(খণ্ড: ১)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ذيل تكملة الإكمال - ابن العمادية القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: ذيل تكملة الإكمال
(ذيل على كتاب «تكملة الإكمال» لابن نقطة)
المؤلف: وجيه الدين منصور بن سليم الإسكندراني المعروف بـ ابن العمادية (607 هـ - 673 هـ)
المحقق: عبد القيوم عبد رب النبي [ت 1441 هـ]
الناشر: جامعة أم القرى، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419 هـ
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رمضان 1443
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল আমাদিয়্যাহ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ (তবকাত)
বই: যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল
(ইবনু নুকতাহ রচিত «তাকমিলাতুল ইকমাল» গ্রন্থের পরিশিষ্ট)
লেখক: ওয়াজিহুদ্দিন মনসুর বিন সালিম আল-ইসকান্দারানি, যিনি ইবনুল আমাদিয়্যাহ নামে পরিচিত (৬০৭ হিজরি - ৬৭৩ হিজরি)
মুহাক্কিক (সম্পাদক): আবদুল কাইয়ুম আবদুল রাব্বুন নবী [মৃত্যু ১৪৪১ হিজরি]
প্রকাশক: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়নকৃত)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রমজান ১৪৪৩
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١)
المملكة العربية السعودية - وزارة التعليم العالي
جامعة أم القرى - معهد البحوث العلمية
مركز إحياء التراث الإسلامي - مكة المكرمة
ذيل تكملة الإكمال
تأليف
الحافظ وجيه الدين منصور بن سليم الإسكندراني
المعروف بـ ابن العمادية (607 هـ - 673 هـ)
تحقيق
الدكتور عبد القيوم عبد رب النبي
1419 هـ
সৌদি আরব সাম্রাজ্য - উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউট
ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র - মক্কা মুকাররমা
যায়ল তাকমিলাতিল ইকমাল
সংকলন
আল-হাফিজ ওয়াজিহুদ্দীন মনসুর বিন সালিম আল-ইস্কান্দারি
যিনি ইবনুল আমাদিয়া নামে পরিচিত (৬০৭ হিজরি - ৬৭৩ হিজরি)
সম্পাদনা ও পর্যালোচনা
ডক্টর আব্দুল কাইয়ুম আব্দুল রাব্বুন নবি
১৪১৯ হিজরি
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
الحمدُ لله رَبّ العَالمين، والصّلاةُ والسّلامُ على أشرف الأنبياء والمُرسلين، وعلى آلِه وأصحَابِه والتَّابِعين لهم بإحسانٍ إلى يوم الدّين. وبعدُ:
فإنّ من أهم خَصَائص هذه الأمّة أن قَيّض الله سبحانه وتعالى لها رِجَالًا يَخْدمُون دينَه، أتْعَبُوا لأجله أبدانَهم، وأجهدوا قواهم الجَسَدِيّة والفِكرية، وتَحَمّلوا فى سبيله كل ما يعترضهم من المشاقّ والمَتَاعِب، وحَرِص العلماءُ على ضبط نُصُوص هذا الدّين وألفاظه، وكل حَرفٍ يَتَّصل به، وَوَضَعُوا قَواعِد وضوابط وأصولًا لهذه الغَاية النَّبِيلَة، وَطَبّقُوها فى كُتُبِهم الكَثِيرة التى ألّفوها.
والأَخْطاء والتّحريفَات الّتي تَقَع في الكُتُب العَربِيّة المَطْبوعة، ليست التّبِعَة فيها على الخَطّ العَرَبِيّ، فقد أُعِدّت له قَوَاعِد لو رُوعِيت لما وقع الخطأ والتَّحْرِيف، ولا يكفي فى تدارك هذه المُشْكِلَة مَعْرفة المُصَحِّح وكونُه عالمًا بل لا بُدّ من أمورٍ أُخْرَى تجِب مُرَاعاتها، ولذلك كُلّ من كَتَب فى عُلُوم الحديث تَعَرَّض للاهتمام بِهذه القَوَاعد، ونَبَّه على الآثار السَّيِّئة المُتَرتبة على عَدَم العِنَاية بها.
قال ابن الصَّلاح: ثم إنّ على كَتَبَة الحَدِيث وطَلَبَته صَرْف الهِمَّة إلى ضبط ما يكتُبونه أو يَحْصُلونه بِخَطِّ الغير من مَرْويّاتهم على الوَجْه الّذي رَوَوه شَكلًا ونَقْطًا بحيث يؤمَن معهما الالتباس، وكثيرًا ما يَتَهاون بذلكَ الوَاثِق
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের উপর। অতপর:
এই উম্মতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই দ্বীনের সেবার জন্য এমন কিছু ব্যক্তিকে মনোনীত করেছেন যারা এর জন্য তাদের দেহকে ক্লান্ত করেছেন, তাদের শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে নিয়োজিত করেছেন এবং এর পথে আসা সকল কষ্ট ও প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন। উলামায়ে কেরাম এই দ্বীনের মূল পাঠসমূহ (নসুস), শব্দাবলী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বর্ণের নির্ভুলতার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। তাঁরা এই মহান উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে বিভিন্ন নিয়ম, কানুন ও মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন এবং তাদের রচিত বহু গ্রন্থে সেগুলো প্রয়োগ করেছেন।
মুদ্রিত আরবি গ্রন্থাবলীতে যে সকল ভুল ও বিকৃতি পরিলক্ষিত হয়, তার দায়ভার আরবি লিপির ওপর বর্তায় না; কেননা এর জন্য এমন কিছু নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে যা যথাযথভাবে অনুসরণ করলে কোনো ভুল বা বিকৃতি ঘটত না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কেবল সংশোধনকারীর জ্ঞান বা তাঁর আলেম হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং আরও কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। এই কারণেই যারা হাদিস বিজ্ঞানের ওপর লিখেছেন, তারা সকলেই এই নিয়মগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এগুলোর প্রতি অবহেলার কারণে যে ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি হয় সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
ইবনুল সালাহ বলেন: হাদিস লেখক এবং শিক্ষার্থীদের কর্তব্য হলো তারা যা লিখছে বা অন্যের হস্তলিপি থেকে তাদের বর্ণিত যে সকল বিষয় সংগ্রহ করছে, তা যথাযথভাবে সংরক্ষণে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করা। অর্থাৎ তারা যেভাবে তা বর্ণনা করেছে, ঠিক সেভাবেই হরকত ও নুকতা দিয়ে তা লিপিবদ্ধ করা যাতে কোনো প্রকার সংশয় বা অস্পষ্টতা না থাকে। প্রায়শই অনেক আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করে থাকেন।
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
بذهنه وتيقُّظه، وذلك وَخِيم العاقبة، فإنَّ الإنسانَ مُعَرَّض للِنِّسيان، وأَوَّلُ نَاسٍ أوَّل النَّاس، وإعجام المكتوب يَمْنع استعجامه وشكلُه يَمْنع إشكاله
(1).
ونَقَل العَسْكري عن الأوزَاعِيّ قال: إعجام الكتاب نُورُه
(2)وذَكَر ابن الصَّلَاح أمورًا أخْرَى بعد ما تَقَدَّم من أهَمها ما مُلَخصُه:
- استحباب تكرار الضَّبط فى الألفاظ المُشكِلة، بأن تُضْبَط فى متن الكتاب، ثم تُعَاد كتابتها قُبَالَة ذلكَ فى الحَاشِية مفردةً مَضْبُوطةً.
- كَراهِية الخَطّ الدَّقِيق من غير عُذْرٍ يقتضِيه، ونقل عن بعض المَشَايخ أنَّه إذَا رأى خَطًّا دقيقًا قال: "هذا خَط من لا يوقن بالخلف من الله".
- اختيار خَطّ التَّحْقِيقِ دُوْن المَشْق والتَّعْلِيق
(3)، ونَقَل عن عُمر رضي الله عنه قال: شَرُّ القِرَاءة الهَذْرمة
(4) وأجود الخَطّ أَبْيَنهُ.
- ضَبْط الحُرُوف المُهْمَلة بِعَلَامة الإهمال، كَضَبْطِ الحُرُوف المُعْجَمة بالنقط
(5) فإذا لُوحِظ فى الخَطّ الأُمور الَّتي ذكرها أهل العِلْم والمُحَدِّثُون فهي كَفيلة بإبعاد الأَغْلَاط والتَّحْريف، وكان سَلَفَنا يَهْتَمُّون بذلكَ حَقَّ الاهتمام، يَقُولُ عبد الله بن
--------------------------------------------
(নিজের) মেধা ও সতর্কতার ওপর (নির্ভর করা), আর এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা মানুষ বিস্মৃতির শিকার হয়; আর প্রথম যে বিস্মৃত হয়েছে সে ছিল প্রথম মানুষ। আর লিখিত পাণ্ডুলিপিতে নুকতা প্রদান করা সেটিকে অস্পষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং হরকত প্রদান করা সেটিকে দুর্বোধ্য হওয়া থেকে বিরত রাখে।
(১)আসকারি ইমাম আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: কিতাবের নুকতা বা বিন্দু প্রদান করা হলো তার নূর (আলো)।
(২)ইবনে সালাহ পূর্বোল্লিখিত আলোচনার পর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন, যার সারসংক্ষেপ হলো:
- জটিল শব্দগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চারণ বা হরকত স্পষ্ট করার জন্য পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব। অর্থাৎ কিতাবের মূল পাঠে হরকত প্রদান করা হবে, এরপর তার ঠিক বিপরীতে পার্শ্বটীকায় পৃথকভাবে হরকতসহ পুনরায় লিখে দেওয়া হবে।
- কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অতি সূক্ষ্ম বা চিকন অক্ষরে লেখা মাকরূহ। কোনো কোনো শায়খ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন কোনো সূক্ষ্ম লেখা দেখতেন তখন বলতেন: "এটি এমন ব্যক্তির লেখা যার আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান পাওয়ার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস নেই।"
- মাশক (দ্রুত ও অগোছালো লেখা) এবং তালীক (অক্ষর জড়িয়ে লেখা) বর্জন করে সুস্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত (তাহকীক) হস্তাক্ষর গ্রহণ করা।
(৩) উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: নিকৃষ্টতম কিরাত (পাঠ) হলো অতি দ্রুতবেগে অস্পষ্টভাবে পড়া, আর সর্বোত্তম হস্তাক্ষর হলো যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
(৪)- নুকতাহীন অক্ষরগুলোকে নুকতাহীনতার চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করা, যেমনভাবে নুকতাযুক্ত অক্ষরগুলোকে নুকতা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
(৫) সুতরাং যদি হস্তাক্ষরের ক্ষেত্রে আলেম ও মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক উল্লিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা হয়, তবে তা ভুলভ্রান্তি এবং বিকৃতি দূর করার জন্য যথেষ্ট। আমাদের পূর্বসূরিগণ এই বিষয়গুলোতে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে... বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
إدريس: لمَّا حَدَّثَنِي شُعْبَة بحديث أبى الحَوْراء السَّعْدِيّ عن الحَسَن بن عَلِيّ كتَبْتُ أسفَلَه "حُوْرُ عِيْن" لِئَلَّا أغلِط، يعنى فيقرأه أبو الجَوْزَاء
(1) لشبهه به فى الخَطّ
(2).
وكَان بعض أئمتنا يترك حديثَ من لا يَضْبط، فيقع فى الخَطَأ والتَّحْريف، فقد نَقَل العَسْكَريُّ عن أبي عُبَيْد الآجُرِّيِّ عن سُلَيْمان بن الأشعث قوله: قال لي أحمد بن صَالِح المِصْرى، حَدَّثَنَا سَلَامة بن رَوْح فى حديث السَّقِيفَة "بَعْرَة أن يَفِيلَا" تصحيف "تَغِرّة أن يُقْتَلَا" وكان أحمد بن صَالِح كَتَب خمسين ألف حَدِيث فَتركه
(3)، وذكر السُّيُوطِيّ فى تدريب الرَّاوِيّ: قيل: إنَّ النَّصَارَى كَفَروا بلفظة أخطَأوا فى إعجامها وشكلها، قال الله فى الإنجيل لعيسى عليه السلام: أنتَ نَبيِّيّ وَلَّدتُّكَ من البَتُول، فَصَحَّفُوها، وقالوا: أنْت بُنَيِّيّ وَلَدتُّك من البَتُول، ويقالُ: إن أوَّل فِتْنَةٍ وَقَعَتْ فى الإسلام سَبَبُها التَّصْحيف أيضًا، وهي فِتْنَة عثمان رَضى الله عنه، فإنَّه كَتَبَ لِلَّذِي أرسَلَه أميرًا إلى مصر: إذا جَاءَكم فَاقْبَلُوه، فصَحَّفوه، وَقَالُوا: فَاقْتُلُوه، فَجَرى ما جَرَى
(4) وقد ذكر العَسْكَرِيّ في كتابه "شَرْحُ مَا يَقَع فيه التصحيف" أمثلة في التصحيفات فى القرآن الكريم، والحَديث النَّبَوِيّ،
--------------------------------------------
ইদ্রিস বলেন: যখন শুবা হাসান ইবনে আলীর মাধ্যমে আবু আল-হাওরা আস-সাদির হাদিস আমার কাছে বর্ণনা করলেন, তখন আমি তার নিচে "হুরুন ইন" লিখে রাখলাম যাতে আমি ভুল না করি; অর্থাৎ পাছে তার লেখার সাদৃশ্যের কারণে তা আবু আল-জাওজা
(১) হিসেবে পড়া হয়।
আমাদের কতিপয় ইমাম এমন ব্যক্তির হাদিস বর্জন করতেন যার পাণ্ডুলিপি বা পাঠ যথাযথ ছিল না, ফলে সে ভুল ও বিকৃতির শিকার হতো। আল-আসকারি আবু উবাইদ আল-আজুরি থেকে এবং তিনি সুলাইমান ইবনে আল-আশআস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে সালিহ আল-মিসরি আমাকে বলেছেন, সালামাহ ইবনে রাউহ সাকিফার হাদিসে "বা’রাহ আন ইয়াফিলা" বর্ণনা করেছেন, যা মূলত "তাগিররাহ আন ইউকতালা" এর ভুল পাঠ (তাসহিফ)। আহমাদ ইবনে সালিহ পঞ্চাশ হাজার হাদিস লিখেছিলেন, তবুও তিনি তাকে বর্জন করেন।
(৩) আস-সুয়ুতি 'তাদরিবুর রাবি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: বলা হয় যে, নাসারারা এমন একটি শব্দের কারণে কুফরি করেছিল যার নুকতাহ এবং হরকতে তারা ভুল করেছিল। আল্লাহ ইঞ্জিলে ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি বলেছিলেন: "তুমি আমার নবী, আমি তোমাকে কুমারী থেকে জন্ম দিয়েছি (সৃষ্টি করেছি)", কিন্তু তারা তা ভুল পাঠ করে বলেছিল: "তুমি আমার পুত্র, আমি তোমাকে কুমারী থেকে জন্ম দিয়েছি"। আরও বলা হয় যে, ইসলামে প্রথম যে ফিতনা সংঘটিত হয়েছিল তার কারণও ছিল ভুল পাঠ (তাসহিফ)। আর তা হলো উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফিতনা; কেননা তিনি যাকে মিসরের আমির হিসেবে পাঠিয়েছিলেন তার উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন: "যখন সে তোমাদের কাছে আসবে তখন তাকে গ্রহণ করো (ফাকবালুহু)", কিন্তু তারা তা ভুল পাঠ করে বলেছিল: "তাকে হত্যা করো (ফাকতুলুহু)", ফলে যা ঘটার তা-ই ঘটল।
(৪) আল-আসকারি তার 'শারহু মা ইয়াকাউ ফিহিত তাসহিফ' গ্রন্থে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সংঘটিত ভুল পাঠের অনেক উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
والفِقْه، والشِّعْر، والمُكَاتَبات وغير ذلك. وهكذا لم يَسْلَم من التصحيف فَنٌّ من الفنون مِمَّا دَفَع العلماء إلي إحكام الحِصَار حَوْلَه خَشْية أن يَتَفَشَّى فى النُّصُوص، بيد أنَّ أكثر العُلَماء عِنَايةً بهذا الأمر وأشدّهم احتراسًا من هذا الخَطَر هم المُحَدِّثون وإنَّما ازدادوا من عنايتهم بِضَبْط الأعلام، لأنَّ التَّصحيف الَّذِي يتَسرَّب إلى أسماء الرُّوَاة وأنسابهم وألقابهم ذو خُطُورة بَالِغَة فقد نَقَل عبد الغَنِيّ بن سَعِيد الأزدى عن إبراهيم بن عبد الله النَّجِيرَمِيّ قال: أَوْلَى الأشياءِ بالضَّبط أسماء الناس لأنَّه شئ لا يَدْخُله القِياس، ولا قبلَه شئٌ، ولا بعدَه شيءٌ يَدُلّ عليه
(1) وهناك سَبَبٌ آخر يَدْعُو المُحَدِّثين إلى العِنَاية بهذا الأمر، هو أَنَّ رُوَاة الأحَاديث ونَقَلَة الأخبار هم من جملة أَرْكان الحُكْم على صِحَّة تلك الأحَادِيث والآثار، وهم يختلفون ضَبْطًا وحِفْظًا وعَدَالةً وَوَرَعًا فقد يشتبه اسمُ راوٍ بآخر، أحدُهما موثوق الرِّواية والآخر مَطْعُون فى روايته، وبِالتَّالي يختلف الحكم على هذه الأحاديث صِحَّةً وضَعْفًا حسب الحكم على الرَّاوِي ثِقةً وضَعْفًا.
ومن مَظَاهر عناية المُحَدِّثِين فى الاحتراز من هذا الخَطَر:
أوَّلًا: أنَّهم مَنَعُوا أخذَ العِلْم من الصُّحُف والمُصَحِّفِين، وألزَمُوا بأخذِه عن أهله المُتْقِنِين له تَلَقِّيًا ومُشَافَهةً ومُزَاحمة لهم بالرُّكب مع الصُّحْبَة الطَّويلة، لأنَّ من تَلَقَّاه عن أستاذٍ رَشِيدٍ خَبيرٍ إنَّما يَتَلَقَّى عنه عُصَارَة جُهْده، بالإضافة إلى ما تَلَقَّاه هذا الأستاذ عن شُيُوخِه السَّابِقِين، ومن تَلَقَّى العِلْم عن الشُّيُوخ المُتْقِنِين ولَازَمَهم فَلَن تَصِلَ الغَفْلَة، مَهْمَا يكن مُغَفَّلًا إلى حَدِّ أن يروي حَدِيثًا (عن جِبريل عن الله عن رَجُلٍ) فَقيل له: مَنْ هَذَا الَّذي يَصْلح أن يكون شيخًا لله تعالى، فإذا هو صَحَّف "عز وجل" فَقَرأها "عن رَجُلٍ".
--------------------------------------------
এবং ফিকহ, কবিতা, চিঠিপত্র এবং অন্যান্য বিষয়। এভাবেই কোনো শাস্ত্রই শব্দগত বিকৃতি (তাসহিফ) থেকে রক্ষা পায়নি, যা আলেমদেরকে এর চারিপাশে কঠোর বেষ্টনী গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছে যেন তা মূল পাঠে ছড়িয়ে না পড়ে। তবে এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি যত্নশীল এবং এই বিপদ সম্পর্কে সবচেয়ে সতর্ক আলেমগণ হলেন মুহাদ্দিসগণ। তাঁরা বিশেষত নামগুলোর সঠিক উচ্চারণের ক্ষেত্রে তাঁদের যত্ন বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, কারণ বর্ণনাকারীদের নাম, বংশপরিচয় এবং উপাধিতে যে শব্দগত বিকৃতি অনুপ্রবেশ করে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আজদি, ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাজিরামি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "সঠিকভাবে নির্ধারণ করার জন্য সবচেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয় হলো মানুষের নাম, কারণ এটি এমন একটি বিষয় যাতে কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) খাটে না, আর এর আগে বা পরে এমন কিছু থাকে না যা এর প্রতি নির্দেশ করে।"
(১) মুহাদ্দিসদের এই বিষয়ে যত্নবান হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, হাদিস বর্ণনাকারী এবং সংবাদ বাহকগণ হাদিস ও আসারসমূহের বিশুদ্ধতা বিচারের অন্যতম স্তম্ভ। তাঁরা হাদিস সংরক্ষণ, মুখস্থ রাখা, ন্যায়পরায়ণতা এবং খোদাভীতির ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকেন। ফলে একজন বর্ণনাকারীর নাম অন্যজনের নামের সাথে মিলে যেতে পারে, অথচ তাঁদের একজন নির্ভরযোগ্য এবং অন্যজন অযোগ্য হতে পারেন। এর ফলে বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা বা দুর্বলতার বিচারের ওপর ভিত্তি করে সেই হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার হুকুমও ভিন্ন হয়ে যায়।
এই বিপদ থেকে সতর্ক থাকার বিষয়ে মুহাদ্দিসদের বিশেষ যত্নের কিছু নিদর্শন হলো:
প্রথমত: তাঁরা কেবল পাণ্ডুলিপি বা কিতাব দেখে পাঠকারীদের থেকে ইলম গ্রহণ করা নিষিদ্ধ করেছেন এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি শ্রবণ ও মৌখিকভাবে দীর্ঘ সাহচর্যে থেকে জানু গেড়ে ইলম অর্জন করা আবশ্যক করেছেন। কারণ যে ব্যক্তি একজন বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করে, সে মূলত তাঁর দীর্ঘ সাধনার নির্যাস লাভ করে, সাথে সাথে সেই শিক্ষক তাঁর পূর্ববর্তী শায়খদের কাছ থেকে যা লাভ করেছিলেন তাও অর্জন করে। আর যে ব্যক্তি দক্ষ শায়খদের থেকে ইলম গ্রহণ করে এবং তাঁদের সান্নিধ্যে থাকে, সে যতই অমনোযোগী হোক না কেন, তার অসতর্কতা কখনোই এই পর্যায়ে পৌঁছাবে না যে সে একটি হাদিস এভাবে বর্ণনা করবে- "(জিবরাইল থেকে, তিনি আল্লাহ থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে)"। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: "কে সেই ব্যক্তি যিনি মহান আল্লাহর শায়খ হওয়ার যোগ্য?" তখন দেখা গেল যে, সে মূলত "আযযা ওয়া জাল্লা" (আল্লাহর মহিমা ও প্রতাপ) শব্দটিকে ভুল পড়ে "জনৈক ব্যক্তি থেকে" পাঠ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
ثَانِيًا: أنَّهم بَدَأوا يُقَيِّدُون ما يَكْتُبُونه عن شُيُوخِهم ويَضْبِطُونه بالشكل والنَّقط وبِعَلَامات الإعجام والإهمال، وبقواعد الكتابة والمقابلة والإلحاق والتَّضْبيب ونحو ذلك.
ثَالِثًا: تأليف الكُتُب فى هَذَا الشأن، وهى نَوْعَان:
النَّوع الأوَّل: كتب التَّرَاجم عَامَّةً مُرَتَّبة على حُرُوف المُعْجَم، ثم عَلَى أبواب مخصَّصَة لكل اسم، كما هو حال كتاب "التَّاريخ الكبير" للإمام البُخَاريّ و"الجَرْح والتَّعديل" لابن أبى حَاتِم و"كِتاب الثِّقَات" لابن حِبَّان وغير ذلك. وَلَا شَكَّ أنَّ تأليفهم على هَذَا النَّمَط يدفع كثيرًا من التَّصْحِيف والتحريف.
النَّوع الثَّانِي: وهو أجَلَّها وأنفعها، وهو تأليف الكُتُب الخاصَّة بضبط ما يُخشَى الخَطَأ والتحريف فيه، وجَعَلُوه فَنًّا خَاصًّا، هو "المؤتَلِف والمختلف" وقبل أن أذكر أسماء الكُتُب الَّتي أُلِّفَت فى هَذَا الفَنّ وأسماء مُؤَلِّفِيها أرِيد أن أبَيِّن مَعْنَى المؤتلف والمختلف لُغَةً واصطلاحًا وأهَمِّيَّته، لأنَّ هَذَا هو مُوضُوع كتابنا هذا.
المؤتلف والمختلف لُغَةً:
المؤتلف من الألفة، ومنه ألَّف بينهما تأليفًا، أوقع الألفة وجمع بينهما بعد تَفَرُّق، وَوَصَلَهُما
(1) وتألّف فُلَانٌ فُلَانًا، إذا دَارَاه وآنَسَه وقارَبَه ووَاصَلَه وتَأَلَّفَ القَوْم تأَلُّفًا اجتمعوا كائتلفوا.
(2)--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: তাঁরা তাঁদের শায়খদের কাছ থেকে যা লিখতেন তা লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন এবং হারাকাত (যের-যবর), নুকতা, ইজাম (অক্ষর চিহ্নিতকরণ) ও ইহমাল (চিহ্নহীনতা), এবং লিখনরীতি, মুকাবালা (পাণ্ডুলিপি যাচাই), ইলহাক (সংযোজন) ও তাদবিব (সংশয়সূচক চিহ্ন) এবং এই জাতীয় নিয়মের মাধ্যমে সেগুলো নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করতেন।
তৃতীয়ত: এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করা, আর তা দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: সাধারণভাবে বর্ণানুক্রমে সাজানো জীবনী গ্রন্থসমূহ, এরপর প্রতিটি নামের জন্য নির্দিষ্ট পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত, যেমন ইমাম বুখারীর 'আত-তারিখুল কাবির', ইবনে আবি হাতিমের 'আল-জারহু ওয়াত-তাদিল', ইবনে হিব্বানের 'কিতাবুস সিকাত' এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহ। নিঃসন্দেহে এই পদ্ধতিতে তাঁদের গ্রন্থ রচনা অনেক ভুল পাঠ (তাসহিফ) এবং বিকৃতি (তাহরিফ) দূর করে।
দ্বিতীয় প্রকার: এটি সবচেয়ে মহান ও উপকারী, আর তা হলো—যেসব বিষয়ে ভুল ও বিকৃতির আশঙ্কা করা হয় সেগুলো নির্ভুল করার জন্য বিশেষ গ্রন্থ রচনা করা। তাঁরা একে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা হলো 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' (সদৃশ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ)। এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থসমূহের নাম এবং সেগুলোর লেখকদের নাম উল্লেখ করার আগে আমি 'মু'তালিফ' ও 'মুখতালিফ'-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ এবং এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে চাই, কারণ এটিই আমাদের এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়।
মু'তালিফ ও মুখতালিফ-এর শাব্দিক অর্থ:
'মু'তালিফ' শব্দটি 'উলফাহ' (সৌহার্দ্য) থেকে উদ্গত, এখান থেকেই 'আল্লাফা বাইনাহুমা তালিফান' কথাটি এসেছে, যার অর্থ সে উভয়ের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপন করল এবং বিচ্ছেদের পর তাদের একত্রিত করল এবং তাদের সংযুক্ত করল।
(১) আর অমুক ব্যক্তি অমুকের সাথে সদ্ভাব স্থাপন করল—এর অর্থ যখন সে তার সাথে কোমল আচরণ করল, তার সাথে ঘনিষ্ঠ হলো, তার নিকটবর্তী হলো এবং যোগাযোগ রক্ষা করল। আর কোনো জনপদ বা গোষ্ঠী 'তাআল্লাফা' করল—এর অর্থ তারা 'ইত্লাফা'-এর ন্যায় একত্রিত হলো।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
والمختلف من الاختلاف، و"اختلف" ضِدَّ "اتَّفَقَ" ومنه الحديث "سَوُّوا صفوفكم ولا تختلفوا فَتَخْتَلف قلوبكم" أى إذا تَقَدَّم بعضهم على بعض فى الصُّفُوف تأثَّرت قلوبهم، ونَشَأ بينهم خلاف فى الألفة والمَوَدَّة.
(1)قال السَّخَاوِيّ: المؤتَلف اسم فاعِلٍ من الائتلاف بمعنى الاجتماع والتلاقي، وهو ضِدّ النفرة، والمختَلِف اسم فاعل من الاختلاف ضِدَّ الاتفاق.
(2)المؤتَلِف والمُخْتَلِف اصطِلَاحًا:
قال ابن الصلاح: هو ما يأتلِف أي تتفق في الخطِّ صُورتُه، وتختلف في اللَّفْظ صيغتُه
(3).
وقال النَّوَوِيّ: هو ما يَتَّفِق فى الخَطّ دون اللَّفْظ
(4)أهمية فَنّ المؤتلف والمختلف:
كل من كتب فى هذا الفَنِّ ذكر أنَّه فَنٌّ جَلِيل، لا ينبغى جهله، من ذلك قول ابن الصلاح: هذا فَنٌّ جليل، من لم يعرفه من المحدِّثين كَثُر عِثَارُه ولم يعدم مُخْجلًا
(5).
--------------------------------------------
'মুখতালিফ' শব্দটি 'ইখতিলাফ' (বিভেদ) থেকে উদ্ভূত, আর 'ইখতালাফা' (ভিন্ন হওয়া) শব্দটি 'ইত্তাফাকা' (একমত হওয়া) এর বিপরীত। এ থেকেই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, "তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং ভিন্ন হয়ো না, অন্যথায় তোমাদের অন্তরগুলোতে বিভেদ সৃষ্টি হবে।" অর্থাৎ, যখন কাতারে একজন অপরজনের থেকে অগ্রগামী হয়ে যায়, তখন তাদের অন্তর প্রভাবিত হয় এবং তাদের মধ্যে হৃদ্যতা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে অনৈক্যের সৃষ্টি হয়।
(১)সাখাভী বলেন: 'মু'তালিফ' শব্দটি 'ইতিলাফ' থেকে আগত ইসম ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), যার অর্থ একত্র হওয়া ও মিলিত হওয়া; যা অনৈক্যের বিপরীত। আর 'মুখতালিফ' শব্দটি 'ইখতিলাফ' থেকে আগত ইসম ফায়েল, যা ঐক্যের বিপরীত।
(২)পরিভাষায় 'মু'তালিফ' ও 'মুখতালিফ':
ইবনুস সালাহ বলেন: এটি এমন বিষয় যা 'মু'তালিফ' হয়, অর্থাৎ লেখার অবয়বে এর রূপ এক হয়, কিন্তু উচ্চারণের দিক থেকে এর গঠন ভিন্ন হয়
(৩)।
ইমাম নববী বলেন: এটি তা-ই যা লেখার ক্ষেত্রে এক কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন
(৪)'মু'তালিফ' ও 'মুখতালিফ' শাস্ত্রের গুরুত্ব:
যারা এই শাস্ত্র নিয়ে লিখেছেন, তারা প্রত্যেকেই উল্লেখ করেছেন যে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র, যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা সমীচীন নয়। যেমন ইবনুস সালাহর উক্তি: এটি এক মহান শাস্ত্র; হাদীস বিশারদদের মধ্যে যারা এটি জানেন না, তাদের পদস্খলন বৃদ্ধি পায় এবং তারা লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে রেহাই পান না
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
وقال النَّوَوِيّ: هو فَنٌّ جَليلً، يقبح جَهْله بأهل العِلْم، لاسيّما أهل الحديث ومن لم يعرفه يكثر خطؤه
(1).
وقال الحافظ ابن حجر: معرفة المؤتلف والمختلف من مهمات هذا الفَنّ
(2).
وقال الحَافِظ العِرَاقيّ: من فُنُون الحَدِيث المُهمّة مَعْرفة المؤتلف خطًّا والمختلف لَفْظًا من الأسماء والألقاب والأنساب ونحوها، وينبغى لِطَالِب الحديث أن يَعْتَنِي بمعرفة ذلك، وإلَّا كَثُر عِثَارُه، وافتضح بين أهله
(3).
ولأهَمّية هذا الفَنّ وشِدَّة حَاجَة المشتغلين بِالحديث إليه، كَثُرَت المؤلّفات فيه، وفيما يلى أذكر بعض أسماء الكُتُب التى ألّفت فيه مع ذكر اسم مؤلف كل منها.
1 - المختلف من المؤتلف لأبى الفَضْل أحمد بن أبى طَاهِر طَيْفُور المَروزي المتوفى سنة (280 هـ)
(4).
2 - تَصْحِيفات المُحدّثين لأبى أحمد الحَسَن بن عبد الله العَسْكَرِيّ المتوفى سنة (382 هـ)
(5).
3 - المؤتلف والمُخْتَلف للإمام أبى الحَسَن عَلِيّ بن عُمر بن مَهْديّ الدَّارقُطني البَغْدادِي المتوفَّى سنة (385 هـ)
(6).
--------------------------------------------
এবং ইমাম নববী বলেছেন: এটি একটি মহান শাস্ত্র, জ্ঞানীদের জন্য এটি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অশোভনীয়, বিশেষ করে হাদীস বিশারদদের জন্য। আর যে ব্যক্তি এটি জানবে না, তার ভুলের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে
(১).
এবং হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: মু’তালিফ (লেখায় একরূপ) এবং মুখতালিফ (উচ্চারণে ভিন্নরূপ) বিষয়ক জ্ঞান এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত
(২).
এবং হাফেজ ইরাকী বলেছেন: হাদীস শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোর মধ্যে একটি হলো নাম, উপাধি, বংশধারা এবং অনুরূপ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে যা লেখায় একরূপ কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন, তা চেনা। হাদীস অন্বেষণকারীর উচিত এটি জানার প্রতি যত্নবান হওয়া, অন্যথায় তার পদস্খলন বৃদ্ধি পাবে এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে সে লাঞ্ছিত হবে
(৩).
এই শাস্ত্রের গুরুত্ব এবং হাদীস চর্চাকারীদের কাছে এর অত্যধিক প্রয়োজনীয়তার কারণে এতে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। নিম্নে আমি এই বিষয়ে রচিত কিছু গ্রন্থের নাম এবং তাদের প্রত্যেকটির লেখকের নাম উল্লেখ করছি।
১ - আবু ফজল আহমদ বিন আবু তাহের তাইফুর আল-মারওয়াযী (মৃত্যু: ২৮০ হিজরী) রচিত ‘আল-মুখতালিফ মিনাল মু’তালিফ’
(৪).
২ - আবু আহমদ হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল-আসকারী (মৃত্যু: ৩৮২ হিজরী) রচিত ‘তাশহিফাতুল মুহাদ্দিসিন’
(৫).
৩ - ইমাম আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন মাহদী আদ-দারাকুতনী আল-বাগদাদী (মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরী) রচিত ‘আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ’
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
4 - المؤتلف والمختلف لأبي الوَلِيد عبد الله بن محمد بن يُوسُف الفَرَضِيّ المتوفَّى سنة (403 هـ)
(1).
5 - المؤتلف والمختلف للإمام أبى محمد عبد الغَنِيّ بن سَعِيد الأزديّ المتوفَّى سنة (409 هـ)
(2).
6 - المؤتلف والمختلف لأبى سَعْد أحمد بن محمد بن أحمد بن عبد الله المَالينيّ المتوفَّى سنة (412 هـ)
(3).
7 - المؤتلف والمختلف لأبى القاسم يَحْيَ بن عَلِيّ بن محمد بن إبراهيم الحضرميّ المِصْرِي المَعْرُوف بابن الطَّحَّان المتوفَّى سَنَة (416 هـ)
(4).
8 - الزِّيَادَات في كتاب المؤتلف والمختلف لعبد الغَنِيّ الأزدِيّ، لأبى العَبّاس جعفر بن محمد بن المُعتَزّ المستَغْفِرِيّ المُتَوفَّى سنة (432 هـ)
(5).
9 - المؤتَلِف والمُخْتَلف فى الأسماء، لأبى حَامِد أحمد بن مَامَا المامائيّ المتوفَّى سنة (436 هـ)
(6).
10 - المُعْجَم في مُشْتَبه أسَامي المُحَدِّثين، لأبى الفضل عبيد الله بن عبد الله بن
--------------------------------------------
৪ - আবু ওয়ালীদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফারাযী (মৃত্যু ৪০৩ হি.) রচিত আল-মু'তালিফ ওয়াল-মুখতালিফ
(১)।
৫ - ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি বিন সাঈদ আল-আযদি (মৃত্যু ৪০৯ হি.) রচিত আল-মু'তালিফ ওয়াল-মুখতালিফ
(২)।
৬ - আবু সাদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-মালিনী (মৃত্যু ৪১২ হি.) রচিত আল-মু'তালিফ ওয়াল-মুখতালিফ
(৩)।
৭ - আবুল কাসিম ইয়াহইয়া বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হাদরামি আল-মিসরি, যিনি ইবনে তাহহান নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪১৬ হি.), রচিত আল-মু'তালিফ ওয়াল-মুখতালিফ
(৪)।
৮ - আবুল আব্বাস জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুতাজ আল-মুস্তাগফিরি (মৃত্যু ৪৩২ হি.) রচিত আবদুল গনি আল-আযদি-র আল-মু'তালিফ ওয়াল-মুখতালিফ গ্রন্থের পরিশিষ্ট ‘আয-যিয়াদাত’
(৫)।
৯ - আবু হামিদ আহমদ বিন মামা আল-মামায়ি (মৃত্যু ৪৩৬ হি.) রচিত আল-মু'তালিফ ওয়াল-মুখতালিফ ফিল আসমা
(৬)।
১০ - আবুল ফজল উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন... রচিত আল-মু'জাম ফী মুশতাবাহ আসামিল মুহাদ্দিসীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
أحمد الهَرَويّ الّذي كان حَيًّا سنة (438 هـ) (1) وله أيضًا.
11 - الزّيادات المَوجُودات من كتاب المُعْجَم فى مشتبه أسماء المحدثين
(1).
12 - المؤتَلِف والمُخْتَلِف لأبى نَصْر عبد الله بن سَعِيد بن حَاتِم البكريّ السِّجْزيّ المتوفَّى سنة (444 هـ)
(2).
13 - مُشتبه الأسْماء ومُشتبه النِّسْبة، لأبى الوَليد يُوسف بن عبد العزيز الأنْدِيّ المتوفى سنة (444 هـ)
(3).
14 - المؤتلف والمختلف، لأبى محمد عبد الله بن الحسن بن الطَّبَسِيّ المتوفَّى سنة (449 هـ)
(4).
15 - المُؤتَنِف فى تكملة المؤتلف والمختلف للدّارقُطْنِي، لأبى بكر أحمد بن عَلِيّ بن ثابت المَعْرُوف بالخَطِيب البغدادي المتوفّى سنة (463 هـ)
(5) وله أيضًا.
16 - تَلْخِيص المُتَشابه فى الرسم وحماية ما أشكل منه عن بوادر التصحيف والوهم
(6).
--------------------------------------------
আহমদ আল-হারাওয়ী, যিনি (৪৩৮ হিজরি) সনে জীবিত ছিলেন (১) এবং তাঁর আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে।
১১ - 'মু'জাম ফী মুশতাবিহ আসমাউল মুহাদ্দিসীন' গ্রন্থের অতিরিক্ত বিদ্যমান অংশসমূহ
(১)।
১২ - আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ, রচনায়: আবু নাসর আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে হাতিম আল-বাকরী আস-সিজযী, মৃত্যু: (৪৪৪ হিজরি) সনে
(২)।
১৩ - মুশতাবিহুল আসমা ওয়া মুশতাবিহুন নিসবাহ, রচনায়: আবুল ওয়ালিদ ইউসুফ ইবনে আবদুল আজিজ আল-আন্দী, মৃত্যু: (৪৪৪ হিজরি) সনে
(৩)।
১৪ - আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ, রচনায়: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আত-তাবাসী, মৃত্যু: (৪৪৯ হিজরি) সনে
(৪)।
১৫ - আল-মু'তানিফ ফী তাকমিলাতিল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ লিদ-দারাকুতনী, রচনায়: আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত, যিনি খতীব আল-বাগদাদী নামে পরিচিত, মৃত্যু: (৪৬৩ হিজরি) সনে
(৫) এবং তাঁর আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে।
১৬ - তালখীসুল মুতাশাবিহ ফির রাসম ওয়া হিমায়াতু মা আশকালা মিনহু আন বাওয়াদিরিত তাসহিফ ওয়াল ওয়াহম
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
17 - الإكمال فى رَفْع عارض الارتياب عن المؤتلف والمختلف من الأسماء والكُنَى والأنساب، للإمام أبى نَصْر عَلِيّ بن هبة الله المَعْرُوف بابن مَاكُولَا المتوفَّى سنة (475 هـ) أو (476 هـ) أو (478 هـ)
(1) وله أيضًا.
18 - تَهْذيب مُسْتَمِرّ الأوهام على ذوى المعرفة وأولي الأفهام
(2).
19 - المُعْجَم فى المشتبه، لأبى محمد عبد الله بن يُوسُف الجُرجَانيّ المتوفى سنة (489 هـ)
(3).
20 - المؤتَلِف والمُخْتَلف، لأبى المُظَفَّر محمد بن أحمد الأُمَوِيّ الأَبِيْوَرْدِيّ المتوفى سنة (507 هـ)
(4).
21 - حديث مختلفى الأسماء، أو مشتبه الأسماء، لأبى الغنائم محمد بن عَلِيّ بن مَيْمُون المعروف بأُبَيّ النَّرسِيّ، المتوفى سنة (510 هـ)
(5).
22 - مُتَشَابه أسامى الرُّوَاة أو مشتبه النِّسْبة لأبى القَاسِم محمود بن عُمر المعروف بجار الله الزّمَخْشرِيّ المتوفَّى سنة (538)
(6).
--------------------------------------------
১৭ - আল-ইকমাল ফি রাফয়ি আরিদিল ইরতিয়াব আনিল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ মিনাল আসমা ওয়াল কুনা ওয়াল আনসাব, ইমাম আবু নাসর আলী বিন হিবাতুল্লাহ, যিনি ইবনে মাকুলা নামে পরিচিত, মৃত্যু (৪৭৫ হি.) অথবা (৪৭৬ হি.) অথবা (৪৭৮ হি.)
(১) এবং তার আরও রয়েছে।
১৮ - তাহযিবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাওয়িল মা'রিফা ওয়া উলিল আফহাম
(২)।
১৯ - আল-মু'জাম ফিল মুশতাবিহ, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুরজানি এর রচিত, মৃত্যু (৪৮৯ হি.)
(৩)।
২০ - আল-মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ, আবু মুজাফফর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-উমাবী আল-আবিওয়ার্দি এর রচিত, মৃত্যু (৫০৭ হি.)
(৪)।
২১ - হাদিসু মুখতালিফিল আসমা, অথবা মুশতাবিহুল আসমা, আবু গানায়েম মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাইমুন, যিনি উবাই আল-নারসি নামে পরিচিত, মৃত্যু (৫১০ হি.)
(৫)।
২২ - মুতাশাবিহু আসমির রুয়াত অথবা মুশতাবিহুন নিসবাহ, আবুল কাসিম মাহমুদ বিন উমর, যিনি জারুল্লাহ আয-যামাখশারী নামে পরিচিত, মৃত্যু (৫৩৮ হি.)
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
23 - تكملة الإكمال، لأبى بكر محمد بن عبد الغَنِيّ المَعْرُوف بابن نُقْطَة المتوفى سنة (629 هـ)
(1).
24 - المؤتَلف والمُخْتَلف، لابن النَّجَّار محمد بن محمود البَغداديّ المتوفى سنة (643 هـ)
(2).
25 - هدَاية المعْتسف فى المؤتلف والمختلف، لأبى عبد الله محمد بن عبد الله القُضَاعِي المعروف بابن الأبَّار المتوفى سنة (658 هـ)
(3).
26 - ذيل تكملة الإكمال لأبى المُظفَّر مَنْصُور بن سَلِيم الهَمْدانيّ المَعْرُوف بابن فُتُوح الإسكندرانيّ المتوفَّي سنة (673 هـ)
(4).
27 - تكملة إكمال الإكمال، لمحمد بن عَلِيّ بن محمود الصَّابُونِيّ المتوفَّى سنة (680 هـ)
(5).
28 - مُشْتبه النِّسبة، لأبى العَلَاء محمود بن أبى بكر الفَرَضِي المُتَوفَّى سنة (700 هـ)
(6).
--------------------------------------------
২৩ - তাকমিলাতুল ইকমাল, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল গনি, যিনি ইবনে নুকতা নামে পরিচিত, মৃত্যু (৬২৯ হি.)
(১).
২৪ - আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ, ইবনুন নাজ্জার মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-বাগদাদি, মৃত্যু (৬৪৩ হি.)
(২).
২৫ - হিদায়াতুল মু'তাসিফ ফিল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কুদায়ি, যিনি ইবনুল আব্বার নামে পরিচিত, মৃত্যু (৬৫৮ হি.)
(৩).
২৬ - যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল, আবুল মুজাফফর মানসুর বিন সালিম আল-হামদানি, যিনি ইবনে ফুতুহ আল-ইসকান্দারানি নামে পরিচিত, মৃত্যু (৬৭৩ হি.)
(৪).
২৭ - তাকমিলাতু ইকমালিল ইকমাল, মুহাম্মদ বিন আলি বিন মাহমুদ আস-সাবুনী, মৃত্যু (৬৮০ হি.)
(৫).
২৮ - মুশতাবিহুন নিসবাহ, আবুল আলা মাহমুদ বিন আবু বকর আল-ফারাযি, মৃত্যু (৭০০ হি.)
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
29 - المؤتلف والمختلف لابن الفُوَطِيّ عبد الرَّزَّاق بن أحمد، المُتَوفَّى سنة (723 هـ)
(1).
30 - المشتبه، للحَافِظ الذَّهَبِيّ المتوفَّي سنة (748 هـ)
(2).
31 - توضيح المشتبه لابن نَاصِر الدين الدمشقي المُتَوفَّى سنة (842 هـ)
(3) وله أيضًا.
32 - الإعلام بما وَقَع فى مشتبه الذَّهَبِي من الأَوْهَام
(4).
33 - تبصير المنتبه بتحرير المشتبه للإمام ابن حجر العَسْقَلانيّ المُتَوفَّى سَنَة (852 هـ)
(5).
34 - تُحْفَة النَّابِه فى تَلْخيص المُتَشَابِه للإِمام السُّيُوطيّ المُتَوفَّى سنة (911 هـ)
(6).
35 - المُغْنِي فى ضَبْطِ أسماء الرِّجَال ومعرفة كنى الرُّواة وألقابهم وأَنْسابِهم للمحدث محمد بن طَاهِر بن عَلِيّ الفَتَّنِيّ الهِنْدِيّ المُتَوفَّى سنة (986)
(7).
--------------------------------------------
২৯ - ইবনুল ফুওয়াতী আবদুর রাজ্জাক বিন আহমদ-এর আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ, মৃত্যু (৭২৩ হি.)
(১).
৩০ - হাফেজ আল-জাহাবীর আল-মুশতাবিহ, মৃত্যু (৭৪৮ হি.)
(২).
৩১ - ইবনু নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকী-এর তাওদীহুল মুশতাবিহ, মৃত্যু (৮৪২ হি.)
(৩) এবং তাঁর আরও একটি গ্রন্থ হলো:
৩২ - আল-ই'লাম বিমা ওয়াকা'আ ফী মুশতাবিহিজ জাহাবী মিনাল আওহাম
(৪).
৩৩ - ইমাম ইবনে হাজার আল-আসকালানীর তাবসীরুল মুনতাবিহ বিতাহরীরিল মুশতাবিহ, মৃত্যু (৮৫২ হি.)
(৫).
৩৪ - ইমাম আল-সুয়ূতীর তুহফাতুন নাবীহ ফী তালখীসিল মুতাশাবিহ, মৃত্যু (৯১১ হি.)
(৬).
৩৫ - মুহাদ্দিস মুহাম্মদ বিন তাহের বিন আলী আল-ফাত্তানী আল-হিন্দি-এর আল-মুগনী ফী দাপ্তি আসমায়ির রিজাল ওয়া মা'রিফাতি কুনা আর-রুওয়াত ওয়া আলকাবিহিম ওয়া আনসাবিহিম, মৃত্যু (৯৮৬ হি.)
(৭).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
هذه أسماء بعض الكُتُب الَّتى ألّفت فى المؤتلف والمختلف وأسماء مؤلِّفِيها وقد ذكر العلَّامَة المُعَلِّمِي فى مقدمته للإكمال للأمير أبى نَصْر بن مَاكُولا قائمة الكتب المؤلَّفَة فى هَذَا الفَنّ، وأضَاف الدكتور موفق بن عبد الله بن عبد القادر عِدَّة كتب أخْرَى فى مقدمته لكتاب الدَّارقُطنِي "المؤتلف والمختلف" وكذا فى كتابه الجديد "توثيق النصوص وضبطها عند المحدثين".
كما ذكر الأستاذ محمد نعيم العرقسوسي أيضًا قائمة للكتب الموْلَّفَة فى هذا الفن في مقدمته لتوضيح المشتبه، فمن شاء أن يستزيد فى المَوْضُوع فليرجع إلى هذه الكتب.
هذه العناية بفَنّ المؤتلف والمختلف تَدُلّ دَلَالةً وَاضِحَة على أهميّة هذا الفَنّ وخطورته.
এগুলো ‘মুতালিফ’ ও ‘মুখতালিফ’ (বানানে এক কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন এমন নাম) বিষয়ে রচিত কিছু কিতাব এবং সেগুলোর লেখকদের নাম। আল্লামা মুআল্লিমী আমীর আবু নাসর বিন মাকুলা রচিত ‘আল-ইকমাল’ গ্রন্থের ভূমিকায় এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন। আর ডক্টর মুওয়াফফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির দারাকুতনী রচিত ‘আল-মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ’ গ্রন্থের ভূমিকায় এবং তাঁর নতুন গ্রন্থ ‘তাওসিকুন নুসুস ওয়া জবতুহা ইনদাল মুহাদ্দিসিন’-এ আরও বেশ কিছু গ্রন্থ সংযোজন করেছেন।
অনুরূপভাবে উস্তাদ মুহাম্মদ নাঈম আল-আরকাসুসি ‘তাওজিহুল মুশতাবিহ’ গ্রন্থের ভূমিকায় এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চায়, সে যেন এই গ্রন্থগুলোর শরণাপন্ন হয়।
‘মুতালিফ’ ও ‘মুখতালিফ’ শাস্ত্রের প্রতি এই বিশেষ গুরুত্বারোপ এই শাস্ত্রের গুরুত্ব ও এর স্পর্শকাতরতার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الحالة السياسية فى عصر المؤلف (607 - 673)عَاشَ مؤلِّفُنا مُعظم القَرْن السَّابِع، ويَعْتَبر المؤرخون هذا القَرنَ من النَّاحِية السِّيَاسِيَّة مُكملًا للسّياسة الَّتى كَانَ يَمرّ بها العَالَم الإسلامِيّ فى القَرنَين السَّابِقَيْن "الخَامسِ والسَّادِس" لأنَّ العَالَم الإِسلاميّ فى هذه القُرُون قد استُهدِف من قبل الأعداء الصَّلِيبيين الحَاقِدِين والمَغول العَابثِين ومَنْ تَبِعهم من المُنَافِقين، وذلك أنَّهم رَأوَا الفُرصَة مُتَاحَة لهم لانْشِغَال المُسْلمِين واختلافهم فيما بينهم ونشوب النزاعات المُسَلَّحة بين دويلاتهم التى تعَدَّدت وضعفت ورأوا أنَّ الخَليفة لَيْسَ له إلَّا الرُّسُوم إلَّا أن يكون فى عاصمة الخلافة بغداد.
واستعراض حَالة المُسْلمِين فى القُرُون الثَّلَاثة أمرٌ يَطُول، ولذا أُريد أن أستعرض الفَتْرة التى عَاشَها مؤلِّفُنا مَنْصُور بن سَلِيم الهَمْدَانيّ المَعْرُوف بابن فُتُوح وبابن العِماديَّة بالاختصار، وقد حَفِلت هذه الفترة بكثير من الأحْدَاث، خَاصَّة النّصف الأَوَّل من هذه الفترة من حَيَاتِه، وذلك أنَّ السُّلْطان الملك النَّاصرِ صَلَاح الدِّين يُوسُف بن أَيُّوب لَمَّا مَاتَ سَنَة (589) تَقَسم ملكه بعده بين أبنائه، واختلفت كَلِمتُهم على المُلك، والأعداءُ بدأوا يَطْمَعُون فى أخذ الثَّأر من المسلمين والتَّشَفِّي من إهراق دمائهم، لَولَا أنَّ الله تَعَالَى جلّت قدرتُه تَدَاركَهُم بقدرته ولُطْفه على يد المَلكِ العَادِل سَيْف الدِّين المُتَوفَّى سنة (615) الَّذِى استطاع أن يُوَحِّد كَلِمةَ المسلمين
(1).
--------------------------------------------
লেখকের যুগের রাজনৈতিক অবস্থা (৬০৭ - ৬৭৩ হিজরী)আমাদের লেখক সপ্তম শতাব্দীর অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছেন। ঐতিহাসিকগণ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই শতাব্দীকে পূর্ববর্তী দুই শতাব্দী অর্থাৎ পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীর রাজনীতির পরিপূরক হিসেবে গণ্য করেন। কারণ এই শতাব্দীগুলোতে মুসলিম বিশ্ব বিদ্বেষী ক্রুসেডার শত্রু, বিপর্যয় সৃষ্টিকারী মঙ্গোল এবং তাদের অনুসারী মুনাফিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। তারা মুসলমানদের নিজেদের মধ্যকার বিভেদ, অনৈক্য এবং তাদের বহুধা বিভক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ফলে নিজেদের অনুকূল সুযোগ দেখতে পেয়েছিল। তারা লক্ষ্য করেছিল যে, খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ ব্যতীত অন্য কোথাও খলিফার নামমাত্র কিছু প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই।
তিন শতাব্দীর মুসলমানদের অবস্থা পর্যালোচনা করা একটি দীর্ঘ বিষয়, তাই আমি লেখক মনসুর বিন সালিম আল-হামদানী, যিনি ইবনুল ফুতুহ এবং ইবনুল ইমাদিয়্যা নামে পরিচিত, তাঁর অতিবাহিত করা সময়টুকু সংক্ষেপে পর্যালোচনা করতে চাই। এই সময়কালটি বহু ঘটনায় পরিপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে তাঁর জীবনের প্রথমার্ধ। সুলতান আল-মালিকুন নাসির সালাহুদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুব যখন ৫৮৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর সাম্রাজ্য তাঁর সন্তানদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং রাজত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়। ফলে শত্রুরা মুসলমানদের থেকে প্রতিশোধ নিতে এবং তাদের রক্তক্ষয় দেখে তৃপ্ত হতে প্রলুব্ধ হয়। কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর অসীম ক্ষমতা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আল-মালিকুল আদিল সাইফুদ্দীন (মৃত্যু ৬১৫ হিজরী)-এর হাতে তাদের রক্ষা করেন, যিনি মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وبعد وفاة سَيْف الدين المَلِك العَادِلِ تَحْركت التَّتَار من الشَّرْق، وهم نوع من التُّرك، مَسَاكنِهم جِبال ضمعاج من نحو الصِّين، يسجدون للشمس عند طلوعها، ولا يُحَرِّمون شَيئًا، ولا يُحْصَون كَثْرَة، وبَدَأ تَحَرُّكُ الصَّلِيبِيِّين من الغرب، وكانوا ينتظرون انتهاء مدة الصُّلْح الَّتى كانت بينهم وبين المسلمين، والصَّليبيُّون فى أثناء الهُدْنَة يُهَيِّئُون أنْفسهم، ويُجْمِعُون جموعَهم لِشنِّ حَمْلَةٍ كُبْرَى على المُسْلِمين عند انتهاء الهُدنة وكانت مصْرُ عَاصِمَةً آنذاك فلذا حَوَّلوا وجهتَهم هذه المَرَّة إلى مصر بدل الشام فَاتَّجهوا إلى دميَاط، واستَوْلَوا عليها بعد مَعَارك ضارِيَة عام (616)
(1) وبقيت فى أيديهم حتى استنقذها الملك الكامل محمد بن عادل بن أيُّوب سنة (618) بعد مَوْت أبيه، ورَدَّهم على أعقابهم مُكْرَهين خَاسِرين
(2).
وفى المشرق استَولَى التَّتَار على سَمَرقَنْد، وهَزَمُوا السُّلْطَان عَلَاء الدِّين، ومَلَكُوا الرّيّ وهَمَذَان وقَزْوِين، وحَارَبُوا الكَرَج، ومَلَكُوا فَرْغَانَة والتِّرمِذْ وخُوَارِزْم، وخُرَاسَان، ومرو، ونَيْسَابُور، وطُوس، وهَرَاة، وغَزْنَة
(3).
وفى عام (625) خَرَج التَّتَار إلى بلاد الإسلام، فكانت لهم عِدَّة حُرُوب مع السُّلْطان جَلَال الدِّين خوارزم شاه، كُسِر فيها غير مَرَّة، ثم ظَفِر أخيرا بهم، وهَزَمهم، فلما خَلا سره فيهم سَارَ إلى خِلَاط من بِلاد الأَشْرف، فَنَهَب وسَبَى الحَرِيم واسْتَرَقَّ الأَولَاد، وقتل الرِّجال، وخَرَّب القُرَي، وفعل ما لا يَفْعَله أهل الكُفْر، ثم عَادَ إلى بِلَادِه
(4).
--------------------------------------------
মালিকুল আদিল সাইফুদ্দীন-এর মৃত্যুর পর পূর্ব দিক থেকে তাতাররা অগ্রসর হলো। তারা তুর্কিদের একটি গোষ্ঠী, যাদের আবাসস্থল চীন সীমান্তের দামআজ পাহাড়ে। তারা সূর্যোদয়ের সময় সূর্যকে সিজদা করে, কোনো কিছুকেই তারা হারাম মনে করে না এবং আধিক্যের কারণে তাদের গণনা করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে পশ্চিম দিক থেকে ক্রুসেডারদের তৎপরতা শুরু হয়। তারা মুসলমানদের সাথে তাদের সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। যুদ্ধবিরতির সময় ক্রুসেডাররা নিজেদের প্রস্তুত করছিল এবং যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান পরিচালনার জন্য সৈন্য সমাবেশ করছিল। তৎকালীন সময়ে মিসর ছিল মূল কেন্দ্র (রাজধানী), তাই তারা এবার সিরিয়ার পরিবর্তে মিসরের দিকে তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করল। তারা দামিয়েত্তা অভিমুখে যাত্রা করল এবং ৬১৬ হিজরি সনে এক ভয়াবহ যুদ্ধের পর তা দখল করে নিল
(১)। ৬১৮ হিজরি সনে তাঁর পিতার মৃত্যুর পর আল-মালিকুল কামিল মুহাম্মদ ইবনে আদিল ইবনে আইয়ুব শহরটি উদ্ধার করা পর্যন্ত এটি তাদের দখলে ছিল। তিনি তাদের পরাজিত ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পিছু হটতে বাধ্য করেন
(২)।
আর পূর্ব দিকে তাতাররা সমরকন্দ দখল করল এবং সুলতান আলাউদ্দীনকে পরাজিত করল। তারা রে, হামাদান এবং কাজভিন জয় করল। তারা জর্জিয়াবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল এবং ফারগানা, তিরমিজ, খাওয়ারিজম, খোরাসান, মার্ভ, নিশাপুর, তুস, হেরাত এবং গজনী দখল করে নিল
(৩)।
৬২৫ হিজরি সনে তাতাররা মুসলিম ভূখণ্ডের দিকে অভিযান শুরু করল। সুলতান জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহের সাথে তাদের বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হলো। এসব যুদ্ধে তিনি কয়েকবার পর্যুদস্ত হয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের উপর জয়লাভ করেন এবং তাদের পরাজিত করেন। এরপর যখন তিনি তাদের দিক থেকে নিশ্চিন্ত হলেন, তখন তিনি আল-আশরাফের মালিকানাধীন খিলাত অঞ্চলের দিকে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি লুটতরাজ চালান, নারীদের বন্দি করেন, শিশুদের দাস বানান, পুরুষদের হত্যা করেন এবং গ্রামগুলো ধ্বংস করেন। তিনি এমন সব কাজ করলেন যা এমনকি কাফিররাও করে না। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে গেলেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ثم فى سنة (628) وَصَل التَّتَر إلى إربل وإلى الجَزِيرَة ودِيَار بكر فَعَاثُوا بالفَسَاد يَمِينًا وشِمَالًا، وقَتَلُوا من المسلمين ما لا يُحْصي عَدَدَهم إِلَّا خَالِقُهم وفى عام (629) تَمَّ استيلاءُ التَّتَر على إقليم أَرمِينِيَة وخِلَاط وسَائِر ما كان بِيَد الخوارِزمي
(1)، وبَقيت مَنَاطِق أخرى من بِلاد المُسْلِمين فى اضطِراب وتقلُّبات عَنيفة بين أُمراء المسلمين، حتى إنَّ الأفرنج طَمَعُوا فى المسلمين، واطمأنُّوا على ضَعْفِهم، فَعَمَّر الأفرنج فى القُدْس قَلْعَة، وجَعَلُوا بُرْج داود أحد أبراجها، فلما بَلَغ المَلِك النَّاصِر داود خَبَر بِنَاء هذا البُرج سَارَ إلى القُدْس، ورَمَى عليها بالمَجَانيق، حتى أخَذَها بعد واحدٍ وعشرين يومًا عَنْوَةً، وتأخر أخذ بُرْج داود أيامًا، ثم أخَذَ البُرْج من الأفرنج صُلْحًا على أنفسهم دون أموالهم، وهَدَم النَّاصِر برج داود، واستولى على القدس وأخرج منه الفرنج، فساروا إلى بلادهم، وهكذا رَجَعت القُدْس إلى حوزة المسلمين
(2).
وفى عام (637) أيضًا وَقَعَ بين الأَفْرنج وبين العَسْكر المصرىّ المسلم المُقيم بالسَّاحِل حَرْبٌ، وانكسر فيها الأفرنج، فقتل منهم حَوَالى ألفى شخص بينما لم يَتَعَدَّ عَدَد شُهَدَاء المسلمين العشر
(3).
وفى عام (656) مَلَك هلاكو سلُطان التَّتَار بغداد، وقَتَلُوا أكثر أهلِها، حتى الخَلِيفة، وهو المُستَعصم بالله عبد الله، وانقَرَضت بموته دَوْلَة بنى العَبَّاس منها، وقد تَكَلَّم ابن كَثِير عن سُقُوط بغداد فى يد التَّتَار وَتَسَلُّطِ هلاكو على بغداد، وكَيْفَ كانَت حَالةُ المسلمين وخليفتهم فى بغداد، ثم قَال: وذلك كُلُّه عن آراء الوَزِير ابن
--------------------------------------------
এরপর (৬২৮) হিজরি সনে তাতারীরা ইরবিল, জাজিরা এবং দিয়ার বকর এলাকায় পৌঁছায়। তারা ডানে-বামে সর্বত্র বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং মুসলিমদের এত অধিক সংখ্যায় হত্যা করে যাদের সংখ্যা তাদের স্রষ্টা ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারে না। (৬২৯) সনে আর্মেনিয়া অঞ্চল, খিলাত এবং খাওয়ারিজমি শাহের অধীনে থাকা সমস্ত অঞ্চলের ওপর তাতারীদের দখলদারিত্ব সম্পন্ন হয়
(১)। আর মুসলিম ভূখণ্ডের অন্যান্য এলাকাগুলো মুসলিম আমিরদের মধ্যকার চরম বিশৃঙ্খলা ও প্রচণ্ড অস্থিরতার মধ্যে নিমজ্জিত থাকে; এমনকি ক্রুসেডাররা মুসলিমদের ভূখণ্ডের ওপর লোলুপ দৃষ্টি দেয় এবং তাদের দুর্বলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। ক্রুসেডাররা জেরুজালেমে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং দাউদ মিনারকে তার অন্যতম বুরুজ হিসেবে নির্ধারণ করে। যখন মালিক আন-নাসির দাউদ এই মিনার নির্মাণের সংবাদ পেলেন, তিনি জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হন এবং মানজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) দিয়ে তা আক্রমণ করেন। শেষ পর্যন্ত একুশ দিন পর তিনি তা বলপূর্বক জয় করেন। দাউদ মিনারটি হস্তগত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগে, অতঃপর তিনি ক্রুসেডারদের জানের নিরাপত্তা প্রদানের শর্তে (সম্পদ ব্যতিরেকে) সন্ধির মাধ্যমে মিনারটি গ্রহণ করেন। এরপর আন-নাসির দাউদ মিনারটি ধ্বংস করেন এবং জেরুজালেম জয় করে সেখান থেকে ক্রুসেডারদের বের করে দেন; ফলে তারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যায়। এভাবেই জেরুজালেম পুনরায় মুসলিমদের অধিকারে ফিরে আসে
(২)।
(৬৩৭) হিজরি সনেও উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থানরত ক্রুসেডার এবং মিশরীয় মুসলিম বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়। এতে ক্রুসেডাররা পরাজিত হয় এবং তাদের প্রায় দুই হাজার লোক নিহত হয়, অথচ মুসলিম শহীদদের সংখ্যা দশ জনের অধিক ছিল না
(৩)।
(৬৫৬) হিজরি সনে তাতার সুলতান হালাকু বাগদাদ দখল করে এবং তারা খলিফাসহ অধিকাংশ অধিবাসীকে হত্যা করে; তিনি ছিলেন আল-মুসতাসিম বিল্লাহ আবদুল্লাহ। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই সেখানে আব্বাসীয় শাসনের বিলুপ্তি ঘটে। ইবনে কাসির তাতারদের হাতে বাগদাদের পতন, বাগদাদের ওপর হালাকুর আধিপত্য এবং সে সময় বাগদাদে মুসলিম ও খলিফার অবস্থা কেমন ছিল তা বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: আর এ সব কিছুই ঘটেছিল উজির ইবনে...-এর পরামর্শে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
العَلْقَمِيّ الرَّافِضِيّ، وذَلك أنّه لَمّا كان فى السنة الماضِية بين أهل السُّنَّة والرَّافِضة حَرْب عَظيمة، نُهِبَت فيها الكرخ ومحلّة الرّافِضة، حتى نُهِبت دُوْر قَرَابات الوَزِير، فاشتَدَّ حنقهُ على ذَلك، فكان هذا مِما أهَاجَه على أنْ دَبَّر على الإسلام وأهْلِه ما وَقع من الأمر الفَظِيع الّذي لم يؤرّخ أبشع منه منذ بنيت بغداد، ثم ذكر الحَافِظ ابن كَثير ما يَدُلّ على أنّ هلاكو خان استعَدّ لِلصُّلح مع خَلِيفة المسلمين على أن يكون نِصْف خِراج العِرَاق لهم ونصفه لِلخَلِيفَة، إلَّا أنّ مَلأ من الرَّافِضَة وغيرهم من المُنَافِقين أشَارُوا على هلاكو خان أن لا يُصَالح الخَليفَة، وَقَال الوَزير، وهو العَلْقَمِي الرّافِضِي وزير خَلِيفَة المسلمين: متى وقع الصلح على المُنَاصَفَة لا يَسْتَمِر هَذَا إلّا عامًا أو عَامَيْن، ثم يَعُود الأمر إلى مَا كان عليه قبل ذلك، وحَسَّنُوا له قتل الخَلِيفَة، ويُقَال: إنّ الّذي أشَارَ بقتله الوَزير ابن العَلْقَمِى والمَوْلَى نَصِير الدِّين الطُّوسِّي
(1).
وفى عام (658) حَاصَرَ التَّتَار مَدينة حَلب سَبْعَة أيَّام، ثم افتتحوها بالأمَان ثم غَدَرُوا بأهلها، وقتلوا خلقًا كثيرًا، وأسروا النساء والذريّة، ونَهَبوا الأموالَ واستَبَاحُوا فيها دِمَاء الخَلْق، وامَتَلأت الطُّرُقَات من القَتْلَى، وَصَارت عَسَاكِر التَّتَار تَمشِي على جيف من قُتِل، وأُسِرَ أكثر من مائة ألْفٍ من النساء والصِّبْيَان
(2) وبعد أن مَلَك هلاكو حَلب، اتّجَه نَحْوَ دمشق، ليفعلُوا فيها نحو ما فَعَلُوا فى بغداد وحَلب، فقام الأمير سليمان بن المؤيّد وأغلق أبواب دمشق واستَشار مَنْ بَقِي بها
--------------------------------------------
রাফেজি আলকামি। এটি এই কারণে যে, গত বছর যখন আহলে সুন্নাত এবং রাফেজিদের মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যাতে কারখ এবং রাফেজিদের এলাকা লুণ্ঠিত হয়েছিল, এমনকি উজিরের আত্মীয়-স্বজনদের ঘরবাড়িও লুণ্ঠিত হয়েছিল। এতে তার ক্ষোভ তীব্রতর হয়। এটিই তাকে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেই ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করতে প্ররোচিত করেছিল, বাগদাদ নির্মাণের পর থেকে যার চেয়ে জঘন্য কোনো ঘটনা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়নি। এরপর হাফেজ ইবনে কাসির এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, হালাকু খান মুসলিম খলিফার সাথে এই শর্তে সন্ধি করতে প্রস্তুত ছিল যে, ইরাকের রাজস্বের অর্ধেক তাদের জন্য এবং অর্ধেক খলিফার জন্য থাকবে। কিন্তু একদল রাফেজি এবং অন্যান্য মুনাফিক হালাকু খানকে খলিফার সাথে সন্ধি না করার পরামর্শ দিয়েছিল। উজির—যিনি ছিলেন মুসলিম খলিফার উজির রাফেজি আলকামি—বলেছিল: "যখন অর্ধেক-অর্ধেক বণ্টনের ভিত্তিতে সন্ধি হবে, তখন তা মাত্র এক বা দুই বছর স্থায়ী হবে, তারপর পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যাবে।" তারা তার কাছে খলিফাকে হত্যা করার বিষয়টিকে শোভনীয় করে তুলেছিল। বলা হয় যে, তাকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছিল উজির ইবনুল আলকামি এবং মৌলা নাসিরুদ্দিন তুসি
(১).
এবং ৬৫৮ হিজরি সালে তাতারীরা সাত দিন ধরে আলেপ্পো শহর অবরোধ করে রাখে। এরপর তারা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শহরটি জয় করে, কিন্তু পরে তারা অধিবাসীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে, নারী ও শিশুদের বন্দি করে, সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং মানুষের রক্তপাত বৈধ করে নেয়। রাস্তাগুলো লাশে ভরে যায় এবং তাতার সৈন্যরা নিহতদের লাশের ওপর দিয়ে চলাচল করতে থাকে। এক লক্ষেরও বেশি নারী ও শিশু বন্দি হয়
(২)। হালাকু আলেপ্পো দখল করার পর দামেস্কের দিকে অগ্রসর হয়, যাতে তারা সেখানেও বাগদাদ ও আলেপ্পোর মতো তাণ্ডব চালাতে পারে। তখন আমির সুলাইমান ইবনুল মুয়াইয়িদ দামেস্কের দরজাগুলো বন্ধ করে দেন এবং সেখানে অবস্থানরতদের সাথে পরামর্শ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقَرَّر معهم تَسلِيم المدينة إلى هلاكو، وأظهروا له الانقياد والطَّاعَة، ودَخَل المغول المدينة دون إراقة دماء، فتسلمها منه فخر الدين المردغائي وابن صاحب أرزن والشريف عليّ، فَكَتَبُوا بذلك إلى هلاكو، فأوصَاهُم بأهل دمشق ونَهَاهم أن يأخُذُوا لأحد درهما فما فوقه.
(1)ولقد تَشَجَّع النَّصَارى فى عهد التَّتَار، لأنّهم سَلّمُوا البلد إلى أمير منهم يقال له: ابل سَيَّان، وكان لعنة الله عليه - مُعَظِّمًا لدين النَّصَارَى فَكَانَ يُعَظِّم أسَاقِفَتَهم وقِسّيسَهم ويَزُور كَنَائسَهم، فَصَارَت لهم دولة وصَوْلَة بِسَبَبِه.
وكانت النَّصَارَى فى عهده يُنَادُون بِشعارهم الخَاصّ، ويَقُولُون: ظَهَر الدِّين الصَّحِيح دينُ المَسيح، ويَذُمُّون دينَ الإسلام وأهلَه، وكانوا يُنَظِّمون مَوَاكب عَامّة يُنْشِدُون فيها الأنَاشِيد ويحملون الصّلبان، ويُجْبِرُون المُسْلمِين على أن يَقُومُوا احتِرامًا لها، ومن أبَى تَعَرّضَ لِلسَّبِّ والشَّتْم والإهانَة، كما أنَّهم يَحْمِلُون الخَمْر يرشُّونَه على ثِيابِ المُسْلِمين ويَصُبُّون على أبواب المَسَاجد، ولما وَقَع هَذَا اجتمع قُضَاة المسلمين والشُّهُود والفُقَهاء ودَخَلُوا القَلْعَة يَشْكُون هذا الحَال إلى مُتَسلمها أمير التَّتَار "ابل سيَّان" ولكنه أهَانَهم وطَرَدَهم وقَدَّم كلَام رؤساء النّصَارَى عليهم، بدل أن يُنْصِفَهم ويَمْنَع النَّصَارَى عن فِعْلَتِهم النكْراء، فَإنّا لله وإنا إليه راجعون
(2).
ولم يكتفِ هذا العابثُ بما فَعَل فى العِراق، وحَلَب والشام إضافة إلى ما سبق له فى البِلَاد الأخرى الَّتى دَخَلَها، بل أمر قَائدَه (كتبغانوين) بِتحريض من الصَّلِيبِيّين أن يَغْزُوا أرض مصر عَاصِمة المُسْلِمين بعد سُقُوط
--------------------------------------------
তারা তাঁর সাথে শহরটি হালাকু খানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল এবং তারা তাঁর প্রতি আনুগত্য ও বশ্যতা প্রদর্শন করল। মঙ্গোলরা কোনো রক্তপাত ছাড়াই শহরে প্রবেশ করল। ফখর উদ্দিন আল-মারদাগাই, ইবনে সাহিব আরজান এবং শরীফ আলী তাঁর কাছ থেকে শহরটির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। অতঃপর তারা এ বিষয়ে হালাকু খানকে লিখে জানালেন। হালাকু খান তাদের দামেস্কের অধিবাসীদের ব্যাপারে সদয় হতে এবং কারো কাছ থেকে এক দিরহাম বা তার বেশি গ্রহণ করতে নিষেধ করে নির্দেশ দিলেন।
(১)তাতারদের শাসনামলে খ্রিষ্টানরা সাহসী হয়ে উঠল, কারণ তারা শহরটিকে তাদের মধ্য থেকে ইবল সিয়ান নামক এক আমিরের হাতে অর্পণ করেছিল। সে—তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক—খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতি অত্যন্ত সম্মানপ্রদর্শনকারী ছিল। সে তাদের বিশপ ও যাজকদের সম্মান করত এবং তাদের গির্জাগুলো পরিদর্শন করত। ফলে তার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রভাব ও প্রতাপ তৈরি হলো।
তার শাসনামলে খ্রিষ্টানরা তাদের বিশেষ স্লোগান দিত এবং বলত: "সঠিক ধর্ম তথা মসিহের ধর্ম প্রকাশিত হয়েছে।" তারা ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের নিন্দা করত। তারা জনসমক্ষে মিছিল করত যেখানে তারা গান গাইত এবং ক্রুশ বহন করত। তারা মুসলমানদের বাধ্য করত সেগুলোর সম্মানে দাঁড়িয়ে থাকতে। যারা অস্বীকার করত, তাদের গালিগালাজ ও অপমানের সম্মুখীন হতে হতো। এছাড়া তারা মদ বহন করে তা মুসলমানদের পোশাকের ওপর ছিটিয়ে দিত এবং মসজিদের দরজায় ঢালত। যখন এসব ঘটল, তখন মুসলিম বিচারপতি, সাক্ষী ও ফকিহগণ একত্রিত হয়ে দুর্গে প্রবেশ করে তাতার আমির "ইবল সিয়ান"-এর কাছে এই পরিস্থিতির অভিযোগ পেশ করলেন। কিন্তু সে তাদের ন্যায়বিচার করার এবং খ্রিষ্টানদের তাদের এই জঘন্য কাজ থেকে বিরত রাখার পরিবর্তে তাদের অপমান করে তাড়িয়ে দিল এবং খ্রিষ্টান নেতাদের কথাকে মুসলিমদের কথার ওপর অগ্রাধিকার দিল। সুতরাং আমরা আল্লাহর জন্যই এবং তাঁরই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে
(২)।
এই খেয়ালখুশিমতো চলা শাসক ইরাক, আলেপ্পো এবং সিরিয়ায় যা করেছিল এবং ইতিপূর্বে সে যেসব দেশ জয় করেছিল সেখানে যা ঘটিয়েছিল তাতেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং সে ক্রুসেডারদের প্ররোচনায় তার সেনাপতি (কিতবুকা নোয়ান)-কে নির্দেশ দিল মুসলমানদের রাজধানী মিশরের ভূখণ্ড আক্রমণ করতে, পতন হওয়ার পর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بغداد فَاتّجَه إليها بِجيشِه المُكَوَّن من عَشْرة آلاف مقاتل، فأرسَل رسالة إلى المَلِك المُظَفّر قطز يُهَدِّده إن لم يُسَلِّم البلاد طَائعًا بنحو ما فعل فى بغداد، وحلب، ودمشق، وغيرها من الأرض، إلّا أنَّ تَهْدِيدَه لم يُحَرِّك سَاكِنًا عند قطز، بل قَتَل رُسلَه، واستَعَدَّ لِلِقائه، وبَادَرهم قبل أن يُبَادِروه، وأقْدَم عليهم قبل أن يُقْدِموا عليه، وسَارَ بجيشه فى قِيَادَة قائدِه "بيبرس البندقدارِيّ"، فَالتَقَى الجَيْشان عند عين جالوت فى الخامس والعشرين من رمضان، فَاقْتَتَلوا قِتَالًا شديدًا، فكَانت النّصرة للإِسلام وأهله - ولله الحمد، فهَزَمهم المُسْلِمون هَزِيمَة نَكراء، وقتل أمير المَغُول (كتبغانوين) ولم يَنْجُ من سُيُوف المسلمين أحدٌ من الصَّلِيبِيّين والمغول إلّا من وَلّى الأدبار وفَرَّ إلى وكره
(1).
فلما انجلَى غُبَارُ هذه المَعركة بالنَّصْر المؤزّر، دخل المَلِك المظَفَّر بلاد الشام دمشق، وحلب، وغيرها دخول الظّافر من غير مُنازع ولا مُنافس، بل دخلها فى أبّهة عَظيمة، فرح به النّاس فرحًا شديدًا ودعوا له دعاء كثيرا.
ثم جعل عليها وُلَاتَه وقُضَاتَه، ثم اتَّجَه بعد ذلك إلى مصر عاصِمة دولته فلم يكتب له الوُصُول إليها، بل أدركَتْه المَنِيَّة فى الطَّريق شَهيدًا على يد قائده الظّاهِر بيبرس، لما لَمْ يُكَافِئه على انتصَارِه الساحق على التَّتَار بولاية حَلَب حَسب ما كان قد وعده بها، وبعد ذلك اعتلى بيبرس البندقدَارِيّ عَرْش السلطنة بمصر، وَتَلَقّب بالمَلِك الظَّاهر، فَحَكم وعَدَل، وقَطَع، ووَصل، وولى، وعَزَل، وكان شَهْما شُجَاعًا، ونَظّم الأمُور، وأرسل العَسَاكر بالأسلحة لِحفظ الثُّغُور وَالمَعَاقِل، فلم
--------------------------------------------
বাগদাদ (এর ন্যায়), অতঃপর তিনি তাঁর দশ হাজার যোদ্ধার এক বাহিনী নিয়ে সেদিকে অগ্রসর হলেন। এরপর তিনি আল-মালিকুল মুযাফফর কুতুযের নিকট একটি পত্র পাঠালেন এবং তাঁকে হুমকি দিলেন যে, বাগদাদ, হালাব, দামেস্ক ও অন্যান্য জনপদের মতো তিনি যদি স্বেচ্ছায় দেশ সমর্পণ না করেন (তবে তাঁর পরিণতিও তদ্রূপ হবে)। কিন্তু এই হুমকি কুতুযের মনে বিন্দুমাত্র বিচলন সৃষ্টি করতে পারেনি; বরং তিনি তাঁর দূতদের হত্যা করলেন এবং তাঁর মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিলেন। শত্রুরা আক্রমণ করার পূর্বেই তিনি তাদের ওপর চড়াও হলেন এবং তারা অগ্রসর হওয়ার আগেই তিনি তাদের অভিমুখে যাত্রা করলেন। তিনি তাঁর সেনাপতি 'বাইবার্স আল-বুন্দুকদারি'র নেতৃত্বে স্বীয় বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং পঁচিশে রমজান আইন জালুত নামক স্থানে উভয় বাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত হলো। তাদের মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই হলো এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয় অর্জিত হলো—সকল প্রশংসা আল্লাহর। মুসলমানরা তাদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করল এবং মঙ্গোল সেনাপতি (কিতবুগা নোইয়ান) নিহত হলো। ক্রুসেডার ও মঙ্গোলদের মধ্য থেকে যারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে স্বীয় গর্তে পালিয়ে গিয়েছিল, তারা ছাড়া আর কেউই মুসলমানদের তলোয়ার থেকে নিস্তার পায়নি।
(১)যখন এই সুনিশ্চিত বিজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের ধূলিকণা অপসৃত হলো, তখন আল-মালিকুল মুযাফফর দামেস্ক, হালাবসহ শামের অন্যান্য শহরগুলোতে কোনো প্রকার প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই বিজয়ী বীরের ন্যায় প্রবেশ করলেন। বরং তিনি অত্যন্ত শান-শওকতের সাথে সেখানে প্রবেশ করলেন; জনগণ এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলো এবং তাঁর জন্য অনেক দোয়া করল।
অতঃপর তিনি সেখানে তাঁর গভর্নর ও বিচারকগণকে নিযুক্ত করলেন। এরপর তিনি তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী মিশরের অভিমুখে রওনা হলেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছানো তাঁর ভাগ্যে লেখা ছিল না। বরং পথিমধ্যেই তাঁর সেনাপতি যাহির বাইবার্সের হাতে শহীদ হিসেবে তাঁর মৃত্যু হলো। কারণ, তাতারদের ওপর এই বিশাল বিজয়ের প্রতিদান হিসেবে তাঁকে হালাব প্রদেশের শাসনভার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সুলতান তা পূরণ করেননি। এরপর বাইবার্স আল-বুন্দুকদারি মিশরের সালতানাতের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং 'আল-মালিকুয যাহির' উপাধি ধারণ করেন। তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করেন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন, আইন কার্যকর করেন ও সুসম্পর্ক বজায় রাখেন এবং কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করেন। তিনি অত্যন্ত সাহসী ও তেজস্বী ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলি সুসংগঠিত করেন এবং সীমান্ত ও দুর্গসমূহ রক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনী প্রেরণ করেন। ফলে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
يقدر التَّتَار على الدُّنُوّ من بلاد المسلمِين، واستمر بيبرس فيها يجاهد ضد الصَّلِيبِيين والمَغول، فاستَرَدّ الشويك، وعكا، والكَرَك، وفتح القَيْسَارِيّة عام (663) وخَلّصَ حِمص من حملة الأفرنج، وهَاجَمَ صَفَد واستخلَصَها من أيدى الصَّلِيبِيين إلى أن جاء أجَلُه سنة (676)
(1).
--------------------------------------------
তাতাররা মুসলিম ভূখণ্ডের নিকটবর্তী হতে সক্ষম হলো না, এবং বাইবার্স সেখানে ক্রুসেডার ও মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে জিহাদ অব্যাহত রাখলেন। তিনি আশ-শুওয়াইক, আক্কা ও আল-কারাক পুনরুদ্ধার করেন এবং ৬৬৩ হিজরি সনে কায়সারিয়া জয় করেন। তিনি ইউরোপীয়দের (আফরাঞ্জ) আক্রমণ থেকে হিমসকে মুক্ত করেন এবং সাফাদে আক্রমণ চালিয়ে তা ক্রুসেডারদের হাত থেকে উদ্ধার করেন; পরিশেষে ৬৭৬ হিজরি সনে তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الحالة الاجتماعية والثقافيةإنّ الحَالة الاجتماعية والثقافية لأيِّ بَلَدٍ تَتَأثَّر بالحَالة السياسية والإسِكندريّة مَسْقط رأسِ مؤلِّفِنا حَظِيَت باهتمام خُلَفاءِ وأمراء المسلمين فى القَرْن السَّابِع، بل قبله فى العَصْر الأيُّوبى أيَضًا بالرّغْم من اضطرابات سِياسيّة فى العَالمِ الإسلامي كما تَقَدَّمت الإشارة إليها فى الصَّفَحات السَّابِقة، فقد اهتم السُّلْطَان صَلَاح الدِّين أيّما اهتمام بالإِسكندرية، يذكر الدكتور السَّيِّد عبد العَزِيز سَالم أنّ السلطان زَارَها فى عهده أربع مَرَّات فى أعوام 566، 567. 572، 577 أوْلَاها خِلالَها كَثِيرًا من عنايته، واختَصَّها برعايته، فمن عِمَارته لأسوارِها وتَمكين لدفاعها البَرِّيّ والبَحْرِيّ إلى غير ذلك من رِعَاية لأُولىِ العِلْم والتَّقْوَى من أهلها
(1).
ومن اهتمامه بها أيضًا - كما يذكره المَقريزى أنّه أنشأ بها مَارِستَانًا ودارًا للِمَغَارِبة، ومَدْرَسة على ضَرِيح المُعَظَّم تُورَان شَاه، وشرع فى عمارة الخليج، ونَقَل فوهتَه إلى مكانٍ آخر
(2) ونَقَل صاحب "تاريخ الاسكندرية" من كتاب "الاستبصار" ما نصُّه: والإِسكندرية تعَجّبَ كُلُّ من رَآها لبِهْجَتِها وحُسْن مَنْظَرها وارتفاعِ مَبَانِيها وإِتقانها وسِعَة شوارِعها وطُرُقاتِها
(3)، ويقُول ابن جُبَيْرٍ: ومن مَنَاقِب هَذَا البلد ومَفَاخِره العائدة فى الحقيقة إلى سُلْطَانِه: المَدَارِس والمحارس المَوْضُوعَة فيه لأهل الطِّبِّ والتَّعبُّد، يَفِدُون من الأقطار النّائية، فَيَلْقَى كُلُّ وَاحدٍ منهم مَسْكَنًا يأوِي إليه، ومُدَرِّسًا يُعَلِّمُه الفَنّ الّذي يُريد تَعَلّمه، وإجراءً يقوم به فى جَمِيع أحْواله
(4).
--------------------------------------------
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থাযেকোনো দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা তার রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। আমাদের লেখকের জন্মভূমি আলেকজান্দ্রিয়া সপ্তম শতাব্দীতে, এমনকি তার আগে আইয়ুবী যুগেও মুসলিম খলিফা ও আমিরদের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছিল; যদিও মুসলিম বিশ্বে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান ছিল, যার প্রতি পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সুলতান সালাহউদ্দীন আলেকজান্দ্রিয়ার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। ডক্টর আস-সাইয়্যিদ আবদুল আজিজ সালেম উল্লেখ করেছেন যে, সুলতান তাঁর শাসনামলে ৫৬৬, ৫৬৭, ৫৭২ এবং ৫৭৭ হিজরি সালে চারবার এই শহর সফর করেন। এ সফরগুলোর সময় তিনি একে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং একে স্বীয় বিশেষ তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। এর মধ্যে ছিল শহরের প্রাচীর নির্মাণ ও এর স্থল ও জলপথের প্রতিরক্ষা সুদৃঢ় করা থেকে শুরু করে তথাকার জ্ঞান ও খোদাভীতির অধিকারী ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নেওয়া পর্যন্ত অনেক কিছু।
(১)তাঁর এই বিশেষ মনোযোগের আরও একটি দিক ছিল—যেমনটি আল-মাকরিজি উল্লেখ করেছেন—তিনি সেখানে একটি হাসপাতাল (মারিস্তান) এবং মাগরেবিদের (উত্তর আফ্রিকাবাসী) জন্য একটি আবাসস্থল নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি আল-মুয়াজ্জম তুরান শাহের কবরের ওপর একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন এবং খাল সংস্কারের কাজ শুরু করে এর মোহনা অন্য স্থানে স্থানান্তর করেন।
(২) "তারিখে ইসকান্দারিয়া" (আলেকজান্দ্রিয়ার ইতিহাস) গ্রন্থের লেখক "আল-ইসতিবসার" গ্রন্থ থেকে নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিটি প্রদান করেছেন: "আলেকজান্দ্রিয়ার সজীবতা, মনোরম দৃশ্য, সুউচ্চ ভবনসমূহ, এর মজবুত নির্মাণশৈলী এবং প্রশস্ত রাজপথ ও অলিগলি দেখে যে কেউ বিস্মিত হতো।"
(৩) ইবনে জুবায়ের বলেন: "এই শহরের অন্যতম মর্যাদা ও গৌরবময় বৈশিষ্ট্য, যা মূলত এর সুলতানের অবদানেরই ফসল, তা হলো চিকিৎসাবিদ্যা ও ইবাদতের জন্য তথায় স্থাপিত মাদ্রাসা ও নিরাপত্তা কেন্দ্রসমূহ (মাহারিস)। জ্ঞানপিপাসুরা দূর-দূরান্তের দেশ থেকে এখানে আসত, আর তাদের প্রত্যেকেই থাকার জন্য আবাসন, তাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি শেখানোর জন্য শিক্ষক এবং তাদের যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য নির্ধারিত ভাতা পেত।"
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وقال أيضًا: هَذَا البلد أكثر بلاد الله مَسَاجِد، حتى أنّ تَقدير النَّاس لها يُطَفّف، فمنهم المُكْثِر والمُقَلِّل، فالمُكثِر ينتهى فى تَقْدِيره إلى اثنى عشر ألف مَسْجدٍ، والمُقلِّل ما دُوْن ذلك لا يَنْضبط، فمنهم من يقول: ثمانية آلاف ومنهم من يقول غير ذلك، وبالجملة فهى كَثيرةٌ جِدًّا، تكون منها الأربعة والخَمْسَة فى موضع، ورُبّما كانَتْ مركبة وكلها بأئمة مُرتّبين من قبل السُّلْطان وهَذَا يدُلّ دلالةً واضحةً على غلبة النَّزعة الدِّينِيَّة فى الإسكندرية فى عَصْر سَيطَرت فيه الرَّغْبة فى الجهاد والرّباط
(1).
ومثل ما اهتَمّ بها صَلَاح الدّين اهتَمّ بها كُلّ من جَاءَ بعده، خَاصَّة السُّلْطان المَلِك الظَّاهِر ركن الدين بيبرس، ولهذا يُعَدّ عَصر هذا السُّلْطان أزْهَى عُصُورِها الإسلامية فقد اهتَمّ هذا السُّلْطان المَمْلُوكي بثغر الإسكندرية اهتمامًا خاصًّا وعِناية فاقَتْ عنِايةَ من سَبَقه من المُلُوك والسَّلَاطِين، ومن خَلَفه على السَّوَاء وعلى الرّغم من المُشْكِلات الخَطيرة التى تُهَدِّد دَولتَه، وهذه المشكلات تتَمثل فى الخطرين الصَّليبِي والمَغُولِي، ويَبدُو أن هذين الخَطَرين كَانَا حَافِزين للسُّلْطان للاهتمام بتحصينات الثغور المِصْرِيّة بوجه عَام والإِسكندرية بِوَجهٍ خَاصّ وكان يَزُور الإسكندريّة بين حَينٍ وآخر، وكان يجرِي بعض الأعمال الإصلاحية فى كلِّ مَرَّة، فَتَرك فيها من الآثار فى كل زيارةٍ ما نَوَّه به المؤرّخون وأشادُوا بذكره.
(2)--------------------------------------------
তিনি আরও বলেছেন: আল্লাহর জমিনের শহরগুলোর মধ্যে এই শহরটি মাসজিদ সংখ্যায় সর্বাধিক, এমনকি মানুষ এর সংখ্যা নিরূপণে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করে থাকে—কেউ বাড়িয়ে বলে, আবার কেউ কমিয়ে বলে। যারা অধিক বলেন, তারা তাদের অনুমানে বারো হাজার মাসজিদ পর্যন্ত পৌঁছান; আর যারা কম বলেন, তাদের সংখ্যা এর নিচে হলেও সুনির্দিষ্ট নয়। তাদের মধ্যে কেউ বলেন আট হাজার, কেউবা অন্য সংখ্যা বলেন। মোটকথা, সেখানে মাসজিদ অত্যন্ত বেশি; এক স্থানেই চার বা পাঁচটি মাসজিদ দেখা যায়, এমনকি কখনও কখনও সেগুলো বহুতলবিশিষ্ট হয়। এগুলোর সবকটিতেই সুলতান কর্তৃক নিযুক্ত ইমামগণ দায়িত্ব পালন করেন। এটি সেই যুগে আলেকজান্দ্রিয়ার অধিবাসীদের প্রবল ধর্মীয় চেতনার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ, যখন জিহাদ ও সীমান্ত রক্ষার স্পৃহা আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
(১)সালাহউদ্দীন যেভাবে এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন, তাঁর পরবর্তী সকল শাসকই এর প্রতি অনুরূপ যত্নশীল ছিলেন; বিশেষ করে সুলতান আল-মালিকুজ জাহির রুকনুদ্দীন বাইবারস। এই কারণে এই সুলতানের শাসনকালকে আলেকজান্দ্রিয়ার ইসলামী ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল যুগ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মামলুক সুলতান আলেকজান্দ্রিয়া সীমান্তের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন এবং এমন মনোযোগ দিয়েছিলেন যা তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাজা ও সুলতানদের তুলনায় অধিক ছিল—অথচ সে সময় তাঁর রাষ্ট্র ক্রুসেডার ও মঙ্গোলদের মতো গুরুতর বিপদের সম্মুখীন ছিল। প্রতীয়মান হয় যে, এই উভয় বিপদই সুলতানকে সাধারণভাবে মিশরের সীমান্ত এবং বিশেষভাবে আলেকজান্দ্রিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংহত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি সময়ে সময়ে আলেকজান্দ্রিয়া সফর করতেন এবং প্রতিবারই সেখানে সংস্কারমূলক কাজ সম্পাদন করতেন। ফলে তাঁর প্রতিটি সফরে তিনি এমন সব কীর্তি রেখে গেছেন যা ঐতিহাসিকগণ প্রশংসাভরে উল্লেখ করেছেন।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وقد زارَ الإسكندريّة المَلِك الظَّاهِر بيبرس أربع مَرَّات، وكانت الزيارَة الأولِى عام (661) وتَقَدّمَه وَزِيره بهاء الدِّين ليمَهِّد له الطَّريق، فتحرك مَوْكب السُّلْطان إلى الإسكندريّة، فأَخْرج أهل الإسْكندريّة ما عندهم من العُدَد الخَاصَّة بالجهاد، مِنَ القِسِيّ والعَمَارِيّات والزَّرْد، والخوذ والطَّوَارق، والجوبان، والكزغندات، وزَيَّنُوا بها الشَّوَارع والأسْوَاق، وزَارَ فى أثناء وجُودِه فى الإِسكندريَّة الشَّيخَين القَباري محمد بن مَنْصُور، والشّاطِبِي محمد بن سُلَيمان، وهَذَا يَدُلّ على إجلاله للعُلَماء والعِلْم واحترامه لهم. وزار مَرَّة ثَانِية فى صَفَر سنة (664) عندما بَلَغَه شَكْوَي أهل الإسْكَنْدرِيّةِ من عَدَمِ وصولِ الماء إليها فى سائر شهور السَّنَة بسبب ما تكَدَّس من الرِّمَال فى المجرى المُمْتَدّ من النَّقيدى إلى فم الخَلِيج فَسَيَّر لحَفْره الأمير عَلَمُ الدِّين سَنْجَر المَسْرُورِيّ، وهكذا زَارَ الإِسكَنْدرِيَّة مَرَّة ثَالِثَة ورابِعة، وذلك لشِدّة اهتمامه بها، بِحيث أصْبَح هَذَا الثَّغْر أعظم ثُغُور مِصر كما كان موضعًا للِنُّزْهَة والفرجة، فَتَطَوَّرت الإِسكندريَّة عِمرانيًّا وحَرْبيًّا، يَقُول الدكتور جَمَال الدِّين الشَّيَّال: ظَلَّت الإِسكندريّةُ نتيجةَ عناية مُلُوك بنى أيُّوب الدَّائبة بها تَنْمُو وتَزْدَهِر عمرانيًّا وتجاريًّا وحَرْبيًّا ما عدا سنوات المَجَاعة والوباء القَلِيلة أيَّام العَادِل، وسَرْعَان ما استعادت المدينة نَشَاطَها العِلْمِيّ والعِمْرانيّ بعد ذلك بقليل، فقد زارها الواعظ والمؤرخ الكبير سبط ابن الجَوزِيّ فى سنة (641) فى عهد الصَّالح نَجم الدِّين أيُّوب وَوَصَفَها بقوله: قدمتُ الإسكندريَّة فَوجَدتُها كما قال تَعالى: (ذَاتِ قَرَارٍ ومَعِين) مَغْمُورة بالعُلَمَاء، مَعْمُورَة بالأولياء، كالشيخ محمد القباريّ والشَّاطِبِيّ وابن أبى شَامَة، ووجدتُها كما قال القَيْسرانيّ في وصف دمشق:
সুলতান আজ-জাহির বাইবার্স চারবার আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন। প্রথম সফরটি ছিল ৬৬১ হিজরি সালে। তাঁর উজির বাহাউদ্দিন পথ সুগম করার লক্ষ্যে তাঁর পূর্বেই সেখানে গমন করেন। এরপর সুলতানের কাফেলা আলেকজান্দ্রিয়ার অভিমুখে যাত্রা করলে আলেকজান্দ্রিয়াবাসী জিহাদের বিশেষ সরঞ্জামাদি যেমন—ধনুক, হাওদা, লৌহবর্ম, শিরস্ত্রাণ, ঢাল, জুব্বান ও কাজগান্দাত বের করেন এবং সেগুলো দিয়ে রাস্তাঘাট ও বাজারসমূহ সজ্জিত করেন। আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থানকালে তিনি দুই মহান শেখ—মুহাম্মদ বিন মনসুর আল-কাবারি এবং মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আশ-শাতিবি-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি আলেম ও ইলমের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের পরিচায়ক। ৬৬৪ হিজরি সালের সফর মাসে তিনি দ্বিতীয়বার আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন, যখন তাঁর কাছে আলেকজান্দ্রিয়াবাসীদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পৌঁছায় যে, আল-নুকায়দি থেকে খালের মুখ পর্যন্ত বিস্তৃত জলপথে বালু জমে থাকার কারণে বছরের সকল মাসে পানি পৌঁছাতে পারছে না। তখন তিনি তা খনন করার জন্য আমির আলামুদ্দিন সানজার আল-মাসরুরিকে প্রেরণ করেন। এভাবে আলেকজান্দ্রিয়ার প্রতি গভীর গুরুত্বারোপের কারণে তিনি সেখানে তৃতীয় ও চতুর্থবার সফর করেন। এর ফলে এই সীমান্ত ঘাঁটিটি মিশরের শ্রেষ্ঠ সীমান্তে পরিণত হয় এবং তা ভ্রমণ ও চিত্তবিনোদনের স্থানেও রূপ নেয়। ফলে আলেকজান্দ্রিয়া স্থাপত্য ও সামরিক দিক থেকে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। ডক্টর জামালুদ্দিন আশ-শায়াল বলেন: আইয়ুবি রাজবংশের সুলতানদের নিরবচ্ছিন্ন তদারকির ফলে আলেকজান্দ্রিয়া স্থাপত্য, বাণিজ্য ও সামরিক ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হতে থাকে—আল-আদিল-এর শাসনকালের দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর কতিপয় বছর ব্যতিরেকে। এর অল্পকাল পরেই শহরটি পুনরায় তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য সংক্রান্ত প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পায়। প্রখ্যাত ওয়ায়েজ ও ঐতিহাসিক সিবত ইবনে আল-জাওজি ৬৪১ হিজরি সালে আস-সালিহ নাজমুদ্দিন আইয়ুবের শাসনকালে এটি সফর করেন এবং এর বর্ণনা দিয়ে বলেন: আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় পৌঁছে একে ঠিক তেমনই পেলাম যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘বসবাসের উপযোগী ও প্রস্রবণবিশিষ্ট’। আমি একে আলেমদের দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং ওলিদের মাধ্যমে আবাদ পেলাম, যেমন শেখ মুহাম্মদ আল-কাবারি, আশ-শাতিবি এবং ইবনে আবি শামা। আর একে আমি কায়সারানির দামেস্কের বর্ণনার মতোই পেলাম:
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أرض تحل الأمَانِي فى أمَاكِنِها
… بحيث تَجْتَمع الدُّنْيا وتَفْتَرق
إذَا شَدَا الطَّير فى أغصانِها وقفت
… على حدائقها الأسْماع والحَدق
(1)ولا شَكَّ أنّ مدينة كهذه الّتى عُنى بها الخُلَفَاء والسَّلَاطين من جميع النَّوَاحِي لا تَخْلُو من المَدَارِس الّتى تُخَرِّج العُلَمَاء العَاملِين المُتَضَلّعين بالعلُوم المُخْتَلِفَة، والرّأي المَعْرُوف أنَّ حَرَكَة إنشاء المَدَارِس فى مصر بدأت مع قيام الدَّولة الأيُّوبية فيها، وذَلك حينما أسَّسَ صَلَاح الدّين يُوسُف ابن أيُّوب وأسرته وكبار رِجَال دوْلته المَدَارِس المُختَلِفَة فى الفُسطَاط وغيرها من مُدُن مصر، إلّا أن الدكتور الشَّيَّال يَرَى أن المَدَارِس أنشئت أوّل ما أنشئت فى الإسكندريّة وفى العَصْر الفَاطِمِي أى قبل إنشاء صَلَاح الدِّين لمدارسه فى الفُسطَاط والقَاهِرَة، وقال: كَانَ صَلَاح الدِّين بإنشائه هذه المدارس يتبع سِيَاسَة مُوضوعة، ويُنَفّذ خطَّة مَدْرُوسةً للْقَضَاءِ على المَذْهَب الشِّيعيّ ونشر المَذْهَب السُّنيّ مُقتفيًا سياسَة أُستَاذِه نُور الدِّين محمود بن زَنكي، ففى سنة (566) أنشأ صَلَاح الدِّين مدرسة النَّاصِرِيّة فى الفُسطَاط لتدريس المَذْهَب الشَّافِعِى، ثم نَقَل عن المقريزيّ قوله: وهى أوّل مَدْرسة عملت بِديار مصر، ثمَ عَقَّب الشَّيَّال على هذا فقال: يقول ابن خَلِّكان فى ترجمته للعادل أبى الحسن علي بن السَّلَار وزير الخَليفة الظَّاهِر الفَاطِمِيّ وكان ظَاهِرَ التَّسنّن شَافِعِيّ المَذْهَبَ، ولمَّا وصل الحافظ أبو طَاهِر السِّلَفِيّ إلى ثَغْر الإِسكندريَّة المَحْرُوس وأقام به ثم صَارَ العَادِل المذكور واليًا به (أى بالثَّغْر) احتفل به وزَادَ فى إكرامِه وعَمَّر له مَدْرسَة،
--------------------------------------------
এমন এক ভূমি যেখানে আকাঙ্ক্ষাগুলো তার আপন স্থানে পূর্ণ হয়
… যেখানে পৃথিবী একত্রিত হয় এবং আবার বিভক্ত হয়
যখন পাখি এর ডালপালাগুলোতে গান গায়, তখন এর বাগানগুলোর ওপর
… শ্রবণেন্দ্রিয় এবং দৃষ্টিসমূহ নিবদ্ধ হয়ে থাকে
(১)নিঃসন্দেহে এমন একটি শহর যার প্রতি খলিফা এবং সুলতানগণ সকল দিক থেকে বিশেষ মনোনিবেশ করেছেন, তা এমন সব মাদরাসা থেকে শূন্য থাকতে পারে না যা বিভিন্ন বিজ্ঞানে পারদর্শী ও আমলকারী আলেম তৈরি করে। প্রসিদ্ধ মতানুসারে, মিশরে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আইয়ুবীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। আর তা তখন থেকে যখন সালাহউদ্দীন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব, তাঁর পরিবার এবং তাঁর রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ফুসতাত ও মিশরের অন্যান্য শহরে বিভিন্ন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ডক্টর আশ-শাইয়াল মনে করেন যে, মাদরাসাগুলো সর্বপ্রথম আলেকজান্দ্রিয়ায় এবং ফাতেমি যুগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, অর্থাৎ সালাহউদ্দীন ফুসতাত ও কায়রোতে তাঁর মাদরাসাগুলো প্রতিষ্ঠা করার আগে। তিনি বলেন: সালাহউদ্দীন এই মাদরাসাগুলো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করছিলেন এবং শিয়া মাযহাব নির্মূল ও সুন্নি মাযহাব প্রচারের জন্য একটি পরিকল্পিত নকশা বাস্তবায়ন করছিলেন, যা তাঁর উস্তাদ নূরুদ্দীন মাহমুদ বিন জেনগির নীতিরই অনুসরণ ছিল। অতপর ৫৬৬ হিজরি সনে সালাহউদ্দীন শাফেয়ী মাযহাব পাঠদানের জন্য ফুসতাতে 'নাসিরিয়া' মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তিনি আল-মাকরিজি থেকে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করেন: "এটিই প্রথম মাদরাসা যা মিশর ভূখণ্ডে নির্মিত হয়েছিল।" এরপর আশ-শাইয়াল এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: ইবনে খাল্লিকান ফাতেমি খলিফা আজ-জাহিরের উজির আল-আদিল আবুল হাসান আলী বিন আস-সাল্লারের জীবনীতে বলেন—যিনি প্রকাশ্য সুন্নি এবং শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন—যখন হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফি সংরক্ষিত আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে পৌঁছলেন এবং সেখানে অবস্থান করলেন, তখন উক্ত আল-আদিল সেখানে (অর্থাৎ আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে) গভর্নর হয়ে তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দেন, তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করেন এবং তাঁর জন্য একটি মাদরাসা নির্মাণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
فَوَّض تدريسَها إليه، ثم قَالَ: ومن الممكن أن يُقَال اعتمادًا على نَصِّ ابن خَلِّكان: إنّ ابن السَّلَار لا صَلَاح الدين هو أوَّل من أوجَدَ المَدَارِس بديار مصر وإنّ الإسكندريّة هى أوَّل مدينة مصريّة عَرَفَتْ المَدَارِس، وعَقّب الشَّيَّال على قول ابن خَلِّكَان فقال: حَقيقةً إن الإسكندريّة كانت أوَّ مدينة مِصْرِيّة عَرَفَت المَدَارِس، ولكنّ مدرسةَ السِّلَفِيّ لم تكن أوَّل مدرسة أُنْشِأت فى الإسكندريّة، وإنَّما سَبَقَتْها مدرسةٌ أُخْرَى هى المدرسة الحَافِظيّة الَّتى أنشأها رضوان بن وخشيّ، وقد بُنِيَتْ هذه المدرسة الحَافِظيَّة قبل المدرسة السِّلَفِية
(1) باثنتى عشرة سَنَةً
(2) فقد بُنِيت الأُولى فى سنة (532) وبُنيت الثانية فى سَنَة (544) وقد ذكر المؤلف مَنْصُور بن سَلِيم مَدْرَسَتَيْن أُخرَيَيْن فى هَذَا الكتاب، إحداهما مَدْرَسَة ابن حَبَاسَة، وهى التى أنشَأَها أبو منصور بن حَبَاسَة من تُجَّار الاسكندريّة وأعيانِها، أنشَأها لِلْعِلْم، ذَكَرَها فى ترجمة أبى الفتح مَنْصُور بن حَبَاسَة برقم (205) وثَانيها مَدْرَسَة ابن حَدِيد، ذَكَرها فى ترجمة يَحْيي بن أبى مَلُّول الزَّناتِيّ برقم (401) هَذَا وقد نقلتُ فى بداية هذا البَحْث أنَّ صَلَاح الدِّين بنَى مَدْرَسَةً على ضريح المُعَظّم تُوران شَاه، ولم أجد غير هذه المَدَارس فيما لديّ من المَصَادِر، واعتقد أنّ مَا أهْمَل ذِكرَه المؤرِّخُون أكثر بِكَثِير مِمّا ذكروه، لأنَّ الإسكندريّةَ حَظِيتْ باهتمام المُلُوك والسَّلَاطين، خاصَّة فى العَصْر الأيُّوبيّ والمَمْلُوكيّ، وقد ذكر جَمَال الدِّين الشَّيَّال فى كتابه
(3) بعض مَدَارس أخرى فى الإسكندريّة
--------------------------------------------
তিনি এর অধ্যাপনার ভার তাঁর নিকট অর্পণ করলেন, তারপর বললেন: ইবনে খাল্লিকানের পাঠ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা সম্ভব যে: ইবনে সাল্লার, সালাহউদ্দীন নন, তিনিই সর্বপ্রথম মিশর ভূখণ্ডে মাদ্রাসাসমূহ প্রতিষ্ঠা করেন এবং আলেকজান্দ্রিয়া হলো প্রথম মিশরীয় শহর যেখানে মাদ্রাসার প্রচলন ঘটেছিল। আশ-শাইয়াল ইবনে খাল্লিকানের বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করে বলেন: প্রকৃতপক্ষে আলেকজান্দ্রিয়া ছিল প্রথম মিশরীয় শহর যা মাদ্রাসার সাথে পরিচিত হয়েছিল, তবে সালাফিয়া মাদ্রাসাটি আলেকজান্দ্রিয়ায় স্থাপিত প্রথম মাদ্রাসা ছিল না, বরং এর আগে আরেকটি মাদ্রাসা ছিল, যা হলো হাফিজিয়া মাদ্রাসা, এটি রিদওয়ান ইবনে ওয়াখশি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি সালাফিয়া মাদ্রাসার
(১) বারো বছর আগে নির্মিত হয়েছিল
(২); প্রথমটি (৫৩২) হিজরীতে এবং দ্বিতীয়টি (৫৪৪) হিজরীতে নির্মিত হয়েছিল। লেখক মনসুর ইবনে সালিম এই গ্রন্থে আরও দুটি মাদ্রাসার উল্লেখ করেছেন, যার একটি হলো ইবনে হাবাশা মাদ্রাসা; এটি আলেকজান্দ্রিয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের একজন আবু মনসুর ইবনে হাবাশা ইলমের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি আবু ফাতহ মনসুর ইবনে হাবাশার জীবনীতে (২০৫) নম্বর ক্রমিকে এটি উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়টি হলো ইবনে হাদিদ মাদ্রাসা; তিনি এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবি মালুল আজ-জানাতীর জীবনীতে (৪০১) নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ করেছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, আমি এই গবেষণার শুরুতে বর্ণনা করেছি যে সালাহউদ্দীন মুয়াজ্জাম তুরান শাহের সমাধির ওপর একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেছিলেন। আমার কাছে থাকা উৎসসমূহে আমি এই মাদ্রাসাগুলো ছাড়া আর কোনোটির উল্লেখ পাইনি। আমি মনে করি ইতিহাসবিদগণ যা উল্লেখ করতে বাদ দিয়েছেন তা তাদের বর্ণিত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি, কেননা আলেকজান্দ্রিয়া রাজা ও সুলতানদের বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছিল, বিশেষ করে আইয়ুবী ও মামলুক যুগে। জামালুদ্দীন আশ-শাইয়াল তাঁর গ্রন্থে
(৩) আলেকজান্দ্রিয়ার আরও কিছু মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
مثل "مدرسة عبد اللَّطِيف بن رشيد التكريتي" و "مَدْرَسة عبد اللّطيف بن محمد بن مسند" و "مدرسة عبد اللّطيف بن أحمد بن الكويك و "دار الحديث النَّبَهِيّة" و "المَدْرَسة الخَضْرَاء" و "مَدْرَسة الدَّمامِينِيّ" وغيرها، إلَّا أنَّ هذه المَدَارس أُنْشِئَت فى أواخِر حَيَاة المؤلِّف مَنْصُور بن سَلِيم أو بعده، وفى هذه البَلَد العَامِر الّذى ذكرت نُبذةً عنه وُلد مؤلّف هذا الكتاب وقَضَى مُعْظم حَيَاته فيه ثم مَاتَ فيه.
যেমন "আবদুল লতিফ ইবনে রশিদ আত-তিকরিতি মাদ্রাসা", "আবদুল লতিফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসনাদ মাদ্রাসা", "আবদুল লতিফ ইবনে আহমাদ ইবনুল কুওয়াইক মাদ্রাসা", "দারুল হাদিস আন-নাবাহিয়্যাহ", "আল-মাদরাসাতুল খাদরা" এবং "আদ-দামামিনি মাদ্রাসা" ও অন্যান্য। তবে এই মাদ্রাসাগুলো লেখক মনসুর ইবনে সালিমের জীবনের শেষভাগে অথবা তাঁর পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর এই সমৃদ্ধ জনপদে—যার সম্পর্কে আমি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেছি—সেখানেই এই গ্রন্থের লেখক জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছিলেন এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
التعريف بالإمام مَنْصُور بن سَلِيم (1)هو وَجِيه الدِّين أبو المُظَفَّر مَنْصُور بن سَليم
(2) بن مَنْصُور بن فتُّوح بن يَخْلف الهَمْدَانيّ
(3) الإسكندرانيّ الشَّافِعِيّ الفقيه المُحَدِّث، وكنى بأبى عَلِيّ أيضًا، ويعرف بابن العِمَاديَّة.
--------------------------------------------
ইমাম মানসুর বিন সালিমের পরিচয় (১)তিনি হলেন ওয়াজিউদ্দিন আবু আল-মুজাফফর মানসুর বিন সালিম বিন মানসুর বিন ফুতুহ বিন ইয়াখলিফ আল-হামদানী আল-ইসকান্দারানী আশ-শাফিয়ী, ফকিহ ও মুহাদ্দিস। তিনি আবু আলী উপনামেও পরিচিত ছিলেন এবং ইবনুল ইমাদিয়্যাহ নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
যাইলু তাকমিলাতিল ইকমাল - ইবনুল ইমাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ولادته
يقولُ الدِّمْيَاطِيّ
(1): مَوْلد ابن سَلِيم فى يوم السبت الثَّامِن من صَفَر سَنَة سبع وستمائة بِمَرَج الشيخ
(2) بِقَرَافة الإسكندريّة.
طَلَبهُ لِلْعِلْم ورحلاته
كَانَ ابنِ سَلِيم الهَمْدَانِي رَحَّالًا فى طَلَبِ العلم، وقد كَثُرَت رحلاتُه العِلْمِيّة، والنَّظْرة العَابِرة فى كتابه هذا تدلُّنا على أنَّه دَخَل القَاهِرة والعِرَاق، ودمشق، وحَلَب، وحماة، كما أنَّه رَحَل إلى مَكَّة المكرمة، ورَحَل إلى حَرَّان وغيرها من البُلْدان، يَقُول المؤلِّف فى ترجمة أبى الرَّبِيع سُلَيْمَان بن عبد الله الرَّيْحَانِيّ
(3) سَمِعتُ منه بالقَاهِرة، ويقولُ فى ترجمة جِبريل بن محمود المِصْرِيّ الحَرِيريّ
(4): رَوَى لنا بها عن أبى الفَاخِر، وقال فى ترجمة عَلِيّ بن عبد الصَّمَد بن الرَّمَّاح المِصْرِيّ
(5): حَدَّثنا بمصر عن الحافظ السِّلَفِي، وَدَخَل دمشق بعد أن دَخَل بغداد كما يقول فى ترجمة عبد العزيز بن محمد
(6): توفى فى الخَامِس والعشرين من المُحَرَّم سنة أربعين وستمائة بدمشق ونحن بها بعد عَوْدِي من العراق.
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম
আদ-দিমইয়াতি
(১) বলেন: ইবনে সালিমের জন্ম ৬০৭ হিজরির ৮ই সফর শনিবার আলেকজান্দ্রিয়ার কারাফায় মারাজুশ শায়খে
(২)।
তাঁর ইলম অন্বেষণ ও সফরসমূহ
ইবনে সালিম আল-হামদানি ইলম অন্বেষণে অত্যন্ত পরিভ্রমণকারী ছিলেন এবং তাঁর ইলমি সফরসমূহ ছিল অনেক। তাঁর এই কিতাবের উপর একটি দ্রুত দৃষ্টি আমাদের নির্দেশ করে যে, তিনি কায়রো, ইরাক, দামেস্ক, আলেপ্পো এবং হামাতে প্রবেশ করেছিলেন। একইভাবে তিনি মক্কাতুল মুকাররমা, হাররান এবং অন্যান্য শহরগুলোতেও সফর করেছিলেন। লেখক আবুুর রাবি সুলায়মান বিন আবদুল্লাহ আর-রায়হানির
(৩) জীবনীতে বলেন: আমি কায়রোতে তাঁর নিকট থেকে শুনেছি। জিবরীল বিন মাহমুদ আল-মিসরি আল-হারিরির
(৪) জীবনীতে তিনি বলেন: তিনি সেখানে আমাদের নিকট আবুল ফাখির থেকে বর্ণনা করেছেন। আলী বিন আবদুস সামাদ বিন আর-রাম্মাহ আল-মিসরির
(৫) জীবনীতে তিনি বলেন: তিনি মিশরে হাফিজ আস-সিলাফি থেকে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। বাগদাদে প্রবেশের পর তিনি দামেস্কে প্রবেশ করেছিলেন, যেমনটি তিনি আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদের
(৬) জীবনীতে বলেন: তিনি ৬৪০ হিজরির ২৫শে মহররম দামেস্কে ইন্তেকাল করেন, তখন আমরা সেখানেই ছিলাম, ইরাক থেকে আমার ফেরার পর।
--------------------------------------------