(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: -)
موطأ مالك - رواية أبي مصعب الزهري   (مالك بن أنس)

القسم: كتب السنة

الكتاب: موطأ الإمام مالك

المؤلف: مالك بن أنس (93 - 179 هـ)

رواية: أبي مصعب الزهري المدني (150 - 242 هـ)

حققه وعلق عليه: د بشار عواد معروف - محمود محمد خليل

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1991 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুওয়াত্ত্বা মালিক - আবু মুসআব আল-যুহরীর বর্ণনা   (মালিক বিন আনাস)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: ইমাম মালিকের মুওয়াত্ত্বা

লেখক: মালিক বিন আনাস (৯৩ - ১৭৯ হিজরি)

বর্ণনা: আবু মুসআব আল-যুহরী আল-মাদানি (১৫০ - ২৪২ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: ড. বাশার আওয়াদ মারুফ - মাহমুদ মুহাম্মদ খলিল

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১)
ـ[موطأ الإمام مالك]ـ

المؤلف: مالك بن أنس بن مالك بن عامر الأصبحي المدني (المتوفى: 179هـ)

(93 - 179)

المحقق: بشار عواد معروف - محمود خليل

الناشر: مؤسسة الرسالة

سنة النشر: 1412 هـ

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[মুয়াত্তা ইমাম মালিক]

লেখক: মালিক বিন আনাস বিন মালিক বিন আমির আল-আসবাহি আল-মাদানি (মৃত্যু: ১৭৯ হিজরি)

(৯৩ - ১৭৯)

সম্পাদক: বাশার আওয়াদ মারুফ - মাহমুদ খলিল

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ

প্রকাশের বছর: ১৪১২ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৩)
رب يسر وأعن ، بحولك وقوتك

‌‌1 - باب‌‌ وُقُوتُ الصَّلَاةِ

‌‌1 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ أحمد بن أبي بكر الزهري حَدَّثَنَا مَالِك بْنُ أَنَس، رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، فَأَخْبَرَهُ: أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيُّ، فَقَالَ: مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ؟ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ، فَصَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ صَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ صَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ صَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ صَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَالَ: بِهَذَا أُمِرْتُ.

فَقَالَ عُمَرُ لعروة: اعْلَمْ مَا تُحَدِّثُ، أمرت؟
হে আমার রব! আপনার সামর্থ্য ও শক্তির মাধ্যমে সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।

‌‌১ - অধ্যায়‌‌ সালাতের ওয়াক্তসমূহ

‌‌১ - আবু মুসআব আহমদ ইবনে আবু বকর আয-যুহরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে আনাস (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আমাদের নিকট ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ একদিন সালাত বিলম্বিত করলেন। তখন উরওয়াহ ইবনে যুবাইর তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে সংবাদ দিলেন যে, মুগীরা ইবনে শু'বা একদিন কূফায় থাকাকালীন সালাত বিলম্বিত করেছিলেন। তখন তাঁর নিকট আবু মাসউদ আল-আনসারী প্রবেশ করলেন এবং বললেন: "হে মুগীরা, এটা কী? আপনি কি জানেন না যে, জিবরাঈল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবতরণ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; অতঃপর তিনি বললেন: 'আমি এভাবেই আদিষ্ট হয়েছি'।"

তখন উমর উরওয়াহকে বললেন: "আপনি যা বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হোন; আদিষ্ট হয়েছেন?"
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৪)
إِنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام هُوَ أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الصَّلَاةِ؟

فقَالَ عُرْوَةُ: كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِيهِ.

‌‌2 - قَالَ عُرْوَةُ: وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ.
নিশ্চয়ই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণ করেছিলেন কি?

অতঃপর উরওয়াহ বললেন: বাশীর ইবনে আবী মাসঊদ তার পিতা থেকে এভাবেই বর্ণনা করতেন।

‌‌২ - উরওয়াহ বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসরের সালাত আদায় করতেন এমতাবস্থায় যে সূর্য তখনও তাঁর প্রকোষ্ঠের মধ্যে থাকত এবং তা উপরে উঠার পূর্বেই।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌3 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلَهُ، عَنْ وَقْتِ صَلَاةِ الصُّبْحِ، قَالَ: فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عنه، حَتَّى إِذَا كَانَ مِنَ الْغَدِ صَلَّى الصُّبْحَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، ثُمَّ صَلَّى الصُّبْحَ مِنَ الْغَدِ بَعْدَ أَنْ أَسْفَرَ، ثُمَّ قَالَ: أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ؟ فقَالَ: هَأَنَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ.
৩ - আমাদের নিকট আবু মুসআব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁকে সুব্হ নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিষয়ে নীরব থাকলেন। এমনকি যখন পরবর্তী দিন এলো, তখন তিনি ফজর উদিত হওয়ার সময় সুব্হ নামায আদায় করলেন। এরপর তার পরের দিন তিনি আকাশ বেশ ফর্সা হওয়ার পর সুব্হ নামায আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কোথায়?" সে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি এখানে উপস্থিত।" তখন তিনি বললেন: "এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী অংশই হলো নামাযের ওয়াক্ত।"
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌4 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهَا قَالَتْ: إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصَلِّي الصُّبْحَ، فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ، مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ، مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ.
৪ - আবু মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করতেন, অতঃপর মহিলারা তাদের চাদর দ্বারা আবৃত হয়ে ফিরে যেতেন; অন্ধকারের কারণে তাঁদেরকে চেনা যেত না।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌5 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنْ الأَعْرَجِ يُحَدِّثُونَهُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ، وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ، فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ.
৫ - আমাদের নিকট আবু মুসআব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার, বুসর ইবনে সাঈদ ও আল-আরাজ থেকে বর্ণনা করেন, তারা আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে সুবহে (ফজর) নামাযের এক রাকাত পেল, সে সুবহে নামায পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসরের নামাযের এক রাকাত পেল, সে আসরের নামায পেল।”
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌6 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ مَوْلَى عَبْد الله بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَتَبَ إِلَى عُمَّالِهِ إِنَّ أَهَمَّ أَمْرِكُمْ عِنْدِي الصَّلَاةُ مَنْ حَفِظَهَا وَحَافَظَ عَلَيْهَا حَفِظَ دِينَهُ وَمَنْ ضَيَّعَهَا فَهُوَ لِمَا سِوَاهَا أَضْيَعُ، ثُمَّ كَتَبَ أَنْ صَلُّوا الظُّهْرَ إِذَا كَانَ الْفَيْءُ ذِرَاعًا إِلَى أَنْ يَكُونَ ظِلُّ أَحَدِكُمْ مِثْلَهُ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ قَدْرَ مَا يَسِيرُ الرَّاكِبُ فَرْسَخَيْنِ، أَوْ ثَلَاثَةً وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ إِذَا غَابَ الشَّفَقُ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُهُ فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُهُ فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُهُ وَالصَّبْحَ وَالنُّجُومُ بَادِيَةٌ مُشْتَبِكَةٌ.
৬ - আমাদের নিকট আবু মুসআব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন নাফি‘ থেকে, যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের মুক্তদাস ছিলেন, যে উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর কর্মকর্তাদের নিকট লিখেছিলেন: "তোমাদের কার্যাবলীর মধ্যে আমার নিকট সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত। যে ব্যক্তি একে যথাযথভাবে রক্ষা করবে এবং এর প্রতি যত্নবান হবে, সে তার দ্বীনকে রক্ষা করল। আর যে একে বিনষ্ট করল, সে অন্যান্য বিষয়গুলোকে আরও বেশি বিনষ্টকারী হবে।" অতঃপর তিনি লিখে পাঠালেন: "তোমরা যুহর আদায় করো যখন ছায়া এক হাত হয়, যতক্ষণ না তোমাদের প্রত্যেকের ছায়া তার নিজ দৈর্ঘ্যের সমান হয়। আর আসর আদায় করো যখন সূর্য উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকে, যে সময়ের মধ্যে একজন আরোহী দুই বা তিন ফারসাখ পথ পাড়ি দিতে পারে। আর মাগরিব আদায় করো যখন সূর্য অস্ত যায়। আর ইশা আদায় করো যখন সন্ধ্যার লালিমা অদৃশ্য হয় রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। অতঃপর যে ব্যক্তি (ইশার পূর্বে) ঘুমিয়ে পড়ে, তার চোখ যেন শান্তিতে না ঘুমায়; যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়ে, তার চোখ যেন শান্তিতে না ঘুমায়; যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়ে, তার চোখ যেন শান্তিতে না ঘুমায়। আর ফজরের সালাত আদায় করো যখন তারকারাজি স্পষ্ট ও ঘন সন্নিবিষ্ট থাকে।"
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌7 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلٍ بن مالك، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى الأشعري أَنْ صَلِّ الظُّهْرَ إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَهَا صُفْرَةٌ وَأن صل الْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَأَخِّرِ الْعِشَاءَ مَا لَمْ تَنَمْ وَصَلِّ الصُّبْحَ وَالنُّجُومُ بَادِيَةٌ وَاقْرَأْ فِيهَا بِسُورَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ مِنَ الْمُفَصَّلِ.
৭ - আমাদের নিকট আবু মুসআব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন তাঁর চাচা আবু সুহাইল ইবনে মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মুসা আল-আশআরীর নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, সূর্য যখন ঢলে পড়বে তখন জোহরের সালাত আদায় করবে; আসর আদায় করবে যখন সূর্য উজ্জ্বল ও নির্মল থাকে এবং তাতে হলুদাভ ভাব আসার পূর্বে; সূর্য ডুবে গেলে মাগরিবের সালাত আদায় করবে; এশার সালাত বিলম্ব করবে যতক্ষণ তুমি ঘুমিয়ে না পড়ো; এবং যখন নক্ষত্ররাজি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে তখন ফজরের সালাত আদায় করবে এবং তাতে মুফাসসাল সুরাসমূহের মধ্য হতে দীর্ঘ দুটি সুরা পাঠ করবে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌8 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ أَنْ صَلِّ الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ قَدْرَ مَا يَسِيرُ الرَّاكِبُ ثَلَاثَةَ فَرَاسِخَ وَأَنْ صَلِّ الْعِتمة مَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ ثُلُثِ اللَّيْلِ وإِنْ أَخَّرْتَ فَإِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ.
8 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসআব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মুসা আল-আশআরীর নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যে, আসরের সালাত তখন আদায় করো যখন সূর্য উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকে, যে সময়টুকুতে একজন আরোহী তিন ফারসাখ পথ অতিক্রম করতে পারে। আর ইশার সালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ সময়ের মধ্যে আদায় করো। যদি বিলম্ব করো, তবে মাঝরাত পর্যন্ত; আর তুমি গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌9 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ الله بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ، ثُمَّ يَخْرُجُ الإِنْسَانُ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَيَجِدُهُمْ يُصَلُّونَ الْعَصْرَ.
9 - আবু মুসআব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমরা আসরের সালাত আদায় করতাম, এরপর কোনো ব্যক্তি বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রের কাছে যেতেন এবং তাদের আসরের সালাত আদায়রত অবস্থায় পেতেন।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌10 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ الله بْنِ رَافِعٍ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فأَنَا أُخْبِرُكَ صَلِّ الظُّهْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ وَصل الْعَصْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَيْكَ وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ مَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ ثُلُثِ اللَّيْلِ فإن نَمَت إلى نصف الليل فَلَا نَامَتْ عَيْنُك وَصَلِّ الصُّبْحَ بغَلَسَ.
১০ - আবু মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন যিয়াদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন রাফি থেকে—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী উম্মু সালামার মুক্তদাস ছিলেন—যে তিনি আবু হুরায়রাকে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন আবু হুরায়রা বললেন: আমি তোমাকে বলছি, যুহর আদায় করো যখন তোমার ছায়া তোমার সমান হয়, আর আসর আদায় করো যখন তোমার ছায়া তোমার দ্বিগুণ হয়, মাগরিব আদায় করো যখন সূর্য ডুবে যায় এবং ইশা আদায় করো রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে। আর যদি তুমি মধ্যরাত পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকো, তবে তোমার চোখ যেন না ঘুমায়। আর ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতেই আদায় করো।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌11 - أخبرنا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ، ثُمَّ يَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى قُبَاءٍ فَيَأْتِيهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ.
11 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসআব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক, ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আমরা আসরের সালাত আদায় করতাম, এরপর কোনো ব্যক্তি কুবায় যেতেন এবং তিনি যখন তাদের নিকট পৌঁছাতেন তখন সূর্য উঁচুতে থাকত।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌12 - أخبرنا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّهُ قَالَ: مَا أَدْرَكْتُ النَّاسَ إِلَاّ وَهُمْ يُصَلُّونَ الظُّهْرَ بِعَشِيٍّ.
১২ - আবু মুসআব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন রাবিআ বিন আবি আবদির রহমান থেকে, তিনি কাসিম বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি লোকদের কেবল এই অবস্থাতেই পেয়েছি যে, তারা যোহরের সালাত দিনের শেষাংশেই আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌(2) باب ماجاء في وقت الجمعة

‌‌13 - أخبرنا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَمِّهِ أبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ: كُنْتُ أَرَى طِنْفِسَةً لِعَقِيلِ بْنِ أبِي طَالِبٍ تُطْرَحُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَى جِدَارِ الْمَسْجِدِ الْغَرْبِيِّ فَإِذَا غَشِيَ الطِّنْفِسَةَ كُلَّهَا ظِلُّ الْجِدَارِ خَرَجَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ثُمَّ يرْجِعُ بَعْدَ صَلَاةِ الْجُمُعَةِ الْجُمُعَةَ.
(২) জুমার সময় সংক্রান্ত অধ্যায়

১৩ - আবু মুসআব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর চাচা আবু সুহাইল ইবন মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি জুমার দিন আকিল ইবন আবি তালিবের একটি গালিচা মসজিদের পশ্চিম দেয়ালের পাশে বিছানো থাকতে দেখতাম। যখন দেয়ালের ছায়া সম্পূর্ণ গালিচাটিকে ঢেকে ফেলত, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (নামাজের জন্য) বের হতেন। অতঃপর তিনি জুমার সালাত শেষে ফিরে আসতেন।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌14 - أخبرنا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: أنبأنَا مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي سَلِيطٍ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه صَلَّى الْجُمُعَةَ بِالْمَدِينَةِ وَصَلَّى الْعَصْرَ بِمَلَلٍ.

قَالَ مَالِكٌ: وَذَلِكَ لِلتَّهْجِيرِ وَسُرْعَةِ السَّيْرِ.
১৪ - আবু মুসআব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের জানিয়েছেন আমর ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাযিনী থেকে, তিনি ইবনে আবি সালীত থেকে যে, উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মদিনায় জুমার সালাত আদায় করেছেন এবং আসরের সালাত 'মালালে' আদায় করেছেন।

মালিক বলেন: আর তা ছিল দ্বিপ্রহরে যাত্রা এবং দ্রুত গমনের কারণে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌15 - أخبرنا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي سَلِيطٍ؛ أَنَّهُ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي الْجُمُعَةَ مَعَ عُثْمَانَ بن عفان رضي الله عنه، ثم نَنْصَرِفُ وَمَا لِلْجِدَارِ ظِلٌّ.
‌১৫ - আবু মুসআব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাযিনী থেকে, তিনি ইবনে আবি সালীত থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমরা উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতাম, অতঃপর আমরা ফিরে আসতাম এমন অবস্থায় যখন দেয়ালের কোনো ছায়া থাকত না।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌(3) باب فيمن أدرك ركعة من الصلاة

‌‌16 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ.
(৩) সালাতের এক রাকআত পাওয়া ব্যক্তির পরিচ্ছেদ

১৬ - আবু মুসআব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকআত পেল, সে সালাত পেয়ে গেল।"
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌17 - أخبرنا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ الله بْنَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه كَانَ يَقُولُ: إِذَا فَاتَتْكَ الرَّكْعَةُ فَقَدْ فَاتَتْكَ السَّجْدَةُ.
১৭ - আবু মুসআব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: যদি তোমার রাকআত ছুটে যায়, তবে তোমার সাজদাহও ছুটে গেল।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌18 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ؛ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ الله بْنَ عُمَرَ وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ كَانَا يَقُولَانِ: مَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَمن قبل أن يرفع الإمام رأسه فَقَدْ أَدْرَكَ السَّجْدَةَ.
‌১৮ - আমাদের নিকট আবু মুসআব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং যায়দ ইবনে সাবিত বলতেন: ইমাম তাঁর মাথা তোলার পূর্বেই যে ব্যক্তি রাকাত পেল, সে অবশ্যই সাজদাহ পেল।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌19 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ؛ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ مَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ فَقَدْ أَدْرَكَ السَّجْدَةَ وَمَنْ فَاتَهُ قِرَاءَةُ أُمِّ الْقُرْآنِ فَقَدْ فَاتَهُ خَيْرٌ كَثِيرٌ.
১৯ - আবু মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন, যে ব্যক্তি রাকাত পেল সে সেজদাহ পেল এবং যার উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা ছুটে গেল সে অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌(4) باب ماجاء في تفسير دلوك الشمس

‌‌20 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ الله بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ دُلُوكُ الشَّمْسِ مَيْلُهَا.
(৪) দুলুকুশ শামস (সূর্য ঢলে পড়া)-এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

২০ - আবু মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফি’ থেকে যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলতেন, দুলুকুশ শামস হলো সূর্যের হেলে পড়া।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌21 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ قَالَ أَخْبَرَنِي مُخْبِرٌ أَنَّ عَبْدَ الله بْنَ عَبَّاسٍ كَانَ يَقُولُ دُلُوكُ الشَّمْسِ إِذَا فَاءَ الْفَيْءُ وَغَسَقُ اللَّيْلِ اجْتِمَاعُ اللَّيْلِ وَظُلْمَتُهُ.
21 - আবু মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট দাউদ ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে এক সংবাদ প্রদানকারী সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলতেন, সূর্যের ঢলে পড়া হলো যখন ছায়া ফিরে আসে এবং রাতের গভীর অন্ধকার হলো রাতের আঁধার একত্রিত হওয়া ও তার অন্ধকারাচ্ছন্নতা।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(5) باب ماجاء في جامع الوقت

‌‌22 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ

اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: الَّذِي يَتَفُوتُهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ.
(৫) সময়ের বিবিধ বিষয়াবলি সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

২২ - আমাদের নিকট আবু মুসআব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক নাফে‘র সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার আসরের সালাত ছুটে যায়, সে যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌23 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ انْصَرَفَ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ ، فَلَقِيَ رَجُلاً عند خاتمة البلاط لَمْ يَشْهَدِ الْعَصْرَ فَقَالَ: مَا حَبَسَكَ عَنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ؟ فَذَكَرَ لَهُ عُذْرًا فَقَالَ عُمَرُ بن الخطاب طَفَّفْتَ.

قَالَ مَالِكٌ: وَقد يُقَالُ لِكُلِّ شيء وَفَاءٌ وَتَطْفِيفٌ.
২৩ - আমাদের কাছে আবু মুসআব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মালিক বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব আসরের সালাত শেষ করে ফিরে আসছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি ‘আল-বালাত’ নামক স্থানের শেষ প্রান্তে এক ব্যক্তির দেখা পেলেন যে আসরের সালাতে উপস্থিত হতে পারেনি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “কীসে তোমাকে আসরের সালাত থেকে বিরত রাখল?” সে ব্যক্তি তখন তাঁর কাছে একটি ওজর পেশ করল। উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: “তুমি (নিজের অংশে) কমতি করেছ।”

ইমাম মালিক বলেন: প্রত্যেকটি জিনিসেরই পূর্ণতা এবং অপূর্ণতা (বা কমতি) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌24 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، أَنَّهُ سمع يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ يَقُولُ: إِنَّ الْمُصَلِّيَ لَيُصَلِّي الصَّلَاةَ وَمَا فَاتَتهُ، وَلَمَا فَاتَهُ مِنْ وَقْتِهَا أَعْظَمُ، وْ أَفْضَلُ مِنْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ.
২৪ - আবু মুসআব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছেন: নিশ্চয়ই নামাযী ব্যক্তি নামায আদায় করেন এবং তা তার থেকে ফউত হয় না, অথচ সেই নামাযের ওয়াক্তের যে অংশটুকু তার থেকে ফউত (অতিবাহিত) হয়ে গেছে, তা তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ অপেক্ষা অধিক মহান অথবা শ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌25 - قَالَ مَالِكٌ: مَنْ أَدْرَكَه الْوَقْتَ وَهُوَ فِي سَفَرٍ، فَأَخَّرَ الصَّلَاةَ سَاهِيًا أَوْ نَاسِيًا، فقَدِمَ عَلَى أَهْلِهِ ، وَهُوَ فِي الْوَقْتِ، فإنَّهُ يُصَلِّي صَلَاةَ الْمُقِيمِ، وَإِنْ كَانَ قَدِمَ فذَهَبَ الْوَقْتُ، فَلْيُصَلِّ صَلَاةَ الْمُسَافِرِ، لأَنَّهُ إِنَّمَا يَقْضِي مِثْلَ الَّذِي وجب عَلَيْهِ.
25 - ইমাম মালিক বলেন: যে ব্যক্তি সফররত অবস্থায় নামাজের ওয়াক্ত পেল, অতঃপর অসতর্কতা বা বিস্মৃতিবশত নামাজ বিলম্বিত করল এবং ওয়াক্ত থাকাবস্থাতেই নিজ পরিবারের নিকট ফিরে এল, তবে সে মুকীমের নামাজ আদায় করবে। আর যদি সে ফিরে আসার পর ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে সে মুসাফিরের নামাজ আদায় করবে; কেননা সে কেবল তা-ই কাজা করবে যা তার ওপর ওয়াজিব হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌26 - قَالَ مَالِكٌ: مَنْ أَرَادَ سَفَرًا، فَأَدْرَكَهُ الْوَقْتُ وَهُوَ فِي أَهْلِهِ، فَإِذَا خَرَجَ وَقَدْ خَرَجَ الْوَقْتُ وَلَمْ يَكُنْ صَلَّى فِي أَهْلِهِ، فَلْيُصَلِّ صَلَاةَ الْحَاضِرِ، لأَنَّهُ إِنَّمَا يَقْضِي مِثْلَ الَّذِي قَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ.
‌২৬ - ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: যে ব্যক্তি সফরের ইচ্ছা করে এবং নিজ পরিবারের মাঝে থাকা অবস্থায় নামাজের ওয়াক্ত হয়, অতঃপর সে রওনা হওয়ার পর যখন ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় এবং সে তার পরিবারের মাঝে থাকা অবস্থায় নামাজ পড়েনি, তবে সে মুকীম বা উপস্থিত ব্যক্তির মতই নামাজ পড়বে। কারণ সে মূলত তা-ই কাযা আদায় করছে যা তার ওপর ওয়াজিব হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌27 - قَالَ مَالِكٌ: الشَّفَقُ الْحُمْرَةُ الَّتِي فِي الْمَغْرِبِ، فَإِذَا ذَهَبَ الْحُمْرَةُ، فَقَدْ وَجَبَتْ صَلَاةُ الْعِشَاءِ، وَخَرَجْ مِنْ وَقْتِ الْمَغْرِبِ.
২৭ - ইমাম মালিক বলেন: শাফাক হলো পশ্চিম দিগন্তের লালিমা; যখন সেই লালিমা দূরীভূত হয়, তখন ইশার সালাত ওয়াজিব হয়ে যায় এবং মাগরিবের সময় শেষ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) মুওয়াত্তা মালিক - রিওয়ায়াতু আবী মুসআব আয-যুহরী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌28 - حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ أُغْمِيَ عَلَيْهِ، فَذَهَبَ عَقْلُهُ، فَلَمْ يَقْضِ الصَّلَاةَ.

قَالَ مَالِكٌ: وَذَلِكَ أَنَّ الْوَقْتَ ذَهَبَ، فَأَمَّا مَنْ أَفَاقَ وهو فِي الْوَقْتِ، فَإِنَّهُ يُصَلِّي.
২৮ - আবু মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফি‘ থেকে যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছিল, ফলে তিনি সালাত কাযা করেননি।

মালিক বলেন: আর এটি এজন্য যে (সালাতের) সময় অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল, তবে যে ব্যক্তি সময়ের মধ্যে চেতনা ফিরে পায়, সে অবশ্যই সালাত আদায় করবে।