(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: -)
معجم المختلطين   (محمد بن طلعت)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: معجم المختلطين

المؤلف: محمد بن طلعت

الناشر: دار أضواء السلف، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 349

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 شعبان 1443

মুখতালাতীনদের অভিধান   (মুহাম্মাদ বিন তালাত)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: মুখতালাতীনদের অভিধান

লেখক: মুহাম্মাদ বিন তালাত

প্রকাশক: দার আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ শাবান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقَدَمةُ

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

أما بعد:

فهذا بحث يتكلم عن الرواة الذين وُصفوا بالاختلاط أو التغير أو سوء الحفظ في آخر عمرهم.

وقد قمت بتجميع مادته من كتب الأئمة المتقدمين التى تتكلم عن الرجال، وكتب الأئمة المتأخرين التى تتكلم عن الرواة الموصوفين بالاختلاط.

وامتاز بحثي هذا أن به أقوال في الرواة الموصوفين بالاختلاط لا توجد في الكتب التى صنفت في هذا المجال.

انظر: ترجمة سعيد بن أبي عروبة وسفيان بن عيينة وأبي إسحاق السبيعي.

وقد وضعت في كتابي هذا كل راوٍ ذُكر في كتب المختلطين سواء صح وصفه عندي بالاختلاط أم لا.

فقد ذُكر بعض الرواة في كتب المختلطين بناءً على قول ليس معناه الاختلاط الاصطلاحي.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

এটি এমন একটি গবেষণা যা সেই সব বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করে যারা তাদের জীবনের শেষভাগে ইখতিলাত (স্মৃতিভ্রম), পরিবর্তন অথবা মুখস্থ শক্তির দুর্বলতায় আক্রান্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন।

আমি এর উপাদানসমূহ পূর্ববর্তী ইমামগণের বর্ণনাকারী বিষয়ক (রিজাল) গ্রন্থসমূহ এবং পরবর্তী ইমামগণের স্মৃতিভ্রম বা ইখতিলাত আক্রান্ত বর্ণনাকারীদের বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি।

আমার এই গবেষণার বিশেষত্ব হলো, এতে স্মৃতিভ্রম আক্রান্ত বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে এমন কিছু উক্তি রয়েছে যা এই বিষয়ে রচিত অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না।

দেখুন: সাঈদ বিন আবি আরুবা, সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং আবু ইসহাক আস-সাবিঈর জীবনী।

আমি আমার এই গ্রন্থে এমন প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে স্থান দিয়েছি যাদের নাম স্মৃতিভ্রম আক্রান্তদের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে, চাই আমার নিকট তাদের স্মৃতিভ্রমের বিষয়টি প্রমাণিত হোক বা না হোক।

কেননা কিছু বর্ণনাকারীকে স্মৃতিভ্রম আক্রান্তদের কিতাবসমূহে এমন উক্তির ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যার অর্থ পারিভাষিক 'ইখতিলাত' নয়।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٦)
فالأئمة المتقدمون وصفوا بعض الرواة بأنهم مخلطين، فظن بعض الذين صنفوا في المختلطين أن مخلط بمعنى مختلط، وليس كذلك، فمخلط معناها سيء الحفظ للأسانيد والمتون ولا يأتي بها على وجهها.

فَيُردُّ حديث هذا المخلط لسوء حفظه، ولا ينبغي التفريق بين أول أمره وآخره.

انظر: ترجمة إسماعيل بن مسلم المكي وخصيف بن عبد الرحمن الجزري.

وكذلك قد وُصف بعض الرواة بالاختلاط، ولكن عند التحقيق نجد أنه لا يصح وصفهم بالاختلاط.

انظر: ترجمة أحمد بن جعفر بن حمدان، وإسماعيل بن عياش، وجرير ابن عبد الحميد، والحارث بن عمير، وخالد بن مهران الحذاء، وعاصم بن بهدلة، وعبد الله بن جعفر بن نجيح المديني، وعبد الله بن محمد بن عقيل، وقيس ابن أبي حازم، ومحمد بن كثير بن أبي عطاء المصيصي، والمثنى بن الصباح.

وقبل الشروع في ذكر الرواة الموصوفين بالاختلاط أذكر أقوال العلماء في معنى الاختلاط وأسبابه وحكم رواية المختلط:

قال ابن حبان: وأما المختلطون في أواخر أعمارهم مثل الجريري، وسعيد بن أبى عروبة، وأشباههما، فإنا نروي عنهم في كتابنا هذا ونحتج بما رووا، إلا أنا لا نعتمد من حديثهم إلا ما روى عنهم الثقات من القدماء الذين نعلم أنهم سمعوا منهم قبل الاختلاط، وما وافقوا الثقات في الروايات التى لا نشك في صحتها وثبوتها من جهة أخرى، لأن حكمهم -وإن اختلطوا في أواخر أعمارهم وحمل عنهم في اختلاطهم بعد تقدم عدالهم- حكم الثقة إذا أخطأ
পূর্ববর্তী ইমামগণ কিছু বর্ণনাকারীকে 'মুখাল্লিত' (সংমিশ্রণকারী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফলে যারা 'মুখতালিত' (স্মৃতিভ্রষ্ট) বর্ণনাকারীদের বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে 'মুখাল্লিত' মানেই 'মুখতালিত'। বিষয়টি এমন নয়; বরং 'মুখাল্লিত' অর্থ হলো যার সনদ ও মতনের হিফয বা মুখস্থ করার ক্ষমতা দুর্বল এবং সে এগুলোকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারে না।

সুতরাং এই 'মুখাল্লিত' ব্যক্তির হাদীস তার হিফযের দুর্বলতার কারণে প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং তার জীবনের প্রথমার্ধ ও শেষার্ধের বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা সমীচীন নয়।

দেখুন: ইসমাঈল ইবনে মুসলিম আল-মাক্কী এবং খাসিফ ইবনে আবদুর রহমান আল-জাযারীর জীবনী।

একইভাবে কিছু বর্ণনাকারীকে 'ইখতিলাত' (স্মৃতিভ্রম) এর গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে, কিন্তু সতর্ক অনুসন্ধানের পর আমরা দেখতে পাই যে, তাদেরকে 'ইখতিলাত' দ্বারা বিশেষায়িত করা সঠিক নয়।

দেখুন: আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান, ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ, জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ, আল-হারিস ইবনে উমাইর, খালিদ ইবনে মিহরান আল-হাযযা, আসিম ইবনে বাহদাল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে নাজীহ আল-মাদীনী, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীল, কায়স ইবনে আবী হাযিম, মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ইবনে আবী আতা আল-মাসসী এবং আল-মুসান্না ইবনে আস-সাব্বাহ-এর জীবনী।

'ইখতিলাত' দ্বারা বিশেষায়িত বর্ণনাকারীদের আলোচনার সূচনার পূর্বে আমি ইখতিলাতের অর্থ, এর কারণসমূহ এবং স্মৃতিভ্রষ্ট (মুখতালিত) ব্যক্তির বর্ণনার বিধান সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের অভিমতসমূহ উল্লেখ করছি:

ইবনে হিব্বান বলেছেন: আর যারা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছেন, যেমন আল-জুরাইরী, সাঈদ ইবনে আবী আরূবাহ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ; আমরা আমাদের এই গ্রন্থে তাদের থেকে বর্ণনা করি এবং তাদের বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করি। তবে তাদের হাদীসের মধ্য থেকে আমরা কেবল সেই বর্ণনার ওপর নির্ভর করি যা নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) পুরাতন ছাত্ররা তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের সম্পর্কে আমরা জানি যে তারা ইখতিলাত বা স্মৃতিভ্রম ঘটার আগে তাদের থেকে হাদীস শুনেছেন। এছাড়া সেইসব বর্ণনাও গ্রহণ করি যাতে তারা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সাথে একমত হয়েছেন, যার বিশুদ্ধতা ও প্রামাণিকতা সম্পর্কে অন্য দিক থেকে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, তাদের হুকুম হলো—যদিও জীবনের শেষভাগে তাদের স্মৃতিভ্রম ঘটেছে এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা সাব্যস্ত হওয়ার পর স্মৃতিভ্রম অবস্থায় তাদের থেকে হাদীস গ্রহণ করা হয়েছে—একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ভুল করলে যে হুকুম হয়, তাদের ক্ষেত্রেও সেই একই হুকুম প্রযোজ্য হবে।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٧)
أن الواجب ترك خطه إذا علم، والاحتجاج بما نعلم أنه لم يخطئ فيه، وكذلك حكم هؤلاء الاحتجاج بهم فيما وافقوا الثقات، وما انفردوا مما روى عنهم القدماء من الثقات الذين كان سماعهم منهم قبل الاختلاط سواء(1).

وقال ابن الصلاح: النوع الثاني والستون: معرفة من خلط في آخر عمره من الثقات: هذا فن عزيز مهم لم أعلم أحدًا أفرده بالتصنيف واعتنى به مع كونه حقيقًا بذلك جدًا، وهم منقسمون:

فمنهم من خلط لاختلاطه وخرفه، ومنهم من خلط لذهاب بصره أو لغير ذلك، والحكم فيها أنهم يقبل حديث من أخذ عنهم قبل الاختلاط، ولا يقبل حديث من أخذ عنهم بعد الاختلاط، أو أُشكل أمره فلم يدر هل أخذ عنه قبل الاختلاط أو بعده(2).

وقال العلائي: أما الرواه الذين حصل لهم الإختلاط في آخر عمرهم، فهم على ثلاثة أقسام:

أحدها: من لم يوجب ذلك له ضعفًا أصلًا، ولم يحط من مرتبته، إما لقصر مدة الاختلاط وقلته، كسفيان بن عيينة، وإسحاق بن إبراهيم بن راهويه، وهما من أئمة الإسلام المتفق عليهم.

وإما لأنه لم يرو شيئًا حال اختلاطه، فسلم حديثه من الوهم، كجرير بن حازم، وعفان بن مسلم ونحوهما.

--------------------------------------------

(1) مقدمة "صحيح ابن حبان": [ص 161].

(2) "مقدمة ابن الصلاح" [ص 352].
কর্তব্য হলো যখন কারো ভুল জানা যায় তখন তা বর্জন করা, এবং যা আমরা জানি যে তিনি তাতে ভুল করেননি তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা। অনুরূপভাবে এদের বিধান হলো—নির্ভরযোগ্য রাবিদের সাথে যেক্ষেত্রে তারা একমত হয়েছেন এবং এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা, যদি তাদের থেকে এমন প্রাচীন নির্ভরযোগ্য রাবিগণ বর্ণনা করে থাকেন যাদের শ্রবণ তাদের স্মৃতিভ্রমের (ইখতিলাত) পূর্বের ছিল(১)।

ইবনুস সালাহ বলেন: বাষট্টিতম প্রকার: ঐ সকল নির্ভরযোগ্য রাবিদের পরিচয় যারা জীবনের শেষভাগে স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছেন। এটি একটি বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র; আমি এমন কাউকে জানি না যিনি এটিকে স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করেছেন এবং এর প্রতি যত্নবান হয়েছেন, অথচ এটি এর অত্যন্ত দাবিদার ছিল। তারা কয়েক ভাগে বিভক্ত:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বুদ্ধিভ্রংশতা ও বার্ধক্যের কারণে স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ দৃষ্টিশক্তি হারানো বা অন্য কোনো কারণে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। এ বিষয়ে বিধান হলো—যারা তাদের থেকে স্মৃতিভ্রমের পূর্বে হাদিস গ্রহণ করেছেন তাদের হাদিস গ্রহণযোগ্য হবে, আর যারা তাদের থেকে স্মৃতিভ্রমের পরে হাদিস গ্রহণ করেছেন বা যাদের বিষয়টি অস্পষ্ট এবং জানা যায়নি যে তিনি কি স্মৃতিভ্রমের আগে নাকি পরে হাদিস গ্রহণ করেছেন, তাদের হাদিস গ্রহণযোগ্য হবে না(২)।

আল-আলাঈ বলেন: যেসব রাবি শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছেন, তারা তিন প্রকার:

প্রথমত: এমন ব্যক্তি যার স্মৃতিভ্রম তার জন্য মোটেও দুর্বলতার কারণ হয়নি এবং তার মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ করেনি। হয় স্মৃতিভ্রমের সময়কাল সংক্ষিপ্ত ও নগণ্য হওয়ার কারণে, যেমন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা এবং ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে রাহাওয়াইহি—তারা উভয়েই ইসলামের সর্বসম্মত ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত।

অথবা এই কারণে যে, তিনি তার স্মৃতিভ্রম অবস্থায় কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি, ফলে তার হাদিস বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থেকেছে। যেমন জারির ইবনে হাযিম, আফফান ইবনে মুসলিম এবং তাদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গ।

--------------------------------------------

(১) "সহিহ ইবনে হিব্বান"-এর ভূমিকা: [পৃষ্ঠা ১৬১]।

(২) "মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ" [পৃষ্ঠা ৩৫২]।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٨)
والثاني: من كان متكلمًا فيه قبل الاختلاط، فلم يحصل من الاختلاط إلا زيادة في ضعفه، كابن لهيعة ومحمد بن جابر السحيمي ونحوهما.

والثالث: من كان محتجًا به، ثم اختلط، أو عُمَّر في آخر عمره، فحصل الاضطراب فيما روى بعد ذلك، فيتوقف الاحتجاج به على التمييز بين ما حدث به قبل الاختلاط عما رواه بعد ذلك(1).

وقال العراقي: الحكم فيمن اختلط أنه لا يقبل من حديثه ما حدث به في حال الاختلاط، وكذا ما أبهم أمره وأشكل فلم يدر حدث به قبل الاختلاط أو بعده، وما حدث به قبل الاختلاط قُبِل، وإنما يتميز ذلك باعتبار الرواة عنهم فمنهم من سمع منهم قبل الاختلاط فقط، ومنهم من سمع بعده فقط، ومنهم من سمع في الحالين ولم يتميز(2).

وقال برهان الدين ابن العجمي: الحكم في حديث من اختلط من الثقات التفصيل، فما حدث به قبل الاختلاط فإنه يُقبل، وإن حدث به فيه أو أُشكل أمره فلم يدر أأخذ عنه قبل الاختلاط أو بعده فإنه لا يقبل(3)(4).

قال ابن حجر: والحكم فيه أن ما حدث به قبل الاختلاط إذا تميز قبل، وإذا

--------------------------------------------

(1) كتاب "المختلطين" [ص 3].

(2) "فتح المغيث" [ص 466].

(3) "نهاية الاغتباط" [ص 34].

(4) وكذلك رجح هذا القول النووي في "التقريب" [2/ 372] مع تدريب الراوي، والصنعاني في "توضيح الأفكار" [3/ 503].
দ্বিতীয়ত: যার ব্যাপারে মতিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটার পূর্বেই সমালোচনা বিদ্যমান ছিল। ফলে তার মতিভ্রমের কারণে কেবল তার দুর্বলতাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যেমন ইবনে লাহিয়া এবং মুহাম্মদ ইবনে জাবির আল-সুহাইমি ও তাদের মতো অন্যান্যরা।

তৃতীয়ত: যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য ছিল, অতঃপর তিনি মতিভ্রমের শিকার হয়েছেন, অথবা শেষ বয়সে বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন, যার ফলে তার পরবর্তী বর্ণনাসমূহে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় তার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি মতিভ্রমের পূর্বে বর্ণিত এবং মতিভ্রমের পরে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে পার্থক্যের ওপর নির্ভর করবে(১)।

আল-ইরাকি বলেন: যার মতিভ্রম ঘটেছে তার ব্যাপারে হুকুম হলো, মতিভ্রমাবস্থায় তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা গ্রহণ করা হবে না। তদ্রূপ যার বিষয়টি অস্পষ্ট এবং সন্দেহপূর্ণ—যা মতিভ্রমের আগে না কি পরে বর্ণনা করেছেন তা জানা যায়নি—তাও গ্রহণ করা হবে না। তবে মতিভ্রমের পূর্বে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা গ্রহণযোগ্য। আর এটি তাদের নিকট থেকে যারা বর্ণনা করেছেন (রাবিগণ), তাদের বিবেচনার মাধ্যমে পৃথক করা হবে। কারণ তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল মতিভ্রমের পূর্বেই তাঁর থেকে শুনেছেন, কেউ কেবল মতিভ্রমের পরে শুনেছেন, আবার কেউ উভয় অবস্থাতেই শুনেছেন কিন্তু (কোনটি কখন শুনেছেন তা) পৃথক করা যায়নি(২)।

বুরহানুদ্দিন ইবনুল আজমি বলেন: নির্ভরযোগ্য রাবিদের মধ্যে যাদের মতিভ্রম ঘটেছে তাদের হাদিসের হুকুম হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। সুতরাং তারা মতিভ্রমের পূর্বে যা বর্ণনা করেছেন তা গ্রহণ করা হবে। আর যদি মতিভ্রমের সময় বর্ণনা করে থাকেন কিংবা বিষয়টি অস্পষ্ট হয় এবং জানা না যায় যে তার থেকে এটি মতিভ্রমের পূর্বে গ্রহণ করা হয়েছে না কি পরে—তবে তা গ্রহণ করা হবে না(৩)(৪)।

ইবনে হাজার বলেন: তার ব্যাপারে হুকুম হলো, মতিভ্রমের পূর্বে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা যদি পৃথক করা যায় তবে তা গ্রহণ করা হবে। আর যদি...

--------------------------------------------

(১) কিতাব "আল-মুখতালিতিন" [পৃষ্ঠা ৩]।

(২) "ফাতহুল মুগিস" [পৃষ্ঠা ৪৬৬]।

(৩) "নিহায়াতুল ইগতিবাত" [পৃষ্ঠা ৩৪]।

(৪) এবং ইমাম নববী "আত-তাকরিব" [২/ ৩৭২]-এ 'তাদরিবুর রাবি'সহ এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, এবং আস-সানআনি "তাওদিহুল আফকার" [৩/ ৫০৩]-এ এটিই প্রাধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٩)
لم يتميز توقف فيه، وكذا من اشتبه الأمر فيه(1).

قال السخاوي: وحقيقته فساد العقل وعدم انتظام الأقوال والأفعال، إما بخرف أو ضرر أو مرض أو عرض من موت ابن وسرقة مال كالمسعودي، أو ذهاب كتب كابن لهيعة، أو احتراقها كابن الملقن.

فما روى المتصف بذلك حال اختلاطه، أو أُبهم الأمر فيه وأُشكل بحيث لم نعلم أروايته صدرت في حال اتصافه به أو قبله سقط حديثه في الصورتين بخلاف ما رواه قبل الاختلاط لثقته، هكذا أطلقوه، ومذهب وكيع حسبما نقله عنه ابن معين كما سيأتي في ترجمة سعيد بن أبى عروبة قريبًا أنه إذا حدث في حال صحته فلم يخالفه أنه يقبل فليحمل إطلاقهم عليه، ويتميز ذلك بالراوي عنه، فإنه تارة يكون سمع منه قبله فقط أو بعده فقط أو فيهما مع التمييز وعدمه. وأفرد للمختلطين كتابًا الحافظ أبو بكر الحازمي حسبما ذكره في تصنيفه "تحفة المستفيد"، ولم يقف عليه ابن الصلاح فإنه قال: ولم أعلم أحدًا أفرده بالتصنيف واعتنى به مع كونه حقيقًا بذلك، والعلائي مرتبًا على حروف المعجم بالاختصار، وذيل عليه شيخنا، وللبرهان الحلبي "الاغتباط بمن رمى بالاختلاط" وأمثلته كثيرة(2).

قال الصنعاني: قد يعرض للراوي عارض من العوارض يجعله غير ثقة، وذلك بأن يصيبه الكبر الشديد بأسقامه فيدعه عرضة للاختلاط، أو يذهب

--------------------------------------------

(1) "نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر" [ص 91].

(2) "فتح المغيث" [4/ 371 - 372].
যার মাঝে (সুস্থতা ও বিভ্রান্তির মধ্যে) পার্থক্য করা যায় না, তার বর্ণনার ব্যাপারে বিরত থাকতে হবে। একইভাবে যার বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যায় তার ক্ষেত্রেও একই বিধান(১)।

সাখাভী বলেন: এর প্রকৃত অর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তি নষ্ট হওয়া এবং কথা ও কাজের মধ্যে শৃঙ্খলাহীনতা দেখা দেওয়া। তা বার্ধক্যজনিত কারণে হতে পারে, কিংবা কোনো আঘাত, রোগ অথবা আকস্মিক কোনো বিপদের কারণে হতে পারে—যেমন সন্তানের মৃত্যু কিংবা সম্পদ চুরি হওয়া, যেমনটি মাসউদী-র ক্ষেত্রে ঘটেছিল। অথবা কিতাব হারিয়ে যাওয়া, যেমন ইবনে লাহিয়া-র ক্ষেত্রে ঘটেছিল, কিংবা কিতাব পুড়ে যাওয়া, যেমন ইবনুল মুলাক্কিন-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

সুতরাং, এই গুণের অধিকারী (অর্থাৎ মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটা) ব্যক্তি তার বিভ্রান্তির অবস্থায় যা বর্ণনা করেছেন, অথবা যার বিষয়টি এমন অস্পষ্ট ও জটিল হয়ে গেছে যে আমরা জানতে পারছি না তার বর্ণনাটি বিভ্রান্তির অবস্থায় এসেছে নাকি তার আগে—উভয় ক্ষেত্রেই তার হাদিস পরিত্যক্ত হবে। তবে বিভ্রান্তি বা ইখতিলাতের আগে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা তার নির্ভরযোগ্যতার কারণে গৃহীত হবে। মুহাদ্দিসগণ এভাবেই বিষয়টি সাধারণভাবে ব্যক্ত করেছেন। আর ইবনে মাঈন কর্তৃক বর্ণিত ওয়াকী-র অভিমত হলো—যেমনটি অচিরেই সাঈদ ইবনে আবি আরুবার জীবনীতে আসবে—যদি তিনি সুস্থ অবস্থায় হাদিস বর্ণনা করেন এবং অন্য কেউ তার বিরোধিতা না করে, তবে তা গ্রহণ করা হবে। মুহাদ্দিসগণের সাধারণ উক্তিকে এই অর্থের ওপর প্রয়োগ করা উচিত। আর এটি (সুস্থ ও বিকৃত অবস্থার বর্ণনা) তার কাছ থেকে গ্রহণকারী বর্ণনাকারীর মাধ্যমে আলাদা করা যায়। কারণ বর্ণনাকারী কখনো কেবল বিভ্রান্তির আগে শুনে থাকেন, কখনো কেবল পরে, আবার কখনো উভয় অবস্থায় শুনে থাকেন—চাই তা পার্থক্য করা সম্ভব হোক বা না হোক। হাফেজ আবু বকর আল-হাযিমি 'তুহফাতুল মুস্তাফিদ' নামক গ্রন্থে বিভ্রান্ত বর্ণনাকারীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছেন। তবে ইবনুস সালাহ তা দেখতে পাননি, তাই তিনি বলেছেন: "আমি জানি না কেউ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছেন কি না, যদিও বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।" এছাড়া আল-আলাই বর্ণানুক্রমিকভাবে সংক্ষেপে একটি কিতাব লিখেছেন এবং আমাদের শাইখ সেটির ওপর একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন। বুরহান আল-হালাবি 'আল-ইগতিবাজ বি-মান রুমিয়া বিল ইখতিলাত' নামক কিতাবটি লিখেছেন এবং এর উদাহরণ অনেক(২)।

সানআনি বলেন: বর্ণনাকারীর এমন কিছু অবস্থা দেখা দিতে পারে যা তাকে অনির্ভরযোগ্য করে তোলে। যেমন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা তাকে বিভ্রান্তির সম্মুখীন করতে পারে, অথবা চলে যেতে পারে...

--------------------------------------------

(১) "নুযহাতুন নাযার ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার" [পৃষ্ঠা ৯১]।

(২) "ফাতহুল মুগিস" [৪/ ৩৭১ - ৩৭২]।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
بصره أو تضيع كتبه وهو معتمد على القراءة فيها، ثم يحدث من حفظه بعد ذلك فتضيع الثقة بحديثه(1).

قلت: الذى يظهر لي أن المختلط يُقبل من حديثه ما حدث به قبل اختلاطه، ويُرد ما حدّث به بعد اختلاطه، أما ما أُبهم أمره فلم يُدر حدث به المختلط قبل اختلاطه أو بعده فلا يُقبل، أو على الأقل يُتوقف فيه.

ويُقبل ما رواه المختلط بعد اختلاطه إذا تابعه عليه أحد الثقات كما قال ابن حبان رحمه الله.

وها هي بعض الأمثلة التى تبين أسباب الاختلاط وكيف يؤثر الاختلاط على الراوي:

قال ابن حبان: أخبرنى محمد بن صالح الحنبلى، حدثنا عبد الملك بن محمد قال: سمعت الحوضى يقول: دخلت على فلان(2) أريد أن أسمع منه وقد اختلط، فسمعته يقول: الأزد عريضة، ذبحوا شاة مريضة، أطعمونى فأبيت، ضربونى فبكيت، فتركته ولم أسمع منه شيئًا.

وقال ابن حجر: قال يزيد بن زريع: أول ما أنكرنا ابن أبي عروبة يوم مات سليمان التيمي، جئنا من جنازته فقال: من أين جئتم؟ قلنا: من جنازة سليمان التيمى، فقال: ومن سليمان التيمي؟

وقال ابن حجر: قال البخاري: كان لسهيل أخ فمات فوجد عليه فنسى كثيرًا من الحديث.

--------------------------------------------

(1) "توضيح الأفكار" [2/ 502].

(2) فلان هو سعيد بن أبي عروبة كما سيأتى في ترجمته.
তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়া অথবা তাঁর কিতাবসমূহ হারিয়ে যাওয়া, অথচ তিনি সেগুলোর ওপর নির্ভর করে বর্ণনা করতেন। এরপর তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করেন, ফলে তাঁর হাদিসের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে যায়(১)।

আমি বলি: আমার নিকট যা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় তা হলো, মুখতালিদ (স্মৃতিভ্রম হওয়া রাবী)-এর বর্ণনার মধ্য থেকে তা-ই গ্রহণ করা হবে যা তিনি তাঁর স্মৃতিভ্রমের পূর্বে বর্ণনা করেছেন, এবং তা প্রত্যাখ্যান করা হবে যা তিনি তাঁর স্মৃতিভ্রমের পরে বর্ণনা করেছেন। আর যে বর্ণনার বিষয়টি অস্পষ্ট—অর্থাৎ এটি জানা যায়নি যে মুখতালিদ তা তাঁর স্মৃতিভ্রমের পূর্বে বর্ণনা করেছেন নাকি পরে—তবে তা গ্রহণ করা হবে না, অথবা অন্তত সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে।

এবং মুখতালিদ তাঁর স্মৃতিভ্রমের পরে যা বর্ণনা করেছেন তা গ্রহণ করা হবে যদি কোনো নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী তাঁর অনুরূপ বর্ণনা (মুতাবায়াত) করেন, যেমনটি ইবনে হিব্বান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন।

এখানে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো যা স্মৃতিভ্রমের কারণসমূহ এবং এটি রাবীর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা স্পষ্ট করে:

ইবনে হিব্বান বলেন: মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-হাম্বলী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল-হাওযীকে বলতে শুনেছি: আমি অমুক ব্যক্তির(২) নিকট প্রবেশ করলাম, আমি তাঁর নিকট থেকে হাদিস শুনতে চেয়েছিলাম, এমতাবস্থায় যে তিনি স্মৃতিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: "আজদ গোত্র বিশাল, তারা একটি অসুস্থ বকরী জবেহ করেছে, তারা আমাকে খেতে দিয়েছিল কিন্তু আমি অস্বীকার করেছি, তারা আমাকে প্রহার করেছে তাই আমি কেঁদেছি।" ফলে আমি তাঁকে ত্যাগ করলাম এবং তাঁর নিকট থেকে কিছুই শুনলাম না।

ইবনে হাজার বলেন: ইয়াযীদ বিন যুরাই’ বলেছেন: ইবনে আবি আরূবাহর মধ্যে প্রথম যে বিষয়টি আমরা অস্বাভাবিক পেয়েছিলাম তা ছিল সুলায়মান আত-তায়মীর মৃত্যুর দিন। আমরা তাঁর জানাজা থেকে ফিরে আসলাম, তখন তিনি (ইবনে আবি আরূবাহ) বললেন: "তোমরা কোত্থেকে আসলে?" আমরা বললাম: "সুলায়মান আত-তায়মীর জানাজা থেকে।" তিনি বললেন: "সুলায়মান আত-তায়মী কে?"

ইবনে হাজার বলেন: ইমাম বুখারী বলেছেন: সুহাইল এর এক ভাই ছিলেন যিনি মারা যান, ফলে তিনি তাঁর শোকে অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং অনেক হাদিস ভুলে যান।

--------------------------------------------

(১) "তাওদিহুল আফকার" [২/ ৫০২]।

(২) অমুক ব্যক্তি হলেন সাঈদ বিন আবি আরূবাহ, যেমনটি সামনে তাঁর জীবনীতে আসবে।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١١)
وقال ابن أبي حاتم: نا أحمد بن سنان الواسطي قال: سمعت الوليد بن أبان الكرابيسي يذكر عن أبى النضر هاشم بن القاسم، قال: إني لأعرف اليوم الذي اختلط فيه المسعودي، كنا عنده وهو يعزي في ابن له إذ جاءه إنسان فقال له: إن غلامك أخذ عشرة آلاف من مالك وهرب، ففزع وقام ودخل إلى منزله ثم خرج إلينا وقد اختلط، رأينا فيه الاختلاط.

نا أحمد بن عثمان بن حكيم الأزدي، قال: قال لى أبو نعيم: لو رأيت رجلًا في قباء سواد وشاسية وفي وسطه خنجر، ولا أعلم إلا قال -مكتوب بين كتفيه ببياض {فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ} كنت تكتب عنه؟ قال: لا، قال: فقد رأيت المسعودي في هذه الحالة.

قال أبو محمد: هذا بعد الاختلاط.

وقال الخطب البغدادي: أخبرنا العتيقي، حدثنا محمد بن العباس، أخبرنا أبو أيوب سليمان بن إسحاق الجلاب، قال: سمعت إبراهيم الحربي يقول: قال لي أبو خيثمة: كنت أنا ويحيى عند عفان، فقال لي: كيف تجدك؟ كيف كنت في سفرك؟ برَّ الله حجك. فقلت له: ما كنت حاجًا العام. قال: ما شككت أنك حاج.

ثم قلت له: كيف تجدك يا أبا عثمان؟ قال: بخير، الجارية تقول لى: أنت مصدع وأنا في عافية، فقلت له: إيش أكلت اليوم؟ فقال: أكلت اليوم أكلة رز وليس أحتاج إلى شيء إلى غد، أو بالعشي آكل أخرى وتكفيني لغد أو بعدها آكل أخرى تكفيني لبعد غد.

قال إبراهيم: فلما كان بالعشى جئت إليه فنظرت إليه كما حكى أبو خيثمة.
ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সিনান আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমি ওয়ালিদ বিন আবান আল-কারাবিসি-কে আবু আন-নাদর হাশিম বিন আল-কাসিমের সূত্রে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি সেই দিনটি চিনি যেদিন মাসউদি বিভ্রান্তিতে (ইখতিলাত) পতিত হয়েছিলেন। আমরা তার কাছে ছিলাম যখন তিনি তার এক পুত্রের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে তাকে বলল: আপনার গোলাম আপনার সম্পদ থেকে দশ হাজার (মুদ্রা) নিয়ে পালিয়ে গেছে। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন, তারপর আমাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এমতাবস্থায় যে তিনি মানসিক বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন; আমরা তার মধ্যে অসংলগ্নতা প্রত্যক্ষ করলাম।

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন উসমান বিন হাকিম আল-আযদি, তিনি বলেন: আবু নুআইম আমাকে বলেছেন: তুমি যদি এমন একজনকে দেখতে যে কালো জুব্বা ও টুপি পরিহিত এবং যার কোমরে একটি খঞ্জর রয়েছে, আর আমার যতটুকু মনে পড়ে তিনি এও বলেছিলেন—তার দুই কাঁধের মাঝে সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে "সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট", তবে কি তুমি তার থেকে বর্ণনা লিখতে? তিনি বললেন: না। আবু নুআইম বললেন: আমি মাসউদিকে এই অবস্থায় দেখেছি।

আবু মুহাম্মাদ বলেন: এটি তার বিভ্রান্তি বা ইখতিলাত শুরু হওয়ার পরের ঘটনা।

আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আতিকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আইয়ুব সুলায়মান বিন ইসহাক আল-জাল্লাব, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম আল-হারবিকে বলতে শুনেছি: আবু খাইসামা আমাকে বলেছেন: আমি এবং ইয়াহইয়া আফফানের নিকট ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: আপনি কেমন বোধ করছেন? আপনার সফর কেমন ছিল? আল্লাহ আপনার হজ কবুল করুন। আমি তাকে বললাম: আমি এই বছর হজ করিনি। তিনি বললেন: আমার কোনো সন্দেহ ছিল না যে আপনি হাজি।

তারপর আমি তাকে বললাম: হে আবু উসমান, আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন: ভালো আছি, পরিচারিকা আমাকে বলছে যে আমি মাথাব্যথায় ভুগছি অথচ আমি সুস্থ বোধ করছি। আমি তাকে বললাম: আজ আপনি কী খেয়েছেন? তিনি বললেন: আজ আমি এক বেলা ভাত খেয়েছি, আগামীকাল পর্যন্ত আমার আর কিছুর প্রয়োজন নেই; অথবা সন্ধ্যায় আরেকবার খাব যা আগামীকালের জন্য যথেষ্ট হবে, অথবা এরপর আরেকবার খাব যা পরশুর জন্য যথেষ্ট হবে।

ইব্রাহিম বলেন: যখন সন্ধ্যা হলো, আমি তার কাছে গেলাম এবং তাকে ঠিক তেমনি দেখলাম যেমনটি আবু খাইসামা বর্ণনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٢)
فقال له إنسان: إن يحيى يقول إنك قد اختلطت، فقال: لعن الله يحيى، أرجو أن يمتعني الله بعقلي حتى أموت.

قال إبراهيم: الخرف يكون ساعة خرفًا وساعة عقلًا.

قال الآجري: سمعت أبا داود يقول: كنت عند عارم فحدّث عن حماد بن زيد عن هشام بن عروة عن أبيه أن ماعزًا الأسلمي سأل النبي صلى الله عليه وسلم في السفر.

فقلت له: حمزة الأسلمي، فقال: يا بني ماعز لا يشقى به جليسه. يعني أن عارم قال هذا وقد زال عقله.

وقال ابن أبي خيثمة: سمعت محمد بن بكار يقول: قد كان أبو معشر تغير قبل أن يموت تغيرًا شديدًا، حتى إنه كان يخرج منه الريح ولا يشعر به.

وقال ابن أبي حاتم: سمعت أبي يقول: أبو بكر بن أبي مريم ضعيف الحديث، طرقته لصوص فأخذوا متاعه فاختلط.

وقال الآجري: سألت أبا داود عن أبي بكر بن أبي مريم الغساني، فقال: سمعت أحمد يقول: ليس بشيء.

قال أبو داود: سرق له حلي فأنكر عقله.

 

وقد اعتمدت في كتابي هذا على هذه المصادر التالية:

1 - أحوال الرجال للجوزجاني.

2 - الإرشاد في معرفة علماء الحديث للخليلي.

3 - بيان الوهم والإيهام لابن القطان الفاسي.

4 - تاريخ أبي زرعة الدمشقي.
জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: "ইয়াহইয়া বলছেন যে আপনার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে গেছে।" তিনি বললেন: "আল্লাহ ইয়াহইয়াকে লানত করুন, আমি আশা করি আল্লাহ মৃত্যু পর্যন্ত আমার জ্ঞানকে অক্ষুণ্ণ রেখে আমাকে উপকৃত করবেন।"

ইবরাহিম বলেন: "বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম এমন যে, মানুষ এক সময় অপ্রকৃতিস্থ থাকে আর অন্য সময় স্বাভাবিক থাকে।"

আজুররি বলেন: আমি আবু দাউদকে বলতে শুনেছি: "আমি আরিমের নিকট ছিলাম, তখন তিনি হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, মায়েজ আল-আসলামি সফরের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন।"

আমি তাঁকে বললাম: "(তিনি তো) হামজা আল-আসলামি।" তখন তিনি বললেন: "হে বৎস, মায়েজ এমন একজন যার সঙ্গী দুর্ভাগা হয় না।" এর অর্থ হলো, আরিম যখন এটি বলেছিলেন তখন তাঁর বিচারবুদ্ধি লোপ পেয়েছিল।

ইবনে আবি খাইসামা বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন বাক্কারকে বলতে শুনেছি: "আবু মা'শার মৃত্যুর আগে চরমভাবে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলেন, এমনকি তাঁর বায়ু নির্গত হতো অথচ তিনি তা অনুভব করতে পারতেন না।"

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "আবু বকর বিন আবি মারইয়াম হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল, তাঁর বাড়িতে চোরেরা হানা দিয়ে তাঁর মালপত্র নিয়ে গিয়েছিল, যার ফলে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।"

আজুররি বলেন: আমি আবু দাউদকে আবু বকর বিন আবি মারইয়াম আল-গাসসানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: "আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি: তিনি কিছুই নন।"

আবু দাউদ বলেন: "তাঁর অলঙ্কার চুরি হয়ে গিয়েছিল, ফলে তাঁর মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায়।"

 

আমি আমার এই গ্রন্থে নিম্নোক্ত উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি:

১ - আল-জুযজানি প্রণীত 'আহওয়ালুর রিজাল'।

২ - আল-খালিঁলি প্রণীত 'আল-ইরশাদ ফি মা’রিফাতি উলামাউল হাদিস'।

৩ - ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি প্রণীত 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহম'।

৪ - আবু যুরআ আদ-দিমাশকি প্রণীত 'তারিখ'।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
5 - التاريخ الأوسط للبخاري.

6 - تاريخ بغداد للخطيب البغدادي.

7 - تاريخ الدوري.

8 - التاريخ الكبير للبخاري.

9 - التاريخ الكبير لابن أبي خيثمة.

10 - التذييل على كتاب تهذيب التهذيب جمع وترتيب محمد بن طلعت.

11 - تعليقات الدارقطني على المجروحين لابن حبان.

12 - التمهيد لابن عبد البر.

13 - تهذيب التهذيب لابن حجر العسقلاني.

14 - الثقات لابن حبان.

15 - الثقات للعجلي.

16 - جامع الترمذي.

17 - الجرح والتعديل لابن أبي حاتم.

18 - الجعديات لأبي القاسم البغوي.

19 - سنن الدارقطني.

20 - سنن أبي داود.
5 - বুখারীর আত-তারীখুল আওসাত।

6 - খতীব বাগদাদীর তারীখে বাগদাদ।

7 - আদ-দৌরীর তারীখ।

8 - বুখারীর আত-তারীখুল কাবীর।

9 - ইবনে আবী খাইসামার আত-তারীখুল কাবীর।

10 - মুহাম্মদ বিন তালাত কর্তৃক সংকলিত ও বিন্যস্ত তাহযীবুত তাহযীব কিতাবের পরিশিষ্ট।

11 - ইবনে হিব্বানের আল-মাজরূহীন-এর ওপর দারা কুতনীর টীকা।

12 - ইবনে আব্দুল বাররের আত-তামহীদ।

13 - ইবনে হাজার আসকালানীর তাহযীবুত তাহযীব।

14 - ইবনে হিব্বানের আস-সিকাত।

15 - আজলীর আস-সিকাত।

16 - জামে আত-তিরমিযী।

17 - ইবনে আবী হাতিমের আল-জারহু ওয়াত-তাদীল।

18 - আবুল কাসেম বাগভী-র আল-জা'দীয়াত।

19 - সুনানে দারা কুতনী।

20 - সুনানে আবু দাউদ।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
21 - السنن الصغرى للنسائي.

22 - السنن الكبرى للبيهقي.

23 - السنن الكبرى للنسائي.

24 - سؤالات الأثرم للإمام أحمد.

25 - سؤالات الآجري لأبي داود.

26 - سؤالات البرذعي لأبي زرعة الرازي.

27 - سؤالات البرقاني للدارقطني.

28 - سؤالات ابن الجنيد لابن معين.

29 - سؤالات أبي داود الحديثية للإمام أحمد.

30 - سؤالات أبي داود الفقهية للإمام أحمد.

31 - سؤالات السلمي للدارقطني.

32 - سؤالات ابن طهمان لابن معين.

33 - سؤالات أبي عبد الله بن بكير للدارقطني.

34 - سؤالات محمد بن عثمان بن أبي شيبة لابن المديني.

35 - سؤالات ابن محرز لابن معين.

36 - الضعفاء الصغير للبخاري.
21 - ইমাম নাসাঈর আস-সুনান আস-সুগরা।

22 - ইমাম বায়হাকীর আস-সুনান আল-কুবরা।

23 - ইমাম নাসাঈর আস-সুনান আল-কুবরা।

24 - ইমাম আহমদের নিকট আল-আছরামের প্রশ্নাবলী।

25 - আবু দাউদের নিকট আল-আজুররীর প্রশ্নাবলী।

26 - আবু জুরআ আর-রাজীর নিকট আল-বারযাঈর প্রশ্নাবলী।

27 - দারা কুতনীর নিকট আল-বারক্বানীর প্রশ্নাবলী।

28 - ইবনে মাঈনের নিকট ইবনুল জুনাইদের প্রশ্নাবলী।

29 - ইমাম আহমদের নিকট হাদীস বিষয়ক আবু দাউদের প্রশ্নাবলী।

30 - ইমাম আহমদের নিকট ফিকহ বিষয়ক আবু দাউদের প্রশ্নাবলী।

31 - দারা কুতনীর নিকট আস-সুলামীর প্রশ্নাবলী।

32 - ইবনে মাঈনের নিকট ইবনে তাহমানের প্রশ্নাবলী।

33 - দারা কুতনীর নিকট আবু আবদুল্লাহ ইবনে বুকাইরের প্রশ্নাবলী।

34 - ইবনুল মাদীনীর নিকট মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবু শায়বার প্রশ্নাবলী।

35 - ইবনে মাঈনের নিকট ইবনে মাহরাযের প্রশ্নাবলী।

36 - ইমাম বুখারীর আদ-দুয়াফা আস-সাগীর।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
37 - الضعفاء الكبير للعقيلي.

38 - الضغفاء والمتروكين للدارقطني.

39 - الضعفاء والمتروكين للنسائي.

40 - الطبقات الكبرى لابن سعد.

41 - علل ابن أبي حاتم.

42 - علل الترمذي الكبير.

43 - علل الدارقطني.

44 - العلل ومعرفة الرجال رواية عبد الله بن أحمد بن حنبل.

45 - العلل ومعرفة الرجال رواية المروذي وغيره.

46 - فتح المغيث للسخاوي.

47 - الكامل في ضعفاء الرجال لابن عدي.

48 - الكفاية في علوم الرواية للخطيب البغدادي.

49 - الكواكب النيرات في معرفة من اختلط من الرواة الثقات لابن الكيال.

50 - لسان الميزان لابن حجر العسقلانى.

51 - المجروحين لابن حبان.

52 - المختلطين للعلائي.
37 - উকাইলির আদ-দুআফা আল-কাবীর।

38 - দারাকুতনির আদ-দুআফা ওয়াল-মাতরুকীন।

39 - নাসায়ির আদ-দুআফা ওয়াল-মাতরুকীন।

40 - ইবনে সা'দের আত-তাবাকাত আল-কুবরা।

41 - ইবনে আবি হাতিমের ইলাল।

42 - তিরমিযির আল-ইলাল আল-কাবীর।

43 - দারাকুতনির ইলাল।

44 - আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বলের বর্ণনায় আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল।

45 - আল-মারওয়াযি ও অন্যদের বর্ণনায় আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল।

46 - সাখাভির ফাতহুল মুগীস।

47 - ইবনে আদির আল-কামিল ফি দুআফায়ির রিজাল।

48 - আল-খাতিব আল-বাগদাদির আল-কিফায়া ফি উলূমির রিওয়ায়াহ।

49 - ইবনুল কাইয়ালের আল-কাওয়াকিবুন্ নাইয়িরাত ফি মা'রিফাতি মান ইখতালাতা মিনাল রুওয়াতিল সিকাত।

50 - ইবনে হাজার আল-আসকালানির লিসানুল মীযান।

51 - ইবনে হিব্বানের আল-মাজরূহীন।

52 - আল-আলাইর আল-মুখতালিতীন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٦)
53 - مسائل ابن هانئ للإمام أحمد.

54 - مشاهير علماء الأمصار.

55 - المعرفة والتاريخ ليعقوب بن سفيان.

56 - مقدمة صحيح ابن حبان.

57 - مقدمة ابن الصلاح.

58 - المنتخب من العلل للخلال.

59 - ميزان الاعتدال للذهبي.

60 - النكت الجياد المنتخبة من كلام شيخ النقاد ذهبى العصر عبد الرحمن بن يحيى المعلمي لإبراهيم بن سعيد.

61 - نهاية الاغتباط بمن رمى بالاختلاط لعلاء الدين علي رضا.

والله أسأل أن يتقبل مني هذا العمل، وأن ينفعني به والمسلمين، إنه بكل جميل كفيل، وهو نعم المولى ونعم النصير.

 

كتبه

محمد بن طلعت بن محمد

مصر - المحلة الكبرى
৫৩ - ইমাম আহমাদ-এর নিকট ইবনে হানির মাসআলাসমূহ।

৫৪ - বিভিন্ন অঞ্চলের প্রসিদ্ধ আলিমগণ।

৫৫ - ইয়াকুব বিন সুফিয়ানের আল-মারিফাতু ওয়াত তারিখ।

৫৬ - সহীহ ইবনে হিব্বানের মুকাদ্দিমাহ।

৫৭ - ইবনুস সালাহর মুকাদ্দিমাহ।

৫৮ - আল-খলাল সংকলিত আল-ইলাল থেকে নির্বাচিত অংশ।

৫৯ - আয-যাহাবীর মীযানুল ইতিদাল।

৬০ - ইবরাহিম বিন সাঈদ সংকলিত এ যুগের যাহাবী ও সমালোচকদের শায়খ আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমীর বাণী থেকে নির্বাচিত সূক্ষ্ম ও চমৎকার বিষয়সমূহ।

৬১ - আলাউদ্দিন আলী রেযা কৃত যাদের স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছে তাদের বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা বিষয়ক গ্রন্থ।

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার পক্ষ থেকে এই আমলটি কবুল করেন এবং এর দ্বারা আমাকে ও মুসলিমদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল সুন্দরের যিম্মাদার, আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

 

এটি লিখেছেন

মুহাম্মাদ বিন তালাত বিন মুহাম্মাদ

মিশর - আল-মাহাল্লা আল-কুবরা
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌حرف الألف

‌‌1 - أحمد بن بشير القرشي المخزومي مولى عمرو بن حريث

قال ابن حجر: قال ابن الجارود: أحمد بن بشير القرشي المخزومى تغير، وليس حديثه بشيء(1).

 

‌‌2 - أحمد بن جعفر بن حمدان أبو بكر القطيعي

قال الخطيب البغدادي: أحمد بن جعفر بن حمدان أبو بكر القطيعى روى عن عبد الله بن أحمد: [المسند، والزهد، والتاريخ، والمسائل، وغير ذلك]، وكان بعض كتبه غرق فاستحدث نسخها من كتاب لم يكن فيه

--------------------------------------------

(1) "تهذيب التهذيب". وفيه أيضًا: "قال ابن معين: لم يكن به بأس، وكان يقين. وقال عثمان الدارمي: قلت لابن معين: عطاء بن المبارك تعرفه؟ قال: من يروي عنه؟ قلت: ذاك الشيخ أحمد بن بشير. فتعجب وقال: لا أعرفه. قال عثمان: أحمد كان من أهل الكوفة، ثم قدم بغداد، وهو متروك. وقال الخطيب: ليس أحمد بن بشير مولى عمرو بن حريث هو الذى روى عن عطاء بن المبارك، ذاك بغدادى، وأما مولى عمرو بن حريث فليست حاله الترك، وإنما له أحاديث تفرد بروايتها، وقد كان موصوفًا بالصدق. وقال ابن نمير: كان صدوقًا حسن المعرفة بأيام الناس، حسن الفهم، إنما وضعه عند الناس الشعوبية. وقال أبو زرعة: صدوق. وقال أبو حاتم: محله الصدق. وقال النسائي: ليس بذاك القوي. وقال أبو بكر بن أبي داود: كان ثقة، كثير الحديث، ذهب حديثه فكان لا يحدث. وقال الدارقطني: ضعيف يعتبر بحديثه. وأورد له ابن عدي حديثين منكرين وقال: وله أحاديث آخر قريبة من هذين. وقال العقيلي: ضعيف. ونقل أبو العرب عن النسائي أنه قال: ليس به بأس". اهـ

وقال السلمي: سألت الدارقطني عن أحمد بن بشير الذى يروي عن مسعر فقال: لا بأس به. [سؤالات السلمي للدارقطني ص 56]
আলিফ বর্ণ

‌১ - আহমাদ ইবনে বাশির আল-কুরাশি আল-মাখজুমি, আমর ইবনে হুরাইসের মুক্তদাস

ইবনে হাজার বলেন: ইবনে আল-জারুদ বলেছেন: আহমাদ ইবনে বাশির আল-কুরাশি আল-মাখজুমির স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল, এবং তার হাদিস গ্রহণযোগ্য কিছু নয়(১)।

 

‌২ - আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আবু বকর আল-কাতিয়ী

আল-খাতিব আল-বাগদাদি বলেন: আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আবু বকর আল-কাতিয়ী আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন: [আল-মুসনাদ, আজ-জুহদ, আত-তারিখ, আল-মাসায়িল এবং অন্যান্য], তার কিছু কিতাব ডুবে গিয়েছিল, তাই তিনি এমন একটি কিতাব থেকে সেগুলোর পাণ্ডুলিপি নতুন করে তৈরি করেছিলেন যাতে সেগুলো ছিল না।

--------------------------------------------

(১) "তাহজিব আত-তাহজিব"। এতে আরও রয়েছে: "ইবনে মাইন বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। উসমান আদ-দারিমি বলেন: আমি ইবনে মাইনকে বললাম: আতা ইবনুল মুবারককে কি আপনি চেনেন? তিনি বললেন: তার থেকে কে বর্ণনা করে? আমি বললাম: সেই শাইখ আহমাদ ইবনে বাশির। তিনি বিস্মিত হলেন এবং বললেন: আমি তাকে চিনি না। উসমান বলেন: আহমাদ কুফার অধিবাসী ছিলেন, পরে বাগদাদে আসেন, এবং তিনি পরিত্যাজ্য (মাতরুক)। আল-খাতিব বলেন: আমর ইবনে হুরাইসের মুক্তদাস আহমাদ ইবনে বাশির সেই ব্যক্তি নন যিনি আতা ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বাগদাদি; আর আমর ইবনে হুরাইসের মুক্তদাসের অবস্থা পরিত্যাজ্য হওয়ার মতো নয়, বরং তার কিছু হাদিস রয়েছে যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি সত্যবাদিতার গুণে পরিচিত ছিলেন। ইবনে নুমায়র বলেন: তিনি সত্যবাদী ও মানুষের ইতিহাস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান সম্পন্ন ছিলেন, তার বুঝ ছিল প্রখর; মূলত শুউবিয়্যাহ আন্দোলনের কারণেই মানুষের কাছে তার মর্যাদা হ্রাস পেয়েছিল। আবু জুরআহ বলেন: সত্যবাদী। আবু হাতিম বলেন: তার অবস্থান সত্যবাদিতার স্তরে। আন-নাসায়ি বলেন: তিনি খুব একটা শক্তিশালী নন। আবু বকর ইবনে আবি দাউদ বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন, তার হাদিসসমূহ হারিয়ে গিয়েছিল তাই তিনি বর্ণনা করতেন না। আদ-দারাকুতনি বলেন: দুর্বল, তবে তার হাদিস বিবেচনা করা যায়। ইবনে আদি তার জন্য দুটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তার আরও কিছু হাদিস রয়েছে যা এই দুটির কাছাকাছি। আল-উকাইলি বলেন: দুর্বল। আবু আল-আরব আন-নাসায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।" সমাপ্ত।

আস-সুলামি বলেন: আমি আদ-দারাকুতনিকে আহমাদ ইবনে বাশির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যিনি মিসআর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বললেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। [আদ-দারাকুতনি সম্পর্কে সুলামির প্রশ্নাবলী, পৃষ্ঠা ৫৬]
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٨)
سماعه، فغمزه الناس، إلا أنا لم نر أحدًا امتنع عن الرواية عنه، ولا ترك الاحتجاج به.

وقد روى عنه من المتقدمين الدارقطني، وابن شاهين، وحدثنا عنه أبو الحسن بن رزقويه، ومحمد بن أبى الفوارس، ومحمد بن أحمد بن البياض، ومحمد بن الفرج البزار، وأبو بكر البرقاني، وعبد الملك بن محمد بن بشران، وأبو نعيم الأصبهانى، وجماعة كثيرة سواهم.

حُدثت عن أبي الحسن بن الفرات قال: كان ابن مالك القطيعي مستورًا، صاحب سُنّة، كثير السماع، سمع من عبد الله بن أحمد وغيره، إلا أنه خلط في آخر عمره، وكف بصره، وخرف حتى كان لا يعرف شيئًا مما يُقرأ عليه.

قال محمد بن أبي الفوارس: أبو بكر بن مالك كان مستورًا صاحب سُنّة، ولم يكن في الحديث بذاك، له في بعض "المسند" أصول فيها نظر، ذكر أنه كتبها بعد الغرق.

سمعت أبا بكر البرقاني وسُئل عن ابن مالك فقال: كان شيخًا صالحًا، وكان لأبيه اتصال ببعض السلاطين، فقرئ لابن ذاك السلطان على عبد الله بن أحمد "المسند"، وحضر ابن مالك سماعه، ثم غرقت قطعة من كتبه بعد ذلك فنسخها من كتاب ذكروا أنه لم يكن سماعه فيه، فغمزوه لأجل ذلك، وإلا فهو ثقة.

وحدثني البرقاني قال: كنت شديد التنقير عن حال ابن مالك حتى ثبت عندي أنه صدوق لا يشك في سماعه، وإنما كان فيه بله، فلما غرقت
তাঁর শ্রবণের বিষয়ে; ফলে মানুষ তাঁর সমালোচনা করেছে। তবে আমরা কাউকে দেখিনি যে তাঁর থেকে বর্ণনা করা থেকে বিরত হয়েছে কিংবা তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করা পরিত্যাগ করেছে।

পূর্বসূরিদের মধ্যে আদ-দারাকুতনী এবং ইবনে শাহীন তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান বিন রিজকোয়াইহ, মুহাম্মদ বিন আবিল ফাওয়ারিস, মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-বায়াদ, মুহাম্মদ বিন আল-ফারাজ আল-বাযযার, আবু বকর আল-বারকানী, আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন বিশরান, আবু নুআইম আল-আসফাহানী এবং তাঁদের ছাড়াও আরও বিশাল এক জামাত।

আবুল হাসান বিন আল-ফুরাত থেকে আমার কাছে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ইবনে মালিক আল-কাতীয়ী ছিলেন সচ্চরিত্রবান এবং সুন্নাহর অনুসারী। তিনি প্রচুর শ্রবণের অধিকারী ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ বিন আহমাদ ও অন্যান্যদের থেকে শুনেছেন। তবে তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে ওলটপালট করে ফেলতেন, তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল এবং বার্ধক্যজনিত কারণে বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিলেন, এমনকি তাঁর সামনে যা পাঠ করা হতো তার কিছুই তিনি বুঝতে পারতেন না।

মুহাম্মদ বিন আবিল ফাওয়ারিস বলেন: আবু বকর বিন মালিক ছিলেন সচ্চরিত্রবান ও সুন্নাহর অনুসারী, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি তেমন উচ্চপর্যায়ের ছিলেন না। "আল-মুসনাদ"-এর কিছু অংশে তাঁর এমন কিছু মূল পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা প্রশ্নবিদ্ধ; উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি সেগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার পর লিখেছিলেন।

আমি আবু বকর আল-বারকানীকে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে ইবনে মালিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: তিনি ছিলেন একজন নেককার শায়খ। তাঁর পিতার কিছু সুলতানের সাথে যোগাযোগ ছিল। সেই সুলতানের ছেলের জন্য আবদুল্লাহ বিন আহমাদের নিকট "আল-মুসনাদ" পাঠ করা হতো এবং ইবনে মালিক সেই শ্রবণ-আসরে উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাঁর কিতাবসমূহের একটি অংশ পানিতে ডুবে যায়। ফলে তিনি সেগুলো এমন কিতাব থেকে অনুলিপি করেন যে সম্পর্কে তারা বলেছিল যে, তাতে তাঁর শ্রবণ ছিল না। এই কারণে তারা তাঁর সমালোচনা করেছেন, অন্যথায় তিনি নির্ভরযোগ্য।

আল-বারকানী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে মালিকের অবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত গভীরভাবে অনুসন্ধান করতাম, অবশেষে আমার কাছে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী, তাঁর শ্রবণের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর মধ্যে কেবল কিছুটা সরলতা ছিল। অতঃপর যখন তাঁর কিতাবসমূহ ডুবে গেল...
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ١٩)
القطيعة بالماء الأسود غرق شيء من كتبه، فنسخ بدل ما غرق من كتاب لم يكن فيه سماعه، ولما اجتمعت مع الحاكم بن عبد الله بن البيع بنيسابور ذكرت ابن مالك ولينه فأنكر على، وقال: ذاك شيخي، وحَسّن حاله، أو كما قال(1).

قال الذهبي: [صح](2) أحمد بن جعفر بن حمدان أبو بكر القطيعي صدوق في نفسه مقبول تغير قليلًا. قال الخطيب: لم نر أحدًا ترك الاحتجاج به. وقال الحاكم: ثقة مأمون.

وقال أبو عمرو بن الصلاح: اختل في آخر عمره، حتى كان لا يعرف شيئًا مما يُقرأ عليه، ذكر هذا أبو الحسن بن الفرات.

قلت: فهذا القول غلو وإسراف، وقد كان أبو بكر أسند أهل زمانه.

قال ابن أبي الفوارس: لم يكن في الحديث بذاك، له في بعض "مسند أحمد" أصول فيها نظر.

وقال البرقاني: غرقت قطعة من كتبه فنسخها من كتاب ذكروا أنه لم يكن سماعه فيه، فغمزوه لأجل ذلك، وإلا فإنه ثقة، وكنت شديد التنقير عنه حتى تبين عندي أنه صدوق لا يشك في سماعه(3).

--------------------------------------------

(1) "تاريخ بغداد": [4/ 73 - 74].

(2) قال الحافظ ابن حجر في "لسان الميزان" [2/ 368] في ترجمة "الحارث بن محمد بن أبي أسامة": وقال الذهبى في "تلخيص المستدرك": ليس بعمدة، مع أنه في "الميزان" كتب مقابله: صح، واصطلاحه أن العمل على توثيقه.

(3) "ميزان الاعتدال": [1/ 87 - 88].
কাতিকাহ এলাকায় কালো পানির (বন্যার) কারণে তার কিছু বই ডুবে গিয়েছিল, ফলে তিনি যা ডুবে গিয়েছিল তার পরিবর্তে এমন একটি বই থেকে নকল করেছিলেন যাতে তার শোনার অনুমতি ছিল না। আমি যখন নিশাপুরে আল-হাকিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-বাই’র সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন আমি ইবনে মালিক এবং তার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করলাম। তিনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন: "তিনি আমার শায়খ", এবং তার অবস্থা ভালো বলে বর্ণনা করলেন, অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন(১)।

আয-যাহাবী বলেছেন: [সহিহ](২) আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান আবু বকর আল-কাতিয়ী ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী ও গ্রহণযোগ্য, তবে শেষ বয়সে কিছুটা পরিবর্তন (স্মৃতিভ্রম) ঘটেছিল। আল-খাতিব বলেছেন: আমরা কাউকে তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা ত্যাগ করতে দেখিনি। আল-হাকিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।

আবু আমর ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: তিনি তার জীবনের শেষভাগে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন, এমনকি তার সামনে যা পড়া হতো তার কিছুই তিনি চিনতে পারতেন না। আবু আল-হাসান ইবনুল ফুরাত এটি উল্লেখ করেছেন।

আমি বলি: এই উক্তিটি বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জন, অথচ আবু বকর তার সময়ের সবচেয়ে উচ্চ সনদধারী ব্যক্তি ছিলেন।

ইবনে আবি আল-ফাওয়ারিস বলেছেন: হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি তেমন শক্তিশালী ছিলেন না, 'মুসনাদে আহমাদ'-এর কিছু অংশে তার মূল পাণ্ডুলিপিতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে।

আল-বারকানি বলেছেন: তার বইয়ের কিছু অংশ ডুবে গিয়েছিল, তাই তিনি সেগুলো এমন একটি বই থেকে নকল করেছিলেন যার ব্যাপারে তারা উল্লেখ করেছেন যে সেটি শোনার অনুমতি তার ছিল না। একারণে তারা তার সমালোচনা করেছেন। অন্যথায় তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। আমি তার সম্পর্কে গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছিলাম, শেষ পর্যন্ত আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী এবং তার শ্রবণ (সামা') সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই(৩)।

--------------------------------------------

(১) "তারিখ বাগদাদ": [৪/ ৭৩ - ৭৪]।

(২) হাফেজ ইবনে হাজার "লিসানুল মিজান" গ্রন্থে [২/ ৩৬৮] "আল-হারিস বিন মুহাম্মদ বিন আবি উসামাহ"-এর জীবনীতে বলেছেন: আর আয-যাহাবী "তালখিসুল মুস্তাদরাক"-এ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ নন, অথচ তিনি "মিজান" গ্রন্থে তার নামের পাশে লিখেছেন: "সহ" (সহিহ), আর তার পরিভাষায় এর অর্থ হলো তার নির্ভরযোগ্যতার ওপর আমল করা হবে।

(৩) "মিজানুল ইতিদাল": [১/ ৮৭ - ৮৮]।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
قال العراقي: قوله: وأبو بكر بن مالك القطيعي راوي مسند أحمد وغيره اختل في آخر عمره وخرف حتى كان لا يعرف شيئًا مما يقرأ عليه انتهى. وفي ثبوت هذا عن القطيعي نظر، وهذا القول تبع فيه المصنف مقالة حكيت عن أبي الحسن بن الفرات لم يثبت إسنادها إليه، ذكرها الخطيب في "التاريخ" فقال: حدثت عن أبي الحسن بن الفرات قال: كان ابن مالك القطيعى مستورًا صاحب سنة كثير السماع من عبد الله بن أحمد وغيره إلا أنه خلط في آخر عمره وكف بصره وخرف حتى كان لا يعرف شيئًا مما يقرأ عليه انتهى.

وقد أنكر صاحب "الميزان" هذا على ابن الفرات وقال: هذا غلو وإسراف. وقال أبو عبد الرحمن السلمى أنه سأل الدارقطني عنه فقال: ثقة زاهد سمعت أنه مجاب الدعوة. وقال الحاكم: ثقة مأمون. وسُئل عنه البرقاني فقال: كان شيخًا صالحًا غرقت قطعة من كتبه فنسخها من كتاب ذكروا أنه لم تكن سماعه فغمزوه لأجل ذلك وإلا فهو ثقة. قال البرقاني: وكنت شديد التنقير عن حاله حتى ثبت عندي أنه صدوق لا شك في سماعه، وإنما كان فيه بله فلما غرقت القطيعة بالماء الأسود غرق شيء من كتبه فنسخ بدل ما غرق من كتاب لم يكن فيه سماعه، قال: ولما اجتمعت مع الحاكم أبي عبد الله بن البيع بنيسابور ذكرت ابن مالك ولينته فأنكر علي.

وقال الخطيب: لم أر أحدًا امتنع من الرواية عنه ولا ترك الاحتجاج به.

وقال أبو بكر بن نقطة: كان ثقة. وتوفي القطيعى لسبع بقين من ذي
ইরাকি বলেন: তাঁর বক্তব্য: এবং আবু বকর ইবন মালিক আল-কাতিয়ী, যিনি মুসনাদে আহমাদ ও অন্যান্য গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তিনি তাঁর শেষ জীবনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন এবং বার্ধক্যজনিত কারণে বুদ্ধিভ্রমগ্রস্ত হয়েছিলেন, এমনকি তাঁর কাছে যা পাঠ করা হতো তার কিছুই তিনি চিনতে পারতেন না। সমাপ্ত। আর কাতিয়ী সম্পর্কে এই বক্তব্যের সত্যতার বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। গ্রন্থকার এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে আবুল হাসান ইবনুল ফুরাত থেকে বর্ণিত একটি উক্তি অনুসরণ করেছেন যার সনদ তাঁর পর্যন্ত প্রমাণিত নয়। আল-খতিব 'তারিখ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: আমি আবুল হাসান ইবনুল ফুরাত থেকে বর্ণিত হতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবন মালিক আল-কাতিয়ী সুন্নাতের অনুসারী ও পর্দানশীল ব্যক্তি ছিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ ও অন্যদের থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছিলেন; তবে তিনি শেষ জীবনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, দৃষ্টিশক্তি হারান এবং বার্ধক্যজনিত কারণে এমনভাবে বুদ্ধিভ্রমগ্রস্ত হন যে তাঁর সামনে যা পাঠ করা হতো তিনি তার কিছুই চিনতে পারতেন না। সমাপ্ত।

'মিজান' (মিজানুল ইতিদাল) গ্রন্থের রচয়িতা ইবনুল ফুরাতের এই বক্তব্যটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: এটি অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি। আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি বলেন যে তিনি আদ-দারা কুতনিকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও দুনিয়াবিমুখ, আমি শুনেছি যে তিনি মুজাবুদ দাওয়াত (যাঁর দোয়া কবুল হয়) ছিলেন। আল-হাকিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। আল-বারকানিকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তিনি একজন সৎ শায়খ ছিলেন। তাঁর কিতাবের কিছু অংশ (পানিতে) ডুবে গিয়েছিল, ফলে তিনি এমন একটি কিতাব থেকে তা প্রতিলিপি করেছিলেন যেটির ব্যাপারে বলা হয় যে সেটি তাঁর শ্রুত (সামা') ছিল না। একারণে লোকেরা তাঁর সমালোচনা করেছে, অন্যথায় তিনি নির্ভরযোগ্য। বারকানি বলেন: আমি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান করেছিলাম, পরিশেষে আমার নিকট এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী এবং তাঁর শ্রবণের (সামা') ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর মধ্যে কেবল কিছুটা সরলতা ছিল। যখন কালো পানিতে কাতিয়াহ অঞ্চলটি ডুবে গিয়েছিল, তখন তাঁর কিছু কিতাবও ডুবে যায়। ফলে ডুবে যাওয়া কিতাবগুলোর পরিবর্তে তিনি এমন একটি কিতাব থেকে প্রতিলিপি করেছিলেন যেটির শ্রবণ তাঁর ছিল না। তিনি (বারকানি) বলেন: যখন নিশাপুরে আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ ইবনুল বায়্যি'-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তখন আমি ইবন মালিকের কথা উল্লেখ করে তাঁর বর্ণনার দুর্বলতার দিকটি তুলে ধরলে তিনি আমার প্রতিবাদ করেন।

আল-খতিব বলেন: আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করতে বিরত থেকেছেন অথবা তাঁর বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বর্জন করেছেন।

আবু বকর ইবন নুকতাহ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। আল-কাতিয়ী জিলহজ মাসের সাত দিন বাকি থাকতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢١)
الحجة سنة ثمان وستين وثلاث مائة. وعلى تقدير ثبوت ما ذكره أبو الحسن بن الفرات من التغير وتبعه المصنف فممن سمع منه في الصحة أبو الحسن الدارقطني وأبو حفص بن شاهين وأبو عبد الله الحاكم وأبو بكر البرقاني وأبو نعيم الأصبهاني وأبو علي بن المذهب راوي المسند عنه فإنه سمعه عليه في سنة ست وستين والله أعلم(1).

قال ابن حجر: وإنكار الذهبى على ابن الفرات عجيب، فإنه لم ينفرد بذلك، فقد حكى الخطيب في ترجمة أحمد بن أحمد السيبى قال: قدمت بغداد وأبو بكر بن مالك حي، وكان مقصودنا درس الفقه والفرائض، فقال لنا ابن اللبان الفرضي: لا تذهبوا إلى ابن مالك فإنه قد ضعف واختل، ومنعت ابني السماع منه، قال: فلم نذهب إليه. قلت: كان سماع أبي علي بن المذهب منه لمسند الإمام أحمد قبل اختلاطه، أفاده شيخنا الحافظ أبو الفضل بن الحسين، والحكاية التى حكاها ابن الصلاح عن ابن الفرات قد ذكرها الخطيب في "تاريخه" عنه، والعجب من الذهبى يرد قول ابن الفرات، ثم يقول في آخر ترجمة الحسن بن على التميمي الراوي عن القطيعي ما سيأتي، فليتأمل!(2)

قال المعلمي اليماني: في "تاريخ بغداد" [13/ 411]: أخبرنا بشري بن عبد الله الرومي ثنا أحمد بن جعفر بن حمدان … ".

--------------------------------------------

(1) "التقييد والإيضاح" [ص 465].

(2) "لسان الميزان": [1/ 242 - 243].
যিলহজ মাস, তিনশ আটষট্টি হিজরী। আবুল হাসান ইবনুল ফুরাত যে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং গ্রন্থকার যা অনুসরণ করেছেন, তা যদি সাব্যস্ত হয়, তবে সুস্থাবস্থায় যারা তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন তারা হলেন— আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী, আবু হাফস ইবনে শাহীন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, আবু বকর আল-বারকানী, আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী এবং তাঁর থেকে মুসনাদ বর্ণনাকারী আবু আলী ইবনুল মুযাহহিব। কারণ তিনি তাঁর নিকট তিনশ ৬৬ হিজরীতে শ্রবণ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।(১)

ইবনে হাজার বলেন: ইবনুল ফুরাতের বক্তব্যের ওপর আয-যাহাবীর অস্বীকৃতি জানানো বিস্ময়কর; কারণ তিনি একাই এ কথা বলেননি। আল-খাতিব আহমাদ ইবনে আহমাদ আস-সায়িবীর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যখন বাগদাদে আসি তখন আবু বকর ইবনে মালিক জীবিত ছিলেন। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ফিকহ ও ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন) পাঠ করা। তখন ইবনুল লাব্বান আল-ফারযী আমাদের বললেন: তোমরা ইবনে মালিকের কাছে যেয়ো না, কারণ সে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তার স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে, আর আমি আমার ছেলেকে তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করতে নিষেধ করেছি। তিনি বলেন: ফলে আমরা তাঁর নিকট যাইনি। আমি বলি: ইমাম আহমদের মুসনাদ বিষয়ে আবু আলী ইবনুল মুযাহহিবের শ্রবণ ছিল তাঁর স্মৃতি বিভ্রম ঘটার পূর্বে। আমাদের শায়খ হাফিজ আবুল ফজল ইবনুল হুসাইন এটি ব্যক্ত করেছেন। আর ইবনুস সালাহ ইবনুল ফুরাতের বরাতে যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, আল-খাতিবও তাঁর "তারীখ" গ্রন্থে তাঁর থেকে তা উল্লেখ করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আয-যাহাবী ইবনুল ফুরাতের কথা প্রত্যাখ্যান করছেন, আবার পরবর্তীতে আল-কাতী'ঈ থেকে বর্ণনাকারী হাসান ইবনে আলী আত-তামীমীর জীবনীর শেষে যা বলবেন তা সামনে আসবে, সুতরাং এটি লক্ষ্য করা উচিত!(২)

আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী বলেন: "তারীখে বাগদাদ" [১৩/ ৪১১] গ্রন্থে রয়েছে: বুশরা বিন আব্দুল্লাহ আর-রূমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন …।

--------------------------------------------

(১) "আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈযাহ" [পৃ. ৪৬৫]।

(২) "লিসানুল মিজান": [১/ ২৪২ - ২৪৩]।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
قال الأستاذ (ص 141): مختلط فاحش الاختلاط.

أقول: قضية الاختلاط ذكرها الخطيب في "التاريخ" [ج 4 ص 73]، قال: "حُدثت عن أبي الحسن بن الفرات … ".

وذكرها الذهبي في "الميزان" عن ابن الصلاح قال: "اختل في آخر عمره، حتى كان لا يعرف شيئًا مما يُقرأ عليه، ذكر هذا أبو الحسن بن الفرات". والظاهر أن ابن الصلاح إنما أخذ ذلك مما ذكره الخطيب، ولا ندري من حدث الخطيب، ومع الجهالة به لا تثبت القصة.

لكن ابن حجر شدها بأن الخطيب حكى في ترجمة أحمد بن أحمد السيبى أنه قال: قدمت بغداد وأبو بكر بن مالك حى … فقال لنا ابن الفرضي: لا تذهبوا إلى ابن مالك فإنه قد ضعف واختل، ومنعت ابني السماع منه.

وهذه الحكاية في "التاريخ" [ج 4 ص 4]، لكن ليس فيها ما في تلك المنقطعة مما يقتضي فحش الاختلاط، وقد قال الذهبي في "الميزان" بعد ذكر الحكاية الأولى: "فهذا القول غلو وإسراف".

أقول: ويؤيد على أنه غلو وإسراف أن المشاهير من أئمة النقد في ذلك العصر كالدارقطني والحاكم والبرقاني لم يذكروا اختلاطًا ولا تغيرًا.

وقد غمزه بعضهم بشيء آخر. قال الخطيب: "كان بعض كتبه غرق فاستحدث نسخها من كتاب لم يكن فيه سماعه فغمزه الناس، إلا أنا لم نر أحدًا امتنع من الرواية عنه، ولا ترك الاحتجاج به، وقد روى عنه من المتقدمين الدارقطني وابن شاهين …
উস্তাদ (পৃষ্ঠা ১৪১) বলেছেন: তিনি স্মৃতিভ্রমের শিকার এবং তাঁর এই স্মৃতিভ্রম ছিল অত্যন্ত প্রকট।

আমি বলছি: এই স্মৃতিভ্রমের বিষয়টি খতিব 'তারিখ' গ্রন্থে [৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৩] উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আবুল হাসান ইবনুল ফুরাত থেকে আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে …"।

যাহাবিও এটি 'আল-মিজান' গ্রন্থে ইবনে আস-সালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "তিনি শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন, এমনকি তাঁর সামনে যা পাঠ করা হতো তার কিছুই তিনি বুঝতে পারতেন না; আবুল হাসান ইবনুল ফুরাত এটি উল্লেখ করেছেন।" স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে আস-সালাহ মূলত খতিবের বর্ণনা থেকেই এটি গ্রহণ করেছেন। আর খতিবকে কে এটি বর্ণনা করেছেন তা আমাদের জানা নেই; বর্ণনাকারী অজ্ঞাত হওয়ার কারণে এই ঘটনাটি প্রমাণিত হয় না।

তবে ইবনে হাজার বিষয়টিকে এই বলে জোরালো করেছেন যে, খতিব আহমদ বিন আহমদ আস-সাইবি-এর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছিলেন: "আমি বাগদাদে পৌঁছেছিলাম তখন আবু বকর ইবনে মালিক জীবিত ছিলেন … তখন ইবনুল ফারদি আমাদের বলেছিলেন: তোমরা ইবনে মালিকের কাছে যেয়ো না, কারণ তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছে; আমি আমার পুত্রকেও তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করতে বারণ করেছি।"

এই বর্ণনাটি 'তারিখ' গ্রন্থে [৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪] বিদ্যমান। তবে এতে সেই বিচ্ছিন্ন বর্ণনার মতো এমন কিছু নেই যা তাঁর স্মৃতিভ্রমকে অত্যন্ত প্রকট বলে সাব্যস্ত করে। যাহাবি প্রথম বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন: "এই উক্তিটি অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি।"

আমি বলছি: এটি যে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি, তার সমর্থনে আরেকটি প্রমাণ হলো—সেই যুগের বিখ্যাত হাদিস সমালোচক ইমামগণ, যেমন আদ-দারা কুতনি, আল-হাকিম এবং আল-বারকানি; তাঁরা তাঁর কোনো স্মৃতিভ্রম বা পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেননি।

কেউ কেউ তাঁকে অন্য একটি বিষয়েও দোষারোপ করেছেন। খতিব বলেন: "তাঁর কিছু কিতাব ডুবে গিয়েছিল, ফলে তিনি এমন কিতাব থেকে নতুন করে পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছিলেন যা থেকে তাঁর সরাসরি শ্রবণ ছিল না। তাই মানুষ তাঁর সমালোচনা করেছিল; তবে আমরা কাউকে দেখিনি যে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করা বন্ধ করে দিয়েছে কিংবা তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করা পরিত্যাগ করেছে। পূর্ববর্তীদের মধ্যে আদ-দারা কুতনি ও ইবনে শাহিন তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন …"
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
سمعت أبا بكر البرقاني سُئل عن ابن مالك فقال: كان شيخًا صالحًا .. ثم غرقت قطعة من كتبه بعد ذلك فنسخها من كتاب ذكروا أنه لم يكن سماعه فيه فغمزوه لأجل ذلك، وإلا فهو ثقة.

قال الخطيب: وحدثني البرقاني قال: كنت شديد التنقير عن حال ابن مالك حتى ثبت عندي أنه صدوق لا يشك في سماعه، وإنما كان فيه بله، فلما غرقت القطيعة(1) بالماء الأسود غرق شيء من كتبه، فنسخ بدل ما غرق من كتاب لم يكن فيه سماعه.

أجاب ابن الجوزي في "المنتظم" [ج 7 ص 93] عن هذا بقوله: "مثل هذا لا يُطعن به عليه لأنه يجوز أن تكون تلك الكتب قد قرئت عليه وعورض بها أصله، وقد روى عنه الأئمة كالدارقطنى وابن شاهين والبرقانى وأبي نعيم والحاكم".

أقول: وقال الحاكم: ثقة مأمون. ونسخه ما غرق من كتبه من كتاب ليس عليه سماعه يحتمل ما قال ابن الجوزي، ويحتمل أن يكون ذاك الكتاب كان أصل ثقة آخر كان رفيقه في السماع فعرف مطابقته لأصله والمدار على الثقة بصحة النسخة، وقد ثبت أن الرجل في نفسه ثقة مأمون، وتلك الحكاية تحتمل ما بيّنا في ذلك فكان هو الظاهر، ولا أدري متى كان غرق القطيعة بالماء الأسود.

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ محمد بن عبد الرزاق حمزة: هي محال ببغداد أقطعها المنصور أناسًا من الأعيان ليعمروها ويسكنوها، وهي قطيعة إسحاق الأزرق وأم جعفر زبيدة بنت جعفر بن المنصور، كما في القاموس، وإليها ينسب المترجم.
আমি আবু বকর আল-বারকানিকে ইবনে মালিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি, তিনি বললেন: তিনি একজন নেককার শায়খ ছিলেন... অতঃপর তাঁর কিতাবসমূহের একটি অংশ ডুবে যায়। পরে তিনি এমন একটি কিতাব থেকে তা প্রতিলিপি করেন যেটির ব্যাপারে তারা উল্লেখ করেছেন যে সেটিতে তাঁর শ্রবণ (সামা') ছিল না। এ কারণে তারা তাঁর সমালোচনা করেছেন, অন্যথায় তিনি নির্ভরযোগ্য।

আল-খতিব বলেন: আল-বারকানি আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে মালিকের অবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত গভীরভাবে অনুসন্ধান করতাম, শেষ পর্যন্ত আমার নিকট এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি সত্যবাদী এবং তাঁর শ্রবণের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তাঁর মাঝে কিছুটা সরলতা ছিল। যখন কাতিআ(১) এলাকা কালো পানিতে তলিয়ে যায়, তখন তাঁর কিতাবসমূহের কিছু অংশ ডুবে যায়। ফলে তিনি ডুবে যাওয়া অংশের পরিবর্তে এমন একটি কিতাব থেকে প্রতিলিপি করেন যেটিতে তাঁর শ্রবণ ছিল না।

ইবনুল জাওযী 'আল-মুনতাজাম' গ্রন্থে [৭ম খণ্ড, ৯৩ পৃষ্ঠা] এর উত্তরে বলেন: "এরূপ বিষয়ের কারণে তাঁর ওপর কোনো অভিযোগ আনা যায় না, কারণ এটা সম্ভব যে সেই কিতাবগুলো তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং তাঁর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে সেগুলোর তুলনা করা হয়েছে। আর তাঁর থেকে আদ-দারা কুতনি, ইবনে শাহীন, আল-বারকানি, আবু নুআইম এবং আল-হাকিমের মতো ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।"

আমি বলছি: আল-হাকিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। তাঁর ডুবে যাওয়া কিতাবগুলো এমন কিতাব থেকে প্রতিলিপি করা যেটিতে তাঁর শ্রবণ ছিল না—এই বিষয়টি ইবনুল জাওযী যা বলেছেন তার সম্ভাবনা রাখে; আবার এমন হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে যে, সেই কিতাবটি অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মূল পাণ্ডুলিপি ছিল যিনি শ্রবণের সময় তাঁর সঙ্গী ছিলেন, ফলে তিনি নিজের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এর মিল সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন। আর মূল বিষয়টি হলো কপির নির্ভুলতার ওপর আস্থা রাখা। এটি প্রমাণিত হয়েছে যে ব্যক্তিটি নিজে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। আর সেই ঘটনাটি আমরা যা ব্যাখ্যা করেছি তার সম্ভাবনা রাখে এবং সেটিই অধিক স্পষ্ট বিষয়। আমি জানি না কখন কাতিআ এলাকা কালো পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রাজ্জাক হামজাহ বলেন: এটি বাগদাদের কিছু এলাকা, যা আল-মানসুর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আবাদ করার ও বসবাসের জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এটি ইসহাক আল-আজরাক এবং আল-মানসুরের পুত্র জাফর বিন মানসুরের কন্যা উম্মে জাফর জুবায়দাহর নামে বরাদ্দকৃত এলাকা, যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থে রয়েছে। আর বর্ণিত ব্যক্তিটি এই এলাকার দিকেই সম্বন্ধিত।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وقد فتشت أخبار السنين في "المنتظم" فلم أره ذكر غرقًا بالماء الأسود، وإنما ذكر أنه في شهر رمضان سنة 367 غرق بعض المحال منها قطيعة أم جعفر، فإن كان ذلك هو المراد فإنما كان من قبل وفاة القطيعي بنحو سنة واحدة، وقد سمع الناس منه الكتب كلها قبل ذلك مرارًا، وأُخذت منه عدة نسخ، والذين ذكروا الاستنساخ لم يذكروا أنه روى مما استنسخه، ولو علموا ذلك لذكروه لأنه أبين في التليين، وأبلغ في التحذير، وليس من لازم الاستنساخ أن يرويه عما استنسخه، ولا أن يعزم على ذلك، وكأنهم إنما ذكروا ذلك في حياته لاحتمال أن يروي بعد ذلك عما استنسخه.

وقد قال الخطيب في "الكفاية" [ص 109]: ومذاهب النقاد في الرجال غامضة ودقيقة، وربما سمع بعضهم في الراوي أدنى مغمز فتوقف عن الاحتجاج بخبره، وإن لم يكن الذى سمعه موجبًا لرد الحديث ولا مسقطًا للعدالة، ويرى السامع أن ما فعله هو الأولى رجاء إن كان الراوي حيًا أن يحمله على التحفظ وضبط نفسه عن الغميزة، وإن كان ميتًا أن ينزله من نقل عنه منزلته فلا يلحقه بطبقة السالمين من ذلك الغمز.

ومنهم من يرى أن من الاحتياط للدين إشاعة ما سمع من الأمر المكروه الذى لا يُوجب إسقاط العدالة بانفراده حتى ينظر هل من أخوات ونظائر … ".

فلما ذكروا في حياة القطيعي أنه تغير، وأنه استنسخ من كتاب ليس عليه سماعه كان هذا على وجه الاحتياط، ثم لما لم يذكروا في حياته ولا بعد
আমি "আল-মুনতাজাম"-এ বিগত বছরগুলোর সংবাদসমূহ অনুসন্ধান করেছি, সেখানে কালো পানিতে ডুবে যাওয়ার কোনো উল্লেখ দেখিনি; বরং এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৩৬৭ হিজরির রমজান মাসে 'কাতিয়াতু উম্মি জাফর'সহ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। যদি এটিই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে তা আল-কাতিয়ির মৃত্যুর প্রায় এক বছর আগের ঘটনা। অথচ এর অনেক আগেই মানুষ তার কাছ থেকে বারবার সমস্ত কিতাব শ্রবণ করেছে এবং তার থেকে বেশ কয়েকটি অনুলিপি নেওয়া হয়েছে। যারা অনুলিপি করার (ইস্তিনসাখ) কথা উল্লেখ করেছেন, তারা এটি উল্লেখ করেননি যে তিনি তার অনুলিপি করা অংশ থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা যদি তা জানতেন তবে অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন; কারণ এটি বর্ণনাকারীকে দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট এবং সতর্ক করার ক্ষেত্রে অধিকতর জোরালো হতো। আর অনুলিপি করার অর্থ এই নয় যে তাকে সেই অনুলিপি থেকেই বর্ণনা করতে হবে, কিংবা তিনি সেটিরই সংকল্প করেছিলেন। তারা সম্ভবত তার জীবদ্দশায় বিষয়টি এই সম্ভাবনার কারণে উল্লেখ করেছেন যে, পাছে তিনি পরবর্তীতে সেই অনুলিপি থেকে বর্ণনা করেন।

খতিব "আল-কিফায়া" [পৃষ্ঠা ১০৯]-এ বলেছেন: "বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সমালোচকদের নীতিসমূহ অত্যন্ত নিগূঢ় ও সূক্ষ্ম। অনেক সময় দেখা যায়, তাদের কেউ কোনো বর্ণনাকারীর মধ্যে সামান্যতম দোষের সংবাদ পেলেও তার বর্ণিত সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করা থেকে বিরত থাকেন, যদিও সেই সংবাদটি হাদিস প্রত্যাখ্যান করার মতো অনিবার্য কারণ হয় না এবং তার ন্যায়পরায়ণতাকেও (আদালাত) ক্ষুণ্ণ করে না। শ্রবণকারী মনে করেন যে, তিনি যা করেছেন তা-ই উত্তম; এই আশায় যে বর্ণনাকারী জীবিত থাকলে এটি তাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং নিজেকে দোষমুক্ত রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে। আর যদি তিনি মৃত হন, তবে তার থেকে যিনি বর্ণনা করেছেন তাকে তার যথাযথ স্তরে রাখা হবে এবং তাকে সেই দোষমুক্তদের স্তরে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।"

"আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, দ্বীনের সতর্কতার খাতিরে এমন কোনো অপছন্দনীয় বিষয় প্রচার করা উচিত যা এককভাবে ন্যায়পরায়ণতা বাতিলের কারণ হয় না, যতক্ষণ না দেখা হয় যে অনুরূপ আরও কোনো বিষয় বা দৃষ্টান্ত আছে কি না … "।

সুতরাং, আল-কাতিয়ির জীবদ্দশায় যখন তারা উল্লেখ করলেন যে তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছে এবং তিনি এমন কিতাব থেকে অনুলিপি করেছেন যা তার শ্রুত ছিল না, তখন এটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই করা হয়েছিল। অতঃপর, যখন তারা তার জীবনে বা তার পরে আর কিছু উল্লেখ করেননি...
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
موته أنه حدث بعد تغير شديد، أو حدث مما استنسخه من كتاب ليس عليه سماعه، ولا استنكروا له رواية واحدة، وأجمعوا على الاحتجاج به كما تقدم، تبين بيانًا واضحًا أنه لم يكن منه ما يخدش في الاحتجاج به. هذا وكتب الإمام أحمد كـ"المسند" و"الزهد" كانت نسخها مشهورة متداولة قد رواها غير القطيعى، وإنما اعتنوا بالقطيعي واشتهرت رواية الكتب من طريقة لعلو السند، ويأتي لهذا مزيد في ترجمة الحسن بن علي ابن المذهب، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.(1)

 

‌‌3 - أحمد بن أبي سليمان القواريري

قال الذهبي: أحمد بن أبي سليمان القواريري عن حماد بن سلمة والقدماء. كذبه الأزدي وغيره، فلا يفرح به، بقي إلى الستين ومائتين، روى عنه محمد بن مخلد، وقال الدارقطني: ضعيف(2).

قال ابن حجر: قال الآجري: سألت أبا داود، ذُكر عن أحمد بن أبي سليمان -يعني القواريري- عن إسماعيل بن عياش، سمعت حريزًا يقول: كان على لا يؤمن على جاراته، فقلت له في ذلك؟ فقال: ولم لا أقول هذا؟ وقد سمعت الوليد بن عبد الملك يخطب به على المنبر، وجعل أبو داود يذم أحمد بن أبى سليمان.

وقال الخطيب: كذبه ظاهر، يغنى عن تعليل روايته، لجواز دخول الوهم

--------------------------------------------

(1) "التنكيل": [1/ 106 - 109].

(2) "ميزان الاعتدال": [1/ 103].
তাঁর মৃত্যুর আগে তিনি ব্যাপক পরিবর্তনের শিকার হয়েছিলেন অথবা এমন কোনো কিতাব থেকে বর্ণনা করেছিলেন যা তাঁর সরাসরি শোনা ছিল না—এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মুহাদ্দিসগণ তাঁর একক কোনো বর্ণনাকেও প্রত্যাখ্যান করেননি এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত আলোচনা অনুযায়ী তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এ থেকে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায়নি যা তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে। তা ছাড়া ইমাম আহমদের গ্রন্থসমূহ যেমন "মুসনাদ" ও "আয-যুহদ"-এর পাণ্ডুলিপিগুলো সুপরিচিত ও বহুল প্রচলিত ছিল, যা আল-কাতীয়ি ছাড়াও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। তবে মুহাদ্দিসগণ আল-কাতীয়ির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তাঁর সূত্রে এই গ্রন্থগুলোর বর্ণনা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে মূলত তাঁর উচ্চমানের সনদের (সুনদুন আলি) কারণে। এ বিষয়ে আল-হাসান ইবনে আলী ইবনুল মুজাহহাব-এর জীবনীতে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।(১)

 

‌‌৩ - আহমাদ বিন আবি সুলাইমান আল-কাওয়ারিরি

আয-যাহাবি বলেন: আহমাদ বিন আবি সুলাইমান আল-কাওয়ারিরি হাম্মাদ বিন সালামাহ ও পূর্ববর্তীগণের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-আযদি ও অন্যান্যরা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছেন, তাই তাঁকে নিয়ে আশাবাদী হওয়ার অবকাশ নেই। তিনি ২৬০ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন, তাঁর থেকে মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বর্ণনা করেছেন। আদ-দারাকুতনি বলেছেন: তিনি যঈফ (দুর্বল)(২).

ইবনে হাজার বলেন: আল-আজুররি বলেছেন: আমি আবু দাউদকে জিজ্ঞাসা করলাম, আহমাদ বিন আবি সুলাইমান—অর্থাৎ আল-কাওয়ারিরি—সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি ইসমাঈল বিন আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি হারিজকে বলতে শুনেছি: আলী তাঁর নারী প্রতিবেশীদের ব্যাপারে নিরাপদ ছিলেন না। আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমি কেন এটি বলব না? অথচ আমি ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিককে মিম্বরে দাঁড়িয়ে এ কথা দিয়ে খুতবা দিতে শুনেছি। এরপর আবু দাউদ আহমাদ বিন আবি সুলাইমানের নিন্দা করতে শুরু করলেন।

আল-খাতিব বলেন: তাঁর মিথ্যা বলাটা সুস্পষ্ট, যা তাঁর বর্ণনার ত্রুটি নির্ণয় করার প্রয়োজনীয়তাকেই নাকচ করে দেয়, কারণ সেখানে বিভ্রম (ওয়াহম) ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

--------------------------------------------

(১) "আত-তানকিল": [১/ ১০৬ - ১০৯]।

(২) "মিযানুল ই’তিদাল": [১/ ১০৩]।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
والسهو عليه، وذلك أن محمد بن إسحاق توفي سنة إحدى وخمسين أو اثنين وخمسين ومائة، وقيل قبل ذلك، فكيف يكتب هذا عنه ومولده على ما ذكر سنة إحدى وخمسين؟! وأعجب من هذا ادعاؤه سماعه منه بالكوفة، ثم بالمدينة، وابن إسحاق إنما قدم الكوفة في حياة الأعمش، وذلك قبل مولد هذا الشيخ بسنين كثيرة، وفي بعض ما ذكرنا دلالة كافية على بيان حاله، وظهور تخليطه(1).

وقال الأزدي: حدثنا نهشل بن دارم عنه بما لا يكون.

وقال نهشل: سألته عن عمره فقال: مائة وست وعشرة سنة.

وقال الدارقطني: روى عن حماد بن سلمة مقلوبات، كان مغفلًا، يترك ولا يحتج به.

وقال في "العلل": ضعيف(2).

 

‌‌4 - أحمد بن عبد الرحمن بن وهب

قال العلائى: أحمد بن عبد الرحمن بن وهب روى عنه مسلم في "صحيحه"، وأخذ عنه أبو زرعة وأبو حاتم قديمًا، ثم كثرت المناكير في حديثه بعد ذلك.

--------------------------------------------

(1) قول الخطيب: وظهور تخليطه لا يعني بها الاختلاط الإصطلاحي، والعلماء لم يفرقوا بين أول أمر أحمد بن أبي سليمان وبين آخر أمره. وإنما ذكرت أحمد بن أبي سليمان في كتابي هذا لأن بعض الذين كتبوا في المختلطين ذكروه فيهم.

(2) "لسان الميزان": [1/ 282].
এবং বিস্মৃতি তার উপর প্রভাব ফেলেছে; বিষয়টি হলো এই যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক মৃত্যুবরণ করেছেন একশত একান্ন অথবা একশত বাহান্ন হিজরি সনে, আর কেউ কেউ এর আগেও বলেছেন, তাহলে এই ব্যক্তি কীভাবে তার থেকে বর্ণনা লিখে নিলেন অথচ তার নিজের বর্ণনা অনুযায়ীই তার জন্ম হয়েছে একশত একান্ন সনে?! এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো তার এই দাবি যে, সে কুফায় এবং পরে মদিনায় তার থেকে শ্রবণ করেছে; অথচ ইবনে ইসহাক কুফায় এসেছিলেন আমাশের জীবদ্দশায়, যা এই শাইখের জন্মের বহু বছর আগের ঘটনা। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যেই তার অবস্থা স্পষ্ট করার এবং তার বিশৃঙ্খলা প্রকাশের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে(১).

আজদি বলেন: নাহশাল ইবনে দারিম আমাদের কাছে তার পক্ষ থেকে এমন সব বিষয় বর্ণনা করেছেন যা ঘটা সম্ভব নয়।

নাহশাল বলেন: আমি তাকে তার বয়স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: একশত ষোলো বছর।

দারা কুতনি বলেন: সে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বিপর্যস্ত বর্ণনা (মাকলুবাত) বর্ণনা করেছে; সে ছিল অসতর্ক, তাকে বর্জন করা হবে এবং তার দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না।

তিনি 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বলেন: সে দুর্বল(২).

 

‌‌৪ - আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ওয়াহাব

আলাইয়ি বলেন: আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ওয়াহাব, ইমাম মুসলিম তার 'সহিহ' গ্রন্থে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু জুরআহ এবং আবু হাতিম প্রাচীনকালে তার থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার হাদিসে আপত্তিকর বর্ণনার (মুনকারাত) সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) খতিবের উক্তি: "তার বিশৃঙ্খলা প্রকাশ পাওয়া" দ্বারা তিনি পারিভাষিক স্মৃতিভ্রংশ (ইখতিলাত) বুঝাননি। উলামাগণ আহমদ ইবনে আবু সুলাইমানের প্রথম দিকের অবস্থা এবং শেষ দিকের অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। আমি আমার এই গ্রন্থে আহমদ ইবনে আবু সুলাইমানকে উল্লেখ করেছি কারণ যারা স্মৃতিভ্রষ্ট বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে লিখেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকেও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

(২) "লিসানুল মিজান": [১/ ২৮২]।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قال ابن عدي: رأيت شيوخ أهل مصر مجمعين على ضعفه(1).

وقال ابن حجر في "التقريب": أحمد بن عبد الرحمن بن وهب صدوق تغير بآخره.

--------------------------------------------

(1) كتاب "المختلطين" للعلائي [ص 7].

وفي "تهذيب التهذيب": "قال ابن أبى حاتم: سألت محمد بن عبد الحكم عنه فقال: ثقة ما رأينا إلا خيرًا. قلت: سمع من عمه؟ قال: إي والله. وقال أيضًا: سمعت أبي يقول: سمعت عبد الملك بن شعيب بن الليث يقول: أبو عبيد الله بن أخي ابن وهب ثقة. وقال ابن أبي حاتم عن أبي زرعة: أدركناه ولم نكتب عنه، قال: وسمعت أبا زرعة وأتاه بعض رفقائي فحكى عن أبي عبيد الله ابن أخي ابن وهب أنه رجع عن تلك الأحاديث، فقال أبو زرعة: إن رجوعه مما يحسن حاله، ولا يبلغ به المنزلة التى كان من قبل، قال: وسمعت أبي يقول: كتبنا عنه وأمره مستقيم، ثم خلط بعد، ثم جاء خبره أنه رجع عن التخليط، وسئل أبي عنه بعد ذلك فقال: كان صدوقًا. وقال ابن الأخرم: سمعت ابن أبي خزيمة وقيل له: لم رويت عن ابن أخي ابن وهب وتركت سفيان بن وكيع؟ فقال: لأن أحمد لما أنكروا عليه تلك الأحاديث وعرضوها عليه رجع عنها إلى آخرها إلا حديث مالك عن الزهري عن أنس: "إذا حضر العشاء" فإنه ذكر أنه وجده في درج من كتب عمه في قرطاس، وأما سفيان بن وكيع فإن وراقه أدخل عليه أحاديث فرواها، فكلمناه فلم يرجع عنها، فاستخرت الله وتركته. وقال ابن عدي: رأيت شيوخ مصر مجمعين على ضعفه، ومن كتب عنه من الغرباء لا يمتنعون من الرواية عنه، وسألت عبدان عنه فقال: كان مستقيم الأمر في أيامنا، ومن لم يلق حرملة اعتمد عليه في نسخ حديث ابن وهب. قال ابن عدي: ومن ضعفه أنكر عليه أحاديث وكثرة روايته عن عمه، وكل ما أنكروا عليه محتمل، وإن لم يروه غيره عن عمه، ولعله خصه به. وقال أبو سعيد بن يونس: لا تقوم بحديثه حجة. وقال هارون بن سعيد الأيلي: هو الذى كان يستملي لنا عند عمه، وهو الذى كان يقرأ لنا. وقال ابن الأخرم: نحن لا نشك في اختلاطه بعد الخمسين، وإنما ابتلي بعد خروج مسلم من مصر. وقال الدارقطني: تكلموا فيه.

فمما أُنكر عليه حديثه عن عمه، عن عيسى بن يونس الآتى في ترجمة نعيم بن حماد، فإن الحديث المذكور إنما يعرف به، وسرقه منه جماعة ضعفاء فرووه عن عيسى بن يونس، فلما =
ইবনে আদি বলেন: আমি মিশরের শায়খদের তার দুর্বলতার ব্যাপারে একমত হতে দেখেছি(১)।

ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেন: আহমদ বিন আব্দুর রহমান বিন ওয়াহাব সত্যবাদী, তবে শেষ বয়সে তার স্মৃতি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-আলাই-এর 'কিতাবুল মুখতালিতিন' [পৃষ্ঠা ৭]।

এবং 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে রয়েছে: "ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাকামকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আমরা তার মাঝে ভালো ছাড়া আর কিছু দেখিনি। আমি বললাম: তিনি কি তার চাচার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম। তিনি আরও বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি আব্দুল মালিক বিন শুআইব বিন আল-লাইসকে বলতে শুনেছেন: আবু উবাইদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র নির্ভরযোগ্য। ইবনে আবি হাতিম আবু যুরআহ থেকে বর্ণনা করেন: আমরা তাকে পেয়েছি কিন্তু তার থেকে হাদিস লিখিনি। তিনি বলেন: আমি আবু যুরআহকে বলতে শুনেছি—আমার জনৈক সঙ্গী তার কাছে এলেন এবং ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আবু উবাইদুল্লাহ সম্পর্কে বর্ণনা করলেন যে, তিনি ঐসব হাদিস থেকে ফিরে এসেছেন (তওবা করেছেন)। তখন আবু যুরআহ বললেন: তার ফিরে আসাটা তার অবস্থার উন্নতি ঘটায়, তবে এটি তাকে সেই স্তরে পৌঁছাতে পারে না যেখানে তিনি পূর্বে ছিলেন। তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি—আমরা তার থেকে হাদিস লিখেছি যখন তার অবস্থা সঠিক ছিল, এরপর তিনি স্মৃতিবিভ্রম বা সংমিশ্রণ শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর এল যে তিনি সংমিশ্রণ থেকে ফিরে এসেছেন। এরপর আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন। ইবনে আল-আখরাম বলেন: আমি ইবনে আবি খুজাইমাহকে বলতে শুনেছি—তাকে বলা হলো: কেন আপনি ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে বর্ণনা করেন কিন্তু সুফিয়ান বিন ওয়াকিকে বর্জন করেছেন? তিনি বললেন: কারণ আহমদকে যখন ঐসব হাদিসের জন্য অভিযুক্ত করা হলো এবং তা তার সামনে পেশ করা হলো, তখন তিনি শেষ পর্যন্ত সব কটি থেকে ফিরে এসেছিলেন; কেবল ইমাম মালিক-জুহরি-আনাস সূত্রে বর্ণিত 'যখন রাতের খাবার উপস্থিত হয়' হাদিসটি বাদে। কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি তিনি তার চাচার কিতাবপত্রের একটি কাগজের ভাজে পেয়েছিলেন। আর সুফিয়ান বিন ওয়াকির বিষয়টি হলো, তার লেখক (অনুলিপি প্রস্তুতকারক) তার কিতাবে কিছু হাদিস ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যা তিনি বর্ণনা করেছিলেন। আমরা তার সাথে কথা বলেছি কিন্তু তিনি তা থেকে ফিরে আসেননি, তাই আমি আল্লাহর কাছে ইস্তেখারা করে তাকে বর্জন করেছি। ইবনে আদি বলেন: আমি মিশরের শায়খদের তার দুর্বলতার ওপর ঐক্যবদ্ধ দেখেছি। তবে বিদেশীদের মধ্যে যারা তার থেকে হাদিস লিখেছেন তারা তার থেকে বর্ণনা করতে বিরত থাকেন না। আমি আবদানকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: আমাদের সময়ে তার অবস্থা সঠিক ছিল, আর যে ব্যক্তি হারমালার সাক্ষাৎ পায়নি সে ইবনে ওয়াহাবের হাদিসের পান্ডুলিপির ক্ষেত্রে তার ওপরই নির্ভর করত। ইবনে আদি বলেন: যারা তাকে দুর্বল বলেছেন তারা তার কিছু হাদিস এবং তার চাচার থেকে অতিরিক্ত বর্ণনার কারণে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ তারা যা কিছু প্রত্যাখ্যান করেছেন তার সবই গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যদিও অন্য কেউ তা তার চাচার থেকে বর্ণনা করেনি; হতে পারে তিনি তাকেই এই হাদিসগুলো বিশেষভাবে শিখিয়েছিলেন। আবু সাঈদ বিন ইউনুস বলেন: তার হাদিস দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না। হারুন বিন সাঈদ আল-আইলি বলেন: তিনি আমাদের জন্য তার চাচার কাছে হাদিস লিখতে সাহায্য করতেন এবং তিনিই আমাদের পড়ে শোনাতেন। ইবনে আল-আখরাম বলেন: আমরা পঞ্চাশ হিজরির পর তার স্মৃতিবিভ্রমের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করি না, আর মিশরের ইমাম মুসলিমের প্রস্থান করার পরেই তিনি এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। দারাকুতনি বলেন: তার সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে।

তার যেসব হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ঈসা বিন ইউনুসের মাধ্যমে তার চাচার থেকে বর্ণিত হাদিসটি, যা নুআইম বিন হাম্মাদের জীবনীতে আসবে। কেননা উক্ত হাদিসটি কেবল তার মাধ্যমেই পরিচিত, আর একদল দুর্বল বর্ণনাকারী এটি তার থেকে চুরি করে ঈসা বিন ইউনুসের বরাতে বর্ণনা করেছেন। ফলে যখন =
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= حدث به أحمد عن عمه أنكروا عليه.

وحديثه عن عمه عن عبيد الله بن عمر وابن عيينة ومالك، عن حميد، عن أنس أن النبى صلى الله عليه وسلم كان يجهر بـ"بسم الله الرحمن الرحيم" في الفريضة.

وحديثه عنه عن مخرمة بن بكير، عن أبيه، عن نافع، عن ابن عمر مرفوعًا: "إذا كان الجهاد على باب أحدكم فلا يخرج إلا بإذن أبويه".

وحديثه عنه عن حيوة، عن أبي صخر، عن أبي حازم، عن أبي صالح، عن أبي هريرة مرفوعًا: "يأتي على الناس زمان يرسل إلى القرآن فيرفع من الأرض" تفرد أحمد برفعه.

وحديثه عنه، عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر مرفوعًا: "إن الله زادكم صلاة إلى صلاتكم وهى الوتر" وهو حديث موضوع على مالك.

وقد صح رجوع أحمد عن هذه الأحاديث التى أُنكرت عليه، ولأجل ذلك اعتمده ابن خزيمة من المتقدمين، وابن القطان من المتأخرين، والله الموفق.

وقال زكريا بن يحيى البلخي: ثنا محمد بن إبراهيم البوشنجي، قال: قال أحمد بن صالح: بلغني أن حرملة يحدث بكتاب الفتن عن ابن وهب، فقلت له في ذلك وقلت له: لم يسمعه من ابن وهب أحد، ولم يقرأه على أحد، قال: فرجع من عندي على أنه لا يفعل، ثم بلغني أنه حدث به بعد، وقال: فقيل للبوشنجي: إن أحمد بن عبد الرحمن بن وهب حدث به عن ابن وهب، قال: فهذا كذاب إذًا". اهـ

وقال البرذعي: وحملت معي من مصر جزءًا بخطى مما أنكرته من حديث أحمد بن عبد الرحمن بن أخي ابن وهب أبي عبيد الله ومما لديهم من الأسانيد والمتون، فدفعت الجزء إلى أبي زرعة، وكان علان بن عبد الرحمن المصري أعطاني حديث موسى بن يعقوب عن عبد الرحمن بن إسحاق، عن إسحاق بن عبد الله أبي طلحة، عن أنس: "من كذب علي" ذكر أن ابن وهب حدثهم قال: نا موسى بن يعقوب أعطاني علان ذلك، فدفعه بخط ابن أخي ابن وهب، قال لي علان: كتب لي ذلك ابن أخي ابن وهب بخطه وقرأه علي، وحديث الزهري عن سحيم في الخسف، عن ابن وهب، عن يونس، فدفعت الرقعة أيضًا إلى أبي زرعة فجعل يقرأ ما في الكتاب، ويتعجب، ثم قال لي أبي زرعة: لا أرى ظهر بمصر منذ دهر أوضع للحديث =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এটি আহমাদ তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যা তারা (মুহাদ্দিসগণ) তার ব্যাপারে অস্বীকার করেছেন।

এবং তার চাচার সূত্রে উবাইদুল্লাহ বিন উমর, ইবনে উয়াইনা এবং মালিক হতে, তিনি হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রা.) হতে বর্ণিত হাদীস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরজ নামাজে উচ্চস্বরে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" পাঠ করতেন।

এবং তার সূত্রে মাখরামাহ বিন বুকাইর হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবনে উমর (রা.) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণিত: "যখন তোমাদের কারো দরজায় জিহাদ উপস্থিত হয়, তখন সে যেন তার পিতামাতার অনুমতি ব্যতীত বের না হয়।"

এবং তার সূত্রে হাইওয়াহ হতে, তিনি আবু সাখর হতে, তিনি আবু হাযিম হতে, তিনি আবু সালিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণিত: "মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন কুরআনের পাণ্ডুলিপি পাঠানো হবে, অতঃপর তা জমিন থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে।" আহমাদ একা এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এবং তার সূত্রে মালিক হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবনে উমর (রা.) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নামাজের সাথে আরও একটি নামাজ বৃদ্ধি করে দিয়েছেন এবং তা হলো বিতর।" এটি মালিকের নামে বর্ণিত একটি জাল হাদীস।

আর আহমাদ যে এই হাদীসগুলো থেকে ফিরে এসেছেন যা তার ব্যাপারে অস্বীকার করা হয়েছিল, তা সহীহভাবে প্রমাণিত। এই কারণেই পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে ইবনে খুযাইমাহ এবং পরবর্তীদের মধ্য থেকে ইবনে আল-কাত্তান তাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-বালখী বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-বুশানজী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমাদ বিন সালিহ বলেছেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে হারমালাহ ইবনে ওয়াহাব হতে কিতাবুল ফিতান বর্ণনা করেন। আমি তাকে এ বিষয়ে বললাম এবং তাকে জানালাম: ইবনে ওয়াহাব থেকে এটি কেউ শোনেনি এবং তার সামনে কেউ এটি পাঠও করেনি। তিনি বললেন: অতঃপর সে আমার নিকট থেকে এই অঙ্গীকার করে ফিরে গেল যে সে এটি আর করবে না। কিন্তু পরবর্তীতে আমার কাছে খবর পৌঁছাল যে সে এটি বর্ণনা করেছে। তিনি বললেন: অতঃপর বুশানজীকে বলা হলো: আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন ওয়াহাব এটি ইবনে ওয়াহাব হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: "তাহলে সে একজন মিথ্যাবাদী।" সমাপ্ত।

আল-বারযাঈ বলেছেন: আমি মিশর থেকে আমার নিজের হাতের লেখায় এমন একটি পাণ্ডুলিপি বহন করে নিয়ে আসি যাতে ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আবু উবাইদুল্লাহর বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে যা আমি অস্বীকার করেছিলাম তা এবং তাদের নিকট থাকা সনদ ও মতনসমূহ লিপিবদ্ধ ছিল। আমি পাণ্ডুলিপিটি আবু যুরআর নিকট সমর্পণ করি। আললান বিন আব্দুর রহমান আল-মিসরী আমাকে মুসা বিন ইয়াকুব হতে, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইসহাক হতে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ আবু তালহা হতে, তিনি আনাস হতে বর্ণিত হাদীস: "যে আমার ওপর মিথ্যাারোপ করল..." প্রদান করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ইবনে ওয়াহাব তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসা বিন ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন—আললান আমাকে এটি প্রদান করেছিলেন। অতঃপর তিনি এটি ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্রের হাতের লেখায় সমর্পণ করেন। আললান আমাকে বলেছিলেন: ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র এটি তার নিজের হাতে লিখে দিয়েছেন এবং আমার সামনে পাঠ করেছেন। এবং যহুরী হতে সুহাইমের সূত্রে ভূমিধস সংক্রান্ত হাদীস, যা ইবনে ওয়াহাব হতে ইউনুসের সূত্রে বর্ণিত। আমি সেই চিরকুটটিও আবু যুরআর নিকট সমর্পণ করলাম। তিনি পাণ্ডুলিপিতে যা ছিল তা পড়তে শুরু করলেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করতে লাগলেন। অতঃপর আবু যুরআ আমাকে বললেন: "আমি মনে করি না যে দীর্ঘকাল যাবৎ মিশরে হাদীস জাল করার ক্ষেত্রে এর চেয়ে বড় কেউ প্রকাশ পেয়েছে।" =
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
. . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= وأجسر على الكذب من هذا، وكان مما كتبت في الجزء ما أنكرت من رواياته عن عمه، عن إبراهيم بن سعد، عن الزهري، عن النبي صلى الله عليه وسلم "من أكل من هذه الشجرة" فقال لي أبو زرعة: أي شئ أنكرت من هذا؟ قلت: أنكرته أنه إنما هو عن سعيد بن المسيب وحده، ليس أبو سلمة فقال لي: أصبت، ما هذا من حديث أبي سلمة، وأزيدك مما لست أراك أنك تهتدي إليه، قلت: لا أعلم إلا أني أنكرت فيه زيادته فيه عن أبي سلمة، لأن الحديث رواه جماعة عن إبراهيم بن سعد، فقال لي: رواه جماعة، وابن وهب لا أعلمه حدث عن إبراهيم بن سعد شيئًا أصلًا، ثم قال لي أبي زرعة: كان أبو حاتم يلقي إلى عنه أحاديث كنت أستحسنها، مثل حديث أبي الزعراء وغيره، فإذا هو آفة من الآفات، قلت: فتكتب بخطك إلى أصحابنا بمصر، فكتبت بخطه كلامًا غليظًا يأمر بهجرانه،، ومباينته، ونسبه إلى الكذب المصرح وكتب نحو ذلك أبو عبد الله محمد بن مسلم، وأبو حاتم، فأنفذت خطوطهم إلى علان وإبراهيم بن الأصم ثم قال لي أبو حاتم: شعرت أن ابن أخي ابن وهب كتب إلي وأنت بمصر يشكوك ويقول: إنك تعتب عليه، وكتبت إلي في كتابه: حدثنا عمي قال: نا عمر بن محمد، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم: "لو بغى جبل عن جبل إلا ذل الله الباغي منهما "فلما خرج ابني عبد الرحمن كتبت له إلى يونس وابن عبد الحكم ولم أكتب إليه، وقلت لعبد الرحمن: قل له: كتبت إلي في أمر البرذعي بما كفيتني مؤنة نفسك عندما ذكرت عن عمك، عن عمر بن محمد حديثًا لا أصل له بهذا الإسناد، فورد كتاب ابن أخي ابن وهب على أبي حاتم بعد أن ابني كتب إليك بهذا الحديث وغلط في إسناده، وليس هو من حديثي، وأنا أستغفر الله، وما حدثت بهذا الحديث أو نحو ذلك كلام هذا معناه أخبرني به أبو حاتم، وقال لي: ألا ترى ما كتب به ابن أخي ابن وهب، وكان معي فضل الصائغ عندما قال لي أبو حاتم هذه المقالة، فقال الفضل فيما أحسب أنه حدثني بهذا الحديث عن عمه، عن عمر بن محمد، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم منذ كذا وكذا، وكان الفضل هناك مع أحمد بن صالح، ثم انصرف الفضل إلى منزله فعاد إلي ومعه كتابه، كتاب عتيق كتبه بمصر عنه فلم نلق هذا الحديث في أصل كتابه. وقد كان أبو حاتم كتب إليه معي: بلغني أنك رويت عن عمك، عن عيسى بن يونس، حديث عوف بن مالك "تفترق أمتي" وليس هذا من حديث عمك، ولا روى هذا عن عيسى أحد، غير نعيم بن حماد، وكتب إلي أيضًا كهل كان بمصر من أصحابنا يقال له أبو الحسين =
. . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এর চেয়ে মিথ্যা বলায় অধিক সাহসী আর কে হতে পারে! আমি সেই খণ্ডে তাঁর চাচার সূত্রে, ইব্রাহিম ইবন সা'দ থেকে, যুহরি থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত "যে ব্যক্তি এই গাছ থেকে খাবে" হাদিসটি সম্পর্কে যা যা আপত্তি করেছিলাম তা লিখেছি। তখন আবু যুর'আ আমাকে বললেন: "আপনি এতে কী বিষয় অস্বীকার করেছেন?" আমি বললাম: "আমি এটি অস্বীকার করেছি যে, এটি কেবল সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের একক বর্ণনা, আবু সালামার নয়।" তিনি আমাকে বললেন: "আপনি সঠিক ধরেছেন, এটি আবু সালামার হাদিস নয়; এবং আমি আপনাকে এমন কিছু বিষয় বাড়িয়ে বলব যা আমি মনে করি না যে আপনি সেদিকে পৌঁছাতে পেরেছেন।" আমি বললাম: "আমি কেবল এটিই জানি যে আমি আবু সালামার বর্ণনা হিসেবে এতে তাঁর অতিরিক্ত সংযোজনকে অস্বীকার করেছি, কারণ একদল রাবী ইব্রাহিম ইবন সা'দ থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।" তিনি আমাকে বললেন: "একদল রাবী এটি বর্ণনা করেছেন সত্য, কিন্তু ইবন ওয়াহাব ইব্রাহিম ইবন সা'দ থেকে আদৌ কোনো কিছু বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।" অতঃপর আবু যুর'আ আমাকে বললেন: "আবু হাতেম তাঁর সূত্রে আমার কাছে এমন কিছু হাদিস পেশ করতেন যা আমি পছন্দ করতাম, যেমন আবু যা'রার হাদিস ও অন্যান্য। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল সে আপদগুলোর মধ্যে এক মহা আপদ।" আমি বললাম: "তবে আপনি মিশরে আমাদের সাথীদের কাছে আপনার নিজ হাতে লিখে পাঠান।" অতঃপর তিনি তাঁর নিজ হাতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তাকে বর্জন ও বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়ে এবং তাকে সুস্পষ্ট মিথ্যার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে লিখলেন। অনুরূপভাবে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন মুসলিম এবং আবু হাতেমও লিখলেন। অতঃপর আমি তাঁদের লিখিত পত্রগুলো আল্লান এবং ইব্রাহিম ইবনুল আসামের কাছে পাঠিয়ে দিলাম। অতঃপর আবু হাতেম আমাকে বললেন: "আমি জানতে পেরেছি যে, আপনি যখন মিশরে ছিলেন তখন ইবন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আমার কাছে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লিখেছিল যে আপনি তাকে তিরস্কার করছেন। এবং সে তার চিঠিতে আমার কাছে লিখেছিল: 'আমার চাচা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওমর ইবন মুহাম্মদ আমাদের কাছে নাফে'র সূত্রে, ইবন ওমরের সূত্রে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "যদি একটি পাহাড় অন্য পাহাড়ের ওপর বিদ্রোহ করে, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে বিদ্রোহী পাহাড়কে লাঞ্ছিত করবেন"।' যখন আমার ছেলে আব্দুর রহমান বের হলো, আমি তার সাথে ইউনুস এবং ইবন আব্দুল হাকামের কাছে পত্র পাঠালাম কিন্তু তার কাছে লিখিনি। আমি আব্দুর রহমানকে বললাম: 'তাকে বোলো, তুমি বারযা'য়ির ব্যাপারে আমার কাছে যা লিখেছিলে তাতে তুমি নিজেই নিজের পরিশ্রম লাঘব করে দিয়েছ যখন তুমি তোমার চাচার সূত্রে ওমর ইবন মুহাম্মদের উদ্ধৃতিতে এমন একটি হাদিস উল্লেখ করেছ যার এই সনদে কোনো ভিত্তি নেই।' অতঃপর আবু হাতেমের কাছে ইবন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্রের পত্র আসল যে, আমার পুত্র আপনার কাছে এই হাদিসটি লিখেছে এবং এর সনদে ভুল করেছে, এটি আমার বর্ণিত হাদিস নয় এবং আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আর আমি এই হাদিসটি বর্ণনা করিনি বা এই জাতীয় কথা—এর মর্মার্থ আবু হাতেম আমাকে জানিয়েছেন। তিনি আমাকে বললেন: 'আপনি কি দেখছেন না ইবন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র কী লিখেছে?' আবু হাতেম যখন আমাকে এই কথা বলছিলেন তখন ফাযল আস-সায়িগ আমার সাথে ছিলেন। ফাযল বললেন: 'আমার মনে হয় সে আমার কাছে তার চাচার সূত্রে, ওমর ইবন মুহাম্মদের সূত্রে, নাফে'র সূত্রে, ইবন ওমরের সূত্রে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদিসটি অমুক অমুক সময় থেকে বর্ণনা করেছিল।' ফাযল সেখানে আহমদ ইবন সালিহের সাথে ছিলেন। এরপর ফাযল তার বাড়িতে ফিরে গেলেন এবং তার সাথে তার লিখিত একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি নিয়ে আমার কাছে ফিরে আসলেন যা তিনি মিশরে তার থেকে লিখেছিলেন। কিন্তু আমরা তার মূল পাণ্ডুলিপিতে এই হাদিসটি খুঁজে পেলাম না। আবু হাতেম আমার মাধ্যমে তার কাছে লিখেছিলেন: 'আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি আপনার চাচার সূত্রে, ঈসা ইবন ইউনুসের সূত্রে আওফ ইবন মালিকের হাদিস "আমার উম্মত বিভক্ত হবে" বর্ণনা করেছেন। অথচ এটি আপনার চাচার হাদিস নয়, আর নুআইম ইবন হাম্মাদ ব্যতীত অন্য কেউ ঈসা থেকে এটি বর্ণনা করেননি।' মিশরে আমাদের সাথীদের মধ্যে আবু হুসাইন নামক এক প্রবীণ ব্যক্তিও আমার কাছে অনুরূপ লিখেছিলেন।"
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
. . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= الأصبهاني، وكان من أصحاب الشافعي، فصرت أنا وأبو الحسين الأصبهاني إلى ابن أخي ابن وهب بكتاب أبي حاتم فقرأه، وقال: جزى الله أبا حاتم خيرًا لقد نصح، فوعظته أنا، وقلت له: هذا بحر بن نصر قد رفعه الله بمقدار عشرة آلاف حديث عنده عن عمك، فاتق الله فقال لي: ما حدثت بهذا الحديث قط، وأنا أعقله، وليس هذا الحديث من حديثي، ولا حديث عمي، وإنما وضعه لي أصحاب الحديث، ولست أعود إلى روايته حتى ألقى الله، وأنا تائب إلى الله أو نحو ما قال. فقلت له: هاهنا أحاديث عن هذا، قال: فاجمعها وآتني بها حتى أرجع عنها، فما مضى بي إلا عام، وكنت على أن أعود إليه، ومعي ما ينكر من حديثه حتى أتاني قوم ثقات من أصحابنا فحدثوني أنهم شهدوه في ذلك اليوم يحدث بحديث عيسى ابن يونس الذى قال لي ما قال عن عمه، فقصدت الرجل الذى قيل له أنه قرأ عليه الحديث، وكان جرجاني صديق لي، فقلت له: ابن أخي ابن وهب قرأ عليك حديث عيسى بن يونس؟ فقال لى: نعم، أخذ درهمين، وقرأه على ("سؤالات البرذعي، لأبي زرعة [2/ 709 - 716]).

وقال النسائي: أحمد بن عبد الرحمن ابن أخي وهب كذاب. ("الضعفاء والمتروكين" للإمام النسائي).

وقال ابن حبان: أحمد بن عبد الرحمن بن أخي بن وهب يروي عن عمه، حدثنا عن شيوخنا ابن خزيمة وغيره، وكان يحدث بالأشياء المستقيمة قديمًا حيث كتب عنه ابن خزيمة وذووه، ثم جعل يأتي عن عمه بما لا أصل له كأن الأرض أخرجت له أفلاذ كبدها.

روى عمه عن مالك عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إن الله زادكم صلاة إلى صلاتكم وهي الوتر" فيما يشبه هذا مما لا خفاء على من كتب حديث ابن وهب من رواية الثقات. ("المجروحين" [1/ 149]).

وقال الحاكم: أحمد بن عبد الرحمن بن وهب المصري روى عنه مسلم أحاديث كثيرة احتج بها في المسند الصحيح.

قلت لأبي عبد الله محمد بن يعقوب الحاكم: أنه يحدث عن أحمد بن عبد الرحمن؟ فقال: إن أحمد بن عبد الرحمن ابتلي بعد خروج مسلم من مصر، فأما أحمد بن عبد الرحمن ابن أخي ابن وهب فأنا لا أشك في اختلاطه بعد الخمسين وهو بعد خروج مسلم من مصر، والدليل عليه أحاديث جمعت عليه بمصر لا يكاد يقبلها العقل وأهل الصنعة، من تأملها علم أنها مخلوقة =
. . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= আল-আসবাহানী, এবং তিনি শাফেয়ীর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতঃপর আমি এবং আবু আল-হুসাইন আল-আসবাহানী আবু হাতেমের কিতাব নিয়ে ইবনে ওয়াহবের ভ্রাতুষ্পুত্রের নিকট গেলাম। তিনি সেটি পাঠ করলেন এবং বললেন: আল্লাহ আবু হাতেমকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তিনি নিশ্চয়ই সদুপদেশ দিয়েছেন। এরপর আমি তাকে নসীহত করলাম এবং বললাম: এই যে বাহর বিন নাসর, আল্লাহ তাকে আপনার চাচার সূত্রে তার নিকট থাকা দশ হাজার হাদীসের বরকতে উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। অতএব আল্লাহকে ভয় করুন। তিনি আমাকে বললেন: আমি সচেতন অবস্থায় এই হাদীসটি কখনো বর্ণনা করিনি, আর এটি আমার হাদীস নয় এবং আমার চাচার হাদীসও নয়। বরং হাদীসের ছাত্ররা এটি আমার জন্য তৈরি করেছে। আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত আর কখনো এটি বর্ণনা করব না, এবং আমি আল্লাহর নিকট তওবা করছি— অথবা এই জাতীয় কিছু তিনি বললেন। আমি তাকে বললাম: এখানে এই জাতীয় আরও হাদীস রয়েছে। তিনি বললেন: সেগুলো একত্রিত করে আমার নিকট নিয়ে আসুন যাতে আমি সেগুলো থেকে প্রত্যাবর্তন করতে পারি। এরপর এক বছরও অতিবাহিত হয়নি, আমি তার কাছে পুনরায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছিলাম এবং আমার সাথে তার হাদীসের সেই অংশগুলো ছিল যা প্রত্যাখ্যাত; এমতাবস্থায় আমাদের একদল নির্ভরযোগ্য সাথী আমার নিকট এসে সংবাদ দিলেন যে, তারা তাকে সেই দিন ঈসা ইবনে ইউনুসের সেই হাদীসটি বর্ণনা করতে দেখেছেন যা সম্পর্কে তিনি আমাকে ইতিপূর্বে যা বলার বলেছিলেন। অতঃপর আমি সেই ব্যক্তির নিকট গেলাম যার সম্পর্কে বলা হয়েছিল যে তিনি তার নিকট হাদীসটি পাঠ করেছেন। তিনি জুরজানের অধিবাসী এবং আমার বন্ধু ছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: ইবনে ওয়াহবের ভ্রাতুষ্পুত্র কি আপনার নিকট ঈসা ইবনে ইউনুসের হাদীসটি পাঠ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি দুই দিরহাম গ্রহণ করেছেন এবং আমার নিকট সেটি পাঠ করেছেন (সুয়ালাতুল বারযাঈ লি আবু যুরআ [২/ ৭০৯ - ৭১৬])।

আন-নাসায়ী বলেছেন: আহমাদ বিন আবদুর রহমান ইবনে ওয়াহবের ভ্রাতুষ্পুত্র একজন চরম মিথ্যাবাদী। (ইমাম নাসায়ীর "আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন")।

ইবন হিব্বান বলেছেন: ইবনে ওয়াহবের ভ্রাতুষ্পুত্র আহমাদ বিন আবদুর রহমান তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন। আমাদের নিকট আমাদের শাইখ ইবনে খুজাইমা ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি আগে সঠিক হাদীস বর্ণনা করতেন যখন ইবনে খুজাইমা ও তার সমসাময়িকরা তার থেকে হাদীস লিখেছিলেন। অতঃপর তিনি তার চাচার সূত্রে এমন সব হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন যার কোনো ভিত্তি নেই, যেন পৃথিবী তার হৃৎপিণ্ডের টুকরোগুলো তার জন্য বের করে দিয়েছে।

তার চাচা মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সালাতের সাথে আরও একটি সালাত বৃদ্ধি করে দিয়েছেন, আর তা হলো বিতর।" এই জাতীয় হাদীসসমূহের অসারতা তাদের নিকট স্পষ্ট যারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে ইবনে ওয়াহবের হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। (আল-মাজরুহিন [১/ ১৪৯])।

আল-হাকিম বলেছেন: মিসরীয় আহমাদ বিন আবদুর রহমান ইবনে ওয়াহব থেকে ইমাম মুসলিম অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন যা তিনি তার সহীহ গ্রন্থে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।

আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-হাকিমকে বললাম: তিনি কি আহমাদ বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন? তিনি বললেন: ইমাম মুসলিম মিসর ত্যাগ করার পর আহমাদ বিন আবদুর রহমান বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছিলেন। আর ইবনে ওয়াহবের ভ্রাতুষ্পুত্র আহমাদ বিন আবদুর রহমানের ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি পঞ্চাশ হিজরীর পরে স্মৃতিভ্রম বা বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন এবং এটি ছিল ইমাম মুসলিমের মিসর ত্যাগের পরের ঘটনা। এর প্রমাণ হলো সেই সব হাদীস যা মিসরে তার বিরুদ্ধে একত্রিত করা হয়েছিল, যা বিবেক এবং হাদীস বিশারদগণ গ্রহণ করতে পারেন না; যে ব্যক্তি এগুলো নিয়ে চিন্তা করবে সে বুঝতে পারবে যে এগুলো বানোয়াট। =
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌5 - أحمد بن أبي القاسم بن سنبلة البغدادي

قال الذهبي: أحمد بن أبي القاسم بن سنبلة البغدادي شيخ متأخر، مات سنة تسع عشرة وستمائة، اختلط قبل موته بأربع سنين(1).

قال ابن حجر: أحمد بن أبي القاسم بن سنبلة سمع من أبي على الخراز، سمع منه ابن نقطة وغيره، وقال: إنه فسد حسه، بحيث أنه صار لا يجوز السماع منه(2).

 

‌‌6 - أحمد بن محمد بن إبراهيم بن حمدان الفارسي

قال الذهبي: قال الإدريسي: لم أكتب عن أحمد بن محمد بن إبراهيم بن حمدان الفارسي، خلط في شيء(3).

 

‌‌7 - أبان بن صمعة

قال ابن أبي حاتم: نا صالح بن أحمد بن حنبل، نا علي بن المديني قال:

--------------------------------------------

= أدخلت عليه فقبلها. ثم ذكر خمسة منها.

وقد عرض عليه أبو بكر محمد بن إسحاق منها عدة وأنكر بعضها، وأقر له بالبعض.

فأما أبو حاتم الرازي محمد بن إدريس -رحمنا الله وإياه- فحدثونا عن ابنه أنه عرض كتاب أبيه على أحمد بن عبد الرحمن يسأله الرجوع عن أحاديث منها، فثبت عليه ولم يرجع عنه. فما يشبه حال مسلم معه إلا حال المتقدمين من أصحاب سعيد بن أبي عروبة. ("المدخل إلى الصحيح" للحاكم [4/ 130]).

(1) "ميزان الاعتدال": [1/ 128].

(2) "لسان الميزان": [1/ 348].

(3) "ميزان الاعتدال": [1/ 129]. وقول الإدريسي "خلط في شيء": أي أخطأ في شئ، وليس معناه أنه اختلط بالمعنى الإصطلاحي.
৫ - আহমাদ ইবনে আবুল কাসিম ইবনে সুনবুলাহ আল-বাগদাদী

আয-যাহাবী বলেন: আহমাদ ইবনে আবুল কাসিম ইবনে সুনবুলাহ আল-বাগদাদী একজন পরবর্তী যুগের শায়খ, তিনি ছয়শ উনিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর চার বছর আগে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল।(১)।

ইবনে হাজার বলেন: আহমাদ ইবনে আবুল কাসিম ইবনে সুনবুলাহ আবু আলী আল-খাররাযের নিকট শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে নুকতাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তিনি (ইবনে নুকতাহ) বলেন: তাঁর ইন্দ্রিয় শক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে তাঁর থেকে হাদীস শ্রবণ করা আর বৈধ ছিল না।(২)।

 

‌‌৬ - আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে হামদান আল-ফারিসী

আয-যাহাবী বলেন: আল-ইদ্রিসী বলেছেন: আমি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে হামদান আল-ফারিসী থেকে কিছু লিখিনি, তিনি কোনো একটি বিষয়ে ভুল করেছিলেন।(৩)।

 

‌‌৭ - আবান ইবনে সামআহ

ইবনে আবু হাতিম বলেন: সালিহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদীনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

= তাঁর নিকট কিছু (অপ্রাসঙ্গিক বর্ণনা) ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তার মধ্যে পাঁচটি বর্ণনা উল্লেখ করেন।

আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক তাঁর কাছে এর বেশ কিছু পেশ করেছিলেন এবং তিনি তার কিছু অস্বীকার করেছিলেন এবং কিছু স্বীকার করেছিলেন।

আর আবু হাতিম আর-রাযী মুহাম্মাদ ইবনে ইদ্রিস —আল্লাহ আমাদের এবং তাঁর প্রতি রহম করুন— তাঁর পুত্র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর পিতার কিতাব আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমানের নিকট পেশ করেছিলেন এবং তাঁকে কিছু হাদীস থেকে ফিরে আসার (প্রত্যাহারের) অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাতে অটল থাকেন এবং তা থেকে ফিরে আসেননি। তাঁর সাথে ইমাম মুসলিমের অবস্থা সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহর সাথীদের পূর্ববর্তীদের অবস্থার মতোই। (হাকেম সংকলিত "আল-মাদখাল ইলাস সহীহ" [৪/১৩০])।

(১) "মীযানুল ইতিদাল": [১/১২৮]।

(২) "লিসানুল মীযান": [১/৩৪৮]।

(৩) "মীযানুল ইতিদাল": [১/১২৯]। আর আল-ইদ্রিসীর বক্তব্য "তিনি কোনো একটি বিষয়ে ভুল করেছিলেন": অর্থাৎ তিনি কোনো বিষয়ে ভ্রান্তিতে পড়েছিলেন, এর অর্থ এই নয় যে পারিভাষিক অর্থে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
سمعت يحيى القطان يقول: كان أبان بن صمعة قد تغير بآخره.

وقال: سمعت عبد الرحمن بن مهدي يقول: أتيت أبان بن صمعة وقد اختلط البتة. قلت: قبل موته بكم؟ قال: بزمان.

نا ابن حنبل فيما كتب إلى قال: سألت أبي عن أبان بن صمعة فقال: صالح. فقلت له: أليس تغير بآخره؟ قال: نعم(1).

قال أبو داود: سمعت أحمد بن حنبل يقول: أبان بن صمعة كان أنكر في آخر أمره(2).

قال الآجري: سألت أبا داود عن أبان بن صمعة فقال: أنكر في آخر عمره(3).

قال ابن حجر: قال النسائى: أبان بن صمعة ليس به بأس إلا أنه كان اختلط.

وقال الحربي: اختلط بآخره(4).

قال ابن عدي: وأبان بن صمعة له من الروايات قليل، وإنما عيب عليه اختلاطه لما كبر، ولم يُنسب إلى الضعف، لأن مقدار ما يرويه مستقيم، وقد روى عنه البصريون مثل سهل بن يوسف هذا، ومحمد بن أبى عدي

--------------------------------------------

(1) "الجرح والتعديل": [2/ 297].

(2) "سؤالات أبي داود الفقهية" للإمام أحمد [ص 382].

(3) "سؤالات الآجري" لأبي داود: [1/ 436].

(4) "تهذيب التهذيب".
আমি ইয়াহইয়া আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি: আবান ইবনে সামআ শেষ বয়সে পরিবর্তিত (স্মৃতিবিভ্রম) হয়ে গিয়েছিলেন।

এবং তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি: আমি আবান ইবনে সামআর নিকট গিয়েছিলাম এবং তিনি তখন পুরোপুরি স্মৃতিবিভ্রাটগ্রস্ত ছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তাঁর মৃত্যুর কতদিন আগে? তিনি বললেন: দীর্ঘ সময় আগে।

ইবনে হানবাল আমাকে যা লিখে পাঠিয়েছেন তাতে তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে আবান ইবনে সামআ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বললেন: তিনি সৎ। আমি তাঁকে বললাম: তিনি কি শেষ জীবনে পরিবর্তিত হননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ(১)।

আবু দাউদ বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হানবালকে বলতে শুনেছি: আবান ইবনে সামআ তাঁর শেষ জীবনে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছিলেন(২)।

আল-আজুররী বলেন: আমি আবু দাউদকে আবান ইবনে সামআ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বললেন: তিনি তাঁর শেষ জীবনে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছিলেন(৩)।

ইবনে হাজার বলেন: আন-নাসায়ী বলেছেন: আবান ইবনে সামআর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তবে তাঁর স্মৃতিবিভ্রাট ঘটেছিল।

এবং আল-হারবী বলেন: শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতিবিভ্রাট হয়েছিল(৪)।

ইবনে আদি বলেন: আবান ইবনে সামআর বর্ণিত রেওয়ায়েত সংখ্যা অল্প, আর কেবল বৃদ্ধ বয়সে তাঁর স্মৃতিবিভ্রাটের কারণে তাঁকে দোষারোপ করা হয়েছে। তাঁকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়নি, কারণ তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ সঠিক। বসরার অধিবাসীগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন এই সাহল ইবনে ইউসুফ এবং মুহাম্মদ ইবনে আবি আদি।

--------------------------------------------

(১) "আল-জারহ ওয়াত-তাদীল": [২/২৯৭]।

(২) ইমাম আহমাদ বর্ণিত "সুয়ালাত আবি দাউদ আল-ফিকহিয়্যাহ" [পৃষ্ঠা ৩৮২]।

(৩) আবু দাউদ বর্ণিত "সুয়ালাত আল-আজুররী": [১/৪৩৬]।

(৪) "তাহযীবুত তাহযীব"।
(খণ্ড: ১) মুজামুল মুখতালিতীন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وأبو عاصم وغيرهم بأحاديث، وكلها مستقيمة غير منكرة، إلا أن يدخل في حديثه شيء بعد ما تغير واختلط(1).

 

‌‌8 - إبراهيم بن خثيم بن عراك

قال الذهبي: قال أبو إسحاق الجوزجاني: كان إبراهيم بن خثيم بن عراك غير مقنع، اختلط بآخره.

وقال النسائي: متروك.

وروى شريح بن يونس، حدثنا إبراهيم بن خثيم، عن أبيه، عن جده، عن أبي هريرة مرفوعًا: أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: "مهلًا على الله مهلًا، فلولا شباب خشع، وشيوخ ركع، وأطفال رضع، وبهائم رتع، لصب عليكم العذاب صبًا". رواه أبو يعلي في "مسنده" عن شريح(2)(3).

--------------------------------------------

(1) "الكامل في ضعفاء الرجال": [1/ 392]. وفي "تهذيب التهذيب": "قال ابن معين: أبان بن صمعة ثقة. وقال أبو حاتم: صدوق. وقال العجلي والنسائي: ثقة. وذكره ابن حبان في الثقات. وليس له عند مسلم سوى حديث واحد في الأدب". اهـ

وقال الحافظ في "التقريب": أبان بن صمعة صدوق تغير آخرًا، وحديثه عند مسلم متابعة.

(2) "ميزان الاعتدال": [1/ 30].

(3) قال ابن حجر في "لسان الميزان" [1/ 140]: قال أبو زرعة: إبراهيم بن خثيم بن عراك منكر الحديث. وقال الدوري: سمعت ابن معين يقول: كان الناس يصيحون به لا شيء، وكان لا يكتب عنه. وقال في موضع آخر: ليس بثقة ولا مأمون. وقال الساجي: ضعيف ابن ضعيف. وعده جماعة ممن ألف في الضعفاء. وأورد له العقيلي عن أبيه، عن جده، عن أبي

هريرة: "أن النبي صلى الله عليه وسلم حبس رجلًا في تهمة" وقال: لا يتابع على رفعه.

قلت: وسيأتي له ذكر في ترجمة إبراهيم بن زكريا. اهـ
আবু আসিম এবং অন্যান্যরা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, এবং সেগুলো সব সঠিক ও স্বীকৃত (মুনকার নয়), তবে তাঁর স্মৃতি পরিবর্তন ও বিভ্রান্ত (ইখতিলাত) হওয়ার পর বর্ণনায় কিছু ত্রুটি প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে(১)।

 

‌‌৮ - ইব্রাহিম বিন খুসাইম বিন ইরেক

ইমাম আয-যাহাবী বলেন: আবু ইসহাক আল-জাওযাজানি বলেছেন: ইব্রাহিম বিন খুসাইম বিন ইরেক সন্তোষজনক (বর্ণনাকারী) ছিলেন না, শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল।

ইমাম আন-নাসায়ী বলেন: (তিনি) পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

শুরাইহ বিন ইউনুস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন খুসাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর প্রতি ধৈর্য ধরো, আল্লাহর প্রতি ধৈর্য ধরো! যদি বিনীত যুবক, রুকুকারী বৃদ্ধ, দুগ্ধপোষ্য শিশু এবং বিচরণশীল চতুষ্পদ জন্তু না থাকতো, তবে তোমাদের ওপর কঠোরভাবে আজাব বর্ষিত হতো।" আবু ইয়ালা তাঁর 'মুসনাদ'-এ শুরাইহ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন(২)(৩)।

--------------------------------------------

(১) "আল-কামিল ফি দুয়াফা ইর-রিজাল": [১/ ৩৯২]। 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ আছে: "ইবনে মাঈন বলেছেন: আবান বিন সামআ বিশ্বস্ত (সিকাহ)। আবু হাতিম বলেছেন: সত্যবাদী (সাদুক)। আল-ইজলি ও আন-নাসায়ী বলেছেন: বিশ্বস্ত (সিকাহ)। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত'-এ উল্লেখ করেছেন। ইমাম মুসলিমের নিকট আদব (শিষ্টাচার) অধ্যায়ে তাঁর মাত্র একটি হাদীস রয়েছে।" সমাপ্ত।

হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাকরীব'-এ বলেছেন: আবান বিন সামআ সত্যবাদী (সাদুক), শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতি পরিবর্তিত হয়েছিল, এবং ইমাম মুসলিমের নিকট তাঁর হাদীস 'মুতাবায়াত' (সমর্থনমূলক) হিসেবে এসেছে।

(২) "মিযানুল ইতিদাল": [১/ ৩০]।

(৩) ইবনে হাজার 'লিসানুল মিযান'-এ [১/ ১৪০] বলেন: আবু যুরআ বলেছেন: ইব্রাহিম বিন খুসাইম বিন ইরেক মুনকারুল হাদীস (অস্বীকৃত হাদীস বর্ণনাকারী)। আদ-দাওরি বলেন: আমি ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি—মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে চিৎকার করে বলতো যে তিনি কিছুই নন (গুরুত্বহীন), এবং তাঁর থেকে হাদীস লেখা হতো না। অন্য স্থানে তিনি বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত বা নির্ভরযোগ্য নন। আল-সাজি বলেছেন: (তিনি) দুর্বল বর্ণনাকারীর দুর্বল পুত্র। যারা দুর্বল বর্ণনাকারীদের জীবনী লিখেছেন, তাঁদের একদল তাঁকে উল্লেখ করেছেন। আল-উকাইলি তাঁর পিতা ও দাদার মাধ্যমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে সন্দেহের ভিত্তিতে বন্দি করেছিলেন," এবং তিনি বলেছেন: এই হাদীসটি মারফূ হিসেবে বর্ণনার ক্ষেত্রে কেউ তাঁকে সমর্থন করেনি।

আমি (ইবনে হাজার) বলছি: ইব্রাহিম বিন জাকারিয়ার জীবনীতে তাঁর উল্লেখ আসবে। সমাপ্ত।