0/0
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
الزبد في مصطلح الحديث   (فضل الرحمن صافي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الزبد في مصطلح الحديث

(شرح منظومة الشيخ عبد الرحمن أبي بكر الملا، المسماة «إلهام المغيث في أقسام الحديث»

المؤلف: فضل الرحمن عبد العليم صافي (ت 1442 هـ)

الناشر: دار عمار للنشر والتوزيع - عمان - الأردن

طُبع على نفقة: ابن الناظم الأستاذ أبو بكر بن الشيخ عبد الرحمن أبو بكر الملا

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 60

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 رمضان 1443

আজ-জুবদ ফি মুস্তালাহিল হাদিস   (ফজলুর রহমান সাফি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: আজ-জুবদ ফি মুস্তালাহিল হাদিস

(শাইখ আবদুর রহমান আবু বকর আল-মুল্লার কাব্যগ্রন্থের (منظومة) ব্যাখ্যা (شرح)، যার নাম «ইলহামুল মুগীস ফি আকসামিল হাদিস»

লেখক: ফজলুর রহমান আব্দুল আলীম সাফি (মৃত্যু ১৪৪২ হি.)

প্রকাশক: দার আম্মার লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি - আম্মান - জর্ডান

যার অর্থায়নে মুদ্রিত: কাব্য প্রণেতার (ناظم) পুত্র উস্তাদ আবু বকর বিন শাইখ আবদুর রহমান আবু বকর আল-মুল্লা

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হি. - ২০০৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ রমজান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين القائل في محكم التنزيل {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون}.(1)

والصلاة والسلام على رسوله الأمين سيدنا محمد القائل: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه"،(2) وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:

فلما كانت السنة النبوية الشريفة هي المصدر الثاني في التشريع، لذا فقد اعتنى علماؤنا الأوائل خلفاً عن سلف بتصحيحها وتدقيقها وضبطها رواية ودراية، متناً وسنداً، وذلك خشية الوقوع فيما هو غير ثابت عن الشارع الحكيم، وأُلفت في ذلك المؤلفات المسماة بعلم المصطلح، وهذه المؤلفات فيها المطولات كتدريب الراوي للسيوطي، والألفية له، ومقدمة ابن الصلاح، وغيرها كثير، ومنها المختصرات وهي كثيرة أيضاً، منها على سبيل المثال: البيقونية وشروحها، ونخبة الفكر مع شرحها للحافظ ابن حجر

--------------------------------------------

(1) سورة النحل، آية 44.

(2) رواه أبو داود، كتاب السنة، باب في لزوم السنة (4604) عن المقدام معدي يكرب في رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি সুষ্পষ্ট প্রত্যাদেশে বলেছেন, {আর আমি আপনার প্রতি উপদেশ অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্ট করে ব্যক্ত করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে}।(১)

এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি বলেছেন: "জেনে রাখো, আমাকে কুরআন এবং এর সাথে এর সদৃশ আরও কিছু প্রদান করা হয়েছে",(২) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

যেহেতু সম্মানিত সুন্নাহ নববী শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস, তাই আমাদের পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি উলামায়ে কেরাম এর বিশুদ্ধকরণ (تصحيح), সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বর্ণনা (رواية) ও শাস্ত্রীয় অনুধাবন (دراية) এবং মূলপাঠ (متن) ও সনদ (سند) উভয় দিক থেকে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। প্রাজ্ঞ শরিয়তপ্রণেতার পক্ষ থেকে যা প্রমাণিত (ثابت) নয় তাতে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় এটি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যেই পরিভাষা বিজ্ঞান (علم المصطلح) নামক গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে দীর্ঘ কলেবরের গ্রন্থ রয়েছে যেমন সুয়ূতী-র তাদরীবুর রাবী ও তাঁর আলফিয়াহ, ইবনুস সালাহ-র মুকাদ্দিমাহ এবং আরও অনেক। আবার কিছু রয়েছে সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, যা সংখ্যায় প্রচুর; উদাহরণস্বরূপ: বাইকূনিয়াহ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং হাফেজ ইবনে হাজার-এর ব্যাখ্যাসহ নুখবাতুল ফিকার।

--------------------------------------------

(১) সুরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪।

(২) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সুন্নাহ, সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা পরিচ্ছেদ (৪৬০৪), মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) হতে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জেনে রাখো, আমাকে কুরআন এবং এর সাথে এর সদৃশ আরও কিছু প্রদান করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২)
العسقلاني، وتيسير مصطلح الحديث لمحمود الطحان، وقد راعى المتأخرون رحمهم الله في هذه المختصرات التسهيل للطلاب، وخاصة طلاب المعاهد والجامعات، وهذه المنظومة التي بين أيدينا للشيخ عبد الرحمن بن الشيخ أبي بكر الملا مع شرحها للشيخ فضل الرحمن صافي، ويجد القارئ في هذه المنظومة جانباً من الاختصار غير المخل مع جزالة الألفاظ وسلامة الأسلوب، ويهذا من صفات العالم الرباني الذي يعلم تلاميذه مسائل العلم، صغيرها قبل كبيرها تدرجاً مع إدراك الطالب.

فنجد أن مشايخنا الأحسائيين رحمهم الله كانت لهم عناية كبيرة بهذا العلم المنيف، وكان لهم حظ وافر في علم الرواية والدراية إلى أيامنا هذه ولله الحمد والمنة، وقد تركوا لنا تراثاً حديثياً ليكون أمانة في أعناقنا لنخرجه إلى النور فنستفيد ونفيد، ومما ترك لنا أولئك السادة الأسلاف في هذا العلم الشيء الكثير، ومنه على سبيل المثال: مختصر الإمام البخاري للعلامة الشيخ محمد بن عمر بن عبد الرحمن الملا.

وأما الشيخ أبو بكر بن الشيخ محمد الملا فله مؤلفات كثيرة في هذا العلم، ومنها على سبيل المثال: شرح صحيح الإمام البخاري، وشرح شمائل الإمام الترمذي، والرد الفصيح على منكر العمل بالنص الصريح.
আল-আসকালানি এবং মাহমুদ আল-তাহহান বিরচিত ‘তাইসির মুসতালাহ আল-হাদিস’; পরবর্তী যুগের (متأخرون) আলেমগণ—আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন—এই সংক্ষেপিত গ্রন্থগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য, বিশেষ করে ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়বস্তু সহজীকরণের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। শায়খ আব্দুর রহমান বিন শায়খ আবু বকর আল-মুল্লা রচিত যে কাব্যগ্রন্থ (منظومة) এবং শায়খ ফজলুর রহমান সাফির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আমাদের সামনে রয়েছে, সেখানে পাঠক এমন এক সংক্ষিপ্তসার খুঁজে পাবেন যা মূল বিষয়ের কোনো ক্ষতি করে না, পাশাপাশি এতে শব্দের গাম্ভীর্য ও সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি বিদ্যমান। এটি একজন রব্বানি আলেমের বৈশিষ্ট্য যে তিনি তার ছাত্রদের জ্ঞানের মাসআলাগুলো ছোট থেকে বড় আকারে শিক্ষার্থীর মেধা ও অনুধাবন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শিক্ষা দেন।

আমরা দেখতে পাই যে আমাদের আল-আহসার শায়খগণ—আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন—এই মহান ইলমের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। বর্তমান সময় পর্যন্ত বর্ণনা (رواية) এবং বিশ্লেষণ (دراية) সংক্রান্ত জ্ঞানে তাদের বিশেষ অংশীদারিত্ব রয়েছে, সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর। তারা আমাদের জন্য হাদিস বিষয়ক এমন এক ঐতিহ্য রেখে গেছেন যা আমাদের নিকট আমানত, যাতে আমরা তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারি এবং এর দ্বারা উপকৃত হতে ও অন্যকে উপকৃত করতে পারি। এই শাস্ত্রে আমাদের সেই পূর্বসূরি ব্যক্তিবর্গ প্রচুর জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন; যেমন উদাহরণস্বরূপ: আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন উমর বিন আব্দুর রহমান আল-মুল্লা রচিত মুখতাসার আল-ইমাম আল-বুখারি।

আর শায়খ আবু বকর বিন শায়খ মুহাম্মদ আল-মুল্লা এই শাস্ত্রে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন; যেমন উদাহরণস্বরূপ: শারহু সহিহ আল-ইমাম আল-বুখারি, শারহু শামায়িলে আল-ইমাম আল-তিরমিজি এবং আর-রাদ্দুল ফাসিহ আলা মুনকিরিল আমালি বিন নাসসিস সারিহ।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩)
وأما الشيخ محمد بن سعيد العمير فله دعاء لختم صحيح الإمام البخاري.

وأما الشيخ عبد الرحمن بن الشيخ أبي بكر الملا فله منظومته المسماة "إلهام المغيث في أقسام الحديث"، والذي بين يديك شرح لها.

وقد طلب مني الأخ مراد بن عبد الله الملا أن أقدم لهذا الكتاب، ولما لم يسعني مخالفته كتبت هذه الأسطر المختصرة نظراً لضيق المقام، راجياً من الله التوفيق وأن ينفع به طلاب العلم، ويجعل عملناً خالصاً لوجهه الكريم، إنه سميع مجيب.

وأخيراً، نسأل الله تعالى أن يوفقنا للتعلم والتعليم، وخدمة التراث الإسلامي بما يليق بهذا الدين العظيم، ورحم الله شيخنا الناظم وأجزل له المثوبة والأجر، وجزى الله تعالى شارحها كل خير، وغفر لوالديه ونفع بعلومه.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

كتبه

أحمد بن الشيخ عبد الله بن الشيخ أبي بكر الملا

غرة ربيع ثاني 1426 هـ - الأحساء
আর শেখ মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-উমাইর-এর ইমাম বুখারীর সহীহ খতম করার জন্য একটি দোয়া রয়েছে।

আর শেখ আব্দুর রহমান বিন শেখ আবু বকর আল-মুল্লা-এর 'ইলহামুল মুগীস ফি আকসামিল হাদিস' নামক একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, আর আপনার সম্মুখে থাকা বর্তমান গ্রন্থটি সেটিরই একটি ব্যাখ্যা।

ভ্রাতা মুরাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুল্লা আমাকে এই বইটির ভূমিকা লিখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় সময়ের সংকীর্ণতা সত্ত্বেও আমি এই সংক্ষিপ্ত কথাগুলো লিখলাম। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং আশা করছি যে তিনি এর মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারীদের উপকৃত করবেন এবং আমাদের এই আমলটিকে কেবল তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করবেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দুয়া কবুলকারী।

পরিশেষে, আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান এবং এই মহান দ্বীনের মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ ইসলামী ঐতিহ্যের সেবা করার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ আমাদের শাইখ তথা কাব্যকারকে রহম করুন এবং তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের ব্যাখ্যাকারীকেও উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর ইলম দ্বারা সকলকে উপকৃত করুন।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

লিখেছেন

আহমদ বিন শেখ আব্দুল্লাহ বিন শেখ আবু বকর আল-মুল্লা

১লা রবিউস সানি ১৪২৬ হিজরি - আল-আহসা
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌ترجمة الناظم رحمه الله تعالى

‌‌اسمه ونسبه: هو العلامة المحدث الفقيه الأديب الشيخ عبد الرحمن بن الشيخ أبي بكر بن الشيخ عبد الله الملا.

تنسب أسرة الملا إلى بيت الواعظ، الذي يرجع نسبه إلى الصحابي الجليل سيدنا عبد الرحمن بن أبي بكر الصديق رضي الله عنه، كما أشار إلى ذلك العم الشيخ عبد الرحمن في مرثيته لوالده الجد الشيخ أبو بكر رحمهم الله بقوله:

من قريش آباؤك الغر جاءوا … هم حماة العرين كهف النزيل

لأبي بكر ينتمون ومن تيم … فروع تسلسلت من أصول

 

‌‌نشأته: نشأ شيخنا الناظم رحمه الله في بيت عرف بالتقوى والورع والصلاح، فقام والده بتربيته على مكارم الأخلاق، واجتهد عليه وعلى إخوته بتلقينهم القرآن الكريم، والقراءة والكتابة، والفقه، والأوراد النبوية، والعلوم الشرعية.

وكان بيت الشيخ أبي بكر آنذاك مهبط الضيوف من علماء وفقراء وعابري سبيل، كما عرف عن والده إكرامهم والعناية بهم وتلبية حاجاتهم،
নাযিম (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর জীবনী

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়: তিনি হলেন আল্লামা, মুহাদ্দিস (محدث), ফকিহ (فقيه) এবং সাহিত্যিক শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে শায়খ আবু বকর ইবনে শায়খ আব্দুল্লাহ আল-মুল্লা।

আল-মুল্লা পরিবার 'বাইতুল ওয়ায়িজ'-এর অন্তর্ভুক্ত, যার বংশধারা মহান সাহাবি (صحابي) সাইয়্যিদুনা আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে মিলিত হয়। যেমনটি চাচা শায়খ আব্দুর রহমান তাঁর পিতা তথা দাদা শায়খ আবু বকর (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর শোকগাথায় ইঙ্গিত করেছেন এই বলে:

কুরাইশ বংশ থেকে আপনার উজ্জ্বল পিতৃপুরুষগণ এসেছেন … তাঁরা বীরত্বের আবাসের রক্ষক এবং আগন্তুকদের আশ্রয়স্থল

তাঁরা আবু বকরের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এবং তায়িম গোত্রীয় … মূল থেকে উৎসারিত শাখাগুলি বংশপরম্পরায় এসেছে

 

তাঁর লালন-পালন: আমাদের শায়খ নাযিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাকওয়া (تقوى), পরহেজগারি (ورع) এবং নেককারিতার জন্য পরিচিত একটি পরিবারে লালিত-পালিত হয়েছেন। তাঁর পিতা তাঁকে উত্তম চরিত্রের ওপর গড়ে তোলেন এবং তাঁকে ও তাঁর ভাইদের পবিত্র কুরআন, পঠন-লিখন, ফিকহ (فقه), নববী আমলসমূহ এবং শরয়ি জ্ঞান (العلوم الشرعية) শিক্ষাদানে কঠোর পরিশ্রম করেন।

সে সময়ে শায়খ আবু বকরের ঘরটি ছিল আলিম, অভাবী এবং মুসাফিরদের মিলনস্থল; যেমনটি তাঁর পিতার সম্পর্কে সুবিদিত ছিল যে তিনি তাঁদের সম্মান করতেন, যত্ন নিতেন এবং তাঁদের প্রয়োজন পূরণ করতেন।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
وتوفير المسكن والمطعم المناسب لهم، فكان لهذا الأمر وقع وأثر في تكوين شخصية الناظم رحمه الله تعالى.

 

‌‌شيوخه: تتلمذ الناظم رحمه الله على والده الشيخ أبي بكر فأخذ عنه القرآن الكريم، والقراءة والكتابة، والفقه وغيره، كما أخذ عن تلميذ والده العلامة الفقيه الشيخ محمد بن عبد اللطيف الملا، وأخذ النحو عن الشيخ عبد اللطيف الجعفري، والشيخ أحمد العلي العرفج، كما قرأ على العلامة الورع الشيخ عبد العزيز العلجي، وأخذ الفقه عن الشيخ محمد الحلبي الحنفي وهو من العلماء الذين وفدوا الأحساء زمن والده.

ثم أرسله والده إلى مكة المكرمة ليكمل دراسته هناك فالتحق بالمدرسة الصولتية وتخرج منها، ولازم علماء الحرم المكي الذي كان عبارة عن جامعة مفتوحة يقصده أكابر علماء الأمة لينشروا علومهم، فأخذ عن العلماء الذين أدركهم في ذلك الوقت ثم رحل للمدينة المنورة فلازم فيها عدداً من مشاهير العلماء آنذاك، وفي هذا الوقت كان رحمه الله لا يسمع بشيخ متفنن إلا لازمه وأخذ عنه، ومن أبرز شيوخه الذين تلقى عنهم خارج بلده الأحساء: العلامة المحدث الشيخ عمر حمدان المحرسي في الكتب الستة، والعلامة المحدث المجاهد السيد محمد عبد الحي الكتاني
এবং তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করা; এই বিষয়টি নাযিম (রহ.)-এর ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকবৃন্দ: নাযিম (রহ.) তাঁর পিতা শায়খ আবু বকর-এর নিকট শিক্ষালাভ করেন। তাঁর নিকট তিনি পবিত্র কুরআন, লিখন ও পঠন, ফিকহ (الفقه) এবং অন্যান্য বিষয় শিক্ষা করেন। এছাড়াও তিনি তাঁর পিতার ছাত্র বিজ্ঞ ফকিহ (الفقيه) শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আল-মুল্লার নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি শায়খ আব্দুল লতিফ আল-জাফরি এবং শায়খ আহমদ আল-আলি আল-আরফাজ-এর নিকট নাহু (النحو) শিক্ষা করেন। এছাড়া তিনি পরহেজগার আল্লামা শায়খ আব্দুল আজিজ আল-ইলজি-র নিকটও পাঠ গ্রহণ করেন এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-হালাবি আল-হানাফির নিকট থেকে ফিকহ (الفقه) শিক্ষা করেন, যিনি তাঁর পিতার সময়ে আহসায় আগত আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে উচ্চতর শিক্ষার জন্য মক্কা মোকাররমায় পাঠান। সেখানে তিনি মাদ্রাসা আস-সাওলতিয়ায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি মক্কার হারাম শরীফের আলেমদের সান্নিধ্যে থাকেন, যা ছিল মূলত একটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো, যেখানে উম্মাহর বড় বড় আলেমগণ জ্ঞান প্রচারের উদ্দেশ্যে আসতেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি তৎকালীন আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। এরপর তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় সফর করেন এবং সেখানে তৎকালীন বেশ কয়েকজন প্রসিদ্ধ আলেমের সান্নিধ্যে অবস্থান করেন। এই সময়ে তিনি (রহ.) কোনো বিষয়ে পারদর্শী কোনো শায়খের কথা শুনলেই তাঁর সান্নিধ্য গ্রহণ করতেন এবং তাঁর থেকে ইলম হাসিল করতেন। নিজ শহর আহসার বাইরে তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: কুতুবুস সিত্তাহ-এর বর্ণনায় প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ (المحدث) শায়খ ওমর হামদান আল-মাহরিসি এবং মুজাহিদ হাদিস বিশারদ (المحدث) আল্লামা সায়্যিদ মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
في الحديث الشريف، والعلامة الفيه الشيخ حسين عبد الغني الحنفي، والعلامة الفقيه الأصولي الشيخ محمد يحيى أمان، كما قرأ على الشيخ الفقيه الصالح بهاء الدين الأفغاني، والعلامة المحدث الشيخ عبد الرؤوف المصري، وأخذ السيرة النبوية والتاريخ الإسلامي عن العلامة السيد محمد العربي التباني، وقرأ على العلامة الشيخ محمد بن علي بن حسين المالكي في النحو، وأخذ عن السيد الشيخ عباس المالكي، وأخذ عن الشيخ أسعد المالكي.

 

‌‌تلاميذه: لما كان لشيخنا الناظم رحمه الله تعالى إلماماً بالعلوم الشرعية والعربية ومتعلقاتهما جعل طلاب العلم يؤمونه للأخذ عنه والنيل من علومه والاتصال بأسانيده الحديثية التي تعتبر من أعلى الأسانيد وأرفعها وذلك بعد وفاة شيوخه وأقرانه، فالتف حوله جمع من طلبة العلم الشريف حينما كان مقيماً في مكة المكرمة، وعندما استقر في مسقط رأسه بلده الأحساء أصبح بيته مقصداً لطلاب العلم والعلماء ابتداء من الأحساء ونجد والحجاز حتى بقية الدول المجاورة، وكما ذكرنا أن إلمام الشيخ وتفننه في علوم شتى أضف إلى ذلك عنايته بالأدب وقرضه للشعر كل ذلك وغيره جعل للشيخ قبولاً ومكانة عند طلابه وزائريه، فكان
হাদিস শরিফ বিষয়ে, এবং আল্লামা ফকিহ শেখ হোসেন আব্দুল গনি আল-হানাফি, এবং আল্লামা ফকিহ ও উসুলবিদ শেখ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আমান। তেমনিভাবে তিনি ফকিহ ও পুণ্যবান শেখ বাহাউদ্দিন আল-আফগানির নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং আল্লামা মুহাদ্দিস (محدث) শেখ আব্দুর রউফ আল-মিসরি। তিনি আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আল-আরাবি আত-তাব্বানির নিকট থেকে সিরাতে নববী ও ইসলামি ইতিহাস লাভ করেন এবং আল্লামা শেখ মুহাম্মদ বিন আলী বিন হোসেন আল-মালিকির নিকট নাহু (ব্যাকরণ) পাঠ করেন। এছাড়া তিনি সাইয়্যেদ শেখ আব্বাস আল-মালিকি এবং শেখ আসাদ আল-মালিকির নিকট থেকেও ইলম অর্জন করেন।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ: যেহেতু আমাদের শায়খ ও কিতাব রচয়িতা—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—শরিয়ত ও আরবি ভাষা এবং এর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে গভীর পাণ্ডিত্য রাখতেন, তাই ইলম অন্বেষণকারীরা তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ ও তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত হতে এবং তাঁর হাদিসের সনদসমূহের (أسانيد) সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর অভিমুখী হতেন। তাঁর এই সনদসমূহকে (أسانيد) সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ স্তরের সনদ (أسانيد) হিসেবে গণ্য করা হতো, বিশেষ করে তাঁর উস্তাদ ও সমসাময়িকদের ইন্তেকালের পর। ফলে তিনি যখন মক্কা মুকাররামায় অবস্থান করছিলেন, তখন জ্ঞানপিপাসুদের একটি বড় দল তাঁকে ঘিরে সমবেত হয়। আর যখন তিনি নিজ জন্মভূমি আল-আহসায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, তখন তাঁর গৃহটি আহসা, নজদ ও হিজাজ থেকে শুরু করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ছাত্র ও আলেমদের জন্য এক মিলনস্থলে পরিণত হয়। যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি যে, বিভিন্ন শাস্ত্রে শায়খের গভীর জ্ঞান ও পারদর্শিতা এবং সেই সাথে সাহিত্যের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ও কাব্যচর্চা—এসবই শায়খকে তাঁর ছাত্র ও দর্শনার্থীদের নিকট অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী করে তুলেছিল। ফলে তিনি...
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
رحمه الله في تقريره للدرس كثير الشواهد بالشعر والنكت والطرائف المناسبة، لذلك كان مجلسه لا يمل وسامعه يصغي إليه ويستمتع بحديثه.

 

‌‌مؤلفاته: ترك لنا الشيخ رحمه الله عدة رسائل وفتاوى متنوعة في فنون عديدة، كما خلف لنا ديوان شعر، ومقطوعات نثرية ومقامات أدبية، وهي في طريقها للنور قريباً إن شاء الله بعناية سبطيه الشيخ مراد والشيخ رائد ابني عبد الله الملا.

‌‌وفاته: توفي شيخنا الناظم رحمه الله تعالى مساء يوم السادس والعشرين من شهر شوال عام 1429 هـ عن عمر يناهز ثماني وتسعين عاماً قضاها رحمه الله في التعلم والتعليم ومنفعة المسلمين عن طريق الرقية الشرعية ومناصرة المظلومين ورد حقوقهم ومساعدة الفقراء والمحتاجين، رحمه الله رحمة واسعة وأسكنه فسيح جناته وبارك له في ذريته وأهل بيته وتلاميذه وعموم المسلمين كل خير وعمل صالح.

بقلم تلميذه وابن أخيه

أحمد بن الشيخ عبد الله بن الشيخ أبي بكر الملا
আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, পাঠদানের ক্ষেত্রে তিনি প্রচুর কবিতা, কৌতুক এবং প্রাসঙ্গিক রসিকতার উদ্ধৃতি দিতেন; যার ফলে তাঁর মজলিস কখনো একঘেয়ে হতো না এবং শ্রোতারা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তাঁর কথা শুনতেন ও তাঁর আলোচনা উপভোগ করতেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি: শায়খ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) আমাদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু পুস্তিকা ও বহুমুখী ফতোয়া রেখে গেছেন। এছাড়াও তিনি একটি কাব্যগ্রন্থ, গদ্য সংকলন এবং সাহিত্যিক মাকামাত রেখে গেছেন; যা তাঁর দুই দৌহিত্র শায়খ মুরাদ ও শায়খ রায়েদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুল্লার তত্ত্বাবধানে শীঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।

‌‌তাঁর ইন্তেকাল: আমাদের শায়খ আন-নাজিম (আল্লাহ তা'আলা তাঁকে রহম করুন) ১৪২৯ হিজরি সনের ২৬শে শাওয়াল সন্ধ্যায় আনুমানিক ৯৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, তিনি তাঁর এই দীর্ঘ জীবন জ্ঞান অর্জন, শিক্ষাদান, শরয়ি রুকইয়াহ (الرقية الشرعية) এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকার সাধন, মজলুমদের পক্ষাবলম্বন ও তাঁদের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং দরিদ্র ও অভাবীদের সহায়তায় ব্যয় করেছেন। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন, জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর বংশধর, পরিবার-পরিজন, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মুসলিমদের জন্য কল্যাণ ও নেক আমলের বরকত দান করুন।

লিখনীতে তাঁর ছাত্র ও ভ্রাতুষ্পুত্র

আহমদ বিন শায়খ আব্দুল্লাহ বিন শায়খ আবু বকর আল-মুল্লা
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌مَتْنُ الأُرجوزَة

"إلهام المغيث في أقسام الحديث
"

قال الناظم -رحمه الله تعالى:

يَا سَائِلي عَنِ الحَدِيثِ مُرْتَقِبْ … أَقْسَامَهُ خُذْها بِنَظْمٍ مُقْتَرِبْ

إنَّ الصَّحيحَ مَا سَنَدُهُ اتَّصَلْ … بِلَا شُذُوذٍ وَ بضَابِطَيْنَ دَلّْ

وَالحَسَنُ المَعْرُوفُ دُونَ الأَوَّلِ … رجالُه لَا كَالصَّحِيحِ المُعْتَلِي

أمَّا الضَّعيفُ فَهْوَ دُونَ الحَسَنِ … لِفَقْدِهِ شُرُوطَهُ فَاسْتَبِنِ

وَمَا عُزِيْ(1) إِلَى النَّبِيِّ أَو نُسِبْ … فَذَا هُوَ المَرْفُوعُ فَاحْفَظْهُ تُصِبْ

وَمَا عَلَى قَولِ الصَّحابيِّ قُصِرْ … فَذَا هُوَ المَوقُوفُ يَا ذَا المُبْتَصِرْ

وَمَا بِإسْنَادٍ لَهُ قَدِ اتَّصَلْ … فَذَا هُوَ المَوصُولُ حَيْثُما حَصَلْ

وَمُرْسَلٌ مَا التَّابِعِيُّ قَدْ رَفَعْ … كَقَوْلِهِ عَنِ النَّبِيِّ المُتَّبَعْ

وَمَا أَتَى عَنْ تَابِعِ مَوْقُوفَا … فَذَاكَ مَقْطُوعٌ أَتَى مَعْرُوفَا

وَمَا لِآحَادِ رُوَاتِهِ سَقَطْ … مُنْقَطِعٌ عَنِ الصَّحِيحِ قَدْ هَبَطْ

--------------------------------------------

(1) تسكين الياء هنا ضرورة شعرية.
‌'উর্জুযাহ' কাব্যগ্রন্থের মূলপাঠ

"ইলহামুল মুগীস ফি আকসামিল হাদিস"

রচয়িতা—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—বলেছেন:

হে হাদিস সম্পর্কে আমার নিকট জিজ্ঞাসু প্রত্যাশী! … এর প্রকারভেদগুলো এই সংক্ষিপ্ত পদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করো।

নিশ্চয়ই সহিহ (صحيح) হলো সেটি যার সনদ বা সূত্র নিরবচ্ছিন্ন (متصل), … যা বিচ্যুতি (شذوذ) মুক্ত এবং যা বর্ণনাকারীর প্রখর স্মৃতি ও নির্ভুলতা (ضبط) দ্বারা নির্দেশিত।

আর হাসান (حسن) হলো সেটি যা প্রথমোক্তটি (সহিহ) অপেক্ষা নিম্নস্তরের হিসেবে পরিচিত, … এর বর্ণনাকারীগণ উচ্চমানের সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীদের মতো নন।

আর জঈফ (ضعيف) হলো সেটি যা হাসান (حسن) অপেক্ষা নিম্নমানের, … এর শর্তাবলি অনুপস্থিত থাকার কারণে; বিষয়টি তুমি স্পষ্টভাবে বুঝে নাও।

যা কিছু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পর্কিত বা সম্পৃক্ত করা হয়, … সেটিই মারফু (مرفوع); এটি স্মরণে রাখো, তবেই তুমি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

আর যা সাহাবীর বক্তব্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, … হে দূরদর্শী! সেটিই হলো মাওকুফ (موقوف)।

আর যার সূত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে, … সেটিই হলো মুত্তাসিল (موصول) যেখানেই তা সংঘটিত হোক।

আর মুরসাল (مرسل) হলো সেটি যা তাবেঈ সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পর্কিত করেন, … যেমন তাঁর বলা যে, অনুসরণীয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত।

আর যা তাবেঈর বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়, … সেটি মাকতু (مقطوع) হিসেবে পরিচিত।

আর যার বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কেউ বাদ পড়েছে, … সেটি মুনকাতি (منقطع), যা সহিহ (صحيح) এর মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত।

--------------------------------------------

(১) এখানে 'ইয়া' (ياء) বর্ণটিকে সাকিন করা কাব্যিক প্রয়োজনে হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
المُعْضَلُ السَّاقِطُ مِنْهُ اثْنَانِ … عَلَى التَّوَالي فَاتَّبِعْ بَيَاني

وَمَا مِنَ الإِسْنَادِ أَوَّلاً حُذِفْ … مُعَلَّقٌ لَا وَسَطٌ بِذَا عُرِفْ

وَمَنْ يَكُنْ لِشَيْخِهِ قَدْ أسْقَطَا … ذاَكَ مُدَلَّسٌ كَمَا قَدْ ضُبِطَا

أمَّا الغَرِيبُ فَهْوَ مَا رَوَاهُ … فَرْدٌ مِنَ الرُّوَاةِ لَا سِوَاهُ

وَمَنْ يَكُنْ قَدْ خَالَفَ الثَّقاتِ … حَديْثُهُ شَذَّ لَدَى الرُّوَاةِ

وَالمُنْكَرُ الَّذِي لِمَتْنِهِ جُهِلْ … مِنْ غَيْرِ رَاوِيْهِ وَلَمْ يَكُنْ قُبِلْ

وَمَا رُوِيْ(1) مِنْ أَوْجُهٍ مُخْتَلِفَهْ … عَنْ وَاحِدٍ مُضْطَرِبٌ فَلْتَعْرِفَهْ

وَآخِرُ الأقسَامِ مَا كَانَ وُضِعْ … وَعَزْوُهُ إِلَى النَّبِيِّ قَدْ مُنِعْ

وَنَاظِمُ الأَقْسَامِ لِلْبَيَانِ … هُوَ الفَقِيْرُ عَابِدُ الرَّحْمَنِ

نَجْلُ أبي بِكْرِ الشَّهِيرِ ذِي الحَسَبْ مَنِ ارْتَقَى بِعِلْمِهِ أَعْلَى الرُّتَبْ

عَلَيْهِ رَحْمَةُ الإلَهِ الخَالِقِ … الوَاسِعِ الرَّحْمَةِ لِلْخَلَائِقِ

ثُمَّ صَلَاةُ اللهِ وَ السَّلَامُ … عَلَى الَّذِي ظلَّلَهُ الغَمَامُ

مُحَمَّدٍ وَآلِهِ الأَطْهَارِ … وَصَحْبِهِ مَشَارِقِ الأَنْوَارِ

مَا نَزلَ الوَدْقُ مِنَ السَّحَابِ … وَمَا بَدَى البَدْرُ مِنَ الغِيَابِ

--------------------------------------------

(1) تسكين الياء هنا ضرورة شعرية.
মু'দাল (معضل) হলো যার সনদ থেকে ধারাবাহিকভাবে দুইজন (বর্ণনাকারী) বাদ পড়েছে … সুতরাং আমার বর্ণনা অনুসরণ করো।

আর সনদের শুরু থেকে যা বাদ দেওয়া হয় … তা মুয়াল্লাক (ঝুলন্ত) (معلق) হিসেবে পরিচিত, মধ্যভাগ থেকে (বাদ পড়া) নয়।

আর যিনি স্বীয় শায়খকে (সনদ থেকে) বাদ দিয়েছেন … তা মুদাল্লাস (প্রবঞ্চনামূলক) (مدلس) হিসেবে সুসংরক্ষিত।

আর গারিব (একক) (غريب) হলো যা বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কেবল একজন … বর্ণনা করেছেন, অন্য কেউ নয়।

আর যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেন … বর্ণনাকারীদের নিকট তার হাদিস শায (অস্বাভাবিক) (شاذ) হিসেবে গণ্য।

আর মুনকার (অস্বীকৃত) (منكر) হলো যার মূলপাঠ (মতন) তার (দুর্বল) বর্ণনাকারী ব্যতীত … অন্য কারো সূত্রে অপরিচিত এবং তা গ্রহণ করা হয় না।

আর যা বর্ণিত হয়েছে(১) বিভিন্ন ও বিপরীতমুখী উপায়ে … একজন বর্ণনাকারী থেকে, তা মুদতারিব (বিপর্যস্ত) (مضطرب); সুতরাং তা জেনে নাও।

আর সর্বশেষ প্রকারভেদ হলো যা জাল (موضوع) করা হয়েছে … এবং যা নবী (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আর ব্যাখ্যার নিমিত্তে এই প্রকারভেদসমূহ রচনাকারী … হলেন (আল্লাহর করুণার) মুখাপেক্ষী আবদুর রহমান।

প্রসিদ্ধ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আবু বকরের পুত্র, যিনি স্বীয় ইলমের মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্তরে আরোহণ করেছেন।

তাঁর ওপর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হোক … যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতি প্রশস্ত রহমতের অধিকারী।

অতঃপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম … তাঁর ওপর, যাঁর ওপর মেঘমালা ছায়া দান করেছিল।

মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ … এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর, যাঁরা নূরের উদয়স্থল।

যতক্ষণ মেঘ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হবে … এবং যতক্ষণ অমানিশা কাটিয়ে পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হবে।

--------------------------------------------

(১) এখানে কাব্যিক প্রয়োজনের খাতিরে 'ইয়া' বর্ণটিকে সাকিন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الناظم رحمه الله.

(1) يَا سَائِلي عَنِ الحَدِيثِ مُرْتَقِبْ … أَقْسَامَهُ خُذْها بِنَظْمٍ مُقْتَرِبْ


 

(1) في هذا البيت ينادي الناظم رحمه الله الشخص الذي سأله عن أنواع الحديث، ولعل هذا الشخص أحد طلابه ومريديه في تحصيل العلم، وأحد الملتزمين له، نفهم ذلك من أسلوب الخطاب.

ومعنى البيت باختصار: أيها السائل الذي سألتني عن تعريف الحديث، وأنت تنتظر مني بيان أنواع الحديث، إذا اعرف وخذ بيان أنواع الحديث في نظم قريبٍ سهلٍ لا تجد في فهمه صعوبة.

في هذا البيت جاء ذكر الحديث، وأود أن أذكر بإيجاز تعريف الحديث والسنة، ليتبين للقارئ الفرق بينهما، فبعون الله أقول:

الحديث لغة: الجديد ضد القديم، كما يقال: فلان حديث عهد بالإسلام، وقد يطلق على الكلام، كما يقال: سمعتُ حديثك أي: كلامك، ويقال تحدث فلان، أي: تكلم.

والحديث في مصطلح أهل الأثر: ما أضيف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير، أو صفة خَلقية، أو خُلقية، ويطلق كثيراً على ما أضيف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌রচয়িতার (নাজিম) ভূমিকা রহিমাহুল্লাহ।

(১) হে আমার নিকট হাদিস সম্পর্কে প্রশ্নকারী ও প্রত্যাশী, তুমি এর প্রকারভেদসমূহ (أقسامه) এক সহজবোধ্য পদ্যে গ্রহণ করো।


 

(১) এই পঙক্তিতে রচয়িতা (রহিমাহুল্লাহ) সেই ব্যক্তিকে সম্বোধন করছেন যিনি তাঁকে হাদিসের প্রকারভেদ (أنواع الحديث) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। সম্ভবত এই ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর অন্যতম ছাত্র ও অনুসারী এবং তাঁর সান্নিধ্যে থাকাদের একজন; আমরা তাঁর সম্বোধনের ভঙ্গি থেকে তা বুঝতে পারি।

পঙক্তিটির সংক্ষিপ্ত অর্থ হলো: হে প্রশ্নকারী, যে আমাকে হাদিসের সংজ্ঞা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ এবং আমার নিকট থেকে হাদিসের প্রকারভেদ (أنواع الحديث) বর্ণনার জন্য অপেক্ষায় আছ; তবে তুমি হাদিসের প্রকারভেদের বর্ণনাটি এক সহজ ও নিকটবর্তী পদ্যাকারে জেনে নাও ও গ্রহণ করো, যার অনুধাবনে তুমি কোনো কাঠিন্য পাবে না।

এই পঙক্তিতে হাদিসের উল্লেখ এসেছে। আমি সংক্ষেপে হাদিস ও সুন্নাহর সংজ্ঞা উল্লেখ করতে চাই, যাতে পাঠকের কাছে এই দুটির মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহর সাহায্যে আমি বলছি:

শাব্দিক অর্থে হাদিস: প্রাচীন-এর বিপরীত নতুন। যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন। আবার কখনো তা কথার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন বলা হয়: ‘আমি তোমার কথা শুনেছি’, অর্থাৎ তোমার বক্তব্য। আর বলা হয় ‘অমুক ব্যক্তি কথা বলেছে’, অর্থাৎ সে কথা বলেছে।

আসর-বিশারদদের (أهل الأثر) পরিভাষায় (مصطلح) হাদিস হলো: যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; হোক তা কোনো কথা (قول), কর্ম (فعل), মৌন সম্মতি (تقرير), শারীরিক বৈশিষ্ট্য (صفة خَلقية), অথবা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (صفة خُلقية)। আর এটি সচরাচর সেই বিষয়ের ওপরও প্রয়োগ করা হয় যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من قول.

السنة في اللغة: الطريقة المسلوكة، ولها إطلاقات كثيرة، تارة تُطلق على ما عليه دليل من الكتاب أو السنة، أي: على الحكم الشرعي المأخوذ من الكتاب أو السنة، وتارة تطلق على ما يقابل البدعة.

والسنة عند الفقهاء: ما ليس بواجب، وتطلق السنة على ما استقر عليه عمل الصحابة.

والسنة في اصطلاح أهل الأثر: مرادف للحديث، أي: ما أضيف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة، إلا أن السنة كثيراً ما تطلق على ما أضيف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من أفعال، وبذلك ظهر الفرق بين الحديث والسنة من حيث المعنى اللغوي والاصطلاحي حيث أن الحديث كثيراً ما يطلق على أقوال النبي صلى الله عليه وسلم، والسنة كثيراً ما تطلق على أعمال النبي صلى الله عليه وسلم.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো বাণী হিসেবে।

শাব্দিক অর্থে সুন্নাহ হলো: অনুসৃত পথ (الطريقة المسلوكة); এর বহুবিধ প্রয়োগ রয়েছে। কখনও একে কিতাব বা সুন্নাহর দলিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়, অর্থাৎ: কিতাব বা সুন্নাহ থেকে গৃহীত শরয়ী বিধানের (الحكم الشرعي) ওপর; আবার কখনও একে বিদআতের (البدعة) বিপরীতে ব্যবহার করা হয়।

ফকিহগণের (الفقهاء) পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: যা ওয়াজিব (واجب) নয়। এ ছাড়া সাহাবায়ে কেরামের (الصحابة) আমল যে বিষয়ের ওপর স্থির হয়েছে, তাকেও সুন্নাহ বলা হয়।

আর আহলুল আসারের (أهل الأثر) পরিভাষায় (اصطلاح): সুন্নাহ হলো হাদিসের সমার্থক (مرادف); অর্থাৎ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে বাণী (قول), কর্ম (فعل), মৌনসম্মতি (تقرير) কিংবা বৈশিষ্ট্য (صفة) হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। তবে সুন্নাহ শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মসমূহের (أفعال) ওপর প্রয়োগ করা হয়। এর মাধ্যমে শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থের দিক থেকে হাদিস ও সুন্নাহর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়; যেহেতু হাদিস শব্দটি সাধারণত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীসমূহের (أقوال) ক্ষেত্রে এবং সুন্নাহ শব্দটি সাধারণত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মসমূহের (أعمال) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌النوع الأول: الصحيح

(2) إنَّ الصَّحيحَ مَا سَنَدُهُ اتَّصَلْ … بِلَا شُذُوذٍ وَ بضَابِطَيْنَ دَلّْ


 

(2) بهذا البيت بدأ الشيخ الناظم رحمه الله بيان أنواع الحديث، وجدير بالذكر أن الحديث بحسب مصطلحات أهل الحديث يتنوع إلى أنواع كثيرة، ولكل نوع مصطلح أو اسم خاص أطلق عليه علماء الحديث، ولا ينقسم الحديث في نفسه أو في حد ذاته إلا إلى ثلاثة أقسام: الصحيح، الحسن، الضعيف. ولا يُعدُ سائر الأنواع مثل: المرفوع، الموصول، الموقوف، المنقطع أقساماً للحديث، لأن كل قسم لا يجتمع مع قسيمه، فمثلاً الضعيف لا يجتمع مع الصحيح، فلا يصح أن نقول هذا الحديث صحيح وضعيف. وأما النوع فيجتمع مع نوعه الآخر، فيصح أن نقول: هذا الحديث مرفوع موصول، صحيح، إذاً ما يأتي ذكره في نظم الشيخ رحمه الله وجعل الجنة مثواه- ذكر لنا في البيت الثاني من منظومته تعريف الحديث الصحيح، فقال: الصحيح، أي الحديث الصحيح: ما سنده اتصل، أي هو الحديث الذي اتصل سنده بلا شذوذ،
প্রথম প্রকার: সহিহ (الصحيح)

(২) নিশ্চয়ই সহিহ (الصحيح) হলো তা যার সনদ (السند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) … কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) ছাড়াই এবং যা নির্ভুল বর্ণনাকারীর (ضابط) বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্দেশিত।


 

(২) এই পংক্তির মাধ্যমে সম্মানিত গ্রন্থকার (নাজিম) - আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন - হাদিসের প্রকারভেদ বর্ণনা শুরু করেছেন। এটি উল্লেখ করা সমীচীন যে, মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা অনুযায়ী হাদিস অনেক প্রকারে বিভক্ত এবং হাদিস বিশারদগণ প্রতিটি প্রকারের জন্য বিশেষ পরিভাষা বা নাম নির্ধারণ করেছেন। তবে হাদিস তার নিজ সত্তায় কেবল তিনটি ভাগে বিভক্ত: সহিহ (الصحيح), হাসান (الحسن) এবং দুর্বল (الضعيف)। অন্যান্য প্রকার যেমন: মারফু (المرفوع), মওসুল (الموصول), মাওকুফ (الموقوف) এবং বিচ্ছিন্ন (المنقطع)-কে হাদিসের মূল বিভাগ হিসেবে গণ্য করা হয় না। কারণ প্রতিটি বিভাগ তার বিপরীত বিভাগের সাথে একত্র হয় না। উদাহরণস্বরূপ, দুর্বল (الضعيف) ও সহিহ (الصحيح) একই সাথে একত্র হতে পারে না; তাই এটি বলা শুদ্ধ নয় যে, এই হাদিসটি একই সাথে সহিহ (صحيح) এবং দুর্বল (ضعيف)। পক্ষান্তরে হাদিসের ধরন বা বৈশিষ্ট্যসমূহ একে অপরের সাথে যুক্ত হতে পারে, তাই এটি বলা সঠিক যে: এই হাদিসটি মারফু (مرفوع), মওসুল (موصول) এবং সহিহ (صحيح)। সুতরাং শায়খ - আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন - তাঁর কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় পংক্তিতে আমাদের নিকট সহিহ (الصحيح) হাদিসের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন: সহিহ (الصحيح), অর্থাৎ সহিহ হাদিস হলো: যার সনদ (السند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل), অর্থাৎ এটি এমন হাদিস যার সনদ (السند) কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

أي: لا يكون متنه شاذاً وبضابطين دلَّ، أي: روي برواية ونقلِ رواةٍ عدول ضابطين، فقوله في آخر البيت: وبضابِطِينْ هو بصيغة الجمع المذكر السالم المجرور بالياء، فلا يُظن أنه مثنى. فتعريف الحديث الصحيح بالاختصار هو: "الحديث الذي اتصل سنَدُه بنقل العدل الضابط عن مثله إلى منتهاه من غير ولا علةٍ"، فبالنظر إلى تعريف الحديث الصحيح يتبين لنا أنه لا بد من وجود الشروط الخمسة التالية في حديث ما ليُسَمى حديثاً صحيحاً وهي:

1 - اتصال السند، ومعناه: أن كل راوٍ من رواته قد أخذه مباشرة عمّن فوقه، من أول السند إلى منتهاه.

2 - عدالة الرواة، أي أن كل راوٍ من رواته اتصف بكونه مسلماً بالغاً عاقلاً، غير فاسق، وغير مخروم المروءة.

3 - ضبط الرواة، أي: أن كل راوٍ من رواته يكون تام الضبط، إما ضبط الصدر أو ضبط الكتاب.

4 - عدم الشذوذ، أي: بعد وجود الشروط الثلاثة المذكورة لا يكون متن الحديث شاذاً، والشذوذ: مخالفة الثقة لمن هو أوثق منه.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

অর্থাৎ: এর মতন (متن) যেন শায (شاذ) না হয়। আর 'দ্বাবিতীন' শব্দের মাধ্যমে এটি নির্দেশ করা হয়েছে যে, হাদিসটি ন্যায়পরায়ণ (عدول) ও প্রখর স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (ضابطين) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। কবিতাংশের শেষে উল্লিখিত 'বদ্বাবিতীন' (وبضابطين) শব্দটি বহুবচন পুংলিঙ্গ হিসেবে 'ইয়া' যোগে মাজরুর অবস্থায় ব্যবহৃত হয়েছে; সুতরাং একে দ্বিবচন মনে করা যাবে না। সংক্ষেপে সহিহ (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞা হলো: "এমন হাদিস যার সনদ (سند) এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে ন্যায়পরায়ণ (عدল) ও প্রখর স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী তার অনুরূপ ব্যক্তির কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যা শায (شاذ) ও ত্রুটি (علة) মুক্ত।" সহিহ (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞার দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, কোনো হাদিসকে সহিহ (صحيح) বলার জন্য তাতে নিম্নোক্ত পাঁচটি শর্ত থাকা আবশ্যক, সেগুলো হলো:

1 - সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال السند), এর অর্থ হলো: এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরাসরি তার উপরের স্তরের বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিসটি গ্রহণ করেছেন।

2 - বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), অর্থাৎ এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকসম্পন্ন হওয়া এবং পাপাচার ও শিষ্টাচার পরিপন্থী কাজ থেকে মুক্ত হওয়ার গুণে গুণান্বিত হওয়া।

3 - বর্ণনাকারীদের প্রখর স্মৃতিশক্তি (ضبط), অর্থাৎ এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী পূর্ণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী হবেন, তা মুখস্থ স্মৃতিশক্তি (ضبط الصدر) হোক কিংবা লিখিত সংরক্ষণ (ضبط الكتاب) হোক।

4 - শায (شاذ) না হওয়া, অর্থাৎ উল্লিখিত তিনটি শর্ত বিদ্যমান থাকার পর হাদিসের মতন (متن) যেন শায (شاذ) না হয়। আর শায (شاذ) হলো: কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

5 - عدم العلة: أي: لا يكون الحديث معلولاً والمراد من العلة في هذا الشرط هو: السبب الخفي الغامض الذي يقدح في وجوده في صحة الحديث، ولا يُدرِكُه إلا الجهابذة والحذاق من المحدثين، ويبدو ظاهر السند والحديث سالماً من هذه العلة، فإذا اختل شرط واحد من هذه الشروط الخمسة (التي) لا يُسمَّى الحديث حينئذ حديثاً صحيحاً.


 

5 - ত্রুটিহীনতা (عدم العلة): অর্থাৎ, হাদিসটি ত্রুটিপূর্ণ (معلول) হবে না। এই শর্তে ত্রুটি (العلة) বলতে এমন এক গোপন ও অস্পষ্ট কারণকে বোঝানো হয়েছে, যার উপস্থিতি হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة الحديث) প্রশ্নবিদ্ধ করে। হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) মধ্যে যারা অত্যন্ত দক্ষ ও বিচক্ষণ কেবল তারাই এটি অনুধাবন করতে পারেন; অথচ আপাতদৃষ্টিতে সনদ (السند) এবং হাদিসটি এই ত্রুটি থেকে মুক্ত বলে মনে হয়। সুতরাং এই পাঁচটি শর্তের মধ্য থেকে কোনো একটি শর্তও যদি লঙ্ঘিত হয়, তবে সেই হাদিসকে আর সহিহ (صحيح) হাদিস বলা যাবে না।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌النوع الثاني: الحسن

(3) والحسن المعروف دون الأول … رجاله لا كالصحيح المعتلي


 

(3) ذكر الناظم رحمه الله في هذا البيت تعريف القسم الثاني من أقسام الحديث، ألا وهو: الحديث الحسن، فقال رحمه الله: الحديث الحسن هو: الحديث الذي يكون معروفاً عند المحدثين، لكنه لم يصل إلى درجة الصحيح، ورجال إسناده لا تكون لهم درجة عالية كما هي لرجال درجة الصحيح، هذا هو معنى البيت في تعريف الحديث الحسن، ويمكننا أن نذكر تعريف الحديث الحسن بالاختصار: الحديث الحسن هو: الحديث الصحيح، إذا خف ضبط راويه، أي: قلَّ ضبطه، يعني: الحديث الحسن الذي يوجد فيه شروط الحديث الصحيح من اتصال السند، وعدالة الرواة، مع ضبطهم وخلوه من الشذوذ والعلة، ولكن رواته لا تبلغ في الضبط درجة رواة الصحيح.
‌‌দ্বিতীয় প্রকার: হাসান (الحسن)

(৩) আর হাসান (الحسن) হাদিস যা প্রথমটির (সহিহ) চেয়ে নিম্নমানের এবং সুপরিচিত … এর বর্ণনাকারীগণ উচ্চমানের সহিহ (الصحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীদের মতো নন।


 

(৩) নাযিম রহিমাহুল্লাহ এই চরণে হাদিসের প্রকারসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকারের সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো: হাসান (الحسن) হাদিস। তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: হাসান (الحسن) হাদিস হলো সেই হাদিস যা মুহাদ্দিসগণের নিকট পরিচিত, কিন্তু তা সহিহ (الصحيح) এর স্তরে পৌঁছেনি এবং এর সনদের বর্ণনাকারীদের মর্যাদা সহিহ (الصحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীদের মতো উচ্চপর্যায়ের নয়। হাসান (الحسن) হাদিসের সংজ্ঞায় এটিই এই চরণের অর্থ। আমরা সংক্ষেপে হাসান (الحسن) হাদিসের সংজ্ঞা এভাবে উল্লেখ করতে পারি: হাসান (الحسن) হাদিস হলো সেই সহিহ (الصحيح) হাদিস যার বর্ণনাকারীর ধারণক্ষমতা (ضبط) কিছুটা হালকা বা কম হয়। অর্থাৎ: তার ধারণক্ষমতা (ضبط) হ্রাস পাওয়া। এর অর্থ হলো: হাসান (الحسن) হাদিস সেটিই যার মধ্যে সহিহ (الصحيح) হাদিসের শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে, যেমন সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال السند), বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং তাদের ধারণক্ষমতা (ضبط) থাকার পাশাপাশি তা বিচ্ছিন্নতা (شذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত হওয়া; তবে এর বর্ণনাকারীগণ ধারণক্ষমতার (ضبط) ক্ষেত্রে সহিহ (الصحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছেন না।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌النوع الثالث: الضعيف

(4) أما الضعيف، فهو دون الحسنِ … لفقده شروطه فاستَبِنِ


 

(4) ذكر الناظم رحمه الله في هذا البيت تعريف القسم الثالث من أقسام الحديث، ألا وهو الحديث الضعيف، وقال رحمه الله: الحديث الضعيف هو الحديث: الذي يكون أدنى مرتبة من الحديث الصحيح، لعدم وجود شروط الحديث الحسن فيه، ونتذكر نحن أن شروط الحديث الصحيح والحسن خمسة:

1 - اتصال السند.

2 - عدالة الرواة.

3 - ضبط الرواة.

4 - خلو الحديث من الشذوذ.

5 - خُلُّوه من العلة الخفية.

6 - وإذا فُقِدت هذه الشروط، أو واحد منها في حديثٍ ما ينزل درجة الحديث الضعيف، ثم للضعف مراتب، أدناها: أن يكون راويه سيُئ الحفظ، يعني: يوجد فيه الشروط الخمسة المذكورة سابقاً، لكن رواته أو واحد من رواته يكون سيئَ الحفظ، لا يستطيع أن يحفظ إلا بمحاولات وصعوبات كثيرة، وإذا حفظ ينساه سريعاً، وأعلى درجات الحديث الضعيف أن يكون راويه كذاباً وضَّاعاً، وهذا النوع من الراوي لا يُنظر إلى روايته ولا يُقبلُ كلامه البتَّة.
‌তৃতীয় প্রকার: দুর্বল (الضعيف)

(৪) আর যা দুর্বল (الضعيف), তা হাসান (الحسن) অপেক্ষা নিম্নমানের … যেহেতু এটি তার (হাসান হওয়ার) শর্তসমূহ হারিয়েছে, সুতরাং বিষয়টি স্পষ্টভাবে জেনে নিন।


 

(৪) নাযিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই চরণে হাদিসের প্রকারভেদের তৃতীয় প্রকারের সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো দুর্বল (الضعيف) হাদিস। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: দুর্বল (الضعيف) হাদিস হলো সেই হাদিস: যা হাসান (الحسن) হাদিসের শর্তসমূহ বিদ্যমান না থাকার কারণে সহিহ (الصحيح) হাদিসের তুলনায় নিম্নস্তরের হয়ে থাকে। আমরা স্মরণ করতে পারি যে, সহিহ (الصحيح) এবং হাসান (الحسن) হাদিসের শর্তাবলী পাঁচটি:

১ - সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال السند)।

২ - বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الرواة)।

৩ - বর্ণনাকারীদের নির্ভুলতা ও স্মৃতিশক্তি (ضبط الرواة)।

৪ - হাদিসটি অসংগতি (الشذوذ) থেকে মুক্ত হওয়া।

৫ - হাদিসটি সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة الخفية) থেকে মুক্ত হওয়া।

৬ - যখন কোনো হাদিসে এই শর্তগুলো বা এর কোনো একটি অনুপস্থিত থাকে, তখন তা দুর্বল (الضعيف) হাদিসের স্তরে নেমে যায়। অতঃপর দুর্বলতার (الضعف) বিভিন্ন স্তর রয়েছে; যার সর্বনিম্ন স্তর হলো: তার বর্ণনাকারী মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيئ الحفظ) হওয়া। অর্থাৎ: পূর্বোল্লিখিত পাঁচটি শর্ত তাতে বিদ্যমান থাকে, কিন্তু তার বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ একজন মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيئ الحفظ) হন, যিনি অনেক প্রচেষ্টা ও কষ্ট ছাড়া মুখস্থ করতে পারেন না এবং মুখস্থ করলেও দ্রুত তা ভুলে যান। আর দুর্বল (الضعيف) হাদিসের সর্বোচ্চ স্তর (অর্থাৎ দুর্বলতার তীব্রতম পর্যায়) হলো তার বর্ণনাকারী মিথ্যাবাদী (كذاب) ও হাদিস জালকারী (وضاع) হওয়া। এই ধরণের বর্ণনাকারীর বর্ণনার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হয় না এবং তার কথা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌النوع الرابع: المرفوع

(5) وَمَا عُزِيْ إِلَى النَّبِيِّ أَو نُسِبْ … فَذَا هُوَ المَرْفُوعُ فَاحْفَظْهُ تُصِبْ


 

(5) ذكر الناظم -رحمة الله عليه- في هذا البيت نوعاً من أنواع الحديث، وهذا النوع عند المحدّثين يُسمَى: المرفوع، وتعريف المرفوع -كما ذكره الناظم رحمه الله: هو الحديث الذي عُزِيَ، أي: نُسِبَ إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وفي آخر البيت طَلَبَ منَّا الناظم -رحمة الله عليه- بقوله: فاحفظه: أي احفظ تعريف الحديث المعروف كما ذكرتُ لك، وقوله: تُصِبْ: جواب الأمر، أي: إذا حفظت تعريف الحديث المرفوع وعرفتَه، تكون مصيباً في رأيك وقولك.

اعلم أيها القارئ الكريم: أن الحديث المرفوع يصحّ أن يكون حديثاً صحيحاً، أو حديثاً حسناً، أو حديثاً ضعيفاً، يحتمل أن يكون ضعفه بسبب الإرسال- أي: حذف الصحابي - أو بسبب الانقطاع- أي: بإسقاط أحد الرواة من السند-، أو بسبب الإعضال، -أي: إسقاط الراويين المتتاليين من الإسناد-، أو بسبب الاضطراب، - أي: الاختلاف في الرواية عن الراوي الواحد في المتن أو السند-، دون وجود وجه الترجيح.
‌চতুর্থ প্রকার: মারফু (المرفوع)

(৫) যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কিংবা নিসবত করা হয়েছে … সেটিই মারফু (المرفوع), সুতরাং তুমি তা মুখস্থ রাখো তবেই সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাবে।


 

(৫) নাজিম (ছন্দকার) -রহমাতুল্লাহি আলাইহি- এই চরণে হাদিসের প্রকারভেদসমূহের মধ্য হতে একটি প্রকার উল্লেখ করেছেন। মুহাদ্দিসগণের নিকট এই প্রকারটি মারফু (المرفوع) নামে অভিহিত। মারফু (المرفوع)-এর সংজ্ঞা—যেমনটি নাজিম (রহ.) উল্লেখ করেছেন—হলো: এটি এমন হাদিস যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (عُزِيَ) করা হয়েছে, অর্থাৎ নিসবত করা হয়েছে। চরণের শেষে নাজিম -রহমাতুল্লাহি আলাইহি- তাঁর ‘তুমি তা মুখস্থ রাখো’ একথার মাধ্যমে আমাদের নিকট দাবি করেছেন: অর্থাৎ পরিচিত হাদিসের এই সংজ্ঞাটি মুখস্থ রাখো যেভাবে আমি তোমার কাছে উল্লেখ করেছি। আর তাঁর বক্তব্য: ‘সফল হবে বা সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাবে’: এটি আদেশসূচক শব্দের উত্তর, অর্থাৎ: তুমি যদি মারফু (المرفوع) হাদিসের সংজ্ঞা মুখস্থ করো এবং তা অনুধাবন করো, তবে তুমি তোমার মতামত ও বক্তব্যে সঠিক হবে।

হে সম্মানিত পাঠক, জেনে রাখুন: মারফু (المرفوع) হাদিস সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) কিংবা জয়িফ (ضعيف) হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এর দুর্বলতা ইরসাল (الإرسال)—অর্থাৎ সাহাবীর বাদ পড়া—এর কারণে হওয়া সম্ভব, অথবা ইনকিতা (الانقطاع)—অর্থাৎ সনদ (السند) থেকে কোনো একজন বর্ণনাকারী ঝরে পড়া—এর কারণে, অথবা ইদাল (الإعضال)—অর্থাৎ ইসনাদ (الإسناد) থেকে ধারাবাহিকভাবে দুইজন বর্ণনাকারী বাদ পড়া—এর কারণে, কিংবা ইজতিরাব (الاضطراب)—অর্থাৎ কোনো প্রাধান্যযোগ্য দিক ছাড়াই মতন (المتن) বা সনদ (السند)-এর ক্ষেত্রে একই বর্ণনাকারীর থেকে প্রাপ্ত বর্ণনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হওয়া—এর কারণে হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

وسنذكر - إن شاء الله - فيما بعد في آخر المنظومة مثالاً تطبيقياً لأنواع الحديث المذكورة في هذه المنظومة، فلتراجعه لترسيخ المعلومات لديك، ولكني أود أن أذكر في هذا المقام أنواع الحديث المرفوع مع الأمثلة، فأقول: الحديث المرفوع أربعة أنواع:

الأول: المرفوع القولي، مثاله: أن يقول الصحابي أو غيره: قال الرسول صلى الله عليه وسلم: كذا …

الثاني: المرفوع الفعلي، مثاله: أن يقول الصحابي أو غيره: (فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا …

الثالث: المرفوع التقريري، مثاله: أن يقول الصحابي أو غيره: (فُعل بحضرة النبي صلى الله عليه وسلم كذا، ولا يروي إنكاره لذلك الفعل).

الرابع: المرفوع الوصفي، مثاله: أن يقول الصحابي أو غيره: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خلقاً).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এই কাব্যগ্রন্থের শেষে এতে বর্ণিত হাদিসের প্রকারভেদগুলোর একটি প্রায়োগিক উদাহরণ উল্লেখ করব, যাতে আপনার জ্ঞান সুদৃঢ় হয়; তাই আপনি সেটি দেখে নেবেন। তবে আমি এই স্থানে উদাহরণসহ মারফু (المرفوع) হাদিসের প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করতে চাই। আমি বলছি: মারফু (المرفوع) হাদিস চার প্রকার:

প্রথম: মৌখিক মারফু (المرفوع القولي), উদাহরণস্বরূপ: কোনো সাহাবী বা অন্য কারো এ কথা বলা যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অমুক... …

দ্বিতীয়: কর্মগত মারফু (المرفوع الفعلي), উদাহরণস্বরূপ: কোনো সাহাবী বা অন্য কারো এ কথা বলা যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুক কাজ করেছেন... …

তৃতীয়: সমর্থনমূলক মারফু (المرفوع التقريري), উদাহরণস্বরূপ: কোনো সাহাবী বা অন্য কারো এ কথা বলা যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে অমুক কাজ করা হয়েছে এবং তিনি উক্ত কাজের ব্যাপারে কোনো অসম্মতি বা প্রতিবাদ করেননি।

চতুর্থ: গুণবাচক মারফু (المرفوع الوصفي), উদাহরণস্বরূপ: কোনো সাহাবী বা অন্য কারো এ কথা বলা যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌النوع الخامس: الموقوف

(6) وما على قول الصحابي قصر … فذا هو الموقوف يا ذا المبتصر


 

(6) الناظم رحمه الله ذكر في هذا البيت تعريف الحديث الموقوف، فقال: الحديث الذي يكون مقصوراً على قول الصحابي، فهو يسمى موقوفاً. وقول الناظم رحمه الله في آخر البيت: يا ذا المبتصر، معناه: يا صاحب البصيرة انتبه واحفظ ما ذكرته لك من تعريف الحديث الموقوف. فبالاختصار نقول في تعريف الموقوف: هو ما نُسِب أو أُسند إلى صحابي أو جَمْعٍ من الصحابة، سواء كان ها المنسوب إليهم قولاً، أو فعلاً، أو تقريراً، وسواء كان السند إليهم متصلاً أو منقطعاً.

مثال الموقوف القولي: قول الراوي: قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه"حدثوا الناس بما يعرفون، أتريدون أن يكذب الله ورسوله".

مثال الموقوف الفعلي: قول الإمام البخاري: "أَمَّ ابنُ عباس وهو متيمّم".

ومثال الموقوف التقريري: قول بعض التابعين-مثلاً-: "فعلت كذا أمام الصحابة، ولم يُنكر عليَّ".
‌পঞ্চম প্রকার: মাওকুফ (الموقوف)

(৬) এবং যা কেবল সাহাবীর কথার ওপর সীমাবদ্ধ … হে বিচক্ষণ ব্যক্তি! সেটিই হলো মাওকুফ (الموقوف)


 

(৬) নাজিম রহিমাহুল্লাহ এই চরণে মাওকুফ (الموقوف) হাদিসের সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: যে হাদিস কেবল সাহাবীর কথার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তাকে মাওকুফ (الموقوف) বলা হয়। নাজিম রহিমাহুল্লাহ-এর চরণের শেষাংশ: ‘হে বিচক্ষণ ব্যক্তি’ (يا ذا المبتصر), এর অর্থ হলো: হে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি, মনোযোগ দিন এবং মাওকুফ (الموقوف) হাদিসের যে সংজ্ঞা আমি আপনার নিকট উল্লেখ করেছি তা স্মরণ রাখুন। সংক্ষেপে আমরা মাওকুফ (الموقوف)-এর সংজ্ঞায় বলতে পারি: যা কোনো সাহাবী (صحابي) বা একদল সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বা সাব্যস্ত করা হয়েছে, চাই সেই সম্বন্ধযুক্ত বিষয়টি কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌন সম্মতি (تقرير) হোক, এবং তাঁদের পর্যন্ত পৌঁছানোর সনদ (السند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হোক বা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হোক।

মৌখিক মাওকুফ (الموقوف القولي)-এর উদাহরণ: বর্ণনাকারীর উক্তি: আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "মানুষের নিকট তা-ই বর্ণনা করো যা তারা বুঝতে পারে। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি মিথ্যারোপ করা হোক?"

কর্মগত মাওকুফ (الموقوف الفعلي)-এর উদাহরণ: ইমাম বুখারীর উক্তি: "ইবনে আব্বাস তায়াম্মুম করা অবস্থায় ইমামতি করেছেন।"

মৌন সম্মতিমূলক মাওকুফ (الموقوف التقريري)-এর উদাহরণ: যেমন কোনো তাবিঈর উক্তি: "আমি সাহাবায়ে কেরামের সামনে এমন কাজ করেছি কিন্তু তাঁরা আমার ওপর কোনো আপত্তি করেননি।"
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

وجدير بالذكر أن بعض المحدثين -وبالأخصّ الخراسانيين*- يسمون الحديث الموقوف أثراً، والحديث المرفوع خبراً.


 

এটি উল্লেখযোগ্য যে, কতিপয় হাদিস বিশারদ —বিশেষ করে খোরাসানিগণ— সাহাবির বক্তব্য (موقوف) হাদিসকে আছার (أثر) এবং রাসুলের হাদিস (مرفوع)-কে খবর (خبر) নামে অভিহিত করেন।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌النوع السادس: الموصول

(7) وما بإسناد له قد اتصل … فذا هو الموصول حيثما حصل


 

(7) الناظم رحمه الله يبين لنا في هذا البيت أنَّ الحديث الذي يكون له إسناد متّصل من الراوي إلى النبي صلى الله عليه وسلم، أو إلى الصحابي- يعني: لا يكون في إسناده انقطاع وإرسال، يسمَّى حديثاً موصولاً.

إذاً يمكننا أن نقول: الحديث الموصول هو: الحديث الذي يكون إسناده متصلاً من أوله إلى آخره، أي: من أول الإسناد إلى آخر الإسناد، وهو النبي صلى الله عليه وسلم أو الصحابي، مثلاً قال الإمام البخاري في صحيحه عندما روى أول حديث في كتابه: "حدثنا الحُمَيدي، قال: حدثنا سفيان، قال: حدثنا يحيى بن سعيد الأنصاري، قال: أخبرني محمد بن إبراهيم التيمي: أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي يقول: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو إلى امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه"، فهذا الحديث يسمّى موصولاً؛ لاتصال إسناده من الإمام البخاري إلى النبي صلى الله عليه وسلم "، بمعنى:
ষষ্ঠ প্রকার: সংযুক্ত (الموصول)

(৭) আর যা নিরবচ্ছিন্ন (اتصل) সনদের (إسناد) মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে … তবে সেটিই হলো সংযুক্ত (الموصول) যেখানেই তা অর্জিত হয়


 

(৭) নাযেম (রহিমাহুল্লাহ) এই চরণে আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, যে হাদিসের বর্ণনাকারী থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অথবা সাহাবী (صحابي) পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সনদ (إسناد) থাকে—অর্থাৎ যার সনদে কোনো বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বা ইরসাল (إرسال) নেই—তাকে সংযুক্ত (الموصول) হাদিস বলা হয়।

অতএব আমরা বলতে পারি: সংযুক্ত (الموصول) হাদিস হলো: সেই হাদিস যার সনদ (إسناد) তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصل), অর্থাৎ সনদের শুরু থেকে সনদের শেষ পর্যন্ত যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বা সাহাবী (صحابي) পর্যন্ত পৌঁছেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে কিতাবের প্রথম হাদিসটি বর্ণনা করার সময় বলেছেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমায়দী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারী, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমী: যে তিনি আলকামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসীকে বলতে শুনেছেন: আমি মিম্বরের ওপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে হয় অথবা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে", সুতরাং এই হাদিসটিকে সংযুক্ত (الموصول) বলা হয়; কারণ ইমাম বুখারি থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত এর সনদের (إسناد) নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) রয়েছে, অর্থাৎ:
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
أن كل واحد من الرواة في السند سمع الحديث عن شيخه، وذلك من أول الإسناد إلى آخره، ثم بعد ذلك يجوز لنا أن نقول:


 

إن الحديث الموصول يصح أن يكون حديثاً مرفوعاً، صحيحاً، أو حسناً لعدم التباين أو التناقض بين هذه الأنواع. والله أعلم بالصواب.
সনদের (سند) প্রত্যেক বর্ণনাকারী হাদিসটি তাঁর উস্তাদ থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তা ইসনাদের (إسناد) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন। এরপর আমাদের জন্য এটি বলা বৈধ:


 

নিশ্চয়ই সংযুক্ত (موصول) হাদিস মারফু (مرفوع), সহিহ (صحيح) অথবা হাসান (حسن) হওয়া সঠিক; কারণ এই প্রকারগুলোর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য বা বৈপরীত্য নেই। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌النوع السابع: المرسل

(8) ومرسل ما التابعي قد رفع … كقوله: عن النبي المُتَّبَع


 

(8) في هذا البيت من المنظومة نجد تعريف الحديث المرسل، فالمرسل في اللغة: اسم مفعول من أرسل يرسل إرسالاً، ومعنى أرسله، أي: أطلقه، وتركه.

والمرسل في اصطلاح المحدثين كما ذكره الناظم رحمه الله هو: الحديث الذي رفعه- أي: نسبه التابعي إلى النبي صلى الله عليه وسلم مثلاً لو قال: سعيد بن المسيب، أو قتادة بن دعامة، أو محمد بن سيرين، أو الحسن البصري، وأمثالهم: قال النبي صلى الله عليه وسلم، أو عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال كذا، أو فعل كذا، أو أقرَّ كذا، فهذا الحديث يسمى مرسلاً، لأن التابعي ترك في الإسناد ذكر الصحابي، كأنه أطلق الإسناد من الاتصال.

والحديث المرسل: حديث ضعيف عند المحدثين، لا يجوز الاحتجاج به، وأجاز الاحتجاج به بعض الفقهاء كالإمام أبي حنيفة، ومالك، وأحمد رحمهم الله بشرط أن يكون مرسل التابعي، والإمام الشافعي رحمه الله يجيز الاحتجاج بمرسل كبار التابعين بشروط، وليس هذا مقام بسطها، لكن مرسل الصحابي حجة باتفاق جمهور المحدثين والفقهاء.

ومرسل الصحابي هو: أن يسمع واحداً من صغار الصحابة، كابن عباس، وابن عمر، وابن الزبير رضي الله عنهم مثلاً حديثاً عن أحد
‌সপ্তম প্রকার: মুরসাল (المرسل)

(৮) আর মুরসাল (مرسل) হলো তা-ই যা তাবিঈ (تابعي) মারফু (رفع) করেছেন … যেমন তাঁর উক্তি: অনুসরণযোগ্য নবী থেকে বর্ণিত


 

(৮) কাব্যগ্রন্থের এই চরণে আমরা মুরসাল (مرسل) হাদিসের সংজ্ঞা পাই। শাব্দিক অর্থে মুরসাল (مرسل): এটি ‘আরসালা-ইউরসিলু-ইরসালান’ ক্রিয়ামূল থেকে আগত ইসমে মাফউল (اسم مفعول); আর ‘আরসালাহু’ শব্দের অর্থ হলো: সে তাকে মুক্ত করে দিয়েছে বা ছেড়ে দিয়েছে।

আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় (اصطلاح المحدثين) মুরসাল (مرسل) হলো—যেমনটি গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন—এমন হাদিস যা তাবিঈ (تابعي) মারফু (رفع) করেছেন—অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, ক্বাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ, মুহাম্মদ ইবনে সিরীন অথবা হাসান বসরী এবং তাঁদের সমপর্যায়ের কেউ বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি এরূপ বলেছেন, বা এরূপ করেছেন, বা এরূপ মৌন সম্মতি (أقرَّ) দিয়েছেন, তবে এই হাদিসকে মুরসাল (مرسل) বলা হয়; কারণ তাবিঈ (تابعي) সনদে (الإسناد) সাহাবীর (صحابي) উল্লেখ ছেড়ে দিয়েছেন, যেন তিনি সনদটিকে নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন।

আর মুরসাল (مرسل) হাদিস মুহাদ্দিসগণের নিকট দুর্বল (ضعيف) হাদিস, যা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (احتجاج) বৈধ নয়। তবে কোনো কোনো ফকীহ যেমন ইমাম আবু হানিফা, মালিক এবং আহমাদ (রহিমাহুমুল্লাহ) তাবিঈর মুরসাল (مرسل) হওয়ার শর্তে এটি দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (احتجاج) বৈধ বলেছেন। ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ) বড় তাবিঈদের (كبار التابعين) মুরসাল (مرسل) কিছু শর্তসাপেক্ষে দলিল হিসেবে গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন, তবে এটি তা বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়। কিন্তু অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের ঐকমত্যে সাহাবীর মুরসাল (مرسل الصحابي) হলো দলিল (حجة)।

আর সাহাবীর মুরসাল (مرسل الصحابي) হলো: যেমন কনিষ্ঠ সাহাবীদের (صغار الصحابة) মধ্য থেকে কেউ, যেমন ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর বা ইবনে যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উদাহরণস্বরূপ কারো কাছ থেকে একটি হাদিস শ্রবণ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

كبار الصحابة، ثم في أثناء الرواية ينسبه أو يرويه مباشرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فهذا النوع من الرواية يسمى مرسل الصحابي. والله الموفق.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

বড় সাহাবীগণ, অতঃপর বর্ণনার সময় তিনি তা সম্বন্ধযুক্ত করেন অথবা সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, বর্ণনার এই ধরনটিকে সাহাবীর বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مرسل الصحابي) বলা হয়। আর আল্লাহ-ই তাওফিক দানকারী।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌النوع الثامن: المقطوع

(9) وما أتى عن تابع موقوفاً … فذاك مقطوعٌ أتى معروفاً


 

(9) وقد اصطلح المحدثون في فنون الحديث أن يسمّون قول التابعي أو فعله: حديثاً مقطوعاً، وقد ذكر الناظم رحمه الله في هذا البيت تعريف الحديث المقطوع، فقال: ما أتى، أي: رُوي عن التابعي موقوفاً، أي: من قوله أو فعله، فهذا يسمّى مقطوعاً، هكذا اشتهر وعُرف في مصطلح المحدثين.

 

والمقطوع من أنواع الحديث الضعيف، لا يجوز الاحتجاج به عند أهل العلم. والله الموفق.
অষ্টম প্রকার: মাকতু (المقطوع)

(৯) যা তাবেয়ির নিকট স্থগিত (موقوف) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে … তাই হলো মাকতু (مقطوع) যা সুপরিচিত রূপে এসেছে


 

(৯) মুহাদ্দিসগণ হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় তাবেয়ির কথা বা কাজকে মাকতু (مقطوع) হাদিস হিসেবে নামকরণ করার পরিভাষা গ্রহণ করেছেন। রচয়িতা রাহিমাহুল্লাহ এই চরণে মাকতু (مقطوع) হাদিসের সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন: 'যা এসেছে', অর্থাৎ যা তাবেয়ির থেকে স্থগিত (موقوف) হিসেবে তথা তাঁর কথা বা কাজ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তাকেই মাকতু (مقطوع) বলা হয়; মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এটি এভাবেই প্রসিদ্ধ ও পরিচিত।

 

আর মাকতু (مقطوع) হলো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের অন্যতম প্রকার, আলেমদের নিকট এটি দলিল হিসেবে পেশ করা বৈধ নয়। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌النوع التاسع: الحديث المنقطع

(10) وما لآحاد رواته سقط … منقطع عن الصحيح قد هبط


 

(10) في هذا البيت من المنظومة ورد تعريف المنقطع، وهذا المصطلح عند المحدثين مورده إسناد الحديث، فالانقطاع: وصف الإسناد، لا المتن، لكن متن الحديث قد يوصف بالمنقطع أيضاً، وذلك باعتبار إسناده.

الحديث المنقطع --ما ذكره الناظم رحمه الله هو: الحديث الذي سقط من إسناده راوٍ واحد، سواء كان في موضع أو في موضعين متفرقين، لأنه لو وقع الانقطاع في موضعين متتاليين يسمَّى معضلاً.

وقول الناظم --ليه الرحمة-: عن الصحيح قط هبط، يعني: أن الحديث المنقطع قد هبط -أي: نزل- عن مرتبة الحديث الصحيح، إذاً الحديث المنقطع حديث ضعيف، لا يجوز الاجتجاج به، والله الموفق للصواب.
নবম প্রকার: বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস

(১০) এবং যার বর্ণনাকারীদের (راوٍ) কোনো একজন বাদ পড়েছে … তা বিচ্ছিন্ন (منقطع), যা সহিহ (صحيح) এর স্তর থেকে নিচে নেমে গেছে


 

(১০) কাব্যগ্রন্থের এই চরণে বিচ্ছিন্ন (منقطع) এর সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। হাদিস বিশারদদের নিকট এই পরিভাষাটির প্রয়োগস্থল হলো হাদিসের সনদ (إسناد); সুতরাং বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) হলো সনদের (إسناد) বৈশিষ্ট্য, মতনের (متن) নয়। তবে হাদিসের মতনকেও (متন) বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হয়ে থাকে, আর তা তার সনদের (إسناد) প্রেক্ষিতেই।

বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস -- গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: এমন হাদিস যার সনদ (إسناد) থেকে একজন বর্ণনাকারী (راوٍ) বাদ পড়েছেন, চাই তা এক স্থানে হোক বা ভিন্ন ভিন্ন দুই স্থানে হোক। কারণ যদি পরপর দুই স্থানে এই বিচ্যুতি ঘটে, তবে তাকে জটিল (معضل) বলা হয়।

গ্রন্থকারের উক্তি --তাঁর প্রতি রহমত বর্ষিত হোক--: 'সহিহ (صحيح) থেকে তা নিচে নেমে গেছে', অর্থাৎ: বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস সহিহ (صحيح) হাদিসের স্তর থেকে নিচে নেমে গেছে - অর্থাৎ বিচ্যুত হয়েছে। সুতরাং বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস, যা দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করা বৈধ নয়। আর আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শক।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌النوع العاشر: الحديث المعضل

(11) والمعضل: الساقط منه اثنان … على التوالي فاتّبع بياني


 

(11) الناظم رحمه الله ذكر في هذا البيت تعريف نوع من أنواع الحديث الضعيف، ألا وهو: الحديث المعضل، فقال: الحديث المعضل هو: الحديث الضعيف، ألا وهو: الحديث المعضل، فقال: "الحديث المعضل هو: الحديث الذي سقط من إسناده راويان على التوالي، أي: متواليين"، ثم طلب من القارئ لهذه المنظومة أن يتّبع بيانه، أي: يقبل قوله في تعريف المعضل؛ لأنه لا تعريف له غير ما ذكر.

نريد أن نوضح معنى المعضل بذكر مثال: "القعنبي عن مالك: أنه بلغه أن أبا هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: للمملوك طعامه وكسوته بالمعروف، ولا يُكلف من العمل إلا ما يطيق"، هذا الحديث إسناده معضل، لأنه سقط من إسناده اثنان متواليان بين الإمام مالك رحمه الله وأبي هريرة رضي الله عنه .. الحديث إلى آخره.

قيل لهذا النوع من الإسناد: معضل؛ لأن معضل اسم مفعول من أعضل، أي: أعياه وأتعبه، كأن الراوي إذا أسقط من الإسناد راويين أعياه، يعني: صار متعباً وضعيفاً، لا يتحمّل إسناد الحديث واتكائه عليه.
দশম প্রকার: মু’দাল (معضل) হাদিস

(১১) আর মু’দাল (معضل) হলো: যেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে দুইজন (বর্ণনাকারী) বাদ পড়েছে... সুতরাং আমার বর্ণনা অনুসরণ করুন।


 

(১১) গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) এই চরণে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের একটি প্রকারের সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো: মু’দাল (معضل) হাদিস। তিনি বলেছেন: "মু’দাল (معضل) হাদিস হলো: সেই হাদিস যার সনদ (إسناد) থেকে ধারাবাহিকভাবে দুইজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে।" এরপর তিনি এই কাব্যগ্রন্থের পাঠকের নিকট অনুরোধ করেছেন যেন তাঁর বর্ণনা অনুসরণ করা হয়, অর্থাৎ মু’দাল (معضل)-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়; কারণ তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত এর অন্য কোনো সংজ্ঞা নেই।

আমরা একটি উদাহরণের মাধ্যমে মু’দাল (معضل)-এর অর্থ স্পষ্ট করতে চাই: "কা’নাবি ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেন: তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: দাসের জন্য ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাকে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।" এই হাদিসের সনদ (إسناد) হলো মু’দাল (معضل); কারণ এর সনদ (إسناد) থেকে ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মধ্যবর্তী দুইজন বর্ণনাকারী ধারাবাহিকভাবে বাদ পড়েছেন... হাদিসের শেষ পর্যন্ত।

এই ধরণের সনদকে (إسناد) মু’দাল (معضل) বলা হয়; কারণ মু’দাল (معضل) শব্দটি 'আ’দলা' (أعضل) থেকে নির্গত কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول), যার অর্থ: তাকে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত করে দেওয়া। যেন বর্ণনাকারী যখন সনদ (إسناد) থেকে দুইজন বর্ণনাকারীকে বাদ দেন, তখন তিনি একে ক্লান্ত করে দেন। অর্থাৎ এটি পরিশ্রান্ত ও দুর্বল (ضعيف) হয়ে পড়ে, যা হাদিসের সনদ (إسناد) বহন করতে ও তার ওপর নির্ভর করতে সক্ষম থাকে না।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌النوع الحادي عشر: المعلق

(12) وما من الإسناد أولاً حذف … معلق لا وسط بذا عُرف


 

(12) معنى البيت: الحديث الذي حُذف من أول إسناده رواةٌ يسمّى معلقاً، وأما إذا حذف من وسطه فلا يسمّى معلقاً، هذا هو المعروف بين المحدثين. أهـ.

أقول: معلّقات الإمام البخاري معروفة، وهي ما ذكرها بدون إسناد ترجمة الباب، أو في ترجمة الباب قبل البدء برواية الحديث مسنداً، فمثلاً في صحيح البخاري رحمه الله في كتاب المساقاة، باب رقم (17) أي: "باب الرجل يكون له ممرٌ أو شربٌ في حائط أو نخلِ"، هذه الجملة تسمّى ترجمة الباب، وبعد هذه الجملة قال الإمام البخاري: "قال النبي صلى الله عليه وسلم: من باع نخلاً بعد أن تؤبر، فثمرتها للبائع … إلخ"، فقول الإمام البخاري: "قال النبي صلى الله عليه وسلم … إلخ" يسمّى معلقاً، لأنه حذف إسناد الحديث من أوّله.

الإمام البخاري بعد ذكر هذا المعلّق روى حديثاً مسنداً، وفي آخر الحديث قال: "وعن مالك، عن نافع، عن ابن عمر، عن عُمر في العبد"، هذه الرواية أيضاً من المعلقات، لأن الإمام البخاري حذف سنده إلى الإمام مالك رحمه الله.
‌একাদশ প্রকার: মুআল্লাক (المعلق)

(১২) সনদের (الإسناد) শুরু থেকে যা বাদ দেওয়া হয়েছে... তা মুআল্লাক (معلق), মাঝখান থেকে নয়—এভাবেই তা পরিচিত।


 

(১২) পঙক্তিটির অর্থ: যে হাদিসের সনদের (إسناد) শুরু থেকে বর্ণনাকারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে মুআল্লাক (معلق) বলা হয়। পক্ষান্তরে যদি এর মধ্যভাগ থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে তাকে মুআল্লাক (معلق) বলা হয় না। মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট এটিই প্রসিদ্ধ। ইতি।

আমি বলছি: ইমাম বুখারির মুআল্লাক (معلقات) বর্ণনাগুলো সুপরিচিত; সেগুলো হচ্ছে যা তিনি অধ্যায়ের শিরোনামে সনদ (إسناد) বিহীন উল্লেখ করেছেন, অথবা মুসনাদ (مسنداً) হাদিস বর্ণনার শুরুতে শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, সহিহ বুখারির কিতাবুল মাসাকাত-এ, ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ; অর্থাৎ: "পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তির বাগান বা খেজুর বাগানে যাতায়াতের পথ অথবা পানির অংশ রয়েছে", এই বাক্যটিকে অধ্যায়ের শিরোনাম (ترجمة الباب) বলা হয়। আর এই বাক্যের পর ইমাম বুখারি বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি পরাগায়নের পর কোনো খেজুর গাছ বিক্রি করল, তবে তার ফল বিক্রেতার প্রাপ্য... ইত্যাদি।" ইমাম বুখারির এই উক্তি: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... ইত্যাদি"-কে মুআল্লাক (معلق) বলা হয়; কারণ তিনি হাদিসটির সনদের (إسناد) শুরু থেকে বাদ দিয়েছেন।

ইমাম বুখারি এই মুআল্লাক (معلق) বর্ণনার পর একটি মুসনাদ (مسند) হাদিস বর্ণনা করেছেন। সেই হাদিসের শেষে তিনি বলেছেন: "আর মালেক থেকে, নাফে-এর সূত্রে, ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর থেকে দাসের বিষয়ে বর্ণনা করেছেন।" এই বর্ণনাটিও মুআল্লাক (معلقات) এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ ইমাম বুখারি ইমাম মালেক (রহ.) পর্যন্ত তাঁর সনদ (سند) বিলুপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আয-যুবাদ ফী মুসতালাহিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

والمعلقات في غير صحيح البخاري من نوع الحديث الضعيف، وقد تتبع المحدّثون المعلقات في صحيح البخاري فوجدوا غالبيتها مسندةَ من قبيل الصحاح والحسان. والله الموفق.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

সহিহ বুখারি ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে বিদ্যমান সূত্রহীন (معلقات) বর্ণনাগুলো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের প্রকারভুক্ত। হাদিস বিশারদগণ (محدثون) সহিহ বুখারির সূত্রহীন (معلقات) বর্ণনাগুলো অনুসন্ধান করেছেন এবং তারা এগুলোর অধিকাংশকেই অবিচ্ছিন্ন (مسند) হিসেবে পেয়েছেন, যা সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) পর্যায়ের অন্তর্গত। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।