القسم: الطب
الكتاب: شرح تشريح القانون لابن سينا
المؤلف: علاء الدين ابن النفيس، علي بن أبي الحزم القرشي (ت 687هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 179
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: চিকিৎসা শাস্ত্র
গ্রন্থ: ইবনে সিনার আল-কানুন গ্রন্থের শারীরস্থান ব্যাখ্যা
লেখক: আলাউদ্দিন ইবনুন নাফিস, আলী বিন আবিল হাজম আল-কুরাশি (মৃত্যু ৬৮৭ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
আর গঠনটি যে অধিকতর শক্তিশালী হওয়ার কারণ হলো, সরলরেখা সমস্ত রেখার মধ্যে ক্ষুদ্রতম, ফলে এর বিচ্ছেদ বা ব্যবধানও হয় যৎসামান্য। যদি এটি বক্র হতো তবে পরিস্থিতি এমন হতো না, কারণ তখন তা দীর্ঘতর হয়ে যেত। তদ্রূপ, এটি যদি সোজা হয়ে সৃষ্টি হতো কিন্তু তালুর নিম্নে অবস্থিত না হতো, তবে সেখান থেকে নির্গত বাষ্পের পরিমাণ কম হতো; কারণ সেক্ষেত্রে তা মস্তকের উপরিভাগে থাকত না যেখানে বাষ্পসমূহ শেষ পর্যন্ত উপনীত হয়। যেহেতু এই সন্ধিরেখাটি মস্তককে এর উপরিভাগ থেকে বিভক্ত করে, তাই এর অগ্রভাগটি করোনাল সিউচারের (মুকুটসদৃশ সন্ধি) সর্বোচ্চ উচ্চতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়া অপরিহার্য। কারণ প্রতিটি সমতল পৃষ্ঠ বা সরলরেখা যা একটি গোলককে দুই ভাগে বিভক্ত করে, তা অবশ্যই প্রতিটি বৃত্তকে সমকোণে দুই ভাগে বিভক্ত করবে এবং বিভাজনের ফলে উৎপন্ন বৃত্তের পরিধি ঐ সকল বৃত্তের পরিধিকে তাদের অর্ধেক বিন্দুতে ছেদ করবে।
প্রকৃত সন্ধিসম্মূহের তৃতীয়টির উপরিভাগ ব্রহ্মতালুর দুই অস্থি এবং চতুর্থ প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। যেহেতু পশ্চাৎদিকের প্রবৃদ্ধিটি ক্ষুদ্রাকৃতির, তাই এটি গোলকের ন্যায় উত্তল নয় বরং অপেক্ষাকৃত কম প্রসারিত; এবং এর উপরের অংশটি সবচাইতে কম প্রসারিত, কারণ এর নিম্নভাগটি সুষুম্নাকাণ্ড নির্গমনের জন্য প্রশস্ত হওয়া প্রয়োজন। একারণে এর আকৃতি একটি মোচাকৃতির (শঙ্কু) খণ্ডাংশের ন্যায়, যা এর শীর্ষ থেকে ভূমি পর্যন্ত একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা কর্তিত হয়েছে। ফলে এই কর্তনটি একটি ত্রিভুজের রূপ ধারণ করে এবং এই সন্ধিটি একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের দুই বাহুর ন্যায় প্রতীয়মান হয়। এটি অপরিহার্য যে মস্তকের নিম্নভাগের উপরিভাগে কোনো পার্শ্বিক ঝোঁক থাকবে না। আর যেহেতু এই বিভাজনটি মস্তকের উপরিভাগ থেকে নিম্নভাগ পর্যন্ত শুরু হয়, তাই এই দুই বাহুর মিলনস্থল অবশ্যই সেই বিন্দুতে হতে হবে যা সরল সন্ধিরেখার পশ্চাৎ প্রান্ত। এই সন্ধির দুই বাহু সোজা হওয়ার পেছনে একটি উপকারিতা ও একটি সুরক্ষা বিদ্যমান। উপকারিতাটি হলো: যেন ত্রুটি কম হয় এবং গঠনটি অধিকতর শক্তিশালী হয়। আর সুরক্ষাটি হলো: যেন পশ্চাৎদিকের প্রকোষ্ঠে বাষ্পের স্থবিরতা কম হয়, কারণ এটি নিচের দিকে অগ্রসরমান। বাষ্পের ধর্ম হলো উর্ধ্বগামী হওয়া, তাই এটি মস্তকের সম্মুখভাগের দিকে উঠে যায় কারণ তা অধিকতর উচ্চে অবস্থিত। এই সন্ধিকে 'লাম্বডয়েড' বলা হয়, কারণ এটি গ্রিক লেখনিতে 'লাম্বডা' বর্ণের সদৃশ।
আর ছদ্ম-সন্ধি দুটি মস্তকের দুই পার্শ্বে—ডানে ও বামে অবস্থিত। এদের প্রতিটি সেই দিকের করোটির অস্থি এবং সেই পার্শ্বের প্রাচীরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এগুলি সেখানে সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো, ইতিপূর্বে যেমনটি আমরা বলেছি, অধিক বায়ু ও বাষ্প জমলে যেন এগুলি উন্মুক্ত হতে পারে এবং মস্তকের নিরাপত্তা বজায় রেখে মস্তিষ্ককে সেগুলো থেকে মুক্ত করা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই উন্মুক্ত হওয়ার কারণ হলো পার্শ্বদেশসমূহে বায়ুর বিস্তৃতি; আর এই বিস্তৃতি মূলত ডানে ও বামে ঘটে থাকে, কারণ সম্মুখ ও পশ্চাৎভাগের মধ্যবর্তী স্থানটি প্রশস্ত হওয়ায় বায়ুর ওপর ততটা চাপ সৃষ্টি হয় না যতটা দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানে হয়। এই বায়ু করোটির অস্থিদ্বয়কে উপরে তোলার মাধ্যমে বাষ্পের উর্ধ্বমুখী গতিতে উন্মুক্ত হতে সহায়তা করে, ফলে উন্মোচন সহজ হয়। যদি এগুলি অন্য কোনো স্থানে স্থাপন করা হতো তবে এমনটি হতো না।
তাঁর উক্তি: ‘সরল’—একে এককভাবে ‘তীরবৎ’ বা স্যাজিটাল সিউচার বলা হয়। যখন এর সংযোগের দিক থেকে বিচার করা হয়, তখন হ্রাস পাওয়া হয় পরিমাণে হতে পারে, যেমনটি ঘটে যখন একটি বা উভয় প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক পরিমাণের তুলনায় ছোট হয়; অথবা সংখ্যায় হতে পারে, যেমনটি ঘটে যখন মস্তকের একটি বা উভয় প্রবৃদ্ধির অভাব থাকে। আর স্বাভাবিক অবস্থা থেকে আধিক্য ও হ্রাস উভয়সহ বিচ্যুতি ঘটে যখন একটি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায় এবং অপরটি বিশাল আকার ধারণ করে। অথবা উভয় প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায় এবং মস্তকের পার্শ্বদেশে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। আর অংশের অপবিন্যাসের কারণে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে বিচ্যুতি ঘটে তখন, যখন একটি বা উভয় প্রবৃদ্ধি ডান অথবা বাম দিকে হেলে থাকে, অথবা একটি ডানে ও অন্যটি বামে থাকে। এই আকারগুলোর মধ্যে একটি বা উভয় প্রবৃদ্ধির হ্রাস ছাড়া অন্য কিছু সচরাচর ঘটে না। এগুলোই হলো নৌকা সদৃশ (স্ক্যাফয়েড) মস্তকের আকৃতি।
তাঁর উক্তি: ‘মস্তকের পক্ষে চতুর্থ কোনো অস্বাভাবিক আকৃতি হওয়া সম্ভব নয়’—এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে হ্রাসের দিক থেকে এটি অসম্ভব। অর্থাৎ, হ্রাসের কারণে মস্তকের আকৃতির বিকৃতি এই তিনটির বেশি হওয়া সম্ভব নয়। একারণে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এর ফলে মস্তিষ্কের প্রকোষ্ঠ বা উপাদানে ঘাটতি দেখা দেবে। মস্তকের সন্ধিগুলোর মধ্যে কিছু এমন আছে যা মস্তকের আকৃতি পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না; সেগুলো সংখ্যায় তিনটি: সরল এবং দুটি আঁশবৎ (স্কোয়াামাস)। আর কিছু আকৃতিভেদে পরিবর্তিত হয়, যেগুলো সংখ্যায় দুটি: করোনাল এবং লাম্বডয়েড। এর কারণ হলো, মস্তক যদি প্রকৃত গোলক হতো তবে সন্ধির হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো একটি দিক অন্য দিকের চেয়ে অগ্রগণ্য হতো না। বরং ব্রহ্মতালুতে হয় কোনো সন্ধিই থাকত না, অথবা যদি থাকত তবে তা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সমান হতো; অর্থাৎ প্রস্থ বরাবর একটি সন্ধি থাকত যেমনটি দৈর্ঘ্যে থাকে এবং প্রস্থের সন্ধিটি প্রস্থের মাঝখানে থাকত যেমনটি দৈর্ঘ্যের সন্ধি দৈর্ঘ্যের মাঝখানে থাকে। তবে সন্ধিগুলোর অনুপস্থিতি মোচাকৃতির এমন খণ্ডাংশের কারণে যা ঐ কাল্পনিক মোচার অক্ষের সমান্তরাল নয়, বরং অক্ষকে নিচ থেকে সামনের দিকে ছেদকারী। একারণে চতুর্থ প্রাচীরের দুই প্রান্ত সামনের দিকে অগ্রসর হয় যতক্ষণ না তারা দুটি পাথুরে অস্থির শেষ প্রান্তের নিকট চোয়ালের অস্থির সাথে মিলিত হয়। এমনটি হওয়ার ফলে এই দুটি আঁশবৎ সন্ধির প্রতিটি স্যাজিটাল সন্ধির তুলনায় অনেক ছোট হয় এবং এই দুই আঁশবৎ সন্ধির প্রবেশপথ—