(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: -)
مختصر زوائد مسند البزار على الكتب الستة ومسند أحمد   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: مختصر زوائد مسند البزار على الكتب الستة ومسند أحمد

المؤلف: شهاب الدين أبو الفضل بن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)

المحقق: صبري بن عبد الخالق أبو ذر

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1992 م

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 رمضان 1443

কুতুবে সিত্তা এবং মুসনাদে আহমদের ওপর মুসনাদ আল-বাযযারের যওয়াইদসমূহের সংক্ষিপ্তসার   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: কুতুবে সিত্তা এবং মুসনাদে আহমদের ওপর মুসনাদ আল-বাযযারের যওয়াইদসমূহের সংক্ষিপ্তসার

লেখক: শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত ৮৫২ হি.)

তাহকিককারী: সাবরি বিন আব্দুল খালিক আবু যার

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হি. - ১৯৯২ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ রমজান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

‌‌استهلال

إن الحمد للَّه نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا ومن سيِّئات أعمالنا، من يهدِ اللَّه فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَّا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1]، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب اللَّه تعالى، وخير الهدى هدى محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار.

بعد:

فإن من مِنَنِ اللَّه العظام عليَّ أن وفَقني لخدمة سنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وها هو ذا "مختصر زوائد البزَّار" للحافظ شهاب الدين ابن حجر العسقلاني، خدمته حسبما تيسَّر لي من الوقت بتعليقات -أظنها- نافعة إن شاء اللَّه تعالى.

وقد سرت في تحقيقه والتعليق عليه على النهج التالي:

قدمت بمقدمة فيها: شرف علم الحديث وأهله، وأهمية كتب الزوائد وما صنِّف فيها وتراجم الحفاظ، الأئمة: البزار والهيثمي وابن حجر.

ثم عرجت بعد ذلك على توثيق عنوان المختصر وصحة نسبته للحافظ، ثم وصنف النسخ الخطية المعتمدة، ثم دراسة منهج الحافظ في مختصره. ثمَّ فائدة وميزة هذه النشرة. ثمَّ منهجي في التعليق على المختصر. ثم صورت بعضًا من صفحات النسختين ووضعت صفحة للرموز المستخدمة في التعليق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌ ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১], {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রত্যেক নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে যাবে।

অতঃপর:

আমার প্রতি আল্লাহর অন্যতম মহান নিআমত হলো তিনি আমাকে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর খিদমত করার তাওফিক দিয়েছেন। আর এটি হলো হাফেজ শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজার আল-আসকালানি রচিত "মুখতাসার যাওয়াইদ আল-বাজ্জার", যা আমি আমার সময় ও সুযোগ অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ উপকারী হবে এমন কিছু টীকা সংযোজনের মাধ্যমে খিদমত করার চেষ্টা করেছি।

গ্রন্থটি সম্পাদনা (তাহকিক) ও টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

শুরুতে আমি একটি ভূমিকা পেশ করেছি যাতে রয়েছে: হাদিস শাস্ত্র ও এর ধারক-বাহকদের মর্যাদা, যাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ এবং ইমাম বাজ্জার, হাইসামি ও ইবনে হাজারের জীবনী।

এরপর আমি এই সংক্ষিপ্তসারটির শিরোনামের নির্ভরযোগ্যতা এবং হাফেজের প্রতি এর সম্বন্ধের সঠিকতা আলোচনা করেছি। অতঃপর নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা এবং এই সংক্ষিপ্তসারে হাফেজের অনুসৃত পদ্ধতির ওপর পর্যালোচনা করেছি। এরপর এই মুদ্রণের উপকারিতা ও বৈশিষ্ট্য এবং টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি বর্ণনা করেছি। সবশেষে দুটি পাণ্ডুলিপির কিছু পাতার প্রতিলিপি এবং টীকায় ব্যবহৃত প্রতীকগুলোর জন্য একটি তালিকা যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
ثم علَّقت على المختصر بما يسره اللَّه عز وجل لي، وقد استدركت وتعقَبت على نفسي بعد السير فترة في التعليق ثم صنعت عدَّة فهارس تعين الباحث على الوصول إلى طلبته من الكتاب.

وختامًا أقدِّم شكري وامتناني إلى كل من قدَّم لي عونًا وساعد في إخراج هذا الكتاب القيم "وإلى اللَّه تعالى جزيل الضراعة في المِنَّة بقبول ما مِنه لوجهه، والعفو عما تخلله من تزين وتصنُّع لغيره، وأن يهب لنا ذلك بجميل كرمه وعفوه، وأن يجعلنا ممن تكلف الجهد في حفظ السنن وتشرها، وتمييز صحيحها من سقيمها والتفقه فيها والذبّ عنها.

والحمد للَّه ربِّ العالمين، وسبحانك اللَّهم وبحمدك نشهد أن لا إله إلَّا أنت نستغفرك ونتوب إليك.

 

المحقق
অতঃপর মহান আল্লাহ আমার জন্য যা সহজ করেছেন সে অনুযায়ী আমি এই সংক্ষিপ্ত সংকলনের ওপর টীকা প্রদান করেছি। টীকা প্রদানের কাজ কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পর আমি নিজেই নিজের কাজগুলো পুনরায় পর্যালোচনা ও সংশোধন করেছি এবং এরপর আমি বেশ কিছু নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি, যা গবেষককে এই কিতাব থেকে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে, যারা আমাকে সাহায্য করেছেন এবং এই মূল্যবান কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। "আর মহান আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা যেন তিনি তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা করা হয়েছে তা অনুগ্রহপূর্বক কবুল করেন, এবং এর মাঝে অন্য কারো জন্য কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা লৌকিকতা মিশে থাকলে তা ক্ষমা করে দেন; তিনি যেন তাঁর অনুপম বদান্যতা ও ক্ষমার মাধ্যমে আমাদের তা দান করেন এবং আমাদের অন্তর্ভুক্ত করেন তাদের যারা সুন্নাহ সংরক্ষণ ও প্রচারে, এবং সহীহ ও যয়ীফের মাঝে পার্থক্য নিরূপণে এবং তার সঠিক অনুধাবন ও তা রক্ষার প্রচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করেছেন।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা; আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনারই নিকট তাওবা করছি।

 

মুহাক্কিক
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة

تقديم: شرف علم الحديث وأهله.

الفصل الأول: أهمية كتب الزوائد وما صُنِّفَ فيها.

المبحث الأول: أهميتها.

المبحث الثاني: ما صنف فيها.

الفصل الثاني: التراجم.

المبحث الأول: ترجمة الإِمام الحافظ أبي بكر البزار.

المبحث الثاني: ترجمة الإِمام الهيثمي.

المبحث الثالث: ترجمة الإمام الحافظ ابن حجر العسقلاني.

الفصل الثالث: دراسة مختصر زوائد البزار.

المبحث الأول: عنوان الكتاب وصحة نسبته للحافظ.

المطلب الأول: عنوانه.

المطلب الثاني: صحة نسبته.

المبحث الثاني: وصف النسخ الخطية.

المبحث الثالث: دراسة منهج الحافظ في مختصره.

المبحث الرابع: فائدة وميزة مختصر زوائد البزار.

المبحث الخامس: منهجي في تحقيق وتخريج المختصر.

المطلب الأول: منهجي في ضبطه وتحقيقه.

المطلب الثاني: طريقتي في التخريج.

صور النسخ الخطية.

رموز واصطلاحات التعليق والتحقيق.
ভূমিকা

নিবেদন: হাদিস শাস্ত্রের মর্যাদা এবং এর পণ্ডিতগণের শ্রেষ্ঠত্ব।

প্রথম অধ্যায়: জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এর গুরুত্ব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: জীবনীসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম হাফেজ আবু বকর আল-বাজার-এর জীবনী।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম আল-হাইসামি-র জীবনী।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি-র জীবনী।

তৃতীয় অধ্যায়: মুখতাসার জাওয়াইদ আল-বাজার সংক্রান্ত পর্যালোচনা।

প্রথম পরিচ্ছেদ: বইটির শিরোনাম এবং হাফেজ (ইবনে হাজার)-এর প্রতি এর সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিশুদ্ধতা।

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর শিরোনাম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থে হাফেজের পদ্ধতির পর্যালোচনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুখতাসার জাওয়াইদ আল-বাজার-এর উপকারিতা ও বৈশিষ্ট্য।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: 'মুখতাসার' গ্রন্থের সম্পাদনা এবং হাদিসের সূত্রনির্দেশের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি।

প্রথম অনুচ্ছেদ: পাঠ্য সংশোধন এবং সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিসের সূত্রনির্দেশের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি।

পাণ্ডুলিপিসমূহের চিত্র।

টীকা প্রদান ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সংকেত ও পরিভাষাসমূহ।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
تقديم

 

‌‌شرف علم الحديث وأهله

قال الخطيب البغدادي واصفًا لعلم الحديث:

أنه يشتمل على أصول التوحيد، وبيان ما جاء من وجوه الوعد والوعيد، وصفات رب العالمين، تعالى عن مقالات الملحدين، والإِخبار عن صفات الجنَّة والنار، وما أعدَّ اللَّه تعالى فيهما للمتقين والفجار، وما خلق اللَّه في الأرضين والسموات، من صنوف العجائب وعظيم الآيات، وذكر الملائكة المقربين ونعت الصافين المسبحين.

وفي الحديث قصص الأنبياء، وأخبار الزهاد والأولياء، ومواعظ البلغاء. وكلام الفقهاء. وسير حلول العرب والعجم، وأقاصيص المتقدمين من الأمم. وشَرْحُ مغازي الرسول صلى الله عليه وسلم وسراياه ومجمل أحكامه وقضاياه. وخطبه وعظاته، وأعلامه ومعجزاته، وعدة أزواجه وأولاده وأصهاره وأصحابه، وذكر فضائلهم ومآثرهم وشرح أخبارهم ومناقبهم. ومبلغ أعمارهم وبيان أنسابهم.

وفيه تفسير القرآن العظيم، وما فيه من النبأ والذكر الحكيم وأقاويل الصحابة في الأحكام المحفوظة عنهم، وتسمية من ذهب إلى قول كل واحد منهم، من الأئمة الخالفين والفقهاء المجتهدين.

 

‌‌[أهل الحديث]:

وقد جعل اللَّه تعالى أهله أركان الشريعة، وهدم بهم كل بدعة شنيعة، فهم أمناء اللَّه من خليقته والواسطة بين النبي صلى الله عليه وسلم وأمته، والمجتهدون في حفظ ملته.

أنوارهم زاهرة، وفضائلهم سائرة، وآياتهم باهرة، ومذاهبهم ظاهرة، وحُجَجهم قاهرة.

وكل فئة تتحيَّز إلى هوى ترجع إليه، أو تستحسن رأيًا تعكف عليه، سوى أصحاب الحديث، فإن الكتاب عدَّتهم، والسنَّة حجَّتهم، والرسول فئتهم، وإليه
উপস্থাপনা

 

‌‌হাদীস শাস্ত্র ও হাদীসবিদদের মর্যাদা

আল-খতীব আল-বাগদাদী হাদীস শাস্ত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:

নিশ্চয়ই এটি তাওহীদের মূলনীতিসমূহ, প্রতিশ্রুতি ও হুমকির দিকগুলোর বর্ণনা এবং বিশ্বজগতের রবের গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে—যিনি নাস্তিকদের ভ্রান্ত মতবাদ থেকে উর্ধ্বে। এতে জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ এবং আল্লাহ তাআলা সেখানে মুত্তাকী ও পাপাচারীদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন তার সংবাদ রয়েছে। আসমান ও যমীনে আল্লাহ তাআলা যে সকল বিচিত্র বিস্ময়কর বস্তু ও মহান নিদর্শনাবলি সৃষ্টি করেছেন তার বিবরণ এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের আলোচনা ও সারিবদ্ধভাবে তাসবীহ পাঠকারী ফেরেশতাদের গুণাবলি এতে বর্ণিত হয়েছে।

হাদীসের মধ্যে নবীদের কাহিনী, যুহদ অবলম্বনকারী ও অলীদের সংবাদ এবং বাগ্মীদের উপদেশবাণী ও ফকীহদের কথা বিদ্যমান। এতে আরব ও অনারবদের ইতিহাস এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ঘটনাবলি রয়েছে। আরও রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযান ও সামরিক অভিযানের ব্যাখ্যা এবং তাঁর সামগ্রিক বিধান ও বিচার ফয়সালাসমূহের বিবরণ। তাঁর খুতবা ও নসীহত, তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শন ও মুজিযাসমূহ, তাঁর স্ত্রীদের সংখ্যা, সন্তানসন্ততি, আত্মীয় ও সাহাবীদের বিবরণ এবং তাঁদের মর্যাদা, অবদান, জীবনী ও গুণাবলির বর্ণনা। এছাড়া তাঁদের জীবনকাল ও বংশপরিচয়ের বর্ণনাও এতে রয়েছে।

এতে মহান কুরআনের তাফসীর এবং এর মধ্যকার সংবাদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশমালা বিদ্যমান। এতে বিধানসমূহ সম্পর্কে সাহাবীদের থেকে সংরক্ষিত বাণীসমূহ এবং পরবর্তী যুগের ইমাম ও মুজতাহিদ ফকীহদের মধ্যে কে তাঁদের কার মত গ্রহণ করেছেন তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‌‌[হাদীসবিদগণ]:

আল্লাহ তাআলা হাদীসবিদদের শরীয়তের স্তম্ভ বানিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রতিটি জঘন্য বিদআতকে ধূলিসাৎ করেছেন। তাঁরা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর আমানতদার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মতের মাঝে যোগসূত্র। তাঁরা তাঁর দ্বীন সংরক্ষণে সচেষ্ট মুজতাহিদ।

তাঁদের নূর প্রদীপ্ত, তাঁদের ফযীলত সর্বত্র ব্যাপ্ত, তাঁদের নিদর্শনাবলি সুস্পষ্ট, তাঁদের মাযহাব বিজয়ী এবং তাঁদের প্রমাণাদি অকাট্য।

প্রতিটি দলই কোনো না কোনো প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে যার দিকে তারা ফিরে যায়, অথবা কোনো মতকে ভালো মনে করে তা আঁকড়ে ধরে; কিন্তু হাদীস অনুসারীদের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ কুরআন তাঁদের মূল পাথেয়, সুন্নাহ তাঁদের দলিল এবং রাসূলই তাঁদের দল, যাঁর দিকে...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
نسبتهم، لا يعرجون على الأهواء، ولا يلتفتون إلى الآراء، يقبل منهم ما رووا عن الرسول، وهم المأمونون عليه والعدول، حفظة الدين وخزنته، وأوعية العلم وحملته. إذا اختُلف في حديث، كان إليهم الرجوع، فما حكموا به، فهو المقبول المسموع.

ومنهم كل عالم فقيه، وإمام رفيع نبيه، وزاهد في قبيلة، ومخصوص بفضيلة، وكاري متقي، وخطيب محسن. وهم الجمهور العظيم، وسبيلهم السبيل المستقيم. وكل مبتدع باعتقادهم يتظاهر، وعلى الإِفصاح بغير مذاهبهم لا يتجاسر، من كادهم قصمه اللَّه، ومن عاندهم خذله اللَّه. لا يضرهم من خذلهم، ولا يفلح من اعتزلهم. المحتاط لدينه إلى إرشادهم فقير، وبصر الناظر بالسوء إليهم حسير {وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ}.

 

‌‌[هم الطائفة المنصورة]:

فقد جعل رب العالمين الطائفة المنصورة حراس الدين، وصرف عنهم كيد المعاندين، لتمسكهم بالشرع المتين، واقتفائهم آثار الصحابة والتابعين. فشأنهم حفظ الآثار وقطع المفاوز والقفار وركوب البراري والبحار، في اقتباس ما شرع الرسول المصطفى، لا يعرجون عنه إلى رأي ولا هوى. قبلوا شريعته قولًا وفعلًا، وحرسوا سنَّته حفظًا ونقلًا. حتى ثبَّتوا بذلك أصلها وكانوا أحق بها وأهلها.

وكم من ملحد يروم أن يخلط بالشريعة ما ليس منها، واللَّه تعالى يذب بأصحاب الحديث عنها.

فهم الحفاظ لأركانها، والقوّامون بأمرها وشأنها، إذا صُدِق عن الدفاع عنها فهم دونها يناضلون، {أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ}‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر كتاب: شرف أصحاب الحديث للخطيب البغدادي ص 8 - 10.

তাদের পরিচয়, তারা প্রবৃত্তির দিকে ঝোঁকে না এবং ব্যক্তিগত মতামতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করে না। রাসূল থেকে তারা যা বর্ণনা করে তা গ্রহণ করা হয়। তারা দ্বীনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত আমানতদার ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি, দ্বীনের হেফজকারী ও ভাণ্ডারী এবং ইলমের আধার ও বহনকারী। যখন কোনো হাদিস নিয়ে মতভেদ হয়, তখন তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়। তারা যে ফয়সালা দেয়, তাই গ্রহণযোগ্য ও শ্রুত।

তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন প্রত্যেক আলেম-ফকিহ, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বিজ্ঞ ইমাম, কোনো গোত্রের জাহিদ বা দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি, বিশেষ ফযিলতের অধিকারী কোনো ব্যক্তি, মুত্তাকী কারী এবং উত্তম খতিব। তারাই হচ্ছে বিশাল জনগোষ্ঠী এবং তাদের পথই হচ্ছে সরল পথ। প্রত্যেক বিদআতী তাদের আকিদার সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে বাধ্য হয় এবং তাদের মাযহাবের বাইরে অন্য কিছু প্রকাশ করার সাহস পায় না। যে ব্যক্তি তাদের সাথে চক্রান্ত করবে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন, আর যে তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করবেন। যারা তাদের পরিত্যাগ করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং যারা তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তারা সফল হয় না। যে ব্যক্তি তার দ্বীনের ব্যাপারে সাবধানী, সে তাদের নির্দেশনার মুখাপেক্ষী। আর যারা তাদের প্রতি কুদৃষ্টিতে তাকায়, তাদের দৃষ্টি ক্লান্ত ও ব্যর্থ হয়। "আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম।"

 

‌‌[তারাই সাহায্যপ্রাপ্ত দল]:

নিশ্চয়ই রাব্বুল আলামিন এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটিকে দ্বীনের প্রহরী বানিয়েছেন এবং তাদের থেকে বিদ্বেষীদের ষড়যন্ত্র দূর করে দিয়েছেন; কারণ তারা সুদৃঢ় শরিয়তকে আঁকড়ে ধরেছে এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। তাদের কাজই হলো আসসার বা বর্ণনা সংরক্ষণ করা, মরুভূমি ও প্রান্তর পাড়ি দেওয়া এবং স্থলপথ ও সমুদ্র পাড়ি দেওয়া—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা প্রবর্তন করেছেন তা আহরণের উদ্দেশ্যে। তারা তা থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো মতামত বা প্রবৃত্তির দিকে ঝোঁকে না। তারা কথা ও কাজে তাঁর শরিয়তকে গ্রহণ করেছে এবং হেফজ ও বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর সুন্নাহকে পাহারা দিয়েছে। এমনকি এর মাধ্যমে তারা সুন্নাহর মূল ভিত্তিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং তারাই এর জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার ও উপযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে।

কত নাস্তিক শরিয়তের সাথে এমন কিছু মিশিয়ে দিতে চায় যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই হাদিসের অনুসারীদের মাধ্যমে শরিয়ত থেকে তা প্রতিহত করেন।

তারাই শরিয়তের স্তম্ভসমূহের সংরক্ষক এবং এর যাবতীয় বিষয়ের ব্যবস্থাপক। যখন এর প্রতিরক্ষার কথা আসে, তখন তারা এর স্বপক্ষে লড়াই করেন। "তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।"‌‌(১).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: খতীব আল-বাগদাদী রচিত 'শারাফু আসহাবিল হাদিস' কিতাব, পৃষ্ঠা ৮-১০।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الفصل الأول أهمية كتب الزوائد وما صُنِّف فيها

‌‌المبحث الأول أهمية كتب الزوائد

حينما يطلق هذا الاسم، فإنه يتبادر إلى الذهن تلك الكتب التي جمع فيها مصنفوها الأحاديث الزائدة، أوما زاد في تلك الأحاديث من بعض كتب المسانيد أو المعاجم على الكتب الستَّة، حتى أصبح هذا الاسم علمًا عليها.

ولا يتبادر إلى الذهن أن المقصود تلك الكتب التي ألفت في تراجم رجال لم يخرج لهم أصحاب الكتب الستَّة ككتاب "زيادة رجال العجلي على رجال الكتب الستة"، وكتاب "زيادة رجال الدارقطني على رجال الكتب الستة"، وكلاهما لقاسم بن قطلوبغا.

وكتاب "تعجيل المتعة" و"لسان الميزان" للحافظ ابن حجر.

كان النصف الثاني من القرن الثامن، وأوائل القرن التاسع قد شهد حركة جديدة في التأليف المادة الحديثية. فقام جماعة من العلماء بدراسة المسانيد والمعاجم المرتبة على أسماء الصحابة أو الشيوخ، والتي لم ترتب، وأدركوا صعوبة الاستفادة منها، وخصوصًا على العَجل الذي لا يتسع وقته لتتبعها واستقصاء ما فيها.

وأرادوا أن يسهلوا للباحث والقارئ تلك الصعوبة باختصار ما بسط فيها، ولم تكن هناك طريقة أجدى ولا أنفع من تتبع أحاديثها، وعرضها ومقابلتها بأحاديث الكتب الستة أو أحدها، وإفراز ما انفرد بتخريجه أصحابها دون أصحاب الستة.

ثم أضافوا إلى ما جمعوه من الأحاديث ما أخرجه أصحاب الكتب الستة لكن له طريق أخرى انفرد بها أصحاب المعاجم والمسانيد أو أخرجوه وكان فيه بعض زيادات أو اختلافات في المتن أو السند.
প্রথম পরিচ্ছেদ: যাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের গুরুত্ব এবং এই বিষয়ে যা রচিত হয়েছে

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: যাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের গুরুত্ব

যখন এই পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়, তখন তৎক্ষণাৎ সেই সকল গ্রন্থের কথা মনে পড়ে যেগুলোতে সংকলকগণ এমন সব অতিরিক্ত হাদীস সংগ্রহ করেছেন, অথবা মাসানিদ ও মা'আজিম গ্রন্থসমূহের এমন সব হাদীস একত্র করেছেন যা কুতুবে সিত্তার (ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাব) হাদীসসমূহের অতিরিক্ত; এমনকি এই নামটি এখন এই শাস্ত্রীয় কিতাবসমূহের একটি বিশেষ নাম বা পরিভাষায় পরিণত হয়েছে।

এর দ্বারা সেই সকল কিতাব উদ্দেশ্য হিসেবে মনে আসে না যেগুলো এমন বর্ণনাকারীদের জীবনী নিয়ে রচিত হয়েছে যাদের থেকে কুতুবে সিত্তার সংকলকগণ হাদীস বর্ণনা করেননি, যেমন কাসিম ইবনে কুতলুবুগা রচিত "যিয়াদাতু রিজালিল ইজলি আলা রিজালিল কুতুবিস সিত্তাহ" এবং "যিয়াদাতু রিজালিদ দারাকুতনি আলা রিজালিল কুতুবিস সিত্তাহ" নামক গ্রন্থদ্বয়।

এবং হাফিয ইবনে হাজার রচিত "তা'জিলুল মুতআহ" এবং "লিসানুল মিযান" গ্রন্থদ্বয়।

অষ্টম হিজরী শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ এবং নবম শতাব্দীর শুরুর দিকে হাদীস সংকলনের ক্ষেত্রে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল। তখন একদল আলিম সাহাবী বা শায়খদের নামের ক্রমানুসারে সাজানো মাসানিদ ও মা'আজিম এবং অবিন্যস্ত কিতাবগুলো নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেন। তারা অনুধাবন করেছিলেন যে, এই কিতাবগুলো থেকে উপকৃত হওয়া বেশ কঠিন, বিশেষ করে সেই ব্যস্ত ব্যক্তির জন্য যার হাতে এই কিতাবগুলো মন্থন করার এবং তাতে যা আছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করার পর্যাপ্ত সময় নেই।

গবেষক ও পাঠকদের এই কাঠিন্য সহজ করার জন্য তারা কিতাবগুলোতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হাদীসগুলোকে সংক্ষিপ্ত করতে চেয়েছিলেন। এর জন্য হাদীসগুলো অনুসন্ধান করা এবং কুতুবে সিত্তা বা তার কোনো একটি কিতাবের হাদীসের সাথে মিলিয়ে দেখা এবং কুতুবে সিত্তার ইমামগণ ব্যতীত কেবল মাসানিদ ও মা'আজিমের সংকলকগণ এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন তা পৃথক করার চেয়ে ফলপ্রসূ ও উপকারী আর কোনো পথ ছিল না।

অতঃপর তারা এই সংগৃহীত হাদীসসমূহের সাথে এমন সব হাদীসও যুক্ত করেছেন যা কুতুবে সিত্তার সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন ঠিকই, কিন্তু মাসানিদ ও মা'আজিমের সংকলকগণ সেগুলো ভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন অথবা তারা তা বর্ণনা করেছেন এবং তাতে মূল পাঠ (মতন) বা সনদে কিছু অতিরিক্ত অংশ বা বৈচিত্র্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولكتب الزوائد أهمية كبرى في زمننا هذا، حيث فُقِد بعض تلك المصنفات التي استخلصت منها الأحاديث الزائدة، فحلت كتب الزوائد محلها في إثراء المكتبة الحديثية وإمدادها بمؤلفات جمعت بين طياتها مجموعة كبيرة من أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم وهي الأصل الثاني من أصول التشريع الإِسلامي.

وقد خدمت كتب الزوائد السنة المشرفة في نطاقها العام باعتناء مصنفيها عناية بالغة في سبيل إخراجها سهلة ميسورة للباحث.

فوفروا له جهده للتفتيش والبحث عن الأحاديث التي يريد تخريجها من تلك المعاجم أو المسانيد بترتيب ما زاد منها على الكتب الستة وتصنيفها على أبواب الفقه.

فمن فتَّش عن حديث في الكتب الستة أو أحدها ولم يقف عليه، يكفيه أن يرجع إلى كتب الزوائد ليتم بحثه بدلًا من أن يرجع إلى تلك الدواوين التي يعرف طالب العلم مدى المشقة التي تناله من مطالعتها.

ومع هذه الجهود التي قام بها أصحاب كتب الزوائد فقد اجتهد بعضهم في الحكم عليها بما يليق بها من صحة أو حسن أو ضعف.

وهو عمل -دون شك- متمِّم لجهود العلماء التي بذلت في خدمة الكتب الستة، وتمييز أحاديثها.

ومن فوائد الكتب الستة أنها ربطت بين مؤلفيها وبين مؤلفي الكتب التي اسْتُخلِصت منها بسلسلة الإِسناد التي امتازت بها هذه الأمة.

فكان مصنفوها قد تلقوا الأحاديث التي أوردوها عن مشايخ، ومشايخهم عن مشايخ، وهكذا حتى يتصل الإِسناد بصاحب المعجم أو المسند الذي تلقَّاها هو أيضًا عن مشايخ ومشايخه عن مشايخ، حتى يتصل الإِسناد برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إن كان الحديث مرفوعًا أو بالصحابي إن كان موقوفًا، أو بالتابعي إن كان مرسلًا. ولا يخفى ما في ذلك من المحافظة على تقاليد الرواية، والمحافظة على الإِسناد عند المحدثين إلى وقت متأخر.

وكذلك فإنه يمكن عَدُّ كتب الزوائد نسخًا أخرى لتلك الكتب التي اسْتُخْلِصَت منها في مادتها التي دارت عليها.

ولم يذكر مؤرخو السنة متى بدأ التأليف في فن الزوائد.
বর্তমান সময়ে জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের গুরুত্ব অপরিসীম, কেননা যে সকল মূল সংকলন থেকে অতিরিক্ত হাদিসগুলো চয়ন করা হয়েছিল সেগুলোর কিছু বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে হাদিস শাস্ত্রের লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করতে এবং এমন সব সংকলন সরবরাহ করতে জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহ সেই স্থান দখল করে নিয়েছে যা আপন বক্ষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের এক বিশাল ভাণ্ডার আগলে রেখেছে, আর এই সুন্নাহ হলো ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় মূল উৎস।

জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহ সাধারণ পরিসরে সুন্নাহর সেবা করেছে, যেখানে গ্রন্থকারগণ গবেষকদের জন্য একে সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে চরম সতর্কতা ও গভীর যত্নশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।

ফলে তারা গবেষকদের সেই পরিশ্রম লাঘব করেছেন যা তাকে ঐ সকল মুজাম বা মুসনাদ থেকে হাদিস তালাশ ও তাখরিজ করার ক্ষেত্রে করতে হতো। তারা কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত হাদিসগুলোকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী সেগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন।

সুতরাং কেউ যদি কুতুবে সিত্তাহ বা এর কোনো একটিতে কোনো হাদিস তালাশ করে না পায়, তবে তার গবেষণা পূর্ণ করার জন্য জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের দিকে ফিরে যাওয়াই যথেষ্ট; সেই মূল সংকলন বা দিওয়ানগুলোর দিকে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে, যেগুলোর অধ্যয়ন একজন তালিবে ইলম বা শিক্ষার্থীর জন্য কতটা কষ্টসাধ্য তা সবার জানা।

জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের রচয়িতাদের এই প্রচেষ্টার পাশাপাশি তাদের কেউ কেউ হাদিসগুলোর ওপর সহিহ, হাসান বা জয়িফ হওয়ার যথাযথ হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রেও ইজতিহাদ করেছেন।

এটি নিঃসন্দেহে উলামায়ে কেরামের সেই প্রচেষ্টারই পরিপূরক কাজ যা তারা কুতুবে সিত্তাহর খিদমত এবং এর হাদিসগুলো পৃথক করার ক্ষেত্রে ব্যয় করেছেন।

জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের অন্যতম উপকারিতা হলো, এগুলো তাদের রচয়িতা এবং যে সকল মূল গ্রন্থ থেকে হাদিসগুলো সংকলিত হয়েছে তাদের রচয়িতাদের মধ্যে সেই ইসনাদ বা সূত্রের সিলসিলার মাধ্যমে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা এই উম্মতের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।

কেননা এগুলোর সংকলকগণ তাদের বর্ণিত হাদিসগুলো তাদের শায়খদের থেকে গ্রহণ করেছেন, আর তাদের শায়খগণ তাদের শায়খদের থেকে; এভাবে এই সনদ বা সূত্র মুজাম বা মুসনাদ গ্রন্থের মূল সংকলক পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনিও আবার তার শায়খদের থেকে এবং তাদের শায়খগণ তাদের শায়খদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন, যে পর্যন্ত না এই সনদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে—যদি হাদিসটি মারফু হয়; অথবা সাহাবি পর্যন্ত—যদি তা মাওকুফ হয়; কিংবা তাবেয়ি পর্যন্ত—যদি তা মুরসাল হয়। রেওয়ায়েত বা বর্ণনার এই ঐতিহ্য এবং পরবর্তীকাল পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণের নিকট ইসনাদ বা সনদ সংরক্ষণের যে গুরুত্ব ছিল, তা এখানে সুস্পষ্ট।

তদ্রূপ, জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহকে সেই মূল গ্রন্থগুলোরই ভিন্ন সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, যেখান থেকে এর বিষয়বস্তুগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।

সুন্নাহর ইতিহাসবিদগণ জাওয়াইদ শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার কাজ ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে তা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
وأقدم من كتب فيها مغلطاي المتوفى سنة 762 هـ. فقد جمع زوائد ابن حبان على الصحيحين. وكذلك ابن كثير المتوفى سنة 774 هـ فرتَّب مسند الإِمام أحمد على حروف المعجم وضم إليه زوائد الطبراني وأبي يعلى‌‌(1).

ولم يكتب لشيء من تلك البقاء، ولا الذيوع، ولم تُعرف حتى وقتنا الحاضر، ولم نجد أحدًا نَوَّه بها، ولا ذكر أنه استفاد منها، أو وقف عليها، سوى أنها ذُكِرَت في مؤلفات بعض من ترجم لهم.

ولم يعرض الهيثمي لها بالتنبيه والذكر والإِشادة بفضل مؤلفيها، وهي عادة العلماء في مؤلفاتهم حيث كانوا يذكرون الفضل لسابقيهم في الفن الذي كتبوا فيه.

وكذلك لم يعرض لها الحافظ ابن حجر أو البوصيري فيما كتباه، وهو يدل دلالة واضحة على أنها لم تكن معروفة في ذلك الوقت، أو لأن كتب الهيثمي أغنت عنها، فإنه قد تناول زوائد ابن حبان والطبراني في معاجمه الثلاثة ومسانيد البزار وأحمد وأبي يعلى وغيرها من دواوين السنة. مما أعطى كتب الهيثمي أهمية باعتبارها أول ما وصل إلينا. وأن كل من كتب في الزوائد بعده فقد استفاد منها واستقى من نبعها.

وصرَّح باستفادته منها الحافظ ابن حجر في كتابه المطالب العالية (1/ 4) وكتابه الذي بين أيدينا.

وكذلك البوصيري فإنه استفاد منها لكنه لم يصرح، بل لم يشر لذلك، وقد أشاد كل من ابن حجر والبوصيري بفضل الهيثمي وسبقه في مجال التأليف في فن زوائد الحديث.

 

‌‌أوهام في نسبة كتب الزوائد:

وناهيك عن اختفاء تلك المصنفات في عالم الغيب، أن نُسِبَ بعضها إلى مجموعة كتب الزوائد خطأ، كما نسب تخريج زوائد سنن الدارقطني على الكتب الستَّة لقاسم بن قطلوبغا خطأ، بعد أن صرح معاصره ورفيقه السخاوي بأنه خرَّج زوائد رجال سنن الدارقطني على رجال الكتب الستة، وكذلك فقد نسب للحافظ ابن حجر أنه أخرج

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر ذيل طبقات الحفاظ للسيوطي ص 361، 366.

এবং এই বিষয়ে যারা লিখেছেন, তাদের মধ্যে প্রাচীনতম হলেন মুগলাতাই (মৃত্যু ৭৬২ হিজরী)। তিনি সহীহাইনের ওপর ইবনে হিব্বানের জাওয়ায়িদগুলো (অতিরিক্ত হাদীসসমূহ) সংকলন করেছিলেন। অনুরূপভাবে ইবনে কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী) ইমাম আহমাদের মুসনাদকে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছেন এবং এর সাথে তাবারানী ও আবু ইয়া’লার জাওয়ায়িদগুলো যুক্ত করেছেন‌‌(১)।

সেই গ্রন্থগুলোর কোনোটিই টিকে থাকেনি বা প্রসিদ্ধি লাভ করেনি, এমনকি বর্তমান সময় পর্যন্ত সেগুলো সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি এগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, কিংবা এগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, অথবা এগুলো সচক্ষে দেখেছেন; কেবল তাদের জীবনী রচয়িতাদের কারও কারও রচনায় এগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায়।

হাইসামীও এই গ্রন্থগুলো সম্পর্কে কোনো সতর্কতা প্রদান, উল্লেখ বা তাদের লেখকদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেননি। অথচ এটি আলেমদের চিরাচরিত নিয়ম যে, তারা তাদের রচনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পূর্বসূরিদের অবদানের কথা উল্লেখ করতেন।

একইভাবে হাফেজ ইবনে হাজার বা বুসিরী তাদের লিখিত গ্রন্থসমূহে এগুলো সম্পর্কে কিছু আলোচনা করেননি, যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে সেই সময়ে এগুলো পরিচিত ছিল না; অথবা হাইসামীর গ্রন্থসমূহ এগুলোর অভাব পূরণ করে দিয়েছিল। কেননা তিনি তার তিনটি মু’জাম, বাযযার, আহমাদ ও আবু ইয়া’লার মুসনাদ এবং সুন্নাহর অন্যান্য গ্রন্থ থেকে ইবনে হিব্বান ও তাবারানীর জাওয়ায়িদগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। যা হাইসামীর গ্রন্থসমূহকে আমাদের নিকট পৌঁছানো প্রথম সংকলন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। আর তার পরবর্তী সময়ে জাওয়ায়িদ বিষয়ে যারা লিখেছেন, তারা সকলেই হাইসামীর গ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তার সেই ঝরনাধারা থেকেই জ্ঞান আহরণ করেছেন।

হাফেজ ইবনে হাজার তার 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' (১/৪) গ্রন্থে এবং আমাদের হাতে থাকা বর্তমান এই গ্রন্থে হাইসামীর নিকট থেকে উপকৃত হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

একইভাবে বুসিরীও তার থেকে উপকৃত হয়েছেন কিন্তু তিনি তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি, বরং এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিতও দেননি। তবে ইবনে হাজার এবং বুসিরী উভয়েই হাদীসের জাওয়ায়িদ শাস্ত্রের রচনার ক্ষেত্রে হাইসামীর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রবর্তিতার প্রশংসা করেছেন।

 

‌‌জাওয়ায়িদ গ্রন্থসমূহের সম্পৃক্তকরণের ক্ষেত্রে কিছু ভুল ধারণা:

অদৃশ্যের জগতে সেই গ্রন্থগুলোর হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, সেগুলোর মধ্য থেকে বেশ কিছু গ্রন্থকে ভুলভাবে জাওয়ায়িদ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন— কুতলুবুগার পুত্র কাসিমের দিকে 'কুতুবে সিত্তা'র ওপর 'সুনানে দারা কুতনী'র জাওয়ায়িদসমূহের তাখরীজকে ভুলভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে; অথচ তার সমসাময়িক ও সঙ্গী সাখাবী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি 'কুতুবে সিত্তা'র বর্ণনাকারীদের ওপর 'সুনানে দারা কুতনী'র বর্ণনাকারীদের জাওয়ায়িদ বের করেছিলেন। একইভাবে হাফেজ ইবনে হাজারের প্রতিও সম্পৃক্ত করা হয়েছে যে তিনি বের করেছেন—

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: সুয়ূতী রচিত 'যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ', পৃষ্ঠা ৩৬১, ৩৬৬।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
زوائد مسند الفردوس وليس هناك دليل على وجود هذا التخريج بل هو ظن وتخمين ووهم، والحافظ ابن حجر لم يفعله، بل قام باختصار مسند الفردوس في كتاب سماه "تسديد القوس".

ونُسِب للهيثمي تخريج زوائد الحلية على الكتب الستة وليس صحيحًا، ونسب له تخريج فوائد تَمَّام، وزوائد الغيلانيات، وزوائد الخلعيات، وليس ذلك صحيحًا أيضًا. وإنما عمله في تلك الكتب أنه رتَّب أحاديثها على أبواب الفقه‌‌(1).

وكما نسبت بعض الكتب إلى مجموعة ما صنَّف في فن الزوائد خطأ، فقد شاع بين طلاب العلم أسماء خاطئة أطلقت على بعض تلك الكتب حتى طغت على الأسماء الصحيحة لها.

فقد أطلق على زوائد مسند أبي يعلي، المقصد الأعلى في زوائد أبي يعلى، والمقصد المعلى إلى زوائد أبي يعلى. وصوابه المقصد العلي في زوائد أبي يعلى الموصلي.

وأطلق على زوائد مسند البزار، "البحر الزخار في زوائد مسند البزار" ونُسِبَ بهذه التسمية إلى الهيثمي مرة وإلى ابن حجر مرة أخرى.

والصحيح أن كتاب الهيثمي في زوائد مسند البزار سماه: "كشف الأستار عن زوائد مسند البزار".

 

‌‌المبحث الثاني المصنفات في الزوائد

وإليك بيانًا بأسماء كتب الزوائد مرتبة على حروف المعجم مع إبراز أهم ما يمتاز به كل كتاب منها باختصار.

 

‌‌1 - إتحاف الخيرة المهرة بزوائد المسانيد العشرة:

كتبه البوصيري، وجمع فيه زوائد مسند أبي داود الطيالسي، ومسند مسدد، والحميدي، وابن أبي عمر العدني، وإسحاق ابن راهويه، وأبي بكر بن أبي شيبة، وأحمد بن منيع، وعبد بن حميد، والحارث بن محمد بن أبي أسامة، والمسند الكبير

--------------------------------------------

‌‌(1) لحظ الألحاظ لابن فهد (ص 240).

মুসনাদুল ফিরদাউসের যাওয়ায়েদ (অতিরিক্ত হাদীসসমূহ); এই তাখরীজটি বিদ্যমান থাকার কোনো প্রমাণ নেই, বরং এটি একটি ধারণা, অনুমান ও বিভ্রম। হাফেজ ইবনে হাজার এটি করেননি, বরং তিনি মুসনাদুল ফিরদাউসকে সংক্ষেপ করে একটি কিতাব সংকলন করেছেন যার নাম দিয়েছেন "তাসদীদুল ক্বাউস"।

আর আল-হাইসামীর প্রতি কুতুবে সিত্তাহর ওপর হিলইয়াতুল আওলিয়ার যাওয়ায়েদ তাখরীজ করার বিষয়টি সম্বন্ধ করা হয়, যা সঠিক নয়। একইভাবে তাঁর প্রতি 'ফাওয়ায়েদে তাম্মাম', 'যাওয়ায়েদে গায়লানিয়াত' এবং 'যাওয়ায়েদে খুলা ইয়্যাত'-এর তাখরীজের বিষয়টিও সম্বন্ধ করা হয়, যা-ও সঠিক নয়। বরং এই কিতাবগুলোতে তাঁর কাজ ছিল কেবল এগুলোর হাদীসসমূহকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করা‌‌(১)।

যেভাবে যাওয়ায়েদ শাস্ত্রের সংকলনগুলোর সাথে ভুলবশত কিছু কিতাবকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তেমনি তালিবে ইলমদের মাঝে কিছু কিতাবের ক্ষেত্রে এমন কিছু ভুল নাম প্রচলিত হয়ে গেছে যা সেগুলোর সঠিক নামের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে।

যেমন, মুসনাদে আবু ইয়া’লার যাওয়ায়েদকে 'আল-মাক্বসাদুল আ’লা ফী যাওয়ায়েদি আবী ইয়া’লা' এবং 'আল-মাক্বসাদুল মু’আল্লা ইলা যাওয়ায়েদি আবী ইয়া’লা' বলা হয়ে থাকে। অথচ এর সঠিক নাম হলো 'আল-মাক্বসাদুল আলী ফী যাওয়ায়েদি আবী ইয়া’লা আল-মাওসিলী'।

আর মুসনাদে বাজ্জারের যাওয়ায়েদকে 'আল-বাহরুয যাখখার ফী যাওয়ায়েদি মুসনাদিল বাজ্জার' বলা হয় এবং এই নামে কখনো একে হাইসামীর প্রতি আবার কখনো ইবনে হাজারের প্রতি সম্বন্ধ করা হয়।

সঠিক বিষয় হলো, মুসনাদে বাজ্জারের যাওয়ায়েদ বিষয়ে হাইসামীর কিতাবটির নাম তিনি রেখেছেন: "কাশফুল আসতার আন যাওয়ায়েদি মুসনাদিল বাজ্জার"।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যাওয়ায়েদ বিষয়ক সংকলনসমূহ

নিম্নে বর্ণানুক্রমিকভাবে যাওয়ায়েদ কিতাবসমূহের নামের বর্ণনা দেওয়া হলো, যেখানে সংক্ষেপে প্রতিটি কিতাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 

‌‌১ - ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা বি-যাওয়ায়েদিল মাসানিদিল আশারা:

এটি আল-বূসীরী রচনা করেছেন। এতে তিনি মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালিসী, মুসনাদে মুসাদ্দাদ, হুমাইদী, ইবনে আবু উমর আল-আদানী, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, আবু বকর ইবনে আবু শাইবাহ, আহমদ ইবনে মানী’, আব্দ ইবনে হুমাইদ, হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু উসামা এবং মুসনাদুল কাবীর-এর অতিরিক্ত হাদীসসমূহ একত্র করেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) লাহযুল আলহায, ইবনে ফাহদ (পৃষ্ঠা ২৪০)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
لأبي يعلى، على الكتب الستَّة‌‌(1).

 

‌‌2 - البدر المنير في زوائد المعجم الكبير:

جمع فيه الهيثمي ما زاد من الأحاديث التي في المعجم الكبير للطبراني علي الكتب الستة، وأضاف إليها الأحاديث التي أخرجها أصحاب الستَّة وفيها اختلاف أو زيادة في اللفظ، ولم يتيسَّر لنا الوقوف عليه ولا معرفة موضعه، ولعله مما فقد من الكتب، وقد ذكره صاحب الرسالة المستطرفة (ص 172) ضمن كتب الزوائد، وذكر أنه في ثلاث مجلدات.

 

‌‌3 - بغية الباحث عن زوائد مسند الحارث:

صنَّفه الحافظ الهيثمي فأخرج أحاديثه بأمر شيخه زين الدين العراقي، وحَضٍّ من ابنه أبي زرعة العراقي. وقد جمعه الهيثمي بعد أن استخلصه من مسند الحارث، ورتبه على أبواب الفقه، وبدأه بكتاب الإيمان وختمه بكتاب صفة الجنة‌‌(2).

 

‌‌4 - زوائد مسند البزار:

سيأتي الكلام عليه.

 

‌‌5 - غاية المقصد في زوائد المسند:

جمع فيه الهيثمي ما انفرد به الإمام أحمد في مسنده عن الكتب الستة من حديث بتمامه أو من حديث شاركهم فيه، أو بعضهم وفيه زيادة عنده، وهو أول ما صنفه الهيثمي، وذلك في سنة ست وسبعين وسبعمائة‌‌(3).

 

‌‌6 - كشف الأستار عن زوائد البزار:

وهو أصل كتابنا هذا جمع، فيه الهيثمي زوائد مسند البزار على الكتب الستة، سواء كانت الزيادة حديثًا بتمامه أو حديثًا شاركهم فيه، وفيه زيادة على حديثهم أو حديث أحدهم.

--------------------------------------------

‌‌(1) مخطوطته بدار الكتب المصرية العامرة -حفظها اللَّه من البلايا- في ثمانية مجلدات. وهي ناقصة من بعض أجزائها، وله نسخة بالمكتبة الأزهرية.

‌‌(2) مخطوطته بدار الكتب المصرية العامرة أيضًا، ويقوم بتحقيقه بعض الأفاضل بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة.

‌‌(3) له ثلاث مخطوطات بالمحمودية بالمدينة المنورة، وبجامعة القرويين بفاس وبدار الكتب. ويقوم بعض الإخوة بتحقيقه كذلك.

আবু ইয়া’লার [মুসনাদ], কুতুবে সিত্তাহর (ছয় কিতাবের) ওপর ভিত্তি করে‌‌(১)।

 

‌‌২ - আল-বাদরুল মুনীর ফী যাওয়াইদিল মু'জামিল কাবীর:

এতে হাইতামী তাবারানীর 'আল-মু'জামুল কাবীর'-এর সেই সকল অতিরিক্ত হাদিসগুলো সংকলন করেছেন যা কুতুবে সিত্তাহতে (ছয় কিতাবে) নেই। এছাড়া তিনি সেই সকল হাদিসগুলোও যুক্ত করেছেন যা কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন কিন্তু সেগুলোতে শব্দের ভিন্নতা বা আধিক্য রয়েছে। আমরা এই কিতাবটি দেখার সুযোগ পাইনি এবং এর অবস্থানও জানতে পারিনি। সম্ভবত এটি হারিয়ে যাওয়া কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত। 'আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ' (পৃ. ১৭২)-এর লেখক একে যাওয়াইদ কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এটি তিন খণ্ডে বিভক্ত।

 

‌‌৩ - বুগয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস:

হাফেজ হাইতামী এটি সংকলন করেছেন। তিনি তাঁর উস্তাদ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকির নির্দেশে এবং তাঁর পুত্র আবু যুরআ আল-ইরাকির উৎসাহে এর হাদিসগুলো চয়ন করেছেন। হাইতামী এটিকে মুসনাদে হারিস থেকে পৃথক করে সংকলন করেছেন এবং ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। তিনি কিতাবটি ঈমান অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছেন এবং জান্নাতের গুণাবলী অধ্যায় দিয়ে শেষ করেছেন‌‌(২)।

 

‌‌৪ - যাওয়াইদু মুসনাদিল বাজ্জার:

এ সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসছে।

 

‌‌৫ - গায়াতুল মাকসাদ ফী যাওয়াইদিল মুসনাদ:

হাইতামী এতে ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে কুতুবে সিত্তাহর বিপরীতে এককভাবে যে সকল পূর্ণাঙ্গ হাদিস বর্ণনা করেছেন অথবা যে সকল হাদিসে তিনি তাঁদের সাথে শরিক ছিলেন কিন্তু তাঁর কাছে অতিরিক্ত অংশ ছিল, তা সংকলন করেছেন। এটিই হাইতামী সর্বপ্রথম সংকলন করেন, আর তা ছিল সাতশ ছিয়াত্তর হিজরীতে‌‌(৩)।

 

‌‌৬ - কাশফুল আসতার আন যাওয়াইদিল বাজ্জার:

এটিই আমাদের এই কিতাবের মূল ভিত্তি। হাইতামী এতে কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত মুসনাদে বাজ্জারের হাদিসগুলো সংকলন করেছেন; চাই সেই অতিরিক্ত হাদিসটি পূর্ণাঙ্গ হোক অথবা এমন হাদিস হোক যাতে তিনি তাঁদের সাথে শরিক ছিলেন কিন্তু তাঁদের বর্ণিত হাদিসের তুলনায় সেখানে কিছু অতিরিক্ত অংশ ছিল।

--------------------------------------------

‌‌(১) এর পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ' তে রয়েছে -আল্লাহ তাআলা একে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন- যা আট খণ্ডে বিভক্ত। এর কিছু অংশ অসম্পূর্ণ। এর একটি কপি আজহারী লাইব্রেরিতেও রয়েছে।

‌‌(২) এর পাণ্ডুলিপিও মিশরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ' তে রয়েছে। মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিদগ্ধ ব্যক্তি এটি তাহকীক (সম্পাদনা) করছেন।

‌‌(৩) মদিনা মুনাওয়ারার মাহমুদিয়া লাইব্রেরি, ফাস শহরের জামিআতুল কারাউয়্যিন এবং দারুল কুতুবে এর তিনটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। কিছু ভাই একইভাবে এটিও তাহকীক করছেন।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فإذا أخرجوا الحديث أو أخرجه أحدهم فإنه يعزوه إليه مع التنبيه على الزيادة التي انفرد بها البزار. واختصر ما طال من كلام البزار، عقب كل حديث من غير إخلال بمعنى وذكر كلامه كاملًا إذا كان مختصرًا، وأضاف إلى الكتاب ما رواه البخاري تعليقًا، وأبو داود في المراسيل، والترمذي في الشمائل، والنسائي في غير السنن الصغرى.

وما كان من حديث ذكره المزي وعزاه للنسائي، ولم يكن في النسخة التي يمتلكها الهيثمي من كتاب المجتبى فإنه ذكره. وقد رتَّبه على أبواب الفقه، وبدأه بكتاب الإِيمان وختمه بكتاب الزهد، وذكر إسناده إلى البزار في مقدمة الكتاب، واعتمد في روايته على طريقين أحدهما أعلى من الثانية بدرجتين.

وأورد الأحاديث بأسانيد البزار إلى منتهاها مع كل حديث يورده، وقد سماه "كشف الأستار عن زوائد البزار"‌‌(1).

- ولعلَّ في نسخة الهيثمي من المسند الأصلي "البحر الزخار"، لعل بها سقطًا أو كانت سقيمة وقد أشار لذلك الهيثمي في المجمع في مواضع منه.

ففي (2/ 151)، قال في حديث أورده: رواه الطبراني في الكبير، والبزار لم يحسن سياقة الحديث، فلعله من سقم النسخة واللَّه أعلم.

وفي (4/ 210)، قال: رواه البزار وفي الأصل علامة سقوط.

وفي (8/ 40)، قال: رواه البزار وهكذا وجدته فيما جمعته. . .

- وقد طبع أهل الكتاب وهو "البحر الزخار" طبع بعضه كما سيأتي في ترجمة البزار.

--------------------------------------------

‌‌(1) وله نسختان مخطوطتان إحداهما في حوزة الشيخ الأعظمي، والثانية في مكتبة خدا بخش خان. وقد نشره وحققه الشيخ/ حبيب الرحمن الأعظمي أيضًا في أربعة مجلدات عن نسخته الخاصة وبه حوالي 3700 حديث. والمطبوع مملوء بالأخطاء والتصحيفات في المتون والأسانيد. بل والسقوط أيضًا، ولم تخرج جميع أحاديثه على المجمع بل أهمل بعضها وهي فيه. وادعى في البعض عدم وجود الحديث بالمجمع وهو فيه، لكن من غير مظنَّة. والكتاب يحتاج لخدمة أكثر ولعلي بتحقيقي لمختصره أكون قد وفيت هذا السفر العظيم بعض حقه في عنقي كطالب علم، أسأل اللَّه عز وجل عوني وعن الخطأ صوني.

সুতরাং যখন তাঁরা কোনো হাদিস বর্ণনা করেন অথবা তাঁদের কেউ তা বর্ণনা করেন, তখন তিনি তা আল-বাজারের দিকে সম্বন্ধ করেন এবং আল-বাজার যে অতিরিক্ত অংশটুকু একাকী বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। তিনি প্রতিটি হাদিসের পর আল-বাজারের দীর্ঘ বক্তব্যগুলোকে অর্থের বিকৃতি না ঘটিয়ে সংক্ষেপ করেছেন, আর যদি তাঁর কথা সংক্ষিপ্ত হতো তবে তা পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি কিতাবটিতে ইমাম বুখারি কর্তৃক ‘তালিক’ হিসেবে বর্ণিত হাদিস, আবু দাউদের ‘মারাসিল’, তিরমিযীর ‘শামায়েল’ এবং নাসায়ীর ‘সুনান আস-সুগরা’ ব্যতীত অন্য গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসগুলোও যোগ করেছেন।

আর আল-মিযযী যে হাদিসগুলো উল্লেখ করে নাসায়ীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন, অথচ আল-হাইসামীর কাছে থাকা ‘আল-মুজতাবা’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে তা ছিল না, তিনি সেগুলোও উল্লেখ করেছেন। তিনি কিতাবটিকে ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সাজিয়েছেন; এটি ‘কিতাবুল ঈমান’ দিয়ে শুরু করেছেন এবং ‘কিতাবুজ যুহদ’ দিয়ে শেষ করেছেন। কিতাবের ভূমিকায় তিনি আল-বাজার পর্যন্ত তাঁর সনদ উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বর্ণনায় তিনি দুটি সূত্রের ওপর নির্ভর করেছেন, যার মধ্যে একটি অন্যটির তুলনায় দুই স্তর উচ্চ।

তিনি প্রতিটি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-বাজারের সনদগুলো এর শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন "কাশফুল আসতার আন যাওয়াইদিল বাজার"‌‌(১)।

- সম্ভবত আল-হাইসামীর কাছে থাকা মূল মুসনাদ ‘আল-বাহরুয যাখখার’-এর পাণ্ডুলিপিতে কোনো অংশ বাদ পড়েছিল অথবা তা ত্রুটিপূর্ণ ছিল; আল-হাইসামি ‘আল-মাজমা’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যেমন (২/১৫১) পৃষ্ঠায়, তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন: "তাবারানি এটি ‘আল-কাবীর’-এ বর্ণনা করেছেন, আর আল-বাজার হাদিসটির বর্ণনাপ্রবাহ সঠিকভাবে উল্লেখ করতে পারেননি, সম্ভবত এটি পাণ্ডুলিপির ত্রুটির কারণে হয়েছে, আল্লাহ-ই ভালো জানেন।"

এবং (৪/২১০) পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: "আল-বাজার এটি বর্ণনা করেছেন এবং মূল কপিতে এখানে বাদ পড়ার চিহ্ন রয়েছে।"

এবং (৮/৪০) পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: "আল-বাজার এটি বর্ণনা করেছেন এবং আমি যা সংকলন করেছি তাতে এভাবেই পেয়েছি..."

- কিতাবটি অর্থাৎ ‘আল-বাহরুয যাখখার’ মুদ্রিত হয়েছে, এর কিছু অংশ মুদ্রিত হয়েছে যেমনটি আল-বাজারের জীবনীতে সামনে আসবে।

--------------------------------------------

‌‌(১) এর দুটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, একটি শায়খ আল-আজমীর অধীনে এবং দ্বিতীয়টি খোদা বখশ খান লাইব্রেরিতে। শায়খ হাবিবুর রহমান আল-আজমীও তাঁর নিজস্ব কপি থেকে এটি চার খণ্ডে প্রকাশ ও সম্পাদনা করেছেন এবং এতে প্রায় ৩৭০০ হাদিস রয়েছে। এর মুদ্রিত সংস্করণটি মতন (মূল পাঠ) এবং সনদের ক্ষেত্রে ভুল ও বিকৃতিতে পূর্ণ। এমনকি এতে অনেক অংশ বাদও পড়েছে এবং এর সমস্ত হাদিস ‘আল-মাজমা’-তে আসেনি, বরং কিছু হাদিস সেখানে থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাবি করা হয়েছে যে হাদিসটি ‘আল-মাজমা’-তে নেই অথচ তা সেখানে বিদ্যমান, তবে তা প্রত্যাশিত স্থানে নেই। কিতাবটির আরও অধিক সেবা প্রয়োজন এবং সম্ভবত এর সংক্ষিপ্ত রূপ সম্পাদনার মাধ্যমে আমি একজন ইলমের ছাত্র হিসেবে এই মহান গ্রন্থের প্রতি আমার ওপর বর্তানো হকের কিছুটা আদায় করতে পারব। আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য এবং ভুল থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করি।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌7 - مجمع البحرين:

وهو كتاب كبير جمع فيه الهيثمي زوائد المعجم الأوسط، والمعجم الصغير على الكتب الستة، ورتبه على أبواب الفقه ليسهل على طالب العلم مراجعته، فجمع فيه ما انفرد به الطبراني في المعجم الأوسط والصغير‌‌(1).

 

‌‌8 - مجمع الزوائد ومنبع الفوائد:

وهو من أجمع كتب السنة على الإِطلاق، وله الصدارة في بابه، وحاز قصب السبق في مجاله، فقد بذل فيه الهيثمي غاية جهده، وقصارى مقدرته، وعصارة فكره، فجمع فيه بإشارة شيخه العراقي زوائد مسند أحمد مع زيادات ابنه عليه، ومسند أبي يعلى الموصلي، ومسند البزار، وزوائد معاجم الطبراني الثلاثة الكبير والأوسط والصغير، على الكتب الستة بعد أن حذف أسانيدها ورتب أحاديثها وتكلَّم عليها لبيان درجتها من الصحة أو الضعف، وقد التزم الكلام على مسند أحمد أن ذكر له حديثًا إلَّا أن يكون إسناد غيره أصح. فإنه يحكم عليه بمقتضى ذلك السند دون النظر إلى بقية الأسانيد، إن كانت ضعيفة أو دون الإِسناد الذي اعتمده في الصحة.

ونبَّه على مشايخ الطبراني الذين ترجم لهم في ميزان الاعتدال، ومن لم يذكر منهم فيه ألحقهم بجملة الثقات، واعتبر حديث الراوي الذي أخرج له أصحاب الصحيح صحيحًا، ولم يشترط ذلك في الصحابة لأنهم عدول.

وذكر في المقدمة سنده إلى أصحاب الكتب التي أخرج ما زاد من أحاديثها على الكتب الستة.

وقد رتَّبه على أبواب الفقه، وبدأه بكتاب الإِيمان، وختمه بباب كفارة المجلس.

وقد نسخ الكتاب بنفسه وساعده شيخه العراقي على كتابته، ولابن حجر نسخة منه قابلها على أصل المؤلف بقراءته عليه‌‌(2).

--------------------------------------------

‌‌(1) مخطوطته بمكتبة السلطان أحمد باستنبول وهو في أربعة مجلدات وهو كتاب كبير. وله نسخة بالظاهرية أيضًا. وكثيرًا ما يعتمد عليه محقق كبير الطبراني.

‌‌(2) والكتاب مطبوع متداول في 10 أجزاء. وله مخطوط مصور مكبر في مكتبة الشيخ عبد الرحيم صديق (المكتبة الصديقية) بمنى (برقم 79 حديث).

৭ - মাজমাউল বাহরাইন:

এটি একটি বৃহৎ গ্রন্থ যাতে আল-হাইসামি কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত হিসেবে আল-মুজামুল আওসাত এবং আল-মুজামুস সাগিরের হাদীসসমূহ একত্রিত করেছেন। ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এটি ব্যবহারের সুবিধার্থে তিনি ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী এটি বিন্যস্ত করেছেন। এতে তিনি ইমাম তাবারানি কর্তৃক কেবল আল-মুজামুল আওসাত এবং আল-মুজামুস সাগির-এ বর্ণিত হাদীসগুলো জমা করেছেন(১)।

 

৮ - মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ:

এটি সাধারণভাবে সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্যে অত্যন্ত ব্যাপক একটি গ্রন্থ এবং এ বিষয়ে এর অবস্থান সবার শীর্ষে ও এ ক্ষেত্রে এটি অগ্রণী ভূমিকা লাভ করেছে। আল-হাইসামি এতে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, সামর্থ্য ও চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করেছেন। তাঁর উস্তাদ আল-ইরাকির ইশারায় তিনি এতে কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত হিসেবে মুসনাদে আহমাদ (তাঁর পুত্রের সংকলিত অংশসহ), মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, মুসনাদে বাযযার এবং তাবারানির তিনটি মুজাম (কাবীর, আওসাত ও সাগীর)-এর হাদীসসমূহ একত্রিত করেছেন। তিনি হাদীসগুলোর সনদ বা সূত্রসমূহ বাদ দিয়ে সেগুলো ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন এবং হাদীসের মান (সহীহ বা যঈফ) বর্ণনার জন্য সেগুলোর ওপর মন্তব্য করেছেন। তিনি মুসনাদে আহমাদের ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করেছেন যে, তিনি সেখানকার কোনো হাদীস উল্লেখ করেননি যতক্ষণ না অন্য কোনো সূত্রের সনদ সেটির চেয়ে অধিক সহীহ হতো। এমতাবস্থায় তিনি সেই সনদের ভিত্তিতেই হুকুম লাগিয়েছেন, অন্যান্য সনদ দুর্বল কি না বা তিনি যেটিকে সহীহ হিসেবে গ্রহণ করেছেন তার চেয়ে নিম্নমানের কি না সেদিকে লক্ষ্য করেননি।

তিনি তাবারানির সেই সব উস্তাদদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যাদের জীবনী 'মিযানুল ইতিদাল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর যাদের কথা সেখানে উল্লেখ করা হয়নি, তাদের তিনি নির্ভরযোগ্যদের (সিক্বাহ) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যে বর্ণনাকারীর হাদীস সহীহ গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন, তাঁকে তিনি সহীহ বর্ণনাকারী হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে সাহাবীগণের ক্ষেত্রে এই শর্ত আরোপ করেননি, কারণ তাঁরা সকলেই ন্যায়পরায়ণ।

তিনি গ্রন্থটির ভূমিকায় সেই সব মূল কিতাবসমূহের রচয়িতাদের পর্যন্ত নিজের সনদ উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর অতিরিক্ত হাদীসসমূহ তিনি কুতুবে সিত্তাহর ওপর সংযোজন করেছেন।

তিনি এটি ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন; এটি কিতাবুল ঈমান দিয়ে শুরু করেছেন এবং কাফফারাতুল মাজলিস অধ্যায় দিয়ে শেষ করেছেন।

তিনি গ্রন্থটি নিজ হাতে প্রতিলিপি করেছেন এবং তাঁর উস্তাদ আল-ইরাকি তা লেখায় তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজারের কাছে এর একটি কপি ছিল যা তিনি লেখকের সামনে পাঠ করে মূল কপির সাথে মিলিয়ে নিয়েছিলেন(২)।

--------------------------------------------

(১) এর পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের সুলতান আহমদ লাইব্রেরিতে চার খণ্ডে বিদ্যমান এবং এটি একটি বিশাল গ্রন্থ। এর একটি কপি জাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতেও রয়েছে। তাবারানির আল-মুজামুল কাবীরের গবেষকগণ প্রায়ই এর ওপর নির্ভর করেন।

(২) কিতাবটি মুদ্রিত এবং ১০ খণ্ডে প্রচলিত। মিনার শায়খ আব্দুর রহীম সিদ্দীক লাইব্রেরিতে (মাকতাবাতুস সিদ্দীকিয়্যাহ) এর একটি বড় করা পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি রয়েছে (হাদীস নং ৭৯)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌9 - مصباح الزجاجة في زوائد ابن ماجه:

جمع فيه البوصيري زوائد سنن ابن ماجه القزويني على الكتب الخمسة: الصحيحين، وسنن أبي داود، وسنن النسائي، وجامع الترمذي‌‌(1).

 

‌‌10 - المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية:

جمع فيه الحافظ ابن حجر ما زاد من أحاديث مسند أبي داود الطيالسي، والحميدي، وابن أبي عمر، ومسدد، وأحمد بن منيع، وأبي بكر بن أبي شيبة، وعبد بن حميد، والحارث بن أبي أسامة، على الكتب الستة ومسند أحمد، وأضاف إليه زوائد مسند أبي يعلى الكبير خلافًا للهيثمي الذي اعتمد على المسند الصغير في ذكر زوائده‌‌(2)، وأضاف إليه ما وقف عليه من زوائد مسند إسحاق بن راهويه، ولم يقف إلَّا على نصف مسنده، حتى بلغ ما تتبعه من المسانيد عشرة، وترك أخرى لكونه وقف عليها وهي ناقصة فأراد أن يتم بحثه بذكر زوائد المسانيد العشرة المذكورة، ثم يضيف إليه زوائد المسانيد التي تركها -علَّه- أن يقف عليها كاملة، فيذكرها عند التبييض‌‌(3).

 

‌‌11 - المقصد العلي في زوائد أبي يعلى الموصلي:

جمع فيه الزوائد بمسند أبي يعلى على الكتب الستَّة على أبواب الفقه، واقتصر فعلًا على الرواية المختصرة وهي رواية الحيري. وأضاف إليه زوائد مسند العشرة من الرواية المطولة التي سماها بالمسند الكبير (أورد بالقطعة المطبوعة 16 حديثًا من الكبير) تبلغ أحاديثه 2400 حديث‌‌(4).

 

‌‌12 - موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان:

فقد جمع فيه الهيثمي زوائد صحيح ابن حبان على صحيح البخاري وصحيح

--------------------------------------------

‌‌(1) وقد طبع الكتاب طبعتين، وتحقيقهما يحتاج لتحقيق. وله مخطوطة بالمكتبة الأحمدية بحلب.

‌‌(2) هذا ما ذكره الحافظ في مقدمة المطالب. وفي هذا نظر عندي إذ أن الهيثمي قد يورد من الكبير أيضًا كما ذكر في المجمع حديثًا وعزاه له (7/ 232) وغيره من المواضع التي تحتاج لتتبع.

‌‌(3) وللكتاب مختصر محذوف الأسانيد وكلا الكتابين موجود. وللأسف طبعت النسخة المجرَّدة بتحقيق الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي في أربعة مجلدات وبه نحو 4700 حديث، وكان يمكنه أن يطبع النسخة المسندة وإن كان فيها بعض مشقة عليه إلَّا أن إفادة طلبة العلم ونفعهم سيكون بالنسخة المسندة أعم وأنفع وأولى.

‌‌(4) له مخطوطة واحدة بمكتبة سليم آغا بتركيا وقد طبع بعضه حتى آخر كتاب الحج به (615) حديثًا بتحقيق الدكتور نايف أبي هاشم الدعيسي عام 1402 هـ. بمؤسسة تهامة بالسعودية.

৯ - মিসবাহুজ জুজাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনে মাজাহ:

এতে আল-বুসিরি আল-কুতুব আল-খামসাহ (সহীহাইন, সুনান আবি দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী এবং জামি' আত-তিরমিযী)-এর অতিরিক্ত ইবনে মাজাহ আল-কাযভিনীর সুনানের হাদিসসমূহ একত্রিত করেছেন(১)।

 

১০ - আল-মাতালিব আল-আলিয়াহ বি-যাওয়াইদ আল-মাসানিদ আল-সামানিয়াহ:

হাফেজ ইবনে হাজার এতে মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আল-হুমাইদি, ইবনে আবি উমর, মুসাদ্দাদ, আহমদ ইবনে মানি', আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, আবদ ইবনে হুমাইদ এবং আল-হারিস ইবনে আবি উসামাহ-এর সেই সকল হাদিস একত্রিত করেছেন যা কুতুবে সিত্তাহ ও মুসনাদে আহমদে নেই। তিনি এতে আল-হাইসামির বিপরীত মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-কাবিরের অতিরিক্ত হাদিসসমূহ যোগ করেছেন, কারণ হাইসামি তার যাওয়াইদ বর্ণনায় মুসনাদে সাগিরের ওপর নির্ভর করেছিলেন(২)। এছাড়াও তিনি এতে ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ-এর মুসনাদ থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত হাদিসগুলোও যুক্ত করেছেন, যদিও তিনি এর মাত্র অর্ধেক মুসনাদ হাতে পেয়েছিলেন। এভাবে তার অনুসরণকৃত মুসনাদের সংখ্যা দশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি অন্যান্য মুসনাদগুলো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়ায় আপাতত বাদ দিয়েছেন, তার ইচ্ছা ছিল এই উল্লিখিত দশটি মুসনাদের যাওয়াইদ উল্লেখ করে তার গবেষণা সম্পন্ন করা এবং পরবর্তীতে বাদ দেওয়া মুসনাদগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া গেলে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি তৈরির সময় সেগুলো যোগ করা(৩)।

 

১১ - আল-মাকসিদ আল-আলি ফী যাওয়াইদি আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি:

এতে তিনি ফিকহী অধ্যায় অনুসারে কুতুবে সিত্তাহ-এর অতিরিক্ত মুসনাদে আবু ইয়ালার হাদিসসমূহ সংগ্রহ করেছেন। তিনি মূলত সংক্ষিপ্ত সংস্করণ অর্থাৎ হিরি-র বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এর সাথে তিনি দীর্ঘ বর্ণনা থেকে যা মুসনাদে কাবীর নামে পরিচিত, তার 'মুসনাদে আশারাহ'-এর যাওয়াইদ যুক্ত করেছেন (মুদ্রিত অংশে কাবীর থেকে ১৬টি হাদিস আনা হয়েছে) যার হাদিস সংখ্যা ২৪০০ পর্যন্ত পৌঁছেছে(৪)।

 

১২ - মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান:

এতে আল-হাইসামি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের অতিরিক্ত সহীহ ইবনে হিব্বানের হাদিসসমূহ একত্রিত করেছেন

--------------------------------------------

(১) বইটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে, আর এগুলোর সম্পাদনার ক্ষেত্রে পুনরায় তাহকীকের প্রয়োজন রয়েছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি আলেপ্পোর আল-মাকতাবাতুল আহমাদিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত আছে।

(২) হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-মাতালিব-এর ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। তবে আমার দৃষ্টিতে এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে, কারণ হাইসামি কখনো কখনো মুসনাদে কাবীর থেকেও হাদিস উদ্ধৃত করেছেন যেমনটি তিনি আল-মাজমা' (৭/২৩২) এবং অন্যান্য স্থানে উল্লেখ করেছেন, যা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

(৩) বইটির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ রয়েছে যা থেকে সনদসমূহ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং উভয় গ্রন্থই বিদ্যমান। দুর্ভাগ্যবশত, সনদবিহীন সংস্করণটি শেখ হাবিবুর রহমান আল-আজমীর সম্পাদনায় চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে যেখানে প্রায় ৪৭০০টি হাদিস রয়েছে। তিনি সনদযুক্ত সংস্করণটি মুদ্রণ করতে পারতেন, যদিও তা তার জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য হতো, তবে শিক্ষার্থীদের উপকারের ক্ষেত্রে সনদযুক্ত সংস্করণটিই হবে অধিক ব্যাপক, ফলপ্রসূ ও অধিকতর শ্রেয়।

(৪) এর একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি তুরস্কের সলিম আগা লাইব্রেরিতে রয়েছে। এর কিছু অংশ কিতাবুল হাজ-এর শেষ পর্যন্ত (৬১৫টি হাদিস) ড. নায়েফ আবু হাশেম আদ-দা'য়িসির সম্পাদনায় ১৪০২ হিজরিতে সৌদি আরবের মুয়াসসাসাতু তুহামাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
مسلم لعدم الجدوى والفائدة من العزو إليه ما دام الحديث في الصحيحين أو أحدهما، وقد رتَّب أحاديثه بذكر أسانيدها على أبواب الفقه، واكتفى بذكر إسناده إلى ابن حبان في مقدمة الكتاب، ثم ساق كل حديث بإسناد ابن حبان إلى منتهاه‌‌(1).

وأرجو أن أكون بخدمتي لهذا السفر العظيم أن يشملني اللَّه عز وجل برحمته‌‌(2).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) وله مخطوطة وحيدة بالمكتبة المحمودية بالمدينة المنورة وقد حققه ونشره الشيخ الفاضل: محمد عبد الرزاق حمزة، وبه حوالي 2650 حديثًا.

‌‌(2) معظم هذا الفصل مستفاد من مقدمة المقصد العلي.

সহীহাইন বা এর কোনো একটিতে হাদীসটি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় মুসলিমের উদ্ধৃতি প্রদানের উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা না থাকায় তিনি তা বাদ দিয়েছেন। তিনি হাদীসগুলোকে ফিকহের অধ্যায় অনুসারে সনদসহ বিন্যস্ত করেছেন। গ্রন্থের শুরুতে ইবনে হিব্বান পর্যন্ত নিজের সনদ উল্লেখ করাই তিনি যথেষ্ট মনে করেছেন, এরপর ইবনে হিব্বানের সনদসহ প্রতিটি হাদীসকে তার শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।‌‌(১).

আর আমি আশা করি যে, এই মহান গ্রন্থের খিদমতের উসিলায় আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর রহমতের অন্তর্ভুক্ত করবেন।‌‌(২).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) মদীনা মুনাওয়ারার মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে এর একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি রয়েছে। ফাযেল শায়খ মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামযা এটি তাহকীক ও প্রকাশ করেছেন এবং এতে প্রায় ২৬৫০টি হাদীস রয়েছে।

‌‌(২) এই পরিচ্ছেদের অধিকাংশ আলোচনা ‘আল-মাকসাদুল আলী’র ভূমিকা থেকে সংগৃহীত।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الثاني التراجم

‌‌المبحث الأول ترجمة الإمام الحافظ: أبي بكر البزار

‌‌اسمه ونسبه:

هو الشيخ الإمام الحافظ الكبير: أبو بكر، أحمد بن عَمْرو بن عبد الخالق بن خلاد بن عبيد اللَّه، البصري، العتكي مولاهم. المعروف بالبزار‌‌(1).

ولد سنة نيف عشرة ومائتين، وتوفي في سنة 292 رحمه اللَّه تعالى‌‌(2).

 

‌‌شيوخه ومن سمع وروى عنهم:

هدبة بن خالد، وعبد الأعلى بن حماد، وعبد اللَّه بن معاوية الجمحي، ومحمد بن يحيى بن فياض الزِّمَّاني، وبشر بن معاذ العقدي، والبخاري (كشف 1005، 1345) وغيرهم.

وكثير من شيوخه مجاهيل وليست لهم تراجم، وهناك مثال عجيب لأحد شيوخه.

--------------------------------------------

‌‌(1) البزار: بفتح الباء المنقوطة بواحدة، والزاي المشددة، وفي آخرها الراء، هذا اسم لمن يخرج الدهن من البزر أو يبيعه. الأنساب للسمعاني (2/ 194 - 195).

‌‌(2) راجع موارد ترجمته بـ: سير أعلام النبلاء (13/ 554)، ولسان الميزان (1/ 238)، والرسالة المستطرفة (ص 68)، تاريخ بغداد (4/ 334)، المغني في الضعفاء (1/ 51)، ذيل ديوان الضعفاء (ص 18)، معرفة الرواة (ص 60 - 61)، الأعلام للزركلي (1/ 189)، سؤالات السهمي للدارقطني (رقمي 112، 116)، علل الدارقطني (1/ 117)، الباعث الحثيث (ص 64)، تذكرة الحفاظ (2/ 653)، الأنساب للسمعاني (2/ 195 - 196)، وتوضيح المشتبه (1/ 485)، فهرسة ابن خير (ص 262 - 263)، فهرس ابن عطية (ص 131)، تاريخ الأدب العربي (3/ 158)، كشف الظنون (2/ 1682)، تاريخ التراث العربي (1/ 316)، معجم المؤلفين (2/ 36).

দ্বিতীয় অধ্যায়: জীবনীসমূহ

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আল-হাফিয আবু বকর আল-বাযযার-এর জীবনী

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, সুমহান হাফিয: আবু বকর, আহমাদ ইবনে আমর ইবনে আব্দুল খালিক ইবনে খাল্লাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ, আল-বাসরি, আল-আতাকি (তাদের আযাদকৃত দাস)। তিনি আল-বাযযার নামে পরিচিত(১)।

তিনি দুইশত দশ হিজরীর কিছু পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৯২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন(২)।

 

তাঁর শিক্ষকগণ এবং যাঁদের নিকট থেকে তিনি শ্রবণ ও বর্ণনা করেছেন:

হুদবাহ ইবনে খালিদ, আব্দুল আ'লা ইবনে হাম্মাদ, আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া আল-জুমাহি, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ফায়যায আয-যিম্মানি, বিশর ইবনে মুয়ায আল-আকাদি, আল-বুখারি (কাশফ ১০০৫, ১৩৪৫) এবং অন্যান্যরা।

তাঁর অনেক শিক্ষকই অপরিচিত (মাজহুল) এবং তাঁদের কোনো জীবনী পাওয়া যায় না। তাঁর শিক্ষকদের একজনের ব্যাপারে একটি বিস্ময়কর উদাহরণ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-বাযযার: এক নুক্তাযুক্ত 'বা' এর ওপর ফাতহা (যবর), তাশদীদযুক্ত 'যা' এবং শেষে 'রা'। এটি এমন ব্যক্তির নাম যিনি বীজ থেকে তেল নিষ্কাশন করেন অথবা তা বিক্রি করেন। আস-সামআনি রচিত আল-আনসাব (২/ ১৯৪-১৯৫)।

(২) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ৫৫৪), লিসানুল মীযান (১/ ২৩৮), আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ (পৃ. ৬৮), তারিখু বাগদাদ (৪/ ৩৩৪), আল-মুগনি ফীদ দুয়াফা (১/ ৫১), যাইলু দিওয়ানিদ দুয়াফা (পৃ. ১৮), মা'রিফাতুর রুওয়াত (পৃ. ৬০-৬১), আয-যিরিকলি রচিত আল-আলাম (১/ ১৮৯), দারা কুতনি রচিত সুয়ালাতুস সাহমি (নম্বর ১১২, ১১৬), ইলালুদ দারা কুতনি (১/ ১১৭), আল-বাইসুল হাসীস (পৃ. ৬৪), তাযকিরাতুল হুফফায (২/ ৬৫৩), আস-সামআনি রচিত আল-আনসাব (২/ ১৯৫-১৯৬), তাওযীহুল মুশতাবিহ (১/ ৪৮৫), ফিহরাসাতু ইবনি খায়র (পৃ. ২৬২-২৬৩), ফিহরাসু ইবনি আতিয়্যাহ (পৃ. ১৩১), তারিখুল আদাবিল আরাবি (৩/ ১৫৮), কাশফুয যুনুন (২/ ১৬৮২), তারিখুত তুরাসিল আরাবি (১/ ৩১৬), মু'জামুল মুয়াল্লিফীন (২/ ৩৬)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فإنه ذكر بكشف الأستار [رقم 3605، وبالبحر الزخار رقم 946] حديثًا عن شيخه عِمران بن هارون البصري، وقال البزار: وكان شيخًا مستورًا، وكان عنده هذا الحديث وحده، وكان ينزل ناحية الخُريبة [موضع بالبصرة]، وكان الناس ينتابونه في هذا الحديث يسمعونه منه. . . ثم أورد عنه حديثًا منكرًا -كما وصفه بذلك الذهبي بترجمته بالميزان وأقرَّه الحافظ باللسان- ثم قال البزار: -كانوا يكتبونه قبل أن نولد نحن-، عنه.

 

‌‌تلاميذه ومن روى عنه:

روى عنه الكبار أمثال: أبي قانع، وابن نجيح، وأبي بكر الختلي، وأبي القاسم الطبراني‌‌(1) - ومنه تعلَّم إخراج أحاديث الأفراد والغرائب، فهو قدوته، ومن تتلمذ في إخراجها وانتقائها، وأبي الشيخ بن حيان‌‌(2)، وأبي جعفر ابن النحاس‌‌(3)، وغيرهم.

- ولعلَّ ابن جرير الطبري (ت 310) روى عنه أيضًا، ولكن الأمر محتمل: انظر التفسير له (ج 19 ص 30) وتهذيب الآثار أيضًا له، مسند علي (رقم 356).

وأبي الحسن: محمد بن أيوب بن حبيب بن الصموت الرقي، راوي المسند عنه‌‌(4)، وأبي العباس: أحمد بن الحسن بن عتبة الرازي - راويه أيضًا‌‌(5) وغيرهم.

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

قال أبو الشيخ: كان أحد حفاظ الدنيا رأسًا، حُكِي أنه لم يكن بعد علي بن المديني أعلم بالحديث منه، اجتمع عليه حفاظ أهل بغداد، فبركوا بين يديه فكتبوا عنه‌‌(6).

--------------------------------------------

‌‌(1) روى عنه هنا بالمختصر (رقما 125، 1992) وبمعاجمه: الصغير (1/ 51)، والأوسط (3/ 19 [برقم 2026])، والكبير [بأرقام: 477، 816، 831، 10026، 10247، 10248 مقرونًا، 11941، 11943] وغير ذلك، وبكتاب الدعاء له روايات كثيرة. راجع فهرس الرجال والأعلام به.

‌‌(2) كما في كتاب أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم وآدابه له (ص 37، 89) وكتاب العظمة له (رقمي 174، 560).

‌‌(3) كما في الناسخ والمنسوخ في القرآن له (ص 61، 191).

‌‌(4) كما في كشف الأستار (ص 7).

‌‌(5) كما في فهرسة ابن خير (ص 138).

‌‌(6) طبقات المحدثين بأصبهان له (1/ 108) ولسان الميزان (1/ 238).

কেননা তিনি কাশফুল আসতার-এ [৩৬০৫ নম্বর, এবং আল-বাহরুল যাখখার-এ ৯৪৬ নম্বর] তাঁর শিক্ষক ইমরান ইবনে হারুন আল-বসরী থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-বাজ্জার বলেন: তিনি একজন সাধারণ পর্যায়ের (মাস্তুর) শিক্ষক ছিলেন, তাঁর কাছে কেবল এই একটি হাদিসই ছিল। তিনি আল-খুরাইবাহ নামক এলাকায় [বসরা শহরের একটি স্থান] অবস্থান করতেন এবং মানুষ তাঁর কাছে আসা-যাওয়া করত তাঁর কাছ থেকে এই হাদিসটি শোনার জন্য... এরপর তিনি তাঁর থেকে একটি 'মুনকার' হাদিস বর্ণনা করেছেন—যেভাবে আল-জাহাবী আল-মিজান গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে একে বর্ণনা করেছেন এবং হাফিজ (ইবনে হাজার) আল-লিসান গ্রন্থে তা সমর্থন করেছেন—এরপর আল-বাজ্জার বলেন: আমাদের জন্মের পূর্বেই তারা এটি তাঁর থেকে লিখে নিয়েছিল।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ ও তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন:

বড় বড় আলিমগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যেমন: আবু কানে‘, ইবনে নাজিহ, আবু বকর আল-খুতালি এবং আবুল কাসিম আত-তাবারানি‌‌(১) - তাঁর কাছ থেকেই তিনি একাকী ও বিরল হাদিসসমূহ (আফরাদ ও গরাইব) সংকলন করতে শিখেছিলেন। অতএব তিনি ছিলেন তাঁর আদর্শ এবং তাঁর নিকটই তিনি হাদিস সংকলন ও তা বাছাই করার পদ্ধতি শিখেছিলেন। আরও বর্ণনা করেছেন আবুশ শায়খ ইবনে হাইয়ান‌‌(২), আবু জাফর ইবনে আন-নাহাস‌‌(৩) এবং অন্যান্যরা।

- সম্ভবত ইবনে জারির আত-তাবারীও (মৃত্যু ৩১০ হি.) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে বিষয়টি সম্ভাবনাময়: দেখুন তাঁর রচিত তাফসির (১৯তম খণ্ড, ৩০ পৃষ্ঠা) এবং তাঁরই রচিত তাহজিবুল আসার, মুসনাদে আলি (৩৫৬ নম্বর)।

এবং আবুল হাসান: মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে হাবিব ইবনে আস-সামুত আর-রাক্কি, তাঁর থেকে মুসনাদের বর্ণনাকারী‌‌(৪), এবং আবুল আব্বাস: আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে উতবাহ আর-রাজি—তিনিও তাঁর বর্ণনাকারী‌‌(৫) এবং অন্যান্যরা।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

আবুশ শায়খ বলেন: তিনি ছিলেন দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় হাফেজদের একজন। বর্ণিত আছে যে, আলি ইবনুল মাদিনির পর তাঁর চেয়ে অধিক হাদিস বিশারদ আর কেউ ছিলেন না। বাগদাদের হাদিস হাফেজগণ তাঁর কাছে সমবেত হতেন এবং তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তাঁর থেকে হাদিস লিখে নিতেন‌‌(৬)।

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি এখানে আল-মুখতাসার-এ (১২৫, ১৯৯২ নম্বর) এবং তাঁর মুজামসমূহে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আস-সগির (১/ ৫১), আল-আওসাত (৩/ ১৯ [২০২৬ নম্বর]), এবং আল-কাবির [ক্রমিক নম্বর: ৪৭৭, ৮১৬, ৮৩১, ১০০২৬, ১০২৪৭, ১০২৪৮ একত্রে, ১১৯৪১, ১১৯৪৩] ইত্যাদি গ্রন্থে। এছাড়াও তাঁর লিখিত কিতাবুদ দোয়া-তে অনেক বর্ণনা রয়েছে। এর বর্ণনাকারী ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের সূচিপত্র দেখুন।

‌‌(২) যেমনটি তাঁর রচিত আখলাকুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা ৩৭, ৮৯) এবং কিতাবুল আজমাহ (১৭৪, ৫৬০ নম্বর) গ্রন্থে রয়েছে।

‌‌(৩) যেমনটি তাঁর রচিত আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা ৬১, ১৯১) গ্রন্থে রয়েছে।

‌‌(৪) যেমনটি কাশফুল আসতার (পৃষ্ঠা ৭) গ্রন্থে রয়েছে।

‌‌(৫) যেমনটি ফিহরাসাতু ইবনে খাইর (পৃষ্ঠা ১৩৮) গ্রন্থে রয়েছে।

‌‌(৬) তাঁর রচিত তাবাকাতুল মুহাদ্দিসিন বি-আসফাহান (১/ ১০৮) এবং লিসানুল মিজান (১/ ২৩৮)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال أبو يوسف يعقوب بن المبارك: ما رأيت أنبل من البزار ولا أحفظ‌‌(1).

وقال الخطيب البغدادي‌‌(2): كان ثقة حافظًا، صنف المسند وتكلم على الأحاديث وبينّ عللها.

وقال ابن يونس: حافظ للحديث‌‌(3).

وقال ابن القطان الفاسي: كان أحفظ الناس للحديث‌‌(4).

 

‌‌أقوال الذين تكلَّموا فيه:

جرحه الإِمام النسائي‌‌(5).

قال أبو الشيخ: غرائب حديثه، وما ينفرد به كثير‌‌(6).

قال أبو أحمد الحاكم: يخطئ في الإِسناد والمتن‌‌(7).

قال الدارقطني: يخطئ في الإِسناد والمتن، حدَّث بالمسند بمصر حفظًا، ينظر في كتب الناس، ويحدِّث من حفظه، ولم تكن معه كتب فأخطأ في أحاديث كثيرة، يتكلمون فيه‌‌(8).

قال الذهبي في نقد بيان الوهم والإِيهام (ص 130): البزار كثير الغلط.

وقال الهيثمي في الكشف (3/ 219): البزار يتساهل في التوثيق.

--------------------------------------------

‌‌(1) تاريخ بغداد (4/ 334 - 335).

‌‌(2) في تاريخه (4/ 334). ونحوه للسمعاني في الأنساب (2/ 195).

‌‌(3) سير النبلاء (13/ 556)، والميزان (1/ 124).

‌‌(4) لسان الميزان (1/ 238 - 239).

‌‌(5) انظر سؤالات الحاكم للدارقطني (ص 93)، سير النبلاء (13/ 556)، الميزان (1/ 124).

‌‌(6) اللسان (1/ 238). وانظر رد ذلك بآخر ترجمته.

‌‌(7) سير النبلاء (13/ 556)، المغني في الضعفاء (1/ 51)، الميزان (1/ 124)، شذرات الذهب (2/ 209).

‌‌(8) سؤلات الحاكم للدارقطني (92 - 93)، تاريخ بغداد (4/ 335)، سير النبلاء (13/ 556)، الميزان (1/ 124).

আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনুল মুবারক বলেন: আমি আল-বাজারের চেয়ে বেশি মার্জিত এবং বড় হাফেজ আর কাউকে দেখিনি।‌‌(১)

আল-খতিব আল-বাগদাদী বলেন‌‌(২): তিনি নির্ভরযোগ্য হাফেজ ছিলেন, তিনি মুসনাদ গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং হাদিস নিয়ে আলোচনা করেছেন ও সেগুলোর ত্রুটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি হাদিসের হাফেজ ছিলেন‌‌(৩)।

ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি বলেন: তিনি হাদিস শাস্ত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাফেজ ছিলেন‌‌(৪)।

 

‌‌যারা তাঁর সমালোচনা করেছেন তাদের বক্তব্য:

ইমাম নাসাঈ তাঁর সমালোচনা করেছেন‌‌(৫)।

আবুশ শাইখ বলেন: তাঁর বিরল হাদিসসমূহ এবং যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন তা অনেক‌‌(৬)।

আবু আহমদ আল-হাকিম বলেন: তিনি সনদ ও মতনের ক্ষেত্রে ভুল করতেন‌‌(৭)।

আদ-দারাকুতনী বলেন: তিনি সনদ ও মতনের ক্ষেত্রে ভুল করতেন। তিনি মিশরে মুখস্থভাবে মুসনাদ বর্ণনা করেছিলেন। তিনি মানুষের কিতাবসমূহ দেখতেন এবং নিজের স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতেন। তাঁর কাছে কোনো কিতাব ছিল না, তাই তিনি অনেক হাদিসে ভুল করেছেন। তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়‌‌(٨)।

আয-যাহাবী ‘নাকদু বায়ানিল ওয়াহমি ওয়াল ইহতিমাম’ (পৃ. ১৩০) গ্রন্থে বলেন: আল-বাজার প্রচুর ভুল করতেন।

আল-হায়সামি ‘আল-কাশফ’ (৩/ ২১৯) গ্রন্থে বলেন: আল-বাজার নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) তারিখ বাগদাদ (৪/ ৩৩৪ - ৩৩৫)।

‌‌(২) তাঁর তারিখে (৪/ ৩৩৪)। আস-সামআনী ‘আল-আনসাব’ (২/ ১৯৫) গ্রন্থে অনুরূপ বলেছেন।

‌‌(৩) সিয়ারুন নুবালা (১৩/ ৫৫৬), এবং আল-মিজান (১/ ১২৪)।

‌‌(৪) লিসানুল মিজান (১/ ২৩৮ - ২৩৯)।

‌‌(৫) দেখুন আদ-দারাকুতনীর নিকট আল-হাকিমের প্রশ্নাবলী (পৃ. ৯৩), সিয়ারুন নুবালা (১৩/ ৫৫৬), আল-মিজান (১/ ১২৪)।

‌‌(৬) আল-লিসান (১/ ২৩৮)। তাঁর জীবনীর শেষে এর উত্তর দেখুন।

‌‌(৭) সিয়ারুন নুবালা (১৩/ ৫৫৬), আল-মুগনী ফিজ যুয়াফা (১/ ৫১), আল-মিজান (১/ ১২৪), শাযারাতুয যাহাব (২/ ২০৯)।

‌‌(৮) আদ-দারাকুতনীর নিকট আল-হাকিমের প্রশ্নাবলী (৯২ - ৯৩), তারিখ বাগদাদ (৪/ ৩৩৫), সিয়ারুন নুবালা (১৩/ ৫৫৬), আল-মিজান (১/ ১২৪)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌مصنفاته:

‌‌1 - المسند الكبير المعلَّل المسمى بالبحر الزخار:

وهو من أشهر مؤلفاته، حتى قال فيه الحافظ ابن كثير‌‌(1): ويقع في مسند الحافظ أبي بكر البزار من التعاليل ما لا يوجد في غيره من المسانيد.

وقال الكتاني في رسالته المستطرِفة‌‌(2): بيَّن فيه [البزار] الصحيح من غيره. قال العراقي: ولم يفعل ذلك إلَّا قليلًا، إلَّا أنه يتكلم في تفرَّد بعض رواة الحديث، ومتابعة غيره عليه.

- وقد بُدئ في طبع هذا المصنف الجليل، وطبع منه ثلاثة مجلدات تشتمل على ثمانية مسانيد من العشرة وصل حتى آواخر مسند سعد بن أبي وقاص.

‌‌2 - المسند الصغير:

وهو الذي حدَّث به بأصبهان‌‌(3).

‌‌3 - كتاب الأشربة وتحريم المسكر:

في جزء كبير‌‌(4).

‌‌4 - كتاب السنن:

فيه كلام على الرجال جرحًا وتعديلًا‌‌(5).

‌‌5 - الأمالي‌‌(6):

‌‌6 - جزء في معرفة من يُتْرَك حديثُه أو يُقْبَل‌‌(7):

ونُسِبَ للمصنِّف مؤلفات تحتاج لبحث واطلاع، عليها.

--------------------------------------------

‌‌(1) الباعث الحثيث، النوع الثامن عشر (ص 53).

‌‌(2) ص 68.

‌‌(3) انظر الرسالة المستطرفة (ص 68) والمعجم المفهرس للحافظ ابن حجر (مخطوط ق 58)، كما نقله محقق البحر (ص 14 بالمقدمة).

‌‌(4) فهرسة ابن خير (ص 262 - 263).

‌‌(5) تهذيب التهذيب (2/ 174)، و (7/ 4)، ولسان الميزان (1/ 61).

‌‌(6) تصب الراية (2/ 492)، والذهبي في الميزان (2/ 320) وأشار إليها ابن القيم في زاد المعاد (1 ج/ 89) ط. صبيح.

‌‌(7) ذكره السخاوي في فتح المغيث (1/ 180) عند أول كلامه على التدليس.

তাঁর গ্রন্থাবলি:

‌‌১ - আল-মুসনাদ আল-কাবীর আল-মুআল্লাল, যার নাম ‘আল-বাহরুজ যাখখার’:

এটি তাঁর অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ, এমনকি হাফেজ ইবনে কাসীর এর সম্পর্কে বলেছেন: হাফেজ আবু বকর আল-বাযযারের মুসনাদে এমন সব ত্রুটি বা ‘ইলাল’ বর্ণিত হয়েছে যা অন্য কোনো মুসনাদে পাওয়া যায় না।

আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ গ্রন্থে কাত্তানী বলেছেন: এতে তিনি [বাযযার] সহীহ ও অন্যান্য হাদিসের পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। ইরাকী বলেন: তিনি এটি খুব কমই করেছেন, তবে তিনি হাদিসের কিছু বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা এবং সেই বর্ণনায় অন্যদের সমর্থনের (মুতাবায়াত) বিষয়ে আলোচনা করেন।

- এই মহান গ্রন্থটি ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং এর তিনটি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে, যাতে দশটির মধ্যে আটটি মুসনাদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের মুসনাদের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

‌‌২ - আল-মুসনাদ আস-সগীর:

এটি সেই গ্রন্থ যা তিনি আসফাহানে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৩ - কিতাবুল আশরিবা ওয়া তাহরীমুল মুসকির (পানীয় ও মাদকদ্রব্য হারাম হওয়া বিষয়ক গ্রন্থ):

এটি একটি বড় খণ্ডে রচিত।

‌‌৪ - কিতাবুস সুনান:

এতে বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা (জারহ ও তা'দীল) সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে।

‌‌৫ - আল-আমালী:

‌‌৬ - যাদের হাদিস বর্জন করা হবে বা গ্রহণ করা হবে, তাদের চেনার বিষয়ে একটি পুস্তিকা:

লেখকের প্রতি আরও কিছু গ্রন্থকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-বা’ইস আল-হাসীস, অষ্টাদশ প্রকার (পৃ. ৫৩)।

‌‌(২) পৃ. ৬৮।

‌‌(৩) দেখুন আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ (পৃ. ৬৮) এবং হাফেজ ইবনে হাজার প্রণীত আল-মু’জাম আল-মুফাহরাস (পাণ্ডুলিপি, পৃষ্ঠা ৫৮), যেমনটি আল-বাহর গ্রন্থের মুহাক্কিক (ভূমিকার ১৪ পৃষ্ঠায়) উদ্ধৃত করেছেন।

‌‌(৪) ফিহরিস্ত ইবনে খাইর (পৃ. ২৬২ - ২৬৩)।

‌‌(৫) তাহযীবুত তাহযীব (২/ ১৭৪), এবং (৭/ ৪), এবং লিসানুল মীযান (১/ ৬১)।

‌‌(৬) নাসবুর রায়াহ (২/ ৪৯২), এবং আয-যাহাবী তাঁর আল-মীযান গ্রন্থে (২/ ৩২০) এবং ইবনুল কায়্যিম তাঁর যাদুল মা’আদ গ্রন্থে (১ম খণ্ড/ ৮৯ পৃ.) সবিহ সংস্করণ।

‌‌(৭) সাখাবী তাঁর ফাতহুল মুগীস গ্রন্থে (১/ ১৮০) তাদলীস সম্পর্কে আলোচনার শুরুতে এটি উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌7 - كتاب الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم‌‌(1):

‌‌8 - شرح الموطأ‌‌(2):

ونسب للمصنف أيضًا مؤلفات، وهي يقينًا خطأ وليست له.

‌‌9 - الأوسط‌‌(3):

‌‌10 - السنن الكبري‌‌(4):

 

فوائد عن الحافظ أبي بكر البزار:

- قال في الكشف [رقم 1504، والمختصر 1069] علي حديثٍ: رواه مالك في الموطأ.

‌‌1 - مما يدل علي أنه كان يملي من حفظه:

- قال في الكشف [رقم 1011]: ذهب عني واحدة.

قال في الكشف [رقم 1804]: حدَّثني رجل سماه، ذهب عني اسمه في هذا الوقت.

قال في الكشف [رقم 247]: حدثنا إسماعيل بن مسعود فيما أعلم.

وانظر [رقم 850] بالبحر، و [رقم 1904] بالمختصر، و [رقم 966] بالمختصر أيضًا.

--------------------------------------------

‌‌(1) عزاه له سزكين في تاريخ التراث العربي (1/ 316) وذكر نسخته المخطوطة. وكذا محقق البحر (ص 14) ولم يعز السخاوي في آخر القول البديع (ص 258 - 261) كتابًا في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم للبزار وهذا يؤيد أن عزوه له فيه نظر. واللَّه أعلم بالصواب.

‌‌(2) هكذا عزاه له كحالة في معجم المؤلفين (2/ 36)، فقال: ومن تصانيفه: شرح موطأ مالك؟! اهـ. قلت: ولا أظن هذا إلَّا وهمًا منه ولا أظن أن للحافظ البزار شرحًا للموطأ لانشغاله ببيان علل الحديث والتحديث وغير ذلك. وأظن أنه وقع له انتقال نظر من الترجمة التي بعده وهي أحمد بن عمرو بن السرح، فقد نسب إليه شرح موطأ مالك أيضًا. واللَّه تعالى أعلم.

‌‌(3) كذا وقع في مجمع الزوائد (2/ 283) بالسطر 10 وهو بالمختصر هنا [رقم 513]، فقال: … "البزار في الأوسط". اهـ. قلت: إما في المجمع سقط، ويكون صوابه: البزار [والطبراني] في الأوسط أو غير ذلك.

‌‌(4) كذا وقع في تخريج أحاديث الكشاف للزيلعي (مخطوط ق 8)، فقال في حديث: "رواه البزار في سننه الكبرى والصغرى". اهـ. قلت: وهو تحريف من الناسخ، والصواب: رواه النسائي، لأن الحديث المقصود بالسنن الصغرى والكبرى، والحمد للَّه على توفيقه.

৭ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ সংক্রান্ত কিতাব(১):

৮ - মুয়াত্তা-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ(২):

লেখকের প্রতি আরও কিছু রচনার সম্বন্ধ করা হয়েছে, যা নিশ্চিতভাবে ভুল এবং সেগুলো তাঁর নয়।

৯ - আল-আওসাত(৩):

১০ - আস-সুনানুল কুবরা(৪):

 

হাফেজ আবু বকর আল-বাযযার সম্পর্কে কিছু তথ্য:

- তিনি আল-কাশফ [নম্বর ১৫০৪, এবং আল-মুখতাসার ১০৬৯]-এ একটি হাদিস প্রসঙ্গে বলেছেন: এটি মালিক মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন।

১ - যা প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে হাদিস মুখস্থ লিখাতেন:

- তিনি আল-কাশফ [নম্বর ১০১১]-এ বলেছেন: একটি (তথ্য) আমার স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে।

তিনি আল-কাশফ [নম্বর ১৮০৪]-এ বলেছেন: আমাকে একজন ব্যক্তি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তবে এই মুহূর্তে নামটি আমার স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে।

তিনি আল-কাশফ [নম্বর ২৪৭]-এ বলেছেন: আমার জানামতে ইসমাইল ইবনে মাসউদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আর দেখুন আল-বাহর-এর [নম্বর ৮৫০], এবং আল-মুখতাসার-এর [নম্বর ১৯০৪], এবং আল-মুখতাসার-এরই [নম্বর ৯৬৬]।

--------------------------------------------

(১) সেজগিন তাঁর 'তারিখুত তুরাসিল আরাবি' (১/৩১৬) গ্রন্থে এটিকে তাঁর (বাযযারের) দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং এর একটি পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেছেন। একইভাবে 'আল-বাহর'-এর মুহাক্কিকও (পৃষ্ঠা ১৪) এটি করেছেন। তবে সাখাভী তাঁর 'আল-কাউলুল বাদি' গ্রন্থের শেষে (পৃষ্ঠা ২৫৮-২৬১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ সংক্রান্ত কোনো কিতাব বাযযারের দিকে সম্বন্ধ করেননি। এটি এই মতকে সমর্থন করে যে, এই কিতাবটি তাঁর দিকে সম্বন্ধ করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। আর আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন।

(২) কাহহালা তাঁর 'মুজামুল মুয়াল্লিফিন' (২/৩৬) গ্রন্থে এটিকে তাঁর প্রতি এভাবে সম্বন্ধ করেছেন এবং বলেছেন: এবং তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'শারহু মুয়াত্তা মালিক'?! সমাপ্ত। আমি বলছি: আমি মনে করি এটি তাঁর পক্ষ থেকে কেবল একটি বিভ্রান্তি মাত্র। হাফেজ বাযযারের মুয়াত্তার কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ আছে বলে আমি মনে করি না, কারণ তিনি হাদিসের ত্রুটি (ইলল) বর্ণনা করা এবং হাদিস বর্ণনা ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আমার ধারণা, তাঁর দৃষ্টি পরবর্তী জীবনী অর্থাৎ আহমদ বিন আমর বিন আস-সারাহ-এর জীবনীর দিকে চলে গিয়েছিল, কেননা তাঁর প্রতিও 'শারহু মুয়াত্তা মালিক' সম্বন্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

(৩) এটি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (২/২৮৩) এর ১০ নম্বর লাইনে এবং এখানকার 'আল-মুখতাসার'-এ [নম্বর ৫১৩] এভাবে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে: ... "বাযযার 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন"। সমাপ্ত। আমি বলছি: হয়তো মাজমাউয যাওয়াইদ-এ কোনো শব্দ বাদ পড়েছে, আর সঠিকটি হতে পারে: "বাযযার [এবং তাবারানি] 'আল-আওসাত'-এ" অথবা অন্য কিছু।

(৪) এটি যাইলাই রচিত 'তাখরিজু আহাদিসিল কাশশাফ' (পাণ্ডুলিপি, পৃষ্ঠা ৮)-এ এভাবে এসেছে; তিনি একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: "বাযযার এটি তাঁর 'আস-সুনানুল কুবরা' এবং 'আস-সুনানুস সুগরা'-তে বর্ণনা করেছেন"। সমাপ্ত। আমি বলছি: এটি অনুলিপিকারীর একটি বিকৃতি, আর সঠিক হলো: "নাসাঈ বর্ণনা করেছেন", কারণ হাদিসটি 'আস-সুনানুস সুগরা' এবং 'আস-সুনানুল কুবরা' (নাসাঈর কিতাব) দ্বারা উদ্দেশ্য। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর তাঁর তাওফিকের জন্য।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌2 - أورد حديثًا عن راوٍ متروك لحسن كلامه:

بالكشف [3066] وبالمختصر [2085] وفي إسناد الحديثه عبد اللَّه بن إبراهيم بن أبي عمرة، وهو متروك كما قال الحافظ بالتقريب. فقال البزار بعد روايته: وإنما ذكرنا هذا لحسن كلامه.

‌‌3 - مذهبه في الإرسال وزيادة الثقة:

يذهب إلى أنه إذا أرسل الحديث جماعة، وحدَّث به ثقة مسندًا فالقول قوله. انظر نقد بيان الوهم والإِيهام (ص 126 رقم 85).

‌‌4 - قد يتكلم على فقه حديث وينكره من جهة المعنى لا الإِسناد:

كما في حديث بالكشف [رقم 1513، وبالمختصر 1076].

‌‌5 - له أسانيد كثيرة عوالي:

منها الثلاثي كما في المختصر (رقم 1219).

ومنها الرباعي كما في المختصر أيضًا (أرقام 23، 26، 207، 224، 267، 305، 349، 394، 656، 720، 1090، 1103، 1113، 1191، 1290، 1414، 1660).

‌‌6 - المصنِّف كان له ابنٌ:

وهو: أبو العباس محمد بن أحمد. روى عنه الدارقطني والجراحي وغيرهما‌‌(1).

‌‌7 - اختصاصه بتصنيف الأحاديث الأفراد والغرائب عمن تقدمه على المسانيد:

لم أعلم من تقدَّم المصنف في تصنيف الأفراد والغرائب.

بعض الناس قد يطعن فيه لإِكثاره من الأحاديث الأفراد والغرائب. وقد عاب قديمًا إسماعيل بن محمد بن الفضل التيمي على تلميذ المصنف: الطبراني في جمع الأفراد مع ما فيها من النكارة الشديدة والموضوعات. فرد ذلك الحافظ ابن حجر في لسان الميزان (3/ 75)، وقال: وهذا أمر لا يختص به الطبراني فلا معنى لإفراده اليوم [أي بالذكر والقدح والعيب]، بل أكثر المحدثين في الأعصار الماضية من سنة مائتين وهلم جرًا إذا ساقوا الحديث بإسناده اعتقدوا أنهم برئوا من عهدته. واللَّه أعلم. اهـ. وأقرَّه السيوطي في اللآلئ المصنوعة (1/ 19).

--------------------------------------------

‌‌(1) مترجم بالأنساب للسمعاني (2/ 195 - 196) وتوضيح المشتبه لابن ناصر (1/ 485).

২ - তিনি একজন 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত) রাবীর থেকে তাঁর কথার চমৎকারিত্বের কারণে হাদিস বর্ণনা করেছেন:

'কাশফ' [৩০৬৬] এবং 'মুখতাসার' [২০৮৫] গ্রন্থে হাদিসটি রয়েছে; এই হাদিসের সনদে আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আবি আমরাহ রয়েছেন, যিনি হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাকরীব' গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন সে অনুযায়ী 'মাতরুক'। বাজ্জার হাদিসটি বর্ণনার পর বলেন: "আমরা এটি উল্লেখ করেছি কেবল এর কথার চমৎকারিত্বের কারণে।"

৩ - হাদিস 'মুরসাল' হওয়া এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (যিয়াদাতুথ থিকাহ) সম্পর্কে তাঁর মাযহাব:

তিনি এই মত পোষণ করেন যে, যদি একদল বর্ণনাকারী কোনো হাদিসকে 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী সেটি 'মুসনাদ' (সংযুক্ত সনদ) হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে সেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর কথাটিই গ্রহণযোগ্য হবে। দেখুন: নাকদু বায়ানিল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম (পৃষ্ঠা ১২৬, নম্বর ৮৫)।

৪ - কখনো কখনো তিনি হাদিসের ফিকহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং সনদের পরিবর্তে অর্থের দিক থেকে তা প্রত্যাখ্যান করেন:

যেমনটি 'কাশফ' [নম্বর ১৫১৩] এবং 'মুখতাসার' [১০৭৬] গ্রন্থের হাদিসে রয়েছে।

৫ - তাঁর অনেক 'আওয়ালী' (উচ্চস্তরের বা সংক্ষিপ্ত) সনদ রয়েছে:

তার মধ্যে রয়েছে 'থুলাসি' (তিন স্তরবিশিষ্ট) সনদ, যেমনটি 'মুখতাসার' গ্রন্থে রয়েছে (নম্বর ১২১৯)।

এবং তার মধ্যে রয়েছে 'রুবায়ি' (চার স্তরবিশিষ্ট) সনদ, এটিও 'মুখতাসার' গ্রন্থে রয়েছে (নম্বর ২৩, ২৬, ২০৭, ২২৪, ২৬৭, ৩০৫, ৩৪৯, ৩৯৪, ৬৫৬, ৭২০, ১০৯০, ১১০৩, ১১১৩, ১১৯১, ১২৯০, ১৪১৪, ১৬৬০)।

৬ - গ্রন্থকারের একজন পুত্র ছিল:

তিনি হলেন: আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ। তাঁর থেকে দারা কুতনী, জাররাহী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন(১)।

৭ - 'মুসনাদ' সংকলনকারী পূর্বসূরীদের তুলনায় তাঁর 'আফরাদ' এবং 'গরাইব' (একক ও বিরল) হাদিস সংকলনে বিশেষত্ব:

'আফরাদ' ও 'গরাইব' সংকলনে গ্রন্থকারের পূর্বে আর কেউ ছিলেন কি না তা আমার জানা নেই।

কিছু মানুষ অত্যধিক 'আফরাদ' এবং 'গরাইব' হাদিস বর্ণনা করার কারণে তাঁর সমালোচনা করতে পারেন। ইতিপূর্বে ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ফজল আত-তাইমি গ্রন্থকারের ছাত্র তাবারানীর 'আফরাদ' হাদিস সংকলনের সমালোচনা করেছিলেন, কারণ তাতে অত্যন্ত আপত্তিকর (নাকারা) এবং বানোয়াট (মাওদু) হাদিস ছিল। হাফিজ ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান' গ্রন্থে (৩/৭৫) এর উত্তর দিয়েছেন এবং বলেছেন: "এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা কেবল তাবারানীর সাথেই নির্দিষ্ট, তাই আজ তাকে এককভাবে দোষারোপ করার কোনো মানে হয় না [অর্থাৎ তাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা বা সমালোচনা করা]। বরং দুইশত হিজরি বা এর পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ মুহাদ্দিস যখন কোনো হাদিসকে তার সনদসহ উল্লেখ করতেন, তখন তারা মনে করতেন যে তারা এর দায়ভার থেকে মুক্ত হয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।" সমাপ্ত। সুয়ূতীও 'আল-লাআলিল মাসনুআহ' গ্রন্থে (১/১৯) এটিকে সমর্থন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সামআনী রচিত 'আল-আনসাব' (২/ ১৯৫-১৯৬) এবং ইবনে নাসির রচিত 'তাওদিহুল মুশতাবহ' (১/ ৪৮৫) গ্রন্থে তাঁর জীবনী সংকলিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الثاني ترجمة الحافظ نور الدين الهيثمي

ولادته في رجب سنة 735 - وفاته ليلة الثلاثاء 29 رمضان 807.

هو أبو الحسن نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان بن أبي بكر بن عمر بن صالح الهيثمي الحافظ.

كان أبوه صاحب حانوت في صحراء الفسطاط بينها وبين المقطم، فولد له في رجب سنة 735، نشأ في تلك البقعة المنعزلة، وقرأ القرآن، ثم ساقته المقادير قبل سنة 750 لصحبة رجل الحديت النبوي وعلومه في عصره الحافظ زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقي (725 - 806) وكان الهيثمي يومئذٍ في الخامسة عشرة والعراقي في الخامسة والعشرين، فشمله بعطفه ورعايته وعنايته، وحبَّب إليه العلوم الإِسلامية والحصول عليها من ينابيعها الأولى، وكان الزين العراقي في صدر حياته العلمية وأوائل طلبه لعلوم الستة، فصحبه في هذا الطريق المنير وسار معه فيه متعاونين على البر والتقوى، ولازمه إلى أن فرق الموت بينهما بعد صحبة ست وخمسمين سنة، وكان الهيثمي في هذه العشرة الطويلة الأخ الأصغر لهذا الأخ الأكبر، فخدمه، وانتفع به، وسمع معه من شيوخه، فاشتركا معًا في أكثر من أخذا عنهم العلم في بقايا مدينة الفسطاط والقاهرة، وفي الحرمين الشريفين وبيت المقدس ودمشق وبعلبك وحلب وحماة وحمص وطرابلس الشام وغيرها.

سمعا معًا -في ابتداء الطلب- على الخطيب أبي الفتح الميدومي في مصر فأكثرا عنه، وهو من أعلى مشايخهما إسنادًا، وعلي ابن الملوك، وابن القطرواني، وغيرهم من المصريين.

ثم رحلا إلى دمشق سنة 765 فسمعا من محمد بن إسماعيل بن الخباز، ومن أبي العباس أحمد بن عبد الرحمن المرداوي وابن الحموي، وابن قيم الضيائية، والجم الغفير من أصحاب الفخر بن البخاري، وابن عساكر وغيرهم. وتكرَّرت رحلاتهما مرات إلى دمشق وحلب والحجاز. وأرادا الدخول إلى العراق، ففترت همتهما من خوف الطريق في ذلك الحين. وذهبا إلى الإِسكندرية. ثم عزما على التوجه إلى تونس والمغرب فلم يقدَّر لهما ذلك.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাফিজ নূরুদ্দীন আল-হাইসামীর জীবনী

তাঁর জন্ম ৭৩৫ হিজরীর রজব মাসে এবং মৃত্যু ৮০৭ হিজরীর ২৯শে রমজান মঙ্গলবার দিবাগত রাতে।

তিনি হলেন হাফিজ আবুল হাসান নূরুদ্দীন আলী বিন আবু বকর বিন সুলাইমান বিন আবু বকর বিন উমর বিন সালিহ আল-হাইসামী।

তাঁর পিতা ফুস্তাত এবং মুকাত্তামের মধ্যবর্তী মরুভূমিতে একটি দোকানের মালিক ছিলেন। ৭৩৫ হিজরীর রজব মাসে সেখানেই তাঁর জন্ম হয়। তিনি এই নির্জন স্থানেই বেড়ে ওঠেন এবং কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন। অতঃপর ৭৫০ হিজরীর পূর্বে নিয়তি তাঁকে তাঁর সময়ের হাদীস শাস্ত্র ও এর আনুষঙ্গিক জ্ঞানসমূহের দিকপাল হাফিজ যায়নুদ্দীন আব্দুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী (৭২৫-৮০৬ হি.)-এর সান্নিধ্যে নিয়ে যায়। তখন আল-হাইসামীর বয়স ছিল পনেরো বছর এবং আল-ইরাকীর বয়স ছিল পঁচিশ বছর। আল-ইরাকী তাঁকে তাঁর স্নেহ, তত্ত্বাবধান ও যত্নে আগলে রাখেন এবং তাঁর মাঝে ইসলামী জ্ঞানসমূহের প্রতি ভালোবাসা এবং এর মূল উৎস থেকে তা অর্জনের আগ্রহ সৃষ্টি করেন। যায়নুল ইরাকী তখন তাঁর জ্ঞানসাধনার জীবনের প্রারম্ভে এবং সিত্তাহ (হাদীসের ছয়টি কিতাব) বিষয়ক জ্ঞান অর্জনের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলেন। ফলে হাইসামী এই আলোকিত পথে তাঁর সঙ্গী হন এবং নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরেরকে সহযোগিতা করে পথ চলতে থাকেন। মৃত্যুর কারণে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ছাপ্পান্ন বছর তিনি তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। দীর্ঘ সাহচর্যের এই সময়গুলোতে আল-হাইসামী বড় ভাইয়ের প্রতি ছোট ভাইয়ের মতো অনুগত ছিলেন। তিনি তাঁর সেবা করতেন, তাঁর থেকে উপকৃত হতেন এবং তাঁর সাথে তাঁর শিক্ষকদের নিকট হাদীস শ্রবণ করতেন। ফুস্তাত ও কায়রোর অবশিষ্টাংশ, হারামাইন শরীফাইন (মক্কা ও মদিনা), বায়তুল মাকদিস, দামেস্ক, বালবিক, আলেপ্পো, হামাত, হিমস, সিরিয়ার ত্রিপোলি এবং অন্যান্য স্থানে তাঁরা উভয়ে একসাথে অধিকাংশ উস্তাদ থেকে ইলম অর্জন করেন।

ইলম অর্জনের শুরুতে মিশরে তাঁরা খতীব আবুল ফাতহ আল-মাইদুমীর নিকট একত্রে হাদীস শ্রবণ করেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তাঁদের উচ্চ সনদধারী শায়খদের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া তাঁরা আলী ইবনুল মুলুক, ইবনুল কাতারওয়ানী এবং অন্যান্য মিশরীয় আলিমদের কাছেও ইলম অর্জন করেন।

অতঃপর ৭৬৫ হিজরীতে তাঁরা দামেস্কে সফর করেন। সেখানে তাঁরা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল- খাব্বাজ, আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-মারদাওয়ী, ইবনুল হামাউয়ী, ইবনে কায়্যিম আদ-দিয়াঈয়্যাহ এবং ফখর ইবনুল বুখারী ও ইবনে আসাকিরের শিষ্যদের একটি বিশাল দলের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। দামেস্ক, আলেপ্পো এবং হিজাজে তাঁদের বারবার সফর হয়েছে। তাঁরা ইরাকে প্রবেশের ইচ্ছা করেছিলেন, কিন্তু তৎকালীন সময়ে পথের বিপত্তির আশঙ্কার কারণে তাঁদের সেই সংকল্প শিথিল হয়ে যায়। তাঁরা আলেকজান্দ্রিয়াতেও গিয়েছিলেন। এরপর তিউনিসিয়া ও মরক্কো অভিমুখে যাওয়ার সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তা তাঁদের ভাগ্যে নির্ধারিত ছিল না।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي سنة 788 ولي الحافظ العراقي قضاء المدينة، وكان يومئذٍ في الثالثة والخمسين، وزميله الحافظ الهيثمي في الثالثة والأربعين، فأقاما فيها نحو ثلاث سنين، ولما أراد الحافظ العراقي الرجوع من المدينة جعل وداعه لهذه العاصمة الأولى من عواصم الإسلام جمع أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم في فضل العرب الذين قام على عواتقهم البنيان الأول للكيان الإِسلامي، قال في آخرها "أكملت تبييضه في يوم الثلاثاء 25 من شهر رجب سنة 791 بالمدينة الشريفة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام".

وكان معهم في هذه الحقبة الابن النجيب للحافظ العراقي ولي الدين أحمد بن عبد الرحيم المولود في ذي الحجة سنة 762، وكان في ذلك الحين في العقد الثالث من حياته.

ومن الشيوخ الذين أخذ عنهم الحافظ الهيثمي في مختلف البلاد -مشتركًا مع الحافظ العراقي أو منفردًا- عبد الرحمن بن عبد الهادي، ومحمد بن إسماعيل بن الملوك، ومحمد بن عبد اللَّه النعماني، وأحمد بن الرصدي، والحافظ العرضي، ومظفر الدين محمد بن محمد بن يحيى العطار، وعلاء الدين التركماني.

قال الشمس السخاوي في الضوء اللامع (5/ 201): وهو مكثر سماعًا وشيوخًا، ولم يكن الحافظ زين الدين العراقي يعتمد في شيء من أموره إلَّا عليه، حتى إنه أرسله مع ولده ولي الدين لما ارتحل بنفسه إلى دمشق، وزوجه ابنته خديجة، ورزق منها عدة أولاد، وكتب الكثير من تصانيف الشيخ، بل قرأ عليه أكثرها، بل تخرج به في الحديث، وقال قبل ذلك: لم يفارق الزين العراقي سفرًا وحضرًا حتى مات، فحج معه جميع حجاته، ورحل معه سائر رحلاته، ورافقه في جميع مسموعه، وربما سمع الزين بقراءته، ولم ينفرد عنه الزين بغير شهاب الدين بن البابا والتقي السبكي، وعبد الرحيم بن شاهد الجيش. كما أن الهيثمي لم ينفرد عن الحافظ العراقي بغير صحيح مسلم على ابن عبد الهادي.

والحافظ العراقي هو الذي درَّب الهيثمي في إفراد زوائد الكتب، كالمعاجم الثلاثة للطبراني، والمسانيد الثلاثة: لأحمد، والبزار، وأبي يعلى الموصلي.

وأول ما أشار عليه بجمعه، وأعانه عليه بما عنده من الكتب، وأرشده إلى التصرف في ذلك: زوائد مسند الإِمام أحمد. لما فرغ من تسويده راجعه الحافظ العراقي، وسماه "غاية المقصد، في زوائد الإِمام أحمد"، وهو في مجلدين.
এবং ৭৮৮ হিজরিতে হাফেজ ইরাকি মদিনার বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন। তখন তার বয়স ছিল তিপ্পান্ন বছর এবং তার সহকর্মী হাফেজ হাইসামির বয়স ছিল তেতাল্লিশ বছর। তারা সেখানে প্রায় তিন বছর অবস্থান করেন। হাফেজ ইরাকি যখন মদিনা থেকে ফিরে আসার ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন ইসলামের এই প্রথম রাজধানীর বিদায়বেলায় তিনি সেই আরবদের ফযিলত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসগুলো সংকলন করেন, যাদের কাঁধে ভর করে ইসলামি সত্তার প্রথম ভিত্তি দাঁড়িয়েছিল। তিনি এর শেষে বলেন, "আমি পবিত্র মদিনা নগরীতে এর বাসিন্দার ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—মঙ্গলবার ২৫শে রজব, ৭৯১ হিজরিতে এর পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছি।"

এই সময়ে তাদের সাথে ছিলেন হাফেজ ইরাকির সুযোগ্য পুত্র ওলিউদ্দিন আহমদ বিন আব্দুর রহিম, যিনি ৭৬২ হিজরির জিলহজ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ে তিনি তার জীবনের তৃতীয় দশকে পদার্পণ করেছিলেন।

হাফেজ হাইসামি বিভিন্ন দেশে যাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন—হাফেজ ইরাকির সাথে যৌথভাবে অথবা এককভাবে—সেই শাইখদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুর রহমান বিন আব্দুল হাদি, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-মুলুক, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুমানি, আহমদ বিন আর-রাসদি, হাফেজ আল-আরাদি, মুজাফফর উদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-আত্তার এবং আলাউদ্দিন আত-তুর্কমানি।

শামস আস-সাখাভি 'আদ-দাও আল-লামি' (৫/২০১) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি (হাইসামি) হাদিস শ্রবণ এবং শাইখদের সাহচর্যের দিক থেকে অনেক সমৃদ্ধ ছিলেন। হাফেজ যয়নুদ্দিন ইরাকি তার কোনো বিষয় বা কাজের ক্ষেত্রেই তাকে ছাড়া কারো ওপর নির্ভর করতেন না; এমনকি যখন তিনি নিজে দামেস্কে সফর করেছিলেন তখন তাকে তার পুত্র ওলিউদ্দিনের সাথে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তার কন্যা খাদিজাকে তার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন এবং তাদের ঘরে বেশ কটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তিনি (হাইসামি) শাইখের অনেক কিতাব লিপিবদ্ধ করেন, বরং সেগুলোর অধিকাংশ তার কাছে পাঠ করেন এবং হাদিস শাস্ত্রে তার মাধ্যমেই ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি এর আগে বলেছেন: তিনি সফরে কিংবা আবস্থানে মৃত্যু পর্যন্ত যয়নুদ্দিন ইরাকির সঙ্গ ত্যাগ করেননি। তিনি তার সাথে তার সকল হজে অংশগ্রহণ করেছেন, তার সকল সফরে সঙ্গী হয়েছেন এবং তার শ্রুত সকল হাদিসের আসরে সাথে ছিলেন। কখনো কখনো যয়নুদ্দিন (ইরাকি) হাইসামির পাঠের মাধ্যমেই হাদিস শ্রবণ করতেন। শিহাবুদ্দিন বিন আল-বাবা, তাকি আল-সুবকি এবং আব্দুর রহিম বিন শাহিদ আল-জাইশ ছাড়া আর কারো নিকট শ্রবণে যয়নুদ্দিন (ইরাকি) একক ছিলেন না। তেমনিভাবে ইবনুল আব্দুল হাদির নিকট সহিহ মুসলিম শ্রবণ করা ছাড়া হাইসামিও হাফেজ ইরাকি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এককভাবে কারো কাছে পড়েননি।

হাফেজ ইরাকিই মূলত হাইসামিকে কিতাবসমূহের 'যাওয়ায়েদ' (অতিরিক্ত হাদিসসমূহ) পৃথক করার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, যেমন তাবারানির তিনটি মুজাম এবং আহমদ, বাজার ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির তিনটি মুসনাদ।

তিনি সর্বপ্রথম তাকে যা সংকলন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং তার কাছে থাকা কিতাবাদি দিয়ে তাকে সাহায্য করেছিলেন ও এ বিষয়ে তাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা হলো: মুসনাদে ইমাম আহমদের 'যাওয়ায়েদ'। যখন তিনি এর খসড়া লেখা শেষ করেন, হাফেজ ইরাকি তা পর্যালোচনা করেন এবং এর নামকরণ করেন "গায়াতুল মাকসাদ ফি যাওয়ায়েদিল ইমাম আহমদ"। এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌مصنفات الحافظ الهيثمي:

تنقسم مصنفات الحافظ الهيثمي إلى نوعين. تخريج زوائد وترتيب لبعض الكتب.

فمن كتب الزوائد (مرتبًا هجائيًا):

‌‌1 - البدر المنير في زوائد المعجم الكبير.

‌‌2 - بغية الباحث عن زوائد مسند الحارث.

‌‌3 - غاية المقصد في زوائد المسند.

‌‌4 - كشف الأستار عن زوائد البزار.

‌‌5 - مجمع البحرين في زوائد المعجمين [الأوسط والصغير].

‌‌6 - "مجمع الزوائد ومنبع الفوائد" في الأحاديث الزوائد.

‌‌7 - المقصد العلي في زوائد أبي يعلى الموصلي.

‌‌8 - موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان‌‌(1).

أما كتب الترتيب فهي نوعان:

(أ) ترتيب لبعض المصنفات على أبواب الكتب الفقهية، ومنها:

‌‌9 - تقريب البغية في تخاريج أحاديث الحلية‌‌(2).

‌‌10 - ترتيب الغيلانيات.

‌‌11 - ترتيب الخلعيات.

‌‌12 - ترتيب فوائد تمام‌‌(3).

‌‌13 - ترتيب الأفراد للدارقطني.

(ب) ترتيب لبعض المصنفات في تراجم الرجال على حروف المعجم:

‌‌14 - ترتيب ثقات العجلي‌‌(4).

--------------------------------------------

‌‌(1) وقد سبق التعريف بهذه الكتب جميعًا في فضل أهمية الزوائد.

‌‌(2) وتوجد مخطوطته بدار الكتب المصرية العامرة. وهو ترتيب فقط وليس تخريجًا على الكتب كما يفهم من عنوانه. وقد وهم السيوطي (ذيل تذكرة الحفاظ ص 373) وتبعه الكتاني في الرسالة المستطرفة فسمياه زوائد الحلية ووهما في ذلك.

‌‌(3) مع أن بعض المعاصرين قد بدأ في ترتيبه وتخريجه وسماه الروض البسام بترتيب وتخريج فوائد تمام ولم ينبه إلى سبق الهيثمي بهذا العمل.

‌‌(4) وقد طبع طبعتين والحمد للَّه، وأصل الكتاب وهو ثقات العجلي مفقود لم يُعثر إلَّا على قطعة منه.

হাফেজ আল-হাইসামীর রচনাবলি:

হাফেজ আল-হাইসামীর রচনাবলি দুই ভাগে বিভক্ত। জাওয়ায়েদ (অতিরিক্ত হাদীস) সংকলন এবং কিছু কিতাবের বিন্যাস (তারতীব)।

জাওয়ায়েদ বিষয়ক কিতাবসমূহ (বর্ণানুক্রমিকভাবে):

‌‌১ - আল-বাদরুল মুনীর ফী জাওয়ায়েদি আল-মু'জামিল কাবীর।

‌‌২ - বুগইয়াতুল বাহিস আন জাওয়ায়েদি মুসনাদিল হারিস।

‌‌৩ - গায়াতুল মাকসাদ ফী জাওয়ায়েদিল মুসনাদ।

‌‌৪ - কাশফুল আসতার আন জাওয়ায়েদিল বাজ্জার।

‌‌৫ - মাজমাউল বাহরাইন ফী জাওয়ায়েদিল মু'জামাইন [আল-আওসাত ও আস-সাগীর]।

‌‌৬ - জাওয়ায়েদ হাদীসসমূহ নিয়ে রচিত "মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ"।

‌‌৭ - আল-মাকসাদুল আলী ফী জাওয়ায়েদি আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি।

‌‌৮ - মাওয়ারিদুয জামআন ইলা জাওয়ায়েদি ইবনু হিব্বান‌‌(১)।

আর বিন্যাসকৃত (তারতীব) কিতাবসমূহ দুই প্রকার:

(ক) ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী কিছু কিতাবের বিন্যাস, যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌৯ - তাকরীবুল বুগইয়াহ ফী তাখরিজি আহাদিসিল হিলইয়াহ‌‌(২)।

‌‌১০ - তারতীবুল গাইলানিয়্যাত।

‌‌১১ - তারতীবুল খুলআয়িয়্যাত।

‌‌১২ - তারতীবু ফাওয়াইদি তাম্মাম‌‌(৩)।

‌‌১৩ - তারতীবুল আফরাদ লিদ দারাকুতনী।

(খ) বর্ণানুক্রমিকভাবে রাবীদের জীবনী বিষয়ক কিছু কিতাবের বিন্যাস:

‌‌১৪ - তারতীবু সিকাতিল ইজলী‌‌(৪)।

--------------------------------------------

‌‌(১) জাওয়ায়েদ শাস্ত্রের গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অধ্যায়ে এই কিতাবগুলোর সব কটির পরিচয় ইতিপূর্বে প্রদান করা হয়েছে।

‌‌(২) এর পাণ্ডুলিপি মিসরের সমৃদ্ধ ‘দারুল কুতুব’-এ বিদ্যমান রয়েছে। এটি কেবল বিন্যাস (তারতীব), কিতাবসমূহের উৎস অনুসন্ধান (তাখরীজ) নয়—যেমনটি এর শিরোনাম থেকে অনুমিত হয়। ইমাম সুয়ূতী (যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ, পৃষ্ঠা ৩৭৩) এক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং আল-কাত্তানী ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ’ গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেছেন; তাঁরা উভয়ে একে ‘যাওয়ায়েদুল হিলইয়াহ’ নামে অভিহিত করেছেন এবং এটি তাদের ভুল।

‌‌(৩) যদিও বর্তমান সময়ের কেউ কেউ এর বিন্যাস ও তাখরীজ শুরু করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন ‘আর-রওদুল বাসসাম বি-তারতীব ওয়া তাখরীজি ফাওয়াইদি তাম্মাম’, তবে তিনি এই কাজে আল-হাইসামীর অগ্রগামী হওয়ার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত প্রদান করেননি।

‌‌(৪) আলহামদুলিল্লাহ, এটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে। কিতাবটির মূল পাণ্ডুলিপি ‘সিকাতুল ইজলী’ বর্তমানে বিলুপ্ত, এর কেবল একটি অংশ ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌15 - ترتيب ثقات ابن حبان‌‌(1).

قال مترجمو الحافظ الهيثمي: كان عجبًا في الدين والتقوى والزهد، والإِقبال على العلم والعبادة والأوراد، وخدمة الشيخ، وعدم مخالطة الناس في شيء من الأمور، والمحبة في الحديث وأهله.

حدث بالكثير رفيقًا للزين العراقي، بل قلَّ أن حدث الزين بشيء إلَّا وهو معه، وكذلك قل أن حدث هو بمفرده، لكنهم بعد وفاة الشيخ أكثروا عنه، ومع ذلك فلم يغير حاله، ولا تصدر، ولا تمشيخ، وكان مع كونه شريكًا للشيخ يكتب عنه الأمالي بحيث كتب عنه جميعها، وربما استملى منه، ويحدث بذلك عن الشيخ لا عن نفسه، إلَّا لمن يلح عليه.

قال السخاوي: قال شيخنا -يعني ابن حجر- في معجمه: وكان خيرًا ساكنًا لينًا، سليم الفطرة، شديد الإِنكار للمنكر، كثير الاحتمال لشيخنا ولأولاده. ثم قال الحافظ ابن حجر إنه قرأ عليه إلى أثناء الحج من "مجمع الزوائد" سوى المجلس الأول منه، قال: وكان يودني كثيرًا ويعينني عند الشيخ. قال: وبلغه أنني تتبعت أوهامه في "مجمع الزوائد" فعاتبني، فتركت ذلك إلى الآن، واستمر على المحبة والمودة، قال: وكان كثير الاستخصار للمتون، يسرع الجواب بحضرة الشيخ، فيعجب الشيخ ذلك. وقد عاشرتهما مدة فلم أرهما يتركان قيام الليل، ورأيت من خدمته لشيخنا وتأدبه معه -من غير تكلف لذلك- ما لم أره لغيره، لا أظن أحدًا يقوى عليه. وذكر الحافظ ابن حجر عن نفسه أنه لازمهما بعد عودتهما من المدينة، فطالت مدة صحبته لهما عشر سنين تخللتها رحلات الحافظ ابن حجر إلى الشام وغيرها. ومما قاله الحافظ في إنباء الغمر: إن الهيثمي صار كثير الاستخصار للمتون جدًا لكثرة الممارسة، وكان كثير الخير والاحتمال للأذى، خصوصًا من جماعة الشيخ. وقد شهد لي بالتقدم في الفن، جزاه اللَّه عني خيرًا.

وقال البرهان الحلبي في مشيخته: كان من محاسن القاهرة، ومن أهل الخير،

--------------------------------------------

‌‌(1) ما زال الكتاب مخطوطًا. وله نسخة بدار الكتب المصرية من مجلدين (برقمي 7345، 7346 ف) الجزء الأول حتى "الحكم بن فضيل الواسطي" والمجلد الثالث والأخير أوله "ميمون أبو المهدي" حتى آخره. كتبت في القرن التاسع. وهو من مصورات جامعة الإمام ابن سعود. كما في المجلد الأول من الجزء الثالث (ص 161).

১৫ - ইবনে হিব্বানের 'সিকাত' গ্রন্থের বিন্যাস(১).

হাফেজ হাইসামীর জীবনীকারগণ বলেছেন: তিনি দ্বীনদারী, তাকওয়া, যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), ইলম ও ইবাদতে নিমগ্ন থাকা, জিকির-আযকার, শায়খের খিদমত, দুনিয়াবী কোনো বিষয়ে মানুষের সাথে মেলামেশা বর্জন এবং হাদীস ও হাদীসবিদদের প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি যাইনুদ্দীন ইরাকীর সঙ্গী হিসেবে প্রচুর হাদীস বর্ণনা করেছেন; বরং যাইনুদ্দীন ইরাকী যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর সাথে থাকতেন। অনুরূপভাবে তিনি নিজেও একাকী খুব কমই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে শায়খের মৃত্যুর পর লোকেরা তাঁর কাছ থেকে অধিক পরিমাণে হাদীস গ্রহণ করতে শুরু করে। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর স্বভাব পরিবর্তন করেননি, নিজেকে বড় মনে করেননি কিংবা শায়খ হওয়ার ভান ধরেননি। শায়খের সহচর হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর নিকট থেকে সমস্ত 'আমালী' (শ্রুতলিপি) লিখে নিতেন এবং এর সবগুলোই তাঁর পক্ষ থেকে লিখেছিলেন। কখনও কখনও তিনি শায়খের নিকট থেকে শ্রুতলিপি গ্রহণ করতেন এবং তা শায়খের পক্ষ থেকেই বর্ণনা করতেন, নিজের পক্ষ থেকে নয়, কেবল কেউ অধিক পীড়াপীড়ি করলে ভিন্ন কথা।

সাখাবী বলেন: আমাদের শায়খ—অর্থাৎ ইবনে হাজার—তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি অত্যন্ত নেককার, শান্ত ও নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাঁর স্বভাব ছিল অত্যন্ত নিষ্কলুষ। তিনি অন্যায়ের কড়া প্রতিবাদী ছিলেন এবং আমাদের শায়খ ও তাঁর সন্তানদের পক্ষ থেকে আসা অনেক কিছু ধৈর্য্যর সাথে সহ্য করতেন। এরপর হাফেজ ইবনে হাজার বলেন যে, তিনি প্রথম মজলিস বাদে 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থের হজ্জ অধ্যায়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাঁর নিকট পাঠ করেছেন। তিনি আরও বলেন: তিনি আমাকে খুব ভালোবাসতেন এবং শায়খের নিকট আমার জন্য সাহায্য ও সুপারিশ করতেন। তিনি (ইবনে হাজার) বলেন: তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে আমি 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ তাঁর ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করছি, তখন তিনি আমাকে মৃদু তিরস্কার করলেন। ফলে আমি আজ পর্যন্ত তা বর্জন করেছি এবং আমাদের মধ্যে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন: তিনি হাদীসের মতন বা মূল পাঠগুলো খুব দ্রুত স্মরণ করতে পারতেন এবং শায়খের উপস্থিতিতে দ্রুত উত্তর দিতেন, যা শায়খকে মুগ্ধ করত। আমি তাঁদের উভয়ের সাথে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেছি, কিন্তু তাঁদের কখনও তাহাজ্জুদ নামাজ ত্যাগ করতে দেখিনি। আমাদের শায়খের প্রতি তাঁর সেবা ও শিষ্টাচার—কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই—এমন ছিল যা আমি আর কারও মধ্যে দেখিনি; আমার মনে হয় না কেউ তাঁর মতো এই কাজে সক্ষম হবে। হাফেজ ইবনে হাজার নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, মদিনা থেকে ফিরে আসার পর তিনি দীর্ঘ দশ বছর তাঁদের সান্নিধ্যে ছিলেন, যার মাঝে ইবনে হাজরের শাম ও অন্যান্য স্থানে ভ্রমণও ছিল। হাফেজ 'ইনবাউল গুমর' গ্রন্থে যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: অধিক চর্চার ফলে হাইসামীর হাদীসের মতনগুলো খুব ভালো আয়ত্তে চলে এসেছিল। তিনি অত্যন্ত কল্যাণকামী ছিলেন এবং বিশেষ করে শায়খের সঙ্গীদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট সহ্য করতেন। তিনি এই শিল্পে (হাদীস শাস্ত্রে) আমার অগ্রগামিতার সাক্ষ্য দিয়েছেন, আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

বুরহানুল হালাবী তাঁর 'মাশয়াখা' গ্রন্থে বলেন: তিনি ছিলেন কায়রোর অন্যতম অলঙ্কার এবং নেককার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) বইটি এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে। মিশরের 'দারুল কুতুব' লাইব্রেরিতে এর দুই খণ্ডের একটি কপি সংরক্ষিত আছে (নম্বর ৭৩৪৫, ৭৩৪৬ ফ)। প্রথম অংশটি 'হাকাম বিন ফুযাইল আল-ওয়াসিতি' পর্যন্ত এবং তৃতীয় ও শেষ খণ্ডটি 'মায়মুন আবু মাহদী' থেকে শেষ পর্যন্ত। এটি নবম শতাব্দীতে লিখিত। এটি ইমাম ইবনে সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগৃহীত পাণ্ডুলিপির অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি তৃতীয় খণ্ডের প্রথম ভাগে (পৃষ্ঠা ১৬১) উল্লেখ আছে।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
غالب نهاره في اشتغال وكتابة، مع ملازمة خدمة الشيخ في أمر وضوئه وثيابه، ولا يخاطبه إلَّا بسيدي، حتى كان في أمر خدمته كالعبد، مع محبته للطلبة والغرباء وأهل الخير وكثرة الاستخصار جدًا.

وقال التقي الفاسي في ذيل التقييد: كان كثير الحفظ للمتوق والآثار، صالحًا خيرًا.

وقال الأقفهسي في معجم ابن ظهيرة: كان إمامًا حافظًا زاهدًا متواضعًا متوددًا إلى الناس ذا عبادة وتقشف وورع.

قال الحافظ ابن حجر في إنباء الغمر: وسئل الحافظ العراقي عند موته: من بقي بعده من الحفاظ؟ فبدأ بي، وثنَّى بابنه وثلَّث بالشيخ نور الدين الهيثمي.

توفي الحافظ نور الدين علي بن أبي بكر الهيثمي بالقاهرة ليلة الثلاثاء التاسع والعشرين من رمضان، ليقضي عيد الفطر في ظل مرضاة اللَّه وتحت جناح رحمته، إنه الرحمن الرحيم‌‌(1).

 

‌‌المبحث الثالث ترجمة: الحافظ شهاب الدين ابن حجر [صاحب المختصر]

شيخ الإِسلام، وإمام الحفاظ في زمانه، وحافظ الديار المصرية، بل حافظ الدنيا مطلقًا، قاضي القضاة شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن علي بن محمود بن أحمد بن أحمد بن الكناني العسقلاني، ثم المصري الشافعي.

ولد سنة ثلاث وسبعين وسبعمائة وعانى أولًا الأدب ونظم الشعر، فبلغ فيه الغاية.

ثم طلب الحديث من سنة أربع وتسعين وسبعمائة فسمع الكثير، ورحل ولازم شيخه الحافظ أبا الفضل العراقي وبرع في الحديث، وتقدَّم في جميع فنونه.

حكي أنه شرب ماء زمزم ليصل إلى مرتبة الذهبي في الحفظ فبلغها وزاد عليها.

--------------------------------------------

‌‌(1) هذه الترجمة مستفادة من مقدمة موارد الظمآن. وانظر استيفاء جوانب ترجمته بمقدمة المقصد العليّ بزوائد أبي يعلى الموصلي، فقد عقد محققه فصلًا طيبًا جامعًا لترجمته (ص 29: 57).

তাঁর দিনের অধিকাংশ সময় ব্যস্ততা ও লেখালেখিতে কাটত, সাথে সাথে শাইখের উজু ও পোশাক-আশাকের খিদমতে সর্বদা নিয়োজিত থাকতেন। তিনি তাঁকে 'সাইয়িদি' (আমার সয়্যিদ) ছাড়া সম্বোধন করতেন না, এমনকি খিদমতের বিষয়ে তিনি দাসের মতো ছিলেন। পাশাপাশি ছাত্র, আগন্তুক ও নেককার লোকেদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল প্রবল এবং তিনি অত্যন্ত অমায়িক ও বিনয়ী ছিলেন।

তাকি আল-ফাসি 'যাইলুত তাকিদ' গ্রন্থে বলেন: তিনি মতন (মূল পাঠ) ও আসার (তাবেঈদের বাণী) অধিক মুখস্থ রাখতেন, তিনি ছিলেন একজন সৎ ও নেককার ব্যক্তি।

আকফাহাসি 'মু'জাম ইবনে জুহাইরাহ' গ্রন্থে বলেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, হাফিজ, দুনিয়াবিমুখ, বিনয়ী ও মানুষের প্রতি স্নেহশীল। তিনি ইবাদতগুজার, অনাড়ম্বর ও অত্যন্ত পরহেযগার ছিলেন।

হাফিজ ইবনে হাজার 'ইনবাউল গুমর' গ্রন্থে বলেন: হাফিজ ইরাকিকে তাঁর মৃত্যুর সময় জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: তাঁর পরে হাফিজদের মধ্যে কে অবশিষ্ট আছেন? তখন তিনি আমার নাম দিয়ে শুরু করলেন, দ্বিতীয় স্থানে তাঁর পুত্রের নাম নিলেন এবং তৃতীয় স্থানে শাইখ নূরুদ্দিন আল-হাইসামির নাম নিলেন।

হাফিজ নূরুদ্দিন আলী বিন আবি বকর আল-হাইসামি কায়রোতে রমজানের ঊনত্রিশ তারিখ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন, যাতে তিনি ঈদুল ফিতর আল্লাহর সন্তুষ্টির ছায়ায় এবং তাঁর রহমতের ডানার নিচে অতিবাহিত করতে পারেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু‌‌(১)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাফিজ শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজার [যিনি আল-মুখতাসার এর লেখক] এর জীবনী

শাইখুল ইসলাম, তাঁর যুগের হাফিজদের ইমাম, মিসর ভূখণ্ডের হাফিজ, বরং নিরঙ্কুশভাবে গোটা বিশ্বের হাফিজ, প্রধান বিচারপতি শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমদ বিন আহমদ আল-কিনানি আল-আসকালানি, অতঃপর আল-মিসরি আশ-শাফিঈ।

তিনি সাতশ তিয়াত্তর হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং শুরুতে সাহিত্যচর্চা ও কবিতা রচনায় মনোনিবেশ করেন, যাতে তিনি চরম উৎকর্ষ লাভ করেন।

অতঃপর তিনি সাতশ চুরানব্বই হিজরি সন থেকে হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন এবং প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি সফর করেন এবং তাঁর উস্তাদ হাফিজ আবুল ফজল আল-ইরাকির সান্নিধ্যে থাকেন এবং হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন ও এর সকল শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন।

বর্ণিত আছে যে, তিনি মুখস্থ শক্তিতে ইমাম যাহাবির স্তরে পৌঁছানোর জন্য যমযমের পানি পান করেছিলেন, অতঃপর তিনি সেই স্তরে পৌঁছান এবং তা অতিক্রম করে যান।

--------------------------------------------

‌‌(১) এই জীবনীটি 'মাওয়ারিদুজ জামআন' এর ভূমিকা থেকে সংগৃহীত। আর তাঁর জীবনীর বিস্তারিত দিকগুলো দেখতে 'আল-মাকসাদুল আলি বি-যাওয়ায়েদি আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি' এর ভূমিকা দেখুন, কারণ এর মুহাক্কিক (গবেষক) তাঁর জীবনীর ওপর একটি চমৎকার ও পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় রচনা করেছেন (পৃষ্ঠা ২৯-৫৭)।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولما حضرت العراقي الوفاة قيل له من تُخْلِف بعدك؟ قال: ابن حجر، ثم ابني أبو زرعة، ثم الهيثمي.

وصنَّف التصانيف التي عم النفع بها كشرح البخاري الذي لم يصنف أحد في الأولين ولا في الآخرين مثله وتغليق التعليق، و (التشويق إلى وصل التعليق) و (التوفيق) فيه أيضًا و (تهذيب التهذيب) و (تقريب التهذيب) و (لسان الميزان) و (الإِصابة في [تمييز] الصحابة) و (نكت ابن الصلاح) و (أسباب النزول) و (تعجيل المنفعة برجال الأربعة) و (المدرج) و (المقترب في المضطرب).

وأشياء كثيرة جدًا تزيد على المائة، وأملى أكثر من ألف مجلس، وولي القضاء بالديار المصرية والتدريس بعدة أماكن.

وخرَّج أحاديث الرافعي، والهداية، والكشاف، والفردوس، وعمل (أطراف الكتب العشرة) و (المسند الحنبلي) و (زوائد المسانيد الثمانية).

وله تعاليق وتخاريج ما الحفاظ والمحدثون لها إلَّا محاويج، توفي في ذي الحجة سنة اثنتين وخمسين وثمانمائة.

. . . وإن يكن فاتني حضور مجالسه والفوز بسماع كلامه والأخذ عنه فقد انتفعت في الفن بتصانيفه واستفدت منها الكثير.

وقد غلق بعده الباب وختم به هذا الشأن، وأخبرني الشهاب المنصوري أنه شهد جنازته فلما وصل إلى المصلى أمطرت السماء على نعشه فأنشد في ذلك الوقت:

قد بكت السحب على … قاضي القضاة بالمطر

وانهدم الركن الذي … كان مشيدًا من حجر‌‌(1)

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) هذه الترجمة منقولة عن ذيل تذكرة الحفاظ للسيوطي ص 380 - 382. ومن شاء التوسع فليراجع ترجمته بـ "الجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإِسلام ابن حجر" لتلميذه السخاوي. وكتاب ابن حجر العسقلاني ومصنفاته للدكتور شاكر محمود عبد المنعم، ففيهما تفاصيل كثيرة عن حياته ومصنفاته. واكتفيا هنا بهذا القدر اكتفاء بشهرته رحمه الله تبارك تعالى.

যখন আল-ইরাকির মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনার পরে কাকে স্থলাভিষিক্ত হিসেবে রেখে যাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "ইবনে হাজার, অতঃপর আমার পুত্র আবু জুরআহ, অতঃপর আল-হাইসামি।"

তিনি এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা দ্বারা ব্যাপক উপকার সাধিত হয়েছে, যেমন বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (ফাতহুল বারী), যার মতো পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কেউ কোনো গ্রন্থ রচনা করতে পারেননি। আরও রয়েছে 'তাগলীকুত তালীক', 'আত-তাশউইকু ইলা ওয়াসলিত তালীক', 'আত-তাওফীক', 'তাহযীবুত তাহযীব', 'তাকরীবুত তাহযীব', 'লিসানুল মীযান', 'আল-ইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ', 'নুকাতে ইবনুস সালাহ', 'আসবাবুন নুযুল', 'তাজীলুল মানফায়াতি বি রিজালিল আরবায়াহ', 'আল-মুদরাজ' এবং 'আল-মুকতারিব ফিল মুদতারিব'।

এছাড়াও তাঁর অসংখ্য কাজ রয়েছে যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। তিনি এক হাজারের বেশি মজলিসে শ্রুতিলিপি (ইমলা) প্রদান করেছেন। তিনি মিশর ভূখণ্ডে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে পাঠদান করেছেন।

তিনি আল-রাফেয়ি, আল-হিদায়া, আল-কাশশাফ ও আল-ফিরদাউসের হাদিসসমূহের তাখরীজ করেছেন। তিনি 'আতরাফুল কুতুবিল আশারাহ', 'আল-মুসনাদুল হানবালি' এবং 'যাওয়ায়েদুল মাসানিদিল সামানিয়াহ' প্রণয়ন করেছেন।

তাঁর এমন সব টীকা ও তাখরীজ রয়েছে যেগুলোর প্রতি হাফেয ও মুহাদ্দিসগণ মুখাপেক্ষী। তিনি ৮৫২ হিজরীর জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন।

. . . যদিও তাঁর মজলিসে উপস্থিত হওয়া, তাঁর কথা শোনার সৌভাগ্য অর্জন করা এবং সরাসরি তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করার সুযোগ আমার হয়নি, তবুও এই শিল্পে (হাদিস শাস্ত্রে) তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি থেকে আমি উপকৃত হয়েছি এবং সেগুলো থেকে অনেক কিছু অর্জন করেছি।

তাঁর পরে এই দরজা রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং তাঁর মাধ্যমেই এই বিষয়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। শিহাব আল-মানসুরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন; যখন জানাজার স্থানে পৌঁছানো হলো, তখন তাঁর খাটিয়ার ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো। তখন তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:

মেঘমালা প্রধান বিচারপতির শোকে বৃষ্টির অশ্রু বিসর্জন করেছে …

আর সেই স্তম্ভ ধসে পড়েছে যা পাথরের (হাজার) মতো মজবুত ও সুউচ্চ ছিল‌‌(১)

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) এই জীবনীটি সুয়ূতী রচিত 'যাইলু তাযকিরাতিল হুফফায' (পৃষ্ঠা ৩৮০ - ৩৮২) থেকে সংগৃহীত। যারা বিস্তারিত জানতে চান, তারা তাঁর ছাত্র সাখাভী রচিত "আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ফী তারজামাতিল শাইখিল ইসলাম ইবনে হাজার" এবং ডক্টর শাকির মাহমুদ আব্দুল মুনয়িম রচিত "ইবনে হাজার আল-আসকালানি ওয়া মুসান্নাফাতুহু" গ্রন্থ দুটি দেখতে পারেন। এগুলোতে তাঁর জীবন ও রচনাবলি সম্পর্কে প্রচুর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। তাঁর সুখ্যাতির কারণে আমরা এখানে এইটুকুর ওপরই ক্ষান্ত হলাম। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الفصل الثالث دراسة مختصر زوائد البزار

‌‌المبحث الأول عنوان الكتاب وصحة نسبته للحافظ

‌‌المطلب الأول: العنوان

عنوان النسخه (ب): "زوائد مسند أبي بكر البزار على مسند الإمام أحمد والكتب الستة".

عنوان النسخة (أ): "زوائد مسند البزار".

في نظم العقيان للسيوطي (ص 48) وكتاب ابن حجر ومصنفاته للدكتور/ شاكر محمود (ص 425): "المنتخب في زوائد البزار على الكتب الستة ومسند أحمد".

في عنوان الزمان لإِبراهيم البقاعي تلميذ الحافظ (مخطوط بدار الكتب ق 51): "المنتخب من مسند البزار مما ليس في الستة ولا مسند أحمد".

وفي فهرس الفهارس والأثبات للكتاني (1/ 335): "المختار المعتمد من مسند البزار على الكتب الستة ومسند أحمد".

في مقدمة تحفة الأحوذي للمباركفوري (1/ 90): "مسند البزار وزوائده على مسند أحمد والكتب الستة".

 

‌‌المطلب الثاني: صحة نسبة الكتاب للحافظ ابن حجر

- على النسخة (ب): زوائد. . . تلخيص شيخنا العلامة خاتمة الحفاظ، قاضي القضاة، شهاب الدين، أبي الفضل أحمد بن علي بن حجر الكناني العسقلاني تغمده
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুখতাসার জাওয়াইদ আল-বাজ্জার-এর অধ্যয়ন

প্রথম আলোচনা: গ্রন্থের শিরোনাম এবং হাফিজের প্রতি এর সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা

প্রথম অনুচ্ছেদ: শিরোনাম

পাণ্ডুলিপি (খ)-এর শিরোনাম: "মুসনাদে ইমাম আহমাদ এবং কুতুবে সিত্তাহ-এর অতিরিক্ত মুসনাদে আবু বকর আল-বাজ্জারের হাদিসসমূহ (জাওয়াইদ)"।

পাণ্ডুলিপি (ক)-এর শিরোনাম: "জাওয়াইদ মুসনাদে আল-বাজ্জার"।

সুয়ুতির ‘নাজমুল উকিয়ান’ (পৃ. ৪৮) এবং ড. শাকির মাহমুদের ‘ইবনে হাজার ও তাঁর গ্রন্থাবলি’ (পৃ. ৪২৫) গ্রন্থে রয়েছে: "আল-মুনতাখাব ফি জাওয়াইদ আল-বাজ্জার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ"।

হাফিজের ছাত্র ইবরাহিম আল-বিকা’য়ি-র ‘উনওয়ানুয জামান’ (দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি, পৃষ্ঠা ৫১)-এ এসেছে: "আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদিল বাজ্জার মিম্মা লাইসা ফিস সিত্তাহ ওয়ালা মুসনাদি আহমাদ"।

এবং কাত্তানির ‘ফিহরিসুল ফাহারিস ওয়াল আসবাত’ (১/৩৩৫) গ্রন্থে এসেছে: "আল-মুখতার আল-মু’তামাদ মিন মুসনাদিল বাজ্জার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ"।

মুবারকপুরীর ‘তুহফাতুল আহওয়াযি’-এর ভূমিকা (১/৯০)-এ রয়েছে: "মুসনাদে আল-বাজ্জার ওয়া জাওয়াইদুহু আলা মুসনাদি আহমাদ ওয়াল কুতুবিস সিত্তাহ"।

 

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাফিজ ইবনে হাজারের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা

- পাণ্ডুলিপি (খ)-তে রয়েছে: জাওয়াইদ... এটি আমাদের শায়খ, আল্লামা, হাফিজদের সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব, প্রধান বিচারপতি, শিহাবুদ্দীন আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-কিনানি আল-আসকালানির সংক্ষিপ্তসার, আল্লাহ তাঁকে রহমতের চাদরে আবৃত করুন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
اللَّه برحمته في تصنيف شيخه الحافظ نور الدين أبي الحسن علي بن أبي بكر الهيثمي. فرغ من تصنيفه في عشرين من شعبان سنة 808 ثمان وثمانمائة.

- وعلى النسخة (أ): زوائد مسند البزار للحافظ ابن حجر العسقلاني المتوفي سنة 852.

- ذكر المصنف نفسه ما يدل على ذلك، فقال في تعليقه على (رقم 23): ". . . وله طرق ذكرتها. . . من كتابي في الصحابة". وقد ذكر طرقه فعلًا في الإِصابة (1/ 289 - 290) وكذا ذكر لسان الميزان في (رقم 258).

- والمناوي في فيض القدير (1/ 26) حيث قال: قال ابن حجر في تجريد زوائد البزار: "وإذا كان الحديث في مسند أحمد لا يعزي لغيره من المسانيد". اهـ. وهذا مذكور بالمقدمة بمعناه.

- وقال السيوطي في اللآليء المصنوعة في الأحاديث الموضوعة (1/ 184): قال الحافظ ابن حجر في زوائده [أي البزار]: "كأنه [أي البزار أيضًا] التزم إخراج كل ما روي، ولو كان موضوعًا". اهـ. وذلك على حديث بـ (ش رقم 2759).

- وكذا نسبه إليه من سبق ذكره: السيوطي، والبقاعي، والكتاني، والمباركفوري، ود. شاكر محمود.

- ونقل مختصر مقدمته مع خاتمته حاجي خليفة في كشف الظنون (2/ 1682).

- ونسبه إليه أيضًا بروكلمان في تاريخ الأدب العربي (3/ 158 - 159)، وسزكين في تاريخ التراث العربي (1/ 1/ 316).

- ويؤكد نسبته إليه ما قاله في مقدمته: "فإنني عملت أطراف مسند أحمد بتمامه في مجلدتين". اهـ. وهو المسمى بـ "المسند المعتلي في أطراف المسند الحنبلي"‌‌(1)، مذكور في مصنفات الحافظ.

وذكر الحافظ في خاتمة المختصر أنه فرغ منه عام 808، أي بعد وفاة الهيثمي بعامٍ واحدٍ، فسبحان اللَّه الدائم الواحد الأحد.

--------------------------------------------

‌‌(1) والكتاب ذكره ابن فهد في لحظ الألحاظ (ص 333) والبقاعي في عنوان الزمان (1/ ق 50) =

আল্লাহ তাঁর রহমতে তাঁর শাইখ হাফেজ নূরুদ্দিন আবুল হাসান আলি ইবনে আবি বকর আল-হায়সামির সংকলনভুক্ত করেছেন। তিনি এটি ৮০৮ হিজরি সালের ২০ শাবান সংকলন সম্পন্ন করেন।

- এবং (ক) পাণ্ডুলিপিতে আছে: হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত 'জাওয়াইদ মুসনাদ আল-বাজার'।

- স্বয়ং গ্রন্থকারই এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা এর প্রমাণ দেয়। তিনি (২৩ নং) এর টিকায় বলেছেন: "...এবং এর আরও কিছু সূত্র রয়েছে যা আমি বর্ণনা করেছি... সাহাবী বিষয়ক আমার কিতাব থেকে।" আর তিনি প্রকৃতপক্ষে 'আল-ইসাবা' (১/২৮৯-২৯০) গ্রন্থে এর সূত্রগুলো উল্লেখ করেছেন এবং একইভাবে 'লিসানুল মিজান' (নং ২৫৮)-এ উল্লেখ করেছেন।

- এবং আল-মুনাওয়ি 'ফয়জুল কাদির' (১/২৬) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে হাজার 'তাজরিদ জাওয়াইদ আল-বাজার' গ্রন্থে বলেছেন: "যখন হাদিসটি মুসনাদ আহমাদে থাকে, তখন অন্য কোনো মুসনাদের দিকে তার নিসবত (সম্পর্ক) করা হয় না।" সমাপ্ত। আর এটি ভূমিকার মধ্যে এর মর্মার্থসহ বর্ণিত হয়েছে।

- এবং আস-সুয়ুতি 'আল-লাআলিল মাসনুআ ফিল আহাদিসিল মাওদুআ' (১/১৮৪) গ্রন্থে বলেছেন: হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'জাওয়াইদ' [অর্থাৎ আল-বাজার]-এ বলেছেন: "মনে হয় যেন তিনি [অর্থাৎ আল-বাজারও] যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংকলন করার দায়িত্ব নিয়েছেন, যদিও তা জাল হয়।" সমাপ্ত। এটি (শ নং ২৭৫৯)-এর একটি হাদিসের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে।

- এবং ইতিপূর্বে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে—আস-সুয়ুতি, আল-বিকাঈ, আল-কাত্তানি, আল-মুবারকপুরি এবং ড. শাকির মাহমুদ—তারাও এটি তাঁর দিকেই নিসবত করেছেন।

- আর হাজি খলিফা 'কাশফুজ জুনুন' (২/১৬৮২) গ্রন্থে এর ভূমিকার সংক্ষিপ্তসার এবং উপসংহার উদ্ধৃত করেছেন।

- এবং ব্রোকলম্যান 'তারিখুল আদাব আল-আরাবি' (৩/১৫৮-১৫৯) গ্রন্থে এবং সেজগিন 'তারিখুত তুরাস আল-আরাবি' (১/১/৩১৬) গ্রন্থেও এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।

- তাঁর ভূমিকার বক্তব্যও এটি তাঁরই কাজ হওয়ার বিষয়টিকে নিশ্চিত করে: "আমি পূর্ণাঙ্গ মুসনাদ আহমদের আতরাফ (সূত্র-বিন্যাস) দুই খণ্ডে সম্পন্ন করেছি।" সমাপ্ত। আর এটি 'আল-মুসনাদ আল-মু'তালি ফি আতরাফিল মুসনাদ আল-হানবালি'‌‌(১) নামে পরিচিত, যা হাফেজের রচনাবলীতে উল্লিখিত আছে।

হাফেজ এই সংক্ষিপ্তসারটির উপসংহারে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ৮০৮ হিজরিতে সম্পন্ন করেছেন, অর্থাৎ আল-হায়সামির মৃত্যুর এক বছর পর। সুতরাং চিরস্থায়ী, এক এবং অদ্বিতীয় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

--------------------------------------------

‌‌(১) কিতাবটির কথা ইবনে ফাহদ 'লাহজুল আলহাজ' (পৃ. ৩৩৩) এবং আল-বিকাঈ 'উনওয়ানুয যামান' (১/ ক ৫০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। =

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু যাওয়াইদি মুসনাদিল বাযযার আলাল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المبحث الثاني وصف النسخ الخطية

اعتمدت في ضبط هذا النص وإبرازه على نسختين خطيتين تيسرتا لي بفضل اللَّه عز وجل أمدني بهما الأخ الفاضل: شرف حجازي صاحب المكتب السلفي لتحقيق التراث حفظه اللَّه من كل سوء.

وهما مصورتان عن المكتبة (كتب خانة) آصفية بحيدرآباد الدكن بالهند.

ورمزت لهما برمزين: أ، ب.

• النسخة الأولى = الأصل = (ب):

وهي التي اعتمدت عليها وجعلتها أصلًا. وهي في مجلدين يشتملان على 464 ورقة بهما 928 صفحة رقمناها أ، ب.

خطها وناسخها: والناسخ هو عبد العزيز بن عمر بن محمد. . . بن فهد المكي. ترجمه السخاوي في الضوء اللامع لأهل القرن التاسع (4/ 224 - 226) فقال عنه: "برع في الحديث طلبًا وضبطًا، وكتب الطباق بل كتب بخطه جملة من الكتب والأجزاء وتولع بالتخريج والكشف والتاريخ. . . وليس بعد أبيه ببلاد الحجاز من يدانيه في الحديث مع المشاركة في الفضائل وجودة الخط والفهم، وجميل الهيئة، وعليّ الهمة والحياء والمروءة، والتخلق بالأوصاف الجميلة والتقنع باليسير، وإظهار التحمل وعدم التشكي، وهو حسنة من حسنات بلده". اهـ.

--------------------------------------------

= وكشف الظنون (1/ 7، 117) والرسالة المستطرفة (ص 169 - 170) والجواهر والدرر للسخاوي (ق 24 ب، 154 أ)، وقال: وكان حافظ الوقت الزين العراقي كبير الاعتماد عليه في إملائه وغيرها، والمعجم المفهرس للحافظ (ق 53 أ، ب) والكتاب ادعى السخاوي أنه غرق مع بعض مصنفات الحافظ في رحلته لليمن سنة 806 هـ. فأوهم فقدانه، لكنه وللَّه الحمد موجود منه نسختان بمكتبة داماد إبراهيم باشا باستنبول (18 - 19) تحت رقمي 255، 256. والحمد للَّه والآن بفضل اللَّه عز وجل يقوم الأخ المفضال الشيخ/ حمدي السلفي -محقق كبير الطبراني وغيره- بتحقيقه، وأخبر أنه سيقع في ثمانية أجزاء، وقد دفع الجزء الأول للطبع بمؤسسة الرسالة ببيروت. انظر ابن حجر ومصنفاته (ص 411 - 412) ومجلة صوت الأمة بالهند المجلد 21 ربيع آخر سنة 1410 هـ (ص 28 - 29).

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ

এই পাঠ্যটির সম্পাদনা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র অনুগ্রহে প্রাপ্ত দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এগুলো আমাকে সরবরাহ করেছেন শ্রদ্ধেয় ভাই শরফ হিজাজি—যিনি ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার প্রতিষ্ঠান 'আল-মাকতাব আস-সালাফি'-এর পরিচালক; আল্লাহ তাকে সকল অনিষ্ট থেকে হিফাযত করুন।

এই দুটি পাণ্ডুলিপি ভারতের হায়দ্রাবাদ ডেকানের আসিফিয়া লাইব্রেরি (কুতুবখানা) থেকে সংগৃহীত প্রতিলিপি।

আমি এই দুটিকে দুটি প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি: আলিফ ও বা।

• প্রথম পাণ্ডুলিপি = মূল কপি = (বা):

এটিই সেই পাণ্ডুলিপি যার ওপর আমি নির্ভর করেছি এবং একে মূল হিসেবে গণ্য করেছি। এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত, যাতে ৪৬৪টি পত্র রয়েছে এবং তাতে ৯২৮টি পৃষ্ঠা রয়েছে, যেগুলোকে আমরা আলিফ ও বা দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

এর লিপি ও লিপিকার: এর লিপিকার হলেন আবদুল আজিজ বিন উমর বিন মুহাম্মদ... বিন ফাহদ আল-মাক্কি। আল-সাখাভি 'আদ-দউ আল-লামি' লি আহলিল কারনিত তাসি' (৪/ ২২৪-২২৬) গ্রন্থে তার জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি হাদিস অন্বেষণ ও সংরক্ষণে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি 'তাবাকাত' লিপিবদ্ধ করেছেন, এমনকি নিজ হাতে একগুচ্ছ গ্রন্থ ও ক্ষুদ্র সংকলন লিখেছেন। তিনি তাখরিজ (সূত্র অনুসন্ধান), তথ্য উদ্ঘাটন এবং ইতিহাসে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন... হিজাজ ভূমিতে তার পিতার পর হাদিস শাস্ত্রে তার সমকক্ষ আর কেউ ছিল না। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সদগুণ, সুন্দর হস্তাক্ষর, গভীর বুঝশক্তি, চমৎকার অবয়ব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, লজ্জা ও মনুষ্যত্ববোধে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন এবং অল্পে তুষ্ট থাকতেন। তিনি ধৈর্যশীলতা প্রদর্শন করতেন এবং অভিযোগ-অনুযোগ করতেন না; তিনি ছিলেন নিজ শহরের অন্যতম গৌরব।" সমাপ্ত।

--------------------------------------------

= এবং কাশফ উজ-জুনুন (১/ ৭, ১১৭), আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (পৃ. ১৬৯-১৭০), সাখাভির আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার (পত্র ২৪ বা, ১৫৪ আলিফ)। তিনি বলেন: সেই সময়ের হাফিয যাইনুল ইরাকি তার শ্রুতিলিপি (ইমলা) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তার ওপর অত্যন্ত নির্ভর করতেন। হাফিযের আল-মু'জামুল মুফাহরাস (পত্র ৫৩ আলিফ, বা)। সাখাভি দাবি করেছিলেন যে, বইটি হাফিযের কিছু রচনার সাথে ৮০৬ হিজরিতে তার ইয়েমেন সফরের সময় ডুবে গিয়েছিল। ফলে এটি হারিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর প্রশংসায় এটি বর্তমানে ইস্তাম্বুলের দামাদ ইব্রাহিম পাশা লাইব্রেরিতে (১৮-১৯) ২৫৫ ও ২৫৬ নম্বর ক্রমিকে দুটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে বিদ্যমান আছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। বর্তমানে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র অনুগ্রহে বিশিষ্ট ভাই শায়খ হামদি আস-সালাফি—যিনি ইমাম তাবারানির বৃহৎ সংকলন ও অন্যান্য গ্রন্থের প্রসিদ্ধ মুহাক্কিক—এটি সম্পাদনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন যে এটি আট খণ্ডে প্রকাশিত হবে এবং প্রথম খণ্ডটি বৈরুতের মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে ছাপার জন্য পাঠানো হয়েছে। দেখুন: 'ইবনে হাজার ওয়া মুসান্নাফাতুহু' (পৃ. ৪১১-৪১২) এবং ভারতের 'সাওতুল উম্মাহ' পত্রিকা, খণ্ড ২১, রবিউস সানি ১৪১০ হিজরি (পৃ. ২৮-২৯)।