(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: -)
السلاسل المختارة من صحيح الإمام البخاري القسم: كتب السنة
الكتاب: السلاسل المختارة من صحيح الإمام البخاري
جمعها: عبد الله بن علي العزب
راجعه: فضيلة الشيخ عبد العزيز بن عبد الحميد الفارس
عدد الصفحات: 108
الناشر: طبع على نفقة العم محمد بن ابراهيم الفارس أجزل الله له المثوبة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442
ইমাম বুখারীর সহীহ থেকে নির্বাচিত ধারাবাহিকতাসমূহ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইমাম বুখারীর সহীহ থেকে নির্বাচিত ধারাবাহিকতাসমূহ
সংগ্রহ করেছেন: আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-আযাব
পর্যবেক্ষণ করেছেন: ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল হামীদ আল-ফারিস
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৮
প্রকাশক: চাচা মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম আল-ফারিসের অর্থায়নে মুদ্রিত, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١)
السلاسل المختارة
من صحيح الإمام البخاري
جمعها
عبد الله بن علي العزب
راجعه
فضيلة الشيخ
عبد العزيز بن عبد الحميد الفارس
طبع على نفقة العم محمد بن ابراهيم الفارس أجزل الله له المثوبة
إهداء ثوابه للجدين ابراهيم بن محمد الفارس ووضحى بنت خالد الدخيل غفر الله لهما ورحمها ورفعهما في عليين وجميع موتى المسلمين. آمين
নির্বাচিত সিলসিলাসমূহ
ইমাম বুখারীর সহীহ থেকে
সংকলনে
আবদুল্লাহ বিন আলী আল-আযাব
পর্যবেক্ষণে
সম্মানিত শায়খ
আবদুল আযীয বিন আবদুল হামীদ আল-ফারিস
চাচা মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-ফারিসের অর্থায়নে মুদ্রিত, আল্লাহ তাঁকে মহা প্রতিদান দান করুন
এর সওয়াব উৎসর্গ করা হয়েছে দাদা ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-ফারিস এবং দাদি ওয়াদহা বিনতে খালিদ আদ-দাখিলের প্রতি; আল্লাহ তাঁদের উভয়কে ক্ষমা করুন, তাঁদের ওপর রহম করুন, ইল্লিয়্যিনে তাঁদের মর্যাদা উচ্চ করুন এবং সকল মৃত মুসলিমকেও। আমীন।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
عبدالله بن علي العزب، 1441 هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
العزب، عبدالله بن علي بن عبدالله
السلاسل المختارة من صحيح الإمام البخاري.
… / عبدالله علي
عبدالله العزب.- الرياض، 1441 هـ
70 ص؛ .. سم
ردمك: 9 - 2427 - 03 - 603 - 978
1 - الحديث الصحيح
… 2 - الحديث - شرح أ. العنوان
ديوي 235،1
… 1414/ 2807
رقم الإيداع: 2807/ 1414
ردمك: 9 - 2427 - 03 - 603 - 978
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আবদুল্লাহ ইবনে আলী আল-আযাব, ১৪৪১ হিজরি
প্রকাশনা কালীন কিং ফাহাদ জাতীয় লাইব্রেরি ক্যাটালগিং
আল-আযাব, আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ
সহীহ ইমাম বুখারী থেকে নির্বাচিত সিলসিলাসমূহ।
... / আবদুল্লাহ আলী
আবদুল্লাহ আল-আযাব।- রিয়াদ, ১৪৪১ হিজরি
৭০ পৃষ্ঠা; .. সেমি
আইএসবিএন: ৯ - ২৪২৭ - ০৩ - ৬০৩ - ৯৭৮
১ - সহীহ হাদিস
... ২ - হাদিস - ব্যাখ্যা। শিরোনাম
ডিউই ২৩৫,১
... ১৪১৪/ ২৮০৭
জমাদান নম্বর: ২৮০৭/ ১৪১৪
আইএসবিএন: ৯ - ২৪২৭ - ০৩ - ৬০৩ - ৯৭৮
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٤)
المقدمةالحمدُ للهِ ربِّ العالمين، والصَّلاةُ والسَّلامُ على أشرفِ الأنبياءِ والمُرسلِين، وبعدُ:
فعِلمُ " الحديث " عِلمٌ جليلُ القَدْرِ، رَفيعُ المكانةِ، وهو المصدرُ الثَّاني في التشريعِ، بعدَ " القُرآنِ الكريمِ "، أفنى العُلماءُ أعمارَهم في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، رِحلةً، وسماعًا، وروايةً، وتدوينًا، ونقله إلى الأمة جيلًا بعد جيل.
وتفنَّنوا في: " تدوينهِ "، و " شرحهِ "، وبيانِ " غريبهِ "، وحلِّ " مُشْكِله "، وكشفِ " مُبْهمِه "، وبيانِ " درجتهِ " قُوَّةً وضعْفًا، وأحوالِ " رِجالهِ " قبولاً وردًّا، فيذكرونَ بيانَ حالِ الرَّاوي، وشيوخهِ، وتلاميذهِ، ودرجتهِ، بل يذكرونَ التفريقَ بين مُتشابهِ أَسماءِ الرَّاوي، واسمهُ الأول أو الثاني أو الكنية، وألفوا فيه التصانيف الدقيقة
…ومن شِدَّةِ ضبطِهم، وعِنايتِهم بـ " الحديثِ "؛ ألَّفوا في ضبطِ أسماءِ الرُّواةِ، في تقديم أو تأخيرٍ، وأسموه " المؤتلف والمختلف "، ومَن تفرَّدَ بالرواية، ومَن كثُرتْ رِوايتهِ
… إلى غيرِ ذلكَ مما هو مشْهورٌ في عِلم " مصطلح الحديث "، ومِن ذلك " سلاسلُ الإسنادِ ".
* * * *
[أَصَحُّ السَّلَاسِلُ]:
اختلفَ العُلماء في أيهم أصح سلسلة:
1 ـ فقيل: الزهري عن سالم عن أبيه رضي الله عنه.
اختاره: أحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه. قاله ابنُ الصَّلاح.
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মাঝে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিত্বের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই "হাদীস" শাস্ত্র এক মহান ও উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান। "আল-কুরআনুল কারীম"-এর পরে এটি শরীআতের দ্বিতীয় উৎস। ওলামায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের জন্য সফর, শ্রবণ, বর্ণনা ও সংকলনের কাজে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উম্মতের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তারা হাদীস "সংকলন", "ব্যাখ্যা", "দুর্লভ শব্দের বিশ্লেষণ", "জটিলতার সমাধান", "অস্পষ্টতা নিরসন", এবং এর সবলতা ও দুর্বলতার ভিত্তিতে "মান" নির্ধারণ ও বর্ণনাকারীদের (রিজাল) গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের অবস্থার বর্ণনায় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তারা বর্ণনাকারীর অবস্থা, তাঁর উস্তাদগণ, ছাত্রগণ এবং তাঁর স্তরের বর্ণনা দেন, এমনকি বর্ণনাকারীদের সদৃশ নামসমূহ, তাঁদের প্রথম নাম, দ্বিতীয় নাম বা উপনামের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেন এবং এ বিষয়ে সূক্ষ্ম কিতাবাদি রচনা করেছেন
...হাদীস সংরক্ষণে তাঁদের প্রখর সতর্কতা ও যত্নের কারণে তাঁরা বর্ণনাকারীদের নামের নির্ভুলতা রক্ষায় (অক্ষরের আগে-পিছে হওয়া প্রসঙ্গে) গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন "আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ"। এছাড়া যারা এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং যারা অধিক বর্ণনা করেছেন
... সহ "উসূলে হাদীস" বা হাদীসশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ অন্যান্য বিষয়েও তাঁরা গ্রন্থ লিখেছেন। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো "সনদ বা বর্ণনাক্রমের ধারা"।
* * * *
[সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদসমূহ]:
ওলামায়ে কিরামের মাঝে কোনটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ—এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে:
১. বলা হয়েছে: যুহরী, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা (ইবনে উমর) রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
এটি পছন্দ করেছেন: আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ। ইমাম ইবনুস সালাহ এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٥)
2 ـ وقيل: محمد بن سيرين عن عبيدة السّليماني عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
اختاره: ابن المديني، والفلاس.
3 ـ وقيل: الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن ابن مسعود رضي الله عنه.
اختاره: ابن معين.
4 ـ وقيل: مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنه.
اختاره: البخاري
(1).
و " السِّلسلة الذهبية ":
أحمد بن حنبل عن الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنه.
ولا يُوجد لهذهِ " السِّلسلة " إلا حديثٍ واحدٍ، أخرجه أحمد في " مسنده "
(2).
* * * *
[سَلَاسِلُ المُدُنِ]:
وقد تعدَّى اهتمامُ عُلماءِ الحديث بـ " سلاسل الإسناد " إلى الاهتمام بـ " سلاسل المدن "؛ كـ:
1 ـ " سلسلة المكيين ": سفيان بن عيينة عن عمرو بن دينار عن جابر رضي الله عنه.
--------------------------------------------
২ - এবং বলা হয়েছে: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, উবাইদাহ আস-সুলাইমানি থেকে, তিনি আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
এটি নির্বাচন করেছেন: ইবনুল মাদিনি এবং আল-ফাল্লাস।
৩ - এবং বলা হয়েছে: আল-আ’মাশ, ইবরাহিম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
এটি নির্বাচন করেছেন: ইবনে মাঈন।
৪ - এবং বলা হয়েছে: মালিক, নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
এটি নির্বাচন করেছেন: আল-বুখারি
(১)।
এবং "স্বর্ণালী সূত্র":
আহমাদ ইবনে হাম্বল, আশ-শাফিঈ থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
এবং এই "সূত্রের" জন্য মাত্র একটি হাদিস পাওয়া যায়, যা আহমাদ তাঁর "মুসনাদে" বর্ণনা করেছেন
(২)।
* * * *
[শহরভিত্তিক সূত্রসমূহ]:
এবং হাদিস বিশারদগণের "সনদের সূত্রসমূহের" প্রতি গুরুত্ব প্রদান "শহরভিত্তিক সূত্রসমূহের" প্রতি গুরুত্বারোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; যেমন:
১ - "মক্কাবাসীদের সূত্র": সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ, আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٦)
2 ـ و " سلسلة الشَّاميين ": عبدالرحمن الأوزاعي عن حسان بن عطية عن الصحابة رضي الله عنهم.
3 ـ و " سلسلة اليمانيين ": معمر عن همام بن منبه عن أبي هريرة رضي الله عنه.
4 ـ و " سلسلة المصريين ": الليث بن سعد عن يزيد بن ابي حبيب عن أبي الخير عن عقبة بن عامر الجهني.
ومن حرصي على أهل العلم، والرَّغبة في المشاركة فيه، وأنا دُون ذلك ولستُ من مضماره، رأيتُ المشاركة في جمعِ الأحاديثِ باعتبارِ " السلاسل "؛ ليسهل على طلاب " الحديث " حفظ الأسنانيد.
وليسَ القصدُ جمع " السلاسل "، وإنَّما القصدُ جمع ما تيسَّر منها وإلَّا فغيرها كثير في " صحيح البخاري " وغيره، وإنَّما هي بدايةٌ لعلَّه يكون لي النصيب في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ سَنَّ فِي الإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً
… ))
(1). ويكون لنا الأثر والأجر بعد الممات، وزُلْفى إلى الله عز وجل.
وقد صحَّ عن أبي هريرة رضي الله عنه عندَ " مسلمٍ " مرفوعًا: ((إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ، إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ
… )) وذكر منها: ((عِلْمٌ يُنْتَفَعُ بِهِ))
(2).
* * * *
[مَنْهَجُ جَمْعِ السَّلَاسِلِ]:
طريقتنا فيها: ذِكر " السِّلسلة " مع ما يندرجُ تحتَها من الأحاديث في " صحيحِ البخاري " فقط، وقد تَكون " السِّلسلةُ " من شيخِ البُخاري إلى مُنتهى السَّندِ، أو إلى مُنتصفِه، ولا أكتفي بذكرِ " السِّلسلةِ " مرَّةً واحدةً، بل أكرِّرُها في كلِّ حديثٍ
--------------------------------------------
২ - এবং "শামীদের সিলসিলা": আবদুর রহমান আল-আওজায়ি, তিনি হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি সাহাবাগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে।
৩ - এবং "ইয়ামানিদের সিলসিলা": মা'মার, তিনি হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
৪ - এবং "মিসরীয়দের সিলসিলা": লাইস ইবনে সাদ, তিনি ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি থেকে।
ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ এবং এতে শরিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে—যদিও আমি সেই যোগ্যতার অধিকারী নই এবং এ ময়দানের অশ্বারোহীও নই—আমি "সিলসিলা" বা সনদ-ধারাবাহিকতা অনুযায়ী হাদিসসমূহ সংকলন করার সংকল্প করেছি; যাতে "হাদিস" শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য সনদসমূহ মুখস্থ করা সহজ হয়।
আমার উদ্দেশ্য সকল "সিলসিলা" সংকলন করা নয়, বরং কেবল যা সহজসাধ্য হয়েছে তা সংগ্রহ করা; নতুবা "সহিহ বুখারি" ও অন্যান্য কিতাবে এ ছাড়া আরও অনেক সিলসিলা রয়েছে। এটি কেবল একটি সূচনা মাত্র, যাতে সম্ভবত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই হাদিসে আমার অংশ নসিব হয়: ((যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো পদ্ধতি চালু করল
… ))
(১)। আর এর মাধ্যমে যেন মৃত্যুর পর আমাদের জন্য পুণ্য ও প্রতিদান অবশিষ্ট থাকে এবং যা মহান আল্লাহর নৈকট্যের মাধ্যম হয়।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে "মুসলিম" শরিফে মারফু সূত্রে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে: ((যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া
… )) এবং সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন: ((এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়))
(২)।
* * * *
[সিলসিলাসমূহ সংকলনের পদ্ধতি]:
এতে আমাদের অনুসৃত পদ্ধতি হলো: "সিলসিলা" উল্লেখ করা এবং এর অধীনে কেবল "সহিহ বুখারি" থেকে আসা হাদিসগুলো উল্লেখ করা। কোনো কোনো "সিলসিলা" ইমাম বুখারির উস্তাদ থেকে সনদের শেষ পর্যন্ত হতে পারে, আবার কোনোটি সনদের মধ্যভাগ পর্যন্ত। আমি কেবল একবার "সিলসিলা" উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হইনি, বরং প্রতিটি হাদিসের সাথে তা পুনরাবৃত্তি করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٧)
للدَّاعي إلى حِفظهِ وضَبطهِ.
* * * *
وثم مشاريع أتركها لطلاب العلم يجمعون سلاسل صحيح الإمام مسلم وبقية الكتب الستة والمصنفات والمعاجم؛ ليسهل جمع الأحاديث من طريق واحد، وقد جمعها المزي في تحفة الأشراف وغيره، وإنما القصد إفرادها وإخراجها وحصرها مثلًا في كتاب معين كسلاسل البخاري وسلاسل مسلم وغيرها.
وقد جمعت السلاسل التالية:
• سلسلة أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه[فيها 133 حديثًا]، وقد حوت الطرق التالية:
- عبدالله بن يوسف عن مالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه.
- أبو اليمان عن شعيب عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه.
- عبدالله بن مسلمة عن مالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه.
- إسماعيل عن مالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه.
- قتيبة بن سعيد عن مغيرة بن عبدالرحمن عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه.
- قتيبة بن سعيد عن مالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه.
সংরক্ষণ ও আয়ত্তকরণের প্রতি উৎসাহদানকারীর জন্য।
* * * *
আর সেখানে কিছু প্রকল্প রয়েছে যা আমি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য রেখে যাচ্ছি, যাতে তারা ইমাম মুসলিমের সহীহ এবং বাকি কুতুবে সিত্তাহ, মুসান্নাফ ও মু'জাম গ্রন্থসমূহের সনদ-শৃঙ্খলগুলো সংগ্রহ করে; যেন একটি একক সূত্রের মাধ্যমে হাদীসসমূহ সংগ্রহ করা সহজ হয়। ইমাম আল-মিযযী ‘তুহফাতুল আশরাফ’ ও অন্যান্য গ্রন্থে এগুলো সংগ্রহ করেছেন। তবে মূল উদ্দেশ্য হলো এগুলোকে পৃথক করা, বের করা এবং একটি নির্দিষ্ট গ্রন্থে সীমাবদ্ধ করা, যেমন বুখারীর সনদ-শৃঙ্খল, মুসলিমের সনদ-শৃঙ্খল ইত্যাদি।
আমি নিচের সনদ-শৃঙ্খলগুলো সংগ্রহ করেছি:
• আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল-আ'রাজ, তাঁর থেকে আবু আয-যিনাদ-এর সনদ-শৃঙ্খল [এতে ১৩৩টি হাদীস রয়েছে], যা নিচের সূত্রসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
- আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, তিনি মালিক থেকে, তিনি আবু আয-যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
- আবু আল-ইয়ামান, তিনি শুআইব থেকে, তিনি আবু আয-যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
- আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ, তিনি মালিক থেকে, তিনি আবু আয-যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
- ইসমাঈল, তিনি মালিক থেকে, তিনি আবু আয-যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
- কুতাইবা ইবনে সাঈদ, তিনি মুগীরা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু আয-যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
- কুতাইবা ইবনে সাঈদ, তিনি মালিক থেকে, তিনি আবু আয-যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٨)
- علي بن المديني عن سفيان بن عيينة عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه.
- سلاسل متفرقة عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه.
• سلسلة الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن ابن مسعود رضي الله عنه[فيها 12 حديثًا].
• سلسلة عبد الله بن يوسف عن مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها[فيها 17 حديثًا].
• سلسلة مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما[فيها 88 حديثًا]، وقد حوت الطرق التالية:
- عبدالله بن يوسف عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما.
- عبدالله بن مسلمة عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما.
- إسماعيل عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما.
- قتيبة بن سعيد عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما.
- إبراهيم بن المنذر عن معن عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما.
- سلاسل متفرقة عن عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما.
• سلسلة محمد بن بشار عن محمد بن جعفر (غندر) عن شعبة عن قتادة عن أنس رضي الله عنه[فيها 16 حديثًا].
• سلسلة مسدد عن يحيى عن شعبة عن قتادة عن أنس رضي الله عنه[فيها 9 أحاديث].
• سلسلة مسدد عن يحيى عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما[فيها 6 أحاديث].
- আলী বিন আল-মাদীনী, সুফিয়ান বিন উয়ায়না থেকে, তিনি আবু আয-যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
- আবু আয-যিনাদ, আল-আ'রাজ ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্রে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন পরম্পরা।
• ইবরাহীম, আলকামা ও ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্রে আল-আ'মাশ পরম্পরা [এতে ১২টি হাদীস রয়েছে]।
• আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ পরম্পরা; তিনি মালিক থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন [এতে ১৭টি হাদীস রয়েছে]।
• নাফে' ও ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে মালিক পরম্পরা [এতে ৮৮টি হাদীস রয়েছে], যা নিম্নোক্ত সূত্রগুলো ধারণ করেছে:
- আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ, মালিক থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।
- আব্দুল্লাহ বিন মাসলামা, মালিক থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।
- ইসমাঈল, মালিক থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।
- কুতাইবা বিন সাঈদ, মালিক থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।
- ইবরাহীম বিন আল-মুনযির, মা'ন থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।
- মালিক, নাফে' ও ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন পরম্পরা।
• মুহাম্মদ বিন জাফর (গুন্দার), শু'বাহ, কাতাদাহ ও আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্রে মুহাম্মদ বিন বাশার পরম্পরা [এতে ১৬টি হাদীস রয়েছে]।
• ইয়াহইয়া, শু'বাহ, কাতাদাহ ও আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্রে মুসাদ্দাদ পরম্পরা [এতে ৯টি হাদীস রয়েছে]।
• ইয়াহইয়া, উবাইদুল্লাহ, নাফে' ও ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে মুসাদ্দাদ পরম্পরা [এতে ৬টি হাদীস রয়েছে]।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٩)
• سلسلة مسدد عن يحيى عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها[فيها 8 أحاديث].
• سلسلة معمر عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه[فيها 11 حديثًا].
• سلسلة منصور عن إبراهيم عن علقمة عن ابن مسعود رضي الله عنه[فيها حديثان].
• سلسلة أبو اليمان عن شعيب عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه[فيها 24 حديثًا].
• سلسلة أبو اليمان عن شعيب عن الزهري عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي هريرة رضي الله عنه[فيها 22 حديثًا].
واعتمدت في ترجمة رجالها على كتاب " تقريب التهذيب " للإمام ابن حجر رحمه الله
أسأل الله أن ينفع بها ويجعلها خالصة لوجهه الكريم
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
عبدالله بن علي العزب
27/ 9/1440 هـ
abd 1234817@gmail.com
• মুসাদ্দাদ এর সূত্র, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে [এতে ৮টি হাদীস রয়েছে]।
• মা'মার এর সূত্র, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে [এতে ১১টি হাদীস রয়েছে]।
• মানসূর এর সূত্র, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে [এতে দুটি হাদীস রয়েছে]।
• আবু ইয়ামান এর সূত্র, তিনি শুয়াইব থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে [এতে ২৪টি হাদীস রয়েছে]।
• আবু ইয়ামান এর সূত্র, তিনি শুয়াইব থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে [এতে ২২টি হাদীস রয়েছে]।
এবং আমি এর বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনায় ইমাম ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর রচিত "তাকরীবুত তাহযীব" গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা উপকার দান করেন এবং একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন।
এবং আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
আবদুল্লাহ বিন আলী আল-আযাব
২৭/ ৯/ ১৪৪০ হিজরি
abd 1234817@gmail.com
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
تقريظ
(1)بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، ،
أما بعد فإني أشكر الله سبحانه وتعالى وأثني عليه الخير كله على تيسير طباعة الكتاب، ثم الشكر موصول إلى العم محمد بن إبراهيم الفارس على تفضله بالطباعة، فقد أخرج أبو داود في سننه
(2) من حديث عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((لَا يَشْكُرُ اللَّهَ مَنْ لَا يَشْكُرُ النَّاسَ)) فجزاه الله خيرا وبارك فيه، ونسأله جل وعلا أن يتقبل ثوابه
(3) للجدين إبراهيم بن محمد بن حمد الفارس
(4) ووضحى بنت خالد بن عبد الله بن عبد العزيز الدخيل رحمهما الله وغفر لهما ورفعهما في عليين. آمين
(5).
والشكر أيضا إلى التلميذ النجيب والساعي إلى الخير إن شاء الله الأخ عبد الله بن علي العزب على اجتهاده وجمعه للمادة العلمية. فجزاه الله خيرا.
--------------------------------------------
প্রশংসামূলক আলোচনা
(১)পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।
অতঃপর, আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি এবং তাঁর যাবতীয় উত্তম প্রশংসা করছি এই কিতাবটির মুদ্রণ সহজসাধ্য করার জন্য। এরপর আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি শ্রদ্ধাভাজন চাচা মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ফারিসকে তাঁর সদয় মুদ্রণ সহায়তার জন্য। আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে
(২) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে না।" আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাতে বরকত দান করুন। আমরা মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর সওয়াব
(৩) দাদা-দাদী ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন হামাদ আল-ফারিস
(৪) এবং ওয়াদহা বিনতে খালিদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আদ-দাখিল — আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, তাঁদের ক্ষমা করুন এবং ইল্লিয়্যীনে তাঁদের মর্যাদা উন্নীত করুন — তাঁদের পক্ষ থেকে কবুল করেন। আমিন
(৫)।
আরো ধন্যবাদ জানাচ্ছি মেধাবী ছাত্র এবং ইনশাআল্লাহ কল্যাণের পথে সচেষ্ট ভাই আবদুল্লাহ বিন আলি আল-আযাবকে তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং ইলমি উপকরণসমূহ সংগ্রহের জন্য। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١١)
ونسأل الله الإخلاص في القول والعمل، وأن ينفع به، ويعلمنا ما ينفعنا ويفقهنا في الدين ويستعملنا في طاعته. آمين.
وآخر دعوانا أن الحمد الله رب العالمين.
وكتبه: عبد العزيز بن عبد الحميد بن إبراهيم الفارس
আমরা আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন, আমাদের তা-ই শিক্ষা দেন যা আমাদের উপকারে আসবে, আমাদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন এবং তাঁর আনুগত্যে আমাদের নিয়োজিত করেন। আমীন।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল হামীদ বিন ইবরাহীম আল-ফারিস।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
سلسلة (أبي الزناد(1) عن الأعرج(2) عن أبي هريرة رضي الله عنه -
(3)) [فيها 133 حديثًا]
أولًا: سلسلة (عبد الله بن يوسف(4) عن مالك(5) عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه -)
1/ 162 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ، ثُمَّ لِيَنْثُرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي وَضُوئِهِ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ ".
2/ 172 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا شَرِبَ الكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا ".
--------------------------------------------
ধারাবাহিক (আবুয যিনাদ(১) আল-আরাজ(২) থেকে, তিনি আবু হুরায়রা -রাযিয়াল্লাহু আনহু- থেকে -
(৩)) [এতে ১৩৩টি হাদিস রয়েছে]
প্রথমত: ধারাবাহিক (আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ(৪) মালিক(৫) থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা -রাযিয়াল্লাহু আনহু- থেকে -)
১/ ১৬২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক সংবাদ দিয়েছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ ওযু করে, তখন সে যেন তার নাকে (পানি) দেয়, অতঃপর তা ঝেড়ে পরিষ্কার করে। আর যে ব্যক্তি পাথর (বা ঢিলা) ব্যবহার করে, সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় করে। আর তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগে, তখন সে যেন তার ওযুর পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে হাত ধুয়ে নেয়; কেননা তোমাদের কেউ জানে না যে তার হাতটি রাতে কোথায় ছিল।"
২/ ১৭২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর পান করে, তবে সে যেন তা সাতবার ধুয়ে নেয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
3/ 418 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " هَلْ تَرَوْنَ قِبْلَتِي هَا هُنَا، فَوَاللَّهِ مَا يَخْفَى عَلَيَّ خُشُوعُكُمْ وَلا رُكُوعُكُمْ، إِنِّي لَأَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي ".
4/ 445 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " المَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ الَّذِي صَلَّى فِيهِ، مَا لَمْ يُحْدِثْ، تَقُولُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ ".
5/ 555 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاةِ الفَجْرِ وَصَلاةِ العَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ ".
6/ 608 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ، وَلَهُ ضُرَاطٌ، حَتَّى لا يَسْمَعَ التَّأْذِينَ، فَإِذَا قَضَى النِّدَاءَ أَقْبَلَ، حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلاةِ أَدْبَرَ، حَتَّى إِذَا قَضَى التَّثْوِيبَ أَقْبَلَ، حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ المَرْءِ وَنَفْسِهِ، يَقُولُ: اذْكُرْ كَذَا، اذْكُرْ كَذَا، لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ لا يَدْرِي كَمْ صَلَّى ".
7/ 644 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِحَطَبٍ، فَيُحْطَبَ، ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلاةِ، فَيُؤَذَّنَ لَهَا، ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا فَيَؤُمَّ النَّاسَ، ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ، فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ يَعْلَمُ أَحَدُهُمْ، أَنَّهُ يَجِدُ عَرْقًا سَمِينًا، أَوْ مِرْمَاتَيْنِ حَسَنَتَيْنِ، لَشَهِدَ العِشَاءَ ".
৩/ ৪১৮ - আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কি আমার কিবলা এই দিকেই মনে করছ? আল্লাহর কসম, তোমাদের বিনয় এবং তোমাদের রুকু আমার নিকট গোপন থাকে না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আমার পিঠের পেছন থেকে দেখতে পাই।"
৪/ ৪৪৫ - আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাত আদায়ের স্থানে বসে থাকে যেখানে সে সালাত আদায় করেছে, ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ না সে ওযু ভঙ্গ করে। তারা বলতে থাকে: হে আল্লাহ, আপনি তাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, আপনি তার ওপর রহম করুন।"
৫/ ৫৫৫ - আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মাঝে রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা পর্যায়ক্রমে যাতায়াত করেন। তাঁরা ফজর ও আসরের সালাতে একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের মাঝে রাত কাটিয়েছেন তাঁরা উপরে উঠে যান। তখন তিনি (আল্লাহ) তাদের জিজ্ঞাসা করেন—যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত—: 'তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এসেছ?' তাঁরা বলেন: 'আমরা তাদের সালাত রত অবস্থায় রেখে এসেছি এবং আমরা যখন তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায় করছিল'।"
৬/ ৬০৮ - আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান সশব্দে বায়ু ত্যাগ করতে করতে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করে যাতে আযান শুনতে না পায়। যখন আযান শেষ হয় তখন সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হয় তখন সে পলায়ন করে। যখন ইকামত শেষ হয় তখন সে পুনরায় ফিরে আসে এবং ব্যক্তি ও তার অন্তরের মাঝে কুমন্ত্রণা দেয়। সে বলে: 'অমুক কথা স্মরণ করো, অমুক কথা স্মরণ করো', যা সে আগে স্মরণ করতে পারছিল না। এমনকি এক পর্যায়ে অবস্থা এমন হয় যে ব্যক্তিটি বুঝতে পারে না সে কতটুকু সালাত আদায় করেছে।"
৭/ ৬৪৪ - আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! আমি সংকল্প করেছিলাম যে, আমি কাঠ সংগ্রহের নির্দেশ দিই এবং তা সংগ্রহ করা হয়; অতঃপর সালাতের নির্দেশ দিই এবং তার জন্য আযান দেওয়া হয়। তারপর আমি এক ব্যক্তিকে আদেশ করি যেন সে লোকদের ইমামতি করে, এরপর আমি ওই সকল লোকদের নিকট যাই (যারা সালাতে আসেনি) এবং তাদের ঘরবাড়ি তাদের ওপর পুড়িয়ে দিই। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে সে এক টুকরো চর্বিযুক্ত মাংস অথবা দুটি উত্তম খুর পাবে, তবে সে অবশ্যই এশার সালাতে উপস্থিত হতো।"
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
8/ 703 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِلنَّاسِ، فَلْيُخَفِّفْ، فَإِنَّ مِنْهُمُ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَالكَبِيرَ، وَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِنَفْسِهِ فَلْيُطَوِّلْ مَا شَاءَ ".
9/ 781 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ: آمِينَ، وَقَالَتِ المَلائِكَةُ فِي السَّمَاءِ: آمِينَ، فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ".
10/ 887 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلاةٍ ".
11/ 1142 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ، فَارْقُدْ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلانَ ".
12/ 1470 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ، فَيَحْتَطِبَ عَلَى ظَهْرِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَأْتِيَ رَجُلًا، فَيَسْأَلَهُ أَعْطَاهُ أَوْ مَنَعَهُ ".
13/ 1689 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ
৮/ ৭০৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে, সে যেন তা সংক্ষেপ করে। কারণ তাদের মধ্যে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ রয়েছে। আর যখন সে নিজের জন্য সালাত আদায় করে, তখন সে যত ইচ্ছা দীর্ঘ করতে পারে।"
৯/ ৭৮১ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন 'আমীন' বলে এবং আকাশের ফেরেশতারাও 'আমীন' বলে, আর একজনের আমীন অন্যজনের আমীনের সাথে মিলে যায়, তবে তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।"
১০/ ৮৮৭ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যদি আমার উম্মত বা মানুষের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রতিটি সালাতের সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।"
১১/ ১১৪২ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাৎভাগে তিনটি গিট দেয়। প্রতি গিটে সে এই প্রবোধ দেয় যে, 'তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, সুতরাং তুমি ঘুমাও'। এরপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহর জিকির করে, তবে একটি গিট খুলে যায়। এরপর যদি সে অজু করে, তবে আরেকটি গিট খুলে যায়। এরপর যদি সে সালাত আদায় করে, তবে সবকটি গিট খুলে যায়। ফলে সে প্রফুল্ল ও পবিত্র মনে সকালে উপনীত হয়। অন্যথায় সে কলুষিত মন ও অলসতা নিয়ে সকালে উপনীত হয়।"
১২/ ১৪৭০ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ তার রশি নিয়ে পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনা কোনো মানুষের কাছে গিয়ে প্রার্থনা করার চেয়ে উত্তম, যে তাকে দিতেও পারে আবার নাও দিতে পারে।"
১৩/ ১৬৮৯ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুয যিনাদ থেকে, আল-আরাজ থেকে...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلًا يَسُوقُ بَدَنَةً، فَقَالَ: " ارْكَبْهَا " فَقَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ فَقَالَ: " ارْكَبْهَا " قَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ: " ارْكَبْهَا وَيْلَكَ " فِي الثَّالِثَةِ أَوْ فِي الثَّانِيَةِ.
14/ 2150 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " لا تَلَقَّوُا الرُّكْبَانَ، وَلا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَلا تَنَاجَشُوا، وَلا يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ، وَلا تُصَرُّوا الغَنَمَ، وَمَنِ ابْتَاعَهَا فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ بَعْدَ أَنْ يَحْتَلِبَهَا، إِنْ رَضِيَهَا أَمْسَكَهَا، وَإِنْ سَخِطَهَا رَدَّهَا وَصَاعًا مِنْ تَمْرٍ ".
15/ 2287 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " مَطْلُ الغَنِيِّ ظُلْمٌ، فَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ ".
16/ 2353 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لا يُمْنَعُ فَضْلُ المَاءِ لِيُمْنَعَ بِهِ الكَلَأُ ".
17/ 2776 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لا يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِينَارًا وَلا دِرْهَمًا مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي، وَمَئُونَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ ".
18/ 2803 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا يُكْلَمُ أَحَدٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ القِيَامَةِ، وَاللَّوْنُ لَوْنُ الدَّمِ، وَالرِّيحُ رِيحُ المِسْكِ ".
আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি কোরবানির উট হাঁকিয়ে নিতে দেখলেন। তিনি বললেন: "এতে আরোহণ করো।" সে বলল: এটি তো কোরবানির উট। তিনি বললেন: "এতে আরোহণ করো।" সে (আবার) বলল: এটি তো কোরবানির উট। তিনি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার বললেন: "এতে আরোহণ করো, তোমার ধ্বংস হোক।"
১৪/ ২১৫০ - আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালিক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু জিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা (পণ্য নিয়ে আসা) কাফেলাদের এগিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা জানাবে না, তোমাদের কেউ যেন অন্যের বিক্রির ওপর বিক্রির প্রস্তাব না দেয়, তোমরা দালালি করবে না, শহরের লোক যেন গ্রামের লোকের পণ্য বিক্রি না করে দেয় এবং তোমরা বকরির ওলানে দুধ জমিয়ে রাখবে না। যে ব্যক্তি এমন বকরি ক্রয় করবে, দোহন করার পর তার সামনে দুটি ইখতিয়ার থাকবে; যদি সে সন্তুষ্ট হয় তবে তা রেখে দেবে, আর যদি অসন্তুষ্ট হয় তবে তা ফেরত দেবে এবং সাথে এক সা' খেজুর দেবে।"
১৫/ ২২৮৭ - আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালিক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু জিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ধনী ব্যক্তির (ঋণ পরিশোধে) গড়িমসি করা জুলুম। আর যখন তোমাদের কাউকে কোনো সচ্ছল ব্যক্তির ওপর ঋণের দায়িত্ব সোপর্দ করা হয়, তবে সে যেন তা গ্রহণ করে।"
১৬/ ২৩৫৩ - আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালিক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু জিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অতিরিক্ত পানি আটকে রাখা যাবে না, যাতে এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘাস বা চারণভূমি আটকে দেওয়া হয়।"
১৭/ ২৭৭৬ - আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালিক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু জিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উত্তরাধিকারীরা কোনো দিনার বা দিরহাম বণ্টন করবে না। আমার স্ত্রীদের ভরণপোষণ এবং আমার কর্মচারীদের পারিশ্রমিকের পর আমি যা রেখে যাব তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।"
১৮/ ২৮০৩ - আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালিক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু জিনাদ থেকে, তিনি আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর পথে কেউ আহত হলে—আর আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে আহত হয়—সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার জখমের রং হবে রক্তের মতো, কিন্তু তার ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর মতো।"
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
19/ 2826 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَضْحَكُ اللَّهُ إِلَى رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الآخَرَ يَدْخُلانِ الجَنَّةَ: يُقَاتِلُ هَذَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَيُقْتَلُ، ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَى القَاتِلِ، فَيُسْتَشْهَدُ.
20/ 3096 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " لا يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِينَارًا، مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمَئُونَةِ عَامِلِي، فَهُوَ صَدَقَةٌ ".
21/ 3301 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " رَأْسُ الكُفْرِ نَحْوَ المَشْرِقِ، وَالفَخْرُ وَالخُيَلاءُ فِي أَهْلِ الخَيْلِ وَالإِبِلِ، وَالفَدَّادِينَ أَهْلِ الوَبَرِ، وَالسَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الغَنَمِ ".
22/ 5109 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لا يُجْمَعُ بَيْنَ المَرْأَةِ وَعَمَّتِهَا، وَلا بَيْنَ المَرْأَةِ وَخَالَتِهَا ".
23/ 5392 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " طَعَامُ الِاثْنَيْنِ كَافِي الثَّلاثَةِ، وَطَعَامُ الثَّلاثَةِ كَافِي الأَرْبَعَةِ ".
24/ 5788 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لا يَنْظُرُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا ".
25/ 6066 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "
19/ ২৮২৬ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালেক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ এমন দুইজন ব্যক্তির প্রতি হাসেন যাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করে অথচ তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে; এই ব্যক্তি আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং শহীদ হয়, অতঃপর আল্লাহ হত্যাকারীর তওবা কবুল করেন এবং সেও শহীদ হয়।"
20/ ৩০৯৬ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালেক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উত্তরাধিকারীরা কোনো দিনার বণ্টন করবে না। আমার স্ত্রীদের ভরণপোষণ এবং আমার কর্মচারীর পারিশ্রমিক বাদে আমি যা রেখে যাব, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।"
21/ ৩৩০১ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালেক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কুফরের মূল হলো পূর্ব দিকে। অহংকার ও দম্ভ ঘোড়া ও উটের মালিকদের এবং তাবু-নিবাসী উচ্চকণ্ঠের পশুপালকদের মধ্যে, আর প্রশান্তি হলো মেষ পালনকারীদের মধ্যে।"
22/ ৫১০৯ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালেক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো নারী ও তার ফুফুকে এবং কোনো নারী ও তার খালাকে (একই সাথে বিবাহে) একত্র করা যাবে না।"
23/ ৫৩৯২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালেক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুইজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।"
24/ ৫৭৮৮ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালেক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার লুঙ্গি (নিচের কাপড়) টেনে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।"
25/ ৬০৬৬ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মালেক সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ، وَلا تَحَسَّسُوا، وَلا تَجَسَّسُوا، وَلا تَنَاجَشُوا، وَلا تَحَاسَدُوا، وَلا تَبَاغَضُوا، وَلا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا ".
26/ 6600 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لا تَسْأَلِ المَرْأَةُ طَلاقَ أُخْتِهَا لِتَسْتَفْرِغَ صَحْفَتَهَا، وَلْتَنْكِحْ، فَإِنَّ لَهَا مَا قُدِّرَ لَهَا ".
27/ 7227 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَدِدْتُ أَنِّي أُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ، ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ "، فَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُولُهُنَّ ثَلاثًا، أَشْهَدُ بِاللَّهِ.
28/ 7463 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " تَكَفَّلَ اللَّهُ لِمَنْ جَاهَدَ فِي سَبِيلِهِ، لا يُخْرِجُهُ مِنْ بَيْتِهِ إِلَّا الجِهَادُ فِي سَبِيلِهِ وَتَصْدِيقُ كَلِمَتِهِ، أَنْ يُدْخِلَهُ الجَنَّةَ، أَوْ يَرُدَّهُ إِلَى مَسْكَنِهِ بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ ".
তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা অপরের দোষ অন্বেষণ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, নিলামে দাম বাড়িয়ে প্রতারণা করো না, পরস্পর হিংসা করো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং একে অপরের থেকে বিমুখ হয়ো না। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে থাকো।
২৬/ ৬৬০০ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোনো নারী যেন তার বোনের তালাক প্রার্থনা না করে তার নিজের পাত্রটি খালি করার উদ্দেশ্যে; বরং সে বিবাহ করুক, কেননা তার জন্য তা-ই নির্ধারিত হবে যা তার তকদিরে রয়েছে।"
২৭/ ৭২২৭ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করি যে আল্লাহর পথে লড়াই করি এবং নিহত হই, এরপর পুনরায় জীবিত হই ও নিহত হই, এরপর পুনরায় জীবিত হই ও নিহত হই।" আবু হুরায়রা (রা.) এই বাক্যগুলো তিনবার বলতেন, আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি।
২৮/ ৭৪৬৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যে তাঁর পথে জিহাদ করে—যাকে একমাত্র তাঁর পথে জিহাদ এবং তাঁর বাণীর প্রতি বিশ্বাসই ঘর থেকে বের করেছে—এই মর্মে যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা সওয়াব কিংবা গনীমত যা সে লাভ করেছে তা সহ তাকে তার বাসস্থানে ফিরিয়ে দেবেন।"
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ثانيًا: سلسلة (أبو اليمان(1) عن شعيب(2) عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه -)
29/ 14 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ ".
30/ 35 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ يَقُمْ لَيْلَةَ القَدْرِ، إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ".
31/ 734 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الحَمْدُ، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ ".
32/ 876 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ هُرْمُزَ الأَعْرَجَ، مَوْلَى رَبِيعَةَ بْنِ الحَارِثِ، حَدَّثَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا، ثُمَّ هَذَا يَوْمُهُمُ الَّذِي فُرِضَ عَلَيْهِمْ، فَاخْتَلَفُوا فِيهِ، فَهَدَانَا اللَّهُ، فَالنَّاسُ لَنَا فِيهِ تَبَعٌ اليَهُودُ غَدًا، وَالنَّصَارَى بَعْدَ غَدٍ ".
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: (শুআইব থেকে আবু ইয়ামান(১), আবু যিনাদ থেকে শুআইব(২), আল-আরাজ থেকে আবু যিনাদ, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল-আরাজ বর্ণিত) সনদ পরম্পরা -)
২৯/ ১৪ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"
৩০/ ৩৫ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (ইবাদত) করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
৩১/ ৭৩৪ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু যিনাদ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেবল তাকে অনুসরণ করার জন্য। সুতরাং তিনি যখন তাকবীর বলবেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে; যখন তিনি রুকু করবেন, তখন তোমরাও রুকু করবে; যখন তিনি বলবেন: 'আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে', তখন তোমরা বলবে: 'হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা'; যখন তিনি সিজদাহ করবেন, তখন তোমরাও সিজদাহ করবে; আর তিনি যখন বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরা সকলে বসেই সালাত আদায় করবে।"
৩২/ ৮৭৬ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রবীআ ইবনুল হারিসের মুক্তদাস আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুয আল-আরাজ তাঁকে হাদীস বর্ণনা করেছেন: তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "আমরা সবশেষে এসেছি কিন্তু কিয়ামতের দিন অগ্রগামী হবো; পার্থক্য শুধু এই যে, তাদের আমাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর এটিই তাদের সেই দিন ছিল যা তাদের উপর ফরয করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এ বিষয়ে মতভেদ করল। ফলে আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং মানুষ এ ক্ষেত্রে আমাদের অনুগামী; ইহুদিরা আগামীকাল এবং খ্রিস্টানরা তার পরের দিন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
33/ 1036 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقْبَضَ العِلْمُ، وَتَكْثُرَ الزَّلازِلُ، وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ، وَتَظْهَرَ الفِتَنُ، وَيَكْثُرَ الهَرْجُ - وَهُوَ القَتْلُ القَتْلُ - حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ المَالُ فَيَفِيضَ ".
34/ 1365 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " الَّذِي يَخْنُقُ نَفْسَهُ يَخْنُقُهَا فِي النَّارِ، وَالَّذِي يَطْعُنُهَا يَطْعُنُهَا فِي النَّارِ ".
35/ 1402 - حَدَّثَنَا الحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ هُرْمُزَ الأَعْرَجَ حَدَّثَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " تَأْتِي الإِبِلُ عَلَى صَاحِبِهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ، إِذَا هُوَ لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا، تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، وَتَأْتِي الغَنَمُ عَلَى صَاحِبِهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ إِذَا لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا، تَطَؤُهُ بِأَظْلافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا "، وَقَالَ: " وَمِنْ حَقِّهَا أَنْ تُحْلَبَ عَلَى المَاءِ " قَالَ: " وَلا يَأْتِي أَحَدُكُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ بِشَاةٍ يَحْمِلُهَا عَلَى رَقَبَتِهِ لَهَا يُعَارٌ، فَيَقُولُ: يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ: لا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا، قَدْ بَلَّغْتُ، وَلا يَأْتِي بِبَعِيرٍ يَحْمِلُهُ عَلَى رَقَبَتِهِ لَهُ رُغَاءٌ فَيَقُولُ: يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ: لا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، قَدْ بَلَّغْتُ ".
36/ 1412 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ المَالُ، فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ المَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ، وَحَتَّى يَعْرِضَهُ، فَيَقُولَ الَّذِي يَعْرِضُهُ عَلَيْهِ: لا أَرَبَ لِي ".
37/ 1421 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " قَالَ رَجُلٌ: لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ، فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ، فَأَصْبَحُوا
33/ ১০৩৬ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-যিনাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুর রহমান আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে, সময় সংকুচিত হবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে - হারজ হলো হত্যা, হত্যা - এমনকি তোমাদের মাঝে সম্পদ বৃদ্ধি পাবে ও উপচে পড়বে।"
34/ ১৩৬৫ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে নিজেকে গলায় ফাঁস দিতে থাকবে এবং যে ব্যক্তি নিজেকে আঘাত করে হত্যা করবে, সে জাহান্নামে নিজেকে আঘাত করতে থাকবে।"
35/ ১৪০২ - আল-হাকাম ইবন নাফি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবন হুরমুয আল-আ'রাজ তাকে হাদীস শুনিয়েছেন: তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "উট তার মালিকের কাছে আসবে তার সর্বোত্তম অবস্থায় যেভাবে ছিল, যদি সে তাতে প্রাপ্য হক (যাকাত) আদায় না করে থাকে; উটগুলো তাকে তাদের খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। আর ভেড়া-ছাগল তার মালিকের কাছে আসবে তার সর্বোত্তম অবস্থায় যেভাবে ছিল, যদি সে তাতে প্রাপ্য হক আদায় না করে থাকে; তারা তাকে তাদের ক্ষুর দিয়ে মাড়াবে এবং শিং দিয়ে গুঁতো দেবে।" তিনি আরও বলেন: "আর এর হকের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, পানির ঘাটে তা দোহন করা হবে।" তিনি বলেন: "তোমাদের কেউ যেন কিয়ামত দিবসে তার ঘাড়ে একটি চিৎকাররত ভেড়া বহন করা অবস্থায় না আসে এবং বলে: 'হে মুহাম্মদ!' তখন আমি বলব: 'তোমার জন্য আমার কিছু করার নেই, আমি তো পৌঁছে দিয়েছি।' আর কেউ যেন তার ঘাড়ে একটি ডাক ছাড়তে থাকা উট বহন করা অবস্থায় না আসে এবং বলে: 'হে মুহাম্মদ!' তখন আমি বলব: 'আল্লাহর কাছে তোমার জন্য আমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই, আমি তো পৌঁছে দিয়েছি।'"
36/ ১৪১২ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমাদের মধ্যে সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং উপচে পড়বে, এমনকি সম্পদের মালিক চিন্তিত হবে যে কে তার সদকা গ্রহণ করবে। আর যখন সে কাউকে সদকা দেওয়ার প্রস্তাব করবে, তখন যাকে প্রস্তাব করা হবে সে বলবে: 'আমার এর কোনো প্রয়োজন নেই।'"
37/ ১৪২১ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এক ব্যক্তি বলল: 'আমি অবশ্যই সদকা করব।' এরপর সে তার সদকা নিয়ে বের হলো এবং তা একজন চোরের হাতে দিয়ে দিল। অতঃপর সকালে মানুষ বলতে লাগল..."
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ عَلَى سَارِقٍ فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الحَمْدُ، لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدَيْ زَانِيَةٍ، فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زَانِيَةٍ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الحَمْدُ، عَلَى زَانِيَةٍ؟ لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ، فَوَضَعَهَا فِي يَدَيْ غَنِيٍّ، فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ عَلَى غَنِيٍّ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الحَمْدُ، عَلَى سَارِقٍ وَعَلَى زَانِيَةٍ وَعَلَى غَنِيٍّ، فَأُتِيَ فَقِيلَ لَهُ: أَمَّا صَدَقَتُكَ عَلَى سَارِقٍ فَلَعَلَّهُ أَنْ يَسْتَعِفَّ عَنْ سَرِقَتِهِ، وَأَمَّا الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا أَنْ تَسْتَعِفَّ عَنْ زِنَاهَا، وَأَمَّا الغَنِيُّ فَلَعَلَّهُ يَعْتَبِرُ فَيُنْفِقُ مِمَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ ".
38/ 1443 - وحَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَثَلُ البَخِيلِ وَالمُنْفِقِ كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُبَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ مِنْ ثُدِيِّهِمَا إِلَى تَرَاقِيهِمَا، فَأَمَّا المُنْفِقُ فَلا يُنْفِقُ إِلَّا سَبَغَتْ أَوْ وَفَرَتْ عَلَى جِلْدِهِ، حَتَّى تُخْفِيَ بَنَانَهُ وَتَعْفُوَ أَثَرَهُ، وَأَمَّا البَخِيلُ فَلا يُرِيدُ أَنْ يُنْفِقَ شَيْئًا إِلَّا لَزِقَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ مَكَانَهَا، فَهُوَ يُوَسِّعُهَا وَلا تَتَّسِعُ ".
39/ 1468 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالصَّدَقَةِ، فَقِيلَ مَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ، وَخَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ، وَعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ المُطَّلِبِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلَّا أَنَّهُ كَانَ فَقِيرًا، فَأَغْنَاهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ، وَأَمَّا خَالِدٌ: فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا، قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَأَمَّا العَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ المُطَّلِبِ، فَعَمُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهِيَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ وَمِثْلُهَا مَعَهَا ".
40/ 2217 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " هَاجَرَ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام بِسَارَةَ، فَدَخَلَ بِهَا قَرْيَةً فِيهَا مَلِكٌ مِنَ المُلُوكِ، أَوْ جَبَّارٌ
লোকেরা বলাবলি করতে লাগল: এক চোরকে দান করা হয়েছে। সে বলল: হে আল্লাহ, আপনারই প্রশংসা, আমি অবশ্যই আবার দান করব। তারপর সে তার দান নিয়ে বের হলো এবং তা এক ব্যভিচারিণীর হাতে রাখল। সকালে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল: গতরাতে এক ব্যভিচারিণীকে দান করা হয়েছে। সে বলল: হে আল্লাহ, আপনারই প্রশংসা, ব্যভিচারিণীকে? আমি অবশ্যই আবার দান করব। তারপর সে তার দান নিয়ে বের হলো এবং তা এক ধনী ব্যক্তির হাতে রাখল। সকালে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল: এক ধনী ব্যক্তিকে দান করা হয়েছে। সে বলল: হে আল্লাহ, আপনারই প্রশংসা, চোরের ওপর, ব্যভিচারিণীর ওপর এবং ধনী ব্যক্তির ওপর (দান করার জন্য)। তখন তাকে (স্বপ্নে বা ফেরেশতার মাধ্যমে) বলা হলো: তোমার চোরের ওপর করা দানের ফল এই যে, হতে পারে সে তার চুরি থেকে বিরত থাকবে; ব্যভিচারিণীর ক্ষেত্রে হতে পারে সে তার ব্যভিচার থেকে বিরত থাকবে; আর ধনী ব্যক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে সে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা থেকে সে ব্যয় করবে।
৩৮/ ১৪৪৩ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আজ-জিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান তাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উদাহরণ হলো এমন দুই ব্যক্তির মতো যাদের গায়ে স্তন থেকে কণ্ঠাস্থি পর্যন্ত লোহার দুটি বর্ম রয়েছে। দানশীল ব্যক্তি যখনই দান করে, তখনই তা তার চামড়ার ওপর প্রশস্ত হয়ে যায়, এমনকি তা তার আঙ্গুলের অগ্রভাগ ঢেকে ফেলে এবং তার পায়ের চিহ্ন মুছে দেয়। আর কৃপণ ব্যক্তি যখনই কিছু খরচ করার ইচ্ছা করে, তখনই বর্মের প্রতিটি কড়া নিজ জায়গায় আটকে যায়; সে তা প্রশস্ত করতে চায় কিন্তু তা প্রশস্ত হয় না" ।
৩৯/ ১৪৬৮ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আজ-জিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সদকার নির্দেশ দিলেন। তখন বলা হলো যে, ইবনে জামিল, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ এবং আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (তা দিতে) অস্বীকার করেছেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "ইবনে জামিল কেবল একারণেই প্রতিবাদ করছে যে, সে ছিল দরিদ্র, অতঃপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে ধনী করে দিয়েছেন। আর খালিদ—তোমরা তো খালিদের ওপর জুলুম করছ; সে তো তার বর্ম ও যুদ্ধ সরঞ্জাম আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে রেখেছে। আর আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব—তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচা, তাঁর ওপর সদকা (ওয়াজিব) এবং তাঁর সাথে সমপরিমাণ আরও"।
৪০/ ২২১৭ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আজ-জিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) সারাকে সঙ্গে নিয়ে হিজরত করলেন এবং এমন এক জনপদে প্রবেশ করলেন যেখানে এক রাজা বা এক অত্যাচারী শাসক ছিল"।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
مِنَ الجَبَابِرَةِ، فَقِيلَ: دَخَلَ إِبْرَاهِيمُ بِامْرَأَةٍ هِيَ مِنْ أَحْسَنِ النِّسَاءِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ: أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ مَنْ هَذِهِ الَّتِي مَعَكَ؟ قَالَ: أُخْتِي، ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهَا فَقَالَ: لا تُكَذِّبِي حَدِيثِي، فَإِنِّي أَخْبَرْتُهُمْ أَنَّكِ أُخْتِي، وَاللَّهِ إِنْ عَلَى الأَرْضِ مُؤْمِنٌ غَيْرِي وَغَيْرُكِ، فَأَرْسَلَ بِهَا إِلَيْهِ فَقَامَ إِلَيْهَا، فَقَامَتْ تَوَضَّأُ وَتُصَلِّي، فَقَالَتْ: اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ آمَنْتُ بِكَ وَبِرَسُولِكَ، وَأَحْصَنْتُ فَرْجِي، إِلَّا عَلَى زَوْجِي فَلا تُسَلِّطْ عَلَيَّ الكَافِرَ، فَغُطَّ حَتَّى رَكَضَ بِرِجْلِهِ "، قَالَ الأَعْرَجُ: قَالَ أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: " قَالَتْ: اللَّهُمَّ إِنْ يَمُتْ يُقَالُ هِيَ قَتَلَتْهُ، فَأُرْسِلَ ثُمَّ قَامَ إِلَيْهَا، فَقَامَتْ تَوَضَّأُ تُصَلِّي، وَتَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ آمَنْتُ بِكَ وَبِرَسُولِكَ وَأَحْصَنْتُ فَرْجِي إِلَّا عَلَى زَوْجِي، فَلا تُسَلِّطْ عَلَيَّ هَذَا الكَافِرَ، فَغُطَّ حَتَّى رَكَضَ بِرِجْلِهِ "، قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: " فَقَالَتْ: اللَّهُمَّ إِنْ يَمُتْ فَيُقَالُ هِيَ قَتَلَتْهُ، فَأُرْسِلَ فِي الثَّانِيَةِ، أَوْ فِي الثَّالِثَةِ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا أَرْسَلْتُمْ إِلَيَّ إِلَّا شَيْطَانًا، ارْجِعُوهَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ، وَأَعْطُوهَا آجَرَ فَرَجَعَتْ إِلَى إِبْرَاهِيمَ عليه السلام، فَقَالَتْ: أَشَعَرْتَ أَنَّ اللَّهَ كَبَتَ الكَافِرَ وَأَخْدَمَ وَلِيدَةً ".
41/ 2325 - حَدَّثَنَا الحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَتِ الأَنْصَارُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: اقْسِمْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا النَّخِيلَ، قَالَ: " لا " فَقَالُوا: تَكْفُونَا المَئُونَةَ، وَنَشْرَكْكُمْ فِي الثَّمَرَةِ، قَالُوا: سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا.
42/ 2635 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " هَاجَرَ إِبْرَاهِيمُ بِسَارَةَ، فَأَعْطَوْهَا آجَرَ، فَرَجَعَتْ، فَقَالَتْ: أَشَعَرْتَ أَنَّ اللَّهَ كَبَتَ الكَافِرَ وَأَخْدَمَ وَلِيدَةً ".
43/ 2736 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "
স্বৈরাচারীদের মধ্য থেকে একজন; বলা হলো: ইবরাহিম এমন এক মহিলাকে নিয়ে প্রবেশ করেছেন যিনি অত্যন্ত সুন্দরী। তখন সে (রাজা) তাঁর কাছে লোক পাঠাল যে: হে ইবরাহিম, তোমার সাথে এই মহিলাটি কে? তিনি বললেন: আমার বোন। এরপর তিনি তাঁর (সারা) কাছে ফিরে এসে বললেন: তুমি আমার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না, কারণ আমি তাদের বলেছি যে তুমি আমার বোন। আল্লাহর কসম, পৃথিবীতে আমি আর তুমি ছাড়া আর কোনো মুমিন নেই। এরপর তাকে সেই রাজার কাছে পাঠানো হলো। রাজা তার দিকে উঠে দাঁড়াল, তখন তিনি (সারা) উঠে অজু করলেন এবং নামাজ পড়তে লাগলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আমি যদি তোমার প্রতি এবং তোমার রাসুলের প্রতি ঈমান এনে থাকি এবং আমার লজ্জাস্থানকে আমার স্বামী ছাড়া অন্য সবার থেকে হেফজ করে থাকি, তবে এই কাফেরকে আমার ওপর বিজয়ী করো না। তখন সে (রাজা) এমনভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ল যে, সে তার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগল। আরাজ বলেন: আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান বলেছেন: আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: সারা বললেন: হে আল্লাহ, সে যদি মারা যায় তবে বলা হবে যে, আমিই তাকে হত্যা করেছি। এরপর সে মুক্তি পেল এবং পুনরায় তাঁর দিকে উদ্যত হলো। তিনি (সারা) আবারও উঠে অজু করলেন ও নামাজ পড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: হে আল্লাহ, আমি যদি তোমার প্রতি এবং তোমার রাসুলের প্রতি ঈমান এনে থাকি এবং আমার লজ্জাস্থানকে আমার স্বামী ছাড়া অন্য সবার থেকে হেফজ করে থাকি, তবে এই কাফেরকে আমার ওপর বিজয়ী করো না। তখন সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ল এবং পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগল। আবদুর রহমান বলেন, আবু সালামাহ বলেছেন যে আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: সারা বললেন: হে আল্লাহ, সে যদি মারা যায় তবে বলা হবে যে আমি তাকে হত্যা করেছি। দ্বিতীয়বার বা তৃতীয়বারে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। তখন রাজা বলল: আল্লাহর কসম, তোমরা আমার কাছে শয়তান ছাড়া আর কাউকে পাঠাওনি। তাকে ইবরাহিমের কাছে ফিরিয়ে দাও এবং তাকে হাজেরকে দান করো। এরপর তিনি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে ফিরে আসলেন এবং বললেন: আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে আল্লাহ কাফেরকে লাঞ্ছিত করেছেন এবং একজন সেবিকা দান করেছেন?
৪১/ ২৩২৫ - হাকাম ইবনে নাফি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আনসারগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: আমাদের এবং আমাদের ভাইদের মধ্যে খেজুর বাগানগুলো বণ্টন করে দিন। তিনি বললেন: "না।" তখন তারা বললেন: আপনারা আমাদের পরিশ্রমের কাজে সহযোগিতা করবেন এবং আমরা আপনাদের ফলের অংশীদার করব। তারা বললেন: আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম।
৪২/ ২৬৩৫ - আবুল ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইবরাহিম সারাকে সাথে নিয়ে হিজরত করলেন। তারা তাকে হাজেরকে দান করল। এরপর তিনি ফিরে এসে বললেন: আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে আল্লাহ কাফেরকে লাঞ্ছিত করেছেন এবং একজন সেবিকা দান করেছেন?"
৪৩/ ২৭৩৬ - আবুল ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الجَنَّةَ ".
44/ 2937 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: قَدِمَ طُفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو الدَّوْسِيُّ وَأَصْحَابُهُ، عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ دَوْسًا عَصَتْ وَأَبَتْ، فَادْعُ اللَّهَ عَلَيْهَا، فَقِيلَ: هَلَكَتْ دَوْسٌ، قَالَ: " اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَأْتِ بِهِمْ ".
45/ 3120 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " إِذَا هَلَكَ كِسْرَى فَلا كِسْرَى بَعْدَهُ، وَإِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلا قَيْصَرَ بَعْدَهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُنْفَقَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ".
46/ 3223 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " المَلائِكَةُ يَتَعَاقَبُونَ مَلائِكَةٌ بِاللَّيْلِ، وَمَلائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاةِ الفَجْرِ، وَصَلاةِ العَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ، فَيَقُولُ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي، فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ يُصَلُّونَ ".
47/ 3246 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ القَمَرِ لَيْلَةَ البَدْرِ، وَالَّذِينَ عَلَى إِثْرِهِمْ كَأَشَدِّ كَوْكَبٍ إِضَاءَةً، قُلُوبُهُمْ عَلَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ، لا اخْتِلافَ بَيْنَهُمْ وَلا تَبَاغُضَ، لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ، كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا يُرَى مُخُّ سَاقِهَا مِنْ وَرَاءِ لَحْمِهَا مِنَ الحُسْنِ، يُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيًّا، لا يَسْقَمُونَ، وَلا يَمْتَخِطُونَ، وَلا يَبْصُقُونَ، آنِيَتُهُمُ الذَّهَبُ وَالفِضَّةُ، وَأَمْشَاطُهُمُ الذَّهَبُ، وَوَقُودُ مَجَامِرِهِمْ الأَلُوَّةُ - قَالَ أَبُو اليَمَانِ: يَعْنِي العُودَ -، وَرَشْحُهُمُ المِسْكُ " وَقَالَ مُجَاهِدٌ: الإِبْكَارُ: أَوَّلُ الفَجْرِ، وَالعَشِيُّ: مَيْلُ
"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশটি। যে ব্যক্তি এগুলো সংরক্ষণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
৪৪/ ২৯৩৭ - আবুল ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল জিনাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান বলেছেন: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন: তুফায়েল ইবনে আমর আদ-দাওসি ও তাঁর সঙ্গীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! দাওস গোত্র অবাধ্য হয়েছে এবং অস্বীকার করেছে, তাই আপনি তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদোয়া করুন। তখন বলা হলো: দাওস ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হিদায়াত দান করুন এবং তাদের (ইসলামের পথে) নিয়ে আসুন।"
৪৫/ ৩১২০ - আবুল ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল জিনাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কিসরা ধ্বংস হবে, তারপর আর কোনো কিসরা থাকবে না; আর যখন কায়সার ধ্বংস হবে, তারপর আর কোনো কায়সার থাকবে না। আর যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! অবশ্যই তাদের ধনভাণ্ডার আল্লাহর পথে ব্যয় করা হবে।"
৪৬/ ৩২২৩ - আবুল ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল জিনাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ফেরেশতারা পালাবদল করে তোমাদের নিকট আসেন—একদল রাতে এবং একদল দিনে। তাঁরা ফজর ও আসরের সালাতে একত্রিত হন। অতঃপর তোমাদের মাঝে যারা রাতযাপন করেছেন তারা আল্লাহর দিকে আরোহণ করেন। তখন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন—যদিও তিনি এ বিষয়ে অধিক অবগত—তিনি বলেন: তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এসেছ? তাঁরা বলেন: আমরা যখন তাদের ছেড়ে এসেছি তখন তারা সালাত আদায় করছিল, আর যখন আমরা তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায় করছিল।"
৪৭/ ৩২৪৬ - আবুল ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল জিনাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটির আকৃতি হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। এরপর যারা প্রবেশ করবে তারা হবে আকাশের অতি উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়। তাদের সবার অন্তর হবে একজন মানুষের অন্তরের মতো; তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকবে না এবং কোনো পারস্পরিক বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের প্রত্যেকের জন্য দুজন করে স্ত্রী থাকবে, যাদের সৌন্দর্যের আধিক্যের কারণে মাংসের আড়াল থেকেও পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে। তারা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে। তারা অসুস্থ হবে না, নাক ঝাড়বে না এবং থুতু ফেলবে না। তাদের পাত্রসমূহ হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের, তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের এবং তাদের ধূপদানির জ্বালানি হবে ‘আলুওয়াহ’—আবুল ইয়ামান বলেন: অর্থাৎ উদ—আর তাদের শরীরের ঘাম হবে কস্তুরীর মতো।" আর মুজাহিদ বলেন: ‘ইবকার’ হলো ফজরের শুরু এবং ‘আশিয়্যি’ হলো (সূর্যের) হেলে পড়া।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الشَّمْسِ إِلَى أَنْ - أُرَاهُ - تَغْرُبَ.
48/ 3286 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ بَنِي آدَمَ يَطْعُنُ الشَّيْطَانُ فِي جَنْبَيْهِ بِإِصْبَعِهِ حِينَ يُولَدُ، غَيْرَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، ذَهَبَ يَطْعُنُ فَطَعَنَ فِي الحِجَابِ ".
49/ 3375 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " يَغْفِرُ اللَّهُ لِلُوطٍ، إِنْ كَانَ لَيَأْوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ ".
50/ 3386 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " اللَّهُمَّ أَنْجِ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ، اللَّهُمَّ أَنْجِ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ، اللَّهُمَّ أَنْجِ الوَلِيدَ بْنَ الوَلِيدِ، اللَّهُمَّ أَنْجِ المُسْتَضْعَفِينَ مِنَ المُؤْمِنِينَ، اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ، اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ ".
51/ 3527 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ، اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ اللَّهِ، يَا بَنِي عَبْدِ المُطَّلِبِ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ اللَّهِ، يَا أُمَّ الزُّبَيْرِ بْنِ العَوَّامِ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ، يَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ، اشْتَرِيَا أَنْفُسَكُمَا مِنَ اللَّهِ لا أَمْلِكُ لَكُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، سَلانِي مِنْ مَالِي مَا شِئْتُمَا ".
52/ 3427 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ: كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا، جَاءَ الذِّئْبُ فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ صَاحِبَتُهَا: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، وَقَالَتِ الأُخْرَى: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ،
সূর্য ডোবা পর্যন্ত - আমি তাকে এমনই দেখছি।
৪৮/ ৩২৮৬ - আবু আল-য়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু আয-যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আদম সন্তানের প্রত্যেককেই যখন সে জন্মগ্রহণ করে, তখন শয়তান তার দুই পার্শ্বে নিজের আঙুল দিয়ে আঘাত করে, কেবল ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত। শয়তান তাকে আঘাত করতে গিয়েছিল, কিন্তু সে পর্দায় আঘাত করল।"
৪৯/ ৩৩৭৫ - আবু আল-য়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আয-যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ লূত (আ.)-কে ক্ষমা করুন, তিনি তো এক সুদৃঢ় আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন।"
৫০/ ৩৩৮৬ - আবু আল-য়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আয-যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আইয়াশ বিন আবি রাবীআহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! সালামাহ বিন হিশামকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! ওয়ালিদ বিন ওয়ালিদকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুমিনদের মধ্যে যারা অসহায় ও দুর্বল তাদের মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের ওপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন। হে আল্লাহ! একে ইউসুফ (আ.)-এর সময়ের বছরগুলোর মতো (দুর্ভিক্ষের) বছর বানিয়ে দিন।"
৫১/ ৩৫২৭ - আবু আল-য়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আয-যিনাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে বনু আবদে মানাফ! তোমরা আল্লাহর নিকট থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করো (নিজেদেরকে ক্রয় করে নাও)। হে বনু আব্দুল মুত্তালিব! তোমরা আল্লাহর নিকট থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করো। হে রাসূলুল্লাহর ফুফু, জুবাইর ইবনুল আওয়ামের মা! হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা! তোমরা আল্লাহর নিকট থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করো; আল্লাহর দরবারে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না। আমার সম্পদ থেকে তোমরা যা ইচ্ছা আমার কাছে চেয়ে নাও।"
৫২/ ৩৪২৭ - আবু আল-য়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আয-যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন এবং তিনি বলেছেন: "দুজন মহিলা ছিলেন যাদের সাথে তাদের দুই পুত্র সন্তান ছিল। একটি নেকড়ে এসে তাদের একজনের পুত্রকে নিয়ে গেল। তখন তার সঙ্গিনী বলল: নেকড়েটি তো তোমার পুত্রকেই নিয়ে গিয়েছে। অপরজন বলল: বরং তোমার পুত্রকেই নিয়ে গিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ، فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى، فَخَرَجَتَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ فَأَخْبَرَتَاهُ، فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِّينِ أَشُقُّهُ بَيْنَهُمَا، فَقَالَتِ الصُّغْرَى: لا تَفْعَلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ، هُوَ ابْنُهَا، فَقَضَى بِهِ لِلصُّغْرَى " قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَاللَّهِ إِنْ سَمِعْتُ بِالسِّكِّينِ إِلَّا يَوْمَئِذٍ، وَمَا كُنَّا نَقُولُ إِلَّا المُدْيَةُ.
53/ 3466 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " بَيْنَا امْرَأَةٌ تُرْضِعُ ابْنَهَا إِذْ مَرَّ بِهَا رَاكِبٌ وَهِيَ تُرْضِعُهُ، فَقَالَتِ اللَّهُمَّ لا تُمِتِ ابْنِي، حَتَّى يَكُونَ مِثْلَ هَذَا، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لا تَجْعَلْنِي مِثْلَهُ، ثُمَّ رَجَعَ فِي الثَّدْيِ، وَمُرَّ بِامْرَأَةٍ تُجَرَّرُ وَيُلْعَبُ بِهَا، فَقَالَتْ: اللَّهُمَّ لا تَجْعَلِ ابْنِي مِثْلَهَا، فَقَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِثْلَهَا، فَقَالَ أَمَّا الرَّاكِبُ فَإِنَّهُ كَافِرٌ، وَأَمَّا المَرْأَةُ فَإِنَّهُمْ يَقُولُونَ لَهَا تَزْنِي، وَتَقُولُ حَسْبِيَ اللَّهُ، وَيَقُولُونَ تَسْرِقُ، وَتَقُولُ حَسْبِيَ اللَّهُ ".
54/ 3587 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ، وَحَتَّى تُقَاتِلُوا التُّرْكَ، صِغَارَ الأَعْيُنِ، حُمْرَ الوُجُوهِ، ذُلْفَ الأُنُوفِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ المَجَانُّ المُطْرَقَةُ.
3588 - وَتَجِدُونَ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ أَشَدَّهُمْ كَرَاهِيَةً لِهَذَا الأَمْرِ حَتَّى يَقَعَ فِيهِ، وَالنَّاسُ مَعَادِنُ، خِيَارُهُمْ فِي الجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الإِسْلامِ.
3589 - وَلَيَأْتِيَنَّ عَلَى أَحَدِكُمْ زَمَانٌ، لَأَنْ يَرَانِي أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَهُ مِثْلُ أَهْلِهِ وَمَالِهِ ".
55/ 4284 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْزِلُنَا - إِنْ شَاءَ اللَّهُ، إِذَا فَتَحَ اللَّهُ - الخَيْفُ حَيْثُ تَقَاسَمُوا عَلَى الكُفْرِ ".
56/ 4390 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ
তখন তারা দুজনে দাউদ (আ.)-এর কাছে বিচার চাইল, তিনি বড়জনের পক্ষে রায় দিলেন। এরপর তারা দুজনে দাউদ-পুত্র সুলাইমান (আ.)-এর কাছে গেল এবং তাঁকে বিষয়টি জানাল। তখন তিনি বললেন, "তোমরা আমার কাছে একটি ছুরি নিয়ে এসো, আমি শিশুটিকে তাদের দুজনের মধ্যে ভাগ করে দেব।" তখন ছোটজন বলল, "আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, এমন করবেন না; শিশুটি তারই।" তখন সুলাইমান (আ.) ছোটজনের পক্ষে রায় দিলেন। আবু হুরাইরা (রা.) বললেন, "আল্লাহর কসম! আমি সেদিন ছাড়া আর কখনো 'সিক্কিন' (ছুরি) শব্দটি শুনিনি এবং আমরা 'মুদয়া' ছাড়া অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করতাম না।"
৫৩/ ৩৪৬৬ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান থেকে, তিনি তা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরাইরা (রা.)-কে বলতে শুনেছেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "একদা এক নারী তার সন্তানকে দুধ পান করাচ্ছিল, এমতাবস্থায় এক আরোহী তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে তাকে দুধ পান করাচ্ছিল। তখন সে বলল, হে আল্লাহ! আমার এই পুত্রকে মৃত্যু দিও না যতক্ষণ না সে এই ব্যক্তির মতো হয়। তখন শিশুটি বলল, হে আল্লাহ! আমাকে তার মতো বানিও না। এরপর সে পুনরায় স্তন্যপানে ফিরে গেল। এরপর এক নারীকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছিল। তখন মা বলল, হে আল্লাহ! আমার পুত্রকে এর মতো বানিও না। তখন শিশুটি বলল, হে আল্লাহ! আমাকে তার মতো বানিও। এরপর শিশুটি বলল, ওই আরোহী তো ছিল একজন কাফির। আর ওই নারী—লোকেরা তাকে বলছে যে সে ব্যভিচারিণী, অথচ সে বলছে আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট; আর তারা বলছে সে চোর, অথচ সে বলছে আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট।"
৫৪/ ৩৫৮৭ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ থেকে, আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন এক জাতির সাথে যুদ্ধ করবে যাদের জুতো হবে পশমের তৈরি, এবং যতক্ষণ না তোমরা তুর্কিদের সাথে যুদ্ধ করবে যাদের চোখ ছোট, মুখমণ্ডল লাল এবং নাক চ্যাপ্টা; তাদের মুখমণ্ডল মনে হবে যেন পিটানো চামড়ার ঢাল।
৩৫৮৮ - আর তোমরা মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম তাদেরই পাবে যারা এই নেতৃত্বের দায়িত্বকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে যতক্ষণ না সে এতে লিপ্ত হয়। আর মানুষ খনির মতো; তাদের মধ্যে যারা জাহিলিয়াত যুগে উত্তম ছিল, তারা ইসলামেও উত্তম (যদি দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করে)।
৩৫৮৯ - আর তোমাদের একজনের কাছে অবশ্যই এমন এক সময় আসবে যখন আমাকে দেখা তার কাছে তার পরিবার ও ধন-সম্পদের অনুরূপ থাকার চেয়েও বেশি প্রিয় হবে।"
৫৫/ ৪২৮৪ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান থেকে, আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইনশাআল্লাহ, যখন আল্লাহ বিজয় দান করবেন, তখন আমাদের অবস্থানস্থল হবে আল-খাইফ, যেখানে তারা কুফরীর ওপর অটল থাকার শপথ করেছিল।"
৫৬/ ৪৩৯০ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন... থেকে।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " أَتَاكُمْ أَهْلُ اليَمَنِ، أَضْعَفُ قُلُوبًا، وَأَرَقُّ أَفْئِدَةً، الفِقْهُ يَمَانٍ وَالحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ ".
57/ 4659 - حَدَّثَنَا الحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ: أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجَ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " يَكُونُ كَنْزُ أَحَدِكُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ ".
58/ 4684 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " قَالَ اللَّهُ عز وجل: أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ، وَقَالَ: يَدُ اللَّهِ مَلْأَى لا تَغِيضُهَا نَفَقَةٌ سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ، وَقَالَ: أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَالأَرْضَ، فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضْ مَا فِي يَدِهِ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى المَاءِ، وَبِيَدِهِ المِيزَانُ يَخْفِضُ وَيَرْفَعُ ".
59/ 4974 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " قَالَ اللَّهُ: كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، وَشَتَمَنِي وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: لَنْ يُعِيدَنِي، كَمَا بَدَأَنِي، وَلَيْسَ أَوَّلُ الخَلْقِ بِأَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْ إِعَادَتِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا وَأَنَا الأَحَدُ الصَّمَدُ، لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفْئًا أَحَدٌ ".
60/ 5082 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ، أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ، وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ ".
61/ 5195 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ
আল-আরাজ থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তোমাদের নিকট ইয়ামেনবাসীরা এসেছে, যারা অত্যন্ত কোমল মনের ও দয়ালু হৃদয়ের অধিকারী; ফিকহ ইয়ামেনী এবং প্রজ্ঞা (হিকমত) ইয়ামেনী।"
৫৭/ ৪৬৫৯ - আল-হাকাম ইবনে নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে: আব্দুর রহমান আল-আরাজ তাঁকে বলেছেন যে তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন তোমাদের কারো সঞ্চিত ধন-সম্পদ একটি বিষধর টেকো সাপের রূপ ধারণ করবে।"
৫৮/ ৪৬৮৪ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: তুমি ব্যয় করো, আমিও তোমার প্রতি ব্যয় করব। তিনি আরও বলেছেন: আল্লাহর হাত পূর্ণ, রাত-দিন অবিরাম দান করলেও তা কমে না। তিনি আরও বলেছেন: তোমরা কি দেখেছ, আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে তিনি যা ব্যয় করেছেন? নিশ্চয়ই তা আল্লাহর হাতের যা আছে তা থেকে কিছুই কমাতে পারেনি। আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে এবং তাঁর হাতে রয়েছে দাঁড়িপাল্লা, তিনি তা নামান এবং উঠান।"
৫৯/ ৪৯৭৪ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুয যিনাদ আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ বলেছেন: আদম সন্তান আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছে, অথচ তার জন্য এটি সংগত ছিল না; এবং সে আমাকে গালি দিয়েছে, অথচ তার জন্য এটি সংগত ছিল না। তার আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হলো তার এই উক্তি: 'তিনি আমাকে পুনরায় জীবিত করবেন না যেভাবে তিনি আমাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন।' অথচ প্রথমবার সৃষ্টি করা আমার জন্য পুনরায় সৃষ্টির চেয়ে সহজ ছিল না। আর তার আমাকে গালি দেওয়া হলো তার এই উক্তি: 'আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।' অথচ আমিই এক, অমুখাপেক্ষী; আমি কাউকে জন্ম দিইনি এবং জন্ম নিইনি এবং আমার সমকক্ষ কেউ নেই।"
৬০/ ৫০৮২ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "উটে আরোহণকারী নারীদের মধ্যে কুরাইশদের নেককার নারীরাই শ্রেষ্ঠ; তারা সন্তানদের প্রতি শৈশবে অত্যন্ত মমতাশীল এবং স্বামীর সম্পদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল।"
৬১/ ৫১৯৫ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ থেকে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لا يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ، وَلا تَأْذَنَ فِي بَيْتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ، وَمَا أَنْفَقَتْ مِنْ نَفَقَةٍ عَنْ غَيْرِ أَمْرِهِ فَإِنَّهُ يُؤَدَّى إِلَيْهِ شَطْرُهُ ".
62/ 5608 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " نِعْمَ الصَّدَقَةُ اللِّقْحَةُ الصَّفِيُّ مِنْحَةً، وَالشَّاةُ الصَّفِيُّ مِنْحَةً، تَغْدُو بِإِنَاءٍ، وَتَرُوحُ بِآخَرَ ".
63/ 6205 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَخْنَى الأَسْمَاءِ يَوْمَ القِيَامَةِ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاكِ ".
64/ 6298 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " اخْتَتَنَ إِبْرَاهِيمُ بَعْدَ ثَمَانِينَ سَنَةً، وَاخْتَتَنَ بِالقَدُومِ ".
65/ 6518 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " يَصْعَقُ النَّاسُ حِينَ يَصْعَقُونَ، فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ قَامَ، فَإِذَا مُوسَى آخِذٌ بِالعَرْشِ، فَمَا أَدْرِي أَكَانَ فِيمَنْ صَعِقَ " رَوَاهُ أَبُو سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
66/ 6545 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " يُقَالُ لِأَهْلِ الجَنَّةِ: يَا أَهْلَ الجَنَّةِ خُلُودٌ لا مَوْتَ، وَلِأَهْلِ النَّارِ: يَا أَهْلَ النَّارِ خُلُودٌ لا مَوْتَ ".
67/ 6569 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " لا يَدْخُلُ أَحَدٌ الجَنَّةَ إِلَّا
আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো নারীর জন্য তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত সওম পালন করা বৈধ নয় এবং তার অনুমতি ব্যতীত তার ঘরে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়াও বৈধ নয়। আর সে (নারী) তার (স্বামীর) নির্দেশ ব্যতীত যা কিছু ব্যয় করবে, তার অর্ধেক সওয়াব তাকে (স্বামীকে) প্রদান করা হবে।"
৬২/ ৫৬০৮ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান থেকে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "উত্তম সদকা হলো দান হিসেবে প্রদত্ত দুগ্ধবতী উটনী এবং দান হিসেবে প্রদত্ত দুগ্ধবতী ছাগল, যা সকালে এক পাত্র এবং সন্ধ্যায় এক পাত্র (দুধ) দেয়।"
৬৩/ ৬২০৫ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হবে সেই ব্যক্তির, যে ‘মালিকুল আমলাক’ (রাজাধিরাজ) নাম ধারণ করেছে।"
৬৪/ ৬২৯৮ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব ইবনে আবু হামযা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) আশি বছর বয়সে খতনা করেছিলেন এবং তিনি কুঠার (বা কাদুম নামক স্থান) দ্বারা খতনা করেছিলেন।"
৬৫/ ৬৫১৮ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ যখন বেহুঁশ হবে, তখন আমিও বেহুঁশ হব। এরপর আমিই প্রথম ব্যক্তি হব যে সজাগ হবে। তখন দেখব যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) আরশ ধরে আছেন। আমি জানি না তিনি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বেহুঁশ হয়েছিল (নাকি নয়)।" এটি আবু সাঈদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬৬/ ৬৫৪৫ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জান্নাতবাসীদের বলা হবে: হে জান্নাতবাসী! এখানে চিরস্থায়ী অবস্থান, আর কোনো মৃত্যু নেই। আর জাহান্নামীদের বলা হবে: হে জাহান্নামীরা! এখানে চিরস্থায়ী অবস্থান, আর কোনো মৃত্যু নেই।"
৬৭/ ৬৫৬৯ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আরাজ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কেউই জান্নাতে প্রবেশ করবে না তবে..."
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
أُرِيَ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ لَوْ أَسَاءَ، لِيَزْدَادَ شُكْرًا، وَلا يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ إِلَّا أُرِيَ مَقْعَدَهُ مِنَ الجَنَّةِ لَوْ أَحْسَنَ، لِيَكُونَ عَلَيْهِ حَسْرَةً ".
68/ 6483 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُ النَّاسِ كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتَوْقَدَ نَارًا، فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ جَعَلَ الفَرَاشُ وَهَذِهِ الدَّوَابُّ الَّتِي تَقَعُ فِي النَّارِ يَقَعْنَ فِيهَا، فَجَعَلَ يَنْزِعُهُنَّ وَيَغْلِبْنَهُ فَيَقْتَحِمْنَ فِيهَا، فَأَنَا آخُذُ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ، وَهُمْ يَقْتَحِمُونَ فِيهَا ".
69/ 6506 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَإِذَا طَلَعَتْ فَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ، فَذَلِكَ حِينَ: {لا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ، أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا} وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ نَشَرَ الرَّجُلانِ ثَوْبَهُمَا بَيْنَهُمَا فَلا يَتَبَايَعَانِهِ، وَلا يَطْوِيَانِهِ، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدِ انْصَرَفَ الرَّجُلُ بِلَبَنِ لِقْحَتِهِ فَلا يَطْعَمُهُ، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَهُوَ يَلِيطُ حَوْضَهُ فَلا يَسْقِي فِيهِ، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ رَفَعَ أَحَدُكُمْ أُكْلَتَهُ إِلَى فِيهِ فَلا يَطْعَمُهَا ".
70/ 6639 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قَالَ سُلَيْمَانُ: لَأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى تِسْعِينَ امْرَأَةً، كُلُّهُنَّ تَأْتِي بِفَارِسٍ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَقَالَ لَهُ صَاحِبُهُ: قُلْ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ، فَلَمْ يَقُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، فَطَافَ عَلَيْهِنَّ جَمِيعًا فَلَمْ يَحْمِلْ مِنْهُنَّ إِلَّا امْرَأَةٌ وَاحِدَةٌ، جَاءَتْ بِشِقِّ رَجُلٍ، وَايْمُ الَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوْ قَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ، لَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُرْسَانًا أَجْمَعُونَ ".
71/ 6769 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাকে জাহান্নামে তার আবাসন দেখানো হতো যদি সে মন্দ কাজ করত, যাতে তার কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়। আর জান্নাতে প্রবেশকারী এমন কেউ নেই যাকে জান্নাতে তার আবাসন দেখানো হবে না যা তার হতো যদি সে সৎকাজ করত, যাতে তা তার জন্য আক্ষেপের কারণ হয়।
৬৮/ ৬৪৮৩ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান থেকে যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছেন: তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "আমার এবং মানুষের উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির ন্যায় যে আগুন জ্বলাল। যখন আগুন তার চারপাশ আলোকিত করল, তখন পতঙ্গ এবং ঐসব পোকা যারা আগুনে পড়ে, তারা তাতে পড়তে শুরু করল। সে তাদের ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা করতে লাগল কিন্তু তারা তাকে পরাজিত করে আগুনেই ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল। আমি তোমাদের কোমর ধরে আগুন থেকে রক্ষা করছি, অথচ তারা আগুনেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে।"
৬৯/ ৬৫০৬ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয়। যখন তা উদিত হবে এবং মানুষ তা দেখবে, তখন তারা সকলেই ঈমান আনবে। সেটি সেই সময় যখন: {কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যদি সে ইতিপূর্বে ঈমান না এনে থাকে অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন না করে থাকে}। আর কিয়ামত অবশ্যই এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, দুই ব্যক্তি তাদের কাপড় নিজেদের মধ্যে প্রসারিত করে থাকবে কিন্তু তারা তা কেনাবেচা করতে পারবে না এবং তা ভাঁজও করতে পারবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যখন কোনো ব্যক্তি তার দুগ্ধবতী উটনীর দুধ নিয়ে ফিরবে কিন্তু সে তা পান করতে পারবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যখন সে তার হাউজ মেরামত করতে থাকবে কিন্তু তাতে পানি পান করাতে পারবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যখন তোমাদের কেউ খাবারের লোকমা তার মুখের দিকে তুলবে কিন্তু সে তা খেতে পারবে না।"
৭০/ ৬৬৩৯ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: আজ রাতে আমি অবশ্যই নব্বই জন স্ত্রীর নিকট গমন করব, যাদের প্রত্যেকেই একজন করে অশ্বারোহী বীর প্রসব করবে যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তখন তার সঙ্গী তাকে বললেন: ইনশাআল্লাহ বলুন। কিন্তু তিনি ইনশাআল্লাহ বললেন না। এরপর তিনি তাদের সকলের নিকট গমন করলেন কিন্তু তাদের মধ্যে একজন ব্যতীত কেউ গর্ভধারণ করল না, যে একটি অপূর্ণাঙ্গ শিশু জন্ম দিল। সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! তিনি যদি ইনশাআল্লাহ বলতেন, তবে তারা সকলেই আল্লাহর পথে অশ্বারোহী যোদ্ধা হিসেবে জিহাদ করত।"
৭১/ ৬৭৬৯ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
قَالَ: " كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا، جَاءَ الذِّئْبُ فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ لِصَاحِبَتِهَا: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، وَقَالَتِ الأُخْرَى: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ عليه السلام فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى، فَخَرَجَتَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ عليهما السلام فَأَخْبَرَتَاهُ، فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِّينِ أَشُقُّهُ بَيْنَهُمَا، فَقَالَتِ الصُّغْرَى: لا تَفْعَلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ هُوَ ابْنُهَا فَقَضَى بِهِ لِلصُّغْرَى " قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: " وَاللَّهِ إِنْ سَمِعْتُ بِالسِّكِّينِ قَطُّ إِلَّا يَوْمَئِذٍ، وَمَا كُنَّا نَقُولُ إِلَّا المُدْيَةَ ".
72/ 6694 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " لا يَأْتِي ابْنَ آدَمَ النَّذْرُ بِشَيْءٍ لَمْ يَكُنْ قُدِّرَ لَهُ، وَلَكِنْ يُلْقِيهِ النَّذْرُ إِلَى القَدَرِ قَدْ قُدِّرَ لَهُ، فَيَسْتَخْرِجُ اللَّهُ بِهِ مِنَ البَخِيلِ، فَيُؤْتِي عَلَيْهِ مَا لَمْ يَكُنْ يُؤْتِي عَلَيْهِ مِنْ قَبْلُ ".
73/ 7121 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ، يَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ، دَعْوَتُهُمَا وَاحِدَةٌ، وَحَتَّى يُبْعَثَ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ، قَرِيبٌ مِنْ ثَلاثِينَ، كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ، وَحَتَّى يُقْبَضَ العِلْمُ وَتَكْثُرَ الزَّلازِلُ، وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ، وَتَظْهَرَ الفِتَنُ، وَيَكْثُرَ الهَرْجُ: وَهُوَ القَتْلُ، وَحَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ المَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ المَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ، وَحَتَّى يَعْرِضَهُ عَلَيْهِ، فَيَقُولَ الَّذِي يَعْرِضُهُ عَلَيْهِ: لا أَرَبَ لِي بِهِ، وَحَتَّى يَتَطَاوَلَ النَّاسُ فِي البُنْيَانِ، وَحَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ، وَحَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ - يَعْنِي آمَنُوا - أَجْمَعُونَ، فَذَلِكَ حِينَ لا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ، أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ نَشَرَ الرَّجُلانِ ثَوْبَهُمَا بَيْنَهُمَا، فَلا يَتَبَايَعَانِهِ وَلا يَطْوِيَانِهِ، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدِ انْصَرَفَ الرَّجُلُ بِلَبَنِ لِقْحَتِهِ فَلا يَطْعَمُهُ، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَهُوَ يُلِيطُ حَوْضَهُ فَلا يَسْقِي فِيهِ، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ رَفَعَ أُكْلَتَهُ إِلَى فِيهِ فَلا يَطْعَمُهَا ".
তিনি বলেন: "দুইজন নারী ছিল যাদের সাথে তাদের দুই পুত্র ছিল। একটি নেকড়ে এসে তাদের একজনের পুত্রকে নিয়ে গেল। তখন সে তার সঙ্গিনীকে বলল: 'নেকড়ে কেবল তোমার পুত্রকেই নিয়ে গেছে'। অন্যজন বলল: 'নেকড়ে কেবল তোমার পুত্রকেই নিয়ে গেছে'। অতঃপর তারা দাঊদ আলাইহিস সালামের নিকট বিচার প্রার্থনা করল। তিনি বড়জনের পক্ষে রায় প্রদান করলেন। এরপর তারা দাঊদ-পুত্র সুলাইমান আলাইহিমাস সালামের নিকট বের হয়ে এল এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করল। তিনি বললেন: 'তোমরা আমার নিকট একটি ছুরি নিয়ে এসো, আমি শিশুটিকে তাদের দুজনের মধ্যে দ্বিখণ্ডিত করে ভাগ করে দেব'। তখন ছোটজন বলল: 'আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, এমনটি করবেন না, এটি তারই পুত্র'। তখন তিনি ছোটজনের পক্ষে রায় প্রদান করলেন।" আবু হুরায়রা বলেন: "আল্লাহর কসম! আমি 'সিক্কীন' (ছুরি) শব্দটি সেদিন ছাড়া আর কখনো শুনিনি; আমরা একে কেবল 'মুদইয়াহ' ই বলতাম।"
৭২/ ৬৬৯৪ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মানত আদম সন্তানের নিকট এমন কিছু নিয়ে আসে না যা তার জন্য নির্ধারিত ছিল না। বরং মানত তাকে তাকদীরের দিকেই নিয়ে যায় যা তার জন্য নির্ধারিত ছিল। এর মাধ্যমে আল্লাহ কৃপণ ব্যক্তির নিকট থেকে সম্পদ বের করে নেন, ফলে সে এমন কিছু ব্যয় করে যা সে ইতিপূর্বে ব্যয় করতে চাইত না।"
৭৩/ ৭১২১ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দুটি বিশাল দল পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়; তাদের মধ্যে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হবে অথচ তাদের উভয়ের দাবি হবে এক। এবং যতক্ষণ না প্রায় ত্রিশজন দাজ্জাল ও চরম মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটে, যাদের প্রত্যেকেই দাবি করবে যে সে আল্লাহর রাসূল। এবং যতক্ষণ না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, ভূমিকম্পের আধিক্য ঘটবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে—আর হারজ হলো হত্যা। এবং যতক্ষণ না তোমাদের মধ্যে সম্পদের প্রাচুর্য ঘটবে এবং তা উপচে পড়বে, এমনকি সম্পদের মালিক চিন্তিত হয়ে পড়বে যে কে তার সদকা গ্রহণ করবে; আর সে যখন তা কারো নিকট পেশ করবে, তখন যাকে পেশ করা হচ্ছে সে বলবে: 'এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই'। এবং যতক্ষণ না মানুষ সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের ওপর বড়ত্ব প্রকাশ করবে। এবং যতক্ষণ না কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলবে: 'হায়! আমি যদি তার স্থলাভিষিক্ত হতাম'। এবং যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। যখন সূর্য উদিত হবে এবং মানুষ তা দেখবে—অর্থাৎ তারা সকলেই ঈমান আনবে—সেটি হবে এমন এক সময় যখন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যদি সে আগে ঈমান না এনে থাকে অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন না করে থাকে। আর অবশ্যই কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, দুই ব্যক্তি তাদের কাপড় কেনাবেচার জন্য প্রসারিত করবে, কিন্তু তারা তা কেনাবেচা করতে পারবে না এবং তা ভাঁজ করার সুযোগও পাবে না। আর অবশ্যই কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, কোনো ব্যক্তি তার দুগ্ধবতী উষ্ট্রীর দুধ নিয়ে ফিরে আসবে, কিন্তু সে তা পান করতে পারবে না। আর অবশ্যই কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, সে তার হাউজ প্রলেপ দিয়ে সংস্কার করতে থাকবে, কিন্তু তাতে পানি পান করাতে পারবে না। আর অবশ্যই কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, সে তার লোকমা আহারের জন্য মুখের কাছে তুলবে, কিন্তু তা আহার করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
74/ 7244 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَوْلا الهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ، وَلَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَسَلَكَتِ الأَنْصَارُ وَادِيًا - أَوْ شِعْبًا - لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ، - أَوْ شِعْبَ الأَنْصَارِ - ".
75/ 7422 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ لَمَّا قَضَى الخَلْقَ، كَتَبَ عِنْدَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ: إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي ".
76/ 7505 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " قَالَ اللَّهُ: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي ".
৭৪/ ৭২৪৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুয়াইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-যিনাদ, আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি হিজরত না থাকত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আর যদি মানুষ কোনো উপত্যকা দিয়ে চলে এবং আনসাররা অন্য কোনো উপত্যকা -অথবা গিরিপথ- দিয়ে চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকা -অথবা আনসারদের গিরিপথ- দিয়েই চলতাম।"
৭৫/ ৭৪২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুয়াইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-যিনাদ, আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তিনি তাঁর নিকট আরশের উপরে লিখে রাখলেন: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়েছে।"
৭৬/ ৭৫০৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুয়াইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-যিনাদ, আল-আ'রাজ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ বলেছেন: আমার বান্দা আমার প্রতি যেরূপ ধারণা পোষণ করে, আমি তার নিকট সেইরূপই থাকি।"
(খণ্ড: ১)
আস-সালাসিলুল মুখতারাহ মিন সহীহিল ইমামিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
ثالثًا: سلسلة (عبد الله بن مسلمة(1) عن مالك(2) عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه -)
77/ 659 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " المَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ، مَا لَمْ يُحْدِثْ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، لا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاةٍ مَا دَامَتِ الصَّلاةُ تَحْبِسُهُ، لا يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْقَلِبَ إِلَى أَهْلِهِ إِلَّا الصَّلاةُ ".
78/ 935 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ يَوْمَ الجُمُعَةِ، فَقَالَ: " فِيهِ سَاعَةٌ، لا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى شَيْئًا، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ " وَأَشَارَ بِيَدِهِ يُقَلِّلُهَا.
79/ 1894 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلا يَرْفُثْ وَلا يَجْهَلْ، وَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ مَرَّتَيْنِ ".
80/ 5855 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِذَا انْتَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِاليَمِينِ، وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدَأْ بِالشِّمَالِ، لِيَكُنِ اليُمْنَى أَوَّلَهُمَا
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: (আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ (১) মালিক হতে (২) আবুল যিনাদ হতে, তিনি আল-আ'রাজ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত) ধারা -৭৭/ ৬৫৯ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক হতে, তিনি আবুল যিনাদ হতে, তিনি আল-আ'রাজ হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দুয়া করতে থাকে, যতক্ষণ না তার ওজু নষ্ট হয়: (তারা বলে) হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, তাকে দয়া করুন। তোমাদের প্রত্যেকে ততক্ষণ সালাতরত থাকে যতক্ষণ সালাত তাকে আটকে রাখে, এবং সালাত ব্যতীত অন্য কিছু তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে বাধা দেয় না।"
৭৮/ ৯৩৫ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক হতে, তিনি আবুল যিনাদ হতে, তিনি আল-আ'রাজ হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিনের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন: "এতে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি তা লাভ করে এবং সে অবস্থায় দাঁড়িয়ে সালাতরত থেকে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করবেন।" এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে সেই সময়ের স্বল্পতা নির্দেশ করলেন।
৭৯/ ১৮৯৪ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক হতে, তিনি আবুল যিনাদ হতে, তিনি আল-আ'রাজ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খতাসূলভ আচরণ না করে। যদি কোনো ব্যক্তি তার সাথে লড়াই বা গালিগালাজ করে, তবে সে যেন দুবার বলে: আমি রোজা রেখেছি।"
৮০/ ৫৮৫৫ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক হতে, তিনি আবুল যিনাদ হতে, তিনি আল-আ'রাজ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন জুতা পরিধান করবে তখন যেন ডান দিক থেকে শুরু করে, আর যখন খুলবে তখন যেন বাম দিক থেকে শুরু করে; যাতে ডান পা হয় পরিধানে প্রথম..."
--------------------------------------------