(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: -)
بيان المختصر شرح مختصر ابن الحاجب القسم: أصول الفقه
الكتاب: بيان المختصر شرح مختصر ابن الحاجب
المؤلف: محمود بن عبد الرحمن (أبي القاسم) ابن أحمد بن محمد، أبو الثناء، شمس الدين الأصفهاني (ت 749 هـ)
المحقق: محمد مظهر بقا
الناشر: دار المدني، السعودية
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনিল হাজিব বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনিল হাজিব
লেখক: মাহমুদ বিন আব্দুর রহমান (আবুল কাসেম) ইবনে আহমদ বিন মুহাম্মদ, আবুস সানা, শামসুদ্দিন আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ মাজহার বাকা
প্রকাশক: দারুল মাদানি, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩)
[مقدمة الكتاب] [
مقدمة الشارح]بسم الله الرحمن الرحيم
رَبِّ أَعِنْ بِلُطْفِكَ يَا كَرِيمُ.
الْحَمْدُ لِلَّهِ (الَّذِي أَظْهَرَ) بَدَائِعَ مَصْنُوعَاتِهِ عَلَى أَحْسَنِ النِّظَامِ، وَخَصَّصَ مِنْ بَيْنِهَا نَوْعَ الْإِنْسَانِ (بِمَزِيدِ) الطَّوْلِ وَالْإِنْعَامِ، وَهَدَى أَهْلَ السَّعَادَةِ مِنْهُمْ لِلْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ، وَأَرْشَدَهُمْ (طَرِيقَ) مَعْرِفَةِ اسْتِنْبَاطِ قَوَاعِدِ الْأَحْكَامِ، لِيُبَاشِرُوا الْحَلَالَ مِنْهَا [وَيُجَانِبُوا (الْحَرَامَ) ] .
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا (عَبْدُهُ) وَرَسُولُهُ الَّذِي فَضَّلَهُ عَلَى جَمِيعِ الْأَنَامِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الْغُرِّ (الْكِرَامِ) - مَا مَطَرَ غَمَامٌ، وَعَطِرَ كِمَامٌ.
[গ্রন্থের ভূমিকা] [ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে মহানুভব প্রতিপালক! আপনার অনুগ্রহে সাহায্য করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য (যিনি প্রকাশ করেছেন) তাঁর সৃষ্টির অপূর্ব নিপুণতাকে সর্বোত্তম শৃঙ্খলার সাথে, এবং তাদের মধ্য থেকে মানবজাতিকে বিশিষ্ট করেছেন (অধিকতর) বদান্যতা ও নিয়ামতের মাধ্যমে; আর তাদের মধ্য থেকে যারা সৌভাগ্যবান, তাদেরকে ইমান ও ইসলামের হেদায়েত দিয়েছেন এবং তাঁদেরকে আহকামের (বিধানাবলির) মূলনীতি উদ্ভাবনের পদ্ধতিগত জ্ঞান লাভের (পথ) দেখিয়েছেন, যাতে তাঁরা তার মধ্য থেকে হালাল বিষয়গুলো পালন করতে পারেন [এবং (হারাম) বর্জন করতে পারেন]।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর (বান্দা) ও রাসূল, যাকে তিনি সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন—তাঁর ওপর এবং তাঁর জ্যোতির্ময় ও (সম্মানিত) পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—যতদিন মেঘমালা হতে বৃষ্টি ঝরবে এবং পুষ্পমঞ্জরী সুবাস ছড়াবে।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৪)
أَمَّا بَعْدُ: فَقَدْ تَطَابَقَ قَاضِي الْعَقْلِ، وَهُوَ لَا يُبْذَلُ وَلَا يُعْزَلُ، وَشَاهِدُ الشَّرْعِ، وَهُوَ الْمُزَكِّي الْمُعَدِّلُ، عَلَى أَنَّ أَرْجَحَ الْمَطَالِبِ وَأَرْبَحَ الْمَكَاسِبِ، وَأَعْظَمَ الْمَوَاهِبِ، وَأَكْرَمَ الرَّغَائِبِ هُوَ الْعِلْمُ ; لِأَنَّهُ عَمَلُ الْقَلْبِ الَّذِي هُوَ أَشْرَفُ الْأَعْضَاءِ، وَسَعْيُ الْعَقْلِ الَّذِي هُوَ أَعَزُّ الْأَشْيَاءِ.
وَنَاهِيكَ كَمَالًا وَمَرْتَبَةً، وَجَلَالًا وَمَنْقَبَةً بِقَوْلِهِ عَزَّ وَعَلَا: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ} [آل عمران: 18] . فَإِنَّهُ بَدَأَ بِنَفْسِهِ، وَثَنَّى بِمَلَائِكَتِهِ، وَثَلَّثَ بِأُولِي الْعِلْمِ.
وَأَشْرَفُ الْعُلُومِ وَأَكْمَلُهَا، وَأَنْفَعُ الْمَعَارِفِ وَأَجَلُّهَا: هُوَ الْعُلُومُ الشَّرْعِيَّةُ، وَالْمَعَارِفُ الدِّينِيَّةُ، إِذْ بِهَا يَكْمُلُ انْتِظَامُ الْمَعَاشِ فِي الدُّنْيَا، وَيَحْصُلُ اغْتِنَامُ الِارْتِيَاشِ فِي الْعُقْبَى.
وَكَانَ عِلْمُ أُصُولِ الْفِقْهِ مِنْ جُمْلَتِهَا فِي الرُّتْبَةِ الْعُظْمَى، وَالدَّرَجَةِ الْعُلْيَا ; إِذْ جُمِعَ فِيهِ الرَّأْيُ وَالشَّرْعُ، وَاصْطُحِبَ فِيهِ الْعَقْلُ وَالسَّمْعُ.
وَمِمَّا صُنِّفَ فِيهِ مِنَ الْكُتُبِ الشَّرِيفَةِ وَالزُّبُرِ اللَّطِيفَةِ: (مُخْتَصَرُ [مُنْتَهَى الْوُصُولِ] وَالْأَمَلِ فِي عِلْمَيِ الْأُصُولِ وَالْجَدَلِ) .
مِنْ مُصَنَّفَاتِ
অতঃপর: বিবেকের বিচারক—যাকে পরাভূত করা যায় না এবং পদচ্যুত করা যায় না—এবং শরীয়তের সাক্ষী—যিনি পবিত্রকারী ও ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকারী—উভয়েই এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, শ্রেষ্ঠতম অন্বেষণীয় বিষয়, সর্বাধিক লাভজনক অর্জন, মহত্তম দান এবং সর্বোত্তম আকাঙ্ক্ষিত বিষয় হলো জ্ঞান (ইলম); কারণ এটি হৃদয়ের কাজ, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; এবং এটি বিবেকের প্রচেষ্টা, যা সকল বস্তুর মধ্যে সর্বাধিক প্রিয়।
জ্ঞানের পূর্ণতা, মর্যাদা, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় মহান আল্লাহর এই বাণীই যথেষ্ট: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (এই সাক্ষ্য দিয়েছেন); তিনি ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত।} [আল-ইমরান: ১৮]। এখানে তিনি প্রথমে নিজের সত্তা দিয়ে শুরু করেছেন, দ্বিতীয়ত ফেরেশতাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তৃতীয়ত জ্ঞানীদের কথা এনেছেন।
আর জ্ঞানসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গতম এবং পরিচিতিসমূহের মধ্যে সর্বাধিক উপকারী ও মহত্তম হলো শরীয়তের জ্ঞান ও দ্বীনি মারিফাত। কেননা এর মাধ্যমেই দুনিয়ার জীবনযাপনের শৃঙ্খলা পূর্ণতা পায় এবং পরকালের পাথেয় ও কল্যাণ অর্জিত হয়।
আর উসূলে ফিকহ শাস্ত্র এই জ্ঞানসমূহের মধ্যে উচ্চতর মর্যাদা ও সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত; যেহেতু এতে বিচার-বুদ্ধি ও শরীয়তকে একত্রিত করা হয়েছে এবং এতে আকল (বিবেক) ও সামআ (অহি)-কে একত্রে রাখা হয়েছে।
এই শাস্ত্রের ওপর লিখিত মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ ও সূক্ষ্ম কিতাবসমূহের অন্যতম হলো: (মুখতাসার [মুনতাহাল উসুল] ওয়াল আমাল ফী ইলমায়িল উসুল ওয়াল জাদাল)।
নিম্নোক্ত ব্যক্তির রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত:
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৫)
الْإِمَامِ الْفَاضِلِ الْمُحَقِّقِ الْعَلَّامَةِ: جَمَالِ الدِّينِ أَبِي عَمْرٍو عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ الْمَالِكِيِّ، الْمَعْرُوفِ بِـ " ابْنِ الْحَاجِبِ " (تَغَمَّدَهُ) اللَّهُ - تَعَالَى - بِغُفْرَانِهِ، وَكَسَاهُ حُلَلَ رِضْوَانِهِ، كِتَابٌ صَغِيرُ الْحَجْمِ، وَجِيزُ النَّظْمِ، (غَزِيرُ الْعِلْمِ) ، كَبِيرُ الِاسْمِ، مُشْتَمِلٌ عَلَى مَحْضِ الْمُهِمِّ.
فَتَصَدَّيْتُ لِأَنْ أَشْرَحَهُ شَرْحًا يُبَيِّنُ حَقَائِقَهُ، وَيُوَضِّحُ دَقَائِقَهُ، وَيُذَلِّلُ مِنَ اللَّفْظِ صِعَابَهُ، وَيَكْشِفُ عَنْ وَجْهِ الْمَعَانِي نِقَابَهُ، مُقْتَصِدًا، غَيْرَ مُخْتَصِرٍ اخْتِصَارًا يُؤَدِّي إِلَى الْإِخْلَالِ، وَلَا مُطْنِبًا إِطْنَابًا يُفْضِي إِلَى الْإِمْلَالِ،
বরেণ্য ইমাম, গবেষক, সুপণ্ডিত আল্লামা: জামালুদ্দিন আবু আমর উসমান ইবনে উমর আল-মালিকি, যিনি "ইবনুল হাজিব" নামে সুপরিচিত—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর ক্ষমার চাদরে ঢেকে দিন এবং তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির পোশাকে ভূষিত করুন—এটি আকারে ছোট, সংক্ষিপ্ত বিন্যাসের, ইলমে ভরপুর এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ একটি কিতাব, যা কেবল অতি প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহকে ধারণ করে।
সুতরাং আমি এর এমন একটি ব্যাখ্যা প্রদান করতে উদ্যোগী হলাম যা এর হাকিকত বা গূঢ় তত্ত্বসমূহকে উন্মোচন করবে, এর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহকে স্পষ্ট করবে, কঠিন শব্দাবলিকে সহজবোধ্য করবে এবং অর্থের চেহারা থেকে পর্দা সরিয়ে দেবে। আমি এ ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছি; এমন সংক্ষিপ্ত করিনি যা মূল উদ্দেশ্যে ব্যাঘাত ঘটায়, আবার এমন দীর্ঘও করিনি যা বিরক্তির উদ্রেক করে।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৭)
سَاعِيًا فِي حَلِّ مُشْكِلَاتِهِ، وَفَتْحِ مُعْضِلَاتِهِ، وَتَقْرِيرِ مَعَاقِدِهِ، وَتَحْرِيرِ قَوَاعِدِهِ، وَدَفْعِ الشُّبَهَاتِ الْوَارِدَةِ عَلَى مَقَاصِدِهِ.
وَ (أَسْمَيْتُهُ) بَيَانَ الْمُخْتَصَرِ ".
وَالْمَأْمُولُ مِنْ حُسْنِ أَخْلَاقِ مَنْ هُوَ مُنْصِفٌ، وَعَنْ مَشْرَبِ الْحَقِّ مُغْتَرِفٌ، أَنَّهُ إِذَا اطَّلَعَ عَلَى خَطَأٍ وَسَهْوٍ، أَنْ يُصَحِّحَهُ مُصْلِحًا لَا مُفْسِدًا، وَمُعَاوِنًا لَا مُعَانِدًا، وَمُعَاضِدًا لَا مُحَاسِدًا.
اللَّهُمَّ وَفِّقْنَا سَبِيلَ الرَّشَادِ، (وَطَرِيقَ) السَّدَادِ. وَهَا أَنَا أَشْرَعُ فِي الْمَقْصُودِ بِعَوْنِ اللَّهِ وَحُسْنِ تَوْفِيقِهِ.
এর সমস্যাসমূহ সমাধানে, এর জটিল বিষয়সমূহ উন্মোচনে, এর মূল বিষয়সমূহ সাব্যস্তকরণে, এর মূলনীতিসমূহ সুসংহতকরণে এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ওপর আপতিত সংশয়সমূহ নিরসনে সচেষ্ট হয়েছি।
এবং (আমি এর নামকরণ করেছি) "বায়ানুল মুখতাসার"।
আর যারা ইনসাফকারী এবং সত্যের ঝরনাধারা থেকে পানকারী, তাদের সদয় চরিত্রের নিকট প্রত্যাশা এই যে, যদি তারা কোনো ভুল বা বিচ্যুতি প্রত্যক্ষ করেন, তবে তা সংশোধন করবেন একজন সংশোধনকারী হিসেবে, অনিষ্টকারী হিসেবে নয়; একজন সাহায্যকারী হিসেবে, হঠকারী হিসেবে নয়; এবং একজন সহযোগী হিসেবে, হিংসুক হিসেবে নয়।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সঠিক ও সরল পথে চলার তাওফিক দান করুন। আর আমি এখন আল্লাহর সাহায্য এবং তাঁর সুনিপুণ তাওফিকের মাধ্যমে অভীষ্ট লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করছি।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৮)
[مقدمة الماتن][الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ أَجْمَعِينَ. أَمَّا بَعْدُ: فَإِنِّي لَمَّا رَأَيْتُ قُصُورَ الْهِمَمِ عَنِ الْإِكْثَارِ، وَمَيْلَهَا إِلَى الْإِيجَازِ وَالِاخْتِصَارِ - صَنَّفْتُ مُخْتَصَرًا فِي أُصُولِ الْفِقْهِ، ثُمَّ اخْتَصَرْتُهُ عَلَى وَجْهٍ بَدِيعٍ، وَسَبِيلٍ مَنِيعٍ، لَا يَصُدُّ اللَّبِيبَ عَنْ تَعَلُّمِهِ صَادٌّ، وَلَا يَرُدُّ الْأَرِيبَ عَنْ تَفَهُّمِهِ رَادٌّ.
وَاللَّهَ تَعَالَى أَسْأَلُ أَنْ يَنْفَعَ بِهِ، وَهُوَ حَسْبِي وَنِعْمَ الْوَكِيلُ) .
[المبادئ]
[المبادئ الأصولية][ص - وَيَنْحَصِرُ] .
ص - فِي الْمَبَادِئِ وَالْأَدِلَّةِ (السَّمْعِيَّةِ) وَالِاجْتِهَادِ (وَالتَّرْجِيحِ) .
ص - فَالْمَبَادِئُ: حَدُّهُ، وَفَائِدَتُهُ، وَاسْتِمْدَادُهُ.
ــ
[الشرح] ش - قَوْلُهُ: " وَيَنْحَصِرُ " أَيِ الْمُخْتَصَرُ لَا الْأُصُولُ
[মূল লেখকের ভূমিকা][সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর। অতঃপর: যখন আমি দীর্ঘ আলোচনার প্রতি মানুষের আগ্রহের অভাব এবং সংক্ষিপ্তকরণের প্রতি তাদের ঝোঁক লক্ষ্য করলাম—তখন আমি উসূলে ফিকহ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সার সংকলন করলাম, এরপর আমি তা এক অভিনব পদ্ধতিতে এবং সুদৃঢ় পন্থায় আরও সংক্ষিপ্ত করলাম, যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে তা শেখা থেকে বিরত রাখবে না এবং কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তিকে তা অনুধাবন করা থেকে ফিরিয়ে দেবে না।
আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন; আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।] .
[মৌলিক বিষয়াবলি][উসূলী মূলনীতিসমূহ][মূল পাঠ - এবং এটি বিন্যস্ত বা সীমাবদ্ধ] .
মূল পাঠ - মৌলিক বিষয়াবলি, (শ্রুতিনির্ভর) দলিলসমূহ, ইজতিহাদ ও (অগ্রাধিকার প্রদান) সংক্রান্ত আলোচনায়।
মূল পাঠ - অতঃপর মৌলিক বিষয়াবলি হলো: এর সংজ্ঞা, এর উপকারিতা এবং এর উৎসসমূহ।
——
[ব্যাখ্যা] ব্যাখ্যা - লেখকের উক্তি: "এবং এটি সীমাবদ্ধ" অর্থাৎ এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি, উসূলে ফিকহ শাস্ত্র নয়।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] (لِأَنَّ) هَذِهِ الْقِسْمَةَ قِسْمَةُ الْكُلِّ إِلَى أَجْزَائِهِ.
وَالْمَبَادِئُ عَلَى (الْوَجْهِ) الَّذِي أَخَذَهُ لَا تَكُونُ بِأَقْسَامِهَا مِنْ أَجْزَاءِ الْأُصُولِ لِمَا سَنَذْكُرُهُ.
ش - (قِيلَ فِي بَيَانِ انْحِصَارِهِ) فِيهَا: إِنَّ لِكُلِّ عِلْمٍ مَبَادِئَ وَمَسَائِلَ وَمَوْضُوعَاتٍ. فَالْمَبَادِئُ فِي قَوْلِهِ - (هِيَ مَبَادِئُ) أُصُولِ الْفِقْهِ.
وَالْأَدِلَّةُ السَّمْعِيَّةُ وَالِاجْتِهَادُ وَالتَّرْجِيحُ - مَوْضُوعُهُ ; لِأَنَّ الْأُصُولِيَّ يَبْحَثُ فِيهِ عَنْ أَحْوَالِهَا الْمُوَصِّلَةِ إِلَى الْأَحْكَامِ، (وَكَيْفِيَّةِ اسْتِثْمَارِهَا عَنْهَا) عَلَى وَجْهٍ كُلِّيٍّ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] (কারণ) এই বিভাজনটি হলো কোনো পূর্ণ সত্তাকে তার অংশসমূহে বিভক্ত করা।
আর তিনি মূলনীতিসমূহকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর প্রকারভেদ উসূলের অংশসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, যার কারণ আমরা অচিরেই উল্লেখ করব।
ব্যাখ্যা - (এতে এর সীমাবদ্ধতা বর্ণনায় বলা হয়েছে): নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের কিছু মূলনীতি, মাসআলা এবং আলোচ্য বিষয় থাকে। সুতরাং তাঁর বক্তব্য—(তা হলো মূলনীতি)—উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহকে নির্দেশ করে।
আর শ্রুতিনির্ভর দলিলসমূহ, ইজতিহাদ এবং তারজীহ (প্রাধান্য প্রদান) হলো এর আলোচ্য বিষয়; কারণ উসূলে ফিকহবিদ এতে ঐ সকল অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেন যা বিধানাবলি (আহকাম) পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, (এবং কীভাবে সেগুলো থেকে সামগ্রিকভাবে বিধান আহরণ করতে হয়) সে সম্পর্কেও আলোচনা করেন।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَيُعْلَمُ مِنْ ذَلِكَ أَنَّ مَسَائِلَهُ تِلْكَ الْأَحْوَالُ الْمَبْحُوثُ فِيهِ عَنْهَا.
وَفِيهِ نَظَرٌ; لِأَنَّ هَذَا الْكَلَامَ لَا يُفِيدُ، (إِلَّا أَنَّ) الْمَذْكُورَ فِيهِ عَائِدٌ إِلَى الْمَبَادِئِ وَالْمَوْضُوعِ وَالْمَسَائِلِ.
وَالْغَرَضُ لَيْسَ هَذَا، (بَلِ) الْحَصْرُ فِي الْأَرْبَعَةِ الْمَذْكُورَةِ، عَلَى مَا لَا يَخْفَى.
وَقِيلَ: إِنَّ الْمَقْصُودَ، بِالْقَصْدِ الْأَوَّلِ، مِنْ تَأْلِيفِ هَذَا الْمُخْتَصَرِ: الْعَمَلُ (بِالْأَحْكَامِ) وَلَا يُمْكِنُ إِلَّا بِمَعْرِفَتِهَا. وَلَهَا طُرُقٌ، وَلِلطُّرُقِ أُمُورٌ تَتَعَلَّقُ بِهَا مِنْ جِهَةِ إِفْضَائِهَا إِلَى التَّمَكُّنِ مِنَ الْعَمَلِ فَإِذًا لَا يَكُونُ الْمَذْكُورُ إِلَّا أَمْرًا لَهُ مُدْخَلٌ فِي الْمَعْرِفَةِ، وَهُوَ إِمَّا أَنْ يَكُونَ الْمُعَرَّفَ نَفْسَهُ، أَوْ لَا.
وَالْأَوَّلُ: الْأَدِلَّةُ السَّمْعِيَّةُ. وَالثَّانِي: إِمَّا أَنْ يَتَوَقَّفَ الْمُعَرَّفُ عَلَيْهِ، أَوْ لَا.
وَالْأَوَّلُ: الْمَبَادِئُ. وَالثَّانِي: إِمَّا أَنْ يَكُونَ أَمْرًا بِهِ تَحْصُلُ غَلَبَةُ طَرِيقٍ عَلَى آخَرَ عِنْدَ التَّعَارُضِ، أَوْ لَا.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--
[ব্যাখ্যা] এবং তা থেকে জানা যায় যে, এর মাসআলাসমূহ হলো সেই সকল অবস্থা যা নিয়ে এতে আলোচনা করা হয়।
আর এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কেননা এই বক্তব্যটি এমন অর্থ প্রদান করে না যে, (তবে এটি যে) এতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ভূমিকা, আলোচ্য বিষয় এবং মাসআলাসমূহের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
আর উদ্দেশ্য এটি নয়, (বরং) উল্লিখিত চারটির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা, যেমনটি সুষ্পষ্ট।
আর বলা হয়েছে যে: এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি রচনার মূল লক্ষ্য হলো: (বিধানাবলি) অনুযায়ী আমল করা এবং তা এই বিধানগুলো জানা ছাড়া সম্ভব নয়। আর এর জন্য কিছু পন্থা রয়েছে, আর সেই পন্থাসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আমল করতে সক্ষম হওয়ার দিকে ধাবিত করে। সুতরাং যা উল্লেখ করা হয়েছে তা এমন বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয় যার জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার রয়েছে; আর তা হয় নিজেই পরিচিতি প্রদানকারী, অথবা তা নয়।
আর প্রথমটি হলো: শ্রবণনির্ভর বা শরয়ি দলিলসমূহ। এবং দ্বিতীয়টি: হয় পরিচিতি প্রদানকারী তার ওপর নির্ভরশীল হবে, অথবা হবে না।
আর প্রথমটি হলো: ভূমিকা বা প্রারম্ভিক বিষয়সমূহ। এবং দ্বিতীয়টি: হয় এটি এমন বিষয় হবে যার মাধ্যমে বিরোধের সময় একটি পন্থার অন্যটির ওপর প্রাধান্য অর্জিত হয়, অথবা হবে না।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَالْأَوَّلُ: التَّرْجِيحُ. وَالثَّانِي: الِاجْتِهَادُ ; إِذْ لَيْسَ لِغَيْرِ الِاجْتِهَادِ بَعْدَ الثَّلَاثَةِ تَعَلُّقٌ بِالتَّمَكُّنِ مِنَ الْعَمَلِ أَصْلًا ; لِأَنَّهُ بَعْدَ تَحَقُّقِ الثَّلَاثَةِ إِذَا بَذَلَ الْمُكَلَّفُ جُهْدَهُ وَعَرَفَهَا، حَصَلَتْ مَعْرِفَةُ الْأَحْكَامِ، وَتَمَكَّنَ مِنَ الْعَمَلِ الْمَقْصُودِ بِالْقَصْدِ الْأَوَّلِ.
وَهَذَا وَإِنْ كَانَ أَقْرَبَ [إِلَى] الصَّوَابِ، لَكِنْ فِيهِ خَلَلٌ، وَذَلِكَ لِأَنَّ الْمُرَادَ مِنَ الِاجْتِهَادِ إِمَّا مَعْرِفَتُهُ، أَوْ نَفْسُهُ.
فَإِنْ كَانَ الثَّانِيَ فَبَاطِلٌ ; لِأَنَّ نَفْسَ الِاجْتِهَادِ لَا يَكُونُ مِنْ أَجْزَاءِ الْمُخْتَصَرِ. وَإِنْ كَانَ الْأَوَّلَ، فَلَا نُسَلِّمُ، أَنَّهُ لَيْسَ بَعْدَ الثَّلَاثَةِ لِغَيْرِ الِاجْتِهَادِ تَعَلُّقٌ بِالتَّمَكُّنِ مِنَ الْعَمَلِ ; لِأَنَّ الْفِقْهَ غَيْرُ الثَّلَاثَةِ، وَلَهُ تَعَلُّقٌ بِالتَّمَكُّنِ مِنَ الْعَمَلِ.
وَالْأَوْلَى أَنْ يُقَالَ: الْمَقْصُودُ مِنْ تَأْلِيفِ هَذَا الْمُخْتَصَرِ: هُوَ: [مَعْرِفَةُ] كَيْفِيَّةِ اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ مِنَ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ. فَمَا يُذْكَرُ فِيهِ إِلَّا أَمْرٌ لَهُ مَدْخَلٌ فِي الْمَعْرِفَةِ.
فَالْمَذْكُورُ فِيهِ إِمَّا أَنْ يَتَوَقَّفَ الْبَحْثُ وَالشُّرُوعُ عَلَيْهِ، أَوْ لَا.
وَالْأَوَّلُ: الْمَبَادِئُ. وَالثَّانِي: إِمَّا الْأَدِلَّةَ الَّتِي تُسْتَنْبَطُ مِنْهَا الْأَحْكَامُ، أَوْ لَا.
وَالْأَوَّلُ: الْأَدِلَّةُ السَّمْعِيَّةُ، إِذْ لَا مَجَالَ لِلْعَقْلِ عِنْدَنَا.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] প্রথমটি হলো: অগ্রাধিকার প্রদান (তারজিহ)। এবং দ্বিতীয়টি হলো: ইজতিহাদ; যেহেতু উল্লিখিত তিনটি বিষয়ের পর ইজতিহাদ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর আমল করার সক্ষমতা লাভের সাথে মূলত কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর মুকাল্লাফ ব্যক্তি যখন তার পূর্ণ শ্রম ব্যয় করে এবং তা অবগত হয়, তখন বিধানাবলির জ্ঞান অর্জিত হয় এবং সে প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত আমল করার সক্ষমতা লাভ করে।
এই বক্তব্যটি যদিও সঠিকের অধিক নিকটবর্তী, কিন্তু এতে ত্রুটি রয়েছে; আর তা হলো, ইজতিহাদ দ্বারা উদ্দেশ্য হয় এর জ্ঞান অথবা স্বয়ং ইজতিহাদ।
যদি দ্বিতীয়টি উদ্দেশ্য হয়, তবে তা বাতিল; কেননা স্বয়ং ইজতিহাদ এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির (মুখতাসার) অংশ হতে পারে না। আর যদি প্রথমটি উদ্দেশ্য হয়, তবে আমরা তা মেনে নিচ্ছি না যে, উল্লিখিত তিনটি বিষয়ের পর ইজতিহাদ ব্যতীত অন্য কিছুর আমল করার সক্ষমতার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই; কারণ ফিকহ এই তিনটি বিষয় থেকে পৃথক, অথচ আমল করার সক্ষমতার সাথে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
বরং এটি বলাই শ্রেয় যে: এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি সংকলন করার উদ্দেশ্য হলো: বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে বিধানাবলি উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) করার পদ্ধতি [জানা]। সুতরাং এখানে কেবল এমন বিষয়ই উল্লেখ করা হয় যার জ্ঞানের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা বা প্রবেশাধিকার রয়েছে।
অত্র গ্রন্থে যা কিছু উল্লিখিত হয়েছে, হয় গবেষণা ও পাঠ শুরু করা তার ওপর নির্ভরশীল হবে, অথবা হবে না।
প্রথমটি হলো: প্রারম্ভিক মূলনীতিসমূহ (মাবাদি)। আর দ্বিতীয়টি হলো: হয় সেই দলিলসমূহ যেখান থেকে বিধানাবলি উদ্ভাবন করা হয়, অথবা তা নয়।
প্রথমটি হলো: শ্রুতিনির্ভর দলিলসমূহ (আদিল্লা সামইয়্যাহ); কেননা আমাদের নিকট এ ক্ষেত্রে বিবেকের (আকল) কোনো স্বতন্ত্র অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَالثَّانِي، إِمَّا أَنْ يَكُونَ تَرْجِيحَ الدَّلَائِلِ بَعْضِهَا عَلَى بَعْضٍ، عِنْدَ التَّعَارُضِ - لِأَنَّ الْأَدِلَّةَ السَّمْعِيَّةَ لِكَوْنِهَا ظَنِّيَّةً يَقَعُ فِيهَا التَّعَارُضُ - أَوْ لَا.
وَالْأَوَّلُ: التَّرْجِيحُ. وَالثَّانِي: الِاجْتِهَادُ ; إِذْ لَيْسَ بِغَيْرِ الِاجْتِهَادِ بَعْدَ الثَّلَاثَةِ تَعَلُّقٌ بِمَعْرِفَةِ كَيْفِيَّةِ الِاسْتِنْبَاطِ بِالضَّرُورَةِ.
وَالْبَيَانُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَإِنْ كَانَ يُمْكِنُ أَنْ يُنَاقَشَ فِيهِ، لَكِنِ انْدَفَعَ بِهِ النَّقْضُ الْوَارِدُ عَلَى الْوَجْهِ الَّذِي قَبْلَهُ.
ش - الْمَبَادِئُ - بِاصْطِلَاحِ الْمَنْطِقِيِّينَ - هِيَ: مَا يُبْدَأُ بِهِ قَبْلَ الْمَقْصُودِ لِذَاتِهِ، لِتَوَقُّفِ ذَاتِ الْمَقْصُودِ عَلَيْهِ فَقَطْ.
وَهِيَ إِمَّا تَصَوُّرَاتٍ، وَهِيَ: تَصَوُّرُ الْمَوْضُوعِ، وَأَجْزَائِهِ، وَجُزْئِيَّاتِهِ، وَأَعْرَاضِهِ الذَّاتِيَّةِ، وَتُسَمَّى: الْحُدُودَ.
وَإِمَّا تَصْدِيقَاتٍ. وَهِيَ: الْمُقَدِّمَاتُ الَّتِي تُؤَلَّفُ مِنْهَا قِيَاسَاتُ الْعِلْمِ. وَتُسَمَّى: الْقَضَايَا الْمُتَعَارَفَةُ، إِنْ كَانَتْ بَيِّنَةً. وَهِيَ الْمَبَادِئُ عَلَى الْإِطْلَاقِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] দ্বিতীয়টি হলো, হয় বিরোধের সময় দলিলসমূহের একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য প্রদান করা—কেননা শ্রুতিগত দলিলসমূহ ধারণা-নির্ভর (যান্নি) হওয়ার কারণে তাতে পারস্পরিক বিরোধের সৃষ্টি হয়—অথবা তা নয়।
প্রথমটি হলো: প্রাধান্য প্রদান (তারজিহ)। আর দ্বিতীয়টি হলো: ইজতিহাদ; যেহেতু এই তিনটির পর মাসআলা উদ্ভাবনের পদ্ধতি জানার জন্য ইজতিহাদ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর সাথে আবশ্যিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপস্থাপিত বর্ণনাটিতে যদিও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, তবে এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী বর্ণনার ওপর আপতিত আপত্তিটি দূরীভূত হয়েছে।
ব্যা (ব্যাখ্যা)—মাবাদে (সূচনাসমূহ)—যুক্তিবিদদের পরিভাষায়—হলো: যা মূল বিষয়ের পূর্বে শুরু করা হয়, কারণ মূল বিষয়ের অস্তিত্ব কেবলমাত্র এরই ওপর নির্ভরশীল।
আর তা হয় ‘তাসাউর’ (ধারণা); যা হলো বিষয়বস্তু, তার অংশসমূহ, তার অবয়বসমূহ এবং তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যাবলীর ধারণা লাভ করা; আর একে ‘হুদুদ’ (সংজ্ঞাসমূহ) বলা হয়।
অথবা তা হয় ‘তাসদিকাত’ (প্রত্যয়ন); আর তা হলো সেই সকল ভূমিকা (মুকাদ্দিমা) যা দ্বারা শাস্ত্রের যুক্তিপ্রক্রিয়াগুলো (কিয়াস) গঠিত হয়। যদি তা সুস্পষ্ট হয়, তবে সেগুলোকে ‘সুপরিচিত প্রস্তাবনা’ (আল-কাদায়া আল-মুতাআরাফাহ) বলা হয়। আর এগুলোই হলো নিরঙ্কুশভাবে মূলনীতি (মাবাদে)।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ص - أَمَّا حَدُّهُ لَقَبًا
ص - فَالْعِلْمُ بِالْقَوَاعِدِ الَّتِي يُتَوَصَّلُ بِهَا إِلَى اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْفَرْعِيَّةِ عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ.
ص - وَأَمَّا حَدُّهُ مُضَافًا:
ــ
[الشرح] وَإِلَّا فَإِنْ كَانَ تَسْلِيمُهَا مَعَ مُسَامَحَةٍ وَحُسْنِ ظَنٍّ بِالْمُعَلِّمِ، تُسَمَّى: أُصُولًا مَوْضُوعَةً. وَإِنْ كَانَتْ مَعَ اسْتِنْكَارٍ وَتَشَكُّكٍ، سُمِّيَتْ: مُصَادَرَاتٍ. وَالْمَبَادِئُ بِهَذَا الْمَعْنَى مِنْ أَجْزَاءِ الْعِلْمِ.
وَقَدْ تُطْلَقُ (عَلَى) مَعْنًى آخَرَ وَهُوَ: مَا يُبْدَأُ بِهِ قَبْلَ الْمَقْصُودِ؛ لِتَوَقُّفِ ذَاتِهِ عَلَيْهِ، أَوْ تَصَوُّرِهِ، أَوِ الشُّرُوعِ فِيهِ.
وَبِهَذَا الْمَعْنَى لَا يَكُونُ مِنْ أَجْزَاءِ الْعِلْمِ (بِتَمَامِهَا) ; ضَرُورَةً دُخُولُ الْحَدِّ، وَتَصَوُّرُ الْغَايَةِ، وَبَيَانُ الِاسْتِمْدَادِ فِيهَا، مَعَ أَنَّهَا لَا تَكُونُ مِنْ أَجْزَاءِ الْعِلْمِ.
وَالْمُرَادُ بِقَوْلِهِ: " فَالْمَبَادِئُ ": هُوَ الثَّانِي، لَا الْأَوَّلُ. لِأَنَّ تَصَوُّرَ الْعِلْمِ، وَتَصَوُّرَ غَايَتِهِ، وَبَيَانَ أَنَّهُ يُسْتَمَدُّ مِنْ أَيِّ الْعُلُومِ، لَا يَكُونُ [مَبَادِئَ] بِالْمَعْنَى الْأَوَّلِ، وَيَكُونُ [مَبَادِئَ] بِالْمَعْنَى الثَّانِي; لِأَنَّ الشُّرُوعَ فِي الْعِلْمِ وَتَصَوَّرَهُ مَوْقُوفٌ عَلَيْهَا.
وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ أَجْزَائِهِ فَلَا يَكُونُ جُزْءًا مِنْ أُصُولِ الْفِقْهِ، وَإِنْ كَانَتْ مِنَ الْمُخْتَصَرِ.
[حد أصول الفقه لقبا]ش - أَيْ حَدُّ أُصُولِ الْفِقْهِ. وَاللَّقَبُ عِلْمٌ يَتَضَمَّنُ مَدْحًا أَوْ ذَمًّا. وَ " أُصُولُ الْفِقْهِ " لَقَبٌ مَنْقُولٌ عَنِ الْمُرَكَّبِ الْإِضَافِيِّ، مَفْهُومُهُ الْإِضَافِيُّ غَيْرُ صَادِقٍ عَلَى مَفْهُومِهِ اللَّقَبِيِّ. أَمَّا أَنَّهُ لَقَبٌ ; فَلِأَنَّ أُصُولَ الْفِقْهِ وَسِيلَةٌ إِلَى اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الَّتِي بِهَا نِظَامُ الْمَعَاشِ فِي الدُّنْيَا وَاغْتِنَامُ الِارْتِيَاشِ فِي الْعُقْبَى. وَهُوَ مِنْ أَعْظَمِ الْمَدَائِحِ.
وَأَمَّا أَنَّ مَفْهُومَهُ الْإِضَافِيَّ غَيْرُ صَادِقٍ عَلَى مَفْهُومِهِ اللَّقَبِيِّ ; فَلِأَنَّ مَفْهُومَهُ اللَّقَبِيَّ هُوَ: الْعِلْمُ. وَمَفْهُومَهُ الْإِضَافِيَّ: مُتَعَلِّقُ الْعِلْمِ. فَلَا يَصْدُقُ عَلَيْهِ.
ش - لَا يُمْكِنُ حَدُّ نَوْعٍ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا بِذِكْرِ مُتَعَلِّقِهِ ; لِأَنَّ إِضَافَةَ الْعِلْمِ إِلَى مُتَعَلِّقِهِ إِمَّا دَاخِلَةً فِيهِ أَوْ عَارِضَةً لَازِمَةً لَهُ عَلَى اخْتِلَافِ الرَّأْيَيْنِ فَلِذَلِكَ قُيِّدَ الْعِلْمُ بِـ " الْقَوَاعِدِ ".
وَالْمُرَادُ بِالْعِلْمِ هَهُنَا: الِاعْتِقَادُ الْجَازِمُ الْمُطَابِقُ الثَّابِتُ لِمُوجِبٍ قَطْعِيٍّ. وَالْقَوَاعِدُ: هِيَ الْأُمُورُ الْكُلِّيَّةُ الْمُنْطَبِقَةُ عَلَى الْجُزْئِيَّاتِ لِيُتَعَرَّفَ أَحْكَامُهَا مِنْهَا. وَهِيَ عَامٌّ ; لِأَنَّهَا جَمْعٌ مُعَرَّفٌ بِاللَّامِ.
মূল পাঠ - উপাধি হিসেবে এর সংজ্ঞা
মূল পাঠ - এটি হলো এমন সব মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান, যা বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে ব্যবহারিক শরয়ী বিধানসমূহ আহরণের মাধ্যম হয়।
মূল পাঠ - সম্বন্ধবাচক হিসেবে এর সংজ্ঞা:
—
[ব্যাখ্যা] নতুবা, যদি তা শিক্ষকের প্রতি সুধারণা ও উদারতার সাথে গ্রহণ করা হয়, তবে তাকে 'স্বতঃসিদ্ধ মূলনীতি' (উসূলে মাওদুআ) বলা হয়। আর যদি তা অস্বীকৃতি ও সন্দেহের সাথে হয়, তবে তাকে 'বিতর্কমূলক বিষয়' (মুসাদরাত) বলা হয়। এই অর্থে প্রারম্ভিক বিষয়াবলি (মাবাদি) ইলমের অংশ হিসেবে গণ্য।
কখনও এটি অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়, তা হলো: মূল উদ্দেশ্যের পূর্বে যা দিয়ে শুরু করা হয়; কেননা বিষয়টির অস্তিত্ব, অথবা তার ধারণা লাভ, অথবা তাতে প্রবেশ করা উক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।
আর এই অর্থে তা ইলমের অংশসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় (পুরোপুরিভাবে); কারণ এর মধ্যে সংজ্ঞা প্রদান, লক্ষ্যের কল্পনা এবং শাস্ত্রের উৎসের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত হওয়া জরুরি, যদিও এগুলো ইলমের অংশ নয়।
লেখকের বক্তব্য "প্রারম্ভিক বিষয়াবলি" দ্বারা দ্বিতীয় অর্থটিই উদ্দেশ্য, প্রথমটি নয়। কারণ শাস্ত্র সম্পর্কে ধারণা লাভ, তার লক্ষ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং এটি কোন শাস্ত্র থেকে গৃহীত হয়েছে তার বর্ণনা প্রথম অর্থে 'প্রারম্ভিক বিষয়' হয় না, বরং দ্বিতীয় অর্থে 'প্রারম্ভিক বিষয়' হয়; কেননা শাস্ত্রে প্রবেশ করা এবং সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করা এগুলোর ওপরই নির্ভরশীল।
আর যদি এটি শাস্ত্রের অংশ না হয়, তবে এটি উসূলে ফিকহের অংশ হিসেবে গণ্য হবে না, যদিও তা সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির অন্তর্ভুক্ত হয়।
[উপাধি হিসেবে উসূলে ফিকহের সংজ্ঞা]ব্যাখ্যা - অর্থাৎ উসূলে ফিকহের সংজ্ঞা। ‘উপাধি’ (লাকাব) হলো এমন এক সংজ্ঞাবাচক নাম যা প্রশংসা বা নিন্দা অন্তর্ভুক্ত করে। আর ‘উসূলে ফিকহ’ হলো সম্বন্ধবাচক শব্দসমষ্টি থেকে স্থানান্তরিত একটি উপাধি; যার সম্বন্ধবাচক অর্থ তার উপাধিসূচক অর্থের ওপর পুরোপুরি প্রযোজ্য হয় না। এটি উপাধি হওয়ার কারণ হলো, উসূলে ফিকহ শরয়ী বিধানসমূহ আহরণের মাধ্যম, যার ওপর পার্থিব জীবন-ব্যবস্থা এবং পরকালের কল্যাণ অর্জন নির্ভরশীল। আর এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রশংসার বিষয়।
আর এর সম্বন্ধবাচক অর্থ কেন তার উপাধিসূচক অর্থের ওপর প্রযোজ্য হয় না, তার কারণ হলো: এর উপাধিসূচক অর্থ হলো ‘ইলম’ বা জ্ঞান। আর এর সম্বন্ধবাচক অর্থ হলো ‘জ্ঞানের বিষয়বস্তু’। সুতরাং একটি অপরটির ওপর প্রযোজ্য হতে পারে না।
ব্যাখ্যা - কোনো প্রকারের জ্ঞানের সংজ্ঞা দেওয়া তার সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু উল্লেখ করা ব্যতীত সম্ভব নয়; কারণ বিষয়ের সাথে জ্ঞানের সম্বন্ধ হয় জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত অথবা এর সাথে অপরিহার্যভাবে সংশ্লিষ্ট—দুইটি ভিন্ন মত অনুযায়ী। এই কারণেই জ্ঞান শব্দটিকে ‘মূলনীতিমালার’ সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে।
এখানে জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সুনিশ্চিত প্রমাণের ভিত্তিতে অর্জিত দৃঢ় ও বাস্তবসম্মত বিশ্বাস। আর মূলনীতিমালা হলো: এমন সব সামষ্টিক বিষয় যা তার শাখা-প্রশাখা বা অংশগুলোর ওপর প্রযোজ্য হয়, যাতে এর মাধ্যমে সেগুলোর বিধান জানা যায়। এটি একটি সাধারণ শব্দ; কারণ এটি আলিফ-লাম যুক্ত বহুবচন।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَاحْتُرِزَ بِهَا، عَنِ الْعِلْمِ بِالْأُمُورِ الْجُزْئِيَّةِ. وَعَنِ الْعِلْمِ بِبَعْضِ مَسَائِلِ الْأُصُولِ ; لِأَنَّهُ وَإِنْ كَانَ مِنَ الْأُصُولِ، لَكِنَّهُ لَيْسَ نَفْسَهُ ; لِأَنَّ بَعْضَ الشَّيْءِ غَيْرُهُ.
وَقَوْلُهُ: " يُتَوَصَّلُ بِهَا إِلَى اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ " احْتَرَزَ بِهِ عَنِ الْعِلْمِ بِالْقَوَاعِدِ الَّتِي تُسْتَنْبَطُ مِنْهَا الصَّنَائِعُ، وَالْعِلْمِ بِالْمَاهِيَّاتِ وَالصِّفَاتِ.
وَفِي ذِكْرِ التَّوَصُّلِ إِشَارَةٌ إِلَى أَنَّهُ طَرِيقٌ غَيْرُ مَقْصُودٍ بِالذَّاتِ، بَلْ بِالْعَرَضِ.
وَقِيلَ: خَرَجَ بِ " الْأَحْكَامِ " - أَيْ جَمِيعِهَا - عَلِمُ الْخِلَافِ ; لِأَنَّهُ عِلْمٌ بِقَوَاعِدَ يُسْتَنْبَطُ مِنْهَا بَعْضُ الْأَحْكَامِ، لَا كُلُّهَا.
وَفِيهِ نَظَرٌ ; لِأَنَّهُ يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ عِلْمُ الْخِلَافِ جُزْءًا مِنَ الْأُصُولِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ.
وَقَوْلُهُ: " الشَّرْعِيَّةِ " احْتَرَزَ بِهِ عَنِ الْأَحْكَامِ الِاصْطِلَاحِيَّةِ وَالْعَقْلِيَّةِ.
وَقَوْلُهُ: " الْفَرْعِيَّةِ " احْتَرَزَ بِهِ عَنِ الْأُصُولِيَّةِ.
وَقَوْلُهُ: " عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ " لَا يُحْتَرَزُ بِهِ عَنْ شَيْءٍ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ مِنَ الْأَحْكَامِ الْفِقْهِيَّةَ، وَهِيَ لَا تَكُونُ إِلَّا كَذَلِكَ.
هَذَا تَحْرِيرُ الْحَدِّ. وَأَمَّا الشُّبَهَاتُ الْوَارِدَةُ عَلَيْهِ: فَمِنْهَا أَنَّهُ لَا يَطَّرِدُ ; لِانْطِبَاقِهِ عَلَى الْخِلَافِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] এবং এর (সংজ্ঞার) মাধ্যমে আংশিক বিষয়াবলির জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর উসূলের কিছু মাসআলার জ্ঞানকেও বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ যদিও তা উসূলের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তা স্বয়ং উসূল নয়; কেননা কোনো জিনিসের অংশ তার মূল সত্তা থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে।
আর তাঁর বক্তব্য: "যার মাধ্যমে বিধানসমূহ উদ্ঘাটন বা আহরণ করা যায়" — এর মাধ্যমে ওই সকল মূলনীতির জ্ঞানকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা থেকে বিভিন্ন শিল্পকলা আহরণ করা হয় এবং সত্তা ও গুণাবলির জ্ঞানকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।
আর "তওয়াসসুল" (উপায় বা মাধ্যম হওয়া) উল্লেখ করার মাধ্যমে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এটি এমন একটি পথ যা মূলগতভাবে উদ্দেশ্য নয়, বরং অন্য একটি বিষয়ের মাধ্যম হিসেবে উদ্দেশ্য।
কেউ কেউ বলেছেন: "বিধানসমূহ" — অর্থাৎ সেগুলোর সমষ্টি — কথাটির মাধ্যমে 'ইলমুল খিলাফ' (মতভেদ বিষয়ক শাস্ত্র) বহির্ভূত হয়ে গেছে; কারণ এটি এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান যা থেকে কেবল কিছু বিধান আহরণ করা যায়, সব নয়।
তবে এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ এর ফলে ইলমুল খিলাফকে উসূলের অংশ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।
আর তাঁর কথা: "শরয়ি" — এর মাধ্যমে পারিভাষিক ও যৌক্তিক বিধানসমূহকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আর তাঁর কথা: "ফুরুয়ি" (শাখাগত) — এর মাধ্যমে উসূলি (মৌলিক) বিষয়সমূহকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আর তাঁর কথা: "সেগুলোর বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে" — এর মাধ্যমে কোনো কিছু বাদ দেওয়া হয়নি; কারণ বিধানসমূহ বলতে ফিকহি বিধানসমূহকেই বোঝানো হয়েছে, আর সেগুলো তো এমন (দলিলভিত্তিক) ছাড়া আর কিছুই নয়।
এটিই হলো সংজ্ঞার বিশদ বিশ্লেষণ। আর এই সংজ্ঞার ওপর যেসব সংশয় উত্থাপিত হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো— এটি মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যাপক নয়; কারণ এটি 'ইলমুল খিলাফ'-এর ওপরও প্রযোজ্য হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَقَدْ أُجِيبَ عَنْهُ بِأَنَّ الْخِلَافَ عِلْمٌ بِالْقَوَاعِدِ الَّتِي يُسْتَنْبَطُ بِهَا بَعْضُ الْأَحْكَامِ. وَهَذَا الْجَوَابُ ضَعِيفٌ، لِمَا ذَكَرْنَا.
بَلِ الْحَقُّ أَنْ يُقَالَ: خَرَجَ بِقَيْدِ " الِاسْتِنْبَاطِ " عِلْمُ الْخِلَافِ ; لِأَنَّهُ عِلْمٌ بِقَوَاعِدَ يُتَوَصَّلُ بِهَا إِلَى حِفْظِ الْأَحْكَامِ الْمُسْتَنْبَطَةِ أَوْ رَدِّهَا، وَلَا يُتَوَصَّلُ بِهَا إِلَى الِاسْتِنْبَاطِ.
وَمِنْهَا: أَنَّهُ قَدِ اعْتَبَرَ فِي الْحَدِّ إِضَافَةَ الْعِلْمِ إِلَى الْمَعْلُومِ، وَالْإِضَافَةُ إِلَى الْمَعْلُومِ خَارِجَةٌ عَنْ حَقِيقَتِهِ ; لِأَنَّهُ صِفَةٌ حَقِيقِيَّةٌ يَلْزَمُهَا الْإِضَافَةُ.
وَقَدْ أُجِيبَ عَنْهُ بِأَنَّ الْعِلْمَ الْمُطْلَقَ اخْتُلِفَ فِي كَوْنِهِ صِفَةً حَقِيقِيَّةً أَوْ إِضَافِيَّةً.
وَعَلَى التَّقْدِيرَيْنِ لَا تَرِدُ الشُّبْهَةُ. أَمَّا عَلَى الثَّانِي فَظَاهِرٌ. وَأَمَّا عَلَى الْأَوَّلِ ; فَلِأَنَّهُ لَا يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ عِلْمُ أُصُولِ الْفِقْهِ صِفَةً حَقِيقِيَّةً ; إِذِ الْقَوْمُ سَمَّوْا - فِي اصْطِلَاحِهِمْ - الْعِلْمَ الْمُضَافَ إِلَى الْجُمْلَةِ الْمَذْكُورَةِ: أُصُولَ الْفِقْهِ. فَلَا يَكُونُ الْمَعْلُومُ الَّذِي هُوَ مُتَعَلِّقُ الْعِلْمِ خَارِجًا.
وَفِيهِ نَظَرٌ ; لِأَنَّ الْمَعْلُومَ خَارِجٌ عَنِ الْعِلْمِ، سَوَاءٌ كَانَ الْعِلْمُ الْمُضَافُ إِلَى الْجُمْلَةِ الْمَذْكُورَةِ حَقِيقِيَّةً أَوْ إِضَافِيَّةً.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, 'ইলমুল খিলাফ' (মতভেদ সংক্রান্ত জ্ঞান) হলো এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে কিছু বিধান উদ্ভাবন করা হয়। তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে এই উত্তরটি দুর্বল।
বরং সঠিক কথা হলো এই যে: "ইস্তিনবাত" (উদ্ভাবন) শর্তের কারণে 'ইলমুল খিলাফ' সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে; কেননা এটি এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে উদ্ভাবিত বিধানসমূহ সংরক্ষণ করা যায় অথবা সেগুলোকে খণ্ডন করা যায়, কিন্তু এর মাধ্যমে ইস্তিনবাত (নতুন বিধান উদ্ভাবন) করা যায় না।
আর আপত্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো: সংজ্ঞার মধ্যে জ্ঞানের সম্পর্ক জ্ঞাত বিষয়বস্তুর (মালুম) দিকে গণ্য করা হয়েছে। অথচ জ্ঞাত বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া জ্ঞানের হাকীকত বা প্রকৃত সত্তার বহির্ভূত; কারণ জ্ঞান হলো একটি প্রকৃত গুণ যার জন্য কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া একটি আবশ্যকীয় বা আনুষঙ্গিক বিষয় মাত্র।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, সাধারণ জ্ঞান একটি প্রকৃত গুণ নাকি আপেক্ষিক গুণ, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
উভয় ধারণা মতেই এই সংশয় বা আপত্তিটি আসে না। দ্বিতীয়টির (আপেক্ষিক গুণ হওয়ার) ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট। আর প্রথমটির ক্ষেত্রে জবাব হলো: উসুলুল ফিকহ-এর জ্ঞান একটি প্রকৃত গুণ হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ ইমামগণ তাদের পরিভাষায় উল্লিখিত সমষ্টির সাথে সম্পর্কিত জ্ঞানকেই 'উসুলুল ফিকহ' নামকরণ করেছেন। সুতরাং জ্ঞাত বিষয়বস্তু (মালুম), যা জ্ঞানের সংশ্লিষ্ট বিষয়, তা সংজ্ঞার বহির্ভূত হবে না।
তবে এতে আপত্তি রয়েছে; কারণ জ্ঞাত বিষয়বস্তু (মালুম) সর্বদা জ্ঞানের হাকীকত থেকে আলাদা বা বহিরাগত বিষয়, চাই উল্লিখিত সমষ্টির সাথে সম্পর্কিত সেই জ্ঞানটি প্রকৃত গুণ হোক বা আপেক্ষিক।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَالْجَوَابُ عَنْهُ: أَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ الْإِضَافَةَ إِلَى الْمَعْلُومِ الْمُتَعَلِّقِ خَارِجَةٌ عَنِ الْعِلْمِ الْمُضَافِ إِلَى الْجُمْلَةِ الْمَذْكُورَةِ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ مِنْ عِلْمِ الْأُصُولِ هُوَ الْعِلْمُ الْمُضَافُ، لَا الْعِلْمُ الْمُطْلَقُ.
وَلَئِنْ سَلَّمْنَا خُرُوجَهَا، لَكِنْ لَا نُسَلِّمُ أَنَّ التَّعْرِيفَ بِالْأَمْرِ الْخَارِجِيِّ لَيْسَ بِحَدٍّ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْحَدِّ: الْمُعَرِّفُ الْجَامِعُ الْمَانِعُ، لَا الْحَدَّ الْحَقِيقِيَّ الْمُرَكَّبَ مِنَ الذَّاتِيَّاتِ.
وَمِنْهَا: أَنَّ الْقَوَاعِدَ تَنَاوَلَتْ خَبَرَ الْوَاحِدِ وَالْقِيَاسَ، وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا قَاعِدَةٌ ظَنِّيَّةٌ فَكَيْفَ يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ مَعْلُومًا؟ وَأُجِيبَ عَنْهُ لِاخْتِلَافِ الْجِهَتَيْنِ صَحَّ ذَلِكَ ; إِذْ كُلُّ وَاحِدٍ يُفِيدُ الظَّنَّ. وَبِهَذَا الِاعْتِبَارِ يُسَمَّى مَظْنُونًا. وَمِنْ جِهَةِ أَنَّهُ دَلَّ الْقَاطِعَ عَلَى وُجُوبِ اتِّبَاعَ الظَّنِّ، يَكُونُ مَعْلُومًا.
وَفِيهِ نَظَرٌ; لِأَنَّ الْقَاطِعَ دَلَّ عَلَى الْعِلْمِ بِوُجُوبِ الْعَمَلِ بِمُقْتَضَاهُ، وَلَا يَدُلُّ عَلَى الْعِلْمِ بِنَفْسِهِ. فَلَا يَكُونُ مَعْلُومًا مِنْ هَذِهِ الْجِهَةِ.
بَلِ الْجَوَابُ أَنْ يُقَالَ: لَا نُسَلِّمُ أَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنَ الْقِيَاسِ، وَخَبَرِ الْوَاحِدِ قَاعِدَةٌ. بَلْ كَوْنُ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مُفِيدًا لِلظَّنِّ قَاعِدَةٌ. فَالظَّنُّ مُتَعَلِّقٌ بِمَا أَفَادَهُ، وَالْعِلْمُ مُتَعَلِّقٌ بِنَفْسِهِ. وَلَا امْتِنَاعَ فِي تَعَلُّقِ الْعِلْمِ بِشَيْءٍ يَكُونُ مَا أَفَادَهُ مَظْنُونًا.
[حد أصول الفقه مضافا]ش - حَدُّ أُصُولِ الْفِقْهِ مِنْ حَيْثُ هُوَ مُضَافٌ - لَا مِنْ حَيْثُ هُوَ لَقَبٌ - إِنَّمَا يُعْرَفُ إِذَا عُرِفَ مُفْرَدَاتُهُ.
ش - الْأُصُولُ جَمْعُ الْأَصْلِ، وَهُوَ: مَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ الشَّيْءُ. وَقِيلَ: مَا يُبْتَنَى عَلَيْهِ الشَّيْءُ.
وَفَسَّرَهَا هَهُنَا بِالْأَدِلَّةِ. وَاللَّامُ فِي " الْأُصُولِ " وَ " الْأَدِلَّةِ " لِلْعَهْدِ. وَالْمَعْهُودُ: الْأُصُولُ الْمُضَافُ، وَالْأَدِلَّةُ السَّمْعِيَّةُ.
وَهَذَا التَّعْرِيفُ لَفْظِيٌّ مُنَاسِبٌ لِمَا فِي اللُّغَةِ ; لِأَنَّ الْأَدِلَّةَ يَحْتَاجُ إِلَيْهَا الشَّيْءُ وَيُبْتَنَى عَلَيْهَا.
ش - الْفِقْهُ لُغَةً: الْفَهْمُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [الإسراء: 44] أَيْ لَا تَفْهَمُونَ. وَفِي الِاصْطِلَاحِ مَا ذَكَرَهُ. وَالْعِلْمُ قَدْ مَرَّ تَفْسِيرُهُ.
وَقَدْ يُطْلَقُ عَلَى الْقَدْرِ الْمُشْتَرَكِ بَيْنَ الظَّنِّ وَالتَّقْلِيدِ وَالْيَقِينِ، وَهُوَ الِاعْتِقَادُ الرَّاجِحُ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] এর উত্তর হলো: আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের (মালুম) সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়াটি উল্লিখিত বাক্যটির সাথে সম্বন্ধিত 'ইলম' (জ্ঞান) থেকে বহির্ভূত; কারণ উসুল শাস্ত্রের ইলম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্বন্ধযুক্ত ইলম, নিরঙ্কুশ বা সাধারণ ইলম নয়।
আর যদি আমরা একে বহির্ভূত হিসেবে মেনেও নিই, তবুও আমরা এটি স্বীকার করি না যে বাহ্যিক বিষয়ের মাধ্যমে সংজ্ঞা প্রদান করা 'হাদ্দ' (সংজ্ঞা) নয়; কারণ এখানে 'হাদ্দ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন সংজ্ঞা যা ব্যাপক (জামি) ও বর্জনকারী (মানি), মূল সত্তাগত উপাদান দ্বারা গঠিত প্রকৃত সংজ্ঞাগত সীমা (হাদ্দ হাকিকি) নয়।
তার মধ্যে একটি আপত্তি এই যে: এই মূলনীতিগুলো খবর-ই-ওয়াহিদ এবং কিয়াসকে অন্তর্ভুক্ত করে, অথচ এগুলোর প্রতিটিই হলো ধারণাপ্রসূত (জান্নি) মূলনীতি। সুতরাং এগুলো কীভাবে 'জ্ঞাত' (মালুম) হওয়া সঠিক হতে পারে? এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, দুটি ভিন্ন দিক বিবেচনার কারণে এটি সঠিক হয়েছে; কারণ এগুলোর প্রতিটিই প্রবল ধারণা (জান্ন) প্রদান করে। এই বিচারে একে 'মাজুন' (ধারণাকৃত) বলা হয়। আর সুনিশ্চিত দলিল যেহেতু এই প্রবল ধারণা অনুসরণ করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ প্রদান করে, তাই সেই দিক থেকে এটি 'মালুম' (জ্ঞাত)।
তবে এতে আপত্তির অবকাশ আছে; কারণ সুনিশ্চিত দলিলটি সেই অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞানের ওপর প্রমাণ পেশ করে, কিন্তু বিষয়টি নিজে যে নিশ্চিত জ্ঞান তার ওপর প্রমাণ পেশ করে না। সুতরাং এই দিক থেকে এটি 'মালুম' বা জ্ঞাত হবে না।
বরং উত্তর হলো এই বলা: আমরা এটি স্বীকার করি না যে কিয়াস ও খবর-ই-ওয়াহিদ এর প্রতিটিই একটি স্বতন্ত্র মূলনীতি। বরং এগুলোর প্রতিটিই যে প্রবল ধারণা প্রদানকারী—সেটিই হলো মূলনীতি। সুতরাং প্রবল ধারণা (জান্ন) সংশ্লিষ্ট সেই বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত যা তা থেকে অর্জিত হয়েছে, আর জ্ঞান (ইলম) স্বয়ং সেই মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আর কোনো বিষয়ের সাথে জ্ঞানের সম্পৃক্ততা অসম্ভব নয় যার অর্জিত ফলটি হবে ধারণাপ্রসূত।
[সম্বন্ধযুক্ত শব্দ হিসেবে উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা]ব্যাখ্যা - উসুলুল ফিকহ যখন একটি পারিভাষিক উপাধি হিসেবে নয় বরং সম্বন্ধযুক্ত শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়, তখন এর সংজ্ঞা তখনই জানা সম্ভব যখন এর একক শব্দগুলোর পরিচয় জানা যাবে।
ব্যাখ্যা - 'আল-উসুল' হলো 'আল-আসল' এর বহুবচন, আর তা হলো: কোনো বস্তু যার মুখাপেক্ষী হয়। আর বলা হয়েছে: যার ওপর কোনো কিছু ভিত্তি লাভ করে।
আর এখানে একে 'দলিলসমূহ' দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 'আল-উসুল' এবং 'আদিল্লাহ' শব্দের শুরুতে থাকা 'আলিফ-লাম' হলো ইতিপূর্বে পরিচিত বিষয়ের জন্য। আর এখানে পরিচিত বিষয় হলো: সম্বন্ধযুক্ত উসুল এবং শ্রবণনির্ভর দলিলসমূহ।
আর এই সংজ্ঞাটি আভিধানিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি শাব্দিক সংজ্ঞা; কারণ দলিলসমূহের ওপর কোনো বিষয় মুখাপেক্ষী থাকে এবং এর ওপরই তা ভিত্তি লাভ করে।
ব্যাখ্যা - 'আল-ফিকহ' এর আভিধানিক অর্থ হলো: অনুধাবন করা। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তাদের তাসবিহ অনুধাবন করতে পারো না} [সূরা বনী ইসরাঈল: ৪৪] অর্থাৎ তোমরা বোঝো না। আর পরিভাষায় তা-ই যা তিনি উল্লেখ করেছেন। আর 'ইলম' এর ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর কখনো কখনো এটি প্রবল ধারণা, অন্ধ অনুসরণ এবং সুনিশ্চিত বিশ্বাস—এই তিনের সাধারণ মানের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যা মূলত অগ্রগণ্য বিশ্বাস।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ص - فَالْأُصُولُ: الْأَدِلَّةُ.
ص - وَالْفِقْهُ: الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ الْفَرْعِيَّةِ عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ بِالِاسْتِدْلَالِ.
ــ
[الشرح]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
মূল - সুতরাং মূলনীতি হলো: প্রমাণাদি।
মূল - আর ফিকহ হলো: দলিল প্রয়োগের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রমাণাদি থেকে সংগৃহীত শাখাগত শরয়ি বিধানাবলির জ্ঞান।
ــ
[ব্যাখ্যা]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَالْأَحْكَامُ سَيَأْتِي تَفْسِيرُهَا.
وَالْجِهَةُ الْمُوجِبَةُ لِلنِّسْبَةِ إِلَى الشَّرْعِ: كَوْنُ تَعَلُّقَاتِهَا، أَوْ كَوْنُ الْعِلْمِ بِتَعَلُّقَاتِهَا مُسْتَفَادًا مِنْهُ، لَا كَوْنُ وُجُودَاتِهَا مِنْهُ، كَمَا قِيلَ، فَإِنَّهُ غَيْرُ صَحِيحٍ، لِأَنَّ وُجُودَ الْحُكْمِ مُتَحَقِّقٌ قَبْلَ الشَّرْعِ لِكَوْنِهِ قَدِيمًا.
وَالْجِهَةُ الْمُوجِبَةُ لِلنِّسْبَةِ إِلَى الْفَرْعِ: كَوْنُ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ مُتَفَرِّعَةً عَلَى الْأَدِلَّةِ الْأُصُولِيَّةِ، أَوْ كَوْنُهَا مُتَعَلِّقَةً بِالْعَمَلِ الَّذِي هُوَ فَرْعُ الْعِلْمِ.
وَالْأَدِلَّةُ التَّفْصِيلِيَّةُ: هِيَ الْأَمَارَاتُ. وَمُتَعَلِّقُ الْعِلْمِ إِمَّا أَنْ يَكُونَ قَائِمًا بِذَاتِهِ، أَوْ لَا. وَالْأَوَّلُ: الذَّاتُ، كَالْجَوَاهِرِ. وَالثَّانِي، إِمَّا أَنْ يَكُونَ مُبْتَدَأً لِلتَّغَيُّرِ، أَوْ لَا.
وَالْأَوَّلُ: الْأَفْعَالُ. وَالثَّانِي - إِمَّا أَنْ يَكُونَ مُقْتَضِيًا لِنِسْبَةٍ مُفِيدَةٍ، أَوْ لَا. وَالْأَوَّلُ: الْأَحْكَامُ. وَالثَّانِي: الصِّفَاتُ الْحَقِيقِيَّةُ.
فَخَرَجَ بِالْأَحْكَامِ: الْعِلْمُ بِالذَّوَاتِ وَالصِّفَاتِ الْحَقِيقِيَّةِ وَالْأَفْعَالِ. وَبِالشَّرْعِيَّةِ: الْأَحْكَامُ الْعَقْلِيَّةُ. وَبِالْفَرْعِيَّةِ: الْأُصُولِيَّةُ. وَبِقَوْلِهِ: عَنْ أَدِلَّتِهَا
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] বিধানসমূহের ব্যাখ্যা সামনে আসবে।
শরীয়তের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার কারণ হলো: এগুলোর সংশ্লিষ্টতা অথবা এগুলোর সংশ্লিষ্টতার জ্ঞান শরীয়ত হতে আহরিত হওয়া, তাদের অস্তিত্ব শরীয়ত হতে হওয়া নয়—যেমনটি বলা হয়েছে; কারণ তা সঠিক নয়। কেননা বিধানের অস্তিত্ব শরীয়ত (প্রকাশিত হওয়ার) পূর্বেই সাব্যস্ত, কারণ তা অনাদি।
শাখার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার কারণ হলো: এগুলোর বিস্তারিত দলিলসমূহ মৌলিক দলিলসমূহের ওপর শাখা হিসেবে বিন্যস্ত হওয়া, অথবা এগুলোর আমলের (কর্মের) সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া যা জ্ঞানের একটি শাখা।
বিস্তারিত দলিলসমূহ হলো নিদর্শনসমূহ। জ্ঞানের সংশ্লিষ্ট বিষয় হয় স্বীয় সত্তায় বিদ্যমান থাকবে, অথবা থাকবে না। প্রথমটি হলো সত্তা, যেমন সারবস্তুসমূহ। দ্বিতীয়টি হয় পরিবর্তনের সূচনা হবে, অথবা হবে না।
প্রথমটি হলো কর্মসমূহ। দ্বিতীয়টি—হয় কোনো উপকারী সম্বন্ধের দাবিদার হবে, অথবা হবে না। প্রথমটি হলো বিধানসমূহ। দ্বিতীয়টি হলো প্রকৃত গুণাবলি।
অতএব, "বিধানসমূহ" শব্দের মাধ্যমে সত্তা, প্রকৃত গুণাবলি এবং কর্মসমূহ সংক্রান্ত জ্ঞান বহির্ভূত হয়ে গেল। "শরীয়তসম্মত" পদের মাধ্যমে যৌক্তিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিধানসমূহ বাদ পড়ল। "শাখা সংক্রান্ত" পদের মাধ্যমে মূলনীতি সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বাদ পড়ল। আর তাঁর উক্তি "তাদের দলিলসমূহ হতে" এর মাধ্যমে—
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] التَّفْصِيلِيَّةِ: عِلْمُ اللَّهِ تَعَالَى وَرَسُولِهِ، وَعِلْمُنَا بِوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالْحَجِّ ; لِأَنَّ عِلْمَنَا بِهَذِهِ الْأَشْيَاءِ ضَرُورِيٌّ غَيْرُ مُحْتَاجٍ إِلَى دَلِيلٍ.
وَبِالِاسْتِدْلَالِ: اعْتِقَادُ الْمُسْتَفْتِي. وَالْبَاقِي قَوْلُهُ: " بِالْأَحْكَامِ " مُتَعَلِّقٌ بِمَحْذُوفٍ تَقْدِيرُهُ: الْعِلْمُ الْمُتَعَلِّقُ بِالْأَحْكَامِ. وَلَيْسَ الْمُرَادُ مِنَ الْعِلْمِ بِهَا تَصَوُّرَهَا ; لِأَنَّهُ مِنْ مَبَادِئِ أُصُولِ الْفِقْهِ، وَلَا التَّصْدِيقَ بِثُبُوتِهَا فِي أَنْفُسِهَا ; فَإِنَّهُ مِنْ مَسَائِلِ الْكَلَامِ بَلِ التَّصْدِيقُ بِكَوْنِهَا مُتَعَلِّقَةً بِالْأَفْعَالِ. كَقَوْلِنَا: شُرْبُ النَّبِيذِ حَرَامٌ، وَالْبَيْعُ حَلَالٌ، وَأَمْثَالِ ذَلِكَ.
بَقِيَ هَهُنَا بَحْثٌ: وَهُوَ أَنَّ التَّصْدِيقَ عَلَى الْوَجْهِ الْمَذْكُورِ بِمَعْنَى الْيَقِينِ، أَوْ بِمَعْنَى الِاعْتِقَادِ الرَّاجِحِ الْمُتَنَاوِلِ لِلْيَقِينِ وَالظَّنِّ وَالتَّقْلِيدِ.
قَالَ بَعْضُ الشَّارِحِينَ: لَوْ كَانَ بِمَعْنَى الْيَقِينِ - أَيِ الِاعْتِقَادِ الْجَازِمِ الْمُطَابِقِ، لَا لِمَحْضِ التَّقْلِيدِ، وَتَعَلَّقَ قَوْلُهُ: " عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ " بِالْفَرْعِيَّةِ - لَمْ يَدْخُلِ التَّقْلِيدُ ; لِأَنَّ اعْتِقَادَ الْمُقَلِّدِ غَيْرُ يَقِينِيٍّ.
وَيَخْرُجُ عِلْمُ الْبَارِي بِـ " الِاسْتِدْلَالِ " لَا بِقَيْدِ " عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ " عَلَى تَقْدِيرِ تَعَلُّقِهَا بِالْفَرْعِيَّةِ ; لِأَنَّ تَفَرُّعَ الْأَحْكَامِ عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ لَا يُوجِبُ تَفَرُّعَ الْعِلْمِ الْمُتَعَلِّقِ بِهَا.
وَفِيهِ نَظَرٌ ; لِأَنَّ فَرْعِيَّةَ الْأَحْكَامِ عَنْهَا، إِمَّا مِنْ حَيْثُ الْوُجُودِ، أَوْ مِنْ حَيْثُ الْعِلْمِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] বিস্তারিত: আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের জ্ঞান এবং সালাত, যাকাত ও হজ্জ ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান; কারণ এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান স্বত:সিদ্ধ বা জরুরি, যা দলিলের মুখাপেক্ষী নয়।
এবং দলিল বা প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান: এটি ফতোয়া প্রার্থীর বিশ্বাসকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর অবশিষ্টাংশ "বিধানাবলির দ্বারা" কথাটি একটি ঊহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার মূল রূপ হলো: বিধানাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞান। আর বিধানাবলির এই জ্ঞান দ্বারা সেগুলোর কেবল কল্পনা করা (তাসাউর) উদ্দেশ্য নয়; কারণ তা উসূলে ফিকহের প্রাথমিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। আবার বিধানগুলো স্বয়ং সত্য হওয়ার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনও (তাসদিক) উদ্দেশ্য নয়; কারণ তা ইলমুল কালামের মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। বরং বিধানগুলো আমল বা কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিশ্বাস স্থাপন করাই এখানে উদ্দেশ্য। যেমন আমাদের কথা: নাবীয পান করা হারাম, ক্রয়-বিক্রয় হালাল এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।
এখানে একটি গবেষণা অবশিষ্ট রয়েছে: আর তা হলো, উল্লিখিত পদ্ধতিতে বিশ্বাস (তাসদিক) কি নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকীন) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, নাকি এমন প্রবল বিশ্বাস অর্থে যা নিশ্চিত বিশ্বাস, প্রবল ধারণা এবং অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ)-কে অন্তর্ভুক্ত করে।
কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার বলেন: যদি তা নিশ্চিত বিশ্বাসের অর্থে হয়—অর্থাৎ নিছক অন্ধ অনুসরণ নয় বরং এমন সুদৃঢ় বিশ্বাস যা বাস্তবতার অনুকূল, আর "তাদের বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে" এই কথাটি যদি গৌণ বা শাখা বিষয়াবলির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়—তবে অন্ধ অনুসরণ এর অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ মুকাল্লিদ বা অনুসারীর বিশ্বাস নিশ্চিত পর্যায়ের নয়।
আর "দলিল বা প্রমাণের দ্বারা" এই শর্তের মাধ্যমে মহান স্রষ্টার জ্ঞান বাদ পড়ে যায়, "তাদের বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে" এই শর্তের মাধ্যমে নয়—যদি শেষোক্ত শর্তটিকে গৌণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ধরা হয়; কারণ বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে বিধানাবলির শাখা নির্গত হওয়া উক্ত বিধান সংশ্লিষ্ট জ্ঞানও শাখা হিসেবে সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে না।
এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ দলিল হতে বিধানের শাখা নির্গত হওয়া হয় অস্তিত্বের দিক থেকে, অথবা জ্ঞানের দিক থেকে।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَالْأَوَّلُ بَاطِلٌ; ضَرُورَةَ كَوْنِ الْحُكْمِ قَدِيمًا، وَالثَّانِي يُلْزِمُ تَفَرُّعَ الْعِلْمِ.
وَالْعَجَبُ أَنَّهُ ذَكَرَ بَعْدَ هَذَا فِي شَرْحِهِ أَنَّ الْفَرْعِيَّةَ صِفَةٌ لِلْأَحْكَامِ وَهِيَ بِاعْتِبَارِ التَّصَوُّرِ، لَا بِاعْتِبَارِ الْوُجُودِ ; إِذْ عَدَمُ الْأَدِلَّةِ لَا يُوجِبُ عَدَمَهَا، وَعَدَمُ الْفَرْعِ مُرَتَّبٌ عَلَى عَدَمِ الْأَصْلِ، فَهِيَ فَرْعٌ بِاعْتِبَارِ الْعِلْمِ بِحُصُولِهَا لِلْأَفْعَالِ.
وَأَيْضًا - الْأَحْكَامُ لَيْسَتْ هِيَ فَرْعًا، بَلْ مَنْسُوبَةٌ إِلَى الْفَرْعِ. وَالْحَقُّ أَنَّ الْعِلْمَ بِالْمَعْنَى الْأَعَمِّ.
وَقَوْلُهُ: " عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ " مُتَعَلِّقٌ بِالْعِلْمِ. وَبِهِ خَرَجَ عِلْمُ اللَّهِ تَعَالَى وَرَسُولِهِ، وَعَلْمُنَا بِوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ ; لِأَنَّهُ غَيْرُ مُسْتَفَادٍ مِنَ الْأَدِلَّةِ.
وَمَا قِيلَ: إِنَّ عِلْمَ اللَّهِ تَعَالَى بِالْأَحْكَامِ عَنِ " الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ " ; لِأَنَّ الْعِلْمَ بِالْعِلَّةِ مُسْتَلْزِمٌ لِلْعِلْمِ بِالْمَعْلُولِ، فَبَاطِلٌ ; لِأَنَّ الْأَدِلَّةَ لَا تَكُونُ عِلَّةً لِلْأَحْكَامِ، بَلْ تَكُونُ أَمَارَاتٍ لَهَا، لِمَا قِيلَ: إِنَّ الدَّلِيلَ بِالْمَعْنَى الْمَذْكُورِ - وَهُوَ: مَا يُمْكِنُ التَّوَصُّلُ بِصَحِيحِ النَّظَرِ فِيهِ إِلَى مَطْلُوبٍ خَبَرِيٍّ - يَمْنَعُ أَنْ يَكُونَ عِلْمُهُ تَعَالَى عَنِ الْأَدِلَّةِ ; ضَرُورَةَ امْتِنَاعِ حُصُولِ الْعِلْمِ لَهُ بِالنَّظَرِ ; لِأَنَّ مَا يُمْكِنُ التَّوَصُّلُ بِصَحِيحِ النَّظَرِ فِيهِ جَازَ أَنْ يَكُونَ مُسْتَلْزِمًا لِلْمَطْلُوبِ الْخَبَرِيِّ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يُنْظَرَ فِيهِ. فَلَا يَلْزَمُ مِنْ حُصُولِ عِلْمِهِ تَعَالَى عَنِ الْأَدِلَّةِ، حُصُولُهُ بِالنَّظَرِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা]প্রথমটি বাতিল; কেননা বিধান অনাদি হওয়া অবধারিত, আর দ্বিতীয়টি জ্ঞানের শাখাভুক্ত হওয়াকে অপরিহার্য করে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি এর পরে তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শাখাভুক্ত হওয়া বিধানের একটি বৈশিষ্ট্য যা কেবল উপলব্ধির বিচারে, অস্তিত্বের বিচারে নয়। কারণ দলিলের অনুপস্থিতি বিধানের অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে না, অথচ মূলের অনুপস্থিতি শাখার অনুপস্থিতিকে অবধারিত করে। সুতরাং কর্মসমূহের ক্ষেত্রে বিধান অর্জিত হওয়ার জ্ঞানের বিচারে এগুলো শাখাভুক্ত।
তদুপরি, বিধানগুলো সরাসরি শাখা নয়, বরং শাখার সাথে সম্পর্কিত। আর সঠিক কথা হলো, এখানে জ্ঞান শব্দটি অধিকতর ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আর তাঁর উক্তি "তাদের বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে" অংশটি 'জ্ঞান' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর জ্ঞান, তাঁর রাসূলের জ্ঞান এবং সালাত ও জাকাত ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সংজ্ঞার বহির্ভূত হয়ে যায়; কারণ এ জ্ঞান বিস্তারিত দলিল হতে আহরিত নয়।
আর যা বলা হয়েছে—বিধানসমূহ সম্পর্কে মহান আল্লাহর জ্ঞান "বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে" অর্জিত, কারণ হেতু সম্পর্কে জ্ঞান কার্যের জ্ঞানকে অপরিহার্য করে—তা বাতিল। কারণ দলিলসমূহ বিধানের হেতু নয়, বরং সেগুলো বিধানের নিদর্শক বা চিহ্ন মাত্র। কেননা বলা হয়েছে: উল্লিখিত অর্থে দলিল—অর্থাৎ যার মধ্যে সঠিক চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে কোনো সংবাদমূলক লক্ষ্য বা গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব—তা মহান আল্লাহর জ্ঞান দলিল হতে হওয়াকে অসম্ভব করে দেয়; কারণ চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে তাঁর জ্ঞান অর্জন হওয়া অসম্ভব। কেননা যার মাধ্যমে সঠিক চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব, তা চিন্তাগবেষণা ছাড়াও উক্ত সংবাদমূলক লক্ষ্যের জন্য অপরিহার্য হওয়া সম্ভব। সুতরাং মহান আল্লাহর জ্ঞান দলিল থেকে হওয়া মানেই তা চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে অর্জিত হওয়াকে আবশ্যক করে না।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] فَإِنْ قِيلَ: فَعَلَى هَذَا قَيْدُ " الِاسْتِدْلَالِ " ضَائِعٌ ; لِأَنَّهُ يَخْرُجُ بِقَيْدِ " عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ " عِلْمُ اللَّهِ تَعَالَى وَرَسُولِهِ، وَعِلْمُنَا بِوُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالْحَجِّ، وَاعْتِقَادُ الْمُسْتَفْتِي، لِأَنَّهُ لَيْسَ شَيْءٌ مِنْهَا حَاصِلًا عَنِ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ!
أُجِيبَ عَنْهُ بِأَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ اعْتِقَادَ الْمُسْتَفْتِي لَيْسَ بِحَاصِلٍ عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ. وَذَلِكَ لِأَنَّ اعْتِقَادَ الْمُسْتَفْتِي مُسْتَنِدٌ إِلَى عِلْمِ الْمُفْتِي الْمُسْتَنِدِ إِلَى الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ. فَاعْتِقَادُ الْمُسْتَفْتِي مُسْتَنِدٌ إِلَى الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ.
وَقَوْلُنَا: الْعِلْمُ الْحَاصِلُ عَنِ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ لَا يَقْتَضِي أَنْ يَكُونَ حَاصِلًا عَنْهَا بِلَا وَاسِطَةٍ. فَقَوْلُهُ: " بِالِاسْتِدْلَالِ " يُخْرِجُ اعْتِقَادَ الْمُسْتَفْتِي ; لِأَنَّهُ وَإِنْ كَانَ حَاصِلًا عَنْهَا، لَكِنَّهُ لَيْسَ بِالِاسْتِدْلَالِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] যদি প্রশ্ন করা হয়: এই ভিত্তিতে "দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে" (আল-ইস্তিদলাল) শর্তটি অনর্থক; কারণ "বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে" (আন আদিল্লাতিহাত তাফসিলিয়্যাহ) শর্তটির মাধ্যমেই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জ্ঞান, সালাত, যাকাত ও হজ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান এবং মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীর (মুস্তাফতি) বিশ্বাস সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়; কেননা এগুলোর কোনোটিই বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে সরাসরি অর্জিত নয়!
এর উত্তরে বলা হয় যে, আমরা এটি স্বীকার করি না যে মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীর বিশ্বাস বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত নয়। কারণ মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীর বিশ্বাস মুফতির জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, আর মুফতির জ্ঞান বিস্তারিত দলিলসমূহের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীর বিশ্বাসও বিস্তারিত দলিলসমূহের ওপরই নির্ভরশীল।
আর আমাদের বক্তব্য: "বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত জ্ঞান" — এটি এমনটি দাবি করে না যে, সেই জ্ঞান কোনো মাধ্যম ছাড়াই অর্জিত হতে হবে। অতএব, লেখকের উক্তি: "দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে" শর্তটি মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীর বিশ্বাসকে সংজ্ঞার বাইরে নিয়ে যায়; কারণ যদিও তা দলিলসমূহ থেকে অর্জিত, কিন্তু তা সরাসরি দলিল উপস্থাপনের (ইস্তিদলাল) মাধ্যমে অর্জিত নয়।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] فَإِنْ قِيلَ: مَا قِيلَ فِي عَدَمِ خُرُوجِهِ بِقَوْلِهِ: " عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ " يُمْكِنُ أَنْ يُقَالَ فِي عَدَمِ خُرُوجِهِ بِـ " الِاسْتِدْلَالِ ". أُجِيبَ بِأَنَّ تَقْدِيرَهُ بِالِاسْتِدْلَالِ عَلَيْهِ، أَيْ عَلَى الْعِلْمِ، وَاعْتِقَادُ الْمُسْتَفْتِي لَمْ يُسْتَدَلَّ عَلَيْهِ. هَذَا إِذَا أُرِيدَ بِالْعِلْمِ الْمَعْنَى الْأَعَمُّ.
وَأَمَّا إِذَا أُرِيدَ بِالْعِلْمِ: الْيَقِينُ، يَلْزَمُ بُطْلَانُ التَّعْرِيفِ مِنْ وَجْهَيْنِ: الْأَوَّلُ: أَنَّهُ لَمْ يَتَنَاوَلِ الْعِلْمُ حِينَئِذٍ اعْتِقَادَ الْمُسْتَفْتِي، فَلَمْ يَحْتَجْ إِلَى قَيْدٍ يُخْرِجُهُ، فَيَكُونُ قَيْدُ " الِاسْتِدْلَالِ " ضَائِعًا.
وَالثَّانِي: أَنَّهُ تَرِدُ الشُّبْهَةُ الْمَشْهُورَةُ، وَهِيَ: أَنَّ الْفِقْهَ مِنْ بَابِ الظُّنُونِ ; لِأَنَّهُ مُسْتَفَادٌ مِنَ الْأَدِلَّةِ الظَّنِّيَّةِ. وَالْمُسْتَفَادُ مِنَ الظَّنِّيِّ ظَنِّيٌّ، فَكَيْفَ يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ عِلْمًا. وَمَا ذَكَرُوهُ فِي جَوَابِهِ ضَعِيفٌ.
أَمَّا تَقْرِيرُ الْجَوَابِ، فَهُوَ أَنْ يُقَالَ: إِنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ الْفِقْهَ مِنْ بَابِ الظُّنُونِ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْعِلْمِ بِالْأَحْكَامِ الْعِلْمُ بِوُجُوبِ الْعَمَلِ بِالْأَحْكَامِ، وَهُوَ قَطْعِيٌّ ; لِأَنَّهُ ثَابِتٌ بِدَلِيلٍ قَطْعِيٍّ. وَذَلِكَ لِأَنَّ الْمُجْتَهِدَ إِذَا ظَنَّ الْحُكْمَ، حَصَلَ عِنْدَهُ مُقُدِّمَتَانِ قَطْعِيَّتَانِ. إِحْدَاهَا: أَنَّ هَذَا الْحُكْمَ مَظْنُونٌ. وَهِيَ ضَرُورِيَّةٌ. وَالثَّانِيَةُ: أَنَّ كُلَّ مَا هُوَ مَظْنُونٌ وَجَبَ الْعَمَلُ بِهِ لِلْإِجْمَاعِ وَلِأَنَّ الظَّنَّ هُوَ الْحُكْمُ بِالطَّرَفِ الرَّاجِحِ. فَإِمَّا أَنْ يُعْمَلَ بِهِ وَبِالطَّرَفِ الْآخَرِ فَيَلْزَمُ الْجَمْعُ بَيْنَ النَّقِيضَيْنِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[ব্যাখ্যা] যদি বলা হয়: "তার বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে" — এই উক্তির মাধ্যমে যা (মুস্তাফতি বা ফাতাওয়া প্রার্থীর বিশ্বাস) বাদ না যাওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, "দলিল প্রয়োগের (ইস্তিদলাল)" মাধ্যমেও তা বাদ না যাওয়ার বিষয়ে একই কথা বলা সম্ভব। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এখানে দলিল প্রয়োগের বিষয়টি সেই জ্ঞানের ওপর অর্থাৎ জ্ঞানের স্বপক্ষে দলিল প্রয়োগ উদ্দেশ্য; অথচ মুস্তাফতির বিশ্বাসের স্বপক্ষে কোনো দলিল প্রয়োগ করা হয় না। এটি তখন প্রযোজ্য যখন জ্ঞান (ইলম) দ্বারা এর ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়।
পক্ষান্তরে, যদি জ্ঞান দ্বারা নিশ্চিত বিশ্বাস (একিন) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তবে সংজ্ঞাটি দুই দিক থেকে অসার হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে: প্রথমত: তখন 'জ্ঞান' শব্দটি মুস্তাফতির বিশ্বাসকে অন্তর্ভুক্তই করে না, ফলে তাকে বাদ দেওয়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত শর্তের প্রয়োজন পড়ে না। এমতাবস্থায় "দলিল প্রয়োগ" শর্তটি নিরর্থক হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: এতে সেই প্রসিদ্ধ সংশয়টি উদিত হয়, আর তা হলো: ফিকহ হলো ধারণাপ্রসূত বিষয়ের (জন্নিয়াত) অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি ধারণালব্ধ দলিলসমূহ থেকে আহরিত। আর ধারণালব্ধ দলিল থেকে যা অর্জিত হয় তা ধারণাপ্রসূতই হয়ে থাকে, এমতাবস্থায় একে 'জ্ঞান' বলা কীভাবে সঠিক হতে পারে? আর তারা এর উত্তরে যা উল্লেখ করেছেন তা দুর্বল।
উত্তরের বিস্তারিত বিবরণ হলো এই যে, আমরা এটা স্বীকার করি না যে ফিকহ ধারণাপ্রসূত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; কেননা বিধানাবলি সংক্রান্ত 'জ্ঞান' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই বিধান অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত জ্ঞান, আর তা অকাট্য (কাত'য়ী); কারণ তা অকাট্য দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত। তা এই কারণে যে, মুজতাহিদ যখন কোনো বিধানের ব্যাপারে প্রবল ধারণা পোষণ করেন, তখন তার নিকট দুটি অকাট্য প্রস্তাবনা (মুকাদ্দিমা) উপস্থিত হয়। এর একটি হলো: এই বিধানটি ধারণালব্ধ, যা একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। দ্বিতীয়টি হলো: ইজমার ভিত্তিতে এবং এই কারণে যে, ধারণা হলো কোনো বিষয়ের প্রবল দিকের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, তাই প্রতিটি ধারণালব্ধ বিষয়ের ওপর আমল করা ওয়াজিব। অতএব, হয় এই প্রবল দিক এবং এর বিপরীত দিক—উভয়টির ওপর আমল করতে হবে, যা দুটি বিপরীতমুখী বিষয়ের একত্রীকরণ আবশ্যক করে তুলবে (যা অসম্ভব)।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] أَوْ لَا بِهَذَا وَلَا بِذَاكَ. فَيَلْزَمُ ارْتِفَاعُ النَّقِيضَيْنِ. أَوْ بِالْمَرْجُوحِ فَقَطْ، فَيَلْزَمُ تَرْجِيحُ الْمَرْجُوحِ، وَهُوَ خِلَافُ الْعَقْلِ. فَتَعَيَّنَ الْعَمَلُ بِالطَّرَفِ الرَّاجِحِ قَطْعًا.
وَيَلْزَمُ مِنْ هَاتَيْنِ الْمُقَدِّمَتَيْنِ قَوْلُنَا: هَذَا الْحُكْمُ يَجِبُ الْعَمَلُ بِهِ قَطْعًا، إِلَّا أَنَّهُ وَقَعَ الظَّنُّ فِي طَرِيقِهِ ; لِأَنَّهُ وَقَعَ مَحْمُولًا فِي الصُّغْرَى، مَوْضُوعًا فِي الْكُبْرَى. وَلَا يَلْزَمُ مِنْ كَوْنِ الْمَحْمُولِ ظَنًّا، كَوْنُ الْقَضِيَّةِ ظَنِّيَّةً.
أَمَّا بَيَانُ ضَعْفِهِ فَمِنْ وُجُوهٍ: مِنْهَا: أَنَّ الْأَحْكَامَ لَا تَدُلُّ عَلَى وُجُوبِ الْعَمَلِ بِهَا إِلَّا عَلَى سَبِيلِ الْمَجَازِ، وَالْأَلْفَاظُ الْمَجَازِيَّةُ لَا تُعْتَبَرُ فِي [التَّعْرِيفَاتِ] .
فَإِنْ قِيلَ: لَا نُسَلِّمُ أَنَّ الْأَلْفَاظَ الْمَجَازِيَّةَ لَا تُعْتَبَرُ فِي [التَّعْرِيفَاتِ] فَإِنَّ الْحُدُودَ النَّاقِصَةَ وَالرُّسُومَ التَّامَّةَ وَالنَّاقِصَةَ لَا تَدُلُّ عَلَى مَاهِيَّةِ الْمَحْدُودِ وَالْمَرْسُومِ إِلَّا بِالْمَجَازِ.
أُجِيبَ عَنْهُ بِأَنَّ لَفْظَ الْحَدِّ النَّاقِصِ وَالرَّسْمَ، لَمْ يَرِدْ بِهِمَا الْمَحْدُودُ وَالْمَرْسُومُ، وَإِلَّا لَكَانَ تَعْرِيفًا لِلشَّيْءِ بِنَفْسِهِ، بَلْ أُرِيدَ مِنْهُمَا الْمَفْهُومُ الْمُطَابَقِيُّ وَدَلَالَتُهُمَا عَلَى مَفْهُومِهِمَا الْمُطَابَقِيِّ بِالْحَقِيقَةِ، لَا بِالْمَجَازِ.
وَمِنْهَا: أَنَّ الْعِلْمَ بِوُجُوبِ الْعَمَلِ بِهَا مُسْتَفَادٌ مِنَ الدَّلِيلِ الْإِجْمَالِيِّ، وَالْفِقْهُ مِنَ الْأَدِلَّةِ التَّفْصِيلِيَّةِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] অথবা না এটা দ্বারা, আর না ওটা দ্বারা। সেক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী দুই বিষয়েরই তিরোধান আবশ্যক হয়ে পড়ে। অথবা কেবল দুর্বল পক্ষের প্রাধান্য দিয়ে, তবে সেক্ষেত্রে দুর্বলকে সবলের ওপর প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক হয়, যা যুক্তিবিরুদ্ধ। তাই নিশ্চিতভাবে প্রবল পক্ষের ওপর আমল করা নির্ধারিত হয়ে যায়।
আর এই দুটি প্রাঙ্গণ থেকে আমাদের এই সিদ্ধান্তটিই আসে যে: এই বিধানের ওপর আমল করা নিশ্চিতভাবে আবশ্যক (ওয়াজিব), তবে এর পদ্ধতিতে ধারণা আপতিত হয়েছে; কারণ এটি ক্ষুদ্র প্রাঙ্গণে বিধেয় হিসেবে এবং বৃহৎ প্রাঙ্গণে উদ্দেশ্য হিসেবে এসেছে। আর বিধেয় ধারণাপ্রসূত হওয়ার কারণে পুরো যুক্তিটি ধারণাপ্রসূত হওয়া আবশ্যক নয়।
এর দুর্বলতা বর্ণনায় কয়েকটি দিক রয়েছে: তন্মধ্যে একটি হলো, বিধানসমূহ রূপক পদ্ধতি ব্যতীত নিজেদের ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে না, আর সংজ্ঞাসমূহের ক্ষেত্রে রূপক শব্দাবলি গ্রহণযোগ্য নয়।
যদি বলা হয়: সংজ্ঞায় রূপক শব্দাবলি গ্রহণযোগ্য নয়—একথা আমরা মেনে নিচ্ছি না; কারণ অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা এবং পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ বিবরণসমূহ সংজ্ঞায়িত বিষয়ের স্বরূপকে রূপক পদ্ধতি ছাড়া নির্দেশ করে না।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা ও বিবরণের শব্দাবলি দ্বারা সরাসরি সংজ্ঞায়িত বস্তুকে উদ্দেশ্য নেওয়া হয়নি, অন্যথায় তা কোনো বস্তুকে তার নিজের মাধ্যমেই সংজ্ঞায়িত করার নামান্তর হতো। বরং এর দ্বারা শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, আর তাদের স্বীয় শাব্দিক অর্থের ওপর নির্দেশ করাটা প্রকৃত অর্থেই, রূপকভাবে নয়।
আরেকটি দিক হলো: বিধানের ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞানটি সামগ্রিক দলিল থেকে অর্জিত, আর ফিকহ অর্জিত হয় বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] فَإِنْ قِيلَ: لَا نُسَلِّمُ أَنَّهُ مِنَ الدَّلِيلِ الْإِجْمَالِيِّ ; لِأَنَّ الصُّغْرَى فِي كُلِّ قِيَاسٍ مُغَايِرَةٌ لِلصُّغْرَى فِي الْآخَرِ ; لِأَنَّ الْمَحْكُومَ بِهِ - وَهُوَ قَوْلُنَا " مَظْنُونٌ " - فِي كُلٍّ مِنْهَا يُغَايِرُ الْمَحْكُومَ بِهِ فِي الْآخَرِ ; لِأَنَّ ظَنَّ كُلِّ حُكْمٍ مُسْتَفَادٌ عَنْ دَلِيلٍ خَاصٍّ بِهِ، فَيَكُونُ مُغَايِرًا لِلظَّنِّ الْحَاصِلِ مِنْ دَلِيلٍ آخَرَ. وَتَغَايُرُ الظَّنِّ يُوجِبُ تَغَايُرَ الْمَظْنُونِ مِنْ حَيْثُ مَظْنُونٌ.
أُجِيبَ عَنْهُ بِأَنَّ التَّغَايُرَ بِهَذَا الِاعْتِبَارِ غَيْرُ كَافٍ فِي كَوْنِ الدَّلِيلِ تَفْصِيلِيًّا.
وَمِنْهَا: أَنَّهُ لَا نُسَلِّمُ أَنَّ قَوْلَنَا: " كُلُّ مَا هُوَ مَظْنُونٌ وَجَبَ الْعَمَلُ بِهِ " قَطْعِيٌّ.
قَوْلُهُ: لِلْإِجْمَاعِ. قُلْنَا: لَا نُسَلِّمُ أَنَّ الْإِجْمَاعَ يُفِيدُ الْقَطْعُ ; لِأَنَّهُ مَبْنِيٌّ عَلَى الْأَدِلَّةِ الظَّنِّيَّةِ، وَالْمَبْنِيُّ عَلَى الظَّنِّيِّ ظَنِّيٌّ.
وَلَئِنْ سَلَّمْنَا أَنَّ أَدِلَّةَ الْإِجْمَاعِ قَطْعِيَّةٌ، لَكِنْ لَا نُسَلِّمُ أَنَّ هَذَا الْإِجْمَاعَ بَلَغَ إِلَيْنَا بِالتَّوَاتُرِ، حَتَّى يُفِيدَ الْقَطْعَ.
وَالْوَجْهُ الثَّانِي فِي بَيَانِ قَطْعِيَّتِهِ ضَعِيفٌ ; لِأَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّهُ إِذَا لَمْ يُعْمَلْ بِوَاحِدٍ مِنَ الطَّرَفَيْنِ، يَلْزَمُ رَفْعُ النَّقِيضَيْنِ فِي الْوَاقِعِ ; لِجَوَازِ أَنْ لَا يُعْمَلَ بِوَاحِدٍ مِنْهُمَا لِعَدَمِ الْجَزْمِ بِهِ، مَعَ أَنَّ الْوَاقِعَ لَا يَخْلُو عَنْ أَحَدِهِمَا.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] যদি বলা হয়: আমরা স্বীকার করি না যে এটি সামগ্রিক দলিলের অন্তর্ভুক্ত; কেননা প্রতিটি কিয়াসের ক্ষুদ্রতর হেতু (সুগরা) অন্যটির ক্ষুদ্রতর হেতু হতে ভিন্ন। কারণ, প্রতিটিতে যে হুকুম লাগানো হয়েছে—যা আমাদের উক্তি ‘ধারণাপ্রসূত’—তা অপরটির হুকুম হতে ভিন্ন। কেননা প্রতিটি বিধানের ব্যাপারে যে ধারণা অর্জিত হয়, তা তার নিজস্ব বিশেষ দলিল হতে আহরিত, ফলে তা অন্য দলিল থেকে অর্জিত ধারণা হতে ভিন্ন হবে। আর ধারণার ভিন্নতা ‘ধারণা হওয়ার দিক থেকে’ ধারণাকৃত বিষয়ের ভিন্নতাকে আবশ্যক করে।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এই বিবেচনায় ভিন্ন হওয়া দলিলটি বিস্তারিত দলিল হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
আর তার মধ্যে একটি হলো: আমরা এটি স্বীকার করি না যে, আমাদের এই কথা— ‘যা কিছু ধারণাপ্রসূত তার ওপর আমল করা ওয়াজিব’—তা অকাট্য।
তাঁর উক্তি: ইজমার কারণে। আমরা বলি: আমরা এটি স্বীকার করি না যে, ইজমা অকাট্য জ্ঞান দান করে; কারণ তা ধারণাপ্রসূত দলিলসমূহের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, আর যা ধারণাপ্রসূত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, তাও ধারণাপ্রসূত।
আর যদি আমরা মেনেও নেই যে ইজমার দলিলসমূহ অকাট্য, তবুও আমরা এটি স্বীকার করি না যে, এই ইজমা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন ধারায় পৌঁছেছে, যাতে তা অকাট্যতার ফায়দা দিতে পারে।
এর অকাট্যতা বর্ণনার দ্বিতীয় পদ্ধতিটি দুর্বল; কারণ আমরা এটি মেনে নেই না যে, যদি উভয় পক্ষের কোনোটির ওপরই আমল না করা হয়, তবে বাস্তবে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের অপসারণ আবশ্যক হয়ে পড়বে; কেননা কোনোটির ওপরই আমল না করা সম্ভব হতে পারে সেটির ব্যাপারে দৃঢ় নিশ্চয়তা না থাকার কারণে, যদিও বাস্তবতা এ দুটির কোনো একটি থেকে মুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَأَيْضًا - لَا نُسَلِّمُ أَنَّهُ إِذَا عُمِلَ بِالْمَرْجُوحِ، يَلْزَمُ خِلَافُ الْعَقْلِ، وَإِنَّمَا يَلْزَمُ ذَلِكَ أَنْ لَوْ كَانَ الْمَرْجُوحُ عِنْدَ الْمُجْتَهِدِ، مَرْجُوحًا فِي الْوَاقِعِ، وَهُوَ مَمْنُوعٌ.
لَا يُقَالُ: إِنَّ الظَّنَّ هُوَ الْحُكْمُ بِالطَّرَفِ الرَّاجِحِ فِي الْوَاقِعِ ; لِأَنَّا نَقُولُ: الْمُرَادُ بِالرَّاجِحِ فِي الْوَاقِعِ، إِمَّا أَنْ يَكُونَ هُوَ الثَّابِتَ فِيهِ أَوْ غَيْرَهُ، فَإِنْ كَانَ الْأَوَّلَ، فَلَا نُسَلِّمُ أَنَّ الظَّنَّ هُوَ الْحُكْمُ بِالطَّرَفِ الرَّاجِحِ ; لِجَوَازِ كَذِبِهِ. وَإِنْ كَانَ الثَّانِيَ فَبَيِّنُوهُ حَتَّى يُتَصَوَّرَ أَوَّلًا ثُمَّ يُتَكَلَّمَ عَلَيْهِ ثَانِيًا.
وَمِنْهَا: أَنَّهُ يَلْزَمُ انْحِصَارُ جَمِيعِ الْفِقْهِ فِي الْوُجُوبِ، فَيَخْرُجُ عَنْهُ الْعِلْمُ بِالنَّدْبِ وَالْكَرَاهَةِ وَالْحُرْمَةِ وَالْإِبَاحَةِ، مَعَ أَنَّهُ مِنَ الْفِقْهِ بِالِاتِّفَاقِ.
فَإِنْ قِيلَ: التَّعَرُّضُ لِلْوُجُوبِ عَلَى سَبِيلِ التَّمْثِيلِ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ هُوَ الْعِلْمُ بِمُقْتَضَى الظَّنِّ بِالْأَحْكَامِ عَلَى الْوَجْهِ الْمَظْنُونِ. فَإِنْ ظُنَّ وَجُوبُهُ عُلِمَ وُجُوبُ الْعَمَلِ بِهِ، وَإِنْ ظُنَّ حُرْمَتُهُ عُلِمَ حُرْمَةُ الْعَمَلِ بِهَا وَكَذَا الْبَاقِي.
أُجِيبَ عَنْهُ بِأَنَّ الْقِيَاسَ الْمَذْكُورَ لَا يُفِيدُ إِلَّا وُجُوبَ الْعَمَلِ بِمُقْتَضَى الظَّنِّ.
فَإِنْ قِيلَ: الْمُرَادُ وُجُوبُ اعْتِقَادِ الْحُكْمِ عَلَى الْوَجْهِ الْمَظْنُونِ; فَإِنَّهُ إِذَا كَانَ النَّدْبُ مَظْنُونًا وَجَبَ اعْتِقَادُ نَدْبِيَّتِهِ. أُجِيبَ عَنْهُ بِأَنَّهُ لَا دَلَالَةَ لِقَوْلِهِ: " الْعِلْمُ بِالْأَحْكَامِ " عَلَى ذَلِكَ فَحِينَئِذٍ يَكُونُ التَّعْرِيفُ فَاسِدًا.
ش - الْحَدُّ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ مُسَاوِيًا لِلْمَحْدُودِ ; لِأَنَّ الْأَخَصَّ أَخْفَى، وَالْأَعَمَّ لَا يَدُلُّ عَلَى الْأَخَصِّ أَصْلًا.
فَحِينَئِذٍ يَجِبُ تَحَقُّقُ الْمَحْدُودِ عِنْدَ تَحَقُّقِ الْحَدِّ، وَهُوَ الِاطِّرَادُ، وَانْتِفَاؤُهُ عِنْدَ انْتِفَائِهِ، وَهُوَ الْعَكْسُ.
فَالسُّؤَالُ أَنْ يُقَالَ: إِنَّ الْحَدَّ غَيْرُ صَحِيحٍ ; لِأَنَّهُ إِمَّا غَيْرَ مُطَّرِدٍ وَإِمَّا غَيْرَ مُنْعَكِسٍ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْأَحْكَامِ بَعْضُهَا أَوْ جَمِيعُهَا. فَإِنْ كَانَ الْأَوَّلَ يَلْزَمُ عَدَمُ اطِّرَادِ الْحَدِّ; ضَرُورَةَ تَحَقُّقِهِ بِدُونِ تَحَقُّقِ الْمَحْدُودِ ; لِأَنَّ الْمُقَلِّدَ عَالِمٌ بِبَعْضِ الْأَحْكَامِ، فَيَصْدُقُ عَلَى عِلْمِهِ حَدُّ الْفِقْهِ، وَلَا يَكُونُ عِلْمُهُ فِقْهًا ; لِأَنَّ الْمُقَلِّدَ لَا يُسَمَّى فَقِيهًا.
وَإِنْ كَانَ الثَّانِيَ، يَلْزَمُ عَدَمُ الِانْعِكَاسِ; ضَرُورَةَ تَحَقُّقِ الْمَحْدُودِ بِدُونِ الْحَدِّ ; لِأَنَّ الْأَئِمَّةَ الْمُجْتَهِدِينَ فُقَهَاءُ، وَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ جَمِيعَ الْأَحْكَامِ; ضَرُورَةَ ثُبُوتِ " لَا أَدْرِي " بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهِمْ. لِأَنَّهُ سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ أَرْبَعِينَ مَسْأَلَةً، فَقَالَ فِي سِتٍّ وَثَلَاثِينَ مِنْهَا: " لَا أَدْرِي ".
ش - أَجَابَ الْمُصَنِّفُ عَنْهُ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ شِقَّيِ التَّرْدِيدِ. أَمَّا عَلَى الْأَوَّلِ فَلَا نُسَلِّمُ عَدَمَ الِاطِّرَادِ. قَوْلُهُ: ضَرُورَةُ دُخُولِ الْمُقَلِّدِ فِيهِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] আরও একটি বিষয়—আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে, যদি মারজুহ (অপেক্ষাকৃত দুর্বল মত) অনুযায়ী আমল করা হয়, তবে তা যুক্তিবিরুদ্ধ হওয়া আবশ্যক করে। এটি কেবল তখনই আবশ্যক হতো যদি মুজতাহিদের নিকট যা মারজুহ, তা বাস্তবেও মারজুহ হতো; কিন্তু তা (বাস্তবে মারজুহ হওয়া) অসিদ্ধ।
এমন বলা যাবে না যে: নিশ্চয়ই ধারণা (জান্ন) হলো বাস্তবে রালেহ (অপেক্ষাকৃত প্রবল) দিকের ওপর হুকুম লাগানো; কারণ আমরা বলি: বাস্তবে রাজেহ বলতে যদি তাতে সাব্যস্ত বিষয়টি উদ্দেশ্য হয়, তবে আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে, ধারণা হলো রাজেহ দিকের ওপর হুকুম লাগানো; কারণ তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি দ্বিতীয়টি (অন্য কিছু) উদ্দেশ্য হয়, তবে তা বর্ণনা করুন যেন প্রথমে তা কল্পনা করা যায় এবং দ্বিতীয়ত সে সম্পর্কে আলোচনা করা যায়।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: এর ফলে সমগ্র ফিকহ কেবল ওয়াজিব (আবশ্যকতা)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, ফলে মুস্তাহাব (মানদুব), মাকরুহ, হারাম ও মুবাহ সংক্রান্ত জ্ঞান ফিকহ থেকে বের হয়ে যায়, অথচ সর্বসম্মতভাবে এগুলো ফিকহের অন্তর্ভুক্ত।
যদি বলা হয়: ওয়াজিবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে উদাহরণ হিসেবে; কেননা উদ্দেশ্য হলো ধারণালব্ধ পদ্ধতিতে বিধানসমূহের (আহকাম) ধারণাপ্রসূত দাবি অনুযায়ী জ্ঞান লাভ করা। সুতরাং যদি কোনো বিষয়ের ওয়াজিব হওয়ার ধারণা হয়, তবে সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া জানা গেল। আর যদি হারামের ধারণা হয়, তবে সে অনুযায়ী আমল করা হারাম হওয়া জানা গেল, আর বাকিগুলোর ক্ষেত্রেও অনুরূপ।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, উল্লিখিত কিয়াস (যুক্তি) ধারণার দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু প্রদান করে না।
যদি বলা হয়: উদ্দেশ্য হলো ধারণালব্ধ উপায়ে হুকুমের ওপর বিশ্বাসের আবশ্যকতা; কেননা যখন কোনো বিষয় মুস্তাহাব (মানদুব) হওয়ার ধারণা প্রবল হয়, তখন সেটি মুস্তাহাব হওয়ার বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব হয়ে যায়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, "বিধানসমূহের জ্ঞান" কথাটি এর ওপর কোনো ইঙ্গিত দেয় না, এমতাবস্থায় সংজ্ঞাটি ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত হবে।
ব্যাখ্যা—সংজ্ঞা (হাদ্দ) অবশ্যই সংজ্ঞায়িত বস্তুর (মাহদুদ) সমান হতে হবে; কেননা বিশেষ (আখাস) অধিকতর অস্পষ্ট এবং সাধারণ (আম) কোনোভাবেই বিশেষের ওপর নির্দেশ দেয় না।
এমতাবস্থায় সংজ্ঞা পাওয়া গেলে সংজ্ঞায়িত বস্তুটি পাওয়া যাওয়া আবশ্যক, যা হলো 'ইত্তিরদ' (সার্বিকতা), এবং সংজ্ঞা না থাকলে সংজ্ঞায়িত বস্তু না থাকা আবশ্যক, যা হলো 'আকস' (বিপরীতমুখিতা)।
প্রশ্নটি হলো এমন বলা: নিশ্চয়ই এই সংজ্ঞা সঠিক নয়; কারণ এটি হয় 'মুত্তারিদ' (সার্বিক) নয় অথবা 'মুনআকিস' (বিপরীতমুখী) নয়; কেননা বিধানসমূহ (আহকাম) দ্বারা উদ্দেশ্য হয় এর কিছু অংশ অথবা এর সমষ্টি। যদি প্রথমটি (কিছু অংশ) উদ্দেশ্য হয়, তবে সংজ্ঞার সার্বিকতা না থাকা আবশ্যক হয়; কারণ সংজ্ঞায়িত বস্তু পাওয়া না গেলেও সংজ্ঞাটি পাওয়া যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। যেহেতু মুকাল্লিদ (অনুসারী) কিছু বিধান সম্পর্কে অবগত থাকে, ফলে ফিকহের সংজ্ঞা তার জ্ঞানের ওপরও সত্য হয়, অথচ তার জ্ঞান ফিকহ নয়; কারণ মুকাল্লিদকে ফকিহ বলা হয় না।
আর যদি দ্বিতীয়টি (সমষ্টি) উদ্দেশ্য হয়, তবে বিপরীতমুখিতা না থাকা আবশ্যক হয়; কারণ সংজ্ঞার অনুপস্থিতিতেও সংজ্ঞায়িত বস্তুটি পাওয়া যাওয়া আবশ্যক হয়। যেহেতু মুজতাহিদ ইমামগণ ফকিহ, অথচ তাঁরা সমস্ত বিধান জানেন না; তাঁদের ক্ষেত্রে "আমি জানি না" (লা আদরি) প্রমাণিত হওয়ার কারণে এটি আবশ্যক হয়। কারণ ইমাম মালিক (রহ.)-কে চল্লিশটি মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি তার মধ্যে ছত্রিশটি সম্পর্কেই বলেছিলেন: "আমি জানি না।"
ব্যাখ্যা—গ্রন্থকার এই দ্বিধাপূর্ণ দিকের প্রত্যেকটির উত্তর দিয়েছেন। প্রথমটির ক্ষেত্রে বলা যায়, আমরা সার্বিকতা না থাকাকে মেনে নিচ্ছি না। তাঁর বক্তব্য: এতে মুকাল্লিদ অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক হওয়া প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ص - وَأَوْرَدَ: إِنْ كَانَ الْمُرَادُ الْبَعْضَ - لَمْ يَطَّرِدْ ; لِدُخُولِ الْمُقَلِّدِ. وَإِنْ كَانَ الْجَمِيعَ - لَمْ يَنْعَكِسْ ; لِثُبُوتِ " لَا أَدْرِي ".
ــ
[الشرح]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
মূল - এবং তিনি আপত্তি উত্থাপন করেছেন: যদি (বিধানের) আংশিক উদ্দেশ্য হয়—তবে তা বর্জনীয় হবে না; কারণ এতে মুকাল্লিদও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আর যদি সমস্ত বিধান উদ্দেশ্য হয়—তবে তা ব্যাপক হবে না; কারণ ‘আমি জানি না’ বলার বিষয়টি প্রমাণিত।
—
[ব্যাখ্যা]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ص - وَأُجِيبَ: بِالْبَعْضِ، وَيَطَّرِدُ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْأَدِلَّةِ: الْأَمَارَاتُ، وَبِالْجَمِيعِ، وَيَنْعَكِسُ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ تَهَيُّؤُهُ لِلْعِلْمِ بِالْجَمِيعِ.
ص - وَأَمَّا فَائِدَتُهُ - فَالْعِلْمُ بِأَحْكَامِ اللَّهِ تَعَالَى.
ــ
[الشرح]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
মূল - এবং উত্তর দেওয়া হয়েছে: আংশিক জ্ঞানের মাধ্যমে, এবং এটি সংজ্ঞার ব্যাপকতার নীতি রক্ষা করে; কারণ দলিলসমূহ দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো আলামত বা নিদর্শনসমূহ। এবং পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের মাধ্যমে, এবং এটি সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতার নীতি রক্ষা করে; কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো সমস্ত বিষয় জানার যোগ্যতা বা প্রস্তুতি রাখা।
মূল - আর এর উপকারিতা হলো—আল্লাহ তাআলার বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
—
[ব্যাখ্যা]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] قُلْنَا: الْمُرَادُ مِنَ الْأَدِلَّةِ: الْأَمَارَاتُ، وَهِيَ الَّتِي تُفِيدُ الظَّنَّ، وَيُحْتَاجُ فِي الِاسْتِدْلَالِ بِهَا إِلَى مَعْرِفَةِ التَّعَارُضِ. وَحِينَئِذٍ لَا يَخْلُو إِمَّا أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِالْمُقَلِّدِ: مَنْ كَانَ عِلْمُهُ بِالْأَحْكَامِ عَنِ الْأَمَارَاتِ الْمَذْكُورَةِ بِالِاسْتِدْلَالِ أَوْ غَيْرِهِ، فَإِنْ كَانَ الْأَوَّلَ، فَلَا نُسَلِّمُ أَنَّهُ لَا يَكُونُ فَقِيهًا، حَتَّى يَلْزَمَ عَدَمُ الِاطِّرَادِ. وَإِنْ كَانَ الثَّانِيَ، فَلَا نُسَلِّمُ صِدْقَ الْحَدِّ عَلَيْهِ، حَتَّى يَلْزَمَ أَيْضًا عَدَمُ الِاطِّرَادِ. وَإِمَّا عَلَى الثَّانِي فَإِنَّا لَا نُسَلِّمُ عَدَمَ الِانْعِكَاسِ.
قَوْلُهُ: لِثُبُوتِ " لَا أَدْرِي ". قُلْنَا: لَا نُسَلِّمُ أَنَّهُ إِذَا ثَبَتَ " لَا أَدْرِي " بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْكُلِّ، يَلْزَمُ عَدَمُ الِانْعِكَاسِ. وَإِنَّمَا يَلْزَمُ أَنْ لَوْ كَانَ الْمُرَادُ مِنَ الْعِلْمِ بِجَمِيعِ الْأَحْكَامِ: الْعِلْمُ بِهَا بِالْفِعْلِ. بَلِ الْمُرَادُ: تَهَيُّؤُ الْعَالِمِ لِلْعِلْمِ بِجَمِيعِهَا.
فَحِينَئِذٍ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْعِلْمُ بِهَذَا الْمَعْنَى مُتَحَقِّقًا مَعَ ثُبُوتِ " لَا أَدْرِي ".
وَالْمُرَادُ بِالتَّهَيُّؤِ: الِاسْتِعْدَادُ الْقَرِيبُ إِلَى الْفِعْلِ عِنْدَ حُصُولِ الطُّرُقِ، وَالتَّمَكُّنِ مِنَ الِاسْتِنْبَاطِ.
[فَائِدَةَ أُصُولِ الْفِقْهِ]ش - اعْلَمْ أَنَّ فَائِدَةَ أُصُولِ الْفِقْهِ مَعْرِفَةُ أَحْكَامِ اللَّهِ تَعَالَى الَّتِي يُتَوَصَّلُ بِهَا إِلَى السَّعَادَاتِ فِي الْأُولَى وَالدَّرَجَاتِ فِي الْأُخْرَى.
[استمداد أُصُولِ الْفِقْهِ]ش - هَذَا هُوَ الْقِسْمُ الثَّالِثُ مِنَ الْمَبَادِئِ، وَقَدْ جَمَعَ فِيهِ فَائِدَتَيْنِ: إِحْدَاهُمَا - بَيَانُ أَنَّهُ مِنْ أَيِّ عِلْمٍ يُسْتَمَدُّ. وَالثَّانِيَةُ - بَيَانُ بَعْضِ مَا يُسْتَمَدُّ مِنْهُ. وَالْأُولَى لَيْسَتْ مِنَ الْمَبَادِئِ الْمُصْطَلَحَةِ عِنْدَ الْمَنْطِقِيِّينَ، بِخِلَافِ الثَّانِيَةِ.
ش - الْأَدِلَّةُ الْكُلِّيَّةُ - الَّتِي هِيَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَالْإِجْمَاعُ وَالْقِيَاسُ، مِنْ حَيْثُ هِيَ أَدِلَّةٌ - تَتَوَقَّفُ عَلَى مَعْرِفَةِ الْبَارِي وَصِدْقِ الْمُبَلِّغِ وَهُوَ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم. وَصِدْقُهُ يَتَوَقَّفُ عَلَى دَلَالَةِ الْمُعْجِزَةِ عَلَى صِدْقِهِ، وَكُلُّ ذَلِكَ مِنَ الْكَلَامِ.
وَقَوْلُهُ: " الْأَدِلَّةُ الْكُلِّيَّةُ " يَتَنَاوَلُ الْأَدِلَّةَ الْإِجْمَالِيَّةَ الَّتِي يُسْتَفَادُ مِنْهَا الْأَدِلَّةُ التَّفْصِيلِيَّةُ، وَالْأَدِلَّةُ الَّتِي تَثْبُتُ بِهَا مَسَائِلُ الْأُصُولِ.
ش - الْأَدِلَّةُ الَّتِي تُسْتَفَادُ مِنْهَا الْأَحْكَامُ الشَّرْعِيَّةُ مَأْخُوذَةٌ مِنَ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] আমরা বলেছি: দলিলসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আলামতসমূহ, যা প্রবল ধারণা (জান্ন) প্রদান করে এবং এগুলোর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ বিষয়সমূহ (তাআরুদ) জানার প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায় বিষয়টি এর বাইরে নয় যে, মুকাল্লিদ (অনুসারী) দ্বারা হয়তো তাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যার বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান উল্লেখিত আলামতসমূহ থেকে দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো উপায়ে অর্জিত হয়। যদি প্রথমটি হয়, তবে আমরা এটি মেনে নেব না যে সে ফকিহ হবে না, যাতে সংজ্ঞার ধারাবাহিকতা (ইত্তিরাদ) বজায় না থাকার বিষয়টি আবশ্যক না হয়। আর যদি দ্বিতীয়টি হয়, তবে আমরা তার ওপর এই সংজ্ঞার সত্যতা স্বীকার করি না, যাতে এর ফলেও ধারাবাহিকতার অভাব আবশ্যক না হয়। আর দ্বিতীয় সুরতের ক্ষেত্রে আমরা সংজ্ঞার বিপরীতমুখিতার অভাবকে (আদমে ইন'ইকাস) মেনে নিই না।
তাঁর কথা: "আমি জানি না" সাব্যস্ত হওয়ার কারণে। আমরা বললাম: আমরা এটা স্বীকার করি না যে, যখন সবকিছুর প্রেক্ষিতে "আমি জানি না" সাব্যস্ত হবে, তখন সংজ্ঞার বিপরীতমুখিতার অভাব আবশ্যক হবে। বরং এটি তখনই আবশ্যক হতো যদি সকল বিধানের জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য হতো বাস্তবে বিদ্যমান জ্ঞান (ইলমে বিল ফি'ল)। বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো: সকল বিধান জানার জন্য আলেমের প্রস্তুতি বা যোগ্যতা থাকা।
সুতরাং এমতাবস্থায় "আমি জানি না" সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও এই অর্থে জ্ঞান থাকা সম্ভব।
আর প্রস্তুতি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উৎসসমূহ অর্জিত হওয়ার সময় বাস্তবে রূপান্তরের নিকটবর্তী যোগ্যতা এবং বিধান উদ্ভাবনে সক্ষম হওয়া।
[উসূলে ফিকহের উপকারিতা]ব্যাখ্যা - জেনে রাখুন যে, উসূলে ফিকহের উপকারিতা হলো মহান আল্লাহর বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার মাধ্যমে ইহকালে সৌভাগ্য এবং পরকালে উচ্চ মর্যাদা অর্জন করা যায়।
[উসূলে ফিকহের উৎসসমূহ]ব্যাখ্যা - এটি হলো প্রাথমিক বিষয়াবলির (মাবাদিউ) তৃতীয় অংশ। এতে তিনি দুটি উপকারিতা একত্র করেছেন: প্রথমটি - এটি কোন শাস্ত্র থেকে গৃহীত হয় তার বর্ণনা। দ্বিতীয়টি - এটি যা থেকে গৃহীত হয় তার কিছু অংশের বর্ণনা। প্রথমটি যৌক্তিকবিদদের নিকট পারিভাষিক প্রাথমিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে দ্বিতীয়টি অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা - সামগ্রিক দলিলসমূহ—যা হলো কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস—দলিল হওয়ার দিক থেকে সেগুলো স্রষ্টার পরিচয় এবং বাণী পৌঁছে দানকারী তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যবাদিতার ওপর নির্ভরশীল। আর তাঁর সত্যবাদিতা তাঁর সত্যতার ওপর মুজিজার প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। আর এগুলোর সবই ইলমুল কালামের অন্তর্ভুক্ত।
আর তাঁর কথা: "সামগ্রিক দলিলসমূহ" ঐসব সংক্ষিপ্ত দলিলকেও অন্তর্ভুক্ত করে যা থেকে বিস্তারিত দলিলসমূহ লাভ করা হয় এবং ঐসব দলিলকেও যা দ্বারা উসূলের মাসআলাগুলো প্রমাণিত হয়।
ব্যাখ্যা - যেসব দলিল থেকে শরঈ বিধানাবলি আহরণ করা হয়, সেগুলো গৃহীত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ص - وَأَمَّا اسْتِمْدَادُهُ - فَمِنَ الْكَلَامِ وَالْعَرَبِيَّةِ وَالْأَحْكَامِ.
ص - أَمَّا الْكَلَامُ - فَلِتَوَقُّفِ الْأَدِلَّةِ الْكُلِّيَّةِ عَلَى مَعْرِفَةِ الْبَارِي - تَعَالَى - وَصِدْقِ الْمُبَلِّغِ، [هُوَ] يَتَوَقَّفُ عَلَى دَلَالَةِ الْمُعْجِزَةِ.
ص - وَأَمَّا الْعَرَبِيَّةُ - فَلِأَنَّ الْأَدِلَّةَ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ عَرَبِيَّةٌ.
ص - وَأَمَّا الْأَحْكَامُ - فَالْمُرَادُ [تَصَوُّرُهَا، لِيُمْكِنَ] إِثْبَاتُهَا وَنَفْيُهَا، وَإِلَّا جَاءَ الدَّوْرُ.
ــ
[الشرح]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
মূল পাঠ - আর এর উৎস হচ্ছে— ইলমুল কালাম, আরবি ভাষা এবং শরঈ বিধানসমূহ হতে।
মূল পাঠ - ইলমুল কালামের প্রয়োজনীয়তা এই জন্য যে, সামগ্রিক দলীলসমূহ মহান স্রষ্টার পরিচয় এবং বার্তাবাহকের সত্যতা জানার ওপর নির্ভরশীল, আর তা (বার্তাবাহকের সত্যতা) মুজিজার নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে।
মূল পাঠ - আর আরবি ভাষা, কারণ কিতাব ও সুন্নাহর দলীলসমূহ আরবি।
মূল পাঠ - আর বিধানসমূহ (আহকাম), এখানে উদ্দেশ্য হলো [সেগুলোর ধারণা লাভ করা, যাতে সম্ভব হয়] সেগুলোকে সাব্যস্ত করা বা নাকচ করা; অন্যথায় বৃত্তায়ন (দাওর) সংঘটিত হবে।
—
[ব্যাখ্যা]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَهُمَا عَرَبِيَّا الدَّلَالَةِ، فَيَتَوَقَّفُ دَلَالَتُهُمَا عَلَى مَعْرِفَةِ الْمَوْضُوعَاتِ اللُّغَوِيَّةِ مِنْ جِهَةِ الْحَقِيقَةِ وَالْمَجَازِ، وَالْخُصُوصِ وَالْعُمُومِ، وَالْإِفْرَادِ وَالتَّرْكِيبِ، وَالِاشْتِرَاكِ وَالتَّرَادُفِ، وَالنَّقْلِ وَالْإِضْمَارِ وَغَيْرِهَا.
ش - أَمَّا اسْتِمْدَادُ الْأُصُولِ مِنَ الْأَحْكَامِ فَمِنْ جِهَةِ التَّصَوُّرِ; لِأَنَّ قَصْدَ الْأُصُولِيِّ يَتَوَجَّهُ إِلَى مَعْرِفَةِ كَيْفِيَّةِ اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ مِنَ الْأَدِلَّةِ.
وَلَا شَكَّ أَنَّ مَعْرِفَةَ كَيْفِيَّةِ اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ تَتَوَقَّفُ عَلَى تَصَوُّرِ الْأَحْكَامِ. وَلِأَنَّ الْأَحْكَامَ إِمَّا مَحْمُولَاتِ الْمَسَائِلِ، كَقَوْلِنَا: مُقْتَضَى الْأَمْرِ: الْوُجُوبُ، وَمُقْتَضَى النَّهْيِ: التَّحْرِيمُ.
أَوْ مُتَعَلِّقَاتُهَا. كَقَوْلِنَا: الْعَامُّ إِذَا خُصِّصَ يَكُونُ حُجَّةً فِي الْبَاقِي فَلَا بُدَّ مِنْ تَصَوُّرِهَا لِيُمْكِنَ إِثْبَاتُهَا أَوْ نَفْيُهَا.
وَأَمَّا التَّصْدِيقُ بِالْأَحْكَامِ مِنْ حَيْثُ هِيَ مُتَعَلِّقَةٌ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ عَلَى سَبِيلِ التَّفْصِيلِ، فَلَا يَكُونُ اسْتِمْدَادُ الْأُصُولِ مِنْهُ ; لِأَنَّ التَّصْدِيقَ بِهَا مِنْ مَسَائِلِ الْفِقْهِ، وَهُوَ يَتَوَقَّفُ عَلَى الْأُصُولِ. فَلَوِ اسْتَمَدَّ الْأُصُولَ مِنْهُ لَزِمَ الدَّوْرُ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] কিতাব ও সুন্নাহ, আর এ উভয়টিই আরবি নির্দেশক। সুতরাং এ দুটির নির্দেশিকা ভাষাগত বিষয়াবলি তথা হাকিকত ও মাজায, খাস ও আম, একক ও যৌগিক, মুশতারাক ও সমার্থক, এবং নকল ও ইজমার (উহ্য রাখা) ইত্যাদি জানার ওপর নির্ভরশীল।
শ - পক্ষান্তরে বিধানসমূহ (আহকাম) থেকে উসূলের উপকরণ গ্রহণ করা কেবল তাসাউর বা ধারণার দিক থেকে; কারণ উসূলবিদের উদ্দেশ্য হলো দলীলসমূহ থেকে বিধানসমূহ উদঘাটন করার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিধানসমূহ উদঘাটন করার পদ্ধতি জানা কেবল বিধানসমূহ সম্পর্কে ধারণা রাখার ওপর নির্ভরশীল। কেননা বিধানসমূহ হয় মাসআলাগুলোর বিধেয়, যেমন আমাদের কথা: নির্দেশের দাবি হলো ওয়াজিব হওয়া এবং নিষেধের দাবি হলো হারাম হওয়া।
অথবা বিধানগুলো মাসআলাগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। যেমন আমাদের কথা: আম (সাধারণ) যখন খাস (বিশেষিত) করা হয়, তখন সেটি অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা অপরিহার্য, যাতে সেগুলো সাব্যস্ত করা বা নাকচ করা সম্ভব হয়।
আর বিধানসমূহকে মুকাল্লাফদের কার্যাবলীর সাথে বিস্তারিতভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়ার দিক থেকে প্রত্যয়ন (তাসদিক) করার ক্ষেত্রে তা থেকে উসূলের উপকরণ গ্রহণ করা হয় না; কারণ বিধানসমূহের প্রত্যয়ন করা হলো ফিকহের বিষয়াবলিভুক্ত, যা উসূলের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং যদি উসূলকে তা থেকে গ্রহণ করা হয়, তবে তা চক্রকবৃত্তি (দাওর) হওয়ার আবশ্যকতা তৈরি করবে।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
[الشرح] وَكَذَا التَّصْدِيقُ بِهَا مِنْ حَيْثُ هِيَ مَحْمُولَاتُ مَسَائِلِ الْأُصُولِ أَوْ مُتَعَلِّقَاتُهَا، لَا يَكُونُ مِنَ الْمَبَادِئِ ; لِأَنَّ الْمَسَائِلَ تَتَوَقَّفُ عَلَى الْمَبَادِئِ. فَلَوِ اسْتَمَدَّ الْأُصُولَ مِنْهُ لِتَوَقَّفَ عَلَى نَفْسِهِ، وَهُوَ مُحَالٌ. وَاعْلَمْ أَنَّ التَّصْدِيقَ بِوُجُودِ الْأَحْكَامِ مِنْ حَيْثُ هُوَ، مِنْ مَسَائِلِ الْكَلَامِ، فَيَكُونُ مِنْ مَبَادِئِ الْأُصُولِ. وَالتَّصْدِيقُ بِالْأَحْكَامِ مِنْ حَيْثُ تُعَلُّقُهَا بِالْأَفْعَالِ لَا يَكُونُ مِنَ الْمَبَادِئِ لِمَا ذَكَرْنَا.
وَقَوْلُ الْمُصَنِّفِ: " وَإِلَّا جَاءَ الدَّوْرُ " إِنَّمَا يَسْتَقِيمُ، لَوْ حُمِلَ التَّصْدِيقُ عَلَى مَا ذَكَرْنَا.
[الْمَبَادِئُ الْكَلَامِيَّةُ]
[الدليل]ش - قِيلَ: إِنَّ قَوْلَهُ: " الدَّلِيلُ " إِلَى قَوْلِهِ: " مَبَادِئُ اللُّغَةِ " مِنَ الْمَبَادِئِ الْكَلَامِيَّةِ. وَإِنَّمَا ابْتَدَأَ بِهَا ; لِأَنَّهُ لَمَّا ذَكَرَ أَنَّ اسْتِمْدَادَهُ مِنَ الْكَلَامِ وَالْعَرَبِيَّةِ وَالْأَحْكَامِ، أَرَادَ أَنْ يُبَيِّنَ مَا يُسْتَمَدُّ مِنْهُ عَلَى التَّرْتِيبِ. فَبَدَأَ بِالْكَلَامِ.
وَفِيهِ نَظَرٌ ; لِأَنَّ بَحْثَ الدَّلِيلِ وَالْقَوَاعِدِ الْمَنْطِقِيَّةِ غَيْرُ مَخْصُوصٍ بِالْكَلَامِ.
وَنِسْبَتَهُ إِلَى الْكَلَامِ كَنِسْبَتِهِ إِلَى الْأُصُولِ ; لِأَنَّ الْمَنْطِقَ آلَةٌ لِجَمِيعِ الْعُلُومِ الْكَسْبِيَّةِ. وَالْأَوْلَى أَنْ يُقَالَ: لَمَّا ذُكِرَ الدَّلِيلُ فِي حَدَّيِ الْأُصُولِ وَالْفِقْهِ، وَلَمْ يَسْبِقْ شَيْءٌ يُعْرَفُ مِنْهُ الدَّلِيلُ، أَرَادَ أَنْ يُشِيرَ إِلَى مَعْنَاهُ.
وَالدَّلِيلُ فِي اللُّغَةِ: هُوَ الْمُرْشِدُ، وَمَا بِهِ الْإِرْشَادُ. وَالْمُرْشِدُ: هُوَ النَّاصِبُ لِلْعَلَامَةِ، أَوِ الذَّاكِرُ لَهَا.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
[ব্যাখ্যা] অনুরূপভাবে, উসূলে ফিকহের মাসআলাসমূহের বিধেয় (predicates) বা সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে সেগুলোর সত্যায়নও (তাসদিক) মাবাদই বা প্রারম্ভিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ মাসআলাসমূহ মাবাদই-এর ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং উসূলে ফিকহ যদি তা থেকে উপাদান গ্রহণ করে, তবে তা নিজের ওপর নিজে নির্ভরশীল হওয়ার নামান্তর হবে, যা অসম্ভব। জেনে রাখুন যে, সাধারণভাবে বিধানের (আহকাম) অস্তিত্বের সত্যায়ন ইলমুল কালামের মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি উসূলে ফিকহের মাবাদই-এর অংশ হবে। আর কাজের (আফ'আল) সাথে সংশ্লিষ্টতা হিসেবে বিধানের সত্যায়ন মাবাদই-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না, যার কারণ আমরা উল্লেখ করেছি।
গ্রন্থকারের উক্তি: "অন্যথায় আবর্তন (দাওর) অপরিহার্য হবে" তখনই সঠিক হবে, যদি সত্যায়নকে আমরা যা উল্লেখ করেছি সেভাবে ধরা হয়।
[কালামশাস্ত্রীয় মাবাদই বা মৌলনীতিসমূহ]
[দলিল]শা (ব্যাখ্যা) - বলা হয়েছে যে, তাঁর উক্তি: "দলিল" থেকে "ভাষাতাত্ত্বিক মাবাদই" পর্যন্ত অংশটুকু কালামশাস্ত্রীয় মাবাদই-এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি এটি দিয়ে শুরু করেছেন কারণ তিনি যখন উল্লেখ করেছেন যে, এই শাস্ত্রের উপাদান ইলমুল কালাম, আরবি ভাষা এবং বিধানসমূহ (আহকাম) থেকে গৃহীত, তখন তিনি যেখান থেকে উপাদান নেওয়া হয় তা ক্রমানুসারে বর্ণনা করতে চেয়েছেন। তাই তিনি কালামশাস্ত্র দিয়ে শুরু করেছেন।
তবে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কারণ দলিল এবং যুক্তিশাস্ত্রীয় (মানতিক) নিয়মাবলির আলোচনা কেবল কালামশাস্ত্রের সাথেই সুনির্দিষ্ট নয়।
কালামশাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক উসূলে ফিকহের সাথে এর সম্পর্কের মতোই; কারণ যুক্তিশাস্ত্র সকল অর্জিত (কাসবি) বিজ্ঞানের জন্য একটি হাতিয়ার বা মাধ্যম। বরং উত্তম হলো এটি বলা যে: যেহেতু উসূলে ফিকহ এবং ফিকহ উভয়ের সংজ্ঞায় 'দলিল' শব্দটির উল্লেখ এসেছে এবং ইতিপূর্বে দলিলের পরিচয় জানা যায় এমন কিছু বর্ণিত হয়নি, তাই তিনি এর অর্থের দিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন।
আর আভিধানিক অর্থে 'দলিল' হলো: পথপ্রদর্শক এবং যার মাধ্যমে পথপ্রদর্শন করা হয়। আর পথপ্রদর্শক হলেন তিনি যিনি চিহ্ন স্থাপন করেন অথবা যিনি তা উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْمَبَادِئُ الْكَلَامِيَّةُ. ص - الدَّلِيلُ لُغَةً: الْمُرْشِدُ. وَالْمُرْشِدُ: النَّاصِبُ، وَالذَّاكِرُ، وَمَا بِهِ الْإِرْشَادُ.
ص - وَفِي الِاصْطِلَاحِ: [مَا] يُمْكِنُ التَّوَصُّلُ بِصَحِيحِ النَّظَرِ فِيهِ إِلَى مَطْلُوبٍ خَبَرِيٍّ.
ص - وَقِيلَ: إِلَى الْعِلْمِ بِهِ فَتَخْرُجُ الْأَمَارَةُ.
ص - وَقِيلَ: قَوْلَانِ فَصَاعِدًا يَكُونُ [عَنْهُ] قَوْلٌ آخَرُ.
ص - وَقِيلَ: يَسْتَلْزِمُ لِنَفْسِهِ، فَتَخْرُجُ الْأَمَارَةُ.
ص - وَلَا بُدَّ مِنْ مُسْتَلْزِمٍ لِلْمَطْلُوبِ حَاصِلٍ لِلْمَحْكُومِ عَلَيْهِ. فَمِنْ ثَمَّ وَجَبَتِ الْمُقَدِّمَتَانِ.
ــ
[الشرح]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
কালামশাস্ত্রীয় মূলনীতিসমূহ। মূল: আভিধানিক অর্থে দলিল হলো: পথপ্রদর্শক। আর পথপ্রদর্শক হলেন: (দলিল) স্থাপনকারী, উল্লেখকারী এবং যার মাধ্যমে পথপ্রদর্শন করা হয়।
মূল: আর পরিভাষায়: যাতে সঠিক পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো সংবাদমূলক কাম্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
মূল: আবার বলা হয়েছে: যাতে তা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায়, ফলে (এর সংজ্ঞা হতে) 'অস্পষ্ট লক্ষণ' বহির্ভূত হয়ে যায়।
মূল: আরও বলা হয়েছে: এটি দুই বা ততোধিক বাক্য, যা থেকে অন্য একটি বাক্য (ফলাফল) নিঃসৃত হয়।
মূল: বলা হয়েছে: যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে (ফলাফলকে) আবশ্যক করে তোলে, ফলে এর দ্বারা 'অস্পষ্ট লক্ষণ' বহির্ভূত হয়ে যায়।
মূল: আর কাম্য বিষয়কে আবশ্যক করে এমন কিছু থাকা জরুরি যা উদ্দিষ্ট বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত হয়। এ কারণেই দুটি ভূমিকা (মুকাদ্দিমা) আবশ্যক হয়েছে।
--
[ব্যাখ্যা]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .