(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: -)
معجم المدلسين   (محمد بن طلعت)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: معجم المدلسين

المؤلف: محمد بن طلعت

الناشر: دار أضواء السلف، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 527

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 شعبان 1443

মু'জামুল মুদাল্লিসীন   (মুহাম্মদ বিন তালাত)

বিভাগ: জীবনী ও জীবনী-স্তর


গ্রন্থ: মু'জামুল মুদাল্লিসীন

লেখক: মুহাম্মদ বিন তালাত

প্রকাশক: দারু আদওয়াইস সালাফ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ শাবান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

أما بعد: فهذا بحث بعنوان: "معجم المدلسين"، أوردت فيه كل راوٍ وُصف بالتدليس، سواء صح وصفه به، أم لم يصح.

وتتلخص طريقة عملي في هذا الكتاب فيما يلي:

* وجمعت مادة كتابي هذا عن طريق استقراء الكتب التي تتكلم عن الرجال. فكنت كلما وقفت على وصف لعالم لأحد الرواة بالتدليس، أو كلام لعالم يتعلق بتدليس الراوي جمعته.

* وبعد أن جمعت مادة الكتاب العلمية من كلام المتقدمين أوردت جميع التَّراجم التي في كتاب "تعريف أهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس" للحافظ ابن حجر رحمه الله.

وقد وصف الحافظ ابن حجر في كتابه "تقريب التهذيب" عددًا من الرواة بالتدليس(1)، ولم يصفهم به في كتابه "تعريف أهل التقديس"، فأوردت هؤلاء الرواة في كتابي، وقمت بالتعليق على كل ترجمة منهم.

* ثم بعد ذلك قمت بقراءة الجزء الخاص بالتدليس من كتاب "جامع التحصيل" للعلائي، وقمت أيضًا بقراءة كتاب "التبيين لأسماء المدلسين" لبرهان الدين

--------------------------------------------

(1) قام الدكتور عاصم القريوتي في تحقيقه لكتاب "تعريف أهل التقديس" بجمع هؤلاء الرواة، وقد اعتمدت عليه في حصرهم.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: এটি "মু'জামুল মুদাল্লিসীন" শিরোনামের একটি গবেষণা, যেখানে আমি এমন প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করেছি যাঁকে তাদলীসের (বর্ণনায় তথ্য গোপন করা) বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে, চাই সেই বিশেষণ তাঁর ক্ষেত্রে সঠিক হোক কিংবা না হোক।

এই কিতাবে আমার কাজের পদ্ধতি সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:

* আমি বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক কিতাবসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার এই কিতাবের উপকরণসমূহ সংগ্রহ করেছি। ফলে যখনই আমি কোনো আলেমের পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনাকারীকে তাদলীসকারী হিসেবে অভিহিত করা অথবা বর্ণনাকারীর তাদলীস সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য পেয়েছি, তা সংগ্রহ করেছি।

* পূর্ববর্তী ইমামদের বক্তব্য থেকে কিতাবের ইলমি উপাদান সংগ্রহের পর আমি হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "তা'রীফু আহলিত তাকদীস বি-মারাতিবিল মাউসুফিনা বিত-তাদলীস" কিতাবের সমস্ত জীবনী এখানে উল্লেখ করেছি।

হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর "তাকরীবুত তাহযীব" কিতাবে বেশ কিছু বর্ণনাকারীকে তাদলীসের গুণে গুণান্বিত করেছেন(১), অথচ তিনি তাঁর "তা'রীফু আহলিত তাকদীস" কিতাবে তাঁদের সেই বিশেষণে উল্লেখ করেননি। তাই আমি এই বর্ণনাকারীদের আমার কিতাবে নিয়ে এসেছি এবং তাঁদের প্রত্যেকের জীবনীর ওপর টীকা প্রদান করেছি।

* এরপর আমি আল্লায়ীর "জামি'ুত তাহসীল" কিতাবের তাদলীস সংক্রান্ত অংশটি পাঠ করেছি এবং বুরহানুদ্দীনের "আত-তাবয়ীন লি আসমায়িল মুদাল্লিসীন" কিতাবটিও পাঠ করেছি

--------------------------------------------

(১) ডক্টর আসেম আল-কারয়ূতি তাঁর "তা'রীফু আহলিত তাকদীস" কিতাবের তাহকীকে এই বর্ণনাকারীদের একত্রিত করেছেন এবং তাঁদের তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে আমি তাঁর ওপর নির্ভর করেছি।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٦)
ابن العجمي، وكتاب "المدلسين" لأبي زرعة بن العراقي، وكتاب "أسماء المدلسين" للسيوطي، واستخرجت منها الأقوال التي تفيد كتابي.

* قمت بالتعليق على التَّراجم التي تحتاج إلى تعليق.

* وزيادة في الفائدة قبل الشروع في ذكر الرواة الموصوفين بالتدليس ذكرت في مقدمة الكتاب نبذة عن معنى التدليس، وأقسامه، وحكم عنعنة الموصوف به، ومراتب الموصوفين به.

والله أسأل أن يتقبل هذا العمل، وأن ينفعني به والمسلمين، إنه بكل جميل كفيل، وهو نعم المولى ونعم النصير.

1 صفر 1426 هـ

كتبه

محمد بن طلعت بن محمد

مصر - المحلة الكبرى
ইবনুল আজামী, আবু যুরআ বিন আল-ইরাকির "আল-মুদাল্লিসীন" এবং সুয়ূতির "আসমাউল মুদাল্লিসীন" গ্রন্থ থেকে, এবং আমি সেগুলো থেকে এমন সব উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছি যা আমার কিতাবের জন্য ফলপ্রসূ।

* যেসব জীবনীতে টীকা বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, আমি সেখানে টীকা প্রদান করেছি।

* উপযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, তাদলিসের (বর্ণনা বিভ্রাট) গুণে গুণান্বিত বর্ণনাকারীদের উল্লেখ শুরু করার আগে আমি গ্রন্থের ভূমিকায় তাদলিসের অর্থ, এর প্রকারভেদ, এই দোষে অভিযুক্ত ব্যক্তির 'আন'আনা' বর্ণনার বিধান এবং এই দোষে অভিযুক্তদের স্তরসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করেছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমল কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে আমাকে ও মুসলিমদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল সুন্দরের জিম্মাদার, এবং তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক ও কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

১ সফর ১৪২৬ হিজরি

লিখেছেন

মুহাম্মদ বিন তালাত বিন মুহাম্মদ

মিসর - আল-মহাল্লা আল-কুবরা
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مُقَدَّمُة فِي مَعْنَي التَّدْلِيس وَأَقْسَامِهِ وَمَرَاتِبِ المَوْصُوفِينَ بِهِ
তাদলিসের অর্থ, এর প্রকারভেদ এবং এর দ্বারা বিশেষিত ব্যক্তিদের স্তরসমূহ সম্পর্কে উপক্রমণিকা
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌1 - تعريف التدليس

قال ابن حجر: التدليس مُشتق من الدلس، وهو الظلام، قاله ابن السيد.

وكأنه أُظلم أمره على الناظر لتغطية وجه الصَّواب فيه(1).

وقال ابن حجر أيضًا: المُدَلَّس سُمي بذلك لكون الراوي لم يسم من حدثه، وأوهم سماعه للحديث ممن لم يحدثه به.

واشتقاقه من الدَّلَس -بالتحريك-، وهو اختلاط الظلام بالنور، سُمي بذلك لاشتراكهما في الخفاء(2).

* * *

--------------------------------------------

(1) "النكت على كتاب ابن الصلاح" [2/ 614].

(2) "نزهة النظر شرح نخبة الفكر" [ص 49].
১ - তাদলীসের সংজ্ঞা

ইবনে হাজার বলেন: তাদলীস শব্দটি 'দালাস' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অন্ধকার; এটি ইবনুস সাইয়্যিদ বলেছেন।

যেন এর সঠিক দিকটি ঢেকে রাখার কারণে পর্যবেক্ষকের কাছে বিষয়টি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়(১)।

ইবনে হাজার আরও বলেন: মুদাল্লাসকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ বর্ণনাকারী যার কাছ থেকে হাদীস শুনেছেন তার নাম উল্লেখ করেননি এবং এমন ব্যক্তির কাছ থেকে হাদীস শোনার বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন যার কাছ থেকে তিনি এটি শোনেননি।

আর এর উৎপত্তি 'আদ-দালাস' থেকে - হরকতসহ (জবর যোগে) - যার অর্থ আলোর সাথে অন্ধকারের সংমিশ্রণ; অস্পষ্টতার ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে সাদৃশ্য থাকার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে(২)।

* * *

--------------------------------------------

(১) "আন-নুকাত আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ" [২/ ৬১৪]।

(২) "নুযহাতুন নাযার শারহু নুখবাতিল ফিকার" [পৃ. ৪৯]।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌2 - أقسام التدليس

‌‌1) تدليس الإسناد:

قال الخطيب البغدادي: الضرب الأول من التدليس: تدليس الحديث الذى لم يسمعه الراوي ممن دلسه عنه بروايته إياه على وجه يوهم أنه سمعه منه، ويعدل عن البيان بذلك، ولو بين أنه لم يسمعه من الشيخ الذى دلسه عنه، فكشف ذلك لصار ببيانه مرسلًا للحديث غير مدلس فيه، لأن الإرسال للحديث ليس بإيهام من المرسل كونه سامعًا ممن لم يسمع منه، وملاقيًا لمن لم يلقه، إلا أن التدليس الذى ذكرناه متضمن للإرسال لا محالة، من حيث كان المدلس ممسكًا عن ذكر من بينه وبين من دلس عنه، وإنما يفارق حاله حال المرسل بإيهامه السماع ممن لم يسمع منه فقط، وهو الموهن لأمره، فوجب كون هذا التدليس متضمنًا للإرسال والإرسال لا يتضمن التدليس، لأنه لا يقتضي إيهام السماع ممن لم يسمع منه، ولهذا المعنى لم يذم العُلماء من أرسل الحديث، وذموا من دلسه(1).

وقال ابن عبد البر: التدليس هو أن يُحدث الرجل عن الرجل قد لقيه، وأدرك زمانه، وأخذ عنه، وسمع منه، وحدث عنه بما لم يسمعه منه، وإنما سمعه من غيره عنه، ممن تُرضى حاله، أو لا تُرضى، على أن الأغلب في ذلك أن لو كانت حاله مُرضية لذكره، وقد يكون لأنه استصغره.

هذا هو التدليس عند جماعتهم، لا اختلاف بينهم في ذلك.

واختلفوا في حديث الرجل عمن لم يلقه، مثل: مالك عن سعيد بن المسيب، والثوري عن إبراهيم النخعي، وما أشبه هذا، فقالت فرقة: هذا تدليس، لأنهما لو شاء لسميا من حدثهما، كما فعلا في كثير مما بلغهما عنهما، قالوا: وسكوت المحدث عن ذكر من حدثه مع علمه به دلسة.

--------------------------------------------

(1) "الكفاية" (ص 510 - 511).
২ - তাদলীসের প্রকারভেদ

১) তাদলীসুল ইসনাদ:

খতিব আল-বাগদাদী বলেছেন: তাদলীসের প্রথম প্রকার হলো: হাদীসের তাদলীস, যা রাবী এমন ব্যক্তির কাছ থেকে শোনেননি যার সূত্রে তিনি তাদলীস করছেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তা এমনভাবে বর্ণনা করেন যা এই ধারণা দেয় যে তিনি এটি তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন। তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করা থেকে বিরত থাকেন। যদি তিনি স্পষ্ট করে দিতেন যে তিনি সেই শাইখের কাছ থেকে শোনেননি যার সূত্রে তিনি তাদলীস করেছেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করে দিতেন, তবে তিনি তাঁর স্পষ্টীকরণের কারণে হাদীসটি 'মুরসাল'কারী হিসেবে গণ্য হতেন, 'মুদাল্লিস' হিসেবে নয়। কারণ হাদীস ইরসাল করার ক্ষেত্রে মুরসালকারীর পক্ষ থেকে এমন কোনো ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হয় না যে তিনি যার কাছ থেকে শোনেননি তার কাছ থেকে শুনেছেন কিংবা যার সাথে সাক্ষাৎ হয়নি তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে আমরা যে তাদলীসের কথা উল্লেখ করেছি তা অনিবার্যভাবে ইরসালকেও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ মুদাল্লিস তার এবং যার সূত্রে তিনি তাদলীস করছেন তাদের মধ্যবর্তী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন। মুদাল্লিসের অবস্থা মুরসালকারী থেকে কেবল এই দিক থেকেই পৃথক যে, তিনি যার কাছ থেকে শোনেননি তার কাছ থেকে শোনার একটি ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করেন; আর এটিই তাঁর বিষয়টিকে ত্রুটিযুক্ত করে। সুতরাং এই তাদলীস ইরসালকে অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যকীয়, কিন্তু ইরসাল তাদলীসকে অন্তর্ভুক্ত করে না। কারণ ইরসাল যার কাছ থেকে শোনা হয়নি তার কাছ থেকে শোনার ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করাকে দাবি করে না। এই কারণেই উলামায়ে কেরাম হাদীস ইরসালকারীকে নিন্দা করেননি, কিন্তু যারা তাদলীস করেছেন তাদের নিন্দা করেছেন(১).

ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: তাদলীস হলো কোনো ব্যক্তি এমন একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করা যার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে, যার যুগ তিনি পেয়েছেন, যার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং হাদীস শুনেছেন; কিন্তু তিনি তাঁর সূত্রে এমন কিছু বর্ণনা করছেন যা তিনি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে শোনেননি, বরং তিনি অন্য কারো মাধ্যমে তাঁর পক্ষ থেকে শুনেছেন—চাই সেই মধ্যবর্তী ব্যক্তির অবস্থা সন্তোষজনক হোক বা না হোক। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে থাকে যে, যদি মধ্যবর্তী ব্যক্তির অবস্থা সন্তোষজনক হতো তবে তিনি তাঁকে উল্লেখ করতেন; আবার কখনো এমন হতে পারে যে তিনি তাঁকে ছোট মনে করার কারণে তাঁর নাম উল্লেখ করেননি।

তাঁদের জামাতের নিকট এটিই হলো তাদলীস, এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

আর কোনো ব্যক্তি যার সাথে সাক্ষাৎ করেননি তাঁর পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তাঁরা মতভেদ করেছেন। যেমন: সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়্যিব থেকে মালেকের বর্ণনা, ইবরাহীম আন-নাখায়ী থেকে সাওরির বর্ণনা এবং এর অনুরূপ অন্যান্য বর্ণনা। একদল বলেছেন: এটি তাদলীস; কারণ তাঁরা চাইলে যার কাছ থেকে হাদীসটি শুনেছেন তাঁর নাম উল্লেখ করতে পারতেন, যেমনটি তাঁরা তাঁদের কাছে পৌঁছানো অনেক হাদীসের ক্ষেত্রেই করেছেন। তাঁরা বলেন: মুহাদ্দিসের হাদীস বর্ণনাকারীর নাম জানা সত্ত্বেও তা উল্লেখ না করে নীরব থাকা একটি তাদলীস।

--------------------------------------------

(১) "আল-কিফায়াহ" (পৃ. ৫১০ - ৫১১)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١١)
قال أبو عمر: فإن كان هذا تدليسًا، فما أعلم أحدًا من العُلماء سلم منه في قديم الدهر ولا في حديثه، اللهم إلا شعبة بن الحجاج ويحيى بن سعيد القطان، فإن هذين ليس يوجد لهما شيء من هذا، لاسيما شعبة، فهو القائل: لأن أزني أحب إلى من أن أدلس.

وقالت طائفة من أهل الحديث: ليس ما ذكرناه يجري عليه لقب التدليس، وإنما هو إرسال، قالوا: وكما جاز أن يرسل سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم، وعن أبي بكر وعمر، وهو لم يسمع منهما، ولم يسم أحد من أهل العلم ذلك تدليسًا، كذلك مالك عن سعيد بن المسيب(1).

وقال ابن الصلاح: تدليس الإسناد هو أن يروي عمن لقيه مالم يسمعه منه موهمًا أنه سمعه منه، أو عمن عاصره ولم يلقه، موهمًا أنه قد لقيه وسمعه منه. ثم قد يكون بينهما واحد، وقد يكون أكثر.

ومن شأنه أن لا يقول في ذلك: أخبرنا فلان، ولا حدثنا، وما أشبههما، وإنما يقول: قال فلان أو عن فلان، ونحو ذلك(2).

وقال الذهبي: المُدلس ما رواه الرجل عن آخر ولم يسمعه منه، أو لم يدركه. فإن صرح بالاتصال وقال: حدثنا، فهو كذاب، وإن قال: عن، احتُمل ذلك ونُظر في طبقته: هل يدرك من هو فوقه؟ فإن كان لقيه فقد قررناه، وإن لم يكن لقيه فامكن أن يكون معاصرة، فهو محل تردد، وإن لم يكن فمنقطع: كقتادة عن أبي هريرة. وحكم "قال" حكم "عن".

ومن أمثلة التدليس: الحسن عن أبي هريرة. وجمهورهم على أنه منقطع لم يلقه.

وقد رُوي عن الحسن قال: حدثنا أبو هريرة، فقيل: عنى بحدثنا: أهل بلده(3).

--------------------------------------------

(1) "التمهيد" (1/ 18 - 19).

(2) "مقدمة ابن الصلاح" (صـ 66).

(3) "الموقظة" (ص 47، 49).
আবু উমর বলেন: যদি এটি তাদলিস (বর্ণনায় অস্পষ্টতা) হয়, তবে আমি পূর্ববর্তী বা পরবর্তী যুগের এমন কোনো আলেমকে চিনি না যিনি এটি থেকে মুক্ত ছিলেন, তবে শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান ব্যতীত। কারণ তাঁদের ক্ষেত্রে এ জাতীয় কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না, বিশেষ করে শু'বাহ; তিনি বলতেন: "ব্যভিচার করা আমার কাছে তাদলিস করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।"

হাদিস বিশারদগণের একটি দল বলেছেন: আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ওপর তাদলিস পরিভাষাটি প্রযোজ্য নয়, বরং এটি হলো ইরসাল (সূত্রবিচ্ছিন্নতা)। তাঁরা বলেন: সাঈদ (ইবনুল মুসায়্যিব) যেভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর এবং উমর থেকে বর্ণনা করেছেন—অথচ তিনি তাঁদের থেকে সরাসরি শোনেননি এবং ইলমের অধিকারী ব্যক্তিদের কেউ সেটিকে তাদলিস নাম দেননি—তদ্রূপ মালিক কর্তৃক সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করাটাও একই পর্যায়ের।(১)

ইবনুস সালাহ বলেছেন: সনদে তাদলিস হলো—একজন বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে, কিন্তু বর্ণিত বিষয়টি তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি, অথচ এমন ধারণা দিচ্ছেন যে তিনি তা তাঁর কাছ থেকেই শুনেছেন। অথবা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি, অথচ এমন ধারণা দিচ্ছেন যে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি তাঁর থেকে শুনেছেন। অতঃপর তাঁদের মাঝে একজন মধ্যস্থতাকারী থাকতে পারে, আবার একাধিকও থাকতে পারে।

এর বৈশিষ্ট্য হলো, এক্ষেত্রে তিনি বলবেন না: 'অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' বা 'অমুক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন' অথবা এই জাতীয় কোনো শব্দ; বরং তিনি বলেন: 'অমুক বলেছেন' অথবা 'অমুক থেকে' এবং এ জাতীয় শব্দ।(২)

আয-যাহাবি বলেছেন: মুদাল্লাস হলো যা একজন ব্যক্তি অন্য একজনের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন অথচ তিনি তা তাঁর থেকে শোনেননি অথবা তাঁকে পাননি। যদি তিনি সরাসরি শ্রবণের শব্দ উচ্চারণ করেন এবং বলেন: 'তিনি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন', তবে তিনি একজন মিথ্যাবাদী। আর যদি তিনি 'থেকে' শব্দটি ব্যবহার করেন, তবে তা বিবেচনার অবকাশ রাখে এবং তাঁর স্তর দেখা হবে: তিনি কি তাঁর উপরের স্তরের ব্যক্তিকে পেয়েছেন? যদি সাক্ষাৎ হয়ে থাকে তবে তো আমরা তা সাব্যস্ত করবই, আর যদি সাক্ষাৎ না হয়ে থাকে কিন্তু সমসাময়িক হওয়া সম্ভব হয়, তবে তা সংশয়ের বিষয়। আর যদি সমসাময়িক না হন তবে তা বিচ্ছিন্ন: যেমন কাতাদাহ কর্তৃক আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করা। 'বলেছেন' শব্দের বিধান 'থেকে' শব্দের বিধানের মতোই।

তাদলিসের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে: হাসান (বাসরি) কর্তৃক আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করা। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে এটি বিচ্ছিন্ন (মুনক্বতি'), কারণ তাঁদের মাঝে সাক্ষাৎ হয়নি।

হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'আবু হুরায়রা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন'। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, 'আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন' দ্বারা তিনি তাঁর শহরের লোকদের বুঝিয়েছেন।(৩)

--------------------------------------------

(১) "আত-তামহীদ" (১/ ১৮-১৯)।

(২) "মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ" (পৃষ্ঠা ৬৬)।

(৩) "আল-মুওক্বিজাহ" (পৃষ্ঠা ৪৭, ৪৯)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٢)
وذكر العلائي كلام ابن عبد البر من "واختلفوا في حديث الرجل" إلى آخر كلامه، ثم قال: والقول الأول ضعيف، لأن التدليس أصله التغطية والتلبيس، وإنما يجي ذلك فيما أطلقه الراوي عن شيخه بلفظ موهم للاتصال، وهو لم يسمعه منه، فأما إطلاقه الرِّواية عمن يعلم أنه لم يلقه أو لم يدركه أصلًا فلا تدليس في هذا يوهم الاتصال، وذلك ظاهر، وعليه جمهور العُلماء والله أعلم.

والتدليس نوعان، أحدهما ما أشرنا إليه آنفًا بأن يروي الراوي عن شيخه حديثًا لم يسمعه منه بلفظ عن أو قال أو ذكر ونحو ذلك مما يوهم الاتصال ولا يصرح بحدثنا ولا أخبرنا ولا سمعت.

وهذا القسم حكمه في الحقيقة حكم المرسل، من جهة أنه لا يعرف الراوي الذى أسقط بينه وبين من دلس عنه، فكل مدلس مرسل، ولا ينعكس إلا على القول الضعيف الذى حكاه ابن عبد البر فيما تقدم(1).

وقال العراقي: قوله: "هو أن يروي عمن لقيه مالم يسمعه منه موهمًا أنه سمعه منه، أو عمن عاصره ولم يلقه "إلى آخر كلامه، هكذا حد المُصَنف القسم الأول من قسمي التدليس الذى ذكرهما، وقد حده غير واحد من الحفاظ بما هو أخص من هذا، وهو أن يروي عمن قد سمع منه مالم يسمعه منه، من غير أن يذكر أنه سمعه منه، هكذا حده الحافظ أبو بكر أحمد بن عمرو بن عبد الخالق البزار في جزء له في معرفة من يُترك حديثه أو يُقبل، وكذا حده الحافظ أبو الحسن بن محمد بن عبد الملك بن القطان في كتاب "بيان الوهم والإيهام"، قال ابن القطان: والفرق بينه وبين الإرسال هو أن الإرسال روايته عمن لم يسمع منه انتهى.

ويقابل هذا القول في تضييق حد التدليس القول الآخر الذى حكاه ابن عبد البر في "التمهيد" أن التدليس أن يحدث الرجل بما لم يسمعه. قال ابن عبد البر: وعلى هذا فما سلم من التدليس أحد، لا مالك ولا غيره.

--------------------------------------------

(1) "جامع التحصيل" (صـ 97 - 98).
আর আল-আলাই ইবনে আবদিল বার-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন "আর তারা জনৈক ব্যক্তির হাদিস নিয়ে মতভেদ করেছেন" থেকে তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। তারপর তিনি বলেন: প্রথম মতটি দুর্বল, কারণ তাদলিসের মূল অর্থ হলো ঢেকে রাখা এবং বিভ্রান্ত করা। আর এটি কেবল তখনই ঘটে যখন বর্ণনাকারী তার উস্তাদ থেকে এমন শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা করেন যা বর্ণনাসূত্র নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার ভ্রম তৈরি করে, অথচ তিনি তা তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি। কিন্তু যাকে তিনি কখনও দেখেননি বা যাঁর সময়কাল তিনি পাননি—এমন কারো পক্ষ থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে এমন কোনো তাদলিস নেই যা নিরবচ্ছিন্নতার ভ্রম তৈরি করে। বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং জমহুর উলামার মত এটিই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তাদলিস দুই প্রকার, তার একটি হলো যার দিকে আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। তা হলো বর্ণনাকারী তাঁর উস্তাদ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করা যা তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি, এক্ষেত্রে 'হতে' (আন) কিংবা 'বলেছেন' (ক্বলা) কিংবা 'উল্লেখ করেছেন' (যাকারা) এবং এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করা যা বর্ণনাসূত্র নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার ভ্রম তৈরি করে, কিন্তু তিনি 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (হাদ্দাসানা) কিংবা 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (আখবারানা) কিংবা 'আমি শুনেছি' (সামি'তু)—এমন শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেন না।

আর এই প্রকারের বিধান মূলত মুরসাল হাদিসের বিধানের মতো, এই দিক থেকে যে, সেই বর্ণনাকারীর পরিচয় জানা যায় না যাকে তিনি নিজের এবং যাঁর থেকে তাদলিস করেছেন তাঁর মধ্যবর্তী স্তর থেকে বাদ দিয়েছেন। সুতরাং প্রত্যেক মুদাল্লাস (তাদলিসকৃত বর্ণনা) হলো মুরসাল, তবে এর বিপরীতটি সত্য নয়—কেবল সেই দুর্বল মতটি ছাড়া যা ইবনে আবদিল বার ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছেন(১)।

আর ইরাকি বলেছেন: তাঁর কথা: "এটি হলো—যাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে তাঁর থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি, অথচ এমনভাবে বর্ণনা করা যাতে ভ্রম হয় যে তিনি তা তাঁর থেকেই শুনেছেন, অথবা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যাঁর তিনি সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি"—তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। এভাবেই গ্রন্থকার তাঁর বর্ণিত তাদলিসের দুই প্রকারের মধ্যে প্রথম প্রকারের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তবে একাধিক হাফেজে হাদিস এর চেয়েও বিশেষ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। আর তা হলো: যাঁর থেকে তিনি হাদিস শুনেছেন তাঁর থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি তাঁর থেকে শোনেননি, অথচ তিনি যে তা তাঁর থেকে শুনেছেন—এমনটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করেই। হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আব্দুল খালিক আল-বাজার তাঁর একটি পুস্তিকায়, যা হাদিস বর্জন বা গ্রহণের মানদণ্ড বিষয়ক, এভাবেই এর সংজ্ঞা দিয়েছেন। হাফেজ আবুল হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আল-ক্বাত্তানও তাঁর "বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম" গ্রন্থে অনুরূপ সংজ্ঞা দিয়েছেন। ইবনে আল-ক্বাত্তান বলেছেন: আর তাদলিস ও ইরসালের মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, ইরসাল হলো এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যাঁর থেকে তিনি শোনেননি। (সমাপ্ত)।

তাদলিসের সংজ্ঞাকে সংকুচিত করার এই মতের বিপরীতে অন্য একটি মত রয়েছে যা ইবনে আবদিল বার "আত-তামহীদ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তাদলিস হলো একজন ব্যক্তি যা শোনেননি তা বর্ণনা করা। ইবনে আবদিল বার বলেছেন: এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ইমাম মালিক বা অন্য কেউই তাদলিস থেকে মুক্ত নন।

--------------------------------------------

(১) "জামেউত তাহসিল" (পৃষ্ঠা ৯৭ - ৯৮)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
وما ذكره المُصَنِّف في حد التدليس هو المشهور بين أهل الحديث، وإنما ذكرت قول البزار وابن القطان كيلا يغتر بهما من وقف عليهما، فيظن موافقة أهل هذا الشأن لذلك والله أعلم(1).

قال بدر الدين الزركشي: قول ابن الصلاح: "هو أن يروي عمن لقيه … " إلى آخره أي شرط التدليس أن يكون المدلس قد لقى المروي عنه، ولم يسمع منه ذلك الحديث الذى دلسه عنه، وشرط البغوي في "شرح السنة" أن يكون مشهورًا بالرواية عنه، أما إذا روى عمن لم يدركه بلفظ موهم فليس بتدليس على الصحيح المشهور، بل هو من قبيل الإرسال، كما سبق بابه عن حكاية الخطيب وحكى ابن عبد البر عن قوم أنه تدليس، فجعلوا التدليس أن يحدث الرجل عن الرجل بما لم يسمعه منه بلفظ لا يقتضى تصريحًا بالسماع، وإلا لكان كذبًا، قال ابن عبد البر: "وعلى هذا فما سلم من التدليس أحد لا مالك ولا غيره".

وقال ابن القطان في "الوهم والإيهام": "التدليس أن يروي عمن قد سمع منه مالم يسمع منه". وكذلك قال الحافظ أبو بكر البزار صاحب "المسند" في جزء له في معرفة من يُترك حديثه أو يُقبل(2).

وذكر ابن حجر تعريف ابن الصلاح لتدليس الإسناد، ثم قال: وقوله: "عمن عاصره" ليس من التدليس في شيء، وإنما هو: المرسل الخفي، كما سيأتي تحقيقه عند الكلام عليه.

وقد ذكر ابن القطان في أواخر البيان له(3) تعريف التدليس بعبارة غير معترضة، قال: "ونعني به أن يروي المحدث عمن قد سمع منه مالم يسمعه منه من غير أن يذكر أنه سمعه منه. والفرق بينه وبين الإرسال هو أن الإرسال روايته عمن لم

--------------------------------------------

(1) "التقييد والإيضاح" (صـ 97 - 98).

(2) "النكت على مقدمة ابن الصلاح" (2/ 68 - 69).

(3) هو كتاب "بيان الوهم والإيهام الواقعين في كتاب الأحكام".
তদলিস (Tadlis) এর সংজ্ঞায় লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা-ই মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ। আমি কেবল বাজ্জার এবং ইবনুল কাত্তানের অভিমত উল্লেখ করেছি যাতে কেউ এ দুটি দেখে বিভ্রান্ত না হয় এবং মনে না করে যে এ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণও এর সাথে একমত। আল্লাহই ভালো জানেন(১)।

বদরুদ্দীন আজ-যারকাশী বলেছেন: ইবনুস সালাহ-এর বক্তব্য: "তা হলো এমন ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করা যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে … " শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ তদলিসের শর্ত হলো মুদাল্লিস (তদলিসকারী) যার থেকে বর্ণনা করছেন তার সাথে সাক্ষাৎ থাকতে হবে, কিন্তু যে হাদিসটিতে তিনি তদলিস করেছেন সেটি সরাসরি তার থেকে শোনেননি। আর আল-বাগাবী "শারহুস সুন্নাহ" গ্রন্থে শর্ত করেছেন যে, তার থেকে বর্ণনা করার বিষয়ে বর্ণনাকারী প্রসিদ্ধ হতে হবে। তবে যদি এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করে যাকে সে পায়নি এমন কোনো শব্দে যা শোনার সংশয় তৈরি করে, তবে সহীহ ও প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা তদলিস নয়, বরং তা ইরসালের অন্তর্ভুক্ত; যেমনটি খতীবের উদ্ধৃতি দিয়ে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে। ইবনু আবদিল বার একদল উলামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটিও তদলিস। তারা তদলিসের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তি থেকে এমন কিছু বর্ণনা করবে যা সে তার থেকে শোনেনি, তবে এমন শব্দ ব্যবহার করবে যা সরাসরি শোনার কথা ব্যক্ত করে না, অন্যথায় তা মিথ্যা হিসেবে গণ্য হতো। ইবনু আবদিল বার বলেন: "এই সংজ্ঞা অনুযায়ী মালিক বা অন্য কেউ তদলিস থেকে রেহাই পাবেন না।"

ইবনুল কাত্তান "আল-ওয়াহমু ওয়াল ইহম" গ্রন্থে বলেছেন: "তদলিস হলো যার থেকে হাদিস শুনেছে তার থেকেই এমন কিছু বর্ণনা করা যা তার থেকে শোনেনি।" তদ্রূপ "আল-মুসনাদ" প্রণেতা হাফিয আবু বকর আল-বাজ্জার তাঁর একটি পুস্তিকায় বলেছেন যেখানে তিনি যাদের হাদিস বর্জন করা হবে বা গ্রহণ করা হবে তাদের চেনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন(২)।

ইবনু হাজার তদলিসে ইসনাদ সম্পর্কে ইবনুস সালাহ-এর সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: তাঁর বক্তব্য "তার সমসাময়িক কারো কাছ থেকে" - এটি তদলিসের কোনো অংশ নয়, বরং এটি হলো মুরসালে খাফী (গোপন মুরসাল), যেমনটি এর আলোচনায় বিস্তারিতভাবে আসবে।

ইবনুল কাত্তান তাঁর "আল-বায়ান" গ্রন্থের শেষ দিকে(৩) তদলিসের সংজ্ঞা নির্ভেজাল ভাষায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো মুহাদ্দিস যার থেকে ইতিপূর্বে শুনেছেন তার থেকেই এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি সরাসরি তার নিকট থেকে শোনেননি, অথচ তিনি তার থেকে শোনার কথা উল্লেখ করেননি। তদলিস ও ইরসালের মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, ইরসাল হলো এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যার সাথে..."

--------------------------------------------

(১) "আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইদাহ" (পৃষ্ঠা ৯৭ - ৯৮)।

(২) "আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ" (২/ ৬৮ - ৬৯)।

(৩) এটি হলো "বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহম আল-ওয়াকিঈনা ফী কিতাবিল আহকাম" নামক গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
يسمع منه، ولما كان في هذا قد سمع منه، جاءت روايته عنه بما لم يسمعه منه، كأنها إيهام سماعه ذلك الشيء، فلذلك سُمي تدليسًا". انتهى

وهو صريح في التفرقة بين التدليس والإرسال، وأن التدليس مختص بالرواية عمن له عنه سماع، بخلاف الإرسال -والله أعلم-. وابن القطان في ذلك مُتابع لأبي بكر البزار، وقد حكى شيخنا كلامهما، ثم قال: "إن الذى ذكره المُصَنِّف في حد التدليس هو المشهور عن أهل الحديث، وأنه إنما حكى كلام البزار وابن القطان لئلا يُغتر به".

قلت: ولا اغترار هنا، بل كلامهما هو الصَّواب على ما يظهر لي في التفرقة بين التدليس والمرسل الخفي، وإن كانا مشتركين في الحكم.

هذا ما يقتضيه النظر، وأما كون المشهور عن أهل الحديث خلاف ما قالاه ففيه نظر، فكلام الخطيب في باب التدليس من "الكفاية" يؤيد ما قاله ابن القطان.

قال الخطيب: التدليس متضمن للإرسال لا محالة، لإمساك المدلس عن ذكر الواسطة، وإنما يفارق حال المرسل بإيهامه السماع ممن لم يسمع منه فقط، وهو الموهن لأمره، فوجب كون التدليس متضمنًا للإرسال، والإرسال لا يتضمن التدليس، لأنه لا يقتضي إيهام السماع ممن لم يسمع منه، ولهذا لم يذم العُلماء من أرسل، وذموا من دلس -والله أعلم-.

قلت: والذى يظهر من تصرفات الحذاق منهم أن التدليس مختص باللقى، فقد أطبقوا على أن رواية المخضرمين مثل: قيس بن أبي حازم وأبي عثمان النهدي وغيرهما عن النبي صلى الله عليه وسلم من قبيل المرسل، لا من قبيل المدلس. وقد قال الخطيب في باب المرسل من كتابه "الكفاية": "لا خلاف بين أهل العلم أن إرسال الحديث الذى ليس بمدلس وهو رواية الراوي عن من لم يعاصره أو لم يلقه ثم مثل للأول بسعيد بن المسيب وغيره عن النبي صلى الله عليه وسلم، وللثاني بسفيان الثوري وغيره عن الزهري، ثم قال: والحكم في الجميع عندنا واحد". انتهى.

فقد بيّن الخطيب في ذلك أن من روى عمن لم يثبت لقيه ولو عاصره أن ذلك
তার থেকে সরাসরি শুনেছেন; কিন্তু যখন এমন হলো যে তিনি তার থেকে কিছু সরাসরি শুনেছেন আবার অন্য এমন কিছু বর্ণনা করলেন যা তিনি তার থেকে সরাসরি শোনেননি, অথচ তিনি সেটি সরাসরি শোনার একটি বিভ্রম তৈরি করছেন, এই কারণেই একে 'তাদলিস' (প্রতারণা বা গোপন করা) নামকরণ করা হয়েছে।" সমাপ্ত।

এটি তাদলিস এবং ইরসালের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে একটি স্পষ্ট বক্তব্য। তাদলিস কেবল সেই বর্ণনার সাথে সুনির্দিষ্ট যার থেকে বর্ণনাকারীর সরাসরি শোনার সুযোগ রয়েছে, যা ইরসালের বিপরীত—আর আল্লাহই ভালো জানেন। এই বিষয়ে ইবনুল কাত্তান আবু বকর আল-বায্যারের অনুসারী। আমাদের শাইখ তাদের উভয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "গ্রন্থকার তাদলিসের সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করেছেন তা-ই মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ। আর তিনি বায্যার ও ইবনুল কাত্তানের কথা কেবল এজন্য উল্লেখ করেছেন যাতে কেউ এর দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়।"

আমি বলি: এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই, বরং আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তাদলিস এবং মুরসালে খাফির মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে তাদের কথাটিই সঠিক, যদিও বিধানের ক্ষেত্রে উভয়ই সমান।

এটিই গবেষণার দাবি। আর মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ মতটি তাদের দুজনের মতের বিপরীত হওয়া সংক্রান্ত যে দাবি করা হয়েছে, তা পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। কেননা 'আল-কিফায়া' গ্রন্থের তাদলিস অধ্যায়ে খতিব আল-বাগদাদীর বক্তব্য ইবনুল কাত্তানের বক্তব্যকেই সমর্থন করে।

খতিব বলেছেন: তাদলিস অনিবার্যভাবেই ইরসালকে অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ মুদাল্লিস (তাদলিসকারী) মধ্যবর্তী মাধ্যম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকে। তবে এটি মুরসালের অবস্থা থেকে কেবল এই দিক থেকে পৃথক যে, এটি এমন ব্যক্তির থেকে শোনার বিভ্রম তৈরি করে যার থেকে সে শোনেনি। আর এটিই বিষয়টিকে দুর্বল করে দেয়। ফলে তাদলিসের মধ্যে ইরসাল থাকা আবশ্যক, কিন্তু ইরসাল তাদলিসকে অন্তর্ভুক্ত করে না। কারণ ইরসালে এমন ব্যক্তির থেকে শোনার বিভ্রম সৃষ্টির প্রয়োজন হয় না যার থেকে শোনা হয়নি। এই কারণেই উলামাগণ মুরসাল বর্ণনাকারীর নিন্দা করেননি, কিন্তু মুদাল্লিসের নিন্দা করেছেন—আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আমি বলি: বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, তাদলিস কেবল সাক্ষাতের সাথে সম্পর্কিত। তারা এ বিষয়ে একমত যে, মুখাদরামগণ (যারা জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগ পেয়েছেন কিন্তু সরাসরি নবীর সাক্ষাৎ পাননি) যেমন: কায়েস বিন আবি হাযিম, আবু উসমান আন-নাহদী এবং অন্যান্যদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো 'মুরসাল' এর অন্তর্ভুক্ত, 'মুদাল্লিস' এর অন্তর্ভুক্ত নয়। খতিব তার 'আল-কিফায়া' গ্রন্থের মুরসাল অধ্যায়ে বলেছেন: "বিদ্বানদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, হাদিসের ইরসাল—যা তাদলিস নয়—তা হলো এমন রাবির বর্ণনা যিনি তার সমসাময়িক নন অথবা যার সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেনি। এরপর তিনি প্রথমটির উদাহরণ হিসেবে সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব ও অন্যদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং দ্বিতীয়টির উদাহরণ হিসেবে সুফিয়ান আস-সাওরী ও অন্যদের ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট এ সবগুলোর বিধান এক ও অভিন্ন।" সমাপ্ত।

এর মাধ্যমে খতিব স্পষ্ট করেছেন যে, যে ব্যক্তি এমন কারো থেকে বর্ণনা করে যার সাথে তার সাক্ষাৎ প্রমাণিত নয়, যদিও সে তার সমসাময়িক হয়, তবে তা...
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
مرسل لا مدلس. والتحقيق فيه التفصيل، وهو أن من ذُكر بالتدليس أو الإرسال إذا ذكر بالصيغة الموهمة عمن لقيه فهو تدليس، أو عمن أدركه ولم يلقه فهو المرسل الخفي، أو عمن لم يدركه فهو مطلق الإرسال(1).

وقد تبع السخاوي الحافظ ابن حجر في إطلاق التدليس على رواية الراوي عمن سمع منه مالم يسمع منه، وعدم إطلاقه على رواية الراوي عمن عاصره ولم يلقه وإطلاق ذلك على الإرسال الخفي(2).

قلت: الراجح عندي أن التدليس يُطلق على رواية الراوي عمن سمع منه ما لم يسمع منه، وُيطلق أيضًا على رواية الراوي عمن عاصره ولم يلقه بلفظ موهم كـ " عن "أو" "قال".

أما رواية الراوي عمن عاصره ولم يلقه بلفظ غير موهم كـ "أُخبرت عن" أو" حُدثت عن "أو" بلغني عن "فهذا يُسمى إرسالًا ولا يُسمى تدليسًا.

وكذلك يُطلق الإرسال على رواية الراوي عمن لم يدركه.

وأكثر الأئمة المتقدمون أطلقوا التدليس على رواية الراوي عمن عاصره ولم يلقه بلفظ موهم، كما أطلقوه على رواية الراوي عمن سمع منه ما لم يسمع منه.

وإليك الأدلة عنى أن المتقدمين كانوا يسمون رواية الراوي عمن أدركه ولم يسمع منه بلفظ موهم تدليسًا.

قال الخلال: قال مهنا: قلت لأحمد ويحيى: حدثوني عن عبد المجيد بن أبي رواد، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لكل أمة فرعون، وفرعون هذه الأمة معاوية بن أبي سفيان"؟ فقالا جميعًا: ليس بصحيح، وليس يعرف هذا الحديث من أحاديث عبيد الله، ولم يسمع عبد المجيد بن أبي رواد من عبيد الله شيئًا، ينبغي أن يكون دلسه، سمعه من إنسان

--------------------------------------------

(1) "النكت على كتاب ابن الصلاح" (2/ 614، 615، 623).

(2) "فتح المغيث" (1/ 208 - 210).
মুরসাল, মুদাল্লাস নয়। আর এ বিষয়ে সঠিক বিশ্লেষণ হলো বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করা। আর তা হলো—যাকে তাদলিস বা ইরসালের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, তিনি যদি তার সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এমন কারো থেকে সংশয় সৃষ্টিকারী শব্দের মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তবে সেটি 'তাদলিস'। আর যদি এমন ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করেন যার সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু সাক্ষাৎ পাননি, তবে তা 'মুরসাল খাফি'। আর যদি এমন কারো থেকে বর্ণনা করেন যার সময়কালই তিনি পাননি, তবে তা সাধারণ 'ইরসাল'(১)।

আল-সাখাভি হাফেজ ইবনে হাজারকে অনুসরণ করেছেন এই বিষয়ে যে, রাবি যার কাছ থেকে শ্রবণ করেছেন তার থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি শোনেননি—একে 'তাদলিস' বলা হবে। আর রাবি যার সমসাময়িক কিন্তু সাক্ষাৎ পাননি তার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে 'তাদলিস' শব্দটি প্রয়োগ না করে একে 'মুরসাল খাফি' হিসেবে অভিহিত করেছেন(২)।

আমি বলি: আমার নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হলো, 'তাদলিস' শব্দটি রাবির এমন বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যা তিনি এমন ব্যক্তির থেকে করেছেন যার থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন কিন্তু সংশ্লিষ্ট হাদিসটি শোনেননি; আবার এটি এমন বর্ণনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় যা রাবি তার সমসাময়িক অথচ সাক্ষাৎ না পাওয়া ব্যক্তির থেকে সংশয় সৃষ্টিকারী শব্দ যেমন "হতে" অথবা "বলেছেন" যোগে বর্ণনা করেন।

তবে রাবি যদি তার সমসাময়িক অথচ সাক্ষাৎ না পাওয়া ব্যক্তির থেকে এমন শব্দে বর্ণনা করেন যাতে সংশয়ের অবকাশ নেই, যেমন "আমাকে জানানো হয়েছে অমুক হতে" অথবা "আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে অমুক হতে" অথবা "আমার নিকট অমুক হতে সংবাদ পৌঁছেছে", তবে একে 'ইরসাল' বলা হয়, 'তাদলিস' বলা হয় না।

অনুরূপভাবে, রাবি যার সময়কাল পাননি তার থেকে বর্ণনা করলেও তাকে 'ইরসাল' বলা হয়।

অধিকাংশ পূর্ববর্তী ইমামগণ রাবি তার সমসাময়িক অথচ সাক্ষাৎ না পাওয়া ব্যক্তির থেকে সংশয় সৃষ্টিকারী শব্দে বর্ণনা করাকেও 'তাদলিস' বলেছেন, যেমনটি তারা রাবি যার থেকে শুনেছেন তার থেকে যা শুনেননি তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও 'তাদলিস' শব্দটি প্রয়োগ করেছেন।

পূর্ববর্তীগণ যে রাবির সমসাময়িক অথচ তার থেকে না শোনা ব্যক্তির বর্ণনাকে সংশয় সৃষ্টিকারী শব্দে বর্ণনা করাকে 'তাদলিস' বলতেন, তার প্রমাণসমূহ নিচে দেওয়া হলো।

আল-খাল্লাল বলেন: মুহান্না বলেছেন: আমি আহমাদ ও ইয়াহইয়াকে বললাম: তারা আমাকে আব্দুল মাজিদ ইবনে আবি রাওয়াদ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক উম্মতের একজন ফেরাউন থাকে, আর এই উম্মতের ফেরাউন হলো মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান"? তখন তারা উভয়েই বললেন: এটি সহিহ নয় এবং উবায়দুল্লাহর হাদিসসমূহের মধ্যে এটি পরিচিত নয়। আর আব্দুল মাজিদ ইবনে আবি রাওয়াদ উবায়দুল্লাহ থেকে কিছুই শোনেননি। বরং তিনি সম্ভবত এটি তাদলিস করেছেন, তিনি এটি অন্য কোনো ব্যক্তির থেকে শুনেছেন।

--------------------------------------------

(১) "আন-নুকাত আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ" (২/ ৬১৪, ৬১৫, ৬২৩)।

(২) "ফাতহুল মুগিস" (১/ ২০৮ - ২১০)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٦)
فحدث به(1).

قال عبد الله بن أحمد بن حنبل: قلت لأبي: حدث هشيم عن سفيان الثوري، فقال: دلس عنه(2).

قلت: هشيم ليس له رواية عن سفيان الثوري في الكتب الستة، وهشيم والثوري كلاهما من الطبقة السابعة، وكلاهما يروي عن حصين بن عبد الرحمن فلعل ما رواه هشيم عن الثوري بلغه عن الثوري ولم يسمعه منه، فدلسه عنه، وهذا دليل آخر على أن أحمد كان يُطلق التدليس على الإرسال الخفي.

قال الدوري: سمعت يحيى يقول: لم يلق يحيى بن أبي كثير زيد بن سلام، وقدم معاوية بن سلام عليهم، فلم يسمع يحيى بن أبي كثير، أخذ كتابه عن أخيه ولم يسمعه، فدلسه عنه(3).

وقال الدوري أيضًا: سمعت يحيى يقول: دلس هشيم عن زاذان أبي منصور، ولم يسمع منه(4). وقال أيضًا: سمعت يحيى يقول: داود بن أبي القصاف يروي عنه سعيد بن أبي عروبة، ويروي عنه داود بن الزبرقان، يدلس عنه(5).(6)

قال ابن محرز: سمعت ابن نمير يقول: قال أبو نعيم: أحاديث عبد السلام - يعني الملائي- عن سالم إنما هي أحاديث شريك كلها.

قال ابن نمير: كان عبد السلام يدلس(7).(8)

--------------------------------------------

(1) "المنتخب من العلل" للخلال (صـ 227).

(2) "العلل ومعرفة الرجال" (3/ 210).

(3) "تاريخ الدوري" (4/ 207).

(4) "تاريخ الدوري" (4/ 380).

(5) "تاريخ الدوري" (4/ 233).

(6) انظر ترجمة "داود بن الزبرقان" من هذا الكتاب.

(7) سؤالات ابن محرز لابن معين وغيره (2/ 223).

(8) انظر ترجمة "عبد السلام بن حرب" من هذا الكتاب.
সুতরাং তিনি তা বর্ণনা করেছেন(১).

আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: হুশাইম সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: সে তার পক্ষ থেকে তাদলিস করেছে(২).

আমি বলছি: কুতুবে সিত্তা-তে সুফিয়ান সাওরি থেকে হুশাইমের কোনো বর্ণনা নেই। হুশাইম এবং সাওরি উভয়েই সপ্তম স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং উভয়েই হুসাইন বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন। সম্ভবত হুশাইম সাওরি থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা সাওরি সম্পর্কে তার কাছে পৌঁছেছে কিন্তু তিনি সরাসরি তার থেকে তা শোনেননি, ফলে তিনি তার পক্ষ থেকে তাদলিস করেছেন। এটি আরেকটি প্রমাণ যে, আহমদ 'ইরসালে খাফি' (সুপ্ত সংযোগহীনতা)-এর ক্ষেত্রেও তাদলিস শব্দটি প্রয়োগ করতেন।

আদ-দুরি বলেছেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির যায়েদ বিন সালামের সাথে সাক্ষাৎ করেননি। মুয়াবিয়া বিন সালাম তাদের নিকট আসলে ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির (তার থেকে) শোনেননি। তিনি তার ভাইয়ের নিকট থেকে তার কিতাবটি গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তা সরাসরি শোনেননি, ফলে তিনি তার পক্ষ থেকে তাদলিস করেছেন(৩).

আদ-দুরি আরও বলেছেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: হুশাইম যাজান আবু মানসুর থেকে তাদলিস করেছেন, অথচ তিনি তার থেকে সরাসরি শোনেননি(৪). তিনি আরও বলেছেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: দাউদ বিন আবুল কাসসাফ থেকে সাঈদ বিন আবি আরুবাহ বর্ণনা করেন এবং দাউদ বিন আল-জিবরিকানও তার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তার পক্ষ থেকে তাদলিস করেন(৫).(৬)

ইবনে মুহরিয বলেছেন: আমি ইবনে নুমাইরকে বলতে শুনেছি: আবু নুয়াইম বলেছেন: আবদুস সালাম - অর্থাৎ আল-মুলায়ি - এর সালিম থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো মূলত শারিকেরই সমস্ত হাদিস।

ইবনে নুমাইর বলেছেন: আবদুস সালাম তাদলিস করতেন(৭).(৮)

--------------------------------------------

(১) আল-খাল্লাল রচিত "আল-মুনতাখাব মিনাল ইলাল" (পৃ. ২২৭)।

(২) "আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল" (৩/ ২১০)।

(৩) "তারিখুদ দুরি" (৪/ ২০৭)।

(৪) "তারিখুদ দুরি" (৪/ ৩৮০)।

(৫) "তারিখুদ দুরি" (৪/ ২৩৩)।

(৬) এই গ্রন্থের "দাউদ বিন আল-জিবরিকান"-এর জীবনী আলোচনা দেখুন।

(৭) ইবনে মুয়াইন ও অন্যদের প্রতি ইবনে মুহরিযের প্রশ্নাবলি (২/ ২২৩)।

(৮) এই গ্রন্থের "আবদুস সালাম বিন হারব"-এর জীবনী আলোচনা দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٧)
وقال الترمذي: حدثنا الحسن بن عرفة، حدثنا محمد بن سواء، حدثنا سعيد بن أبي عروبة، عن الأعمش، عن أبي وائل، عن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "استذكروا القرآن فإنه أشد تفصيًا من صدور الرجال من النعم من عقلها .. " الحديث.

فسألت محمد عن هذا الحديث فقال: هذا حديث مشهور من حديث الأعمش ولكن لا أعرفه من حديث سعيد بن أبي عروبة، ولا أعرف لسعيد بن أبي عروبة سماعًا من الأعمش، وهو يدلس، ويروي عنه(1).

وقال البخاري: عباد عن إبراهيم بن أبي يحيى عن داود عن عكرمة، وربما دلسها فجعلها عن عكرمة(2).

وقال الخطيب البغدادي: أخبرني أبو بكر أحمد بن سليمان بن على المقرئ الواسطي، قال: ثنا عبد الرحمن بن عمر الخلال، قال: ثنا محمد بن أحمد بن يعقوب بن شيبة، قال: ثنا جدي، قال: التدليس جماعة من المحدثين لا يرون به بأسًا، وكرهه جماعة منهم، ونحن نكرهه، ومن رأى التدليس منهم فإنما يجوزه على الرجل الذى قد سمع منه ويسمع من غيره عنه مالم يسمعه منه، فيدلسه يرى أنه قد سمعه منه، ولا يكون ذلك أيضًا عندهم إلا عن ثقة، فأما من دلس عن غير ثقة وعمن لم يسمع هو منه، فقد جاوز حد التدليس الذى رخص فيه من رخص من العُلماء(3).

وفى قول يعقوب: "فأما من دلس عن غير ثقة، وعمن لم يسمع منه" دليل على أن التدليس يطلق على رواية الراوي عمن لم يسمع منه كما يطلق على رواية الراوي عمن سمع منه مالم يسمع منه.

--------------------------------------------

(1) "العلل الكبير" (ص 348 - 349).

(2) "التاريخ الكبير" (6/ 40).

(3) "الكفاية" (ص 516).
এবং তিরমিযী বলেছেন: হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাওয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আ'মাশ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কুরআনের চর্চা অব্যাহত রাখো, কেননা এটি মানুষের অন্তর থেকে উটের বাঁধন খুলে পালিয়ে যাওয়ার চেয়েও দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যায়..." (সম্পূর্ণ হাদিস)।

এরপর আমি এই হাদিস সম্পর্কে মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এটি আ'মাশের বর্ণনা হিসেবে প্রসিদ্ধ একটি হাদিস, তবে সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহর বর্ণনা হিসেবে আমি এটি জানি না। আর আ'মাশ থেকে সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহর সরাসরি শোনার ব্যাপারেও আমার জানা নেই। তিনি 'তাদলিস' (লুকিয়ে বর্ণনা) করেন এবং তার থেকে বর্ণনা করেন(১)।

এবং বুখারী বলেছেন: আব্বাদ, ইব্রাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি দাউদ থেকে, তিনি ইকরামা থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং কখনও কখনও তিনি তাদলিস করে সরাসরি ইকরামা থেকে বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন(২)।

এবং খতিব আল-বাগদাদী বলেছেন: আবু বকর আহমদ ইবনে সুলায়মান ইবনে আলী আল-মুকরি আল-ওয়াসিতি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে উমর আল-খাল্লাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: একদল মুহাদ্দিস 'তাদলিস' করাকে দোষণীয় মনে করেন না, তবে তাদের একদল একে অপছন্দ করেছেন; আমরাও একে অপছন্দ করি। তাদের মধ্যে যারা তাদলিসকে বৈধ মনে করেন, তারা কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই তা জায়েজ মনে করেন যার থেকে তিনি হাদিস শুনেছেন, কিন্তু এমন কোনো হাদিস যা তিনি তার থেকে শোনেননি বরং অন্যের মাধ্যমে শুনেছেন, সেটি সরাসরি তার থেকে শুনেছেন বলে উল্লেখ করে তাদলিস করেন। তাদের মতে, এটিও কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতে হবে। কিন্তু যে ব্যক্তি অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাদলিস করে এবং যার থেকে সে কখনও সরাসরি শোনেনি তার থেকে বর্ণনা করে, তবে সে তাদলিসের সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে যা কোনো কোনো আলেম অনুমতি দিয়েছিলেন(৩)।

ইয়াকুবের উক্তি— "কিন্তু যে ব্যক্তি অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাদলিস করে এবং যার থেকে সে শোনেনি"— এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, 'তাদলিস' শব্দটি এমন রাবীর বর্ণনার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যে তার থেকে সরাসরি শোনেনি, ঠিক যেমনটি এমন রাবীর বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যে তার থেকে শুনেছে কিন্তু নির্দিষ্ট সেই হাদিসটি শোনেনি।

--------------------------------------------

(১) "আল-ইলাল আল-কাবীর" (পৃষ্ঠা ৩৪৮ - ৩৪৯)।

(২) "আত-তারিখ আল-কাবীর" (৬/ ৪০)।

(৩) "আল-কিফায়াহ" (পৃষ্ঠা ৫১৬)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٨)
وقال يعقوب بن سفيان: وقد روى سعيد بن أبي عروبة عن عبيد الله بن عمر وعن هشام بن عروة وعن أبي بشر ولم يسمع منهم، إنما دلس عنهم، ولعمرى إنما روى عنهم مناكير(1).

وقال يعقوب بن سفيان أيضًا: حدثنا ابن نمير، عن أبي بكر بن عياش، عن الأعمش، عن سالم بن أبي الجعد، عن ثوبان، ولم يسمع من ثوبان، إنما هو تدليس(2).

وقال العجلي: حجاج بن أرطأة النخعي كوفي جائز الحديث، وكان له فقه، وكان على البصرة، وكان على الشرطة، وكان فقيهًا، وكان أحد مفتي الكوفة، وكان فيه تيه، وكان يقول: قتلنى حب الشرف، وولي قضاء البصرة، إلا أنه صاحب إرسال، كان يرسل عن يحيى بن أبي كثير ولم يسمع منه شيئًا، ويرسل عن مجاهد ولم يسمع منه شيئًا، ويرسل عن مكحول ولم يسمع منه شيئًا، ويرسل عن الزهري ولم يسمع منه شيئًا، فإنما يعيب الناس منه التدليس(3).

قال الشيخ الشريف حاتم بن عارف العوني حفظه الله: يقول أبو جعفر أحمد ابن إسماعيل النحاس (ت 338 هـ) في "الناسخ والمنسوخ" معقبًا على حديث ذكره: وهذا لا حجة فيه، لأن الحجاج بن أرطاة يدلس عمن لقيه وعمن لم يلقه، فلا تقوم بحديثه حجة، إلا أن يقول: حدثنا أو أخبرنا أو سمعت.

وهذا من صريح القول في اعتبار رواية المعاصر عمن لم يلقه تدليسًا(4).

وقال ابن عدي: والحجاج بن أرطأة إنما عاب الناس عليه تدليسه عن الزهري وعن غيره، وربما أخطأ في بعض الروايات، فأما أن يتعمد الكذب فلا، وهو

--------------------------------------------

(1) "المعرفة والتاريخ" (2/ 123).

(2) "المعرفة والتاريخ" (3/ 236).

(3) "الثقات" (ص 107).

(4) "المرسل الخفي" (1/ 55).
ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান বলেন: সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর, হিশাম ইবনে উরওয়াহ এবং আবু বিশর থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি তাদের থেকে কিছু শোনেননি; তিনি মূলত তাদের পক্ষ থেকে তাদলীস করেছেন। আমার জীবনের কসম, তিনি তাদের সূত্রে আপত্তিকর (মুনকার) বর্ণনাগুলোই বর্ণনা করেছেন(১)।

ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আরও বলেন: ইবনে নুমাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জা'দ থেকে, তিনি সাওবান থেকে; অথচ তিনি সাওবান থেকে শ্রবণ করেননি, বরং এটি তাদলীস(২)।

ইজলী বলেন: হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাহ আন-নাখায়ি কুফিবাসী ছিলেন, তার হাদীস গ্রহণযোগ্য, তার ফিকহী জ্ঞান ছিল, তিনি বসরার দায়িত্বে ছিলেন, তিনি পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন, তিনি একজন ফকীহ ছিলেন এবং কুফার মুফতিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার মধ্যে কিছুটা অহমিকা ছিল এবং তিনি বলতেন: "সম্মান লাভের মোহ আমাকে ধ্বংস করেছে।" তিনি বসরার বিচারক (কাযী) নিযুক্ত হয়েছিলেন। তবে তিনি ইরসাল করতেন; তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে বর্ণনা করতেন অথচ তার থেকে কিছুই শোনেননি, মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করতেন অথচ তার থেকে কিছুই শোনেননি, মাকহুল থেকে বর্ণনা করতেন অথচ তার থেকে কিছুই শোনেননি, যুহরী থেকে বর্ণনা করতেন অথচ তার থেকে কিছুই শোনেননি। মূলত মানুষ তার তাদলীসের কারণেই তার সমালোচনা করে(৩)।

শেখ শরীফ হাতিম ইবনে আরিফ আল-আওনি হাফিজাহুল্লাহ বলেন: আবু জাফর আহমাদ ইবনে ইসমাঈল আন-নাহহাস (মৃত্যু ৩৩৮ হি.) "আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ" গ্রন্থে তার উল্লিখিত একটি হাদীসের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "এটি দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাহ যার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং যার সাথে সাক্ষাৎ হয়নি—উভয়ের পক্ষ থেকেই তাদলীস করেন। সুতরাং তার হাদীস দ্বারা কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না তিনি বলেন: 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' অথবা 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' অথবা 'আমি শুনেছি'।"

সমসাময়িক ব্যক্তির এমন কারো থেকে বর্ণনা করা যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি—সেটিকে তাদলীস হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে এটি একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য(৪)।

ইবনে আদি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাহ-র ক্ষেত্রে মানুষ কেবল যুহরী এবং অন্যদের থেকে তার তাদলীসের কারণেই সমালোচনা করেছেন। মাঝেমধ্যে তিনি কিছু বর্ণনায় ভুল করতেন, তবে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলতেন না। তিনি...

--------------------------------------------

(১) "আল-মা’রিফাত ওয়াত তারিখ" (২/ ১২৩)।

(২) "আল-মা’রিফাত ওয়াত তারিখ" (৩/ ২৩৬)।

(৩) "আস-সিকাত" (পৃ. ১০৭)।

(৪) "আল-মুরসালুল খাফী" (১/ ৫৫)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ١٩)
ممن يكتب حديثه(1).

وقال ابن عدي أيضًا: وكان سعيد بن أبي عروبة ثبتًا عن كل من روى عنه، إلا من دلس عنهم، وهم الذين ذكرتهم ممن لم يسمع منهم(2).

وقال ابن حبان: النوع الثامن عشر من أنواع جرح الضعفاء: المدلس عمن لم يره كالحجاج بن أرطأة وذويه، كانوا يحدثون عمن لم يروه، ويدلسون حتى لا يعلم ذلك منهم.

سمعت محمد بن عمر بن سليمان يقول: سمعت محمد بن يحيى الذهلي يقول: الحجاج بن أرطأة لم يسمع من الزهري ولم يره(3).

وقال ابن العراقي: قال الدَّارقُطْنِي في "العلل": لم يسمع ابن جريج من المطلب بن عبد الله بن حنطب شيئًا، ويقال: كان يدلسه عن ابن أبي سبرة أو غيره من الضعفاء(4).

وقال الحاكم: الجنس السادس من التدليس قوم رووا عن شيوخ لم يروهم قط ولم يسمعوا منهم، إنما قالوا: قال فلان فحمل ذلك عنهم على السماع وليس عنهم سماع عالٍ ولا نازل(5).

وقال الخليلي: قد روى عن عكرمة جماعة ممن لم يلقوه، وإنما يدلسون، كالحسين بن واقد المروزي وغيره(6).

--------------------------------------------

(1) "الكامل في ضعفاء الرجال" (2/ 229).

(2) "الكامل في ضعفاء الرجال" (3/ 397).

(3) "المجروحين" (صـ 80).

(4) "تحفة التحصيل" (صـ 317). وفى "فتح الباري" لابن رجب الحنبلي (2/ 530) (ح 458): ويُقال: كان يدلسه عن ابن أبي سبرة وغيره من الضعفاء.

(5) "معرفة علوم الحديث" (صـ 109).

(6) "الإرشاد" (1/ 349).
যাদের হাদিস লেখা হয় তাদের অন্তর্ভুক্ত(১)।

ইবনে আদি আরও বলেন: সাঈদ ইবনে আবি আরুবা যার থেকেই বর্ণনা করেছেন তার ব্যাপারে তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তবে যাদের থেকে তিনি তাদলীস করেছেন তারা ব্যতীত। তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যাদের কথা আমি উল্লেখ করেছি যাদের থেকে তিনি শ্রবণ করেননি(২)।

ইবনে হিব্বান বলেন: দুর্বল বর্ণনাকারীদের জারাহ-এর প্রকারভেদের মধ্যে আঠারোতম প্রকার হলো: এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাদলীস করা যাকে সে দেখেনি, যেমন হাজ্জাজ ইবনে আরতাত এবং তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ। তারা এমন ব্যক্তিদের থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন যাদের তারা দেখেননি এবং তারা এমনভাবে তাদলীস করতেন যাতে তাদের থেকে বিষয়টি প্রকাশ না পায়।

আমি মুহাম্মদ বিন উমর বিন সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলীকে বলতে শুনেছি: হাজ্জাজ বিন আরতাত যুহরী থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি এবং তাকে দেখেনওনি(৩)।

ইবনুল ইরাকী বলেন: দারা কুতনী 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে জুরাইজ মুত্তালিব বিন আবদুল্লাহ বিন হানতাব থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এটি ইবনে আবি সাবরা অথবা অন্য কোনো দুর্বল বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে তাদলীস করতেন(৪)।

হাকিম বলেন: তাদলীস-এর ষষ্ঠ প্রকার হলো এমন একদল লোক যারা এমন শাইখদের থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের তারা কখনো দেখেননি এবং তাদের থেকে শ্রবণও করেননি। তারা কেবল বলতেন: 'অমুক বলেছেন', ফলে তাদের থেকে সেই বর্ণনাকে শ্রবণের ওপর গণ্য করা হতো, অথচ তাদের থেকে উচ্চ বা নিম্ন কোনো স্তরেরই শ্রবণ সাব্যস্ত নেই(৫)।

খালীলী বলেন: ইকরিমা থেকে এমন একদল লোক বর্ণনা করেছেন যারা তার সাথে সাক্ষাৎ করেননি, বরং তারা তাদলীস করেন; যেমন হুসাইন বিন ওয়াকিদ আল-মারওয়াযী এবং অন্যান্যরা(৬)।

--------------------------------------------

(১) "আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল" (২/ ২২৯)।

(২) "আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল" (৩/ ৩৯৭)।

(৩) "আল-মাজরুহীন" (পৃ. ৮০)।

(৪) "তুহফাতুত তাহসীল" (পৃ. ৩১৭)। এবং ইবনে রজব হাম্বলীর "ফাতহুল বারী" (২/ ৫৩০) (হাদিস ৪৫৮) গ্রন্থে রয়েছে: "বলা হয়ে থাকে: তিনি এটি ইবনে আবি সাবরা এবং অন্যান্য দুর্বল বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে তাদলীস করতেন।"

(৫) "মা'রিফাতু উলূমিল হাদিস" (পৃ. ১০৯)।

(৬) "আল-ইরশাদ" (১/ ৩৪৯)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
قال ابن الأثير (ت 606 هـ) في مقدمة كتابه" جامع الأصول في أحاديث الرسول" متكلمًا على التدليس: "رواية المدلسين إذا لم يذكروا سماعهم في الرِّواية فيقولون: قال فلان، ممن هو معاصرهم، رأوه أو لم يروه، ولا يكن لهم عنه سماع أو إجازة، ولا طريق من الرِّواية … إلى آخر كلامه"(1).

قلت: فإذا كان أحمد وابن معين وابن نمير والبخاري ويعقوب بن شيبة ويعقوب بن سفيان والعجلي وأبو جعفر النحاس وابن عدي وابن حبان والدارقطني والحاكم والخليلي وابن الأثير قد سموا رواية الراوي عمن عاصره ولم يلقه بلفظ موهم تدليسًا، فمن القوم بعدهم؟!

والخطيب البغدادي نفسه أطلق التدليس على رواية الراوي عمن عاصره بلفظ موهم، فقال في "تاريخ بغداد" (8/ 235): حجاج بن أرطاة كان مدلسًا، يروي عمن لم يلقه. فحجاج بن أرطأة عاصر الزهري وغيره، ولكنه لم يسمع منهم، وروى عنهم بصيغة موهمة كالعنعنة، ولم يبين أنه لم يسمع منهم(2)، فوصفه الخطيب البغدادي بالتدليس لذلك.

وقال الخطيب البغدادي في "الكفاية" (صـ 511 - 512): ذكر شيء من أخبار بعض المدلسين. ثم ذكر بإسناده قول أحمد: لم يسمع سعيد بن أبي عروبة من الحكم بن عتيبة شيئًا، ولا من حماد، ولا من عمرو بن دينار، ولا من هشام ابن عروة، ولا من إسماعيل بن أبي خالد، ولا من عبيد الله بن عمر، ولا من أبي بشر، ولا من زيد بن أسلم، ولا من أبي الزناد، وقد حدث عن هؤلاء كلهم ولم يسمع منهم.

--------------------------------------------

(1) "جامع الأصول" (1/ 167). نقلًا عن كتاب "المرسل الخفي" (1/ 124) للشيخ الشريف حاتم بن عارف العوني حفظه الله.

(2) انظر ترجمة (حجاج بن أرطأة) من كتابي "إكمال جامع التحصيل في ذكر رواة المراسيل".
ইবনুল আসীর (মৃ. ৬০৬ হি.) তাঁর "জামেউল উসুল ফি আহাদিসির রাসূল" গ্রন্থের ভূমিকায় তাদলীস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "মুদাল্লিসদের বর্ণনা হচ্ছে যখন তারা বর্ণনার মধ্যে তাদের শ্রবণের কথা উল্লেখ করে না, বরং তারা বলে: 'অমুক বলেছেন', এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যিনি তাদের সমসাময়িক, চাই তারা তাকে দেখে থাকুক বা না দেখে থাকুক, এবং তার থেকে তাদের কোনো শ্রবণ বা ইজাযত নেই এবং বর্ণনার কোনো পথ নেই … তাঁর আলোচনার শেষ পর্যন্ত"(১).

আমি বলি: সুতরাং যদি আহমদ, ইবনে মাঈন, ইবনে নুমাইর, বুখারী, ইয়াকুব বিন শাইবাহ, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান, আল-ইজলী, আবু জাফর আন-নাহহাস, ইবনে আদী, ইবনে হিব্বান, দারা কুতনী, আল-হাকেম, আল-খলীলী এবং ইবনুল আসীর একজন বর্ণনাকারীর তার সমসাময়িক ব্যক্তি থেকে—যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি—সংশয়পূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে করা বর্ণনাকে 'তাদলীস' নামে অভিহিত করে থাকেন, তবে তাদের পরে আর কারা অবশিষ্ট থাকে?!

এবং খতীব আল-বাগদাদী নিজেও একজন বর্ণনাকারীর তার সমসাময়িক ব্যক্তি থেকে সংশয়পূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে করা বর্ণনাকে 'তাদলীস' বলেছেন। তিনি "তারিখে বাগদাদ" (৮/২৩৫) গ্রন্থে বলেন: হাজ্জাজ বিন আরতাহ মুদাল্লিস ছিলেন, তিনি এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করতেন যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। হাজ্জাজ বিন আরতাহ যুহরী এবং অন্যদের সমসাময়িক ছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের থেকে শ্রবণ করেননি। তিনি তাদের থেকে 'আন'আনা'র মতো সংশয়পূর্ণ শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি যে তাদের থেকে শ্রবণ করেননি তা স্পষ্ট করেননি(২), এ কারণেই খতীব আল-বাগদাদী তাঁকে তাদলীসের বিশেষণে বিশেষিত করেছেন।

এবং খতীব আল-বাগদাদী "আল-কিফায়া" (পৃ. ৫১১ - ৫১২) গ্রন্থে বলেন: কতিপয় মুদাল্লিসের সংবাদ সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোচনা। এরপর তিনি তাঁর সনদে আহমদের উক্তি উল্লেখ করেন: সাঈদ বিন আবু আরুবাহ হাকাম বিন উতাইবাহ থেকে কিছুই শোনেননি, তদ্রূপ হাম্মাদ, আমর বিন দীনার, হিশাম বিন উরওয়াহ, ইসমাইল বিন আবু খালিদ, উবায়দুল্লাহ বিন উমর, আবু বিশর, যায়েদ বিন আসলাম এবং আবুয যিনাদ থেকেও কিছু শোনেননি। অথচ তিনি এই সকলের পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাদের থেকে শ্রবণ করেননি।

--------------------------------------------

(১) "জামেউল উসুল" (১/ ১৬৭)। শাইখ আশ-শরীফ হাতেম বিন আরিফ আল-আওনী (হাফিযাহুল্লাহ) রচিত "আল-মুরসালুল খাফী" (১/ ১২৪) গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত।

(২) আমার লেখা "ইকমালু জামেউত তাহসিল ফি যিকর রুওয়াতিল মারাসিল" গ্রন্থ থেকে (হাজ্জাজ বিন আরতাহ)-এর জীবনী দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢١)
ثم ذكر بإسناده إلى عبد الله بن علي بن المديني، قال: سألت أبي عن حديث رواه عبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد، عن ابن جريج، عن المطلب بن عبد الله بن حنطب، عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "عُرضت علي أجور أمتي حتى القذاة يخرجها الرجل من المسجد".

قال: ابن جريج لم يسمع من المطلب بن عبد الله بن حنطب، كان يأخذ أحاديثه عن ابن أبي يحيى عنه.

ثم ذكر الخطيب مثالًا للأعمش، ومثالًا لسفيان بن عيينة.

قلت: وسعيد بن أبي عروبة لم يسمع من هؤلاء الرواة الذين ذكرهم أحمد، وروى عنهم بصيغة موهمة كالعنعنة، ولم يبين أنه لم يسمع منهم، فاطلق الخطيب على ذلك اسم التدليس.

وكذلك أطلق الخطيب اسم التدليس على رواية ابن جريج عن المطلب بن عبد الله بن حنطب، لأنه لم يسمع منه، وروى عنه بصيغة موهمة، ولم يبين أنه لم يسمع منه.

وتعريف الخطيب للتدليس والإرسال ليس فيه دليل على أن رواية الراوي عمن عاصره ولم يسمع منه يُطلق عليها الإرسال فقط، ولا يُطلق عليها التدليس.

فالخطيب البغدادي قال في تعريف "تدليس الإسناد": "هو تدليس الحديث الذى لم يسمعه الراوي ممن دلسه عنه"، وهذه الصورة تشمل رواية الراوي عن شيخه الذى سمع منه مالم يسمع منه، وتشمل أيضًا رواية الراوي عمن عاصره ولم يلقه.

والفرق بين التدليس والإرسال عند الخطيب هو وجود الإيهام في التدليس، وعدم وجوده في الإرسال.

وقول الخطيب في تعريف الإرسال: "إرسال الحديث الذى ليس بمُدلس" أي ليس فيه إيهام. فالراوي المُرسل يبين في روايته أنه لم يسمع ممن روى عنه، فيقول مثلًا: "أُخبرت عن فلان"، "أو" بلغني عن فلان"، أما المدلس فيقول:
অতঃপর তিনি আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আল-মাদীনীর সূত্রে তার সনদসহ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে আব্দুল মাজীদ বিন আব্দুল আজীজ বিন আবী রাওয়াদ কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যা তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আল-মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাব থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। আনাস (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার সামনে আমার উম্মতের প্রতিদানসমূহ পেশ করা হয়েছে, এমনকি সেই খড়কুটো বা আবর্জনাটুকুও যা কোনো ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের করে দেয়।”

তিনি (পিতা) বললেন: ইবনে জুরাইজ আল-মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাব থেকে সরাসরি শোনেননি, বরং তিনি তার হাদীসগুলো ইবনে আবী ইয়াহইয়ার নিকট থেকে তার (মুত্তালিবের) সূত্রে গ্রহণ করতেন।

অতঃপর আল-খাতীব আল-আ’মাশ-এর একটি উদাহরণ এবং সুফিয়ান বিন উয়ায়নাহ-এর একটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি: সাঈদ বিন আবী আরুবাহ ওই বর্ণনাকারীদের থেকে শোনেননি যাদের কথা ইমাম আহমাদ উল্লেখ করেছেন; অথচ তিনি তাদের থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী শব্দে (যেমন ‘আন’ বা ‘থেকে’ শব্দযোগে) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি যে তাদের থেকে শোনেননি তা স্পষ্ট করেননি। তাই আল-খাতীব একে ‘তাদলীস’ নাম দিয়েছেন।

একইভাবে আল-খাতীব আল-মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাবের সূত্রে ইবনে জুরাইজের বর্ণনাকে ‘তাদলীস’ নাম দিয়েছেন, কারণ তিনি তার থেকে সরাসরি শোনেননি এবং তার থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী শব্দে বর্ণনা করেছেন অথচ তিনি তার থেকে শোনেননি তা পরিষ্কার করেননি।

তাদলীস এবং ইরসালের ব্যাপারে আল-খাতীবের সংজ্ঞায় এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, একজন বর্ণনাকারী তার সমসাময়িক কারো থেকে বর্ণনা করলে অথচ তার থেকে সরাসরি না শুনলে তাকে কেবল ‘ইরসাল’ বলা হবে এবং ‘তাদলীস’ বলা হবে না।

কেননা আল-খাতীব আল-বাগদাদী ‘তাদলীসুল ইসনাদ’-এর সংজ্ঞায় বলেছেন: “এটি এমন হাদীসের তাদলীস যা বর্ণনাকারী যার পক্ষ থেকে তাদলীস করছেন তার থেকে শোনেননি।” এই সুরত বা চিত্রটি যেমন বর্ণনাকারীর তার এমন উস্তাদ থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার থেকে তিনি হাদীস শুনেছেন কিন্তু এই নির্দিষ্ট হাদীসটি শোনেননি, তেমনি এমন ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যার তিনি সমসাময়িক কিন্তু তার সাথে সাক্ষাৎ হয়নি।

আল-খাতীবের মতে তাদলীস এবং ইরসালের মধ্যে পার্থক্য হলো তাদলীসের মধ্যে বিভ্রান্তি (ইহাম) বিদ্যমান থাকে, আর ইরসালের মধ্যে তা থাকে না।

ইরসালের সংজ্ঞায় আল-খাতীবের উক্তি: “হাদীসের এমন ইরসাল যা তাদলীস নয়”, অর্থাৎ যাতে কোনো বিভ্রান্তি নেই। সুতরাং মুরসিল বর্ণনাকারী তার বর্ণনায় স্পষ্ট করে দেন যে তিনি যার থেকে বর্ণনা করছেন তার থেকে শোনেননি। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন: “অমুকের পক্ষ থেকে আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে”, অথবা “অমুকের পক্ষ থেকে আমার কাছে খবর পৌঁছেছে”। তবে মুদাল্লিস বর্ণনাকারী বলে:
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
"عن"، أو "قال" فيوهم السامع أنه سمع الحديث ممن روى عنه، وهو في الحقيقة لم يسمعه.

ومما سبق يتبين أن ليس في كلام الخطيب دليل على ما ذهب إليه الحافظ من التفرقة بين التدليس والإرسال الخفي.

أما رواية المخضرمين كقيس بن أبي حازم وأبي عثمان النهدي وغيرهما عن النبي صلى الله عليه وسلم، فإن العُلماء لم يطلقوا عليها اسم التدليس، لأنه ليس في روايتهم عن النبي صلى الله عليه وسلم إيهام بأنهم سمعوا منه، فالكل يعلم أن هؤلاء لم يسمعوا من النبي صلى الله عليه وسلم مع إدراكهم له.

 

‌‌2) تدليس الشيوخ:

قال الخطيب البغدادي: وأما الضرب الثاني من التدليس فهو: أن يروي المحدث عن شيخ سمع منه حديثًا فغير اسمه أو كنيته أو نسبه أو حاله المشهور من أمره لئلا يُعرف، والعلة في فعله ذلك كون شيخه غير ثقة في اعتقاده، أو في أمانته، أو أن يكون متأخر الوفاة قد شارك الراوي عنه جماعة دونه في السماع منه أو يكون أصغر من الراوي عنه سنًا، أو تكون أحاديثه التى عنده عنه كثيرة فلا يحب تكرار الرِّواية عنه، فيغير حاله لبعض هذه الأمور.

ثم ذكر الخطيب من كان يصنع هذا النوع من التدليس كعطية العوفي وابن جريج ومروان بن معاوية الفزاري وغيرهم، ثم قال:

فمنهم: محمد بن محمد بن سليمان الباغندي كان يروي عن يحيى بن أبي طالب، فيقول: ثنا عبد الله بن الزبرقان، وعن محمد بن غالب التمتام، فيقول: ثنا عبد الله بن غالب التمار.

ومحمد بن المُظَفَّر الحافظ كان يروي عن أبي الحُسين عمر بن الحسن الأشناتي فيقول: ثنا عبد الله بن الحسن الشيباني، وعن عبد الباقي بن قانع القاضي، فيقول: ثنا عبد الله بن مرزوق.

وأبو بكر محمد بن القاسم الأنباري كان يروي عن محمد بن خلف بن الزبرقان
'হতে', অথবা 'বলেন' (শব্দ ব্যবহার করে), যার মাধ্যমে তিনি শ্রোতাকে এই ধারণা দেন যে তিনি যার থেকে বর্ণনা করছেন তার থেকে হাদিসটি শুনেছেন, অথচ বাস্তবে তিনি তা শোনেননি।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, খতীব (আল-বাগদাদী)-এর বক্তব্যে হাফিয (ইবনে হাজার) যে তাদলিস এবং ইরসালে খাফির মধ্যে পার্থক্যের অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তার কোনো প্রমাণ নেই।

আর কায়েস ইবনে আবি হাযিম এবং আবু উসমান আন-নাহদী ও তাঁদের মতো অন্যদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনাকে আলেমগণ 'তাদলিস' হিসেবে অভিহিত করেননি। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁদের বর্ণনায় এই সংশয় নেই যে তারা তাঁর থেকে সরাসরি শুনেছেন; কেননা সবাই জানেন যে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পাওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছ থেকে সরাসরি শোনেননি।

 

‌‌২) তাদলিসুশ শুয়ূখ (শিক্ষকদের পরিচয়ে ধোঁকা):

খতীব আল-বাগদাদী বলেছেন: আর তাদলিসের দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: মুহাদ্দিস এমন একজন শায়খ থেকে হাদিস বর্ণনা করবেন যার থেকে তিনি হাদিস শুনেছেন, কিন্তু তিনি তার নাম, উপনাম, বংশপরিচয় বা তার পরিচিত অবস্থা পরিবর্তন করে দেন যাতে তাকে চেনা না যায়। তিনি এটি করার কারণ হলো—তার মতে তার শায়খ নির্ভরযোগ্য না হওয়া, অথবা আমানতদারিতে ঘাটতি থাকা, অথবা শায়খ অনেক দেরিতে মারা যাওয়া যার ফলে তার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আরও কম পর্যায়ের একদল বর্ণনাকারী শরিক হয়ে যাওয়া, অথবা শায়খ বর্ণনাকারীর চেয়ে বয়সে ছোট হওয়া, অথবা তার কাছে ঐ শায়খের অনেক হাদিস থাকা যার ফলে তিনি তার থেকে বারংবার বর্ণনার পুনরাবৃত্তি পছন্দ করেন না; ফলে তিনি এই সব কারণে তার অবস্থা পরিবর্তন করে দেন।

অতঃপর খতীব তাদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা এই ধরণের তাদলিস করতেন, যেমন আতিয়্যাহ আল-আউফী, ইবনে জুরাইজ, মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া আল-ফাজারী এবং অন্যান্যরা। এরপর তিনি বলেন:

তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-বাগান্দী; তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করতেন এবং বলতেন: 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল যিবরিকান'। এবং মুহাম্মদ ইবনে গালিব আত-তামতাম থেকে বর্ণনা করার সময় বলতেন: 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে গালিব আত-তাম্মার'।

আর হাফিয মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফর; তিনি আবুল হুসাইন উমর ইবনুল হাসান আল-উশনাতী থেকে বর্ণনা করতেন এবং বলতেন: 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানী'। এবং আব্দুল বাকী ইবনে কানি' আল-কাজী থেকে বর্ণনা করার সময় বলতেন: 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মারযুক'।

এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-আনবারী; তিনি মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনুল যিবরিকান থেকে বর্ণনা করতেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
فيقول: ثنا عبد الله بن خلف.

وأبو عبيد الله المرزباني كان يروي عن محمد بن يحيى الصولي فيقول: ثنا أبو بكر الجرجاني.

والحارث بن أبي أسامة حدث عن أبي بكر بن أبي الدنيا المُصَنِّف، وقال: ثنا أبو بكر الأموي، وقال في موضع آخر: ثنا عبد الله بن عبيد، وفى موضع آخر: ثنا عبد الله بن سفيان الأموي، وفى موضع آخر: ثنا أبو بكر بن سفيان الكوفي.

وإبراهيم الحربي حدث عن علي بن داود القنطري فقال: ثنا علي بن أبي سليمان.

وحدث الحارث بن أبي أسامة عن أخيه محمد فقال: ثنا محمد بن أبي سليمان.

وحدث أبو معاوية الضرير عن الحسن بن عمارة، فقال: ثنا عبد الله بن عبد الرحمن شيخ كان في بجيلة.

وبكار بن بشر الفزاري حدث عن علي بن غراب فقال: ثنا علي بن عبد العزيز وحدث عنه مروان بن معاوية فقال: ثنا علي بن أبي الوليد.

وحدث أبو بكر بن مجاهد عن أبي بكر بن أبي داود السجستياني، فقال: ثنا عبد الله بن أبي عبد الله، وحدث أيضًا عن محمد بن الحسن بن زياد النقاش فقال: ثنا محمد بن سند.

وروى أبو جعفر بن شاهين عن النقاش فقال: ثنا محمد بن أبي سعيد الموصلي.

وحدث أبو بكر بن أبي الدنيا عن إبراهيم بن سعيد الجوهري فقال: ثنا إبراهيم ابن أبي عثمان، وفى موضع آخر فقال: ثنا أبو إسحاق الجزري.

وحدث محمد بن محمد بن سليمان الباغندي عن إسحاق بن شاهين الواسطي فقال: ثنا إسحاق بن عمران.

وحدث عبد الله بن أحمد بن حنبل عن إسحاق بن منصور الكوسج فقال: حدثنا إسحاق بن أبي عيسى. وحدث أيضًا عن زهير بن محمد بن قمير فقال: ثنا زهير بن أبي زهير، وعن الحكم بن موسى فقال: ثنا الحكم بن أبي زهير.
তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন খালাফ।

আর আবু উবাইদুল্লাহ আল-মারজুবানী মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুলী থেকে বর্ণনা করতেন, তিনি বলতেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-জুরজানি।

এবং আল-হারিস বিন আবু উসামা গ্রন্থকার আবু বকর বিন আবিদ দুনিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-উমাবী। তিনি অন্যত্র বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন উবাইদ। আবার অন্যত্র বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সুফিয়ান আল-উমাবী। এবং অন্য এক স্থানে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন সুফিয়ান আল-কুফি।

আর ইব্রাহিম আল-হারবি আলী বিন দাউদ আল-ক্বানতারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আবু সুলাইমান।

আর আল-হারিস বিন আবু উসামা তার ভাই মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবু সুলাইমান।

এবং আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির হাসান বিন আম্মারা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান, যিনি বাজিলা গোত্রের একজন শায়খ ছিলেন।

আর বাক্কার বিন বিশর আল-ফাজারি আলী বিন গুরাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আজিজ। আর তার থেকে মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আবুল ওয়ালিদ।

এবং আবু বকর বিন মুজাহিদ আবু বকর বিন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আবু আবদুল্লাহ। তিনি মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন জিয়াদ আন-নাক্কাশ থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সানাদ।

আর আবু জাফর বিন শাহীন আন-নাক্কাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবু সাঈদ আল-মাওসিলি।

এবং আবু বকর বিন আবিদ দুনিয়া ইব্রাহিম বিন সাঈদ আল-জাওহারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আবু উসমান। অন্যত্র তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আল-জাজারি।

আর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-বাগিন্দি ইসহাক বিন শাহীন আল-ওয়াসিতি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইমরান।

এবং আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল ইসহাক বিন মানসুর আল-কাউসাজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আবু ঈসা। তিনি জুহাইর বিন মুহাম্মদ বিন কুমাইর থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর বিন আবু জুহাইর। এবং হাকাম বিন মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকাম বিন আবু জুহাইর।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وحدث يعقوب بن شيبة عن أحمد بن حنبل فقال: ثنا أحمد بن هلال.

وروى قيس بن الربيع عن أبي خالد عمرو بن خالد الواسطي، فقال: ثنا عمير مولى عنبسة بن سعيد.

وروى عبد الله بن عمر المعروف بمشكدانة عن أسيد بن زيد الجمال عن عمرو ابن شمر فقال: ثنا أبو محمد مولى بني هاشم عن عمرو بن أبي عمرو.

واستيفاء ما ورد في هذا المعنى يطول، فمن أحب الوقوف عليه بكماله فلينظر في كتابنا الذى قدمنا ذكره(1).

وفى الجملة فإن كل من روى عن شيخ شيئًا سمعه منه وعدل عن تعريفه بما اشتهر من أمره، فخفى ذلك على سامعه، لم يصح الاحتجاج بذلك الحديث للاسمع، لكون الذى حدث عنه في حله ثابت الجهالة، معدوم العدالة، ومن كان هذا صفته فحديثه ساقط، والعمل به غير لازم، على الأصل الذى ذكرناه فيما تقدم، والله أعلم(2).

قال السخاوي: تدليس الشيوخ هو أن يصف المدلس الشيخ الذى سمع ذاك الحديث منه بما لا يُعرف، أي يشتهر به من اسم، أو كنيه، أو نسبه إلى قبيلة، أو بلدة، أو صنعة، أو نحو ذلك، كي يوعر معرفة الطريق على السامع.

قال الخطيب: وذلك خلاف موجب العدالة ومقتضى الديانة من التواضع في طلب العلم، وترك الحمية في الأخبار بأخذ العلم عمن أخذه.

قلت: وقد يكون للخوف من عدم أخذه عنه وانتشاره مع الاحتياج إليه، أو يكون المدلس عنه حيًا وعدم التصريح به أبعد عن المحذور الذى نهى الشافعي عنه لأجله.

ومنه قول شيخنا(3): أبو العباس بن أبي الفرج بن أبي عبد الله الصحراوي

--------------------------------------------

(1) هو كتاب "الموضح لأوهام الجمع والتفريق"، ذكر ذلك الخطيب في (صـ 425).

(2) "الكفاية" (520 - 527).

(3) هو الحافظ ابن حجر رحمه الله.
ইয়াকুব বিন শাইবাহ আহমাদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ বিন হিলাল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

কাইস বিন রবী আবু খালিদ আমর বিন খালিদ আল-ওয়াসিতি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আনবাসাহ বিন সাঈদের আযাদকৃত দাস উমায়ের হাদীস বর্ণনা করেছেন।

মুশকিদানাহ নামে পরিচিত আব্দুল্লাহ বিন উমর উসাইদ বিন যায়েদ আল-জাম্মাল থেকে এবং তিনি আমর ইবনে শামির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বনু হাশিমের আযাদকৃত দাস আবু মুহাম্মাদ আমর বিন আবি আমর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

এই বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দীর্ঘ হবে, তাই যে ব্যক্তি এটি বিস্তারিতভাবে জানতে চায় সে যেন আমাদের সেই কিতাবটি দেখে নেয় যার উল্লেখ আমরা ইতিপূর্বে করেছি(১)।

সারকথা হলো, যে ব্যক্তি তার কোনো শাইখ থেকে শুনে কিছু বর্ণনা করে এবং শাইখের পরিচিত কোনো নাম বা পরিচয়ের পরিবর্তে এমন কিছু ব্যবহার করে যা প্রসিদ্ধ নয়, ফলে শ্রোতার কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যায়, তবে সেই শ্রোতার জন্য উক্ত হাদীসটি দলিল হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক হবে না। কারণ যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তার প্রকৃত অবস্থা অজ্ঞাত এবং বিশ্বস্ততার অভাব বিদ্যমান। যার বৈশিষ্ট্য এমন, তার হাদীস পরিত্যজ্য এবং তা অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক নয়, সেই মূলনীতির ভিত্তিতে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন(২)।

সাখাভী বলেন: 'তাদলিসুশ শুয়ুখ' হলো বর্ণনাকারী (মুদাল্লিস) তার সেই শাইখকে—যার থেকে তিনি হাদীসটি শুনেছেন—এমন কোনো নাম, উপনাম, বংশীয় পরিচয়, শহর বা পেশার মাধ্যমে বর্ণনা করা যার দ্বারা তিনি পরিচিত নন, যাতে শ্রোতার জন্য বর্ণনাসূত্র চেনা কঠিন হয়ে যায়।

খতীব বলেন: এটি বিশ্বস্ততার দাবি এবং দ্বীনদারির পরিপন্থী, যা ইলম অর্জনে বিনয় এবং যার থেকে ইলম গ্রহণ করা হয়েছে তার সংবাদ প্রদানে সংকীর্ণতা পরিহার করার দাবি রাখে।

আমি বলি: কখনো কখনো এটি করা হয় এই ভয়ে যে, শাইখের থেকে ইলম গ্রহণ করা হবে না বা তা ছড়িয়ে পড়বে না অথচ এর প্রয়োজন রয়েছে। অথবা যার থেকে তাদলিস করা হচ্ছে তিনি জীবিত থাকতে পারেন, আর তার নাম স্পষ্ট না করা সেই নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দূরে থাকার জন্য হতে পারে যার কারণে শাফেঈ এটি নিষেধ করেছেন।

এর একটি উদাহরণ হলো আমাদের শাইখের(৩) উক্তি: আবুল আব্বাস বিন আবিল ফরাজ বিন আবি আব্দুল্লাহ আস-সাহরাভী

--------------------------------------------

(১) এটি হলো "আল-মুদিহ লি-আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক" কিতাব, খতীব এটি (পৃষ্ঠা ৪২৫)-এ উল্লেখ করেছেন।

(২) "আল-কিফায়াহ" (৫২০ - ৫২৭)।

(৩) তিনি হলেন হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
بقرأتي عليه بالصالحية، وعنى بذلك الولى أبا زرعة ابن شيخه الزين أبي الفضل العراقي، ولم يتنبه له إلا أفراد، مع تحديثه بذلك حتى لجماعة من خواص الولي وملازميه، وما علموه.

ويكون كفعل الخطيب الحافظ المكثر من الشيوخ والمسموع في تنويع الشيخ الواحد، حيث قال مرة: أخبرنا الحسن بن محمد الخلال، ومرة: أخبرنا الحسن بن أبي طالب، ومرة: أنا أبو محمد الخلال، والجميع واحد.

وقال مرة: عن أبي القاسم الأزهري، ومرة: عن عبيد الله بن أبي القاسم الفارسي، ومرة: عن عبيد الله بن أحمد بن عثمان الصيرفي، والجميع واحد.

وقال مرة: أنا علي بن أبي علي البصري، ومرة: أنا علي بن المحسن، ومرة: أنا أبو القاسم التنوخي، ومرة: أنا علي بن الحسن، ويصفه مرة: بالقاضي، ومرة بالمعتدل، إلى غيرها، ومراده بهذا كله أبو القاسم علي بن أبي علي المحسن بن علي التنوخي البصري الأصل القاضي، وهو مكثر في تصانيفه من ذلك جدًا.

ويقرب منه ما يقع للبخاري في شيخه الذهلي، فإنه تارة يقول: ثنا محمد ولا ينسبه، وتارة: محمد بن عبد الله فينسبه إلى جده، وتارة محمد بن خالد فينسبه إلى والد جده، ولم يقل في موضع محمد بن يحيى.

قلت: ولكن لا يلزم من كون الناظر قد يتوهم الإكثار أن يكون مقصودًا لفاعله، بل الظن بالأئمة خصوصًا من اشتهر إكثاره مع ورعه خلافه، لما يتضمن من التشبع والتزين الذي يراعى تجنبه أرباب الصلاح والقلوب، كما نبه عليه ياقوتة العُلماء المعافى بن عمران، وكان من أكابر العُلماء والصلحاء، ولا مانع من قصدهم الاختبار لليقظة، والإلفات إلى حسن النظر في الرواة وأحوالهم وأنسابهم إلى قبائلهم وبلدانهم وحرفهم وألقابهم وكناهم، وكذا الحال في آبائهم، فتدليس الشيوخ دائر بين ما وصفنا.

وقد ذكر الذهبي في فوائد رحلته أنه لما اجتمع بابن دقيق العيد سأله التقى: من
সালিহিয়াতে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে এবং এর দ্বারা তিনি তাঁর শাইখ যাইন আবুল ফজল আল-ইরাকির পুত্র ওয়ালি আবু জুরআকে বুঝিয়েছেন। এটি অল্প কয়েকজন ছাড়া আর কারো নজরে পড়েনি, যদিও তিনি ওয়ালি আবু জুরআর ঘনিষ্ঠ একদল ছাত্র ও অনুসারীদের কাছেও এটি বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু তারা তা জানতে পারেননি।

আর এটি হাফেজ আল-খাতিবের কাজের মতো, যিনি প্রচুর সংখ্যক শাইখ এবং শ্রুত হাদিসের অধিকারী হওয়ার কারণে একই শাইখকে বিভিন্ন নামে উল্লেখ করতেন। কখনো তিনি বলতেন: 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-খাল্লাল', কখনো বলতেন: 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আবি তালিব', আবার কখনো বলতেন: 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল'; অথচ তাঁরা সবাই একই ব্যক্তি।

তিনি কখনো বলতেন: 'আবুল কাসিম আল-আজহারি থেকে বর্ণিত', কখনো বলতেন: 'উবাইদুল্লাহ বিন আবুল কাসিম আল-ফারিসি থেকে বর্ণিত', আবার কখনো বলতেন: 'উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন উসমান আস-সাইরাফি থেকে বর্ণিত'; অথচ তাঁরা সবাই একই ব্যক্তি।

তিনি কখনো বলতেন: 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আবি আলী আল-বাসরি', কখনো বলতেন: 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আল-মুহসিন', কখনো বলতেন: 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আত-তানুখি', আবার কখনো বলতেন: 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আল-হাসান'। কখনো তাঁকে 'আল-কাজি' (বিচারক) হিসেবে অভিহিত করতেন, কখনো 'আল-মুতাদিল' হিসেবে, এবং আরও অন্যান্য বিশেষণে। এসব ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আবুল কাসিম আলী বিন আবি আলী আল-মুহসিন বিন আলী আত-তানুখি আল-বাসরি আল-আসলি আল-কাজি। তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে এই পদ্ধতিটি অত্যধিক ব্যবহার করেছেন।

আর ইমাম বুখারি তাঁর শাইখ আজ-যুহালির ক্ষেত্রে যা করেছেন তা এর কাছাকাছি। কেননা তিনি কখনো বলেন: 'মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন' কিন্তু তাঁর বংশপরিচয় উল্লেখ করেন না, কখনো বলেন: 'মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ' (তথা তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধ করেন), আবার কখনো বলেন: 'মুহাম্মদ বিন খালিদ' (তথা তাঁকে তাঁর পরদাদার দিকে সম্বন্ধ করেন), কিন্তু কোনো স্থানেই তিনি 'মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া' বলেননি।

আমি বলি: তবে কোনো পর্যবেক্ষক যখন মনে করেন যে শাইখদের সংখ্যা বেশি দেখানোই উদ্দেশ্য, তখন এটি সেই ব্যক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া আবশ্যক নয়। বরং ইমামগণের ব্যাপারে—বিশেষ করে যারা তাঁদের তাকওয়া ও পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শাইখের সান্নিধ্যের জন্য সুপরিচিত—এর বিপরীত ধারণা পোষণ করাই সঙ্গত। কারণ এতে এমন এক প্রকার কৃত্রিম সাজসজ্জা বা লোকদেখানো ভাব প্রকাশ পায় যা সৎকর্মশীল ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ পরিহার করে চলেন। যেমনটি আলেমদের রত্ন মুয়াফা বিন ইমরান সতর্ক করেছেন, যিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ আলেম ও পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত। তবে তাঁদের উদ্দেশ্য যদি হয় বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে ছাত্রদের সতর্কতা পরীক্ষা করা এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা, বংশপরিচয়, গোত্র, দেশ, পেশা, উপাধি ও উপনামের প্রতি যথাযথ দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা, তবে তাতে কোনো বাধা নেই। বর্ণনাকারীদের পিতৃপরিচয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সুতরাং শাইখদের পরিচয় অস্পষ্ট রাখার বিষয়টি (তাদলিসুশ শুয়ুখ) আমরা যা বর্ণনা করলাম তার মধ্যেই আবর্তিত হয়।

আয-যাহাবি তাঁর সফরের প্রাপ্তি বা উপকারিতা (ফাওয়াইদ) সংক্রান্ত বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, যখন তিনি ইবনে দাকিকুল ইদ-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তখন আত-তাকি (ইবনে দাকিকুল ইদ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: কে
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
أبو محمد الهلالي؟ فقال: سفيان بن عيينة. فأعجبه استحضاره.

وألطف منه قوله له: من أبو العباس الذهبي؟ فقال: أبو طاهر المخلص.

وكذا مر في صحيح ابن حبان وأنا بين يدي شيخنا قوله: ثنا أبو العباس الدمشقي، فقال: من هذا؟ فبادرته مع أنه لم يقصدني بذلك، وقلت: هو أبو الحسن أحمد بن عمير بن جوصاء، فأعجبه الجواب دون المبادرة لتفويتها غرضًا له.

ولذا قال ابن دقيق العيد: إن في تدليس الشيخ الثقة مصلحة، وهى امتحان الأذهان واستخراج ذلك وإلقاءه إلى من يُراد اختبار حفظه ومعرفته بالرجال.

على أنه قد قيل في فعل البخاري في الذهلي: إنه لما كان بينهما ما عُرف في محله، بحيث منع الذهلي أصحابه من الحضورعند البخاري، ولم يكن ذلك بمانع للبخاري من التخريج عنه لوفور ديانته وأمانته، وكونه عذره في نفسه بالتأويل، غير أنه خشي من التصريح به أن يكون كانه بتعديله له صدقه في نفسه فأخفى اسمه، والله أعلم بمراده.

والأكثر في هذا القسم وقوعه من الراوي، وقد يقع من الطالب بقصد التغطية على شيخه، ليتوفر عليه ما جرت عادته باخذه في حديث ذاك المدلس، كما سيأتي في الفصل الحادي عشر من معرفة من تُقبل روايته، وهو أخفها وأظرفها، ويجمع الكل مفسدة تضييع المروي عنه، كما قال ابن الصلاح، وذلك حيث جهل، إلا أنه نادر، فالحذاق لا يخفى ذلك عنهم غالبًا، فإن جهل كان من لازمه تضييع المروي أيضًا، بل قد يتفق أن يوافق ما دلس به شهرة راو ضعيف من أهل طبقته، ويكون المدلس ثقة، وكذا بالعكس، وهو فيه أشد(1).

قلت: وقد سمى ابن الصلاح هذا النوع من التدليس بتدليس. الشيوخ، وتبعه على ذلك من جاء بعده.

وممن كان يدلس تدليس الشيوخ: بقية بن الوليد، وسفيان الثوري، وعطية بن

--------------------------------------------

(1) "فتح المغيث" (1/ 222 - 225).
আবু মুহাম্মাদ আল-হিলালী কে? তিনি উত্তর দিলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ। তাঁর এই তাৎক্ষণিক স্মরণশক্তি তাঁকে মুগ্ধ করল।

এর চেয়েও সূক্ষ্ম বিষয় হলো তাঁর এই জিজ্ঞাসা: আবু আব্বাস আদ-যাহাবী কে? তিনি বললেন: আবু তাহির আল-মুখলিস।

একইভাবে সহীহ ইবনে হিব্বানের একটি বর্ণনা যখন আমাদের শাইখের সামনে আসলো, যেখানে ছিল: ‘আমাদের কাছে আবু আব্বাস আদ-দিমাশকী বর্ণনা করেছেন’, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইনি কে?’ যদিও তিনি সরাসরি আমাকে উদ্দেশ্য করেননি, তবুও আমি দ্রুত উত্তর দিয়ে বললাম: ‘তিনি হলেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে উমাইর ইবনে জাওসা’। উত্তরটি তাঁকে মুগ্ধ করলেও আমার এই দ্রুততা তাঁকে আনন্দিত করেনি, কারণ এতে তাঁর একটি উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছিল।

এ কারণেই ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেছেন: নির্ভরযোগ্য শাইখগণের ‘তাদলীস’ করার পেছনে একটি কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর তা হলো মেধার পরীক্ষা নেওয়া, সূক্ষ্ম তথ্য বের করে আনা এবং এমন ব্যক্তির সামনে উপস্থাপন করা যার মুখস্থ শক্তি ও বর্ণনাকারী সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করা উদ্দেশ্য।

তাছাড়া আয-যুহলীর ব্যাপারে ইমাম বুখারীর কর্মপন্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে: যেহেতু তাঁদের উভয়ের মধ্যে এমন কিছু ঘটেছিল যা যথাস্থানে সুবিদিত, যার ফলে আয-যুহলী তাঁর ছাত্রদের ইমাম বুখারীর মজলিসে উপস্থিত হতে নিষেধ করেছিলেন; কিন্তু আয-যুহলীর অগাধ দ্বীনদারী ও আমানতদারীর কারণে ইমাম বুখারীকে তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করা থেকে বিরত রাখেনি। ইমাম বুখারী নিজের মনে তাঁর ভুল ব্যাখ্যাকে ওজর হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তবে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে এমন হতে পারে যে, তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলার দ্বারা তিনি যেন পরোক্ষভাবে ইমাম বুখারীর বিরুদ্ধে তাঁর (আয-যুহলীর) অবস্থানকেও সত্যয়ন করছেন। তাই তিনি তাঁর নাম গোপন রেখেছিলেন। আর আল্লাহই তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো জানেন।

এই প্রকারটি সাধারণত বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে বেশি ঘটে থাকে। কখনও কখনও ছাত্রের পক্ষ থেকেও এটি হতে পারে—নিজের শাইখকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে, যাতে ঐ ‘মুদাল্লিস’-এর হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে তার যে অভ্যাস ছিল তা বজায় থাকে। যেমনটি ‘যাঁদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য তাঁদের পরিচিতি’ সংক্রান্ত একাদশ অধ্যায়ে আসবে। এটি তাদলীসের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা ও চমৎকার বিষয়। ইবনে আস-সালাহ যেমনটি বলেছেন, এর সবগুলোর মধ্যেই মূল সমস্যা হলো যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তাকে হারিয়ে ফেলা (অজ্ঞাত করে ফেলা)। তবে এটি তখনই হয় যখন তাকে চেনা না যায়, যদিও এমনটা কমই ঘটে। কারণ দক্ষ পণ্ডিতদের কাছে সাধারণত এগুলো অস্পষ্ট থাকে না। আর যদি তিনি অজ্ঞাত থেকে যান, তবে এর আবশ্যিক ফল হিসেবে ঐ বর্ণিত হাদীসটিও হারিয়ে যায়। এমনকি কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, যে নামে তাদলীস করা হয়েছে তা ঐ স্তরেরই কোনো একজন দুর্বল বর্ণনাকারীর প্রসিদ্ধ নামের সাথে মিলে যায়, অথচ প্রকৃত বর্ণনাকারী হলেন নির্ভরযোগ্য। আবার এর বিপরীতটিও হতে পারে, যা এতে আরও ভয়াবহ।(১)

আমি বলছি: ইবনে আস-সালাহ এই প্রকারের তাদলীসকে ‘তাদলীসুশ শুয়ূখ’ নামে অভিহিত করেছেন এবং পরবর্তীগণ এ ব্যাপারে তাঁর অনুসরণ করেছেন।

যারা ‘তাদলীসুশ শুয়ূখ’ করতেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ, সুফিয়ান আস-সাওরী এবং আতিয়্যাহ বিন...

--------------------------------------------

(১) "ফাতহুল মুগীস" (১/ ২২২ - ২২৫)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
سعد العوفي، ومروان بن معاوية الفزاري، والوليد بن مسلم.

 

‌‌3) تدليس التسوية

قال العلائي: النوع الثاني من تدليس السماع أن يسمع الراوي من شيخه حديثًا قد سمعه من رجل ضعيف عن شيخ سمع منه ذلك الشيخ هذا الحديث، فيسقط الراوي عنه الرجل الضعيف من بينهما، ويروي عن شيخه عن الأعلى، لكونه سمع منه أو أدركه، وُيسمى هذا النوع أيضًا التسوية، وهذا مذموم جدًا من وجوه كثيرة.

منها: أنه غش، وتغطية لحال الحديث الضعيف، وتلبيس على من أراد الاحتجاج به.

ومنها: أنه يروي عن شيخه مالم يتحمله عنه، لأنه لم يسمع منه الحديث إلا بتوسط الضعيف، ولم يروه شيخه بدونه.

ومنها: أنه يصرف على شيخه بتدليس لم يأذن له فيه، وربما ألحق بشيخه وصمة التدليس، إذا أُطلع عليه أنه رواه عن الواسطة الضعيف، ثم يوجد ساقط في هذه الرِّواية، فيُظن أن شيخه الذى أسقطه ودلس الحديث، وليس كذلك، ولاريب في تضعيف من أكثر من هذا النوع.

وبالجملة فهذا النوع أفحش أنواع التدليس مطلقًا وشرها، لكنه قليل بالنسبة إلى ما يوجد عن المدلسين والله تعالى الموفق بكرمه(1).

قال ابن رجب: تدليس التسوية هو أن يروي عن شيخ له ثقة، عن رجل ضعيف، عن ثقة، فيسقط الضعيف من الوسط.

وكان الوليد بن مسلم وسنيد بن داود وغيرهما يفعلون ذلك(2).

وقال العراقي: ترك المُصَنِّف(3) رحمه الله قسمًا ثالثًا من أنواع التدليس، وهو

--------------------------------------------

(1) "جامع التحصيل" (صـ 102 - 104).

(2) "شرح علل الترمذي" (2/ 825).

(3) هو الإمام ابن الصلاح.
সাদ আল-আউফি, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আল-ফাজারি এবং আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম।

 

‌‌৩) তাদলীস আত-তাসউইয়াহ

আল-আলাই বলেন: তাদলীস আস-সামা-এর দ্বিতীয় প্রকার হলো—বর্ণনাকারী তার উস্তাদের নিকট থেকে এমন একটি হাদীস শুনলেন যা তার উস্তাদ একজন দুর্বল (যঈফ) ব্যক্তির নিকট থেকে শুনেছেন, আর সেই দুর্বল ব্যক্তি এমন একজন উস্তাদ থেকে শুনেছেন যার থেকে উক্ত বর্ণনাকারীর উস্তাদও হাদীসটি শুনেছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী তাদের মধ্য থেকে সেই দুর্বল ব্যক্তিকে ফেলে দেন এবং তার উস্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তার উপরের স্তরের উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন; যেহেতু তিনি তার থেকে সরাসরি শুনেছেন বা তার সমসাময়িক ছিলেন। এই প্রকারকে ‘তাসউইয়াহ’ বলা হয় এবং এটি বিভিন্ন কারণে অত্যন্ত নিন্দনীয়।

তার মধ্যে একটি হলো: এটি একটি প্রতারণা এবং দুর্বল হাদীসের অবস্থাকে গোপন করা, আর যারা এটি দ্বারা দলিল পেশ করতে চান তাদের বিভ্রান্ত করা।

আরেকটি কারণ হলো: সে তার উস্তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করছে যা সে তার থেকে সরাসরি লাভ করেনি, কারণ সে দুর্বল ব্যক্তির মাধ্যম ছাড়া উস্তাদের থেকে হাদীসটি শুনেনি এবং তার উস্তাদও তাকে সেই মাধ্যম ছাড়া এটি বর্ণনা করেননি।

আরেকটি কারণ হলো: সে তার উস্তাদের ওপর এমন এক তাদলীস আরোপ করে যার অনুমতি তিনি তাকে দেননি। এমনকি হয়তো এর ফলে সে তার উস্তাদের ওপর তাদলীসের কলঙ্ক লেপন করে; যখন এটি প্রকাশ পায় যে উস্তাদ মূলত একজন দুর্বল মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু এই বর্ণনায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তখন মনে করা হয় যে তার উস্তাদই তাকে বাদ দিয়েছেন এবং হাদীসটিতে তাদলীস করেছেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। আর সন্দেহ নেই যে, যারা এই প্রকারের তাদলীস অধিক পরিমাণে করে তারা দুর্বল হিসেবে গণ্য হয়।

মোদ্দাকথা, এটি সাধারণভাবে তাদলীসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম প্রকার। তবে তাদলীসকারীদের মধ্যে এর প্রচলন তুলনামূলক কম। আল্লাহ তাআলা তাঁর করুণায় তাওফীক দানকারী।(১)

ইবনে রজব বলেন: তাদলীস আত-তাসউইয়াহ হলো কোনো বর্ণনাকারী তার একজন নির্ভরযোগ্য উস্তাদ থেকে, একজন দুর্বল ব্যক্তি থেকে, এবং সেই দুর্বল ব্যক্তি একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করা; অতঃপর বর্ণনাকারী মাঝখানের সেই দুর্বল ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দেওয়া।

ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, সুনাইদ ইবনে দাঊদ এবং অন্যান্যরা এরূপ করতেন।(২)

আল-ইরাকী বলেন: গ্রন্থকার(৩) রাহিমাহুল্লাহ তাদলীসের প্রকারভেদ থেকে তৃতীয় একটি প্রকার ছেড়ে দিয়েছেন, আর তা হলো—

--------------------------------------------

(১) "জামে আত-তাহসীল" (পৃষ্ঠা: ১০২ - ১০৪)।

(২) "শারহু ইলালিত তিরমিযী" (২/ ৮২৫)।

(৩) তিনি হলেন ইমাম ইবনুস সালাহ।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
شر الأقسام، وهو الذى يسمونه تدليس التسوية، وقد سماه بذلك أبو الحسن بن القطان وغيره من أهل هذا الشأن، وصورة هذا القسم من التدليس أن يجيء المدلس إلى حديث سمعه من شيخ ثقة، وقد سمعه ذلك الشيخ الثقة من شيخ ضعيف، وذلك الشيخ الضعيف يرويه عن شيخ ضعيف، فيعمل المدلس الذى سمع الحديث من الثقة الأول فيسقط منه شيخ شيخه الضعيف، ويجعله من رواية شيخه الثقة عن الثقة الثاني بلفظ محتمل كالعنعنة ونحوها، فيصير الإسناد كله ثقات، ويصرح هو بالاتصال بينه وبين شيخه، لأنه قد سمع منه، فلا يظهر حينئذٍ في الإسناد ما يقتضي عدم قبوله إلا لأهل النقد والمعرفة بالعلل(1).

قال بدر الدين الزركشي: تدليس الإسقاط وهو ألا يسقط شيخه، لكن يسقط من بعده، لكونه رجلًا ضعيفًا، أو صغير السن، لتحسين الحديث بإسقاطه، ذكره الخطيب قال: وكان الأعمش والثوري وبقية يفعلون هذا النوع.

واعلم أن بعضهم سمى هذا النوع تدليس التسوية، ومنهم أبو الحسن بن القطان وتلميذه ابن المواق، فقال في "بغية النقاد": "وصورته عند أئمة هذا الشأن أن يعمد الراوي إلى إسقاط راوٍ من بين شيخه وبين من رواه عنه شيخه، أو من بين شيخه ومن بين من رواه عنه شيخ شيخه ليقرب بذلك الإسناد، وإنما يفعل من يفعله منهم في راويين عُلم التقائهما واشتهرت رواية أحدهما عن الآخر حتى يصير معلوم السماع منه، ثم يتفق له في حديث أن يرويه عن رجل عنه، فيعمد ذلك المسوى إلى ذلك الرجل فيسقطه فيبقى الإسناد ظاهر الاتصال، فيسوي الإسناد كله ثقات، وهذا شر أقسام التدليس، لأن الثقة الأول قد لا يكون معروفًا بالتدليس، ويجده الواقف على المسند كذلك بعد التسوية قد رواه عن ثقة آخر، فيحكم له بالصحة، وفى هذا غرور شديد، قال: ومثاله حديث علي "إذا كان لك ما تبادرهم"، ح، جرير سمع من أبي إسحاق، وروى عنه الكثير، ثم

--------------------------------------------

(1) "التقييد والإيضاح" (صـ 95 - 97).
সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রকার হলো সেটি, যাকে তারা 'তাদলিসুত তাসউইয়া' বলে অভিহিত করেন। আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান এবং এই শাস্ত্রের অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। তাদলিসের এই প্রকারের পদ্ধতি হলো—মুদাল্লিস কোনো একজন নির্ভরযোগ্য শাইখের কাছ থেকে একটি হাদিস শুনলেন, আর সেই নির্ভরযোগ্য শাইখ হাদিসটি শুনেছিলেন একজন দুর্বল শাইখের কাছ থেকে, এবং সেই দুর্বল শাইখ সেটি বর্ণনা করছেন অন্য একজন নির্ভরযোগ্য শাইখের নিকট থেকে। এমতাবস্থায় সেই মুদাল্লিস, যিনি প্রথম নির্ভরযোগ্য শাইখের কাছ থেকে হাদিসটি শুনেছেন, তিনি তার শাইখের পরবর্তী সেই দুর্বল শাইখকে সনদ থেকে ফেলে দেন। এরপর তিনি একে তার নির্ভরযোগ্য শাইখের বর্ণনা হিসেবে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন তিনি সরাসরি দ্বিতীয় নির্ভরযোগ্য শাইখ থেকে বর্ণনা করছেন; এক্ষেত্রে তিনি 'আন' (হতে/থেকে) বা অনুরূপ কোনো শব্দ ব্যবহার করেন যা নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে। এর ফলে পুরো সনদটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের দ্বারা গঠিত বলে মনে হয়। মুদাল্লিস নিজে তার এবং তার শাইখের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণের কথা স্পষ্ট করে বলেন, কারণ তিনি সত্যিই তার থেকে শুনেছেন। ফলে এমতাবস্থায় সনদে এমন কিছু প্রকাশ পায় না যা এর অগ্রহণযোগ্যতাকে আবশ্যক করে, কেবল হাদিস সমালোচক এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) বিশেষজ্ঞগণই তা শনাক্ত করতে পারেন(১)।

বদরুদ্দীন আজ-জারকাশি বলেন: তাদলিসুল ইসকাত হলো—বর্ণনাকারী নিজের শাইখকে বাদ দেন না, বরং তার পরবর্তী বর্ণনাকারীকে বাদ দেন। বর্ণনাকারী দুর্বল হওয়ার কারণে অথবা বয়সে ছোট হওয়ার কারণে হাদিসটিকে উন্নত করার উদ্দেশ্যে তাকে সনদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। আল-খাতিব এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে: আল-আ’মাশ, আস-সাওরি এবং বাকিয়্যাহ এই প্রকারের তাদলিস করতেন।

জেনে রাখুন যে, বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ এই প্রকারকে 'তাদলিসুত তাসউইয়া' নামে নামকরণ করেছেন। তাদের মধ্যে আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান এবং তার ছাত্র ইবনুল মাওয়াক রয়েছেন। তিনি 'বুগইয়াতুন নুক্কাদ' গ্রন্থে বলেছেন: "এই শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট এর পদ্ধতি হলো—রাবী তার শাইখ এবং যার কাছ থেকে তার শাইখ বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যবর্তী কোনো বর্ণনাকারীকে, অথবা তার শাইখের শাইখ এবং যার কাছ থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যবর্তী কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া, যাতে এর মাধ্যমে সনদটি সংক্ষিপ্ত হয়। যারা এটি করেন, তারা সাধারণত এমন দুইজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে এটি করেন যাদের পরস্পরের সাক্ষাৎ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং একজনের থেকে অন্যজনের বর্ণনা প্রসিদ্ধ, এমনকি তাদের একে অপরের থেকে শ্রবণ বিষয়টি সুপরিচিত। এরপর কোনো একটি হাদিসে দেখা যায় যে, তিনি তার থেকে অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করছেন। তখন সেই 'তাসউইয়াকারী' ব্যক্তি ওই মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীকে সনদ থেকে ফেলে দেন, ফলে বাহ্যিকভাবে সনদটি নিরবচ্ছিন্ন থেকে যায় এবং সনদের সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য হয়ে যায়। এটি তাদলিসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রকার, কারণ প্রথম নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী হয়তো তাদলিসের জন্য পরিচিত নন। তাই সনদটির ওপর দৃষ্টিদানকারী ব্যক্তি তাসউইয়ার পর যখন দেখেন যে তিনি অন্য এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি একে সহিহ বলে গণ্য করেন। আর এর মধ্যে রয়েছে মারাত্মক প্রতারণা। তিনি বলেন: এর উদাহরণ হলো আলীর বর্ণিত হাদিস 'যখন তোমার নিকট এমন কিছু থাকে যা দিয়ে তুমি তাদের সাথে দ্রুত অগ্রসর হতে পারো'। হাদিস, জারির আবু ইসহাক থেকে শুনেছেন এবং তার থেকে অনেক বর্ণনা করেছেন, এরপর...

--------------------------------------------

(১) "আত-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ" (পৃ. ৯৫ - ৯৭)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
يروي هذا الحديث عن الحسن بن عمارة عنه، فإسقاط الحسن بن عمارة لكونه ضعيفًا تسوية. انتهى(1).

قال ابن حجر: ومثال مالا يدخل في التدليس ما ذكره ابن عبد البر وغيره أن مالكًا سمع من ثور بن يزيد أحاديث عن عكرمة، عن ابن عباس - رضى الله عنهما- ثم حدث بها عن ثور عن ابن عباس، وحذف عكرمة، لأنه كان لا يرى الاحتجاج بحديثه. فهذا مالك قد سوى الإسناد بإبقاء من عنده ثقة، وحذف من ليس عنده بثقة، فالتسوية قد تكون بلا تدليس، وقد تكون بالإرسال، فهذا تحرير القول فيها.

وقد وقع هذا لمالك في مواضع أخرى، ثم ذكر هذه المواضع(2). ثم قال: فلو كانت التسوية تدليسًا لعُد مالك في المدلسين، وقد أنكروا على من عده فيهم.

قال ابن القطان: ولقد ظُن بمالك على بعده عنه عمله.

وقال الدَّارقُطْنِي: أن مالكًا ممن عمل به وليس عيبًا عندهم.

وإذا تقرر ذلك، فقول شيخنا(3) في تعريف التسوية، تعريف غير جامع، بل حق العبارة أن يقول: "أن يجيء الراوي -ليشمل المدلس وغيره- إلى حديث قد سمعه من شيخ، وسمعه ذلك الشيخ من آخر عن آخر، فيسقط الواسطة بصيغة محتملة، فيصير الإسناد عاليًا، وهو في الحقيقة نازل".

ومما يدل على أن هذا التعريف لا تقييد فيه بالضعيف أنهم ذكروا في أمثلة التدليس: ما رواه هشيم، عن يحيى بن سعيد الأنصاري، عن الزهري، عن عبد الله بن الحنفية، عن أبيه، عن علي -رضى الله عنه- في تحريم لحوم الحمر الأهلية.

--------------------------------------------

(1) "النكت على كتاب ابن الصلاح" (2/ 102 - 108).

(2) انظر ترجمة "مالك بن أنس" من هذا الكتاب.

(3) هو الإمام العراقي، وقد تقدم كلامه.
হাসান ইবনে উমারা তাঁর থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, সুতরাং হাসান ইবনে উমারাকে দুর্বল হওয়ার কারণে বাদ দেওয়া হলো 'তাসবিয়া' (সমতাকরণ)। সমাপ্ত।(১).

ইবনে হাজার বলেন: যা তাদলিসের অন্তর্ভুক্ত নয় তার উদাহরণ হলো যা ইবনে আবদিল বার এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক সাওরি ইবনে ইয়াজিদ থেকে ইকরিমা-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে কয়েকটি হাদিস শুনেছিলেন। অতঃপর তিনি তা সাওরির সূত্রে ইবনে আব্বাসের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইকরিমাকে বাদ দিয়েছেন, কারণ তিনি তাঁর হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন মনে করতেন না। সুতরাং এখানে ইমাম মালিক তাঁর কাছে যারা নির্ভরযোগ্য তাদের রেখে এবং যারা নির্ভরযোগ্য নয় তাদের বাদ দিয়ে সনদকে সমতাকরণ (তাসবিয়া) করেছেন। অতএব তাসবিয়া কখনো তাদলিস ছাড়াও হতে পারে, আবার কখনো ইরসালের মাধ্যমেও হতে পারে। এটিই এ বিষয়ে বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।

ইমাম মালিকের ক্ষেত্রে অন্য স্থানেও এমনটি ঘটেছে, এরপর তিনি সেই স্থানগুলো উল্লেখ করেছেন(২)। তারপর তিনি বলেন: যদি তাসবিয়া তাদলিস হতো, তবে মালিককে মুদাল্লিসদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো, অথচ যারা তাঁকে তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছে তারা তা অস্বীকার করেছেন।

ইবনুল কাত্তান বলেন: ইমাম মালিক তা থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও তাঁর সম্পর্কে এমনটি ধারণা করা হয়েছে।

আদ-দারা কুতনি বলেন: ইমাম মালিক তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা এটি করেছেন এবং এটি তাদের কাছে কোনো দোষের বিষয় নয়।

যখন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তাসবিয়ার সংজ্ঞায় আমাদের শায়খের(৩) বক্তব্যটি একটি অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা। বরং সঠিক কথা হলো এটি বলা যে: "বর্ণনাকারী—যাতে মুদাল্লিস এবং অন্যরা অন্তর্ভুক্ত হয়—এমন একটি হাদিসের কাছে আসবেন যা তিনি একজন শায়খ থেকে শুনেছেন, আর সেই শায়খ অন্য একজনের থেকে এবং তিনি অন্য একজনের থেকে শুনেছেন; অতঃপর বর্ণনাকারী কোনো দ্ব্যর্থবোধক শব্দের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীকে বাদ দিয়ে দেন, ফলে সনদটি উচ্চস্তরের (আলী) হয়ে যায়, অথচ বাস্তবে তা নিম্নস্তরের (নাজিল)।"

এই সংজ্ঞায় যে দুর্বল বর্ণনাকারীর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই তার প্রমাণ হলো, তারা তাদলিসের উদাহরণে উল্লেখ করেছেন: হুশাইম ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে গৃহপালিত গাধার মাংস হারাম হওয়ার বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) "আন-নুকাত আলা কিতাব ইবনুস সালাহ" (২/ ১০২ - ১০৮)।

(২) এই বই থেকে "মালিক ইবনে আনাস"-এর জীবনী দেখুন।

(৩) তিনি হলেন ইমাম ইরাকি, এবং তাঁর বক্তব্য পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
قالوا: ويحيى بن سعيد لم يسمعه من الزهري، إنما أخذه من مالك عن الزهري. هكذا حدث به عبد الوهاب الثقفي وحماد بن زيد وغير واحد عن يحيى ابن سعيد، عن مالك، فأسقط هشيم ذكر مالك منه، وجعله عن يحيى بن سعيد عن الزهري. ويحيى فقد سمع من الزهري، فلا إنكار في روايته عنه، إلا أن هشيمًا قد سوى هذا الإسناد، وقد جزم بذلك ابن عبد البر وغيره.

فهذا كما ترى لم يسقط في التسوية شيخ ضعيف، وإنما سقط شيخ ثقة، فلا اختصاص لذلك بالضعيف -والله أعلم(1) -.

وانظر كلام ابن القطان الفاسي عن تدليس التسوية في ترجمة "الوليد بن مسلم" من هذا الكتاب.

قلت: وممن اشتهر بهذا النوع من التدليس: بقية بن الوليد، والوليد بن مسلم.

 

‌‌4) تدليس السكوت:

تدليس السكوت هو أن يقول المدلس: حدثنا، ثم يسكت، ثم يقول: فلان فيظن السامع أن الشيخ الذى ذكره المدلس بعد قوله: "حدثنا" قد سمع المدلس منه الحديث، ولا يكون المدلس سمعه. وكان عمر بن علي المقدمي يصنع هذا النوع من التدليس.

 

‌‌5) تدليس العطف:

قال ابن حجر: تدليس العطف هو أن يروي عن شيخين من شيوخه ما سمعاه من شيخ اشتركا فيه، ويكون قد سمع ذلك من أحدهما دون الآخر، فيصرح عن الأول بالسماع، ويعطف الثاني عليه، فيوهم أنه حدث عنه بالسماع -أيضًا-، وإنما حدث بالسماع عن الأول، ثم نوى القطع فقال: وفلان أي حدث فلان.

مثاله: ما رويناه في "علوم الحديث" للحاكم، قال: اجتمع أصحاب هشيم

--------------------------------------------

(1) "النكت على كتاب ابن الصلاح" (2/ 618 - 621).
তারা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এটি যুহরী থেকে শুনেননি, বরং তিনি এটি মালিকের নিকট থেকে যুহরীর সূত্রে গ্রহণ করেছেন। এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী, হাম্মাদ ইবনে যাইদ এবং আরও অনেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে, মালিক থেকে। কিন্তু হুশাইম এখান থেকে মালিকের উল্লেখ বাদ দিয়েছেন এবং একে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া তো যুহরী থেকে শুনেছেন, তাই তার সূত্রে তার বর্ণনা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই, তবে হুশাইম এই সনদে তাসবিয়াহ (সমতাকরণ) করেছেন; ইবনে আব্দিল বার এবং অন্যান্যরা এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন।

সুতরাং এটি আপনি যেমনটি দেখছেন যে, তাসবিয়াহ করার ক্ষেত্রে কোনো দুর্বল শাইখকে বাদ দেওয়া হয়নি, বরং একজন নির্ভরযোগ্য শাইখকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অতএব, এটি কেবল দুর্বল বর্ণনাকারীর সাথে নির্দিষ্ট নয় - আল্লাহই ভালো জানেন(১)।

আর এই গ্রন্থের "ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম"-এর জীবনীতে 'তাদলিসুত তাসবিয়াহ' সম্পর্কে ইবনুল কাত্তান আল-ফাসীর বক্তব্য দেখুন।

আমি বলছি: এই প্রকারের তাদলিসের জন্য যারা প্রসিদ্ধ ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ এবং ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম।

 

‌‌৪) তাদলিসুস সুকুত (নীরবতার মাধ্যমে তাদলিস):

তাদলিসুস সুকুত হলো মুদাল্লিস (তাদলিসকারী) বলবে: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন", তারপর তিনি চুপ থাকবেন, এরপর বলবেন: "অমুক"। তখন শ্রোতা মনে করবে যে, মুদাল্লিস "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" বলার পর যার নাম উল্লেখ করেছেন, তার নিকট থেকে তিনি হাদীসটি শুনেছেন, অথচ মুদাল্লিস তার থেকে এটি শুনেননি। উমর ইবনে আলী আল-মুকাদ্দামী এই ধরনের তাদলিস করতেন।

 

‌‌৫) তাদলিসুল আতফ (সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে তাদলিস):

ইবনে হাজার বলেন: তাদলিসুল আতফ হলো তার দুইজন শাইখ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তারা উভয়ে তাদের একজন সাধারণ শাইখের নিকট থেকে শুনেছেন, কিন্তু বর্ণনাকারী তাদের একজনের নিকট থেকে শুনেছেন অন্যজনের নিকট থেকে শুনেননি। এমতাবস্থায় তিনি প্রথমজনের ক্ষেত্রে শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন এবং দ্বিতীয়জনকে তার ওপর সংযুক্ত করে দেন। এতে এই বিভ্রম সৃষ্টি হয় যে, তিনি দ্বিতীয়জনের থেকেও শুনে বর্ণনা করেছেন। অথচ তিনি কেবল প্রথমজনের থেকেই শোনার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি পূর্বের বাক্যের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের নিয়ত করে বলেন: "এবং অমুক", অর্থাৎ অমুকও বর্ণনা করেছেন।

এর উদাহরণ: যা আমরা হাকিমের "উলুমুল হাদীস" গ্রন্থে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: হুশাইমের সাথীরা একত্রিত হলো

--------------------------------------------

(১) "আন-নুকাত আলা কিতাব ইবনুস সালাহ" (২/ ৬১৮ - ৬২১)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٣١)
فقالوا: لا نكتب عنه اليوم شيئًا مما يدلسه، ففطن لذلك، فلما جلس قال: حدثنا حصين ومغيرة عن إبراهيم، فحدث بعدة أحاديث، فلما فرغ قال: هل دلست لكم شيئًا؟ قالوا: لا. فقال: بلى، كل ما حدثتكم عن حصين فهو سماعي، ولم أسمع من مغيرة من ذلك شيئًا(1).

علق الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن السعد في مقدمته لكتاب "منهج المتقدمين في التدليس" صـ 31 على هذه القصة بقوله: فهذه القصة لم يسندها الحاكم، فعلى هذا لا تصح، ومن ذكرها إنما ذكرها عن الحاكم -فيما أعرف-، ولكن في "العلل" للإمام أحمد برواية عبد الله خبرًا من رواية هشيم قد يصلح أن يكون مثالًا على هذا النوع: قال عبد الله (2192): حدثني أبي، ثنا هشيم قال: وعبيد الله عن نافع عن ابن عمر.

وكان عبد الله قد روى قبل ذلك عن أبيه: ثنا هشيم، أخبرنا الكلبي، عن أبي صالح، عن ابن عباس، ثم قال: ثنا هشيم قال: وعبيد الله بن عمر .....

فظاهر هذا أن هذا من تدليس العطف. اهـ

قلت: قال عبد الله بن أحمد بن حنبل (2191 - 2192): حدثني أبي قال: حدثنا هشيم قاله: أخبرنا الكلبي، عن أبي صالح، عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل يوم خيبر للفرس سهمين وللرجل سهمًا. حدثني أبي قال: حدثنا هشيم قال: وعبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك. سمعت أبي يقول: لم يسمعه هشيم من عبيد الله.

 

‌‌6) تدليس الأجازة:

قال ابن حجر: ويلتحق بالتدليس ما يقع من بعض المحدثين من التعبير بالتحديث أو الإخبار عن الإجازة موهمًا للسماع، ولا يكون سمع من ذلك الشيخ شيئًا(2).

--------------------------------------------

(1) "النكت على كتاب ابن الصلاح" (2/ 617).

(2) "تعريف أهل التقديس" (صـ 70).
তারা বলল: “আজ তিনি যা তাদলিস করবেন তা থেকে আমরা কিছুই লিখব না।” তিনি বিষয়টি বুঝতে পারলেন, তাই যখন তিনি মজলিসে বসলেন তখন বললেন: “হুসাইন এবং মুগিরা ইবরাহিম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।” অতঃপর তিনি বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করলেন। যখন তিনি শেষ করলেন তখন বললেন: “আমি কি তোমাদের কাছে কোনো তাদলিস করেছি?” তারা বলল: “না।” তখন তিনি বললেন: “বরং (করেছি), হুসাইন থেকে আমি যা কিছু তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছি তা আমার সরাসরি শোনা, কিন্তু আমি মুগিরা থেকে এর কিছুই শুনিনি।”(১).

শায়খ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-সাআদ ‘মানহাজুল মুতাকাদ্দিমিন ফিত তাদলিস’ গ্রন্থের ৩১ পৃষ্ঠার ভূমিকায় এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: এই ঘটনাটি হাকেম সনদসহ বর্ণনা করেননি, তাই এটি সহিহ নয়। আর যারা এটি উল্লেখ করেছেন তারা হাকেমের উদ্ধৃতিতেই এটি বর্ণনা করেছেন—যতটুকু আমি জানি—তবে ইমাম আহমদের ‘আল-ইলাল’-এ আবদুল্লাহর বর্ণনায় হুশাইম থেকে একটি বিবরণ রয়েছে যা এই প্রকারের (তাদলিস) উদাহরণ হওয়ার যোগ্য হতে পারে। আবদুল্লাহ (২১৯২) বলেছেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং উবাইদুল্লাহ নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।

আবদুল্লাহ এর পূর্বে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কালবি, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। এরপর তিনি বললেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং উবাইদুল্লাহ বিন উমর...

এর বাহ্যিক রূপ থেকে বোঝা যায় যে, এটি ‘তাদলিসুল আত্বফ’ (সংযুক্তিকরণ তাদলিস)-এর অন্তর্ভুক্ত। (সমাপ্ত)

আমি বলছি: আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল (২১৯১ - ২১৯২) বলেছেন: আমার পিতা আমাকে বলেছেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কালবি, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং পদাতিক ব্যক্তির জন্য এক অংশ বরাদ্দ করেছিলেন। আমার পিতা বলেছেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং উবাইদুল্লাহ বিন উমর নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: হুশাইম এটি উবাইদুল্লাহর নিকট থেকে সরাসরি শোনেননি।

 

‌‌৬) তাদলিসুল ইজাজাহ (অনুমতির তাদলিস):

ইবনে হাজার বলেছেন: তাদলিসের সাথে ওই বিষয়টিও যুক্ত হয় যা কিছু মুহাদ্দিসের পক্ষ থেকে ঘটে থাকে, যেখানে তারা সরাসরি শোনার বিভ্রম সৃষ্টি করার জন্য ‘ইজাজাহ’ (অনুমতি)-কে বর্ণনা (হাদ্দাসানা) বা সংবাদ (আখবারানা) প্রদানের শব্দে ব্যক্ত করেন, অথচ তিনি ওই শায়খ থেকে সরাসরি কিছুই শোনেননি।(২).

--------------------------------------------

(১) “আন-নুকাত আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ” (২/ ৬১৭)।

(২) “তারিফু আহলিত তাকদিস” (পৃষ্ঠা ৭০)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
قلت: وممن كان يدلس تدليس الإجازة: أحمد بن عبد الله بن أحمد أبو نعيم الأصبهاني، وأحمد بن محمد بن إبراهيم بن حازم السمرقندي، وأحمد بن محمد ابن يحيى بن حمزة الدمشقي، ومحمد بن عمران بن موسى المرزباني، وغيرهم.

 

‌‌7) تدليس البلاد:

قال ابن حجر: ويلتحق بقسم تدليس الشيوخ تدليس البلاد، كما إذا قال المصري: حدثني فلان بالأندلس، وأراد موضعًا بالقرافة.

أو قال: "بزقاق حلب"، وأراد موضعًا بالقاهرة.

أو قال البغدادي: "يحدثني فلان بما وراء النهر"، وأراد نهر دجلة.

أو قال "بالرقة"، وأراد بستانًا على شاطئ دجلة.

أو قال الدمشقي: "حدثني بالكرك" وأراد كرك نوح، وهو بالقرب من دمشق.

ولذلك أمثلة كثيرة، وحكمه الكراهة، لأنه يدخل في باب التشبع، وإيهام الرحلة في طلب الحديث، إلا إن كان هناك قرينة تدل على عدم إرادة التكثير، فلا كراهة، والله الموفق(1).

 

‌‌8) التدليس الخفي

قال بدر الدين الزركشي: القسم الرابع: التدليس الخفي، ولا يعرفه إلا المدقق في هذه الصناعة، ومن أمثلته أنهم اختلفوا في سماع الحسن من أبي هريرة وورد في بعض الروايات: عن الحسن: حدثنا أبو هريرة، فقيل: أراد حدث أهل بلدنا، وهذا إذا لم يقم دليل قاطع على أن الحسن لم يسمع من أبي هريرة لم يجز أن يضات إليه. ومنه قول أبي إسحاق: ليس أبو عبيده ذكره، لكن عبد الرحمن بن الأسود عن أبيه، فظاهره أن المراد سماعه من عبد الرحمن بن الأسود عن أبيه لعدوله عن أبي عبيدة، قيل: إنه تدليس، كما لو قال ابتداء عبد الرحمن بن الأسود عن أبيه، ولم

--------------------------------------------

(1) "النكت على كتاب ابن الصلاح" (2/ 651).
আমি বলি: যারা তাদলিসুল ইজাযাহ (অনুমোদনজনিত তাদলিস) করতেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাজিম আস-সামারকান্দি, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হামজা আদ-দিমাশকি, মুহাম্মাদ ইবনে উমরান ইবনে মুসা আল-মারজুবানি এবং আরও অনেকে।

 

‌‌৭) তাদলিসুল বিলাদ (অঞ্চল বা দেশের তাদলিস):

ইবনে হাজার বলেন: তাদলিসুল শিউখের (শায়খদের তাদলিস) প্রকারের সাথে তাদলিসুল বিলাদও যুক্ত হয়। যেমন একজন মিশরীয় যদি বলেন: "আমাকে অমুক ব্যক্তি আন্দালুসে হাদিস শুনিয়েছেন", অথচ তিনি কারাফার একটি স্থানকে বুঝিয়েছেন।

অথবা যদি বলেন: "জুকাকে হালাবে", অথচ তিনি কায়রোর একটি স্থানকে বুঝিয়েছেন।

অথবা কোনো বাগদাদি যদি বলেন: "অমুক ব্যক্তি আমাকে মা ওয়ারাউন নাহরে (নদীর ওপারে) বর্ণনা করেছেন", অথচ তিনি দজলা নদীকে বুঝিয়েছেন।

অথবা যদি বলেন "রাক্কায়", অথচ তিনি দজলা তীরের একটি বাগানকে বুঝিয়েছেন।

অথবা কোনো দামেস্কি যদি বলেন: "তিনি আমাকে কারাকে বর্ণনা করেছেন", অথচ তিনি কারাকে নূহকে বুঝিয়েছেন যা দামেস্কের নিকটবর্তী।

এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। এর বিধান হলো এটি অপছন্দনীয় (মাকরূহ), কারণ এটি মিথ্যে তৃপ্তি (তাশাব্বু) এর অন্তর্ভুক্ত এবং হাদিস অন্বেষণে ভ্রমণের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তবে যদি এমন কোনো আলামত থাকে যা দ্বারা আধিক্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্য না থাকা বুঝায়, তবে তা মাকরূহ হবে না। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা(১)।

 

‌‌৮) তাদলিস আল-খাফি (সুপ্ত তাদলিস)

বদরুদ্দিন আজ-যারকাশি বলেন: চতুর্থ প্রকার: তাদলিস আল-খাফি। এই শাস্ত্রের অতি সূক্ষ্মদর্শী বিশেষজ্ঞ ছাড়া কেউ এটি অনুধাবন করতে পারেন না। এর উদাহরণ হলো, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে হাসান আল-বাসরি-এর হাদিস শোনার ব্যাপারে ইমামগণের মতপার্থক্য। কোনো কোনো বর্ণনায় হাসানের পক্ষ থেকে এসেছে: "আবু হুরায়রা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।" তখন বলা হয়েছে: এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন "আমাদের দেশের অধিবাসীদের নিকট বর্ণনা করেছেন।" আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত তার প্রতি সরাসরি শ্রবণ হিসেবে আরোপ করা বৈধ নয় যতক্ষণ না কোনো অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় যে হাসান আবু হুরায়রা থেকে হাদিস শুনেছেন। এর আরেকটি উদাহরণ হলো আবু ইসহাকের কথা: "আবু উবাইদাহ এটি উল্লেখ করেননি, বরং আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।" এর বাহ্যিক অর্থ হলো আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ থেকে তার শোনার বিষয়টি উদ্দেশ্য, যেহেতু তিনি আবু উবাইদাহর দিক থেকে বিমুখ হয়েছেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটিও এক প্রকার তাদলিস, ঠিক যেমন তিনি যদি শুরুতেই বলতেন "আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ তার পিতা থেকে", অথচ তিনি সরাসরি শোনেননি...

--------------------------------------------

(১) "আন-নুকাতি আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ" (২/ ৬৫১)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
يقل قبله: ليس أبو عبيدة ذكره، نبه عليه صاحب الاقتراح(1).

 

‌‌9) تدليس المتون

ذكر بدر الدين الزركشي أقسام التدليس، ثم قال: هذا كله في تدليس الرواة، وأما تدليس المتون فهو الذى يسميه المحدثون المدرج، وهو أن يدرج في كلام النبي صلى الله عليه وسلم كلام غيره، فيظن السامع أن الجيم من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، وقد ذكره المصنف في النوع العشرين، وكان ذكره هنا أنسب، وممن ذكره هنا من الأصوليين: الأستاذ أبو منصور البغدادي وأبو المُظَفَّر السمعاني، وقال: هو مطرح في الحديث مجروح العدالة، وهو من تحريف الكلم عن مواضعه، وكان ملحقًا بالكذابين، ولم يُقبل حديثه، وكذلك ذكره الماوردي والروياني في الحاوي والبحر في كتاب "القضاء"، فقسما التدليس إلى ما يقع في الإسناد وإلى ما يقع في المتن، ثم قالا: من عُرف بتدليس المتون فهو مجروح مطرح(2).

 

‌‌10) تدليس المتابعة.

قال الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن السعد: وأما تدليس المتابعة:

فأعني به أن يروي الراوي خبرًا عن شيخين له أو أكثر ويكون بين من روى عنهم اختلاف إما باللفظ أو الإسناد، فيحمل رواية أحدهماعلى الآخر ولا يبين.

قال ابن رجب في "شرح العلل" (صـ 506): شعيب بن أبي حمزة عن ابن المنكدر روى عنه أحاديث منها: حديث ابن المنكدر عن جابر مرفوعًا (من قال حين يسمع النداء .. الحديث) وقد خرجه البخاري في صحيحه وله علة ذكرها ابن أبي حاتم عن أبيه، قال: قد طُعن في هذا الحديث وكان عرض شعيب على ابن المنكدر كتابًا فأمر بقرائته عليه فعرف بعضًا وأنكر بعض، وقال لابنه أو ابن

--------------------------------------------

(1) "النكت على كتاب ابن الصلاح" (2/ 110 - 111).

(2) "النكت على كتاب ابن الصلاح" (2/ 113 - 114).
এর আগে তিনি বলেন: আবু উবায়দাহ এটি উল্লেখ করেননি, 'আল-ইকতিরাহ' গ্রন্থের লেখক এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন(১).

 

‌‌৯) মতনের তাদলিস

বদরুদ্দীন আল-যারকাশি তাদলিসের প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: এসবই হলো রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) তাদলিস সংক্রান্ত। আর মতনের তাদলিস হলো সেটি যাকে মুহাদ্দিসগণ 'মুদরাজ' (অনুপ্রবেশকৃত) বলে অভিহিত করেন। আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মধ্যে অন্যের কথা ঢুকিয়ে দেওয়া, ফলে শ্রোতা মনে করে যে সেই অংশটুকুও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর অন্তর্ভুক্ত। লেখক এটি বিশতম প্রকারে উল্লেখ করেছেন, তবে এখানে উল্লেখ করাটিই বেশি উপযোগী ছিল। উসুলবিদদের মধ্যে যারা একে এখানে উল্লেখ করেছেন তারা হলেন: উস্তাদ আবু মনসুর আল-বাগদাদি এবং আবু মুজাফ্ফর আস-সামআনি। তিনি (সামআনি) বলেছেন: এটি হাদিসের ক্ষেত্রে বর্জনীয় এবং (এরূপকারীর) ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নবিদ্ধ। এটি হলো আল্লাহ্‌র বাণীকে তার স্বস্থান থেকে বিচ্যুত বা পরিবর্তন করার অন্তর্ভুক্ত। এমন ব্যক্তি মিথ্যাবাদীদের সাথে তুলনীয় হবে এবং তার হাদিস গ্রহণ করা হবে না। একইভাবে আল-মাওয়ারদি এবং আর-রুয়ানি তাদের যথাক্রমে 'আল-হাভি' এবং 'আল-বাহর' গ্রন্থের "বিচার বিভাগ" (কিতাবুল কাজা) অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেছেন। তারা তাদলিসকে সনদের তাদলিস এবং মতনের তাদলিস—এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন। তারপর তারা বলেছেন: যে ব্যক্তি মতনের তাদলিসের জন্য পরিচিত, সে প্রশ্নবিদ্ধ ও বর্জনীয়(২).

 

‌‌১০) মুতাবাহর তাদলিস.

শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাদ বলেছেন: আর মুতাবাহর তাদলিস বলতে:

আমি যা বোঝাতে চাচ্ছি তা হলো—রাবি (বর্ণনাকারী) তার দুই বা ততোধিক শায়খ থেকে কোনো সংবাদ বর্ণনা করবেন, অথচ যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন তাদের বর্ণনার শব্দে অথবা সনদে ভিন্নতা রয়েছে, এমতাবস্থায় তিনি একজনের বর্ণনাকে অন্যজনের বর্ণনার ওপর চাপিয়ে দেন (একই রকম বলে চালিয়ে দেন) এবং বিষয়টি স্পষ্ট করেন না।

ইবনে রাজাব 'শারহুল ইলাল'-এ (পৃ. ৫০৬) বলেছেন: শুআইব ইবনে আবু হামজাহ ইবনুল মুনকাদির থেকে কয়েকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো: ইবনুল মুনকাদির জাবির থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন (যে ব্যক্তি আজান শুনে বলবে... হাদিসটি)। ইমাম বুখারি এটি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তবে এতে একটি ত্রুটি (ইল্লত) রয়েছে যা ইবনে আবু হাতিম তার পিতার সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এই হাদিসটির ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে। শুআইব ইবনুল মুনকাদিরের নিকট একটি পাণ্ডুলিপি পেশ করেছিলেন এবং তা তাকে পড়ে শোনাতে বলেছিলেন। তিনি এর কিছু অংশ চিনতে পেরেছিলেন আর কিছু অংশ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি তার ছেলে অথবা ইবনে...

--------------------------------------------

(১) "আন-নুকাত আলা কিতাব ইবনুস সালাহ" (২/ ১১০ - ১১১)।

(২) "আন-নুকাত আলা কিতাব ইবনুস সালাহ" (২/ ১১৩ - ১১৪)।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুদাল্লিসীন (পৃষ্ঠা: ٣٤)
أخيه: اكتب هذه الأحاديث فدوّن شعيب ذلك الكتاب ولم يثبت رواية شعيب تلك الأحاديث على الناس، وعرض عليّ بعض تلك الكتب فرأيتها مشابهًا لحديث إسحاق بن أبي فروة، وهذا الحديث من تلك الأحاديث.

قال ابن رجب: ومصداق ما ذكره ابن أبي حاتم أن شعيب بن أبي حمزة روى عن ابن المنكدر عن جابر حديث الاستفتاح بنحو سياق حديث علي، وروى عن شعيب عن ابن المنكدر عن الأعرج عن محمد بن مسلمة، فرجع الحديث إلى الأعرج، وإنما رواه الناس عن الأعرج عن عبيد الله بن أبي رافع عن علي بن أبي طالب، ومن جملة من رواه عن الأعرج بهذا الإسناد إسحاق بن أبي فروة، وقيل إنه رواه عن عبد الله بن الفضل عن الأعرج. وروى عن محمد بن حمير عن شعيب عن ابن أبي فروة وابن المنكدر عن الأعرج عن محمد بن مسلمة.

ورواه أبو معاوية عن شعيب عن إسحاق عن الأعرج عن عبيد الله بن أبي رافع عن محمد بن مسلمة، فظهر بهذا أن الحديث عن شعيب عن أبي فروة، وكذا قال أبو حاتم الرازي: هذا الحديث من حديث ابن أبي فروة يرويه شعيب عنه.

وحاصل الأمر: أن حديث الاستفتاح رواه شعيب عن إسحاق بن أبي فروة وابن المنكدر، فمنهم من ترك إسحاق وذكر ابن المنكدر، ومنهم من كنى عنه فقال: عن ابن المنكدر وآخر، وكذا وقع في سنن النسائي، وهذا مما لا يجوز فعله، وهو أن يروي الرجل حديثًا عن اثنين أحدهما مطعون فيه والآخر ثقة، فيترُكُ ذلك المطعون فيه ويذكر الثقة، وقد نص الإمام أحمد على ذلك وعلله بأنه ربما كان في حديث الضعيف شيء ليس في حديث الثقة، وهو كما قال فإنه ربما كان سياق الحديث للضعيف، وحديث الآخر محمولًا عليه.

فهذا الحديث يرجع إلى رواية إسحاق بن أبي فروة وابن المنكدر، ويرجع إلى حديث الأعرج ورواية الأعرج له معروفة(1) عن ابن أبي رافع عن علي، وهو

--------------------------------------------

(1) في الأصل (معرفة).
তাঁর ভাই: এই হাদীসগুলো লিখে নাও। অতঃপর শুআইব সেই কিতাবটি লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু শুআইবের পক্ষ থেকে এই হাদীসগুলোর বর্ণনা মানুষের নিকট প্রমাণিত হয়নি। আমার নিকট সেই কিতাবগুলোর কিছু অংশ উপস্থাপন করা হয়েছিল, তখন আমি সেগুলো ইসহাক বিন আবু ফারওয়াহর হাদীসের অনুরূপ দেখতে পেলাম। আর এই হাদীসটি সেই সব হাদীসেরই অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে রজব বলেন: ইবনে আবি হাতিম যা উল্লেখ করেছেন তার সত্যায়ন হলো, শুআইব বিন আবি হামজা ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে ইস্তিতাহ (সালাত শুরুর দুআ) সংক্রান্ত হাদীসটি আলীর হাদীসের বর্ণনাশৈলীর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি শুআইব থেকে, তিনি ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মাসলামা থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে হাদীসটি আল-আ'রাজের দিকে ফিরে যায়। অথচ মানুষ এটি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফে থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন। যারা এই সনদে আল-আ'রাজ থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে ইসহাক বিন আবু ফারওয়াহ অন্যতম। আবার বলা হয়েছে যে, তিনি এটি আবদুল্লাহ বিন ফাদল থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর মুহাম্মদ বিন হিমইয়ার শুআইব থেকে, তিনি ইবনু আবি ফারওয়াহ ও ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মাসলামা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু মুয়াবিয়া এটি শুআইব থেকে, তিনি ইসহাক থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফে থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মাসলামা থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, হাদীসটি শুআইব থেকে ইবনু আবি ফারওয়াহর সূত্রে বর্ণিত। অনুরূপভাবে আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: এই হাদীসটি ইবনু আবি ফারওয়াহর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত, যা শুআইব তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

সারকথা হলো: ইস্তিতাহর হাদীসটি শুআইব ইসহাক বিন আবু ফারওয়াহ এবং ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইসহাককে বাদ দিয়ে ইবনুল মুনকাদিরকে উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ তাঁর নাম উহ্য রেখে ইশারা করে বলেছেন: 'ইবনুল মুনকাদির ও অন্য একজন থেকে'। সুনানে নাসাঈতেও বিষয়টি এভাবেই এসেছে। আর এটি এমন একটি কাজ যা করা বৈধ নয়। আর তা হলো, কোনো ব্যক্তি দুইজন থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করবেন যাদের একজন বিতর্কিত এবং অন্যজন নির্ভরযোগ্য, অতঃপর তিনি সেই বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে উল্লেখ করবেন। ইমাম আহমাদ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, সম্ভবত দুর্বল বর্ণনাকারীর হাদীসে এমন কিছু শব্দ থাকতে পারে যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর হাদীসে নেই। বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন; কারণ সম্ভবত হাদীসের বর্ণনাশৈলীটি দুর্বল বর্ণনাকারীর হতে পারে এবং অপর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর হাদীসটি তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।

সুতরাং এই হাদীসটি ইসহাক বিন আবু ফারওয়াহ ও ইবনুল মুনকাদিরের বর্ণনার দিকে ফিরে যায় এবং আল-আ'রাজের হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর ইবনু আবি রাফে থেকে, তিনি আলী থেকে—আল-আ'রাজের এই বর্ণনাটি সুপরিচিত(১)। আর তিনি হলেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'মা'রিফাহ' (معرفة) রয়েছে।