَلَمَّا رَآنِي نَهَضَ عَن كرسيه وتلقاني وَقبل بَين عَيْني وَقَالَ لي: قد ملكت رقي وَمَا أوليتك مَا يَدْعُو إِلَى مَا فعلته من جميل النِّيَابَة عني وَعقد الْمِنَّة الجليلة عَليّ فانني مَا أملت قطّ ان أسمع من الْوَزير بعض مَا سمعته الْيَوْم وسألني ان أَصْحَبهُ إِلَى دَاره فأعلمته عادتي فِي حُضُور طَعَام الْوَزير وأنني انكفىء مِنْهُ إِلَيْهِ وَركبت وعدت وَجَلَست مَعَ الْوَزير على الْمَائِدَة وجددت إِجْرَاء ذكره فجدد اطراءه فوصفه وَخرجت فَإِذا رسل نازوك على الْبَاب يراعونني وينتظرونني وصرت مَعَهم إِلَيْهِ فتلقاني واستأنفت الْأكل عِنْده وانتقلت إِلَى مجْلِس للأنس فَلَمَّا عزمت على الإنصراف حمل معي مَا قدره ألف دِينَار من كل شَيْء.
وَلَقَد ورد رَسُول لصَاحب الرّوم فِي أَيَّام المقتدر بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ ففرشت الدَّار بالفروش الجميلة وزينت بالآلات الجليلة ورتب الْحجاب وخلفاؤهم والحواشي على طبقاتهم على أَبْوَابهَا وَفِي دهاليزها وممراتها ومخترقاتها وصحونها ومجالسها ووقف الْجند على اخْتِلَاف أجيالهم صفّين بالثياب الْحَسَنَة وتحتهم الدَّوَابّ بالمراكب الذَّهَب وَالْفِضَّة وَبَين أَيْديهم الجنائب على مثل هَذِه
নাজুক পর্দারক্ষীদের কক্ষে (حجرة الحجاب) বসে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যখন তিনি আমাকে দেখলেন, তখন তিনি নিজ আসন থেকে উঠে দাঁড়ালেন, আমাকে এগিয়ে এসে অভ্যর্থনা জানালেন এবং আমার দুই চোখের মাঝখানে (কপালে) চুম্বন করলেন। তিনি আমাকে বললেন: "আপনি আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। আমার পক্ষ থেকে আপনি যে সুন্দর প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং আমার প্রতি যে মহান অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন, আমি তার বিনিময়ে আপনার জন্য কিছুই করতে পারিনি। আমি কখনো আশা করিনি যে উজিরের নিকট থেকে আজ যা শুনেছি তার কিঞ্চিৎ পরিমাণও কোনোদিন শুনতে পাব।" তিনি আমাকে তাঁর বাসভবনে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেন। আমি তাঁকে জানালাম যে, উজিরের ভোজসভায় উপস্থিত হওয়া আমার নিয়মিত অভ্যাস এবং আমি সেখান থেকে অবসর নিয়ে তাঁর নিকট আসব। এরপর আমি সওয়ার হয়ে ফিরে এলাম এবং উজিরের সাথে দস্তরখানে বসলাম। আমি পুনরায় তাঁর (নাজুকের) প্রসঙ্গ উত্থাপন করলাম, ফলে তিনি (উজির) পুনরায় তাঁর ভূয়সী প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন। আমি যখন বের হলাম, দেখলাম নাজুকের প্রেরিত দূতরা দরজায় আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমি তাঁদের সাথে তাঁর নিকট গেলাম। তিনি আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং আমি পুনরায় তাঁর ওখানে আহার করলাম। এরপর আমি একটি বিনোদনমূলক মজলিসে স্থানান্তরিত হলাম। যখন আমি বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন তিনি আমার সাথে বিভিন্ন প্রকারের প্রায় এক হাজার দিনার সমমূল্যের উপঢৌকন পাঠিয়ে দিলেন।
আল-মুকতাদির বিল্লাহর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) শাসনকালে রোম সম্রাটের পক্ষ থেকে একজন দূত আগমন করেছিলেন। তখন রাজপ্রাসাদকে অতি চমৎকার গালিচা দ্বারা সুসজ্জিত করা হয়েছিল এবং জাঁকজমকপূর্ণ সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো হয়েছিল। দ্বাররক্ষী (حجاب), তাঁদের প্রতিনিধি এবং অনুসারীদের নিজ নিজ পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রাসাদের প্রবেশদ্বারসমূহ, বারান্দা, পথ, চত্বর এবং মজলিসগুলোতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়েছিল। বিভিন্ন শ্রেণির সৈন্যরা সুন্দর পোশাকে সজ্জিত হয়ে দুই সারিতে দণ্ডায়মান ছিল এবং তাঁদের বাহনগুলোর ওপর সোনা ও রূপার সরঞ্জামাদি শোভা পাচ্ছিল; তাঁদের সামনে অতিরিক্ত ঘোড়াগুলোও একইভাবে সুসজ্জিত ছিল।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الصُّورَة وَقد أظهرُوا الْعدَد والأسلحة الْكَثِيرَة فَكَانُوا من أَعلَى بَاب الشماسية وَإِلَى قريب من دَار الْخلَافَة وبعدهم الغلمان الحجرية والخدم والخواص والبرانية إِلَى حَضْرَة الْخلَافَة بالبزة الرائقة وَالسُّيُوف والمناطق المحلاة وأسواق الْجَانِب الشَّرْقِي وشوارعه وسطوحة ومسالكه مَمْلُوءَة بالعامة النظارة وَقد اكتري كل دكان وغرفة مشرفة بِدَرَاهِم كَثِيرَة وَفِي دجلة الشذاءات والطيارات والزبازب والشبارات والزلالات والسميريات بِأَفْضَل زِينَة وعَلى أحسن تعبئة وَسَار الرَّسُول وَمن مَعَه من المواكب إِلَى أَن وصلوا دَار الْخلَافَة وَدخل فأجيز على دَار نصر القشوري فَرَأى ضففا كثيرا ومنظرا هائلا فَظَنهُ الْخَلِيفَة
দৃশ্যটি ছিল এমন যে, তারা তাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী ও প্রচুর সমরাস্ত্র প্রদর্শন করেছিল। তারা শাম্মাসিয়্যাহ ফটকের উপরিভাগ থেকে শুরু করে খিলাফত প্রাসাদের নিকটবর্তী এলাকা পর্যন্ত অবস্থান নিয়েছিল। তাদের পেছনে ছিল হুজারিয়া গোলাম, সেবক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বহিরাঙ্গনের কর্মচারীরা, যারা চমৎকার রাজকীয় পোশাক, তরবারি এবং অলংকৃত কোমরবন্ধনী পরিহিত অবস্থায় খিলাফতের দরবার পর্যন্ত সারিবদ্ধ ছিল। পূর্ব দিকের বাজারসমূহ, রাস্তাঘাট, ছাদ এবং অলিগলি সাধারণ দর্শকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ ছিল। প্রতিটি দোকান এবং উঁচু কক্ষ বিপুল দিরহামের বিনিময়ে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। দজলা নদীতে শাযা’আত, তায়্যারাত, যুবযিব, শাব্বারাত, যালালাত এবং সামাইরিয়াতের মতো নৌযানগুলো সর্বোত্তম সাজসজ্জা ও চমৎকার বিন্যাসে সুসজ্জিত ছিল। রাজদূত ও তার সফরসঙ্গীগণ শোভাযাত্রাসহ অগ্রসর হলেন যতক্ষণ না তারা খিলাফত প্রাসাদে পৌঁছালেন। তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং তাকে নাসর আল-কুশুরি-র প্রাসাদের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে তিনি বিপুল জনসমাবেশ ও এক জাঁকজমকপূর্ণ দৃশ্য অবলোকন করলেন, যা দেখে তিনি তাকে খলিফা বলে মনে করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وداخلته لَهُ هَيْبَة وخيفة حَتَّى قيل لَهُ أَنه الْحَاجِب وَحمل من بعد ذَلِك إِلَى الدَّار الَّتِي كَانَت برسم الوزارة (1) ، وفيهَا عَليّ (2) بن مُحَمَّد بن الْفُرَات، الْوَزير يَوْمئِذٍ فَرَأى أَكثر مِمَّا رَآهُ لنصر الْحَاجِب وَلم يشك فِي أَنه الْخَلِيفَة حَتَّى قيل لَهُ: هَذَا الْوَزير ابْن الْفُرَات فَسلم عَلَيْهِ وخدمه وأجلس فِي مجْلِس بَين دجلة والبساتين قد اختيرت لَهُ الفروش وعلقت عَلَيْهِ الستور ونصبت فِيهِ الدسوت وأحاط بِهِ الخدم والغلمان بالطبر زينات وَالسُّيُوف ثمَّ استدعى بعد سَاعَات إِلَى حَضْرَة المقتدر بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ وَقد جلس مَجْلِسا عَظِيما مهيبا فخدم خدمه مثله وَشَاهد من الْأَمر مَا راعه وهاله وَانْصَرف إِلَى دَار قد أعدت لَهُ وَحصل فِيهَا من الْفرش مَا يصلح لَهُ والحواشي والألاف والإقامات كل مَا تَدْعُو الْحَاجة إِلَيْهِ مِمَّا أظهرت فِيهِ
তাঁর হৃদয়ে এমন এক প্রভাব ও ভীতির সঞ্চার হলো যে, তাঁকে বলা হলো তিনি হলেন হাজিব। এরপর তাঁকে সেই গৃহে নিয়ে যাওয়া হলো যা উজিরের দাপ্তরিক বাসভবন হিসেবে নির্ধারিত ছিল (১)। সেখানে তৎকালীন উজির আলি (২) ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফুরাত অবস্থান করছিলেন। তিনি নসর আল-হাজিবের সান্নিধ্যে যা দেখেছিলেন, তার চেয়েও অধিক জাঁকজমক এখানে প্রত্যক্ষ করলেন এবং তাঁর মনে কোনো সন্দেহ রইল না যে ইনিই খলিফা; পরিশেষে তাঁকে বলা হলো: "ইনি উজির ইবনুল ফুরাত।" তখন তিনি তাঁকে সালাম দিলেন এবং তাঁর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করলেন। এরপর তাঁকে দজলা নদী ও উদ্যানসমূহের মধ্যবর্তী এমন এক মজলিসে বসানো হলো যার জন্য কার্পেটসমূহ বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল, সেখানে পর্দা ঝোলানো ছিল এবং রাজকীয় আসনসমূহ স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁর চতুষ্পার্শ্বে ভৃত্য ও সেবকরা সজ্জিত কুঠার ও তলোয়ার নিয়ে পরিবেষ্টন করে ছিল। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে মুকতাদির বিল্লাহর—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—দরবারে তলব করা হলো। তিনি এক সুমহান ও গাম্ভীর্যপূর্ণ মজলিসে উপবিষ্ট ছিলেন। আগত ব্যক্তি খলিফাকে যথোচিত সম্মান প্রদর্শন করলেন এবং সেখানে এমন রাজকীয় শান-শওকত প্রত্যক্ষ করলেন যা তাঁকে বিমোহিত ও স্তম্ভিত করে দিল। অতঃপর তিনি তাঁর জন্য প্রস্তুতকৃত একটি আবাসে ফিরে গেলেন, যেখানে তাঁর উপযোগী বিছানা-পত্র, ভৃত্য, অর্থ এবং অবস্থানের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ প্রস্তুত ছিল এবং সেখানে আভিজাত্যের পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الْمُرُوءَة والتوسعة فَكَانَت الْحَال إِذْ ذَاك وَقَبله على هَذَا الْوَصْف وَمَا هُوَ فَوْقه.
وَلَقَد شاهدت فِي أَيَّام صمصام الدولة وَسنة سِتّ وَسبعين وثلثمائة حُضُور ورد عَظِيم الرّوم فِي دَار المملكة وَكَانَ انهزم من بَين يَدي بسيل ولجأ إِلَى عضد الدولة مستنجدا بِهِ
নৈতিক মহত্ত্ব (المروءة) ও প্রাচুর্য (التوسعة); তৎকালীন এবং তার পূর্ববর্তী সময়কার অবস্থা ছিল এই বর্ণনার অনুরূপ, বরং তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
আমি সামসাম আদ-দাওলার শাসনকালে এবং তিনশ ছিয়াত্তর হিজরি সনে রাজদরবারে রোমান সেনাপতি 'ওয়ার্দ'-এর উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছি; সে বাসিল-এর নিকট পরাজিত হয়ে আদুদ আদ-দাওলার নিকট সাহায্যপ্রার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فَقبض عَلَيْهِ بميافار قين وَحمله إِلَى بَغْدَاد فاعتقل إِلَى أَن مَاتَ عضد الدولة وَأقر على الاعتقال إِلَى آخر أَيَّام صمصام الدولة. ثمَّ سَأَلَ فِيهِ زيار بن شهراكوية صَاحب الْجَيْش إِذْ ذَاك بِإِطْلَاقِهِ وتسريحة إِلَى بَلَده فَأطلق وفسح لَهُ فِي التَّوَجُّه بعد ان شرطت عَلَيْهِ شُرُوط وعقدت مَعَه عُقُود وَكَانَ شرح الْحَال فِي حُضُوره
তাকে মিয়াফারিকিনে বন্দি করা হয় এবং বাগদাদে নিয়ে আসা হয়। আদ্বুদ আদ-দাওলার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন এবং সামসাম আদ-দাওলার শাসনের শেষ সময় পর্যন্ত তার কারাবাস বহাল রাখা হয়। অতঃপর তৎকালীন সেনাপতি জিয়ার বিন শাহরাকুয়াহ তার মুক্তি এবং নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে সুপারিশ করেন। ফলশ্রুতিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং যাত্রার অনুমতি প্রদান করা হয়; তবে তা ছিল তার ওপর কিছু শর্তারোপ এবং চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর। তার উপস্থিতিতেই আদ্যোপান্ত অবস্থা ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ان فرشت دَار المملكة بالفروش العضدية المستعملة لمجالسها وعلقت الستور الديباج على جَمِيع أَبْوَاب بيوتها وصحونها وممراتها ودهاليزها وأقيم الديلم من دجلة وَإِلَى حَضْرَة صمصام الدولة على مَرَاتِبهمْ صفّين بأجمل لِبَاس وأبهى عدد وَسلَاح وَفِي أَيْديهم وأيدي غلمانهم الزوبينات والتراس والغلمان الدارية والخدم برسمهم وقُوف فِي طول الروشن بالبزة الجميلة وَجلسَ صمصام الدولة فِي السدلي الْمَذْهَب على سدة كَبِيرَة من تحتهَا نهر مرصص يجْرِي فِيهِ المَاء وَقد وضعت بَين يَدَيْهِ الكوانين الذَّهَب فِيهَا قطع الْعود تتقد وتبخر ووافى ورد وَأَخُوهُ وَابْنه بَين
রাজকীয় প্রাসাদটিকে তার সভাগুলোর জন্য ব্যবহৃত 'আদুদিয়া' গালিচা দ্বারা সুসজ্জিত করা হলো এবং তার কক্ষসমূহ, প্রাঙ্গণ, পথ এবং বারান্দার সমস্ত দরজায় রেশমি পর্দা ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। দজলা নদী থেকে শুরু করে সামসাম উদ-দৌলার দরবার পর্যন্ত দায়লামি বাহিনীকে তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী অত্যন্ত চমৎকার পোশাক এবং জাঁকজমকপূর্ণ সমর-সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করে দুই সারিতে দাঁড় করানো হলো। তাদের এবং তাদের অনুচরদের হাতে ছিল বর্শা ও ঢাল। নির্দিষ্ট পোশাক পরিহিত রাজকীয় বালক এবং সেবকরা তাদের প্রথা অনুযায়ী চমৎকার পোশাকে বারান্দার পুরো দৈর্ঘ্য জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সামসাম উদ-দৌলা একটি স্বর্ণখচিত আসনে বড় একটি মঞ্চের ওপর উপবেশন করলেন, যার নিচ দিয়ে সীসা-খচিত পথে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। তাঁর সামনে স্বর্ণের ধূপদানি রাখা হয়েছিল, যাতে চন্দন কাঠের টুকরোগুলো প্রজ্জ্বলিত হয়ে সুগন্ধি ছড়াচ্ছিল। এমতাবস্থায় ওয়ার্দ, তাঁর ভ্রাতা ও পুত্র সেখানে উপস্থিত হলেন...
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
السماطين وعَلى ورد القباء والمنطقة وَبَين يَدَيْهِ الْحجاب بِالسُّيُوفِ والمناطق المخروزة وَسلم على صمصام الدولة سَلاما لم يزده فِيهِ على الانحناء قَلِيلا وتقبيل يَده لَهُ وَطرح لَهُ كرْسِي من فَوْقه مخدة وتخاطبا خطابا كَانَ الترجمان يفسره لكل مِنْهُمَا وَانْصَرف من بَاب غير الْبَاب الَّذِي دخل فِيهِ وَقد أقيم فِي الدَّار الْأُخْرَى من الْجند مثل مَا كَانَ فِي الأولى فَإِن عدَّة الديلم كَانَت يَوْمئِذٍ نَحْو عشرَة آلَاف رجل وَكَانَ ذَاك مَعَ جلالته فِي وقته لَا يُقَاس بِبَعْض مَا كَانَ فِي أَيَّام المقتدر بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ وَكَانَ مَا تقدمه من مثله فِي أَيَّام الْخُلَفَاء الْمُتَقَدِّمين رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ لَا ينقاس بِهِ لعظم الْأَمر سالفا وتناقصه آنِفا.
وَلَقَد انْتَهَت مُرَاعَاة الْأُمُور قَدِيما إِلَى ان كَانَت خريطة الْمَوْسِم ترد فِي الْيَوْم الرَّابِع وخرائط مصر فِي الْيَوْم الْحَادِي عشر. وَكَانَ
দুই সারিবদ্ধ সৈন্যের মধ্য দিয়ে তিনি অগ্রসর হলেন; তাঁর পরিধানে ছিল কাবা (এক প্রকার বহিঃপরিচ্ছদ) ও কোমরবন্ধনী। তাঁর সম্মুখে তলোয়ারধারী ও কারুকার্যখচিত কোমরবন্ধনী পরিহিত দ্বাররক্ষীগণ দণ্ডায়মান ছিলেন। তিনি সামসাম উদ-দৌলাকে অভিবাদন জানালেন এবং এই অভিবাদনে সামান্য মাথা নত করা ও তাঁর হস্তচুম্বন ব্যতীত অতিরিক্ত কিছু করেননি। তাঁর জন্য একটি আসন স্থাপন করা হলো যার ওপর একটি বালিশ ছিল এবং তাঁরা একে অপরের সাথে কথোপকথন করলেন যা একজন দোভাষী তাঁদের প্রত্যেকের নিকট ব্যাখ্যা করছিলেন। তিনি যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন তা ব্যতীত অন্য একটি দরজা দিয়ে প্রস্থান করলেন। প্রাসাদের অন্য অংশেও প্রথমটির ন্যায় সৈন্য সমাবেশ করা হয়েছিল; কেননা সে সময় দায়লামী সৈন্যদের সংখ্যা ছিল প্রায় দশ হাজার। তৎকালীন সময়ে এই আড়ম্বর ও মর্যাদা থাকলেও তা আল-মুকতাদির বিল্লাহর (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সময়ের আড়ম্বরের সাথে কোনোভাবেই তুলনীয় ছিল না। আর পূর্ববর্তী খলিফাগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) যুগে যা অতিবাহিত হয়েছে, তার মহানুভবতার সাথে এর কোনো তুলনাই চলে না; কারণ অতীতে শাসনব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশাল ও গাম্ভীর্যপূর্ণ, যা পরবর্তীকালে সংকুচিত হয়ে এসেছে।
প্রাচীনকালে প্রশাসনিক বিষয়াদির তদারকি এমন উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, হজের মৌসুমের ডাক বা চিঠিপত্র চতুর্থ দিনে এবং মিসরের চিঠিপত্রসমূহ একাদশ দিনে পৌঁছে যেত। এবং...
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الهليون يحمل إِلَى المعتصم بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ من دمشق فِي المراكن الرصاص فتصل فِي الْيَوْم السَّادِس وَأقرب عهد من ذَاك ان كَانَت ترد خرائط فَارس فِي أَيَّام عضد الدولة فِي ثَمَانِيَة أَيَّام.
فَأَما بَغْدَاد فِي أَيَّام الْعِمَارَة فَإِنَّهُ وَقع فِي يَدي كتاب يذكر مَا فِي أَيَّام المعتضد بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ وَذَلِكَ بعد فتْنَة الْأمين رحمت الله عَلَيْهِ الَّتِي أحرقت وهدمت صَدرا كَبِيرا مِنْهَا وأثرت الإثارة القبيحة فِيهَا تَرْجَمته كتاب فَضَائِل بَغْدَاد الْعرَاق تأليف يزدجرد بن مهبندار الْفَارِسِي لأمير الْمُؤمنِينَ المعتضد بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ قَالَ فِيهِ: قد أَكثر النَّاس فِي بَغْدَاد الْعرَاق إكثارا لم يعطونا فِيهِ دَلِيلا وَلَا أفادونا بِهِ محصولا واقتصروا على ان يَقُولُوا: بلد لَا يشبه الْبلدَانِ
হেলিওন (অ্যাসপারাগাস) দামেস্ক থেকে সিসার পাত্রে আল-মুতাসিম বিল্লাহর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) নিকট বহন করে আনা হতো এবং তা ষষ্ঠ দিনে পৌঁছাত। এর নিকটতম দৃষ্টান্ত হলো আদুদুদ দৌলার শাসনামলে পারস্যের ডাকের ব্যাগগুলো যা আট দিনে এসে পৌঁছাত।
আর আবাদ ও সমৃদ্ধির দিনগুলোতে বাগদাদের অবস্থা সম্পর্কে আমার হস্তগত হওয়া একটি কিতাবে আল-মুতাদিদ বিল্লাহর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) সময়ের বর্ণনা রয়েছে। এটি ছিল আল-আমিনের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) সেই ফিতনার পরবর্তী সময়ের কথা, যা বাগদাদের একটি বিশাল অংশ পুড়িয়ে ও ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং সেখানে এক কদর্য প্রভাব ফেলেছিল। কিতাবটির শিরোনাম ‘কিতাবু ফাদাইলে বাগদাদ আল-ইরাক’, যা আমিরুল মুমিনীন আল-মুতাদিদ বিল্লাহর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) জন্য ইয়াজদেজার্দ ইবনে মাহবান্দার আল-ফারিসি রচনা করেছিলেন। তিনি তাতে উল্লেখ করেছেন: ইরাকের বাগদাদ সম্পর্কে মানুষ প্রচুর কথা বলেছে, কিন্তু তারা আমাদের নিকট কোনো প্রমাণ পেশ করেনি এবং কোনো সারবস্তুও প্রদান করেনি; বরং তারা কেবল এটুকু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে যে: এটি এমন এক শহর যার সদৃশ অন্য কোনো শহর নেই।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَلَا كَانَ مثله فِي قديم الإزمان فَإِن من أقل مَا فِيهِ انه يشْتَمل على مِائَتي ألف حمام إِلَى الضعْف. وَمن الْمَسَاجِد والطرازات كَذَاك إِلَى مَا هُوَ متضاعف فَإِذا أخذُوا أَو أَكْثَرهم بإيراد الْحجَّة وَإِقَامَة الدّلَالَة لم يَأْتُوا بقول مُحَصل وبرهان معول وَنحن نفتتح القَوْل بِاتِّبَاع أعدل الإحكام وَأقرب الْأُمُور إِلَى الإفهام وَلَا نقُول كَالَّذي قَالُوهُ فِي عدد الحمامات واعتقدوه فِي الْمنَازل والمساجد والطرازات إشفاقا من هجنة الْإِسْرَاف على السامعين فانا وجدنَا كثيرا من الْخَاصَّة والعامة مذعنين بعدة الحمامات وَإِنَّهَا مِائَتَا ألف حمام دون مَا فَوْقهَا من الزِّيَادَات ثمَّ قَالَ آخَرُونَ: بل هِيَ مائَة وَثَلَاثُونَ ألف حمام كَمَا قَالُوا مائَة وَعِشْرُونَ ألف وَبِه قَالَ الشاه بن ميكال وطاهر بن مُحَمَّد الطاهري ثمَّ قَالُوا من قبل وَمن بعد بِمَا زَاد على الْمِائَة ألف وَبِمَا انْتقصَ مِنْهَا قَررنَا اخْتلَافهمْ على حد نرجوه عدلا متوسطا وَحكما متقبلا واقتصرنا من عدد الحمامات على سِتِّينَ ألف حمام استظهارا وَجَعَلنَا الْعلَّة فِي ذَلِك ان نَأْخُذ وسط مَا ذَكرُوهُ من أعدادها وَمَا وجدنَا الْخَاصَّة وَأَكْثَرهم يَدعِيهِ فِي اعتقادها وَهُوَ مائَة وَعِشْرُونَ ألف حمام فاقتصرنا على النّصْف من الْمِائَة وَالْعِشْرين لِئَلَّا يقبح فِي التَّقْدِير أَو تضيق عَن قبُوله الصُّدُور ثمَّ نَظرنَا فِي قدر مَا يحْتَاج إِلَيْهِ كل حمام من القوام الَّذين لَا قوام لَهُ إِلَّا بهم فَوَجَدنَا الْحمام مُحْتَاجا إِلَى سِتَّة نفر هم: صَاحب الصندوق والقيم والوقاد والزبال والمزين والحجام وَرُبمَا أطاف بالحمام ضعف هَذَا الْعدَد وَلَكنَّا ركبنَا سنَن الإستظهار فِي معنانا هَذَا فَإِذا فَرضنَا عدَّة الحمامات سِتِّينَ ألف حمام فقد حصل عدد مَا فِيهَا من القوام والمزينين والحجامين ثلثمِائة وَسِتِّينَ ألف انسان ثمَّ فَرضنَا بِهَذَا التَّقْرِيب لكل حمام مِائَتي منزل قِيَاسا على مَا حصل
প্রাচীনকালে এর সমতুল্য কোনো কিছু ছিল না; কারণ এর মধ্যে বিদ্যমান বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন গণনা ছিল এই যে, এটি দুই লক্ষ হতে দ্বিগুণ (الضعف) পরিমাণ গোসলখানা অন্তর্ভুক্ত করত। একইভাবে মসজিদ এবং কারুকার্যমণ্ডিত স্থাপনাগুলোও কয়েক গুণ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। যখন তারা বা তাদের অধিকাংশ কোনো প্রমাণ (الحجة) উপস্থাপন করতে কিংবা কোনো নিদর্শন (الدلالة) কায়েম করতে উদ্যত হতো, তখন তারা কোনো সুসংহত বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নিয়ে আসতে পারত না। আমরা সবচেয়ে সুষম সিদ্ধান্তসমূহ অনুসরণ করে এবং বোধগম্যতার নিকটবর্তী বিষয়গুলো অবলম্বনের মাধ্যমে আলোচনার সূত্রপাত করছি। গোসলখানার সংখ্যা সম্পর্কে তারা যা বলেছে এবং ঘরবাড়ি, মসজিদ ও স্থাপনা সম্পর্কে তারা যা বিশ্বাস করেছে, শ্রোতাদের নিকট অতিরঞ্জনের কদর্যতা প্রকাশের আশঙ্কায় আমরা তেমনটি বলব না। কেননা আমরা বিশিষ্ট এবং সাধারণ শ্রেণির অনেককেই গোসলখানার সংখ্যার ব্যাপারে এই তত্ত্বে অনুগত পেয়েছি যে, এর সংখ্যা দুই লক্ষ এবং তার চেয়েও বেশি। অতঃপর অন্যরা বলেছে: বরং তা এক লক্ষ ত্রিশ হাজার গোসলখানা; যেমনটি কেউ কেউ এক লক্ষ বিশ হাজারও বলেছে। শাহ ইবনে মিকাল এবং তাহির ইবনে মুহাম্মদ আল-তাহিরিও এই মত পোষণ করেছেন। এরপর তারা এক লক্ষের কম-বেশি হওয়ার বিষয়ে যা কিছু বলেছে, আমরা তাদের সেই মতভেদকে এমন এক সীমায় নির্ধারণ করেছি যা আমরা একটি মধ্যমপন্থী ইনসাফ এবং গ্রহণযোগ্য (متقبلا) সিদ্ধান্ত হিসেবে আশা করি। আমরা সতর্কতামূলকভাবে গোসলখানার সংখ্যাকে ষাট হাজারে সীমাবদ্ধ করেছি। এর কারণ (العلة) হিসেবে আমরা এটি গ্রহণ করেছি যে, আমরা তাদের উল্লিখিত সংখ্যাগুলোর মধ্যমপন্থা অবলম্বন করব এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও তাদের অধিকাংশের দৃঢ় বিশ্বাস অনুযায়ী যা পাওয়া যায় তা হলো এক লক্ষ বিশ হাজার গোসলখানা; তাই আমরা এক লক্ষ বিশ হাজারের অর্ধেক গ্রহণ করেছি যাতে পরিমাপের ক্ষেত্রে তা দৃষ্টিকটু না হয় অথবা অন্তরসমূহ তা গ্রহণে সংকুচিত না হয়। অতঃপর আমরা প্রতিটি গোসলখানার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের সংখ্যার দিকে দৃষ্টিপাত করেছি, যাদের ছাড়া এটি অচল। আমরা দেখেছি প্রতিটি গোসলখানার জন্য ছয়জন লোক প্রয়োজন, তারা হলো: ক্যাশিয়ার (صاحب الصندوق), তত্ত্বাবধায়ক (القيم), অগ্নিকাষ্ঠ সরবরাহকারী (الوقاد), পরিচ্ছন্নতাকর্মী (الزبال), ক্ষৌরকার (المزين) এবং শিঙা দানকারী (الحجام)। অনেক সময় একটি গোসলখানাকে কেন্দ্র করে এই সংখ্যার দ্বিগুণ মানুষও উপস্থিত থাকত। কিন্তু আমরা আমাদের এই উদ্দেশ্য হাসিলে সতর্কতার পথ অবলম্বন করেছি। সুতরাং আমরা যদি গোসলখানার সংখ্যা ষাট হাজার ধরি, তবে সেখানে নিয়োজিত কর্মচারী, ক্ষৌরকার এবং শিঙা দানকারীদের সংখ্যা দাঁড়ায় তিন লক্ষ ষাট হাজার মানুষ। অতঃপর এই আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী আমরা প্রতি গোসলখানার বিপরীতে দুইশত গৃহের ধারণা করেছি, যা অর্জিত তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
من الْمنَازل على عدَّة الحمامات بِمَدِينَة أَمِير الْمُؤمنِينَ الْمَنْصُور صلوَات الله عَلَيْهِ وَهُوَ لكل حمام أَربع مائَة منزل واستظهارا بِأخذ النّصْف من ذَاك فَاجْتمع من عدد الْمنَازل على هَذِه الْفَرِيضَة اثْنَا عشر ألف ألف منزل ثمَّ وجدنَا قد يجْتَمع فِي الْمنزل الْوَاحِد عشرُون نفسا وَفِي غَيره نفسان اَوْ ثَلَاثَة وَمَا هُوَ أقل من ذَلِك وَأكْثر فاحتجنا إِلَى ان نفرض عددا متوسطا يعتدل بِهِ الْأَمر وَيَزُول مَعَه الشَّك فنقصنا من الْعشْرين نصفهَا وزدنا على الثَّلَاثَة ضعفها وجمعنا مَا بَقينَا وزدنا فَكَانَ سِتَّة عشر وأخذنا النّصْف فَكَانَ ثَمَانِيَة نفر بَين رجال وَنسَاء وأكابر وأصاغر فَاجْتمع لنا من عدد من تضمه هَذِه الْمنَازل سِتَّة وَتسْعُونَ ألف ألف انسان.
ثمَّ ركب مُصَنف هَذَا الْكتاب من هَذِه الْقَاعِدَة قِيَاسا، فِيمَا يُريدهُ هَذَا الْعدَد من النَّاس من أَصْنَاف الْمَأْكُول والمستعمل واللباس وَحكى فِي عرض مَا أوردهُ ان عبيد الله الطاهري حَدثهُ ان إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم المصعبي اخبره انه رفع إِلَيْهِ ان قدر ثمن مَا يبع من الباقلي الْمَطْبُوخ فِي كل يَوْم فِي أحد جَانِبي بَغْدَاد سِتُّونَ ألف دِينَار وَحقّ ذَاك ان يكون فِي الْجَانِبَيْنِ جَمِيعًا مائَة وَعشْرين ألف دِينَار إِلَى غير هَذَا مِمَّا أوردهُ وفصله واستقصى القَوْل فِيهِ ولخصة وانما أوردنا هَذِه الْجُمْلَة من أَمر بَغْدَاد مَعَ خُرُوجهَا عَن الْغَرَض الَّذِي قصدناه لِئَلَّا يستكثر فِي دَار الْخلَافَة مَا ذَكرْنَاهُ وحَدثني إِبْرَاهِيم بن هِلَال جدي ان الحمامات أحصيت فِي أَيَّام معز الدولة فَكَانَت سَبْعَة عشر ألف حمام وَأَنَّهُمْ عجبوا من انتهائها إِلَى هَذِه الْعدة مَعَ كَونهَا فِي أَيَّام المقتدر بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ سَبْعَة وَعشْرين ألف حمام وَلَقَد عدت فِي أَيَّام عضد الدولة فَكَانَت خَمْسَة آلَاف وكسرا وَفِي أَيَّام بهاء الدولة سنة اثْنَتَيْنِ وَثَمَانِينَ وثلثمائة فَكَانَت ألفا وَخمْس مائَة حمام ونيفا وَهِي الْآن مائَة ونيف وَخَمْسُونَ حَماما وَلَقَد كنت أعجب من الحكايات الْمُخْتَلفَة فِي ذَلِك وَمَا كَانَ يُقَال قَدِيما فِيهِ حَتَّى قَامَ عِنْدِي برهَان مِنْهُ وَهُوَ أَنه قد اتخذ بِبَاب
আমীরুল মুমিনীন আল-মনসুরের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) শহরে গোসলখানাগুলোর সংখ্যার ভিত্তিতে বসতবাড়ির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি গোসলখানার বিপরীতে চারশত বাড়ি নির্ধারিত ছিল। এর অর্ধেক সাবধানতাস্বরূপ গ্রহণ করার মাধ্যমে বাড়ির মোট সংখ্যা দাঁড়ালো এক কোটি বিশ লক্ষ। এরপর আমরা দেখতে পেলাম যে, একটি বাড়িতে হয়তো বিশজন মানুষ একত্রে বসবাস করে, আবার অন্যটিতে দুইজন বা তিনজন, কিংবা তার চেয়েও কম বা বেশি। তাই আমাদের এমন একটি গড় সংখ্যা নির্ধারণ করার প্রয়োজন হলো যার মাধ্যমে বিষয়টি ভারসাম্যপূর্ণ হয় এবং সন্দেহ দূর হয়। ফলে আমরা বিশ থেকে তার অর্ধেক কমালাম এবং তিনের সাথে তার সমপরিমাণ যোগ করে দ্বিগুণ করলাম। এরপর প্রাপ্ত অংশগুলো একত্রিত করার পর তা হলো ষোলো এবং তার অর্ধেক হিসেবে আটজন ব্যক্তিকে (পুরুষ, নারী, বৃদ্ধ ও শিশু নির্বিশেষে) গড় হিসেবে গ্রহণ করলাম। এতে করে এই বাড়িগুলোতে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যা দাঁড়ালো নয় কোটি ষাট লক্ষ।
অতঃপর এই গ্রন্থের সংকলক এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি তুলনামূলক অনুমান দাঁড় করালেন যে, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য কী পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য, ব্যবহার্য সামগ্রী এবং পোশাকের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি তার উপস্থাপিত বর্ণনার মাঝে উল্লেখ করেছেন যে, উবাইদুল্লাহ আত-তাহিরি তাকে বর্ণনা (حدث) করেছেন যে, ইসহাক ইবন ইব্রাহিম আল-মুসআবি তাকে অবহিত (أخبر) করেছেন যে, তার নিকট এই মর্মে প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছিল যে, বাগদাদের এক পার্শ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ রান্না করা শিম বিক্রি হয় তার মূল্য ষাট হাজার দিনার। সেই হিসাবে উভয় পার্শ্বে এর মোট পরিমাণ হওয়া উচিত এক লক্ষ বিশ হাজার দিনার। এর বাইরেও তিনি আরও অনেক বিষয় উল্লেখ করেছেন, বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন এবং পর্যালোচনার পূর্ণতা দান করে তা সংক্ষেপ করেছেন। আমরা বাগদাদ সংক্রান্ত এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনাটি কেবল এ কারণেই উল্লেখ করেছি—যদিও এটি আমাদের উদ্দিষ্ট বিষয়ের বহির্ভূত—যাতে খিলাফত নগরে আমাদের বর্ণিত জনসংখ্যাকে অত্যধিক মনে না করা হয়। আমার দাদা ইব্রাহিম ইবন হিলাল আমাকে বর্ণনা (حدثني) করেছেন যে, মুইয উদ-দৌলার যুগে গোসলখানাগুলো গণনা করা হয়েছিল এবং তা ছিল সতেরো হাজার। তারা এই সংখ্যা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, অথচ আল-মুকতাদির বিল্লাহর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) যুগে এর সংখ্যা ছিল সাতাশ হাজার। আযুদ উদ-দৌলার যুগে তা গণনা করা হলে পাঁচ হাজার কিছু বেশি পাওয়া যায়। আর বাহা উদ-দৌলার যুগে ৩৮২ হিজরি সনে এর সংখ্যা ছিল এক হাজার পাঁচশর কিছু বেশি। বর্তমানে তা একশ পঞ্চাশের সামান্য বেশি। আমি এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিবরণ এবং প্রাচীনকালে যা বলা হতো তাতে বিস্মিত হতাম, যতক্ষণ না আমার নিকট এর সপক্ষে একটি প্রমাণ স্পষ্ট হলো, আর তা হলো— তিনি এটি গ্রহণ করেছিলেন এই প্রবেশপথে...
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْمَرَاتِب الْمَعْمُور فِي ثَلَاثِينَ دَارا مسكونة مِنْهُ بَعْدَمَا أَهله غيب عَنهُ خَمْسَة عشر حَماما فَإِذا كَانَ ذَلِك فِي هَذِه الدّور القليلة وَالْعدة من الْخَواص الْقَرِيبَة فَمَا كَانَت عدَّة خَواص النَّاس فِي أَيَّام المعتضد بِاللَّه رحمت الله عَلَيْهِ من الوزراء وَالْكتاب والحواشي وَالْأَصْحَاب والأمراء والقواد والإشراف والقضاة وَالشُّهُود والتناء والتجار وأولي المروات وَالْأَحْوَال الوافرات لتنقص عَن خمسين ألف انسان إِذا استظهرنا بالاقتصار على ذَاك وَلَا تَخْلُو دَار كل وَاحِد مِنْهُم من حمام على التقليل وَإِلَّا فَفِي دور كثير مِنْهُم الحمامات وَإِذا ثَبت هَذَا القَوْل اطردت بِهِ تِلْكَ الدَّعْوَى وَوَجَب ان يكون قَول المكثر أغلب من قَول المقتصر وَمَعْلُوم أَيْضا ان بَلَدا كَانَت على نهره الَّذِي يخترقه أَعنِي دجلة ثَلَاثَة جسورة لَا يستبعد كَون ساكنيه الْعدة الْمَذْكُورَة.
وَذكر عَليّ بن عِيسَى فِي الْعَمَل الَّذِي عمله لارْتِفَاع المملكة فِي سنة سِتّ وثلثمائة ونعى بِهِ الدُّنْيَا بتقاصر موادها وتناقص أموالها وَاسْتثنى فِيهِ بالحرمين واليمن وبرقة وشهرزور والصامغان وكرمان وخراسان وَكَانَت جملَته معقودة على:
ত্রিশটি বসতিপূর্ণ আবাসের সমৃদ্ধ স্তরসমূহে দেখা যায় যে, এর অধিবাসীরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরও সেখানে পনেরটি গোসলখানা ছিল। যদি এই সামান্য সংখ্যক বাড়ি এবং ঘনিষ্ঠ বিশিষ্টজনদের ক্ষেত্রে এই অবস্থা হয়, তবে মুতাদিদ বিল্লাহর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) শাসনামলে উজির, লেখক, অনুচর, সহচর, আমির, সেনাপতি, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, বিচারক, সাক্ষী, স্থায়ী বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং উচ্চ নৈতিকতা ও বিপুল সম্পদের অধিকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংখ্যা কত হতে পারে? আমরা যদি কেবল এর ওপর ভিত্তি করে সংকীর্ণ অনুমানও করি, তবে সেই সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার মানুষের কম হবে না এবং তাদের প্রত্যেকের ঘর অন্তত একটি গোসলখানা থেকে খালি ছিল না, অন্যথায় তাদের অনেকের বাড়িতেই একাধিক গোসলখানা ছিল। যখন এই কথাটি প্রমাণিত (ثبت) হলো, তখন সেই দাবিটিও যৌক্তিকভাবে সুসংগত হলো এবং এটি আবশ্যক হয়ে পড়ল যে, আধিক্য বর্ণনাকারীর (المكثر) বক্তব্য সীমাবদ্ধ বর্ণনাকারীর (المقتصر) বক্তব্যের চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য হবে। এটিও সুবিদিত যে, যে শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর উপর—অর্থাৎ দজলা—তিনটি সেতু ছিল, তার অধিবাসী সংখ্যা উল্লিখিত পরিমাণে হওয়া মোটেও অসম্ভব নয়।
আলি ইবনে ঈসা ৩০৬ হিজরি সনে সাম্রাজ্যের রাজস্ব সংক্রান্ত তাঁর প্রস্তুতকৃত দলিলে উল্লেখ করেছেন এবং সম্পদের উৎসের সীমাবদ্ধতা ও অর্থের ঘাটতির কারণে তৎকালীন পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরেছেন। এতে তিনি হারামাইন, ইয়ামেন, বারকা, শাহরাজুর, সামগান, কিরমান এবং খুরাসানকে ব্যতিক্রম হিসেবে রেখেছেন। এর সামগ্রিক রূপরেখা নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত ছিল:
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أَرْبَعَة عشر ألف ألف وَثَمَانمِائَة ألف وَتِسْعَة وَعشْرين ألفا وَثَمَانمِائَة وَأَرْبَعين دِينَارا.
فمما أوردهُ فِي جملَة الخرج والنفقات الْخَاصَّة مَا حكايته:
وَمن ذَلِك للأتراك فِي المطابخ الْخَاصَّة والعامة وَمَا يُقَام خَارج الدَّار وعلوفة الكراع وَالطير والوحش على مَا اسْتَقر عَلَيْهِ الْأَمر فِي أصُول الإقامات والإسفار على المقاطعات مياومات ومشاهرات: لشهر: أَرْبَعَة وَأَرْبَعين ألفا وَسبعين دِينَارا.
ولاثني عشر شهرا: خَمْسمِائَة ألف ثَمَانِيَة [و] عشْرين الْفَا وَثَمَانمِائَة وَأَرْبَعين دِينَارا.
وَمن ذَلِك الْجَارِي برسم المشاهرة للسيدة أيدها الله والأمراء أعزهم الله وَالْحرم صانهن الله والخدم.
لشهر: أحد وَسِتِّينَ ألفا وَتِسْعمِائَة وَثَلَاثِينَ دِينَارا.
ولاثني عشر شهرا: سَبْعمِائة ألف وَثَلَاثَة وَأَرْبَعين ألفا وَمِائَة وَسِتَّة وَتِسْعين دِينَارا.
চৌদ্দ মিলিয়ন আটশত ঊনত্রিশ হাজার আটশত চল্লিশ দিনার।
মোট ব্যয় এবং বিশেষ খরচাদির বিবরণে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা নিম্নরূপ:
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তুর্কিদের জন্য বিশেষ ও সাধারণ পাকশালা, রাজপ্রাসাদের বাইরে যা পরিচালিত হয়, গবাদি পশু, পাখি ও বন্য পশুর খাদ্য বাবদ ব্যয়—যা দৈনিক ও মাসিক চুক্তিতে আবাসন ও ভ্রমণের মূলনীতি (أصول) অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে: এক মাসের জন্য: চুয়াল্লিশ হাজার সত্তর দিনার।
এবং বারো মাসের জন্য: পাঁচ লক্ষ আটাশ হাজার আটশত চল্লিশ দিনার।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সায়্যিদা (আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন), আমিরগণ (আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করুন), অন্তঃপুরবাসিনী (আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন) এবং সেবকদের জন্য নির্ধারিত মাসিক ভাতা।
এক মাসের জন্য: একষট্টি হাজার নয়শত ত্রিশ দিনার।
এবং বারো মাসের জন্য: সাত লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার একশত ছিয়ানব্বই দিনার।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَمن ذَلِك أُجْرَة ساسة الكراع فِي سَائِر الإصطبلات وأرزاق المرتزقة فِيهِ وَثمن العلاج وجاري من برسم خَزَائِن السُّرُوج وَمَا يجْرِي مجْرى ذَلِك على مَا اسْتَقر عَلَيْهِ الْأَمر مِمَّا يقبض فِي كل سَبْعَة وَثَلَاثِينَ يَوْمًا:
لشهر: ثَمَانِيَة آلَاف ومائتي دِينَار.
وقسط ثَلَاثِينَ يَوْمًا: مئتا ألف وَمِائَة وَثَمَانُونَ سعس دِينَارا.
ولاثني عشر شهرا: تِسْعَة وَسبعين ألفا وَسَبْعمائة وَسِتَّة وَسبعين دِينَارا.
وَمن ذَلِك مَا يُطلق من الْجَارِي فِي كل شهر أَيَّامه أَرْبَعُونَ يَوْمًا للرِّجَال فِي شذاة الْخَاصَّة وَأَرْبع شذات مرتبطة بالحضرة:
مائَة دِينَار قسط ثَلَاثِينَ يَوْمًا ودينارين.
ولاثني عشر شهرا: ألف ومائتان وَثَمَانُونَ دِينَارا.
وَمن ذَلِك مَا يُطلق فِي كل شهر أَيَّامه خَمْسَة وَأَرْبَعُونَ يَوْمًا لأرزاق الجلساء وَمن يجْرِي مجراهم:
" خَمْسمِائَة وَثَلَاثَة آلَاف وَثَمَانمِائَة وَأحد عشر " دِينَارا.
قسط ثَلَاثِينَ يَوْمًا: مائَة وَثَلَاثَة وَعِشْرُونَ ألفا وَخَمْسمِائة وَسَبْعُونَ دِينَارا.
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সকল আস্তাবলের পশু রক্ষণাবেক্ষণকারীদের মজুরি, সেখানে কর্মরত বেতনভোগীদের বরাদ্দ, চিকিৎসার খরচ এবং জিনের গুদামঘর তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিতদের ভাতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়াদি, যা প্রতি সাইত্রিশ দিনে একবার প্রদানের নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে:
এক মাসের জন্য: আট হাজার দুইশত দিনার।
এবং ত্রিশ দিনের কিস্তি: দুই লক্ষ একশত আশি দিনার।
এবং বারো মাসের জন্য: উনআশি হাজার সাতশত ছিয়াত্তর দিনার।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল নিয়মিত ভাতা যা প্রতি চল্লিশ দিনে একবার প্রদান করা হয়—বিশেষ নৌযানের কর্মীদের জন্য এবং রাজদরবারের সাথে সংশ্লিষ্ট চারটি নৌযানের জন্য:
ত্রিশ দিনের কিস্তি বাবদ একশত দিনার এবং দুই দিনার।
এবং বারো মাসের জন্য: এক হাজার দুইশত আশি দিনার।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বরাদ্দ যা প্রতি পঁয়তাল্লিশ দিনে একবার প্রদান করা হয়—পারিষদবর্গ এবং তাদের সমপর্যায়ভুক্ত ব্যক্তিদের ভাতার জন্য:
"পাঁচ লক্ষ তিন হাজার আটশত এগারো" দিনার।
ত্রিশ দিনের কিস্তি: এক লক্ষ তেইশ হাজার পাঁচশত সত্তর দিনার।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولاثني عشر شهرا: مِائَتي ألف واثنين وَثَلَاثِينَ ألفا وثلثمائة وَخَمْسَة عشر دِينَارا.
وَمن ذَلِك النَّفَقَات الَّتِي تطلق دَائِما فِي كل سنة لثمن الْجَوَارِح وَكِسْوَة الكراع وهناء الْإِبِل وَكِسْوَة المحتسبين فِي الدَّار والطبالين وعلوفة الْغنم السوادية وصلات الإئمة وَثمن النعاج وَالْبَقر الحبشية وعلوفتها وصلَة الفراشين بِسَبَب القلنداس وَالنَّفقَة على سماطي الْعِيدَيْنِ وَثمن الْأَضَاحِي والثلج وَمَا يُطلق لصَاحب الشرطة لحمل الْإِعْلَام
এবং বারো মাসের জন্য: দুই লক্ষ বত্রিশ হাজার তিনশ পনেরো দিনার।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল ব্যয় যা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে প্রদান করা হয়: শিকারি পশুপাখির মূল্য, ঘোড়ার আচ্ছাদন, উটের চিকিৎসার প্রলেপ, প্রাসাদের পরিদর্শক ও ঢোলবাদকদের পোশাক, সোয়াদ অঞ্চলের ভেড়ার খাদ্য, ইমামদের পারিতোষিক, মাদি ভেড়া ও হাবশি গরুর মূল্য ও তাদের খাদ্য, কালান্দাস উপলক্ষে সেবকদের উপঢৌকন, দুই ঈদের ভোজসভার ব্যয়, কোরবানির পশুর মূল্য, বরফ এবং পতাকা বহনের নিমিত্তে পুলিশ প্রধানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فِي الْعِيدَيْنِ وَثمن الرطاب والقصيل وَثمن سروج الوهاقين وَثمن القلوس للمأصر الْأَسْفَل وَثمن الكمأة المقددة:
اثْنَيْنِ وَأَرْبَعين ألفا وَسَبْعَة دَنَانِير وَمن ذَلِك مَا يُطلق فِي كل شهر أَيَّامه خَمْسُونَ يَوْمًا لجاري الغلمان الحجرية وَأَوْلَاد المتشهدين والموكبية فِي نَاحيَة شَفِيع والصناع فِي خَزَائِن الْكسْوَة وخزائن السِّلَاح وخزائن الْفرش:
سَبْعَة وَثَلَاثِينَ ألفا وسِتمِائَة وَأَرْبَعَة دَنَانِير.
قسط ثَلَاثِينَ يَوْمًا: أَرْبَعَة عشر ألفا وَخَمْسمِائة وَسِتُّونَ دِينَارا.
ولاثني عشر شهرا: مِائَتَا ألف وَاحِد وَسبعين ألفا وَخَمْسمِائة وَعشْرين دِينَارا.
وَمن ذَلِك مَا قدر انفاق أَمِير الْمُؤمنِينَ أعزه الله فِي الجوائز والهبات بقسط شهر من ثَلَاثَة أشهر جمع ذَلِك فِيهَا:
أحد وَعشْرين ألف دِينَار.
দুই ঈদ, তাজা খেজুর ও কাঁচা ঘাসের মূল্য, ড্রেজারচালকদের জিনের সাজসজ্জার মূল্য, নিম্ন শুল্ক ঘাটের মোটা দড়ির মূল্য এবং শুষ্ক মাশরুমের মূল্য বাবদ:
বিয়াল্লিশ হাজার সাত দিনার এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যা প্রতি মাসে প্রদান করা হয় (যেখানে মাস পঞ্চাশ দিন হিসেবে গণ্য) হুজরিয়া ভৃত্য, মুতাশাহহিদীন ও শাফি’ অঞ্চলের মওকিবিয়াহদের সন্তান এবং রাজকীয় পোশাকাগার, অস্ত্রাগার ও আসবাবপত্রের ভাণ্ডারের কারিগরদের জন্য:
সাঁইত্রিশ হাজার ছয়শত চার দিনার।
ত্রিশ দিনের কিস্তি: চৌদ্দ হাজার পাঁচশত ষাট দিনার।
বারো মাসের জন্য: দুই লক্ষ একাত্তর হাজার পাঁচশত বিশ দিনার।
এবং এর অন্তর্ভুক্ত সেই ব্যয় যা আমীরুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করুন) পুরস্কার ও উপঢৌকন বাবদ নির্ধারণ করেছেন, যা তিন মাসের পুঞ্জীভূত হিসেব হতে এক মাসের কিস্তি হিসেবে এখানে ধরা হয়েছে:
একুশ হাজার দিনার।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولاثني عشر شهرا: مِائَتي ألف واثنين وَخمسين ألف دِينَار.
وَمن ذَلِك مَا يُقَام لأمير الْمُؤمنِينَ أيده الله من الْكسْوَة والفرش فِي الطرز بالأهواز وتستر وجهرم وَدَار أبجرد ثَمَانمِائَة وَأَرْبَعَة عشر ألف دِينَار.
وَمن ذَلِك مَا قدر لحوادث النَّفَقَات:
لشهر: سِتَّة عشر ألفا وَخَمْسمِائة وَثَلَاثِينَ دِينَارا.
ولاثني عشر شهرا: مائَة ألف وَثَمَانِية وَسبعين ألفا وَتِسْعمِائَة وَأَرْبَعين دِينَارا. وَمن ذَلِك مَا ينْفق على الْبناء والمرمات:
أحد وَخمسين ألفا وَمِائَة دِينَار.
وَمن ذَلِك من الشّعير الْمَحْمُول من النواحي لقضيم الكراع ومبلغه:
سِتَّة عشر ألفا وَثَمَانمِائَة وَخَمْسَة وَخمسين دِينَارا.
مَعَ أُجْرَة محملة:
ثَلَاثَة وَثَلَاثِينَ ألفا وَتِسْعمِائَة دِينَار.
فَذَلِك:
এবং বারো মাসের জন্য: দুই লক্ষ বায়ান্ন হাজার দিনার।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো আমীরুল মুমিনীনের—আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করুন—পোশাক-পরিচ্ছদ ও আসবাবপত্রের জন্য আহওয়াজ, তুসতার, জাহরাম ও দারাবজিরদ-এর রাজকীয় কারখানাগুলোতে যা প্রদান করা হয়: আট লক্ষ চৌদ্দ হাজার দিনার।
এর অন্তর্ভুক্ত যা আপৎকালীন ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত হয়েছে:
এক মাসের জন্য: ষোলো হাজার পাঁচশত ত্রিশ দিনার।
এবং বারো মাসের জন্য: এক লক্ষ আটাত্তর হাজার নয়শত চল্লিশ দিনার। এবং এর মধ্য হতে যা নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য ব্যয় হয়:
একান্ন হাজার একশত দিনার।
এর অন্তর্ভুক্ত পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ হতে গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য আনীত যব এবং তার পরিমাণ:
ষোলো হাজার আটশত পঞ্চান্ন দিনার।
পরিবহন খরচসহ:
তেত্রিশ হাজার নয়শত দিনার।
মোট:
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ألفا ألف وَخَمْسمِائة ألف وَسِتُّونَ ألفا وَتِسْعمِائَة وَسِتِّينَ دِينَارا.
وَكَانَ عَليّ بن عِيسَى فضل الخرج الَّذِي جمعه على الدخل الَّذِي صَدره:
بِأَلف ألف وَأَرْبَعمِائَة ألف وَسِتَّة وَثَلَاثِينَ ألفا وَأَرْبَعمِائَة وَسِتَّة وَسبعين درهما.
وَذَاكَ كَانَ غَرَضه الَّذِي رَمَاه ومقصده الَّذِي نحاه.
وَحدث عبد الرَّحْمَن بن عِيسَى قَالَ: حَدثنِي أحد الخدم الْخَاصَّة قَالَ: حضر الْوَزير عَليّ بن عِيسَى دَار السُّلْطَان فِي يَوْم شَدِيد الْبرد وَلَيْسَ بِيَوْم موكب وَعرف المقتدر بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ فَجَلَسَ لَهُ فِي بعض الصحون على كرْسِي وَرَأسه مَكْشُوف فخاطبه بِمَا أَرَادَ. فَلَمَّا فرغ قَالَ لَهُ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ تبرز فِي مثل هَذِه الْغَدَاة الْبَارِدَة وتجلس فِي مثل هَذَا الصحن الْوَاسِع ورأسك بِغَيْر غطاء وَالنَّاس فِي مثلهَا يَجْلِسُونَ فِي الْمَوَاضِع الكنينة ويستعملون الدثار ويصطلون النَّار وأحسبك تسرف فِي أَخذ الْأَشْرِبَة الحارة والأطعمة الْكَثِيرَة الْمسك فَقَالَ لَهُ المقتدر بِاللَّه صلوَات الله عَلَيْهِ: لَا وَالله مَا أفعل هَذَا وَلَا آكل طَعَاما فِيهِ مسك.
২৫,৬০,৯৬০ (পঁচিশ লক্ষ ষাট হাজার নয়শত ষাট) দিনার।
এবং আলী ইবনে ঈসা তাঁর ইস্যুকৃত আয়ের বিপরীতে সংগৃহীত ব্যয়ের যে উদ্বৃত্ত নির্ধারণ করেছিলেন তা ছিল:
১৪,৩৬,৪৭৬ (চৌদ্দ লক্ষ ছত্রিশ হাজার চারশত ছিয়াত্তর) দিরহাম।
আর এটিই ছিল তাঁর লক্ষ্য যা তিনি নির্ধারণ করেছিলেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য যা তিনি অনুসরণ করেছিলেন।
এবং আবদুর রহমান ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন (حدث), তিনি বলেন: বিশেষ ভৃত্যদের একজন আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: উজির আলী ইবনে ঈসা প্রচণ্ড শীতের একদিন সুলতানের দরবারে উপস্থিত হলেন, দিনটি কুচকাওয়াজের কোনো নির্ধারিত দিন ছিল না। মুকতাদির বিল্লাহ (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বিষয়টি জানতে পেরে একটি প্রাঙ্গণে চেয়ারে বসলেন, তখন তাঁর মস্তক ছিল অনাবৃত। অতঃপর আলী ইবনে ঈসা তাঁর সাথে অভিপ্রেত বিষয়ে কথা বললেন। যখন তিনি কথা শেষ করলেন, তখন উজির তাঁকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি এই হিমশীতল সকালে বাইরে বেরিয়েছেন এবং এমন এক প্রশস্ত প্রাঙ্গণে অনাবৃত মস্তকে বসে আছেন, অথচ এই সময়ে মানুষ নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে, চাদর ব্যবহার করে এবং আগুন পোহায়। আমার ধারণা, আপনি সম্ভবত অতিরিক্ত উষ্ণ পানীয় এবং প্রচুর কস্তুরীযুক্ত খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত। তখন মুকতাদির বিল্লাহ (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁকে বললেন: না, আল্লাহর কসম! আমি তা করি না এবং আমি কস্তুরীযুক্ত কোনো খাবারও গ্রহণ করি না।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَلَا يطْرَح لي فِي شَيْء إِلَّا يسير يكون فِي الخشكنانج وَرُبمَا أكلت فِي الْأَيَّام وَاحِدَة مِنْهَا فَقَالَ لَهُ عَليّ بن عِيسَى: فَانِي اطلق يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فِي كل شهر فِي جملَة نفقات المطبخ لثمن الْمسك نَحْو ثلثمِائة دِينَار وانقضى كَلَامهمَا ونهض المقتدر بِاللَّه رحمت الله عَلَيْهِ وَخرج عَليّ بن عِيسَى فَلَمَّا صَار فِي الصحن وقف المقتدر بِاللَّه رحمت الله عَلَيْهِ وَأمر برده فَعَاد وَقَالَ لَهُ: أَظُنك تَنْصَرِف السَّاعَة وتفتح نظرك باحضار الْمُتَوَلِي للمطبخ وتواقفه على مَا جرى بَيْننَا فِي معنى الْمسك وتسقطه قَالَ: كَذَاك هُوَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فَضَحِك وَقَالَ: أحب ان لَا تفعل فَلَعَلَّ هَذِه الدَّنَانِير تَنْصَرِف فِي أقوات ونفقات قوم لَا أُرِيد قطعهَا عَنْهُم فَقَالَ لَهُ: السّمع وَالطَّاعَة.
فَأَما ارْتِفَاع الممالك كَانَت فِي أَيَّام الرشيد صلوَات الله عَلَيْهِ فَذكر الريان بن الصَّلْت ان أَبَا الْوَزير ابْن هانىء الْمروزِي الْكَاتِب وَكَانَ عَليّ ديوَان الْخراج قَالَ: ان يحيى بن خَالِد بن برمك أمره بِأَن يخرج وظائف الْآفَاق فِي سنة تسع وَسبعين وَمِائَة فَكَانَت جملَة ذَلِك على تَفْصِيل فَصله بالورق:
আর আমার জন্য কোনো কিছুতেই তা ব্যবহার করা হয় না, কেবল সামান্য পরিমাণ যা 'খুশকানাঞ্জ' (এক প্রকার মিষ্টান্ন)-এর মধ্যে থাকে। সম্ভবত আমি কয়েক দিনের ব্যবধানে তার মাত্র একটিই খেয়ে থাকি। তখন আলী ইবনে ঈসা তাকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি প্রতি মাসে রান্নাঘরের মোট ব্যয়ের মধ্যে কস্তুরীর মূল্য বাবদ প্রায় তিনশ দিনার বরাদ্দ প্রদান করি। অতঃপর তাদের কথোপকথন শেষ হলো এবং আল-মুকতাদির বিল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উঠে দাঁড়ালেন। আলী ইবনে ঈসা বেরিয়ে গেলেন। যখন তিনি আঙিনায় পৌঁছালেন, আল-মুকতাদির বিল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থামলেন এবং তাকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি ফিরে আসলেন, তখন খলিফা তাকে বললেন: আমার ধারণা, আপনি এখনই ফিরে গিয়ে রান্নাঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তলব করবেন এবং কস্তুরীর বিষয়ে আমাদের মাঝে যা আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং তা বাতিল করে দেবেন। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, বিষয়টি এমনই ছিল। তখন খলিফা হাসলেন এবং বললেন: আমি চাই যে আপনি এটি করবেন না; কারণ সম্ভবত এই দিনারগুলো এমন কিছু মানুষের জীবিকা ও ভরণপোষণে ব্যয় হয় যাদের থেকে আমি তা বন্ধ করতে চাই না। তখন তিনি বললেন: শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম।
আর হারুন আল-রশিদের (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহি) শাসনামলে রাজ্যসমূহের অর্জিত রাজস্ব সম্পর্কে রাইয়ান ইবনে আল-সালত বর্ণনা করেছেন যে, লেখক আবু আল-ওয়াজির ইবনে হানি আল-মারওয়াজি—যিনি রাজস্ব দপ্তরের (দিওয়ান আল-খারাজ) দায়িত্বে ছিলেন—তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ ইবনে বারমাক তাকে একশত উনআশি হিজরি সনে বিভিন্ন অঞ্চলের নির্ধারিত করের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই হিসাবের বিস্তারিত বিবরণ রৌপ্য মুদ্রার ভিত্তিতে নিম্নরূপ ছিল:
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثلثمِائة ألف ألف وَثَمَانِية وَثَلَاثِينَ ألف ألف وَتِسْعمِائَة ألف وَعشرَة آلَاف دِرْهَم
وبالعين: خَمْسَة آلَاف ألف وَثَمَانمِائَة ألف ونيف وَثَلَاثِينَ ألف دِينَار.
واحترقت الدَّوَاوِين فِي فتْنَة الْأمين وَسنة ثَمَان وَتِسْعين وَمِائَة وَكَانَ مَا ارْتَفع من طساسيج السوَاد وعدة بلدان وكور الْمشرق وَالْمغْرب لسنة تسع وَتِسْعين وَمِائَة على مَا وجد فِي الدِّيوَان المستأنف وَمَا اشْتَمَلت جملَته على تسعير الْغلَّة ورد الْعين إِلَى الْوَرق بالورق:
أَرْبَعمِائَة ألف ألف وَسِتَّة عشر ألف ألف وَتِسْعمِائَة ألف وأثنين وَعشْرين ألف دِرْهَم.
وَحدث إِسْمَاعِيل بن صبيح. قَالَ: سَأَلَني الرشيد يَوْمًا عَن مبلغ مَا لَهُ فَقلت: ثَمَانمِائَة ألف ألف وَثَلَاثَة وَسَبْعُونَ ألف ألف دِرْهَم. فَقَالَ: أحب ان تبلغ بنورا والبنور ألف ألف ألف. فَقلت: لَا أَرَانِي الله ذَلِك وَلَا كَانَ فَضَحِك ثمَّ قَالَ: كَأَنَّك تذْهب إِلَى أَن الانسان إِذا أعطي أمْنِيته أَتَتْهُ منيته.
قلت: مَا خطر لي هَذَا ببال لكنني احب ان يكون أَمِير الْمُؤمنِينَ
তিনশত আটত্রিশ মিলিয়ন নয় লক্ষ দশ হাজার দিরহাম।
এবং স্বর্ণমুদ্রায়: পাঁচ মিলিয়ন আটশত তিরিশ হাজারের কিছু অধিক দিনার।
আমীনের ফিতনা ও একশত আটানব্বই হিজরি সনে প্রশাসনিক দপ্তরসমূহ (দেওয়ানসমূহ) ভস্মীভূত হয়েছিল। একশত নিরানব্বই হিজরি সনে সাওয়াদের জেলাসমূহ এবং পূর্ব ও পশ্চিমের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চল থেকে যা সংগৃহীত হয়েছিল—যা পুনঃস্থাপিত দপ্তরে পাওয়া গেছে এবং যার মোট বিবরণে শস্যের মূল্য নির্ধারণ এবং স্বর্ণমুদ্রাকে রৌপ্যমুদ্রায় রূপান্তরের হিসাব অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা হলো:
চারশত ষোল মিলিয়ন নয় লক্ষ বাইশ হাজার দিরহাম।
ইসমাইল ইবনে সাবিহ বর্ণনা করেছেন (حدث)। তিনি বলেন: একদিন হারুনুর রশীদ আমাকে তাঁর নিকট রক্ষিত অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম: আটশত তিয়াত্তর মিলিয়ন দিরহাম। তখন তিনি বললেন: আমি চাই এটি যেন 'বান্নুর' পর্যন্ত পৌঁছায়; আর 'বান্নুর' হলো এক হাজার মিলিয়ন (এক বিলিয়ন)। আমি বললাম: আল্লাহ যেন আমাকে তা না দেখান এবং তেমনটি যেন না ঘটে। তিনি হাসলেন এবং বললেন: তোমার ধারণা সম্ভবত এমন যে, মানুষকে যখন তার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু দিয়ে দেওয়া হয়, তখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে আসে।
আমি বললাম: এটি আমার মনে আসেনি, তবে আমি চাই যে আমিরুল মুমিনীন...
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أبدا فِي زِيَادَة من المَال وَالدُّنْيَا. قَالَ: فكم كَانَ مَال أبي يُرِيد الْمَنْصُور صلوَات الله عَلَيْهِ قلت مَالك أَكثر مِنْهُ بِعشْرَة آلَاف دِرْهَم.
وَحدث عَليّ بن عِيسَى وَعلي المستولين وَأَصْحَاب الإطراف المتغلبين فَإِن الناظرين فِي أَيَّام الراضي بِاللَّه رضوَان الله عَلَيْهِ اجْتَمعُوا على ان قدرُوا وقرروا النَّفَقَة فِي كل يَوْم على الْحَذف والاقتصار وَالتَّخْفِيف والاقتصاد: ثَلَاثَة آلَاف دِينَار وأفردوا لَهُ من السوَاد وواسط وَالْبَصْرَة ومصر وَالشَّام من عُيُون الضّيَاع مَجْمُوع ذَاك لسنة فَكَانَت تغل أَكثر مِنْهُ. وَبَقِي الْأَمر على هَذَا التَّرْتِيب إِلَى أَيَّام الْمُطِيع صلوَات الله عَلَيْهِ حَتَّى انْتَشَر النظام وَوَقع التغلب على مصر وَالشَّام وَخرجت الْيَد عَن أَكثر ذَاك وعَلى هَذِه الْحَال فَحَدثني عَليّ بن عبد الْعَزِيز بن حَاجِب النُّعْمَان ان قدر مَا كَانَ يرْتَفع للمطيع رحمت الله عَلَيْهِ ثلثمِائة ألف دِينَار وللطائع قريب من ذَاك.
...সর্বদা অর্থ-সম্পদ ও পার্থিব প্রাচুর্য বৃদ্ধিতে নিবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেন: "তবে আমার পিতার সম্পদ কত ছিল?" —তিনি আল-মনসুর (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে উদ্দেশ্য করেছেন। আমি বললাম: "আপনার সম্পদ তাঁর চেয়ে দশ হাজার দিরহাম বেশি।"
আলী ইবনে ঈসা এবং ক্ষমতা দখলকারী ও দূরবর্তী অঞ্চলের বিজয়ী অধিপতিরা বর্ণনা করেছেন (حدث) যে, আল-রাজি বিল্লাহ (আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর যুগে তদারককারীরা একত্রিত হয়ে ব্যয় সংকোচন, সীমাবদ্ধকরণ এবং মিতব্যয়িতার ভিত্তিতে প্রতিদিনের ব্যয় তিন হাজার দিনার নির্ধারণ ও ধার্য করেছিলেন। তাঁরা তাঁর জন্য সাওয়াদ, ওয়াসিত, বসরা, মিসর ও শাম অঞ্চলের উৎকৃষ্ট ভূ-সম্পত্তিগুলো নির্দিষ্ট করেছিলেন, যার বার্ষিক সর্বমোট উৎপাদন ঐ পরিমাণের চেয়েও বেশি ছিল। আল-মুতি (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সময় পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল ছিল, যতক্ষণ না প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং মিসর ও শামের ওপর অন্যরা আধিপত্য বিস্তার করে। ফলে এসবের অধিকাংশ খলিফার কর্তৃত্বের বাইরে চলে যায়। এমতাবস্থায় আলী ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হাজিব আন-নুমান আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, আল-মুতি (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর জন্য সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ছিল তিন লক্ষ দিনার এবং আল-তাঈ-এর ক্ষেত্রেও তা এর কাছাকাছি ছিল।
(খণ্ড: ১)
রুসুমু দারিল খিলাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
آدَاب الْخدمَة إِذا دخل الدَّاخِل إِلَى حَضْرَة الْخَلِيفَة من أَمِير أَو وَزِير أَو ذِي قدر كَبِير فَلم يكن من الْعَادة الْقَدِيمَة ان يقبل الأَرْض لكنه إِذا دخل وَرَأى الْخَلِيفَة قَالَ: السَّلَام عَلَيْك أَمِير الْمُؤمنِينَ ورحمت الله وَبَرَكَاته بكاف الْمُخَاطب فَإِنَّهُ أشفى وأبلغ وَأولى وأوقع. وَمَتى سلم بِالْكِنَايَةِ جَازَ ان يكني فِي قَوْله فَمن هَا هُنَا وَجَبت الْكَاف وَرُبمَا تقدم الْوَزير أَو الْأَمِير فَأعْطَاهُ الْخَلِيفَة يَده مغشاة بكمه إِكْرَاما لَهُ بتقبيلها واختصاصا بِهَذِهِ الْحَال الْكَبِير محلهَا. وَالْعلَّة فِي ان يغشيها بكمه لِئَلَّا يُبَاشِرهَا فَم أَو شفة وَقد عدل عَن ذَاك إِلَى تَقْبِيل الأَرْض واشترك الْيَوْم فِيهِ كل النَّاس فَأَما وُلَاة العهود من أَوْلَاد الْخُلَفَاء والأهل من بني هَاشم والقضاة وَالْفُقَهَاء والزهاد والقراء فَمَا كَانُوا يقبلُونَ يدا وَلَا أَرضًا لكِنهمْ يقتصرون على السَّلَام كَمَا ذكرنَا وَرُبمَا خطب قوم مِنْهُم بثناء وَدُعَاء وَقد اختلطوا الْآن بالطائفة الَّتِي تقبل الأَرْض إِلَّا الْأَقَل مِمَّن أَقَامَ على التورع من هَذَا الْفِعْل وَأما أوساط الْجند وَمن
খিদমতের আদবসমূহ যখন কোনো আমির, উজির কিংবা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি খলিফার দরবারে প্রবেশ করত, তখন প্রাচীন রীতি অনুযায়ী ভূমি চুম্বন করার প্রথা ছিল না। বরং সে যখন প্রবেশ করত এবং খলিফাকে দেখত, তখন সে সরাসরি সম্বোধনের 'কাফ' যোগে বলত: "আসসালামু আলাইকা ইয়া আমিরুল মুমিনিন ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু"; কেননা এটি অধিকতর তৃপ্তিদায়ক, প্রাঞ্জল, উত্তম এবং প্রভাববিস্তারকারী। আর যখন পরোক্ষভাবে সালাম প্রদান করা হতো, তখন পরোক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করা বৈধ ছিল; তবে এই ক্ষেত্রে সরাসরি সম্বোধনের 'কাফ' ব্যবহার করা আবশ্যক হয়ে পড়ত। কখনও কখনও কোনো উজির বা আমির সামনে অগ্রসর হলে খলিফা স্বীয় আস্তিন দ্বারা আবৃত হাতটি তাকে চুম্বনের জন্য বাড়িয়ে দিতেন, যা ছিল তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তার বিশেষ মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ। হাত আস্তিন দিয়ে ঢেকে রাখার গূঢ় রহস্য ছিল যেন কোনো মুখ বা ঠোঁট সরাসরি হাত স্পর্শ না করে। পরবর্তীকালে এই প্রথা পরিবর্তিত হয়ে ভূমি চুম্বনের রীতিতে রূপ নেয় এবং বর্তমানে সর্বস্তরের মানুষ এতে লিপ্ত হয়েছে। তবে খলিফাদের সন্তান তথা উত্তরাধিকারীগণ, বনু হাশিমের সদস্যগণ, বিচারক (قضاة), ফকিহ (فقهاء), সংসারবিরাগী (زهاد) এবং কারি (قراء) গণের রীতি ছিল ভিন্ন; তারা হাত কিংবা ভূমি কোনটিই চুম্বন করতেন না, বরং আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী কেবল সালামের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন। কখনও তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রশংসা ও দোয়ার মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করতেন। বর্তমানে খুব অল্পসংখ্যক লোক ব্যতীত—যারা পরহেজগারিতা (تورع) হেতু এই কাজ থেকে বিরত থাকেন—বাকি সবাই ভূমি চুম্বনকারী দলের সাথে মিশে গেছেন। আর সাধারণ সৈনিক এবং যারা...